«

»

Mar ২৯

পুরোনো একটি প্রশ্ন ও তার পুরোনো উত্তর

‘ইসলামে’ ‘রাজনীতি’র অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন অনেক পুরোনো একটি ব্যাপার। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অংগনের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আবারো সেই পুরোনো প্রশ্নকে নতুন করে অবতারনা হতে দেখা যাচ্ছে কখনো কখনো। ‘ইসলাম’ আসলেই ‘রাজনীতি’কে বৈধতা দেয় কিনা? অথবা ইসলামের রাজনৈতিক সীমানা কতটুকু? ইসলামের আলোকে রাজনীতির বিধান কিরুপ? বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকে ইসলামের পরিপূর্ণ বিধান অনুসারে কিভাবে রাজনীতিতে ভূমিকা রাখা যেতে পারে? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর আরো একবার দেখে নেয়া হঠাৎ করেই কেন যেন জরুরী বলে মনে হচ্ছে। কেননা সদালাপের একটা পোস্টের একটা কমেন্টে (নির্দিষ্ট করে বলতে চাইছি না) এরকম কিছু কথা পেলাম যে, “ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আচারের ব্যাপার। এটাকে কোনভাবেই রাজনীতিতে টেনে আনা উচিত নয়”। এখানে ঢালাওভাবে অন্যান্য ধর্মের সাথে ‘ইসলাম’কে একই কাতারে দাঁড় করিয়ে রাজনীতি থেকে বিতাড়ণের প্রচেষ্টা লক্ষ্যনীয়, যা মোটেও নতুন কোন ব্যাপার নয়। তবে ইসলামের রাজনৈতিক দৃষ্টিভংগী নিয়ে এধরণের বিভ্রান্তির পেছনে কয়েকটি কারণকে অবশ্যই সামনে রাখতে হবে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে-

১) খোলাফায়ে রাশেদার পর ইসলামী খেলাফত ব্যবস্থার মূল নীতিমালা থেকে ক্রমবিচ্যুতি (মাঝে হযরত উমার ইবনে আব্দুল আযীয রহ. এর খেলাফতকাল ব্যতিত)।

২) ইউরোপে খ্রিষ্টীয় ধর্মযাজকদের নিজেদের করতলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার নিমিত্তে নিজেদের মনমত বাইবেলের বিকৃতি ও ব্যাখ্যা প্রদান এবং ক্রমান্বয়ে তা জনগণের উপর শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার শুরু করা হলে, জনরোষ ফুঁসে ওঠে এবং ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টান ধর্মকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে বিতাড়িত করা হয়। রাজনীতিতে ‘ধর্মনিরপেক্ষতাবাদে’র উত্থান ঘটে এর মাধ্যমে, যা গণতান্ত্রিক ও কমুনিস্ট রাজনীতির অন্যতম মূলমন্ত্র। দীর্ঘ ব্রিটিশ শাসন ও তাদের বিদায়লগ্নে তাদের রেখে যাওয়া ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী শিক্ষাব্যবস্থা এ উপমহাদেশের মানুষদের, বিশেষত আধুনিক শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিতদের মানসপটেও ধর্মের রাজনৈতিক নেতিবাচক অবদানটাই সবসময় মনে করিয়ে দেয়। আর নেতিবাচক অবদান মনে না করালেও অন্তত এতটুকু ধারণা প্রতিষ্ঠিত করে যে, রাজনীতিতে ধর্মের কোন ভূমিকা থাকা উচিত নয়।

৩) ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের সময় মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার ব্যাপারে যে বিপুল আশা-আকাংখা তৈরি হয়েছিল, মুসলিম নেতৃবৃন্দের যথেষ্ট সদিচ্ছার অভাব এবং জনগণের সেন্টিমেন্টকে ক্ষমতায় আরোহন ও টিকে থাকার নিমিত্তে অপব্যবহারের ফলে সে আশা-আকাংখা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। ফলে নেতৃত্বের প্রতি একটা অনাস্থা তৈরি হয়েছিল। উপমহাদেশের ইসলামী রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি এই সন্দেহপ্রবনতা ও অনাস্থা জনমনে এখনো একই রূপে বিদ্যমান।

৪) বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠনসমূহের বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষেত্রবিশেষে ইসলামী নীতিবিরুদ্ধ আচরণ-কর্মসূচী, দূরদৃষ্টিবর্জিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহ, চরমপন্থা ইত্যাদির কারণে প্রথমত সেসকল সংগঠনের প্রতি অনাস্থা ও অবিশ্বাস তৈরি হওয়া এবং পরিশেষে সেই অনাস্থা-অবিশ্বাস ‘ইসলামে’র দিকে ধাবিত হওয়া।

‘রাজনীতি’ তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে অনেক সময় পরিক্রমার মধ্য দিয়ে এবং অনেক চর্চার মধ্য দিয়ে এসে বর্তমান রূপ লাভ করেছে। সে আলোচনা অনেক সময়সাপেক্ষ হতে পারে, তাই তা এড়িয়ে মূল আধুনিক সংগায়নে যদি আমরা যাই- সেক্ষেত্রে

Merriam-Webster অনলাইন ডিকশনারী অনুসারে politics বা রাজনীতিকে নিম্নোক্তভাবে সংগায়িত করা যায়ঃ

a : the art or science of government (সরকার বিজ্ঞান)

b : the art or science concerned with guiding or influencing governmental policy (সেই বিজ্ঞান যা, সরকারের নীতিসমূহকে নির্দেশনা দান ও প্রভাবিত করার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।)

c : the art or science concerned with winning and holding control over a government (সেই বিজ্ঞান যা, সরকারের উপর বিজয়ী হওয়া ও নিয়ন্ত্রন বজায় রাখার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করে।)

অন্যদিকে Oxford অনলাইন ডিকশনারী অনুসারে-

the activities associated with the governance of a country or area, especially the debate between parties having power (একটি দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা সংক্রান্ত কার্যক্রম; বিশেষত রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যকার বিতর্ক)।

[গুগল ট্রান্সলেটর টাইপের অনুবাদের জন্য দুঃখিত]

অর্থাৎ একটি রাষ্ট্র বা দেশকে পরিচালনা করার সর্বোচ্চ যে প্রতিষ্ঠান ‘সরকার’, সেই ‘সরকার’ গঠন হওয়া, টিকিয়ে রাখা থেকে শুরু করে শাসনকার্য পরিচালনা করা পর্যন্ত যাবতীয় বিষয়ে নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহন করাই রাজনীতির মূল লক্ষ্য।  

এপর্যায়ে আমি আমার আলোচনাকে সীমাবদ্ধ করতে চাই শুধু দু’টি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্যে দিয়ে, আর তা হলোঃ ১) ইসলাম রাজনীতিকে সমর্থন করে কিনা? ২) যদি করেই থাকে, তবে সেই রাজনীতির সরূপ কি?

আল্লাহ রব্বুল আ’লামিন মুমিনদের সম্পর্কে বলেন, “আমি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করলে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত দিবে এবং সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করবে; সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে”। (২২ সুরা হজ্জঃ ৪১)

ক্ষমতা বা খিলাফত দান প্রসংগে আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎ কর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেনই, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য সুদৃঢ় করবেন তাদের দ্বীনকে যা তিনি তাদের জন্যে মনোনীত করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দান করবেন; তারা আমার ইবাদাত করবে, আমার কোন শরীক করবে না, অতঃপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে তারা তো সত্যত্যাগী”। (২৪ সুরা নূরঃ ৫৫)

জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে অন্যসকল জীবনব্যবস্থার উপর প্রধান্য দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তিনিই তাঁর রাসুল (সাঃ) কে প্রেরণ করেছেন হিদায়াত এবং সত্য দ্বীনসহ সকল দ্বীনের উপর ওকে শ্রেষ্ঠত্ব দানের জন্যে, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে”। (৬১ সুরা আস-সফঃ ৯)

আল্লাহর দেয়া বিধানানুযায়ী জনগণকে পরিচালনা করার ব্যাপারে কোর’আনে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি সত্যসহ গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি যেন তুমি তদানুযায়ী মানবদেরকে আদেশ প্রদান কর-যা আল্লাহ তোমাকে শিক্ষা দান করেছেন এবং তুমি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষে বিতর্ককারী হয়ো না”। (৪ সুরা নিসাঃ ১০৫)

আল্লাহ তায়ালা এ ব্যাপারে আরো বলেছেন, “আর আমি নির্দেশ দিচ্ছি যে তুমি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারে এ প্রেরিত কিতাব অনুযায়ী মীমাংসা করবে এবং তাদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী কাজ করবে না এবং তাদের দিক থেকে সতর্ক থাকবে যেন তারা তোমাকে আল্লাহর প্রেরিত কোন নির্দেশ হতে বিভ্রান্ত করতে না পারে; অনন্তর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে দৃঢ় বিশ্বাস রেখো, আল্লাহর ইচ্ছা এটাই যে, তাদেরকে কোন কোন পাপের দরুন শাস্তি প্রদান করবেন; আর বহু লোক তো নফরমান হয়ে থাকে”। (৫ সুরা মায়িদাহঃ ৪৯)

উপরের আয়াতগুলো প্রমান করছে যে, রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ কাঠামো বা প্রতিষ্ঠান তথা ‘সরকার ব্যবস্থা’ গঠন ও পরিচালনার ব্যাপারে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। রাষ্ট্রব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের জনগণকে পরিচালনা করার জন্য আল্লাহ রব্বুল আলামিন যে সকল বিধান কোর’আনের মাধ্যমে অবতীর্ণ করেছেন, ইসলামী রাজনীতির ইপ্সিত লক্ষ্যই সেসকল বিধানের বাস্তবায়ন করা। আর ইসলাম মানুষের জীবনকে পরিপূর্ণভাবে গাইড করতে চেয়েছে পরকালীন জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে সহজ করে দেবার জন্য। মানুষের জীবনকে সবদিক থেকে পুনর্বিন্যস্ত করে পবিত্র ও সুশোভিত করাই ইসলামের উদ্দেশ্য।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “আমি তোমাদের মধ্য হতে এরূপ রাসুল প্রেরণ করেছি যে তোমাদের নিকট আমার নিদর্শনাবলী পাঠ করে ও তোমাদেরকে পবিত্র করে এবং তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয় আর তোমরা যা অবগত ছিলে না তা শিক্ষা দান করে”। (২ সুরা বাকারাহঃ ১৫১)

তিনি আরো বলেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ আদল, ইহসান ও আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি নিষেধ করেন অশ্লীলতা, অসৎকার্য ও সীমালংঘন; তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহন কর”। (১৬ সুরা নাহলঃ ৯০)

 

রাসুল (সাঃ) ওহীপ্রাপ্ত হয়ে ইসলামের যে দাওয়াতের কার্যক্রম মক্কায় শুরু করেছিলেন, তার প্রথম আহবানই ছিল “আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই”। একথার মাধ্যমে প্রচলিত সকল দেব-দেবীকে অস্বীকার করা হলো। কিন্তু এই আহবানের মধ্যেই মক্কার শাসকগোষ্ঠী ইসলামের রাজনৈতিক শক্তিকে যেন প্রত্যক্ষ করেছিলো। আর একারণেই তারা ইসলামকে প্রতিরোধের জন্য রাজনৈতিক পথ ও শক্তিকেই ব্যবহার করেছিলো। ইসলাম গ্রহনকারীদের শারিরীক-মানসিকভাবে নির্যাতন, ইসলামের দাওয়াত বন্ধের শর্তে রাসুল (সাঃ)কে মক্কার শাসক/বাদশাহ হওয়ার প্রস্তাব, মুসলিমদের প্রতি অবরোধ আরোপ এবং পরিশেষে রাসুল (সাঃ) কে হত্যার ব্যর্থ পরিকল্পনা ও সমস্ত মুসলিমদের দেশ থেকে বিতাড়ণ—এসবই ছিলো ইসলামের আহবানকে বন্ধের রাজনৈতিক পদক্ষেপ। আর আল্লাহর নির্দেশ (ওহী) অনুসারেই রাসুল (সাঃ) ইসলামকে নিয়ে অগ্রসর হয়েছেন। মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌছিয়ে দিয়ে তাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ ও সুবিন্যস্ত করার কাজই ছিলো তাঁর জীবনের মিশন। প্রয়োজনে তাঁকে যুদ্ধ করতে হয়েছে, সন্ধি করতে হয়েছে এমনকি শাসক হয়ে পুরো ইসলামী খিলাফতকে পরিচালিতও করতে হয়েছে। রাসুলের (সাঃ) জীবনীকে তাই রাজনীতি বিচ্ছিন্ন কোন জীবনী হিসেবে মূল্যায়িত করার সুযোগ নেই। 

পরিশেষে যা বলতে চাই তা হলো, ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ নিয়ে সমালোচনা করা যেতেই পারে—কিন্তু লক্ষ্য রাখা উচিত অতি সমালোচনামূলক কোন কথা যেন আবার প্রকারান্তরে সেইসব সংগঠনগুলোর গন্ডী পেরিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে চলে না যায়। নিজেদের অসতর্কতার কারণে যদি আমরা ইসলাম বিদ্বেষীদের ক্রীড়নকে পরিনত হয়ে যাই, তবে এর চেয়ে বড় বোকামী আর কিই বা হতে পারে?

১৮ comments

Skip to comment form

  1. 5
    এম_আহমদ

     
    এখানে এই লেখার আলোকে সবাই পজিটিভ কথা বলাতে যে সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তা সাদাত ভায়ের কথায় এভাবে এসেছে, ‘কোন মুসলিমের জন্য কুরআন-সুন্নাহর পরিবর্তে অন্য কোন মানব-মস্তিষ্কপ্রসূত মতবাদে বিশ্বাসী হবার সুযোগ নাই।’ তাৎপর্যের দিক দিয়ে এই কথা ঐক্যের ভিত্তি। আমরা সবাই ইসলামী শাসনতন্ত্র চাই। কিন্তু এই কাজটিই করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে কয়েকটি দল হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে নানান পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা এই মূল নীতিতে ঐক্যবদ্ধ।
     
    কিন্তু এই মূলনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠে-ময়দানে গিয়ে তারা ও ইসলামী শাসন-ব্যবস্থা চায়-না এমন লোকদের মধ্যে যে সংঘর্ষ হচ্ছে –সেই সংঘর্ষের বাস্তবতা বিভিন্ন মতের জন্ম দিচ্ছে। সেই সাংঘর্ষিক স্থানটি ব্যাখ্যা করতে আমি কিছু কথা বলতে যাচ্ছি।
     
    ইসলাম শাসনতন্ত্র প্রণয়নের কথা বললেই তা প্রণয়ন হবে না। আপনি দু-চারজন লোক নিয়ে  তা করতেও পারবেন না। এতে আদর্শগত, ঐতিহাসিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতির কিছু বিষয় রয়েছে। এখানকার রাষ্ট্রযন্ত্র কয়েক শো বছর ধরে একটি অবয়ব প্রতিষ্ঠা করে আছে যার কিছু এই আলোচনা  already এসেছে। ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপীয় সেক্যুলারিষ্ট আদর্শ কলোনিয়্যেল যুগ থেকে আজ পর্যন্ত কায়েম হয়ে আছে। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকতা, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং তৎসংশ্লিষ্ট সংস্কৃতি সেই ভাবধারার লোকজন সেই ব্যাবস্থা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ক্রমশ সেই পরিপ্রক্ষিতের মানসিকতাসম্পন্ন  লোকজন তৈরি হচ্ছে। মূল কথ হচ্ছে এরাই রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা করে।
     
    কিন্তু এরা যখন বলে, ‘এদেশে “সাম্প্রদায়িক” রাজনীতি করতে দেয়া হবে না’, তখন রাগের প্রশ্ন হতে পারে তারা ‘দেয়ার’ মতো কে, আর ‘না-দেয়ার’ মতোই কে? আবার সাম্প্রদায়িক লোকগুলো কারা? অধিকন্তু ‘সাম্প্রদায়িক’ জিনিসটিই কি? শেষের প্রশ্নটি থেকে শুরু করলে দেখবেন, একটি সম্প্রদায় হচ্ছে এমন কিছু লোকের সমষ্টি যাদের বিশেষ ধরণের চিন্তা-‘বিশ্বাস’, মূল্যবোধ, আদর্শ ও জীবন পদ্ধতির ধারনা রয়েছে যেগুলো তাদেরকে সেই ‘সম্প্রদায়-ভুক্ত’ করে। এটা কোন দশ-পাঁচ জন লোক দিয়ে এই সম্প্রদায় গড়ে ওঠে না। এ দৃষ্টিতে সেক্যুরারিজমের প্রবক্তারা আপনাতেই একটি ‘সম্প্রদায়’, তারা সর্বসাধারণকে ধোঁকা দিতেই এসব অপরকে ‘সাম্প্ররায়িক’ বলে থাকে এবং পরোক্ষভাবে মুসলমানদেরকেই অভিষ্ট করে। কিন্তু ধরুন ইসলামী শাসন ব্যবস্থা এবং তাতে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়াদি যদি সেক্যুলার রাষ্ট্র-ব্যবস্থার সাথে আপেক্ষিক তুলনায় যাওয়া যায় তবে বলিষ্ঠভাবে প্রমাণিত হবে যে ইসলামী ব্যবস্থা অধিকতর প্রশস্ত মহৎ ও অধিক কার্যকর। কিন্তু প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার ধ্বজাধারী ‘সম্প্রদায়ে’ ইসলামী ব্যবস্থা অর্বাচীন ও ‘বিদেশী’ হয়েছে পড়ে আছে।
     
    বলেছি, ইসলামী শাসনতন্ত্র মুখ দিয়ে বললেই প্রতিষ্ঠিত হবে না, কেননা ব্যাপকভাবে এর পরিধি হচ্ছে শিক্ষা-ব্যবস্থা, শাসন-ব্যবস্থা, অর্থ-ব্যবস্থা, জাতীয় এবং বৈদেশিক-নীতি নৈতিকতা, সর্বস্তরে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি। কিন্তু আপনার আইন, সামরিক-বাহিনী, নিরাপত্তা-বাহিনী, আপনার আমলা-গোষ্ঠী, জাতীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানাদি ইত্যাদি জুড়ে আছে আছে এমন-সব লোক যারা ইসলামী শাসনতন্ত্র চায় না, অধিকন্তু এটাকে সেকেলে মনে কর; এটাকে আদর্শের প্রতিকূল মনে করে এবং এই আদর্শকে সরিয়ে রাখতে তাদের জীবনও বাজি রাখতে প্রস্তুত, যেভাবে জাহেলী প্রথা ও আদর্শের লোকজন জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল।
     
    আপনি যতক্ষণ পর্যন্ত শাসন ব্যবস্থার ওয়াজ করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আপনাকে সহ্য করবে। তারপর এতিম-মার্কা কোনো দল করলেও অবহেলাভরে অগ্রাহ্য করবে কিন্তু যখনই সেই দল পদ্ধতিগতভাবে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে বলে বুঝতে পারবে, তখন আপনাকে আর মোটেই সহ্য করবে না। আপনাকে ধ্বংস করার জন্য পূর্ব-পশ্চিমের কিতাবাদিতে যত ট্রিকস (কৌশল) আছে, সবগুলো ব্যবহার করবে। আপনি যতই শান্তিকামী হোন না কেন, এক পর্যায়ে সংঘর্ষ এসে দেখা দেবে। এটা নবী রাসূলরাও এই সংঘর্ষ বর্জন করতে পারেননি। আপনি নূহ (আ.) থেকে মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত দ্বীন প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহাসিক ধারা, (বাইরে কোথাও না গিয়ে), কোরান থেকেই দেখে নিতে পারেন। ওরা বিপর্যয় (ফ্যাসাদ/ফিতনা) সৃষ্টি করে আপনার উপর দায় চাপিয়ে দেবে। কোন নবীকে দেয় নাই? আপনাকে সন্ত্রাসী বলবে, আপনার উপর নির্যাতন করবে কিন্তু শেষ বেলায় যুদ্ধে হেরে গিয়ে আপনার উপর নির্যাতনের অভিযোগ আনবে। কোরান এগুলোকে চিরন্তনতার আলোকে ব্যক্ত করেছে।
     
    আবার এই শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা আসবে মুনাফিকদের কাছ থেকে। অর্থাৎ সংঘর্ষ এখানেই ভারি হবে। মুনাফিক কোন গালি নয় বরং একশ্রেণীর মানব-চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। মুনাফিক মুসলমানদের মধ্য থেকেই হয়। ওরা দেখতে মুসলমান। নামাজ পড়তে পারে, রোজাও রাখতে পারে। ওরা মক্কায় ছিল, মদিনায় ছিল, মুসলিম সমাজে আগেও ছিল, এখনো আছে –আপনার এলাকায় আছে, আমার এলাকায় আছে, আপনার বংশেও আছে, আমার বংশেও আছে। এটা থাকবেও। নবীর (সা.) যুগে, সাহাবাদের (রা.) যুগে মুনাফিকরা তাদের অনুকূলে কোরানের আয়াতও ব্যবহার করত। এসব হচ্ছে বাস্তবতা। আজকে যারা এমন কোনো ইসলামী দলে নন যা ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলছে, তারা কোন দল গঠন করে কোনো শক্তিশালী পর্যায়ে উপনীত হলেই বুঝতে পারবেন, আমার কথা সত্য না মিথ্যা।
     
    এই সমস্যাদির সাথে আরও কয়েকটি কথা সংযোগ করা যায়। আপনি যে দলই গঠন করুন না, সেটি হবে ‘মানুষের’ দল। সেখানে ভুল সংগঠিত হবে, সেখানে দুর্বলতা আসবে। সেখানে পদে পদে learning curve অতিক্রম করতে হবে। কিন্তু মুনাফিকরা তা সহ্য করবে না। তারা দুর্বলতার দিকে অঙ্গুলি প্রদর্শন করতে থাকবে, এটা blow up করবে, তাদের ধারণা এই দল যদি ইসলামী, তবে ভুল হল কেন? এরা যদি প্রকৃত আল্লাহওয়ালা হত,  তবে কি তারা এমন কাজ করত? ইত্যাদি। আপনি দেখবেন কিছু লোক আছে যারা স্থানীয় মসজিদে খুব কম টাকা পয়সা দেয়, কিন্তু সব সময় মসজিদ কমিটির দোষ খোঁজে, ইমামের দোষ খোঁজে, কোনো মজলিসে বসলে এটাই হয় তার আলোচনার বিষয় বস্তু। কিন্তু আরেক শ্রেণীর লোক দেখবেন তারা ঐসব কথা শুনলে এগুলোর একটা ভাল ব্যাখ্যা দেয়, অপর মুসলিমের অবস্থান ও প্রতিষ্ঠানের অবস্থানটা সুদৃষ্টিতে ব্যাখ্যায় আনে। এই প্রথম শ্রেণী হচ্ছে মুনাফিক এবং দ্বিতীয় শ্রেণী মু’মীন। কোরান মানব চরিত্রকে অতি সরলীকরণ করে তিন ভাগেই এনেছে: মু’মিন, মুনাফিক ও কাফির। মুনাফিকরা অত্যন্ত সতর্ক লোক, ওরা প্রধানত ইসলামের জন্য কোন রিস্ক নেবে না, আর যদি নেয় তবে তার সাথে সংশ্লিষ্ট বাকী লোকদেরকে বার-ঘাটের পানি খাইয়ে ছাড়বে। ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিযানে নিফাক হবে সবচেয়ে কঠিন প্রতিবন্ধকতা যা অতি সযত্নে মুসলমানদের অতিক্রম করতে হবে। এই কাজের জন্য অনেক দিনের প্রয়োজন, অনেক মেহনতের প্রয়োজন, অনেক অভিযোগে সবরের প্রয়োজন এবং সর্বোপরি যারা এই রাস্তায় কাজ করছেন তাদের কাজকে খেটো করে দেখার প্রবণতা ত্যাগ করার প্রয়োজন, এবং সকলের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজন, এই কাজ কোনো এক দল একাই করতে পারবে না।

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      খুব চিন্তাশীল মন্তব্য করেছেন। ধন্যবাদ। আমি এতদিন মুনাফিক থেকে কাফিরকে অধম মনে করেছি কিন্তু কাল টিভিতে টক শো শুনে বুঝতে পারলাম যে কাফির থেকেও মুনাফিক অধিক অধম। কারণ কাফিঢ় তো আল্লাহকে অস্বীকার করা অপরাধে দোষী হলেও মুনাফিকরা আল্লাহকে অস্বীকার করা এবং মুসলিমদের সাথে মুসলিমবেশ ধরে থেকে বেঈমানি করার ২ অপরাধের দোষী হবে।  কাজেই আখেরাতে তাঁদের যেমন ডাবল শাস্তি হবে দুনিয়াতেও তাদেরকে ডাবল জিল্লতি পুহাতে হবে।

  2. 4
    সাদাত

    মুসলিমদের জীবনের সবক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা আছে।
    কাজেই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন নির্দেশনা থাকবে না, এটা তো হতে পারে না।
    কোন মুসলিমের জন্য কুরআন-সুন্নাহর পরিবর্তে অন্য কোন মানব-মস্তিষ্কপ্রসূত মতবাদে বিশ্বাসী হবার সুযোগ নাই।
     

    1. 4.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      কোন মুসলিমের জন্য কুরআন-সুন্নাহর পরিবর্তে অন্য কোন মানব-মস্তিষ্কপ্রসূত মতবাদে বিশ্বাসী হবার সুযোগ নাই। 
       
      -- সম্পূর্ন একমত। কিন্তু বর্তমান রাজনীতি হলো "মানব মানব মস্তিষ্কপ্রসূত" মতবাদের উপরই ভিত্তি করে তৈরী। বর্তমানে যারা ইসলামের নামে রাজনীতি করছে তারা প্রচলিত "মানবরচিত" মতবাদের ভিতরেই নিজেদের ধরে রেখেই ইসলামকে সেখানে ফিট করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইসলাম হওয়া উচিত বেইজ -- আর তার উপরেই তৈরী হবে শাসনতন্ত্র -- যা এখন উল্টা হচ্ছে। সুতরাং প্রচলিত রাজনীতিকে ইসলামী রাজনীতি শুধু সংঘাতেরই জন্ম দেবে -- কোন কাজের কাজ হবে না। 
       
       

    2. 4.2
      আহমেদ শরীফ

      মুসলিমদের জীবনের সবক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা আছে।
      কাজেই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন নির্দেশনা থাকবে না, এটা তো হতে পারে না।
      কোন মুসলিমের জন্য কুরআন-সুন্নাহর পরিবর্তে অন্য কোন মানব-মস্তিষ্কপ্রসূত মতবাদে বিশ্বাসী হবার সুযোগ নাই।

       

      মুসলিমদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা আছে ঠিকই, কিন্তু তা কিতাবের পাতায়। বাস্তবে সেগুলো মানার জন্য যে 'ঈমানী যোগ্যতা' র প্রয়োজন তা সাধারণভাবে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের নেই। যেমন "ঈমান ও কুফরের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে 'নামায'", এখন ন্যূনতম যোগ্যতা নিয়মিত ফরয নামাযের ক্ষেত্রেই ব্যপকভাবে শিথিলতা পরিলক্ষিত হয় সিংহভাগ মুসলিম জনগণের মধ্যে, অন্যান্য হুকুম থেকে তো আলোকবর্ষ দূরে।

      তো সার্থক-কার্যকরভাবে 'ইসলামী রাষ্ট্র' এদের দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার উপায় কি ? লাঠিপেটা করে শিক্ষিত জনগোষ্ঠি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। জোরজারি বা লাঠিপেটা দিয়ে যে হবে না সেটা গত কয়েক যুগের ক্রমাগত ব্যর্থ আন্দোলনের চিত্র দেখলেই বোঝা যায়। ইসলামের কোর ভ্যালু সম্পর্কে অজ্ঞ জনগণ যাদের নিজের জীবনেই ইসলামের তেমন কোন খবর বা গুরুত্ব নেই তারা আদৌ 'ইসলামী রাষ্ট্র' চায় কি না তার পরোয়া না করেই 'ইসলামী রাজনীতি'র প্রবক্তাগণ বিপুল উদ্যমে চালিয়ে গেছেন, এখনো চালিয়ে গেলেও অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং এটাই স্বাভাবিক। 'ইসলামী রাজনীতি' প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আপোষকামিতা-চাটুকারিতার ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে ইসলামেরই বহু জিনিস বিসর্জন দিয়ে, ইসলামের মূল্যবোধের অনেক বিপরীত কাজ করে, বহু 'জোট' গঠন করেও শেষ পর্যন্ত যে লাউ সেই কদুই থেকে যাওয়ার কারণেই এই হতাশা। বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগ-বিএনপির পুরনো চক্রেই রয়ে গেছে এবং 'ইসলামী রাজনীতিবিদ' দের কথা এখনো সেভাবে ভাবতে পারছে না _ এটাই বাস্তবতা।

      কোন বৃহৎ অঞ্চলে 'শিক্ষার আলো' ছড়াতে হলে সেজন্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে, কতগুলো বিদ্যালয়-শিক্ষক-কলম-পেন্সিল-বইখাতা-শিক্ষক ইত্যাদি ছাড়াও বিপুল খরচ তথা অর্থ সংকুলানের ব্যবস্থাও ভাবতে হবে, সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাঠকর্মী যাতে অভিভাবকরা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন হয়ে সন্তানদের গুরুত্বের সাথে বিদ্যালয়ে পাঠানোর পাশাপাশি নিজেরাও শিক্ষা গ্রহণের 'বয়ষ্ক শিক্ষা' কর্মসূচীতেও অংশগ্রহণ করতে উদ্যোগী হয়। এভাবে ১০/২০ বছর পর বহুলোকের ব্যপক ত্যাগতিতিক্ষা ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটা ফলাফল দেখতে পাওয়ার আশা করা যায়। এটাই 'গঠনমূলক' ও 'বাস্তবসম্মত'।

      'ইসলামী রাষ্ট্র' গঠন করার প্রাথমিক দীর্ঘমেয়াদী কাজ হল 'ঈমান' ও ইসলামের কোর ভ্যালুর সচেতনতা এবং 'বাস্তব চর্চা' সাধারণভাবে  মুসলিম জনগণের মাঝে ব্যপক করে তোলা, যাতে তারা 'নাম কা ওয়াস্তে' মুসলিম থেকে 'ঈমানী যোগ্যতাসম্পন্ন' মুসলিম হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে। এখন এই বিরাট দীর্ঘমেয়াদী-বিপুল ব্যয়সাপেক্ষ-সময়সাধ্য ব্যাপারে অনুধাবনযোগ্যতাহীনতা ও প্রচলন না থাকার কারণে রাষ্ট্র বা অন্য কেউ ব্যয় নির্বাহে উৎসাহী না হওয়াই স্বাভাবিক। এজন্যে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কিছু মুসলিমদেরই এই কাজের দায়িত্ব নিতে হবে, কোরআনে বর্ণিত দাওয়াতের মেহনতের নিয়ম অনুযায়ী তারা দুনিয়ার মানুষের কাছে কোন 'বিনিময়' এর আশা করবে না, তাদের পাথেয় হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং ঈমান আমলের লাইনে 'আত্মোন্নতি'। এ কাজ যারা করবে তাদের আত্মোন্নতি তথা কোরআন-সুন্নাহর ওপর উত্তোরোত্তর অভ্যাসগত উন্নতিকল্পে মনোযোগী হওয়া আবশ্যক, তা না হলে আল্লার সাহায্য আল্লাহর শর্ত অনুযায়ী পূরণ হবে না ফলে আল্লাহর সাহায্যও পাওয়া যাবে না।

      যখন যথাবিহীত কোরআনী ফর্মূলায় সঠিকভাবে মেহনত হবে তখন স্বভাবতঃই আল্লাহর সাহায্যও আসা শুরু হবে এবং দলে দলে লোক ইসলামের মাঝে কার্যকর-বাস্তবানুগভাবে প্রবেশ করতে শুরু করবে, তারাও এই ঈমানী সচেতনতার বিষয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করবে। এভাবেই একসময় বড় ধরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে, একদিন সময়ের দাবিতেই 'ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা' র নিদারুণ স্বাভাবিক প্রয়োজন অনুভূত হবে , প্রয়োজন অনুসারে, বান্দাদের বৈশিষ্ট্য-যোগ্যতায় আল্লাহতা'লার শর্তসমূহের প্রতিফলন ঘটলে সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহতা'লাও সেটা মেহেরবানি হিসেবে দান করবেন।

      'গঠনমূলক' পদ্ধতিতে 'দীর্ঘমেয়াদী' 'ত্যাগতিতীক্ষাসম্পন্ন' 'স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক' বিপুলসংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন এই মূহুর্তে। আল্লাহ যে মুসলমানদের খেলাফত দেবেন সেটা তো তিনি ওয়াদাই করে রেখেছেন _ শুধু শর্ত হল তাঁর ও তাঁর রাসূল(সাঃ) এর নিয়ম অনুযায়ী মেহনত হতে হবে।

      1. 4.2.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        চমৎকার ভাবে বলেছেন।
         
        দেখুন কোরান কি বলে --
         

        (24:55)

        তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকতৃর্ত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা আমার এবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য।
         
         
         
         
         
         
         

         
         

    3. 4.3
      ইশতিয়াক শাহরিয়ার

      @সাদাত ভাই:
      সহমত।
       

  3. 3
    কিংশুক

    ভালো লিখেছেন। এ বিষয়ে আলোচনা হলে কিছু জানতে পারবো আশা করি।

  4. 2
    মুনিম সিদ্দিকী

    গাব গাছে যেমন ডাব ফল পাবার আশা করা যায়না তেমন করে যারা-সেক্যুলার শিক্ষার ফ্যাক্টরি থেকে শিক্ষিত হয়েছেন তাদের প্রতিটি কর্মের মধ্যে থাকে ইহ-লৌকিক স্বার্থ পূরণের ভাবনার অগ্রাধিকার। সে চেতনায় পারলৌকিক ভাবনা থাকে না থাকলতে তা নেহাত ব্যক্তিগত পর্যায়ে তাও কোন বাধ্যবাধকতা মূলক নয় ঐচ্ছিক বিষয় মাত্র। বাস্তবেই সেক্যুলারিজমের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ইহ-লৌকিকতা। তাই সেক্যুলার ফ্যাক্টরি থেকে উৎপাদিত সেক্যুলারিস্টগণ  ইহ-লৌকিক ভাবনা নিয়েই তাঁরা রাজনীতি করে, এবং তা নিয়েই তাদের সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ প্রচার প্রসার ঘটিয়ে চলে। এই সব লোক স্বয়ংক্রিয় ভাবেই তাঁদের প্রতিটি কর্মের মধ্যে দুনিয়াবি স্বার্থসিদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রাপ্তির বিষয়টি দেখেন। আসে তাতে বিনিয়োগ ও মুনাফা তোলার ভাবনা। স্বার্থ লাভ ও অর্থনৈতিক প্রাপ্তি ছাড়া কেউ কোন কাজ কেউ করতে পারে তা তারা ভাবতেও পারে না।
     
    আর এই ভাবনার বিপরীতে থাকে ইসলামী দর্শনের অবস্থান। ইসলামী আদর্শ তাঁদের বাঁধা দেয়  এ পার্থিব ভুবনে তাঁদের একচ্ছত্র ইজারাদারির লাভের প্রচেষ্টাকে।  বাঁধা দেয় তাঁদের  স্বৈরাচারী ও স্বেচ্ছাচারিরূপে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে ।
     
    আমাদের এই সদালাপ বা ফেসবুকে অনেকেই ইসলামের পক্ষ নিয়ে লেখা লেখি করতে দেখা যায়। তাঁরা যে ইসলামী বিষয় নিয়ে লেখেন তাতে তারা যে যথেষ্ট খাটাখাটি করে লিখেন তা তাঁদের লেখা পড়ে বুঝা গেলেও তাঁদের কিছু লেখা বা কমেন্ট পড়ে মনে হয় যে, ইসলামের ইতিহাস নিয়ে তাঁদের তত গভীর জ্ঞান নেই বা তিনি সেক্যুলার ফ্যাক্টরি থেকে শিক্ষা লাভ করে ব্রেইনওয়াস হয়ে যাওয়ায় তিনি ইসলামের ইতিহাসকে সেক্যুলার চশমায় মূল্যায়ন করে চলছেন।
     তাই মনে তাঁদের এত পড়া খাটাখাটি সত্ত্বেও ইসলামের ইতিহাস থেকে তাঁরা কোন পাঠই নেননি। হয়তো নিলেও নিছক সেক্যুলারী চিন্তা ভাবনার কারণে সেটি জোর করে ভুলে থাকতে চেয়েছেন। তাদের জানা উচিত, দেশ ও ধর্মের পক্ষে কথা বলার জন্য মুসলিম কারো কাছ থেকে অনুমতি নেয় না। আর দেশের কথা বলা হচ্ছে রাজনীতি, আর এই রাজনীতি করা হচ্ছে প্রতিটি মুসলিমের ঈমানী দায়বদ্ধতা। সেটিই তার প্রকৃত ধর্ম। সে দায়বদ্ধতা থেকেই শুরু হয় জালেম শাসকের বিরুদ্ধে ইমানদারের জিহাদ। সে মু’মিনের জীবনে জিহাদ নেই,তার অন্তরে কোন ঈমানও নেই। এজন্যই প্রাথমিক কালের মুসলিমদের প্রত্যেকেই ছিলেন মুজাহিদ। শহীদ পয়দা হয়েছে প্রায় প্রতি ঘর থেকে। মু’মিনের দায়বদ্ধতা শুধু  ইসলামের পক্ষে কথা বলা নয়, বরং জালেমের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি ও জানমালের বিনিয়োগ। এবং তাতে সামান্যতম কার্পণ্য হলে সে ব্যক্তি আর মুসলিম থাকে না। প্রকৃত মুসলিম তাই শুধু নামায-রোযা বা হজ-যাকাত পালন করে না। বরং ইসলামের বিপক্ষ শক্তির পূর্ণ পরাজয় ও ইসলামের শরিয়তি হুকুমের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার কাজে জানমালেরও পূর্ণ বিনিয়োগ করা। সে বিনিয়োগে আপোষহীন হওয়ার মধ্যেই তাঁর ইমানদারি।
     
    আজকাল কেউ কেউ তাঁদের ব্লগে কিংবা ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেয়া প্রবন্ধে বেছে বেছে কিছু কোরআনের আয়াত পেশ করেছেন। দেখাতে চেয়েছেন, ইসলামে কোন যুদ্ধবিগ্রহ নাই। রক্তক্ষয় ও হানাহানি নাই, এক অনাবিল শান্তির ধর্ম। তাঁর কাছে আল্লাহর পথে জিহাদ হলো মহা অশান্তি। তাঁদের প্রচারিত এই ধারণা যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে ইসলামের ইতিহাসকে নতুন করে লিখতে হবে। লিখতে হবে ইসলাম অতীতে প্রধান বিশ্বশক্তি রূপে আবির্ভূত হয়েছিল যুদ্ধবিগ্রহ না করেই।
    অবশ্যই ইসলাম এ পৃথিবীতে একমাত্র শান্তির ধর্ম। তবে সে শান্তির অর্থ দুর্বৃত্ত শয়তানি শক্তির মুখে চুমু খাওয়া নয়, তাদের কাছে পোষমানা জীবনও নয়। মুসলমান শান্তি আনে দুর্বৃত্তদের অধিকার থেকে রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও আইন-আদালত মুক্ত করার মধ্য দিয়ে। এ কাজ বিশাল কাজ। একাজ মু’মিনের অর্থ, শ্রম ও রক্ত চায়। নবীজীর সাহাবীদের শতকরা ৬০ ভাগের বেশী তো শহীদ হয়ে গেছেন একাজে। এবং সে কোরবানি পেশের জন্যই মু’মিন ব্যক্তি মাত্রই আল্লাহর কাছে চুক্তিবদ্ধ। সে চুক্তির কথাটি পবিত্র কোরআনে এসেছে এভাবেঃ
     “নিশ্চয়ই আল্লাহ ইমানদারদের থেকে তাদের জানমাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, অতঃপর সে লড়াইয়ে তারা শত্রুদের যেমন হত্যা করে তেমনি নিজেরাও নিহত হয়।”–(সুরা তওবা, আয়াত ১১১)।
    পরবর্তী আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সাথে এমন বিক্রয় চুক্তির সমাধার জন্য ইমানদারকে খুশি করতে বলেছেন। কারণ এর যে উত্তম চুক্তি কোন ব্যক্তির জীবনে হতে পারে না। মুসলিমদের জীবনে মূল মিশনটি এভাবেই আল্লাহ তায়ালা নিজে নির্ধারিত করে দিয়েছেন।
    এক সময় সমগ্র আরব ভূমির উপর কাফের শক্তির দখলদারি ছিল। সে দখলদারির অবসান ঘটানো ছাড়া ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা বাড়ানো কি সম্ভব ছিল? ফলে তখন জিহাদ অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল প্রতিটি মুসলিমদের উপর। তখন লড়াইটি ছিল শয়তানি শক্তির সে দখলদারি থেকে আরব ভূমিকে মুক্ত করার। আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ে সে কোরবানির বরকতেই তো তাঁরা সমগ্র মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। আল্লাহ তায়ালা তাদের ফেরেশতাকুলে গর্ব করেন। আজও সে পথ ধরেই মুসলিমগণ পুনরায় গৌরব অর্জন করতে পারে।
    আপনার লেখাটি সময় উপযোগী এবং ভাল হয়েছে। ধন্যবাদ।

    1. 2.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      প্রশ্নটা ছিলো ্
       

       ‘ইসলাম’ আসলেই ‘রাজনীতি’কে বৈধতা দেয় কিনা?

       
      --  প্রশ্নটা প্রথমত অসম্পূর্ন। কারন ইসলাম জীবনের প্রতিটি কর্মকান্ডের দিক নির্দেশনা দিয়েছে। মদিনা রাষ্ট্র থেকে শুরু করে খেলাফত এবং মোগলরাও ইসলামের অনুসরন করে রাজনীতি করেছেন। 
      কিন্তু প্রচলিত রাজনীতি -- যা একটা সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে চলে -- যেখানে জনগনকে সার্বভৌম এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হিসাবে ঘোষনা দিয়ে রাজনীতি করতে হয় তা ইসলামের সাথে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ন তাই ভাবার বিষয়।
       
      সেই কারনেই দেখি জামাতে ইসলাম ক্রমাগত তাদের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে আল্লাহর সার্বোভৌমত্বকে বাতিল করে জনগনের সার্বভৌমত্ব মেনে নেয়। নারী নেতৃত্ব হারাম ঘোষনার পরও নারী নেতৃত্বের অধীনে রাজনীতি নয় শুধু মন্ত্রীও হয়। সার্বিক বিষয়টি ভেবেই বলা যায় প্রচলিত রাষ্ট্র কাঠামোয় ইসলামী রাজনীতি কতটুকু এগুবে।একজন মুমিন প্রচলিত সাংবিধানিক কাঠামোয় পার্থিব প্রয়োজনীয়তাকে আ্রগ্রাধিকার ভিত্তিক আইনকানুনকে মেনে কতটুকু ইসলামী রাজনীতি করা যাবে সেই বিষয়টাই চিন্তার বিষয়। 
      তবে আপনার গাবগাছ-ডাবগাছ তত্ত্বটা কিন্তু সত্য। যেমন ধরুন জামাতের কথা -- সেখানে শীর্ষ নেতৃত্বে (মজলিশে সুরা) অধিকাংশ সদস্য সাধারন শিক্ষাব্যব্স্থার প্রডাক্ট ( গোলাম আযম, মওদুদীসহ) -- সেই কারনেই হয়তো জামাতে ইসলাম থেকে সরে গিয়ে রাজনৈতিক কৌশল করেই টিকে আছে। একটা রাজনীতি কখনও টিকে থাকতে পারে না যতক্ষন না দলের কর্মী সমর্থকরা মুলনীতির সাথে একাত্ব হয়। সেই জন্যে প্রথমই দরকার ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ন শিক্ষার ব্যবস্থা করা -- ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিতরাই পারবে একটা পরিবর্তন আনতে। জনগন ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ থাকলে আপনার দেওয়া জেহাদের ডাকটা  কিন্তু শুধুমাত্র এনার্কি তৈরী করা ছাড়া কিছুই করবে না। 

      1. 2.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        সেই জন্যে প্রথমই দরকার ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ন শিক্ষার ব্যবস্থা করা — ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিতরাই পারবে একটা পরিবর্তন আনতে

        যে দেশের মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতা সে দেশে কেমন করে ইসলামী সম্পর্কে পরিপূর্ণ শিক্ষার ব্যবস্থা করা যাবে? আপনার কথা মত দেশের বর্তমান অবস্থায় ইসলামী রাজনীতি সম্ভব নয়!  শিক্ষা ব্যবস্থা কি রাজনীতির বাইরের কিছু?
        জিয়া ভাই ষোল আনা পূর্ণ গ্লাস পাওয়া যাবেনা বলেই কি পানি পান বাদ দিতে হবে? বরং যা আছে তা থেকেই শুরু করতে অসুবিধা কোথায়?
        আপনি যদি নিয়ত করেন হজ্জের জন্য মক্কা যাবেন তখন দেখবেন যাবার পথ এবং পাথেও ঠিক জুটে যাবে। তবে নন্দলালের মত মানসিকতা থাকলে কখনও কিছু হবেনা।
        নিচে এম আহমদ ভাই কিছু বলেছেন- আমি তা আবার এখানে উল্লেখ করছি- আপনি যে দলই গঠন করুন না, সেটি হবে ‘মানুষের’ দল। সেখানে ভুল সংগঠিত হবে, সেখানে দুর্বলতা আসবে। সেখানে পদে পদে learning curve অতিক্রম করতে হবে। কিন্তু মুনাফিকরা তা সহ্য করবে না। তারা দুর্বলতার দিকে অঙ্গুলি প্রদর্শন করতে থাকবে, এটা blow up করবে, তাদের ধারণা এই দল যদি ইসলামী, তবে ভুল হল কেন? এরা যদি প্রকৃত আল্লাহওয়ালা হত,  তবে কি তারা এমন কাজ করত? ইত্যাদি। আপনি দেখবেন কিছু লোক আছে যারা স্থানীয় মসজিদে খুব কম টাকা পয়সা দেয়, কিন্তু সব সময় মসজিদ কমিটির দোষ খোঁজে, ইমামের দোষ খোঁজে, কোনো মজলিসে বসলে এটাই হয় তার আলোচনার বিষয় বস্তু। কিন্তু আরেক শ্রেণীর লোক দেখবেন তারা ঐসব কথা শুনলে এগুলোর একটা ভাল ব্যাখ্যা দেয়, অপর মুসলিমের অবস্থান ও প্রতিষ্ঠানের অবস্থানটা সুদৃষ্টিতে ব্যাখ্যায় আনে। এই প্রথম শ্রেণী হচ্ছে মুনাফিক এবং দ্বিতীয় শ্রেণী মু’মীন। কোরান মানব চরিত্রকে অতি সরলীকরণ করে তিন ভাগেই এনেছে: মু’মিন, মুনাফিক ও কাফির। মুনাফিকরা অত্যন্ত সতর্ক লোক, ওরা প্রধানত ইসলামের জন্য কোন রিস্ক নেবে না, আর যদি নেয় তবে তার সাথে সংশ্লিষ্ট বাকী লোকদেরকে বার-ঘাটের পানি খাইয়ে ছাড়বে। ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিযানে নিফাক হবে সবচেয়ে কঠিন প্রতিবন্ধকতা যা অতি সযত্নে মুসলমানদের অতিক্রম করতে হবে। এই কাজের জন্য অনেক দিনের প্রয়োজন, অনেক মেহনতের প্রয়োজন, অনেক অভিযোগে সবরের প্রয়োজন এবং সর্বোপরি যারা এই রাস্তায় কাজ করছেন তাদের কাজকে খেটো করে দেখার প্রবণতা ত্যাগ করার প্রয়োজন, এবং সকলের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজন, এই কাজ কোনো এক দল একাই করতে পারবে না।
         

        1. 2.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          খুবই অবাক হলাম আপনার মন্তব্য দেখে। নিজের কথা বলাই শ্রেয় নয় কি? নীচের মন্তব্য এনে বোল্ড করে দেবার মানে কি? 
           
          ধর্ম নিরেপক্ষতা নিয়ে আপনি যত বেশী চিন্তিত আছে আমি ততটা না। কারন আমি থাকি কানাডায় আর এখানকার ধর্ম নিরপেক্ষতার নীতির সুবাদেই কমিউনিটি আরো একটা মসজিদ ক্রয় করতে পারছে ৮.৫ মিলিয়ন ডলার দিয়ে। ধর্ম নিরপেক্ষ নীতির সুবাদেই আমরা বুক ফুলিয়ে ধর্ম কর্ম করতে পারছি। 
          আপনি যখন চিন্তুা করেন -- আপনার চিন্তায় শুধু বাংলাদেশের সীমানার ভিতরেই ঘুরপাক খায়। বাংলাদেশের বাইরেও যে মুসলিম আছে -- যারা ধর্ম চর্চা করে -- ইসলামকে প্রতিনিধিত্ব করে তা মনে রাখেননা।
          যতদিন বাংলাদেশের মুসলমানরা সংকীর্ন চিন্তার গন্ডি থেকে বের হতে না পারছে ততদিন এই রাজনীতির নামে ইসলাম নিয়ে ব্যবসা চলতেই থাকবে।
           
          আজ দেখলাম বিশ্ববেহায়া চিটাগাং গিয়ে ইসলামের জন্যে জানকোরবান করার কথা বলছে। একদিকে জামাত-শিবিরে তান্ডব, অন্যদিকে হোমো এরশাদের ইসলাম নিয়ে মায়াকান্না। এই থেকে যে ম্যাসেজটা পাবে মানুষ -- তা কতটা ইসলামী রাজনীতির পক্ষে কাজ করবে তা নিয়ে খুব একটা আলোচনার দরকার নেই।
           

    2. 2.2
      ইশতিয়াক শাহরিয়ার

      @মুনিম ভাই,
      আমাদের উপমহাদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা (তা সেক্যুলার শিক্ষাই হোক, অথবা ইসলাম শিক্ষাই হোক) খুবই চাকুরী অরিয়েন্টেড। মোটকথা আমরা অধিকাংশরাই পড়ালেখা করি ভালো একটা 'চাকুরি' পাবার আশায়। জ্ঞানার্জনের জন্য পড়বে এমন আর্থ-সামাজিক অবস্থান ও মানসিকতা দু'টোরই সমান ঘাটতি। দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করা ব্যক্তিদের পক্ষেও তাই এই চিন্তা থেকে বেড়িয়ে আসা সম্ভব হয় না ক্ষেত্রবিশেষে। আমার তো মনে হয় এই "অরিয়েন্টশন" কেই আগে পরিবর্তিত করা দরকার।
       

  5. 1
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    মুল প্রশ্নটা ছিলো --
     

     ‘ইসলাম’ আসলেই ‘রাজনীতি’কে বৈধতা দেয় কিনা? 

    এই প্রশ্নের কোন হ্যাঁ/না উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়, বিশেষ করে বাংলাদেশে বর্তমানে যে রাজনীতি চলছে তার প্রেক্ষিত বিবেচনায় আনলেতো বলা কঠিন নয় আসলে ইসলামের সাথে এই রাজনীতির মুল দ্বন্ধটা কোথায়। যে রাজনীতি বাংলাদেশে চলছে তা ইসলামী রাজনীতিকে প্রতিস্থাপন করেই চালু করেছে ইংরেজরা। প্রকৃতপক্সে মোগল শাসন পর্যণ্ত ছিলো ইসলামের রাজনীতির যুগ।

    এখন যে রাজনীতি বাংলাদেশের চলছে তা প্রকৃতপক্ষে ইউরোপ থেকে আসা -- যেখানে রাজনীতির মুল কাঠামো থেকে ধর্মকে বাদ রাখা হয়েছে। ইউরোপের রেনেসার পর ধর্ম ( প্রকৃতপক্ষে খৃষ্টধর্মকে) রাষ্ট্র থেকে আলাদা করার যে তাগিদ ছিলো এবং বাস্তবিক কারনেই প্রচলিত ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করা হয়েছিলো সাধারন মানুষের কল্যানের জন্যেই -- তারই একটা কার্বন কপি বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে চালু করা হয়েছে যা প্রকৃতপক্ষে অকার্যকর ভাবেই টিকে আছে। ইউরোপে খৃষ্টধর্ম যাজকদের বাড়াবাড়ির ফলে আজ এখানে আসলে ইসলাম বিনাদোষে সেই বোঝা টানছে। 
    এ্খন যারা বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির নামে প্রচলিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যুক্ত হয়েছে তারা আসলে রাউন্ড হোলের ভিতরে স্কয়ার পেগ ঢুকানোর চেষ্টা করছে। ফলে লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে রাজনৈতিক দলগুলো প্রচৃর কম্প্রোমাইজ করছে -- প্রচৃর সমযোতার ভিত্তিতে নীতি আদর্শ থেকে সরে আসছে এমনকি টিকে থাকার জন্যে ১৮০ ডিগ্রী টার্ন নিচ্ছে ইসলামী দলগুলোও। 
    আ্সলে তাই হওয়ার কথা। যে রাজনীতি মুসলিম শাসকের হাজার বছর বিশ্ব শাসনের পথ করে দিয়েছে -- প্রচলিত রাজনীতি তার থেকে সম্পূর্ন উল্টা। সুতরাং এই রাজনীতিতে ইসলামকে ফিট করতে গেলে প্রচুর কাটছাট করতে হয় ফলে তা আর ইসলামী রাজনীতি না হয়ে ইসলামের নামে রাজনীতি বা ইসলামকে নিয়ে রাজনীতির দিকে চলে যাচ্ছে।
    ইসলামের রাজনীতির প্রেক্ষিত ভিন্ন -- যা আপনার লেখায় উঠে এসেছে -- এবং যা ইউরোপীয়ান গনতন্ত্রের কাঠামোতে আটকানো যায় না -- এই জন্যে চাই একটা ভিন্ন কাঠামো। 
     
    ধন্যবাদ। 

    1. 1.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      তাঁর মানে আপনি যা বলতে চেস্টা করছেন যে ইসলামী রাজনীতি এখন যুগোপযোগী নয়। তাঁর মানে  ইসলামী আদর্শ বিশ্বজনীন, সর্বাজনিন, সর্বাকালীন উপযোগী নয়???? তাই তো সত্যি গাব গাছে ডাব ফল কেমন করে আসবে?

      1. 1.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        তাঁর মানে আপনি যা বলতে চেস্টা করছেন যে ইসলামী রাজনীতি এখন যুগোপযোগী নয়। তাঁর মানে  ইসলামী আদর্শ বিশ্বজনীন, সর্বাজনিন, সর্বাকালীন উপযোগী নয়???? 
         
        এই কথা আমি বললাম নাকি! আমার মন্তব্যটা আবার পড়ুন আর প্রিজাজমেন্ট মাথা থেকে নামিয়ে রাখুন। তারপর বুঝার চেষ্টা করুন। 
         

        আপনার গাবগাছ আর ডাব গাছ তত্ত্বটা বেশ মজার। আপনি কি গাব না ডাব?

    2. 1.2
      ইশতিয়াক শাহরিয়ার

      @জিয়া ভাই,
      প্রশ্নটির উত্তর "হ্যাঁ" হবে। তবে তার সাথে একটা "কিন্তু" যোগ করতে হবে। কারণ, ইসলাম ধালাওভাবে সব ধরণের রাজনীতিকে বৈধতা দেয় নি। বরং ইসলামী রাজনীতির নিজস্ব ধরণ রয়েছে এবং যারা পরিপূর্ণরূপে ইসলামকে নিজেদের জীবনবিধান হিসেবে মানতে চায় তাদেরকে সেই ধরণকে অনুসরণ করেই তা করতে হবে। মূলত ইসলামে রাজনীতির উপস্থিতির দলীল পেশ করতে গিয়ে আমার লেখায় সেই রাজনীতির স্বরূপটি কি হবে, তা ফুটে ওঠেনি। তাহলে আলোচনাটি পূর্ণতা পেতো। ইনশাল্লাহ এই পোস্টের পরিপূরক হিসেবে সেই স্বরূপটি নিয়ে আরো একটি পোস্ট দেয়ার প্রয়াশ থাকবে।
      ধন্যবাদ, সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য।

    3. 1.3
      মোহাম্মদ আদিল

       
                                           ১) ইসলাম’ আসলেই ‘রাজনীতি’কে বৈধতা দেয় কিনা?
                                       ২ )ইসলামের রাজনৈতিক সীমানা কতটুকু?
                                       ৩ )ইসলামের আলোকে রাজনীতির বিধান কিরুপ?
                                         ৪)বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকে ইসলামের পরিপূর্ণ বিধান অনুসারে কিভাবে রাজনীতিতে ভূমিকা রাখা যেতে পারে?    
                           এই প্রশ্নগুলোই মিঃ ইশতিয়াক শাহরিয়ারের পোষ্টের মুল প্রতিপাদ্য
                   ।                             ১)রাজনীতি  ইসলাম ধর্মে বৈধ কিনা -- এই প্রশ্ন টি একেবারেই অবান্তর , কেননা একজন মুমিনের আল্টিমেট গোলই হল সমগ্র মানবজাতিকে ইসলামী খেলাফতের অন্তর্ভুক্ত করা, ইসলামের বিধান মোতাবেক আইন ও শাসনতন্ত্র প্রনয়ন করা । তা করতে গেলে রাজনীতি আবশ্যিক অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়ায় । অথচ আপনি বাংলদেশের বর্তমান প্রেক্ষিত টেনে এনে "এই প্রশ্নের হ্যাঁ/না উত্তর দেয়া সম্ভব নয়" বলে জানিয়ে দিলেন। দেশের প্রেক্ষিত , চলমান ইসলাম বর্জিত রাজনীতি , ইসলামী রাজনীতির দেশিয় স্ট্যান্ডার্ড -- এবং সেটি কতটুকু উপযোগী ইসলাম বর্জিত রাজনীতিকে মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে _ এগুলো হচ্ছে এসেস্মেন্ট ও প্রায়োগিক কৌশল নির্ধারণে আলোচ্য উপাদান, সেকেন্ডারি টু কনক্লুশাণ। আপনি ইসলামী রাজনীতির সাথে এক্সিস্টিং ইসলাম বর্জিত রাজনীতির দ্বন্দ্ব খুঁজে রেড়াচ্ছেন?এত খোঁজাখুঁজির কিছু আছে কি?বাতিলের সাথে হকের যতটুকু , ততটুকু নয় কি? ইসলামী শাসনতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তিটাকে অস্বীকার করে প্রণীত কাঠামো ও আইন কানুন দ্বারা পরিচালিত সরকার বি এন পি হোক , আঃ লীগ বা অন্য কেউ তার সাথে আপনার প্রবাস ভুমি ক্যানাডার সরকারের সাথে স্পেকট্রামে পার্থক্য থাকতে পারে শরিয়ার দৃষ্টিতে তা বাতিল বলেই গণ্য হবে, নয় কি?
                                                      ২) ইসলামে রাজনিতির সীমানা ততটুকু যতটুকু ইসলামের সীমানা।
                                                        ৩)ইসলামের আলোকে রাজনীতির বিধান কোরআন হাদিস তথা শরিয়া মোতাবেক নির্ধারিত হবে।
                                                         ৪)এই প্রশ্নটি ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনার, হতে পারে গঠনমূলক তর্ক বিতর্কের। এর মধ্যেই খুঁজে পাবেন আপনার " রাউন্ড হোল স্কয়ার পেগ" তত্ত্ব। এডাপটেশনের বিষয়টিও এখানে আলোচিত হতে পারে।
                       এবার আপনার গত পোস্ট  ইসলাম বনাম জামায়াতে ইসলাম -বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিত  এ আপনার সাথে আমার কিছু কথাবার্তা হয়েছিল , প্রাসঙ্গিক বলে নিচে পেস্ট করা হল ।
       
                                  আমি বলেছিলামঃ

      । আঃ সাঃ জিয়াউদ্দিন কে তাঁর লেখা পড়ে মনে হয়েছে — তিনি গভীর ইসলাম অনুরাগী , ইসলামের মৌলিক বিষয় তো বটেই ,অনেক খুঁটিনাটি বিতর্কিত ঐতিহাসিক বিষয়ে স্বচ্ছ জ্ঞানের অধিকারি । পাশাপাশি  মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাধারী একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক , যিনি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি , ধর্ম নিয়ে বেবসাকে ঘৃণা করেন মনেপ্রানে , সংগত কারনে চরম জামাত শিবির বিরোধী । গণ জাগরণ , সংশ্লিষ্ট মঞ্চ , ব্লগারদের আন্দোলন , ট্রাইব্যুনাল , তাঁর কার্যক্রমের  একান্ত সমর্থক ও অনুরাগী । আবার তিনি নাস্তক্যবাদ , এর প্রচার , প্রসার বিরোধী , এক কথায় নাস্তিকতা/ধর্মহীনতাকে ঘৃণার চোখে দেখেন । আবার বাংলদেশে এক্সিসটিং কোন ইসলামী রাজনৈতিক দলও সমর্থন করেননা । তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়াল? সোনারপাথরবাটি? একজন খাঁটি মুমিন , যার ইসলাম সম্বন্ধীয় জ্ঞান পর্যাপ্ত তিনি কি ইসলামী শরিয়ত , ইসলামী খেলাফত , ইসলামী হুকুমতের বাইরে কোন তন্ত্র , মন্ত্র , আদর্শের অনুসারি/ সমর্থক হতে পারেন। ইসলামী শরিয়ত , ইসলামী খেলাফত , ইসলামী হুকুমত কে মুলমন্ত্র ধরে যে দল/ গোষ্ঠী এক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লড়াইয়ে নিবিষ্ট সেরকম কোন আদর্শিক দলকে নিঃশর্ত দলকে তিনি সমর্থন করেন কিনা? এরকম কোন দল বাংলাদেশে আছে কিনা? যদি থেকে থাকে তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন কিনা? যদি সেরকম কোন দল না থাকে তবে এরকম দল গঠন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন কিনা? উত্তর হাঁ হলে এরকম দল গঠন করার কোন উদ্যোগ  নিয়েছেন কিনা? যদি নিয়ে না থাকেন , উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন কিনা? আমার খুদ্র বুদ্ধি বিবেচনায় করা প্রশ্ন গুলোর নির্মোহ তল্লাশি করলে ই তবে "না ঘর কা না ঘাট     

                                         আপনি জবাবে বলে ছিলেনঃ

         অনেক ধন্যবাদ আমার বিষয়ে আপনার গভীর আগ্রহ আর প্রশ্নের জন্যে। আসলে আমি একজন ছাত্র হিসাবে নিজেকে পরিচয় দিতেই বেশী সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। যখন বাংলাদেশে ছিলাম (১৭ বছর আগে) তখন ইসলাম সম্পর্কে খুব একটা জানতাম না — সেই কারনে ইসলামী দলগুলো নিয়ে তেমন আগ্রহী ছিলাম না। তবে এক সময় হাফেজ্জী হুজুরের বিষয়ে যথেষ্ঠ আগ্রহ তৈরী হলেও এরশাদের সুবিধার জন্যে নির্বাচন এবং মেজর জলিলকে দলে নেওয়ার পর আগ্রহ হারাই।  আমাকে বড় কিছু ভেবে বসবেন না যেন। আমি খুবই সাধারন মানুষ এবং জানতে  এবং আলোচনা পছন্দ করি ।                                                                    এবার আমি আপনার প্রশ্নগুলোর জবাব দেবার চেষ্টা করি -- 

                                       ইসলামী শরিয়ত , ইসলামী খেলাফত , ইসলামী হুকুমত কে মুলমন্ত্র ধরে যে দল/ গোষ্ঠী এক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লড়াইয়ে নিবিষ্ট সেরকম কোন আদর্শিক দলকে নিঃশর্ত দলকে তিনি সমর্থন করেন কিনা?         
                                     -- না, করি না। কারন কোন দলকেই প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে দেখিনি। ইসলামী সমাজের জন্যে বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনীতি কোন ভাবেই বান্ধব না — বরঞ্চ প্রতিবন্ধক।
      এরকম কোন দল বাংলাদেশে আছে কিনা?
                                             যতটুকু জানি  প্রতিটি দলেই সীমাবদ্ধতা আছে — বিশেষ করে নেতৃত্ব নিয়ে। শুধু মতপার্থক্যের কারনে এরা ভেংগে যায়। ইসলামের মুলে থাকলে দল ভাংগতো না। 
                                                 যদি থেকে থাকে তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন কিনা?
                                                   প্রযোজ্য নয়। 
                                                 যদি সেরকম কোন দল না থাকে তবে এরকম দল গঠন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন কিনা।
                                                   এ্ই মুহুর্তে বাংলাদেশে দল তৈরী করে প্রচলিত রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব কি না বলা মুস্কিল।                    
       প্রচলিত রাজনীতিতে কোন বিশেষ মতাদর্শের বিষয়ে কাজ করা কঠিন। তাই্ দেখবেন বর্তমান ইসলাম দলগুলো ( জামাতসহ) তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে করতে এক সময় ভুলে যায় কোথা থেকে এরা শুরু করেছিলো। কোথায় এরা যাবে। আমার বিশ্বাস যখন অধিকাংশ মানুষ ইমান আর আমলে বলীয়ান হবে — তখনই সমাজে একটা পরিবর্তন চোখে পড়বে। অধিকাংশ মানুষের চাহিদাই তখন দল বা সংগঠন তৈরী ক্ষেত্র তৈরী করবে। আর সেখান থেকেই চলে আসবে নেতৃত্ব। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে সেই সময় পর্যন্ত যতক্ষন না অধিকাংশ মানুষ ইমান আর আমলে সেই উচ্চতায় পৌছায় তখন আল্লাহর সাহায্য আসবে। এখন আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কাজ হলো ইসলাম সম্পর্কে মানুষকে সজাগ করা। সেই কারনে কোরআন আর হাদিসের কাছে ফিরে যেতে হবে। এর বিকল্প নেই। 
                                                  উত্তর হাঁ হলে এরকম দল গঠন করার কোন উদ্যোগ  নিয়েছেন কিনা?
                                                  না। প্রযোজ্য নয়। 
                                                   ধন্যবাদ।  ্
                               উপসংহারঃ আপনাকে জামাত- শিবির বিদ্বেষী বললেও কম বলা হবে, আপনি জামাত -শিবির হ্যাঁটার/ ফোবিক । তাদের জন্যে কোন স্পেস আপনি রাখেননি। এজন্যে এরা ইসলাম থেকে কত দূরে তা বিচার করেন কোরআন আর হাদিস দিয়ে , আঃ লীগের নিপীড়ন নির্যাতন কে বিবেচনায় না এনে তাদের(জামাত শিবিরের) প্রতীবাদটুকুও আপনার কাছে সহিংসতা । আওয়ামি , বাম অনুরাগে আপনি বড্ড খোলামেলা ভাবে অনুরক্ত, অবিবেচকের মত অন্ধ , এতটাই যে এদের পাশবিকতা হৃদয়হীন ভাবে মেনে নেন শুধু জামাত শিবির আক্রান্ত বলে। এ এক ধরনের মর্ষকামিতা। এর সাথে আপনার ইসলামের প্রতি অনুরাগ , কোরআন হাদিসের এতো গভীর জ্ঞান যুক্ত বলেই আপনার পক্ষপাতদুষ্ট নির্মমতা মর্ষ কামিতার চেয়েও আরও গভীরে, আরও গহীনে। ধন্যবাদ।   
          
                                 
       
       
       
       

Leave a Reply

Your email address will not be published.