«

»

Jul ২৪

রাষ্ট্র ও সমাজ বিবর্জিত ধর্মের নাম ব্যক্তিক ইসলাম?

20150724 repression||ইসলামকে ব্যক্তি-ধর্ম কে বানাতে পারে? ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায়/খেলাফতিতে  কার এলার্জি থাকতে পারে?||

চা খেয়ে খেয়ে দু-চারটি কথা লিখছি। আপনিও চাইলে এক কাপ চা বানিয়ে খেয়ে খেয়ে পড়তে পারেন। আল্লাহর ইবাদতের কথা বলব –সার্বিক অর্থের কথা বলব।

ব্যক্তি কি সমাজ বিচ্ছিন্ন বাস্তবতা এবং এভাবেই কি সে ধর্ম জীবনে অধিষ্ঠিত?

আল্লাহর আনুগত্যই ইবাদত। তিনি তার আনুগত্যের পরিসরে সামাজিক রূপ দান করেছেন। সহজেই দেখা যাবে যে তার আদেশ নিষেধের পরিধি ব্যক্তিকে ভেদ করে সামষ্ঠিক দিগন্ত আবেষ্টন করেছে। আমরা নামাজ পড়ি আল্লাহর নির্দেশ আছে বলে। আল্লাহ আমাদের নামাজে মন্দ থেকে বেঁচে থাকার উপরকরণ রেখেছেন (২৯:৪৫)। মন্দ কাজের সামাজিক দিগ-দিগন্ত রয়েছে। আমাদের নামাজকে আয়-ব্যয়ের উচিৎ-অনুচিতের নৈতিকতায় সমন্বিত করেছেন (১১:৮৭)। আমাদের রোজা সামষ্ঠিকতায় এনেছেন। অন্যায়-কর্ম থেকে বেঁচে থাকার উপকরণ রেখেছেন। কথা, কাজ ও আচরণ শুদ্ধ রাখার সাথে জড়িয়ে দিয়েছেন। এসব হচ্ছে ‘ব্যক্তি-সামাজিক’। রোজার পরে ফিতরা এসেছে। এতেও আছে সামাজিকতা। হজ্জে যাবার আগে আমরা সকলের কাছ থেকে অতীত আচরণের মন্দ বিষয় মিটমাট করে নেই –এতে, অতীত থেকে ফিরে একটি নতুন অধ্যায়ে যেতে, নব জীবনের লক্ষ্যে, পুণ্য জীবনে প্রবেশের এহসাস লাভ করি। এখানে সামাজিক শুদ্ধতার গভীর ধারণা রয়েছে। আমাদের উপার্জিত অর্থ থেকে যাকাত  আদায় করতে হয় –এটাও সামাজিক। আমরা দান-খয়রাত করতে হয়, সদকা দিতে হয় –সবই সামাজিক। আমাদের প্রতিবেশীদের সাথে ভাল ব্যবহারও আমাদের দীন-ধর্মের অংশ হয়ে আছে। রাস্তা থেকে একটি কাঁটা তুলে ফেলাও আমাদের ঈমানের অংশ। কাউকে কষ্ট দিয়ে, কারো উপর অত্যাচারী হয়ে আমাদের নামাজ-রোজা কবুল হয় না -এমন ধারণায় চলতে হয়। আমরা পারস্পারিক সাহায্য সহযোগিতা করতে আদিষ্ট, তাই আমাদেরকে এসব করতে হয়। মুসলিম উম্মাহকে একটি দেহ ধরলে ব্যক্তি সেই দেহের একটি ক্ষুদ্র অংশ হয়, সে বিচ্ছিন্ন কেউ হয় না। ব্যক্তি তার ইবাদত আরাদনায় সামষ্ঠিক বাক্যে নিজ অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। নিজের জন্য দোয়া করে এবং সকলের জন্যও দোয়া করে।  এই লিষ্টকে দীর্ঘ না করলেও চলবে।

কিন্তু আমরা যেসব কাজ করি এবং করতে আদিষ্ট তাতে আল্লাহর কোন লাভ নেই। তিনি অমুখাপেক্ষী সত্তা (সামাদ)। কিন্তু এতে তার সৃষ্টির কল্যাণ হয়। তিনিই সকলের রব -মালিক ও প্রভু। তিনি আমাদের কাজগুলো তার নিজের দিকে সম্পর্কিত করে এগুলোকে তারই ইবাদত বলেছেন। এতে আমাদের জীবনে শান্তি আসার কথা বলেছেন। আমাদের কাজের জন্য পরকালে পুরস্কৃত করতেও বলেছেন। তিনি সত্যিই মহান। পরম উদার। তিনি বলেছেন তার নির্দেশ পালনেই শান্তি এবং তার অবাধ্য হওয়াতে অশান্তি। আমরা এই বিশ্বাসে মুসলমান হয়েছি। তার আনুগত্য করি। (ব্যক্তি হচ্ছে সামাজিক সত্তা: নারী-পুরুষ ও পরিবার, গোত্র, সমাজে স্থাপিত। সামাজিক বৈবাহিক প্রথায় প্রোথিত সূত্রের ধারায় তার জাগতিক আগমন এবং মৃত্যুতে সামাজিক নিয়মেই তার দাফন। তবে এখানে তার স্বকীয়তার একটি পরিসর রয়েছে যা ভিন্ন আলোচনা)।

আল্লাহর আনুগত্য কি সমাজ বিবর্জিত -ব্যক্তিক, সীমিত?

এবারে অন্য একটি দিক দেখুন। আমরা যা কিছু করি বা করতে আদিষ্ট, আল্লাহর সেই সব আদেশ-নিষেধের বিপরীতে যদি অন্য লোকজন তাদের জীবন দর্শন ও ব্যবস্থা আমাদের উপর চাপিয়ে দেয় তখন আমাদের আনুগত্যের জীবনের কি হয়? ‘ব্যক্তি-সমাজ-সত্তার’ কি হয়?

আল্লাহ রাসূলের নির্দেশ হচ্ছে মদ খাব না, পরিবেশন করব না, মদ তৈরি করব না, মদের জন্য ফলমূল ফলাব না এবং  বিক্রিও করব না অর্থাৎ এই সংস্কৃতি সমাজে রাখব না। এটাই আমাদের ইবাদতের অংশ। কেননা এটা আল্লাহর নির্দেশের সাথে জড়িত। এভাবে আরও অনেক নির্দেশ রয়েছে। কোনটা ‘করনীয়’ এবং কোনটা ‘বর্জনীয়’। আমাদেরকে বেহায়াপনা এবং যৌনতার ছড়াছড়ি থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন, সরে থাকতে বলেছেন। বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক হারাম  করেছেন। যেসব সংস্কৃতি এসব পর্যায়ে নিয়ে যায় এবং প্রচার ও প্রসার ঘটায় সেই সব কর্ম-কাণ্ড ও সংস্কৃতির বিলুপ্তির নির্দেশ দিয়েছেন -যাতে আমাদের সন্তান-সন্তিনীরা বাঁচে ও আনুগত্যের সংস্কৃতিতে অধিষ্ঠিত থাকে। এতে যে কেবল আমাদের ভাল -তা নয় বরং এই সার্বিক "ভাল" অবস্থান ও সংস্কৃতি সমাজের সকল লোকের জন্যই ভাল। কিন্তু এগুলোর বিপরীত ধারায় যদি সমাজকে চালিয়ে নেয়া হয় তাহলে কি আল্লাহর আনুগত্য থাকে? এতে কি এই প্রশ্ন আসবে না তারা এটা কেন করবে? কোন অধিকারে করবে? আমাদের নাগরিক জীবন কিভাবে সাজানো হবে -সে বিষয়ে আমাদের কি বলার কিছু নেই?  এগুলো অবশ্যই জিজ্ঞাস্য। একটি শাসন ব্যবস্থা কি হেয়ালিভাবে জাতির উপর আরোপিত হয়ে পড়বে? 

আরও দেখুন, আল্লাহ আমাদেরকে সামাজিকভাবে ন্যায়-পরায়ণতা অবলম্বনের নির্দেশ নিয়েছেন। অন্যায়কে প্রতিহত করতে বলেছেন। নির্যাতন রুখতে বলেছেন। সবই সামাজিক। এবং এগুলো রাষ্ট্রীয় -আইন ব্যবস্থার সাথেও জড়িত। আর আল্লাহর আনুগত্যই হচ্ছে আমাদের ইবাদত। সৃষ্টি তার, নির্দেশও তার (কোরান)। এগুলো পালনে তাওহীদুল উলুহিয়্যাত বা এক মা'বুদের আনুগত্য প্রকাশ পায়। কিন্তু এসবেও আল্লাহর কোন লাভ নেই। আমাদেরই লাভ। সকলের লাভ।

সহজেই লক্ষণীয় যে এই ধর্ম বৈরাগ্যবাদী ধর্মীয় ধারণার বিপরীতে। সমাজই এখানে আসল কথা। পরিবার ও সমাজ বিবর্জিত  ব্যক্তি-মুক্তির বৈরাগবাদের পক্ষে আল্লাহর কোন নির্দেশ নেই। কিন্তু ব্যক্তির সমন্বয়ে যেহেতু সমাজ গঠিত –তাই এই দুই সত্তা এই ধর্মে অবিচ্ছিন্ন। তাই শব্দটিকে তাই ‘ব্যক্তি-সমাজ-সত্তা’ হিসেবে বলার চেষ্টা করছি।

পাখীর ডানা কেঁটে দিলে কি হয়?

এভাবে দেখুন, "আমাদের" জীবন পরিধিকে সংকোচিত করে বা ‘নির্মূল’ করে যদি অপর লোকজন তাদের আদেশ-নিষেধ ও সমাজ-সংস্কৃতি আমাদের উপর চালিয়ে দেয় –তাহলে আমাদের ধর্মীয় অবস্থান কোথায় থাকে? আমরা ‘আনুগত্য’ বুঝে মুসলমান থাকি, না, না বুঝে? 

আরেকটি উদাহরণ। আমাদের ধন-মাল কিভাবে আমাদের উত্তরাধিকারীরা পাবে, সেটাও আল্লাহ বলেছেন। কিন্তু যদি অন্যরা আমাদের মূল্যবোধ ও আইনকে বিলুপ্ত করে তাদের সমাজ-দর্শন ও আইনকে চাপিয়ে দেয় তাহলে আমাদের দীন-ধর্ম কিভাবে পালিত হয়? অথবা ব্যাঙ তো সাপও ধরতে পারে। আপনার দেশের উচ্চতর শিক্ষাপীঠে পদার্থ বিজ্ঞান পড়ানোর জন্য কাউকে  নিয়োগ দেয়া হবে কিন্তু সে তার সীমা অতিক্রম করে আপনার মেয়েদের বেপর্দা করার লেকচার দিতে পারে। অন্য শিক্ষাপীঠে হয়ত মেয়েরা বেপর্দা না হলে ক্লাস থেকে বের করে দিতে পারে। এতে কি ধর্ম পালিত থাকে, না বিলুপ্ত হতে থাকে? এতে কি "ব্যক্তি-ধর্ম" পালনের স্বাধীনতা অটুট থাকে, না সেই স্বাধীনতা অপরের জীবন দর্শনে খর্ব ও বিলুপ্ত হয়?    ইমামের খুতবাহ সরকারের পছন্দ না হলে যদি তাকে গ্রেফতার হতে হয়, তখন ব্যক্তি স্বাধীনতার কি হয়, ব্যক্তিক ধর্মের কি হয়? ব্যক্তি যদি তার নাগরিক অধিকার বা তার নিজ সম্পদের অধিকার ঠিকিয়ে রাখতে দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তে হয়, যদি ঘুষ দিতে হয়, মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয় তখন ব্যক্তিক ধর্ম কোথায় দাঁড়ায়? অসংখ্য ধর্মীয় স্থান এমন রয়েছে যেখানে সমাজ-বিবর্জিত ধারণায় ব্যক্তিক ধর্ম কিভাবে ঠিকে থাকবে তা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। আপনার বাচ্চাকে যদি পাঠশালা থেকেই 'আদিম মানুষের' গল্প পড়িয়ে বিবর্তনবাদী ধারণায় দাখিল করা হয় এবং পরবর্তীতে সেক্যুলার শিক্ষা ও পরিবেশ থেকে সে ধর্মহীনতা অর্জন করে নেয়  -তথন সে তো ব্যক্তি ধর্মেও থাকবে না। যার জিন্দেগী অনৈসলামী পরিবেশে আচ্ছন্ন হল, তার জন্য দায়ী কে?  এই কথাগুলো আরও গুছিয়ে বলা যেতে পারে -আমি কিন্তু অমনি অমনি বলে যাচ্ছি।

আমি যে ধারায় কথাগুলো বলতে চাচ্ছি আপনি যদি সেই ধারায় ইসলামী সমাজ-সত্তার গোটা পরিধির একটি রূপরেখা তৈরি করেন এবং তা নিয়ে চিন্তা করেন,  তারপর, আমাদের ধর্মের সামাজিক আইন, আমাদের জীবন ব্যবস্থা এবং মুসলিম জীবনের অবকাঠামোর দিকে তাকান,  তারপর,  যারা আমাদের ধর্মের এই নীতি-নৈতিকতা, আইন, সামাজিক সমন্বয় ও রূপকে বিলুপ্ত করে তাদের জীবন ব্যবস্থা রূপায়িত করেছে তাদের যুক্তি ও দর্শনের দিকে তাকান, তাহলে কারা সত্যের উপর আর কারা আধুনিকতার ধোঁকা-দর্শনে পথভ্রষ্ট্র, সে কথা হয়ত চিন্তার দিগন্তে উন্মোচিত হতে পারে।  আমি প্রশ্ন আকারে কথাগুলো রেখে যাচ্ছি, কেননা ‘মুসলমান’ নামধারী কিছু লোক কোরান হাদিস না বুঝে কোরান হাদিস নিয়ে তর্কবিতর্ক করতে দাঁড়িয়ে যায়, তাই পথভ্রষ্ট বিতর্ক থেকেও বেচে থাকার প্রয়োজনও হয়।  লক্ষ্য করলে বুঝা যাবে মানুষ প্রকৃতিগতভাবে  দলীয়-গোত্রীয়। তার দল যা বলে, যে আদর্শে প্রতিষ্ঠিত, সে তার বাইরে উঠে চিন্তা করার অবকাশ খুব কমই পায়। মানুষ তার বন্ধুর ধর্মে, এই মর্মে হাদিসও রয়েছে। এখানে এতটুকু কথা বলা ছাড়া আর কি বলতে পারি?

আল্লাহ ছাড়া কারো গোলামী নয়

আমাদের কথা হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্য। খেয়াল করবেন, আমি এপর্যন্ত ইসলামী খেলাফত অথবা ইসলামী রাষ্ট্র –এই পরিভাষা ব্যবহার করি নি। নাম আসল কথা নয়। আমাদের সত্তাগত পরিচয় যা 'প্রাকটিক্যাল জীবনে' প্রকাশ পায়, যা করতে আমরা অবধারিত, যা করতে আল্লাহ নুহ, ইব্রাহীম, মূসা, ঈসা ও মুহাম্মদ আলাইহিমুস সালাম –কে নির্দেশ করেছেন এবং যা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তর করতে নির্দেশিত, আদিষ্ট, সেই কথার দিকে ইঙ্গিত করছি। পুনরায়, আমি আল্লাহর আনুগত্যেরই কথা বলছি। শান্তির জীবনের কথা বলছি। আল্লাহর বিধানে শান্তি নিহিত –এমন বিশ্বাস যাদের নেই, তাদের কথা বলছি না। আমি আল্লাহ-রাসূলের নির্দেশিত অবিচ্ছিন্ন ব্যক্তি/সমাজের কথা বলছি। এই ‘আনুগত্য’ই আসল কথা। এখানেই শিরক এবং তাওহীদের ব্যাপার রয়েছে। আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন –এই বিশ্বাসের জন্য কোন নবী-রাসূল পাঠান নি, এটা কাফেরগণও বিশ্বাস করত। আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করাই কুফরি। নাম কলিমুল্লাহ, না সলিমুল্লাহ –সেটা আসল নয়।

আল্লাহর আদেশ নির্দেশ পালনের জন্যই নবী রাসূল এসেছেন। তাঁরা তাওহীদুল উলুহিয়্যাতের দিকে মানুষকে আহবান করেছেন। মানুষের উপর থেকে মানুষের প্রভুত্ব সরাতে চেয়েছেন। কোন 'ইজমের' মাধ্যমে গোলাম বানানো, তাদেরকে ঠকিয়ে দেয়া; মূর্তি সামনে রেখে গোলাম বানানো, আল্লাহর 'মধ্যস্থ' হয়ে অন্যদেরকে গোলাম বানানো -এসব থেকে মুক্তিই হচ্ছে এই তাওহীদে বিশ্বাস।  আমাদেরকে এই জীবনে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশ করার 'চেষ্টা' করতে হবে। আগ থেকে বাহানা আব্দুল্লাহ বিন উবাই বিন সালুল ও আবু আমির আর-রাহিব (আল-ফাসিক) এর দল করত।

শিরোনামে এই ইঙ্গিত এসেছে যে কোন শব্দ বা পরিভাষায় যদি সমাজের কোন পক্ষের এলার্জি থাকে, তবে সেই শব্দ ও পরিভাষা এক পাশে রেখে জাতীয় জীবন ও শাসন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যারা ব্যক্তিক ধর্মের লোক, যারা ইসলামের বাইরের, যারা বৈরাগী-বৈষ্ণব, যারা জিন্দিক-নাস্তিক, তারাও নিজেদের কথা বলুক। কিন্তু তা না করে গণতন্ত্রের নামে সংখ্যালঘুদের আদর্শ ও বিশ্বাস সংখ্যাগরিষ্ঠের উপর চাপিয়ে থাকতে পারে না।  একটি বৃহত্তর সমাজের বিশ্বাস, আদর্শ, জীবন ব্যবস্থা ও শিক্ষা সংস্কৃতির প্রতি বৈষম্য প্রদর্শিত হতে থাকলে  তা  কেবল অশান্তির ধারা প্রলম্বিত করতে পারে।

১০ comments

Skip to comment form

  1. 5
    এম_আহমদ

    এই সাথে আরও দুই একটি কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তা হল দ্বীনের সামাজিক রূপ অমনি অমনি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় না। এটা প্রথা ও প্রকৃতির খেলাফ। যেসব সাহাবি (রা) আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ছিলেন, এই পথে ধনমাল ব্যয় করছিলেন, সময় ও সামর্থ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, যারা হিজরত করেছিলেন, যারা যুদ্ধ জেহাদে নিয়োজিত ছিলেন, তাদেরকেই আল্লাহ জমিনে প্রতিষ্ঠার ওয়াদা দিয়েছিলেন। শক্ত ঈমান নিয়ে অপ্রস্তুত না থেকে, সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঈমানের জোরে অথবা ফিরিস্তা দিয়ে সমাজ পরিবর্তনের ধারণার পরিবর্তে মানুষ নিজ সমাজের পরিবর্তনের কাজ করতে এগুলেই আল্লাহ সেই পরিবর্তন এনে দেবেন বলেছেন (১৩/১১)। আল্লাহ মন্দকে দূর করা ও ভালকে প্রতিষ্ঠিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূল (সা) মন্দকে নিজ হাতে বন্ধ করতে বলেছেন, না পারলে জিহ্বা দিয়ে, তাও না পারলে অন্তর দিয়ে মন্দের প্রতি ঘৃণা ধারণ করতে বলেছেন।

    তবে মুমিন/মুসলমানের দৃষ্টিতে যা কিছু ভাল তা নাস্তিক মুরতাদ ও মুনাফিক পক্ষে ভাল নাও হতে পারে। পদে পদে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। কিন্তু সর্বাবস্থায় সকলের অবস্থানিক আলোচনা সামনে আসতে হবে। আপনি আমার ইসলাম চান না, কিন্তু আমি কেন আপনার ইসলাম মানতে যাব? অথবা আপনি ইসলাম চান না, সেক্যুলার ব্যবস্থা চান, কিন্তু আমি আপনার সেক্যুলার ব্যবস্থা চাই না। এখনে সব অবস্থান আলোচিত হতে হবে –একটা সমঝোতায় যেতে হবে। কেউ অস্ত্র অথবা সন্ত্রাসের মাধ্যমে তাদের সেক্যুলার ব্যবস্থা চাপিয়ে দিলে চলবে না। কেউ কাউকে সন্ত্রাসী, মৌলবাদী, মধ্যযুগীয় বলে আক্রমণ করলেও  চলবে না। কেননা এই কথাগুলো সকল পক্ষ একে অন্যকে শুনিয়ে দিতে পারে। এই আলোচনার আহবান করলেই প্রকৃত সন্ত্রাসী কারা তা বুঝতে সমাজের দেরি হবে না।

    [এখানে আলোচিত ধারণার উপর আমার আরেকটি লেখা এখানে আছে কেউ চাইলে পাঠ করে দেখতে পারেন]

  2. 4
    Khaled

    Thank you আহমদ bhai for the good read. Please excuse me since my Bangla typing is very poor, but let me give you my two cents anyway. I would also like to hear what you have to say about it. It may be a touch unrelated to your topic. 

    In my opinion the problems are interpretation and extremism. While the idea of an Islamic state seems very ideal in theory, putting it in practice is a huge undertaking, and in most cases impractical. Let us forget about non-Muslims for a moment and just focus on ourselves. The idea or concept of "Islam" is not the same for every Muslim because people often have different interpretations after reading the holy Quran or even the Hadith. The differences occur not just as a result of interpretation but also other influences such as upbringing, locality, environment, etc. Ultimately what happens is that there is a big discrepency of Islamic ideals across individuals or localities. So whenever the subject of an Islamic state arises, there is also the question of what exactly an "Islamic state" means or constitutes. As Muslims we may support the idea of an Islamic state or governing system but what we eventually get may not be what we envisioned. How were extremist organizations such as the IS or the Al-Qaeda born ? It must have started with a simple idea -- to establish Islam as a social norm. But the message got lost and then turned into something that Islam could never condone. The whole world uncluding Bangladesh is suffering IS's actions

    My question is how do you then justity wanting an Islamic state when the risks are so high ?

     

    1. 4.1
      এম_আহমদ

      @Khaled:

      Well, thank you for your thoughtful comment. I agree with the dilemma as presented, except in two/three instances of wordings, but that can be accommodated.

      The main concerns as I note are differences of opinion, definition of Islamic state and problems of practicality and the concern about the risk.

      Let me see if I can make it simple. The definition of state and advance prediction of impracticalities will not figure strongly as important, but I am not against defining and discussing things in advance. Take the smallest unit of the state as an example –the family. Do we start a family by having sorted the definition and details out? Or even in a smaller way do we marry a woman with first acquiring good knowledge about her body and its functioning –for there can be hypothetical questions exposing the need to have full knowledge before marriage. I am not against having knowledge in advance in anyway, rather for it. However, the family, society and state have their general disposition of knowledge 'around' to make a beginning and to grow from. (On the other hand, we are not terribly poor in terms of knowledge about Islamic social system -for there is a huge corpus of literature existing on it. The khilafah existed in one form or another even till the early part of the last century).

      An Islamic social order need not be complicated. Considering the family, and its management, we can draw a contrast between two families: one Muslim and the other non-Muslim. They are human families with a great deal of overlapping of functioning -more similarities than differences. By Islamisation we are simply talking about  re-orientation of moral direction and reforms in certain institutions, as well as reshaping the justice system. Lagely it is about gradual reformation of beliefs, values and practices. If a family is large, you will not be able to change all of them, so too with the state. There were deviants in the state of Madina. This is human nature.

      Theorists in the secular word have differences of opinion as to what a state is, what its role in regards to its citizens, how ought or not it to be governed. But because of these differences none of the secular states ceased their functions until the differences were to mitigate. Differences will exist and emerge and life continues –that is the nature of things. The atheists, ultra-secularists, and their followers will invent problems of definitions and often hypothesize them. But these should be put aside. There will always be problems, and there will be solutions. The Islamic system must exist to struggle with its share of problems like all other things –it’s almost like a business. You have to set it up, and live with the reality. You cannot have a full-proof business plan for eternity.

      The Muslims have differences, but who hasn’t? Which society or state is not struggling with problems of opinions, of interpretations and the rest? True, that there are many differences of interpretations in the Muslim community which sometimes appear as problems because  there is no state or state oriented final body of shura to mitigate. The shura has the final say, to let the business of life continue, leaving the individuals still to have their scholarly differences. But you are into a chicken and egg situation –which comes first? You can’t form a body of shura without  the presence of an Islamic social order, becuase there will be no authrity. And you cannot have an islamic social order because you cannot bring the parties together –that’s where lies the chicken and egg dilemma.

      I am very sure that if a few thousands of people like you could be given the authority to run an Islamic social order, you will be able to do so, despite what may come as problems. You will have experts to provide support. Remember the example of the family. What you term now as ‘impracticality’ might not appear so much of difficultiies. And also remember if Allah were to send angels to run an Islamic state there will be a huge number of people finding fault at them. That's how things are.

      ||Now, differences as abstract discussion|| The problem of ‘interpretation’, as with many other societies, is historical and often ideology bound. In our situation problem often arise from incompetent and comparatively unskilled reading of the Quranic text and that of the Sunnah. But there are other elements which generate differences. One is the very nature of language. Language is a symbolic system of communication. Texts are signs. Language is such that difference will un-avoidably occur.
      If you are an akin reader of Islamic history, and familiar with the history of the interpretation of the two sources of texts, you will see that subtle struggles that existed before Islam, especially within the Quraishite tribes and what came after the fall of Khilafah necessitated to the conflicting parties to situate their claims through textual interpretations as justification. It could be seen in terms of the Bangladeshi secularists and atheists struggle to legitimise their political and ideological position by ‘interpreting’ history of independence. Remember it is the ‘ideology’ that necessitates a new interpretation. In their struggle in Bangladesh those having philosophical and sociological background know what they are doing, but those who are ‘ignorant’ of ideological game, they are the ones who ‘sociologise’ the falsity as ‘history’and they are the da’ee  of their ideology (consider it as a religion).

      Now, as for the Quranic and Sunnah situations, certain groups have created ‘enclaves’ with good intentions to keep things going, or say for survival, but over time the ‘enclaved-interpretations’ became barriers to the wider entity of the ummah. It is only those with profound knowledge of the language (Arabic), its 7th century culture, its politics of the time, its subsequent historical developments, who easily make the leap from the ‘enclave’ to the wider field. They know what the texts are about and at what junctures misreading can take place. Remember, if someone fails to locate the text into the context, they are likely to misread at important junctures. Having said this, Islamic scholarship has attained a disposition of unity at all/or most fundamental levels and that is rahmah from our Lord. Differences are not always bad. On the contrary, intellectual and semantic differences are profoundly rewarding in terms of knowledge and spirituality.

      But there is the fear of the ‘unknown’ amongst some groups.  ‘What if the “other group” take the control?’ But this is a false fear, but it constitutes a strong hindrance. But these all need to be mitigated and an Islamic order must not come as an ‘imposition’, otherwise Muslims will fight Muslims.

      As Muslims we may support the idea of an Islamic state or governing system but what we eventually get may not be what we envisioned. How were extremist organizations such as the IS or the Al-Qaeda born?

      The cited names are extremely bad examples. Although secularism is “imposed” in Bangladesh, it should not be an example to repeat. No one should impose a system. Even if the country was 100% Muslim, but with differences of opinions in regard to governance, Islamic arrangement should not be “imposed” from nowhere. It will do damage to society, they will fight amongst themselves. People should be brought together, there should be discussions, negotiations, conversations, sharing of ideas, seeing opposition, seeing reasons for oppositions, trying to mitigate over and over again, discussing feasibility and having consensus.  And in all this, if it takes decades, let it be so. There shouldn’t be any hurry. In all cases there should be an attitude of inclusiveness, it’s a land of all those who live there. The Muslims can ‘try’ to bring about a good system, but all are are dependent on  the Will of God.

      My question is how do you then justity wanting an Islamic state when the risks are so high ?

      I share your doubts and concern in this regard. The risk appears at both ends: in action and inaction. Apparently the anti-Islamic force in Bangladesh is encroaching from every direction to annihilate ‘this’ Islam and to replace with ‘another’ Islam, (a private one)  of their ‘vision’, whereby like Europe religion it can be mocked, the prophet (pbuh), Alllah, Quran, Islamic values can the theme of comedy and laughter. Clearly if you resist you are subjugated to state terror and torture. If you remained silent your freedom to practice your faith gets replaced with the terrorist’s ideology; your citizenry right is compromised to state terror, your freedom and individual right is curtailed. I can easily share your concern. This government has its agenda and is ruthless. Over the last 4/5 years it has shown its true colour. It can make any group terrorist. It can plant evidance, find you guilty and kill you. I think everyone should think carefully and find peaceful approach. They should find wisdom. The meaning of an Islamic social system needs to be talked about and discussed but there shouldn't be any hurry to implement it by any means, it can make things far worse and that should be born in mind.

  3. 3
    কিংশুক

    আপনার উপলব্দির সাথে আমি অনেকটাই একমত।

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      কিংশুক ভাই, সালাম ও belated ঈদ মোবারক। অনেকটা একমত হতে পেরেছেন –এতেই লেখাটি সফল মনে করছি। আমরা দুর্বল মানুষ। আমাদের দুর্বলতা আমাদের ভাষা, উপস্থাপন, শব্দ চয়ন, বাক্য গঠন ইত্যাদিতে হাজির হতে পারে। কখন মনে হতে পারে যে, হায়, আমি যদি কথাগুলো আরও নিপুণ করে বলতে পারতাম তাহলে হয়ত ধারণাটি পাঠকের উপলব্ধির আরও নিকটবর্তী হতে পারত। কিন্তু তা হওয়ার মত নয়। অনেক ভাষা বিজ্ঞানী বলে থাকেন যে আমরা অনেককিছু হৃদয়ঙ্গম করতে পারি বটে কিন্তু তা লেখা বা বলার পর ‘অবিকল’ সেই  আকারে থাকে না বা আসে না। কেননা abstract realisation and wording are two different things.  ধন্যবাদ।

  4. 2
    এম_আহমদ

    এই লেখাটি casually রচিত। যারা প্রথম প্রকাশে পড়ে ফেলেছেন, তাদের ইচ্ছে হলে আবার পড়তে পারেন, কেননা এতে আরও কিছু কথা সংযোগ করেছি। এবারে মনে হয় মূল কথাগুলো যেভাবি হোক বলা হয়ে গেছে।

  5. 1
    ফাতমী

    আসসালামুয়ালাইকুম,

    আহমদ ভাই,

    এই কথাগুলি কে আপনি কেমন মনে করেন? যদি কেউ বলে "ন্যায়বিচারহীন খেলাফত থাকার চেয়ে না থাকা অনেক ভাল, কারণ আল্লাহ সুবাহানাতালা ও তাঁর রাসূল সঃ এর নামে অবিচার করা সাধারণ অবিচারের চেয়েও জঘন্য। খেলাফত হতে হলে, অবশ্যই খলিফাকে আবু বকর রাঃ, উমর রাঃ, উসমান রাঃ, আলী রাঃ এর মত হতে হবে এবং সেই খেলাফতে আরবী জাতিয়তাবাদ(=আসাবিয়াহ) বা অন্যকোন জাতিয়তাবাদ (পুরুষ জাতিয়তাবাদ, আলীম-আলীম জাতিয়তাবাদ) থাকতে পারে না। প্রতিটা মানুষের অধিকার নিশ্চত করতে হবে, তা মেয়েই হোক আর ছেলেই হোক" ?
     

    1. 1.1
      এম_আহমদ

      ফাতমী ভাই, ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

      প্রথমত, বক্তা কে তা না জেনে কোন উদ্ধৃত বাক্যের উপর মন্তব্য করাতে সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে। কেননা অনেক সেলেব্রিটি-আকারের লোক গণ্ডমূর্খ কথা বলে থাকেন কিন্তু তার/তাদের দলীয় সংযুক্তির কারণে পার পেয়ে যান। এই গাফফার চৌধুরীর কথা দেখুন। সেদিন দেখলাম একজন লোক বলছে গাফফারকে নাকি তার পক্ষের ৩৮ জন লোক সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু মূর্খের সংখ্যা বৃদ্ধিতে অথবা মূর্খতার সমর্থনে কি সত্য-মিথ্যার একদিক সেদিক হয়?

      এবারে আপনার প্রশ্নস্থিত বাক্যের উত্তর দিচ্ছি। আমি তো বক্তা কে তা জানি না তাই তার ব্যাপারে কিছু বলব না। শুধু উদ্ধৃত টেক্সট যে অর্থ বহন সেই কথা বলব, যে যেই হোক।

      এই বক্তব্যটি ইসলামী রাষ্ট্র বা সমাজ ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে “চরম-মূর্খ” এবং এতে “নিফাক” রয়েছে। অবিচার তো অবিচার। এই বিশ্ব মুসলিম কি অন্ধ-মূর্খ যে কেউ অন্যায়কে আল্লাহ রাসূলের নামে চালিয়ে দিলে ন্যায় হয়ে যায়? এটা হচ্ছে শাক-দিয়ে মাছ ঢাকার যুক্তি। কোথাও যেখানে শাসক যদি স্বেচ্ছাচারী হয়, যদি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত না করে, যদি শাসক তার গোত্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত করে,  এমন একটি বিষয়কে “খিলাফত” বলে উল্লেখ করে সেটাকে খিলাফতের বিপক্ষে ব্যবহার হচ্ছে এক ধরণের নিফাক ও ধাপ্পাবাজি। এটিকে যুক্তিতে straw man fallacy বলা হয়।  

      কেউ যদি মুলুকিয়াত বা বাদশাহি প্রতিষ্ঠিত করে এবং সার্বিকভাবে দ্বীনী সমাজ ব্যবস্থা জারি রাখে কিন্তু সে জালেম হয় তবুও তা অমুসলিম রাজা-বাদশাহর অনৈসলামী শাসন ব্যবস্থাকে থেকে ভাল। কিন্তু তার শাসন ব্যবস্থায় যদি ইসলাম ও মুসলমানি না থাকে এবং জালিমও হয় এবং তার মোকাবেলায়  যদি অমুসলিম শাসক ‘ন্যায়-পরায়ণ’ হয় তবেই দ্বিতীয়টি ভাল। আল্লাহু আ’লাম।

      পরের বক্তব্যের দ্বিতীয় স্তরের মুর্খামি হচ্ছে যে “খিলাফত” হলে আবু বকর (রা), উমর (রা), উসমান ( রা), ও  আলী (রা) এর মত হতে হবে। মূলত এই চারি খলিফার কেউ কারো “মতো” ছিলেন না, তাদের নিয়োগও একে অন্যের “মতো” ছিল না, ভিন্ন ছিল। কিন্তু প্রত্যেকেই আল্লাহ রাসূলের উদ্দেশ্য বুঝে সেই প্রেক্ষিতে শাসন সাজিয়েছেন, ঘনিষ্ঠ সাহাবিদের (সা) সাথে পরামর্শ করেছেন। মনে রাখতে হবে এই শাসন ব্যবস্থা হচ্ছে ‘খেলাফত আলা মিনহাজ আন-নুব্যুয়্যাহ’ (অর্থাৎ নব্যুয়তের আদলে ও মূলনীতির ভিত্তিতে পরিচালিত খেলাফত বা শাসন ব্যবস্থা)। এখানে কখন কখন কোন কিছুতে ভুলও হতে পারে, যেভাবে মুসলিম কাজি এবং মুফতি ভুল করতে পারেন, কিন্তু শুদ্ধ নিয়তের কারণে সংশ্লিষ্ট সবাই পুণ্যের অধিকারী থাকবেন। আজকেও ইসলামী রাষ্ট্রের শুরা এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রধান ‘খেলাফত আলা মিনহাজ আন-নুব্যুয়্যাহ’ –এর প্রেক্ষিতে চলার চরম জুহদ (প্রচেষ্টা) করবেন –এটাই হচ্ছে সেক্যুলার ব্যবস্থার মোকাবেলায় একটি ব্যবস্থা। নবীর (সা) পরে যখন আর জিব্রাঈল (আ) আসছেন না, কিন্তু তবুও আমরা সেই সেই কোরান সুন্নাহর আলোকে ধর্ম চালিয়ে যাচ্ছি, খেলাফতও তেমনি। এটা হচ্ছে একটি আদর্শ বা ‘নমুনাকে’ সামনে রেখে কল্যাণের উদ্দেশ্য চলার প্রয়াস, সাধনা। ব্যক্তিক ও সামাজিক। সেক্যুলার গোলামগণও তো বিচার করছে আবার ভুলও করছে, এই গোলামগণ এই আইন জারি করছে তারপর কয়েক বৎসর পর এর এই মন্দ পরিণতির কারণে অন্য আইন জারি করছে, এভাবে আইনের ইন্দ্রজালে সমাজকে বন্দী করে রেখেছে। বিজ্ঞান আর যুক্তির নামে অজ্ঞ-মূর্খতার বিস্তার ঘটাচ্ছে, এক মুর্খামির মন্দ পরিণতি সরাতে ১০টি মন্দের উদ্ভব ঘটাচ্ছে। আর, নদীর বাঁকের শিয়ালের মত চিৎকার করছে আর বলছে দেশকে সুইজারল্যান্ড বানাচ্ছে। কিন্তু জাতীয় সম্পদের হরিলুট ও ডাকাতি একটি বিশেষ শ্রেণীতে হচ্ছে যাতে করে সম্পদ এই সমমনা শ্রেণীতে কুক্ষিগত হয় এবং সম্পদ ও শক্তিতে এই শ্রেণী বিভিন্ন মুখোশে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার ধারণাটি নিশ্চিহ্ন করতে পারে এবং ইউরোপের ক্লাসিক্যালের ভিত্তিতে কর্পোরেট ধনাঢ্যতার ধর্মহীন শ্রেণী-পার্থক্যের সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এই শক্তি মাধ্যমে এটা প্রোপাগান্ডায় প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী শাসন ব্যবস্থা “মধ্যযুগীয়”। আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি এক শিয়াল যখন ‘হু’ করে উঠে তখন বাকিরা ‘হুয়া’ ‘হুয়া’ ধ্বনি তুলে।

      এবারে আসাবিয়্যাহ। মূলত নাস্তিক-সেক্যুলারদেরতাই হচ্ছে আসাবিয়্যাহ। আমার কাছে আরবি সেক্যুলারদের কিছু বই-পুস্তক রয়েছে যেখানে তারা নবীর (সা) রাষ্ট্রকেও গোত্রীয় রাষ্ট্র বলছে, কোরান থেকে উদ্ধৃতি মারছে এবং হাদিস থেকেও সেই একই মাত্রার উদ্ধৃতি টানছে। কিন্তু ঈমান যেহেতু তাদের কলবে ঢুকে নাই, এবং কুফর এবং নিফাক তাদের আউটলুক ঘুলিয়ে দিয়েছে তাই কোরান ও হাদিসের উদ্ধৃতির স্থান যে বেখাপ্পা থেকে যাচ্ছে সে খেয়ালটুকু আল্লাহ তাদেরকে দেন নি।

      আপনি এটা নিশ্চিতভাবে মনে রাখতে পারেন যে কোন মুনাফিকের পক্ষে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা বা খিলাফত মেনে নেয়া কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। আমি কোন পক্ষকে আক্রমণের দৃষ্টিতে বলছি না, বরং নিফাকের প্রকৃতি থেকে বলছি। এটা সে মানতে পারবেই না –সব সময় এর বিপরীতে কোন না কোন যুক্তি পাবে। কারও না কারও দোষ দেখবে।  আব্দুল্লাহ বিন উবাই বিন সালুলের দলের মত এক সময় যদি অবস্থার প্রেক্ষিতে তা মেনে নিতে ‘বাধ্য’ হয়, তবে যেকোন প্রথম সুযোগে কাফির মুশরিকদের সাথে একাট্টা হয়ে তা ভেঙ্গে দেবে।

      অবশেষে “প্রতিটা মানুষের অধিকার নিশ্চত করতে হবে, তা মেয়েই হোক আর ছেলেই হোক” এই কথাতে ইসলামে নারী-পুরষের ‘অধিকার’ সম্পর্কিত  বিষয় ‘সঠিক’ বা ‘ন্যায়-পরায়ণ নয়’ –এমন ধারণাও নিহিত।  

      আল্লাহ আমাদের সবাইকে সৎ পথে চলতে সাহায্য করুন।     

      1. 1.1.1
        ফাতমী

        ধন্যবাদ আহমদ ভাই,

        কমেন্টটা খুব সংখিপ্ত এবং সুক্ষ ছিল, যা আপনি ধরতেই পারেন নাই। আমি শুধু একটা কথা বলব, ফতোয়া যে দেয় বা রাষ্ট্র যে চালায় সে একজন মানুষ। আল কোরান সরাসরি রাষ্ট্র চালায় না, আল কোরান মানুষের মত কথা বলে না, আল-কোরান নিজ মুখে ফতোয়া দেয় না। সেই মানুষটা যদি খারাপ বা মুনাফিক হয়, তাহলেই উপরের বর্ণিত বাক্যের অর্থ ভাল করে বুঝোতে পারবেন।

        1. 1.1.1.1
          এম_আহমদ

          ভাই সালাম। বিষয়টি বুঝতে এখনো আমার কষ্ট হচ্ছে। ‘ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান যদি মুনাফিক হন …’। কিন্তু মৌলিক সিদ্ধান্ত তো শূরা গ্রহণ করবে। এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের সাথে এবং শূরার সাথে জড়িত ইসলামী জ্ঞানে পরিপক্ব আমলারা থাকবেন। সবাই মুনাফিক হতে পারেন না। আবার আমার জ্ঞান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রধানের পর্যায়ে কোন মুনাফিক ব্যক্তি উপনীত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম। যদিও টুপী পাগড়িওয়ালারা খিলাফতের পক্ষে কথা বলছেন কিন্তু এই রাষ্ট্র-ব্যবস্থা তাদের হাব্বা-জুব্বার কারণেই তাদের কুক্ষিগত হয়ে পড়ার কোন সম্ভাবনা দেখি না। ওখানে যে শূরা হবে তা কেবল মাদ্রাসা শিক্ষিত দিয়ে গড়ে উঠবে না। ওখানে সব ধরণের জ্ঞানের সমাহার হবে। মাদ্রাসায় পড়ুয়া এবং মাদ্রাসায়-না-পড়ুয়া উভয়ের সমন্বিত শূরা হবে যাতে যেকোন পরিস্থিতির সর্বাঙ্গীণ বিশেষজ্ঞ জ্ঞান উপস্থাপিত থাকতে পারে। ঘটনা এমন নয় যে ‘দাড়িহীনদের’ সরিয়ে দিয়ে দাড়ি-টুপীওয়ালারা প্রতিস্থাপিত হয়ে পড়বেন, আর এটাই বুঝি ইসলামী রাষ্ট্রের ব্যাপার হয়ে পড়বে। আমি তা মোটেই মনে করি না। ইসলামী রাষ্ট্রের রূপরেখা নিয়ে এখনও আমাদের সমাজ আলোচনা করতেই যায় নি। সর্বত্র কান-কথা, prejudice, ভয়ভীতি, হিংসা-বিদ্বেষ এবং ইউরোপীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্রুসেড যুদ্ধের পর থেকে যেসব প্রোপাগান্ডার নির্যাস রয়েছে সেই সবই কাজ করে যাচ্ছে। এই রাষ্ট্র যে মানবতার রাষ্ট্র হবে তা সন্ত্রাস ও ভয়ের সয়লাবে অতল তলে ডুবে গিয়েছে। আমাদের দৃষ্টিতে ইসলাম-বিদ্বেষী নয় এমন নাস্তিকও ইসলামী রাষ্ট্রে তার চাকুরী হারাবে না, অপরাপর লোকজন দূরে থাকুন। এই ব্যবস্থা ইসলামী বলা হলেও কোরান বনি আদমকে যেভাবে দেখে, এবং স্রষ্টার করুণা সৃষ্টিতে যে সার্বিকভাবে ধারিত হয়, সেভাবেই দেখবে। মাদ্রাসায় শিক্ষিত যারা ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলছেন সেই রাষ্ট্র পরিচালনায় বা রাষ্ট্রযন্ত্রে তাদের উপস্থিতি প্রথম কয়েক বৎসর খুব একটা থাকবে বলে মনে হয় না, কারণ রাষ্ট্র পরিচালনার উপযুক্ত লোক এখনো সেখানে তেমন গড়ে উঠছে না। সুতরাং  আমাদের ধারণায় বিষয়টি ভিন্ন। ||নারী প্রসঙ্গ|| ইসলামী রাষ্ট্র হলেই স্কুল কলেজসহ যেসব অঙ্গনে নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা সবাই চাকুরী হারিয়ে ঘরে গিয়ে শিশু সেবায় আত্মনিয়োগ করবেন –এমনটি কখনো মনে করি না। তবে নারী ‘রাষ্ট্র প্রধানের’ দায়িত্ব নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে অনেকের মতানৈক্য রয়েছে। ধর্মীয় ক্ষেত্রে অবশ্য ইমামের দায়িত্ব নিতে পারবেন না, এতে কোন ভিন্ন মত নেই। মনে রাখতে হবে এই রাষ্ট্র অনেক অনেক নতুন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে এবং সমস্যা দেখা দেবে কিন্তু তাই বলে পিছিয়ে যেতে হবে না, সমাধান বের করতে হবে। এটাই হবে শূরার বড় কাজ এবং মুসলিম স্কলারদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাবি এগিয়ে আসতে হবে। আরও মনে রাখতে হবে যে ‘আলিম’ অর্থ কেবল কোন নির্দিষ্ট মাদ্রাসায় পড়ুয়া ব্যক্তি বুঝায় না। যে ব্যক্তি কোরান হাদিসের সঠিক জ্ঞানকে ‘জ্ঞানের’ ধারাবাহিকতা ও প্রেক্ষিতের পুঙ্খানুপুঙ্খ নিক্তিতে এবং প্রতিষ্ঠিত নীতিমালায় দক্ষতার সাথে দেখাতে এবং উপস্থাপন করতে সক্ষম –সে’ই আলিম।  

          ‘আল-কোরান [যেভাবে] সরাসরি রাষ্ট্র চালায় না’, সেভাবে সেক্যুলার ব্যবস্থাও সরাসরি চালায় না, আইনের ধারা-উপধারাও কোন বিষয়ে রায় দেয় না বরং মানুষই তা করে। এই বাস্তবতা সবদিন থাকবে এবং সবখানে থাকবে।

          আল্লাই জানেন কি বুঝলাম আর কি বললাম। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.