«

»

Feb ২৬

জাহেলী যুগের যৌন সম্পর্ক ও ইসলাম

আমাদের ধর্মগ্রন্থ, কোরান, আরব ভূখণ্ডের হিজাজে সপ্তম শতকে নাজিল হয়। সপ্তম শতকে হলেও এই গ্রন্থের বাণী আল্লাহর আনুগত্যের পরিধিতে শান্তিপূর্ণ জীবন-প্রণালীর দিকনির্দেশণা দান করে এবং সার্বজনিন উপযোগিতায় সকল যুগ ও সকল সমাজের চিরন্তন বৈশিষ্ট্যকে আবেষ্টন করে। মানুষের বংশ বিস্তার এবং তাদের অস্থিত্বের সাথে যৌন সম্পর্কের একটি প্রধান দিক রয়েছে। এজন্য এখানে কোরানের হেদায়াত রয়েছে যাতে মানুষ পথভ্রষ্ট না হয়। আমি এই বিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা করতে যাব এবং বিশেষ করে লক্ষ্য রাখব যাতে কোরানের কিছু আয়াতের স্থান ও তাদের সামাজিক পটভূমি স্পষ্ট হয়। 

    প্রত্যেক সমাজ-সভ্যতায় স্থান,কাল ও আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার কিছু বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায়, যেগুলিকে কেন্দ্র করে কিছু নিয়ম নীতি ও প্রথা গড়ে ওঠে। নৃবিজ্ঞানীরা প্রথমে দেখেন সে প্রথাগুলি তাদের আপন পরিধিতে কীভাবে অবস্থিত। তারপর এগুলির আলোকে সে সমাজের জীবনদর্শন বুঝার চেষ্টা করেন। এ ক্ষেত্রে তাদের পর্যবেক্ষণের নমুনা পিপীলিকা-ঢিবি বা অনুরূপ প্রাণী শ্রেণীর সমাজবদ্ধতাকে যেভাবে গবেষণা করা হয় তার মত। সেখানে প্রাণীগুলি একে অন্যের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত, কীভাবে তাদের পরিবেশে তাদের জীবন ব্যবস্থা সম্ভব হয়ে উঠে তা’ই দেখেন। অর্থাৎ তারা সবকিছুই তার পূর্ণাঙ্গ পরিধির প্রেক্ষাপটে দেখেন -সামাজিকতার মিল খোঁজেন। কোথায়ও আকস্মিক কিছু দেখতে পেলে তার মিলও সেই পূর্ণাঙ্গ পরিধিতে খোঁজেন। মানব সমাজের অবস্থানটাও তদ্রূপ। সামাজিক প্রথা গড়ে উঠে অন্যান্য প্রথার সাথে সম্পূরক ও সম্পৃক্ত হয়ে। এখানে কোনো কোনো প্রথা অন্য কোনো প্রথার তিরোধানের ফলশ্রুতিতে হতে দেখা যায় আবার নতুন কোনো প্রথার আর্বিভাবের কারণেও হতে দেখা যায়। কিন্তু প্রথাটি আর্থ-সামাজিক সূত্রে প্রথিত থাকলে তাকে হঠাৎ করে সরিয়ে দেয়াও যায় না। সরাতে হলে অনেক দিন লাগে। সমাজের কোনো কোনো আইনে বা নিয়মে  কোনো পরিবর্তন অনতে হলে সমাজপতিদের (আহলুল হাল্ল-ওয়াল আক্বদ) স্থির মাথায় ধীর গতিতে এগুতে দেখা যায়।

    মধ্যযুগের শেষের দিকে যান্ত্রিক উৎপাদনের উদয় লগ্নে বা তার কিঞ্চিত আগ থেকেই ইউরোপে দাসপ্রথা পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু তা সহজে তুলে দেয়া সম্ভব হয়নি। একাজটি করতে অনেক দিন লেগেছে। কারণ আর্থ-সামাজিক অনেক সম্পর্ক এর সাথে জড়িত ছিল। উৎপাদন পদ্ধতিতে self-labour বা নিজ শ্রম বিনিয়োগের যুক্তি ধনতান্ত্রিক মন-মানসিকতায় স্থান পেতে দেখা যায়। দাসপ্রথা পরিবর্তনের এই যুক্তিটি ‘সভ্যতার’আবরণে তারা প্রকাশ করেন। কিন্তু এখানে দাসের প্রতি দয়া পরশ হয়ে, এবং শিল্পপতিরা হঠাৎ ‘সভ্য’ হয়ে যাওয়ার কারণে নয়, বরং তা হয়েছে শ্রমকে অন্য উপায়ে, লাভজনক উপায়ে ব্যবহার করার নতুন ধারণা মাথায় আসায় কারণে। যে দাসটির শ্রম-লাভ করাই আসল উদ্দেশ্য, সেখানে শ্রমিক নামক সত্তাকে মুক্তি দিয়ে অন্যভাবে তার শ্রম আদায় করে নিয়ে, মুনাফার স্থান অন্যত্র স্থাপনই উদ্দেশ্য। দাস-দাসীর খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাপনা, গৃহ-সংস্থান, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা ইত্যাদিতে খরচ থাকে। গৃহপালিত অপরাপর প্রাণীদের মত এদের সেবা-শুশ্রূষা না করলে, সেই খরচের পূর্ণ আঞ্জাম দিতে ব্যর্থ হলে, এদের মূল্য কমতে থাকে। কিন্তু আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাপনা অন্যভাবে সাজিয়ে এদেরকে মুক্ত করে, অন্য উপায়ে তাদের শ্রম-ব্যবহার করাতেই ঝামেলা কম। আর তথাকথিত মুক্তরা এই পদ্ধতিতে, জীবনের ক্ষেত্রে, তাদেরই জিঞ্জিরে আবদ্ধ থেকে যায় –এটাই কথা। দাস প্রথা বিলীন করে  ‘শ্রম-কিনার’ এই বিকল্প প্রথায়, (পরোক্ষ প্রক্রিয়ায়, সূক্ষ্মনিরিখে) যে আরেক ধরণের দাস প্রথা নিহিত ছিল, তা বুঝতে ‘মুক্ত-দাসের’অনেক দিন লাগে।  যেহেতু ১৮/১৯ শতকের দাস-প্রথা বিলুপ্তি আমার মূল আলোচনা নয়, আমি সে দিকে না গিয়ে শুধু বলব যে ‘সভ্যতার’ আওয়াজ শুনেই আমরা যেন গলে দ্রবীভূত হয়ে না যাই; আর ইউরোপের দিগন্তে সভ্যতার সূর্য উদিত হয়েছে ভেবে অপর কোন সমাজের প্রথার উপর যেন খুব দ্রুত সাড়াশি আক্রমণ চালাতে না যাই। আমাদের বর্তমান সমাজে এমন অনেক অসভ্য জিনিস আছে যা ৫,০০০ বৎসর আগের কোন ব্যক্তির সামনে তা তুলে ধরতে পারলে, সে এই অসভ্যতার মাত্রা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করত। কিন্তু তাদের সভ্যতায়ও অনেককিছু থাকতে পারে যা আমাদেরকে বিস্মিত করতে পারে। নৃবিজ্ঞানীরা তাই এক সমাজের মূল্যবোধ দিয়ে অন্য সমাজকে মাপতে যান না। প্রত্যেক সমাজকে তার আপন মূল্যবোধের নিরিখেই মাপতে হয়। কারণ স্থান ও কাল নির্বিশেষে সবার মধ্যেই ‘সভ্যতা’ ও ‘অসভ্যতা’র কিছু অংশ রয়েছে। সব প্রথাকেই তাই তার আপন জীবন দর্শন ও ব্যবস্থার পরিধিতে দেখতে হয়।

এবারে আসি হিজাজে আরবদের যৌনস্পৃহায়, তাদের জীবনে, সমাজ ব্যবস্থায় যে নিয়মনীতি বিরাজ করছিল তার দিকে।

ইসলাম পূর্বযুগে হিজাজ এলাকায় যৌন সম্পর্কের নানান রূপ ছিল। অনেক ধরনের বিবাহ ছিল, আবার অনেক কিছু ছিল বিবাহ বহির্ভূত। প্রথমত: দাস প্রথার কথায় আসি। সেদিন রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্য পারস্পারিক রেষা-রেষিতে আবদ্ধ থাকলে, আরব ভূখণ্ডটি ছিল অনেকাংশে নিরাপদ, দ্বন্দ্বমুক্ত। এই সুযোগে রাসূলুল্লাহর (সঃ) পঞ্চম পুরুষ কুসাই বিন কিলাবের সময় থেকে মক্কার কোরাইশদের ব্যবসা বাণিজ্য এক নতুন মোড় নেয়। ক্বিলাব পুত্র কুসাই সিরিয়ায় লালিত পালিত হয়ে মক্কায় আসলে সিরিয়ার সাথে কোরাইশদের সম্পর্ক গড়ে। কুসাইয়ের নাতি হাশিম বিন আব্দুল মান্নাফের যুগে এই ব্যবসায় আরও সুদৃঢ়তা ও ব্যাপ্তী আসে। সর্বোপরি হাশিম ভাতৃগণ (হাশিম, আব্দুস শামস, আলমুত্তালিব ও নওফল) সিরিয়া, হাবশাহ, ইয়ামান ও ইরাকের বাদশাহদের সাথে বাণিজ্যিক নিরাপত্তার এক চুক্তি করে নিতে সমর্থ হন এবং এতে মক্কা ও তায়েফের কোরাইশদের ব্যবসায়ের এক বিপুল সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই চুক্তি ইতিহাসে ‘ইলাফের চুক্তি’ বলে পরিচিত হয়। ইহাই তাদের উন্নতির এক নব দিগন্ত খুলে দেয়। কালের ধারায় মক্কা শহর ব্যবসায়ীদের ধন ও প্রাচুর্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে। বড় বড় সওদাগরদের (merchants) পণ্যবাহী হাজারো উটের মাইল কা মাইল প্রলম্বিত কাফেলা চলাফেরা করতে থাকে এবং এগুলি চালিয়ে যেতে প্রয়োজন হয় হাজার হাজার দাস দাসীর। তাদের ধনাঢ্যতা বয়ে আনে নানান বিলাস। এরই প্রেক্ষিতে অতীতের জাতীয় সুন্নাহ বা জীবন পদ্ধতিও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকে। অন্যান্য বিষয়াদির মধ্যে যৌনস্পৃহা নিবারণের ক্ষেত্রাদির ব্যাপ্তি ও প্রশস্ততা বৃদ্ধি পায় এবং তারই সাথে বিস্ফোরিত হয় নানান সামাজিক সমস্যা।

দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্ক

আরব গোত্রপতি, ধনী সওদাগর (merchants) ও সাধারণ লোকজন নিজেদের ব্যবসায় ও গৃহস্থ কাজে নিয়োগ করত দাস দাসীদের। এরা ছিল তাদের পণ্যসামগ্রী। মুনিবগণ তাদের নিজ দায়িত্বে থাকা দাসীদের সাথে যৌন-কাজ করতে পারত। এতে কোন বিবাহের প্রয়োজন হত না। এই সূত্রে জন্মগত সন্তানাদিদেরকে মুনিবগণ প্রাথমিক জাহিলি যুগে চাইলে নিজেদের সন্তান হিসেবে রাখত, কখনো কেউ দাস দাসীদের সাথে বিক্রিও করে দিত। পরবর্তীতে নিজেদের বীর্যের সন্তানকে বিক্রতি করাতে সামাজিকভাবে মর্যাদাহীন দেখাত তাই ওরা মুক্ত সন্তান হত। তবে এরা, এবং আরও অন্যান্য উপায়ে মুক্তিপ্রাপ্তরা, ‘মাওলা’ (protected) শ্রেণীর সামাজিক লোক বলে পরিচিত হত। তাছাড়া কিছু মুনিব তাদের দাসীদেরে টাকার বিনিময়ে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করত। মারপিটও করত। ধনী মহিলারাও সুস্থ, বলিষ্ঠ, যুবক দাসদেরকে নিজেদের যৌন কাজে ব্যবহার করত। আল-মাসউদির বর্ণনায় সুশ্রী জুনুজ (নিগ্রো)-দের প্রতি অনেক মহিলা যৌনাসিক্ত হত।

মুক্বত বিবাহ

ধনাঢ্যরা বহু বিবাহ করতো, বিশেষ করে গোত্রপতিরা। এতে কোন সংখ্যায় সীমিত থাকার প্রয়োজন ছিল না। এক ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা তার স্ত্রী-পুত্রের সংখ্যা, জমির পরিমাণ, উটের সংখ্যা ও স্বর্ণমুদ্রার পরিমাণে মূল্যায়ন করা হত। পিতার মৃত্যুর পর সন্তানেরা তাদের বিমাতাদেরকে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করতে পারতো। এতে প্রথম পুত্রের অগ্রাধিকার ছিল। পিতার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকেও বিয়ে করতে পারত। এই প্রথাকে ‘মুক্বত’ বা নিকাহুল মুক্বত বলা হয়। (Al-Qurtuby. Altafsir.com [Online] 4:22)। মুক্বত শব্দের মূল অর্থ ঘৃণ্য বা বিরক্তিকর। প্রথম দিকে সুরা নিসার ১৯ আয়াতে বিমাতার ওয়ারিশ হয়ে তাকে জোরপূর্বক নিজের অধিকারে রাখার বিপক্ষে কোরান নাজিল হয়। (হে ঈমাণদারগণ! বলপূর্বক নারীদেরকে উত্তরাধিকারে গ্রহণ করা তোমাদের জন্যে হালাল নয় …’ ৪:১৯) তারপর আলবাত্তা এই প্রথার শেষ টানা হয় ২২ নম্বর আয়াতে। (‘যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ কর না। কিন্তু যা ইতিপূর্বে হয়ে গেছে তা বাদে, এটা একটি অশ্লীল,মন্দ ও নিকৃষ্ট প্রথা। ৪:২২)।

বহুপতি গ্রহণ ও মুত'আ প্রথা

অনেক মহিলা একাধিক পুরুষের সাথেও যৌন সম্পর্ক রাখতে পারত। এতে উৎপাদিত সন্তানের পিতৃব্য মাতাই নির্ধারণ করত। কিন্তু এতে মারধর, হাঙ্গামাও হত। এ প্রথা প্রসূত বাচ্চাদেরকে তাদের মাতার নামেই ডাকা হত, কেননা পিতৃ পরিচয় থাকত না, কখনও গোত্রীয় নামেও ডাকা হত। সন্তানের পিতৃ পরিচয় না থাকাতে অনেক ধরণের সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি হত।

নানান বিবাহের মধ্যে আরেক ধরনের স্বল্প চুক্তির বিবাহ ছিল। এর নাম মুতআহ (متعة)। বর্তমানকালের আরবের চরমপন্থি সেক্যুলার ও নাস্তিকদের কাছে, এবং কিছু নারীবাদীদের কাছেও, এ ধরনের বিবাহ (মুতআহ প্রথা) সেদিনের ‘নারী স্বাধীনতা’ বলে উল্লেখ হতে দেখা যায়।  মুতআহ প্রথা, বা স্বল্প দিনের চুক্তির বিবাহ, বেশীরভাগই  শহরান্তরে ব্যবসায়ীদের সাথে হত। সফরে যাওয়ার সময় স্বল্প মেয়াদে কাউকে নেয়া হত, যুদ্ধে যাবার সময় এর ব্যবহার ছিল। আজকাল যেভাবে মিস্ট্রেসকে (পরকীয়া) সংগে নিয়ে যাওয়া হয়, অথবা সাধারণত মিস্ট্রেসের সাথে যেমন যৌনসম্পর্ক রাখা হয়, অনেকটা তেমনি। স্বল্প মেয়াদের এই প্রথাকে যদিও ‘বিবাহ’ (জায়াজ) বলে উল্লেখ হত, তবে মূলত তা  খাপছাড়া অর্থে। এই প্রথাকে মৌলিক অর্থে বিবাহের সংজ্ঞায় আনা সমস্যাবহুল হিসেবে দেখা যায়। এতে প্রকৃত বিবাহের অনেক সামাজিক দায়ীত্ব ও অধিকার নিয়মতান্ত্রিক করা মুষ্কিল হয়। মুতআর  আওতায় জন্ম নেয়া শিশুরা সাধারণত মায়ের নামেই পরিচিত হত। 

    মুত'আহ বিবাহ ইসলাম পূর্ব যুগ থেকে চলে আসছিল। জাহেলী যুগের অনেক প্রথার মত এই প্রথাও এক সময় নিষিদ্ধ হয়। ওহী নাজিলের শেষের দিকে তা নিষেধ হয়েছে। ইবন আব্বাস, উবাই ও জোবায়ের (রা) সূরা নিসার ২৪ নম্বর আয়াত (‘… তাদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা “সম্ভোগ” করেছ তাদের নির্ধারিত মহর দান করবে…’) পড়ে বলেন, নবী (সঃ) এই প্রথাকে (মুতআহকে) নিষেধ করেছেন। আয়েশা (রা) ও কাসেম ইবন মুহাম্মাদ (রা) বলেন, এটার (মোতআর) নিষেধাজ্ঞা ও মানসুখ হওয়ার কথা কোরানেই আছে। আল্লাহ বলেন, ‘… এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে, তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না, অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে' (২৩:৫-৭)। এই আয়াতের ভিত্তিতে দেখা যাবে যে, মোতআ প্রথায় সম্ভোক্ত নারী ‘স্ত্রীও’ নয়, ‘মালিকানাভুক্ত দাসীও’ নয়। সুতরাং এর সঠিক হওয়ার কোন প্রেক্ষিত নেই। এটাকে আরবীতে নোংরা বিবাহ বা ‘আন-নিকাহ আল-ফাসিদ’ বলা হয়। আল-বাইদাউয়ী তাঁর কাশশাফে বলেন, মুতআহ বিয়ে সংক্রান্ত আয়াত মক্কা বিজয়ের পর মানসূখ (রহিত) হয়। ওমর (রাঃ) বলেন, আমার সামনে যদি নির্দিষ্ট মেয়াদের  বিবাহিতদেরে (মুতআ বিবাহকারী) আনা হয়, আমিও উভয়কে রজম (জিনার অপরাধে মৃত্যু দণ্ড দান) করব। (প্রথম দিকে) নবী (সঃ) এই বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে তিনি বলেন, হে মানুষেরা আমি প্রথমে নারীদের সাথে ‘ইস্তিমতার’ (মুতআর) অনুমতি দিয়েছিলাম, সতর্ক হোন, আল্লাহ তা’লা ক্বিয়ামত পর্যন্ত এটাকে নিষেধ করে দিয়েছেন। তবে এখানে আরও দু একখানি হাদিস আছে যেগুলোর ভিত্তিতে শীয়াদের একটি দল (বিশেষ ক্ষুদ্র একটি দল) এই বিবাহকে এখনো জায়েজ মনে করেন। আল-মুহাম্মদ্দী (১৯৯৮:৬) বলেন, ‘এই উম্মতের জামহুর অংশ: আহলে সুন্নাহর ফকীহগণ এবং  বড় বড় জনপদের জাহেরী, ইবাদী, খারেজী, জাইদী, ইসমাঈলী (শিয়া) ফকীহগণ এই এই ধরণের বিবাহকে নাজায়েজ বলে মত প্রকাশ করেছেন -এটা আল্লাহ কিতাব ও নবীর সুন্নাহ মোতাবেক বর্জনীয়, এটা (আলেম ওলামাদের) ইজমার  বিপরিত, আক্কেলের বিপরিত।’  [আল-মুহাম্মদী, ইউসূফ জাবের (১৯৯৮), তাহরীমুল মুতআহ ফিল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ, লন্ডন:সালাউদ্দীন সোসাইটি, পৃষ্ঠা ৬] এই বিষয়টি অনেক দীর্ঘ বিধায় এখানে আলোচনা করা যাবেনা। আমাদের সুন্নাত আল-জামাআতের জগতে এটা নাজায়েজ, তাই আমার কথা এখানেই থাকুক।

ইসতিবদা

একজন মহিলা কোন বীর পুরুষের সাথে অন্তঃসত্ত্বা হবার উদ্দেশ্যে দৈহিক মিলনে যেত। তাতেও আবার জাওয়াজ (বিবাহ) শব্দ জুড়ে দেয়া হত। এ প্রথাকে ‘ইস্তিবদা’ (استبضاع) বলা হত। এর অর্থ নিছক মিলন বা কোন উদ্দেশ্য-প্রণোদিত মিলন। শব্দটির ধাতু-মূল হচ্ছে ‘বুদ’ (بضع) অর্থাৎ যৌনাঙ্গ, বিশেষ করে যোনিদ্বার। এখানে প্রেম-ভালবাসা, আবেগ, দায়-দায়িত্ব বিবর্জিতভাবে শুধু যোনিদারের সম্পর্ক। একজন মহিলা কোন বীরপুরুষের সাথে যৌনসংগম করতেন শুধু তার বীর্যে একটি সন্তান পাবার জন্য। এতটুকুই। মহিলা বিবাহিতা হলে তার স্বামীও এই কাজের অনুমতি দিত। শরীফ বংশের রক্ত সংস্পর্শে যাবার জন্যও এটা করা হত। এধরনের কাজ আজও আমাদের, এই বর্তমান জাহেলী যুগেও, নানা টেকনলজিক্যাল প্রক্রিয়ায় হতে শুনা যায়।

ইত্তেখাজুল আখদান

বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও গোপনে প্রেমিক প্রেমিকা গ্রহণ করা হত। এই আজও চলছে। এই ধরনের মিলামেশাকে ‘ইত্তিখাজুল আখদান’ বলা হত। কোরান (৪:২৫) এটাকে বর্জন করে নৈতিক জীবন যাপনের তাগিদ করেছে। যাদের বিয়ের আর্থিক সামর্থ্য নেই তাদেরকে দাসী বিয়ের কথা বলা  হয়েছে। তবে মালিকের অনুমতি নিয়ে। কিন্তু এক্ষেত্রেও যাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে হচ্ছে মুত্তাখিজাতি আখদান (متخذات أخدان) বা যে মেয়েরা গোপনে উপপতি বা যৌন-প্রেমিক গ্রহণ করেছে তারা। 

আল-মুদামাদাহ

যৌন মিলনের আরেকটি প্রথা ছিল ‘মুদামাদাহ’। এর বিভিন্ন প্রকার ছিল। স্বামী ব্যতীত অন্যের সঙ্গে বিশেষ কোনো কারণে যৌন মিলনে যাওয়ার নাম মুদামাদাহ। অনাবৃষ্টি জনিত অভাবের সময় কিছু মহিলা যৌন মিলনের মাধ্যমে ধনীদের আশ্রয় নিত। অভাব নিরসন হলে পূর্ব স্বামীর ঘরে ফিরে যেত। কখনও গোত্র প্রধান নিজের জন্য কোন মেয়েকে নির্বাচন করত। তাই অন্য কেহ তার সাথে মিলনে যেতে পারত না। কোন সুন্দরী বেশ্যাকেও কোন গোত্রপতি তার একান্ত যৌন দখলে রাখত। এগুলো ছিল মুদামাদাহ।

স্ত্রী-বদল (নিকাহুল বাদল)

এটা স্ত্রী বদলা-বদলির প্রথা। বর্তমানে ইউরোপে যাকে wife swapping বলা হয়। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর দুটি দেহ অনেক ঘেঁষাঘেঁষির পর তা যেন নবত্ব (novelty) হারায়, তাই কিছু নবত্ব ফিরে পেতে একের বউ অন্যের ভোগে দিতে হয়। এসব প্রথা জাহেলী যুগ থেকে এসেছে! একের বউ অন্য অন্যের ভোগে যাওয়ার এই হল ‘নিকাহুল বাদল।’ বদলাবদলির বিয়ে। আগেই বলেছি যে আরবী শব্দ ‘নিকাহ’ বা ‘জাওয়াজ’ নিছক যৌনক্রিয়ার্থেও ব্যবহৃত হয়।

শিগার (নিকাহুস শিগার)

একজনের নিজ মেয়ে বা নিজ অভিভাবকত্বে থাকা কোন মেয়ে বিয়ে দিয়ে আরেক জনের মেয়েকেও বিয়ে করে আনতে পারত। এটাকে ‘শিগার’ বলা হত। তাছাড়া মৌসুমি বাজারের আশে পাশে কিছু কিছু নারী গৃহ স্থাপন করে লাল পতাকা টাঙিয়ে রাখত। অর্থাৎ যৌন কাজের জন্য পুরুষ চাওয়া হচ্ছে -এই সিগনাল দিত। এটা টাকার বিনিময়েই হত। পারমান্যান্ট আকারেও এমন পতাকা কিছু ঘরের সামনে টাঙানো থাকত। এসব মিলনের ফলে কোন সন্তান জন্ম নিলে সাধারণত একজন ‘কাইফকে’(যিনি সন্তানের চেহারা ছূরত দেখে পিতৃত্ব নির্ণয় করতেন) ডেকে তার পিতৃত্ব নির্ধারণ করা হত। এখানেও ভুল থাকত। তাই নানা ধরণের দানাদানি, হানাহানি ও হাঙ্গামা হত।

মুগাইইয়াবাত আলাইহিন্নাহ (স্বামী অনুপস্থিত নারী)

যে সব এলাকায় স্ত্রীদেরে ঘরে রেখে পুরুষেরা কিছুদিনের জন্য ফসলাদি ফলাতে অথবা যুদ্ধকাজে বেরিয়ে যেত, সেখানে তাদের ঘরে অনেক সময় চলত প্রেমখেলা। ফেলে যাওয়া নারীদেরকে বলা হত, ‘মুগাইইয়াবাত আলাইহিন্নাহ।’ মদিনায় এটা বেশী হত। একবার এক যুদ্ধ থেকে নবী (সঃ) যখন মদিনায় ফিরছেন, তখন মদিনার নিকটবর্তী হয়ে তিঁনি আস্তানা গেড়ে রাত্রি যাপনের সিদ্ধান্ত নিলেন। তিঁনি নির্দেশ দেন যে কেউ যেন মদিনায় সে রাতে প্রবেশ না করে। বরং দূত মারফত জানিয়ে দিলেন যে তারা আগামী কাল এসে মদিনায় ঢুকবেন। যুবক স্বামীরা যখন প্রশ্ন তুলল,  শহরের এত নিকটে এসে ঘরে যাবে না কেন? তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হল যে মেয়েদের অনেক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও প্রস্তুতির ব্যাপার থাকতে পারে, কালকে যাওয়াটাই শ্রেয়। তখন একজন, না হয় দুইজন যুবক, রাতের বেলায় সব ঘুমিয়ে পড়লে গোপনে মদিনায় পৌঁছে। কিন্তু তারা নিজ গৃহে ঢুকে যা দেখতে পায় তা ছিল এক তাণ্ডব কাণ্ড! (অন্য পুরুষের সাথে স্ত্রী শয্যায়িত)। এ নিয়ে অনেক গোলমাল হয়। এসব প্রথা দূর করতে অনেক সময় লেগেছিল, এগুলো একদিনে এক ঝটকায় চলে যাবার মত বিষয় ছিল না।

নিকাহুজ জাওয়াক

এটা হচ্ছে স্বাদ গ্রহণের ‘বিয়ে’। এতে কোন শর্তের প্রয়োজন হত না।  এটা স্বল্প সময়ের জন্যই হত। আরবরা এধরনের বিয়ে নিয়ে সেদিনও হাসা হাসি করে করত। তাদের মধ্যে এক প্রবাদ বাক্য প্রচলিত ছিল, তা হল, ‘খারিজার মার বিয়ে’। খারিমার মায়ের চল্লিশ জনেরও বেশী পুরুষ ছিল। এরা বিভিন্ন গোত্র থেকে আসত। কাজটি করার আগে বলতো, ‘প্রস্তাব করলাম’ আর সে বলতো, ‘বিয়ে মেনে নিলাম।’ এভাবেই চলতো।

    এ পর্যন্ত নারীপুরুষের দৈহিক মিলনের যে ফিরিস্তি দিলাম -তা সামান্য। যারা আরবী পড়তে পারেন, তারা হয়ত জাহেলী যুগের অনেক রকমের যৌন সম্পর্কের কথা পড়ে থাকবেন। যারা এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তারা বুরহান উদ্দীন দুলুওউ (১৯৮৯:১৭৫-৯২) প্রণীত জাজিরাতুল আরব কাবলাল ইসলাম, দ্বিতীয় খণ্ড দেখতে পারেন। (প্রকাশক: দার আল ফারাবী, বৈরুত)

    এবারে আসল কথায় ফিরে আসি। আগেই উল্লেখ করেছি এসব ‘তথাকথিত’ বিবাহে অনেক সমস্যা দেখা দিত। মারামারি-হানাহানি হত। মহিলারাও মারপিট খেত। মারামারির জের ধরে সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হত। কোন মহিলা বেশী প্রহৃত হলে তার পরিবার এগিয়ে আসতো। তারপর দুই পরিবারে সমস্যার উত্তপ্ত অনল জ্বলত। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল উত্তরাধিকার নিয়ে। আরবের প্রথায় উত্তরাধিকার রক্ত সম্পর্কের ভিত্তিতে বণ্টিত হত। কিন্তু ‘কাকের বাসায় কোকিল’-বিষয়ক পরিস্থিতিতে সেই বণ্টন ব্যবস্থায় বেইনসাফির সম্ভাবনা দেখা দিত। কেউ কারো সন্তান নয় -এমন কানাঘুষা থাকলেও এটা কানাঘুষায়ই থেকে যেত, কিন্তু মরণোত্তর সম্পদ বণ্টন-কালে দাবিদার হাজির হলে সমস্যা দেখা দিত।

    সমস্যার আরেকটি দিক দেখা যাক। যে সব নিষ্পাপ সন্তান-সন্তিনী সেই তথাকথিত বিবাহ সূত্রে জন্মগ্রহণ করত, তারাও নানান সমস্যায় ভূক্তভুগী হত। যেখানে সেখানে যৌনমিলনের ফলে জন্মলাভ করা অসংখ্য শিশু ‘এতিম’ হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরত। আবার সামান্য বড় হলেই ফিরতি যৌনশিকারের বলী হত। কোরান এসব এতিমদের কথা বার বার উল্লেখ করেছে।

    সমাজের সর্বাঙ্গীণ পরিধির দিকে তাকালে দেখা যাবে যে সেই সমাজও একদম একদর্শি ছিল না। অন্যান্য সমাজের মত সেখানেও ভাল লোক ছিল, যারা এসব অমানবিক প্রথার বিপক্ষে কথা বলত, কিন্তু কোন বিশেষ আইনী ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া ছাড়া এগুলোর কোন বিহিত ব্যবস্থা করা যেত না। আরবে কোন রাষ্ট্র ছিল না। গৌত্রীয় সিস্টেম ছিল, তাই কোন এক প্রধানের কথায় কোন কাজ হত না। কারো কথা সার্বিকভাবে গৃহীত হত না। তাছাড়া সেদিনের গোত্রপ্রধানরাই যেহেতু আজকের ‘সুযোগ-ভোগীদের’ মত ছিল, তারাও এগুলো বন্ধ করতে চাইত না। এতে তাদের অনেক স্বার্থ নিহিত ছিল। এই সব সামাজিক ও প্রথাগত সমস্যাই ছিল কোরান নাজিলের সময় বিশাল আকারের সমস্যা।

    উপরের আলোচনাতে যৌন সম্পর্কের যে সামাজিক অবস্থা সামনে এসেছে –এটাই ছিল কোরান নাজিলের যুগ। সেই সামাজিক প্রেক্ষিতকে সামনে রেখে কোরান অনেক আইনানুগ কথা বলেছে –সম্পর্কের ভিত্তি নৈতিকতা ও দায়িত্বানুভূতির উপর প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিগত অনেক যুগ থেকে চলে আসা নানান কুপ্রথাকে স্তরে স্তরে সরাতে হয়েছে। নারী-পুরুষের সম্পর্ক শুধু এক স্থানেই নয় বরং সমাজের আরও অনেক সম্পর্কের সাথে জড়িত ছিল। সবগুলো সম্পর্কের সংহতির প্রয়োজন ছিল। কোরান এখানে এসে প্রথমত সব ‘ফাইজলামী বিবাহ’ বন্ধ করে দেয়। যাদের সামর্থ্য আছে তাদের জন্য চারখানা বিবাহ রেখে বিবাহের পথ রুদ্ধ করে দেয়। বৈবাহিক সূত্রে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং সন্তান সন্তিনীদেরও আইনানুগ অধিকার নিশ্চিত হয়। (চার বিবাহের বিধান আমাদের সমাজের প্রচলিত ‘এক স্ত্রী+পরকীয়া’ থেকে এখনও অনেক উত্তম)। কোরানের স্বীকৃত বিধানের বাইরের যৌন-সম্পর্ককে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে। এর জন্য কড়া আইনের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু যে সমাজে যৌন সম্পর্ক অতল গভীরে, সেই সমাজে, শাস্তির বিধানও গভীর বিবেচনাবোধের প্রতিষ্ঠিত হতে হত। শাস্তির বিধান সহজ একদম মামুলী হলে, এতে অনেক লোকই প্রাণ হারাতে হত। আবার মিথ্যা মামলায়ও অনেকের প্রাণহানির সম্ভাবনা থেকে যেত। যদি তাই হত, তাহলে আরেক ধরনের সমস্যার দুয়ার খুলে যেত। তাই যৌন অপরাধে শাস্তির বিধান আনতে চারজন লোক কাজটি স্বচক্ষে দেখতে হবে এবং সাক্ষী হতে হবে –এই নিয়ম প্রবর্তিত হয়েছে। তাও আবার মূল কাজের আগে বা পরের অবস্থা দেখলে হবে না –‘মূল কাজটিই’ দেখতে হবে। ইসলামের আসল উদ্দেশ্য হল অবৈধ যৌনকাজ যাতে সামাজিক রূপ লাভ না করে, তা’ই নিশ্চিত করা -মানুষকে মারা নয়। চারজন সাক্ষী নিয়ে যথাস্থানে হাজির হতে হলে মূল-কাজটি শেষ হয়ে যাওয়ারই সম্ভাবনা। স্মর্তব্য যে, চারজন লোক যে কাজটি স্বচক্ষে দেখতে পায়,তা যেন সামাজিক রূপ লাভ করে। এতে সামাজিক সুস্থতা বজায় থাকে না। ইসলাম তাই এখানে এক সুমহান বিধানের ব্যবস্থা করছে; সুবিচার করেছে। যেহেতু সুনির্দিষ্ট শাস্তি ব্যতীত আইনের কোন মূল্য থাকে না, তাই আইন লঙন করলে শাস্তি দিতেই হবে, নতুবা আইন আইন থাকে না।

    যৌন স্পৃহা প্রকৃতিজাত। ইসলাম এটিকে ধর্মের আওতায় এনেছে; পবিত্রতা ও বিশ্বাসের আওতায় এনেছে। বিবাহের মাধ্যমে এ স্পৃহাকে শুধু সুস্থতা দেয় নি, বরং এটাকে ঈমানের এক অংশ করে দিয়েছে। বিবাহে ঈমানের পূর্ণতা প্রকাশ পাওয়ার কথা বলেছে। ধর্ম কাজে বিবাহিত ও অবিবাহিতের মধ্যে পার্থক্য সূচিত করেছে; বিবাহিতের ইবাদতে সওয়াবের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে; যৌনস্পৃহা বিবাহে নিবারণে সওয়াব সংযোগ করেছে; ইবাদততুল্য মর্যাদা দিয়েছে। সুস্থ সামাজিকতায় বিবাহকে এক মৌলিক সমাধান হিসেবে দেখেছে। তারপর জিনা-ব্যাভিচারকে শুধু হারাম করে নাই; বলেছে এর ‘ধারে পাশে’ না যেতে। এটাই হচ্ছে আমাদের ধর্ম।

    এতকিছুর পরও এটা জানা কথা যে সমাজে অনেক কাজ গোপনে হয়ে যায়। যদি কেউ চুরাচুরি করে, এবং কাজটি সামাজিক করে না তুলে, তবে সে কিয়ামতের দিন এর শাস্তি পাবে। চার সাক্ষী না পেলে ইসলামী আদালত কোন শাস্তির বিধান দেবে না। আবার কেউ যদি কোন নারীর উপর অপবাদ তুলে, আর সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার উপর উলটা শাস্তির বিধান আছে। কিন্তু এক ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর সাথে কাউকে যৌনরতিতে দেখে ফেলে, আর তার স্ত্রী আদালতে গিয়ে বেমালুম তা অস্বীকার করে, তবে উভয়ই বিধানমতে প্রতিজ্ঞা করে বলবে যে তারা নিজ নিজ স্থানে সত্যবাদী। ফলে স্বামী আইনী শাস্তি থেকে বেঁচে যাবে এবং বিবাহ তখন তালাক প্রক্রিয়ার যাবে।

এতটুকু ছিল চার বিবাহ ও জিনা সংক্রান্ত। এবারে স্ত্রী শাসনের (disciplinary)আইনী দিক নিয়ে কিছু কথা রাখা যাক।

তখনকার সমাজে এবং পরেও early বিবাহের প্রথা ছিল। ৮/৯ বছরের মেয়েদের বিয়ে হত। সব সমাজেই এটা ছিল। এই ভারতেও তা ছিল। আরবে হাজারে হাজার মেয়েরা এই বয়সে পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে ছিল। এই মেয়েদের (স্ত্রীদের) অনেক ক্ষেত্রে শাসন করার প্রয়োজন হত। এক্ষেত্রে অর্থাৎ যৌন বিষয়ক সামাজিক বাস্তবতাও চিন্তার বিষয় ছিল। তাছাড়া ঝগড়া-ঝাটিতে বয়স্ক স্ত্রীদের উপর হাত তুলা হত। শুধু হাত তুলা নয়, ষোলআনা পিটানো হত, যেমনটা আজও হয়। এই ইউরোপেও হয়। আমরা কেউ যেন ‘সভ্যতার’ সংগীতে বেশী আত্মহারা না হই। ইসলাম যখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তখন কোন নারীর উপর মারপিটের অভিযোগও আদালতকে আইনানুগভাবে দেখতে হত। তাই এ ক্ষেত্রে এক সীমা নির্ধারণের প্রয়োজন ছিল যাতে বিচার কার্য সম্ভব হয়। ইসলাম যুগে স্ত্রী প্রহারের দিন তখন শেষ। তাছাড়া শাসনের (disciplining) এর এক সীমাও আঁকা হয়ে গিয়েছিল। তখন থেকে সতর্কতার প্রয়োজন হয়ে পড়ছিল। স্ত্রী মেরে শাস্তি পাওয়ার চেয়ে বড় কোন সামাজিক লজ্জাস্কর কিছু সেদিনের পুরুষের জন্য ছিল না। সেদিন এটা ছিল এক অকল্পনীয় বিষয়।

    ইসলাম একজন স্বামীকে আদর্শ স্বামী হওয়ার শিক্ষা দেয়। কিন্তু জানা কথা, সবাই আদর্শ মানে না, সবাই তা পারেও না, স্ত্রীও পারে না। তাই যে’ই আইনের সীমা লঙন করবে, আইন তাকে শাস্তি দেবে। এই হচ্ছে প্রয়োগের বিধান।

    এখানে মনে রাখা দরকার জিনা-ব্যভিচারের ব্যাপার, স্ত্রী শাসনের ব্যাপার ইত্যাদি ইসলামী আদালত সাপেক্ষ বিষয়। কোরানে অনেক আইনী বিধান রয়েছে। ব্যবহারিক অনেক বিষয়ও আইনী। কোরানে চার বিবাহ আছে বলেই সব মুসলমানের উপর চার নারীর পাণি গ্রহণের অনুজ্ঞা নেই। কোরানে স্ত্রী শাসনের আদালতী সীমা আছে বলে স্বামীদের জন্য তা স্ত্রী-শাসনের কোন অনুজ্ঞা নয়। এখানে মারামারির কোন বিষয় নেই।

    নৃবিজ্ঞান ও ইতিহাসের ছাত্ররা ইসলামের এই বিধানগুলি তার সামাজিক ও ধর্মীয় প্রথার আলোকে যেভাবে দেখতে যায়, আমি সংক্ষেপে বিষয়গুলি সেভাবে দেখার খানিক প্রয়াস পেয়েছি। লিখাটি কিছু পাঠকের কাছে ভাল লাগে তাহলে  শ্রম সার্থক হয়েছে ভাবব।

>>__________________________________>>
কোরান-অনলিদের ব্যাপারে আমার অপরাপর ব্লগ:

এম_আহমদ: ভণ্ডের ধর্ম –কোরান অনলি

এম_আহমদ: কোরান-অনলি ভণ্ডরা অমুসলিম

এম_আহমদ: রিসালাত, সাহাবা ও সুন্নাহ -পর্ব ১

এম_আহমদ: গুরুমুখী প্রথায় হাদিস শাস্ত্র: সংগ্রহ ও চর্চা

এম_আহমদ: ফারুক সাহেবের ব্লগ: মিথ্যাচার ও ভণ্ডামি  

এম_আহমদ: ফারুক সাহেবের ব্লগ – বিবর্তনবাদ

এম_আহমদ: যৌনদাসী – ইসলাম বিদ্বেষী ও ‘কোরান অনলি’-দের একটা প্রোপাগাণ্ডা

১৫ comments

Skip to comment form

  1. 5
    জামশেদ আহমেদ তানিম

    অনেক চমৎকার লেখা অনেক কিছু জানতে পারলাম। তবে কিছু বানান ভুল/শাব্দিক ভুল চোখে পরার মত যেমন মূঢ়। আমার বুঝতে ভুল না হলে ব্যাপারটা হবে মোর, অর্থাৎ টার্নিং পয়েন্ট। মূঢ় অর্থ অজ্ঞ, বোকা, বোধশক্তিহীন।

    1. 5.1
      এম_আহমদ

      হ্যাঁ, ঠিক ঠিক বলেছেন, এটা মোড় হবে। আমাদের বানান ও বাক্যের অনেক সমস্যা নিজেদের চোখে অনেক সময় ধরা দেয় দেয় না। কেউ দেখিয়ে দিলে চোখে পড়ে। লেখাটির মধ্যে কিছু বাক্যও baggy হয়ে আছে, এগুলো এডিট করতে হবে। এভাবে কখনো কিছু নজরে পড়লে বলে যাবেন। অনেক ধন্যবাদ।

  2. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    ভাই আমি এখন খুবই tired, তাছাড়া আয়েশা (রা) ৯ ছিলেন, না  কিশোরী, সে বিতর্কে আমি কিছু দেখি না আর প্রমাণ দখিলের সময়ও নেই। তবে 'বাল্য' বলতে আপনি কোন বয়স ধরছেন?  আর আয়েশার (রা) বয়স কত ধরেন? এতটুকু জানলেই চলত, ২/১ বাক্যেই চলবে।

    এখন তো সরকার আইন করেছে ১৮ বছরের নিচে হলেই বাল্য হবে! তবে আমি স্থানিক আইন নিয়ে বলছিলনা। বলছি আমাদের আবাহমান কাল থেকে যা সংগায়িত হয়ে আসছে তা, যেমন গৌরী ৮ বছরের নিচে  এবং রজকিনী হবার আগ পর্যন্ত শিশুকে কুমারী বলে , এবং নয় বছরের শিশুকেই কুমারী বলত। আমি বাল্য নয় শিশু বিয়ের কথা নিয়ে আলাপ করতে চাই। ৯ বছরের শিশু । আমি আয়েশা রাঃ বয়স ১৩ থেকে ১৯ বছর হাদিস থেকেই পাই। তবে তিনি নয় বছরের তো ছিলেন না। আচ্ছা যখন সময় হবে তখন উত্তর জানালে চলবে। তাড়াহুড়ার দরকার নাই।

  3. 3
    এম_আহমদ

    @ মুনিম, 2.1.1.1.2 এর পর থকে
    আপনার মন্তব্যে একমাত্র ফাতেমার বয়সের পার্থক্য ছাড়া আর তেমন কিছু লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তার বয়স ধরা হচ্ছে নব্যুয়্যতের দ্বিতীয় বৎসর থেকে, এই অর্থে যে যখন রাসূলুল্লাহর (সা) এঁর বয়স ৪১। ইবন কুদামাহ ফাতেমার জন্মের ব্যাপারে বলছেন, “কারো কারো মতে” নবীর ৪১ বৎসর বয়সে জন্ম গ্রহণ করেছেন এবং যাইনাবের জন্ম নবীর ৩০ বৎসর বয়সে।  তাছাড়া আব্দুল্লাহর (রাঃ) পরিবর্তে কেহ কেহ ইব্রাহীম (রাঃ) করে ফেলেছেন, অথচ ইব্রাহীম (রাঃ) মারিয়ার (রাঃ) গর্ভজাত। খাদিজার (রাঃ) গর্ভজাত প্রথম সন্তান কাসেম (রাঃ) যার জন্ম অনুমানিক ৫৯৮ খৃ, যিনি হাটা-ফিরা করার বয়সে ইন্তকাল করেন, তবে মুহাম্মদ শাকের নামক আমার পূর্ব সোর্স ৫৯৭ করেন। তারপর যাইনাব (রা)। তারপর, নব্যয়ৎ প্রাপ্তির পর, আব্দুল্লাহ (রা)। নব্যুয়তের পর হওয়ায় আব্দুল্লাহর   আরও দুটি কুনিয়া (ডাক নাম) আসে, তায়্যিব ও তাহের। তিনিও জন্মের দেড়/দুই বৎসরের সময় মারা যান।  এবারে নজর করে দেখলাম আমার আগের সোর্স মুহাম্মাদ শাকের ফাতেমার জন্ম নব্যুয়তের ৫ বছর আগে করেছেন। এটা হতে সমস্যা দেখিনা। আন্দাজ করে যে চার্ট করা যেতে পারে তা এরূপঃ

    [কাসেম (৫৯৮), যাইনাব (৬০০), আব্দুল্লাহ (৬০২), রুকিয়্যাহ (৬০৩), উম্মে কলসূম (৬০৪), ফাতেমা (*৬০৫)। আর নব্যুয়তের সময় যাইনাব, (১০), রুকিয়্যাহ (৭), উম্মে কলসূম (৬), ফাতেমা (*৫) ]

    কোথায় পড়েছি যে আবু লাহাবের পুত্রদ্বয়ের ঘরে নবীর (রাঃ) দুই মেয়ে তখনও সংসার করতে যাননি। অর্থাৎ তাদের বিবাহ consummate  হয়নি। প্রথম জন তালাক প্রাপ্তা হচ্ছেন ১০ বৎসর বয়সে আর দ্বিতীয়জন হচ্ছেন ৯ বৎসর বয়সে। কথাটি এই দৃষ্টিতে যে সূরা আবি লাহাব নাজিল হওয়ার পরে আবু লাহাব তার পুত্রদ্বয়কে রুকিয়্যাহ ও উম্মে কলসূমকে তালাক দিতে বলে। সূরা আবি লাহাব প্রকাশ্যে দাওয়াত দেবার সময় নাজিল হয়। (এই আয়াত নাজিলের পরে, وأنذر عشيرتك الأقربين ২৬:২১৪) অর্থাৎ নব্যুয়তের আড়াই/তিন বৎসর পরে।
    তবে মনে রাখতে হবে যে বয়সের জরুরত আমারা যেভাবে দেখছি ক্লাসিক্যাল যুগের লেখরা সেভাবে দেখেননি। তাই বয়সের কিছু পার্থক্য দেখা যায়। লক্ষণীয়, ইবন হিশাম ৩ পুত্র করেছেন –কাসেম, তায়্যিব, তাহের। ইবন ইসহাকও তাই, এটা ঠিক নয়। ইবন সা’দ রুকিয়্যাহর পরে ফাতেমা তারপর উম্মে কলসূম করেছেন, এটাও ঠিক না হওয়ার কথা।

    এবারে মূল কথায় আসি। আপনার argumentটা কি তা বুঝতে পারছিনা। এতক্ষণ যা বলেছি তা কথার কথা, পূর্ব কথার ধারা বেয়ে বেয়ে। অর্থাৎ ফাতেমার বয়সের কমি/বেশির আলোচনা নিয়ে। কিন্তু এই কমি/বেশিতে মূল প্রসঙ্গে কি পার্থক্য হয় –তা ধরতে পারছি না। যে যুগে বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক বাস্তবতা ছিল, সেই যুগের কোন একটি মেয়ের ব্য়স, নানান বই-পুস্তক ঘেটে, যদি বাল্য থেকে কৈশরে নেয়া যায়, তাহলে সেই বাস্তবতায় তেমন কোন পার্থক্য সূচিত হয় বলে বুঝি না।   ইসলাম বাল্য-বিবাহের বিশ্বে নাজিল হলেও বাল্য বিবাহের পক্ষে কথা বলে নাই। আবার বিপক্ষেও বলে নাই। অর্থাৎ সমাজ তার আপন বাস্তবতার নিরিখে, জীবন-ধারার সুবিধার্থে, নৈতিক জীবন ধরে রাখতে, যে প্রথার বিকাশ আসবে –তাই মানবে।    
    ইসলাম বিদ্বেষী যেসব মুর্খ  সে যুগের বাস্তবতা না বুঝে এবং গোটা বিশ্বের বাল্য-বৈবাহিক বাস্তবতাকে একপাশে রেখে কেবল নবী মুহাম্মদ (সঃ) কে বাল্য বিবাহের জন্য অভিযুক্ত করে, তাদের সেই অভিযোগ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের উপর আনা যেতে পারে, একথা তাদের ঘিলুতে ঢুকে না।  
    উপরে বয়সের ব্যাপারে আবার যে অনুমান করলাম –তা আরও fine-tune করা যেতে পারে। আমার প্রবন্ধটি অসম্পূর্ণ রেখে ছেড়ে দিয়েছি, কোন দিন আবার সেখানে ফিরলে আরও কিছু কাজ করব। 

    1. 3.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ইসলাম বিদ্বেষী যেসব মুর্খ  সে যুগের বাস্তবতা না বুঝে এবং গোটা বিশ্বের বাল্য-বৈবাহিক বাস্তবতাকে একপাশে রেখে কেবল নবী মুহাম্মদ (সঃ) কে বাল্য বিবাহের জন্য অভিযুক্ত করে, তাদের সেই অভিযোগ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের উপর আনা যেতে পারে, একথা তাদের ঘিলুতে ঢুকে না।

       
      নবী সাঃ যেখানে বাল্য বিয়ে করেন নাই সেখানে কেন আপনারা সেটি করতে যাচ্ছেন!
      আপনার কি সে হাদিস মনে পড়ে না! যেখানে তিনি বলেছেন- যে উনার নামে কেউ যেন মিথ্যাচার না করে!
       

      1. 3.1.1
        এম_আহমদ

        আমাদের কথার পার্থক্যটা মনে হয় সেমান্টিক লেভেলে। এখানে যে অর্থে কথাটি এসেছে তা ইংরেজী general চাইল্ড অর্থে। এই প্রেক্ষিতে আট/নয় বা কৌশরের মধ্যে পার্থক্য করা হচ্ছেনা। আয়েশার (রাঃ) সাথে নবীর (সা) বিয়ের বাক্যটা কিভাবে তৈরী করবেন? মানি বিয়ের প্রথা ও বাস্তবতা বুঝাতে?

        1. 3.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          আয়েশার (রাঃ) সাথে নবীর (সা) বিয়ের বাক্যটা কিভাবে তৈরী করবেন?
           
          নবী করিম যে আয়েশা রাঃ বাল্য বিয়ে করেছিলেন তা আমি মেনে নিতে রাজী নই। এখন যদি আপনার কাছে প্রমাণ থাকে তাহলে তা আমাকে দেখালে আমি মেনে নেব। ধন্যবাদ।

        2. এম_আহমদ

          ভাই আমি এখন খুবই tired, তাছাড়া আয়েশা (রা) ৯ ছিলেন, না  কিশোরী, সে বিতর্কে আমি কিছু দেখি না আর প্রমাণ দখিলের সময়ও নেই। তবে 'বাল্য' বলতে আপনি কোন বয়স ধরছেন?  আর আয়েশার (রা) বয়স কত ধরেন? এতটুকু জানলেই চলত, ২/১ বাক্যেই চলবে।

  4. 2
    মুনিম সিদ্দিকী

    আগেও পড়েছিলাম। এখনও পড়লাম ।  লেখার মাধ্যমে সেই যুগের চিত্র উঠে এসেছে। যারা এই প্রবন্ধ পড়বে তারা সেই সময়টাকে বুঝতে  সহায়ক হবে।
    আচ্ছা আপনার কি জানা আছে নবী সাঃ তনয়া রোকেয়া রাঃ যায়নাব রাঃ কলসুম রাঃ ও ফাতিমা রাঃ দের কত বয়সে বিয়ে হয়েছিল?

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      ভাই এক সময় বাল্য বিবাহ নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেছিলাম, কিন্তু তা শেষ করা হয়নি। সেই আংশিক প্রবন্ধ নিচে দিলাম, আপনার প্রশ্নের আংশিক উত্তর পাবেন।
      __________
      CHILD MARIAGE
       
      M_Ahmed
       
      Zainab (r.), the eldest daughter of the Prophet (pbhh) was married to her maternal cousin Abu al-As bin al-Rabi‘ before Muhammad (pbuh) had received prophethood. Muhammad (pbuh) married Khadijah (r.) in 595 CE. He became Prophet in 610 EC. Within these 15 years his three daughters Zainab, Ruquyyah and Umm Kalsum (r.) were born and have been married. Ruquyyah and Umm Kalsum (r.) were married to the two sons of Abu Lahab, Utbah and Utaibah respectively. After the advent of Islam, Abu Lahab asked his sons to divorce them, which they did. Assumingly the daughters have been married between 9 and 13 years of age. Only Fatimah (r.), the youngest daughter of the Prophet (pbuh), was born 5 years after the advent of Islam. She was married to Ali (r.) in the second year of Hijrah, thus when she was roughly about 9/10. She died 6 months after the death of the Prophet (pbuh) at around 16/17 of her age. Zainab (r.), the eldest daughter of the Prophet (pbuh) had two children from Abu al-As, Ali and Amanah (r.). The former died as an infant, while Amanah lived and married Ali (r.) after the death of her Aunt Fatimah (r.). Amanah (r.) was born perhaps 2/3 years after Badr –for Abu Al-As was released from captivity after Badr on condition that he would release his wife to Madinah, which he did and, thus, their marriage was annulled. However, he was captured again with his partnership business caravan and brought to Madinah. Zainab sheltered him and he was later released with the goods. This time having returned home and settled the partnership assets, he accepted Islam and migrated to Madinah. The prophet (pbuh) remarried Zainab to him. Considering these events we estimated Amanah’s birth and roughly say she was about 8/9 when she was married to Ali (r.). The basis for my estimation of age has been obtained from the materials from Shakir, M (1985) Al-Tarikh al-Islami, vol 2, al-Sirah  Beirut: al-Maktab al-Islami, p.377-379. If any errors, they are mine.
       
      Umm Kalsum bint Ali (r.) was married to Umar (r.) at a very young age. When Umar (r.) proposed for her to Ali (r.), he said, ‘She is (too) young.’ He said, ‘You marry her to me O father of al-Hasan. I will preserve her honour as no man will do’. Ali (r.) agreed and said, ‘I marry her to you upon (the fact that having seen and talked to her) you liked her. I will send her to you.’ (Following this), he liked her and the marriage proceeded. Umar (r.) gave 40,000 dirham as dowry, ((Ibn Qudamah, (1988) Ansab al-Qarashiyyin Beirut: Maktabah al-Nahdah al_Arabiyyah, p.134)) So what was her age at the time? If her mother married in 625 CE and died in late 632 CE (November/December) leaving 3 children: Hasan, Husain and Umm Kalsum (r.), the youngest could be at the age of 2/3 or around. Umar (r.) became Khaliph in 634 CE and died (assassinated) in 644 CE. If we estimate that the marriage with Umm Kalsum took place a few years after his appointment as Khaliph, we say, she was around 8/9.
       
      Umar (r.) considered it an honour to marry into the family of the Prophet (pbhu). He had given his own daughter Hafsah in marriage to him and was seeking another relationship. Succeeded in his marriage proposal with Ali’s (r.) daughter, he went to the Muhajirun and said, ‘Unite with me in rejoice!’ They said, ‘What happened, O Amir al-Mu’minin?’ ‘I have married Umm Kalsum, the daughter of Ali. I have heard the Prophet say, “All sabab (reason), nasab (blood relation) and sahr (in-law relation) will be cut off in the Day of Judgement except my sabab, my nasab and my sahr.” So, I had the sabab, the nasab and now brought together the sahr’. (ibid,. p.135).  
       
      Ibn Qudamah brings a striking narrative about the first encounter of Umm Kalsum with Umar (r.). When her father sent to him he hadn’t mention the marriage. However, when she met him, he placed his hand on her leg. This angered her extremely. ‘How dare you did that! If you weren’t the Amir of the Believers, I’d have blasted your nose right now,’ she said and walked away home. She said to her father, ‘You sent me to an old evil man!’ The Father now explained to her that he was her husband; he married her to him.
       
      Age presented no substatial problem at the time, therefore, they hadn’t felt the need to go over it in details. Their tradition allowed teenage and child marriage with the general rule that the parents would decide when the marriage would consummate, based on the female to reach their menstrual age. Parents and guardians could agree the marriage and that would become a socially and lawfully a binding. Islam brought some changes to it. If a marriage was contracted by parents, the child when matured had the right to ratify the contract or annul it. The issue of child marriage or teenage marriage was not a problem to the classical and middle ages as it is now. Modernity has transformed into an ideology whose social value finds it difficult to grapple with such marriages but it is at ease with teenage sexual relationship if practiced with safer sex (using contraceptive means).
       

      1. 2.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        ভাই রাগ করবেন না। আমার আরও কিছু প্রশ্ন আছে যা আমি ক্রমান্নয়ে করতে চাই।
        ১। ইসলামে যুদ্ধে যোগদানের জন্য সর্ব নিম্ন কত বয়স ধার্য করেছে?
        ২। ইসলামে আইন আদালতে বিচারিক কার্যে সাক্ষিদের সর্ব নিম্ন কত বয়স ধার্য করেছে?
        ৩। ইসলামে ২ ব্যক্তির মধ্যে ব্যবসায়িক চুক্তি করতে ব্যবসায় অংশিদারদের সর্ব নিম্ন কত বয়স ধার্য করেছে?
         

        1. 2.1.1.1
          এম_আহমদ

          ভাই, রাগের কিছু নেই। জানা থাকলে উত্তর দেব, সওয়াব হবে, লাভ তো আমারই।
          আপনার তিনটি প্রশ্নের তাত্ত্বিক স্থল মনে হয় একই, আর তা হল ‘বুলুগুর রুশদ’ (بلوغ الرشد -[মর্মার্থ এখানে ৪:৬, এবং আরও একটি আয়াতে আছে যা এখন মনে আসছেনা), অর্থাৎ বালেগ হওয়ার পর, যে হিতাহিত জ্ঞানের বয়স হয়,(রুশদ), সেই বয়স। তাই এখানে পাচ্ছি বালেগ হওয়া এবং হিতাহিত (ভাল/মন্দ) জ্ঞান আসা। এটা কারও কিছুদিন আগে আসে, কারও কিছুদিন পরে। তবে যুদ্ধের জন্য দৈহিক পূর্ণতাও হতে হবে। কিন্তু exact কোন বয়সের ব্যাপার আমার জানা নেই। হয়ত exact কিছু  থাকার কথা নয়।
          [ওহুদ যুদ্ধে যে দুই ভাইকে যুদ্ধে যেতে অনুমতি দেয়া হয়, তাদের ব্যাপারটা একটু আলাদা, এটা discretionary ছিল বলে মনে হয়। কেননা তারা ডিগি দিয়ে উচ্চতা দেখিয়েছিলেন এবং মল্লযুদ্ধে একে অন্যকে ছাট দিয়েছিলেন। তখন তাদের বয়স ১৪/১৫ ছিল মনে হয়।   এর চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলতে পারলাম না।]

        2. মুনিম সিদ্দিকী

          ইসলামে বিয়ে কি?
          বিয়েও একটি সামাজিক চুক্তি নয় কি?
          ১।  আর যে কোন চুক্তি হতে হলে বেবুঝ পাগল অক্ষম ব্যক্তিদের মধ্যে নিশ্চয় আইন সংগত চুক্তি হতে পারেনা।
          ২। আমি যতটুকু জানি যে, ইসলামে নাবালক শিশুদেরকে যুদ্ধে যেতে পারমিশন দেয় নাই।
          ৩। তেমন করে বানু কুরেজার শাস্তিও কোন নাবালক শিশুকে দেয়া হয় নাই।
          ৪ । কাজেই যেখানে নাবালকরা যুদ্ধে যোগ দিতে পারেনা সেখানে নাবালিকা কেমন করে যোগ দিতে পারে?
          আপনার ২ এর ১ কমেন্টে যে প্রবন্ধ উল্লেখ করেছেন তা থেকে ৩টি টাইমলাইন আমরা পাই।
          ১। নবুয়াতী প্রাপ্তির আগের
          ২। রাসুল সাঃ জীবিত থাকা কালিন
          ৩। রাসুল সাঃ এর ওফাতের পর
          ১ এবং ৩ আমাদের বিবেচনার বিষয় নয়। আমাদের বিষয় ২ নং সময়।
          কাজেই আসেন তো দেখি রাসুল সাঃ এর কনিষ্ঠ কন্যা ফাতেমা রাঃ বিয়ে কত বছর বয়সে হয়েছিল-
          ইতিহাসে জানা যায় যে, রাসুল সাঃ নবুয়াত প্রাপ্তির আগেই জায়নাব রাঃ রুকিয়া রাঃ এবং উম্ম কুলসুম রাঃ বিয়ে হয়ে যায়। আমরা জানি যে রাসুল সাঃ এর জন্ম ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল। ৫৯৫ খ্রিস্টাব্দে ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করেন। এর ৫ বছর পর ৬০০ খ্রিস্টাব্দে জায়নাব রাঃ জন্ম হয়! জায়নাব রাঃ জন্মের তিন বছর পর  ৬০৩ খ্রিস্টাব্দে রুকাইয়া / রোকেয়া রাঃ জন্ম হয়! এর পর উম্ম কলসুম রাঃ এর জন্ম হয়!  রুকিয়া রাঃ থেকে উম্ম কলসুম রাঃ কত বছরের ছোট ছিলেন জানা যায় না। তবে ধরে নেই আরও ২/৩ বছর পর ৬০৫/৬ উম্ম কলসুম রাঃ এর জন্ম হয়। নবুয়াত প্রাপ্তি ঘটে রাসুল সাঃ ৪০ বয়সে মানে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে। এই হিসাবে দেখলে নবুয়াত লাভের সময় নবী সাঃ এর তিন কন্যার বয়স যথা ক্রমে- জায়নাব রাঃ ১০ রুকিয়া রাঃ ৭ আর উম্ম কলসুম রাঃ ৪/৫ বছরের ছিলেন! আমরা আরও জানি যে এই তিন মেয়ের বিয়ে রাসুল সাঃ এর নবুয়াতি লাভের আগেই হয়ে গিয়েছিল। নতুবা আবু লাহাব যেমন ছেলেদেরকে বিয়ে করাত না তেমন করে কোন মুসলিম তাদের মেয়েকে কাফের ছেলের সাথে বিয়ে দিত না।  তাই নবুয়াতের আগে রাসুল সাঃ মেয়েদের অল্প বয়সে (!) বিয়েকে আমরা ইসলামিক রীতির বিয়ে না ভেবে জাহিলি যুগের রীতিনীতির বিয়ে বলে মনে করতে পারি।
           
          এবার আসি ফাতেমা রাঃ এর বিয়ের বয়স কখন ছিল তা দেখব-
           
           

          When Fatimah come of age, there come forward a number of aspirants to ask for her hand in marriage. The Holy prophet was awaiting the Divine order in this respect, till Imam ` Ali approached him and asked for her hand in marriage. The Holy Prophet come to Hadrat Fatimah and asked, " My daughter ! Do you consent to be wedded to ` Ali, as I am so commanded by Allah ? " Hadrat Fatimah thereupon bowed her head in modesty. Umm Salamah narrates: " The face of Fatimah bloomed with joy and her silence was so suggestive and conspicuous that the Holy Prophet stood up reciting ` Allahu Akbar' ( Allah is most great ) .
          Fatimah's silence is her acceptance." On Friday, l st. dhi'l -- hijjah 2 A H , th

           
          হাদিসে আমরা জানতে পাই নবী করিম সাঃ তিনি আলী রাঃ এর সাথে ফাতেমা রাঃ বিয়ে ঠিক করার আগে এই নিয়ে ফাতেমা রাঃ মতামত জানতে চেয়েছিলেন! কিন্তু আমরাতো জানি কন্যা নাবালিকা /শিশু থাকলে তার অভিভাবকের অনুমতিই ইসলামী রীতি বিয়ে চুড়ান্ত করা হয়।  যেমন -মা আয়েশা রাঃকে উনার পিতা আবু বকর রাঃ বিয়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন বলে আমরা হাদিসে জানতে পাইনা! আবু বকর রাঃ শিশু (!) মেয়ের অলী হিসাবেই বিয়ে দিয়েছিলেন রাসুল সাঃ এর সাথে। ইসলামের  আইনের বাস্তবায়ন তো মুখ চিনে মুগের ডাইলের মত তো হয় না! সবার জন্য এক নিয়ম অবশ্য থাকতে হবে। নতুবা কেমন করে সাম্যের গান গাইতে পারি!
          উপরের হাদিস স্বাক্ষ্য দিচ্ছে -যেহেতু নবী করিম সাঃ ফাতেমা রাঃ বিয়ের আগে মতামত জিজ্ঞাস করেছিলেন তার মানে ফাতেমা রাঃ বিয়ের সময় প্রাপ্ত বয়স্কা ছিলেন মাত্র নয় বছরের শিশু ছিলেন না।
           তাছাড়া অধিকাংশ সুন্নি মুসলিম ইতিহাসবিদ্গণ জানান যেঁ ফাতেমা রাঃ জন্ম রাসুল সাঃ ৪১ বছর বয়সে! মানে নবুয়ত প্রাপ্তির ১ বছরের মধ্যে।

          It is reported on the authority of Jabir ibn Yazid that (the fifth Imam) al-Baqir was asked: "How long did Fatimah live after the Messenger of Allah?" He answered: "Four months; she died at the age of twenty-three." This view is close to that reported by the traditionists of the (Sunni) majority. They have asserted that she was born in the forty-first year of the. Messenger of Allah's life. This means that she was born one year after the Prophet was sent by Allah as a messenger. The scholar Abu Sa'id al-Hafiz relates in his book Sharafu' n-Nabiyy that all the children of the Messenger of Allah were born before Islam except Fatimah and Ibrahim, who were born in Islam.

          তবে আমার আর্গুমেন্টের মানে নয় যে আমি ইসলামে শিশু বিয়ে অবৈধ তা প্রমাণ করতে লেগেছি। কারণ আল কোরআনে শিশু বিয়ের বিষয়ে স্পষ্ট করে কোন হারাম হালাল নির্দেস করে কোন আয়াত নাজিল হয়েছে বলে এখনও আমার নজরে পড়ে নাই। তাই যে বিষয়ে হারামের স্পষ্ট নির্দেশ নাই সে বিষয়কে আমি কোন অবস্থায় হারাম বলতে পারিনা।

  5. 1
    এম_আহমদ

    @ এন্টাইভণ্ড, ভাই আপনি অনেক আগে বলেছিলেন যে এই প্রবন্ধটি যেন এখানে প্রিন্ট করি, কিন্তু গাফলাতির কারণে করা হয়নি। এখন করলাম। আমুতে কোন রেফেরেন্স ছিল না, এখানে কিছু কিছু রেফারেন্সের সংযোগ করেছি। নামটাও পরিবর্তন করেছি। আছে ছিল: “হেজাজের যৌন সম্পর্কের স্বরূপ ও কিছু কোরানী আয়াতের প্রেক্ষাপট” এবং এখন করেছি “জাহেলী যুগের যৌন সম্পর্ক  ও ইসলাম”।

    1. 1.1
      এম_আহমদ

      আমাদের 'এন্টাইভণ্ড' ভাই কোথায়, অনেকদিন হল তার কোনো উপস্থিতি অনুভব করা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.