«

»

Sep ০৯

ব্রিটিশ রায়ট ২০১১ ও অপরাপর রায়টের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

[নোটস: এ লেখাটি সদালাপে আমার প্রথম লেখা। এটি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১১ সালে পোষ্ট করা হয়, তবে লেখাটি আরও প্রায় দেড় মাস আগের ।  ইংল্যান্ডে ৬ অগাস্ট ২০১১ থেকে শুরু করে যে কয়দিন রায়ট সংঘটিত হয়, সেটিকে প্রেক্ষিত করে সাধারণভাবে এদেশের অতীত রায়টসমূহ নিয়ে লেখা।  লেখাটি বাংলা ভয়েস নামক একটি সাপ্তাহিকে প্রকাশিত হয়, শিরোনাম ছিল সাম্প্রতিক ব্রিটিশ রায়ট ও নৈতিক অবক্ষয়। এবারে শিরোনাম করেছি, ব্রিটিশ রায়ট ২০১১ ও অপরাপর রায়টের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। এটি সদালাপে ছাপাবার আগে আমি মাঝে মধ্যে এখানে আসতাম এবং চোখ বুলিয়ে যেতাম। তবে কখনো দু/একটি মন্তব্যও করেছি বলে মনে হয়। ওই সময়টিতে 'আমারব্লগে' দ্বিতীয় যুদ্ধের যোদ্ধাদের উপদ্রব বেড়ে এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে সেখানে লেখা তো দূরের কথা, অনেক লেখা পড়ারই উপযোগীই ছিল না। যারা গালিগালাজসহ গোয়ার্তমি কায়দায় লিখে যাচ্ছিল, তাদের লেখায় যারা 'খুব ভাল' হয়েছে, অপূর্ব হয়েছে দাদা' ইত্যাদি বলে সমর্থন দিতে পারছিল না, তারা সবাই ছিল যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক এবং স্বাধীনতা বিরোধী! এটা ছিল জর্জ বুশের "আপনি হয় আমাদের পক্ষে, না হয় বিপক্ষে" -এই নীতিতে চালিত। এই সময় মুনিম ভাই আমাকে সদালাপে লিখতে আহবান করেন, পীড়াপীড়ি ধরণের বলা যায়। তবে আরও কেউও যেন আহবান করেছিলেন। তাই ভাবলাম মাঝে মধ্যে লিখব। সেদিন একদিন এখানে এসে সরোয়ার ভাইয়ের একটি লেখা পড়ি। বেশ ভাল লেগেছিল। তাই ওই আবহের মধ্যে আমার সেই রায়ট বিষয়ক লেখাটি পোষ্ট করি। এই হল এর ব্যাকগ্রাউন্ড। এবারে, এই রায়টের ব্যাপারে যারা আরও তথ্য পেতে ইচ্ছা করবেন তারা ইউটিউভে সার্চ করতে পারেন এবং গুগলেও পাবেন। “Recent British riots” বা “British riots” লিখে সার্চ দিলে অনেক লেখা ও ভিডিও আসবে। ০৬/০৮/২০১৭]

পটভূমি

গত শনিবার ৬ই অগাস্ট বুধবার ১০ই অগাস্ট (২০১১) থেকে টানা পাঁচদিন ইংল্যাণ্ডের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে অনেক “দাঙ্গা” চলতে থাকে। এতে দোকানপাট লুট হয়; গাড়ীতে ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোজিত হয়; কোটি কোটি পাউন্ডের ধন-সম্পদ ভস্মিভূত হয়। যদিও ঘটনাগুলোকে ‘দাঙ্গা’ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে, কিন্তু এগুলো পুরোপুরিভাবে দাঙ্গার সংজ্ঞায়  সংজ্ঞায়িত হয় বলে মনে হয় না। দাঙ্গা সাধারণত: দুই বা ততধিক পক্ষের অমিমাংসিত বিরোধ নিয়ে ঘটে থাকে। এর পিছনে ইস্যূ থাকে –কখনো সামাজিক, কখনো রাজনৈতিক, কখনো ধর্মীয় এবং কখনো অন্য কিছু। কিন্তু এই দাঙ্গায় সেসবের কিছুই নেই। এখানে দেখা যাবে নিছক বস্তুর লোভ –শুধু লুটপাট, আর উদ্দেশ্যবিহীন জ্বালাও পোড়াও! স্কাই নিউজের (স্কাই চ্যানেল ৫০১) একটি সংক্ষিপ্ত জরিপে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘তারা (এই লোকগুলো, এরা যুবক) কেন রায়ট (দাঙ্গা) করছে: তা কি লোভের কারণে, না প্রতিবাদ জানাতে?’ এতে ৮৩% শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন লোভের কারণে [১]।

ঘটনাগুলো মূলত দাঙ্গা ছিল না বরং বলা যায় মূঢ়োচিত অপরাধ প্রবণতা। তবে যেহেতু দাঙ্গা হিসেবে তা সর্বত্র প্রচারিত হয়ে গিয়েছে তাই আমরাও এখানে দাঙ্গা বলে উল্লেখ করছি।

ইংলিশ দাঙ্গার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

প্রথমে, ইংল্যান্ডের দাঙ্গার ইতিহাস নিয়ে কিছু কথা আনা যাক। শুনতে আশ্চর্যজনক হলেও, ইংল্যাণ্ডের ইতিহাসে দাঙ্গা নুতন কিছু নয়। সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য কারণে এদেশে অনেক দাঙ্গা হয়েছে।  এতে অনেক জান-মাল কোরবান হয়েছে। এই ইতিহাস দীর্ঘ, তবে আলোচনার ধারা রক্ষার্থে সামান্য কয়েকটির ইতিহাস উল্লেখ করব। সেগুলো নিম্নরূপ:

সেন্ট স্কলাস্টিকা ডে রায়ট

এই ঘটনাটি অক্সফোর্ডে ১৩৫৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারীতে ‘সুইন্ডলস্টোক’ নামক এক সরাইখানার মদের মান নিয়ে ঘটে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন ছাত্র সরাইখানার মালিককে অপদস্ত করলে স্থানীয় লোকজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে দু'দিনব্যপী সশস্ত্র যুদ্ধ চলে, এবং এতে ৬৩ জন শিক্ষক ও ৩০ জন স্থানীয় লোক নিহত হন।  অক্সফোর্ডের ইতিহাসে এটা এক কুখ্যাত ঘটনা হিসেবে স্থান লাভ করে।

বাউডি হাউস রায়াটস

এটা ১৬৬৮ সালে পতিতালয় ব্যবসা বন্ধ করতে ঘটে। এক দল শিক্ষানবিশ, চাকর (দাস) ও  শিল্পকার সবুজ এপ্রোন পরে, সংবদ্ধভাবে লণ্ডণের পপলার (Poplar) পতিতালয়গুলোতে আক্রমন চালায়। এই পতিতালয়গুলো ডিউক অব ইউর্ক জেইমস-এর মালিকানাধীন ছিল। পরের দিন প্রায় ৪০,০০০ লোক এতে অংশগ্রহণ করলে তা কয়েকটি রেজিম্যান্টের আকার ধারণ করে, এবং কয়েকজন কেপ্টেইনের অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়ে ইস্ট স্মীথফিল্ড (Smithfield), মুরফিল্ডস (Moorfields), এবং সরডিচ (Shoreditch) এর পতিতালয়গুলো আক্রমণ করে। দ্বিতীয় চার্লস (Charles II) তৎক্ষণাৎ এই অভিযানকে ছত্রভঙ্গ করতে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন এবং অনেক প্রতিবাদীকে জেলবদ্ধ করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতিবাদীরা দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে তাদের রায়ট জারী রাখে, এবং হলবর্ণের (Holborn) পতিতালয়ও আক্রমন করে। কিন্তু শেষ বেলায় তারা রাজকীয় শক্তির মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়। এটাই বাউডি হাউস রায়াটস নামে এখনো খ্যাত। এই এলাকগুলো এখন প্রধাণতভাবে বাংলাদেশিদের দ্বারা অধ্যুষিত। এখানে অনেক মসজিদ গঠিত হয়েছে, কয়েকটি মাদ্রাসাও।

একা ব্রিস্টল শহরেই প্রায় ৮/৯টি রায়টের খবর পাওয়া যায় যা আঠারোশো শতাব্দিতে থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ঘটে গিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ব্রিস্টল ব্রিজ রায়ট (১৭৯৩), কুইন স্কোয়ার রায়টস (১৮৩১), ওল্ড মার্কেট রায়ট (১৯৩২) ইত্যাদি।  ১৮৮০ সালে কিছু ধর্মীয় রায়ট ঘটে।

১৮১৬ সালে কেম্ব্রিজশায়ারে কয়েকটি রায়ট ঘটে যেগুলো লিটলপোর্ট রায়টস নামে পরিচিত। এতে আনএমপ্লোয়ম্যান্ট ও শস্যের মাত্রাতিরিক্ত দাম ছিল প্রধান ইস্যূ। এই দাঙ্গাগুলোতে অনেক ধন-সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

পিটারলু ম্যাসাকার

এটা ১৬ই অগাস্ট ১৮১৯ সালে মানচেস্টার শহরে ঘটে। সংসদ প্রতিনিধিত্বে সংশোধনের দাবিতে ৬০,০০০ থেকে ৮০,০০০ লোক সেণ্ট পিটারস ফিল্ডে একত্রিত হলে অশ্বারোহী সেনাদল এসে সর্বসাধারণের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৫ জনকে মেরে ফেলে, এবং প্রায় ৪০০ থেকে ৭০০ জনকে আহত করে।

গর্ডন রায়ট

১৬৯৮ প্রপার্টি এ্যাক্ট (আইন) ইংল্যাণ্ডের রোমান কেথলিক সম্প্রদায়ের অনেক দুর্ভোগ ও অপারগতা বয়ে এনেছিল। অনেক বৎসর পর ‘১৭৭৮ এ্যাক্ট’ এর কিছুটা লাঘব করলেও শান্তিপূর্ণ কিছু প্রতিবাদ শুরু হয়। কিন্তু, শেষ পর্যায়ে তা ব্যাপক রায়ট ও লুটপাটে পর্যবসিত হয়। এই রায়টগুলো লণ্ডন শহরেই ঘটে। তবে কিছু রায়ট অন্যত্রও ঘটে। যে রায়টগুলো ১৯৩০ সালে ইষ্ট ক্যান্টে এলাকায় ঘটে সেগুলো সুউং রায়টস নামে অভিহিত হয়।  এগুলো ছিল মূলত গ্রামীণ শ্রমিক বিদ্রোহ এবং  এগুলোতে অনেক যন্ত্রপাতি ভাংচূর হয়। ১৮৩২ সালের মে মাসে কিছু রাজনৈতিক রায়টও ঘটে। এগুলোকে দ্যা ডেইজ অফ মে রায়ট বলা হয়ে থাকে। মৎস্য খামার ও মৎস্য ব্যবসায়কে কেন্দ্র করে ১৮৯৬ সালের মে মাসে কর্নওয়েল শহরে ১৮ মে থেকে ক্রমাগত ৩ দিন ব্যাপী রায়ট চলতে থাকে। এটাকে নিউলিন রায়টস নামে উল্লেখ করা হয়।

দূরের অতীতকে বাদ দিয়ে এবার আমাদের যুগে আসা যাক, যদিও মধ্যবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া আরও অনেক রায়ট রয়েছে।

গত শতাব্দীর গার্ডেন হাউস রায়ট উল্লেখযোগ্য যা ১৯৭০ সালে ঘটে। তারপর প্রিস্টলী রায়ট যা ১৯৭১ ঘটে, তারপর চাপেল টাউন রেস রায়ট যা ১৯৭৫ সালে ঘটে, তারপর সেণ্ট পলস রায়ট ১৯৮০, তারপর ব্রিক্সটন রায়ট ১৯৮১, তারপর মস সাইড রায়ট ১৯৮১, তারপর হেন্ডসওয়ার্থ রেস (সাম্প্রদায়িক) রায়ট, তারপর ব্রিক্সটন রায়ট ১৯৮৫, তারপর চাপেল টাউন রেস (সাম্প্রদায়িক) রায়ট ১৯৮৭ ইত্যাদি। আরও আছে ছোট খাট কিছু আছে, সেগুলো বাদ দেয়া যাক। তবে রায়টের পিছনে রাজনীতি ও আদর্শিক সমস্যা ছিল, আইনী ও সামাজিক সমস্যা জড়িত ছিল [২]।

 সাম্প্রতিক দাঙ্গা ও নৈতিক অবক্ষয়

যদিও ইংল্যাণ্ডে অনেক দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক দাঙ্গাগুলো ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন শ্রেণী ও বৈশিষ্ট্যের। এখানে, এই দাঙ্গাগুলোতে, কোন প্রতিবাদের বিষয়বস্তু ছিল না। এগুলোতে ছিল নিছক লুটপাট ও নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞ। এর পিছনে ছিল বেশীরভাগ কিশোর-কিশোরী এবং কৃষ্ণ ও শ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়ের একটি অংশ। এশিয়ানরা ছিলনা। মুসলমানরা তো ছিলই না। শেষোক্ত সম্প্রদায়ের বেঁচে যাওয়াটা ইসলাম বিদ্বেষীদেরকে অনেকটা নিরাশ করেছে। কিন্তু সমাজের যে অংশটি এ কাজগুলো করেছে ও যেভাবে করছে তা অনেক ধরণের প্রশ্নের অবতারণা করে যায়। কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, এটা কী অকস্মাৎ ঘটে যাওয়া কিছু, না এই নৈতিক অবক্ষয়ের পিছনে কোন ঐতিহাসিক ও আদর্শিক ধারার সমন্বয় রয়েছে?

আমাদের ধারণা, এই অবক্ষয় হচ্ছে বিংশ শতাব্দীর শেষ দিক থেকে চলে আসা খোদাহীন ধ্যান-ধারণায় সজ্জিত শিক্ষা-ব্যবস্থা ও পারিবারিক অবক্ষয়, ও খৃষ্টীয়ান আদর্শ ও নৈতিকতার ক্রম-বিলুপ্তি। যৌনসম্পর্কের উপর অনৈতিকতার প্রভাব সর্বাধিক হওয়ায় হাজার বৎসর ধরে চলে আসা বিবাহ প্রথা অনেকাংশে ধ্বংসের সম্পূখীন হয়। যুবক যুবতীরা এমনকী কিশোর কিশোরীরাও বিবাহ ছাড়া যৌনসম্পর্ক রাখতে পারে। পাপের ধারণা এখন তিরোহিত। পাপ বিষয়ক বাদ দিয়ে, যৌন কাজ কীভাবে নিরাপদে করা যায় এবং গর্ভধারণ এড়িয়ে যাওয়া যায় –এ’ই হয়ে পড়েছে মূল কথা। এতে প্রাচীন নৈতিকতার ক্রমবিলুপ্তির সাথে সাথে পরিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতাও অনেকটা বিলুপ্ত হয়েছে; অবিবাহিত যৌন সম্পর্কে জড়িত দুই ব্যক্তির  একজন অন্য আরেকজনের সাথে নতুন সম্পর্ক গড়ে চলে যাওয়ার পথ এখন সহজ; এরই ক্রমধারায় ভাঙ্গা পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে; এবং সর্বত অসংখ্য সন্তান-সন্তিনী ‘তাল-গোল পাকা’ পরিস্থতিতে গড়ে উঠছে এবং এদের পরের প্রজন্মের সন্তান-সন্তিনীদের নৈতিক মাত্রা আরও যেন নিচের দিকে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক দাঙ্গাগুলোর পিছনে অনেক বিজ্ঞ পর্যবেক্ষক ভগ্ন পরিবারিক সূত্রের উল্লেখ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী ডেভিড কেমারোন এই সমস্যাগুলোর পিছনে অভিভাবকত্বের দীনতা বা poor parenting –এর কথা উল্লেখ করেন। বিশৃঙ্খল পরিবার (messed up) থেকে আসা বাচ্চাদের কাছ থেকে নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্বানূভূতির আশা কমই করা যেতে পারে -এমন বক্তব্য রাখেন।

বিগত কয়েক যুগ থেকে ব্যক্তি স্বাধীনতা, অধিকার ও সাম্যতার উপর মাত্রাতিরিক্ত চাপের ফলে অনেক প্রাতিষ্ঠানিক ও  প্রথাগত ক্ষমতা খর্ব হয়ে পড়ে।  মা-বাপের ক্ষমতা, স্বামীর ক্ষমতা, শিক্ষকের ক্ষমতা, মুরব্বিদের ক্ষমতা উধাও হয়। এই উধাও হওয়া ক্ষমতার সাথে ব্যক্তি ও সমাজের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। বলা হয়, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝা যায়না। দাঁত পড়ে গেলে তবেই বুঝা যায়। আজকের সমাজ এটিই পরতে পরতে বুঝতে শুরু করেছে। একটি পরিবারে যখন সবাই সমানাধিকারী, তখন কে কার কথা মানে? কর্তৃত্বশুণ্য একটি পরিবারে বড় হওয়া সন্তান কর্তৃত্বের প্রতি যদি শ্রদ্ধাবান না হয়ে থাকে, তবে এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। সাম্প্রতিক দাঙ্গা প্রসঙ্গে এক পিতাকে তার পুত্রের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কী করবো? আমার বাচ্চাকে শাসন করার ‘অধিকার’ই তো নেই, আমি তো তাকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখারও অধিকার রাখি না’ [৩]!

আজ-কাল স্কুলে শিক্ষকদের শাসনের অধিকারও নেই। অনেক বাসায় মা-বাবা ক্ষমতা-দ্বন্দ্বে আটকা পড়ে উভয়েই ক্ষমতাহীন। আবার তারাও বাচ্চাদের উপর শাসন ক্ষমতা প্রয়োগ করার অধিকারে নেই। কিশোর কিশোরীরা অপরাধ করতে পারে, কিন্তু তাদেরকে সাজা দেয়া যাবেনা। কারণ তারা কিশোর কিশোরী, তাদের নাকী ‘বয়স’ হয়নি! এই হচ্ছে আদর্শের নমুনা।

দাঙ্গার কিছু নৃশংস চিত্র

ক্রয়ডনের (Croydon) একটি পরিবার ১৭৬ বৎসর ব্যপী এক ফার্ণিচার ব্যবসায়ের  কমপ্ল্যাক্স গড়ে তুলে। বিরাট ব্যবসায়ের এই কমপ্ল্যাক্সটি প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি নিরাপদে অতিক্রম করে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই দাঙ্গায় তা ভস্মিভূত হয়ে মাটিতে নামে। ফার্ণিচার পণ্যগুলো বড় আকারের ও ভারী হওয়ায় সেগুলো লুটে নেয়ার অবকাশ ছিলনা। কেউ নেয়ওনি। কিন্তু তাতে অগ্নি সংযোগ করা করা হয়। আর পণ্যসম্ভারসহ বিরাট কমপ্ল্যাক্সটি পুড়ে ছারখার হয়ে যায়!

মালেশিয়ার একজন ছাত্রকে প্রথমত মেরে আহত করা হয়। তার শরীরে রক্ত ঝরছিল। এক সময় সে মাটিতে পড়ে গেলে লুটেরাদেরকে তাকে দাঁড়াতে সাহায্য করতে দেখা যায়। কিন্তু, এটা কোন সাহায্য ছিলনা। তাকে দাঁড় করিয়ে তার পকেটের টাকা নিচ্ছিল ওরা, তার রেকস্যাক (পিঠের ব্যাগ) থেকে জিনিসপত্র লুটে নিচ্ছিল!

বার্মিংহামের উইনসনগ্রীণ এলাকার কিছু পাকিস্তানী ব্যবসায়ী নিজেদের ও অন্যদের দোকানপাট বাঁচাতে অগ্রসর হলে একটি লুটেরা গাড়ী তিন জন যুবককে চাপা দিয়ে মেরে পলায়ন করে। এদের দুজন ছিল সহোদর। তাদের মৃত্যুর সংবাদে তাদের পিতার হার্ট এটাক হয়। অন্য মৃতের পিতা পুত্রশোক বুকে চেপে আরেক ধরনের সামাজিক দাঙ্গা এড়াতে সবাইকে শান্তির আহবান জানান।

ঘটনাগুলোর চিত্র টিভির পর্দায় দেখা যাচ্ছিল। দৃশ্যগুলির অমানবিকতা দৃষ্টে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড কেমারন বলেন, ‘আমাদের সমাজের কিছু কিছু অংশ শুধু (নৈতিকভাবে) ভেঙ্গে পড়েনি বরং সেগুলো রোগগ্রস্ত হয়ে পড়েছে’ [১].

দাঙ্গাগুলোতে যে বিভৎস নৃশংসতা প্রকাশ পায় তার মূলে কোন ধরণের বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণা কাজ করতে পারে? নিশ্চয় এতে কোন দায়িত্বানূভূতি নেই, সামাজিক আইনের প্রতি কোন শ্রদ্ধা নেই, অপরের ক্ষতির প্রতি কোন এহসাস নেই –এখানে আছে শুধু ব্যক্তির নিজের স্বার্থ, নিজের পকেটভর্তি করা। বিশ্বাস যখন পরকালশুন্য হয়, খোদাহীন হয়, কেবল তখনই এমন কাজের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।  বস্তুবাদী আদর্শের এপিঠ ওপিঠের নমুনা এ দাঙ্গাগুলোতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে -এক দল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে এবং একদল নিরাশ হয়ে, নৈতিকতা হারিয়ে নির্লজ্জ্বভাবে সে সম্পদে লুটেরা হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা একই মুদ্রার দু’দিক মাত্র।

দাঙ্গা ও রাজনীতি

শুরুতে লেবার দলের কিছু রাজনীতিক এই দাঙ্গাকে রাজনীতিকরণের প্রয়াস পান। কিন্তু, শেষের দিকে তাদের হুস ফিরে আসে যখন তারা দেখতে পান  যে জনতা সেদিকে কান দিচ্ছেনা। তখন তারা প্রাথমিক মন্তব্যের স্বর বদলাতে সচেষ্ট হন। লণ্ডণের আগামী নগরপতি নির্বাচনে লেবার দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ক্যান লিভিনংস্টন কোয়ালিশন সরকারের পুলিশ বাহিনীর ব্যয়-সংকোচন পরিকল্পনা ও ছাত্রদের ইএমএ স্কীম (Education Maintenance Allowances) বন্ধ করণের দিকে ইঙ্গিত করেন। লেবার দলের ডেপুটি লিডার হেরিয়েট হারমেন একই ধরনের কথা বলেন। কিন্তু অবস্থানিক তোপের মুখে তারা বেশীক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। লেবার দলের লিডার এড-মিলিব্যাণ্ডকে যখন প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন করা শুরু হল তখন তিনি ব্যয় সংকোচনের সাথে রায়টের সম্পর্ক নেই বলে স্বীকার করেন এবং বলেন, ‘দাঙ্গার পিছনের কারণ অনেক জটিল।’ কোয়ালিশন সরকারের পক্ষ থেকে এও বলা হল যে যে প্রজন্ম এই মূঢ়োচিত কাজ করলো তাদের জন্ম ও বড় হওয়া লেবার সরকারের আমলে! অবক্ষয়ের কিছু থাকলে তার জন্য প্রাক্তন লেবার সরকারই দায়ী। এতে আবার রাজনীনৈতিক আক্রমণ ফিরে এল।

তবে একথা স্মরণ রাখতে হবে যে আর্থ-সামাজিক প্রক্রিয়ায় করপোরেট লোভ নগ্নভাবে প্রবেশ করে মারগারেট থেচারের সরকারের সময়ের দ্বিতীয়াংশ থেকে,অর্থাৎ কন্সারভেটিভ টরি দলের। আজ উভয় দল জাতিকে এক ধরনের জাহান্নামে এনে একে অন্যকে ভৎর্সনা করে লাভ নেই বরং নিজেরাই নিজেদেরকে ভৎর্সনা করা উচিৎ। এ প্রেক্ষিতে নোওম চমস্কির কথাই স্মর্তব্য। বর্তমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যদিও দুই বা ততধিক দল দেখা যায়, কিন্তু মূলত এদের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য থাকেনা। এখানে তেমন কোন পছন্দ নেই, সবই একদল, যা ধনাঢ্য শ্রেণীর ইশারা ইঙ্গিতে চালিত এবং এই প্রক্রিয়ার প্রধান পুরোহিত মিডিয়া। এক রুপার্ট মার্ডকের সর্বাঙ্গীন শক্তি এক দেশের চেয়েও বেশী অনুভূত হয়। তার ইচ্ছা সহজেই ‘গণতান্ত্রিক’ রূপ লাভ করতে পারে।

শেষ কথা, সাম্প্রতিক দাঙ্গাগুলোর কোন ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার যুক্তি নেই। এখানে কোন যুক্তির অবতারণা কুযুক্তি হয়েই থাকবে। বরং আজ দেখতে হবে সমাজে কেন এই অবক্ষয়ের উত্থান হয়েছে; এই অবক্ষয়ের পিছনে কোন ধরনের বিশ্বাস ও আদর্শ কাজ করছে। তারপর এই বিশ্বাস ও আদর্শ যদি অবলোকনে মন্দ হয়ে ধরা দেয়, তবে এ ত্থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া বের করতে হবে।

References:

[১] Why are they rioting? 2011. [TV Programme] British Sky Broadcasting Group plc., SKY TV, 11 August 2011 20:00.

[২] দাঙ্গার ঐতিহাসিক প্রক্ষাপটের তথ্য উইকিপিডিয়া থেকে গৃহিত

[৩] Live News, 2011. [TV Programme] BBC. BBC World News,
10 August 2011, 11:01

 

১৭ comments

Skip to comment form

  1. 14
    সজল আহমেদ

    একটানে পড়ে ফেললাম।এটাকে শুধুমাত্র লেখা বলব না আমি।এটা একটা দলিল!বেশ কষ্ট করে লিখেছেন।লেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।আমার কাছে আপনার এই কথাটা বেশ লেগেছে

    দাঙ্গাগুলোতে যে বীভৎস নৃশংসতা প্রকাশ পায় তার মূলে কোন ধরণের বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণা কাজ করতে পারে? নিশ্চয় এতে কোন দায়িত্বানূভূতি নেই, সামাজিক আইনের প্রতি কোন শ্রদ্ধা নেই, অপরের ক্ষতির প্রতি কোন এহসাস নেই –এখানে আছে শুধু ব্যক্তির নিজের স্বার্থ, নিজের পকেটভর্তি করা। বিশ্বাস যখন পরকালশুন্য হয়, খোদাহীন হয়, কেবল তখনই এমন কাজের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। বস্তুবাদী আদর্শের এপিঠ ওপিঠের নমুনা এ দাঙ্গাগুলোতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে -এক দল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে এবং একদল নিরাশ হয়ে, নৈতিকতা হারিয়ে নির্লজ্জ্বভাবে সে সম্পদে লুটেরা হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা একই মুদ্রার দু’দিক মাত্র।

     

    1. 14.1
      এম_আহমদ

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  2. 13
    এম_আহমদ

    @ সত্তুক
    ভাই ডকিন্সিয়ানদের হে-ডে শেষ। তবে যেকোন নতুন ধর্ম/মতবাদ একবার শুরু হলে তার একটি অংশ যেভাবে চলতেই থাকে, ওরাও সেভাবে বেঁচে থাকবে। ইউরোপ আবার ধর্মের দিকে ফিরছে।

  3. 12
    সত্তুক

    চমৎকার পোষ্ট। ডকিন্সরা কি করছে, তা হয়ত ধিরে ধিরে বুঝে আসছে ব্রিটিশ দের।
     
    আর মুনিম ভাই, কি দুঃখ জনক খবর দিলেন? ভারতে রায়ট হওয়া মানেই হাজার কোটি লাখো লাশ। আর হাজার হাজার ধর্ষণ, হত্যা, জিঘাংসা।

  4. 11
    মুনিম সিদ্দিকী

    এইদিকে আপনার এই পোস্ট আমার আগে পড়া ছিলনা এখন পড়ে নিলাম। জানতে পারলাম অজানা ঘটনা সকল। এই দিকে কাল শুরু হয়েছে হিন্দু মুসলিম রায়ট কলকাতায়। কারণ হলো এই ফটো
    http://znn.india.com/sports/2011/11/9/PoonamNudeSachin.jpg
    বাকি খবর লিংক থেকে জেনে নিন।
    http://twocircles.net/2012mar21/tense_tuesday_kolkata_cm_muslim_leaders_call_peace.html
     
    http://www.bangladeshnews24x7.com/?p=41298
     
    ধন্যবাদ।

  5. 10
    এম_আহমদ

    হ্যারি পোটার (Harry Potter) ফিল্মের একজন নায়ক জেমি ওয়েলেট (বয়স ২২) এই লুটেরা রায়টে অংশ গ্রহণ করেন। আজ উডগ্রীণ ক্রাউন কোর্ট তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২ বৎসরের কারাদণ্ড দেয়। জেমি হ্যারি পোটার ফিল্মে ‘ক্রাব’ নামে পরিচিত ছিলেন।  [1]
    ________________
    [1] সূত্রঃ The Huffington Post. 20/03/2012  
     

  6. 9
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    অনেক অজানা তথ্য জানলাম -- ধন্যবাদ।

    বৃটেনের দাঙ্গা মুলত মুসলমানদের জন্যে একটা বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে নিজেদের প্রমান করার -- বিশেষ করে সভ্যতার পরিমাপক হিসাবে যা নিয়ে পশ্চিম গর্ব করতো তার একটা শেষ দেখা যাচ্ছে।

    চমৎকার লেখার জন্যে ধন্যবাদ।

  7. 8
    সাদাত

    যদিও ইংল্যাণ্ডে অনেক দাঙ্গা হাঙ্গামা হয়েছে কিন্তু সাম্প্রতিক দাঙ্গাগুলি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন শ্রেণী ও বৈশিষ্ট্যের। এখানে (অর্থাৎ সাম্প্রতিক দাঙ্গায়) কোন প্রতিবাদের বিষয়বস্তু ছিল না। এগুলি ছিল নিছক লুটপাট, নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞ। এর পিছনে ছিল বেশীরভাগ কিশোর-কিশোরী এবং কৃষ্ণ ও শ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়ের একাংশ। এশিয়ানরা ছিলনা। মুসলমানরা ছিল না। শেষোক্ত সম্প্রদায় বেঁচে যাওয়ায় ইসলাম বিদ্বেষীদেরে অনেকটা নিরাশ করেছে।

    শেষোক্ত কথাটা দারুণ বলেছেন।

  8. 7
    সাদাত

    শেষ কথা, সাম্প্রতিক দাঙ্গাগুলির কোন ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার যুক্তি নেই। এখানে কোন যুক্তির অবতারণা কুযুক্তি হয়েই থাকবে। বরং আজ দেখতে হবে সমাজে কেন এই অবক্ষয়ের উত্থান হয়েছে, এই অবক্ষয়ের পিছনে কোন ধরনের বিশ্বাস ও আদর্শ কাজ করছে। তারপর এই বিশ্বাস ও আদর্শ যদি অবলোকনে মন্দ হয়ে ধরা দেয় তবে এ থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া বের করতে হবে।

    ভালো বলেছেন।

    অনেকদিন পর আপনাকে দেখে ভালো লাগলো। আপনাকে মিস করছিলাম!
    আশা করি নিয়মিত আপনার লেখা পাবো।

  9. 6
    শামস

    তথ্যবহুল ও খুব সুন্দর উপস্থাপনা।

    স্কাই নিউজের (স্কাই চ্যানেল ৫০১) একটি সংক্ষিপ্ত জরীপে প্রশ্ন করা হয়ঃ ‘তারা কেন রায়ট (দাঙ্গা) করছে –লোভের কারণে, না প্রতিবাদ জানাতে?’ এতে ৮৩% শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন যে তা ছিল লোভের কারণে। [১] ঘটনাগুলি মূলত দাঙ্গা নয় বরং মূঢ়োচিত অপরাধ প্রবণতা।

    সাম্প্রতিক দাঙ্গা প্রসঙ্গে এক পিতাকে তার পুত্রের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কী করবো? আমার তো বাচ্চাকে শাসন করার ‘অধিকার’ নেই, আমার তো তাকে ঘরে আবদ্ধ করারও অধিকার নেই।’ [৩]

    করুণই বলতে হবে!

    কিশোর কিশোরীরা অপরাধ করতে পারে, কিন্তু তাদেরকে সাজা দেয়া যাবেনা। কারণ তারা কিশোর কিশোরী, তাদের নাকী ‘বয়স’ হয়নি! এই হচ্ছে আদর্শের নমুনা।

    মাঝে মাঝে পাশ্চাত্যের অনেক রাষ্ট্রনায়ককে তাদের দেশের ভ্যালুর কথা উচ্চস্বরে বলতে শোনা যায়, যেমনঃ ক্যামেরুনের মতে বৃটিশ ও ইউরোপিয়ান ভ্যালু, সারকোজির মতে ফরাসী ও ইউরোপিয়ান ভ্যালু! তাদের ভ্যালুটাও জানা হল!

    বস্তুবাদী আদর্শের এপিঠ ওপিঠের নমুনা এ দাঙ্গাগুলিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে -এদল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে এবং একদল নিরাশ হয়ে, নৈতিকতা হারিয়ে নির্লজ্জ্বভাবে সে সম্পদে লুটেরা হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

    খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। সবকিছুকে যদি পরিমাপ করা হয় সম্পদের পরিমাণ দ্বারা সেখানে নৈতিকতার স্থান কিভাবে থাকে। বস্তুবাদী আদর্শে ভোগের বাইরে ত্যাগের অবকাশ কোথায়!

  10. 5
    সরোয়ার

    এম_আহমদ ভাই, অনেকদিন যাবত আপনাকে মিস করছিলাম। লেখাটি পড়ে অজানা রায়টের ইতিহাস জানলাম। পাশ্চাত্য সমাজে ফ্রীডমের যথেচ্ছা ব্যবহার হচ্ছে। গার্ডিয়ান পত্রিকার কোথাও যেন পড়েছিলাম যে বাচ্চাদের খাওয়াতে নাকি মা’দের বেগ পেতে হয়! তারা নাকি এভাবে বলে ‘ এটা আমার মুখ, আমার ইচ্ছা হলে খাবো, না হলে খাব না!।” গার্ডিয়ানের এই আর্টিকলে ধারণা পাওয়া যেতে পারে-

    ‘If you are strangling a man, don’t ask why his eyes are popping out’
    http://www.guardian.co.uk/lifeandstyle/2006/oct/14/familyandrelationships.race

  11. 4
    আহমেদ শরীফ

    মূল্যবান লেখাটি ফেসবুকে শেয়ার দিলাম।

    সদালাপের ফেসবুক গ্রুপে আপনাকে স্বাগতম।
    নিবন্ধিকরণের নেমন্তন্ন রইল।

    লিংক : http://www.facebook.com/?ref=home#!/groups/shodalap/

  12. 3
    এম_আহমদ

    আমার এ লেখাটি কীভাবে এডিট করতে পারি, কেউ কী বলে দিতে পারেন?

    1. 3.1
      আহমেদ শরীফ

      @এম_আহমদ:

      আশা করছি শীঘ্রই কোন সম্মানিত মডারেটরের চোখে পড়বে এবং তিনি ঠিক করে দেবেন। আমার নিজের প্রথম পোস্টটিও এরকম হয়েছিল কিছুক্ষণের মধ্যে সেটা ঠিক হয়ে গিয়েছিল।

  13. 2
    আহমেদ শরীফ

    @ এম আহমেদ ভাই,

    দীর্ঘদিন বাদে আপনাকে পেয়ে খুবই আনন্দিত হলাম।
    আশা করি নিয়মিত আসবেন আর ঝরাতে কার্পণ্য করবেন না লেখনীর অগ্রভাগে চমকানো বুদ্ধির জ্যোতি।

    1. 2.1
      এম_আহমদ

      ভাল লাগলেই যথেষ্ট ভাই। ধন্যবাদ। এখানে ব্লগ কী এডিট করা কোনো ব্যবস্থা আছে? @আহমেদ শরীফ:

  14. 1
    এম_আহমদ

    লেখাটির শিরোনাম হবে, ‘বিগত ব্রিটিশ রায়ট ও নৈতিক অবক্ষয়’। এখানে এডিট কীভাবে করতে হয় তা এখনো ঠাহর করতে পারছিনা। চেষ্টা করে যাচ্ছি, পথ পেলেই এডিট করবো, কিছু স্থানে অতিরিক্ত space হয়েছে, তাও দূর করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.