«

»

Sep ০৪

কলিমার স্বীকৃতিতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনের ধারণা -পর্ব দুই

[১ম পর্ব]

ওয়ারাকাহ বিন নাওফলের অতি প্রাথমিক ব্যাখ্যা

(৪:১) ঈমান বা বিশ্বাস হচ্ছে জীবনের যাত্রা পথে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিশ্বাসেই সুপ্ত থাকে আদর্শ, শিক্ষা, জীবন দর্শন, জীবনের আওয়াল ও আখের -সবকিছু। নবী মুহাম্মদের (সা.) বাণীর এই মূল কলিমা সংক্ষেপে এক বড় আকারের বিষয় বহন করছিল। আরব জাহানের লোকজন তাঁর এই বিশ্বাসের অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে পেরেছিল। আর এজন্যই তারা প্রথম দিকে এটাকে ধ্বংস করতে বদ্ধ পরিকর হয়েছিল –প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাশ্রয়ি হয়েও, যেমন ফিরাউন মুসাকে (আ.) ফাসাদ সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল এবং যেমনটি আজও হয়ে থাকে। এই বাণীর ধারকদেরকে ফাসাদী, সন্ত্রাসী, মৌলবাদী ইত্যাদি আখ্যায় আখ্যায়িত করা হয়। কারণ, এই বিশ্বাসের প্রকৃত রূপায়ন হতে গেলে সমাজ, সামাজিক মূল্যবোধ, জীবন ও জীবনের ধারা আগের মত থাকে না। ক্ষমতার পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে এবং এর ফলে ‘প্রতিক্রিয়া’ সৃষ্টি না হয়ে পারে না।

(৪:২) ওহী নাজিলের পর পরই খাদিজার (রা.) চাচাত ভাই যিনি একত্ববাদী হানাফি ছিলেন, (মতান্তরে খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত ছিলেন) এবং তাওরাত ও ইঞ্জিলের উপর জ্ঞান রাখতেন,  তিনি নবীকে (সা.) এই বাণীর মোকাবেলায় চরম প্রতিক্রিয়া আসার কথা শুনিয়েছিলেন। যদিও সবার জানা, তবুও এই ধারায় ঘটনাটি সংক্ষেপে উল্লেখ করতে যাচ্ছি।

(৪:৩) নবীর (সা.) উপর ওহী নাজিলের ঘটনা তাঁকে চরমভাবে ভীতসন্ত্রস্ত করেছিল। এটা ছিল এক ভিন্ন জাগতিক, অকস্মাৎ বিষয়। তিনি তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পান। হেরা গুহা থেকে কাঁপতে কাঁপতে এসে খাদিজাকে (রা.) বলেছিলেন, ‘আমাকে আবৃত্ত কর, আমাকে আবৃত্ত কর।’ খাদিজা (রা.) তাঁকে কম্বল দিয়ে আবৃত্ত করেন এবং তাঁকে নির্ভয় করেন, আশ্বস্ত করেন। তারপর এক সময় তাঁর চাচাত ভাই ওয়ারাকাহ বিন নাওফল, (যিনি ইবরানি ভাষায় লিখিত তাওরাত ও ইঞ্জিলের একজন আলেম ছিলেন), তার কাছে নিয়ে যান এবং নবীর (সা.) জীবনে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

(৪:৪) ওয়ারাকাহ হেরা গুহার ঘটনা শুনে সেখানে হাজির হওয়া সত্তাকে সেই ‘নামুস’ (‘সংরক্ষিত’ বিষয়ে জ্ঞাত), হিসেবে উল্লেখ করেন যিনি মুসার কাছে এসেছিলেন –তিনি সেই ‘জিবরাঈল’। ওয়ারাকাহ বলেন, ‘হায়, আক্ষেপ,  আমি যদি যৌবনের সময়ে হতাম! তোমার জাতি তোমার প্রতি দুশমনি ও বিদ্বেষপ্রসূত অবজ্ঞায় তোমাকে দেশ থেকে, যে দেশে তুমি বড় হয়েছ, সেখান থেকে বের করে দেবে…।’ নবী (সা.) এতে আশ্চর্য হন এবং জিজ্ঞেস করেন, ‘তারা কি আমাকে বের করে দেবে?’ তিনি বললেন, এমন কেউ এই বাণী নিয়ে আসেন নি যাদের প্রতি বিরুদ্ধাচরণ হয় নি। আমি যদি সেই দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকি তবে তোমাকে দৃঢ়তার সাথে সাহায্য করব’ ((আব্দুল জালীল, (১৯৮৬), আশরাফুল কালাম মিন শামাইলি সাইয়্যিদিল আনাম, মাক্কাহ-আলমুকাররামাহ পৃ.২৭, এবং ইবন হিশাম (১৯৯৬),  সীরাতে ইবন হিশাম (আরবি), কায়রো:  মাথবা’আ আল-মাদানী পৃ ২০৩))।
ওয়ারাকাহ বেঁচে থাকলে দেখতে পেতেন যে তার কথার সত্যতা পরবর্তীতে কোরানে এভাবে এসেছিল, ‘কাফিরগণ তাদের রাসূলগণকে বলেছিল, তোমাদেরকে আমরা অবশ্যই দেশ থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা  অবশ্যি আমাদের ধর্মে ফিরে আসতে হবে’(১৪:১৩)।

আবু তালিবের নিকট প্রতিনিধি দল

(৫:১) ইসলাম প্রচারের চতুর্থ বৎসরের দিকে এক সময় আবু তালিব রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে কোরাইশদের কেউ কেউ মনে করেন যে তিনি আর বেঁছে ওঠবেন না। তাই মুহাম্মাদের (সা.) দাওয়াতের বিষয়টি তার মাধ্যমে নিষ্পন্ন করা দরকার। এই অভিলক্ষ্যে কোরাইশ নেতাদের এক প্রতিনিধি দল আবু তালিবের শয্যা-পাশে উপনীত হন। অন্য বর্ণনায় (ইবন সা‘দ) এটা রোগশয্যার ঘটনা নয়। বরং নবীর (সা.) দাওয়াতে যখন ইসলাম গ্রহণের ঘটনা প্রায়ই ঘটে যাচ্ছিল তখন সেই বাস্তবতা ঠেকাতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, (তখন হামযা ও ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেছেন)।  উল্লেখিত প্রতিনিধি দলে লোক সংখ্যা ছিল প্রায় পঁচিশ। এদের মধ্যে ছিলেন আবু জেহেল, আবু সুফিয়ান, উমাইয়া ইবন খালাফ, আ’ছ ইবনে ওয়াইল, আসয়াদ ইবন আল মুত্তালিব, উকবা ইবন আবু মুয়াইত, উতবা ও শাইবা প্রমুখ [এই সংখ্যা ইমাম নাসায়ি, আহমদ বিন হাম্বল, ইমাম আহমদ, তিরমিযী, ইবন জরীর, ইবন আবু শাইবা, ইবন হাতিম ও মুহাম্মদ ইবন ইসহাকের বরাত দিয়ে মাওলানা মাওদূদীর (র.) উদ্ধৃতি থেকে গৃহীত –তাফহীমূল কোরান, ত্রয়োদশ খণ্ড, আধুনিক প্রকাশনী, অনুবাদক মাওলানা আব্দুর রহীম পৃ. ১০৪-৫, এই ঘটনার উল্লেখ তাবারির তফসীর, সূরাহ ৩৮:৫ তফসীরে রয়েছে]।

(৫:২)  ইবন কাসীর সূরাহ সোয়াদের শানে নুযূলের ব্যাখ্যায় বলেন যে এই লোকজন আবু তালিবকে বলব:
‘আপনার ভাতিজা আমাদের দেব-দেবীদের সমালোচনা করছেন আর করছেনই। আপনি যদি তাকে ডেকে পাঠিয়ে এসব থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিতেন (তবে উত্তম হত)।’

তারপর রাসূলুল্লাকে ডেকে আনা হল এবং প্রতিনিধি দলের অভিযোগ সম্পর্কে বলা হল। নবী (সা.) সব কথা শুনে বললেন:

‘হে চাচা, আমি তাদের কাছ থেকে কেবল একটি ‘বাক্যই’ চাই। তারা যদি এই বাক্য উচ্চারণ করেন, তবে গোটা আরব জগত তাদের অধীনস্থ হবে এবং অনারবগণ তাদেরকে জিজিয়া দেবে।’

এ কথা শুনে তারা ঔৎসুক্য দেখিয়ে বলল:

‘এক বাক্য? তোমার বাপ উৎসর্গিত হোক, আমরা বরং দশ বাক্য উচ্চারণ করব। বল, সেই বাক্যটি কি?’
আবু তালিব বললেন, ‘আমার ভাতিজা, সেই বাক্যটি কি?’

আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন:

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ -এক আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ‘ইলাহ’ নেই।’

এই উত্তর শুনে তারা ক্রোধে উত্তেজিত হয়ে নিজেদের কাপড় ছিঁড়তে উদ্যত হল (এটা রাগের আতিশয্য বুঝাতে আরবি অভিব্যক্তি/expression) এবং বলল:

‘আমরা কি ‘সকল ইলাহকে’ এক ‘ইলাহ’ করে ফেলব (অর্থাৎ সকল ইলাহকে বাদ দিয়ে এক ইলাহকে গ্রহণ করব অথবা সকল ইলাহের সিফাত এক ইলাহে দাখিল করে বাকিদেরকে বিসর্জন দেব)?’ [ইবন কাসির, মুখতাসার তাফসীর ইবন কাসীর, বাইরূত: দারুল কোরানিল কারীম, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৯৭-৯৮]

মক্কার ব্যবসায়ী ও নেতৃ-পর্যায়ের ভয়

(৬:১) মক্কার ব্যবসায়ী ও নেতাগণ ভয় করতেন যে তারা ইসলাম কবুল করলেই তাদের ব্যবসা বাণিজ্যের  নিরাপত্তা চলে যাবে, বা দুনিয়াবাসী এসে তাদেরকে শেষ করে দেবে। অথচ আল্লাহ তাদেরকে বার বার মক্কা ও কাবার অবস্থানগত যে নিরাপত্তা বিধান করেছেন সেই ইঙ্গিত করেন। কোরানে তাদের ভীতির কথা এভাবে এসেছে:وَقَالُوۤاْ إِن نَّتَّبِعِ ٱلْهُدَىٰ مَعَكَ نُتَخَطَّفْ مِنْ أَرْضِنَآ أَوَلَمْ نُمَكِّن لَّهُمْ حَرَماً آمِناً يُجْبَىٰ إِلَيْهِ ثَمَرَاتُ كُلِّ شَيْءٍ رِّزْقاً مِّن لَّدُنَّا وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لاَ يَعْلَمُونَ – “তারা বলে, যদি আমরা আপনার সাথে এই পথ অবলম্বন করি, তবে আমরা আমাদের দেশ থেকে উৎখাত হয়ে পড়ব।’ আমি কি তাদের জন্যে একটি নিরাপদ হরম প্রতিষ্ঠিত করিনি? এখানে সর্বপ্রকার ফল-মূল আমদানি হয় আমার দেয়া রিজিকস্বরূপ। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না” (২৮:৫৭)।

(৬:২) সূরাহ কোরাইশেও এই ধারণার অনুরূপ বিষয় প্রকাশ পায়। নবী (সা.) আগ থেকেই লক্ষ্য করেন যে নেতারা এই ভয় পাচ্ছে যে তাদের কর্তৃত্ব চলে যাবে এবং ব্যবসা বাণিজ্য নষ্ট হবে। তাই তিনিও তাদেরকে বার বার নির্ভয় করতে চেয়েছিলেন। বরং উলটোভাবে, কোরাইশরা যদি লা-ইলাহার কলিমা গ্রহণ করে তবে আরব অনারব এলাকা জুড়ে যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে তাতে, বর্ধিতভাবে, কোরাইশদের নেতৃত্বের পরিসর খুলবে, বর্ধিত হবে, অর্থাৎ দীন গ্রহণ করাতেই তাদের ‘দুনিয়া’ শেষ হবে না বরং প্রশস্ত হওয়ার কথাই বলেন।  

(৬:৩) যারা দ্বীনকে (আল্লাহর আনুগত্যকে) বিভাজন করেন, তারা আজও বিশ্বাস করেন যে ইসলামের পরিবর্তে অপরাপর আর্থ-সামাজিক জীবন-ব্যবস্থা ও শিক্ষা-সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ উন্নত হবে; দেশের ‘মান-ইজ্জত’ বাড়বে; জাতি ‘ক্ষমতা’ লাভ করবে এবং উদার ও সভ্য হবে। তাদের ধারণায় ইসলামের জীবন ব্যবস্থা এবং এর আর্থ-সামাজিক রূপায়ণ ঘটালে দেশের ‘প্রগতি’ আটকে যাবে;  দেশ দরিদ্রতা ও বর্বরতায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়বে এবং ইউরোপ/আমেরিকার মানদণ্ডে দেশ প্রস্তর-যুগে চলে যাবে।

উতবাহ বিন রাবি‘আর প্রতিনিধিত্ব

(৭:১) ইসলাম প্রথম থেকেই রাষ্ট্রীয় অভিলক্ষ্যে ছিল। কারণ, সমাজের চতুর্দিকে যদি অনৈতিকতার সয়লাব ঘটতে থাকে তাহলে ব্যক্তি সেই সয়লাবে ভেসে যাবে। এর বিপরীতে সামষ্ঠিক নৈতিকতায় যদি ব্যক্তিক জীবন সূত্রায়িত হয়, সুশোভিত হয়, তবে এই অঙ্গনে সামাজিক ও ব্যক্তিক আধ্যাত্মিক-ঝর্ণা-ধারা পরস্পরে প্রবাহিত হবে। এর জন্য পরিবর্তনের প্রয়োজন। কিন্তু মক্কার অধিপতিগণ এই ভয়ই পাচ্ছিল। পরিবর্তনের ভয়। তাই মুহাম্মদকে (সা.) নিবৃত্ত করতে সেদিনের কিছু লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল। তারা বনী উমাইয়্যাহ গোত্র-প্রধান উতবাহ বিন রাবি‘আহকে (আবুল ওয়ালীদ )  এই দায়িত্ব দেয়। উতবাহ একজন বাগ্মিতাসম্পন্ন কূটকৌশলী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি কাবার চত্বরে গিয়ে নবীর (সা.) সাথে দেখা করেন এবং হেকমতের সাথে আলোচনা শুরু করেন। কিছু কাব্যিক উদ্ধৃতি, হেকমতি কাওল ইত্যাদির মাধ্যমে যা বলেন সংক্ষেপে তা হল নিম্নরূপ:

আপনি একজন ভাল বংশের লোক। আপনি এক অতি বড় বিষয় নিয়ে আপনার জাতিতে হাজির হয়েছেন। কিন্তু এর মাধ্যমে তাদের ঐক্য নষ্ট করেছেন; তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করেছেন; তাদের দেব-দেবী ও দ্বীনের দোষত্রুটি দেখিয়েছেন; এবং তাদের পূর্ব-পুরুষের পথ ও প্রথা  অস্বীকার (বর্জন) করেছেন। এবারে আমি আপনাকে কিছু প্রস্তাব করছি, দেখেন এগুলোর মধ্য থেকে কিছু গ্রহণ করা যায় কিনা।

উতবাহ   ৪টি প্রস্তাবে করেন: (১) আপনি যদি এই বাণীর মাধ্যমে বিত্তশালী হবার ইচ্ছা রাখেন তবে বলুন। আমরা সবাই মিলে আপনার জন্য ধন-মালের ব্যবস্থা করব এবং আপনি সকলের চেয়ে অধিক ধনবান হবেন। (২) আপনি যদি এর মাধ্যমে মান-ইজ্জত কামনা করেন তবে বলুন। আমরা আপনার জন্য নেতৃত্বের এক পরিসর তৈরি করব এবং কোনো জরুরি বিষয় আপনাকে ছাড়া নিষ্পন্ন করব না। (৩) আপনি যদি (এই বাণীর মাধ্যমে) বাদশাহি প্রত্যাশা করেন তবে বলুন। আমরা এর জন্য সেই ব্যবস্থায় যাব। (৪) আর যদি (ঘটনা) এই হয় যে যে সত্তা (জিন/ভূত) আপনার কাছে আসেন, তাকে আপনি আপনার নিজ থেকে বর্জন করতে অক্ষম হন, তাও বলুন। আমরা চিকিৎসকের ব্যবস্থা করব। এই উদ্দেশ্যে আমরা আমাদের ধনমাল খরচ করব যাতে করে আপনি সুস্থ হয়ে উঠেন।

এই কথাগুলো শুনার পর নবী (সা.) তাকে বলেন, ওয়ালীদের পিতা, আপনার সব কথা কি বলা হয়ে গেছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর রাসূলুল্লাহ নিজের পক্ষ থেকে কিছু না বলে তাকে সূরাহ সোয়াদ (সূরাহ ৩৮) পাঠ করে শোনালেন। উতবাহ এতে এতই প্রভাবিত হয়ে পড়েন যে যখন রাসুলুল্লাহ সেজদার আয়াতে এসে সেজদায় অবনত হন, তখন তিনিও তাঁর সাথে সেজদায় নত হয়ে পড়েন। পরে রাসুলুল্লাহ বলেন, ওয়ালীদের পিতা, আপনি শুনেছেন। এবারে আপনার যা ইচ্ছে তাই করুন।   

উতবাহ ফিরে যান এবং কোরাইশদের কাছে গিয়ে যে মন্তব্য বা প্রতিবেদন করেন তা প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন:
‘হে কোরাইশ সম্প্রদায়, আপনারা আমার কথা শুনুন এবং আমি যা বলি তা রূপায়িত করুন। ঐ ব্যক্তি (মুহাম্মাদ) ও যে বস্তু (বাণী) নিয়ে সে আছে, তাকে এর উপর ছেড়ে দিন। তার ব্যাপারে আপনারা নিবৃত্ত হোন। আল্লাহর কসম, তার যে বাণী আমি শুনেছি তাতে এক ভবিষ্যৎ (বড় ব্যাপার) রয়েছে। (তার এই কাজের ফলে) আরবরা যদি তাকে চুরমার করে দেয়, (তবে আপনারা বাঁচলেন)। এটা যেন আপনারা ব্যতীত অপরের মাধ্যমে কামিয়াব হয়ে গেল (আপনাদেরকে কোনো আপদে পেল না)। আর যদি মুহাম্মদ আরবদের মোকাবেলায় বিজয়ী হয়ে যায়, তবে তার রাজ্য তো আপনাদেরই রাজ্য; তার সম্মান (ও ক্ষমতা) আপনাদেরই সম্মান (ও ক্ষমতা); আর আপনারা তা নিয়ে হয়ে পড়বেন সবচেয়ে সৌভাগ্যশীল।’

তারা বলল:

‘হে ওয়ালীদের পিতা, মুহাম্মাদ আপনাকে তার ভাষা দিয়ে মোহগ্রস্ত করে ফেলেছে’ (ইবন হিশাম, [১৯৯৬], সিরাহ ইবন হিশাম, ১ম খন্ড, কায়রো: দারুল হাদিস, পৃ.২৪১-৪২)।   

(৭:২) উপরের বিবরণগুলোতে দেখা যায় যে কোরাইশগণ তাদের সমাজ পরিবর্তনের ভয় পাচ্ছিল। এই কলিমার দাওয়াতে সেই ভয়ের কারণ ছিল বলেই সেই ভয় পাচ্ছিল। এই প্রসঙ্গে এ কথা বলা উচিত যে যদিও এখানে রাষ্ট্রীয় ধারণার আলোচনা হচ্ছে কিন্তু রাষ্ট্র একমাত্র, একক ও বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্দেশ্য নয়। সবকিছু বাদ দিয়ে কেবল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাতেই ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় না। এই আলোচনার মূল কথা হচ্ছে রাষ্ট্র ইসলামের বাহিরের বস্তু নয়। ইসলামের পূর্ণাঙ্গ পরিধির অংশ। এখানের আধ্যাত্মিকতা ব্যক্তি ও সমাজে ঝর্ণা-ধারার মত সচল। সমাজ যদি অনৈতিকতার সয়লাবে প্লাবিত হয় তবে এতে ব্যক্তি ভেসে যাবে। যুবক-যুবতিদের চারিধার যদি তাদেরকে অনৈসলামি কাজে প্রলুব্ধ করে, যদি শিক্ষা-দীক্ষায় সেই প্রলুব্ধকর কর্ম ও সংস্কৃতি উত্তম হিসেবে শিক্ষা দেয়া হয়, তবে তারা তাই দাপটে করবে।

এই রাষ্ট্র আবার অপরের অধিকার খর্বের বিষয় নয়। কাউকে জোরে আস্তিক বানানোর বিষয় নয়। অপরকে ধর্মান্তরিত করা নয়। শুধু এটাই বলা হচ্ছে যে অপরের দোহাই পেড়ে মুসলমানদের উপর নাস্তিক ও সেক্যুলারিষ্টদের চাপিয়ে দেয়া আদর্শ ও জীবন প্রণালী থেকে বেঁচে নিজেদের অধিকার মত ব্যক্তি ও সমাজ জীবন গড়ার অধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।

পরবর্তী পর্বে ইলাহ শব্দের ব্যাখ্যা আসবে (ইনশাল্লাহ)। তৃতীয় পর্ব এখানে

* আগের পর্ব: তাওহীদের কলিমায় ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও সমাজের সার্বিক আনুগত্য

______________________________
ধর্ম ও রাজনীতি বিষয়ক অপরাপর লেখা
______________________________

কাল-সাগরের ঢেউ (খেলাফতের উত্থান-পতন নিয়ে)
ইসলামী শারিয়া -শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ
ইসলামের রাজনীতি: শাব্দিক উৎস ও ধারণা
ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও প্রতিবন্ধক যুক্তি
বৈধ (রাজ)নীতি: সিয়াসাহ শারয়্যিয়াহ
চেতনার ভূত:একটি আদর্শিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক বিপর্যয়
তাওহীদের কলিমায় ব্যক্তি, রাষ্ট্র ও সমাজের সার্বিক আনুগত্য

১৩ comments

Skip to comment form

  1. 6
    এম_আহমদ

    মূর্তি ভাঙ্গার অভিযোগ

    আমার এই লেখায় তাওহীদের মোকাবেলায় মূর্তির বিষয় এসেছে। এখানে মূর্তি ভাঙ্গা নিয়ে দু'একটি কথা সংযোগ করলে ভাল হয় ভাবছি।

    ইসলাম ধর্ম কারো মূর্তি ভাঙ্গার নির্দেশ দেয় নি। পৌত্তলিকতা থেকে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করার পর নব্য মুসলিমগণ তাদের পূর্ব মূর্তি রেখে দেয়া জায়েজ নয়। বরং ভেঙ্গে ফেলতে হবে, এটাই নির্দেশ। ইন্টারনেটে যেসব নাস্তিক এবং যেসব হিন্দু অপরের মূর্তি ভাঙ্গা নিয়ে অভিযোগ করেন তা সঠিক নয়। এই কথাটি আরেকটু বর্ধিত করতে চাই।

    আল্লাহ যখন মক্কার মূর্তিপূজক সমাজে তাওহীদের বাণী নাজিল করেন তখন এই বাণীর এক খোদা আর বহু দেবদেবীর আলোচনা দেখতে হবে।

    যদিও বিষয়টির নানান দিক রয়েছে তবে এক্ষেত্রে প্রথমে দেবদেবী ও উপাসকদের সম্পর্ক বুঝা জরুরি। এই সম্পর্কের স্ট্রাকচার ছিল এভাবে: ব্যক্তি>পুরোহিত>দেবদেবী>আল্লাহ। দেবদেবীর ইচ্ছা অনিচ্ছা পুরোহিতের মাধ্যমে সংযোগ হত। কখনো সরাসরি দেবদেবীর কাছে চাওয়া হত। তাদের ফয়েজ-বরকত চাওয়া হত। তাদের ওসিলায় (মধ্যস্থতায়) আল্লাহর নৈকট্য লাভের ইচ্ছা পোষণ হত। দেবদেবীর শাফায়াৎ (intercession)কামনা করা হত। অর্থাৎ এক ব্যক্তি হয়ত কোন জঘন্য পাপের কাজ করেছে এখন দেবদেবীর শাফায়াতের মাধ্যমে সেই পাপ মুছিত হবে এই বিশ্বাস রাখত। এসব বিশ্বাসের ভিত্তিতেই উপাসনা হত। তারপর আশা পূরণের জন্য যাওয়া হত, রোগমুক্তির জন্য যাওয়া হত, বিপদমুক্তির জন্য যাওয়া হত। যুদ্ধ বা সন্ধিতে তাদের ইচ্ছা নির্ণয় (divination) করা হত। তাদের কাছে বিজয়ের আবেদন করা করা হত। বিয়ে-শাদিতে তাদের ইচ্ছা জানা হত। বিভিন্ন উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেবদেবী ছিলেন। সকল পরিবারে এবং ঘরে নিজেদের খাস মূর্তি ছিল। কোথাও সফরে বের হতে হলে মূর্তিকে স্পর্শ করে বের হত এবং ফিরে এসে তাকে আবার স্পর্শ করত। এতে ফয়েজ ও বরকতের আশা করত ((Ali, J. (1988). Tarīkh Al-‘Arab fī al-Islām. Beirut: Dār al-Ḥadāthah, pp.55-62))। 

    ইসলাম এই সিলসিলার মোকাবেলায় আলোচনা শুরু করে। এতে স্ট্রাকচার সরাসরি এভাবে হয়ে পড়ে: ব্যক্তি>আল্লাহ। মধ্যস্থান উহ্য হয়ে যায়। বিপদে, আপনে, রোগমুক্তিতে, ভাল কাজের ইচ্ছা পূরণে, ফয়েজ ও বরকত লাভে সবকিছুতেই সরাসরি আল্লাহকে ডাকা হবে। অর্থাৎ সব সমস্যার সমাধান এখন একের মধ্যেই all in one.  সামাজিক ও সামাজিক ব্যবস্থাপনার দিক দিয়ে এটা এক বিরাট ব্যাপার ছিল।

    এখন আল্লাহ ও মানুষের সম্পর্ক আলোচনা করতে গেলেই বর্তমান অবস্থার আলোচনা এসেই যায়। শাফায়াফাতের বিষয় বলতে হয়, মানুষের জীবনের সমস্যা ও সমাধানের প্রকৃতি আলোচনা করতেই হয়। তারা সমস্যা সমাধানের জন্য যেখানে যাচ্ছে সেখানে কোন সমাধান নেই –এটা বলতেই হয়। গোটা সমাজ ব্যবস্থায় এসবের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া কী -তা দেখতে হত। এখানে মানুষকে উভয় স্ট্রাকচার ও এদের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার আহবান করা হয়। এই আহবানই ছিল সেই দাওয়াত।

    যে পরিবার বা যে গোত্র ইসলামে প্রবেশ করেছে সেই পরিবার ও গোত্র তাদের পূর্বের দেবতা বা মূর্তি নিজ ঘরে রেখে দেয়ার প্রশ্নই ছিল না –তা ভাঙ্গতে হত। কেননা এখন সেই মূর্তির কোন প্রয়োজন নেই। মন-মগজ এই সম্পর্ক, এই স্মৃতি থেকে সরে গিয়ে এক আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। অতঃপর দীর্ঘ দুই দশক পরে যখন মক্কা বিজিত হল, এবং মানুষ দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করল, তখন তাদের দেবদেবীগুলো আপন স্থানে রেখে Diametrically opposite বিশ্বাস ও ধর্ম চালিয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনাই ছিল না। কেবল এগুলোই ভাঙ্গার নির্দেশ এসেছে। ইসলামে অপর সম্প্রদায়ের মূর্তিভাঙ্গা বা তাদের দেব-দেবীকে গালিগালাজ করা জায়েজ  নয়।

  2. 5
    মুনিম সিদ্দিকী

    আল্লাহর যতটুকু ইচ্ছাছিলো তিনি তা মধ্যযুগের মধ্যেই ততটুকু অঞ্চলে ইসলামকে সম্প্রসারণ করে ফেলেছেন। বিগত কয়েক শতাব্দি যাবত থেকে আজ পর্যন্ত ইসলামের ভূমির সম্প্রসারণ বন্ধ হয়েছে। এই বন্ধ থাকাটাও আল্লাহর ইচ্ছা! আমাদের উচিত আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পন করা। আবার যখন আল্লাহর ইচ্ছা হবে ইসলামকে আরো বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সম্প্রসারণ করার তখন তিনিই সে সম্প্রসারণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থার আনজাম করে দিবেন। ধন্যবাদ।

     

  3. 4
    এস. এম. রায়হান

    আমার জানামতে শব্দটা "কালেমা" হবে, "কালিমা" নয়। "কালিমা" শব্দের অর্থ কলঙ্ক।

    1. 4.1
      মাহফুজ

      এম আহমদ ভাই,
      আপনার অনুপস্থিতিতে একটু নাক গলালাম বলে কিছু মনে করবেন না। আর ভুল বলে থাকলে শুধরে দেবেন।

      @ এস এম রায়হান
      আপনি একটু বোধহয় গুলিয়ে ফেলছেন- //আমার জানামতে শব্দটা "কালেমা" হবে, "কালিমা" নয়। "কালিমা" শব্দের অর্থ কলঙ্ক।//
      বাংলায় "কালিমা" শব্দের অর্থ মনের সাথে সম্পর্কিত হলে তখন তার অর্থ a mark of dishonor, আর এর বিশেষ্য / [Noun] Blackness ; dirtiness ; gloom ; blemish ; stigma

      কিন্তু এখানে আরবী শব্দ "কালিমা"- ( الْكَلِمَ) -- l-kalima এর অর্থ the words
      তবে এখানে শুধু "কালিমা" না বলে "কালিমা তাওহিদ" বললে বিষয়টা পরিষ্কার হত।

      1. 4.1.1
        এম_আহমদ

        @মাহফুজ: হ্যাঁ' ঠিকই আছে, তবে আমি বিষয়টিকে বর্ধিত করেছি। নিচে দেখতে পারেন। ধন্যবাদ।

    2. 4.2
      এম_আহমদ

      @এস. এম. রায়হান:

      বানান নিয়ে কয়েকটি কথা –ই, এ ও হ

      শব্দটির সঠিক বানান হবে কালিমাহ (كلمة)। আরবিতে কালিমাহ অর্থ ‘শব্দ’ এবং স্থানভেদে বাক্যও।  কোরানে এর উল্লেখ এভাবে এসেছে, ‘কালিমাহ তায়্যিবাহ’ (كلمة  طيبة, ১৪:২২)।

      বাংলা এবং ইংরেজিতে অনেক সময় আরবির ‘আত-তা আল-মারবুথাহ’ (التاء المربوطة ة-) ছেড়েই দেয়া হয়। যেমন নাদিরা (نادرة), সামিরা (سميرة)ইত্যাদিতে কিন্তু এটা স্ট্যান্ডার্ড হওয়া উচিৎ, কি উচিত &ndash নয়, এটিও একটি আলোচনা। ইংরেজিতে, বইপুস্তক প্রণয়নে, কিন্তু সঠিক স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা হয় যা বাংলায় হতে দেখি না।

      বাংলায় আরবির কাসরা/জার (ِ كسرة/جر) ‘ই’-এর পরিবর্তে ‘এ’ দিয়ে লেখা হবার একটি প্রথা সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। যেমন হিফাযতের (হিফাজতের) পরিবর্তে হেফাজত, হিফজের (হিফযের) পরিবর্তে হেফজ, ইবাদাহ বা ইবাদতের পরিবর্তে এবাদত। এভাবে ফাতিহাহ/ফাতেহা, নিসা/নেসা, মায়িদাহ/মায়েদা, সিজদাহ/সেজদা, ইখলাস/এখলাছ ইত্যাদি। এই ধরণের উচ্চারণ প্রথা সম্ভবত ইরাক/ইরানি ধারা ছোঁয়ে ভারতে মোগল-যুগে চালু হয়ে এবং পরে উর্দু-ঘেঁষে প্রথায় রূপায়িত হয়েছে। এই বিষয়টির শেষ এখানেই নয় বরং অন্যান্যভাবে অসংখ্য শব্দ জোড়ে আছে।

      বাংলায় ‘এক দেশের গালি আরেক দেশের বুলি’এমন এক একটি প্রবাদ আছে। এক দেশের অনেক শব্দের লেখা/উচ্চারণ/প্রতীকী ব্যবহার (যেমন বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন) অন্য দেশে ভাব অর্থের বৈপরীত্য দেখা যায়। নিজ দেশের ভিতরেও কারো কাছে সোনা আর কারো কাছে সোনা, (কারো হোগা, কারো ডেউয়া ইত্যাদি)। তবে সকল ক্ষেত্রেই শব্দের প্রসঙ্গ ও ব্যবহারিক স্থানেই মূল ‘অর্থ’ প্রকাশ পায়।

      বাংলায় ‘কালিমা’ বলে একটি নেতিবাচক অর্থ শব্দ আছে। তাই আরবি শব্দটিকে ‘কালেমা’ করতে হবে –এভাবে না করে আমার মনে হয় সময় হয়েছে যে, গোটা lexicon সামনে রেখে, একটি স্ট্যান্ডার্ড বানানের উদ্যোগ নিতে যাওয়া এবং প্রথায় কীভাবে কী হচ্ছে তাও সামনে রাখা। সাদাত ভাই মনে হয় এব্যাপারে একটি ব্লগ দিয়েছিলেন। তবে কথা হবে এই যে এধরণের কাজ ব্লগ-প্রবন্ধ লিখে ঠিক হয়ে যাবে না, সরকারি উদ্যোগে ভাল হয়। নিদেন পক্ষে ঊর্ধ্বতন প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ ছাড়া এবং লিখিত/ইলেকক্ট্রনিক অভিধানে সেই স্ট্যান্ডার্ড সংযোজন ছাড়া তা হবে না।

      বাংলায় আরবি শব্দের বানানে সঙ্গতিহীনতা রয়েছে। আমরাও বানানে আজ এভাবে, কাল সেভাবে করতেই থাকি। তবে আমরা সকলে ‘কালিমাহ’ লিখতে পারলে তা বাংলার নেতিবাচক শব্দ থেকে আলাদা হয়ে হয়ে যেতে পারত এবং এতে আরবির সাথে phonetic শুদ্ধতাও প্রতিষ্ঠিত হত। কিন্তু এর অভাবে, দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত উচ্চারণ ‘কলিমা'ই ‘কালেমার’ চেয়ে অগ্রাধিকার দিতে চাইব।

      বিষয়টি দৃষ্টিগোচর করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আবার এ ব্যাপারেও এক মত হব যে কোনো সঠিক কনভেনশন প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এককভাবে 'কালিমা' না লেখাটাই ভাল হবে -১৬ কোটির দেশে যা প্রতিষ্ঠিত সেটা নজরে না রেখে উপায় নেই। 

  4. 3
    মাহফুজ

    মি. এম আহমদ
    বিতর্ক করছি, এমনটি ভেবে নেবেন না যেন্। আর বিরক্ত বোধ করলে জবাব দেয়ার দরকার নেই।

    //সমাজ পরিবর্তনের কাজ প্রধানত সংঘবদ্ধ ভিত্তিতেই হতে হবে যেখানে থাকবে ইসলামের সমাজ জীবনের উদ্দেশ্য, উদ্দেশ্য বিস্তারের প্রোগ্রাম (দাওয়াত/communication and the use of communication medium),  যারা সংঘবদ্ধ হবে তাদের তা’লীম, তারবিয়ার ব্যবস্থা এবং গোটা ব্যবস্থাপনার নেতৃত্ব বুঝা এবং বোঝানো, এবং এই প্রসেসের ব্যাপক নেটওয়ার্কিং এবং repetition.  এই স্তরগুলোর পরতে পরতে নবীর দেখানো পথ এবং কোরানে মানব জাতীর ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে কীভাবে সেই কাজ সংঘটিত হয়েছিল তার গভীর অধ্যয়ন, চর্চা এবং সেগুলোকে কাজের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।//

    উপরে দেয়া আপনার মন্তব্যের এই অংশটা যথার্থ বলেছেন। কিছু বিতর্কিত বিষয় বাদ দিলে বর্তমানে 'জামাত-ই-ইসলাম' নামক দলটির মধ্যে এসবের চর্চা হতে দেখা যায়।

    //বাংলাদেশের গোটা জনসমষ্টি যদি রেফারেণ্ডামের মাধ্যমে কোনো এক ব্যক্তিকে ক্ষমতা দান করে যার হাতে সমাজ পরিবর্তনের কোনো প্রগ্রাম নেই, সেই উদ্দেশ্যের দল নেই, সেই কাজের অভিজ্ঞতা নেই, সে হঠাৎ করে সেখানে উপনীত হয়ে কিছুই করতে পারবে না বরং উলটো মুসলিম সমাজের দারুণ ক্ষতি করে বসতে পারে। তবে এ কথাও মনে রাখা দরকার যে ‘প্রচলিত কোনো দলে’ যোগদান ছাড়াও সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতিতে contribute করা যায়। কিছু কিছু কাজ অনেকভাবে করা যায়। আমি এই যে লেখাগুলো দিচ্ছি এগুলোও রাজনীতির বাইরে নয়, যদিও দলীয় নয়। এবং এগুলো সমাজ পরিবর্তনের ক্ষুদ্র কণিকা সমষ্টি।//

    আপনার লেখার বদৌলতে ইসলাম সম্পর্কে আপনার জ্ঞানের গভীরতা ও অভিজ্ঞতা যদি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ও আপনাকে তাদের দলে যোগ দিয়ে রাজনীতির ময়দানে কাজ করার জন্য আহ্বান জানায়, তাহলে কি আপনি কি তাদেরকে সরাসরি ফিরিয়ে দেবেন? নাকি বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভেবে ও কিছু ন্যায়সঙ্গত শর্ত সাপেক্ষে তাদের দলে যোগ দিয়ে জনগনের খেদমত করবেন?
    ধন্যবাদ

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      @মাহফুজ:

      আপনার প্রশ্ন হয়ত সরল মনে আঁকা। কিন্তু কোনো দল কাউকে ময়দানে কাজের জন্য আহবান করা এবং যাকে আহবান করা হবে তার কাছ থেকে কোনো রিসপন্স পাওয়া -এর মধ্যে ‘অনেক’ বিষয় রয়েছে। অনেক বিষয়। এই প্রশ্ন এখনও pragmatic নয়।  আমার অবস্থান যদিও আগেই  স্পষ্ট করেছি তবুও হয়ত মনোনিবেশ হচ্ছে না। আরেকটু বলি।

      আজ মুসলিম সমাজে অনেক দল রয়েছে। আরও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ‘বেড়া’ই ধান খাচ্ছে’। যে কাজটি এখন সবচেয়ে জরুরি তা হল এই different paraphernalia-য় সদ্ভাব সৃষ্টি, বোঝের অন্বয় সৃষ্টি। এটাই এ কালের দাবি। আমার লেখায় এসব কথা বলছি। সবার কাজের স্থান এক হওয়া উচিত নয়। আমাকে যদি এই মর্মে আহবান করা হয় যে আপনি আমাদের মধ্যকার পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একত্রে কাজ করার স্ট্রাটেজি তৈরিতে সাহায্য করুন, তার রূপায়নের ম্যানেজমেন্ট সাজিয়ে দিন, আমাদের মধ্যকার বিতর্ক ও বিচ্ছিন্নতার সমঝ ব্যাখ্যা ও প্রশস্ত করতে সাহায্য করুন-তবেই বুঝব আমি যা লিখে যাচ্ছি তার কিছুটা প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে, এবং সেই অভিলক্ষ্যে পৌঁছার স্পৃহা জাগছে।  কেবল কারও দলে ঢুকে গেলেই সমাধান এসে যায় যাবে না। অনেক ক্ষেত্রে ‘দলভুক্ত’ হওয়ার পর ঐক্যের আহবান সংকোচিত হয়ে পড়ে। সবাই তখন মনে করতে থাকে ‘ক’ এখন ‘খ’ দলের লোক।

      আমার মনে এই ধারার কথা এখানেই থাক। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

      1. 3.1.1
        মাহফুজ

        @ এম আহমদ
        প্রশ্নগুলো কিন্তু আমি স্পষ্টভাবেই করেছি। অনেকের পক্ষেই এগুলোর স্পষ্ট জবাব দেয়া সম্ভব নয়। আর তাই আপনিও হয়ত সরলীকরণ করার চেষ্টা করেছেন। তারপরও জবাব দেয়ার জন্য এবং পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একত্রে কাজ করার স্ট্রাটেজি তৈরিতে সাহায্য করার যে অভিপ্রায় আপনি ব্যক্ত করেছেন তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

        আসলে ধর্মকে তার নিজস্ব পথেই চলতে হবে। এই পথ চলায় বিচ্যুত না হয়ে গতিশীলতাকে গ্রহণ করাতে কোন বাঁধা নেই। আর এই গ্রহণ ও বর্জনের সীমানাকে সংকুচিত বা প্রসারিত নয়, বরং সঠিকভাবে মেপে চলাই ধর্মীয় সমাজ তথা রাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তথাকথিত রাজনীতিতে প্রায়শই ধর্মকে ব্যবহার করার অপচেষ্টা যেমন করা হয়, তেমনি পাশ কাটিয়ে চলাকেও ধর্মজ্ঞান করা হয়ে থাকে। এ দুটোর কোনটাই যে মুসলিমদের জন্য শোভা পায় না তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

  5. 2
    মাহফুজ

    রাজনীতি ও ধর্মের সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আমি স্বীকার করছি।
    তারেক জিয়ার বাপ যা বলেছেন এবং তার সম্পর্কে আপনি যা বলেছেন- তা না হয় বাদই দিলাম।
    তথাকথিত রাজনীতি ছাড়া কি রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়?
    কোন রাষ্ট্রে ইসলামী জীবনব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য কি গতানুগতিক রাজনীতিতে অংশ নেয়া অপরিহার্য? নাকি এর জন্য নিজস্ব কোন পথ ও পদ্ধতি রয়েছে?
    জনগন চাইলে আপনি কি বর্তমান রাজনীতিতে অংশ নেবেন?
    না নিলে- কেন নেবেন না?
     

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      জনাব, প্রথমে আমি আপনার সাথে তর্ক-বিতর্ক করা থেকে আল্লাহর শরণ প্রার্থনা করছি। আল্লাহ আমাকে এবং আপনাকে সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করুন। আমীন।

      তারেক জিয়ার বাপ যা বলেছেন সে বিষয়ে আপনার কোনো  একটা ‘অবস্থান’ রয়েছে বলে বাক্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় কিন্তু সে বিষয়টি ‘বাদ’ দিয়েছেন। অথচ তারেকের বাপের মন্তব্যই ছিল আমার মন্তব্যের প্রসঙ্গ। শহীদ জিয়ার religo-political  ধারণার সাথে আপনি সহমত হলে এ নিয়ে আমার বলার কিছু নেই। আমি শুধু আমার অবস্থান প্রকাশ করেছি। কেউ আমার কথা মানতে হবে এমনটি নয়।

      তারপর যে প্রশ্নগুলো করেছেন, সেগুলো অন্য বিষয়। ধারাবাহিকতায় প্রশ্নগুলো স্পষ্ট করার জন্য আরও প্রশ্নের দাবি রাখে। তবে উত্তর না দিলে বলতে পারেন উত্তর দিলাম না। তাই কিছু কথা রাখতে যাচ্ছি।

       ‘তথাকথিত রাজনীতি’ বলতে কী অর্থ নিয়েছেন -তা বুঝতে পারছি না। এটা কি বর্তমানের গণতন্ত্রের নামে যে মিথ্যাচার, ধোঁকাবাজি, স্বৈরাচারী, মাফিয়া-ঘেঁষা লুটেরাতন্ত্র চলছে –এই অর্থের কিছু? যদি তাই হয়, তবে এই পদ্ধতি বাদ দিয়ে অবশ্যই রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব।

      ‘রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ’ কথার অসংখ্য রঙ রয়েছে (তা তথাকথিত হোক অথবা অন্য কোনো ধরণের)। সেই অসংখ্য রঙের একটি সত্য এই যে আপনি [আপনি বলতে আমি একান্ত আপনাকে mean করছি না] কোনো অবস্থাতেই রাজনীতির ছোঁয়াচ ও সিদ্ধান্ত বহির্ভূত নন। মনে করুন আপনার ভূখণ্ডে ‘ক’ ‘খ’ ও ‘ঘ’ এই তিনটি দল আছে। আপনি যদি কোনটিই সমর্থন করেন না, তবুও সেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আপনার withdrawal হবে আপনার ‘রাজনৈতিক’ সিদ্ধান্ত এবং অবস্থান। নিশ্চয় ভাল মন্দের মাত্রায় ময়দানের দলগুলোর মধ্যে ‘সামান্য’ হলেও আপেক্ষিক তারতম্য থেকে থাকবে। আপনি অপেক্ষাকৃত ‘সামান্যতম’ ভাল দলটিকে ভোট দিলে অপেক্ষাকৃত অধিক মন্দের হাতে সমাজ পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে বেঁচে যেত, কেননা ভোট গণনার আগ পর্যন্ত আপনি জানেন না কোন দল বিজয়ী হবে এবং পরিণতির বিচারে একটি ভোট অনেক মূল্যবান হয়ে যেতে পারে। এতটুকু কথার অর্থ হচ্ছে এই যে ভোট-কেন্দ্রিক রাষ্ট্র-পরিচালনা পদ্ধতিতে কেউ তাত্ত্বিক দিক দিয়ে রাজনীতির ঊর্ধ্বে নন, রাজনীতি যতই পঙ্কিল, কদর্য ও মন্দ হোক না কেন।

      কিন্তু ইসলামী জীবন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য এই ‘তথাকথিত রাজনীতিকে’ ভিত্তি করা যৌক্তিক বা অর্থবহ বিষয় নয়। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু দল থাকতে পারে যাদের সাথে আপনি ক্ষেত্র বিশেষে আপাতত ‘সন্ধির’ভিত্তিতে কাজ করতে পারেন। এই কথাটি অনেক ব্যাখ্যা সাপেক্ষ এবং জটিল, যা ব্লগ পরিসরে আলোচনা সম্ভব নয়। আবার সমাজ পরিবর্তনের পদ্ধতিও এমন নয় যে এর আলোচনা এখানে শুরু করা যেতে পারে। তবে সমাজ পরিবর্তনের কাজ প্রধানত সংঘবদ্ধ ভিত্তিতেই হতে হবে যেখানে থাকবে ইসলামের সমাজ জীবনের উদ্দেশ্য, উদ্দেশ্য বিস্তারের প্রোগ্রাম (দাওয়াত/communication and the use of communication medium),  যারা সংঘবদ্ধ হবে তাদের তা’লীম, তারবিয়ার ব্যবস্থা এবং গোটা ব্যবস্থাপনার নেতৃত্ব বুঝা এবং বোঝানো, এবং এই প্রসেসের ব্যাপক নেটওয়ার্কিং এবং repetition.  এই স্তরগুলোর পরতে পরতে নবীর দেখানো পথ এবং কোরানে মানব জাতীর ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে কীভাবে সেই কাজ সংঘটিত হয়েছিল তার গভীর অধ্যয়ন, চর্চা এবং সেগুলোকে কাজের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। যেহেতু ‘ব্যাখ্যার’ মাধ্যমে অনেক পদ্ধতির সমঝ লাভ হবে তাই এখানে মুসলিমদের মধ্যে ভিন্নতা আসবে এবং বহু দল আত্মপ্রকাশ করবে কিন্তু পার্থক্য নিয়ে সবাই নিজেদের মধ্যে কাজ চালিয়ে যেতে ‘শিখতে’ হবে। এসব বিষয়ে আমার অনেক কথা বিভিন্ন সময় আলোচনা করেছি যা আমার ধারণা ব্যক্ত করে।

      “জনগন চাইলে আপনি কি বর্তমান রাজনীতিতে অংশ নেবেন?” এই প্রশ্নটি pragmatic নয়। “জনগণ” চাইল বলে আমি জানব কেমনে? আবার আমি কে এবং আমার ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষার বিষয় কি –তা না জেনে জনগণ এমন কাজ করতে যাবে কেন? অধিকন্তু জনগণ চাইলেও আমি সেখানে যাব কেন? বাংলাদেশের গোটা জনসমষ্টি যদি রেফারেণ্ডামের মাধ্যমে কোনো এক ব্যক্তিকে ক্ষমতা দান করে যার হাতে সমাজ পরিবর্তনের কোনো প্রগ্রাম নেই, সেই উদ্দেশ্যের দল নেই, সেই কাজের অভিজ্ঞতা নেই, সে হঠাৎ করে সেখানে উপনীত হয়ে কিছুই করতে পারবে না বরং উলটো মুসলিম সমাজের দারুণ ক্ষতি করে বসতে পারে। তবে এ কথাও মনে রাখা দরকার যে ‘প্রচলিত কোনো দলে’ যোগদান ছাড়াও সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতিতে contribute করা যায়। কিছু কিছু কাজ অনেকভাবে করা যায়। আমি এই যে লেখাগুলো দিচ্ছি এগুলোও রাজনীতির বাইরে নয়, যদিও দলীয় নয়। এবং এগুলো সমাজ পরিবর্তনের ক্ষুদ্র কণিকা সমষ্টি।

      এই হল আমার উত্তর। এটা সম্ভব যে আপনি যে অর্থে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন আমার উত্তর সেই অর্থের ধারা পরিপূর্ণরূপে ধারণ নাও করতে পারে, অথবা গোটা বিষয়ে মূল থেকেই আপনার দ্বিমত থাকতে পারে। যেটিই হোক না, বিতর্কমূলক না করে মত হিসেবে রেখে যেতে পারেন।

  6. 1
    এম_আহমদ

    ইদানীং তারেক জিয়া তার বাপের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন যে ধর্ম দিয়ে রাজনৈতিক দর্শন গড়ে ওঠতে পারে না। ধর্ম ধর্মই। সময় পেলে এর উপর কিছু লিখব। তবে প্রাথমিক একটি মন্তব্য এভাবে করা যায় যে এক্ষেত্রে তার বাপের ধারণা সঠিক নয়। ধর্ম ও রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে তার ভাল জ্ঞান ছিল বলে উল্লেখিত উক্তিতে প্রকাশ পায় না। 

    1. 1.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      না। আহমেদ ভাই মরহুম জিয়া এই ভাবে বলেননি।  তারেককে বোধহয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ক্ষমতা ফিরে পাবার জন্য শর্ত আরোপ করেছে যে, তারা যেন সেক্যুলার দর্শনকে প্রাধান্য দেয়। তাই ক্ষমতায় যাবার পলিসীর জন্য হয়তো এই ভাবে মিডিয়ার সামনে কথা বলছে। যুদ্ধে আর প্রেমে সব কিছু বৈধ নয় কি? ক্ষমতায় যাবার জন্য যা যা করার তাই করতে হবে! যে দেবতা যে ফুলে পূজো নিবেন সে ফুল দিয়েই তার পুজো করা লাগে। (মনে নেই ৭০ এর নির্বাচনের আগে মুজিবও সবার সবই কিছু মেনে নির্বাচন করেছিলেন। যেই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েগেলেন তখন তিনি যা করতে চাইতেন তাই করে দেখালেন। মুজিব চানক্যবাদী দর্শন ফলো করতে পারলে তারেক কেন পারবেনা)

       

      জিয়া বলেছিলেন- বর্তমান যুগে শুধু ধর্মের উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি নির্ধারণ করা যাবেনা। উদাহরণ স্বরূপ বলেছিলেন যে, ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র যদি সফল হতো তাহলে পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশের জন্ম হতোনা। আর তাতে প্রমাণিত হয় যে, বর্তমান যুগে শুধুমাত্র ধর্মে ভিত্তিতে রাষ্ট্রগঠন সম্ভব নয়। ঠিক সে ভাবে তিনি বলেছিলেন শুধু মাত্র ভাষার ভিত্তিতে এবং জাতিয়তার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়, সম্ভব যদি হতো তাহলে আরবরা এক ভাষাভাষী হয়ে এত গুলোর রাষ্ট্র সৃষ্টি হতোনা। তার মূল ফোকাশ ছিলো ধর্ম, ভাষা, ভৌগলিক অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় সাধণের মাধ্যমে রাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করতে হবে। আমার কাছে তা যৌক্তিক বলে মনে হয়েছে, বাংলাদেশে যা বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদ নামক রাষ্ট্র দর্শন জিয়া প্রবর্তন করেছিলেন।

       

Leave a Reply

Your email address will not be published.