«

»

Apr ০১

সম্পর্ক

নিস্তব্ধ। জ্যোৎস্না। রাত। ঝির ঝির। সিনাই পাহাড়
মুসার পাহাড়। দূরে সুদূরে পাহাড় আর পাহাড়।
নীরবতা। চিন চিন শিন শিন। ভয় নির্ভয় একাকীত্ব
জ্যোৎস্নার আভা। বিমল। চাঁদ। চাঁদ আর দূরের পাহাড়।
নীরব, শুন্যতা। ঝির ঝির। নিঃশব্দ শব্দময়। আকাশ।
আমি। ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র। নিচে পাহাড়। উপরে পাহাড়
সামনে পাহাড়। মহাকাশ। সুবিশাল। উন্মুক্ত। নির্মল
আহা। স্থবির। সুন্দর অপরূপ। কে? কি? সম্পর্ক?  
 

১৭ comments

Skip to comment form

  1. 8

    আমি আল্লাহর রাস্তায় ফিরার জন্য তউবা করছি। আমার জন্য সবাই দয়া করবেন।

    1. 8.1
      এম_আহমদ

      আপনার জন্য দোয়া রইল। আল্লাহ আপনাকে মাফ করে দিন এবং আপনার বক্ষকে তাঁর দ্বীনের জন্য উন্মূক্ত করে দিন। যার বক্ষকে প্রশস্ত করা হয়েছে, তার জন্য এক অপরিসীম কল্যাণের দুয়ার খোলা দেয়া হয়েছে।

      1. 8.1.1
        এম_আহমদ

         
        আগের মন্তব্যের পরে আরও দুটি হাদিস সংযুক্ত করতে ইচ্ছে করছে।
         
        রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, প্রত্যেক আদম সন্তানই অপরাধী আর উত্তম অপরাধী তারা যারা তাওবা করে। (আনাস বিন মালিক/তিরমিযী, ইবন মাযাহ, দারিমী)
         
        আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার ক্ষমার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করবে, আমি তোমাকে মাফ করে দেবো; তোমাতে যে পাপই থাকুক না কেন, আমি পরওয়া করি না। আদম সন্তান, তোমার পাপ যদি গগণ সীমা ছোয়ে পড়ে তারপরও যদি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থণা করো, আমি ক্ষমা করে দেবো; আমি কারো পরওয়া করি না। আদম সন্তান তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ পাপ নিয়ে আমার সাক্ষাত করো আর আমার সাথে কাউকে শরীক করো না, আমি পৃথিবীস্বরূপ ক্ষমা নিয়ে তোমার দিকে আসবো। (আনাস বিন মালিক/ তিরমিযী, আহমদ, ও দারিমি। মিশকাতে উদ্ধৃত)
         

  2. 7
    এম_আহমদ

    @ মুনিম সিদ্দিকী 1.1.1 পয়েন্টের পর
    ভাই, এবারে তো ফাটাফাটি। রবী বাবুর মত আমারও অবস্থা। তবে খুব দূরে নয়। এবারে বিষদ আলোচনা হয়েছে। তাই আমিও দু/চারটি কথা বলি। আমি যে লেখাটি এখানে দিয়েছি এবং অন্যটা সংলাপে –এতে কোন বাক্য নেই।  ক্রিয়াপদ ছাড়া বাক্যের ধারণা আসে না। অনেক সময় ক্রিয়াপদ দেখা যায় না কিন্তু এক ধরনের উহ্য ক্রিয়াভাব থাকে, যেমন ছোট ছোট প্রশ্নে। আরবীতে ‘জুমলাহ ইসমিয়্যাতে’ক্রিয়াপদ দেখা যায় না, তবে কালীন ধারণা পাওয়া যায় এবং এতে মুবতাদাহ (বিশেষ্য/subject)এর অস্তিত্ব সময়ে ধরা দেয় এবং এতে (মুবতাদাহ-খবর সমন্বয়ে) ক্রিয়ার ধারণা উপস্থিত থাকে। ইংরেজিতে ক্রিয়াপদ (verb) ছাড়া বাক্য হয় না, যা হয় তা phrase। ক্রিয়াপদই বিশেষ্যপদকে বস্তুজগতের বর্তমান, ভবিষ্যৎ বা অতীত কালে স্থাপন করে। আমার এই লেখাটি এবং আগের লেখাটিতে ক্রিয়াপদ ব্যবহার করতে চাইনি। এখানে কিছু শব্দমালা তসবির গুটার ন্যায় সাজিয়ে দেয়া হয়েছে। এই শব্দমালা যে ‘ভাব’ ও ‘অনুভূতি’ স্পর্শ করে তা কোন কালে নেই, অর্থাৎ এটা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতর সময়-তরীতে নেই। এখান থেকে যে অর্থ নেয়া হবে, তা হবে পাঠকের অর্থ, পাঠকের মনের মাধুরী দিয়ে গড়া ছবি। এর সাথে লেখকের মনের মিল কিছু থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। পাঠক এখানে যে ‘অর্থ’ তৈরি করবেন –তা ইউরোপিয়ান সাহিত্য- সমালোচনায়, দর্শনে ও সমাজ বিজ্ঞানে ‘রিডার্স-কন্সট্রাক্টেড-মিনিং’ বলা হয়। এবারে প্রশ্ন করতে পারেন যে যে অর্থটি আপনি পাঠক হয়ে গ্রহণ করবেন তা কি সত্য বা ঠিক? এখানে যে শব্দমালা জুড়ে দেয়া হয়েছে এবং এই শব্দগুলো মনের জগতের বাইরের জগতের সাথে কি কোন সম্পর্ক রাখে? এটা কি সত্যিই সিনাই প্রদেশের মুসার পাহাড়ের নিকটতম কোন পাহাড় থেকে দেখা দৃশ্য? না অন্য কোন স্থানের দৃশ্য যা দ্রষ্টার চোখে সিনায়ের পাহাড়ের মত লেগেছে? না দ্রষ্টা মুসার পাহাড়ের গল্প শুনে ধ্যানে এগুলো দেখছে? না এটা এমন একজন ব্যক্তির কথাবার্তা যে ব্যক্তি সাময়িকভাবে মানসিক অসুস্থতায় ভোগে এবং কোন এক অসুস্থ মুহুর্ত্তে এই কথাগুলো বলে ফেলেছে? আরও কত কথা হতে পারে। মনে রাখতে হবে যে এখানে কোন সময়ের ধারণা নেই, কালের ধারণা নেই, তবে টেনে হেঁচড়ে হয়ত এতটুকু ধরা যেতে পারে যে তা মুসা নবীর পরের সময়ের।
    দ্বিতীয় স্তরের প্রশ্ন হবে –এখানে প্রবক্তা (persona/narrator/subject)কে? এখানে আদৌ কি কিছু বলা হয়েছে বা হচ্ছে? এখানে কেবল শব্দই দেখা যাচ্ছে। আমরা যদি বলি, ‘টেবিল’, তারপর আর কিছু বলি না, তখন কি অর্থ দাঁড়াতে পারে? হয়ত কিছুই না, হয়ত বা কিছু হতে পারে যদি পূর্বে কোন প্রশ্ন থেকে থাকে। বার্ট্রান্ড রাসেলের মতে বস্তু জগতের দিকে ইঙ্গিত করতে হলে তা subject, predicate হয়ে আসতে হবে, না হলে হবে না। কেবল তখনই subjectটা বস্তু জগতের কিছু বলে বুঝা যাবে এবং predicate টা হবে সেই subject এর গুণ অথবা বর্ণনা। যুক্তিতে এটাকে atomism বলা হয়। এই লেখাটিতে যে ‘আমি’সর্বনাম (pronoun) এসেছে, তার ব্যাপারে তো কিছু বলেনি। সে দেখছে বলেও বলছে না, আবার যে দ্রষ্টা নয়, এমনটাও বলছে না। ‘আমি’ বলেই দাঁড়ি টানছে। কিন্তু কোন ক্রিয়াপদ ব্যবহার না করা সত্ত্বেও এখানে কিছু বলা হচ্ছে কী না তা নিয়ে পাঠকদের দ্বিমত দেখা যাচ্ছে। প্রথমে কেই কিছু না বুঝলেও পরে কিছু বুঝার কথাও বলেছেন। কেউ পদ্য/গদ্যের মধ্যকার কিছু দেখেছেন, কেউ আবার কিছুই বুঝেননি। এই লেখাটি হয়ত ভাষা নিয়ে চিন্তা করার একটি প্রয়াস জাগাচ্ছে। হয়ত বা বলছে এই শব্দমালা এখানে কি করছে? যদি কোন অর্থ প্রকাশ পায় তবে কেন পায়? যদি না পায়, তবে কেন পায় না? ভাষা ও ‘অর্থের’ মধ্যে সম্পর্ক কি? তারপর যে সত্তা ভাষা ও অর্থের ব্যাপার নিয়ে মাতামাতি করে এই দুই জিনিস তার সত্তার সাথে কিভাবে সম্পর্কিত হয়? হয়ত লেখাটি দর্শনের বাইরে অর্থাৎ দার্শনিক পরিভাষা ব্যবহার না করে দার্শনিক প্রশ্ন উত্থাপন করছে। হয়ত এ লেখাটি অন্য কোন লেখার পথ প্রশস্ত করছে চাচ্ছে। আবার হয়ত বলতে চাচ্ছে যে ক্রিয়াপদ ছাড়া শব্দমালার সমন্বয়ে যে ছবি তৈরি করা যায় তার প্রাচুর্য ক্রিয়াপদের ব্যবহারে, সময়ে নির্দিষ্ট হয়ে কমে যায়, সময়ে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, যেভাবে ছায়াছবি লিখিত উপন্যাসের শব্দের ছবিকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। আমি চেয়েছিলাম এতে আরও বর্ধিত আলোচনা হবে। হয়ত বা আমার সীমাবদ্ধতার কারণে হলনা, বা হচ্ছে না।

  3. 6
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    কিচ্ছু বুঝি নাই মিয়া। 

    1. 6.1
      এম_আহমদ

      ভাই মহাবিদ্রোহী, আপনি এত তাড়াতাড়ি রণে ক্লান্ত হলে কী হয়? বুঝার পথে অন্তরায় কি ছিল? এই লেখাটি কি আপনার বুঝের জগতে কিছুই করে না? লেখাটি যে কারণে আপনার বুঝের জগতে ‘অর্থের’ সমন্বয় ঘটাতে পারেনি সেই কারণটা কি? 

  4. 5
    করতোয়া

    বুঝলাম না কি কন? একবার মনে হলো কবিতা, আবার মনে হলো ছেঁড়া চিঠির কিছু আংশ। আবার মনে হলো কিছু একটা লিকতে গেয়ে ভাবী সাবের হুঙ্কারে হঠাৎ বন্ধ করে দিয়েছেন।
     
    খোলাসা করুন আমাদের জন্য। 

    1. 5.1
      এম_আহমদ

      আপনার প্রথম লাইন নিয়ে আরেকটু চিন্তা করতে অনুরোধ করব। উপরে কয়েকটি প্রতিমন্তব্য দিয়েছি। সেখানে জরুরি কিছু বিষয়ে দিকে ইঙ্গিত এসেছে। আপনাকে আরেকবার পড়ে আরেকটি মন্তব্য করতে অনুরোধ করব। আপনার ভাবীর ব্যাপারে যা বলছেন –তাতে সত্যের স্থান আছে, কেননা অনেক সময় লুকিয়ে লুকিয়ে ব্লগে ঢুকতে হয়। কখনো কখনো ১৪৪ ধারাও জারি হয়। এখন বুঝতে পারছেন।
      ধন্যবাদ

  5. 4
    শামস

    প্রথমে কবিতার মত পড়লাম, কিছুই বুঝলাম না! তারপর ভাবলাম গদ্যের মত পড়ে গেলে কেমন হয়! আসলে আমার কাছে গদ্যের মতই লাগছে।
    মনে হল, এটা একটা আত্নোপলব্দির চেষ্টা। চারদিকের পরিবেশে পাহাড় আছে, আছে উপরের মহাকাশ, এরা মানুষের চেয়ে বড়, এই রকম একটি পরিবেশে নিজের ক্ষুদ্রতাকে বুঝার জন্য সহায়ক। আর মুসার মত স্রষ্টার সাথে যোগাযোগের জন্য এরকম একটা অবস্থাই দরকার!

    1. 4.1
      এম_আহমদ

      এবারে অনেকটা সঠিক পথে হাঁটছেন। একটা পদ্য/গদ্য কীভাবে হবে? লক্ষ্য করবেন গোটা লেখাতে বাক্য তৈরি হয়নি। ক্রিয়াপদ নেই। কেবল ‘কে’ ‘কি’ ‘সম্পর্ক’ শব্দের পর প্রশ্নবোধক চিহ্ন ব্যবহার করার কারণে যে জিজ্ঞাসার অবতারণা এসেছে তাতে ক্রিয়া-মাত্রা কাজ করে –আর এই সামান্য ছোঁয়াচ ব্যতীত ক্রিয়ার স্পর্শ নেই। আরেকটি লেখা এখানে দেখুন। এগুলোকে আমি পদ্য/গদ্য কিছুই বলছি না। একটা কিছু না বললে কোন বস্তুর দিকে reference আসে না, তাই শুধু ‘লেখা’ বলে উল্লেখ করে যাচ্ছি।
      তবে বিষয় নিয়ে আস্তে আস্তে আরও বলবো।

  6. 3
    এস. এম. রায়হান

    কে? কি? সম্পর্ক?

    আপনার লেখাতে যেহেতু 'কি' আর 'কী' এর মধ্যে পার্থক্য করেন, যা অনেকেই করে না, সেহেতু এখানে 'কী' হবে বলে মনে করি। আর কবিতার মর্মার্থ বুঝতে পারি নাই!

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      ধন্যবাদ। 'কী' -তে জিজ্ঞাসার উত্তর চাওয়া হয় না। মূলত এই কী subject  দিকেই  refer  করে। কিন্ত 'কি' তে উত্তরের জিজ্ঞাসা থাকে। এখানে লেখাটি একটা কিছু করছে।  সেই অর্থেই কি এসেছে। এই লেখাটি conventional  নয়।

  7. 2
    ফুয়াদ দীনহীন

    কি বুঝাইলেন ভাইডি ?

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      ভাই, এই লেখাটি কী, কী বলছে, তা পাঠক হিসেবে আপনারা নির্ধারণ করবেন। এটা প্রিন্ট করার পর, আমার আর আপনাদের অবস্থান একই স্থানে। এখানে যদি কিছু 'বুঝার' না থাকে, তাহলে নিশ্চয় একটা 'অর্থ' প্রকাশ পাচ্ছে। আর সেটা এও হতে পারে যে তা 'অর্থহীন'। যদি তাই হয় তবে দ্বিতীয় লেভেলের প্রশ্ন হবে এটা 'অর্থহীন' কেন?  

      প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয় হয়ত এই লিঙ্কের 4.1 মন্তব্যে দেখা যেতে পারে। আমি কোন ধাঁধাঁর সৃষ্টি করছি না। মুনিম ভাইকে লেখা উপরের মন্তব্যটিও পড়বেন। আপনাদের ধীর স্থির মন্তব্য দেখতে আমার আগ্রহ আছে। আপনাদের আগ্রহ যদি এই ধরণের কাজে জাগে, তবে আনন্দিত হব।

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  8. 1
    মুনিম সিদ্দিকী

    ভাল লাগা জানিয়ে গেলাম।

    1. 1.1
      এম_আহমদ

      ধন্যবাদ। তবে কেবল ভাল লাগা জানিয়ে গেলে হবে না ভাই। আরও কিছু বলতে হবে। ভাল লাগা না লাগার বিষয় ছেড়ে দিতে হবে। এগুলো মূলত কোন কথাই নয়। আর যদি একান্ত বলতেই হয়, তবে বলতে হবে কেন ভাল লাগলো। এখানে ভাল লাগার কি আছে? এ লেখাটি (?) কিভাবে অনুভূতি স্পর্শ করে, যদি করে থাকে?  
      আমাকে মোটেই কেয়ার করতে হবে না। এটা প্রিন্ট করার পর আমা থেকে মুক্ত। পাঠকের সাথে সে কীভাবে সম্পর্কিত হয়, এবং তাত্থেকে পাঠক কোন ধরণের বাস্তবতা অনুভব করেন এবং কেন করেন?   গুলোই হবে কথা। প্রকৃত reaction ও analysis.  পাঠকের মন্তব্য লেখাটির পরিসর প্রশস্ত করলে তার সার্থকতা।

      1. 1.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        ভাই আমি ভাষাবিদ নই! তাই ক্রিয়া কর্মের প্রভেদ বুঝিনা। বা ক্রিয়া কর্মকে নিয়ে কবিতার গভীরতা মাপতে চাইনা। আমি কবিতা বলতে যা বুঝি তা হচ্ছে- শব্দ বা বাক্যের দ্বারা কোন বিষয়ের ব্যক্ত বা অব্যক্ত ছবি আঁকা। তাই একজন কবি এমন একটি ছবি এঁকেছেন যার প্রেক্ষাপট তিনি জানেন। কিন্তু সেই ছবি হয়তো পাঠকের কাছে অন্য ভাবে ধরা পড়বে যা কবির প্রেক্ষাপটের সাথে না মিলতেও পারে। এই যে এক লেখার লেখক আর পাঠকের মনে ভিন্ন চিত্র ধরা পড়ে বড় বড় লেখকদের লেখার বেলায়ও ঘটেছে। যেমন রবীন্দ্রনাথ একটি কবিতা লিখেছিলেন। এক বোদ্ধা পাঠক যখন এই কবিতার মর্ম ব্যাখ্যা করছিলেন কবির সামনে, তখন স্বয়ং রবী বাবুও চমকে যান! কারণ তিনি আসলেও ঐ ভাবে মনে করে কবিতাটি লিখেন নাই।
        একটি কবিতা বুঝতে হলে সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন কবিকে জানা। কবির  শিক্ষা দীক্ষা সামাজিক রাজনৈতিক পারিবাকি অবস্থান ভাল ভাবে জানা থাকলে কবির কবিতা বুঝা সহজ হয়ে যায়। কিন্তু এই জানা তো সবার পক্ষে সমম্ভব নয়। তাছাড়া কবি কি তার কবিতায় যখন রূপকতা বা ইমেজারি প্রয়োগ করেন তা কি শব্দের বাক্যে বিন্যাসের গভীরতাকে জেনে মেনে করেন। না যখন একটি ভাব আসে সেই ভাবকেই ধারণ করেন তাও একজন পাঠকের জানা অবশ্য দরকার। এবং সেটিও বুঝার বা জানার সকলের পক্ষে সম্ভব হয়না।
        কবিতা লেখা যত সহজ ভাবা যায় তা কিন্তু তত সহজ নয়। কবিতাকে আমার কাছে অহীর মত প্রাপ্তি বলে মনে হয়। তাই এই ব্যাখ্যা দেয়াও পাঠকের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেনা যদিনা কবি উনার কবিতার মর্মার্থ বুঝিয়ে না দেন।
         
        আপনার কবিতায় এক নিঃসঙ্গতার রূপ ফুটে উঠেছে যা নির্মম ভয়ংকর নয় তা নির্মল মনকে প্রশান্তিদায়ক। আবার চারিকে দিকে পাহাড় এবং সাথে মুসার পাহাড় উল্লেখ করে দ্বৈত অর্থের ঘুর্ণাক্ষরে পাঠককে ফেলে দিয়েছেন।
        মুসার পাহাড বলতে যেখান থেকে সত্য জ্ঞান হাসিল হয় তা বুঝা যাচ্ছে। আবার যদি এই কবিতায় মুসার পাহাড় উল্লেখ নাকরে চারিদিকে পাহাড় উল্লেখ করা হতো তাহলে তার চিত্র পাঠকে কাছে নজরুলে দূর্গমও গীরিকান্তার মরু দুস্তর পারাবারের মত কিছু একটি মনে হত। কিন্তু কবিতার শেষে কে কি সম্পর্ক টেনে এনে শেষ করায় কবিতাটি বাস্তবতা থেকে অতিইন্দ্রীয় কোন বিষয়ের দিকে পাঠককে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।
        আমি মাটির মানুষ তাই আমার ভাবনায় বাস্তবতা বিরাজ করছে, আর এই কঠিণ বাস্তবতাকে আমার ৩টি কবিতায় তুলে ধরেছিলেম-

        ১।মোমের পতন

        বাতাসে উবে মোমজ আলো, কস্তূরী সুবাস
        চারিদিকে উইকেটের হঠাত্ পতন
        ক্রমশঃ উইকেট শূন্য আমার শহর
        নবীনের সাথে ক্রীড়ায় রত,অস্বস্তি বাড়ছে দিন দিন
        লাল বলটা উচিয়ে তেড়ে আসছে বুভুক্ষু কবর
        সোনালী খেতে ঘাসফড়িং বধ করে
        উইকেটকীপার জমাচ্ছে শুভ্র বরফ ব্যাগে
        খবরের শিরোনাম বাসি খবর
        একে একে মোমের পতন
        এলো মেলো হয়ে পড়ে,
        লেখা-লিখি কবিতা-গান
        হে দয়িতা,
        গুছানো হয়নি এখনো আমার লাগেজ।

        ২। সফেদ লোম

        ক্রমে ক্রমে আকাশ-সমস্ত জলভাগ-পাহাড়- বৃক্ষ- নগর অট্টালিকা- রাজপথ, সবুজে বিস্তির্ণ মাঠ- সফেদ কাফনে,আবৃত হয়ে যাচ্ছে।

        তবুও কি নীরো,তুমি কাঁদবেনা?

        তাকাও- যৌবনের জন্য কাঁদো……….সীমান্তে পাঠাবার….অতি দ্রুত আয়োজন………সফেদ লোম …সমস্ত শরীর আবৃত হয়ে পড়ছে অতি দ্রুত!

        ৩। শূণ্যে
        ধুরন্ধর দানবের কাছে-পরাভূত অসহায় মানব- নীল আকাশ নিঃসীম শূন্যতা- পর্বত গিরিখাদ নদী জঙ্গল-বালিয়াড়ি মাঠ অতল সাগর।

        চলতে চলতে থেমে যাবে চাকা-দূঃখের বেদন মায়ার কানন ও হারিয়ে যাবে, লক্ষ কোটি যে ভাবে গেছে।

        মিশে যাবো মাটির সাথে- হয়তোবা কোন এক দিন- সে মাটিতে জন্ম নেবে -- কিছু দূর্বাঘাস কিংবা কোন এক বনজ বৃক্ষ।

        হয়তোবা কালের চক্রে-কোন এক কবর খেঁকো গিলে খাবে ঐ মাটি -- বানাবে প্রাসাদ কিংবা ঝলমলে শপিংমল,শূন্যের মানুষ, শূন্যে একদিন যাবো মিশে।
         
        ধন্যবাদ।
         

Leave a Reply

Your email address will not be published.