«

»

Aug ০১

হেজবুত তাওহীদ ও নন-পলিটিক্যাল খিলাফত

ভূমিকা

এই লেখাটি মূলত একটি মন্তব্য ছিল যা রাকীব আল হাসান সাহেবের ‘ইসলামের নামে রাজনীতি কতটুকু ইসলামসম্মত’ শিরোনামের ১.১ কমেন্টের প্রেক্ষিতে লেখা। কিন্তু তার ব্লগের কমেন্টের স্থানে প্রিন্ট করতে পারি নি। ওখানে error 404 দেখায়। এরূপ টেকনিক্যাল সমস্যা আগেও দু একবার দেখেছি। যাক, লেখা বস্তু ফেলে না রেখে তা এখন আলাদাভাবে দিচ্ছি। তবে, যেহেতু আলাদাভাব এ দিচ্ছি, তাই কিছু বাক্য পরিবর্তন করে আলাদা অবয়বে আনারও চেষ্টা করেছি।

সার্বিকভাবে আমার অবস্থান হচ্ছে এই যে আমি সাধারণত সকল ইসলামী দলের ঐক্য দেখতে ইচ্ছা করি, এবং এজন্য যতটুকু পারি গঠনমূলক কথা বলে থাকি বা বলার চেষ্টা করি। তবে সকল স্থান ও কাজের প্রেক্ষিত যে এই অবস্থা অবলম্বনের অনুকূল তা তো নয় -এটাও বিবেচ্য।

আমি আগে ‘হেজবুত তাওহীদ’ সম্পর্কে জানতাম না। তবে বিভিন্ন সময় জেল ও গ্রেফতারের সাথে সম্পর্কিত সংবাদ শিরোনামে এই নামটি দেখেছি এবং ভেবে নিয়েছি যে এরা হয়ত অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতক দলের মত একটি দল হবে যারা সরকারী সন্ত্রাসের শিকার। কেননা এমনসব বিষয় তো বাংলাদেশে সচরাচর ঘটেই চলেছে। এবারে একটু সার্চ করতেই যে কয়টি গ্রেফতার ও জেলবন্দীর সংবাদ দেখতে পেলাম যেগুলোর সাথে আমাকে দেয়া লিঙ্কগুলো পড়ার পরে আমি এই দলের বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা ও কর্মকাণ্ডের কোনো কিছুর সাথে এক মত পোষন করতে পারি নি। আমি সবাইকে এই দল সম্পর্কে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেব।

-বিষয় এক-

হেজবুত তাওহীদ ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি আলোচনা করবে না -কেন(?!)

রাকীব আল হাসান সাহেব বলেছেন:

আমার এই লেখাটি পড়ে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, তাহলে ইসলাম প্রতিষ্ঠার যুগোপযোগী ও সঠিক পদ্ধতি কী। এবিষয়ে আমার বক্তব্য হচ্ছে- ইসলাম কীভাবে প্রতিষ্ঠা করা হবে সেটা জানার পূর্বে এটা জানা দরকার যে, আপনি যে ইসলামটি প্রতিষ্ঠা করতে চান সেটি কি আসলে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দেওয়া প্রকৃত ইসলাম ” নাকি বিকৃত ইসলামের খোলস মাত্র [accent is mine]

উপরের উদ্ধৃতিতে কিছু সমস্যাবহুল বক্তব্য থাকলেও আমরা আপাতত বিষয়ের উপর নিবদ্ধ থাকব। এটা এখানে স্পষ্ট যে হেজবুত তাওহীদ ইসলাম “প্রতিষ্ঠা” করতে চায় কিন্তু এখন প্রতিষ্ঠা-পদ্ধতি আলোচনা করতে চায় না। এর সম্ভাব্য দুটি কারণ হতে পারে। এক, এই দলটি পরিপূর্ণভাবে সংগঠিত নয় এবং তাদের উদ্দেশ্য ও কর্ম পদ্ধতি সুশৃঙ্খলভাবে সমন্বিত হয় নি। দুই, এদের পিছনে হয়ত অস্বচ্ছ, অনুক্ত কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে যা তারা প্রকাশ করতে চায় না, তাই পদ্ধতিগত বিষয় এড়িয়ে যেতে চায়। তারা যেন বলতে চাচ্ছে আপনারা আমাদের সাথে যোগ দিয়ে কাজ করতে থাকুন। পদ্ধতি জানার দরকার নেই।

তারপর পদ্ধতির কথা বাদ দিলেও যে খিলাফত তারা প্রতিষ্ঠিত করবে তার স্বরূপ কী হবে –সেটাও তারা দেখাচ্ছেন না। ধরুন, এই দলের সত্য ইসলাম “যেকোনভাবেই” প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। এখন এই ভূখণ্ড ও তার সমাজ ও রাষ্ট্রে, সত্য ইসলাম কীভাবে বিরাজিত? কীভাবে রূপায়িত? কীভাবে এই ভূখণ্ডের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খৃষ্টিয়ান এবং পথভ্রষ্ট মুসলিমদের ৭২ দল নিয়ে পরিচালিত এবং অস্তিত্বশীল? আমাকে যে লিঙ্কগুলো দেয়া হল সেগুলোতে এবং তাদের অপরাপর লেখায় সেই বাস্তবতা প্রদর্শিত হয় নি। এব্যাপারে তাদেরকে আরও স্পষ্ট হতে হবে, আরও লিখতে হবে।

মনে রাখতে হবে এই দল তাদের খেলাফত বাংলাদেশেই প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে যেখানে তাদের মতের বিপরীতে কোটি কোটি লোক রয়েছেন। তাদেরকে কেবল বিকৃত ভ্রষ্ট অথবা অন্য কিছু আখ্যায়িত করে তাদের উপর নন-পলিটিক্যাল উপায়ে খেলাফত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে, তাও আবার পদ্ধতি আলোচনা ব্যতীরেকে। তাছাড়া এই দলের ‘সঠিক ইসলাম’ যে কি তাও সবাইকে জানতে হবে। কালের আবর্তনে আজ শিয়া, সুন্নি, কাদিয়াদী এবং কালচারের মুসলিম গ্রুপ রয়েছে যারা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর নব্যুয়ত গ্রহণ করে ‘সুন্নি’ থাকতে চায়, এবং তাদের বড় এক অংশ কাফেরও, যাদের অনেকের কাছে বর্তমানে বাংলাদেশের ইসলাম হচ্ছে ‘বাড়াবাড়ির’ ইসলাম।

সুতরাং কোন অপরিচিত নতুন দল আত্মপ্রকাশ করলে সবাইকে দেখতে হবে এরা কারা এবং এদেরকে কারা সমর্থন দিচ্ছে। এদিক থেকে নতুন দলটিকে দুটি বিষয় স্পষ্ট করতেই হবে: (ক) তাদেরকে সিস্টেমেটিকেলি দেখাতে হবে ‘কীভাবে’ তারা সঠিক ইসলামের অধিকারী হলেন এবং (খ) কীভাবে বাকিরা ইসলাম, কোরান ও সুন্নার আলোকে বিকৃত হলেন, যাতে করে ইসলামের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো সবার সামনে প্রতিভাত হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে কেবল কোরান হাদিস থেকে প্রথমে তাদের নিজেদের পক্ষে উদ্ধৃতি টানলে চলবে না। কেননা আজকের জগতে এবং অতীতেও পটভূমি ব্যতীত উদ্ধৃতিও ফিতনার অংশ হয়ে আছে। সুতরাং এক্ষেত্রে বাকিরা যে ভুল অবস্থানে আছেন তাদের সেই অবস্থান নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উল্লেখ ও এনালাইজ করে, সিস্টেমেটিলি, দেখাতে হবে। সঠিক ইসলাম যেমন বুঝা দরকার তেমনি খিলাফত প্রতিষ্ঠার পদ্ধতিও বুঝা দরকার। কেননা ‘ক’এর শুদ্ধতা দেখিয়ে কাউকে ‘খ’এর বক্সে ঢুকিয়ে দেয়া যেতে পারে না। আমার মনে হয় তারা এইসব বিষয় কাউকে ভুল-ভ্রষ্ট-বিকৃত না বলে আলোচনা করতে পারেন।

-বিষয় দুই-

দলটির ভাষা ও আচরণ

এই দলটিকে তাদের ভাষা ও আচরণের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে এবং বিদেশিদের মত মুসলিম বিশ্বকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের এলজাম দিয়ে ধাপ্পার পদ্ধতি বর্জন করতে হবে। মুসলিম বিশ্ব সন্ত্রাসী নয়, জঙ্গিও নয়, কবর পূজারিও নয়। 'এই এছলাম সেই এছলাম নয়', তারপর মোজেজার দাবী (!), সরাসরি আল্লাহ কর্তৃক মনোনিত -ইত্যাদি কথাবার্তা খুব একটা সহজে যায় না।

আমি এপর্যন্ত যে কয়টি লেখা পড়েছি তা থেকে এই ধারণা করা যায় যে হেজবুত তাওহীদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার “পদ্ধতি” নেই বা হয়ত এখনো জানার পর্যায়ে, বা অধ্যয়নাধীন, বা অনুসন্ধানের পর্যায়ে। তবে সার্বিকভাবে তারাই ‘সত্যের’ উপর –এই মর্মের কথা প্রকাশিত হয়ে আসছে। এখানেই তাদের স্খলন। এমন দাবী এবং এমন কথাবার্তা এই ধর্মের ইতিহাসে নতুন কিছু নয়।

এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হবে যে অন্যান্য দল যারা “জানার পর্যায়” অতিক্রম করে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার জন্য “কর্মপদ্ধতি অবলম্বন” করেছে এবং যুগ যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছে, তাদের কারো প্রতি দ্রুত কোন আক্রমণ না চালানো। তাদের কর্মকৌশলে যদি ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতি’ অবলম্বিত হয়ে গিয়ে থাকে তবে হেজবুত তাওহীদ তো এখনও সেই স্থানে যেতেই পারে নি, তারা তো জানেই না যে eventually তারা কোন পদ্ধতি অবলম্বন করবে। সুতরাং আপাতত অন্যদেরকে আক্রমণ করা বাদ দিতে হবে। Once their alternative is in place, then there will be a basis for contrasting their methods against the others. সেই সময় না আসা পর্যন্ত কাউকে ভুল, ভ্রষ্ট, বিকৃত ইত্যাদি বলে নিজেদের পায়ে কুড়োল না মারাই ভাল। কেননা এই ময়দানটি এমন যে এখানে যেকোন পক্ষই তাদের প্রতিপক্ষকে “বিকৃত ইসলামের অনুসারী” বলতে পারে। এটা সহজ কাজ। ইসলামী জগতে ৭৩ ফিরকায় ৭৪ অথবা ৭৫ নম্বর ফিরকার আচরণ unpredictable  কিছু নয়। এটা বরং অনেকটা সাইন্টিফিক হয়ে গিয়েছে (অর্থাৎ অব্জারবেশনের দিক থেকে) যে পাবনার গারদখানায় নতুন দাখিল-হওয়া সদস্য অগ্রবর্তী সবাইকে ‘পাগল’ বলে উল্লেখ করবে, আর বাকিরা তখন খানিক হেসে হেসে বলবে, ‘হ্যা ভাই, এটা প্রথম প্রথম আমাদেরও মনে হয়েছিল। আসেন, বসেন, কিছুকাল গেলেই সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে।’

-বিষয় তিন-

বায়াজীদ পন্নীর দাবী: “সত্যভিত্তিক জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক কর্মসূচি” জ্ঞান লাভ হয়েছে [(লিঙ্ক)]

আমি উপরের লিঙ্ক থেকে পাঠ করে দেখলাম ‘এমামুযযামান মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী’ নামক এক ব্যক্তি হেজবুত তাওহীদ নামক দলটি প্রতিষ্ঠতা করেছেন যিনি সক্রিয়ভাবে গণতান্ত্রিক রাজনীতি করতেন এবং এমপিও ছিলেন। তিনি ‘কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এ্যাসোসিয়েশন’ এর সদস্যও ছিলেন এবং তিনি একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎকও ছিলেন। তিনি ‘এ ইসলাম ইসলামই নয়’ এই শিরোনামে একটি পুস্তক প্রণয়ন করেছেন যা ১৯৯৬ সনে প্রকাশিত হয়।তবে ইতিপূর্বে অর্থাৎ ১৯৯৫ সনে তিনি ‘হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের” সূচনা করেন। “যেদিন তিনি আন্দোলনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সেদিনই আল্লাহ তাঁকে রসুলাল্লাহর একটি প্রসিদ্ধ হাদিস থেকে পৃথিবীতে সত্যভিত্তিক জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক কর্মসূচির জ্ঞান দান করেন”। কিন্তু কোথাও “সত্যভিত্তিক জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক কর্মসূচি” চোখে  পড়ে নি।

তবে ঘটনা এমনও হতে পারে যে ইন্টারনেটে যা কিছু প্রকাশিত তা এই আন্দোলনকে বুঝার জন্য যথেষ্ট নয়। জনাব এমামুযযামান মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী সাহেবের ইসলামী শিক্ষার কোন ব্যাকগ্রাউন্ড সেখানে উপস্থাপিত হয় নি। এটা জরুরি কেননা মানুষ যার কাছ থেকে দ্বীন গ্রহণ করে তার অনুসারী হবে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে ভাল করে জেনে নেয়া দ্বীনেরই অনুজ্ঞা।  

গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোন সমঝোতা কি হারাম?

ইসলামে আমলিয়াতের ক্ষেত্রে হারাম হালাল মাকরুহ মুবাহ ইত্যাদি ক্যাটাগরি রয়েছে। কোন ১০ ব্যক্তির মধ্যকার জটিলতায় তারা গণতান্ত্রিক হবে, না শক্তি প্রয়োগে অগ্রসর হবে, না সমঝোতা অবলম্বন করবে, না প্রথমে গৃহীত সমঝোতায় সেলেকটিভ অথবা অলিগার্কিক পদ্ধতিতে যাবে –এই সব অবস্থান সার্বিকভাবে চিন্তা-বিবেচনা করতে হবে। আবার কোন কিছু না করে, জালিম, জাহেল ও মাফিয়াদের খপ্পরে থেকে যাওয়াই যদি ভাল মনে করা হয় –তাও বলতে হবে। অন্যদিকে প্রত্যেক অবস্থান ইসলামের দৃষ্টিতে কেমন হবে এবং কোন কোন শব্দ ও পরিভাষায় দেখতে হবে সেটাও ‘বস্তনিষ্ঠ’ এবং ‘সার্বিক কল্যাণ’কে সামনে রেখে আলোচনা করতে হবে। কোন ১০ ব্যক্তির মধ্যে কেউ কেউ যদি, আপাপত উপায়ান্তর না দেখে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করতে মুক্তির উপায় দেখে থাকেন, তবে সেই বিবেচনা তার ‘প্রাসঙ্গিকতা’, ‘কালীন’ ও ‘প্রেক্ষিএর’ আলোকেই বুঝতে হবে। কিন্তু পদ্ধতিগত বিষয় ও ব্যাপারে যদি কোন এক ব্যক্তি সব পদক্ষেপ ও উপায়কে ‘হারাম ‘হারাম’ বলে যেতে থাকে, তাহলে চলবে না। বরং তার ‘হালাল’ পদ্ধতি কোনটি তা বলতে হবে। সে যদি বলে যে আমার হালাল পদ্ধতি এখন কারও জানার দরকার নেই, কিন্তু আমি এতটুকু জানি যে বাকিরা সবাই হারামের মধ্যে লিপ্ত, তাহলে তার কথা আলোচ্য বিষয়ে ও প্রেক্ষিতে শুদ্ধ দেখাবে না। মনে রাখতে হবে এই ব্যবস্থা পীর-মুরীদির মত বাতেনি কিছু নয়। আবার কেউ নবীর (সা) বংশের লোক বলে দাবী করলেই তা মেনে নেয়া যায় না। চিশতিয়া তরিকার প্রধান প্রধানরা নবীর (সা) বংশের বলেই দাবী করেন। আমি বলছি না যে হেজবুত তাওহীদ পীরাকি প্রথা অবলম্বন করেন, বরং এটা যুক্তির ধারার একটি কথা মাত্র।

ইউরোপের সবকিছু হারাম?

আবার দেখতে হবে যে কোন একটি বিষয় হারাম বা মন্দ হয়ে যাবে না কেবল এজন্য যে তা ইউরোপ থেকে এসেছে অথবা ইউরোপে তা প্রাকটিস করা হয়। আজকে সকলের ঐক্যের প্রয়োজন। কেননা মিলিতভাবে ফিরাউনের বেষ্টনী থেকে বের হতে হবে। ফিরাউনের দেশেও ধর্ম ছিল, তার অনুসারী ছিল। আমি নন-পলিটিক্যাল বললে ফিরাউনী সাম্রাজ্যের লাভই হয়। তাদের দলের সমর্থনও পেতে পারি। কিন্তু ফিরাউনের কিবলা পরিবর্তনের প্রোগ্রাম হাজির করলেই তারা পিছন থেকে সরে যাবে। আজ মিলিতভাবে নবী রাসূলের অনুসারীরা নিজেদের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। এই মধ্য-জঙ্গলে একে অন্যের বিরোধীতা শুরু হলে মাফিয়াতন্ত্রকেই ক্ষমতায় রাখার সহায়ক হবে। তারা এই পক্ষের পারস্পারিক বিরোধিতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলবে, ‘দেখুন, তামাশা দেখুন, এই লোকেরা বুঝি দেশ পরিচালনা করবে? এই ভূখণ্ডে খাটি ইসলাম নেই, আছে বাড়াবাড়ির ইসলাম। এদের অবস্থা দেখুন, তারা খাটি ইসলাম থেকে সরে গিয়ে এখন ঝগড়ার ইসলাম করছে, ক্ষমতা দখলের ইসলাম করছে।’

এই দলের ধারণাগত সমস্যা

হিজবুত তাওহীদ নিয়ে প্রাথমিকভাবে চিন্তা করতে গেলেই কিছু মৌলিক  সমস্যা অনুভূত হয়। কেউ কীভাবে 'সরাসরি আল্লাহ-কর্তৃক মনোনীত' (!) হয়ে এই মুসলিমের সাওয়াদুল আ'যামকে (বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠীকে) পথভ্রষ্ট, বিকৃত বলেন, তাদেরকে অরাজনৈতিকভাবে ইসলামী খিলাফত কায়েম করার আহবান করেন, তাও আল্লাহ-মনোনীত ইমাম হয়ে (!), তাও আবার সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকে “মোজেজায়- প্রাপ্ত" (!) জ্ঞানের মাধ্যমে –এসব কথা মোটেই মিল খাচ্ছে না।

হেজবুত তাওহীদের সাইটে বলা হচ্ছে, “যেদিন তিনি [এমামুযযামান আল্লাহর মনোনীত এমাম, (শাব্দিক অর্থে এই এই যুগের ইমাম। এটা অনেক শিয়াদের যুগের ইমামের ধারণার ন্যায়)] আন্দোলনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সেদিনই আল্লাহ তাঁকে রসুলাল্লাহর একটি প্রসিদ্ধ হাদিস থেকে পৃথিবীতে সত্যভিত্তিক  জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক কর্মসূচির জ্ঞান দান করেন এবং রাকীব আল হাসান সাহেবের ভাষ্যে এসেছে:  “হেযবুত তওহীদ আল্লাহর মনোনীত আন্দোলন এবং মাননীয় এমামুযযামান আল্লাহর মনোনীত এমাম। হেযবুত তওহীদ দিয়েই সমগ্র পৃথিবীতে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠিত হবে। এটা আল্লাহ পবিত্র মোজেজার মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন –এই ভাষা আমার কাছে অনেকটা অস্বস্তিকর লাগছে। এটা যেন পীর-মুরিদী প্রথাগত ভাষা থেকে আরও বেশি মাত্রার অনুভূত হচ্ছে।  আমি যতই খেয়াল করছি ততই বিব্রতি অনুভব করছি। আল্লাহর “মনোনয়ন” যেভাবে নবী-রাসূলের ব্যাপারে ব্যবহৃত হয়, সেই ভাষার পরশ যেন এখানে লাগছে। তিনি “মোজেজার” মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে সরাসরি জ্ঞানলাভ করেছেন! এখানে ডাল মে কুচ কালা হ্যাঁ ধরণের কিছু অনুভূত হচ্ছে। তারপর লক্ষণীয় যে একদিকে দাবী হচ্ছে কালের ইমাম মোজেজার মাধ্যম খিলাফত প্রতিষ্ঠার জ্ঞান লাভ করেছেন কিন্তু অন্যদিকে সেই খেলাফত প্রতিষ্ঠার পদ্ধতিগত কোন জ্ঞানইনেই -এটা কীভাবে হতে পারে? আমার মনে হয় বাংলাদেশে যারা আছেন তারা এবিষয়ে তদন্ত করে লেখা দেয়া উচিৎ। আমি এই সাব-কন্টিনেন্টে উদ্ভাবিত এমন আরও কিছু ভাষা ও ধারণার সাথে মিল দেখিয়ে আরও কিছু কথা বলতে পারতাম তবে আপাতত বলতে চাচ্ছি না।

আজকে নতুন নতুন ফেরকার ব্যাপারে এবং তাদের সস্তা বয়ান থেকে সতর্ক থাকতে হবে। কিন্তু ঝগড়া থকে দূরে থাকতে হবে।

__________________________

এ বিষয়ে আমার অন্যান্য লেখা:

(১) হেজবুত তাওহীদ ও নন-পলিটিক্যাল খিলাফত

(২) বায়াজীদ পন্নীর বিভ্রান্তিতে একটি নতুন ফিতনা

(৩) হেজবুত তাওহীদ -উম্মাহ বিচ্যুত একটি পথভ্রষ্ট ধারা

(৪)  বায়াজীদ পন্নীর মোজেজা -বিভ্রান্তি ও বিপর্যয় (বক্ষস্থিত লেখা)

১৫ comments

Skip to comment form

  1. 8
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আহমেদ ভাই,
    ধন্যবাদ আপনার এই সুন্দর বিশ্লেষণী লিখাটির জন্য। এই লিখাটি আমি মিস করেছি।
    পৃথিবীব্যাপী মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি, মতানৈক্য, দাঙ্গা, যুদ্ধ… আমায় ব্যথিত করে। প্রায়ই চিন্তা করি পৃথিবীব্যাপী মুসলমানদের ঐক্য কিভাবে সম্ভব? গত ২ দিন পূর্বে শুনতে পাই, “হিজবুত তাওহীদ” নামে ইসলামী দল দুনিয়াব্যাপী ঐক্যের জন্য কাজ করছে। খুব আশ্চর্যম্বীত হই। এই দলের নাম শুনেছি কিন্তু কিছুই জানি না। ঐ দিনেই লিংকের মাধ্যমে একটি বই পেলাম। বইটি পড়ে আমার মনে হল, যে লিখেছে & যারা অনুসরণ করে, তারা সবাই মানসিক অসুস্থ, লিখায় কোন স্বাভাবিকতা নেই।
    youtube-এ হেজবুত তাওহীদের অনেক ভিডিও পেলাম। পন্নী ‘দাজ্জাল’ নামে একটি বই লিখেছেন, যা এক বৃটিশ লেখকের কপি। এনাম দেশের নীরিহ মানুষদের বুঝাচ্ছে “লা ইলাহা ইল্লাহ” মানে “আল্লাহ ছাড়া কারো হুকুম মানি না”। তালাশের এক রিপোর্ট থেকে জানা গেল, ২০০৮ সালে পন্নী আল্লাহ্‌-র কাছ থেকে অলৌকিক কিছু পেয়েছেন, তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের নামাজের সিষ্টেম দেখে অবাক হই। তারা দাবী করে, তারাই সঠিক পথে রয়েছেন, বাকী সবাই পথভ্রষ্ট। তারা প্রত্যেকে জীবিত অবস্থায় ২ জন শহীদের মর্যাদা পান। পন্নী ও এনামের যে বক্তব্য ও ভিডিও পেলাম, মনে হয়নি তাদের মগজে কোন উন্নত চিন্তা বা জ্ঞ্যান আছে। এই গ্রুপ যা দাবী করে & বলে, তা চরম হাস্যকর।

    হিজবুত তওহীদ জানে না এবং নুন্যতম ধারনাও নেই, পৃথিবী কোথায় আছে আর তারা কোথায় আছে? এই বৈষম্য তাদের চোখে ধরা দিবে না, কারন, চরমপন্থিদের চিন্তাশক্তি খুবই দুর্বল প্রকৃতির হয়, আর হয় গোয়াড়, সবজান্তা…

    আপনি আপনার এই লিখায় যথেষ্ট বলেছেন। নতুন করে সংযোজন করার প্রয়োজন নেই।

    আবারো ধন্যবাদ লিখাটির জন্য। ভাল থাকুন।

    1. 8.1
      এম_আহমদ

      @তাজুল ইসলাম:

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, যুদ্ধ ও কলহ অবশ্য ব্যথিত হওয়ার কারণ। তবে দ্বিমত/মতানৈক্য একটু আলাদা জিনিস। আমাদের সমাজে পার্থক্যকরণের সংস্কৃতির অনুপস্থিতির কারণে অনেক সময় দ্বিমত পীড়া দায়ক হয়ে পড়ে। কথাটিকে আরেকটু প্রশস্ত করি।

      দ্বিমত মানব সত্তার একটি বৈশিষ্ট্য। ধরুন, অনেক বিষয়ে আমার নিজ মনেই ভিন্ন ভিন্ন ধারণা রয়েছে। অর্থাৎ আমার নিজের সত্তাকে যদি ২/৩ ভাগে ভাগ করা যেত তবে আমার নিজ সত্তার মধ্যেই দ্বিমত প্রকাশিত হয়ে পড়ত। আজ মুসলিম বিশ্বের জন্য যে বিষয়টি জরুরি তা হল, যতদূর সম্ভব দ্বিমত সত্ত্বেও ঐক্য প্রদর্শন করা এবং দ্বিমতের প্রকৃতি অনুধাবন করা। এর ফলে অনেক সমস্যার মূলে যাওয়া সম্ভব হবে। কোথায় ব্যক্তিত্ব, পদবি, প্রাতিষ্ঠানিকতা এবং কোথায় ইসলামের ‘দ্বিমতের প্রশস্ত স্কেল (scale)’ সেটা দেখা। যখন কোন বিষয়ের জটিলতা বুঝা যাবে এবং জটিলতা স্বীকৃত হবে তখন সমঝ ও পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধও আসবে। একথাও সত্য যে অনেক দ্বিমত নিরসনের উপায় নেই। মুসাইলিমাদের সাথে ঐক্য করা যায় নি এবং যাবেও না। কাদিয়ানীদের সাথেও না। পন্নির অবস্থাও dubious, অত্যন্ত dubious। মতামত উপরে ব্যক্ত করেছি।

  2. 7
    এম_আহমদ

    আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে হেজবুত তাওহীদের উপর একটি মন্তব্য-ব্লগ লিখেছিলাম। যারা এ পর্যন্ত লেখাটি পড়েন নি, তারা, সময় থাকলে, এটি দেখে নিতে পারেন। এই দলটিকে বাংলাদেশ থেকে যারা মূল্যায়ন করেছেন এবং কিছু ডক্যুম্যান্টও করেছেন তার কয়েকটি নমুনা এখানে লিঙ্ক করলাম। এগুলোও শুনে নিতে পারে।

    হিজবুত তাওহিদ সংগঠনের মুখোশ উন্মোচন
    https://www.youtube.com/watch?v=3vJYShPbxHw&t=3s

    ভন্ড হিযবুত তাওহীদের ভন্ডামী
    https://www.youtube.com/watch?v=VgFvG_yIYrA

    হেযবুত তাওহীদ -- কেন বাতিল দল ???
    https://www.youtube.com/watch?v=cl3Y97lCvCk

    হিজবুত তাওহীদ মানুষকে ধর্মের নামে কিভাবে ধোঁকা দিচ্ছে
    https://www.youtube.com/watch?v=Z1R2K_gtSAw

  3. 6
    এম_আহমদ

    @ রাকীব আল হাসান (মন্তব্য ২.২)

    অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন।

    একটি অরাজনৈতিক দল কীভাবে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করবে বা করার কথা বলবে? এখানে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ নিরর্থক। হিজবুত তাওহীদের কথাবার্তায় অসংগতি স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে।

    আমার এই ব্লগে হিজবুত তাহরীরের সাথে হিজবুত তাওহীদকে কখনো confuse করা হয় নি। সুতরাং এখানে হিজবুত তাহরীরের ব্যাখ্যার মাধ্যমে কোনো ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয় নি। 

  4. 5
    FARUQ AHMAD

    JAJAKALLAH

     

  5. 4
    তপু

    হেযবুত তওহীদের ওবেবসাইটের লেখা… হাসব না কাঁদব

    ” আল্লাহর মো’জেজা। ২৪ মহররম ১৪২৯ হেজরী মোতাবেক ২ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ ঈসায়ী। এই দিন একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হোয়েছিলো ছাদের ওপর প্যান্ডেল টানিয়ে; ওপরে এবং চারিদিকে কাপড় দিয়ে ঘেরা। অনুষ্ঠানে ২৭৫ জন মোজাহেদ-মোজাহেদা ও ৪৩টির মত বাচ্চা ও শিশু, যাদের মধ্যে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সের অন্ততঃ ৩ টি কোলের শিশু থেকে ১০-১২ বছর বয়স পর্য্যন্ত ছেলে মেয়ে উপস্থিত ছিলো। ছাদের ওপর এতগুলি মানুষের স্থান সংকুলানের সমস্যা হোচ্ছিল। এমামুয্যামানের বক্তব্য প্রদানের পূর্ব মুহূর্তে ছাদের পরিবেশ ছিল খুবই হট্টগোলপূর্ণ। ৪৩টি বাচ্চার চিৎকার, চেঁচামেচি তো আছেই নিকটেই কোন মসজিদ বা ওয়াজ মাহফিল থেকে লাউড স্পিকারের আওয়াজ আসছিল। বাড়িটি বিশ্বরোড সংলগ্ন হওয়ায় গাড়ির হর্নের ক্রমাগত আওয়াজ তো ছিলই। কাছেই কোথাও একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকারে বাজানো গান-বাজনার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বাইরে ছিল প্রচণ্ড শৈত্য প্রবাহ। প্রচণ্ড বাতাসে প্যান্ডেলের কাপড় পত পত কোরে শব্দ কোরছিল। সেদিন ছিল ঐ বছরের অন্যতম শীতল দিন। সবার শীতে খুব কষ্ট হোচ্ছিল। এরই মধ্যে এমামুয্যামান সবার উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ১০ মিনিটের একটি ভাষণ দিলেন, সেই ভাষণ লাউড স্পিকারে শোনানো হোল। যখন মামুয্যামান তাঁর ভাষণ আরম্ভ কোরলেন তখন পরিবেশ পুরো অন্যরকম হোয়ে গেল। পরে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে যামানার এমামের ঐ ভাষণের সময় আল্লাহ ন্যূনতম আটটি মো’জেজা ঘটান।

    এ মো’জেজাগুলির উদ্দেশ্য ছিল প্রধানত উপস্থিত সকলে যেন এমামুয্যামানের বক্তব্যটি সুস্পষ্টভাবে শুনতে পায়, কারণ ঐ ভাষণেই রোয়েছে হেযবুত তওহীদের বিজয় ঘোষণা। অতি সংক্ষেপে মো’জেজাগুলি হোল:

    ১) এমামুয্যামানের ভাষণ আরম্ভ হওয়ার মুহূর্ত থেকে চারিদিকে একটি অদ্ভূত পিনপতন নীরবতা, নিস্তব্ধতা নেমে এলো। মনে হোচ্ছিল পৃথিবীর সমস্ত শব্দ থেমে গেছে। কোথাও সামান্যতম শব্দ নেই, শুধু এমামুয্যামানের বলিষ্ঠ, সুন্দর কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে এবং প্রতিটি শব্দ এত পরিষ্কারভাবে শোনা যাচ্ছে যে, পরে অনেকে বোলেছেন তাঁর সামনে বোসে তাঁর কথা কোনও দিন এত পরিষ্কারভাবে শোনা যায় নি। তাঁর ভাষণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোলমাল শুরু হোল।

    ২) সেখানে ৪৩টি বিভিন্ন বয়সের শিশু ছিল, যারা একটু আগেও তুমুল হৈ চৈ হট্টগোল কোরছিল। এমামের ভাষণ শুরু হোতেই তারা আল্লাহর ইচ্ছায় সবাই চুপ হোয়ে গেল এবং ১০ মিনিট ধোরে চুপ রোইল। অথচ ৩/৪ টা বাচ্চাকে ২ মিনিট চুপ কোরিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। এই অসম্ভব ঘটনাই সেদিন ঘোটল।

    ৩) ঠান্ডা হাওয়া বন্ধ হোয়ে যাওয়া। ঠাণ্ডা বাতাসের মধ্যে মিটিং করাই দুঃসাধ্য হোয়ে উঠেছিল। কিন্তু এমামের ভাষণের ঐ ১০ মিনিট শৈত্যপ্রবাহ পর্যন্ত বন্ধ হোয়ে গিয়েছিল। বাতাসের ধাক্কায় প্যান্ডেলের কাপড়ে যে আওয়াজ হোচ্ছিল তাও তখন বন্ধ হোয়ে গিয়েছিল। তখন যে পরিবেশটি তৈরি হোয়েছিল তা ছিল সকলের জন্য আরামদায়ক।

    ৪) এমামের ভাষণ আরম্ভের একটু আগে পর্যন্তও অনুষ্ঠানের লাউড স্পিকার তিনটির শব্দ ছিল অস্পষ্ট, খুব খেয়াল কোরে বুঝতে হোচ্ছিল। তিনটি স্পিকার তিন ধরণের হওয়ায় টিউন করা ছিল খুব কঠিন ছিল, পুরো সাউন্ড সিস্টেমটাই ছিল প্রায় অকেজো, পুরানো। কিন্তু এমাম কথা বলার সামান্য আগেই হঠাৎ লাউড স্পিকারের শব্দ একদম পরিষ্কার হোয়ে যায়। অনেকে বলেন, ‘আমরা লাউডস্পিকারের যে আওয়াজ শুনেছি তেমন আগে কখনো শুনি নাই, পরেও শুনি নাই।’

    ৫) অনুষ্ঠানস্থলে মোট ৫২টি মোবাইল ফোন চালু ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সারাদেশের আমীরগণ, যাদের প্রত্যেকের ফোনে প্রচুর কল আসে। কিন্তু এমামের ভাষণের সময় একটিতেও কোন রিং বাজে নাই, কোন কল আসে নাই।

    ৬) সময় সংকোচন। এমাম ১০ মিনিট ৯ সেকেন্ড কথা বোলেছেন, অথচ সকলের কাছে মনে হোয়েছে মাত্র দু-এক মিনিট, সর্বোচ্চ তিন মিনিট।

    ৭) সবার অখণ্ড মনোযোগ। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মো’জেজা হোচ্ছে সকলের মনকে আল্লাহ পৃথিবীর সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন কোরে এমামুয্যামানের ভাষণের প্রতি নিবিষ্ট কোরে দিয়েছিলেন। কেউ বোলেছেন, মনে হোল যেন গভীর পানির মধ্যে বোসে এমামের কথা শুনছি, কেউ বোলেছেন, তখন মনে হোয়েছে পৃথিবীতে কেবল আমি আর এমাম আছি। আগের সবগুলি মো’জেজার একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল মোজাহেদেরকে এমামের ভাষণটা শোনানো। এ সময় কারো মনোযোগে যেন সামান্য বিচ্যুতি না ঘটে সেজন্য আল্লাহ পুরো পরিবেশটা এমন কোরে দিয়েছিলেন।

    ৮) ঘটনার চারমাস পরে আমরা উদ্ঘাটন কোরি যে, এই ভাষণে এমামুয্যামানের কথাগুলির মধ্যে আল্লাহ তিন (৩) সংখ্যার একটি অভূতপূর্ব সমন্বয় সাধন কোরেছেন। ভাষণের অন্তত: ৩০টির অধিক বিষয় তিনবার কোরে এসেছে যা ৩ দ্বারা বিভাজ্য। যেমন: এমামুয্যামান শুরুতে দোয়া করেন তিনটি, শেষে দোয়া করেন তিনটি, দোয়া চান তিনটি বিষয়ের জন্য, ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনটি, ভাষণে জান্নাত শব্দটি আছে তিনবার, জাহান্নাম তিনবার, মোট উপস্থিতি ৩১৮ জন ইত্যাদি। ঠিক যেমনভাবে তিনি কোর’আনকে ১৯ সংখ্যা দিয়ে বেঁধেছেন। কোন মানুষের পক্ষে সারাজীবনের সাধনাতেও এটা করা সম্ভব নয়।

    এই আটটি মো’জেজার মধ্যে সাতটি মো’জেজা আল্লাহ এমনভাবে ঘটালেন যেগুলি কেবলমাত্র ঐ সময়ে ঐ স্থানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারাই দেখতে পেলেন, অন্যরা সেটা দেখতে পায় নি। তাহোলে প্রশ্ন আসে, বাকী যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, বা যারা পরবর্তীতে আসবেন তারা কী কোরে ঐ মো’জেজার ব্যাপারে নিশ্চিত হবেন? তাদের এবং তাদের পরবর্তী সকল মানুষের জন্য আল্লাহ সেখানে তাই একটি মো’জেজা ঘটালেন এমনভাবে যেটি ঐ স্থান-কাল-পাত্রের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, অন্যরাও এটা দেখতে পাবে। এটি আল্লাহ ঘটালেন কোর’আনের সংখ্যা সংক্রান্ত মো’জেজাটির সাথে মিল রেখে। সমস্ত কোর’আনকে আল্লাহ যেভাবে উনিশ সংখ্যার জালে আষ্ঠেপৃষ্ঠে বেঁধেছেন, ঠিক একইভাবে সেদিন এমামের সংক্ষিপ্ত ভাষণটিকে আল্লাহ বাঁধলেন তিন সংখ্যার জাল দিয়ে। উদ্দেশ্যও এক অর্থাৎ সত্যায়ন। এর দ্বারা আল্লাহ এটাই প্রকাশ কোরছেন যে,‘ঐ ভাষণে যে কথাগুলো বলা হোয়েছে এগুলো যে মানুষটি বোলছেন তাঁর স্বরচিত মনগড়া কথা নয়, এগুলো আমারই (আল্লাহর) কথা এবং তিনি আমারই মনোনীত ব্যক্তি।”

    (নায়ূযুবিল্লাহ)

    1. 4.1
      Shahriar

      নায়ূযুবিল্লাহ, Allah, help us from this fetna/vondo group.

    2. 4.2
      এম_আহমদ

      @তপু: এখানে উল্লেখিত ৮টি মোজেজার কোনোটিই মোজেজা নয়, এগুলো বানোয়াট কথা। এগুলো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। এভাবে মোজেজা দেখাতে থাকলে গৃহপালিত অনেক পশু-পাখির কাজ কর্ম ব্যাখ্যা করে মোজেজা প্রতিষ্ঠা করা যাবে।

      এই মন্তব্যটি কেন যেন চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল, তাই দেরি হলেও যেখানে যে উত্তর দেয়া জরুরি সেখানে তা দিয়ে রাখা ভাল বিধায় তা দিয়ে রাখলাম।

       

  6. 3
    এম_আহমদ

    আমি যতই চিন্তা করছি ততই যেন সমস্যা অনুভব করছি

    এখানে একটি নতুন দলের (হেজবুত তাওহীদ) সেলফ-সেন্ট্রিক কথাবার্তার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেমন এই জাতীয় জেনরেলাইজেশন যে তারা ব্যতীত বাকিরা সবাই কালের বিকৃতিতে ভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছেন এবং বাংলাদেশসহ এই বিশ্বের সকল ইসলামী আন্দোলন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবলম্বনে ভ্রষ্ট ও বিকৃত ইসলাম হয়ে গিয়েছেন।

    কিন্তু আমি যতই চিন্তা করছি ততই যেন সমস্যা অনুভব করছি। কেউ কীভাবে সরাসরি আল্লাহ-কর্তৃক মনোনীত হয়ে এই মুসলিমের সাওয়াদুল আমকে পথভ্রষ্ট, বিকৃত বলেন, তাদেরকে অরাজনৈতিকভাবে ইসলামী খিলাফত কায়েম করার আহবান করেন, তাও আল্লাহ-মনোনীত ইমাম হয়ে, তাও আবার সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকে “মোজেজায়- প্রাপ্ত" জ্ঞানের মাধ্যমে –এসব কথা যেন মিল খাচ্ছে না।

    এখানে কি চোখের অপলকে নতুন কিছু ঘটে যাচ্ছে? সবাই একটু লক্ষ্য করুন

    হেজবুত তাওহীদের সাইটে বলা হচ্ছে, “যেদিন তিনি [এমামুযযামান আল্লাহর মনোনীত এমাম] আন্দোলনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন সেদিনই আল্লাহ তাঁকে রসুলাল্লাহর একটি প্রসিদ্ধ হাদিস থেকে পৃথিবীতে সত্যভিত্তিক  জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক কর্মসূচির জ্ঞান দান করেন” এবং রাকীব আল হাসান সাহেবের ভাষ্যে এসেছে:  “হেযবুত তওহীদ আল্লাহর মনোনীত আন্দোলন এবং মাননীয় এমামুযযামান আল্লাহর মনোনীত এমাম। হেযবুত তওহীদ দিয়েই সমগ্র পৃথিবীতে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠিত হবে। এটা আল্লাহ পবিত্র মোজেজার মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন –এই ভাষা আমার কাছে অনেকটা অস্বস্তিকর লাগছে। এটা যেন পীর-মুরিদী প্রথাগত ভাষা থেকে আরও বেশি মাত্রার অনুভূত হচ্ছে।  আমি যতই খেয়াল করছি ততই বিব্রতি অনুভব করছি। আল্লাহর “মনোনয়ন” যেভাবে নবী-রাসূলের ব্যাপারে ব্যবহৃত হয়, সেই ভাষার পরশ যেন এখানে লাগছে। তিনি “মোজেজার” মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে সরাসরি জ্ঞানলাভ করেছেন! এখানে ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যাঁ’ ধরণের কিছু অনুভূত হচ্ছে। আমার মনে হয় বাংলাদেশে যারা আছেন তারা এবিষয়ে তদন্ত করে লেখা দেয়া উচিৎ। আমি এই সাব-কন্টিনেন্টে উদ্ভাবিত এমন আরও কিছু ভাষা ও ধারণার সাথে মিল দেখিয়ে আরও কিছু কথা বলতে পারতাম তবে আপাতত বলতে চাচ্ছি না।

    1. 3.1
      Shahriar

      As_ahmed bhai, rite you are. We need to very careful this “vondo” group.

      Jajak-allah

    2. 3.2
      এম_আহমদ

      আমার উপরের কথার সাথে এই কথাটিও সংযুক্ত হবে: বায়াজীদ পন্নীর সাথে যে "মোজাজা" জোড়া হচ্ছে -এটা আমাদের বিশ্বাসের বাইরের বিষয়। মো'জেজা কেবল নবী রাসূলদের ব্যাপারে ঘটে। এটা তাদের ব্যাপারে একান্ত খাছ।

      আমি এই দলের বিভিন্ন ধারণা ও বক্তব্য পাঠ করার পর -এখন তাদের বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কোন সহমত পোষন করি না। আমি সবাইকে এই দল সম্পর্কে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেব -এটা জরুরি।

       

      فالمعجزة خاصة بالرسل والانبياء

      لمعجزة هي الآية الخارقة للعادة التي يؤيد الله بها أنبياءه ورسله ، ويتحدون بها الناس .

      أما الكرامة فهي شيء خارق للعادة يجريه الله تعالى على يد أحد أوليائه . وهناك فروق كثيرة بين المعجزة والكرامة ، منها :    

  7. 2
    Ivan

    আগের কমেন্টের সময় খুব তাড়াহুড়ার মধ্যে ছিলাম যার জন্য ডিটেইলস লেখা সম্ভব হয় নাই। রাকিব সাহেব হেজবুত তাওহিদ নামে যে সংগঠনের লিংক দিয়েছেন সেটি একটি ব্যক্তি সর্বস্ব দল। এবং গা বাঁচিয়ে চলা দল।

    আপনি যাদেরকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন সম্ভবত সেটি 'হিযবুত তাহ্‌রির' এবং এর অঙ্গসংগঠন 'হিযবুত তাওহিদ'। খিলাফত এবং এ সম্পর্কিত বিষয়ে হিযবুত তাহরিরই সম্ভবত জনবল এবং রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে আছে।

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      ভাই ধন্যবাদ। আমি কিন্তু হিজবুত তাহরীর নিয়ে লিখি নি। কেননা যতটুকু দেখি তাতে প্রতীয়মান হয় যে হিজবুত তাহরীর হাড়ে-মাংসে পলিটিকাল, ইসলামের নামেই রাজনীতি করে -এখানে তাদের অবস্থান স্পষ্ট যেভাবে অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দলের অবস্থান।  তবে তারা প্রচলিত ‘গণতান্ত্রিক’ রাজনীতির পক্ষে বলে খুব একটা মনে হয় না। বরং ক্ষমতা দখলের উপায় হিসেবে ‘তুফানী-ইনকিলাব' (বিপ্লব) বা কোনো প্রকারের ‘কু’ –এই জাতীয় পদ্ধতির অধিক অনুকূলে বলে প্রতীয়মান হয়। আল্লাহু আ’লাম।

    2. 2.2
      রাকীব আল হাসান

      হেযবুত তওহীদ একটি সম্পূর্ণ বৈধ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন। কোনরূপ আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে হেযবুত তওহীদ জড়িত নয়।

      পক্ষান্তরে হিযবুত তাহরীর সংগঠনটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২২টি রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ। বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে যেমন -- মিটিং, মিছিল, ঘেরাও, সমাবেশ, বিক্ষোভ ইত্যাদি। হেযবুত তওহীদ সম্পূর্ণ আইনমান্যকারী একটি আন্দোলন হওয়া সত্ত্বেও ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়া ও ধর্মব্যবসায়ী মোল্লাদের ক্রমাগত অপপ্রচারের ফলে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়ে আসছে। তাদের অপপ্রচারে প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ অত্যন্ত প্রভাবিত হন এবং আমাদেরকে জঙ্গি, নিষিদ্ধ, সন্ত্রাসী ইত্যাদি সন্দেহ করে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হয়। হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে গত ২০ বছরে একটিও আইনভঙ্গের, একটিও অপরাধের কোন প্রমাণ নেই। তা সত্ত্বেও ইসলাম বিদ্বেষী গণমাধ্যমগুলি মরিয়া হয়ে অবান্তর অপপ্রচার চালিয়ে প্রশাসনের উপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করেছে। যেহেতু হেযবুত তওহীদ রাষ্ট্রীয় কোন আইনভঙ্গ কিংবা সামাজিক অপরাধও আজ পর্যন্ত করে নি, তাই হেযবুত তওহীদের যে সকল কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতারপূর্বক আদালতে সোপর্দ করা হয় তাদের সকলেই নিরপরাধ প্রমাণিত হয়ে আদালত থেকে মুক্তিলাভ করেন। অপপ্রচারের ফলে নামের আংশিক মিলের দরুণ সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এই দুইটি দলকে অর্থাৎ নিষিদ্ধ সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীর’-এর সাথে ধর্মীয় সংস্কারমূলক অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদকে গুলিয়ে ফেলছেন।

      উল্লেখিত দল দু’টির নামের মধ্যে কিছুটা মিল থাকায় অনেকেই হেযবুত তওহীদকেও নিষিদ্ধ, জঙ্গি বলে মনে করেছেন। নিচের ছকে হেযবুত তওহীদের সাথে হিযবুত তাহরীরের মৌলিক কয়েকটি পার্থক্য তুলে ধরা হল:-

      ক্রম

      বিষয়

      হেযবুত তওহীদ

      (ওয়েবসাইট- http://hezbuttawheed.org)

      হিযবুত তাহরীর

      (ওয়েবসাইট- http://www.hizbuttahrir.org)

      অবস্থান

      হেযবুত তওহীদ সরকার বা সরকারের অন্য কোন সংস্থা কর্তৃক নিষিদ্ধ নয়। হেযবুত তওহীদ এর প্রকাশিত বইসমূহ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন (ISBN) বই হিসাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত।

      আমার জানা মতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গত ২২ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে হিযবুত তাহরীর সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছেন। এ ছাড়াও পৃথিবীর প্রায় ২২টি দেশে এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে। [সূত্র- দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৫/০১/২০১২] (যদিও মিডিয়ার সকল তথ্যই সত্য বলে বিশ্বাস করি না, তবুও এ ছাড়া বিশেষ মাধ্যমও আমার কাছে নেই। একারণে অনেক ক্ষেত্রেই এই মিডিয়াগুলির রেফারেন্স দিতে হয়।)

      প্রতিষ্ঠাতা

      টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পন্নী পরিবারের উত্তরসূরী এই যামানার এমাম, এমামুয্যামান (The Leader of the Time) জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী।

      ফিলিস্তীনের নাগরিক জনাব শেখ মোহাম্মদ তাকিউদ্দিন বিন ইব্রাহীম বিন মোস্তফা বিন ইসমাঈল বিন ইউসুফ আল নাভানি।

      প্রতিষ্ঠার স্থান

      বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার করটিয়ায় প্রতিষ্ঠিত।

      ইসরাইলের (তৎকালীন ফিলিস্তীন) যেরুজালেমে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। ৪৫টির অধিক দেশে এর কার্যক্রম আছে বলে জানা যায়।

      প্রতিষ্ঠাকাল

      ১৯৯৫ ঈসায়ী। হেযবুত তওহীদের বয়স ২০ বছর চলমান।

      হিযবুত তাহরীর ১৯৫৩ সনে প্রতিষ্ঠিত। এর বয়স ৬২ বছর। যতদূর জানা যায় বাংলাদেশে এটি ২০০১ সনে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।

      নীতি ও পদ্ধতি

      সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন। আল্লাহর প্রকৃত তওহীদ অর্থাৎ কলেমার ডাক দেওয়া, দীনে যে সকল বিকৃতি প্রবেশ করেছে সেগুলির সংস্কার এবং দাজ্জালকে চিহ্নিতকরণ ছাড়া কোনরূপ প্রচলিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন- মিটিং, মিছিল, শ্লোগান, ঘেরাও, ধর্মঘট ইত্যাদির সাথে হেযবুত তওহীদ সম্পৃক্ত নয়। রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক কোন রকম কোন দলের সাথে এই আন্দোলনের সামান্যতমও সম্পর্ক নেই।

      আমার জানামতে হিযবুত তাহরীর নানাবিধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন মিটিং, মিছিল, ঘেরাও, বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ রাজনৈতিক বক্তব্য সম্বলিত প্রচারপত্র- পোস্টারিং ইত্যাদি করে।

       

      আরেকটি বিষয়। হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে কিছু মিডিয়া এমন অপপ্রচারও চালিয়েছে যে, “হিযবুত তাহরীর নাকি হেযবুত তওহীদ নামে কার্যক্রম চালাচ্ছে, তারা কৌশল হিসাবে হেযবুত তওহীদে অনুপ্রবেশ করছে।” এটিও সর্বৈব মিথ্যা। আমাদের এমামের নীতি হলো, আমাদের কোন সদস্য-সদস্যা কোন আইনবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী কাজে অংশ নিবে না। কেউ যদি এর ব্যতিক্রম করে তাকে তিনি আইনের হাতে সোপর্দ করবেন।

      ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়াগুলি কোন ঘটনা ঘটলে সেখানে অযাচিত ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে হেযবুত তওহীদের নাম সংযোজন করে হয়রানির অপচেষ্টাও চালিয়েছে অনেক ক্ষেত্রে। তাছাড়া কোথাও হিযবুত তাহরীরের সদস্য গ্রেপ্তার হলে দেখা যায় তারা সংবাদের শিরোনাম লিখছে ‘হিজবুত সদস্য’ গ্রেপ্তার। অর্থাৎ কেউ যদি পুরো সংবাদ না পড়েন তিনি জানতেও পারবেন না আসলে কে গ্রেপ্তার হয়েছে।

  8. 1
    Shahriar

    Jajak-allah

Leave a Reply

Your email address will not be published.