«

»

Feb ২৭

অভিজিৎ হত্যা

চলতি মাসের (ফেব্রুয়ারি ২০১৫) ১৩ই তারিখে নর্থ কেরোলাইনায় একজন ইসলাম বিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গ নাস্তিকের হাতে ৩ জন মুসলিমের নির্মম হত্যা-কাণ্ড নিয়ে একটি লেখা সদালাপে দিয়েছিলাম, তা এখনো প্রথম পাতায় রয়েছে, সেখানে মুক্তমনাদের ব্যাপারে বলেছিলাম, "আমরা কখনো মনে করি না যে এই ঘটনার জন্য গোটা নাস্তিক সম্প্রদায় দায়ী, অথবা তাদের কেউ এর জন্য এপোলোজেটিক হতে হবে” [লিঙ্ক]। আমরা অপরাধকে অপরাধ হিসেবে দেখতে চাই। মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত রায়ের হত্যার ব্যাপারে আমাদের সেই একই নীতি –একই কথা।

মুক্তমনাদের ধর্মবিরোধ, ধর্ম-বিদ্বেষ ও এই পরিধিতে অনেক প্রোপাগান্ডামূলক লেখা রয়েছে। তাদের অনেক উগ্র-কর্মকাণ্ড সামাজিক সংহতির বিপরীত। একটি পক্ষ অন্য পক্ষের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ "ধ্বংস" করে 'বৈজ্ঞানিকভাবে' সমাজ ব্যবস্থার পূণর্গঠন ও পূণর্বিন্যাসের আন্দোলন শান্তির পরিবর্তে কেবল দ্বন্দ্ব-বিদ্বেষ ও দানা-দানিই সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য আমরা উগ্র-নাস্তিকতার বিপক্ষে, এই নাস্তিকতাই অন্ধ, যা বিজ্ঞানবাদের ভাঁওতাবাজিতে মানবতাবিমুখ হয়ে সামাজিক হুমকি হয়ে দেখা দেয়। যদিও সময় এখন নাজুক, আলোচনার প্রেক্ষিতও নাজুক, এই  মুহুর্ত্তে অভিজিত রায়ের হত্যার সঠিক তদন্ত হোক, অপরাধীদের বিচার হোক -এটাই প্রথম কথা। তবে, ঘটনার নাজুকতা সত্ত্বেও চতুর্দিকে লেখা-লেখি হচ্ছে, তাই নাজুকতার বিষয়টি খেয়ালে রেখেই এ বিষয়ে কিছু কথা রাখতে যাচ্ছি, কেননা আলোচনা সর্বত্রই চলছে। 

মুক্তমনা-মুখোশে অভিজিত রায়ের অনেক কর্মকাণ্ড আমাদের দৃষ্টিতে উগ্র ও ইসলাম বিদ্বেষী ছিল; তিনি ও তার মতো উগ্রদের অনেকেই ইসলামি বই-পুস্তক থেকে carefully selected marginal text থেকে ভাঙচুর করে, ইসলামের নবীকে (সা.) নিয়ে, তাঁর স্ত্রীদেরকে নিয়ে, মুসলিম সমাজ নিয়ে, কোরান হাদিস নিয়ে, ইতিহাস নিয়ে, ইচ্ছেমত ব্যাখ্যা জুড়ে দিয়ে, যথেচ্ছভাবে যেরূপে একটি জনগোষ্ঠীকে vilify করে যাচ্ছিলেন তাতে তাদের নিজেদের উগ্র-নাস্তিক্যবাদী সাম্প্রদায়িকতা বেশিই প্রকাশ পাচ্ছিল। এসব কর্ম-কাণ্ডে তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের 'নতুন বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠা':  সাংঘর্ষিকতার মাধ্যমে এই জগত থেকে ধর্ম-নির্মূল করা।  কিন্তু এই পদ্ধতিতে কখনো সামাজিক সৌহার্দ, সংহতি ও ভালবাসার বিষয়টি অনুকূল হয় না, এবং হবার মতও নয়। নিজেদের বৈজ্ঞানিক অবস্থান দেখাতে মুসলমানদের নবীকে (সা.) আক্রমণ, তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করা, তাদের কোরান তাদেরকে সন্ত্রাসী করে -আর এসব তামাশা দিনরাত করে যাওয়াতে শান্তির কিছু নেই। কারো নাস্তিক্যবাদ এমন কর্ম-কাণ্ড ছাড়াই করা যেতে পারে, এবং এতে উগ্রতা ও সাংঘর্ষিকতা এড়িয়ে চলা যায়। তারা অনেক বৎসর এগুলো চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু, এই ধরণের কর্ম-তৎপরতা যে সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করবে একথা আমি প্রথম দিন ব্লগ-জগতে ঢুকেই বলেছি। আর যারা বাংলাদেশে একটি "দ্বিতীয় যুদ্ধের নামে" চরম উদ্যমে সর্বত্র ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তাদের ব্যাপারেও একথা বলার চেষ্টা করেছি যে এই পদ্ধতিতে সমাজ পরিবর্তনের (social change) থিওরি ভুল, বিশেষ করে দীর্ঘ সূত্রিতায়।

সমাজ পরিবর্তের যেকয়টি থিওরি ও উপাদান সমাজ বিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আলোচিত হয় তার মধ্যে যুদ্ধ ও দ্বান্দ্বিক (war and conflict) থিওরি অন্যতম। সমাজে ধীরে ধীরে, লিনিয়ার (linear social change) পদ্ধতিতে যে পরিবর্তন আসে তা অত্যন্ত স্লো (ধীরগতির) দেখা যায়। তারপর সেই পরিবর্তন কোনদিকে যাবে –তার কোনো সঠিক নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে, যুদ্ধের মাধ্যমে যে পরিবর্তন আনা হয় তাতে বিজয়ী পক্ষের ইচ্ছে, তাদের ধ্যান-ধারণা, তাদের ন্যায়নীতি, তাদের আদর্শ চাপিয়ে দেয়া যায়। অতীতের অনেক যুদ্ধে এর উদাহরণ রয়েছে। যুদ্ধে সমাজের অবস্থা তোলপাড় হয়। বিজয়ীর কাছে পরাজিতরা নতজানু হতে হয়। বেশি দূরে না গিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সামাজিক বাস্তবতা দেখুন। নিত্যদিনের আরব দেশের অবস্থা দেখুন। উইপন অব মাস ডিস্ট্রাকসনের নামে (weapon of mass destruction) যে নির্মম ও বিধ্বংসী যুদ্ধ পরিচালিত হয় সেই যুদ্ধের বিপক্ষে বড় বড় বিজ্ঞানী (ইউরোপের এবং বিশেষ  করে ইংল্যান্ডের) যারা ইরাকের রিসার্চ কাজে সহায়তা করেছিলেন তারা হাতে-পায়ে ধরে বলেছিলেন ওখানে উইপন অব মাস ডিস্ট্রাকনের কিছু নেই –কিন্তু যারা যুদ্ধ চেয়েছিল তাদের উদ্দেশ্য ছিল অন্যটা: সমাজ পরিবর্তন। আর তাদের সেই এজেন্ডা এখনো চলছে।

কিন্তু যে জিনিসটি পরিবর্তনবাদীদের খেয়ালে নেই তাহল অর্জিত পরিবর্তন কালের আবর্তনে টিকে থাকে না। এবং বিশেষ করে, যে জাতির বিশেষ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে –তাদের আরকিটাইপল কনসাসনেস (archetypal consciousness)  উহ্য করা যায় না। ওরা আবার তাদের মূলের দিকে ফিরে যায়। প্রথম মহাযুদ্ধের পর তুর্কির কী দশা ঘটানো হয়েছিল সেই কথা চিন্তা করুন। আর আজ দেখুন ৯২ বছর পর কি হয়েছে। রাশিয়ায় কী হয়েছিল? আজ দেখুন কী হয়েছে। আজকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় যুদ্ধের কথা ভাবুন। দেখুন এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কত প্রাণ নিঃশেষ হয়েছে; কত লোক পঙ্গু হয়েছে; কত বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন হয়েছে; কত লোকের জীবন বিপন্ন হয়েছে; কত টাকা উজাড় হয়েছে; এই যোদ্ধাদের (ময়দানের যোদ্ধাদের) জ্ঞানের দিকে তাকান; তাদের যুক্তির দিকে তাকান; তাদের ভাষার দিকে তাকান –দেখবেন, ওরা কৌশলে আবেগ-তাড়িত স্থূলদৃষ্টির লোক, অন্যের বুঝিয়ে দেয়া যুদ্ধ করছে। ধর্ম মানুষকে প্রতিশোধ ও আবেগপ্রবণতা থেকে বাঁচিয়ে প্রেম ও ভালোবাসার যে আবেগ সঞ্চালন করে, যে যুক্তি দেখায়, এই শ্রেণী সেই যুক্তির পরিবর্তে উল্টো যুক্তি, পর্দার পিছনের ভিন্ন শ্রেণীর কাছ থেকে ধারণ করেছে; যেমনটি সব যুদ্ধের পিছনে থেকে প্রায়ই হয়ে থাকে –ইরাক যুদ্ধ সাক্ষাত উদাহরণ। আজ বাংলাদেশের সার্বিক নৈতিক অবস্থার দিকে তাকান; আইনের দিকে তাকান; অপরাধের দিকে তাকান; স্বাধীনতার পর থেকে অপরাধের ফিরিস্তি দেখুন। তারপরও যদি আপনি ধাপ্পাবাজি বুঝতে না পারেন, তবে আপনার আর বুঝার দরকার নেই, আপনি নিজেই সেই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। But remember, it’s a war of social change, it’s a war to bring modernity, not simply to bring technological change, but with it, the positivist philosophy of modernity devoid of religion, the philosophy of the Ovijits.

তবে মনে রাখতে হবে,  মুক্তমনারা তাদের দ্বিতীয় যুদ্ধের মাধ্যমে ধর্মকে রাষ্ট্রীয় শক্তি দিয়ে কোণঠাসা করতে পারলেও এটা সুদীর্ঘকাল ব্যাপী ঠিকে থাকবে না। এটা কেবল একটি নির্দিষ্টকালে খুন, খারাবী ও ধ্বংসের মাধ্যমে আপাতত প্রতিষ্ঠিত হবে। অধিকন্তু, রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে প্রতিপক্ষের হাজারজন মেরে ফেললেও আপনার পক্ষেরও ১০/৫ জন মরবে। আজ আমেরিকা-চালিত বৈশ্বিক যুদ্ধে আমেরিকান আহত-নিহত সৈন্যসংখ্যার দিকে তাকিয়ে দেখুন।

আমরা মুক্তমনাদের ধর্ম-নির্মূলের কর্মকাণ্ড ও প্রোপাগান্ডার রূপ ও পদ্ধতি দেখে স্থানভেদে এটাকে সাম্প্রদায়িক এবং স্থানভেদে ফ্যাসিস্ট বলেছি। সদালাপে, ১৪ অক্টোবর ২০১২ সালে আমার লেখা,  ‘মুক্তমনা ও নাস্তিক মিলিট্যান্সি’ প্রবন্ধে বলেছি:

এখন একদল গোঁড়াপন্থি-নাস্তিক যারা অপরের ধর্ম নিয়ে ক্যাট-ক্যাট, ঘ্যাঁট-ধ্যাঁটেই আবদ্ধ, যারা বিশ্বের প্রচলিত ধর্মগুলোকে উড়িয়ে দিয়ে ধরায় মানব-স্বর্গ রচনা করতে চায়, তারা সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব/বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। এইসব মিলিট্যান্ট কর্মকাণ্ডে সকল নাস্তিক ও অজ্ঞেয়বাদী জড়িত নন। আমাদের অনেক শিক্ষক, সহপাটি ছাত্র, কর্মজীবনে অনেক লোকের মধ্যে নাস্তিক ও অজ্ঞেয়বাদী দেখছি যাদের কাউকে মুক্তমনা প্রত্যয় ও কর্মে দেখিনি। সুতরাং ‘উগ্র-বঙ্গাল-গোঁড়া-নাস্তিকরা’ সকল অজ্ঞেয়বাদী ও নাস্তিককে এক ভাবা সঠিক নয়। সমাজে যতটুকু সাম্প্রদায়িক সু-সম্পর্ক রয়েছে, বঙ্গাল গোঁড়ারা সেই অবশিষ্ট শান্তিটুকু নস্যাৎ করতে ধর্ম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। এরা উগ্র, নাস্তিক মৌলবাদী। [লিঙ্ক]

অভিজিত রায়ের নাস্তিক্যবাদ  মিলিটেন্ট ছিল, এতে ধর্মই ছিল সব অনর্থের মূল, এবং ধর্ম নির্মূলেই জাগতিক শান্তি -এমন ধ্যান-ধারণা রয়েছে যা আপনাতেই সামাজিক সংঘর্ষের ধারণা বহন করে। ধর্ম-বিশ্বাস তার কাছে একটি 'ভাইরাস', আর ভাইরাসকে তো নির্মূল করতেই হয়। এই ধারণা সাক্ষাতভাবে ফ্যাসিস্ট। তিনি যে সাইট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই সাইটটি ছিল এমনই নাস্তিক্যবাদ প্রচারের একটি হাতিয়ার। তবে  হ্যাঁ, সাথে অন্য ধরণের লেখাও ছিল যেসবের বিভিন্ন দিক এই সদালাপে অনেকেই আলোচনা করেছেন। এখানে শুধু ধর্মীয় দিকের কথা হচ্ছে। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অভিজিত রায়ের স্বচ্ছ কোন জ্ঞান ছিল না। কোরান হাদিস না বুঝেই কোরান হাদিসের ভাষ্য ক্যারিকেচারের (caricature) মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা করেছেন। কোরান হাদিসের টেক্সট হৃদঙ্গয়ম করতে স্থানভেদে যে বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে -সেই দিকটি তিনি অবহেলা করেছেন। সস্যিয়েল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ব্লগে তার ব্যাপারে অনেক লেখা রয়েছে। তাকে কেউ কেউ হিন্দু ধর্মের লোক হিসেবে দেখেছেন, এবং ইসলামকে আক্রমণের জন্য তার অবস্থান নাস্তিক্যবাদের মুখোশ হিসেবে ছিল বলে অভিযোগ করেছেন। তবে ঘটনা যা’ই হোক, ইসলাম অবশ্য তার ‘পরধর্ম’ ছিল। কিন্তু এই পরধর্মে তার সহিষ্ণুতা ছিল বলে পরিলক্ষিত হয়নি।

অভিজিত রায় মুক্তমনা বা ফ্রি-থিঙ্কার কথাটি যেভাবে নিজ ব্যাখ্যায় নিজের মত করে দেখেছেন, সেই দেখায় অনেক prejudice প্রকাশ পেয়েছে। তিনি মুসলিমদেরকে স্থানভেদে পশু বানিয়েছেন। তারপর ‘মুক্তমনে’ ব্যাখ্যা সাজিয়ে সেই অবস্থান হালাল করতে চেয়েছেন। মুসলমানদেরকে সচরাচর ছাগু, কাঁঠাল-পাতা, ধর্মান্ধ, উন্মাদ ইত্যাদি (গালাগালি!) করেছেন। তারই এক জ্ঞাতি ভাই সুমন কবীর মুসলমান হয়ে গেলে তার উপরও ছাগু উপাধি অর্পণ করতে "ধর্মীয় ব্যাখ্যাবিদ" সেজেছিলেন। অভিজিত রায়ের কাছে ‘মুসলিম মানেই বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত ছাগু, জঙ্গী, সন্ত্রাসী, ছুপা সন্ত্রাসী, ইত্যাদি’ (এস এম রায়হান)। তবে ছাগু উপাধির ব্যবহার তাদের অনেকেরই অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। ছাগু অন্যরূপ ক্ষেত্রাদিতেও আরোপ হচ্ছিল, এবং বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনের একটি আদর্শ ভিত্তিক (ideological) আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধও ছিল একটি বিষয়। তবে, কে ‘ছাগু’, কে যুদ্ধাপরাধের পক্ষের, সেটা ‘তাদেরই’ উপাধি সাপেক্ষ থেকে গিয়েছিল। তারা যাকে ইচ্ছে তাকেই সেই "উপাধি" বিতরণ করছিল। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের ১১ জন সেক্টর কমাণ্ডারদের ৬ জনের উপরও রাজাকার উপাধি আরোপন করা হয়ে গিয়েছে! বাকী ৫ জনের একজন দীর্ঘ সূত্রিতায় শেখ মুজিব হত্যার সাথে জড়িত বলে খোদ আওয়ামী লীগের কেউ কেউ অভিযোগ আরোপ করছেন। এসবের শেষ নেই। তবে কে ছাগু, কে রাজাকার এ বিষয়ে তারাই ছিলেন দ্যা জাজ,  জুরি, এণ্ড ইক্সিকিউশনার (Judge, jury and executioner)। তারা যাকে উপাধি দিয়েছে্ন, অমনি তাদের চ্যালাগণ তা প্রোপাগান্ডায় মাতিয়ে তুলেছেন। এভাবে কোন সমাজ চলতে পারে না।

আমার অন্যান্য লেখায় বলেছি যে কারো ধর্ম ও ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আক্রমণ চালানো এক ধরণের ফাসাদ বা বিপর্যয়। এসব হচ্ছে পক্ষান্তরে অপরাধ। এবং সকল অপরাধকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা দরকার। এখানে দল গোষ্ঠী জড়ালে আরও সামাজিক ফিতনা সৃষ্টি হবে। আমরা বলব অভিজিৎ হত্যার সঠিক তদন্ত হোক, এবং শুধু অভিজিত কেন, সকল হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। গত বৎসরের একটি রিপোর্টে দেখেছি যে বাংলাদেশে নাকি পড়ে প্রতিদিন ১৪ লোক বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হন। এরা সবাই মানুষ। এদের নাগরিক অধিকার রয়েছে। বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। অতীতের যুদ্ধের নামে ‘দ্বিতীয় যুদ্ধ’ করে মানুষের সার্বিক অধিকার কেড়ে নেয়াতে কোনো মনুষ্যত্ব নেই। এ বৎসর তো ক্রসফায়ারের নামে এই মন্দ কাজটি আরও বেড়ে গিয়েছে। আমরা কখনো চাইব না যে কোনো মানুষ বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হোক।

অন্যান্য হত্যার মত আমরা অভিজিৎ হত্যাকে রাজনীতিকরণ থেকে মুক্ত রাখতে সরকার পক্ষ এবং মুক্তমনাপক্ষকে আহবান করব। কেননা রাজনীতিকরণের পর সেটা বিচারের পরিধি থেকে যেন ছিটকে পড়ে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশ সরকার অভিজিতের হত্যাকে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে অলরেডি রাজনীতিকরণ করে ফেলেছেন! আজ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন:

১৪ দল মনে করে মান্না-খোকা ফোনালাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) লাশ ফেলতে চেয়েছিলেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমার দেশের ছেলেদের লাশের ওপর দিয়ে তারা ক্ষমতায় যেতে চায়। মান্না-খোকার ফোনালাপের প্রথম লাশ এই অভিজিৎ। [লিঙ্ক]

চিন্তা করুন এটা কত বড় কাণ্ডজ্ঞানহীন কথা! একটি হত্যা এইমাত্র হয়েছে। এখানে আবেগ তরতাজা। এখন, আল্লাহ না করুন, আরেকটি পক্ষ যদি নাসিম-নির্দেশিত পক্ষের কাউকে কিছু করে ফেলে, তখন সমস্যা বাড়বে, না কমবে? এভাবে যেকোনো পক্ষের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করলে যুদ্ধংদেহী পক্ষের উদ্দেশ্যকে সার্থক করা হবে। শেষ কথা, দানা-দানি হানা-হানি বন্ধ হোক, এবং দায়িত্বশীল কথাবার্তা কাণ্ডজ্ঞানহীনতার প্রতিস্থাপক হোক –এটাই কামনা করি।

২৩ comments

Skip to comment form

  1. 8
    কিংশুক

    প্রত্যেক ত্রিয়ারই একটি প্রতিক্রিয়া থাকে।

    1. 8.1
      এম_আহমদ

      আজকে আপনাদের মত যারা প্রেক্ষিতগত কিছু কথা বলতে পারবেন, এবং পাঠকগণ যাদের কথা থেকে চলতি প্রসঙ্গে তাদের ধারণা প্রশস্ত করতে পারেন, তারা 'টরে-টক্কা'র (টেলিগ্রাফিক ম্যাসেজ) মন্তব্য দিচ্ছেন। তবুও ভাল। ধন্যবাদ। তবে আজকে অঞ্জন রায় নামের একজন লোকের একটা স্ট্যাটাস ABNEWS24 এ দেখলাম। প্রাসঙ্গিক বিধায় তা নিচে উল্লেখ করলাম।

      “ধর্মকে আক্রমণ করে কথা বলার মধ্যে কোন প্রগতিশীলতা নাই। আছে- নিজেকে বিতর্কিত তারকা বানানোর চেষ্টা। ছোট বেলা থেকে দেখেছি নিজের বাড়ীতে নিয়মিত ধর্মীয় বিভিন্ন আয়োজন। দেখেছি আমার কমিউনিস্ট পিতা নিজে হাতে আগ্রহ নিয়ে পুজোর বাজার করছেন। একজন প্রকৃত মানুষ কখনোই ধর্মের বিরোধিতা করে নিজেকে বিতর্কিত বানানোর প্রবণতায় থাকেন না। থাকেন তারাই- যারা যে কোন মূল্যে নাম কেনার জন্য, নিজেকে নিরাপদ প্রবাসী বানানোর জন্য আর কোন হাতিয়ার পান না- তারা। ব্লগে বা ফেসবুকে যারা ধর্মকে আক্রমণ করে লেখে নিজেদের তারকা বানাতে চান, তারা কখনোই প্রকৃত মানুষ তথা মুক্তবু্দ্ধির মানুষ নন। আর এই লোকেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের।” অঞ্জন রায় ABNEWS24.COM থেকে গৃহীত, link)

  2. 7
    এম_আহমদ

    -এক-

    অভিজিতের হত্যাকারী কি এপর্যন্ত নিশ্চিত? এটাও কি নিশ্চিত যে কোনো মুসলমান তাকে হত্যা করেছে? আবার এটাও কি নিশ্চিত যে হত্যাকারী অভিজিতের লেখা পড়ে, সেই লেখার জন্য তাকে হত্যা করেছে? এটাও কি নিশ্চিত যে হত্যাকারী কোনো একটি দলের লোক?

    যদি না হয়, এবং আগে-বাগেই এই ধারনার প্রেক্ষিতেই কথা বলা শুরু হয়ে যায় যে অভিজিতকে কোনো মুসলমান হত্যা করেছে এবং সে তার লেখার জন্যই মেরেছে, তবে বিষয়টা কেমন দেখায়? আমি এগুলো দেখে আশ্চর্য হই।

    -দুই-

    কোনো অপরাধীকে সম্প্রদায়ভুক্ত করার কি কোনো 'প্রয়োজন' আছে? এটা করলে কি ‘ন্যায়’ প্রতিষ্ঠিত হয়? এতে সমাজের সংহতি বাড়ে, না কমে? অপরাধীকে সম্প্রদায়ভুক্ত করার সাথে রাজনীতির সম্পর্ক কি থাকতে পারে?

    -তিন-

    যখন তদন্ত হবে, তখন অপরাধীকে পাওয়া যাবে, এবং তখন ‘অপরাধীর’ই বিচার হবে –এটা কি এভাবে দেখা হবে না?

  3. 6
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    অভিজিত রায়ের সাথে প্রায় ৩-৪ বছর বিতর্ক করেছি ভিন্নমত ও সদালাপে। কোনদিনও তাকে শারিরীক ভাবে আক্রমণ ও আঘাত করার কথা বলিনি। তার মৃত্যুতে অন্ততপক্ষে কোন আফসোস নাই। তবুও বলব তার বাংলাদেশে আসাটাই মারাত্নক ভুল হইছে। সম্ভবত হাসিনার সরকারের উচু লেভেলের গ্রীণ সিগনাল পেয়েই সে বাংলাদেশে আসে। শেষমেশ তাকে বলির পাঠা বানানো হল।

    1. 6.1
      এম_আহমদ

      পাঠ অ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

    2. 6.2
      নির্ভীক আস্তিক

      লেখক এই পোষ্টে যে ধরনের মন্তব্যকে ঘিরে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা কে address করেছেন আপনি আপনার শেষ লাইনটিতে সেই কাজটিই করেছেন। "সম্ভাবনার এই আঁখরা" তৈরির মত মন্তব্য যে কত ভয়ানক তার বুঝ আমাদের থাকা দরকার।  

      1. 6.2.1
        এম_আহমদ

        @নির্ভীক আস্তিক: ধন্যবাদ। কোন তদন্তের আগে এবং কোর্টের রায়ের আগে কোনো পক্ষের দিকে ইঙ্গিত করা ঠিক নয়। কিন্তু আজকে হোক টিভি, হোক ইন্টারনেট, হোক খবরের কাগজ -সবাই তা বেমালুম করে যাচ্ছেন।

  4. 5
    এম_আহমদ

    আমি কিছু কিছু স্থানে লক্ষ্য করেছি যে অনেক পাঠক মুক্তমনা বিষয়ে তেমন কিছু না বুঝেই হাতের আন্দাজে বিতর্ক করছেন। কিন্তু তাদের জন্য এখন কেউ সাত খণ্ড রামায়ণ লিখতে পারবে না। তাই ভাবলাম যারা এসব বিষয়ে দ্রুত কিছু বুঝতে চান তারা এস এম রায়হান সাহেবের কিছু লেখা পড়লে অনেকটা অবগত হতে পারবেন। 

    আস্তিকতা-নাস্তিকতা নিয়ে লেখা

    আস্তিকতা বনাম নাস্তিকতা: একটি বিশ্লেষণ
    নাস্তিকতার স্বপক্ষের বহুল প্রচলিত যুক্তি খণ্ডন
    অদৃশ্য স্রষ্টার অস্তিত্বের স্বপক্ষে তিনটি স্বতন্ত্র প্রমাণ
    নাস্তিকদের আত্মঘাতী যুক্তি
    নাস্তিকতা একটি অমানবিক ডগম্যা
    প্রকৃত মানবতাবাদী ও প্রগতিশীল হতে হলে…
    আস্তিক-নাস্তিক হালকা কথোপকথন
    বিজ্ঞানে নাস্তিকতা: অ্যাপেল গাছে মাকাল ফলের সন্ধান!
    স্টিফেন হকিং-এর একটি বক্তব্য নিয়ে ক্ষণিকের আস্ফালন
    যুক্তিবাদী নাস্তিকদের সাথে যৌক্তিক সংলাপ
    যৌক্তিক, মানবিক, ও বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নাস্তিকতা
    এ-যুগের প্রেক্ষাপটে মগাজিৎ-মার্কা কিছু ইডিয়টিক প্রশ্ন
    নাস্তিকতাকে গুঁজে দেওয়ার মতো অনেক গ্যাপ পাওয়া গেছে!
    নাস্তিকদের প্রতি অতি সাধারণ কিছু চ্যালেঞ্জিং প্রশ্ন
    নাস্তিক পণ্ডিত রিচার্ড ডকিন্সের অজ্ঞতা ও অসততার নমুনা
    রিচার্ড ডকিন্সের দাবি বনাম আল্লাহর দাবি: কার দাবি সত্য?
    নাস্তিকদের ভণ্ডামী যুক্তিগুলো যেভাবে মাঠে মারা গেল
    বিজ্ঞানের উপর নাস্তিকদের আদৌ কি কোনো আস্থা আছে?
    নাস্তিকতা যদি কোনো ধর্ম না হতো…

    মুখোশ উন্মোচন

    সামহোয়্যার-ইন ব্লগে মুক্তমনাদের বিশ্বস্ত গুরুজীর বিবর্তনীয় মুখচ্ছবি
    আমারব্লগে মুক্তমনাদের বিশ্বস্ত গুরুজীর বিবর্তনীয় মুখচ্ছবি
    মুক্তমনা ব্লগে মনাদের বিশ্বস্ত গুরুজীর বিবর্তনীয় মুখচ্ছবি
    প্রমাণিত ভণ্ড গুরুদেরও মুরিদ থাকে!
    ‘মুক্তচিন্তার চর্চা’র মোড়কে মুক্তমনা ব্লগে ইসলাম বিদ্বেষের মহোৎসব
    মুক্তমনাদের গুরুজীর বানোয়াট হাদিস এবং মজার ধাপ্পাবাজি
    মুক্তমনা নাস্তিকদের গুরুজী একজন ভণ্ড নাস্তিক
    মরণোত্তর দেহদান প্রসঙ্গে মুক্তমনাদের গুরুজীর ধূর্তামী
    নাস্তিক-অধ্যুষিত দেশ নিয়ে মুক্তমনা ধর্মের গুরুজীর প্রতারণা
    মুক্তমনা ব্লগে আইনস্টাইনকে নিয়ে এত মাতামাতি কেন?

  5. 4
    সজল আহমেদ

    নর্থ কারলাইনার ঘটনা যেমন কোনো গোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয় তেমনি অভিজিতের ঘটনাও কোন গোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়।

    সহমত পোষন করছি ।অভিজিত্‍ রায় একজন ইসলাম বিদ্বেষী ছিলেন এটা ঠিক ,তিনি হাদীস কোরাণের ভুল ব্যাখা দিতেন এটাও ঠিক ।তার লিখনির জবাব লিখনি দেয়াই উচিত্‍ ছিল ,কিন্তু তাকে হত্যা করাকে সমার্থন করা যায়না ।এমন সময়ই তাঁকে হত্যা করল সন্ত্রাসীরা যেই মুহূর্তে পুরো মুসলিমদের মাথার উপর ভর করে আছে সন্ত্রাসী ISIS ইস্যু ,চার্লী হেব্দো ইস্যু!যেই সন্ত্রাসীর হাতে অভিজিত্‍ রায় নিহত হলেন এই সন্ত্রাসীরা বাঙ্গালী মুসলিমদের হেয় করতে ,বিশ্ব মিডিয়ায় সন্ত্রাসী পরিচয় করিয়ে দিতেই এই হীণ কাজটা করেছে বলে আমার সন্দেহ !দেখুন আনসার উল্লাহ -৭টিম নাকি এই হত্যার দায় স্বীকার করেছে অথচ বাস্তবে এদের খুঁজেই পাওয়া যায়না ,এর আগেও একজন প্রফেসরের দায় ও নিয়েছিলেন তারা কিন্তু শেষমেষ তাদের খুঁজেই পাওয়া গেলনা।তাদের কাজকর্ম ঠিক আলকায়েদার মত ,আলকায়েদা যেমন বিভিন্ন আত্মঘাতি বোমা হামলার দায় স্বীকার করে বেপাত্তা হয়ে যায় তেমনি এই সন্ত্রাসবাদী আনসারউল্লাহ্-৭।
    আপনার আলোচনা যৌক্তিক ধন্যবাদ গঠনমূলক আলোচনার জন্য।

    1. 4.1
      এম_আহমদ

      @সজল আহমেদ: পাঠ অ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  6. 3
    মৌলবাদী

    সহমত,

    কথাতো সত্য। হেফাযতে ইসলামের আন্দোলনের রাতের ঘটনার কথা এখনো আমাকে পিঁড়া দেয়। এই আন্দোলনের পক্ষে আমার কোন সায় ছিলনা যেদিন আন্দোলন হয় সেদিনেও। সেদিন আমার স্পষ্ট খেয়াল আছে। আমি রাতে ১ঃ০০ এর দিকে কম্পিঊটার সামনে বসে একটি Software এর সিস্টেম ডিজাইন করছি। হঠাত ফেসবুকে ঢুকে আমার নিজ ডিপার্টমেন্ট এর জুনিয়র হিন্দু ছেলের স্ট্যাটাস দেখলামঃ “প্রিয় বন্ধু গুলিবদ্ধ হয়ে মারা গেছে হেফাযতের আন্দোলনে। সে তবলীগ করত।” হঠাত ধাক্কা খেলাম। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে অই স্ট্যাটাস দেখার ২ ঘন্টা আগে আমারি এক নাস্তিক বন্ধু আহাজারিঃ “দেশটা ধরমাদ্ধতে ভরে গেল। দেশ যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য হাহাকার করছে তখন মৌলবাদীরা দেশ ধর্ম পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছে।” অথচ পড়ের দিন সেই একি লোকরে দেখলাম উল্লাস করছেঃ “ছাগলগুলোকে কানে ধরে লাইন লাইন দাঁড় করিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী শায়েস্তা করেছে।” ঘটনা পুরোটা জানার পর বুঝলাম দেশ উন্নতি করছে। অসাম্প্রদায়িক হচ্ছে।
    অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুর পর হূমায়ন আজাদ আর উনার মাঝে দিয়ে রাজীব(থাবা বাবা)ও জায়গা করে নিয়েছে অনেক মৌলবাদী নাস্তিক সম্প্রদায়ের আলোচনায়। কিন্তু “নুরূল ইসলাম ফারুকী” এর কথা তারা একবারো মুখে আনেনি। কেমন অসাম্প্রদায়িক চিন্তা করলেই ধরা পড়ে।

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      @মৌলবাদী: পাঠ অ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

  7. 2
    Hariz Kudrat

    '' অভিজিত রায় মুক্তমনা বা ফ্রি-থিঙ্কার কথাটি যেভাবে নিজ ব্যাখ্যায় নিজের মত করে দেখেছেন সেই দেখায় অনেক prejudice প্রকাশ করেছেন। মুসলিমদেরকে স্থানভেদে পশু বানিয়েছেন। তারপর ‘মুক্তমনে’ ব্যাখ্যা সাজিয়ে সেই অবস্থান হালাল করতে চেয়েছেন। মুসলমানদের সচরাচর ছাগু, কাঁঠাল-পাতা, ধর্মান্ধ, উন্মাদ ইত্যাদি বলে গেলেও (গালাগালি!) তারই এক জ্ঞাতি ভাই সুমন কবীর মুসলমান হয়ে গেলে তার উপর ছাগু উপাধি অর্পণ করতে ব্যাখ্যাবিদ সাজেন। অভিজিত রায়ের কাছে ‘মুসলিম মানেই বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত ছাগু, জঙ্গী, সন্ত্রাসী, ছুপা সন্ত্রাসী, ইত্যাদি’ (এস এম রায়হান)। তবে কে ‘ছাগু’, কে যুদ্ধাপরাধের পক্ষের, সেটা ‘তাদেরই’ উপাধি সাপেক্ষ থেকে গিয়েছে। তারাই ছিলেন দ্যা জাজ,  জুরি এণ্ড ইক্সিকিউশনার (Judge, jury and executioner)। তারা যাকে উপাধি দিয়েছে, অমনি তাদের চ্যালাগণ তা প্রোপাগান্ডায় মাতিয়ে তুলেছে। এভাবে কোন সমাজ চলতে পারে না। ''

     

    আপনার অনেক কথা আছে যার সাথে আমার মতে কিছু কিছু মিল আছে। তার মধ্যে উপরের উল্লেখিত অংশ কোটেশন আকারে নিলাম আলোচনার সুবিধার্থে।

    অভিজিত রায় (ছদ্মনাম- থাবা বাবা) সত্যিকার অর্থে  একজন ভাল চিন্তাবিদ। গঠন মূলক লেখেন। ভাবনার পাখাগুলো আমাদের চেয়েও প্রখর, দৃষ্টি সুদূঢ় প্রসারী। ঘুড়ি যখন আকাশের বা শূন্যের পানে ধাবিত হয়, তখন আমরা মনে করি ওটা নাজানি কত দূরে! অথচ তা যদি ‍নিচ থেকে পরিমাপ করি দেখা যাবে মাত্র কয়েকশ ফুট উপরে! এখানে আমাদের দেখার সমস্যা বা দৃষ্টি ভ্রম হয়ে থাকে বলে অথবা আমরা অত উপরে কখনো উঠিনি তাই মনে করি ওরে বাবা ওটা কত উপরে!

    ঠিক অভিজিত রায় (থাবা বাবা) ভাবতে ভাবতে একসময় তার চিন্তার স্তর ছাড়িয়ে ক্রমে ক্রমে উপরে উঠতে থাকেন। আর সে যেটা ভাবে সেটাকেই স্বত:সিদ্ধ ভাবতে শুরু করে । তাকে পিছন থেকে থামানো বা নির্দেশনা দেয়ার মতো কেউ ছিল না ( আমার মনে হয়েছে)। ঘুড়ি সময় মতো নামিয়ে না আনলে বা সুতার টেম্পার বিবেচনায় না রাখলে তা যে কোন মুহূর্তে ছিড়ে যেতে  বা ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে পড়তে পারে সেই কথা এক সময় ওই বিস্তীর্ন আকাশের দিকে তাকালে আমাদের যেমন মনে থাকে না ঠিক তেমনি অভিজিত রায়ের ও মনে ছিল না। আর তার ফলশ্রুতিতে আজকে তার এই পরিনতি (আমার মনে হয়েছে) !!!

    আমি আজ অভিজিতের লাশ দেখছি, কাল যে আমার লাশ রাস্তার পাশে পড়ে থাকবে না তার কোন নিশ্চয়তা আছে?? তাই  আমরা যারা একটু ব্যতিক্রমি ভাবতে শুরু করেছি বা করবো তাদের জন্য একটু ভেবে চিন্তে সামনে চলার পাশাপাশি লেখার পরামর্শ রইল।আমরা কাউকে আক্রমন না করে নিজের মতো করে লিখি। আমাদের চিন্তার ব্যাপকতা না বুঝে না জেনে কোন কিছু না লিখি। আমি নিজেও এই পরামর্শ  গ্রহন করলাম। আবার আমাকে দয়া করে সেই লেজ কাটা শিয়ালের গল্পটা কেউ শোনাবেন না। অ্ন্যকে কষ্ট দিতে আমি কখনো চাই না। আমি আমাকে নিয়েই, আমার জানার পরিধির মধ্যে থেকেই সামনের দিনগুলি অতিক্রম করতে চাই। আমাকে ওই  সীমাহীন ‘‘মহাজাগতিক ঘুড়ি’’ নামানোর জন্য আমার বিকেককে অনুরোধ করলাম।

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      @Hariz Kudrat: দেখেন, আপনার মত আমার জ্ঞান সীমাহীন নয়, তাই আপনার মন্তব্য বেমানান ঠেকেছে।  আপনি মূলত আমার সাথে একমত নন; তারপর স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আপনি আমাকে হুমকি দিচ্ছেন এবং এমনটি সন্ত্রাসের মত লাগছে। আপনার মনের “ঘুড়ি” আপনার চিন্তার আকাশেই উড়ছে। আপনার মন্তব্য, ছদ্মভাবে হলেও, আপনার জ্ঞান বুদ্ধি ও অবস্থানের পরিচয় দিচ্ছে।

      অভিজিত রায় আর থাবা-বাবা এক লোক বলে আপনাকে কে বলল?

      অভিজিত একজন ইসলাম বিদ্বেষী, ইসলাম-অসহিষ্ণু, স্থূলদৃষ্টির লোক ব্যতীত আর কেউ নন। তবে তিনি আপনার কাছে ভাল চিন্তাবিদ, গঠনমূলক লেখক, ভাবনার সুদূর প্রসারী, এই হচ্ছে আপনার অবস্থান, তবে তা আপনার সীমাহীন জ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখা রূপ। গুগলিং করে দেখলাম Hariz Kudrat নামে কোনো মহাসিন্ধুর নাম নিশানা নেই। বিদ্যার বহর হিসেবেও সার্চ দিলাম –সেখানেও কিছু দেখতে পেলাম না।

      বুঝা যাচ্ছে আপনার চিন্তার ব্যাপকতার ঢোল পিটাতে এসেছেন। আসুন আপনার চিন্তার ব্যাপকতা একটু দেখান, পারবেন? আমার তো মনে হয় না। তবে তা দেখাতে পারলে আনন্দিত হতাম। আমরা বিদ্যার জগতের লোক, বিদ্যাকে সানন্দে গ্রহণ করি, তা যার কাছ থেকেই আসুক না কেন। কিন্তু আপনি এসেছেন “শৃগালের” মত, জ্ঞানের বাঘ হয়ে নয়।

      আপনার বক্তব্য আপনাকে জ্ঞানের জগতের কেউ বলে প্রমাণ করে না। জ্ঞানীরা হুমকী ধমকী দেননা, দাম্ভিকতা প্রকাশ করেননা। তারা নিজ পরামর্শ নিজেরা গ্রহণ করতে জনসমক্ষে আসেন না। এসেই অপরজনকে পরামর্শ দেয়া ভূমিকায় নামেন না। আপনি এগুলোর সবই করেছেন।

      আপনি আপনার দিনগুলো আপনার সীমাহীন পরিধিতে কাটাতে কে বাধা দেয়? এখানে এসে তা বলছেন কেন?

      শুনেন, আমাকেও একটি পরামর্শ দিতে দিন। আপনার এত জ্ঞান, এত বিদ্যা, এত পরিধি, এত সীমাহীনতা এগুলোর ভারে কোনো অতল তলে ডুবে যাবেন না, বিশ্ববাসীকে সেই বিদ্যার আলোকবর্তিকা একটু ছড়িয়ে ধন্য করে যাবেন। পারলে সদালাপে লিখুন। আমরা পড়ে ধন্য হব।  

    2. 2.2
      নির্ভীক আস্তিক

      অভিজিত রায় (ছদ্মনাম- থাবা বাবা) সত্যিকার অর্থে  একজন ভাল চিন্তাবিদ। গঠন মূলক লেখেন।

      অভিজিৎ রায়ের ছদ্মনাম যে "থাবা বাবা" সে তথ্য আপনি কোথায় পেলেন? থাবা বাবা হচ্ছে রাজীবের ছদ্মনাম। আপনি কি এই তথ্যটি জেনেশুনে দিয়েছেন? সে যাইহোক। অভিজিৎ রায়ের লেখা কিছুকিছু আমিও পড়েছি। "আলো হাতে চলিয়াছি আঁধারের যাত্রী" আর "অবিশ্বাসের দর্শন" এই বই দুটি আমি পড়েছি।

      "অবিশ্বাসের দর্শন" বইটি এবং আরো অনেক লেখায় উনি বিজ্ঞানকে এমন ভাবে উপস্থাপন করেছেন যা সাধারণত Militant atheist রা করে থাকে তাদের নাস্তিক্যবাদকে justify করতে এবং বিজ্ঞান তাদের নিজস্ব সম্পত্তি আর তা যে কেবল নাস্তিকতারি উৎস এমন ভাবে প্রচার করতে। অনেক ক্ষেত্রেই তথ্য বিভ্রাট ঘটিয়েছেন। Richard Dawkins, Hitchens দের মত করে যারা "দুনিয়ার সকল হানাহানি যে ধর্মীয় মূল্যবোধের উৎস এরকম একটি দাবি করে নাস্তিকতাকে Morality এর একটি শান্তিকামী চালক হিসেবে দাঁড় করে দিয়েছেন।" কিন্তু এ যে কি পরিমানের হটকারিতা আর মানবিকতার সাথে বেঈমানী করার মত কাজ তা ২০-২১ শতাব্দী এর নাস্তিকতা প্রসারের লক্ষ্যে যে আরজকতা নইরাজ্য খুন, হত্যা, ধর্ষণ চালানো হয়েছে তার ইতিহাস দেখলেই ধরা পড়ে। অপস, আমি মৌলবাদী নাস্তিক কম্যুনিস্ট আর সমাজতান্ত্রিক দের দায় নাস্তিকতার উপর উঠিয়ে দিচ্ছি? বেশ, যদি সেটি আমার ভুল হয় তাহলে এই যে মৌলবাদী নাস্তিকতার  ব্যক্তিত্বের লোক গুলো দিনের পর দিন ধর্মীয় উগ্রবাদী লোকদের কাজ কারবার  সাধারন ধার্মিকদের উপরে চাপিয়ে দিয়ে "সহীহ ইসলাম" বলে কিছু নেই দাবি করে মানুষকে উত্যক্ত করার জন্য না খেয়ে দেয়ে কাজ চালিয়েছে সেটাকি তাদের অন্যায় ছিলনা? কম্যুনিস্ট আর মৌলবাদী নাস্তিকদের মধ্যে পার্থক্য এই যে, প্রথম দল সাম্যবাদী আর দ্বিতীয় দল ভোগবাদী।

      যাইহোক রিচারড ডকিন্স, ক্রিস্টোপফার হিচেন্স আর উপরে যাদের নাম উল্লেখ করলাম তাদের কাজের মধ্যে একটি পার্থক্য আছে। তাদের সমালোচনা  কোন একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পক্ষে অধিভুক্ত হয়ে কাজ করেনি। সমালোচনামূলক তথ্য নিয়ে তেমন একটি লুকোচুরিও করেননি। অনেক ক্ষেত্রে তারা Fact ব্যবহার করেছেন যার বিপরীতে যুক্তি দেয়ার অবকাশ ছিল, factual error গুলো দেখিয়ে দেয়ার জায়গা ছিল। অনেকে দিয়েছেনও। কিন্তু অভিজিৎ রায়ের ক্ষেত্রে এরকমটি দেখা যায়নি। উনি আর উনার ব্লগে উনি যে ভাবধারা প্রমোট করেছিলেন তাতে দিক্ষিত হয়ে অনেকেই মুসলিমদের honour killing এর জন্য কাজ করে যাচ্ছিলেন যা লেখক স্বল্প পরিসরে বলেছেন।

      আমার একটি ছোটগল্পের কথা আজো মনে পড়ে। তাতে যে ঘটনার উল্লেখ ছিল, একটি দরিদ্র পরিবারের ১৯ বছরের মেয়ে ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ আর বাবার অসুখের চিকিৎসার জন্য দিনে সকাল ৮ঃ০০ টা থেকে শুরু করে রাত ১১ঃ০০ টা পর্যন্ত  কাজ করে অন্ধকার রাতে কাজ করে বাষায় ফিরত। দিনের পর দিন তা চলতে থাকে। একদিন সে যেই বস্তিতে থাকত সেখানে তার ছোট ভাই তার ছেলেবন্ধুদের সাথে আড্ডা মারছিল। ছেলেবন্ধুরা বোনের রাতে দেরীতে বাষায় আসাকে কেন্দ্র করে তার ভাইকে উত্যক্ত করা শুরু করে টিসিং করে, সাইড টকিং এর মাধ্যমে। এতে মেয়ের ভাইটি একদিন বেশ উত্তেজিত হয়ে অই ছেলেদের একজনকে কুপিয়ে হত্যা করে।  হত্যাকান্ড পৃথিবীতে করা সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ যার শাস্তিও মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু এই হত্যাকান্ড ঘটার আগে এই যে ছেলেগুলোর অসভ্যতার চর্চা তা এই হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী নয় কেন?  

      আরেকটি প্রশ্ন। মন খোলা রেখে সরাসরি উত্তর দিবেন।

      একজন হিন্দু হয়ে যদি সরাসরি নাস্তিকতা সহ অন্য যে কোন ধর্মীয় মূল্যবোধকে বিরোধীতার নামে কটাক্ষ করে, বিদ্বেষ পোষন করেন তাহলে একজন উগ্র মুসলিম অথবা নাস্তিক আপনাকে হত্যা করার মত জঘন্য অপরাধ করে ফেলতে পারেন। আচ্ছা, কিন্তু আপনি নিছক হিন্দু হওয়ার জন্যই যদি কোন উগ্র হিন্দু বিদ্বেষী  মুসলিম বাঁ নাস্তিক আপনাকে হত্যা করে বসে সেক্ষেত্রে আপনি এই দুই অপরাধের পাল্লা কিভাবে মাপবেন?

      প্রশ্নটিতে হিন্দু এর জায়গায় একজন মুসলিম বসান, একজন নাস্তিক বসান, একজন ইহূদী বসান আর এরপর উত্তরটি চিন্তা করুন দেখবেন উত্তর যাই আসুক তা আসলে একটি স্পেসিফিক Resonance তৈরি করবে। এই ধরনের বিদ্বেষী প্রচারকে প্রশ্রয় দিয়ে খুন খারাবী বন্ধ করা যাবেনা। আমেরিকা ফ্রান্সে Freedom of speech স্বীকৃত। সেখানে যে যা খুশি বলতে পারে, অপরের মূল্যবোধ কে Humiliate করতে পারে।  কিন্তু তাকে যখন একটি নির্দিষ্ট মূল্যবোধের বিপক্ষে বিদ্বেষ ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে তখন এই বিদ্বেষী মূলক প্রচার অই মূল্যবোধের বাহকদের হত্যার জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। এবং সেক্ষেত্রে সমাজের মানুষ আর মিডিয়া প্রচারকদের Voice উচ্চতা এমন যে "The murder is apparently justified." আপনি ফ্রান্সের বাড়িতে গিয়ে মুসলিম হত্যার ঘটনা দেখুন, চেপেল হিলের ঘটনা দেখুন। অনেক পত্রিকায় খুব ছোট করে ঘটনাগুলো এসেছে। এরাতো Freedom of speech এর বিরুদ্ধে কখনো দাড়ায়নি। আমারেকিরার Values এর বিপক্ষে দাড়ায়নি। কোন নাস্তিকতার বিপক্ষেও না। সেক্ষেত্রে তাদের এই হত্যাকান্ডগুলো আলোচনা সমালোচনার বাহিরে কেন? বিরোধীতা করেনি বলে? মৃত্যু যখন হবেই বিরোধীতা করাটাই কি তাহলে সমীচীন ?

      যাইহোক। এরপরেও আমি মনে করি ভিন্নমতকে স্থান দেয়া জরুরী। সমালোচক না থাকলে নিজেদের দোষ চোখে পরেনা। কট্টর সমালচনা না হলে যেকোন মূল্যবোধের মানুষ তাদের ভুল সম্পর্কে জানতে চায়না।  আর তাই অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারের আওতাধীন করা উচিৎ, প্রয়োজনে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিৎ যেন অভাবে কাপুরুষের মত আরজকতা তৈরি করতে না পারে। নচেৎ ঘৃণায় ঘৃণা বাড়বে। আজ তাকে হত্যা করা হয়েছে কাল একজন উগ্র নাস্তিক আমাকে এমনিতেই হত্যা করে বসবে নিছক মুসলিম হওয়ার অপরাধে। উগ্রতা আর বিদ্বেষ পরায়নতা বরাবরই পরিহার্য। দুটোর কোনটিকেই প্রশ্রয় দেয়ার অবকাশ নেই।          

      1. 2.2.1
        Reza

         

        "আমেরিকা ফ্রান্সে Freedom of speech স্বীকৃত। সেখানে যে যা খুশি বলতে পারে, অপরের মূল্যবোধ কে Humiliate করতে পারে। "

         

        Where did you you find this? Could you please provide some references? Otherwise, it's not a good idea to say something about which you have little to no knowledge.

        1. 2.2.1.1
          নির্ভীক আস্তিক

          কি Reference দিমু ভাই আপনারে? Google চেনেনা? Google করেন। দেখবেন ফ্রান্সে এই Law কেমনে Use হচ্ছে Leftist দের হাতে। এখানে তাদের ধাপ্পাবাজির একটা আর্টিকেল আছে। দেখেন কিভাবে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী Law কে ব্যবহার করতে পারছেঃ
          France focuses on freedom of speech, but comic Dieudonné arrested for controversial remarks
           

    3. 2.3
      এম_আহমদ

      @Hariz Kudrat: আচ্ছা, on a second thought, আপনার মন্তব্যের কি অন্য কোনো তাৎপর্য রয়েছে যা আপনি অন্য কোনভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। আমি অনেক্ষণ চিন্তা করেছি এবং ভাবছি যে মন্তব্যকারীর হয়ত অন্য কোনো layer এ অন্য ধরণের কোন তাৎপর্য থেকে থাকতে পারে যা তার ব্যাখ্যার স্পষ্ট হতে পারে। আপনি কি আরও কি বলবেন? আমার ধারণা ভুল হলে আমি তা তুলে নেব এবং অন্য কমেন্ট করব।

      1. 2.3.1
        এম_আহমদ

        @Hariz Kudrat: আমি জানতাম আপনি ফিরে আসবেন না। কারণ যারা হুমকি ধমকি দিয়ে জ্ঞান দেখাতে চায়, তারা জ্ঞানের ময়দানে কথা বলে না। তবে মানুষ অনেক সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও বেমানান কিছু বলে ফেলতে। এই বিবেচনায় আপনার মন্তব্যকে আবার ব্যাখ্যা করতে বলেছিলাম। কিন্তু ফিরে আসেন নি। যাক, আমি চাই না কেউ অসন্তোষ হোক, তাই নিজেই আমার মন্তব্যকে tune down করে দিয়েছি। আমার মন্তব্যের লিঙ্ক এখানে । ভাল থাকুন।

  8. 1
    নির্ভীক আস্তিক

    অভিজিৎ রায়ের হত্যাকান্ডের ক্ষেত্রে যেই উগ্রবাদী মানসিকতা কাজ করেছে সেক্ষেত্রে আপনার মতামত কি? অভিজিৎ রায় যেভাবে মুসলমানদের ক্ষেত্রে করত, বাংলাদেশের অনেক মুসলমানরা তাদের ফেসবুক অথবা ব্লগগুলোতে নাস্তিক এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও দেখা যায় অনেক  Generalized  করে আজে বাজে ভাবে বলে। তাদের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থানওতো একি রকম হওয়ার কথা বলে মনে করি। … সেখানকার তার সমর্থকদের আজেবাজে গালিগালাজ গুলোও পড়ে দেখুন। দেখতে পারবেন, মুক্তমনাদের চরিত্র আর এই উগ্র মুসলমানদের চরিত্র এর মধ্যে তেমন তফাৎ নেই। পার্থক্য কেবল এই যেঃ "অভিজিৎ রায়কে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে" …। ফিতনা এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং সেটি কিন্তু শুধু ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্যই নয়।  আমার চিন্তা হচ্ছে এই বিদ্বেষকেন্দ্রিক সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ আমরা কিভাবে নিরসন করতে পারি ?

    1. 1.1
      এম_আহমদ

      অভিজিৎ রায় যেভাবে মুসলমানদের ক্ষেত্রে করত, বাংলাদেশের অনেক মুসলমানরা তাদের ফেসবুক অথবা ব্লগগুলোতে নাস্তিক এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও দেখা যায় অনেক  Generalized  করে আজে বাজে ভাবে বলে। তাদের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থানওতো একি রকম হওয়ার কথা বলে মনে করি।

      আপনার এই কথাতে সকল উগ্রবাদের উত্তর এসে গেছে। জেনরেলাইজেশনে সব সময় এক ব্রাস দিয়ে সবাইকে মাপা হয়ে যায়। তবে অভিজিত ও মুক্তমনা ব্লগের ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকান্ড স্পেসিফিক, যদিও স্থানে স্থানে জেনরালিটিও এসেছে। আপনার বক্তব্যও এখানে অনেকটা জেনরেলাইজড।

      তবে আমাদের কথা, ব্যক্তি আস্তিক হোক, নাস্তিক হোক, ভাল হোক, মন্দ হোক, কেউ তাকে মেরে ফেলতে পারে না –যদি দেশ আইনের দেশ হয়, নাগরিক নিরাপত্তার ও অধিকার নিশ্চিত করতে গঠিত হয়। ন্যায় নিরাপত্তার দেশে সবাই বিচার প্রত্যাশা করতে পারে, কিন্তু বিচারবিহীন দেশে সেলেকটিভ ক্ষেত্রে বিচারের দাবি ওঠে মাত্র। আজকে আপনার দেশের দিকে তাকান। আজ সারা বিশ্বের মত এখানেও মুসলমানের রক্ত সস্তা। কেউ যদি অমুসলমান হয়, তবে তার জন্য যেন আলাদা ন্যায়নীতি, আলাদা বিচার, আলাদা অধিকারের দাবি। কিন্তু এই বাস্তবতা যেখানে দেখা যাবে, সেখানে অধিকারের সমস্যা রয়েছে বুঝতে হবে।

      আপনি একটি হত্যা ও হত্যার সামাজিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। কিন্তু না জেনে, কে হত্যা করেছে সে বিষয়ে কথা বলতে পারেন না, যদি স্পষ্ট এভিডেন্স না থাকে, যেমনটি বিশ্বজিত হত্যায় দেখে থাকবেন। আপনি গত ২/৩ বছরে যা ঘটে যাচ্ছে তার দিকে তাকান। আপনার দেশে যে নগ্ন উগ্রতা চলছে তার পরিমণ্ডলের রূপ কি? এর ক্ষেত্র কি নিছক এক অথবা দুই?

      আমার এই ব্লগটি ইন্টানেটের সকল উগ্রবাদের উপর লেখা কোন পোষ্ট নয় তবুও সার্বিক উগ্রবাদের বিপক্ষে অনেক এসেছে। আমরা সব উগ্রবাদের বিপক্ষে –তা যেকোনো বিশ্বাসেরই হোক। আপনি seamless সার্বিক ন্যায়নীতি ছাড়া কোনো সমাজ গড়তে পারবেন না।

      আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চালিত করুন। আমীন।

      1. 1.1.1
        নির্ভীক আস্তিক

        আপনার ব্লগের আবেদণের সাথে আমি প্রথমেই একমত ছিলাম। তবুও কিছু বিষয়ে প্রশ্ন এইজন্য করি যে এর উত্তর হিসেবে যেন আমাদের অবস্থানও আলোচনার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে যায়। আমরা যেন একে অপরের চোখে নিজেদেরকে দর্পণের মত দেখতে পারি। প্রশ্নে ভুল থাকলে সেটাও তখন প্রতিউত্তরে চলে আসে। 

        তবে আমাদের কথা, ব্যক্তি আস্তিক হোক, নাস্তিক হোক, ভাল হোক, মন্দ, কেউ তাকে মেরে ফেলতে পারে না –যদি দেশ আইনের দেশ হয়, নাগরিক নিরাপত্তার ও অধিকার নিশ্চিত করতে গঠিত হয়। ন্যায় নিরাপত্তার দেশে সবাই বিচার প্রত্যাশা করতে পারে, কিন্তু বিচারবিহীন দেশে সেলেকটিভ ক্ষেত্রে বিচারের দাবি ওঠে মাত্র। আজকে আপনার দেশের দিকে তাকান। আজ সারা বিশ্বের মত এখানেও মুসলমানের রক্ত সস্তা। কেউ যদি অমুসলমান হয়, তবে তার জন্য যেন আলাদা ন্যায়নীতি, আলাদা বিচার, আলাদা অধিকারের দাবি। কিন্তু এই বাস্তবতা যেখানে দেখা যাবে, সেখানে অধিকারের সমস্যা রয়েছে বুঝতে হবে।

        কথাতো সত্য। হেফাযতে ইসলামের আন্দোলনের রাতের ঘটনার কথা এখনো আমাকে পিঁড়া দেয়। এই আন্দোলনের পক্ষে আমার কোন সায় ছিলনা যেদিন আন্দোলন হয় সেদিনেও। সেদিন আমার স্পষ্ট খেয়াল আছে। আমি রাতে ১ঃ০০ এর দিকে কম্পিঊটার সামনে বসে একটি Software এর সিস্টেম ডিজাইন করছি। হঠাত ফেসবুকে ঢুকে আমার নিজ ডিপার্টমেন্ট এর জুনিয়র হিন্দু ছেলের স্ট্যাটাস দেখলামঃ "প্রিয় বন্ধু গুলিবদ্ধ হয়ে মারা গেছে হেফাযতের আন্দোলনে। সে তবলীগ করত।" হঠাত ধাক্কা খেলাম। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে অই স্ট্যাটাস দেখার ২ ঘন্টা আগে আমারি এক নাস্তিক বন্ধু আহাজারিঃ "দেশটা ধরমাদ্ধতে ভরে গেল। দেশ যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য হাহাকার করছে তখন মৌলবাদীরা দেশ ধর্ম পুড়িয়ে ছাই করে দিচ্ছে।" অথচ পড়ের দিন সেই একি লোকরে দেখলাম উল্লাস করছেঃ "ছাগলগুলোকে কানে ধরে লাইন লাইন দাঁড় করিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী শায়েস্তা করেছে।" ঘটনা পুরোটা জানার পর বুঝলাম দেশ উন্নতি করছে। অসাম্প্রদায়িক হচ্ছে।

        অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুর পর হূমায়ন আজাদ আর উনার মাঝে দিয়ে রাজীব(থাবা বাবা)ও জায়গা করে নিয়েছে অনেক মৌলবাদী নাস্তিক সম্প্রদায়ের আলোচনায়। কিন্তু "নুরূল ইসলাম ফারুকী" এর কথা তারা একবারো মুখে আনেনি। কেমন অসাম্প্রদায়িক চিন্তা করলেই ধরা পড়ে।  

        1. 1.1.1.1
          এম_আহমদ

          হ্যাঁ, আপনি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। ব্যাখ্যার স্থানে সহমত।

Leave a Reply to মৌলবাদী Cancel reply

Your email address will not be published.