«

»

May ০৯

পৃথিবীর চারিদিকে চাঁদের S-আকৃতির কক্ষপথ, আল ক্বুরআনের অলৌকিকতা

এটি একটি অনুবাদসাহিত্য। আমি খুব ভালো অনুবাদ করতে পারিনা। তাই মাঝে মাঝে মূল অনুবাদ থেকে বিচ্যুত হয়েছি। বিষয়টিকে আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

 

ডঃ হারুন ইয়াহিয়ার প্রমাণঃ

 

পবিত্র ক্বুর’আন অসংখ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তে পূর্ণ । কিভাবে আল্লাহ পৃথিবীকে তৈরী করেছেন, কিভাবে সৃষ্টি করেছেন এই মহাবিশ্বকে তার বর্ণনা পবিত্র ক্বুর’আনে আছে । অবাক করা বিষয় হল যতই নতুন নতুন আবিষ্কার আমাদের কাছে আসছে ততই তা ক্বুর’আনের নির্ভুলতাই প্রমাণ করে চলেছে । আবিষ্কারসমূহ ক্বুর’আনের সাথে মিলে যাওয়াটাই প্রমাণ করছে যে , পবিত্র ক্বুর’আন এক বিস্ময়কর গ্রন্থ । আল্লাহ নবী মুহাম্মদ সঃ এর উপর এই ক্বুর’আন নাজিল করেছেন এক বিস্ময়কর মোজেজা হিসেবে যা ছিল নবী সঃ এর নবীত্বের সবচেয়ে বড় প্রমান । পবিত্র এই বই প্রায় ১৫০০ বছর আগে নাজিল হয়েছিল- দর্শন,বিজ্ঞান, অলৌকিক ভাষাজ্ঞান এবং ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে । যতই দিন যাচ্ছে ততই এর বাক্যসমূহকে বিজ্ঞান এবং নবনব আবিষ্কার সমর্থন করছেইনা কেবল বরং তার নির্ভুলতা প্রকাশ করছে । এর আয়াতসমূহ এতসব তথ্য জানান দিচ্ছে যা কোনভাবেই ১৫০০ বছর পূর্বের একজন মানুষের পক্ষে বুঝা সম্ভব না।

আল্লাহ সুবহানু’তায়ালা এ সম্পর্কে বলেন, “অচিরেই আমি এদেরকে সর্বত্র আমার নিদর্শনসমূহ দেখাবো এবং তাদের নিজেদের মধ্যেও। যাতে এদের কাছে একথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এ কুরআন যথার্থ সত্য এটাই কি যথেষ্ঠ নয় যে, তোমার রব প্রতিটি জিনিস দেখছেন?” (আল-ক্ক্বুর’আন-৪১:৫৩)

এই উক্তিকে সামনে রেখে চলুন আমরা ডঃ হারুন ইয়াহিয়ার মন্তব্য দেখি এবং যাতে করে সত্য জানতে সুবিধা হয়।

(উপরের এ তথ্যসমূহ এখান থেকে নেয়া)

চাঁদের কক্ষপথঃ

আর চাঁদ, তার জন্য আমি মঞ্জিল নির্দিষ্ট করে দিয়েছি, সেগুলো অতিক্রম করে সে শেষ পর্যন্ত আবার খেজুরের শুকনো ডালের মতো হয়ে ফিরে আসে। না সূর্যের ক্ষমতা আছে চাঁদকে ধরে ফেলে এবং না রাত দিনের ওপর অগ্রবর্তী হতে পারে, সবাই এক একটি কক্ষপথে সন্তরণ করছে। (ক্বুর’আন, ৩৬:৩৯-৪০)

( 36:39 والقمر قدرناه منازل حتى عاد كالعرجون القديم )

Dr. Munir Munshey:

[036:039] And the moon! We destined it to return in stages until it comes back like the dried out branch of the date tree!

Yusuf Ali:
[036:039] And the Moon,- We have measured for her mansions (to traverse) till she returns like the old (and withered) lower part of a date-stalk.

Pickthall:
[036:039] And for the moon We have appointed mansions till she return like an old shrivelled palm-leaf.

Sale:
[036:039] And for the moon have We appointed certain mansions, until she change and return to be like the old branch of a palm-tree.

Muhammad Al-Hilali & Muhsin Khan:
[036:039] And the moon, We have measured for it mansions (to traverse) till it returns like the old dried curved date stalk.

মুহিউদ্দীন খানঃ
(36:39)চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মনযিল নির্ধারিত করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়।

(36:39)আর চন্দ্রের বেলা — আমরা এর জন্য বিধান করেছি বিভিন্ন অবস্থান, শেষপর্যন্ত তা শুকনো পুরোনো খেজুরবৃন্তের ন্যায় হয়ে যায়।

মওদুদীঃ
আর চাঁদ, তার জন্য আমি মঞ্জিল নির্দিষ্ট করে দিয়েছি, সেগুলো অতিক্রম করে সে শেষ পর্যন্ত আবার খেজুরের শুকনো ডালের মতো হয়ে যায় । ( ক্বুর’আন, ৩৬:৩৯-৪০)

৪ এর অনুরুপ লুপ:

            

 

 

 

(এই ছবিটি মূল লেখক খুজে পেয়েছেন এখানে )

 

চাঁদ কখনোই স্যাটেলাইট কিংবা অন্যান্য গ্রহের মত কোন নিয়মিত কক্ষপথ অনুসরণ করেনা । এটা পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে, ঘুরতে ঘুরতে কখনো সামনে আসে আবার কখনো পিছনে চলে যায় ।.এটি পৃথিবীর সাথে সাথে সূর্যের চারিদিকেও ঘুরে, ফলে শেষ পর্যন্ত মহাশূন্যে চাঁদের ঘূর্ণন পথ হয় অনেকটা S এর মত. শূন্যে চাঁদ দ্বারা চিহ্নিত এই পথকেই পবিত্র ক্বুর’আন বর্ণনা করেছে শুকনো খেজুর শীর্ষ দ্বারা । যাইহোক “উরজুন” শবদটি ক্বুর’আনে এই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে সেটি শুকনো , চিকন এবং প্যাচানো খেজুরের শীর্ষকে নির্দেশ করে যা খুজুর তুলে নেওয়ার পর ফেলে দেওয়া হয়।।

 

 

এটা ইডিটেড ছবি, হারুন ইয়াহিয়ার অরিজিনাল ফটো দেখুন এখানে http://www.answering-christianity.com/… )

যদিও চাঁদ পৃথিবীর সাথে সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরে তথাপি এটি এমন একটি পথ অনুসরণ করে যা ইংরেজি S অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা যায়। তবে এর অনুসরণ কৃত সঠিক পথ শুকনো খেজুর ডালের মত যেভাবে ক্বুর’আনে উল্লেখ আছে।

এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এই তথ্য ১৫০০ বছর আগে কোন মানুষ জানতো না । চাঁদের কক্ষপথের এই প্যাটার্ণ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা। সুতরাং আল ক্বুর’আনের এই তথ্যটি নিসঃন্দেহে অলৌকিকতা।

এখানে একটা আয়াত যুক্ত করলাম:

আল্লাহ সুবহানুতায়ালা পবিত্র ক্বুর’আনে লুনার ফেজ সম্পর্কে আরো বলেছেন,

10:5 هو الذين جعل الشمس ضياء والقمر نورا وقدره منازل لتعلموا عدد السنين والحساب ماخلق الله ذلك الا بالحق يفصل الايات لقوم يعلمون

"তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিশালী ও চন্দ্রকে আলোকময় এবং তার মঞ্জিলও ঠিকমত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যাতে তোমরা তার সাহায্যে বছর গণনা ও তারিখ হিসেব করতে পারো । আল্লাহ‌ এসব কিছু (খেলাচ্ছলে নয় বরং) উদ্দেশ্যমূলকভাবেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি নিজের নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে পেশ করেছেন যারা জ্ঞানবান তাদের জন্য। (The Noble Quran, 10:5)"

তাই এখানে চাঁদের মঞ্জিল ও দশাসমূহ নিয়ে কোন সন্দেহ নাই। পবিত্র ক্বুর’আন ৩৬;৩৯ এবং ১০;৫ আয়াত দ্বারা শূন্যে চাঁদের অবস্থান ক্লীয়ার করেছে।

আরো প্রমানের জন্য দেখুন: The Lunar Calendar is the most accurate calendar – mentioned in the Noble Quran and confirmed by Science.

                                                                     

লেখকের বিশ্লেষনঃ

 

যখন আল্লাহ সুবহানুতায়ালা বলেন, “ আর চাঁদ, তার জন্য আমি মঞ্জিল নির্দিষ্ট করে দিয়েছি” –তখন সে নিঃসন্দেহে চাদের জন্য আলাদা কক্ষপথের কথা বলেন যা রয়েছে পৃথিবী ঘিরে” এবং এখানে عاد (অতিক্রম করে) হচ্ছে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ মূল শব্দ, কারন ডঃ হারুন ইয়াহিয়ার তথ্যানুসারে শেষ পর্যন্ত ঘুর্ণন শেষ করে পূর্ণ S –আকৃতি গঠন করে।

كال [কা] ('সদৃশ' অথবা 'একইরকম দেখতে'):

 

এটা জানাও গুরুত্বপূর্ণ যে, "كالعرجون القديم" শব্দের মধ্যে “কাল” ( كال) এর আরো যত অর্থ আছে তা হল,
1- (কোন কিছুর) সদৃশ [similar to]
2- (কোন কিছুর) একই রকম.[looking like]
3- (কোন কিছুর মত) প্রতীয়মান হওয়া [Appearing as.]
4- যেমন [Being as.]
5- Acting as.
6- Resembling.
7- As if it were.
যাইহোক পৃথিবীর চারিদিকে চাদের কক্ষপথ পুরোপুরি ইংরেজি S অক্ষরের মত নয়, কোন বৈজ্ঞানিক তথ্যও এটাকে পুরা S অক্ষরের মতও বলছেনা ।  আবার S অক্ষর, এটাও পুরোপুরি খেজুর শীষের মত নয় । তবে চাদের কক্ষপথ ও খেজুর শাখা উভয়েই S অক্ষরের প্রতিনিধিত্ব করে এবং প্রায় এর মতই দেখায় । এটাই আল্লাহ সুবহানুতায়ালা ৩৬;৩৯ আয়াতে “কাল” শব্দ দ্বারা বলেছেন যার অর্থ পুরোপুরি নয় বরং প্রায় এরকম। স্রষ্টা বলেছেন যে শেষ পর্যন্ত, চাদের কক্ষপথ , শুকনো এবং প্যাচানো খর্জুর শীর্ষের ন্যায় দেখায় ।

৬ comments

Skip to comment form

  1. 4
    মোঃ সাহিদুর রহমান

    আমি জানতে চাচ্ছি যে , সূর্য কি পৃথীবির চারি দিকে ঘুরে। নাকি পৃথীবি সূর্যের চারি দিকে ঘুরে ।

  2. 3
    1. 3.1
      শমশের খালিদ

      আমি যাচ্ছিনা। কারন আমি কেবল অনুবাদ করার চেষ্টা করেছি। লেখার মূল দায়িত্ব হারুন ইয়াহিয়া ও লেখকের

  3. 2
    1. 2.1
  4. 1
    মাহফুজ

    (36:40) but all in an orbit they are floating.

    The Moon has a nearly circular orbit--

    চিত্র-১

    চিত্র-২

    আবার অনেকে এভাবেও ব্যাখ্যা করেন-

    So the moon appears to successively increase in size until it becomes full. It then decreases as the month progresses until it returns back to being like a dried-out, curved stalk of an old date palm (the remaining crescent) before it totally disappears. Ibn Juzay[2] confirms this meaning, explaining that ‘Urjūn is the branch of a date palm tree and it resembles the moon when it reaches the end-stage (known as the ‘waning crescent’). The moon resembles the ‘Urjūn in three ways:

        In its thinness

        In its curvature

        In its colour, tending towards yellow when it reaches the end waning phase, or ‘the old’ phase i.e., al-Qadīm. Interestingly, in scientific terms this stage is often referred to as the ‘old moon’.

     

Leave a Reply

Your email address will not be published.