«

»

Dec ১৭

ইসলামের নামে অন্ধবিশ্বাস এবং মতবিরোধের একটি সমাধান

আকায়েদ উল্লাহ। বছর ৬/৭ পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে বসবাস শুরু করেন। শ্বশুরের পরিবার অর্থনৈতিক ভাবে যথেষ্ট সচ্ছল নয়। শ্বশুরের পরিবারের সকলের স্বপ্ন আকায়েদের স্ত্রী ও ছেলে কিছুদিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র চলে যাবে। নিজের মেয়েটি একটি উন্নত ও সুন্দর জীবন গড়ে তুলবেন, একজন বাবার ইহা বড় পাওয়া। ‘সন্তান সূখে আছে’- ইহা একজন বাবার অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়। আকায়েদের ৬ মাসের একটি ছেলে সন্তান। দুনিয়ার বেশির ভাগ ধার্মিকদের সবচেয়ে প্রিয় জিনিষ তার নিজের সন্তান এবং অনেকেই একমত জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ একটি মূহূর্ত হল প্রথম সন্তানকে প্রথম চাক্ষুস দর্শন। যেখানে আকায়েদ তার নিজের সন্তান ও পরিবার নিয়ে সুন্দর জীবন গড়ার কথা সেখানে সে তার সন্তানের মায়া ত্যাগ করে জিহাদের নামে নিরীহ মানুষ হত্যায় লিপ্ত হয়েছে। ২০১৬ সালের জুলায়ের ১ তারিখ সন্ধ্যার পর গুলশানের হলি আর্টিজেনে আক্রমণকারীরা ছিল অভিজাত পরিবারের যারা হঠাৎ আক্রমন করে নিরীহ বিদেশী নাগরিকদের হত্যা করে। শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের একজন আক্রমনকারী ছিলেন নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ২০০৫ সালে লন্ডনে পাতাল রেলে আত্মঘাতী হামলায় মারা যায় ৫২ জন মানুষ আর এই হত্যাকারীরা ছিল কয়েকজন তরুন যাদের স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হওয়া। ২০১২ সালে অক্টোবর মাসে ২১ বছর বয়সী নাফিস ফেডারেল ব্যাংক ঊড়িয়ে দিতে গিয়ে এফ বি আই-র ফাঁদে ধরা পরে। ২০০৮ সালে নভেম্বর মাসে লস্করে তাইয়েবার দ্বারা মোম্বাইয়ে ১৬৪ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন। ২০১৪ সালের এপ্রিলে তালেবানের আক্রমনে করাচী বিমানবন্দরে মারা যায় ২৮ জন। ২০০৪ সালে মার্চ মাসে স্পেনে আত্মঘাতী হামলায় মারা যায় ১৯১ জন। ২০১০ সালে মার্চে ইরাকে বোমায় নিহত হয় ৩৩ জন আর আহত হয় ৫৫ জন। এই রকম বহু ঘটনা। প্রশ্ন আসেঃ কেন তারা আত্মঘাতী হল? কি কারন? তাদের কি বোঝানো হয়েছিল? কিসের নেশায় বা লোভে বা কামনায় বা অন্য কিছুতে তারা উজ্জ্বীবিত হয়ে নিজেদের প্রান দিয়ে নিরীহ মানুষদের হত্যা শুরু করে? কারা এই বোঝ দান করে এবং কেন করে? ইউরোপের শিক্ষিত মুসলিম ভাইবোনেরা ISIS-র ফাঁদে পা দিয়ে নিরীহ মুসলিমদের হত্যায় লিপ্ত। ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করতে চায় নিরীহ মুসলিম-অমুসলিমদের হত্যা করে? ইসলাম কি নিরীহ মানুষ, মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ লোক, মুসলমানদের হত্যার অনুমোদন দেয়? যদি ইসলাম এই রকম হত্যা সমর্থন করে বা অনুমোদন দেয় তাহলে ইসলাম কেমন করে শান্তির ধর্ম হয় আর মানুষই বা কেন ইসলাম অনুসরণ করবে কিংবা অন্তরে স্থান দিয়ে লালন করবে? কোরানে বা নবী(সা)-র বানীতে কোথায় এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন বা সমর্থনের কথা লিখা আছে?

 

এবার আলোচনা অন্যদিকেঃ-

ঘটনা-১ঃ  আমিনুল ইসলাম। পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। অত্যান্ত চতুর প্রকৃতির। গ্রাম্য রাজনীতিতে অত্যান্ত শক্তশালী প্রতিপক্ষকে ঘায়েল বা পরাস্ত করা সহজ ব্যপার না কিন্তু তিনি যে কাউকেই সহজেই পরাস্ত করে ফেলেন। পুরো গ্রামকে সে একা ম্যানেজ করে রাখে। গ্রামের সবাইকে সে তার নিজের মত করে পরিচালনা করার ক্ষমতা রাখেন, তা সেই ব্যক্তি চ্যায়ারম্যান হোক বা ক্ষমতাশালী যেই হোক। দেশ কিংবা দেশের বাহিরে যে কোন স্থানে সে নিজেকে মিশিয়ে ফেলে। বলা হয়- এক অনন্য সাধারণ ব্যক্তি। তার যেমন ভাল গুন আছে তেমনি আছে ধুরন্ধর টাইপ সুক্ষ্ম বুদ্ধি। লর্ড ক্লাইভের ট্রান্সলেশনকারী নবকৃষ্ণ টাইপের ধুরন্ধর। যাইহোক, এই ব্যক্তি হঠাৎ এক নক্সবন্দিয়ার পীরের বাইয়াত গ্রহণ করে নিজেও পীর হয়ে গেছেন। তিনি সত্য নাকি মিথ্যা ধর্ম পালন করেন সেটা এখন মুখ্য নয়, মুখ্য হল তিনি কি কারনে হঠাৎ পীরের বাইয়াত নিলেন? প্রশ্ন উত্থাপন হলে উনি বলেন, নক্সবন্দিয়ার যে পীরের বাইয়াত গ্রহণ করেছেন, তাঁকে তিনি স্বপ্নে দেখেছেন এবং এই পীর সাহেব একদিন তার চেম্বারে এসেছিলেন রুগী হিসেবে। তারপর থেকে পরিচয় এবং আস্তে আস্তে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে এবং বেশ কয়েক বছর পীরের দেওয়া সবকের উপর সাধনা করে পীরের কাছে থেকে শিক্ষা নিয়ে উনি পরবর্তী পীর হওয়ার ‘পদ’-টুকু অর্জন করেছেন। তার এই স্বপ্নে দেখা পীরের কাহিনী গ্রহনযোগ্য নয়। কারন সে এই শ্রেনীর মানুষ নয়। আরো কোন ঘটনা আছে যা তাকে এই রাস্তায় অনুপ্রাণিত করেছে। তারপর আমিনুল ইসলাম তার কাহিনী বলেন। ছোট বেলায় উনি কিছু ফকির টাইপ মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলেন। এক ফকির কিছুদিনের জন্য তাদের বাড়িতে ছিলেন। একবার আমিনুলের বাবা আমিনুলকে নিয়ে নানা বাড়ি যাচ্ছিলেন। ফকির তার বাবাকে বলেন, না যাওয়ার জন্য। ফকিরকে জিজ্ঞেস করেন কেন না যাওয়ার জন্য বলছেন? ফকির হাতের ইশারায় দেখিয়ে দিয়ে বলেন, আজ রাতে এই নারিকেল গাছটি মরে যাবে। উনারা আর সেই দিন নানা বাড়ি যাননি। আমিনুল ইসলামের বড় দাদা(দাদুর ৩ ভাই) ছিলেন জমিদার। আর সেই রাতে মেজো দাদা মারা যান। ৩ দিন পর একই ঘটনা ঘটে। ফকির বলেন, আজ রাতে আরেকটি নারিকেল গাছ মারা যাবে, সেই রাতে আমিনুলের কাকা (বাবার ছোট ভাই) মারা যান। এই রকম আরো বেশ কয়েকটি ভবিষ্যৎ বানী আমিনুল ইসলাম ছোট বেলায় দেখেছেন যা তার পীর এবং ফকির তন্ত্রের উপর বিশ্বাস জন্ম দেয় এবং অন্তরে গভীর রেখাপাত করে। আমিনুল ইসলামকে জিজ্জেস করা হয়, এই বিশ্বাসের ভিত্তি কি? আল্লাহ্‌ কোরানে বলেন, কিছু কিছু জ্বিন আগাম সংবাদ নিতে আকাশে গমন করে, আল্লাহ্‌ তাদের উল্কাপিন্ডের মাধ্যমে বিতাড়িত করেন। জ্বিন আগাম সংবাদ নিয়ে মানুষদের মধ্যে যারা যাদু বিদ্যা অর্জন করেন তাদের জানিয়ে দেন; তারা জ্বিনের মাধ্যমে আগাম খবর পেয়ে যান। ছোট বেলার বিশ্বাস এবং আইডোলজি থেকে আমিনুল ইসলাম সরতে নারাজ। তার পীর সাহেবের শিক্ষাঃ তারা জন্মান্তরে বিশ্বাসী, নামাজ-রোজা সাধারণ মুসলিমদের মত নয়, তারা আলী(রা)-কে একমাত্র খলিফা মানে, হাসান-হোসেন কে বিশেষ মর্যাদা দেয়। প্রথম ৩ খলিফা, মা আয়েশা (রা) সহ অনেক সাহাবীর বিরুধী। বলে বেড়ায় নবী(সা)-র কন্যা ফাতিমা(রা)-র হত্যাকারী ২য় খলিফা যা সুন্নী মুসলমানেরা স্বীকার করে না আর জানলেও বলে না। আলী এবং আয়েশার মাঝে যুদ্ধ ইসলাম-কে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। ৩য় খলিফা ইসলামের শাসন ব্যবস্থার মেরুদন্ডকে ভেঙ্গে দিয়েছে। বর্তমান কোরান বিশুদ্ধ নয়, আসল কোরানে আলী-র নাম ১৮ বার আছে, বেহেস্ত-দোজখ বলে কিছু নেই, সবাই পরম আত্মার সাথে মিলিত হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আরো অনেক কিছুতে বিশ্বাস রাখেন এবং মানেন।

আমিনুল ইসলামের এই অন্ধ বিশ্বাসের কারন পর্যবেক্ষন করলে পাওয়া যায়  অজ্ঞতা এবং কৌতূহল।

 

ঘটনা-২ঃ মুজিবুল হক। পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। বুয়েট থেকে পাশ করা একজন ম্যাকানিকেল ইঞ্জিনিয়ার। রিয়াদে ছাব্বিশ বছর চাকুরী করেছেন। এখন উনি বাড্ডার নক্সবন্দিয়ার এক পীরের মুরিদ। উনি নিজের বাসা এবং পীরের খানকা(পীরের বাসা) ছাড়া আর কোথাও নামাজ আদায় করতে চান না। মসজিদে গমন করেন না নামাজ আদায়ের জন্য। কারো বাসায় বা বিয়ের বাড়িতে গিয়ে খাবার খান না। কারন মুরগী-গরু যারা জবাই করেছে তারা ‘আল্লাহু আকবার’ বলেছে কিনা তিনি শুনেন নি। আর এইজন্য বাজারের কোন মাংস কিনেন না। হারাম জিনিষ শরীরে প্রবেশ করাতে চান না। শরীর নাপাক হয়ে যাবে। অন্য কারো কোরান শরীফ হাতে নেন না পড়ার জন্য কারন পৃষ্ঠা উল্টানোর জন্য সবাই মুখের থুথু ব্যবহার করে কোরান নাপাক করে। পড়তে হলে নিজের কোরান বের করে পড়েন। উনার পীর এবং পীরের যত মুরিদ আছে তারাই একমাত্র সঠিক আর বাকী সবাই বিপথগামী এবং মূর্খ। জিজ্ঞেস করা হল কেন আপনি পীরের ভক্ত হলেন? কেন পীরের প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করলেন? জানালেন, কোরান-হাদীস ব্যাখ্যা করতে হলে, বোঝতে হলে জ্ঞানী ব্যক্তিদের কাছে যেতে হবে। আর জ্ঞানী কারা তা আল্লাহ্‌ কোরানে বলে দিয়েছেন। সুরা ইমরানের ১৯০-১৯১ নম্বর আয়াত। তারাই জ্ঞানী। তারাই একমাত্র সঠিক জ্ঞান দিতে পারেন। জিজ্ঞেসা করা হল, আপনি কিভাবে বোঝলেন, আপনার পীর এই আয়াত অনুসারে জ্ঞানী? জানালেন, তার পিতা তাকে পীরের প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং বলে গেছেন। আর তিনি দেখেছেন পীরের কিছু কেরামতি, পীরের সংস্পর্শে থেকেছেন অনেক বছর। উনি দেখেছেন অনেক মানুষ নিজের আত্মিক উন্নতি করেছেন, নিজেদের বদলিয়ে ফেলতে পেরেছেন, অনেকেই স্বপ্নের মাধ্যমে পীরকে পেয়েছেন এবং তার বাইয়াত গ্রহন করেছেন। ইত্যাদি অনেক ঘটনা। জানালেন, এই দুনিয়ায় ৩ জন সংস্কারক এসেছেন। প্রথম জন ছিলেন, আব্দুল কাদের জিনালী, দ্বিতীয় জন মুজাদ্দেদ আলফে সানী আর তৃতীয়জন উনার পীর সাহেব খিযির খান। আরো জানালেন পীর বাবার ছোট ভাই আমানউল্লাহ(মালওয়েশিয়া ইউনিভার্সিটির প্রফেসর) দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আলেম। কিন্তু আধ্যাত্মিক জ্ঞান আমানউল্লার নেই। আধ্যাত্মিক জ্ঞান আছে খিযির খান(পীর) সাহেবের। খিযির খান নবী(সা)-র সাথে সাক্ষাত করেন আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে। ইহা শুনার পর কথা বলা বন্ধ হল মুজিবুল হকের সাথে। এই ভদ্র লোক রামপুরার ১টি এবং বাড্ডার ২টি ফ্ল্যাট পীর বাবাকে দান করে দিয়েছেন। প্রতি মাসে বাজারও করে গাড়ী ভরে পাঠাতেন। পীর বাবা মুজিবুল হকের পিতামাতা সহ মুজিবুল হককে বেহেশতের টিকিট নিশ্চিত করেছেন। মজার ব্যাপার হল, মুজিবুল হকের ৩ ছেলেমেয়ে সবাই বুয়েট থেকে পাশ করা এবং সকলেই নাস্তিক। পীর বাবা তার ৩ ছেলে মেয়ে কাউকে আস্তিক বানাতে পারেন নি। জিজ্ঞেস করা হল কেন আপনার পীর বাবা আপনার ছেলেমেয়েদের আস্তিক বানাতে ব্যর্থ হলেন? তখন সুরা বাকারার ১৫৫ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলেন, এটা তার উপর পরীক্ষা। উনি ধৈর্য ধারন করে আছেন। আরো মজার ব্যাপার হল, একদল(৪/৫জন) ভিন্ন মতালম্বী পীর বাবার খানকায় এসে পীর বাবাকে জবেহ করে হত্যা করে গেলেন (দৈনিকে ইহা প্রকাশিত হয়েছে)। পীর বাবা আধ্যাত্মিক জগতে গিয়ে নবী(সা)-র সাথে কথা বলেন, অন্যদের বেহেশতের টিকিট দেন আর তার নিজের কি পরিনতি হল? এখন পীর বাবার ছেলে পীরের 'পদ' নিয়েছেন। শেষে মুজিবল হক-কে বলা হল “ইইয়া-কানাহ বুদু ওয়া-ইইয়া কানাস্থায়িন; ইহ দিনাছ সিরাতুল মুস্তাকিম” প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্তে প্রতি রাকাতে পাঠ করা হয়, এখানে “পীর-ফকির-নবী-রাসুল” এর কোন গন্ধ আছে কি? যদি কেউ গন্ধ পায় তাহলে সে স্পষ্টতই ‘শিরক’-এ লিপ্ত। মুজিবুল হক সৌদি আরবে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকুরী করেছেন ছাব্বিশ বছর এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ সহ পৃথিবী ভ্রমন করেছেন তার মত একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষের মুখে পীর সম্পর্কে কথাগুলো বড়ই বেমানান।

মুজিবুল হকের অন্ধ বিশ্বাসের কারন অজ্ঞতা, পারিবারিক সুত্র এবং মোহ।

 

ঘটনা-৩ঃ মাহমুদুল হাসান। চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। উনিও নক্সবন্দিয়া তরিকতের অনুসারী। উনি হাজী মানুষ কিন্তু নামাজ আদায় করেন এক ওয়াক্ত। শুধু মাগরীবের নামাজ। উনার পীর সাহেব বলেছেন মাগরীবের নামাজ যেন কখনই মিস না হয়, তাই তিনি এই ওয়াক্ত মিস করেন না। বাকী চার ওয়াক্তের খবর নাই। ব্যবসা উপলক্ষে প্রায়ই মালওয়েশিয়া, দুবাই সহ অনেক দেশে যাতায়ত করেন। জীবনের প্রথম দিকে উনি ছিলেন নিঃস্ব। আজ উনি কোটি কোটি টাকার মালিক এবং দাবী করেন তার পীর বাবার কারনেই তিনি এত সম্পদের মালিক হতে পেরেছেন। পীর বাবা সাক্ষাতে গিয়েই কদম ছুয়ে স্পর্শ করে চুমু এবং কিছু টাকা হাতের মুটোয় দিয়ে দেন। উনার মত আরো যারা আসেন পীর বাবার সাক্ষাতে সবারই একই সিস্টেম। এই পীর বাবার সাথে অন্যদের কথা বলার সুযোগ করে দিলেন মাহমুদুল হাসান। ৪/৫ টি প্রশ্নে পীর বাবার অবস্থা ভয়ংকর খারাপ হয়ে যায়। উনার ভান্ডারে প্রশ্নেগুলোর উত্তর ছিল না। এটা বিয়াদপী পীর বাবার সাথে, সুতরাং প্রশ্নকারীর উঠে আসতে হল। মাহমুদুল হাসান পরিবার, ব্যবসা সবকিছু ছাড়তে রাজি কিন্তু পীর বাবা থেকে দূরে সরে যেতে চাইবেন না।

মাহমুদুল হাসানের অন্ধ বিশ্বাসের কারন অজ্ঞতা, ভোগ-বিলাসিতা এবং ব্যবসার সফলতা (টাকা)।

 

উপরের ৩টি পীর বাবার ঘটনাই নক্সবন্দিয়ার তরিকতের। একই তরিকার মতাদর্শ এতই দূরত্ব যে, একটির অবস্থান এনড্রোমিডায়, আরেকটি এম-৮৭ তে এবং অন্যটি আই সি ১১০১-এ। এই আমিনুল ইসলাম, মুজিবুল হক এবং মাহমুদুল হাসানদের বলা হল, কেউ যদি নিজেকে সংস্কারক বা পীর বা ঈমাম দাবী করেন তাহলে তার গ্রহণযোগ্য স্কেল আছে। সেই স্কেলের কোয়ালিটিতে উর্ত্তীর্ণ হতে হয়। সর্বপ্রথম এবং সর্বপ্রধান কোয়ালিটি হচ্ছে ‘সত্যবাদিতা’। একজন পীর বা সংস্কারক-কে সর্বপ্রথম সত্যবাদিতার কোয়ালিটিতে উর্ত্তীর্ণ হতে হয়। তাকে প্রমান করতে হবে সে কখনও মিথ্যা বলে নাই। জীবনের প্রথম দিকে যত পাপেই লিপ্ত থাকুক তা বিষয় নয়; বিষয় হলঃ যখন থেকে সে পবিত্রতার জীবন ধারন করেছেন তখন থেকে সমস্ত কাজ করেছেন সত্যের সহিত। এই সত্যবাদিতার তালা খোলে দরজা ওপেন করতে হবে। তারপর অন্য কোয়ালিটি আসবে। সেই সংস্কারক বা পীর নীজেকে সত্যবাদিতার প্রমান না করে জাদুবিদ্যা বা মোজেজার বলে চন্দ্রকে দ্বি-খন্ডিত বা সূর্যকে দ্বি-খন্ডিত করার দাবী করে, তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ইহা আপনি স্বীকার করেন বা না-ই করেন উভয়েই সমান। সত্য সত্যই। আপনি কিভাবে নিশ্চিত হলেন আপনার পীর বাবা মিথ্যা বলেন নাই? এই প্রশ্নে ৩ জনেই নিশ্চুপ।

 

এ তো গেল ৩ জনের ঘটনা। দুনিয়া ব্যপী এই রকম ঘটনা কোটি কোটি। বাংলাদেশের মুসলিম এবং দুনিয়ার অন্যান্য মুসলিম এতই বিভাজিত যা এক বিষ্ময়ের ব্যপার। ব্রেইনওয়াশ, অন্তরওয়াশ, অন্ধ বিশ্বাস সব কিছুই হওয়ার কারন কোরানের “অপব্যাখ্যা”কোরানের আয়াত সম্পর্কে মনগড়া কথা এবং অপব্যাখ্যা। সুরা আলে ইমরানের ১০৩ নম্বর আয়াত একেক জন একেক ভাবে বোঝাচ্ছে। “তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না”। কেউ বলেন রজ্জু বলতে বোঝাচ্ছে শুধু কোরান, কেউ বলছেন রজ্জু বলতে বোঝাচ্ছে কোরান এবং হাদিস, কেউ বলছেন রজ্জু বলতে বোঝাচ্ছে বাইয়াত, কেউ বলছেন রজ্জু বলতে বোঝাচ্ছে পীর/সংস্কারক। এত মত বিরোধ কেন হবে? রজ্জুর নিশ্চয় একটি অর্থ আছে। সেটা ছাড়া অন্য কিছু এনে জড়ো করলে বিভ্রান্তি হওয়াই স্বাভাবিক।

 

দুনিয়ার সকল ইসলামিক স্কলারদের উচিত একটি মাত্র সঠিক কোরানের তফসির রেখে বাকি সব নষ্ট করে দেওয়া এবং তা দুনিয়া ব্যাপী চালু রাখা। এত তফসির থাকলে শুধু মতবিরোধই তৈরি হবে। কাসিরের আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১ম খন্ড গ্রন্থে ৭ আসমানের বর্ননা দিতে গিয়ে বলেন সূর্য ৪র্থ আসমানে অবস্থিত। ইহা যদি নবী(সা)-র বানী হয় তাহলে রেফারেন্স দেওয়া অত্যাবশ্যকীয়। আর যদি নবী(সা)-র কথা না হয় তাহলে কাসিরের সকল গ্রন্থই দুনিয়া থেকে চিরতরে বিদায় করে দেওয়া উচিত। কারো মনগড়া কথা গ্রহণযোগ্য নয়(সত্যকে প্রকাশিত করার জন্য কথাটা একটু শক্ত হয়ে গেল সেইজন্য দুঃখিত)। সুরা তওবা সহ কোরানের অনেক আয়াত রয়েছে যুদ্ধের আয়াত, জিহাদের আয়াত। সকল আয়াতগুলোকে সুস্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করে মুসলিমদের সাথে সুযোগ করে দেওয়া হোক দুনিয়ার সকল অমুসলিমদের, তারাও সহজে জানতে পারুক সকল জিহাদ ও কিতালের আয়াত সম্পর্কিত সঠিক ব্যাখ্যা। সুরা তওবার ২৯ নম্বর আয়াতটির রেফারেন্স টানেন সব চেয়ে বেশী। আয়াতটি নাজিল হওয়ার কারন ও সময় জানা না থাকলে যে কেউ আয়াতটি পাঠ করলে অমুসলিম দূরে থাক, মুসলিমদেরই বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। ইসলাম বিদ্বেষীরা এবং ইসলামের অপব্যাখ্যা কারীরা যারা মুসলিমদের ব্রেইনওয়াশ, অন্তরওয়াশ, অন্ধবিশ্বাস করায় নিয়োজিত তারা এই আয়াতটি কে অন্যতম অস্র হিসেবে ব্যবহার করেন। মিথ্যা এবং হুর-পরী, বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে দুনিয়ার সকল প্রকারের ব্রেইনওয়াশ বন্ধ হওয়া জরুরী।

একটি সঠিক, সুস্পষ্ট এবং বিশুদ্ধ তফসির খুবই জরুরী সকল প্রকারের মতবিরোধের অবসান, অন্ধ বিশ্বাস এবং সকল প্রকার ওয়াশ-কে নির্মূল করার জন্য। কেউ যেন কারো কথায় বিভ্রান্ত না হয়। সত্য-কে সবার সামনে হাজির করা অত্যাবশ্যকীয়। সকল ইসলামিক স্কলার এক হয়ে এই কাজটি সমাধান করা উচিত এবং দুনিয়ার সকল স্থানে প্রেরন করে উম্মোচন করে দেওয়া উচিত আর এর জন্য ইন্টারনেট খুব ভাল একটি উপায়। আল্লাহ্‌ চাইলে এই মহান কাজটি সহজ করে দিবেন।

 

১৭ comments

Skip to comment form

  1. 10
    Anonymous

    আসসালামু আলাইকুম।আমি আপনাদের নিকট জানতে চাচ্ছি একটা বিষয় বুজতে পারছিনা তাই।কেউ দয়া করে উপকৃত হব।—- কোরআনের অনেক অনুবাদে দেখলাম আল্লাহ বলেছেন—-- আমি আবার কোথাও আমরা। 

    আসলে আমি বুজতেছিনা কারণ আমার আরবি ভাষায় তেমন জ্ঞান নেই তাই একটু হেল্প চাইলাম।আল্লাহ সবার মজ্ঞল করুক।আমিন।

    1. 10.1
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      ওয়ালাইকুমুস সালাম।

      আরবীতে 'আমরা' কখনও সম্মানসূচক অর্থে ব্যবহৃত হয়।  এখানে আল্লাহ্‌ তায়ালা নিজেকে বহুবচন ব্যবহার করেছেন সম্মানিত অর্থে। 

      আপনি youtube-এ বা google-এ সার্চ দিন। আরো উত্তম উত্তর পাবেন।

      বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুছ ছামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ। ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ। 

       

  2. 9
    চমকপ্রদ

    বিশুদ্ধ তাফসীর রচনা, সংকলন বা নির্বাচন কে করবে? মানুষই তো করবে। আর একজন মানুষের কথা, অভিমত বা সিদ্ধান্ত আরেকজন মানুষ বিনা বাক্যব্যয়ে নির্ভুল ও বিশুদ্ধ বলে মেনে নেবে কেন? মানুষ যত ভালো নিয়তেই করুক বা বলুক, মানুষের কথা অবশ্যই যাচাইসাপেক্ষ।

    তাই আমাদেরকে কোরআনের মূল টেক্সট ভালোভাবে শিখতে হবে। কোরআন বোঝার জন্য তাফসীরের সহায়তাও নিতে হবে, বিশেষ করে শানে নুযুল জানাটা বেশি জরুরী। তবে কোন তাফসীরের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে ভুল, দুর্বোধ্যতা বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সেটা নিজ দায়িত্বে শুধরে নিতে হবে।

    আমাদের পূর্বের যুগের মনীষীগণের তাফসীরই যদি সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য হতে না পারে, তাহলে এ যুগে শত ফেরকায় বিভক্ত মানুষজনের মধ্য থেকে কারো রচিত বা বাছাইকৃত তাফসীরকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করবেন কিভাবে? তাফসীরের সংশ্লিষ্ট লেখক, সম্পাদক বা নির্বাচকমণ্ডলী যদি প্রবৃত্তি বা ফেরকাবাজির প্রভাব থেকে মুক্তও থেকে থাকেন, কারো নিজের মত বা ফেরকার বিপক্ষে গেলেই তাকে ভিন্ন ফেরকার ট্যাগযুক্ত করে দেবে।

    1. 9.1
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      আসসালামু আলাইকুম ভাই।

      আপনার আসল নাম আইডি হিসেবে ব্যবহার করলে ভাল হত। যাইহোক, লিখাটি সদালপের জ্ঞানী সিনিয়র ভাইদের উদ্দেশ্যে নিবেদন। অনেক জ্ঞানী এবং চিন্তাশীল ভাই আছেন যারা এই বিষয়টি নিয়ে হয়ত পূর্বে চিন্তা করেছেন। সন্দেহ নেই, কাজটি অনেক জটিল এবং কষ্টসাধ্য। ভাইদের হয়ত বিশ্বের অনেক ইসলামিক স্কলারের সাথে যোগাযোগ থাকতে পারে কিংবা কোন নির্ভরযোগ্য ইসলামিক সংস্থাকে অবহিত করতে পারেন কিংবা সাথে নিজেরাও এই মহান কাজে আত্মনিবেদন করতে পারেন।

      দুনিয়া থেকে ফেরকা, মতভেদ থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যেই এই মহান উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করা।

      আপনার মন্ত্যব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      1. 9.1.1
        চমকপ্রদ

        ওয়ালাইকুমুস সালাম।

        এ ব্যাপারে আরো একটি প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে। তাহলো, প্রচলিত তাফসীর গ্রন্থগুলোর মধ্যকার ভুল-ত্রুটি সমূহ নিয়ে একটি বই লেখা যেতে পারে। দু'একটি ভুলের জন্য কোন সম্পূর্ণ গ্রন্থকে নিষিদ্ধ করা হলে জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হারিয়ে যাবে, যা হবে মাথা ব্যথার জন্য মাথা কাটার শামিল।

        ইসলামের স্বর্ণযুগে যেই আলেম, লেখক ও গবেষকগণ দ্বীনের খেদমতের নিয়তে নিষ্ঠার সাথে তাফসীর রচনা করেছেন, সেই তাফসীরগুলোতে কিছু অনবধানতাবশত ভুল-ত্রুটি থাকলেও ইচ্ছাকৃত বিকৃতি ও manipulation নেই এবং বর্তমান যুগের ফেরকাবাজি ও ফেতনাবাজির পিছনেও সেসব তাফসীরের খুব একটা সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে বর্তমান আধুনিক যুগে মানে বিগত দু'তিন শতাব্দী ধরে ব্রিটিশদের অর্থপুষ্ট কিংবা ধর্মব্যবসায়ী মোল্লা-মুন্সীদের দ্বারা যেসব তাফসীর বা সিরিজ বইপত্র প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোই বর্তমান ফেরকাবাজি ও গোমরাহির জন্য দায়ী। কোরআনের উদ্দেশ্যমূলক ও বিকৃত ব্যাখ্যা, শেরেক-বেদাত, উগ্রপন্থা এগুলো সব ওই বস্তাপচা গ্রন্থগুলোতেই পাবেন। এগুলো এখনো সর্বসাধারণের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি, বরং এসব হাইব্রিড তাফসীর ও বই-পুস্তকের ক্রেতাও মূলত কিছু নির্দিষ্ট ঘরানার মানুষ। সুতরাং কিছু চটি-বই মার্কা গ্রন্থের সৃষ্ট ফেতনার দায় কোনক্রমেই ইসলামের মহান মনীষীদের রচিত তাফসীরসমূহের উপর বর্তাবে না।

        যে সকল কথা ও তথ্য কেবল সরাসরি আল্লাহর কালাম ও নবীর হাদীস থেকে পাওয়া গেছে, সেগুলোই বিনা বিচারে গ্রহণযোগ্য। আর আল্লাহ ও রসূলের বাণী এবং সেই সাথে পারিপার্শ্বিক ঘটনাবলী ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোকে গবেষণার মাধ্যমে মানুষের দ্বারা যে সকল গ্রন্থ রচিত হয়েছে, সেগুলোর সকল তথ্য সঠিক নাও হতে পারে, এক সময়ের ভুল আরেক সময়ে সংশোধিত ও আপডেটেড হতে পারে। মানব আবিস্কৃত যেকোন তথ্যই বিজ্ঞানের মতই পরিবর্তনশীল। বিজ্ঞানের নতুন কোন আবিস্কারের দ্বারা পুরাতন কোন আবিস্কার ভুল প্রমাণিত হলেও সেই আবিস্কারককে হেয় করা বা সেই আবিস্কারকের সকল রচনাকে ফেলে দেয়া হয় না, বরং বর্তমান আবিস্কারের পিছনে অতীত বিজ্ঞানীর অবদানকেও শ্রদ্ধার সাথে স্বীকার করা হয় এবং পুরাতন আবিস্কৃত তথ্যগুলোর মধ্যে সত্যগুলোকে যত্নসহকারে লালন করা হয়।

  3. 8
    চমকপ্রদ

    বর্ণিত দুটি পক্ষের মধ্যে একটি পক্ষের মধ্যে শেরেকীর প্রাবল্য বেশি, আরেকটি পক্ষের মধ্যে নিষ্ঠুরতার প্রাবল্য বেশি। আর এই উভয় পক্ষের এবং প্রবন্ধে বর্ণিত সবগুলো দৃষ্টান্তের কেস-স্টাডি থেকে বিভ্রান্তির যে অভিন্ন কারণটি পাওয়া যায়, সেটা হলো 'অন্ধ আনুগত্য'। পীর বা নেতার প্রতি অন্ধ আনুগত্য বিষয়ে এক আয়াতে বলা হয়েছে, "তারা নিজেদের পীর-পুরোহিতদেরকে নিজেদের রব (প্রভু) বানিয়ে নিয়েছে।" এ আয়াতটির মর্ম বোঝার জন্য নিম্নের একটি নমুনাই যথেষ্ট:-

    এক ব্যক্তি তার একটি উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বন্ধুর সাহায্য চাইল, "দোস্ত! আমি অমুক মেয়েটাকে বিয়ে করতে চাই, কিন্তু রাজি করাতে পারছি না।" বন্ধু পরামর্শ দিল, "একটা জীবন্ত মুরগীর বাচ্চা চুলার উপর নিয়ে ছেঁকে মারতে হবে।"

    : কিন্তু এটা কি ইসলামে আছে? এ তো বড়ই অনৈসলামিক ও বর্বর কাজ।

    : পীরেরা তো অনেকেই এটা করে থাকেন! ইসলামে জায়েয না থাকলে ওনারা এ কাজটি অনুমোদন করবেন কেন?

    সুতরাং যারা পীরের কথায় মাজারে সেজদা করছে, আর যারা শায়েখের কথায় কোমরে বেল্ট বেঁধে কোট-কাচারীতে ঢুকে নিজেকে উড়িয়ে দিচ্ছে, তারা উভয়ে এই অন্ধ আনুগত্যের শিকার। অন্ধ আনুগত্যকারী বা অন্ধবিশ্বাসী ব্যক্তিকে আপনি কোরআন-হাদীস ও যেকোন সত্য চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও বলবে, এটা আসলে এটা নয় বরং এটা, কারণ আমার নেতা বা পীর এটার অর্থ এভাবে করেছেন!

  4. 7
    চমকপ্রদ

    একটিমাত্র তাফসীর রাখার চিন্তা হয়তো বাস্তবসম্মত নয়। বিশেষ করে এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কোন টেক্সট বিলুপ্তি অসম্ভব। তবে সকল তাফসীরের মধ্য থেকে বুদ্ধি-বিবেচনা দিয়ে সত্যকে গ্রহণ ও ভুলকে পরিহার করার যোগ্যতা মানুষের থাকতে হবে।

    মানুষ যদি শুধুমাত্র কোরআনের মূল টেক্সটই অর্থসহ আয়ত্ত্ব করতে পারে, তাহলে সে আশাকরি আর কোনকিছুর পাল্লায় পড়ে বিভ্রান্ত হবে না। তবে এটা হতে হবে অবশ্যই অন্য কিছু শেখা বা অন্য কারো পাল্লায় পড়ার পূর্বেই। এ দায়িত্বটা পিতামাতার। কিন্তু একবার কেউ বিভ্রান্ত হয়ে গেলে তারপর আর পুরো কোরআন শতবার পড়ালেও কাজ হবে না। So, Prevention is better than Cure.

  5. 6
    এস. এম. রায়হান

    'Ahmed' এবার 'Aisha'-তে বিবর্তিত হয়ে কিছুটা 'সভ্য' হয়েছে বলে মনে হচ্ছে! তাদের পূর্ব-পুরুষরাও অবশ্য ইসলাম ও মুসলিমদের সংস্পর্শে এসেই খানিকটা সভ্য হয়েছিল। তবে তাদের সভ্য হওয়ার পেছনে ইসলাম ও মুসলিমদের অবদানকে অস্বীকার করতে যেয়ে তারা আবারো তাদের পূর্বাবস্থায় তথা অসভ্যতায় ফিরে যাওয়া শুরু করেছে।

    1. 6.1
      চমকপ্রদ

      নিমিষে পুরুষ থেকে নারী আর নারী থেকে পুরুষে বিবর্তিত হতে হতে এরা হয়তো অন্য কোন প্রাণীতে রূপান্তরিত হবে।

  6. 5
    Aisha

    সূরা ৫৪:১৭- "আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?"  তারপরও এত ঝুট ঝামেলা ক্যান??

    1. 5.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      "

      তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।" (সুরা আলে ইমরান -- আয়াত ৭)

      1. 5.1.1
        Aisha

        কি আশ্চর্য! পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। যাক, আপনারটাই যদি সত্যি ধরে নেই তো মানুষের দোষ কই? বিভক্তির বীজ ঈশ্বরই রেখে গেছেন, এই জট খুলবে না। ধন্যবাদ।

        1. 5.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          "যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে" — এই্ কথাটা মনে হয় দেখেন নাই। যেমন ধরেন আপনি — এসেছেন কুটিলতা নিয়ে — আপনাকে যত সহজ ভাষাই বুঝানো হয় বুঝবেন না। আপনার জন্যেই এই কথাগুলো। বাকি যারা ইমান আনবে তাদের জন্যে কোরান সহজ। 

  7. 4
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    দুনিয়ার সকল ইসলামিক স্কলারদের উচিত একটি মাত্র সঠিক কোরানের তফসির রেখে বাকি সব নষ্ট করে দেওয়া এবং তা দুনিয়া ব্যাপী চালু রাখা। 

     

    -- এইটা হলেও তো বেঁচেই যেতাম -- কিন্তু এর আগে "স্কলারদের" নিজেদের মারামারির পর্ব শেষ হতে হবে। 

  8. 3
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    একজন লেখক অনেক কষ্ট করে একটা লেখা তৈরী করেন -- এর পর পাঠকদের জন্যে উপহার দেন। যদি একজনের সময় এবং স্বক্ষমতা থাকে উনি যত ইচ্ছা তত লেখতে পারেন -- আর যেহেতু অন্যরা লেখছেন না -- সেই অপরাধে উনার লেখা প্রথম পাতা থেকে সরানো ঠিক হবে না। এতে লেখকগন লেখতে উৎসাহ বোধ করবেন না। সমসাময়িক বিষয়ে লেখাগুলো দরকার। আমার ব্যক্তিগত মত হলো -- কোন লেখাই প্রথম পাতা থেকে সরানো উচিত নয় -- অন্যরা লেখা দিয়ে তাকে পিছনে পাঠাতে সমস্যা নেই। 

    ধন্যবাদ। 

  9. 2
    মহিউদ্দিন

    আপনি নিজেই আপনার লিখাকে প্রথম পাতা থেকে সরাতে পারবেন।

    লগইন করে এডিট অপশনে যাবেন তারপর ডানদিকে  Publish on এর নিচে এডিটে গিয়ে তারিখ এক মাস পিছিয়ে পরিবর্তন করে দিয়ে আপডেইট চাপ দিবেন।  

  10. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @সম্পাদক সাহেব,

    আসসালামু আলাইকুম।

    প্রথম পাতায় আমার ৪ টি লিখা দেখা যাচ্ছে। দয়া করে "আয়োডিনযুক্ত বাংলা গল্প" লিখা ২টি কে প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে ২য় পাতায় স্থানান্তর করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আর আপনারা রাখতে চাইলে সমস্যা নেই। 🙂

    ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.