«

»

May ০৭

বাংলাদেশের বিচার ও আইন ব্যবস্থা অসুস্থ, তা প্রমান করলেন আলী

বুড়িগঙ্গা; প্রায় ৪০০ বছর আগে এই নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল আজকের ঢাকা। এই নদী ঢাকার প্রান, ঢাকা বেঁচে আছে এই নদীর কারনে। কিন্তু আজ এই নদী মৃত। একদল ক্ষমতাধর ভূমিদস্যু সরকারী লোকদের সাথে আঁতাতের মাধ্যমে নদী দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এটি বোঝার জন্য কোন তদন্ত কমিটির প্রয়োজন হয় না, নদীর পাড়ে দাঁড়ালে যে কারো কাছে তা স্পষ্ট। দখলের একটা বড় অস্ত্র হল ‘মসজিদ নির্মান’। স্থানীয় প্রভাবশালীরা মসজিদ নির্মানের উসিলায় বিশাল এক অংশ দখল করে বসে। আর যেখানে নদীকেই বাঁচানো যাচ্ছে না, সেখানে ঢাকার অভ্যন্তরে ৪৩টি খালের অস্তিত্ব সম্পর্কে কথা না বলাই ভাল। বুড়িগঙ্গা নদীর পানির রঙ কুচকুচে কালো এবং নদীর কাছে আসা মাত্রই রুমাল দিয়ে নাক চেপে ধরতে হয় দুর্গন্ধ থেকে বাঁচার জন্য। আরে বাবা… এ এক ভয়ংকর দুর্গন্ধ। নদীপথে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে ৬০/৭০ কিমি যাওয়ার পরও এই গন্ধের তীব্রতা নাকে লেগে থাকে। একটা বাচ্ছা ছেলেও বুঝতে পারে এই নদী কতটা দুষিত? মাছ বা জলজ প্রানী পানিতে বাঁচতে হলে, প্রতি লিটারে ৫ মিলিগ্রাম বা তার বেশী অক্সিজেনের মাত্রা থাকতে হয়, আর বুড়িগঙ্গায় অক্সিজেনের মাত্রা ‘শুন্য’। প্রতিদিন ১৫ লাখ ঘনমিটারের বেশি পয়োঃবর্জ্যসহ ৪৫০০ টন আর্বজনা নদীতে পড়ছে। নদী সীমানা দখল, ট্যানারী ও অন্য যেসব কারনে এই বুড়িগঙ্গা মৃত; তাদের উচ্ছেদ করতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। কোন সরকারী আইন প্রয়োগে তাদের থামানো যাচ্ছে না। বোঝা যায়, এই সকল মানুষদের কাছে দেশ, নদী, দেশের মানুষের জীবন কোন কিছুর মূল্য নেই, স্পষ্ট হয় তাদের স্বার্থের কঠিন অনুশীলন ও অর্থের লিপ্সা। আরো স্পষ্ট হয়, দেশের আইনের প্রতি তারা সর্বদা বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে চলে, কুছ পরোয়া নেই। যাদের আশ্রয়ে এই মানুষগুলা দেশের ক্ষতিগুলো করছে, তারা কতবড় দেশপ্রেমিক এবং দেশ সেবার জন্য আত্মনিয়োগে ব্যস্ত, তা বলার আর কোন প্রয়োজন নেই। সরকার এই বছরের জুন পর্যন্ত ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ করেছেন নদী দুষণমুক্ত করতে, আর আমরাও নিশ্চিত জানি দেশের ক্ষমতাধর মানুষগুলা কি পরিমান সততার সহিত জীবনযাপন করে এবং তারা কতটুকু নদীকে দুষণমুক্ত করবে!

ষ্টীমারের ৩ তলার ছাদে বসে বুড়িগঙ্গা ও এর ভবিষ্যত নিয়ে ভাবছি। কর্মহীন হওয়ায় এখন অফুরন্ত সময়। ইসলামপুর থেকে হঠাৎ টার্মিনালে এলাম। সুন্দরবন, সুরভী, কীর্তনখোলা, পারাবাত… বরিশালগামী ষ্টীমারগুলো সারিবদ্ধ করে সাজানো। বরিশাল কখনও যাওয়া হয়নি আর বাংলাদেশে কখনও এত বড় ষ্টীমারে আরোহন করা হয়নি। কৌতুহলী হয়ে একটায় উঠে পড়ি এবং ৩ তলার ছাদে গিয়ে বসে চিন্তা করি সকালে বাসে করে আবার বরিশাল থেকে ঢাকায় ব্যাক করব। বুড়িগঙ্গা ও তার ভবিষ্যতের চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে প্লাটুনের দিকে দৃষ্টি দিই। প্রচুর মানুষের সমাগম। এত অধিক মানুষ যে, হাঁটা দায়। ঈদের সময় কেমন পরিস্থিতি হয়? ঈদের সময়ে টিভির খবরে দেখা যায়, লঞ্চে উঠতে গিয়ে মানুষজন পানিতে পড়ে যাচ্ছে। এই কুচকুচে দুর্গন্ধময় পানির মধ্যে মানুষ কেমন করে সাঁতরায় আর যারা সাঁতার জানে না তাদের কি অবস্থা হয়? ঈদের সময়টাতে দেখা যায় স্যুটকেস, ব্যাগ পানিতে ভাসছে আর এমন ভিড়ে বাচ্চা এবং মহিলারা কেমন করে সামাল দেয়? এক হুজুর দেখা যাচ্ছে। চোখ একটা নষ্ট। আরেক চোখ ভাল। বেশ বড় কাল লম্বা দাঁড়ি, সাদা টুপি এবং সাদা পায়জামা, পাঞ্জাবী। খাস আল্লাহ্‌ওয়ালা। কিন্তু এই হুজুর বেটা তার পাশে দাঁড়ানো সালোয়ার-কামিজ পড়া এক মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়ের চেহারা আর শরীরের ভাজ আকর্ষনীয় হওয়ায় হুজুর মোল্লা নিজের দৃষ্টি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারছে না। ৪ মিনিট পার হয়ে গেল, মোল্লা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে, আর আমি মোল্লার দিকে তাকিয়ে আছি। মোল্লার দৃষ্টিতে আগুনের ভেল্কি। আরেক পরিমল, আই এস আই এস যোদ্ধা। মনে হল, কোন নাস্তিক বা কোন ব্লগার যদি এই দৃশ্য দেখতে পেত, তাহলে তার ছবি তুলে বা ভিডিও ধারন করে ব্লগে পোষ্ট করে দিত। সন্দেহ নেই, এই মোল্লার ছবি বা ভিডিও-র বরাত দিয়ে ইসলাম, আল্লাহ্‌র রসুল, আর কোরান নিয়ে আক্রমণে লিপ্ত হত।

লালবাগ, চকবাজার, নয়াবাজার, বাবুবাজার, তাতীবাজার, ইসলামপুর, সদরঘাট, বাঙলাবাজার, লক্ষ্মীবাজার, চানখারপুল… সাইন্স ল্যাব থেকে নিউমার্কেট, গুলিস্থান, ফুলবাড়িয়া, নবাবপুর রোড, বংশাল… এই এলাকাগুলাতে মানুষের সমাগম এত বেশী যে, মনে হয় কিয়ামতের ময়দানে উপস্থিত হলাম। মানুষ আর মানুষ। অক্সিজেনের অভাবে এই এলাকাগুলাতে মানুষ মারা যাওয়ার কথা। এত ঘনবসতি অস্বাভাবিকতা। নোংরা, আবর্জনা, ভাঙ্গা রাস্তাঘাট, দখল… তারপর আবার বিল্ডিং কনষ্ট্রাকশন, বিদ্যুৎ, পানি, কেবল, গ্যাস লাইনের মেরামতি তো আছেই। ঘিন-ঘিন পরিবেশ। বেশিরভাগ সড়কেই এতই সরু যে, এইসব এলাকায় আগুন লেগে গেলে বৃষ্টির পানি ছাড়া আর কোন উপায় দেখি না। জেনেভা বা অকল্যান্ড বা ভ্যানকুভারের সিটি মেয়রকে যদি ঢাকার মেয়র হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে ঢাকার দৃশ্য দেখার সাথে সাথে তারা অজ্ঞান হয়ে যাবে। অজ্ঞান হয়ে মারা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নাই। এই শহরের মানুষদের কর্মসংস্থান পর্যাপ্ত পরিমান না থাকায় ধান্ধাবাজি বেড়ে যাচ্ছে। বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। বাড়ছে দুর্নীতি, হত্যা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, অবহেলিত হচ্ছে জীবনের প্রয়োজনের সব কিছু। কোন সুস্থতা নেই এই শহরে। মানুষ ভোট দেয় কিন্তু জানে না তারা কেন ভোট দিচ্ছে? জানে না, তাদের ভোটের মুল্য। স্বাধীন দেশের চেহারা কখনই এমনটি হতে পারে না, যা পুরাতন-নতুন উভয় ঢাকাতে বিরাজমান। দেশের মানুষ স্বাধীন দেশের অধিকার বুঝে না, জানে না তাদের প্রাপ্য কি? সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ডে… কয়েদী না থাকায় জেলগুলো পরিত্যক্ত হচ্ছে আর আমাদের দেশে জেলে মানুষ ভরে জায়গা দিতে পারছে না। আমাদের দেশের ডাক্তার, পুলিশ, উকিল, সরকারি আমলা, মন্ত্রীদের নৈতিকতা ও মানবতাবোধ এতই ভাল যে, এতই উন্নত যে- ঐ সদরঘাটের কানামোল্লাও এদের চেয়ে অনেক ভাল।

ষ্টীমারের ছাদে বসে কল্পনায় ডুবে আছি, হঠাৎ এক গুঞ্জনে কল্পনা থেকে বেরিয়ে প্লাটুনের দিকে তাকালাম। একজন বিশিষ্ট মানুষ আসছেন কিন্তু তাকে দেখতে পাচ্ছি না। অনেক মানুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত। সামনের সকল মানুষদের সরিয়ে সে বিশিষ্ট মানুষের সামনের রাস্তা পরিষ্কার করায় ব্যস্ত বেশ কয়েকজন। কাছে আসার পর চিনতে পারলাম। ঘোষকের আদর্শের অনুসারী উনি মির্জা আব্বাস। তাকে ঘিরে আছে অন্তত ১০/১২ জন মানুষ। কেউ যেন তাকে স্পর্শ না করতে পারে, নেতার যেন কোন অসুবিধা না হয় সেই জন্য তাকে ঘিরে রাখা মানুষদের সেবার কমতি নেই। সেই মহান নেতা পকেট থেকে মোবাইল বের করে কারো সাথে কথা শুরু করলেন আর ঘিরে রাখা চামচাগুলো নেতাকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বরিশালগামী আমার পাশের ষ্টীমারে উঠলেন। ‘মীর জাফর’-কে স্মরন করতে থাকি। এই মহান মানুষটা কিয়ামত পর্যন্ত বাঙালী জাতিকে ‘বেঈমানী’-র মুকুট পরিয়ে দিয়ে গেছেন। ফুটবল, হকি, ক্রিকেটের বিশ্বকাপ হয়। ওলিম্পিকে বিভিন্ন খেলার জন্য গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়। বেঈমানী, চামচামি, প্রতারণা, লুটপাট… এই ইভেন্টগুলার পৃথিবীব্যাপী মেডেল দেওয়া হলে, বাঙালী জাতি সবসময় গোল্ড মেডেলটা পেত। গোল্ডের উপরে যদি ডায়মন্ড মেডেল বা নোবেল দেওয়া হত, সেগুলোও বাঙালী জাতিরই হত। আবার গুঞ্জন ও বাঁশি শব্দে প্লাটুনের দিকে তাকালাম। একসাথে অনেকগুলো বাঁশির শব্দ। হোমরা-চোমরা কেউ মনে হয় আসতেছেন। অনেক পুলিশ রাস্তা থেকে মানুষজন, মালপত্র সরানোতে ব্যস্ত। এবার এলেন সরকারি দলের শিল্প মন্ত্রী আমু। সরকারি-বেসরকারি নেতার আগমনের স্পষ্ট পার্থক্য বোঝা গেল। ২ নেতা একই ষ্টীমারে উঠলেন। মানুষের চামচামির সাথে পুলিশের চামচামিও বোঝা গেল। রাস্তা ক্লিয়ার করতে গিয়ে শ্রমিক মানুষদের সাথে যে আচরণ করা হল তা অত্যন্ত অমানবিক। শ্রমিকদের পারলে তো বুড়িগঙ্গার পানিতে নেমে যেতে বলে। এ কোন দুনিয়ার বাংলাদেশ?

এইসব লিখা লিখে কোন ফায়দা নেই। অযথা সময় নষ্ট। সদালপের অল্প কিছু পাঠক লিখাটি পড়ে একসময় ছুড়ে ফেলবেন। আমিও মন স্থির করেছিলাম রাজনীতি বা বাংলাদেশ নিয়ে আর কখনই লিখব না। কিন্তু লিখলাম নিজের অন্তরে বেশ কয়েকদিন যাবত এক তীব্র ব্যথা অনুভব করার কারনে। ব্যথা অনুভব করছি আলী ও তার মেয়েটির জন্য। বাবা-মেয়ে একসাথে ট্রেনের নীচে কাটা পড়ে আত্মহত্যা করেন। নিজের মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে। এই ব্যথা একজন বাবাকে কতটুকু ভারাক্রান্ত করে, তা একজন বাবাই ভাল জানেন। এমন একটি অন্তর নিংড়ানো ঘটনা, বাবা মানুষের কাছে ঘুরে তার মেয়ের বিচার পান নি। আমাদের সমাজে ধর্ষণ এবং অবিচার প্রতি নিয়তই হচ্ছে কিন্তু সকল ঘটনা এক নয়। এক গ্লাস পানির গভীরতা আর প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতা এক নয়। কোরবানীর দৃষ্টান্ত ইব্রাহীম-ইসমাঈলের পিতা-পুত্রের সম্পর্ক আর আক্কাস-মোখলেস পিতা-পুত্রের সম্পর্ক এক নয়। আলীর মেয়ের ধর্ষণ এবং বিচার না পাওয়ার ঘটনাটি ৭১-র দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জ্বতকে ঢেকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই দেশ স্বাধীন নয়। আপনি এই দেশকে স্বাধীন দাবী করলে, এই দেশ স্বাধীন হয়ে যায় না। এই দেশের বিচার, আইনকে আপনি শুদ্ধ বললে, তা শুদ্ধ হয়ে যায় না। দেশের মানুষদের জীবনযাত্রার মানই বলে দেয় এই দেশ কতটুকু স্বাধীন? আইনকানুন কতটুকু শুদ্ধ? গণতন্ত্র কতটুকু প্রতিষ্ঠিত? এই আলী ও তার মেয়ের আত্মাহুতির ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে এই দেশে মানবিকতা ও নৈতিকতা বলে কিছু নেই। আর পুলিশ তো পুলিশই। তারা দেশকে সেবা দিতে এতই মগ্ন যে, আমরা সাধারন মানুষের ‘প্রানবায়ু’ যায় যায় অবস্থা। চোর-ডাকাত বিশ্বাস করা যায় কিন্তু পুলিশকে অবশ্যই না। কাফিরের চেয়ে মুনাফিকরা অবশ্যই বেশি প্রতারক।

যারা এই দেশের হাল ধরবে, দেশকে উন্নত করার রাস্তা তৈরী করবে, দেশের বেকুব রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে, কথা বলবে, তারা তাদের পরিবার-কাঁথা-বালিশ-কম্বল গুছিয়ে মাইগ্রেশনের মাধ্যমে পৃথিবীর অন্য সব দেশে পালানোতে ব্যস্ত। তারা জানে, এই দেশের ভবিষ্যত নেই। তাই আগেই ভাগতেছে। রাজাকারেরা ৭১-র একটা ছোট নির্দিষ্ট সময়ে দেশ ও দেশের মানুষদের সাথে বেঈমানী করেছে, আর মেধাবীরা সারা জীবনের জন্য এক শ্রেনীর লোভী-প্রতারক মানুষদের কাছে দেশ ও দেশের মানুষদের বিক্রি করে ভাগতে ব্যস্ত। জোর করে কারো মানবিকতা জাগ্রত করা যায় না যদি না সে নিজে জাগ্রত করে। যারা পালাচ্ছে তাদের ভিতরে কেমন করে দেশপ্রেম জাগানো যাবে? অবশ্যই এটা এক অসম্ভব কাজ। আমাদের এই মিল্কিওয়ে গ্যালক্সীর পাশে এনড্রোমিডা গ্যালক্সীতে যদি কোন পাগলা গারদ থাকত এবং সেখানে যদি পাগলদের চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা থাকত, তাহলে প্রবাসী বাংলাদেশীরা যারা বিদেশে বসে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত, তাদের মানষিক চিকিৎসার জন্য এনড্রোমিডায় যাওয়ার জন্য বলতাম। রাজনীতিবিদদের মত এরাও লজ্জ্বাহীন সম্প্রদায় আর এই গ্রহে তাদের চিকিৎসা নেই।

আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা নীরব। তারা অন্ধ, বধির, বোবা। আলী ও তার মেয়ের আত্মহুতির ঘটনাটি মুক্তিযোদ্ধাদের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে কেমন করে আলী এবং তার মেয়ে আত্মহত্যা করে, কেমন করে শেয়ার বাজার লুট হওয়ার মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ ও তাদের পরিবারদের পথে বসতে হয়, কেমন করে নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন হয়, কেমন করে বাংলাদেশের ব্যাংকের টাকা ফিলিপিন্সের ক্যাসিনোতে যায়, কেমন করে ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা হয়, মিঃ টেন পারসেন্ট ওরফে খাম্বা কেমন করে দেশকে লিড দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়, লক্ষীপুরের কুখ্যাত বাপ-বেটা কেমন করে রাজত্ব করে? সমস্যা লিখতে গেলে হাজার ভলিউম মহাভারত লিখা যাবে। ট্রিলিয়ন-জিলিয়ন সমস্যায় জর্জরিত এই বাংলাদেশ। আর আপনারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন? হে মুক্তিযোদ্ধারা আপনারা কি আসলেই যুদ্ধ করেছিলেন এই দেশ স্বাধীন করতে? যদি যুদ্ধ করেই থাকেন, তাহলে দেশের এই অবস্থা কেন? মুক্তিযোদ্ধা সনদের সাথে এখন মধু মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষ খাইয়া-না খাইয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের পিছনে লেগেছে, এই সনদ যে করেই হোক পেতেই হবে। প্রতি মাসে ভাতা, জায়গার সাথে বাড়ি, ছেলে-মেয়েদের চাকরীর সুবিধা, বিনা খরচে লেখাপড়া, সমাজের ষ্ট্যাটাস সহ… আরো কত কি সুবিধা। সব মধু এখন পাওয়া যায় সনদের মাধ্যমে। মানুষ এখন জুতার তলি ক্ষয় করে দিচ্ছে এই সনদ জোগাড় করতে। হাতেগোনা কিছু মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া আর সব মুক্তিযোদ্ধারাই মিথ্যুক, ভন্ড আর প্রতারক। সত্য সত্যই। সত্য কখনও মিথ্যা হয় না। পুলিশে দিয়ে, আইন দিয়ে, জেল দিয়ে, মাস্তান দিয়ে আপনি আমাকে শায়েস্তা করতে পারেন কিন্তু সত্যের মোকাবিলা করার সাহস আপনার নেই এবং কোনদিন পারবেনও না। দেশটার প্রতি একটু সদয় হোন। একটু নড়ে বসুন। দেখুন দেশের কি করুন অবস্থা। অদৃশ্য আগুনে দেশ ও দেশের মানুষ পুড়ছে। দয়াবান হোন দেশ ও দেশের মানুষদের প্রতি, আপনারা ছাড়া এই দেশ ও দেশের মানুষদের নিয়ে কথা বলার আর কেউ নেই। আপনাদের অনুরোধ জানাই, দেশের জন্য মঙ্গলের জন্য কিছু করুন।

(দুঃখিত, বানান ভুলের জন্য)

৮ comments

Skip to comment form

  1. 4
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    প্রবাসী মানষিক বিকারগ্রস্তদের একটা নমুনা।

    http://www.bdnews24us.com/bangla/article/606596/index.html

  2. 3
    জিয়াউদ্দিন

    আপনার লেখা বরাবরের মতোই পড়লাম। পড়ার পর বিষন্নতায় আক্রান্ত হই। কেন একটা জনগোষ্ঠী নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই টেনে আনছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ ন্যায় -- অন্যায়ের পার্থক্য করতে ভুলে গেছে। ধরুন না সেই বাবার কথা -- যিনি মেয়েসহ আত্নহত্যা করলেন -- তা নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যথ্যা নেই -- কোন বিকার নেই। কি আশ্চর্য। কোন মানবাধিকার সংগঠন, এনজিও বা টকশো ওয়ালাদের কথা নেই। নেই কোন পত্রিকার কলাম -- কারন এই লোকটি দরিদ্র ছিলো। আশ্চর্যজনক ভাবে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে -- আর্থবিত্ত্ব আর ক্ষমতাশালীরা একদল -- বাদবাকী মানুষ একদল। 

    নিশ্চয় আল্লাহ ভাল জানেন -- তবে আগেও বলেছি -- বাংলাদেশ পার্থিব সম্পদে যতটা উন্নতি করছে -- মানবিক আর নৈতিক দিক দিয়ে ততটাই নীচে নেমে যাচ্ছে। জানি না এর শেষ কোথায়। 

     

    ধন্যবাদ আপনার লেখার জন্যে। 

    1. 3.1
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      “বাংলাদেশ দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে — আর্থবিত্ত্ব আর ক্ষমতাশালীরা একদল — বাদবাকী মানুষ একদল।”

      >> জ্বি ভাই, আপনি পয়েন্টটি বলেছেন। আর্থবিত্ত্ব আর ক্ষমতাশালীরা অল্প সংখ্যক কিন্তু তারাই দেশটাকে গ্রাস করতেছে।

      আল্লাহ্‌ আপনাকে সুস্থ রাখুন।

  3. 2
    এম_আহমদ

    এখানে আপনার মনের বেদনা সুন্দর হয়ে প্রকাশ পেয়েছে। আজ জাতীয় মানসিকতা এক চরম হেয়ালীপনায় নিমজ্জিত। সর্বত্র গান, আর গান, আর গান, আর গান। তারপর নাটক, আর নাটক, আর নাটক আর নাটক –প্রেম, আর প্রেম, আর প্রেম, গোপনে, প্রকাশ্যে; যৌনতা, যৌনতা, যৌনতা, হাজারে হাজারে ভ্রূণপাত-বৈদ্যশালা, স্বাধীনতা, স্বাধীনতা। আবহমানকালের সংস্কৃতি: বাঙালী, বাঙালী, বাঙালী, ১১৩ পার্বণ, নতুন নতুন পার্বণ, ব্যক্তিপূজা, ব্যক্তিপূজা, পৌত্তলিকতা, পৌত্তলিকতা, পৌত্তলিকতা, (আবহমান কালের সংস্কৃতি!)। তারপর বিদেশি মাফিয়াদের টাকায় বাণিজ্যিক বুদ্ধিজীবিদের বয়ান, হুমকি ধমকি, গর্জন, আর গর্জন আর গর্জন: তারপর ইতিহাস বিকৃতি, লুণ্ঠনের চেতনা, হরিলুট, হরিলুট। চুপ থাকবেন কিছু বলবেন না। না হলে পাকিস্তানী হয়ে যাবেন, স্বাধীনতা বিরোধী হবেন। এক অদ্ভুত কায়দায় বিভাজিত দেশ। এসব কি অমনি অমনি হয়েছে? পাগল নাকি? এসব হয়েছে social engineering এর মাধ্যমে। ভেড়ির পালকে সুধা পিয়ে ঢোল-ডফকিসহ আবেগী তালে পার্বণের পর পার্বণে নামানো হয়েছে, তারা নৃত্যে বিভোর, আর বিভোর গানে গানে। আর এই বসানো সার্কাসের পিছনে চলছে মাফিয়াদের হরিলুট। আইনসহ সবকিছু এই সার্কাসের অংশ। এখান থেকে পরিত্রাণ নেই। রাষ্ট্রযন্ত্র দলীয় রাজনীতির বাইরে। দল সার্কাসেরই অংশ। এই সেটিং এর কোন পরিবর্তন দৃশ্যগত নয়।

    এইসব লিখা লিখে কোন ফায়দা নেই। অযথা সময় নষ্ট। সদালাপের অল্প কিছু পাঠক লিখাটি পড়ে একসময় ছুড়ে ফেলবেন। আমিও মন স্থির করেছিলাম রাজনীতি বা বাংলাদেশ নিয়ে আর কখনই লিখব না। কিন্তু লিখলাম নিজের অন্তরে বেশ কয়েকদিন যাবত এক তীব্র ব্যথা অনুভব করার কারণে।

    ঠিক বলেছেন। তবে কথা বলতে পারলে ভাল। এতে এক শ্রেণীর নৈতিক চেতনায় আশার সঞ্চার করবে।

    (অন্তত "দুঃখিত" বানানটি শুদ্ধ করে নেবেন)। সালাম।

    1. 2.1
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      আহমেদ ভাই, ওয়ালাইকুমুস সালাম।

      বানান ভুলের জন্য অনেক পাঠক আমার লিখা পড়তে আগ্রহী হয় না। আর কেন যে এত বেশী বানান ভুল হয়ে যায়, তাতে নিজেও অবাক হই। লিখার উপর রিভিশন দেওয়া হয় না, লিখেই পোষ্ট করে ফেলি। যার ফলে ভুল থাকে।

      আপনাকে ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। আল্লাহ্‌-র কাছে দোয়া, আমাদের দেশের উপর রহমত নাজিল করুন। মানুষের জীবনযাত্রায়য় সুস্থতা আসুক।

  4. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @সম্পাদক সাহেব,
    আসসালামু আলাইকুম।
    হেডিং-সহ লিখার ২/১ টি জায়গায় আপডেট প্রয়োজন। আর এডিট করলেও আপডেট হচ্ছে না। বার বার log-in করছি কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। হোম পেজে কোন আপডেট দেখায় না। কমেন্ট করতে অসুবিধা হচ্ছে।সদালপকে ভাল ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ করুন। 🙂
    ধন্যবাদ।

    1. 1.1
      সদালাপ কর্তৃপক্ষ

      ওয়াসসালাম।

      কয়েকটি জায়গায় এডিটরিয়াল চেঞ্জ করেছি। আর কোন পরিবর্তন প্রয়োজন হলে সেটি করে সাবমিট করে দিন। আপডেট হবে ।  হোমপেজে বা পোষ্টে  ইমিডিয়েট আপডেট দেখার জন্য রিফ্রেস করুন অথবা এড্রেস বার এ www. বাদ দিয়ে শুধু shodalap.org লিখুন।  যেমন এ পোষ্টটির জন্য এড্রেস বারে http://shodalap.org/masud/34940/ এরকম হবে। 

      ডাক্তার দেখছে; বলছে আমাদের নাকি খানিকটা ধৈর্য ধরতে হবে। মনে হচ্ছে সর্দি-কাশি কেস। জার্মান প্রবাদ যেমন বলে- ওষুধ খেলে ঠান্ডা সারতে সাতদিন লাগে, না খেলে সারতে লাগে এক সপ্তাহ। 

      ধন্যবাদ।

      1. 1.1.1
        মোঃ তাজুল ইসলাম

        সম্পাদক সাহেব,

        অনেক ধন্যবাদ আপডেট করে দেওয়ার জন্য। আল্লাহ্‌ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.