«

»

Dec ২০

কেউ কথা বলতে পারবে না

20141220 no freedom-এক-

কেউ কথা বলতে পারবে না

এই লেখাটি ফরহাদ মাজহার ও তুহিন মালেক সাহেবের ইদানীং ব্রিটেনে সফর ভিত্তিক কিছু আলোচনা নিয়ে, তবে অন্যান্য বিষয়ও আছে। ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র’ এই ছিল গত মাসের সেই শীর্ষক আলোচনা। এতেই তারা বক্তব্য রাখেন। ব্রিটেনে আসার আগে ফরহাদ সাহেবকে প্রথমেই বিমান বন্দরে আটকিয়ে দেয়া হয়। অবশেষে ৮ ঘণ্টা ব্যাপী হেস্তনেস্ত হওয়ার পর ছাড়া পেয়ে আসেন। তুহীন সাহেব দেশে ফিরার আগেই তার উপর কয়েকটি মামলা দায়ের হয়ে যায়। এদেশে তাদের বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে মেরে-ফেলাসহ তাদেরকে সব ধরনের হুমকি-ধমকি সচরাচর দেয়া হয়। এটা স্পষ্ট হয় যে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন। লোমহর্ষক কিছু ঘটনারও উল্লেখ হয়।

বর্তমানের স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের সমালোচনা যারাই করছেন তাদের দশা কী হচ্ছে সে কথা কারও অবিদিত নয়। তাই ফিরিস্তি দিতে হবে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করতে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। গেল বছর কেবল বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর বিশ হাজার মামলার কথার উল্লেখ হয়েছে। জামাতের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় সারির নেতারা জেলে। গত ছয় বৎসর ব্যাপী তাদের অফিস কার্যালয়গুলো তালাবন্ধ। এই হচ্ছে হবুচন্দ্রের দেশ।

 

হবুচন্দ্র রাজা বলেন গবুচন্দ্রে ডেকে– […]

'কাঁদতে কেহ পারবে নাক, যতই মরুক শোকে–

হাসবে আমার যতেক প্রজা, হাসবে যত লোকে।

সান্ত্রী-সেপাই, প্যায়দা, পাইক ঘুরবে ছদ্মবেশে,

কাঁদলে কেহ, আনবে বেঁধে, শাস্তি হবে শেষে।’

 

একটি দাম্ভিক ফ্যাসিস্ট পক্ষের কথা হচ্ছে, আমরা যা বলি তা সত্য বলি। আমরা যে ইতিহাস উল্লেখ করি সেটি সত্য ইতিহাস। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। স্বাধীনতার বিরোধীদের আমরা নির্মূল করব। এদেশে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ থাকতে দেব না। মৌলবাদের শিকড় উপড়ে ফেলব। দেশকে মধ্যযুগে যেতে দেব না। বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই কলঙ্ক। জারজ। এই দলের মিয়া-বিবি (জিয়া-খালেদা জিয়া) পাকিস্তানের গোয়েন্দা। এরা মূলত স্বাধীনতা বিরোধী। জামাত যুদ্ধাপরাধীর দল। নির্মূল করতে হবে। হেফাজতিরা মৌলবাদী সন্ত্রাসী, ‘…[মন্দ কথা]…’। এরা বাড়াবাড়ি করলে ঠেঙ ভেঙ্গে দেয়া হবে।

কিন্তু এই ‘নির্মূল’ সংস্কৃতির উত্থান ঘটিয়ে কি হয়েছে? অস্ত্রের ঝঞ্জনানি, চতুর্বিধ হামলার প্রশিক্ষণ, মেরে ফেলার মানসিকতা তৈরি, দলীয় স্তরগুলোতে ‘শত্রু-বিদ্বেষী-উন্মাদনা সৃষ্টি’ এবং নৈতিক অধঃপতন –এসবের বিস্ফোরিত পরিণতির রূপ কি? পেন্ডরার বক্স থেকে কি বের হচ্ছে? ঘোষ, চুরি, ডাকাতি, গুম, হত্যা, বেশ্যাবৃত্তি, জাতীয় সম্পদের হরিলুট, দলীয়ভাবে চাকুরীতে নিয়োগ, নৈতিকতার চরম অনুপস্থিতি, স্কুল কলেজের প্রশ্নপত্র ফাঁস, জোর যার মুল্লুক তার –মোদ্দা কথা, আজ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বিলুপ্ত, (কিছু নমুনা এখানে দেখুন)। আর যাবতীয় হিড়িকের মধ্যে প্রকাশ পাচ্ছে চরম ইসলাম বিরোধী কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড। মন্ত্রী-মিনিস্টারগণও এই  কাজে এগিয়ে।

কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারবে না। তাদের জীবন, ধর্ম, মূল্যবোধ, নাগরিক অধিকার, মান-সম্ভ্রম, ধন-মানের নিরাপত্তা –সবকিছু যেতে পারে কিন্তু বলতে পারবে না। বললেই, স্বাধীনতা বিরোধী। একাত্তরের চেতনা বিরোধী। সাম্প্রদায়িক। মৌলবাদী।

 

বলে গবু-

‘হুজুর–

ভয় যদি কেউ পায় কখনো দৈত্য, দানা জুজুর,

কিম্বা যদি পিছলে পড়ে মুণ্ডু ফাটায় কেহ,

গাড়ীর তলে কারুর যদি থেঁতলিয়ে যায় দেহ;

কিম্বা যদি কোনো প্রজার কান দুটি যায় কাটা,

কিম্বা যদি পড়ে কারুর পিঠের ওপর ঝাঁটা;

সত্যিকারের বিপন্ন হয় যদি,

তবুও কি সবাই তারা হাসবে নিরবধি?’

রাজা বলেন- ‘গবু-

আমার আইন সকল প্রজার মানতে হবে তবু। …’

(কবি সুনির্মল বসু)

 

-দুই-

সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ

এবারে আলোচনার অন্য মানসিকতায় যাই। ফরহাদ মাজহার ও তুহীন সাহেবের বক্তব্য ছিল এই: কেউ ইসলামের পক্ষে, নৈতিকতার পক্ষে, ইসলামী সমাজের পক্ষে, কথা বললেই সে মৌলবাদী, স্বাধীনতা বিরোধী, চেতনা বিরোধী -এসব হচ্ছে উদ্দেশ্য প্রণোদিত কথা। ইসলামের ‘মোকাবেলায়’ স্বাধীনতার যুদ্ধ ও চেতনার উপলব্ধি এবং ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ ভুল। বাংলাদেশের প্রায় ৯০% নাগরিক মুসলমান। তাছাড়া স্বাধীনতার যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ। ইসলামের কথা বললে কেউ স্বাধীনতার বিপক্ষের হতে পারেন না। কিন্তু ইসলামকে এভাবে কৌশলে স্বাধীনতার ‘মোকাবেলায়’ দাঁড় করানো হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এদেশে অনেক কিছু ঘটে যাচ্ছে যা কাম্য বস্তু নয়।

তুহীন মালেক সাহেব একথাও বলেছেন যে এই বিশ্বের অনেক দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠের হাতে সংখ্যালঘিষ্ঠেরা নির্যাতিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশ হচ্ছে এমন একটি দেশ যেখানে সংখ্যালঘিষ্ঠের হাতে সংখ্যাগরিষ্ঠেরা নির্যাতিত হয়।

আমাদের কথা

আমরা বলব, সমাজের অবস্থা যতই নাজুক হোক না কেন, সামাজিক সমস্যার সমাধান সামাজিকভাবে পেতে হবে, কেউ কাউকে নির্মূল করে সমাধান হবে না। আইনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ নির্মূল করতে হয়ত শুয়ারের খোঁয়াড় গড়া যায়, কিন্তু জন্তুগুলোর প্রকৃতিতে যা তা’ই দ্রুত প্রকাশ হয়ে পড়বে -টাকা আর প্রমোশন লোভে অপরের গলায় ছুরিকা চালাতে কুণ্ঠিত নয় দেখা যাবে। একটি দেশ ও সমাজ হিংসা, জিঘাংসায় গড়ে উঠতে পারে না। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক সমাধান পেতে হবে।

এই প্রেক্ষিতে মাজহার ও মালেক সাহেবের বক্তব্য একটু বিবেচনা করা যাক 

বিষয়টি দেখতে একটু পিছনের দিকে যাই। ১৯৩০ এর দশকে। তখন মুসলিম লীগ অনেকটা ঝিমিয়ে যাচ্ছিল আর জমিদার প্রথা ও সুদী মহাজনদের হাতে সাধারণ মানুষ নিষ্পেষিত হচ্ছিল। এরা ছিল কৃষক এবং গরীব লোক (সর্বসাধারণের কথা হচ্ছে), বেশির ভাগ মুসলমান। কিন্তু একটি দেশে আপনি কেবল মুসলমানের নাম ধরে পরিবর্তনের কথা বলতে গেলে রাজনৈতিক সমস্যা থাকতে পারে। তাই রাজনীতিতে সবাইকে ছোঁয়ে যায় এমন শব্দ ও বিষয় পেতে হবে। এই উদ্দেশ্যে সেদিন (১৯৩৬) এ.কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ (কেপিপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। লক্ষণীয়, দলের যে নামটি নির্বাচন করা হয় সেখানে ইসলাম বা মুসলমান শব্দ ছিল না। কিন্তু দলের যে উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়েছিল সেগুলো হাসিল হলে মুসলমানরাই আর্থ-সামাজিক বন্ধন থেকে পরিত্রাণ পেয়ে যায়। আবার এই আন্দোলনে সবাই জড়িতও হতে পারে। রাজনীতি এভাবেই হয়।

আমি বলব ভাল উদ্দেশ্যে সকল দলের ঐক্যভিত্তিক কাজেই কল্যাণ নিহিত। তাদের বক্তব্য বস্তুনিষ্ঠভাবে বিবেচনা করা জরুরি। স্বৈরাচারী-পরাধীনতা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে এটা করতে হবে এবং আলোচনা বৃহত্তর পর্যায়ে হতে হবে। সেদিন, সত্তর/একাত্তরে, সকল দল ও শ্রেণীতে স্বাধীনতা বিষয়ক কোনো আলোচনা হয়নি। এটা বামপন্থি ও ভারতপন্থি একশ্রেণীতেই সীমাবদ্ধ ছিল। আ’লীগের প্রধান নেতৃত্বও স্বাধীনতা চায় নি। তাই সামষ্ঠিক আলোচনা ব্যতিরেকে সামষ্ঠিক প্রস্তুতি ও মানসিকতা তৈরি হয় নি। সার্বিকভাবে সর্বদলীয় আলোচনা ও বস্তুনিষ্ঠ বিবেচনা যে কত জরুরি তা ইদানীং কালের স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা বিষয় আলোচনায় দেখা যেতে পারে।

একাত্তর ছিল অসংখ্য দিক থেকে গড়ে উঠা এক কালীন জটিল মূহুর্ত্ত। আজ, পারস্পারিক দোষাদোষী বাদ দিয়ে, জাতি গঠনের কাজ করতে হবে। এই কাজে ফ্যাসিস্টরা আসবে না কারণ ‘অতীত-মানসিকতা’ ও পিয়ার-গ্রুপ ছেড়ে আসা সহজ হয় না। নবী-রাসূলের যুগে বিরোধিতার কারণও অনেকটা এরূপ ছিল। তাই আজকের ফ্যাসিবাদীরা জটিলতা সৃষ্টি করবে, এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। এটা জেনেই সবাইকে কাজ করে যেতে হবে।

পানি অনেক ঘোলা হয়ে গিয়েছে। তবুও আপনি যদি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ নিয়ে আওয়াজ তোলেন, তবে এতে সকল পক্ষের প্রাপ্তির ধারণা পাওয়া যাবে। যার যার দল নিয়ে ঐক্যের কাজ করতে পারবে। অধিকন্তু এতে একাত্তরের ‘অবিকল’ উদ্দেশ্য রয়েছে। এই আন্দোলন যদি সফল হয় এবং এরই ভিত্তিতে যদি ‘জনগণ যে শাসনতন্ত্র (গঠনতন্ত্র) চায়’ সেই ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা সেদিনের কেপিপির মত স্বচ্ছ রাজনীতি হয়ে যাবে। গণতন্ত্রান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রসেস সুষ্ঠু হলে মুসলমানদের অধিকার অমনিতেই নিশ্চিত হবে, বলার দরকার পড়বে না এবং এতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মাথায় লবণ রেখে, মুনাফিকদের মাধ্যমে, সংখ্যালঘিষ্ঠ যে পক্ষ ‘বরই’ খেয়ে যাচ্ছে সেই চিত্র উন্মোচিত হবে এবং সেটির চির-অবসান হবে। মনে রাখতে হবে এই দেশ সকলের: হিন্দু, মুসলিম, খৃষ্টিয়ান, বৌদ্ধ, সকল জাতি-উপজাতির। যারা বিদেশ থেকে গিয়ে সেখানে বাসিন্দা হবে তাদেরও। আল্লাহর জগতে আল্লাহর সৃষ্টি সুষ্ঠু জীবন পাক –এটাই কি কাম্য হওয়া উচিৎ নয়?

-তিন-

ফরহাদ মাজহার ধর্মীয় গোষ্ঠীর আমীর

একাত্তরে একটি বিশেষ শ্রেণী ২২ পরিবার ও অপরের সম্পদ লুন্ঠণের জন্য স্বাধীনতার আওয়াজের পিছনে ছিল, তাদের নিজেদের স্বার্থে, এবং তারা লাভবানও হয়েছে। টাকার পাহাড় গড়েছে। তারা এবং ব্রাহ্মণ্য প্রভাবিত শ্রেণীর হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। তারা কিছু আবেগী কথা দিয়ে নিজেদের পক্ষে এক শ্রেণীর চাটুকার সৃষ্টি করেছে। এভাবে গড়ে তোলেছে সামাজিক পরিমণ্ডল ও মানসিক পরিস্থিতি। আজ তাদের মোকাবেলায় যারাই যে উদ্দেশ্য নিয়ে আসবে তাদেরকে ওরা নিজেদের দল দিয়ে আক্রমণ করবে। ব্যক্তি পর্যায়েও। কখনো মেরে ফেলবে; কখনো গুম করবে; জেলে নেবে; নির্যাতন করবে; দৌড়ের উপর রাখবে (সন্ত্রাসী তো); মামলার পর মামলা দাখিল করবে; মিথ্যার ইন্দ্রজাল তৈরি করবে। আজকের অবস্থা এরূপই।

মাজহার সাহেব এবং মালেক সাহেব তাদের বক্তব্যে শ্রোতাদেরকে নিজেদের দিকে আহবান করেন নি। তারা দেশের অবস্থা তুলে ধরেছেন। ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছেন। কেডারভিত্তিক দলের কেউ চাইলেও তাদের কাউকে ধরে এনে নেতা বানাতে পারে না, গঠনতন্ত্র বদলানো ছাড়া। সুতরাং ফ্যাসিবাদীরা যা কিছু বলে তা প্রতারণা, অতিরঞ্জন। মাজহার সাহেব নাকি ইসলামী দলের নেতৃত্ব নিচ্ছেন, তিনি নাকি জামাতের আমীর। আগে খালেদাকেও জামাতের আমীর বলা হয়েছে। এখনো মাঝে মধ্যে বলা হয়। এটা হচ্ছে মস্তিষ্কশুন্য গোয়ার্থমি কায়দায় প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার হীন পায়তারা।  

দেখে থাকবেন, হনু, মনু ও নির্মূল পালেরা এক চরম ইসলাম-বিদ্বেষী ইতর-নাস্তিক থাবা-বাবাকে শহীদ আখ্যায়িত করে, নানান ধর্মের আস্তিক-নাস্তিক যুবক-যুবতীর মহড়ায়, ৩ তকবীর ও বেঅজুতে-দাঁড়িয়ে-যাওয়া ছাতুদের মাধ্যমে জানাযা পড়িয়ে তাকে বেহেস্তি দেখানোর অক্লান্ত কসরত করছে কিন্তু পিয়াস করীমের বেলায় প্রশ্ন তুলছে, ‘ও তো পশ্চিম দিকে হোঁচট খায়নি, আগে কি করেছিল? তার বউ কি নামাজ পড়ে?’ এদের কাছে বাংলাদেশের আলেম-ওলামাগণ সার্বিকভাবে ধর্মব্যবসায়ী। তারা নাকি ধর্মের এজেন্সি হাতে নিয়েছেন। কিন্তু ধর্মের এজেন্সি তারা নেবেন, না ওরা? ওরা কি ধর্মে এজেন্সিও নিজেদের হাতে তোলে নিতে কম ‘খায়েশ’ দেখাচ্ছে? ভাগ্যিস, তাদের কথাবার্তায় ধর্মজ্ঞানশুন্যতা ও মস্তিষ্ক্যশুন্যতা প্রকাশ পেয়ে যায় বলে মানুষ তাদের কথা আমলে নেয় না।

আজ ফ্যাসি-নির্মূল-জিঘাংসা ও উগ্রবাদী ঘরানার পিছন থেকে যারাই সরে পড়ছেন অথবা তাদের সমালোচনা করেছেন, তাদেরকে ওরা যৌক্তিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই আক্রমণ, নির্মূল, হামলা-মামলা ও দৌড়ের উপরই রাখছে। কারণ এগুলোতেই তারা অভ্যস্ত। এগুলোতেই তাদের ‘ঐতিহ্য’। কিন্তু প্রশ্ন তো অবশ্যই হবে, কেন? এটা কোন স্বাধীনতা, কোন চেতনা? কেন কেউ কথা বলতে পারবে না? কেন তাদের মান-সম্ভ্রম হারাতে হবে? আপনার বিপক্ষে গেল বলে তার জন্য কি ন্যায় বিচারের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়বে? জাতিকে এই দ্বন্দ্বে নিপতিত করায় কারা লাভবান হচ্ছে?

আজ নির্মূলগণ জাতীয় ঐক্যকে নির্মূল করে দিয়েছে। এরা হিংস্র, উগ্র, দালাল। এই অবস্থা থেকে ফিরতে হবে। জাতি পুনর্গঠিত হতে হবে। এর জন্য সার্বিক ঐক্যের বক্তব্য পেতে হবে। ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ’ –এই কথাগুলোতে যদি পাওয়া যায়, তবে সেগুলো বিবেচনা করতে হবে। যদি না পাওয়া যায়, তবে বিকল্প কোথায় তাও বিবেচনা করতে হবে।

৯ comments

Skip to comment form

  1. 5
    Shahriar

    good thought and write..

    1. 5.1
      এম_আহমদ

      @Shahriar:

      Thank you for commenting, but it would be a good idea to expand the comment in a way that the readers can appreciate what makes you say what you say. It can bring some flavour to the reading audience. Moreover, a comment can enrich the main discussion if it hits the mark appropriately. Keep well. Regards.  

  2. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    আমার পাশের বাড়ির ছেলে কলেজে পড়তেছে, সে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে- ধর্ম গ্রহণে তো আমার হাত ছিলনা, জন্ম সূত্রে আমাকে গছিয়ে দেয়া হয়েছে! মসজিদেও নামাজ পড়তে যেতে চাইনা কিন্তু জোর করে বছরে দুই/একবার যেতে বাধ্য করা হয়"।

    যে ছেলেটি এই ভাবে স্ট্যাটাস দিয়েছে, সে আমাদের অজ পাড়াগাঁয়ের ছেলে, মাত্র দুই জেনারেশন শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছে। তার দাদা পর দাদা তার উর্ধে কেউ লেখা পড়া জানা লোক ছিলোনা মানে বংশে চৌদ্দগোষ্ঠির মধ্যে কেউ লেখা পড়ার সুযোগ পায়নি। তবে তার দাদার ভাই মুসলিমদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ুক এই লক্ষ্যে হাই স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২ বিঘা জমি ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সে যায়গায় স্কুল না হওয়ায় ঐ ব্যক্তির সন্তানগণ যে যায়গা পুনরায় দখলে নিয়ে গেছে, যদিও তা ওয়াকফ সম্পত্তি হিসাবেই আছে।

    পাকিস্তান হবার কারণে বাংগালী মুসলিমদের জন্য শিক্ষা গ্রহণ অনেকটা সহজ হয়ে গিয়েছিলো, যার কারণে আমার উল্লেখিত কলেজ পড়ুয়া ছেলেটির বাবা সারা বংশের মধ্যে প্রথম এইচ এস সি পাশ করে স্কুল শিক্ষকতার চাকুরী গ্রহণ করতে সক্ষম হোন। এবং আমাদের গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের প্রধাণ শিক্ষক হিসাবে এখন কর্মরত আছেন, বছর দুইয়ের মধ্যে অবসরে চলে যাবেন। এই স্কুল শিক্ষকের ছেলে এখন আমাদের শহরের সরকারী কলেজ থেকে অনার্স করছে! হয়তো বলবেন যে, ছেলেটি কলেজে এসে এই ভাবে চিন্তা চেতনার অধিকারী হয়েছে। কিন্তু না এই সব ছেলেদের ভিতর কৌশলে শিশু অবস্থায় তাদের মনে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে সেই প্রাইমারি স্কুল থেকেই। স্কুলের এক শিক্ষক এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    এখন প্রশ্ন এই যদি হয় অজপাড়া গ্রামের স্কুলের ছাত্রদের মগজ ওয়াশ তাহলে এই দেশে ইসলাম ঠিকে থাকবে কেমন করে?

    1. 4.1
      এম_আহমদ

      @মুনিম সিদ্দিকী: সব কথাই ঠিক। তবে মগজ ধোলাই করা শ্রেণীতে এক বিশেষ ধরণের ইসলাম থাকবে। কামাল পাশার মডেল। মদ্যপান হবে। নারী-পুরুষের দেহজ-খেলা হবে। যুবক-যুবতীগণ একত্রে বসবাস। (এগুলো তো এখনই সুবিস্তৃত!) ‘সাংস্কৃতিক মুসলিম’ (নাস্তিক) ও বৈষ্ণবী মুসলিমদের সমন্বয়ে গঠিত এই ‘ইসলামী-ব্রান্ড’ নিয়ে তারা গোটা মুসলিম বিশ্বের মোকাবেলায় ফখর করবে। তখন ইসলামের ‘এজেন্সি’ তাদের হাতে থাকবে। এখন জামাত-হেফাজতিরা নিয়ে গেছে তাই পাকিস্তানকে সামনে রেখেই চলছে মিডিয়া প্রতারণা:  নাটক,গল্প, টক-শো, পাঠ্যপুস্তক এগুলো দিয়েই শৈশব থেকে কালোকে সাদা করা এবং সাদাকে কালো করা। চালিয়ে যান, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী। কলমের কাজটি করে গেলেও কিয়ামতের অন্তত একটুকু কথা বলতে পারবেন যে আমি আর কিছু পারি নি, এই সামান্য করেছি।

  3. 3
    Rafi

    "দেখে থাকবেন, হনু, মনু ও নির্মূল পালেরা এক চরম ইসলাম-বিদ্বেষী ইতর-নাস্তিক থাবা-বাবাকে শহীদ আখ্যায়িত করে, নানান ধর্মের আস্তিক-নাস্তিক যুবক-যুবতীর মহড়ায়, ৩ তকবীর ও বেঅজুতে-দাঁড়িয়ে-যাওয়া ছাতুদের মাধ্যমে জানাযা পড়িয়ে তাকে বেহেস্তি দেখানোর অক্লান্ত কসরত করছে কিন্তু পিয়াস করীমের বেলায় প্রশ্ন তুলছে, ‘ও তো পশ্চিম দিকে হোঁচট খায়নি, আগে কি করেছিল"———

     

    ভাইজান- কি কইলেন? থাবা বাবা না ইসলামের সৈনিক হইতে পারত? ফরহাদ মযহার আাবার কিডা? হে আম্লিগের বিপক্সে কথা কইব? এত্ত বড় সাহুস!

     

     

     

     

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      @Rafi: হ্যাঁ ভাই, সত্য বলেছেন, "থাবা বাবা না ইসলামের সৈনিক হইতে পারত", কিন্তু ফরহাদ মাজহার সে, সৈনিক হওয়া দূরে থাকুক, ইসলামের পক্ষে কথা বলতেও সমস্যা হতে পারে -এখানেই প্রকৃত বিশ্বাস ও অপর আদর্শের লেন্সে-পরিহিত বিশ্বাসের পার্থক্য। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  4. 2
    মহিউদ্দিন

    অকপটে সত্য কথাগুলা অত্যন্ত স্পষ্টাক্ষরে প্রকাশ করেছেন। অশেষ ধন্যবাদ।  

    যদিও যাদের উদ্দেশ্য এ কথাগুলা বলেছেন ওরা শুনতে চাইবে না কারণ তারা অতীত নিয়েই থাকতে এবং  অতীত নিয়েই বাঁচতে চায় কেননা তাহলেই তাদের বর্তমানের কুকর্মকে ও অপরাধকে ঢাকতে পারে।  সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এর চেয়ে মোক্ষম পন্থা আর কি হতে পারে?  

    তবে এসব কথা আসা দরকার। আজ সবচেয়ে প্রয়োজন হচ্ছে সাহস করে এগিয়ে আসার। মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হল তার অন্তরের ভয়।  

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      @মহিউদ্দিন: ভাই, মানুষ সাধারণত তাদের নিজেদের বিশেষ বিশেষ আদর্শের লোকদের সাথেই থাকে। আমরা যারা ইসলাম ইসলাম করি, তাদের অবস্থাও তাই। এই মর্মে একটি হাদিসও আছে, المرء على دين خليله فلينظر أحدكم من يُخَالِل মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনেই (ধর্মে) থাকে। সুতরাং এক ব্যক্তিকে দেখতে হবে সে কার সাথে বন্ধুত্ব করবে।  

      তবে মানুষ তাদের নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করার বিষয়টি আবার বড় আকারে মানবিক এবং মনস্তাত্ত্বিক। আপনি হয়ত এক গ্রুপের সাথে এতকাল খেলানেলা করছেন (রাজনীতি করেছেন), এখন দলীয় অবস্থানের মোকাবেলা|য় অন্য পথে হাঁটতে পারবেন না সত্য যদিও ওখানে থেকে থাকে। বরং চাইবেন নিজের ভুলকে কোনো ব্যাখ্যায় শুদ্ধ দেখিয়ে যেতে। তবে কখনো কোনো একটি দিকে জোয়ার বইতে শুরু করলে, তারাও কিছুটা নড়ে। তখন ‘নড়ার’ জাসিটফিকেশন পায়। তো আমাদের কাজ শুধু বলে যাওয়া। কেউ শোনা না শোনার ব্যাপার আমাদের আওতায় নেই।

  5. 1
    এম_আহমদ

    এ প্রসঙ্গে মহিভাইয়ের ব্লগে আমি আরও ৪টি মন্তব্য করেছি। কেউ না পড়ে থাকলে দেখে নিতে পারেন।

    (১) আলোচনা স্টল করার প্রচেষ্টা ০৮/১২/১৪

    (২)বক্তব্যের কিছু মূল দিক ০৯/১২/১৪

    (৩) বক্তব্যের বৈশ্বিক ২/১ দিক ১৪/১২/১৩

    (৪) মাজহার সাহেবকে নিয়ে ধর্মীয় আক্রমণ ১৭/১২/১৪

Leave a Reply

Your email address will not be published.