«

»

Oct ০১

রোহিঙ্গা ইস্যু, তাবলিগী দাওয়াত ও তার মীম ভাইরাস

উখিয়া থেকে টেকনাফ; রোহিঙ্গাদের দুঃখ, দুর্দশা, অমানবিকতার চিত্র। রোদ, বৃষ্টি, জ্বরসহ সকল প্রকার অসুস্থতা, অন্তরের সকল প্রবৃত্তি- “ক্ষুধা” নামক এক মহাদানবের কাছে সবকিছু বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এই অন্তর নিংড়ানো কষ্টের উপর যে কারো পক্ষে ধৈর্য ধারন সহজ ব্যপার নয়। ক্ষুধার তাড়নায় এক অদৃশ্য গগন বিদারী নীরব চিৎকার। অতি বৃষ্টির দরুন রাস্তার দুই পাশে পায়ের গোড়ালী কাদায় ডুবে যায়, সেখানেই বাচ্চা কোলে নিয়ে খাবারের আশায়, সাহায্যের আশায় বসে আছে মহিলারা, এক অন্তর জ্বালাময়ী দৃশ্য। টয়লেটসহ মহিলারা নূন্যতম নিজেদের প্রয়োজন মিটাবেন তার কোন ব্যবস্থা নেই। এই একবিংশ শতাব্দীতে এই অমানবিকতার চিত্র দেখে প্রশ্ন হয়- এই দুনিয়া কার? সমাজতন্ত্র, গনতন্ত্র, রাজতন্ত্র নামক পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা লোভী শাসকদের? তারা যা খুশী তাই করবে? হালাগু খাঁ, হিটলার, রামিসিস টু… এদের থেকে বর্তমান বিশ্বের শাষকগন কতটুকু মানবিক, সভ্য, দয়াশীল, বিবেকবান? চীন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিকতাকে ধর্ষণ করে, হত্যা করে তারপর ত্রান পাঠিয়ে নিজের লজ্জ্বাস্থান ঢাকতে ব্যস্ত। লজ্জ্বাস্থান না ঢাকলেও কুছ পরোয়া নেই, তারা বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে চলে, এদের আবার লজ্জ্বাশরম কি? বার্মা আজ যে বর্বরতা চালাচ্ছে তার পিছনে আছে চীনের বড় মদদ। ভারত(মুসলিম বিদ্বেষ মুর্তি পূজক-বিজেপি) কখনই মুসলমানের বন্ধু হতে পারে না। রাজনৈতিক ফায়দা নিতে প্রতিবেশী দেশের প্রতি বেশী মোহাব্বত দেশ ও দেশের জনগনের জন্য শুধু বিপদই ডেকে আনবে। ২৫শে আগস্টে ১২ জন নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যার দায়ে অগনিত রোহিঙ্গাদের উপর যে নির্যাতন করা হয়েছে এবং হচ্ছে, তা অবশ্যই দুনিয়ার সকল রাষ্ট্রপ্রধানরা জেনেছেন এবং দেখেছেন। দুনিয়ার বিবেক নিশ্চুপ। রোহিঙ্গারা আরাকানে বসবাস করছেন শত শত বছর যাবত। তারা কেউই নতুন নন। তবে রোহিঙ্গাদের একটা অংশ বৃটিশ আমলে আরাকানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তারা যদি বার্মার নাগরিকত্ব না পান, তাহলে আজ আমেরিকায় কোন সাদা চামড়ার নাগরিক থাকার কথা না।  আমেরিকা স্বাধীন হওয়ার পর যখন নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়, সাদা চামড়ার সবাই বঞ্চিত হওয়ার কথা।

 

ছোট বেলা থেকে “নোবেল” পুরষ্কারকে খুব সম্মানের বলে বিবেচনা করি। ভাবতাম, আইনস্টাইন এবং আইনস্টাইনের মত জিনিয়াস না হলে এই পুরষ্কার সহজে কেউ অর্জন করতে পারে না। যারা জ্ঞানের সাগরে ডুবে থাকেন তারাই নোবেলের প্ল্যাটফর্মে থাকেন, আমার মত নাদান মানুষদের এই প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কথা বলা মানায় না। কে কি বিষয়ে নোবেল পেল, শুধু এই টুকুই খবরের কাগজের মাধ্যমে জানতে পারতাম। কিন্তু শান্তিতে মহাত্মা গান্ধীর মত লোক নোবেল না পেলেও বারাক ওবামা নোবেল পাওয়ায় আমার নিজের কাছে এই পুরষ্কারের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠে। পূর্বে শান্তিতে নোবেল পাওয়া তাদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। লক্ষ্য করি, ওবামার মত বেশ কয়েকজন শান্তিতে নোবেল পাওয়া, যারা আদৌ শান্তিতে নোবেল পাওয়ার যোগ্য নয়। আমার বিশ্বাস, ওবামা সহ যারা শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন, “শান্তি” জিনিষটা কি- এর উত্তর তাদের জানা নেই। গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জেলে থাকা অবস্থায় ১৯৯১ সালে সুচি শান্তিতে নোবেল পান। সুচি মানবিকতা/জনগনের অধিকার নিয়ে পূর্বে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তার সাথে বর্তমান সুচির মনমানসিকতা ১৮০ ডিগ্রী পার্থক্য। সুচির রোহিঙ্গাদের উপর অমানবিক আচরন নোবেল কমিটির  আহাম্মকি স্পষ্ট। প্রাইমারী স্কুলের বাচ্চা দৌড় প্রতিযোগীতায় পাওয়া মেডেল, শান্তিতে নোবেল পাওয়ার মেডেলের চেয়ে অনেক সম্মানের বলেই এখন মনে হয়।

 

এবার রোহিঙ্গাদের জন্য বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করি। এই বিষয়ে টাকা কালেক্টশন সমস্যা। শুধু টিউবওয়েল স্থাপন করে দিলেই হয় না, সাথে পানি যাওার পথসহ ইট-সিমেন্ট দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা করতে হয়। আগেরবার দেখেছি খুব উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি, এখন বাংলাদেশ আর্মি তদারকি করায় কিছুটা শৃঙ্খলা দেখতে পেলাম। তারপরও সন্দেহ নেই, সরকারী দলের লোকেরা প্রচুর পরিমান ত্রান লোটপাট করছে। রোহিঙ্গা পুরুষ-মহিলা যত সংখ্যক তার চেয়ে বেশী শিশু। লক্ষ লক্ষ শিশু। সকলেই অপুষ্টিতায় ভূগছে। খাবার- প্রয়োজনের তুলনায় কম। ৪০/৫০ টি শিশু যাদের বয়স ৬ মাস বা তার কম তাদের- কাছ গিয়ে লক্ষ্য করি, সব শিশুই অসুস্থ, সারা শরীরে ঘা/স্কিন ডিজেজ। প্রতিটি রোহিঙ্গা মহিলার ৪/৫ টা করে বাচ্চা, আবার অনেকের আরো বেশি। এত প্রোডাকশন! কেমনে কি? আগেরবার এবং এবারও কোণ রোহিঙ্গা অবিবাহিত যুবতী মেয়ে চোখে পরেনি। লক্ষ লক্ষ রহিঙ্গাদের মধ্যে কোন অবিবাহিত যুবতী মেয়ে দেখতে পাইনি; তাজ্জ্বব ব্যপার। সহজেই অনুমেয়- বার্মার আর্মিরা কি পরিমান ধর্ষন, হত্যা ও বর্বরতা চালিয়েছে এবং চালাচ্ছে। বিশ্ববিবেক ঘুমিয়ে আছে। দেখেও দেখছে না।

 

দুনিয়ার মানুষের রুচীবোধ এক আজব চিড়িয়া। কার রুচী কেমন তা দুনিয়ার মানুষদের সাথে না মিশলে বোঝা যায় না। ঢাকা থেকে প্রচুর মানুষ আসছে; আসছে অনেকটা বনভোজন করতে। ছেলেরা/মেয়েরা তাদের সঙ্গী নিয়ে আসছে। রুহিঙ্গা মানুষদের দুঃখ, দুর্দশা দেখে তারা বনভোজন করে। লোকটির নাম আলী হোসেন। বয়েস ৭৫। সে সহ ১০ জনের সদস্যের পরিবার। বউ, মেয়ে, ছেলের বউ, নাতিদের নিয়ে রাস্তায় বসে আছে। তাদের খাবার বা বাসস্থান এখনও হয়নি। ছেলে এবং মেয়ের জামাইদের বার্মার আর্মি ধরে নিয়ে গেছে, তারা জানে না আদৌ তারা বেচে আছে কিনা? কি এক অন্তর শিহরিত কষ্ট। ছেলে ও মেয়ের জামাই হারানোর শোক করার সময় নেই, এখন পরিবারের আশ্রয় ও খাবার নিয়ে চিন্তিত। সবাই ক্ষুধার্ত। চোখেমুখে এক কষ্টময় অসহায়ের ছাপ। ঢাকা থেকে আধুনিক ছেলেমেয়েরা তাদের স্ত্রী/গফ/বফ নিয়ে মোবাইলে তাদের ছবি তোলে, ভিডিও করে মজা নিচ্ছে। মানুষের ক্ষুধা, দুঃখ, কষ্ট- তাদের বিনোদনের অংশ। বীভৎসতায়- বার্মার আর্মিদের তুলনায় এই সকল বনভোজনকারীদের কতটুকু পার্থক্য?

 

বিকাল বেলা কক্সবাজার ফিরে আসি। কলাতলী এলাকায় এক মসজিদে মাগরীবের নামাজ আদায় করে, এশার জন্য অপেক্ষায় আছি। রাত ৯ টায় ঢাকাগামী বাসে ফিরতি যাত্রা। হেলান দিয়ে বসে আছি। পাশে বেশ কয়েকজন নামাজ আদায় করলেন। একজন নামাজ আদায় করে হাত বাড়িয়ে দিলেন, হাত মিলালাম। নাম জিজ্জেস করলেন, জানালাম। কক্সবাজার আসার কারন জিজ্জেস করলেন- কারন বললাম। জানালেন, উনিও রোহিঙ্গাদের ত্রান দেওয়ার জন্য এসেছেন। কথা বলতে বা শুনতে ইচ্ছে করছে না। সারারাত জার্নি করে আসায়, ঘুম হয়নি তারপর সারাদিন রোহিঙ্গাদের সাথে থাকতে হল। খুব ক্লান্ত অনুভব করছি। উনি বলা শুরু করলেন, আল্লাহ্‌ আমাকে ও তার মত লোকদের উপর রাজী ছিলেন বলে ত্রান দেওয়ার মত মহান কাজে আসতে পেরেছি। অনেকের অনেক মাল ও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আসতে পারেনি কিন্তু আমরা এসেছি। এই উসিলায় জান্নাত হয়ে যেতে পারে। কথার ধরনে বোঝা গেল, উনি তাবলিগ জামাতের লোক। তাবলিগী লোক যখন কথা বলা শুরু করে, তাদের কোন খেয়াল থাকে না। কার সাথে কি বলছি, কেন বলছি, যাকে বলছি সে আমার কথা শুনার যোগ্য কিনা, শ্রোতা আমার কথার আকর্ষন করছে কিনা, শ্রোতার সমস্যা হচ্ছে কিনা, কোন পেরেশান আছে কিনা…… এই সকল বিষয়ে জ্ঞান কম। আল্লাহ্‌ কোরানে বলেন, তোমরা ইসলামের পথে আহবান কর প্রজ্ঞার সাথে। প্রজ্ঞা কি জিনিষ? বেশীর ভাগ তাবলিগ জামাতীদের মধ্যে প্রজ্ঞা জিনিষটা নেই- তা লক্ষ্য করেছি।

 

আমার দাড়ি নেই দেখে বলা শুরু করলেন, দাঁড়ি রাখা ওয়াজিব। দুনিয়ার সকল নবী-রাসুলগনের দাঁড়ি ছিল। দাওয়াতের কাজেই আখেরাতের সাফল্য মিলবে। আমাকে অনুপ্রানিত করা শুরু করলেন যেন দাওয়াতের কাজে যোগদান করি। দুনিয়ার ক্ষনস্থায়ী জীবন সম্পর্কে লেকচার শুরু করলেন। আমার ধারনা হল, উনি আমাকে অমুসলিম মনে করতেছেন। দাওয়াতের কাজে যোগদান করলেই আমি মুসলিম হব। উনাকে থামিয়ে বলি, আল্লাহ-র রাস্তায় দাওয়াতের কাজ করা- উত্তম। বলি, উত্তমের উত্তম। তবে ইলিয়াসী তাবলিগের কিছু সমস্যা আছে। তার লিখা কিতাবে যেসব বুযুর্গীর আলৌকিক কেরামতির বর্ননা দেওয়া আছে, তা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক, মিথ্যা এবং বানোয়াট। এই সকল মিথ্যা বানোয়াট গল্প ইলিয়াসের শিষ্যরা বলে বেড়ায়। কিন্তু উনি আমার কথা আমলে নেন নি। উনি উনার বর্ননা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিয়ামত, ফুল সিরাত, বেহেস্তের বর্ননা শুরু করলেন, জান্নাতীরা বেহেস্তে ঢুকার আগে বেহেস্তের গেইট দেখেই ৪০ বছর কাটিয়ে দিবেন- গেইট এতই সুন্দর! হুর এতই সুন্দর যে- সকল জান্নাতীরা হুরের সৌন্দর্যের নুরকে ভুল করে আল্লাহ্‌ মনে করে সেজদা দিয়ে বসবেন। বিশাল সময় নিয়ে উনি বেহেস্তের বর্ননা দিতে লাগলেন। আমি এই বেকুব থেকে পালানোর রাস্তা খুজে পাচ্ছি না। উনার আলোচনার বিষয় বস্তু শুনতে ইচ্ছে করছে না। তার লেকচার চলছে। দুনিয়ায় আমরা যৌন মিলন করি কতসময় ধরে? ৩০ মিনিট, ১ ঘন্টা… আর বেহেস্তে সকলে ৭২ বছর ধরে যৌন মিলন করবে কিন্তু ক্লান্ত হবে না, সেখানে সবাই এতই যৌবনপ্রাপ্ত হবে। তার কথা শুনে হেলান দেওয়া থেকে সোজা হয়ে বসি, মনে মনে বলি- এ তো দেখি ব্রেইন ওয়াশ। ওরে জঙ্গী বানানো কোন ঘটনাই না। ওর মত বেকুব মুসলিমদের সংখ্যা পৃথিবীব্যপী অনেক। নয়ত ইউরোপ ও অন্য এলাকা থেকে এত মুসলিম নামক বেকুব ISIS যোদ্ধা হিসেবে যোগ দিত না। ডকিন্স ও তার শিষ্যরা এদের মত মানুষদের উপর রিসার্চ করেছে বলেই “মীম” ভাইরাস নামকরণ হয়েছে। “মীম ভাইরাস” কথাটা তো আর এমনি-এমনি আসেনি।

 

তার লেকচার চলছে। বেহেস্তের পর দোযখের বর্ননা শুরু করলেন। প্রত্যেকে দোযখীর শরীর ৬০ ফুট লম্বা ও ৪০ ফুট চওড়া বানিয়ে দেওয়া হবে যেন বেশী শাস্থি ভোগ করতে পারে। থামিয়ে দিয়ে বলি, আপনি কি আজই ঢাকা ব্যাক করবেন? জানালেন- আগামীকাল। আমি খুব ক্লান্ত- বলে তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে একটু দূরে গিয়ে বসি। "প্রকৃত মুসলিমগন হুর-পরী বা বেহেস্তের লোভে আল্লাহ্‌র ইবাদত করে না"– এই সত্য-কে তার মত লোকদের বোঝানো যাবে না।

 

বাস ৯ টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে চলে। ১ ঘন্টা পর হঠাৎ বিকট আওয়াজ হয়। ড্রাইভাব গাড়ী থামান নি। ২ কিমি যাওয়ার পর বাস থামালেন। লাইট জ্বালিয়ে চেক করিয়ে দেখা গেল- বিশাল জানালার গ্লাসটি ভেঙ্গে গেছে। এসি বাসের জানালা হওয়ায় জানালার গ্লাস ছিল খুব মজবুত আর সেজন্যই বেচে যাওয়া নয়ত অনেকেই গুরুতর আহত হত। ডাকাতি করার জন্য বাস থামানোর উদ্দেশ্যে শক্ত পাথর/ইট দিয়ে ঢিল নিক্ষেপ। যদি কোন রকম ডাকাতের আক্রমণের শিকার হতাম, হয়ত আমাকে আরো বড় রকমের আহত বা নিহত হওয়ার আশঙ্কা হত। কারন, ডাকাতদের দেওয়ার মত আমার পকেটে কিছু ছিল না। আল্লাহ্‌ সহায়। ভাল লাগার কথা বলে শেষ করি, এই দেশে একটা সংখ্যার মানুষ আছে যারা নিস্বার্থভাবে অন্যের উপকার করে, আল্লাহ-র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য উপকার করে চলছে।

 

 

নোটঃ

শ্রদ্ধেয় পাঠক,

সমালোচনা করার উদ্দেশ্যে আমার লিখা নয়। অভিজ্ঞতা-টুকু তুলে ধরা। এই বাংলাদেশের সব কিছুই অস্বাভাবিক মনে হয়। 

৪ comments

Skip to comment form

  1. 4
    Mijan

    আপনার প্রাণবন্ত লেখার জন্য ধন্যবাদ। আর জিয়াউদ্দিন ভাইকেও ধন্যবাদ খুব সুক্ষ ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যের জন্য। এমন কিছু দিক জানা গেল যা ভালোভাবে জানতাম না।

  2. 3
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    এক শ্রেনীর মুসলমানদের পরিবারে জন্ম নেওয়া জঙ্গীদের মাথা এত গোবর হয় কেন? বিস্মিত হই।

    http://www.prothom-alo.com/international/article/1349096/%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AD%E0%A7%87-%E0%A6%8F-%E0%A6%95%E0%A7%80-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%BF

  3. 2
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    জিয়া ভাই,

    সদালপের শ্রদ্ধেয় ভাইগন সকলেই লিখা থেকে দূরে সরে গেছেন। তারা কেউই এখন আর লিখা দেন না। আমরা পাঠকগন অনেকদিন যাবত জ্ঞানগর্ভ লিখা থেকে বঞ্চিত। ভাইগন কেন নিজেদের সদালাপ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন, তা বোধগম্য নয়। হয়ত আগের মত উদ্দ্যম ও আনন্দ পান না লিখালিখিতে আর হয়ত ব্যস্ততা বেড়ে গেছে কিন্তু সদালাপ-কে তো প্রাণবন্ত রাখতে হবে, নাকি?

    আমি সরল ভাবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার চেষ্টা করি। তবে জানা নেই, সেই চেষ্টা কতটুকু ভাল লাগা দিতে পারি শ্রদ্ধেয় পাঠকদের। আপনাকে ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

  4. 1
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    সহজ কথা কইতে আমায় কহ যে,
    সহজ কথা যায় না বলা সহজে।
    ___রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

     

     কিন্তু আপনি সত্য কথাগুলো কত সহজে বলে ফেললেন। কি অসাধারন। সমস্যা হলো -- উনারা কারো কথা শুনতে প্রস্তুত থাকে না -- পুরো বিষয়টাই মনোলগ -- শুধু উনারা বলবেন। 

    আমি একবার এক বয়ানের পর পিএইচডির এক ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম -- আপনি এতোক্ষন যা বললেন -- তা নিয়ে কতটুকু সময় ভেবেছেন বা এই বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন? উনি দিতে রাজী নন বুঝা গেলো উনি মৌনভাবে হাসলেন। আমি বললাম -- আপনার একটা প্রেজেন্টেশনের জন্যে কত ঘন্টা ব্যয় করেন -- তা শুধু দুনিয়াবী লাভের আশায় -- আর  দ্বীনের কথা বলার জন্যে একটা মিনিটের প্রস্ততি না নিয়ে শুধু শুনাকথাগুলো বলে যান -- আপনি কি মনে করেন এতে কারো উপকার হবে?

    এই কথাটা উনার ইগোতে লেগেছে বুঝা গেলো -- উনি বললেন -- আমিতো অন্যের লাভের জন্যে তবলীগ করি না -- আমার নিজের জন্যে তবলীগ করি। 

    বস্তুত ৩ দিন, ৪০ দিন বা চার মাস পুরোটাই নিজের জন্যে ব্যয় করেন বলে উনারা বলেন। নিজেরা দ্বীন শিক্ষার জন্যে -- আর উনাদের দাওয়াত মানে নিজেদের পথে দ্বীন শিক্ষার দাওয়াত। অনেকটা এসো নিজে করি ধরনের একটা কনসেপ্ট। 

    ধন্যবাদ আপনার লেখার জন্যে আর আপনার কাজের ফলতো আল্লাহ কাছ থেকে আসবে, ইনশাআল্লাহ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.