«

»

Nov ২৪

স্বাধীনতা –কিছু হাল্কা বাৎচিত

[Repeat post]

ভূমিকা

আমি স্বাধীন –এই কথাটি কী কোন 'সৃষ্ট-আবেগী' অভিব্যক্তি, না এর কোন বস্তুনিষ্ঠ অর্থ রয়েছে যা সকলের জন্য ন্যায্যভাবে প্রয়োগ হতে পারে? আমরা যদি এই প্রশ্নটি নিয়ে চিন্তা করি তাহলে হয়ত দেখতে পাব যে এর সাথে ধারণাগত অনেক জটিলতা আছে এবং সার্বিকভাবে অনেক রাজনীতি, প্রতারণা ও ধাপ্পাবাজি সংশ্লিষ্ট হয়ে আছে। ক্লাসিক্যাল ও মধ্যযুগে কেউ কারো দাস হয়ে থাকলে সে মালিকের অধিকারভুক্ত ব্যক্তি -এই বাস্তবতার মোকাবেলায় পরাধীন বুঝাতো। এমন ব্যক্তি স্বাধীন হলে তার জীবনের স্বাধীনতা পাওয়া হত, তার বিচরণের স্বাধীনতা পাওয়া হত এবং সার্বিকভাবে তার  পূর্ববর্তী অবস্থা পরবর্তী অবস্থার মোকাবেলায় স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যেত। শাব্দিকভাবে 'পরাধীন' শব্দটি যেহেতু এক ধরণের শৃঙ্খল, আবদ্ধ ও বন্দীদশার তাৎপর্য বহন করে এবং সর্বসাধারণকে যেহেতু মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত করা যেতে পারে, তাই আধুনিক কালের অনেক সামাজিক বিপ্লবে এই রূপকতাকে ব্যবহার করা হয়েছে। মানুষকে আশা-আকাঙ্ক্ষায় উদ্বেলিত করে, তাদের জীবনের বর্তমান অবস্থাকে শৃঙ্খল ও দাসত্ব দেখিয়ে "মুক্তির স্বর্গে" উপনীত করার অবস্থানকে 'স্বাধীনতা' বলে, তাদেরকে বিভ্রান্ত করে, তাদের সাহায্য, সমর্থন, ও তাদের রক্তের মাধ্যমে অনেক পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু সর্বসাধারণ সেই স্বর্গ রাজ্যে প্রবেশ করে নি। শৃঙ্খল বলুন অথবা স্বার্থ বলুন -এটা এক হাত থেকে অন্য হাতে গিয়েছে। তারপর যুগের পর যুগ প্রোপাগান্ডা করে তাদের মগজ ধোলাই করে রাখা হয়েছে। তাই আজকে আপনি যদি নিজেকে স্বাধীন বলেন তবে প্রশ্ন করতে হবে -এই কথাটির প্রকৃত অর্থ কী?  আপনি কোন শ্রেণীতে স্বাধীন? কর্তৃত্বের শ্রেণীতে, না অধীনস্থ শ্রেণীতে? আপনার আগের ও বর্তমান অবস্থার পার্থক্য  কোথায়? আপনি আগে কী করতে পারতেন না, যা এখন পারেন? আপনার পারার সীমা নিয়েও চিন্তা করুন। এই স্বাধীনতার কী কোন মাত্রা বা সীমা-ত্রিসীমা আছে? যদি থাকে, তবে সেই সীমাটি কী, কোথায় এবং  কীসের ভিত্তিতে নির্ধারিত? আমরা যদি স্বাধীনতার ধারণাকে এভাবে প্রশ্ন করি,  তাহলে নতুন কিছু ধারণায় উপনীত হতে পারি যা আগে হয়ত কল্পনা করি নি। চলুন আমরা এই ধারণা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কিছু বিচরণ করি। (ভূমিকার কিছু কথা প্রয়োজনবশত পুনঃ উল্লেখ করে থাকব)।

স্বাধীনতা, ক্ষমতা, আবেগ ও বিভ্রান্তি

চলুন কিছু প্রশ্নের আলোকে অন্যান্য দিক দেখি। এই স্বাধীনতা কী মূলত ব্যক্তির সাথে, না তার সামাজিক অবস্থানের সাথে, না তার রাজনৈতিক অবস্থানের সাথে, না তার ধনাঢ্যতার সাথে জড়িত?  না সবগুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত? বাংলাদেশে আপনার স্বাধীনতা ও হাসিনার স্বাধীনতা কী এক? যদি এক না হয়ে থাকে, তবে আপনার স্বাধীনতা কোথায় আর তার স্বাধীনতা কোথায়?

আরও কিছু প্রশ্ন। আমরা কী স্বাধীনতাকে মাত্রাগতভাবে কারো জন্য বেশি এবং কারও জন্য কম বলে ধারণ করব? যদি করি তবে কার জন্য সর্বনিম্ন মাত্রা হতে পারে? কেন তার জন্য সর্বনিম্ন হবে? আবার, 'স্বাধীনতা' কী এমন কিছু হতে পারে যার মাধ্যমে আপনাকে আমাকে ধোঁকা দিয়ে একদল লোক তাদের ‘উদ্দেশ্য’ হাসিল করতে পারে? ‘স্বাধীনতা’ ‘স্বাধীনতার’ ধোঁয়া তুলে কী একটি বিশেষ শ্রেণী তাদের নিজেরদের স্বার্থে বিপ্লব ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করতে পারে? স্বাধীনতার দিগ্বিদিক কী অনেক রূপের হতে পারে না? যারা স্বাধীনতার আওয়াজ তুলে সমাজকে কব্জা করে নেয়, এবং যখন তাদের নিজেদের 'স্বাধীনতা'র রূপ প্রকট হয়ে দেখা দেয়,  তখন গরীব ও ক্ষমতাহীনের স্বাধীনতার কী হয় যাদের সাহায্যে তারা ‘স্বাধীন’ হয়েছিল, বা স্বাধীনতার আওয়াজ তুলেছিল? (এই কথাগুলোর সাথে সমভাবে আরও কিছু মৌলিক বিষয় আসবে যেমন নাগরিক অধিকার, বিচারের অধিকার, বাক-স্বাধীনতা, মুসলিম, অমুসলিম নির্বিশেষে যা সবাই উপভোগ করতে পারে। যদি তারা তা না করতে পারে, তবে কোন শক্তি তাতে বৈষম্য সৃষ্টি করে বা কোন শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বৈষম্যের বক্তব্য (discriminatory discourse) সৃষ্টি করে মানুষের সার্বিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ধাপ্পাবাজি করে যায়? এদের পক্ষের "চাট্টুকার" কারা হয় এবং তারা কোন ভাষায় কথা বলে?) 

আমি যদি বলি যে ‘স্বাধীনতা’ হচ্ছে বহুলাংশে একটি ধাপ্পাবাজির কথা, তাহলে কেমন শোনাবে? আমাদের বিশ্ব-মানবতা এই শব্দটির ব্যবহার সবদিনই দেখেছে। তবে সপ্তদশ শতাব্দীর পর থেকে এবং বিশেষ করে ফরাসী বিপ্লবীদের হাতে এবং ইউরোপীয় আধুনিকতাবাদীদের হাতে এসে রাজনৈতিক ধাপ্পাবাজিতে পর্যবেশিত হয়েছে। শুধু এই শব্দ নয়। এর সাথে আরও অনেক শব্দের অপব্যবহার হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ অনেকদিন পরে দেখেছে যে স্বাধীনতার নামে তারা পূর্বের ‘স্বাধীনতা’টুকুও বহুলাংশে হারিয়েছে, এবং পরাধীনতার জিঞ্জিরে আবদ্ধ হয়েছে। কিন্তু তখন অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে। নতুন রাজনীতি ও বাস্তবতা থেকে ফিরার পথ নেই। তাই আবার স্বাধীন হওয়ার অন্য আওয়াজ এসেছে এবং দ্বিতীয় তৃতীয় প্রজন্ম সেই স্বাধীনতার পিছনে দৌঁড়ে গিয়ে আবারও তাদের পূর্ব-প্রজন্মের মত অন্য ধরণের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছে এবং এখান থেকে স্বাধীনতা লাভের স্বপ্ন আবার দেখেছে। আর এভাবেই চলছে এক শ্রেণীর ধোঁকার রাজনীতি। (যখন ইউরোপের কথা উল্লেখ করেছি, তখন এই কথাটি সংযোগ না করলে অন্যায় হবে যে তাদের দেশে হাজারও বৈষম্যের পরও মানুষ সহনীয় পর্যায়ের এক ধরণের আপেক্ষিক স্বাধীনতা ভোগ করে, বিচার পায় এবং নাগরিক অধিকার ভোগ করে। কিন্তু কোন গোলাম শ্রেণী যদি প্রভুর চেয়ারে বসে পড়ে, তবে আপনি তাদের কাছ হাতে 'নিগৃহীত' হওয়া ছাড়া কিছুই পাবেন না। এটাই বাংলার এবং অনেকাংশে ভারত উপমহাদেশের রূপ বলা যেতে পারে)।

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব

প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতাসার্বভৌমত্বের সম্পর্কে জড়িত। আর বাদবাকি অনেক স্থানে তা হয় আপেক্ষিক ও সীমিত। যে সত্তা চরম ক্ষমতার অধিকারী, যে আইনের ঊর্ধ্বে, যে নিজেই আইন তৈরি করতে পারে, যা খুশি করতে পারে, কেবল সেই বলতে পারে সে সার্বভৌম এবং স্বাধীন। মূল অর্থে কেবল আল্লাহই সার্বভৌম। কেবল তিনিই চরম ক্ষমতার অধিকারী, তিনি যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। অতি পুরাতন কালে কিছু কিছু সম্রাট ভাবত তারা তাদের দেশের একচ্ছত্র মালিক, রব। আর তা এই অর্থে যে নিজ দেশে যা ইচ্ছে তাই করতে পারত। ফিরাউনের সেই ধরণের সার্বভৌমত্বের ধারণা ছিল। মুসাকে (আ.) ফেরাউন বলেছিল, তোমার ধারণার সার্বভৌম সত্তা কে? সেদিনের ধারণায় তোমার ‘রব’ কে? মূলত মূসাকে (আ.) রাজনৈতিক প্যাচে ফেলার উদ্দেশ্য ছিল এই প্রশ্নে। মুসা (আ.) ঐ প্রাসাদেই বড় হয়েছিলেন, ঐ শাসন ব্যবস্থার বিশ্বাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন। তাই তিনি প্রশ্নের পাশ কাটিয়ে বলেছিলেন, আমাদের রব তিনি, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার (অস্তিত্বগত ও প্রকৃতিজাত) আকৃতি দান করেন, অতঃপর (তাদের উপযোগী) পথপ্রদর্শন করেন। (এখানে আলোচনা একটু থামিয়ে ব্রাকেটে আরেকটি কথা বলি। আজকে মুসলিমদের বিভিন্ন দেশে একটি নব্য ফেরাউন-গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় অঙ্গন থেকে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের বিশ্বাস উঠিয়ে আধুনিকতাবাদী সেক্যুলার বিশ্বাসকে ষোল-কলায় প্রতিষ্ঠিত রাখতে বদ্ধ পরিকর হচ্ছে। তারা জনগণের স্বার্বভৌমত্বের কথা বলে কৌশলে সেই সার্বভৌমত্বকে নিজেদের স্বার্থেই ব্যবহার করে। সংখ্যার দিক দিয়ে তারা অতি স্বল্প হলেও প্রতারণার মাধ্যমে সংখ্যা গরীষ্ঠের উপর তাদের মূল্যবোধ ও আদর্শ চাপায়। আজ খোদায়ী সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির এবং খোদায়ী আইনের সুবিচার যারা চায় তাদেরকে বাহুবলে প্রতিহত করে। এরা ফেরাউনের নব্য ভার্সন যা এক বৈশ্বিক রূপ ধারণ করেছে। ফিরাউনের দৃষ্টিতে সে’ই ছিল জগতের মালিক –সেখানে তার আইন ছাড়া আর কারো আইন স্বীকৃত ছিল না। আল্লাহই মালিক, ‘রব’: পালনকর্তা, প্রতিপালক –এমন বিশ্বাসে ফিরাউন স্বীকৃতি দিতে চায়নি। থাক একথাও)।

অতি ক্ষুদ্র পরিসরের আপেক্ষিক ব্যক্তি স্বাধীনতা

আপনি ও আমি যদি স্বাধীন বলতে হয়, তবে এর প্রেক্ষিত, কারণ ও স্থান পেতে হবে। আপনি যদি  বলেন আপনি সার্বিকভাবে স্বাধীন, তবে এর অর্থ কী হতে পারে? ভাল করে দেখুন। আপনি কী সত্যিকার অর্থে স্বাধীন? আপনার কর্ম, বাক স্বাধীনতা, বিচরণ ও ন্যায়-ন্যায্যতা প্রাপ্তির সকল ক্ষেত্রে নিজেকে একজন স্বাধীন সত্তা হিসেবে অনুভব করে থাকেন? আমার তো খুব একটা মনে হয় না। ইউরোপের ব্যাপারে আরেকটি কথা সংযোগ করা যেতে পারে। অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে আধুনিকতাবাদী আলট্রা-সেক্যুলারিস্ট ও নাস্তিকরা সাধারণ মানুষকে বেকুব বানিয়ে তাদের সাহায্যে আধুনিকতার দর্শন ছড়াতে এই শব্দে আওয়াজ ছড়াচ্ছিল। তাই শব্দটি বেশ প্রচলিত হয়ে পড়েছে। এটা আজও করা হচ্ছে। আর আলট্রা-সেক্যুলারিস্টগণের আরেক সম্প্রদায় পতঙ্গের মত মশালের চতুর্দিকে ফোঁৎ ফোঁৎ করে উড়ে বেড়াচ্ছে।

ব্যক্তি স্বাধীনতার মাত্রা যখন ক্ষমতা সাপেক্ষে আপেক্ষিক এবং স্থানভেদে অতি সীমিত এবং এর ব্যবহার যেহেতু অলংকারিক তখন সাধারণ মানুষ ধাপ্পাবাজদের ব্যাপারে কী করতে পারেন? খুব বেশি কিছু সহজে করতে পারবেন না। কারণ ধাপ্পাবাজরা হিংস্র ও সন্ত্রাসী হয়। তাই আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।

ইসলাম ও ভৌগলীক স্বাধীনতা

ভৌগলিক স্বাধীনতাটি দেখা যাক। ভারতীয় প্রেক্ষিতে ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার মূলে দু’শো বৎসরের ক্ষমতা বিভাজনের চরম ব্যবধানে হিন্দু-প্রভাবিত  বাস্তবতায় ইসলামী ও মুসলিম ঐতিহ্য বিকাশের সম্ভাবনা সামনে রেখে ক্ষমতা শেয়ারিং এর বিষয় নিষ্পত্তি না হলে  এর মোকাবেলায় স্বাধীন রাষ্ট্রের চিন্তা করা হয়েছিল। তখনকার অর্থনৈতিক অবকাঠামো ও পরিসরে হিন্দু প্রতিপত্তি অন্তরায় হয়ে কাজ করছিল।  সেই পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিমদের কাছে স্বাধীনতার অর্থটি ভেসে উঠেছিল। এর অন্য দিকটি ছিল ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হিন্দু প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের ঐতিহ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।  (তবে এখানে ১৯৪৭ সালের সেই উদ্দেশ্যের সফলতা/ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনার অবকাশ নেই)।

উল্লেখিত প্রেক্ষিতে  মুসলিমদের কাছে স্বাধীনতার প্রধান অর্থ ছিল ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত। এই উপাদানটি রাসূলের (সা.) মদিনায় প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে দেখা যায়। মাক্কী পরিবেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিকাশ ঘটানো সম্ভব ছিল না। মদিনাতে গিয়েই সেই স্বাধীনতা অর্থবহ হয়েছিল।

কিন্তু আজ এই স্বাধীনতা যদি অর্থবহ না হয়, তবে আপনি কোন ভূখণ্ডে আছেন, সেটি আসল কথা নয়। বরং এই গোটা বিশ্বই আল্লাহর এবং ফাসাদী আদর্শ ও বিশ্বাসের বাস্তবতায় আপনি কোন্‌খানে ‘পরাধীন’ সে আলোচনা অবান্তর।

আরেকটি কথা। কোন ভূখণ্ড থেকে আলাদা হয়ে যদি মৌলিক কোনো পার্থক্যের রাষ্ট্র না পান, তবে কেন আলাদা হবেন? এর মানিটা কী? ইসলামের উদ্দেশ্য জলাঞ্জলি দিয়ে কোন মুসলিম ভৌগলিক স্বাধীনতার চিন্তা করতে পারে না।

আমরা যদি বিশ্বাসের সাথে আদর্শকে ওতপ্রোতভাবে জড়িত দেখি এবং যদি বলি যে ইসলামের বিশ্বাস ও আদর্শে সেই স্বাধীনতা "অর্থবহ", তবে এটাও স্বীকার করতে হবে যে সেই একই "অর্থ" অন্য আদর্শ ও বিশ্বাসের বেলায়ও "অর্থবহ" হতে পারে। ইউরোপে যখন স্বাধীনতার ব্যাপক প্রচারণা প্রকাশ পায় তখন সেই প্রচারণার মূলে ছিল আধুনিকতাবাদী সেক্যুলার ও নাস্তিক বিশ্বাস রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য। সেই একই উদ্দেশ্য আমরা দেখি ফরাসী বিপ্লবে এবং রুশ বিপ্লবে। সেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা ইত্যাদি ছিল দশ কথার এক কথা, প্রতারণার হাতিয়ার। মূলে ছিল এক শ্রেণীর আদর্শবাদ ও তাদের বিশ্বাস।

কোন একটি স্বাধীন মুসলিম ভূখণ্ড ভেঙ্গে যদি আরেকটি দল আরেক স্বাধীনতার জন্য কাজ শুরু করে তবে তাদের সেই স্বাধীনতার কী 'অর্থ’ হতে পারে? তারা কী কোনো বিশ্বাস ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সেই লক্ষ্যে সেই স্বাধীনতা চেয়ে থাকতে পারে? অবশ্যই। কিন্তু সেই লক্ষ্য যদি ইসলামী বিশ্বাস ও আদর্শ না হয়ে অন্য কিছু হয়ে থাকে তবে মুসলিম জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, ঐতিহ্য ও আদর্শের কী হতে পারে? মুসলিমদের জন্য সেই স্বাধীনতা কোন অর্থ বহন করবে? আল্লাহ কী ধর্ম-নিরপেক্ষতা, পৌত্তলিকতা, সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য কোন নবী পাঠিয়েছিলেন? 'সুতরাং হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিবর্গ, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর' (৫৯:২)।

স্বাধীনতা -একটি হাতিয়ার, তবে কার?

আজকে দেখতে ভুল হবে না যে ‘স্বাধীনতা’ হচ্ছে এক শ্রেণীর লোকের বিশ্বাস ও আদর্শ প্রচারের উপযোগী একটি হাতিয়ার। যে শ্রেণীটি তাদের আদর্শ ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে ‘তাদের সামষ্টিক’ স্বাধীনতা অর্জন করে, তাদের বিশ্বাস ও আদর্শে ধর্ম, বিশেষ করে, ইসলাম হবে নির্বাসন বা উড়িয়ে দেবার বস্তু। (বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি শ্রেণীতে এই ধারণাও বদ্ধমূল যে মুসলমানগণ বিজাতি,  এই বিজাতির শিক্ষা-সংস্কৃতি ব্যতীত বাকি সবকিছুই বাংলাদেশের এবং ভারতের মূল ঐতিহ্য)। মূসা (আ.) এর সময় ফেরাউন যেভাবে আল্লাহর রবুবিয়াত ও সার্বভৌমত্বকে মানতে রাজি হয়নি এরাও তা মানতে রাজি নয়। ‘স্বাধীনতা’ যা বুঝায় তা তাদেরই দৃষ্টির স্বাধীনতা, তাদেরই ব্যাখ্যায় সজ্জিত।

আধুনিক যুগ থেকে  (অর্থাৎ ১৭ম শতাব্দীর পরবর্তি থেকে) যে স্বাধীনতার আওয়াজ চলছে তা প্রকারান্তে এক শ্রেণীর নতুন বিশ্বাস ও আদর্শ রূপায়নের হাতিয়ার। এই শ্রেণীর লোক তাদের বিপরীত আদর্শের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ প্রতিহত করতে ৩০০ বছরের এই পুরানো ধারণার অলংকারিক ভাষিক ব্যবহারকে কৌশল হিসেবে অবলম্বন করছে। তারা আল্লাহর সার্বভৌমত্বের কথা বললে রাষ্ট্র-দ্রোহিতার ভয় দেখাবে। আজ এমন দেশের নাগরিক যদি বলে যে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন করতে হবে –তবে সেটিকে তারা রাষ্ট্রদ্রোহ বলে উল্লেখ করবে। তাদেরকে ট্রেনে চড়ে অন্য দেশে নির্বাসনের কথা বলবে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এ দেশের শাসনতন্ত্র আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করবে, বিশ্বাসের ঘোষণা দেবে –এমন কথা বলার ‘স্বাধীনতা’ কী কারও থাকবে না? দেশের সর্বসাধারণ 'স্বাধীনতা' নামক বস্তুটির সাথে কোন মাত্রায় সম্পর্কিত হবে? আমি আর আপনি কতটুকু স্বাধীন তা কী আমাদেরকে অন্য কোন পক্ষ বা তাদের এজেন্টরা বুঝিয়ে দিতে হবে?

১৯ comments

Skip to comment form

  1. 16
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @আহমেদ ভাই,
    ওয়ালাইকুমুস সালাম।
    জিন্নাহ ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এখন জানলাম। তাহলে তো আমার এই রকম মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। মৃত্যু যখন কারো দরজায় কড়া নাড়ে, তখন যে কারো ক্ষমতার লোভ না থাকাই স্বাভাবিক। আমি যা বলেছি, তা আমার শুনা কথা। বই পড়ে জানা হয়নি। আমার জ্ঞান কম রাজনীতি ও অতীত ইতিহাস নিয়ে। ৪৭-র উপর এবং নেহেরু-জিন্নাহর উপর আপনার যদি কোন লিখা থাকে, তাহলে অনুরোধ করি লিংকের জন্য।

    ভাই, রাজনীতি নিয়ে আমি জীবনে কখনো আগ্রহী ছিলাম না, আর কখনো ভাবিনি জীবনে এই বিষয়ে কথা বলব। মিথ্যা, প্রতারণা, বেঈমানী… এই দেশের সমাজ ব্যবস্থার অনু-পরমানুতে মিশে গেছে। কোন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে বসবাস করা কঠিন হয়ে পরেছে বিধায় দুই-চারটি কথা বলি। যারা দেশকে নিয়ন্ত্রণ করছেন, মূলত তারাই এর জন্য দায়ী।

    বুঝা গেল, আপনারা রানীর অধিনে আছেন, তাই আপনারা গনতন্ত্রের সাথে প্রজাও। কিন্তু আমরা প্রজা কেন? আমাদের রাজা-রানী কে? “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ”… এমনটা হল কেন? কি উদ্দেশ্যে “প্রজা” কথাটা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে? মুল কারনটা কি?
    — কোন ভায়ের উত্তর জানা থাকলে, জানানোর জন্য অনুরোধ করি।

    আহমেদ ভাই, আপনার সুস্থতা কামনা করি। অনেক ধন্যবাদ।

  2. 15
    এম_আহমদ

    @মোঃ তাজুল ইসলাম: ভাই সালাম। আপনার কিছু কথা জটিল ও দীর্ঘ মাত্রার। তবে চেষ্টা করে দেখব বলা যায় কিনা।

    [১] প্রথমে বলব যে আপনার মায়ের উপদেশ মত চলবেন। আপনি নিজেই যখন বুঝতে পারছেন আপনি স্বাধীন নন, তখন যারা আপনার স্বাধীনতা কন্ট্রোল করছে তারা চরমভাবে রূষ্ট হতে পারে এমন কিছু করতে না যাওয়াই ভাল। কোথাও অযথা বীরত্ব দেখিয়ে বিপদ ডেকে আনার প্রয়োজন নেই।

    [২] ১৯৪৭ নিয়ে আলোচনা জটিল। ভারতের অখণ্ডতা নেহেরুদের কারণে ব্যর্থ হলে আলাদা পাকিস্তানের আন্দোলন যখন শুরু হয়, তখন জিন্নাহ ক্যান্সার রুগী। তার ডাক্তারকে তিনি এই তথ্য বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে গোপন রাখতে অনুরুধ করেন। তখন মাউন্ট ব্যাটন ও নেহেরুরা এই খবর জানতে পারলে এটিই আলোচ্য বিষয় হয়ে পড়ত এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সার্থক হত কীনা সন্দেহ। জিন্নাহ একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন আইনবিদ ও রাজনীতিবিদ ছিলেন তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। এবং এই ব্যক্তি যিনি নিজের খরচে রাজনীতি করেছেন এবং যার মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার বিষয় অগ্রিমভাবে জেনেছেন তিনি ক্ষমতা লোভের বশবর্তী হয়ে এই কঠোর মুহুর্ত্তে দেশ ও জাতি নিয়ে খেলা করবেন -এটা চিন্তার বাইরে। তারপর রাজনৈতিক কাজ কোনো একক ব্যক্তির মাধ্যমে হয় না। এটা জিন্নার একান্ত প্রচেষ্টার ছিল না। বরং তৎকালীন রাজনীতিতে জড়িত সাঙ্গপাঙ্গদের সামষ্ঠিক চিন্তা-চেতনায় ছিল। সেদিন কেন অখণ্ডের আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল –এই বিষয়টি বুঝা জরুরি। এর সাথে ইতিহাস ঐতিহ্য জড়িত। তারপর আলাদা হলে কী হতে পারত আর আলাদা না হলে কী হতে পারত না –এমন পক্ষ/বিপক্ষের আলোচনা ভিন্ন। পাকিস্তানের তার উদ্দেশ্যে অনেক ব্যর্থতা দেখালেও মানুষ অন্য স্বপ্নে পাকিস্তানকে দেখেছিল। এই বিষয়টি আলাদা থাক। তবে ‘দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ আলাদা হওয়া ভুল ছিল’ এটা নব প্রজন্ম যত বেশি সংখ্যায় মেনে নেমে নেবে, এই “ভুলটি” শুদ্ধ করার পথও ততই প্রশস্ত হবে। একটি জাতি ভুল নিয়ে বেশি কাল থাকতে পারে না। এই দেশ এখন আপনাদের। আমরা বাইরে থেকে যা বলি তা কথার কথা মাত্র। আপনি বিষয়টি সহজ করেছেন এই বলে যে আপনার পড়াশুনা টেকনিক্যাল লাইনে। এবং দেখতেই পাচ্ছেন যে বিষয়টি সমাজ বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস ও ধর্মতত্ত্বের সন্ধিক্ষণে স্থাপিত। এসব কেউ কাউকে মন্তব্যের মাধ্যমে বুঝাতে পারবে না। আপনাকে ধীরে ধীরে অনেক বছর অধ্যয়ন করে বুঝে নিতে হবে। এখানে অতি গভীরের প্রশ্ন মূলত একান্তভাবে একজাতি বা দ্বিজাতিতে সীমিত নয়। এর সাথে ছিল ইতিহাস, আদর্শ ও আপন ঐতিহ্যগত চিন্তা। আপনি মাদ্রাজে যা দেখেছেন সেটা জাতি সত্তা বিষয়ক কিছু নয়। মাদ্রাজ থেকে আমরা ইংল্যান্ডে ভাল অবস্থানে আছি। আপনার স্বাধীনতার বিষয়টি আগে উল্লেখ করেছেন। এবারে এই ভারতি  ব্যক্তির স্বাধীনতা ও অধিকার দেখুন। সবকিছুতে জটিলতা আছে।

    আপনি যদি ইসলামকে আইনি, শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থা থেকে আলাদা করে দেখেন তবে এটি একটি ভিন্ন ইসলাম হবে, এ নিয়ে আমার অনেক লেখা সদালাপে রয়েছে, অতিরিক্ত বলার কিছু নেই। তবে ব্যক্তি-ইসলাম আলোচনার কোন বিষয়ই নয়। যেকোনো অভিজিতের হাতে দেশ পরিচালিত হলেও সে কুঁড়েঘরের পীরকে এবং মাজারপূজারীকে ধর্মকর্ম করতে বাধা দেবে বলে মনে হয় না। এই বিষয়গুলোও সমাজবিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব ও ধর্মদর্শনের অংশ। এগুলোও আপনাকে অনেক অধ্যয়ন করে বুঝে নিতে হবে। আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে দলীয় চিন্তায় প্রভাবিত হয়ে থাকি (দল বলতে যে সমাজ শ্রেণীতে জন্ম ও লালিত হই –সেটিও এই ধারণার অংশ)। কিন্তু কোন ব্যক্তি যদি জ্ঞান অর্জন করতে চায় তবে এক পর্যায়ে তার দলীয় চিন্তা সনাক্ত করতে হবে এবং বস্তুনিষ্ঠ চিন্তায় কিছুকাল কাটাতে হবে। আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যের মধ্যে এই বিষয়টি থাকতে হবে।

    [৩] আপনার প্রশ্নদ্বয়ের দ্বিতীয়টির সাথে একমত। প্রথমটি হচ্ছে “গণ+প্রজা+তন্ত্র”। শব্দটির ইংরেজি করা হয় People’s Republic হিসেবে। কিন্তু এই ‘people’ রাজতন্ত্র না হলে প্রজা হয় কেমনে? আমরা ব্রিটেনে গণতান্ত্রিক হলেও রাণীর প্রজা। ব্রিটেনের কোন কন্সটিটিউশন নেই। কিন্তু ধারণাগতভাবে আমরা গণপ্রজাতান্ত্রিক। বাংলাদেশের সংবিধান যদি দেশের জনগণকে সার্বভৌম মনে করে এবং সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে যদি তা পরিচালিত হয় তবে এই জনগোষ্ঠীকে (people) প্রজা বলা যায় না। এটা democratic republic হতে পারত বা আরও অনেক কিছু হতে পারত। এখানে বানিয়ে বানিয়ে কিছু উত্তর বের করা যেতে পারে কিন্তু তা হবে সৃষ্টিশৈলী ব্যাখ্যার বিকাশ। তবে etymologically প্রজা শব্দকে যদি রাজকীয় ধারণার ঊর্ধ্ব থেকে পাওয়া হয়ে গিয়ে থাকে –তবে এ বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান নেই। এই দুনিয়ার কতকিছু আছে আমরা জানি না। দেখুন কানাডা (Canada) এখনও টেকনিক্যালি ব্রিটেনের রাণীর সার্বভৌমত্বে!

    অবশেষে, দোয়া করি ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। ওয়াস সালাম।

     

     

  3. 14
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আহমেদ ভাই,
    অনেক সুন্দর করে লিখেছেন। “স্বাধীনতা”-র মূল অর্থটা লিখায় ফুটিয়ে তুলেছেন। আপনার সবগুলো কথার সাথে একমত।

    ## ‘স্বাধীনতা’ কী এমন কিছু হতে পারে যার মাধ্যমে আপনাকে আমাকে ধোঁকা দিয়ে একদল লোক তাদের ‘উদ্দেশ্য’ হাসিল করতে পারে? ‘স্বাধীনতা’ ‘স্বাধীনতার’ ধোঁয়া তুলে কী একটি বিশেষ শ্রেণী তাদের নিজেরদের স্বার্থে বিপ্লব ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করতে পারে?
    >> অবশ্যই। উদাহারন তো সবার চোখের সামনেই। আমরাও জানি, কি প্রচার হয় আর ভিতরে কি ছিল? আর পরবর্তী সময়ে তা সমাজ জীবন ও ব্যক্তি জীবন চিত্র সহকারে প্রমান করে প্রকৃতিই সকলের কাছে তুলে ধরেছেন।

    ## আপনি কী সত্যিকার অর্থে স্বাধীন? আপনার কর্ম, বাক স্বাধীনতা, বিচরণ ও ন্যায়-ন্যায্যতা প্রাপ্তির সকল ক্ষেত্রে নিজেকে একজন স্বাধীন সত্তা হিসেবে অনুভব করে থাকেন?
    >> না, আমি(আমি মানে দেশের সাধারণ জনগণ) কোনভাবেই স্বাধীন নই।
    দেশপিতা, দেশঘোষক এবং তাদের কন্যা/বিবিদের নিয়ে এই সদালপে ও অন্য ব্লগে কয়েকটি লিখা দিয়েছিলাম, লিখাগুলো আমার মা জেনে যাওয়ার সাথে সাথে আমায় মুছে ফেলতে বাধ্য করে। আমার মা আমায় বলেন, এই সব লিখার জন্য এলাকার সংসদ সদস্যের লোকেরা আমায় উঠিয়ে নিয়ে যাবে। আমার মা পল্লবী স্কুলের শিক্ষিকা (রিটায়ার্ড)। উনার এই রকম বহু অভিজ্ঞতা আছে বিধায় তিনি আমায় সাবধান করেন এবং ভবিষ্যতে আর যেন না লিখি। কিছুদিন দেশের বাহিরে ছিলাম, ঐখানে থেকে লিখেছিলাম।
    আমার খুব ইচ্ছা হয়, আমি শয়তানগুলার সকল কুকর্ম, কুমতলব প্রকাশ করি কিন্তু আমি আমার নিজের জীবন নিয়ে যতটুকু চিন্তিত তার চেয়ে বেশী চিন্তিত আমার পরিবার নিয়ে।

    ১৯৪৭ সালের বিভাজন সম্পর্কে আমার স্পষ্ট ধারনা নেই, জানা নেই। তবে বলি, জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের ছিল ভুল। দ্বি-জাতি তত্বের মূল কারন ছিল, ক্ষমতা বিভাজন, দেশ ভাগ। নেহেরু, জিন্নাহ ক্ষমতালোভী না হলে এই বিভাজন হত না। বিশাল ভুখন্ড থেকে হিন্দু-মুসলমান আলাদা করা বেকুবী চিন্তা ছাড়া আর কিছু ছিল না। ইংরেজরাই জিন্নার মাথায় এই দ্বি-জাতির চিন্তা ঢুকায়। ভারতে এখন ১৭ কোটি মুসলিম। আমি মাদ্রাজ ইউনিভার্সিটিতে পড়েছি। ছিলাম ৪ বছর। দেখেছি — হায়াদ্রাবাদ, ব্যাংলোর, মাদ্রাজের মুসলিমরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালভাবে এবং শান্তিপূর্ন জীবন নির্বাহ করছে।

    আপনার কাছে ২-টি বিষয় জানতে চাইঃ
    পড়াশুনা করেছি টেকনিক্যাল লাইনে। তাই জ্ঞ্যান কম।

    ১। ‘গনপ্রজাতনত্ত্রী’ কথাটার মানে কি? ‘প্রজা’ দিয়ে কি বুঝাতে চায়? কারা প্রজা? প্রজার সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক কি এবং কেন? প্রজা যদি জনগণ হয় তাহলে গণতন্ত্রের মুল্য কি থাকে?
    ২। দেশ প্রধান, মন্ত্রীদের এইরকম আলীশান জীবনের সিকিউরিটির ব্যবস্থা এবং নিয়ম কে করেছে? দেশ প্রধান যখন যাতায়ত করে, পুরা শহরকে স্তব্দ(বন্ধ) করে ফেলে। এটা কি গনতন্ত্রের ভিতরে পরে? তাদের এই ” সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ” আর “সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ” ২-টি পুরোপুরি সাংঘর্ষিক নয় কি?

    ধন্যবাদ।

  4. 13
    এম_আহমদ

    @সদালাপ কর্তৃপক্ষ:
    আমান সাহেব, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, আলহামদুলিল্লাহ। ভাল থাকবেন -ওয়াস সালাম।

  5. 12
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    ওয়াসসালাম। কারণ পেয়েছি। বেশ পুরানো লেখা হলে কমেন্ট অটোমেটিক্যালি তালা-বদ্ধ হয়ে পড়ছিল। সেটি রিসল্ভ করা হয়েছে। সকল আর্টিকেল, সকল সময় মন্তব্যের জন্য উন্মুক্ত থাকছে। ধন্যবাদ।

  6. 11
    সত্য সন্ধানী

    @এম ইউ আমান:
    ভাই সালাম, এমন আরো অনেক পোষ্ট আছে যেগুলোতে মন্তব্য তালা মারা। আসলে পুরাতন প্রায় সব পোষ্ট ( আমি যে কটা চেক করেছি) তালা মারা। প্রথমে অবাক হয়েছিলাম, ভেবেছিলান যে হয় লেখক রা অথবা সদালাপ ব্লগ থেকেই এই কাজ করা হয়েছে।
    আজ আহমদ ভাইয়ের মন্তব্যে বুঝলাম যে ব্যাপার তা নয়।
    এগুলি তাহলে হয়ত টেকনিক্যাল সমস্যা, কাইন্ডলী চেক করে দেখবেন। ধনবাদ।

  7. 10
    এম_আহমদ
  8. 9
    এম_আহমদ

    @এম ইউ আমান: আমান সাহেব প্রথমে সালাম ও ধন্যবাদ। এই ব্লগটি এবং আরও ব্লগ আজ বিকেল পর্যন্ত তালা অবস্থায় দেখলাম। এখন্ কেন যেন দেখছি অমনিতেই খোলে গেছে! আশ্চর্য। তবে এই ব্লগটি দেখতে পারেন। আমি রান্ডমলি কিছু চেক করলাম।   আবারও ধন্যবাদ।

  9. 8
    এম ইউ আমান

    এখানে এই পোষ্টে সাধারণ ইউজার হিসাবে কমেন্ট করতে পারছি। অথার হিসেবে আপনার প্রিসিডেন্স রয়েছে এবং আপনি সকল সময় কমেন্ট করতে পারার কথা। কাইন্ডলি একটি পোষ্টের লিঙ্ক দিন যেখানে কমেন্ট করা যাচ্ছে না। সেখান থেকে দেখছি। র‍্যান্ডমলি আপনার কয়েকটি পোষ্ট চেক করে দেখেছি সেখানে ‘allow comment’ বক্স এনাবল করা আছে, ফলে কমেন্ট সেকশনে তালা লাগা উচিত নয়। এনিওয়ে, লক্ষ্য থাকছে। কোন সমস্যা হলেও ইনশাল্লাহ ফিক্স করা যাবে। ধন্যবাদ।

  10. 7
    এম_আহমদ

    সম্পাদক সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমার অনেক লেখায় এখন “Comments have been disabled” ট্যাগ দেখাচ্ছে। অর্থাৎ কেউ আর কমেন্ট করতে পারবেন না -তালা লেগে গেছে। আমি কখনো কমেন্ট ডিসেবল করি নি। কী কারণে হল জানি না। এখন এই যে কমেন্টটি করছি তা এডিট অপশনে Add Comment এ গিয়ে করতে হয়েছে। এক জাগায় ‘ Allow comments' বক্স দেখলাম, কিন্তু সেটা এনাবল থাকা সত্ত্বেও কমেন্ট সেকশন বন্ধ। মেহেরবানী করে একটু দেখবেন এবং কিভাবে এটা resolve করা হয় তা বলে দিলে আমি নিজেই বাকিগুলো করে নেব। অগ্রিম ধন্যবাদ।

  11. 6
    এম_আহমদ

    বাংলাদেশের মুসলমান, অমুসলমান কি সমভাবে স্বাধীন? রাষ্ট্রীয় কলকব্জায় তারা সবাই কি সমান? নাগরিক দৃষ্টিতে সবার জীবনের মূল্য কি সমান, না সেখানে গগনচুম্বী বৈষম্য বিরাজিত?

    আজকে এই লেখাটির কথা মনে হল এবং সাথে এটির কথাও

  12. 5
    আহমেদ শরীফ

    স্বাধীনতার সংজ্ঞা ও গতিপ্রকৃতি ইতিহাসের কালক্রমিক ঘটনাচক্রে ধারাবাহিকভাবে বিবর্তিত হতে থাকে, সর্বযুগে স্বাধীনতার প্রকৃতি-প্রয়োগ-অর্জন একরকম নয়। '৪৭ এর পরিস্থিতি অনুযায়ী সাম্প্রদায়িক স্বার্থরক্ষার্থে ধর্মতাত্ত্বিক অবয়বের ভিত্তিতে দেশবিভাগ তথা স্বতন্ত্র ধর্মতাত্ত্বিক জাতিগত অস্তিত্বলাভের অনুভূতি একরকম _ স্লোগান ছিল "লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান"। '৫২ তে বিজাতীয় ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেয়ার ভাষাতাত্বিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে জোরালো সাংষ্কৃতিক প্রতিরোধ আবেগী ব্যঞ্জনায় মূর্ত হয়ে ওঠে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। আবার '৭১ এ গিয়ে স্বাধীনতার সংজ্ঞা অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে নৃতাত্ত্বিক-রাজনৈতিক অবয়বে নতুন মেরুকরণকে অনিবার্য করে তোলে _ অবধারিতভাবে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে নতুন পরিচয়ের উম্মেষ ঘটে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে।

    এরপর ২০১৩ তে এসে সেই ৪২ বছরের পুরনো মুক্তিযুদ্ধকে বিষাক্ত ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদি রাসায়নিক মিশিয়ে দেশীয় তাঁবেদার শ্রেণীর যোগসাজশে হীন রাজনৈতিক-কূটনৈতিক স্বার্থে শাহবাগের কুখ্যাত গণজাগরণ মঞ্চের মাধ্যমে বাংলাদেশে কৃত্রিম উপায়ে '২য় মুক্তিযুদ্ধ' এর নামে একটি সাংষ্কৃতিক অভ্যূত্থান ঘটানোর চেষ্টা করা হয় _ যেটি পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ হলেও সেটির সার্থকতা এতটুকুই যে সেটি ৩য় মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নের সুত্রপাতকে অনিবার্য করে তোলে।

    ৬ই এপ্রিল ২০১৩ তারিখে বাংলাদেশের ইতিহাসে ঢাকার মতিঝিলের ঐতিহাসিক শাপলা চত্ত্বরে ৩য় মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটে। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হওয়া সত্ত্বেও নজিরবিহীনভাবে বাংলাদেশের এক এক জেলায় লক্ষ লক্ষ লোক এই দাবিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে এসে সমাবেশে শরীক হন। পরে ৬ ই এপ্রিল ঐতিহাসিক শাপলা চত্ত্বরে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সর্বস্তরের আপামর মুসলিম তাওহীদি জনতার ব্যপক অংশগ্রহণে এত বড় সমাবেশ স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশে আর দেখা যায়নি।

     '৪৭ এ সাম্প্রদায়িক স্বার্থ, '৫২ তে সাংষ্কৃতিক স্বার্থ, '৭১ এ জাতিরাষ্ট্রগত স্বার্থ _ ২০১৩ তে ধর্মতাত্ত্বিক স্বার্থরক্ষার অপ্রতিরোধ্য গণআকাঙ্খার উম্মেষ পরিদৃষ্ট হয় বাংলাদেশের জেলায় জেলায়, পথে পথে। বর্তমানে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে এই ধারা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এই ধারাই মূলধারায় রুপান্তরিত হয়ে রাজনীতি-সমাজনীতির নিয়ামক হিসেবে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে রাজনৈতিক-সমাজতাত্ত্বিক বোদ্ধাগণ ধারণা করছেন।

    1. 5.1
      এম_আহমদ

      @আহমেদ শরীফ:

      … ২০১৩ তে এসে সেই ৪২ বছরের পুরনো মুক্তিযুদ্ধকে বিষাক্ত ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদি রাসায়নিক মিশিয়ে দেশীয় তাঁবেদার শ্রেণীর যোগসাজশে হীন রাজনৈতিক-কূটনৈতিক স্বার্থে শাহবাগের কুখ্যাত গণজাগরণ মঞ্চের মাধ্যমে বাংলাদেশে কৃত্রিম উপায়ে '২য় মুক্তিযুদ্ধ' এর নামে একটি সাংষ্কৃতিক অভ্যূত্থান ঘটানোর চেষ্টা করা হয় …।

      কালের ইতিহাসে বিষয়টি এভাবেই দেখা যায় যে এক শ্রেণীর স্বার্থবাদী লোক সমাজের মৌলিক কিছু দাবী দাওয়াকে কেন্দ্র করে একটি আন্দোলনের সূচনা করে। তারপর তারা এর পিছনে আড়াল হয়ে যায়। মানুষের মনস্তত্ত্বের সাথে জড়িত ইতিহাস, ভাব –বিশেষ করে ন্যায় পরায়ণতার আবদার, স্বাধীনতা, সুন্দর ভবিষ্যৎ ইত্যাদির পরশ সংযোগ করে। এতে হেঁয়ালি কিছু যুবক-যুবতি, কিছু সাধারণ মানুষ সহজেই ভাবের ইন্দ্রজালে আটকা পড়ে যায়। তারা আবেগ-মিশ্রিত বাণী ও আদর্শে আপ্লুত হয়। তারপর জীবন নিতে ও দিতে উদ্বুদ্ধ হয়। কিন্তু এসবের পিছনের সেই সুচতুর শ্রেণীকে বুঝতে পায় না, দেখতে পায় না। ইদানীং এক উদীয়মান কবিকে লক্ষ্য করলাম বলে যাচ্ছে, “দু 'মুটো ভাত, মাথার উপর ছাদ পেতে/আর কতবার স্বাধীন হতে হবে বল?” তার আবেগের সাথে নিজেও আপ্লুত হলাম। যুগ যুগ ধরে স্বপ্ন দেখিয়ে জাতিকে খুন, গুম, বেশ্যাবৃত্তি, লুট, ডাকাতি, সন্ত্রাস ও বেহায়াপনার নরকে তাড়িয়ে নেয়। এক সময় তখন এই প্রজন্মের বুক খেয়ে ফেলা হয়ে যায়।  তারপর ওখান থেকে আবারও শুরু হয় সেই পুরাতন স্বপ্ন দেখানো। আর আবারও নবপ্রজন্ম বিশ্বাসে এগিয়ে আসে দূর্বার চিত্তে। This is the chain.  

  13. 4
    এম_আহমদ

    @মহিভাই।
    ভাই, আপনার মন্তব্য কবিতার মত লাগছে। লাগছে বললে ঠিক হবে না, বরং কবিতাই বলব। তবে মূলকথা হচ্ছে হায়দার হুসেনের গান আরও ৩০০ বছর বাজালেও আমি যে অর্থের স্বাধীনতার কথা বলছি তা  আসবে না। মুসলমানদের জীবন যদি বিস্তৃত পরিসরে আল্লাহর আনুগত্য করতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে; যদি অপর আদর্শে বিশ্বাসী গোষ্ঠী তাদের আনুগত্যের পরিধীকে 'সীমিত' করে দেয় এবং যদি ফাসাদি শাসনে, শিক্ষায়, অর্থব্যবস্থার নৈরাজ্যে, স্বাধীনতার নামে নারী নগ্নতায়, বেহায়াপনায়, অবাধ যৌন-সয়লাবে তাদের রাষ্ট্র ও সমাজ নিমজ্জিত হয়ে পড়ে তবে জায়োনিস্ট দর্শন তাদের এই সীমিত অবস্থানকে স্বাধীন বলে রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদ পত্রে যতই বুঝিয়ে দিক না কেন, সেটা কোনোদিন স্বাধীন হবে না।  

  14. 3
    মহিউদ্দিন

    স্বাধীনতার কামনা যেন এক মরীচিকা
    কখনও এর প্রত্যাশায় কেউ উত্তপ্ত কড়াই থেকে
    ঝাপ দেই জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে
    কখনওবা বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভে আশ্রয় নেই শত্রুর কোলে
    শুরু হয় রক্তপাত নি:শেষ হয় লাখো প্রাণ
    তার পর স্বাধীন হতে চেয়েও পারেনা হতে স্বাধীন
    কেননা ঘুমিয়ে রাখা হয় তাকে ছলে বলে কৌশলে।

    আপনার লিখাটা পড়ে বলতে চাই আসলেই আমরা স্বাধীনতাটাকে এখনও খুঁজছি।

    [youtube]?v=2n67EIldA9w#t=16[/youtube]
    http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=2n67EIldA9w

  15. 2
    মাহফুজ

    আপনার চিন্তাশীল মনোভাবকে সাধুবাদ জানাই।

    ধর্মান্ধতা, ধর্মহীনতা এবং মোনাফেকি থেকে বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত স্বাধীনতার সুফল ভোগ করা সম্ভব নয়। 
    মহান স্রষ্টাও মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। কিন্তু  এই স্বাধীনতার অর্থ স্বেচ্ছাচারীতা নয়। 
    প্রকৃত ধর্মীষ্ঠ মানুষেরা যখন ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগত পর্যায়ে এই স্বাধীনতার যথাযথ ব্যবহার করতে শেখে, তখন তারা স্বাধীনতার সুফল ভোগের সাথে সাথে শান্তি ও কল্যাণপ্রাপ্ত হয়।
    ধন্যবাদ-

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      আপনার পাঠ ও মহৎ কথাগুলোর জন্য ধন্যবাদ

  16. 1
    মুনিম সিদ্দিকী

    ‘স্বাধীনতা’ হচ্ছে একটি শ্রেণীর বিশ্বাস ও আদর্শ প্রচারের উপযোগী একটি হাতিয়ার। যে শ্রেণী তাদের আদর্শ ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে ‘তাদের সামষ্টিক’ স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তাদের সেই বিশ্বাস ও আদর্শে ধর্ম হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্যাপার।

    আপনার ব্লগের প্রতিটি কথার সাথে আমি সহমত পোষণ করছি।

    1. 1.1
      এম_আহমদ

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.