«

»

May ১২

ক্রুসেডের যুদ্ধ (১০৯৫-১২৯২)

হযরত ওমরের (রা.) খেলাফত কালে (৬৩৭ খৃ:) জেরুজালেম মুসলমানদের দখলে আসে। বিজয় যখন মুসলমানদের আয়ত্তে তখন জেরুজালেমের অধিপতি পেট্রিয়ার্ক সফ্রোনাস (Patriarch Sophronius) আবেদন করেন যে তাদের আত্মসমর্পণ স্বয়ং খলিফার উপস্থিতিতেই হতে হবে এবং খলিফাকেই তাদের দাবি দাওয়ার কথা শুনতে হবে। তার এই আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

এরই প্রেক্ষিতে ওমর (রা.) জেরুজালেমে পৌঁছেন। তার পরের দিন ফজরের সময় হযরত বিলাল (রা) কে আজান দিতে আহবান করেন। নবী (সা.)এঁর  ওফাতের পর থেকে বিলাল (রা.) আর আজান দিচ্ছিলেন না। কিন্তু এই মহান মূহুর্ত্তে খলিফার আবেদনে যখন দাড়িয়ে যান এবং আজান দেন তখন সাহাবীরা (রা.) কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। এই স্বরের সাথে কত স্মৃতি, কত ইতিহাস, কত আবেগ। 

সকাল বেলায় আবু ওবায়দা (রা.) কে তাঁর আগমন সংবাদ সফ্রোনাসকে দিতে বলেন। তাই করা হল। কিন্তু এক পর্যায়ে সফ্রোনাসের সাথে যখন কেবল আবু ওবায়দাকে (রা.)  নিয়ে যেতে উদ্যত হয়েছেন  তখন তাঁর সাথিরা বললেন, আমিরুল মু’মিনীন আপনি বিনা নিরাপত্তায় যাচ্ছেন, আমাদের ভয় হয় যে যদি তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে  বসে, অথচ আপনার সাথে নিরাপত্তার কিছু নেই। ওমর (রা.) পাঠ করলেন,  قُل لَّن يُصِيبَنَآ إِلاَّ مَا كَتَبَ ٱللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلاَنَا وَعَلَى ٱللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ ٱلْمُؤْمِنُونَ  -বলুন, আমাদেরকে কোন মুসীবত আক্রান্ত করতে পারবে না কেবল তা ব্যতীত যা আল্লাহ আমাদের জন্য লিখে রেখেছেন; তিনি আমাদের প্রভু, আমাদের নির্বাহক। সুতরাং বিশ্বাসীরা কেবল আল্লাহর উপরই নির্ভর করা উচিত (৯:৫১)।

অতঃপর ওমর (রা.)  পেট্রিয়ার্ক সফ্রোনাসের সাথে সাক্ষাত করেন এবং তাদের জানমাল ও ধর্মীয় নিরাপত্তার বিষয়াদি নিশ্চিত করেন। সেই হতে জেরুজালেমে সকল ধর্মের (ইয়াহুদী/খৃষ্টীয়ান) লোকজনের যাওয়া আসা, ইবাদত-আরাধনার নিরাপত্তা বিধিত হয় এবং এটা এভাবেই যুগপৎ হয়ে পড়ে।

 

প্রথম ক্রুসেড

এগারো শতাব্দীতে ইউরোপিয়ান শাসকেরা ধর্মীয় এবং বাণিজ্যিক অভিপ্রায়ে জেরুজালেমকে মুসলমানদের হাত থেকে কেড়ে নিতে পরিকল্পনা শুরু করেন। এই কাজ করতে গিয়ে তারা যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা করেন -তা ছোট বড় আকারে ১৩ শো শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত চলতে থাকে। তাদের যুদ্ধ ও দখলদারিতে প্রাণহাণী ঘটান, নানান রকমের অত্যাচার ও নির্যাতন করেন এবং সর্বোপরি যুদ্ধের অর্থ সংগ্রহ করতে এবং সৈন্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের বিপক্ষে যে চরম মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা করেন তার জের এখনও শেষ হয় নি। ইউরোপ ও মুসলমানদের মধ্যে হাজার বৎসরের টানাপোড়নের সম্পর্ক এই যুদ্ধংদেহী তৎপরতার সৃষ্টি।

১০৬০ এর দশকে সেলজুক (মুসলিম) তুর্কীদের হাতে জেরুজালেমের কর্তৃত্ব চলে গেলে পশ্চিমা দেশে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, কেননা যেকোনো পটপরিবর্তনে অনিশ্চয়তা ও সন্দেহের অবকাশ দেখা দেয়। কিন্তু এই পরিবর্তন সাধারণ ছিল না, এটা ইউরোপিয়ানদের সামনে যুদ্ধের একটি অজুহাত খাড়া করে দেয়। ১০৯৫ সালে বুউয়েঁর গডফ্রি (Godfrey of Bouillon, একজন ফরাসী) সসৈন্যে জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হন। ১০৯৯ সালে মুসলমানদেরকে পরাজিত করেন এবং জেরুজালেম তাদের দখলে আনেন। এই যুদ্ধে গোটা ক্যাথোলিক চার্চ ও পোপ ২য় আর্বানের (১০৩৫-১০৯৯) সমর্থন ও আশীর্বাদ ছিল। 

বিজয়ের পর ক্রুসেড যোদ্ধারা জেরুজালেমে রক্তের বন্যা বহান। এটা ইউরোপিয়ানদের নিজ বিবরণ অনুযায়ী [১]। শহরে কী নারী, কী পুরুষ, কী শিশু, কী বৃদ্ধ –যাকেই পাওয়া গেছে, তাকেই নিধন করা হয়েছে। বহমান রক্তে নাকী সেদিন ঘোড়ার খোর পিছলে যাচ্ছিল। এই ছিল নিধনের নৃশংসতা।

বিজয় ধরে রাখা, পরবর্তী যুদ্ধাদি চালিয়ে যাওয়া এবং সর্বোপরি প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে গডফ্রি জেরুজালেমের বাদশার পদে সমাসীন হন।

 

নাইট টেম্পলারদের আত্মপ্রকাশ

১১১৮ সালে (মতান্তরে ১১১৯ সালে)  বাদশাহ ২য় বল্ডউইনের সময় সন্ন্যাসীদের মধ্য থেকে একদল স্থায়ী সেনাবাহিনী তৈরির প্রস্তাব আসে –যাদের কাজ হবে তীর্থযাত্রীদের প্রতিরক্ষা ও জেরুজালেম সংরক্ষণ। এই বাহিনী তৈরির মূলে ছিলেন হিউ ডি প্যান, ((একজন ফরাসী নৌবলম্যান (noble man,রাজকীয় প্রথায় একজন সম্মানিত, উচ্চ পদস্থ ব্যক্তি))। এই বাহিনীর মাধ্যমে ইউরোপ থেকে ব্যবসায়/ধর্মীয় যাত্রার নিরাপত্তা বিধানের এক ধরনের ফ্রাঞ্চাইজ নেয়া হয়। ঐতিহাসিকদের কেউ কেউ এই উদ্দেশ্যদ্বয়ের উপর দ্বিমত করেন। তাদের ধারণা যে এই বাহিনী তৈরির ‘মতলব’ অন্যস্থানে ছিল। ঘটনা যাই হোক এর নাম দেয়া হয় The Order of the Poor Knights of the Temple of King Solomon সংক্ষেপে the Knight Templars। এক দিকে ওরা সন্ন্যাসী আর অপর দিকে নিবেদিত যোদ্ধা, খোদার যোদ্ধা। নামের তাৎপর্যের দিক দিয়ে ‘নাইট টেম্পলার’ হল ধর্ম যোদ্ধা, সন্ন্যাসী যোদ্ধা। এটা ভারতের শিবসেনার সমার্থক, এই যোদ্ধারা ও তাদের জীবন স্রেফ যুদ্ধ কেন্দ্রিক, সমর নিবেদিত। আবার যদিও নামের মধ্যে ‘দরিদ্র’ (poor) শব্দটি আছে কিন্তু শব্দে যা’ই থাকুক বাস্তবে এভাবে থাকবেনা। 

সেদিন যে বাহিনীটি গড়া হয়েছিল তা অদূর ভবিষ্যতে এক বিরাট বাহিনী হয়ে গড়ে উঠবে। তারা আগামীতে ধনসম্পদের পাহাড় গড়বে, রাজকীয় প্রশাসনের মোকাবেলায় হুমকি হবে এবং অবশেষে তাদেরকে মেরে শিকড় নির্মূল করার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু এই উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে না। মনে রাখতে হবে, এদের অস্তিত্ব ছিল চার্চের নামে, ধর্মের আওতায়, চার্চ ও রাজার যৌথ শাসনের অধীনস্থ হয়ে যা পরবর্তীতে ইউরোপের ধর্ম ও শাসন ব্যবস্থায় প্রবল ছাপ মারবে। শুধু যে তাই, তা নয়, পরবর্তীতে মানুষ ধর্ম, চার্চ, যুদ্ধ, নৃশংসতার ‘মিলনের সম্পর্কে’ বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠবে। তাছাড়া মধ্যযুগ, যুক্তির যুগ এবং এনলাইটনম্যান্টের যুগ পর্যন্ত ধর্ম ও শাসন ব্যবস্থায় ফাটল ধরাতে যেসব উপাদান কাজ করে থাকবে, এটাই হবে তাদের একটি।

বাদশাহ বল্ডউইন ক্রুসেড যোদ্ধাদেরকে জেরুজালেম মসজিদের কর্তৃত্ব দান করেছিলেন। এক সময় তারা মসজিদের মাটির নিচে একটি বিরাট ধনভাণ্ডার লাভ করে। তারা নাকি ভিত্তিস্থ মাটি খুড়ে ark of covenant পায়। মতান্তরে সেটি ছিল হলী গ্রেইল (Holy Grail)। তবে এর উপর আরও মতামত আছে। যেমন ডেড সী ক্রোল (dead-sea scroll), কোনো মৌলিক অতি বিরল তত্ত্ব, যীশুর কোন শিষ্যের কর্তিত  মস্তক অথবা ৭০ খৃষ্টাব্দে রোমানরা জেরুজালেম আক্রমণ করলে ইয়াহুদীগণ তাদের সোনা-রূপা স্থানে স্থানে গোপন করে যে ম্যাপ তৈরি করে রেখেছিল সেই ম্যাপ আবিষ্কার এবং সেই বিপুল সম্পদাদি উদ্ধার ইত্যাদি [২]। তবে মূল বস্তুটি কী ছিল –তা নিশ্চিত করা না গেলেও জিনিসটি যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা তাদের এক ‘চূড়ান্ত-মুক্তি সনদ’ থেকে বুঝা যায়। টেম্পলারদের প্রধান ফ্রান্সে আসেন। চার্চ প্রধান, বাদশাহ ও অবশেষে পোপের সাথে দেখা করেন এবং তার কাছ থেকে একটি অনাক্রম্যতা (immunity) লাভ করেন এই অর্থে যে কোনো দেশের আইন তাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না, তাদেরকে কোনো রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি মানতে হবেনা, খাজনা ইত্যাদি দিতে হবেনা [প্রাগুক্ত নোট ২)] এটা কেন? তারা সেখানে কী মহামূল্যের বস্তু পেয়েছিল –এসব সব প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।  তবে তখন থেকে তারা এক ওঢেল সম্পত্তির মালিক হয়, ইউরোপ জুড়ে তাদের ক্ষমতা বিস্তার হয়। তাদের হাতে একটি ব্যাংকিং সিস্টেমও গড়ে ওঠে। তীর্থযাত্রীরা নিরাপত্তার জন্য নিজেদের অর্থ (সোনা/রূপা) ওদের দফতরে জমা দিত এবং মোকাবেলায় সেই মূল্যের কাগজের রিসিট নিয়ে পাড়ি জমাত। নির্দিষ্ট শহরাদিতে রিসিট দেখিয়ে টাকা তুলতে পারত। এই সার্ভিসের জন্য ১০% চার্জ করা হত।  তীর্থ ছাড়া সাধারণভাবে এই সিস্টেম ব্যবহৃত হয়।

 

দ্বিতীয় ক্রুসেড

ক্রুসেডের যুদ্ধ কয়েক দফা হয়েছিল। জেরুজালেম ক্রুসেডদের দখলে থাকা অবস্থায় তারা সেখান থেকে অপরাপর স্থান দখল করার জন্যও যুদ্ধ করে। তাছাড়া ইউরোপ থেকে এই উদ্দেশ্যে আরও যুদ্ধাদি নিয়ে যাওয়া হয়। এগুলোর সবই ক্রুসেডের যুদ্ধ, ধর্মের যুদ্ধ।

একজন ফরাসী এবোট বার্নার্ড অব ক্লেয়ারভক্স (Bernard of Clairvaux) এর আহবানে বাদশাহ ৭ম লুইস ও ৩য় কনরাডের অধীনের একটি ক্রুসেড ১১৪৭ থেকে ১১৪৯ পর্যন্ত চালানো হয়। কিন্তু তারা এই অভিযানে তেমন কোন ফায়দা হাসিল করতে পারেননি [উইকি, ৩]।

 

সালাউদ্দীন আইয়ূবীর জেরুজালেম উদ্ধার

সালাউদ্দীনের সাথে ক্রুসেডদের যুদ্ধ হয় ১১৮৭ সালে। এর কয়েক দশক আগে অপর এক ক্রুসেড যুদ্ধে এই মর্মে বিরতি (truce) আসে যে খৃষ্টীয়ানরা মুসলমানদেরকে হজ্জে যাতায়াতে বাধা দেবে না, ব্যবসায় কাফেলাদেরকে এবং ধর্মীয় কাজে বিঘ্নতা সৃষ্টি করবেনা। এটাই প্রায় চার যুগ ধরে চলছিল। কিন্তু ১১৮৭ সালের জানুয়ারি মাসে একটি হজ্জযাত্রী কাফেলাকে রেনোল্ড (Raynald) আক্রমণ করেন, মালামাল লুট করেন এবং তাদেরকে মারধর করে জেলে নিক্ষেপ করেন। রেনোল্ডের উদ্দেশ্য ছিল সালাউদ্দীনকে যুদ্ধে নামানো। অবস্থা এই ছিল যে জেরুজালেমের বাদশাহ বল্ডউইন কোষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে তার ভায়রা (brother in-law) গী অব লুসিগনান (Guy of Lusingnan)  রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন, (made him a regent)। কিন্তু গীর সে ধরনের তেমন কোন দক্ষতা ছিল না। তাই তার এক প্রাক্তন-মৈত্রী রেনোল্ড তার কাজে সহায়তা করতেন এবং ‘সুযোগও গ্রহণ করতেন’ [উইকি, ৪]। রেনোল্ড একজন রক্ত-লিপ্সু ব্যক্তি ছিলেন [প্রাগুক্ত, নোট ১] । তবে রেনোল্ড কর্তৃক ব্যবসায় কাফেলাকে ইতিপূর্বে হয়রানী করার অভিযোগও আছে।

পার্শ্ববর্তী এলাকায় মুসলমানদের ঐক্য ও শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছিল তাই রেনোল্ড ইচ্ছে করেই সালাউদ্দীনকে যুদ্ধে নামিয়ে চূর্ণ করার পরিকল্পনা করেন। এই উদ্দেশেই একটি নিরপরাধ, নিরস্ত্র, হজ্জগামী কাফেলাকে আক্রমণ। এরই জওয়াব দিতে আসেন সালাউদ্দীন আইয়ূবী। ১১৮৭ সালে তিনি ক্রুসেডদেরকে দারুণভাবে পরাজিত করেন এবং জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেন। তাঁর জেরুজালেমে প্রবেশ ও বিজয় ছিল রক্তহীন।

 

তৃতীয় ক্রুসেড

সালাউদ্দীনের বিজয় ইউরোপে তুমুল ক্ষোভ ও বিকম্পন সৃষ্টি করে। পোপ ৩য় আর্বান হার্ট এটাক করে মারা যান। স্মরণ রাখা দরকার যে ১০৯৯ সালে যখন জেরুজালেম ক্রুসেডরা দখল করে তখন পোপ ২য় আর্বানের মৃত্যু হয়। পোপ ৭ম গ্রিগোরি পালটা ক্রুসেড নিয়ে যাওয়ার জন্য আহবান করেন। জার্মানের ১ম ফ্রেড্রিক বারোসা, ফ্রান্সের ২য় ফিলিপস অগাস্টাস এক বিরাট বাহিনী নিয়ে জেরুজালেমের দিকে যাত্রা করেন। পথে কোনো এক নদীতে ফ্রেড্রিক ডুবে মরেন। কুলক্ষণ ভেবে বা নিরাশ হয়ে তারা যাত্রা ভঙ্গ করেন।

১১৮৯ সালে ইংল্যান্ডের বাদশাহ তৃতীয় রিচার্ড সেকালের সবচেয়ে ভারী অস্ত্র ও কামান সহ ১৭,০০০ সৈন্য নিয়ে বেরিয়ে পড়েন (প্রাগুক্ত, নোট ১)। গন্তব্যস্থলে পৌঁছিলে তার সাথে সিভিলিয়ান হয়ে থাকা ও পলাতক ক্রুসেডরা শরিক হন। তাছাড়া সেই অঞ্চলের খৃষ্টিয়ান সৈন্যরা যারা আগে বল্ডউন ও গীর অধীনে ছিল –তারাও সংঘবদ্ধ হন। অপরদিকে সালাউদ্দীনের সৈন্য সংখ্যা দিন দিন কমে আসছিল, কেননা তার লোকজন ছিল জেহাদ করতে আসা নানান অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষ –যারা পরিবার পরিজন ও ক্ষেত-খামার রেখে বৎসরের পর বৎসর লেগে থাকার মত অবস্থানে ছিল না। 

রিচার্ড বিপুল শক্তিতে যুদ্ধ শুরু করেন। তিনি একর, জাফা, কেসারিয়া এবং টায়ার –এই শহরগুলো মুসলমানদেরকে পরাজিত করে নিজ দখলে নেন। দু এক শহরে তুমুল যুদ্ধে কখন এই পক্ষ কখন সেই পক্ষ বিজয় লাভ করতে থাকে।  

কিন্তু রিচার্ড প্রথমে একর দখল করেই সেখানে যুদ্ধাপরাধ করেন। তার হাতে ২,৭০০ মুসলিম সৈন্য ধরা পড়লে তিনি কয়েক হাজার স্বর্ণমুদ্রার বিনিয়ে মুক্তিপণে ফিরৎ দিতে রাজি হন। কিন্তু স্বর্ণ হস্তান্তর ও সৈন্য ফিরৎ পাওয়া প্রক্রিয়া স্পষ্ট করতে খানিক দেরি হলে তিনি সকল সৈন্যদেরে সারিবদ্ধ করে শিরচ্ছেন করেন [প্রাগুক্ত, নোট ১]।

অনেক তুমুল যুদ্ধের পর ১১৯২ সালে উল্লেখিত শহরগুলো তার কর্তৃত্বে রেখে এবং জেরুজালেম আক্রমণ না করেই রিচার্ড ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। রিচার্ড তখন আহত ছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে তিনি জেরুজালেম বিজয় করতে পারবেন বলে মনে করেননি অথবা বিজয় করলেও তা ধরে রাখতে পারবেন বলে নিশ্চিত ছিলেন না। পরবর্তী বৎসর সালাদ্দিনের মৃত্যু হয়। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ক্রুসেডদের অনুশোচনা ছিল যে রিচার্ড যদি কোনো রকমে আরও একটি বৎসর থেকে যেতে পারতেন তবে সালাউদ্দীনের মৃত্যুতে তার উত্তরাধিকার নিয়ে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয় তার সুযোগে জেরুজালেম আক্রমণ করা যেত এবং হয়ত বিজয় আসত। ইংল্যান্ড ফেরার কয়েক বৎসর পর অর্থাৎ ১১৯৯ সালে রিচার্ড মারা যান) ।

 

অন্যান্য ক্রুসেড

রিচার্ডের ইচ্ছে ছিল তিনি আরেক দফা অভিযান চালাবেন। কিন্তু জেরুজালেমে আহত হবার পর সে ক্ষতস্থান আর পুরোপুরি ভাল নি বরং সেই ক্ষত থেকেই তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে ক্রুসেড যুদ্ধ থেমে যায়নি। এই যুদ্ধ তার পরের একশো বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। কিন্তু ক্রুসেডরা জেরুজালেম দখল করতে সমর্থ হননি। ছোট বড় যুদ্ধ হয়, তাদের মধ্যে হচ্ছে ১২০২-৪ সালে, ১২১২-২১ সালে, ১২২৮-২৯ সালে, ১২৪৯-৫৪ সালে, ১২৭০-৭২ সালে, ও ১২৯১ সালে [৫]।

 

নাইট টেম্পলারদের শেষ দশা

১২৯২ সালে একমাত্র শহর একর ব্যতীত আর কোনো শহর নাইট টেমপ্লারদের অধিকারে থাকেনি এবং ১২৯২ সালের যুদ্ধেই (মতান্তরে ১২৯১ সালে) তারা পরাজিত হয়ে তাদের শেষ লর্ড (Grand Master of the Knights Templar) জ্যাক ডি মলোয়সহ সাগর পাড়ি দিয়ে সাইপ্রাসে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকে ফ্রান্সের বাদশাহর কাছে মিলিটারি সাহায্যের আহবান পাঠান। কিন্তু বিধি বাম। কোনো সাহায্য আসেনি। ফ্রান্সের বাদশাহ ফিলিপ দ্যা ফেয়ার (Phillip the Fair) তখন নাইট-টেম্পলারদের কাছ থেকে নেয়া ধারের (debts) ভারে ডুবু ডুবু অবস্থায়। তাছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা কাটিয়ে ওঠাও তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। তাছাড়া ইংল্যান্ডের সাথে তখন তার যুদ্ধের সম্পর্ক ছিল। লক্ষণীয় যে টেম্পলাররা তাদের টাকা সুদে ধার দিয়ে বাদশাহি চালাচ্ছিল, কিন্তু যুদ্ধের খরচের জন্য নিজেদের টাকা ব্যয় না করে বাদশাহকেই সে খরচ বহন করতে আবেদন করছিল যাতে বাদশাহ পরিশেষে সেই টাকা ট্যাক্সের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে তুলে নেন। এই কারসাজি আর আজকের কারসাজির মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। বড় বড় কর্পোরেশনের চাপে ইউরোপিয়ান সরকারগুলো যুদ্ধে যায় এবং ট্যাক্স পেয়ারের টাকায় সে যুদ্ধ চালায়। তারপর কর্পোরেশনগুলো যুদ্ধোত্তর ফায়দা হাসিল করে।

ডি মলোয় নিরাশ হয়ে ১৩০৭ সালে ফ্রান্সে আসেন কিন্তু ইত্যবসরে অনেক ষড়যন্ত্র হয়ে যায়। পোপের সম্মতি নিয়ে ফিলিপ জ্যাক ডি মলোয় ও তার অনুচরদেরকে গ্রেফতার করেন ও ১৩১৪ সালের মার্চ মাসে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং তাদের হত্যার মাধ্যমে ফিলিপ কর্জমুক্ত হন। এসব কাজ পশ্চিমা দেশ এখনো আরব দেশের ডেসপট লীদারদের সাথে করে, তাদেরকে নির্মূল করে তাদের গচ্ছিত টাকা আত্মসাৎ করে। ডি মলোয় ও তার অনুচররা ১৩ই মার্চ শুক্রবার দণ্ডপ্রাপ্ত হন এবং এর পর থেকে Friday the 13th ইউরোপিয়ানদের কাছে একটি কুলক্ষণ হয়ে পড়ে!

টেমপ্লারদের উপর অভিযোগ আনা হয় যে তারা নাকী ধর্মচ্যুত বা বিপথগামী হয়েছিল, (heresy, ধর্ম বিশ্বাস থেকে সরে গিয়েছিল); তারা প্রচলিত ধর্মীয় বাহ্যিক আনুষঙ্গিকতার প্রয়োজনীয়তা মনে করত না;  এমন কি মুসলিম জগতের সংস্পর্শে সূফী দার্শনিক কিছু সংযোজন ঘটানোর অভিযোগও ছিল। নির্যাতন কক্ষে মারপিট খেয়ে সবাই যত অভিযোগ ঢালা হয় তার সবই স্বীকার করেছিল। তারা শয়তানের (Lucifer) উপাসনার কথাও স্বীকার করে। তবে এমন স্বীকারোক্তিতে মূলত কিছুই প্রমাণিত হয় বলে মনে হয় না। অবশেষে জ্যাক ডি মলোয় ও তার সহপার্টি ৬০ জন নাইট-টেম্পলারকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা  করা হয়।

কিন্তু বাকী টেম্পলাদের কী হল? তাদের বিরাট সম্পত্তির কী হল? তারা কোথায় গিয়ে আত্মগোপন করলো? এসবের কোন হদিস সেদিন পাওয়া যায় নি, বা সর্বসাধারণ জানে নি। অনেকের ধারণা যে এই নাইট-টেম্পলাররাই বিভিন্ন গোপন সোসাইটির আড়ালে থেকে কাজ করে যেতে থাকে, যেমন ফ্রিম্যাসন, ইলুমিনাটি ইত্যাদি।

 

শেষ কথা

ক্রুসেডের যুদ্ধগুলি মুসলিম ভূখণ্ডে অনেক বিপর্যয় এনেছে, অনেক প্রাণনাশ করেছে, তাদের জাতীয় জীবনে ও মানসিকতায় অনেক প্রভাব ফেলেছে। এই কথাটি আবার ইউরোপের ব্যাপারেও সত্য। দুই শো বৎসর ব্যাপী চালিত এই যুদ্ধ ইউরোপের রাজনীতি, সমাজ ও মনন জুড়ে রেখেছিল। যুদ্ধের জন্য বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাধারণ জনগণ স্বহস্তে ধন-সম্পদ দান করেছিল, যুদ্ধে গিয়ে জীবন দিয়েছিল, জীবন নিয়েছিল –এই যুদ্ধ তাই মামুলী ছিল না, হতেই পারত না।

সর্বোপরি মনে রাখতে হবে যে সকল বিপর্যয় ও নিষ্ঠুর দিকগুলোর পরও এগুলো ছিল ‘মানুষের’ কাহিনী,  মানুষের ইতিহাস। এই যুদ্ধে মূল্যবোধের বিষয় ছিল, আদর্শগত বিষয় ছিল। এই যুদ্ধ তার সময় সীমায় যে মানসিকতা তৈরি করেছিল তার প্রতিক্রিয়া সুদূর প্রসারী হয়ে পড়েছিল –সেই মানসিকতার ছুঁয়াচ আজও অনুভব করা যায়। সেদিন সেই যোদ্ধারা বিজয়ী হওয়া, সামাজিক প্রশংসা ও স্বীকৃতি লাভ করা, (পাদ্রির কাছে) গোনাহের স্বীকারোক্তির ঊর্ধ্বে ওঠা –এগুলো ছিল বিরাট বৈক্তিক, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ব্যাপার (এই বিষয়াদির ব্যাপারে নিচের সূত্রায়িত একটি বই আছে,দেখা যেতে পারে, রেফ: ৫)।

কিন্তু সবকিছুর পরও একথা স্পষ্ট যে মুসলমানদের হাতে জেরুজালেমে যে শান্তি-নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিরাজ করেছিল তা ইউরোপীয় খৃষ্টীয়ান পক্ষের হাতে হয়নি। সাধারণভাবে, মুসলমানদের শাসন ব্যবস্থায় চার্চ ও সামন্ততান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মত জনগণ নির্যাতিত হয়নি।   যেসব কারণের প্রেক্ষিতে ইউরোপ নাস্তিক্য ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ গ্রহণ করেছিল, সেই ধরণের কারণাদি  ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় তুলনীয় ছিল না, যে কারণে সাম্রাজ্যবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে, হাজার প্রোপাগান্ডা, শক্তি প্রয়োগ ও বলিষ্ঠ মিথ্যাচারের পরও ইসলাম যেভাবে দাড়িয়ে থাকে (এবং এখনো আছে) সেভাবে চার্চ ও সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা দাড়িয়ে থাকতে পারেনি।

আজ ইউরোপ একটু নমনীয় হয়ে প্যালেস্টাইন-সমস্যার সমাধান করলে বিশ্বের অনেক অশান্তির সমাধান হত। বিশ্ব অন্য ধরনের শান্তির পথ খোজে  পেত। কিন্তু পশ্চিমের মন-মানসিকতার যে অংশে শক্তি নিহিত সে অংশ ইসলাম ও মুসলমানদের পদদলিত করা ছাড়া আর কোন ধারণা রাখে বলে মনে হয় না।

তবুও একবিংশ শতাব্দীর কামনা এই যে বিশ্বে শান্তি আসুক, মানুষ শান্তির পথ পাক, পশ্চিমের যেদেশগুলোর যেগুলোকে ওয়ার-ইকোনমি (war-economy) করে রাখা হয়েছে সেগুলো এই যুদ্ধংদেহী ধারা থেকে বেরিয়ে অন্য ধারা খুঁজুক। তবেই আশা করা যায় শান্তি ফিরবে।        

 

এবারে একটি ভিডিও দেখা যেতে পারেঃ

 

রেফারেন্সেসঃ

___________________________________

[১] Crusades: The Crescent and the Cross. (2011). TV Programme, Military Channel (531), UK, 5 December. 22:00 hours.

[২] the86booy. 2010. The Secret Bible -Knights Templar part 1/5, [Online] Accessed 08/05/2012

[৩] Wikipedia, Crusades. [Online] http://en.wikipedia.org/wiki/Crusades [Accessed 11/05/2012]

[৪] Wikipedia, Baldwin IV of Jerusalem. [Online] http://en.wikipedia.org/wiki/Baldwin_IV_of_Jerusalem

[Accessed 11/05/2012]

[৫] The Wordsworth Pocket Encyclopedia, (1993). Wars and Battles. Hertfordshire: Wordsworth Editions Ltd. p.14-15.   

[৬] Tyerman, C. (1988). England and the Crusades 1095-1588. Chicago: the University of Chicago Press. [Online] available at:  http://books.google.co.uk/books?hl=en&lr=&id=215JWFCeSOsC&oi=fnd&pg=PR9&dq=the+impact+of+crusades&ots=Qr6zoVhpRs&sig=FcQcPYMGzVjto6g5Nb4dgQQd5Ts#v=onepage&q=the%20impact%20of%20crusades&f=false [Accessed 11/05/2012]

২৩ comments

Skip to comment form

  1. 13
    এম_আহমদ

    আল-জাজিরা ক্রুসেড যুদ্ধের উপর একটি ডক্যুমেন্টরি করেছে। এখানে তা সংযোগ করে রাখলাম; Shock: The First Crusade and the Conquest of Jerusalem
    http://www.aljazeera.com/programmes/the-crusades-an-arab-perspective/

    crusade: part 2.
    http://www.aljazeera.com/programmes/the-crusades-an-arab-perspective/2016/12/revival-muslim-response-crusades-161210142659166.html

    crusade, part 3
    http://www.aljazeera.com/programmes/the-crusades-an-arab-perspective/2016/12/unification-saladin-fall-jerusalem-161219060659446.html

  2. 12
    উদয় রায়হান

    ক্রুসেড নিয়ে সংক্ষেপে অনেক কিছু জানা গেলো। বাংলায় হওয়ায় লেখাটি দারুন সহজবোধ্য হয়েছে। লেখককে ধন্যবাদ।

    1. 12.1
      এম_আহমদ

      পাঠ ওমন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

  3. 11
    এম_আহমদ

    ডি মলোয় নিরাশ হয়ে ১৩০৭ সালে ফ্রান্সে আসেন কিন্তু ইত্যবসরে অনেক ষড়যন্ত্র হয়ে যায়। পোপের সম্মতি নিয়ে ফিলিপ জ্যাক ডি মলোয় ও তার অনুচরদেরকে গ্রেফতার করেন ও ১৩১৪ সালের মার্চ মাসে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং তাদের হত্যার মাধ্যমে ফিলিপ কর্জমুক্ত হন। এসব কাজ পশ্চিমা দেশ এখনো আরব দেশের ডেসপট লীদারদের সাথে করে, তাদেরকে নির্মূল করে তাদের গচ্ছিত টাকা আত্মসাৎ করে।

    আজ একজনের সাথে কিছু কথা হচ্ছিল উপরের বিষয়টি নিয়ে। সাদ্দাম ও তার সঙ্গপাঙ্গের অনেক টাকা এবং গাদ্দাফি এবং তার সঙ্গপাঙ্গের অনেক টাকা ইউরোপ আমেরিকান ব্যাঙ্কে গচ্ছিত ছিল। এগুলোর কি হল? বাংলাদেশে করাপশন করে মাফিয়াগোষ্ঠী তাদের টাকা সরাসরি অথবা সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে ইউরোপ আমেরিকায় নিয়ে আসে। এই দেশগুলো সেই সুযোগও দেয়। তাদের পলিসি হচ্ছে তোমরা তোমাদের দেশ উজাড় করে এখানে নিয়ে আস। মাত্র ৭৫ হাজার পাউন্ড পুঁজি দেখিয়ে যে কেউ নাকি ইংল্যান্ডে ব্যবসায় করতে আসতে পারে -কোনো বাধা নেই। এই টাকা কার মাথা ভেঙ্গে নিয়ে এসেছে -সেই অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশে পুঁজিবাদী যে করাপশন চলে আসছে এর পিছনে বৃহত্তর পুঁজিবাদদের সমর্থন রয়েছে। বাংলাদেশে যেকোনো উপায়ে এক শ্রেণী পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটানো ছিল তাদের উদ্দেশ্য -তারা সেই উদ্দেশ্য কামিয়াব করতে পেরেছে। তারা জানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা যতই অস্থিতিশীল থাকবে এই শ্রেণী তাদের টাকা পয়সা বাংলাদেশে না রেখে তাদের দেশগুলোতে গচ্ছিত ও বিনিয়োগে রাখতে অধিক নিরাপত্তা অনুভব করবে। বিগত পাঁচ বছরে আমাদের বার্মিংহামেই কয়েকটি প্রাইভেট বাংলাদেশি ব্যাঙ্ক হয়েছে। যেসব বন্ধুরা এসব বিষয় ভাল বোঝেন তাদের দৃষ্টিতে এগুলো হচ্ছে অর্থ পাচারের কারখানা। জাতিকে পতাকা, চেতনা, যুদ্ধাপরাধ, ৩১৩ পার্বণ ইত্যাদির ইমোশনে ঝগড়ায় আটকয়ে ও সার্কাসে সাজিয়ে দেশি-বিদেশি পুঁজিপতিরা দেশকে লুটে-পুটে খাচ্ছে। পুজিবাদের 'জাতীয়-ভিত্তি' হচ্ছে পুজি, দেশ ধর্ম, ভৌগলিক সীমা -এগুলো কিছুই নয়। 

  4. 10
    এম_আহমদ

    আলোচ্য বিষয়ের আরেকটা দিক এখানে সংযোগ করা যেতে পারে।  তের শো শতাব্দীর শেষের দিকে ক্রুসেডের যুদ্ধ শেষ হলেও ইউরোপিয়ান পক্ষ তাদের মানসিকতা ও আচরণ থেকে ‘ক্রুসেড’ যেন সরাতে পারছেন না। এই বিংশ শতাব্দী ও একবিংশ শতাব্দীতে মুসলিম ভূখণ্ডে যেসব আক্রমণ চালানো হয়েছে; বেপরোয়া ভাবমূর্তিতে অসমতুল্য শক্তির প্রবল প্রয়োগে যে ধ্বংস লীলা চালানো হয়েছে  এবং এগুলোতে যে ধরণের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে –এসব বাস্তবতার কীরূপ ব্যাখ্যা মুসলমানেরা গ্রহণ করবে সেটাই হয়ে পড়ে এক মুস্কিলের বিষয়। ফুয়াদ ভাই তার (1.1.1) মন্তব্য বলেছিলেন, “কেউ কেউ প্রথম মহাযুদ্ধকে গোপন ক্রুসেড হিসাবে দেখে থাকেন। আমার দাদাও এই মত দিয়ে থাকেন।” গত ১১ মে ২০১২ রিয়েল-টাইম নিউজ ডটকম একটি খবর প্রকাশ করে যা ঐদিন ইউকে গার্ডিয়ানেও প্রকাশ পায় যেগুলোতে দেখা যায় যে আমেরিকান সামরিক প্রশিক্ষণ কলেজ হিরোসিমার কায়দায় মক্কা/মদিনায় পারমানবিক হামলা চালানোর “কোর্স” শিখানো হচ্ছিল, যদিও এক পর্যায়ে সেই কোর্সটি withdraw করা হয়েছে। বাংলা-সূত্রে হেডলাইন ছিল, “মক্কায় পরমাণু বোমা হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র!” আর গার্ডিয়ানে ছিল, US military course taught officers 'Islam is the enemy'। রিয়েল টাইম তাদের প্রথম লাইনে উল্লেখ করে, “ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কায় পরমাণু বোমা হামলা চালানোর মতো বিষয়ে পড়ানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রশিক্ষণ কলেজে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই চালানোর কোর্সে এ বিষয়ে পড়ানো হয়।” এসব বিষয় অত্যন্ত নাজুক। এসব বিষয় সামনে রাখলে ‘সভ্যতার’ আওয়াজ যে কত অন্তঃসারশূন্য তা সহজেই বুঝা যায়।

  5. 9
    জনিকা

     
    এখনো পড়িনি…তবে মন্তব্য দেখে মনে হচ্ছে…..দারুন!!!
    রেফারেন্স দেয়া লেখা পড়তে গেলে লেখকের উপর একটা আস্থা এবং ভালো লাগা তৈরি হয়। 
     
    আপনাদের লেখা পড়ে….সত্যিই অনেক ভালো লাগে। ভাবি কত নগন্য আমি…
    অনেক ধন্যবাদ এই ধরনের লেখা শেয়ার করার জন্য।

    1. 9.1
      এম_আহমদ

      উদার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
       
      আপনার লেখাও তো বেশ ভাল। আপনার “প্রথম সাক্ষাতে…নাগিব মাহফুজ (Wedding Song…)” লেখাটি চতুর্মাত্রিকে দেখলাম। নাজিব মাহফুজ, ইউসুফ ইদ্রিস, তোহা হোসেইন –এদের লেখা আমার ভাল লাগত। তোহা হোসেনের ‘আল-আইয়াম’(সেই দিনগুলো) এখনো সময় হলে, তার ভাষার বিন্যাস ও অলংকার-সৌন্দর্যের মাধুর্য দেখতে পড়ি।
       
      নাজিবের উপর লিখতে গেলেন কেন –সাহিত্য কি আপনার একাডেমিক এরিয়া? 
       
       

  6. 8
    শামস

    লেখাটা খুব ভাল হয়েছে। তবে খুব সংক্ষিপ্ত মনে হয়েছে। ক্রুসেড মানব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী ধর্মযুদ্ধ। এটাকে খুব   সংক্ষিপ্ত করা আসলেই খুব কঠিন কাজ।

    এগারো শতাব্দীতে ইউরোপিয়ান শাসকেরা ধর্মীয় এবং বাণিজ্যিক অভিপ্রায়ে জেরুজালেমকে মুসলমানদের হাত থেকে কেড়ে নিতে পরিকল্পনা শুরু করেন। 

    ইউরোপিয়ানরা বাণীজ্যের অভিপ্রায়ে নিজ মহাদেশের বাইরে দৃষ্টি দেয় সম্ভবত ১৪০০ শতকের দিকে। জেরুজালেম দখলটাকে পুরোপুরি ধর্মীয় বলাটাই ঠিক হবে। তারা এই ক্রুসেড থেকে ক্ষতিগ্রস্থই বেশী হয়েছে। শুধুমাত্র ধর্মীয় জিল থেকে ইউরোপ থেকে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে জেরুজালেমে আসার আর কি কারণ থাকতে পারে! মাঝপথেই তাদের লক্ষ লক্ষ লোক মারা পড়ছে। তাই শেষপর্যন্ত তারা পারেনি।
    যুদ্ধ সবসময়ই একটি লাভজনক ব্যাবসা। এতে মানুষকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ম্যানিপুলেট করার সবচেয়ে সহজ উপায়। যুদ্ধজয়ের দ্বারা একপক্ষ আরেকপক্ষের ভুমি দখল করা যেত, ট্যাক্সের সীমা বাড়ানো যেত, আর এর বাইরে ছিল সস্তা দাস পাওয়া। জেরুজালেম দখলে সেগুলো প্রধান ছিল না। চার্চ ছিল সবকিছুর মূলে। তারা ছিল শাসকদের ডানহাত। তারাই উজ্জীবিত করেছিল ধ্রমীয় শ্লোগান দিয়ে। তবে এতে মুসলিমদের রাজ্যজয় ভুমিকা রেখেছিল। মুসলিমরা ইউরোপের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে নেয়।  মুসলিমদের এই সম্প্রসারণ খ্রিষ্টান এস্টবলিস্টমেন্টদের ভীত করে দেয়।
    পাশ্চাত্যের ইতিহাসে মুসলিমরা ভিলেন আজ নয়, অনেক আগে থেকেই। এটা প্রকাশ্যে করা সম্ভব না, নয়তো মানবতাবাদী হওয়া সম্ভব নয়। তবে স্পেনে কিন্তু এখনো সেটা প্রকাশ্যেই করা হয়। মুসলিমদের স্পেন থেকে বিতারণকে খৃষ্টীয় ফ্লেভার দিয়ে এখনও খুব জাকজমকের সাথে পালন করা হয়। বিকৃতি এমন পর্যায়ে যে এমনকি মুসলিম বীরদের নাম পরিবর্তন করে তাদের খুষ্টান হিসেবে দেখানো হচ্ছে। 
    এটা পাশ্চাত্যের অনেকেই আজ  স্বীকার করেন যে মুসলিমরা তুলনামূলকভাবে অনেক উদার ছিলঃ

    কিন্তু সবকিছুর পরও একথা স্পষ্ট যে মুসলমানদের হাতে জেরুজালেমে যে শান্তি-নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিরাজ করেছিল তা ইউরোপীয় খৃষ্টীয়ান পক্ষের হাতে হয়নি।

    সালাহদীন চাইলে খৃস্টানদেরও কচুকাটা করতে পারতো, তার সেই ক্ষমতা থাকা সত্বেও সে তা করেনি। মুসলিমরা যদি তাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চায় যুদ্ধ নয়, উদারতা দিয়েই সেটা করতে হবে। যুদ্ধ থেকে  একটা ধবংসাত্নক শক্তিই শেষপর্যন্ত লাভবান হবার সম্ভবনা থাকে।
     
     
     

    1. 8.1
      এম_আহমদ

      ১। ধর্ম

      ভাই, খৃষ্টীয়ানরা শুধু যে ধর্মের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়েছিল – এ কথাতেও controversy আছে। মূলের দিক দিয়ে এটা ধর্মযুদ্ধ না হওয়াই উচিৎ ছিল। পোপ ২য় আর্বান ‘রাজকীয় স্বার্থে’, (আর এমন কাজ চার্চের ইতিহাসে বার বার হয়েছে) এই যুদ্ধকে ধর্মীয় রূপদান করেছিলেন।   

      বাইজান্টাইন সম্রাট ১ম এলেক্স (১০৫৬-১১১৮) যখন একদিকে পশ্চিম বলকান থেকে নরম্যানদের আক্রমণ ও অন্যদিকে সেলজুক মুসলিমদের আক্রমণে হিমসিম খাচ্ছিলেন, তখন তিনি পোপ ২য় আর্বানের শরণাপন্ন হন এবং সেলজুকদের ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনা করেন। সেলজুকরা ১০৬৫ সালে জেরুজালেম কর্তৃত্ব হাতে নেয় আর তার ৩০ বৎসর পর অর্থাৎ ১০৯৫ সালে আর্বান খৃষ্টীয়ান জগতকে স্বর্গের মোকাবেলায় ধর্মযুদ্ধের আহবান করেন! আমরা সিলেটীরা বলে থাকি, ‘হাই মইলা হাইনজা রাইত, আর কান্দি উঠলা পতা রাইত’, অর্থাৎ স্বামী মারা গিয়েছে রাতের প্রথম প্রহরে, আর স্ত্রী কান্না জুড়ছে শেষ রাতে!

      জেরুজালেম মুসলমানদের এক হাত থেকে অন্য হাতে গেছে, এখানে খৃষ্টীয়ানরা কোন পক্ষের হয়ে ৪৫৮ বৎসর পর (অর্থাৎ ৬৩৭ থেকে) জেরুজালেম উদ্ধারের আওয়াজ তুলবে? মূলত জেরুজালেম দখলের মানি ছিল সেলজুকদেরকে শক্তির সিগনাল দেয়া এবং এই অঞ্চলে একটি outpost তৈরি করা, যেমনটি ইসরাইলের মাধ্যমে করা হয়েছে। পোপ আর্বান এলেক্সাসের আহবানে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইউরোপকে যুদ্ধ করতে আহবান করেন। আর্বানের আহবানের কারণে তা ‘ধর্মীয়’ রূপ লাভ করেছে।

      ২। বাণিজ্য

      ইউরোপ ইসলামের প্রসার তাদের ইস্টার্ন রোমান বাইজানটাইন বাণিজ্য-পথে অগ্রবর্তীতা হিসেবেও দেখেছে। বাইজাইন্টাইনের অধীনেই ছিল সিরিয়া, মিশর-জেরুজালেম ইত্যাদি এলাকা। আর এই অঞ্চল দিয়েও চলত আফ্রিকান বাণিজ্য। এ দিক থেকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য কতটুকু সরানো যাবে তা হয়ত বলা মুস্কিল। ইউরোপিয়ান খৃষ্টীয়ানরা তীর্থস্থান (Holy Places) জেয়ারতের উদ্দেশ্যে জেরুজালেম, আলেকজাড্রিয়া অন্যান্য স্থানে যেত। এই যাত্রার সাথে ব্যবসায়ের মিলও ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের সাথে পূর্ব-ইউরোপের নানান ব্যবসায়ের সম্পর্ক ছিল।  এটা প্রাচীন কালের। ধর্মকেন্দ্রিক, ও ধর্মের বাইরে, ব্যবসার সম্পর্কও প্রাচীন। হজ্জ যেমন নিছক ধর্মীয় বিষয়, কিন্তু এটা যে বিশ্বের অন্যতম একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান -একটিও অস্বীকার করার মত নয়। তবে সেদিনের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যটি বর্তমানের মাত্রায় দেখতে যাচ্ছি না। ইউরোপ তখন exportকরার মত পজিশনে ছিল না, কেননা তখন তারা এমন কিছু produce করত না বা করার মত টেকলজিও ছিল না। টেকনোলোজির প্রাথমিক জ্ঞান মুসলমানদের থেকে পাওয়া এবং এগুলোর দেখার মত implementation ১৪/শো/১৫ শো শতাব্দীর আগ পর্যন্ত ছিল না। কিন্তু তারা import করত। চিনি, সিল্ক, মসলা-পাতি ইত্যাদি। সেকালের আলোচনায় ব্যবসাকে তেমন আলাদা করে দেখা হয় না। Middle ages-trades এর আলোচনা এগুলো সাধারণত আসে। এখানে Middle Ages Trade & Commerce -- the Crusades আলোচনা প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে, ‘The Middle Ages saw the rapid expansion of Medieval trade and commerce. The most important factor in the expansion of trade and commerce were the Crusades. The Crusades, which had facilitated the relations with Eastern countries, developed a taste in the West for their indigenous productions, gave a fresh vigour to this foreign commerce and trade, and rendered it more productive by removing the stumbling blocks which had arrested its progress. ’ [] তবে আমি সম্পর্কটিকে casually দেখেছি। এটি হয়ত আরও অনুসন্ধানের ব্যাপার।

      ৩। শান্তি

      হ্যাঁ, বিশ্ব অনেক যুদ্ধ দেখেছে। যুদ্ধ এড়িয়ে চলাই ভাল। কিন্তু অনেক সময় যুদ্ধ আপনার দুয়ারের সামনে এনে  হাজির করা হয়, তখন সেই অবস্থার জন্য অবশ্যই প্রস্তুতি নিতে হয় –রাষ্ট্র হিসেবে।

      আপনার সুন্দর মন্তব্যটির জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  7. 7
    এম_আহমদ

    @ মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত
    ভাই, ভাই, এই সালাউদ্দীন (সম্ভব হলে) আমাদেরকেই তৈরি করতে হবে। মসুলে (Mosul) এবং অন্যত্র প্রথম ক্রুসেডের পর যে ইসলামী আন্দোলন গড়ে ওঠে, ইউসুফ বিন আইয়ুব (খেতাব সালাউদ্দীন) সেই আন্দোলনের ফসল। তিনি শুধু যোদ্ধাই ছিলেন না বরং একজন স্কলারও বটে। এই সিলসিলার সাথে মসূলে ছিলেন ইমাদ উদ্দীন জানকী তারপরে নূর উদ্দীন জানকী। আজকে সেই চারা রোপণ করলে ৫০ বৎসর পরে সেই সালাউদ্দীন পাবেন –এটা তাল গাছের মত। আজকে আমাদের সকলের দায়িত্ব হবে মুসলমানদের বিভেদমূলক কথাবার্তার পরিবর্তে ঐক্যের কথা বলা, কাউকে ফতোয়াবাজী করতে দেখলে তার থেকে সরে আসা। সবাই নিজেদের দায়িত্ব পালন করাটাই মূল কথা –ছোট বালুকার কণা আর বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তুলে মহাদেশ সাগর অতল।
    ধন্যবাদ।

  8. 6
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    গাজী সালাউদ্দিন আইয়ুবীর গল্প বলে ইহুদি আর খৃস্টান মায়েরা তাদের সন্তানদের ঘুম পাড়াত।আজকের প্রেক্ষিতে সালাউদ্দিন আইয়ুবীর মত আরেকজন সিপাহসালারের খুব প্রয়োজন আমাদের। 

  9. 5
    আলোক যাত্রী

    মাশাল্লাহ চমৎকার পোস্ট অনেক কিছু জানতে পারলাম … 
     

    1. 5.1
      এম_আহমদ

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  10. 4
    কিংশুক

    এম_আহমদ ভাই, মাশাল্লাহ ক্রুসেডের ইতিহাস ভালো লেখেছেন। ক্রুসেড বিষয়ক কি একটা যেন উপন্যাস পড়েছিলাম অনেক আগে। খ্রিস্টান ক্রুসেডারদের কিছু অপকর্ম সম্পর্কেও জানলাম। তারাই কিন্তু মুসলিম ক্রুসেডারদের বিষয়ে গনিমতের মালের লোভে, যৌন দাসী বানানোর জন্য, দাস ব্যাবসা করার জন্য নাকি মুসলিমরা ধর্মযুদ্ধ করে ইত্যাদি নানান ফালতু প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছে। বহু বছর ধরে মুসলিমরা ইহুদি, খ্রিস্টান বিশ্ব শক্তির তুলনায় বেশী পিছিয়ে পড়ায় এসব প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে অনেককে বিভ্রান্তও করছে। আপনার কাছ থেকে ভবিষ্যতে ক্রুসেড বিষয়ক আরও বিস্তারিক লেখা দাবী করছি।

    1. 4.1
      এম_আহমদ

      কিংশুক ভাই, ধন্যবাদ। বলা হয়, যুদ্ধে যে জিনিসটি প্রথমে আহত হয় তা হল ‘সত্য’। ইউরোপ মনে হয় ক্রুসেড যুদ্ধ কোনোদিনই বাদ দেই নি। যখন সশস্ত্র যুদ্ধের মওকা নেই, তখন প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ করেছে, মিথ্যাচার করেছে। শত শত বৎসরের মিথ্যাচার, বই-পুস্তক প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা দেয়া, আধিপত্যবাদী শিক্ষা ব্যবস্থায় সেগুলো কৌশলে জুড়ে দেয়া –এগুলো এমনিতে বিলীন হয়ে যাবার মত কিছু নয়। স্তূপীকৃত মিথ্যা পাহাড়সম। 1.1 মন্তব্যটি দেখবেন।

  11. 3
    শামস

    ক্রুসেড নিয়ে বিবিসির একটা ডকুমেন্টারি দেখেছিলাম। সময় নিয়ে আপনার লেখা পড়তে হবে, পড়ে মন্তব্য করব।

  12. 2
    ফুয়াদ দীনহীন

    @এম আহমদ,
    আহমদ ভাই,
    লেখাটি একেবারে সমৃদ্ধ। কিন্তু আপনার কাছে আরেকটি লেখা চাই। ক্রিসেড গুলিতে কিভাবে কি পরিমান অত্যাচার করা হয়েছিল মুসলিমদের ? আমি এমনো শুনেছি, মানুষকে গরম পানিতে বয়েল করে মারা হয়েছে। ইতিহাস ভিত্তিক তত্য নির্ভর, ইউরোপিয়ান সর্স এবং একই সাথে মুসলিম সর্সের ভিত্তিতে জানতে চাই। যদি কোন দিন সময় হয়, তাহলে এ ব্যাপারে একটি লেখা দিয়েন।

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      ফুয়াদ ভাই, অনেক ধন্যবাদ। উপরের ১.১ মন্তব্যটি দেখবেন। ইনশাল্লাহ, চেষ্টা করব। দোয়া করবেন। 

  13. 1
    ইমরান হাসান

    আমি অভিভূত, এতটা অসাধারণ প্রবন্ধ এর আগে কোথাও পড়িনি আমি।খুব চমৎকার বর্ণনা দেয়া হয়েছে এখানে । 
    তবে ক্রুসেড আমার জানামতে হয়েছিল ১৪ টা আর বাকি গুলোর ব্যাপারেও আপনার কাছে থেকে লেখা চাই। 

    1. 1.1
      শামস

      @ইমরান হাসান, আমার জানামতে ক্রুসেড হয়েছিল ১৩টা।

      1. 1.1.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        কেউ কেউ প্রথম মহাযুদ্ধকে গোপন ক্রুসেড হিসাবে দেখে থাকেন। আমার দাদাও এই মত দিয়ে থাকেন। 

      2. 1.1.2
        এম_আহমদ

        ক্রুসেড যুদ্ধের সংখ্যার ব্যাপারটি গণনার উপর নির্ভরশীল -কোন কোন যুদ্ধ reasonably সেই স্কিমের আওতায় আনা হবে, তার উপর। নিচের কমেন্ট দেখুন। ফুয়াদ ভায়ের দাদা প্রথম বিশ্ব-যুদ্ধকে ক্রুসেডের যুদ্ধ হিসেবে দেখেছেন। গভীর এনালিসিসে গেলে তা মোটেই উড়ানো যাবে না। মনে রাখতে হবে এখন যুদ্ধের tactics এবং ‘প্রচারণার ভাষা’ ভিন্ন।

        পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। 

    2. 1.2
      এম_আহমদ

      আপনার পাঠ ও সুহৃদ মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। আমি ‘ইউরোপের আঁধার থেকে আলোর যুগ’ লেখাটির পর ‘ইউরোপের মধ্যযুগের’ উপর একটা ব্লগ দিতে ইচ্ছে করেছি। সেখানে ক্রুসেড যুদ্ধ এড়িয়ে যাবার উপায় নেই, আবার আলোচনা করতে গেলে ব্লগ দীর্ঘ হয়ে পড়বে, তাই আলাদাভাবে এই অংটি লিখি, যাতে সেখানে দু-একটি কথা বলেই শেষ করতে পারি। পরের লেখাটি প্রকাশ পেলে scheme-টা চোখে পড়বে। তারপর ইচ্ছা করছি আরও কয়েকটি লিখা যুক্তির যুগ ও ইনলাইটনম্যান্তের আন্দোলনের উপর লিখব, কেননা বর্তমান বিশ্বের চালিকা শক্তির পিছনের মৌলিক ধারণাগুলোর –নাস্তিক্যবাদ, সেক্যুলারিজম, সমাজতন্ত্র –উৎস সেখানে, বর্তমানরূপের গণতন্ত্রও। এর পরে না হয় আরেকবার ক্রুসেড নিয়ে লিখব।
      অনেক ধন্যবাদ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.