«

»

Apr ০৯

ইউরোপের আঁধার থেকে আলোর যুগ

ভুমিকা

এই ছোট লেখাটি ইউরোপের ৫ম থেকে ১০ম শতাব্দীর কিছু ইতিহাস আলোচনা করবে। রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর ইউরোপে তুমুল বিপর্যয় শুরু হয় এবং তা চলতেই থাকে। এর সাথে ছিল দুর্ভিক্ষ ও মহামারি। বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রান্তি-ক্লান্তি, বিরতি ও উত্থান-পতনের পর পর আবার ফিরে আসে যুদ্ধ, সামাজিক উলট-পালট, নির্যাতন ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত। এই ধারাবাহিকতা চলে ইউরোপীয় ইতিহাসের ১৫ শো শতাব্দী পর্যন্ত। এই প্রবন্ধে ইতিহাসের সেই দিকগুলোর উপর সামান্য আলোকপাত করা হবে।

ইউরোপের অন্ধকার যুগ এক বিপর্যয়ের যুগ ছিল। এই যুগ এক সুদীর্ঘকাল ব্যাপী আবর্তিত হতে থাকে। ইতিহাসের এই ধারাবাহিকতা অতিক্রম করে যখন ১৬শো/১৭ শতাব্দীর পর্যায়ে যাব, তখন 'মডার্নিস্ট এনলাইটনমেন্ট' নিয়ে কিছু আলোচনা করব। এই পর্যায়ে এসে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও নাস্তিক্যবাদের ধারণার উৎপত্তি দেখা হবে। তখন কীভাবে কালীন সমস্যার মোকাবেলায় এই ধারণাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল -সেগুলোই হবে বিবেচ্য বিষয়। অতঃপর কালের ধারা বেয়ে কীভাবে এই ধারণাগুলো নানান পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে আমাদের যুগ পর্যন্ত এসেছে –তাও দেখা হবে।

 

কালীন বিভাজন

ইউরোপীয় ইতিহাসে খৃষ্টীয় পঞ্চম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত এই এক হাজার বৎসরের কালকে ‘অন্ধকার যুগ’ (Age of Darkness) বলা হয়। খৃষ্টপূর্ব ৫০০ শো থেকে খৃষ্টপরবর্তী বা খৃষ্টাব্দ ৫০০ শো পর্যন্ত এই সহস্রাব্দ (millennium) রোমান সাম্রাজ্যের বিকাশ, বিস্তৃতি, সংকোচন ও বিলীনের যুগ ছিল। তার পরবর্তী সহস্রাব্দকেই ইউরোপ ‘অন্ধকার যুগ’ বলে আখ্যায়িত করে। তবে বর্তমান যুগে এই পরিভাষাটির উপর অনেক ঐতিহাসিক, সমাজবিজ্ঞানী, দার্শনিক ও লেখকদের অভিযোগ আসায় তা ধীরে ধীরে লোপ পাচ্ছে।

    ইউরোপীয় ইতিহাসের দীর্ঘ সময়কে বিভিন্ন নামে ও ভাগে বিভাজন করা হয়। ২০০শো খৃষ্টাব্দ থেকে ৭০০ শো খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত এই কালটিকে ‘লেইট এন্টিকুইটি’ (late antiquity) বলা হয়। ১২শো থেকে ১৪ শো শতাব্দীর মধ্যকার সময়কে ‘মধ্যযুগ’ (middle ages) বলা হয়। তাও আবার ১১ শো থেকে ১৫ শো শতাব্দী ধরে কেউ কেউ বিভাজন করেন। পনেরো ও ষোলশো শতাব্দীকে ‘যুক্তির যুগ’ (age of reason, age of rationality) বা ‘যুক্তিবাদের যুগ’ বলা হয়। আবার ষোলশো শতাব্দীর আগের সময়কে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আলোচনা প্রসঙ্গে এবং সমাজ বিজ্ঞান, আর্ট ও লিটারেচারের আলোচনায় ‘প্রিমডার্ণ’ বা আধুনিকতা-পূর্ব-কাল বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এনলাইটনমেন্টের যুগ হচ্ছে সতেরশো থেকে আটারশো শতাব্দী পর্যন্ত।

  আমরা এখন ১৭শো/১৮শো শতকের ব্যাখ্যা থেকে সরে এসে এক ‘ভিন্ন’ ধরণের মডার্ন যুগে আছি। আবার অন্য ব্যাখ্যায় পোষ্ট-মডার্ন যুগে। বিজ্ঞানবাদ ও যুক্তিবাদের ধোঁয়া ১৭ম শতকে যে মডার্নিস্ট এনলাইনটনম্যান্ট আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়ার পর যে নবযুগের আবির্ভাব হয় তাই পোস্ট-মডার্ন যুগ।  তবে কালীন বিভাজনগুলো এমন যে তাদের কোন কোন কাল রাষ্ট্রীয় শাসনের উত্থান পতনের সাথে জড়িত, আবার কোন কোন কাল চিন্তা-ধারণার বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে বিবেচিত। কোন কোন বিভাজন হচ্ছে নিছক আলোচনার সুবিধার্থে; একেক যুগের চিন্তা-নির্যাসের আকার আকৃতি ও বৈশিষ্ট্যাবলীকে শ্রেণীবিন্যাস করে দেখার উপায় হিসেবে।

    মনে রাখতে হবে যে একটি যুগ অতীত হয়ে গিয়েছে বলে, এবং আমরা সেই যুগের পরবর্তী যুগের চিন্তাকে বিচার বিশ্লেষণ করতে পারছি বলে, এবং সেই পূর্ব-চিন্তার সমষ্টি তাদের কাল অতিক্রম করে ফেলেছে বলে সেই কালীন চিন্তা-ধারণা কদম-মৃত্যুবরণ করেনি। অতীতের অনেক চিন্তা, অনেক ধ্যান ধারণা আমাদের মধ্যে বিরাজ করছে –কোন চিন্তা বর্ধিত হয়েছে, কোন চিন্তা অন্য নাম ধারণ করেছে, কোন চিন্তা অন্য চিন্তার সাথে মিশে সহভাবে অথবা অন্য উপায়ে বেঁচে আছে: ভালটাও আছে, মন্দটাও আছে।

 

অন্ধকার যুগ

পঞ্চম শতাব্দীতে ইউরোপে রোমান সাম্রাজ্য ধূলিসাৎ হলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অসংখ্য বিপর্যয়ের দুয়ার খোলে। যুদ্ধ, ধ্বংসযজ্ঞ, লুটতরাজ ও জোর জুলুমের সয়লাব হয়। ইউরোপে কয়েকবার মহামারি দেখা দেয়। নিরাপত্তার অভাবে ও দারিদ্র-জনিত কারণে কৃষি ও শিল্প কর্মে সংকোচন দেখা দেয়। এই অবস্থা ক্রমাগত কয়েক কাল চলতে থাকে। মূলত রোমান সাম্রাজ্যের পতন ও তৎপরবর্তি অবস্থা যেহেতু এই কালের সাথে জড়িত, তাই এই বিষয়ে আরও সামান্য কথা বলার প্রয়োজন।

    প্রায় এক সহস্রাব্দ ব্যাপী একটি সাম্রাজ্য বিস্তৃত ও প্রতিষ্ঠিত থাকলে এর ফলশ্রুতিতে সমাজিক কিছু বৈশিষ্ট্য, সংস্কৃতিক উন্নয়ন, আইন, প্রথা ও আচার-আনুষ্ঠানিকতা রূপায়িত হয়ে থাকবে  -এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। এই সুদীর্ঘ সময়েও আবার এক ধরনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা গড়ে উঠবে –তাতেও আশ্চর্যের কিছু নেই। তবে মনে রাখা দরকার যে এই সাম্রাজ্য আধিপত্যবাদের সাম্রাজ্য ছিল। ভূমধ্যসাগরের চতুর্দিকের গোটা ভূখণ্ডকে নিজেদের করতলে রাখলেও শান্তি সমৃদ্ধি ইটালিতেই বেশী ছিল। আর যেসব জনগোষ্ঠীর উপর আধিপত্য বিস্তৃত ছিল তারা বিভিন্ন সময়ে বিদ্রোহ করেছে, মার খেয়েছে, তারপর পরাজিত হয়ে রয়েছে। ব্রিটেনের সেল্টিক আইসিনিক গোষ্ঠীয় রাণী বুডেকা খৃষ্টীয় প্রথম শতকে রোমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, এবং যুদ্ধের পর যুদ্ধে তাদেরকে পরাজিত করতে থাকেন। কিন্তু, শেষ যুদ্ধটিতে তার নিশ্চিত বিজয় হঠাৎ পরাজয়ে পর্যবেশিত হয়ে (৬১ খৃষ্টাব্দে) ব্রিটেন আরও চারশো বৎসর রোমের অধীনে থাকতে হয়। এই বিশ্বের সব কিছুর মধ্যে আরেকটি বিধান আছে, আর তা হল –যার উত্থান হয় তার পতনও হয়, যার জন্ম হয় তার মৃত্যুও হয়।

    চারশো শতাব্দী থেকে রোমানরা তাদের সাম্রাজ্য ঠিকিয়ে রাখতে হিমসিম খেতে থাকে। সাম্রাজ্য ধীরে ধীরে সংকোচিত হতে থাকে। অনেক অঞ্চলে প্রশাসনিক ব্যয়ভার বহনের অপারগতায় সেই স্থানগুলো থেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ইংল্যান্ড থেকে রোমানরা চলে যাওয়ার ব্যাপারটাও তেমনি ছিল। ৪র্থ শতাব্দীতে সাক্সনরা (Saxons), এবং আরও কিছু বিদেশিরা, যখন ব্রিটেন আক্রমণ করে, তখন রোমানরা তাদেরকে রুখতে পারেনি। এই আক্রমণকারীদের বেশীর ভাগই ছিল পূর্ব জার্মান জনগোষ্ঠীর লোক, বিশেষ করে সাক্সনরা। চতুর্থ শতাব্দীতেই রোমানরা ব্রিটেন ছাড়তে বাধ্য হয়।

    ৪৫২ খৃষ্টাব্দে হূনেরা ও ৪৫৫ খৃষ্টাব্দে ‘ভাণ্ডালরা’ রোম আক্রমণ করে। হূনেরা ৪র্থ শতাব্দীতে রাশিয়ার এলাকা থেকে  ইউরোপে প্রবেশ করেছিল এবং বিভিন্ন এলাকায় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। ‘ভাণ্ডালরা’ পূর্ব জার্মানের  জন-গোষ্ঠীর লোক। ভাণ্ডালরা রোমে প্রবেশ করে গোটা শহর লুটপাট ও ভাঙচুর করে। বর্তমান কালের ভাঙচুর অর্থের ইংরেজি ‘ভাণ্ডাল/ভাণ্ডালিজম’ শব্দের উৎপত্তি এখান থেকে। তারপর ৪৭৬ খৃষ্টাব্দে গথদের আক্রমণে ইউরোপে রোমান সাম্রাজ্য চিরতরে বিলীন হয়। আক্রমণকারীদের বার্বার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বার্বার বা বার্বারিয়ান শব্দটি গ্রীক সভ্যতায় উৎসারিত হয়। তারা এই শব্দ দিয়ে  এমন লোকদেরকে বুঝাত যারা গ্রীক নন। এটা ইংরেজি gentile শব্দের মত , যার অর্থ 'যারা ইয়াহুদী নন' এমন। বার্বার অর্থে বুঝান হত ‘অসভ্য’। তবে শব্দটির ব্যবহার চীন, আরব ও ভারতেও দেখা যায়। উত্তর আফ্রিকার জনগোষ্ঠীকেও রোমানরা ‘বার্বার’ বলে থাকত।

    রোমান সাম্রাজ্য পতনের পরও ইউরোপে যুদ্ধ-বিগ্রহ থেমে যায়নি। চতুর্দিকে আক্রমণ ও পালটা আক্রমণের বিভীষিকা চলতে থাকে। পরবর্তীকালে যখন মানুষ পিছনের দিকে তাকায়, তখন সামাজিক বিশৃঙ্খলার মোকাবেলায় রোম সাম্রাজ্যের শাসন ব্যবস্থার তুলনামূলক শান্তি-নিরাপত্তার বিবেচনা করে পরের যুগকে ‘অন্ধকার’ হিসেবেই দেখে। ইউরোপের পশ্চাৎ-ইতিহাস দেখতে গিয়ে ১৪শো শতাব্দীর একজন ইটালিয়ান কবি ও পণ্ডিত ফ্রান্সেস্কো পেট্রার্কা, (Francesco Petrarca 1304– 1374,যাকে সাধারণত প্যাট্রাক বলে পরিচয় করা হয়), এই সময়কে অন্ধকার-যুগ বলে উল্লেখ করেন। [১] সেই থেকে এই নামে পরিচিতি লাভ করে।

    রোমানরা যাদেরকে বার্বার বা অসভ্য বিবেচনা করেছিল পরবর্তীকালের সেক্যুলার ও নাস্তিক হিউমেনিষ্টদের একাংশ সেই বার্বারদের বিশ্বাস ও জীবন প্রণালীর উৎস অনুসন্ধান করেন। কেননা পতিত রোম-সভ্যতা ৪র্থ শতাব্দীর প্রথম দিকে অন্য মোড় নিয়েছিল। ঐশী ধর্ম গ্রহণ করেছিল। ‘যখন রোম সম্রাট ১ম কনস্টেন্টাইন ৩১৩ খৃষ্টাব্দে খৃষ্ট-ধর্মে রোমান সাম্রাজ্যের ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করেন, তখন এরই মাধ্যমে এমন এক জীবন দর্শনকে (philosophy) বাঁধনমুক্ত করে দেন যা রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্মীয় জীবন অর্থাৎ সকল পরিসরে ছড়িয়ে পড়ে থাকবে’ [২]। সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে উল্লেখিত লিবারেল চিন্তাবিদদের কাছে রোম সাম্রাজ্যের ক্বিবলা পরিবর্তন সাম্রাজ্যের এক নেতিবাচক দিগন্ত উন্মোচন করে। উনিশশো শতকের দার্শনিক ফেড্রিক নীচস্যা (১৮৪৪-১৯০০) ‘সেই মহান যাযাবর (তথাকথিত) অসভ্যদের’ (noble savages) জীবন দর্শন থেকে কোন এক উন্নত ও কাঙ্ক্ষিত জ্ঞান লাভ করতে ফিরে তাকান।

    এনলাইটনমেন্টের যুগ থেকে সেক্যুলার ও নাস্তিক সম্প্রদায়ের একাংশের দৃষ্টি  রোমান সভ্যতার খৃষ্টীয়ান-কাল অতিক্রম করে, চতুর্থ শতাব্দীর পূর্বের ক্লাসিক্যাল যুগের আর্ট, স্থাপত্যশিল্প ও সংস্কৃতির দিকে মনোনিবেশ করে। এই বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের ইসলাম-থেকে-খারিজ-হওয়া কিছু নাস্তিকদের মধ্যেও দেখা যাবে, যারা ভারতের  ইসলামী শিক্ষা সংস্কৃতির যুগ অতিক্রম করে তার বাইরের আচার অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক ক্রিয়া-কর্মের মধ্যে নিজেদেরকে স্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন, যদিও সেগুলো পৌত্তলিক উৎস থেকে উৎসারিত। অর্থাৎ ইসলামী রঙে রঙীণ হওয়ায় যে সংস্কৃতি 'ধর্ম-দোষে-দুষ্ট' তারা তা বর্জন করেন হবে বটে, কিন্তু নদীর ওপারে যে সংস্কৃতি তা কী ধর্মীয় পরশ-মুক্ত? এই প্রশ্নটি থেকেই যায়।

    আমাদের পরের লেখাটি হবে ইউরোপের মধ্যযুগ ও মুসলিম সাম্রাজ্যের মধ্যযুগের উপর। এই লেখাটির শেষ টানছি নিচের দু’টি ভিডিও দিয়ে   যেগুলি রোমান সাম্রাজ্যের উত্তান পতন নিয়ে আলোচনা করবে।

 

ভিডিও-১ Time line: rise and fall of romans

ভিডিও The Decline and Fall of Roman Empire

 

REFERENCES

__________________________

[১] Wikipedia. Petrarch. [Online] Available at: http://en.wikipedia.org/wiki/Petrarch [Accessed 23/12/2011]

[২] Murdock, A. (2003). The Last Pagan, Julian the Apostate. Gloucestershire: Sutton publishing, p.4

[৩] BacktotheFlat. 8 May 2011. Atlas_ The Rise and Fall of Rome.mp4 [Video Online, Accessed 23/12/2011]

[৪] Johnmb76, 31 Dec 2009. The Decline and Fall of Roman Empire. Accessed 23/12/2011]

Note: the video resources are as above the reference line.

১২ comments

Skip to comment form

  1. 7
    শামস

    এই বিশ্বের সব কিছুর মধ্যে আরেকটি বিধান আছে, আর তা হল –যার উত্থান হয় তার পতনও হয়, যার জন্ম হয় তার মৃত্যুও হয়।

    এই উত্থান পতনটা অবশ্যম্ভাবী। কুরানের কাছাকাছি একটা আয়াত আছেঃ
    "বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল। (সুরা আল ইমরানঃ ২৬)
    আবার ইবনে খালাদুনের মতে, ব্যক্তির মত রাষ্ট্রেরও জীবণ যাপন প্রনালী আছে। ব্যক্তির মত রাষ্ট্রেরও জন্ম, যৌবন, বার্ধক্য, অধঃপতন ও অবশেষে মৃত্যু হয়।
    এই উত্থান পতন জেনেও আমরা চিরস্থায়ীত্বের লোভ সামলাতে পারি না!
    মনযোগ দিয়ে পড়লাম। লেখা খুব ভাল হচ্ছে। চলুক।
     

    1. 7.1
      এম_আহমদ

      হ্যাঁ ভাই, খাটি কথা বলেছেন। এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার লোভ-লালসা আমাদেরকে একদম ভুলিয়ে রাখে এমনকি কবরে পৌছা পর্যন্ত (১০২:১-২)। দুনিয়ার এই উত্থান/পতন ও জয়/পরাজয়ের উপর অনেক আয়াত আছে। আমি এই আয়াতটি বেশি উদ্ধৃত করি:  وَتِلْكَ ٱلأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ ٱلنَّاسِ (৩:১৪০) আর এই দিনগুলোকে (উত্থান-পতনের/জয়-পরাজয়ের) আমি মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন ঘটিয়ে থাকি।
      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  2. 6
    ইমরান হাসান

    অসাধারণ ভাই চালিয়ে যান আপনাকে এক হাজার ধন্যবাদ এমন একটি সুন্দর বিষয় নিয়ে লেখার জন্য। আমি অসম্ভব খুশি হয়েছি এত চমৎকার একটা প্রবন্ধ পেয়ে 

    1. 6.1
      এম_আহমদ

      পাঠ ও kind মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। 

  3. 5
    এম_আহমদ

    পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। উল্লেখিত শব্দগুলো সংশোধন করা হয়েছে। এর জন্যও ধন্যবাদ। 

  4. 4
    এস. এম. রায়হান

    চলুক… পরের পর্বের অপেক্ষায়।

    কেহ কেহ আবার বিংশ শতাব্দীর শেষ দশক থেকে পোষ্ট-মডার্ন বলতে দেখা যায়।

    এখানে 'কাউকে কাউকে' হবে।

    এই বিশ্বের সব কিছুর মধ্যে আরেকটি বিধান আছে, আর তা হল –যার উত্তান হয় তার পতনও হয়, যার জন্ম হয় তার মৃত্যুও হয়।

    'উত্থান' হবে।

    কেননা পতিত রোম-সভ্যতা ৪র্থ শতাব্দীর প্রথম দিকে অন্য মুড় নিয়েছিল।

    এখানে 'মোড়' হবে।

  5. 3
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    টাইমলাইন একটি তীর দিয়ে নির্দেশ করে বিভিন্ন 'যুগ' গুলিকে নির্দেশ করে দেখালে বুঝতে সুবিধা হবে বলে মনে হয়। বিভিন্ন যুগ সম্পর্কে আহমেদ সাহেবের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা জানলে বেশী ভাল লাগবে।  ধন্যবাদ।

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      ধন্যবাদ। তীরচিহ্নে কীভাবে করব তেমন বুঝতে পারছি না। তবে পেইন্টব্রাসে গিয়ে টাইমের একটা চার্ট তৈরি দিতে পারলেও মনে হয় ভাল হত। সফটওয়ারের বিভিন্ন ফাঙ্কশনের উপর আমার তেমন জ্ঞান ও দখল নেই। এই শুধু চালিয়ে যাচ্ছি –এতটুকুই।
      বিভিন্ন যুগের উপর আলোচনা করার খেয়াল আমারও আছে। দেখি কী হয়। বর্তমান বিশ্বের অনেক ঝামেলার শিকড় অতীতে। যদিও আমরা মনে করি ‘কাল চলে গিয়েছে, অতীত হয়েছে’, কিন্তু বিষয়টা exactly তেমন নয়। অতীত আমাদের সাথেই আছে। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  6. 2
    মুনিম সিদ্দিকী

    আগে পড়েছিলাম। আবার পড়লাম। আশা করি লেখক তা চালিয়ে যাবেন।

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  7. 1
    সরোয়ার

    ভাল বিশ্লেষণ। লেখককে ধন্যবাদ।

    1. 1.1
      এম_আহমদ

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.