«

»

Jul ০৩

শেখ মুজিবের পুরো বংশধর ভিনদেশী সাদা চামড়ার প্রতি এতো আসক্ত কেন? ড. তুহিন মালিক

আজকে তৃতীয় মাত্রায় ড. তুহিন মালিকের একটি মন্তব্য দেখলাম, (ইউটিউবে)।. সেখানে এক পর্যায়ে তিনি প্রশ্ন করছেন, 'শেখ মুজিবের পুরো বংশধর ভিনদেশী সাদা চামড়ার প্রতি এতো আসক্ত কেন?' এখানে।

কিন্তু আমি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছি, কেননা বাস্তবতা এখানে অনেক দিক থেকে জটিল। এখানে যে পরিণতি লক্ষ্য করা যায় তা হচ্ছে সেক্যুলার আদর্শের পরিণতি। এখানে গোস্ত হারাম ও শিরা পাক হয় না। পাতিলে যা রান্না করবেন তাই পাবেন। যা রান্না করবেন না, তা পাবেনও না। (এ নিয়ে কিছু বিচ্চিন্ন আলোচনা গতকাল মহিভায়ের ব্লগে আলোচনা করেছি লিঙ্ক এখানে।)

উদারতাবাদ, প্রগতিবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, বৈশ্বিক বিত্তবানের আচার-আচরণ, ধ্যান-ধারণা সব কিছু গ্রহণ করবেন এবং বাচ্চাদেরে সেই ব্যবস্থায় স্কুলিং করাবেন, তারপর বাচ্চাদের কাছ থেকে আপনি কী ভিন্ন কিছু প্রত্যাশা করতে পারেন? এই বিশ্বে যে আদর্শিক দ্বন্দ্ব চলছে, আপনাকে দেখতে হবে আপনি সেই দ্বন্দ্বের কোন পার্শে। আপনার নিজের যৌবন কাটাবেন হেলায়-মেলায়, অধিকাংশ সময় কাটাবেন টাকা ও রাজনীতির ধান্ধায় আর অবসরে ডুবে থাকবেন নানান মৌজে, ইত্যবসরে ছেলে-মেয়েরা বড় হয়ে যাবে আর আপনি তখন এসে পড়বেন প্রৌঢ়ে। সময় অত্যন্ত কম।

উদারতাবাদ, প্রগতিবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ইত্যাদি নিয়ে গঠিত আদর্শের প্যাকেজে এবং এই মূল্যবোধের জীবন ব্যবস্থায় আপনার বাচ্চারা হিন্দু, খৃষ্টীয়ান, বৌদ্ধ, দেশি, বিদেশি কাউকে বিয়ে করার বিপক্ষে বলার কিছু নেই। সে গে অথবা লেসবিয়ান হওয়াতে বলার কিছু নেই। এগুলো সেই প্যাকেজের অংশ। আপনি হুজুগে কোন আদর্শ গ্রহণ করেছেন, সে আদর্শের ঐতিহাসিকতা কী, কীভাবে এগুলোর উত্থান হয়েছে, সেইসব জ্ঞান ও যুক্তির অনুপস্থিতিতিই আপনি তা ধারণ করেছেন এবং তাই এখন আপনাকে ও আপনার সমাজকে এই স্টেশনে এনে হাজির করেছে। আজ অতীতের দিকে তাকিয়ে, বাচ্চাদেরকে হারিয়ে, মনে সামান্য ব্যথা-বেদনা অনুভব করলেও এক গেলাস মদের সাথে তা কোনো রকমে গিলে ঘুমিয়ে পড়বেন এবং সকাল বেলায় হাত মুখ ধোয়ে স্যুট-কোট মেরে মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই একই আদর্শের গুণগান করবেন। আপনি নিজে পথভ্রষ্ট হয়েছেন এবং নিজেদের আদর্শিক গায়ের জোরে আইন করে, শিক্ষা ব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অন্যদেরকেও বিপথগামী করছেন। আপনাদের আদর্শের মোকাবেলায় ইসলাম হচ্ছে alien আদর্শ, বিদেশি আদর্শ, মধ্যযুগীয় আদর্শ। আলেম ওলামাগণ তাদের নিজের পরিবার ও সন্তান-সন্তিনীদেরকে বাঁচাতে গিয়ে কোন প্রস্তাব উত্থাপন করলে আপনারা বলবেন, এই প্রস্তাব জাতিকে মধ্যযুগে নিয়ে যাবে! তেড়িবেড়ি করলে মারধর করবেন। আপনাদের আদর্শে একদল মস্তিষ্কশুন্য রেন্টু-শ্রেণী সৃষ্টি করেছেন। তাদের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে মধ্যযুগে যাওয়া থেকে আটকিয়ে রাখছেন। কিন্তু কই, আপনাদের বর্বরতার সামনে মধ্যযুগও লজ্জিত। বড় বড় কথা বলছেন আর তলিয়ে যাচ্ছেন।

বাঙালীয়ানার নামে ১১৩ ধরণের পূজা-পার্বণের সংস্কৃতি তৈরি করেছেন কিন্তু তবুও আপনাদের বাচ্চারা বাঙালী/অবাঙালীর distinction হারাচ্ছে। ‘বাঙালীত্বে’ বাঙালীত্ব ধারণ-ক্ষমতা ততটুকু নেই যতটুকু ইসলামের মাধ্যমে সেই ধারণ-ক্ষমতা আসে। ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপালনে রক্ষণশীলতার যে ধাচ তৈরি হয়, সেটা পূজা-পার্বণে আসে না: পান্তা-ইলিশে আসে না, বৈশাখী পার্বণে আসেনা, বেদিতে অর্ঘ্য দানে আসে না। যারা ইসলামকে দেশে বিদেশে ধারণ করেছেন তারা নিজ নিজ দেশের সংস্কৃতিকেও অধিক ধারণ করে আছেন। এটা একটু চোখ আটালেই দেখতে পাওয়া যাবে। এই গত ৩/৪ দশক ব্যাপী যাদেরকে বাঙালীপনার নামে পূজা-পার্বণ করতে দেখেছি তাদের সন্তান-সন্তিনীদেরকে ধর্মীয় সমাজের মত ধরে রাখতে দেখিনি।

কিন্তু তবুও বলব, আজ কথা কেবল হাসিনার পরিবার নিয়ে নয়। এটা এক সামাজিক পরিণতি। আজকে বিচ্ছিন্নভাবে কথা বলে লাভ নেই। বাস্তবতা বুঝতে হবে এবং সমাজ পরিবর্তনে, আদর্শ পরিবর্তনে এগিয়ে আসতে হবে। আজকের পরিকল্পনা হতে হবে নিকট ও দূর ভবিষ্যতকে সামনে রেখে যাতে পরিবর্তনের সূত্রপাত হয় এবং বৃদ্ধি পায়।

উদারতাবাদ, প্রগতিবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ইত্যাদির মোকাবেলালায় ইসলামী আদর্শ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সামনে আসতে হবে। এ কাজে কিছুটা হলেও ঐক্যের প্রয়োজন। কিন্তু প্রচলিত আদর্শের দোসররা সহজে মুসলমানদেরকে এক হতে দেবে না। হেফাজতি, জামাতি, খেলাফতি ইত্যাদির মধ্যকার পদ্ধতিগত পার্থক্যকে মিডিয়ার মাধ্যমে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দ্বন্দ্ব বাধিয়ে, জিন্দা রাখতেই চাইবে। বাংলাদেশের মুসলমানগণ ও অন্যান্য ধর্মের লোকজনকেও নিজেদের শিক্ষা সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাদেরকে আধুনিকতা-দর্শনের (of modernist philosophy) উদারতাবাদ, প্রগতিবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। না হলে কেউই বাঁচবে না। একটি ঐতিহাসিক বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় সবাইকে আত্মাহুতি দিতে হবে।

৫ comments

Skip to comment form

  1. 2
    সুজন সালেহীন

    ইসলামে ঈমান খুবই চর্চার বিষয়। নিয়মিত পরিচর্যা না থাকলে ঈমানদারগণ নানা রকম প্ররোচণায় (মানব ও জিন থেকে) পড়ে। তখন ইসলামের বিধি-বিধানকে কষ্টকর, কঠিন ও অমূলক মনে হবে (আল্লাহ সবাইকে রক্ষা করুন) I ঈমানদারগণের মাঝে আত্মহত্যা, অবাধ আন্তধর্ম বিবাহ ইত্যাদির প্রচলন কিংবা ইসলামের বিধি-বিধানের বিরোধিতা করা ঈমানহীন নীল হয়ে যাওয়ার লক্ষণ।

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      ভাই সালাম। হ্যাঁ, ইমানের ব্যাপারে সুন্দর কথা বলেছেন। আজকে মুসলিম বিশ্বে এক জাগরণি বন্যা শুরু হয়েছে। কিন্তু তাদের দেশগুলোতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো যে ধ্যান-ধারণা ও দর্শনের উপর ভিত্তি করে সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করেছে এবং এই ব্যবস্থার উপর কালের ধারায় এক বিরাট নারিকেল শ্রেণী (ভিতর সাদা, বাহির বাহির বাদামি) তৈরি করেছে। সাম্রাজ্যবাদীরা এক সময় সরে আসলেও তাদের replacement এখন কাজ করে যাচ্ছে। আজ পরিবর্তন একদিনে আসবে না। অনেক দিন লাগবে। তারা তাদের শক্তি, অর্থাৎ রাষ্ট্রযন্ত্র কখনো হাত ছাড়া করতে দেবে না। গণতন্ত্রের কথা বলবে ঠিকই কিন্তু ইসলামী দল ময়দানে আসলে তাদেরকে সন্ত্রাসী বলবে, মার-ঢালবে, মিথ্যাচার করবে। এই সত্যই মাশরিক থেকে মাগরিব পর্যন্ত। তবে দিন যতই যাচ্ছে তাদের নিজেদের সন্ত্রাস, কুযুক্তি, মিথ্যাচার ও মুনাফিকি মানুষ ততই বুঝতে পারছে। সুতরাং এখানেই আশার আলো জ্বলছে।

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।   

      1. 2.1.1
        আহমেদ শরীফ

        মোটামুটি আল্লাহপাকের তরফ থেকে সারা বিশ্বে এক মহা 'শুদ্ধি অভিযান' শুরু হয়েছে বলা যায়। বিপদ-আপদ-দুঃখ-শোক-ভয়ভীতি-অভাব দিয়ে আল্লাহপাক পরীক্ষা নেবেন। যারা 'ঈমানওয়ালা' 'মু'মিন' তারা আল্লাহর মেহেরবানিতে টিকে যাবে আর যারা সুবিধাবাদি কাপুরুষ তারা মুসলিম সমাজে রঙ লুকিয়ে চিপাচাপায় নিরাপদে আর বেশিদিন আর থাকতে পারবে না, স্ক্রুটিনিতে ঝরে যাবে।

  2. 1
    মুনিম সিদ্দিকী

    রোপণ করবেন আমড়া ফল পাবেন কি কমলা? ঠিক বলেছেন ভাই। তবে নিজের জীবনের বাস্তবতা দিয়ে বুঝতে পারি আমরা বাংলাদেশীরা এক গভীর ষড়যন্ত্রময় শিক্ষা ব্যবস্থার ফাঁদে আটকে গেছি। জীবন আমাদের জটিল হয়ে গেছে। আমাদের ছোটবেলায় আমরা যখন শিশু তখন আমাদের দৈনন্দিন কাছ ছিল, ভোরে উঠে মক্তবে যাওয়া, ঘরে ফিরে নাস্তা করে স্কুলে যাওয়া, স্কুল থেকে বিকালে ঘরে ফিরে খাওয়া দাওয়া করে খেলতে বা বেড়াতে বাইরে যাওয়া। মগরিবের আজানের সাথে সাথে ঘরে এসে হাত মুখ ধুয়ে বড়রা নামাজ পড়ার পর ছোটদেরকে নিয়ে শুরু হত সুর করে উচ্চকণ্ঠে দোয়া কলেমা জিকির করা। এর পর স্কুলের পড়া তৈরি করা। এশার পর রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া। প্রতিবেশী হিন্দু সমাজেও সেই একই চিত্র ছিল। তারাও সন্ধ্যার সাথে সাথে উলুধ্বনি দিয়ে বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে পূজা অর্চনা আর করতাল মন্দিরা কাসের ঘন্ট বাজিয়ে হরে কৃষ্ণ হরে হরে জপে যেত। সন্ধ্যার সময় মনে হত জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাই আল্লাহর নাম নিয়ে বিভুর।

    আর আজ?

    সকালে বাচ্চাদেরকে জোর করে ডেকে তোলে স্কুলে পাঠাতে হয়। বাচ্চারা তাদের পিঠে একগাদা বই বহন করে নিয়ে যায় স্কুলে। আর স্কুল থেকে ফিরে এসে টিভি বা পিসি গেমে বসে পড়ে। বিকালে বা সন্ধ্যায় হোম টিউটর এলে ঘন্টাখানেক স্কুলের পড়া তৈরিতে ব্যয় হয়। এর পর আবার হিন্দি সিরিয়াল বা পিসি গেমে মেতে থাকে। পরিবেশ নেই পরিস্থিতি এমন অনিরাপদ যে বাচ্চারা বাইরে বেড়াবার খেলবার সে সুযোগ পাওয়া যায়না। ফার্মের মোরগের মত বাচ্চারা বড় হয়ে উঠছে, তাদের সিলেবাসে এত বই রাখা হয়েছে যে, সে গুলো পড়ে বাচ্চাদের আর সময় থাকেনা ধর্মীয় বই পড়ার বা শিক্ষার।

    আমি নিজেই নিজের কাছে অপরাধী হয়ে যাচ্ছি বাচ্চাদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা যে ভাবে আমার বাবা আমাকে দিয়েছিলেন সে ভাবে আমি পরিবেশ পরিস্থিতির জন্য দিতে অক্ষম হচ্ছি ।আজকের সময়ে যদি ধর্ম শিক্ষা স্কুলে না দেওয়া হয় তাহলে আমাদের নেক্সট জেনারেশন যে ধর্মের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়বে তা বাস্তব সত্য।

    1. 1.1
      এম_আহমদ

      ভাই, সালাম এবং এই সম্পূরক মন্তব্যটির জন্য অনেক ধন্যবাদ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.