«

»

Oct ২৫

উচ্ছৃঙ্খলতা ও বর্তমান সমাজের বিষময় জীবন

আমি সমাজবিজ্ঞানী বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নই। সমাজ বা রাষ্ট্রের সমস্যা এবং তার প্রতিকার নিয়ে গবেষনা করব বা মন্তব্য করব, সেই জ্ঞানের অধিকারী বা চিন্তাশীল আমি নই। অতীত জীবনে রাষ্ট্র, সমাজ, জনগণ, রাজনীতি… নিয়ে কখনও চিন্তা করার অবকাশ হয়নি আর আগ্রহীও ছিলাম না। এখন জীবনের তাগিদে, জীবন নির্বাহ করতে প্রতিটি মুহুর্তে বাস্তবতার কঠিনতার পর্দায় বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছি। বারবার নিজের ভিতরে প্রশ্ন হয়, প্রকৃত মুমিনগণ এই সমাজে ও রাষ্ট্রে কেমন করে বেঁচে আছে? দেশের মেধাবীগন যারা মাইগ্রেশনের মাধ্যমে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন, যাচ্ছেন এবং যাবেন তাদের কি বুদ্ধিমান নয় বলব? আমরা যেই সমাজে ও রাষ্ট্রে বসবাস করি, অনুধাবন করি তা চরম উচ্ছৃঙ্খলতায় পরিপূর্ণ। বাজারের তেল, আলু, লবণ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী/রাষ্ট্রপতির চেয়ার পর্যন্ত অস্থিরতা ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত। একটি রাষ্ট্র এত আশ্চর্যময় কেমন করে হয়? নরওয়ে, ডেনমার্ক, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি দেশগুলোর সাথে আমাদের দেশের জীবন যাত্রার মান কেন এত বিস্তর তফাৎ? ঐ সকল দেশেরও সরকার আছে, মন্ত্রী আছে, আমলা আছে… তারাও তো দেশ পরিচালনা করছে। তাদের পরিচালনার সিস্টেম আর আমাদের পরিচালনা সিস্টেমের মান কেন ১৮০ ডিগ্রী কোনে অবস্থান করবে?  

 

আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে অনুভব করি, রাষ্ট্র একটি বিশাল বড় পরিবার। ভুমি, জনসমষ্টি, সরকার, সার্বভৌমত্ব নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত। রাষ্ট্রেকে পরিচালনা করেন সরকার যিনি এই বিশাল পরিবারের কর্তা। এই দরিদ্রযুক্ত দেশ ও বিশাল জন সমুদ্রকে নেতৃত্ব দেওয়া অবশ্যই সহজ নয়। শুধু সৎ, জ্ঞানী, বিচক্ষন, ন্যায় পরায়ন হলেই দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়, তার চেয়ে বেশী প্রয়োজন দক্ষতা এবং সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন সাহস। আর সবকিছুকে প্রতিষ্ঠা করবে যখন অন্তরের লক্ষ্য স্থির হয়। প্রশ্ন আসেঃ এই লক্ষ্য অন্তরে স্থাপন করতে হলে, প্রস্তুতি গ্রহন করার প্রক্রিয়াটি কি এবং কিভাবে নিজের ভিতরে তা প্রতিষ্ঠা করে? রাষ্ট্র পরিচালনা করতে যে সকল গুণে গুণান্বিত হতে হয়, তার ভগ্নাংশ পরিমানও এই দেশের আমলা, মন্ত্রী, রাজনীতিবিদদের ভিতরে দেখতে পাওয়া যায় কি?

 

রাষ্ট্রের কর্তার দায়িত্ব অগনিত, তারমধ্যে একটি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু কি দেখতে পাই? কুমিল্লার ক্যান্টনম্যান্টের ভিতর তনু ধর্ষনের পর হত্যা হয়েছেন। বগুড়ার তুফান বাসা থেকে তুলে এনে ধর্ষন করেছেন এবং ধর্ষিতাগন যখন বিচার চাইতে আসেন, তখন মা-মেয়ে কে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়, এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রকম চিত্রই বিরাজ করছে দেশব্যপী। দেশের মানুষ কতটুকু নিরাপদ!!! এই রকম ধর্ষন, হত্যা, অবিচার এই দেশে কি পরিমান সংঘটিত হয়েছে এবং হচ্ছে, তা পাঠকগন আপনারা ভাল জানেন। সংখ্যা গরিষ্ঠ খবর দৈনিকে আসে না। কোন সরকার ক্ষমতায় আছে তা কোন বিষয় নয়, যেই সরকারই ক্ষমতায় আসুক- হত্যা, ধর্ষণ, অবিচার আমাদের সমাজে ও রাষ্ট্রে প্রতি নিয়ত ঘটে চলে। তনুর ঘটনাটি কুমিল্লায় না ঘটে, জুরিখ বা স্টকহোমে ঘটলে আমরা ফলাফল কি দেখতে পেতাম? ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ সাগর-রুনী খুন হয়েছেন আজও তাদের হ্ত্যাকারীদের খোজে পাওয়া যায় নি; খোজে পাওয়া যায়নি এরকম হাজার-হাজার হত্যাকারীদের। এখন আরেক আতঙ্ক এসেছে 'গুম'; যার নজির এই দেশ ছাড়া দুনিয়ার অন্য কোন দেশে আছে কিনা জানা নেই। প্রশ্ন আসে, বিলিয়ন বিলিয়ন রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে এই পুলিশ, র‍্যাব, সশস্র বাহিনীদের লালন-পালন করে রাষ্ট্র ও সমাজের কি ফায়দা হচ্ছে?

 

বনু কাইনুকা গোত্র অনেকদিন যাবত মুসলিমদের অপমান ও উস্কানি দিয়ে আসছিলো। একদা, এক মুসলিম মেয়ের সাথে অশ্লীল আচরণ করায় এক ইহুদী দোকানদার কে এক মুসলিম হত্যা করল, পরে উপস্থিত ইহুদীরা তার পক্ষ হয়ে সেই মুসলিমকে হত্যা করে। উত্তেজিত হয়ে মুসলমানগন অস্ত্র ধারন করল এবং দাঙ্গায় বেশ কয়েকজন নিহত হলেন। নবী মুহাম্মদ(সা) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিজ শিষ্যদের নিয়ন্ত্রনে আনেন। ইহুদীরা প্রকাশ্যে ও জ্ঞাতসারে চুক্তির শর্তাদি লংঘন করছে। তিনি বনি কাইনুকা গোত্রের আবাসস্থলে গেলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করে তাদেরকে সুনির্দিষ্টভাবে মুসলিম কমনওয়েলথের অন্তর্ভূক্ত হতে কিম্বা মদিনা ত্যাগ করতে নির্দেশ দিলেন। মুহাম্মদ(সা) জানতেন, উচ্ছৃঙ্খলতার কুফল সম্পর্কে। এই উচ্ছৃণখলা ও উম্মাদনা পরিসমাপ্তি না হলে অচিরেই ভয়াবহ পরিনতি হবে, শান্তি ও নিরাপত্তা চিরতরে বিদায় হবে।      

 

আমাদের এই সমাজ ও দেশ উচ্ছৃঙ্খলতায় আকাশ-বাতাস পরিপূর্ন। চারপাশে এক চরম অস্থিরতা বিরাজমান। উচ্ছৃঙ্খল যুব সমাজ। না আছে শিক্ষা, না আছে নৈতিকতা। অশ্লীল শব্দ এবং গালি ছাড়া কোন বাক্য গঠন করে না। কথাবার্তায় রুক্ষতা, চলাফেরায় রুক্ষতা। এখন সব বয়সের মানুষ একসাথে ধুমপান এবং নোংরা রসালো গল্পে মজে থাকে। তা বয়স ১৫ হোক বা ৬০ উর্ধ্বই হোক। রাস্তাঘাটের দখল এবং সকল বয়সের আড্ডায় চরম অস্থিরতা বিরাজ মান, এক অসুস্থ পরিবেশ। মিথ্যা বলা আর ঠগবাজি ছাড়া এই দেশে ব্যবসা  অসম্ভব হয়ে গেছে। মিথ্যা ও ঠগবাজি এই সমাজের এখন আর কোন অপরাধ হিসেবে গন্য নয় বরং তা ব্যবসা এবং সামাজিক সিস্টেম হিসেবে বিবেচিত। যার কারনে নকল ও ভেজাল জিনিষে বাজার ভরে গেছে। সকল প্রকার অসুস্থতা আর নোংরামীতে এই দেশ ও সমাজ সম্পূর্নরুপে নিমজ্জ্বিত। সারা ঢাকায় কোন ফুটপাত দেখা যায় না হাঁটার জন্য। এই শহরটি এখন একটি বিশাল বড় পাবলিক টয়লেট বলা যায়। মল-মুত্র আর ময়লা, আবর্জনা যেখানে সেখানে ছড়ানো ছিটানো। বসবাসের দিক থেকে দুনিয়ার সকল দেশের রাজধানীর মধ্যে এই ঢাকার অবস্থান তলানীতে। এই দেশের পাসপোর্টের মুল্য অন্যান্য দেশের তুলনাতেও তলানীতে। দেশ প্রধান, মন্ত্রী, আমলারা কোন খবর রাখেন? স্কুল, কলেজের ছেলেমেয়েরা ধ্বংস হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ ও মোবাইলের মাধ্যমে। কি ভবিষ্যৎ তৈরি হচ্ছে? মোবাইলে পর্নো ভিডিও-সহ সব রকমের সামাজিক অবক্ষয়-এ ডুবে আছে। মা-বাবারা কতটুকু সতর্ক? সন্তানরা কখন বিপথগামী হয় তা বেশীর ভাগ মা-বাবাদের জানা নেই। ইয়াবা সেবন তরুন প্রজন্মের খুব পছন্দের। মা-বাবারা বোঝতে পারেন না, সন্তান ইয়াবা এডিক্টেড। পুলিশের আচরণ আরো রুক্ষ। উনারা জনগণদের কোন মূল্যই দিতে নারাজ। পুলিশের আচরণ ও কর্ম চরম উচ্ছৃঙ্খল ও কর্কশতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেচে। পুলিশের ধর্ম সেবা দান করা। যারা কর্কশতা, দুর্নীতিতে নিমজ্জ্বিত থাকে তাদের সেবা দেশের মানুষ কতটুকু পাওয়ার আশা করে? সচিবগন নিজেদের ভিন গ্রহের প্রানী মনে করেন। উনারা উচ্চ স্তরের ভিআইপি। উনাদের চলাফেরা করেন এমনভাবে যেমন বিদেশে সকল গাড়িদের নিস্তেজ করে এ্যাম্বুলেন্স চলে।  এই দেশে নাই পর্যাপ্ত পরিমান কর্মের ব্যবস্থা, নাই চাকুরীর বাজার, নাই আয়ের উৎস… সেখানে মহা বিস্ফোরণের মত বেড়ে চলছে জনসংখ্যা। এত জনসংখ্যার জীবিকা কেমনে কি? জীবিকার ধান্ধাবাজির কারনে উচ্ছৃঙ্খলতা বেড়ে চলছে। দখলের উপর দখল। যে যেভাবে পারছে সেভাবেই দখল নিচ্ছে। চারিদিকে 'খাই-খাই' ধান্ধাবাজি। এই দেশের মানুষ জানে না, সুস্থ জীবন কি? সুস্থ জীবন কেমন করে নির্বাহ করে? এই দেশে সব কিছু অস্বাভাবিক। এই অস্বাভাবিকতাকেই দেশের মানুষ স্বাভাবিক মনে করে জীবন নির্বাহ করে চলছে। আর ইহা উচ্ছৃঙ্খলতা তৈরির বারুদ। "ছাত্র রাজনীতি" এই বারুদের জ্বালানী। আমলা, মন্ত্রী, প্রধানরা যদি দেশে এই হাই ক্লাস ভিআইপি-র মত চলাফেরা করেন, তাহলে কেমন করে ভারসাম্য আসবে? ৪ খলিফা কেমন দেশ শাসন করেছেন, সাহাবী হুজাইফা(রা) কেমন শাসন করেছেন, আর আমরা কি দেখি?

 

দুই মহিলা বিদেশ সফর করে দেশে ফিরলে সারা ঢাকা নিস্তেজ হয়ে যায়। জনজীবন স্তম্ভিত হয়ে যায়। দেশের মানুষদের ভোগান্তির এক চরমতা। লক্ষ লক্ষ মানুষ বিমানবন্দর এসে এই গনসংবর্ধনার নামে যে অরাজকতা সৃষ্টি করে, তা কোন দেশে আছে? নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করে জনগনের জানের কষ্ট দিয়ে, এ কেমন নোংরা রাজনীতি? কেন এই উচ্ছৃঙ্খলতা? এই দুই মহিলার কি বোঝে আসে না জনগণের ভোগান্তি? তারা কি জানে না, এই শহরের মুমুর্ষ রুগী, ছাত্র, যাত্রী সহ সব কিছু জিম্মি। আর জনগণের কেন বোঝে আসে না, দেশ পরিচালনা করার মত নুন্যতম দক্ষতাও এই দুই মহিলার নেই। তারা মক্কার কাবায় গিয়া চুম্মা দেয় আবার তাদের আগমনে, রাস্তা ফ্রি করে দিতে গিয়ে রুগীর গাড়ি সময়মত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে না পারায় সেখানেই প্রাণবায়ু ত্যাগ করে। তাদের আগমনে ঢাকায় বিরাজ করে এক মহাঅস্বস্থিকর বোতল-বন্দী যানজট। যারা বোতল-বন্দী যানজটের শিকার হয়েছেন তারা জানেন কষ্টের চরমতা। আর অগনিত মানুষ যারা আসে এই গণসংবর্ধনা দিতে তাদের কি কোনা কাজ নেই? কেন এই চামচামি মার্কা মনমানসিকতা?

 

সমাজ ও দেশের মানুষদের আচরণ, কথাবার্তা পর্যবেক্ষন করলে মনে হয়, এই দেশে গৃহযুদ্ধ আসন্ন। এক শ্রেনী অনেক উপরে উঠে যাচ্ছে আরেক শ্রেনী নিম্ন থেকে নিম্নতর হচ্ছে। নিম্নশ্রেনীর সংখ্যা অনেক। এরা কেউ স্বাভাবিক জীবনে নেই। ভিন গ্রহের প্রানী নামক চোরেরা মালওয়েশিয়া সহ অনেক দেশেই নিজেদের বাড়ি কিনে ঠিকানা তৈরিতে ব্যস্ত। ১২৬ টা দেশের মানুষ বাড়ি কিনছে মালওয়েশিয়ায়। এই ১২৬ টা দেশের মধ্যে চীন ও জাপানের পর বাংলাদেশের স্থান তৃতীয়। ৩৫৪৬ জন বাংলাদেশী মালওয়েশিয়া বাড়ী কিনেছেন। এপ্লিকেশন এবং কিনার প্রক্রিয়া চলছে আরো অনেকের। এতো গেল মালওয়েশিয়া, অনেকেই কিনে নিচ্ছেন বাড়ি ক্যানাডা, যুক্তরাস্ট্রসহ আরো অনেক দেশে। এদের মধ্যে অনেক আছেন সরকারী কর্মকর্তা। এই দেশে কোন জবাবদিহিতা নেই। এই দেশের চুরি, লোটপাটের হিসেব করলে কম্পিউটার হেং হয়ে যাওয়ার কথা।   

  

বাজারের সকল দ্রব্যাদি, ঔষধ, চিকিৎসা, রাস্তাঘাট, সেবা, বাসস্থান… দেশের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে উচ্ছৃঙ্খলতা এবং নৈরাজ্য বিরাজমান নেই। ভাড়ার নামে চাঁদাবাজি, গুন্ডামী চলছে দেশের সকল পরিবহন খাতে। যে যখন ক্ষমতায় আসে, তাদের দলের লোকেরাই নিয়ন্ত্রন করছে পরিবহন খাত। এমনকি এই সমাজের আল্লাহ্‌-র ঘর মসজিদের ভিতরেও উচ্ছৃঙ্খলতা বিরাজমান। উপরে উচ্ছৃঙ্খলা নিয়ে যা বলা হল তা সমাজের ২/১ টি চিত্র মাত্র। এই দেশের মানুষদের সুস্থ জীবন ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে, রাষ্ট্রপ্রধানকেই করতে হবে। আর কোন পথ খোলা আছে কিনা আমার জানা নেই।

 

দেশের প্রধান ফরজ কাজঃ জনগনের চিন্তাধারায় সুস্থতা আনা এবং জাতির আচরণ সুন্দর করা।

(আল্লাহু আকবার)

 

৬ comments

Skip to comment form

  1. 3
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আজকের প্রথম আলোর অনলাইন সংবাদ….. (উচ্ছৃঙ্খলতার কিছু নমুনা)  

    * ছাদে পড়ে ছিল বাবা-মেয়ের লাশ

    * একই পরিবারের ৩ জনের আত্মহত্যা

    * বাড়িতে ঢুকে মা ও ছেলেকে হত্যা

    * মুঠোফোনের জন্য এমন হত্যা

    * বিমানবন্দরে যাত্রীদের প্রতারনার অভিযোগে আটক

    * শিশুকে ধর্ষন, দুই মামা দোষী সাব্যস্ত

    * বন্ধুক যুদ্ধে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নিহত

    * নির্যাতন সইতে না পেরে গৃহবধুর আত্মহত্যা

    * গৃহবধুর গায়ে গরম পানি, খুন্তির ছেঁকা…

    * ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ায় নৌকাডুবিতে জে এস সি পরীক্ষার্থী নাদিরা ও সোনিয়া নামে ২ জন নিহত

    * ছাত্র রাজনীতির অবস্থা হতাশ ও উদ্বেগজনক    

    * যশোরে অর্ধ শত হাত বোমা উদ্ধার

     

    চতুর্দিকে হত্যা আর আত্মহত্যার ছড়াছড়ি….!!!!! দেশের সকল হত্যা, ধর্ষন, লুটপাট, দুর্নীতি… খবর প্রকাশ হলে কি অবস্থা হত? এত গেল শুধু প্রথম আলোর ১ দিনের হিসেব… ১৯৭১-র পর থেকে এই পর্যন্ত হিসেব করা হলে… স্বাধীন বাংলার আসল স্বাধীন চেহারা প্রকাশ পেত।    

  2. 2
    এম_আহমদ

    তাজুল ভাই, সালাম। আপনার লেখাটি ভাল হয়েছে। চালিয়ে যান। আজকাল লিখছিও না, এবং মন্তব্য করতেও আসছি না, তাই নিজেকে কিছুটা অপরাধী মনে হচ্ছে।

    দেশের প্রধান ফরজ কাজঃ জনগনের চিন্তাধারায় সুস্থতা আনা এবং জাতির আচরণ সুন্দর করা।

    এটা সত্য কথা। কিন্তু তা কীভাবে করবেন, সেটা বলতে হবে। তারপর আপনি কিছু করতে গেলেই যারা আপনার উদ্যোগকে ট্যাগিং-এর আওতায় আনবে, তখন কোন পদ্ধতি অবলম্বন করবেন, তাও চিন্তা করতে হবে। অধিকন্তু সমাজের প্রতিষ্ঠিত স্বার্থবাজ শ্রেণী যদি আপনার উদ্যোগে শঙ্কিত হয়, যদি তাদের চামচা-বাহিনী নিয়োগ করে আপনার অবস্থানকে আক্রমণ করে, তখন কি করবেন, এগুলো সামনে আনতে হবে। আজ পদ্ধতি ও কৌশল হচ্ছে প্রধান বিষয়।

    1. 2.1
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      আহমেদ ভাই,

      ওয়ালাইকুমুস সালাম। আল্লাহ্‌ আপনাকে শারীরিক ও মানসিক সুস্থ রাখুন, দোয়া করি।

      জ্বি ভাই- আপনি অনেক দিন যাবত লিখা দিচ্ছেন না। আশাকরি, আমাদের অপেক্ষার অবসান ঘটাবেন। 🙂

      এক কথায় আপনি আসল সমস্যা তুলে ধরেছেন। এই স্বার্থবাজ ও চামচা বাহিনীদের ধরাশয়ী করা খুবই কঠিন কারন তারা দেশটাকে পুরাই তাদের মত সিস্টেম করে রেখেছে যাতে অন্য কেউ কিছু করার ক্ষমতা না রাখে। একটি উত্তম সমাধান হল ‘সময়’। সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তন আসবেই। সময়ের কারনে এই দেশ পরিবর্তন হতে বাধ্য। আর শুনতে বা বলতে ভাল না লাগলেও বলি, হিটলার দরকার এই দেশে। এই দেশ হল মুগুরের দেশ। মুগুর মারলে দেশ ঠান্ডা এবং সব ঠিক হয়ে যাবে। আল্লাহ্‌ ভাল জানেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে কখনও পদ্ধতি বা কৌশল নিয়ে ভাবিনি। তবে বিশ্বাস করি, আপনি এই পদ্ধতি বা কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। ছোট ভাই হিসেবে অনুরোধ আপনার কাছে এই বিষয়ে লিখা দিন। আমার মত অনেকের চিন্তার খোঁড়াক জোগাবে।

      ধন্যবাদ।

  3. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আমাদের সোনার বাংলার সেবকগনের কাণ্ড দেখুনঃ

     

    অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়

    ডিবির ৭ পুলিশ বরখাস্ত, তদন্ত শুরু

    http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1351506/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A7%AD-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B6-%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%A4%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81  

    কক্সবাজারের টেকনাফে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

    কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল আজ বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।

    এই সাতজনের মধ্যে দুজন উপপরিদর্শক (এসআই), তিনজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও দুজন কনস্টেবল।

    এর আগে আজ ভোরে ডিবির ওই সাত সদস্যকে নগদ ১৭ লাখ টাকাসহ আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী

    অপহৃত ব্যবসায়ীর নাম আবদুল গফুর। তিনি কম্বলের ব্যবসা করেন। তাঁর বড় ভাই টেকনাফ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মনিরুজ্জামান ভোররাতেই প্রথম আলোর কাছে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাইকে কক্সবাজার থেকে ডিবির একটি দল অপহরণ করেছে। তাঁকে আটক করে আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে। আমরা টাকা দিতে রাজিও হই। তবে টাকা দেওয়ার বিষয়টি টেকনাফ সেনাবাহিনীকে অবহিত করেছি। পরে ভোররাত চারটার দিকে সেনাবাহিনীর লম্বরী ক্যাম্পের কিছু দূরে ১৭ লাখ টাকা দেওয়ার পর আমার ভাইকে ছেড়ে দের ডিবি সদস্যরা। পরে ডিবির সদস্যদের আটক করা হয়।’

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে র‍্যাবের একটি সূত্র জানায়, আবদুল গফুরকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে অপহরণ করে ডিবির একটি দল। এরপর মুক্তিপণ হিসেবে পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে তারা। কিন্তু দর-কষাকষির পর ওই ব্যবসায়ীর পরিবার ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। টাকা পাওয়ার পর তাঁকে ভোররাতে কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিনড্রাইভ এলাকায় ছেড়ে দেওয়া।

    পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আটক করা ডিবি সদস্যদের জেলা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

    1. 1.1
      Sami

      তাজুল ভাই,

      আসসালাম। আপনার লিখাটি খুব ভাল লাগলো। আপনার মত চিন্তাধারার মানুষ আমাদের দেশে বড়ই প্রয়োজন। আপনি লিখতে থাকুন। আপনার জন্য আল্লাহর কাছে অশেষ দোয়া। 

      1. 1.1.1
        মোঃ তাজুল ইসলাম

        সামি ভাই,

        ওয়ালাইকুমুস সালাম।

        মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। দোয়া শুধু আমার জন্য না, আপনি-আমি সহ দেশের সকল জনগণের জন্য। আল্লাহ্‌ এই দেশের মানুষদের উপর রহমত করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.