«

»

Apr ১৯

মোহাম্মদ (সা.) সত্য রাসুল এবং মৃত্যুর পর প্রত্যেককে সৃষ্টিকর্তার কাছে সকল কর্মের জবাবদিহি করতে হবে- এতে কোন সন্দেহ নেই।

নিশ্চয়ই এই মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় ‘আমি’। ‘আমি বেঁচে আছি’- এর চেয়ে আশ্চর্য এই মহাবিশ্বে আর কি-ই বা হতে পারে? আমার কাছে আমি গুপ্ত আবার প্রকাশ্য। আমি কে? আমি কি? আমি কেন? আমি কিসের তৈরি? আমি কিভাবে তৈরি? শুক্রানু এবং ডিম্বানুর মিশ্রনেই কি আমি? প্রকৃতি কি আমায় তৈরি করিয়াছে নাকি আমি নিজেই নিজেকে সৃজিত করিয়াছি? আমার লক্ষ্য কি?…… উত্তরগুলোর জানার উপায় কি? আছে কোন গুরু বা শিক্ষক যিনি এর উত্তর দিতে পারেন? ইতিহাস থেকে লক্ষিত এর উত্তর অতীতে কারো জানা ছিল না, বর্তমানে নেই, ভবিষ্যতে থাকার কোন সম্ভাবনা নেই। আর কেউ আংশিক কিছু জেনে থাকলেও সে অন্য কাউকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না কারন এই দুনিয়ায় এই জ্ঞান দেওয়ার বা প্রকাশ করার কোন মাধ্যম নেই। সৃষ্টির নিয়মেই দুনিয়ার কাউকে এই ‘দিতে পারার ক্ষমতা’ দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র কিছু মনীষী আংশিক পথটি বলে দিতে পারেন কিন্তু কাউকে বুঝানো বা কারো মস্তিষ্কে এবং অন্তরে স্থাপন করে দিতে পারেন না। ইহা সবাইকে নিজ চেষ্টায় ভিতরের সত্তা জাগ্রত করার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। জন্ম থেকেই দেহ নামক বস্তুর ভিতরে ‘আমি’-কে গুপ্ত করে ফেলা হয়। আর আমি-কে না জানার আরেকটি কারন চিন্তা ও অনুভুতির সীমাবদ্ধতা। এই সীমার বাহিরে গিয়ে আমি-কে জানতে হয় এবং তার জন্য প্রয়োজন হয় আত্মনিয়োগ, ধৈর্য এবং অনুশীলন। আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে সীমানার বাহিরে গিয়ে আমি-কে যতটুকু জানা যায় সেও পর্দার প্রাচীর দিয়ে মোড়ানো যার বাহিরে যাওয়া কোন মনীষীর পক্ষে সম্ভব নয়।

পরম সত্তাই “আমি”-র উৎস। আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে পরম সত্তাকে আংশিক জানা গেলেও পরম সত্তার রহস্য এবং এঁর উৎস জানা কারো পক্ষে কখনই সম্ভব নয়। মৃত্যুর স্তর এবং তার পরের স্তর সম্পর্কে কেউ কিছু জানার ক্ষমতা রাখে না। পরম সত্তা থেকে নির্গত একটি নুরের শক্তি, “জী-সত্তা” নামে জ্ঞাত যা আমাদের মস্তিষ্ককে পরিচালিত করে। আবার এই জী-সত্তা একাকী নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে না, তার কার্য পরিচালনা করার জন্য ভিত্তির প্রয়োজন হয়। আর সেই ভিত্তি হল অন্তর। অন্তরের উপর দাঁড়িয়ে জী-সত্তা তার আপন কার্য পরিচালনা করে। জী-সত্তা যখনই অন্তরের সংশ্রব ছাড়ে, তখনই সে ঘুমের স্তরে চলে যায় আবার সংশ্রবে আসা মাত্রই দুনিয়ার জীবনে সে ফিরে আসে। জী-সত্তার অন্যতম শক্তিশালী গুণ হল বুদ্ধি আর অন্য গুণগুলো হল চিন্তা, খেয়াল, কল্পনা, স্মরণ এবং ধ্যান। সততা, মানবিকতা ও লজ্জ্বাশীলতার সাথে চিন্তাশক্তির সমন্বয়ে তৈরি হয় 'বিবেক'। আর অন্তরই ইহ-জীবনের সব কিছুর আধার। গুণ একাকী থাকতে পারে না, গুণ থাকে গুণাধার বস্তুতে। ভালবাসা, দয়া, মায়া, ক্রোধ, লোভ, কাম, ঘৃণা, অহংকার, ঈর্ষা, বিদ্বেষ ইত্যাদি গুণগুলো থাকে গুণাধারে, আর সেই গুণাধার হল অন্তর, যা হৃৎপিণ্ডে অবস্থান করে। আধ্যাত্মিকতার স্তরে পরম সত্তাকে যখন কেহ অবলোকন করে, তখন আশ্চর্য হয়ে দেখে, ‘আমি’-কে বোঝে এবং বোঝার চেষ্টা করে, স্বর্গীয় পরম শান্তি অনুভব করে আর যখন কোন শ্রোতাকে ইহার বর্ননা করে, শ্রোতা অবাক হয়ে শুনে কিন্তু কিছুই বুঝিতে পারে না।

অন্তর একটি অত্যন্ত জটিল, দুর্বোধ্য এবং গুপ্ত। এর দরজা সর্বদা বন্ধ থাকে বিধায় এর সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। ধৈর্য, কেবল চরম ধৈর্যই অন্তরের ভিতরে ঢুকে শুধুমাত্র একটি স্তরে বিচরন করতে সক্ষম। আর অন্তরের সুপ্রবৃত্তি এবং কুপ্রবৃত্তির ঘোড়া এবং বন্য কুকুরগুলোর লাগাম টেনে নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে অন্তরের বহিরাবরনের রূপ অনুধাবন করা যায়। জন্মের সময় শিশুর অন্তর থাকে চারাগাছ। জন্মের পর জী-সত্তা মস্তিষ্কের মাধ্যমে পঞ্চইন্দ্রিয়কে আয়ত্ব করার আগেই অন্তরে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আকর্ষন’। এই আকর্ষনের মাধ্যমে জী-সত্তা কর্মকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখে। দেহের বৃদ্ধির সাথে সাথে সকল প্রকারের প্রবৃত্তি অন্তরে বেড়ে উঠতে থাকে। অন্তর অত্যন্ত শক্তিশালী। সে তার আপন গতিতে চলতে পছন্দ করে আর তার ধর্মই হল ‘মজা’ লাগানো এবং আরামে থাকা। মজা লাগানোর পাত্র থেকে ক্ষনিকের জন্যেও সে বের হতে চায় না। যখনই বিবেক বা বুদ্ধি বা বাহিরের পরিস্থিতির কারনে অন্তরকে মজা লাগানোর পাত্র থেকে সরানো হয়, তখনই এই সত্তা বিদ্রোহ হয়ে উঠে, শুরু করে যুদ্ধ। অন্তরের এই মজা লাগানোর পাত্রের ধরন এবং যুদ্ধের ফলাফলের উপর নির্ভর করে তৈরি হয় ‘স্বভাব বা চরিত্র’। অন্তর যখন মজা লাগানোর পাত্রে দৃঢ় ভাবে অবস্থান করে মস্তিষ্ক ও তার বুদ্ধিকে গোলাম বানিয়ে ফেলে, তখনই আবির্ভাব হয় ‘মন’ নামক সত্তার। অন্তরের ‘মজা লাগানো’-র পাত্রেই শুরু হয় মনের জগত এবং তার বৈচিত্র। মনের বৈচিত্রের জগত বৃহত্তর, ব্যপক এবং জটিল। খেয়ালখুশি চিন্তা এবং খেয়ালখুশি কর্ম মনের জগতের অন্যতম ভয়ংকর ও বিপদজনক। এই খেয়ালখুশী অর্থসম্পদের আধিক্যের সাথে মিশে লোভ, জিদ ও অহংকারকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করে ভিতরের হিংস্র বন্য কুকুরগুলোকে জাগ্রত করে। অন্তর তার স্বাভাবিকতা এবং সুস্থ্যতা হারিয়ে ফেলে, গুণাধারের ভাল গুণাগুণগুলো নিস্তেজ হয়ে আসে। অন্তর মজা লাগানোর পাত্রে অবস্থান করে স্বভাবকে কঠোর করে এবং ধীরে ধীরে সে তার নিজের অবস্থান নিজেই দৃঢ় করে ফেলে। আর এই শ্রেনীর মানুষগুলো হল প্রকৃত প্রবৃত্তি পুজারী, নির্বোধ ও জ্ঞ্যানহীন এবং এদের অন্তরই পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।

উত্তম চরিত্রঃ এর সর্বপ্রধান বৈশিষ্ট ‘সত্যবাদিতা’। জীবনের প্রতিটি কর্ম এবং আচরনে মিথ্যার অস্তিত্ব না থাকা। ধৈর্য- জ্ঞানের জগতকে উন্মোচিত করে, বোধের মাধ্যমে নিজ অন্তর এবং বাস্তবতার আবরণকে জানতে সহায়তা করে আর প্রজ্ঞানকে প্রতিষ্ঠিত করে। অঙ্গীকার রক্ষা করা চরিত্রের অন্যতম গুন। রাগ দমন করা অত্যন্ত সাহসের কাজ। অর্থের লোভ, সম্পদ জমা করার লোভ, ক্ষমতার লোভ, নারী লোভ, খাবারের লোভ- অন্তরে যখন দৃঢ় ভাবে অবস্থান করে, মানবিক ও নৈতিকতার পতন শুরু হতে থাকে। আর অহংকার সকল পাপের ভান্ডার এবং জ্বালানী আর তুলনায় ইহা সৌরজগতের সূর্য। কুপ্রবৃত্তি সমুহকে দানবের আকারে হিংস্রতায় রুপান্তরিত করে। দয়া, সহানুভূতিশীলতা, মানবিক ও নৈতিকতাকে ধ্বংস করে, সাথে অন্তরকে অসুস্থতা ও কঠোরতার কারাগারে আবদ্ধ করে ফেলে। ক্ষমতা এবং অর্থ-সম্পদের আধিক্য অন্তরে অহংকার সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারন। উত্তম চরিত্রের অনুশীলনকারী সকল প্রাকারের লোভ-কে নিবারন করে আর অহংকারের প্রতি নিজ খেয়ালের মাধ্যমে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখে। লজ্জ্বাশীলতা চরিত্রের অন্যতম শক্তিশালী খুঁটি। এই খুঁটির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয় ব্যক্তিত্ব। আগুন যেমন কাঠকে পুড়িয়ে কয়লা করে দেয়, ঈর্ষা তেমনি অন্তরকে জ্বালিয়ে ছারখার করে ফেলে। একজন চরিত্রবান নিজের যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্টি থাকে এবং তা দিয়ে ঈর্ষাকে পরাভূত করে। লাঞ্চনা, গঞ্জনা, শারীরিক ও মানসিক আক্রমন, নিজের হক থেকে বঞ্চিত ইত্যাদির কারনে ক্রোধ, প্রতিশোধ পরায়নতা অন্তরে আস্তানা গেঁড়ে নেয় এবং এর প্রভাবে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। দাঙ্গা-হাঙ্গামা, খুনখারাবী দ্বারা চিন্তা ও কর্মকে আচ্ছাদিত করে ফেলে। সকল প্রকার ক্রোধ, প্রতিশোধ পরায়নতা অন্তর থেকে দূর করার ঔষধ হল ক্ষমা। ক্ষমা করার মাধ্যমে অন্তর পবিত্র হয়, এইজন্যই ক্ষমা একটি স্বর্গীয় গুন হিসেবে চিহ্নিত। অন্যের উপকারে আত্মনিয়োগ করা, গীবত-সমালোচনায় মজে না থাকা, অন্যকে কষ্ট দিয়ে কথা ও কর্ম না করা, অপ্রয়োজনীয় কথা না বলা, খেয়ালখুশী কর্ম না করা উত্তম চরিত্রের লক্ষন। সকল প্রকার কামনা, খায়েশ, পছন্দের দ্বারা আত্মতৃপ্তির পাত্র থেকে নিজ অন্তরকে দূরে রাখে। পরিবার-প্রতিবেশীদের কাছে নম্রতা ও মিষ্টভাষীর দ্বারা নিজেকে নিবেদন করে, সংসারের কাজকর্ম নিজেই সমাধা করে এবং সর্বদা সৎ কর্ম করে। সহিষ্ণুতা এবং বিনয়ী উত্তম চরিত্রের অন্যতম বড় গুন।

একজন নবী বা রাসুলের চরিত্র হতে হয়, উত্তমের উত্তম। মোহাম্মদ(সা.) নবুয়্যত পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সকলের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠিত ভাবে ‘সত্যবাদী’ উপাধি পেয়েছিলেন। কেউ কখনও তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করেনি, সন্দেহ করেনি। দুনিয়ার যে কোন ব্যক্তির চরিত্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং গ্রহনযোগ্য সার্টিফিকেট দিতে পারেন নিজ সহধর্মিনী। প্রত্যেক সহধর্মিনী তার নিজ স্বামীর স্বভাব সম্পর্কে সবচেয়ে বেশী জ্ঞাত। তারপর পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং যারা লেনদেন, মিলমিশ করেন। সহধর্মিনী খোদেজা(রা.)-র চেয়ে মোহাম্মদ(সা.)-কে কে বেশী চিনা এবং জানার জ্ঞান রাখেন? একজন স্ত্রীর যদি স্বামীর চরিত্র সম্পর্কে অনু পরিমান সন্দেহ প্রবণ হোন, তাহলে সেই স্ত্রী কখনই তার স্বামীকে রাসুল হিসেবে স্বীকৃতী দিবেন না; তা স্বামীর প্রতি প্রেম-ভালবাসা এবং সম্মান যতই থাকুক। খাদিজা(রা.) সর্বপ্রথম মোহাম্মদ(সা.)-র উপর ঈমান এনে মুসলমান হন। তারপর পরিবারবর্গ, বন্ধুগন মুসলমান হন যারা মোহাম্মদ(সা.)-কে জানেন।

যিনি উত্তমের উত্তম চরিত্রের অনুশীলন করেন, তিনি কখনও মিথ্যা বলতে পারেন না। চাঁদ আর সূর্য এক হতে পারে না, সত্য ও মিথ্যা এক হতে পারে না। একজন উত্তম চরিত্রের অনুশীলনকারী নিজেকে আল্লাহ্‌র রাসুল বলে পরিচয় দিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারেন না, কোরানকে আল্লাহ্‌র কিতাব বলে মানুষের সাথে প্রতারণা করতে পারেন না। একজন রাসুলের পক্ষে হাজার বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বের সকল মানুষের সাথে সবচেয়ে বড় মিথ্যা ও প্রতারণা করা কখনও সম্ভবপর হতে পারে না। মোহাম্মদ(সা.) তাঁর দীর্ঘ ২৩ বছর জীবনে জেনেশুনে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে একটা মিথ্যা বলেছেন কিংবা অঙ্গিকার ভঙ্গ করেছেন কিংবা আমানতের খিয়ানত করেছেন কিংবা অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করেছেন বা নির্দেশ দিয়েছেন তা প্রমান করা গেলে, এই ইসলাম ধর্ম পৃথিবী থেকে বিলুপ্তি এবং ধ্বংস হওয়ার জন্য যথেষ্ট এবং এতে কোন সন্দেহ নেই। ইহা সহজ, সরল এবং সত্য। তারপরও এই সত্য-কে সন্দেহমুক্ত করতে যারা অপারগ, তাদের কাছে নিশ্চিতই স্পষ্ট হবে- যারা উত্তম চরিত্রের অনুশীলন করেন। তাদের জন্য নয় যারা সংসারত্যাগী কিংবা অসুস্থ এবং কঠোর অন্তর ধারনকারী কারন তারা জ্ঞ্যানহীন এবং সত্য থেকে অনেক দূরে।

স্বাভাবিক অবস্থায় অন্তর সত্তা-টি অস্থিরতাকে ধারন করে না, করতে চায় না এবং পারেও না। ইহা সকলের জন্য চিরন্তন সত্য। কোন প্রতারক, মিথ্যাবাদী, দুশ্চরিত্রার সংস্পর্শে অন্তর যতটুকু অস্থির হয়ে উঠে, তার চেয়ে অনেক বেশী তিক্ততার সহিত অস্থির হয় কর্কশ, রুঢ় আচরণকারী এবং মূর্খদের সংস্পর্শে। আবার এই অন্তর-ই কামনা ও লোভের বশবর্তী হয়ে অন্তরকে মজা লাগানোর পাত্রে ঢুবিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে নিকৃষ্ট স্বভাবের মানুষদের সংস্পর্শে আসে এবং সে নিজেও এই নিকৃষ্ট গুণাবলীর অধিকারী হয়। অস্থিরতার ভিতরে অন্তর ধরে রাখা কেবল সম্ভবপর হয় তখনই, যখন কেহ তার অন্তরকে স্বাভাবিকতার অবরণ থেকে কঠোরতার আবরনে প্রবেশ করিয়ে স্বভাবকে কঠিন করে। মোহাম্মদ(সা.) তাঁর সময় ছিল অন্ধকার ও মূর্খের যুগ। হত্যা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, যুদ্ধ, ব্যভিচার, শিশু হত্যা, প্রতারণা, দস্যুতা, বিচারবিহীন সমাজ যা ছিল নিকৃষ্টতর এবং এক জঘন্য মানবিকতার অধঃপতন ও অনৈতিকতার সমাজচিত্র। যে কেহ তার স্বভাব বিরুদ্ধ কাজ করে না এবং স্বেচ্ছায় আশপাশের নির্বোধদের সংস্পর্শে যায় না। আর মোহাম্মদ(সা.) শুধু আরবের মূর্খ ও নির্বোধ জাতি নয়, কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়ার সকল মানুষের দায়িত্ব ও পথপদর্শক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। চরিত্রের সর্বনিম্ন স্তর থেকে বিশাল জনসমুদ্রকে চরিত্রের উন্নত স্তরে আরোহণ করার দায়িত্ব নিয়েছেন। এই মহান দায়িত্ব শুধুমাত্র রাসুলের পক্ষেই সম্ভব। ইহা সত্য, মহা-সত্য। মানুষ খুব কমই ইহা অনুধাবন করে।

সৃষ্টিকর্তা মানুষকে এক অনন্যরুপে সৃষ্টি করেছেন; অত্যান্ত নিখুতভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ‘আমি’ নামক সত্তা এই টাইম এবং স্পেস ডাইমেনশন মহাবিশ্বের বাসিন্দা নয় এবং ইহা সকল যুক্তি ও কারনের উর্ধ্বে। এই সত্তাকে দেহ নামক বস্তুতে ভরে কিছু সময়ের জন্য এই দুনিয়ায় ভ্রমনে পাঠানো হয়েছে। জগতের এমন কিছু নেই যার দ্বারা নিজ অন্তর সন্তুষ্ট হবে বা হতে পারে। এই সত্তা তার নিজ আপন জাত নুরের জগতে না যাওয়া পর্যন্ত সন্তুষ্ট হবে না। ভাল এবং খারাপ গুনের সমন্বয়ে গুনাধার অন্তর-কে রুহের মাধ্যমে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। অবশ্যই ইহা রহস্যময় পরীক্ষা, কারন আমার কাছে ‘আমি’ গুপ্ত। একে দেওয়া হয়েছে চিন্তাশক্তি এবং বুদ্ধি। তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে নিজ স্বাধীন ইচ্চাশক্তির ভিতর। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলতে থাকে প্রত্যেকের কর্ম। আর সেই কর্ম লিপিবদ্ধ হচ্ছে। প্রত্যেকে কি উপার্জন করছে নিজ কর্ম থেকে? সবাইকে সবার কর্মের হিসেব দিতে হবে সৃষ্টিকর্তার কাছে। ইহাই পরীক্ষা। আল্লাহ্‌ এই জন্যই রাসুল পাঠিয়েছেন সবাইকে এই সতর্ক করার জন্য, কোরানের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছেন কিভাবে জীবন নির্বাহ করতে হবে। যারা অহংকার, খেয়ালখুশী, অজ্ঞতা, আত্মতৃপ্তি, মায়া এবং মায়ার বাঁধনে আবদ্ধ হয়ে নিজের বাপ-দাদা থেকে প্রাপ্ত ধর্ম/নাস্তিকতা, পক্ষপাতিত্ব ইত্যাদি এবং যে সকল যুক্তির মাধ্যমে সত্যকে অস্বীকার করে, মোহাম্মদ(সা.)-কে রাসুল মেনে নিতে প্রত্যাখ্যান করে- তারা জেনে রাখুক যার উপর দাঁড়িয়ে আজ সে নিজ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, এর কোনটিই তার নিজের নয়। ইহা ফাঁদ। মহা ফাঁদ। সকল সৃষ্টির গোল্ডেন রেশিও, ডি এন এ, প্রোটিন অনুসহ মহাবিশ্বের যত সব ঘটনা ঘটছে, সবই সৃষ্টিকর্তার আদেশ এবং নির্দেশ। যারা প্রকৃতিকে নিজে নিজে কার্য সম্পাদানের উপায় দাবী করে- ইহা অতীব মন্দ ও অযৌক্তিক চিন্তা। তাদের বোঝশক্তি বড়ই দূর্বল। বক্ষস্থিত পর্দাই সৃষ্টিকর্তার অগনিত নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে। যার ইচ্ছা নিজের সাথে নিজে বেঈমানী করুক কিংবা পালনকর্তার কাছে ঠিকানা তৈরি করুক। ‘সত্য’ এবং ‘জ্ঞ্যান’ প্রত্যেকের ভিতরে সৃষ্টিকর্তা দৃঢ়তার সহিত স্থাপন করেছেন। মৃত্যুর স্বাদ সবাই গ্রহন করিবে এবং খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে সে সত্য-কে চাক্ষুস দেখিতে পাইবে যে বিষয়ে সন্দেহ করিত, দেখিতে পাইবে পরবর্তী জীবন ও তার প্রতিবন্ধকতা-কে। আশ্চর্য রকম বুদ হইয়া দেখিতে থাকিবে নিজের “আমি”-কে। পরিস্কার হবে সকল নবী-রাসূলগনের উদ্দেশ্য; আরো পরিস্কার হবে নিজেদের খেয়ালখুশী, ঠাট্টা, তামাশা। সৃষ্টিকর্তার পাকরাও অতীব সূক্ষ্ম, অত্যন্ত কঠিন এবং মজবুত। কখন সময় হবে- সাবধান হওয়ার? আর কখন সক্ষম হবে- নিজ অন্তরের পর্দাগুলো খোলে দেওয়ার?

 

৪ comments

Skip to comment form

  1. 4
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আপনার মা-বাবা যদি হিন্দু/বৌদ্ধ/নাস্তিক হতেন, তাহলে আপনি মুহাম্মদ(স)-কে রাসুল হিসেবে মানতেন? যদি মানেন, তাহলে কেন? আর যদি না মানেন তাহলে কেন নয়?

    >>এটা ঈমানের মৌলিক প্রশ্ন। এর উত্তর জানা না থাকলে সে নিজেকে কিভাবে মুসলমান দাবী করে? পারিবারিক সুত্রে মুসলমান, সেই ঈমান কতটুকু পবিত্র এবং গ্রহণযোগ্য? বিবেক কি বলে?

    =>> লিখায় মুসলমানদের সন্দেহ দূর করা(অন্তরে ঈমান প্রতিষ্ঠিত করা) এবং নাস্তিকদের সত্যকে মোকাবিলা করার আহবান জানানো হয়েছে। কোরানের রেফারেন্স দিলে নাস্তিক ও অমুসলিমগন মানবে না। কারন, তারা কোরান-কে মানে না। তাই প্রত্যেকের নিজ নিজ সত্তা “আমি” দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

    @মাসুদ রহমান & আবু লতিফা, আপনাদের ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।

  2. 3
    আবু লতিফা

    ** আল্লাহর পথে কুরআনের মাধ্যমে দা'ওয়াত দেয়ার আদেশ **

    আল্লাহ তা’আলা স্বীয় সম্মানিত রসূল (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ রসূল! তুমি জনগণের মধ্যে ঘোষণা করে দাওঃ

    ‘আমাকে তো নির্দেশ দেয়া হয়েছে এই শহরের রব-এর ইবাদাত করতে যিনি এটিকে সম্মানিত করেছেন এর সব কিছু তাঁরই অধিকারে। আর আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই’। ‘আর আমি যেন আল-কুরআন অধ্যয়ন করি, অতঃপর যে হিদায়াত লাভ করল সে নিজের জন্য হিদায়াত লাভ করল; আর যে পথভ্রষ্ট হল তাকে বল, ‘আমি তো সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত’। আর বল, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর; অচিরেই তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখাবেন, তখন তোমরা তা চিনতে পারবে আর তোমরা যা আমল কর সে ব্যাপারে তোমাদের রব বেখবর নন’। [মাক্কী সূরাঃ আন্‌-নামাল (২৭), আয়াতঃ ৯১-৯৩]

  3. 2
    Masud Rahman

    Thank you so much to author Tajul Islam for this precious gift (Article)  for society. I believe this article can help non-believers to open their eyes to turn from wrong to right path (Insha'Allah); I also I believe pen ink is more stronger then Indian media. I am requesting to author Tajul Islam to keep continue his  writing to help our society.

    Masud Rahman
    Arlington, VA
    USA

  4. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    নাস্তিক এবং অমুসলিমদের উদ্দেশ্যে এই লিখাটি। এই লিখার মাধ্যমে তাদের চ্যালেঞ্জ জানানো হইয়াছে, পৃথিবীতে একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলাম। তারা কোরান এবং হাদিস মানে না বিধায়, এই লিখায় এর কোন রেফারেন্স আনা হয়নি। নিজেদের সত্য ও সাহসী দাবী করলে, এই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করুক। আর মুসলিমদের মাঝেও অনেক সন্দেহ প্রবন রয়েছেন, তাদের জন্যেও এই লিখাটি উপকারে আসবে।
    ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.