«

»

Jul ১৭

সামাজিক উলটপালটে পিস টিভি প্রসঙ্গ

peaceTVভূমিকা

বিগত বছরগুলো ধরে বাংলাদেশে যেসব ঘটনা ঘটছে সেগুলোর দিকে সমাজ দার্শনিক দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে সামাজিক পরিবর্তনের কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য নজরে আসবে। স্পষ্টত, এগুলোর প্রকৃতি দ্রুত (rapid) এবং অবক্ষয়-তাড়িত। সমাজের পরিবর্তন সাধারণত মন্থর। দ্রুত পরিবর্তন অস্বাভাবিকভাবে হয়। কোন প্রতিষ্ঠিত সমাজের প্রকৃতি, অবকাঠামো ও তার নৈতিক ভিত্তিকে অক্ষত রেখে অকস্মাৎ পরিবর্তনের উপায় নেই, যেভাবে পুরানো ঘর না ভেঙ্গে সেই ভিত্তিতে নতুন কিছু গড়ার সহজ পথ নেই। নতুন সমাজের জন্য পুরাতন নিশ্চিহ্ন হতে হবে; নতুন শ্রেণী অর্থবিত্তের অধিকারী হতে হবে, ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। এই ধরণের উত্থান-পতনের জন্য চাই প্রথমেই বিচারহীনতা, আইন শৃঙ্খলার বন্ধন উন্মোচন। এর হাত ধরে আসে গণসম্পদের চরম হরিলুট, ধামাচাপার রাজনীতি। আর এই ধারা বেয়ে আসে গুম, হত্যা, ক্রস-ফায়ার এবং হরেক রকমের নাটক। একটি সমাজের পেথোলজির দিকে তাকালে তার পীড়া বা তকলীফ বোঝা সহজ হয়।

ইদানীং পিস টিভি বন্ধ করা হয়েছে। আগে দিগন্ত টিভি এবং ইসলামিক টিভি চ্যনাল দুটি। সাথে ছিল আরও কিছু সংবাদ মাধ্যম। দেশের প্রধান প্রধান ধর্মীয় দলের উপর আক্রমণ এসেছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উপরও এসেছে। জাতীয় সম্পদের হরিলুট হয়েছে। গুম, হত্যা, ক্রস ফায়ার হয়েছে (এবং এগুলো চলছেই)। এই পরিবর্তনমুখী উলুধ্বণির প্রতি কর্ণপাত করলে 'অসাম্প্রদায়িকতা' ও 'সেক্যুলার' ধ্বণি প্রধান হয়ে আসবে। এগুলো গুঁজনধ্বনি এবং এদের লক্ষ্যধ্বণি হচ্ছে জঙ্গি, সন্ত্রাসী।

পিস টিভি সন্ত্রাসের অভিযোগে বন্ধ হয়েছে। পিস টিভি মুসলিম সমাজের একটি সংখ্যালঘু দলের প্রচার মাধ্যম ছিল। এই দলটি বাংলাদেশের এবং বিশ্ব মুসলিমের মধ্যে অতি ক্ষুদ্র একটি দল হলেও, (এবং তাদের মধ্যে কিছু ধর্মীয় বাড়াবাড়ি থাকলেও, যার কথা পরে উদাহরণসহ আসবে), তারা সন্ত্রাসী নয় এবং জাকির নায়েকের উপর সন্ত্রাসের অভিযোগ কেবল সত্যের অপলাপই হতে পারে। এটা কেবল মতলবাজ ও ঔপনিবেশবাদের ছত্রছায়ায় আনা যেতে পারে।

ইতিপূর্বে আক্রমণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়া প্রধান প্রধান মুসলিম দলের কথা বাদ দিয়ে চোখ অন্যত্র স্থাপন করলে দেখা যাবে যে স্বর্গের এজেন্টদের ধর্মকে নিরাপত্তায় রাখা হচ্ছে। যেসব বাবা তাদের স্বর্গীয় জাহাজে তোলে সকল ঘুষখোর, মদখোর, ভূমিদস্যু, ব্যাঙ্কলুটার, নারী-পাচারি, বেশ্যার পিম্প -সবাইকে আল্লাহর বিচার থেকে সরিয়ে সহীস-সালামতে স্বর্গের আসনে নিয়ে বসাবেন আজ সেই বাবাদের ধর্মই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। মুরগী-চোর থেকে দলীয় কারসাজিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চাসনে বসা গাড়ি বাড়িসমূহের মালিক, রাস্তায়-রাস্তায়-ঘোরা অপদার্থদের মিডিয়া টাইকুন হওয়া, কেরানি থেকে বিলিয়নিয়ার হওয়া বিত্তবান -এরা সবাই এই পরিবর্তনের সুবিধাভোগী (beneficiaries)। তারা মাফিয়া-মিডিয়ার মাধ্যমে অনবহিতের (unwary/unsuspecting) কাছে জাতীয় আবেগ বিক্রি করেছে। এই আবেগকে বাজারজাত করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে, বিদেশিদের সহায়তাও নিয়েছে। তারপর অসাম্প্রদয়িকতা ও সেক্যুলার মুখোশ পরে জঙ্গি, জঙ্গি হেঁকেছে এবং এভাবেই নিজেদেরকে দ্রুততরভাবে একটি ক্ষমতাবান শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে।

পরিবর্তনের ময়দানে আরও যা দৃশ্যগত হতে পারে তা হল: শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন; কালচার ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে জাতীয় সংস্কৃতির ভিন্ন রূপায়ন; ধর্মীয় ক্ষেত্রে দেওয়ানবাগী, উরসবাদী-ধর্ম ও পৌত্তলিক সভ্যতার প্রাধান্য দান; রাষ্ট্রযন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুসমূহ ইসলামী ভাবাপন্নদের ঊর্ধ্বে স্থাপন; এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ধারাবাহিকতা পাকাপোক্তকরণ।

তবে ইদানীং পিস-টিভি বন্ধ করায় সরকার ও আহলে হাদিস/সালাফি বিষয়টি নানান আলোচনায় অগ্রবর্তী হয়ে এসেছে। তাই উপরের কথাগুলো নেপথ্যে ছেড়ে দিয়ে এই বিষয়ের উপর কিছু কথা রাখতে চাই।

সরকার ও পিস-টিভি

আমি নীতিগতভাবে পিস-টিভির প্রতি সমর্থন দিচ্ছি কিন্তু সালাফি/আহলে হাদিসদের অনেক কর্মকাণ্ড আমার দৃষ্টিতে ধর্মীয় সৌহার্দের পরিপন্থী –আমি মুসলিম সমাজের কথাই বলছি। সম্ভবত কথাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বেশি সত্য। তবে সরকারের ক্রিয়াকর্মে যেমন নানান বৈশিষ্ট্যের বিরূপ সমাহার রয়েছে, পিস-টিভির পিছনেও রয়েছে নানান বৈশিষ্ট্যের সমাহার।

বর্তমান সরকার যেমন একচ্ছত্রভাবে ক্ষমতার হকদার ভাবে, দেশের ইতিহাসের একচ্ছত্র ভাষ্যকার ভাবে, জাতির একমাত্র এজেন্ট ভাবে, তেমনি আহলে হাদিস/সালাফিগণ ইসলামের তথাকথিত তেহাত্তর দলের একমাত্র সত্য-সঠিক দল ভাবে, আল্লাহ-রাসূলের কথার মূলে আসল কোন অর্থ নিহিত সেই সত্য তারাই যেন একচ্ছত্রভাবে বুঝে এবং তারা ব্যতীত বাকি সবাই কোন না কোন উপায়ে সহীহ হাদিসের উপর আমল করতে ব্যর্থ। সৌদি থেকে বাংলা পর্যন্ত তারা সরকার ব্যবস্থার তেমন সমালোচক নন। মিশরে সংগঠিত একটি আন্দোলনে যখন আরেকটি দল ক্ষমতার চেয়ারে বসে যেতে পারে এই সম্ভাবনায় এসেছিল তখন রাজনৈতিক কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই তারা (সালাফিগণ) ওদের সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং তাদেরকে গাছে তোলে মইখানা সরিয়ে নেয়। এটা ছিল রাজনৈতিক প্রজ্ঞা গড়ে উঠার অভাবেই, উদ্দেশ্য প্রণোদিত নয়। তবে ঘটনা থেকেই গেল যে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে সেনাশাসনের সমর্থন দেয়া হল, এবং মাশাল্লাহ এখন অবস্থা সেই চিরকালের মতই।

বাংলাদেশে সরকারের সাথে তাদের সম্পর্ক অনেকটা সৌদি শাসকের সাথে যেমন তেমনি ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আর সৌদির ক্ষমতাসীনদের মনোবৃত্তি ও ধর্মীয় প্রকৃতি আকাশ পাতালের পার্থক্যে। সৌদির আভ্যন্তরীণ ও পারিপার্শ্বিক সমাজ সংস্কৃতি ও বাংলার আভ্যন্তরীণ ও পারিপার্শ্বিক সমাজ সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানকার মুসলিম নামধারী এক মহলে ইসলাম নিয়ে যে এলার্জিতে ভোগেন এবং যে কারণে দেশের সমাজ ব্যবস্থা থেকে ইসলাম নির্বাসনে সচেষ্ট থাকেন, সেটার অস্তিত্ব বা সমান্তরাল কিছু সৌদিতে নেই।

কিন্তু ঘটনা যা'ই হোক, বাংলাদেশ সরকার তাদের টিভি ফিরিয়ে দিলে তারা সরকারের লোক হয়েই থাকবে। মিশর সৌদির মতই। কিন্তু সরকারের ভিতরে সেটি না হতে দেয়ার একটি আদর্শ এখন অন্যভাবে সক্রীয় মনে হচ্ছে। তা না হলে এই ঘটনা এভাবে ঘটত বলে মনে হয় না।

সরকার ইতিপূর্বে বিভিন্ন ইসলামী দলের উপর সাড়াশি আক্রমণ চালালেও সালাফিদের সাথে তা করা হবে –এমনটি তারা হয়ত ধারণা করে নি। তারাই সত্য ইসলামের লোক –এমন সরল বিশ্বাসই হয়ত কাজ করে থাকবে। কিন্তু ইনু-মুনু-শরি-জা-মোজা গংদের সংস্কৃতি কোথায় এবং সালাফি অবস্থান কোথায় তা যে তারা বুঝতে ব্যর্থ হবে –এমনটি হতে পারে না। বরং স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপারটি সময় সাপেক্ষ ছিল। যেমনভাবে জামাতের ঠ্যাং ভেঙ্গে তবেই বিএনপির ঠ্যাং ও হাড্ডি ভাঙ্গার পরিকল্পনা। ২০১০ সাল থেকে যখন জামাতের উপর আক্রমণ চলে তখন বিএনপি নীরব ছিল, ভাবেছিল, ওদেরকে মেরে যদি সন্ত্রাসী জালেমদের আক্রোশ প্রশমিত হয়ে যায়, তো মাশাল্লাহ ভালই। কিন্তু বিষয়টি হয়ে দাঁড়িয়েছিল মার্টিন নীমুলারের ‘দে কেইম ফার্স্ট’ কবিতার মত। এটা সালাফিদের ব্যাপারেও এবার সত্যে পরিণত হল। এখন তারা যদি এই ধাক্কা থেকে ঐক্যের শিক্ষা গ্রহণ করেন তবে ভাল, নইলে যেই সেই।

স্থান-কাল, রাজনীতি ও সংহতির দাবি

বাংলাদেশ সৌদি নয়। এখানে ভিন্ন আঙ্গিকের ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংযত ভাষা ও উদার দৃষ্টির প্রয়োজন। (তবে সর্বাবস্থায়ই তা প্রয়োজন)। কিন্তু সালাফি/আহলে হাদিসদের মাযহাবি আক্রমণ এবং নিজেদের অবস্থানকে খোদায়ী এজেন্সির মত করে দেখা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উপর কুফুরি আরোপণ করা –এসব সম্প্রীতির প্রতিকূলে থেকে যায়। লক্ষণীয় যে কেউ বিদাত করে থাকলেও কাফের হয়ে যায় না। এসব সমস্যা আমরা হাজার বছর আগেই সমাধান করেছি, নতুনভাবে সেই পুরানো সমস্যার দ্বার উন্মোখ ঠিক নয়। যারা এক কিবলার লোক, যারা আমাদের হালাল-হারামের অনুবর্তী, যারা নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, হজ্জ করে, যাকাত দেয়, তারা গোনাহের কাজ করলেও আমাদের দ্বীন-ধর্ম থেকে বেরিয়ে যায় না। ছোট গোনাহ হোক, বড় গোনাহ হোক, কিন্তু কুফুরিতে টানা যাবে না। কবিরাহ গুনাহ করলেও ঈমান বহির্ভূত হবে না (আবুল ইজ্জ আল-হানাফি, (২০০২), শারহ আল-আকীদাহ আত-তাহাওয়্যিয়াহ, কায়রো: দার ইবন রাজব, পৃ. ২৯২)। সুতরাং, অতীতের মত ফতোয়াবাজি শুরু হলে আমাদেরকে সেই খারেজি/মু‘তাজিলি বিবাদে নেমে পড়া হয়ে যাবে।

অসহিষ্ণুতা ও তাকফীর

এখানে উদাহরণসহ কিছু কথা আনতে যাচ্ছি। মতিউর রাহমান মাদানি নামের একজন আলেমের কথাবার্তা দেখুন, লিঙ্কটি প্রথমে দেখুন। এখানে বলা হচ্ছে, যারা ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদী তারা মুসলিম নয়, তাদের নামাজ, রোজা করার দরকার নেই। কথাগুলো ব্যতিক্রমধর্মী (exception) ভাষায় আসতে পারত, কিন্তু আসে নি। কেউ ধর্মনিরপেক্ষ বা কমিউনিস্ট হলে অমনিতেই নাস্তিক হয়ে যায় না। আমরাও নিজেরাও এই আদর্শগুলোর সমালোচনা করি কিন্তু বিষয়ের অবস্থানগত সীমা ও আঙ্গিনাকে সামনে রেখেই করি। লাখো লাখো এমন লোক রয়েছেন যারা আর্থ-সামাজিক দর্শনে কোনভাবে কমিউনিস্ট অর্থ ব্যবস্থাকে যথার্থ ভেবে নিয়েছেন কিন্তু আল্লাহ রাসূলে বিশ্বাস হারান নি। অধিকন্তু অনেকে আবার সেই ব্যবস্থাকে ইসলামের সাথে ব্যাখ্যাগত রূপ দিয়ে রূপায়িত করেছেন। তাদের চিন্তায় ভুল থাকতে পারে। কিন্তু সেই ভুল এই ভাষা দিয়ে সংশোধন সম্ভব নয় এবং এভাবে তাদের নামাজ রোজা এবং যাবতীয় আমল বাতিল করা কতটুকু প্রজ্ঞা-প্রসূত তা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। এমন ভাষা ও আক্রমণ সরাসরিভাবে সামাজিক দ্বান্দ্বিকতা সৃষ্টি করতে পারে। আবার তাদের প্রতিপক্ষ চাইলে ফতোয়ার নলও ঘুরিয়ে দিতে পারেন। আজ ধর্মীয় দলের ভাষা সংযত হওয়া জরুরি কেননা ইসলাম কোনো এক পক্ষের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। মাথায় আলখেল্লাহ পরিয়ে আল্লাহর পক্ষে কথা বললেই সেই কথা বা ব্যাখ্যা আপনাতেই ‘আল্লাহর কথা/ব্যাখ্যা’ হয়ে যায় না।

উল্লেখিত মতিউর রাহমান নামক ব্যক্তি হেফাজতে ইসলামের আমীর মুফতি শফি ছাহেবকে কুফুরি, এমন কি নাস্তিক্যবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। কী সাংঘাতিক কথাবার্তা! মুফতি ছাহেবের কলেমার জিকিরকে তিনি মিথ্যাচার ও ব্যঙ্গোক্তিতে নিয়ে বলছেন, ‘ইল্লাল্লাহ’ মানি ‘কিন্তু আল্লাহ’। শফি ছাহেব তার লা ইলাহা ইল্লাল্লার জিকিরের মাধ্যমে কুফুরি করেছেন (ভিডিও লিঙ্ক)! নায়ূজুবিল্লাহ।

কিন্তু এক্ষেত্রে, ইল্লাল্লাহ মানি কি ‘কিন্তু আল্লাহ’? মতিউর রাহমান নাকি শিক্ষকও ছিলেন! কিন্তু এসব কি কথা? এখানে আলাদাভাবে হলে, ‘ইল্লাল্লাহ’ ‘এক মাত্র আল্লাহ’ হবে, ‘কিন্তু আল্লাহ’ নয়। তারপর, প্রাথমিকভাবে, ইলাহ হবে মা’বুদ অর্থে, উপাস্য অর্থে। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নাই। তারপর ধরুন আমরা তার ‘কিন্তু’কে মেনে নিলাম। তারপর কেউ যদি ‘কোন উপাস্য নাই, কিন্তু আল্লাহ’ বলে, তবে তা কি নাস্তিকতার কলেমা হয়ে যায়? এই কথা বলার কারণে কি মুফতি শফি ছাহেব কুফুরি করে ফেলেছেন? এই যে মাদানিদের নাদানী কথাবার্তা এসব সামাজিক সংহতির প্রতিকূলে। ধরুন শফি ছাহেবের কোন ভক্ত যদি তার মজলিসে থাকত তবে হয়ত পায়ের জুতা খুলে তার মুখে মারত। তখন কি হত? এই সমস্যা তখন কার কারণে ঘটে থাকত –আলেমের কারণে না জালেমের কারণে? এভাবেই চলছে অনেক নাদান সালাফিদের “প্রজ্ঞাপ্রসূত” দ্বীনে ইসলামের খেদমত! তাদের কাছে আহমদ শফির ধর্ম হয়ে পড়ে কার্ল মার্ক্সের ধর্ম! এটা মতি সাহেবের কোন ভীমরতি? তিনি কার্ল মার্ক্সও পড়ে ফেলেছেন! তারপর শফি ছাহেবের বই না পড়ে, বক্তব্যের স্থান না বুঝে, ফাতোয়াবাজির সাফাইও গাইছেন!

ইদানীং জাকির নায়েক সাহেব ও কোরান-সুন্নাহ যেন একাকার হয়ে যাচ্ছে। পিস-টিভির ‘বিরোধিতাকে’ কুফুরির সাথে তুলনা করা হচ্ছে। ভয়ের বিষয় বটে। কেননা, কোনো দ্বিমত পোষণ করলেই তা বিরোধিতা ধরা হতে পারে। অতঃপর সমালোচক ইয়াহুদী-খৃষ্টিয়ানদের দালাল হতে পারেন, বা অজ্ঞ মুসলিম হতে পারেন, বা মাজার পূজারি হতে পারেন (এই লিঙ্ক দেখুন)। এতে বাড়াবাড়ি প্রকাশ পাচ্ছে। (আপনাদের কারো যদি কোমরে ব্যাথা হয়, তবে মুফতি ইব্রাহীম সাহেবের এই  এই ভিডিও নিজেদের স্ত্রীদের দৃষ্টি-সীমার বাইরে রাখবেন। কেননা, তারা দেখলেই বলে উঠতে পারেন, ‘আপনি যদি অপর নারীর দিকে দৃষ্টিপাত না করে থাকলেন, তবে আপনার কোমরের ব্যাথা আসল কিভাবে?) আবার তাদের কেউ কেউ নিজেদেরকে এই উম্মতের “ডাক্তার” বানিয়ে তিক্ত ঔষধ সেবন করাচ্ছেন (লিঙ্ক)

এতটুকু আলোচনার পরে এটা ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না যে পিস-টিভি আহলে হাদিস/সালাফি মতবাদের একটি বাহন এবং এই মতবাদটির ধর্মীয় অবস্থান প্রাচীন প্রতিষ্ঠানাদি (যেমন আলআজহার/দেওবন্দ) থেকে নানান দিয়ে ভিন্ন। এটিই ওয়াহহাবিজম যা মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সাথে সমন্বিত আন্দোলন।

সালাফি দল ও অন্যরা

বাংলাদেশে আহলে হাদিস/সালাফিদের জিহাদের ক্ষেত্র নিছক দেওয়ানবাগী-উরসবাদীদের মধ্যে সীমিত নয়, তা বরং জামাত, তবলীগ, খিলাফত, হেফাজত তথা গোটা দেওবন্দী স্কুল, না বরং গোটা হানাফি সম্প্রদায় পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত। পিস-টিভির একজন বক্তা কাজি ইব্রাহীম সাহেবের ধারণা হয়েছে যে বাংলাদেশে নাকি আলেমদের মধ্যে লাখে দু/চারজন ছাড়া কেউ ‘মাযহাব’ বুঝে না (লিঙ্ক), সাধারণ পাঠক ও শিক্ষিত শ্রেণী দূরে থাকুক!

সালাফিদের দৃষ্টিতে প্রচলিত মাযহাবগুলো যেন জাল/ভুল হাদিসের সমন্বয়ে গঠিত, এবং মাযহাবের ইমামদের কাওল: ‘শুদ্ধ হাদিস পেলে শুদ্ধটাই অনুসরণ করতে হবে’, এই কথার বারংবার উদ্ধৃতি টানাতে সালাফিদের এই ধারণাই বলবৎ দেখা যায় যে ইমামদের নিকট জাল/ভুল হাদিস ছিল এবং এখন যেহেতু তাদের কাছে (সালাফি/আহলে হাদিসদের) শুদ্ধ হাদিস ও ধর্মের শুদ্ধ ব্যাখ্যা পাওয়া গিয়েছে তাই ইমামদের মত-পথ ত্যাগ করে সালাফি নির্বাচিত এবং তাদেরই ব্যাখ্যায় সজ্জিত খাটি ইসলামে পদার্পণ করতে হবে। এটাই সত্যিকারের ইসলাম।

কিন্তু তাদের এই অবস্থানে নতুন কিছু নেই। পুরাতন দর্শনের পরিভাষায় এরা হচ্ছেন আহলুল-নাকল (أهل النقل) অর্থাৎ সংক্ষেপে, কেবল “আল্লাহ বলেছেন”, “রাসূল বলেছেন” –এইসব উদ্ধৃতির সমাহারে সাজানো “মতবাদ” এবং এরই প্রতিকূলে সেদিন ছিল আহলুর-আকল (أهل العقل) অর্থাৎ, সংক্ষেপে, কোরান-হাদিসের বাণী যুক্তি/আকল ভিত্তির সমাহারে সাজানো পথ। মূলের দিক থেকে আহলুল-নাকলকে প্রাথমিক যুগের খারেজিদের মতবাদের সাথে সমন্বয় করা যায় যদিও বিষয়টিতে অনেক পার্থক্য ও ব্যাখ্যা সাপেক্ষতা রয়েছে এবং দ্বিতীয়টি এই চরমধর্মী আন্দোলন ও দ্বন্দ্ব-কলহের মোকাবেলায় এক সময় যে মু’তাজিলি আন্দোলন রূপলাভ করেছিল -সেটির সাথে। এখানেও অনেক পার্থক্য ও ব্যাখ্যা সাপেক্ষতা রয়েছে।

সালাফি শব্দ ও ধারণা

'সালাফ' অর্থ পূর্ববর্তী আর 'খালাফ' অর্থ পরবর্তী। কোরানে ক্রিয়াবাচক শব্দ হিসেবে ‘সালাফা’ শব্দটি অতীতে ঘটে যাওয়া আমল বা কাজ বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। পূর্ববর্তী লোক হিসেবে একটি মাত্র ব্যবহার এসেছে কিন্তু তা কোন সম্মানসূচক অর্থে নয়। আল্লাহ ফিরাউনকে ডুবিয়ে মেরে এই পূর্ববর্তী (সালাফ) জালেমদের উদাহরণ পরবর্তীদের জন্য স্থাপন করেছেন –এই অর্থে (৪৩:৫৬)। আবার যে হাদিসে রাসূলের (সা) পরের প্রথম ৩ শতাব্দীর বিবরণ এসেছে, সেখানে সালাফ শব্দ ব্যবহৃত হয় নি। অধিকন্তু ৪ মাযহাবের ৪ ইমামই সেই ৩ শতাব্দীর লোক। ওই কাল থেকে সালাফি ধরা হলে তারা সবাই সালাফি। আবার এই ৩ শতাব্দীতে অনেক ফিতনা ফ্যাসাদ ঘটেছে। খারেজি ফিতনা প্রথম শতাব্দীতেই শুরু। ৪ খলিফার ৩ জন্ হত্যা, জঙ্গে জমল, জঙ্গে নাহরাওয়ান, জঙ্গে সিফফীন, কারবালা ইত্যাদি ওই প্রথম শতাব্দীতেই হয়েছিল। প্রথম ৩ শতাব্দী-কেন্দ্রিক হাদিসের মর্মার্থ ভিন্ন আঙ্গিকের।

সালাফি শব্দটি ওয়াহহাবি আন্দোলনকে প্রাচীনতার রঙ ও আবহে দেখাতে এবং প্রথম ৩ শতাব্দীর শব্দসম্ভারে ভিন্ন এক বৈধতার আঙ্গিক স্থাপন করতে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা হয়।

আবারও সরকার ও পিস-টিভি

মূল কথায় আবার যাই। ধর্মীয় আন্দোলন ও মাযহাবি দৃষ্টিতে সালাফিদের অবস্থান কী -তা এক পাশে রাখা যাক। কিন্তু কোনো মিথ্যা অজুহাতে পিস টিভি বন্ধ করা শুধু অন্যায়ই নয় বরং ধর্মীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে পাক্ষিকতাও দেখা যাবে। সকল পীর-মাযারিদের কার্যক্রম বহাল তবিয়তে রাখা, তাপসীর নামে না হলেও সরকারী খুতবাহ পাঠের আহবান করা, তারপর ইসলামী দলগুলোর উপর কড়া নজরদারী করা –এসব কিন্তু সরকার অপর কোন ধর্মের ব্যাপারে গ্রহণ করার সাহস করবে না যেভাবে আমেরিকা ইসরাইলের ব্যাপারে কথা বলার সাহস পাবে না। আমরা এক বিস্ময়কর সমান্তরাল বাস্তবতা লক্ষ্য করছি।

ভারতে পিস-টিভি বন্ধ হয়েছে, তাই বাংলাদেশেও বন্ধ হতে হবে –এটা কোন ইঙ্গিত বহন করে? ভূমিকায় যে কথাগুলো রেখেছিলাম, সেগুলো এবারে খেয়ালে আনা যেতে পারে। জাকির সাহেবকে মনিটর করার জন্য ইনু সাহেব ভারত সরকারকে আহবান জানিয়েছেন (নিউজ-আওয়ার উইথ অর্ণব ঘোঘ ৯/৭/১৬), যদিও ভারতের গোয়েন্দা সন্ত্রাসের সাথে তার কোন সংশ্লিষ্টতা পায় নি বলে জানিয়েছে। এদিকে ঘটনা দাঁড়িয়েছে এই যে কোন ধরণের ন্যায্যতা ছাড়াই তার উপর চলছে হুমকি-ধমকি। ভারতের এক হিন্দুত্ববাদী মহিলা জাকির সাহেবের মস্তকের উপর ৫০ হাজার রুপি পুরষ্কার আরোপ করে দিয়েছে। এটা তো কোন সভ্য সমাজের আচরণ হতে পারে না।

শেষ কথা

পিস টিভিতে সরকার কামড় দিল কেন? হয়তবা নতুন কিছু ধ্যানে এসেছে -তাই। তবে তা নিশ্চয় সন্ত্রাস নয়। বাংলাদেশের মুসলামানগণ প্রধাণত হানাফি মাযহাবের লোক। এই মাযহাবটি সহিষ্ণুতার উপর, অর্থাৎ কোরান-হাদিসের বিমল ব্যাখ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। এর রূপায়ণ প্রাচীন সভ্যতার দেশ ইরাকেই হয় এবং এর ইমাম আবু হানিফা তার ধর্মীয় ব্যাখ্যা যুক্তির প্রাধান্যতায় প্রতিষ্ঠা করেন, এজন্য, তার বিরোধিরা তাঁর অনুসারীদেরকে ‘আহলুর রায়’ বা (যুক্তি-প্রাধান্যবাদী) বলে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশে কৃত্রিম পদ্ধতিতে ঘটানো সমাজ পরিবর্তনে হানাফি স্কুলের ধারক-বাহক সবাইকে জঙ্গি-সন্ত্রাসী বলে তাদের ইমেজকে টার্নিস করে দিলে যুবসম্প্রদায় সালাফিবাদেই আশ্রয় নিতে যায়। কিন্তু ধর্মীয় দৃষ্টিতে সালাফি ব্যাখ্যার জীবন পদ্ধতি ও হানাফি ব্যাখ্যার জীবন পদ্ধতির মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা হয়ত কোন কোন কোয়ার্টারে অনুভূত হচ্ছে। আরবিতে একটি প্রবাদ আছে, غاب عنا فرحنا، جاءنا أثقل منه অর্থাৎ ‘ও সরে গেল (তাই) আমরা খুশি হলাম, কিন্তু পরে যে এল সে ওর চেয়ে আরো কঠোর’! হানাফিদের ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও সালাফি ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে সমাজ সংস্কৃতির রূপায়নে যে পার্থক্যসূচিত হবে সেই দৃশ্যটি হয়ত কোন কোন দিগন্তে উদ্ভাসিত হচ্ছে। অন্যদিকে গাজাখোর বাবাদের ধর্মীয় পথ ইতিহাসের মিথ্যা ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রশস্ত করলেও অর্থাৎ সুফিবাদের মাধ্যমেই এদেশে ধর্ম প্রচার ঘটেছে তাই ওটাই খাটি ধর্ম -এই ইতিহাসকে কিন্তু বাবাদের জাহাজে চড়ে স্বর্গযাত্রীরা ব্যতীত কেউ গিলতে পারছে না, কেননা সেই প্রচারকগণ বিদাত প্রচার করতে এদেশে আসেন নি, গাজা সেবন করতেও আসেন নি এবং মানুষের ঈমান আমল শুদ্ধ না করেই তাদেরকে নিজ জাহাজে তোলে স্বর্গের আশ্বাসও দেন নি। এখন সবদিক থেকে 'তান্ত্রিক-নৈরাজ্যের' মাধ্যমে উদ্ভাবিত সমাজ পরিবর্তন নানামুখী সমস্যার এড়োপথে (crossroad) এসে দাঁড় হয়েছে। ওরা কৌশল করে, আল্লাহও কৌশল করেন এবং আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলি। এখন ঔপনিবেশ-সদৃশ মায়াময়ী-ছায়াময়ী রূপ ও তৎসংশ্লিষ্টতার লোটেরাশ্রেণী যে দিকেই পা বাড়াচ্ছে সেখানেই তাদের ল্যাঞ্জা প্রমাণ করে দিচ্ছে সেটি কোন প্রাণীর ল্যাঞ্জা।

সালাফিদের উদ্দেশ্যে হয়ত একথা বলা যেতে পারে যে আপনারা পারলে নিজেদের পলিসি পরিবর্তন করুন। ঐক্যের প্রতি নজর রাখুন। সবাই তাদের মাযহাব ত্যাগ করে আপনাদের দলে চলে গেলেই ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে -এই স্বপ্ন ত্যাগ করুন। এটা মিথ্যা স্বপ্ন। এই উম্মাহ ১৪০০ শো বছর ধরে নানান দ্বিমত নিয়েই বেঁচে আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত অনেক দ্বিমত নিরসনের উপায় নেই। তাই পার্থক্যের মধ্যেই ঐক্য খোঁজা যুক্তিসংগত। মানুষ অন্যের সাথে উঠা-বসার মাধ্যমে এবং সুযোগমত সমঝ গ্রহণের ভিত্তিতে নিজের মধ্যে পরিবর্তন আনে, কোন ফাতোয়াবাজির ভিত্তিতে নয়। মনে রাখতে হবে ধর্মীয় টেক্সট বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যার অবকাশ রেখে যায় -এবং এজন্যই দ্বিমতের উদ্ভব হয়।

মাযহাবগুলো কোরান হাদিসের গভীর ব্যাখ্যায় সুপ্রতিষ্ঠিত –এগুলো অগভীর আক্ষরিক (literal) ব্যাখ্যায় ধ্বংস হয়ে পড়বে না। জাকির নায়েক সাহেবের অডিয়েন্স সালাফি সম্প্রদায় অতিক্রম করলেও তা তার্কিক লড়াই উপভোগের আবহে বিরাজ করছে আর অন্যদিকে মাযহাব বিরোধি জিহাদ তার আপন স্থানেই ঘুরপাক খাচ্ছে। তাছাড়া হানাফি সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি গণতান্ত্রিক (!) দেশে তাদের উপর ধর্মীয় অজ্ঞ-মূর্খতা, বিদাতি, কবর পূজারি ইত্যাদি এলজাম দিয়ে মাযহাবি-জিহাদ খুব একটা ভাল যায় বলে মনে হয় না।

[P.S. এখানে আরেকটি কথা সংযোগ করি। সালাফি সম্প্রদায়ের অনেক আলেম মাযহাবি জিহাদে নেই, অন্তত আমার পরিচিত কয়েকজন রয়েছেন যাদের ক্ষেত্রে আমি এই স্পৃহা লক্ষ্য করি নি। সুতরাং এই প্রবন্ধের কোন কোন বাক্যে সাধারণী রূপ থাকলেও তাতে ব্যতিক্রমের বিষয়টিও খেয়ালে রাখতে হবে।]

৫৩ comments

Skip to comment form

  1. 17
    মহিউদ্দিন

    আপনার এ আশঙ্কা অমূলক নয়! তবে এ প্রেক্ষিতে অনেক আগে "এ কি সেই আখেরী জামানার আলামত?" শিরোনামে একটি ব্লগে কিছু কথা লিখেছিলাম। মনে হচ্ছে যত দিন যাচ্ছে মুসলিম বিশ্ব সে দিকেই দাবিত হচ্ছে দ্রুত গতিতে!  
    এখানে দেখেন সৌদি-ইরান বাক যুদ্ধ

    লক্ষ্য করবেন বিগত কয়েক দশকে যত জন গ্র্যান্ড মুফতি সৌদিতে নিয়োগ পেয়েছেন সবাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী! 
    আল্লাহ ভাল জানেন কি হতে যাচ্ছে মুসলিম উষ্মার ভবিষ্যৎ।  

  2. 16
    এম_আহমদ

    Saudi Arabia’s top cleric says Iran’s leaders ‘not Muslims’

    ইরানি শিয়ারা মুসলিম নয়: সৌদি গ্রান্ড মুফতি

    অবস্থা খুব একটা ভাল দেখাচ্ছে না। ইরানিরা যদি অমুসলিম হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদের হাঁক দিতে বেশিক্ষণ লাগবে না। ইসরাইলের প্ররোচনায় আমেরিকা ইরানীদের বিপক্ষে একটা সংঘর্ষ বাঁধাতে অনেক বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে। ১৯৮০ দশকে সাদ্দাম দিয়ে যুদ্ধ বাঁধিয়েছিল। এখন কি সৌদি দিয়ে একটা কিছু করানো হবে?

  3. 15
    এম_আহমদ

    এই ভিডিওটি দেখুন। তারপর চিন্তা করুন। যে বিষয়টি এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে, এমন ধরণের নানান বিষয় কি আমরা প্রায়ই শোনে থাকি না? সব ঘটনাই আমরা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেব? সৌদির টাকাওয়ালাদের ঘিরে তাদের নিজ দেশে এবং ইউরোপ-আমেরিকায় অনেক কিছু কি দৃষ্টিগোচর হয় না? হরেক রক্মের বিষয় রয়েছে। এই যে নারী-ঘটিত বিষয়, কর্ম-সংস্থানে নিপীড়নের বিষয় ইত্যাদি নিয়ে কি সৌদির বঙ্গাল-মাদানী-প্যাদানীদের ধর্মীয় আলোচনা করতে দেখা যায়? এসবের মধ্যে কি ওয়াজের কিছু নেই? এই ধরণের কুকর্ম কি কবরপূজা থেকেও গর্হিত নয়?

    ধর্ম প্রচার করতে হলে প্রথমে কি নিজের চারিপার্শের দিকে তাকাতে হয় না, নিজের পরিবেশে কি ঘটছে তা কি অনুসন্ধান করতে হয় না? বড় লোকের জীবন কীভাবে হত-দরিদ্রের জীবনের উপর প্রভাব বিস্তার করে যায় তা কি উপলব্ধি করতে হয় না? এখানেo ওয়াজ নসিহতের অনেক বিষয় আছে, আন্দোলন ও কর্মপন্থা অবলম্বনের ধর্মীয় অনুজ্ঞা আছে। কিন্তু সৌদির সরকার বা সমাজ ব্যবস্থার কোন অপকর্ম নিয়ে এই মোল্লাশ্রেণীকে কি কথা বলতে শোনা যায়?

    অতঃপর সার্বিকভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে তাকান। আমাদের দেশে আসুন। রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণেই সমাজে সম্পদের অসমবন্টনের আবহ তৈরি হয়। আর এই ব্যবস্থা যদি চোর ডাকুদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় তবে গরীবের সম্পদ যে কেবল লুণ্ঠিতই হয় তা নয় বরং এতে উভয়ের (ধনি-গরীবের) আর্থ-সামাজিক পার্থক্য আসমান জমিনের হয়। তারপর গরীব লোক বেঁচে থাকার কারণেই অনেক ছোটখাটো পাপের কাজ করতে বাধ্য হয়, পীরের মাধ্যমে ধন খোঁজতে দুর্নীতির শিকারগ্রস্ত হয়, টাকার অভাবে ওর কাছেই চিকিৎসা খোঁজে। কিন্তু তখন মূর্খমোল্লাহ তার ওয়াজের মাইক এই গরীবের দিকে হাঁকাতে থাকে। কারণ তার শিক্ষাদীক্ষা তার দৃষ্টিসীমাকে উন্মুখ করে নি। ধনাঢ্য-ডাকুগোষ্ঠীর বিপক্ষে কথা বলার যুক্তি, ভাষা ও সাহস সঞ্চিত হয় নি এবং প্রচলিত অসম-আর্থিক-রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে সুসমবণ্টন-ব্যবস্থা প্রণয়নের বিষয় কর্মপন্থাসহ উদ্ভাসিত হয় নি। এমন কাজেও যে ধর্মের বিরাট ব্যাপার রয়েছে সেই অঙ্গনটি প্রশস্থ হয় নি এবং সেই পথে তাদের কোন কর্ম-পদ্ধতি প্রণীত হয় নি। আজ এটা লক্ষ্য করা যাবে যে, স্থানভেদে, ইসলাম ধর্মের শিক্ষাব্যবস্থায় এমন কিছু স্থান করে নিয়েছে যার ফলে যুগান্তর ব্যাপী এক ধরণের বিধ্বংসী লড়াইয়ের-মোরগা ও ষাঁড় তৈরি হচ্ছে যাদের কারণে ধর্মীয় সমাজ দ্বন্দ্বগ্রস্ততায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম অতিক্রম করে চলছে।

  4. 14
    এম_আহমদ

    সম্পাদক সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি ইদানীং দেখছি যে নতুন কোন ব্লগ লেখার জন্য (নতুন+প্রকাশনা) প্যাজ ওপেন করলে আগের মত editing tools পাচ্ছি না। এ বিষয়টি একটু দেখলে ভাল হয়। তারপর আরও একটি বিষয় বলার আছে এজন্য আমার ইমেইলে আপনার ইমেইলটা দিলে খুশি হব। ধন্যবাদ।

  5. 13
    এম_আহমদ

    @মহি উদ্দিন
    আপনার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আরও কিছু বলার র‍য়েছে।  

    … ডা: জাকির নায়েকের বক্তব্যে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক আছে কি না সে বিষয়ে আমার ব্লগে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে … একজন সাধারণ মুসলিম হিসাবে বলতে পারি  কট্টরপন্থী ভাইদের কোরআন হাদিসের আক্ষরিক অনমনীয় ব্যাখ্যা (rigid interpretation) আর খাওয়রিজের ব্যাখ্যার মাঝে  শুধু যে এক সূতার ব্যবধান বলে মনে করার বিপদ  দেখা দিতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে …

    ভিন্ন মতকে আলবৎ অগ্রাহ্য করে আক্ষরিক (literal) ব্যাখ্যায় যে জীবন দর্শন উপস্থাপিত হয় তা সভ্যতা সংস্কৃতিতে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। এটা কাপড়ে চোপড়ে, শিল্পে, সাহিত্যে, কলা-বিদ্যায়, দৈনন্দিন আচার-আচরণে এক ধরণের খিট-খিটে জীবন দর্শনের ছাপ রেখে যায়। এই মানসিকতাটি আজ গোটা বিশ্বে, বিশেষ করে আরব বিশ্বে, হাজার বছরে যে ধর্মীয় সংস্কৃতি ও আচার-আচরণের সভ্যতা গড়ে উঠেছে –এর সবকিছুকে আক্রমণের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এক দিকে চলছে মুসলমানদের উপর বৈশ্বিক চাপ ও নির্যাতন আর তার সাথে সংযুক্ত হচ্ছে এই ফিতনা। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষজ্ঞ আলোচনায় ফিতনা করা হচ্ছে। কোন জিনিসটি দলিল বা কোনটি দলিল নয়, কোন জিনিস কীভাবে দালিল রূপ লাভ করতে পারে, বা পারে না, তা কি কোন এক পক্ষের হাঁকাহাকিতে নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে? এটা কি সর্বসাধারণের বিতর্কের বিষয়? তারপর কার দৃষ্টিতে কোন হাদিস ও কোন আয়াতের ব্যাখ্যা প্রযোজ্য হবে –এমন বিস্তারিত বিষয় সাধারণ মানুষ মুখস্ত করে ঘুরে ফিরছে না যে সর্বসাধারণের সাথে এই ফিতনা ঢেলে দেয়া হবে। তবে একথা আগেই আলোচনা করেছি যে সব সালাফি এই কাজে নেই, তবে আক্ষরিক ব্যাখ্যার সাথে এর একটা ধারা রয়েছে। চরম প্রকৃতির লোক সহজেই চরম পথ গ্রহণ করতে দেখা যায়।

    আবার এও দেখা যাবে যে বাইরে থেকে যারা এই ধারায় আসে তারা ওখানে পদার্পণ করে অল্পতেই পণ্ডিত হয়ে উঠে, তারপর বাকিদেরকে ধর্ম শিক্ষা দিতে যায়, ওরা না মানলে তাদেরকে উড়িয়ে দেবার চিন্তাও করে থাকে। বোমা-ফোটানো সন্ত্রাসীদের এই চরিত্রই দেখা যায়। কালকে এক চরম পথে ছিল, আজকে ইসলামের ডিফেন্ডার!

    বিশ্ব মুসলিমের লোকজন নিজেদেরকে 'মুসলিম' বলে। হানাফি, শাফেয়ী -এসব কথা ধর্মীয় ব্যাখ্যা সংক্রান্ত স্কুলের বিষয়, তারা কেউ  মুসলিমের "পরিবর্তে" কখনো হানাফি/শাফেয়ি বলে না। এই জাগায়ও কিছু লোককে কৌশল করতে দেখা যায়, কেউ হয়ত বলবে, “আমরা কেবল মুসলিম” আপনারা হানাফি, শাফেয়ি! অথচ একটু খোঁজ নিলেই হয়ত দেখা যাবে সে সালাফি পরিবার থেকে আসা লোক, ধাপ্পা মারছে মাত্র।

    এসবের মধ্যে আরও দিক বিদিক আছে, কেননা চরমপন্থার প্রকৃতিতে অনেক বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এটি একটি মানসিক প্রকৃতিও -অর্থাৎ চরম পথে চলা। যে ধর্মের বাইরে আদর্শে চরম সেই ধর্মে এসেও চরম হওয়ার সম্ভাবনা। নাস্তিক হলেও চরম নাস্তিক হবে। ধরুন কেউ যদি তার রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশে প্রকৃত ইসলাম না থাকার প্রবক্তা হয়ে গিয়ে থাকে তবে নিঃশন্দেহে এটা চরমপন্থা। এটা যদি কোন ধর্মীয় দলের অবস্থান হয়ে পড়ে তবে চরম রূপ নিতে পারে। কেননা এতে অন্যদের ভয়ের বিষয় আছে। এরা দেশি বিদেশি শক্তির মাধ্যমে এমন কাজ করতে পারে যা সামাজিক সংহতির বিপক্ষেই যাবে। আর তারা তা ধর্মের নামেই করবে, হকের নামে বাতিলের বিপক্ষে করবে। এমন বিষয় যেকোনো সমাজের জন্য ভয়ঙ্কর হতে পারে।

    তবে চরমরূপী প্রকৃতি যেখানেই পাওয়া যাক না কেন সেখানেই তা বর্জন করতে হবে, কতটুকু পারা যায় তা রোধ করার চেষ্টা করতে হবে। এটা সকলের জন্য উত্তম।

    …সে যাক,  ভিন্ন মতকে সহ্য করে সবাইকে নিয়ে কিভাবে শান্তিতে থাকা যায় সে প্রচেষ্টা করাই উত্তম মনে করি। 

    হ্যাঁ, এটাই। আমাদের সবাইকে এই নীতি মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে।

     

    1. 13.1
      কিংশুক

      এম_ আহমদ ভাই, ওরাই অবলীলায় নাইজেরিয়া এমনকী খোদ সৌদি আরবেও মসজিদে বোমা মারতে পারে। সত্যিই আপনার অসাধারণ বিশ্লেষনী ক্ষমতা, ইসলামি জ্ঞান রয়েছে । আমি যা লেখার ভাষায় প্রকাশের ক্ষমতা রাখিনা আপনি খুব সুন্দর ভাবে তা প্রকাশ করতে পারেন। মূল ইসলাম সম্পর্কে আপনার অনেক ভাল জ্ঞান রয়েছে । জাজাকাল্লাহ খাইরান।

  6. 12
    ভুল ভাল কমেন্ট কারী

    পুরো লেখা টা নিরপেক্ষ দৃষ্টিতেই লেখা হয়েছে। সালাফি নাম নিয়ে যদিও তারা অনেক উগ্রতা দেখাচ্ছেন তাই বলে পিস টিভি বন্ধ করা যায় না। পিস টিভির সংস্করন করা উচিত ছিলো। এটা আলেম দের মঞ্চ হতে পারতো। কথা বলার স্থান হতে পারতো কিন্তু বন্ধ হওয়াতে সব আশা শেষ।

    1. 12.1
      এম_আহমদ

      @ভুল ভাল কমেন্ট কারী: হ্যাঁ, এই দিকটাও লেখায় যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

  7. 11
    শামস

    মতিউর রহমান মাদানী বলুক, আব্দুর রাজ্জাক বলুক যদি বলে সেক্যুলার হলে অমুসলিম সেটা অবশ্যই ভুল। কারো ইসলামিত্ব নিয়ে অন্য কেউ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এটা আহলে হাদিস, সালাফি, কওমী, দেওবন্দী কমবেশী সবাই করে -- এ নিয়ে কারো দ্বিমত থাকতে পারে না। মাজহাব নিয়ে চার মাজহাবের মধেও একে অপরের চেয়ে সঠিক ভাবে।  পিসটিভি খুব প্রচারিত হওয়ায় হয়তো বেশী চোখে পড়তে পারে। পিসটিভির বাংলাদেশ কার্যক্রমে কিছু বক্তার বাড়াবাড়ি ছিল যা জাকির নায়েক থেকে ভিন্ন। তবে এগুলোকে যদি জঙ্গীবাদের উৎস বলে দাবী জানানো হয় তাহলে সেটা বিরাট ভুল। আর সেটাকে যদি সালাফী, আহলে হাদিসদের আন্দোলনের সাথে যুক্ত করা হয় তাহলে সেটাও ভুল। জঙ্গীবাদের মূল এবং প্রধান কারণ কখনো ধর্ম না, আমার মতে পুরোপুরি রাজনৈতিক যেখানে ধর্ম সম্পূরক হিসেবে আসে। আর জঙ্গী যে কেবল সালাফী বা আহলে হাদিস থেকে আসছে সেটাও ঠিক নয়। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের তালেবান দেওবন্দী আইডিওলজির সবচেয়ে কাছের। আইসিস, আলকায়েদা এগুলোর প্রত্যেকটার সৃষ্টি রাজনৈতিক কারণে, তবে তাদের  প্রতিরোধের কজকে ইসলামীকরণ করেছে। এদের মধ্যে ধর্ম মানার চেয়ে, প্রতিক্রিয়া দেখানোটাই মূখ্য। কুকুর কামড়ালে কুকুরকে কামড়ানোর মধ্যে এদের কার্যপরিধি। ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়াতে এদের মূল অবস্থান, কারণ সেসব স্থান এদের ব্রিডিং গ্রাউন্ড। কেন ব্রিডিং গ্রাউন্ড সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। একটা গাছের স্থায়িত্ব নির্ভর করে এর রুট (মুল) কতো গভীরে। পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে এরা কোন রুট (মূল) পাবে না। আইসিস আলকায়দার সেই রুট অন্যান্য স্থানে নেই। ফলে কিছু অতর্কিত হামলার বাইরে এদেশে এদের কোন ভবিষ্যৎ নেই। 

    সরকারের এই সিদ্ধান্তে সেক্যুলার, জামাতি, দেওবন্দি, কওমী, মাজারপূজারী সবাই খুশী হতে পারে। কিন্তু সরকার সবাইকে খুশী করার জন্য কাজটা করে নাই। ভারতমাতার এখানে বিরাটভুমিকা ছিল।মাজারপূজারী এবং সেক্যুলাররা সরকারের সবচেয়ে নিকটবর্তী। এদেশে সেক্যুলার জনশক্তি খুব নগণ্য, কিন্তু মান-অভিমানের বাইরে (ভালোবাসা থাকলে মান অভিমান থাকার প্রশ্ন আসে) এই সরকারের সময়ে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। কিন্তু তাদের শক্তি অত্যন্ত বেশী বিশেষত মিডিয়ার কল্যাণে। এই মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণে মূলত সাবেক  বাম বা বামঘেষারা, সেক্যুলারিজম রক্ষা এবং প্রসারের দায়িত্ব যারা ইতিমধ্যে নিয়ে নিয়েছে। এই মিডিয়া আবার জননেত্রী, জননেতা আলহাজ্ব ইনুর হাতে দিয়ে রেখেছেন। মিডিয়ার  ওনস্লটকে উপেক্ষা করার শক্তি আপাতত কারো নেই। একসময় সরকারবিরোধী অবস্থানের কারণে আহমেদ শফীকে নিয়ে চরম অবমাননা করা হয়েছে জননেতা আলহাজ্ব ইনুর নেতৃত্বে মিডিয়ার মাধ্যমে, সেক্যুলার, বাম সব শক্তির তত্ত্বাবধানে। এদেশে জাকির নায়েকের পরিণতি, আহমেদ শফীকে অবমাননার ধারাবাহিকতা। এরপর কে সেটা দেখার অপেক্ষা করতে হবে, ওরা করবে আমরা সাধারণ মানুষ দেখব আর সালাফী, আহলে হাদিস, মাজাহাবী, কওমী, দেওবন্দী কে কতো জঙ্গী তার হিসেব করবো। এতে না জঙ্গী কমবে না আমাদের দুর্ভোগ কমবে।

     

    1. 11.1
      কিংশুক

      বাংলাদেশে নাস্তিক এক শতাংশও নাই কিন্তু হিন্দু ভোট আছে প্রায় দশ শতাংশ। আওয়ামী লীগ সেকুলারিজম জপে এই দশ শতাংশের প্রায় পুরোটাই পায়। পিস টিভি বন্ধ করায় এই দশ শতাংশ আরো পাকাপোক্ত হলো। এসব কথা বলায় আবার কারো কারো কাছে জামাত/হিন্দু বিদ্বেষী মনে হতে পারে কিন্তু বাস্তবতা স্বীকার করতে ট্যাগিংকে ভয় করে লাভ নাই।

       

    2. 11.2
      এম_আহমদ

      @শামস:

      সরকারের এই সিদ্ধান্তে সেক্যুলার, জামাতি, দেওবন্দি, কওমী, মাজারপূজারী সবাই খুশী হতে পারে। কিন্তু সরকার সবাইকে খুশী করার জন্য কাজটা করে নাই। ভারতমাতার এখানে বিরাট ভুমিকা ছিল।

      সালাফি/ওয়াহহাবিদের টেলিভশন বন্ধ হলে –এই দলটি ব্যতীত, ১৭ কোটি লোকের দেশে সবাই যদি খুশি হয় তবে এখানে চিন্তার একটা বিষয় রয়েছে।

      আমি যখন প্রায় ৩৪/৩৫ বছর আগে আরবি শিখতে শুরু করি তখন দুইজন আহলে হাদিসের শিক্ষক আমাকে (ও আরও কয়েকজনকে) আরবি এবং হাদিস পড়াতেন। তারা এখনও আমার পরিচিত এবং সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। আজ রাত, এই একটু আগে, আমার স্ত্রী, বড় ছেলে এবং মেয়ে আহলুল হাদিসের মসজিদে আব্দুর রাহমান আল-সুদাইসির বক্তৃতা শুনতে গিয়েছিলেন। আমার পরিচিত অনেক আলেম আহলে হাদিসের লোক। আমি এখনো আহলে হাদিসদের বই পুস্তক পড়ি, বক্তৃতাও শুনি। সার্বিকভাবে আমার অনেক চাক্ষুষ ভাল-মন্দ দেখার ও বলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমার আরবের প্রেক্ষিতগত এবং কিতাবি বিবরণ সম্বলিত অনেক কিছু অধ্যয়নের সুযোগ হয়েছে।

      আমার প্রশ্ন হচ্ছে সারা বিশ্ব এক পাশে থাক, শুধু বাংলাদেশে এটা কেন হল যে সালাফিদের টিভি বন্ধ হওয়ার কারণে এই দেশের লোকগুলো খুশি হতে পারল, যদি সত্যি তারা খুশি হয়ে থাকে? সালাফিরা তো কাদিয়ানী নয়, ওরা তো অন্য ধর্মের লোক নয়। সালাফিদের আচরণে এমন কি হল যে একটি দেশে তাদের এমন দশা হল?

      সাহাবিগণ দুনিয়ার আনাচে কানাচে গিয়ে মানুষের মন জয় করে তাদেরকে ইসলামে আহবান করতে পারলেন কিন্তু তারা একটি জাতিকে উলটা তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ করে তুললেন? কেন?

      মক্কার কাফিরগণ বিরোধিতা করেছিল এবং কাফিরগণ সকল নবীদের বিরোধিতা করেছিল -এমন কোন কথা কি বিষয়টিকে জাস্টিফাই করে? এই দেশের মুসলমানদের বাপদাদারা তো কাফির নন, সুতরাং এই এনালজি এখানে গৃহীত নয়। বাংলাদেশের লোকজন কবরপুজারি, মাযার পূজারি –এমন কথা বললেও  তাতে পানিধার দেবে না। এদেশের মানুষ খুব কমই প্রকৃত অর্থে মাযার পূজারি।

      একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে এর মূল কারণ হচ্ছে কোরান হাদিসকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করার প্রেক্ষিতে বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহ থেকে অসংখ্য বিষয়ে তাদের ভিন্নতা সৃষ্টি,  যার ফলে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর অংশ তাদের চোখে বিদাতি, পথভ্রষ্ট, গোমরাহ অথবা কাফির হয়ে উঠে। তাই দেখা যাবে এই পথভ্রষ্টদের কোনো দুর্দিনে সাহায্য করতে এগিয়ে যায় নি, ওদের টিভি ও সংবাদ মাধ্যম যখন বন্ধ হয়েছিল তখন তারাও হয়ত খুশি হয়েছিল, কেন হবে না বেদাতি, হানাফি মাযার পূজারিদের প্রচার মাধ্যমে বন্ধ হয়েছে।

      আপনি যাদেরকে যুগ যুগ ধরে বেদাতি বলে আসছেন, কবর পূজারি বলে আসছেন, কাফির বলে ফাতোয়া দিয়ে আসছেন, আজ তারা আপনার দুর্দিনে যদি খুশি হয়ে থাকে তবে এটা কার দোষ?

      আপনার টেলিভিশনে হেকমতের সাথে দাওয়াত দেবার বয়ান দেবেন কিন্তু বাস্তবে কি তাই করে থাকেন? আপনি নিজেই মোল্লা কিন্তু ওদেরকে মোল্লা বলে তাচ্ছিল্য দেখাবেন, ফাতোয়াবাজি করবেন, এটা কি হিকমতের দাওয়াত?

      মাযহাবিরা কি অমুসলিম? কোরান হাদিস সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। ব্যাখ্যা নির্দেশিত পথই হচ্ছে মাযহাব। সালাফিবাদ আপনাতেই একটি মাযহাব। মিথ্যাচারিতার মাধ্যমে মাযহাবের বিরোদ্ধে প্রোপাগান্ডা করে নিজ দল ভারি করার ধাপ্পাবাজি মুসলিম বিশ্ব গ্রহণ করেনি এবং করবেও না।

      অতঃপর ' ভারতমাতার বিরাট ভুমিকা' নিয়ে কিছুই বলতে পারলাম না, সময় নেই, অন্য সময় হয়ত বলব। 

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।

      1. 11.2.1
        শামস

        আপনার পুরো বিশ্লেষণ এর সারমর্ম করলে দাঁড়ায় 

        "সালাফি/ওয়াহহাবিদের টেলিভশন বন্ধ হলে –এই দলটি ব্যতীত, ১৭ কোটি লোকের দেশে সবাই যদি খুশি হয় তবে এখানে চিন্তার একটা বিষয় রয়েছে।" 

        এর সাথে সাদৃশ্যমূলক আরেকটি কথা বলি 

        ''মুসলিমরা মার খেলে তাবৎ জাহানের অমুসলিমরা খুশি হয় -- তা সবাই যদি খুশি হয় তাহলে কি চিন্তার বিষয় কিছু নেই?" 

        এ দুইটি স্টেটম্যান্ট থেকে প্রথমটাতে যদি একটা পক্ষকে দোষ দেয়া যায়, তাহলে দ্বিতিয়টাতে কেন একই কথা বলা যাবে না? ইসলামতো সবার টার্গেট!

        কাউকে ইসলাম থেকে নাই করে দেয়ার বাড়াবাড়ি অনেকেই করে, শুধু একপক্ষকে দোষ দেয়ার মধ্যে একপাক্ষিক অবস্থানের কোন সুযোগ নেই. মাজহাব ইসলামের মূল ট্রেডিশনকে ধারণ করে, ট্রেডিশনে জঞ্জাল জমলে রিফর্ম করার কথা অনেক ধর্মীয় বেত্তা বলে, তাদের কয়েকজনের কথা শুনেছি, মাজহাব পাশ কাটানোটা ইসলামের জন্য মঙ্গলজনক বলে মনে হয় না. ট্রেডিশন ছাড়া ইসলামের প্রাথমিক দিককার অনেককিছু প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। আবার মাজহাবের নামে গোড়ামিও হচ্ছে, সেই গোড়ামি একসময় প্রকট ছিল, এখন একটা স্থিতাবস্থায় আছে, কিন্তু ডিভাইডেশন লাইনটা এখনো আছে, যা কখনো কখনো বাজেভাবে চোখে লাগে। যারা গোড়ামীকে প্রশ্রয় দেয়, তাদের সেই গোঁড়ামিকে বর্জন করা প্রয়োজন। 

         

    3. 11.3
      কামাল

      “…ভারতমাতার এখানে বিরাট ভুমিকা ছিল…।”

      এই সহজ কথাটা কেন সব বিজ্ঞজনেরা বুঝছেন না?

  8. 10
    Calculation

    ইদানীং জাকির নায়েক সাহেব ও কোরান-সুন্নাহ যেন একাকার হয়ে যাচ্ছে। পিস-টিভির ‘বিরোধিতাকে’ কুফুরির সাথে তুলনা করা হচ্ছে। ভয়ের বিষয় বটে। কেননা, কোনো দ্বিমত পোষণ করলেই তা বিরোধিতা ধরা হতে পারে। অতঃপর সমালোচক ইয়াহুদী-খৃষ্টিয়ানদের দালাল হতে পারেন, বা অজ্ঞ মুসলিম হতে পারেন, বা মাজার পূজারি হতে পারেন। এতে বাড়াবাড়ি প্রকাশ পাচ্ছে।

     

    এই দোষটা কিন্তু শুধু জাকির নায়েক ভক্তদের নয়। বরং এর বাইরেও কারো কারো মধ্যে এমন ভাব লক্ষ্য করা যায় যে, আমিই ইসলাম, আমাকে সমর্থন বা আমার আনুগত্যকারীই মুসলিম, আর আমার বিরোধিতাকারী বা সমালোচক মাত্রই কাফের। দেওবন্দী আলেমদের সমালোচনাকারীকে কি কাফের সাব্যস্ত করা হচ্ছে না? জামাতের কর্মকাণ্ডের সমালোচনাকারীকে কি আওয়ামী সমর্থক ভাবা হচ্ছে না? আমরা তো বরং জাকির নায়েকের বিরোধী পক্ষের তরফ থেকেই জাকির নায়েকের উপরেই ইহুদী-খ্রীস্টানদের দালালির অভিযোগ আরোপ করতে দেখেছি। আর পিস-টিভির বিরোধিতা যদিও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত নয় বা একে কুফরীর সাথে তুলনা করাটা সমীচীন নয়, তবে বাস্তবতা হলো, পিসটিভি তথা জাকির নায়েকের প্রতি বিদ্বেষ মূলত তিনটি শ্রেণির তরফ থেকেই হচ্ছে। এক, নাস্তিক, যাদের বিজ্ঞান দিয়ে ধর্মকে অবান্তর প্রমাণের প্রয়াসকে কোরআন ও বিজ্ঞানের আলোচনা দিয়ে নস্যাৎ করে দিচ্ছেন জাকির নায়েক। দুই, ধর্মব্যবসায়ী, যাদের পৌরহিত্য ও মাযার ব্যবসার সুবাদে অর্থ ও সম্মান লাভের বাড়া ভাতে জাকির সাহেব ছাই দিয়ে দিচ্ছেন। তিন, ইহুদী-খ্রীস্টান ও হিন্দুত্ববাদী, যারা জাকির নায়েকের তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব আলোচনার প্রভাবে ইহুদী-খ্রীস্টান ও হিন্দু জনগণের ইসলামীকরণ (অর্থাৎ ক্রমবর্ধমান হারে ইসলাম গ্রহণ) দেখে ভীত ও উদ্বিগ্ন। এই তিন শ্রেণির বাইরে শুধু ইজতিহাদী মতভেদের কারণে বা জাকির নায়েক বাস্তবেই যেসব ভুল-ত্রুটি করে থাকেন বা জাকির নায়েকের আসলেই দৃষ্টিভঙ্গিগত যেসব ভুল আছে সেগুলোর কারণে জাকির নায়েকের বিরোধিতা করেন, তাদের সংখ্যা হয়তো ১০%ও হবে না, আর তাদের বিরোধিতাও অতটা উগ্র ও আক্রমণাত্মক নয়, এমনকি আমি নিজেও জাকির নায়েকের সকল কথার সাথে একমত নই বিধায় আমিও এই মতভেদকারীদের মধ্যে থাকতে পারি।

    1. 10.1
      এম_আহমদ

      @Calculation:

      আপনার কথা অনেক আগেই বলা হয়ে গিয়েছে, আপনি এখন কেবল নিজেকে রিপিটই করছেন। যেখানে যুক্তির অবতারণা করছেন সেখানে যুক্তির স্থানও ধরতে পারছেন না। A, B, C, D কোন অন্যায় কাজ করলে none of them can justify themselves by the other. আমি যদি C এর কথা বলি তবে এর অর্থ হচ্ছে C-ও এই কাজ করছে, কিন্তু কেউ আমাকে A, B, দেখানো দরকার নেই -আমি সেটা জানি। আপনি স্পিডিং এর অপরাধে কোর্টে গিয়ে এটা বলতে পারবেন না যে আমার আগের গাড়িগুলো স্পডিং করে গিয়েছিল, কিন্তু আমাকে ধরা হল কেন? এখানে অন্য কেহ নয়, আপনার অন্যায় আলোচিত। আপনি এটা করা ঠিক নয় –এই এহসাস ধরতে হবে।  

      সম্ভবত আপনি সালাফি সম্প্রদায়ের লোক তাই এই লেখাটি হজম করতে পারছেন না, বার বার বিভিন্ন এংগল থেকে পিস-টিভির বন্ধে ধর্ম-ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি এবং তদূদ্ভুত বিদ্বেষের যুক্তি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আনছেন এবং মনে করে নিয়েছেন যে এটাই পিস-টিভি বন্ধের মূল কারণ। এটা ভুল। পিস-টিভির মাধ্যমে কারও ব্যবসায় একটুও ক্ষতি হয় নি। বরং একটু অনুসন্ধান চালালে সেই বাজার ও ব্যবসা বর্ধিত হয়েছে বলেই পাওয়া যাবে। তবে তাও পিস-টিভির কারণে নয়। ধর্মীয় দলগুলোর মধ্যে কিছু মিথ্যা ধারণা ও আত্মতৃপ্তি কাজ করে, যেমনটি রাজনীতিকদের মধ্যে করে। যত কল্যাণের কাজ তাদের আশেপাশে হয় তার সবগুলোই তাদের কারণে ভাবে।

      জাকির নায়েকের কাজ দেখে ‘নাস্তিক … ইহুদী-খ্রীস্টান ও হিন্দুত্ববাদী …ভীত ও উদ্বিগ্ন’ -you must be joking. Leave that aside, for I don’t want to speak much on it.

      আপনি উপরের মন্তব্যে বলছেন, ১.২.১   সালাফিদের অপকর্ম ও চরমধর্মী আচরণের জাস্টিফিকেশন দিতে ‘অভাবে পড়ে চুরির ঘটনা ও চৌর্যবৃত্তি বন্ধের যুক্তি’ দেখাতে চেয়েছেন। কিন্তু এই উভয় স্থান এক নয়, এখানে যুক্তিতে irrelevance প্রবেশ করছে, এই ধরণের বাজে যুক্তি এই ব্লগ পরিসরে চলে কম। চুরি হচ্ছে অপরের অধিকার গোপনে হরণ, ডাকাতি হচ্ছে প্রকাশ্যে হরণ –এগুলো ফৌজদারি ব্যাপার। আপনি আমাকে বুঝাবার চেষ্টা না করে নিজে বুঝুন। যারে তারে কাফির বলা, বিভিন্ন মুসলিম দল ও তাদের আলেম-উলামাদের নিয়ে মন্দ কথা বলা এগুলো জঘন্য, ঘৃণ্য, কদর্য, অসাধু এবং সমাজ বিধ্বংসী কর্ম ও আচরণ। এগুলো কি আলতু-ফালতু যুক্তিতে ধারিত হবে? আপনি কোন অধিকার বলে অপরের উপর চড়াও হবেন? আপনি লেখাটি আবার পড়ুন। আমাদের আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা নাগরিক অধিকারের উপর প্রতিষ্ঠিত, পারস্পারিক সম্মান-সৌহার্দের উপর প্রতিষ্ঠিত, এখানে আলখেল্লা পরে নিজে নিজেই সকল সত্যের দাবিদার হওয়া, এরই ভিত্তিতে অন্যদের উপর চড়াও হওয়া –এটা এই সমাজ ব্যবস্থায় গ্রহণীয় হতে পারে না, যদিও এখানে অনেক মন্দ বিরাজ করছে। অন্যের ধর্ম অন্যরা করবে, তাতে কার বাপের কোন অধিকার আছে যে তাদের উপর চড়াও হবে? তাও আবার  ‘কালা ওয়া কালা’ হেঁকে, (‘আল্লাহ বলেছেন, রাসূল বলেছেন’, [আর কেউ জানে না আল্লাহ কি বলেছেন আর রাসূল কি বলেছেন?])। মাযারের ছোট তেলি হয়ত তার স্টল নিয়ে বসে আছে, কিন্তু আপনি সবাইকে উচ্ছেদ করে বাজারের মনোপলি নিতে চান, আপনিই প্রকৃত ধর্ম ব্যবসায়ী। শোনেন, এই লাইনে আর যুক্তি টানতে আসবেন না, আমার সময় নেই। সালাফিবাদ নিয়ে তর্ক না করে ব্লগ-প্রবন্ধ লিখুন, এতে সময়ের উত্তম ব্যবহার হবে। ধন্যবাদ। ভাল থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।

       

      1. 10.1.1
        এম_আহমদ

        @shahriar:

        (1) Your questions are simple and simplistic. Tell me first what do you perceive of at least two of your stated categories: sunni and mazhabi? What do you think they are? Define the terms and in light of it tell me if they are something other than Muslims against which you want to define yourself ‘just a Muslim’.

        (2) Also tell me what is it that drives you to seek my opinion in regard to what word or wording you should adapt to express your religious identity? Is it to settle confusion in your mind or is it part of a scheme to engage me in an argument?
        (3) From your parents’ side were you a salafi/ahlul hadith or a mazhabi, or any othe knwon group in the society?

        1. 10.1.1.1
          shahriar

          Brother,  I already defined my self ,

          I am Muslim.This is enough for me to express myself.

          আমি মুসলমান. আমার নিজেকে প্রকাশ করার জন্য এই যথেষ্ট.

          I don't want to add pre or post like: salafi/ahlul hadith or a mazhabi/la-mazhabi, or any othe knwon group in the society.  I know all catagory are muslim with theire own view.

          So that's why i ask you the same question how you define yourself in simple way? 

           

          Jajak-allahu Khairun.

        2. 10.1.1.2
          এম_আহমদ

          @ shahriar

          The sentence speaks of your 'indecision' in regard to the expression of your identity. You asked me a question of preference whether A or B. What you like or dislike that is none of my business. It is the question you asked in a format which relate to other things that is in concern and I asked you to explain the relations so that I can answer you. 

          Now answer the questions. Or never engage into things in my ‘blog’ that is beyond yourself.  I will of course answer your question when the question explained in its conceptual relations.

          [Note. “Jajak-allahu Khairun”, in your laters uses change the word from “Khairun” to “Khairan”. Thank you.]

        3. 10.1.1.3
          shahriar

          Dear brother,

          Please , there are no relate to other things. this is plain & simple that either you have to choice A or B that's it. Don't search other relation in it becasue i am not hide anything in it.

          Anyway .. it's up to your choice/decesion whather you answer it or not. 

           

          Allah knows best.

          //Jajak-allahu Khairan

           

        4. 10.1.1.4
          এম_আহমদ

          @ shariar

          You didn't get it, did you? Ok, leave it.

  9. 9
    Calculation

    দাবী আর পাল্টা-দাবীর বিতর্ক বাদ দিয়ে যাদের সাথে কোন রকমে চলা যায় তাদের সাথে ফিতনা না করে ঐক্য ভিত্তিক কাজ করাটাই ভাল।

    সহমত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ঐক্যের আদেশ করেছেন এবং বিভক্তিকে নিষেধ করেছেন। ঐক্য ফরজ এবং বিভেদ-হানাহানি হারাম। অপরদিকে নামাযে হাত বাধা, হাত জাগানো, 'বিসমিল্লাহ' বলা, 'আমীন' বলা ইত্যাদি বিষয়ে কোরআন ও হাদীসে সুস্পষ্ট বর্ণনা সবার সামনে একরকম না আসায় প্রাপ্ত দলীলের ভিত্তিতে নিজ নিজ ধারণা ও বিশ্বাস অনুযায়ী আমল করতে কোন দোষ নেই। কোরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ ছাড়া অন্য অস্পষ্ট ও মতভেদপূর্ণ বিষয়াদিতে শুধু নিজেরটাকেই সত্য সঠিক দাবি করা এবং অন্যকে তা নিয়ে গোমরাহ সাব্যস্ত করার প্রবণতাটাই হচ্ছে সবচাইতে বড় গোমরাহী। আর এ মূর্খতায় কমবেশী সবাই লিপ্ত। দেওবন্দী, সালাফী, জামাতী সকলেই এ দোষে দুষ্ট। প্রত্যেকেই নিজ নিজ ঘরানার আকাবীর ও মুরুব্বীদের বাইরে অন্য কারো কথা কানে তুলতে বা অন্য কারো বই-পুস্তক পড়তে রাজি নয়। একদল পুরোহিত মাযহাবের নামে ইমামদের অনুসরণের দোহাই দিয়ে সরাসরি কোরআন ও হাদীস শেখা ও তার অনুসরণের ব্যাপারে জনগণকে নিরুৎসাহিত করছে, নিজেদের ফতোয়াবাজির ক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখতে চাচ্ছে। আরেকদল পণ্ডিত দুনিয়ার যত সহীহ হাদীস সব শুধু আমাদের কাছেই আছে- এমন হাস্যকর ভাব দেখাচ্ছে।

  10. 8
    মহিউদ্দিন

    এম._ আহমেদ ভাই, 

    আপনি এখানে ডা: জাকির নায়েকের ব্যাপারে নেতিবাচক কিছু লিখেছেন বলে আমার চোখে পড়ে নাই। আপনার আলোচনার বিষয়ে যথার্থ আলোচনা হয়েছে।  ডা: জাকির নায়েকের বক্তব্যে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক আছে কি না সে বিষয়ে আমার ব্লগে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে যদিও আপনি কোন মন্তব্য সেখানে এখনও করেন নাই। যারা আপনার লিখায় তা খুঁজছেন তাঁদেরকে সে নিবন্ধটি পড়তে অনুরোধ করব। এখানে বরং আপনার লিখার মূল বিষয়ে সবাই মন্তব্য করলে আমাদের পক্ষে শিক্ষণীয় হতে পারে।

    মুসলিম বিশ্বের বিশেষ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশের এই উলট পালটের অবস্থার প্রেক্ষিতে এরকম একটি নিবন্ধের প্রত্যাশা ছিল আপনি তা অনেকটা পূরণ করেছেন বলা যায় যদিও কেউ "আলু পুড়া খাওয়া" দেখতে পাচ্ছেন!! 
     
    আর অন্যরা কি ভাবছেন আমি জানিনা তবে আপনার উত্থাপিত পয়েন্টগুলা আসলেই বিবেচনার দাবী রাখে। একজন সাধারণ মুসলিম হিসাবে বলতে পারি  কট্টরপন্থী ভাইদের কোরআন হাদিসের আক্ষরিক অনমনীয় ব্যাখ্যা (rigid interpretation) আর খাওয়রিজের ব্যাখ্যার মাঝে  শুধু যে এক সূতার ব্যবধান বলে মনে করার বিপদ  দেখা দিতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    আমার মনে হয় Danger of Literal Interpretion এর উপর কিছু আলোচনার দরকার আছে তাহলে আপনার লিখাটির বক্তব্য আরো পরিষ্কার হবে সাধারণ পাঠকের কাছে। আসলে Battle of Siffin পরেই যে উগ্রপন্থী মতবাদ শুরু হয় যা হজরত আলী (রা:) মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছিলেন ছিলেন। তবে কোন আইডিয়া চিরতরে বিলীন হয়ে যায় না।

    সে যাক,  ভিন্ন মতকে সহ্য করে সবাইকে নিয়ে কিভাবে শান্তিতে থাকা যায় সে প্রচেষ্টা করাই উত্তম মনে করি। 

     

    1. 8.1
      এম_আহমদ

      @মহিউদ্দিন:

      ভিন্ন মতকে সহ্য করে সবাইকে নিয়ে কিভাবে শান্তিতে থাকা যায় সে প্রচেষ্টা করাই উত্তম মনে করি। 

      হ্যাঁ, এটি হচ্ছে মৌলিক উদ্দেশ্য। Religious bigotry এর মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। আমার মনে হয় এখানে ২/৩ জন লোক ব্যতীত সবাই এ বিষয়ে একমত যদিও তাদের ভাষা সেন্সিটিভিটি মিশ্রিত হয়ে প্রকাশ পাচ্ছে এবং কখনও কিছুটা আক্রমনাত্মক হয়েও।  এটা এভাবেই হয়। যে সাহিত্য যুগ যুগ ধরে বিদ্বেষী আবেগ তৈরি করেছে এবং তা করেছে নিজ নিজ কালের আবহ ও বৈশিষ্ট্যে। আপনার কাল ও আবহে আপনি কী করবেন, কী গড়বেন -সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন। আরও কয়েকটি কথা সংযোগ করি।

      ধর্মীয় চরমপন্থা বা অনুদারতা ধর্মীয় ব্যাখ্যাকেই কেন্দ্র করে গড়ে উঠে; উৎসকে সংকীর্ণ প্রেক্ষিতে ধারণ করার কারণে।  এ কথা সত্য যে সকল ধর্মে বাড়াবাড়ি আছে, তবে আমাদের ধর্মে কয়েক শো বছর প্রকাশ্যে ও নীরবে-নিভৃতে সংঘর্ষ আকারে তা চলেছিল। কারা কোরান-সুন্নাহর উপর আর কারা খারিজ হয়ে গিয়েছেন এই ছিল রেষারেষি। কোরান ও সুন্নাহর ভিত্তিতে আমল ও আকিদাগত এই যুদ্ধের অবসান মাতুরিদি (৮৫৩-৯৪৪) ও আশায়িরী (৮৭৩-৯৩৫) ধর্মীয় ব্যাখ্যার রূপ ধরে আসে। হানাফিরা হচ্ছেন মাতুরিদী আর শাফেয়ি, মালেকি ও হানবলিরা হচ্ছেন আশায়িরী। এই দুই ধারার একক সমন্বয়ের নামধারীরা হচ্ছেন আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ। আর অপর দিকে আছেন শিয়া সম্প্রদায়। আজকের সালাফি অবস্থানকে কেউ কেউ তৃতীয় অবস্থান হিসেবে দেখছেন অর্থাৎ বিশ্ব মুসলিম এখন শিয়া, সুন্নি ও সালাফিতে বিভক্ত। তবে সবাই মুসলিম। কিন্তু সুন্নিদের একাংশে শিয়াদেরকে অমুসলিম বলার প্রবণতা রয়েছে।  সালাফিগণ শিয়াদের ব্যাপারে চরমভাবে খড়গহস্ত, তাদের দৃষ্টিতে শিয়াগণ মুসলমান নয়। আজকে আমাদেরকে চরম পথ বাদ দিতে হবে। যতটুকু পারা যায়, একে অন্যকে স্বীকার করেই চলতে হবে। আমার লেখার মধ্যখানে এ বিষয়ে উদ্ধৃত অবস্থানটি আবার দেখুন, দেখুন তাতে কত প্রশস্ততা রয়েছে।
       

      যারা এক কিবলার লোক, যারা আমাদের হালাল-হারামের অনুবর্তী, যারা নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, হজ্জ করে, যাকাত দেয়, তারা গোনাহের কাজ করলেও আমাদের দ্বীন-ধর্ম থেকে বেরিয়ে যায় না। ছোট গোনাহ হোক, বড় গোনাহ হোক, কিন্তু কুফুরিতে টানা যাবে না। কবিরাহ গুনাহ করলেও ঈমান বহির্ভূত হবে না (আবুল ইজ্জ আল-হানাফি, (২০০২), শারহ আল-আকীদাহ আত-তাহাওয়্যিয়াহ, কায়রো: দার ইবন রাজব, পৃ. ২৯২)। 

      1. 8.1.1
        সত্য সন্ধানী

        @এম -- আহমেদ ভাই,

        ///কিন্তু সুন্নিদের একাংশে শিয়াদেরকে অমুসলিম বলার প্রবণতা রয়েছে।  সালাফিগণ শিয়াদের ব্যাপারে চরমভাবে খড়গহস্ত, তাদের দৃষ্টিতে শিয়াগণ মুসলমান নয়। আজকে আমাদেরকে চরম পথ বাদ দিতে হবে। ///

        চরম পন্থা বাদ দেবার পক্ষে আমারো অবস্থান, আর সব সালাফী/আহলে হাদিস যে চরম পন্থা অবলম্বন করে সেটাও নয়,তবে অনেকেই করে,যেটা আমার একেবারেই পছন্দ নয়।

        যাই হোক আমার একটা প্রশ্ন আছে যদি দয়া করে কোরান এবং সহীহ হাদিসের আলোকে জবাবটা দেন তাহলে উপকৃত হব।

        শিয়াদের ব্যাপারে আমিও এমন কথা শুনি যে এরা মুসলিম না। একজন ইহুদী নাম ইবনে সাবা সেই নাকি শিয়া তত্বের উদ্ভাবক। ব্যাপারটা নিয়ে পরিষ্কার ধারনা নাই আমার স্বীকার করি, তাই এসব নিয়ে আমি চুড়ান্ত বাদী কথা বলার চেষ্টা করি না।

        যাই হোক মুতা বিয়ের ব্যাপারে আমি জানতে চাচ্ছিলাম। এটা কি হারাম নয়?

        শিয়ারা এটা করে থাকে এবং হালাল বলে মনে করে। এটা যদি হারাম হয় তবে ক্রমাগত এই হারাম কাজটি কেন শিয়ারা করে চলেছেন? নেট ঘাটলে দেখা যাবে যে এমন কি ১ ঘন্টার জন্যেও নাকি মুতা বিয়ে করা যাবে, সাক্ষীর দরকার নেই,তবে কেউ চাইলে স্বাক্ষী রাখতে পারে।

        আবার এর নাকি তালাক ও নাই। মেয়াদ পার হলেই আপনা আপনি ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবে, (আমার জানার ভুল থাকলে সংশোধন করে দেবেন)। এভাবে নাকি যতবার ইচ্ছা ততবার বিয়ে করা যায়, নারী পুরুষ সবাই এক কাজ করতে পারে!!!

        এটার সাথে আসলেই কি পশ্চিমা অবাধ যৌনতার কোন পার্থক্য থাকল?

        আর ইসলামের ৩ খলিফার সম্পর্কে তাদের ধারনা খুব নিম্ন মানের। স্বীকার করি যে শিয়ারা আল্লাহ এবং রসুল কে মেনে চলেন, কিন্তু খুলাফায়ে রাশিদিন এর ৩ খলিফাকে পক্ষান্তরে বেইমান সাব্যস্ত করাটা কেমন আচরন?

        যাক আমার আসল আপত্তি মুতা বিয়ে নিয়ে। যদি মুতা বিয়ে হয় ব্যভিচার,তবে রিতিমত ইসলামের নাম দিয়ে এই ব্যভিচার কে প্রোমোট করা কি মুসলিম দের কাজ হতে পারে কিনা,  এটারই কোরান হাদিসের আলোকে পরিষ্কার করার অনুরোধ জানিয়েছি,ধন্যবাদ।

         

         

        1. 8.1.1.1
          এম_আহমদ

          @সত্য সন্ধানী

          [১] আমি কোনো দলের বিবরণ-সর্বস্ব (detailed practices) কর্মের দিকে তাকাতে যাচ্ছি না, কেননা সেভাবে যেতে গেলেই প্রাথমিক পদক্ষেপই ব্যর্থ হবে। ধরুন কোরান/হাদিসের দৃষ্টিতে যদি শিয়া আলোচনা শুরু হয় তবে এই সম্প্রদায়ের উৎপত্তি যেহেতু ওহি নাজিলের পরের তাই “ব্যাখ্যা” টেনেই সেই কাজ করতে হবে। শিয়ারাও সুন্নিদের ব্যাপারে সেই একই কাজ করবে এবং করছেও। তাদের মধ্যে অনেক গ্রুপ, অনেক দল। তাই শুরুতেই আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে। তারপর সুন্নি সাহিত্য ও শিয়া সাহিত্য আপন আপন ধারায় গড়ে উঠেছে। শিয়ারা সুন্নিদের ব্যাপারে অনেক প্রোপগাণ্ডা করে এবং আমরাও হয়ত কম করি না। তবে যারা আলীকে (রা) নবী মনে করে তারা অবশ্যই মুসলমান নয়। তাছাড়া তাদের অনেক বিদাত সুন্নি-বিদাতের চেয়েও ঢের গর্হীত। আমি শুধু জেনরেলাইড করে সকলকে ঢালাওভাবে এক করার বিপক্ষে। যারা তাওহীদে, রেসালতে, কিয়ামতে বিশ্বাসী, যারা কাবার দিকে নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, হজ্জ করে তাদেরকে কীভাবে কাফির বলা হবে? প্রশ্ন এখানেই। তাদের ২/১টি গ্রুপ কয়েকজন  সাহাবিকে (রা) ঘৃণ্য ভাষায় বিষদগার করে, কিন্তু সবাই নয়। সংক্ষেপে, যাদের সাথে একান্ত চলার উপায় নেই এবং যাদের সাথে চলতে গেলে সংঘর্ষ বাড়বে, সেখানে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। তবে তাদেরকে বিষদ্গার না করলেই চলে।

          [২] মুতআ বিবাহ: সুন্নি জগতে মুতআ হারাম। সামাজিকভাবে এর কিছু কিছু ভাল দিক থাকলেও সার্বিকভাবে অত্যন্ত মন্দ। এই আলোচনাও ব্যাপক। এখানে করা যাবে না। শিয়াদের সকল সম্প্রদায় এটাকে হালাল মনে করে না। সুন্নি মাযহাবি দৃষ্টিতে এই কাজ যারা করবে তারা পাপের কাজ করবে।  

          [৪] শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্ভবকে কেবলমাত্র আব্দুল্লাহ বিন সাবাকে দিয়ে পাওয়া যায় না। তখনকার যুগের ক্রমাগতভাবে গড়ে-উঠা নানান উত্তাল-তরঙ্গ, আরব সমাজের বিভক্তির প্রকৃতি, সে কালের অতীত: ধর্মীয় ও গৌত্রীয়, সবকিছু বিবেচনা করতে হবে। তাছাড়া মদিনায় রাসূল (সা) এর জীবদ্দশায় মুনাফিকরা কিড়বিড় করছিল তাদের ব্যাপারে কোরান (৯/১০১) হাদিসে এরাবরত  রয়েছে। অপর দিকে খেলাফতি যুগে আরবের প্রাচীন অবস্থা অনেকটা পরিবর্তীত হয়ে পড়ে। দূর দূরান্তের গোত্র থেকে আসা লোক যারা যুদ্ধ-জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে তারা আর পূর্ব জীবনে ফেরার মত ছিল না। সেনাপরিবেশে (গেরিসন) এদের একমাত্র পাঠ্য ও মুখস্ত করার বিষয় ছিল কোরান/হাদিস কিন্তু এগুলোর তাৎপর্য অনুধাবণ করে অর্থের গভীরে পৌঁছা সকলের পক্ষে সম্ভব ছিল না। বিশেষ করে গোটা ভূখণদের নব-প্রজন্মের একটি অংশে। খলিফা ওসমানের সময়ে অনেক কাজি ও গভর্নরের কর্মকাণ্ডের ত্রুটি-বিচ্চুতি তাদের নজরে এসে যেত, কিন্তু ধর্মীয় ও পরিস্থিতিগত জ্ঞান এবং বিভিন্ন প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে নিয়োগ ও এডমিনিষ্ট্রাশন/রাজনীতি ইত্যাদির ভ্যালেন্সড-করা জ্ঞান তাদের ছিল না, তাই তাদের চোখে অনেক ছোট জিনিস বড় হয়ে দেখা দিত এবং বড়টি পাহাড় হয়ে দেখা দিত। এসবের ধারার পরবর্তীতে  নিজেদের মধ্যে যেসব যুদ্ধ হয় সেগুলোও বিবেচনা করতে হবে। অনেক ধরণের পূর্বাবস্থা গড়িয়ে শিয়া সম্প্রদায়ের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। আজ ও সেদিন যে কোন এক পক্ষের উপর সব দোষ ঢালার প্রবণতা সব জাতিতে আছে। আমাদের সমাজে ইয়াহুদী/আমেরিকা-পশ্চিমা ইত্যাদিতে দোষ ভাগ-বাটোয়ারা করি, আমাদের নিজেদের মধ্যকার অবস্থা কমই বিবেচনা করি।

          [৫] সবাইকে দেখতে হবে যে তারা কাফির/নাস্তিক সকল গোষ্ঠীর ইসলাম বিদ্বেষী প্রোপাগান্ডা ও সার্বিক বিরোধীতা যখন সহে যেতে হচ্ছে তখন মুসলমানদের ভিতরের কোন্দোল-উপদল ও এই জাতীয় সমস্যাকে কোন উপায়ে সহ্য করা যায় কীনা। কাজ কঠিন। তবে আমি ছাড়া সত্যের উপর আর কেউ নেই, এই অবস্থান সহায়ক নয়।

          ধন্যবাদ, ভাল থাকুন সুস্থা থাকুন।

        2. সত্য সন্ধানী

           ধন্যবাদ আহমেদ ভাই, আপনার যুক্তি অনুধাবন করে আপাতত বিশদ বিস্তারিত আলোচনা এখানে না করাই ভাল।

          তবে আপনার সামগ্রিক ব্যখ্যাটি ভাল লেগেছে। আপনিও ভাল থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।

      2. 8.1.2
        কিংশুক

        চরমপন্থী হয়ে তাকফির করার মূল কারন হলো কনভার্শন ঠেকানো । যেমন আমরা সবাই জানি কাদিয়ানিরা গোলাম আহমদ কাদিয়ানিকে ইসা আঃ, ইমাম মাহদী আঃ , হজরত মোহাম্মদ সাঃ এর নতুন রুপ ইত্যাদি মানে। আমার ব্রাহ্মণ বাড়িয়া শহরের টি এ  রোড উদ্ভুত এক কাদিয়ানী বাল্যকালের বন্ধু আছে। তার সাথে কোরবানীর গরুর চামড়া দেওয়ার জন্য ও অন্য কাজে বেশ কয়েকবার ঢাকার বকশী বাজারের কাদিয়ানী মসজিদে গিয়েছিলাম। মসজিদের ভিতরেও তাদের লন্ডন ভিত্তিক কাদিয়ানি চ্যানেল চলতি, বাসায় ডিস রিসিভারে কাদিয়ানি চ্যানেল চালায়, ভারতের কাদিয়ানে তীর্থভ্রমণ করে। সেই কাদিয়ানিরা নিয়মিত ইসদামি   জলসার নামে দাওয়াতি কার্যকম চালায়। দাওয়াতের মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানদের কাদিয়ানি বানায়। আমি এক সময় শুইন্যা মুসলমান হিসাবে নিজের কোরআন, তাফসির, হাদিস গ্রন্থ পড়া ছিলনা। ফলে সে ঠিক না আমি ঠিক তাও নিশ্চিত ছিলাম না বরং ধর্ম অন্ধ বিশ্বাস মনে করতাম। পরে এক সময় আবুল হাসান আলী নদভী দা বা এর বই পড়ে কাদিয়ানি মতবাদ জেনে কাদিয়ানি বন্ধুকে কুফুরি কাদিয়ানি মতবাদ পরিত্যাগ করে মুসলমান হবার দাওয়াত দিলাম। তখন দেখলাম তারা সম্পূর্ণ জিন্দিক অর্থাত্ তারা আমাদেরকেই কাফের মনে করে এবং সবাইকে সহীহ কাদিয়ানি বানাতে চায়! তাদের কথা হলো মুসলিমদের খলিফা থাকতেই হবে, তাদের খলিফা আছে আমাদের নাই; যুগের ইমামকে না চিনলে সে কাফের, কাদিয়ানি নাকি যুগের ইমাম ইত্যাদি ইত্যাদি । তারা তাদের জান মাল দিয়ে কাদিয়ানি কুফরি ছড়াতে চায়, সারা বিশ্বের সকল কাদিয়ানির ডাটাবেস তাদের কাছে আছে, বেশ শক্তিশালী সংগঠন । কাদিয়ানিরা সরাসরি কাফের বললে প্রত্যুত্তর দেয় জামাতের গোলাম আজম বলেছে কাদিয়ানিরা কোরআনের শব্দের ভুল অনুবাদ করেছে  সেজন্য তার উপর গজব পড়েছে,  আফগানরা কাদিয়ানিদের পাথর মেরে মারতো  বলে আজ আফগানিস্তানের এই অবস্থা!  অর্থাত্ জামাত, আল কায়েদা, তালেবান জংগিরা কাদিয়ানিদের সম্পর্কে মিথ্যা প্রচারনা চালায়, তারা সহীহ মুসলিম বলে তারা শান্তিবাদী! এসব প্রচার করে তারা মুসলিমদেরকে কাদিয়ানির নামে জাহান্নামে নিয়ে যেতে চায়। এজন্য মুসলিমদেরকে সতর্ক করতে কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয় ভাবেই অমুসলিম ঘোষণা করা উচিত  (জিয়া ভাই আবার খেপতে পারেন)। শিয়ারাও নিজেদেরকে প্রকৃত সহীহ মুসলিম ও আমাদেরকে নীল পরিবারের শত্রু নসিবি জাহান্নামি মনে করে। চকবাজার নিবাসী পুরাণ ঢাকার এক বাল্যবন্ধু আছে যে আমাদের এলাকায় ভাড়া থাকতো। তার সাথে চকবাজারের ইমামবাড়ায় কয়েকবার গিয়েছিলাম (তখন শিয়াদের আকিদা জানতাম না)। গিয়ে দেখি ইমামবাড়ায় নারী পুরুষ সবাই যায়,  ঢুকার আগে ওজু করে নেয়। ইমামবাড়ার ভিতরে কয়েকটা কবরের মডেল তাজিয়া। সে আমাকে সেখানে মানত করতে বলে! তাজিয়ার কাছে মাথা নতও করে, নামাজও পড়ে। ইমামবাড়ার নিচে এক প্রাচীন পুকুর । ইমামবাড়ার নিচে আবার তাদের বারো ইমামের কবরের মডেল আছে, সবাই মান্নত করে। পাশে শিয়া মসজিদ । তাঁকেও পথভ্রষ্ট শিয়া মতবাদ ছেড়ে হক্ব গ্রহণ করার দাওয়াত দিই। তাঁরাও দেখলাম কনভার্শনের চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে শিয়া খুব কম বলে টের পাওয়া যায়না। বিশ বছর আগের তুলনায় কাদিয়ানি অনেক গুন বেড়েছে । তাকফির ও প্রতিহতের সংগ্রাম না করলে ওরা অনেক বেড়ে যেতো। নোয়েল সরকার নামক এক খ্রিস্টান বন্ধু ছিল । তার পিতা ধর্ম প্রচারক হিসাবে দঃ কোরিয়া নিবাসী । তাঁরাও অনেক সুশৃঙ্খল ভাবে ধর্ম প্রচার করে। পাক আফগান আরব অঞ্চলে অনেক শিয়া আছে। তাঁরাও তাদের মতবাদে সুন্নিদের দীক্ষিত করতে চায়। এমতাবস্থায় তাকফির না করলে অনেকেই শয়তানের প্ররোচনায় বিয়ে ইত্যাদির মাধ্যমে কাদিয়ানি, শিয়া মতবাদ গ্রহণ করতে পারে। যেমন বাংলাদেশের নাটোরের আরএফএল গ্রুপের প্রয়াত মালিকের ছেলে কাদিয়ানি বিয়ে করে এখন নিজেও কাদিয়ানি হয়ে কাদিয়ানি গ্রুপের দাওয়াতি জিহাদে শামিল। ঐক্যের পথ অতি বন্ধুর ।

         

        1. 8.1.2.1
          মাহফুজ

          //ঐক্যের পথ অতি বন্ধুর//

          আমাদের ভুললে চলবে না যে, শুধু মুখেই আল-কোরআন কিন্তু বুকে অন্যের জয়গান গেয়ে কখনই ঐক্য সম্ভব নয়।

          ঐক্যবদ্ধ হতে হলে সবার উপরে মাহন স্রষ্টার বাণী আল-কোরআন এবং কেবলমাত্র আল-কোরআনকে অন্তরে ধারন করতে হবে। তারপর আল-কোআনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ রাসূলের (সাঃ) আদর্শ অর্থাৎ সহী হাদিছ অনুসারে তাঁর এবং অন্য নেতাদের আনুগত্য ও নির্দেশনা মেনে চলার মত মানসিকতা ও সৎ সাহস অর্জন করতে হবে। শেষের কথাটা হবে- সেই সাথে সকল সংকীর্ণতা ও সাম্প্রদায়িকতার উর্ধে উঠে মানবতা রক্ষায় যেমন সচেষ্ট হতে হবে, তেমনি সকল অন্যায়, অনাচার, শোষণ-জুলুম ও দুর্নীতি দূর করার জন্য ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

           

        2. 8.1.2.2
          এম_আহমদ

          @কিংশুক

          যেখানে প্রকৃত তাকফীরের অবস্থান স্পষ্ট সেখানে তাকফীর প্রয়োগের অবশ্যই প্রয়োজন আছে। আপনার মন্তব্যে দৃষ্টান্ত এসেছে। আমার কথা এই দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে নয়। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে ধর্মের বিশ্বাস ও তার গোটা প্রাসাদ গাণিতিক সত্যে প্রতিষ্ঠিত নয়  বরং ব্যাখ্যা-বিশ্বাসে গঠিত এবং প্রাতিষ্ঠানিকতায় স্থাপিত। তারপর আজ বৈশ্বিক সামাজিক বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে পড়েছে। আপনি কোন তথ্য কোনোভাবেই কোনো এক সীমায় আটকাতে পারবেন না। তাকফীর প্রয়োগ করলেও এটাকে ধর্মান্তরের প্রোপাগান্ডা হিসেবে প্রতিপক্ষ ব্যবহার করতে পারে। আমরা (আমার কথাই বলছি) যারা নাস্তিক মহলের বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের বিপক্ষে কথা বলি তারা কিন্তু তাদের [নাস্তিকদের] স্বাধীন মত ব্যক্ত করার বিপক্ষে নই, তথ্য-বিকৃতির বিপক্ষে, বিদ্বেষের বিপক্ষে। সামাজিক ফিতনার বিপক্ষে। বিশ্বাস মানুষের অন্তরের বিষয়, কেউ যদি বিশ্বাস করতে না পারে, তাহলে শক্তি প্রয়োগ নিরর্থক। আদালত ও বিচারভিত্তিক যে আলোচনা করি তা হচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খলা ও স্থিতিকে কেন্দ্র করে।  
          ভাল থাকুন, সুস্থা থাকুন।

  11. 7
    মজলুম

    সেটাই এখন  দেখতে পাচ্ছি। একটা আলু না, এক সাথে অনেকগুলো আলু পোড়া দেওয়া হয়েছে। জাকের নায়েকের কোন ফ্যান কি লিখলো, ফেসবুকে যে পিস টিভির বিরোধীতা কুফরি, সেটা নিয়ে আসলো। মাদানি বা কাজী ইব্রাহিম কোন ঘরোয়া মাহফিলে কি বললো সেটা নিয়ে আসলেন। ঐসব ওয়াজতো আর মাদানি বা কাজী ইব্রাহিম পিস টিভিতে দেয়নি। কেন অযথা পিস টিভিকে জড়াতে হবে। মনে হয় জাকের নায়েকের বাংলা ভাষা শিখে মনিটর করতে হবে ঐ টিভি যারা ওয়াজ করে তারা আর কোথায় কি কি বলে। সালাফিরা নিজেরাই শতভাগে বিবক্ত। উনি সব সালাফি ইতিহাস নিয়ে আসলেন। মিশরে সালাফিরা কেন সিসিকে সমর্থন দিলো। সেই হিসেব করলে কেন ইরাকের মুসলিম ব্রাদারহুড ২০০৩ এ বুশের ইরাক যুদ্বের প্রতি সমর্থন দিয়েছে, কেন ইয়েমেনের মুসলিম ব্রাদারহুড ইরানি শিয়া হুতিদের সমর্থন দিচ্ছে। কিন্তু মিশর আর সিরিয়ার ব্রাদারহুড ঠিকই ২০০৩ এর ইরাক যুদ্বের বিরোধিতা করেছে।  আমি সব ব্রাদারহুডকে সেই জন্যে দোষারোপ করতে পারিনা। আর উনি শুধু সালাফিদের দোষগুলো বা ওদের মাজহাবিদের বিরুদ্বে করা দোষগুলো উঠিয়ে নিয়ে আসলেন। সেই রকম বেয়াদবীতো মাজহাবি/হানাফি/দেওবন্দিদের মধ্যে ও আছে, সেগুলো কিন্তু উনি তুলে ধরেন নি। কারন ঐ যে, আলু পোড়া খাওয়ার সুযোগটা হারাবেন কি করে। 

  12. 6
    মজলুম

    বাঙালিদের আরেকটা সমস্যা হলো এরা ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া খাইতে ভালো জানে। পিস টিভি বন্ধ হলো যাকির নায়েকের কারনে, সে নাকি জঙ্গিবাদ প্রচার করে। সে দিকে ফোকাস না দিয়ে পিস টিভিতে আর কে কে লেকচার দেয়, তারা কি রকম মানুষ, সালাফিরা কেমন মানুষ তা নিয়ে লম্বা ফিরিস্তি। ঐগুলো তো আলাদাভাবে ও দেওয়া যাইতো অন্য পোষ্টে, কিন্তু ঐ যে আলু পোড়া খাওয়ার লোভ কে সামলায়। কাজী ইব্রাহীম নামে যেই লোকের কথা বলতেছেন সেতো দিগন্ত টিভিতে সাইদীর ছেলের সাথে প্রতিদিন অনুষ্ঠান করতো।

    আর সালাফিদের মধ্যে অন্তত একশো গ্রুপ আছে। এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে আবার কাফির বলে। সালাফিদের মধ্যে প্রচুর বেয়াদব আছে, এগুলো নতুন মুসলিম আর কি! কয়েকটা বই পড়ে মনে করে সব জেনে গেছে। জাকির নায়িক নিজেকে কখনোই মুসলিম ছাড়া অন্য কোন দল বা গ্রুপের পরিচয় দেন না বা সালাফি মতবাদে মানুষকে ডাকেনা বা সালাফি মতবাদে মানুষকে দাওয়াত দেয় না। তবুও তারে সালাফি ডাইকা, সালাফিরা কত্তো খারাপ তার ফিরিস্তি দিয়া বুঝানো হলো জাকির নায়িক ও খারাপ।

     

     

    জাকির নায়িকের আহলে হাদিস এবং সালাফি গ্রুপদের বিরুদ্বে দেওয়া লেকচার, 

    https://www.youtube.com/watch?v=ACjRI3HwVzE

    1. 6.1
      এম_আহমদ

      ভাইজান, আপনি এখানে এসে আপনার নিজ মূল্যবান সময় খরচ করে, কষ্ট করে, না বরং আলুপোড়ার লোভেই এই মন্তব্যটি করেছেন। বাঙালী বটে! এখানে জাকির নায়েক খারাপ –এই অপবাদ আমার নামে আরোপ করার জন্য, না বরং এই “সত্য” আরোপের জন্য ধন্যবাদ।

      সকল সালাফি খারাপ লোক এই কথা এই ব্লগে বলি নি। আবার যে ফিরিস্তি দেয়া হয়েছে সেখানে খারাপ আচরণ থেকে থাকলে তা অবশ্যই খারাপ। কিন্তু আপনি যদি নিজেই বলেন যে সালাফিদের মধ্যে অন্তত একশো গ্রুপ আছে, এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে কাফির বলে, তাদের মধ্যে প্রচুর বেয়াদব আছে, তবে তারা যে “কত্তো খারাপ” সেটা আমার পরিবর্তে আপনিই আলুপোড়ার জোসে বলে গেলেন। বাঙালি বটে।

      দিগন্ত টিভিতে সাঈদীর ছেলের সাথে কোন উপস্থিতি কাজি ইব্রাহীমের কোন অসংযত, অসংলগ্ন কথা বা কাজের জাস্টিফিকেশন হতে পারে না।

      এটা আমার পোষ্ট। আমার বিবেচনা মতে সাজিয়েছি। কোন ব্লগে কোন বিষয়ের উপর কতটুকু ফোকাস করা হবে এই পরামর্শের জন্য আপনি যদি সদালাপে একটি এজেন্সি খোলেন তবে হয়তবা আগামীতে ব্লগ লিখার আগে আপনার সাথে কন্সাল্ট করেই তা হতে পারে। তবে এই ব্লগের যে শিরোনাম দিয়েছি সেখান থেকেই আলোচনার স্থান নির্ধারিত হয়েছে। দেশের কথা এসেছে, পিস-টিভির কথা এসেছে, সালাফিদের কথা এসেছে, এবং সার্বিকভাবে বিষয়টির উপর যে ফোকাস রয়েছে এর সবকিছু এসেছে। তবে হ্যাঁ, আপনার মূল্যবান চিন্তার সমন্বয়ে এই বিষয়ের উপর একটি লেখা প্রকাশ করলে আমরা লাভবান হতে পারব। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। আর পোড়া-ঘরে আলুর অস্তিত্ব ছিল কী না, তা না জেনে, অন্যরা পোড়া-আলু তাবাই করে দিচ্ছে এই ভাবনা মন থেকে সরালেই ভাল।

      1. 6.1.1
        মজলুম

        আপনার ব্লগে আপনি লিখবেন সেটা আনার ব্যাপার। কিন্তু পিস টিভি বন্ধ হলো জাকির নায়িকের কারনে, সে নাকি জঙ্গীবাদ প্রচার করে। সেদিকে ফোকাস না দিয়ে জাকির নায়েকের কোন ফ্যান কি লিখলো কি করলো, পিস টিভিতে কোন লেকচারার কি বললো, সালাফিরা কি করে, সালাফিদের নিয়ে বিশ্লেষন। এসবই উদ্দেশ্যপ্রনদিতো এবং আলু পোড়া। আপনি কি লিখবেন সে জন্যে কনসালটেশান এজেন্সি  খোলার দরকার নাই এখানে, এটলিস্ট একটু বিবেকবোধ ইউজ করলেই হতো। আপনিও ভালো থাকুন, সুস্হ থাকুন। খোদা হাফেজ। 

        1. 6.1.1.1
          এম_আহমদ

          এই যে ভাই, আপনি একই কথা আবার টানছেন, কেন? এখানে “পিস-টিভির প্রসঙ্গ” আলোচনা করেছি সামাজিক উলটপালট সামনে রেখে –সামাজিক প্রেক্ষিতে। জঙ্গিবাদ যতটুকু আলোচনা জরুরি মনে করেছি ততটুকু করেছি। জঙ্গিবাদের সাথে তার সম্পর্ক থাকতে পারে কি না –এই বিষয়ে আপনি অভিজ্ঞ হলে সেই আলোচনা নিজ প্রবন্ধে করুন। এখানে জাকির নায়েকের “ফ্যান” নিয়ে কোন আলোচনা হয় নি। পিস-টিভি সালাফিদের। তাই যথার্থ আলোচনা, যথার্থভাবেই হয়েছে এবং বিবেকসম্মতভাবেই হয়েছে, তবে আমি তো আপনার বিবেকের ভিত্তিতে লিখতে পারি না। সুতরাং কেন এত সব কথা? আপনি বার বার অভিযোগ করছেন, এবং এবারে বিবেক টানছেন –এটা কি করা জরুরি?

          ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  13. 5
    সত্য সন্ধানী

     আমি আপনার লেখাটি পড়ে হতাশ। আপনি কায়দা করে আসলে সালাফী সম্প্রদায়ের দিকেই অভিযোগ  করে চলেছেন। আমার জানা মতে সালাফী তারাই যারা সলফে সালেহীন দের জীবন যাত্রা অনুসরন করে থাকেন।

    এটাকে বিশেষ কোন গোত্রে আবদ্ধ করা ঠিক নয়, আসলে সব মুসলিমেরই উচিত ফেরকাবন্দী বাদ দিয়ে কোরান সুন্নাহ সঠিক ভাবে মেনে চলা।

    এর বেশি কিছু বলব না কারন সততার সাথেই স্বীকার করি যে আপনাদের বেশিরভাগের তুলনায় আমার জ্ঞান একেবারেই নস্যি। সদালাপে লেখা পড়ে তুলনামুলক বিশ্লেষন থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি।

    যাই হোক আমাকে যা শেখানো হয়েছে ( আমার পরিবার থেকে) তা হল কোন ইমাম মাজহাব তৈরী করে যান নাই, মাজহাব বানিয়েছে এইসব ইমামদের কে পীর বানাবার মাধ্যমে। ৪ ইমাম কোরান এবং সুন্নাহ অনুসরন করতে বলে গেছেন।

    সেই সময় সহীহ হাদিস পাওয়া যেত না তাই অনেক সময় ইমাম রা নিজেদের বিবেক বুদ্ধি থেকে অনেক কিছু শিখাতেন।

    যাই হোক আমরা সবাই জানি যে ইমাম আবু হানিফা সাহেব বলে গেছেন যে সহীহ হাদিস পেলে সেটাই উনার মাজহাব। কিন্তু কথা হল কত জন হানাফী ভাই বোন এই কথা মেনেছেন? উলটা মাজহাব না মানলে সে নাকি কাফের এমন কথাও অনেক ধর্ম ব্যবসায়ী হুজুর রা বলতেন।

    আমার চোখের সামনে আমি দেখেছি আমার নানার বাড়ী এলাকায় (বগুড়ার এক এলাকা)আজ থেকে ১৮/২০ বছর আগে একজন হানাফী লোক রাগের মাথায় তার স্ত্রী কে তিন তালাক দিয়ে ফেলেছিল। 

    সমাজ পতিরা হিলা দেবার জন্য উঠে পড়ে লাগল, এমন কি পাশের গ্রাম থেকে বড় হানাফী আলেম কেও আনা হল আলেম ও হিল্যার পক্ষে কথা বলল।

    আমার নানার পরিবার থেকে ( আমার নানা  একজন আহলে হাদিস আলেম,এবমগ হাই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন,যদি সেই সময় তিনি অসুস্থ) বাধা দেয়া হল,মামারা হাদিস কোরান দেখিয়ে সেই হানাফী আলেম কে নাস্তানাবুদ করে দেন। বাধা অল্প কিছু আহলে হাদিস সেখানে বাস করে।

    সেই লোক (যার বউকে ৩ তালাক বলেছে) সে আহলে হাদিস সমাজে চলে আসল।

    কারন এত কোরান হাদিস দেখাবার পরেও হানাফী সমাজ তাকে গ্রহন।করেনি।

    এমনকি তার জমিতে সেফ বন্ধ করে দেয় হানাফী মাতবর।

    ভাই, আজ আর অবস্থা ওগের মত নাই। হানাফীদের মধ্যে অনেক চেঞ্জ এসেছে, আর এটা কিন্তু আপনার সৌহার্দ বিরোধী সালাফী রাই এই চেঞ্জটা এনেছে।

    দেখেন আহলে হাদিস আলেম রা যেমন আসাদুল্লাহ আল গালীব,  আব্দুল বারী সাহেব জিনি প্রতিষ্ঠাতা, সাথে আরো। অনেক কেই দেখেছি, সবাই উচ্চশিক্ষিত।  কেউ ওয়াজ করে খায় না।

    আর উদাহরন দেয়া সম্ভব না। আপনি জানেন সব এটাই আমার বিশ্বাস।

    এই পতিবর্তন কি সালাগীরাই আনেনি? জাকির নায়েক সাহেব ও সম ধারার মানুষেরাই কি কোরান হাদিস শিখাচ্ছেন না? তাহলে কিসের ভিত্তিতে বলা হল যে সৌহার্দ বিরোধী হতে পারে?

    সৌহার্দ মানে যদি হয় মহাস্থান গড়ের পীরের মাজারে মোমবাতী দেয়া, তবে সে সৌহার্দে আমার আপত্তি আছে। হানাফী রাও কম বেশি এই কাজ করতেন।

    আমি ছেলে বেলায় মহাস্তান গড়ে বেড়াতে গিয়ে পীরের মাজারে মোমবাতী দেই জি বলে গালি শুনা লেগেছে।

    আমি এইসব শেরেকী না করার শিক্ষা একেবারে বাচ্চা কাল থেকে পেয়েছি।

    আমি কিন্তু সন্ত্রাসের ঘোর বিরোধী, সন্ত্রাস করে যারা মানুষ মারে তাদের ফাঁসীর পক্ষে আমি।

    অথবা যারা সামাজিক সম্পত্রিতি নস্ট করে এদের কেও অপছন্দ করি আমি।

    তবে খুব পছন্দ করি তাদের যারা সত্ত্য প্রচারের সৎ সাহস রাখেন। নিজে আমি।পাপী বান্দা আল্লাহর, কিন্তু যারা সত্য প্রচার করেন, যারা সুন্নত কে সুন্নত আর বিদাত কে বিদাত বলার সৎ সাহস রাখেন আমি তাদের সম্মান করি।

    আমি জাকির নায়েক সাহেবের ফ্যান না, আমি উনার প্রচার করা সঠিক ইসলামী চিন্তাধারার ফ্যান। সেটা সঠিক ভাবে মানার সক্ষমতা আমার হয়ত নেই, কিন্তু তাতে কি? আমি সত্যকে মন থেকে ভালবাসি, আর আমার ভুল ত্রুটির জন্য আল্লাহ।পাকের কাছে খমা চাই।

    আল্লাহ আকাদের সবাইকে সঠিক ভাবে ইসলাম বুঝার তৌফিক দান করুন,এবং সত্যের ব্যাপারে,আল্লাহর আইনের ব্যাপারে আপোষহীন থাকার তৌফিক দান করুন, শির্ক এবং কুফুরী থেকে বাচিয়ে রাখুন আমীন।

    1. 5.1
      এম_আহমদ

      @সত্য সন্ধানী
      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।  

      এখানে কোন কোন অভিযোগ করা হল সেগুলো উল্লেখ করেন নি। সালাফি আলেমদের যেসব বাড়াবাড়িমূলক কথা ও আচরণের উদাহরণ দিয়েছি সেগুলো অবশ্যই হতাশা ব্যঞ্জক। আপনি এগুলো ডিফেন্ড করলে অভিযোগের ব্যাপারটি দেখা যেত।  

      কোরান হাদিসের ভিত্তিতে হাজার বছর ধরে যে সম্প্রদায়গণ আমল করে আসছেন, এবং যারা এই মুসলিম বিশ্বে সাওয়াদুল আ‘জাম, মূল জামাআত, তারাই হচ্ছেন হানাফি, শাফেয়ি, মালেকি ও হাম্বলি সম্প্রদায়। এই বিশ্ব মুসলিমকে ‘ফেরকা’ বলে আখ্যায়িত করে কোরান হাদিসের নামে কোন একটি নতুন ফিরকা আত্মপ্রকাশ করলেই সবাই সেই ফিরকায় ফিরকাবন্দী হওয়ার আশা বাতুলতা মাত্র। অতীত ও বর্তমানে এমন কোন ফিরকা পাওয়া যাবে না যারা কোরান হাদিসের দোহাই দেয় নি, এবং নিজেরদের জন্য একমাত্র সত্য দাবি করে নি। কাদিয়ানীরাও তাই করে। আজ দাবী আর পাল্টা-দাবীর বিতর্ক বাদ দিয়ে যাদের সাথে কোন রকমে চলা যায় তাদের সাথে ফিতনা না করে ঐক্য ভিত্তিক কাজ করাটাই ভাল। এতে পারস্পারিক আলাপ-আলোচনা ও কথাবার্তার মাধ্যমে যারা অপর দলে সত্য নিহিত অনুভব করবে তারা সেই স্থানেই চলে যেতে পারবে –এই ধরণের যুক্তি এখানে উত্থাপন করেছি এবং সালাফিদের আক্রমণাত্মক ভাষা ও আচরণ পুনর্বিচনা করতে বলেছি। কেউ বিবেচনা করতেই হবে এমনটিও নয়।

      আপনার মামার বাড়ীর গল্পের জন্যও ধন্যবাদ। তবে এক সাথে ৩ তালাক দেয়া হলে তা এক তালাক গণ্য হবার ফাতোয়া হানাফি মাযহাবেও আছে। হিল্লার সালাফি প্রোপাগান্ডাকে হানাফির সংযুক্তিতে আনা ভাল কাজ নয়। কোন একটি সমাজে মন্দ কিছু দেখলেই সেই সমাজের শিক্ষার সাথে তা জড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ফিতনা। সৌদি থেকে মতিউর রাহমান সাহেব দেলওয়ার হুসেইন সাঈদীর উপর হিল্লাহর ফতোয়ার সংযুক্তি আরোপ করেছিলেন। তারপর তার মুখে চূন-কালি পড়ে। কেননা সাইদীর অভিমত ছিল এর বিপরীতে। এভাবে ফিতনা করা ধর্মীয় আচরণ হতে পারে না। এমন কাজ কোরান হাদিসের প্রতিকূলেই। আমি ঐক্যের যে দিকটি এখানে দেখাতে চেয়েছি, সেটার পরিবর্তে নানান প্রোপাগাণ্ডায় মাযহাবি জিহাদ করাতে যদি সালাফিরা কল্যাণ দেখেন এবং আলেম উলামাদের উপর (শফি সাহেব/দেওবন্দী ইত্যাদি) তাকফীর আরোপ করে তাদের নিজ ধর্ম প্রচারের যুক্তি বলবৎ দেখেন, তবে তারা তা করতে থাকুক। এটা আপনার কাছেও ভাল কাজ অনুভূত হলে, আপনিও করুন। আমার লেখায় আমার অভিমত উল্লেখ করেছি, আপনার অভিমত দেখিয়ে আপনিও লিখতে পারেন। এই ধরণের প্রসেসই ভাল। ধন্যবাদ। ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।

  14. 4
    abdul awal

    “ধর্মের নামে সকল নতুন কাজ হল বিদআত, সকল বিদআত হল গোমরাহি বা পথভ্রষ্টতা।” (মুসলিম- ১৫৩৫)
    “সকল পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।” (নাসাঈ- ১৫৬০)
    “যে ব্যক্তি বিদআত সৃষ্টি করে বা কোন বিদআতীকে আশ্রয় দেয় তার উপর আল্লাহ, ফেরেস্তা এবং সকল মানুষের লানত। তার ফরজ ও নফল কোন ইবাদত কবুল হবে না।” (বুখারী- ৭৩০৬)

    “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি হাউজে কাউসারের নিকট তোমাদের আগেই উপস্থিত থাকব। তোমাদের থেকে কিছু লোককে আমার নিকট পেশ করা হবে। কিন্তু আমি যখন তাদের পান করাতে অগ্রসর হব, তখন তাদেরকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে। আমি বলব, হে রব! এরাতো আমার সাথী। তখন তিনি বলবেন, আপনার পর তারা নতুন কি ঘটিয়েছে তা আপনি জানেন না।” (বুখারী ইফা- ৬৫৭৩)

    আল্লাহুম্মা সল্লে আলা… সহ আরো কয়েক রকম উচ্চস্বরে সম্মিলিত দুরুদ পড়ে এক বক্তা বয়ান শুরু করলেন। বয়ানের এক পর্যায়ে বললেন, আমাদেরকে সকল ইবাদত একমাত্র রাসূল (সাঃ) এর তরীকা মোতাবেক করতে হবে, এমনকি খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানো, আচার-ব্যাবহার সবকিছু।

    তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সবাই মিলে একসাথে উচ্চস্বরে দুরুদ পাঠ করা কার তরীকা? তার জবাব- বিদ’আতে হাসানা। জিজ্ঞেস করলাম, ফজরের সুন্নাত নামায কি জামা’আতের সহিত পড়া যাবে? তিনি বললেন, না, এটা বিদ’আত হবে কারণ রাসূল (সাঃ) থেকে এর কোন প্রমাণ নেই। আমি বললাম, একসাথে উচ্চস্বরে দুরুদ পাঠ বা জিকির করার কোন প্রমাণও নেই, এসব কিভাবে বিদ’আতে হাসানা হল? তিনি জবাব দিতে পারেন নি।

    বিদ’আতে হাসানা না করে তা রাসূল (সাঃ) এর তরীকায় করলে কি অসুবিধা?

    রাসূল (সাঃ) শিখিয়েছেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কিন্তু তাকে উল্টো করে পড়ার অর্থ কি?

    মতিউর রহমান ইল্লাল্লাহ, লা ইলাহা বলাকে কুফুরী বলেছেন। জানিনা তিনি কিসের ভিত্তিতে একথা বলেছেন। মানুষ হিসেবে তিনিও ভুল-ত্রুটির উর্ধে নন।

    সাঈদী সাহেবের উপর মতিউর রহমানের আলোচনা শুনে তাঁর সম্পর্কে ভুল ধারনা সৃষ্টি হয়। পরে তাঁর বিষয়ভিত্তিক লেকচারগুলি শুনে খুবই উপকৃত হই, বিদ’আত মুক্ত হই, ইবাদত করে এখন অনেক শান্তি পাই।

    আবু হানিফা (রহঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তির জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত হালাল নয় যে, আমাদের কথাকে নিয়ে নিবে এবং সেটার উপর আমল করবে যতক্ষণ পর্যন্ত জানতে না পারবে কোথা থেকে আমরা এ কথাটি বললাম। (হাসিয়া ইবনুল আবেদীন, ষষ্ঠ খন্ড- ২৯৩ পৃষ্ঠা)

    সবার ক্ষেত্রেই একথা প্রযোজ্য। কারো কথা দলীল-প্রমাণ ভিত্তিক হলে মানব, নাহলে পরিত্যাগ করব।

    নামাযের মাসলা-মাসায়েল নিয়ে হানাফীদের সাথে আহলে হাদীস/সালাফিদের প্রধান দন্দ্ব নয়; দন্দ্ব হল আকিদা এবং বিদ’আত নিয়ে। হানিফারা যদি আকিদার সংশোধন করে এবং সকল বিদ’আত (বিদ’আতে হাসানা/বিদ’আতে ছাইয়্যা) পরিত্যাগ করে তাহলে হয়ত উভয় দলের ঐক্য হতে পারে, নইলে নয়।

    1. 4.1
      এম_আহমদ

      @abdul awal:

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। তবে এই আলোচনায় এসে যে হাদিসগুলোর "উদ্ধৃতি" দিয়ে বয়ান শুরু করেছেন, সেগুলো সম্ভবত হানাফি উলামাদের চৌদ্দ-গোষ্ঠী দেখেও নি, শুনেও নি, অথবা নিদেনপক্ষে লাখে ২/১ জন শুনে থেকে যেতে পারে, তাই এগুলো তাদেরকে শুনানো খুবই জরুরি!

      হানিফারা যদি আকিদার সংশোধন করে এবং সকল বিদ’আত (বিদ’আতে হাসানা/বিদ’আতে ছাইয়্যা) পরিত্যাগ করে তাহলে হয়ত উভয় দলের ঐক্য হতে পারে, নইলে নয়।

      হানাফিরা সালাফিদের কাছে তাদের বিশ্বাসের পরীক্ষা দিয়ে যদি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এবং তা যদি সালাফিদের শর্ত পূর্ণ করে তবেই ঐক্য হতে পারে, নইলে নয়। এখানে সালাফিরা হচ্ছে ধর্মের একমাত্র এজেন্ট, একমাত্র সত্যের হকদার, তাদের ব্যাখ্যা মোতাবেক নির্ণয় করা হবে কোন আকিদা সঠিক –এই ধারণা ও এটিটিউড স্পষ্ট। এখানেই জটিল সমস্যা নিহিত হতে পারে এবং এটাই মূল ব্লগে আলোচনা করা হয়েছে। কোন দল যখন কেবল নিজেরা ব্যতীত আর কাউকে সত্য মনে করবে না তখন সহজেই চরম পন্থার স্থান নির্ণীত হয়ে পড়ে এবং ক্রমধারায় এটা সন্ত্রাসসহ সম্ভাবনাময়ী নানান সামাজিক সংঘাতের জন্মদাতা হতে পারে। যেকোনো বিতর্কে অথবা সামাজিক/জাতীয় বিষয়ে তাদের “একমাত্র সত্য” বিঘ্নিত হচ্ছে ভেবে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে ফেলতে পারে। আজকের বিশ্বের প্রধান সন্ত্রাসী দল যেমন বো-কো হারাম, আলকায়েদা, ইসলামি স্ট্যাট -এগুলোর উৎস কিন্তু সালাফি-ওয়াহহাবি সূত্রে প্রোথিত হতে দেখা যায়। আর এই পন্থার মূলে থাকে ‘আল্লাহ বলেছেন’ ‘রাসুল বলেছেন’ (قال وقال/কালা ওয়া কালা) এই আকারের উদ্ধৃতির ব্লান্ট আক্ষরিক সনির্বন্ধ ধর্মীয় রূপ। এটাই ছিল পূর্বকালের খারেজিদের পথ এবং আজও আরব জগতে সালাফিদেরকে আধুনিক খারেজি বলা হচ্ছে। আমি যদিও পিস-টিভি বন্ধের বিপক্ষেই মত প্রকাশ করেছি কিন্তু কিছু সালাফির উগ্রবাদীতা চাক্ষুষই থেকে যায়,  কয়েকজনের উদাহরণ তো দেয়া হয়েছে এবং এখানেও যে মানসিকতা প্রকাশ পাচ্ছে তাতে সরকারের অবস্থানই হয়ত সত্যায়ণ করে যায়। কী আর বলব।

      সবাই মিলে দরুদ পাঠে ধর্মহীন কিছু নেই, আপনাদের থাকলে সেটা আপনাদের সমস্যা। অধিকন্তু মিলিতভাবে পড়তে যদি তাদের ভাল লাগে, শান্তি পায়, তাদের মন আল্লাহর দিকে রুজু হয়েছে অনুভব করে, তবে সেটা ভাল কাজ এবং নিঃসন্দেহে এটা সন্ত্রাসকর্ম থেকে উত্তম, মানুষে মানুষে বাদাবাদী থেকে উত্তম, আন্তধর্মী কলহ-যুদ্ধ থেকে উত্তম। অতঃপর যেখানে দলিলের প্রয়োজন নেই সেখানে “উদ্ধৃতিবাদী” সালাফি মত-পথের দিকে দৃষ্টি দেবার প্রয়োজন নেই। বিদাতে হাসানা ত্যাগ করলে তারাবীর নামাজও জামাতে পড়া বাদ দিতে হবে, জুমার দিনে দুই আযানও বাদ দিতে হবে। হিন্দুদের দেবী যেভাবে পবিত্র পর্বতে সীমাবদ্ধ থাকেন, সেভাবে আল্লাহকেও আক্ষরিক অর্থে আসমানের উপরে ভাবতে হবে এবং আবর্তিত দিবারাত্রের জগতে তাকে প্রত্যেক রাতের শেষাংশে ধরার আকাশে আসেন/যান ভাবতে হবে, তার হাত আছে, পা আছে তাকে মানুষের আকৃতির সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করতে হবে যেভাবে খৃষ্টিয়ানরা খোদার দেহধারীরূপে বিশ্বাস করে, কিন্তু শিরকের নিকটবর্তী এসব মুজাসসাম বিশ্বাসকে কোনো ঐক্যের জন্য তারাইবা কেন কোনো পক্ষের সাথে বসতে যাবে, কেন জেনে-শুনে কোরান-হাদিসের নামে ধাপ্পামারা পথভ্রষ্টদের সাথে ঐক্য করবে –এসব প্রশ্ন তো অন্যপক্ষও করতে পারে। আমি কিন্তু কোনো পক্ষের পরিপূর্ণ বিবরণ সম্বলিত বিতর্কে না গিয়ে সম্ভাব্য ঐক্যের কথা বলেছি। এটা নিছক একটি ব্লগ মাত্র, এখানে সালাফি নেতৃবর্গ নেই, হানাফি নেতৃবর্গও নেই। এমন সাধারণ আলোচনায় “রাবাউনি/রামায়নি” কায়দা অবলম্বনের দরকার নেই। আপনি আপনার একমাত্র সত্যে থেকে  হানাফিদের সাথে জিহাদ করুন এবং আপনার দলের আলেমগণ কর্তৃক হানাফি মাযহাবের অসারতা-খণ্ডিত কাহিনী শুনে বিদ’আত মুক্ত হয়ে ইবাদতে শান্তি লাভ করুন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

      1. 4.1.1
        মহিউদ্দিন

        আজ মুসলিমদের ঐক্যের বিকল্প নেই। অযথা পূর্ব-শর্ত তৈরি না করেই সকলে মিলেজুলে কাজ করাটাই ভাল। পরিবর্তন সম্প্রীতি ও সৌহার্দের ভিত্তিতেই হয়, ফাতোয়া ও রেষারেষিতে নয়। let's start with common grounds on which we all agree. আসুন সাধারণ ভিত্তিতে যার উপর সবাই একমত তা দিয়ে শুরু করা যাক । 

    2. 4.2
      কিংশুক

      বিদাতি নব্য সৃষ্ট আহলে হাদিস/সালাফি বাতিলের সাথে হক্কানি সালাফি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের ঐক্যের কোনও সূযোগই নাই। বাতিল আলাদা হক আলাদা। বিগত চৌদ্দশ বছর যাবৎ উমাইয়া আব্বাসি খিলাফত হতে গত শতাব্দীর উসমানি খিলাফত পর্যন্ত সকল মুসলিম  (পথভ্রষ্ট শিয়ারা বাদে) আকিদাতে আহলে সুন্নাহ ও ফিকাহতে (রাষ্ট্রীয় আইনে) চার মাজহাবের অনুসারী ছিলেন । আহলে সুন্নাহর গত চৌদ্দশ বছরের ইতিহাসের সকল আলেম অর্থাত্ মুফাস্সির মুহাদ্দিস ফিকাহবিদ আত্মার পরিশুদ্ধি কারী সুফিদের মধ্যে শতকরা 99% ব্যক্তি আহলে সুন্নাহ ও চার মাজহাবের অনুসারী ছিলেন । বাকী এক শতাংশ আলেম ই জতিহাদের যোগ্যতা থাকায় কিছুটা ভিন্ন মত পোষন করেছেন। তাবেয়ী আলেমগণ সবাই তাসাউফ চর্চা কারী আল্লাহর অলী ছিলেন । শতকরা পঁচাত্তর ভাগ হাদিস , অসংখ্য কোরআনের আয়াত অস্বীকার কারী, নিজেদের সুবিধার হাদিসকে সহীহ বানানো বিপক্ষের হাদিসকে যয়িফ জাল বানানো প্রতারকরা বিংশ শতাব্দীর ফিতনা। 

      1. 4.2.1
        সত্য সন্ধানী

        // বিদাতি নব্য সৃষ্ট আহলে হাদিস/সালাফি বাতিলের সাথে হক্কানি সালাফি আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের ঐক্যের কোনও সূযোগই নাই। বাতিল আলাদা হক আলাদা। //

        হক আর বাতিলের ফয়সালা করার আপনি কে? আপনার অসংযত  মন্তব্য গুলির সাথে আগে থেকেই সবাই কম বেশি পরিচিত। এটা দিন দিন সীমা অতিক্রম করে চলেছে।

        এখানে অনেকের সাথে অনেকের মিল হয় না;সবার মত এক হবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনার অবস্থান সবসময় বিপরীত মেরুতে থাককে কেন?

        এর আগে জিয়া ভাইকে কোন যেন পোষ্টে আপনি কি ভাষায় আক্রমন করেছিলেন মনে নাই?

        আহলে হাদিস রা বিদাতী আর আপনি হক পন্থী? তা নিজেকেই নিজে প্রচার করে বেড়াচ্ছেন না? ইসলাম কি এই শিক্ষা দেয়?

        আপনাদের মত চুড়ান্তবাদী লোকেরাই আসলে ফিতনা তৈরী করে।

        লেখক সেটা নিয়েও কিছু লিখলে ভাল হয়। হাক্কানী নামের যেসব কওমীদের আপনি আইডল বানিয়েছেন, তাদের ফুল টাইম মুসলিম বানিয়ে, অন্যদের আধা মুসলিম স্ট্যাটাস দিয়েছেন পরোক্ষ ভাবে, যা আপনার অহংকারী মনোভাবেরই।পরিচয় বহন করে।

        সমাজে ফিতনা ছড়াবেন না। আপনার উদ্দ্যেশ্য সম্পর্কে অনেকেই সন্দেহ পোষন করতে পারে ক্রমাগত বিতর্কিত মন্তব্য করতে থাকলে।

        ভাল কথা রসুলুল্লাহ  সাঃ এবং সাহাবায়ে কেরাম কোন মাঝহাবের অনুসারী ছিলেন? হানাফী, শাফেয়ী, হাম্বলী নাকি মালেকি? উত্তর জানা আছে আপনার?

        নাকি সাহাবায়ে কেরাম দেও বন্দ থেকে দীক্ষা নিয়ে গেছেন? সেক্ষেত্রে কি টাইম মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে?

        1. 4.2.1.1
          কিংশুক

          ও আচ্ছা আপনার আহলে হাদিস/সালাফি ভাইরা বুঝি খুব উদার ভাবে বিতর্ক করছে! আপনার …ভাইও তো খুব নিরপেক্ষ মানুষ!! যাঁরা জীবনে হানাফি ফিকাহের দুই একটা বইও পড়েনি খালি শোনা কথা সহিহ হাদিসই আমার মাজহাব মন্ত্র আমাদের শোনায় তাদের তো কমপক্ষে  প্রাথমিক জ্ঞান লাভের জন্য হানাফি মাজহাবের হিদায়া কিতাব পড়ে হানাফি মাজহাব কোরআন সহীহ হাদিসের উপর প্রতেকটি মাসআলা, ফতোয়া দিচ্ছে কিনা তা জেনে কথা বলা উচিত। আমি আল্লাহর রহমতে ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত চার খন্ড পড়ে ইমাম আবু হানিফা, উনার ছাত্র ও পরবর্তী কালের হানাফি মাজহাবের আলেমরা কিভাবে রায় দিয়েছেন তা জানি। ইমাম আবু হানিফা রঃ একজন তাবেয়ি ছিলেন। উনার সময়ে কোন জাল হাদিস ছিলনা কারন সাহাবা রাঃ ও তাবেয়িন রঃ গণ নির্ভরযোগ্য ছিলেন -- এরকম আলোচনা আমি মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসুদ দা বা এর কাছ থেকে সরাসরি শুনেছি। মাজহাব বিষয়ক আলোচনা দেওবন্দের প্রিন্সিপাল হতে শুরু করে কমপক্ষে পঞ্চাশ জন আলেমের ওয়াজে সামনাসামনি শুনেছি। আমার কাছে আহলে হাদিস ও আহলে সুন্নাহ সম্পর্কে এক ডজনের উপর বই আছে। আমার একেবারে প্রাথমিক স্তরের জ্ঞান আছে, এ জায়গায় যাঁরা আহলে হাদিসের মুখস্থ বুলি কপি পেষ্ট করছে তাদের প্রাথমিক জ্ঞান আছে বলেও প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছেনা। এরকম ব্লগে ঘুরে ঘুরে দ্বীন সম্পর্কে স্বল্প শিক্ষিত ও ভুল শিক্ষিতদের কাছ থেকে সত্যের সন্ধান পাওয়া যাবেনা। সত্যের সন্ধান পেতে হলে যারা সত্যের সন্ধান দেওয়ার উপযুক্ত তাদের পরামর্শ নিতে হবে। 

        2. সত্য সন্ধানী

           কিংশুক, আপনার খোঁচা মারার ছেলেমানুষীটা গেল না। ব্লগে যদি সবার সাথে আলোচনা করে কেউ সবার মতামতের ভিত্তিতে একটা কোন মধ্য পথ অবলম্বন করতেই চায় তবে সমস্যাটা কি? আমি তো মনে করি যে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই অনেক সমস্যা সমাধান সম্ভব।

          যদি কেউ উদার ভাবে বিতর্ক না করে এবং কপি পেস্ট করে সেটা অবশ্যই তার ব্যার্থতা। কিন্তু তার জবাবে একই কাজ করাও কি সফলতা? নিসচই না।

          আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, কোরান এবং সিয়াহ সাত্তাহের উপরেই আমি আমল করতে আগ্রহী।

          আপনি যখন দেওবন্দের প্রিন্সিপাল সহ সবার কাছেই অনেক কিছু জেনেভহেন সেখানে আপনাকে আর কেউ কিছু জানাতে পারবে না ধরেই নিচ্ছি। 

          আমাকে ইসলামী শিক্ষা দেয়া হয়েছে আমার পরিবার থেকে,প্রায় সব ধরনের বইই আছে আমাদের বাসায়।

          আমি নিযে কখনই সেসব পড়ায় তেমন আগ্রহ পেতাম না আগে। আব্বা,আম্মা, সহ সবাই যা শেখাতেন সেগুলিই আমি শিখেছি,আর কেউই তারা আধা শিক্ষিত নন,আর ইসলামিক বই পত্র নিয়েও খুব ভাল করেই পড়াশোনা করেছেন, আমার মত আলসেমী করেন নি।আর সাথে আহলে হাদিস আলেম ওলামারা আছেনই।

          কাজেই আমি যতটুকু শিখেছি সঠিক জিনিসটাই শিখেছি বলে আমার বিশ্বাস।তবে হ্যা গোড়ামী যে নেই তা নয়, অনেকের মত আহলে হাদিস সমাজেও অনেক গোড়ামী আছে। আর তাই এখানে সব মতের মানুষের সাথে আলোচনা করে মধ্য পথটা খুজার চেষ্টা করছি।

           আর সদালাপ থেকে কিছু শিখেছি একটা উদাহরন নেই আর তা হল পর্দায় নিকাব নিয়ে মুনিম ভাইয়ের একটা তিন পর্বের লেখা দেখে,পরে রায়হান ভাইও একটা লেখা দিয়েছেন এ নিয়ে যেখানে কোরান শরীফের আয়াত রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। 

          এমন আরো কিছু চমৎকার ব্লগ পড়ে কিছুই শেখা যাবে না, এইটা উন্নাসিক মনোভাব।

          অবশ্য আপনি যদি শিক্ষাগার বলতে কওমী মাদ্রাসায় শিক্ষিত হাক্কানী সাহেবের দের কেই স্ট্যান্ডার্ড ধরে নেন, এবং এর বাইরে সব ইসলামী শিক্ষাই হয় কুশিক্ষা, বা আধা শিক্ষা, সেক্ষেত্রে অবশ্য আমার কিছু বলার নেই। যস্মিন দেশে যদাচার।

           

           

           

           

           

           

        3. সত্য সন্ধানী

           আরেকটা লেখা পর্দা নিয়ে রায়হান ভাইও কিছুদিন আগে দিয়েছিলেন। সেখানে অনেক উতপাত দেখেছি। যদি কেউ তালগাছ নিজের বলে দাবী করে,অহং বোধ থেকে অন্য কোন মতামত খতিয়ে দেখবারও দরকার মনে না করে, সেক্ষেত্রে এটা পরিষ্কার যে সে/তারা আসলে কোন ধারা থেকে এসেছে।

          যাই হোক শুধু তর্কে খাতিরে তর্ক আর অহংবোধ থেকে নিজের কথাকে ঠেলে যাওয়াটা,এবং অন্যদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করাটা কতটা ইসলামিক,সেই প্রশ্নটা রেখে গেলাম। 

        4. এম_আহমদ

          সত্য সন্ধানী, আপনি partisan আবেগ/ইঙ্গীত এখানে আনবেন না। অমুক ভাইয়ে সাথে আপনি কি করেছেন, আর তমুক ভাইকে কি বলেছেন –সেটা তার ও তমুক ভায়ের ব্যাপার। অপর কোন ব্লগ ও প্রসঙ্গে আপনার কোন কথাও অপর কোন তমুকের সাথে নেতিবাচক পাওয়া যেতে পারে। প্রত্যকের মত ও পথের অমুক আর তমুকের সাড়ায় বিতর্ক শুরু হলে আলোচনা তার বস্তুনিষ্টতা হারাতে সম্ভাবনাময়ী হয়ে উঠে। কোন তর্ক একান্ত উত্তপ্ত না হলে ‘ছেলেমি/ছেলেমি মানুষী’ ইত্যাদিতে না নামলেই ভাল হয়। তালি দুই হাতে বাজে। তার 5.2 ও আপনার  5.2.1 মন্তব্য আবার বিবেচনা করে দেখুন।

          আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে ঐক্য গড়া, পার্থক্যের ভিতরে থেকেই। এক সময় ৪ মাযহাব নিয়েও অনেক বিবাদ হয়েছে কিন্তু প্রায় হাজার বছর ধরে তা নিরোসিত, এবং পার্থক্য গ্রহণ করেই। সকল মাযহাব কোরান আর সুন্নাহর উপরই প্রতিষ্ঠিত। এ বিষয়ে একটি নতুন দল ব্যতীত মুসলিম বিশ্বে কোন দ্বিমত নেই। এখন চাওয়া হচ্ছে এই নতুন দলটি তাদের নিজেদের পার্থক্যসহ ঐক্য অবলম্বন করুন এবং কোরান হাদিসের নামে সর্বসাধারণে ফিতনা বন্ধ করুক। কোরান হাদিসের পার্থক্যগত স্থান আলেমদের সাথে আলোচনা করুক। সাধারণ পাবলিক কোরান হাদিসের ভিতরেই থাকা নানান পার্থক্যের বিষয় অবহিত নয়। শুদ্ধ পথ অবল্বন করলেই শান্তির ধারা খুলতে পারে।

          ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

      2. 4.2.2
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        কয়েক বছর আগে টরন্টোয় বুয়েট এলা্মনাই এর জন্ম হয় -- সেই সমাবেশে ঘোষক (আমার ব্যাচ মেট) ঘোষনার দায়িত্বে ছিলো -- সে ঘোষনার ফাঁকে ফাঁকে চিৎকার করে বলছিলো -- ইস্ট এন্ড ওয়েস্ট -- বুয়েট ইজ দ্যা বেস্ট। শুনে হাসছিলাম। বালখিল্যতার প্রদর্শনীতে অহংকারের ছাপ দেখা যায় এই ধরনের কথায়। অন্য ভাবে ভাবলে বলা যায় এই ধরনের কথা মিথ্যাচার। 

        এখন দেখছি আমাদের দেশী ভাইগন বলছে -- ইস্ট এন্ড ওয়েস্ট -- হানাফী ইজ দ্যা বেস্ট (আই মীন একমাত্র হাক্ক) বলে প্রচার করছেন- কথাটা যখন মাওলানা শফির মুখে শুনি -- বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিলো। এরোগেন্সী আর ইগনোরেন্সের কঠিন প্রদর্শণী বটে। 

        মুসলিমদের প্রধানত গুন হওয়া উচিত বিনয় -- কারন তারা আল্লাহর বিনীত দাস। নিজের আমল আর ইমান নিয়েই শংকিত এবং সতর্ক থাকার কথা। সেখানে শুধু নিজের পথ আর মতকে একমাত্র হ্ক্ক বলে ঘোষনা দিয়ে বাকী মুসলিমদের বাতিলের দলে ফেলার মতো অথরিটি উনারা কোথায় পেলো সেই চিন্তায় মাথা ঘুরে। 

        যাই হোক -- পৃথিবীতে সালাফি, ওহাবী নামে কোন গোষ্টী নাই -- কিন্তু একদল নিজেদের দোষত্রুটি অন্যের ঘাড়ে চাপানোর জন্যে তাদের সাথে যারা দ্বিমত করে তাদের নানান নামে ডাকাডাকি শুরু করে। এই অথরিটি তারা কোথায় পেলো তাও চিন্তার কথা। এই সালাফি বা ওহাবী শব্দগুলো ইসলামবিরোধীদের খুবই পছন্দের শব্দ -- কারন এই গুলো দিয়ে তারা মুসলিম সমাজকে বিভক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। যখন মসজিদুল হারামে চারটা ভিন্নভিন্ন মসজিদ থেকে নামাজ হতো -- একদল মাজহাবী অন্যদলের পিছনে নামাজ পড়তো না -- সেই সময় মোহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবে পরামর্শে সেই চারটা মসজিদ ভেংগে একটা মসজিদের পরিনত করা হয় -- এবং এক ইমামের পিছনে নামাজ পড়া নিশ্চিত করা হয় -- এই কাজটা কি কোরান সুন্নাহ অনুসারে সঠিক ছিলো কিনা তা বলার চেয়ে ওহাবীরা চরমপন্থী বিভ্রান্ত ইত্যাদি বলে প্রচার করে মুসলিম সমাজের মাঝে বিভক্তি এবং বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছেন আমাদের কঠিনভাবে মাজহাব অনুসারী ভাইরা। এইটা কতটা যুক্তিযুক্তি তা তারা ভাবেন না। বস্তুত যারা সালাফি বা ওহাবী নামে কাউকে চিহ্নিত করতে চেস্টা করেন -- তাদের অধিকাংশই এই কথাগুলোর অর্থ জানেন না। (দুঃখিত এই কথা বলা জন্যে, কিন্তু কথা সত্য) 

        একজন সাধারন মুসলিম হিসাবে শেষ দিন মোহাম্মদ (সঃ) এর উম্মত হিসাবেই নিজেকে দাঁড়ানো দেখতে সব সময় সচেষ্ট থাকি -- কোন সংকীর্ন গোষ্ঠী বা মতাদর্শ মেনে অন্য কারো পিছনে দাঁড়ানোর কোন ইচ্ছা নেই। সুতরাং সেই ভাবেই চিন্তা করি। 

         

        পিস টিভি বন্ধ হওয়ার সুবাদে আমরা জানলাম "সালাফি" নামে একটা সংখ্যালঘু গোষ্ঠী আছে যারা পিস টিভির দর্শক ছিলো এবং তাদের বক্তারা মুর্খ ও চরমপন্থী। এইটাই চাচ্ছিলো বাংলাদেশের ইসলাম বিরোধীরা -- আমাদের থেকে একদল এগিয়ে গিয়ে এই তত্ত্ব তাদের হাতে তুলে দিলো। পিস টিভির মাধ্যমে সাধারন মানুষ যতটুকু হাদিস-কোরআনের সম্পর্ক জানতে পারতো তাও নিষিদ্ধ হলো। এখন হানাফী এজেন্টদের কাছ থেকে নানান ফাতওয়া আর ব্যাখ্যা বিশ্লেষন জানা ছাড়া উপায় নেই। কোরান থাকবে লাল সালুতে বাঁধা অবস্থায় তাকে আর হাদিস পছন্দ না হলে জাল আর বাতিল বলে কথা শুনে মানুষ ভয়ে তা পড়বে না -- বাকী থাকে পেশাজীবি ওয়াজি মাওলানা আর হুজুরদের গাল গল্প। 

         

        বলাই বাহুল্য -- যার যা আমল তার অনুসারেই তাদের জন্যে পথ তৈরী হয়। বাংলাদেশের শত বিভক্ত মতাদর্শ -- মাজার -কবরের শিরক আর ইসলামের নামে প্রতারনার ব্যবসার পথে বাঁধা পিসটিভি বন্ধ হওয়াই তো স্বাবাভিক ছিলো। 

  15. 3
    Calculation

    "লালসালু" উপন্যাসটিকে আগে উদ্দেশ্যমূলক মনে করতাম। ভাবতাম, ধর্মকে অবজ্ঞা করা ও আলেম-পীরদেরকে হেয় করবার অসৎ উদ্দেশ্যে বুঝি এই উপন্যাসটি রচিত। কিন্তু আজ এ উপন্যাসের বাস্তবতা দেখতে পাচ্ছি। জাকির নায়েকের প্রতি দেওবন্দী ও মাজারীদের মানসিকতা দেখে "লালসালু" উপন্যাসে বর্ণিত আওয়ালপুরের পীর সাহেবের প্রতি মজিদের হিংসার কথাই মনে পড়ে যায়।

    যারা যাকাত-ফেতরা আর কোরবানির চামড়া ছাড়া চলতে পারে না, সেই ফকির-মিসকীনরা যখন কোন বিশ্ববরেণ্য ইসলামপ্রচারককে ফুটপাতের তাবিজ বিক্রেতার সাথে তুলনা দেয়; তখন তাতে হাসিও পায় না, কান্নাও পায় না, বরং করুণাই হয়।

  16. 2
    মাহফুজ

    লেখাটির জন্য ধন্যবাদ-

    তবে কিছু বিষয়ে মন্তব্য না দিয়ে পারলাম না।

    //কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আর সৌদির ক্ষমতাসীনদের মনোবৃত্তি ও ধর্মীয় প্রকৃতি আকাশ পাতালের পার্থক্যে। সৌদির আভ্যন্তরীণ ও পারিপার্শ্বিক সমাজ সংস্কৃতি ও বাংলার আভ্যন্তরীণ ও পারিপার্শ্বিক সমাজ সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।//

    বাংলাদেশে মুসলিম নামধারী এক মহল ইসলাম নিয়ে যে এলার্জিতে ভোগেন তা ঠিক। হয়ত এর পেছনে তাদের অজ্ঞতা কিংবা অনিহা এবং মনগড়া যুক্তি থাকতে পারে। প্রকৃত মুসলিম হতে হলে ইসলামের প্রতি এলার্জি নয় বরং প্রথমত বিশ্বাসী এবং অতঃপর জানা ও মানার ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে। বস্তুত এর কোনটার প্রতিই এই মহলটির তেমন কোন আগ্রহ নেই বলেই মনে হয়। তবে এদের সাথে সৌদির ক্ষমতাসীনদের মনোবৃত্তি ও ধর্মীয় প্রকৃতির আকাশ পাতাল পার্থক্যে থাকলেও, প্রকৃত ইসলাম কায়েমের ব্যাপারে বেসিকালি তাদের মধ্যে তেমন কোন তফাৎ নেই। আর বিলাসিতা, মানবাধীকার লঙ্ঘন ও নারী নির্যাতনের ব্যাপারে তো তাদের তুলনা মেলা ভার।

    ভাল-মন্দ মিলিয়েই পিস-টিভি। তবে বাংলা পিস-টিভিতে মন্দের প্রভাবই বেশি।  দেওয়ানবাগী, উরসবাদী, মওদুদিবাদী, সালাফি/ আহলে হাদিসদের অনেক কর্মকাণ্ড যে ধর্মীয় সৌহার্দের পরিপন্থী তা বলার অপক্ষো রাখেনা। তদুপরি এসবের মধ্য থেকে বর্তমান জামানায় জাকির নায়েকের ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে।

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      ভাল-মন্দ মিলিয়েই পিস-টিভি। তবে বাংলা পিস-টিভিতে মন্দের প্রভাবই বেশি।

      হ্যাঁ, তাদের চিন্তা-ধারণা ও আক্রমণাত্মক ভাষা-বক্তব্যের দিকে তাকালে আপনার যুক্তি বুঝতে দেরি হওয়ার কথা নয়। তবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি দেশে সকলেই কথা বলার অধিকার পাক –আমি এই যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছি এবং নীতিগতভাবেই তাদের টিভি বন্ধের বিপক্ষে কথা বলেছি। ধন্যবাদ, ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।  

  17. 1
    Calculation

    সকল নবী-রসূলগণের বিরোধীরা ছিল মূলত তিনটি শ্রেণির লোক:- (১) ধর্মব্যবসায়ী পুরোহিত, (২) কায়েমি স্বার্থবাদী রাজনীতিক, (৩) ধর্মবিদ্বেষী নাস্তিক ও পৌত্তলিক। অতএব, বর্তমানকালেও যদি কেউ নবী-রসূলগণের অনুসরণে মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দিতে ও সৎপথে আনতে সচেষ্ট হয়, তখন তার বিরোধিতাও আসবে ঐ তিন তরফ থেকেই।

    বাংলাদেশসহ ও ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মব্যবসায়ী আছে দুই কিসিমের। একদল হল ফতোয়া ব্যবসায়ী, আরেকদল হল মাজারব্যবসায়ী। প্রথম দলটির কাজ হল ফতোয়া দিয়ে বা নিজেদের ধর্মীয় ভাবমূর্তির সুবাদে মানুষের অন্ধভক্তিকে পুঁজি করে হাদিয়া-তোহফা লাভ করা, ধর্মের নামে মাদ্রাসা ও এতিমখানা খুলে জনগণের কাছ থেকে টাকা আদায় করে নিজেরা ভোগ করা। আর দ্বিতীয় দলটির কাজ হল লালসালু কাপড় টানিয়ে ওরস শরীফের নামে চান্দা তুলে ভাগবাটোয়ারা করে খাওয়া। নিজেদের মনগড়া ফেরকাবাজি ও ভ্রান্ত আকীদার দ্বারা জনগণকে বিভ্রান্ত করবার জন্য প্রয়োজন কোরআন ও হাদীসের প্রকৃত শিক্ষা থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখা, কারণ ধর্মের সঠিক রূপ জানতে পারলে মানুষ কেবল ধর্মের পথেই খরচ করবে, ধর্মের নামে যেখানে সেখানে যাকে তাকে অর্থ বিলি করবে না।

    1. 1.1
      এম_আহমদ

      @Calculation:

      বাংলাদেশসহ ও ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মব্যবসায়ী আছে দুই কিসিমের। একদল হল ফতোয়া ব্যবসায়ী, আরেকদল হল মাজারব্যবসায়ী।

      হ্যাঁ, তবে এই আঙ্গিনায় আরও দল ও শ্রেণী আছে। ধর্মের শুরু থেকেই সমাজে ধর্ম ব্যবসা রয়েছে। এটা সামাজিক এক বাস্তবতা। আপনি/আমিও যদি ধর্ম-ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম নিতাম এবং সেই মাত্রার ধর্মীয় তালিম গ্রহণ করতাম তবে সেই কাজ আমরাও করতাম। হাদিয়া-তোহফা নিতাম, মাদ্রাসা, এতিমখানা খুলে দীনের খেদমত করতাম এবং নিজেদের ভাগও বসাতাম। মানুষ জীবন ধারণের জন্য, প্রয়োজনে, সবকিছুর যুক্তি পায়। এসবের মধ্যে সমাজ বিজ্ঞান রয়েছে। কেবল কোরান হাদিসের কিছু উদ্ধৃতি কণ্ঠস্থ করে ফেললেই হবে না, ‘উদ্ধৃতি’ মারলেই হবে না। অধিকন্তু সামজিক সংশোধন কখনো গলাবাজি, ফাতোয়াবাজির মাধ্যমে হয় না। ধর্ম ব্যবসার আর্থ সামাজিক অবস্থান সমঝে ধারণ করতে হবে, কেন কী হচ্ছে এবং কোন ধরণের উপাদানের উপস্থিতি/অনুপস্থিতি সেই বাস্তবতার কারণ হচ্ছে সেগুলো এড্রেস করতে হবে।

      1. 1.1.1
        Calculation

        আপনি সম্ভবত ধর্মব্যবসায়ীদেরকে সহানুভূতির সাথে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে চেয়েছেন। যেকোন পাপীকে বা যে কারো দুর্বলতাকে ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখা একটি ভাল গুণ। কিন্তু আমার কথা হল, ধর্মব্যবসা করার পিছনে না হয় কোন ওজর বা সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু সেই ধর্মব্যবসার বিরোধিতা বা ধর্মব্যবসার প্রভাব ও দৌরাত্ম্য ক্ষুণ্ন হওয়ায় কারো প্রতি বিরক্তি জাগলে সেটাকে যদি ধর্মপ্রীতির আবরণে প্রকাশ করা হয়, তাহলে সেই মুনাফেকিটা কিভাবে ক্ষমাযোগ্য? মনে করুন, আমি অভাবে পড়ে চুরি করলাম, বা সময়মত বিয়ে না হওয়াতে যৌবনের তাড়না সামলাতে না পেরে যেনা করে বসলাম, অথবা বিবাহিত জীবনেও স্ত্রীর উদাসীনতার কারণে যেনা করলাম, বা কারো স্ত্রী তার স্বামীর অক্ষমতার কারণে যেনা করতে বাধ্য হল, তাহলে সেটা হয়তো ক্ষমাযোগ্য হবে। কিন্তু কোন ব্যক্তি আমার চুরি বা যেনার প্রতিবাদ করায় বা ঐ কাজে বাধা সৃষ্টি করায় আমি যদি প্রচার করি, অমুক লোকটার দাড়ি নেই বলে আমি তাকে ঘৃণা করি, তাহলে আমার এই মিথ্যাচারটা কি ক্ষমাযোগ্য হবে?

      2. 1.1.2
        Calculation

        আপনি/আমিও যদি ধর্ম-ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম নিতাম এবং সেই মাত্রার ধর্মীয় তালিম গ্রহণ করতাম তবে সেই কাজ আমরাও করতাম। ….. ধর্ম ব্যবসার আর্থ সামাজিক অবস্থান সমঝে ধারণ করতে হবে, কেন কী হচ্ছে এবং কোন ধরণের উপাদানের উপস্থিতি/অনুপস্থিতি সেই বাস্তবতার কারণ হচ্ছে সেগুলো এড্রেস করতে হবে।

        মক্কার কাফেররাও কিন্তু বাপ-দাদার ধর্ম অনুসরণ করত। তাই বলে কি তাদের অবস্থান এবং আচরণকে জাস্টিফাই করা যায়? তারা বংশপরম্পরায় বা আর্থ সামাজিক বাস্তবতার কারণে গোমরাহ হয়েছে বলে কি তাদের ভুল ধরিয়ে দিয়ে তাদেরকে দাওয়াতের মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করাটা অপরাধ ছিল?

Leave a Reply

Your email address will not be published.