«

»

Aug ১০

সমাজের বেশীরভাগ মুসলিমদের ঈমান ভেজাল এবং সন্দেহপ্রবণ

“নবী (সাঃ) পালক পুত্রের বউ-কে কেন বিয়ে করতে গেলেন? দুনিয়ায় কি আর কোন ঘটনা ছিল না? তার কি পালক পুত্রের বউকে বিয়ে করাই লাগত?”- কথাটি শুনে খুব আহত হই। বললাম, আপনি একজন ধার্মিক। আপনি প্রতিদিন ইবাদতের পাশাপাশি প্রায়ই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন, আরো অনেক ভাল কাজ করেন। আপনার কাছ থেকে এরকম কথা আশা করিনি। আর আপনার কথা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, আপনি ইবাদত করেন সন্দেহের ভিতরে থেকে। ইবাদতে যদি অনু পরিমান সন্দেহ থাকে তাহলে সেই ইবাদতে নিষ্টা আসে না। আমরা দুনিয়ার সকল মুসলমানরা ইবাদত করি ভয় এবং আশার মাঝখানে। এক আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না, কার ইবাদত কবুল হচ্ছে আর কারটা না। আমরা মুসলমানগণ ইবাদত করে শুধু আশা করতে পারি, আল্লাহ্ আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে ইবাদত কবুল করে নিবেন। শুধু নিজের জন্যই দোয়া করলে হবে না, দুনিয়ার সকল ভাইবোনদের জন্যেও দোয়া করা আবশ্যিক। আর আশা তখনই করা যাবে যখন ইবাদতে নিষ্টা দেওয়া হবে। আর নিষ্টা তখনই আসবে, যখন নিজ ভিতরে উন্নত চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। আর উন্নত চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হবে তখনই, যখন 'সত্য'-কে জানতে সামার্থ্য হবে(যিনি অন্তরের পর্দা বেধ করতে সাফল্য হবেন)।

 

 

জাহাজের তলে যদি কোন ছিদ্র থাকে তাহলে সেই জাহাজ পানিতে ডুবে যাবে, তেমনি ‘সন্দেহ’ হল সেই রকম অন্তরের একটি ছিদ্র। এই ছিদ্র দিয়ে ইবলিশের দলবল অন্তর দখল করে বসে এবং শক্ত ও মজবুত ভাবে আস্থানা গাঁড়ে। পুরো অন্তরকে অপবিত্র এবং দূষিত করে ফেলে কিন্তু সে বোঝতে পারে না। একজন চরিত্রবান মানুষকে শুধুমাত্র সন্দেহ দিয়েই চারিত্রিক গুনাবলী ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। বলি, আমাদের নবী(সা)-র পক্ষে কখনই কোন মন্দ কাজ করা বা চিন্তা করা সম্ভব না। উনি রাসুল। কেন নবী(সা) পালক পুত্রের ছেলের বউকে বিয়ে করলেন, তার কারনসমুহ নেটে পাবেন। অনেক ইসলামিক স্কলার এই বিয়ের কারনসমুহের উত্তর দিয়েছেন। সব বিস্তারিত ভাবে বলা আছে। আবার বলা শুরু করলেন, “তাই বলে কি পালক পুত্রের ছেলের বউকে বিয়ে? এটা শুনতে কেমন লাগে?” বলি, নাস্তিকদের মত বলার ধরন আপনার মুখে মানায় না। বলার উদ্দেশ্যের তীরটা থাকে, নবী(সা)-কে কামুক হিসেবে জাহির করা। জায়েদের সাথে জয়নবের বিয়ে নবী(সা) স্বয়ং দিয়েছেন, উনি কামুক হলে যায়েদের সাথে বিয়ে দেওয়ার আগেই জয়নবকে বিয়ে করতে পারতেন। আর গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলে, নবী(সা) কামুক হলে উনি আর রাসুল থাকেন না। আপনি যদি প্রমান করতে পারেন, নবী(সা) কামুক ছিলেন- তাহলে আমি এখনই ইসলাম ত্যাগ করব। আমার কথা শুনে কিছুটা নরম হলেন। বোঝতে পারলাম, উনি নরম হলেও মনের খটকা যায় নাই।

 

 

আবার অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলেন। “একজন বৃদ্ধ নবী(সা) কেমন করে শিশু আয়েশাকে বিয়ে করে? এটা কি মানানসই হল? উনি তো বিশ্বের সকলের নবী, তাহলে কেন এইটি শিশুকে বিয়ে করবেন? কেন নবী(সা) দাস প্রথাকে উচ্ছেদ করেনি?” বলি, আপনি যে সকল প্রশ্ন করতেছেন, তার সব জবাব নেটে দেওয়া আছে। সব কিছু সুন্দরভাবে বিশদ আলোচনা করা আছে। সদালাপ নামক একটি ওয়েব সাইট আছে। সেখানে অনেক স্কলার, লেখক নাস্তিকদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং এখনও দিচ্ছেন। ১৪০০ বছর আগে তখনকার সমাজ ব্যবস্থা এমনই ছিল, ভুল ছিল না। আমার দাদীরও বিয়ে হয়েছে ৬ বছর বয়সে। এক যুগের প্রথা অন্য যুগে অচল। মক্কা থেকে মদিনার দুরত্ব প্রায় ৪৫০ কিমি। এখনকার যুগে ৩/৪ ঘন্টা লাগে গাড়ী দিয়ে যেতে, নবী(সা)-র যুগে ১৩/১৪ দিন লাগত। নাস্তিকরা বলে না, নবী(সা) কেন গাড়ী আবিষ্কার করে ৩/৪ ঘন্টায় মক্কা থেকে মদীনায় যায় নি? এরা এদের সুবিধামত ছিদ্রাম্বেষী কথা বলে। ইসলামের দুর্বলতা খোঁজে সেখানেই আঘাত করতে তারা ব্যস্ত।

 

 

নবী(সা) ছিলেন একজন রাষ্ট্র পরিচালক, সমাজ পরিচালক, একজন আদর্শ পিতা, একজন আদর্শ স্বামী, একজন আদর্শ বন্ধু, একজন আদর্শ প্রতিবেশী, একজন উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি সকল মুসলিম ভাইবোনদের জীবনের জিম্মাদার। দুনিয়ার সকল মানুষদের চারিত্রিক পরিবর্তনের দায়িত্ব নিয়েছেন। তার মানুষিক অবস্থা সম্পর্কে অমুসলিম দূরে থাক, মুসলমানদের পক্ষেও অনুভব/বোঝা দুষ্কর। মুসলমানদের জন্য ৪ বিয়ে সীমা ঠিক করে দিলেও নিজের ১ ডজন বিবি ছিলেন। পরিস্থিতির কারনে তাকে বিয়ে করতে হয়েছে। যারা নবী(সা)-র নিন্দা করে, সেই সকল নিন্দুকদের মহানবীর সকল দায়িত্ব অর্পন না করা হোক শুধু ১২ বিবিকে তার সাথে আবদ্ধ করে দেওয়া হোক আর দেখা যাক, সে কতক্ষন নিজেকে সুস্থ রাখতে পারে? সে কতক্ষন নিজেকে ধৈর্যের ভিতরে ধরে রাখতে পারে? নিঃসন্দেহে ১২ বিবির যন্ত্রনায় অল্প কিছু দিনের মধ্যে ন্যাংটা পাগল হয়ে ঘুরে বেড়াবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত; আর অন্য দায়িত্বগুলো উল্লেখ নাই-বা আনলাম। নাস্তিকরা কুযুক্তিবাদী; এরা যুক্তি বোঝে না, বাস্তবতা সম্পর্কে কোন ধারনা নেই।

 

 

সুতরাং আপনি অযথা সন্দেহপ্রবন হবেন না। আপনি ইবাদত করুন নিষ্টার সাথে। সন্দেহ দূর করেন। নিজের সাথে বোঝেন আপনি কি চান? সন্দেহযুক্ত ২ নম্বরি ঈমান নিজ স্বত্বা থেকে দূর করেন। কিভাবে দূর করবেন, সেই রাস্তা নিজেই বের করুণ। আমি যোগ করি, আপনাকে পবিত্র হতে হবে। অন্তর পবিত্র করতে হবে। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন কিভাবে অন্তর পবিত্র করতে হয়? আল্লাহ্‌ পথ পদর্শক এবং হেদায়েতকারী। আল্লাহ্‌ আপনাকে রাস্তা দেখাবেন যখন আপনি দেখতে চাইবেন। এই ইচ্ছা জাগ্রত করার রাস্তা কি- তা নিয়ে ভাবুন। যতক্ষন আপনি চাইবেন না, ততক্ষন রাস্তা পাবেন না। খুব সহজ। “যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব (২৯:৬৯)“।

 

 

“অঙ্গিকার”- একটি খুব গুরুত্বপুর্ন আমানত মুমিনদের জন্য। আল্লাহ্‌ বলেছেন যার ভিতরে ৬টি গুণ আছে, সে জান্নাতী। এই ৬ টি গুণের ১-টি অঙ্গিকার। অথচ আমাদের সমাজে সর্ব স্তরের লোকদের কাছ থেকে এই গুণটি অনুপস্থিত। এই মূল্যবান জিনিষটি সমাজ ও দেশ থেকে হারিয়ে গেছে। মিথ্যা বলা, সুদ খাওয়া, ঘুষ খাওয়া, গীবত করা, সমালোচনা করা, দূর্নীতি করা, অহংকারী হওয়া, হেয় করা, সম্পর্ক ছিন্ন করা… সবই চলছে সাথে নামাজ, রোজা, হজ্জ্বও চলছে… এই ২ নম্বরি, ৩ নম্বরি, ১০ নম্বরি… ভেজাল ঈমানের কি মূল্য? অন্তরই যদি পবিত্র না হয়, তাহলে সেই নামাজ রোজার কি মূল্য? সেই ঈমানের কি মূল্য? “তাকওয়া” জিনিষটি আমাদের এই মুসলিম সমাজে এখন নেই। যে ২/৪ জনের ভিতরে আছে, তারা নিজেদের সমাজ থেকে আড়াল করে ফেলতে বাধ্য হয়েছে। এক অস্থির মুসলিম সমাজ ব্যবস্থা। অশান্তি আর অস্থিরতায় আকাশ বাতাস পরিপুর্ন।

 

 

আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী সবাই নামাজি, হাজী, রোজাদার- আলোচনায় জিজ্ঞেস করি, মৃত্যুর পর যদি দেখেন যে পরকাল বলে কিছু নেই কিংবা বৌদ্ধ ধর্ম সত্য কিংবা মৃত্যুর পর দেখলেন মা-কালী দাও দিয়া সবাইকে কোপাইতেছে যে, কেন দুনিয়ায় থাকাকালীন আমায় কেন পুজা করলি না? তখন কি করবেন? কথা গুলো শুনে সবাই চুপ থাকে, কথা বলে না। আমার কথা গুলো সহজ ও সরল কিন্তু তারা কেন বোঝে না- সেটা আমার বোঝে আসে না। আবার ঘুড়িয়ে বোঝিয়ে বলার চেষ্টা করি, হজ্জ্বে যাচ্ছেন, ভাল। আপনি কি জেনেশুনে যাচ্ছেন? মোহাম্মদ(সা) সত্য রাসুল, তার কি প্রমান আপনার কাছে আছে? আপনি যে নিজেকে মুসলমান বলেন, তা কি বাপ-দাদা মুসলমান বলে নিজেকে মুসলমান বলেন নাকি নিজে সত্য প্রতিষ্ঠিত করে জানতে পেরেছেন? "ইসলাম ধর্মই একমাত্র সত্য ধর্ম"- ইহা প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন? বাপ-দাদা মুসলমানে নিজেকে মুসলমান বললে, সেই ঈমান কি গ্রহনযোগ্য? সেই ঈমানের দ্বারা কি ইবাদতে নিষ্টা প্রতিষ্ঠিত করা যায়? উত্তরে অনেকেই কোরআনের দুহাই দিয়ে আল্লাহ্‌, আল্লাহ্‌র রসুল এবং কিয়ামতকে সত্য বলতে চায়। বলি, আপনি হিন্দু হলে আজ যেমন কোরানকে সত্য বলতেছেন, তেমনি তখন বেদ-গীতাকে সত্য বলতেন। এই কোরান আপনার পারিবারিক ভাবে পাওয়া। সুতরাং আপনি এখন কোরআন নিয়ে যা বলেন এবং দাবী করেন, তা গ্রহনযোগ্য নয়। কোরআন যে সত্য সেটা আপনি কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন নিজের কাছে? কিভাবে দুনিয়ার সকল মানুষ-দের চ্যালেঞ্জ জানাবেন, ইহাই একমাত্র সত্য গ্রন্থ এই দুনিয়ায়? পারিবারিকভাবে এবং জোড় করে কি সত্য প্রতিষ্ঠিত করা যায়?

 

 

আলহামদুলিল্লাহ; এই রমজানে ইতিকাফে ছিলাম। মসজিদের এক তালা- দুই তালায় অনেক মুরুব্বী ইতিকাফে ছিলেন। ইতিকাফে যারা ছিলেন এবং অন্যান্য মুরুব্বীদের ধর্মের উপরে উল্লেখিত মৌলিক প্রশ্ন করায়- আক্রমনের শিকার হলাম। জানতে চেয়েছিলাম- তারা জেনে এবং বোঝে ইসলাম-কে গ্রহন করেছেন কিনা? সন্দেহমুক্ত ইবাদত করে কিনা? বেশীর ভাগ মুরুব্বীর উত্তরঃ “মুসলমান ঘরে জন্ম নিয়েছি সেইজন্য শুকরিয়া আদায় করি”- এর বেশি কেউ কোন কথা বলেন নি। হয়ত এর বেশী জানা নাই। মসজিদের ঈমাম(প্রফেশনাল কাদুনে মোল্লা, সারাবছর মিলাদ নিয়া ব্যস্ত। মানুষের বাসায় দোয়া করিয়ে টাকার বিনিময়ে কান্না করে) সাহেব মসজিদের সেক্রেটারীর মাধ্যেমে আমায় আঘাত করলেন, আমায় বললেন- আমি বিপথগামী। আর যেন এই ধরনের কথা না বলি, সেই জন্য এক প্রকার আমায় থ্রেট দেওয়া হল। আমি যেহেতু মাদ্রাসার লাইনে পড়াশুনা করি নাই, তাই আর যেন কখনও ধর্ম নিয়া মন্তব্য না করি এবং ধর্ম নিয়ে কথা বলার অধিকার আমার নেই। কারন, আমি আলেম নই। আমি বাক্যহীন, এই সকল বেকুবদের কি বলব? মুক্তমনা/ইষ্টিশন ব্লগের ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামের জন্য যতটুকু ক্ষতিকর, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশী ক্ষতিকর, এই সকল হালুয়া মার্কা মোল্লারা। বাংলাদেশে এই সকল হালুয়া মার্কা মোল্লা ভরে গেছে মসজিদগুলোতে। এক হালুয়া মার্কা মোল্লা আরেক মসজিদে নামাজ আদায় করতে যায় না। কারন, ঐ মসজিদের ঈমাম তারাবীর নামাজ/ওয়াক্ত নামাজ যা পড়ান, তা তারা শুদ্ধ মনে করে না। এদের ভিতরের ইতিহাস অনেক বড়। মোল্লারা নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি আর হিংসার গুলাগুলিতে সর্বদা লিপ্ত।

 

 

চারিপাশে যত মুসলিম দেখি সবাই নামাজি, হাজী, রোজাদার, আল্লাহওয়ালা কিন্তু কাউকে ঈমানদার দেখা যায় না, দূষিত অন্তর, তাকওয়া অনুপস্থিত। “কিয়ামতের আগে যে সমস্ত মুমিন জীবিত থাকবে তাদের জন্য ঈমান নিয়ে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে (বুখারী & মুসলিম)”।

 

প্রমানঃ

মোহাম্মদ (সা.) সত্য রাসুল এবং মৃত্যুর পর প্রত্যেককে সৃষ্টিকর্তার কাছে সকল কর্মের জবাবদিহি করতে হবে- এতে কোন সন্দেহ নেই।

 

 

১১ comments

Skip to comment form

  1. 4
    nomantutul

    মজলুম ভাই , সবকূল রক্ষা  করে এমন তাত্ত্বিকমার্কা ভ্রাতৃত্বসুলভ উদারনৈতিক ইসলামের স্বরূপ  ব্যাখ্যা করতেই থাকবেন কিন্তু এর প্রয়োজনীয়তা কি ,কোন লক্ষ্যেও উদ্দেশ্যে হবে  তার কোন  সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা দিতে পারবেন না,বলবেন এগুলোতো স্কলারদের কাজ! আশ্চর্যের কথা এই আপনারাই আবার স্কলারদের কাঁটাছেঁড়া করে একাকার করে ফেলেন!

    বেয়াদবী হলে ক্ষমাপ্রার্থী !

    1. 4.1
      মজলুম

      অনেকেইতো করে, ওদেরকে কি অনুসরন করবেন?। যেমন আইএসএস, সব মুসলিমকে কাফির ঘোষনা দিয়ে মসজিদ, মাজারে, রমনা বটমূলে বোম্বিং করে সবাইকে মেরে ফেলবেন। জামাত-শিবিরের মতো বিএনপি আওয়ামিলীগকে বাতিল শক্তি বলে কোরান শরিফের আয়াতগুলোতে কাফিরের জায়গায় বাতিল লাগিয়ে দিবেন। তারপর এই বাতিল শক্তির বিরুদ্বে জেহাদ করবেন। ওহুদ বদর যুদ্বের ঘটনা বলে কর্মীদের জিহাদি জোশ এনে তা ছাত্রলীগ আর ছাত্রদলের বিরুদ্বে হল দখল, সিট দখলের কাজে ইউজ করবেন।

      আমল বিল মারুফ, নাহি আনিল মুনকার বা সৎ কাজে আদেশ আর অসৎ কাজে নিষেধ আছে, আপনি সেটা করেন, কিন্তু কোরান-হাদিসে যেভাবে বলা আছে সেই ভাবে করেন। সবচেয়ে উত্তম ভাষা, আচার আচরনে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকেন।

      বর্তমান মুসলিমদের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো এরা ১১৪ টা সূরার পুরা কোরান শরীফ নিজেরা অর্থসহ না পড়ে কোথাকার কোন শাইখ, ইসলামি চিন্তাবিদ, হেনতেন হাবিজাবি লোকদের তাজখেরাতুল মাজখেরাত, কাজখেরাতুল বাজখেরাত মার্কা বই পড়ে মাথা ঘুরিয়ে ফেলে।

      আরে ভাই, যিনি আমাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন, সবকিছুতে একক কতৃত্ব যার, যিনি সবকিছুর মালিক, যিনি সব কিছুই করতে পারেন তার কালাম শরীফ পবিত্র কোরান অর্থসহ বুঝে না পড়ে ঐসব হাবিজাবি পড়লে মুসলিমরা এমনিতেই মিসগাইডেড হবে।

      কতো সুন্দর কোরানের শব্দ চয়ন, কতো সুন্দর কোরানের ভাষা। ক্বারীদের কোরান তেলাওয়াত শুনা কি যে মাইন্ড ব্লোয়িং, মনে হয় কলিজাটা ছিড়ে বেরিয়ে আসে। কোরান হলো হতাশাবাদিদের জন্যে আশা, মিসগাইডেড লোকদের জন্যে গাইডবুক। গুনাহগারদের জন্যে রহমত সরুপ। যেই কোরান কে পাহাড়, পৃথিবী গ্রহন করতে অপরাগ বলে জানিয়েছে, যেই কোরানকে শুধু এই উম্মতে মোহাম্মদিদের(সঃ) এর কাছেই দেওয়া হয়েছে। যেই কোরান পড়ার সৌভাগ্য ফেরেশতাদেরও হয়নি।

      এমন একটা বই পেয়েও কেন জানি মুসলিমরা পুরা কিতাবের অর্থ সহ না পড়ে অন্য লোকদের তাজখেরাতুল মাজখেরাত পড়ে।

      আমাদের আগে পুরা কোরান শরীফ অর্থ সহ পড়তে হবে, তারপর সহীহ হাদিস। এগুলো শেষ না করলে বাকি যত মতবাদ আছে মুসলিমদের মধ্যে যেমন, সালাফি, মাজহাবি, দেওবন্দি, বেরেলভি, ইখওয়ান, মওদুদি, কুতুবিদের নেতারা তাদের বই গুলো খন্ডিত দুই একটা আয়াত আর হাদিস দেখিয়ে তার মতবাদই সঠিক বলে প্রচার করে আর মুসলিমদের তা শেখায়। এতে সাধারন মুসলিমরা বিভ্রান্ত হয়, ঐ মতবাদই সঠিক ধরে নিয়ে তাদের অনুসারীরা অন্য অনুসারীদের সাথে তর্ক বিতর্ক আর ঝগড়ায় লিপ্ত হয়।

      অথচ সব মুসলিমদের যদি আগে থেকে ১১৪ টা সূরা অর্থসহ পড়ে নিতো, সব সহিহ হাদিস গুলো পড়ে নিতো তাহলে এভাবে মিসগাইডেড হতোনা।

      1. 4.1.1
        nomantutul

        এই যে দেখেন, নিজেদের মধ্যেই কথা আদান প্রদানের মধ্যে  আইএসএস মার্কা রেটোলজিকাল ফ্যালাসী করলেন যেটা করে  বর্তমানে   সেক্যুলাররা(সব ক্যাটাগরী ) শিক্ষিত,  প্র্যাকটিসিং মুসলমানদের সাথে মজা নেয় বা আলোচনার ইতি টানে। যাইহোক বিভক্ত মুসলিমদের ভ্রাতৃত্ববোধের অবাস্তব  (আমিও একসময় এইরকমই ভাবতাম ) কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেয়ায় -- আমি আমার মন্তব্যের মূল ফোকাস পয়েন্ট করেছিলাম 'সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা' কি হবে- আপনার উপদেশ হচ্ছে সবাইকে কোরান আর সহীহ হাদিস জানতে হবে বুঝতে হবে(এটাও অবাস্তব)। ভালো কথা, তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম  সব শ্রেনী-পেশার মানুষ তা করলো তাহলে তারা কিসের ভিত্তিতে ও কার নেতৃত্বে এক ভ্রাতৃত্ববোধে আবদ্ধ হবে এবং কেন ও কি উদ্দেশ্যে হবে?  আবার ভাববেন না আমি এখানে পলিটিকাল ইসলামকে নির্দেশ করছি। আমাদের ইসলামী চিন্তাবিদদের এই ইল্যুশুনারী আর রেটরিকাল ইসলাম নিয়েই আমরা সাধারন মুসলমানরা আল্লাহর দয়ায় শয়তানের সাথে ফাইট করে টিকে আছি যার মূল শক্তিই হলো 'অদৃশ্যে ঈমান' যাকে বর্তমান বস্তুবাদী দুনিয়া অন্ধবিশ্বাস বলে।    কোরান পড়লে যে উপলব্ধিগুলো,উদাহরনগুলো আল্লাহ প্রদান করেন তা যখন  বাস্তবতার সাথে মিলাই  তখন ধ্বংস ছাড়া আর কোন সমীকরন তো মিলাতে পারিনা ……..    কিছু ভুল বলে থাকলে আশা করি বুঝিয়ে বলবেন। 

        1. 4.1.1.1
          মজলুম

          কে কি নিয়ে মজা নিলো তা বড়ো কথা নয় তবে আইএসআইএস যে গত ১৪০০ বছরের মধ্যে উম্মাহয়ের উপর এক বড় দাগ রেখে গেছে তা ঠিক হতে কয়েক দশক লেগে যাবে। তাছাড়া হুনাইনের যুদ্বে এই খারেজীদের ব্যাপারে রাসুলল(সঃ) বলে গেছেন যে এরা মুসলিমদের কাফির ঘোষনা দিয়ে হত্যা করবে। এরা খুব ধার্মিক হবে তবুও এরা ইসলাম হতে বেরিয়ে যাবে ঠিক যেমন ধনুক হতে তীর বেরিয়ে যায়। এই হাদিসের উপর ভিত্তি করে ইবনে হাম্বল এদের কাফির বলেছেন।

          মুসলিম ঐক্য আপনার কাছে অবাস্তব হলে মুসলিমদের বিজয় ও অবাস্তব। জয় পরাজয় আসে আল্লাহর পক্ষ হতে। আল্লাহ বলছেন মুসলিমদের ঐক্যের মধ্যে থাকতে। তো আল্লাহর কথা না শুনলে আল্লাহ ও বিজয় দিবেনা। এটা খুবই সহজ হিসাব।
           তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর আল কোরান ৩:১০৩

          আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আল-কোরান ৮:৪৬

          নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড-বিখন্ড করেছে এবং অনেক দল হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপার আল্লাহ তা'আয়ালার নিকট সমর্পিত। আল কোরান ৬:১৫৯

          এবার হাদিস দেখুন,
          Hadith no 1

          Volume 1, Book 8, Number 386: (Sahih Bukhari)

          Narrated Anas bin Malik:

          Allah’s Apostle said, “Whoever prays like us and faces our Qibla and eats our slaughtered animals is a Muslim and is under Allah’sand His Apostle’s protection. So do not betray Allah by betraying those who are in His protection.”

          Hadith no 2

          Book 032, Number 6258: (Sahih Muslim)

          Nu’man b. Bashir reported Allah’s Messenger (may peace be upon him) as saying: The similitude of believers in regard to mutual love, affection, fellow-feeling is that of one body; when any limb of it aches, the whole body aches, because of sleeplessness andfever.

          Hadith no 3

          Volume 8, Book 73, Number 92: (Sahih Bukhari)

          Narrated Abu Huraira: Allah’s Apostle said, “Beware of suspicion, for suspicion is the worst of false tales. and do not look for the others’ faults, and do not do spying on one another, and do not practice Najsh, and do not be jealous of one another and do not hate one another, and do not desert (stop talking to) one another. And O, Allah’s worshipers! Be brothers!”

          Hadith no 4

          Bukhari Volume 5, Book 57, Number 56:
          Narrated Ubaida:

          Ali said (to the people of ‘Iraq), “Judge as you used to judge, for I hate differences (and I do my best ) till the people unite as one group, or I die as my companions have died.” And narrated Sad that the Prophet said to ‘Ali, “Will you not be pleased from this that you are to me like Aaron was to Moses?”

          Hadith no 5

          Bukhari Volume 8, Book 73, Number 160:
          Narrated Abu Huraira:

          The Prophet (Peace be Upon Him)said, ” Whoever believes in Allah and the Last Day, should serve his guest generously; and whoever believes in Allahand the Last Day, should unite the bond of kinship (i.e. keep good relation with his Kith and kin); andwhoever believes in Allah andthe Last Day, should talk what is good or keep quite

          Hadith No 6

          Bukhari Volume 9, Book 93, Number 527:
          Narrated Abu Said Al-Khudri:

          When ‘Ali was in Yemen, he sent some gold in its ore to the Prophet. The Prophet distributed it among Al-Aqra’ bin Habis Al-Hanzali who belonged to Bani Mujashi, ‘Uyaina bin Badr Al-Fazari, ‘Alqama bin ‘Ulatha Al-‘Amiri, who belonged to the Bani Kilab tribe andZaid AI-Khail At-Ta’i who belonged to Bani Nabhan. So the Quraish and the Ansar became angry and said, “He gives to the chiefs of Najd and leaves us!“ The Prophet said, “I just wanted to attract and unite their hearts (make them firm in Islam).” Then there came a man with sunken eyes, bulging forehead, thick beard, fat raised cheeks, and clean-shaven head, and said, “O Muhammad! Be afraid of Allah! ” The Prophet said, “Who would obey Allah if I disobeyed Him? (Allah). He trusts me over the people of the earth, but you do not trust me?” A man from the people (present then), who, I think, was Khalid bin Al-Walid, asked for permission to kill him, but the Prophet prevented him. When the man went away, the Prophet said, “Out of the offspring of this man, there will be people who will recite the Quran but it will not go beyond their throats, and they will go out of Islam as an arrow goes out through the game, and they will kill the Muslims and leave the idolators. Should I live till they appear, I would kill them as the Killing of the nation of ‘Ad.

           

           

          আল্লাহর কথা না শুনে বিজয় কল্পনা করা মতিভ্রম।

          এই যে আমাদের দেশে নব্য কিছু সালাফি আসছে এরা খুব লাফালাফি করে অল্প কিছু ধর্ম শিখেই। ইউটিউবে কিছু ভিডিও দেখে ভাবে সে ইসলামের পন্ডিত হয়ে গেছে। মসজিদে গেলে জোরে আমিন বলে নামাজে। ইমাম আহমেদ বিন হাম্বল(রঃ) চার মাহজাবের এক ইমাম। সালাফিরা নিজেদের লা-মাহজাবি বললেও এরা আসলে ইমাম আহমেদ বিন হাম্বল এর মাহজাব অনুসরন করে। ইমাম আহমেদ বিন হাম্বল  এর লেখা লেখির উপর পড়াশোনা এবং তার অনুসারী ছিলেন ইবনে তাইমিয়া (রঃ) আর ইবনে তাইমিয়ার অনুসারী ছিলেন সৌদির  ইবনে ওয়াহহাব, এরা ইমাম আহমেদ বিন হাম্বল এর মাজহাব ই অনুসরন করেন।
          তাছাড়া সৌদি আরবের অফিশিয়াল ফিকহ হলো হাম্বলি মাজহাব।

          ইমাম আহমেদ বিন হাম্বল বলেছেন যখন দেখবে বেশীরভাগ মুসলিম নামাজে আস্তে আমিন বলছে তখন সবাই আস্তে আমিন বলবে। আর যখন দেখবে সবাই জোরে আমিন বলছে তখন সবাই জোরে আমিন বলবে। তিনি বলেছেন আসতে বা জোরে আমিন বলা ফরজ না কিন্তু মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য রাখা ফরজ।

          একবার মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন কে শিক্ষামন্ত্রী করা হয়েছে জর্ডানে। সে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের জন্যে ব্রাদারহুডের লোকজনদের নিয়োগ দিলো। তাতেও যোগ্য লোকদের অভাব। এরপর উনি ঘোষনা দিলেন যেসব মুসলিম ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে ওদের নিয়োগ দিবেন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে। তাতেও যোগ্য লোকদের অভাব পূরন হলোনা। এরপর উনি ঘোষনা দিলেন যারা শুধু শুক্রবারে জুম্মাহ পড়ে ওদের মধ্যে হতে যোগ্য লোক নিয়োগ দিবেন। এতেও অভাব পূরন হলো না। পরে যারা শুধু ঈদের নামাজ পড়ে ওদের নিয়োগ দিতে থাকলেন।

          এবার দেখুন, একটা মন্ত্রনালয় চালাতে গিয়ে তার হিমশিম অবস্থা, পুরা দেশ চালাতে গেলে কি অবস্থা হবে? আর একটা ইসলামি দল বানিয়ে অনেকে মনে করেন হেন করে ফেলবেন তেন করে ফেলবেন।
          মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড ও এমন ভুল করেছে অনেক ২০১২তে বিজয়ের পর। কোথেকে ইসমাইল কান্দিলকে ধরে এনে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে। সে কোন দল করতোনা। তাকে না বানিয়ে সালাফি নূর পার্টি হতে একজনকে বানালে ভালো হতো। রেভ্যুলুশনারী এক্টিভিস্টদের কয়েকটা মন্ত্রনালয় দিলে ভালো হতো, এই লোকগুলাই মূলত ২৫ শে জানুয়ারীর মিশরীয় বিপ্লবকে প্রথম স্পার্ক করেছে। পরে এই সবগুলাই ৩০ শে জুনের ক্যুকে সমর্থন দেয়। রেভ্যুলুশনারী এক্টিভিস্টরা আসলে মুসরীকে ভোট দিয়েছে, কারন এরা শফিক মিলিটারির লোক বলে তাকে পছন্দ করতো না। তবুও মিশরের ইখওয়ান এদের কোন পদ দেয়নি। পরে আর কি, ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে চরমভাবে।

          তুরস্কের একেপি দেখুন। ২০০৭ এ কামালিস্ট সেনারা ক্যু করবে করবে অবস্থা। তখন এরদোগানকে জোট করতে হয়েছে গুলেনের সাথে। পরে গুলেন চুরি মারে এরদোগানকে ২০১২ তে। এরপর ক্যু করলো গত বছর। তখন এরদোগানকে কামালিস্ট CHP আর ন্যাশানালিস্ট MHP এর সাথে এক স্টেজে উঠেছেন। তাছাড়া কিছুদিন আগের রেফারেন্ডামে ন্যাশানালিস্ট MHP এর সাথে জোট করে ইয়েস ভোটে কোন রকম জিতে গিয়েছেন।

          আর অনেকেই ভাবে একটা ইসলামি দল করেই উনারা সব উল্টে ফেলবেন।

          তাছাড়া ক্রুসেড বিজয়ী সালাহউদ্দিনের ইতিহাস দেখুন। উনি ক্রুসেডারদের বিরুদ্বে ছোট ছোট যুদ্ব করতে করতে মুসলিমদের মধ্যে ও আগে ঐক্য নিয়ে এসেছে। কায়রো, বাগদাদ আর দামেস্কেকে এক ছাতার নিয়ে এসে সবাইকে এক করে নিয়ে এসে তারপর ফাইনাল এসাল্ট করেছেন মসজিদুল আকসা মুক্ত করার জন্যে। শুরু করে ব্যাটল অফ হাতিন, ঐ যুদ্বে জয় হয়ে ফায়সালা হয়ে যায় মসজিদুল আকসার ভাগ্য। তারপর মুক্ত করেন জেরুজালেম। তুর্কি, কুর্দি, আরব, সুদানি হাবশী, ইন্ডিয়ান মুসলিম, সবাই এই যুদ্বে ঐক্যবদ্বভাবে অংশগ্রহন করেছেন।

          সালাহউড্দিন ছিলেন আশারি মাজহাবের অনুসারী। কিন্তু এসব নিয়ে উনি বাড়াবাড়ি করতেন না, সেই জন্যেই উনি বিজয়ী হয়েছেন।

          আর মুসলিমরা যখন আল্লাহর  হুকুম মেনে ঐক্যবদ্ব হবে তখন নেতৃত্ব এমনিতেই উঠে আসবে। গাছে কাঠাল পাকলেই তো গোঁফে তেল দেওয়া হবে।  

           

          যাকগে এটাই আমার শেষ কমেন্ট এই পোস্টে। আপনি কমেন্ট করলেও আর জবাব দেবো না।

           

           

  2. 3
    মজলুম

    শয়তান  ভয়ংকরভাবে মুসলিমদের অধঃপতন চায়। ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বল যখন মৃত্যুশয্যায় উনি একবার জ্ঞান হারাচ্ছেন আবার জ্ঞান আসছে। ঐ সময় উনি বললেন লা বাদ, লা বাদ। উনার ছেলে আব্দুল্লাহ ও ওখানে ছিলেন, সে ভাবলো আমার পিতা এটা কি বললো। ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বলএর জ্ঞান যখন আবার ফিরে আসলো তখন তার ছেলে বললো আপনি এটা কি বললেন যে, লা বাদ লা বাদ। তার মানে হলো এখনো শেষ হয় নি, এখনো শেষ হয়নি। ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বল বললেন শয়তান আমার সামনে দাড়িয়ে আঙ্গুল কামড়াচ্ছে আর বলছে তুই ইমান নিয়ে বেহেশতে চলে যাচ্ছিস আমার হাত ফসকে। তা শুনে আমি বললাম লা বাদ, লা বাদ বা শেষ হয় নি, এখনো শেষ হয়নি।  শয়তান আমার মৃত্যু পর্যন্ত আমাকে বিপথগামী করতে চাইবে।

    ইসলামের খেদমতকারীদের মধ্যে আবু বকর(রঃ) এর পরেই অনেকে ইমাম আহমেদ বিন হাম্বলকে রাখে তার অবদানের জন্যে। সেই লোক এই কথা আর আমরা কি?

    শয়তান ও চেলেপালারা হলো স্টাবোর্ন বা জিদ্দি, এরা মানুষকে বিপথগামী করতে কখনোই হাল ছাড়েনা। যেহেতু তাদের জাহান্নামে যাওয়া কন্ফার্ম, তাই অন্যকেও সেখানে পাঠানোর জন্যে ২৪/৭ কাজ করতে থাকে।

    বেহেশত হতে বিতাড়িত হওয়ায় সে আদম(আঃ) কে দোষারুপ করে প্রত্যেক বনি আদমকে জাহান্নামী করবে বলে আল্লাহর কাছে কসম করে। আল্লাহ সুবাহনুতায়ালও তখন বলেন আমার উপর বিশ্বাসীদের তুই কিছুই করতে পারবিনা। তাছাড়া আমার বান্দা যতক্ষন পর্যন্ত আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আমি তাদের ক্ষমা করতে থাকবো।

    শয়তানের মূল টার্গেট হলো মানুষকে ইসলামের তাওহীদ থেকে সরানো। যদি কোন মুসলিমকে তাওহীদ থেকে সরানো না যায় তাহলে চাইবে সে যেন নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত না করে। তারপরও যদি দেখে যে সে নামাজ পড়ছে, তাহলে তার মনে অহংকার ঢুকিয়ে দেবে যে সে নামাজ পড়ছে, তাই সে একটা কিছু। দান সদকা বা যাকাত দিতে চাইলে তাকে কুমন্ত্রনা দিবে যে এটা দিলে সে গরীব হয়ে যাবে, পরে চলবে কিভাবে, খাবে কিভাবে? তার ছেলে মেয়েরা পরে চলবে কিভাবে? তারপরও যদি লোকটা দিতে চায় তাহলে তার মনে ঢুকিয়ে দেবে লোক দেখানো দান সদকা। লোকটা যেনো মানুষের বাহবা এবং প্রশংসা চায় যাতে তার আখেরাত বরবাদ হয়ে যায়। কোন মুসলিম বড়ো কোন আমল করতে গেলে সে মনে কুমন্ত্রনা দিয়ে তা করতে বাধা দিবে। যদি তা না পারে, তাহলে শয়তান চাইবে বড়ো আমল না করে ছোট টা করুক, যাতে বেশী ছওয়াব না পেয়ে কম টা পায়।

    শয়তানের সবচেয়ে বড়ো ধোকা হলো মুসলিমদের সময় নস্ট করা। অহেতুক বিষয় নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক লাগিয়ে দিয়ে সময় নস্ট করানো।

    কোরান শরীফ পড়ার সময় কেনো হাদীসে আউজুবিল্লাহ হিমিনাশ শাইতোয়ানির রাজীম বলতে বলা হয়েছে? কারন মহান আল্লাহর কাছে শয়তান হতে প্রটেকশান না নিয়ে কোরান শরীফ পড়লে শয়তান কোরানে ভুল দেখাবে, বিপরিত্য দেখাবে, সন্দেহ ঢুকিয়ে দেবে।

    আল্লাহর কাছ হতে প্রটেকশান না চেয়ে শয়তানের সাথে মনের শক্তি দিয়ে, চিন্তা দিয়ে যুক্তি দিয়ে পারা যায় না।
    আউজুবিল্লাহ হিমিনাশ শাইতোয়ানির রাজীম হলো তলোয়ার, যখনি কু চিন্তা, সন্দেহ, ক্রোধ, অহংকার মনে আসবে তখন এই দোয়া পড়লে শতান দূর হয়ে যাবে।  তার সাথে সূরা নাস, সুরা ফালাক আর আয়াতুল কুরসী সকাল বিকাল পড়লে শয়তান হতে দুর্গের মতো প্রটেকশান পাওয়া যায় আল্লাহর কাছ হতে। 

    অনেক সূরায় আল্লাহ বারবার বলছেন, শয়তান হলো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু, শয়তান হলো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। অথচ তাকে দেখা যায়না। আসলে সে সবাইকে ২৪/৭ কুমন্ত্রনা দেয়। আমরা ঘুম গেলেও সে তার পাতানো জাল বন্ধ করেনা। ভিতিকর স্বপ্ন দেখায়, গিট পাকায়।

    এই বইটা সবাই অবশ্যই পড়বেন, এক্সপোজিং শয়তান।

     

    শয়তান আল্লাহর কাছে যে চার প্রমিজ করেছে।

    কিভাবে শয়তান পরিবার প্রথা ধংস করে

     

    কিভাবে শয়তান ভালো মুসলিমদের ফাঁদে ফেলে

     

    1. 3.1
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      মজলুম ভাই,

      আপনার কথাগুলো সুন্দর। অনেক ধন্যবাদ আপনার জ্ঞানময় মন্তব্যের জন্য।

      >> শয়তানের সবচেয়ে বড় ধোকা হলো মুসলিমদের সময় নস্ট করা।

      ==> অনেক মূল্যবান কথা। অযথা সময় নষ্ট করা মুসলমানদের জন্য ভয়ংকর। আমি নিজেও এই দলে। ঈমাম গাজ্জ্বালীর অন্তরে যখন “কিছুই ভাল লাগে না” নামক ঘাড় তেরা ঘোড়া অনুভুতি জাগ্রত হত, তিনি নিজের সাথে জিদ ধরতেন, অর্থাৎ নিজের সাথে জিহাদে লিপ্ত হতেন। নফল নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন, ঘোড়াকে বশে নিয়ে আসতেন। আল্লাহ্‌ আমাদের সেই শক্তি অর্জনের তৌফিক দিন।

      আপনার লিংকগুলোর জন্য অনেক ধন্যবাদ।

      জাযাকাল্লাহ।

  3. 2
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আপনার প্রতিটি শব্দ সত্য থেকে উচ্চারিত হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে বাংলাদেশে যে ইসলাম চর্চা হয় তা মুলত ভক্তিভিত্তিক -- মৌলিক জ্ঞানের চর্চা খুবই কম হয়। মুলত মৌলিক জ্ঞানের চর্চা বন্ধ করে রেখেছে বর্তমান প্রচলিত সাধারন শিক্ষার এবং মাদ্রাসা শিক্ষাও। মাদ্রাসা শিক্ষা অনেকটা টেকনিক্যাল স্কুলের মতো -- কিছু সুনির্দিষ্টি বিষয় পড়িয়ে দেওয়া হয় যা দিয়ে ওরা জীবিকা চালাতে পারে। আর মৌলিক ইসলামের জ্ঞান চর্চাকে প্রকৃতপক্ষে রীতিমতো থামিয়ে রাখা হয়। যার ফলে পিসটিভি-জাকির নায়েক এবং বিলাল ফিলিপস বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। এদের শত্রু হওয়ার কথা নাস্তিকদের -- কিন্তু বাংলাদেশের আলেমদের একটা অংশ ওদের বিরোধী। 

    তাইতো আপনার কথাগুলো যত সহজই হউক ওরা শুনবে না -- বুঝলেও না বুঝার ভান করবে -- কারন এতে তাদের স্বার্থের কিছু অংশ ত্যাগ করতে হবে। সেইটা করতে রাজী না। 

    ভাল থাকবেন। 

    1. 2.1
      মজলুম

      ঠিক কোন কোন মুসলিম দেশে মৌলিক ইসলাম শিখানো হয়? দুই একটা দেশের নাম বলেন প্লীজ, বাকিটা পরে বলবো। পিস টিভি আর জাকির নায়িককে তো বন্ধ করছে আওয়ামী মিডিয়া ৭১ টিভি/বিডিনিউজ২৪, আওয়ামী বুদ্বিজিবী আর আওয়ামী সরকারের দুই মন্ত্রী ইনু আর তারানা হালিম। 

    2. 2.2
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      জিয়া ভাই,

      জাকির নায়েক এবং বিলাল ফিলিপস-দের মত ইসলামিক স্কলার বাংলাদেশে নিষিদ্ধ, ইহা বেদনা দায়ক। মজলুম ভাই পিস টিভি বন্ধ নিয়ে যা বলেছেন- ইহা সঠিক। আপনার কথাও ঠিক। জাকির এবং বিলালের শত্রু হবে নাস্তিক কুল। এই দেশের ক্ষমতাধর মানুষগুলো এক প্রকার নাস্তিক( খাঁটি মুনাফিকও বলা যায়)। আবার মোল্লারাও জাকির ও বিলালের ঘোর বিরুধী। তারাও চায় না ইসলামিক স্কলার-রা বাংলাদেশে আসুক, কারন তাদের আয়-রোজগারে আঘাত লাগবে। এই দেশের মোল্লাদের এইটা বড় অংশ ধান্ধাবাজ।

      আল্লাহ্‌ আপনাকে সুস্থ রাখুন।

  4. 1
    মজলুম

    আজ ১৪০০ হলো রাসুলল(সঃ) চলে গেছেন, তবুও মুসলিমরা আছে। অন্য নবীদের মৃত্যুর পর হতে তার জাতির লোকেরা সবাই ধর্ম ছেড়ে দিতো। তার উপর ২০০ বছরের উপনিবেশিক শাসন, ৭০ বছরের পাকিস্তানি আর বাংলাদেশী স্বৈরাচারদের শাসনে কি আর বেশী আশা করা যায়। তবুও আমারা অনেক বেশী ধর্ম মানি, আপনি সাবেক নাস্তিক শাসিত মুসলিম দেশ আলবেনিয়া দেখলে কি বলবেন। আগের কম্যুনিস্ট শাসিত মুসলিম দেশ উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তানের অবস্থা আরো খারাপ। ওখানে তো ধর্মই নিষিদ্ব ছিলো।
    সূরা বাকারার শেষ ৪-৫ টা আয়াতের বাংলা দেখুন। এই জাতিকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। ইবনে তাইমিয়া ও লিখেছেন এই জাতিকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে, যদিও তাদের বিশ্বাসে ভুল থাকে, বলাতে ভুল থাকে, আর পালনে ভুল থাকে। মুসলিম হয়েও কেউ যদি অজ্ঞতার ধরুন শিরক করে ফেলে যেমন, মৃত লোকেরা কাছে সাহায্য চাওয়া, মাঝারে গিয়ে মানত করা, কবরে গিয়া সাহায্য চাওয়া, এদেরকেও ক্ষমা করে দেওয়া হবে। সেদিন মুসলিমদের অনু পরিমান ইমান থাকলেও সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে।
    এক হাদিসে সাহাবি হুযাইফা ইবনে ইয়ামেন(রাঃ) বর্ননা করেসেন যে রাসুল(সঃ) বলেছেন এমন সময় আসবে যে কাপড়ে যেমন ধীরে ধীরে রং উঠে যায়, ইসলাম ও তেমনি উঠে যাবে ধীরে ধীরে। মুসলিমরা  নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত করাতো দূরের কথা, সেটা কি জিনিস তাই জানবেনা। কোরান শরীফ উঠে যাবে। তখন কিছু বয়স্ক নর নারী থাকবে। তারা বলবে নামাজ, রোজা কি জিনিস তা তো জানিনা। কিন্তু আমাদের বাপ দাদাদের দেখতাম  লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এই কালেমা পড়তো, আমরাও তাই এটা পড়ি।

    এটা শুনে সালেহ(রাঃ) হুযাইফাকে(রাঃ) বললো, শুধু কালেমা পড়ে কি হবে যদি নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাতই না চিনে। এটা শুনে হুযাইফা ইবনে ইয়ামেন(রাঃ) মুখ ফিরিয়ে নিলেন সালেহ হতে। সালেহ এইভাবে তিন বার বললো, প্রতিবারই হুযাইফা ইবনে ইয়ামেন(রাঃ) মুখ ফিরিয়ে নিলো। এবার হুযাইফা ইবনে ইয়ামেন(রাঃ) ঘুরে দাঁড়িয়ে সালেহ কে বললো এই কালেমা তাদেরকে দোজখ হতে বাঁচিয়ে দেবে। এভাবে তিন বার বলেছে।

    এখানে বলে রাখি, হুযাইফা ইবনে ইয়ামেন কিন্তু অনেক বড়ো একজন সাহাবি। মুনাফিক চেনার ব্যাপারে কিছু জিনিস রাসুল(সঃ) হুযাইফা ইবনে ইয়ামেনকে শিখিয়েছেন শুধু। পরে খলিফা উমরের(রাঃ) এর শাসনামলে তিনি তার মজলিসে শূরা এবং মন্ত্রীসভায় কে কে মুনাফিক তা জানার জন্যে হুযাইফা ইবনে ইয়ামেন(রাঃ)কে নিয়ে আসতেন।

    তো মূল কথা হলো, প্রতেকটা মুসলিম যেভাবে বড় হয়েছে সে সে ভাবেই ইসলাম মানে। হয়তো কেউ মানেনা কারন তার মা-বাবা তাকে সেইভাবে শেখাইনি। তাই মুসলিমদের বিরুদ্বে কোন ক্রোধ বা ক্ষোভ না রেখে আমাদের উচিত তাদের ক্ষমার জন্যে এবং গাইড করার জন্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করা। ফেসবুক আর টুইটারে অনেক ফেসবুক মোল্লা দেখি। কোন মুসলিম মেয়ে টি-শার্ট পরলে, জিন্স পরলে বা হিজাব না পরলে তাকে নিয়ে খারাপ কথা বলে, গালাগালি করে। আবার হিজাব পরলেও দোষ, বোরকা কেনো পরেনা বলে। কিন্তু ইসলামতো আমাদের এটা শিখায় না।এই ব্যবহারের কারনে ওরা কি ইসলাম হতে আরো দূরে সরবেনা? ইসলাম আমাদর বলছে উত্তম ব্যবহার করার জন্যে। একটু ভাবুন যে রাসুল(সঃ) এখন আমাদের মাঝে আছেন, তিনি তাহলে এখন এই মুসলিমদের সাথে কেমন ব্যবহার করতেন। তিনি উত্তম ভাষা ব্যবহার করতেন আর মুসলিমদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন।

    1. 1.1
      Obydur

      Thanks Mozlum bhai! Well said brother. You have said it very nicely.

      Tajul bhai, Keep writing. I enjoy reading your articles.

Leave a Reply

Your email address will not be published.