«

»

Dec ১১

দেয়ালে কোন চিকামারাও পড়বে না

জানি না, কেন অসহ্য লাগছে। মিথ্যে বললাম, আসলে জানি কেন অসহ্য লাগছে। মিথ্যা বলাটা রীতির মত হয়ে গেছে, ভাল আছি, ভাল আছি বলি, আসলে ভাল নাই।

আমার অসহ্য লাগার কারণ "বিশ্বজিৎ"। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন, সেই কোপ খাওয়া মরা ছেলেটার কথাই বলছি। আমার প্রচণ্ড রকম অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে ভিতরে, আমি কি জানি এ যন্ত্রণার কারণ? হ্যাঁ হয়ত জানি, আজ সব ছদ্ম আবরণ যা মনকে পরিয়ে ছিলাম, খুলে ফেলব।

আমার প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে মনের ভিতর কারণ, আমিও হতে পারতাম বিশ্বজিতের যায়গায়, আমি মরে গেলেও আমার কাছের অল্প কিছু মানুষ ছাড়া আর কারো কিছু এসে যেত না। আমি নিজের ভিতর প্রচণ্ড রাগ অনুভব করছি, এই রাগের কারণ আমার ভয়, আমি মারা যেতে পারি যে কোন সময়, আমার প্রিয় জম্মভুমিকে বর্বরের দেশ মনে হচ্ছে।

আমার প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে, কারণ এরকম অমানুষিকতা ঠেকানোর ক্ষমতা আমার নেই।

আমার প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে কারণ, আমার নিরাপত্তা নিয়ে কেউ চিন্তিত না, আমি মারা গেলে এ দেশের কোন পরিবর্তন আসবে না, যেমন আসেনি ঢাবির হলে বকর মরার পর, যেমন আসবে না বিশ্বজিৎ মরার পরো।

আমার প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে কারণ, আমি বড় কোন পলিটিসিয়ান না, হাসিনা খালেদা, ইত্যকার কারো আত্মীয় না, আমি ইলিয়াস না, আমি না কোন ব্যারিস্টার, নিদেনপক্ষে কোন সাংবাদিকও না। আমার মৃত্যু আর রাস্তার ধারে মরে পড়ে থাকা চিকার মৃত্যু একই কথা। আমার মৃত্যুতে দেশ বড় কিছু হারাবেও না, কিন্তু আমি তো হারিয়ে যাবো।

আমার প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে কারণ, আমি এ দেশকে প্রচণ্ড ভালবাসি, কিন্তু এর জন্য কিছু করতে পারি না।

আমার ইচ্ছে করছে, একটা খুনে দল বানাই, আর খুন করে বেড়াই, মুখোশধারি ইতর সকল কুত্তার বাচ্চাগুলিকে। একদিন না একদিন এদের খড়গ আমার উপর নেমে আসবেই, কেন আমিই আগে ঝাঁপিয়ে পড়ি না এদের উপর, সব স্বাধীনতার ধ্বজাধারিকে পিটিয়ে দুম্বা বানিয়ে দেই, একটু শান্তি দেই আমার বাংলা মা-কে।

আমি আজ বড় লজ্জিত, বড় ধিকৃত, বড় যন্ত্রণা হচ্ছে মনের ভিতর, জানি, বেলাজ্জ আমি, ২ কি ৩ দিন পরেই হয়তো সব ভুলে যাবো, আবার হয়ে যাবো চিকা, আমাকে মারবে কেউ, কুপিয়ে কুপিয়ে, পিটিয়ে পিটিয়ে, কিন্তু তার জন্য কোন দেয়ালে কোন চিকামারাও পড়বে না….

১০ comments

Skip to comment form

  1. 5
    আহমেদ শরীফ

    খুবই দুঃখজনক ও লজ্জাকর একটি ঘটনা।
    মানবতা কতটুকু পদদলিত ভুলুণ্ঠিত এই বদ্বীপে সেটা আবারও প্রমাণ হল।  রাজনৈতিক সংষ্কৃতি বর্তমানে পৈশাচিকতার নারকীয় স্তরে উপনীত হতে যাচ্ছে যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য শোচনীয়।

  2. 4
    sami23

    বিশ্বজিৎ মরিয়া প্রমাণ করিল মানবতাবোদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবশিষ্ট  নেই।সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে হত্যা, প্রকৃত হত্যাকারীদের না ধরা, রাষ্ট্র কর্তৃক বিষয়টি কে বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা ঘটনা, তা কি স্বাধীনতার ফল?মানুষ যে রাজনৈতিক বলির পাঠা হচ্ছে তা বিশ্বজিৎ হত্যা চোখে আঙ্গুল দেখিয়ে দেয়। ৪১ বছরের আমরা রাজনৈতিক হানাহানি, মারামারি, লাশ,এবং দুনীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ছাড়া কি পেয়েছি? আমরা কি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,শক্তিশালী গনতানএিক ব্যবস্থায়, সমাজ ব্যবস্থায়ে সমতা,শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কি অর্জন করতে পেরেছি? এই সব প্রশ্ন গুলা শুধু প্রশ্ন থেকে যাছে।রাজনীতিতে মানুষের মৃত্যু কারো কাম্য হতে পারেনা যে দলের হকও না কেনও।

  3. 3
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    আরো দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই নরপিশাচগুলো কি ছাত্রলীগ নাকি ছাত্রলীগ না,এটার হিসাব দিতেই সরকার ব্যস্ত।আর দলীয় পা-চাটা পুলিশ অফিসারগুলো তো আরেক কাঠি সরেস।এরা এখানেও বিম্পি-জামাত খুঁজে পেয়েছে।অথচ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত একটা নিরক্ষর রিকশাওয়ালাও পত্রিকার ছবি দেখে এই খুনীগুলোকে চিনতে পারে।শুধু চিনতে না পেরে(!) অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হয় পুলিশলীগকে।
     
    আমরা আম পাবলিক আরো কিছুদিন "বিশ্বজিৎ" নিয়ে কারবালা করে ফেলব।তারপর ভুলে যাব,যেভাবে ভুলে গেছি একাত্তরের গণহত্যা,আর কখনো কখনো সুর মিলিয়েছি একাত্তরের ঘাতকদের সাথে।ভুলে যাওয়াটাই আমাদের স্বভাব।

    1. 3.1
      কিন্তু মানব

      হুম, কুত্তা কোন লীগ, দল, জামাত না পার্টি না ফোরাম, তা দিয়া কি কাম। এই গুলা মানুস না, এই গুলা জানোয়ার, এদের ফাঁসি দরকার, তার পর যা খুশি তা করুক। আগে ফাঁসি দেয়া।

  4. 2
    সাদাত

    খুব কষ্ট পেয়েছি। বিশেষ করে একজন সাধারণ পথচারির নৃশংস হত্যাকান্ডে। এতদিন ভেবেছি আমরা যারা রাজনীতি থেকে দূরে তারা হয়ত কিছুটা নিরাপদ, এখন দেখছি কেউই নিরাপদ না!

  5. 1
    মুনিম সিদ্দিকী

    যদি টিভিতে দেখতে পেতাম না এই মৃত্যু দৃশ্য তাহলে কি আমরা এত মাতম করতাম? সেই অবরোধের দিন তো আরো তিনজন মারা গিয়েছিল কই কেউ কি তাদের জন্য মাতম করছি? এমন কি জানি যে ওরা কে কেমন যন্ত্রণা পেয়ে মরেছিল? কাকে কি ভাবে মারা হয়েছিল? কিংবা যারা মারা গিয়েছিল তাদের নাম ধাম ইত্যাদি? না। নেই কারণ ঐগুলো আমাদের দেখার আড়ালে ঘটেছিল তাই তো আমাদের মনকে সেই সব হত্যা নাড়া দেয় নাই। যেমন করে নাড়া দিচ্ছেনা রোহিংগাদের হত্যা ধর্ষণ!
    আসুন আমরা যদি মাতম করি তাহলে সমষ্ঠির জন্য মাতম করি, সার্বিক অপরাধের জন্য মাতম করি, সার্বিক হত্যাকারীদের ঘৃণা করি। আর যারা এই ভাবে রাজনীতি করে ক্ষমতায় থাকতে চায় এবং ক্ষমতায় যেতে চায় তাদের সকলকে ঘৃণা করি। ধন্যবাদ।

    1. 1.1
      শামস

      যদি টিভিতে দেখতে পেতাম না এই মৃত্যু দৃশ্য তাহলে কি আমরা এত মাতম করতাম?

      মাতামটা খুব কম হতো বা হতোই না! চারজন যারা মারা গেছে তাদের কোনজন 'সাধারণ পাবলিক'! একজন পিকেটার মারা গেছে পিকেটিং করতে গিয়ে, একজন জামাতকর্মী মারা গেছে সে নিশ্চয়ই আনন্দ মিছিলে যায় নাই নিজের ইচ্ছাতে গেছে। কারো অস্বাভাবিক মৃত্যু কাম্য নয়, কিন্তু অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নিজ থেকে জড়ালে সেখানে ডিফেন্ড করার কতটুকু জায়গা থাকে? কিন্তু কিছু জানোয়ারের হাতে যে প্রকাশ্য দিবালোকে মারা গেছে সে পথচারী, সাধারণ মানুষ। ছেলেটার শেষমুহূর্ত পর্যন্ত বাঁচার আকুতি দেখে নিজেই বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি, এদের মধ্যে একটারও সামান্যতম করুণা হলো না! সাধারণ মানুষ যখন এভাবে মারা যায় তখন বাকী সাধারণ মানুষদেরও (রাজনীতিবিদরা না) ব্যাপকভাবে নাড়া দেয়, কারণ তারা সেই অবস্থানে নিজেদের ভাবতে থাকে, কারণ যে কেউ এই পরিস্থিতির স্বীকার হতে পারে। এক ধরণের নিরাপত্তাহীনতা তারা নিজের অজান্তেই অনুভব করে। আমি নিজেও আমার আত্নীয়দের নিয়ে টেনশনে থাকি। ক্ষমতা এমন এক জিনিষ এটার ইম্প্যাক্ট বুঝার সামর্থ্য ভোতা করে দিছে। এই নিরাপত্তাহীনতা চরমে পৌছে যখন মন্ত্রী মিনিস্টার থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদরা অমানুষের মত এদের পক্ষে একধরণের সাফাই গায়- কোন দলের, দল থেকে বহিষ্কৃত ইত্যাদি ছলনা দিয়ে। প্রকাশ্য দিবালোকে শতশত মানুষের সামনে হত্যা অথচ পুলিশের কাছে অজ্ঞাত! এই পুলিশের মোরালিটি কোন পর্যায়ে থাকতে পারে। কোথায় আছি আমরা। পাঁচ বছর অপেক্ষা করে মানুষ তাদের সামান্যই শাস্তি দেয়, তবে আসল শাস্তি শেষ  বিচারে!
       

      1. 1.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        পিকেটার বা জামাত কর্মী হলেই রাজনৈতিক আন্দোলনে গেলেই যে খুন হতে হবে এমন কি কোন কথা আছে? তারা সেখানে জড়িত ছিল বলেই মারা গেলে কিছু আসে যায়না? এমন মৃত্যু কি স্বাধীন দেশে কাম্য হতে পারে?
        বাকি ৩ জন যারা মরেছে তারাও অন্যের আঘাতে মরেছে, তাদেরও স্ত্রী পুত্র ভাই বোনরা এই ভাবে মৃত্যুকে কি মেনে নিতে পারবে?
        কেন এই সব হচ্ছে? যখন একটি দেশে আইনের শাসন, ন্যায় নীতি বিলুপ্ত হয়ে পড়ে পেশী শক্তি সকল কিছু নিয়ন্ত্রণ করে তখন এই অরাজকতা সমাজে রাষ্ট্রে এসে বাসা বাঁধে। জানিনা কোন পথে আমাদের মুক্তি আসবে।
        আপনি তো আপনার আত্মীয় স্বজনদের জন্য চিন্তিত, তা তো থাকবে। এই যে আমি নিজের জীবন হাতে নিয়ে সকাল সন্ধ্যা অফিস করছি। ভাবতে পারছেন কি ? কিভাবে আমাদের মনে চাপ পড়ছে? গত রাতে ১২টায় শুয়ে ৪টায় উঠে আফিসে যেতে হয়েছে। আবার সন্ধ্যা ৮ টায় ঘরে ফিরতে হয়েছে। এই সব কি বিড়ম্বনা নয়? আমি যদি মারা যাই তাহলে আমি একা নয় আমার সাথে আমার পুরো পরিবারটি মরে যাবে।
        দোয়া করবেন আল্লাহ যাতে আমাদের দেশে শান্তি আনয়ন করে দিন।

        1. 1.1.1.1
          শামস

          পিকেটার বা জামাত কর্মী হলেই রাজনৈতিক আন্দোলনে গেলেই যে খুন হতে হবে এমন কি কোন কথা আছে? তারা সেখানে জড়িত ছিল বলেই মারা গেলে কিছু আসে যায়না? এমন মৃত্যু কি স্বাধীন দেশে কাম্য হতে পারে?

           
          আমিতো সেটা বুঝাই নাই, কিন্তু আপনি সেভাবে বুঝলে কি করার আছে। আমি যা বলেছি তা হল তারা ইচ্ছে করেই বিপদের মধ্যে যাচ্ছে সেখানে তাদের বিপদে পড়াটা অস্বাভাবিক না, যদিও কাম্য না।

      2. 1.1.2
        কিন্তু মানব

        ধন্যবাদ আমার কথা তা আপনি বলে দিয়েছেন শামস ভাই।
         
        আর মুনিম ভাই, আমি নিতান্ত স্বার্থ পর, তাই রহিংগাদের জন্য কষ্ট লাগে, ফিলিস্থিনের জন্যও কষ্ট লাগে।
        কিন্তু বিশ্বজিৎ দের দেখলে, নিজেকে নপুংসক লাগে। তাই প্রচণ্ড ক্রোধ হয়। ইচ্ছা করে সব কুত্তাকে ''''''''''''''''''''' যাক, আপ নি একটু বেশিই হাই থটের চিন্তা করতে পারেন, চিন্তার দূরত্ব আর কিছু না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.