«

»

Dec ১৫

মুক্তিযুদ্ধে মিরপুরের জল্লাদখানা ও বিহারী সম্প্রদায়

ঢাকার মিরপুর ১০ নাম্বার সেকশনে আমার জন্ম । ছোট বেলার অনেক সৃতি এখানে জড়িয়ে আছে। এখনও মিরপুরে থাকি। অনেক কিছুতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এই তো বছর ১৫ আগেও এখানকার অনেক স্থান ছিল অত্যন্ত নোংরা। বর্ষার দিনে পানিতে থৈ থৈ, বন্যার সিজনে নিম্নাঞ্চলগুলো নদীর আকার ধারণ করত। অসংখ্য বস্তি ছিল যার অনেকটাই কমে গেছে। ৮৮ আর ৯৮ সালের বন্যার কথা এখানকার কেউ ভুলবে না। ১৩ নাম্বার সেকশনে কোন কোন জায়গায় পানি বাড়ীর  দো’তলা পর্যন্ত পৌছায়। সে বন্যায় বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল স্কুল, কলেজ আর স্থানীয় টাউন হলে যেটা এই এলাকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে তা আর আলোর মুখ দেখে নি। এখন আর সেই টাউন হল নেই। বন্যার পানির ক্ষুধা একেবারেই মিটে গেছে। উপরন্তু নিম্নাঞ্চলগুলো ভরাট করে বাড়ি ঘর নির্মাণের  প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। মোট কথা, কেউ যদি অনেক বছর পর এখানে আসে তবে মিরপুরকে চিনতে পারবে না।

মিরপুরে ১০ অথবা ১১ নং সেকশনে যাদের বসবাস তাদের বেশীর ভাগই এখানকার অবাঙালী (বিহারী সম্প্রদায়) ও এখানকার বধ্যভূমি সম্পর্কে অবগত আছেন। এখানকার অবাঙ্গালী সম্প্রদায় দেশ বিভাগের সময়ে অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে বাংলাদেশে আসে। এখানকার গুরুজনদের কাছ থেকে শুনেছি পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকার তাদের অনেককে  নির্বাচনে জেতার জন্যে ভারতের বিহার রাজ্য থেকেও নিয়ে আসে। ভাষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনেক মিল থাকায় এই বিহারীরা ছিল মনে প্রাণে পাকিস্তান পন্থী। ১৯৭১ সালে এই এলাকায় বাঙ্গালী ছিল ৫%। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এদের অনেকেই পাকিস্তান চলে যায়। কিন্তু পূর্বের চেয়ে এদের সংখ্যা এখন অনেক বেশী। বর্তমানে মিরপুরে ১০ ও ১১ নং সেকশনে বিহারীদের সঠিক সংখ্যা কত তা জানা নেই, কিন্তু সংখ্যায় এরা বাঙ্গালীদের চেয়ে খুব কম নয়। তবে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তারা অনেকটা এলাকার উত্তর দিকে সরে গেছে। ঢাকার মোহাম্মদপুরেও বিহারীদের সংখ্যা অনেক।

মিরপুরে ১০ নাম্বার সেকশনে যে বধ্যভূমিটি  রয়েছে তা প্রথম অবস্থায় ছিল পাম্প হাউস অর্থাৎ পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হত। যুদ্ধের সময়ে এটি পাকিস্তানীরা বাঙ্গালীদের জবাই করে হত্যা করার জন্য ব্যবহার করতো। তাই এই বধ্যভূমিটি  এলাকায় জল্লাদখানা নামে পরিচিত। স্বাভাবিকভাবেই বিহারীরা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানীদের সবদিক থেকে সহায়তা করেছে। তারা ঐ সময়ে ছিল সশস্ত্র। পাকিস্তানীদের গুপ্তচর হিসেবেও কাজ করেছে। বাঙ্গালীদের বাসা থেকে ধরে নিয়ে পাকিস্তানীদের কাছে সোপর্দ করতো। এলাকায় এমন বহু পরিবার রয়েছে যারা আজও পথ চেয়ে আছে তাদের প্রিয় স্বজনের ফিরে আসার প্রতীক্ষায়। কেননা তারা তো মৃতের লাশটি ও পায় নি।

 

ছবি-১ বধ্যভূমিতে প্রবেশের পর বাম দিকে  

 

 

ছবি ২- বধ্যভূমির একাংশ

 ১৯৯৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার দেশের সমস্ত বধ্যভূমি সংরক্ষণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালে মিরপুর ১০ নাম্বার সেকশনের এই বধ্যভূমিটি  ভাঙ্গা হয়। বধ্যভূমিটির পুরো জায়গা খোড়া হয়। প্রায় বিশ ফিট গভীর ফ্লোরের নিচু অংশ দেখে এলাকাবাসী চমকে ওঠেন। আরও চমকে ওঠেন যখন এখান থেকে ৭০ টি মাথার খুলি, প্রায় এক ট্রাক হাড়, নারীদের ব্যবহৃত  স্যান্ডেল, পোশাক একের পর এক বের করা হয়। আমি নিজেও চমকে উঠি যখন দেখি, যে জল্লাদ খানার আসে পাশে এতদিন খেলা-ধুলা করেছি তার ভেতর এত কিছু। শহীদের হাড়গুলো দেখে সেখানে উপস্থিত অনেক স্বজন হারানো মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। মাথার খুলিগুলো এখনও আমার সামনে ভেসে ওঠে। সেগুলোতে ছিল বাঁচার আকাঙ্ক্ষা, অপরাধীদের বিচার না হওয়ার তীব্র ক্ষোভ। আর যেন বলছে কি অন্যায় করেছিলাম আমরা?

 

ছবি-৩- বধ্যভূমি থেকে উদ্ধারকৃত শহীদের কিছু হাড়

ছবি ৪- বধ্যভূমির ভিতরে প্রদর্শিত উদ্ধারকৃত নারীদের পোশাক, স্যান্ডেল ইত্যাদি

 

  ছবি ৫- বাঙ্গালীদের জবাই করে এই কূপে ফেলা হত

 

 

 ছবি ৬- বধ্যভূমিতে ঝুলান ঘণ্টা

 

  ছবি ৭- বধ্যভূমিতে প্রদর্শিত বিংশ শতকে বিশ্বব্যাপী গণহত্যার পরিসংখ্যান

 

 ছবি ৮- বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া শত শত বধ্যভূমির মধ্যে কতগুলোর মাটি প্রদর্শন এবং তাদের তালিকা

দেশ স্বাধীন হবার পর এই বিহারী সম্প্রদায় দেশে ব্যাপক হাঙ্গামা শুরু করে। সরকার কর্তৃক সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরেও তাদের অনেককে নিরস্ত্র করা যায় নি। তার প্রমাণ, ১৯৭২ সালে যহির রায়হানকে মিরপুরের কালা পানি নামক স্থানে ধরে নিয়ে যাবার পর তার সন্ধানে যারা গিয়েছিলেন, তারা ওত পেতে থাকা সশস্ত্র বিহারীদের হাতে মারা পরেন। ধারনা করা হয়, এখানে যহির রায়হানকে হত্যা করা হয়। বিহারী সম্প্রদায় পাকিস্তানে ফেরত যাবার পর সেখানেও হাঙ্গামা করে। আর এরা যে কেমন মুসলমান, তা আশুরার দিনেই বোঝা যায়।

 ছবি ৯- আশুরার সময়ে  বিহারীরা

 বিহারীরা বর্তমানে অত্যন্ত নিম্ন জীবন যাত্রা, একটি সংসারে অনেক সদস্য সংখ্যা, বেকারত্ব ইত্যাদি বহু প্রতিকূল অবস্থায় বেচে আছে। চাকরি-বকরিতে এদের তেমন একটা দেখা যায় না। সাধারণত এরা সেলুনের দোকান, শাড়ির কাজ যার প্রভাবে মিরপুরের বেনারসির পল্লী এবং অনেক নিম্ন শ্রেণীর কাজ করে থাকে। বাঙ্গালীরা সাধারণত এদেরকে অনেকটা হেয় চোখে দেখে। পাকিস্তান সরকার এদেরকে আর ফেরত নিতে চায় না।

 

ছবি ১০- বিহারীদের দাবী

শেষ কথাঃ 

বিহারীদের অনেকে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের বিহারীরা এখন পাকিস্তান যেতে চায় না এবং বাংলাদেশকে ভালবাসে যা বিজয় দিবসে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ থেকে লক্ষ্য করা যায়। সময় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এরা অনেকেই এখন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে। ১৯৭১ সালের পর যাদের জন্ম তাদেরকেও অনেক ক্ষেত্রে বিব্রতর পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয় পূর্ব পুরুষের ভুলের জন্য। মানবিক খাতিরে আমাদের উচিত এদেরকে হেয় চোখে না দেখা, কেননা ইসলাম আমাদের শেখায় অপরাধীকে ক্ষমা করতে। অপরাধীদের বিচার আল্লাহই করবেন। আর এতেই বাঙ্গালী হিসেবে আমাদের গর্ব যে, জাতি হিসেবে আমরা কতটা মহৎ।

৫০ comments

Skip to comment form

  1. 29
    sumon

    বিহারী দের জন্য আপনার মতো কিছু ………….. কি বলবো বুঝতে পারছি না। গা জ্বালা পোড়া করে এ তো আর নতুন কিছু না। পাকিস্থানিদের ক্রিকেট খেলার সময় আপনাদের মতো নামের কিছু বাঙালীদের পরিচয় গুলো আমাদের সামনে দিনের আলোর মতো ফুটে ওঠে।

    মিরপুরের বাসিন্দা আমিও। আমার জন্ম এখানেই। যা বলেছেন তার কতখানি কি তার বোধহয় খানিকটা আমিও জানি।

    আফসোস আমাদের।

  2. 28
    এম_আহমদ

    এম_আহমদ: প্রসঙ্গ,৭ নং ফটো। জার্মান গণহত্যার সংখ্যা ১১ মিলিয়ন। মন্তব্য:এই সংখ্যা ৬ মিলিয়ন নিয়েই কত ঝগড়াঝাঁটি। ইয়াহুদীরা (বিশেষ করে জায়োনিষ্টরা) শক্তির জোরে কোন রকমে ৬ মিলিয়ন চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের নোটিশ বোর্ডে তা প্রায় ডবল।  কৌতূহলী এবং চিন্তা-জাগানিয়া। 
    ফোরকান: নাজী জার্মানী কর্তৃক হত্যা ১ কোটি ১০ লাখ, তার মানে এই না যে এইসবের সবাই ইহুদী। মনে হয় এটা টোটাল সংখ্যাকেই বুঝাচ্ছে।
    এম_আহমদঃ  গণহত্যা কি জার্মানরা জার্মানদের উপর করেছিল?
    শামস: তাহলে উলটো প্রশ্ন করতে হয় নাজীরা কি কেবল জার্মান ইহুদী হত্যা করেছিল? আর যে ৬০ লক্ষ ইহুদী হত্যার দাবী করা হয় তা কি জার্মান ইহুদী হত্যার দাবী? আমার মনে হয় না কোথাও পড়েছি, ৬০ লাখ জার্মান ইহুদী হত্যার কথা, বরং পড়েছি ইউরোপে ৬০ লাখ ইহুদী হত্যার কথা।
    ফোরকান:… ৬০ লক্ষ ইহুদি শুধু জার্মানির নয়, পুরা ইউরোপের। …

    আলোচনা বাড়াবার ইচ্ছে আর নেই। সবাই ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন। 
     

  3. 27
    ফোরকান

    কিংশুক@ ধন্যবাদ ভিডিওর লিংকটি দেয়ার জন্য। ইতিহাস থেকে জানা যায় হিটলার জীবনে কত কষ্ট করেছে। আসলে হিটলার শৈশব থেকেই ইহুদীদের ঘৃনা করতো। ৬০ লাখ ইহুদিকে পরিকল্পিতভাবে গ্যাস সিলিন্ডারে ঢুকিয়ে হত্যা করেন। পুরা হত্যাকান্ড আমলে আনলে সংখ্যাটা ৯০ লক্ষ ১ কোটি ১০ লক্ষ্ হতে পারে।
    এটি খুবই অমানবিক। কিন্তু যখন দেখি সেই অল্প সংখ্যক ইহুদি মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া হয়ে ফিলিস্তিন দখল করে তাদেরকেই অত্যাচার করছে, তখন ইহুদীদের উপর খুব রাগ হয়। কে জানে হিটলার যদি ইহুদিদের না মারতো তবে ইহুদিদের সংখ্যা এখন এমন বেশি হত যে, তাদের জন্য আমেরিকা, ফ্রান্স, বৃটেন আর কয়টি মুসলিম দেশ দখল করে ইহুদিদের উপহার দিত।

  4. 26
    কিংশুক

    @ ফোরকান,

    হিটলার ইহুদিদের উপর কতটা ক্রুদ্ধ ছিলো এবং তাদের সম্পর্কে হিটলারের ১৯৪২ সালের মনোভাব সম্পর্কে হিটলারের নিজের মুখেই শুনতে পারেন :
    Rare Adolf Hitler speech 1942: Israel, Iran, Zionism, WW3. [Originally uploaded by THELINDGRENN]
     
    rel="nofollow">

  5. 25
    ফোরকান

    নাৎসিদের ইহুদি-নিধনযজ্ঞ 

    ইহুদীদের উপর  জাতিগত বিদ্বেষ ভয়াবহ চরম আকার ধারণ করে বিংশ শতকের তৃতীয় দশকে, হিটলারের নাৎসি দল-শাসিত জার্মানিতে। ইহুদি-বিরোধী এই জাতিতত্ত্বের উপর ভিত্তি করে এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের দায়ও ইহুদিদের উপর চাপিয়ে দিয়ে তারা বিভিন্ন অত্যাচার এবং নিধনমূলক আইন-কানুন প্রণয়ন করে। ১৯৩৯ সালে হিটলার বিভিন্ন দেশ আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটালে ইউরোপে ইহুদি নির্যাতন ও নিধন চরমরূপ নেয়। তারা আইন করে ইহুদিদের নিজস্ব নিবাস অধিগ্রহণ করে বন্দী-নিবাসে প্রেরণ করে এবং পর্যায়ক্রমে হত্যা করে। প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদিকে হত্যা করা হয়; এ ঘটনা ‘হলোকস্ট‘ (Holocaust) নামে পরিচিত। নব্য ইহুদি-বিদ্বেষীরা এই নিধনযজ্ঞের ঘটনাকেও সন্দেহ বা অস্বীকার করে। (সুত্র উইকিপেডিয়া)

    হিটলার আগে থেকেই ইহুদি বিদ্বেষী ছিলেন। তখন জার্মানিতে প্রচুর ইহুদি ছিল যারা অত্যাচারিত হয়ে দেশ ছাড়তে থাকে। ৬০ লক্ষ ইহুদি শুধু জার্মানির নয়, পুরা ইউরোপের।  ইহুদি জার্মান নাগরীক বেশি গণহত্যার শিকার হয়েছিল। হিটলারের পরাজয়ের পর মিত্র বাহিনী জার্মানিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় যাতে প্রচুর জার্মান নিহত হয়। ১৯৩৯-১৯৪৫ পর্যন্ত যত মানুষ জার্মানীতে নিহত (আগের হত্যাকান্ড সহ) হয়েছে তার টোটাল সংখ্যাটাই এখানে হয়ত দেয়া।

  6. 24
    শামস

    @এম_আহমদ:

    তখন (১৯৩৯-৪৫) গোটা জার্মানীতে কি ৬০ লক্ষ্য ইহুদি ছিল?

    তাহলে উলটো প্রশ্ন করতে হয় নাজীরা কি কেবল জার্মান ইহুদী হত্যা করেছিল? আর যে ৬০ লক্ষ ইহুদী হত্যার দাবী করা হয় তা কি জার্মান ইহুদী হত্যার দাবী? আমার মনে হয় না কোথাও পড়েছি, ৬০ লাখ জার্মান ইহুদী হত্যার কথা, বরং পড়েছি ইউরোপে ৬০ লাখ ইহুদী হত্যার কথা।

  7. 23
    ফোরকান

    সংখ্যাটি নিয়ে আমিও প্রথম দ্বিধাদন্দ্বে ছিলাম। শামস ভাইয়ের কথাটা মনে হয় ঠিক।

  8. 22
    এম_আহমদ

    ভাই আপনার ৭ নং ফটোতে জার্মান গণহত্যার সংখ্যা ১১ মিলিয়ন লিখা। ইউরোপে এই সংখ্যা ৬ মিলিয়ন নিয়েই কত ঝগড়াঝাঁটি। ইয়াহুদীরা (বিশেষ করে জায়োনিষ্টরা) শক্তির জোরে কোন রকমে ৬ মিলিয়ন চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের নোটিশ বোর্ডে তা প্রায় ডবল।  কৌতূহলী এবং জাগানিয়া বিষয়।  

    1. 22.1
      শামস

      @এম_আহমদ:
      নাজী জার্মানী কর্তৃক হত্যা ১ কোটি ১০ লাখ, তার মানে এই না যে এইসবের সবাই ইহুদী। মনে হয় এটা টোটাল সংখ্যাকেই বুঝাচ্ছে।

      1. 22.1.1
        এম_আহমদ

        গণহত্যা কি জার্মানরা জার্মানদের উপর করেছিল?

        1. 22.1.1.1
          ফোরকান

          আমি যতদূর জানি, জার্মানিতে ঐ সময়ে প্রচুর ইহুদি ছিল যাদের অনেককে হিটলার হত্যা করে। ধারণা করা হয় ৬০ লক্ষ্য ইহুদি হত্যা করা হয়। আবার হিটলার পরাজিত হবার পর মিত্র বাহিনী জার্মানীতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং প্রচুর জার্মান নাগরীক হত্যা করে।

        2. এম_আহমদ

          তখন (১৯৩৯-৪৫) গোটা জার্মানীতে কি ৬০ লক্ষ্য ইহুদি ছিল?

      2. 22.1.2
        এম_আহমদ

        আগের প্রশ্নটি রয়ে গেল, গণহত্যা কি জার্মানরা জার্মানদের উপর করেছিল? মূল কথা এখানে। “৬০ লক্ষের (!)” বাহিরের লোক।

        1. 22.1.2.1
          এম_আহমদ

          @এম_আহমদ:
          আমাকে ভুল মনে করবেন না। আমি আপনাকে কোনভাবে ঠেকাবার জন্য প্রশ্ন করছিনা, কেননা, কোন সংখ্যা আপনার নয় -মিরপুরের বোর্ডের সংখ্যাও আপনার বানানো নয়।

  9. 21
    ফোরকান

    ধন্যবাদ জাদু ভাই, আপনার অসাধারণ তথ্যপূর্ণ মন্তব্যের জন্য।

    আজকে যে সন্তানটি এক বিহারী মায়ের কোলে এলো, সেই বৃদ্ধ, সেই নতুন মা সন্তানটিকে স্পষ্ট করে বলুক, তোমার ভাষা উর্দু হতে পারে, কিন্তু তুমি বাংলাদেশি। এই দেশে তুমি জন্মেছো, তুমি না চাইলে তোমাকে আর কোথাও যেতে হবেনা।

    আমি আপনার সাথে ১০০% সহমত পোষণ করছি।

  10. 20
    জাদু ভাই

    “আজকে যে সন্তানটি এক বিহারী মায়ের কোলে এলো, সেই বৃদ্ধ, সেই নতুন মা সন্তানটিকে স্পষ্ট করে বলুক, তোমার ভাষা উর্দু হতে পারে, কিন্তু তুমি বাংলাদেশি। এই দেশে তুমি জন্মেছো, তুমি না চাইলে তোমাকে আর কোথাও যেতে হবেনা”-এম ইউ আমান
     
     

  11. 19
    জাদু ভাই

    @Hassan and Furqan,
    Here is One point of argument:

    In pre-independence British India, there was an Urdu-speaking Muslim minority in the Hindu majority state of Bihar.[2] In 1947, at the time of partition, the Bihari Muslims, many of whom were fleeing the violence that took place during partition, fled to the newly independent East Pakistan. They held a disproportionate number of positions in the new country, because Urdu (which was the mother tongue of many Biharis) was made the national language of the new state. This led to much resentment from the native Bengalis who had to acquire a new language and were at a disadvantage on their own soil.(Wikipedia).

     
    They also called Stranded Pakistanis.
     
    About the Citizenship of Bangladesh:

    In May 2003, a high court ruling in Bangladesh allowed 10 Biharis to obtain citizenship and voting rights.[11] The ruling also exposed a generation gap amongst Biharis, with younger Biharis tending to be “elated” with the ruling, but with many older people feeling “despair at the enthusiasm” of the younger generation.[12] Many Biharis now seek greater civil rights and citizenship in Bangladesh.[13] On May 19, 2008 the Dhaka High court approved citizenship and voting rights for about 150,000 refugees who were minors at the time of Bangladesh’s war of independence in 1971, and those who were born after would also gain the right to vote.[14] (Wikipedia). Also look at BBC NEWS: Citizenship for Bihari refugees link: http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/7407757.stm

  12. 18
    জাদু ভাই

    @Hassan,
    As you told in your previous comment, not all Biharis in Bangladesh are not really from Bihar, they are from different part of India including majority from Uttor Prodesh, that means you are defining Bangladeshi Biharis as Mujahir. If so then most of the Power was belongs to them including Muhammad Ali Jinnah, Liyakot Ali Khan etc. 
    But I don’t think Mujahirs are considered as Biharis in Bangladesh, because there were many People migrated in Bangladesh during the period of partition, including many non Bengali speakers such as Ashamese Muslim. But I didn’t hard, they considered as Biharis in Bangladesh. So it is clear that not all Mujahir are Biharis but some are. And what is the reason ? I think, Mujahir who mixed with Bengali People are not considered as Biharis, but who(Urdu Speakiers) didn’t mix with us in the name of Urdu language or racial supremacy or other social cultural reason , they considered as Biharis. Even I know one family who from Original Bihar but considered as Bengali(as they mixed) and they didn’t have any issue regarding Biharis or not, and they have good business as well as Bangladeshi citizenship.

  13. 17
    ফোরকান

    Mr Hasan, I wanted to mean the post war period. Had Pakistan won the war, they would have had a negative view to the Bengalis on the sense that they rebelled against the Pakistan govt. so, the Pakistan govt would have a little faith in the Bangladeshis. Hence, Bangladeshis might be feared to place in the important positions of the state. I read a book written by Ayub Khan where he said that the Bengali people’s behavior as well as all culture is like the ‘HINDUS’ that means the Pakistanis thought us ‘number two Muslims (not full muslims). There is no doubt that the Pakistani govnt believed the Biharis more than the Bengalis.
     Thank u for ur good comment.
     

  14. 16
    hassan

    Mr. Furqan , No it’s not true, Had pakistan won 1971 war biharis would not have been beneficial at all in a broad sense. The benefit should have gone to those bengalis who were pro pakistani at that time. The united pakistan had at least 4 bengali head of state like nazimuddin, mohammad ali bogra, suharwardy and iskandar mirza. head of state apart biharis did not have any opportunity to become even a minister in the united pakistan era. Biharis did not have any role or influence over Pakstani government during the period 1947-1971 at all. 

  15. 15
    আবদুস সামাদ

     মহী ভাই, আপনার একটু ভুল হচ্ছে। ওরা সরাসরি বিহার থেকে আসেনি। ৪ নং কমেন্টে আমি সঠিকটি লিখেছি। কারণ আমিও এদের মত হয়েই হিন্দুদের জোর জুলুম এড়াতে আমার ভাগেই আশ্রয় নিয়ে ছিলাম। তফাত শুধু আমি বংলা ভাষাভাষী।নয়তো আমারও অবস্থা ওদের মত হত। নবী যেমন বাধ্য হয়ে মক্কা ছেড়ে ছিলেন তেমনি ওরা এবং আমিও ভারত ছেড়ে ছিলাম। ওখানে এখনও আমার পৈত্রীক বাড়িটি এনিমি প্রোপাটির কাঁধে চেপে আমাদেরই সামনে হিন্দু মালিকানায় চলে গেছে। আমার আব্বার স্কুল ও খেলার সাথীরাই তার বুকে ছুরী ধরে দেশ ছাড়া করেছিল। আমি তখন অনেক ছোট। এখনও ওদেশে বেড়াতে গেলে পাঁচিল ঘেরা বাড়িটা বাইরে থেকে দেখে আসি।

  16. 14
    ফোরকান

    ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তান জিতলে কিন্তু আবার তারাই সবচেয়ে লাভবান হত। ইতিহাস লেখা হত অন্য রকম। মজার ব্যাপার হচ্ছে নাস্তিকরা এত মানবতাবাদের কথা বলে কিন্তু বিহারীদের দু’চোখেও দেখতে পারে না। তারা নাকি বিহারীদের এই দুরবস্থা দেখে মজা পায়। আমার পরিচিত এক মুক্তমনা বলে  “বিহারীদের দোকান থেকেও নাকি তিনি কিছু কেনেন না।’

  17. 13
    মহিউদ্দিন

    আমি মনে করি বিহারীরা ভুল করেছে ১৯৪৭ সালে বিহার থেকে পাকিস্থানের মোহে বিহার ছেড়ে পুর্ব পাকিস্থানে চলে আসা্।

  18. 12
    আবদুস সামাদ

    Dear mr. Hassan,  you are right. Most of them were urdu speaker and urdu is like hindi so every body called behari.Most of them are SUNNI. Tazia,Matam of Muharrem started from India before partition.Once our OLAMAS noted that there young were going to perticipet Dewali,Kalipuja with Hindus,So they insisted young to selebrate Shabe Barat and Muharram widely. Day by day that spreaded by Thousad branches.In my child hood I saw in India even Bangali Muslim used to join them. In my village(India ,West bengal) ImamBara,called “Darga”.In 1957 Tabligue Jamat came there and everythig changed.But Biharis are steel there.

  19. 11
    এম ইউ আমান

    Dear Mr. Hassan: Thanks for participating in this discussion. Please clarify any other prevalent misconceptions about Biharis (non-Bengalis). We are delighted to see you among us taking part in the discussion.  

  20. 10
    hassan

    I am a bihari and currently living in karachi. this article is thought provoking but there are many misconception about biharis, like majority of biharis follow sunni religion and not shia. in east pakistan peoples migrated from all over india to bangladesh like punjab, gujarat, rajsthan, up, cp, hyderabad,madra,kashmir,bombay,frontier, delhi and west bengal. In bangladesh all of them are called biharis for some unknown reason. Majority of peoples migrated into bangladesh were from UP province not bihar. in bangladesh even people from west bengal like suharwardy, munni begum , iskandar mirza …etc. could be called biharis as their native language was urdu not bengali though they had been living in west bengal for more than 10 generations.

    1. 10.1
      ফোরকান

      Dear Hassan, we are delighted to see you in Shodalap, Welcome! Most of the biharis ,specially the new generations, are also unknown of their origin from where they came from. Almost all Bangladeshi peaple think the non-bengalis as Biharis. You are right that these people not only came from  the Bihar province. Basically there is huge communication gap b2n Bengali and the Bihari people that makes the people of this country think in a common way.
      Thank U once again for joining to the discussion.

  21. 9
    ফোরকান

    ধর্মীয় দিক থেকে আমার কাছে বিহারীদের যেন কেমন মনে হয়। মহররম মাসে যুবকেরা এক ওয়াক্ত নামাজ পড়ে না কিন্তু গায়ে বিভিন্ন রঙের দড়ি, ঘন্টা ইত্যাদি লাগিয়ে খালি পায়ে সাত দিন মিছিল করে। বিপুল টাকা খরচ করে ‘খাজা বাবা’ নামে ইমারত তৈরী করে। আবার রাস্তায় তার জন্য চাঁদা তোলে। আলহামদুলিল্লাহ বাঙ্গালিদের সাথে মিশে এদের এখন কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আশুরা বা মুহররমের সময়ে তাদের তো সবাই দেখেঃ
    [img]http://www.shodalap.org/wp-content/uploads/2011/12/muh.jpg[/img]

    1. 9.1
      সাদাত

      এগুলো তো শিয়া কালচার। তাহলে বেশির ভাগ বিহারি কি শিয়া?

      1. 9.1.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        @সাদাত: I have no idea about Bihari, are they shia or not, but I have seen many Bangladeshi Sunni who follow Ashura and Mahram by making MUKAM and Panjaton. You will be amaized that no one of Hussni Dalan members are shia, But Tajia Michil start from Hussni Manjil or Dalan…

  22. 8
    জব্বার খান

    আটকে পড়া বিহারীদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। সত্যিই করুন অবস্থা, সবকিছু মানবিক দৃষ্টিকোন দেখার আহ্বান জানাচ্ছি । তবে বোধহয় অখন্ড পাকিস্তান থাকাবস্থায় বাঙ্গালীদের সাথে বিহারীদের আচরন সঠিক ছিলোনা। সাদাত ভাইয়ের মতো আমিও আমার পিতার কাছ থেকে বিহারীদের সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক কথা শুনেছি (তিনি এম,এ,জি ওসমানী সাহেবের একজন ভক্ত হিসাবে তার দল করতেন এবং সেই দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ন পদে ছিলেন এবং সংসদ নির্বাচনেও জাতীয় জনতা পার্টির ব্যানারে অংশগ্রহন করেছিলেন)।

  23. 7
    সাদাত

    অত্যাচারীদের পরিণতি আসলে ভালো হয় না। বড়দের কাছে শুনেছি আগে ট্রেনে কোন বিহারি উঠলে ‘হট যাও’ বলে বাঙ্গালিদের সিট থেকে উঠিয়ে দিয়ে নিজেরা শুয়ে শুয়ে যেত। তবে আমি চাই না, আমাদের নামও অত্যাচারীর খাতায় উঠুক।

  24. 6
    আবদুস সামাদ

    বয়ষ্কদের ব্যাপারটা আমি বলেছি, তারা নিজের অংশে মুসলীম হয়ে বাঁচার জন্যেই এসেছিল। যারা তাদের দেশছাড়া স্বজন হারা করেছিল তাদরই মাতবরিতে না গিয়ে তারা পাকিস্তানেই যেতে চেয়েছিল। একদিকে এটা তাদের অধিকার আবার অন্যদিকে অন্যায়। এদেশের সাথে মিশে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু যাদের জন্ম বাংলা দেশে তাদেরও আমরা ঘৃনার চোখে দেখে থাকি। আওয়ামী সরকার বাদিলেও অন্য সরকারও এদের ভাল চোখে দেখেনি। কিন্তু এরা পরিশ্রমী জাতী। কিছুনা কিছু করে ৪০ বছর টিকে আছে। এরা শ্রমিক শ্রেনী ভদ্র পাকিস্তান এদের নেবেনা।এরা কোনদিন ভারতেও ফিরে যাবেনা। মজার ব্যাপার এবার খুলনা খালিশ পুরের বিহারী দের ভোটার করা হয়েছে এবং অনেকেই আঃ লীগকে ভোট দিয়েছে।

    1. 6.1
      ফোরকান

      মিরপুরেও এরা প্রথম ভোটার হয়েছে এই ২০০৮ সালের নির্বাচনে এবং এরাও আওয়ামিলিগকে ভোট দিয়েছে।

  25. 5
    এম ইউ আমান

    ডন পত্রিকার একটি লেখায় একজন পাকিস্তানি লেখক লিখেছিলেন- বাংলা ভাবার্থঃ স্মৃতি বড় কষ্টের, হে সৃষ্টিকর্তা, আমার উপর থেকে, কোন কিছু মনে রাখার, তোমার এই রহমত তুলে নাও।” -এ কথাগুলি তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে স্ট্রান্ডেড পাকিস্তানিদের সম্পর্কে। তাঁর আর্গুমেন্ট ছিল, আরেকটি দেশে (বাংলাদেশে) এত বছর থেকেও যারা পাকিস্তানকে তাদের নিজের দেশ মনে করে, তাদেরকে অবিলম্বে পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়া হোক। এটি পড়েছিলাম, প্রায় ৬ বছর আগে।
    পাকিস্তান বিহারীদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কখনো আন্তরিক ছিলোনা, এখনো নয়। এই মানুষগুলি পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে দেখতে ক্লান্ত। তারা বুঝতে পারছেনা, পাকিস্তান দুধ, মধুর দেশ হলেও তাদের ভাগ্য পরিবর্তন তাদেরকেই করতে হবে। ভাগ্যাহত এ জনগোষ্ঠীর আরো কিছু সময় দরকার শুধু এটুকু বুঝতে যে, পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির জন্ম কিছু স্বপ্ন থেকে হলেও, যেকোন সুন্দর স্বপ্নকে লন্ডভন্ড করতে এই রাষ্ট্রটির জুড়ি মেলা ভার।
    বাংলাদেশ বিহারীদের কাছ থেকে কিছু ধন্যবাদ পেতে পারে। ম্যাক্র সেন্সে এই দেশটি দরিদ্র বলেই কিনা জানিনা, কখনো দরিদ্রদের সেভাবে ঠেলে ফেলে দিতে পারেনি। তা বার্মার রোহিঙ্গারা হোক বা পাকিস্তানের সাথে একাত্মতা পোষণকারী বিহারীরা হোক।
    বয়স্ক বিহারী যারা আছেন, তাদেরতো এতদিনে মোহ মুক্তি হওয়ার কথা। আজকে যে সন্তানটি এক বিহারী মায়ের কোলে এলো, সেই বৃদ্ধ, সেই নতুন মা সন্তানটিকে স্পষ্ট করে বলুক, তোমার ভাষা উর্দু হতে পারে, কিন্তু তুমি বাংলাদেশি। এই দেশে তুমি জন্মেছো, তুমি না চাইলে তোমাকে আর কোথাও যেতে হবেনা।

    1. 5.1
      ফোরকান

      চমৎকার তথ্যপূর্ন মন্তব্য আমান ভাই।http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif

      1. 5.1.1
        Anonymous

        দারুণ বলছেন

         

  26. 4
    আবদুস সামাদ

    পশ্চিম বঙ্গের কলকাতা থেকে শুরুকরে মোটামুটি নৈহাটি পর্যন্ত ভাগিরথী বা আঞ্চলিক নাম গঙ্গা নদীর উভয় পাশে, বৃটিশ সরকার বহু জুটমিল সহ অন্যান্ন মিল ফ্যাক্টরি তৈরী করে। বাঙ্গালীরা চিরকালই বাবু। তাই এগুলোকে সচল রাখতে বিহারীরা তাদের প্রদেশ বিহার ছেড়ে ঐ অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে। এরা অত্যন্ত গরীব সম্প্রদায় হতে আগত। তার মধ্যে হিন্দু ও মুসলীম উভয় জাতীই ছিল। এবং তারা পাশাপাশিই বাস করত এবং সুখেই ছিল।১৯৪৭ সালে যখন আমাদের নেতাগন বৃটিশের কাছে মুসলীম অধ্যুসিত অঞ্চলে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন দেখলেন(আমি এ স্বপনকে সাধুবাদ জানাই) তার পরের ঘটনা আপারা অনেকেই জানেন। এও জানেন জিন্না সাহেব নন আমাদের হক সাহেব পূর্ব বাংলাকে সংযুক্ত করে কিলেন।(তাঁকেও ধন্যবাদ দেই) সেই মতই ভাগ হল। আর বিপর্যয় নেমে আসলো ঐ বেচারা(প্রবাসী) বিহারীদের উপর। কেননা এরা উড়ে এসে জুড়ে বসে মিল ফ্যাক্টরী গুলোয় আধিপত্ত বিস্তার করেছিল। কেউ মানুক আর না মানুক এরা অত্যন্ত ট্যালেন্ট।১৯৫০ সালে মুসলীম খেদানো দাঙ্গা শুরু হল। বলা হল তোমাদের দেশ এখন বিহারও নয়, পাকিস্তান।অতএব বাঁচতে চাইলে কেটেপড়। নিজের দেশ কে ছাড়তে চায়। লক্ষ্য লক্ষ্য মুসলীম জীবন দিল, ভিটেমাটি ছাড়া হল।।বাধ্য হয়ে কিছু লোক নিচটস্থথ পাকিস্তান,পূর্ব পাকিস্তানে চলে এল। মূলত তাদেরই পূনর্বাসনের জন্য খুলনা অঞ্চলে জুটমিল গুলো তৈরীহল। ক্রমে বড় বড় পদ গুলো তারাই দখলে নিল। এখনও বাংলাদেশ রেলওয়ের অনেক টেকনিশিয়ান বিহারী। এককথায় তারা নিজেদের ভাগে যে দেশ পেল তাতেই বাপ দাদার ভিটে কবর ফেলে এ দেশটাকেই নিজের করে দেখতে শুরু করল। এই দেখাদেখিতে তারা বেশ বাড়া বাড়িও করতে লাগল। কারণ এই অঞ্চলের মুসলমান গুলোকে তারা হিন্দুদের মতই মনে করত। ভারতের হিন্দুদের অত্যাচারেই তারা দেশ ছেড়ে বৃটিশের ভাগ করা নিজেদের ভাগে এসেছিল। সেই দুঃখ সেই সঙ্গে দাঙ্গয় স্বজন হারানোর দুঃখ ভোলার আগেই শুরু হল স্বাধীনতার যুদ্ধ। যাতে সেই শত্রুই আবার সাহায্য কারী। তাই তারা ভবিষ্যত হয়তো চোখের সামনে দেখতে পেয়েছিল; সেই দড়ি সেই বাবলা গাছ। আর তাই তারা নিজের দেশ বাঁচাতে যদি মুক্তযুদ্ধে না গিয়ে থাকে তবে আমি তাদের দোষ দিইনা। বরং তাদের সবারই রাজাকার হওয়ার দরকার ছিল। আমার একথায় অনেকে আমার উপর গরম হতে পারেন। যারা আমার বিপক্ষে বলবেন তারাকি পারবেন আমার বাপের পৈতীক ভিটা যা ছিল এক উপ শহরে, পাঁচিল ঘেরা আম পিয়ারার গাছ সহ দালান বাড়ী ও পাশের মাঠের ধান জমি, আমার বড় ভাইয়েই চাকরী, ফিরিয়ে দিতে? পারবেন আমার আব্বার যে হিন্দু বন্ধু, সহ পাঠী, খেলার সাথী, তার বুকে ছুরী ঠেকিয়ে বাড়ী ছাড়া করেছিল, তার বিচার করতে? পারবেন না। আমি বা আমার মত ভুক্তভুগী কেউ যদি থাকেন তিনি বুঝবেন। ধন্যবাদ। আমি কিন্তু বিহারী নই, বাঙ্গালী মুসলীমা।

    1. 4.1
      শামস

      @আবদুস সামাদ:
      সামাদ ভাই, অনেক কিছুই জানতাম না, তবে আপনার কথায় যুক্তি আছে। তাদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছিল, তারাও অন্যায়কারীদের সহায়ক হয়েছিল। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে, যার ফলস্বরূপ আজ তাদের আবার মানবেতর জীবণ!

    2. 4.2
      ফোরকান

      সামাদ ভাইয়ের সাথে একমত। সুন্দর মন্তব্যটির জন্য ধন্যবাদ। আমি কয়েকজন বিহারির সাথে কথা বলেছি যাদের অনেক আত্মীয় সজন যুদ্ধের পর মুক্তি যোদ্ধারদের হাতে  নিহীত হয়েছিলেন। ১৬ ই ডিসেম্বর ঠিক বিহারী পল্লীতেই এবার মুক্তিযুদ্ধের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় তাতে ‘গেরিলা’ ছবি ও স্বাধীনতার উপর কয়েকটি ডকুমেন্টারি পর্দায় প্রদর্শন করা হয়। সেখানে বিপুল সংখ্যক বিহারী উপস্থিত ছিল। ছবিতে পাক বাহিনীর উপর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনের দৃশ্যে পাবলিক রিএকশন ছিল দারূনভাবে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের বিহারীদের মধ্যে। এরা অত্যন্ত নিম্ন জীবন যাপন করার কারনে স্বাথ্য সেবা পায় না যার জন্য একটি বিহারী পরিবারে ১০-১১ অথবা তার চেয়েও বেশি সদস্য সংখ্যা। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় এই অঞ্চলে বিহারীদের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে দেখা দেবে মানবিক বিপর্যয়। আমি মনে করি সময় থাকতেই সরকারের উচিত এই বিষয়গুলোর উপর নজর দেয়া। আবার দেখা গেছে বিপুল পরিমান জায়গায় বিহারীরা থাকছে বিনা পয়সায়, বিদ্যুৎ বিল দেয় না, গ্যাস সংযোগ নাই যার জন্য বেশিরভাগ বিহারি বাড়িতে ‘হিটার’ চলে যা প্রচুর বিদ্যুৎ টানে। সকাল বেলায় পানির জন্য এদেরকে এভাবে যুদ্ধ করতে হয়ঃ
       
      [img]http://www.shodalap.org/wp-content/uploads/2011/12/hggg.jpg[/img]

  27. 3
    শামস

    তারা দেশভাগের পর ভারত থেকে আসা ভাসমান মানুষ। মুক্তিযুদ্ধে তারা পাকিস্তানকে সমর্থন করাটাই স্বাভাবিক। তাদেরকে ব্যবহার করাও পাকিস্তানীদের জন্য খুব সহজ ছিল।
    বিহারীদের অবস্থা খুবই করুণ। কিছু না পেলেতো নিন্মশ্রেণীর কাজ করবেই।
    এতদিনেও তাদের ভুল বোঝার কথা। সরকার তাদের ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে যেমন তাদের মঙ্গল তেমনি আমাদেরও।
     

    1. 3.1
      ফোরকান

      শামস@

      এতদিনেও তাদের ভুল বোঝার কথা। সরকার তাদের ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে যেমন তাদের মঙ্গল তেমনি আমাদেরও। 

      সহমত পোষণ করছি। আমাদের মনে রাখতে হবে এদের নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা না থাকলে এরা মারাত্বক অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়বে। বিহারী সম্প্রদায়ের রক্ত ঠিক পাকিস্তানীদের মত গরম, এরা কিছু হলেই দলবল নিয়ে এগিয়ে আসে। সংখ্যায় কম হলেও এরা খুবই বিপজ্জনক। আশুরার সময় পুর এক সপ্তাহ মেইন রাস্তা ব্লক করে ‘হায় হোসেন নামে বিশাল মিছিল করে যা তীব্র জানজটের সৃষ্টি করে কিন্তু পুলিশ কিছু বলতে পারে না।

      1. 3.1.1
        শামস

        @ফোরকান:
        বিহারীরা তাইলে শিয়া মতধারার! শিয়ারাতো পাকিস্তানে প্রতিহিংসার শিকার মনে হয়। পত্রিকায় মাঝে মাঝে তাদের উপর আক্রমণের খবর আসে।
        হ্যা এটা ঠিক, অবহেলিত জনগোষ্ঠী অনেক সময়ই ক্ষতির কারণ হয়।

        1. 3.1.1.1
          ফোরকান

          শিয়ারাই সাধারনত আশুরা পালন করে থাকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে বিহারীরা আশুরা পালন করে ঠিকই কিন্তু এদের বেশির ভাগই শিয়া আর সুন্নি সম্পর্কে ধারনা নাই। আশুরার ব্যাপারে তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা কেবল বলে ইমাম হোসেনের কারবালার কথা আর শোক প্রকাশ করে। মনে হয় পাকিস্তান সরকারও এদের পরিপুর্ন শিয়া ভেবেই ফেরত নেয় না। কিন্তু এদের ৮০% ই জানে না যে তারা ধর্মিয় আচারে শিয়া মতবাদি। হতে পারে অশিক্ষার জন্য।

  28. 2
    সরোয়ার

    লেখাটা পড়ে কষ্ট পেলাম। মাথার খুলির পরিচয় কখনোই জানা যাবে না।

    1. 2.1
      ফোরকান

      সারোয়ার@ স্বজনদের উপস্থিতিতে যখন হাড়্গুলো তোলা হয় সেই দৃশ্য ছিল হৃদয় বিদারক। ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

  29. 1
    সত্তুক

     হুম ভাই, ঠিক বলেছেন হয়তো। কিন্তু যেদিন দেখি বাংলাদেশ পাকিস্তান খেলায় তারা পাকিস্তানের পতাকা উরায়া সাপোর্ট করে, মাথায় রক্ত উঠে যায়।
    যাক সে কথা, অভাগা জাতি আমরা, এখন বিহারি লাগে না, ছাগু ছাগি পাল এবার স্টেডিয়ামে যা করছে, আমি বিহারিদের মাফ করে দিছি।
    http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_sad.gif রাগের ইমো দুঃখের ইমো কই এডিটর সাব। আমার খুব রাগ লাগতেছে, ইমো দিলে রাগটা ঠিক মত প্রকাশ করতে পারতাম।

    1. 1.1
      ফোরকান

      সত্তুক ভাই, আমিও এক সময় বিহারীদের তীব্র ঘৃণা করতাম। জন্ম থেকেই এদেরকে দেখছি। এই এলাকায় মাঝেমাঝেই বিহারী আর বাঙ্গালীদের মধ্যে দাঙ্গা লাগতো। কিন্তু এখন আর লাগে না। আর আমাদের মধ্যে অনেকেই জানি না যে, এই বিহারীদের মধ্যে প্রায় ২০% এর মত আছে যারা পাকিস্তানী। এই পাকিস্তানীরা বিহারীদের সাথে এমনভাবে মিশে আছে যে, কোনটা বিহারী আর কোনটা পাকিস্তানী ঠাহর করা মুশকিল। ভাষাগতভাবে বিহারী আর উর্দুর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে। বিহারীদের মধ্যেও কিছু মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আরেকটি তথ্য, বিহারীদের মধ্যে দুটি ভাগ আছে যাদের এক পক্ষ চায় পাকিস্তান যেতে, আরেক পক্ষ চায় বাংলাদেশে থেকে এর অর্থনীতিতে অবদান রাখতে।
      আমি জানি এই পোষ্টের শহীদের কঙ্কাল দেখে অনেকেই বিহারীদের উপর আরো ক্ষেপে যাবেন।
       

      1. 1.1.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        @ফোরকান:

        এই ভিডিও টা দেখুন :

        1. 1.1.1.1
          ফোরকান

           ধন্যবাদ লিংকটি দেয়ার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.