«

»

Apr ২৫

চেতনার ভূত -একটি জাতীয় বিপর্যয়

[ফিরে দেখা অতীত। এই লেখাটি ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিলের। শাহবাগ-নাটকের দুই মাস পরের লেখা। লেখাটি দীর্ঘ ছিল –দুই অংশে। শেষের অংশে কোরানের আলোকে বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা ছিল। আজকাল দীর্ঘ লেখা চলে না, তাই সে অংশ বাদ দিয়েছি। কিছু এডিটও করেছি ও কয়েকটি 'মার্জিত' (!) ফটো সংযোগ করেছি। আগে শিরোনাম ছিল: 'চেতনার ভূত -একটি আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও বিপর্যয়', এখন তাও সংক্ষিপ্ত করে 'চেতনার ভূত: একটি জাতীয় বিপর্যয়' করেছি। ]।

ভূমিকা

আজকের [২০১৩ পর্যন্ত চলতি পরিস্থিতি] বাংলাদেশ  যেন একটি সিভিল ওয়ারের মুখামুখি। কয়েকটি গোষ্ঠী মিলিতভাবে প্রায় দেড় দশকের প্রচেষ্টায় এটি ঘটিয়েছে। তাদের নিজেদের ভাষ্যেই এটি "যুদ্ধ"! কিন্তু একটি স্বাধীন দেশের ভিতরে যুদ্ধ হতে পারে না: এটা হয় গৃহ-যুদ্ধ, সিভিল ওয়ার। তবে এরা কারা যারা এই যুদ্ধ চালাচ্ছে? সাদা-কালোভাবে, এরা ইসলাম বিদ্বেষী কয়েকটি চক্র: নাস্তিক, হিন্দু, বিদেশি, ও খাটি মুনাফেক পক্ষ, (নিফাক এখানে জটিল অর্থের: ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় বিভক্তির, কোথাও কোথাও সমাজ ধারার ইনোসেন্সেসে জড়িত)। কিন্তু এই ক্যাটাগরিগুলোও মূলত একান্ত স্থিতিশীল নয়। এর পাতালপুরীতে রয়েছে আধুনিক কালের আধিপত্যবাদ, যার রঙ-রূপ অনেকটা অপরিচিত। এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গণমানুষের চিন্তা-চেতনার উপর দখল ও নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সম্পদের হরিলুট।

হরিলুটের জন্য পানি ঘোলা করতে হয়। এর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হয়। সাধারণ বিবেককে অন্যত্র স্থাপন করতে হয়: গণমানুষকে সার্কাসে নিমগ্ন রাখতে হয়, প্রাণবন্ত আবেগে উচ্ছ্বসিত করে রাখতে হয়। এর জন্য নৈতিক অবকাঠামো ভেঙ্গে দিতে হয়। এর অনুকূল শিক্ষা-সংস্কৃতির রূপায়ন করতে হয়। ইসলাম যেহেতু নৈতিক ভিত্তির সমাজ ব্যবস্থাকে মজবুত রাখে, তাই লুটেরা-ধনতন্ত্র এর মেরুদণ্ড ভেঙ্গে সেই কাজ করতে চায়। মেরুদণ্ডহীন ধর্ম বেঁচে থাকাতে তাদের আপত্তি নেই। আজকের বৈশ্বিক ইসলাম বিরোধী আন্দোলনের মূল স্থানও এখানে। তবে, বাংলাদেশের এই যুদ্ধ আরও জটিল কৌশলে আবেষ্টিত। এটা আধিপত্যবাদী এজেন্টগণ ও তাদের চামচারা স্বাধীনতার দ্বিতীয় যুদ্ধ নামে চালিয়ে নিচ্ছে। যেহেতু যুদ্ধ, তাই যুদ্ধের আবেগ ও ইমেজারি ব্যবহার করছে; প্রতিপক্ষকে হত্যার জাস্টিফিকেশন এরই আঙ্গিকে আনছে। ইসলামকে 'জামাতি ইসলামীর' ট্যাগে উল্লেখ করছে। যদিও এ বিষয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা এখানে উপস্থাপনের অবকাশ নেই, তথাপি নেপথ্যের ধারণাটি খেয়ালে থাকলে ভাল। আর এ কথাও স্মরণে রাখা দরকার যে লুণ্ঠক শ্রেণীর গায়ের রঙ কী অথবা তাদের মুখের ভাষা কী তা নব্য-আধিপত্যবাদে আসল কিছু নয়। বরং এদের টাকার পাহাড় কোথায় এবং কাদের সাথে এদের সখ্যতা সেদিকে তাকানো যেতে পারে। এই কথাগুলো বলার পর, আমরা আপাতত জাতীয় বিপর্যয়ের চলতি যুদ্ধের দিকে তাকিয়ে কথা বলব। তবে এখানে  'ইসলাম বিদ্বেষী' কথাটিও জরুরি। কারণ, যারা বিদ্বেষী নয়, তারা এই আলোচনার অংশও নয়।

যোদ্ধা পক্ষ ও উদ্দেশ্যের প্রধান তালিকা

মিলিত যোদ্ধাগোষ্ঠীর বিভ্রান্তিকর কিছু শিরোপদ রয়েছে: সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ (এটাকে ইসলাম মুক্ত অর্থে ধরতে পারেন, কেননা তারা নিজেরাই আপন আপন স্থানে সাম্প্রদায়িক), একাত্তরের চেতনার বাংলাদেশ (এটাকে ধাপ্পাবাজি বলতে পারেন, কেননা তাদের এক বড় অংশ একাত্তরে যুদ্ধই করে নি, কেবল ফুসফাস করেছে), রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ (ধরতে পারেন এদেরই এক বড় অংশ ভারতীয় রাজাকার,যারা নাকি আগামী চল্লিশ বছর এই যুদ্ধ যা ভারতী স্বার্থের আন্দোলন তা করে যাবে), ও অবশেষে বাঙালী জাতীয়তাবাদের চিন্তা-চেতনার ভিত্তিতে সমাজ-রূপায়ন তথা তাদের আদর্শিক কায়দায় social engineering-সামাজিক প্রকৌশল: পূর্ব-প্রথা ধ্বংস করে বিশ্ব অর্থ-ব্যবস্থায় সংযোজিত এক নতুন শ্রেণীর উত্থান ও দখল প্রতিষ্ঠিত করবে। এই তালিকার চৌকশ-বিনোদন যুদ্ধাপরাধের বিচার: ধরেন, ভোজনের স্টার্টার পদ। বলীর পশু পূর্ব থেকেই 'সুনিশ্চিতভাবে' অপরাধী। জাতীয় স্বার্থে এদেরকে জবাই করেই প্রাথমিক পথ অতিক্রম করতে হবে। তারপর, এবং ক্রমান্বয়ে, মূল কাজ হবে রাজনৈতিক ময়দান থেকে প্রতিপক্ষ নির্মূল: এতে মিলিত-গোষ্ঠীর সকলের উদ্দেশ্য আপন আপনভাবে স্থাপিত। তবে "নির্মূলের" ধারণাটি অত্যন্ত জরুরি।

যেহেতু বেশ কিছু কথা বলা হবে তাই আগেই বলে রাখি কী কী কথা আসতে পারে। উপশিরোনামগুলো নিম্নরূপ:

  • নির্মূলকরণ ও মগজ ধোলাই

  • কাদের স্বার্থে নির্মূল যুদ্ধ?
  • বিপর্যয় ও জাতীয় বিভক্তি

  • শাহবাগী সো-ডাউন ও ফ্যাসিবাদ

  • পর্দার উন্মোচন

নির্মূলকরণ ও মগজ ধোলাই

জাতীয় বিপর্যয়ের এই যুদ্ধটি প্রধাণতভাবে তাদের আদর্শিক দুশমনদেরকে রাজনৈতিক ও ক্ষমতার আসন থেকে নির্মূল, ইসলামী প্রাতিষ্ঠানিকতা ও প্রথার বিলুপ্তি ও আধিপত্যবাদী নিয়ন্ত্রণের অবকাটামো স্থাপন -এসব উদ্দেশ্যে সজ্জিত।

যদিও যুদ্ধটি বুঝার কয়েকটি ধারা রয়েছে যেগুলোর যেকোনো একটি ধরে অগ্রসর হলে মূল প্রাসাদ দৃষ্টিগোচর হবে, তবে, নাটকীয়তার দিকে তাকালে বিনোদনের সাথে সেই সমঝ অর্জন হতে পারে। এগুলোর মধ্যে হচ্ছে কবর খোঁড়া, কঙ্কাল আনা, কলিমুদ্দীনকে দায়ী করা, তাকে হত্যা করা। শুধু এতটুকুই নয়, কঙ্কাল খোঁড়া থেকে সকল পর্যায়ে আছে হীন ও পাশবিক রঙ-তামাশা -কলিমুদ্দীনের মানবতা কেড়ে নেয়া ও কৌশল। তার উপর অভিযোগ ঢেলেই প্রোপাগান্ডা, ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো, সার্কাস সাজানো, ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে "যুদ্ধ-মঞ্চ" তৈরিকরণ ইত্যাদি। সাথে আছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড: ঢোল-ডফকি, পদ্য-গদ্য, নাট্য-চিত্র, নৃত্য-সংগীত ইত্যাদি দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি। তারপর, এখানে অভিযোগকারী যে, বিচারকও সে, সাক্ষীও সে, ফাঁসি-দাতাও সে, শবদেহ গোরস্থানে বহনকারীও সে, কবর খোঁড়ার দায়িত্বেও সে। এই বিচার "সুবিচার" না হয়ে পারে কীভাবে? দেবী অন্ধ হলেইবা কী, পুরোহীতের ইঙ্গিতেই তার ইচ্ছা। আর বিশ্বাসীর চোখে তার দর্শন। কানা ছেলের নাম হতে পারে পদ্মলোচন। 

আমি ছোট বেলায় "চোর-ধরা", "চোর-মারা" (নির্যাতন) দেখেছি। আমি ছেলেদেরকে নিরীহ কুকুর ও বিড়াল মারতে দেখেছি। আমি গ্রাম্য বিবাদের উত্তেজনা দেখেছি। আবেগ কীভাবে অতি সামান্যতেই দুই পক্ষকে মুখামুখি করে -তাও দেখেছি। আমি আরও অনেক ঘটনা দেখেছি যেগুলো আমার দেশের মানুষের মানসিক দৈন্যতা বুঝতে আজ অনেক সাহায্য করে। জাতিগতভাবে আমাদের সঠিক যাচাই বাছাইয়ের গুণাগুণ কম; আমরা একটি বিষণ্ণ প্রকৃতির জাতি, দ্রুত উত্তেজিত হই, আবার সামান্য উপভোগের কিছু পেলে বাচ্চাদের মত উচ্চাসিত হই, সেখানে সার্কাস উপভোগ করি; আমরা তড়িৎ-আবেগের বশবর্তী হয়ে বারুদের মত স্ফুলিঙ্গিত হতে পারি; আমাদের মানসিকতা সহজেই কৌশলীদের হাতে ব্যবহৃত হওয়ার উপযোগী। ধরুন, কোন এক চোর ধরে পেটানো হচ্ছে, আর আমরা দেখছি বা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছি: চুরি অনৈতিক, তাই, আমাদের নৈতিক-আবেগ উসকা-মেরেছে, তাই নিষ্ক্রিয়ভাবে দেখছি অথবা এই কাজে সক্রিয় হয়েছি। কিন্তু, সে কী চোর? অমুক কী হত্যাকারী? অমুক পশু -তাইত? তার পশুত্বের জন্য কেন জবাই হবে না? তাই না? কিন্তু, সে কী সত্যিই পশু? বাস্তবতা কী এভাবেই? না। বরং  আমাদের বিবেকহীনতায় তা এভাবে ধরা দেয় -তাই। এ জন্য এই চোর আর এই হত্যাকারীর মানবতা কেড়ে নেবার আগে আমাদের মানবতা ও বিবেককে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করি না। এখানে আবেগী নৈতিকতা কীযে করুণ ভূমিকা পালন করে তা বলার মত নয়।

কাদের স্বার্থে নির্মূল যুদ্ধ

১৯৭১ সালে এ দেশে একটি যুদ্ধ হয়েছিল। এটা হঠাৎ শুরু হয়েছিল। তখন স্বাধীনতার জন্য এদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বা নাগরিক পরিসরে কোন আলাপ আলোচনা সাধিত হয় নি, এমনটি নাগরিক জীবনের অংশ, গণতান্ত্রিক বিষয়ের অন্তর্ভূক্ত। তারপর, যে যুদ্ধটি হয়েছিল সেটি এক পর্যায়ে, দৃশ্যত, ভারত-পাকিস্তানী যুদ্ধে পরিণত হয়েছিল। দুই সপ্তাহের মাথায় পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেছিল। তারপর, পাকিস্তানী সশস্ত্র পক্ষ ভারত থেকে ছাড়া পেয়েছিল এবং যারা বাংলাদেশে পাকিস্তানী পক্ষের সহযোগী ছিল তাদের অনেকেই জেল কেটেছে। তারপর অনেক কাল অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। সেদিন যে ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরোধী ছিল, আজ সে বিরোধী নয়। কারণ আজকের এই ভূখণ্ডটি  পাকিস্তানের অংশ নয়, অধীনও নয়: পাকিস্তানের সাথে এর কোন বর্ডারই নেই, যাতে সেই ভয়ের কারণ থাকতে পারত। আজ স্বাধীনতা-বিরোধী বলে অতীতের কবর খুঁড়ে কোন বিবাদ জাগ্রত করা এদেশের জাতীয়তাবাদী চেতনাকে ধ্বংস করার নামান্তর। এটা নির্ঘাত "বিষ"। এটা বাংলাদেশের কল্যাণের কোন বিষয় হতে পারে না,বরং আশে-পাশের দেশের বিষয় হতে পারে। এই দেশের লোক আত্ম-কলহে নিমজ্জিত থাকলে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থের জয় হতে পারে। এই স্বাধীন অঞ্চলে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের উদাহরণ যদি অন্যত্র স্বাধীনতার চেতনার উন্মেষ ঘটানোর সম্ভাবনাময়ী হয়, তবে ক্রমধারায় এটি ভয়ের কারণ হতে পারে। সুতরাং, এমন ভয় যাদের থাকতে পারে তাদের জন্য এই ভূখণ্ড ও তার রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন হতে পারে। তারপর এখানে যদি নিজেদের বাজারের নিরাপত্তা ও স্বার্থ জড়িত থাকে, তবে কয়েক হাজার কোটি খরচ করেও তা নিশ্চিত করা জরুরি হতে পারে, এমন কি যুদ্ধ করেও। তবে মিলিত-পক্ষের আরও উদ্দেশ্য রয়েছে। এই (গৃহ)-যুদ্ধ তাদেরই স্বার্থে এবং এখন সেই কাজই হচ্ছে। আর তা হচ্ছে বিজ্ঞাপনের সাইকলোজি ব্যবহার করে, কোটি কোটি টাকা খরচ করে, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে, মিডিয়াযন্ত্রের মাধ্যমে। বিজ্ঞাপনে একটি পণ্যকে কৌশলে অন্য বস্তুর এসোসিয়েশনে যেভাবে স্থাপন করা হয় সেভাবে কবর খুড়ে কঙ্কালের সাথে কিছু লোকের এসোসিয়েশন ঘটিয়ে তাই হচ্ছে।

আজ বিএনপিকে নির্মূল করা কী জাতীয় স্বার্থের বিষয়? অথবা জামাতসহ অন্য কোন রাজনৈতিক দলকে? বিএনপি তো এদেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছে। আজও তাদের দলে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেশি। আজকে দৃষ্টি কোন দিকে প্রসারিত হওয়া জরুরি? আজ জাতীয় অবস্থার স্বরূপটি কী? প্রত্যেক বৎসর কী এদেশে হাজার হাজার হত্যা সংগঠিত হচ্ছে না? অসংখ্য পরিবার হত্যা-নির্যাতনে নিঃশেষ হচ্ছে না? হাজার হাজার নারী ধর্ষিতা হচ্ছে না? ব্যাঙ্কের কোটি কোটি টাকা লুণ্ঠিত হচ্ছে না? জনগণের বনসম্পদ ও মৎস্য-সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে না? জনগণের ভূমি-সম্পদ দস্যিপনার শিকার হচ্ছে না? তারপর, ঘোষ, চুরি, ডাকাতি কী সর্বত্র বিস্তৃত নয়? শিক্ষাঙ্গনে, সরকারি প্রতিষ্ঠানাদিতে, আদালত অঙ্গনে, সশস্ত্র বাহিনীতে, রাজনীতিতে -সর্বত্র? এখানে কী বিচার এক দুর্লভ বস্তু নয়? কেন? কেন আজ বিচার দুর্লভ? এ দেশে কী বিচারক ও আদালত নেই? আজ কী নিরপরাধ ব্যক্তিকেও শক্তিধরের হাতে মিথ্যা মামলায় সর্বস্বান্ত হতেও দেখা যাচ্ছে না? বলুন, আজ কী ভূত সর্ষেতেই স্থান করে নেয় নি? তাহলে?

জ এরই মধ্যে আওয়াজ উঠেছে যুদ্ধের, নির্মূলের: বিএনপি-জামাত নির্মূল। যেসব জামাত-নেতার ফাঁসির কথা বলা হচ্ছে তাদের কাউকে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধী বলা হয় নি, ১৯৭২ সালেও না; তাদের নামে কোন মামলাই ছিল না, অথচ দেশ বিজয়ী পক্ষের হাতেই ছিল। কিন্তু এখন একটি 'আন্দোলন' বিচারের আগেই ওদেরকে ফাঁসিয়ে মারার কথা বলছে, মন্ত্রী-মিনিস্টারদের মুখেও তাই!  বিষয়টি কী ভাবিয়ে তোলার মত?

বিচার তো বন্য পশুর গল্প হতে পারে না। এই জঙ্গলে "যুদ্ধাপরাধী" শুনেই কী চোর-পেটা-সার্কাসে যোগ দিতে হবে? এটা কী দেখার দরকার নেই কারা আওয়াজ তুলছে; এদের পরিচয় কী; কীসের বিচার, কীভাবে বিচার, কার মাধ্যমে। তারপর, যাদের বিচার হবে তাদের সাথে এদের কোনো দ্বান্দ্বিক পূর্ব-সূত্রিতা আছে কী? ঘটনা তো এমনও হতে পারে যে এখানে মুখামুখি পক্ষগুলো এই প্রথমবার মুখামুখি হয় নাই, এদের অতীত আছে, এরা বার বার মুখামুখি হয়েছে, ভিন্ন ভিন্ন রণাঙ্গনে –এবারে হয়তবা ‘বিচার’।

এই হচ্ছে বিচারের একটি দৃশ্য। কিন্তু ওদেরকে যে মেরে ফেলা হবে -এটা নিশ্চিত। এই সঙ্গিন অবস্থা দেখে কয়েকটি বিদেশি আইনি সংস্থা সাহায্য করতে প্রস্তাব করেছিল। নির্মূল আন্দোলনের বাইরের অনেক আইনবিদও এমন প্রস্তাব করেছিলেন, যাতে অন্তত একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণীয় বিচারিক প্রক্রিয়া তৈরি হয়। কিন্তু, ঢোল-ডফকি ও নৃত্য উল্লাস তখন তুঙ্গে। শক্তি হাতে মুঠোয়, পক্ষীও খাঁচায়, সাক্ষীও গোপাল!  তাই কে কার তোয়াক্কা করে? মনে রাখতে হবে বিচার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে জাতীয় সকল অঙ্গনে এদের কব্জা অনেক শক্ত।

বিপর্যয় ও জাতীয় বিভক্তি

আমি গত ৩ বৎসর ধরে ব্লগ জগতের সাথে পরিচিত হয়েছি। ২০০৯ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর আমারব্লগে ঢুকি। সেখানে দেখি সেই শৈশবের বিড়াল-কুকুর-ধাওয়া-করা দৃশ্য। কিছু অসভ্য, উগ্র লোক একাত্তরের আবেগ দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষের সার্কাস তৈরি করছে। শুধু ওখানেই নয় বরং আরও কিছু হিন্দু-সাইট মুক্তমনার ধাপ্পাবাজিতে (নাস্তিকতার মুখোশে) সেই কাজে জড়িত। দুই বঙ্গের ইসলাম বিদ্বেষীগণ এই যুদ্ধে! বিদেশ থেকেও, সবাই! সবাই যেন একই দেশের লোক। ওগুলোতে বিড়াল-মারার পাশাপাশি চলছে ইসলাম বিদ্বেষ; নবী-রাসূলকে নিয়ে কটাক্ষ ও বিষোদগার, কোরান নিয়ে অজ্ঞ-মূর্খ বয়ান। আর এই হুলুস্থলে চলছে জামাত বিদ্বেষ, বিষোদ্গার। ওদের নেতাদের ছবি কুকুরের পিছনে, শুয়ারের পিছনে, জন্তু-জানোয়ারের পিছনে -অঙ্কিত! সাথে ইতরি গালিগালাজ। কুকুর, শুকর ও অন্যান্য জন্তু জানোয়ারের মুখে দাড়ি এঁকে দেয়া এবং ছবির নিচে জামাতের কারো নাম লিখা! অনেক ব্যঙ্গচিত্র যৌন-অশ্লিলতায় পরিপূর্ণ। আর এভাবেই চলছে পশুকরণের (dehumanisation) প্রক্রিয়া: পৈচাশিক তৎপরতা। মূল কথা: এদেরকে নির্মূল করতে হবে! তাই আজ বিড়ালের মুক্তি নেই! কিন্তু হায়, আইনি দৃষ্টিতে তারা তখনো নিরপরাধ। বিচার তো শুরুই হয়নি। এদের দলটি বাংলাদেশের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ইলেকশন কমিশনের সাথে নিবন্ধিত একটি জাতীয় দল। প্রায় নয়/দশ শতাংশ জনগোষ্ঠী এর সাথে জড়িত। একটি অন্যতম ও প্রধান রাজনৈতিক দল ছাড়াও এরা আরও কয়েকটি দলের সাথে জোটবদ্ধ। এমন একটি জনগোষ্ঠীর প্রতি এই ঘৃণার বিস্ফোরণ ঘটানো, বিদ্বেষের প্রচার, গালাগালি -এগুলো কী? অসভ্য তো বটেই। যদি বিচার চাওয়া হবে, তবে গালাগালি কেন; ঘৃণা বিদ্বেষ কেন; পাকিস্তানে পাঠানোর কথা কেন; ব্যঙ্গ-চিত্র কেন; ফাঁসীর কথা কেন; নির্মূল কেন; সমূলে বিনাশ কেন –এগুলো তো অপরাধ। এই হচ্ছে আন্দোলন -নির্মূল যুদ্ধ।

বিএনপির দিকে তাকান। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনরাল জিয়াউর রাহমান, তার স্ত্রী খালেদা জিয়া, তাদের পরিবার ও গোটা বিএনপির মানবগোষ্ঠীকে পশুকরণ (dehumanisation) করা হবে কেন? এই দলের বিপুল জনগোষ্ঠী স্বাধীনতার পক্ষের: এরা একাত্তরে যুদ্ধ করেছিল। তাহলে, আজকের এই যুদ্ধটি কীসের? হনুমানের ল্যাঞ্জায় যে অগ্নি, যা লঙ্কাপুরী তছনছ করবে, তা কী সীতার জন্যে নয়?

শাহবাগী সো-ডাউন

গত ৫ই ফেব্রুয়ারি শাহবাগ চত্বরে যে নাটক হয় তাতে নির্মূল  যুদ্ধের দেশি-বিদেশি সূত্রগুলোর বহির্প্রকাশ ঘটে। সেখানে ফাঁসীর চিৎকার থেকে আল্লাহ রাসূলের বিরুদ্ধে চিৎকার হয়ে উঠে, ইসলামী রাজনীতি বন্ধের চিৎকার হয়, মাদ্রাসার কারিকুলাম নিয়ন্ত্রণের চিৎকার হয়, ইসলামী ব্যাঙ্ক জাতীয়করণের চিৎকার হয়, (এটাকে লুটে খাওয়ার লিপ্সায়), ইসলামী সেবা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানাদি বন্ধের চিৎকার হয়। এসবই আকাশ বাতাস মুখরিত করে: এ যেন ছিল লঙ্কা-বিজয় উদযাপনী। তারপর এই পার্টি-আবেগ তার গোপনীয়তা হারায়। সংখ্যার আতিশয্যে মিলিত-পক্ষ বিমোহিত হয়। তারপর তাদের একত্ব ভুলে গিয়ে আপন আপন উদ্দেশ্য প্রকাশ করতে শুরু করে!  শীঘ্রই কার হাতে কর্তৃত্ব থাকবে এটা নিয়ে বিবাদ বাঁধে। যদিও পিছন থেকে ‘রাজনৈতিক পক্ষের’ আয়োজনেই এই সমাবেশ ঘটেছিল, কিন্তু ইমরান এইচ সরকারের কেন যেন ধারণা হয়েছিল যে বেচারার ডাকেই নাকি এই বিপুল জনতা এসেছিল এবং রাজনৈতক পক্ষ তখন যেন তার হাত থেকে সাফল্য কেড়ে নিচ্ছিল! এ নিয়ে তিনটি পক্ষের মধ্যে চরম রেষা-রেষি ও মারা-মারি হয়েছিল। লাকী নামক একটি মেয়ে মার খেয়ে হাসপাতালেও যেতে হয়েছিল।

এই শাহবাগ ছিল সুদূর অতীতের এক পৌত্তলিক মিত্রবাহিনীর মত, যা খন্দক-যুদ্ধ নামে পরিচিত। সেদিন মিত্রবাহিনীটিতে ছিল দশ হাজার সেনা-শক্তি, কিন্তু তারা কোনো নির্দিষ্ট একক নেতৃত্ব গঠন না করেই যার যার এলাকা থেকে মুসলিম “নির্মূল” করতে এসেছিল। তারপর সংখ্যাধিক্যে আত্মপ্রতারিত হয়েছিল। তবে শাহবাগে কিছু পার্থক্যও ছিল। এই সমাবেশে এমন অসংখ্য লোক ছিল যারা ওখানে তামাশা দেখতে গিয়েছিল -যা খন্দকে ছিল না। তারপর, শাহবাগে ছিল বিপুল যুবক যুবতির মহড়া: গান, বাজনা, নৃত্য, উল্লাস ইত্যাদি। চার বেষ্টনীর নিরাপত্তার ভিতরে এমন নাটকীয় সার্কাস বাংলার ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম (হয়ত বিশ্বের ইতিহাসেও)। ওখানে গিয়ে, বিনা-টিকেটে, রঙ-তামাশা উপভোগ করার বয়স ও অবসর যাদের ছিল, তারা সেখানে গিয়ে হাজির হয়েছিল। এমন দর্শকের সংখ্যাই ছিল বেশি। ওখানে ভোগ্য উপাদানের কমতি ছিল না, বরং বাড়তি ছিল প্রচুর। ছিল চৌকস সামগ্রী। অনেককিছু সংবাদ-মাধ্যমে ও মৌখিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে। (অপকর্মের উপাদান-জনিত কারণে এটাকে নাস্তিক চত্বরের পাশাপাশি ইন্টারনেট মন্তব্যাদিতে প্রজনন-চত্বর হিসেবেও আখ্যা দেয়া হয়েছে)!

শাহবাগে সার্বিকভাবে ন্যায়-পরায়ণ বক্তব্যের অনুপস্থিতি ছিল। একটা একটা জামাতি ধর/ধরে ধরে জবাই কর, একটা একটা শিবির ধর/ধরে ধরে জবাই কর –এগুলো কী বিচারের মহাকল্লোল? জাফর ইকবাল যখন একটা একটা করে নাম উচ্চারণ করছিল, আর তার সাথে সাথে পাগলপারা যুবক যুবতিরা সমস্বরে, তুই রাজাকার, তুই রাজার বলে গর্দভের-মত চিৎকার করে যাচ্ছিল, তখন সেখানে বিমূর্ত হয়ে উঠেছিল চরম ঘৃণা-বিদ্বেষ: সেকি দৃশ্য! এটা বিচার? ওরা কী শিক্ষিত লোক? মঙ্গল-প্রদীপে প্রজ্বলিত হয়ে উঠেছিল ফ্যাসিবাদের মহাসমারোহ! গোটা পরিস্থিতি নোংরামীতে ভরে গিয়েছিল। বিভিন্ন দেশের মিডিয়ায় তা বীভৎস ও বিস্ময় হয়ে প্রকাশ পেয়েছিল। এক পর্যায়ে রাজীব নামক এক দুর্মুখ নাস্তিক অক্কা পেলে সুযোগ যায় কই? নানান উদ্দেশ্যর সমন্বয়ে গঠিত চক্রের একাংশ তড়িৎ বেগে দৌড়ে যায় লাড্ডু গিলার অভিলিপ্সায়! কে সর্বাগ্রে এই ঘটনা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা নেবে -সেই পায়তারায়। তারা তখন ঐ নাস্তিককে তাদের ‘দ্বিতীয় (মহা) যুদ্ধের’ ‘প্রথম শহীদ’ আখ্যায়িত করে। তারপর খেলা! সেকি ঘুর-ঘুর মুর-মুর! প্রধানমন্ত্রীর হস্তও প্রসারিত হয়েছিল এই রাজীবের তপ্ত-খ্যাতির পুষ্প-কানন থেকে নিজের জন্য সামান্য ধন্য কুড়াতে! কীযে কলঙ্ক, কীযে বিস্ময়! ওখানে নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতীরা নিজেদের আচরণে যে শিক্ষা-সংস্কৃতির পরিচয় দিচ্ছিল, তা কী জাতীয়ভাবে প্রত্যাশিত কোন গুণ হতে পারে? ইসলামের সার্বজনিন রূপ ছেড়ে দিয়ে মানুষ কী এই শিক্ষা সংস্কৃতি গ্রহণ করবে? এটা যুদ্ধ? এটা জাতীয় বিপর্যয়।

পর্দার উন্মোচন

নিঃসন্দেহে, এইযুদ্ধে  রয়েছে বিদেশি স্বার্থ ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য। পাশে রয়েছে এই সমাজ থেকে ইসলাম ধর্মের অবশিষ্ট রঙ-রূপকে  উজাড় করে তাদের ব্যাখ্যার মেরুদণ্ডহীন রূপ দেয়া -এটাকে বৈরাগী ধর্ম করা। এই কাজে রয়েছে গভীর কৌশল: গোটা ইসলামকে জামাতে ইসলামী -করণ, গোটা ইসলামকে যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িয়ে দেয়া, এবং প্রথমটিকে সামনে রেখে দ্বিতীয়টির মূল উপড়ে ফেলা! তাদের এই যুদ্ধ এক অতি প্রাচীন যুদ্ধ যা নতুন নামে দাঁড় করানো হয়েছে। এই যুদ্ধের জের ১৯৪৭ সালে পাওয়া যেতে পারে, ১৮৫৭ পাওয়া যেতে পারে, ১৭৫৭ সালে পাওয়া যেতে পারে এবং মধ্যবর্তী সময়েও ভিন্ন সূত্রাদিতেও দেখা যেতে পারে। এজন্য তারা নিজেরাই এটাকে "যুদ্ধ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে! একটি স্বাধীন দেশে এটা হতেই পারে না। দেশের ভিতরে যুদ্ধ কী কখনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে? কখনো না। আনে শুধু বিপর্যয়।

আমাদের শেষ কথা হচ্ছে এই, আজ আমরা এক ঐতিহাসিক সত্যের দ্বারপ্রান্তে -ঐতিহাসিক যুদ্ধের মুশাহিদ: সাক্ষী। ঐতিহাসিকভাবে মুসলিমদের এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিৎ। এখানে জাতিগতভাবে যে দুই অংশ প্রকাশ পেয়েছে, এটাই আজ সঠিক সত্যের উদ্ঘাটক। বিভক্ত এই দুই অংশের ঐতিহাসিকতা, দুই প্রান্তের লোকদের সার্বিক ধার্মিকতা, সার্বিক দ্বীনি-চরিত্র, তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, জীবন যাপন পদ্ধতি ইত্যাদির দিকে তাকানো যেতে পারে।  এতেই প্রকৃত সত্য প্রতিভাত হওয়ার কথা। এক্ষেত্রে তারা এই দোয়াটিও করতে পারেন:

আল্লাহুম্মা আরিনাল হাক্কা হাক্কা, ওয়ারজুকনা ইত্তেবাআ, ওয়া আরিনাল বাতিলা বাতিলা ওয়ারজুকনা ইজতিনাবাহু ইয়া রাব্বাল আলামিন

–হে আমাদের প্রভু, আমাদেরকে সত্যকে সত্যরূপে দেখিয়ে দাও, ও সেই সত্যকে অনুসরণ করার তৌফিক দাও, এবং আমাদেরকে মিথ্যাকে মিথ্যারূপে দেখিয়ে দাও, ও তাত্থেকে সরে থাকার তৌফিক দাও, হে পরওয়ারদিগারে আলামিন।

তারপর, যার মন যেদিকে যায়, অর্থাৎ যে দলের সাথে যার হাশর নশর হওয়া পছন্দের, তিনি সেদিকেই যেতে পারেন।

__________________________________

ফটো উৎস:

[1] ফিচার ইমেজ xx বাকী ফটো xx এখান থেকে নেয়া- উৎস   

৩১ comments

Skip to comment form

  1. 15
    এম_আহমদ

    এই লেখাটির মূল লাইনিংটি হচ্ছে সামাজিক অধঃপতন, নৈতিক অবক্ষয় ও শুন্যতা নিয়ে, যা যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কিত বিষয়টিকে একটি বিশেষ প্রেক্ষিতে প্রশস্ত করেছে। কোন পাঠক চাইলে যুদ্ধাপরাধ বিষয়টি সরিয়ে যুক্তির সামাজিক পিছনটি দেখতে পারেন।
    ধরুন, কেউ তার রান্নাঘর পরিষ্কার করবেন। কিন্তু তার পানি ময়লা। তার সাবান সাবান নয়। তার মপের বাকেটে ছিদ্র,  যা থেকে ময়লা পানি মেঝেতে ঝরছে, তার হাতের কাপড়খানাও ময়লা -এই পরিস্থিতিতে তার রান্নাঘর পরিষ্কার হবে না, বরং আরও অপরিষ্কার হবে। এই হচ্ছে আজকের সমাজ। যে চোর ধরবে, সে চুরি করছে, যে অপরাধ দমন করবে, সে বড় বড় অপরাধ করছে, যে বিচার করবে সে  ‘ডাকু’ হয়ে আছে, যে বিচারের চিৎকার করছে, সে বড় ধাপ্পাবাজ, এমনই রাষ্ট্রযান্ত্রিক অধঃপতিত বাস্তবতায় বিচারের চিৎকারেও থাকছে প্রতারণা, দুর্নীতি ও অবক্ষয়জনিত উদ্দেশ্য। এটা অনেক আগেই বলেছি এবং পরে বাস্তবে রূপ নিতে দেখেছি। এখানে জাতীয় চরিত্রের চরম অবনতিতে মানুষ প্রতারিত হয়েছে। আমার আশে পাশের অনেক লোক, আগে না হলেও, এখন এই ধারণায় একমত। এই অবনতি থেকে মুক্তি পেতে হলে এখন ধর্মে ফিরে যেতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষার চিন্তা করতে হবে। তা হলে নৈতিক মানের রাজনৈতিক আসবে না, ব্যবসায়ী আসবে না, শিক্ষক আসবে না, বিচারক আসবে না, পুলিশ আসবে না, মিডিয়া কর্মি আসবে না। সকল আওয়াজের পিছনে থাকবে একদল উদ্দেশ্য প্রণোদিত ধাপ্পাবাজ, আর তাদের শ্লোগানে মিশবে প্রতারিত মহল। আজকের এই চরম অধঃপতিত বাস্তবতার নৈর্ব্যক্তিক বিচার বিবেচনার প্রয়োজন। এটা শান্ত মাথায় এবং হিংসা বিদ্বেষ এক পাশে রেখে সকল পক্ষকেই করতে হবে। এটা থেকে সব রাজনীতির লেজুড় সরাতে হবে। তবেই এই অধঃপতনের বিস্তৃত রূপ দেখা যেতে পারে।

  2. 14
    এম_আহমদ

    [ভিডিও সংযোগ]

    যারা ইতিহাস নিয়ে চিন্তা করতে চান, তারা প্রথমে যারা ইতিহাস দর্শনের আলোচনা করেছেন তাদের কিছু লিখা থেকে পাঠ শুরু করতে পারেন। (What is mean is to look into historiography). তখন ইতিহাস কীভাবে দেখা হয়, এর উপকরণ কীভাবে ব্যাখ্যা হয়, বিশেষ বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শ কীভাবে ইতিহাস ব্যাখ্যা ও রচনায় স্থান পেয়ে যায় এবং রাজনৈতিক আদর্শে প্রভাবিত ইতিহাস টেক্সটকে কীভাবে interrogate করে টেক্সটের অপরাপর স্থানে বিচরণ করার পদ্ধতি পাওয়া যায় -সেই দিক দিকগুলো আয়ত্ত হতে পারে। বাইরের যারা বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে কথা বলেছেন তাদের অনেকেরই ধারণা ১৯৭১ এর ইতিহাস এখন রচিতই হয় নি। আবেগ, আস্ফালন, হামসে তুমসে, self-gratification, self-glorification ইত্যাদি দিয়ে ইতিহাস হয় না।

    ক’দিন আগে একজন রাশিয়ান গোয়েন্দার ইন্টার্ভিউ দেখলাম যা “চেতনার” পিছনের আরেকটি দিক নির্দেশ করে। এখানে তা দেখা যেতে পারে। ভিডিও  ‘ভিডিওটি এখানে’।

    শীতল-যুদ্ধের প্লটকে কেন্দ্র অনেক পক্ষের অনেক উদ্দেশ্য সিদ্ধ ছিল। যারা সুকৌশলে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল, তাদের কেউ কেউ সরাসরি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ –এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। আজ ইসলাম ও রাষ্ট্র বিষয়ক যেকোনো কথায় তারা নির্ভীকভাবে বলে ফেলেন, ‘আমরা এজন্য সেদিন যুদ্ধ করিনি’, অর্থাৎ আমাদের যুদ্ধ এরই বিপক্ষে ছিল। আজ ‘পরাজিত শক্তিকে’ আমাদের ধারণার ও আদর্শের বিপক্ষে কথা বলতে দেয়া হবে না। এসব হচ্ছে ‘কৌশলে নির্ধারিত টেক্সট’। ইসলামের দুশমনগণ গণমাধ্যমে কৌশলে যেসব শব্দ ব্যবহার করে তাতে চাটুকারগণ প্রতারিত হলেও দেশের সকল লোক প্রতারিত হবার মত নয়। কারণ এই শ্রেণীর আচরণ, বিশ্বাস, আদর্শ, এদের যোগসাজুস সবকিছু জ্ঞাত, কিছুই পরিচিত।

    যেকোনো জিনিসকে বেশি টাইট (tight) করতে গেলে এক সময় তা ফোঁসকে যায়। ঘটনা এভাবেই ঘটেছে। বাংলাদেশের ‘মুসলিমগণ’ বুঝে ফেলেছেন তাদের যুদ্ধের মূল উদ্দেশ-স্থান কোথায়। ‘দেশে যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে  তবে আমরা পাকিস্তান ভাঙ্গলাম কেন? এমন প্রশ্নে কোন সত্য প্রকাশিত হয়?’ [এখানে “আমরা” শব্দটি প্রণিধানযোগ্য, এই “আমরা” শব্দে কারা নিহিত? ] তবে মুক্তিযুদ্ধের সর্ব বৃহত্তর অংশ কখনো ইসলামের বিপক্ষে যুদ্ধ করেননি। আজ তারা তা প্রকাশ্যে বলতে হচ্ছে।

    1. 14.1
      কিংশুক

      বর্তমানে সাংবিধানিক আইনগত ভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কিছু বলাও ঠিক নয় ।কিন্তু তার সময়কার অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিকরা তাঁকে একজন সাধারণ ক্ষমতা কেন্দ্রীক রাজনৈতিক ব্যক্তি মনে করে তাঁর সমালোচনা ও বিরোধিতা করতে পারতেন । অনেক বড় বড় মুক্তিযোদ্ধা আর্মিরা মুক্তি যুদ্ধে নিজেদের অবদান বঙ্গবন্ধুর চাইতে কম মনে করতেন না বলে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা আওয়ামী লীগ বা শেখ পরিবারের হাতেই থাকতে হবে বলে মনে করতেন না। ঐসব রাজনৈতিক ও মুক্তি যোদ্ধা আর্মিরা দেশ শাসনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চাইতে নিজেদেরকে বেশী যোগ্য ভাবতেন। আর যারা বামপন্থী ছিলেন তারাতো বৈজ্ঞানিক তন্ত্র মেধার দিক দিয়ে নিজেদেরকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতেন। যাইহোক তাঁরা নিজেদের যোগ্যতা বলে বঙ্গবন্ধুর সমালোচনার যোগ্য ছিলেন । আমার কোন যোগ্যতা না থাকলেও একটু সমালোচনা করতে হচ্ছে । মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে এটিএন বাংলার তথ্য চিত্রে দেখলাম বঙ্গবন্ধু ভারতের ইন্দিরা গান্ধীর সাথে দেশ স্বাধীনের পরপর ভারতে দেওয়া সম্বর্ধনায় দেশকে সেকুলার রাষ্ট্র করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঠিক আছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যুদ্ধ শুরু করলে ভারতের সাহায্য ছাড়া আমরা এত সহজে স্বাধীন হতে পারতাম না। এজন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সেকুলারিজম চালু করতে পারি। কিন্তু সেকুলারিজম মানে ধর্মহীনতা নয় বলে দুই বছর আগেও বিশ্বাস করতাম। কিন্তু নাস্তিক মুর্তাদ গুলোকে আশ্রয় দিয়ে দেশের আলেম সমাজকে নিয়ে মাদ্রাসা নিয়ে আওয়ামী লীগ যে রকম সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছিল তাতে সেই বিশ্বাস আর নাই।বঙ্গবন্ধু সেই ভাষণে আরো বলেন যে, “2য় মহাযুদ্ধের চাইতেও মুক্তি যুদ্ধে বেশী মানুষ নিহত হয়েছে! !! যা শুনে আক্কেল গুড়ুম। যাইহোক বাংলাদেশে সেকুলারিজমের নামে ধর্মহীনতা ইসলামি মূল্যবোধ উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগুনো একটি মহল অনেক আগে থেকেই কাজ করছে। কিন্তু 90% মুসলমানের দেশে এত আলেম মাওলানার দেশে ঐ কাজ মোটেই সহজ নয় । হয়তো আওয়ামী লীগের 20% কট্টর সমর্থক দল হুজুরদের বিরুদ্ধে কাজ করতে বললে করতে রাজি হলে কিন্তু বাকী 80% মুসলমানের উপর হুজুরদের বিশাল প্রভাব। হুজুরদের গরীব, ক্ষমতা হীন বলে কেউ ভয় পায় না ঠিকই কিন্তু ইসলামের ব্যাপারে হুজুরদের কথাকেই মান্য করে। যতদিন হুজুররা আছে ততদিন মুখে যতই হুমকি দিক ধর্মহীন সেকুলারিজম স্বয়ং আমেরিকা ভারত এসেও চালু করতে পারবেনা সেখানে আওয়ামী লীগতো পারবেইনা।

      1. 14.1.1
        এম_আহমদ

        সুন্দর বলেছেন, তবে দু/এক জাগায় আমিও নিজের করে কিছু বলি।

        বর্তমানে সাংবিধানিক আইনগত ভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কিছু বলাও ঠিক নয়।

        হ্যাঁ, দেশ অনেকটা হবুচন্দ্রের রাজ্যের মত –এখানে কেউ হাসতে পারবে না। তবে মাফিয়াতন্ত্রের দুর্ভোগে এখন আমলীগও ভোগছে। আমরা সিলেটে বলে থাকি, ‘যে যারে পড়ায়, হে তারে চড়ায়’ –অর্থাৎ যে কাউকে অন্যায় কাজের সবক দেয় এই ছাত্রই এক সময় শিক্ষককে থাপ্পড় দেয়।' ব্যাপার হচ্ছে এই যে আপনি যখন অন্যায়ের পক্ষে কথা বলবেন, তখন আপনার শ্রোতারা আপনার নীতি-শুন্যতা বুঝে নেবে। আজকে লীগগোষ্ঠীর নিজেদের মধ্যকার মারামারি-কাটাকাটি, পারস্পারিক খাই খাই অবস্থা চরমে উঠেছে। নৈতিক দিক দিয়ে দেশ বিধ্বস্ত।

        “বঙ্গবন্ধু ভারতের ইন্দিরা গান্ধীর সাথে দেশ স্বাধীনের পরপর ভারতে দেওয়া সম্বর্ধনায় দেশকে সেকুলার রাষ্ট্র করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঠিক আছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যুদ্ধ শুরু করলে ভারতের সাহায্য ছাড়া আমরা এত সহজে স্বাধীন হতে পারতাম না। এজন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সেকুলারিজম চালু করতে পারি।”

        না, আমি মনে করি না এটা ঠিক। তবে শেখ মুজিবের এমন কোন শক্তি ছিল না যে ভারতের সাথে দ্বিমত করবেন। শেখ মুজিব হচ্ছেন একজন enigmatic ব্যক্তিত্ব, তিনি ‘কথা’ সর্বস্ব, এর বাইরে তাঁর মূল্য কতটুকু, তা বুঝা মুস্কিল। আমরা চাটুকারদের লেখা পড়ে অনেক কিছু আঁচ করার মতও নয়। তিনি প্রকৃত নেতা না হয়ে অন্যের দ্বারা ‘চালিত’ -এই মর্মেও একটি গবেষণার স্থান রয়েছে। তাঁর মধ্যে ‘হামসে-তুমসে চরিত্র’ বেশি লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের মত ব্যক্তি পূজার দেশে যে ব্যক্তি যা নয় তাকে তা’ই বানিয়ে দেয়া হয়। ‘রাজা বলে যত, তার সভাসদ বলে তার শত শত।’   এই দেশের সব কিছুতেই যেন একটা ‘অতিরিক্ততা’ কাজ করে। হুজুগে জাতির মানসিকতাই এভাবে।

        “২য় মহাযুদ্ধের চাইতেও মুক্তি যুদ্ধে বেশী মানুষ নিহত হয়েছে!!! যা শুনে আক্কেল গুড়ুম।”

        এবারে ৩০ লক্ষের কাহিনীর কথা চিন্তা করুন। এমন ধরণের কথাতে সত্যের উপর একটা violation  হয়ে যায়। একটা হাদিসে এই মর্মে একটি বাক্য রয়েছে شر الرواية رواية الكذب. বর্ণনার অনিষ্ট হচ্ছে মিথ্যার বর্ণনা। যে জাতিতে সত্য মিথ্যার বালাই নেই সেই জাতিতে যা’তাই ঘটতে পারে। আজকের জাতীয় নৈতিকতার অবনতির জন্য হয়ত জাতিই দায়ী।

        তবে

        সেক্যুলারিজম চালু করতে পারবে না

        এটা খুব একটা সঠিক বলে মনে হয় না। কেননা দেশের গঠনতন্ত্রসহ আইন, শিক্ষা, সংস্কৃতি সবকিছুই সার্বিকভাবে সেক্যুলার। অধিকন্তু ইউরোপ আমেরিকায় যে ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে, ক্ষেত্র বিশেষে, বাংলাদেশেও তা নেই।

        পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ঈদ মোবারক।

  3. 13
    আহমেদ শরীফ

    এতকাল চেতনায় উদ্বুদ্ধ ২য় প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা তথা শাহবাগিরা সেই ৪২ বছর আগের পশ্চিম পাকিস্তানিগণ কর্তৃক বিভিন্ন বৈষম্যের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও বর্তমানে ঘটমান ভারতীয় চক্রান্তের ব্যাপারে মনে হয় সম্পূর্ণই অচেতন থাকার ভান ধরে আছেন। ৪২ বছর আগের অনেক কিছুই কালের আবর্তে আর ফিরিয়ে আনার কোন উপায়ই নেই ভবিতব্য হিসেবে ধরে সামনের দিকে এগোনো ছাড়া পথ নেই। কিন্তু বর্তমানে আরো কুটিলতর চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় যা রাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দিচ্ছে তার ব্যাপারে তাদের আশ্চর্য নীরবতার বিষয়টি আমার আসলেই বোধগম্য নয়।

    এ কারণেই তাদের মুক্তিযুদ্ধপ্রেম ইত্যাদি আমার কাছে পুরোটাই ফেইক আর আদ্যোপান্ত বকওয়াজ মনে হয়। নইলে ৪২-৪৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে তাদের মুখে ফেনা তুলতে তুলতে জার জার অবস্থা _ কিন্তু চোখের সামনে দেশের সবকিছু একের পর এক লুন্ঠিত হতে দেখেও তাদের অবস্থা প্যারালাইজড রোগির মত অথর্ব কেন ?

    এর উত্তর খুব সোজা। ৪২ বছর আগের আগ্রাসনবাদিরা এখন মৃতসদৃশ নিরাপদ বিলুপ্ত ডাইনোসরের মত। ফসিল ছাড়া তাদের আর কিছু অবশিষ্ট নেই। সেই ফসিলের জুজু দেখিয়ে বর্তমান আগ্রাসনবাদি রাক্ষসদের চেহারা আড়াল করার অপকৌশল হল এই চেতনার কোরাস গান প্রাণপণে গলা ফুলিয়ে গেয়ে যাওয়া।

    শাহবাগ হল র’ এর ব্রেইন চাইল্ড। শাহবাগিদের স্টিয়ারিং কমিটি র’। ১৯৬৮ সালে যখন র’ প্রতিষ্ঠিত হয় ইন্দিরা গান্ধি কর্তৃক তার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘মনস্তাত্বিক যুদ্ধ শাখা’। ৪২ বছরব্যাপী মনস্তাত্বিক-সাংষ্কৃতিক চক্রান্তের সুফল আজ ১৬ আনার ওপরে ১৮ আনা ভোগ করতে পারছে ভারত। বুদ্ধিবৃত্তিক এমন সব দাসশ্রেণী তারা সৃষ্টি করতে পেরেছে যা বৃটিশরা অবিভক্ত ভারতেও কোনদিন করতে পারেনি। এরকম নিবীর্য অপদার্থ পোকামাকড়সদৃশ নিম্নমানের বৌদ্ধিক বিদূষকশ্রেণী থাকার কারণেই আজ তারা একরকম মগের মুল্লুক সৃষ্টি করতে পেরেছে। বাস্তবে মগের মুল্লুকও তাদের কাছে হার মেনে যাবে।

    তাই শাহবাগিরা ভারত চোখের সামনে সবকিছু দিনেদুপুরে লুটপাট করতে থাকলেও কিছু বলবে না। বা বলতে পারবে না। ভারত থেকে রাতের আঁধারে পেশাদার খুনি পাঠিয়ে কাতারে কাতারে মানুষ খুন করলেও তারা কিছু বলবে না। তারা মুফতে বিরিয়ানি খাবে আর চেতনার গান গাইবে সরকারি নিরাপত্তা চাদরে বেষ্টিত হয়ে। নিয়মিত পয়সা পেয়ে তাদের পকেটও ভারি হবে। এইসব পেয়ে তারা শুঁড়ির সাক্ষী মাতালের ভূমিকা পালন করে যাবে _ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে যাবে ৪২ বছর আগের বিলুপ্ত জুজু এক কুমীরের ছানার মত ৭৭ বার দেখিয়ে।

    এটি ফেসবুকার Des Wa র স্ট্যাটাস থেকে নেয়া। ভারতীয় মুশরিক আগ্রাসনবাদিদের অপতৎপরতাসমূহের সম্পূর্ণ তালিকার এটি ১ শতাংশও হবে কি না সন্দেহ !

     

    “বাংলাদেশে ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা ‘র’ -এর লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে ভারতীয় প্রভাব বিস্তার করা ও সব ব্যাপারে বাংলাদেশকে ভারতের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা” ———মেজর জেনারেল (অব:) এম এ হালিম, সাবেক মহাপরিচালক ডিজিএফআই। (সূত্র: গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা: বাংলাদেশে ‘র’, পৃষ্ঠা: ২৪৪)

    এবার নিচের তথ্যগুলোর দিকে খেয়াল করুন:

    ১/ বাংলাদেশে অনেক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কন্সট্রাকশন ফার্ম থাকার পরও যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার বানানো হলো ভারতীয় কোম্পানি সিমপেক্স ইনফ্রাস্ট্রাচার দিয়ে। (http://goo.gl/9rDcQm)

    ২/ বাংলাদেশে বিদেশে রফতানিকারী ঔষধ কোম্পানি থাকলেও শিশুদের জন্য ভিটামিন এ ক্যাপসুল বানানো হলো ভারতের বিতর্কিত ‘অলিভ হেলথ কেয়ার’র মত কোম্পানি দিয়ে। (http://goo.gl/64ZBaZ)

    ৩/ দেশি কোম্পানিগুলোর যথেষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলেও দ্বিতীয় ভৈরব সেতু বানানো হচ্ছে ভারতীয় কোম্পানি ইরকন ও এফকন্সকে দিয়ে। (http://goo.gl/KbXQjD)

    ৪/ দেশি কোম্পানিগুলোর যথেষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলেও দ্বিতীয় তিতাস রেলসেতু বানানো হচ্ছে ভারতীয় কোম্পনি গ্যানোন ও এফএলসিএলকে দিয়ে। (http://goo.gl/KbXQjD)

    ৫/ বাংলাদেশের ভ্যাকসিন উৎপাদন বন্ধ করে (http://goo.gl/pDTgLO), ৩১২ কোটি টাকার ভ্যাকসিন আনা হয়েছে ভারতের অখ্যাত সিরাম ইন্সটিটিউট থেকে। (http://goo.gl/xcZ1DR)

    ৬/ বাংলাদেশে অজস্র ছাপাখান থাকলেও বোর্ডের বই ছাপানো হচ্ছে ভারতীয় কোম্পানি গফ সন্স ইন্ডিয়া, ক্যালিকো, রেপপ্রো ইন্ডিয়ামত কোম্পানি দিয়ে । (http://goo.gl/lDalr1)

    ৭/ বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করে (http://goo.gl/RdyKng) ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে (http://goo.gl/5RqneP)

    ৮/ বাংলাদেশে অসংখ্যা রিয়েল স্টেট গ্রুপ থাকলেও ভারতের সাহারাগ্রুপ দিয়ে উপশহর বানানো হচ্ছে। (http://goo.gl/1vnRTd)

    ৯/ ভারতের নিম্নমানের রেল ইঞ্জিন কেনা হচ্ছে উচ্চমূল্য দিয়ে। (http://goo.gl/PWvuax)

    ১০/ বাংলাদেশের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ভারত থেকে বাস-ট্রাক কেনা হচ্ছে (http://goo.gl/0jAEuF)

    ১১/ বাংলাদেশে চাল পাচার করে (http://goo.gl/xl5GxB) ভারত থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছে। (http://goo.gl/fvGqQH)

    ১২/ অনুন্নত হওয়া সত্ত্বেও ভারত থেকে কেনা হচ্ছে ডেমু ট্রেন। (http://goo.gl/21ZbZu)

    ১৩/ অনুন্নত হওয়া সত্ত্বেও ভারত থেকে কেনা হচ্ছে তেল ট্যাঙ্কার। (http://goo.gl/ZyM97Q)

    ১৪/ অনুন্নত হওয়া সত্ত্বেও ভারত থেকে কেনা হচ্ছে ড্রেজার। (http://goo.gl/J4ZW1u)

    ১৫/ বাংলাদেশে কোম্পানিগুলোকে ইচ্ছাকৃত অনুন্নত রেখে ভারতের অতিনিম্নমানের ওএনজিসি নামক কোম্পানিকে সাগরে গ্যাস উত্তোলন করতে দেয়া হয়েছে। (http://goo.gl/rpTDsP)

    ১৬/ বাংলাদেশ পারলেও আমাদের নৌ টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। (http://goo.gl/V9I6rE)

    এবার বাংলাদেশে ‘র’ কতটুকু প্রভাব বিস্তার করেছে, আপনি নিজেই যাচাই করুন।

     

    1. 13.1
      Sam

      Thanks Mr Sharif for sharing the information. 

    2. 13.2
      এম_আহমদ

      @আহমেদ শরীফ: এই আলোচনা চায়ের টেবিলে হলে দারুণ প্রাণবন্ত হত, কেননা কথাগুলো এপর্যন্ত প্রসঙ্গের দিক থেকে যথোচিত হয়ে আসছে।

      “এতকাল … পশ্চিম পাকিস্তানিগণ কর্তৃক বিভিন্ন বৈষম্যের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও বর্তমানে ঘটমান ভারতীয় চক্রান্তের ব্যাপারে মনে হয় সম্পূর্ণই অচেতন থাকার ভান … বর্তমানে আরও কুটিলতর চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় যা রাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দিচ্ছে তার ব্যাপারে তাদের আশ্চর্য নীরবতার বিষয়টি আমার আসলেই বোধগম্য নয় … এ কারণেই তাদের মুক্তিযুদ্ধপ্রেম ইত্যাদি আমার কাছে পুরোটাই ফেইক। … চোখের সামনে দেশের সবকিছু একের পর এক লুণ্ঠিত হতে দেখেও তাদের অবস্থা প্যারালাইজড রোগীর মত অথর্ব কেন?”

      পাকিস্তান বৈষম্য নিয়ে তাদের মুখের ফেনা, ভারতের ব্যাপারে শান্ত-স্থীর, নীরবতা, প্যারাইজড রোগীর মত অথর্ব অবস্থা –এসবের মূল মনে হয় এই যে কিছু গৃহপালিত জন্তুকে যখন বিশেষ কাজের জন্য গড়ে তোলা হয় তখন এই জন্তুগুলো নিজেদের প্রোগ্রামের বাইরের কিছু চিন্তা করতে পারে না। লক্ষ্য করে থাকবেন, এই "মহাযুদ্ধ" চালানো হয়েছে সাধারণত এমনসব লোকদের দিয়ে যারা একটি কমপ্লেক্স বাক্যে নিজেদের যুক্তি টিকিয়ে রাখার যোগ্যতা রাখে না, যেসব থিমের (theme) উপর তাদের দখল নেই সেগুলোতেই মাথা ঘুলিয়ে চালানো হয়েছে এই “দ্বিতীয় হাস্যকর মহাযুদ্ধ”!

      ঘটনা যেভাবেই হয়ে থাকুক (সত্য-মিথ্যা মিশ্রণেও), শেখ মুজিবুর রাহমানের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের একটা শ্রদ্ধাবোধ রয়ে গিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারেও তাদের একটা ঐক্যবদ্ধ সার্বিক ধারণা ছিল। কিন্তু “দ্বিতীয় মহাযোদ্ধাদের” পাল্লায় তা বিলীন হয়ে গিয়েছে এবং এতে (এই জাতীয় বিভক্তিতে), ভারতের আধিপত্যবাদী উদ্দেশ্য লাভবান হয়েছে। “মহাযোদ্ধাগণ” মুজিবকে জাতীর এক অংশের ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘…পিতায়’ পরিণত করেছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা, গুপ্ত-রাজাকার, নব্য-রাজাকার, রাষ্ট্রদ্রোহী ইত্যাদি কালিমার স্টাম্প মারতে মারতে এই প্রতিষ্ঠানের অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি হয়েছে। পিলখানা হত্যা, বর্ডার গার্ড এবং দেশের সার্বিক প্রতিষ্ঠানাদি ও অবস্থাসমূহের যে কিছু ফিরিস্তি আপনার লিস্টে এসেছে তাতে দেশ এখন কোন পর্যায়ে আছে –সেটি হচ্ছে আসল প্রশ্ন।    

      ফসিল জুজু এখন কুখাদ্য। পাকিস্তানকে নিয়ে গালাগালি, ‘ফসিলের-জুজু’, হামসে তুমসে ইত্যাদি সহকারে ‘বলোগ’ মারা আর পরক্ষণে নাস্তিক ও পৌত্তলিক ভ্রাতাগণ থেকে থাম-আপ: ‘অপূর্ব হয়েছে’, ‘খাস মাল এসেছে’ ‘এমন লেখা আমার চৌদ্দ-গোষ্ঠীর কেউ দেখে নি’ –এমনসব চামচামিতে এখন জড়তা দেখা দিয়েছে। ঘটনা এখন এমন যেন মু’আল্লাক্বাতের কবিগণের ন্যায় নির্জন বসতির অবশিষ্ট অঙ্গার নিয়ে পূর্ব-কোহাহল-সম্বলিত প্রথম পঙতিগুলো সাজানো হচ্ছে।

      আল-আন হাস হাসাল হাক্ব। মিথ্যার মাধ্যমে দেশ ধ্বংস করা যায় বটে কিন্তু সর্ব-সাধারণ দেখে ফেলতে পারে যে কোথাও weapons of mass destruction নেই! বাম্পার ফলন সর্বদা একইভাবে হয় না। কবি নজরুল কোনো প্রসঙ্গে বলেছিলেন, বাঙালীদের মধ্যে কোনো কোনো হুজুগি কাণ্ড বেশিদিন ঠিকে থাকে না। “চৈতন্য দেবের গর্দভ” লাথি খেয়েও যেন ওঠতে পারছে না। হয়ত অকালেই মৃত্যুবরণ করেছে। দেখা যাক। হয়তবা আগামীতে “অতীত দিনের স্মৃতি” হিসেবে গলা ফুলিয়ে নিজেদের মধ্যে গাওয়ার কিছু হয়ে আসতে পারে। শাহবাগ হয়ত আবার অন্যভাবে লীলাবতী হতে পারে; আবার হয়ত সরস্বতী কণ্ঠের মাধুরী সংগীতে যুবক-যুবতির ‘হাতে-হাতে ধরা-ধরি’ প্রমোদ-কেলী রস-নৃত্যে জেগে ওঠতে পারে; আবার হয়ত সাক্বী-ঢালা শরা ও বিরানির আবহে ‘রাত্রি-কর্ম’ “সৃষ্টি-শৈলী চেতনায়” উদ্বেলিত হতে পারে! বঙ্গালের পার্বণের কথা ভুলে গেলে কী আর চলে? তবে সমস্যা তো আছেই -মূর্তি যে মাটিতে পড়ে ৩ খানে খান খান!  

      তবে ‘রো’, ‘শাহবাগ’, ‘চেতনা’ ইত্যাদি নিয়ে যে কথাগুলো বলেছেন তার উল্লেখ কবি নির্মলেন্দুর ভাষায় আনা যেতে পারে। একাত্তরে না হলেও পরে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যেত! এটা ছিল সময়ের ব্যাপার। রো যে বেস তৈরি করেছিল এবং ৭০ এর নির্বাচনী প্রোপাগান্ডায় ‘শোষণের বক্তব্যে’ (!) যেভাবে হুজুগী হুলুস্থূল পরিচালনা করেছিল তা ছিল বিস্ময়কর। আজ এদেশে অনেক লেন্দুপ তৈরি হয়ে আছে। এদের দুশমন পাকিস্তান এবং মুসলিম বিশ্ব। আর প্রাণের প্রাণ, জানের জান “বন্ধু-রাষ্ট্র”।

  4. 12
    আহমেদ শরীফ

    'চেতনার ভূত' সিন্দবাদের ভূতের চেয়েও মারাত্মকভাবে এক শ্রেণীর মানুষের ঘাড়ে আচমকা চেপে বসাটা কারো কারো কাছে আকস্মিক মনে হতে পারে। হেফাজতের ঘটনার পর গভীর কৌতূহলবশতঃ আমাকে প্রচুর তথ্য ঘাঁটতে হয়েছে। আমার পর্যবেক্ষণ হল সুগভীর সাম্রাজ্যবাদি চক্রান্তের সুকৌশলি পদক্ষেপের ফলে চেতনার এই আকস্মিক বাম্পার ফলন। এটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অল্প সময়ে কৃত্রিমভাবে বিস্তারিত। প্রাথমিকভাবে মাসলকেই সবকিছু মনে হলেও মস্তিষ্ক বিজাতীয়। আওয়ামী লীগ হচ্ছে নিতান্তই মাসল। বা পাপেট বলতে পারেন। পর্দার অন্তরালে যারা সূতো ধরে নাচাচ্ছে তারা আদ্যোপান্ত মুশরিক সম্প্রদায়। ভয়ংকর বক্রগতির চিন্তাধারাপ্রসূত হিংস্র নিষ্ঠুর এক মহাপরিকল্পনা কাজ করছে এসবের পেছনে। যদিও আল্লাহর অসীম মেহেরবানিতে সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সফল হবে না এই বিশ্বাস অটল আছে। যথাসময়ের অপেক্ষায় আছি। মুসলিমদের পূনর্জাগরণ অবশ্যই ঘটবে এই উপমহাদেশে। ইসলামের প্রতিষ্ঠাও হবে। তবে তার আগে অসন্তোষ আরো চরম আকার ধারণ করতে হবে। তারপর আসবে সর্বাত্মক সংঘাত, সর্বাত্মক যুদ্ধ। মুসলিমদের রক্তে পেছল হয়ে যাওয়া সিঁড়ি বেয়েই আবার আসবে ইসলাম।

    1. 12.1
      এম_আহমদ

      @আহমেদ শরীফ:

      'চেতনার ভূত'  … সুগভীর সাম্রাজ্যবাদি চক্রান্তের  … বাম্পার ফলন। এটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অল্প সময়ে কৃত্রিমভাবে বিস্তারিত। হেফাজতের ঘটনার পর গভীর কৌতূহলবশতঃ আমাকে প্রচুর তথ্য ঘাঁটতে হয়েছে। … পর্দার অন্তরালে যারা সূতো ধরে নাচাচ্ছে তারা আদ্যোপান্ত মুশরিক সম্প্রদায়।

      ভাই সালাম। ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ এই মন্তব্যটির জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনার কথাগুলো দেখে আমারও দুটি কথা বলতে ইচ্ছে করছে। ভারতে মুসলিম শাসনের উত্থান হলে সেদিন ব্রাহ্মণগণ দেখতে পান যে বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত ভারত নিজেদের কোন্দলেই নিহিত এবং তাদের দুঃশাসনে প্রজাগণ তিক্ত এবং এমন পরিসরে মুসলিম শাসন ভারতে শুরু হয়েছে ও প্রজাবর্গের সমর্থন কুড়িয়ে নিয়েছে। শুধু তা’ই নয় তারা সকল সম্প্রদায়ের লোকজন শাসন ব্যবস্থায় রেখে যে শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে সেই ব্যবস্থার অবসান সহজে ঘটানো যাবে না। এতে দীর্ঘ-মেয়াদী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চিন্তার প্রয়োজন।

      ভারত ভূখণ্ডকে তাই দেবীর ধারণায় বিমূর্ত করে ‘দেশ-ভক্তি’ নামে এক পপুলার আন্দোলনের জন্ম দেয়া হয়। তা হয়ে ওঠে নিম্নবর্ণের জনপদ সমূহের ভাষায়। তখন, সেদিনের, সদ্য আবির্ভূত হতে থাকা (প্রাকৃতি ও পালি ভাষা থেকে গঠিত হওয়া এবং হতে থাকা) বাংলাতেও। এই সবের মধ্যে ছিল সাধারণ ভাববাদী গান বা পদ, উপপাদ্যে অতীন্দ্রিয় প্রেম, পরের পর্যায়ে বিশেষ বৈষ্ণববাদী গানেও। হিসেব ছিল সহজ। মুসলমান ব্যতীত ভারতের অপরাপর জাতি-ধর্ম ধীরে ধীরে দেশ-মাতার ভক্তি অর্চনায় ঐক্যবদ্ধ হবে আর মুসলমান যেহেতু এক আল্লাহ ব্যতীত আর কিছু পূজে না, তা’ই শুধু তারাই দেশ-ভক্তির আচার-অর্চনার বাইরে থাকবে। স্বাভাবিকভাবেই কারা ‘মায়ের’ সন্তান আর কারা ‘বিদেশি’ –এই বিভক্তি দেখা দেবে। আর তারা যদি এতে জড়িয়ে পড়ে তবে তাওহীদী ধর্মে পৌত্তলিকতার ইনরোড (in-road) সৃষ্টি হবে। অবশ্য দ্বিতীয় ধারণা বাদশাহ আকবরের আমলে, অপরাপর ধারণার সাথে মিশে, ভারি হয়ে পড়ে। কিন্তু আওরঙ্গজেব তার অবসান ঘটান।

      প্রায় দুশো বছরের ইংরেজ আধিপত্যে নিষ্পেষিত মুসলিম বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ইংরেজ-খেদাও আন্দোলনে জড়িয়ে পড়লে অবলীলাক্রমে তারাও ভারত ভূখণ্ডকে ‘মাতার’ মতো গ্রহণ করতে শুরু করে। আর এখন অবস্থা এমন বিভক্তিতে এসে দাঁড়িয়েছে যে যারা মায়ের পায়ে মাথা ঠেকাতে পারছে না (ও আমার দেশের মাটি তোমার পায়ে ঠেকাই মাথা) বা যারা ‘ওমা ফাগুনে তোর আমের বনে’ আর দিবা-শেষে (দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে) দ্বীপ জ্বালিয়ে মাতৃভক্তির চেতনা পাচ্ছেন না বরং তাতে রবী ঠাকুরের ভারত মাতার ঐক্যের ‘চেতনা’ ও পটভূমি দেখছেন, তারাই আজ ভগবান চৈতন্য দেবের ভক্তি-শক্তির দুশমণ হয়ে পড়েছেন। বলুন,  তারা ‘বিদেশি’ হয়ে পড়েছেন। তারা পাকিস্তান যেতে হবে। (তবে পাকিস্তান কি তাদের মাতৃদেবীর অংশ নয়?)

      আপনি দেখে থাকবেন, বাংলার মুসলিম নামধারীরা দেদারসে বখতিয়ার খিলজির বিপক্ষে লিখছে। কারণ? কারণ তিনি নাকি ‘তাদের’ লক্ষণ সেনকে পরাজিত করেছিলেন।  বখতিয়ার খিলজি ‘বাইরের’ লোক। কিন্তু কথা হচ্ছে লক্ষণ সেন কি বাঙালী ছিলেন?  হায়রে পাগলামী! তারপর তাদের আর্য ‘দাদাগণ’ কি ভারতের ভূ-ফোড়? ভারতের মূল অধিবাসীরা ছিলেন সিন্ধু সভ্যতার জনগোষ্ঠী ও তাদের মধ্য থেকে প্রসারিত হওয়া নূহের অধস্তন পুরুষ –দ্রাবিড়গণ। তারা হচ্ছেন নূহ (আ.)পুত্র সামের প্রপৌত্র ‘আবির’ (ابير/عبير) ও আবিরের দৌহিত্র আবু-ফির বা ফিহির (فير/فهر) অধস্তন গোষ্ঠী। আর্যরা ভারতের আদি পুরুষ নন। সেমিটিক ভাষায় এবং এখনো আরবিতে দার (دار) হচ্ছে বাসস্থান, গৃহ, দেশ -যেমন দার-আসসালাম (দারুসসালাম), দারুল হারব (যুদ্ধ চলছে এমন দেশ/ইসলামী দেশের বিপক্ষের দেশ), দারুল ইসলাম (ইসলামের দেশ) ইত্যাদি। দ্রাবিড় হচ্ছে ‘দার-আবি-ফির’ বা ‘দার-আবির’ –এর অপভ্রংশ –দ্রাবিড়। আজ বিকৃত ইতিহাস গিলে মুসলমানরা নিজেদেরকে বিদেশি বানাচ্ছে এবং পৌত্তলিক ধারণায় মুসলমানের মৃতদেহ তাদের ‘মা-দেবীতে’ কবরস্থ করা ‘অপবিত্র’ ভাবছে! আর কত নিচে যেতে হবে? 

      ___________

      [গত বছরে জুনে এই ব্লগে দেয়া আপনার ৮.১ ও ৮.১.১ দুটো গুরুত্বপূণ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়নি। অনেক সময় নানান কিছু দৃষ্টিকে চতুর্দিকে ব্যস্ত করে রাখে, তাই এক সময় জরুরি স্থানেও মন্তব্য করতে ভুলে যাই]।

  5. 11
    noshin

    লা ইলাহা অরথ কোনও মাবুদ নেই (আস্তাগফিরুল্লাহ)। তাই প্লিজ বলবেন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র লক' । ধন্নবাদ। 

    1. 11.1
      এম_আহমদ

      কিচ্ছুই বুঝতে পারি নি। একটু বুঝাইয়া কইয়েন।

  6. 10
    এম_আহমদ

    এখানে এবং অপরাপর লেখায় এই সরকারের অনেক মন্ত্রী মিনিস্টারদের কথাবার্তার প্রতি ইঙ্গিত করে অনেক কথা বলেছি। হেফাজতের ওলামাগণ এদের কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করে কিছুটা প্রতীকী অর্থে এবং কিছুটা বাস্তব অর্থে এই সরকারকে নাস্তিক সরকার বলেছেন। আজকে (২৯/০৯/২০১৪) নয়াদিগন্তে প্রকাশিত একটি খবরে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক বক্তব্য দেখে মর্মাহত হলাম। দেশের সাধারণ মুসলমানগণ এসব দেখে এখন কী করবে? ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত পজিশন থেকে তাদের ঈমান আকিদার উপর এমন নগ্ন আক্রমণকে তারা কীভাবে প্রতিহত করবে? 

    শিরোনাম: আমি হজের ঘোর বিরোধী : লতিফ সিদ্দিকী

  7. 9
    Raihan

    বহু কিছু শিখতে পারছি। পরে ব্যবহার করব।

  8. 8
    এম_আহমদ

    ব্লাসফেমি ও হেফাজতি আন্দোলন

    মুরতাদদের ব্যাপারে কিছু প্রাথমিক কথা এখানে উল্লেখ করেছি। যতটুকু মনে পড়ে “নির্মূল” কমিটির একজন বলেছিল কোরান হাদিসে মুরতাদের কোন শাস্তির বিধান নেই। এর পরে তারা কত কথাই বলেছে। আমি এখানে বলেছি যে ইসলামী শারিয়ায় এই প্রসঙ্গে রেফারেন্স ও আইন রয়েছে। কিন্তু অধিক আলোচনায় যাই নি কেননা এটা শারিয়াবীদদের বিষয়। লক্ষণীয় যে ইসলামী জ্ঞানশূন্য কিছু লোক নিজেদের ঘটিতে যা নেই তা দিয়ে হেফাজতি ওলামাদের দাবীর অসারতা দেখাতে এবং তাদের দাবীতে খৃষ্টিয়ানিটি অনুসরণের অপবাদ দিতে চাচ্ছে।

    ইসলাম বিদ্বেষী মুরতাদদের শাস্তির আইন চাওয়াতে  হেফাজতি আলেমগণ খৃষ্টিয়ানিটি অনুসরণ করছেন, এমন কথা কেবল মূর্খরাই বলতে পারে। কেননা ইসলামী শরিয়ায় প্রথম থেকেই এই আইন জারি রয়েছে। অসংখ্য বই পুস্তকে সেগুলো দেখা যাবে।

    ক্বাদী ইয়াদের  (আমাদের দেশিয় উচ্চারণে হবে কাজি ইয়াজ/الفاضي عياض মৃ. ৫৪৪ হি.)  ‘আশ-শিফা’ একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ যার দ্বিতীয় খণ্ডে নবীকে (সা.) গালি দেয়া, তাঁর সম্পর্কে অপপ্রচার করা, মিথ্যাচার করা এবং এমন ধরণের ফিৎনা ও রিদ্দাহ (ধর্ম ত্যাগ/মুরতাদ হওয়া) সম্পর্কে; আল্লাহকে দোষাদোষী করা, গালাগালি করা, অন্যান্য নবীদের গালাগালি করা, ফেরেস্তা নিয়ে হাসি তামাশা করা, উল্লেখিত বিষয়াদি নিয়ে অসভ্য ভাষায় আচরণ করা ইত্যাদির উপর প্রায় ১০৩ পৃষ্ঠা ব্যাপী আইনী আলোচনা এসেছে, আইনের বিভিন্ন দিক আলোচনা করা হয়েছে, শান্তির কথা এসেছে।

    ওখানে আইন ও শান্তির ব্যাপারে বিভিন্ন মাজহাবের পার্থক্যের কথা এবং শাস্তির পার্থক্যের কথা এসেছে। শুধু অপরাধীর শান্তির কথা নয় বরং অপরাধের সীমা অনুযায়ী তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করণের বিবরণও এসেছে।      القاضي عياض (1977) الشفا-بيروت: دار الكتب العزلي- ج2)) এগুলো কি খৃষ্টীয়ানিটির অনুকরণে? তাদের ব্লাসফেসি আইন দেখে প্রণীত? হেফাজতের আলেমগণ কী ইসলামী শরিয়া ও হাদিস সম্পর্কে এতই অজ্ঞ-মূর্খ যে রাজীবদের ফ্রেণ্ডবন্ধু তাদেরকে ইসলাম শেখাতে হবে?

    যারা ব্লাসফেমি আইনের সামঞ্জস্য এনে হেফাজতি ওলামাদের বিপক্ষে টেবল-সেট করে ওয়াজ করতে নেমে যায়, তাদের লজ্জা থাকা উচিৎ। (তবে লজ্জা না থাকলে ‘উচিৎ’ কথার মানি নাই।)।  বাংলাদেশে ইসলামী শারিয়া নেই। আছে ব্রিটেনের প্রতিষ্ঠিত আইন। ইসলামী শরিয়ায় যদি অপরাধ-ভেদে শাস্তির বিধান থাকে এবং এমন শাস্তির বিধান যদি ব্রিটিশ আইনের ব্লাসফেমির আওতায় আনা যেতে পারে তবে তাতে কী খৃষ্টীয়ানিটির অনুসরণ করা হয়?

    ইব্রাহীমী ধর্মে (ইসলাম, খৃষ্টিয়ানিটি ও ইয়াহুদী ধর্মে) আইনের ক্ষেত্রে এবং বিশ্বাসের ক্ষেত্রে অনেক সহাবস্থান রয়েছে। ফালতু প্রবক্তাদের খৃষ্টিয়ানিটি বিষয়ক অসুবিধা হলে তারা কি কখনো ব্রিটিশের আইনের পরিবর্তে ইসলামি আইনের কথা বলেছে? আব্দুল্লাহ বিন উবাইরা আল্লাহর রাসূলকেও ইসলামী কথা শুনাত! তারা যখন কথা বলত, তখন তাদের কথা শুনতে হত, শোনার মত হত। কিন্তু তা হত (অন্তঃসারশূন্য) কাষ্ঠের ধারক স্তম্ভের মত। ওরা কোথাও কোনো আওয়াজ শুনলে ভাবত তাদের বিপক্ষে আওয়াজ তুলা হচ্ছে (সুরা মুনাফিকুন)।. হেফাজতিতের আওয়াজ তাদের কানে বিপক্ষে গিয়েছে এবং তাদেরকে ওরা এখন খাটি ইসলাম শেখাবে, যুক্তি দিয়ে তাদের দাবী খণ্ডন করে তাদের আন্দোলনকে “নির্মূল” করবে!  বাপে না গুতে, চুঙ্গা ভরি মুতে। লেখাটি আরও একটু বর্ধিত করে পরিশিষ্ট হিসেবে আলাদা ব্লগ করে দিলে হয়ত ভাল হত, তবে দেখা যাক।   

    1. 8.1
      আহমেদ শরীফ

      আজ ইসলামী হুকুমত যদি থাকতো তাহলে বোঝা যেত ইসলামে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(সাঃ) এর আজমত। বাস্তবতায় ফিরে এসে ধরলাম ৯০% মুসলমানের দেশে ইসলামি রাষ্ট্র যদি নাও হয়ে থাকে, রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যদি অন্ততঃ ভাল মুসলিম পিতামাতা কর্তৃক ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার ছিঁটেফোঁটাও যদি এইসব সরকারি কর্তাব্যক্তিরা পেতেন, নিজে বিরাট এবাদতগার না হোক, একজন মোটামুটি সাধারণ মানের পরহেজগার মুসলিম, কমপক্ষে মসজিদে নিয়মিত যাতায়াতকারী ৫ ওয়াক্ত নামাজের সাধারণ মুসল্লিও হতেন _ বাংলাদেশের ইসলামবিদ্বেষীদের এ ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন অপতৎপরতার কথা শুনে তাদের রক্তে আগুন ধরে যাওয়ার কথা ছিল। উপযুক্ত প্রতিবিধান করে রাসূলপ্রেমী মুসলমানদের অবর্ণনীয় কষ্টদায়ক অনুভূতির উপশমকল্পে ন্যায়বিচারের আপ্রাণ চেষ্টা তারা করতেন। ৯০% মুসলমানের রাষ্ট্রের স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(সাঃ) এর এরকম জঘন্য বীভৎস অবমাননা করার অকল্পনীয় দুঃসাহস কারোরই হত না।

      আমাদের দূর্ভাগ্য যে বেশিরভাগ বেনামাজি, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল(সাঃ) এর বিধান তথা ইসলামী জীবনবিধানের বিপরীত অনুসরণকারী, চুরি-ডাকাতি-সুদ-ঘুষ ইত্যাদি নানান হারাম উৎস থেকে প্রাপ্ত হারাম অর্থে নিয়মিত অবলীলাক্রমে খাদ্যপানীয় গলধঃকরণকারী, অসৎ, জনগণের সম্পদ লুন্ঠনকারী, সাধারণভাবে হত্যাকারী, সাধারণভাবে মদ্যপানকারী _ এরকম অনেক লোককেই নেতা হিসেবে আমাদের পেতে হয়েছে _ যা আমাদের মাঝে ঈমান আমাল যথাযথভাবে না থাকারই প্রতিফলনস্বরুপ। অর্থাৎ নেতারা আসলে আমালি দিক থেকে জনগণেরই প্রতিফলন। আমরা যেহেতু ভাল নই, আমরা যেহেতু ২ নাম্বার _ আমাদের নেতাগুলো হয়েছে ১৪ নাম্বার। আমরা যতদিন ভাল না হব, ঠিক না হব, ভাল নেতাও আমাদের আল্লাহ দান করবেন কি না যথেষ্ট সংশয় আছে।

      আমীরুল মু'মিনীন সাইয়েদিনা ওমর ইবনে খাত্তাব(রাঃ) যে জামানার মুসলিমদের নেতা ছিলেন সে জামানার মুসলিমরাও সেরকম মুত্তাক্বিই ছিলেন, সবাই নামাজি, আবেদিন, মুখলিসিন ছিলেন। স্বর্ণযুগের নেতারাও স্বর্ণকুমারই হন। রাতে না ঘুমিয়ে টহল দিতেন, ফজরের নামাজের জামাতে আজাবের আয়াত তিলাওয়াত হবার সময় হেঁচকিসহ কান্নার শব্দ কয়েক কাতার পেছন পর্যন্ত শোনা যেত ওমর(রাঃ), বাজারের চৌকিদারকে ফজরের জামাতে অনুপস্থিত দেখলে বাড়িতে গিয়ে খবর নিতেন। এনারাই হচ্ছেন মুসলিমদের আসল মডেল ! শেখ মুজিব বা জিয়াউর রহমান বা অমুক তমুক না। সাধারণ বাংলাদেশি মুসলমানদের আজকে মাথা প্রায় পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে, সুদীর্ঘ সময় নিয়ে, ধাপে ধাপে, পরিকল্পিতভাবে, শয়তানি ছক এঁটে মুসলমানদের মাথা ভয়ংকরভাবে নষ্ট করা হয়েছে। আজ সাহাবা(রাঃ) এর বিশ্বআলোকিত করা অমল স্বর্ণযুগের কাহিনী _ বাংলাদেশি সাধারণ মুসলমানদের কাছে রুপকথার মতো। তাঁদের নয়, অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এ যুগের এমন সব মানুষকে _ মুসলমানদের যাদের আদর্শ বানানোর কোন কথা ছিল না, যাদের আদর্শ বানানোর ফলে ইহ-পরকালে কোনই কল্যাণ সাধিত হবে না, যাদের আদর্শ বানানোর ফলে দুনিয়ায় ফিৎনাহ-ফাসাদ আর আখেরাতে আল্লাহর আজাবের ভাগী হওয়া ছাড়া কোন সফলতা হস্তগত হবে না।

      1. 8.1.1
        আহমেদ শরীফ

        যাই হোক আসল কথায় ফিরে আসি, যারা ক্ষমতায় বসে মুসলিমদের দায়িত্ব নেন। মুসলিম এজন্যেই বললাম কারণ যিনি মুসলিমদের রাষ্ট্রনায়ক হবেন তাঁকে অবশ্যই মুসলিমদের 'দুনিয়া' ও 'আখেরাত' উভয়ের জিম্মাদারিই নিতে হবে ! হজরত ওমর(রাঃ) শুধু দুনিয়ার লাইনেই একজন চুড়ান্ত হুঁশিয়ার প্রজাপালনকারী ছিলেন না, মুসলমানদের আখেরাতের ফিকির করনেওয়ালাও ছিলেন, বাজারের চৌকিদারকে ফজরের নামাজে অনুপস্থিত দেখে তার বাড়িতে চলে যান এরপর থেকে নিয়মিত ফজরের জামাতে উপস্থিতির তাগিদ দিতে ! অথচ তিনি তখন মুসলিম জাহানের খলিফা। অতি সাধারণ আড়ম্বরহীন ফকিরি জীবনযাপন। আল্লাহর ভয়, আখেরাতের ভয়ে সর্বদা তটস্থ। আর ওনাকে দেখে পুরো আহলে কুফফার দুনিয়া তটস্থ, খোদ শয়তানও তটস্থ।এরকম বা এরকম নকশা অনুসরণ করা নেতা যদি আমরা চাই তাহলে আমাদের আগে ঠিক হতে হবে।

        এখন যে নেতাগুলো আছে এগুলোকে বার বার ক্ষমতায় এনে নিজেদের তো বটেই এদেরও সর্বনাশ করছি। এরাও গোমরাহ হয়ে চলেছে, আমাদেরও গোমরাহ করে চলেছে। এরা মুসলিম বলে পরিচয় দেয় মাঝে মাঝে ভোটের সময় এলে টুপিও মাথায় দেয়, মাঝে মাঝে সরকারি পয়সায় সদলবলে হজ্ব ওমরাহ করে আসে _ কিন্তু আল্লাহ রাসূল(সাঃ) অবমাননায় এদের অন্তরে বিশেষ খবর হয় না। খবর হবে কোত্থেকে হারাম খেতে খেতে, দিনরাত মিথ্যা বলতে বলতে, মুনাফেকি করতে করতে, আল্লাহর নাফরমানি করতে করতে, বেঈমানদের সাথে সকালবিকাল অবিরত ওঠাবসা করতে করতে _ অন্তর সম্পূর্ণ কালো হয়ে গিয়েছে সেখানে লোহার চিরুনি দিয়ে আঁচড়ালেও বিশেষ খবর হবে না।

        এজন্য এদের আশায় বসে না থেকে গণআন্দোলনের মাধ্যমে হলেও ব্লাসফেমি হোক অন্য যে কোনভাবে হোক ইসলামসহ 'যে কোন ধর্ম অবমাননা' বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের তথা উপমহাদেশের পরিবেশ-মনমানসিকতা-আধ্যাত্মিকতা পাশ্চাত্যের মত নয়, ওখানে যে কথা বার বার বললেও কোন খবরই হয় না এখানে একবার বললে লাশ পড়ে যাবে। ধর্ম অবমাননা যখন ধর্মাবলম্বীরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারে না এর প্রতিবাদে জীবন বাজি রেখে হলেও সংগ্রামে লিপ্ত হয় _ তখন দরকার নাই 'বাকস্বাধীনতা'র। কারো বাকস্বাধীনতাই মানুষের জীবনের চেয়ে দামি হতে পারে না। অনেক শাস্তির জন্য ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট আছে এটার জন্যও না হয় হল। শাস্তির 'বিধান' থাকলেই তো সবসময় কার্যকর হয় না কিন্তু আইনে থাকতে হয়, শান্তিশৃঙ্খলার স্বার্থে। দু'চারজনের শাস্তি কার্যকর হলে মোটামুটি বাকিরাও আশা করা যায় সংযত হবে বা হতে বাধ্য হবে। ফলে ধীরে ধীরে নিজের ও পরধর্মকে সম্মান-শ্রদ্ধার সংষ্কৃতি গড়ে উঠবে।

        তা যদি না হয় _ অর্থাৎ মানবতা-বাকস্বাধীনতার ধুয়া তুলে, পাশ্চাত্যের ব্যক্তিস্বাধীনতার উদাহারণ দিয়ে ইত্যাদি বিভিন্ন ছুতায় যদি এটিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়, মানবতার নামে একসময় মানবতাই অসহায়ভাবে ভুলুন্ঠিত হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবার বদলে অস্থিরতা আর নৈরাজ্যই বাড়বে, সুবিচার না পেয়ে মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নেবার প্রবণতা বাড়বে, যেমন বিগত দিনগুলোতে বিভিন্ন ইসলামবিদ্বেষীদের ওপর নানান সশস্ত্র হিংস্র হামলা-গুপ্তহত্যা ইত্যাদি, এক পর্যায়ে সারাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে সহিংসতা।  আইন প্রয়োগ করলেই এটি নিয়ন্ত্রণে আসবে, আইন না করে বুলি কপচালে নয়।

    2. 8.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      পরিবেশ মানুষের উপর বিরাট প্রভাব ফেলে। কাজেই যিনি বা যারা ব্লাসফেমি  আইনকে খৃষ্টানদের প্রণীত আইন বলে মনে করছেন এবং ইউরোপীয় কথা বলার স্বাধীনতার অধিকারের মত ইসলামেও সেই ভাবে দেখাতে চান তারাই  ইসলামে নবীকে (সা.) গালি দেয়া, তাঁর সম্পর্কে অপপ্রচার করা, মিথ্যাচার করা এবং এমন ধরণের ফিৎনা ও রিদ্দাহ (ধর্ম ত্যাগ/মুরতাদ হওয়া) সম্পর্কে; আল্লাহকে দোষাদোষী করা, গালাগালি করা, অন্যান্য নবীদের গালাগালি করা, ফেরেস্তা নিয়ে হাসি তামাশা করা, উল্লেখিত বিষয়াদি নিয়ে অসভ্য ভাষায় আচরণ করা ইত্যাদির কারণে কাউকে শাস্তি দিতে চাননা। এই ভাবে শাস্তির ব্যবস্থা নিলে তারা ইউরোপীয়দের কাছে ছোট হয়ে পড়ার আশংকা করেন।

      তারা ভুলে যান যে ইসলাম সব বিষয়ে মধ্যমপন্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিলেও বিচার আর যুদ্ধে চরমতম পন্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। কারন কোন দেশে যদি নিরপেক্ষ ভাবে আইন প্রয়োগ করা হয়না, যেমন আমাদের দেশ, সেখানে আইনের শাসন বলে কিছু থাকবেনা। সেখানে থাকবে আইন অমান্য করার প্রবণতা, অহরহ চলবে শৃংখলা ভংগের খেলা, আইন হবে তামাশা।  যা থাকবে তা হবে বিপক্ষ দলনের অস্ত্র।

      আর ইসলাম যুদ্ধ চায়না সত্যি কিন্তু ইসলাম জন্ম নেয়নি ধ্বংস হয়ে যাবার জন্য। কাজেই অন্যকেউ আক্রমণ করতে উদ্যোগ নিলে বা তাদের কাছ থেকে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকলে বিরোধী পক্ষ আক্রমণের পূর্বেই তাদের শক্তি অঙ্কুরে বিনষ্ট করতে ইসলাম দ্বিধা করবেনা। কেউ আক্রমণ করলে তাকে নজির সৃষ্টিকারী প্রতিরোধের সম্মুখীন করতে হবে যার ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে কোন শত্রু মাথা তোলে দাড়াবার সাহস করতে না পারে।

      আজকের দুনিয়ায় সরাসরী অস্ত্র প্রয়োগের চেয়ে প্রচার প্রোপ্যাগান্ডা দ্বারা ইসলামের শত্রুরা ইসলামের বিপক্ষে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, কাজেই তারা যাতে মুক্ত বুদ্ধি আর কথা বল্র স্বাধীনতাকে ঢাল বানিয়ে এই যুদ্ধে জয়ী হতে না পারে তার জন্য ব্লাস্ফেমি আইনের দরকার আছে। তাই হেফাযতের দাবির যৌক্তিকতা আছে। আর আমি হেফাযতের এই দাবীর সাথে একমত।

  9. 7
    মুনিম সিদ্দিকী

    মুসলিমদের ইতিহাস প্রতিটি কর্মে আল্লাহকে সন্ধান করার ইতিহাস। কারণ আল কোরআন মুসলিমদেরকে এই সন্ধান করার ঐতিহাসিক দায়ীত্ব ন্যস্ত করেছে। কারণ আল কোরআন মুসলিমদেরকে নির্দেশ দেয় ন্যায় বিচার ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র কায়েম করার যে রাষ্ট্রে তাঁর সকল নাগরিক, এমন কি রাষ্ট্রের সবচেয়ে দুর্বল এবং নাজুক নাগরিকটিও যেন সর্বাধিক সম্মানের অধিকারী হতে পারে। মুসলিমদের এমন এক রাষ্ট্র কায়েম করতে বলে- যে রাষ্ট্রে মুসলিমরা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী বসবাস করতে পারবে। তাই মুসলিমদেরকে আল কোরআনের নির্দেশ মত তাঁর দায় মিটাতে হয়। কাজেই মুসলিমদের কাছে রাষ্ট্রীয় কার্যাবলিও তাঁদের আধ্যাত্মিকতা থেকে আলাদা নয়। এর জন্য মুসলিমদের কাছে রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। যদিও মুসলিমদের ইতিহাসে নানা বিচ্যুতি ছিল এবং ইসলামী রাষ্ট্র বাস্তবায়ন সব সময় দুরূহ থাকে তারপরও মুসলিমরা প্রতিটি ব্যররথতার পরই আবার নতুন করে উঠে দাড়াবার পর্যাসে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

    যেহেতু আল কোরআন মুসলিমদের ন্যায় বিচার ভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েমের নির্দেশ দেয় তাই মুসলিমরা যে রাষ্ট্রে বসবাস করে সে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘটনায় নিরপেক্ষ বা নীরব থাকার কোন উপায় নেই। রাষ্ট্রে শাসক কিংবা নেতৃবৃন্দ আল কোরআনের নির্দেশ মত না চলেন কিংবা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নিষ্ঠুর, অত্যাচারী শোষক হন, কিংবা রাষ্ট্র যদি ধর্মহীন শত্রু দ্বারা অপদস্থ হয় তখন একজন মুসলিম ভাববে যে তাঁর পরম লক্ষ্য মূল্যবোধ তাঁর বিশ্বাস আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাই রাষ্ট্রকে ইসলামের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা নেয়া তাঁর অবশ্যিক কর্তব্য হয়ে পড়ে। তখন শুধু নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত আদায় করে গেলেও তাঁর গোটা জীবন ব্যর্থ হয়ে যাবে।

    1. 7.1
      এম_আহমদ

      আপনার কথাগুলোর সাথে একমত। তবে আরও কয়েকটি কথা সংযোগ করতে যাচ্ছি।     প্রথমত ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষের লোকজনকে সব সময় খেয়াল রাখতে যে এই রাষ্ট্রের সুফল দেখার অনেক পর্যায় রয়েছে। আজকে ধরুন কোনো ‘দুর্ঘটনাবশত’ যদি দেশ ইসলামী হয়ে যায়, তবে কোনোকিছুই রাতারাতি পরিবর্তিত হবে না। বরং এখানে এক বিরাট বিপর্যয়ের জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, বর্তমান রাষ্ট্রযন্ত্র যাদের হাতে তাদের এক বিরাট অংশ corrupt to the core. আপনি তাদেরকে হঠাৎ চাকুরিচ্যুত করতে পারবেন না –দেশ বিপর্যয়মুখি হয়ে পড়বে। আবার তাদেরকে দিয়ে অনেক কাজ করাতেও পারবেন না, তারা সেই কাজের উপযুক্ত লোক নয়।

      আপনার ইসলামী আদালত এই উপস্থিত (existing) লোক দিয়ে হবে না, কিন্তু একটি দেশ চালানোর মত যে সংখ্যক বিজ্ঞ ইসলামী আইনবিদের দরকার সেই সংখ্যক লোক আপনার দেশে নেই। আপনি যদি দেশের বাইরে থেকে লোক আনতে যান, তবে মুনাফিকগণ এবং তাদের সহযোগী কাফির মুশরিক নাস্তিকগণ রাস্তায় নেমে আসবে। আবার যখন অনুপযুক্ত লোক দিয়ে বিচারিক কাজ শুরু করবেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের দুর্বলতার কথা ছড়িয়ে পড়বে, তখন মৈত্রীয়-গোষ্ঠী চিৎকার করবে আর বলবে, ‘আমরা তো এজন্যই ৭ম শতাব্দীতে ফিরে যেতে চাই নি।’  

      আবার যেহেতু ইসলামী রাষ্ট্র অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে, কিন্তু অল্প সময়ে বাহ্যিক কোনো বিরাট পরিবর্তন দেখাতে পারবে না, তখনও তারা সেই সুরে লেখালেখি করবে এবং টক-শোতে এসে কান্নাকাটি করবে, প্রোপাগান্ডা করবে।   সুতরাং যারা এই আন্দোলনে শরিক হবেন তাদের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা থাকতে হবে এবং এই পরিকল্পনা প্রথম থেকেই বলে বেড়াতে হবে, যাতে আকাশচুম্বী কোনো আশা তৈরি না হয়। সবাই যেন জানে যে এই কাজটিতে অনেক বৎসরের ব্যাপার রয়েছে। পর্যায়গুলো যদি সুনির্দিষ্ট হয় তবে কোনো পক্ষই হঠাৎ করে তাদের ‘স্বার্থ’ চলে চাচ্ছে এমন চিন্তা করবে না।

      মানুষ সাধারণত তাদের immediate স্বার্থ সবচেয়ে প্রথমে দেখে।   তবে প্রাথমিক পর্যায় ‘কোনো রকমে’ সাফল্যজনকভাবে অতিক্রম করতে পারলে সংকট কেটে যাবে। কাফির মুশরিক ও নাস্তিকগণ (যাদের ইসলাম বিদ্বেষ নেই) তারা দেখতে পারবে যে যদিও ব্যবস্থাটি ‘ইসলামী’ কিন্তু এটা মানবিক, সর্বজনীন -- এটা কেবল মুসলমানদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা দেখে না, বরং এর ন্যায়-নৈতিকতা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাতে  দলীয়-গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে চিরন্তনতার মাত্রা কাজ করছে।  

      ইসলামী দলগুলো রাজনৈতিক ময়দানে এখন থেকে তৎপর হোক, তারা যতই এই ময়দানে কাজ করবে ততই নিজেদের মধ্যে ঐক্য বাড়তে থাকবে।

      ধরুন, আজকে যাদের জামাতের ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে তারাও যখন মিত্র-গোষ্ঠীর হাতে মার খাবে, প্রোপাগান্ডার সম্মুখীন হবে তখন বুঝতে পারবে এই ময়দানের আদর্শিক খেলোয়াড়রা কীভাবে মিথ্যাচার করে, প্রোপাগান্ডা করে, এরা দস্তুরমত বেইমান। এই তিন মাসে হেফাজতে ইসলাম ময়দানে নামতেই মিত্রগোষ্ঠী তাদেরকে মৌলবাদী, মুনাফেক, জঙ্গি, তালেবান, হেফাজতে জামাতি, বর্বরনীতির প্রবক্তা ইত্যাদি বলে ফেলেছে। আলাদা করে মুনাফিকদের দিকে তাকান। দেখবেন মাহিমালের ছেলে বাবাকে কই মাছ ধরা শিখাচ্ছে! ওদেরকে ইসলামী তালিম দিচ্ছে, ওদের বিপক্ষে কোরান উদ্ধৃত করছে, হাদিস ঢালছে অথচ বেগাফেল যে তারা যা বলছে তাতে জ্ঞানহীনতাই প্রকাশ পাচ্ছে। তবে এতে লাভ আছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রেসার আসছে। ইসলামী দলের মধ্যে যদি অনৈক্য সৃষ্টির জন্য মিত্রগোষ্ঠী ইসলামী দলগুলোর মধ্য থেকে কোনো একপক্ষের সমর্থ দিতে এগিয়ে আসে, তাতেও ভাল। ধরন ওরা জামাতের মোকাবেলায় হেফাজতকে প্রাধান্য দিল। ওদের ২০ টা আইটেমের ১০টা মেনে নিল -এতে লাভ ছাড়া ক্ষতির কিছুই হয় নি। 

      একটা কথা কোথাও লিখে রাখেন। যখন তারা অন্যদের সাথে গভীরে গিয়ে কাজ করবে তখন বুঝতে পারবে যে আগের দুশমন তো মন্দ ছিল না!  তবে যারা বিদেশে থেকেও এই ইচ্ছা পোষণ করেন যে দেশ ইসলামী মূল্যবোধ নিয়ে গড়ে উঠুক তাদেরকে সকল ইসলামী দলের মধ্যে ঐক্যের যুক্তি দেখাতে হবে এবং তাদের আশার-ডিমগুলো কোন এক দলে রেখে দিতে নেই, অপশন বর্ধিত রাখা জরুরি।           

  10. 6
    chowdhury Hafiz Ahmed

    আপনাকে ধন্যবাদ  এমন একটি গবেষণা মূলক পোস্ট দেবার জন্য । আসলে মৌলিক ব্যাপারে আমরা এখন অচেতন । আপনার লেখায় খুব সুন্দর যুক্তি  ও শব্দের উপস্থাপনায় মুগ্ধ । আমি আগেও আপনার লেখার সাথে দ্বিমত পোষণ করিনি , এবারে ও করব না । উপস্থাপনায় এই রকম ব্যতিক্রমী লেখার প্রত্যাশায় রইলাম ।

    1. 6.1
      এম_আহমদ

      এই প্রবন্ধের উপস্থাপন ও আবেদন আপনার কাছে ভাল লেগেছে -এটাই বিবেচ্য। একটি লেখা কিছু পাঠকের কাছে যখন আবেদনগ্রাহী হয় তখন লেখার কষ্টটা খানিক লাঘবও হয়। তখন এই যৌক্তিকতা আসে যে আমার কথা তো পৌঁছিয়েছি। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।    

  11. 5
    মহিউদ্দিন

    আপনাকে ধন্যবাদ এ নিবন্ধটি উপহার দেয়ার জন্য। দেশের বর্তমান অস্থিরতা, হিংসা বিদ্বেষ  সৃষ্টির পিছনে মূল হোতা বা  ষড়যন্ত্রকারীদেরকে চিহ্নিত করেছেন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে। আসলেই বাংলাদেশকে সিভিল ওয়ারের মুখামুখি নিয়ে যাচ্ছে যে সেই মৈত্রীয়-গোষ্ঠী  যা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন আপনার লিখায়। একমাত্র দলীয় অন্ধতার রঙ্গিন চশমা পরে এ নিবন্ধটি না পড়লে সবার কাছে লিখার বিষয়বস্তু বোধগম্য হবে বলে আমার বিশ্বাস।

    “বাংলার এই ভূখণ্ডটি সকল জাতি-গোষ্ঠীর ভূখণ্ড। বাঙালীয়ানার নামে সকল বৈশিষ্ট্যের সৌন্দর্য বিলিয়ে দিতে হবে না। আল্লাহ মানুষকে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তাদের আপন আপন বৈশিষ্ট্যে রঙ-রূপ দিয়েছেন। কিন্তু সবাইকে সামাজিক প্রকৌশলে (by social engineering) এক করে ফেলাতে কোনো দূরদৃষ্টি নেই –বাগানের সব ফুল যদি লাল হয়ে ওঠে তবে সেই বাগানটি হবে ভীষণ বিরক্তিকর (boring)।…………… কি কারণে সকল রঙ কেবল লালেই আত্মাহুতি দেবে? আজ মুসলমানগণ নানান প্রতারণার ফাঁদে আবদ্ধ। আজকে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।“

    সহমত ১০০%

    1. 5.1
      এম_আহমদ

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

  12. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    আপনার লেখার সাথে আমার কোন দ্বিমত নেই। যারা পড়বেন তাঁরা যেন আপনার বক্তব্যকে গভীর ভাবে ভেবে তারপর মন্তব্য করতে এগিয়ে আসেন। ব্লগ লেখার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

  13. 3
    এম_আহমদ

    “যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে এই মিত্রপক্ষগুলো যা করে এসেছে তা ছিল উপরোক্ত ধারার কাজ। নাটকীয় পায়তারা, আদর্শের প্রতিপক্ষকে নির্মূল।” এইবাক্যে ১৯৭১ কথা নেই। সুতরাং আপনার মন্তব্য এখানে সঠিক নয়। তবে মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

    1. 3.1
      করতোয়া

      আপনার বাক্যে কোন শব্দ আছে বা নেই তা নিয়ে আলোচনা করছি না। আলোচনা করছি যে ধারাবাহিকতার কথা বলছেন সেখানে ধারাবাহিকতার সকল অংশকেই সমানভাবে বিবেচনায় আনতে হবে। জামাতীরা দখনই রাজাকার হিসেবে পরিচিত হয়েছে যখন ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে। তারা তখনই মানবাধিকার বা যুদ্ধাপরাধির সম্মুখিন হয়েছে যখন ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে। কাজেই ১৯৭১ এর যুদ্ধকে বাদ দিয়ে ধারাবাহিকতার আলোচনা করলে সে আলোচনায় ফলপ্রসু কিছু আসবে না। প্রথমত আমাকে নিশ্চিত করতে হবে আমাদের যুদ্ধাপরাধি বা মানবতিবিরোধী বিচার করতে গিয়ে আমরা কি আসলেই ইসলামি কোন আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছি কিনা। আবার যুদ্ধের সময় আমাদের প্রতিপক্ষ হবার কারনে জামাতীরা ইসলামিক আদর্শকে অপব্যবহার করেছিল কিনা। জামাত ও সাধারন রাজনীতির মধ্যে ইসলামিক আদর্শ একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয়ের অপব্যবহার হচ্ছে বিধায় মানুষ দ্বিধাভক্ত।

      1. 3.1.1
        এম_আহমদ

        আপনি ভুল পড়লে সেটা আপনার ব্যাপার। আপনি আমুতেও আমার ব্লগে এসে, বিষয় না বুঝে, আজেবাজে  কথা বলতেন। এই বাক্যে যুদ্ধের কথা নয় বরং “যুদ্ধাপরাধের নামে” [ভাল করে বুঝার চেষ্টা করুন] মিত্রপক্ষগুলো [ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক পক্ষ, ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দু সম্প্রদায়, ইসলাম বিদ্বেষী ব্রাহ্মণ্য-চক্র, ইসলাম পরিত্যক্ত মুরতাদ পক্ষ ও খাটি মুনাফেক পক্ষ]  যে প্রোপাগান্ডা করে আসছে, [যার উল্লেখ দীর্ঘভাবে উদাহরণসহ প্রবন্ধে এসেছে: আমুর কথা এসেছে, শাহবাগের কথা এসেছে, বিচারিক কথায় এসেছে], এই নাটকীয় পায়তারার কথা, আদর্শের প্রতিপক্ষকে নির্মূলের কথাই হচ্ছে বাক্যের বিষয়।  

         

        জামাতে ইসলাম পাকিস্তানের ঐক্য রক্ষার্থে আপনার ইসলামী আদর্শের অপব্যবহার করার কারণে এখন যদি বিচারের কাঠগড়ায় এসে থাকে তবে এমন বস্তু নিয়ে আপনার সাথে বিতর্ক করার দরকার মনে করি না। একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আমার লেখাটি দীর্ঘ আলোচনা করেছে। একাত্তরের নয় মাসের ধারাবাহিকতা এই প্রবন্ধের বিষয়বস্তু ছিল না; একাত্তরে কোন মুক্তিযোদ্ধা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য যুদ্ধে গিয়েছিল অথবা কে তার বাড়িঘর পোড়ানোর কারণে গিয়েছিল অথবা কে মানুষের উপর নির্যাতন দেখে গিয়েছিল অথবা কে পাকিস্তান ভেঙ্গে ধর্ম-নিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ কায়েম করতে গিয়েছিল অথবা কে নিছক শরণার্থী হয়ে ভারতে গিয়ে অবস্থাদৃষ্টে ভূখণ্ডকে  পাকিস্তানি-মুক্ত করতে যুদ্ধ করেছিল -এগুলোর কোনোটিই এই প্রবন্ধের বিষয় ছিল না। জামাতে ইসলাম ইসলামী আদর্শের মত একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অপব্যবহার করেছে বিধায় নাস্তিক, মুনাফিক, কাফির পক্ষ জামাতের বিপক্ষ নিয়েছে এবং এই কারণে জাতি দ্বিধা বিভক্ত হয়েছে –এমন ধরণের বিষয়ের উপর আমার কোনো জ্ঞান নেই। এই বিশেষজ্ঞ জ্ঞান যাদের আছে, তাদের সাথে আলোচনা করলে আপনার সময় এবং আমার সময় বাঁচবে।   ধন্যবাদ।

        1. 3.1.1.1
          করতোয়া

          আমার ব্লগে আপনার পোষ্টে আমি যা মন্তব্য করেছিলাম বিবাহ সংক্রান্ত তা আপনি বুঝতে অক্ষম ছিলেন বলেই আমার কাছে এখন মনে হচ্ছে। আমি মূলত বিবাহ সংক্রান্ত নাস্তিক বা আধুনিক সমাজের সংগাকে কটাক্ষকরে মন্তব্য করেছিলাম যা অকপটে আপনার পোষ্টের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়কে সমর্থন করেই কিন্তু আপনি তা অনুধাবন করতে পারেন নি বলে তা আপনার কাছে আমার আজেবাজে কথা হিসেবে মনে হয়েছে।

           

          এখানের এই পোষ্টে অবশ্য আপনার লেখার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়কে আমি পুরাপুরি সমর্থন করছি না। ইসলামিক মূল্যবোধের প্রক্ষাপটে আমি আপনার চিন্তার সাথে একমত কিন্তু জামাতের রাজনৈতিক আদর্শের ব্যাপারে আমি পুরাপুরি দ্বিমত পোষন করি। কেন করছি না সে বিষয়ে আমি সহসায় একটা লিখা দেবার চেষ্টা করছি ইনশাল্লাহ। ততক্ষন পর্যন্ত ধৈর্য ধরার জন্য অনুরোধ রইল।

        2. এম_আহমদ

          আমার ব্লগে আপনার পোষ্টে আমি যা মন্তব্য করেছিলাম বিবাহ সংক্রান্ত তা আপনি বুঝতে অক্ষম ছিলেন বলেই আমার কাছে এখন মনে হচ্ছে।  

          আপনার কটাক্ষ আমি বুঝতেই পারিনি? হ …।. উক্ত ব্লগের প্রথম লাইনে বিবাহের সংজ্ঞা নিয়ে কিছু কী ছিল? বাক্যটিতে বৈবাহিক সম্পর্ক সৃষ্টি, প্রাতিষ্ঠানিকতা, আর্থ-সামাজিক রূপ এবং নৈতিকতার সম্পর্ক নিয়ে যে ধারণা প্রকাশ পেয়েছিল তাতে কী নতুন-পুরাতনের কিছু ছিল? যে বাক্যে যা নেই তাকে ঘিরে কীসের কটাক্ষ হবে? সম্ভবত উপরের মন্তব্যগুলোর ন্যায় কিছু ছিল। অর্থাৎ যেখানে যা নেই তা নিয়ে। তারপর আমাকে প্রশ্ন, “প্রমান করে দেখাতে পারবেন না কোন বিবাহের মধ্যে জাতীর নৈতিক বিশ্বাস বলবত আছে” –দারুণ কটাক্ষ! এখন আমাকেই বরং বুঝতে হবে যে এটা ছিল এমন ধরণের কটাক্ষ যার ভাষা ও প্রকাশ ছিল আমার মত লোকের বুঝার সাধ্যের বাইরে! কিন্তু কথা হচ্ছিল আমার মত লোকের ব্লগেই! তারপর কটাক্ষটা নাকি ছিল আধুনিক সমাজের সংজ্ঞাকে নিয়ে। তো সেই সংজ্ঞাটি কী ছিল যার অনুপস্থিতিতে কটাক্ষটি সংঘটিত হচ্ছিল? যাক, ঠিক আছে। এমন জটিল, সূক্ষ্ম আলঙ্কারিক কটাক্ষ বুঝতে যদি অক্ষম হয়ে পড়ে গিয়ে থাকি তবে আর কি করা। সবাই তো সব কিছু বুঝে না –এটাই জগত।

          আমার বর্তমান পোষ্টের মূল প্রতিপাদ্য পুরাপুরি সমর্থন করতে পারছেন না [এতে মন্দ কিছু নেই] কিন্তু আমার ইসলামী মূল্যবোধ নিয়ে উপস্থাপিত প্রেক্ষাপট ও চিন্তার সাথে একমত [এটা তো খুশির কথা]। জামাতের রাজনৈতিক বিষয়ে আপনার দ্বিমত থাকাতে কোনো অসুবিধা দেখছি না। দ্বিমতের স্থান যদি প্রোপাগান্ডা তথ্যের ভিত্তিতে না হয়ে বস্তুনিষ্ঠ হয়, দালিলিক হয়, যা তাদের গঠনতন্ত্র বা তাদের লেটার-হেডে প্রিন্টেড হয় বা তাদের প্রকাশিত বই-পুস্তকে হয় বা তাদের শূরার সিদ্ধান্ত হয় (শূরার অনেক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত আছে), তবে সেই দ্বিমত থেকে শুধু অন্যরা কেন জামাতও উপকৃত হতে পারে। একটি দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল তো এভাবেই সমৃদ্ধ হয়। কিন্তু তাদের শত্রু ও বিদ্বেষী পক্ষের যেসব প্রোপাগান্ডা সম্পর্কে পাঠক-মহল সর্বতোভাবে জ্ঞাত, সেইসব বস্তুর পুনরাবৃত্তি চোখে পড়ার সাথে সাথেই বস্তুনিষ্ঠ পাঠক আর পড়তেই অগ্রসর হবে না, লেখা শুধু নিজেদের পাঠক শ্রেণীতে আবদ্ধ থেকে যাবে –it will only preach to the converted. 

          আপনি আরেকটি লেখা ছাপাবেন, সেই সময় পর্যন্ত আমাকে ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন। আমি কী এখন অধৈর্য হয়ে আছি? আমার জানা মতে তো আপনার কাছ থেকে কোনো কিছু জানার আগ্রহে বসে নেই। তবে কোনো কিছু ছাপালে, যদি প্রথম কয়েক লাইন দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, এবং পাঠের ধৈর্যের বিষয় হয়, তবে পাঠ করবো। ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

  14. 2
    করতোয়া

    ভাল লিখেছেন। বিশাল একটা বিতর্ক হবার সুযোগ আছে। কাজে যচ্ছি তাই পুরাটা পরা হয়নি। তবে শুধু যেখানে থেমে গেছি সেটা বোঝার চেষ্টা করছি। যেমন:যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে এই মিত্রপক্ষগুলো যা করে এসেছে তা ছিল উপরোক্ত ধারার কাজ। নাটকীয় পায়তারা, আদর্শের প্রতিপক্ষকে নির্মূল। এখানে আপনি আদর্শের প্রতিপক্ষ বলতে ইসলামকে টেনে এনেছেন। কিন্তু ১৯৭১ সালে পাকিস্থানী ও জামাতী জোটের সাথে আমাদের প্রতিপক্ষ আদর্শ কি ইসলামিক আদর্শ ছিল নাকি আর্থূ-সামাজিক শোষন থেকে মুক্তি হওয়ার রাজনৈতিক আদর্শ ছিল প্রতিপক্ষ সে বিষয়টা পরিস্কার হওয়া দরকার। আমরা ইসলামিক আদর্শকে নির্মূলের জন্য যুদ্ধ করি নাই আমরা যুদ্ধ করেছিলাম রাজনৈতিক শোষন থেকে মুক্তি পেতে সেখানে আমাদের প্রতিপক্ষ আমাদের মৌলিক আদর্শ ইসলামকে অপব্যবহার করেছিল ধ্রুত শেয়ালের মত। এজন্য বলা ঠিক হবে না যে আমরা ইসলামিক আদর্শের প্রতিপক্ষে যুদ্ধ করেছি। যাই হোক পরে আরো কথা হবে। এটা রাজনৈতিক পোষ্ট বলেই মনে হচ্ছে কাজেই রাজনৈতিক ভাবেই বিতর্ক করার আশা রইল। ধন্যবাদ আবারও।  

  15. 1
    এম_আহমদ

    লেখাটি দীর্ঘ, তাই যে কেউই পড়বেন, তাদেরকে অগ্রেই ধন্যবাদ।

Comments have been disabled.