«

»

Feb ০৫

মুসলিম সমাজে রিয়াকারীদের ইবাদত

চারিদিকে ঈদুল আযহার আমেজ।  মীজান সাহেব দুতালার বারান্দায় আয়েশ ভঙ্গিতে চেয়ারে বসে পায়ের উপর পা তুলে তৃপ্তির সহিত সিগারেট টানছেন আর ঘাড় ঘুড়িয়ে এপাশ-ওপাশ করছেন, আশপাশের সবাইকে লক্ষ করছেন, যারা গরু নিয়ে যাচ্ছেন। বাড়ির গেইটম্যান এসে প্রতিবেশী সকলের কিনে আনা গরুর দাম জানিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন। মীজান সাহেবের  চোখে-মুখে তৃপ্তির ঝিলিক। তিনি ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে গতকাল গরু কিনে আনলেন। তার চেয়ে বেশী দাম দিয়ে এখনও কেউ কিনে নাই। সমাজের  বেশীর ভাগ লোক দামী গরু কিনে একা কুরবানী করে নীজেদের স্টেটাস ফুটিয়ে তুলতে পছন্দ করেন। সমাজে এখন কুরবানীর গরুর মুল্য দিয়ে মানুষের স্টেটাস নির্ধারিত হয়। মীজান সাহেব-কে সারাবছর কদাচিৎ জুম্মার নামাজে দেখা যায়। এই ভদ্রলোক প্রাইভেট চাকুরী করেন। ৬/৭ বছরে উনার অবস্থা পরিবর্তন করেছেন। এখন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। কলা গাছ নয়, বট গাছ। অল্পসময়ে ঢাকায় কয়েকটি ফ্লেট বাড়ি-গাড়ি, দেশের জেলা শহরে ৫ তলা বাড়ি, জায়গা-জমি, ছেলেমেয়েকে প্রাইভেট মেডিকেলে পড়নো… আলিশান অবস্থা।

পাশের বাড়ির ফরিদ সাহেব। সারাজীবন পুলিশের চাকুরী করেছেন। পুলিশের চাকরী করে পল্লবী এলাকায় ৬ তলা বিল্ডিং-র মালিক হয়ে যাওয়া সহজ ব্যাপার না কিন্তু তিনি করতে পেরেছেন। ভদ্রলোক এখন রিটায়ার্ড। রিটায়ার্ডের অনেক আগেই তিনি বাড়ি করেছেন। মসজিদে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে প্রায়ই দেখা যায়। কত টাকার কোরবানীর গরু কিনলেন, তা পকেট থেকে হাসিল বের করে সবাইকে দেখাচ্ছেন। তার কান্ড দেখে ভাবা স্বাভাবিক এবং সে নীজেও জানে, তাকে কেও বিশ্বাস করে না।  হাসিল দেখিয়ে মানুষের আস্থা কিনতে হয়। বেশ কয়েকবার ফযরের নামাজ আদায়ের পর ফরিদ সাহেবের সাথে বোটানিক্যেল গার্ডেনে মর্নিং ওয়াকে গেলাম। একবার ফিরে আসার সময় উনি সীম(উড়ি/bean) বিক্রেতার কাছ থেকে ১ কেজি সীম কিনলেন। বিক্রেতা পাল্লা দিয়ে মেপে ১ কেজি দিলেন কিন্তু তিনি সন্তুষ্ট হলেন না, তিনি হাতের থাবায় আরও সীম নিয়ে ব্যাগে ঢুকালেন। সীম বিক্রেতা শুধু তাকিয়ে রইলেন। ফরিদ সাহেবের সেই হাতের থাবার ভীতরে সারাজীবনের  কুকীর্তি, দুর্নীতি চোখের সামনে ভেসে উঠল।

একই এলাকার খালেদ সাহেব। প্রতি বছর উনি হজ্জ্বে যান। মাল থাকলে, হজ্জ্ব একবার ফরয-এই নিয়ম। প্রতি বছর হজ্জ্বে না গিয়ে ঐ টাকায় গরীব লোকদের জীবিকার ব্যবস্থা করে দিলে অনেক উত্তম। পল্লবীতে তার ২ টা ৫ তলা বাড়ি। দেশের বাড়িতে অনেক সম্পদ করেছেন। অনেক টাকাওয়ালা। বয়স ৬৫+,  দেখা হলে হাসির বিনিময়ে কুশল বিনিময় করি। একবার এক রমজানে 'ইতেকাফ'-এ ছিলাম একসাথে। ইতেকাফ অবস্থায় আমরা সকলেই নামাজের মৌলিক ছুরাগুলো শুদ্ধ করে পাঠ করার অনুশীলন করার চেষ্টা করি। কিন্তু উনি বার বার ভুল করছিলেন মৌলিক ছুরা পাঠ করতে। কিছুটা আহত হলাম, ভদ্রলোক প্রতি বছর হজ্জ্বে যান কিন্তু মৌলিক প্রয়োজনটুকু তো আগে আত্মস্থ করবেন, এটা তো জরুরী বেশী। পরে জানা গেল, উনি যেই এজেন্টের মাধ্যমে প্রতি বছর হজ্জ্বে যান, সেই এজেন্ট-কে ২০ জন হাজী যোগার করে দিতে পারলে, উনার-টা ফ্রি। এভাবেই তিনি প্রতি বছর ফ্রি হজ্জ্ব করেন। এই ফ্রি হজ্জ্বের কি মুল্য? কি মজা?- তা খালেদ সাহেব ভাল জানেন। বাঙ্গালী ফ্রি পাইলে আলকাতরাও খায়। একজন মুমিনের সাথে ফ্রি কতটুকু হওয়া উচিত, তা খালেদ সাহেবদের মত বিত্তশালী মানুষেরা না জানলেও, অন্যরা সবাই জানে।

সারাজীবন কুকর্ম করা হইছে, মিথ্যা বলা হইছে, প্রতারনা করা হইছে, ঘুষ-দুর্নীতি করা হইছে, মানুষের হক মাইরা খাওয়া হইছে, ব্যভিচার করা হইছে… এখন বুইড়া বয়সে শরীর নিস্তেজ হইয়া আইছে। কুকাম করার শারীরিক শক্তি শেষ হইয়া আইছে। মন চাইলেও আর হয়ে উঠে না। এই বয়সে হজ্জ্ব না করলে, নামাজ না পড়লে মানুষ কি কইব? হজ্জ্ব তো সামাজিক মর্যাদা বাড়ায়। নামের আগে 'আলহাজ্জ্ব' লাগানো এখন ওয়াজিব সামাজিক স্টেটাসের জন্য।

“এগুলোর গুশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌছে না, কিন্তু পৌছে তাঁর কাছে তোমার মনের তাকওয়া (ছুরা হজ্জ্বঃ৩৭)”। "তাকওয়া" মুমিনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাকওয়া কি এবং কিভাবে নীজ ভিতরে প্রতিষ্টিত করতে হয়, এটা কি মীজান সাহেব/ফরিদ সাহেব/খালেদ সাহেব বা তাদের মত লোকরা বুঝবে বা বুঝানো যাবে?   ইবাদত কবুল হওয়ার সর্বপ্রথম শর্ত হালাল রোজগার।  কিভাবে মীজান সাহেব, ফরিদ সাহেবদের মত লোকদের অন্তরে সদিচ্ছাকে জাগ্রত করতে হয়, তা আমার জানা নাই।

মসজিদে এলাকার মুরুব্বীরা দুনিয়ার ধান্ধাবাজী কথা বলতে পছন্দ করেন এখন। রাজনীতি, নির্বাচন, এলাকার কার মেয়ে বিয়ের আগে প্রেগন্যান্ট হইছে, কার ছেলে ভাগায়া বিয়া করছে, কোরবানীর কার গরুতে কত মন মাংস, ফুটবল-ক্রিকেটও বাদ যায় না। আলাপ আলোচনায় রুক্ষতা, আক্রমন এমনকি মারামারিও হয়েছে। মারামারি বা ঝগড়াঝাটির পর যদি কারো মধ্যস্থতায় তাদের মধ্যে মিলন হয়, তখন দেখা যায় আরেক সার্কাইজম দৃশ্য, নামাজ শেষে কে কার জুতা আগে বের করে দিবেন, চলে তার প্রতিযোগীতা।  একজন আরেকজনের সাথে দুনিয়াবী আলাপরত আর একইসঙ্গে আঙ্গুলের মাধ্যমে তসবীহ পাঠ চলতেছে। আগেরদিনে মসজিদে তেমন টোল বা চেয়ার দেখা যায়নি এখন মাসজিকে অনেক চেয়ার। এলাকার মুরুব্বীরা হেলান দিয়ে নামাজ আদায় করতে চান কিন্তু ঈমাম হেলান দিয়ে নামাজ আদায় করা বিদাত বলে ফতোয়া দিচ্ছেন এবং চেয়ারের পরিবর্তে টোল দেওয়ায়, চলে তাদের মধ্যে নীরব কামড়া-কামড়ি।

নামাজ আদায় যত সহজ ও সরল ভাবে করা যায় তাই ছিল মুখ্য। এখন ৫ ওয়াক্ত ফরয নামাজের আগে-পরে হাদীস পাঠ সাথে ফতোয়া/বয়ান শুরু হয়ে যায়। ইদানিং গত ৫/৬ বছর পূর্ব থেকে এটা তীব্র হচ্ছে।  অনেক মসজিদেই হচ্ছে। বর্তমান মুসলিমদের কাছে নামাজ থেকে দোয়ার গুরুত্ব বেশী। ঈমামগন কখন দোয়া কবুল হবে তার বয়ান শুরু করেন – প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের পর, শুক্রবার সূর্যাস্তের পূর্বে, ইফতারীর আগে… অথচ আল্লাহ্‌ কোরআনে বলে দিয়েছেন কখন দোয়া কবুল করেন(৩ঃ১৭, ৫১ঃ১৮), কিভাবে দোয়া করতে হবে (২ঃ৪৫, ২ঃ১৫৩, ৯ঃ১০৩-১০৪) আর প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পরেই বিশাল লম্বা দোয়া। বাসার মেহমানদের নিয়ে জুম্মা আদায় করতে গেলে, নামাজ শেষে প্রায়ই শুনতে হয় "এত লম্বা দোয়া!!!", হাত তুলে ১০/১৫ মিনিটের সময়, বিশাল লম্বাই হয়। হালুয়া পার্টিরা মোনাজাতে এলাকার ব্যক্তিদের নাম ধরে ধরে বিভিন্ন পেরেশানির জন্য দোয়া করলে, এইরকম লম্বা হওয়াই স্বাভাবিক।

নামাজে সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর অনেকেই জুরে "আমিন" বলেন। একদিন নামাজ শেষে ঈমাম ঘোষনা করলেন, কেউ যেন আর জুরে আমিন না বলেন, ঈমামের নাকি নামাজ পড়াইতে অসুবিধা হয়। আর যায় কোথায়? শুরু হয়ে গেল পক্ষে-বিপক্ষ লোকদের বাক-বিতন্ডতা। ফযরের নামাজের পর দেখা গেল ২ পক্ষের মারামারি ধরাধরি অবস্থা। ঈমামের সাথে যোগ দিলেন মাদ্রাসার সকল শিক্ষক, ছাত্র। শিক্ষকগন চিৎকার করে বলতে থাকেন, মক্কা-মদীনার ঈমামরা কিছু জানে না (সেখানে জুরে আমিন বলা হয়। স্কুল-কেলেজের একটা অংশ সৌদি আরবে কাটিয়েছি। মক্কা-মদীনা অনুসারে নামাজ আদায় করে অভ্যস্থ। ঐদিন জুরে 'আমিন' বলা নিয়ে মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকের যে ভয়ংকর বাড়াবাড়ির রূপ দেখেছি তারপর থেকে মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদে নামাজ আদায় করার  ব্যপারে সাবধান হয়েছি।)

সমালোচনা নয়, উপরে বাংলাদেশ সমাজের ২/৩ টি চিত্র তুলে ধরা। এইরকম হাজার-লক্ষ ঘটনা ঘটে চলছে আমাদের সমাজে। তুলনামূলকভাবে সাউথ এশিয়ার মধ্যে, ইন্ডিয়ান মুসলিমদের মধ্যে এই বাড়াবাড়িটা এতটা নেই, যতটা হচ্ছে এই বাংলাদেশ-পাকিস্থানে। "তাকওয়া" নেই মুসলিমদের মধ্যে। চারিদিকে ভন্ড আর ভেজাল মুসলিম। সকল সমাজে অনেক মুসলিম ভাই-বোন আছেন 'সিরাতুল মুস্তাকীম"-র ভিতরে থাকে এবং থাকার চেষ্টা করে, তাদের পক্ষে এই সমাজে বসবাস অত্যান্ত বেদনাদায়ক, অত্যান্ত কষ্টদায়ক। চারিপাশে হিংস্রতা, রুক্ষতা, ঠকবাজী…।

 

বাংলাদেশে সুরেশ্বরী, হেজবুত তওহীদ, দেওয়ানবাগী, চরমোনাই, কাদিয়ানী…  শত শত হবে (শুধু নক্সবন্দিয়ার ভীতরেই ৬/৭ টা গ্রুপ পেলাম যারা সঠিকতার দাবীদার, হয়ত আরো দাবীদার আছে শুধু এই গ্রুপেই) সকল দলেরা 'মুজেজা'-র দাবীদার এবং নীজেদের সঠিক বলে দাবী করছেন। এদের বেশির ভাগই স্পষ্টতই "শির্ক"-এ  লিপ্ত।  প্রথমত, বর্তমানে ‘মোজেজা’ দাবী করা পুরাটাই ধাপ্পাবাজী। দ্বিতীয়ত, প্রথমিক পর্যায়ে 'মোজেজা' দিয়ে কখনই ঈমাম দাবী করা যায় না। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এই দাবী শুধু অজ্ঞতা  প্রকাশ করে না, চরম হাস্যকরও বটে। যদি কেউ জমানার 'ঈমাম' হতে চান, তার "গ্রহনযোগ্যতার কোয়ালিটির স্কেল" আছে, সেই প্রসিডিউরে আসতে হয়। বাংলাদেশে যত 'মুজেজা'-র দাবীদার তাদের কারো ধারনা নেই, সেই গ্রহনযোগ্যতা-র কোয়ালিটির স্কেল-টা কি এবং কিভাবে প্রতিষ্টিত করতে হয়?

“মোজেজা” দাবীদারগন আগে নীজেদের মধ্যে বিরোধ নিস্পত্তি করুক, কারা সঠিক? মোজেজার মাধ্যমে একদল আরেকদল-কে ধ্বংস করুক, শেষ বিজয়ীর সাথে বুঝাপড়া হবে পরে। সমাজে ভেজালের শেষ নেই, নতুন নতুন ফেরকাবাজদের উৎপত্তি। শুধু অশান্তির আগুন।

১৮ comments

Skip to comment form

  1. 17
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @মজলুম ভাই,

    অনেক ধন্যবাদ আপনার মুল্যবান মন্তব্যের জন্য। আল্লাহ্‌ আপনাকে ও সদালাপের সকলকে সুস্থ রাখুন।

  2. 16
    মজলুম

    মুসলিমদের দূর্নিতিগ্রস্থ হওয়ার মূল কারন হলো কলোনিয়ালিজম পিরিয়ড টা, যা মুসলিমদের অর্থনৈতিকভাবে চুষে শুধু খোসাটা রেখেছে, পরে গরিবত্বে পড়ে গিয়ে দূর্নিতি করেছে, এখন একটু টাকা পয়সা হলেও সেই অভ্যাস রয়ে গেছে। সেই জন্যে গরীব দেশগুলোর মধ্যে দূর্নিতি থাকে এবং রুলস অব ল ধনী দেশগুলোর মতো চলেনা। গরিবত্ব ও দূর্নিতি হলো মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। ট্টান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশানালের লিস্টে দেখবেন গরীব দেশগুই আগে থাকে। আর যেই গরীব দেশগুলোতে যুদ্ব লেগে আছে ওরা থাকে টপ টেন লিস্টে।
    তার উপর আছে মুসলিমদের ইসলামে থাকা হুকুকাল ইনসান না বুঝা।

    দোয়ার নিয়ম হলো ওয়ান থার্ড হবে দুনিয়ার জন্যে, আর টু থার্ড হবে আখিরাতের জন্যে, যেহেতু চিরকাল ওখানেই থাকবো। এখন দোয়ার বেশিরভাগই থাকে দুনিয়াবি বিপদাপদ হতে উদ্বার, ব্যবসায় বা চারকরীতে লাভবান হওয়ার জন্যে বা রোগমুক্তির জন্যে। অনেকেই যেমন নামাজ কালাম না পড়লেও গাড়িতে বাড়িতে আল্লাহু, মুহাম্মদ(সঃ) নাম লিখে রাখে যেন বিপদ, মুসিবত হতে বাঁচে। এই দুনিয়াবি ভয়, ভীতি, চাকরী, ব্যবসায় উন্নিতির জন্যেই মাজার ব্যবসা একটা লাভজনক ব্যবসা।

    মাজারে মানত করে ঠিক একই কারনে। সাহাবিরা রাসূলের(সঃ) স্ত্রী উম্মে সালামাহ(রাঃ) কে বললো যে রাসূল(সঃ) কোন দোয়াটা সবচেয়ে বেশী পড়তেন। উম্মে সালামাহ(রাঃ) বললেন, তিনি পড়তেন, হে হৃদয়ের পরিবর্তনকারী আল্লাহ, আমাকে তোমার দ্বীন ইসলামের উপর অটল রেখো। যদি রাসূল(সঃ) এই দোয়া পড়েন তাহলে আমি আর আপনি তো নস্যি!

    মোজেজা হলো মাজার ব্যবসায়ীদের পূজি। সাধারন মুসলিমদের তাকওয়ার লেভেল কম হওয়ায় মাজারে মানত করার ধূম হয় বেশী। যদি আমার এই ব্যবসায় এই লাভ হয় টাহলে আমি মাজারে একটা ছাগল দেবো। সেই জন্যে সাধারন লোকদের আকৃষ্ট করার জন্যে মাজারি/ফেরকাবাজদের মোজেজা/কারামতির নামে ধাপ্পাবাজি করতে হয়। মাজারিদের ওয়াজ মাহফিলের এক বিশাল অংশ জুড়ে থাকে তদের পীর বা পীরের বাবার কেরামতির কাহিনী। কারন এটাই তাদের মূল পূজি, এই পূজির উপর ভিত্তি করেই তাদের মাজার ব্যবসা চালাতে হয়।

  3. 15
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @ তাজুল ইসলাম

    ওয়ালাইকুম আসসালাম। একই অবস্থা টরন্টোতেও -- এখানে নামাজের মাঝে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রকম ভেদ হয় -- কিন্তু মানুষ মশগুল থাকে নিজের নামাজ নিয়েই। সুতরাং সমস্যা হয় না। কিন্তু ঈদের জামাতে -- বিশেষ করে বাঙালী এলাকায় প্রতি বছরই কিছু না কিছু সমস্যা হয় -- ৬ তাকবীর নাকি ১২ তাকবীর হবে এই নিয়ে রীতিমতো ঝগড়া হয়। এরা কোন জ্ঞান ছাড়াই বিতর্ক করে -- কারন এরা অনুকরন করে -- জানার চেষ্টা করে না। হয়তো সেই সময় নাই -- দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় সবাইকে।

    এ্ই ধরনের বিভেদ থেকে বের হবার উপায় হলো জ্ঞানার্জন করা। যেমন বিতির নামাজ পড়ার নিয়ে নানান বিতর্ক -- কিন্তু যদি এরা জানতো মুহাম্মদ (সঃ) কমপক্ষে নয় ভাবে বিতির আদায় করেছেন -- তাহলে বিতর্ক করা থেকে বিরত থাকতো।

    মুল বিষয় হলো -- কোরান এবং হাদিসের উপর জ্ঞানার্জনের প্রতি মনোযোগী হওয়া -- এবং শুধু তাই অনুসরন করা যা রসুল (সঃ) করেছেন। তাহলেই বিভেদ থাকবো না।

  4. 14
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @জিয়া ভাই,

    আসসালামু আলাইকুম।

    ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। হা, আপনার সাথে একমত। অনেক ঈমাম চাকুরী চলে যাওয়ার ভয়ে চুপ থাকেন, কখনওবা মসজিদের সেক্রেটারির কথামত উঠবস করেন।

    সিডনী/আরবে  দেখেছি, সব রকমের মুসলিম একসাথে নামাজ আদায় করেন। কেউ হাত না বেধে হাত সুজা রাখেন, কেই নাভীর উপরে হাত, কেউ বুকের উপর হাত, কেউ জুরে আমিন বলেন, কেউ আমিন বলেন না, কেউ রাফাইদান করেন, কেউ করেন না…. কিন্তু কেউ কাউকে আক্রমন দূরে থাক, কখনো কাউকে এই ব্যপারে কথা বলতে শুনিনি। সবাই সবার মত সুন্দরভাবে ইবাদত করতেছেন। কেউ বাড়াবাড়ি করেন না। সবাই সবার প্রতি সম্মানবোধ রেখে কথা বলেন।

    আল্লাহ্‌-র কাছে দোয়া, আল্লাহ্‌ আমাদের সকল মুসলিম ভাই-বোনদের সব রকমের বাড়াবাড়ি থেকে হেফাযত করুন। মিলেমিশে সবাই আল্লাহ্‌-কে স্মরণ করি, ইবাদত করি।

  5. 13
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    তাজুল ইসলাম,

    ভাই চমৎকার ভাবে বাস্তবতা তুলে এনেছেন -- ধর্ম চর্চায় এই কঠিন বাস্তবতা সত্যই কষ্টের।
    তবে এই দৃশ্যটা মুদ্রার এক পিঠ মাত্র -- অন্য পিঠে আছে এই রিয়াকারীইর ইমাম সাহেবদের নিয়ন্ত্রন করে -- ফলে জেনে শুনেও ইমাম সাহেবরা চুপ করে থাকেন। পাছে সত্য ভাষনে মীযান সাহেবরা বিরক্ত হবেন -- তাতে তাদের চাকুরী চলে যাবে। তার চেয়ে বরঞ্চ জুমায় আরবীতেই খুতবা পাঠ নিরাপদ বিবেচনা করেন ইমাম সাহেবগন।

    ধন্যবাদ।

  6. 12
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @সম্পাদক সাহেব,
    Reply বাটন কাজ করছে না। দয়াকরে দৃষ্টি দিবেন। ধন্যবাদ।

    1. 12.1
      সদালাপ কর্তৃপক্ষ

      সদালাপের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস মোষ্ট রিসেন্ট ভারসানে আপডেট করা হয়েছে। রিলেটেড প্লাগ-ইন গুলি এই মোষ্ট রিসেন্ট ভারসানের জন্য রেস্পেক্টিভ ডিভেইলপাররা এখনো আপডেট করেনি। রিপ্লাই বাটনে ক্লিক করে স্পেচেফিক মন্তব্যকারীকে উত্তর না দিতে পারার এই সীমাবদ্ধতা সাময়িক। এই সময়টুকুতে কমেন্ট করার সময় @অমুক লিখে কমেন্ট করলে সকলের বুঝতে সুবিধা হবে। ধন্যবাদ।    

  7. 11
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @মাহফুজ:
    @মাহফুজ ভাই,
    ধন্যবাদ আপনাকে পাঠ ও মন্তব্যের জন্য। কবিতাটি সুন্দর হয়েছে। ভাল লাগল।

  8. 10
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @Masud Rahman:
    @Mr. Masudur Rahman,
    Walaikumus Salam.
    Many thanks for your comment and inspiration. may ALLAH grant us.

  9. 9
    মাহফুজ

    আপনি যাদের কথা বলতে চেয়েছেন তাদেরকে হিপোক্র্যাট অর্থাৎ ‘বকধার্মিক’ বলা হয়ে থাকে। আপনার লেখায় তাদের চরিত্র পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তোলার প্রচেষ্টা নিয়েছেন। এ সম্পর্কে আমার নিচের এই কবিতা বোধ হয় মানানসই হতে পারে-

    ধর্মের নামে অধর্ম কর

    সাধুকে দাও গালি

    ভদ্র বেশে বিচরণ কর

    মতলবি চাল চালি,

    পোষাকে আষাকে ধার্মিক বটে

    চাল চলনে কেতাদুরস্ত

    কুটিল বুদ্ধি ভরা ঐ ঘটে

    স্বার্থ হাসিলে অতি ব্যস্ত,

    লোক-দেখানো মেকী ধ্যান ধর

    ভাবখানা যেন সাধু মস্ত।

    গর্বভরে অতি জ্ঞানী সেজে

    অন্য সবার গীবত গাও

    কুটচাল চেলে প্রতিটি কাজে

    কলহ বাঁধিয়ে সটকে যাও,

    পাড়া পড়শীর খোঁজ না রেখে

    আপন ভুবনে লুকিয়ে রও

    বিপদে আপদে পাশে না থেকে

    গা বাঁচিয়ে দূরে পালাও,

    ভুয়ো নীতিকথা বোলচাল মেরে

    তসবি ঝুলিয়ে লোক দেখাও

    সুযোগ পেলেই কু-কাজ করে

    হারাম পয়সা হাতিয়ে নাও,

    বেদীনের পিছে ঘুর ঘুর করে

    আপন সত্ত্বা বিকিয়ে দাও।

    মরীচিকা ছাড়া আর কি পেলে

    পাপের সাগরে নিজেকে হারিয়ে?

    একালের ঘোরে পরকাল ভুলে

    বিবেকের কাছে ভ্রান্তি লুকিয়ে

    রিয়াকারী সেজে প্রতি পলে পলে

    ভেবেছ, কি হবে পরপারে গিয়ে?

    ভন্ডামি আর কুটিলতা ছেড়ে

    সদ্ভাব গড় মানুষের সাথে,

    স্রষ্টার পানে নতজানু শিরে

    নবীপ্রেম সদা মনে-প্রাণে গেঁথে

    ক্ষমা চেয়ে নাও খাঁটি অন্তরে।

  10. 8
    Masud Rahman

    Assalamu Alaikum,

    Thank you so much for writing such a wonderful article on our current Muslim society in Bangladesh. I have not seen an article like this in a long time, it has been written at the appropriate time with the current society with live in. I strongly believe this article can help our Muslim society open their eyes and to find the right path from all the wrong doings. I’m also requesting to author Mr. Tajul Islam to please continue to express your voice with your precious writing in order to help the 160 million Muslim ummah in Bangladesh. Thanks

    Masud Rahman
    VA, USA

  11. 7
    এম_আহমদ

    @তাজুল ইসলাম: হ্যাঁ, এবারে শিরোনাম সুন্দর ও মানানসই হয়েছেন।
    ওয়াস-সালাম

  12. 6
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @আহমেদ ভাই,

    ওয়ালাইকুমুস সালাম।

    অনেক ধন্যবাদ আপনার জ্ঞ্যানগর্ভ মন্তব্যের জন্য। "ভেজাল মুসলিম সমাজ" শিরোনামটি সুন্দর হয়নি। সুন্দর শিরোনাম নির্বাচন করতে পারিনি লিখার সময়। আমাদের এলাকায় খারাপ মুসলিম যেমন আছে, তেমনি অনেক ভাল মুসলিমও আছে। লিখায় ভাল ভাই-বোনদের কথা লিখিনি যারা সত্যিকারের পরেহেযগার। "ইতেকাফ"-এ খালেদের মত যেমন ভেজাল মুসলিম ছিলেন, তেননি নিষ্টার সাথে ইবাদতকারীও ছিলেন। তারা রাতে কখনো ঘুমাতেন না, সারারাত ইবাদতে মশগুল থাকতেন।

    আল্লাহ্‌ আপনাকে সুস্থ রাখুন।

  13. 5
    এম_আহমদ

    তাজুল ভাই, সালাম। বিষয়টিকে ‘ভেজাল মুসলিম সমাজ’ এভাবে না দেখলে মনে হয় ভাল হয়। মন্দের সাথে সাথে আমাদেরকে মুসলিম বিশ্বের ইতিবাচক দিকগুলোও দেখতে হবে, সেগুলোকে ছোট করাতে আমাদের লাভ নেই। মীজান সাহেব, ফরিদ সাহেব, খালেদ সাহেব গোটা মুসলিম সমাজকে রিপ্রেজেন্ট করেন না। এটা স্বাভাবিক ১৬০ কোটি লোকের এক সমাজে নানান বৈচিত্র্যময় বিষয় থাকবে। এটা প্রত্যেক যুগে ছিল, কম অথবা বেশি। সাহাবীদের যুগেও ছিল। আমরা সংকলিত 'নির্বাচিত' ধারায় সজ্জিত ইতিহাস পাঠ করি। ইতিহাসের অন্য বাস্তবতা দেখতে অন্যভাবে সেই যুগে প্রবেশ করতে হয়। সেই স্কীল অর্জন করতে হয়। যাক, বাংলাদেশের অবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি খারাপ এজন্য যে এখানে উপনিবেশ আমলের হিন্দু জমিদারদের অধীনে এবং ব্রিটিশদের গড়া সেক্যুলার শ্রেণীর তৈরির ফলে এই প্রভাবে এসেছে এবং এখনও মুক্তি পাচ্ছে না। মুসলিম বিশ্ব শিয়া-সুন্নি হলেও তাদের মধ্যে এমন অনেক ধরণের ঐক্য কাজ করছে যা আমাদেরকে অনুপ্রাণিতই করে। এই সমাজ এখনও কোনো না কোনোভাবে একে অন্যের সুখে-দুখে সাড়া দিতে পারছে। যেখানে মুসলিমগণ নির্যাতিত হয় সেখানে তারা সাহায্যের হাত বাড়াতে দেখা যায়। যখন বিশ্বের আনাচে কানাচে কোন দুর্ঘটনা ঘটে সেখানে তারা টাকা পয়সা সংগ্রহ করেন, কোটি কোটি টাকা। এবং যতটুকু পারেন সাহায্য করেন। তাদের টাকায় বিভিন্ন স্থানে স্কুল, মক্তব, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট, পানির কল, হাসপাতাল ইত্যাদি গড়ে উঠে। শুধু তাই নয়। বিভিন্ন সমস্যায় রাজনৈতিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করেন, লেখালেখি করেন। বিশ্বের সকল অঞ্চলের ভাইবোনদের জন্য কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। ব্যক্তি হিসেবে এর বাইরে তাদের কিছুই করার নেই। কেননা এর চেয়ে বেশি করতে গেলেই তাদেরকে জেল জুলুম ও ভোগান্তি শিকার করতে হয়। আমাদেরকে বিদেশি শক্তি-চালিত শাসক শ্রেণী ও সাধারণ মুসলিম সমাজ –এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। আজকের সমস্যার মূল হচ্ছে শাসন ব্যবস্থা ও তার শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা –যে ব্যবস্থা মানুষকে মুনাফিক বানাচ্ছে, চোর-ডাকু বানাচ্ছে, সন্ত্রাসী বানাচ্ছে –সেটি এড়িয়ে নিরীহ ব্যক্তি কীভাবে ইসলামী আচরণ ও জ্ঞান অর্জন করবে? এটা কি ওয়াজ শুনে হয়ে যাবার মত কিছু? আমি বিশ্বের মুসলিমদের এক বিরাট অংশকে ইসলামের উপরই দেখি। ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা অতীতের মত নয়। ইসলামী জ্ঞান অর্জন করার পরে আলেমরা কী করবে? কয়জন নিজেদেরকে স্বয়ং-সম্পূর্ণ জীবিকা নির্বাহী করতে পারবেন? কয় সেক্যুলার শিক্ষিত পারে? অতঃপর তারা যখন অন্যের প্রতিষ্ঠানে চাকুরীত দাখিল হয় তখন তাদের পক্ষে অনেক কথা স্বাধীনভাবে বলা হয়ে উঠে না। আমরা মানুষকে ‘শ্রেণীতে’ গাট্টিবদ্ধ করে বিশদগার করতে পারি অর্থাৎ আলেম শ্রেণী এই দোষে দোষী, তার এটা করে না, তারা সেটা করে না। কিন্তু আমরা আর্থ-সামাজিক ইন্দ্রজাল বুঝতে পারি না। এটা বুঝতে অন্য ধরণের জ্ঞানের প্রয়োজন। আজ একদিকে আত্মসমালোচনা হবে কিন্তু তা কেবল নেতিবাচক হলেই চলবে না –কেননা তা এক দর্শি হয়ে পড়বে। ছোট ছোট বিষয় নিয়ে কথা না বলাই ভাল। যেমন নামাজে হাত উঠানো, আমীন বলা ইত্যাদি। আজকে যে’ই নিজের গণ্ডির ঊর্ধ্বে উঠে জাতিকে দেখতে ব্যর্থ হবে অথবা নিজেদের গণ্ডিকে জাতি হিসেবে ভেবে নিবে তারা ভুল করবে। আজকের স্ত্রূটিনি হতে হবে প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গিকে কেন্দ্র করে। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। আমীন।

  14. 4
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @shahriar:
    @Shahriar ভাই, আপনাকেও ধন্যবাদ পাঠ ও মন্তব্যের জন্য।

  15. 3
    shahriar

    Very timely written..
    jajak-allah khairan.

  16. 2
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @আবদুল আউয়াল:

    @আব্দুল আউয়াল:
    আপনার কথাগুলো সংযোজন এবং মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  17. 1
    আবদুল আউয়াল

    সমাজের বাস্তব অবস্থা চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কনফুসিয়াস বলেছেন, “আমরা মানব সমাজে বাস করি, সমাজের অবস্থা দেখে যদি পালিয়ে যাই তাহলে আমরা কখনও প্রকৃত মানুষ হতে পারব না।”

    পৃথিবীতে ক্ষমতাধর কোন ব্যক্তি রাজা-বাদশা, রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী যদি কাউকে বলেন- নিয়মিত পাঁচওয়াক্ত নামায পড়বে, নাহলে আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দেয়া হবে, তাহলে ঐ লোক যেকোন অবস্থায় আগে নামায পড়বে, তারপর অন্য কাজ।

    নামায না পড়লে বা অন্যান্য পাপকাজ করলে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে একথা আমরা সকল মুসলিম বিশ্বাস করি কিন্তু তারপরও পাপ করতে পরোয়া করি না। আমার মনে হয় এর প্রধান কারণ হল- ঈমানের দুর্বলতা। মৃত্যুর পর জাহান্নামের কঠিন শাস্তির কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করলে কোন মুসলিম নামায ছাড়তে পারে না বা অন্যান্য কাবীরা গুনাহ করতে পারে না।

    সাহাবায়ে কেরামগনের ঈমান মজবুত ছিল, তাই তাঁদের কেউ বেনামাযী ছিলেন না, কোন পাপকাজ তাঁরা করতেন না। রাসূলের (ﷺ) অনেক মু’জেযা তাঁরা প্রত্যক্ষ করেছেন, যার ফলে তাঁদের ঈমান দৃঢ় হয়েছে। আমাদের সামনে রাসূলের (ﷺ) একটি মু’জেযা এখনও আছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে, তা হল- আল কুরআন।

    আল কোরআনের মুযেযা হওয়ার কারণঃ

    ১। কোরআন শরীফে পূর্ববর্তী উম্মত, শরীয়ত ও তাদের ইতিহাস এমন পরিস্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সে যুগের ইহুদী- খ্রীস্টানদের পন্ডিতগন যাদেরকে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহের বিজ্ঞ লোক মনে করা হতো, তারাও এতটা অবগত ছিলেন না। রাসূল (ﷺ) এর কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, কোন শিক্ষিত লোকের সাহায্যও তিনি গ্রহণ করেন নি। এতদসত্ত্বেহ পৃথিবীর প্রথম থেকে তাঁর যুগ পর্যন্ত সমগ্র বিশ্ববাসীর ঐতিহাসিক অবস্থা এবং তাদের শরীয়ত সম্পর্কে অতি নিখুঁতভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা আল্লাহর কালাম ব্যতীত কিছুতেই তাঁর পক্ষে সম্ভব হতে পারে না। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহতা’লাই যে তাঁকে এ সংবাদ দিয়েছেন এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। আল্লাহতা’লা এরশাদ করেনঃ

    “এরা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরীত্য দেখতে পেত।” (নিসাঃ ৮২)

    ২। বড়, ছোট এবং মাঝারি আকারের ১১৪ টি সূরা কোরআনে রয়েছে। সূরা বাক্বারা- ২৮৬ টি, আল ইমরান- ২০০ টি, আন নিসা- ১৭৬ টি, মায়িদা- ১২০ টি, আনআম- ১৬৫ টি আয়াত বিশিষ্ট, এছাড়া বড় অনেক সূরা রয়েছে। এসব সূরাগুলি পর্যায়ক্রমে একটির পর একটি নাযিল হয়নি। দীর্ঘ তেইশ বছরে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে কয়েক আয়াত করে নাযিল হয় এবং বিভিন্ন সূরার সাথে জুড়ে দেয়া হয়। কয়েক আয়াত করে মুখে-মুখে একসাথে সূরাগুলি রচনা করা, প্রতিটি সূরার বিষয়বস্তু ঠিক রেখে আয়াতগুলো জোড়া লাগিয়ে সূরাগুলোকে অর্থপূর্ণ করে তোলা, প্রতিটি আয়াতে অন্তর্মিল রাখা এবং প্রতিটি সূরাকে মুখস্ত রাখা কি মুহাম্মদ (ﷺ) এর মত নিরক্ষর মানুষের পক্ষে বা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব? কখনও সম্ভব নয়। তাই আল্লাহতা’লা অবিশ্বাসীদেরকে কোরানের মত কোন কিতাব বা সূরা রচনা করার জন্য বারংবার চ্যালেঞ্জ করেছেন।

    “এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো। অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না।” (বাক্বারাঃ ২৪)

    “যদি মানব ও জ্বীন এই কোরআনের অনুরূপ রচনা করার জন্য জড়ো হয় এবং তারা পরস্পর সাহায্যকারী হয়; তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না।” (বনী ইসরাঈলঃ ৮৮)

    জাহান্নামের আগুন থেকে নিজে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে, তারপর পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন এবং আশপাশে যারা আছে তাদেরকে সচেতন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.