«

»

Jul ০৬

গাফফার চৌধুরীর বক্তব্য: দেশ কি নতুন কোন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে?

20150705 a gaffar

গতকাল আমরা সংবাদ মাধ্যমে দেখতে পাই যে আওয়ামীলীগপন্থী লেখক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী জাতিসংঘের বিল্ডিঙে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত “বাংলাদেশ: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ” শীর্ষক এক আলোচনায় “আল্লাহর ৯৯ নাম কাফেরদের দেবতাদের নাম ছিল”, “আবু হুরাইরা নামের অর্থ হচ্ছে বিড়ালের বাবা, আবু বকর নামের অর্থ হচ্ছে ছাগলের বাবা”, “কাফেরদের মধ্যে যারা মুসলমান হয়েছিল তাদের নাম পরিবর্তন করা হয়নি … একটা নামও পরিবর্তন করা হয় নি”, “হিজাব এবং বোরখা হচ্ছে মওদুদীর শেষ মতবাদ”, “আমি জিয়াউর রহমানকে ঘৃণা করি” -এই সব কথা বলেন।

বাংলাদেশ নানান সমস্যায় জর্জরিত একটি দেশ। অমনিতেই একদিকে বিভিন্ন সূত্রে মদদপ্রাপ্ত উগ্র-নাস্তিকদের সয়লাব চলছে, অপর দিকে চলছে এক অনির্বাচিত সরকারের হাতে গুম, হত্যা, ঘুষ, জাতীয় সম্পদের হরিলুট, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আক্রমণ, দমন, নির্যাতন এবং জেলবন্দীকরণ। আজ এগুলোতেই জাতীয় সমস্যা। কিন্তু এসবের মধ্যে ধর্ম নিয়ে বাড়তি সমস্যা সৃষ্টি করায় কোন কল্যাণ খোঁজে পাওয়া যাবে না। 

উল্লেখিত সেমিনারে আব্দুল গাফফার সাহেব যেসব কথা বলেছেন সেগুলো বলার কি আদৌ প্রয়োজন ছিল? তারপর যেসব কথা বলেছেন সেগুলো কি সত্য? আমরা এগুলোর কিছু অংশ আলোচনা করতে যাচ্ছি।

আল্লাহ দেবতা (নায়ূযুবিল্লাহ) ও ৯৯ নাম

কাবা ঘরে 'আল্লাহ দেবতা' নামে কোন দেবতা ছিল না। কাবা ঘরের বড় দেবতা ছিল হুবল। আরবগণ পৌত্তলিক হলেও আল্লাহকে স্রষ্টা, রব, রিজিকদাতা মানত। তাদের বিশ্বাসের দুইটি রূপ ছিল। এক, আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও জমিনের স্রষ্টা। তিনি রব। তিনি মেঘবৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে প্রাণী জগতের রিজিক দান করেন। অনাবৃষ্টির সময় তারা আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য একটি নির্দিষ্ট পাহাড়ে গিয়ে সামষ্টিক দোয়া করত।  আল্লাহকে সবকিছুর মালিক ভাবত। কোরানে এসেছে ‘আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন এই আসমান ও জমিন কে সৃষ্টি করেছেন, তারা বলবে “আল্লাহ”। বলুন, আল-হামদুলিল্লাহ’ (৩১:২৫)। এটি ছিল তাওহীদুর রুবুবিয়াহ, অর্থাৎ প্রতিপালক বা 'রবের' একত্বে বিশ্বাস। মক্কাবাসীরা আল্লাহর কোন মূর্তি তৈরি করেনি।  তাদের বিশ্বাসের দ্বিতীয় রূপ এই ছিল এই যে তারা যুদ্ধজয়, নিরাপত্তা, বিপদমুক্তি ইত্যাদির জন্য নানান দেবতার ইবাদত করত। আবার কিছু মূর্তির উপাসনা করত এই বিশ্বাসে যে এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর ‘নিকটবর্তী’ হতে পারবে (৩৯:৩)। তারপর পুরোহিতের মাধ্যমে মিথ্যাভাবে দেবদেবীর ইচ্ছার 'আনুগত্য' করত, দেবদেবীর কাছে রোগমুক্তি, বিপদমুক্তি চাইত এবং এদেরকে তাদের উপাসনায় আল্লাহর সাথে শরীক করত। এই দ্বিতীয় অংশের বিশ্বাস ছিল তাওহীদুল উলুহিয়্যাত বা এক মা’বুদে বিশ্বাস ও আনুগত্যের প্রতিকূলে। এখানেই তারা আল্লাহর সাথে শরীক করত। তাওহীদুল উলুহিয়্যাত প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর আনুগত্য, সকল প্রার্থনা, চাওয়া পাওয়া তার দিকে নিবদ্ধ করার জন্য নবী পাঠানো হয়। জাহেলী যুগে তারা হজ্জের তালবিয়ায় বলত: ‘হে আল্লাহ আমরা হাজির, আমরা হাজির। আপনার কোন শরীক নেই তবে সেই শরীক যে কেবল আপনারই। আপনি তার মালিক এবং তার সবকিছুর মালিক’ ([1] আবুল মুনযির হিশাব ইবন আল-কালবী (৭৩৭-৮১৯ খৃ.), কিতাবুল আসনাম পৃ.৭)। 

মক্কা, তায়েফ ও নাখলা নামক স্থানে যথাক্রমে ‘মানাত’, ‘আল-লাত’ ‘আল-উজ্জা’ নামের তিন দেবীকে তারা আল্লাহর ‘কন্যা’ বলে বিশ্বাস করত। কোরানে এই নামগুলো ছাড়াও ‘ওয়াদ্দ’, সু‘আ, ‘ইয়াগুস’, ‘ইয়াউক’, ‘নাসর’ নামের মূর্তির উল্লেখ এসেছে (৭১:২৩)। ইবন আল-কালবী (৭৩৭-৮১৯ খৃ.) তাঁর ‘কিতাবুল আসনাম’ (মূর্তি বিষয়ক পুস্তক) গ্রন্থে আবরদের দেবদেবীর নাম ও স্থানের তালিকা রচনা করেছেন। এতে আরও অনেক দেবদেবীর নাম এসেছে, যেমন রিয়াম, সা’দ, যুল-কাফফাইন, যুস-শাহরা, আল-উকাইসির, নুহম, আইম, সুইয়ার, আম্মু-আনাস ইত্যাদি। ইবন আল-কালবীর বর্ণিত নামগুলো ইসলাম-সমালোচক একটি খৃষ্টিয়ান সাইট (site) কিছু ব্যাখ্যাসহ ইংরেজিতে প্রকাশ করেছে ([2] নোটে লিঙ্ক দেখুন)। ইন্টারনেটে “ওসানিজম” (বা পৌত্তলিকতা) নামধারী একজন ইমানী পৌত্তলিক আরব দেশের দেবদেবীর নামের একটি লিস্ট সাজিয়েছেন। যদিও এই লেখাটি তার নিজের পৌত্তলিক দৃষ্টিকোণ ও ভাষ্য থেকে সাজানো হয়েছে তবুও তা দেখা যেতে পারে ([3] নোটে লিঙ্ক দেখুন)। ‘ওয়ানিজম’ তার সাইটে ইবন আল-কালবীর লিস্টও তার-মতো করে সমন্বয় করেছেন।   এই সবগুলো নাম মিলিয়ে কোথাও ‘আল্লাহ’ নামের দেব-দেবী নেই, যেখান থেকে এডাপ্ট করা হয়েছে বলে দাবী করা যেতে পারে। তারপর ৯৯ নামেরও কোন মিল নেই। আল্লাহর ৯৯ নাম হচ্ছে গুণবাচক নাম। এসবের সাথে দেবদেবীর নাম দেখলেই স্পষ্ট বেমিল দেখা যায়।

সুতরাং আল্লার ৯৯ নাম পৌত্তলিক দেব-দেবীর নাম থেকে ধারিত হয়েছে –এমন কথা আব্দুল গাফফার চৌধুরী কীভাবে বলতে পারেন? তিনি কি ঐতিহাসিকভাবে সকল দেব-দেবীর নাম, স্থান ও তাদের গোত্র  সম্পর্কিত “সঠিক তথ্য” ক্রেডিবল সূত্রে সূত্রায়িত করতে পারেন? তিনি তার বক্তৃতাকে ‘একাডেমিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। একাডেমিক বক্তৃতা কি গাজি কালুর পুথির মত হয়? কোনো রেফারেন্স উল্লেখের প্রয়োজন হয় না?    

মূল কথা হচ্ছে ইব্রাহীম ও ইসমাঈলের (আ.) মাধ্যমে এই অঞ্চলে যে তাওহীদী ধর্ম প্রচারিত হয়,  সেই ধর্ম প্রায় দুই হাজার বছর পরও আরবের মাটিতে শেষ হয়ে যায় নি। কেবল নবীর (সা.) প্রায় সাড়ে তিন শো বছর আগে আমর বিন লু’হাই নামক এক খুজায়ী গোত্র-প্রধান, (যাদের অধীনে তখন কা’বার ব্যবস্থাপনা ছিল), পৌত্তলিকতা সিরিয়া থেকে আমদানি করে। কিন্তু তাতেও দ্বীনে ইব্রাহীম (আ.) শেষ হয়ে যায় নি বরং নবী মুহাম্মাদ (সা) যুগ পর্যন্ত কিছু লোক ‘হানাফী’ আন্দোলনের মাধ্যমে তা চালিয়ে যান। সুতরাং মক্কাবাসী এবং সাধারণ আরবগণ আল্লাহর ইবাদত না করলেও অনেকের কাছে তাঁর নাম ও ধারণার বিষয় স্পষ্ট ছিল।

এই অঞ্চলে কখনো পৌত্তলিকতা ইসলামের পূর্ববর্তী (preceeded) ছিল না বরং ইসলামই ছিল পূর্ববর্তী। পৌত্তলিক উৎস থেকে দেব-দেবীর নাম আমদানী করে অথবা এডাপ্ট করে তাওহীদের বাণী প্রচারের কথা কল্পনাই করা যায় না। এটা কেবল আব্দুল গাফফার চৌধুরী এবং তার শ্রেণী ও ঘরানা করতে পারেন।

আব্দুল গাফফার সাহেব ‘কিছু দিন’ মাদ্রাসায় পড়েছেন। কিছুদিন মাদ্রাসায় পড়লে যা হয় তার বক্তৃতা হচ্ছে সেই প্রমাণ। তিনি যদি দীর্ঘ দিন পড়তেন তাহলে এমনসব কথা বলতেন না। তার বক্তৃতায় আরবি ও ইসলাম নিয়ে যা বলেছেন তার বেশির ভাগ কথাই সঠিক নয়। আমরা এবারে ‘নামের’ বিষয়টি দেখি।

আবু (أبو) কি?

আরবি ‘আব’ বা ‘আবু’ কেবল পিতার অর্থে ব্যবহৃত হয় না। বরং মালিক অর্থে, অধিকারী অর্থে, মুলাজামাহ বা সংশ্লিষ্টতার অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন ধরুন, আবুল ফজল (أبو الفضل)। ফদল বা ফজল হচ্ছে প্রাচুর্যের অর্থবাহী শব্দ, যা বেশির অর্থে  এবং কমতির বিপরীতে। এটা আচার আচরণের মাধুর্যের ক্ষেত্রেও আসে। তাই এ আবুল ফজলের অর্থ কি হবে? ‘বেশির বাপ’? না। বরং এর অর্থ হবে প্রাচুর্যের অধিকারী। দুধকে (milk) ‘আবুল আবইয়াদ (أبو الأبيض)’ বলা হয়। আবইয়াদ হচ্ছে সাদা। তাহলে দুধ কি ‘সাদার বাপ’? ধরুন, আবুল হায়াত (أبو الحياة)। হায়াত মানি জীবন। তাহলে ‘আবুল হায়াত’ কি জীবনের বাবা? না। এর অর্থ হবে জীবনধারী, বা জীবনমুখী। এটা বৃষ্টির অর্থেও ব্যবহৃত কেননা এর ফলে মাটিতে জীবনের সঞ্চার হয়।  এসব বিষয় বুঝতে হলে দীর্ঘ কাল মাদ্রাসায় পড়তে হয়।

‘আবু হুরাইরাহ’র অর্থ ‘বিড়ালের বাবা’ নয় বরং একটি ছোট্ট বিড়ালের মালিক বা যার অধিকারে একটি ছোট্ট বিড়াল আছে। ‘আবু বকরের’ অর্থ ‘ছাগলের বাবা’ নয় বরং তরুণ উষ্ট্র বা উষ্ট্র বাছুরের মালিক, বা যার অধিকারে/তত্ত্বাবধানে তরুণ উষ্ট্র বা বাছুর রয়েছে, (নবীন, যৌবনধারী, এবং অগ্রগামীর ধারণায়ও নেয়া যেতে পারে)।  এই নামগুলোতে মন্দের কিছু নেই। এতে হাসি তামাশারও কিছু নেই। এই নামগুলো মহান সাহাবীদের (সা.) হওয়ায় এসবের তাৎপর্য মুসলিম সমাজে, ভিন্ন আঙ্গিকে, অপরিসীম।

নাম পরিবর্তন হয় নি?

আব্দুল গাফফার সাহেব বলেছেন, “কাফেরদের মধ্যে যারা মুসলমান হয়েছিল তাদের নাম পরিবর্তন করা হয়নি … একটা নামও পরিবর্তন করা হয় নি” –এটা হচ্ছে ভুল কথা। কিছু না জেনে বলা হয়েছে। এমন ধরণের কথায় ‘একাডেমিক’ শব্দ আরোপণ হাস্যকর।

ইসলামের বিশ্বাসের সাথে যেসব নামের বিরোধ ছিল সেসব নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। যাদের নাম দেব-দেবীর সাথে জড়িত ছিল যেমন আব্দুল উজ্জা (উজ্জা-দাস), আব্দুস শামস (সূর্য-দাস), আব্দুল কা’বাহ (কা’বাহ-দাস) ইত্যাদি নাম পরিবর্তন করে আব্দুল্লাহ, আব্দুর রাহমান –এই জাতীয় নামকরণ করা হয়েছে। ‘আল্লাহ’ নামের কোন দেবতা থাকলে আব্দুল্লাহ (আল্লাহর দাস) করা হত না, কেননা এক দেবতার নাম পরিবর্তন করে আরেক দেবতার নামে নামকরণের কোন অর্থ হয় না।  

তারপর যেসব নামে মন্দ তাৎপর্য ছিল তাও পরিবর্তন করা হয়েছে। যেসব নারীর নাম বুররাহ (برّة/গন্ধময় বৃক্ষ, নষ্ট শস্যকণা) ছিল তা পরিবর্তিত হয়েছে। রাসূলের (সা.) স্ত্রী যাইনাবের (রা.) পূর্ব নাম ছিল বুররাহ, রাসূল (সা.) তা পরিবর্তন করে ‘যাইনাব’ (সুগন্ধময় বৃক্ষ) করেন। যেসব নামে পাপ ও অবাধ্যতার ধারণা ছিল তাও পরিবর্তিত হয়। যেসব নারীর নাম আসিয়াহ (عاصية/অবাধ্য) ছিল, সেগুলোও পরিবর্তিত হয়। এক আসিয়া মেয়ের নাম ‘জামিলাহ’ (جميلة) ‘সুন্দর’ করা হয়, আরেকজনের নাম জুওয়াইরিয়াহ (ছোট্টমেয়ে [আদরের অর্থে]) করা হয়। এক ব্যক্তির নাম ‘হাযন’ (حزن/কঠোর, রূঢ় ও অমসৃণ [ভূমি]) ছিল তা বদলে দিয়ে সাহল (سهل/সহজ ও মসৃণ [ভূমি]) করা হয়।  হারব (যুদ্ধ) নামকে সালাম (শান্তি) করা হয়। বানু গাইয়্যা (‘নীতিভঙ্গকারী, বিদ্রোহী গোত্র’) পরিবর্তন করে বানু-রোশদান (আলোকপ্রাপ্ত, পথ-প্রদর্শিত গোত্র) করা হয় [4]। এভাবে অসংখ্য নজির রয়েছে।

অনেক স্থান ও পাহাড়ের নাম মন্দ থেকে ভাল নামকরণ করা হয়েছে। হিজরতের পূর্বে মদিনার শহরের নাম ছিল ‘ইয়াসরিব’। ইমাম নববী ও ইবন হাজর বলেন ‘ইয়াসরিব’ শব্দ ‘তাসরিবের’ (تثريب) সাথে জড়িত, যার সাথে নিন্দা ও দোষারোপের অর্থ সংযুক্ত। তাই তাই নবী (সা) এটাকে পরিবর্তন করেন। পুরাতন নাম যাতে দ্রুত অভ্যাস থেকে সরে যায় এবং নতুন নাম আত্মস্থ হয়, এজন্য নবী (সা) বলেন, “যে ব্যক্তি (ভুলে) ইয়াসরিব বলে ফেলবে তার কাফফারা হবে দশ বার ‘মদিনাহ’ ‘মদিনাহ’ শব্দ উচ্চারণ করা” [5]

কোন ব্যক্তি এসব জ্ঞান কিছুদিন মাদ্রাসায় পড়ে কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিষোদ্গার করে ও ব্যক্তিক প্রতিপক্ষকে কুনোই মেরে জীবন কাটালেও অর্জিত হতে পারে না। এর জন্য ব্যাপক পড়াশুনার প্রয়োজন হয়।

মাওদূদীবাদ?

তার দৃষ্টিতে “বাংলাদেশের জামাত দ্বীনে মোহাম্মদী নয়, তারা হচ্ছে দ্বীনে মওদুদী। হিজাব এবং বোরখা হচ্ছে মওদুদীর শেষ মতবাদ।”  তার কথা যে সম্পূর্ণ মিথ্যা তা তার বাক্যের মধ্যেই নিহিত। হিজাব, বোরখা -এগুলো মাওদূদী (র.) চালু করেন নি। তিনি জানেন না এগুলো ইসলামেরই প্রথা। জনতাকে ঠকাতে মাওদূদীর কাঁধে বন্দুক স্থাপন করে এই শ্রেণীর লোক যুগ যুগ ধরে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন। “মাওদুদীবাদ” হচ্ছে অপরাপর প্রোপাগান্ডার মত আরেকটি প্রোপাগান্ডা। অপপ্রচারের হাতিয়ার। গুজব। কৌশলে আরোপিত। মিডিয়ার মাধ্যমে প্রসার ঘটানো। ‘নির্মূল-ঘরানা’ই এর চালিকাশক্তি।

মাওদূদীবাদ বলতে কোন জিনিস নেই। তবে এটা সত্য যে মাওলানা মাওদূদী (র.) ইসলামী খিলাফত বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রবক্তা ছিলেন এবং এর পক্ষে বই পুস্তক প্রণয়ন করেছেন। মাওদূদী (র.) ‘জামাতে ইসলাম’ নামক দলের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। জামাতে ইসলাম খিলাফত বা ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনীতি করে আসছে, তবে এখন তাদের সাথে আরও সম্মিলিত ইসলামী দল রয়েছেন। সকলের উদ্দেশ্য একটিই। এখানে নতুন কোন ‘ইজম’ নেই, নতুন কোন ‘বাদ’ নেই। নাস্তিক এবং উগ্র-বামপন্থি দল তাদের প্রতিপক্ষকে ঠেকাতেই মার্ক্সবাদ, লেনিনবাদ, স্ট্যালিনবাদ, মুজিববাদ ইত্যাদির ধারণায় এটাকে ‘ইজম’ বা ‘বাদের’ আওতায় এনে মাওদূদীর সাথে জড়িয়ে দিয়েছে। যারা ইসলামের ইতিহাস, এবং বিশেষ করে ইসলামী খিলাফত ও ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে অবগত নন তাদেরকে এই ‘ইজমের’ প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত করাই উদ্দেশ্য।  

বাদ-ism এর ধারণা

আভিধানিক দৃষ্টিতে Ism হচ্ছে কোনো বিষয়ের উপর নতুন মতবাদ বা থিওরি (A distinctive doctrine, system, or theory)। আমরা মার্ক্সের মতবাদকে ‘মার্ক্সবাদ’ বলে থাকি কেননা সমাজ-দার্শনিক কার্ল মার্ক্স  প্রচলিত আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মোকাবেলায় একটি নতুন দর্শন উপস্থাপন করেন। তার এই মতবাদটি তদানীন্তন আর্থ-সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ধারণা ও প্রচলিত অন্যান্য ধারণা থেকে আলাদা ছিল -তাই সেখানে মার্ক্সবাদ এসেছে। মার্ক্সের ধারনা থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন  হয়ে লেলিন যে আন্দোলন পরিচালনা করেন এবং এতে যে ভিন্নতা প্রকাশ পায় একারণে এটি হয় “লেনিনবাদ”।

জামাত, মাওদূদী এবং অপরাপর কোন দলই মার্ক্স, লেনিন, স্ট্যালিনের ন্যায় নতুন কিছু উপস্থাপন করেন নি। এটা সেই পুরানো ধারণা যার কথা যুগ যুগ ধরে আলেম উলামাগণ বলে আসছেন এবং লিখে আসছেন। এর পরিভাষা হচ্ছে ‘খেলাফত আলা মিনহাজ আন-নুব্যুয়্যাহ’ (অর্থাৎ নব্যুয়তের আদলে ও মূলনীতির ভিত্তিতে পরিচালিত খেলাফত বা শাসন ব্যবস্থা)। মাওদূদী (র.) যদি এই ‘খেলাফত আলা মিনহাজ আন-নুব্যুয়্যাহ’র পরিবর্তে অন্য কোন ব্যবস্থার কথা বলে থাকতেন তবেই তা মাদূদীবাদ হতে পারত, অন্যতায় নয়। সুতরাং দেখাই যাচ্ছে আব্দুল গাফফার সাহেব ও তার ঘরানার অভিযোগের মধ্যে কোন ঐতিহাসিক সত্যতা নেই। 

বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ

“আমাদের সৌভাগ্য হচ্ছে আমরা আগে বাঙালি তারপরে মুসলমান” -এই কথাটি সঠিক নয়। একটি সমাজে মানুষের বহুবিদ পরিচিতি থাকতে পারে কিন্তু কোন পরিচিতি ক্রমধারায় আসে না। আমি বাঙালী-অবাঙালীর কোন সভায় ভাষিক পরিচিতির ক্ষেত্রে বলতে পারি ‘আমি বাঙালী’। ধর্মীয় গ্রুপের সভা-সেমিনারে গেলে বলতে পারি ‘আমি মুসলিম’। একই দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকদের মিলিত সভায় বলতে পারি ‘আমি সিলেটী’। এভাবে আমাদের পরিচিতি কাজ করে। এখানে স্বতঃসিদ্ধভাবে, চিরন্তনী এবং ঢালাও রূপ দিয়ে ‘আমি প্রথমে বাঙালী’ এমনটি বলার অবকাশ নেই। এভাবে ‘অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে’ ইসলামকে ‘পরে’ নেয়াতে এই বঙ্গালবাদীদের কৌশল রয়েছে। বাঙালী জাতীয়তাবাদকে ক্রমশ ফ্যাসিবাদের দিকে নেয়া হচ্ছে, এটা ভাল কিছু নয়। 

মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে অনেক জাতি ও গোত্রের বসবাস। এই বহুজাতিক দেশের জাতীয়তা ‘বাঙালী’ হতে পারে না। এই জাতীয়তা যদি গঠনতন্ত্রে গৃহীত হয়ে যায়, তবে তা হবে অত্যন্ত ন্যক্কারজনক কাজ, কেননা এতে অনেক সংখ্যালঘু যেমন মনিপুরী, চাকমা -এমন সবাই প্রথমেই সাংবিধানিকভাবে বৈষম্যের শিকার হয়ে পড়েন এই অর্থে যে দেশের সংবিধান যাদের জাতীয়তাকে ‘সাংবিধানিক রূপ ও স্বীকৃতি’ দেয় তারা হল কেবল “বাঙালী”।  এই ভূখণ্ডের জাতীয়তা হবে ‘বাংলাদেশি’ যা সংবিধানিক ও সার্বিকভাবে সকল সম্প্রদায়কে ধারণ করবে।

আব্দুল গাফফার সাহেবের দ্বিতীয় ভিডিও

দ্বিতীয় ভিডিওতে আব্দুল গাফফার সাহেব যদি বলতেন, ভাইসব, আমি বৃদ্ধ লোক; কী বলতে কী বলে ফেলেছি, আমার সব কথা খেয়ালে ছিল না; আমার ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চাই। আর আপনারাও আমাকে সুনজরে দেখবেন। এটা হয়ত সুন্দর দেখাত।

কিন্তু তা না করে তিনি বাড়তি আইটেম সংযোগ করেছেন। এবারে কথাগুলো এই মর্মে যে হজ্জ নাকি কাফিরদের সৃষ্ট প্রথা থেকে এসেছে; রাসূলুল্লাহর পিতার নামকরণ নাকি হয়েছিল আল্লাহ দেবতার নামে, এটাকে নাকি কেউ কেউ ইলাহ বলে! তারপর আরবি না জেনে আরবি নাম রাখা নাকি ভুল; রাসূলুল্লাহ নাকি ‘ঠাট্টা’ করে আবু হুরাইরাহকে ‘আবু-হুরাইরা’ বলে ডাকতেন, ইত্যাদি। তার এসব কথা ভুল।

হজ্জ আল্লাহর নির্দেশেই ইব্রাহীম (আ.) শুরু করেছিলেন। তিনি এবং তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে কাবা ঘর নির্মান করেন এবং আল্লাহর নির্দেশেই মানুষকে হজ্জের আহবান করেন (সূরাতুল হজ্জ, আয়াত ২৭)। এই প্রথা প্রায় দুই হাজার বৎসর সেভাবেই ছিল। পরে আমর বিন লুহাই কর্তৃক পৌত্তলিকতা শুরু হওয়ায় এতে কিছু পরিবর্তন আসে, যা ইসলামে এসে সংশোধিত হয়। এই আলোচনা উপরে এসেছে।   আবু-হুরাইরাকে (রা.) রাসূল (সা.) "ঠাট্টা" করে 'বিড়ালের বাবা’  ডাকেননি, কেননা “ঠাট্টা”র চরিত্র নবীর (সা.) ছিলই না। তারপর আরবি ভাষা না জেনেও বাচ্চাদের নাম আরবি রাখাতে কোন অসুবিধে নেই। আবহমান কাল থেকে আলেম-উলামাগণকে জিজ্ঞেস করে বাচ্চাদের নাম রাখা হচ্ছে এবং মা-বাপ নিজেরাও বইপুস্তক দেখে এবং প্রচলিত নাম অনুসারে তাদের বাচ্চাদের নাম করণ করছেন –এতে কোন সমস্যা নেই। সাহাবীদের (রা.) নামের মহাত্ম যে কী, তা আবু-হুরাইরা হোক অথবা আবু বকর, আব্দুল গাফফার সাহেব না জানলেও মুসলমানগণ জানেন, তাই তারা এই নামগুলো রাখেন।

ইলাহ শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য

গাফফার সাহেব ‘ইলাহ’ উল্লেখ করে যা বলতে চেয়েছেন তাও সঠিক নয়। তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। কাবার ভিতরে বা বাহিরে ‘ইলাহ’ নামক কোন একক বড় দেবতা ছিল না যার নাম থেকে আল্লাহ নাম ধারিত হয়েছে। শব্দ ও অর্থের দিক থেকে ‘ইলাহ’ হচ্ছে সে যার ইবাদত করা হয় –‘মা’বুদ’ বা উপাস্য। ইবাদত করলেই সে হয় ইলাহ। এই বিশ্বের যত দেব-দেবী আছে, যাদের উপাসনা হয়, তারা সবাই ইলাহ। এখানে বড় দেবতা বা ছোট দেবতার কথা নেই। ছোট হোক বড় হোক, ইবাদত করা হলেই সে হয় ইলাহ। 

কোরানের মূল কথা ছিল যে, হে মানুষ, তোমরা যাদের উপাসনা করছ তারা ইলাহ নয়, তোমরা ওদের ইবাদত কর না, ওদের মা’বুদ হিসেবে গ্রহণ কর না। তোমাদের ইলাহ তো কেবল একজনই, তিনি হচ্ছেন আল্লাহ।  নির্দিষ্ট অর্থে, অর্থাৎ যেখানে আর কোন ইলাহ নেই, ইলাহ হওয়ার উপযুক্ত নয়, সেখানে তিনিই হচ্ছেন 'আলইলাহ' বা আল্লাহ। সুতরাং কোন বড় দেবতার নাম 'ইলাহ' ছিল এবং তাত্থেকে আল্লাহ নাম ধারিত হয়েছে, এটা ভুল ধারণা।

আল্লাহ বলেন, ‘তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের অধিকর্তা। তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই’ (৭৩:৯)। তিনিই নভোমন্ডলে ইলাহ এবং তিনিই ভূমণ্ডলে ইলাহ। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ’ (৪৩:৮৪)।

কি উদ্দেশ্য এসব কথা?

আব্দুল গাফফার সাহেব হঠাৎ করে এইসব কথা বলার কারণ কি? সরকার মহলে কি কোন সংকট দেখা দিয়েছে যে কোনো ধর্মীয় উত্তেজনা সামনে আনার প্রয়োজন? কোনো বিশেষ রাজনৈতিক সংকট কি অন্য আবরণে ঢাকার প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে? সরকারের এবং বিশেষ করে মুজিব-কন্যা হাসিনার অতিরিক্ত প্রশংসার মাধ্যমে নিজের জন্য ভিন্ন কোন অবস্থান তৈরি হচ্ছে? এমন কোন ক্ষেত্র কী তৈরি হয়েছে যেখানে ধর্মীয় ধর্মীয় উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রয়োজনীয় দেখা দিয়েছে? বাঙালী জাতীয়তাকে ইসলামের মোকাবেলায় স্থাপনের কোন ভিন্ন উদ্যোগ এসেছে?

“আমি বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, মৌলবাদী রাষ্ট্র আমরা চাই না, আমরা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই” –এমন অনেক অর্থ বহন করতে পারে। তারপর দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের ধারণা, “বাঙালি জাতি মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখবে” –এ দৃষ্টি থেকে দেশ কি দ্বিতীয় যুদ্ধের নতুন কোন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে বলে চিন্তা করা যেতে পারে?

তাছাড়া, আরও উদ্দেশ্য বিবেচনা করা যেতে পারে। চৌধুরী সাহেব কি নতুন কোন বই লিখেছেন যার কাটতি বাড়ানোর প্রয়োজন থাকতে পারে?  তবে আমার মনে হয় এতে কয়েক উদ্দেশ্যের সংমিশ্রণ থাকতে পারে।

_________________

নোটস/লিঙ্কস:

[1] ইবন আল-কালবী, (প্রকাশনা-কাল লেখা নেই), কিতাবুল আসনাম (আরবি), প্রাপ্তব্যস্থান http://ia700805.us.archive.org/14/items/asnamasnam/asnam.pdf

[2]  প্রকাশক: আনসারিং-ইসলাম, আল-কালবীর ‘কিতাবুল আসনাম’ থেকে দেব-দেবীর নাম ও স্থান। প্রাপ্তব্য স্থান: http://answering-islam.org/Books/Al-Kalbi/

[3] Wathanism, (2013). Arabian Paganism: Ritual and practices in pagan Arabia, 21 October 2013, available at: http://wathanism.blogspot.co.uk/

[4] Aliq, Bassam Muh}ammad, (2001): Al-Wafi fi al-Isma al Arabiyyah wa m‘aniha, Lebanon: al-Tiba‘h wa al-Nashr wa al-Tawthiq wa al-Tawzi‘, p.10

[5] Narrated by Amir bin Rabi‘ah, Al Jami‘ al Kabir by Suyuti Vol 4, 14th edition, cited in Abdulkarim, K (1998) Muhammad wa al Sahabah, al-Qahirah: Sina li al Nashr, 2nd edition, p.59)

–ভিডিও লিঙ্ক–

গাফফার চৌধুরীর প্রথম বক্তব্য

গাফফার চৌধুরীর দ্বিতীয় বক্তব্য

গাফফার চৌধুরীর তৃতীয় বক্তব্য

 

________________________________________________________________________

নোট: এই লেখা কেউ অন্যত্র প্রকাশ করতে গেলে আমার পুরো নাম ‘মোনাওয়ার আহমদ’ উল্লেখ করবেন এবং উৎসের উল্লেখ করবেন। কিছু উদ্ধৃতি দিতে গেলে এভাবে করবেন:

আহমদ, এম. (২০১৫). গাফফার চৌধুরীর বক্তব্য: দেশ কি নতুন কোন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে? সদালাপ, [ব্লগ] ৫ জুলাই ২০১৫, প্রাপ্তব্যস্থান: http://www.shodalap.org/m_ahmed/29426/ [শেষ প্রবেশ: /  /  /]  

৩৭ comments

Skip to comment form

  1. 16
    এম_আহমদ

    আব্দুল গাফফারের বাহির ভিতর দিন দিন প্রকাশিত হয়ে চলেছে।  দেখুন, 'আব্দুল গফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্যের নিন্দা জানালো গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল'

  2. 15
    এম_আহমদ

    এই লেখাটি আজ ইউকে-এর প্রিণ্ট মিডিয়ার ‘বাংলা ভয়েস’ প্রথম পাতায় ছাপিয়েছে। লেখাটি রেফ্রেন্সিংসহ কিছুটা বর্ধিত আকার ধারণ করেছেন।

  3. 14
    এম_আহমদ

    আল্লাহ দেবতা (নায়ূযুবিল্লাহ) ও ৯৯ নাম

    এই লেখাটির প্রথম অংশে নিম্নের কথাগুলো সংযোগ করেছি। সবাইকে পাঠের আহবান।

    কাবা ঘরে 'আল্লাহ দেবতা' নামে কোন দেবতা ছিল না। কাবা ঘরের বড় দেবতা ছিল হুবল। আরবগণ পৌত্তলিক হলেও আল্লাহকে স্রষ্টা, রব, রিজিকদাতা মানত। তাদের বিশ্বাসের দুইটি রূপ ছিল। এক, আল্লাহ হচ্ছেন আসমান ও জমিনের স্রষ্টা। তিনি রব। তিনি মেঘবৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে প্রাণী জগতের রিজিক দান করেন। অনাবৃষ্টির সময় তারা আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য একটি নির্দিষ্ট পাহাড়ে গিয়ে সামষ্টিক দোয়া করত।  আল্লাহকে সবকিছুর মালিক ভাবত। কোরানে এসেছে ‘আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন এই আসমান ও জমিন কে সৃষ্টি করেছেন, তারা বলবে “আল্লাহ”। বলুন, আল-হামদুলিল্লাহ’ (৩১:২৫)। এটি ছিল তাওহীদুর রুবুবিয়াহ, অর্থাৎ প্রতিপালক বা 'রবের' একত্বে বিশ্বাস। মক্কাবাসীরা আল্লাহর কোন মূর্তি তৈরি করেনি।  তাদের বিশ্বাসের দ্বিতীয় রূপ এই ছিল এই যে তারা যুদ্ধজয়, নিরাপত্তা, বিপদমুক্তি ইত্যাদির জন্য নানান দেবতার ইবাদত করত। আবার কিছু মূর্তির উপাসনা করত এই বিশ্বাসে যে এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর ‘নিকটবর্তী’ হতে পারবে (৩৯:৩)। তারপর তাওহীদুল উলুহিয়্যাতের বিপরীতে পুরোহিতের মাধ্যমে মিথ্যাভাবে দেবদেবীর ইচ্ছার 'আনুগত্য' করত, দেবদেবীর কাছে রোগমুক্তি, বিপদমুক্তি চাইত এবং এদেরকে তাদের উপাসনায় আল্লাহর সাথে শরীক করত। এই স্থান সংশোধনের জন্য অর্থাৎ তাওহীদুল উলুহিয়্যাত প্রতিষ্ঠার জন্য নবী এসেছিলেন। জাহেলী যুগে তারা হজ্জের তালবিয়ায় বলত: ‘হে আল্লাহ আমরা হাজির, আমরা হাজির। আপনার কোন শরীক নেই তবে সেই শরীক যে কেবল আপনারই। আপনি তার মালিক এবং তার সবকিছুর মালিক’ (ইবন কালবী, পৃ ৭)। 

    মক্কা, তায়েফ ও নাখলা নামক স্থানে যথাক্রমে ‘মানাত’, ‘আল-লাত’ ‘আল-উজ্জা’ নামের তিন দেবীকে তারা  আল্লাহর ‘কন্যা’ বলে বিশ্বাস করত। কোরানে এই নামগুলো ছাড়াও ‘ওয়াদ্দ’, সু‘আ, ‘ইয়াগুস’, ‘ইয়াউক’, ‘নাসর’ নামের মূর্তির উল্লেখ এসেছে (৭১:২৩)। ইবন কালবীর লেখায় আরও অনেক দেবদেবীর নাম এসেছে, যেমন রিয়াম, সা’দ, যুল-কাফফাইন, যুস-শাহরা, আল-উকাইসির, নুহম, আইম, সুইয়ার, আম্মু-আনাস ইত্যাদি।

    "ওসানিজম" (পৌত্তলিকতা) নিকধারী একজন ইমানী পৌত্তলিক আরব দেশের দেবদেবীর নামের একটি লিস্ট করেছেন। এখানে দেখা যেতে পারে। তাছাড়া ইবন কালবী থেকে নামগুলো এখানে স্থানসহ লিষ্ট করা হয়েছে। সবগুলো মিলিয়ে কোথাও ‘আল্লাহ’ নামের দেব-দেবী নেই, যেখান থেকে এডাপ্ট করা হয়েছে বলে দাবী করা হবে। তারপর ৯৯ নামেরও মিল নেই। আল্লাহর ৯৯ নাম হচ্ছে গুণবাচক নাম। এসবের সাথে দেবদেবীর নাম দেখলেই স্পষ্ট বেমিল দেখা যায়।

    1. 14.1
      নির্ভীক আস্তিক

      সবকিছু যাচাই বাচাই করে মনে হলঃ এই আগাচৌ লোকটি আসলে একজন "চেতনা  লম্পট" । তার পরবর্তী ভিডিওটা আমি শুনলান। বেটা বেহায়ার মত শুধু সমালোচকদের মৌলবাদী বলে গালি দিলেন, তার কুৎসা কেচ্ছা শুনিয়ে আকডুম বাকডুম বুঝ দিয়ে নিজে হাজী হয়ে হজ্জকেও ২০০০ বছর পূর্বের পৌত্তলিক পুজা ডেকে পাজী গিরি করলেন। 

      1. 14.1.1
        এম_আহমদ

        ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাকে এভাবে দেখার সুযোগ দিয়েছেন –এটা ভাল কথা। কিন্তু আমাদের কাছে গাফফার চৌধুরীকে নিছক এবং একক ঘটনা হিসেবে দেখার মত বিষয় নয়। বরং এখানে একটি ক্যাটাগরি রয়েছে, একটি শ্রেণী রয়েছে, এক ধরণের রাজনীতি রয়েছে এবং সর্বোপরি একটি “সমাজ-দর্শন ও আদর্শ” রয়েছে। যারা বিষয়টি অনুধাবন করবেন তারা প্রথমে ব্যক্তির ঊর্ধ্বে উঠে দেখতে হবে। তারপর বৃহত্তর পরিধিতে কী হচ্ছে তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। মাঝে মধ্যে যা উপচে পড়ে তা যদিও দেখা হবে কিন্তু দৃষ্টিকে প্রসারিত করে উৎসের দিকে তাকাতে হবে। আল্লাহ সবাইকে তৌফিক দিন। আমীন।

  4. 13
    মজলুম

    সৈয়দ মুজতবা আলী তার দেশে বিদেশে বইয়ে লিখেছেন, আমাদের দেশেও মোল্লা মুনশীদের প্রভাব আছে কিন্তু এই প্রভাব থাকার পরও কিভাবে ব্রিটিশরা এই দেশ দখল করে তাও দুইশো বছর পর্যন্ত? আর আফগানিস্তান ব্রিটিশরা দখল করতে তিন তিন বার যুদ্ব করে, তিনটাতেই ব্রিটিশরা চরমভাবে মার খায়। মুজতবা আলী ব্রিটিশদের হারানোর সম্পূর্ন ক্রেডিট আফগান মোল্লা মুনশিদের দেন। সৈয়দ মুজতবা আলী সম্পূর্ন সঠিক, যা এখন রাশিয়া এবং ন্যাটোর বেলায় দেখা যায়।  কথা হলো ১৭৫৭ তে যদি ইসলামই থাকতো তাহলে তারা কোথায় ছিলো? কিভাবে ক্লাইভ ৩০০০ সৈন্য দিয়ে নবাবের ৩৫০০০ সৈন্যকে পরাজিত করে। মানলাম মীর জাফরের গাদ্দারী, কিন্তু সেই সময় ইসলাম প্রিয় জনতা/মোল্লা/মৌলভীরা কোথায় ছিলো? ৩০০০ সৈন্য কিভাবে একটা দেশ দখল করে?
    বিপরীতে ব্রিটিশরা প্রথমবার আফগানিস্তান দখল করতে গেলে ১৮৩৯ সালে ৪৫০০ ব্রিটিশ সৈন্যের সবাইকে আফগান উপজাতি যোদ্বারা হত্যা করে শুধু একজন সৈন্য(ডাঃ ব্রাইডন) ছাড়া। তাকে জীবিত রাখা হয় যেন সে ব্রিটিশদের খবর দিতে পারে সবই শেষ!  
    পুরো বাংলায় সেই সময় কোরানিক আরবী শিক্ষা/ সূরা/ কেরাত শিক্ষার জন্যে বিক্ষিপ্ত কিছু পাঠশালা ছিলো মাত্র। ঐ সময় উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার জন্যে যেমন, কোরান/হাদিস/ফিকাহ শাস্ত্র শিখার জন্যে মিশর/সিরিয়া/বাগদাদ/মক্কা/মদিনায় যাওয়া হতো। তার প্রায় ১০০ বছর পর ১৮৫৭ এর পর মাওলানা কাশেম নানুতবীদের সহযোগীতায় উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে পরিপূর্ণ ইসলামী শিক্ষার জন্যে  মাদ্রাসা গড়া হয়। এই মাদ্রাসা গুলো পরে ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে।  তার ধারাবাহিকতায় এই বাংলায় প্রথম ১৮৯৬ সালে হাটহাজারীতে দারুল মইনুল ইসলাম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর এই মাদ্রাসাগুলো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

    এটা একটা রুপকথা ছড়ানো হয় যে ব্রিটিশরা আসার আগে বাংলা ইসলামিক ছিলো। বাংলা যদি ইসলামিকই হতো তাহলে ব্রিটিশরা দখল করলো কিভাবে তাও ২০০ বছরের জন্যে? কল্পনা করা যায়? আর যদি ইসলামিক না হয় তাহলে ব্রিটিশরা ধ্বংস করলো কি?
    নাসিরুদ্দিন হোজ্জার বিড়ালের গল্পের মতো আর কি!

    হোজ্জা একসের মাংস কিনে এনে গিন্নিকে দিলেন রান্না করতে । গিন্নি রান্নার পর সব মাংস খেয়ে ফেললো । হোজ্জা নদী থেকে গোসল সেরে এসে খেতে বসলে মাংস না দেখে জিজ্ঞাসা করলে গিন্নি জানালো , বিড়ালে সব মাংস খেয়ে ফেলেছে । হোজ্জা তাড়াতাড়ি বিড়ালটাকে ধরে ওজন করে দেখলেন যে সেটার ওজন একসের । গিন্নিকে তখন বললেন, "এটা যদি বিড়াল হয় তবে মাংস কোথা্য়, আর এটা যদি মাংস হয় তবে বিড়ালটা কোথায় ?

    1. 13.1
      এম_আহমদ

      আপনার এসব বক্তৃতার মানি কি? আপনার প্রথম কথা ছিল, “বাঙালীদের ইসলাম বখতিয়ার আসার আগে যেমন ছিলো এখনো তেমনই আছে, তেমনই থাকবে। এরা ইসলাম ধরেও না আবার ছাড়েও না, এই মাঝামাঝিতে থাকে আরকি!” এই যুক্তি তো প্রথমেই পেলাম। আরও পেলাম যে আল্লাহ রাসূল নিয়ে নাস্তিকদের আক্রমণাত্মক কথাবার্তা, তসলিমা,শাহবাগ, লতিফ, গাফ্ফার এগুলো মূলত কিছুই নয় বরং হুজুগে বাঙালির আলুপোড়া হৈচৈ, বাঙালীদের মসজিদে উলুধ্বনির মত, কিন্তু হুজুগী হয়ে আজ যারা আলুপোড়া হৈচৈ করছেন তারা নানুতুবীদের সিলসিলার উলামাগণ! বিড়াল আর হোজ্জার simplistic গল্প আর পৃথিবী গোল না সমতল –এসব যুক্তি এখানে সম্পূর্ণ অচল। “বাঙালীদের ইসলাম বখতিয়ার আসার আগে যেমন ছিলো এখনো তেমন আছে … আগামীতেই তেমন থাকবে” –এমন বাজে দর্শন ও ঐতিহাসিকতা কীভাবে ধারিত হতে পারে, কোন ধরণের তথ্যের ভিত্তিতে, তা আমাদের জানা নেই। আপনাকে না করা সত্ত্বেও কেন যেন শুনছেন না, বুঝতে পারছি না।

      ভারতে মুসলিম শাসন ‘খিলাফতে রাশেদার’ মত কিছু ছিল বলে কেউ দাবী করে নি এবং মুসলিম শাসকগণ ‘খলিফাদের মত' জীবন যাপন করতেন এমনটিও কেউ দাবী করতে শুনি নি। সুতরাং কথা না বুঝে তর্ক করা ঠিক নয়। ১৭৫৭ সালের পরাজয়ের ইতিহাস ভিন্ন। আপনার সাথে তা আলোচনা করার দরকার নেই। আগ,পিছ, ভবিষ্যৎ সবই এক হলে আলেম-ওলামাগণ ১৮৫৭ ইংরেজদের সাথে যুদ্ধ করতেন না এবং হাজারে হাজার শহীদ হতেন না। ১৮৫৭ সালে যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর এবং ইংরেজ কর্তৃক হাজার হাজার ওলামা হত্যা ও শূলে চড়ানোর পর এবং অনেককে কালাপানিতে পাঠানোর পর দ্বীন-ইসলামকে ইংরেজের শাসনাধীনে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই (সম্ভবত) ১৮৬৬ সালে দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়, এই উদ্দেশ্য যে আজকে বেঁচে থাকতে পারলেই কালকের যুদ্ধ, না হলে আজকেই শেষ। এই জীবিত-মৃত আলেমগণ বুঝি পাঠশালার সূরা-কেরাত পড়া লোক? সম্ভবত বাতাস বাহনে আরব থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত!  সেদিন তারা আপনার অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যতের দর্শন পান নি। না হলে যুদ্ধ করতেন না।  তবে এখনও সময় আছে, আপনি নানুতুবীদের সিলসিলার উলামাগণকে কিছু ধর্ম শিক্ষা দিয়ে আসেন যাতে করে তারা আলুপোড়া না খান, আর মসজিদের হুজুগী হয়ে উলুধ্বনি না দেন। তারা যেন লতিফ-গাফফারের সঠিক ধর্ম বুঝতে সচেষ্ট হন।  আর প্লিজ, আপনার যুক্তি নিয়ে আপনি থাকুন। এই যে সেই প্রথমেই বলেছি, একে অন্যকে বুঝা মামুলি কথা নয় এবং আপনার অবস্থান তো বুঝা হয়ে গিয়েছে। তারপর, ধর্মীও আঙ্গিকেও বলেছি , লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, রমজান মোবারক।

      1. 13.1.1
        মজলুম

        ওয়ামাই ইয়াবতাগি গাইরাল ইসলামি দী নান ফালাই ইয়ুক্ব বালা মিনহ, এই আয়াত দ্বারা তো লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন রহিত হয়ে গেছে।
        যাকগে, আপনাকে বুঝাতে পারি নাই, এটা আমারই দোষ। ভালো থাকুন। অগ্রিম ঈদ মোবারক।

        1. 13.1.1.1
          নির্ভীক আস্তিক

          মজলুম ভাই আপনার ব্যাক্ষা এবং উপরোক্ত তথ্যগুলো উল্লেখ করার উদ্দেশ্য আর বিধেয় কিছু বুঝতে পারলাম না।  কেননা এই পোষ্টের সাথে আপনার তথ্যবহুল শেষের মন্তব্যদুটি সম্পূর্ণ অপ্রাসাঙ্গিক মনে হচ্ছে। আগাচৌ এর সমালোচনার পোষ্টে মোল্লা মুনশিদের সমালোচনা টেনে এখানে আপনার মন্তব্যের Message টি খাপ খাচ্ছে বলে কোন ভাবেই মনে হচ্ছে না।

          আপনি প্রয়োজনে আলাদা একটি পোষ্ট দিন। অধির আগ্রহে পড়ার জন্য অপেক্ষা করছি।

        2. 13.1.1.2
          এম_আহমদ

          ভাই, আপনার এ কথাটিও ঠিক নয়। সূরাহ কাফিরুনের আয়াতটি মানসূখ বলে যার বা যাদের কাছ থেকে সমঝ নিয়েছেন  তা সঠিক নয়।  এখানে দেখুন এবং এখানে -এই আয়াত মানসূখ হওয়ার কোন এন্ট্রি নাই। তবে আপনার ধারণা নিয়ে আপনি থাকতে পারেন। আমি শুধু অন্যান্য পাঠকের জ্ঞাতে বলছি।

          ৩:৮৫ আয়াত ও ১০৯:৬ আয়াত তাদের আপন আপন অর্থের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থবহ। প্রথমটি দ্বিতীয়কে রহিত করে না। দেওবন্দী সিলসিলার অগ্রজ আলিম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলবী (র.) তার ‘আল-ফাওজুল কাবীর ফি উসূলিত তাফসীর’ গ্রন্থেও তা উল্লেখ করেননি। তিনি বরং গোটা কোরানে মাত্র পাঁচটি আয়াত মানসূখ বলে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন। আমি এবিষয়ে হয়ত কখনো লিখতে পারি, আল্লাহ তৌফিক দিন।

  5. 12
    সাদাত

    ‘আবু বকরের’ অর্থ ‘ছাগলের বাবা’ নয় বরং গরুর মালিক বা গরু যার অধিকারে আছে। 

    أبو بكر মানে গরুর মালিক কীভাবে হলো, বুঝলাম না।

    بكر অর্থ কি গরু?

     

    1. 12.1
      এম_আহমদ

      আল্লাহই জানেন কেন ভুল হয়ে গেল। তখন ছাগলের ঠেলায় হয়ত মনের ব্যাকগ্রাউন্ডে  بقر (গরু) ঢুকে গিয়েছিল। ঠিক করে দিয়েছি [আজকাল অনেক সময় মাথায় কাজ করে না]। আপনি কি লেখাটি এই মাত্র পড়লেন?

  6. 11
    এম_আহমদ

     

    প্রথমে যারা আমার এই লেখায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মন্তব্য করেছেন তাদের সবাইকে আমভাবে ধন্যবাদ। এবারে, যাদের উত্তর আগে দিয়েছি এবং যাদের কথাবার্তা পরোক্ষ বা পারস্পারিক সেগুলো একপাশে রেখে, বাকিদের মন্তব্যগুলো এড্রেসস করছি।

    @ মহিউদ্দিন

    ভাই, আজকে ভারতের দিকে তাকান, মুসলিমদের অবস্থা দেখুন। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি অংশে মুসলিমরা কীভাবে discriminated, তা দেখুন। এ ব্যাপারে আগে বেশ কয়েকবার মন্তব্য করেছি, ডক্যুমেন্টারি লিঙ্কও দিয়েছি। বাংলাদেশে মুসলমানদের অবস্থা দেখুন। হিন্দুদের অবস্থা দেখুন। বিগত বছরগুলোতে সব সেকটরে হিন্দুদের বেশি নিয়োগ নিয়ে যখন কানাঘুষা শুরু হল, তখন নেটে দেখলাম যুক্তিটা আসছে এভাবে, ‘মুগলযুগেও হিন্দুদের নিয়োগ বেশি বেশি হয়েছিল –এটা ঠিকই আছে বা এই মর্মের যুক্তি(exact কথা মনে নেই)।  

    আজকে সেক্যুলার/নাস্তিকগোষ্ঠীর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, হয়ত আরও পাওয়া যেতে পারে। এক,  একদল overtly ইসলামের বিপক্ষে। ওরা যত তাড়াতাড়ি ইসলামের অবসান চায়। এদের উদাহরণ মুক্তমনা জাতীয় নাস্তিক, এদের সাথে ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দুরাও আছেন নাস্তিক ছদ্মাবরণে।  দ্বিতীয় দল হচ্ছে covert -এরা উগ্রমনাদের বিরোধিতা করে। এদের যুক্তি হচ্ছে, তোমরা আমাদের ধীরে ধীরে কাজ করতে দিচ্ছ না কেন? কেন প্রকাশ্যে কথা বলে কৌশলের বিপরীতে যাচ্ছ?  এই দ্বিতীয় স্থানে প্রকারভেদ রয়েছে। কেউ খাটি নাস্তিক, ইসলামের নামও শুনতে পারে না। অপর গ্রুপ সাংস্কৃতিক মুসলিম। এরা প্রয়োজনে টুপী পরে ধর্মী প্রতিষ্ঠানাদিতে যায়, খায়-দায়, বক্তৃতা দেয়। সংস্কৃতি হিসেবে ঈদের দিন নামাজ পড়তে পারে। বিদেশ আসা যাওয়ার পথে কাবা ঘর ভিজিট করে আসতে পারে। এরও মধ্যেও কিছু লোক হয়ত ভিতরে ভিতরে কিছুটা বিশ্বাসী, নিছক আস্তিক অর্থে, প্রচলিত ধর্মীয় অর্থে নয়। সার্বিকভাবে এই দ্বিতীয় শ্রেণী এবং প্রথম শ্রেণী ‘আদর্শগত’ দিক দিয়ে একই –শুধু কর্মপদ্ধতিতে ভিন্ন। তৃতীয় আরেকটি শ্রেণী আছে যারা দ্বিতীয় শ্রেণীর চামচা। ওরা নিছক হেয়ালীভাবে একাত্তরের আবেগে গদগদ, সরলভাবে বাঙালী জাতীয়তাবাদে মাতাল। এদের মধ্যে কিছুটা ইসলাম রয়েছে। তবে তা ততটুকু যতটুকু সেক্যুলার আদর্শ সহ্য করে। তাও ব্যক্তি ধর্ম হিসেবে এবং ক্রমধারায় তাদের সেক্যুলার আদর্শ ‘আগে’, এবং ‘পরে’ ইসলামের ব্যক্তিক ধর্ম। স্ট্যাজ বাই স্ট্যাজ, তৃতীয় শ্রেণীর বাঙাল-জাতীয়তাবাদী সেক্যুলারগণই গ্রাসরুট লেভেলের গণমানুষকে রেডিও, টিভি, সংবাদ মাধ্যম, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড (গল্প, কবিতা, ফিল্ম, নাটক)এর মাধ্যমে মানুষকে ধরে রাখছে। এই গণমানুষ সাধারণ বিশ্বাসী। তারা জানেই না পর্দার অন্তরালে কী হচ্ছে। আমার আমলীগী আত্মীয়-স্বজনদের দেখেছি, তাদের নেতা নেত্রীরা যা বলে তারা খালেস-মুখলিসভাবে তা মেনে নেয় এবং ঐ যুক্তি দিয়ে তর্কও করতে পারে।     

    @ করতোয়া

    বলেছেন, “সারাদিন ধরে এই আলোচনার মূল ভিডিওটা আমি খুজতেছি। নিজে কানে শুনে সিদ্দান্ত নেবার ইচ্ছা”-এটা হতে পারে যে আপনি যে কয়টি নামে ভিডিওটি সার্চ দিয়েছিলেন, সে নামগুলো তা কেপচার করে নি। আরও কোনো কারণ থাকতে সার্চ বিষয়ে তার ভাল জ্ঞান নেই। তবে আমি যখন দেখতে শুরু করি তখন তা হু হু করে চালিত। চর্তুদিকে বিস্তৃত। তাই এটা লিঙ্ক করার প্রয়োজন মনে করি নি। ভিডিও ছাড়াও গাফফার সাহেবের বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে সর্বত্রই ছড়িয়েছিল, সকলের একই কথা। যারা আইডিওলজিক্যাল ক্ষেত্রে গাফফার-চামচা কেবল এমন দু/একজন মূল কথাকে repress করে, অন্য কথার উপর emphasis করেছেন এবং ‘ব্যাখ্যায়’ বিষয়টি হাল্কা করার চেষ্টা করেছেন। এটা ব্যতীত কোনো ভিন্নতা নজরে পড়েনি। কারণ হচ্ছে, সবাই প্রচার চায়, তাই যেসব কথা আকর্ষণীয় তাই বলেছে। আল্লাহর নাম, গুণের নাম, দেবতা প্রসঙ্গ, হিজাব/বোরখা মাওদুদীবাদ, বিড়ালের বাবা, ছাগলের বাবা ইত্যাদিতে সকলের কথা একই ছিল, কেনন সবাই ভিডিও থেকে তা গ্রহণ করেছেন।  

    ‘এতবড় গাধা'র মত কথা’-বলা ব্যক্তি নিয়ে কি বলব? আমরা তার ব্যাপারে কিছু কথা আগ থেকেই জানি কিন্তু তিনি যে ‘এ ভাবে’, উক্ত শিরোনামের আলোচনায়, এবং উক্ত প্লাটফর্মে ‘এসব’ বলে ফেলবেন -তা ভাবা যায় নি। তবে মানুষ বেখেয়ালবশত তার মনের কথা বলে ফেলে। ভিডিওতে আমি তার হাতে কোনো নোটস লক্ষ্য করিনি। নোটস না থাকা কোন গুণের কথা নয়। বিশেষ করে এই প্রসঙ্গে এবং এই বয়সে। আমাদের এই বয়সেও কোথাও কিছু বলতে নোটস নেই। কারণ দাঁড়িয়ে যাওয়ার পরে অনেক কথা মনে থাকে না এবং ভয় হয় প্রসঙ্গ হারিয়ে যাওয়ার। তারপর যাদের ‘কথা বলার অভ্যাস’, তারা যেকোনো একদিকে গেলেই অসংখ্য কথা বলে ফেলতে পারেন।

    তিনি তার দ্বিতীয় ভিডিওতে প্রথম অবস্থা mitigate করতে পারতেন। আমাদের সমাজে বৃদ্ধ লোকের প্রতি মানুষের সহানুভূতি থাকে। এটা সম্ভব যে তার আশে পাশের লোকদের কাছ থেকে ভাল উপদেশ পাননি। তাই পরে আরও আইটেম সংযুক্ত হয়েছে। তিনি ধর্ম সম্পর্কে কথা না বলাই ভাল। যত বলবেন, ততi তলানীর গাদ বেরিয়ে আসবে। আবার যখন ধর্মজ্ঞান শুন্যতার, সবজান্তা ভাব ও মুক্তমনার মত দাম্ভিক এটিটিউড রয়েছে, তখন ভাল দেখাবে না। আল্লাহ তাকে তওবার সুযোগ দিন। আজ আরেকটি তৃতীয় ভিডিও দেখলাম ওখানে মৌলবাদীদের সাথে আমলীগের কোন্দলকেও দায়ী করছেন।   এখন সবকুল হাবার ব্যাপারও আসতে পারে।      

    @ শামস

    হ্যাঁ, আমি আপনার পয়েন্টটি চিন্তা করেছি। ঘটনা তা’ই। এটা ভীমরতি নয়, তবে শেষের দিকে যা বলেছেন তা। ‘লতিফ সিদ্দিকী এবং গাফফার চৌধুরীরা যেটা বিশ্বাস করে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ না করেই বলেছে।’ এক্কেবারে খাটি কথা।

    লতিফ সিদ্দিকী এবং গাফফার চৌধুরীরা যেটা বিশ্বাস করে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ না করেই বলেছে। বুদ্ধিজীবী হলেও তাদের ধর্মীয় অজ্ঞতা আছে, তবে তারা সেভাবেই ধর্মকে দেখে! ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদে সেভাবেই দেখার কথা. পাশ্চাত্য ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ধর্মকে দুরে রাখে, ধর্ম সেখানে 'আপেন্ডিক্স' এর মতো, আর প্রাচ্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা  সামাজিক চাপের কারণে ধর্মকে 'Adaptive' হিসেবে দেখে, হোক না সেটা পৌত্তলিকতা। এদেরকে মুক্তমনাদের মত 'ইসলামবিদ্বেষী' হিসেবে কেউ কেউ ট্যাগ করছে। কিন্তু এই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা অন্য প্রজাতি!

    @ মুনিম সিদ্দিকী

    ভাই অনেক ধন্যবাদ। সময়োপযোগী হয়ে থাকলে, মাশাল্লাহ। দোয়া করবেন।

    @ সানজিদ সরকার

    আপনার কথাতে যৌক্তিকতা আছে। তবে লতিফ সিদ্দিকীর কোন বিচার হওয়ার মত নয়, শক্তি তাদের হাতেই, তাদের ঘরানায়। যখন তাকে জেলের প্রধান দরজা দিয়ে কর্তৃপক্ষ ঢুকাতে পারে নি, তখনই তার সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতা প্রদর্শিত হয়েছে। হেফাজতি আলেমগণসহ যারা বলছেন যে দেশ এখন নাস্তিকদের দ্বারা তাড়িত –এই কথা উড়িয়ে দেয়া কঠিন। আওয়ামী লীগ একটি ধর্মহীন আদর্শ যা ব্যক্তি ধর্মকে সহ্য করেছে মাত্র। সুতরাং তারা যে রাষ্ট্র গড়েছে এবং যে নীতিতে গঠনতন্ত্র ও আইন সাজিয়েছে সেই প্রেক্ষিতে লতিফ, গাফফার এবং মুক্তমনা নাস্তিকগণ কোনভাবেই অপরাধী নন। সামাজিক প্রেশারে কখনো আটক করা হতে পারে তারপর আইওয়াশ দিয়ে বের করে আনা হবে। কিন্তু আজ এই শ্রেণীর লোক বাঙালী জাতীয়তাবাদ ও একাত্তর-কেন্দ্রিক ফ্যাসিবাদী আবেগে সাধারণ মুসলমানদের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ফেলেছে। তাদের এই আদর্শ ও শাসন ব্যবস্থা মিডিয়ার সাথে যেভাবে সংশ্লিষ্ট হয়েছে এই প্রেক্ষিতে তারা যদিই সমকামীতাকেও আইনানুগ রূপ দেয়া যায় তবে, আমার ধারণা, নিজ দলের ‘আশিকদের’ সমর্থন পেয়ে যাবে। তারা তাদের অবস্থান এখন এই পর্যায়ে চলে এসেছে। দোয়া করুন, আর যতটুকু পারেন নিজেদের দ্বীন-ইসলাম রক্ষার চেষ্টা করে যান। দোয়া করবেন।    

    @ সারোয়ার

    প্রথমে, আমীন। আল্লাহ যেন আপনার দোয়া করেন। আমার মত নালায়েক বান্দাকে যেন তাঁর মহান দ্বীনের সামান্য খেদমত করার তৌফিক দেন।

    তারপর, এই অনেকদিন পরে আপনার উপস্থিতি দেখছি। আপনার জন্য দোয়া করি আল্লাহ অবসর দিন, যাতে করে লিখার কাজও চলতে পারে। এটা আমাদের যুগ। আখের ছাড়াও, আমাদের অনাগত প্রজন্মের কাছেও আমাদের জবাবদিহিতা রয়েছে। দোয়ায় শরিক করবেন। সালাম।   

    @ রাকীব আল হাসান

    গাফফার শ্রেণী হচ্ছে ব্রিটিশের জেনারেশন। এরা মুসলিম হয়েও ইসলামকে খৃষ্টিয়ান/সেক্যুলার দৃষ্টিতে ইসলামকে দেখেছে। এদের ইসলামী জ্ঞান নেই। তবে তারা যেটুকু ইসলাম জেনেছে তা পশ্চিমা উৎস থেকে, তাও খুব একটা বইপুস্তক পড়ে নয়। নিউজ মিডিয়া ও বিভিন্ন সময় ফ্ল্যায়ার আপ হওয়া ইস্যু থেকে। এই গাফফার সাহেবের অবস্থা দেখুন। তাদের এটিটিউড দেখুন। তারা ধর্ম বিষয়ে মূর্খতার গভীর অন্ধকারে থেকে আলেম উলামাদের ব্যাপারে তাচ্ছিল্যপূর্ণ দাম্ভিক কথা বলে যায়। মিছামিছি এক বিষয়ের সাথে অন্য বিষয় জড়িত করে। মিডিয়া জগতে এই বৈশিষ্ট্য বহুল ব্যপৃত। আবার এটা তাদের দলীয় ও প্রতিষ্ঠিত অনৈসলামী সংস্কৃতির প্রভাবে। আমার এক প্রয়াত বন্ধুর সম্পর্ক গাফফার সাহেবের সাথে ছিল। সে বলেছে, গাফফার সাহেব অনেক মৃত ব্যক্তির নাম নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। ওদের জীবদ্দশায় করেন নি। মরণের পরে করেন, যখন সেটা আর verify করার কিছু থাকে না। এরা অনেক কথা বলেন যা মোটেই সত্য হয় না। গাফফার সাহেবের জীবন কেটেছে দলীয় রাজনীতি করে; প্রতিপক্ষের সমালোচনা, বিষদগার ইত্যাদিতে। অনেক ব্যক্তিকে নিয়ে কুনোই-মারা অনেক লেখা রয়েছে। আল্লাহ তাকে এবং আমাদের সবাইকে বার বার তওবার তৌফিক দিন। আমীন।

    _______________

    এই মন্তব্য সেকশনে কিছু মৌলিক কথা সংযোগ করেছি যারা তা পাঠ করেনটি তারা তা দেখতে পারেন।

    [১] এখানে গাফফার সাহেবের দ্বিতীয় ভিডিও নিয়ে আলোচনা হয়েছে। Link to comment

    [২] এখানে ‘কে মুসলমান’ –এই ambiguity নিয়ে কিছু আলচনা হয়েছে। Link to comment

  7. 10
    মজলুম

    ১৭৫৭ এর আগে বাংলার মুসলিমদের অবস্থা কেমন ছিলো? শুধু আলীবর্দির সময় রাজ্যের সাতটি উচ্চপদের মধ্যে একটি পদ পেয়েছিলেন একজন মুসলমান, বাকি ছয়টাই ছিলো হিন্দুদের। মীরজাফরকে প্রধান সেনাপতি বা মীর বকশীর পদটি দেওয়া হয়েছিল।
    তখন বাংলার বেশির ভাগ জমিদারই ছিলেন হিন্দু। মুর্শিদকুলি খান বেছে বেছে হিন্দুদের মধ্য থেকেই ইজারাদার বা জমিদার নির্বাচন করেছিলেন। এমনকি তিনি উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী হিসেবে হিন্দুদেরকেই বেশি নিয়োগ দিয়েছিলেন। দেখা যায়, পরবর্তী নবাবদের সময়ও এই অবস্থা অপরিবর্তিত ছিল। নবাব সিরাজদৌলার আমলে তার কোনো পরিবর্তন হয় নি। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, মুসলিম রাজত্বে হিন্দুরা মুসলমানদের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় ছিলেন। তাছাড়া খাজনা আদায়কারী, ভূমি জরিপ প্রভৃতি কাজ হিন্দুদের অংশগ্রহণ প্রায় একচেটিয়া ছিল। সিরাজদৌলার সময় এই হিন্দুপ্রাধান্য সর্বক্ষেত্রে বেড়ে যায়। ইতিহাসবিদ নরেন্দ্র কৃষ্ণ সিংহ লিখেছেন যে, দশভাগের নভাগ জমিদারী ছিল হিন্দুদের হাতে। আর নিম্নতম রায়তের অধিকাংশ ছিলেন মুসলমান। সতেরশো আটাশের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলার পনেরোটি বৃহত্তর জমিদারির মধ্যে মাত্র দুটি ছিল মুসলমানদের হাতে। ঠিক একইভাবে ছোট একুশটি জমিদারির মধ্যে মুসলমানদের অধিকারে ছিল দুটি। প্রধান প্রধান ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মহাজনি কারবারও ছিল হিন্দুদের একচেটিয়া। মুসলমানরা প্রধানত ছিলেন কৃষক ও কারিগর।

    ঠিক একইভাবে ইংরেজ লেখক হান্টার এবং অন্য যাঁরা দেখাবার চেষ্টা করেছেন যে, ইংরেজদের রাজত্বে মুসলমানদের সব গেল আর তাঁদের স্থানে হিন্দুরা জাঁকিয়ে বসল, কথাটি সত্যি নয়। হান্টার লিখেছেন, এ পর্যন্ত যে-সব হিন্দু গোমস্তারা অত্যন্ত ছোটখাটো স্তরের কাজে লিপ্ত ছিলেন, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে তাঁরা সবাই জমিদার হয়ে গেলেন, জমির মালিকানা স্বত্ব লাভ করলেন। হান্টারের এইটুকু বক্তব্য সঠিক। কিন্তু তিনি যে লিখেছেন, ইংরেজ রাজত্বের সূত্রপাতে মুসলমান জমিদারদের হাত থেকে জমিদারি ও বড় বড় কর্মচারীর পদ চলে গেল আর হিন্দুরা তাঁদের স্থানে জমিদার হলেন—এ কথা ঠিক নয়। কারণ পূর্বে বাংলার প্রায় সব জমিদারই হিন্দু ছিলেন এবং সরকারি বড় বড় পদগুলি হিন্দুদের দখলেই ছিল। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে একটা অঘটন ঘটেছিল ঠিকই, সেটা হলো খান্দানি হিন্দু জমিদারদের পতন। সেখানে দেখা গেল নতুন এক জমিদার গোষ্ঠীর উত্থান। ইংরেজদের গোমস্তা আর বানিয়ানের কাজ করে বিপুল অর্থ যাঁরা সঞ্চয় করেছিলেন সূর্যাস্ত আইনের নিলামের সুযোগে পুরানো জমিদারদের হটিয়ে তাঁরা সেইসব জমিদারি কিনে নিলেন। নতুন এই জমিদাররাও ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায় থেকেই আগত। মুসলমানদের কাছ থেকে জোর-জবস্তি করে তাঁরা কিছুই নেন নি।

    ইংরেজ শাসনে মুসলিমরা সরকারি চাকরি, শিক্ষার সুযোগ হারিয়ে আকস্মিকভাবে দরিদ্র হয়ে গেলেন এবং হিন্দুরা তাঁদের সব কিছু দখল করে বসলেন—একথা বলার আসলে সুযোগই নেই। মুসলিম শাসনের সাতশো বছর ধরেই শিক্ষায়, প্রশাসনে, গ্রাম্য পঞ্চায়েতে বর্ণহিন্দু এবং কায়স্থ ও বৈদ্যদের প্রাধান্য ছিল। বর্ণহিন্দু বা উচ্চবর্গের হিন্দুরা মুসলমানদের কারো ক্ষমতা কেড়ে নেন নি, কিন্তু সমস্যা তৈরি করেছিলেন অন্যত্র। ইংরেজ শাসনে বাংলার মুসলমান কৃষকসহ সকল কৃষক চরম দারিদ্র্যের মধ্যে নিপতিত হয়। বিশেষ করে কুটিরশিল্প ধ্বংসের ফলে মুসলিম কারিগররা ভয়াবহ ক্ষতির স্বীকার হয়েছিলেন। বাংলার কারিগরি শিল্পকে সম্পূর্ণরূপে তছনছ করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে কৃষির ওপর নিক্ষেপ করা ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্ত। হেনরি কটন লিখেছিলেন, ‘সরকারের কর্মকর্তারা পর্যন্ত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সারাদেশের কারিগররা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।’ কিন্তু বাংলার বাবুরা কৃষক ও কারিগরদের এই আর্তনাদ কানে তোলেন নি। বরং নিজদেশের সাধারণ মানুষের দুঃককষ্টের পাশে না দাঁড়িয়ে তাঁরা ইংরেজ শাসন দীর্ঘতর করার আবেদন জানিয়েছিলেন। বাবুরা কেন ইংরেজ শাসন দীর্ঘতর করতে চাইছেন সে সম্পর্কে কটন লিখেছেন, ‘এঁরা জানেন আমরা যদি আজ স্বেচ্ছায় ভারত ছেড়ে চলে যাই, যদি ভদ্রলোকদের জন্য শান্তি ও শৃঙ্খলার পাকা ব্যবস্থা না করেই চলে যাই, তবে সেই মুহূর্তে তাঁরা হিংস্র ও অশিক্ষিত সব যোদ্ধাদের পদানত হবেন।

    রহমান চৌধুরীর কলাম হতে টুকে নিলাম।

    তাছাড়া মোগল সম্রাজ্যের ৫০% এর ও বেশী প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সৈন্য, সেনাপতি ছিলো হিন্দু। মোগলদের শাসনামলে এমনকি আওরঙ্গজেবের মত বাদশাহ যাকে কট্টর ইসলামি মনে করা হয় সেও তার বিভিন্ন রাজ্য গরু হত্যা নিষিদ্ব করেন হিন্দুদের খুশী রাখার জন্যে। ১৭০০ শতকে মুঘলদের বিরুদ্বে যে হিন্দু রাজা বেশী ভয়ানক হয়ে উঠে ছিলেন সেই শিবাজিকে গ্রেফতার করেন আরেক মুঘল জেনারেল জয় সিং, সেও কিন্তু হিন্দু।
    বর্তমান হিন্দু ও মুসলিমদের মাঝে যে সাম্প্রদায়িকতা দেখা যায়, তা কিন্তু ইংরেজরা আসার আগে ছিলোনা। মুসলিমদের সাম্প্রদায়িক করার জন্যে হিন্দু শিক্ষিত বাবুরাই বেশী কাজ করেছিলেন ইংরেজ শাসনামলে।

    তো কথা হলো পৃথিবীটা গোল নাকি সমতল তা নিয়ে যে কেউ একমত/দ্বীমত হতেই পারে, সেটা কোন ব্যাপার না। তবে ব্যাপার হলো কোনটা সত্য!!!!

    1. 10.1
      এম_আহমদ

      ১৭৫৭ এর আগে বাংলার মুসলিমদের অবস্থা কেমন ছিলো?  

      ১৭৫৭ সালের আগে মুসলমানদের অবস্থা দেখাতে গিয়ে মুসলিম শাসনে হিন্দুদের অবস্থা দেখিয়েছেন। এতে মুসলিম শাসন ব্যবস্থার বৈষম্যহীনতা ও সমতা এসেছে। একটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভূখণ্ডে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে যা প্রয়োজনীয় তাই তারা করেছেন। এই ব্যবস্থা পরবর্তী অবস্থা থেকে যে ভাল, তা এই শাসন-নীতিতেই বুঝা যাচ্ছে। বিনা-বিচারে শাসন ব্যবস্থার সকল অঙ্গনে কেবল মুসলমান  ডেকে হস্তান্তর করা হবে এমনটা করা হয়নি, এটিই প্রমাণ। কিন্তু মূলত প্রশাসনিক উদাহরণ আর্থ-সামাজিক, দ্বীন-ধর্মের স্বাধীনতা, শিক্ষা-সংস্কৃতির উদাহরণ নয়। আমাদের দেখা ও পাঠের পদ্ধতিতেই যখন ভিন্নতা রয়েছে, সেখানে আলোচনার কি থাকতে পারে? আগেই তো বললাম, গফফার/লতিফ/থাবা-জাতীয়দের প্রসঙ্গে যার যার জাস্টিফিকশেন এসে যার যার সামনে দেখা দেবে। বিতর্কের দরকার নেই।

      আমার এই ব্লগে আপনিই অযথা ১৭৫৭ বা ১৯৪৭ টেনেছেন।  হয়তবা গাফফার চৌধুরীর মত, যেখানে মনের ভিতরে যা রয়েছে তা চিন্তার স্ট্রীম-ধারা পাড়ি দিয়ে অমনিতে নির্গত হয়েছে, কোন প্রাসঙ্গিক অর্থে নয়।

      প্রাসঙ্গিক হলে, ১৭৫৭ সাল পূর্বে মুসলিমদের শাসন-শরিয়া, দ্বীনি স্বাধীনতা, অবস্থানিক অবস্থা, তাদের নিজ শিক্ষা-সংস্কৃতি, আর্থ-সামাজিক অবস্থা (কোন কোন স্থানে কেউ জমিদারের অধীনে থাকাটা আপনাতেই মন্দ কিছু নয়), এসবই হবে ১৭৫৭ সালের পূর্ব কথা। মুসলিম শাসনে কি সেদিন মুসলিম নামধারী এমন এক শ্রেণীর […. ]গণ ছিল যারা ইসলামী শরিয়ার প্রতিকূলে অবস্থান নিত, এটাকে বর্বর যুগের বিষয় বলত, ইসলামী আইন, শিক্ষা সংস্কৃতিকে প্রতিহত করত, হিজাব-বোরখার বিপক্ষে বলত, দাড়ি-টুপিওয়ালাদের নিগৃহীত করত, সন্ত্রাসী বলে জেলবন্দী করত, নির্যাতন করত, বিদেশীদের সাথে মিশে তাদের আদর্শ মুসলিমদের উপর চাপাত? ফিরিস্তি লম্বা করার দরকার নেই। তুলনার স্থান এইসব ক্ষেত্রে। লতিফ/গাফফার শ্রেণীর কথা, কাজ ও তাদের সেক্যুলার আদর্শের নিরিখ বুঝতে হবে। It can’t be a discussion around an abstract.

      গাফফার প্রসঙ্গে আপনি কেন এসব টানছেন জানি না। আপনার পড়াশুনা যে কী –তাও জানি না। তবে আপনার উপস্থাপনা এবং ধারণাকে প্রেক্ষিতকরণে কিছুই যেন প্রকাশ পাচ্ছে না। এটা আমার দেখার দুর্বলতা হতে পারে -তাই আপনি অতিষ্ঠ হবেন না, আমি তো কেবল আমার মাপের আন্দাজেই কথা বলতে পারি।  

      সেদিন সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভূখণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু রাজ্য ছিল, রাজ্যের মধ্যে জমিদার ছিল, মুসলিম এলাকায়ও হিন্দু জমিদার ছিল কিন্তু সেখানে সবই ছিল স্ট্রাকচারেলি মুসলিম সুশাসনের অধীন। আবার সংখ্যালঘিষ্ঠের চালিত শাসন ব্যবস্থায় কোন কোন দূরতম রাজ্যে যেখানে কর্তৃত্ব প্রবল নয় সেখানে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে -এটাও স্বাভাবিক। রাজ্য পরিচালনায় যেখানে এক সমস্যা এড়াতে গেলে বড় আকারের অন্য সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, সেখানে অপেক্ষাকৃত নমনীয় নীতি অবলম্বিত হবে –এটাও স্বাভাবিক। কিন্তু কেউ যদি এসব বিষয়কে ‘নিয়ম’, ‘প্রথা’ ও ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বলে পরবর্তী কোন যুগে অনৈসলামী শাসন ব্যবস্থা মুসলিমদের উপর চালিয়ে দিতে যুক্তি হিসেবে দেখায়, (এমন লোক ও দল তো আছেই, যাদের কাছে কোরান হাদিস নয় বরং তাদের বঙ্গালবাদী সেক্যুলার আদর্শই ‘সর্বাগ্রে’ যেমনটি আমরা লতিফ/গাফফার শ্রেণীতে দেখছি), তাহলে তাদেরকে এড়িয়ে চলার শিক্ষা আল্লাহ শিখিয়েছেন। আমাদেরকে বলতে হবে, ‘লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন’ এবং বাকীরা তাদের নিজেদের দ্বীন বাঁচিয়ে রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে। এখন দুই দল স্পষ্ট। একদল বর্তমানের “বাড়াবাড়ির” ইসলাম নির্মূল করে সকলের সাথে মিলে, “অসাম্প্রদায়িক” ধর্ম প্রতিষ্ঠা করছেন যেমনটি বাদশা আকবর চেয়েয়েছিলেন, তাদের কাছে খিলাফত হচ্ছে মাওদূদিবাদ, কিন্তু কাদিয়ানী সম্প্রদায়ে রয়েছে ইসলাম। বোরখা/হিজাব তাদের ধর্মে নেই। বাংলাদেশের ইসলামকে তারা নতুন করে সাজাবে এবং সাজাচ্ছে। তাই এই দলের মধ্যে আজকে শান্তির কথা হবে ‘লাকুক দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন’।

      চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত মুসলিমদের অবনতি ঘটিয়েছিল -এটা হান্টারেরও কথা। আপনি হান্টারকে কীভাবে পড়েছেন আমি জানি না। হান্টার তার ‘দি ইন্ডিয়ান মুসলমান’ বইয়ে ব্রিটিশ শাসনের সাফাই গেয়েছেন এবং সেসময় তাদের সরকার আর কি কি করা উচিত ছিল এবং কি কি করা উচিত ছিল না ইত্যাদি আলোচনা করেছেন। মুসলিমদের রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও হিন্দুদের সহযোগিতার সুফলই আলোচনা করেছেন। এখানে সেখানে দু/একটি পাসিং রিমার্ক করেছেন তাদের শাসনপূর্ব কালের। তারপর ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে এবং পরিবর্তিতে অসংখ্য মুসলিম পরিবার কীভাবে নিশ্চিহ্ন হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে –সে আলোচনাও এসেছে। মুসলমানগণ শাসন ব্যবস্থা হারিয়ে যে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছিল তার চিত্রও স্থান পেয়েছে, যদিও বইটি তাদের শাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা।

      আপনার সাথে এসব নিয়ে বিতর্ক করার দূরতম কোন যৌক্তিকতা আমি দেখি না। তবে এখানে একমত, “কথা হলো পৃথিবীটা গোল নাকি সমতল তা নিয়ে যে কেউ একমত/দ্বিমত হতেই পারে, সেটা কোন ব্যাপার না। তবে ব্যাপার হলো কোনটা সত্য!!!!”  আমি শান্তি, সমঝোতা পছন্দ করি, তাই এই বিশেষ প্রেক্ষিতে আমি ‘সমতল’ মানতেও রাজি, ‘গোল’ মানতেও রাজি।

      ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন। আর হ্যাঁ, এখানে একটি লেখা দেখেছি, আপনি একমত না হলে পড়ে দেখতে পারেন

      ____

      নোট: আপনার দ্বিতীয় মন্তব্য বুঝতে পারি নি, আমার সীমার বাইরে ছিল। তবে, বুঝিয়ে না দিলেও চলবে, রোজদারী দিন -খামাখা কথা বাড়িয়ে লাভ নেই।

      1. 10.1.1
        মহিউদ্দিন

        কথা না বুঝে যারা তর্ক করে বা যারা হয়তবা বুঝেও আসল আলোচনার গুরুত্ব মুছে ফেলতে অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা শুরু করে। তাদের সাথে বিতর্কে জড়িত হয়ে লাভ নাই। ভারতবর্ষে  ১৭৫৭ ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকে প্রথম দেড়শ বছর ইংরেজদের বিরুদ্ধে যত যুদ্ধ বিদ্রোহ হয়েছে ভারত স্বাধীন করতে তা কারা করছেন সে ইতিহাস জানা থাকলে নাসিরুদ্দিন হোজ্জার বিড়ালের গল্পের উদাহরণ টেনে নির্বোধের মত কথা কেউ বলতে পারেনা।
         

        1. 10.1.1.1
          এম_আহমদ

          ভাই, আমার কাছে আজকে সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জ মনে হয় তা হল মুসলমানদের নানান পার্থক্যের মধ্যে কীভাবে 'কমন' অবস্থানের অনুসন্ধান করা যায়, কীভাবে দূরত্বের মধ্যে কোন বন্ধনের সূত্র পাওয়া যায়। আজকের সমাজে যে নানান দল রয়েছে যেগুলো পরস্পরকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং নিজেরা আলাদা থাকতে দর্শন গড়ে নিয়েছে যদিও নিজেরা সেটিকে দর্শন হিসেবে দেখছেন না, দেখলে অবশ্য ভাল হত।

          মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই ঐক্য-অনৈক্যের উপাদানে গঠিত।  এই প্রকৃতিকে কীভাবে সমাজ গঠনে ব্যবহৃত হতে পারে সেই সূত্র বের করতে হবে। কঠিন কাজ। এক্ষেত্রে অতীত দেখা হবে কিন্তু আমাদেরকে তো বর্তমানেই থাকতে হবে, বর্তমানকে গড়তে হবে। অতীতের কোন রাজা বাদশাহ যদি ভুল করে থাকেনই তবে সেটা বর্তমানের নিষ্ক্রিয়তা অথবা উন্নয়নের পথে কাজ না করার কোনো যুক্তি হতে পারে না। আমি যদি ইসলামের আর্থ সামাজিক অবস্থা বুঝি এবং যদি মনে করি এই ব্যবস্থাই মানব সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তবে অতীতের কোন বাদশাহ তা পারুক অথবা না'ই পারুক, তাতে সমস্যা নেই  -আমাকে সেই ‘পারার-পথে’ কাজ করতে হবে। আর যেখানে প্রতিকূলতা গগনচুম্বী, সেখানে মুখের কথা ও কলমের লেখার মাধ্যমে যেটুকু পারা যায় তা কর আহবে।  আজকে দায়িত্ব সবার। এটা সসত্য যে সকল যৌক্তিক বিবেচনায় আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা একধরণের অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু এটা যৌক্তিক বিবেচনা। যুক্তি বাস্তবতাকে সব সময় সঠিকভাবে ধারণ করে না। কেননা দ্রষ্টা এবং দৃষ্ট বাস্তবতা under constant change. ফেরাউনিক, বেবিলনিয়ান, রোমান, পারসিয়ান ইত্যাদি শক্তি নিঃশেষ হয়েছে। এভাবে বর্তমানের শক্তি একদিন নিঃশেষ হবে। পরকালের তুলনায়, ‘তারা এটাকে (অনেক) দূরে দেখে কিন্তু আমরা দেখি (অনেক) কাছে’ (৭০:৬-৭)। সুতরাং উন্নত নৈতিক সমাজ গঠনের পক্ষে কাজ করে যেতে হবে। বিজয় না’ই আসুক।পরাজয় চলতে থাকুক। কিন্তু তোরণের দিকে চক্ষু নিবদ্ধ করে হাঁটতে তো হবেই।

  8. 9
    রাকীব আল হাসান

    আপনার এই লেখাটা আগেই পড়ার ইচ্ছা ছিল, তবে ব্যস্ত থাকায় একটু দেরি করে পড়তে হলো। না পড়লে বিরাট মিস করতাম। খুবই চমৎকার একটি লেখা। এটি গাফফার সাহেবের পড়া উচিৎ।

     

    গাফফার সাহেব বলেছেন- ইসলাম ১৪০০ বছর আগে এসেছে। এই কথাটা কিন্তু ঠিক নয়। আমার লেখাতেও এ বিষয়ে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। এখানে এ বিষয়টি নিয়ে কিছু বলি-

    আদম (আ.) থেকে শুরু করে সকল নবী-রসুলদের আনিত সত্যজীবনব্যবস্থাই হচ্ছে ইসলাম। আমাদের প্রিয় নবী মোহাম্মদ (সা.) নতুন কোনো দীন আনেননি বরং সেই ইসলামেরই পূর্ণাঙ্গ ও শেষ সংস্ককরণটি এনেছেন এবং প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়ে গেছেন এর ফল হলো অনাবিল শান্তি (ইসলাম)।

    যুগে যুগে নবী-রসুল আসার প্রয়োজন পড়েছে কেন? যখন পূর্বের দীনটি মানুষ বিকৃত করে ফেলেছে, ফলে সমাজ অন্যায়-অবিচারে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে তখন পুনরায় আল্লাহ ঐ ভূখণ্ডের জন্য, ঐ জাতির জন্য নতুন কোনো নবী-রসুলকে সত্যদীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন। নতুন দীনে পূর্বের দীনের বিকৃত অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সময়ের প্রয়োজনে, যুগের প্রয়োজনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছে তাও বাদ দেওয়া হয়েছে কিন্তু অনেক কিছুই রাখা হয়েছে যা বিকৃত ছিল না। বিষয়টি কিন্তু এমন নয় যে, পূর্বের সীমা লঙ্ঘনকারী তথা কাফেরদের দীন থেকে ঐ নবী কিছু বিষয় এডপ্ট করলেন, বরং ঐ কাফেররা আল্লাহর সত্যদীনের কিছু অংশ বিকৃত করে ফেলেছিল, নতুন অনেক কিছু সংযোজন করেছিল, অনেক অংশ বাদ দিয়েছিল। আল্লাহ পুনরায় তার নবীর মাধ্যমে তাঁর দীনকে সংস্কর করলেন।

    -- এই সহজ বিষয়টি গাফফার সাহেব বুঝতে পারেন নি।
     

    1. 9.1
      লতিফুল আজম

      @রাকীব আল হাসান: আপনার মতামত ঠিক আছে। আমাদের নবী মুহম্মাদ (স) ছিলেন শেষ নবী। যেহেতু আর কোন নবী বা রসূল এ মর্তে আবির্ভুত হবেন না, সেহেতু তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের সকল মানবকুলের জন্য নবী বা রসূল।

  9. 8
    এম_আহমদ

    গাফফার সাহেবের নতুন ভিডিও

    ||হজ্জ কাফিরদের সৃষ্ট প্রথা থেকে এসেছে| আল্লাহ|| …[বলতে চাই না আপনারা শুনুন]|| আরবি না জেনে আরবি নাম রাখা ভুল|| ঠাট্টা করে আবু হুরাইরাহকে ডাকা ইত্যাদি|| তিনি ওমরাহ করেছেন ||

    আমার ব্লগে যারা এপর্যন্ত মন্তব্য করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সকলের মন্তব্য যাতে পাঠ হয় তাই আমি নিজে ঘন ধন প্রতিপ্রতিমন্তব্য দিয়ে মূল মন্তব্যগুলো ফ্রন্টপ্যাজ থেকে আড়াল করতে চাই নি। পরে কোন এক সময় সার্বিকভাবে সবাইকে এড্রেস করে কিছু বলতে পারি।

    আজ দুপুরে দেখলাম আব্দুল গাফফার সাহেবের আরেকটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। এই ভিডিওতে, তার সদিচ্ছা থাকলে, কিছু বিষয় মিটিগেট করতে পারতেন। কিন্তু করেন নি। আগড়া-বাগড়া কথায়, মূল কথার নিরিখ থেকে অন্য কথায় গিয়ে চাচ্ছেন সাফাই গাইতে।  তার সমালোচনা যদিও সার্বিকভাবে দেশের অনেক লোকই করেছেন কিন্তু তিনি বিষোদ্গার করেছেন “মৌলবাদীদের”কে। তিনি যদি সোজা বলতেন, ভাইসব, আমি বৃদ্ধ লোক, কী বলতে কী বলে ফেলেছি, আমার এসব খেয়ালে ছিল না; আমার ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চাই। আর আপনারাও আমাকে সুনজরে দেখবেন। তাহলে কত সুন্দর হত।

    কিন্তু মৌলবাদীদের তো আক্রমণ করতেই হয়। আল্লাহ ইয়াহুদীদের মনে যেভাবে ‘বাছুর’ পান  করিয়ে দিয়েছিলেন, মনে হয় এদের অন্তরেও ‘মৌলবাদী’  পান করিয়ে দেয়া হয়েছে।

    এই ভিডিতেই তিনি আগের কথাই রিপিট করেছেন এবং সাথে বাড়তি কিছু আইটেম সংযোগ করেছেন। আমার ইচ্ছে ছিল আরেকটি ব্লগ দেব কিন্তু এই মাত্র দেখলাম আরেক ভাই এ বিষয়ে একটি লেখা দিয়েছেন। আমি চাই আপাতত সেটা পড়া হোক। এবং এটা হয়ত প্রয়োজন হলে বর্ধিত করে অন্য সময় দেয়া যাবে।

    এবারে গাফফার সাহেব সংযোগ করছেন  হজ্জের কথা এই প্রথা নাকি কাফিররা দুই/তিন হাজার আগে শুরু করেছিল এবং এই ধারায় তা ইসলামে এসেছে বা ইসলামে এডাপ্ট করা হয়েছে। কিন্তু হজ্জের প্রথা তো ওরা শুরু করেনি। এটা ইব্রাহীম (আ.) শুরু করেছিলেন এবং মানুষ প্রায় দুই হাজার বৎসর এই তাওহীদের প্রথায় উপরই ছিল। আমর বিন লুহাই কেবল পৌত্তলিকতা শুরু করেছিল, (এবিষয় উপরে আলোচিত হয়েছে)।  হজ্জের বিবরণ কোরানে আছে।

    গাফফার সাহেব আগের বার নাকি তিনি দেবতাদের নাম বলেন নি। কিন্তু আগের ভিডিও সকলের সামনে। এই কথাটি বলার পরক্ষণেই কিন্তু দেবতার কথা বলে ফেলেন! রাসূলুল্লাহর (সা.) পিতার নাম আব্দুল্লাহ (عبد الله) ছিল -একথা  ধারণায় বলছেন যে এই নাম ‘আল্লাহ দেবতার’ (নায়ূযুবিল্লাহ!) নাম অনুসারে ছিল, [আপনারা শুনুন]! কাবার ভিতরের বড় দেবতার নাম নাকি ছিল ‘আল্লাহ’ (নায়ূযুবিল্লাহ)!

    তিনি সতত ‘ইলাহ’ শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য বুঝেন নি। যার ইবাদত করা হয় তাকেই বলা হয় ইলাহ। অর্থাৎ যার প্রতি উপাসনা বা homage জ্ঞাপন করা হয় সে হয় ‘ইলাহ’,  এখানে কোন বড় দেবতার কথা নেই। ছোট হোক বড় হোক, যার ইবাদত করা হবে সে হবে ইলাহ।  কোরানের মূল বাণী ছিল, তোমরা (পৌত্তলিকগণ) যাদের উপাসনা করছ তারা ইলাহ নয়, তোমরা ওদের ইবাদত কর না, ওদের মা’বুদ হিসেবে গ্রহণ কর না। তোমাদের ইলাহ তো কেবল একজনই, তিনি হচ্ছেন আল্লাহ।  নির্দিষ্ট অর্থে, অর্থাৎ যেখানে আর কোন ইলাহ নেই, সেখানে তিনিই হচ্ছেন 'আলইলাহ' বা আল্লাহ। সুতরাং কোন বড় দেবতার নাম 'ইলাহ' ছিল এবং তাত্থেকে আল্লাহ নাম ধারিত হয়েছে, এটা ভুল ধারণা।  খৃষ্টধর্ম ঈসা (আ) ও মারিয়ামকে (আ) ‘দুই ইলাহ’ বানিয়ে নেয়ার উল্লেখ কোরানে এসেছে (৫/১১৬)। এটা নিষেধ করা হয়েছে। 'ইলাহ' বিষয়ের উপর আমার এই লেখাটি দেখা যেতে পারে

    'ইলাহ' বিষয়ের উপর আমার এই লেখাটি দেখা যেতে পারে

    গাফফার সাহেবের কথাবার্তা অত্যন্ত …কি বলব, রমজান মাস, নিজেকে নিবৃত্ত রাখাই ভাল। তার ধর্মজ্ঞান অত্যন্ত স্বল্প দেখা যাচ্ছে। আর এই জ্ঞান দিয়ে চলছে যারে তারে বিষদ্গার। এই জ্ঞান দিয়েই তিনি বুঝতে পেরেছেন, ‘এখন বাংলাদেশে যে ইসলাম চলছে এটা বাড়াবাড়ির ইসলাম।’

    তিনি এই দ্বিতীয় ভিডিওতে ভাল কিছু সংযোগ করতে পারেন নি।  আগের কথাই বলেছেন। বলছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) নাকি আবু হুরাইরাহকে (রা.) "ঠাট্টা" করে 'বিড়ালের বাবা  ডাকতেন। “ঠাট্টা”র চরিত্র নবীর (সা) ছিল না। তারপর বলছেন, আরবি না জেনে সন্তানের নাম আরবি রাখা নাকি ভুল। এসব কেমন ধারণা? এসব কি কথাবার্তা? লতিফ সিদ্দিকীও হজ্জ করেছিলেন। তিনিও বলছেন ওমরা করেছেন। গাফফার সাহেব ক্রেডিবল লোক নন। তারপরও হজ্জ, ওমরা এসব করে কেন তারা এই ধরণের জঘন্য কথাবার্তা বলেন, আমার তো কিছুই বুঝে আসে না। এসবের মানি কী? আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াত দান করুন, তাদেরকে তওবা করার তৌফিক দিন, আমীন।

    নতুন ভিডিও লিঙ্ক।

  10. 7
    সরোয়ার

    খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী লেখা। অনেক সাধারণ পাঠক আগাচৌ এর মন্তব্যের উপযুক্ত জবাব অন্বেষণে ছিলেন। আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘায়ু দান করুন যেন বেশী বেশী লিখতে পারেন।

  11. 6
    সরকার সানজিদ আদভান

    লতিফ সিদ্দীকের প্রভাবে বোধহয় এমন পদক্ষেপ নেয়ার সাহস পেয়েছেন উনি।লতিফ সিদ্দীকিকে তেন কোন শাস্তিই প্রদান করা হয় নি।যার কারণে এরকম বক্তব্য দেয়ার সাহস তিনি পেয়েছেন। তাছাড়া এ কথাটি কিন্তু আমাদের দেশী মিডিয়ায় তেমন প্রচার করা হচ্ছে না। আমাদের বর্তমান সরকারের স্বরূপ বুঝতে আর কত নিদর্শন লাগবে ভক্তদের?

  12. 5
    মুনিম সিদ্দিকী

    নিরেট সত্য কথা গুলো উল্লেখ করেছেন। দ্বিমত করার কিছু নেই। সময় উপযোগী ব্লগের জন্য ধন্যবাদ।
     

  13. 4
    শামস

    আব্দুল গাফফার চৌধুরী বয়সের কারণেই এসব বলেছেন, সেটাও আমার ধারনা, সাথে থাকতে পারে আনন্দের আতিশয্য! তার আনন্দের কারণটা সেই নিজেই বলেছে! ছোট  বাচ্চারা কথা মুখে আটকিয়ে রাখতে পারে না, রাতে প্যান্ট সহজে ভিজিয়ে ফেলে। বয়স বাড়লে কিছু বুড়ো বাচ্চাদের মতো আচরণ করে, কাপড় নষ্ট করে, নিয়ন্ত্রণহীন কথাবার্তা বলে, সাথে ঢোলের বাড়ি হলেতো কথায় নাই…… (দামী প্রশ্ন: তা ঢোলের বাড়িটা দেয় কে?) 

    লতিফ সিদ্দিকী এবং গাফফার চৌধুরীরা যেটা বিশ্বাস করে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ না করেই বলেছে। বুদ্ধিজীবি হলেও তাদের ধর্মীয় অজ্ঞতা আছে, তবে তারা সেভাবেই ধর্মকে দেখে! ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদে সেভাবেই দেখার কথা. পাশ্চাত্য ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা ধর্মকে দুরে রাখে, ধর্ম সেখানে 'আপেন্ডিক্স' এর মতো, আর প্রাচ্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা  সামাজিক চাপের কারণে ধর্মকে 'Adaptive' হিসেবে দেখে, হোক না সেটা পৌত্তলিকতা। এদেরকে মুক্তমনাদের মত 'ইসলামবিদ্বেষী' হিসেবে কেউ কেউ ট্যাগ করছে। কিন্তু এই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা অন্য প্রজাতি!

    আয়ারল্যান্ডে সমকামি বিয়ের ব্যপারে গণভোটের পক্ষে রায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে সব রাজ্যে সমকামী বিয়ে বৈধ হিসেবে কোর্টের ঘোষনা এবং গাফফার চৌধুরীর বক্তব্য -- প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের দুটো ভিন্ন বিষয় -- কিন্তু তাদের গোড়াটা একই! সময় করতে পারলে এ নিয়ে একটা লেখা দেবার আশা রাখি!  

  14. 3
    করতোয়া

    সারাদিন ধরে এই আলোচনার মূল ভিডিওটা আমি খুজতেছি। নিজে কানে শুনে সিদ্দান্ত নেবার ইচ্ছা। কেউ কি আলোচনার ভিডিওটার একটা লিঙ্ক শেয়ার করতে পারেন? আমার অবাক লাগছে গাফ্ফার চৌধুরীর মত একজন লেখক এতবড় গাধা'র মত কথা বলতে পারেন। সেজন্যই আলোচনাটা নিজে শুনতে চাই।

    1. 3.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      @করতোয়া --

      এখানে দেখতে পারেন --
      https://www.youtube.com/watch?v=wnoIWiAQ010

      আর নিউজের বিস্তারিত দেখতে পারেন --

      http://www.deshebideshe.com/news/details/53620

      উল্লেখ্য এখানে লেখক কোন সূত্র থেকে এই খবর পেয়েছেন তা বলেননি -- একটা রাজনৈতিক গেইমের অংশ হিসাবে যে যার মতো করে গাফফার চৌধুরীর বক্তব্যকে দেখাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।

      ধন্যবাদ!

      1. 3.1.1
        নির্ভীক আস্তিক

        @জিয়াউদ্দিন ভাই,

        একটা কথা একটু সংক্ষেপে বলে রাখি। উনার লেখার উৎস এই ব্লগটির রাজনৈতিক খেলোয়ার উল্লেখ করেন নি কিন্তু তাই বলে সেটা "উল্লেখ্য" বলেও মনে হয় নি, তার হয়ে আপনিতো করলেন সমস্যা কোথায় ? বক্তব্য যে যার মতই দেখাক না কেন, কান তো আমাদের সবারই আছে (আমার বাম কানে একটু বেদনা করছে)। চোখও আছে। কেউ যদি Fact দেখায় তাহলে তাকে "ফায়দা লুন্ঠঙ্কারী" না বলে উপযুক্ত যুক্তিদিয়ে তুলে ধরলেই হয় যে লেখক যা বললেন অগুলো সত্য প্রচার নয় অপপ্রচার । আপনার কাছে অনুরোধ রইল একটু কষ্ট করে হলেও আমাদের একটু যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে শুনিয়ে একটা লিখা দিন "রাজনৈতিক গেমের অংশ হিসেবে যে যার মত বর্ণনা না করে কেন গফফার দাদা যা বলতে চেয়েছেন(কিন্তু বলতে পারেন নি, বলা তার হল না শেষ।)  তাই বলা উচিৎ।"    

      2. 3.1.2
        জামশেদ আহমেদ তানিম

        আম্লীগ সারা জীবন আম্লীগ। এরা না মুসলিম না অন্য কিছু। (কে মুসলিম আর কে মুসলিম না সেটি এখতিয়ার বহির্ভূত ও অপ্রাসঙ্গিক। ধন্যবাদ- সম্পাদক, সদালাপ)। এরা শুধু আম্লীগ। এদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আম্লীগ। যেহেতু আম্লীগিয় একজন ইসলাম বিরোধ মন্তব্য করেছে তাই তা "রাজনৈতিক গেইম"। লতিফ, আগাচৌ হচ্ছে আম্লীগিয়দের আসল চেহারা যা লুকানোর কোন উপায় নেই। মাঝে মাঝে তা বেরিয়ে আসে। আওয়ামী লীগ যদি তা নাই হয় তাহলে কেন লতিগ গং দের বিরুদ্ধে কোন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না? বরং আম্লগীয়রা "রাজনৈতিক গেইম" এর নামে আড়াল করার চেষ্টা করছে।

        1. 3.1.2.1
          নির্ভীক আস্তিক

          ভাই আপনার সমস্যা কি? আপনাকে আমি গত দুই দিন ধরে দেখছি আপনি জিয়া ভাইয়ের পেছনে থেকে বারাবারা আজেবাজে বকছেন। আপনার Context clear করে বলুন। আমাদের এখানে আওয়ামিলীগ, বি এন পি, তবলীগ, জামাত-শিবির অনেকেই আছেন এবং আছেন সবার আগে মুসলিম পরিচয় দিয়েই, এরা সবসময় থাকবেনো। ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল হোন। যে মন্তব্যে আওয়ামিলীগের marketing আসেনি, সেখানে আপনি "আল্মাগীয়" বলে গালাগাল করছেন , এটা কেমন আচার ?

        2. জামশেদ আহমেদ তানিম

          কে আম্লিগ করলো না বিম্পি করলো তাতে আমার কিছু আসে যায় না। কিন্তু যখন নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবী করব তখন অবশ্যই আম্লীগ বিম্পি, বাঙ্গালী, ভারতীয়, সাদা, কালো, ইউরোপিয়ান, আফ্রিকান সকল কিছুর উর্ধ্বে আমার মুসলিম সত্ত্বা। আমার ভাইও যদি ইসলামকে আঘাত করে তা কলিজাতে এসে বিষম লাগে। যদি তা না হয় তাহলে আর যাই হই আমি মুসলিম নই, ভাইকে বাঁচানোর জন্য যদি নানান ফন্দি আটি তাহলে আমার ঈমানে গলদ আছে।( এই কাজ করার আগেই যেন আমার মৃত্যু হয়)।

          কেউ যখন তার মুসলিম সত্ত্বাকে ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের কারনে জনাঞ্জলি দেয় তখন স্বাভাবিকভাবেই ভালো লাগে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বার বার এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন যে ইসলাম কোন ব্যক্তি মানুষের পছন্দ অপছন্দ-এর উপর নির্ভর করে না।

          এখন একটি প্রমানিত বিষয় নিয়ে কেউ যখন সন্দেহ প্রকাশ করে তখন আর কি বলার থাকে?

        3. জামশেদ আহমেদ তানিম

          এবং আগাচৌর বক্তব্যের পরে আওয়ামী পন্থীদের অবস্থান এবং বক্তব্য খুবই হতাশাজনক।
           

        4. 3.1.2.2
          এম_আহমদ

          @ জামশেদ আহমেদ তানিম আমার ব্লগে মন্তব্যের জন্য প্রথমে ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্যের একটি স্থান পরে বলছি তবে প্রথমে আরও কিছু কথা বলে নেই। এটা ঠিক যে একটা চরম অসাধু "রাজনৈতিক গেইম" চলছে। আর এই গেম লতিফ সিদ্দীকী, গাফফার চৌধুরী, এবং থাবা-জাতীয়রাই খেলছে। এই যে নবী মুহাম্মাদ (স), তাঁর গোত্র ও হজ্জ নিয়ে কথা, এই যে বোরখা-হিজাব, আল্লাহ নাম, তাঁর গুণ, আর এই হজ্জ –এসব কি তাদেরকে কেউ জোরপূর্বক করিয়ে নিচ্ছে, বন্দুক চেপে বলাচ্ছে? এসব বক্তব্য কি ইসলামী? আবার বলি এসব বক্তব্য কি ইসলামী? যদি না হয়, আর যদি কেউ এসবের পক্ষে জাস্টফিকেশন দিতে এগিয়ে আসেন, তবে তার/তাদের অবস্থানটি কি? আবার বলি তার/তাদের অবস্থানটি কি? আমি মনে করি যারা আমলীগ সমর্থক করেন এবং মুসলমানও তাদের উচিৎ, প্রথমে, অর্থাৎ সকলের আগে, নিজেরাই অগ্রবর্তী হয়ে এই জাতীয় লোকদের জঘন্য কথাবার্তাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করা, প্রত্যাখ্যান করা  এবং নিজেদেরকে ওদের থেকে বিচ্ছিন্না করা। এতে করে তাদের দলের শক্তি কোনভাবে কমে যাবে বলে মনে হয় না। এটা করলে বাকী মুসলমানদের দিল-মন তৃপ্ত হবে (হয়ত কেউ কেউ করছেন, আমরা দেখছি না) । কিন্তু ঘটনা যাই হোক, বাকীদেরকে এই দল ও সমর্থকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ফিতনা থেকে বাঁচতে হবে। ঝগড়া থেকে বাঁচতে হবে।

          এই যে উল্লেখিত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্যধারীদের কথা বললাম, এবারে তাদের ইসলাম নিয়ে কিছু কথা বলি, কেননা এটি বিভিন্ন স্থানে বার বার আসছে। কে মুসলমান, কে মুনাফিক, কে কাফির এসব কথার বিবরণ ও ব্যাখ্যা কোরান হাদিসে ভরপুর। শুধু কোরান হাদিসই নয় বরং এসবের আলোকে ইসলামী বইপুস্তকের বিপুল সম্ভার রয়েছে। ইসলামী শারিয়া কে মুসলমান হতে পারে এবং কে ইসলামের বাইরে চলে গিয়েছে সেসব ফতোয়ার স্থান রেখেছে এবং মুফতিগণ বিগত ১৪০০ বছর ধরে এসব ফতোয়া দিয়ে আসছেন। কে মুসলমান হতে পারে আর কে হতে পারে না -তা যদি জানার ব্যাপার না হয়, তবে ইসলাম পালন করা আদৌ সম্ভব নয়। Our existence is on differential basis, through the knowledge of the ‘other’, what it is and what it is not. এই না-জানার ধারণার সঠিক নয়। তবে জেনেও ফিতনা করা যাবে না। সকল ফিতনা ও অস্পষ্টতায় সতর্ক থাকতে হবে –এটি হচ্ছে একটি জরুরি ইসলামী অবস্থান। এক ধরণের জটিলতার মধ্যে আরেক ধরণের জটিলতা সৃষ্টিতে লাভ নেই।  কিন্তু নিজেদের দ্বীন ধর্ম ঠিকিয়ে রাখতেই হবে, প্রতিপক্ষের সুদূর প্রসারী কৌশল ও শক্তির মোকাবেলায়। অপর পক্ষের flimsy reasoning যেন নিজেদের অজান্তে আমরা ব্যবহার করে না ফেলি।

          ইসলামে ঢুকতে যেভাবে ঘোষণা দেয়া হয়, কেউ ইসলাম থেকে বেরিয়ে যেতে সেভাবে ‘ঘোষণা’ দেয় না। আকাশ মালিক বা তার মত অনেক রয়েছেন যাদের ইসলাম ত্যাগের কোন স্পষ্ট ‘ঘোষণা’র উল্লেখ পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। আকাশ মালিক এখনো দাঁড়িয়ে বলতে পারে, “কই, আমি নাস্তিকতার ঘোষণা কবে দিলাম? আমি তো নাস্তিকতার পক্ষের যৌক্তিকতা দেখাচ্ছি মাত্র, যাতে করে মুক্ত মানসিকতা জাগ্রত হয়, আমি তিক্ত ঔষধ দিচ্ছি। আমি চাই ইসলাম রিফর্ম হোক। আজ বাংলাদেশে যে ইসলাম প্রচলিত, এই ইসলাম সঠিক ইসলাম নয়। এখন বাংলাদেশে যে ইসলাম চলছে এটা বাড়াবাড়ির ইসলাম নবী মুহাম্মাদ বিদায় হজ্জে ধর্মে বাড়াবাড়ি না করতে বলেছেন। আমি চাচ্ছি মৌলবাদীগোষ্ঠীর মাদ্রাসা শিক্ষায় পরিবর্তন আনতে, এবং আইন করে জামাতি-হেফাজতিদের নির্মূল করতে, ধর্মীয় রাজনীতি বন্ধ করতে। আমার মা-বাপ ও চৌদ্দগোষ্ঠী মুসলমান, আজ আমার বিপক্ষে মৌলবাদীগোষ্ঠী না বুঝে প্রোপাগান্ডা করছে, সদালাপের মোল্লাগুলোসহ”।

          ইসলাম কুফর নিফাক -এগুলোর রিজোনিং আবহমানকালের। এখানে বক্তার দাবী,  তার কথা ও কাজকর্ম কি স্পষ্ট নয়? কে মুসলমান আর কে নয় –তা কি অবোধগমা কিছু? মুমিন, মুনাফিক, কাফির –এসব বিষয় কি কোরান হাদিসে অস্পষ্ট? তবে হ্যাঁ। যখন এক ব্যক্তি এক দিকে ইসলামের দাবী করবে এবং অন্য দিকে ইসলাম বিপক্ষে কথা বলবে সে একই সাথে স্থানভেদে মুনাফিক ও কাফির হতে পারে। তবে মুনাফিক কাফিরের চেয়েও মন্দ। দোযখে কাফিরের নিচে হবে তার স্থান। নিফাক হচ্ছে মুসলিম সমাজের এক চরম ফিতনা। এটা আবহমান কাল ধরে চলে আসছে।  

          সর্তকারতা অর্থ হচ্ছে পারতপক্ষে সকল বক্তব্য কেয়ারফুলি সাজানো। আপনার “আমলীগ, এরা না মুসলিম না অন্য কিছু এটা এভাবে না বলে অন্যভাবে বলা হতে পারত। (তাই, কথাটি সম্পাদক কর্তৃক under eraser –এ স্থাপন সঠিক হয়েছে বলব। তবে ব্রাকেটের ভিতরের বাক্যের ফ্রেজিং খানিকটা ভিন্ন হলে ভাল হত মনে করি)। আমি আম্লিগের ব্যাপারে বলে থাকি, আম্লীগের নেতৃত্বে ইসলামী মানস নেই।

          নিফাক একটি বড় সমস্যা। এতে অনেক প্রকার ও ভিন্নতা রয়েছে এখানে প্রকৃতির ব্যাপারও রয়েছে যেখানে ব্যক্তির তেমন কোন দখল নেই। এটা এক সুনির্দিষ্ট মানব প্রকৃতিও। কিন্তু এমনসব লোক যাতে তাদের 'ধর্ম' আপনাদের উপর চাপিয়ে না দেয়, তাই সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সংগ্রাম করতে হবে। কেননা আপনার দ্বীন ধর্ম বেঁচে থাকতে হবে। সাহাবিগণ  যেভাবে মুনাফিকদের জানতেন এবং চিনতেন আর সর্তক থাকতেন, সেভাবে আমাদের যুগেও তাই করতে হবে।  এই মুনাফিকদের কারণেই ইসলামী খিলাফতে অবসাদ নেমেছিল। এদের কৌশল অত্যন্ত জড়িল।

        5. জামশেদ আহমেদ তানিম

          চমৎকার বলেছেন।

  15. 2
    মহিউদ্দিন

    মুসলমানদের দ্বীনি অবস্থা ১৭৫৭ সালে যেমন ছিল এখনও তেমন আছে, এমনটি আমিও মনে করিনা। যারা তা মনে করেন তারা আসলে অনেকটা শিশুসুলভ (naive) ধারনার থেকেই বলছেন মনে হয় আমার কাছে।

    আসলে বাংলাদেশ যে গর্তে পড়েছে তা থেকে উত্তরণের সহজ পথ দেখছিনা। গাফফার চৌধুরীরা যা বলছে তা বুড়ো বয়সের ভীমরতি বলাও ভুল হবে এসব কোন বিক্ষিপ্ত কথা বা ঘটনা ভাবা ঠিক হবেনা এগুলা একটি মাস্টার প্ল্যানেই হচ্ছে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে। 

  16. 1
    মজলুম

    বুড়ো হলে মানুষকে ভীমরতি ধরে।  ভীমরতি অনেক ধরনের হয় এবং বিভিন্নভাবে তা প্রকাশ হতে পারে। এর একটা কারন হলো সে এ্যাটেশান সিকার হয়, এ জন্যে অনেক বুড়ো লুঙ্গি উঁচিয়ে সবাইকে দেখিয়ে রাস্তায়  প্রসাব করে। কেউ আবার সারা জীবন আকাম কুকাম কইরা বুড়ো বয়সে এসে ধার্মিক সাজে, কারন নেতিয়ে পড়া যৌবন তার কাছে আকাম কুকাম করার জন্যে মানান সই মনে হয় না বা একটা ভীতি কাজ করে । আরেক ধরনের বুড়ো আছে এরা সারা জীবন ধর্ম কর্ম করে বুড়ো বয়সে ইমান হারা হয় বা শিরক করে। কারন শয়তান নাকি বুড়োদের খুব সহজেই তার ফাঁদে ফেলতে পারে।   এ জন্যে আল্লাহর রাসূল(সঃ) বৃদ্ধ বয়স হতে বাঁচার জন্যে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন, বলতেন হে আল্লাহ আমি বৃদ্ধ বয়স হতে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।  তার দোয়া ও কবুল হয়েছে, বেঁচে ছিলেন মাত্র ৬৩ বছর।

    নইলে এই বুড়া বয়সে এসে কেন লতিফ সিদ্দিকি এবং গাফফার চৌধুরী কেন এরকম কথা বলবেন।  

    আমাদের দেশ নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে কয়েক বছর আগে। বাংলাদেশ নামক স্যাটালাইট স্ট্যাট টা আমেরিকা>>>পাকিস্তান>>>বিএনপি-জামাত অরবিট হতে কক্ষচ্যুত হয়ে আমেরিকা>>>ভারত>>>আওয়ামীলীগ অরবিটে ঘুরছে। মূল দড়িটা এখনো আঙ্কেল সামের হাতেই আছে, এবং এই নতুন কক্ষপথে ততদিন বাংলাদেশ ঘুরবে যতদিন  চীনের উত্থান ঠেকানোর জন্যে আমেরিকা ভারতের বিকল্প অন্য কোন দেশ খুঁজে না পাবে।   পরাধীন মানসিকতার বাঙালীদের পাকিস্তান বা ভারত নির্ভর রাজনীতি করার দূর্বল দিক হলো, যখন পাকিস্তান ডাউন হবে তখন পাকিস্তান নির্ভর দলগুলো ও ডাউন হবে, যেমন, বিএনপি-জামাত আর যখন ভারত ডাউন হবে তখন ভারত নির্ভর দল আওয়ামীলীগ ও ডাউন হবে, বটম লাইন।   

    এর বাইরে হুজুগে বাঙালীদের মসজিদে উলুধ্বনি, ইসলাম গেলো গেলো রব হামেশাই শুনা যাবে। এর বাইরে হুজুগিরা প্রশ্ন ও করতে পারেনা যে ইসলাম কোথায় বা ছিলো,  বা ইসলাম কখন ছিলো? ৭১ এর আগে? ৪৭ এর আগে? ১৭৫৭ এর ২৩ শে জুনের আগে? প্রশ্ন যেহেতু হুজুগীদের নাই তো জবাব আসবে কিভাবে? বাঙালীদের ইসলাম বখতিয়ার আসার আগে যেমন ছিলো এখনো তেমনই আছে, তেমনই থাকবে। এরা ইসলাম ধরেও না আবার ছাড়েও না, এই মাঝামাঝিতে থাকে আরকি! এখানে তালেবানি/আইসিস/সালাফি স্টাইলের  ইসলামি ভার্সন যেমন চলবে না তেমনি কম্যুনিজম/এ্যাথিসম  ও চলবে না, বটম লাইন।

    মাঝে মাঝে  শুধু তসলিমা/শাহবাগ/লতিফ সিদ্দিকি/গাফ্ফার চৌধুরীর এফিসোড চলতে থাকবে একটার পর আরেকটা আর হুজুগে বাঙালি আলুপোড়া খাওয়ার জন্যে একটু হৈচৈ করবে আর কি!

    1. 1.1
      এম_আহমদ

      আল্লাহ রাসূল নিয়ে নাস্তিকদের আক্রমণাত্মক কথাবার্তা, তসলিমা/শাহবাগ/লতিফ সিদ্দিকি/গাফ্ফার চৌধুরীর এপিসোড ইত্যাদি হুজুগে বাঙালির আলুপোড়া হৈচৈ এবং হুজুগে বাঙালীদের মসজিদে উলুধ্বনি-ন্যায় –আমি এমনটি মনে করি না। তবে একথাও সত্য যে আল্লাহ-রাসূল ও দ্বীন-ধর্মের মূল বিষয় নিয়ে পাবলিক প্লাটফর্ম থেকে আক্রমণাত্মক কথাবার্তা শুনলে অনেকের হৃদয়ে লাগবে, আবার অনেকের লাগবে না, বরং যার যার জাস্টিফিকেশন যার যার স্থানে এসে দেখা দেবে। এসব বিষয় reconcile করার মত নয়। তবে আমার কাছে আমাদের দ্বীনধর্ম নিয়ে গাফফার চৌধুরী ও লতিফ চৌধুরীর কথাবার্তা বৃদ্ধ বয়সের ভীমরতির মত হাল্কা কিছু নয়। আবার বর্তমানে মুসলমানদের দ্বীনি অবস্থা ১৭৫৭ সালে যেমন ছিল এখনও তেমন আছে, এমনটি মনে করিনা। আবার আগামীতে কী হবে তা অবশ্যই জানি না। তবে আপনার দৃষ্টিকোণ শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। একে অন্যের ধারণা বুঝাটাও মামুলি কথা নয়। আবারও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন, রমজান মোবারক।

      1. 1.1.1
        মজলুম

        আলুপোড়া খেতে সুস্বাদু, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর তাছাড়া এতে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। শাহবাগ আন্দোলনের সময় থাবা বাবাকে হত্যার পর তার জানাযা পড়িয়ে শাহবাগ আন্দোলনেরও জানাযা পড়িয়ে দেওয়া হল একই সাথে। থাবা বাবার দাফনের সাথে শাহবাগ আন্দোলনেরও দাফন হয়ে যায়। তখন যেইসব লোক থাবাবাবা হত্যায় খুবই খুশি হয়েছে তারায় আবার অভিজিৎ হত্যার সময় খুবই নারাজ ছিলেন। তখন বলা শুরু করলেন এই হত্যাকাণ্ড সরকারেরই কাজ। তাছাড়া সেই গ্রুপটা বলাবলি করতেছিলেন যে অভিজিৎ হত্যায় নাকি বিএনপি-জামাতের তখনকার আন্দোলন(পড়েন জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারার আন্দোলন) ক্ষতিগ্রস্থ হবে। যেহেতু সে এম্রিকার নাগরিক তাই এফবিআই এর লোকেরা আসবে, বিশ্ব অনেক হৈচৈ করবে, জঙ্গীবাদের বিরুদ্বে ইউ/আমেরিকা অবস্হান নিবে।  তো এই লোকগুলাই আবার ইসলাম/মুসলিম নিয়ে আবেগঘন কথা বলে, বিবৃতি দেয়। কিন্তু সেইম দুইটি হত্যাকান্ডে সেই গ্রুপের দুইটা ডিফারেন্ট ভিউপয়েন্ট। এজন্যে বুঝা যায় এই গ্রুপের মূল প্রায়োরিটি ইসলাম না, বরং অন্যকিছু(নিজদলীয় স্বার্থ)।

        বাই দ্যা ওয়ে, আপনার কমেন্টের রিপ্লাই আমার ভালো লাগে, খুবই ঠান্ডা এবং মনোরম স্টাইল। আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.