«

»

Jun ২৭

শবে বরাত –আছে, না নাই? পর্ব ২/২

[১ম পর্ব এখানে]

আমরা প্রথম পর্বে যে কয়টি হাদিসের উল্লেখ করেছি সেখানে জাল হাদিসের বিষয় নেই বরং সেগুলো স্পষ্টভাবে মধ্য শাবানের রাতের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে; সেগুলো আল্লাহর মার্জনার কথা বলে, আর মানুষের পাপ-জীবন থেকে মুক্তি লাভের সুযোগের কথা বলে -এসবই হচ্ছে ধর্ম জীবনের মূল বিষয়। এসবের সাথে বিশ্বাসের সম্পর্ক সুনিবিড়।  এবারে আমরা বিষয়টিকে অন্য আঙ্গিকে বিচার-বিশ্লেষণ করতে যাব।

স্থান ও কালীন মহিমা, গুরুত্ব ও পবিত্রতা

ধর্মের অনেক বিষয় স্থান ও কালের পবিত্রতা ও গুরুত্বের সাথে সম্পর্কিত। বিশ্বাসেই এমনসব ধারণা নিয়ন্ত্রিত হয়। এতে গাণিতিক সত্য খুঁজতে গেলে অনেক অংক মিলবে না। বস্তু-জাগতিক যুক্তিতে 'নেক' বিষয় সমস্যাবহুল হয়ে পড়বে। 

    একটু বর্ধিত অর্থে দেখতে গেলে স্থান ও কালের পবিত্রতা সম্বলিত ধারণা সকল ধর্মেই পাওয়া যাবে।  হিন্দু ধর্মে পাবেন গয়া ও কাশী, আমাদের ধর্মে পাবেন মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেম, অন্যদেরও অন্যান্য স্থান। এগুলোতে স্থান ও কালের পবিত্রতার এহসাস পাওয়া যায়। মসজিদ পবিত্র, মন্দির পবিত্র, গির্জা পবিত্র –এগুলো স্থানের পবিত্রতা  নির্দেশ করে। দিন ও কালের মধ্যে আছে আমাদের শুক্রবার, ইয়াহুদীদের শনিবার ও খৃষ্ট-ধর্মে রবিবার। কিন্তু এই স্থান কালের পবিত্র পরিধীর ভিতরেও রয়েছে পবিত্রতার অন্য স্থর, যাকে অন্তঃবৃত্তও বলতে পারেন। মক্কা শহরের এক বড় পরিধি হচ্ছে হারাম। তার ভিতরে অবস্থিত আল্লাহর ঘর, পবিত্র ‘কাবাহ’। এভাবে সকল মাসের মধ্যে আছে সর্বাধিক পবিত্র মাস ‘রমজান’ মাস। কিন্তু তার ভিতরের শেষ দশদিন হচ্ছে সর্বাধিক উত্তম। কিন্তু এই দশ দিনের ভিতরেও রয়েছে একটি বিশেষ রাত, ক্বদরের রাত। এই রাতটি শেষ দশ দিনের বেজোড় তারিখে ধরা হলেও সাতাইশের রাতই অতি পবিত্র, হাজার মাসের চেয়েও উত্তম মানা হয়।

শাবান ও তার মধ্য রাত

মাস হিসেবে শাবান মাসের মহিমা সহীহ হাদিসে প্রতিষ্ঠিত। এই মাসের ব্যাপারে যদি দ্বিমত না থাকে তাহলে আমরা আসতে পারি তার অন্তঃবৃত্তে। এর মধ্যে কী কোন বিশেষ মর্যাদাবান সময় থাকতে পারে যেমন ধর্মীয় অপরাপর স্থান ও কালে পাওয়া যায়? যদি অপরাপর নিয়মের সাথে এর সঙ্গতি থেকে থাকে, তাহলে বিতর্কের স্থান কমে আসে। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই দেখা যাবে যে আমরা মূলনীতির সাথে শুধু সঙ্গতিই পাচ্ছি না, বরং মধ্য শাবানের রাত সম্পর্কে অনেক হাদিসের বর্ণনাও পাচ্ছি। এই বর্ণনা মাত্র একটি বা দুইটি নয়, বরং অনেক। ব্যাপক বর্ণনার কারণে অনেক বড় বড় মুহাদ্দিসগণও, ইবন তাইমিয়্যাসহ, শবে বরাতের মর্যাদা ও মহিমার কথা আমলে নিয়েছেন।

    অন্যান্য পবিত্র স্থান ও কালের মত এখানকার অন্তঃবৃত্তের কাল নিয়ে যা বলা হয়েছে, তা ইসলাম ধর্মের মূল বাণীর সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিশীল। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ক্ষমা করে দিতে ও তাদের উপর রহমত দান করতে অনেক ধরণের সুযোগ দিয়ে থাকেন। এমন নানান সুযোগের মধ্যে এই রাতটিও একটি।

ধর্মে স্থান ও কালের মহিমা এবং পবিত্রতা আমাদেরই জন্য, আল্লাহর নিজের জন্য নয়। স্থান, কাল ও দিবসের সাথে সম্পর্কিত পবিত্রতার যে বিষয় রয়েছে সেই পবিত্রতার বেশি বেশি যৌক্তিকতা আরোপণ ও একটি পবিত্র অবস্থার সাথে অন্য পবিত্রতার চুলছেড়া যুক্তি, পার্থক্যের নানান প্যাচ সৃষ্টি ইত্যাদিতে ধমীয় কাজ কর্মের খুব একটা লাভ সাধিত হয় না। বরং বিতর্কের দুয়ার খোলে দিতে থাকলে এর শেষ মাত্রা মন্দের দিকেই যাবে। ধরুন শুক্রবার হচ্ছে সাত দিনের একটি দিন । এটি সোমবার থেকে ভাল হবে কেন? একান্তভাবে, তা কোন যুক্তির কোন বিবেচনায় হবে? রাতের শেষ অংশ প্রথম অংশ থেকে ভাল হবে কেন? এসব ক্ষেত্রে বিতর্ক ও অত্যাধিক যুক্তি সরিয়ে রাখলে আমরা যা পাই তা হল আল্লাহ ও তার রাসূল আমাদেরকে এভাবে বলেছেন -এতটুকুই।  আল্লাহ আমাদেরকে পুণ্য-ধারণায় এবং পুণ্য পথে চলার এক মাধ্যম হিসেবে অনেক বিষয়ে পবিত্রতার স্বীকৃতি দিয়েছেন যাতে করে আমরা তার ইবাদত করে পূণ্য অর্জন করতে পারি। পূণ্যের ধারণা আমাদের পূণ্য জীবনের সম্পূরক হয়। এজন্য আল্লাহ স্থান-কালের সাথে পবিত্রতার মূল্য সংযোজন করেছেন।  তার এগুলোতে মূল্যের স্বীকৃতি দানের কারণেই এগুলো আমাদের কাছে মূল্যবান হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে অনেক রূপক কথা বলেন, আমরা সেগুলোকেও বিশ্বাসে ধারণ করি এবং আমল করি। এসব কাজে বেশি বেশি যুক্তি চালাতে নেই। না হলে বাছতে বাছতে কম্বল খালি হয়ে যেতে পারে।

    আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং তার বান্দাদের আর্জি শুনেন, তাদেরকে দোয়া করতে আহবান করেন, তাদের মাগফিরাতের কথা বলেন। কিন্তু যুক্তির বিচারে তিনি তো সব সময়ই দুনিয়ার আকাশে থাকার কথা। বাংলাদেশের ভরা-দুপুরে অন্য দেশে যখন শেষ রাত্র, তখনও তো তিনি দুনিয়ার আকাশে আছেন। এসব হচ্ছে রূপক কথা। এসব কথায় আমাদের রূহানিজাত ও মানসিক তায়াজ্জুহের বিষয় বিশ্বাসের মাধ্যমে বহন করা হয়। আধ্যাত্মিক পথ ও পুণ্য জীবনের ব্যবস্থাপনায় বছর, মাস, দিন ইত্যাদিকে এবং বিভিন্ন স্থানকে আল্লাহ আমাদের জন্য সাজিয়ে দিয়েছেন। আমাদের মতো পাগল-ছাগলদেরকে মাফ করে দেয়ার বিভিন্ন জরিয়া সৃষ্টি করেছেন, যাতে পরিত্রাণের আশায় তার দিকে রুজু হই এবং আমাদের মনের জগতে এই ধারণায় উপনীত হই যে 'আমরা মার্জিত হয়ে গেয়েছি, পুণ্য লাভ করেছি’ -এমন ভাবধারা আমাদের মনের সুস্থতার বিকাশ করে। এসব জরিয়ার মধ্যে শাবানের রাতটি এক মহিমাময় রাত, এক ফজিলতের রাত। এটা আমরা বিশ্বাস করি।

কোরানের ইঙ্গিত, মহিমাময় রাত

এবারে কোরান থেকে এই বিষয়ে কিছু বলা যাবে কী যাবে না –তা দেখা যেতে পারে।  কোরানে ব্যবহৃত “লাইলাতুল মোবারাকাহ” বাক্যাংশটি অনেকে উল্লেখ করেন। এই বাক্যাংশটি সূরাহ দোখানে এভাবে এসেছে,  إِنَّآ أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ -আমরা এই কোরানকে এক মহিমাময় (বরকতময়) রাতে নাজিল করেছি। আমরা অবশ্যই সতর্কদান করি (৪৪:৩)।

    এখানে উল্লেখিত আয়াতটি শবে ক্বদর হিসেবে আমরা জানি। তবে যারা আয়াতটির অর্থধারাকে শবে বরাতেও প্রসারিত করেন, তাদের ব্যাখ্যাও শুনতে পারি। এই ব্যাখ্যা-ধারার তারতিব (ক্রম) হচ্ছে এই যে  মধ্য শাবানের রাতে গোটা কোরান বাইতুল মা’মুর থেকে দুনিয়ার আসমানে আসে এবং এতে এক কালীন গুরুত্ব প্রকাশ পায়। তারপর, লাইলাতুল ক্বদরের রাতে, খণ্ডাকারে, প্রথম অংশ নাজিল হয় এবং তাৎপর্যের দিক দিয়ে এটাই বৃহত্তর এবং মূল তাঞ্জীল। ঐ রাতেই (অর্থাৎ শবে ক্বদরের রাতে) আল্লাহর নির্দেশে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। আর এভাবেই তাঁরা এই দুই রাত কেন্দ্রিক বর্ণনার সমন্বয় দেখেন। 

কয়েকজন তফসীরকারের কথা

আল-কুশাইরী (মৃ. ৪৬৫ হি.) তাঁর তফসীর, ‘লাতাইফুল ইশারাত’-এ বলেন, শ’বে ক্বদরের রাতকে ‘লাইলাতুল মুবারাকাহ’ বলা হয় আবার শা’বানের ১৫তম রাত্রিকেও বলা হয়। ইবন উজাইবাহ (মৃ. ১২২৪ হি.) তাঁর ‘বাহরুল মাদিদ ফি তাফসীরিল কোরানিল মাজিদ’-এ বলেন ‘এটা লাইলাতুল ক্বাদর হতে পারে আবার মধ্য শা’বানের রাতও হতে পারে। তবে অধিকাংশ মতই প্রথমটির উপর।’ আল-বাইদাবী (মৃ. ৬৮৫ হি.) তাঁর ‘আনওয়ারুত তানজিল ওয়া আসরারুত তা’উইল’-এ এ কথাও বলেন, ‘এটা ক্বদরের রাত, তবে বারা’আতের রাতও (শা’বানের) হতে পারে যখন কোরানে নাজিলের সূচনা হয় -লাওহে মাহফুজ থেকে গোটা কোরান একত্রে দুনিয়ার আসমানে নাজিল করা হয়।’

    আছ-ছা’লাবী (মৃ. ৪২৭ হি.) তাঁর তাফসীর ‘আল-কাশফ ওয়াল বাইয়ান’-এ লাইলাতুল ক্বাদরের পাশে মধ্য-শা’বানের রাতের মতও উল্লেখ করেন। তারপর, আলী (রা.) থেকে এই রেওয়ায়েত বর্ণনা করেন যে নবী (সঃ) বলেছেন, ‘শা’বানের মধ্য-রাত যখন হাজির হয়, তখন তোমরা রাত জেগে ইবাদত কর এবং এর পরের দিন রোজা রাখ। নিশ্চয় সূর্যাস্তের পর আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে এসে বলতে থাকেন, ‘আছো কী কেউ ক্ষমা প্রার্থী, আমি ক্ষমা করে দেব। আছো কী কেউ রিজিক প্রার্থী, আমি রিজিক দান করব। আছো কী কেউ  বালা-মুসিবতে, আমি উত্তরণ করব। এভাবেই বলতে থাকবেন ফজর পর্যন্ত।’ আছ-ছা’লাবীও ইকরামার (র.) সেই মধ্য-শা’বানের হাদিসের কথা উল্লেখ করেন।

    আল-বাগাঁয়ী (মৃ. ৫১৬ হি.) তাঁর তফসীরে লাইলাতুল ক্বাদরের প্রাসঙ্গিকতার দিকে মত প্রকাশের পাশাপাশী মধ্য-শা’বানের রাতের মতটিও উল্লেখ করেন। আল-ক্বাসিম বিন মুহাম্মাদ তার পিতা (মতান্তরে তার চাচা) থেকে বর্ণনা করেন যে রসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা’লা মধ্য-শা’বানের রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন। তিনি প্রত্যেক নফসকে (ব্যক্তি) মাফ করেন, তবে, সেই ব্যক্তি ব্যতীত যার অন্তরে ঘৃণা-বিদ্বেষ রয়েছে,  অথবা যে আল্লাহ সাথে শরীক সাব্যস্ত করে। আল-বাগাঁয়ীও ইকরামার (র.) পূর্বোক্ত বর্ণনার উল্লেখ করেন।

    আল-মাওয়ার্দী (মৃ. ৪৫০ হি.) তাঁর তফসীর ‘আন-নাকতু ওয়াল উয়ূন’-এ লাইলাতুল মোবারাকার দু’টি অভিমত তুলে ধরেন। প্রথমটি মধ্য-শা’বানের রাত আর দ্বিতীয়টি লাইলাতুল ক্বাদর। প্রথমটির সূত্রে ইকরামার কথা উল্লেখ করেন। ইবন আতিয়্যাহর (মৃ ৫৪৬ হি.) তফসীর ‘আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ ফী তাফসীরিল কুতুবিল আজিজ’ –এ লাইলাতুল ক্বাদরের কথা বলার পর একথাও সংযোগ করেন, ‘ইকরামা ও অন্যরা বলেন ইহা মধ্য-শা’বানের রাত।’

   লক্ষণীয় যে যা বর্ণনাকারী ইকরামা (রা.) এক্ষেত্রে একক বর্ণনাকারী নন, "অন্যরাও" রয়েছেন। আল-ইতফিশ (মৃ. ১৩৩২ হি.) তাঁর তফসীর, ‘তাইসীরুল কোরান’ -এ লাইলাতুল ক্বাদরের অভিমত ব্যক্ত করেন এবং মধ্য-শা’বানের কথাটি উল্লেখ করেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ‘অবতরণের’ অর্থ হল তাঁর রহমত নাজিল করা। আর এই রাত্রে কোরান নাজিলের অর্থ হল গোটা কোরানকে ‘বাইতুল মা’মুর’ থেকে দুনিয়ার আসমানে নাজিল করা, স্থানটি কাবার ঊর্ধ্বাকাশের স্থান। সেখান থেকে জিবরীল (আ:) খণ্ডাকারে নিয়ে আসেন। এও বলা হয় যে ওহী প্রথমে রবিউল আওয়াল মাসে নবীর (সঃ) নিদ্রায় শুরু হয়। তারপর কোরানের প্রথম অংশ নাজিল হয়,’ইক্বরা বিসমি রাব্বিক’ দিয়ে।’ আল-মাহাল্লী (মৃ. ৮৬৪ হি.) ও সূয়ূতী (মৃ. ৯১১ হি.) প্রণীত প্রসিদ্ধ জালালাইন শরীফে আছে,  “এটি (এই রাতটি) ক্বদরের রাত অথবা মধ্য-শা’বানের রাতও হতে পারে যখন (কোরানকে) সপ্তাকাশের ‘লাওহে মাহফুজ’ (উম্মুল কিতাব) থেকে দুনিয়ার আসমানে নাজিল করা হয়।” (উপরে, যেসব তফসীরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেই তফসীরগুলো আল-তাফসীর ডটকমে পাওয়া যাবে [১])

শেষ কথা

আমাদের কথা হচ্ছে, আল্লাহ যদি এই রাতে দুনিয়ার আকাশে আসেন, যদি তিনি তার বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন, যদি অসংখ্য পাপীতাপী লোক তার কৃপা লাভ করেন, যদি তারা গ্লানি নিঃশেষে মুক্তচিত্তে পুণ্যপথে অগ্রসর হন –তবে সেখানে মানুষগুলোকে কেন বাধা দিয়ে সরানো হবে? খামাখা কোনো ভাল জিনিসে জটিলতা সৃষ্টি করায় কী কোনো লাভ হয়? যেকোনো বিষয় নিয়ে প্যাঁচা-প্যাচি করতে গেলে জট কেবল বাড়তেই থাকবে। জট বাঁধাতে ইচ্ছে করলে অনেক বিষয়ে ‘সহীহ হাদিস’ টেনেও বাঁধানো যেতে পারে -ঝামেলা সৃষ্টি করা যেতে পারে। অধিকন্তু, হাদিস না মানার অভিযোগ অভিযোগ আনা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, কুতর্কে আল্লাহ নেই। তিনি সুতর্ক ও বিশ্বাসে ধরা দেন। যেসব সাধারণ মানুষ এতকাল ধরে শবে বরাত পালন করে আসছে, তাদের সামনে বিদ্যার প্যাঁচ মেরে, শবে বরাতের গুরুত্ব ও মহিমা খেটো করে, ব্যাখ্যা হাজির করা যাবে বটে কিন্তু এতে ধর্মের কোন উপকার হবে না। শুধু এই একটি রাতে কত শত সহস্র লোক আল্লাহর দিকে রুজু হয়ে ইবাদত বন্দেগী করে, আল্লাহর নাম নেয়, নামাজ পড়ে, জিকির আযকার করে। এই সুবাদে তাদের ছেলেমেয়েরাও ইবাদতের এহসাস লাভ করে –কান্নাকাটি করে। কিন্তু বিদ্যার ঠাকুর এসে যদি সে রাতের দুয়ারে তালা লাগিয়ে দেন তবে সর্বসাধারণ কী করবে?

    মনে রাখা দরকার যে যেখানে বিদআতের স্থান নেই, সেখানে খোঁজে খোঁজে বিদআত আবিষ্কার করা ঠিক নয়। মধ্য শাবানের রাতে যদি কেউ বিদআত করে, তবে সেই বিদআতের বিপক্ষেই কথা বলা উচিৎ, সেই দুষ্কর্ম দূর করা করা উচিৎ। এই রাতে নামাজ পড়া, কোরান পড়া, মাসনূন দোয়া-দরুদ করা ও জিকির আযকার করা –এসব ঠিক আছে। কিন্তু যারা রাসূলের তরিকার বাইরে গিয়ে নানান গদবাধা প্রথা তৈরি করেন -সেসব থেকে মানুষকে সতর্ক করা যায়।

লেখার উদ্দেশ্য

অবশেষে আমার লেখার উদ্দেশ্য নিয়ে দুটি কথা বলতে চাই। আমি অনুভব করেছি যে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ রয়েছেন। এক পক্ষ শবে বরাত পালন করতে গিয়ে এমন সব কাজ করেন যা কোরান হাদিসের দৃষ্টিতে গ্রহণীয় হতে পারে না। অপর দিকে দেখা যায় আরেক পক্ষ যেন এটাকে একদম ছুড়ে ফেলার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন। আমি শুধু বলতে চেয়েছি যে এই রাতের গুরুত্ব আছে এবং এই রাতের ইবাদত পুণ্যের কাজ। আমি কারও ঝগড়া-ঝাটিতে নেই।

    আমরা মানুষ হিসেবে অনেক ধারণা ও ভাবনাকে সঠিক বলে মনে পোষণ করি, কিন্তু আদপে তা সঠিক নাও হতে পারে। লেখার পূর্বে এই বিবেচনা আমার মনেও ছিল। আমি এর পক্ষে কখনো লিখতাম না যদি এর পক্ষে অনেক রেওয়ায়েত না থাকত, যদি তাবেঈনদের একাংশ এর পক্ষে না থাকতেন, যদি মুহাদ্দিসীনদের একাংশ এর পক্ষে না থাকতেন, যদি যুগপৎ ধরে চলে আসা অসংখ্য আলেম-উলামা এর পক্ষে না থাকতেন। সর্বোপরি আল্লাহ আমাদের মুক্তির জন্য নানান বাহানা তৈরি করেন, তিনি পরম করুণাময়, অত্যন্ত দয়াবান। তিনি অনেক কবুলিয়্যাতের সময় নির্ধারণ করেছেন, অনেক স্থানকে পবিত্র করেছেন, অনেক কর্মের প্রতিফল দশ থেকে সত্তরগুণ বেশি দেয়ার কথা বলেছেন। এসব কিছু সামনে রেখে মধ্য শাবানের রেওয়ায়েতগুলো বিবেচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে এদের ইসনাদ ভিত্তিক সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও এবারত সহীহ।

    সর্বশেষে ইমাম ইবন তাইমিয়্যার একটি উদ্ধৃতি দিয়ে সমাপ্তি টানছি। তিনি বলেন, “মধ্য শাবানের রাত, এই রাতের ফজিলতের উপর অনেক অনেক হাদিস ও আছার বর্ণিত হয়েছে। পূর্ববর্তীদের (সলফে-সালেহিনদের) একাংশ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তাঁরা ঐ রাতে নামাজ পড়তেন। তবে প্রত্যেক ব্যক্তির নামাজ একা একা ছিল [অর্থাৎ জামাতবদ্ধ বা দলীয় নয়]। পূর্ববর্তীরা এতে (অর্থাৎ ইবাদত সংক্রান্ত আমলে) অগ্রবর্তী ছিলেন। এই ইবাদতের পিছনে তাদের দলিল (হুজ্জাহ/যুক্তি) ছিল সুতরাং এটাকে নিষেধ করা যাবে না, এনকার করা যাবে না।”  [২]

 

রেফারেন্সেস

_________________

[১] আল তাফসীর, [অনলাইন, আরবী],  প্রাপ্তব্যস্থান, http://www.altafsir.com/)

[২] উইকিপিডিয়া, লাইলাতু মুনতাসিফি শাবান [আরবী], অনলাইন। প্রাপ্তব্যস্থান: [Accessed on 18/06/2012]

৩৯ comments

Skip to comment form

  1. 16
    মহিউদ্দিন

    সদালাপের কোন লেখকের প্রতি কারো এলার্জী থাকলে তা অপ্রাসঙ্গিকভাবে যেখানে সেখানে প্রকাশ করাটা কোন ভদ্রতা নয়। 

    মধ্য শাবানের রাতের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে এ লিখাটার মন্তব্যে অপ্রাসঙ্গিকভাবে এত সব কথা বলা এড়িয়ে যাওয়াটা সবার জন্য কাম্য  ছিল। 

    1. 16.1
      এম_আহমদ

      মহি ভাই, এই লেখাটির উদ্দেশ্য কি তা একটু লক্ষ্য করুন:  

      লেখার উদ্দেশ্য

      অবশেষে আমার লেখার উদ্দেশ্য নিয়ে দুটি কথা বলতে চাই। আমি অনুভব করেছি যে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ রয়েছেন। এক পক্ষ শবে বরাত পালন করতে গিয়ে এমন সব কাজ করেন যা কোরান হাদিসের দৃষ্টিতে গ্রহণীয় হতে পারে না। অপর দিকে দেখা যায় আরেক পক্ষ যেন এটাকে একদম ছুড়ে ফেলার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন। আমি শুধু বলতে চেয়েছি যে এই রাতের গুরুত্ব আছে এবং এই রাতের ইবাদত পুণ্যের কাজ। আমি কারও ঝগড়া-ঝাটিতে নেই।

      শবে বরাতের রাতের ‘ফজিলত’ সম্পর্কে এমন কোন পক্ষেরই দ্বিমত নেই। দ্বিমত কেবল প্রাকটিসের ক্ষেত্রে। আমি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করেছি।  এই লেখার ভাষার ভঙ্গি এমন যে এটা একদিকে দলিল দিচ্ছে এবং অন্যদিকে দলিলকে কেন্দ্র করে ধর্মতাত্ত্বিক যুক্তি উপস্থাপন করেছে। এর ভাষাতে কারও উপর এই রাতকে “আরোপণের” মত কিছু নেই। এখানে অত্যন্ত reseanable পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে যা শুরু হল তা বলার বাইরে। এখন ভাবছি এমন কোন বিষয় বাকি থাকতে পারল যেখানে ট্রাইব্যুনালের বিষয়টি/আর যুদ্ধাপরাধ টানা না যাবে? আমি এখন অনেকটা বিস্মিত, এবং অনেককিছুর implications নিয়ে চিন্তা করছি। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই ঘরে আসা যাওয়া করছি –লিখছি, এপর্যন্ত ৮৯টি ব্লগ, চিন্তা করুন কত সময়। তারপর মন্তব্য আর সময়। কিন্তু কেউ যদি আপনাকে খুঁজে খুঁজে ট্যাগিং করতে থাকে তবে কতদিন এসব avoid করবেন?  ধরুন, কেউ যদি আমার সাথে কোন বিষয় আলোচনা করতে না চায় –আমি কী করব? আমি কি তাকে নানান কিছু বলে উত্যক্ত করে সেই আলোচনা করাতে পুস করব, অথবা তার ধর্মীয় বিষয়ে লেখার পিছনে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের বিপক্ষের কিছু খুঁজব? এসব কি ব্যাপার? মানুষ হিসেবে আমরা  বেঁচে থাকার সমস্যা নিয়ে কতভাবে হামাগুড়ি খাচ্ছি, পরিবার পরিজনকে নিয়ে বেচে থাঁকার নানান সংগ্রামে আছি, তারপর এসবের বাইরে আরেক ধরণের বাড়তি প্যাস্টারিং দেখলে তা কারোই বেশিক্ষণ ভাল লাগার কথা নয়। এই মুহুর্ত্তে এর চেয়ে ভাল কিছু বলার মত খুজে পাচ্ছি না।

      ধন্যবাদ। ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।

      1. 16.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        ভাই সব মানুষের বুঝার ক্ষমতা সমান হয়না। এর পিছনে নানা কারণ থাকতে পারে, যেমন পারিবারিক পরিবেশ, পারিবারিক শিক্ষা, বংশধারার গতিপ্রকৃতি। স্কুল জীবনের শিক্ষার আছর। ছোটবেলা বিভিন্ন ছোটদের ক্লাব বা সংঘ থেকে প্রাপ্ত ধ্যান ধ্যান ধারনা। ব্যক্তি বা পয়ারিবারিক জীবনে কোন মর্মান্তিক ঘটনা। ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এক হয়না। এবং মানুষ যা জানে সেই জানাকে চরম বিশ্বাস করে তা নিয়ে তার ভিন্নমতের মানুষের সাথে তর্কযুদ্ধে নেমে পড়ে। যা অনেক সময় মানুষকে চরম পন্থায় নিয়ে যায়।

        আপনি সদালাপের একজন ভালো লেখক, আমরা আপনাকে হারাতে চাইনা। কাজেই আপনি এখন বিশ্রাম নিন। যখন মন শান্ত হবে তখন আবার লেখালেখি শুরু করবেন। ধন্যবাদ।

        1. 16.1.1.1
          এম_আহমদ

          মুনিম ভাই সালাম। পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ। অনেককিছু চিন্তা করছি। কেন ব্লগ জগতে আসা আর কেন এত সময় চলে যাওয়া -আমার জন্য দোয়া করবেন।

          আপনি যে মন্তব্যটি করেছেন তাতে অত্যন্ত জরুরি কিছু কথা প্রকাশ পেয়েছে। তবে আরেকটিভাবে বিষয়টি বিবেচনা করার স্থান রয়েছে। কোন মানুষ যদি এমন কোনো রাজনীতির সাথে চরমভাবে জড়িয়ে পড়ে যা তাদের প্রতিপক্ষের মানবতা উড়িয়ে দেয় এবং নাগরিক অধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন দেশে তাদের নির্মূলের জন্য আরেকটি “যুদ্ধ” শুরু করে দেয় এবং এমন দলের লোক হয়ে যদি প্রতিপক্ষের গায়ে হাত তোলে, মারপিট করে, মুনাফিক, ভণ্ড, ছাগল, শুয়ার বলে গালি দেয় এবং এমন “যুদ্ধ” যদি তার জন্য যুগপৎ হয় তবে সেই ব্যক্তির ভিতরটা একটি উত্তপ্তকুণ্ডে পরিণত হবে এটা যেমন স্বাভাবিক তেমনি তার উদ্দেশ্য সাধনের পথে তার ব্যাখ্যা বিবেচনার ভিত্তিতে অন্যদেরকেও আক্রমণ করতে মোটেই কুণ্ঠিত হবে না এটাও স্বাভাবিক। আর এসবের মধ্যেও যে একটি “আবহ” থাকে তাও চিন্তনীয়।

          ধন্যবাদ। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  2. 15
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    NOTICE ISSUED BY THE WRITER, M_AHMED:
    জিয়া উদ্দিন সাহেব, আপনি আমার একাউন্টে ঢুকে আমার NOTICE রিমোভ করেছেন, এটা অনৈতিক কাজ। এই সাইট একজন লেখককে তার নিজ স্পেসের পরিবেশ সুস্থ রাখার আভ্যন্তরীণ এডিট অপসন vouchsafe করেছে। আপনাকে বার বার মানা করা সত্ত্বেও আপনি উপদ্রব চালিয়ে যাচ্ছেন। মন্তব্য ডিলিট করলে আপনি ফিরে আসেন। আপনি সতর্ক হোন। আপনার এডমিন access আছে বলে অসৎ আচরণ করবেন? আপনি এডমিনের দায়িত্বের অনুপযুক্ত লোক। আপনি হয় ব্লগার হয়ে আচরণ করবেন, না হয় এডমিন হয়ে ব্লগারদের সাথে ভণ্ডযুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকবেন।
    কোথাও এক ব্যক্তির হাতে the judge, the jury and the executioner দায়িত্ব হতে পারে না। এতদিন আপনি বললেন আপনি একজন ব্লগার মাত্র। কিন্তু আপনার ভণ্ডযুদ্ধে এখন অন্যটা প্রকাশ পাচ্ছে। এটা তো হতে পারে না যে আপনার ভণ্ডযুদ্ধ চালাতে গিয়ে যারে তারে জামাতি আখ্যায়িত করবেন, তারপর ব্লগে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলবেন, তারপর সে আপনাকে কোনভাবে আটকাতে পারবে না কেননা আপনি আবার এডমিন! এমনটি তো হতে পারে না।
    আপনি যা ইচ্ছে তাই করতে হলে নীতিমালা পরিবর্তন করুন, স্বেচ্ছাচারিতাও একটি নিয়ম, এটাকে ভিত্তি করা যেতে পারে। কিন্তু তা না করে চলতি নিয়মের ব্যতীক্রম বেমানান। আপনি বিরত হোন।

    1. 15.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      NOTICE BY THE WRITER

      জিয়া উদ্দিন সাহেব

      এই সাইটে একজন লেখককে তার নিজ স্পেসের পরিবেশ আপনার মত উপদ্রবকারী, সন্ত্রাসী অসুস্থ মনের ব্লগারদের আচরণ থেকে সুস্থ রাখার জন্য আভ্যন্তরীণ সকল এডিট অপশন vouchsafed অবস্থায় রয়েছে। আমি তা উপরের দিকে তাকিয়ে দেখিছি এবং এই অপশন আগেও ব্যবহার করেছি। আপনি মধ্য-শাবানের রাতের প্রসঙ্গেও আপনার চ্যাতনা-ব্যবসায়ী ভন্ডযুদ্ধ নিয়ে আসেন এবং বিভিন্নভাবে জামাতী ট্যাগিং দিয়ে সেই ভণ্ডামি চালিয়ে যান। মন্তব্য ডিলিট করলেও আপনি ফিরে আসেন, আপনাকে কোনভাবে বিরত করা যায় না।

      আমি তো এতদিন ভাবতাম যে আপনি আমাদের মত একজন ব্লগার এবং আমান সাহেবই এডমিন যিনি কারো কোনো ঝগড়াতে নেই, কাউকে কোনভাবে হেস্তনেস্ত করার কাজে নেই, তিনি নিরপেক্ষ লোক। কিন্তু এখন আপনি এডমিন বা মালিকপক্ষ দেখাতে এমন পর্যায়ে এসেছেন যখন আপনার ভণ্ডযুদ্ধের ভণ্ডামি উড়িয়ে দিয়ে আপনাকে “NOTICE” দেয়া হয়েছে এবং এতে আপনার ego এর উপর চরম আঘাত পড়েছে, এটা সহ্য করতে না পেরে ক্ষমতা প্রদর্শন করতে থলের বিড়াল বের করে এই নোটিসের “NOTICE BY THE WRITER” কেটে “NOTICE TO THE WRITER” করে জামাতি ট্যাগিং দিয়ে সেটি প্রতিস্থাপন করেছেন। আপনাকে নোটিশ দেয়া সহ্য হয় নি! তাই এভাবেই ভণ্ডের শক্তি প্রদর্শন হয়েছে। আর এবারেও আবার সেই ভণ্ড যুদ্ধের কথা এভাবে চালাচ্ছেন, “যার আদর্শ রেন্টু আর যারা যুদ্ধাপরাধীর অনুসারী তাদের কাছ থেকে উপদেশ শুনার রুচি নাই”। আপনাকে এবারে স্পষ্ট করে বলি আপনি মূর্খ লোক, “রেন্টু” কোনো আদর্শ নয়, রেন্টু আপনার মত সন্ত্রাসীদের মুখোশ উন্মোচনকারী, আপনি এডমিনের অনুপযুক্ত, আপনি সদালাপের এডমিন হিসেবে প্রকাশ করাতে গোটা ব্যাপার ভিন্ন হয়ে গেল। আপনার রাজনীতি এমন যে আপনার আদর্শের প্রতিপক্ষকে দৌড়ের উপর রাখতেন, সন্ত্রাস চালাতেন, মারপিট করতেন, একটি আদর্শের ক্যাডেরকর্মী ছিলেন স্বৈরাচারি আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিপক্ষদেরকে নির্মূল করার যুদ্ধ লিপ্ত এবং এখানেই চালাচ্ছেন সেই যুদ্ধ। আপনার সাথে কেউ দ্বিমত করলেই আপনি তাদের জামাতি ট্যাগিং দিচ্ছেন আর হেস্তন্যাস্ত করছেন। কিন্তু এখন আপনি এডমিন জানার পরে আমি তো বিস্মিত! আপনি আগে আপনার সাহসের ইঙ্গিত করেছিলেন, সেটা তো না মেনে উপায় ছিল না কেননা আপনি অন্যদেরকে পারপিট করেছেন। আমি কানাডায় আপনার শহরে থাকলে আপনাকে নিশ্চয় ভয় করতাম, আপনি হয়ত জামাতি ট্যাগিং দিয়ে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে আক্রমণ চালাতেন, অথবা আমার ঘরের জানালাও ভাঙ্গতেন। সন্ত্রাসীদেরকে কে না ভয় করে? কিন্তু সব কথাই থাক, আপনার কথাই ঠিক, আপনি আমাদের মত ব্লগার নন, আমার নিজেকে “কিছু একটা ভাবার” কোন কারণ নেই। এখন থেকে আপনিই জ্ঞানী, আপনার কথাই সঠিক, নৈতিক।

  3. 14
    মাহফুজ

    (৩১:১৮) অর্থ- অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।

    (৩১:১৯) অর্থ- পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।

    1. 14.1
      এম_আহমদ

      @মাহফুজ: হ্যাঁ, সুন্দর আয়াত কোট করেছেন। আপনিসহ আয়াতগুলো আমরা সকলেই দেখেছি এবং কেউ কেউ হয়ত নিজেদেরকে বাদ দিয়ে অপরদেরকে সেই আয়াতের আলোকে দেখাতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে থাকতেও পেরেছেন। আয়াত আমরা সকলেই অনুসরণ করা উচিত। আপনি চাইলে জাহিলদের সাথে আচরণের ব্যাপারে আল্লাহ কি বলেছেন, এমন আয়াতও উল্লেখ করতে পারেন। অপরাধ প্রবণ লোকদের থেকে সরে থাকতে হাদিস কোরানের এবারত পেতে পারেন। অযথা সময় নষ্ট না করার ক্ষেত্রেও হাদিস কোরান পেতে পারেন। তবে সর্বোপরি, কোরানের আয়াত নিয়ে পাক্ষিক যুদ্ধ না করতে নবী (সা) কি বলছেন, সেই মর্মের হাদিসগুলো বিবেচনা করতে হবে। আমি মনে করি, এবং হয়ত আপনি আমার সাথে একমত হয়েও যেতে পারেন, কেননা ইদানীং দুই/এক বিষয়ে এক মত হতে দেখা যাচ্ছে, যে মুসলমানরা অন্তর্কলহে কোরান-হাদিস ছুড়াছুড়ি না করে নিজেদের কথা নিজেরাই বলা ভাল। কারণ পক্ষাদি যখন কোরান হাদিস সমভাবে ব্যবহার করতে পারবে তখন এতে ধর্মকে তাচ্ছিল্যের স্তরে হয়ত টানা গিয়ে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে ফারুক সাহেবের একটি গুণের কথা উল্লেখ না করে পারছি না। তার সাথে আমার দ্বিমত থাকলেও কোরানের আয়াত ছুড়াছুড়িতে তার জুড়ি পাওয়া ভার হবে, এটা মনে করি। আপনি হয়ত এখানেও আমার সাথে একমত হয়ে যেতেও পারেন যে হাদিসের আলোকে কোন দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে  কোরান ছোড়াছুড়িতে  পথভ্রষ্টতার লক্ষণ হতে পারে। এবং, অনেক ক্ষেত্রে, প্রেক্ষিতে হোক অথবা অন্যতায়, কোরানের আয়াতকে কিভাবে টেনে আনা যেতে পারে সেই লেসন হয়ত কেউ ফারুক সাহেবের কাছ থেকে শিখে নিতে পারেন।

      তবে এই বিষয় নিয়ে আমি কোন তর্ক-বিতর্ক্ক ভাল মনে করি না।

      ভাল থাকুন।

      1. 14.1.1
        মাহফুজ

        স্পষ্টভাবে কোরআনরে আয়াত উল্লেখ করলে যার/ যাদের অন্তরে জ্বালা ধরে, যিনি বা যারা তাকে 'কোরান ছুড়াছুড়ি' করার অযুহাত তুলে থামিয়ে দিতে চান- তার/ তাদের সাথে আমার মতের অমিল থাকাটাই স্বাভাবিক।
        যেখানে মতভেদ দূর করার জন্য মহান আল্লাহ কোরআনের দ্বারস্থ হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন, সেখানে মহান স্রষ্টার বাণী প্রচা্র করাকে হাদিসের আলোকে 'পথভ্রষ্টতা' হিসেবে বয়ান করতেও যিনি/ যারা দ্বিধা করেন না- তাদের অন্তরের খবর মহান স্রষ্টা খুব ভাল করেই জানেন।
        আর আপনি হয়ত জানেন যে, কোন বিষয় সম্পর্কে কোরআনে স্পষ্ট উল্লেখ বা ইংগিত না থাকলে অসঙ্গতিপূর্ণ হাদিছের গালগপ্প কিংবা অমুক তমুকের বয়ান শুনিয়ে যতই সাফাই গাওয়া হোক না কেন, আমি তার সাথে নেই
        ধন্যবাদ-

        1. 14.1.1.1
          এম_আহমদ

           @মাহফুজ: আচ্ছা, এখানে কি আবার কোন তর্ক বিতর্ক শুরু হচ্ছে? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। কোরানের আয়াত শুনলে কার অন্তরে জ্বালা হতে পারে? আপনার দুটি আয়াতের একটি হচ্ছে এই: “পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর” –এই আয়াতটি আপনার বেলায় প্রযোজ্য হলে আপনি কি জ্বালা অনুভব করবেন? আমি তো মনে করি আপনি করবেন না। কারণ এটি কোরানের আয়াত। তাহলে সমস্যা কোথায়? আপনি আমার ব্লগে এসে আয়াত শোনাচ্ছেন তারপর আপনার নিজের রচিত সাইটের লিঙ্ক সংযোগ করছেন। আপনার সাইটে কত কথা রয়েছে, কত আয়াত রয়েছে। আমি তো কখনো আপনার ওখানে গিয়ে কোন মন্তব্য করি নি। আমি একটি অভিমত ব্যক্ত করেছি। বলেছি, এই মুসলিম বিশ্বে যত ফিতনা ফাসাদ হচ্ছে তাদের সকল গ্রুপ একে অন্যের বিপক্ষে কোরান হাদিসের উদ্ধৃতি মারে এবং এই উদ্ধৃতি মারার ক্ষেত্রে আমার বক্তব্য ছিল এই যে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, তাদের মধ্যে একটি সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে যদি তারা এই কাজটি না করে। আর যদি করে, তবে একে অন্যের বিপক্ষে কেবল আয়াত ছুড়াছুড়ি করতেই থাকবে, –যেটির নিষেধ আমার জানা-মত ধর্মে রয়েছে, আমি অন্য কারো ধর্মের কথা বলতে পারি না। হাদিসের ব্যাপারে আপনার সমস্যা আছে, বা অবস্থান ভিন্ন, তাই বলছেন, ‘অসঙ্গতিপূর্ণ হাদিছের গালগপ্প কিংবা অমুক তমুকের বয়ান শুনিয়ে যতই সাফাই গাওয়া হোক না কেন’ ইত্যাদি। আমি এসব আলোচনায় এখন যেতে পারব না।  প্লিজ, আমার বিতর্ক করার ইচ্ছা নেই। আমার পরিবারে দুজন রোগী চরম অবস্থায় একজনের জন্য প্রতিদিন হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। মাঝে মধ্যে সুযোগ পেলে এখানে আসি। কারো গায়ে পড়ে বিতর্ক করার মানসিকতায় নেই। কোন কারণে যদি আপনার কোন scoring বাকি থাকে, তবে কিছু দিন পরে এসে তা মিটিয়ে যাবেন। আপাতত ভাল থাকুন এবং ক্ষান্ত হোন।

        2. মাহফুজ

          রোগীদের রোগমুক্তি এবং সবার সুস্থতা ও শান্তি কামনা করছি।

  4. 13
    মাহফুজ

    সামনেই আসছে রমজান ও শবে-ক্কদর, আসুন এর হক আদায়ের মাধ্যমে দৈহিক ও আত্মিক প্রশান্তি লাভের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

    1. 13.1
      এম_আহমদ

      @মাহফুজ: হ্যাঁ, ধর্মীয় সকল কাজ প্রস্তুতিসহকারে করা উচিত। ধন্যবাদ।

  5. 12
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আমাদের কথা হচ্ছে, আল্লাহ যদি এই রাতে দুনিয়ার আকাশে আসেন, যদি তিনি তার বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন, যদি অসংখ্য পাপীতাপী লোক তার কৃপা লাভ করেন, যদি তারা গ্লানি নিঃশেষে মুক্তচিত্তে পুণ্যপথে অগ্রসর হন –তবে সেখানে মানুষগুলোকে কেন বাধা দিয়ে সরানো হবে? 

     

    -- বিদাহ বিষয়টা এমনই -- প্রাথমিক ভাবে এইটা দেখতে ভাল মনে হবে। ধীরে ধীরে এই বিদাহ বিভ্রান্তিতে নিয়ে যাবে। 

    যে রাত পালনের জন্যে আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হয় -- সেই রাত যে রহমতের রাত নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

    যাই হোক দেখতে যত ভালই হোক -- শুনতে যত ভালই লাগুক -- বিদাহ অবশ্য্ই পরিত্যায্য। আর কি বলবো -- বাংলাদেশই একটা দেশ যেখানে বরাত লেখানোর জন্যে রাতে মসজিদের কাটানো জন্যে রাষ্ট্র পরদিন তার কাজ কর্ম বন্ধ রাখে। পাকিস্তানেও এই দিনে ছুটি নেই। একটু বেশী হয়ে গেলো না! 

     

    কুল্লা বিদাতিন দালালা -- কুল্লু দালালাতিন ফিন্নার। 

    1. 12.1
      এম_আহমদ

          আমাদের কথা হচ্ছে, আল্লাহ যদি এই রাতে দুনিয়ার আকাশে আসেন, যদি তিনি তার বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন, যদি অসংখ্য পাপীতাপী লোক তার কৃপা লাভ করেন, যদি তারা গ্লানি নিঃশেষে মুক্তচিত্তে পুণ্যপথে অগ্রসর হন –তবে সেখানে মানুষগুলোকে কেন বাধা দিয়ে সরানো হবে?

      "আল্লাহ এই রাতে দুনিয়ার আকাশে আসেন" -বিদাহ বিষয়টা এমনই? প্রাথমিক ভাবে এইটা দেখতে ভাল মনে [হলেও] ধীরে ধীরে এই বিদাহ বিভ্রান্তিতে নিয়ে যাবে?

      "তিনি তার বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন,অসংখ্য পাপীতাপী লোক তার কৃপা লাভ করেন, তারা গ্লানি নিঃশেষে মুক্তচিত্তে পুণ্যপথে অগ্রসর হন"  -বিদাহ বিষয়টা এমনই? প্রাথমিক ভাবে এইটা দেখতে ভাল মনে [হলেও] ধীরে ধীরে এই বিদাহ বিভ্রান্তিতে নিয়ে যাবে?;

      জিয়া উদ্দিন সাহেব আপনি একজন চরমপন্থি মানসিকতার লোক। আলোচ্য বিষয়ের মত একটি বিষয়ের তাৎপর্য অনুধাবন করে এর ভাষা কীভাবে সজ্জিত করা হবে সেই এহসাস আপনাতে নেই। আমার আগের এক মন্তব্যে বলেছি, "আপনার সমস্যা হচ্ছে ধারণা (concept) ও শব্দের সঠিক সমন্বয়ে, এটাই আপনার সাথে অনেকের বিতর্কের মূল স্থান এবং এখানেই হয়ত আপনার জীবনের আরও অনেক সমস্যা থেকে থাকতে পারে" লিঙ্ক।

      যে বিষয়টির উপর হাদিসসমূহ সামনে রেখেই এর পক্ষে ইমাম ইবন তাইমিয়াহ (র) কথা বলেছেন, পূর্ববর্তীদের কথা উল্লেখ করছেন, আরও মুসাদ্দিসদের কথা রয়েছে এবং অনেক প্রণিধানযোগ্য মুফাসসিরদের মত এই লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে; এরা সবাই কি বিদআতি? আপনি চরমপন্থি লোক, আপনি যেদিকেই যাবেন কেবল চরমদের কথাতেই আকৃষ্ট হবেন। এই পথ সম্ভব হলে বর্জন করুন। তারপর কোন বিষয়ের তাৎপর্য অনুধাবন করে কোন ধরনের আদবে কথা বলতে হয় তা শিখুন। দ্বিমত থাকলেও বড় বড় আলেম-উলামা যেখানে দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলছেন, সেখানের ভাষা অন্য রকমের হতে হয়। আলেমদের দ্বিমত যদি থাকে তবে কোন ব্যক্তি যাদের মত পছন্দ করবে সে সেটাই মানবে; এটাই হবে উত্তম পথ।

          যে রাত পালনের জন্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হয়; সেই রাত যে রহমতের রাত নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
       

      আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে শবে কদরের রাতেও সতর্ক থাকতে হয়, তাহলে সেই রাতও রাহমতের নয়?  আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে যখন সতর্ক থাকর প্রয়োজন হবে তখন তাদেরকে থাকতেই হবে কেননা তারা কেউ কোন সন্ত্রাসী ডাকুদের বাপের টাকায় নিয়োজিত নয়, তারা ঐ রাতে যদি কোন কারণ বশত সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন মনে করে তবে তাই তারা করবে। তাছাড়া এই লেখাটিতে সকল বিদআতি কর্মকাণ্ডকে তিরস্কার করা হয়েছে। কোন লোক যদি একান্ত মূর্খ না নয় তবে সে এই লেখায় কোন কোন বিদাতি কাজ করার কথা এসেছে তাই আলোচনা করে তবেই সিদ্ধান্তমূলক কথা বলবে। প্রচলিত কোন একটি দলের কিছু চরমপন্থি লোক যে ভাষায় কথা বলে তাদের ভাষায় কথা বলতে হলে, শুধু এই বিষয় নয়, অনেক বিষয়েই ধর্মীয় দলাদলির কুফুরী আশ্রিত ভাষার পাক্ষিকযুদ্ধকে তুঙ্গে তোলা যাবে। বিদআতি লোক কদরের রাত/শবে বরাতের রাত -উভয় রাতেই বিদআত করে এবং উভয় রাতেই সরকারী বাহিনী সতর্কতা অবলম্বন করে এমনকি এর চেয়েও বেশি করে যেসব স্থানে যেখানে রাতে উরশ পালন করা হয়। আপনার কথা হচ্ছে সরকার বাহিনীর খরচ। এটা যেন প্রাক্তন মন্ত্রী লতিফ শয়তানের কথার মত যখন সে তবলীগ জামাতের ব্যবস্থায় সরকারী নিরাপত্তা প্রদানের খরচ ও লোকদের বেকার সময় যাপন এবং যানজট সৃষ্টি করে উন্নয়নে বাধার কথা উল্লেখ করেছিল, অথচ এই মুনাফিকের নেত্রীকে তাবলীগের মোনাজাতে শরীক দেখাতে মিডিয়া-প্রচার কর্মের মাধ্যমে রাজনৈতিক মুনাফা অর্জন করতেও দেখা যায়।

      আর কি বলবো; বাংলাদেশই একটা দেশ যেখানে বরাত লেখানোর জন্যে রাতে মসজিদের কাটানো জন্যে রাষ্ট্র পরদিন তার কাজ কর্ম বন্ধ রাখে। পাকিস্তানেও এই দিনে ছুটি নেই। একটু বেশী হয়ে গেলো না!

      কোন মূর্খ লোক যদি অন্যের কথা না বুঝে নিজেই মূর্খামি করে নিজেকে প্রশ্ন করে যে এটা কি বেশি হয়ে গেল না? তখন এমন প্রশ্নের উত্তর অন্যদেরকে দেবার প্রয়োজন হয় না।

      কুল্লু দালালাতিন নার।

      এই কথাটি এভাবে মুখস্থ করে নেবেন,  "কুল্লু দালালাতিন ফিন্নার"।

      1. 12.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        আপনি আর আপনার তড়িকার লোকজন নিজেদের যথেষ্ঠ জ্ঞানী ভাবেন এইটা জানি -- এবং আমার বিষয়ে আপনার বিশেষ এলার্জি আছে তাও জানি। কিন্তু যিনি এক বাক্যে সকল বিচারকে তুচ্ছ করে উড়িয়ে দেয় তার কাছ থেকে উপদেশ পেতে মজাই লাগে। আপনি সুযোগ পেলেই আমাকে গালি দেন -- এখানে মুর্খ বলে গালি দিলেন -- এতে খুব একটা বিচলিত বোধ করি না -- কারন যার যার বাচন তারই প্রতিফলন -- আপনি যা তা আপনার কথাই উঠে আসবে। 

        যাই হোক -- পৃথিবীর কোন দেশের মানুষ "শবে বরাত" চিনলো না -- জানলো না -- শুধু পাক-ভারত উপমহাদেশের কিছু লোকই জানলো -- এইটা অবাক লাগে না! সাহাবী (রাঃ) যে বিষয়ে কোন গুরুত্ব দেয়নি -- পালন করেননি। হঠাৎ করে পাব=ক ভারতের কিছু লোক এই বিষয়ে উৎসাহী হয়ে উঠলো -- এই বিষয়টি কি বিদাহ নয়। 

        অবশ্যই ্এই ধরনের বিভ্রান্তির বিষয়ে কোন সমঝোতার ফাঁদে যেন না পড়ি এই আবেদনই করি সব সময়। এই জন্যে যদি চরমপন্থী হতেও হয় ০ তাতে আপত্তি নেই। 

        এই নেন আরেকজন চরমপন্থীর আলোচনা -- এই লোকও কি মূর্খ (আপনার ভাষায়)

        শাবানের পনেরোতম রজনী – প্রফেসর ড. খন্দকার আ.ন.ম আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর

        1. 12.1.1.1
          এম_আহমদ

          জিয়া উদ্দিন সাহেব, আপনি এভাবে ভিন্ন প্রাসঙ্গিক বস্তু বার বার এনে ফাতরামি করতে থাকলে আপনার মন্তব্য মুছে দেব। এখানে আবার সেই হেকাত্তর সেই বিচার! আপনি একজন অপরাধী, সন্ত্রাসী, আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মারপিটকারী লোক, এসব বিষয়ের স্বীকারোক্তি আপনার নিজের –এখানে গালির কিছু নেই। আপনার নিজ অপরাধ মাথায় বিদেশে অবস্থান করছেন, ক্যাডারভিত্তিক  রাজনীতি করছেন, আপনার মতের বিপরীতে যে কেউ কথা বলে আপনি তাকে তাকে জামাতি আখ্যায়িত করে তিরস্কার করেন, একটি ভণ্ড যুদ্ধের মূর্খযুক্তি চালান, আপনার চরমপন্থি ও অপদার্থ কথাবার্তার উত্তর কে কীভাবে দেবে সেটাই হয় বড় সমস্যা আর এসবের সঠিক উত্তর দিলেই আপনি গালির আওয়াজ তোলেন, অথচ আপনার অপদার্থ তর্ক নিয়ে নির্বিকার থাকেন। আপনার এই কান্না নতুন নয়, অনেক বৎসরের। এই কয়দিন আগে অন্যের মোকাবেলায় আমি কেন আপনাকে ডিফেন্ড করতে যাই নি সেই কান্না কেঁদেছেন এবং এ ব্যাপারেও আমি সঠিক উত্তর দিয়েছি। লিঙ্ক এখানে এবং অন্য লিঙ্ক এখানে। “যার যার বাচন তারই প্রতিফলন” -এখানে থাকলেই ভাল হত। কিন্তু আপনি গায়ে পড়ে তর্ক করেন, আপনার political obsession ব্যতীত প্রসঙ্গ বুঝেন না, ধর্মীয় কথা কে কোন মাজহাবের পদ্ধতিগত  (উসূল) প্রেক্ষিত থেকে কথা বলছে তা বুঝার যোগ্যতাই রাখেন না, কিন্তু তর্ক আছেই! কেন, কেন আপনি অন্যদের সাথে ঝগড়া করবেন? কই সরকারের খরচ, কই নিরাপত্তা বাহিনীর কারণে তা রাহমতের রাত নয়, কই পাকিস্তান, কই ছুটির দিন –কিন্তু ব্লগের ব্লগের বিদাত কোথায় সেই আলোচনা নেই!

          মধ্য শাবানের রাত সম্পর্কে পৃথিবীর কোন কোন দেশ জানে না, এই মহাজ্ঞান এখানে কেন? এখানে ইমাম তাইমিয়াহ ও আরও যাদের কথা এসেছে, যেসব মুফাসসিরদের কথা উল্লেখ হয়েছে তারা কি ভারতী? আপনি কেন খুড়াযুক্তি নিয়ে আমার সাথে তর্ক করবেন? এখানে ড. রাতিব আন-নাবুলসি (সিরিয়ান),  আল্লামাহ আল-ইমাম আলী জুমাআহ, (মিশরি), এমন আরও অনেক লেখা ও ভিডিও রয়েছে  –এরা কি ভারতীদের ধর্ম নিয়ে আলোচনা করছেন? সালাফি/আহলে হাদিসদের ভিন্ন মত রয়েছে –অসংখ্য বিষয়ে, সেটা অন্য কথা। আপনি এই রাতের ফজিলত ও আমল বর্জন সেটা আপনার ব্যাপার।

          আমি আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরদের ভিডিও ও কথাবার্তা অনেক দেখেছি, আমাকে আপনি কিছুই দেখাতে হবে না, নিজেই দেখুন। আমার ব্লগে ইবন তাইমিইয়্যাসহ আরও আলেম মুহাদ্দিস/মুফাসসিরদের কথা এসেছে। কোথায় হাদিস ‘টনটনে সহীস’ আর কোথায় নয় এবং কোথায় উসূলের বিষয় রয়েছে সেসব কথাও এই দুই ব্লগে রয়েছে।  আমার উদ্ধৃত বড় বড় আলেম/মুসাসসিরদের মোকাবেলায়  জাহাঙ্গীর কোথায় বসেন অথবা তার উসূলি/মাযহাবি বিষয় কি তা আমার আলোচ্য বিষয় নয়। তবে ‘সকল মুফাসসিরই মধ্য শাবানের বিপক্ষে’ এমন কথার উত্তর এই ব্লগেই রয়েছে। আমার ব্লগটির কথাবার্তা যেসব আলেম উলামার ধারণা সম্বলিত হয়ে সেজেছে, আমি কেবল সেই স্থান থেকেই কথা বলতে পারি। তবে জাহাঙ্গীর সাহেবের উদ্ধৃত অনেক কথার সাথে আমিও একমত। আবার এই রাতের ফজিলত তার কথাতেও এসেছে। আপনি কোথায় পার্থক্য আর কোথায় দ্বিমত সেসব বিষয় বুঝার যোগ্য কোন লোক নন।  You are a politically, ideologically obsessed character to the length of, what appears as madness; you have been physically involved with crimes, and no one would know the true nature of your criminality unless you are taken into the police custody/remand for interrogation. You are a person of a different world.

          আপনি জাহাঙ্গীরদের সাথে আপনার সার্বিক ধ্যান-ধারণা ও ধর্ম নিয়ে আলোচনা করুন, আপনার থাবা-বাবাকে জান্নাতে পাঠানোর ও এই বিষয়ে কোরানকে misquote করে ব্লগ মারা, আপনার হিন্দু মুসলিম এক জাতি তত্ত্ব, আপনার নিজ সন্ত্রাস, অপরকে মারামারি ও সেক্যুলার ধর্ম নিয়ে জিজ্ঞেস করুন, তারপরই দেখবেন উসূলি ও অবস্থানগত পার্থক্য কোথায় এবং কীভাবে ভিন্নতায় আসে। কয়েক বছর আগে বলেছিলাম, তবলীগে যান, এখন বলব, সালাফি/আহলুল হাদিসে যান।  নিজেকে জাহাঙ্গীরদের সহীস হাদিসের ভিত্তিতে নিজেকে আপাদমস্তক সহীহ করুন। তারপর এই ব্লগে কোথায় বিদাতের পক্ষে কথা বলা হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করবেন। এখন সরে পড়েন। 

        2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          হেকাত্তর সেই বিচার! 

          -- জনাব, জানতে চাইলাম ৭১ বানানটা ভুল -- নাকি ইচ্ছাকৃত?

        3. এম_আহমদ

          বানান
          হেকাত্তরের বানানের সময় তা ইচ্ছায় হয়েছিল, না অনিচ্ছায়? মধ্য-শাবানের রাতের প্রসঙ্গে ১৯৭১, আর বিচার টানার সময় মস্তিষ্ক সজ্ঞাগ্রস্ত ছিল, না জাতীয়তাবোধের আতিশয্যে আনমনা হয়ে অপ্রাসঙ্গিকতায়  ডুব মেরেছিল? এখন বানান? শোনেন, জাতীয় ইতিহাসের একাত্তর এক জিনিস আর সামাজিক বিপর্যয় ঘটানো স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার সন্ত্রাস, রাহাজানি আর জাতীয় সম্পদের হরিলুট-করা  চ্যাতনা-ব্যবসায়ী ভন্ডযোদ্ধাদের  হেকাত্তর অন্য জিনিস। The meaning of a lousy cat is not in its spelling!
           

          এই ব্লগ
          আমার এই ব্লগটি মধ্য-শাবানের রাত ও ফজিলত নিয়ে। এই কথাটি স্মরণ করানো অত্যন্ত জরুরি।

          গালি
          মানুষের কথা ও যুক্তি কখনো জ্ঞানগত হতে পারে আবার কখনো মূর্খতাপূর্ণ হতে পারে।  তবে কেউ মূর্খ না হয়েও মুর্খামি করতে পারে এবং কেউ জ্ঞানী না হয়েও জ্ঞানের কথা বলতে পারে। আমরা যখন বলি, দূর ভাই, তুই পাগলামি করছিস, এটা বন্ধ কর, অথবা দূর ভাই, এটা মুর্খামি কথা, অথবা ছেলেমি করিস না, বাদ দে ইত্যাদি, এগুলোতে কেউ কাউকে পাগল, ছেলে, মূর্খ বলে গালি দেয় না। কাজের অবস্থানগত একটি তুলনা দেখায়। আমি খাতির করেই বক্তব্যের সাথে বিশেষণ জুড়েছি, তাও ‘যদি’ শব্দকে Auxiliary তে এনে, যাতে যেকোনো অভিযোগে পালটা কথা বলা যায়।

          আপনার প্রাসঙ্গিকতা ও যুক্তির (!) নমুনা

          মধ্য শাবানের রাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকলে এই সতর্কতাই প্রমাণ করে এটি রাহমতের রাত নয়, এটা কি সমঝ সাপেক্ষ যুক্তি? কখনো না। তাহলে […]?

          এই লেখায় কি রাত্রি জেগে ‘বরাত’ লেখানোর পক্ষে যুক্তি টানা হয়েছে? না। এটা দিয়ে কি এই লেখার মোকাবেলা করা সমঝ সাপেক্ষ?  না। তা হলে […]?

          এই লেখাতে কি কাজ-কর্ম উপেক্ষা করে, দায়িত্বহীন, বেপরোয়া ইবাদতের আহবান করা হয়েছে? না। তাহলে […]?

          এই লেখাটিতে রাষ্ট্র কি পরদিন কাজ-কর্ম বন্ধ রাখার আহবান করা হয়েছে? না। তাহলে […]?

          একটি বিষয়ের মূল স্থান ও তার ব্যাপ্তি না দেখে তাকে ভারতী বিষয় বানিয়ে দেয়া কি সমঝ সাপেক্ষ? না। তাহলে […]?

          একটি দল কর্তৃক আরেকটি দল নির্মূলের সংগ্রামী ধারায় গঠিত আদালতের প্রক্রিয়া ও সংগঠন (constitution) কে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ মনে করে থাকলে তা কি মধ্য-শাবানের যুক্তি উড়াতে বা সেই প্রেক্ষিতে আলোচিত কোন বিষয় হতে পারে? না। তাহলে […]?    

          একটি হাদিসের সঠিক পাঠ (কুল্লু দালালাতিন ফিন্নার) উল্লেখ করে দিলে তা কি একারণে sarcastic হয়ে যাবে যে প্রস্তাবক ব্যক্তির কাছে উল্লেখিত আদালত প্রশ্নবিদ্ধ লেগেছিল?  না। তাহলে […]?

          গালির পাত্র?
          কেউ কাউকে গালি দেয়া ঠিক নয়। এটা হচ্ছে একটি প্রেক্ষিত। অপর প্রেক্ষিতটি হচ্ছে কেউ কেন এমন কাজ করবে যে অন্যরা তাকে গালি দিতে পারে? অথবা কেউ কেন এমন আচরণ করবে যাতে অন্যরা প্যাস্টারিং অনুভব করবে, উপদ্রব অনুভব করবে, আক্রমণের শিকার অনুভব করবে? কোন মন্দ লোকও একান্ত অতিষ্ঠ না হলে কাউকে সাধারণত গালি দিতে যায় না। আপনি এই গালির অভিযোগ অনেকের বিরুদ্ধে আনছেন, কেন? আপনাকে লোকজন কেন গালি দেবে? শোনেন, আপনি ভাল হলে দেখবেন, সবাই ভাল। আপনি সম্মান দিতে শুরু করুন, দেখবেন তারা আর আপনাকে গালি দিতে পারছে না, যদি কেউ একান্ত দিয়েই থেকে থাকে, which I doubt. Most human acts are reciprocal. নিজের দিকটি বিবেচনা করা একটি উত্তম কাজ, অন্যরা দুষ্ট-দাম্ভিক হলে তাদের পায়েই কোড়ল মারবে, আপনার নয়। তাছাড়া যারা গালি দেয় তাদের কাছে যাবেনই বা কেন? আপনি তো আমার কথা শুনবেন না, তাচ্ছিল্যভরে বলবেন, মজা পাইছি।
          তবে আমি আপনাকে এই মর্মে আশ্বস্ত করে চাই যে অনেক লোক গৃহপালিত জীবজন্তুর সংস্পর্শে গেলে এলার্জি অনুভব করে; আমারও এলার্জি আছে এবং এত্থেকে বাঁচার জন্য এন্টিহিস্টামিন খাই, তবে এ এপর্যন্ত আপনার নাম দেখে অথবা আপনার সাথে কথা বলার পর আমাকে এন্টিহিস্টামিন খেতে হয় নি।
          আর আমি নিজেকে ‘যথেষ্ট’ জ্ঞানী ভাবি না, মোটেই না। জ্ঞানের মাত্রা কোথায় গেলে তা যথেষ্ট হয় তাও জানি না। তবে কিছু পড়াশুনা করেছি –এটা স্বীকার না করলে আল্লাহর দানের নাফরমানী হবে। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আপনার অনেক সমস্যা দেখি। আমি বললে আপনি শুনবেন না –এটা সম্ভবই না। আমি মনে করি আপনি কোন আলেমের কাছ থেকে দীনি শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। কোরান ও হাদিসের concordance দেখে উদ্ধৃতি আনতে পারাটাই আমার ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে ইসলামী জ্ঞান হয়ে যায় না।

          শেষ কথা
          আমার ব্লগের সাথে সংযুক্ত নয় এমন সম্ভাব্য অনেককিছু নিয়ে আরেকটি দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিলাম। এই মূহুর্ত্তে কষ্ট করে লিখতে হল। কেউ যদি আপনার কোন প্রশ্নের উত্তর দেয় না, তবে বার বার ফিরে আসা ঠিক নয়। কোন ব্যক্তি হয়ত উত্তর দিতে চাচ্ছে না, অথবা আপনার সাথে কথা বাড়াতে চাচ্ছে না। কেউ যদি কোনোভাবে আপনার অধিনস্থ না হয়, তবে আপনার চাওয়ামাত্র উত্তর দিতে বাধ্য নয়। এই বিষয়টি খেয়ালে রাখা দরকার।  আমি অপ্রাসঙ্গিকতা পছন্দ করি না, সামান্য এদিক সেদিক ব্যতীত। মধ্য মধ্য-রাত ব্যতীত আপনার অন্য কিছু বলার থাকলে, কষ্ট করে বুকের ভিতর চাপিয়ে রাখবেন। ভাল থাকুন।  

  6. 11
    মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন

    কোরআনের ইঙ্গিত মহিমাময় রাত অংশে 'আমরা' বহুবচন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যা সংশোধন হওয়া উচিত।

     

    1. 11.1
      এম_আহমদ

      এই বাক্যাংশটি সূরাহ দোখানে এভাবে এসেছে,  إِنَّآ أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ -আমরা এই কোরানকে এক মহিমাময় (বরকতময়) রাতে নাজিল করেছি। আমরা অবশ্যই সতর্কদান করি (৪৪:৩)।

      আপনার মন্তব্যটি বুঝতে পারি নি। আপনি কি বলতে চাচ্ছেন যে ওঠা "আমরা" -এর পরিবর্তে "আমি" করা উচিত? যদি তা'ই হয় তবে আপনার যুক্তিটা কি?

  7. 10
    আহমেদ শরীফ

    সময়োপযোগী পোস্ট।

  8. 9
    তাহমিম

    '''''জট বাঁধাতে ইচ্ছে করলে অনেক বিষয়ে ‘সহীহ হাদিস’ টেনেও বাঁধানো যেতে পারে। ঝামেলা সৃষ্টি করা যেতে পারে। হাদিস না মানার অভিযোগ অভিযোগ আনা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে কুতর্কে আল্লাহ নেই। তিনি সুতর্ক শ্বাসে ধরা দেন""""

    ১) বলেন তো 'সহিহ' অর্থ কি? 

    ২) ২নং লাইন দিয়ে তো জামাত শিবির বানানো হয় ।

      

  9. 8
    আলফাজ

    লেখক আমরা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জেনেছি সৌদি আরব সহ বিভিন্ন আরবীভাসী দেশগুলো থেকে। তারা কেউ শবে বরাতের গুরুত্ব আবিষ্কার করতে পারল না কিন্তু আমাদের উপমহাদেশের মানুষজন খুব সহজে এই দিনের বিশাল বিশাল মর্তবা আবিষ্কার করে ফেলল এটা কি আলকৌক কোন বিষয় নয়? আপনি খুব সহজে এই বড় একটা পয়েন্ট পাস কাটিয়ে যেতে চাচ্ছেন। এক ভাই আমেরিকা থাকেন। তিনি কোনদিন দেখেন নাই এই দিনে কোন মসজিদে কিছু পালন করা হচ্ছে। গতবছর ইসলামিক টিভিতে বড় বড় হুযুররা স্পষ্ট বললেন এই দিনে স্বাভাবিক নিয়মে নামাযের বাহিরে বিশেষ কিছুর দরকার নেই। উপমাহদেশের হুযুর আর মাজার ব্যাবসায়ীদের এক একটা দিন লাগে যাতে তারা বেশী আয় করতে পারে। যাই হোক আপনি “শবে বরাত, সঠিক দৃষ্টিকোণ” বইটি এখান থেকে ডাউনলোড করে পড়ুনঃ http://www.islamhouse.com/53550/bn/bn/books/%E0%A6%B6%E0%A6%AC%E0%A7%87_%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A4,_%E0%A6%B8%E0%A6%A0%E0%A6%BF%E0%A6%95_%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A3

    প্রয়োজনে এই ভিডিও ২টি দেখে বলুন কেন আমরা শবে বরাতকে ভিত্তিহীন বলব নাঃ
    rel="nofollow">
    rel="nofollow">
    আরো পড়ুনঃ http://www.islamicvoice.com/december.98/dialogue.htm#SHE

    সদালপের মতো সাইটে শবে বরাত নিয়ে এতো দুর্বল ভিত্তিহীন লেখা প্রকাশ পাবে আশা করি নাই। অনুগ্রহ করে আর আমাদের বিভ্রান্ত করবেন না।

    1. 8.1
      এম_আহমদ

      @আলফাজ:

      এই ব্লগে আগের কিছু মন্তব্য আমার দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছিল এবং উত্তর দেওয়া হয়নি। আপনি নিশ্চয় এখানে এসে থাকেন, তাই দেরিতে হলেও উত্তর দেয়া জরুরি ভাবলাম।

      আপনি আহলে হাদিস ও সৌদিদের মাজহাবের যুক্তি তুলছেন এবং তাদের মত শবে বরাতকে আবিষ্কার (বিদআত) বলে উল্লেখ করছেন। আমি বিদআতকে পাশ কাটিয়ে যাই নি। আমি মধ্য-শাবানের রাতের ইবাদতে কোন বিদআত দেখি না। কেবল মতলবাজরা নিজেদের ‘মজহাবের’ প্রচার করতে যেখানে বিদআত নাই সেখানে বিদাআতের ওয়াজ করে এবং মুসলিম মিল্লাতে বিভক্তি সৃষ্টি করে। আমার প্রবন্ধে যা কিছু বিদআত তার আলোচনা এসেছে। আপনি কি পড়েছেন বুঝতে পারছি না। তবে আমার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কথা বলতে পারেন নি। বরং একান্ত নিজের কথাই বলে গিয়েছেন। আমি যেসব মুফাসসিরদের কথা উল্লেখ করেছি তারা কেউ ভারতী নন। ভারতী আলেমদের প্রতি আপনাদের এত চুলকানি কেন? আপনি আমেরিকান যে উদাহরণ দিয়েছেন –সেই উদাহরণ এখানে প্রযোজ্য নয়। এতে বুঝা যায় আপনাদের যৌক্তিক জ্ঞান অত্যন্ত দুর্বল –এক প্রসঙ্গের সাথে অন্য প্রসঙ্গ টানেন। আপনাদের আলেমগণ যেকোনো প্রসঙ্গে মাজার পূজা নিয়ে ‘বয়ান’ শুরু করেন আর ভাবেন যেন সবাই মাজার পূজারি। এসব হচ্ছে নির্ঘাত মুর্খামি এবং ধাপ্পাবাজিও। মতিউর রাহমান নামক তথাকথিত যে ‘আলেমের’ কথা বলছেন সে একটা ফাসেক। সে আলেম-ওলামদের কথার ক্যারিকেচার (caricature) করে। দেখেন rel="nofollow">তাবলীগ জামাত সম্পর্কে কী ভাষায় আলোচনা করছে। এদেরকে নাকি ইবলিস শয়তান ‘শিরকের’ মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। মুফতি শফি সাহেবের জিকিরের মধ্যে সে কুফুরি দেখতে পেয়েছে (ভিডিওটি খুঁজে পেলাম না); মাওলানা দেলওয়ার হুসেইন সাঈদী যে হিল্লাহ বিবাহকে জায়েজ বলেনননি তা জায়েজ হিসেবে তার নামে মিথ্যাচার করেছে। এই হচ্ছে মতিউর। সে একটা ফিৎনার ঘটি। আর আপনি আমাকে এই ‘আলেমের’ লিঙ্ক দিচ্ছেন আমি যেন তার বয়ান শুনি!

      আপনি আমার দুটি লেখা আবার পড়েন এবং বলেন কোথায় বিদআতের পক্ষে লিখেছি। কারো লেখার ব্যাপারে না বুঝে কথা বলতে নেই। আপনার লিঙ্ক করা মতিউরের কথা কেবল তারাই গিলতে পারে যাদের ধর্মীয় এবং যৌক্তিক জ্ঞান কম। সে এমন কোনো আলেম নয় যে তার কথায় সবাই কান দিতে হবে। আপনি দেন। আর আপনার যদি বলিষ্ঠ কোনো যুক্তি থাকে তবে এখানে ঢালেন। এই সদালাপ তো লেখারই প্লাটফর্ম। পারলে আমার লেখার rebuttal  দেন। But let us not forget that those who have an aptitude towards beguiling will but beguile and it is themselves that they should blame.

  10. 7
    মুনিম সিদ্দিকী

    ঠিক বলেছেন। সহমত।

  11. 6
    julfikar ahmed

    মুসলমানের ঈদ দুইটা। ধরুন একদল লোক আরও দুটি ঈদ আবিষ্কার করল। সে দিন গুলিতে তাঁরা বিশেষ নামায, দান খয়রাত, মিলাদ শরীফ পাঠ ইত্যাদি নানা  অনুষ্ঠান চালু করল। এর সপক্ষে কিছু হাদিসও দাড় করিয়ে ফেলল। কাজটা কঠিন নয়। 
    তখনও দুটি গ্রুপ দাঁড়াবে। একদল বলবে ইহা আছে। অন্য দল বলবে ইহা নাই। 
    তখন কী আবার এমন একটা লেখা লিখবেন- মাঝামাঝি একটা সমঝোতা মূলক। 
    আমি অন্তরিক ভাবে বিশ্বাস করি, আল্লাহর আইনের ক্ষেত্রে সমঝোতার কোন সুযোগ নেই। সেটা যত চাকচিক্যময়ই হোক না কেন! 

    1. 6.1
      এম_আহমদ

      যখন hypothetical কিছু উত্থাপন করতে যাবেন তখন hypothesis এর প্রেক্ষিতগত উপপাদ্যের সামঞ্জস্যতা দেখতে যাবেন। প্রশ্ন /মন্তব্য তখনই valid হবে। এখানে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন বুঝতে পারছি না। ধন্যবাদ।  

      1. 6.1.1
        julfikar ahmed

        বোঝাতে পারিনি বলে খুবই দুঃখিত। 
        ভাল করে বলি। শবে বরাত আছে, নাকি নেই? একটু একটু আছে, আবার নেইও -এটা ঠিক না। শবে বরাত যদি থাকে, তবে একটু ঝেরে কাশুন। বলুন আমরা এই এলাকার লোকজন ঠিক আছি। সৌদিরা ভুল। সৌদি দের ভুল বলতে আমার কোন আপত্তি নেই। 
        আর যদি শবে বরাত বলে কিছু না থাকে, শুধু ভাল কাজ বলে পাশ কাটানোর জো নেই। 
         
        ঈদের উদাহরণটা দিয়েছিলেম। তাঁর একটা শানে নজুল আছে। মিলাদুন্নবির সময় আমার এলাকায় একদল মাইকিং করে বেড়ায়- সব ঈদের বড় ঈদ, ঈদে মিলাদুন্নবী। অন্য দল বলে, মিলদুন্নবী পালন একটা বেদআত। 
        আমি মনে করি- আসল এবং নকলের মাঝামাঝি বেশ একটা সুবিধে জনক রাস্তা, আর যাই হোক ইসলামী রাস্তা না। 
         

        1. 6.1.1.1
          এম_আহমদ

          ধরুন একদল লোক আরও দুটি ঈদ আবিষ্কার করল। সে দিন গুলিতে তাঁরা বিশেষ নামায, দান খয়রাত, মিলাদ শরীফ পাঠ ইত্যাদি নানা  অনুষ্ঠান চালু করল। এর সপক্ষে কিছু হাদিসও দাড় করিয়ে ফেলল। কাজটা কঠিন নয়।

          এখানে শবে বরাতের প্রসঙ্গ দুই ঈদের বাইরে আরও দুই ঈদ “আবিষ্কারের” মত নয়। সম্ভাব্য আবিষ্কারের সাথে হাদিস পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এমন যুক্তির স্থান এখানে নেই। প্রচলিত দুই ঈদের সাথেও বিষয়টি তুলনীয় নয়। আপনি বলেছেন, “এর সপক্ষে [আবিষ্কারের] কিছু হাদিসও দাড় করিয়ে ফেলল। কাজটা কঠিন নয়।” আমি বলছি এটা “কঠিন”, শুধু কঠিনই নয়, অসম্ভব।
           
              আমার লেখা দুটোকে আপনি দুইয়ের “মধ্যবর্তী” স্থান হিসেবে interpret  করছেন এবং এরই আলোকে মন্তব্য করে যাচ্ছেন। আপনার interpretation তো আপনারই। আমি হাদিসের প্রেক্ষিতগত প্রসঙ্গ সামনে রেখে আমার কথাগুলো বলেছি। এতে আমার পক্ষের যৌক্তিক ও semantic যেটুকু দলীল দেয়া সম্ভব তা দিয়েছি। এরই প্রেক্ষিতে যে লেখাটি প্রকাশ পেয়েছে তা কি তৃতীয় কোন অবস্থা, কোন মাঝামাঝি অবস্থা, না এটাই মূল অবস্থা, সেই নিরিখের স্থান প্রতিষ্ঠা না করে আপনার ইচ্ছামত interpretation  আমার উপর আরোপ করার কি অর্থ থাকতে পারে?
           
              আমার লেখা আপনার পছন্দ নাও হতে পারে এবং আপনার দৃষ্টিতে এর কোন যুক্তি নাও থাকতে পারে। এসব স্বাভাবিক। এগুলো বিতর্কের বিষয় নয়।
           
          “আল্লাহর আইনে সমঝোতা নেই” –এই কথার অর্থ কি? আল্লাহর আইনের প্রয়োগ ও প্রায়োগিক প্রেক্ষিতে স্থান, কালের বিবেচনায় যে সব বিষয় আসে, সে সব বিষয়ের ব্যাখ্যা কি?    
           

          ভাল করে বলি। শবে বরাত আছে, নাকি নেই? একটু একটু আছে, আবার নেইও -এটা ঠিক না। শবে বরাত যদি থাকে, তবে একটু ঝেরে কাশুন।

           
          শবে বরাত আছে কি নেই –এটা ছিল শিরোনাম। “ঝেড়ে কেশে” যা বলার তা ভাল করেই ঝেড়ে কেশে বলেছি। আপনি হয়ত আমার লেখার স্টাইলের সাথে পরিচিত নন। আমাদের নিজেদের মধ্যে মত পার্থক্য নিয়ে আমি সাধারণত কঠোর অবস্থান নেই না। নিজেদের মধ্যে তুমুল বিতণ্ডা ভাল মনে করি না। ইসলাম এখনও এমন দুশমন-শূন্য হয়ে যায় নি যে কাউকে না পেয়ে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু করে দিতে হবে।
           

          বলুন আমরা এই এলাকার লোকজন ঠিক আছি। সৌদিরা ভুল। সৌদি দের ভুল বলতে আমার কোন আপত্তি নেই।

           
          সৌদিরা ভুল না শুদ্ধ, আহলুল হাদিসরা ভুল না শুদ্ধ, সালাফিরা ভুল না শুদ্ধ – আলোচনা যখন এই প্রেক্ষিতে আসবে, তখন তাতে ফিৎনা আসতে পারে। কে ভুল আর কে শুদ্ধ –এমন সাব্জেকটিভ আলোচনার অঙ্গন ত্যাগ করে আমি শুধু thematic আলোচনাই করেছি। কেননা theme-টাই আসল। ইসলামের ইতিহাসে, এবং এখনও, একে অন্যকে ruthlessly আক্রমণ করার অভিপ্রায় কোন ভাল result এনে দিতে পারে নি। তবে আপনি যদি মনে করেন সৌদিরা শুদ্ধ আর আমরা ভুল, অথবা সৌদিরা অধিক শুদ্ধ এবং আমরা অনেকাংশে ভুল, তবে আপনারটা আপনি করবেন। অধিকন্তু, আপনার কাছে লেখাটি যদি আপত্তিকর ঠেকায়, আপনি এর বিপক্ষে আরেকটি লেখা দাঁড় করাতে পারেন। আমিও পড়ব। এমনও হতে পারে, আমি আপনার যুক্তিতে ঐক্যমত হয়ে আমার অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াতে পারি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নেই।
           
          ধন্যবাদ।

  12. 5
    ফোরকান

    শুধু শবে বরাত কেন পুরা শাবান মাস অনেক বেশি ইবাদতের।
     
     

  13. 4
    কিংশুক

    লেখাটি কি এম_আহমদ ভাইয়ের মৌলিক লেখা। খুব ভালো লাগলো। হাদিস বিজ্ঞান সম্পর্কতো একরকম কিছুই জানিনা, আপনার লেখা হতে শবে বরাতের হাদিস সমুহের অবস্থান পরিষ্কার হলো। গত কয়েক বছর ধরে শবে বরাত বিদআত, কেবল উপমহাদেশেই পালিত হয় এবং কোরআন ও হাদিসের আলোকে শবে বরাত নিয়ে কিছু লেখা পড়ে বিভ্রান্ত ছিলাম। বিদআতের ভয়েই হোক কিংবা যে কোনো কারনেই হোক আগের মতো শবে বরাতের রাতে নফল ইবাদতে রাত কাটাই নাই। অসাধারন একটি লেখার মাধ্যমে অন্তত: শবে বরাত নিয়ে সকল ভয় দূর করে দিলেন।

    1. 4.1
      এম_আহমদ

      লেখাটি কি এম_আহমদ ভাইয়ের মৌলিক লেখা

      কিংশুক ভাই সালাম। আপনার মন্তব্যটি দুই বছর আগে করেছিলেন। কিন্তু কেন যেন আজ দেখছি অনেকের মন্তব্যের উত্তর দেয়া হয় নাই। আর হ্যাঁ ভাই, লেখাটি একান্ত মৌলিক। আমি সময় ব্যয় করে যে কাজটি করেছিলাম, তা আপনাদের কথায় সার্থক হয়েছে অনুভব করছি। ধন্যবাদ।

  14. 3
    সাদাত

    আপনার প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ। নিচের বোল্ড করা জায়গাগুলো ঠিক করে দেন:
    একথা সত্য যে আমরা দুরূহ নিয়মের মাধ্যমে জাল হাদিসকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি বটে কিন্তু কঠোর নিয়ম-পদ্ধতি আপনাতেই এমন এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়েছে যে কিছু কিছু সহিস সেই প্রাচীর অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছে।
    জট বাঁধাতে ইচ্ছে করলে অনেক বিষয়ে ‘সহিস হাদিস’ টেনেও বাধানো যেতে পারে। জামেলা সৃষ্টি করা যেতে পারে।

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      ধন্যবাদ, বিশেষকরে শব্দগুলো প্রুফিংগের জন্য।

  15. 2
    সরোয়ার

      মনে রাখা দরকার যে যেখানে বিদআতের স্থান নেই সেখানে বিদআত আবিষ্কার করা ঠিক নয়। মধ্য শাবানের রাতে যদি কেউ বিদআত করে, তবে সেই বিদআতের বিপক্ষেই কথা বলা উচিৎ, সেই দুষ্কর্ম দূর করা করা উচিৎ। এই রাতে নামাজ পড়া, কোরান পড়া, মাসনূন দয়া করা ও জিকির আযকার করা –এসব ঠিক আছে। কিন্তু যারা রাসূলের তরিকার বাইরে গিয়ে নানান গদবাধা প্রথা তৈরি করে -তাত্থেকেও মানুষকে সতর্ক করা দরকার।

    সহমত। এ বিষয়ে আমি বেশ কয়েক বছর কনফিউজড ছিলাম। ইবাদতে তেমন মনযোগী ছিলাম না! লেখাটি মনের সব কনফিউশন দূর করে দিল। আল্লাহ আপনাকে আরো এলেম দান করুণ।  

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      এ বিষয়ে আমি বেশ কয়েক বছর কনফিউজড ছিলাম। ইবাদতে তেমন মনযোগী ছিলাম না! লেখাটি মনের সব কনফিউশন দূর করে দিল। আল্লাহ আপনাকে আরো এলেম দান করুন।

      যখন এই লেখাটি শুরু করি তখন মনের মধ্যে এই আশা ছিল যে যদি দুই/একজন লোকও পজিটিভ ধারণা পান তবে তা'ই আমার জন্য সার্থক হবে। আপনার মন্তব্যে তা'ই অনুভব করলাম। অনেক ধন্যবাদ। দোয়া করবেন।

  16. 1
    এম_আহমদ

    ২য় পর্ব দেয়া হল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.