«

»

May ১৫

রেন্টুকাণ্ড -একটি গণহত্যা

ভূমিকা

বাংলাদেশের মানুষের সরলতা, প্রেম-ভালবাসা ও আবেগ সঞ্চালিত সৌন্দর্য যেমন গভীর অভিনিবেশের দাবি রাখে তেমনি ফ্যাসিস্ট আদর্শে উদ্বুদ্ধ এক হিংস্র গোষ্ঠী তাদের ঐ বৈশিষ্ট্যগুলোকে কৌশল ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে পারস্পারিক ঘৃণা-বিদ্বেষ ও বিগ্রহে পরিণত করার বাস্তবতাও। দ্বিতীয় শ্রেণীর লোক বাংলাদেশের ইসলামকে তাদের সেক্যুলার ব্যাখ্যায় ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। তাদের আদর্শ হচ্ছে প্রায় ৩০০ বছর আগে ইউরোপের সামাজিক তুমুল দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে ওঠা ধর্ম-বিবর্জিত এক রাষ্ট্র-ব্যবস্থা যা সেক্যুলার নামে প্রবর্তিত হয় -সেই সেক্যুলারিজম, সেই সেক্যুলার বিশ্বাস, সেই সেক্যুলার দর্শন, যার উত্থান-উৎপত্তিতে ইসলাম ও মুসলিম সমাজ সংশ্লিষ্ট ছিল না এবং যার অনেক ধারণা ও বিশ্বাসের সাথে ইসলামী বিশ্বাস ও আদর্শের সম্পর্ক নেই। ঐতিহাসিক নানা দ্বন্দ্ব, কৌশল ও বিপর্যয়ের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা ও বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহতে সেক্যুলার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে।

বাংলাদেশ তার জন্ম-লগ্ন থেকে ‘প্রাপ্ত’ এই সেক্যুলার সমাজ ব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতে যা দেখেছে তা হল রাহাজানি, চুরি, ডাকাতি, হত্যা, ঘোষ, ধর্ষণ, গুম ইত্যাদি এবং এগুলোতে রয়েছে রাষ্ট্র-যন্ত্রের ব্যবহার এবং এগুলোর আকার আকৃতি  এতই বৃহৎ ও ব্যাপক যে এগুলো ঠেকানো প্রায় অসম্ভব। এইসব বিপর্যয় সমাজের সকল স্তরে। বিপর্যয়কারীরা বছরের পর বছর এগুলোকে ন্যায়-প্রতিষ্ঠা, শান্তি-প্রতিষ্ঠা, সমতা-প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি-মুক্তি, ইউরোপ গড়া, স্বর্গ গড়া ইত্যাদির ভাওতাবাজিতে চালিয়ে যাচ্ছে। এদের পিছনে রয়েছে নানান সুবিধাভোগী শ্রেণী এবং তাদের একনিষ্ঠ অনুচরগণ।

যুগ যুগ ধরে ইসলাম-বিবর্জিত শিক্ষা ও আল্লাহওয়ালা আদর্শ বিবর্জিত চলতি এই সমাজ ব্যবস্থাটিকে সেক্যুলার-গোষ্ঠী কৌশলে চালিয়ে গেলেও তারা প্রকাশ্যে আল্লাহ-রাসূলের বিপক্ষে কথাবার্তা বলার সাহস পেত না, কিন্তু বিগত কয়েক বছরের কাজের মাধ্যমে তারা সেই সাহস সঞ্চয় করে নেয়। তারা বিভিন্ন মিডিয়া সৃষ্টি করে তুমুল ইসলাম বিদ্বেষী প্রচার প্রোপাগান্ডা করে এবং  গত ফেব্রুয়ারি মাসে শাহবাগ চত্বরে প্রকাশ্যে এক সো-ডাউন করে। বাস্তব ও প্রতীকীতে তারা ছিল দৃশ্যমান। সেখানে প্রকাশ্যে লাখো জনতার ভিড়ে আল্লাহ রাসূলের বিরুদ্ধে কথা, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধের আহবান, (অর্থাৎ সকল ইসলামী রাজনীতি); মাদ্রাসার কারিকুলাম নিয়ন্ত্রণ, ইসলামী ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ, ইসলামী সেবা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানাদি বন্ধের দাবী তথা ইসলামকে কোণঠাসা করার সব রকমের প্রকাশ্য কথাবার্তা। এগুলো বলা হচ্ছিল জাতির উদ্দেশ্যে, জাতির পক্ষ হয়ে, কেননা তারা নাকি জাতির প্রতিনিধি!

এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে নেমে আসেন এক নবতি বর্ষীয়ান, হেফাজতে ইসলামের প্রধান, সাহসী পুরুষ আল্লামা মুফতি মুহাম্মাদ শফি। বাংলাদেশের সামাজিক ইসলামী বৈশিষ্ট্য টিকিয়ে রাখতে তার দল ১৩ দফা দাবী প্রণয়নের মাধ্যমে শাপলা চত্বরে লাখো লাখো লোকের সমাবেশ এনে হাজির করেন। এতে উল্লেখিত ইসলামী আদর্শের দুশমন পক্ষ লক্ষ্য করতে সমর্থ হয় এই দাবীগুলোতে সমাজ, শিক্ষা ও রাজনীতির উপাদান রয়েছে যে উপাদানগুলোর কারণে তারা এতদিন ধরে তাদের জানি-দুশমন জামাতে ইসলামীর সাথে নানা রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে এখন রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে; কৌশল, মিথ্যাচার ও পেশি-শক্তির মাধ্যমে তাদেরকে ধ্বংস করতে ‘বিচারের-নামে’ এক নতুন 'মহাযুদ্ধে' অবতীর্ণ  হয়েছে। যে আদর্শের কারণে জামাত তাদের দুশমন সেই আদর্শের গন্ধ তারা ১৩ দফায় সহ্য করার মত ছিল না। তারা প্রত্যেকটি দফা রাষ্ট্রকে ১০০ বছর পিছিয়ে দেবে বলে তাদের ফ্যাসিস্ট মহলকে বুঝিয়ে দেয় এবং স্পষ্ট করে বলে যে ১৩ দফার অর্থ হবে জাতিকে ১৩০০ বছর পিছিয়ে দেওয়া! তাদের লোকদেরকে এও বুঝিয়ে দেয় যে ওরা জামাতের সাথে সংশ্লিষ্ট, জামাতের পরিণতি হতে হবে এদের পরিণতি!

কিন্তু হেফাজত দেখতে পায় যে ধানাই-পানাইয়ের মাধ্যমে ১৩ দফাকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। তাই তাদের প্রতিবাদ ৫ই মে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তাদের প্রথম শক্তি ছিল জনবল, প্রায় ৪০/৪৫ লক্ষের কাছাকাছি যেন উল্লেখ হতে দেখেছি এবং দ্বিতীয় শক্তি ছিল শান্তিকামীতা। কিন্তু তারা যে শক্তির মুখামুখি হচ্ছিলেন ওরা ছিল ঐতিহাসিকভাবে ষড়যন্ত্রকারী, মারণাস্ত্রধারী, পেশিশক্তির অধিকারী এবং শান্তিকে অশান্তিতে পরিণত করার ‘রেন্টু-প্রকৌশলী’।  এই শক্তিটি রাষ্ট্রযন্ত্র হাতে পেয়ে অনেকটা মাতাল। তারা হেফাজতের মধ্যে জামাতের ‘সংক্রামক রোগ’ দেখছিল এবং ‘অস্ত্র-পাচারের’ প্রয়োজনও অনুভব করেছিল। ঐ রাতেই অস্ত্র-পাচার করা হয়ে থাকবে। সাথে থাকবে ভাইরাসমুক্তির ড্রাগ। এই হচ্ছে ৬ই মের পটভূমি।

 

পরিকল্পিত কালোরাত্রি

৬ই মের কালো-রাত্রির ঘটনা বাংলার ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে থাকবে। হেফাজতি ও অন্যান্য উৎসের বিবরণে হত্যাযজ্ঞের সংখ্যা হাজার হাজার। ঘাতক-পক্ষ পূর্ব থেকেই তাদের আদর্শিক দুশমন জামাতিদের সাথে সংশ্লিষ্ট করে হেফাজতিদেরকে সাবধান করে আসছিল। তারা এটাকে যুদ্ধের-ভাষায় মোকাবেলা করছিল। একাত্তরের মত ওদেরকে পরাজিত করার কথা বলছিল। যে রাতে ঘটনাটি ঘটে সেই রাত্রের প্রথম প্রত্যুষ থেকেই ঘাতক-পক্ষের লোকজন একাত্তরের আত্মসমর্থনের ছবির পাশে উত্তোলিত-হাতে হেফাজতিদের ছবি দিয়ে দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছিল। এতই দ্রুত ছিল তাদের প্রচারণা ও ছবি প্রদর্শন! ঐদিন সৈয়দ আশরাফ  বলেছিল, সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকা ত্যাগ না করলে হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে [১]। সেও হেফাজতিতের পরাজয় একাত্তরের মত হবার আশ্বাস দিয়েছিল। (তার এই উক্তিটি এখন সন্ধান করে লকেট করতে পারিনি, কেউ পেলে নিচে দেবেন। ভবিষ্যতে কাজে আসবে।)

হেফাজত থেকে জামাতি সংক্রমণ দূর করার অস্ত্র তারা রেডি করে রাখে। প্রথমে রেন্টুকাণ্ড তারপর অপারেশন। নির্মমভাবে অস্ত্র-পাচারের পর আসে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুলের গর্জন, হেফাজতিরা দাজ্জাল এজিদের বংশধর, তারা সীমারের বংশধর! তারা ইসলামী ধর্মী বইয়ের দোকান পুড়িয়েছেন, কোরানের অবমাননা করেছেন [২]! যারা দেশের উচুঁ-মাপের আলেম ওলামাদের ব্যাপারে এমন আক্রমণাত্বক কথা বলতে পারে তাদের ব্যাপারে কী বলা হবে?  তবে প্রবাদে আছে দশ দিন চোরের একদিন গৃহস্থের।  এই বেয়াদব, অসভ্য,  ফ্যাসিস্টদের কথা কিন্তু তাদের শ্রেণীর উগ্র-চামচা মণ্ডলীতে সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এসব দিয়ে ‘গণহত্যা’ ঢাকা যায়নি, রেন্টুকাণ্ডের ভেদ রক্ষা করা যায়নি। 

 

গণহত্যা

৬ই মের কালো-রাতে যে বর্বর হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয় সেই বর্বরতা ও নৃশংসতা শুধু মাত্র সংখ্যার আলোকে দেখা যাবে না কেননা কোনো নিরপরাধ  মানুষের জীবন দশ-বিশ, ষাট-সত্তর বলে উড়িয়ে দেয়া যেতে পারে না। হত্যাকাণ্ডকে আবার ঘাতক-পক্ষের বর্ণনা বিবৃতিতে বা অস্বীকৃতিতে নিরূপিত করা হবে না। ঐ রাতে যদি হাজার হাজার না হয়ে শো খানেক লোক হত্যা করা হয় অথবা তার চেয়েও নিচের সংখ্যায় –তবুও তা হবে গণহত্যা। সাধারণভাবে গণহত্যা বিবেচনা করা হয় আদর্শের প্রতিপক্ষ নির্মূল হিসেবে, (যেমন আল্ট্রা-সেক্যুলারিস্টের হাতে মৌলবাদী নিধনে), অথবা একটি আলাদা ধর্মীয় ব্যাখ্যার লোক নির্মূলে, বা এমন ধরণের আরও ক্যাটাগরি রয়েছে যেমন বৃহৎ পরিধিতে বিজাতি নির্মূলে, বিদেশি নির্মূলে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্মূলে, এমন কি কোনো আদর্শিক প্রতিপক্ষের প্রধান অংশ নির্মূলে এবং এধরণের আরও ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে সংজ্ঞা প্রসারিত হয়। আমরা এখানে সেই বিস্তৃত আলোচনার অবতারণা করছি না। ৬ই মের কালো-রাতের হত্যাযজ্ঞ হেফাজতের লেটার হেডে ‘গণহত্যা’ হিসেবে লিখিত থাকা অথবা তাদের আমিরের ডিক্লারেশনে থাকা না থাকাতে কিছুই যায় আসে না। দ্বিতীয় ধারণা ফালতু। তবে বিষয়টি অন্যভাবে দেখার অবকাশ রয়েছে। সংজ্ঞা বা ডেফিনিশনের দিক থেকে গণহত্যা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছু দ্বিমত দেখা যায়। কেননা অনেক ঘটনায় গ্রে এরিয়া থাকে যা হত্যার মোকাবেলায় বিশেষজ্ঞ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসতে পারে। সেখানে ঘাতক-পক্ষের বিশ্বাস, আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কর্ম-পদ্ধতি সামনে রেখে সেই নিরূপনের কাজ হয়। তবে হত্যাকারী পক্ষ সব সময় অস্বীকার করবে, খোঁড়া যুক্তি খুঁজবে, অন্যের উপর দোষ দিতে চাইবে –এটা স্বাভাবিক। বর্তমান সরকার পক্ষ ৬ই মের রাতে কোনো হত্যাই করেনি, ‘গণহত্যা’ দূরে থাকুক। তারা চারটি মৃতদেহ সকালবেলায় রাস্তায় পড়ে থাকতে পায় এবং ওগুলো সরিয়ে নেয়। এই যা! কোনো তদন্ত ও ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে এমন ব্যাখ্যা পানিধার দিবে না।  

আমাদের আলোচ্য বিষয়ের একটি দিক হচ্ছে রেন্টুকাণ্ড  আর অপর দিক হচ্ছে হত্যাযজ্ঞ যাকে আমরা গণহত্যাই বলব এবং এরই প্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন এবং বিচারও চাইব। কেননা ঘাতক পক্ষের আদর্শিক দ্বন্দ্ব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে এবং বিশেষ করে ঘাতক-পক্ষ নিজেরাই যেখানে হেফাজতের সাথে তাদের আদর্শিক দুশমন জামাতিদের সংশ্লিষ্টতা স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করছে, এবং তাদের যুদ্ধাংদেহি ভাষাতে তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেখানে রয়েছে একাত্তরের মত বিজয়ের বিবৃতি এবং পরবর্তীতে পাওয়া যাচ্ছে রাতের আঁধারে সশস্ত্র-বাহিনী নিয়ে নিরস্ত্র মানুষের উপর  নৃশংস হামলা।

 

গণহত্যার বিচার

মনে রাখতে হবে যে যে শক্তি এই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তাদেরকে এবং তাদের ‘সহযোগীদেরকে’ হিসাবের খাতায় আনতে হলে অনুরূপ শক্তির প্রয়োজন। তাই আজকের এই গণহত্যা কালকের সরকারকেই দেখতে হবে। আমরা কালকের সরকারে উপনীত হলে এবং ট্রাইব্যুনালে উঠলে সঠিক বাস্তবতা বুঝার অবস্থানে যাব। যে হত্যাটি তারা জামাতিদের সাথে হেফাজতিদের সংশ্লিষ্টতায় ঘটিয়েছে, এতে হেফাজতিদের কী অপরাধ  হয়েছিল তাও দেখতে হবে। কেন একটি বিশেষ আদর্শবাদী দল জামাতকে ক্রিমিনেলাইজ করে ওদের সাথে যাদেরকে পাবে তাদেরকে আক্রমণ করতে যাবে? এই ফ্যাসিস্ট দলটি কীভাবে বাংলার মাটিতে এবং কোন কোন দেশি-বিদেশি সম্পৃক্ততায় উত্থান লাভ করল এবং কেন অযথা একটি যুদ্ধ বাঁধিয়ে প্রতিপক্ষ হত্যায় হিটলারের মত হয়ে ওঠলো –এগুলো অবশ্য নিরূপন করতে হবে, তা হোক আজ অথবা কাল।

এই হত্যার বিচার অবশ্যই হওয়া উচিৎ। বিএনপি বলেছে তারা ক্ষমতায় গেলে ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে এ পর্যন্ত যে কয়টি গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে সেগুলোর বিচার করবে। এটা করা উচিৎ। তবে, আমাদের দাবী থাকবে ট্রাইব্যুনালটি যেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মানের লোক-সংযোগে তৈরি হয় এবং নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান হয়। বিদেশি পর্যবেক্ষকদেরকে যেন উপস্থিতির অনুমতি দেয়া হয়। কাজটি কখনও যেন গুণ্ডা-আদালতে  পরিণত না হয়, যেন সরকার-পরম্পরায় একে অন্যের উপর প্রতিশোধমূলক বিচারের সূত্রপাত না হয়। একটি সঠিক বিচারিক ব্যবস্থায় যেন মূর্খ যুদ্ধের মুখোশ উন্মোচিত হয় এবং এর চির সমাপ্তি টানা হয়। যারা যোদ্ধা হবার খায়েশে দেশে বিদেশে থেকে মূর্খ-যুদ্ধের ইন্ধন যোগীয়ে  সমাজে বিপর্যয় ঘটিয়েছে, তাদেরকেও বের করে যেন আদালতের মুখামুখি কর হয় এবং অপরাধী সাব্যস্ত হলে শাস্তির মাধ্যমে যোদ্ধা হবার ফালতু ‘খায়েশ’ মিটিয়ে দেয়া হয়। 

 

হত্যা ও রেন্টুকাণ্ডের প্রতিবাদ

৭ মে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী সরকারী মিথ্যাচারীতার প্রতিবাদ করেন। তখনও তাদের উপর চলছে ধর-পাকড়। বাবু নগরী বলেন যে তাদের কোনো লোক ভাংচুর বা অগ্নি সংযোগ করে নি। রাতের অন্ধকারে তাদেরকে নিহত করা হয়েছে। সংখ্যা হাজারের ওপরে। লাশ গুম হয়েছে অনেক। [৩] দু’দিন পর শুক্রবার (৮ তারিখ) হেফাজতের আমীর আল্লামা শফি বলেন, ‘৫ মে শান্তিপূর্ণ ‘ঢাকা অবরোধ’ শেষে সমাবেশ চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। একটি চিহ্নিত মহল পবিত্র কোরান পোড়ানোর মত জঘন্য, নিন্দনীয় ও অমার্জনীয় অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে তার দায় হেফাজতে ইসলামের ওপর চাপাচ্ছে [৪]।’ তিনি আল্লাহর সাহায্যের জন্য দেশবাসীকে দোয়া করতে আহবান করেন এবং নিজের দোয়ায় বলেন, ‘হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী, আমাদের ওপর কত ভয়াবহ অত্যাচার জুলুম চালানো হয়েছে। হাজার হাজার নিরীহ আলেম-ওলামাদেরকে শহীদ করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে হতাহত করা হয়েছে। এমন জুলুম-অত্যাচারের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য আল্লাহর সহায়তা কামনা করেন এবং দেশ ও জাতিকে জুলুম-নিপীড়ন থেকে রক্ষা করার প্রার্থনাও করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একটি চিহ্নিত মহল কোরান পুড়িয়ে হেফাজতের উপর দায় চাপাচ্ছে। [প্রাগুক্ত]

 

দেশে বিদেশে নিন্দা জ্ঞাপন

এই বিস্ময়কর লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞকে বিরোধী দল বিএনপির ব্যারিস্টার মাওদুদ আহমদ একাত্তরের হত্যাযজ্ঞের পুনরাবৃত্তি বলে উল্লেখ করেন। (প্রাগুক্ত, ৩)।. বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার এবং ১৮ দলের নেতারা এই ঘটনাকে সরকারের পরিকল্পিত ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেন। (তাৎক্ষণিক) বিবৃতিতে জনাব আনোয়ার বলেন, বিগত ২৪ ঘণ্টায় সরকারের তাণ্ডবলীলায় কত লোক নিহত হয়েছে তার সংখ্যা কেউ বলতে পারবে না। সংবাদ মাধ্যমকর্মীদেরো সঠিক সংবাদ প্রকাশ করতে দেয়া হয়নি। তবে আমরা বিশ্বস্তসূত্রে খবর পেয়েছি, সরকার সহস্রাধিক লাশ গুম করেছে। তবে ভবিষ্যতই বলে দেবে কতজন লোক প্রাণ হারিয়েছে। … সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার দাবি করেন, বায়তুল মোকাররম মসজিদ কম্পাউন্ডে বইয়ের দোকানে আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দেবাশীষের নেতৃত্বে লুটপাট এবং কোরান শরীফসহ ধর্মীয় গ্রন্থে অগ্নি সংযোগ করা হয়। সরকার দলীয় লোকেরা এই ঘৃণিত কাজ করে এখন হেফাজতের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে [৫]। বাংলাদেশের সাবেক সেনা প্রধান, এককালীন প্রধান সামরিক প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি এবং বর্তমান জাতীয় পার্টির নেতা হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদও পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি বাহিনী দ্বারা সরকার কর্তৃক পরিকল্পিত ও চালিত রেন্টুকাণ্ডের ব্যাপারে বলেছেন,  ‘সরকার দলীয়রাই কোরান পুড়িয়েছে [৬]।’

আগামীতে যদি গণহত্যা ও রেন্টুকাণ্ডের বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় তবে ন্যায়ের স্বার্থে এই দলগুলোকে একপাশে একত্রে পাওয়ার কথা আশা করা যেতে পারে।  

আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এই হত্যাকাণ্ড স্বাধীনতার পর সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে [৭] এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন এটাকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছে। [৮]  তাছাড়া দেশি বিদেশি অনেক সংস্থা এর নিন্দা জ্ঞাপন করেছে এবং আশু তদন্ত কামনা করেছে। এসবের ফিরিস্তি অতি দীর্ঘ, তাই এখানে আনা হচ্ছে না।

 

সশস্ত্র জুলুমের মুখে নিরীহের দোয়া 

কালো-রাতের নৃশংসতায় শাহাদাতপ্রাপ্ত মহান শহীদদের গায়েবানা জানাজার নামাজ ৭ই মে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৮ দলের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সবাই এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারের দাবি করেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, এই হত্যাকারীদের কাউকে রেহাই দেয়া হবে না। তিনি একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিশন গঠন করার কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সিদ্দিকি বীরউত্তম বলেন, হেফাজতে ইসলামের নিরীহ তৌহিদী জনতার উপর রাতের অন্ধকারে ঝাঁপিয়ে পড়ে যেভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষ হত্যা করা হয়েছে তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না … এর বিচার হবে। বিচার ছাড়া কেউ রেহাই পাবে না। বিনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের কথা বলেন [৯]।   

গত ১৩ মে আল্লামা আহমদ শফীর সাহেবের সাথে কিছু বিশিষ্টজন এক সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের বিভিন্ন থানা ও জেলা নেতা, মাদরাসার অধ্যক্ষ, ইমাম-খতিব, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণীপেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তাদের সাক্ষাৎকারে তখন তিনি সংগঠিত হত্যাকাণ্ডে মজলুমের জীবন ও রক্তের কথা উল্লেখ করেন এবং আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাতে দেশবাসীকে আহবান করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি মাদরাসা, মসজিদ ও মহল্লায় খতমে কোরআন, খতমে বুখারি, খতমে জালালিসহ গুরুত্বপূর্ণ দোয়াগুলো নিয়মিত আমল করুন। নবীপ্রেমিক সর্বস্তরের মুসলমানরা আল্লাহর দরবারে নবীর দুশমনদের ব্যাপারে খোদায়ী ফায়সালার জন্য ফরিয়াদ করতে থাকুন। মহিলারা রোজা রাখুন, বেশি বেশি নামাজ ও ইবাদত বন্দেগীর পরে কান্নাকাটি করে আল্লাহর দরবারে নবীপ্রেমিক জনতার ১৩ দফা দাবি আদায়ের গণআন্দোলন চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য দোয়া করুন। এত মজলুমের জীবন, রক্ত ও অশ্রু বিফলে যাবে না ইনশাআল্লাহ [১০]।’ [১০]

 

শেষ কথা

হেফাজতের রক্ত-বন্যায় যে জাগরণী আন্দোলনের সূচনা হয়েছে তা অনির্বাণ হয়ে থাকবে। ইসলাম বিদ্বেষী মিত্রগোষ্ঠী ও তাদের সহযোদ্ধারা জামাতকে মেরে ফেলতে গিয়ে দেশের কোটি কোটি লোকজনকে জামাতের সমর্থক বা সহানুভূতিশীল বানিয়ে দিয়েছে। এতে তাদের বিজয় না পরাজয় হয়েছে তা তারাই জানে। যাদেরকে ঘিরে আল্লাহর কৌশল হয় তারাই মনে করে কৌশল করছে! আর এবারে হেফাজতিদের রক্ত ঝরিয়ে ইসলামী দলগুলোতে যে ঐক্যের সূত্রপাত করেছে সেই ঐক্য অতীতের অনেক পার্থক্য ঘুচিয়ে দিয়েছে।  আদর্শিক যুদ্ধের জয়-পরাজয় একদিনে, এক স্থানে, নিরূপিত হয় না, দেখাও যায় না। এই যুদ্ধের প্রকৃতি ক্রমান্বয়িক। এখানে জয়-পরাজয় চলে পালাক্রমে। নিশিত অন্ধকারে নিরস্ত্র জনতা মেরে যদি দ্বিতীয় মহাযোদ্ধাগণ বিজয়ী মনে করে থাকেন, তবে তারা ভুল। ৬ই মে হেফাজতের মনস্তত্ত্বে জাতীয় পরিমণ্ডলে শত্রু-মিত্রের এক রূপরেখা টানা হয়ে গিয়েছে। হেফাজত এবং হেফাজতের সাথে যাদের হাত আল্লাহর দরবারে মোনাজাতে  উত্তোলিত হয়েছে সেই উত্তোলিত হস্তসমূহ  একটি ইতিহাস ও জাগরণ হয়ে গিয়েছে।

 

নোট: যাদের কাছে এই প্রসঙ্গের ভিডিও বা অন্য ধরণের তথ্য রয়েছে তারা যদি কিছু না বলেও কেবল তথ্য সংযোগ করে যান, তবে বাধিত হব। ধন্যবাদ।

 

রেফারেন্সেস

___________

রেফারেন্স নোট: এই বিগত দিনগুলোর বাস্তবতা আমাদের সকলের মনে এখনও তরতাজা, তাই রেফান্সিং না  করলেও পারতাম। কিন্তু দুই/একমাস পরে এগুলো মন থেকে অনেকটা হারিয়ে যাবে। এজন্য নিজের রেকর্ড হিসেবে রাখলাম এবং কেউ হয়ত এত্থেকে লাভবান হতে পারেন বিধায় দিলাম।

[১] শাহীন, এম, এ (২০১৩) সন্ধ্যার মধ্যে ঢাকা ত্যাগ না করলে হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা –সৈয়দ আশরাফ, আমাদের সময় [অনলাইন] ৬ মে, প্রাপ্তব্যস্থান http://www.amadershomoy2.com/content/2013/05/05/middle0838.htm

 [২] ডেস্ক রিপোর্ট (২০১৩) হেফাজত দাজ্জাল এজিদ ও সীমারের বংশধর –আইন মন্ত্রী, আমাদের সময় [অনলাইন] ৬ মে, প্রাপ্তব্যস্থান http://www.amadershomoy2.com/content/2013/05/06/middle0183.htm

[৩] রিয়াজ, রশিদ (২০১৩) সরকার হেফাজতিদের সাথে যা করেছে তা হত্যাযজ্ঞ, আমাদের সময় [অনলাইন], প্রাপ্তব্যস্থান http://www.amadershomoy2.com/content/2013/05/07/news0042.htm

[৪] হুসেন, সা (২০১৩) একটি চিহ্নিত মহল কোরান পুড়িয়ে হেফাজতের উপর দায় চাপাচ্ছে –আল্লামা শফি, আমাদের সময় [অনলাইন] ১০ মে, প্রাপ্তিস্থান  http://www.amadershomoy2.com/content/2013/05/10/middle0300.htm

[৫] সালমান, তা (২০১৩) অন্ধকারে সরকার পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালিয়েছে –বিএনপি, আমাদের সময় [অনলাইন] ৭ মে, প্রাপ্তব্যস্থান http://www.amadershomoy2.com/content/2013/05/07/news0037.htm

[৬] আনাম,  আ. (২০১৩) সরকার দলীয়রাই কোরান পুড়িয়েছে, আমাদের সময় [অনলাইন] ১১ মে, প্রাপ্তব্যস্থান http://www.amadershomoy2.com/content/2013/05/11/middle0510.htm

[৭] আনাম, আ (২০১৩) স্বাধীনতার পর সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা: আন্তর্জাতিক মিডিয়া, আমাদের সময় [অনলাইন] ৭ মে, প্রাপ্তব্যস্থান  http://www.amadershomoy2.com/content/2013/05/07/news0028.htm

[৮] শাহীন, এম, এ, আ (২০১৩) হেফাজত হঠানো ‘গণহত্যা’ বলেছে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, আমাদের সময় [অনলাইন] ৭ মে, প্রাপ্তব্যস্থান  http://www.amadershomoy2.com/content/2013/05/07/middle0433.htm

[৯] সালমান, তা (২০১৩) হেফাজতের শহীদদের স্মরণে ১৮ দলের গায়েবানা জানাজা, আমাদের সময় [অনলাইন] ৮ মে, প্রাপ্তব্যস্থান http://www.amadershomoy2.com/content/2013/05/08/news0169.htm

[১০] স্টাফ রিপোর্টার (২০১৩) বিশিষ্টজনদের সৌজন্য সাক্ষাত : নবীর দুশমনদের জন্য খোদায়ী ফায়সালার জন্য প্রতিদিন দোয়া করুন – আল্লামা শফী, আমার দেশ [অনলাইন] ১৩ মে, প্রাপ্তিস্থান  http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/05/13/199831#.UZDFbbVwrp4 

১৬ comments

Skip to comment form

  1. 9
    এম_আহমদ

    ২০১৩ সালের মে মাসে হেফাজত ইসলামের আলিম-উলামাদের উপর এক হত্যাকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।  আজ হেফাজতে ইসলাম বার্মিংহাম সেই হত্যাযজ্ঞের উপর একটি আলোচনা ও স্মরণ সভা ডেকেছেন। আমিও আমন্ত্রিত। আমরা কেউই সেই নির্মম হত্যাযজ্ঞ ভুলে যাই নি। হেফাজতে ইসলাম নিয়ে আমার কয়েকটি লেখা সদালাপে রয়েছে। অনেক নতুন পাঠক সেগুলো না দেখারই কথা তাই কয়েকটি লেখাকে এখানে লিঙ্ক করছি, সময় ও ইচ্ছা থাকলে, তাদের কেউ কেউ, সেগুলো পাঠ করে নিতে পারেন।

    হাজারো রেন্টুর ধ্বংসযজ্ঞ হেফাজতিদের ঘাড়ে!  

    হেফাজতি আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তি চলবে না

    1. 9.1
      মাহফুজ

      অমানবিক হত্যাকাণ্ড এবং অহেতুক বিদ্রোহ- কোনটাই ভাল নয়। প্রস্তুতি ও পরিকল্পণাহীন বিদ্রোহ/ বিপ্লবের যা হবার তাই হয়েছে। এরজন্য উভয় পক্ষই দায়ি। কোন হত্যাযজ্ঞই ভুক্তভুগীরা ভুলতে পারেনা। তখন প্রথম সারির নেতাদের সম্পর্কে কিন্তু এখন অনেক কথাই শোনা যাচ্ছে। সত্যটা মহান স্রষ্টাই ভাল জানেন। তবে বিশ্বাসী আহত ও নিহত নীরিহ মানুষগুলো নিশ্চয় তাদের প্রতিদান পেয়ে যাবেন।
      //আজ হেফাজতে ইসলাম বার্মিংহাম সেই হত্যাযজ্ঞের উপর একটি আলোচনা ও স্মরণ সভা ডেকেছেন। আমিও আমন্ত্রিত।//
      মোড়লি কেমন হলো জানাবেন কিন্ত-
       

      1. 9.1.1
        এম_আহমদ

        @মাহফুজ:

        প্রথমে একথাই স্মরণ হয় যে আপনার ত্যানা প্যাচিয়ে ফালতু বিতর্ক টানার অতি কুঅভ্যাসের কারণে আপনাকে ইতিপূর্বে কয়েক বার আমার ব্লগে মন্তব্য না করতে বলেছি। আমি আপনার এটা মুছে দিতাম কিন্তু অনেক দিন যাওয়ার পরে অন্যের ব্লগে আপনি আমাকে একটি প্রশ্ন করায় উত্তর দিয়েছি আর ভেবেছি হয়ত কেউ বদলাতে পারে কিন্তু সেই ত্যানা-প্যাচানো। আপনি দেশে থেকেও যখন জানেন না যে হেফাজত ১৩ দফার দাবি নিয়ে এসেছিল এবং এজন্য যতটুকু পরিকল্পনা থাকার দরকার তা তাদের ছিল।  সরকারী নানান প্রতিকূলতা সৃষ্টির পরও তারা ঢাকায় আসতে পেরেছিল। এটা না ছিল কোনো 'বিদ্রোহ'ও আর না ছিল কোন 'বিপ্লব'। শুধু  ন্যায্য দাবী নিয়ে এক মহাসমাবেশ। আমলীগ ২০০৬ সালেও তদানীন্তন সেক্রেটারি মরহুম আব্দুল জলিল সাহেবের মাধ্যমে এই ওলামাদের সাথে চুক্তি করেছিল যা পরে ১/১১ এর কারণে প্রেক্ষিত হারায়। তারা কখনো কল্পনাই করেনি যে এদেশের মাটিতে তাদেরকে হত্যা করা হবে। এদেশের নাগরিক হিসেবে তাদের যেকোনো দাবী ও প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তারা গোলাবারুদ ও মেশিনগানসহ সেখানে হাজির হয় নি। তাদের হত্যা করার অধিকার কারও নেই। এতে তাদেরকে সমভাবে দোষী ভাবা হবে মুনাফিকের কাজ। আমার কথা আপনার পছন্দ না হলেও এখানে বিতর্ক করতে দেব না। তবে হেফাজতিদের পরিকল্পনাহীনতা এবং তাদের সমপরিমাণ দোষ ইত্যাদি দেখিয়ে, আপনার ধ্যান-ধারণার সমন্বয় করে, আলাদা ব্লগ দিতে পারেন। আমি এই বিষয়টি হাল্কাভাবে দেখছি না। অনেকের মত হেফাজতের ব্যাপারে আমারও ক্ষেত্র-বিশেষে অনেক  দ্বিমত আছে তবে সেগুলো নিয়ে এখনো কিছু লিখি নি। তবে এই বিশেষ হত্যার বিষয়ে ফালতু-ফাসেকি কথায় সময় দিতে রাজি নই -এখানে কখনো উভয় পক্ষের দোষ নয়। এসব ফালতু ধারনা নিয়ে আমার এখান থেকে অনেক দূরে থাকবেন।

        একটি গণজমায়েতে, (উদাহরণ: ফুটবল ম্যাচের সময় ইউরোপ আমেরিকায় এবং ট্রেড ইউনিয়নের দাকে সাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ লোকের ভিড়েও ) যদি কেউ অন্যায় করে তবে এটা নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব হয় তাদেরকে সনাক্ত করা এবং বিচারিক পদ্ধতিতে তার ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু কিছু মুনাফিক তাদের ব্যাপারে দু/একটা অভিযোগ এনে সার্বিকভাবে গোটা হেফাজতকে বিষোদগার করে, এটাই তাদের চরিত্র।

        হেফাজতিদের উপর সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিষয় নিয়ে আমার নিজ সময় ও শ্রম ব্যয় করে আমি এই লেখাটি এবং আরও কয়েকটি লেখা প্রণয়ন করেছি, এগুলো যদি কোন মুনাফিকের মনের জ্বালা বৃদ্ধি করে যায় তবে who cares, they can get lost. এ ব্যাপারে তাদের সমপরিমাণ দোষ ও অপরাপর বিষয় নিয়ে অন্যত্র ত্যানা প্যাচান। তবে একথা বলা দরকার যে গতকাল তাদের বক্তব্যে যা শুনলাম তা হল তারাও একদিন এই হত্যাকাণ্ডারের বিচার আইনানুগ পদ্ধতিতে করবে। আল্লাহ বলেন, 'এই দিনগুলোকে (কালকে) আমরা মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন করে থাকি' (কোরান)। হয়ত সেই দিন এই দিন হবে না।

        আর কেউ কোনো পাবলিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হলে তাকে মোড়ল বলা ইতর লোকের কাজ। আপনি প্রায়ই বাড়াবাড়ি করেন। আমি লক্ষ্য করেছি যে আপনি সৌদির হিজাব পরিধান করে ইসলামপূর্ব জাহেলি প্রথার মত নিজ ধারণার প্রেক্ষিত ও আবেগে অপর নাগরিকের বাংলার মাটিতে থাকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন।  দৃশ্যত হিজাবের ভিতরে আপনি এক বহুরূপী মন্দ লোক।

         

        1. 9.1.1.1
          মাহফুজ

          আপনার মন্তব্য মুছে দিয়েছি। এখানে কখনো আসবেন না।

           প্রজ্ঞাপনে এম_আহমদ

          লেখক

  2. 8
    এম_আহমদ

    এই ব্লগের সাথে আল্লামা শফি ছাহেবের আজকের বক্তব্য সম্বলিত একটি লিঙ্ক সংযুক্ত করা হল, শিরোনাম:  জোরকরে বাবুনগরীর স্বিকারোক্তি নেয়া হয়েছে। 

  3. 7
    sami23

    ভাই সালাম,
    ধন্যবাদ লেখাটি জন্য। আজ বাংলাদেশের অবস্থা আইসিউতে থাকা মুমূর্ষু রোগীর মত।শাপলা চত্বরের গণহত্যা সমগ্র মুসলমানদের অন্তরই আজ বেদনায়ে নীল।কিন্তু বিস্ময়কর এই গ্নহত্যাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দালাল মিডিয়া এবং সুচীলদের নির্লজ্জ মত দালালি পনার জন্য চক্র-চক্রান্ত উঠেপড়ে লেগেছে। সম্মানিত আলেম ওলামাদের উপর গণহত্যা চালিয়ে সরকার প্রধানের দাম্ভিকতা ফেরাউনের কথা মনে পড়িয়ে দিতেছে।শাপলা চত্বরে নিরীহ আলেমদের ওলামাদের উপর সরকারে গুণ্ডা-ঘাতক বাহিনীর হামলা চালিয়ে যে অর্বাচীনতা দেখিয়েছে তা কোন ভাবে মেনে নেওয়া যায়ে না।             
    ভাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে শত্রু ছাড়া করা যায়েনা।রেন্টু সৃষ্টিকারীদের দরকার ছিল এক শত্রুর।বামরা আজ রেন্টু সৃষ্টিকারীদের ভাইয়ে পরিণত হয়েছে।এদিকে দুর্বল জামায়াত ও দুর্বল বিএনপি’র অবস্থা নিষ্পেষিত উলুখাগড়া মত। যেহেতু পরিস্থিতি (সরকারে পরিচালনায়ে ব্যথা) চতুর্দিক থেকে বেয়াড়া হয়ে উঠেছে,ফলে তোষামোদের আর দরকার নাই।সে জন্য দাবি মুলা ঝুলিয়ে রাজনীতি অজ্ঞ হেফাজত ইসলামকে ঢাকা আনা হয়।  

    কিন্তু রেন্টু সৃষ্টিকারীদের মিহি বুদ্ধির মগজ হঠাৎ টগবগ করতে থাকে এই সূত্রে যে, “বিএনপি’র আল্টিমেটাম প্লাস হেফাজতের ইসলামের ঢাকা অবরোধ যুক্ত হয়ে রেন্টু সৃষ্টিকারীদের কপালে কি ঘটতো বলা মুস্কিল।”অতএব, রেন্টু সৃষ্টিকারীরা রিস্ক নিতে রাজী না।সেজন্য সূর্য উঠার আগেই রাতের আধারে লাশ টাস ফেলে গুম করে গাড় ধরে হেফাজত ইসলামকে ঢাকা থেকে বের করে দেওয়া।তার মানেরেন্টু সৃষ্টিকারীদের হাত মানুষের রক্তে রঞ্জিত হবে ভবিষ্যৎতে এটা বরাবরের মতো এবারও প্রমাণিত।

     

  4. 6
    এম ইউ আমান

    ৬ই মের কালো-রাতে যে বর্বর হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয় সেই বর্বরতা ও নৃশংসতা শুধু মাত্র সংখ্যার আলোকে দেখা যাবে না কেননা কোনো নিরপরাধ  মানুষের জীবন দশ-বিশ, ষাট-সত্তর বলে উড়িয়ে দেয়া যেতে পারে না।

    …অপর দিক হচ্ছে হত্যাযজ্ঞ যাকে আমরা গণহত্যাই বলব এবং এরই প্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন এবং বিচারও চাইব।

    নিরপেক্ষ কমিশন গঠন ও বিচার চাওয়া-ই রাইট কোর্স অব একশান। এই জাস্ট কজকে ফোকাস করাই উত্তম।

    যারা যোদ্ধা হবার খায়েশে দেশে বিদেশে থেকে মূর্খ-যুদ্ধের ইন্ধন যোগীয়ে  সমাজে বিপর্যয় ঘটিয়েছে, তাদেরকেও বের করে যেন আদালতের মুখামুখি কর হয় এবং অপরাধী সাব্যস্ত হলে শাস্তির মাধ্যমে যোদ্ধা হবার ফালতু ‘খায়েশ’ মিটিয়ে দেয়া হয়।

    এ গ্রপটি সম্পর্কে আরেকটু আলোকপাত করুন।       

    ইসলাম বিদ্বেষী মিত্রগোষ্ঠী ও তাদের সহযোদ্ধারা জামাতকে মেরে ফেলতে গিয়ে দেশের কোটি কোটি লোকজনকে জামাতের সমর্থক বা সহানুভূতিশীল বানিয়ে দিয়েছে। এতে তাদের বিজয় না পরাজয় হয়েছে তা তারাই জানে।

    “দেশের কোটি কোটি লোক জামাতের সমর্থক বা সহানুভূতিশীল বনে গিয়েছে”- এই অদ্ভুত তথ্য কোথায় পেলেন?

    দলীয় নয়, অনুগ্রহ করে কমন কজ আপহোল্ড ও প্রমোট করতে বিবেচনা করুন। আপনার একটা লেখাতেই না বলেছিলেন, …জামাত-শিবিরের দলীয় আদর্শ সরিয়ে রেখেই…

    ধন্যবাদ।

    1. 6.1
      এম_আহমদ

      “দেশের কোটি কোটি লোক জামাতের সমর্থক বা সহানুভূতিশীল বনে গিয়েছে”- এই অদ্ভুত তথ্য কোথায় পেলেন? দলীয় নয়, অনুগ্রহ করে কমন কজ আপহোল্ড ও প্রমোট করতে বিবেচনা করুন। আপনার একটা লেখাতেই না বলেছিলেন, …জামাত-শিবিরের দলীয় আদর্শ সরিয়ে রেখেই… 

      ১) প্রথমত আমার কথাটি তার পূর্ণ বাক্য থেকে কেটে অর্ধ অংশ দিয়েছেন। তারপর যে অংশটি কোট করেছে তাও পরিপূর্ণভাবে সঠিক হয়নি।  আমি বলিনি, ‘… সমর্থক বা সহানুভূতিশীল বনে গিয়েছে’ বরং বলেছি ‘…সহানুভূতিশীল বানিয়ে দিয়েছে।’  

      ২) দ্বিতীয়ত, আমার অবজারভেশনটি কেন আপনার কাছে “অদ্ভুত” হল? বরং আমার অবজারবেশনকে কেন্দ্র করে আপনার প্রশ্ন, মন্তব্য এবং “উপদেশ”কেই আমি অদ্ভুত হিসেবেই দেখছি! কি আশ্চর্য! একটি অবজারভেশন দেখে এই reaction দেখানো হল? ‘কোটি কোটি লোক জামাতের সমর্থক বা সহানুভূতিশীল’ হয়ে যাওয়ার মন্তব্য দেখে কেন যেন Text এর পরিধির বাইরে চলে গিয়ে বাক্যের অনেক ঊর্ধ্বের প্রশ্নাদিতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন! এটি কীভাবে “দলীয় কজ” বলে চিন্তা করতে গেলেন? আমি কোন দল করি? আপনি কী বলছেন? আমি তো আপনার বিবেচনা শক্তিকে অন্যভাবে দেখতাম। বাংলাদেশের ১৬/১৭ কোটি লোকের মধ্যে জামাতের সমর্থন ৯/১০ শতাংশ। আ’লিগ সরকার প্রথম দিকে জামাতের demonstration/public rally পুলিশ ও র‍্যাব দিয়ে প্রতিহত থাকলে তাদের ঐক্যজোটের বিএনপিও সহযোগিতা করেনি। নীরব থেকেছে। ধীরে ধীরে ২০১৩ জামাত নিধন/গণহত্যা এবং এই সাথে তাদের দলের সমর্থদের কিছু সংখ্যক হত্যা করা হলে বিএনপির সমর্থন সম্পূর্ণ জামাতের দিকে চলে আসে। জামাতের ও তাদের লোকজনের হত্যাকে তারা ‘গণহত্যা’ আখ্যায়িত করে এবং এই হত্যার বিচার করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। দেশে বিদেশেও সেই সমর্থন/sympathy লক্ষ্য করা যায়। আসিফ নজরুল, ফরহাদ মাজহার –এমন ধরণের লোকদেরকেও sympathetic দেখা যাচ্ছে। এই সংবেদনশীলতা আমরা আমাদের আশে পাশের এরশাদ দলীয় লোকদের কথা-বার্তায় দেখি। ইংল্যান্ডে হেফাজতি ঘরানার সবাই এখন জামাতিদের সাথে মিলে মিশে ঐক্যজোট। সামগ্রিকভাবে এই হচ্ছে আমার “নিরপেক্ষ” অবলোকন। এটা কেন আপনার কাছে “দলীয় কজ” অনুভূত হবে? এতদূরে কেন এবং কীভাবে গেলেন? কেউ হয়ত বলতে পারে, ভাই আমি আপনার অবজারভেশনের সাথে এক মত নই, আমি বরং মনে করি কোটি কোটি লোক এখন জামাতিদের উপর থেকে তাদের অবশিষ্ট সমর্থন উঠিয়ে নিচ্ছে। অথবা বলতে পারে আপনি যে সমর্থন/সহানুভূতি অবজারভ করছেন তা একটি সাময়িকী ব্যাপার। কেয়ার-টেকার ব্যবস্থার দ্বিমত অবসান হলে, কিছু দিনের মধ্যেই শান্তি নিরাপত্তা ফিরে আসবে এবং মানুষ হত্যাযজ্ঞের আবেগ-মিশ্রিত বিষয়াদি ভুলে যাবে এবং অবস্থা একদম আগের মতই হয়ে যাবে।  তার এই পাল্টা-মন্তব্যে আমি তাকে কমিউনিস্ট ভাবার দরকার নেই, আ’লীগ ভাবারও দরকার নেই। তার কথাতে কোনো দলীয় কজ প্রমোট করার reason আসেনি, তবে আমি যদি কোনো বিশেষ দলীয় আদর্শে দিশেহারা হয়ে পড়ি, তবে চিলে পাটা নিয়ে গেল বলে বাইরে এসে আকাশের দিকে তাকাতে পারি। This comment has been beneath your good judgement.

      আমার উপরোক্ত অবজারভেশনের গোটা এহসাসের দিকে থাকান। সর্বত্রই জাতীয় বিভক্তির উপাদানের মোকাবেলায় ঐক্যের প্রতি মনোনিবেশ করা হয়েছে।  বলেছি, ‘ ইসলাম বিদ্বেষী মিত্রগোষ্ঠী ও তাদের সহযোদ্ধারা জামাতকে মেরে ফেলতে গিয়ে দেশের কোটি কোটি লোকজনকে জামাতের সমর্থক বা সহানুভূতিশীল বানিয়ে দিয়েছে। … এবারে হেফাজতিদের রক্ত ঝরিয়ে ইসলামী দলগুলোতে যে ঐক্যের সূত্রপাত করেছে সেই ঐক্য অতীতের অনেক পার্থক্য ঘুচিয়ে দিয়েছে।’   জুলুমের কারণে ও সামাজিক বিপর্যয়ের কারণে যদি অনেকগুলো দলের মধ্যে ঐক্যের সঞ্চার হয়, যদি তাদের মধ্যকার অতীতের জামাতি/অজামাতি, খেলাফতি/আন্দোলনী ইত্যাদি রেষারেষি বন্ধ হয়ে যায়, যদি তাদের মধ্যে এই ঐক্য  ধরে রাখা যায় তবে এটা কি জাতির কমন স্বার্থ নয়? দানা-দানি হানা-হানি বাধিয়ে রাখা কারো জন্য ভাল নয়। আমার তো মনে হয় এই ঐক্য যদি ধরে রাখা যায়, তবে আপনিও খুশি হবেন, কি বলেন?               

      এবং সত্যিকারে মুসলিমদের জানা উচিত তাঁদের বন্ধু মিত্র অন্য মতের এবং পথের মানুষ হতে পারেনা। এই বিষয়ে তো আল কোরআন বলে দিয়েছে সে ১৪শত বছর আগে।

      অনুগ্রহ করে আল কোরাণের আয়াতটি (গুলি) উল্লেখ করুন।

      3) কোরানের আয়াত  

      আর যারা কুফুরি করে (কাফের) তারা একে অন্যের সহযোগী/বন্ধু (protector). [তোমরা যদি একে অন্যের সহায়তায় না আস] তবে দুনিয়ায় বৃহৎ আকারের ফিতনা ব্যাপৃত হয়ে পড়বে। (৮/৭৩)।.

      কিন্তু আমাদের বাস্তবতা উলটা হয়ে পড়েছে এবং আমরা আজ ফিতনার নিমজ্জিত। আমরা  ক্ষেত্র বিশেষে নাস্তিক, মুরতাদ ও কাফিরদের সাথে মিশে মুসলিমদেরকে পিটাতে পারি। আর ভাবি ভাল কাজই করে যাচ্ছি। আল্লাহ বলেন, যাদের কর্মকাণ্ড দুনিয়ার আষ্টেপৃষ্ঠে পথ হারিয়েছে তারা ভাবছে খুব ভাল কাজ করে যাচ্ছে! (১৮/১০৪)।.  

      ইসলামের দুশমন কাফির মুরতাদদের পক্ষ নেয়া মোটেই জায়েজ নয়। আল্লাহ বলেন, যারা মুসলমানদের পরিবর্তে কাফেরদেরকে নিজেদের সহযোগী/বন্ধু বানিয়ে নেয় এবং ওদের সাথে [যেকোনো ইস্যুতে] ইজ্জতের ব্যাপার দেখে (প্রত্যাশী হয়), (তাদের জানা উচিত) যাবতীয় সম্মান শুধুমাত্র আল্লাহর (অধিকারে)। (৪/১৩৯)।. আল্লাহ আরও বলেন, হে মুমিনগণ, যারা তোমাদের ধর্ম নিয়ে উপহাস ও খেল-তামাশা  করে, যেমন যাদেরকে তোমাদের আগে কিতাব দেয়া হয়েছিল, তাদেরকে এবং অন্যান্য কাফেরকে তোমরা সহযোগী/বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। আল্লাহকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হও। (৫/৫৭)। 

        আলোচ্য বৈশিষ্ট্যের সাথে তফসীরে নিফাকের বিষয় উল্লেখ দেখা হয়। এক্ষেত্রে এই আয়াতটি প্রণিধানযোগ্য। আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা মু’মিনদের মোকাবেলায় কাফেরদেরকে বন্ধু/সহযোগী বানিও না, তোমরা নিজেরাই কি চাও যে আল্লাহর দরবারে তোমাদের বিপক্ষে স্পষ্ট দলীল সৃষ্টি করতে? (৪/১৪৪)  

      আল্লাহ মুমিনদেরকে জালেম, কাফির, মুরতাদের থেকে সরিয়ে স্বাতন্ত্র্য অবস্থায় রাখতে চান। কেননা ওরা একে অন্যের সহযোগী। (৮/৭৩, ২/২৫৭)  

      মু’মিনগণ মু’মিনগণের সহযোগী/বন্ধু হবে -এটাই ঈমানের অঙ্গ। এই সহযোগীটার ক্ষেত্রে দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছেন আল্লাহর ফেরেস্তাগণ। আল্লাহ বলেন, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীগণ একে অপরের ওয়ালি/সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী। (৯/৭১)।. ফেরেস্তাদের কথা কোরানে এভাবে এসেছে, আমরা [ফেরেশতাগণ] দুনিয়ার জীবনে তোমাদের ওয়ালি/সহায়ক এবং আখেরাতেও(৪১/৩১)।

  5. 5
    এম ইউ আমান

    এবং সত্যিকারে মুসলিমদের জানা উচিত তাঁদের বন্ধু মিত্র অন্য মতের এবং পথের মানুষ হতে পারেনা। এই বিষয়ে তো আল কোরআন বলে দিয়েছে সে ১৪শত বছর আগে।

    অনুগ্রহ করে আল কোরাণের আয়াতটি (গুলি) উল্লেখ করুন।

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      বন্ধু বলতে সাধারণ বন্ধুর কথা বলছিনা। সাধারণ বন্ধু হতে কোন বাঁধা নেই, তবে ইসলামের আলো জ্বালাতে তাকে প্রসারতিত করতে এবং ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমে কোন ইমানদার ব্যতিত কাউকে পাওয়া যাবেনা। কারণ তারো চায়না ইসলাম পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত হোক। এই নিয়ে তো সদালাপে আমার পোস্ট আছে যেখানে সাধারণ বন্ধু দুনিয়াদারী বন্ধুত্ব করতে নিষেধ নাই তা আমি যুক্তি দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি। কিন্তু কেউ কেউ আমার সে পোস্টকে ভুল ভাবে নিয়েছেন, ভাবছেন আমি সব ধরণের বন্ধুত্বের কথা বলেছি। আমি আবারও পৃথিবীর যে কোন মানুষের চলাফেরা করা এবং একত্রে কাজ কাম করার বা পড়ার সময়ে একজন মুসলিম অন্য ধর্মের লোকের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারে।তাতে ইসলাম বাঁধা দেয়না। কার যারা মুসলিমদের সাথে অত্যাচার অবিচার করেনা, তাঁদের সাথে সম্পর্ক রাখতে বাঁধা নেই। কিন্তু যে ইসলামের কোঁর ভ্যালু বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে, যে ইসলামী আন্দোলনকে বানচাল করতে চেষ্টা করবে, তাঁদের সাথে মুসলিমের বন্ধুত্ব হতে পারেনা যদিও সে ব্যক্তি মুসলিম বাবা মার পরিবারে জন্ম নিয়ে থাকে। যে আল্লাহকে মিথ্যা বলবে, রাসুল সাঃ মিথ্যাবাদী বলে প্রচার করবে, যে আল কোরানকে মিথ্যা বলে প্রচার করবে, যে মুসলিম তরুণদের কে বিভ্রান্ত করা চেষ্টা করবে সে আল্লাহ এবং রাসুল সাঃ এর সাথে প্রকাশ্য দুশমনি করে থাকে, সেই ব্যক্তির সাথে কোন মুসলিমের বন্ধুত্ব থাকতে পারেনা।

  6. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    ভাই সত্যিকারের মুসলিমদের আল্লাহ ছাড়া কারো মুখাপেক্ষী হওয়া উচিত নয়। এবং সত্যিকারে মুসলিমদের জানা উচিত তাঁদের বন্ধু মিত্র অন্য মতের এবং পথের মানুষ হতে পারেনা। এই বিষয়ে তো আল কোরআন বলে দিয়েছে সে ১৪শত বছর আগে। আর দিন দিন তা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রমাণিত হচ্ছে। সত্যিকার মুসলিম কোন মিত্র পাবেনা খোদ মুসলিম নামধারী মুসলিমদের মধ্যে তেমন করে পৃথিবীর অন্যান্য মানুষদের মধ্যে। তাই আমাদের নেতাদেরকে অবশ্য মনে রাখতে হবে এবং দুনিয়া লোভী কোন শক্তি যেন তাঁদের ব্যবহার করতে না পারে সেই দিকে সজাগ থাকে।

  7. 3
    মহিউদ্দিন

    আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ এ লিখাটি পোষ্ট করার জন্য।
    “৬ই মের কালো-রাতে যে বর্বর হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয় সেই বর্বরতা ও নৃশংসতা শুধু মাত্র সংখ্যার আলোকে দেখা যাবে না কেননা কোনো নিরপরাধ মানুষের জীবন দশ-বিশ, ষাট-সত্তর বলে উড়িয়ে দেয়া যেতে পারে না।”
    যথার্থ বলেছেন।
    কিন্তু দু:খের বিষয় হচ্ছে এত বড় একটা বর্বর হত্যাকাণ্ড ঘটায়ে সরকার পক্ষ থেকে সামান্যতম দু:খ প্রকাশ ও সহানুভূতি প্রকাশের পরিবর্তে নিরীহ মানুষের প্রাণনাশে সরকার তাদের সফলতাকেই বড় করে দেখছেন এবং এ ধরণের নৃশংস হীন কাজের জন্য গর্ববোধ ও দাম্ভিকতা প্রকাশ করতে তারা মোটেই অস্বস্তিবোধ করেন না! তাদের গলাবাজি বক্তব্যই প্রমাণ করে তারা অপরাধকে ঢাকতে চাচ্ছেন।

    একদিন অগেও নয় পরেও নয় ঠিক ঘটনা ঘটার সময়ের রাত্র থেকেই দুটা টিভি মিডিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়!

    একটা দেশের প্রধানমন্ত্রীর কর্তব্য হল এরকম একটা ঘটনার দ্রুত যথাযথ তদন্ত করে যারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে তাদের শাস্তি দেয়া।

    কিন্তু তা না করে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শুনি “হেফাজতের লম্ফঝম্প আধঘণ্টার মধ্যেই ফিনিশ!”

    সত্যকে কেউ চাপিয়ে রাখতে পারবেনা একদিন না একদিন তা প্রকাশ পাবেই ইনশাল্লাহ। অপরাধী এবং অত্যাচারী যে কেউ হঊকনা কেন তার বিচার হতে হবে।

    সম্প্রতি আলজাজিরা টিভিতে দেখলাম কেবল একটি গোরস্থানে এক রাত্রেই ১৪জন হেফাজতের কর্মীদেরকে কবর দেয়া হয়েছে। লিংক এখানে দেখুন

    তাছাড়া ফেইসবুকে প্রচুর ভিডিও আপলোড করা হয়েছে যা দেখলে গা শিউরে উঠে! নিজের দেশের মানুষের উপর দেশের পুলিশ বাহিনী এ রকম অমানুষিক আক্রমণ করতে পারে? এ কোন অসভ্য দেশের নাগরিক আমরা? এরা আাসলেই পুলিশ না পুলিশের পোশাকে  অন্য কোন ঘাতক বাহিনীর লোক ছিল?

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      পাঠ ও তথ্য দানের জন্য অনেক ধন্যবাদ

  8. 2
    সাদাত

    শাপলা চত্বরে গণহত্যা : আলজাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে তোলপাড় : রাতেই জুরাইনে ১৪ মুসল্লির লাশ দাফন

    কবর ও কবর খননকারী শনাক্ত

    http://www.w2.amardeshonline.com/pages/details/2013/05/16/200276#.UZQn22-DOIU

     

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      তথ্যটির জন্য অনেক ধন্যবাদ

  9. 1
    এম_আহমদ

    যারা জর্জ গালাওয়ের এই ভিডিওটি দেখেননি, তারা এখানে দেখতে পারেন

    rel="nofollow">

     

Leave a Reply

Your email address will not be published.