«

»

Nov ১৮

গল্প শুনুন, আয়োডিনযুক্ত বাংলা গল্প-৩ (রম্য+বাস্তবতা)

মিরপুর থেকে শাহবাগ পি জি হাসপাতাল, প্রায় ১০/১১ কিমি দূরত্ব। এই টুকু পথ আসতে আড়াই ঘন্টা সময় লাগল। এই দীর্ঘ সময়ে যানজটের উপর ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়- শুধু তাই নয়, আরো অনেক পরীক্ষা আছে।  হাতাহাতি, গালাগালির উপর ধৈর্য। বাস আরোহন করলেই প্রতিদিন ভাড়া নিয়ে কনডাক্টর এবং প্যাসেঞ্জারের মাঝে হাতাহাতি, গালাগালি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যপার এখন। গালিগালাজ এখন সাধারন ব্যপার। বাসগুলোতে চলছে এক ধরনের চাঁদাবাজি। গেইটলক, সিটিং সার্ভিস এর নাম করে পুর্ণ ভাড়া আদায় করে, অথচ বাসগুলো জায়গায় জায়গায় থামিয়ে প্যাসেঞ্জার উঠাচ্ছে নামাচ্ছে। জনগণের ভোগান্তি। এই অন্যায় ও অবিচারের কারনে জনগণের মাঝে তৈরি হয় ক্ষোভ যার কারনে  পরিবহন খাতে এক চরম উচ্ছৃঙ্খলতা। বাসের ভিতরে লিখা ‘ব্যবহারেই বংশের পরিচয়’ কিন্তু বর্তমানে ব্যবহার/আচরণ অসুস্থ। এখনকার ডিজিটাল জমানায় বাসের ভিতরে বংশের পরিচয় হয় গালাগালি, কলার ধরে টানাটানি, চড়-থাপ্পর-ঘুষির মাধ্যমে। এই পরিস্থিতি দেখা বড়ই অস্বস্থির ব্যপার। পরিবহনে অনেক ভদ্র মানুষও যাতায়ত করেন, ভিতরের পরিবেশে তারাও বেদনা এবং অস্থিরতায় ভোগেন। সমাধান কে করবে? যারা সমাধান করবে, পরিবহণগুলো তো তাদেরই, তারাই তো এলাকার সংসদ সদস্য, কমিশনার, সভাপতি। এই উচ্ছৃঙ্খলতা ও ভোগান্তি তৈরি করে রেখেছে নয়ত ব্যবসার নামে চাঁদাবাজির মাধ্যমে টাকা আয় হবে না। বাসের ভিতর শুধু সাধারন যাত্রীই থাকেন না, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া অনেক ছেলেমেয়ে, তাদেরও যাতায়াত করতে হয়। তারা পরিবেশ ও আশপাশের মানুষ থেকে উচ্ছৃঙ্খলতা আর চরম নোংরা কথাবার্তা, গালিগালাজ শুনে অভ্যস্ত হয়ে আসছে। ইহা জাতির জন্য ধ্বংসের আভাস।

 

পি জি হাসপাতালের গেইট দিয়ে ঢুকে অবাক-ই হলাম। বানিজ্য মেলায় এলাম নাকি হাসপাতালে? এত মানুষ কেন? দেশের সবাই কি অসুস্থ হয়ে গেল নাকি? সবাই ছোটাছুটি করছে। কারে কি জিজ্ঞেস করি? প্রথম বড় বিল্ডিং-টায় ঢুকে সামনে ‘সেবা ও তথ্য কেন্দ্র’ পেলাম। যাক, বাঁচা গেল। একটি মেয়ে বসে আছে। কাছে গিয়ে বলি, ছোট ৩ বছরের বাচ্চার মুসলমানি করাব দয়া করে যদি বলেন কিভাবে কি করতে হবে, উপকৃত হই। বাহিরে আউটডোরে যান। আবার বলি, বাহিরে অনেকগুলো বিল্ডিং কোনটায় যেতে হবে? বাহিরে যান ঐখানে আউটডোর পাবেন। এইবার বললেন অত্যান্ত রুক্ষ ভাবে। রুক্ষ এবং জ্বালাময়ী। মনে হল, এইমাত্র বসের কাছ থেকে বকুনী খেয়ে এসেছেন, মেজাজ চরম খারাপ। তারা সেবা করে, বাংলাদেশের পুলিশও সেবা করে… এই দেশের সকল সেবকগন রুক্ষভাবে কথা বলবে- এটাই মনে হয় চিরাচরিত নিয়ম। বেশ কয়েক বছর আগে গ্রামীন ফোনের কাষ্টমার কেয়ারে ফোন করি, তারাও সেবা করে কিন্তু তারা কথা বলল, অত্যান্ত নম্র ও সুন্দর ভাবে। মনে হয়েছিল, নবী(সা)-র শিক্ষা পেয়ে তারা পবিত্রতার জীবনযাপন করেন। প্রয়োজনীয় কথা শেষ করে মেয়েটিকে বলি, আপনি কাষ্টমার কেয়ারে চাকরী করে যেভাবে মানুষের সাথে কথা বলেন, সেভাবে যদি নিজ স্বামীর সাথে কথা বলেন তাহলে আপনার স্বামী হবে এই দুনিয়ার অন্যতম একজন সুখী মানুষ- তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তারা এইরকম পরিচ্ছন্নতা কথাবার্তা না  বললে, চাকরী থাকবে না- ইহাই নিয়ম। এই নিয়ম-টি সরকারী সকল স্তরে এপ্লাই করে দিলে, জাতির রুচীবোধ সুন্দর হত, জাতিকে ধ্বংসের দিকে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচানো সহজ হত।

 

বাহিরে গিয়ে এগুতে থাকলাম। নির্ভরযোগ্য কাউকে খোঁজ করতেছি যেন সঠিক তথ্য পাই। দুইজন লোক টুলে বসে গল্প করছেন। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, ৩ বছরের বাচ্চার মুসলমানি করাব, কিভাবে কি করতে হবে যদি বলে দেন, তাহলে উপকৃত হই। ব্লক-সি বিল্ডিং-র নীচ তলায় যান। ঐখানে জিজ্ঞেস করেন। খোঁজ করে বিল্ডিং-সি বের করি। এখানেও ‘সেবা ও তথ্য কেন্দ্র’ পেলাম। ‘সেবা’ নামটা এখন আতঙ্কের বিষয়। সেবা নামটা শুনলেই মনে হয় রুক্ষতা, উচ্ছৃঙ্খলতা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, হাতাহাতি, কামড়াকামড়ি… আবার কখনও মনে হয় যারা সেবা দেয়, তাদের পিছনে আছে এক অদৃশ্য এনাকোন্ডা যা গ্রাস করবে সুযোগ ও সময়ের ব্যবধানে। ইলেকশনের আগে  দেশের সেবা করার জন্য প্রার্থীগন সুন্দর বিনয়ী নম্রতার সহিত কথা বলেন আর ইলেকশনের পর তাদের ভিতরে কুপ্রবৃত্তি সমুহ সুপার মেসিভ ব্লাকহোলে রুপান্তরিত হয়ে যায়।  কিন্তু আমাদের যেতে তো হবেই তাদের কাছে, সিস্টেমটাই তৈরি করে রেখেছে। উপায়ও নেই।  ব্লক সি-র সেবা-র চেয়ারে বসে আছেন এক মোল্লা। দাঁড়ি টুপি পড়া আল্লাহ্‌ওয়ালা মানুষ। মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ এবং সাথে পান চিবুচ্ছেন। কাগজ হাতে দুশ্চিন্তা ভিতরে ডুবে আছেন। মনে হল হাতের কাগজটি পরিবার বা নিকট আত্মীয়-র এবং এই জন্যই পেরেশানি। পরে বোঝতে পারি, ইহা পরিবার বা নিকট আত্মীয় নয়, এটা ছিল শিকার। রুগী ধরার শিকার। বাড়তি আয় করার জন্য তারা বড়শি দিয়ে রুগী শিকার করেন। তার মন নেই তার কর্তব্যের প্রতি।

 

‘অহংকার’ নামক সত্তাটি মানবিকতা ও নৈতিকতা ধ্বংস করে  এবং মানষিক বিকলাঙ্গ করে ফেলে। এদের চিন্তাধারায় কোন সুস্থতা থাকে না। মানুষ-কে মানুষ ভাবতে নারাজ। সকল সুযোগ-সুবিধা শুধু তাদেরই। তাদেরটা আগে পাইতে হবে তারপর অন্যেরা পাইলে পাইবে, না পাইলে নাই। কিভাবে আগে পেতে হয় বা আদায় করতে হয় তা তাদের আত্মস্থ হয়ে আছে। এই দেশের মানুষগন যারা অধিক অর্থ-সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন, তাদের বেশীরভাগ অহংকারী এবং মানষিক বিকলাঙ্গ। ব্লক সি-র লাইনে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকজন, এক সম্পদশালী বিকলাঙ্গ লাইনের তোয়াক্কা না করেই মোল্লাকে নিজের সমস্যা নিয়ে কথা বলা শুরু করে দিলেন। মোল্লা দুশ্চিন্তা পেরেশানি রেখে ঐ বিকলাঙ্গ-কে সাহায্য করার জন্য ব্যস্ত হয়ে গেলেন। দেশের মানুষ মালের গন্ধ পেলে সব পাগল হইয়া ছুটে। ইচ্ছা হল, নাপিত ডেকে এনে এই সুন্নতী চেহারার দাঁড়ি কামিয়ে মাথার টুপি খুলে দেই। যাই হোক, আমাকে জানালেন, মুসলমানির জন্য ৯ তালায় সার্জারী বিভাগে যোগাযোগ করতে। ৯ তলায় গিয়ে সার্জারী বিভাগে কর্তব্যরত একজনকে  জিজ্ঞেস করি, ৩ বছরের বাচ্চার মুসলমানি করাব, কিভাবে কি করতে হবে যদি বলে দেন, তাহলে উপকৃত হই।  উনি আমার কথা শুনার পর নিশ্চুপ। আবার অনুরোধের মাধ্যমে জিজ্ঞেস করি, উনি কর্কশ ভাবে জানালেন, বর্হিবিভাগ-২ যাওয়ার জন্য। । আর কথা বাড়াইনি, শুধু শুধু কর্কশতার সাথে যাওয়ার কোন মানে হয় না। হাসপাতাল যথেষ্ট অপরিচ্ছন্ন, নোংরা, দেওয়ালে পানের পিক, রুগী/মানুষজন কম্বল-চাদর বিছিয়ে মেঝেতে শুয়ে-বসে আছে। হাসপাতাল দেখে মনে হয়, মেলার সময় লালনের মাজারে এলাম।

 

বহিবিভাগ-২ এর বিল্ডিং খোঁজে বের করলাম। হাসপাতাল তো না, মানুষের ভিরে মনে হল কাওরান বাজারের কাচা বাজারের ভিতরে আছি। ‘সেবা ও তথ্য কেন্দ্র’ খোঁজে বের করলাম। চেয়ারটি খালি। পাশে কিছু মানুষের সাথে একজন কথা বলতেছেন। তাদের জানালেন, আপনাদের যে টেষ্ট দিলেন তা আজ কেন পরেও করাতে পারবেন না। সিরিয়াল পাবেন না। আমার মাধ্যমে করালে এখনই করে দিব। বোঝা গেল উনি সেবক এবং চেয়ার ছেড়ে এখন দালালি কাজ করতেছেন। একসাথে ডাবল ডিউটি। ভাল পারফরমেন্স। জিজ্ঞেস করি, ৩ বছরের বাচ্চার মুসলমানি করাব, কিভাবে কি করতে হবে যদি বলে দেন, তাহলে উপকৃত হই। কিছুক্ষন চিন্তা করে বললেন, বহিবিভাগ-১ যাওয়ার জন্য। এই কিছুক্ষনের মধ্যে চিন্তা করে দেখলেন আমি ভাল শিকার নই। তাই ছেড়ে দিলেন। বহিবিভাগ-১ গিয়ে একই পরিস্থিতি। কাওরান বাজারের কাচা বাজার। তথ্য কেন্দ্র পাওয়া গেল না। এক সিকিউরিটি-কে জিজ্ঞেস করি, ৩ বছরের বাচ্চার মুসলমানি করাব, কিভাবে কি করতে হবে যদি বলে দেন, তাহলে উপকৃত হই। উনি নিজের জায়গা ছেড়ে দুতলায় জেনারেল সার্জনের কাছে নিয়ে গেলেন। আমাকে বাহিরে রেখে উনি ভিতরে ঢুকে গেলেন। বাহিরে অপেক্ষামান অনেক রুগী কিন্তু কেউ কেউ কাজ আগেই ভাগিয়ে নিতে পারেন সম্পর্কের কারনে। কিছুক্ষন পর বের হয়ে বললেন, কই- বাচ্চা কই? স্যারের কাছে নিয়ে যাই। মনে মনে বলি, এ তো দেখি একজন কাজের মানুষ। সিস্টেম করে ফেলতে পারে অল্প কিছুক্ষনেই। বলি, আপনি তো আমাকে জিজ্ঞেস না করেই চলে গেলেন, বাচ্চা তো সাথে নেই, পরে একদিন আসব মুসলমানি করাতে। আজ জানতে এসেছি কিভবে কি করতে হবে। আমার মত শিকার হারানোতে তার মন খারাপ হল। বাড়তি কিছু টাকা কামাইতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভাগ্যে ছিল না। যাই হোক তার নাম সবুজ। ফোন নাম্বার দিলেন আর বললেন এই পরিমান টাকা লাগবে আর তার মাধ্যমে কাজ করালে সে সিস্টেম করে কমিয়ে করিয়ে দিতে পারবে।

 

দেশটা চলে সিস্টেম মোতাবেক। দেশের সব কিছু সিস্টেম। রাজনীতিবিদগণও সিস্টেম মোতাবেক ‘দেশ সেবা’ করেন। তাই তো আমরা দূর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ঢাকা শহর বসবাসের দিক থেকে বিশ্বে শেষ তলানীতে। যানজটের সিস্টেমে দেশের মানুষ দিশেহারা। এই দেশের কোথায় সিস্টেম নেই? বন বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের ৫/৬ টি কার/পাজারো গাড়ি পি জি হাসপাতালের ভিতরে কি করে? চিকিৎসার পাশাপাশি পি জি-তে বন বিভাগের পরিকল্পনার মিটিং হয় নাকি?

 

‘মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম’ বইটি-কে অনেকেই ভাল বলতেছেন। ফেইসবুকে হিট হয়েছে। পিনাকী ভট্টাচার্য সাহেব কি লিখেছেন বইটিতে- জানার আগ্রহ। বইটি পেতে হলে যেতে হবে বাংলাবাজার। শাহবাগ থেকে বাংলাবাজার যানজটের আখড়া। দেশের মানুষের যানজটের উপর ধৈর্যশক্তি দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। প্রেসক্লাবের সামনে নাকাল যানজটে ধৈর্য ধারন করে আছি কিন্তু বাহিরের মাইকিং-এ খুব বিরক্ত হচ্ছি। মাইকিং-এ ৭-ই মার্চের দেশ পিতার ভাষন চলছে। এখন নভেম্বর মাস চলছে। দেশব্যপী এই ভাষন তো হবে মার্চে, এই নভেম্বরে কেন? বাসা থেকে আসার সময়ও মিরপুরে এই ৭-ই মার্চের ভাষন শুনেছি। ইউনেস্কো কর্তৃক ভাষণটিকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামান্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বেশ ভাল কথা। আমরাও খুশী হয়েছি। শেখ সাহেবের ভাষণটিকে আমরাও শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করি। কিন্তু এর চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ন হলঃ তাদের মাইকিং-এ মনে হচ্ছে দেশের মানুষদের ভাষন খাওইয়া পেট ভড়িয়ে তারপর ছাড়বে। সারাদিন মাইকিং করে ৭-ই মার্চের ভাষন জোর করে মানুষদের শুনিয়ে বিরক্ত করা কোন সুস্থতা নয়। যারা মাইকিং করে জনগণের বিরক্ত করতেছেন, তারা তাদের ধান্ধাবাজীর জন্য করতেছেন, রাজনৈতিক ফায়দা ও সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই করতেছেন, অন্য কিছুর জন্য নয়।

 

দেশ দেশের মত সিস্টেম মতই আছে, সব কিছু ঠিক আছে। মনে হয়, আমার সমস্যা। সব কিছু উল্টা দেখি। তাই সবকিছু অস্বাভাবিক মনে হয়।

৩ comments

  1. 2
    অলিউর

    অনেক ভাল লাগল। বাস্তবতাক আয়নায় দেখলাম

  2. 1
    এম_আহমদ

    তাজুল ভাই। সালাম।

    আপনার গল্প লেখার হাত খুবই ভাল। আমরা সামাজিক বাস্তবতা সহজেই উপলব্ধি পারছি। রাস্তা থেকেই বাটপারি, চাঁদাবাজি, গণ-ভোগান্তি সবকিছুই স্পষ্ট। কিন্তু সকল অসৎ আচরণের মধ্যখানে সাইনবোর্ড: ‘ব্যবহারেই বংশের পরিচয়’! গল্পের দেশটির ‘বংশ-পরিচয়’ দারুণ!

    তারপর হাসপাতালের বাণিজ্য-মেলা আরও প্রমোদকর। এখানকার বংশ পরিচয় অন্য পার্থক্যে সজ্জিত। ‘সেবা কেন্দ্র’ লিখা থাকলেও সেটা “আতঙ্কের বিষয়। সেবা নামটা শুনলেই মনে হয় রুক্ষতা, উচ্ছৃঙ্খলতা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, হাতাহাতি, কামড়াকামড়ি…”। ওখানে সিস্টেম মত কাজ করাতে গেলে “সিরিয়াল পাবেন না। আমার মাধ্যমে করালে এখনই করে দিব।” এটাই সিস্টেম!

    তারপর গল্প-রাজ্যের মানুষদের ভাষণ গিলা বিষয়টি বেশ মজাদার: জোর করে গিলানো হচ্ছে ৭-ই মার্চের ভাষণ।

    সবচেয়ে ভাল লেগেছে এই বাক্যাংশটি: “বড়শি দিয়ে রুগী শিকার”। তারপর সেবা-কেন্দ্রে নিজেকে “কাওরান বাজারের কাচা বাজারের ভিতরে আছি” এমন সিমিলিতে দেখা। এই স্থানগুলোতে এবং অন্যত্র মেটাফোর, ইমেজারি, সিমিলি ইত্যাদি যেভাবে আনা হয়েছে তাতে  প্রমাণ করে আপনি গল্পের কাজ ভাল পারবেন, তবে আরেকটু চেষ্টা করতে হবে। আপনাকে লেখার স্ট্রাকচার আরও পরিপাটি করতে হবে, বানান চেক করতে হবে, যতিচিহ্নের ব্যবহার আরও সঠিক করতে হবে। এই কাজটি হচ্ছে আর্ট, এবং এর জন্য অনেক অনুশীলনের প্রয়োজন। নিজের লেখাকে বার বার পড়ে দেখতে হবে।

    গল্পটি হয়েছে ইংরেজির ‘সার-রিয়ালিস্ট’ গল্প: কল্প ও বাস্তব জগতের মিতালীতে গড়া। এখানে এই “দেশটা চলে সিস্টেম মোতাবেক। দেশের সব কিছু সিস্টেম। রাজনীতিবিদগণও সিস্টেম মোতাবেক ‘দেশ সেবা’ করেন। তাই তো আমরা দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ঢাকা শহর বসবাসের দিক থেকে বিশ্বে সবচেয়ে তলানিতে। যানজটের সিস্টেমে দেশের মানুষ দিশেহারা। এই দেশের কোথায় সিস্টেম নেই? বন বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ৫/৬ টি কার/পাজারো গাড়ি পি জি হাসপাতালের ভিতরে কি করে? চিকিৎসার পাশাপাশি পি জি-তে বন বিভাগের পরিকল্পনার মিটিং হয় নাকি?”

    অপূর্ব হয়েছে। লিখতে থাকুন। শক্তিহীনের কলমটি হচ্ছে শক্তি।

    1. 1.1
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      ওয়ালাইকুমুস সালাম। পূর্বে সদালাপে প্রচুর জ্ঞানগর্ভ লিখা আসত কিন্তু এখন পূর্বের তুলনায় কমে গেছে। অনেক ভাই তাদের লিখা থেকে দূরে সরে গেছেন। সদালাপ আগের তুলনায় প্রানবন্ত কিছুটা হারিয়েছে। আমার ভুলও হতে পারে, মনে হল তাই বললাম। সদালাপে আমি পাঠক ছিলাম, লিখতাম না। লিখাতে আমি দক্ষ নই এবং কিভাবে লিখতে হয় সেই জ্ঞান আমার নেই। যা লিখাছি তা ২০১৭ সালেই। লিখা কম আসে বিধায় আমি লিখি যেন সদালাপ প্রানবন্ত থাকে যদিও আমার কোন লিখা মান সম্পন্ন নয়। গল্প লিখতে গেলে কি অনুসরণ করতে হয় এবং লিখার মান কিভাবে সুন্দর করতে হয়, সে সম্পর্কে আমার ধারণা নাই। যেরকম অভিজ্ঞতা হয় সেই মোতাবেক যা চিন্তা করি, তাই লিখে দিই। আপনার মন্তব্য থেকে কিছু বৈশিষ্ট্য জেনে ভাল লাগল। বানান ভুল আমার কমন একটি ভুল। অনেক বানান টাইপ করতে ভুল হয় আবার অনেক বানান সঠিকটি জানা নেই বিধায় ভুল হয়। বানান ভুলের জন্য আমার লিখা অনেক পাঠক পাঠ করেন না, তা দুই-একজন আগেই জানিয়েছেন। বাক্য গঠনেও অনেক দুর্বলতা রয়েছে। গীবত বা সমালোচনা অনেক বড় অপরাধ। আমার লিখার মধ্যে গীবত এবং সমালোচনার গন্ধ যথেষ্ট পরিমান। সমস্যা/দোষ গুলো তুলে ধরলে সমালোচনা আসে। গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদের জুম্মা নামাজে বয়ান করেন মাহবুবুল হাসান। জ্ঞানী মানুষ। তার বয়ান শুনতে প্রায়ই কেন্দ্রীয় মসজিদে যাই। উনি প্রায়ই বলেন, কলমের মাধ্যমে জিহাদ করতে। এখন কলমই জিহাদের বড় অস্ত্র। আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। দোয়া, আপনার সুস্থতার জন্য।    

      আমার লিখায় বা মন্তব্যে যদি কেউ আহত হোন, সেই জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা। সবাইকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.