«

»

May ২৮

‘কুসংস্কারের’ গর্তে নাস্তিকের শেষকৃত্য -বিনোদন

[নোট: এই লেখাটি ২০১২ সালে ‘শেষকৃত্যের সত্য’ শিরোনামে প্রথম প্রিন্ট করি। আজ সেই লেখাটিকে কিছু পরিবর্তন ও সংক্ষিপ্ত করে এখানে দিচ্ছি। শিরোনাম থেকে অনেক কথা আঁচ করা যাবে। তবে ঘটনা এতটুকুই নয়, তাই পড়ে দেখতে পারেন।]

আমাদের সমাজের নাস্তিকগণ কয়েক ধরণের। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ অপ্রকাশ্যে: গোপনে। কেই আবার গোপনের চেয়েও গোপনে। বলতে পারেন একদম ‘বাতেনী’ হাল। দ্বিতীয় শ্রেণীতে সার্বিকভাবে অনেক ঘাপটি-মারা অবস্থা রয়েছে। এই শ্রেণী প্রকাশ্যদের চাইতে মন্দ। কারণ হচ্ছে তাদের চরিত্র। তারা ছায়ার মত কাজ করতে কৌশল দেখেন। কিন্তু এটা কখনো কখনো বিকল হয়, মুখোশ খশে পড়ে। কারণ, মানুষ সব সময় সম্পূর্ণ গোপন থাকতে পারে না। তার কথা, নীরবতা, আচরণ, অনেক কিছু তার অন্তরের অবস্থা বের করে দিতে পারে।

আড়ালে

ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ ও ধারণার উৎসস্থল রয়েছে। কেউ যখন মুসলমানদের ব্যাপারে সাধারণী মাত্রায় মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, ধর্মীয় উগ্রবাদী, জঙ্গিগোষ্ঠী, মধ্যযুগীয় গোঁড়া ইত্যাদি শব্দ (গালাগালি) ঢালতে থাকেন এবং নিজের ব্যাপারে মুক্তচিন্তক, প্রগতিবাদী, উদারপন্থী, সংস্কৃতিবান ইত্যাদি (প্রশংসাসূচক) শব্দাবলী ঘন ঘন বের করেন তখন তার পরিচয় লুকিয়ে রাখার পরিধী সীমিত হয়ে আসে। কেননা, প্রচলিতভাবে, প্রগতিবাদ মার্ক্সবাদী ডায়েলেকটিকের ধারণায় অধিক জড়িত; এখানে অপরাপর শব্দমালার সম্পর্ক সংশ্লিষ্টতায় থাকে। তারপর উদারপন্থী শব্দের সাথে আলট্রা-সেক্যুলার ধর্মহীন মানবতাবাদ এবং এই সূত্রে অপরাপর শব্দের সংশ্লিষ্টতা থাকে। তবে অনেক পরিভাষা অনেকে না-বুঝেও ব্যবহার করেন –সেই এলাউন্সও রাখতে হবে। কিন্তু বক্তার ঘন-ঘন ব্যবহার থেকে এবং ব্যবহারের প্রেক্ষিত থেকে তার এমফেসিস ও এটিটিউড প্রকাশিত হয়ে পড়ে। সে লুকিয়ে থাকতে পারে না। আর তার শব্দমালার সাথে আবার যদি স্বাধীনতার পক্ষের, চেতনার পক্ষের কথাগুলো একই নিরিখে হুড় হুড় করে বেরিয়ে আসে তবে তার অবস্থান অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু সব কথা এতটুকু নয়, সামনে অনেক কথা রয়েছে। এই ব্লগের শিরোনামের কথা স্মরণে রাখুন।

বাতেনীদের কৌশলে থাকে স্বার্থ -ধরি মাছ না ছুঁই পানি। নাম মুসলিম, বসবাস মুসলিম সমাজে, কাজ-কর্মও এই সমাজের আষ্টেপৃষ্ঠে। মুখোশ খশে পড়লে স্বার্থে হয়ত জলাঞ্জলি আসতে পারে। এজন্যই বাতেনী।

এদের প্রকৃতি জঘন্য

বাতেনী শ্রেণী মূলত জঘন্য প্রকৃতির। তারা এক হীন উপায় ও পদ্ধতিতে us/them ‘Otherness’-কে উগ্র-উপস্থাপন করে এবং এক discretionary discourse কে অসৎ ও হিংস্রভাবে সমাজ ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করে। তারা সমাজের একটি অংশকে প্রতিদিন dehumanise করে। ফলশ্রুতিতে, যে শ্রেণীকে তারা বৈষম্যে-স্থাপন করে সেই শ্রেণীটি (the discriminated against/the dehumanised) এক সময় এমন আচরণ করতে বাধ্য হয় যা তাদের (নাস্তিকদের) expected সীমায় এসে ধরা দেয়। কথাটি আরও পরিষ্কার করি। আপনি কাউকে জন্তু ভেবে বারবার উসকাতে গেলে এক সময় সে জন্তুর আচরণই করে ফেলতে পারে। এটাকে সাইকোলজিতে পিগম্যালিয়ন পরিণতি (Pygmalion effect) বলা হয়, [কেউ তার স্ত্রীর সাথে চাকরানীর মত আচরণ করতে থাকলে এক সময় সে তার আচরণকে চাকরানীর আচরণে সাজিয়ে নিতে পারে; আবার চাকরানীর সাথে মর্যাদার ব্যবহার করলে সে আস্তে আস্তে ঐ ধরণের প্রত্যাশিত আচরণ প্রদর্শন করতে পারে]। উগ্রনাস্তিকগণ কোনো অশুভ ইঙ্গিতে দেশের একটি শ্রেণীকে এভাবে আক্রমণ করে সমাজ দ্বান্দ্বিকতা সৃষ্টি করতে চায়, যুদ্ধ বাধাতে চায়, কখনো নিরসন চায় না: ‘ধর্ম-নির্মূল’, ‘মোল্লা-নির্মূল’ চায়, মিলেমিশে থাকতে নয়। অধিকন্তু কৃত্রিমভাবে সামাজিক দ্বান্দ্বিকতা সৃষ্টি করে তাদের আদর্শের রূপায়ণ চায়। এই নীতি-দর্শন শুধু রাডিক্যাল মার্ক্সবাদেই নয়, বরং উগ্র-জায়নবাদী ধনতন্ত্রেও রয়েছে। আজকে মুসলিম সমাজকে আন্ডারডগ (underdog) করে রাখাই প্রধান উদ্দেশ্য। উগ্রনাস্তিকগণ ‘মুসলিম’ ‘ইসলাম’ শব্দতেই এলার্জিক, আলোচনা দূরে থাকুক।

Barking up the wrong tree

দেশের সামাজিক বাস্তবতা হচ্ছে এই যে ওখানে প্রতিনিয়ত ঘুষ, ধর্ষণ, রাহাজানি, ডাকাতি, গুম, সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় সম্পদের হরিলুট চলছে –অনেক ক্ষেত্রে তারাও জড়িত। সেসব থেকে মুখ ফিরিয়ে কেবল চলছে ‘মোল্লা-আক্রমণ’, মাদ্রাসা আক্রমণ, নবীর বিয়ে, ৪ বিবাহ, হিজাব পরায় দেশ ধ্বংস! কিন্তু দেশের জেলগুলো পরিদর্শন করলে দেখা যাবে সেখানে ইসলামী শিক্ষিতরা নয় বরং সেক্যুলার শিক্ষিতরাই বাস করছে।

কথা হচ্ছে এই: আপনি যে চিন্তা, যে স্বপ্ন দিনরাত মাথায় রাখবেন, আপনার মানসিকতাও সেভাবে গড়ে ওঠবে। মনের যুক্তিও সেভাবে সেজে আসবে, যুক্তি কোনো মূল্য-নিরপেক্ষ নয়। যে দাড়িওয়ালা টুপী-পরা লোকটি জঙ্গি, মৌলবাদী, অমানুষ হয়ে মনের ভিতরে ধারিত হয়ে আছে, সে কোনো কাজে দোষী না হলেও অসংখ্য কর্ম-চিহ্ন (behavioural symbols) তাকে দোষী করে প্রত্যয়ে উদ্ভাসিত করবে (behaviours taken to symbolise and to confirm the prejudices held)। এই সমস্যা আজ জাতির রন্ধ্রে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়েছে। এখান থেকে মুক্তি নাই। মনে হয় সমস্যা আরও জটিল হবে।

ভয় না ভণ্ডামি?

মূল কথা হল যে ধর্মটি উগ্র, অন্ধ, যেটি গোঁড়া, সন্ত্রাসী আপনি কেন সেই ধর্মে আস্তিকের ভান করবেন? এখানে লুকায়িত জিনিসটি কি?

বাতেনীগণ কৌশল করে বলবেন, ‘কেউ মেরে ফেলতে পারে এজন্য।’ তো কি হল, নিজ আদর্শের জন্য মরতে পারবেন না কেন? কিন্তু কথা সেটা নয়। আহমদ শরীফকে কেউ মেরে ফেলে নি, মূর্খ-দার্শনিক আরজ আলীকেও কেউ মেরে ফেলে নি, চামচামিতে-বানানো-চিন্তাবিদ হুমায়ুন আজাদকেও কেউ মেরে ফেলে নি। জীবিত অনেক নাস্তিক আছেন যাদেরকে কোটি কোটি লোক চেনে কিন্তু কোনো মুসলমান তাদেরকে মারতে উদ্যত হয়নি; তারা নিছক নাস্তিক বলে তাদের বিপক্ষে কোনো যুদ্ধ চলছে না। যে কয়জন নাস্তিক জনতার ধাওয়া খেয়েছিল, তা ছিল তাদের সামাজিক রীতি ভঙ্গের কারণে,তাদের উগ্র-গোঁড়ামির কারণে।

২০০৯ সালে ‘আমাদের সময়ে’ শেখ হাসিনাকে সম্বোধন করে তসলিমা নাসরিনের একটি লেখা প্রকাশ পায়। সেখানে তাসলিমা নাসরিন নিজেই বলেছিলেন যে ‘মৌলবাদীদের’ সাথে তার কোনো বিরোধ নেই। তাকে বিএনপি সরকার রাজনৈতিক কারণে দেশান্তর করেছিল। তাই হাসিনা সরকার যেন তাকে ফিরিয়ে আনেন (হয়তবা তার ইচ্ছা ছিল লাল-গালিচা বিচিয়ে আনা)। যদিও ঐ লেখায় হাসিনা ও তার সরকারের ঢের প্রশংসা ছিল কিন্তু তাতে আবেগের বরফ গলেনি। অবশেষে কিছু না হওয়ায় তিনি হাসিনা সরকারকেও বিষোদগার করেন। কিন্তু তার লেখায় একটা সত্য প্রতিভাত হয়েছিল। আর তা হল তার দেশান্তরের কারণ ছিল সামাজিক বিধি-লঙণ বিষয়ক, যা রাজনৈতিক রূপ নিয়েছিল। সমাজ তো এমনই, এখানে একটি বিষয়ের সাথে অপরাপর বিষয়ের সম্পর্ক থাকে। তাসলিমা নাসরিন যে ‘রাজনৈতিক-চক্রের’ দাবার গুটি হয়ে অজ্ঞতাবশত: কোরানের বিপক্ষে এবং ইসলামী মূল্যবোধের বিপক্ষে কাজ করে যাচ্ছিলেন, সেটাই এক সময় বেক-ফায়ার করেছিল। অন্যথায় তার চেয়ে জ্ঞানী, শিক্ষিত, সুচতুর নাস্তিকরা রাজধানীর বুক চিড়ে খাচ্ছে, কেউ দেশান্তর হচ্ছে না।

বাতেনীদের আরেকটি ব্যাপার আছে। প্রতিষ্ঠিত ধর্মমত অনুযায়ী ইসলাম ধর্ম বিসর্জনের সাথে সাথে বিবি তালাক হয়ে যায়। কেননা এই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই বিয়ের আক্বদ হয়ে থাকে। ভিত্তি ভাঙ্গার পর পর সেই দড়িতে জড়িত বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়। এজন্য তারা ‘জাহিরে-নাস্তিক’ দেখানোতে নিজেদের মনে সামাজিক সমস্যা অনুভব করে থাকেন। তবে মুসলিম সমাজের মূল্যবোধ নিয়ে এমনটি হবার কথা তো ছিল না।

সামাজিকভাবে সবচেয়ে বড় অনৈতিক কাজটি হল এই: এক ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম বা অন্য ধর্ম ত্যাগ করার পর, পরিত্যক্ত ধর্ম হয়ে পড়ে তার জন্য ‘পর-ধর্ম’। কিন্তু সে যখন ব্যক্তি-স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে ‘পরধর্ম’ আক্রমণ করে, তখন সমাজেরই সংহতি নষ্ট করে। সে একদিকে অপ্রকাশ্য নাস্তিক। অপর দিকে সামাজিক বিধিবদ্ধতা সংহারক। তার নিজ বিশ্বাসের স্বাধীনতা আছে বটে কিন্তু অন্যের বিশ্বাসকে আক্রমণ করে বা বিষোদগার করে নয়। এতে অন্যের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। সামাজিক বিধি লঙিত হয়।

লাভ না ক্ষতি?

আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়। তাদের অনেক প্রোপাগান্ডা সামাজিক সংহতি বিঘ্নিত করে বটে কিন্তু ওসব কাজে নাস্তিকতার মূল উপপাদ্য এগিয়ে নেয়া হয় না। বেফজুল সংঘর্ষ বাধায়। নবী মুহাম্মদ (সা.) আয়েশাকে (রা.) বিয়ে করাতে, পালিতপুত্রের তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীকে বিয়ে করাতে, সশস্ত্র যুদ্ধ করাতে আল্লাহর অস্তিত্ব অনস্তিত্বের (নায়ূযুবিল্লাহ) কোনো সম্পর্ক নেই। এই সেদিন পর্যন্ত বিবাহ কেবল দৈহিক ও যৌন উদ্দেশ্যে হত না। এর পিছনে সামাজিক, রাজনৈতিক, বিত্ত-সম্পদ, দুই পরিবার/গোত্রের সম্মানের বন্ধন, ঐক্য-সংহতি ইত্যাদি অসংখ্য কারণও কাজ করত। এবং আজও ক্ষেত্র বিশেষ সে সবের উপস্থিতি রয়েছে। মানুষের মানুষে যুদ্ধ বাধলে, এক জন্তু আরেক জন্তুকে খেয়ে ফেললে, সুনামিতে ধ্বংস হলে –এসবের কোনোটি স্রষ্টার অস্তিত্ব না হওয়ার যুক্তি বহন করে না। “কোরান ‘আল্লাহর’ কিতাব নয়” –এই ‘থিসিসে’ আলোচনায় কোনো সমঝদার নাস্তিক নামতে পারে না। কেবল মূর্খ নাস্তিকই নামতে পারে কেননা সে এই প্রপোজিশনে কী রয়েছে তা জানে না।

উগ্র-নাস্তিকদের আলোচনার এক বিপুল অংশ ইয়াহুদী-খৃষ্টিয়ান উৎসে ইসলামের সমালোচনারূপে উৎসারিত যার প্রকৃতি হচ্ছে ধর্মীয়, নাস্তিক যুক্তি পরিবহনের অনুকূল নয়। কিন্তু এগুলোতে তারা দ্রুত জড়িয়ে পড়ায় তাদের অঙ্গনটি ‘ধর্মীয়’ প্রকৃতিতে অতি সহজে রূপায়িত হয়েছে। 

দু’কুলের’ সম্মান

সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত, ঘাপটি-মারা নাস্তিকদের প্রধান প্রধান বিষয়ের আরেকটি হচ্ছে ‘দু’কুলের’ সম্মান নিয়ে বাঁচা ও মরা।  এটা হচ্ছে ধর্মীয় পরিভাষায় ‘মুনাফিকি’। এরা চাকুরী-বাকুরী করে, সভা-সমিতিতে উপস্থিত হয়, মঞ্চের প্রধান চেয়ার পায়, বক্তৃতা দেয়। ইসলাম ত্যাগ করেছে -এমন কথা প্রচারিত হলে ‘বাজার-মূল্য’ অনেকটা কমে যাবে, এই ভয়। তারপরের ভয় হচ্ছে মরে গেলে জানাযার কী হবে? হাজার হাজার লোকের সমারোহ ও সম্মানের কী হবে? তাই ঘাপটি মেরে মুসলিম সমাজে আড়াল হয়। সালাম ও আলাইকুম, ইনশাল্লাহ, মাশাল্লাহ, ‘স্রষ্টা চাইলে’ ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার করে। কেউ কেউ কয়েক বছর পর পর টুপী মাথায় দিয়ে ঈদের নামাজে হাজির হন। এগুলো হচ্ছে দুকূল বাঁচানো ও জানাযার নিশ্চয়তা বিধান।

দাফন  কাফন

কথা হচ্ছে যে মুহাম্মদের (সা.) সমালোচনায়  তার দিন রাত পাত হয়, সেই মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর জীবনকে বাজী রেখেই তাঁর বিশ্বাস ও আদর্শ প্রচার করেছিলেন। অপ্রকাশ্য নাস্তিক এই সবকটি কিন্তু তার দুশমনের কাছ থেকে নিতে পারত। কিন্তু নেয় নি।

বাতেনী নাস্তিক ভাল করেই জানে যে, মারা গেলে, তার পরিবার ভাইরাসে আক্রান্ত জঙ্গিগোষ্ঠীকে আহবান করবে, নবী মুহাম্মদের (সা.) তরিকায় গোসল দেয়া হবে, কাফন পরানো হবে, মৌলবাদী ইমাম ডাকা হবে, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী একত্রিত হবে। কুসংস্কারের মাধ্যমে জানাযা হবে। সবই মুহাম্মদের (সা.) তরিকায়। থামুন, আরও রয়েছে। কবর খুদাই হবে এবং জানাযার পর উগ্র-সন্ত্রাসীরা মরদেহকে হাতে হাতে করে কবরে স্থাপন করবে। তাওহীদের কলেমা পঠিত হবে। মুখমণ্ডলকে কিবলামুখী (মক্কামুখী) করবে। এসবের মধ্যে সমস্বরে উচ্চারিত হবে বিসমিল্লাহি আ'লা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ (আল্লাহর নামে [তোমাকে] রাসূলের অনুসারী মিল্লাতে) কবরস্থ করলাম। আহারে, কীয়ের মাঝে কী, আর পান্তা ভাতে ঘি!

যে লোকটি আল্লাহর রাসূলকে (সা.) অন্যায়ভাবে নিকৃষ্টতম অপবাদ দিত, তাঁর ধর্মকে অসত্য মনে করত, তাঁর প্রতি অমানবিক ভাষায় বিদ্বেষ প্রকাশ করত, তাঁর ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করতে জীবন কাটাত, সেকি আজব কাণ্ড, আজ তারই মরদেহ চলে এসেছে রাসূলের মিল্লাতে! গোঁড়াদের দোয়ায়, তাদের প্রার্থনায়! এটা কেমন হল? এখানে কি চিন্তার কিছু নেই? এত যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনষ্ক, জ্ঞানের আধার, আলোর দেয়ালি এই লোকটি এখানে কেন? কেন “কুসংস্কারে” চিরশায়িত! ওরে বিনোদন, ‘প্রকৃতির একি প্রতারণা’! 

প্রশ্ন হচ্ছে নাস্তিক বেটার মূল্যবোধ। তার দেমাগ। বিবেক। এক ব্যক্তি তার জীবিতাবস্থায় যা চরমভাবে অবজ্ঞা করবে, কিন্তু মৃত্যুতে সেই প্রথায় দাখিল হয়ে যাবে –এই বৈপরীত্য কেন? এই রথে চড়ে গর্তে প্রবেশ যদি ভাল দেখায়, যদি এই দোয়া দাফনে গোর-দাখিলে কল্যাণকর, সুন্দর ও সম্মানজনক অনুভূত হয়, তবে নিশ্চয় তাদের নাস্তিক্য বিশ্বাসে দুর্বলতা আছে। না হলে, নিজেরাই যখন জানেন তাদের জন্য এই জানাযা, এই দোয়া, এই দাফন এভাবে জায়েজ নয়, তবুও (অন্তত মানবতাবাদী হিসেবে), কেন মুসলমানদেরকে এই বিব্রতি থেকে বাঁচাতে কিছু বলবেন না, কিছু করবেন না?

এই বৈসাদৃশ্যের লোক ছড়িয়ে আছে রাষ্ট্রযন্ত্রে, মিডিয়ায়, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানাদিতে। তাদের কেউ মরলে এই সংস্থাগুলো কৌশলে কভার দিয়ে যায়। নাস্তিককে আস্তিকের দাফন দিতে সত্যকে ঢেকে দেয়, রেডিও টিভি ও মিডিয়াতে মিথ্যাচার করে। কোনো কোনো ঘটনাকে মুসলমানদের বিপক্ষে চালাতে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।কালোকে সাদা করে। মিডিয়া প্রধানত তাদের কব্জায়। এর ঐতিহাসিকতা আধিপত্যবাদে, সেক্যুলার শিক্ষা-সংস্কৃতিতে, বিদেশি এনজিওতে এবং অপরাপর বিদেশি সূত্রে।

অনেকে মরণের প্রাক্কালেও নিজেদের বিশ্বাসের ঘোষণাটি দিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তাও করবেন না। কেন? এর একটি উত্তর হয়ত এই হতে পারে যে মরণকালে যখন দুনিয়াবি অনেক মূল্যবোধ ছিন্ন হয়ে পড়ে তখন জীবনের অনেক সত্যকে ভিন্ন আকারে দেখার অবকাশ আসে। তখন যা সত্য ও ভাল অনুভূত হয় তার পিছনে যৌক্তিক কিছু কারণও জাগ্রত হয়। তারপর কথা হতে পারে যে, যা মরণকালে সত্য, তা তো জীবনকালেও সত্য হওয়ার কথা ছিল। জীবনে নাস্তিক আর মরণে অন্ধ বিশ্বাসী আস্তিকের কাফন দাফন –এ কী বৈপরীত্য! তারা নাকি আবার যুক্তিবাদী, মুক্তমনের লোক, আধুনিক, কেবল বিজ্ঞান সম্মত কাজই করেন! হায় বিজ্ঞান, হায় যুক্তি!

শেষ কথা

এবারে মূল কথাতে যাই। মুসলিম সমাজ বিগত ১৪ শো বছর ধরে অপরাপর ধর্ম ও বিশ্বাসের লোক ও সমাজের সাথে উঠা বসা করে এসেছে। ধর্ম ও বিশ্বাসের ভিন্নতা এখানে নতুন কিছু নয়। যে নাস্তিক সে আবার মানুষ। কারও মরদেহের প্রতি অসম্মান দেখানো ইসলামে জায়েজ নয়। এটা উগ্রনাস্তিক ও উগ্র-ইসলাম বিদ্বেষীদের করতে দেখা যায়। তাদেরকে মরদেহের কফিনে জুতা নিক্ষেপ করতেও দেখা গিয়েছে! মানবতা কোথায় নিহিত –এই সবক কেউ ইসলাম ধর্মকে শেখাতে হবে না। তারা নিজেরাই শিখলে চলে।

আমরা মনে করি শেষকৃত্য যার যার বিশ্বাস ও আদর্শ অনুযায়ী হওয়া ভাল। এতেই তার প্রতি ও তার বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানো হয়। যে ব্যক্তি মুসলমান নয়, তার মরদেহে ইসলামী জানাযা দেয়াতে উলটো তার বিশ্বাসের প্রতি অসম্মান দেখানো হতে পারে। আমি নাস্তিকের বিশ্বাসকে অসত্য মনে করতে পারি কিন্তু তার মানবিক মর্যাদা কোনভাবে ক্ষুণ্ণ হোক তা চাই না। একটি সমাজ শান্ত হোক, সকলকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে চলুক, এটাই প্রত্যাশা করি।

১৩ comments

Skip to comment form

  1. 10
    অারমান খান

    নাস্তিকতায় কোন ইলাহে বিশ্বাস করা হয়না, আর ধার্মিকতায় বিশ্বাস করা হয় যে, আল্লাহ তায়া’লা সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। ধার্মিকতা মানুষকে আত্মিক সৌভাগ্য ও মানসিক প্রফুল্লতা দান করে, পক্ষান্তরে  নাস্তিকতা একটি ভ্রান্ত চিন্তাভাবনা যা মানুষকে আত্মিক সৌভাগ্য ও মানসিক প্রফুল্লতা থেকে বঞ্চিত করে।

    http://www.bnislamkingdom.com

  2. 9
    রিজভী আহমেদ খান

    লেখাটি আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে ভাইয়া।

    @ মিলন ইনি সদালাপের প্রত্যেক পোস্টে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক কিছু কথা বলছেন এটা বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ করছি।

  3. 8
    সত্য সন্ধানী

    জান্নাতের লোভ দেখিয়ে বিশেষ ক্লাস নেয়া হুজুরটি কি আপনি নিজে মিলন সাহেব? হলেও হতে পারেন কারন ইসলাম কে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে এমন শয়তান কম নেই। তা ভাল কথা সেই ছাত্রীটি আসলে কে জনাব? সে কি কোরান হাদিস পড়েনি কোনদিন? নাকি ছাত্রীটি আপনার মতই কোন চোগলখোর যে কিনা এনজিও গুলির কাছ থেকে টাকা খায়?
    অথবা আপনি কি সত্যি আসলে মুসলিম ছদ্মবেশে আছেন ভারতীয় দাদা বাবু?

    প্রথম পয়েন্ট খুবই অপ্রাসঙ্গিক কারন পতিতালয়ে যে যায় সে আ আবার কি ভাবে ইসলামী বিধিনিষেধ মেনে চলল? পতিতা সম্ভোগ সহ যে কোন ধরনের বিবাহ বহির্ভুত যৌন সংসর্গ ইসলামে হারাম। তাই নিজেই প্রাকারান্তরে স্বীকার করে নিলেন যে আপনি নিজে ভারসাম্যহীন এবং/অথবা মিথ্যা বলতে বলতে নিজেই গুলিয়ে ফেলেছেন যে কি বলছেন!

  4. 7
    অারমান খান

    নাস্তিকতা সম্পর্কে আরও জানতে এই ওয়েবসাইটটি দেখতে পারেন। link

  5. 6
    এম_আহমদ

    Mahfuz Thalukder ভাই, উপকার হলে তো ভাল কথা, কিন্তু বুঝতে পারলাম না, কোন উপকারটা করলাম?  ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  6. 5
    mahfuzbdyahoo@gmail.com

    ভাই আপনি আমার অনেক উপকার করেছেন । ধন্যবাদ

  7. 4
    Shahriar

    Well write.. Please keep continue.

    1. 4.1
      এম_আহমদ

      ধন্যবাদ

  8. 3
    এম_আহমদ

    @ fazle hassan siddiqui ভাই অনেক ধন্যবাদ। এই লোকটা হিতাহিতজ্ঞানশুন্য। এই গত কয়েকদিন থেকে এখানে [সদালাপে] পাগলামি করে বেড়াচ্ছে। বেহুসের মত যা ইচ্ছে তাই কমেন্ট করে বেড়াচ্ছে। তাকে উত্তর দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  9. 2
    নির্ভীক আস্তিক

    আমি নিজে কি, তা বলার অবকাশ রাখি না। আমি কোন তর্কযুদ্ধেও জড়াই না নিজেকে জ্ঞানী প্রমান করতে। আবার মসজিদেও যাই না জান্নাতের হুরের লোভে, কিংবা জাহান্নামের ভয়ে। আমি সমাজে অন্যায় করি না, মিথ্যা বলি না, কারো ক্ষতি করি না। মুসলিমকে বুকে জড়াতেও দ্বিধা করি না, হিন্দু খ্রিষ্টানদের বুকে জড়াতেও দ্বিধা করি না। আমি মানুষকে মানুষ হিসাবে দেখতে পছন্দ করি।

    সেই দিন আপনাকে মূর্খ ডেকেছি আজকে আপনাকে সভ্যসাচী চামরার নীচে লুকানো একটি কুৎসিত কালো দাবনীয় মিথ্যুক ডাকলাম। আপনি সেইদিন নিজেকে অজ্ঞ পরিচিয় দিয়েই নগদে টিপ্পনে কেটে মুর্খামি শুরু করেছিলেন ইনিয়ে বিনিয়ে একমুখে এক প্যারাতেই পরস্পর বিরোধী যুক্তি টেনে। আর তাই আপনি যতটা না মিথ্যুক তার থেকে অনেক বেশি অস্লীল বাংলায়  "চোগলখোর" । এর প্রমাণ আপনার নাস্তিক বন্ধুদের বহুপ্রশংসার সরবরে বর্ণনা থেকে আমরা দেখিঃ

    ধর্ম নিয়ে তর্ক যুদ্ধে নামতে দেখি নি। বরং তাদের সাথে কোন ধার্মিক আলোচনা করতে চাইলে, অনেক ক্ষেত্রেই পাল্টা যুক্তি দেখিয়ে ধার্মিকদের বোকা বানানোর চেষ্টা করে না। কেননা, তারা জানে যে, মানুষের বিশ্বাসে আঘাত করা উচিত নয়, যা ধার্মিকরা জানে না। আর তর্ক না করার দরুন, ঐ ধার্মিক নিজেকে জয়ী মনে করে নিজেকে নিজে গর্বে গর্ভবতী মনে করে।

    ধার্মিকরা জানেনা, কিন্তু নাস্তিক সম্প্রদায়ের লোকেরা খুব জানে। তাই মুক্তমনা, সচলায়তন এর মত জায়গার বহু মৌলবাদী নাস্তিক যারা কিনা শক্ষিত, উন্নত মস্তিষ্কের ধব্জাধারি, বিজ্ঞানমনষ্ক প্রগতিশীল নাস্তিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেন তারা বহু নাস্তিকদের যেমনঃ থাবা বাবা, অভিজিৎ রায়, অনন্ত, আসিফ মহিউদ্দিন, তাদের শান্তির দূতমাতা তসলিমা নাসরীন ইত্যাদি নাস্তিক সম্প্রদায়ের লোকদের কুৎসিত সাম্প্রদায়িক কাজের সমালোচনা তো কখনো করেনি না বরং তার পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাদের এই অতিমানবীয় মিথ্যাপ্রচার প্রমানিত হয়েছে এই সদালাপেই বারংবার। তারাই প্রকৃত নাস্তিক, বাকিরা সব নকল।  ধার্মিক নিজেকে জয়ী মনে করে নিজেকে নিজে গর্বে গর্ভবতী মনে করে। ব্যাপারটা খারাপ কিন্তু অন্যদিকে "তারা কেবলই অন্যের তর্ক যুদ্ধ শ্রবন করে, মনে মনে হাঁসে আর বিনুদুন নেয়। " আপনার অতি মানবীয় নাস্তিক বন্ধুগন ধার্মিকদের সাথে  তর্কে না এগিয়েই অন্য নাস্তিক-আস্তিক তর্কযুদ্ধে দূর থেকে ইতং বিতং মজা লুটতে চায় এটা ঠিক কাপুরুষতা নয় বরং বিবর্তিত বানরের সাক্ষাৎ প্রমানঃ গঠন বদলিয়েছে কিন্তু চরিত্র বদলায়নি।  

    সে যাগগে। আপনি যে নিজেও আপনার এই অতি নাস্তিক বন্ধুদের থেকেও উত্তম ভদ্র নাস্তিক তার বর্ণনা থেকেই আমরা দেখতে পাইঃ

    আমি নিজে কি, তা বলার অবকাশ রাখি না। আমি কোন তর্কযুদ্ধেও জড়াই না নিজেকে জ্ঞানী প্রমান করতে। আবার মসজিদেও যাই না জান্নাতের হুরের লোভে, কিংবা জাহান্নামের ভয়ে। আমি সমাজে অন্যায় করি না, মিথ্যা বলি না, কারো ক্ষতি করি না। মুসলিমকে বুকে জড়াতেও দ্বিধা করি না, হিন্দু খ্রিষ্টানদের বুকে জড়াতেও দ্বিধা করি না। আমি মানুষকে মানুষ হিসাবে দেখতে পছন্দ করি।

    ১। সদালাপের ডানপাশের ইন্ডেক্সে কে কি মন্তব্য করছে তা সকলেই দেখে। আপনার ঘুম খাওয়া দাওয়া হারাম করে সদালাপে এখানে ওখানে ছাইপেশ মন্তব্য করছেন শান্তি কামনার উদ্দেশ্যে। ধর্ম সম্পর্কে আপনার অতি জেনারালাইজড আর আজেবাজে context এর বাহিরের মন্তব্য আপনার অতার্কিক সইত্য সুন্দর ধুতরা ফুলের মত চরিত্রটি আমাদের কাছে উলঙ্গ করেছে।এবং আপনি যে দিনে দুপুরের আর ৮-১০ টা মৌলবাদী হিংস্র সাম্প্রদায়িক নাস্তিকদের মতই মিথ্যুক তাই কেনযেন আবার জানান দিল। 

    ২। আপনি মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখেন কিন্তু আপনার প্রায় প্রতিটা কথাতেই মানুষ হিসেবে মানুষরা আসেন না, আসে কুরআন এ বিশ্বাসী আস্তিক হিসেবে। তো, মৌলবাদী নারায়ন সাবেরা কি পেন্নাম করা ছেরে দিয়ে নাস্তিকতার খাতায় নাম লিকিয়েছেন ? তারা একি এই কলিযুগে আস্তিক নন ?

    ৩। আপনার নিকটির সঠিক পরিচয় দিন। আমরা একটু খোজ নিয়ে দেখি এটাও সঠিক কিনা। জান্নাত জাহান্নাম না হোক ভগবানের আশীর্বাদ মস্তকগন্ডের উপর নেয়ার ইচ্ছায় চষে বেরান কিনা সেটাও পরখ করে দেখি।

    মিথ্যা বলাটাই সমাজের সবচাইতে বড় অন্যায়। এই একটা কাজ মৌলবাদী নাস্তিক সম্প্রদায়ের লোকেরা ছেরে দিয়ে ধূর্তামি করা পরিত্যাগ করলে অন্যান্য সকল অন্যায় এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে, এমন কি চোগলখোরি করা বাজে অভ্যাসও। ইতিমধ্যে যেসকল ব্লগ ও news মিডিয়া যেমনঃ মুক্তমনা, সচলায়তন, বিডি৪২০( bdnews24), যারা কিনা প্রগতিশীল শিক্ষিত বিজ্ঞানমনষ্ক নাস্তিক সম্প্রদায়কে represent করে তারা এই চোগলখোরী, মিথ্যাপ্রচার ও মানুষকে বিভ্রান্ত করার মত আজেবাজে সাম্প্রদায়িক কাজের দায়ে দলিল দস্তখত অনুযায়ী অভিযুক্ত। একটি সাম্প্রদায়িক প্ল্যাটফর্ম সত্যিকার অর্থে নিজেদের তখনি সেক্যুলার প্রমাণ করতে পারবে যখন তারা নিজ সম্প্রদায়ের সমালোচনা করতে শিখবে। যেমনঃ জামাত শিবির অথবা radical islamist দের ক্ষেত্রে সদালাপের আলচনা-সমালোচনা। 

    আপনার নিম্ন মানের অশ্রাব্য ঢোল পেটানো "নিজ প্রশংসা" আমরা শুনতে আগ্রহী নই। নিজেদের চরিত্র পালটান । পৃথিবীর আর ৮-১০ টা ধর্মীয় বিশ্বাস, মূল্যবোধ এর মত নাস্তিকতার বয়সও কম হয়নি, এর উপরেও লেখাহয়েছে অনেক বই-কিতাব। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর আগপর্যন্ত মানুষ একে গুঁতো দিয়েই চেখে দেখতে চায়নি। শেষমেশ জোরপূরবক ১০০ মিলিয়ন মানুষকে দুনিয়া থেকে মুছে ফেলতে হয়েছে আর এখনো নাস্তিকতার প্রসার চলছে Dictatorship এর অধীনে জোরপূর্বক হিংস্র খুনি শাসন যন্ত্রের হাতে। নাস্তিকতা এভাবেই মানুষের ভিতরকার ভাল সত্তাকে নীরবে গিলে ফেলে তাকে মিথ্যাচারী, চোগলখোরী করে ফেলে। এগুলোই সমাজের প্রথমশ্রেনীর অন্যায় যা মানুষ সচারচর করে। আমার চোখে এখন পর্যন্ত যত অমানবিক ইসলামিস্ট দেখেছি তাদের কথাতেও এতটা ধূর্তামি আর চোগলখুরী পাইনাই কিন্তু কিছুটা মিথ্যাচার পেয়েছি যা আবার একটু খুচলেই ধরা খেয়ে যায়।

    মৌলবাদী নাস্তিকদের এই স্বভাব চরিত্র এর কারনেই নাস্তিকতাকে আজো  বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে  পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের এই না-পছন্দ আর অনুৎসাহের  হেতু যেন আপনাদেরঃ এই সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী নাস্তিকদের চরিত্রের মধ্যে না খুজতে হয় সেই কাজে ব্রত হোন। মিথ্যাচার, ধূর্তামি, চোগলখুরি পরিত্যাগ করুন। আর আপনার মানবিক নাস্তিক বন্ধুদের বলুন দূরে বসে বানরের মত মজা না লুটে, যেসকল মৌলবাদী নাস্তিক নাস্তিক সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে তাদের সমালোচনা করে নিজেদের অসাম্প্রদায়িক মনোভাব এর প্রমাণ দেয়। 
     

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। এই পাগলটাকে সমুচিত উত্তর দিয়েছেন। এই কয় দিন ধরে সে যে উৎপাত শুরু করেছে: এখানে এক কথা, ওখানে আরেক কথা, যা বুঝে না, জানে না তা নিয়ে বাচালতা, মন্তব্য, প্রশ্ন, আর এভাবেই নিজেকে প্রকাশ করতে চাচ্ছে। কিন্তু বক্তব্য যদি জ্ঞান বহন না করে, যদি সর্বত্রই কথা এলোমেলো হয়, যদি contradiction inherent হয়, তাহলে জ্ঞানশূন্যতা প্রকাশ হতে সময় লাগে না। আর এই অবস্থা প্রকাশ পাবার পর এটাকে আর repair করা যায় না। কারও শরম হায়া না থাকলে যে দশা হয়, তার সেই দশা হয়েছে।

      1. 2.1.1
        রিজভী আহমেদ খান

        @Milon
        এর ধূর্তামি স্পষ্ট। সদালাপে প্রতি পোস্টে উনি যেসব মন্তব্য করছেন তাতে তার অবস্থান আমাদের নিকট পরিষ্কার।

        জাযাকাল্লাহ, এতো সুন্দর লেখার জন্য।

  10. 1
    মহিউদ্দিন

    আমি নাস্তিকের বিশ্বাসকে অসত্য মনে করতে পারি কিন্তু তার মানবিক মর্যাদা কোনভাবে ক্ষুণ্ণ হোক তা চাই না। একটি সমাজ শান্ত হোক, সকলকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে চলুক, এটাই প্রত্যাশা করি।

    সহমত শতভাগ। 

    কথা হচ্ছে আল্লাহর উপর যার প্রবল বিশ্বাস আছে এবং যে নিজেকে সত্যিকার মুসলিম মনে করে তার তো এটাও বিশ্বাস করার কথা যে নাস্তিক আস্তিক যেই হউক না কেন কেউ আল্লাহর ক্ষমতার বাহিরে নয় এবং যথা সময়ে আল্লাহ তার বিচার দ্রুত করবেন।  অতএব নিজের হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে জঙ্গি সেজে নাস্তিকের হত্যা করার অপরাধে একজন মুসলিম কিভাবে জড়িত হতে পারে? আর ইসলাম তো শান্তির জীবন ব্যবস্থা ।   

    মুসলিম সমাজ বিগত ১৪ শো বছর ধরে অপরাপর ধর্ম ও বিশ্বাসের লোক ও সমাজের সাথে উঠা বসা করে এসেছে। 

    কিন্তু আজকাল মানুষের মনে যে কল্পমূর্তি বা ধারনা (Perception) সৃষ্টি করানো হচ্ছে তা হল ইসলামী সমাজ মানেই সাম্প্রদায়িকতা সেখানে অন্য ধর্মের মানুষ বাস করতে পারবে না!  তবে এ ধারনা কিন্তু দিন দিন প্রকট হবে যত বেশি আমরা ইসলামকে মেইনস্ট্রিম থেকে দুরে সরাতে থাকব এবং আপনার উল্লেখিত সেই গোপন কৌশলীদেরকে চিনতে না পারব। আপনার লিখাটি পাঠকদে মাঝে সে সচেতনা জাগাবে আশা করি।  

Leave a Reply

Your email address will not be published.