«

»

Oct ১৪

মুক্তমনা ও নাস্তিক মিলিট্যান্সি

সূচনা

আমাদের সমাজে কিছু কিছু লোক নিজেদেরকে ‘মুক্তমনা’ ভাবেন। তাদের দাবি হচ্ছে তারা নাকি মুক্ত-চিন্তক, যুক্তিবাদী। তারা ট্র্যাডিশন বা প্রাচীন প্রাতিষ্ঠানিকতা-মুক্ত অথবা এগুলো থেকে মুক্ত হতে কাজ করছেন এবং মানুষকে মুক্ত করতেও চাচ্ছেন।

এখানে ‘মুক্তমনা’ হওয়ার যে দাবি বা বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হচ্ছে আমরা প্রথমে সেটা বুঝার চেষ্টা করব। প্রথমে ‘মুক্ত’ শব্দটি বিবেচনা করি। সরল-সহজভাবে বলতে গেলে আমাদের ভাষার সকল শব্দ তাদের বিপরীত ধারণার মোকাবেলায় অর্থ লাভ করে। ঠাণ্ডা গরমের মোকাবেলায়, শক্ত নরমের মোকাবেলায়, সত্য মিথ্যার মোকাবেলায় ইত্যাদি। আমরা যখন বলি ‘মুক্ত আকাশের পাখি’, তখন ‘মুক্ত’ কোন্‌ জিনিস তা সহজে বুঝতে পারি। আমরা যখন বলি পাখিটি খাঁচায় বন্দী, অথবা লোকটি এখন রাজার বন্দীশালায় আবদ্ধ, তখন আবদ্ধ, বন্ধন আর মুক্ত অবস্থার কথা বুঝি। উদাহরণের পাখিটি ‘নিজ ইচ্ছায়’ খাঁচায় গিয়ে আবদ্ধ হয়নি আর বন্দীশালার লোকটিও ‘নিজ ইচ্ছায়’ বন্দীদশা গ্রহণ করেনি। এখানে সতত ইচ্ছার স্বাধীনতা ও অধীনতা প্রকাশ পায়। আমরা যদি বন্দীশালার লোকটির ব্যাপারে বলি, সে এখন ‘মুক্ত’, তখন বুঝি যে এখন তার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। সে এখন যথেচ্ছ বিচরণ করতে পারে। তার কর্মে ইচ্ছার স্বাধীনতা এসেছে। সে যেখানে সেখানে যেতে পারে। অর্থাৎ এখন সে স্বাধীন, সর্বাবস্থায় মুক্ত।

কিন্তু যে ব্যক্তি কোন বন্দীশালায় আবদ্ধ ছিল না, এবং এখনও নয়, সে যদি বলে যে ‘আমি এখন মুক্ত’ তাহলে বুঝতে হবে শব্দের রূপকতা (metaphoricity) ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধরণের রূপক ব্যবহার অনেক ভাবে করা যেতে পারে। এক ব্যক্তি বন্দীশালার ভিতরে থেকেও বলতে পারে, "আমি মুক্ত আকাশের পাখি।" এখানে শ্লেষাত্মক অথবা ব্যঙ্গাত্মক অর্থও আসতে পারে। এমন ব্যবহার সব ভাষাতে আছে। আমি গরীব লোক হয়েও বলতে পারি, "প্রাচুর্যের মধ্যে ডুবে আছি।" আপনি ‘বদ্ধমনা’ হয়েও বলতে পারেন মুক্তমনা, মুক্ত-চিন্তক। কেননা আপনি নিজের জন্য যখন কোনো শব্দ নির্বাচন করেন, তখন কোন্‌ শব্দটি নির্বাচন করবেন তা একান্ত আপনার ইখতিয়ারে। আপনার কানা ছেলেকেও নাম দিতে পারেন ‘পদ্মলোচন’। এতে কারো বলার কিছু নেই।

মনে রাখতে হবে যে কোনো শব্দের অর্থ তার শব্দের ‘ভিতরেই’ নিহিত নয়, বরং অর্থ হচ্ছে সামাজিক প্রথা-ভিত্তিক, সামাজিক convention এর অংশ, (আমরা সবাই সমাজে প্রতিষ্ঠিত ভাষিক প্রথার ‘ভিতরেই’ থাকি, আমাদের অর্থ-বিনিময় [communication] এই প্রথার বাইরে নয়)। আবার ‘অর্থ’ কোন একটি শব্দ-কেন্দ্রিক নয়, বরং অর্থের-সংযুক্তিতে জড়িত অন্যান্য শব্দের জিঞ্জিরে (chaining with other words) গোটা ভাষা ব্যবস্থার (system of language) মধ্যে পরিব্যপ্ত।

‘মুক্তমনা’ যদি স্বাধীন চিন্তা ও স্বাধীন প্রত্যয় কেন্দ্রিক হয় এবং এরই প্রেক্ষিতে যদি এক ব্যক্তি বলে, "আমি খোদাতে বিশ্বাস করি না," এবং অন্য ব্যক্তি যদি তার আপন স্বাধীন চিন্তা-চেতনা ও বিবেক অনুযায়ী বলে, "আমি খোদাতে বিশ্বাস করি", তবে উভয়ই মুক্তমনা হওয়া উচিত। কিন্তু প্রথম ব্যক্তি যখন বলবে, "না, খোদাকে অস্বীকার না করলে মুক্তমনা হওয়া যাবে না", তখন বুঝতে হবে সেই লোকটির কোন ‘মতলব’ আছে, সে কুযুক্তি উত্থাপন করছে। তারপর যখন সে জেদি হয়ে উঠবে এবং তার শেষ কথা হবে, আপনি ‘খোদাকে অস্বীকার করলেই’ মুক্তমনা হবেন, তখন বুঝতে হবে, এই ‘মুক্তমনা’ শব্দটি নিয়ে এখন ‘ধাপ্পাবাজি’ শুরু হয়েছে, ভাষার রাজনীতি শুরু হয়েছে। ধাপ্পাবাজ কোন নির্দিষ্ট কারণে নিজের জন্য ‘মুক্তমনা’ শব্দটি ব্যবহার করছে। সে তার আপন দাবীর বিপক্ষে স্ববিরোধী (inconsistent) হয়ে ভাব ও শব্দের এমন ব্যবহার করছে, কেননা it cannot be empirically proven that there is no God অর্থাৎ কোন বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে খোদা-নাই বলে প্রমাণ করা যাবে না, সুতরাং চোখ বন্ধ করে খোদাকে অস্বীকার করলেই মুক্তমনা হওয়া যায় না। বরং এক বিশ্বাস থেকে আরেক্ক বিশ্বাসে যাওয়া হয়।

আবার মুক্তমনা হতে হলে পূর্ববর্তী সমাজ সভ্যতা, আচরণ, বিশ্বাস সব কিছুতেই ‘সন্দেহবাদী’ হতে হবে, প্রথাগত বিষয় (tradition) সমঝে না এলেও বর্জনের জন্য আহবান জানাতে হবে এবং আক্রমণাত্মক হতেই হবে, এটা না হলে হলে ‘মুক্তমনা’ হওয়াই যাবেনা – তখন এমন ব্যক্তি মুক্তমনা না হয়ে বরং ‘বক্রমনা’ই হতে পারে। বক্রমনা যদি 'সন্দেহবাদী' হতেই হয়, তবে তার নিজ ঘর থেকেই শুরু করতে পারে। সে তার নিজ মা-বাপের সন্তান কি-না এটাও সন্দেহে আনতে হবে, ব্যক্তির identity-এর মূল স্থান এখানে। তাকে প্রথমে DNA টেস্ট দিয়ে শুরু করতে হবে। তারপর তার পরিবারের সবার, তার মা-বাপ সহ। পরিবারের সয়-সম্পত্তি দেখতে হবে। তার পিতা-প্রপিতা ঘুষ ও চুরির মাধ্যমে সেটা করলো কি-না তা দেখতে হবে। সম্ভাব্য অসত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করলে সে তার নিজের সাথেই প্রতারণা করবে, তাই এগুলো তার জানা চাই। ভাল কাজ ঘর থেকে শুরু হওয়া উচিত। এগুলো সন্দেহবাদী ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসহকারে অনুসন্ধান চালানো দরকার। ধর্ম তো অনেক পরে আসবে।

অতঃপর ‘নিজ-জ্ঞানের’ প্রেক্ষিতের উপর সন্দেহবাদী হতে হবে। সে যা জানে তা কীভাবে জানে – এই ’নিশ্চয়তায়’ উপনীত হতে হবে। এটা হচ্ছে দর্শনের মূল স্থান। নিজের ‘জ্ঞানের’ স্থান স্পষ্ট হওয়ার আগেই অপরকে সন্দেহবাদী বানানোর ধৃষ্টতা না দেখালেই ভাল।

মূল কথা হচ্ছে এক ব্যক্তি যদি কোন ব্যাপারে ‘সন্দেহ’ পোষণ করে, তবে অপর ব্যক্তি সেখানে ‘সন্দেহ’ নাও করতে পারে, উভয়ের পক্ষে/বিপক্ষে যুক্তির এবং অযুক্তির স্থান থাকতে পারে। কেননা উভয়ের দেখার প্রেক্ষাপট, দেখার থিওরি, ভিন্ন হতে পারে। ভাষা-বিজ্ঞান, দর্শন, সমাজ বিজ্ঞান ইত্যাদিতে এভাবে ভিন্নতায় দেখার প্রেক্ষিত উপস্থাপন করে। আপনার কাছে যা সন্দেহজনক, আমার কাছে সেই সন্দেহ নাও থাকতে পারে, কেননা আমি বিষয়টি অন্যভাবে দেখে নিয়ে থাকতে পারি, আপনার মতো নয়। কিন্তু আপনার সন্দেহবাদকেই আপনি যখন আমার উপর চাপিয়ে দেবেন এবং আমি তা না মানতে পারলে আপনি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবেন, এমনটি হচ্ছে অসভ্য লোকের কাজ, ইতর প্রকৃতির কাজ, হিটলারের কাজ। হিটলারের দলও নিজেদেরকে মুক্তমনা ভাবতো, হিটলার নাস্তিক ছিল, যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানবাদের ভিত্তিতে উন্নত সমাজ-সভ্যতার কথা বিবেচনা করত।

অন্ধ বিশ্বাস

মুক্তমনাদের খেলা হচ্ছে ভাষিক ডিগবাজি, প্রতিপক্ষকে নেতিবাচক ব্যাখ্যায় আনা। ধাপ্পাবাজ নিজের জন্য ‘মুক্তমনা’ শব্দ নির্বাচন করে যখন বলে উঠবে, "আমার আস্থা মুক্তবুদ্ধিতে – অন্ধবিশ্বাসে নয়", তখন রাজনৈতিক ধাপ্পাবাজদের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনে ধাপ্পাবাজি অনেকটা বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বক্তব্যের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

এখানে এই ক্ষুদ্র phrase, ‘অন্ধ বিশ্বাস’-এর ভাষিক ব্যবহার কীভাবে সমঝের স্থানকে (place of perception) এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে – তার প্রতি লক্ষ্য রাখুন। এখানে ‘অন্ধ’ শব্দটি বিশেষণের বাইরে গিয়ে metaphor হয়ে কাজ করছে এবং এই ব্যবহারের মাধ্যমে ধারণার মূলবস্তুকে লক্ষ্যচ্যুত করা হচ্ছে, যুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। অন্ধ রূপকতা (metaphor of blindness) উত্থাপনে চিন্তার লক্ষ্য রূপক বস্তুর দিকে নিবিষ্ট হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট হচ্ছে এবং এই রূপকতার সাথে জড়িত অর্থ-চিত্র (picturesque meaning) ধারণায় উপস্থিত হচ্ছে। কেউ যখন বলে ‘লোকটা কুত্তামনা’ তখন প্রবক্তা অপর ব্যক্তির মানবতাকে চূর্ণ করে তার বক্তব্যের স্থান তৈরি করে। কাউকে প্রথমেই অন্ধ-বিশ্বাসী আখ্যায়িত করে তার মানবীয় চিন্তাশক্তিকে বিকলাঙ্গ হিসেবে দেখিয়ে, তার প্রতি আক্রমণাত্মক হয়ে, নিজের বক্তব্যের স্থান তৈরি করা হয়। মুক্তমনার ধাপ্পাবাজ প্রবক্তারা এভাবেই ভাষার ব্যবহারে তাদের নাস্তিক-ধর্মের প্রচারণা চালাবার প্রয়াস পায়। এটা মূলত শাব্দিক অর্থের মুক্তমনা-বৈশিষ্ট্য বহন করে না, ধাপ্পাবাজ মানসিকতা বহন করে।

যে লোকটি প্রথমে নিজের জন্য ‘মুক্তমনা’ শব্দটি নির্বাচন করল, তারপর যখন খোদাতে বিশ্বাসীদের মোকাবেলায় তার অবস্থানকে 'চাক্ষুষ' এবং ওদের অবস্থানকে ‘অন্ধ’ শব্দে আখ্যায়িত করল, তখন তার ভাষিক আচরণ ও ব্যাখ্যার প্রকৃতিও অনেকটা স্পষ্ট হল। সে তার এই বৈশিষ্ট্যই সর্বত্র প্রকাশ করবে, তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে এর রূপায়ন ঘটাবে। এমন লোক বিশ্বাসযোগ্য নয়। যাকে সে অন্ধ বলেছে, সে তার নিজ ‘বিশ্বাসের’ আলোকে তা করেছে, এটা তার নিজের দেখা ব্যাখ্যা, তার বক্তব্যের বাইরে বাস্তবতা ভিন্ন। অধিকন্তু, সে অপরকে তার মতো সংজ্ঞায়িত করছে, অপরকে হীন করছে। তার বিশ্বাসের প্রচারের জন্য ‘মুক্ত’ শব্দটি বেছে নিয়েছে এবং অপরকে 'অন্ধ' আখ্যায়িত করছে। সে যা করছে, এটা তার ধর্মীয় কাজ। সে আরেক ধরণের ‘ধর্ম-ব্যবসায়ী’। সে মূলত পদ্মলোচন। শাব্দিক ব্যবহারের নব্য-ম্যাজিক দেখিয়ে তার ধাপ্পাবাজি প্রতিষ্ঠা করছে। ভাষার শব্দ সম্ভার থেকে যেগুলো পজিটিভ সেগুলো তার নিজের জন্য এবং যেগুলো নেগেটিভ সেগুলো প্রতিপক্ষের জন্য নির্ধারণ করছে। প্রতিপক্ষের বিশ্বাস “অন্ধ”, আর তার নিজের বিশ্বাস চাক্ষুষ (আলোকিত)! লক্ষ্য রাখতে হবে, সে কীভাবে arbitrarily “অন্ধ” বিশেষণটি অপরের সাথে জুড়ে দিয়েছে। “খোদা নাই” – এটাও তো যুক্তিতে প্রমাণিত নয়, empirically-ও প্রমাণিত নয়, তাহলে নাস্তিক্যবাদও তো সাক্ষাৎ “অন্ধ” হতে পারে।

নতুন বোতলে আরেক ধর্ম

মুক্তমনারা তাদের নতুন ধর্মকে পুরাতন ধর্মের মোকাবেলায় ভাষার মারপ্যাঁচ ও রূপকথায় নতুন বোতলে ঢালে। মানুষকে এভাবে তাদের নব্য-ধর্মে ‘শিকার’ করতে চায়, অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মকে সরিয়ে, নিজেদেরকে সেই আসনে বসাতে চায়। মুক্তমনা হতে হলে নাকি বংশ পরম্পরায় যা আসে তাকে অস্বীকার করতেই হবে। কোথাও যদি কোন আপ্তবাক্য থাকে যেমন, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তা অমনি উড়িয়ে দিতে হবে। কেননা এটা বংশ পরম্পরায় চলে এসেছে। কিন্তু কথা হল কোন আপ্তবাক্যিক ধারণা/বিশ্বাস বংশ-পরম্পরায় প্রচলিত হয়ে এসেছে বলেই কি সেটাকে অবলীলায় পরিত্যাগ করতে হবে? এক শ্রেণীর ধারণা ত্যাগ করে অন্য শ্রেণীর ধারণা গ্রহণ করাতে অথবা এক গ্রুপের বিশ্বাস ও আদর্শ বর্জন করে অন্য গ্রুপের বিশ্বাস ও আদর্শ ধারণ করাতে “মুক্ত-ধারণা” আসে কীভাবে? কোন স্বাধীন ব্যক্তি খোদা আছেন বললেই যদি ‘মুক্তমনা’ বৈশিষ্ট্য হারাতে হয়, তবে এই মুক্ত-ধর্ম মুক্ত হয় কীভাবে? এটা তো নীরেট ধাপ্পাবাজি। এখানে ‘অস্বীকৃতির’ কলেমাই হচ্ছে বড় কলেমা, এই মুক্ত ধর্মে পুরাতন ধর্মের মতো আরও কলেমা রয়েছে।

মুক্তমনা কম্পিউটারের উপমা দিয়ে বলতে চায় বিশ্বাসীদের মাথায় নাকি ভাইরাস ঢুকেছে, কিন্তু এখানেও সে ‘শব্দ’ নির্বাচন করছে, সে ‘উপমা’ নির্বাচন করছে। ভাইরাস তো বরং তারই মাথায়, কেননা প্রচলিত হাজার হাজার বছরের সামাজিক প্রথার 'কম্পিউটারে' সে ভাইরাসের কাজ করছে।

আবার যারা নিজেদেরকে ‘যুক্তিবাদী' মুক্তমনা ভাবতে যাবে, তারা নাকি “বিজ্ঞানমনষ্ক” হয়ে “সংশয়ী” দৃষ্টিকোণ দিয়ে মিথ ও অতিকথাকে বিশ্লেষণ করতে হবে। কিন্তু বিশ্লেষণের পরে কেউ খোদায় বিশ্বাসে উপনীত হতে পারবে না, কেননা সেই সিদ্ধান্তের বিপরীতে গেলেই সর্বনাশ – আপনি মুক্তমনা থাকতে পারবেন না! বলতে হয়, হায়রে ঢেঁকি! তুমিও কি ‘অনার্য’?

যুক্তি বটে, মুক্তমনা বটে!

প্রচলিত ধর্ম বলতে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এগুলোই জানি। মুক্তমনাদের সংজ্ঞাতে তারা কিছু পরিচিতি দেয়। তারা কারা? তাদের সংজ্ঞাতে, “নাস্তিক (atheist), অজ্ঞেয়বাদী (agnostic), সংশয়বাদী (skeptic), মানবতাবাদীদের (humanist) সাধারণভাবে ‘মুক্তমনা সদস্য’ হিসেবে গণ্য করা হয়।” [১]

এখানে যাদেরকে সাধারণভাবে (generally) ‘মুক্তমনা’ ধারণার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে তারা (অজ্ঞেয়বাদী/সন্দেহবাদী ও নাস্তিক মহল) ‘সাধারণভাবে’ মুক্তমনার প্রত্যয় ও দাবীতে নেই। ফুকো (Michel Foucault), লিয়োটার্ড, (Jean-François Lyotard), হাইডেগার (Martin Heidegger), রোরটি (Richard Rorty), ডেরিডা (Jacques Derrida) এবং এমন আরও অনেক পোস্টমডার্ন দার্শনিক রয়েছেন যাদের কেউ অজ্ঞেয়বাদী, কেউ নাস্তিক কিন্তু ওরা এনলাইটনম্যান্টের (বিজ্ঞানবাদ ও যুক্তিবাদের মাধ্যমে মানব জাতির সব সমস্যার সমাধানের চিন্তা, বা তাদের যুক্তিতেই মুক্তি, বিশ্বাসীরা যুক্তিহীন, ভাইরাস-মস্তিষ্কসম্পন্ন ইত্যাদি) metanarrative থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ফুকো মুক্তিবাদের (emancipation) বক্তব্যে বিশ্বাসই করতেন না, বরং প্রত্যেক emancipatory বক্তব্যকে এক ধরণের শৃঙ্খল থেকে আরেক ধরণের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার আহবান মনে করতেন। রোরটি এগুলোকে ভাষার খেলা মনে করতেন (দেখুন Contingency, Irony, and Solidarity)। তার কাছে এগুলো এক শ্রেণীর শব্দমালার মোকাবেলায় আরেক শ্রেণীর শাব্দিক ব্যবহারের যুদ্ধ। সুতরাং এখানে আমভাবে অজ্ঞেয়বাদী ও নাস্তিক্যবাদীদের ‘মুক্তমনা’র দর্শনে টানা সঠিক নয় – সবাই মুক্তমনা-জাত সপ্তদশ/অষ্টাদশ শতাব্দীর এনলাইটনম্যান্টের চিন্তায় নেই, সেই মেটানেরেটিভ এখন মৃত। (তবে এক গোষ্ঠী যে এটাকে ধরে রাখতে চাইবে না, এমনটি তো হয়না)। এখন একদল গোঁড়াপন্থি-নাস্তিক অপরের ধর্ম নিয়ে ক্যাট-ক্যাট, ঘ্যাঁট-ধ্যাঁটেই আবদ্ধ যারা বিশ্বের প্রচলিত ধর্মগুলোকে উড়িয়ে দিয়ে ধরায় মানব-স্বর্গ রচনা করার উদ্দেশ্যে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব/বিদ্বেষ ছাড়াচ্ছে। এইসব মিলিট্যান্ট কর্মকাণ্ডে সকল নাস্তিক ও অজ্ঞেয়বাদী জড়িত নন। আমাদের অনেক শিক্ষক, সহপাটি ছাত্র, কর্মজীবনে অনেক লোকের মধ্যে নাস্তিক ও অজ্ঞেয়বাদী দেখছি যাদের কাউকে মুক্তমনা প্রত্যয় ও কর্মে দেখিনি। সুতরাং ‘উগ্র-বঙ্গাল-গোঁড়া-নাস্তিকরা’ সকল অজ্ঞেয়বাদী ও নাস্তিককে এক ভাবা সঠিক নয়। সমাজে যতটুকু সাম্প্রদায়িক সু-সম্পর্ক রয়েছে বঙ্গাল গোঁড়ারা সেই অবশিষ্ট শান্তিটুকু নস্যাৎ করতে ধর্ম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। এরা নাস্তিক মৌলবাদী।  

'মুক্তমনা' বলে, “মুক্তমনাদের আস্থা তাই বিশ্বাসে নয়, বরং যুক্তিতে", তাহলে ‘খোদা-নাই, বা আছেন’ এটা বিশ্বাস না যুক্তি? এই প্রশ্ন নিরসন না করে প্রবক্তা যখন ‘মুক্তমনাদের আস্থা তাই বিশ্বাসে নয়, বরং যুক্তিতে’ তখন সে কী বলছে তা বুঝে বলছে, না নির্বোধের মতো বলছে, সেটাই হয়ে পড়ে মূল প্রশ্ন।

ধার্মিক কি মুক্তমনা হতে পারে?

ধার্মিক কি মুক্তমনা হতে পারে? না। মুক্তমনার দৃষ্টিতে যে ব্যক্তি আল্লাহতে বিশ্বাস করবে সে মুক্তমনা হতে পারবে না। কেন? এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে মুক্তমনা যে যুক্তির কসরত করেছে, (হাসি সম্বরণ করে) সেই কসরত দেখা যাক। এই “যুক্তি” মুক্তমনা সাইটের পরিচিতি থেকে গৃহীত [1] )। বিষয়টি স্পষ্ট করতে স্কয়ার বন্ধনীর ভিতরে নীল রঙের লেখায় আমার নিজের কথা সংযোগ করেছি ও আন্ডারলাইনিং ব্যবহার করেছি।

 কোন ধার্মিক যদি মুক্তমনে তাঁর ধর্মবিশ্বাসকে বিশ্লেষণ করতে পারেন, তবে তাঁর নিজেকে মুক্তমনা বলতে আপত্তি থাকার কথা নয়[লক্ষ্য করুন বিশ্বাসকে ‘বিশ্লেষণ করতে পারাকেই’ ‘মুক্তমনা’ বলা হচ্ছে। বিশ্লেষণের ক্ষমতাই কি সঠিক যুক্তি? তারপর এখান থেকেই কুযুক্তি লক্ষ্য করুন] কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁরা তা না করে নিজের ধর্মটিকেই আরাধ্য মনে করেন, কোন কিছু চিন্তা না করেই  নিজের  ধর্মগ্রন্থকে ‘ঈশ্বর-প্রেরিত’ বলে ভেবে নেন [এখানে অন্যদের উপর নিজ ধারণা প্রক্ষেপণ করা হচ্ছে। ওপিনিয়ন এবং প্রেজুডিস প্রকাশ পাচ্ছে। তারপর, তারা বুঝি কোনো চিন্তা ভাবনা ছাড়াই নিজ ধর্মকে ঈশ্বর প্রেরিত মনে করেন? কীরে পণ্ডিত! কী হচ্ছে এসব? তারপর, বিশ্বাসীর চিন্তা-ভাবনা কী কোনো যৌক্তিক, ভাষিক ও দার্শনিক পথ অতিক্রম করে আসেনি – এটা কিভাবে জানা হল?  কি হচ্ছে ? এখানে শুধু  হেয়ালিভাবে বাক্য রচনা হচ্ছে!]  স্রেফ ঘটনাচক্রে  [?] পৈত্রিক-সূত্রে পাওয়া যে ধর্মটিকে ‘নিজের’ বলে মনে করেন সেটাকেই ঈশ্বরের মনোনীত একমাত্র ধর্ম বলে বিশ্বাস করেন। আমাদের মতে [স্রেফ? আবার, পৈত্রিক সূত্রে পেলেই কি তা বর্জনীয় হতে হবে? নাস্তিকতাবাদের ধারণা কি মুক্তমনারা প্রবর্তন করেছে, না তারা অন্যের সূত্রে তা প্রাপ্ত? মুক্তমানাদের যুক্তিহীনতা দারুণভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। এখন, বিশ্বাসকে ‘বিশ্লেষণ করতে পারার  পরও তা ত্যাগ করতে হবে!  এখানে তাদের নিজ খোঁড়া যুক্তিই বড় সমস্যা।] কোন ব্যক্তি শুধুমাত্র শোনা [শুধুমাত্র শোনা কথা?] কথার ভিত্তিতে বাইবেল, কোরান বা বেদকে অন্ধভাবে [অন্ধভাবে!] অনুসরণ করে, বা নবী-রসুল-পয়গম্বর-মেসীয়তে বিশ্বাস করে নিজেকে কখনোই ‘ফ্রি থিঙ্কার’ বা মুক্তমনা বলে দাবি করতে পারেন না [কিন্তু অন্ধভাবে খোদা-নাই বললে সে মুক্তমনাই থেকে যাবে?] মুক্তমনাদের আস্থা তাই বিশ্বাসে নয়, বরং যুক্তিতে [১]। [এখানে যুক্তিহীনতা দারুণভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই প্রকৃতির লোকই হচ্ছে যুক্তির দাবীদার!]

এই প্যারাগ্রাফটি মুক্তমনাদের যুক্তির একটা নমুনা হিসেবে নেয়া যেতে পারে। প্রথমে “কোন ধার্মিক যদি মুক্তমনে তাঁর ধর্মবিশ্বাসকে বিশ্লেষণ করতে পারেন, তবে তাঁর নিজেকে মুক্তমনা বলতে আপত্তি থাকার কথা নয়” কিন্তু “মুক্তমনাদের আস্থা তাই বিশ্বাসে নয়, বরং যুক্তিতে।” একজন যুক্তিবাদী কিভাবে এই প্যারাগ্রাফ তৈরি করতে পারে এবং নিজের যৌক্তিক দুর্বলতা দেখতে পায়না, সেটাই হয় যৌক্তিক প্রশ্ন। এত ধানাই পানাই কেন? এক ব্যক্তি তার বিশ্বাসের যৌক্তিক justification কার কাছ থেকে গ্রহণ করবে? (প্রোপাগাণ্ডিস্ট ইসলাম-বিদ্বেষী নাস্তিকদের কাছ থেকে?) বড় বড় দার্শনিকদের অনেকে বিশ্বাসী ছিলেন এবং অনেকে ছিলেন না। এই justification এর জন্য কি কোনো স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি রয়েছে যে এর মধ্যে arbitration করবেন, না উপরের বাক্যটি যে মুক্তমনা তৈরি করেছেন তার ‘যুক্তিই’ হবে শেষ কথা? এই প্যারাগ্রাফে উগ্র নাস্তিকরা যে অন্ধমনা, মৌলবাদী এবং ধাপ্পাবাজ – তা নিজেরাই প্রমাণ করে।

এই তথাকথিত মুক্তমনাদের দৃষ্টিতে আজন্ম লালিত ধর্মীয় ও সামাজিক বিবর্তনমূলক সকল সংস্কৃতি 'অপসংস্কৃতি'। তাদের জিহাদও তাদেরই যুক্তিপ্রসূত “অপসংস্কৃতির” বিরুদ্ধে!

এখানেও তারা অপরের সংস্কৃতিকে ‘অপসংস্কৃতি’ বলছে, ইতিবাচক শব্দ তাদের, এবং নেতিবাচক শব্দ ওদের। এবারেই হয়তো স্পষ্ট যে কেন তারা নিজেদের জন্য এক শব্দ-শ্রেণী ব্যবহার করে এবং প্রতিপক্ষের জন্য আরেক ধরণের শব্দ-শ্রেণী (নিজেরা মুক্তমনা, যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনষ্ক ইত্যাদি আর প্রতিপক্ষ ধর্মান্ধ, যুক্তিহীন, বিজ্ঞানবিমুখ) ব্যবহার করে। এটাই তাদের নতুন ধর্ম। এই ধর্ম এতই অন্তঃসারশূন্য যে অপরের বিপক্ষে প্রোপাগাণ্ডা ছাড়া নিজের ধর্মে এমন কিছু নেই যা দিয়ে তাদের প্রচারণা কার্য চালাতে পারে।

মুক্তমনারা কি ধর্ম-বিরোধী?

মুক্তমনাদের ধাপ্পাবাজির নমুনা আরেকটি প্যারাগ্রাফ থেকে নেয়া যাক। এখানেও তাদের শব্দ চয়ন, বাক্য গঠন ও প্যারাগ্রাফের প্রথমাংশ, মধ্যাংশ এবং শেষাংশের দিকে কী হচ্ছে তা খেয়ালে রাখবেন। আগের মতো, স্কয়ার বন্ধনীর নীল রঙের লেখায় আমাদের কথা এবং বোল্ডিং ও আন্ডারলাইনিং আমাদের, উৎস প্রাগুক্ত।   

মুক্ত-মনারা ধর্ম-বিরোধী নয়, বলা যায় অনেক মুক্তমনাই ধর্মের কঠোর সমালোচক। কারণ তাঁরা মনে করেন ধর্ম জিনিসটা পুরোটাই মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। মুক্তমনারা সর্বদা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির [বরং সপ্ত/অষ্টাদশ শতাব্দীর  selective দৃষ্টিভঙ্গি!] প্রতি আস্থাশীল, আজন্ম লালিত কুসংস্কারে নয়। কুসংস্কারের কাছে আত্মসমর্পণ আসলে নিজের সাথে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়। তবে মুক্তমনাদের ধর্ম-বিরোধী হওয়ার [আগের আন্ডারলাইনিংটা স্মরণ করুন এবং হাসি সামলিয়ে পরের generalised প্রোপাগাণ্ডামূলক বাক্য রচনা দেখুন!] একটা বড় কারণ হল, ধর্মগুলোর মধ্যে বিরাজমান নিষ্ঠুরতা। প্রতিটি ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন আয়াত এবং শ্লোকে বিধর্মীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা হয়েছে ঢালাওভাবে, কখনো দেয়া হয়েছে হত্যার নির্দেশ। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ধর্ম আসলে জ্বিহাদ, দাসত্ব, জাতিভেদ, সাম্প্রদায়িকতা, হোমোফোবিয়া, অ-সহিষ্ণুতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারী নির্যাতন এবং সমঅধিকার হরণের মূল চাবিকাঠি হিসেবে প্রতিটি যুগেই ব্যবহৃত হয়েছে।

‘মুক্ত-মনারা ধর্ম-বিরোধী নয় … তবে মুক্তমনাদের ধর্ম-বিরোধী হওয়ার’ কারণ আছে। কেননা ধর্ম মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত, ধর্ম কুসংস্কার, আর মুক্তমনারা ‘বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির’ অধিকারী! নিজেদের ব্যাপারে সুন্দর সুন্দর বাক্য রচনা, ইতিবাচক শব্দ চয়ন এবং প্রতিপক্ষের ব্যাপারে বিপরীত ধরণের বাক্য ও শব্দ নির্বাচন – এগুলো হচ্ছে এই ধাপ্পাবাজদের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি। যারা একটি প্যারাগ্রাফের সীমানায় যুক্তি টিকিয়ে রাখতে পারে না, তারাই অপরকে যুক্তি শিখাতে চায়, যে নিজেই বিদ্বেষ ছড়ায় সে’ই আবার অপরের বিদ্বেষ নিয়ে সংগীত রচনা করে, নিজের prejudice অন্যের উপর ধারণ করে। এটাই হচ্ছে উগ্র-পন্থি নাস্তিকদের আলোকিত পথ, এনলাইটনম্যান্ট

মানব জাতির ইতিহাসে মানুষ অনেক পথ অতিক্রম করেছে এবং এখনো করছে। অতীতে যেমন মানুষে মানুষে হানাহানি করেছে, তেমনি আজও করছে। আগেও যুদ্ধ হয়েছে, এখনো হয়। সকল দ্বন্দ্ব সংঘাতে অনেক ধরণের উপাদান কাজ করতে দেখা যায়। এসবের মধ্যে স্থানভেদে ধর্মও ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। কিন্তু দ্বন্দ্ব-সংঘাতে মানুষের লোভ-লালসা, তাদের প্রকৃতিজাত হিংস্রতা, আমিত্বের-প্রভাব, সমঝের ভিন্নতা, গোত্রীয় স্বার্থ, রাজকীয় স্বার্থ, রাজ্য বিস্তৃতি, অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব ইত্যাদি অনেক কিছু কাজ করত এবং এখনো করে। কিন্তু ধাপ্পাবাজ অজ্ঞতাবশত অথবা তার নিজ নাস্তিক্যধর্ম প্রচারের জন্য দুনিয়ার (অতীত-বর্তমানের) সব দাঙ্গা-হাঙ্গামাকে ধর্মের সাথে সংযুক্ত করে, এবং জোড়াতালি দিয়ে ধর্মের বিপক্ষে প্রোপাগাণ্ডা করে। মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের স্থানে আক্রমণ করে।

কোন নাস্তিক ব্যক্তি যদি ভাবে যে “কুসংস্কারের কাছে আত্মসমর্পণ আসলে নিজের সাথে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়”, তবে এটা তার নিজের বেলায় গ্রহণ করাতে কারও আপত্তি নেই। কিন্তু তার নিজ ব্যাখ্যার আলোকে অপরের বিশ্বাস ও প্রথাকে অপসংস্কৃতি সাব্যস্ত করে, তাদের উপর চড়াও হওয়া সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না, এই অধিকার তার নেই। আবার এক ব্যক্তি যদি তার নিজ অযৌক্তিকতাকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি মনে করে, তবে সে স্বাধীনতা তার আছে, কিন্তু অন্যের উপর চড়াও হওয়ার স্বাধীনতা তার নেই। এটা সভ্য নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। উগ্র-নাস্তিকতাকে এক ধরণের হিটলার-মানসিকতার সাথে তুলনা করলে হয়তো অত্যুক্তি হবে না। প্রয়াত মিলিট্যান্ট নাস্তিক হিচেন্স ছিলেন ইরাক আক্রমণের প্রবক্তা, স্যাম হ্যারিস শুধু সে যুদ্ধের পক্ষেরই নন বরং বোমা ফুটিয়ে গোটা আরব-ভূখণ্ডের সকল আরব মুসলমানদেরকে উড়িয়ে দেয়ার পক্ষেও। এই হচ্ছে তাদের মানসিকতা।

ওদের যুদ্ধ, ওদের প্রোপাগাণ্ডা, ওদের মিথ্যাচার হচ্ছে ধর্মের বিরুদ্ধে – এটা তাদের নিজ কথাতেই প্রতিষ্ঠিত। তাদের থলের বিড়ালটি তারা বেশিক্ষণ লুকিয়ে রাখতে পারেন না। তাদের প্যারাগ্রাফের শুরুতে এককথা, মধ্যখানে এককথা এবং শেষাংশে আরেক কথা – কিন্তু তবুও বিজ্ঞান-মনস্ক, যুক্তিবাদী!

শেষ কথা

আমাদের শেষ কথা হল এই যে আজকের বিশ্ব সভ্যতার মূলে রয়েছে ধর্মীয় সংস্কৃতির রূপায়ণ। প্রত্যেক ব্যক্তিই তার সমাজের সন্তান। তার সভ্যতা তার ভাষাকে যেভাবে সাজিয়েছে, সে বাল্যকালে ভাষায় প্রবেশ করার সাথে সাথে সেই ভাষাই তার সজ্ঞাকে সচেতন করে, তাকে ‘আমিত্বের’ চেতনায় আনে। সে ভাষা ও সংস্কৃতিতে সৃষ্ট চৈতন্যময়ী সত্তা। তার যুক্তির ব্যবহার ভাষিক, কিন্তু ভাষা বস্তুর আয়না নয়, বস্তুর প্রতিনিধিও নয়, যুক্তির ভাষিক ব্যবহারে সে যে ‘সত্য/অর্থ’ উপস্থাপন করে, সেই সত্যের আয়না হয়ে ব্যবহৃত শব্দমালা কাজ করে না। সে যে বস্তুকে তার যুক্তিতে ‘সত্য’ ভাবে, সঠিক ভাবে, তার সত্যের definition-কে পুনরায় যুক্তির scaffolding-এ তুলে ধরলে (এবং পরতে পরতে বিশ্লেষণ শুরু করলে) তার ধারণার ভিন্নতার ভিন্ন ভিন্ন দিক দেখতে পারবে। যুক্তি ও বিজ্ঞানবাদের ধর্মীয়রূপ অনেক পুরাতন। [এ বিষয়ে দু'টি লেখা এখানে [২] এবং এখানে [৩] দেখা যেতে পারে]। এই মুক্তমনারা সপ্ত/অষ্টদশ শতাব্দীর এনলাইটনম্যান্টের ‘ধর্মের-মতো’ প্রত্যয়ে নিমজ্জিত।

অনেকক্ষণ যারা লেখাটি পড়েছেন, তারা এই প্রসঙ্গের সাথে মিল-রাখা একটি ভিডিও দেখে শেষ করতে পারেন, যদি সে ধৈর্য্য থেকে গিয়ে থাকে। [৪]

________________________

[১] মুক্তমনা এডমিন, (২০০৮) মুক্তমনা কী? মুক্তমনা [অনলাইন] available at: http://mukto-mona.com/bangla_blog/?page_id=519 [Accessed 10 Oct 2012]

[২] এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত লেখা (উপরে লিঙ্ক করা) হল, “যুক্তি, বিশ্বাস ও কোরান” লেখাটি দেখা যেতে পারে এবং সাথে করে  মন্তব্য সেকশন – মন্তব্য 4.1, দ্বিতীয় আলোচনাঃ যৌক্তিক সমস্যা

[৩] এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত দ্বিতীয় লেখা (উপরে লিঙ্ক করা) 'Rationality and religion'

[*] এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত আরেকটি লিঙ্ক করা লেখা এখানে 'দ্যা এনলাইটনম্যান্ট' 

[৪] videonation. (2008). Hedges Vs. Hitchens. [Online Video]. Feb 22, 2008. [Accessed: 13 October 2012]. (URL Address দিলে ভিডিও লিঙ্ক ডবল হয়ে যায়, তাই এখানে repeate করা হল না)

৭২ comments

Skip to comment form

  1. 31
    এম_আহমদ

    এই বিষয়টি দেখুন। LINK. বিষয়টি ইভোলুশন –বিজ্ঞান না বিশ্বাস? চিন্তা করুন ধর্ম তার বিশ্বাসকে 'বিশ্বাস' হিসেবেই প্রচার করে, বিজ্ঞান হিসেবে নয়। কিন্তু ইভোলুশনকে এতই নিশ্চিতভাবে প্রচার করা হয় যে প্রচারকরা ভাষা ও শব্দ চয়নে কোন ধরনের সম্ভাব্যতা, অনিশ্চয়তা, সন্দেহ এমন কিছুরই স্থান দেন না। কথা এমনভাবে বলেন না যে in light of our studies it ‘seems’ such and such ‘could be’ the case. অথচ এই বিজ্ঞানের প্রবক্তাদের বাণীকে interrogate করলে তাদের অবস্থান অনেকটা ধর্মীয় বিশ্বাসের মত প্রতিভাত হয়।

    1. 31.1
      মহিউদ্দিন

      সহজ কথায় ইভল্যুশন পন্থীরা যে এক ধরনের অন্ধ বিশ্বাসী এই লিংকের ( LINK.) ভিডিওটি দেখে বুঝা যায়।

      None of them could produce a single observable evidence of evolution which has change the kind of a species to differnt kind. In other words they could not give any example of evidence that has changed from one kind to another! All in theory only.

      তারা তাদের বিশ্বাসকে বিজ্ঞান হিসেবে প্রচার করে কিন্তু আসলে তা সত্য নয় এটাই এই ভিডিওতে প্রকাশ পেয়েছে?

      ধন্যবাদ।

  2. 30
    এম_আহমদ

    What it’s like to convert to Islam – when everyone thinks you’re a terrorist

    This article gives a new twist to the claim of secular tolerance. Everyone can say they are tolerant until the moment arrives, when one faces the situation where tolerance is tested. At the end of the day it's the old world, the very same.

  3. 29
    milon

    অসাধারণ

  4. 28
    জাহাঙ্গীর

    কিসের মুক্তমনা এরা হল ভন্ডমানা
    সারা দুনিয়াযখন লক্ষ লক্ষ লোক ইসলাম গ্রহন করছে তখন বিজাতিরা ইসলামের গতি থামানোর চেস্টা করছে ওদের মধ্য দিয়ে।
    লক্ষ্য করুন সারা দুনিয়াতে এদের জায়গা হয় না কিন্তু আমেরিকা এদের জায়গা দেই আর সারা দুনিয়াতে যুদ্ধ বাধিয়ে রাখলেও আমেরিকা বিষয়ে এরা কিন্তু ভন্ডমনা।
    আপনি ভাবতে পারেন অবিশ্বাসের যে দুনিয়া এরা গরতে চাই তার ভবিসত কতাটা ভয়ংকর।
    আপনি লক্ষ্য করে দেখেন এরা শুধু ইসলাম নিয়ে বাজে কথা বলে কারন ইসলাম তাদের কাংকিত সমাজের পথে বাধা দেয় যা অন্য ধমগুলোয়ে কম আছে।
    আর তাই ওদের target হল ইসলাম কিন্তু আল্লাহ নিজেই যে ইসলামের হেফাজত করছেন তা নিয়ে আমাদের ভয় পাবার কিছু নাই।

    1. 28.1
      এম_আহমদ

      মুক্তমনা হচ্ছে একটি সেকেলে ধারণা (সপ্তম শতাব্দীর)। এই ধারণাকে জন্মলগ্নেই তার অসারতা দেখানো হছে। লারে-লাপ্পা ফালতুরা এটাকে আবার ব্যবহার করতে শুরু করেছে। বঙ্গাল ফালতুরা নিজেদেরকে জাতির 'সেরা' সন্তান বলে উল্লেখ করতেও লজ্জাবোধ করে না। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  5. 27
    মিলন

    মানুষ জ্ঞান অর্জন করে ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে। আর প্রতিটা ইন্দ্রয় ই আমাদের ত্রুটি পূর্ন জ্ঞান দান করে। সেটা কোন বস্তু জ্ঞান হোক, আর ঈশ্বর জ্ঞান ই হোক। আমাদের পাঁচটা ইন্দ্রিয়, পাঁচটাই প্রতিনিয়ত ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর ত্রুটিপূর্ন তত্ত্ব মস্তিষ্কে পাঠায়, যা হতে ত্রুটিপূর্ন জ্ঞান পেয়ে থাকি। নবীগন যেমন এই হিসাবের বাহিরে নন, তদ্রুপ বাহিরে নয় দেব দেবতা গনও, এমনকি স্রষ্টা নিজেও। আর আমাদের কথা তো বলাই বাহুল্য।

    1. 27.1
      এম_আহমদ

      এবারে আপনার অবস্থান স্পষ্ট হল। আপনার ভাষা এবার তার পরিচিতিতে আসছে। আপনার মন্তব্য আপনার ধারণাই বহন করে। প্রথম বাক্য ছাড়া বাকিটুকু ভুল। বস্তু-জগতের যে প্রকৃতি, প্রেক্ষিত ও কাটামো রয়েছে, মানুষের ইন্দ্রীয়জ্ঞানও অনেকাংশে সেই প্রেক্ষিত ও প্রকৃতির প্রতিফলনে হয়। ইন্দ্রীয়লব্ধ সব জ্ঞান ভুল হবে না। আপনার ধারণা সঠিক নয়। ইন্দ্রীয়লব্ধ ‘সব’ জ্ঞান যদি ‘ত্রুটিপূর্ণ’ হত, তবে আমাদের নিয়ন্ত্রিত (organised) অস্তিত্ব গড়ে ওঠত না, টিকেও থাকত না এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাপন সম্ভব হত না। নবীদের অহীলব্ধ জ্ঞান নির্ভুল নয় -এমন বিষয় নিয়ে আমি আপনার সাথে সময় নষ্ট করব না। আমরা অন্য ধর্মের অবতারদের সাথে নবীদের কথা ভাবি না। ইসলামে স্রষ্টার ধারণাও ক্ষেত্র বিশেষে অপরাপর ধর্মের ধারণা থেকে ভিন্ন। আমাদের স্রষ্টা ভুলের ঊর্ধ্বে। অন্য কথায়, আমাদের স্রষ্টা যা’ই করেন –তাই আমাদের ভাষা ও জ্ঞানে শুদ্ধ।

    2. 27.2
      Wings of Fire

      //নবীগন যেমন এই হিসাবের বাহিরে নন, তদ্রুপ বাহিরে নয় দেব দেবতা গনও, এমনকি স্রষ্টা নিজেও। //

      -- হেঁহেঁ

    3. 27.3
      এম_আহমদ

      @ মিলন, এক কাজ করেন। মুসলমান হয়ে যান, নামাজ পড়েন, এক আল্লাহর ইবাদত করেন। কিছু দিনের মধ্যেই শান্তির পরশ অনুভব করবেন। দুনিয়া ও পরকালে কল্যাণ হাসিল করবেন।

      ইসলামের কথা ভাবতে গেলেই শয়তান আপনার মাথায় তালিবান, বুকো-হারেম ইত্যাদি তুলে আনবে কেননা আপনার মাথা তার দখলে।  এক আল্লাহর ইবাদত শুরু করে দিলে শয়তান থেকে মুক্তি পাবেন। আমি অনুমান করি আপনার জীবন অশান্তিতে কাটছে, আপনি হয়ত একাকিত্বে ভুগছেন। 

      1. 27.3.1
        kumar mondol

        Milon Bhai,

        Be aware of  M. Ahmad,

        Last time we exchanged our thoughts, it ended this way.

        Ahmad,

        “Have I done anything to your mother or sister, that you know of, to qualify this?”

        “Can it be that, as many Hindus hold that Muslims rulers were rapists, your family could have been the result of the bastardy?]”

        Your comment: True nature of a perverted muslim. Even living in UK for forty years can not cure your pervert nature.

        You are a retarded person, no question about that. You are beneath the human dignity, you are a sub-human living being, worse than even an animal.

        1. 27.3.1.1
          এম_আহমদ

           

          “Have I done anything to your mother or sister, that you know of, to qualify this?” “Can it be that, as many Hindus hold that Muslims rulers were rapists, your family could have been the result of the bastardy?]”

          And it was responded in this way because of your filthy unwarranted swearing with such word as 'bustard'! You forgot that! Had it not been for the intervening of the Admin in regard to your uncivilised pervert behaviour, you would have received some more of this to suite your type.

          Now you are into my comment box addressing your “brother”! More interestingly, hiding the main thread of the conversation which occurred in the article posted by Dr. Habib Siddiquei.  

          The chain of comments can still be read there starting from comment no: 7. At comment no: 6, you accused Dr. Siddiqui of not being civilised, ‘Let us keep the debate civilized.’ Dr. Siddiqui had rightly spoke of you as, “One can only take pity at Kumar Mondol's diatribe. He seems to suffer from serious psychiatric problem entertaining animosity towards anything Muslim, let alone comprehension in English … Apparently, Mondol's education on history is also quite limited, who accepts as Veda Bakya everything that is written in the Wikipedia. With such a fountain of knowledge, one will only make a fool of oneself!”

          (1) These can be seen in Dr. Siddiqui’s article, here, ‘The Question of ‘Endangered’ or ‘Dying’ Hindus.’

          (2) Your ignorance and diatribe can be seen also in Munim Siddiqui’s blog  At Munim Siddiqui, comment 9 also at comment 14.1, Comment 15

          (3) More in Mohiuddin’s blog, http://www.shodalap.org/mohi/21505/ Truly you are an exemplary one to ‘suffer from serious psychiatric problem’.

          Now you have come to “advise” your “brother”, as though you are an angel having the treasure-house of wisdom!  Does he truly need help from such a one who himself 'suffer[s] from serious psychiatric problem entertaining animosity towards anything Muslim?' That would be interesting! Let me tell you this: You give him your total support and see if he can stand his ground, you can join him too.

  6. 26
    মিলন

    মুক্তমনা, মুক্ত, স্বাধীন এসব শব্দগুলোকে মানুষ কি দৃষ্টিতে দেখে, তা আমার বোধগম্য নয়। একটা গাছকে একজন কাঠুরে দেখে কাঠের হিসাব করবে, একজন কবি গাছের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কবিতা লিখবে, দার্শনিক গাছের মহত্ব দেখবে, বিজ্ঞানী দেখবে গাছ কিভাবে তার নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে নেয়। একেক জনের দৃষ্টি ভংগি একেক রকম। এখানে কাঠুরে যদি তার দেখাকে সঠিক মনে করে, অন্যদের দেখাকে ভুল, কিংবা বিজ্ঞানী তার দেখাকে ঠিক মনে করে অন্যদের দেখাকে ঠিক মনে করে, তবে সেটাও হবে বোকামীর সামিল। এখানে মুক্ত চিন্তা এটাই হবে যে, সব দিকের জ্ঞানের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সিন্ধান্ত নেয়া। জ্ঞানের ও রয়েছে বেশ কয়েকটা দিক। শুধু মাত্র একদিকের জ্ঞান নিয়ে কোন বিষয়ের ব্যাখ্যা করা মুক্ত মন বা মুক্ত চিন্তার মাঝে পরে না।

    1. 26.1
      এম_আহমদ

      সুন্দর বলেছেন। কথাটি আমি এভাবে বলে থাকি। আমরা জগতকে “মাধ্যমের” প্রক্রিয়ায় দেখছি। আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে। যেমন, খালি চোখে দেখা জগত। ধরুন চোখ একটি instrument. এই চোখের উপর যে ধরণের লেন্স বসানো হবে তা জগতকে সেই লেন্সের নিরিখে দেখাবে। প্রত্যেক যন্ত্র বা লেন্সই 'দেখার প্রেক্ষিতে' জাগতিক নতুন ব্যাখ্যার পরিসর হাজির করতে পারে। এক্সরে মিশিনের মাধ্যম, ভিন্নজাত লেন্সের মাধ্যম, অতি ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রস্কোপ ও টেলিস্কোপের মাধ্যম ইত্যাদি আমাদের জগত দেখার অবস্থানকে ভিন্ন করে। বাদুরের অনুভূতির জগত, সাপে দেখার জগত, পিপীলিকার দেখা ও অনুভূতির জগত ইত্যাদিতে দেখার পার্থক্য রয়েছে। তপস্যায় অন্তর্ধানেও জগতকে অনুভব করার আরেকটা স্থান রয়েছে। এই জগত মলিক্যালার, ক্ষুদ্রাংশে অনু-পরমানু। আমাদের দেখার মাধ্যমও সেই অনু পরমানু গঠিত বস্তু। ধরুন বস্তুই বস্তুর দিকে তাকাচ্ছে। আমাদের যে মগজ দৃষ্ট-data process করছে তাও সেই অনু-পরমানু গঠিত। বস্তু বস্তুকে interprete করছে। জীন ও ফেরেস্তাগণ হয়ত অন্যভাবে দেখে থাকবেন। প্রত্যেক স্থান তার আপন স্থানে সঠিক। কিন্তু বিগত ৩ শো  ধরে এক শয়তানী চক্র ‘যন্ত্রদৃষ্ট’ জগত ব্যাখ্যাকে আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করার এক কৌশল হিসেবে ‘ব্যবহার’ করছে এবং রাষ্ট্রকে করায়ত্ত করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ‘তাদের দেখার’ অনুকূল করে সাজিয়েছে। আজ মানুষ এক চরম বিধ্বংসী ব্যাখ্যায় হাজার হাজার বছরের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ হারিয়ে নিছক যৌন-প্রাণীতে পরিণত হয়েছে।  বিজ্ঞান আর যুক্তির দোহাই দিয়ে বন্য-প্রাণীর প্রতিযোগিতায় স্থাপন করেছে।         পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  7. 25
    kotha kobita

    @এম_আহমদ

    শুভ সকাল। "আল্লাহরই রাজত্ব আকাশ ও ভূমন্ডলের,তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি প্রদান করেন, যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আল্লাহ্‌ সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।" — আল কোরান।

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘজীবন কামনা করি।

  8. 24
    kotha kobita

    @এম_আহমদ

    সদালাপে আমি লেখা পাঠাতে চাই, কি ভাবে পাঠাবো, জানালে ভালো হত। আমার খুব ভালো লেগেছে আপনাদের পরিশীলিত লেখা ও মন্তব্য। অন্যের উপর শ্রদ্ধা রেখেই কত সুন্দর করে নিজের মন্তব্য ও বক্তব্য তুলে ধরা  যায়। ইসলাম বিদ্বেষী প্ররোচনা ইদানিং খুব বেড়ে চলেছে। মনে হয় চুপ থাকার সময় নেই। অনেকেই ব্লগ সম্পর্কে অজ্ঞ। ফেসবুকেই অধিকাংশ মানুষের পদচারণা। আপনাদের ফেসবুকে একাউন্ট আছে কী না জানি না। আমার আছে কথা কবিতা নামেই। এখানে আমি বলতে গেলে একাই যুদ্ধ করে যাচ্ছি। আমার ৫০০০ ফ্রেন্ড এবং তিন হাজার ফলোয়ারস আছে। আপনাদের একাউন্টে আমাকে এড করলে আমাদের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে কথাগুলো অন্যের কাছে পৌছে যেতো। ফেসবুকে অনেক মুসলিম আছেন, যারা বিজ্ঞানী হিসেবে অভিজিতের পক্ষ হয়ে ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলছে। ব্লগার হিসেবে অভিজিতের রূপটা ওদের অজানা। আপনাদের এই লেখাগুলো একটু সংক্ষিপ্ত করে, এবং অভিজিতের বিবর্তিত রূপ যদি তুলে ধরা  হতো, তাহলে কিছুটা হলেও ওদের বোধদয় হতো। আর একটা বিষয়ে একটু খোঁজ নিতে অনুরোধ করছি। টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সিটিতে টেরোরিজম এ্যান্ড ইসলাম নামে একটা শর্টকোর্স খোলা হয়েছিল। তখন থেকেই আমার মনে হয়েছে এটা একটা সুদূরপ্রসারী স্লো পয়জন।  মধ্য ফেব্রুয়ারিতে এক খবরে দেখলাম, যুক্তরাষ্ট্রে আগে যেখানে ইসলাম বিরোধীর সংখ্যা ছিল শ কয়েক, এখন তা কয়েক লাখে ছড়িয়ে গেছে। এরপরই ঘটে অভিজিত হত্যাকান্ড। আমি এর আগেই পড়েছিলাম অভিজিতের লেখা "একজন নাফিস ও বিশ্বাসের ভাইরাস" নামক নিবন্ধটি। লেখাটি পড়ে কেনো জানি মনে হয়েছে অভিজিত এই কোর্স সম্পন্ন করেছিল। আর অভিজিতের লেখা থেকে আমার এও মনে হয়েছে। সে আমেরিকার এজেন্ট হিসেবে ইসলাম বিদ্বেষ কাজটা নিপুনভাবে করে যাচ্ছিল। আপনাদের যদি সে রকম সোর্স থাকে তাহলে বিষয়টা নিশ্চিত করে জানা যেতো। পুরো পৃথিবীতে আমেরিকা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইসলাম নিধনে যে লিপ্ত, এরকম ভাবাটা মনে হয় অমূলক নয়।
    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

     

    1. 24.1
      শাহবাজ নজরুল

      সদালাপে লেখা পাঠাবার নিয়ম উপরে লিংক আকারে দেয়া আছে। এখানেও দিলাম …

       

      http://www.shodalap.org/admin/19062/

       

      1. 24.1.1
        kotha kobita

        অনেক ধন্যবাদ শাহবাজ নজরুল। আমি অভিজিতের বিবর্তিত রূপটা আমার ফেসবুক টাইম লাইনে দিতে চাই, প্রয়োজনে আপনাদের কোটেশনসহ। যদিও উনি মারা গেছেন। তার হত্যার ন্যায়বিচার চাই, তবে এও চাই তার প্রকৃত রূপ মানুষে জানুক। আপনার মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।

    2. 24.2
      এম_আহমদ

      @kotha kobita: সদালাপে লেখা বিষয়ে শাহবাজ ভাই আপনাকে লিঙ্ক দেখিয়ে দিয়েছেন –এজন্য তাকে ধন্যবাদ। আর হ্যাঁ, এখন চুপ থাকার সময় নেই। আমরা সবাই বিভিন্নভাবে সামাজিক অবস্থানে থাকি এবং প্রত্যেকেই নিজেদের অবস্থান থেকে ইসলাম ‘বিরোধ ও বিদ্বেষ’-এর জওয়াব দিতে পারি। এতে সামাজিক সংহতি, সুস্থতা ও নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। একদল লোক নাস্তিক ধর্মের জন্য কৌশলে ‘যুদ্ধ’ বাধিয়ে ইসলাম ও মুসলমাদের বিপক্ষে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছে। তাদের অনেক উদ্দেশ্যের মধ্যে এটিও একটি যে তাদের যুদ্ধের ‘ঠেলা খেয়ে’ কিছু মুসলিম এগ্রেসিভ হয়ে ওঠবে এবং এটাই হবে তাদের প্রোপাগান্ডার উদাহরণ। আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতি দেখুন। আজকের নানান ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হওয়া এই জাতির পাশে দাঁড়িয়ে যে কেউই যা কিছু করবে আল্লাহ তাদেরকে পুরষ্কৃত করবেন। লিখতে থাকুন, এটা অন্যদেরকেও উৎসাহ দেবে। আমাদের ধর্ম পাপেল (papal) ধর্ম নয়। এক পর্যায়ে আমরা সবাই নিজেদের দায়িত্বে অনেক কাজ করতে পারি। আপনাদের কথা আমাদেরকেও উৎসাহিত করে। এই অর্থই রয়েছে সূরা আল-আসরে। আমরা পড়ি, 'ওয়া তাওয়া সাওবিল হাক্কি, ওয়া তাওয়া সাওবিস সাবর' তারা পরস্পরকে যা সত্য ও ভালো সেই কাজের পরামর্শ দেয় এবং একে অন্যকে ধৈর্যের পথে চলার পরামর্শ ও উপদেশ দেয় (103:3)।  ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  9. 23
    এম_আহমদ

    [পাঠের আহবান] আজকাল লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নাস্তিক মহলের কিছু লোক ‘কিছু’ সত্য হয়ত বুঝতে শুরু করেছেন। তারা বলতে শুরু করেছেন  যে ‘নামে’ ‘বেনামে’ কিছু লোক মুক্তমনা সেজে ‘ঘৃণার চাষ’ করেছেন। তবে তাদের নিজেদের সাফাই গাইতে গিয়ে বলছেন মুক্তকথকদের কথা নাকি 'চেরি পিক' করা হয়েছে! কিন্তু তারা নিজেরাই যে কোরান হাদিসের টেক্সট-সম্ভার থেকে চেরি পিক করে সেগুলোতে নিজেদের ভুল ও মূর্খ-ব্যাখ্যা জুড়ে দিয়ে বিদ্বেষের অঙ্গন সৃষ্টি করেছিলেন তাতে নৈর্ব্যক্তিকতার পরিবর্তে তাদের নিজেদেরই “ধর্মান্ধতা” প্রকাশ পেয়েছিল। আজ যদি ইসলামের সমালোচনা তার সার্বিক বাণী ও টেক্সটসম্ভারের আলোকে সত্যিই নির্মোহ নৈর্ব্যক্তিকভাবে প্রকাশ পায় তবে আমরা তো অভিবাদন জানাব। সমাজ সকলের শান্তির স্থান হোক, এখানে কেউ কারো বিশ্বাস ও মূল্যবোধ “নির্মূল” করে নতুন ‘ধর্মহীন’ সমাজ ব্যবস্থা গড়ার ‘যুদ্ধ’ সঠিক হবে না। বিশ্বাস মানব প্রকৃতির অংশ। আজ বিশ্বের সকল ধর্ম নির্মূল করে দিলেও এসবের প্রতিস্থাপক হবে অন্য ধরণের বিশ্বাস, অন্য ধরণের ধর্ম। মানুষের বিশ্বাস ও সমাজের প্রকৃতি যতই ভাল করে বুঝা হবে এবং পারস্পারিক সৌহার্দ গড়া হবে, আমাদের সমাজ ততই ভাল হবে।

  10. 22
    kotha kobita

    যে অভিজিত মুক্তমনা নাস্তিকের নামে ধর্মকে লাঞ্চিত করলো, ধর্ম পালনের পুরস্কার স্বরূপ হুর পরীদের প্রত্যাখান করলো! তাকেই কী না অতি ভক্তিতে অন্যান্য সদস্যরা তাকে "শহীদ" নামে অভিহিত করলো!! হায়রে মুক্তমনার দল! মৃত আত্মার (ওরা কি আবার আত্মায় বিশ্বাস করে? করার কথা নয়, কারণ আত্মা তো দেখা যায়না, এতো আর পদার্থ নয়) এত বড় অবমাননা? শেষ পর্যন্ত তাকে হুর পরীদের দেশে ঠেলে পাঠিয়ে দিলো? যাতে অভিজিত ওদের জন্যও এডভান্স বুকিং দিতে পারে?

    1. 22.1
      এম_আহমদ

      @kotha kobita: হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন। মুসলমানদের শহীদ (شهيد) শব্দ আসছে তাদের কলেমা শাহাদত (شهادة) থেকে। শাহাদাত হচ্ছে সাক্ষ্য দেয়া, মুসলমান এই সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ এক, অদ্বিতীয় এবং সে আমরণ কেবল আল্লাহরই আনুগত্য করবে, তাকে মানবে; এমনকি প্রয়োজনে জীবন দিয়েও এই সত্যের উপর টিকে থাকবে। আর সত্যিই যখন এই সত্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য সে ময়দানে মৃত্যুবরণ করে, তখন তাকে “শহীদ” আখ্যায়িত করা হয়। সে এখন সেই সত্যের বাস্তব সাক্ষী -‘শহীদ’, যার ওয়াদা সে দিয়েছিল। এটি একটি ধর্মীয় পরিভাষা –এর সম্পর্ক তার ঈমানেই –যে ঈমান ও ধর্মকে নির্মূল করাই হচ্ছে তথাকথিত মুক্তমনাদের কাজ। কিন্তু তারা যদি এখন এই ধর্মীয় পরিভাষায় নিজেদের মর্যাদা অনুভব করে, তবে কী আর বলব বুঝতে পারছি না।

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  11. 21
    Feroz Khan

    Good turning point ‘মুক্তমনা’ যদি স্বাধীন চিন্তা ও স্বাধীন প্রত্যয় কেন্দ্রিক হয় এবং এরই প্রেক্ষিতে যদি এক ব্যক্তি বলে, “আমি খোদাতে বিশ্বাস করি না,” এবং অন্য ব্যক্তি যদি তার আপন স্বাধীন চিন্তা-চেতনা ও বিবেক অনুযায়ী বলে, “আমি খোদাতে বিশ্বাস করি”, তবে উভয়ই মুক্তমনা হওয়া উচিত। কিন্তু প্রথম ব্যক্তি যখন বলবে, “না, খোদাকে অস্বীকার না করলে মুক্তমনা হওয়া যাবে না”, তখন বুঝতে হবে সেই লোকটির কোন ‘মতলব’ আছে, সে কুযুক্তি উত্থাপন করছে। তারপর যখন সে জেদি হয়ে উঠবে এবং তার শেষ কথা হবে, আপনি ‘খোদাকে অস্বীকার করলেই’ মুক্তমনা হবেন, তখন বুঝতে হবে, এই ‘মুক্তমনা’ শব্দটি নিয়ে এখন ‘ধাপ্পাবাজি’ শুরু হয়েছে, ভাষার রাজনীতি শুরু হয়েছে। ধাপ্পাবাজ কোন নির্দিষ্ট কারণে নিজের জন্য ‘মুক্তমনা’ শব্দটি ব্যবহার করছে।

  12. 20
    আহমেদ শরীফ

    এপিক পোস্ট।

     

  13. 19
    এম_আহমদ

    [ধর্ম, বিশ্বাস ও নৈতিকতা]

    ব্রিটিশ নারীরা পরকীয়ার শীর্ষে

    ভিক্টোরিয়া মিলান নামের একটি ডেটিং ওয়েবসাইট কর্তৃক বিবাহিত নারীদের উপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে পরকীয়ায় শীর্ষস্থান অধিকার করে আছে ব্রিটিশ নারীরা। হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, গত বছরের গবেষণায় এক্ষেত্রে শীর্ষ স্থানে ছিল সুইডিস নারীরা। ভিক্টোরিয়া মিলান বিশ্ব নারী দিবসে তাদের ওই গবেষণা প্রকাশ করে।

    প্রতিদিন ৪ হাজার নারীর উপর পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ নারী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন কারন তারা স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে সন্তুষ্ট নন। আর ৩২ শতাংশ তাদের নারী তাদের যৌন কামনা মেটানোর জন্য ১ রাতের জন্য কাউকে বেছে নেন। ৪৬ শতাংশ আরও কম সময়ের জন্য কাউকে খুঁজে নেন। আর বাকী ২২ শতাংশের অবস্থা আরও খারাপ। তারা স্বামীর সঙ্গে থাকা অবস্থাতেই কারও সঙ্গে নিয়মিত যৌন কামনা মিটিয়ে থাকেন।

    ব্রিটিশ নারীদের পরেই রয়েছেন সুইডিস নারীরা আর তারপরের স্থানেই রয়েছে মার্কিন নারীরা। মার্কিন নারীদের ২২ শতাংশ শারিরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিবাহিত পুরুষদের প্রাধান্য দেয়। আর আয়ারল্যান্ডের নারীদের ৪৬ শতাংশ চায় কেউ তাকে এক রাতের জন্য তৃপ্ত করুক। ফিনল্যান্ডের নারীরা দিনে অন্তত ২ ঘণ্টা অনলাইনে ব্যয় করেন প্রেমিক সন্ধানের ক্ষেত্রে। বেলজিয়ামের নারীদের ২৭ শতাংশ তাদের প্রেমিকের স্থানে কোন বিদেশীকে পেতে নিরাপদবোধ করে। আর স্পেনের নারীদের ৩৪ শতাংশ পরকীয়ার ক্ষেত্রে তাদের চেয়ে বয়স্ক কাউকে খুঁজে থাকেন। (কালের কণ্ঠ, (২০১৪) পরকীয়ায় শীর্ষে ব্রিটিশ নারীরা…! কালের কণ্ঠ [অনলাইন] ১১ মার্চ।)

    এই হচ্ছে সামাজিক বাস্তবতা। ধর্ম ও বিশ্বাস ত্যাগ করে মানুষ নৈতিক দিক দিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে, তার নমুনা।  এটাই যেন এক নব্য জাহেলিয়াত। জাহেলি যুগের যৌন আচরণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

  14. 18
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @ভাই এম. আহমেদ,
    সালাম।
    পরিশ্রম, গবেষণা ও বিশ্লেষণ করে এই লিখার কারনে আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। খুব সুন্দর উপস্থাপন। মুক্তমনার বিদ্বেষীমনারা ‘মুক্তমনা’-র মুখোশ পরে যে ভণ্ডামি গুলো করে যাচ্ছে, আপনার এই লিখা তাদের জন্য একটি উপযুক্ত জবাব।
    আল্লাহ আমাদের সবাইকে ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’ দান করুন।

    1. 18.1
      এম_আহমদ

      ওয়া আলাইকুম সালাম।
      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আশা করি এখানে আসবেন, পড়বেন এবং লিখবেনও।

  15. 17
    selima yasmin

    I never support "top at the voice" shouting on behalf of atheism. But really I don't find the answer to the question of Prophet Muhammad's marrying a six years' old child at the age of 52. Nothing…no excuse can validate it.

    1. 17.1
      এম_আহমদ

        This essay wasn't about marriage and I didn't try to ‘justify’ Muhammad’s (pbuh) marriage to Ayesha (ra.),  because first it was not the subject here and secondly, we do not need to justify it to anyone and it requires no ‘validation’ from anyone either. Furthermore, atheism and marriage are different issues.  Your comment is, thus, out of place here, but still let me say this: If your interest concerns marriage of this type, then the 7th century world needs to be understood in relation to marriage practices: it should include Islamic and non-Islamic marriage practices, the practitioners’ world-view and how marriages sat in it. That would require some study. Early marriages were the most prevalent phenomenon among all societies until the recent times. Such practice had its own social, tribal, familial and security-oriented reasons. Without having a fuller grasp of these, any comment you make will remain uninformed.   Do some reading on it and you can always come back to me and I will spare some time for you.
       
      By the way, Ayesha’s age at the time of her marriage has some disputing narratives ranging from 9 to 13, 14, 17 but I would not find any problem taking the narrative of about 9. You may read another of my essay on the 7th century Arabs’ marriage practices here in THIS LINK
       
      Thank you for reading the essay and commenting on it. 

    2. 17.2
      এম_আহমদ

      As a reader it is likely that you might frequent here and it occurred that a recent explanation in short that has been given in regard to this marriage may be linked. It can also serve some purpose to a strange visitor reading the comments. Link to comment.

  16. 16
    রাশেদ

    চমৎকার লেখা 🙂
     

    1. 16.1
      এম_আহমদ

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

  17. 15
    শামস

    মুক্তমনা কম্পিউটারের উপমা দিয়ে বলতে চায় বিশ্বাসীদের মাথায় নাকি ভাইরাস ঢুকেছে, কিন্তু এখানেও সে ‘শব্দ’ নির্বাচন করছে, সে ‘উপমা’ নির্বাচন করছে। ভাইরাস তো বরং তারই মাথায়, কেননা প্রচলিত হাজার হাজার বছরের সামাজিক প্রথার কম্পিউটারে সে ভাইরাসের কাজ করছে।

     
    দারুণ বলেছেন।
     

  18. 14
    রাতুল

     
    এ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্লগে যা দেখেছি , পড়েছি তাতে আপনার এই লেখাকে সেরা লেখার তালিকায় নির্দ্বিধায় রাখা যায়। এমন সুন্দর লেখা উপহার দেওয়ার জন্যে আপনাকে অন্তর থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আল্লাহ্‌ আপনার হেদায়াত দান করুন। আর ভবিষ্যতে এর চেয়ে ও আরো সুন্দর ব্লগ নিয়ে আমাদের সামনে আসুন, এই দোয়ায় করি। 

    1. 14.1
      এম_আহমদ

       
      আপনার পাঠ ও appreciative মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  19. 13
    সামিহা চৌধুরী

    কি বলব এক কথায় চমৎকার লিখা

    1. 13.1
      এম_আহমদ

       
      আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। 

  20. 12
    শামস

    সন্দেহবাদী হতে হলে মুক্তমনাকে তার নিজ ঘর থেকেও শুরু করতে হবে। সে তার নিজ মা-বাপের সন্তান কিনা এটাও সন্দেহে আনতে হবে, ব্যক্তির identity-এর মূল স্থান এখানে। তাকে প্রথমে DNA টেস্ট দিয়ে শুরু করতে হবে। তারপর তার পরিবারের সবার, তার মা-বাপ সহ। পরিবারের সয়-সম্পত্তি দেখতে হবে। তার পিতা-প্রপিতা ঘুষ ও চুরির মাধ্যমে সেটা করলো কিনা তা দেখতে হবে। সম্ভাব্য অসত্যের কাছে আত্মসমর্থন করলে সে তার নিজের সাথেই প্রতারণ করবে। এগুলো জানা চাই, ভাল কাজ ঘর থেকে শুরু হওয়া উচিত। এগুলোসন্দেহবাদী, বৈজ্ঞানিক, দৃষ্টিভঙ্গিসহকারে অনুসন্ধান চালানো দরকার। ধর্ম তো অনেক পরে আসবে।

     
    লেখা খুব ভাল হয়েছে। কিন্তু কিছু বিষয়কে যে দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেছেন তাতে আরো কিছু জিনিষ বিবেচনার দাবী রাখে তাহলে ভাষিক ধাপ্পাবাজির সাথে তাদের দৃশ্যমান মানসিক অবস্থানটাও জানা যেত। যেমন ধরা যাকঃ ভ্যালুর কথা। আমরা যখন ইসলামিক ভ্যালুর কথা বলি তখন বুঝতে হবে সেই ভ্যালু যা কোরান ও সুন্নাহর নির্দেশিত ভ্যালু। তেমনি প্রতিটা সমাজেরও ভ্যালু আছে। ইসলামিক সমাজের ইসলামী ভ্যালুই থাকা উচিত (আছে বা নেই সেটা এখানে আলোচনার অংশ নয়), তাছাড়া বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষের যে সাংস্কৃতিক জোড়াবন্ধন সেখানেও কিছু ভ্যালু থাকে। পাশ্চাত্যেরও নিজস্ব ভ্যালু আছে যা তারা বলে থাকে, যেমনঃ বাকস্বাধীনতা, নারীর অধিকার (!) ইত্যাদি। সেই পাশ্চাত্য খৃষ্টীয় অনেক ভ্যালুকেও গ্রহণ করেছে। মুক্তমনা দর্শন ধর্মের প্রতিস্থাপনের কথা বলে বিধায় এরও একটি ভ্যালু থাকতে হবে। এখানে ধর্মীয় ভ্যালুর সাথে মুক্তমনার ভ্যালুকে মিলালে হবে না। সমকামিতা ধর্মীয় ভ্যালুর সাথে খাপ খায় না, কিন্তু মুক্তমনার ভ্যালুতে এটা খাপে খাপে থাকে। তারা যেহেতু প্রথার বিরুদ্ধে থাকে সেহেতু প্রথার অংশ যে বিবাহ সেটাও মানার কথা না। তাই কোন মুক্তমনার কাছে বৈবাহিক সম্পর্ক বলে কিছু নেই। ভালোবাসার জন্য (!) যাকে ইচ্ছে, যার সাথে ইচ্ছে যৌন সম্পর্কের কোন বাছবিছার সেখানে নেই। ফলে তার পরিবার মা-বাপের বৈবাহিক সম্পর্ক তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় নিজেদের জন্য ও তদপরবর্তী বংশধরদের জন্য (কিন্তু এই কথা তাদের বললে উল্টো আপনার আমার নীচতা (!) নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, হাহাহা…।!!!). মুক্তমনারা বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজের কথা বলে। বিজ্ঞান নৈতিকতা শিখায় না, ভ্যালু শিখায় না। মুক্তমনাদের আরোধ্য ডারউইনের বিবর্তনবাদ অনুসারে  দাঁত ও নখের রাজত্বে টিকে থাকাটাই প্রধান যার সাথে যুক্ত হয়েছে ভোগবাদ। তাই সমকামিতা তাদের ভ্যালুতে স্থান করে নেয়। চুরি করা অপরাধ হলেও টিকে থাকার জন্য চুরি অপরাধ নয়। সেই টিকে থাকাটা যেনতেন ভাবে দু’একবেলা খাওয়ার টিকে থাকা নয়, এর সীমা পরিসীমা সংজ্ঞায়িত নয়। তাদের পিতা প্রপিতার চুরি চামারিকে টিকে থাকার সংগ্রামের মধ্যেও খাপ খাওয়ানো যায় অনায়েশে। অতএব, তাদেরকে বিবেচনা করতে হবে তাদের ভ্যালুর সাপেক্ষে, ধর্মের ভ্যালুর সাপেক্ষে নয়।

    আরো মন্তব্য নিয়ে পরে আসছি।
    ভালো থাকুন।

    1. 12.1
      এম_আহমদ

       
      আপনি ভ্যালুর কথা বলেছেন। মূলত এখানেই তাদের ও আমাদের মধ্যে পার্থক্যের একটি অন্যতম স্থান। আমাদের ভ্যালু হচ্ছে, যেভাবে বলেছেন, “কোরান ও সুন্নাহর নির্দেশিত”, আর তাদেরটা হচ্ছে, তাদের ভাষ্যে, যুক্তি ও common sense নির্ধারিত। কিন্তু এখানে অনেক সমস্যা, তাদের নিজেদের মধ্যেই ভিন্ন মত।  আলোচনার স্থান দীর্ঘ। কমন সেন্স আসমান থেকে আসে না। যে সেন্সকে কমন হিসেবে উল্লেখ করা হয়, সেটা প্রথা ও ঐতিহাসিকতায় গড়া। এটার সাথেও জড়িত হয় ভাষা। মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় ম্যাজিক হচ্ছে তার ভাষা। অনেক ভাষা-দার্শনিকের মতে ভাষাই dictate করে মানসিকতা। মুক্তচিন্তার ধারণাটিই অনেকাংশে bogus. যে পরিবার, যে প্রথা, যে সমাজে আপনি বড় হলেন, যা আপনার ব্যক্তি সত্তাকে সংস্কৃতিবান করল এবং যে ভাষা সেই সমাজ-সংস্কৃতির রঙে রঞ্জিত হয়ে আপনাকে তার নিজের মধ্যে induct করল, আপনাকে তারই সিস্টেমে কথা বলার সুযোগ দিল, এখন আপনি যা বলবেন তা তারই সিস্টেমে হবে। আপনি যা করতে পারেন তা হবে আগের বাক্য শ্রেণী সরিয়ে আরেক বাক্য শ্রেণীর গল্প তৈরি করবেন। আগের গল্পে আপনি যে ভাষিক সমস্যা দেখেছিলেন, নতুন গল্পে সেই সমস্যা পাবেন, কেননা আপনি সেই শব্দ সম্ভার থেকে শব্দ rearranged করেছেন মাত্র। এই কথাটির দিকে ইঙ্গিত করতে ফুকো ও রোরটির কথা উল্লেখ করেছিলাম।   
       
      ধর্ম সমাজে প্রাচীন কাল থেকে কিছু জিনিস ভাল  এবং কিছু জিনিসকে মন্দ বলে চিহ্নিত করেছে –এটা হয়েছে ভ্যালু এবং নৈতিকতা। কিন্তু আপনি সন্দেহবাদী/নাস্তিক হলে কোথাও দাঁড়াবার স্থান পাবেন না। ধরুন নাস্তিক মা-ছেলে যৌনকাজে মিলিত হবে, তাদের কাছে ধর্মীয় নৈতিকতা নিরর্থক। তাদের কমন-সেন্সে এখানে কোন অসুবিধা দেখতে পাচ্ছে না। এখন তাদেরকে কার কমন সেন্স বা কার নৈতিকতা বিরত রাখবে? তারা যদি মুক্ত-চিন্তক হয়, তবে আপনার চিন্তার অধীনস্থ হবে কোন দুঃখে? তারা অনেক পথ পাড়ি দিয়ে আপনার কথা শোনার জন্য কি এই পর্যায়ে এসেছে? এভাবে অনেক সমস্যা এসে হাজির হয়। আবার আপনি যদি নৈতিক বিধানের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন, তবে অচিরেই প্রাতিষ্ঠানিকতায় ফিরে গেলেন, যে প্রাতিষ্ঠানিকতা থেকে মুক্তি পেতে ঝগড়া-ফ্যাসাদ, মারা-মারি করে এসেছেন।
       
           বিবাহের যে উদাহরণ দিয়েছেন সেটাও যথার্থ। পশ্চিমে এখন যে অবস্থা তা হল একজন প্রাপ্ত-বয়স্ক পুরুষ/মহিলা অপর যে কোন পুরুষ বা মহিলার সাথে যৌন সম্পর্ক রাখতে পারে, এখানে সংখ্যা কোনো ব্যাপার নয়, তবে উভয়ের সম্মতিতে হতে হবে। বিয়ের ভিতরে থাকলে এবং ধরা পড়লে, স্বামী/স্ত্রী ডিভোর্স এপ্লিকেশন করে আলাদা হতে পারে। বিবাহিত না হলে মাশাল্লাহ (বরং বলুন নাউজুবিল্লা) সম্মতিতে যে কোনো সংখ্যায় কাজ চালিয়ে চান। ভারতীয় নাস্তিক প্রথায় নাকি এমন একটি কথা ছিল, ‘কর্জ করিয়া হইলেও ঘৃত খাইবে।’ মানি পরকার যেহেতু নেই, এবং আর যখন ফিরতেও হবে না এবং কর্জ পরিশোধও করতে হবে না, তখন এই one way জগতে যেভাবে পার, স্বাদ গ্রহণ করে যাও! এটাই হচ্ছে আজকের বাস্তবতা। আর এখান থেকে যারা ধর্ম-বিরোধিতা করে তাদের অবস্থান বোঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়।  
       
      ঠিক আছে, পরের মন্তব্যও দেখব।

    2. 12.2
      সরোয়ার

       

      মুক্তমনা দর্শন ধর্মের প্রতিস্থাপনের কথা বলে বিধায় এরও একটি ভ্যালু থাকতে হবে। এখানে ধর্মীয় ভ্যালুর সাথে মুক্তমনার ভ্যালুকে মিলালে হবে না। সমকামিতা ধর্মীয় ভ্যালুর সাথে খাপ খায় না, কিন্তু মুক্তমনার ভ্যালুতে এটা খাপে খাপে থাকে। তারা যেহেতু প্রথার বিরুদ্ধে থাকে সেহেতু প্রথার অংশ যে বিবাহ সেটাও মানার কথা না। তাই কোন মুক্তমনার কাছে বৈবাহিক সম্পর্ক বলে কিছু নেই। ভালোবাসার জন্য (!) যাকে ইচ্ছে, যার সাথে ইচ্ছে যৌন সম্পর্কের কোন বাছবিছার সেখানে নেই। ফলে তার পরিবার মা-বাপের বৈবাহিক সম্পর্ক তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় নিজেদের জন্য ও তদপরবর্তী বংশধরদের জন্য (কিন্তু এই কথা তাদের বললে উল্টো আপনার আমার নীচতা (!) নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, হাহাহা…।!!!). মুক্তমনারা বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজের কথা বলে।

       
      মুক্তমনারা ইনসেস্ট (ভাই-বোন, বাবা-মেয়ে, মা-ছেলে)-কেও তাদের ভ্যালু অনুযায়ী সমর্থন করে বা প্র্যাক্টিস করে! বাচ্চা-কাচ্চা না হলে এধরণের সম্পর্কে মুক্তমনাদের সমস্যা নেই। বর্তমান জন্মনিরোধক পদ্ধতি  সহজ-লভ্য হওয়ায় ইনসেস্টের পক্ষে তারা প্রচারণাও শুরু করেছে।    
      বিবর্তনবাদের আইন অনুযায়ী তাদের চিন্তা শুধু জিনের বিস্তার ঘটানো-সেটা যেভাবে হোক না কেন। আর এজন্য ধর্ষণকেও তারা ডারইউনবাদী নৈতিকতা অনুযায়ী সমর্থন করে। অন্যদিকে, তারা সমকামিতাকে কট্রুরভাবে সমর্থন করে, যদিও এটা বিবর্তনবাদ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে যায়!  সমকামিতা প্রজাতির বংশধারা বিলুপ্ত করতে পারে জেনেও এর পক্ষে অবস্থান নেয়, কেননা এটা সমাজের প্রতিষ্ঠিত নৈতিকতার বিরুদ্ধে যায়।  বিস্তারিত তথ্য ও রেফারেন্স এর জন্য দেখুন-
      নাস্তিকতা টেস্ট: আপনি কি আসলেই নাস্তিক হতে পেরেছেন?

      1. 12.2.1
        এম_আহমদ

        ধর্ষণকেও তারা ডারইউনবাদী নৈতিকতা অনুযায়ী সমর্থন করে। …  বিস্তারিত তথ্য ও রেফারেন্স এর জন্য দেখুন, "নাস্তিকতা টেস্ট: আপনি কি আসলেই নাস্তিক হতে পেরেছেন?"

         
        শয়তানেরা দুনিয়ায় যে বিপর্যয় সৃষ্টি করে যাচ্ছে, আল্লাহই জানেন -এর শেষ কোথায়।
         
        মানুষের দাঁত যখন পড়ে যায়, তখনই বুঝতে পারে দাঁতের প্রকৃত মর্যাদা। আমাদের দেশে নৈতিকতা যে হারে হারছে, তা হবাক হবার মত।  

        1. 12.2.1.1
          শামস

          তাদের নৈতিকতার সীমা পরিসীমা জানতে এলেখাটিও এখানে প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায়ঃ

          অস্বাভাবিক যৌনাচার- বিবর্তনবাদের আলোকে!

        2. এম_আহমদ

          ভাই, এই সংযুক্তির জন্য ধন্যবাদ। এই ক্ষেত্রে আরও যাদের লেখা রয়েছে, তাদের লেখাগুলো মেহেরবানী করে এখানে লিঙ্ক-আপ করে যেতে অনুরোধ করছি। 

          ধন্যবাদ।

  21. 11
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    @এম আহমেদ

    আপনার লেখা থেকে দু’টি বাক্য কেটে দিয়েছি। আস্তিকের মা হোক বা নাস্তিকের মা হোক, অযথা তাদেরককে এখানে না আনি। দেব-দেবী দের আমরা উপাসনা করিনা কিন্তু তাদের সম্পর্কে সদালাপে কুরুচিকর কোন শব্দ ব্যবহার অনুচিত বলেই মনে করি।

    আপনি প্রতিবেশী যে সাইটটির সম্পর্কে লিখেছেন, তাদের লক্ষ্য তো নাস্তিকতা প্রচার নয়। সেখানে ইসলাম ও প্রফেট সম্পর্কে যেরকম ভাষায় যেভাবে অপব্যাখ্যা করা হয়, তা পড়লে ‘মায়ের দুধ’ খাওয়া যেকোন মুসলিমের রক্তে আগুন ধরবে। সদালাপে আমরা তার কিছু-কিছুর নিয়মতান্ত্রিকভাবে জবাব দিই।

    সদালাপ যে লক্ষে কাজ করছে সেটি কি মিনিংফুল? সময়ের পরীক্ষায় এটি কি টিকে থাকতে পারবে? আহমেদ শরীফ সাহেব যেরকম বলছেন, “অবিসংবাদিতভাবে ইসলামিক লেখালিখিতে বাংলা ভাষার সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাইটার ফোরাম বা ব্লগ হিসেবে এখনও ১ নম্বরে 'সদালাপ', এখনও অপ্রতিদ্বন্দী”। এটি কি সত্যি? সাসটেইনেবল? এরকম ফান্ডামেণ্টাল কিছু ব্যাপারে আপনার একটি নিরপেক্ষ ও সুচিন্তিত ‘আর্টিকেল’ পড়তে পেলে খুব ভাল হোত।

    1. 11.1
      এম_আহমদ

       
      যে স্থান থেকে আপনি একটি বাক্য সরিয়েছেন, সে বাক্যটি ঐ প্যারাগ্রাফের emphatic মাত্রার অনেকটা সম্পূরক ছিল। তবে এভাবেও চলবে। ঐ বাক্যে মূলত hypothetical ও সম্ভাবনাময় এক পরিস্থিতির উদাহরণ ছিল। আমার দৃষ্টিতে সেখানে কোন অসুবিধা ছিল না, তবে আমি এটা মেনেই এখানে ব্লগিং করছি যে এডমিনের সিদ্ধান্তই হবে ফাইনেল, তা না হলে relative judgement ব্লগের সুস্থতা বিঘ্নিত করবে।  
       
          আমরা এক চরম-ধর্মী আক্রমণের মোকাবেলা করছি এবং এরই প্রেক্ষিতে লিখছি। আপনি আমার অতীতের বিভিন্ন মন্তব্য থেকে হয়ত লক্ষ্য করে থাকবেন যে আমি সকল ধর্মের পক্ষেই মন্তব্য করেছি, হিন্দুধর্মসহ। আমাদের ভাষা অতি সহজে, স্থান বিশেষে, সাধারণী-অর্থ (generalised meaning) টানতে যায়। সেখানেও চেষ্টা করে যাই যাতে সবাইকে এক basket-টে ঢালা না হয়। আমার এই লেখাতেও লক্ষ্য করে থাকবেন যে সকল নাস্তিক, সন্দেহবাদী, অজ্ঞেয়বাদীকে মুক্তমনাদের উগ্র-মৌলবাদী slot থেকে আলাদা করার চেষ্টা করেছি। 
       
          মানুষ বিশ্বাসী প্রাণী এবং সে সামাজিক। তাই বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত একটি সামাজিক অবস্থান তার থাকবে। এ দিক থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতেই হবে। ইসলাম ধর্ম বিগত ১৪০০ শো বছর ধরে অনেক ধর্মের সাথে সহাবস্থান করে আসছে এবং মুসলিম সাম্রাজ্যে অপরাপর ধর্ম, অন্যান্য ভৌগলিক এলাকা থেকে, মুসলমানদের এলাকায়, আমাদের দৃষ্টিতে, অধিক নিরাপত্তায় বসবাস করেছে। মূলত পৌত্তলিকতাই ইসলামকে সহ্য করতে না পেরে মক্কা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল, মুসলিমদের উপর হত্যা ও নির্যাতন চালিয়েছিল এবং ইয়াহুদীরাই পৌত্তলিকদের সাথে মিশে ইসলামকে ধ্বংস করছে চেয়েছিল। 
       
         তবে আমরা এবং নাস্তিকরা একই মাটিতে, একই স্থানে বসবাস করতে আমাদের পক্ষ থেকে কোন আপত্তি নাই। কিন্তু তারাই আমাদেরকে ধ্বংস করে তাদের স্বর্গ এখানেই রচনা করতে চায়। আমাদের কথা হচ্ছে মানুষ ভাল কাজ করবে এবং বিনিময়ে পরকালে ‘স্বর্গে’ যাবে, কিন্তু তাদের কাছে এটা হচ্ছে ‘বোকার স্বর্গ’ –তারা সকল ধর্মকে নিঃশেষ করে এখানেই ‘স্বর্গ’ গড়বে! এখন আমরা কি করব? আমরা তো তা’ই করতে হবে যা আমাদের অবস্থানকে defend করবে। এবং তা বলিষ্ঠভাবেই তা করতে হবে।  
       
         আমরা যদি উগ্র-পন্থি মৌলবাদীদের relentless আক্রমণের শিকার না হতাম, যা পক্ষান্তরে সামাজিক সৌহার্দ, সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় সহনশীলতার পরিপন্থী, তাহলে এত সময় নষ্ট করে বিষয়গুলো address করার প্রয়োজন হত না। কিন্তু সর্বাবস্থায়  আচরণের প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। 
       
       হ্যাঁ, সকল যুদ্ধেই নিয়ম থাকতে হবে এবং ব্লগেও আপনাদের সিদ্ধান্ত ঠিকে থাকতে হবে –এটা যদি আমরা না মানি তাহলে ব্লগ ঠিকে থাকবে না। এর সাথে একথাও বলতে চাই যে আপনাদের judgement এর উপর আমাদের আস্থা আছে।
       
      আরও দুটি কথা। আমার এই ব্লগে মুক্তমনা ব্লগের এডমিন কর্তৃক লিখিত ব্লগ-পরিচিতি থেকে উদ্ধৃতি উদাহরণ এসেছে, এই পরিচিতিই তাদের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেই আমার বিশ্বাস।

      আমি আহমেদ শরীফ সাহেবের “অবিসংবাদিতভাবে ইসলামিক লেখালিখিতে বাংলা ভাষার সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাইটার ফোরাম বা ব্লগ হিসেবে এখনও ১ নম্বরে ‘সদালাপ’, এখনও অপ্রতিদ্বন্দী”, এই মতের সাথে সহমত পোষণ করি। শুধু তাই নয়, সদালাপ এক অন্যন্য বৈশিষ্ট্যে রয়েছে। সময় হলে আমি এর উপর লিখব, আপাতত আরও তিনটি ব্লগ half-baked অবস্থায় আছে -এগুলো শেষ করতে হবে।
       
      ধন্যবাদ।     
       

    2. 11.2
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      সম্পাদকের মন্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত। বিশেষ করে আমাদের জন্যে অন্যের দেবদেবী সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 
       
      আর সদালাপ সম্পর্কে আবেগহীন ভাবে একটা মন্তব্য করা যেতে পারে -- সদালাপ কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই এখন টিকে আছে। ভবিষ্যতের কথা বলা কঠিন -- তবে এইটুকু বলা যায় -- ইনশাল্লাহ -- সদালাপ একসময় বিশ্বাসীদের জন্যে জ্ঞানের ভান্ডার হিসাবেই চিহ্নিত হবে। তবে সেই প্রক্রিয়ায় এখন খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে আছি আমরা। সদালাপের বয়সের সাথে সাথে লেখক পাঠকদেরও বয়স হবে এবং অভিজ্ঞতা আর জ্ঞানের পরিধি বাড়বে এবং তার প্রতিফলন দেখবো সদালাপের পরিনত লেখাগুলোতে। 

      1. 11.2.1
        এম_আহমদ

         
        মনে হয় আমি বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করা দরকার। সাধারণত আমি লেখা প্রস্তুত করে পোস্টিং দেই এবং পড়ে পড়ে এডিট করে যাই। প্রথম ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে ‘দেব-দেবী’ শব্দ একটি বাক্যে ছিল, কিন্তু তা কারো প্রতি কোন আক্রমণ বহন করেনি, কেননা এই প্যারাগ্রাফে এমন কোন প্রেক্ষিতও আসেনা এবং কারো দেব-দেবীকে আক্রমণ করার কোনো উদ্দেশ্য প্রেক্ষিতগতও হয় না। আমি ঐ বাক্যটিকে নিজেই edit out করে এর পরিবর্তে এই বাক্যটি স্থাপন করি, “তার মা যে কোন পুরুষের সাথে গোপনে মিলিত হয়ে তাকে গর্ভে ধারণ করে থাকতে পারেন” [তবে বাক্যটি আগেও থেকে থাকতে পারে, স্মরণ করতে পারছি না]। এডমিন সাহেব এই বাক্যটিকেই সরিয়ে দিয়েছেন, আমিও তার judgement মেনে নিয়েছি। তবে বাক্যটি সরানোর আগে সরোয়ার ভাই তার ৬ নম্বর কমেন্টে সেই গোটা অংশটি উদ্ধৃত করেছেন এবং সেই উদ্ধৃতিতে ঐ বাক্যটি এখনো রয়েছে। এই লেখাটি আমি এখানে এডিট করার পরে সংলাপে, ‘মুক্তমনা ও ধর্ম বিদ্বেষ’  নামে পোস্টিং করি, সেখানেও বাক্যটি অবিকল আছে। সদালাপে প্রথম শিরোনাম দিয়েছিলাম ‘মুক্তমনা ও ভাষিক ধাপ্পাবাজি’ তারপর এটাকে পরিবর্তন করে ‘মুক্তমনা ও নাস্তিক মিলিট্যান্সি’ করি। 
         
        এখানে আমরা যে বিষয়টি আলোচনা করছি তা হল নীতিগত বিষয়। আমরা কেউই মনে হয় নীতির সাথে compromise করতে যাব না, আমাদের সম্মানিত এডমিনসহ। সদালাপ যদিও আপনারা গড়েছেন, তবে আমরা অনেক পরে এসেও এটাকে ‘নিজেদের’ মনে করছি। কখনো কখনো কোনো হট-মন্তব্যে এটাকে নিজের সাথে সমন্বিত করে ‘আমাদের’ শব্দ ব্যবহার করেছি, যদিও আমি কেউ নই। আমরা সবাই নীতিগত বিষয়ে একমত। সদালাপ এক উত্তম অবস্থানে আছে। আমার আশা এটা আরও সুউঁচু স্থানে পৌছবে।  

    3. 11.3
      এস. এম. রায়হান

      আপনার লেখা থেকে দু’টি বাক্য কেটে দিয়েছি। দেব-দেবী দের আমরা উপাসনা করিনা কিন্তু তাদের সম্পর্কে সদালাপে কুরুচিকর কোন শব্দ ব্যবহার অনুচিত বলেই মনে করি।

      এই বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত, যদিও এই লেখাতে দেব-দেবী সম্পর্কে কুরুচিকর কিছু ছিল কিনা মনে পড়ছে না।

      আস্তিকের মা হোক বা নাস্তিকের মা হোক, অযথা তাদেরককে এখানে না আনি।

      এখানে একমত নই যেহেতু নাম ধরে নির্দিষ্ট কারো মা-কে এই লেখাতে নিয়ে আসা হয়নি। তাছাড়া যারা নিজেকে সকল বিষয়ে সংশয়বাদী বলে দাবি করে মুসলিমদেরকে 'অন্ধ-বিশ্বাসী' বলে উপহাস-বিদ্রূপ করছে তাদেরকে ডিএনএ টেস্টের কথা বলা অযৌক্তিক কিছু নয় বলে মনে করি। এক্ষেত্রে কুরুচিকর কিছু দেখি না।

      1. 11.3.1
        সদালাপ কর্তৃপক্ষ

        কুরুচিকর নয়, রীতিমত অশ্লীল শব্দ ছিল। এম আহমদ সাহেব অবশ্য শব্দটি যতটা সম্ভব মার্জিত করে লিখেছিলেন। অন্য ধর্মের দেব-দেবীদের সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে সবার মধ্যে কনসেন্সাস দেখে ভাল লাগছে।

        তাছাড়া যারা নিজেকে সকল বিষয়ে সংশয়বাদী বলে দাবি করে মুসলিমদেরকে 'অন্ধ-বিশ্বাসী' বলে উপহাস-বিদ্রূপ করছে তাদেরকে ডিএনএ টেস্টের কথা বলা অযৌক্তিক কিছু নয় বলে মনে করি। এক্ষেত্রে কুরুচিকর কিছু দেখি না।

        ডি এন এ টেষ্টের অংশটি এখনো আছে। কিন্তু ডি এন এ টেস্টে বাচ্চার পিতৃত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার    অর্থ কি, সে ব্যপারে ‘মাতাকে’ নিয়ে যে স্পেকুলেশন করা হয়েছিল, সেটি না থাকলেও লেখার মান এতটুকু নষ্ট হবেনা। ইন জেনারেল, মায়েদের প্রতি সম্মান দেখাতে এই বাক্যটি কাটা হয়েছে। ধন্যবাদ।    

        1. 11.3.1.1
          এস. এম. রায়হান

          ডি এন এ টেষ্টের অংশটি এখনো আছে। কিন্তু ডি এন এ টেস্টে বাচ্চার পিতৃত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার অর্থ কি, সে ব্যপারে ‘মাতাকে’ নিয়ে যে স্পেকুলেশন করা হয়েছিল, সেটি না থাকলেও লেখার মান এতটুকু নষ্ট হবেনা। ইন জেনারেল, মায়েদের প্রতি সম্মান দেখাতে এই বাক্যটি কাটা হয়েছে।

          তাহলে ঠিক আছে। আমি অবশ্য এডিট করার পর আর পড়ে দেখিনি।

  22. 10
    সাদাত

    অনেক বড় লেখা, পুরোটা বুঝে উঠতে সময় লাগবে। তবে নিচের অংশটুকু পড়ে আসলেই হাসি সামলানো মুশকিল!

    মুক্ত-মনারা ধর্ম-বিরোধী নয়, বলা যায় অনেক মুক্তমনাই ধর্মের কঠোর সমালোচক। কারণ তাঁরা মনে করেন ধর্ম জিনিসটা পুরোটাই মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। মুক্তমনারা সর্বদা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির [বরং selected সপ্ত/অষ্টাদশ শতাব্দীর দৃষ্টিভঙ্গি!] প্রতি আস্থাশীল, আজন্ম লালিত কুসংস্কারে নয়। কুসংস্কারের কাছে আত্মসমর্পণ আসলে নিজের সাথে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়। তবে মুক্তমনাদের ধর্ম-বিরোধী হওয়ার [আগের আন্ডারলানিংটা স্মরণ করুন এবং হাসি সামলিয়ে পরের generalised প্রোপাগাণ্ডামূলক বাক্য রচনা দেখুন!] একটা বড় কারণ হল, ধর্মগুলোর মধ্যে বিরাজমান নিষ্ঠুরতা।

    1. 10.1
      এম_আহমদ

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। হ্যাঁ, লেখাটি বড়। পর্বে বিভক্ত না করে একসাথেই দিলাম, এর মধ্যেও এক ধরণের বরকত আছে। আবারও ধন্যবাদ।

  23. 9
    শাহবাজ নজরুল

    আমার মতে এই লেখাটি এই বছরের আসা সব পোস্টগুলোর মধ্যে সেরা। আহমেদ ভাই যেভাবে মুক্ত মনের অধিকারীদের নিজেদের বচন থেকেই মূল্যায়ন করেছেন তা অসাধারণ। এই লেখাটা এখনই এডিটরস চয়েসে আনার দাবি জানালাম। পরে অন্য মন্তব্য নিয়ে আসছি।

    1. 9.1
      এম_আহমদ

      শাহবাজ ভাই, পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনি আমার লেখা পছন্দ করেন তাই সেরা বলেছেন। এটা এভাবে হয় না। প্রত্যেক লেখা তার আপন স্থান, বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষিত-ভেদে ভিন্ন হয়। সবগুলো লেখা ব্যক্তির মত আলাদা। থাক এ কথা। এই উগ্র-মনারা যেভাবে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, তাতে বিষয়টা হয়ত এক সময় ইনটারনেটেই থাকবে না, তারা এটাকে সামাজিক বাস্তবতায় রূপ দিতে পারে, তারা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করেই হয়ত ছাড়বে। আজকের বিশ্বে সবখানে সব ধর্বিম ও শ্বাসে লোকজন বসবাস করে। একই দেশের নাগরিক হিসেবে, এই শহরের বাসিন্দা হয়ে একে অন্যের বিশ্বাসের স্থানকে, মূল্যবোধকে শ্রদ্ধা করতে শিখতে হবে। উগ্র ইসলাম বিদ্বেষী ফ্যাসিস্ট মুক্তমনারা অন্যের ধর্ম নিয়ে নামে/বেনামে যেভাবে ইতরের মত আক্রমণ করে তা দেখতে অত্যন্ত  খারাপ  মানায়। স্থানভেদে ও ক্ষেত্র বিশেষে সে যদি মৌখিকভাবে সর্বসাধারণকে আক্রমণ করতে শুরু করে, তবে থাপ্পড়ও খেতে পারে। এমন আক্রমণ যদি তার স্বাধীনতার অংশ হয়, তবে অপর ব্যক্তি থাপ্পড়ের মাধ্যমে তার স্বাধীনতা ব্যক্ত করবে। এভাবে সামাজিক সংহতি ঠিকে থাকবে না। এটাই ভয়। 

  24. 8
    স্রষ্টার সন্ধানে

    পোস্টটির জন্য সম্মাণীত লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ,  নিঃসন্দেহে এটি কঠোর পরিশ্রমের ফসল। মুত্রমনাদের ধাপ্পাবাজি উন্মোচনে অনেকেরই চুক্ষ খুলে দিতে পারে।

    1. 8.1
      এম_আহমদ

      ভাই অনেক ধন্যবাদ। দীর্ঘ লেখা কষ্ট করে পড়েছেন। বিদ্বেষ মানুষকে কখনও মহান করেনা, বরং নীচু করে।
      দোয়া করবেন। 

  25. 7
    মুনিম সিদ্দিকী

    ঠিক বলেছেন-সে যা করছে, এটা তার ধর্মীয় কাজ।

    সে আরেক ধরণের ‘ধর্ম-ব্যবসায়ী’। সে মূলত পদ্মলোচন। শাব্দিক ব্যবহারের নব্য-ম্যাজিক দেখিয়ে তার ধাপ্পাবাজি প্রতিষ্ঠা করছে। ভাষার শব্দ সম্ভার থেকে যেগুলো পজিটিভ সেগুলো তার নিজের জন্য এবং যেগুলো নেগেটিভ সেগুলো প্রতিপক্ষের জন্য নির্ধারণ করছে। প্রতিপক্ষের বিশ্বাস “অন্ধ”, আর তার নিজের বিশ্বাস চাক্ষুষ (আলোকিত)! লক্ষ্য রাখতে হবে, সে কিভাবে arbitrarily “অন্ধ” বিশেষণটি অপরের সাথে জুড়ে দিয়েছে। “খোদা নাই” –এটাও তো যুক্তিতে প্রমাণিত নয়, empirically-ও প্রমাণিত নয়, তাহলে নাস্তিক্যবাদও তো সাক্ষাৎ “অন্ধ” হতে পারে।

    এদের নেকাব খুলে ধরার জন্য আপনাকে জানাচ্ছি অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    1. 7.1
      এম_আহমদ

      ভাই, পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন এই বিদ্বেষীরা যাতে সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে না পারে। এদের ভাষা ও আচরণ অত্যন্ত চরম-ধর্মী, পর-ধর্ম অসহিষ্ণু।

  26. 6
    সরোয়ার

    লেখাটিতে মুক্তমনাদের স্বরূপ বিশদভাবে উঠে এসেছে। মুক্তমনা হওয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে সবকিছুতেই সন্দেহবাদী হতে হবে। দেখার বিষয়  এই সূত্র অনুযায়ী কতজন প্রকৃত মুক্তমনা হতে পেরেছে তার টেস্ট হয়ে যাক!   

    মুক্তমনা হতে হলে পূর্ববর্তী সমাজ সভ্যতা, আচরণ, বিশ্বাস সব কিছুতেই ‘সন্দেহবাদী’ হতে হবে, প্রথাগত বিষয় (tradition) বুঝে না আসলে, বর্জনের জন্য আহবান জানাতে হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত বর্জিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক হতেই হবে। এই বৈশিষ্ট্য অর্জিত না হলে ‘মুক্তমনা’ হওয়া যাবেনা, তখনই বুঝতে হবে ঐ ব্যক্তি মোটেই মুক্তমনা নয়, সে ‘বক্রমনা’। সন্দেহবাদী হতে হলে মুক্তমনাকে তার নিজ ঘর থেকেও শুরু করতে হবে। সে তার নিজ মা-বাপের সন্তান কিনা এটাও সন্দেহে আনতে হবে, ব্যক্তির identity-এর মূল স্থান এখানে। তার মা যে কোন পুরুষের সাথে গোপনে মিলিত হয়ে তাকে গর্ভে ধারণ করে থাকতে পারেন। তাকে প্রথমে DNA টেস্ট দিয়ে শুরু করতে হবে। তারপর তার পরিবারের সবার, তার মা-বাপ সহ।

    1. 6.1
      এম_আহমদ

      ভাই সালাম। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। হ্যাঁ, এই সূত্র অনুযায়ী একটা মুক্তমনা-টেস্ট হলে ভাল হত। সম্পূর্ণ  একমত। 

  27. 5
    এস. এম. রায়হান

    ইসলামের নবী সম্পর্কে 'রফিক' এর প্রশ্ন ও 'সত্য' প্রচার
     
    ইসলামের নবী সম্পর্কে এম_আহমদ (মনোয়ার আহমদ) আর আল মোর্শেদ সাহেবের কাছে 'রফিক' এর প্রশ্ন, এম_আহমদ সাহেবের জবাব, আর 'রফিক' এর পাল্টা জবাব নিচে দেয়া হলো-
     
    রফিক
    ফেব্রুয়ারি ১, ২০০৯ সময়: ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ|লিঙ্ক
    এত ত্যানা না প্যাচাইয়া মনোয়ার আর মুর্শেদ সাহেবেরা আমার নীচের প্রশ্নগুলার জবাব দিলেই পারেন।

    * নবীজী যে পঞ্চাশ বছর বয়েসে আয়েশাকে তার ছয় বছর বয়সের সময় বিয়ে করেছিলো (হাদিস দেখুন- আমার সাথে মনোয়ার সাহেবের বিতর্ক আকাশ মালিকের এই সিরিজটার চার নম্বর পর্বে আছে), সেটা কি প্রফেটিক এবং সকল মুসলিম বান্দাদের জন্য অনুকরনীয়?
    * সাফিয়া রায়হানা এবং জুয়ারিয়াকে যুদ্ধজয়ের পর ‘স্পয়েল অব ওয়ার’ হিসেবে অধিগ্রহন নবীজীর জন্য কতটা মানবিক ছিলো? সাফিয়ার ক্ষেত্রে খাইবার ‘যুদ্ধের’ পর সাফিয়ার স্বামী এবং ভাইকে হত্যার পর সেই দিনই সাফিয়াকে শয্যায় নেতার জন্য উন্মুখ ছিলেন। সেটা কি মনোয়ার সাহেব বা মুর্শেদ সাহেব অস্বীকার করতে চান?
    * নবীজী তার পালক পুত্র জায়েদের স্ত্রী জয়নবের সৌন্দর্য দেখে কামায়িত হয়ে পরেন এবং আল্লাহকে দিয়ে একটি সূরা নাজিল করিয়ে নেন যাতে এ ধরনের সম্পর্ক সৃষ্টিতে কোন অসুবিধা না হয়। এ টা কি প্রফেটিক কাজ?
    * কাউকে না বলে মারিয়া নামের এক দাসীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন মহানবী, যা নবীজীর স্ত্রী হাফসা এবং আয়েশাকে রাগান্বিত করেছিলো।
    * মুহাম্মদ কর্তৃক বেশিরভাগ যুদ্ধই ছিল ‘অফেন্সিভ’। আকাশ মালিক যে বলেছেন, বনি-মুত্তালিক গোত্র বা সিরিয়া থেকে বাণিজ্য করে বাড়ি ফেরার পথে কোরায়েশ বণিকদল মদিনা আক্রমণ করে নাই। এটা কি ভুল?
    * মুহম্মদ নিজেই বনি কুরাইজার আত্মসমর্পনকারী অগনিত বন্দিদের হত্যা করেন। এটা একটা গনহত্যা। এটা কি মনোয়ার সাহেব অস্বীকার করেন?
    * কাব বিন আশ্রাফ, আবু আফাককে আমাদের মহানবী হত্যা করেন তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ কবিতা লেখার দায়ে। আসমা বিন্তে মরওয়ানের ভাগেও একই ব্যাপার ঘটে। এই যদি হয় সমালোচনা সহ্য করার নমুনা!
    * প্রথম খলিফা কে হবেন তা কি গণতান্ত্রিক ভাবে হয়েছিলো, নাকি হঠাত করে? কে খলিফা হবেন, হযরত আবু বকর(রাঃ) না হযরত আলী(রাঃ), মন কষাকষি।
    * তার পর -হযরত আয়েশা(রাঃ) বনাম হযরত আলী(রাঃ)- শাশুড়ী বনাম জামাতার লজ্জাজনক যুদ্ধ, হযরত আলী(রাঃ) ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুপ্তঘাতক দিয়ে – এগুলো কি মনোয়ার সাহেব অস্বীকার করেন?
    * জামালের যুদ্ধে দশ হাজার মানুষের মৃত্যু আর সিফফিনের যুদ্ধে সত্তুর হাজার প্রাণ- এগুলো তো মুসলিমদের সাথেই মুসলিমদের যুদ্ধ – এগুলো কি শান্তির ইসলামের বানিজ্যিক প্রপাগান্ডা নাকি ইসলাম বেঁচে ক্ষমতা দখলের লড়াই, সত্যি করে বলুন তো?
    * ইসলামের চার খলিফার তিনজনকেই জনতার রোষানলে পড়ে প্রাণ হারাতে হয়েছিলো। এটা কি কোন সত্য তুলে ধরে?

    আমি মনোয়ার সাহেবকে এ প্রশ্নগুলো আগে (আকাশ মালিকের লেখার চতুর্থ পর্ব) করার পরও তিনি সেগুলোর উত্তর না দিয়ে এরিস্টটলের কায়দায় উপদেশ বানী বর্ষণ করা শুরু করলেন। কিন্তু এরিস্টটল সেজে তো আর সত্য এড়ানো যায় না।
     
    Monawwar Ahmed এর জবাব:
    ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০০৯ at ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ
    @রফিক,
    In regard his marriages, booties, battle-behaviours, Muhammad had acted well within the norms and accepted values of his time. People of his time did not live their life according to norms and rules of 21st century. If you do not see the difference between culture, society, religion and spirituality and how these relate to one another or overlap –that’s your problem. I have made these points clearly in several of my postings. If you are looking for a 21st century prophet in the religion of no-God, to lead you into a “paradise” (a world of peace by destroying all the religions), you better stay with Mr. Malik.
     
    রফিক এর জবাব:
    ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০০৯ at ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ
    @Monawwar Ahmed,
    হ আপ্নেরাইতো কন আমগো নবীজী সব মানুষের জন্য, সব কালের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। যখন আমরা নবীজীর প্নচাশ বছরের সময় ছয়বছরের শিশুরে বিয়া করার ব্যাপারটা কতটা আজকের যুগে অনুকরণীয় ‘আদর্শ’ (আপনে কি আপ্নের মেয়েরে ৬ বছরের সময় পঞ্চাশ বছরের বুইড়া ভামের লগে বিয়া দিবেন নি?), কিংবা যদি জিগাই পালকপুত্রের বউ জয়নবরে যেমনে বগলদাবা করছিলো (হেইটা কি আপনার জন্য অনুকরনীয় আদর্শ?), কিনবা যদি কই আপ্নে কি বাপ-ভাইগো কচুকাটা কইরা শাফিয়ার লগে সেই রাইতেই শুইতে চাওনটা কি প্রফেটিক মনে করেন নি – তখনই উত্তর আইবো – he acted within the norms and values of his time. হ ঠিক তাই। হিটলার, চেঙ্গিস খান, গোলাম আজম, বিন লাদেন হজ্ঞলতেই এক্টেড ইন হিজ টাইম কইয়া মাপ কইরা দেওন যায়। কি কন?
     
    Monawwar Ahmed এর জবাব:
    ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০০৯ at ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ
    @রফিক,
    Had Hitler acted within the norm of his time? You don’t seem to get the point, do you? Did the people of Muhammad’s time objected to their norm of child marriage as the 20th century humanity protested against Hitler? Did Muhammad make child marriage part of his religion? Do the Muslims gain ‘sawab’ (virtue) by marrying a child? What exactly are you braying about? All the kind of ‘proofs’ that you are carrying in your armpit has been known to the people at the time of Muhammad, and in spite of them, they believed, why? The same ‘proofs’ have been known to the Muslims throughout the ages and they have been taught over the generations in their schools (madrasa). Seeing your ‘proofs’ they still believe, why? Enter into any modern Islamic university or college library, you will find the your ‘proofs’ existing and still people ‘believe’, why? Why can’t they see in the proofs the way you see them? They are less intelligent than you? Look deeply, try to open your eyes and calm the fighting attitude a little bit and then you will see that “religions are not always about scripture or scriptural truth as much as they are ‘clips’ to hang the religious claims on”, and don’t come back to me over this, because to understand this dictum it will require some years of study. Consider the Bible. Many studies over the years have conclusively pointed to the fact that the accounts of the four disciples have been part and parcels of historical narratives, but has Christianity died away or will it? Never. Consider Hindu scientists, even the nuclear physicists. Some of the PhDs bow before the idols and pray, why? Are they less intelligent than you? You don’t seem to know what religions are all about –do you? Have all the Muslims (or the people of other faiths) studied their religious scripture, and having been convinced of its truth, they became Muslims? Some of you here do not seem to know a thing about religion but fighting against it. When you don’t know what you are fighting against, is there a likelihood of succeeding? Never.

    Now when you use such word as ‘আপনারা’ to me who are you generalising me with? Do I come here to preach Islam to you? Have I asked to believe in Muhammad or to fight against him? What exactly are you suffering from? Look into your writing since you have been addressing me and see the relation between what I said and what you replied with. Take a deep breathe in and see if there was any inclination to preach anything to you. I don’t really care if you believe or you don’t. I don’t even know if you are a Jehovah’s witness fighting against Islam under the guise of atheism, and I don’t care. If you cannot scan out how my approach engages the themes, then you are in one world and I am in another. There is no point in engaging into something when there is no basis for it. If you are trying to prove that “Muhammad is a false prophet and Islam is false religion,” I had the message a long ago – I am not here to defend Islam; if I did, I would be ‘like you’. Read carefully what I have been writing. I only question the rational premises which claim to be rational. Yours and my position are miles apart. I told you this many times. If you think I am wrong–let me be wrong, for my weak position can only add to your strength.
    —————————————

    @পাঠক,
    এই 'রফিক' সম্পর্কে জানতে হলে এখানে ক্লিকান। 'রফিক' নিকে ইসলাম ও ইসলামের নবী সম্পর্কে 'সত্য' প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু সত্য-বিদ্বেষীরা সত্যকে মেনে নিচ্ছে না। তার লেঞ্জা উন্মোচিত হওয়ার পর কীভাবে তার ভেড়ার পালকে ঘোল খাইয়ে অনন্ত কালের জন্য চম্পট দেয়া হলো তাও এই লিঙ্কে পাওয়া যাবে। দেখুন, মজা পাবেন।

    1. 5.1
      এম_আহমদ

      ভাই অনেক ধন্যবাদ। আপনি রফিক নিকের সেই আলোচনাটি এখানে এনেছেন। এখন এই আলোচনায় অনেক কিছু দেখতে পাচ্ছি যেটা সেদিন ঠাহর করতে পারিনি। আমি ওখানে মাত্র স্বল্প কিছু দিনই গিয়েছিলাম, এর পর আর যাইনি। তবে ওরা যে ইতর টাইপের মিলিট্যান্ট এটা প্রথমেই বুঝতে পেরেছি। যে বিষয়ে ওরা অভিযোগের লিস্ট দেয় এবং যেভাবে দেয়, যে ভাষায় দেয়, তাতে মূল বিষয়ের উপর তাদের অজ্ঞতাই প্রকাশ পায়। জেহোবা-ইউথনেসের বাইবেল থামাররা যেভাবে প্রচারণার লিস্ট বগলে বহন করে, ঠিক তেমনি। কোন আইটেমকে কেন্দ্র করে প্রেক্ষিতগত সমঝ দেখাতে যাবে না, তার কাছে শুধু এটা এক অভিযোগ আইটেম। তাও আবার inappropriate শব্দ ও বাক্যে সাজানো। একটা বিদ্বেষী ঐতিহাসিক কোন কথার caricature করবে এবং creatively উপন্যাসের মত একটা কিছু রচনা করবে।  আর অমনি নাস্তিক ধার্মিকদের কাছে তা  'ইতিহাস' হয়ে পড়বে। তাদের মধ্যে হৈ হৈ রৈ রৈ ওঠবে।  কিন্তু উত্থাপিত বিষয়ের সামাজিক তথ্য, কালীন তথ্য, ঐতিহাসিকতা, কাল থেকে কালের তুলনামূলক জ্ঞান -এসবের কোন পাত্তাই পাবেন না।  প্রোপাগান্ডার ভাষা ব্যতীত কিছুই দেখা যাবে না। কয়েকটি বাক্যের ভিতরেই বুঝে ফেলবেন যে লোকটা ইতর। বিদ্বেষের জ্বালা বহন করছে। 

    2. 5.2
      এম_আহমদ

      এই রফিকের প্রশ্নগুলো আবার দেখুন। কী পরিমান ধর্ম-মূর্খ, ইতিহাস-মূর্খ, epistemology-মূর্খ, সমাজ-মূর্খ হলে মানুষ এই পর্যায়ের অতি প্রাথমিক লেভেলের প্রশ্ন নিয়ে আপনার সামনে ইতরামি করতে আসতে পারে সেটাই হয় অবাক হওয়ার মত বিষয়। এমন ফিতনাবাজরাই সমাজের বিপর্যয় সৃষ্টি করে। সাধারণ মানুষের সাথে যদি তাদের মূল্যবোধ নিয়ে এমন অসভ্য  মূর্খামিতে যেত তবে থাপ্পড় একটাও মাটিতে পড়ত না। তখন তার পশ্চিমা বাবাদের সামনে এসে কান্নাকাটি করত, আর বলত মুসলমানরা অসভ্য। আর তাদের খোয়াড়ের 'মুক্তমনারা' হৈ হৈ রৈ রৈ করত, মূলে সভ্য আচরণ কে করল তার প্রতি ভ্রক্ষেপই করত না এবং তাদের উপন্যাস লেখকরা নানান মিথ্যা রচণা করেই চলত। 

      আপনি যে এদের ইতরামি বক্তব্য সংরক্ষণ করছেন, এটা এক জরুরি কাজ। এগুলো এক সময় evidence হয়ে কাজ করবে।   ধন্যবাদ।

  28. 4
    এস. এম. রায়হান

    আবার যারা নিজেদেরকে ‘যুক্তিবাদি’ মুক্তমনা ভাবতে যাবে, তারা নাকি “বিজ্ঞানমনষ্ক” হয়ে “সংশয়ী” দৃষ্টিকোণ দিয়ে মিথ ও অতিকথাকে বিশ্লেষণ করতে হবে। কিন্তু বিশ্লেষণের পরে কেউ খোদায় বিশ্বাসে উপনীত হতে পারবে না, কেননা সেই সিদ্ধান্তের বিপরীতে গেলেই সর্বনাশ – আপনি মুক্তমনা থাকতে পারবেন না! বলতে হয়, হায়রে ঢেঁকি! তুমিও কি ‘অনার্য’?

    পুরাই বুশ কিংবা মগাচিৎ-মার্কা তালগাছবাদী যুক্তি!

    মুক্তমনাদের সংজ্ঞাতে তারা কিছু পরিচিতি দেয়। তারা কারা? তাদের সংজ্ঞাতে, “নাস্তিক (atheist), অজ্ঞেয়বাদী (agnostic), সংশয়বাদী (skeptic), মানবতাবাদীদের (humanist) সাধারণভাবে ‘মুক্তমনা সদস্য’ হিসেবে গণ্য করা হয়।”

    এই সংজ্ঞা পড়ে কেন জানি বর্ণ প্রথার কথা মনে পড়ে গেল-
     
    নাস্তিক -- ব্রাহ্মণ
    অজ্ঞেয়বাদী -- ক্ষত্রিয়
    সংশয়বাদী -- বৈষ্ণব 
    মানবতাবাদী -- শুদ্র

    1. 4.1
      এস. এম. রায়হান

      মনা ধর্মের চার বর্ণ থেকে আরেকটি ব্যাপার পরিষ্কার। সেটা হচ্ছে:
       
      -নাস্তিকরা অজ্ঞেয়বাদী, সংশয়বাদী, ও মানবতাবাদী নয়।
       
      -অজ্ঞেয়বাদীরা নাস্তিক, সংশয়বাদী, ও মানবতাবাদী নয়।
       
      -সংশয়বাদীরা নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী, ও মানবতাবাদী নয়।
       
      -মানবতাবাদীরা নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী, ও সংশয়বাদী নয়।

      1. 4.1.1
        এস. এম. রায়হান

        একটি প্রশ্ন রয়েই গেল! প্রশ্নটি হচ্ছে প্রকৃত মুক্তামনা তাহলে কারা? নাস্তিকরা? নাকি অজ্ঞেয়বাদীরা? নাকি সংশয়বাদীরা? নাকি মানবতাবাদীরা? এটা কে ও কীসের ভিত্তিতে নির্ণয় করবে?
         
        পাঠক! মনা ব্লগের ভেড়ার পালের মনে কিন্তু এগুলো নিয়ে কোনই প্রশ্ন বা সংশয় নাই! তাদের ব্রাহ্মণ 'পয়গম্বর/দেবতা' যা বলে তাতেই তারা সমস্বরে "জ্বী হুজুর! জ্বী হুজুর! এক্কেবারে আমেরিক্যান ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কইছেন হুজুর!" বলে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে।

  29. 3
    মহিউদ্দিন

    নি:সন্দেহে অনেক পরিশ্রমী একটি লিখা। অসংখ্য ধন্যবাদ লিখাটার জন্য। এক শ্রেণীর নাস্তিকেরা “মুক্তমনা” শব্দটা কিভাবে অপব্যবহার করে তা স্পষ্ট করেছেন আপনার লিখায়।
    এ প্রসঙ্গে একটি কথা হল মুসলিমদেরকে অন্ধ বিশ্বাসী বলে যেভাবে হেয় করতে চায় সে বিষয়ে কিছু বলেন। আমি তো মনে করি ইসলামে অন্ধ বিশ্বাসী না হয়ে গায়েবে (অদৃশ্যে) বিশ্বাসী হতে বলা হয়। অন্ধ বিশ্বাস আর অদৃশ্য বিশ্বাস তো এক জিনিস নয়।    

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      ভাই, আপনার পাঠ ও মূল্যবান মবতব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      1. 3.1.1
        mahfuz

        আমার একটাই দাবি এইসব ভন্ড স্বঘোসিত 'মুক্তমনা ' দের "মুত্রমনা" ডাকা হোক

  30. 2
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    অনেক খাটাখাটুনি করছেন বুঝা যাচ্ছে। ২০০৩ সালে একটা হিসাব করে দেখিয়েছিলাম মুক্তমনাদের ওয়েব সাইটে লেখার ৯৬% ইসলাম বিরোধী। নানান রংগের মুখোশ পরে এরা ইসলামের বিরুদ্ধে লিখে। এরা আসলে ইসলামোফোবিক।

    1. 2.1
      এম_আহমদ

       
      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
       
      হ্যাঁ, অনেক কষ্ট করেছি, বুঝতেই পারছেন।
       
      “নানান রংগের মুখোশ পরে এরা ইসলামের বিরুদ্ধে লিখে।” কিন্তু লক্ষ্য করুন মানুষ কী পরিমাণ ইতর হলে অপরের ধর্ম নিয়ে এমন চরম ইতরামি করতে পারে। রায়হান ভাইয়ের লিঙ্ক দেখুন। আমি তো দেখে অবাক হচ্ছি। আমি তো অপপ্রচার নিয়ে এতকিছু ফলো করি না, রায়হান ভাইয়ের কষ্টে গড়া লিঙ্কগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কয়টি লোক এ কাজগুলো করছে তারা যে এত নীচু প্রকৃতির অমানুষ তা ভাবতেও কষ্ট হয়। মানুষ এই পর্যায়ে যায় কীভাবে? ইসলাম আর মুহাম্মাদকে (সা.) হীন করতে গিয়ে লাভটা কী করল? নিজেদেরকেই উলটো অমানুষ করে ফেলল।

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। 
       
      @অন্যান্য মন্তব্যকারীদের প্রতি
      সকলের মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ইনশাল্লাহ প্রত্যেকের নিজ নিজ স্থানে প্রতিমন্তব্য করব। লেখাটি পাঠকের নজরে রাখতে চাচ্ছি, তাই মন্তব্যের মাঝখানে সময়ের একটু gap দিতে চাচ্ছি।  

  31. 1
    এম_আহমদ

    এই লেখাটি দীর্ঘ। এটা দুই বা তিন ভাগে ভাগ করা যেত। কিন্তু এক সাথে দেয়াটা আমার কাছে যুক্তিসংগত লেগেছে, তাই এভাবে দিয়েছি। যারা দীর্ঘ লেখা পাঠ করতে অভ্যস্ত নন, তারা বিভিন্ন সময়ে পড়ে নিতে পারেন। যারা পড়বেন, তাদেরকে অগ্রেই ধন্যবাদ।  

Leave a Reply to শামস Cancel reply

Your email address will not be published.