«

»

Sep ০৩

বায়াজীদ পন্নীর বিভ্রান্তিতে একটি নতুন ফিতনা

20170114 bayazid ponni[এই লেখাতে এমন কিছু বানান রয়েছে যা বায়াজিদ পন্নীর নিজের, এখানে শুধু প্যারোডি সেভাবে লেখা হয়েছে]

প্রাথমিক কথা

বাংলাদেশে হেজবুত তাওহীদ নামে একটি নতুন ফিতনা মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী নামক এক ব্যক্তি শুরু করেছেন। ধর্মজ্ঞান নেহায়েত কম থাকলেও তার দাবী তিনি সরাসরি আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত এই জামানার “এমাম”। এটা নাকি আল্লাহ মোজেজার মাধ্যমে তাকে জানিয়ে দিয়েছেন! এই বিশ্ব মুসলিমের আকিদা অনুযায়ী মো’জেজা কেবল নবী-রাসূলদের ক্ষেত্রেই ঘটে। সুতরাং আখেরি নবীর পরে যখন আর কোন নবী-রাসূল নেই তাই এই মো’জেজার মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিমের ইমামতির দাবী সর্বতই একটি মিথ্যা কথা।

ধর্মীয় অভিজ্ঞতা (religious experience) এক বড় ব্যাপার। এই অভিজ্ঞতার কিছু কিছু বিষয় কারো কারো কাছে হয়ত নতুন রূপে দেখা দিতে পারে। কারো ব্যাপারে যদি এমনটি  হয়ে গিয়ে থাকে এবং যদি তার পর্যাপ্ত ধর্মজ্ঞানও থাকে তবে তিনি  সেই দেখাকে ধর্মীয় গৃহীত ভাষায় ব্যক্ত করতে পারেন। কিন্তু ধর্মজ্ঞানের অভাবে তা ফিতনায় পর্যবশিত হতে পারে।

কেউ যদি দাবী করেন যে আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন, বা যোগাযোগ করেছেন এবং এই বিষয়টি তার ব্যক্তি সীমা অতিক্রম করে অন্যের আমলের বিষয় হয়ে গিয়েছে, তাহলে তিনি নবুয়ত ‘দাবী’ করেন অথবা না’ই করেন, এতে ‘নবুয়ত’ এসে গিয়েছে। ঠিক এভাবে মো’জেজার দাবীতেও।

কেউ তার নতুন ধর্মীয় চিন্তাকে প্রতিষ্ঠিত ধর্মের ব্যানারে চালিয়ে দেবার চেষ্টা করলেও সেটা হয়ে উঠার মত নয়। তিনি যদি বলেন যে আমি নবী এবং মুহাম্মদের (সা) ধর্মের 'পতাকায়', তাকে মেনে এবং কোরানকে মেনে, যেমন কাদিয়ানীরা করে, তাতেও কাজ হবে না। পন্নী সাহেবের ব্যাপারটি হয়েছে এমন। তার এতটুকু ধর্মীয় জ্ঞান ছিল না যে মো’জেজার দাবী করার পর এই ধর্মে তার স্থান থাকবে না -তা বুঝার। (তবে তার ফিতনার সাথে বিদেশিদের সরাসরি হাত রয়েছে বলে নিচের ভিডিওতে ধারণা পাওয়া যায়)।

পন্নী সাহেব একটি নতুন ফিরকা বা দল তৈরি করার সাথে সাথে 'মুসলমানের মধ্যে অনেক ফিরকা রয়েছে' -এই  অভিযোগ তুলেছেন। এটাই বিড়ম্বনা (irony)। প্রতিষ্ঠিত পীর প্রথায় যেখানে আল্লাহর তরফ থেকে ‘ইলহাম’ দাবী করা হয় যা ধর্মে গৃহীত, তিনি সেই প্রথার বিপক্ষ নিয়েছেন অথচ তিনি নিজেই মো’জেজার দাবীদার! ঘটনা আরও জটিল যেখানে তার দাবী তিনি এই জামানার ‘ইমাম’। তার অনুসরণ এখন সকলের জন্য ওয়াজিব। তার অনুগমনেই ঐক্য আসতে পারে। অর্থাৎ তার ফিরকাকে বড় ফিরকায় পরিণত করতে পারলেই শান্তি, ঐক্য, ইসলাম ইত্যাদি। কেননা তিনি মো’জেজায় প্রাপ্ত, সরাসরি আল্লাহ নির্বাচিত ইমাম! ঘটনা এখানেও শেষ নয়।

পন্নী সাহেবের, বা বর্ধিত অর্থে, তার দলের দাবী বিশ্ব মুসলিম এখন 'বিকৃত' ইসলামের অনুসারী, তারা 'পথভ্রষ্ট' এবং কেবল তার ইমামত-সম্বলিত নতুন ফিরকাটিই ‘সত্য এছলাম’। তিনি একখানা ‘কেতাব’ রচনা করেছেন। শিরোনাম: ‘এই এছলাম সেই এছলাম নয়’। এখন ঘটনা কী ঘটছে তা যে কেউই সহজে আঁচ করতে পারেন। (পন্নী সাহেব নাকি 'ইসলামের' পরিবর্তে 'এছলাম' বানানকে সঠিক মনে করতেন তাই এখানে 'ছ' দিয়ে "সত্য এছলামের" রঙটা আনা হচ্ছে। কেননা এটাও এই ফিরকায় এক নতুন মাত্রা সংযোগ করে)।

এই এছলাম সেই এছলাম নয়

মুক্তমনার বড় ধাপ্পা অভিজিৎ রায়ের ‘বিশ্বাসের ভায়ারাস’ নামের একটি কৌশল ছিল। কোথাও কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনায় কোনো মুসলিম জড়িত পাওয়া গেলেই ‘বিশ্বাসের ভায়ারাস’ প্রমাণিত হয়েছে বলে ব্লগ লিখত। পন্নীর ছেলেপুলেরা অভিজিৎ রায়ের মত মুসলিম অধ্যুষিত বা মুসলিম দেশে কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনায় ‘মুসলিম সংযোগ’ পেলেই ‘এই এছলাম সেই এছলাম নয়’ প্রমাণিত বলে শোরগোল তুলে। অমুসলমানদের মত তারাও বিশ্বের আধুনিক  'সন্ত্রাস’ ও ‘জঙ্গিবাদ’কে এই ধাঁচে মুসলিমদের উপর প্রক্ষেপণ করে।

এ যুগে মুসলিম সমাজে উদ্ভূত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সাথে আধিপত্যবাদ ও ইসলাম ও মুসলিমদেরকে কোণঠাসা করার যে পটভূমি রয়েছে সেটা বিচ্ছিন্ন করে যারাই ইসলাম ও মুসলিমদেরকে আক্রমণ করে তাদের “মতলব” যে কোথায় তা অভিজ্ঞ মহলকে কেউ বুঝিয়ে দেবার দরকার হয় না। যারা প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ ও তৎপরবর্তী ভূরাজনৈতিক ক্ষমতা দ্বন্দ্বের ইতিহাস অবগত এবং প্যালেস্টাইন-ইসরাইল সমস্যার বিষয় অবগত, এবং, বিশেষ করে এই ২/৩ দশক ব্যাপী মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম বিশ্বে কী হচ্ছে সেসব বিষয়ে অবগত তাদের কাছে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ইতিহাস দিবালোকের মত স্পষ্ট।

কেউ যদি ইসলাম ধর্মের নামে সন্ত্রাস করে তবে এর জন্য গোটা বিশ্ব মুসলিম দায়ী হয়ে পড়ে না।  এজন্য এই জাতির “এছলাম” ভ্রষ্ট হয়ে যায় না। এটা এমন ব্যাখ্যার বিষয় নয়। যদিও মুসলিম বিশ্ব নানান জটিল শক্তির যাতাকলে কাল অতিক্রম করছে যে বাস্তবতা ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেবার মত নয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা সন্ত্রাসকে জোরালোভাবে অস্বীকার ও তিরস্কার করেছে। এর বিপক্ষে কথা বলেছে, লেখালেখি করেছে, দমনের চেষ্টা করেছে।  মুসলিম রাষ্ট্র প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করেছে। দোষীদের ধরতে পেলে শাস্তির বিধান করেছে। তবুও বুঝি “এই এছলাম সেই এছলাম নয়”? এরা সন্ত্রাসী? এটা অমুসলিমদের কাছ থেকে ধারিত ও সেই ধাপ্পায় সজ্জিত বক্তব্য। এই বিশ্ব মুসলিম তথা সাওয়াদুল আ’যাম কখনো পথভ্রষ্ট হবে না –এই মর্মে নবীর (সা) বাণী রয়েছে।  সুতরাং পন্নীর “এমামতি” এখানে মো’জেজার কাহিনী দিয়ে সংকুলান হবে না।

এখন সমস্যাটা কী?

পন্নীর যে কয়টা ভিডিও-ক্লিপ আছে এবং তার যে লেখা রয়েছে সেগুলো দেখার পর অনেকেরই মনে হবে লোকটি ধর্মীয় বিষয়ে শুধু অজ্ঞই নয় বরং অত্যুসাহী নাদান প্রকৃতিরও। তবে দেশ থেকে যারা তার বিষয়ে অনুসন্ধান করেছেন তাদের ধারণা সে নাদান নয় বরং বিদেশিদের দালাল। তার মাধ্যমে ইসলাম ধর্মে ফিরকা তৈরি, পারস্পারিক কলহ বৃদ্ধি, মুসলিম সমাজকে ভ্রান্ত বিকৃত ও সন্ত্রাস ইত্যাদির সাথে প্রোপাগান্ডার বাহন তৈরি –এসবই উদ্দেশ্য। বিদেশি মহলের যেকোনো ষড়যন্ত্র বাংলাদেশে পাকাপোক্ত করা অতি সহজ, তবে অন্যান্য দেশেও।  বার্লিন ওয়াল ধ্বংসের পর থেকে বিদেশি চক্রের দৃষ্টি বাংলাদেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে। তারা এই অবয়বকে ভেঙ্গে ভিন্নভাবে সাজানোর পরিকল্পনায়। এটা শুধু বাংলাদেশে নয় বরং আগ থেকে প্যালেস্টাইন হয়ে এখন সিরিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশে। তবে মনে হয় বাংলাদেশের ভিতরে কী হচ্ছে তা মুসলমানেরা বুঝতেই পারছেন না কেননা খৎনাধারীদের মাধ্যমে এবং ‘অসাম্প্রদায়িক সম্প্রদায়ের’ শাব্দিক ও আদর্শগত ধাপ্পাবাজিতে তাদের মধ্যে সেই ধোঁকাকর্ম চা্লিয়ে নেয়া হচ্ছে।

সদালাপ

পন্নীর কিছু যুবক সদালাপে আনাগোনা করেন। গত দেড় বছর আগে এই দলের একজনের লেখার প্রেক্ষিতে একটি মন্তব্য-ব্লগ লিখেছিলাম। শিরোনাম ছিল, 'হেজবুত তাওহীদ ও নন-পলিটিক্যাল খিলাফত'। ইদানীং পন্নীর আরেকজন ‘অত্যুৎসাহী’ চিনি মিশ্রিত (sugar coated) কৌশলে মুসলমানদেরকে জঙ্গি-সন্ত্রাসী বক্তব্যের আওতাভুক্ত করে পন্নীর মোজেজা সদালাপে হাজির করেছেন। তার দৃষ্টিতে, বিকৃত ইসলামের অনুসারীদের শ্রম ও মেধার ব্যবহারের মাধ্যমে, অমুসলমানদের মুসলমান করার কাজ বৃথা। কেন এটা বৃথা, এটা দেখাতেই, অমুসলমানদের যুক্তি ও কৌশলে, “ইসলাম গ্রহণের খবরে যারা খুশিতে বাকবাকুম হন” -এই শিরনামে একটি ব্লগ ছেপেছেন।

ব্লগটি দেখে কারো কারো মনে হয়েছে আমরা “সদালাপে আছি নাকি মুক্তমনায়!” তবে লেখক উষ্মাস্বরে উলটো প্রশ্ন করেছেন, তাকে মুক্তমনার কাতারে ফেলা হল, “নাকি আমরা  মুসলমানরা দুধে ধোয়া তুলশী পাতা হয়ে গেছি, আমাদের কোনো ভুল নাই, কোনো ত্রুটি নাই, সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনার দরকারও নাই?” লেখক মনে করেছেন 'আমরা' ও 'সমালোচনা' শব্দদ্বয় প্রয়োগ করলে তার কৌশল আড়াল হয়ে যাবে। এটা কী সম্ভব? মোটেই না।

আমি বলব প্রথমে “আমরা” শব্দের ব্যবহারটি সঠিক হয় নি। কেননা “আমরা” (মুসলমানরা) পন্নীর ফিতনায় নেই এবং পন্নীর দৃষ্টিতে আমরা ‘বিকৃত’ ইসলামের লোক। আমরা তাকে, আমাদের ধর্মীয় দৃষ্টিতে, সত্যবাদী মনে করি না এবং, ‘এমাম’ তো দূরে থাক, তাকে ধর্মজ্ঞানশুন্য ফিতনা মনে করি। সুতরাং পন্নীর লোকজন তাদের নিজেদের ‘সমালোচনা’ করতে পারেন, আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু তারা যদি কনফিউজড হয়ে  "আমাদের হয়ে" বিকৃত ইসলামের সমালোচনা করতে আসেন তবে ভুল হবে। “আমরা” দুধে ধোয়া হই অথবা তুলসী পাতা, সেটা আমাদের ব্যাপার। সুতরাং এই এছলাম সেই এছলাম নয় –এই কৌশল এখানে না দেখালেই বরং ভাল।

এবারে আমরা ইসলাম গ্রহণের খবরে যারা খুশিতে বাকবাকুম হন  -এই ব্লগটি সম্পর্কে আলোচনা করতে যাই।

ইসলাম গ্রহণের খবরে যারা খুশিতে বাকবাকুম হন 

প্রথমে শিরোনাম থেকে শুরু হোক, তারপর ধারাবাহিকভাবে এই এছলাম সেই এছলাম নয় এমন ধারায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সমন্বয়; তারপর ভিন্ন মতের কারণে অন্যদেরকে ‘খুন’ করার এলজাম; তারপর, প্রকারান্তরে এই এছলামের লোক অমুসলমানদের তুলনায় দুনিয়ার দোযখে; তারপর তারা অন্যদের মুসলিম বানিয়ে যে ঢেকুর তুলছে তা অযৌক্তিক; তারপর যারা দুনিয়ার দোযখের  বাস্তবতায় এবং ইঙ্গিতবাহিতাও  তারা পরকাল না পাবার যুক্তিতে; এই সব এবং বাকি সবই আমাদের পক্ষের কোন মুসলমানের হতে পারে না। এগুলো অমুসলিমদের যুক্তি।

আমরা কি এতে অপমানিত হয়েছি? ইসলাম অপমানিত হয়েছে? না, এই ধরণের প্রেক্ষিতে এই ধরণের প্রশ্ন যৌক্তিক নয়। কোনো "মন্দ" মহিলাকে তার অপকর্মের কারণে প্রশ্ন করলে সে যদি বলে আমি কার ক্ষতি করলাম’? তাহলে বুঝতে হবে সে প্রশ্নটি বোঝেনি অথবা বুঝে বিষয় এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছে।

বাকবাকুম ব্লগের শিরোনামে গলদ। ধারণায় গলদ। উপস্থাপনায় গলদ। যুক্তি ভুল।

বাকবাকুম ও তারপর

ইসলাম গ্রহণের খবরে যারা খুশিতে বাকবাকুম হন আমিও তাদের একজন এবং আমার ধারণায় এই বিশ্বের মুসলমানরাও বাকবাকুম হন, বিশেষ করে, আমাদের বিশ্বাসের সদালাপীরাও। কেননা এই নবীর উম্মত বৃদ্ধিতে তাদের খুশির বিষয় রয়েছে। সুতরাং এই লেখাটি পন্নী-দলের কোন আত্মসমালোচনা নয় বরং  অমুসলিমরা বৃহত্তর মুসলিম ধারায় ধর্মান্তরিত হওয়াতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ; বৃহত্তর মুসলিম সমাজের উপর তাচ্ছিল্য প্রদর্শন এবং পন্নী  এমামতির ভিত্তিতে ধর্মান্তরের প্রস্তাব প্রদর্শন।

লেখকের অন্যান্য লেখাতেও পন্নী-ধর্মের প্রচারের কৌশল দেখে থাকি কিন্তু ব্লগে যার যার কথা বলবে সেই বিবেচনায় কিছু বলতে যাই না। এখন প্রয়োজনে বলছি। লেখাতে কীভাবে মুক্তমনার ধারায় যুক্তি সজ্জিত হয়েছে এবং কীভাবে পন্নীর ধর্ম প্রচার হচ্ছে  -এই বিষয়গুলো দেখব। কোনো কোনো উদ্ধৃতির পাশেই স্কয়ার বন্ধনীর ভিতরে আমার মন্তব্যও থাকবে।

শিরোনাম অতিক্রম করে গোটা লেখাটাই আমাদের দৃষ্টিতে, অর্থাৎ আমাদের ইসলামের কাছে, আপত্তিকর।

এখন কি ইসলাম গ্রহণ স্থগিত হতে হবে? এর মূল্য নেই?

লেখাটিতে প্রথমেই নতুন মুসলমান হওয়ার বিপক্ষে যুক্তি এসেছে। কারণ নাকি এতে সম্মান, প্রতিপত্তি বাড়ছে না, মানব জাতীর কোন লাভ হচ্ছে না। বরং সংখ্যার সাথে সাথে কেবল একটা জিনিসই বাড়ছে- সেটা হচ্ছে মুসলিমদের প্রতি নির্যাতন, নিপীড়ন, লাঞ্ছনা আর অপমানের মাত্রা।” এগুলো ভুল ও বিভ্রান্তিমূলক কথা।

সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে নিপীড়নের মাত্রা বৃদ্ধি হয় কীভাবে? এর উপর কী কোনো জরিপ ও গবেষণা রয়েছে? থাকলে সেই সমন্বয় কীভাবে হয়েছে? যদি নিপীড়ন বেড়েও থাকে তবে কি মুসলমান হওয়া বন্ধ হতে হবে?

তারপর বর্তমানে  মুসলিমদের অবস্থা শক্তিশালী নয় তাই বাইরের কেউ মুসলমান হওয়ার মূল্য নেই এমনটি কী অর্থবহ কথা? এমন  ধরণের কথা কী আমাদের  মুসলিম সমাজের কথা ও যুক্তি হতে পারে? যদি না হয় তাহলে এটা কোন মুসলমানের কথা? মুসলিম হওয়ার সাথে সম্মান, প্রতিপত্তি তথা দুনিয়ার সাফল্য কীভাবে প্রধান হয়?

দুনিয়া না পেলে আখেরাত অশুদ্ধ হবে এমন যুক্তি মিথ্যা। পন্নির এছলাম ভুল। আজ যারা ইসলাম গ্রহণ করছেন তাদের জীবন কি বরবাদ হয়ে যাচ্ছে? এই অভিযোগ তারা কী পন্নীর কাছে করেছেন? পন্নীর  বিভ্রান্তিকে বিস্তার করতে বিশ্ব মুসলিমকে হেয় করা হচ্ছে। সুতরাং মুসলমানদেরকে অযথা না টেনে, পন্নীবাদীরা কী তাদের নতুন ধর্ম বা ফিরকাকে তাদের আপন বক্তব্যে প্রচার করতে পারেন না?

এবারে কিছু উদ্ধৃতি দেখে নেয়া যাক:

[এক] পৃথিবীর ৬৫০ কোটি অমুসলিম কি খুব অশান্তিতে আছে, আর ১৫০ কোটি মুসলমান জান্নাতের বাগানে অবস্থান করছে? যদি তা না হয়, যদি দেখা যায় বাস্তব অবস্থা তার ঠিক উল্টো [অমুসলিমরা জান্নাতে আর মুসলিমরা জাহান্নামে?] তাহলে আপনি এই যে এত সাধনা করে, অতুলনীয় মেধা খাটিয়ে অমুসলিমকে মুসলিম বানিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন- তার যৌক্তিকতা কোথায়? [অমুসলিমদেরকে জান্নাত থেকে জাহান্নামে আনা?]

[দুই] বর্তমান বিশ্বে আপনার ধর্মের দোহাই দিয়ে শুরু হওয়া সন্ত্রাসবাদ সারা পৃথিবীর মানুষকে যতটা আতঙ্কিত করে রেখেছে, আপনার ধর্ম সাম্রাজ্যবাদীদের যতটা পারপার্স সার্ভ করছে, অন্য ধর্ম কিন্তু তার কাছেধারেও নাই [ইসলাম ধর্মই এখানে সমস্যা, এই এছলাম সেই এছলাম নয়! সন্ত্রাস ভালই ব্যবহৃত হচ্ছে তাই না?] অন্য ধর্মের মানুষ তাদের নিজের ধর্মের মানুষকে কেবল ভিন্নমতের কারণে “খুন” করে বেহেশতে যাবার আশা করে না, কিন্তু আপনার ধর্মে সেটা ১৩০০ বছর ধরে চলে আসছে [১৩০০ বছর ধরে এই “খুন” করে আসছে? ভিন্নমতের কারণে? এগুলো  কি মুক্তমনাদের কথা নয়, পশ্চিমা বিশ্বের কথা নয়?] অন্য ধর্মের মানুষ তাদের উপাসনলায়ে বোমা মারে না, আপনার ধর্মের মানুষ প্রায়ই মারে। এমন উদাহরণের শেষ নাই। [এই কাজ “বিকৃত ইসলামের” লোকেরা করছে –তাই না? এরা পন্নীর ইমামতিতে দাখিল হলে আর কখনো অন্যের উপাসনালয়ে বোমা বিস্ফোরণ করবে না। এখানে কাদের চোখে ধূলা দিয়ে  পন্নীর ফিতনা পরিচালিত হচ্ছে?]

[তিন] সবচেয়ে বড় কথাটি হচ্ছে- আজকে মুসলিম বিশ্ব বেশি শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে আছে নাকি পশ্চিমা বিশ্ব? নিশ্চয়ই পশ্চিমা বিশ্ব। তাহলে কেন তারা ইসলাম গ্রহণ করবে? [তা’ইত কথা। তারা কেন মুসলমান হবে? কিন্তু তারা তো  মুসলমান হচ্ছেই! আর এজন্যই তো এই ব্লগ লেখা -তাই না? এখানে যুক্তির অতিসার হয়েছে!  কিন্তু ব্যাপার অন্যত্র। তারা  ‘বিকৃত  এছলাম’ গ্রহণ করছে এজন্য পন্নীর চান্দুদের গায়ে জ্বালা !] আপনি বলবেন পারলৌকিক মুক্তির জন্য, তাই তো[পারলৈকিক তো হতেই হবে, এটাই তো ইসলাম। এখানে পন্নী ধর্মের সমস্যা হবে কেন?] কিন্তু বিশ্বনবী তো বলেছেন, ‘দুনিয়া হলো আখেরাতের শস্যক্ষেত্র।[এজন্যই তারা মুসলমান হচ্ছে, আল্লাহর ইবাদত করছে, নেক আমল করছে, সওয়াব নিয়ে আখেরাতে যেতে। এটাই তো হাদিসের ভাষ্য -আখেরাতের শস্যক্ষেত্র, দুনিয়ার সাফল্য নয়] যারা দুনিয়াতে অশান্তিতে জ্বলছে, তাদের পরকাল কি শান্তিপূর্ণ হবার কথা? আপনার যুক্তিবিদ্যা কী বলে? [যুক্তিবিদ্যার অতিসার হয়েছে!]

অতি সহজেই লক্ষ্য করা যাবে যে এখানে পক্ষান্তরে পন্নির এই এছলাম সেই এসলাম নয়কায়দায় মুসলমানদেরকে পশ্চিমী ধাপ্পায় আক্রমণ করে বিশ্ব মুসলিমকে আতঙ্কের কারণ দেখানো হয়েছে। এটাই মুক্তমনাদের ধারা। তারপর অমুসলিম জগত শান্তিতে আছে আর মুসলিমরা অশান্তিতে এমন অপরিপূর্ণ বালখিল্য দৃষ্টিভঙ্গি। তারপর দেখানো হয়েছে (এই এছলামধারীদের’) ইসলামের শান্তির দাবী মিথ্যা। অন্যান্য ধর্মের তুলনায় এই ধর্ম সন্ত্রাসবাদ সার্ভ করছে!! এই ব্যাখ্যা মুক্তমনারা পশ্চিমাদের কাছ থেকে যেভাবে ঢালাওভাবে ছড়াচ্ছে সেভাবে পন্নীর বিভ্রান্ত ছেলেরাও ছড়াচ্ছে। এদের মূল কথা এই এছলাম সেই এছলাম নয়”, এরা সন্ত্রাসী, বিশ্বের আতঙ্ক। এরা তাদের মেধা খাটিয়ে অমুসলিমকে মুসলিম বানিয়ে তৃপ্তির যে ঢেকুর তুলছে -তার যৌক্তিকতা নাই। কি সাংঘাতিক আক্রমণাত্মক ও বিভ্রান্তিকর কথা।       

পন্নীরর ছেলেরা অন্যান্য ধর্মের তুলনায় বিশ্ব মুসলিমকে খুনিবানাচ্ছে! তারা বলছে অন্য ধর্মের মানুষ তাদের নিজের ধর্মের মানুষকে কেবল ভিন্নমতের কারণে খুন করে বেহেশতে যাবার আশা করে না” –এতে কোন সত্য প্রতিভাত হয়? –কেবল মুসলমানরাই তা করে। এমনসব কথা কে বা কারা বলতে পারে? এই ধর্মের মুসলমান? এখানকার স্বরকি ইসলামের বাইরের স্বর মত মনে হয় না? অধিকন্তু একটু সজাগ হলেই দেখা যাবে পন্নীর ফ্রেম, “এই এছলাম সেই এসলাম নয়। এই এছলামের লোক ভিন্ন মতের কারণে অন্যদেরকে খুন করে বেহেস্তে যাবার আশা করে!!

কেউ দুনিয়ায় অশান্তিতে থাকলে আখেরাতেও অশান্তিতে থাকার ধারণা ধর্ম-মূর্খতা এবং চরমভাবে যুক্তিহীনতা। নবীর (সা) যুগের পৌত্তলিকগণ তাদের ধনাঢ্যতা এই প্রশ্নেই দেখাত যে তাদের উপর স্রষ্টার অনুগ্রহ রয়েছে। যদি না থাকত তাহলে তারা এই ধনাঢ্যতা লাভ করে কীভাবে? আর বিশ্বাসীরা যদি আল্লাহর অনুগ্রহ পেয়ে থাকল, তবে তাদের অবস্থা এভাবে নাজেহাল কেন? এই লেখায় সেই পৌত্তলিকদের যুক্তি ধারিত হয়েছে। এভাবেই ফিতনা প্রচারিত হচ্ছে।

তাছাড়া যারা আজ ইসলাম গ্রহণ করছে তারা কীভাবে দুনিয়াকে বর্জন করে দিয়েছে? এই যে আমাদের চার পাশের মুসলিম সমাজ রয়েছে, তাদের কারা দুনিয়াকে বর্জন করে আছে? পন্নীর খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হলেই এছলাম আছে, না হলে এছলাম নাই,” এটাই কি সত্য এছলাম”? আর ১৩০০ বছর ধরে বাকি ইসলাম বিকৃত?

লক্ষ্য করুন বলা হচ্ছে, “সবচেয়ে বড় কথাটি হচ্ছে- আজকে মুসলিম বিশ্ব বেশি শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে আছে নাকি পশ্চিমা বিশ্ব? নিশ্চয়ই পশ্চিমা বিশ্ব

আমরা তো দেখি পশ্চিমা বিশ্ব থেকেই মুসলিমদের দেশ মিথ্যাচারের মাধ্যমে জল, স্থল ও আকাশ পথে বোমা বিস্ফোরণ ও আক্রমণের মাধ্যমে ধ্বংস করে অশান্তির বিস্তার করা হচ্ছে। আর এর সাথে পন্নীর নাদান ছেলেরা বাকবাকুম করছে। তাদের থিওরি এই এছলাম সেই এছলাম নয়প্রমাণ করতে গিয়ে যা ইচ্ছে তা'ই বলছে। তারা মুক্তমনা ও পশ্চিমী ব্যাখ্যায় একাত্ম। সুতরাং  বাইরের লোক  এই এছলামে ধর্মান্তরিত হয়ে লাভ নেই। এর সাথে মান-সম্মান, প্রতিপত্তি তথা দুনিয়াবি  সাফল্যই কিছু নেই। দুনিয়াবি সাফল্য যদি ব্যর্থ হল তবে আখেরি সাফল্য আসবে কীভাবে? এই বালখিল্য! 

এবারে আরেকটা উদ্ধৃতি নেয়া যাক:

ধরুন, এই মুহূর্তে আপনার কথায় মুগ্ধ হয়ে, ‘ইসলামই সেরা ধর্মএর পক্ষে আপনার অকাট্য যুক্তি মেনে নিয়ে, আপনার দাওয়াত গ্রহণ করে দুনিয়ার আটশকোটি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হয়ে গেল। তাতে মানবজাতি আসন্ন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ চলমান সমস্ত যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে মুক্তি পাবে কি? সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতার যখম শুকিয়ে যাবে কি? অর্থনৈতিক সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে কি? রাজনীতির নামে হানাহানি, রক্তারক্তি বন্ধ হবে কি? মুসলিম হবার কারণে স্বৈরশাসকরা গদি ছেড়ে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে যাবে কি? মানবজাতি ঐক্যবদ্ধ হবে কি? আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও প্রযুক্তির অগ্রগতি বাধাহীনভাবে সামনে এগোতে পারবে কি? ধর্মব্যবসা বন্ধ হবে কি? রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ হবে কি? মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করে হুজুগ আর গুজবপ্রবণতা থেমে যাবে কি?

উপরে যুক্তি হাস্যকরভাবে কনফিউজড হয়েছে। এতে লেখকের যুক্তিজ্ঞানহীনতা প্রমাণিত। ইসলাম গ্রহণ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, স্বৈরশাসন, সন্ত্রাস ইত্যাদির সকল কিছুকে শান্তির সাথে ঘুলিয়ে বালখিল্য সাজানো হয়েছে। কিন্তু এদের প্রত্যেকটি বিষয় আলাদা আলাদা এবং এগুলোর বিচার-বিবেচনা আপন আপন স্থানে। স্বৈরশাসন থাকলে কি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করবে না? ধর্মব্যবসা আছে বলে মুসলমান হতে পারবে না? পন্নী ও তার ছেলেরা মূর্খ হলে বাকীরা ইসলাম গ্রহণ করতে পারবে না? দেওয়ানবাগী আছে বলে ধর্মান্তর স্থগিত থাকতে হবে? নবীগণ কি প্রথমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে, ইসলামের শান্তি কায়েম করে, তবেই মানুষকে দ্বীনের দিকে আহবান করেছিলেন? পন্নীর লোকদের সব যুক্তিই গোঁজামিলে ভরপুর। তাদের কথাবার্তা অযৌক্তিক ও মিথ্যা। মানুষ ইসলাম গ্রহণ করবে এবং ধর্মব্যবসা দমনের চেষ্টাও করবে। তারা ইসলাম গ্রহণ করবে এবং স্বৈরাচার পতনের চেষ্টাও করবে, এভাবেই গোটা তারতিব। আল্লাহ শুধু চেষ্টা করার কথাই বলেছেন। এর বাইরে কিছু নয়। পন্নীর দল এপর্যন্ত কি করতে পেরেছে? বিশ্ব মুসলিমকে বিশদগার করে পন্নির এছলামেরযৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা ভুলের উপর প্রতিষ্ঠিত।

আজ বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে দ্বিমত আছে, অনেক সমস্যা আছে। দ্বিমত ও সমস্যা জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সব জাতিতে এগুলো আছে এবং থাকবেও। এগুলোর মূল স্থান মানব প্রকৃতিকে স্পর্ষ করে আছে। মুসলিম সমাজের আলেমগণ প্রয়োজনীয় ঐক্যের কথা বলছেন। কিন্তু এসবের কোনো ম্যাজিক সমাধান নেই। পন্নীর বিশদগার বাদ দিলে তাদের হাতে কোন ম্যাজিক থিওরি রয়েছে যা মুসলিম সমাজের আলেমগণ এখনো বলতে পারেন নি, বা বুঝতে পারেন নি? ধর্মীয় বিষয়ে অনবিজ্ঞ পন্নীকে এমামুজ্জামানমানলেই বুঝি কিল্লা ফতেহ? ধাপ্পাবাজিরও তো সীমা থাকবে হবে -তাই না?।

এবারে ফাইল্যাল উদ্ধৃতি দিয়ে লেখাটি শেষ করি:

সুতরাং এই মুহূর্তে অমুসলিমকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানোর দাওয়াতের চেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম ও বর্তমানের বিকৃত ইসলামের মধ্যে বিভেদরেখা টেনে দেওয়া।

তাহলে এখন কেউকে আর মুসলমান করা যাবে না? এতে কোনো গুরুত্ব নেই? এখন তা স্থগিত হতে হবে? এটা কোথায় পাওয়া গেল? পন্নীর সুন্নাহতে? এটা ভুল। বিভ্রান্তি। ধর্মমূর্খতা। পন্নীর দলে কোন জ্ঞানই দেখা যাচ্ছে না। কিছু বিভ্রান্ত যুবক নিজেদের ইচ্ছা মাফিক এলোমেলো বয়ান দিচ্ছে আর পন্নীর নামে ফিতনা ছড়াচ্ছে। পন্নীর নামাজটি পর্যন্ত শুদ্ধ নয়, আরবির উচ্চারণ শুদ্ধ নয়, নামাজ হয়ে পড়েছে মিলিটারি প্যারেড! তাও দেখতে চরম হাস্যকর!

আজ ইসলামের প্রচার কাজ বদ্ধ করে আসল এছলামবুঝা ও প্রতিষ্ঠা করার যে আহবান করা হচ্ছে সেই এছলামকোনটি? তাদের কাছে এই স্পষ্টতা নেই। প্রশ্ন করলেই তারা লিঙ্ক মারবে। কিন্তু লিঙ্কে কিছুই নেই। তাদের বক্তব্য জাতি নাকি অভিভাবকত্বহারিয়েছে, তাই এখানেই বিভেদরেখা টানতে হবে, পন্নীকে এমামুজ্জামান” মানতে হবে, অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এই বড়িটা গলধকরণ হচ্ছে প্রথম পদক্ষেপ। তারপর? তারপর মিলিটারি প্যারেড, অশুদ্ধভাবে আল্লাহু আকবাআআর’!রে আল্লাহরে! তোরা কে কোথায় রে!

এমামুজ্জানকে বাদ দিয়ে ইসলাম নেই, ইসলাম গ্রহণও নেই। পন্নীর দরজা দিয়ে ইসলামে প্রবেশ, অর্থাৎ তার প্রতিষ্ঠিত মোজেজায় প্রাপ্ত ইমামতি-ধারার অনুগমন -এই নতুন ধর্ম! এখানেই ফিতনা।

দ্রষ্টব্য:

যারা পন্নীর ফিতনার ব্যাপারে মুসলিম যুব সম্প্রদায়কে সজাগ করার প্রয়োজন মনে করেন এবং আমার এই লেখা ও পূর্ববর্তী লেখাটিকে যদি এই কাজের সহায়ক মনে করেন, তবে তারা এগুলোকে তাদের সার্কুলে প্রচার করতে পারেন।

 

__________________________

Publication date: 14/01/2017

Later achieving date: 03/09/2011

__________________________

 

এই দলটিকে বাংলাদেশ থেকে যারা মূল্যায়ন করেছেন এবং কিছু ডক্যুম্যান্টও করেছেন তার কয়েকটি নমুনা এখানে লিঙ্ক করলাম। এগুলোও শুনে নিতে পারেন।

https://www.youtube.com/watch?v=W9BPCXxokUs

সোনাইমুড়িতে হিজবুত তাওহিদ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ; নিহত ২-CHANNEL 24

ভন্ড হিযবুত তাওহীদের ভন্ডামী

https://www.youtube.com/watch?v=VgFvG_yIYrA

হেযবুত তাওহীদ – কেন বাতিল দল ???
https://www.youtube.com/watch?v=cl3Y97lCvCk

হিজবুত তাওহীদ মানুষকে ধর্মের নামে কিভাবে ধোঁকা দিচ্ছে
https://www.youtube.com/watch?v=Z1R2K_gtSAw

২০ comments

Skip to comment form

  1. 20
    এম_আহমদ

    @Lutfunnesa: হ্যাঁ, আপনি ব্যাপারটি কিছু উদাহরণের মাধ্যমে সুন্দরভাবে দেখিয়েছেন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক ঘটনা ঘটে যেগুলো আমাদেরকে বিস্মিত করে। কোনটা দেখে আল্লাহর প্রশংসা করি আর কোনটা দেখে তার আশ্রয় প্রার্থনা করি।

    কবি নির্মলেন্দু গুণের উদাহরণটি চমৎকার হয়েছে। পন্নী সাহেব যখন ১০ মিনিটের বক্তৃতা দেন তখন শিশুরা নাকি চিৎকার করে নি। এই ঘটনার কত ধরণের ব্যাখ্যা দেয়া যেতে পারে। মাসুম শিশুরা ভাল/মন্দ বৈচিত্র্যময় কিছু দেখেও থাকতে পারে, যদি ঘটনা সত্য হয়ে থাকে। ১০ মিনিট সামান্য সময়। শিশুরা অমনিতেই শান্ত থাকতে পারে। হঠাৎ বাতাস শীতল অনুভূত হয়েছিল। কেন হয়েছিল –এরও দশ ধরণের ব্যাখ্যা থাকতে পারে। বাতাস শীতল হলে বাচ্চারা কিছুক্ষণ শান্ত হতেও পারে।

    কিন্তু যা ঘটল, যদি সত্যি ঘটে থাকে, তার “সন্দেহাতীত” ব্যাখ্যা কোনটি হবে? আমাদের ভাষার অর্থ কনভেনশন্যাল, পূর্ব থেকে আসা ও প্রতিষ্ঠিত অর্থেই কোন ঘটনার উপর শব্দ আরোপিত হয় বা সমন্বিত হয়। প্রশ্ন হল: ঘটনা আসল, না নকল, এ নিয়ে কারা প্রথম কথা বলল, কাদের ধারণা কীরূপ ছিল, ঘটনাকে কীভাবে নির্ণয় করে এর উপর কোন ভাষিক প্রথায় ও অর্থের ধারাবাহিকতায় “মোজেজা” আরোপিত হবে? মুসলিমদের ১৪০০ শত বছরের প্রথায় এমন কিছুকে মোমেজায় নেয়ার প্রথা নেই। কোথাও কোনো অতি-প্রাকৃতিক ঘটনা প্রকাশ পেলে তাতে ‘আল্লাহর হুকুম’, এবং বিরলভাবে ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত হলে তাকে ‘কারামতি’ বলে উল্লেখ করা হয়। এটা প্রথার ভিতরে পড়ে।

    প্রকৃতিতে নানান ঘটনা ঘটে, কিন্তু ঘটনার সাথে “অর্থের” সমন্বয় অনেকটা “খেয়ালমাফিক/ইচ্ছা-নির্দেশিত” (arbitrary)। পন্নীদের ওখানে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু এর সাথে কোন ধরণের “অর্থ” সমন্বিত হবে? কোন শব্দ বা পরিভাষায় করা হবে? “মোজেজা”? কীভাবে মোজেজা? কেন মোজেজা? এর সমন্বয় কোন ধারাবাহিক প্রথা থেকে ধারিত? তারপর এই ঘটনাকেন্দ্রিক অনেক রহস্য থাকতে পারে। শিষ্যদের “সাজেসতিভ” ঘটনা হতে পারে, গুরু-শিষ্যের কারসাজিতে হতে পারে, কোন তিলকে তাল করা হতে পারে। যারা ভণ্ড খানকার সংস্কৃতি ও মিরাক্ক্যেল চার্চের কারসাজি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তারা এর মামুলিপনা দেখে মোটেই বিস্মিত হবেন না। তারপর এটাকে কীভাবে সাজিয়ে “পন্নী সাহেবের এমামতির” নির্দেশক করা হবে? তারপর কোন ধারায় মুসলিম বিশ্বকে ‘অমুসলিম’ বলা হবে –এসব অত্যন্ত দুরূহ বিষয়। এতে যে কত স্তরে সরলীকরণ ঢুকে এবং ভয়ংকরী উপকরণ সংযোজিত হয় তা চিন্তা করতে শিহরণ জাগে।

    পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  2. 19
    এম_আহমদ

    @মজলুম:

    হেজবুতের ফিরকাবাজরা গণহারে সব মুসলিমকে অমুসলিম বলা এবং ১৩০০ বছর ধরে চলা ইসলামকে বিকৃত ইসলাম বলাকে আমি হালকা ভাবে মেনে নেয় নি, তাই কিছু কথা বলেছি। এদের বিরুদ্বে আরো কয়েকটা পোষ্ট লেখুন।

    হ্যাঁ ভাই, কী সাংঘাতিক ধারণা! দোয়া করবেন। এদের চরম আনাড়ি ও তাকফীরি ধারণা নিয়ে লিখব, ইনশাল্লাহ।

  3. 18
    মজলুম

    @এম_আহমদ: আপনার সাথে আমার বিরোধ যেখানে হয় সেগুলো হলো মাইনর। কিন্তু মেজর গুলোতে আমরা একমত। মেজরে একমত হলে মাইনর গুলো কোন বিষয় না। হেজবুতের ফিরকাবাজরা গনহারে সব মুসলিমকে অমুসলিম বলা এবং ১৩০০ বছর ধরে চলা ইসলামকে বিকৃত ইসলাম বলাকে আমি হালকা ভাবে মেনে নেয় নি, তাই কিছু কথা বলেছি। এদের বিরুদ্বে আরো কয়েকটা পোষ্ট লেখুন। এদের ইসলাম, ইতিহাস ও যুক্তি জ্ঞান সবই কম এবং খাপছাড়া। এদের সকল লেখালেখি হলো কিছু অবার্চীন বালকের মতো। এরা একজন মুসলিমকেও গোমরাহ করলে তার জন্যে আমাদের আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

  4. 17
    Lutfunnesa

    এখানে মো’জেজা বলে যে ঘটনার বর্ননা দেয়া হয়েছে তাকে মো’জেজা না বলে আল্লাহ্‌র অশেষ রহমত বলা যেতে পারতো। এ ধরনের ঘটনা অনেকের জীবনেই ঘটে যাকে আমরা আল্লাহ্‌র অশেষ দয়া বলে উল্লেখ করি। যেমন এমনও হয়েছে যে, কয়েক কোটি টাকার চেক কাউকে দেয়ার পর জানা গেলো লোকটি ভূয়া, আশ্চর্যজনক ভাবে দেখা গেলো চেকে ভুল থাকার কারনে লোকটি টাকা তুলতে ব্যার্থ হয়েছে ফলে অনেক বড় ধরনের বিপদ থেকে বাঁচা গেলো। অথবা দাওয়াত দেয়া হয়েছে পাঁচজনকে কিভাবে কিভাবে যেন পনেরোজন মানুষ উপস্হিত হলো,নিজেরা না খেয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টার পর দেখা গেলো সকলের খাওয়া সন্তোষ জনকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরেও অনেক খাবার রয়ে গেলো। আপাত দৃষ্টিতে যা অসম্ভব। এ ধরনের অভিজ্ঞতা সকলের জীবনেই কম বেশি আছে। আল্লাহ্‌র অনুগ্রহের তো শেষ নেই। আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দাদের অনেক সময় এমন অকল্পনিয় উপায়ে সাহাজ্য করেন যা ঐ বান্দাই শুধু অনুভব করতে পারে কিভাবে তার প্রতিপালক তাকে অনুগ্রহ দেখালেন। কিন্তু এর কারনে নিজেকে বিশেষ কিছু ভাবার অবকাশ আছে বলে আমি মনে করিনা।
    কবি নির্মলেন্দু গুন একবার এক অনুষ্ঠানে তার মজার অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। বাচ্চাদের হই-চৈ এর কারনে কোন বক্তার কথাই যেখানে শোনা যাচ্ছিলো না, সেখানে তিনি উঠতেই পিনপতন নিরবতা।পরে কারনটা জানতে পারেন যে, তার লম্বা দাড়ির কারনে সবাই তাকে বড় কোন মৌলবি ভেবে নিয়ছিলো এবং মোনাজাত পরানো হচ্ছে ভেবে চুপ করে ছিলো।
    মো’জেজা আমাদের কাছে অনেক বিশাল কিছু, একে অনর্থক সরলীকরন করা কি ঠিক?

  5. 16
    এম_আহমদ

    তাজুল ভাই আপনি যথার্থ বলেছেন। পন্নীর “মোজেজার” বিষয়টি একটি প্রতারণা। এমন তথাকথিত মোজেজা বিভিন্ন মাজার ও খানকায় এবং খৃষ্টিয়াননের চার্চে টন (ton) আকারে পাওয়া যায়। স্ট্যাজ অর্কেস্ট্রিটেড মিরাক্কেলের কোনো কমতি পাবেন না। ইউটিভেও মাশাল্লাহ অনেক আছে। পন্নীরা যে পার্থক্যে কেরামতি দেখে পন্নীর তথাকথিত মোজেজা সেগুলোর তুলনায় মামুলী।  

    মূল কথা, বিশ্ব মুসলিমের জন্য মোজেজার মাধ্যমে ইমামতির কোনো পদ্ধতি বা উসূল কোরান হাদিসে নাই। চার খলিফার কেউই মোজেজায় নির্বাচিত হন নি। এটি যদি কোন বিষয় হতো তবে খলিফা নির্বাচনের অনেক জটিলতার উত্তরণ হয়ে যেত। এর পক্ষে ১৪০০ বছরের ইসলামের কোন অভিজ্ঞান নেই। এটি একটি চতুরতা। আমি অচিরেই এসব বিষয় নিয়ে কয়েকটি লেখা দেবার ইচ্ছা পোষণ করছি। এই ফিতনার ধারণাগত ভুল ও মিথ্যাচার আরও তোলে ধরা প্রয়োজন। দোয়া করবেন।

    * চিন্তা করুন, মোজেজায় ইমাম বা নেতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার  পথ খোলা থাকলে প্রত্যেক শহরে বন্দরে মোজেজা প্রাপ্ত ইমামরা কিড়বিড় করত। প্রত্যেক গাজাখোরের শাগরিদরা তাদের ইমামের মোজেজার সত্যায়ন করত। এটা বিস্ময়কর  কীভাবে অতি সহজে এক দল যুবক পন্নীর ফাঁদে পা দিয়েছে! শেষ নবীর পরে অতি প্রাকৃতিক উপায়ে ধর্মীয় নেতৃত্বের দাবীর নামই হচ্ছে চোরা পথে নব্যুয়তির অবস্থান খোঁজা। কেবল বিভ্রান্ত ঘিলুহীন ব্যতীত কারা এই সামান্য বিষয়টি বুঝতে ব্যর্থ হতে পারে?  এই পথ মুসলিম উম্মাহ ধ্বংসের বিষ স্বরূপ। এ কারণেই ইসলাম ধর্ম এমন পথের কোনো সূত্র রাখে নি। কেউ ইমামতির দাবী করলেই তা বিশ্ব মুসলিমের জন্য আনুগত্যের বিষয় হয়ে যায় না।  কখনো না।

    __________________________

    শাহবাজ ভাই ও শাকিল হাসানকে ধন্যবাদ।

    _________________________        

     

    @ মজলুম মজলুম ভাই, সদালাপে যাদের সাথে আমার দ্বিমত হয় আপনি তাদের একজন হয়েও আমার ব্লগে এসে পন্নী ফিতনার বিষয়ে স্বর-সংযোগ করেছেন, এজন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। কিছু বিষয় আছে যেগুলোর বিপক্ষে ঐক্যভাবে দাড়াতেই হয়। না হলে, আমাদের যুগে আমাদের দায়িত্ব আদায় হবে না। অন্যত্রও আপনার মন্তব্যগুলো দেখেছি। যথার্থ হয়েছে। চালিয়ে যান।

  6. 15
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এই কালিমা যদি অন্তরে ধারন না করে, সে মুসলমানই নয়, সে যতই ইবাদত করুক কিংবা সৎ কাজ করুক। এখানে পন্নী ও তার চেলারা ২০০৮ সালের মুজিজা-র দোহাই দিয়ে, পন্নীকে জগতের বর্তমান এমাম-র যে দাবী করেছে, ইহা যে কতবড় জ্ঞ্যানহীন দাবী এবং অজ্ঞতা প্রকাশ হচ্ছে, তা তাদের বুঝে আসছে না। হেজু তাওহীদ মোজেজা-র দাবীর মাধ্যমে নীজেরাই নীজেদের কবরস্থ করেছে, তাই এই ফেরকাবাজ গ্রুপ সম্পর্কে কথা না বলে শুধু সদালাপে নিষিদ্ধ করার অনুরোধ করেছি।

    জগতের ঈমাম হওয়া মানে এক বিশাল দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে হাজির হওয়া। ঈমাম-কে হাই কোয়ালিটির চরিত্রের অধিকারী হতে হয়। চরিত্রের সর্বপ্রথম ও প্রধান দিক-টি জনগনের সম্মুখে গ্রহন্যোগ্যভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তা হল “সত্যবাদিতা”। পন্নী সারাজীবন কোন মিথ্যা কথা বলেনি, ইহা জনসম্মুখে প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল পন্নীগং-দের সর্বপ্রথম দায়িত্ব, আর চরিত্রের অন্য কোয়ালিটি সম্পর্কে নাই বা উল্লেখ করলাম। কিন্তু তা না করে এই ভন্ডের দল মুজিজা নিয়া হাজির হইছে। পন্নী & গংদের থাপড়ানো উচিত যতক্ষন না অন্তরের ফেরকাবাজের শয়তান দূর হয়।

    “১৩০০ বছর যাবত ইসলাম বিকৃত”… বলার আগে, নীজের বিবেক-কে জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল, আমি যা বলতেছি তা আমি জানি কিনা? পন্নীগং-দের যেমন জ্ঞ্যান-অনুভুতি নাই তেমনি নাই লজ্জ্বা-শরমও। বেহায়া-ফেরকাবাজের দল।

  7. 14
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @সদালাপ কর্তৃপক্ষঃ
    এই সাইটে আমরা মুসলমানরা জ্ঞ্যান বিনিময় করে, অনেক কিছু জানি এবং শিখি। অনেক ভাই আছেন, যারা উচ্চাঙ্গের কথা বলেন এবং লিখেন যা আমাদের জ্ঞ্যান-কে সমৃদ্ধ করে। এই সাইট-টি কুলষিত হোক, তা আমরা কখনই চাই না।
    আসাদ আলী নামক এক গোয়াড়-ফেরকাবাজ হেজু তাওহীদ নিয়ে এই সাইটে ধান্ধাবেজী শুরু করছে, যা আপনাদের কিছু দিন পূর্বে অবগত করেছি। ওর কথার ষ্টাইল বলে, ও এখানে হেজু তাওহীদের দালালী করতে এসেছে আর অন্তরে অনু পরিমানও লজ্জ্বা-শরম নাই। এই লোকটার মানষিক চিকিৎসা করে সুস্থ করুন নয়ত ওরে এই সাইটে নিষিদ্ধ করুন। এই ফেরকাবাজ-কে বাড়তে দেওয়া ঠিক হচ্ছে না।
    ধন্যবাদ।

  8. 13
    মজলুম

    @Shakil_hasan:

    শুধু মাত্র এইরকম আমাদের লেখালেখির তুলনায় উনারা প্রচারের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে যা চিন্তার বিষয়। পাশাপাশি মিউজিক হালাল, দাঁড়ি না রাখলেও চলে ইত্যাদি মত প্রচারের ফলে শিল্পীগোষ্ঠীর অনেকেই এই দলে যোগ দিচ্ছে।

    বায়েজিদ পান্না গ্যাংয়ের লোকেরা মনে হয় দূরদর্শী না। হেরোইন খাওয়া হালাল বলে সব হিরুন্চিদের নিজেদের দলে ভেড়াতে পারে। বা গাঁজা খাওয়া হালাল বলে সব গাঁজাখোরদের নিজেদের দলে ভেড়াতে পারে। এইভাবে এগুতে এগুতে মদ, সুদ, ঘুষ কে হালাল বলে সব খোর কে নিজেদের দলে ঢুকালেই কেল্লা ফতে 🙂

  9. 12
    মহিউদ্দিন

    "ইসলামের ১৪০০ বছর দিয়ে অনেক ক্রান্তিকাল কেটেছে। কালের ধারায় অনেক কিছু উলট-পালট হয়। আজকে যারা ঈমানের পক্ষে কাজ করতে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন আল্লাহ নিশ্চয় তাদেরকে সেই কাজের জ্ঞান দান করবেন। এরই প্রেক্ষিতে নেক আমল করার সুযোগ দেবেন। সুতরাং প্রত্যেক পরিবর্তনে নতুন নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও উন্মোচিত হয়। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন, আমাদেরকে হেদায়াত দান করুন, ইসলামের জন্য আমাদের অন্তরাত্মা খুলে দিন -এটাই আমাদের দোয়া, আমীন।"

    ইতিহাস প্রমাণ করে শত বাধা বিপত্তির পরেও ইসলাম ও মুসলিমরা ঠিকে থাকে এবং থাকবে। চেঙ্গগিজ খানের ইরাক আত্রুমন ও ধ্বংসের কথা নিশ্চয় জানেন সেখান থেকেও একসময় ইসলাম ঘুরে দাড়িয়ে ছিল।  ১২০০শ শতাব্দীতে  ইসলামী বিশ্বের জন্য যখন শুরু হচ্ছিল শুভ দিনের যাত্রা একদিকে ক্রুসেডদের পরাজিত করে এবং ১১৮৭ সালে জেরুজালেমের স্বাধীন অর্জন, ইসমাইলি ফাতিমিডসদের বিভ্রান্ত ফিকরার শাসন থেকে মিশর তথা মুসলিম বিশ্বকে পরিষ্কার করে বিরাট মুসলিম সাম্রাজ্যের অভ্যুদয় হয়েছিল ঠিক তখনই নেমে আসে চেঙ্গিস খানদের তথা মঙ্গোলদের নির্মম ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞ। কিন্তু সে বিপর্যয়ও ইসলাম ও মুসলিমদেরকে মুছে ফেলতে পারে নাই। ইসলাম ও মুসলিমরা আবার ফিরে এসেছে আর সেই মঙ্গোলরাই শেষে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ভিন্ন ইতিহাসের দৃষ্টি করে। আল্লাহ বলেন,

    যাহারা ঈমান আনে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোকে নিয়ে যান। আর যাহারা কুফরি করে তাগুত তাদের অভিভাবক এরা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়। উহারাই অগ্নি-অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে…….। (২; ২৫৭)

    এটা ঠিক যুগে যুগে শত তুফান ও বিপর্যয়ের পরেও একদল নিবেদিত প্রাণ একদিন মাথা তুলে ইসলামের পক্ষে দাঁড়াবেই এবং সফলকাম হবে এটাই ইতিহাস প্রমাণ করেছে বার বার।  

    তবে হিজবুত তাওহীদ মুসলিম বিশ্বের বর্তমান কিছু সঙ্কট ও দুরাবস্থা দেখিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। এটা তাদের ফিতনা। তাদের ঝুড়িতে কিছুই নেই। হিজুত তাওহীদের অনুসারী আসাদ আলী সদালাপেই তাদের প্রচারণার দায়িত্বে আছেন বলে দেখা যাচ্ছে। এখানে কথা-কৌশলের আড়ালে কাজ করছেন আর প্রচারণা করছি না বলেই প্রচারণা করছেন।

  10. 11
    মজলুম

    হেজবুত তাওহীদ দেখি আই এসের মতো অন্য লোকদের বউ কে ভাগিয়ে নিয়ে যায় ইসলামের নাম দিয়ে 🙂 এদের মুখোশ উন্মোচন করে পোষ্ট দেওয়ায় ভালো হলো। আর আসাদ আলীর পোষ্ট গুলো ডিলিট করার জোর দাবী জানায়া গেলাম সম্পাদকের কাছে। সদালাপ যেন কোন দলের প্রচারনার কাজে না চলে।

  11. 10
    এম_আহমদ

    @Shakil_hasan:

    কিন্তু ভাই সমস্যা হচ্ছে এরা জংগীবাদ দমনের নামে সরকারী সহায়তায় সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে সভা সেমিনার করে যাচ্ছে। ফলে কম জানা সাধারণ শ্রেণীর মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। এদের কিন্তু নিজস্ব প্রিন্ট মিডিয়াও আছে। “দৈনিক বজ্রশক্তি” নামে এরা একটা পত্রিকা প্রকাশ করে, পাশাপাশি অনলাইনে টিভি চ্যানেলও আছে। শুধু মাত্র এইরকম আমাদের লেখালেখির তুলনায় উনারা প্রচারের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে যা চিন্তার বিষয়।

    বাংলাদেশ এখন এক আজব পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ভূরাজনীতির বিচিত্র ধারায় কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী একটি শ্রেণী রাষ্ট্রযন্ত্র, ব্যাঙ্ক-বাণিজ্য ও মিডিয়াসহ সবকিছুতে। আজ বাঙালীয়ানার নামে মিথ মিশ্রিত আবেগ, বিশ্বাস, ইতিহাস, (মিথ্যাচার) একাত্তরের সাথে সংযুক্ত হয়ে এক নতুন ধারার পৌত্তলিকতা রূপ লাভ করেছে। সংস্কৃতির নামে চরম স্থূলদর্শীতার জোয়ার বইছে। এই উঠতি ও ক্রম-প্রতিষ্ঠিত শক্তির কাছে অনুমোদিত ‘ইসলাম’ হচ্ছে দেওয়ানবাগী কায়দার পীর-মুর্শিদী, আউলা-বাউলাদের কাজ কর্ম, গোঁজামিলের “অসাম্প্রদায়িক” পৌত্তলিক আচার-অনুষ্ঠান। এই ময়দানে তাই মুসলমানদের মধ্যে যতই নতুন নতুন ফিতনা আবির্ভূত হবে তাদের জন্য তা ততই ভাল।

    তবে অবস্থা যা'ই হোক, বিশ্বাসীরা আশা ও প্রত্যয় সহকারে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। সে দায়িত্ব যতই ছোট হোক না কেন।  ইসলামের ১৪০০ বছর দিয়ে অনেক ক্রান্তিকাল কেটেছে। কালের ধারায় অনেক কিছু উলট-পালট হয়। আজকে যারা ঈমানের পক্ষে কাজ করতে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন আল্লাহ নিশ্চয় তাদেরকে সেই কাজের জ্ঞান দান করবেন। এরই প্রেক্ষিতে নেক আমল করার সুযোগ দেবেন। সুতরাং প্রত্যেক পরিবর্তনে নতুন নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও উন্মোচিত হয়। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন, আমাদেরকে হেদায়াত দান করুন, ইসলামের জন্য আমাদের অন্তরাত্মা খুলে দিন -এটাই আমাদের দোয়া, আমীন।

    পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  12. 9

    আলহামদুলিল্লাহ অনেকদিন পর এই দল সম্পর্কে কেউ লেখল।
    কিন্তু ভাই সমস্যা হচ্ছে এরা জংগীবাদ দমনের নামে সরকারী সহায়তায় সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে সভা সেমিনার করে যাচ্ছে। ফলে কম জানা সাধারণ শ্রেণীর মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে।
    এদের কিন্তু নিজস্ব প্রিন্ট মিডিয়াও আছে। “দৈনিক বজ্রশক্তি” নামে এরা একটা পত্রিকা প্রকাশ করে, পাশাপাশি অনলাইনে টিভি চ্যানেলও আছে। শুধু মাত্র এইরকম আমাদের লেখালেখির তুলনায় উনারা প্রচারের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে যা চিন্তার বিষয়। পাশাপাশি মিউজিক হালাল, দাঁড়ি না রাখলেও চলে ইত্যাদি মত প্রচারের ফলে শিল্পীগোষ্ঠীর অনেকেই এই দলে যোগ দিচ্ছে।

  13. 8
    এম_আহমদ

    @শাহবাজ নজরুল:

    আজ এই সম্পর্কে কিছুটা খোঁজাখুঁজি করে দেখলাম – তাদের ফেরকা তো মহা হাস্যস্পদ। নামাজের পদ্ধতি দেখে মনে হলো কোনো কমেডি শো দেখছি। আবার দেখলাম, তারা রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ সবার নামের পরে দুরুদ পড়ছে। একদিকে বলছে তারা চায় সবাই যার যার ধর্মে থেকেই মানব ধর্মে দীক্ষিত হবে – আর অন্যত্র তারা বলছে একমাত্র তারাই সঠিক পথে আছে আর সবাই ভুল। সবাইকে একতাবদ্ধ করতে চায় মসজিদ বয়কট করে??? আরবি উচ্চারণ তো বাদই দিলাম।

    হ্যাঁ ভাই, তবে এটাকে ট্রাজি-কমেডি বললে মনে হয় আরও ভাল হয়। মুসলিম বিশ্ব যখন চতুর্দিক থেকে আক্রান্ত তখন এরই মধ্যস্থলে এই কমেডি। “মানবতাবাদের” ঝাণ্ডা তুলে অপরাপর সম্প্রদায়ের ঠোঁটে উঠে বিশ্ব মুসলিমকে বিশদগার। অন্যান্য ধর্মের লোকদেরকে তারা দেখাতে চাচ্ছে আমরা “ওদের মত নই” –ওরা সন্ত্রাসী, আমরা শান্তিকামী। তবে আমি ভেবে আশ্চর্য হই যে এই ভদ্রলোক কীভাবে ভাবতে পারলেন যে মুসলিম বিশ্ব তাকে মো’জেজায় মনোনীত ইমাম হিসেবে মেনে নেবেন। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  14. 7
    এম_আহমদ

    @s Iqbal:

    অসুস্থ চিন্তার লোকদের সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে ‘সুস্থ চিন্তার ইসলাম’।

    সালাম ইকবাল ভাই। খুই তাৎপর্যপূর্ণ বাক্য। সময় নিয়ে পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  15. 6
    শাহবাজ নজরুল

    আহমেদ ভাই,

    সালাম।

    এই ফিরকা সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ ছিলাম। তবে সেই ফিরকা’র লোকরা দেখছি এই সদালাপের প্ল্যাটফর্ম ভালোই ব্যবহার করেছে। আপনার এই পোস্ট আশা করছি এই ভ্রান্ত ফিরকা সম্পর্কে লোকদের সজাগ করবে।

    আজ এই সম্পর্কে কিছুটা খোঁজাখুঁজি করে দেখলাম -- তাদের ফেরকা তো মহা হাস্যস্পদ। নামাজের পদ্ধতি দেখে মনে হলো কোনো কমেডি শো দেখছি। আবার দেখলাম, তারা রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ সবার নামের পরে দুরুদ পড়ছে। একদিকে বলছে তারা চায় সবাই যার যার ধর্মে থেকেই মানব ধর্মে দীক্ষিত হবে -- আর অন্যত্র তারা বলছে একমাত্র তারাই সঠিক পথে আছে আর সবাই ভুল। সবাইকে একতাবদ্ধ করতে চায় মসজিদ বয়কট করে??? আরবি উচ্চারণ তো বাদই দিলাম।

    ধন্যবাদ এই পোষ্টের জন্যে।

    আশা করছি এই পোষ্টের পরে সদালাপে হিজবুত তওহীদের আর কোনো লেখা/প্রোপাগান্ডা প্রকাশিত হবেনা।

  16. 5
    s Iqbal

    অসুস্থ চিন্তার লোকদের সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে ‘সুস্থ চিন্তার ইসলাম’। তাই তারা নানা বাহানায় ইসলাম ও মুসলিমদেরকে কলুষিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এদের কর্মে ও বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া দেখালে এরা আরো উগ্র হয়ে উঠে। তাই আমি মনে করি, এদের সংস্পর্শ থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই রয়েছে প্রকৃত মুসলিমদের মঙ্গল।

  17. 4
    এম_আহমদ

    এই লেখাটির কিছু কিছু বাক্যের গাঁথুনি প্রথমবারে সহজবোধ্য হয়ে আসে নি তাই সেগুলো আবার এডিট করেছি। এবারে হয়ত সাবলীল হওয়ার কথা।

    যারা পন্নীর ফিতনার ব্যাপারে মুসলিম যুব সম্প্রদায়কে সজাগ করার প্রয়োজন মনে করেন এবং আমার এই লেখা ও পূর্ববর্তী লেখাটি এ কাজের সহায়ক মনে করেন, তারা এগুলোকে তাদের সার্কুলে প্রচার করতে পারেন।

    মন্তব্যের জন্য মহি ভাই, শাহরিয়ার ও তাজুল ভাইকে ধন্যবাদ। পরে সময় করে আরও কিছু বলতে পারি।

  18. 3
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @আহমেদ ভাই,
    আপনার আরেকটি সুন্দর বিশ্লেষনী লিখা এবং চমৎকার উপস্থাপন। “বায়োজিত পন্নীর বিভ্রান্তিতে একটি নতুন ফিতনা” এবং “হেজবুত তওহীদ ও নন-পলিটিক্যাল খিলাফত” ২-টি লিখাতে হেজবুত তওহীদের ভিতরের চরিত্রটি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আপনার এই লিখা ২-টি মানুষদের সচেতন করার জন্য যথেষ্ট।

    ধন্যবাদ। জাযাকাল্লাহ খাইরান।

  19. 2
    shahriar

    Jajak-Allah khairan..
    very well said.. well timed written.

  20. 1
    মহিউদ্দিন

    ধর্মীয় বিষয়ে অনবিজ্ঞ পন্নীকে “এমামুজ্জামান” মানলেই বুঝি কিল্লা ফতেহ? ধাপ্পাবাজিরও তো সীমা থাকবে।

    সহমত। আসলে একটি ব্যাপার লক্ষ্য করবেন যখনই মেইন স্ট্রিম ইসলমাকে ছেড়ে কেউ ইসলামের নামে অন্য কিছু শুরু করতে চাইবে, তাগুতি শক্তিরা এটাকে লুফে নেয়। ওদেরকে ওরা জামাই আদর শুরু করে। কাদিয়ানীদের উদাহরণ দেখেন। পন্নি সাহেবদের "এই এছলাম সেই এছলাম নয়" আসলেই আরেকটি ফিতনা বলেই আমার কাছে মনে হচ্ছে যা আপনার লিখাটিতে স্পষ্ট হয়েছে।</p>

Leave a Reply

Your email address will not be published.