«

»

Dec ১৩

মুক্তির অনন্তর সন্ধানে মানুষ

20151212 freedom-এক-

সহজাত প্রকৃতি ও জ্ঞান

মানুষের জীবন যাত্রার শুরু থেকেই সে বিজ্ঞানী। তার জীবনের মানকে উন্নত করতে -বেঁচে থাকার তাগিদে, সে তার চিন্তা ও কর্মের যে উৎকর্ষ সাধন করেছে তা’ই বিজ্ঞানের অংশ হয়ে আছে। সে আবার কখনো ভুল করেছে, পরে বুঝতে পেরেছে, তারপর শুধরিয়ে নিয়েছে।

যন্ত্রের ব্যবহার তার প্রথম থেকেই। সে অনুসন্ধিৎসু প্রাণী। সে চর্মচক্ষে আকাশ-রাজ্য দেখেছে এবং এক প্রকার জ্ঞান লাভ করেছে; তারপর যন্ত্র ব্যবহার করেছে এবং যান্ত্রিক দেখার জ্ঞান লাভ করেছে। এভাবে চর্মচক্ষে পদার্থের মৌলিক জ্ঞান লাভ করেছে, তারপর যান্ত্রিকভাবে পদার্থের ক্ষুদ্রাংশের জ্ঞান লাভ করেছে। তার বিভিন্ন নতুন যন্ত্র তার জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত এবং প্রকৃতির ভিন্ন প্রেক্ষিত বুঝার সুযোগ দিয়েছে। এই ধারাতেই তার জ্ঞানের অগ্রগতি ছুটে চলেছে। কিন্তু তার জীবনের সমস্যা ও সমাধান কখনো একান্ত এই বস্তুকেন্দ্রিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিবদ্ধ নয়। অধিকন্তু বস্তুকেন্দ্রিকতা তাকে বার বার বস্তুর জিঞ্জিরেই আবদ্ধ করেছে, আর সে বার বার মুক্ত হতে চেয়েছে –এই হচ্ছে তার অনন্তর সংগ্রামের মৌলিক ইতিহাস।

সত্তাগত অনুভূতি, ইন্দ্রজাল ও দাসত্ব

মানুষ বুঝতে সক্ষম হয়েছে, তার চিন্তা চরিত্রে যেমন ভাল দিক আছে তেমনি আছে স্বার্থকেন্দ্রিকতা, হিংস্রতা ও লোভপ্রবণতা, তারপর বস্তুর প্রতি আকর্ষণ, বিত্তের প্রতি মত্ততা। এগুলোর মধ্যেই সে কালে কালে নিজেই বন্দী হয়েছে এবং এগুলোর সূত্র ধরেই তার এক শ্রেণী আরেক শ্রেণীকে গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ করেছে। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতরা শুধু ভূ-সম্পত্তি দখল করেনি বরং জ্ঞান-বিজ্ঞানকে কব্জা করেছে। এই জ্ঞান-বিজ্ঞানের কর্তৃত্ব দখল করে নিজেরদের জন্য ‘শিক্ষার’ মাধ্যমে অপর শ্রেণীকে প্রশিক্ষিত দাস-শ্রেণী হিসেবে গড়েছে, যেমন জন্তু জানোয়ারকে নিজেদের স্বার্থে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তবে সে এক সময় এইসব চক্রান্ত বুঝতে পেরেছে কিন্তু বুঝ-সমঝই যে সবকিছু নয় –এটাও বুঝেছে। প্রভু-শ্রেণীও বুঝেছে ওরা বুঝলেও কাজ হবে না –জিঞ্জির ছিন্ন করতে পারবে না।

মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞানের আরেক স্বরূপ লক্ষ্য করেছে। আর তা হল এটাকে যেমন ভাল, তেমনি মন্দ কাজের সাথে জড়িয়ে ব্যবহার করা যায়। সে লক্ষ্য করেছে যে, যে শ্রেণী প্রভু হয়ে বসে, তারা জ্ঞান-বিজ্ঞানকে নিজেদের উন্নয়ন, ক্ষমতা বৃদ্ধি, নিজ শ্রেণীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। এই কাজে আমলা-বাহিনী (bureaucrats/staff) গড়ে, অবস্থান সুদৃঢ় করে। মন্দ লোকের হাতে জ্ঞান-বিজ্ঞান মন্দের চরম বিস্তৃতি ঘটায়।

শিক্ষা-লাভ, জ্ঞান-লাভ –এসব কথা মূল্যবোধ (value led) তাড়িত। কার শিক্ষা, কার স্বার্থে? ‘জ্ঞান-বিজ্ঞান’ কাউকে এমনিতেই ভাল হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। ‘ভাল’ শব্দটিও মূল্যবোধ তাড়িত। কার দৃষ্টিতে, কোন সমঝের আলোকে ভাল? মানুষ তো জেনে-বুঝেও তার নিজ স্বার্থে মন্দ কাজ করতে পারে। যে ডাকাতি করে সে জানে ডাকাতি অন্যায়। যে ঠকিয়ে ব্যবসা করে সেও জানে কাজটি মন্দ। কিন্তু স্বার্থাগ্রহ তাকে মন্দের দিকে আগ্রহান্বিত করে। আবার, মন্দ কাজ করার পরও মানুষ মন্দের পক্ষে নানান যুক্তি খোঁজে পায়, তার ভাষিক ও সৃষ্টিশৈলী শক্তি তাকে একাজে সহায়তা করে। সুতরাং একান্ত ‘জানার’ কারণে, বা জ্ঞান-বিজ্ঞান অর্জন করলেই ‘ভাল মানুষ’ হওয়ার ধারণা ভুল। হিরোশিমা ও নাগাসাকির কথা চিন্তা করুন। এই বোমাগুলো কে তৈরি করেছিল? কারা এগুলোর ‘জ্ঞান’ দিয়েছিল, কারা এই বিধ্বংসী কাজের নির্দেশ দিয়েছিল, কারা এগুলো বাহন-ভর্তি করেছিল, কারা এগুলো নিক্ষেপ করেছিল –এই বিষয়গুলো চিন্তা করুন। যুদ্ধগুলোর শুরু, শুরুপূর্ব রাজনীতি, দুর্নীতি, সমাজের আভ্যন্তরীণ শ্রেণীবিন্যাস, আত্মকলহ, আধিপত্যবাদের আদর্শগত অমানবিকতা, এবং অপর সমাজ ও মানবতাকে পাশবিকতায় দেখার যুগান্তরব্যাপী স্তূপীকৃত ধারণা –এসব কথা খেয়ালে রাখুন।

মন্দ ধারার শিক্ষা

আজকের, এবং অতীতের, জল, স্থল ও বায়ু দূষণের কথা চিন্তা করুন; অতীতের যুদ্ধে ব্যবহৃত জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিষয় ও উপকরণের কথা চিন্তা করুন; মানব চরিত্রের সার্বিক দিকগুলোর কথা চিন্তা করুন। জ্ঞান-বিজ্ঞান সবদিনই ছিল। ক্রমান্বয়েই আমরা আজকের এই স্থানে এসেছি। আজকের জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি মানব চরিত্রের মন্দের পরিব্যাপ্তি, প্রসারণ ও পরিণতি কতটুকু হয়েছে এবং এখন তা কোন গতিতে এবং কোন ধারায় ছুটে চলেছে -এই বিষয়টির উপরও মনোনিবেশ করা হোক। আজকের অস্ত্র ইন্ডাস্ট্রির ৮৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসার কথাও মনে রাখা যাক -সাথে সাথে ক্ষমতার রাজনীতির পরিমণ্ডলকেও। ‘শিক্ষা’ মানুষকে যদি 'মানুষ' করে ফেলত, তবে বন্দুকের (দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের কথা বলছি) নলগুলো কেন এক ‘শিক্ষিত’ জাতি অপর ‘শিক্ষিত’ জাতির প্রতি নিশানা করে রাখছে?  কেন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়ে নিউক্লিয়ার বোমাগুলো সাজিয়ে রেখেছে?  “অশিক্ষিত” লোকগুলো কী কারো হুমকি হওয়ার কারণে এসব হচ্ছে?  আজ পর্যন্ত এই শিক্ষা ব্যবস্থা কার স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে –কোন শ্রেণী এগুলো করায়ত্ত করে কোন শ্রেণীকে বিভ্রান্ত করছে? আপনার পোষা ময়নাটি যখন গণতন্ত্র, সেক্যুলারিজম, ব্যক্তি-স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, সভ্যতা ইত্যাদি শব্দ আওড়াবে, তখন কী বুঝতে হবে? বুঝতে হবে ময়নাটির উপর প্রশিক্ষণ কার্যকর হয়েছে।

এই বিশ্বে যে লুটপাট হচ্ছে সেটার দিকে একটু মনোনিবেশ করুন। এই লুট, ঠকবাজি, এই আধিপত্যের কথা ব্যক্তি থেকে একটু আলাদা করে সামষ্টিক ও আদর্শিকভাবে দেখুন। ব্যক্তির কুযুক্তি কীভাবে সামষ্টিক রূপ পরিগ্রহ করে, এর পক্ষে কীভাবে জ্ঞান বিজ্ঞানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারা যায়, সেই বিষয়টি অনুধাবন করুন। অতঃপর ভাষাকে কীভাবে সৃষ্টিশৈলী রূপ দিয়ে সত্যকে মিথ্যা, অন্যায়কে ন্যায়, মন্দকে ভাল দেখানো যায় –সেটাও দেখুন। এর সবই শিক্ষার অংশ হয়ে আছে। এসবের অনেক কিছু শিক্ষার থিওরিতেও রূপায়িত হয়েছে। যারা শিক্ষা-দর্শনের সাথে পরিচিত তাদের অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন যে এই শিক্ষাব্যবস্থা বস্তুমোহী আধিপত্যচক্রের বৈশ্বিক বিস্তারবাহী মানসিকতা সৃষ্টি করছে। গোলামীকে স্বাধীনতা ভাবার হেয়ালী মানসিকতা তৈরি করছে। স্বার্থ ও লোভের ‘গুণ’ কীর্তনের (celebration) সয়লাব বৃদ্ধি করছে। আজ এই শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হয়েছে যে এক ব্যক্তি কেবল একজন চাকর হওয়ার জন্য ২০/২৫ বছর পড়াশুনা করতে হয়। অতঃপর আরও ২০ বছর চাকুরী করার পর যখন ‘প্যাচ’ সমঝে আসে, তখন আর ফিরার পথ নেই। ফিরার চিন্তাই বেকারত্বের চরম ভীতি! এই হচ্ছে শিক্ষা। হায় আক্ষেপ। আমরা এখানে।

-দুই-

Privileged শিক্ষা ও হারানো শিক্ষা

এক কালে শিক্ষার ধারণাটি দুটি ধারায় বহমান ছিল। একটি ছিল বাদশাহের হিসেব রক্ষক হওয়া। তার সোনা-দানার অংক কষা। তার কোন্‌ গোলাম কত পেল আর কত বাকী থাকল –সেই হিসেব লেখা, আর তার চৌদ্দগোষ্ঠীর ইতিহাস রচনা করা, (History মানি His-story, রাজকীয় কাহিনী)। মন্দকেও গৌরবের রঙ চড়িয়ে কীর্তন (glorify) করা, মিথ্যার স্তম্ভ গড়ে অথবা দেয়াল নির্মাণ করে তার রক্তে রাঙানো বাহাদুরির (!) দুটি কথা এঁকে দেয়া। কিন্তু বাদশাহের সংস্পর্শে এসে এই লেখকও, এই হিসেবকারীও তার নিজ সমাজে মর্যাদাবান হয়েছে; সে বাদশাহের চাকর হয়েও আপন সমাজে ক্ষমতা ও দাপটের স্থান পেয়েছে। সে যখন বাড়ি ফিরেছে, তখন তার মা, বাকি ছেলেদেরকে একপাশে রেখে, (যারা তাকে মাছ ধরে খাওয়াত, জমি চষে সংসার চালাত –এই জগতের ‘জ্ঞান’ ছিল বলেই),  মুরগী জবাই করে খাইয়েছে, কেননা, “শিক্ষিত” ছেলে ঘরে এসেছে। এভাবে সমাজ নূতনত্বের (of novelty) মোহে এক “শিক্ষাকে” (যেমন আবাস-জ্ঞান (knowledge of the habitat, চাষবাস ইত্যাদি) অপর “শিক্ষার” উপর অগ্রাধিকার দিয়ে বসেছে। একটিকে “শিক্ষা” বলেছে আর হেয়ালীভাবে অপরটিকে “অশিক্ষা” বলে মেনে নিয়েছে!

আজ দুঃখজনকভাবে সত্য যে আবহমানকালের বেঁচে থাকার জ্ঞানকে ধ্বংস করে, যা স্বনির্ভরশীলতায় প্রতিষ্ঠিত ছিল, সবকিছু প্রায় ইন্ডাস্ট্রিয়েলাইজ হয়ে গিয়েছে। ব্যক্তি ও পরিবার শিক্ষিত হয়ে তার বংশ পরম্পরায় অর্জিত জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অপরিচিত (alienate) হচ্ছে এবং সবকিছু আরেক শ্রেণীর হাতে দিয়ে তারা ওদের চাকর-বাকর হচ্ছে।

আক্ষরিক শিক্ষার ধারাকে প্রাধান্য দিয়ে (by orienting it on a privileged position), অনেক প্রাচীন স্বনির্ভরশীল জীবন ধারা ধ্বংস করে, আজ স্বেচ্ছায় পরনির্ভরশীল জীবনকে বরণ করা হয়ে গিয়েছে। তা একদিনে নয় বরং ধনতান্ত্রিকতার কব্জায় ধীরে ধীরে, ড্রাকুলারের কুকুর দাঁত (canine teeth) গজাতে শতাব্দীর ধারাবাহিকতা এসেছে। আজকের অনেক বুদ্ধিজীবী ধনতন্ত্র ও বস্তুবাদের দালাল, অনেক আবার ঘিলুহীনও। দেখতে দেখতে এই বিশ্বটি, হেয়ালীভাবে, আবার ফিরাউনের শিক্ষায়, ফিরাউনের গোলামীতে আত্মাহুতি দিল!

কীভাবে কী হল?

চিন্তা করুন, বাদশাহর চাকর হয়েও যে লোকটি দাপটের স্থান পেয়েছিল, তার মূলে কী ছিল? সেটা ছিল এই আক্ষরিক শিক্ষা। বাদশাহ এই শিক্ষিত গোলামদের মাধ্যমে তার সাম্রাজ্য টিকিয়েছে। সেনানী শিক্ষার কথাও মনে রাখতে হবে। অতঃপর, কালান্তরে, বাদশাহের যাবতীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় গোলামগণ দাখিল হয়ে সেই ব্যবস্থাকেই প্রসার করেছে। বাদশাহের অর্থায়নে এই শিক্ষার দরজা দিয়ে পতঙ্গপাল প্রবেশ করে গোলামীর শিক্ষাকে প্রথাগত রূপ দিয়েছে। তা’ই আজ মহীরূপে বিরাজিত। (কিছু কথা এখানে সাধারণী (generalised) মাত্রায় বলছি, কেননা নানান ব্যতিক্রমের পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা এখানে সম্ভব নয় –এটি সেই মেজাজের লেখা নয়)। আবার চিন্তা করুন, আজ এক ব্যক্তির ২০ বছরের পড়াশুনার পর, তার শেষ অবস্থানটি কী হয় (what end product does s/he become) -স্বনির্ভরশীল, না পরনির্ভরশীল? বাস্তবতা হচ্ছে এই যে এই শিক্ষা একজনকে আমলা বানায়, অথবা প্রাইভেট সেক্টরে চাকর বানায়, অথবা সুদ-বন্দী ব্যবসায় দাখিল হয়, এবং ভাগ্য ভাল হলে এক সময় প্রভু শ্রেণীতে একাত্ম হয়ে প্রভু শ্রেণীর সাজানো খেলায় অংশ নেয়। আজকের মানবতা এই স্থানে উপনীত হয়েছে।

-তিন-

এক সময় যখন সংঘবদ্ধ (organised) সমাজ ব্যবস্থা ছিল না তখন প্রকৃতিতে মানুষ স্বাধীন ছিল। তখন সে স্বনির্ভরশীল ধারায় তার জীবনের অভিজ্ঞতা রপ্ত করছিল। কিন্তু কিছু দুষ্ট মানুষ যখন সংঘবদ্ধ হয়ে জোরপূর্বক অপরের অর্জন ছিনিয়ে নেবার বাস্তবতা দেখিয়েছে, তখন তারা গোত্রপতি, সমাজপতি, এবং পরে, বাদশাহের অধীনে নিজেরাই সংঘবদ্ধ (organised) হতে হয়েছে, নিজেদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে অন্যভাবে বাঁচিয়ে রাখতে। কিন্তু বাদশাহের কাঠামোগত আমলাতন্ত্রে (structural bureaucracy) যারাই ঢুকেছে তারাই পরবর্তীতে মানুষকে পরাধীন করেছে, মানুষের প্রভু হয়ে বসেছে এবং কালান্তরে এটাকেই “শিক্ষার” রূপ-ধারায় সাজিয়ে নিয়েছে। বিবর্তনের ধারা বেয়ে আজ আমরা এই শিক্ষা ব্যবস্থায় উপনীত হয়েছি।

বন্ধুগণ, এক প্রেক্ষিতে আমরা পরাধীন! আরেক প্রেক্ষিতে আমরা ৮/১০ হাজার বছরের পূর্বের অবস্থান থেকে মন্দ অবস্থানে। ‘We now live in a nation where doctors destroy health, lawyers destroy justice, universities destroy knowledge, governments destroy freedom, the press destroys information, the religion destroys morals, and our banks destroy the economy’ –Chris Hedges [link], (ক্রিস হেজেজ এখানে ধর্মকে একটি বিশেষ প্রেক্ষিতে এনেছেন, যা সহজেই বোধগম্য। ক্রিস হেজেজের আরও কিছু বক্তব্য এই ভিডিওর সূত্র ধরে দেখা যেতে পারে)।

আজ বিজ্ঞান, বিজ্ঞান বলে চিৎকার করে লাভ নেই। বিশ্বায়নের মাধ্যমে প্রতিটি দেশ ও সমাজ কাদের হা-করা মুখের দিকে ছুটে চলেছে এবং এত্থেকে তাদের মুক্তি পথ কোথায় – সেই চিন্তাই করুন।

আজকের শিক্ষাঙ্গনে অনেক কিছু শিক্ষণীয় হয়ে আছে যার প্রভাব ও সংশ্লেষ (implication) অনেককে চিন্তিত করে কিন্তু তাদের করার কিছু নেই। বিপক্ষে দাঁড়াতে গেলে চাকুরীর উপায় থাকে না, কেননা যে শিক্ষার মাধ্যমে তাদের রুটি-রুজি, তার বাইরে তারা অসহায় -দাঁড়াবার স্থান নেই। সুতরাং এই জিঞ্জির থেকে মুক্তি আসবে কীভাবে? মুক্তির পথ যেন রুদ্ধ। এই গোলামীর জিঞ্জির মনস্তত্ত্বের অতল তলে ঢুকে গিয়েছে। এখান থেকে মুক্তির আশা যেন নিরর্থক, বৃথা! তবে থামুন! নিরাশ হলে চলবে না।

স্টোয়িক (stoic) দর্শনে শান্তির পথ হচ্ছে আপনি যেখানে যেভাবে আছেন, সেই অবস্থান গ্রহণ করে নেবেন, এটাকে মেনে নিয়েই শান্ত হয়ে যাবেন –অবস্থা জুলুমের হোক অথবা গোলামীর। যদিও একটি পরতে এখানে ইসলামের সামান্য ছোঁয়া রয়েছে কিন্তু মূলত তা ইসলামী নয়। মানুষ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ হয়ে থাকতে পারে না, জুলুম সহ্য করা যেতে পারে না। এখানে নিরাশার স্থান নেই। একটি স্ফুলিঙ্গও বিপুল অগ্নিকুণ্ডের সম্ভাবনাময়ী। এখানে বিশ্বাসী অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েও বিজয়ের আশায় থাকে উদ্দীপ্ত। “‘হে মানুষ, বল, ‘লা ইলাহা ইল্লালল্লাহ, তুফলিহু –বল, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তোমরা সফলকাম হয়ে যাবে’” (হাদিস)। মুসা (আ.) ফিরাউনের জিঞ্জির ছিন্ন করেছিলেন। নবী মুহাম্মাদ (সা) বস্তুতান্ত্রিকতা, ইয়াহুদী সুদীর জিঞ্জির, তাদের অস্ত্র-বাণিজ্যের জিঞ্জির [১], যুগান্তরের আরব গোত্রীয় রক্তারক্তির অটুট ও অপ্রতিরুদ্ধ হানাহানির জিঞ্জির -যার সংযুক্তিতে ছিল গোত্রীয় কবিদের আবেগ উস্কানো ইন্দন, ব্যঙ্গ কবিতার হীন-জিঘাংসার উত্তেজনা, এসব থেকে মানবতাকে মুক্ত করেছিলেন। কে বলে অসম্ভব? কাল –সে এক বিপুল সম্ভাবনার চলন্ত ধারা। পরিবর্তন এখানে হয়ই হয়। এখানে কিছুই স্থির নয়। ঐ সুদূরের সীমারেখায় যে সুউঁচু পাহাড়, সেও ক্ষয়িষ্ণু। আর পরমাণুতেও রয়েছে চঞ্চল গতি। এই অম্বর, সে সীমাহীন –তেমনই চিন্তার দিগন্ত।

-চার-

 মুক্তির সূচনা কোথা থেকে হবে?

মুক্তির সূচনা সেখান থেকেই হতে হবে যেখান থেকে বস্তুমোহে, লোভে ও ক্ষমতাগ্রহে মানুষ তার মানবতা হারিয়েছে। বিত্তের সীমা বৃদ্ধির জন্য যে মোহ তাকে আচ্ছন্ন করেছিল, সেটিই ছিল তার কালো-নাগ। তার সামনে যারাই বাধা হয়েছিল সে তাদের কবর রচনা করে তবেই তার যাত্রাপথ সুগম করেছিল। জোর-জুলুম নির্যাতন সবই ছিল তার কাছে নৈতিক ও যৌক্তিক। সে দেখেছিল আইন ও পুলিশ তাকে আটকাতে পারে নি। তার সৃষ্টিশৈলী গুণ পুলিশসহ সকলের কৌশল কাটিয়ে উঠতে পেরেছিল, স্থানভেদে তার শিক্ষা তাকে আরও ধূর্ত করেছিল। সে কৌশলে অন্যের সাথে সংঘবদ্ধও (corporative) হয়ে তার অন্তঃস্থিত কালো-নাগিনীর খোরাক বৃদ্ধি করেছিল। যে ধারণাস্থলে তার অস্তিত্বের প্রকৃতি, আজ সেখান থেকেই মুক্তি খোঁজতে হবে। তার এই খুদিকে (নফসকে) আটকানোর পথ একটিই, যদি পুলিশকে তার মনের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়, যদি মোহগ্রস্ততার প্রতিকূলে অন্তর্দৃষ্টি স্থাপন করা যায়। ব্যক্তি ও সামাজিক মুক্তির মূল হচ্ছে বিশ্বাস –আল্লাহতে বিশ্বাস, পরকালে বিশ্বাস। তার কলবে এই ধারণা উপনীত হতে হবে যে সে মরণশীল। অঢেল বিত্ত গড়লেও তাকে মরতে হবে। এই সত্য তার হৃদয়ের গহীন রন্ধ্র স্পর্শ করে আসতে হবে। তবেই মুক্তি, না হলে নেই। 

মানুষ বাদশাহর অধীনে সংগঠিত সামাজিক ব্যবস্থা গড়েও নিরাপত্তা লাভ করে নি। বাদশাহর  অন্তর্নিহিত ‘রোগ’ তাকে ক্ষমতা লোভী ও ক্ষমতা হারানোর ভীতিতে সচঞ্চল করেছিল। ফলশ্রুতিতে, ও কালের ধারায়, সে ও তার আমলারা মিলে তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে, মানুষকে তাদের প্রতিভূ বানিয়েছে -ভাল যুক্তি দেখিয়ে, শব্দের খই ফুটিয়েছে, কিতাব রচনা করে, শিক্ষা-প্রশিক্ষার মাধ্যমে। কিন্তু আজকের এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে দেশ ও সমাজ যাদের পদপ্রান্তে নিষ্পেষিত হচ্ছে তাদের মিথ্যাচার আর অপশাসনের স্বরূপ এমনই নগ্ন ও রাক্ষসী হয়েছে যে তা দেখলে অনেক ক্লাসিক্যাল বাদশাহও হয়ত বিস্মিত হয়ে যেত।

আমি এখানে মূলত ধর্মের কোনো বিস্তৃত রূপ  আলোচনা করছি না। শুধু বিশ্বাসের একটি মৌলিক স্থানে ব্যক্তির নিজ ও সামাজিক অস্তিত্বের বিষয়টি দেখাচ্ছি। এই মরণশীলতার চিন্তা, এর দর্শন ও বিত্তের ঊর্ধ্বের জীবন ও চিন্তার দিগন্তের কথা বলছি। এখানেই হচ্ছে “শিক্ষার” অপর দিক। এই শিক্ষা হারিয়ে মানুষ আজ বস্তুর মোহনীয় জিঞ্জিরে আবদ্ধ। কিন্তু মুক্তির সংগ্রামও নিস্তব্ধ হয়ে যায় নি। কালের ধারা বেয়ে সেই অনন্ত সংগ্রাম এখনো চলমান. মুক্তি আত্ম-সংযমেই নিহিত, এই শিক্ষায়, এই সাধনায়।

অতঃপর, যে ব্যক্তি তার প্রভুর সামনে দণ্ডায়মান হতে ভয় করে [২] এবং (তার) অন্তরকে কামনা-বাসনা হতে নিবৃত্ত রাখে, নিশ্চয়ই (তার) বাসস্থান হবে জান্নাত (৭৯:৪০-৪১)।  

__________________________________________

নোট:

[১] এখানে স্থান-কালের সকল ইয়াহুদী ধর্তব্য নয়।

[২] ‘যে ব্যক্তি তার প্রভুর সামনে দণ্ডায়মান হতে ভয় করে’ –অর্থাৎ যার অন্তরে এই ঈমান রয়েছে যে সে একদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে যেখানে তার ভাল-মন্দ কাজের হিসাব দিতে হবে, সে মন্দ কাজের তাড়না থেকে নিজেকে সংযত করবে, এই ধরণের মর্মই এখানে।  

১৫ comments

Skip to comment form

  1. 8
    HM mohsin

    আহমদ ভাই সালাম,

    আপনার লেখার গভীরতা খুব।একবারে মাথায় আসছে না।সবকটি লেখাই কয়েক বার করে পড়ি।জটিল এবং দুর্বোধ্য বিষয়ে যে উপযোগী সমাধান তুলে ধরেন সত্যি ! তুলনার বাইরে।আমার দেখা সেরাদের একজন।আল্লাহ আপনার হায়াত কে দীর্ঘজীবি করুন।

    1. 8.1
      এম_আহমদ

      ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়াতের উপর থাকার তৌফিক দিন -আমীন।  

        Oliullah Noman ব্রাহ্মনবাড়িয়ার এএসপি তাপস রঞ্জন বোস ও সদর থানার ওসি আকুল চন্দ্ররাই আমাদের দেশ শাসন করছে!! বৃটিশ আমলের গল্প শুনেছি মুরব্বিদের কাছে। হিন্দু জমিদার, আর যোদদার, মারোয়ারি ব্যবসায়ীরা শাসন, শোষন আর নির্যাতন করত এদেশের মুসলাম সংখ্যাগরীষ্ঠ লোকদের। হিন্দু জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে জুতা পায়ে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল মুসলমানদের। মাথার ওপর ছাতা ওপেন করে হিন্দু জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে যেতে পারতো না মুসলমানরা। হিন্দুদের বাড়িতে গেলে মুসলমানদের চেয়ারে বসতে দেয়া হতো না। মুসলমানরা হিন্দু বাড়িতে গেলে মাঠিতে বসতে হতো।শুধু তাই নয়, হিন্দুদের কোন খাবার পাত্রে মুসলমানের স্পর্শ লাগলে তা ফেলে দেয়া হতো। কারন মুসলমানদের তারা অচ্যুত মনে করতো। ইংরেজদের সাথে মিলে হিন্দু জামিদাররা এভাবেই মুসলমানদের নির্যাতন আর শোষন করতো। এই শোষণ, নির্যাতন আর বঞ্চনা থেকে রেহাই পেতেই স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম লীগ নামক রাজনৈতিক দলের জন্ম দিয়েছিলেন।

  2. 7
    এম_আহমদ

    এখানে প্রফেসর সাইয়্যেদ হুসেইন নাসরের একটি বক্তৃতা সংযোগ করছি। [ভিডিও এখানে] নাসর সাহেবের চিন্তার সাথে প্রায় ২৬/২৭ বছর আগে পরিচিত হই। তবে তার কিছু চিন্তার সাথে দ্বিমত রয়েছে, তবে এটা তো আবার মানুষেরই বৈশিষ্ট্য। সম্ভবত ১৯৮৯/৯০ সালে তার সাথে হঠাৎ এক আন্ডারগ্রাউন্ড সাবওয়েতে দেখা হয়। আমি তার বক্তৃতা শুনতে যাচ্ছি আর তিনি যাচ্ছেন বক্তৃতা দিতে! কথা বলতে বলতেই আমরা সেখানে পৌঁছি। বড় মাপের লোকের সাথে সামান্য সময় কাটানোতেই এক ধরণের পরিতৃপ্তি রয়েছে, যদিও তার সাথে আপনি একমত নাও হতে পারেন।

     ‘মডার্নিজমই (আধুনিকতা) হচ্ছে চরমপন্থার মূল স্থান’ –তিনি এখানে এই ধারণাটি প্রশস্ত করেছেন।  এটি এক দার্শনিক ধারণা। আমি এ বিষয়টি বিভিন্ন আলোচনায় স্পর্শ করেছি, তবে কখনো আলাদা করে কিছু লিখি নি। আধুনিকতার ছত্রছায়া থেকে এনলাইটনম্যান্টের জন্ম হয়েছে এবং এখান থেকে ‘প্রগতি’ নামক বিভ্রান্তির জন্ম হয়েছে। ধর্মীয় দিক থেকে প্রটেন্টান্টিজম আধুনিকতায় জড়িয়ে ইউরোপের জন্য ধর্মহীনতার পথ খোলে দিয়েছে। দার্শনিক ম্যাক্স ভিবারের (Max Weber) মতে ধনতন্ত্র প্রটেস্টান্টিজমের মধ্য থেকে প্রথমে উৎসারিত হয় –প্রটেস্টান্টিজমই এর জন্য দায়ী, এবং প্রটেস্ট্যান্টিজমের স্রুতধারা বেয়ে নাস্তিকতার সূত্রপাত হয়। খোদাহীনতার মুখোশের অপর দিক হচ্ছে সেক্যুলারাজিম।  

  3. 6
    শামস

    খুব সুন্দরভাবে খুব ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয়কে ব্যাখ্যা করেছেন।

    আপনি যে দ্বন্দ্বের কথা বলেছেন সেই দ্বন্দ্বের একপাশে ইহজাগতিকতা আর অপরদিকে ইহজাগতিক এবং পারলৌকিকতার ব্যালেন্স, যা মূলত ইসলামী দর্শন। ইহজাগতিকতাকে পরিমাপ করা যায়, বিত্ত -বৈভব দিয়ে। যা পরিমাপ করা যায় তার প্রতি আমাদের মানুষদের সহজাত আকর্ষণ থাকে এবং খুব সহজেই ট্রাপে পড়ে যাই। আর এগুলোই বিশ্বের যতসব সংঘাতের মূল! আর আমরাও যখন উন্নয়নের কথা বলি, তখন ঐ ইহজাগতিক পরিমাপের উপর ভিত্তি করেই সাধারণত বলি, আত্মিক উন্নতিকে বেমালুম ভুলে যাই।

    আপনার সাথে একমত, যা আপনি মূল লেখায় উল্লেখ করেছেন যে ইউরোপিয়ানদের মতো মুসলিম বিশ্বের উন্নত হতে সমস্যা আছে! পুরোপুরি সেক্যুলারিজমকে অনুসরণ করলে সেই ধরণের উন্নতি হতে পারে বা কাছাকাছি যেতে পারে। ইসলামী দর্শনে উন্নতির মাপকাঠি সরাসরি স্রষ্টার সাথে সম্পর্কিত! অথচ একে একপাশে রেখে উন্নতিকে হিসেব করতে গিয়ে আমরা নিজেরাও অনেক সময় হীনমন্যতায় ভুগি। যেমনঃ অনেকে জনসংখ্যার অনুপাতে মুসলিমদের মধ্যে নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী কম নিয়ে উপহাস করে, এধরণের অনেক কিছু নিয়েই করে। আবার আমাদের মধ্যেও  এ বিষয়টি হজম করতে সমস্যা হয়। কিন্তু আমরা নিজেদেরকেই প্রশ্ন করি না, নোবেল পাওয়াটা কি কোন ধরণের অগ্রাধিকার? একদিকে পুরোপুরি ইহজাগতিকতা আর অপরদিকে ইহজাগতিকতা এবং পারলৌকিকতার ব্যালেন্স দিয়ে আমরা কোন ধরণের উন্নতিকে ধারণ করতে পারি? বিষয়টার অন্তর্নিহিততার মাঝে অনেক কিছুর উত্তর আছে বলে মনে হয়। বর্তমান সময়ের বিজ্ঞানের দিকে ভালোভাবে দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে এটা বাজারসর্বস্ব বিজ্ঞান -- প্রোডাক্ট, উৎপাদন এবং ভোগ এর মধ্যে আবর্তিত। এই বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্বীকার করেই বলা যায়, এই বিজ্ঞানে টক্সিসিটির মাত্রা খুব বেশী। মারণাস্ত্রের কথাই ধরা যাক,  বিদ্যমান মারণাস্ত্র দিয়ে এই পৃথিবীকে কয়েকবার ধ্বংস করা সম্ভব।সেক্যুলার দেশগুলোই মূলত এসবের মালিক! যদি এর সাথে একসমইয়ের ইসলামী সভ্যতার বিজ্ঞানকে তুলনা করা হয় একটা স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য চোখে পড়বে। সেই সময়ের চিকিৎসা বিজ্ঞান, পদারথবিজ্ঞান, গণিত ইত্যাদির ইম্প্যাক্ট সামরিক বিজ্ঞানের চেয়ে অনেকগুণ বেশি ছিল। এর অথ এই না যে তখন সামরিক বিজ্ঞান ছিল না, কিন্তু মানুষের কল্যাণের লক্ষ্য ছিল অগ্রভাগে।  অবশ্য এটা আর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দরকার, সময় করতে পারল এ নিয়ে লিখব!

    বেশীরভাগ মানুষের মধ্যেই মেনে নেয়ার একটা তাড়না কাজ করে, আরে এটাকে ব্যবহার করে মুষ্ঠিমেয় কিছু লোক নগর, রাজ্য, দেশ কিংবা পৃথিবী শাসন করে যাচ্ছে। আমরা একটা ওয়াল্ড অর্ডার মধ্যে দাসত্বকে মেনে নিয়েছি। অথচ ইসলামী দর্শনে দাসত্ব শুধুমাত্র আল্লাহর। ইসলামের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রটা একমাত্র আল্লাহর দাসত্বের মধ্যে! যেমন  ট্রান্স-আটলান্টিক ট্রেড এর শিকার আফ্রিকান দাসদের মধ্যে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ ছিল মুসলিম অরিজিন এর। আধুনিক দাসত্ব অনেকটাই ভার্চুয়াল একটা সিস্টেম বা অর্ডার এর অনুগামী এবং আমরা বেশিরভাগ সময় না বুঝে বা কখনো বুঝেই গাঁ ভাসাই। কিন্তু আফ্রিকান কালো দাসদের কাছে সেটা ছিল চাক্ষুস, আর সে কারণে পাশ্চাত্যে যেসব দাস-বিদ্রোহ হয়েছে এর মধ্যে কালো মুসলিমদের ভুমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। অন্ততঃপক্ষে তারা প্রতিবাদ করেছে এবং এর জন্য মরেছে। এ নিয় একটা বিখ্যাত ছবি আছে, দেখতে পারেনঃ Prince among slaves 

    সভ্যতার দ্বন্দ্ব বইটা পড়া হয় নাই, কিন্তু নিজের স্বল্পজ্ঞানে বুঝতে পারি এখানে খুব প্রতিদ্বন্দ্বী দুইটা দর্শনের একটি খুব শক্তিশালী বিরোধ আছে। একটা ইহজাগতিক আরেকটা ইহজাগতিক এবং পারলৌকিকতার, একটা অবাধ ভোগের আরেকটা পারপাসের। ইতিমধ্যে এই বিরোধের কিছু ফলাফল প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে, সামনে হয়তো আরো ন্যাস্টি হবে! ভালো থাকুন।  

    1. 6.1
      এম_আহমদ

      @শামস:

      ভাই, সালাম। মন্তব্যটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি স্থানকে হাইলাইট করে আলোচনা বর্ধিত করা যায়। তবে “ইসলামী দর্শনে উন্নতির মাপকাঠি সরাসরি স্রষ্টার সাথে সম্পর্কিত! অথচ একে একপাশে রেখে উন্নতিকে হিসেব করতে গিয়ে আমরা নিজেরাও অনেক সময় হীনমন্যতায় ভুগি। … আমরা একটা ওয়ার্ল্ড অর্ডারের মধ্যে দাসত্বকে মেনে নিয়েছি। অথচ ইসলামী দর্শনে দাসত্ব শুধুমাত্র আল্লাহর” -এই key-কথাগুলো সার্বিক বিবেচনার আহবান করে। আবার নিচের স্থানটি বর্তমান ও অতীতকে তুলনামূলকভাবে স্পর্শ করে এসেছে, তাই এটাকে আবার সামনে আনলাম। 

      বর্তমান সময়ের বিজ্ঞানের দিকে ভালোভাবে দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে এটা বাজারসর্বস্ব বিজ্ঞান – প্রোডাক্ট, উৎপাদন এবং ভোগ এর মধ্যে আবর্তিত।

      এই বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্বীকার করেই বলা যায়, এই বিজ্ঞানে টক্সিসিটির মাত্রা খুব বেশী। মারণাস্ত্রের কথাই ধরা যাক,  বিদ্যমান মারণাস্ত্র দিয়ে এই পৃথিবীকে কয়েকবার ধ্বংস করা সম্ভব।সেক্যুলার দেশগুলোই মূলত এসবের মালিক! যদি এর সাথে একসময়ের ইসলামী সভ্যতার বিজ্ঞানকে তুলনা করা হয় একটা স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য চোখে পড়বে। সেই সময়ের চিকিৎসা বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত ইত্যাদির ইমপ্যাক্ট সামরিক বিজ্ঞানের চেয়ে অনেকগুণ বেশি ছিল। এর অর্থ এই না যে তখন সামরিক বিজ্ঞান ছিল না, কিন্তু মানুষের কল্যাণের লক্ষ্য ছিল অগ্রভাগে। অবশ্য এটা আর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দরকার, সময় করতে পারল এ নিয়ে লিখব!

      এক কালে মুসলমানদের মুষ্টিতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাথমিক সূত্রাদি থাকলেও জল-স্থল বিষাক্ত করে, কোম্পানি গড়ে, রাষ্ট্রশক্তিকে কব্জা করে, বড় আকারে জাগতিক উন্নয়নের কল্পনা তাদের প্রাণের দিগন্তে উদ্ভাসিত হয় নি এবং সেই ধারায় ক্রমশ হাঁটতেও পারে নি। কেন? এর হয়ত অনেক কারণ রয়েছে।  আমার মনে হয় এসব বিষয়ে লেখা আসা দরকার। সময় করে একটা লেখা তৈরি করতে আহবান রইল।

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  4. 5
    মুনিম সিদ্দিকী

    আপনার তুলনা শুধু আপনি। শুধু আল্লাহর কাছে  আবেদন এই ধরণের লেখা পড়ে বুঝার ক্ষমতা আমাদেরকে দান করুন। আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবন দান করুন হতভাগা জাতিকে লেখনী দ্বারা খেদমত করার সুযোগ দান করুন। আমিন।

    1. 5.1
      এম_আহমদ

      মুনিম ভাই সালাম। লেখাটি ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম। আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন তিনি যেন ভাল কাজ করার তৌফিক দেন।  আর আমাদের সবাইকে যেন তিনি সঠিক পথে থাকার জ্ঞান ও সামর্থ্য দান করেন, এই দোয়া করি –আমীন।

  5. 4
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    খুব চমৎকার এবং সুন্দর লিখা। “আমি” জিনিষ-টা কি এবং মৃতু নিশ্চিত এটা বুঝতে পারলে মানুষ-র অহংকার, লোভ ও জিদের বশের কাজ কমে যেত।
    গতকাল রাতে আপনার লিখা অর্ধেক পড়লাম, এরপর আর লিখাটা দেখতে পাইনি। ভাবলাম আপনাকে জানাই। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ লিখাটি আবার দেওয়ার জন্য।

    1. 4.1
      এম_আহমদ

      ভাই সালাম। আর হ্যাঁ, এটাই ঠিক কথা, মানুষ নিজের অবস্থা বুঝতে পারলে তার অহংকার, লোভ ও জিদের বশের কাজ কমে যেত।

      লেখাটি ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম। লেখাটি তুলে নেয়ার কারণে তৈরি হওয়া inconvenience জন্য দুঃখিত। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  6. 3
    মহিউদ্দিন

    ভাল লেগেছে। লিখাটি প্রশংসার দাবী রাখে। চিন্তার খোরাক জাগানো একটি নিবন্ধ! 

    এই বিশ্বে যে লুটপাট হচ্ছে সেটার দিকে একটু মনোনিবেশ করুন। এই লুট, ঠকবাজি, এই আধিপত্যের কথা ব্যক্তি থেকে একটু আলাদা করে সামষ্টিক ও আদর্শিকভাবে দেখুন। ব্যক্তির কুযুক্তি কীভাবে সামষ্টিক রূপ পরিগ্রহ করে, এর পক্ষে কীভাবে জ্ঞান বিজ্ঞানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারা যায়, সেই বিষয়টি অনুধাবন করুন। অতঃপর ভাষাকে কীভাবে সৃষ্টিশৈলী রূপ দিয়ে সত্যকে মিথ্যা , অন্যায়কে ন্যায়, মন্দকে ভাল দেখানো যায় –সেটাও দেখুন। এর সবই শিক্ষার অংশ হয়ে আছে।

    এক কথায় বলতে গেলে এসবকে  তাগুতি শক্তি তথা শয়তানী শক্তির বহিঃপ্রকাশ বলা যায় যা আদি কাল থেকেই চলে আসছে । এই অশুভ শক্তি অতীতেও সক্রিয় ছিল বর্তমানেও আছে ভবিষ্যতেও থাকবে। এদের জনবল, অর্থবল এ সবে কোন ঘাটতি হবে বলে মনে হয় না। এ শক্তিকে বিশ্ব থেকে মুছে ফেলা সহজ নয়। কিন্তু এর মাঝেও ঈমানদারদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আ'লামিনের প্রদর্শিত পথে অটল থাকতে হবে। নিজেকে সঠিক পথে অটল রাখতে হবে। মহান আল্লাহর প্রদর্শিত পথে যথাসাধ্য নিজেকে মগ্ন রাখতে হবে এবং অন্যকেও সত ও ন্যায়ের পথে আসতে আহ্বান করতে হবে। কে আসল বা না আসল সেটা বড় বিষয় নয়। মুমিনের দায়িত্ব সত্যের বানী মানুষের সামনে সুন্দরভাবে তুলে ধরা শুধু কথায় নয় কাজের মাধ্যামে। তবে এ পথে বাধা বিপত্তি তো আসতেই পারে সে ব্যাপারেও প্রস্তুত থাকতে হবে। 

    "ব্যক্তি ও সামাজিক মুক্তির মূল হচ্ছে বিশ্বাস –আল্লাহতে বিশ্বাস, পরকালে বিশ্বাস। তার কলবে এই ধারণা উপনীত হতে হবে যে সে মরণশীল। অঢেল বিত্ত গড়লেও তাকে মরতে হবে। এই সত্য তার হৃদয়ের গহীন রন্ধ্র স্পর্শ করে আসতে হবে। তবেই মুক্তি, না হলে নেই। "

     আজ বিশ্বের পরিস্থিতির দিকে তাকালে হয়তবা অনেক বিশ্বাসীর মনে হবে বিশ্বের সকল ইসলাম বিদ্বেষী শক্তি এক হয়ে তাদেরকে এ পৃথিবী থেকে নি:শেষ করার চক্রান্তে লিপ্ত!
    আসলে এরকম পরিস্থিতিতে ঈমানদারের জন্য সবচেয়ে বড় পথ প্রদর্শক হচ্ছে আল কোরআনের শিক্ষা। দেখুন এ রকম অবস্থায় সত্যিকার মুমিনদের অবস্থা কি হয় তার বর্ণনা আল্লাহ রাব্বুল আ'লামিন কি সুন্দরভাবে বলেছেন।

    "যাদেরকে লোকেরা বলেছে যে, তোমাদের সাথে মোকাবেলা করার জন্য লোকেরা সমাবেশ করেছে বহু সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে; তাদের ভয় কর। তখন তাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ়তর হয়ে যায় এবং তারা বলে, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট; তিনি কতই না চমৎকার কার্যনিবাহী। (সুরা আল ইমরান আয়াত ১৭৩) 

     এত ভয় ভীতির সংবাদ শুনে তাদের ঈমান আরো শক্তিশালী হয় এবং তারা বলে আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট তাঁর উপরই আমাদের আস্থা!  فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّـهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ ﴿١٧٣

    একই সুরার ১৭৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, "এরাই হল শয়তান, তোমাদেরকে  তাদের বন্ধুদের ভয় দেখায়। সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না। আর তোমরা যদি ঈমানদার হয়ে থাক, তবে আমাকে ভয় কর।"

    আর পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ আরো বলেন, "আর যারা কুফরের দিকে ধাবিত হচ্ছে তারা যেন তোমাদিগকে চিন্তান্বিত করে না তোলে। তারা আল্লাহ তা’আলার কোন কিছুই অনিষ্ট সাধন করতে পারবে না। আখেরাতে তাদেরকে কোন কল্যাণ দান না করাই আল্লাহর ইচ্ছা। বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে মহা শাস্তি।" (১৭৬)

    এ বিষয়ে উস্তাদ নোমান আলী খান আমেরিকার এক মসজিদে সম্প্রতি একটি খুতবার ভাষনে খুবই সুন্দরভাবে তোলে ধরেছেন যা শুনা দরকার। এই ব্লগ পোষ্টে  ভিডিওটি এম্ভেড আছে। সবাইকে শুনার অনুরোধ করছি। সে কথাগুলা যা আমার মনে দাগ কেটেছে তা আমি যেভাবে বুঝেছি তার কিছুটা এখানে শেয়ার করতে চাই।

    কথা হচ্ছে তাগুতি শক্তি যত কিছুই করুক না কেন তারা আল্লাহ তা’আলার কোন অনিষ্ট সাধন বা ক্ষতি করার সামর্থ্য রাখে না। সে প্রশ্নই উঠে না যে তারা আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে সক্ষম হবে। They can not even reach there.  অতএব মুমিনদের মনে যখন এ সত্যের উপলব্ধি হবে তার মানসিক প্রস্তুতি কত শক্তিশালী হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

    মানুষ যখন কারো উপর আস্থা স্থাপন করে অর্থাৎ যখন কেউ কারো উপর আস্থা রাখে বিশ্বাস করে তখন মানুষ কি করে?  যেমন, একজন তার উকিলের উপর বিশ্বাস বা আস্থা রাখে  তার পরামর্শ শুনে কাজ করে এবং এটাই স্বাভাবিক। আজ আমরা আল্লাহর উপর আস্থা রাখলে আল্লাহ যা বলেছেন তাকেই মানা বা অনুসরণ করা যে সবচেয়ে জরুরী এ বিশ্বাস ও অনুভূতি যখন একজন মুসলিমের মনে দৃঢ়ভাবে স্থান পাবে এবং সে অনুসারে জীবন চালাতে সচেষ্ট থাকবে তখন কোন ভয় ভীতি তাকে আক্রান্ত করতে পারে না।
    আমার এক সাইবার বন্ধু যথার্থ বলেছেন, "আমাদেরকে আল্লাহ এ  পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তার ইবাদাতের জন্য। আপনি না চাইলেও আপনাকে তিনি উপলব্ধি করিয়েই দেবেন যে আপনি এই পৃথিবীর কোনো কিছুরই উপরে ক্ষমতা রাখেন না, আপনি অসহায়। এই উপলব্ধিটা একটি পরম নিয়ামত যখন আপনি বুঝবেন আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই অভিভাবক।" 

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      @মহিউদ্দিন:

      [১] আলোচ্য বিষয়ের সাথে তাগুতি/শয়তানী শক্তির ধারাকে সংযুক্ত করে লেখাটির আরেকটি একটি দিক প্রশস্ত করেছেন। কথাটি অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সম্পূরক।

      [২] আর হ্যাঁ,  আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় পথপ্রদর্শক হচ্ছে আল-কোরান, উল্লেখিত আয়াতগুলো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নোমান আলীর খোতবার প্রথম অংশ দিন দিন কাব্যিক হচ্ছে, ভারি সুন্দর। তার এই খোতবাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিশেষ করে হুদাইবিয়ার ঐতিহাসিকতাকে যে প্রেক্ষিতে নিয়ে এসেছেন। যারা বক্তৃতাটি এখনও শুনেন নি, তাদেরকে শুনার জন্য অনুরোধ করব।

      ভাই, এই ক’দিন থেকে মনে এই ধারণা আসছে যে এই শতাব্দী শেষ না হতেই ইউরোপ/আমেরিকায় এক বিরাট সংখ্যক লোক মুসলমান হয়ে যেতে পারে, এটা তাদের মহলের অনেকেরও ধারণা। সব মিথ্যাচার আস্তে আস্তে ঘোমটা উন্মোচন করছে। ইসলামকে লাইম লাইটে নিয়ে আসছে। মানুষকে এই ধর্ম সম্পর্কে পাঠ করতে বাধ্য করছে –তা তাদেরই প্রোপাগান্ডা ও ভীতি সৃষ্টির কারণেই।

      [৩] NAOMI WOLF এই ভিডিওটি দেখুন। চক্রান্ত কীভাবে হচ্ছে তা এখন আস্তে আস্তে প্রকাশ্যে আলোচনায় আসছে।

      [৪] আরেকটি কথা। বাংলায় ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দু এবং নাস্তিকগণ যেখানে ইনফরম্যাশন ইনপুটের স্থানে বসে আছে তারা কেয়ারফুলি তাদের মিথ্যাচারকে তথ্য ও ইতিহাসের স্থানে জড়িয়ে নিচ্ছে। নেটব্যবহারকারীরা সাধারণত উইকিপিডিয়াকে ব্যবহার করে থাকেন। ওখানেও কেয়ারফুল থাকতে হবে। যেখানে সামান্য সন্দেহ হবে সেখানে কোন উৎস ব্যবহার করা হয়েছে তা চেক করে নিতে হবে। আমি অনেক বার তা দেখে বিস্মিত হয়েছি। প্রায়ই দেখবেন মুসলমানদের উৎস বাদ দিয়ে ওরিয়েন্টালিস্ট (ইয়াহুদি/খৃষ্টিয়ান।যায়োনিস্ট) সোর্স ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের বিষয় হলে নাস্তিক, হিন্দু, ফ্যাসিস্ট ঘাদানি পক্ষের উৎস দিচ্ছে। কখনও এমন কোন সংবাদপত্রকে উৎস হিসবে গ্রহণ করেছে যে এর নামও কেউ শুনেনি।   

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      1. 3.1.1
        এম_আহমদ

        [1] আজকের বৈশ্বিক ঘটনা প্রবাহের বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত দেখতে উপরে নোয়াম উলফের যে ভিডিও লিঙ্ক দেয়া হয়েছে তার সাথে এই দুইটি লেখাও, যদি না দেখে থাকেন, তবে দেখতে পারেন।

        [2] Government agents 'directly involved' in most high-profile US terror plots

        [3] Exclusive: How MI5 blackmails British Muslims

        আরেকটি আলাদা বিষয়ে এই ভিডিওটি দেখুন:

        [4] আমেরিকাই আইসিস তৈরি করেছে -নোয়াম চমস্কি

        [5] আইসিস কে সৃষ্টি করেছে, পুতিনের দৃষ্টিতে:  ভিডিও

        [6] টেরোর যুদ্ধের বৈশ্বিক উদ্দেশ্য ও পরিণতি: ভিডিও  

  7. 2
    এম ইউ আমান

    চিন্তাপ্রসূত লেখাটি পড়ে ভাল লাগলো। বহুমাত্রিক লেখাটি থেকে নিজের বোঝাকে একটু সরলীকৃত-সামারাইজ করিঃ

    “মৃত্যুচিন্তা থাকলে অনেক অকাজ-কুকাজ কমে যাবে”।

    এটির মধ্যে কিছু স্বতঃসিদ্ধ সত্য অন্তর্নিহিত আছে বলে মনে হয়।  

    একটি প্রশ্ন উঠবে-

    মৃত্যুচিন্তা কি কাউন্টার প্রডাক্টিভ? এটি মানুষকে প্যাসিভ করে দেবে না তো? আমাদের অতি প্রিয়জনদেরও কবরে রেখে এসে, সেটি নিয়ে দিনের পর দিন কষ্ট না পেয়ে, পুনরায় হাসি-কান্নার সাধারণ জীবন যাপন করতে পারার মধ্যে আল্লাহর রহমত প্রচ্ছন্ন নেই কি?   

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      লেখাটি ভাল লেগেছে শুনে খুশি হলাম, ধন্যবাদ।

      “মৃত্যুচিন্তা থাকলে অনেক অকাজ-কুকাজ কমে যাবে”, এটির মধ্যে কিছু স্বতঃসিদ্ধ সত্য অন্তর্নিহিত আছে বলে মনে হয়। হ্যাঁ, এটা নিসঃসন্দেহে সত্য।  

      মৃত্যুচিন্তা কি কাউন্টার প্রডাক্টিভ? এটি মানুষকে প্যাসিভ করে দেবে না তো? আমাদের অতি প্রিয়জনদেরও কবরে রেখে এসে, সেটি নিয়ে দিনের পর দিন কষ্ট না পেয়ে, পুনরায় হাসি-কান্নার সাধারণ জীবন যাপন করতে পারার মধ্যে আল্লাহর রহমত প্রচ্ছন্ন নেই কি?   

      এখানে, এক ক্ষত্রে, বিষয়টির প্রকৃত নার্ভ স্পর্শ করেছেন বলে মনেয়। তবে এর অপরাপর দিক রয়েছে সেগুলো কীভাবে অনুভব করেছেন জানি না। প্রথমত, প্রথম স্থানটি যাতে বাকি পাঠকেরা ধরতে পারেন এজন্য আরেকটু ব্যাখ্যায় নিচ্ছি। ‘কাউন্টার প্রডাক্টিভ’  কথাটিকে যদি ‘প্রোডাক্টিভিটি’ অর্থে ধরা হয়, তবে হয়ত দুনিয়াবি অর্থে এটা হতে পারে। আর যদি এটাকে ‘হিতে বিপরীত’ অর্থে ধরা হয়, তবে এই সম্ভাবনা নেই, বা অত্যন্ত কম। কথাটি পরে আরেকটু ব্যাখ্যা করব। তবে, আখেরাতের দৃষ্টিতে কোনো দিক থেকেই কাউন্টার প্রোডাক্টিভ হবে না। কেউ ভুল অর্থে তা গ্রহণ করে তার দুনিয়াবি জিন্দেগীর ক্ষতি করলেও না, যদি তা তার নিজ ব্যক্তির সাথে জড়িত থেকে যায়।

      অনেক বৎসর আগে আমাকেও এই বিষয়টি অনেক ভাবিয়েছে। ধরুন, রাতের নামাজের কথা, বা রাতের ইবাদতের কথা। রাত জেগে ইবাদত করে পরদিন যখন কাজে যাওয়া হবে তখন সারাদিন ঘুম ঘুম করতে পারে, মেন্টাল অনেক কাজে ফোকাস করা কঠিন হতে পারে। তবে রাতের ইবাদতের বিষয়টি মৃত্যু চিন্তা থেকে ভিন্ন কিন্তু আবার অভিন্নও। অভিন্ন এই অর্থে যে মৃত্যু চিন্তা আপনাকে অমনিতেই ইবাদত বন্দেগীতে আগ্রহী করে তুলবে। একটু অবসর পেলেই চিন্তা এদিকে ধাবিত হবে এবং আপনার মাথাকে এটাই occupy করে ফেলবে।

      আলেমগণ বলে থাকেন, আখেরাতকে অগ্রাধিকার দিলে দুনিয়াবি কিছু ক্ষতি হবে। এমন উপমাও দেন যে দুই হাতে দুই শোল (মাছ) ধরা যায় না। দু’হাত দিয়ে একটিকেই পাকড়াও করতে হয়।

      তবে এ বিষয়টির উপর আমারও একটি দৃষ্টিকোণ রয়েছে যা এখন পুরোভাবে  expound করতে পারব না কেননা কথা বেশি দীর্ঘ হয়ে যাবে। সংক্ষেপে, মৃত্যু চিন্তা মূলত এই অর্থে নয় যে আমি ‘মরে যাব’, আমি ‘মরে যাব’। এটা ক্ষেত্র বিশেষে দুশ্চিতা হতে পারে। বরং মৃত্যু চিন্তা হচ্ছে মৃত্যুর বাস্তবতা সামনে রেখে জীবনের পরিকল্পনা রচনা করা। কেউ যখন ক্যান্সার রোগী হয়ে জানতে পারে যে তার সময়সীমা মাত্র এক মাস, তখন সে অনেক কিছু করতে চাইতে পারে কিন্তু অস্বস্তি, আকস্মিকতা এবং শারীরিক অসুস্থতা পরকালীন কাজের সেই সামর্থ্য আর দিবে না। এদিক থেকে, মৃত্যু চিন্তা, সুস্থাবস্থায়, ক্যান্সার রোগের আগেই, সেই কাজে উদ্বুদ্ধ করে দিতে পারে। সে এখনই অন্যের সাহায্যে এগিয়ে যাবে, দান খয়রাত করবে, অন্যের সমস্যা লাঘব করবে, কল্যাণ-কর্মের প্রসার ঘটাবে, মন্দ-কর্ম প্রতিহত করবে; নিজের আচরণ সুন্দর করবে, চিত্রশিল্পী যেভাবে ছবিতে তার আর্টিস্টিক দক্ষতা প্রয়োগ করে সে সেভাবেই তার জীবনে আর্টিস্টিক রূপ দেবে। আর্টিস্টিক ধারণাটি কোরানে ‘ইহসান’ শব্দে এসেছে। মুহসিন হচ্ছে তার আমলের আর্টিস্ট (আর দুনিয়াবি আর্টিস্ট হচ্ছে তার ক্যানভাসে ছবি অঙ্কনের আর্টিস্ট)। এখান থেকে একটা জিনিস প্রশস্ত করা যায়। মৃত্যু চিন্তা হচ্ছে মৃত্যুর পরবর্তী জীবন নিয়ে চিন্তা যাতে করে শেষ বেলায় এই কথাটি বলতে না হয়, ‘'হায়, আমার আফসোস! আমি যদি এ জীবনের জন্যে অগ্রে কিছু প্রেরণ করতাম’ (৮৯:২৪)! (অর্থাৎ দুনিয়ায় নেক/ভাল আমল করে আসতাম)।

      এখানে যে জীবন দর্শনের রূপরেখা প্রতিভাত হয় তা সেক্যুলার সমাজ ও জীবনের বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা সেক্যুলার বাস্তবতার বাইরে আজ কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। কেবল পাঠ করছি আর অনুমান করছি মাত্র। আমাদের দীন ধর্মের বাস্তবতায় life style, সমাজে ও ব্যক্তিতে, বহুলাংশে ভিন্ন হয়ে পড়বে। মৃত্যু-চিন্তায় উদ্বুদ্ধ জাতি তাদের বাড়ি-ঘরে উন্নতমানের দামী আসবাবপত্র, সাজগোজ কম করবে, বিলাসীপণ্য কম কিনবে, ৫ বছর চলে গেলেই কার্পেট বদলাবে না, এই বস্তু ফেলে সেই বস্তু কিনবে না, সামাজিকভাবে জাগতিক প্রেসার কম অনুভব করবে –এতে ইউরোপের তুলনায় মুসলিম সমাজের জীবনের মান অনেক নিচের পর্যায়ে দেখাবে। মুসলিম সমাজ যে বর্তমানে ইউরোপের চেয়ে, (এদিক দিয়ে), পিছিয়ে আছে, এর একটি কারণও এখানে। দুনিয়ামুখী মানুষ দুনিয়াতেই সবকিছু ভোগ করে যেতে চায়। এবং এই তাড়াই তাকে খাই খাই করে তুলে।

      মৃত্যুমুখী চিন্তার সমাজ ও ব্যক্তির সাথে মৃত্যু-গাফেল সমাজ ও ব্যক্তির তুলনায় গিয়ে যদি ‘প্রোডাক্টিভিটি’ শব্দটিকে নির্ধারণী ক্রাইটেরিয়া ধরে নিয়ে করা হয়, তবে অবশ্যই পার্থক্য দেখা যাবে। কেননা, এই চিন্তাটি গোটা আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষিতে বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। তবে, তখন প্রশ্ন হবে কার দৃষ্টিতে কোনটি কাউন্টার প্রোডাক্টিভ। এক সমাজ হয়ত তার কাছে যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট, আরেক সমাজ হয়ত আরও পেতে চায়, আরও, তারপর আরও। আমাদের জন্য কেবল খেয়ে-ধেয়ে মধ্যম মাত্রার আর্থিক জীবনের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা) দোয়া করেছেন। এ জগতে বাঁচার জন্য কতটুকু দরকার?

      মৃত্যু চিন্তা আবার মনমরা হয়ে থাকা, বিষণ্ণতায় (depress) বিদগ্ধ হওয়া –এসবের দিকে ইঙ্গিত করে না। কেউ মরে গেলে দুনিয়া শেষ হয়ে গিয়েছে, আর হাসি-আনন্দ করা যাবে না –এমনটিও ইসলামেও নেই। তিন দিনের পর বিষয়টি স্বাভাবিক হওয়া উচিত –এটাই ইসলামের নিয়ম। চিৎকার করে কান্নাকাটিও নিষিদ্ধ। তবে আমাদের সমাজের বাস্তবতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির রূপ নিয়েছে। মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েই জীবন যাপন হচ্ছে ইসলামের শিক্ষা। তবে ইউরোপে যেন কান্নাকাটি, দুঃখ বা কখনো বিষণ্ণ হওয়া –এগুলোকে একেবারে অস্বাভাবিক করে নিয়েছে। আপনাকে সকল অবস্থায় মুখে হাসি টানতে হবে। আর মৃত্যু তাদের সমাজে যেন এক অস্বাভাবিক ভীতির বস্তু হয়ে গিয়েছে। অপর দিকে মৃত্যু একদম ইন্সটিটিউশনেলাইজ হয়ে পড়েছে। এক ব্যক্তি মরবে, হাসপাতালের হিমাগার থেকে বের হয়ে ফিউনার‍্যাল সার্ভিসের হাতে পড়বে, দাফনের সময় পরিবারের লোকজন কালো কাপড় পরে গোরস্থানে যাবে, ফিউনার‍্যাল সার্ভিস পাদ্রির ব্যবস্থা করবে আর পরিবারের লোকজন অতিথির মত দাঁড়িয়ে এসে বাসায় ফিরবে। এমন অবস্থাকে আল্লাহর রাহমত ভাবা হবে, না আল্লাহ তার রাহমত উঠিয়ে নিয়েছে –সেটাই হবে প্রশ্ন। আমাদের সমাজে এখনো দাফনের পূর্বে ও পরে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে দয়া দরুন, তেলায়ত, পারিবারিক সহমর্মিতা ইত্যাদি করা হয় তা ধর্ম জীবনের জন্য ভাল জিনিস।

      আপনার মন্তব্য যেভাবে বুঝেছি সেই ভাব সামনে রেখে মনে যা এসেছে তা’ই বললাম। ঠিক বেঠিক, আল্লাহই জানেন।

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।

  8. 1
    এম_আহমদ

    এই লেখায় কয়েকটি বিষয়ের সংযোগ ও সন্ধি একত্রে আলোচনা করতে হয়েছে। লেখাটি প্রিন্ট করার পরে ভাবলাম, এত জটিলতা একত্রে আলোচনার পরিবর্তে যদি আলাদা আলাদা শিরোনামে দুই বা তিনটি লেখা দেই, তবে হয়ত কথাগুলো আরও ব্যাখ্যায় আনতে পারব। তাই লেখাটি মুছে দিয়েছিলাম। তারপর আরেক ভায়ের সাথে ফোনে আলোচনা হল। তিনি লেখাটি পড়েছিলেন। মুছে ফেলার কথা শুনে বললেন, ‘এটা ঠিক হয় নি, যেভাবে আছে সেভাবে থাকুক। অন্য ব্যাখ্যা অন্য লেখায় দেবেন।’ তাই লেখাটি যেভাবে ছিল সেভাবেই এখন আবার restore করলাম। কেউ এটি পড়ার জন্য অন্য কাউকে লিঙ্ক দিয়ে থাকলে, তারা নিশ্চয় তা পান নি –তাই এই inconvenience এর জন্য দুঃখিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.