«

»

Oct ০৪ ২০১৬

ভারতযুদ্ধ কোন বিচ্ছিন্ন যুদ্ধ হবে না

যুদ্ধের দামামা

কাশ্মীরে ১৮ জন ভারতী সেনার মৃত্যুকে ঘিরে যুদ্ধধ্বনি যেন দ্রিম দ্রিম করছে। ভারত এই হত্যার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও পাকিস্তান তা অস্বীকার করেছে। কিন্তু অভিযোগ ও অস্বীকৃতি, এমন কি এই হত্যাও আসল কথা নয়। কোন একটি যুদ্ধ এভাবেই হয়ে যায় না, এর পিছনে আরও অনেক কারণ থাকে। এই সত্য আবহমান কালের। কিন্তু এই যুদ্ধ নিছক ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ না হয়ে বৈশ্বিক উদ্দেশ্যে ও সূত্রে প্রোথিত থাকবে। তবে ভারতের আঞ্চলিক ও ঐতিহাসিক উদ্দেশ্য তো থাকবেই।

এ পর্যন্ত হুমকি-ধমকি অনেক হয়েছে। ভারত থেকে বলা হয়েছে মাত্র ৫ মিনিটে গোটা পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে উড়িয়ে দেয়া হবে। এবং পাকিস্তান অনুরূপ কথা বলা থেকেও পিছিয়ে নেই। তবে যুদ্ধ ফেঁটে না পড়লেও, ইতিমধ্যে কিছু অস্ত্র ধারিতও হয়েছে। তারপর যুদ্ধ তো যুদ্ধই –তা গ্রামে হোক অথবা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে। এখানে আপন আপন কারণে পক্ষাপক্ষি হয়। জমিদারের রায়ত ও গোলাম-চামাররা তুক-তাক করে বেশি। যুদ্ধ বাঁধলে বাংলাদেশ ভারতের পক্ষে থাকবে। এই মর্মে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত (সৈয়দ মুয়াজ্জম আলী) নাকি ভারতকে আশ্বস্ত করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জান খান ভারতের পক্ষে সেনা পাঠাবার আশ্বাসও দিয়েছেন। তবে ওয়াইসি কাশ্মীরে ভারতের যুদ্ধংদেহী ভূমিকার নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। সৌদি আরব নাকি পাকিস্তানের পক্ষে থাকবে, চীনও। চীন নাকি পাকিস্তানের বিপক্ষে যে কোন অপশক্তির আগ্রাসী আক্রমণ সহ্য করবে না। ভারত নাকি রাশিয়াকে সতর্ক করেছে। আবার নেপাল পাকিস্তানের পক্ষে লড়বে বলেছে। কথাগুলো এভাবে বলছি কেননা আজকাল সংবাদপত্রের সকল কথাবার্তা তেমন বিশ্বাস করি না। তবে স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিবেচনায় যুদ্ধের সম্ভাবনাকে একদম নাচক করা যায় না। কেননা যায়োনবাদী উদ্দেশ্য মুসলিম দেশগুলো যেভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে সেই উদ্দেশ্যে কেবল আরব জগতেই থেমে থাকার কথা নয়, এটা পাক-ভারত উপমহাদেশেও ঘটার কথা।

যুদ্ধ ও তার অন্তর্নিহিত কারণ

তবে প্রত্যেক যুদ্ধের পিছনে এমনসব কারণ থেকে থাকে যেগুলো সর্বসাধারণের জানার বাইরে। এই বিশ্বের অনেক যুদ্ধের মূল সত্য ও তথ্য সাধারণ মানুষ জানেই না। স্কুল কলেজের পাঠ্যপুস্তকে যা লিখা হয়ে থাকে তা সাধারণত নাগরিকদেরকে একটি বিশেষ মানসিকতায় গড়ার প্রয়োজনে ও যুদ্ধ-বাঁধানো শ্রেণীর ন্যায্যতা দেখানোর প্রয়োজনে। কোন পক্ষ কখনও এমনভাবে ইতিহাস রচনা করে না যাতে তাদের নিজেদের ‘দোষ’ স্বীকৃত হয়ে পড়ে। অনেক যুদ্ধ এমন রয়েছে যেগুলো বুঝতে পাঠককে গভীর অধ্যয়নে যেতে হয় এবং সঠিক পটভূমির ল্যাজ আবিষ্কার না করে অধ্যয়ন কার্য চালালেও সেই মূল স্থানে যাওয়া যাবে না।

আধুনিক কালের কোন যুদ্ধই বিচ্ছিন্ন (isolated) নয়। তবে প্রাচীন কালের যুদ্ধেও আভ্যন্তরীণ ও পার্শ্ববর্তী স্বার্থ ও উপকরণ জড়িত থাকত। আধিপত্যবাদ সবদিনই যুদ্ধের প্রাণকেন্দ্রে অথবা আশেপাশে থাকত।

আধিপত্যবাদী আমেরিকার কারসাজিপূর্ণ অর্থ-ব্যবস্থার মুখোশ এখন অনেকটা উন্মোচিত। অতীতের যেকোনো সময় থেকে এই বিষয়টি আমেরিকার সর্বসাধারণ অনেক বেশি বুঝতে পারছে, যদিও এই দেশের জনগণ বিশ্বের অপরাপর জনগোষ্ঠীর চাইতে বৈশ্বিক অবস্থা সম্পর্কে কম ওয়াকিবহাল কারণ তাদের জানার উপায় অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। অনেক দিন থেকে অনেকে ডলার পতনের আশংকা করে আসছেন। যদি দৈবাৎ ঘটে যায়, এবং অসংখ্যসূত্রে স্থাপিত বিষয়ে তা হতে পারে, তবে শুধু আমেরিকাই নয় গোটা বিশ্বে এর এমন প্রভাব পড়বে যে তা বৈশ্বিক সমাজকে উলটপালট করে দেবে। পাউন্ডের অবস্থাও ভাল নয়। ইউরোপ আমেরিকায় রাজনীতির উপর মানুষের আস্থা হারিয়ে গিয়েছে। অর্থনৈতিক অবস্থাও মন্দা। কিন্তু অর্থ-বিত্ত কেবল একটি ক্ষুদ্র শ্রেণীতে কুক্ষিগত হয়ে ফানুসের মত স্ফীত হচ্ছে। আমেরিকা ও চীন বৈশ্বিক বাজার ও প্রভাব নিয়ে এবং আমেরিকা ও রাশিয়া পারস্পারিক রেষারেষিতে অনেকটা শীতলভাবে মুখামুখি। তবে শীতল হলেও যুদ্ধের ময়দান এখন প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য।

প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর, যায়োনবাদীরা চরম এক ধ্বংসলীলা চালিয়ে তাদের নতুন বিশ্বব্যবস্থার (world order) কাজ কীভাবে সমাধা করবে এটাই অনেকের কাছে ভয়, দুশ্চিন্তা ও কৌতূহলের বিষয়। মুসলিম বিশ্ব যায়োনবাদের কর্তৃত্বে থাকলেও ইসলাম ধর্মে যেহেতু কোন সংস্কার আনতে পারছে না কারণ এই ধর্মের চাবিকাঠি কোন একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে নেই এবং একারণে মুসলিম সর্বসাধারণ, এমনকি, তাদের রাষ্ট্রব্যবস্থায়ও একটি মহল ইউরোপীয় আধিপত্যবাদপূর্বের ইসলামী ধ্যান ধারণায় থেকেই যাচ্ছে, যা সন্ত্রাস নামের বৈশ্বিক কৌশলের পরেও সম্পূর্ণভাবে চূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না বরং প্রাচীন ইসলামের একটি ধাঁচে যেন সেটা থেকেই যাচ্ছে। এই বিষয়টি ধনতন্ত্রের বৈশ্বিক অগ্রযাত্রায় আশ্বস্তিকর নয়। অন্যদিকে রাশিয়ান ক্যাথোলিক অর্থোডক্সি যায়োনবাদী আদর্শ মেনে নিতে পারছে না। এসব দিক থেকে যায়োনবাদী ধনতন্ত্র একটি বড় আকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে যাতে মানুষ অস্তিত্বের ভয়ে কাতর হবে, বেঁচে থাকার জন্য সহিংস সরকারের অপকৌশল জেনেও তাদের পিছনে থাকতে বাধ্য হবে, তাদেরকে যা শোনানো হবে তাই নতশিরে গ্রহণ করবে, দাসের আনুগত্যের মতই; হাসিমুখে, গুণগান গেয়ে।

যুদ্ধ অন্তর্দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেয়, গণমন মশগুল রাখে। প্রেসিডেন্ট বুশ, একজন ডাম্বো (dumbo) প্রকৃতির লোক হওয়া সত্ত্বেও, একটি প্রশ্নবিদ্ধ ও প্রতারণাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ‘জয়লাভ’ এর পরবর্তীতে ৯/১১ ও তারপর ইরাক-আফগান যুদ্ধ ঘটে গেলে বুশ ও তার সরকার ভীতি ও মিথ্যার বেসাতি করে দুই টার্ম পাশ করে দেয়। এখন বুশের চাইতে আরও ডাম্বো (dumbo) ডনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হলে বহির্বিশ্বে একটা কিছু ঘটে যাওয়াই স্বাভাবিক। তবে হিলারি ক্লিনটন বিজয়লাভ করলেও উল্লেখিত সম্ভাবনাময়ী বাস্তবতায় কোন পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। কোন এক ব্যক্তি ও তার আশে পাশের কিছু লোক দিয়ে রাজনীতির বিচার-বিবেচনা খুব একটা সঠিক নয়। কেননা এদের মূল চালিকা শক্তি এদের পিছনেই থাকে। আমরা কি দেখতে ব্যর্থ হই যে আমেরিকার মত একটি পরাশক্তির নির্বাচন-প্রাক্কালে প্রত্যেক দলের প্রধানরা প্রকাশ্যে বার বার ইসরাইলের প্রতি তাদের “শর্তহীন” (unconditional) সমর্থন উল্লেখ করতে হয়! কী আশ্চর্য! এটা গণতন্ত্র? আন্তর্জাতিক ন্যায়নিষ্ঠ-শিষ্টাচার? নোয়াম চমস্কির ভাষায় এই গণতন্ত্রে যা আছে তা নিছক এ-টিম, বি-টিম ও সি-টিম –এরা মূলত একই টিম। ঘোড়-দৌড় কর্তৃপক্ষের নামানো তিনটি ঘোড়া মাত্র। যেকোনো একটি জিতলেই তাদের জিত।

কোন বিশেষ ক্রমিক আকারে না হলেও যায়োনবাদ ও ইউরোপীয় একটি চিত্র উপরে অঙ্কিত হয়েছে যেখানে যুদ্ধের একটি রেখা আঁচ করা যায়।

আজকের বিশ্বব্যবস্থা যেহেতু পরস্পর-সংযুক্তিতে অত্যন্ত জটিল (intricate) তাই এই নেটওয়ার্কের কোন সুতোয় টেনে কোন জাগায় ছিদ্রকরণ করা হবে সেটাই ৬ মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। তবে কোনো যুদ্ধ তা এই ভারত-উপমহাদেশে হোক অথবা মধ্যপ্রাচ্যে, সেখানে মূল সূত্র সেই বিশ্বব্যবস্থা, ইউরোপীয় নানান অনিশ্চয়তা, মানুষের দৃষ্টি ভীতির সূত্রে অন্যত্র স্থাপন, মুসলিম বিশ্বকে আমূল পরিবর্তন (ভৌগলিকভাবেও), ডলার-পাউন্ড ইত্যাদির সাথে সংযুক্ত হয়ে থাকবে –এটাই স্বাভাবিক।

আমেরিকার যায়োনবাদী যুদ্ধংদেহী জীবন ব্যবস্থা

আমেরিকা শব্দ উচ্চারিত হলেই যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে যাবে। এই দেশ যুদ্ধের খনি। তার রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পূর্ণই যুদ্ধংদেহী। প্রতি বছর ৫৫ বিলিয়ন ডলার কেবল গোয়েন্দাগিরিতে ব্যয় হয়! এই কর্মে একটি নয়, দুটি নয়, পাঁচটি নয়, ৭টি নয় বরং ১৭টি গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে বলে টোম এঙ্গলহার্ট উল্লেখ করেন। চিন্তা করুন। এগুলো ঘিরে ডিপার্টম্যান্টস রয়েছে। লাখ লাখ লোক কাজ করছে। সকল দেশে তাদের গোয়েন্দা রয়েছে। আপন দেশসহ গোটা বিশ্ব জোড়ে ডেইটা সংগ্রহ, প্রোসেসিং, এনালিসিস, রিপোর্টিং, কমিউনিকেশন, নানান যুদ্ধের পরিকল্পনা: শীতল যুদ্ধ, গোপন যুদ্ধ, প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ, আকাশ যুদ্ধ, মাটির যুদ্ধ, পানির যুদ্ধ, আভ্যন্তরীণ যুদ্ধ –সবকিছু মিলিয়ে যুদ্ধই হয়ে পড়েছে আমেরিকান জীবন পদ্ধতি। এই দেশের বৈদেশিক নীতি বলতে যা আছে তা মূলত যুদ্ধনীতি। এমনসব দেশের সার্বিক ব্যবস্থাকে “করপোরেট ওয়ার্ল্ড” নামেই পরিচিত যাদের বৈদেশিক নীতি চলে ব্যবসায়-স্বার্থে। এই উদ্দেশ্যে চালিত যুদ্ধে অন্য দেশের কত নারী পুরুষ, কত বৃদ্ধ, কত শিশু মারা গেল সেটা কোন ব্যাপার নয়, সেটার একটা পরিচ্ছন্ন পরিভাষা রয়েছে, ‘পার্শ্ববর্তী-ক্ষয়ক্ষতি’ (collateral damage)। এসব অমনি অমনি বলা কথা নয় –এগুলো ময়দানের বাস্তবতা। তাছাড়া আমেরিকার ভিতরে এমনসব সিভিল প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক ডিপার্টম্যান্ট রয়েছে যেখানে প্রাক্তন মিলিটারি প্রধানদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে (প্রাগুক্ত, টোম এঙ্গলহার্ট)। এই অবস্থা ইসরাইলেরও।

বিশ্ব ব্যাপী এই করুণ যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ লোকের প্রাণহানি হচ্ছে, মানুষ বিকলাঙ্গ হচ্ছে, ঘরবাড়ি ছাই হচ্ছে, নগর সভ্যতা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। এই যুদ্ধ ঘিরে আবার তাদের “সমাজ বিজ্ঞান” গড়ে উঠছে, তাদেরই ধারায়। ব্যক্তি ও সমাজ মনস্তত্ত্বের (individual and social psychologists) সংযোজন হচ্ছে। বলা যেতে পারে ইসরাইল-আমেরিকার অপর নামই যুদ্ধ। সত্যের বিপক্ষে যুদ্ধ করে ওরা সত্যকে মিথ্যা দেখাতে পারে। মানবজাতি এমন মিথ্যাচার এমন হারে কোন কালে দেখে নি। আজকের সংগঠিত সহিংসতা (organised violence) তথা যুদ্ধই তাদের রাজনীতি, ব্যবসা, উপার্জন! এখন থেকে আগামী অর্ধ-শতাব্দী, পূর্ণ-শতাব্দী যুদ্ধেরই পরিকল্পনা হচ্ছে। এদের হাতে জ্ঞান বিজ্ঞান ধ্বংস-লীলার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বৈশ্বিক যায়োনবাদ, ভারত ও হিন্দু ধর্ম

যায়োনবাদের জন্য ভারত একটি উর্বর স্থান। এটা এজন্য যে এই ভূখণ্ডের হিন্দু ধর্মে “সবকিছু” অন্তর্ভুক্ত: সমকামিতা, পশুকামিতা, নাস্তিক্যবাদ, এবং সর্বতোভাবে যায়োনবাদের প্রতি একনিষ্ঠতা। পূর্ব ইউরোপের ধর্মান্তরিত কাজারি (খাজারি) যায়োনিস্ট-আর্যদের প্রতিষ্ঠিত ইসরাইল রাষ্ট্র ও ভারতের আর্য-মিতালি এখন একত্রিত। ভারতের ব্যবসা, সামরিক প্রশিক্ষন, চুক্তি ও লেন-দেন, পারস্পারিক সহযোগিতা ইত্যাদির পরিমাণ বিবেচনা করলেই তা স্পষ্ট হবে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বাঁধলে, আমেরিকা ভারতের সাথে সবদিক থেকেই থাকতে বাধ্য হবে। ইসরাইলের সাথে থাকার শর্তহীন অঙ্গিকারে নির্বাচিত কোন সরকার অন্য কিছু করতে পারবে না।

এদিক থেকে এই যুদ্ধ পর্যায়ক্রমিকভাবে-অগ্রসর-হওয়া যায়োনবাদী বিশ্বব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করণের সংশ্লিষ্টতায় চীন ও রাশিয়ার শক্তি ও বাণিজ্যিক তৎপরতা খর্বকরণের উদ্দেশ্যে প্রোথিত থাকতে পারে। আবার নানান জুজু ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া ও আফগানিস্তান ধ্বংসের পর এখন ভারতকে এই অঞ্চলের ইসরাইল বানিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ইরাকিকরণ করার উদ্দেশ্যেও প্রোথিত হতে পারে।

সর্বোপরি, আজকের বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থায় ও রাজনীতিতে ভারত ইসরাইল, আমেরিকা ও ইউরোপের স্রোতধারায়। আবার ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ধনাঢ্য শ্রেণীর, বড় বড় কোটিপতি চোর-ডাকু সকলের প্রধান সঞ্চিত অঙ্ক ইউরোপ আমেরিকায়। বলা যেতে পারে যে হিসাবের দৃষ্টিতে ওরা সবাই একই সরাইখানার লোক। ধনতন্ত্রে ধর্ম, রাষ্ট্রসীমা ও গোত্র নেই, কেবল ধনই সার বস্তু। যায়োনবাদী ধনতন্ত্র বর্তমান বিশ্বকে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন করে আসছে এবং চূড়ান্ত রূপায়ন হয়ত বাকি।

যুদ্ধ –অনিশ্চয়তা ও নৈরাজ্য

যুদ্ধে সব সময় কিছু অনিশ্চয়তা থেকে যায়। পরিণতি একদম হিসাবের আওতায় থাকে না। এমনটি না হলে এই বিশ্বের ইতিহাস অন্যভাবে লিখা হত।

যুদ্ধ বেঁধে গেলে স্বাধীনতাকামীদের বিষয় নিয়ে ভারতের ভয় রয়েছে। পাকিস্তানেরও আছে। তবে পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের দুশ্চিন্তা বেশি। স্বাধীনতাকামীরা আবার হাত-পা নাড়া-চাড়া করছে বলে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে। সত্য-মিথ্যা সঠিকভাবে নির্ণয় করা মুস্কিল। মোদীর প্রাথমিক বজ্র-গর্জন এখন নরম দেখা যাচ্ছে। তবে এটা যুদ্ধ কৌশলও হতে পারে। এদিকে ভারতের ৪০,০০০ সৈন্য নাকি ছুটি চেয়ে বসেছে। কিন্তু যুদ্ধ সামনে রেখে এমন কোন কথাই বাইরে থেকে মূল্যায়ন করা কঠিন।

তবে যুদ্ধ যদি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে, এবং হতেই তো পারে, আর পাকিস্তান যদি শক্ত হয়ে যুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায় এবং ভারতের স্বাধীনতাকামীরা এই সুযোগে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হয় তবে এই উপমহাদেশে শান্তির একটি সঠিক পরিপ্রেক্ষিত তৈরি হতে পারে। কেননা এতে ভারতের একচ্ছত্র প্রভাব ভেঙ্গে পড়বে এবং আশে পাশের দেশগুলো নিজেদের অঞ্চলে প্রকৃত স্বাধীনতা অনুভব ও উপভোগ করার সুযোগ পাবে।

আবার সবকিছু উলটাও হতে পারে। বাংলাদেশেও বিশৃঙ্খল মূহুর্ত্তে অঘটন ঘটতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারত থেকে যা বলা হচ্ছে তা ভাল শোনাচ্ছে না। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকার বলেছেন যে লঙ্কা বিজয় করে রাম যেমন বিভীষণের হাতে দেশ অর্পণ করেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারত তাই করেছে। ভারত কারও ক্ষতি করতে চায় না কিন্তু কেউ ভারতের ক্ষতি করতে চাইলে তারা সমুচিত জবাব দেবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠা লক্ষ্য থেকে এখনো পিছপা হই নি। বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা ও মায়ানমার মিলে আবারো মহাভারত প্রতিষ্ঠা করা হবে’ [লিঙ্ক]। বর্তমানের কথাবার্তায় জড়িত রাজনীতি, হুমকি-ধমকি ও সত্য-সঠিকতা যা’ই হোক, রামরাজ্যের স্বপ্নের ঐতিহাসিক সত্যতা কখনো অস্পষ্ট নয়। এই যুদ্ধের সম্ভাব্য ফলশ্রুতিতে ভারতের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রয়োগের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ চলে আসতে পারে।

এক্ষেত্রে মোদীর একটি বক্তব্যও প্রণিধানযোগ্য, মোদীকে অনেকে হিন্দু তালিবানও ভাবেন। তিনি বলেছেন, ভারত আক্রান্ত হলে বাংলাদেশও আক্রান্ত হবে। এই কথাটিতে ‘লালটি’ রয়েছে। ঘটনা এমনও হতে পারে যে যুদ্ধ বেঁধে গেলে ভারতীরা বাংলাদেশের ভিতরে কোন এক বিরাট অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে। তারপর, যারা বাংলাদেশের সত্যিকার স্বাধীনতার পক্ষের লোক, যারা ভারত-বান্ধব রাজনীতির নামে ভারতী আধিপত্যবাদের ব্যাপারে সচেতন, তাদের বিপক্ষে এই বলে প্রচারণা চালাতে পারে যে তারা পাকিস্তানের পক্ষের লোক যারা এখন পাকিস্তান বানানোর জন্য অঘটন ঘটাচ্ছে, অস্ত্র ধারণ করছে। তারপর বিগত ৫/৬ বছর ব্যাপী চালিত হত্যা-নির্যাতনের পর, ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের মত বাছাই বাছাই করে অবশিষ্ট বিরোধী মতাদর্শের নেতাকর্মীদের নির্মূল করা হবে। বিশেষ করে জামাত-বিএনপির নেতাদেরকে মিথ্যা অজুহাতে ক্রস-ফায়ারে ঠেলে দেয়া হবে। “ভারতবান্ধব” রাজাকার শ্রেণীতে শ্লোগান উঠতে পারে, ‘একটা একটা পাকি ধর, (ধরে ধরে জবাই কর)’। এমনটিও আশ্চর্যের নয় যে জয় বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার নামে ভারতী সেনারা তাদের আপন পোশাকেই দেশের ভিতরে প্রবেশ করবে। অনেক রক্তের বন্যা বইবে। তারপর বাকীটুকু না হয় না’ই বলা হল। যাদের ধারণা ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি ভুল ছিল, দ্বিজাতিত্বের ধারণা ভুল ছিল এবং সেই ভুল সুযোগমত, ভিন্নভাবে হলেও, কেন শুদ্ধ হতে পারবে না –এই যুক্তি বিশ্বাসীদের মাথায় তরঙ্গায়িত হতে বেশিক্ষণ লাগবে না। যদি শিক্ষা, আদর্শ ও ভ্রাতৃত্ব একই “সংস্কৃতি” থেকে উৎসারিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়ে থাকে তবে সেই ঐক্যে ও অভিলক্ষ্যে পৌঁছাতেও টেকনিক্যালি কোন বাঁধা থাকবে না। স্বাধীনতা ও পতাকা হায়দরাবাদেও ছিল, সিকিমেও ছিল। এসবের পিছনের আবেগ হয় ‘সৃষ্ট’, তাই পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্য আবেগও সৃষ্টি করা যেতে পারে।

আমাদের দোয়া

তবে আমরা আশা করব এবং দোয়াও করব এই যুদ্ধ যেন পরিপূর্ণভাবে না বাঁধে, যেন উভয় পক্ষ একে অন্যকে হুমকি ধমকি দিয়ে ক্ষান্ত হয়ে যায়। যদিও এখানে সেখানে কিছু গোলাগুলি হচ্ছে –এটাও বন্ধ হোক। কেননা এই যুদ্ধ ফেঁটে পড়লে সকল ধর্ম ও বর্ণের লোকজন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অসংখ্য প্রাণনাশ হবে। ভারতের অনেক স্থানে মুসলিম নারী পুরুষের দশা হায়দরাবাদ, কাশ্মীর ও ভারতের অন্যান্য স্থানের মতই করুণ, অতি করুণ হতে পারে। তবে পূর্ণযুদ্ধ এবারে না হলেও, আমাদের ধারণা, ইসরাইল আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতিতে পরিবর্তন না আসলে, আগামী ১০/১৫ বছরের মধ্যে এই সম্ভাবনা আরও প্রকট হয়ে উঠবে। আমরা দোয়া করি আল্লাহ যেন সকল যুদ্ধ সরিয়ে রাখেন, প্রাণহানি ও ধ্বংস থেকে সবাইকে রক্ষা করেন –আমীন।

২৩ comments

Skip to comment form

  1. 9
    এম_আহমদ

    উপরে ভারত ও বাংলা বিভক্তির ক্ষেত্রে কিছু পার্শিক কথা আলোচনা করেছি। এর সাথে সুনীতি কুমার ঘোষের একটি লেখার লিঙ্ক করছি। লিঙ্ক এখানে। এই মর্মের লেখা মুসলমান কেউ লিখলে একটি মহল তাদের নাক-উচকাতে দেখা যায় কেননা এসব নিয়ে তাদের নিজেদের কিছু বানোয়াট “ইতিহাস” রয়েছে। এদের ভাষ্য হচ্ছে মুসলমানরাই বাংলাকে ও গোটা ভারতকে দ্বিজাতিতত্ত্বে বিভক্ত করেছে। মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ তাদের এই বানোয়াট ইতিহাসের ভিল্যান। দ্বিজাতিতত্ত্ব এক সময় রাজনীতিতে বাধ্যতামূলকভাবে প্রবেশ করলেও বাংলাকে বিভক্তির “কারণ” ছিল না। কারণ এখানেই আলোচিত হচ্ছে। যারা আমার লেখা পড়েন তারা এই লেখাটি পড়তে অনুরোধ করছি।  এই সাথে আমার আরও একটি লেখা কারো সময় থাকলে পড়ে নিতে পারেন। লিঙ্ক এখানে।

  2. 8
    মাহফুজ

    @এম_আহমদ,

    আপনি বলেছেন- //আমার মনে হয় আপনি অন্য কোন ধারায় এর চেয়েও ভাল ব্যাখ্যা করতে পারবেন। কেননা সাধারণত আপনাতে কোরান ও কোরানসম্মত হাদিসের বাইরে কথা বলতে দেখা যায় না, অন্যরা আপনার পদ্ধতিগত বিষয় মানুক বা না মানুক –তা ব্যতিরেকে।//

    আপনি কোন ধারায় ব্যাখ্যা করার কথা কইছেন তা জানিনা। তবে আমার ধারা তো একটাই এবং আপনিও নিশ্চয় তা ঠিকই বুঝতে পেরেছেন। হাঁ, কোরান ও কোরানসম্মত হাদিসের সাথে সংঙ্গতিপূর্ণ হলে পুরাতন কিংবা অত্যাধুনিক যে কোন পদ্ধতি গ্রহণে আমার কোন সমস্যা নেই। তবে সাংঘর্ষিক হলে অন্যরা কে কি মানল বা না মানল সেটা তাদের বিষয়। আমি এসব থেকে দূরে থাকারই চেষ্টা করি। তাই আমার কাছে নিত্য কাল থেকে ১৪ হাজার ৫ শো বছরের মাত্রাটা খুব একটা বড় কিছু নয়। এর সাথে আরও একটি কিংবা দুটি ০ যোগ করে নিলেও তা মহাকালের তুলনায় অতি নগন্যই মনে হয়।

    ভাল ও সুস্থ রাখার মালিক মহান আল্লাহর কাছে আপনার সুস্থ ও কর্মময় ভবিষ্যৎ কামনা করছি- ধন্যবাদ।

  3. 7
    এম_আহমদ

    দুনিয়া জুড়া একটি যুদ্ধ হয়ত কোথাও বেঁধে যাবে। কিন্তু এই যুদ্ধ ধর্ম যুদ্ধ হবে না। বরং ক্ষমতা বিস্তারের যুদ্ধ হবে, প্রাকৃতিক সম্পদ লুটে-পুটে নেবার যুদ্ধ হবে, লোভ-লিপ্সার যুদ্ধ হবে –এভাবেই বিশ্বের চিন্তাশীলরা দেখছেন। বিংশ শতাব্দীর বড় বড় যুদ্ধগুলো ধর্মযুদ্ধ ছিল না। খোদাহীন মানুষগুলো চরমভাবে মিথ্যাচার আত্মস্থ করেছে। সত্যকে মিথ্যা বানাতে শিখেছে। তবে ব্রিটেনের রাণী নাকি এটাকে পবিত্র যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদি সত্য হয়, তবে এটা মুসলমানদের জন্য কোন বার্তা বহন করে, আল্লাহই জানেন।   এই লিঙ্কটি দেখা যেতে পারে।

    1. 7.1
      মাহফুজ

      হাঁ, যুদ্ধ তো বেধে গেছেই। অনেক যায়গাতেই যুদ্ধ চলছে। ভবিষ্যতে বিশেষ বিশেষ অঞ্চলে তা প্রকট আকার ধারন করতেই পারে। তবে তা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পরার আগেই বিশেষ কারণে থেমেও যেতে পারে।

      ব্রিটেনের রাণী কিছু বললেই তা মুসলিমদের জন্য বিশেষ বার্তা যায়। কিন্তু কেন? মুসলিমরা যদি নিজেদেরকে চিনতে পারত, তাহলে অন্যরা কে কি বলল তা শোনার অনেক আগেই বার্তাটি বুঝে নিতে পারত। মুসলিমরা ’যত মত তত পথ’ এর ভ্রান্তি ছেড়ে ঐশী কোরআনের আলোয় ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে তাদের জন্য মহা বিপদ অপেক্ষা করছে-

  4. 6
    এম_আহমদ

    গদি নিয়ে টানাটানি না করে … প্রথমত তিনি [নবী (সা)] তখনকার নেতৃত্বের মৌল ভিত্তি জাহেলিয়াতের রীতি-নীতির বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের মানদণ্ডের ভিত্তিতে সমাজ গঠেনের জন্য মানুষকে মনস্তাত্তিকভাবে জাগ্রত ও প্রস্তুত করার কথা বলতে শুরু করেছিলেন। আর কথাকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য কিন্তু তাকে এবং তাঁর গুটি কয়েকে অনুসারীকে যথেষ্ট বঞ্ছনা ও নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছিল। এমনকি প্রায় তিন বছর তাদেরকে একঘরে করে রাখা হয়েছিল। বেশির ভাগ নবী-রাসূলগণকে প্রায় একই সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

    এবারেও মাশাল্লাহ অনেক কিছুতে একমত। যা বুঝা গেল তা হল স্পষ্টত গদি নিয়ে কথা না বললেও হত্যা, প্রবঞ্চনা ও নির্যাতন –সবই হতে পারে। অর্থাৎ জুলুম ভিত্তিক সামাজিক প্রথার (‘নেতৃত্বের মৌল ভিত্তি জাহেলিয়াতের রীতি-নীতির বিরুদ্ধে’) বিপক্ষে মনস্তত্ত্ব জাগ্রত করতে গেলেই বিপদ আসতে পারে। গদি দূরে থাক। সহমত।

    আবার, পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার ব্যাপারে যা বলেছেন তাও প্রণিধানযোগ্য।  

    … [সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনের কাজে] যারা অগ্রনী ভূমিকায় থাকবেন সর্বপ্রথমে তাদের পরস্পরের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।  … যতদিন পর্যন্ত ঐক্য গঠন করা সম্ভব না হচ্ছে ততদিন ধৈর্যের সাথে যে যার মত করে অন্তত সত্য, ন্যায় ও সৎকর্মের দিকে আহ্বান জানানোর প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে। অনেক অনৈক্যের মাঝে দাঁড়িয়ে কাঙ্খিত ঐক্য গঠনের পথে একজন ক্ষুদ্র সেবক হিসেবে আমার বিশ্বাস ও সাধ্যমত কাজ করে চলেছি।

    এখানে, আপনি যে নিজেই [বাংলাদেশে] সাধ্যমত সেই কাঙ্ক্ষিত ঐক্য গঠনের পথে কাজ করে যাচ্ছেন তা প্রশংসার বিষয়। মানব প্রকৃতি দিকে তাকালে এটা সহজেই লক্ষ্য করা যায় যে তারা সব বিষয়ে একমত হতে কাজ করতে পারবে না। সুতরাং এদিক থেকে যারা সবাইকে 'একমত' করে, অথবা দ্বিমত ও প্রতিমতকে নির্মূল করে কোন সংগঠিত ঐক্যের ভিত্তিতে সমাজকে ঢেলে সাজাতে চান তারা হয়ত সেই কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও ঐক্যের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তবুও সবাইকে 'একমতে আনা' অথবা প্রতিপক্ষ ও প্রতিমত নির্মূল করা সম্ভব হবে কী না সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে।

    আবার এটাও সত্য কিছু কিছু তিক্ত বিষয়েও দ্বিমত হতে পারে। কিন্তু যারা মক্কায় যেতে রাস্তায় নেমেছেন তারা রাস্তার প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও সেই লক্ষ্যের অভিযাত্রীদের সাথে একত্রে কাজ করতে পারেন। মক্কায় যেতে পারলেই সেখানে গিয়ে নিজেদের বাকিসব দ্বিমত নিষ্পত্তি করতে পারেন, না হয় দ্বিমত নিয়েই থাকতে পারেন।

    অতীতের চাইতে সম্ভবত এই যুগে বাংলাদেশে মুসলিমদের মধ্যে ঐক্যের মাত্রা অনেকটা বেশি। কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের জন্য তা যথেষ্ট নয়। আপনি কি মনে করেন?

    বাংলার ‘মানুষকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে জাগ্রত ও প্রস্তুত করার’ ক্ষেত্রে যারা খড়গহস্ত তাদের চিন্তার মূলে কারণ কি ইসলামের জীবন পদ্ধতি সম্পর্কে অনবগতি, না অন্য কোন কারণে তারা এই ভূখণ্ডে সেটা চান না? আপনার ধারণা কি?

    1. 6.1
      মাহফুজ

      @ এম আহমদ,

      আপনি বলেছেন- //মানব প্রকৃতি দিকে তাকালে এটা সহজেই লক্ষ্য করা যায় যে তারা সব বিষয়ে একমত হতে কাজ করতে পারবে না। সুতরাং এদিক থেকে যারা সবাইকে 'একমত' করে, অথবা দ্বিমত ও প্রতিমতকে নির্মূল করে কোন সংগঠিত ঐক্যের ভিত্তিতে সমাজকে ঢেলে সাজাতে চান তারা হয়ত সেই কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও ঐক্যের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তবুও সবাইকে 'একমতে আনা' অথবা প্রতিপক্ষ ও প্রতিমত নির্মূল করা সম্ভব হবে কী না সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে।//

      সবাইকেই 'একমতে আনতেই হবে' অথবা প্রতিপক্ষ ও প্রতিমত একেবারে নির্মূল করে দিতে হবে, এমন কোন কথা আমি বলি নাই। কারণ এ ধরনের মানসিকতার সাথে আমি একমত নই। সুতরাং এই প্রশ্নটা এখানে অবান্তর। মানুষের মাঝে মনুষ্য উদ্ভাবিত মতভেদ থাকবেই। অ-ইসলামিক প্রতিপক্ষ ও প্রতিমতকে একেবার নির্মূল নয়, বরং ইসলামের পথে তারা বাধা সৃষ্টি না করলে এবং শান্তির পক্ষে সন্ধিতে আবদ্ধ হতে চাইলে তাদের মতো করে তাদেরকে তাদের গণ্ডির মধ্যে থাকতে দেয়ার কথাই ইসলাম বলে। আর কেউ বাধা সৃষ্টি করলে প্রতিবন্ধকতাকে সরানোর জন্য সীমার মধ্যে থেকেই যখন যতটা করার দরকার নির্দেশিত বিধান অনুসারে তাই করতে হবে। তবে মুসলিমদের মাঝে অন্তত মৌল বিষয়ে বিন্দুমাত্র মতভেদ থাকা উচিত নয় বলেই আমি বিশ্বাস করি।  মৌল বিষয়ে মতভেদ থাকা মানেই মহান স্রষ্টার নির্দেশনা অনুসারে তারা সরল সোজা পথ ছেড়ে বিপথে আছে। আর বিপথে থেকে কখনই আল-কোরআনের বিধান বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সুতরাং ইসলামের মৌল বিষয়ে ছোটখাট থেকে বড় বড় যেসব মতভেদ রয়েছে তা দূর করার প্রয়াস না নিলে কাঙ্ক্ষিত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কিয়ামত পর্যন্তই অপেক্ষা করতে হবে। তবে আমার বিশ্বাস ১৪৫০ বছর পর এ প্রশ্ন উত্থাপিত হলেও মুসলিমদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকলে ১৪৫০০ বছর পর বা এর মধ্যেই মহান আল্লাহতায়ালা নিশ্চয় এর একটা সুব্যবস্থা করে দেবেন।

      আপনি বলেছেন- //আবার এটাও সত্য কিছু কিছু তিক্ত বিষয়েও দ্বিমত হতে পারে। কিন্তু যারা মক্কায় যেতে রাস্তায় নেমেছেন তারা রাস্তার প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও সেই লক্ষ্যের অভিযাত্রীদের সাথে একত্রে কাজ করতে পারেন। মক্কায় যেতে পারলেই সেখানে গিয়ে নিজেদের বাকিসব দ্বিমত নিষ্পত্তি করতে পারেন, না হয় দ্বিমত নিয়েই থাকতে পারেন।//

      তিক্ত বিষয়ে দ্বিমত যদি মৌল বিষয়ে দ্বিমতের সাথে সম্পর্কিত না হয়ে থাকে, তাহলে একত্রে কাজ করার ব্যাপারে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা তেমন বড় কোন সমস্যা সৃষ্টি করবে না। খাঁটি ইমানে মৌল বিষয়ে একমত থাকতে পারলে সময়ের ব্যবধানে সেই সমস্যগুলো নিশ্চয় মিটে যাবে, ইনশাল্লাহ। মক্কা সকল মুসলিমের জন্যই অতীব আকাঙ্খিত একটি সিম্বল। এখানে পরিদর্শনের বাসনা লালন করাই স্বাভাবিক। কিন্তু শুধু যাওয়া-আসা ও চক্কর মারার মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়লে চলবে না, বরং পৃথিবীর আনাচে কানাচে মক্কার আদলে হাজার লক্ষ নগরি গড়ার বাসনা থাকা চাই।

      আপনি বলেছেন-//অতীতের চাইতে সম্ভবত এই যুগে বাংলাদেশে মুসলিমদের মধ্যে ঐক্যের মাত্রা অনেকটা বেশি। কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের জন্য তা যথেষ্ট নয়। আপনি কি মনে করেন?//

      হাঁ, সহমত। তবে মুসলিমদের মধ্যে ঐক্যের মাত্রা অনেকটা না বলে বরং কিছুটা যে বেশি তা বলা যেতেই পারে। সমাজে তো প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু পরিবর্তন ঘটছেই। তবে ইসলামী সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনেক কারণের মধ্যে ইসলামি নেতৃত্বের মাঝে ঐক্যের অভাব ও তাদের প্রতি জনগণের অনাস্থাই সবচেয়ে বড় অন্তরায়।

      আপনি বলেছেন-//বাংলার ‘মানুষকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে জাগ্রত ও প্রস্তুত করার’ ক্ষেত্রে যারা খড়গহস্ত তাদের চিন্তার মূলে কারণ কি ইসলামের জীবন পদ্ধতি সম্পর্কে অনবগতি, না অন্য কোন কারণে তারা এই ভূখণ্ডে সেটা চান না? আপনার ধারণা কি?//

      অনেক কারণের মধ্যে- গদির মোহ ও ক্ষমতার অপব্যবহার, ভৌগলিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা, আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া সত্বেও আল-কোরআনের জ্ঞান অর্জনে ও আমলে অনিহা ও অপারগতা, ইসলাম বিমুখ বিলাসি জীবনের প্রতি আকাঙ্খা এবং সর্বোপরি মৌল বিষয়ে ইসলামি দলগুলোর বিভক্তি ও অপরের উপরে নির্ভর করে চলার প্রবনতাই অন্যতম। কিন্তু তারপরও অতীতের সম্মানিত ইসলাম প্রচাকগণ যে শিক্ষা দিয়েছিলেন, এ ভূখণ্ডের আলেম সমাজের একাংশ ও জনগণের একটা বড় অংশ তা ধারণ করে আছেন বলেই এ দেশে ইসলামের শান্তির বাতাস এখনো বইছে।

      ধৈর্য সহকারে আমার ধারণা জানার আগ্রহ প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ-

      1. 6.1.1
        এম_আহমদ

        @মাহফুজ:

        হ্যাঁ, “মানব প্রকৃতির দিকে তাকালে এটা সহজেই লক্ষ্য করা যায় যে তারা সব বিষয়ে একমত হয়ে কাজ করতে পারবে না। সুতরাং এদিক থেকে যারা সবাইকে 'একমত' করে, অথবা দ্বিমত ও প্রতিমতকে নির্মূল করে কোন সংগঠিত ঐক্যের ভিত্তিতে সমাজকে ঢেলে সাজাতে চান তারা হয়ত সেই কাঙ্ক্ষিত সমাজ ও ঐক্যের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে, তবুও সবাইকে 'একমতে আনা' অথবা প্রতিপক্ষ ও প্রতিমত নির্মূল করা সম্ভব হবে কী না সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে” –এই কথাটি আমার,  আপনি বলেছেন বলি নি এবং এতে আপনার জন্য প্রশ্নও রাখি নি। আমরা মনে হয় আমরা এখনও ঐক্যমতেই আছি। 

        তবে মৌলিক বিষয়ে মত পার্থক্য থাকা ঠিক নয় বলেছেন, এটাও ঠিক। ঐক্য জরুরি বটে, কিন্তু মৌলিক বিষয়ে কম্প্রোমাইজ করে নয়।

        প্রশ্ন: ‘মুসলিম ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকলে ১৪৫০ পর বা এরই মধ্যে আল্লাহ সুব্যবস্থা করে দেবেন –সময় সাপেক্ষ করে আপনার এই ধারণার ভিত্তি কি –তা কি বলা যাবে?

        1. 6.1.1.1
          মাহফুজ

          @এম_আহমদ:

          আপনার প্রশ্ন: //‘মুসলিম ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকলে ১৪৫০ পর বা এরই মধ্যে আল্লাহ সুব্যবস্থা করে দেবেন –সময় সাপেক্ষ করে আপনার এই ধারণার ভিত্তি কি –তা কি বলা যাবে?//

          ………………….

          আমার বক্তব্য ঠিকমত বোঝাতে না পারার জন্য দুঃখিত! হয়ত এটা আমারই ভাব প্রকাশের ব্যর্থতা।

          আমি কি বলেছি তা আবারও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছি-

          আমার বক্তব্যটি ছিল- //তবে আমার বিশ্বাস ১৪৫০ বছর পর এ প্রশ্ন উত্থাপিত হলেও, মুসলিমদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকলে ১৪৫০০ বছর পর বা এর মধ্যেই মহান আল্লাহতায়ালা নিশ্চয় এর একটা সুব্যবস্থা করে দেবেন।//

          অর্থাৎ মুহাম্মদ (সাঃ) এর নিকট ঐশীগ্রন্থ কোরআন নাযিলের প্রায় ১৪৫০ বছর পর এ প্রশ্নটা উত্থাপিত হলেও, (এর সাথে একটি শূন্য যোগ করে বোঝাতে চেয়েছি যে) মৌল বিষয়ে মুসলিমদের ঐক্যের ভিত্তিতে কাঙ্খিত ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার সময়টা ১৪,৫০০ বছর পরও হতে পারে অথবা আগেও হতে পারে। সে মতে সময়টা হতে পারে আগামীকাল-পরশু বা ১,৪৫৫ বছর পর কিংবা ১,৪৫,০০০ বছর অথবা আরও পরে। যখনই হোক না কেন, মুসলিমদের ধৈর্য হারা না হয়ে মহান স্রষ্টা তাঁর প্রেরিত কিতাবে যেসব শর্ত দিয়েছেন তা পূরণে অবশ্যই সচেষ্ট থাকতে হবে। কোন সমাজের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনগোষ্ঠি যখন (নির্দিষ্ট কোন সময়ের সঙ্গে বিষয়টি সম্পর্কিত নয়) খাঁটি ইমানে মহান স্রষ্টার দেয়া শর্ত অনুসারে বলতে, চলতে ও কর্ম সাধনে তৎপর ও যোগ্য হতে পারবে, সেই পরিস্থিতি ও পরিবেশে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য যোগ্য (২৪:৫৫) প্রতিনিধি তথা নেতৃত্ব দান করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং এটি আমার মনগড়া নিছক কোন ধারণা নয়, বরং আমি মনে-প্রানে এমনটিই বিশ্বাস করি।

          পৃথিবীর অতীত ইতিহাসে মুসলিমদের উত্থান ও পতনের সকল প্রমাণই তো রয়েছে। তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। যে কোন পরিস্থিতিতে ইমানদার মুসলিমদের জন্য হতাশা ও ব্যর্থতার কিছু নেই। আবারও সেই কাঙ্খিত সময়টা ফিরে পাবার জন্য ইমান ও ধৈর্য সহকারে ভাল/ সৎ/ কল্যাণময় কর্ম করে যেতে হবে। মূলত এর উপরেই পরম প্রাপ্তি ও শান্তি নির্ভর করছে।

          অনেক বিষয়ে ঐক্যমত পোষণের জন্য ধন্যবাদ-

        2. এম_আহমদ

          @মাহফুজ:

          ১৪৫০ সালের এর সাথে একটি ০ (শূন্য) যোগ করে কাঙ্ক্ষিত সময়কে ১৪,৫০০ সালে নিয়েছেন -বুঝানোর জন্য। আমার মনে হয় আপনি অন্য কোন ধারায় এর চেয়েও ভাল ব্যাখ্যা করতে পারবেন। কেননা সাধারণত আপনাতে কোরান ও কোরানসম্মত হাদিসের বাইরে কথা বলতে দেখা যায় না, অন্যরা আপনার পদ্ধতিগত বিষয় মানুক বা না মানুক –তা ব্যতিরেকে। তাই ভাবছিলাম এই কালের কোনো ইঙ্গিত কি কোরান হাদিস থেকে গ্রহণ করে নিয়েছেন, কেননা এতে নিত্য কাল থেকে ১৪ হাজার ৫ শো বছরের মাত্রায় চলে যায়, এই যা।  

          অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  5. 5
    মাহফুজ

    @ এম আহমদ,

    আপনি বলেছেন- //ইশারা কম বুঝি। তাই আরও কিছু ব্যাখ্যা করলে ভাল হয়। তবে আপনার ভাল না লাগলে সেটা করার দরকার নেই।//

    আপনার ভাল লাগবে কিনা জানিনা, তারপরও মনের কিছু কথা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

    আপনি বলেছেন- //তবে এই কাজগুলোর জন্য কোন সরকার সাধারণত নির্যাতন করতে যায় বলে মনে হয় না। বরং তাদের গদি নিয়ে যখন কথা বলবেন বা টান দেবেন, তখনই তা করবে।//

    মুসলিমদের জন্য মহান স্রষ্টা প্রেরিত জীবন বিধানে নিশ্চয় ঐক্য সৃষ্টি না করেই “গদি ধরে মার্ টান” এরূপ কোন মন্ত্রতন্ত্রের কথা বলা নেই। আমার জানাজানি অনুসারে মুসলিমদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদও (সাঃ) তাদের গদি নিয়ে টানাটানি না করে বরং নিজের গদিকে সংরক্ষণ করার কাজে হাত দিয়েছিলেন।  প্রথমত তিনি তখনকার নেতৃত্বের মৌল ভিত্তি জাহেলিয়াতের রীতি-নীতির বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের মানদণ্ডের ভিত্তিতে সমাজ গঠেনের জন্য মানুষকে মনস্তাত্তিকভাবে জাগ্রত ও প্রস্তুত করার কথা বলতে শুরু করেছিলেন। আর কথাকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য কিন্তু তাকে এবং তাঁর গুটি কয়েকে অনুসারীকে যথেষ্ট বঞ্ছনা ও নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছিল। এমনকি প্রায় তিন বছর তাদেরকে একঘরে করে রাখা হয়েছিল। বেশির ভাগ নবী-রাসূলগণকে প্রায় একই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সুতরাং জেল, জুলুম, নির্যাতন সহ্য করে হলেও আগে শাসক ও জনতা উভয়কেই আহ্বান জানাতে হবে। তারপরও যদি শাসক গোষ্ঠির টনক না নড়ে তখন তো টানাটানির প্রশ্ন আসতেই পারে। তবে গদি টানা আর রশি টানাটানির বিষয়টি তো এক নয়। দুটোতেই শক্তি লাগলেও কৌশল ও শক্তি প্রয়োগের মাত্রার মাঝে কিন্তু বিস্তর ফারাক। সুতরাং অন্তত গদি ধরে টান দেয়ার সময় সেটাও মাথায় রাখতে হবে। তা না হলে টান মেরেই চিৎপাটাং হয়ে পিছটান দেয়ার সম্ভাবনাই প্রবল।

    আপনি বলেছেন- //আপনি নিশ্চয় বিশ্বজোড়া নানান ইসলামী সংগঠনের কথা জানেন যারা নিজেদের মধ্যে নানান পার্থক্য ও কলহ থাকা সত্ত্বেও সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এদের মধ্যে কাদের পদ্ধতি আপনার ধারণার সাথে মিল রাখে? যদি কারও সাথে কোন মিল না থাকে, তবে সেই সাংগঠনিক রূপরেখা ও সঠিক কর্মপদ্ধতি আপনার দৃষ্টিতে কীরূপ হওয়া উচিত বলে মনে হয়?//

    হাঁ, শুধু ইসলামী সংগঠনই নয়, অনেক অ-ইসলামী সংগঠনও তাদের মত করে সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। যার যার সাংগঠনিক রূপরেখা ও কর্মপদ্ধতি তারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মত অনুসারেই সাজিয়ে থাকেন। এটি একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা সাপেক্ষ বিষয়। তবে ঐক্য সৃষ্টি করাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। এরপর অন্তত নিজেদেরকে রক্ষার জন্য শক্তি অর্জনের পথে যা যা করা প্রয়োজন তাই করতে হবে। জাহেলি সম্প্রদায়ের মাঝে যেমন ঐক্য হতে পারে। তেমনি অন্য অনেকের মাঝেই হতে পারে। কিন্তু অমুসলিমদের সাথে মুসলিমদের ঐক্য সম্ভব নয়। তবে প্রয়োজনে নির্দেশিত সীমার মধ্যে থেকে সমঝোতা/সন্ধি করাতে বাধা নেই।

    আপনি ওয়াজ নসিহতের কথা বলেছেন। আমি আগেই ইংগিত করেছি, সমাজ যাদেরকে নিয়ে গঠিত সেই জনতাকে সত্য ও ন্যায়ের পথে জাগাতে না পারলে কোন কাজই হবেনা। আর সেই জাগানোর জন্য শুধু নামমাত্র ওয়াজ নিসিহতই নয়, বরং সত্য ও ন্যায়ের কথা স্পষ্টভাবে জনগণকে বোঝানোর জন্য যুগের প্রয়োজনে যা যা করার দরকার সবই করতে হবে। তবে এরজন্য যারা অগ্রনী ভূমিকায় থাকবেন সর্বপ্রথমে তাদের পরস্পরের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আর ইসলামী আন্দোলনের জন্য এই ঐক্য এবং ন্যায় ও সত্যের মানদণ্ড হতে হবে একমাত্র এবং কেবলমাত্র আল-কোরআন। এরপর আল-কোরআনের নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাসূলের (সাঃ) সহী হাদিছগুলোকে সবার উপরে প্রাধান্য দিতে হবে। সেইসাথে এই মৌল ভিত্তির সাথে সাংঘর্ষিক নয় এরূপ  জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রজ্ঞা, মতামত ও কৌশলও যুগের চাহিদা অনুসারে গ্রহণ করা যেতে পারে। আমি বিশ্বাস করি যে, ইসলামের নামে মানুষ্য উদ্ভাবিত মতামত কেন্দ্রিক মতভেদকে দূর করতে হলে মহান স্রষ্টা প্রেরিত ঐশী কিতাব আল-কোরআনকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তবে যতদিন পর্যন্ত ঐক্য গঠন করা সম্ভব না হচ্ছে ততদিন ধৈর্যের সাথে যে যার মত করে অন্তত সত্য, ন্যায় ও সৎকর্মের দিকে আহ্বান জানানোর প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে। তবে ঐক্য ছাড়া চূড়ান্ত সংগ্রাম সম্ভব নয়। আর চূড়ান্ত সংগাম ছাড়া অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছানো যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। কদাচিত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌছানো সম্ভব হলেও নিজেদের অনৈক্যের কারণেই তা খুব বেশি দিন ধরে রাখা সম্ভব হবে না। আর এভাবে শান্তিও মিলবে না। যদিও পার্থিব কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু তারপরও খাঁটি ও অটুট ঐক্যের উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গঠিত হলে এবং যুগপোযুগী অস্ত্র, রশদ, যানবাহন ও সেনাদল সদা প্রস্তুত থাকলে সেই ভিতকে টলানো খুব একটা সহজ হবেনা।

    অনেক অনৈক্যের মাঝে দাঁড়িয়ে কাঙ্খিত ঐক্য গঠনের পথে একজন ক্ষুদ্র সেবক হিসেবে আমার বিশ্বাস ও সাধ্যমত কাজ করে চলেছি। কারো দৃষ্টিতে আমার এই প্রয়াস হাস্যকর মনে হলেও, সবার অন্তরের খবর তো মহান স্রষ্টা ভাল করেই জানেন। আর তিনি কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়েও দেন না।

    ধন্যবাদ-

     

  6. 4
    মাহফুজ

    যুদ্ধের স্বরূপ উদঘাটনে আপনার প্রচেষ্টা অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে।

    যুদ্ধ কখনই কাম্য হতে পারেনা। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হবে বলে আমার মনে হয়না। যদিও আমার মনে হওয়া বা না হওয়ায় কিচ্ছু যায় আসেনা।

    তবে এটাও তো ঠিক যে, চরম পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের ক্ষেত্রে কখনো কখনো যুদ্ধ ছাড়া সমাধানে আসা যায় না। বিশেষ করে কাশ্মিরের বর্তমান অবস্থা থেকে মুক্তির ব্যাপারে এখানে বা অন্যত্র আপনার সুচিন্তিত বক্তব্য আশা করছি।

    1. 4.1
      এম_আহমদ

      @মাহফুজ:

      আসলে আমার জানা মতে কোন সমাধান নেই। তবে অমনি অমনি কিছু হাল্কা আলোচনা করা যায়।

      এটাও তো ঠিক যে, চরম পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের ক্ষেত্রে কখনো কখনো যুদ্ধ ছাড়া সমাধানে আসা যায় না।

      টেকনিক্যালি এই ধারণাটি ঠিক। এমন ধারণা কোরানেও আছে।  তবে, শক্তির সমাধানে শক্তি অবশ্যই থাকতে হবে। আজ এককভাবে কোন পক্ষেরই সেই শক্তি নেই।

      ভারত যদি নিজ শক্তির মাধ্যমে সমাধান আনতে পারবে বলে বিশ্বাস করত, তবে অনেক আগেই তারা এই কাজ করে ফেলত, যেভাবে হায়দরাবাদে করেছিল।  অনেকে জানেন না যে ভারত সেখানে গণহত্যা করেছিল। প্রায় ৫০০,০০০ মুসলিম হত্যা করে!  চতুর্দিকে বেষ্টিত ভারতের মধ্যখানে মুসলিম রাজার কোন উপায় ছিল না (he had no chance)। কাশ্মীরের পাশেই পাকিস্তান থাকায় এটা ভারতের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। 

      লর্ড মাউন্ট বেটেন সেদিন হিন্দু মানসিকতা লক্ষ্য করে বলেছিলেন যে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল যদি স্বাধীনতার চিন্তা করে, তবে তারা নিজেদের ভৌগলীক অবস্থান বিবেচনা করেই করতে হবে। তার এই ধারণার মধ্যে এটিও নিহিত থেকে থাকতে পারে যে মুসলিম শাসনামলে এবং তার পূর্বেও ছোট-বড় অনেক রাজ্য যেসব ভিত্তিতে টিকেছিল যেমন নিজেদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় চিন্তা, স্বকীয়তা এবং প্রথাগত রাজকীয় অবস্থান ইত্যাদি, সেগুলো দু শো বছর পরে অনেকটা পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। ইংরেজগণ তাদের শাসনের সুবিধার্থে হিন্দু নির্ভরশীল হতে হতে বিদায় বেলায় এমন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছিল যখন হিন্দুদের উপর তাদের কন্ট্রোল নেই এবং হিন্দু মানসিকতার বাইয়ে গিয়ে ন্যায়ভিত্তিক ভারত বিভক্তির অথবা অখণ্ড রেখে হিন্দু-মুসলিমের সমন্বিত শাসন-ব্যবস্থার কোন সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন করে সেই ভিত্তিতে স্বাধীনতা, পর্যায়ক্রমিকভাবে, অর্পন করতে পারত। হিন্দুরা হাজার হাজার বছর পূর্বের বিভিন্ন জনপদের উপর তাদের মিথোলজি ও ক্রমগঠিত হিন্দুত্ববাদের অবয়ব প্রক্ষেপণ ও আরোপণের মাধ্যমে যে কল্পনার রাজত্ব দেখছিল এবং যার ভিত্তিতে বিংশ শতাব্দীর ভারতভূখণ্ডকে তাদের স্বপ্নের মাত্রায় নেয়ার প্রবল ধারণা পোষণ করছিল –তা ছিল এক ভয়ানক ধারণা। মুসলিমরা তো বটে অনেক হিন্দুও তখন শঙ্কিত ছিলেন।  

      ১৯৪৬/৪৭ সালে পূর্ববাংলার নেতারাও মাউন্ট বেটেনের ভারত-বেষ্টনীর বিষয়টি চিন্তা করেছিলেন। বিশেষ করে পরিবর্তিত ভারতের অবস্থা এবং হিন্দুত্ববাদী প্রেক্ষিতে। তারা এটাও বুঝতে পেরেছিলেন যে  প্রায় দুশো বছরে আধুনিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, বিভিন্ন অঙ্গনে বই-পুস্তক প্রণয়ন সবকিছুতে হিন্দুদের বিচরণ ও প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে পড়েছে যেগুলোকে তখন মোকাবেলা করার উপায় নেই –যা হবার হয়ে গিয়েছে। তখন যা করার তা’ই করতে হয়েছিল, সেই ইতিহাসও নব প্রজন্মে এখন অনেক আবরণে আবৃত।

      এসব প্রেক্ষিতই অপরাপর অঞ্চলের ন্যায় কাশ্মীরেও। সেদিন ভারত বিভক্তির সময় ৭৫ ভাগ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জম্মু ও কাশ্মীরের রাজা হরিসিং প্রথমত স্বাধীন দেশ হিসেবে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু  পরের বছর (২৬/১০/১৯৪৭) ভারতের সাথে মিশে যেতে চুক্তি করে বসেন!  কারণ হিসেবে দেশের পশ্চিম সীমান্তে পাস্তুন গোত্রের আক্রমণ উল্লেখ করেন। কিন্তু একটি দেশের সীমান্তে কেউ আক্রমণ করলে গোটা দেশকে অন্যের হাতে তুলে দিতে হবে, (এবং সেই বিংশ শতাব্দীতে, দেশের মানুষের সাথে কোন আলোচনা ছাড়াই!) এমন কুযুক্তি কার মাথায় ঢুকবে? ভারতীয় সৈন্যরা ষড়যন্ত্র মোতাবেক রাতারাতি দেশের ভিতরে প্রবেশ করে এবং পাকিস্তানকে পাস্তুন আক্রমণের উষ্কানীদাতা বলে দোষারূপ শুরু করে।  

      আজকের অবস্থা এমন যে পাকিস্তান ভারতকে শক্তির মাধ্যমে কখনো তাড়াতে পারবে না।

      অবশিষ্ট সমাধানের বড় একটি হচ্ছে রেফারেণ্ডাম। কিন্তু ভারত তা মানবে না, কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠরা মুসলিম। আরেকটি সমাধান হচ্ছে ‘উত্তম সমঝোতা’? সেটাও হওয়ার মত নয়। আর ফাইনেলি, বাইরে থেকে এসে কেউ কিছু করবে না যেমন, কুয়েত উদ্ধারের মত, যদিও এই উদাহরণ একটি মন্দ উদাহরণ। তাহলে? তাহলে, অপেক্ষা করতে হবে। হয়ত সময়ের সাথে কোন পরিবর্তন আসতে পারে।

      ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

      1. 4.1.1
        মাহফুজ

        তাহলে বোঝা গেল যে, থিওরিটিক্যালি আপনি যা বলতে চেয়েছেন তাতে কাশ্মির সমস্যার কোন সমাধান নেই।

        আপনি বলেছেন- //অনেকে জানেন না যে ভারত সেখানে গণহত্যা করেছিল। প্রায় ৫০০,০০০ মুসলিম হত্যা করে!//

        হাঁ, ভারতের স্বার্থ হাসিলে তারা যেমন হত্যা করেছে, তেমনি পাকিস্তান এবং অন্যান্য দেশও একই কর্ম করতে যে পিছপা হয়নি এবং হবেওনা তার অনেক উদাহরন আছে।

        আপনি বলেছেন-//শক্তির সমাধানে শক্তি অবশ্যই থাকতে হবে।//

        হাঁ, তা ঠিক। সে কারণেই পবিত্র কোরআনে যুদ্ধের জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। অথচ মুসলিমরা সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করার কারনে পদে পদে পদদলিত হচ্ছে।

        কিন্তু অন্যায়, জুলুম দেখেও শক্তি কম বলেই যে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হবে, সেটাও ঠিক নয়। বরং অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাথে সাথে শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তি অর্জনে সচেষ্ট হতে হবে। ভিয়েতনাম-আমেরিকা এবং আফগান-সোভিয়েট যুদ্ধের অতীত ইতিহাস থেকেও আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আর কাশ্মির সমস্যা সমাধানে সেখানকার জনগণকেই জান বাজি রেখে এগিয়ে আসতে হবে।

        1. 4.1.1.1
          এম_আহমদ

          @মাহফুজ:

          অন্যায়, জুলুম দেখেও শক্তি কম বলেই যে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হবে, সেটাও ঠিক নয়। বরং অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাথে সাথে শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তি অর্জনে সচেষ্ট হতে হবে। ভিয়েতনাম-আমেরিকা এবং আফগান-সোভিয়েট যুদ্ধের অতীত ইতিহাস থেকেও আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আর কাশ্মির সমস্যা সমাধানে সেখানকার জনগণকেই জান বাজি রেখে এগিয়ে আসতে হবে।

          এটা স্পষ্ট যে আপনি অন্যায় ও জোর জুলুমের বিপক্ষে মানুষ দাঁড়িয়ে কাজ করুক –এর পক্ষে। ইতিপূর্বে লক্ষ্য করেছি যে আপনি ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠারও পক্ষে। তবে যেটা জানা হয় নি তা হল প্রতিষ্ঠিত জুলুমের শাসনের অবসান করা হবে কিভাবে এবং কিভাবে সেই ন্যায়নিষ্ঠ সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে সে বিষয়ে আপনার অভিমত। তবে কিছু বলতে গেলে, প্রচলিত কোন দল/দলসমূহের সমালোচনা ছাড়াই বলতে পারেন, যাতে করে কথাবার্তা অপর-কেন্দ্রিক না হয়ে পড়ে, তার চেয়ে বরং আপনার চিন্তা-ভাবনাটাই যেন প্রকাশ পায়। তাছাড়া যে পদ্ধতি/পদ্ধতিসমূহই অবলম্বন করুন না কেন সেসবের বিপক্ষে প্রতিষ্ঠিত শক্তি এবং তাদের সেই শক্তির চামচাওয়ালারা যে আপনার পদক্ষেপসমূহকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ইত্যাদি আখ্যায়িত করে পালটা মারধর, নির্যাতন, গুম, হত্যা শুরু করবে তখন সেসবের মোকেবেলা করবেন কিভাবে -তাও বলতে পারেন।

        2. মাহফুজ

          @ এম আহমদ

          জুলুমের শাসন বলতে আপনি কি বোঝাতে চান সেটা আগে পরিষ্কার হওয়া দরকার। যেমন, বাঙালীদের উপর পশ্চিম পাকিস্তানের নাকি কাশ্মিরীদের উপর ভারতের আগ্রাসী শাসন? যদি দু’টই একই হয় এবং কাশ্মিরের জনগনের ন্যায্য অধিকার খর্ব করার বিষয়টি যদি সেখানকার আপামর জনতার কাছে স্পষ্ট হয়ে থাকে, তাহলে তাদেরকেও একই পথ অনুসরণ করতে হবে।

          সংগ্রাম করতে হবে বৃহত্তর স্বার্থকে সামনে রেখে। ক্ষুদ্র দলিও মতবাদকে প্রাধন্য দিয়ে মসনদে আসিনের মোহে নয়। তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়ার মতও নয়। সুসংগঠিত হয়ে, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে সত্যের পথে।  মুখের ভাষা ও কলমের লেখনিতে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও ইবাদত গাহে সত্য বচন বক্তৃতার মাধ্যমে জনগনকে ন্যায় ও শান্তির পথে আহ্বান জানাতে হবে। সব ধরনের অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে। জনগণের বিপদে আপদে পিছটান না দিয়ে তাদের পাশে থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হলে এবং তাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হলে কিন্তু সব চেষ্টাই মেকি বলে প্রমাণিত হবে। তখন দলিয়তন্ত্রের ছত্রছায়ায় বিচ্ছিন্নতা ও জঙ্গিবাদকে আলিঙ্গন করে নিজে মরা ও অন্যকে মেরে জাহান্নামি হওয়া ছাড়া আর কোন পথই খোলা থাকবে না।

          সুতরাং কথায় ও কাজে গরমিল নয়, বরং সততা ও সৎকর্মকে সামনে রেখেই প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হবে। প্রয়োজনে সত্য ও শান্তির জন্য মারধর, নির্যাতন, জেল-জুলাম সহ্য করতে হতে পারে। এমনকি বুলেটের সামনে বুক পেতে দিতেও হতে পারে। সংগ্রামী জনতা যখন রাস্তায় নামবে তখন তাদেরকে ফেরাবার আর পথ থাকবে না। একটি দেশের জেলের ক্যাপাসিটি নিশ্চয় জনগণের চাইতে বেশি নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে সব সংগ্রামের চিত্র প্রায় একই। কিন্তু তাই বলে নামমাত্র বিচ্ছিন্ন বোমাবাজি, খুনাখুনি, ও রক্তপাত নয়। কারণ এ ধরনের ভুল সিদ্ধান্তের কারনে কোন নীরিহ প্রাণ ঝড়ে পড়লে তার পরিনাম নিশ্চয় খারাপ ছাড়া ভাল হবেনা। তাই বিচক্ষণতার সাথেই পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণ যখন বুঝতে সক্ষম হবে যে, আগ্রাসী শক্তি তাদেরকে সত্য ও শান্তি পথ থেকে অসত্য ও অন্যায়ের পথে ঠেলে দিচ্ছে, তখন তাদের সেই অভিব্যক্তিকে মূল্যায়ন করার মত নেতৃত্ব গঠন করতে পারলে চুড়ান্ত সংগ্রাম দানা বেধে উঠতে খুব বেশি সময় লাগবে না বলেই আমার বিশ্বাস। নিষ্ঠাবান যোগ্য নেতা ও নেতৃত্ব থাকলে তারা জনগনের সেন্টিমেন্টকে নামমাত্র ব্যবহার নয়, বরং যোগ্য মর্যাদাই দিবেন। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রস্তুতি ও কৌশল অবলম্বন করেই সমমনা জনগণকে সাথে নিয়েই চুড়ান্ত সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পরতে হবে।

          জানতে চেয়েছেন, তাই সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করলাম। বুঝতে চাইলে ইশারাই কাফি। তবে কিছু মতভেদ তো থাকতেই পারে।

           

        3. এম_আহমদ

          @ মাহফুজ

          সংগ্রাম করতে হবে … মুখের ভাষা ও কলমের লেখনীতে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও ইবাদত গাহে সত্য বচন বক্তৃতার মাধ্যমে জনগনকে ন্যায় ও শান্তির পথে আহ্বান জানাতে হবে। সব ধরনের অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে। … প্রয়োজনে সত্য ও শান্তির জন্য মারধর, নির্যাতন, জেল-জুলাম সহ্য করতে হতে পারে। এমনকি বুলেটের সামনে বুক পেতে দিতেও হতে পারে। [তবে] … বিচক্ষণতার সাথেই পদক্ষেপ নিতে হবে।

          প্রথমে ধন্যবাদ। মাশাল্লাহ অনেক কিছুতেই একমত। তবে ইশারা কম বুঝি। তাই আরও কিছু ব্যাখ্যা করলে ভাল হয়। তবে আপনার ভাল না লাগলে সেটা করার দরকার নেই।

          প্রথমে লক্ষ্য করেছি যে করণীয় কাজের কিছু সুন্দর বিবরণ দিয়েছেন যা প্রচারকার্যের সাথে জড়িত। এতে জালেম শাসক নির্যাতন করলে সবরের কথাও বলেছেন। উপরের অংশগুলোতে তা চিত্রিত হয়েছে। তবে এই কাজগুলোর জন্য কোন সরকার সাধারণত নির্যাতন করতে যায় বলে মনে হয় না। বরং তাদের গদি নিয়ে যখন কথা বলবেন বা টান দেবেন, তখনই তা করবে।

          জনগণ যখন বুঝতে সক্ষম হবে যে, আগ্রাসী শক্তি তাদেরকে সত্য ও শান্তি পথ থেকে অসত্য ও অন্যায়ের পথে ঠেলে দিচ্ছে, তখন তাদের সেই অভিব্যক্তিকে মূল্যায়ন করার মত নেতৃত্ব গঠন করতে পারলে চূড়ান্ত সংগ্রাম দানা বেধে উঠতে খুব বেশি সময় লাগবে না বলেই আমার বিশ্বাস।  নিষ্ঠাবান যোগ্য নেতা ও নেতৃত্ব থাকলে তারা জনগনের সেন্টিমেন্টকে নামমাত্র ব্যবহার নয়, বরং যোগ্য মর্যাদাই দিবেন।

          কেবল ওয়াজ-নসিহত করলেই জালেম শাসনের অবসান হয় না এবং ন্যায়নিষ্ঠ সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় না সম্ভবত এজন্যই সঠিক নেতৃত্ব গঠন এবং সাংগঠনিক কাঠামো ও ব্যবস্থার কথা, one way or the other, বলেছেন। এখানেও একমত না হয়ে উপায় নেই।

          আপনি নিশ্চয় বিশ্বজোড়া নানান ইসলামী সংগঠনের কথা জানেন যারা নিজেদের মধ্যে নানান পার্থক্য ও কলহ থাকা সত্ত্বেও সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এদের মধ্যে কাদের পদ্ধতি আপনার ধারণার সাথে মিল রাখে? যদি কারও সাথে কোন মিল না থাকে, তবে সেই সাংগঠনিক রূপরেখা ও সঠিক কর্মপদ্ধতি আপনার দৃষ্টিতে কীরূপ হওয়া উচিত বলে মনে হয়?

  7. 3
    এম_আহমদ

    @ madhumangal saha

    জনাব madhumangal saha, আপনার মন্তব্য এসেছে কিন্তু আমি তা অনুমোদন করছি না কেননা কথাগুলো ইংরেজিতে লিখতে গিয়ে এবং টাইপিং ত্রুটির কারণে অবোধগম্য হয়ে আছে। আপনি বরং নিচের লিঙ্ক থেকে অভ্র বাংলা ডাউনলোড করে আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করুন। এই সফটওয়্যার দিয়ে বাংলা লিখা খুবই সহজ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লিখার স্কীল অনেকটা আত্মস্থ হয়ে যাবে। কোন পদক্ষেপ না নিলে যেখানে আছেন, সেখানেই থেকে যাবেন। সুতরাং শুরু করুন। শুভেচ্ছা রইল।

    অভ্র বাংলা https://www.omicronlab.com/avro-keyboard.html

     

  8. 2
    সত্য সন্ধানী

     আহমেদ ভাই, অসাধারন একটা লেখা আবার পড়লাম আপনার কাছ থেকে।

    আচ্ছা এমনকি হতে পারে না যে যদি সর্বাত্মক যুদ্ধ বাধেই তবে ভারত ২য় বার ভাগ হবে? জালিম রা বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। ইতিহাস স্বাক্ষী। দুনিয়ার সম্ভবত সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য  মোংগল সাম্রাজ্য  টিকে ছিল ৮৯ বছর মাত্র।

    হ্যা এতে অবশ্য তারা থেমে যায় নি, অপেক্ষাকৃত ছোট সাম্রাজ্য নিয়েও তারা দীর্ঘদিন অত্যাচার করে গেছে।

    যাই হোক মুল প্রসংগে ফিরে আসি। আমার মনে হয় ভারত আসলে মোটেও ততটা শক্তিশালী নয় যতটা আমরা মনে করি। ভারতের মিডিয়া খুব শক্তিশালী আর এরাই ভারত যা নয় সেটাই বানিয়ে দেয় বলেই আমার ধারনা।

    না হলে সারা আফ্রিকার চেয়ে এক ভারতেই ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেশি।ভারতে অপুষ্টি নিয়ে একটা লেখা আছে উইকিতে। দুঃখের বিষয় পেস্ট করা যাচ্ছে না। 

    Malnutrition in india লিখে গুগল করলেই পাওয়া যাবে।

    তা এত সমস্যা যে দেশে সে দেশ এত উচ্চস্বরে চিৎকার কেন করে, কিসের জোরে করে সেটা আমার মাথায় ঢুকে না।

    আসলেই এটা কি বজ্র আঁটুনি  ফস্কা গেরো হয়ে যাচ্ছে না ভারতের জন্য?যে দেশে মানুষ খেতে পায়না, অপুষ্টি আফ্রিকার চেয়েও বেশি সেই দেশ কি ভাবে সুপার পাওয়ার হবার স্বপ্ন দেখে আর প্রতিবেশিরা সেই ঢোলের বাড়িতে নাচে? সত্যি কি ভারত কে খুব বেশি সমীহ করার কারন আছে যেখানে শিখ সেনাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে হিন্দুদের যুদ্ধ করার ব্যার্থতার কারনে?( এটা আমার ধারনা মাত্র যে হিন্দুরা যুদ্ধ করতে ব্যর্থ,প্রমান দিতে পারব না)।

     

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      @সত্য সন্ধানী:

      আচ্ছা এমনকি হতে পারে না যে যদি সর্বাত্মক যুদ্ধ বাধেই তবে ভারত ২য় বার ভাগ হবে?

      ভাই, দুই ভাগে কেন আরও কয়েক ভাগেও তো ভাগ হতে পারে। কিন্তু যুদ্ধে এসবের নিশ্চয়তা নেই। যুদ্ধের সময় স্বাধীনতাকামীদের ডাকে সবাই সাড়া নাও দিতে পারে। যুদ্ধ অনেক সময় ঐক্যও আনে।

      … ভারত আসলে মোটেও ততটা শক্তিশালী নয় যতটা আমরা মনে করি।… সারা আফ্রিকার চেয়ে এক ভারতেই ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেশি। … Malnutrition in India লিখে গুগল করলেই পাওয়া যাবে।

      এটা সত্য যে ভারত তার জনগণকে অভুক্ত রেখে যুদ্ধ সামগ্রী ও মিলিটারাইজেশন তৎপরতা যুগ যুগ ধরে চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে দ্বিমতের কিছু নেই। তবে এটা আবার অনেক দেশের ক্ষেত্রেও সত্য, পাকিস্তানসহ।  পারস্পারিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতার বিষয়টি এক করুণ সত্য। রাষ্ট্র এখন শিক্ষা, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও উন্নয়নের কাজে ঘাটতি দিয়ে যুদ্ধের যোগান দেয়।  এর সাথে বৈশ্বিক যুদ্ধ ব্যবসায়ীদের কৌশল ও রাজনীতি রয়েছে। ভারত ও পাকিস্তান আরও দশ ভাগে বিভক্ত হলে তাদেরই লাভ। অথবা অসংখ্য দলে বিভক্ত হয়ে মারামারিতেও তাদের আরও লাভ। রাষ্ট্র অস্ত্র মওজুদ রাখে আর যুদ্ধংদেহী মারামারিতে অস্ত্র ব্যবহৃত হতেই থাকে। কিন্তু কি করবেন? এসবের মধ্যে সাধারণ মানুষের কোন ক্ষমতা প্রয়োগের অবকাশ নেই। কত না ভাল হত যদি ভারত পাকিস্তান কোন স্থায়ী সমঝোতা পেত। কাশ্মীরেও একটি সমাধান এসে যেত।  কিন্তু হবে না। ইউরোপীয় যায়োনবাদীদের চাইতে কৌশল ও বিদ্বেষ এদের মধ্যে কয়েক মাত্রা বেশি।

      তবে আরেকটি কথা। যুদ্ধে মুসলমানরা বেশি সাহসী -অন্যরা ততটুকু নয়, এটা আমাদের  পক্ষের ধারণা। প্রত্যেক জাতি ও ধর্মীয় দলে এমটি পাওয়া যায়। তবে সংখ্যার দিয়ে মৃত্যুর সাথে লড়ে মুসলমানরা ময়দানে বেশিক্ষণ টিকে থাকবে, এটা আবার সত্য। হিন্দুরা অস্ত্রযুদ্ধে পিছিয়ে থাকলেও মিডিয়াসহ ময়দানে তারা অনেক অগ্রসর। ভারত রেখে, বাংলাদেশের মিডিয়া ও রাষ্ট্রযন্ত্রে তাদের ব্যাপক কন্ট্রোলের দিকে তাকান। এগুলো তাদের বড় সফলতা। এর মাধ্যমে যুদ্ধ ছাড়াই অনেক ময়দান জয় করা হয়ে যায়। মানুষের মগজ যদি ধোলাই করে দেয়া যায়, যদি অন্যভাবে কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠা করা যায় তবে যুদ্ধের দরকার কি?  

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

      1. 2.1.1
        সত্য সন্ধানী

           এটা ভাল বলেছেন আহমেদ ভাই, যায়োন বাদীদের চক্রান্ত আসলেই ভয়াবহ। আর যায়োন বাদীদের মধ্যে অবশ্যই বর্ন হিন্দুরা বিরাট ভুমিকা পালন করে।

        আর ভারতীয় মিডিয়া জনগনের মগজ ধোলাই ইতিমধ্যেই অনেক খানি করে ফেলেছে। আর এর চেয়ে ভয়াবহ মারনাস্ত্র আসলেই হয় না।

        আপনিও ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।

         

        1. 2.1.1.1
          সত্য সন্ধানী

           মানে আমি বলতে চেয়েছি যে, যেহেতু যায়োনবাদীদের একটা বড় থিংক ট্যাংক নাকি বর্ন হিন্দুরা। সেক্ষেত্রে ইউরোপীয় যায়োন বাদীদের চেয়ে ব্রাহ্মন্যবাদের শয়তানী অনেক বেশি মারাত্বক হবে এতে আর আশ্চর্য্যের কি আছে।

          ভারত নামের দেশ কোনদিন ছিল না। মুসলিম শাশক রাই ভারত কে ঐক্যবদ্ধ করেছে। আর বেইমান ইংরেজ রা সেই ঐক্যবদ্ধ দেশ কে ব্রাহ্মন্যবাদীদের কে থালায় সাজিয়ে উপহার দিয়েছে।

          এই যায়োনবাদ আর ব্রাহ্মন্যবাদ হল দুই সহোদর ভাই। এদের হাতে মুসলিম দের যে আর কত দুর্গতি আছে সেটা আল্লাহ পাক ভাল জানেন।

          দোয়া করি এদের চক্রান্ত যেন সফল না হয়। ইতিমধ্যেই মুসলিম দেশ গুলির মধ্যেও ভাঙন ধরিয়ে দিয়েছে এরা। আল্লাহ মুসলিম দের রক্ষা করুন আমীন।

  9. 1
    শামস

    সমস্যাটা অনেকদিন পর হঠাত শুরু হয়েছে বুরহানি নামক একজন স্বাধীনতাকামীকে (ভারতমাতার ভাষায় সন্ত্রাসী!) সশস্ত্রবাহিনী দ্বারা হত্যার মাধ্যমে। এই সন্ত্রাসীর (!) প্রতি জনসমর্থন কি পর্যায়ে সেটা তার পরবর্তী ঘটনাগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে! অনেকটা ফিলিস্তিনের মতো কাশ্মীরীদের স্বাধীনতার আন্দোলন কোন দেশ কোথায় সমর্থন দিচ্ছে সেটা মূখ্য হবার কথা না। হামাস বা পিএলও'র দিকে দেখে ফিলিস্তিনিদের উপর সমর্থন সাধারণত দেয়া হয় না। এগুলো গণআন্দোলন, নেতৃত্ব দরকারি হলেও বিশ্বসমর্থন মূলত ফিলিস্তিনের সাধারণ জনসাধারণের প্রতি। তেমনি কাশ্মীরের ব্যাপারে সমর্থন কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের প্রতি। সেটাই হবার কথা। কিন্তু ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্ট এবং তাদের মিডিয়া এটাকে ভারত-পাকিস্তান এর ফ্রেমের বাইরে বের হতে দিতে নারাজ। আর সবাই এই 'ভারত-পাকিস্তান' এর ঘোল গিলছে। এখানেও পাকি আর ভারতমাতা দুই ভাগে ভাগ হয়ে সারভিস দেয়ার জন্য এর উঠে পড়ে লাগছে!

    Kashmir: Protests erupt after man killed by army 

    "Many parts of Kashmir have been seen daily scenes of running battles between protesters and armed forces" 

    ভারতীয় মিডিয়াতে তো নয়ই এমনকি পাশ্চাত্য মিডিয়াতেও সাধারণ কাশ্মীরিদের ব্যাপারে একেবারে নীরব! 

    1. 1.1
      এম_আহমদ

      @শামস:

      ভারতীয়দের হাতে বোরহান ওয়ানি ও তার সাথীদের হত্যা, তারপর আরও কয়েকটি হত্যা তারপর ওয়াসিম হত্যা (যেটি আপনার দেয়া লিঙ্কে আছে) এগুলোতে ইসরাইলী পলিসি কাজ করছে। ওয়াসিমকে তার ফলের বাগানে কর্মরত অবস্থায় কোন কারণ ছাড়াই গুলি করে মারা হয়। এটা যেন পশু পাখি মারার মত। তারপর নাটকীয়তা, মিথ্যাচার।  এটাও দেখুন। কাশ্মীরের ভূখণ্ড ছাড়াও, কাশ্মীর এখন ভারতের ধর্মীয় রাজনীতির বড় অংশ। তবে হত্যাকাণ্ড উগ্রবাদীদের চেতনারও অংশ। তাদের চেতনার প্রধান দুটি বস্তুর একটি হচ্ছে মিথোলজি আর অন্যটি যবন-বিদ্বেষ। পাকিস্তান এখন যবন-ধারণার প্রতীক যা তাদের ঘৃণা, বিদ্বেষ ও হিংসা প্রজ্বলনের সহায়ক। এই ক’টি গুণ বাংলাদেশের ভারত-বান্ধবদের আচরণেও দেখা যায়। যে কোন কিছুতে পাকিস্তান এঁটে দিতে পারলে এই শ্রেণীতে এক ধরণের মোজেজা প্রকাশ পায়।

      তবে ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের শক্তির অক্ষিতে যে অবস্থানে আছে সেখান থেকে কাশ্মীর সমস্যার কোন সমাধান নেই। কেউ না কেউ দুর্বল হতে হবে। অথবা অকল্পিত কোন কিছু হতে হবে। নিজেদের কোন স্বার্থ ছাড়া বাইরের কেউ জড়িত হয়ে সমাধান করতে আসবে -এমন কোন আশা নেই। নিজের খেয়ে কেউ বনের মুষ তাড়াতে যায় না। কি আর করবেন। বিশ্ব জুড়ে মুসলিমদের উপর হত্যা নির্যাতন দেখলে অবশ্যই মনে দুঃখ  পাবেন। এটা ঈমানের লক্ষণ। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে আমরা ঐক্যের কথা  বললেও আমাদের মধ্যে হাজারও জন রয়েছে যাদের কথাবার্তায় অনৈক্যের বাণীই প্রকাশ পায়।

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.