«

»

Sep ১০

কোরান-অনলি ভণ্ডরা অমুসলিম

গত কয়েকদিন আগে ‘ভণ্ডের ধর্ম –কোরান অনলি’ নামে একটি লেখা প্রকাশ করি এবং তাতে কোরান-অনলি অসার কথাবার্তার বিভিন্ন দিক উল্লেখ করি। এর দুই-তিন দিন পরে মহিউদ্দিন সাহেব ‘কোরান অনলি –কেন সম্ভব নয়, (১ম পর্ব) নামে একটি তথ্যবহুল লেখা প্রকাশ করেন।  সেখানে তাথ্যিক উৎসসহ একটি জরুরি ধর্মীয় অভিমত বা ফতোয়া প্রকাশ পায়। তাতে দেখানো হয় যে কোরান-অনলিরা মুসলমান নয়। আযহারী শিয়া-সুন্নি উলামাদের অভিমত দেয়া হয় এবং ড. ইউসুফ আলবাদরির অভিমতও আনা হয়। এবারে কোরান-অনলি ভণ্ডদের আচরণ ও কর্মপদ্ধতির উপর কিছু হাল্কা আলোচনা করতে যাচ্ছি। এই আলোচনা নাম্বারিংসহ নিম্নরূপ:

(১) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কোরানে মুহাম্মদের (সা.) আনুগত্যের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কোরান-অনলিরা মুহাম্মদের (সা.) আনুগত্যকে শিরক মনে করে এবং তারা তাদের প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার লক্ষ্যে সারা বিশ্বের মুসলমানদেরকে 'মুশরিক' আখ্যায়িত করে। যে আনুগত্যের নির্দেশ আল্লাহ কোরান পাকে ঘোষণা দিলেন তারই কারণে মুসলমানদের উপর শিরকের মিথ্যা অভিযোগ তোলা সাক্ষাৎ কুফরি। ফতোয়ার কথা আগেই উল্লেখ করেছি।

(২) কোরান-অনলিরা একটি প্রতারক দল যারা হাদিস অস্বীকার করে, মুহাম্মদের (সা.) প্রয়োজন দেখে না, কোরানের ব্যাখ্যা (তফসীর) মিথ্যা মনে করে (অথচ তারা নিজেরাই ‘তফসীর’ করে!), ইতিহাস মিথ্যা মনে করে, নবী-সাহাবিদের ব্যাখ্যা ও শিক্ষা বর্জন করে, অধিকন্তু কোরান পরিবর্তন হয়েছে বলে বিশ্বাস করে, কিন্তু কোরানের যে অংশ নিয়ে তারা কথা বলে সেই অংশ কীভাবে অপরিপরিবর্তীত থেকে গেল, সেই প্রমাণাদি দিতে ব্যর্থ হয়। তাদের এই অবস্থান থেকেই তারা কোরান নিয়ে ধান্ধাবাজী করে। বানর যেভাবে এক ডাল থেকে আরেক ডালে লম্ফ-ঝম্প দেয়, সেভাবে এক আয়াতে আটকা পড়ে অন্য আয়াতে বিচরণ করে, লক্ষ্যহীনভাবে ডালে ডালে ঘুরে।

(৩) কোরানের আদেশ-নিষেধ ও বাণী কোরানের গোটা পরিধিতে বিস্তৃত। এই সুযোগে তারা কোরানের আয়াত নিয়ে খেলা করে যেহেতু সর্বসাধারণ এসবের উপর ওয়াকিফহাল নন। যে কয়টি আয়াত কোন উপায়ে তাদের সাথে খাপ খেয়ে যায়, সেই আয়াতগুলোকে বার বার উদ্ধৃতি দিয়ে যায় এবং যেগুলো তাদের সাথে খাপ খায় না, সেগুলোর মুখোমুখি হয় না। কেননা এতে ভণ্ডামির সমাপ্তি ঘটে। উদাহরণ: আল্লাহ রাসুলকে পাঠিয়েছেন মানুষের কাছে তাঁর বাণী ‘পৌঁছে’ দেয়ার জন্য, মানুষকে ‘শুদ্ধ’ করার জন্য, তাদেরকে কিতাব ‘শিক্ষা’ দেয়ার জন্য, এবং তাঁর বাণী ‘বুঝিয়ে’দেয়ার জন্য, (‘’-কমার ভিতরে যেসব শব্দ আছে সেগুলোর উল্লেখ কোরানে আছে। এই ধরণের অনেক কথা কোরানে ছড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু ‘কোরান-অনলি’ ফেরিওয়ালাগণ বাকি আয়াতগুলো চাপিয়ে গিয়ে কেবল “বাণী পৌঁছানোর” আয়াতের কথা চতুর্দিকে ‘ফেরি’ করে বেড়ায়। বুঝাতে চায় মুহাম্মদের (সা.) দায়িত্ব ছিল ‘নিছক’ পৌঁছে দেয়া! ব্যাপারটা যেন কলাগাছের মত। কলা-ছড়ি ধরার পর, কলাগাছ শেষ! মুরতাদগণ এভাবে প্রতারণা করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। এটা শয়তানের কাজ। কোরানে শয়তান সম্পর্কিত সব আয়াত তাদের ব্যাপারে উদ্ধৃত করা যেতে পারে।

(৪) তবে একটা পজিটিভ দিক হল এই যে এই অভিশপ্ত প্রতারকরা নিজেদের কথা-বার্তা এমনভাবে সাজিয়ে নিয়েছে যে তারা এখন নিজেদের কথার-ফাঁদেই আবদ্ধ। অনেক কথা অনেকবার উল্টো-পাল্টা করেছে। কখনো এটা স্বীকার করেছে, ওঠা মেনেছে, আবার পরে যেটা মেনেছে, সেটাই অস্বীকার করেছে। কখনো মুহাম্মদকে সরাসরি অস্বীকার করেছে এবং বলেছে মুহাম্মদ কেবল আরব জাতির রাসূল, তাদের জন্য চাই ‘বাংলাভাষী’ রাসূল। কিন্তু পাঠকেরা যখন তাদের নাকে-মুখে লাথি দিয়েছে, নাকামি-চোবানি খাইয়েছে, তখন প্রতারণা অন্যভাবে সাজিয়েছে। তখন শাব্দিক আকারে আরবি রাসূলকে ‘মানার’ একটা অজুহাত বের করেছে। বাক্য ও শব্দের প্যাচ-পাচে দেখাতে চেয়েছে তারাও মুহাম্মদকে (সা.) মেনেছে,  কিন্তু খানিক পরেই তাদের মিথ্যাচারে ধরা পড়ে গিয়েছে। একটি নিকৃষ্ট প্রথার কুযুক্তিতেই তাদের উদাহরণ হয় এভাবে:

একটি নিকৃষ্ট লোক তার মেয়ের সাথে কুকর্ম করত। (ইউরোপে এমন কুকাজ বিরল ক্ষেত্রে উভয়ের সম্মতিতে হয়)।. কুকর্মীর syllogised যুক্তি এই, ‘নিজ মেয়ের সাথে এই কাজ করা যাবে না। এ কথা সত্য। কিন্তু নারীদের সাথে করা যাবে। নিজ মেয়েও নারী, তাই তার সাথেও এই কাজ করা যাবে।’ এই যুক্তি হচ্ছে  শয়তানী যুক্তি।

কোরান অনলি মুরতাদরা মুহাম্মদকে (সা.) প্রথমে অস্বীকার করার পর তাদের নাকে-মুখে থু থু ফেলা হলে তারা সেই শয়তানী syllogism এর আশ্রয় নেয়। তারা বলে, কোরানকে মানার জন্য মুহাম্মদের আনুগত্যের প্রয়োজন। এটা সত্য। কিন্তু মুহাম্মদ যেহেতু কোরানের আনুগত্য করেছেন, সুতরাং, কোরানই যথেষ্ট, মুহাম্মদের আনুগত্যের দরকার নাই।’ এরা শয়তান!

(৫) কোরান অনলিদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে। এই সমস্যা সেদিনের কাফেরদের যেমন ছিল আজকের কাফেরদেরও তেমনি। মুহাম্মদ (সা.) বিদ্বেষী সবগুলো কাফেরের একই উদ্দেশ্য। তাঁর কথা, তাঁর বাণী, তাঁর শিক্ষা ও তাঁর জীবনের হেদায়েতকে ধ্বংস করে দেয়া। খারেজীদের বিভিন্ন আন্দোলনও এই নবীর বাণীকে জাল করার প্রয়াস পেয়েছিল। কিন্তু ওরা ব্যর্থ হয়েছে। আল্লাহ এটা হতে দেননি। আল্লাহ মুহাম্মদের (সা.) এর মাধ্যমে তাঁর বাণীকে ‘বুঝিয়ে’ দিয়েছেন, তাঁর মাধ্যমে ‘শিক্ষা’ দিয়েছেন এবং যাদেরকে সেই শিক্ষা দিয়েছেন ওরা হচ্ছেন তাঁর  সাহাবী, তাঁর শিষ্য এবং তাঁদের পরম্পরায়, সেই বাণী, সেই শিক্ষা হেফাজত করেছেন। আজকের মুহাম্মদ (সা.) বিদ্বেষী আর কালকের মুহাম্মদ (সা.)  বিদ্বেষী-শত্রুদের মধ্যে কোন ফারাক নেই, কোন তফাৎ নেই। কাফিরেরা মুহাম্মদ (সা.) কে অস্বীকার করার এবং বিদ্বেষ পোষণ করার ক্ষেত্রে যেসব আয়াত কোরানে এসেছে এর সবগুলো আয়াত কোরান-অনলি মুরতাদদের ব্যাপারে প্রয়োগ করা যেতে পারে। 

(৬) কোরান-অনলি মুরতাদগণ রাসূলকে বর্জন করতে গিয়ে, সাহাবিদেরকে বর্জন করতে গিয়ে, হাদিস বর্জন করতে গিয়ে এক চরম ‘এলোমেলো’ অবস্থায় পড়তে হয়েছে। তারা কোরানের স্থান ও কাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই আজ এই ব্যাখ্যা কাল সেই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রাণান্তকর চেষ্টা করতে হচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে পথ দেখান না। সুতরাং তারা নিজেদের সৃষ্ট অন্ধকারেই নিমজ্জিত থাকতে হবে।

(৭) আল্লাহ যখন কারো উপর অহী নাজিল করেন, তখন সেই ব্যক্তি কোনো সমাজের একজন লোক হন। অহী কার উপর নাজিল হল, কোন সমাজে নাজিল হল, কোন কালে নাজিল হল –এগুলো না জেনে কোন একটি বই হাতে নিয়ে বলা যাবে না 'এটাই আল্লাহর বই’।. এভাবে বই পড়া হয় না। বইয়ের  সুনির্দিষ্ট স্থান-কাল থাকে, কথার নির্দিষ্টতা থাকে। তারপর বই ব্যাখ্যা সাপেক্ষ হয় –সকল বই এবং সকল বাণী। একটা বই হাতে নিয়ে আপনার যা ইচ্ছা তাই বলতে গেলে সেই বলা হবে আপনার বলা, আপনার খামখেয়ালি কথা, আপনার জল্পনা কল্পনার বহিঃপ্রকাশ, আপনার ‘উপন্যাস’।. কোরান অনলিরা কোরান নিয়ে যা বলে তা তাদের উপন্যাস, তাদের খামখেয়ালি ‘তফসীর’। 

(৮) কোরানকে বুঝতে হলে যার উপর আল্লাহ কোরান নাজিল হয়েছিল তাকে বুঝতে হবে, তিনি কিভাবে (অর্থাৎ কোন পদ্ধতিতে) মানুষকে শুদ্ধ করার কাজ করেছিলেন তা জানতে হবে, কাদেরকে (অর্থাৎ কোন লোকদেরকে) তিনি শুদ্ধ করেছিলেন, কাদেরকে ‘শিক্ষা’ দিয়েছিলেন, তা জানতে হবে। তার সমাজকে [অহীর প্রাথমিক উদ্দেশ্যস্থল] জানতে হবে, কীভাবে সেই সমাজের সাথে কোরানের আয়াত সম্পর্কিত হয়  -তা জানতে হবে। কিন্তু কোরান-অনলিদের সেই জানার কোন উপায় নাই, তারা আগেই হাদিস অস্বীকার করে বসেছে, মুহাম্মদের শিক্ষাপ্রাপ্ত সাহাবীদেরকে (রা.) অস্বীকার করেছে, তাফসীরকে অস্বীকার করেছে, ইতিহাসকে অস্বীকার করেছে, এখন তাদের জানার কোন পথ নেই। এভাবেই আল্লাহ মুরতাদদের হেদায়েতের পথ রুধ করে দিয়েছেন। তাই তাদের পক্ষে ফাইজলামী ও কাল্পনিক কথা বলা ছাড়া উপায় নাই। তাই শয়তানী করতে এখন নিজেরাই ‘মুফাসসির’ সেজেছে, নিজেদের মূর্খতাকেই হেদায়েত ভাবছে। বলেছি, কোরান ব্যাখ্যা সাপেক্ষ, তফসীর সাপেক্ষ, আরবির জ্ঞান সাপেক্ষ, ভাষিক convention সাপেক্ষ, অর্থগত ঐতিহাসিকতা সাপেক্ষ, সমাজ ও প্রথা নির্দেশক সুতরাং এসব অস্বীকার করে খামখেয়ালি পথ অবলম্বন ভ্রষ্টতা, গোমরাহি। আল্লাহ বলেন, أَرَأَيْتَ مَنِ ٱتَّخَذَ إِلَـٰهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلاً আপনি কি তার কথা বিবেচনা করেছেন যে তার নিজের খামখেয়ালি প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে? আপনি কি এমন লোকের জিম্মাদার হতে পারেন? (২৫:৪৩) এরা মুশরিক। দর্শনমূর্খ, ধর্মমূর্খ, ইতিহাসমূর্খ, ভাষাতত্ত্বমূর্খ এই ফাজিলেরা কাফেরদের ন্যায় যুক্তিবাদী/বিজ্ঞানবাদী  মুক্ত চিন্তক হতে গিয়ে মডার্নিষ্ট দর্শনের সম্মুখে ধরাশায়ী হয়ে ঈমান হারিয়েছে। এরা পথভ্রষ্ট। ফাসিক।  

(৯) মানুষ ও তাদের সমাজের কথা-বার্তায়, আচার-আচরণে, সমঝে, স্মৃতিতে পার্থক্যের স্থান থাকে, ভিন্নতা থাকে। পার্থক্য ও ভিন্নতা আছে বলেই কি সব ইতিহাস, সব বিবরণ, সব ঘটনা প্রবাহ, সব শিক্ষা ‘মিথ্যা’ হয়ে যায়? এই মাত্র ৪১ বছর আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ হয়েছে। এই রেডিও, টেলিভিশন, টেলিফোন, খবরের কাগজ, ক্যামেরার ছবি  এতকিছুর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও আমরা সেই যুদ্ধের বিভিন্ন বিবরণে ভিন্নতা পাচ্ছি, একই বিষয়ের বিভিন্ন মৌখিক বিবরণও পাচ্ছি। ভিন্নতা সব যুদ্ধের ক্ষেত্রে, সব ঐতিহাসিক বিবরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যারা স্কীল্ড ঐতিহাসিক তাদের কাছে এগুলো তেমন সমস্যার কিছু নয়, কেননা তাদের আপন বিদ্যায় ইতিহাস দর্শন, মনস্তত্ত্ব, স্মৃতি, আদর্শ, ভাষা ইত্যাদি কীভাবে কাজ করে যায় সে বিষযয়ে তারা জ্ঞাত। কিন্তু ইতিহাসমূর্খ কোনো ব্যক্তি যদি বিবরণাদির ভিন্নতা দেখিয়ে গোটা ইতিহাসকে, ঐতিহাসিক ঘটনাবলীকে ও তাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে চায়, তবে এমন নাদান ব্যক্তিকে হয় কানমলা দিতে হবে, আর না হয় তাকে (ignore) করতে হবে। কোরান অনলিরা এই পর্যায়ের মূর্খ। কোরানের কোন বিদ্যায়ই তাদের জ্ঞানে নেই। কিন্তু বেহায়ার মত কোরান থেকে উদ্ধৃতি দেয়।

(১০) এরা ‘উদ্ধৃতি পাণ্ডা’।. কোরানের ধারণা, তার বাণী, তার অনেক কথার অনেক অর্থ বিভিন্ন আয়াতে গোটা কোরান জোড়ে ছড়িয়ে আছে। যেহেতু সামাজিক, নৈতিক, আইনি অনেক বিষয় সুদীর্ঘ নব্যুয়তী-কাল ব্যাপী নাজিল হয়েছে তাই একটি বিষয়ের বিভিন্ন দিক অনেক আয়াতে ছড়িয়েছে। কোরান  বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়া আয়াতের সমাহার নয়, (not a book of collected quotations from disarrayed origins).  কোরান প্রেক্ষাপট ভিত্তিতে নাজিল হয়েছিল এবং নবী (সা.) যাদেরকে ‘শিক্ষা’ দিয়েছিলেন, যাদেরকে সেই বাণীসমূহ ‘বুঝিয়ে’ দিয়েছিলেন, তারপর যারা বাণী ও শিক্ষাকে সংরক্ষণ করেছিলেন, এবং তাদের পরবর্তীদেরকে শিখিয়েছিলেন এবং এই পদ্ধতিতে যেভাবে সেই বাণী ও ব্যাখ্যাকে  সংরক্ষণ করেছেন, সেতাই হচ্ছে 'কোরান-নির্ঝর', কোরানের অর্থের স্থান, তার মূল সম্ভার। কোরানের ব্যাখ্যা সেই জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে হতে হবে। কোরানের আয়াতের ডিকশনারি দেখে কোন আয়াত উল্লেখ করলেই চলবে না, বরং সেই জ্ঞান ভাণ্ডারের আলোকে এর অর্থ নিরুপণ করার দরকার হবে। কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে মতের ভিন্নতা থাকলে, সেই মত  সেই জ্ঞান-ভাণ্ডারের সাথে mitigate করে, তবেই কিছু বলতে হবে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট অপরাপর আয়াত কী বলে, তাও সামনে রাখতে হবে। এসব কাজ করতে হলে বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের প্রয়োজন হয়, প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। এই প্রয়োজন আছে বলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়েছে। ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের পথ সহজ হয়েছে। একজন নবীশের কাছে যেসব বিষয় সমস্যাবহুল, একজন উস্তাদের কাছে সেটা সমস্যা নয়, কেননা তিনি এই পর্যায় অতিক্রম করে ফেলেছেন, আজীবনের শিক্ষা তাকে অনেক দিগ্বিদিক দেখিয়েছে। কোরান-অনলিরা কোরানমূর্খ। ওরা নিজেদের ইচ্ছার প্রতিফলন সম্বলিত কোন শব্দ দেখলেই দৌড় মেরে সেটার উদ্ধৃতি দেবে, উল্লেখিত নিয়ম পদ্ধতি বা বাদবাকি আয়াতের প্রেক্ষিতের ধার ধারবে না। কোরান-অনলিরা ‘উদ্ধৃতির পাণ্ডামী’ করে বেড়াচ্ছে। তারা জানে যে ইন্টানেরটে আরবি জানা, কোরানের উপর জ্ঞান রাখা, মাদ্রাসায় পড়ুয়া লোকের সংখ্যা খুবই নগণ্য তাই উদ্ধৃতির পাণ্ডামী করে, ভণ্ডধর্ম প্রচার করলে তা হয়ত অনেকে ঠাহর করতে পারবে না। এরা প্রতারক। শয়তান।

(১১) মানব সমাজে এমনটি কখনো হয় না যে তার সব  লোক রাতারাতি খারাপ হয়ে যায় বা উদ্দেশ্য বিমুখ হয়ে উলটো কাজ করতে শুরু করে। নবী মুহাম্মাদ (সা.) যেসব সাহাবাদেরকে নিয়ে ২৩ বৎসর ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ করলেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে ধনমাল উৎসর্গ করে এই নবীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন এবং তাঁর কাছ থেকে দুনিয়া আখেরাতের তা’লীম নিলেন, তাঁর কাছ থেকে কোরান শিখলেন, কোরানের ব্যাখ্যা শিখলেন, কোরান মুখস্থ করলেন, তাঁদের স্ত্রী-পুত্র, সন্তান-সন্তিনীরাও করলেন, তাঁদের কি হল? নবীর (সা.) মৃত্যুতে তাঁরা কি সেই শিক্ষা বিমুখ হয়ে পড়লেন (নায়ূযুবিল্লাহ)? কোরান অনলি অভিশপ্তরা কি বলছে? এই মুরতাদগণ মুহাম্মদের (সা.) আনুগত্য বিসর্জন করতে গিয়েই তাঁর সাহাবীদেরকে বর্জন করেছে। তাঁর সাহাবীদের কোন কথা শুনতেই চায় না। কিন্তু কথা হচ্ছে ভণ্ডরা কোরান পায় কীভাবে? তারা এই আলোচনায় নামতেই পারবে না। কারণ তাদের কোন পথ খোলা নয়। তারা আগেই ইতিহাস মিথ্যা বলেছে, হাদিস মিথ্যা বলেছে, তফসীর মিথ্যা বলেছে। এখন কোন উৎস দিয়ে সে কোরানের ঐতিহাসিকতার প্রমাণ করবে? কিছুই নেই। আল্লাহ তাদের পথ রুখে দিয়েছেন। আল্লাহ এভাবেই কাফেরদেরকে পথ দেখান না। তাই তারা লক্ষ্যবিচ্ছুত, নিরাশ। এই অবস্থায় কখনো বলবে আরবি রাসূল মানবে না, কেননা মুহাম্মদ (সা.) তাদের নবী হতে পারেন না, তিনি আরবি, তাঁর কোরান আরবদের জন্য। তাই তাদের চাই বাঙালী রাসূল। কিন্তু সেই রাসূল না পেয়ে তারা নিরাশ! পূনরায় প্রতারণা! আবার সেই আরবি রাসূলের উপর মিথ্যার রঙ চড়িয়ে নিজেদের ‘ব্যাখ্যাকে’ কোরান বানিয়ে  হয়েছে শয়তানের ফেরিওয়ালা। ওরা মিথ্যাবাদী, ভণ্ড।

_____________

এই বিষয়ের উপর আমার ও অন্যান্য লেখকের রচনাবলী:

এম_আহমদ: ভণ্ডের ধর্ম –কোরান অনলি

এম_আহমদ: রিসালাত, সাহাবা ও সুন্নাহ -পর্ব ১

এম_আহমদ: গুরুমুখী প্রথায় হাদিস শাস্ত্র: সংগ্রহ ও চর্চা

এম_আহমদ: ফারুক সাহেবের ব্লগ: মিথ্যাচার ও ভণ্ডামি  

এম_আহমদ: ফারুক সাহেবের ব্লগ – বিবর্তনবাদ

এম_আহমদ: যৌনদাসী – ইসলাম বিদ্বেষী ও ‘কোরান অনলি’-দের একটা প্রোপাগাণ্ডা

এস. এম. রায়হান: সংস্কারের নামে ইসলাম-পরিপন্থী মতবাদের প্রচারক থেকে সাবধান

মহিউদ্দিন: “কোরান অনলি”- কেন সম্ভব নয়? ১ম পর্ব

মহিউদ্দিন: “কোরান অনলি”- কেন সম্ভব নয়? ২য় পর্ব

মুনিম সিদ্দিকী:  সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের উৎপত্তি ও বিকাশ-১

মুনিম সিদ্দিকী: সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের উৎপত্তি ও বিকাশ-২

মুনিম সিদ্দিকী: সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের উৎপত্তি ও বিকাশ-

_______________________________

এম_আহমদ: জাহেলী যুগের যৌন সম্পর্ক ও ইসলাম 

৪৫ comments

Skip to comment form

  1. 19
    এম_আহমদ

    একসময় এই কোরান অনলি পান্ডাগুলো যখন বাংলায় নবী খুঁজছিল, এবং কোরান অনলি শব্দ ব্যবহার করে যাচ্ছিল, তখন তারা নাকে-মুখে চড় থাপ্পড় খেতে শুরু করে। তারপর, প্রতারকগুলো কৌশল (tactics) পরিবর্তন করে। নিজেদের বেলায় ‘কোরান অনলি’ শব্দ বর্জন করে এবং প্রতারণায় বলতে থাকে  ‘আমরাও রাসূল মানি’। রাসূল কীভাবে মানে? এভাবে: “কোরান  মানার নামই রাসূল মানা”। কোরান মানা কি?  এটা হচ্ছে তাদের "মূর্খ ব্যাখ্যা" মানা। এটাই তাদের "কোরান"। ধাপ্পাবাজের জাত! প্রতারকের দল, বাংলার মজের উম্মত!  

  2. 18
    আবদুস সবুর

    পোষ্টের সাথে সহমত। +++

  3. 17
  4. 16

    হাদীস শাস্ত্রের সঠিক ইতিহাস জানতে হলে নিম্নের পোষ্টগুলো পড়ুন।

    নাজিবুল্লাহ, খোলাফায় রাশেদীন কর্তৃক হাদীস সংরক্ষণ
    নাজিবুল্লাহ, আব্বাসীয় আমলে হাদীস সংরক্ষণ
    নাজিবুল্লাহ, পবিত্র কোরআনে নবী কারিম (স:) এর হাদীস মান্য করার নির্দেশাবলী
    নাজিবুল্লাহ, ইসলামের ইতিহাস : আব্বাসীয় যুগের প্রথম পর্বে বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন- ০১
    নূরুল্লাহ তারীফ, হাদীসে রাসূল (সাঃ) নিয়ে কেন এই সংশয়? (প্রথম পর্ব)
    নূরুল্লাহ তারীফ,  হাদীসে রাসূল (সাঃ) নিয়ে কেন এই সংশয়? (দ্বিতীয় পর্ব)
    নূরুল্লাহ তারীফ, হাদীসে রাসূল (সাঃ) নিয়ে কেন এই সংশয়? (সমাপ্তি পর্ব)
    এম_আহমদ, কোরান-অনলি ভণ্ডরা অমুসলিম
    এম_আহমদ, ভণ্ডের ধর্ম –কোরান অনলি
    এম_আহমদ, গুরুমুখী প্রথায় হাদিস শাস্ত্র: সংগ্রহ ও চর্চা

    যুবায়ের আহাম্মেদ, হাদীস সংকলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
    মহিউদ্দিন, “কোরান অনলি”- কেন সম্ভব নয়? ১ম পর্ব
    মহিউদ্দিন, কোরআন অনলি কেন সম্ভব নয়? (২য় পর্ব)
    মহিউদ্দিন, (শেষ পর্ব) – কোরআন অনলি কেন সম্ভব নয়?
    মুনিম সিদ্দিকী, সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের উৎপত্তি ও বিকাশ-১
    মুনিম সিদ্দিকী, সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের উৎপত্তি ও বিকাশ-২
    মুনিম সিদ্দিকী, শেষ পর্ব- সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের উৎপত্তি ও বিকাশ

  5. 15
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    বর্তমান বিশ্বের আলেম-ওলামারা ফতোয়া দিয়েছেন যে পুরো হাদিস শাস্ত্রকে যারা অস্বীকার করে,তারা কাফের,কাফের এবং কাফের।
     
    পোস্টে

    1. 15.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভাই জানি এই পোস্টে আহমেদ ভাই যা বলেছেন তা সত্য । এই ভাবে যে বা যারা পুরো হাদিসকে এবং নবীজির অন্তর্ধানের পর তাকে নয়া মানার কথা বলেন তারা সত্যকে অস্বীকার করেন। যারা সত্যকে অস্বীকার করেন তারা তো কাফির হয়ে যান। তারপরও কথা থেকে যায়। আলোচ্য ব্যক্তি তিনি এখন জীবিত তিনি নিজকে মুসলিম বলে দাবি করছেন, তাই উনার ব্যপারে এখন এই রকম সিদ্ধান্ত  না নেওয়া উচিত বলে আমার বিশ্বাস। উনার বর্তমান বিশ্বাস যে আগামীতে  বদলে গিয়ে মুলধারার সাথে সম্পর্কিত হবেন না সেই আশাবাদ কি আসতে পারেনা। আমরা বেশি হলে উনাকে পথভ্রষ্ট বলে ভেবে দূরে থাকতে পারি। ধন্যবাদ।

      1. 15.1.1
        এম_আহমদ

        ভাই একমত হতে পারলাম না। প্রত্যেক অবস্থান, ফতোয়া ও status 'বর্তমানকে' কেন্দ্র করে হয়, ভবিষ্যতকে কেন্দ্র করে নয়। আজকের ময়দানের কাফের কাল মুসলমান হতে পারে, এমন বাস্তবতায় ইতিহাস পরিপূর্ণ। কার কি হবে -তা আমরা জানি না। বর্তমানকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদেরকে কাজ করতে হয়। একজন কুফুরি থেকে ইসলামে আসতে পারে, এই সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি সেই কাফের আপনার এক ভাইকে কুফুরিতে নিয়ে যেতে পারে -সেই সম্ভাবনার মূল্য বিবেচনাই বড়। সুন্নাহর প্রতি অস্বীকৃতি, সাহাবা বর্জন, কোরান পরিবর্তিত -এসবের পরে কোন ইসলাম নেই, এটাই দাঁড়াবার শেষ সীমা।  

  6. 14
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

     
    সত্য বলতে কি, ফারুকের আচরনে হতাশ। একটা পোস্টের মন্তব্য করার জন্যে যতটুকু সিরিয়াসনেস দরকার তা উনার মধ্যে অনুপস্থিত -- বিষয়টা হতাশার। আপনি একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় অবতারনা করে তার বিপক্ষের যুক্তি খন্ডন করার মতো বিনয়ী হতে না পারলে পুরো বিতর্কটাই সময়ের অপচয় হয়ে উঠে।
     
    দয়া করে সিরিয়াস হোন।  

    1. 14.1
      ফারুক

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন:
       
       
      সালামুন আলাইকুম। 
       

      দয়া করে সিরিয়াস হোন।

       
      কাকে বল্লেন কথাটা আমি বুঝলাম না। তবে আমাকে যদি বলে থাকেন , তাহলে বলব আমার তো মনে হয় আমি যথেষ্ঠ বিনয়ী ও সিরিয়াস ।
       
      আপনাকে নিয়ে আমি ও হতাশ। তবে আশার কথা আপনি কোরান থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে মাঝে মাঝে আপনার বক্তব্য দিচ্ছেন। আমার কথায় গুরুত্ব দেয়ার দরকার নেই। কোরান পড়ে যেটা বুঝবেন , সেই মতো চলুন।

  7. 13
    শাহবাজ নজরুল

    এটা মোল্লাদের বানানো মনগড়া কথা , নইলে বুখারি , মুসলিম , যদু , মধু , কালুচোর যে কেহ দাবী করবে কেমনে যে নিম্নের কথাগুলো রসূল বলেছেন? যদি পারেন কোরান থেকে একটি আয়াত দেখান যেখানে রসূলের হাদিস ও সুন্নাহ তথা বুখারি , মুসলিম , যদু , মধু , কালুচোরের দাবীকেও মানতে বলা হয়েছে।

     
    আপনি নিজে ভালো করেই জানেন এই মন্তব্যের/প্রশ্নের জবাব কি, তাই জানা উত্তর আর দিতে ভালো লাগেনা। ভালো থাকেন।

  8. 12
    করতোয়া

    "সাবমিশন" এবং "অনুসরন" এই দুটি ইংরেজী ও বাংলা শব্দকে একত্রে ঘুটা দিয়ে কোরাআন অনলিরা ইসলাম নামের স্যালাইন তৈরী করেছে। তারা কখনও বলছে মোহাম্মদ (সাঃ)কে মান্য করার ব্যাপারে তাদের মতভেদ নাই আবার তারাই কখনও রসুলকে মান্য করাকে সাবমিশন বলছে যা তারা করে না।
     
    কাউকে অনুসরন করা আর কারোর প্রতি নিজেকে সাবমিট করা এক বিষয় কিনা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তারা উত্তর না দিয়ে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ঝেড়ে চলে যায়। আমার প্রশ্ন প্রাকটিক্যাল পয়েন্ট অব ভিউতে এই দুটি শব্দের ব্যাখ্য তাদের কাছে আদৌ আছে কিনা। আমরা মোমিন মুসলিমরা সকল রসুলকে মান্য করতঃ তাদের সুন্নাহকে (আল্লাহ'র প্রতি তাদের সাবমিট করার পদ্ধতি) অনুসরনের মাধ্যমে এক আল্লাহ'র প্রতি নিজেদের সাবমিট করি এটাই একজন মোমিন এর বৈশিষ্ঠ্য। এই সহজ বিষয়টা তারা প্যাঁচায়।

    1. 12.1
      এম_আহমদ

      @ করতোয়া। এদের মূল সমস্যা হচ্ছে যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানবাদে আত্মাহুতি। বিজ্ঞানবাদ ও যুক্তিবাদ হচ্ছে modernism দর্শনের দুটি beasts. মডার্নিজমের প্রধান ধারা নাস্তিক্যবাদ। Postmodernism -এর একটি স্রুত মডার্নিষ্ট দর্শনকে খণ্ডন করেছে। ওরা বাঁচতে হলে পোষ্টমডার্নিষ্ট দর্শনে যেতে হবে, কিন্তু সেখানেও নাস্তিক্যবাদ ওঁত পেতে আছে, সামান্য মোচড় খেলেই আবার নাস্তিক্যবাদ! তবে ওদের মুক্তিতে আমি আশাবাদী নই, কেননা মুহাম্মদের (সা.) এঁর প্রতি যারা বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে, তারা সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছে –এই কথাটি বুঝাতে হলে একটি দীর্ঘ লেখার প্রয়োজন, যা এখন পারব না, সময় নেই। 
      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। 
       

  9. 11
    সরোয়ার

    এম আহমেদ ভাইয়ের ধৈর্য্যের তারিফ করতেই হবে। ফারুক সাহেবকে নিয়ে এখনও সময় দিচ্ছেন!

    1. 11.1
      এম_আহমদ

      সরোয়ার ভাই, পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। কি করবেন, যখন যেটা উপরে পড়ে, তখন সেটা handle না করে উপায় থাকে না। 

  10. 10
    মুনিম সিদ্দিকী

    ইসলামে নীতির প্রশ্নে যে আপোষের কোন পথ খোলা নেই তা আপনার এই অগ্নিবর্ষী পোস্ট পড়ে আমিও আবার ট্র্যাকে ফিরে এলাম। ইসলামে অন্যান্য ধর্মের মত -- তুমি ঠিক আমি ঠিক বা যত মত তত পথ মার্কা দর্শনের স্থান নাই। তারপরও কথা থেকে যায় -- গোবর গর্তে পদ্ম ফুল ফুটলেও তাতে গবরের গন্ধ থেকে যায়, তেমনি আমরা যারা ইসলামি শিক্ষা, কালচার ছাড়া জ্ঞান অর্জন করেছি তাদের কাছে আপনার প্রতিরোধ ধর্মী বক্তব্যকে কঠিন বলেই মনে হবে।
    যাক এই যুগে আপনার মত সাচ্চা মর্দে মোজাহিদ যে আছেন তা দেখে আমার মনের হতাশার মেঘ কেটে গেল। আপনাকে ভার্চুয়াল জগতে পেয়ে নিজকে খুব ভাগ্যবান মনে করছি। আল্লাহ আপনাকে এই ব্লগিয় জিহাদের বদলা দিন। আমিন।

    1. 10.1
      এম_আহমদ

       
      ভাই নবীকে বাদ দেয়ার পর, সাহাবীদেরকে বাদ দেয়ার পর,  ইতিহাস-ঐতিহ্য বাদ দেয়ার পর, কোরানকে পরিবর্তীত ভাবার পর, আপনার কি বাকি থাকে? কিছুই না। আজ কাফেরগণ নব নব রূপে এসে আল্লাহর দীনকে ধ্বংস করতে পায়তারা করছে। দোয়া করবেন, আর যতটুকু করার ততটুকুই করবেন। আল্লাহ মুসলমানদেরকে এই ফিতনা থেকে রক্ষা করুণ। আমিন। 

  11. 9
    শাহবাজ নজরুল

    আহমেদ ভাই,

    সালাম নেবেন। দেখেন ফারুক ভাই বাইন মাছের মত পিছলা। উনারে ছাই দিয়েও ধরা কঠিন। তবে একথা ঠিক উনি যে পিছলা তা সবাই বোঝে। আর এই সত্যটা সবচেয়ে বেশি করে বোঝেন উনি নিজেই। এছাড়া, উনার বকা-ঝকা খাবার ফেটিশ আছে। উনি মনে হয় একমাত্র চিজ যিনি বাংলা ব্লগে একাধারে আস্তিক আর নাস্তিক উভয় পক্ষ থেকে সমান ভাবে বকা/গালি খেয়েছেন। কিন্তু হায়; কি করবেন!!! উনার বকা খাবার ফেটিশ, তাই যত তাকে বকা-ঝকা করেন ততই তিনি অর্গাজম লাভ করেন। অতএব আমার সাজেশন, ফারুক ভাইকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন।

    1. 9.1
      নির্ভীক আস্তিক

      নজরুল ভাই, সচলায়তনে বাম পন্থি নাস্তিক ঘরনার লোকদের সংখ্যা বেশি। তারা তাদের মতাদর্শ promote করার স্বার্থে ব্লগে বেশ কিছু Strict Rule মেনে চলেন সবাই ব্লগের মান ধরে রাখার জন্যই । তাঁর জন্য উটকো টাইপের এবং নিজেদের মতাদর্শের বাহিরে যায় এমন পোষ্ট তেও বিশেষ নজর রাখেন তারা। আমার মনে হয় সদালাপে-ও এরকম Strict কিছু রুল করা যেতে পারে । কেননা সদালাপের লক্ষ্য ও কিন্তু ইসলামের সঠিক দিক গুলো তুলে ধরে মানুষকে সে দিকে ডেকে আনা।  যেমন- মত প্রকাশের স্বাধীনতার স্বার্থে সকলকে লেখার সু্যোগ দেয়া হলেও, যাদের দুই বা তিনটি পোষ্টে অতিরিক্ত অযৌক্তিক বচন, বিভ্রান্তিমূলক প্রচার, উগ্র সাম্প্রদায়িক  উক্তি থাকবে তাদের এডমিন সরাসরি ব্যান করার ব্যবস্থা রাখতে পারেন।

      সদালাপে এমন Strict রুল করার ব্যবস্থা রাখার জন্য অনুরোধ করা হল। আমার মনে হয় না এতে কারো মত প্রকাশে কোন ধরনের বাধ সাধা হবে যেহেতু প্রত্যেককেই ২ বা ৩ টা পোষ্ট দেয়ার সুযোগ থাকছে। বরং এতে করে একটি prominent ব্লগ হিসেবে সদালাপ এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হবে ।

      ব্যাপারটা সবাইকে একটু ভেবে দেখার অনুরোধ রইল ।

      1. 9.1.1
        ফারুক

        @নির্ভীক আস্তিক, 
        আমার মনে হয় পীসইনইসলাম এবং সামহোয়ারইন আপনার জন্য উপযুক্ত স্থান। কারন ওখানে আমি ব্যান। আরো অনেকেই আপনার মতো নিবেদন করেছে , দেখেন এডমিন আপনার নিবেদনে সাড়া দেয় কি না? Wish you good luck.
         
        @ admin , I.ll have no regret , If you ban me. But if you ban me , make sure no body makes any comment or post addressing my name , for fairness.
         
         

        1. 9.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          @ এডমিন  কাউকে ব্যানের পক্ষে আমি নই।

        2. 9.1.1.2
          নির্ভীক আস্তিক

          আপনাকে ব্যান করার দাবি যদি আমি কোন অযৌক্তিক কারনে করতে চাইতাম তাহলে আপনি এর ব্যাপারে আক্ষেপ করতে পারতেন । আপনাকে এখানে অনেক গুলো পোষ্ট করতে দেয়া হয়েছে। আপনি কোরআন অনলি তাতে কারো কোন আপত্তি নেই। সেই ব্যাপারে প্তহম প্রথম কেও অভিযোগ ও করে নি। আপনাকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল ইসলাম কে কেবল কোরআনের আলোকে সঠিক ভাবে ব্যাক্ষা করার। কিন্তু আপনি শুধু অযৌক্তিক কথা বলেন, আবার সে সকল ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে সেগুলো খন্ডন করতে ইচ্ছুক নন । যতটুকু পারেন ঘোলা করেন এরপর মাগুর মাছের মত পিছলান, যা আমি গতকাল একটি পোষ্টে বলেছি । আপনার পেছনে গত সপ্তাহে আধ ঘন্টা ব্যয় করে একটি মন্তব্য করেছি । মন্তব্যে আপনার শঠতা আর মুনিম ভাই কে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শের ব্যাপারে বলেছি উনি আপনাকে -- "To the jaundiced eye everything looks yellow !" বলতে কি বুঝিয়েছেন তাও বুঝানোর চেষ্টা করেছি । আপনি মন্তব্যের কোন সদুত্তর না দিয়ে মাগুর মাছের মত পিছলে গিয়ে বললেন- "জন্ডিস রোগি আর jaundiced eye" এক নয় । এ ধরনের ছাগলামোর কোন মানে হয় ? এই উত্তর দেখার পর থেকেই আমার কাছে মনে হয়েছে আপনার মস্তিষ্কে কোন বিশেষ সমস্যা আছে । আরো মনে হয়েছে- "I have spent my lif's most important half an hour for nothing."

          এভাবে করতে থাকলে ব্লগের সুস্থ পরিবেশের অবনতি ঘটে । আপনি যে সকল ব্যাপারে যুক্তিসংগত উপস্থাপন করতে পারবেন না সেগুলো মেনে নিতে রাজি নন । আপনার মত লোক শুধু বিভ্রান্তি-ই ছরাতে পারে।  রাস্তার পাগল কে দেখে সারাক্ষন পাগল পাগল বলে চেচাতে অস্বস্তি বোধ করি । তাদের থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি।  "আপনার সাথে সারাক্ষন এভাবে কেচ কেচ করতে সুস্থ মস্তিষ্কের কারো ভাল লাগবে বলে মনে হয় না । আর তাই আপনাকে বিদায় করার আর্জি ।"

    2. 9.2
      ফারুক

      @শাহবাজ নজরুল ,
       

      22:71 যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হয়, তখন তুমি কাফেরদের চোখে মুখে অসন্তোষের লক্ষণ প্রত্যক্ষ করতে পারবে। যারা তাদের কাছে আমার আয়াত সমূহ পাঠ করে, তারা তাদের প্রতি মার মুখো হয়ে উঠে। বলুন, আমি কি তোমাদেরকে তদপেক্ষা মন্দ কিছুর সংবাদ দেব? তা আগুন; আল্লাহ কাফেরদেরকে এর ওয়াদা দিয়েছেন। এটা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।

      আল্লাহর আয়াত পাঠ করে শোনানোর জন্য যে গালি শুনতে হবে এ তো জানা কথাই। আল্লাহর আয়াততো আর মিথ্যা হতে পারে না। গালি শোনার ফেটিশ আমার নেই। আপনাদের কাছ থেকে যখন গালি শুনি তখন বুঝতে পারি আমি সঠিক পথে আছি। অন্যথায় আপনারা গালির বদলে যুক্তি দিতেন।

      অনেকেই গালি খাওয়ার ভয়ে লেখা ছেড়ে দিয়েছেন বা ব্লগ থেকে চলে গিয়েছেন। আমি ভাবি ,কোরানের নির্দেশ অনুযায়ী  সত্যের পথে আহ্বান করার জন্য , কোরানের আয়াত পড়তে বলার জন্য   না হয় গালিই খেলাম । আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য এটুকু কষ্ট সহ্য না করতে পারলে আমি কেমন মুসলমান? এটাকেই আমি আমার জন্য জিহাদ মনে করি।

      সুতরাং যত ইচ্ছা গালি দেন , আমার কিছুই যায় আসে না।

      1. 9.2.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        ফারুক ভাই একজন সাচ্চা মুসলিম জান বাজ মুসলিম গালী হজম করা মুসলিমের কাছে নামাজ আলিফ লায়লার কিচ্ছা বা বোরিং লাগে কেন?

      2. 9.2.2
        শাহবাজ নজরুল

        @ ফারুক,
        It is not for a believing man or a believing woman, when Allah and His Messenger have decided a matter, that they should [thereafter] have any choice about their affair. And whoever disobeys Allah and His Messenger has certainly strayed into clear error. [Ahzab -- 36]
         
        But no, by your Lord, they will not [truly] believe until they make you, [O Muhammad], judge concerning that over which they dispute among themselves and then find within themselves no discomfort from what you have judged and submit in [full, willing] submission. [Nisa- 65]
         
        And when they are called to [the words of] Allah and His Messenger to judge between them, at once a party of them turns aside [in refusal]. Is there disease in their hearts? Or have they doubted? Or do they fear that Allah will be unjust to them, or His Messenger? Rather, it is they who are the wrongdoers. The only statement of the [true] believers when they are called to Allah and His Messenger to judge between them is that they say, "We hear and we obey." And those are the successful. And whoever obeys Allah and His Messenger and fears Allah and is conscious of Him -- it is those who are the attainers. [Noor-48:52]
         

        অন্যথায় আপনারা গালির বদলে যুক্তি দিতেন।

        আহমেদ ভাইয়ের এই লেখাতে যুক্তি ছাড়া কিছুই নেই। যুক্তি নেই আপনার কথায়, তাই একটা লিঙ্ক ধরিয়েই খালাস। পারলে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট আহমেদ ভাইয়ের যুক্তি খন্ডন করুন।

        1. 9.2.2.1
          ফারুক

          @শাহবাজ নজরুল,
          সালাম।
          আগেও বহুবার এনিয়ে আলোচনা হয়েছে।  রসূলকে মানা অত্যবশ্যক , এনিয়ে কোন দ্বন্দ নেই।

          আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য বলতে আপনি কি বোঝেন , সেটা জানা দরকার। আল্লাহে আনুগত্য বলতে যদি বোঝেন কোরান মেনে চলা , তাহলে আপনি বলতে পারেন না , আমি আল্লাহর আনুগত্য করি না। কারন আমি কোরান মেনে চলি।

          এবার আসি রসূলের আনুগত্যের কথায়। রসূলের আনুগত্য বলতে যদি বোঝেন , রসূলেকে বিশ্বাস করে তারই দাবী ও নির্দেশ মতো কোরানকে আল্লাহর বাণী মেনে নিয়ে কোরানে লিখিত আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলা , তাহলে সেটাই আমি মনে প্রাণে করে চলেছি। আর যদি বলেন রসূলের আনুগত্যের মানে হলো বুখারি , মুসলিম , যদু , মধু , কালুচোর যে কেহ দাবী করে যে নিম্নের কথাগুলো রসূল বলেছেন এবং সেটা মানতে হবে , তাহলে আমি দুঃখিত। আমি এদের আনুগত্য করি না।

        2. শাহবাজ নজরুল

          আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য বলতে আপনি কি বোঝেন , সেটা জানা দরকার।

          রাসুলের আনুগত্য তথা তার কথা মেনে চলা মানে কোরানের পাশাপাশি রাসুলের (স:) সুন্নাহ তথা হাদিসও মেনে চলা। কেননা রাসুল (স.) আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোনো হুকুম দেননি। তাই হাদিস অস্বীকার মানে রাসুলকে অস্বীকার করা; আবার যেহেতু রাসুল (স;) আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোনো হুকুম দেন নাই তাই রাসুল (স.) কে না মানা মানে আল্লাহকে অস্বীকার করা। বিষয়টা খুব সহজ ও বেশ পরিষ্কার।

        3. ফারুক

           

          রাসুলের আনুগত্য তথা তার কথা মেনে চলা মানে কোরানের পাশাপাশি রাসুলের (স:) সুন্নাহ তথা হাদিসও মেনে চলা।

          সালাম।

          এটা মোল্লাদের বানানো মনগড়া কথা , নইলে বুখারি , মুসলিম , যদু , মধু , কালুচোর যে কেহ দাবী করবে কেমনে  যে নিম্নের কথাগুলো রসূল বলেছেন?  যদি পারেন কোরান থেকে একটি আয়াত দেখান যেখানে  রসূলের হাদিস ও সুন্নাহ তথা বুখারি , মুসলিম , যদু , মধু , কালুচোরের দাবীকেও  মানতে বলা হয়েছে।

    3. 9.3
      এম_আহমদ

      @ শাহবাজ ভাই। আমার বাড়ী নদী তীরের এক গ্রামে। বড়শী দিয়ে বাইন মাছ ধরেছি। ডাণ্ডা দিয়ে তাকে না পিঠানো পর্যন্ত হাত দিয়ে ধরিনি। কখনো ছাইয়ের প্রয়োজন হয়নি। সে তো কয়েক দশক আগের ঘটনা। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  12. 8
    ফারুক

    Warning @ faruk: আপনার মন্তব্যের কিছু থাকলে করে যাবেন আর না থাকলে সারা বিশ্বের কোন কোরান-অনলি অমুসলিম কি বলল –তাদের মন্তব্যের গারবেজ দিয়ে আমার space লিটারিং করবেন না। 

    আপনার মন্তব্যের লিঙ্ক এবারে রেখে দিলামঃ

    Quote from: scaredmuslimah on Yesterday at 09:45:13 AM

    1. 8.1
      এম_আহমদ

       
      Warning: আপনার মন্তব্যের কিছু থাকলে করে যাবেন আর না থাকলে সারা বিশ্বের কোন কোরান-অনলি অমুসলিম কি বলল –তাদের মন্তব্যের গারবেজ দিয়ে আমার space লিটারিং করবেন না। 

  13. 7
    ফারুক

    rel="nofollow">
     
     
    well done edip! We are proud of you  8)

    Warning at Faruk: Next time যাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করার দরকার তার ওখানে গিয়ে করে আসবেন। আমার এখানে অপর জাগার ডায়ালগ মারতে আসবেন না!

    1. 7.1
      এম_আহমদ

      Is it a response to this blog? How silly! 

      1. 7.1.1
        ফারুক

        See the video . It is related to this post.  চোখ বুজে থাকলে প্রলয় বন্ধ হয় না।

        1. 7.1.1.1
          এম_আহমদ

          How silly, I didn't say unlerated. 

  14. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    শিরোনামটা খুবই এক্সস্ট্রিম হয়ে গেছে। আমার মনে হয় এতো কঠিন করে সিদ্ধান্তমুলক কথা বলার আগে আরো ভাবা উচিত।

    কোরান আনলী মতবাদ মজবাসার বা ফারুকের না -- এইটা অনেক পুরাতন। ওরা শুধু কপি পেস্ট করছে। সেই কারনেই ফারুক নামাজ নিয়ে নানান ধানাই পানাই পোস্ট দিচ্ছেন -- কারন এরাও বহু তড়িকায় বিভক্ত। ওকে বলতে দিন। হয়তো এই আলোচনায় ওর মতামত পরিবর্তনও হতে পারে -- আল্লাহর ইচ্ছা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।

    যতক্ষন একজন মানুষ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলছে ততক্ষন তাকে অমুসলিম বলাটা অনুচিত বলেই জানি। ধন্যবাদ।

    1. 6.1
      এম_আহমদ

      আল্লাহ এক -এমন বিশ্বাস সব ধর্মের মূলে রয়েছে। যারা অমুসলিম তারা সাধারণভাবেই আল্লাহতে অবিশ্বাসী নন, অধার্মীক নন। আদম (আ.) থেকে প্রচারিত ধর্ম আমাদের দৃষ্টিতে এক ধর্ম, কিন্তু ঐতিহাসিকতায় মানুষের বিশ্বাসে ও ধর্ম-কর্মে আজ কেউ ইয়াহুদী, কেউ নাসারা এবং কেউ মুসলিম। শাব্দিক অর্থে প্রকৃতি-তাড়িত জৈবিক-অজৈবিক সবকিছুই মুসলিম, আসমান জমিনও। কিন্তু যে ঐতিহাসিকতায় মুসলিম শব্দটি পরিভাষায় রূপ লাভ করেছে সেই ঐতিহাসিকতায় মুহাম্মাদ (সা.) প্রচারিত ধর্ম এবং তাঁর শারিয়া অবলম্বিত জনগোষ্ঠীকে ‘মুসলিম’ শব্দ দিয়ে নির্দেশ করা হয়। এখানে কিছু বিশ্বাস ও মূলনীতি রয়েছে এগুলোর বাইরে পদার্পণ করলে, ব্যক্তি এই ধর্ম বহির্ভূত হয়ে পড়ে। মুহাম্মদের (সা.) ধর্মে থাকতে হলে এই হচ্ছে তার গণ্ডি, তবে এই ধর্মে জোরাজোরি নেই। কারো কাছে এই ধর্মের বিশ্বাস কঠিন হয়ে পড়লে সে যে ধর্মে শান্তি পায় সে ধর্মে চলে যাবে, না হয় তার নতুন ধর্ম তোইরি করবে। তার সাথে কোন বিরোধের কিছু নেই, ঝগড়া-যুদ্ধের কিছু নেই, তবে ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ পর্যন্ত তার ঝগড়া-যুদ্ধ, আক্রমণ আমাদের দরজায় এনে দাখিল না করে।

          আক্রমণ ও প্রতিরোধের বিষয় কে কীভাবে দেখছেন তা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার পড়াশুনা, এবং যেটুকু জ্ঞান ও শিক্ষার নেয়ামত আল্লাহ আমাকে দান করেছেন সেটার ব্যবহার আমি শুধু আমার কল্যাণে নয়, বরং আমার যেসব ভাই-বন্ধু কোরান সম্পর্কে জ্ঞাত নন, আরবি শিখেননি, পশ্চিমা দর্শন পাঠ করেননি, যারা মর্ডানিজম, স্ট্রাকচারালিজম, পোস্টস্ট্রাকচারেলিজম, পোস্টমর্ডানিজম ইত্যাদি দর্শন উদ্ভূত চিন্তার আক্রমণ সম্পর্কে ওয়াকিলহাল নন, আমি মনে করি এটা আমারই দায়িত্ব যে সেসব বিষয়ে সর্বসাধারণ যেভাবে বুঝে, সেই ভাষায় এবং সেই যুক্তিতে প্রতিপক্ষের আক্রমণের মোকাবেলা করি। এখানে আমার ধর্ম ও আমার ভাইয়ের ধর্মকে ‘শিরক’ বলা হচ্ছে, আমার ও আমার ভায়ের বিশ্বাসের স্তম্ভগুলোকে আক্রমণ করা হয়েছে, যে নবী এবং তাঁর সাহাবিদের মাধ্যমে আমার ও আমার ভাইয়ের বিশ্বাস পেয়েছি সেগুলোকে আক্রমণ করা হয়েছে, আমি অমুক-তমুক বিদ্যালয়ে পাঠ করেছি তাই কি সেই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠিত মডার্নিষ্ট লিবর‍্যাল আদর্শের ‘সভ্যতার’ অনুভূতি পরিধান করে নীরবে নিজেকে সভ্য চেয়ারে বসিয়ে নিরপেক্ষ নিরপেক্ষ কথা বলবো এবং আমার ভাই-বন্ধুরা অসহায় দৃষ্টিতে এই বাস্তবতার দিকে তাকিয়ে থাকবে এবং কেউ কেউ সেই আক্রমণের শিকার হয়ে পড়বে, না আমি আমার ঈমান, ঐতিহ্য, আমার ঐতিহাসিকতার ভিত্তিতে সেই আক্রমণ প্রতিহত করতে যাব, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি জানি অনেক কথা বলতে গেলে যে আদর্শিকতায় মুসলমানদের বিশ্বাস ও জীবন পদ্ধতিকে ঐতিহাসিকভাবে এক্সট্রিমিষ্ট/মৌলবাদী হিসেবে ধারণ করা হয়েছে, আমি সমুচিত উত্তর দিতে গেলেই আমার উপর সেই লেভেলগুলো সেই প্রতিষ্ঠিত সভ্যতা জড়িয়ে দেবে। কিন্তু আমাকে দেখতে হবে আমি কারো প্রতি নিছক আক্রমণকারী হচ্ছি, না কঠোরভাবে আক্রমণকারীকে প্রতিহত করছি।

          নাস্তিক্যবাদ, কোরান-অনলিবাদ, অথবা অন্য কোন ধর্ম আমাদের জন্য সমস্যার কিছু নয়। কেউ আমাদের ধর্ম ছেড়ে গেলেও সমস্যা নেই। প্রত্যেকেই যার যার ধর্ম পালন করবে। নাস্তিকও যদি তার ধর্ম প্রচার করে তাতে আমাদের কোন অসুবিধা নাই। আমি আল্লাহ, নবী, পাপ-পুণ্য, পরকাল, জবাবদিহি ইত্যাদিকে পণ্য করে আমার ধর্ম প্রচার করছি। অন্যের ধর্মে তার পণ্যের প্রচার করবে। কিন্তু আমাকে আক্রমণ করে যখন তার ধর্ম প্রচার করতে আসবে তখন আমি বসে বসে wishy-washy শিক্ষিত সভ্য সেজে, নিজেকে আলাদা করে এবং একদলকে মৌলবাদী করে ‘ওদের সার্কাসে’ আনন্দ লাভ করাতে আমার স্থান দেখি না।  তবে একথার অর্থ এই নয় যে আমার কর্ম পন্থা সঠিক এবং বাকিরা বেঠিক। আপনাদের যাদের শিক্ষা/দীক্ষা আমার চেয়ে ‘ভিন্ন’ তারা আমার চেয়ে ভাল পদ্ধতিতে সেই আক্রমণের মোকাবেলা করবেন। আপনাকের কর্ম-পদ্ধতি দেখতে পেলে উপকৃত হব বলেই আশা রাখি।

          “যতক্ষন একজন মানুষ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলছে ততক্ষন তাকে অমুসলিম বলাটা অনুচিত বলেই জানি।” আমি এই কথাটি শুদ্ধ বলে মনে করিনা। এটা আহলুল সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ধারণা নয়। যে কথাটি শুদ্ধ তা হল, এক ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বলবে এবং আল্লাহর আদেশ নিষেধকে সত্য হিসেবে জ্ঞাপন করবে, হারাম/হালাল যেভাবে সেভাবেই মানবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে মুসলমান থাকবে, যদিও তার আমল আখলাক ঠিক না হয়। কেই নামাজ পড়ে না -এটা এক কথা কিন্তু সে নামাজ অস্বীকার করার সাথে সাথে ইসলাম বহির্ভূত হয়ে পড়ে –এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সিদ্ধান্ত। এভাবেই যাবতীয় আহকাম-আরকান সংক্রান্ত নিয়ম। সেই সুদূর গড়িয়ে নবী (সা.) থেকে সাহাবা (রা.) হয়ে আমাদের আলেম ওলামাগণ দ্বীনকে যেভাবে ধারণ করে আসছেন সেই setting থেকে বেরিয়ে পড়লেই আমাদের সত্তার বিলীন ঘটবে। আমরা যে যা’ই বলি না কেন, আমাদের এই সরল সোজা আলেম-ওলামাগণ দুনিয়া না বুঝলেও দ্বীন বুঝতে কোন ভুল করেন না। তাদের অভাবে আমরা অচীরেই বসনিয়ার/তুর্কীর মুসলমানদের মত নামাজ-রোজা ত্যাগ করে, শুওরের গোস্ত ও মদ্য পান করে খাটি মুসলমান হতে বাধা থাকবে না। 

          কোরান-অনলিদের সাথে আলোচনার কিছু বাকি থাকেনি। ওরা মুসলমান নয়, এটি এখন সর্বসাধারণ জানা দরকার। এর পর যার যা ইচ্ছা তাই করবে। এখানে 'সত্য' স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। ফারুক আর মজাই কোরান-অনলি আবিষ্কার করেনি, তারা বাংলায় এই নতুন ধর্ম আমদানি করছে। তবে সবচেয়ে পজিটিভ দিক হল এই যে ফারুক আর মজের মত লোক তা আমদানি করেছে। 

          কোরান-অনলিদের status অমুসলিম হলে ফারুকের ফিরার পথ রুদ্ধ হয় না। তবে তাদের কেউ যে পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করবে এই ধারণা আমার নেই। কেননা আমার পাঠ মতে ‘কোরান-অনলি’ একটি নতুন ধর্মীয় রূপ লাভ করে ফেলেছে। এটা এখন অন্যান্য ধর্মের মত একটি ধর্ম। ওখান থেকে কেউ ফি্রে আসা একান্ত আল্লাহর ইচ্ছা, তিনি সবকিছুই করতে পারেন।

          পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আমার কথাগুলো বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা দৃষ্টে মন থেকে এসেছে। কোন কথা একক কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তি নির্দেশক নয়, তবে কোরান-অনলি বিষয় ভিন্ন।   

      1. 6.1.1
        শামস

        কোরান-অনলি মজ বাশারের বিশ্বাসকে একদিকে ও ইসলামী বিশ্বাসকে অপরদিকে রাখলে পার্থক্যটা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক ও বেঠিকই পাওয়া যাবে বলে মনে করি। এই পার্থক্য দেখিয়ে তারা ইসলামী বিশ্বাসকে ধারণ করে না, সেটা বলা যায়। কিন্তু তারপরও কথা থাকে, আপনার শিরোনাম ও ভিতরের অনেক কথাই জাজমেন্টাল। প্রশ্ন হল, কেউ মুসলিম নয়া অমুসলিম সেই জাজমেন্ট কে দিতে পারে? আর শুধু ফারুক সাহেব বা মজবাশারের উপর ভিত্তি করে কোরান অনলি মানেই অমুসলিম সেটাও কি ঠিক?
        সদালাপ সাইট ডাউন হবার আগে এনিয়ে অনেক তর্কবিতর্ক ও সময় অপচয় হয়েছে। আমার ধারণা এখনো সময় অপচয় হচ্ছে। এই সময় অন্য কিছুতে দিলে সেটা সবার জন্যই ভাল। কোরান অনলিরাও ভেবে দেখতে পারে, তাদের মতবাদ প্রচারের অনেক জায়গা আছে সেগুলোতে সময় দিক।
         

        1. 6.1.1.1
          এম_আহমদ

           “প্রশ্ন হল, কেউ মুসলিম নয়া অমুসলিম সেই জাজমেন্ট কে দিতে পারে?” সেটা আলেম ওলামারাই দেবেন এবং সেটা দেয়াও হয়েছে। এই বিষয়টি উপর ইতস্ততার স্থান নেই, এবং এটি অত্যন্ত dangerous-ও বটে।  “আর শুধু ফারুক সাহেব বা মজবাশারের উপর ভিত্তি করে কোরান অনলি মানেই অমুসলিম সেটাও কি ঠিক?”  সেটাই ঠিক। কোরান অনলিরাও মুসলমান -এই যদি হয় আপনার অবস্থান তাহলে কেউ কোরান অনলি হতে কোন বাধা দেখেন না এটাই হয় গ্রহণীয় অবস্থান। এ বিষয়ে কোন সন্দেহ রাখা ঠিক নয়। আপনার সন্দেহ থাকলে, এবং আপনি বাংলাদেশে থাকলে, কোরান-অনলিদের বিশ্বাস নিয়ে তাদের কাছ থেকে অভিমত নিয়ে আসতে পারেন। 

  15. 5
    এস. এম. রায়হান

    পাঠকদের জন্য প্রাসঙ্গিক একটি লেখা-
    সংস্কারের নামে ইসলাম-পরিপন্থী মতবাদের প্রচারক থেকে সাবধান

    1. 5.1
      এম_আহমদ

      ধন্যবাদ। মেইন ব্লগে আপনার লেখাটি লিঙ্ক করে দিয়েছি এবং বাদবাকি আর যত লেখা পাব, সেগুলো ওখানে লিঙ্ক করব, আবারো ধন্যবাদ। 

  16. 4
    মহিউদ্দিন

    যারা কোরআনকে আর কয়টা গ্রন্থের মতই একখানা গ্রন্থ মনে করেন কিংবা  আরো একটু উদার হয়ে বলেন যে ঠিক আছে এর রচয়িতা আল্লাহ বা ওহীর  মারফত রাসুলের মাধ্যমে নাজিল হয়েছে। অতএব কোনভাবে শুধু কোরআনটা বুঝে নিজের ইচ্ছামত কোরআনের ব্যাখ্যা দেয়াই কোরান অনলিদের কাজ। যা ভাল লাগে তা অনুসরণ করলেই চলবে এবং তা দিয়ে ইসলামের দাবী মেটানো সম্ভব বলে যারা মনে করেন তারা অবশ্যই বিরাট বিভ্রান্তিতে আছেন ।

    কেননা কোরআন নাজিলের উদ্দেশ্য যদি সেটাই হত তা হলে আল্লাহ হয়তবা কোরআনকে বই আকারে আকাশ থেকে ধপ করে একদিন রাসুলের কাছে পাঠিয়ে দিতেন কিন্তু তা না করে দীর্ঘ ২৩ বছরে কোরআন নাজিল হওয়ার দরকার কি ছিল? কোরআন এসেছে ২৩ বছরে piece by piece রাসুলের বাস্তব জীবনের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে। আর রাসুলের জীবনে সেই কোরআনের বাস্তব ব্যবহার করে তাঁর মারফৎ যে আদর্শ মুমিনের জন্য রাখা হয়েছে যা হাদিসে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে এবং যার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে ইসলামি আকিদা।

    কোরআন অনলিরা বিক্ষিপ্তভাবে দু একটা আয়াতের বর্ণনা বা অনুবাদ পড়ে তার ভিত্তিতে ইসলামী আকিদার গড়ার যে চেষ্টায় লিপ্ত তা মারাত্মক ভুল। কোরআন অনলিরা তাই করতে চায় কিন্তু সুস্থ বিবেকবান মুসলিম  তা কখনই গ্রহণ করবে না।

    1. 4.1
      এম_আহমদ

      আপনার বিচিন্ত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  17. 3
    মহিউদ্দিন

    "তাদের এই অবস্থান থেকেই তারা কোরান নিয়ে ধান্ধাবাজী করে। বানর যেভাবে এক ডাল থেকে আরেক ডালে লম্ফ-ঝম্প দেয়, সেভাবে এক আয়াতে আটকা পড়ে অন্য আয়াতে বিচরণ করে, লক্ষ্যহীনভাবে ডালে ডালে ঘুরে।"
    তাই মনে হয় আমার কাছেও। আল্লাহ আমাদেরকে এসব ফিৎনা থেকে রক্ষা করুন।

  18. 2
    KALAM

    কোরান-অনলি ভণ্ডরা অমুসলিম

    এইটা কী হাদীস‍ এর বাণী!! 

  19. 1
    এম_আহমদ

    সদালাপের পাঠকদের উদ্দেশ্য: কোরান-অনলিদের উপর যেসব লেখা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোকে এখানে লিঙ্ক-আপ করতে পারেন, যাতে অন্যান্য পাঠকরা এই ফিতনা সম্পর্কে ভালভাবে অবগত হতে পারেন। এই ফিতনা নাস্তিকতার ফেতনা থেকেও মন্দ, কেননা নাস্তিকদের অবস্থান সুস্পষ্ট কিন্তু এদের অবস্থান কোরানের মুখোশ পরে। ধন্যবাদ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.