«

»

Aug ০৯

কলমের ভাঁওতাবাজিতে সামাজিক বিপর্যয়

তোমাদের প্রত্যেকই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকই নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে (হাদিস)।  যে কেউ এক অণু-পরিমাণ সৎকাজ করবে সে তা দেখতে পাবে;  আর যে কেউ এক অণু-পরিমাণ মন্দ-কাজ করবে সেও তা দেখতে পাবে (কোরান, ৯৯:৭-৮)।

অসি না মসি? আসল কথা কী?

একটি প্রবাদরূপী কথা (cliché) দিয়ে শুরু করা যাক। আমরা সবাই ‘অসির মোকাবেলায় মসি’ –এমন কথা বলে থাকি। স্পষ্ট অর্থে -অসি হচ্ছে তলোয়ার বা হাতিয়ার, আর মসি হচ্ছে কলমের কালি তবে রূপকতায় কলম, এটাও হাতিয়ার।  মসি শব্দটি শুনতে নিরাপদ মানায়। কিন্তু ঘটনা কী সত্যিই তাই? মসি-ধারীরা কি নিরাপদ? ওরা কি গ্রেফতার হয় না, নির্যাতিত হয় না, আদালতে উঠে না, জেলে যায় না, ফাঁসিতে ঝুলে না? যদি তাই হয়, তাহলে?

তাহলে তা চিন্তার বিষয়, বুঝার বিষয়, দায়িত্ব তো আছেই। এখানে কেউ নিজেকে ‘মসিধারী’ বললেই সে পরিকুলের কোন নাদুস-নুদুস, অথবা ফেরেশতাকুলের খালাত-মামাত কেউ, এমনটি ধারণা করা ঠিক নয়। আবার কেউ কাউকে অসিধারী আখ্যায়িত করে দিলেই সে নরকের পৈটা -এমন কিছু হয়ে যায় না। বাস্তব জগত এমন সাদা-সিধে হয়ে রূপায়িত হয় না। 

হাতিয়ার

অসি-মসি উভয়ই মানুষের তৈরি। মানুষেরই হাতিয়ার (tools)। তার উদ্দেশ্য সাধনের বাহন। মানুষ যখন তার প্রতিপক্ষের মোকাবেলায় উদ্দেশ্য সাধন করতে যায়, সংঘর্ষে উপনীত হয়, তখন অসি-মসির আপাত পার্থক্য খুব একটা স্থির থাকে না, অনেকটা বিলীন হয়ে যায়। মসি অসিরূপে আসতে পারে। ঔষধের কাজ সুস্থ করা। কিন্তু এই ঔষধও বেশি পরিমাণ খাইয়ে কাউকে মেরে ফেলা যায়। এটা তখন হাতিয়ার (tool) হয়। আজকাল অনেক ধরণের ঔষধ নিয়ে বিমানে চড়া যায় না। ডাক্তারের ছাড়পত্র দেখাতে হয়। তা’ই কোন পক্ষের মসি প্রতীকী ও ব্যবহারে প্রতারিত হতে নেই।

অসি মসির পার্থক্য -কতটুকু ও কোথায়? 

কেউ কলম দিয়ে লিখেন অথবা মুখ দিয়ে বলেন, তা যদি কোন বিশেষ পক্ষের আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিধন-নির্মূলে হয়, তাহলে বিপদও আসতে পারে। সেদিন দেখলাম একজন ইমাম নাকি শেখ মুজিবের শানে উল্টা-পালটা কথা বলার কারণে গ্রেফতার হয়েছেন। এখন হয়ত তার নাকে গরম পানি ঢালা হতে পারে –রূপক অর্থে বলছি (তবে বাস্তব অর্থে হলেও আশ্চর্যের কিছু নেই)। মুজিব কন্যা হাসিনার শানে গত বছর দু-এক আগে ফেসবুকে কে কী বলেছিল এজন্য তাকে নাকি জেল খাটতেও হয়েছে। এদের কারও হাতে কিন্তু ‘চাপাতি’ ছিল না এবং এ জন্য গ্রেফতারও হয়নি।

আমি হাসিনা সরকারের উদাহরণ দিয়ে হয়তবা ভুল করলাম। যারা হাসিনা সরকারের পক্ষের লোক তারা হয়ত নাক উঁচু করতে পারেন। তাই হাসিনা সরকার বাদ দেন, ধর্মও বাদ দেন। উদাহরণের স্থান আরও রয়েছে।

রাজনৈতিক আদর্শ-যুদ্ধের ময়দান ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতার দিকে তাকালে দেখা যাবে যে অসি-মসির পার্থক্য (distinction) সব সময় ধারিত নয়। কমিউনিজমের পক্ষে বিপক্ষে অসংখ্য মসিধারীকে প্রাণ দিতে হয়েছে, নির্যাতিত হতে হয়েছে। এসব উদাহরণ ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, আরব অনারব দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণে পাওয়া যাবে। আবার সরকারকে বাদ দিয়ে, সামাজিক পর্যায়েও মারামারি হাতাহাতির ইতিহাস বিশ্ব জুড়ে বিপুল সম্ভারে পাওয়া যাবে। তাই ‘মসি-হাতে’ বললেই কারো উদ্দেশ্য মহান হয়ে যায় না। সে আগে কী নির্মূল করতে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে তা ভুলে গেলে চলবে না।

সবার কথা ভাবুন –মসি নয়, উদ্দেশ্য দেখুন

মানুষের উদ্দেশ্য-জগত অতিশয় বিপুল। এই বিপুল পরিসরে মসির স্থান রয়েছে বটে তবে তা উদ্দেশ্য জগতের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দেশ্যই প্রধান। বাক, নির্বাক, ভাষিক, প্রতীকী, আকৃতি, ইঙ্গিতী: কাজ কতভাবে করা যায়। ধরুন কোন এক অশিষ্ট পক্ষ, সাংঘর্ষিক কারণে, তার নিজ সড়কে দাঁড়িয়ে বসন উন্মোচন করে, বিনা বাক্য-ব্যয়ে, প্রতিপক্ষকে একটা কিছু ‘বলে’ দিল। অথবা প্ল্যালেকার্ডে কিছু ইতরামি কথা লিখে ‘দেখিয়ে’ দিল। কিন্তু সে তখনো তার নিজ সড়কে দাঁড়িয়ে। হয়তবা তার বিবেক মোতাবেক নিজ ইচ্ছা ও কর্মের স্বাধীনতা ভাবছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ যে সমাজ নিয়ে আছে, তার বসবাসের যে সংস্কৃতি, তার যে শালীনতা, সভ্যতা যা তার পূর্বপুরুষ থেকে প্রাপ্ত এবং তার পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তর করতে আদিষ্ট এবং যা তার কাছে মূল্যবান, সে তো এই ‘অসভ্য’ আচরণে পীড়িত হবে। আবার ঘটনা যদি এই হয় যে, এই অশিষ্টের কোন ‘প্রাপ্ত’ মূল্যবোধ নেই, আবার অন্যের ক্রীড়নক –যাদের উদ্দেশ্য সংঘর্ষ টিকিয়ে রাখা, তাহলে এমন পরিস্থিতি ও পরিবেশে সন্তপ্ত (aggrieved) পক্ষ কী করবে?

বাস্তবতা বরং এভাবে হতে পারে যে একটি শ্রেণীতে হয়ত কয়েক প্রজন্ম ব্যাপী বিয়েশাদী, ধর্মীয় মূল্যবোধ, ঈমান-আমল হারিয়ে গিয়েছে। এখন তাদের মধ্যে বিয়েশাদির বাইরে যৌন-আচরণ ও সংস্কৃতি স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। অন্য শ্রেণী হয়ত এখনো ধার্মিক, প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ নিয়ে বেঁচে আছে; এখানে মা-বাপের মান-মর্যাদা, ধর্মীয় আচার-আচরণ, ধর্মীয় নৈতিকতা পালিত হচ্ছে। এখানে তাদের বিশ্বাসের সত্তা: আল্লাহ-রাসূল তাদের মা-বাপের চাইতেও অধিক সম্মানজনক। ওদের প্রতি তাদের ভালবাসা তাদের জীবনের চাইতেও অধিক মূল্যের। এখানে যদি আল্লাহ রাসূল নিয়ে ইতরি ভাষায় গালাগালি হয়, লেখালেখি হয়, আর বলা হয়, ‘আমরা মসি দিয়ে তোমাদের এই অন্ধ প্রথা ও বিশ্বাস দূর করে দেব, তোমাদেরকে সভ্য করব, বিজ্ঞান শেখাব, মানুষ বানাব, তাহলে কি হবে? এই পরিস্থিতিতে এখন সন্তপ্ত পক্ষ কি করবে? অথচ গণতান্ত্রিক দিক দিয়ে তাদের অবস্থান বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ!

নাগরিক সভ্যতা কী করবে?

এখানে আইনের দিকে না তাকিয়ে উপায় নেই। তবে আইন অবশই থাকতে হবে। আইনের সুস্থ আচরণ থাকতে হবে। তারপর এই অঙ্গন থেকে ‘বাক-স্বাধীনতা’ সংজ্ঞায়িত হতে হবে, সীমা নির্ধারিত হতে হবে, না হলে বিপদ আসন্ন।  একটি অতি ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিদেশি কলোনাইজারদের সাহায্য-সহযোগিতায় সংখ্যাগরিষ্ঠদের আদর্শ ও মূল্যবোধের উপর আগ্রাসী হয়ে উঠতে দেয়া যেতে পারে না। মানুষ কেন সমাজ ও সরকার গড়ে? এখানে ইতর ভদ্র সবাই বাস করবে এবং কারো অধিকার যাতে খর্ব না হয় সেই ব্যবস্থাও থাকতে হবে। কিন্তু আইন অচল হলে সমাজ থাকবে না। আইন বেআইনি হলেও থাকবে না।

সমাজ নানান উপাদানে গঠিত। তসবীর দানার মত সম্পর্কিত। এতে আছে বিভিন্ন বিশ্বাস, মূল্যবোধ, প্রথা, ঐতিহাসিকতা। এসবের সমন্বয় অটুট রাখার বাস্তবতা আবহমান কালের। কেউ যদি এই আবহমান কালের বিশ্বাস, প্রথা, মূল্যবোধ ধ্বংস করতে চায়, এবং এই কাজ করতে পারাতেই তার স্বাধীনতা দেখে, তার অধিকার দেখে, সভ্যতা দেখে, তবে এই সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে?

কেউ ব্যক্তি স্বাধীনতা, মসি, বিজ্ঞান, প্রগতি ইত্যাদি আওড়িয়ে গেলেই সভ্য হয়ে যায় না। আবার কেউ এগুলো না আওড়ালে সে অসভ্য হয়েও যায় না। দায়িত্বের দিকে তাকাতে হবে, সমাজের দিকে তাকাতে হবে। কেউ কখনো আইনকে নিজ হাতে তোলে নিতে নেই। আইনি ব্যবস্থায়  অবিচল থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে আইনের বাইরে কোন সমাধান নেই।

কিন্তু এতেও আইন, আলোচনা ও সমঝোতা আসতে হবে। যারা ‘মসি-হাতে’ ফাঁকা বুলির আস্ফালন, গালমন্দ করেন তাদেরকে দায়িত্বের সমঝে আসতে হবে।

মসিওয়ালার দায়িত্ব কি?

মসিওয়ালার দায়িত্ব হল কালি যেন চর্তুদিকে না ছড়ায়, অন্যের কাপড় যাতে নষ্ট না করে; ব্যক্তিক ও সামষ্টিক উপবেশনের স্থান কালিমাময় না করে। তারপর মসিকে যদি তীর ভাবা হয় তবে সেই তীর যেন অন্যের ঘাড়ে গিয়ে না পড়ে।  তারপর লিখা 'শিখতে' হবে, দায়িত্ব বুঝতে হবে। লিখার প্রথায় সভ্য আচরণ আসতে হবে।

সামাজিক পরিবর্তন ও সাম্রাজ্যবাদ

বলা হয় বাংলাদেশ হচ্ছে ৯০% মুসলমানের দেশ। এই ভূখণ্ড তিন দিক থেকে ভারত কর্তৃক বেষ্টিত (তবে শক্তির দিক থেকে বলতে গেলে চার দিকেই এই আবেষ্টন)। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতির প্রেক্ষিতে মুসলমানদের এই সংখ্যাটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং হয়ত এখানেই আপনা মাসে হরিণা বৈরী।

এই আলোকে একটু পিছনের দিকে তাকানো যেতে পারে। আজকের বাংলাদেশে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এক শ্রেণীর লোক জাতীয় সম্পদ লুট করেছে এবং করছেও। এতে রয়েছে ব্যাঙ্ক, বিমান, মৎস্য, বন, প্রকৃতি: ব্যাপক হরিলুট। ঘোষ তো আছেই। এদের ব্যবসা বাণিজ্য ও ব্যাঙ্ক একাউন্ট সাম্রাজ্যবাদীদের দেশে, তাদের নিরাপত্তায়। মনে রাখা দরকার, নব্য-সাম্রাজ্যবাদের বাহ্যিক রূপ আগের মত নয়। এই বিগত কয়েক দশকে যেসব দেশে বিপর্যয় হয়েছে এবং এক শ্রেণীর লোক জাতীয়সম্পদ হরিলুট করেছে, তাদের বিষয়টি পাঠ করা যেতে পারে।  তাদের টাকা পয়সা কী নিজ দেশে রেখেছে না ইউরোপ আমেরিকায় সঞ্চয় ও নিয়োগ করেছে? এরা যে ডাকাত তা কি এই দেশগুলো জানে না? রাশিয়ার পরিচিত ডাকাত ব্রিটেনে এসে কীভাবে বড় আকারের ব্যবস্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়, সুযোগ পায়? এই রাশিয়া থেকে বাংলা, পাকিস্তান, আফগান, ইরাক সিরিয়া ইত্যাদি দেশের চোরগুলো কেবল বিগত ২০ বছরে যে টাকা লুট করেছে সেই টাকা এখন কোথায়? এদের ছেলেমেয়েরা কোন ভাষায় কথা বলে? এদের জীবন প্রণালী কীরূপ? এই সাম্রাজ্যবাদ কী আদর্শ ও সংস্কৃতি বিবর্জিত? এসব কী নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত স্থাপিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়? এই সাম্রাজ্যবাদ ও ধনতন্ত্র কী ওতপ্রোত নয়? এই নিয়ন্ত্রণের বাজারে কী ক্যাপিটাল ইনভেস্ট করতে হয় না? লোকজন লাগে না? এখানে কী এই আদর্শ ও বিশ্বাসের শ্রেণী তৈরির প্রয়োজন হয় না?  সব কিছু মিলিয়ে আজকের সমাজে অনেক জটিলতা এসেছে। 

হেমলিনের বংশী সুরে মোহগ্রস্ত

আজকের এই কন্ট্রোল, বাক-স্বাধীনতা, এই গণতন্ত্র, এই সন্ত্রাস –এসব যারা বুঝে নি বা বুঝার পরিসর ও বাস্তবতায় উপনীত হয় নি, তাদেরকে হেমলিনের বংশী দিয়ে পাগল করা হচ্ছে। বুঝে, না বুঝে সুরের পিছনে ছুটে চলেছে। উঠছে, পড়ছে, আর যাচ্ছেই। অপ্রয়োজনীয়ভাবে  সংঘর্ষ সৃষ্টি করছে।  যে যুদ্ধ তার নয়, সেই যুদ্ধও করছে। কিন্তু কেন এমন হবে? কেন মিথ্যাচারের মাধ্যমে যুবক-যুবতিদেরে এমন এক প্রোপাগান্ডা ‘ডিসকোর্সে’ ঢুকানো হবে যা বুঝার ক্ষমতা, জ্ঞান, পড়াশুনা তাদের অনেকের নেই? আজ বিশ্বের দিকে তাকিয়ে হয়ত অনেকের বলতে ইচ্ছে করছে: কেন একটি সর্বগ্রাসী বৈশ্বিক ব্যবস্থায় সমাজ উলট পালট হচ্ছে, ধ্বংস আর  ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে?   

‘… যাহা আসে কই মুখে’

আমার কথাগুলো ঠিকভাবে বলতে পারছি কী না জানি না। চাচ্ছি সকল জটিলতাকে সামনে রেখে কিছু কথা বলতে।

এবারে অন্য একটি দিক আলোচনা করি।   যে ভৌগলীক ভূখণ্ডের ‘খণ্ডিত-সুরে’ এখন নৃত্য চলছে, সেই ইউরোপের মিলিটারিজমের বিষয়টি দেখুন। এই মিলিটারিজমের ইতিহাস হচ্ছে হাজার হাজার বছরের ইতিহাস। এখানে সর্বদাই দুই ধরণের লেখা রয়েছে -একটা পাবলিকের জন্য আর অন্যটা ক্লাসিফাইড –গোপন, শাসকদের জন্য। তাও রাজকীয় লাইব্রেরী ভিন্ন।

এই মিলিটারিজমকে যদি কেবল খৃষ্টপূর্ব ষষ্ট শতকের ক্লাইস্তেনিস (Cleisthenes) থেকে শুরু করে আধুনিক কালের সাম্রাজ্যবাদ পর্যন্ত আসেন তবে চোখ ঘুলিয়ে যাবে। এখানে দেখা যাবে এই যে সেদিন থেকে অস্ত্র শানিত হচ্ছে, সেই শান এখনও দেয়া হচ্ছে। এখান থেকে বড় আকারের হিংস্র কাজ হয়ে যেতে পারে এবং যৌথভাবে (in corporation) করা হয়ে যেতে পারে। এই ধরণের কাজ সবাই করতে পারে না। আধুনিক বিজ্ঞানের মূলনীতি মুসলমানদের কাছে মধ্যযুগ থেকে থাকলেও তারা এই হিংস্রতা এবং প্রকৃতি-বিপর্যয়ের মাধ্যমে, বেপরোয়াভাবে, যৌথ উদ্যোগ সহকারে নিতে পারেনি, তাই সেই জ্ঞান মাটির লেভেল থেকে উঠতে পারে নি। হিরোসীমা নাগাসাকীর ঘটনা মুসলমানদের পক্ষে সম্ভবই হত না। গান-পাউডার পেলেও মাস-মার্ডারের বন্দুক তৈরির চিন্তা আসত না। এই মানসিকতার লোক আমেরিকায় গিয়ে সেখানকার জনবসতিকে কীভাবে নিশ্চিহ্ন করেছিল এবং খেলার উদ্দেশ্য কীভাবে গরু, মহিষ, পশু পাখী নিধন করেছিল তা এখনো শুনতে লোমহর্ষ হয়। 

এই মিলিটারিজমে যে বিপুল ‘প্রোপাগান্ডা’, মিথ্যাচার জড়িত –এসবেরও সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এগুলো সঠিক পথে অনেক বৎসর অধ্যয়ন না করলে কেউ বুঝতে পারবে না।

চিন্তা করুন, যে গৃহে একটি আলোচনা দুই মাস ধরে চলছে, আপনি সেই ঘরে ঢুকে কী সহসা সেই আলোচনা বুঝে ফেলবেন? কোন পক্ষ কোন কথা কোন কারণে এবং কোন উদ্দেশ্যে বলছে তা বুঝতে পারবেন না। কিন্তু যে আলোচনা হাজার বছর ধরে চলে আসছে সেই আলোচনা আপনি পদার্থ বিজ্ঞান বা রসায়ন বিজ্ঞান পড়েই কী বুঝে ফেলবেন? এই সমস্যাই হচ্ছে আজকের নব্য উগ্র বঙ্গাল নাস্তিকদের। আজকে অপরের যুদ্ধে বিজ্ঞানের নামে হেয়ালীভাবে ঢুকে পড়ছে।  আর এতে ধনতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদী আদর্শের গ্রাউন্ড-ওয়ার্ক তাদের মাধ্যমেই হয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে ‘ক’এর যুক্তি দেখিয়ে ‘খ’-এর বক্সে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।

আজকে যারা হেমলিনের বংশী-সুরে নৃত্য করছে এই শ্রেণির দিকে তাকান। এদের বয়সের দিকে তাকান। এদের শিক্ষার প্রেক্ষিত দেখেন। বিগত কয়েক দশকে বাংলায় হরিলুটের মাধ্যমে যে সামাজিক পরিবর্তন এসেছে এবং এতে যে সামাজিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে সেসবের সাথে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের বিষয় দেখুন। এখানে অনেক জটিলতা আছে। তারপর এসবের সাথে ভারতবেষ্টিত আঞ্চলিক অবস্থান দেখুন। তারপর ইসলাম বিদ্বেষী প্রোপাগান্ডা সাহিত্যের দিকে তাকান এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন মুসলমানরা কী সত্যিই বিজ্ঞান বিমুখ? সত্যিই কী বিজ্ঞান ও মুসলমান এবং বিজ্ঞান ও ইসলামের মধ্যে এমন কোন বিরোধ বিরাজমান যে কেউ বিজ্ঞান চর্চা করতে গেলে মুসলিমরা সন্ত্রাসী হয়ে উঠবে? যদি এমন কিছু না থাকে, তবে কেন খামাখা বিবাদের ইন্দ্রজাল সৃষ্টি করা হবে? কেন অন্যের ধর্ম ও মূল্যবোধের উপর আঘাতের আন্দোলন সৃষ্টির প্রয়োজন হবে? কেন এসবের মাধ্যমে প্রাণহানি হবে? প্রাণ যারই হোক না কেন। একটি প্রাণের সাথে আরও কত প্রাণ জড়িত, পরিবার জড়িত, একটি সমাজ জড়িত –এসব কী দায়িত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে না? আল্লাহর ওয়াস্তে শান্তি ও সমঝোতার ভাষা আসুক, প্রজ্ঞার উদয় হোক।  

বিজ্ঞান ও মুসলিম বিশ্ব

ইসলাম ও মুসলিমগণ কী বিজ্ঞান বিরোধী? এই ধর্মে কী বিজ্ঞান পাঠ হারাম ঘোষিত? ইসলাম তো ‘পাঠের’ অনুজ্ঞায় শুরু হয়েছে। ‘লেখার’ মাধ্যমে মানুষ যে অগ্রগতি লাভ করেছে সেই লেখার প্রথাকে স্বীকৃতি দিয়েই এসেছে; আল্লাহ নিজেই বলেছেন তিনিই মানব মনে লেখার উপায় জাগ্রত করেছেন, কলমের প্রথা বা লেখা শিখিয়ে দিয়েছেন। প্রথম দিনের অহীর বাক্যাবলী এভাবেই ছিল: “পাঠ করুন (হে মুহাম্মাদ, জিব্রাইল যা বলেন তা আপনি তা পাঠ করুন এবং বিশ্বাসীদেরকে তা পাঠ করান)। আপনার পালনকর্তার নামে (পাঠ করুন) যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা অতিশয় মহান। যিনি মানুষকে কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না। নিশ্চয় মানুষ সীমালঙ্ঘন করে থাকে, কারণ সে নিজেকে স্বয়ংসমৃদ্ধ দেখে” (৯৬:১-৬)।

জ্ঞানীদেরকে আল্লাহ মর্যাদা দান করেছেন। জ্ঞানের পক্ষে অসংখ্য আয়াত ও হাদিস বিবৃত রয়েছে এবং এই জ্ঞানের পথে মুসলিম উম্মাহ বিগত ১৪ শো বছর ধরে হেঁটে চলেছেন। ইউরোপ যখন অন্ধকারের যুগে, তখন মুসলিমরা জগতে জ্ঞানের আলো উজ্জ্বল করছেন এবং এখনো তারা জ্ঞান বিজ্ঞানের সপক্ষে। একটি বার চোখ বন্ধ করে চিন্তা করুন, সত্যিই কি ইউরোপ মসিধারী আর ইসলাম অসিধারী? এখন যেসব দেশে যুদ্ধ চলছে এগুলোর উৎপত্তি কোথায়? কারণ কি?

এবারে আপনি ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ও সিলেবাস দেখুন। তারপর মুসলিম বিশ্বের ইউনিভারসিটি ও কলেজগুলোর দিকে তাকান। দেখবেন পদার্থ বিজ্ঞান হোক অথবা রসায়ন, সমাজবিজ্ঞান হোক অথবা রাষ্ট্রবিজ্ঞান –সবগুলোই মুসলমানরা অধ্যয়ন করছে। দানের টাকায় প্রতিষ্ঠিত ইসলামী মাদ্রাসাগুলো পরিদর্শন করে দেখুন। সেখানেও দেখবেন যতটুকু বিজ্ঞান পড়ানো তাদের কেপাসিটির ভিতরে রয়েছে ততটুকু পড়ানো হচ্ছে। তারা সব বিজ্ঞান পড়ানোর জন্য সরকারী সাহায্য নিতেও প্রস্তুত যদি সে সাহায্য তাদের মাদ্রাসা কন্ট্রোলভুক্ত করতে না হয়। খামাখা একটি শ্রেণির প্রতি বিদ্বেষী, আক্রোশি হওয়াতে বিজ্ঞান বর্ধিত হয় না, এতে বরং সমাজ বিভক্ত হয়, যা সাম্রাজ্যবাদের পক্ষের বিষয় হয়।

বিজ্ঞান পড়া হারাম –এমন ফতোয়া কী ইসলামী বিশ্বে আছে? যদি না থাকে, তাহলে এই ছেলেমেয়েদেরকে নাস্তিকতায় কারা উগ্র বানাচ্ছে? আজ ইসলাম বিদ্বেষী ইউরোপীয়/জায়নবাদী প্রোপাগান্ডা সাহিত্যের মাধ্যমে যাদের মাথা ধোলাই দেয়া হচ্ছে, সেই সাহিত্যের ঐতিহাসিকতা কী? এগুলো কী জানার দরকার নেই? আজকে যাদেরকে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও  বিজ্ঞানের নামে পরধর্ম অসহিষ্ণু করে তোলা হচ্ছে –এর মূলের রহস্য কী, কারণ কী? এই আন্দোলন ও উগ্রতার সাথে কী সাম্রাজ্যবাদী আদর্শ ও শিক্ষা সংস্কৃতির সম্পর্ক নেই? আমি ইউরোপের সবকিছু মন্দ বলছি না। সব সমাজে ভাল-মন্দ থাকে। সব সমাজ থেকে কিছু না কিছু শেখার থাকে। আমি মন্দের বিপক্ষে বলছি। ইউরোপেও এই সাম্রাজ্যবাদী ধনতান্ত্রিক আদর্শের বিপক্ষে বলিষ্ঠ আওয়াজ রয়েছে। আমি নতুন কিছু বলছি না।

কোন বিজ্ঞানীর আবিষ্কারে বাধা পড়ল?

বিজ্ঞানের নামে যেসব ছেলেমেয়েদের মাথা ধোলাই দেয়া হয়েছে এবং সাম্রাজ্যবাদের অনুকূলে লিখিত ইসলাম বিদ্বেষী সাহিত্য দিয়ে ইসলাম ও মুসলিম আক্রমণমুখী করে তোলা হয়েছে তাদের দিকে আরেকটু লক্ষ্য করুন। এরা কোন পর্যায়ের বিজ্ঞানী? তাদের আবিষ্কার কী? বিজ্ঞানে স্মর্তব্য অবদান কী? তারা কেন এত আক্রোশি-বিদ্বেষী হয়ে উঠল? তারা মানব জাতির কল্যাণের উদ্দেশ্যে কোন কোন আবিষ্কার করতে গিয়েছিল আর মধ্যযুগে পড়া-থাকা মুসলমানদের বাধার কারণে মানবজাতি সেই কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল? এমন কি কোন নজির আছে? যদি না থাকে তবে কেন এত বিবাদ, কেন এত চিল্লাচিল্লি?

মূল কথা হচ্ছে ইসলাম ও মুসলমানগণ বিজ্ঞানের বিরোধী নয়। বরং ঝোপ-জঙ্গলে যে হৈচৈ হচ্ছে তা করছে বানদের দল –এক ডাল থেকে অন্য ডালে লম্ফ-ঝম্প দিচ্ছে আর বিকট শব্দ করছে। এখানে বিজ্ঞান নয় বরং মুসলিম বিশ্ব বিবর্তনবাদে সাড়া দিচ্ছে না, যে কয়জন সাড়া দিয়েছে তারা প্রাণখোলে সাড়া দেয় নি। কেবল মিন মিন করে ‘হ্যাঁ’ বলেছে আর ‘সন্দেহ’ও প্রকাশ করেছে। কিন্তু নাস্তিকতা গিলে নি। আর এতে বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদের ধনতান্ত্রিক আদর্শের মোকাবেলায় ইসলাম ‘খাড়া’ থেকে যায়। শেষ হয় না। কিন্তু হাজার বছরের প্রজেক্ট এই ধর্মের মোকাবেলায় আটকে যেতে পারে না, এটাকে ধরাশায়ী করতে হবে। এখানেই হয়ত 'বিজ্ঞান বিমুখীতার' আওয়াজ। ওয়াল্লাহু আ'লাম।

২১ comments

Skip to comment form

  1. 8
    নির্ভীক আস্তিক

    বরাবরের মতই দুর্দান্ত। একটি ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন বাংলাদেশের মৌলবাদী নাস্তিক সম্প্রদায়ের এই হিংস্র সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডগুলো  অনেকটা সেই স্ট্যালিনের রাশিয়াতে ধর্মকে Lampooning করার  মাধ্যমে এর প্রতি মানুষের অনুরাগী হওয়ার মানসিকতা নষ্ট করার  যে সংস্কৃতি ছিল তারি প্রতিফলন। আপনাকে ধন্যবাদ। 

    ভাই, ভাল থাকবেন। আর আমার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করবেন। অনেক বিপদে পড়ে গেছি।
     

    1. 8.1
      এম_আহমদ

      @নির্ভীক আস্তিক: ভাই সালাম। আপনার মন্তবটি আগে নজরে পড়েনি। আল্লাহ আপনাকে বিপদমুক্ত করুন -এই দোয়া করি।   নিশ্চয় সব কঠিন অবস্থার পর সহজতা রয়েছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি শীঘ্রই যেন অবস্থার উন্নয়ন করেন। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আযীমুল হালীম; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আযীম; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদি ওয়া রাব্বুল আরশিল কারীম।”  আমীন।

  2. 7
    এস. এম. রায়হান

    আচ্ছা, এই "অসি বনাম মসি" যুদ্ধে জিতছে কারা! মসিওয়ালারা তো তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিপক্ষের সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে অনেক আগেই হেরে গেছে।

    1. 7.1
      এম_আহমদ

      ঠিক, তবে  বিষয়টির  আরেকটি দিক হয়ত দেখা যেতে পারে। যে কর্মকাণ্ড মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক প্রেক্ষিতে শুরু হয় নি বরং ‘বুদ্ধিবৃত্তিক’ শব্দটিকে অসাধুভাবে অন্য উদ্দেশ্যে টেনে আনা হয়েছে সেই কর্মকাণ্ডকে বুদ্ধিবৃত্তিক বিচারে নিরূপণ করা কঠিন। অর্থাৎ যে বস্তু যা নয় সেই বস্তু অন্য বস্তুর গুণে বিবেচিত হতে পারে না। আপনারা আমার অনেক আগ থেকে এদের ক্যাচর-ম্যাচর দেখে আসছেন। এই লোকগুলো বিজ্ঞানের নামে চেচাম্যাচি করলেও তাদের কয়জন বিজ্ঞান নিয়ে লেখে আর কয়জন সেই লেখায় তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করতে যায়? তারপর বিজ্ঞান নিয়ে তো কার সাথে সমস্যার কিছু নেই। হাজার হাজার মুসলমান বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান লেখক রয়েছেন। কিন্তু তারা যখনই বিজ্ঞান বাদ দিয়ে পরধর্ম আক্রমণ, গালাগালি, ইতরামি শুরু করে তখনই তাদের আলোচনা জমে, আর সেই আলোচনা হয় বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা! তারপর অতি নিম্ন স্তরের যুক্তি ও বুদ্ধি দেখে যখন অন্যরা হাসি সামলাতে পারছে না তখন দেখা যাবে আরেকটা এই বলে চামচামি করছে, ‘দাদা দারুণ হয়েছে, অপূর্ব লেখা!’  অভিজিত রায় নাকি গবেষক ছিল। ঠিক আছে, হয়ত বিজ্ঞানের কোন ক্ষেত্রে ছিল। কিন্তু ধর্ম বিষয়ে এসে কী শুরু করল? গবেষণাধর্মী  কাজের প্রথম বিষয় হচ্ছে যে যে বিষয়ে গবেষণা করা হবে সে বিষয়ে ময়দানে কী আছে তার অনুসন্ধান করা। মত-দ্বিমত সবগুলো দেখা। কিন্তু ধরুন গবেষক যদি কোন অজানা উৎস থেকে কোরানের ‘চেপটা’ জগতের ধারণা শুনে থাকে তবে সে তা বিনা অনুসন্ধানে গ্রহণ করতে পারে না। আমি তো আশ্চর্য হয়ে দেখলাম অভিজিত রায় চোখ বুজে, সব অর্থ একপাশে রেখে, কফিবারের আলোচনার মত তার চেপটার ধারণা চালিয়েই যাচ্ছে। গবেষকের অভিজ্ঞতা যদি ‘চেপটা’ জগতের ধারণাকে সমর্থন করে থাকে তবে প্রথমে বাকিরা কেন ‘চেপটা’ বলেনি সেই ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেই সেই শব্দের ক্লাসিক্যাল কালের সিঙ্ক্রোনিক এবং ডায়াক্রোনিক সেমান্টিক রূপ প্রদর্শন করে তার গৃহীত অর্থের যুক্তি উপস্থাপন করবে। তারপর অন্তত ইংরেজিতে বিগত কয়েক শো বছর ধরে যে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে তা দেখিয়ে আলোচনা দাঁড় করাবে। বিষয়টি তো গবেষণা হতে হবে। কিন্তু তা হয়নি। আবার দেখুন, কোন গবেষণার ধার না ধারে এই বিশ্বের ইতিহাসের যাবতীয় যুদ্ধের জন্য ধর্মকে দায়ী করে নেয়া এবং এটাকে সামনে রেখে ধর্ম নির্মূলের যুদ্ধ শুরু করা এটা কীভাবে কোন গবেষকের কাজ হতে পারে? এসবের মধ্যে মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক কিছু ছিল না। তাই বুদ্ধিবৃত্তিক বিচারে জিতার প্রশ্নই আসে না।

      তারপর সেই প্রথম থেকে তাদের মোকাবেলার সিস্টেমেটিকভাবে যে উত্তর দেয়া হয়ে আসছে এগুলোর বিচার করলেই দেখা যাবে প্রকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক মসি কোথা থেকে চালিত হচ্ছে।

  3. 6
    এম_আহমদ

    আমি গতকাল আকাশ মালিকের “সুন্দর পৃথিবীর” একটি সুবিমল চিত্র দেখতে পেলাম যা নিচের ভিডিও চিত্রে প্রস্ফুটিত হয়েছে। কতনা সুন্দর এই জগত! লিঙ্কটা আপনারা সবাই দেখে ফেলেছেন কিন্তু প্রসঙ্গত আরেকবার দেখাতে ক্ষতির কিছু নেই, তবে বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ, সভ্যতা ভুলে গেলে চলবে না। Opps! আরও দুটি শব্দ বাকি রয়েছে: মুক্তমনা, মুক্তচিন্তক। আহারে আঁখি জল! বিমল হৃদি বিহনে তারে কে বুঝিবে বল? যাক, ইতরামি চর্চার মাধ্যমে এরাই বুঝি ইসলাম নির্মূল করে ‘এই সভ্যতা’য় স্বর্গ গড়বে? বিনোদন।

    এই আশামনিরা আছে বলেই পৃথিবীটা এত সুন্দর -আহ! বচনটা যেন সুফি-মার্কা। এই রকমের চরিত্র পৃথিবীর উপর প্রভাব বিস্তার করছে -বিজ্ঞান বটে! দারুণ বিজ্ঞানমনষ্ক! সদালাপের ভাইগুলো কী বিজ্ঞান পড়ল, কিছুই বুঝে না।

    [১] আশা মনির ভিডিও:

    https://www.youtube.com/watch?t=173&v=sliSTI0UDNQ

    https://www.youtube.com/watch?v=GxmwoRaaY1E

    [২] আকাশ মালিকের মন্তব্য:

    আকাশ মালিক অগাস্ট ৯, ২০১৫ at ৪:১২ অপরাহ্ন যেতে হবে অনেক দুরে বাধার পাহার ভেংগে গড়ে। এটা আশা মণির ফেইসবুক থেকে নেয়া। দেখলাম পড়লাম আর কাঁদলাম। এত সুন্দর মনের মানুষ পৃথিবীতে আছে বলেই এখনও পৃথিবীটা সুন্দর।  Link

    [৩] এবারে কোরান। “আমি আমার নিদর্শনসমূহ হতে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে গর্ব করে। যদি তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে ফেলে, তবুও তা বিশ্বাস করবে না। আর যদি হেদায়েতের পথ দেখে, তবে সে পথ গ্রহণ করে না। অথচ গোমরাহীর পথ দেখলে তাই গ্রহণ করে নেয়। এর কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে মনে করেছে এবং তা থেকে বেখবর রয়ে গেছে।” (7:146)

    1. 6.1
      আহমেদ শরীফ

      'আকাশ মালিক' সৃষ্টির এক বিচিত্র বিস্ময় ! অতি দূর্লভ গোত্রীয় বিরল প্রজাতির প্রাণী।

      1. 6.1.1
        নৈর্ব্যক্তিক

        অভিজিতের সৃষ্ট এই অতি দূর্লভ গোত্রীয় বিরল প্রজাতির প্রাণীকে লন্ডন চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণ করা হউক।

    2. 6.2
      এম_আহমদ

      আকাশ মালিকের একটি মন্তব্যের সারনির্যাস:

      * স্বঘোষিত নাস্তিকরাও বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত! [আহারে!]

      * বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত গোটা সমাজ -সমস্ত জাতি [ তাহলে এখন কী করা?]

      * রক্ত বিপ্লবের প্রয়োজন; রক্ত ছাড়া বিপ্লব সাধন হয় না -এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য [মনে রাখবেন]

      * ভাইরাসমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় শহিদ(দের) রক্ত বৃথা যাবেনা [তোরা সব জয় ধ্বনি কর]

      প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বঘোষীত নাস্তিক পর্যন্ত বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত গোটা সমাজ সমস্ত জাতি। নজরুন বলতেন- যে হাত বাঘে খেছে তাকে কেটে ফেলাই উত্তম। পঁচে যাওয়া হাত একদিন মগজও পঁচিয়ে দিবে। রক্তক্ষয়ী বিপ্লব ছাড়া এ থেকে পরিত্রাণের সহজ সল্প কোন পথ নেই। বিশ্বাসের ভাইরাসমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শহিদ হওয়া আমদের তরুণদের রক্ত বৃথা যাবেনা। আমাদের হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। রক্ত ছাড়া বিপ্লব সাধন হয় না এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য। আমরা আজ চতুর্দিক থেকে শত্রুবেষ্টিত। আমরা সংখ্যায় কম, কৌশল অবলম্বন করতে হবে (আকাশ মালিক)। Link

      ||ভাইরাসমুক্ত ও ভাইরাস আক্রান্ত নাস্তিক||

      দেখা যাচ্ছে অনেক নাস্তিক ‘সহিহ’ নাস্তিক নয়, স্বঘোষিত নাস্তিক (?),  বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত!  ‘প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বঘোষিত নাস্তিক পর্যন্ত বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত।’ তাহলে, ব্যাপারটা কী? নাস্তিক অঙ্গনে নতুন পার্থক্য? এখন হয়ত স্বঘোষিত নাস্তিকগণ ভাইরাসমুক্ত নাস্তিকদের কাছ থেকে সহিহ নাস্তিকের সনদ নিতে হবে -ভাইরাস আছে কী না তা 'বৈজ্ঞানিক উপায়ে' পরীক্ষা-নিরীক্ষা  করে দেখতে হবে। তা না হলে ভাইরাসমুক্ত সমাজ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে?  যাকগে, আমরা এ নিয়ে আর কি কমু। তবে প্রশ্ন করতে পারেন, ভাইরাসমুক্ত সহিস নাস্তিকগুলো কারা? আমরা হয়ত আগামীতে ভাইরাসমুক্ত সহিহ নাস্তিকনামার বিবরণ ও সংজ্ঞাও পাব। 

      তবে বিদেশ থেকে দেশের মাটিতে রক্ত-ঝরা বিপ্লবের বাণী ও ভাষা অনেকের কাছে শিহরণ জাগানো অনূভূত হতে পারে। এবং এতে  "কৌশলের" দিকটাও স্পষ্ট দেখা যেতে পারে। দূর-সুদূরে বসে রক্তের কথাবার্তা sanitised লাগতে পারে। কিন্তু যে মায়ের বুক খালি হবে –সে'ই বুঝবে সেই রক্ত কত করুণ। বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত জাতি আর বাঘে কামড়ানো হাত কাটার যুক্তি -এসব তো সাধারণ কথাবার্তা নয়।

      কেউ ‘শাহাদতের’ বাণীর উপর কিছু মন্তব্য করলে ভাল হয়। আমার আর বলতে ভাল লাগছে না।

      1. 6.2.1
        দেশে বিদেশে

        এই আকাশ মালিক ছিল অভিজিত রায়ের সবচে' বিশ্বস্ত মুরিদ। অথচ অভিজিতের ২য় স্ত্রী বন্যা আহমেদ কিছু দিন আগে লন্ডনে ইসলামিক জঙ্গিবাদের উপর বক্তৃতা দিতে যেয়ে নিরাপত্তাজনিত (?) কারনে আকাশ মালিকের সাথে দেখা করেন নি! অভিজিত হত্যাকান্ডের পর তারা নিজেরাই নিজেদেরকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না!

    3. 6.3
      এম_আহমদ

      শ্রমিক, নৈর্ব্যক্তিক, আহমেদ শরীফ, দেশে বিদেশে –আপনাদের সবাইকে এই আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।

  4. 5
    Ivan

    এককথায় চমৎকার।
     

  5. 4
    এম_আহমদ

    বিদেশি স্বার্থের উগ্র দালালগণ দেশে চরম বিপর্যয় আনতে পারে

    উগ্রমনাদের প্রোপাগাণ্ডার প্রকৃতি নিয়ে আরও কয়েকটি কথা বলতে যাচ্ছি। আমার সতত মনে হয় যে এই উগ্রদের একটি অংশ আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল চক্রের অন্তর্ভুক্ত। এরা হয়ত দেশটাকে দ্রুত বিপর্যয়ের মুখামুখি করতে চায়। যেকোনভাবে মুসলিম সমাজকে আক্রমণ করে তাদের কোন একটি সম্প্রদায়কে সংঘর্ষে জড়িয়ে আনতে চায়। সমাজে কত ধরণের ও কত মেজাজের লোক আছে, যেখান থেকে যেভাবেই হোক প্রতিক্রিয়া (reaction) আসলেই হয়।

    এদের কাজ হচ্ছে ইসলাম বিদ্বেষী প্রোপাগান্ডাকে কলমের ভাঁওতাবাজিতে চালিয়ে নেয়া। এদের মিথ্যাচারের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে:

    (ক) “অযথোচিত” (inappropriate) শব্দে বিশেষ বিশেষ ঘটনাকে জড়ানো

    (খ) অপব্যাখ্যার ইন্দ্রজাল সৃষ্টি

    (গ) ইউরোপীয় মূল্যবোধে ইসলামি প্রথার মূল্যায়ন

    (ঘ) অপ্রাসঙ্গিক ও বিচ্ছিন্ন উদ্ধৃতি টানা

    (ঙ) বর্ণনার দুর্বলতা/সবলতা না বুঝে অথবা বুঝে মিথ্যাশ্রয়ি ব্যাখ্যা টানা

    (চ) যে মিথ্যা ব্যাখ্যায় স্পষ্ট দলিলের প্রয়োজন সেখানে দলিল না দেখিয়ে যেখানে অবজেকশনের কিছু নেই সেখানে উদ্ধৃতি টানা যাতে পাঠকের মনে এই ধারণা জাগে যে লেখকের পড়াশুনা আছে এবং ‘উদ্ধৃতি’দিতে পারছে।

    এমন আরও অসংখ্য বিষয় রয়েছে যার জন্য আলাদা প্রবন্ধের প্রয়োজন।

    উগ্রদের প্রোপাগাণ্ডার একটি লিস্ট রয়েছে। লিস্টের একটি হচ্ছে আয়েশার (রা) সাথে রাসূলুল্লাহর (সা) বিয়ে। আমি এখান থেকে একটি উদাহরণ নেব এবং কীভাবে “অযথোচিত” (inappropriate) শব্দ আরোপণ করে প্রোপাগাণ্ডা সাজানো হয় তা দেখতে যাব।

    এই বিয়েকে মুর্খমনারা “শিশুকামিতা” আখ্যায়িত করে নাস্তিক যুবসম্প্রদায়কে প্রোপাগাণ্ডায় উৎসাহিত করে।      

    অতি সংক্ষেপে আয়েশার (রা) বিয়ের বিষয়টি দেখলেই সাম্রাজ্যবাদী দালাল চক্রের ইতরামি অনুভব করা যাবে। এরাই আবার স্বঘোষিতভাবে শার্লি-এব্দোর বঙ্গাল রিপ্রেজেন্টেটিভ, "বিজ্ঞান-মনষ্ক মুক্তমনা"!

    ||শিশুকামিতা||

    আয়েশার (রা) বিয়ের ব্যাপারে বিভিন্ন রেওয়ায়েত বা বর্ণনা আছে। কোন বর্ণনায় তাঁর বয়স ১৩, কোন বর্ণনায় ১৪, কোন বর্ণনায় ১৭ ইত্যাদি। এক বর্ণনায় আছে ৯ বছর আছে। এতে এও রয়েছে যে ৬ বছর বয়সে তাঁর মা-বাপ বিয়ের কথাবার্তা ঠিকঠাক করেন এবং ৯ বছর বয়সে তিনি বালেগা হলে তাঁরই মা-বাপ বিয়ের আঞ্জাম নিষ্পন্ন করেন। আমরা ৯ বছরের বর্ণনাটিও গ্রহণ করতে কোন অসুবিধা দেখি না।

    এই বিয়েতে আমরা একজন অল্প বয়সী বালেগা মেয়ের বিয়ে পাই। এই প্রথা মানব সভ্যতায় নতুন কিছু নয়, মুহাম্মদের (সা) একার কিছু নয়। এটা সর্বত্রই ছিল। এই সেদিনও ছিল। এর অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, ইউরোপ আমেরিকাসহ। রবীন্দ্রনাথ মৃণালিনীকে বিংশ শতাব্দীতেই ৯ বছর ৮ মাসের বয়সে বিয়ে করেন। গোটা আরব দেশে এই প্রথা ছিল। রাসূলের (সা) নিজ মেয়েদের বিয়ে ১২/১৩ আগেই হয়েছিল।

    সেদিনের বিয়ের মধ্যে যৌন-প্রয়োজনের বাইরে আরও অনেক উদ্দেশ্য থাকত। যেমন পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সয়-সম্পদভিত্তিক।    এসব আজও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আবু বকর (রা) তাঁর মেয়ে আয়েশাকে রাসূলের (সা) সাথে বিয়ে দেয়াতে তাঁর গোত্র (তাইমী) ও রাসূলের গোত্রের (হাসেমী) মধ্যকার সম্পর্ক বলিষ্ঠ হয়। রাসূলের (সা) সাথে সম্পর্ক গড়ার মধ্যে অনেক মর্যাদার বিষয়ও ছিল। এতে আয়েশা (রা) সহ সবাই গর্বিত ছিলেন। আয়েশার (রা) দৃষ্টিতে রাসূলের সাথে তাঁর বিয়ে ছিল এই দুনিয়ায় সব চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর আখেরাতও আছেই। আমরা আজ ১৪০০ ধরে এজন্য গর্বিত। আয়েশার (রা) কাছ থেকে আমরা অনেক ধর্মজ্ঞান লাভ করেছি, ধন্য হয়েছি। 

    পূর্বযুগে আসঞ্জন (coherence) ও অভিযোজনকে (adaptation) প্রাধান্য দিয়ে মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেয়া হত যাতে করে সে এই বয়স থেকেই সেই পরিবারের পারিপার্শ্বিকতা ও তার ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ের (familial relations and arrangements) সাথে আদর ও স্নেহের বয়স থেকে খাপ খেয়ে নিতে পারে। এখানে যৌনতার ঊর্ধ্বের অনেক প্রত্যয় ও উপকরণ রয়েছে যা বস্তুতান্ত্রিক যৌদৃষ্টিতে হারিয়ে গিয়েছে এবং বিষয়টির উদ্দেশ্য কাল ও স্থানচ্যুত হয়ে অজানিতপূর্ব (strange) বিষয় হয়েছে।

    যে বিয়েটি সমাজের প্রথা মোতাবেক, রীতি ও আইনানুগ, যে বিয়ে মা-বাপ (অভিভাবক) পর্যায়ক্রমিকভাবে সম্পন্ন করেন, তা কি ‘শিশুকামিতা’র আয়তাভুক্ত? বিয়ে কি শিশুকামিতার বিষয়? কোন মা-বাপ কি তাদের সন্তানকে শিশুকামিতায় নিয়োগ করে? এটা কি সমাজ ও আইনে গৃহীত হয়? কিন্তু দালাল যদি মূর্খ হয়, আবার বিদেশিদের স্বার্থে কাজ করে, সার্লি-এব্দোর সংশ্লিষ্ট হয়, তবে যেভাবে সেভাবে বলাই তার বাক স্বাধীনতা।

    এই মূর্খ ইতরগণ নাকি মসীধারী, কলমের চর্চা করে! এরা “কলমের” ভাঁওতাবাজ। তথ্যসন্ত্রাসী। ক্রিমিনাল।

    দালালগুলো বাক-স্বাধীনতার নামে দেশটাকে ‘ইরাকাইজ’ করতে চাচ্ছে। আজ ইরাক ও অন্যান্য দেশে যুদ্ধ-ব্যবসায় মানবতা বিপন্ন হচ্ছে কিন্তু ব্যবসায়ীরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে যাচ্ছে। এই ধাপ্পাবাজ দালালদের প্রভুগণ হয়ত ১৬ কোটি লোকের দেশে অস্ত্র ব্যবসার লোভ সংবরণ করতে পারছে না। তাই এদেরকে দিয়ে দ্রুত কিছু করাতে চাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এদের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।

    1. 4.1
      এম_আহমদ

      এখানে আয়েশা (রা) নিয়ে যে কথাগুলো বলা হল এর সাথে সংগতিপূর্ণ একটি ভিডিও-ব্যাখ্যা নজরে পড়ল, তাই তা সংযুক্ত করলাম। ||ভিডিও এখানে|| কিন্তু মনে রাখতে হবে মেয়েদেরকে অল্প বয়সে বিয়ে করা বা বিয়ে দেয়া ধর্মীয় কোন নির্দেশ নয়। 

  6. 3
    কিংশুক

    আমি যেসব কথা অনেক চেষটা করেও বুজিয়ে লিখতে পারিনা তা আপনি অনেক সহজেই লেখতে পারেন । অসাধারণ লেখা।

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      ভাই পাঠ ও উৎসাহ-ব্যঞ্জক কথার জন্য অনেক  ধন্যবাদ।

      [এখানে আরেকটি মন্তব্য সংযোগ করেছিলাম, সেটা এখন আলাদা করে এখানে দিয়েছি।]

      1. 3.1.1
        মাহফুজ

        মূল লেখাটি ভাল লাগল।

        তবে আপনার ৩.১ নং মন্তব্যের কথাগুলো কেমন যেন খাপছাড়া / কনফিউজিং লাগছে। চটে গেলেন নাকি?

        1. 3.1.1.1
          এম_আহমদ

          অত্যন্ত tired, চটে গেলেও কাজ হবে না। আবার চটারও কিছু নেই। এই মূহুর্ত্তে কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষনের মন মেজাজ নেই, শক্তিও নেই। ‘খাপছাড়া’ কথা কোনভাবে বুঝে গেলে নিজেই একটা ব্যাখ্যা দিয়ে সওয়াব হাসিল করতে পারেন।

  7. 2
    রিজভী আহমেদ খান

    পুরো পড়লাম।ভালো লাগল

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      ভাই, thank you.

  8. 1
    শাহবাজ নজরুল

    অসাধারণ বিশ্লেষণ -- বরাবরের মত!!!

    1. 1.1
      এম_আহমদ

      Thank you ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.