«

»

Jun ১২

ইসলামে ‘দাওয়াত’-র কাজ কিভাবে করে?

অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্ট। কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন সাজানো গুছানো শহর। সার্ফার প্যারাডাইজ সমুদ্র সৈকত একটি আকর্ষনীয় এবং বানিজ্যিক প্রধান। দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রচুর পর্যটকের সমারোহ এখানে। এক শান্তিময় নীরবতার নগরী। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রিটায়ার্ড পার্সনরা গোল্ড কোস্টকে জীবনের শেষ সময়টুকু কাটানোর জন্য বেঁচে নেন। কদাচিৎ দু-একটি ছোট ঘটনা ছাড়া কোন অপরাধ সংঘটিত হয় না। জীবনের সুস্থতা ও সুন্দরতা, জীবন ধারণের সিস্টেম, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও অনুগত্য, সততা, নৈতিক শিক্ষা, শিষ্টাচার, ডিসিপ্লিন, ভদ্রতা, অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ…… এই নগরীকে করেছে সুন্দরের চেয়ে সুন্দর। সভ্য পৃথিবীর সভ্য মানুষজনের বসবাস। সেখানে পুলিশ বাহিনী মা-বাবার বিকল্প হিসেবে কাজ করেন। একটা দেশ ও জাতি কত উন্নত তা বুঝার জন্য সে দেশের পুলিশ বাহিনীর আচরনই যথেষ্ট। বাংলার ১৬/১৭ কোটি মানুষ যদি গোল্ডকোস্ট নাগরিকদের জীবন ব্যবস্থা ও তাদের মনমানসিকতা দেখতে ও বুঝতে সক্ষম হত তাহলে এই বাংলার মানুষ নিঃসন্দেহে একটি সুন্দর জাতিতে পরিনত হত, নিজেদের রুচীবোধ, স্বভাব পরিবর্তন করে ফেলত। দেশের রাজনীতিবিদ্গন সাধারন মানুষের উপর নিজেদের নির্যাতন ও কর্মের জন্য তেমনি আফসোস করত যেরকম আফসোস করবে কিয়ামতের ময়দানে। “শিক্ষা ও সুস্থতা” এই জাতির বড় অভাব।

 

সাঈদ নওফ, পেশায় একজন টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার। মেলবোর্ন থেকে গোল্ডকোস্ট এলেন চাকরীর ইন্টারভিউ-র জন্য একটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে। সুন্নতি দাড়ি-টুপি ওয়ালাকে কেমন চোখে দেখবেন, ইন্টারভিউ-র পেরেশানী থেকে এই পেরেশানী ছিল বেশি। আস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড এই তিনটি দেশ যমজ ভাইবোন। একটার কষ্ট হলে আরেকটা কান্না শুরু করে। ক্যাপ্টেন কুক অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের পর ইংল্যান্ডের সকল কয়েদীদের অস্ট্রেলিয়ায় এবং পুলিশ অফিসারগুলো নিউজিল্যান্ডে বসবাস শুরু করে। বস্তুত আস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অধিবাসীদের পূর্ব পুরুষ সকলেই বৃটিশ। এই সকল সাদা চামড়ার অধিবাসীরা মুসলিমদের অন্যভাবে দেখার চেষ্টা করে অনেকটা সন্দেহপ্রবন দৃষ্টিতে, ৯/১১ পর মূলত তাদের এই দৃষ্টভঙ্গি। তবে এখন জানা যায় সেই দৃষ্টভঙ্গি বর্তমানে অনেক কমে গেছে। যাইহোক সাঈদ নওফের ইন্টারভিউ ভাল হল এবং নিয়োগও পেলেন ঐ প্রতিষ্ঠানে।   

 

প্রতিষ্ঠানে জয়েন করার প্রথম দিনেই সকল কর্মীগণ অদ্ভূত ভাবে তাকাতে লাগলেন। অফিসের সকলেই অজি নাগরিক, শুধু সাঈদ নওফ ব্যতীত। এই দাঁড়ি-টুপি ওয়ালাকে মনে হচ্ছে কোন চিড়িয়াখানার জন্তু বা ভিন গ্রহের প্রানী। চোখ দেখে বুঝা যায় সকলের মনে জিজ্ঞাসা “তুমি লাদেন এখানে কেন”? এক মেয়ে কলিগ প্রথম দিনেই বলে ফেলল ‘আমি তোমাকে বিন লাদেন বলে ডাকব, তুমি কিছু মনে করবে?’ সাঈদ নওফ হাসি মুখে সম্মতি দিলেন এবং বললেন তোমার যা ভাল লাগে সেই নামে ডাকতে পার। সাঈদ নওফের সাথে পরিচিত হওয়ার পর স্বাভাবিক হয়ে গেলেন অফিসের সকলেই এবং শুরু হল তাঁর গোল্ডকোস্টের জীবন।

 

পরিবারের জীবিকার জন্য চাকুরীরত থাকলেও তাঁর ভিতরে ছিল অন্য আরেক উদ্দেশ্য। “দাওয়াত”-র কাজ করা। আল্লাহ্‌-র রাস্তায় আহবান করা, ইসলামের রাস্তায় আহবান করা। অফিসের কাজে নিজের দায়িত্ব শেষ করে, কলিগদের কাজে সাহায্য করতেন। ‘সিরাতুল মুস্তাকীম’-কে নিজের চরিত্র ও কর্মের মাধ্যমে প্রকাশ করতেন। সত্যবাদিতা, ধৈর্য, শিষ্টাচার, লজ্জ্বাশীলতা, হিংসা-রাগ-ঘৃণাকে দমিয়ে রাখা, ক্ষমা, ত্যাগ, নম্রতা, দায়িত্ববোধ, মিষ্ট ভাষীর মাধ্যমে অফিসের সকলের কাছে নিজের গ্রহনযোগ্যতা তৈরি করলেন। সকলের ভিতরে নিজের ইমেজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হলেন। যোহর, আসর নামাজের ওয়াক্ত হলে কলিগেরাই সাঈদ নওফকে স্মরণ করিয়ে দেন, 'তোমার নামাজ আদায়ের সময় হয়েছে'। এখন অফিসের সকলেই সঠিক ‘ইসলাম’-কে জানতে পেরেছেন। Martin Lings-র Muhammad His Life Based on the Earliest Sources বইটি কিনে অফিসের সকলকে এক কপি করে দেন, সত্যকে জানার জন্য, নবী(সা)-কে জানার জন্য। (অফিসে প্রিচিং নিষেধ। তাই তিনি আল্লাহ্‌র সাহায্য, দোয়া, নিজের আখলাক ও নীরবতার সহিত দাওয়াতে লিপ্ত হোন)।

 

সাঈদ নওফ অফিসের সবাইকে শিক্ষা দিলেন ‘ইসলাম’। তোমরা ইসলামকে জানতে চাও তাহলে আমাকে দেখ। নিজের আখলাক দিয়ে ইসলামের রাস্তায় দাওয়াত দেওয়ার রাস্তা তৈরি করলেন। সাহাবীগণ যেভাবে ইসলামকে দুনিয়ায় ছড়িয়েছেন নিজেদের আখলাক দিয়ে, সাঈদ নওফ একই ভাবে দেওয়াতের দরজা খুলে দাওয়াত দেওয়া আরম্ভ করেন। নিঃসন্দেহে সাঈদ নওফ সত্যই একজন মুসলমান। সাঈদ নওফ যেভাবে দাওয়াতের কাজ শুরু করেন, অবশ্যই ইহা অত্যান্ত পরিশ্রম, ধৈর্য ও দৃঢ়তার কাজ। নিজেকে আল্লাহ-র রাস্তায় বিলীন না করলে এই কাজে আত্মনিয়োগ করা সম্ভব না। আল্লাহ্‌ তাঁর উদ্দেশ্য ও নিয়ত কে কবুল করুন এবং তাঁকে তাঁর কাজে সাফল্য দান করুন, জান্নাতের উপরের স্থানে তাঁকে অধিষ্ঠিত করুন। আমিন।

 

বছর দুই আগে কাকরাইল মসজিদে যাই। দুটি বড় বিল্ডিং পাশাপাশি সাথে বাড়তি আরেকটা। বিদেশ থেকে আসা জামাত দল আলাদা দেশী জামাত দল থেকে। লোকজন ছোট ছোট গ্রুপ করে ছড়ানো ছিটানো। বালু ভর্তি মসজিদ। পরিচ্ছন্নতার সাথে শৃঙ্খলারও যথেষ্ট অভাব আছে। জিজ্ঞেস করি খাদেম সাহেবকে ‘কাকরাইল মসজিদের তবলিগ জামাতের প্রধান কে? তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতে চাই’। দেখিয়ে দিলেন বাম পাশের বিল্ডিং-র তিন তলায় তাঁর আলাদা কক্ষের অফিস আছে। তিন তলায় গিয়ে আরো খাদেম ভায়ের দেখা এবং তাদের সাহায্য নিলাম। আমায় অপেক্ষা করতে বললেন। অপেক্ষায় আছি। সুদান, সোমালিয়া থেকে আসা কালো লোকদের জামাতসহ আরো অনেক বিদেশী জামাত দেখা গেল। তাদের কথাবার্তায় ও আচরণে এক ধরনের মিষ্টতা লক্ষ্য করি। বিভিন্ন মসজিদে ইলিয়াসি তবলিগ জামাতিদের সাথে অনেক বার কথা হল, তাদের দাওয়াতের ধরণ পছন্দ হয় না বলে কাকরাইল মসজিদে আমার আগমন, কিছু বলার উদ্দেশ্য নিয়ে। তবলীগের কাজে লিপ্ত থাকলে সুন্নতের অনুশীলন হয় এটা সবচেয়ে বড় একটি পজিটিভ দিক। মসজিদে অবস্থানকালীন তবলীগ  জামাতের লোকজনের আচরণে উগ্রতা বা রুক্ষতা থাকে না, নম্র স্বভাবের হয়ে থাকা, ইহা ভাল লাগে। কিন্তু বিভিন্ন বুজুর্গীদের বয়ান শুনলে আমার ভিতর ভূমিকম্প তৈরি হয়। তবলীগ জামাতিদের জিজ্ঞেস করি, উহুদের যুদ্ধে তালহা(রা) কয়টা তলোয়ারের আঘাত পেয়েছিলেন? বদরের যুদ্ধে মুসলমানরা কিভাবে জয়লাভ করেন? খন্দকের যুদ্ধে কোন সাহাবীরা নিজেদের ঈমান থেকে বিচ্যুতী হওয়ার উপক্রম হয়েছিলেন এবং কেন? কোন সাহাবী একটা মাত্র কাপড় তিনি ও তাঁর স্ত্রী পরিধান করতেন? খালিদ বিন ওয়ালিদ কুরাকী থেকে সুআ পানি বিহীন ৯,০০০ সাহাবী সৈন্য নিয়ে যে পথ পারি দিয়েছিলেন সেই পারি দিবার সময় কতজন সাহাবী পানি তৃষ্ণায় মারা যান? আবু লুলু যখন ওমর(রা) কে ঈমামতি অবস্থায় আঘাত করেন কেমন ছিল সেই দৃশ্য…………  কোন জবাব নেই। এই সব বিষয়ে কোন জ্ঞান নেই। তাদের জ্ঞান আছে কোন বুজুর্গী পানির উপর দিয়ে হেটে গেছে, কোন বুজুর্গী বাতাসের সাথে উড়ে গেছে…… একজন মুসলমান হিসেবে এই সব কথা শুনতে খুব লজ্জ্বা অনুভব করি। “ইসলাম” পানির ওপর দিয়ে হেটে বা বাতাসের সাথে মিশে যাওয়ার মাধ্যেম প্রতিষ্ঠিত হয় নাই এবং ইসলামের সাথে এই অলৌকিক কেরামতির আজেবাজে বানোয়াট গল্পের কোন সম্পর্ক নাই। “ইসলাম” প্রতিষ্ঠা হইছে অন্তর নিংড়ানো, অন্তর শিহরিত ত্যাগের মাধ্যমে, জান-মাল ত্যাগের মাধ্যমে, নিজেকে বিলীন করার মাধ্যমে।

 

যিনি বাংলাদেশের তবলীগ জামাতের প্রধান তিনি অবশ্যই বিশাল বড় আলেম এবং অনেক বড় জ্ঞানী। কিভাবে সুন্দর ভাবে কথা বলব তাই চিন্তা করছি। দেড় ঘন্টা অপেক্ষা করার পর খাদেম সাহেব জানালেন প্রধান সাহেব নেই। উনি আসবেন না আজ। তবে আরো প্রধান গুরুত্ব ব্যক্তি আছেন তাদের সাথে কথা বলতে পারি। রাজি হলাম। আমাকে নিয়ে গেলেন বাম পাশের রুমের ভিতর। সালামের পর পরিচয় হলাম। উনার নাম ‘শাহাবুদ্দিন বা শিহাবউদ্দিন'। বয়স ৭৫ হবে। খুব ফর্সা ও সুন্দর চেহারা। দাওয়াতের কাজ করি কিনা জিজ্ঞেস করলেন। জানতে চাইনি তারপরও বলা শুরু করলেন কোথায় এবং কোন কোন দেশে দাওয়াতের কাজ করেছেন। উনি অনেক দেশ ঘুরেছেন দাওয়াতের কাজে তা বলে যাচ্ছেন বিছানায় হেলান দিয়ে। সূরা আবাসার প্রথম ৮/১০টি আয়াতে আল্লাহ্‌ নবী(সা)-কে ধমক দিয়েছেন অন্ধ ব্যক্তিকে ইগ্নোর করার জন্য। নবী(সা) অন্ধ ব্যক্তি থেকে মক্কার কুরাইশকে প্রাধান্য দেওয়ায় আয়াত গুলো নাজিল হয়েছিল। পরবর্তীতে যতবার এই অন্ধ ব্যক্তি নবী(সা)-র দরবারে আসেন, নবী(সা) নিজের জায়গা থেকে উঠে তাঁকে হাত ধরে এনে সম্মান দিয়ে নিজের জায়গায় বসিয়েছেন আর বলেছেন আল্লাহ্‌ আমাকে তিরস্কার করেছেন তাঁকে ইগ্নোর করার জন্য আর এইজন্য আফসোস করতেন। আর এই শাহাবুদ্দিনের কর্ম দেখে কিছুটা চিন্তিত হই, মানুষদের মূল্যায়ন কেন করেন না? তাঁর কথা শুনতে লাগলাম বেশ সময় ধরে। মনে মনে ভাবি “আমি তাঁর কাছে এসেছি নাকি সে আমার কাছে এসেছে? যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি তা কি আজ বলতে পারব? যা বলতে এসেছি তা কি উনি বুঝবেন?”

 

আরো কিছুক্ষণ পর বলি আমার কিছু কথা ছিল। তিনি অনুমতি দিলেন। সময় কম বলে আসল কথা শুরু করি, “মা-বাবা মুসলমান বলে নিজেকে মুসলমান বলা কি ঠিক? ঈমান বা মুসলমান হওয়া কি পৈতৃক সম্পত্তি? এই পৈতৃক সম্পত্তির ঈমান বা মুসলমান হওয়া কি আল্লাহ্‌-র কাছে গ্রহনযোগ্য? আপনার মা-বাবা হিন্দু হলে নিজেকে কি আজ মুসলমান বলে পরিচয় দিতেন? আপনার মা-বাবা হিন্দু হলে রাম-কৃষ্ণদের ইশ্বর মনে করতেন এবং ইসলামকে মিথ্যা বলতেন। তাই নয় কি? ইসলাম ধর্ম সত্য এবং নবী(সা) সত্য তার কি প্রমান আছে?……………" আমার কথা ছিল অনেক, শেষ করতে পারিনি, আমাকে থেমে যেতে হল। শাহাবুদ্দিন সাহেব হেলান দেওয়া থেকে সোজা হয়ে বসলেন, তাঁর ফর্সা চেহেরা মলিন হয়ে গেল। বাম পাশে অল্প দূরেত্বে বসা তিনজন মুরুব্বী কোন বিষয় নিয়ে আলোচনায় লিপ্ত ছিলেন, আমার কথা শুনে সকলেই কথা বন্ধ করে আমার দিকে তাকালেন। আমার ভিতরের সত্ত্বা আমাকে জানিয়ে দিল বড় বিপদে পরে গেছি। এখন জান বাঁচাও।

 

মৌমাছির চাক থেকে মধু আহরণ করতে হলে নেট জাতীয় কাপড় পরিধান করতে হয়, ধোঁয়া দিতে হয় কিন্তু তা না করে বাঁশ নিয়ে খোঁচানী শুরু করলে ফলাফল যা হবার আমার ক্ষেত্রে তাই হল। উইথআউট প্রোটেকশন আমি এখন বাঁশ দিয়ে মৌমাছির চাক আক্রমন করে বসেছি। তারা বাংলাদেশের তবলীগ জামাতের প্রধান। তাঁরা তো অবশ্যই প্রজ্ঞার অধিকারী হবে এবং সেটাই স্বাভাবিক। বক্তার অন্তরের কথা ও অনুভূতি যদি না বুঝে তাহলে এত বড় আলেম বা জ্ঞানী হয়ে কি করবে? অন্যের অন্তর যদি রিড না করার ক্ষমতা থাকে তাহলে সে কিভাবে দাওয়াতের কাজ করে? তবলীগ জামাতের প্রধানদের মনমানসিকতা যদি এমন হয় তাহলে তাঁরা বাংলাদেশের পুরো জামাতকে কিভাবে লিড দেয়?

 

আমাকে কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়। ছোটবেলার হিন্দু সহপাঠীরা আমাকে এমন প্রশ্ন করছেন আমার উত্তর জানা নেই বলে আপনাদের কাছে আগমন। আপনাদের কাছে জানতে এসেছি কিভাবে আমি হিন্দু সহপাঠীদের বুঝাব? আপনারা জ্ঞানী এবং সঠিক পথের সন্ধান দিতে পারেন বলে আপনাদের স্মরণাপন্ন হলাম। শুনার পর শাহাবুদ্দিন সাহেবের চেহারা কঠিনই থাকে। কথার ধরণ চেঞ্জ হয়। প্রথমে আমাকে দাওয়াতের কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত হতে বলেন। কোরআন-হাদীস সত্য, বাকী সব মিথ্যা… উনি মোল্লাদের ওয়াজের মত বলে যাচ্ছেন। মাথা নারাচ্ছি, সম্মতি দিচ্ছি… উনি কি বলেছেন তাতে আমার মন নেই। এখান থেকে পালাবার রাস্তা খুঁজছি। কিছুক্ষণ পর সালাম দিয়ে বিদায় নেই, পাশের ঐ তিন ব্যক্তিকেও সালাম দিতে ভুলি নি।

 

 

কাকরাইল মসজিদ থেকে বের হয়ে মেইন রাস্তার ঐ পাড়ে গিয়ে পিছনে আবার কাকরাইল মসজিদের দিকে তাকাই। অনেক ক্ষন তাকিয়ে থাকি। এরা জ্ঞানান্ধ। না বিচার করে, না যাচাই করে সারাজীবন অন্যের জ্ঞান ধার করে প্রচার করে এবং চালায়। জ্ঞান কিভাবে অর্জন করতে হয় তা তাদের জানা নাই। এরা অন্ধ বিশ্বাস থেকে বের হবে না। যারা অন্ধ বিশ্বাসী তাঁরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতেই থাকবে, সীমা লঙন করতেই থাকবে। তোমাদের দাওয়াতের মৌলিক জ্ঞান নেই, তাহলে কিভাবে দাওয়াতের কাজ কর? প্রশ্নগুলো উত্তর বা জানা দূরে থাক, শুনার পর তোমাদের প্রতিক্রিয়া দেখে বিস্মিত হই আর সাথে নিজের জানের উপর হুমকি চলে আসে। সাঈদ নওফ দাওয়াতের কাজ করে, তোমরাও দাওয়াতের কাজ কর কিন্তু দুইটা সমান নয়।  এক গ্লাস পানির গভীরতা আর প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতা এক নয়, কখনও এক হতে পারে না।

 

২৫ comments

Skip to comment form

  1. 1
    মাহফুজ

    আপনার বাস্তব অনুভূতি মিশ্রিত লেখাটির জন্য ধন্যবাদ জানাই।

    শুধু তাবলিগ ও জামাত নয়— ইসলামের নামে এমনি আরো অনেক দল আছে, প্রকৃত ইসলাম থেকে যদের অবস্থান বেশ দূরেই বলতে হবে। কেউ জেনে শুনে একপেশে অন্ধ সেজে থাকে, আবার কেউ কেউ জ্ঞানহীন নিরেট অন্ধ।

    এক সময় আপনার মত আমিও ঘুরেছি। আপনার মতই বুকে চেপে রাখা কত শত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কত জনের কাছেই না গিয়েছি। অবশেষে স্রষ্টার নাম নিয়ে নিজেকেই মাঠে নামতে হয়েছে। যদিও এ এক মহা সমূদ্র। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমিও ভুল-ভ্রান্তি মুক্ত নই। তারপরও মহান স্রষ্টা সত্যকে যতটা জানার তৌফিক দিয়েছেন তা অন্যের কাছে তুলে ধরার প্রচেষ্টা নিয়েছি। বাকিটা আল্লাহতায়ালার ইচ্ছা-  

    তবে এক নজরে আপনার কিছু প্রশ্নের উত্তর হয়ত এখানে পেয়ে যেতে পারেন-

  2. 2
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    This is a test message!

  3. 3
    AmiBangladeshi

    Zia Uddin is Awami agent writer. Regular shodalap readers can sense what he would write without even reading his article. He is one of the main reason many good writers left shodalap. Just read his old writings. He acted like bigger Awami leaguer than Hasina! The less he writes the better it is for shodalap. 

  4. 4
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    গুরুত্বপূর্ণ নোটঃ

    এই লিখা পড়ার পর অনেকেই দাবী করছেন, লিখায় তবলীগ জামাত সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছি। 

    জামাতে অনেক জ্ঞানী মুসলিম ভাই আছেন যাদের অনেকেই বড় আলেম এবং অনেকেই ইসলামের গভীর জ্ঞান রাখেন। অবশ্যই লিখাটি সামগ্রিক বাংলাদেশের সকল মুসলিম ভাইদের উপর বেইজ করে লিখা নয় যারা জামাতের সহিত সর্বদা যুক্ত। লিখাটি মূলত অল্প কিছু তবলীগ জামাতের লোকের কথাকোপথন থেকে, যাদের সংস্পর্শে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল এবং যাদের হয়ত ইসলাম সম্পর্কে ভাল জ্ঞান ছিল না।

    আলৌকিক কেরামতির বানোয়াট মিথ্যা গল্প এবং মুসলিম ভাইদের ভিতরে কিছু অন্ধ বিশ্বাস ছাড়া তবলীগ জামাতকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে সমর্থন করি। 

    ধন্যবাদ।

  5. 5
    T A Hasan

    ভাই তাজুল ইসলাম, ইসলাম ও মুসলমানের প্রতি আপনার আবেগকে আমি শ্রদ্ধা করি। ইসলামি দাওয়াতের পথ ও পন্থা নিয়ে নানা জনের নানা মত থাকতেই পারে। বাকি সাধারন ভাবে দায়ীর মধ্যে যে গুণটা থাকতে হবে সেটা হল মানুষের প্রতি দরদ, কারো প্রতি অবজ্ঞা বা হিংসা দায়ীর গুণ নয়। বাতিলের বিরুদ্ধে কঠোরটা সেটা আলাদা বিষয়।

    বর্তমানে ইসলামের দাওয়াতের জন্য যত মাধ্যম প্রচলিত আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত ও উপকারি হল তাবলীগ জামাতের দাওয়াত। কথাটি আমার নয়, বলেছেন, আবুল হাসান আলি নদভি রহঃ। তাবলীগের কাজে শিক্ষিত অশিক্ষিত সকল পর্যায়ের লোক সম্পৃক্ত। কেউ অল্প সময় দিয়েছেন কেউবা বেশি। কেউ বেশি গুণাবলী অর্জন করেছেন, কেউ কম। কেউ অল্প দিনেই অনেক বড় দায়ী হতে পেরেছেন, কেউ অনেক দিনেও যেই-সেই। মানুষ ভেদে পার্থক্য হবেই। এখানে দৃষ্টিভঙ্গি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি যদি নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে একটা কাজকে পরীক্ষা করতে আসেন, ভুলগুলোই নজরে আসবে আগে, আর ইতিবাচক হলে তাবলীগের ফলাফল দেখার জন্য বেশি ঘুরতে হবে না, আশেপাশেই পাবেন।

    তাবলীগের সাথিদের ব্যাপারে পুরনো অভিযোগ, তারা ইলম অর্জনে পিছিয়ে। অভিযোগটি আংশিক সত্য। তাবলীগের সাধারন সাথি যারা এই কাজে কিছু সময় দেন, তারা এতটা পড়াশোনা করেন না। কিন্তু এমন সাথিও আছেন যারা সাধারন শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও আলেমদের মত জ্ঞান রাখেন, আর দাওয়াতের হেকমত তো আসে অনেক পরে। যাই হোক তাবলীগের কাজ সম্পর্কে জানতে আপনি এই বই গুলো পড়তে পারেনঃ

    ১. মাওলানা ইলিয়াস রহঃ ও তার দীনি দাওয়াতঃ লেখক- সাইয়িদ আবুল হাসান আলি নদভি রহঃ

    ২. তাবলীগ জামাতের সমালোচনা ও জবাবঃ লেখক- শায়খুল হাদিস জাকারিয়া রহঃ

    ৩. বয়ানাতে মাওলানা ইউসুফ কান্দলভি রহঃ

    প্রথম বইটি বিশেষ ভাবে সময় নিয়ে পড়বেন, অনেক কিছুর সমাধান হবে।

    দ্বিতীয় বিষয় হল প্রত্যক্ষ ভাবে বুঝতে হলে এই কাজে লম্বা সফরও করতে হবে।

    আপনি আরেকটি অভিযোগ করেছেন, এই কাজের সাথিরা বানোয়াট কিচ্ছা কাহিনী বলে। দেখুন এখানে সাধারন সাথি যারা সময় দেয় তারা বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে যায়, বাজারের বিভিন্ন বই পড়ে যা জানে অনেক সময় নিজেদের বয়ানে যোগ করে ফেলে। লক্ষ লক্ষ লোকের জামাতে এরকম ত্রুটি ঠেকানো আসলেই কষ্টকর। তবে আপনি যদি ইজতেমার বয়ান শুনেন, কাকরাইল বা নিজামুদ্দিন মারকাজের বয়ান শুনেন তবে এই অভিযোগ করবেন না। মারকাজের বয়ানেও অলৌকিক কিচ্ছা বয়ান হয়, যেমন মুসা আঃ এর লাঠি সাপ হয়ে গেল, নদী ভাগ হয়ে গেল, তেমনি সাহাবীদের কিছু অলৌকিক ঘটনাও আলোচিত হয় যার সহি দলিল বিদ্যমান। এগুলো নিয়ে তো কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। আর বুজুর্গদের কিছু কারামত রয়েছে যা ইতিহাসের বিষয়, বিশ্বাস করা বা না করা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

    তাবলীগের বর্তমান আমির মাওলানা সাদ সাহেব দামাত বারাকাতুহুম যিনি দিল্লি নিজামুদ্দিন মারকাযে অবস্থান করেন, উনি যেসব বিষয়ে জোর দেন তা হল প্রত্যেক কাজে সাহাবাদের সিরাতকে অনুসরণ করা, পরবর্তী যামানার ঘটনাবলী তিনি কম গুরুত্ব দেন, এই জন্য ‘হায়াতুস সাহাবাহ’ নামক কিতাব যা পাঁচ খণ্ডে বাংলা ভাষায় অনুবাদ হয়েছে তা প্রত্যেক সাথীর জন্য অবশ্য পাঠ্য করা হয়েছে। এছাড়া বিষয় ভিত্তিক আয়াত ও হাদিস সম্বলিত ‘মুন্তাখাব হাদিস’ কিতাবের তালিমও চালু করেছেন। অধিকন্তু বেশির ভাগ বয়ানেই তিনি কুরআন শারিফ তাফসির সহ বুঝে পড়তে বলেন।

    আর আপনি কাকরাইলে যে মুরব্বির সাক্ষাতের বর্ণনা দিলেন, উনাকে আমি চিনি, উনার সাথে গল্প গুজবও করেছি, খুবই সজ্জন ব্যক্তি, বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারনে বর্তমানে হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন। বালিশে হেলান দিয়ে কথা বলেছেন আপনাকে অবজ্ঞা করার জন্য নয়, দুর্বলতার জন্যই। আর নাম উল্লেখ করে এই দোষ বর্ণনা করা কি গিবতের পর্যায়ে পরে না? একটু সাবধান হয়ে কথা বলা উচিত, যেন ভাল কিছু করতে গিয়ে আমরা গোনাহ না করে বসি।

    আর আপনি সাঈদ নওফ ভাইয়ের যে অনুপ্রেরনাদায়ি ঘটনা বর্ণনা করলেন তা অবশ্যই আমাদের সবার জন্য উপকারী। আলহামদুলিল্লাহ তাবলীগের মেহনতের বরকতেও এরকম অসংখ্য সাঈদ নওফ তৈরি হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে পুরা উম্মতের জন্য, পুরা মানবজাতির জন্য প্রশস্ত দিল দান করুন, যেন প্রত্যকটা মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানো ও রাসুলুল্লাহ সাঃ এর নুরানি তরিকার উপর উঠানোর জন্য আমরা আমাদের জান, মাল, সময়, মেধা ও যোগ্যতাকে ব্যবহার করতে পারি।

    1. 5.1
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      @T A Hasan,

      আসসালামু আলাইকুম। 

      ‘নম্র’ আচরণ আমাদের নবী(সা)-র শিষ্টাচারের অন্যতম বড় শিক্ষা। তবলীগ জামাতে যুক্ত থাকলে এই নম্র আচরণের অনুশীলন এবং স্বভাবে প্রতিফলন হয়। এই জন্য দুনিয়ার সকল মুসলিম ভাই-বোনদের অনুপ্রাণিত করি তবলীগে যোগ দেওয়ার। আর সুন্নতের অনুশীলন হয় তা লিখায় উল্লেখ করেছি। 

      বানায়োট আলৌকিক কেরামতির কিচ্ছা কাহিনী বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই এই লিখা। বানোয়াট কিচ্ছা কাহিনী ইসলামের ক্ষতি করছে এবং তবলীগ জামাতের সকলের মুখে। আপনি সাহাবীগণের অলৌকিক ঘটনার কথা বললেন, দয়া করে আমায় রেফারেন্স দিয়ে সাহায্য করুন। জানতে আগ্রহী।

      সাহাবুদ্দিন সাহেবকে জান্নাত নসিব করুন কিন্তু তাঁর পাশে বসা তিনজন মুরুব্বী কথা বন্ধ করে যেভাবে আমার দিকে তাকালেন, তখন নিজের জানের উপর আক্রমনের আশঙ্খা করি। সাহাবুদ্দিন সাহেব প্রশ্নগুলো শুনে স্বাভাবিক ছিলেন না। প্রশ্নের উত্তর গুলো তাঁর জানা ছিল না। 

      “Common Sense” আল্লাহ্‌-র দেওয়া নিয়ামত সমূহের মাঝে অন্যতম মূল্যবান। এটা মুসলমানগণ এপ্লাই করতে চান না। অন্ধ বিশ্বাস। এই অন্ধ বিশ্বাস থেকে মুসলিম জাতিকে বের করা আনা জরুরী। “মা-বাবা” মুসলমান বলে নিজেকে মুসলমান দাবী করা থেকে মুসলিম জাতিকে বের হয়ে আসতে হবে। 

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। 

      1. 5.1.1
        T A Hasan

        عَنْ أُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ، قَالَ: بَيْنَمَا هُوَ يَقْرَأُ مِنَ اللَّيْلِ سُورَةَ البَقَرَةِ، وَفَرَسُهُ مَرْبُوطَةٌ عِنْدَهُ، إِذْ جَالَتِ الفَرَسُ فَسَكَتَ فَسَكَتَتْ، فَقَرَأَ فَجَالَتِ الفَرَسُ، فَسَكَتَ وَسَكَتَتِ الفَرَسُ، ثُمَّ قَرَأَ فَجَالَتِ الفَرَسُ فَانْصَرَفَ، وَكَانَ ابْنُهُ يَحْيَى قَرِيبًا مِنْهَا، فَأَشْفَقَ أَنْ تُصِيبَهُ فَلَمَّا اجْتَرَّهُ رَفَعَ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ، حَتَّى مَا يَرَاهَا، فَلَمَّا أَصْبَحَ حَدَّثَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: اقْرَأْ يَا ابْنَ حُضَيْرٍ، اقْرَأْ يَا ابْنَ حُضَيْرٍ، قَالَ: فَأَشْفَقْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ تَطَأَ يَحْيَى، وَكَانَ مِنْهَا قَرِيبًا، فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَانْصَرَفْتُ إِلَيْهِ، فَرَفَعْتُ رَأْسِي إِلَى السَّمَاءِ، فَإِذَا مِثْلُ الظُّلَّةِ فِيهَا أَمْثَالُ المَصَابِيحِ، فَخَرَجَتْ حَتَّى لاَ أَرَاهَا، قَالَ: «وَتَدْرِي مَا ذَاكَ؟»، قَالَ: لاَ، قَالَ: «تِلْكَ المَلاَئِكَةُ دَنَتْ لِصَوْتِكَ، وَلَوْ قَرَأْتَ لَأَصْبَحَتْ يَنْظُرُ النَّاسُ إِلَيْهَا، لاَ تَتَوَارَى مِنْهُمْ»

        উসাইদ ইবনু হুযায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা রাত্রে তিনি সুরা বাকারা পাঠ করছিলেন। তখন তাঁর ঘোড়াটি তারই পাশে বাঁধা ছিল। হঠাৎ ঘোড়াটি ভীত হয়ে লাফ দিয়ে উঠল এবং ছুটাছুটি শুরু করল। যখন পাঠ বন্ধ করলেন তখনই ঘোড়াটি শান্ত হল। আবার পাঠ শুরু করলেন। ঘোড়াটি আগের মত করল। যখন পাঠ বন্ধ করলেন ঘোড়াটি শান্ত হল। আবার পাঠ আরম্ভ করলে ঘোড়াটি আগের মত করতে লাগল। এ সময় তার পুত্র ইয়াহইয়া ঘোড়াটির নিকটে ছিল। তার ভয় হচ্ছিল যে, ঘোড়াটি তার পুত্রকে পদদলিত করবে। তখন তিনি পুত্রকে টেনে আনলেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু দেখতে পেলেন। পরদিন সকালে তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উক্ত ঘটনা বললেন। ঘটনা শুনে নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে ইবনু হুদায়র (রাঃ)! তুমি যদি পাঠ করতে, হে ইবনু হুদায়র (রাঃ)! তুমি যদি পাঠ করতে। ইবনু হুযায়র আরয করলেন, আমার ছেলেটি ঘোড়ার নিকট থাকায় আমি ভয় পেয়ে গেলাম হয়ত বা ঘোড়াটি তাকে পদদলিত করবে, সুতরাং আমি আমার মাথা উপরে উঠাতেই মেঘের মত কিছু দেখলাম, যা আলোর মত ছিল। আমি যখন বাইরে এলাম তখন আর কিছু দেখ্লাম না। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি জান, ওটা কী ছিল? বললেন, না। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা ছিল মালায়িকাহ। তোমার তিলাওয়াত শুনে তোমার কাছে এসেছিল। তুমি যদি সকাল পর্যন্ত তিলাওয়াত করতে তারাও ততক্ষণ পর্যন্ত এখানে অবস্থান করত এবং লোকেরা তাদেরকে দেখতে পেত। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫০১৮]

         

        فَأَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عِيَاضٍ، أَنَّ بِنْتَ الحَارِثِ أَخْبَرَتْهُ: أَنَّهُمْ حِينَ اجْتَمَعُوا اسْتَعَارَ مِنْهَا مُوسَى يَسْتَحِدُّ بِهَا، فَأَعَارَتْهُ، فَأَخَذَ ابْنًا لِي وَأَنَا غَافِلَةٌ حِينَ أَتَاهُ قَالَتْ: فَوَجَدْتُهُ مُجْلِسَهُ عَلَى فَخِذِهِ وَالمُوسَى بِيَدِهِ، فَفَزِعْتُ فَزْعَةً عَرَفَهَا خُبَيْبٌ فِي وَجْهِي، فَقَالَ: تَخْشَيْنَ أَنْ أَقْتُلَهُ؟ مَا كُنْتُ لِأَفْعَلَ ذَلِكَ، وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ أَسِيرًا قَطُّ خَيْرًا مِنْ خُبَيْبٍ، وَاللَّهِ لَقَدْ وَجَدْتُهُ يَوْمًا يَأْكُلُ مِنْ قِطْفِ عِنَبٍ فِي يَدِهِ، وَإِنَّهُ لَمُوثَقٌ فِي الحَدِيدِ، وَمَا بِمَكَّةَ مِنْ ثَمَرٍ، وَكَانَتْ تَقُولُ: إِنَّهُ لَرِزْقٌ مِنَ اللَّهِ رَزَقَهُ خُبَيْبًا،

        ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, আমাকে ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু আয়ায্ অবহিত করেছেন, তাঁকে হারিসের কন্যা জানিয়েছে যে, যখন হারিসের পুত্রগণ খুবাইব (রাঃ)-কে শহীদ করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিল, তখন তিনি তার কাছ থেকে ক্ষৌর কাজ সম্পন্ন করার উদ্দেশে একটা ক্ষুর ধার চাইলেন। তখন হারিসের কন্যা তাকে একখানা ক্ষুর ধার দিল। সে সময় ঘটনাক্রমে আমার এক ছেলে আমার অজ্ঞাতে খুবাইবের নিকট চলে যায় এবং আমি দেখলাম যে, আমার ছেলে খুবাইবের উরুর উপর বসে রয়েছে এবং খুবাইবের হাতে রয়েছে ক্ষুর। আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। খুবাইব আমার চেহারা দেখে বুঝতে পারলেন যে, আমি ভয় পাচ্ছি। তখন তিনি বললেন,তুমি কি এ ভয় করো যে,আমি এ শিশুটিকে হত্যা করে ফেলব? কখনো আমি তা করব না। আল্লাহর কসম! আমি খুবাইবের মত উত্তম বন্দী কখনো দেখিনি। আল্লাহর শপথ! আমি একদা দেখলাম,তিনি লোহার শিকলে আবদ্ধ অবস্থায় ছড়া হতে আঙ্গুর খাচ্ছেন,যা তাঁর হাতেই ছিল। অথচ এ সময় মক্কা্য় কোন ফলই পাওয়া যাচ্ছিল না। হারিসের কন্যা বলতো,এ তো ছিল আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে প্রদত্ত জীবিকা,যা তিনি খুবাইবকে দান করেছেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩০৪৫]

        وَعَنْ أَبِي أُسَامَةَ، قَالَ: قَالَ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، فَأَخْبَرَنِي أَبِي، قَالَ: لَمَّا قُتِلَ الَّذِينَ بِبِئْرِ مَعُونَةَ، وَأُسِرَ عَمْرُو بْنُ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيُّ، قَالَ: لَهُ عَامِرُ بْنُ الطُّفَيْلِ مَنْ هَذَا؟ فَأَشَارَ إِلَى قَتِيلٍ، فَقَالَ لَهُ عَمْرُو بْنُ أُمَيَّةَ: هَذَا عَامِرُ بْنُ فُهَيْرَةَ، فَقَالَ: لَقَدْ رَأَيْتُهُ بَعْدَ مَا قُتِلَ رُفِعَ إِلَى السَّمَاءِ، حَتَّى إِنِّي لَأَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الأَرْضِ، ثُمَّ وُضِعَ،

        আবূ উসামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ (রহ.) বলেন,আমার পিতা আমাকে বলেছেন,বি‘রে মাউনা গমনকারীরা শাহীদ হলে ‘আমর ইবনু উমাইয়াহ যামরী বন্দী হলেন। তাঁকে আমির ইবনু তুফায়ল এক নিহত ব্যক্তির লাশ দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল,এ ব্যক্তি কে? ‘আমর ইবনু উমাইয়াহ বললেন,ইনি হচ্ছেন ‘আমির ইবনু ফুহাইরাহ। তখন সে (আমির ইবনু তুফায়ল) বলল,আমি দেখলাম,নিহত হওয়ার পর তার লাশ আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এমনকি আমি তার লাশ আসমান যমীনের মাঝে দেখেছি। এরপর তা (যমীনের উপর) রেখে দেয়া হল। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪০৯৩]

         

        فَقَامَ رَجُلٌ مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ أُسَامَةُ بْنُ قَتَادَةَ يُكْنَى أَبَا سَعْدَةَ قَالَ: أَمَّا إِذْ نَشَدْتَنَا فَإِنَّ سَعْدًا كَانَ لاَ يَسِيرُ بِالسَّرِيَّةِ، وَلاَ يَقْسِمُ بِالسَّوِيَّةِ، وَلاَ يَعْدِلُ فِي القَضِيَّةِ، قَالَ سَعْدٌ: أَمَا وَاللَّهِ لَأَدْعُوَنَّ بِثَلاَثٍ: اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ عَبْدُكَ هَذَا كَاذِبًا، قَامَ رِيَاءً وَسُمْعَةً، فَأَطِلْ عُمْرَهُ، وَأَطِلْ فَقْرَهُ، وَعَرِّضْهُ بِالفِتَنِ، وَكَانَ بَعْدُ إِذَا سُئِلَ يَقُولُ: شَيْخٌ كَبِيرٌ مَفْتُونٌ، أَصَابَتْنِي دَعْوَةُ سَعْدٍ، قَالَ عَبْدُ المَلِكِ: فَأَنَا رَأَيْتُهُ بَعْدُ، قَدْ سَقَطَ حَاجِبَاهُ عَلَى عَيْنَيْهِ مِنَ الكِبَرِ، وَإِنَّهُ لَيَتَعَرَّضُ لِلْجَوَارِي فِي الطُّرُقِ يَغْمِزُهُنَّ

        এখানে উসামা ইবনু কাতাদাহ্ নামে এক ব্যক্তি যাকে আবূ সা‘দাহ্ বলে ডাকা হত- দাঁড়িয়ে বলল, যেহেতু তুমি আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছ, সা‘দ (রাযি.) কখনো সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে যান না, গানীমাতের মাল সমভাবে বণ্টন করেন না এবং বিচারে ইনসাফ করেন না। তখন সা‘দ (রাযি.) বললেন, মনে রেখো, আল্লাহর কসম! আমি তিনটি দু‘আ করছিঃ হে আল্লাহ্! যদি তোমার এ বান্দা মিথ্যাবাদী হয়, লোক দেখানো এবং আত্মপ্রচারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে- ১. তার হায়াত বাড়িয়ে দিন, ২. তার অভাব বাড়িয়ে দিন এবং ৩. তাকে ফিতনার সম্মুখীন করুন। পরবর্তীকালে লোকটিকে (তার অবস্থা সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করা হলে সে বলতো, আমি বয়সে বৃদ্ধ, ফিতনায় লিপ্ত। সা‘দ (রাযি.)-এর দু‘আ আমার উপর লেগে আছে। বর্ণনাকারী আবদুল মালিক (রহ.) বলেন, পরে আমি সে লোকটিকে দেখেছি, অতি বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার ভ্রু চোখের উপর ঝুলে গেছে এবং সে পথে মেয়েদের বিরক্ত করত এবং তাদের চিমটি দিত। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৭৫৫]

        ****

        সারিয়ার সাথে উমার রাঃ এর কারামাতের বিস্তারিত বিবরণ এই যে, উমার রাঃ একদল সৈনিক পাঠালেন এবং সারিয়া নামক এক ব্যক্তিকে সেনাবাহীনীর আমীর নিযুক্ত করলেন। উমার রাঃ মদীনার মিম্বরে খুৎবারত অবস্থায় ইয়া সারিয়া! আল জাবাল! বলে উচ্চসরে ডাক দিলেন। সৈনিকদের দূত মদীনায় এসে বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমরা শত্রুদের মুকাবিলা করতে গেলে তারা আমাদেরকে পরাজিত করে ফেলে। তখন আমরা একজন লোককে চিৎকার করে বলতে শুনলামঃ ইয়া সারিয়া! আল জাবাল! অর্থাৎ হে সারিয়া পাহাড়ে আশ্রয় নাও। এতে আমরা সতর্কতা অবলম্বন করে পাহাড়ে আশ্রয় গ্রহণ করলাম। শত্রুদের আক্রমণের কবল হতে নিরাপদ হলাম। আল্লাহ তাআলা শত্রুদেরকে পরাজিত করলেন। [মাজমূআয়ে ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া-১১/২৭৮]

         

  6. 6
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    উত্তম চরিত্রের অনুশীলন যারা করেন সত্য তাদের সম্মুখে আপনাতেই উপস্থিত হয়।   

    বোখারী কেন ১০০ ভাগ সত্য- তার একটা গ্রহনযোগ্য যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিবেন।  

    ব্যাখ্যা দেওয়ার আগে আকরাম খা-র রচিত 'মোস্তফা চরিত'  বইটি পড়ে নিবেন। পড়া থাকলে ভাল। নবী(সা)-র জীবনীর উপর লিখা বেস্ট বই।

    পরে আপনার দেওয়া কথাগুলোর উপর আলোচনা করব।

  7. 7
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ইমাম আবু হানিফাকে কারাগারে প্রহার করে হাড় ভেঙে বিষ দিয়ে খুন করেছিল খলীফা আল মনসুর। ইমাম তাইমিয়াকে দামেস্কের কারাগারে খুন করেছিল খলীফা, ইমাম হাম্বলকে কারাগারে অমানুষিক প্রহার করা হয়েছিল, ইমাম মালিকের হাত মুচড়ে ভেঙে দিয়েছিল মদীনার শাসক, ইমাম শাফি’কে খুন করেছিল ইমাম মালিকের অনুসারী ফিতিয়ান (ইমাম মালিকের নির্দেশে নয়), লোকচক্ষুর অন্তরালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন নির্বাসনদণ্ডে দণ্ডিত ইমাম বোখারি, দু’হাত তুলে হাহাকার করতেন ইসলামের যুগশ্রেষ্ঠ এই ইমাম:- “হে আল্লাহ! আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও− এ দুনিয়া আমার জন্য ছোট হয়ে গেছে”।

     

    ==> বুজূর্গীদের আলৌকিক কেরামতির কিছুর জবাব দিলাম। বিস্তারিত সাহাবী সহ বুজুর্গীদের জবাব দিব আপনার কাছ থেকে প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর।

  8. 8
    T A Hasan

    ভাই তাজুল ইসলাম। আপনার সাথে বিস্তারিত কথা বলা জরুরি মনে হচ্ছে।

    প্রথম বিষয় হল আমরা যারা মুসলিম তারা আখেরাতে বিশ্বাস করি। কেয়ামত, কবর, হাশর, মিজান, পুলসিরাত, জান্নাত-জাহান্নাম সবই আমাদের যুক্তি ও দৃষ্টি সীমার বাইরে। এ সমস্ত কোন বিষয়ই লৌকিক নয় তথা অলৌকিক। আর যেহেতু আমরা কোরআন বিশ্বাস করি, যেখানে মুসা আঃ এর লাঠি সাপ হওয়ার বর্ণনা আছে, ইবরাহীম আঃ এর জন্য উত্তপ্ত আগুণ ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার বর্ণনা আছে, আসহাবে কাহাফের ৩০৯ বছর বিনা খাদ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় জীবিত থাকার বর্ণনা সহ অসংখ্য অলৌকিক বিষয় বর্ণিত আছে, এগূলো যদি বাস্তব হয় তাহলে সাহাবীদের অলৌকিক বিষয় নিয়ে আপত্তি থাকার কথা না। সাহাবীদের অলৌকিক বিষয় বর্ণিত হয়েছে বিধায় বূখারী শরীফের শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবশ্যয় বুদ্ধিমানের কাজ নয়। 'মোস্তফা চরিত'  বইটিতে আকরাম খা সম্ভবত বূখারী শরীফের ২/১ টী হাদিস নিয়ে আপত্তি করেছেন, যার দিন তারিখ উনার মতে ঐতিহাসিকভাবে অসামঞ্জস্য পূর্ণ। ছোটবেলায় পড়েছিলাম, পুরো মনে নেই। ইসলামিক স্কলার গন এর জবাবে কী বলেছেন তা পড়ার সুযোগ আমার হয় নি। যাই হোক এটি একটি বিচ্ছিন্ন বিষয়। হাদিস গ্রন্থগুলোতে অনেক যাচাই বাছাই করেই সূত্র প্রমাণ ও হাদিসের মান ঊল্লেখ করে হাদিস সংকলন করা হয়েছে। আর কোরআনের বিষয় নিয়ে তো আকরাম খা কোন আপত্তি করেন নাই!

    ঈমানের পুরো বিষয়টাই গায়েব তথা না দেখা জিনিষে বিশ্বাস নিয়ে। আমাদের আধুনিক শিক্ষিত ইসলাম প্রিয় ভাইয়েরা ইসলামের  বিজ্ঞান সম্মত ব্যাখ্যাকে খূব গুরুত্ব দেন। বিজ্ঞানের সাথে যা মিলবে তা গ্রহণ করবেন, না হলে মানবেন না। অথচ বিজ্ঞান সদা পরিবর্তনশীল আর কোরআন শাশ্বত ও চিরন্তন।

    আল্লাহর পরিচয়ের আলোচনায় আমরা এই কথা বলে থাকি, আল্লহ একমাত্র ক্ষমতাবান, বাকী সৃষ্টি জগতের মধ্যে আল্লাহ কিছু গূণ বা বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন, ক্ষমতা দেননি। যেমন আগুণের মধ্যে পুড়ানোর গুণ আছে, পুড়ানোর ক্ষমতা নেই। পুড়ানোর ক্ষমতা আল্লাহর। উদাহরণ হিসাবে কোরানে ইবরাহীম আঃ এর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, আগুণ আল্লাহর হূকূমে ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিলো। আগুণ পুড়ানোর জন্য আল্লাহর হুকুমের মুখাপেক্ষী। তেমনি পানি ডুবানোর জন্য আল্লাহর হুকুমের মুখাপেক্ষী। মুসা আঃ এর কোওমকে পানি ডুবাতে পারেনি।

    আসলে লৌকিক এবং অলৌকিক এর মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। আমরা যে জিনিষ দেখতে অভ্যস্ত তার বাইরে কিছু দেখলে বা শুনলেই অলৌকিক মনে করি। যেমন পিতা মাতার মিলনে সন্তান জন্ম হওয়াটা লৌকিক, কিন্তু ঈসা আঃ কে আল্লাহ পিতা ছাড়া তৈরি করেছেন, আদম আঃ কে পিতা মাতা উভয় ছাড়া তৈরি করেছেন, এটা শুনলে আমাদের কাছে অলৌকিক মনে হয়। অথচ দুই ক্ষেত্রেই আল্লাহর হুকুম দায়ী। আল্লাহ তালা স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে মাঝে মাঝে এই জন্যই এই সব ঘটান মানুষকে বুঝানর জন্য যে বস্তু জগতের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নাই, আল্লাহই এই স্বাভাবিক নিয়মকে জারি রেখেছেন, চাইলেই এর ব্যতিক্রমও করতে পারেন, প্রাকৃতিক শক্তি বলে কিছু নেই।

    এখন আপনার মূল প্রশ্নের দিকে যাওয়া জরুরি মনে করছি। কোরআন হাদিস ও অলৌকিকতা না হয় বিশ্বাসী মুসলিমরা জন্মগত ভাবে মুসলিম হওয়ার কারণে বিশ্বাস করে। অমুসলিমরা এই অলৌকিক আখিরাত, জান্নাত জাহান্নাম কেন বিশ্বাস করবে? বিজ্ঞ আলিমরা এর ভালো উত্তর দিতে পারবেন। আমি যতটুকু জানি তা বলতে পারি।

    এক, ইসলাম স্বভাব জাত ধর্ম। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে আল্লাহ সত্য গ্রহণের যোগ্যতা দিয়েছেন। যখন সঠিক পন্থায় কারো কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো হবে, তার ভিতরের সত্য গ্রহণের যোগ্যতা তাকে ইসলামের দিকে ধাবিত করবে।

    দুই, প্রত্যেক মানুষ মৃত্যুকে স্বীকার করে। মৃত্যু পরবর্তী জীবন নিয়ে সবার মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। ইসলামেই মৃত্যু পরবর্তী জীবন নিয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা রয়েছে যা কৌতূহলের সর্বোত্তম নিরূপণ।

    তিন, ইসলাম হল সর্বোত্তম জীবনাদর্শ। মুসলিমের চরিত্র দেখে অমুসলিমরা ইসলামের দিকে আকৃষ্ট হবে। তখন তারা এই আদর্শের মূল খুঁজতে এসে আল্লাহর রাসুল সাঃ এর আদর্শও জানতে পারবে। এবং উনার বানী ও কুরআন জানতেও আগ্রহী হবে। যখন তারা এটা বূঝবে মুসলিমরা সততা ও নৈতিকতার উপর এই জন্য চলে যে, একদিন আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে, অন্যায় করলে জাহান্নামের শাস্তির ভয় আছে, ন্যায়ের উপর চললে জান্নাতের অনন্ত কালের সুখের ব্যবস্থা আছে। মোটকথা সততা ও নৈতিকতা ও উত্তম জীবনাদর্শের মূলে যে আখিরাতে বিশ্বাস এটা তারা বুঝতে সক্ষম হবে।

    চার, বস্তুজগৎ ও বৈষয়িক সুখ মানুষের আত্মার শান্তি দিতে পারে না। অবিশ্বাসী মানুষেরা আত্মার শান্তির প্রত্যাশায় থাকে, যখন কেঊ সঠিকভাবে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছায় তখন সে সালাত, জিকির ইত্যাদির মাধ্যমে আত্মার শান্তির ব্যবস্থাকে গ্রহণ করে। যারা দেশে- বিদেশে দাওয়াতের কাজ করেন তাদের মূখে শুনেছি, অনেক মানুষ জীবন নিয়ে হতাশায় ভূগে, যখন তাদের সামনে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরা হয় তখন দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা ইসলামকে গ্রহণ করে।

    পাঁচ, ঈমান মানে হল কোন বিশ্বস্ত ব্যক্তির কথার উপর বিশ্বাস করা। যেমন, সমাজের সম্মানিত কোন ব্যক্তি যিনি কখনও মিথ্যা বলেন না, তিনি যদি বলেন আমাদের এলাকায় বন্যার পানি বাঁধ ভেঙ্গে ধেয়ে আসছে, তখন যাচাই না করেই সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে ছূটবে, যে যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করবে, সে নির্ঘাত মারা পড়বে। মুহাম্মদ সাঃ আল আমীন ছিলেন। চল্লিশ বছর সবাই উনাকে দেখেছে, উনার চরিত্র মাধুর্যে মুগ্ধ হয়েছে। নবী হওয়ার পর দাওয়াত দেয়ার সাথে সাথে আবূ বকর রাঃ এই জন্যই বিনা দ্বিধায় ইসলাম কবুল করেছেন যে, এই ব্যক্তি মিথ্যা বলতে পারে না। মুহাম্মদ সাঃ পাহাড়ে ঊঠে এই কথাই বলেছেন যে, আমি যদি বলি পাহাড়ের পিছনে শত্রু বাহিনী আছে, তোমাদের আক্রমণ করবে, তবে কি তোমরা বিশ্বাস করবে? সবাই বলল অবশ্যই বিশ্বাস করবো। তখন তিনি বললেন তবে তোমরা আল্লাহকে রব ও আমাকে নবী স্বীকার করে নাও। একই ভাবে সাহাবীদের যখন কেঊ ইসলাম নিয়ে প্রশ্ন করত তখন তারা বলতেন আমাকে দেখ, তার মানে তারা ইসলামের জীবন্ত আদর্শ ছিলেন।

    মোটকথা, ইসলাম জীবন্ত আদর্শের নাম, আদর্শ দেখে অমুসলিমরা ইসলামের দিকে আকৃষ্ট হবে, তখন তাদেরকে ইসলামের জীবনাচরন, আল্লাহর পরিচয়, আখিরাতে বিশ্বাসের দিকে দাওয়াত দেয়া সম্ভব হবে। আর যারা বিশ্বাসী মুসলিম, কিন্তু প্রাত্যাহিক জীবনে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরন করেন না, বা ইসলাম সম্পর্কে অসম্পূর্ণ জ্ঞান রাখেন কিন্তু কুরআন হাদিস বিশ্বাস করেন, তাদেরকে কুরআন হাদিসের লৌকিক – অলৌকিক সব বিষয় দিয়েই দাওয়াত দেয়া যাবে। আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন। তিনি সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমিন।

  9. 9
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    T A Hasan ভাই,

    আমরা আমাদের আলোচনা সীমার ভিতর রাখি। বস্তু জগতের নিয়মের বাহিরে আল্লাহ্‌ ইচ্ছা মত অনেক কিছু ঘটিয়ে থাকেন। কোরানের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। আমাদের আলোচনা তা নয়।

    বৃহস্পতি গ্রহে স্বাভাবিক ভাবে সর্বদা ৪০০/৬০০ কিমি বা তার বেশি বেগে ঝড় হয়।  এই রকম ঝড় পৃথিবীতে হলে, কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না। আবু বকর(রা) ২ বছর খিলাফত গ্রহনে তিনি যে কঠিন বাস্তবতা ফেইস করেছেন তা ঐ বৃহস্পতি ঝড়ের চেয়েও কঠিন বাস্তবতা এবং তাতে আলৌকিক কেরামতির কিছু ছিল না। তাকে তাঁর কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। উসমান(রা) যাকে বলা হত যুননুরাইন। নবী(সা)-র দুই কন্যা মারা গেলে আফসোস করে বলেছেন 'আমার যদি আরেকটি কন্যা থাকত তাহলে উসমানের কাছে বিয়ে দিতাম'। নিশ্চয় উসমান(রা) উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, তাকে যখন কোরআন পাঠ রত অবস্থায় তরবারী দিয়ে হত্যা করা হয়, তখন অলৌকিক কেরামতি ছিল না। আলী(রা) যখন ফজরের নামাজ আদায় করতে যান তখন তাকে হত্যা করা হয়, তখন আলৌকিক কেরামতি ছিল না। ওমর(রা) যখন ফজরের নামাজে ইমামতি করছিলেন, আবু লুলু যখন চরমভাবে আঘাত করেন, তখন আলৌকিক কেরামতি ছিল না, খন্দকের যুদ্ধে যখন সাহাবীদের ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে গিয়েছিল তখন আলৌকিক কেরামতি ছিল না, উহুদ যুদ্ধে খালিদের আক্রমনের পর মুসলমানদের দৃশ্যটি চোখের সামনে নিয়ে আসলে বুঝা যায় আলৌকিকতার কোন অস্তিত্ব ছিল কিনা? হাজ্জ্বাজ বিন ইউসুফ সোয়া লক্ষ সাহাবী ও তাবেঈনদের হত্যা করেছেন, সেখানে কোন আলৌকিক কেরামতির অস্তিত্ব ছিল না।কত হাজার ঘটনা শুনবেন সাহাবীদের জীবনের অন্তর জ্বালা ও অন্তর শিহরিত কষ্ট? আছে কি কোন আলৌকিক কেরামতির অস্তিত্ব? খোবাইব(রা)-র কাছে আঙ্গুর চলে আসল, আলৌকিকতায়?- This is blind belief. এর সাথে ইসলামের বাস্তবতা মিলে না। Islam doesn't allow blind belief. NO BLIND BELIEF IN ISLAM. "সিরাতুল মুস্তাকীম"-এ অন্ধ বিশ্বাসের কোন অস্তিত্ব নেই, নেই অস্তিত্ব কোন অলৌকিক কেরামতির।

    বোখারী সকল হাদীস গ্রন্থের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ। তিনি ৯৭/৯৮ ভাগ বিশুদ্ধ হতে পারেন, কিন্তু কোরানের মত ১০০ ভাগ নয়। আকরাম খাঁ তাঁর মস্তফা চরিত বইতে  ২/১টি নয়, প্রায় ৩০/৩৫টি বোখারীর ভুল হাদিস তুলে ধরেছেন। প্রথমে বেশ কিছু হাদিস একসাথে তারপর সারা বইতে অনেক হাদিসের অসঙ্গতা তুলে ধরেছেন। এখানে দেখুন। ৫ নম্বর প্রশ্নটির বোখারীর হাদিস কি সত্য? কেন সত্য? 

    মহাপুরুষগণের জ্ঞানের গভীরতা, তাহাদের চরিত্রের মহিমা, তাহাদের জীবনের ব্রত ও সাধনা- এইসব লইয়া আলোচনা করতে গেলে অনেক হাঙ্গামা উপস্তিত হয়। আবার মহাপুরুষকে ভক্তি করিতে হইলে, তাহার জীবনীকে একেবারে বাদ দিয়া গেলেও চলে না। তাই ভক্তগণ সহজে উভয় কুল রক্ষা করিবার জন্য কতকগুলি আজগুবী, অনৈতিকহাসিক, গল্প-গুজব এবং কতকগুলি অলৌকিক ও অস্বাভাবিক উপকথার আবিষ্কার করেন এবং এইগুলোর মধ্য দিয়া মহাপুরুষের নামের জয়জয়কয়ার করিয়া মনে করিয়া লন যে, তাহাকে যথেষ্ট ভক্তি করা হইল। পরে ঐসব কুসংস্কারমূলক উপকথা ও আলৌকিক কেচ্ছা-কাহিনী মহাপুরুষগণের জীবনের প্রকৃত শিক্ষনীয় বিষয়গুলিকে দূরে সরাইয়া দিয়া, ইতিহাস ও পুস্তকসমূহের পৃষ্ঠায় স্থায়ীভাবে অধিকার জমাইয়া বসে। যুক্তির আশ্রয়ে এই সকল কুসংস্কারের বিরুদ্ধে উদ্ধার পাইবার আশা ক্ষীণ।

     

  10. 10
    T A Hasan

    হাদিসের মধ্যে সহি ও জাল দুই রকমই আছে। অলৌকিক ঘটনাবলির মধ্যেও সহি ও জাল দুই রকমই আছে। কিন্তু আপনি যে বলতে চাচ্ছেন অলৌকিক হলেই ভুল বা মিথ্যা, এই ধারনাটি ভুল। কোরআনে নবিদের যে সব মুজেযা বর্ণিত হয়েছে, এই ব্যপারে আপনার বক্তব্য কি? 

  11. 11
    T A Hasan

    আপনি বলেছেন আমরা আমাদের আলোচনা সীমার ভিতর রাখি। আলোচনা সীমার মধ্যেই আছে। আমি যে বিষয়টা বুঝাতে চাচ্ছি সেটা হল মাখলুকের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর।

    আপনি সাহাবি ও বুজুর্গদের উপর নির্যাতনের কিছু বর্ণনা দিয়ে বুঝাতে চাচ্ছেন যে তাদের কেরামতি থাকলে তারা এই নির্যাতন ঠেকাতে পারলেন না কেন? এই তো! আসলে মুজেযা ও কারামত সম্পর্কে আপনি যা বুঝেছেন আমি তা বুঝাতে চাচ্ছি না। 

    মুজেযা ও কারামত ঘটে আল্লাহর পক্ষ থেকে। এখানে বুজুর্গের ক্ষমতা আছে বলে যদি কেউ বিশ্বাস করে তাহলে শিরক হবে। যে আল্লাহ মারয়াম আঃ কে বে-মৌসুমি ফল খাওয়াতে পারেন (সুরা আলে ইমরানঃ ৩৭) সেই আল্লাহ খুবাইব রাঃ কেও বে-মৌসুমি ফল খাওয়াতে পারেন, এই বিশ্বাসের নামই ঈমান, এর বিপরীত বিশ্বাসই সিরাতে মুস্তাকিমের বাইরের বিশ্বাস। মজার বিষয়, বে-মৌসুমি ফল খাওয়ার মধ্যে যদি খুবাইব রাঃ এর নিজের কোন ক্ষমতা থাকতো, তাহলে এর কিছুক্ষন পরই যে তাকে হত্যা করা হল তিনি তা ঠেকাতে পারতেন। বে-মৌসুমি ফল খাওয়া আল্লাহর ইচ্ছায় হয়েছে, উনার শহিদ হওয়া, সেটাও আল্লাহর ইচ্ছায় হয়েছে। বদরের যুদ্ধে আল্লাহ তাআলা সহস্র ফেরেশতা পাঠিয়ে মুসলমানদের সাহায্য করেছেন (সুরা আনফালঃ ৯-১০), আবার একই যুদ্ধে ১৪ জন সাহাবি শহিদও হয়েছেন। সবই আল্লাহর ইচ্ছা। উহুদের যুদ্ধে রাসুল সাঃ এর দান্দান শহিদ হয়েছে, উনার ক্ষমতা থাকলে ঠেকাতে পারতেন। তাই নবি, সাহাবি ও বুজুর্গদের উপর যে কষ্ট এসেছে তা আল্লহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা স্বরূপ ছিল, আবার তাদের সাথে যে অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই ঘটেছে, তাদের ক্ষমতায় নয়।

    এসব ঘটনা এই জন্য আলোচনা করা হয়, মানুষ যেন এটা বুঝে মাখলুক তথা বস্তু জগতের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই, সমস্ত ক্ষমতা আল্লাহর। আমরা ব্যবসা চাকরি ইত্যাদিকে প্রাধান্য দিয়ে আল্লাহর হুকুম থেকে গাফেল হয়ে যাই। যে এই কথা বিশ্বাস করবে ব্যবসা আমাকে খাওয়ায় না, আল্লহই আমাকে খাওয়ান, সে আজান হলে দোকান বন্ধ করে মসজিদে চলে যাবে। আর যে মনে করবে নামাজ পড়লে আখিরাতে পুরস্কার পাওয়া যাবে, আর দুনিয়ায় ব্যবসায়ই আমাকে পালে, সেও নামাজ পড়বে কিন্তু বেশি ব্যস্ততা হলে নামাজকে কাজা করে ফেলবে। এই জন্য আকিদা সহি করে আমল করলে সেটার দ্বারা দুনিয়াতে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যাবে, আখিরাতে পুরস্কার পাওয়া যাবে।

    আপনি একটি অনুচ্ছেদ উল্লেখ করেছেনঃ “মহাপুরুষগণের জ্ঞানের গভীরতা, তাহাদের চরিত্রের মহিমা, তাহাদের জীবনের ব্রত ও সাধনা- এইসব লইয়া আলোচনা করতে গেলে অনেক হাঙ্গামা উপস্তিত হয়। আবার মহাপুরুষকে ভক্তি করিতে হইলে, তাহার জীবনীকে একেবারে বাদ দিয়া গেলেও চলে না। তাই ভক্তগণ সহজে উভয় কুল রক্ষা করিবার জন্য কতকগুলি আজগুবী, অনৈতিকহাসিক, গল্প-গুজব এবং কতকগুলি অলৌকিক ও অস্বাভাবিক উপকথার আবিষ্কার করেন এবং এইগুলোর মধ্য দিয়া মহাপুরুষের নামের জয়জয়কয়ার করিয়া মনে করিয়া লন যে, তাহাকে যথেষ্ট ভক্তি করা হইল। পরে ঐসব কুসংস্কারমূলক উপকথা ও আলৌকিক কেচ্ছা-কাহিনী মহাপুরুষগণের জীবনের প্রকৃত শিক্ষনীয় বিষয়গুলিকে দূরে সরাইয়া দিয়া, ইতিহাস ও পুস্তকসমূহের পৃষ্ঠায় স্থায়ীভাবে অধিকার জমাইয়া বসে। যুক্তির আশ্রয়ে এই সকল কুসংস্কারের বিরুদ্ধে উদ্ধার পাইবার আশা ক্ষীণ”। এই অনুচ্ছেদের বক্তব্যের সাথে আমার বক্তব্যের কোন বিরোধ নাই। এটা সত্য আমাদের দেশে আব্দুল কাদের জিলানী রহঃ, ইব্রাহিম আদহাম রহঃ, রাবেয়া বসরি রহঃ প্রমুখের নামে যে সব আজগুবি গল্প প্রচলিত আছে তার প্রায় সবই বানোয়াট ও মিথ্যা। সাধারনত ভণ্ড পীর, মাজার পন্থীরা এসব বলে সাথে তাদের পীরের কিছু কেরামতি বলে মানুষের নিকট থেকে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে। যারা তাদের অনুসারি তারা শিরকে লিপ্ত। এদের কাজকে অন্যায় বলার ব্যপারে মাজহাবি, লা- মাজহাবি কারো মধ্যেই দ্বিমত নেই। কিন্তু তাদের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলার ক্ষমতার প্রকাশ ঘটে যেসব মুজেযা ও কারামতে তাও অস্বীকার করা দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছু না।

    কোরআন ও হাদিস বুঝতে হবে সাহাবাদের সিরাতের আলোকে, ইসলাম বিষয়ে বিজ্ঞ আলিমদের তত্ত্বাবধানে, বিচ্ছিন্ন মতকে আঁকড়ে ধরে থাকা, এর পক্ষে যুক্তি পেশ করার চেষ্টা করা পণ্ডশ্রম ছাড়া আর কিছু না। আমার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকলে মাফ করে দেবেন। আমাদের এই আলোচনা শুধু তর্কের খাতিরে তর্ক নয়, সত্যকে বুঝার জন্যই। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহিহ বুঝ দান করুন। আমিন।

  12. 12
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    হাদিসের গবেষনা করা মুহাদ্দিসগণের কাজ। আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের ‘হাদীসের নামে জালিয়াতি’ বইটি ভাল। এ রকম আরো ভাল বই আছে।

    মুজেযার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে যেহেতু নবী রাসুল আর দুনিয়ায় আসবেন না। কোরানে যা বলা আছে তা আমাদের আলোচনার বাহিরে। অযথা টেনে আনবেন না।

    কেউ যদি আলৌকিকতা তার কর্ম জীবনে পেয়ে থাকেন, তাহলে তা প্রকাশ করবেন না। কারণ, জনসাধারণ যা বুঝতে অক্ষম তা প্রকাশ করতে যাবেন না। ভণ্ড পীর দরবেশ জাদু বিদ্যার আশ্রয়ে অনেক ভবিষ্যত বলে দিতে পারেন এবং তা কোরানে বলা আছে যা অনুসরণ করতে নিষেধ করা আছে।  তবলীগ জামাতে যে সব বুজুর্গীদের কথা বলা আছে তা ইসলাম বিরুধী এবং বুজুর্গীদের অনেক কেরামতির কিচ্ছা কাহিনী হিন্দু মাইথোলজিতে পাওয়া যায়। বলি, হিন্দু মাইথোলজির কিচ্ছা কাহিনী তবলীগ জামাতের বুজুর্গীদের আলৌকিক কেরামতি বানানো হয়েছে।

    কোরানে মরিয়মের আঙ্গুর খাওয়ার ঘটনা আছে যা ঐ সময়ে আঙ্গুরের সিজন ছিল না এবং এ নিয়ে কোন মন্তব্য বা প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন করলে নিজের ঈমানই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে। খোয়াইব(রা)-র আঙ্গুর খাওয়ার ঘটনার কুসংস্কারে বিশ্বাস করা মুসলমানের কাজ নয়। Apply 'common sense'. খোয়াইব(রা)-র আঙ্গুরের ঘটনা প্রকাশ করে উনি নিশ্চিত জান্নাতী, ইকরামা বিন আবু জাহলের বর্ষার আঘাতে মৃত্যু বরণ করার আগে ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন না। আকরাম খাঁ নবী(সা)-র জীবনী প্রকাশ করতে গিয়ে বোখারীর ৩০/৩৫টির মত হাদিসের অসামঞ্জস্যতা তুলে ধরেছেন। সামগ্রীক বোখারীর হাদিসের অসামঞ্জস্যতার সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে।

     

    • ৬৬১ − হজরত আলী নিহত − সিরিয়ার শাসক মাবিয়া উমাইয়া খেলাফত প্রতিষ্ঠা,
    • ৬৮০ − মাবিয়ার মৃত্যু, এজিদ খলিফা হল − কারবালায় নবীজীর প্রিয় নাতি হযরত হোসেন (র) সহ পরিবারের অনেকে নিহত,
    • ৬৮৪ − মক্কায় আবদুলা বিন জুবায়ের-এর খলিফা হবার ঘোষণা, র্মাজ রাহাত-এর যুদ্ধ,
    • ৬৮৭−৬৯২ − কুফায় মুখতার নিজেকে খলিফা ঘোষণা করলে মক্কায় জুবায়ের, কুফায় মুখতার ও সিরিয়ায় এজিদের বংশধর আবদুল মালিক, একসাথে এই তিন খেলাফতের উদ্ভব ও রক্তাক্ত যুদ্ধে মুখতার ও জুবায়ের নিহত। আবদুল মালিকের সেনাপতি হিসাবে ইতিহাসের কুখ্যাত নৃশংস হত্যাকারী হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ক্রমাগত গণহত্যা। সাহাবীসহ লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে সে খুন করেছে,
    • ৬৯৫ − জাজিরা, আহয়াজ ও কারুন-এর তিনটে যুদ্ধ,
    • ৭০২ − ইরাকে আশাথ বিদ্রোহ, দায়রুল জামিরা’র যুদ্ধ,
    • ৭০২ থেকে ৭৩৭ পর্যন্ত মুসলিম সৈন্যদের বহু দেশ জয় ও ফ্রান্সের সীমানায় পরাজয় − আবার মুসলিমের গৃহযুদ্ধ শুরু,
    • ৭৪০ − (ক) ইরাবে শিয়া বিদ্রোহ। (খ) উত্তর আফ্রিকায় বারবার বিদ্রোহ,
    • ৭৪৩ − খোরাসানে শিয়া বিদ্রোহ,
    • ৭৪৪ − বিদ্রোহীদের অভ্যুত্থানে খলিফা ২য় ওয়ালিদ নিহত,
    • ৭৪৫ − খোরাসানে আবার শিয়া বিদ্রোহ − খারাজী দ্বারা কুয়া ও মসুল দখল,
    • ৭৪৬ − খোরাসানে আবু মুসলিমের বিদ্রোহ,
    • ৭৪৯ − ইস্পাহান ও নিহাওয়ান্দ-এর যুদ্ধ,
    • ৭৫০ − (ক) আব্বাসীয়দের দ্বারা রক্তাক্ত গণহত্যায় উমাইয়া খেলাফতের অবসান। (খ) যাব-এর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ,
    • ৭৫৫ − খোরাসানে আবার বিদ্রোহ,
    • ৭৬২ − ইব্রাহিম ও নাফউজ জাকিয়া-র নেতৃত্বে শিয়া বিদ্রোহ,
    • ৭৬৭ − সিজিলমাসায় খারেজী শাসনের শুরু,
    • ৭৭২ − উত্তর আফ্রিকায় জানবির যুদ্ধ, মরক্কোতে বিদ্রোহী রুস্তমিদ খেলাফত শুরু,
    • ৭৮৮ − মগরেব-এ ইদ্রিসিদ খেলাফত শুরু,
    • ৭৯৯ − খাজারদের বিদ্রোহ দমন,
    • ৮০০ − উত্তর আফ্রিকায় আঘলাবিদ খেলাফত শুরু,
    • ৮০৩ − ইমাম জাফর বারমকির খুন,
    • ৮১৪ − খলিফা হারুন রশীদের মৃত্যুতে দুই পুত্র আল্ আমিন ও আল্ মামুনের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ। আল্ আমিন নিহত,
    • ৮১৫ − ইবনে তুবার নেতৃত্বে শিয়া বিদ্রোহ − কয়েকবছর যুদ্ধের পর সেনাপতি হুরমুজান নিহত,
    • ৮২০ − খোরাসান-এ তাহিরিদ খেলাফত শুরু,
    • ৮২৭ − মুতাজিলাদের সাথে অন্যান্যদের বিরোধ শুরু,
    • ৮৩৭ − জাট (ভারতের নয়) বিদ্রোহ,
    • ৮৩৮ − আজারবাইজান-এ বাবেক বিদ্রোহ দমন,
    • ৮৪৩ − তাবারিস্তান-এ মাজাইর বিদ্রোহ,
    • ৮৬১ − বিদ্রোহী অভ্যুত্থানে খলিফা মুতাওয়াক্কিল নিহত,
    • ৮৬৪ − তাবারিস্তান-এ যায়দি খেলাফত শুরু,
    • ৮৬৬ − খলিফা মুতাসিম বিতাড়িত − নতুন খলিফা মুতা’জ,
    • ৮৬৭ − সিস্তান-এ সাফারিদ খেলাফত শুরু,
    • ৮৬৮ − মিশরে তুলুনিদ খেলাফত শুরু,
    • ৮৬৯ − খলিফা মুতা’জ বিতাড়িত − নতুন খলিফা দাসী-পুত্র আল্ মুহতাদি,
    • ৮৭০ − তুর্কী বিদ্রোহে আল্ মুহতাদি নিহত − নতুন খলিফা আল্ মুতামিদ,
    • ৮৭৩ − রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে তাহিরিদ খেলাফতের উচ্ছেদ,
    • ৮৭৪ − দক্ষিণ ইরাকে জাঞ্জ বিদ্রোহ,
    • ৮৯১ − কেন্দ্রীয় খেলাফত অস্বীকার করে বাহরায়েন-এ কামাতিয়ান শাসনে উদ্ভব,
    • ৮৯৭ − কামাতিয়ান দ্বারা বসরায় গণহত্যায়,
    • ৯০৫ − মসুল ও জাজিরা-য় হামদানিদ খেলাফত শুরু − মিশরে তুলুনিদ খেলাফতের উচ্ছেদ,
    • ৯০৮ − সামানিদ খেলাফত দ্বারা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সাফারিদ খেলাফতের অবসান….

    সব আলৌকিক কেরামতি ঘটেছে বুজুর্গীদের? আপনি একজন বুজুর্গীদের আলৌকিক ঘটনা বলুন যাকে আপনি দেখেছেন তাকে আমরাও দেখতে চাই। আর আলেমের কথা বলতেছেন…। আলেমরাই ইসলাম ধ্বংসের মুল কারিগর। এরাই ফিতনা তৈরি করতেছে। আপনাদের সাদ সাহেবকে ঢাকার বেশীর ভাগ মসজিদে জুম্মার বয়ানে কচু কাটা করতেছেন এবং ফালতু মানুষ বলে বয়ান দিচ্ছেন। 

    চার ঈমাম, বোখারী, সাহাবীগণ, তাবেঈনগন, তাবে তাবেঈনগণ… কারো আলৌকিক কেরামতি নেই, সব কেরামতি আইসা পড়ছে বুজুর্গীদের উপর। সেই বুজুর্গীদের নাম, ঠিকানা বলুন। 

    সত্যকে উপস্থাপন করতেই লিখেছি। ইসলামে কোন 'অন্ধ বিশ্বাস' বা 'কুসংস্কার'-র অস্তিত্ব নেই।

  13. 13
    T A Hasan

    ১. এক কথা আর কতবার বলব। আপনার সর্বশেষ মন্তব্যের উত্তর আমার পূর্বের মন্তব্যে ভালভাবেই দেয়া আছে। তৃতীয় কোন ব্যক্তি মাত্রই এটা স্বীকার করবেন। বুঝতে চাইলে এত বলা লাগে না। জিদ ও মতান্ধতা মানুষকে সত্য গ্রহনে বাধা দেয়। তর্কে জিতার মধ্যে কোন সাফল্য নেই। সত্যকে অস্বীকার করে হলেও তর্কে জিততে হবে, এটা কোন বুদ্ধিমানের চিন্তা হতে পারে না। 

    ২. আপনার লেখাগুলো মিঃ হাসান মাহমুদের লেখা দ্বারা প্রভাবিত (কিছু সরাসরি কপি-পেস্ট )। তার লেখা আমি যতটুকু পড়েছি, বেশিরভাগই সত্যের অপলাপ মনে হয়েছে, শিয়াদের রচিত ইতিহাস এবং ইউরোপিয়ান প্রাচ্যবিদদের রচিত ভ্রান্ত ইসলাম বিদ্বেষী ইতিহাস উনার গবেষণার বুনিয়াদ।

    ৩. বুখারি শারিফ নিয়ে আপনি যে আপত্তি উত্থাপন করেছেন, তার উত্তর গুলো অনেক আগেই ইসলামী গবেষকরা দিয়ে গেছেন। আপনার দৃষ্টিতে আপত্তিকর হাদিসগুলোর ব্যখ্যা দেখতে পারেন নাস্রুল বারী শরহে বুখারি গ্রন্থে। 

    https://www.dropbox.com/s/2mxys7w6v03xlj8/Nasrul%20Bari%20Shorhe%20Bukhari%20part-1.pdf?dl=0

    ৪. ইসলাম নিয়ে কিছু লেখার আগে এই বিষয়ে কিছু পড়াশোনা করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সামান্য একটি Article তৈরি করতে literature Review করতে হয়, ঈমান আকিদা বিষয়ে স্পর্শকাতর লেখা লিখবেন, পূর্বের ইমাম ও আলিমদের ব্যাখ্যা দেখবেন না? ভাল লেখা লিখতে ভাল পাঠক হওয়া শর্ত।

    ৫. "আলেমরাই ইসলাম ধ্বংসের মুল কারিগর" কথাটি এভাবে না বলে বলুন ধর্ম ব্যবসায়ী আলেমরাই ইসলাম ধ্বংসের মুল কারিগর। হাদিসে আছে নিকৃষ্ট আলেমরাই সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব। আলেমরাই ইসলাম ধ্বংসের মুল কারিগর বললে পূর্বের ও বর্তমান সহি আলেমদের অপমান করা হয়। আপনি যে আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির রহঃ এর নাম উল্লেখ করলেন উনিও তো আলেম, তাই নয় কি? আর মাদ্রাসায় পড়লেই সবাই আলেম হয় না।

    ৬. এত লম্বা আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম ভাই হিসাবে কল্যাণকামী হয়ে আপনার ভুল ধারনার অপনোদন করা। গ্রহণ করা বা না করা আপনার ইচ্ছা। কিন্তু আমি নিশ্চিত আপনার লেখাটি পড়ার পর কেউ যদি আমার মন্তব্য পড়ে তাহলে সে সঠিক জিনিস বুঝতে সক্ষম হবে। আবারো অনুরোধ করব আমার মন্তব্যগুলো মনোযোগ সহকারে পুনরায় পড়ুন, সঠিক জিনিষ বুঝতে পারবেন। ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ।

  14. 14
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    বিষয় হচ্ছেঃ বুজুর্গীদের বানোয়াট কিচ্ছা কাহিনী। আপনি শাখামৃগের মত এক ডাল থেকে আরেক ডালে লম্ফঝম্ফ করেতেছেন। আপনাকে বুজুর্গীদের নাম-ঠিকানা দিতে বলেছি। আমরা সাক্ষাত করি, সেই সকল বুজুর্গীদের সাথে কথা বলে আমাদের ভুল গুলো শুধরিয়ে নিই। বুঝে নিব, আলৌকিক কেরামতি আছে, তবলীগ জামাত যা বলছে তা সঠিক। নাম-ঠিকানা না দিতে পারলে আর কমেন্ট করবেন না। নেক্সট ডিলিট করে দিব। একই গানা-বাজনা আর না।

    হাসান মাহমুদ সাহেব ইসলামের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লিখে যাচ্ছেন। মোল্লাদের বানানো শরীয়া আইন কোরআন ও হাদিস বিরুধী এবং মানুষের উপর সেই শরীয়া আইন কত ভয়ংকর তা বই, ভিডিও-র মাধ্যমে তুলে ধরেছেন অনেক সংখ্যক(কয়েকটি বিষয়ে মতভেদ আছে তার সাথে আমার)। এই জন্য বাংলার মোল্লারা তাকে বহুবার হত্যার হুমকি দিয়েছেন। হুমকি দেওয়ার কারণ ধর্মের প্রতি মোল্লাদের অন্ধ বিশ্বাস।একজন মুক্তযোদ্ধা হয়েও দেশে আসতে পারেন না। উনি কি ভুল বলেছেন এবং শিয়াদের পক্ষ নিয়েছেন- তা না বলে আক্রমণ করে বসেছেন। এটা ঠিক করেন নি। (সময় বাচানোর জন্য সন সহ মুসলিম শাসকদের মধ্যে হত্যার ঘটনা গুলো তার কাছ থেকে তুলে ধরা)।

    আলেম বলে ধর্ম ব্যবসায়ী আলেমদের বুঝিয়েছি এবং এদের সংখ্যা বেশী। বিভিন্ন লেখায় বলেছি, আলেম বলতে সব আলেম নয়। আলেমদের মাঝেও অনেক ভাল আলেম আছেন যারা নবী(সা) শিক্ষায় সুশিক্ষিত। তাঁরা প্রকৃত সুন্দর। 

    ছেলের জন্ম বাবার আগে হতে পারে না। আকরাম খাঁ বোখারীর সেই রকম বেশ কিছু হাদিস এই ভাবে তুলে অসমাঞ্জস্যতা দেখিয়েছেন। বিভিন্ন মানুষের মতামতের চেয়ে নিজের Common Sense-র উপর আস্থা রাখা উত্তম।

    আর সময় নষ্ট চাই না। পুর্বেই উল্লেখ করেছি, হিন্দু মাইথোলজির কিচ্ছা কাহিনী বুজুর্গীদের নাম করে কিচ্ছা কাহিনী বানিয়ে তবলীগীরা প্রচার করে। 

    কোন একজন আল্লাহ্‌ প্রেমী আল্লাহ্‌র কাছ থেকে আলৌকিক কিছু পেয়ে থাকলে তা জনসম্মুখে তা প্রকাশ করবেন না, নিজেকে কখনই আত্মপ্রকাশ করবেন না- এই বুঝটা কারো বুঝে আসে না। কেহ একজন শেষ রাতে আল্লাহ্‌র প্রেমে তাহাজ্জুদ নামাজে পা বন্দি করেন, তা শুধু তার ও আল্লাহ্‌র সাথে সরাসরি সম্পর্ক, তা প্রকাশ করেবেন কেন?

     

    1. 14.1
      T A Hasan

      "হাসান মাহমুদ সাহেব ইসলামের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লিখে যাচ্ছেন। মোল্লাদের বানানো শরীয়া আইন কোরআন ও হাদিস বিরুধী এবং মানুষের উপর সেই শরীয়া আইন কত ভয়ংকর তা বই, ভিডিও-র মাধ্যমে তুলে ধরেছেন অনেক সংখ্যক" 

      হাসান মাহমুদ সাহেব সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে তার এই লেখাগুলোও পড়ুন।

      https://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/51429

      https://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/45411

      আস্তিকতা এবং ধর্মীয় সংস্কারের মোড়কে নাস্তিকতার জয়গান তথা ইসলাম থেকে তরুন প্রজন্মের আস্থা উঠিয়ে নেয়ার জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন তিনি। পশ্চিমারা যে ইসলামকে দেখতে চায়, সেই ইসলামের দাওয়াতই তার মিশন। সদালাপ ব্লগ শুরু হয়েছিল নাস্তিকদের অপ-প্রচারের জবাব দেয়ার জন্য। সময় এসেছে আস্তিকতার মোড়কে নাস্তিকতার প্রচারের দাতভাঙ্গা জবাব দেয়ার। সদালাপের পরিশ্রমি ব্লগাররা আশা করি এদিকে নজর দেবেন।

      1. 14.1.1
        মোঃ তাজুল ইসলাম

        আল্লাহ্‌ মানব জাতিকে Common sense দিয়েছেন। কে পবিত্র অন্তরে পবিত্র কথা বলে, কে অপবিত্র অন্তরে পবিত্র কথা বলে, কে মিথ্যা বলে, কে ভাল-মন্দ বলে, কে বিদ্বেষীমূলক কথা বলে, কে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে ধান্ধাবাজী কথা বলে…… তা বুঝার ক্ষমতা সকলকে সমান ভাবে দিয়েছেন। কে কিভাবে এপ্লাই করতেছেন সেটা যার যার ব্যপার। 

        হানাফি মাজহাবে(আমার জানা) 'তালাক' দেওয়ার প্রথা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এই মাজহাবে মুখে একসাথে ৩ তালাক বলে দিলে বিবি তালাক হয়ে যাবে। ফালতু কথা। বিবেক বলে না, ইসলাম এত জঘন্য কাজের অনুমোদন দেয়। ছোট বেলা থেকেই ৩ তালাকের বিরুধী ছিলাম। মুসলিম জাতি মাথা গরম জাতি। রাগের মাথায় ৩ তালাক প্রায় সবাই বলে ফেলে। এক বাক্যে সারা জীবনের সম্পর্ক ধ্বংস হয়ে যাবে, তা আমার Common Sense বলে না। গ্রামে এরকম কিছু ঘটনা নিজে দেখেছি কিন্তু  উত্তর জানা ছিল না। সেই সাথে হানাফি মোল্লারা আবার হিল্লা বিয়ার প্রচলন শুরু করে। অথচ ইসলামে হিল্লা বিয়ের কোন অনুমোদন তো নেই-ই বরং  বড় গুনাহ।  পূর্ণাঙ্গ তালাক হয়ে যাওয়ার পর যদি দ্বিতীয় স্বামী স্বেচ্ছায় তালাক দেয় তাহলে প্রথম স্বামী আবার বিবাহ করতে পারে, যদি দ্বিতীয় স্বামী স্বেচ্ছায় তালাক না দেয় তাহলে প্রথম স্বামীর আর কোন সুযোগ থাকে না। নিজেদের চেতনা দন্ডের মাধ্যমে যৌনতার খায়েশ মিটানোর জন্য হিল্লা বিবাহ প্রচলন শুরু করে ধান্ধাবাজ মোল্লার দল। হাসান সাহেব তালাকের বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন কোরআন ও হাদীসের আলোকে। সকল মুসলিমদের উচিত তা পড়ে নেওয়া। 

        সুরা নিসার প্রথম কয়েকটি আয়াতে এতিম মেয়ে এবং ৪ বিবাহ নিয়ে বলা হয়েছে। সমতা রক্ষা করতে পারলে ৪ টি বিয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরবী জানি না বিধায় এই ৪ বিয়ের অনুমোদন কি এতিম মেয়ের কথা বলা হচ্ছে নাকি সকল মেয়েদের কথা বলা হচ্ছে তা নিয়ে আমি এখনও পরিষ্কার নই।

        হাসান মাহমুদ কে আমি স্পষ্টভাষী, কুসংস্কার মুক্ত মানুষ বলে মনে করি। কিন্তু উনার সাথেও দু'একটি বিষয় মতপার্থক্য হয়। দুনিয়ার নাস্তিকদের সাথে আমি নিজেও কথা বলি। আমি নিজেও বুঝতেছি দুনিয়াতে নাস্তিকের সংখ্যা বাড়তেছে। দুনিয়া মানুষদের থেকে অর্থ কষ্ট বা সকল প্রকার অভাবমুক্ত জীবন, জীবনের মৌলিক প্রয়োজনসহ, আধুনিক ট্যাকনোলজি তাদের দিয়ে দেওয়া হলে ধার্মিক বলে কেউ থাকবে না। জাপান, ডেনমার্ক, সুইডেন, লুক্সেমবার্গ, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড…… দেশগুলোতে নাস্তিকের সংখ্যা অনেক। ভবিষ্যতে পুরা দুনিয়ায় এদের মত হয়ে যাবে। 

        নবী(সা) নিজেও বলে গেছেন, কিয়ামতের আগে মসজিদ সব চাকচিক্যময় হবে কিন্তু 'তাকওয়া' অবলম্বনকারী বলে কেউ থাকবে না। আরো বলেছেন, "কিয়ামতের আগে যে সমস্ত মুমিন জীবিত থাকবে তাদের জন্য ঈমান নিয়ে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে (বুখারী & মুসলিম)" ঈমান থাকবে বাহ্যিক লেবাসে, অন্তরে নয়।

        আমাদের আলোচনা হাসান মাহমুদ সাহেবকে নিয়ে নয়। আলোচনা ছিল হিন্দু মাইথোলজির অলৌকিক কেরামতির বানোয়াট কল্প কাহিনী ও উপকথা যা বুজুর্গীদের আলৌকিক কেরামতি বলে প্রচার করে হচ্ছে তবলীগ জামাতে, এতে ইসলামের যেমন মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে, নিজেরাও তাকওয়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। ইহা বন্ধ করা জুরুরী। 

         

        1. 14.1.1.1
          এস. এম. রায়হান

          হাসান মাহমুদ সাহেব ইসলামের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লিখে যাচ্ছেন।

          হাসান মাহমুদ কে আমি স্পষ্টভাষী, কুসংস্কার মুক্ত মানুষ বলে মনে করি।

          এতদিন পরে এসে সদালাপের একজন লেখকের মুখ থেকে এ কী সার্টিফিকেইট শুনি!

          ১মত- উনি ইসলামবিদ্বেষী অভিজিৎ রায়ের অন্ধ ভক্ত, ইসলাম বা ইসলামের নবীর ভক্ত না। অভিজিৎ রায়ের ভক্ত কি কখনো ইসলাম-প্রেমী বা ইসলামে বিশ্বাসী হতে পারে?

          ২য়ত- উনার নিজের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এবং উনার চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে ইসলামের নবীকে নিয়ে চরম ঘৃণা-বিদ্বেষ এবং কুরআনের বিরুদ্ধে চরম মিথ্যাচার দেখেও উনি এগুলো নিয়ে আজ পর্যন্ত একটা টু শব্দটিও করেননি। হাউ ডাজ ইট মেইক সেন্স?

          ৩য়ত- উনার উঠা-বসা চলা-ফেরা ও বন্ধুত্ব সব ইসলামবিদ্বেষীদের সাথে। ইসলামবিদ্বেষীদের পোস্টে উনার নিয়মিত লাইক-মন্তব্যও দেখা যায়। 

          উনি সাধারণ জনগণের কাছে 'ইসলামে বিশ্বাসী' সেজে ইসলামের মধ্যে 'কুসংস্কার ও সন্ত্রাস' আবিষ্কার করে সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে, নাটক-সিনেমা বানিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও উনার সম্পর্কে অজ্ঞ মুসলিমদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন। এ ছাড়া জনপ্রিয় হওয়ার আর কোনো পথ উনার সামনে খোলা নেই। 'মুক্তমনা' আবুল কাশেম ও কামরান মির্জার সাথে উনার পার্থক্য হচ্ছে- ১ম দু'জন যেখানে প্রকাশ্যে নিজেদেরকে নাস্তিক ঘোষণা দিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে লিখেছে, সেখানে উনি শুরু থেকেই মুনাফেকীর আশ্রয় নিয়ে মুসলিমদের একাংশের ঘাড়ে বসে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন।

        2. মোঃ তাজুল ইসলাম

          ব্লগার সম্পর্কে আপনাদের মত জ্ঞান ও বিচক্ষনতার ক্ষমতা রাখি না। বেশ কয়েক বছর যাবত উনার সাথে আলোচনা হয়। উনার ব্লগে ইসলাম বিদ্বেষী আকাশ মালিক সহ কাদিয়ানীদের অনেক এজেন্ট মন্তব্য করেন। আর নাস্তিকরা তো আছেনই। আমাদের অনেকেই পরিচিত, আত্মীয় নাস্তিক যাদের সাথে আমরাও কথা, উঠাবসা, চলাফেরা করি। উনার এই রকম অনেকেই থাকতে পারে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে সমস্যা দেখি না।

          হাসান মাহমুদ মুক্তমনা প্রতিষ্ঠাতার একজন। অভিজিতের সহিত তার সখ্য ছিল, সম্পর্ক ভাল ছিল, আমি দোষের দেখি না। মুক্তমনা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর উনি লিখতেন পরবর্তীতে ২০১১ বা তার পর উনার আর কোন লেখা মুক্তমনায় পাই নি। এই মুক্তমনায় অভিজিত নিজে ও ছদ্মনাম রফিক নামে লিখত। আপনার সাথে একমতq, হাসান মাহমুদ অভিজিত সহ অন্যান্য ইসলাম বিদ্বেষীদের জবাব বা উত্তর দিতেন না। তার এই নীরবতায় অবাক হয়েছি।

          তালাক ও চার বিয়ে নিয়ে উনার লিখাগুলো পাওয়া যাবে ‘শরিয়া কি বলে আমরা কি করি’ বইতে। তার এই লিখাগুলো কোরআন ও হাদীসের আলোকে যুক্তিসঙ্গত। ৭/৮ বছর আগে মুনিম ভাইকে অনুরোধ করেছিলাম এর জবাব দেওয়ার কিন্তু তিনি তা দেন নি। 

           

          উনি সাধারণ জনগণের কাছে ‘ইসলামে বিশ্বাসী’ সেজে ইসলামের মধ্যে ‘কুসংস্কার ও সন্ত্রাস’ আবিষ্কার করে সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে, নাটক-সিনেমা বানিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও উনার সম্পর্কে অজ্ঞ মুসলিমদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছেন। এ ছাড়া জনপ্রিয় হওয়ার আর কোনো পথ উনার সামনে খোলা নেই। ‘মুক্তমনা’ আবুল কাশেম ও কামরান মির্জার সাথে উনার পার্থক্য হচ্ছে- ১ম দু’জন যেখানে প্রকাশ্যে নিজেদেরকে নাস্তিক ঘোষণা দিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে লিখেছে, সেখানে উনি শুরু থেকেই মুনাফেকীর আশ্রয় নিয়ে মুসলিমদের একাংশের ঘাড়ে বসে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন।

          ==> আপনার কথাগুলো সত্য হলে চিন্তার বিষয়। হাসান মাহমুদ ‘মোনাফেক’? দয়াকরে কিছু দলিল দিবেন কি? জানতে চাই।  উনার বেশ কয়েকটি ভিডিও দেখেছি, বেশ কিছু সাক্ষাৎকার CNN BBC সহ অনলাইনে জানার সুযোগ হয়েছে তাতে তাকে যথেষ্ট সাবধানী বলে মনে হয়েছে। সুন্দর মার্জিত ভাষায় যুক্তিসঙ্গত কথা বলেছেন। শরিয়ার আইনের সমস্যা তুলে ধরেছেন, দেখুন এখানে। ৪ জন সাক্ষি প্রয়োজন মেয়েদের উপর অপবাদ দেওয়া হলে। সম্ভবতঃ সাদাত ভাই এই বিষয়ে লিখে দিয়েছিলেন। আর শরিয়ায় ধর্ষনের জন্য ৪ জন সাক্ষি সাব্যস্ত করেছেন, এমনি ফাকিগুলো তুলে ধরেছেন। 

          ধন্যবাদ ভাই।

        3. 14.1.1.2
          এস. এম. রায়হান

          হাতের কাছে সেভাবে প্রমাণ রেখে দেওয়া হয়নি। তবে আপাতত এখানে থেকে উনার দুটি মন্তব্য দেখতে পারেন। ১মত- ইসলামকে একটি 'অশুভ দৈত্য' বলা একজন ইসলামবিদ্বেষীর মন্তব্যকে কৌট করে উনি সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থাৎ উনিও ইসলামকে একটি 'অশুভ দৈত্য' মনে করেন। ২য়ত- উনার বিশ্বাস অনুযায়ী একমাত্র শিখ ধর্মে নারী ও পুরুষকে সকল বিষয়ে অ্যাবসলিউট সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও উনার দাবি অনুযায়ী ইসলামের মধ্যেই সন্ত্রাস নিহীত আছে, ইসলাম একটি অশান্তির ধর্ম, ইত্যাদি।

          এর পরও উনার সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে উনি আদৌ ইসলামে বিশ্বাসী কি-না, সেটা খুব সহজেই প্রমাণ করতে পারবেন। উনাকে শুধু বলবেন অভিজিতের ইসলাম নিয়ে লেখা থেকে কিছু ভুল-ভ্রান্তি-প্রতারণা উল্লেখ করে সেগুলোর জবাব দিয়ে একটি লেখা তৈরি করে সেটি মুক্তমনা ব্লগ ও উনার ফেসবুকে যেন পোস্ট করেন। ব্যাস। তারপর খেল দেখুন!

          নোট: ভণ্ড প্রকৃতির লোকজন অন্যান্যদের তুলনায় ব্যবহারে 'অমায়িক' ও 'মিষ্টভাষী' হয়।

  15. 15
    T A Hasan

    বস্তুবাদী চিন্তা নাস্তিকতার দিকে নিয়ে যায়। আমার মন্তব্য আপনি ভাল করে পড়েন নি। আবার উল্লেখ করছিঃ

    আপনি একটি অনুচ্ছেদ উল্লেখ করেছেনঃ “মহাপুরুষগণের জ্ঞানের গভীরতা, তাহাদের চরিত্রের মহিমা, তাহাদের জীবনের ব্রত ও সাধনা- এইসব লইয়া আলোচনা করতে গেলে অনেক হাঙ্গামা উপস্তিত হয়। আবার মহাপুরুষকে ভক্তি করিতে হইলে, তাহার জীবনীকে একেবারে বাদ দিয়া গেলেও চলে না। তাই ভক্তগণ সহজে উভয় কুল রক্ষা করিবার জন্য কতকগুলি আজগুবী, অনৈতিকহাসিক, গল্প-গুজব এবং কতকগুলি অলৌকিক ও অস্বাভাবিক উপকথার আবিষ্কার করেন এবং এইগুলোর মধ্য দিয়া মহাপুরুষের নামের জয়জয়কয়ার করিয়া মনে করিয়া লন যে, তাহাকে যথেষ্ট ভক্তি করা হইল। পরে ঐসব কুসংস্কারমূলক উপকথা ও আলৌকিক কেচ্ছা-কাহিনী মহাপুরুষগণের জীবনের প্রকৃত শিক্ষনীয় বিষয়গুলিকে দূরে সরাইয়া দিয়া, ইতিহাস ও পুস্তকসমূহের পৃষ্ঠায় স্থায়ীভাবে অধিকার জমাইয়া বসে। যুক্তির আশ্রয়ে এই সকল কুসংস্কারের বিরুদ্ধে উদ্ধার পাইবার আশা ক্ষীণ”। এই অনুচ্ছেদের বক্তব্যের সাথে আমার বক্তব্যের কোন বিরোধ নাই। এটা সত্য আমাদের দেশে আব্দুল কাদের জিলানী রহঃ, ইব্রাহিম আদহাম রহঃ, রাবেয়া বসরি রহঃ প্রমুখের নামে যে সব আজগুবি গল্প প্রচলিত আছে তার প্রায় সবই বানোয়াট ও মিথ্যা। সাধারনত ভণ্ড পীর, মাজার পন্থীরা এসব বলে সাথে তাদের পীরের কিছু কেরামতি বলে মানুষের নিকট থেকে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে। যারা তাদের অনুসারি তারা শিরকে লিপ্ত। এদের কাজকে অন্যায় বলার ব্যপারে মাজহাবি, লা- মাজহাবি কারো মধ্যেই দ্বিমত নেই। কিন্তু তাদের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলার ক্ষমতার প্রকাশ ঘটে যেসব মুজেযা ও কারামতে তাও অস্বীকার করা দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছু না।

    মুজেযা ও কারামত ঘটে আল্লাহর পক্ষ থেকে। এখানে বুজুর্গের ক্ষমতা আছে বলে যদি কেউ বিশ্বাস করে তাহলে শিরক হবে। যে আল্লাহ মারয়াম আঃ কে বে-মৌসুমি ফল খাওয়াতে পারেন (সুরা আলে ইমরানঃ ৩৭) সেই আল্লাহ খুবাইব রাঃ কেও বে-মৌসুমি ফল খাওয়াতে পারেন, এই বিশ্বাসের নামই ঈমান, এর বিপরীত বিশ্বাসই সিরাতে মুস্তাকিমের বাইরের বিশ্বাস। মজার বিষয়, বে-মৌসুমি ফল খাওয়ার মধ্যে যদি খুবাইব রাঃ এর নিজের কোন ক্ষমতা থাকতো, তাহলে এর কিছুক্ষন পরই যে তাকে হত্যা করা হল তিনি তা ঠেকাতে পারতেন। বে-মৌসুমি ফল খাওয়া আল্লাহর ইচ্ছায় হয়েছে, উনার শহিদ হওয়া, সেটাও আল্লাহর ইচ্ছায় হয়েছে। 

    বুজুর্গীদের বানোয়াট কিচ্ছা কাহিনীর পক্ষে কখন বললাম?

    *****

    শিয়াদের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা লেখাটি তে আপনার মন্তব্য; অক্টোবর ৩, ২০১৫ at ৫:১৩ অপরাহ্ণ 

    বিদায় হজ্জে নবী(স) যখন ভাষণ দেন, তখন সাহাবীর সংখ্যা ছিল ১,১০,০০০০। বিদায় হজ্জ শেষে মদিনায় ফিরার পথে গাদিরে খুমে আবার ভাষণ দেন, তখন সাহাবীর সংখ্যা ছিল ৮৫,০০০। ওই ভাষণে নবী(স) বলেন, আমার পর আমার আহলে বায়াত-কে আনুসরন করো। আহলে বায়াত হল হযরত আলী, হাসান, হুসেন ও মা ফাতিমা। (মুসলিম শরিফ, হাদিস # ৬০০৭, ৬০০৮, ৬০০৯, ই ফাউ)

    নবী(স) ইন্তেকাল করেন সোমবার। মারা যাবার ৩ দিন পূর্বে বৃহস্পতিবার দিন উনি হুইল করে দিতে চেয়েছিলেন পরবর্তী খলিফা এবং সেই জন্য যারা লিখতে পারে, তাদের তলব করেন। তাদের পিছনে ওমর(রা)-ও ছিলেন। উনি জানতেন, নবী(স) আলী-কে খলিফা নির্ধারন করে যাবেন।  উনি নবী(স)-কে বলেন, আপনার পরে কোরানই যথেষ্ট আমাদের জীবনের জন্য এবং কাজে ব্যঘাত ঘটান। নবী(স) বিরক্ত হয়ে সবাই-কে ঘর থেকে বের করে দেন। (বুখারী, আজিজুল হক, পৃ-২৬৭ + বুখারী ইংলিশ অনুবাদ, ডঃ মো মহসিন খান ১ম খণ্ড হাদিস-১১৪ এবং ৪র্থ খণ্ড হাদিস নং- ২৮৮ ও ৩৯৩)। ইতিহাসবিদ-গন বলেন, হযরত উমর যদি নবী(স) ব্যঘাত না ঘটাইতেন তাহলে পরবর্তীতে ইসলামে এত রক্তারক্তি হত না।

    ফাতমি ভাইয়ের উত্তরঃ  আপনার শেষের অংশ ভয়ংকর শিয়া প্রপাগান্ডা, কারণ হযরত উমর রাঃ রাসূল সা এর মনে কি আছে না আছে সেটা কিভাবে জানবেন? উনার কাছে কি ওহী আসত? না, আসত না। তাই, আপনি জাস্ট উমর রা এর প্রতি ঘৃনা ছড়ানোর অপচেষ্টা করছেন।

    ****আপনি আপনার মন্তব্যে হাসান মাহমুদের ভয়ংকর বৃহস্পতি প্রবন্ধ থেকে কপি করেছেন।

    হাসান মাহমুদ এবং শিয়াদের এই জালিয়াতির জবাব পড়ুন নিচের লিঙ্কের (পৃষ্ঠা ৫৫৬ -- ৫৬৩।)

    https://www.dropbox.com/s/2mxys7w6v03xlj8/Nasrul%20Bari%20Shorhe%20Bukhari%20part-1.pdf?dl=0

  16. 16
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    নাস্তিকরা কোরআন থেকে 'নারীরা শস্য ক্ষেত্র' যেভাবে বের করে আনে, আপনিও তেমনি একটা মন্তব্য বের করে আনলেন। আপনার ধরন দেখে মনে হয় আপনি সদালপের অনেক পুরান পাঠক।

    সুন্নী, শিয়াসহ সব রকমের দলাদলি ইসলামে নিষিদ্ধ। কোরআন আমাদের সকলকে শুধু 'মুসলিম' পরিচয় দিতে বলেছেন। কেউ বিভাজন করলে, সে তার উপর বর্তাবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুসলিম শরিফের হাদীসগুলো হাসান মাহমুদের 'সর্বনাশা বৃহস্পতি'-তে আছে কি? আর তার নিচে বোখারীর হাদিস কেন মিথ্যা হবে?- তার ব্যাখ্যা দেন। যদি বোখারীর হাদিস মিথ্যা না হয় তাহলে কেন হাসান মাহমুদের চরিত্র নিয়া টানাটানি করেন? 

     

     

    বুজুর্গীদের বানোয়াট কিচ্ছা কাহিনীর পক্ষে কখন বললাম?
    ==> তাহলে কেন এত মন্তব্য করলেন? আমার সময় নষ্ট করলেন?

    ইসলামী খিলাফত/শাসনতন্ত্র আর দ্বীন এক কিনা? নবী(সা) মারা যাবার পর মুসলিমদের মাঝে এত রক্তারক্তি, খুনাখুনি, যুদ্ধ হবে কেন? এর মুল কারণ যদি ‘সর্বনাশা বৃহস্পতি’-কে দায়ী করা হয়, তা অবশ্যই যৌক্তিক।
    আলোচনা আর এগোতে চাই না।

  17. 17
    T A Hasan

    নিচের লিঙ্কের (পৃষ্ঠা ৫৫৬ — ৫৬৩।) পড়ুন।

    https://www.dropbox.com/s/2mxys7w6v03xlj8/Nasrul%20Bari%20Shorhe%20Bukhari%20part-1.pdf?dl=0

  18. 18
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ৫৫৯ নম্বর পৃষ্টার কথাগুলো উপরের মন্তব্যে উল্লেখ করেছি। আপনি খেয়াল করেন নি। 

    ইসলামী খিলাফত/শাসনতন্ত্র আর দীন এক কিনা? নবী(সা) মারা যাবার পর মুসলিমদের মাঝে এত রক্তারক্তি, খুনাখুনি, যুদ্ধ হবে কেন? এর মুল কারণ যদি ‘সর্বনাশা বৃহস্পতি’-কে দায়ী করা হয়, তা অবশ্যই যৌক্তিক। কেন যৌক্তিক হবে না? ওমর(রা) অবশ্যই একজন সম্মানিত সাহাবী। তবে কিছু ভুল উনার আছে তা প্রকাশ করলে অন্যায় হবে কেন? হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় ওমর(রা) ভুল করেছিলেন। এমনই ভুল 'সর্বনাশা বৃহস্পতি'-তে করেছেন। কোন কোন ইতিহাসবিদ বলেন, ওমর(রা) উহুদের যুদ্ধে যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পালিয়েছিলেন। যাক, আমাদের আলোচনা সে দিকে নয়। আল্লাহ্‌ উনাকে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদাশীল করুন।

     

    [১]

    আমাদের আলোচনাঃ বুজুর্গীদের আলৌকিক কেরামতির বানোয়াট কিচ্ছা কাহিনী। আপনি শেষে বললেন ইহার পক্ষে আপনি নন। তাহলে আলোচনা আর বাড়ানোর কোন প্রয়োজন নেই। আপনারা যেহেতু তাবলীগ জামাতের সাথে সর্বদা সম্পৃক্ত, তাহলে এই সব উপকথার কিচ্ছা কাহিনী বন্ধ করুন। ইসলামের মর্যাদা নষ্ট না করার আহবান করি। আর আপনাদের এই তবলীগ জামাতের প্রতি আমাদের সমার্থন আছে। মুসলমান বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাওয়াত দেওয়া ইহার সংস্কার প্রয়োজন। এই সিস্টেমকে আরো আপডেট করতে হবে। অমুসলিমদের প্রতিও দাওয়াতের কাজ করতে হবে। কি আপডেট করলে অমুসলিমদের অন্তর-বিবেক নাড়া দিবে এবং তাদের চিন্তার খোরাক জোগাবে তা গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত। সকল অমুসলিমদেরকে 'ইসলাম'-কে জানার পরিধি ও রাস্তা উম্মুক্ত ও সুন্দর হওয়া প্রয়োজন।

    [২]

    শাহাবুদ্দিন সাহেবকে দাওয়াতের যে মৌলিক প্রশ্ন করা হয়েছে তার উত্তরগুলো জানা থাকতে হবে সকলের নয়ত দাওয়াতের কাজ করা অসম্ভব। জ্ঞানের ও চিন্তার পরিধি আরো বাড়াতে হবে। 

    দাওয়াত উদ্দেশ্য হবে আল্লাহ্‌র জন্য, আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য, নিজের আত্মশুদ্ধির জন্য, দুনিয়ার মানুষের কল্যানের জন্য। আপনাদের সাদ সাহেবের কেন্দ্রিকতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। 'পরিবার তন্ত্র' ইসলামে অনুমোদন নেই। পরিবার তন্ত্র ভন্ড পীরদের ব্যবসা। উনি নিজের গদি আঁকড়ে ধরে আছেন। ইহা সুন্দরতা প্রকাশ করে না।

     

    ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। আলোচনার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.