«

»

Apr ২৭

ঈশ্বর-মুক্ত পৃথিবীর উদ্বোধন এখান থেকে

আগামী পৃথিবী হবে ঈশ্বর-মুক্ত পৃথিবী- এমন ঘোষণা খুব জোরে শোরেই আজকাল বাতাসে ভাসছে। আর সেই ঘোষণার বাস্তব রূপায়ন ইতোমধ্যেই পৃথিবীর দেশে দেশে পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। আজ পৃথিবীর প্রায় ১৬% মানুষ কোনো ধর্মে বিশ্বাস করছে না বা তারা ধর্মহীন।

এ ক্ষেত্রে সবার আগে রয়েছে আগামী বিশ্বের রূপকার হিসেবে যাদের নাম তালিকায় সর্বপ্রথম আসে তারা। হাঁ আমি চীনের কথা বলছি। কোনো ধর্মে বিশ্বাস করেন না- এমন মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে চীনেই বেশি। গত কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত এক জরিপে দেখা গেছে চীনের শতকরা প্রায় পঞ্চাশ ভাগ মানুষ কোনো ধর্মে বিশ্বাসী নন। যেখানে গোটা বিশ্বের সর্বত্র গড়ে ১৩ ভাগ মানুষ নাস্তিক, সেখানে চীনে তাদের সংখ্যা শতকরা ৪৭ ভাগ। তবে খোদ চীনের শাসকদলই যেহেতু নাস্তিক, তাই সেখানে নাস্তিক্যবাদের এমন ছড়াছড়িতে বিস্ময়ের কিছু নেই। বাদবাকি আস্তিকদের কাছে এটা যে এক বিশাল বার্তা- তা বোধহয় কাউকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়ার দরকার নেই।

গত শতাব্দীর অন্যতম সুপার পাওয়ার এক ‘ধর্মহীন’ কিংবা ‘নাস্তিক’ রাষ্ট্রের লম্ফঝম্ফ আমরা দেখেছি। দেখেছি সেই বিশাল বটবৃক্ষের নিচে গজিয়ে ওঠা ছোট ছোট চারাগুলোকে কীভাবে সে বীভৎসভাবে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করেছে। একবিংশ শতাব্দীর এক ভবিষ্যৎ সুপার পাওয়ার যদি আবার সে-পথেই হাঁটা শুরু করে, তবে বলির পাঁঠা হওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে আবারও কয়েক বিলিয়ন মানুষকে। অবশ্য এর উদাহরণ আমরা আগে লক্ষ্য করিনি এমন নয়। গত শতকের ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত সেখানে সংঘটিত তথাকথিত সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় আমরা দেখেছি কীভাবে খুঁজে খুঁজে ধর্মীয় উপসনালয় আর ধর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ চীনের মাটি থেকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলেছে। বাদবাকি ১৯৭৮ সাল থেকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নতুন করে সেখানে বৌদ্ধ ও তাও ধর্মের অসংখ্য ধর্মোপসনালয় ও মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে।

বৌদ্ধ, তাও, ইসলাম, ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্ট- এই পাঁচটি ধর্ম চীনে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করেছে।

চীনের কথা বাদ দিয়ে আরও বিস্ময়কর ব্যাপার শুনুন। সৌদি আরবের কথা নাস্তিক কি আস্তিক কে না জানে? সারা পৃথিবীতে আইনী কঠোরতার (?) জন্য সৌদি আরব প্রসিদ্ধ। এখানে একজন নাস্তিক আইনী দৃষ্টিতে অপরাধী। অথচ গত কিছুদিন আগে চালানো জরিপে বলা হয়েছে, সৌদিতে নাস্তিকদের হার শতকার ৫ ভাগ! কী বিস্ময়কর নয়?

সত্যি কথা কি, নাস্তিক্যবাদ ও ধর্মহীন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে বেড়ে চলছে সন্দেহ নেই। একইভাবে ধর্মের ছায়ায় আশ্রয় নেয়া মানুষের সংখ্যাও কিন্তু কমছে এমন নয়। তবে মূল পার্থক্যের জায়গাটুকু হলো- ধর্মের প্রচার ও প্রসারের কথা যতটুকু বলা হয়, নাস্তিক্যবাদের সংখ্যাটি সেখানে বলা হয় বেশ ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে।

উদাহরণত সৌদি আরবের কথাই ধরুন। সেখানে নাস্তিক্যবাদের হার বলা হয়েছে শতকরা পাঁচ ভাগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জরিপে সৌদির যে সব নারী হিজাব পরেন না, যেসব লোক ফজরের নামায আদায় করেন না আর যারা গান-বাজনা শোনেন তাদেরকেও গনা হয়েছে নাস্তিকদের ভেতরে! সুতরাং সেখানে নাস্তিকদের এই হার যদি আরও বাড়ে তবে আশ্চর্যের কী থাকে?

যাই হোক, পৃথিবীতে নাস্তিক ও ধর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এটা আমাদের কাছে একটি সুস্পষ্ট বিষয়। আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এটা আরও বাস্তবসম্মত। আগে একসময় দাঊদ হায়দার আর আহমদ শরীফ আমাদের দেশে দু’একজন ছিলেন। কিন্তু আজকে তাদের সংখ্যা হাজার হাজার। সুতরাং আস্তিকরা এখন কী করবেন- সেটা ভাবার দায়িত্ব তাদের উপরই ছেড়ে দেয়া উচিত।

২১ comments

Skip to comment form

  1. 10
    mufti monoar hossen

    আলহামদুলিল্লাহ, ভাইয়েরা অনেক কাজ করছেন। নাস্তিকতা বিষয়ে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে যখন পড়াশুনা শুরু  করেছি তখন আপনাদের ব্লগিং এবং কমেন্ট রি কমেন্ট আমাকে অনেক উপকৃত করছে। যাযাকুমুল্লাহ।

  2. 9
    sotto

    এখানে আমন্ত্রণ- কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কি কুকুর খান না!!??

  3. 8
    মীযান হারুন

    বিষয়টি নিয়ে আরেকটু ভাবার দরকার ছিল বলে মনে হয়। হিদায়াতে ওপর অটল থাকার অন্যতম শর্ত হলো ‘সৎকর্মের আদেশদান ও অসৎকর্ম থেকে বাধাপ্রদান’। সুতরাং ‘নাস্তিক বাড়াতে আমার মাথা ব্যথা নেই কথাটি সম্ভবত সুন্দর নয়। একজন মুসলিম হিসেবে আপনার অবশ্যই মাথা ব্যথা থাকতে হবে। 

  4. 7
    করতোয়া

    সৌদি আরবে বা অনেক মুসলিম দেশে নাস্তিকের সংখ্যাধিক্য আর অনেক অমুসলিম দেশে মুসলিমের সংখ্যাধিক্য বৃদ্ধির বিষয়ে কোরআনের একটি আয়াতের সত্যতা প্রনিধানযোগ্য। সেই আয়াতে আল্লাহ সোবহানা তালা বলেছেন "তোমরা যদি আমার আয়াতের বিরুদ্ধাচারন কর বা আমার হিদায়া থেকে মুখ ফিরে নাও তাহলে আমি তোমার স্থলে অন্য জাতীর উদ্ভাবন ঘটাব যারা আমার আয়াত পাঠ করবে আর অন্যদের শুনাবে।" কাজেই মুসলিম দেশে নাস্তিক বাড়া না বাড়াতে আমার মাথা ব্যাথা নাই আমার মাথাব্যাথা আমি সেই হিদায়ের পথে নিজে সঠিকভাবে অবস্থান করছি কিনা। যত ফিৎনা বেড়েছে তাতে এখন নিজের প্রতি সন্দেহ সৃষ্টি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয় যেহেতু আমাদের ঈমান যথেষ্ট দুর্বল।

  5. 6
    এম_আহমদ

    “আগামী পৃথিবী হবে ঈশ্বর-মুক্ত পৃথিবী- এমন ঘোষণা খুব জোরে শোরেই আজকাল বাতাসে ভাসছে।” কথা হল ঈশ্বর কে, তার পরিচিতি কি, তাকে কীভাবে জানা হয়, তারপর তাত্থকে কীভাবে মুক্ত হওয়া যাবে? আবার যিনি “নাই” তাত্থেকে মুক্ত হওয়ার ধারণা আসে কীভাবে? ধরে নিয়েই যদি ভাবি, তবে আমরা দেখি নাস্তিক-ধর্ম বিংশ শতাব্দীর শেষাংশ থেকে পলায়নপর, কেবল সংকোচিতই হচ্ছে। বিজ্ঞান আর যুক্তির অসার চিৎকার গর্দভের মত প্রকাশ পাচ্ছে।

    তারপর, ধর্মহীন হওয়া এক কথা, আর ঈশ্বরমুক্ত হওয়া অন্যকথা। ধর্ম ও ঈশ্বর সমার্থক বিষয় নয়। এখানেও তাদের সমস্যা। বৌদ্ধের কথা অন্য রকমের। বৌদ্ধ স্রষ্টা সম্পর্কে নীরব ছিলেন। কেননা তদানীন্তন সময়ে (খৃষ্টপূর্ব পঞ্চম শতক) এ বিষয়ে কথা বলতে গেলেই তার অঞ্চলের প্রচলিত ধর্মীয় বিতর্কের এক প্রান্তে জড়িয়ে পড়তে হত এবং ওদের না হয় এদের আক্রোশে পড়তে হত। বিগত আড়াই হাজার বছর ধরে বৌদ্ধরা খোদা নিয়ে তেমন কিছু ভাবেনি। আজ বৌদ্ধ সমাজের  পক্ষে খোদাতে অস্বীকার আসলে এটা আলোচনার কোনো বস্তুই হয় না। কিন্তু তবুও তাদের মধ্যে ধর্ম আছে। নাস্তিকের মধ্যেও ধর্ম আছে। এজন্য ধর্মী কী –এই সত্যের উত্তর পেলেই সেই সমঝে উপনীত হওয়া যায়।

  6. 5
    sotto

    সরাসরি বৈরিতায় লিপ্ত না হলে উভয় পক্ষই তাদের বিশ্বাস অনুসারে বেঁচে থাকার অধিকার রাখে- পরকালে কি হবে সে ভার স্রষ্টার হাতে ন্যাস্ত থাক।

    এবার এখানে দেখুন- গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে চাই- কেউ আছেন কি?

    1. 5.1
      মীযান হারুন

      আপনার প্রশ্নগুলোর ছোট্ট করে একটি জবাব শুনে নিন। মহানবী সা. জীবনে মাত্র একবার হজ্জ করেছেন। হজ্জ করর সময় বলেছিলেন, ‘আমি যেভাবে কাজ করছি তোমরা সেগুলো দেখে দেখে করো’। পরের বছর হজ্জের আগেই নবীজী সা. এর ওফাত হয়। তিনি আর হজ্জ করতে পারেননি। এরপর পৃথিবীতে কেবল নবীজীর সহচরবর্গ তথা সাহাবাগণ বেঁচে থাকেন। তারা ছিলেন ইসলাম বোঝার ক্ষেত্রে পৃথিবীর সবচেয়ে উপযুক্ত মানুষ। সেই সাহাবাগণের মধ্য থেকে একজন সাহাবীও উল্লিখিত দিনগুলো ব্যতীত অন্য কোনো দিনে হজ্জ করেননি। এমনকি এ ব্যাপারে কেউ কথাও বলেননি। তাহলে চৌদ্দশ বছর পরে এসে তাদের চেয়ে কুরআন বেশি বোঝার চেষ্টা করবো? 

      1. 5.1.1
        sotto

        ভাই, মাত্র চোদ্দশ বছর পার করেই হাপিয়ে গেলেন- চোদ্দ হাজার বছর পর কিন্তু সত্য সমহিমায় প্রকাশিত হবেই, ইনশাল্লাহ। এর মাঝে যাদেরকে চেনার তদেরকে মহান স্রষ্টা ঠিকই চিনে  নেবেন।

        বেহেশ্তি যুবকগণের সরদার ইমাম হোসেনের সেই সংকটময় অবস্থায় কি তাঁর পাশে দাঁড়াবার মত এবং ন্যায়ের পক্ষে তার হাতকে শক্ত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার মত সাহাবাগণ সবাই মৃত্যুবরণ করেছিলেন?

        সাহাবাগণের চরিত্র অবশ্যই অনুসরনীয়। কিন্তু তাই বলে তাদের প্রত্যেকের সকল সিদ্ধান্ত ও মতামতকে যে সঠিক মানতে হবে এমন কোন কণ্ডিশন আল-কোরআনে আছে কি?

        1. 5.1.1.1
          মীযান হারুন

          উল্লিখিত বিষয়ের সঙ্গে হঠাৎ করে হযরত  হুসাইন রা。 কে নিয়ে আসার কী অর্থ? সে যাই হোক, তাহলে হযরত হুসাইন রা。 কি উল্লিখিত দিনগুলোর বাইরে হজ্জ করতেন? রেফারেন্সসহ উল্লেখ করবেন আশা করি। আমিও তো একজন শিক্ষানবিস, আমি আপনার কাছ থেকেও শিখতে চাই। 

        2. 5.1.1.2
          মীযান হারুন

          চোদ্দ হাজার বছর পর কিন্তু সত্য সমহিমায় প্রকাশিত হবেই, ইনশাল্লাহ

           

          তাহলে এমন কোনো সত্য আছে কি যেটা নবীজীর যুগে প্রকাশিত হয়নি।  এখনো গোপন আছে। আর পরবর্তীতে সেটা প্রকাশ হবে। তাহলে ‘আজ আমি তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম- কুরআনের এমন আয়াতের মর্মার্থ কী? ‘যে ব্যক্তি এমন কিছু নিয়ে আসবে যা এই দীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (বিদআত) এই হাদীসের মানেও বা কী? 

        3. sotto

          //হযরত হুসাইন রা。 কি উল্লিখিত দিনগুলোর বাইরে হজ্জ করতেন? রেফারেন্সসহ উল্লেখ করবেন আশা করি। আমিও তো একজন শিক্ষানবিস, আমি আপনার কাছ থেকেও শিখতে চাই।//

          জি ভাই, শেখার শেষ নেই। আমিও এখনও শিখছি। আর মৃত্যু পর্যন্ত এই ছিলছিলা জারি রাখতে চাই।

          হযরত হোসেন (রাঃ) এবং তার পরবর্তী আমলেও পৃথিবীতে মুসলিমদের সংখ্যা খুব বেশি ছিলনা। সে সময় তাদের হজব্রত পালন করার জন্য সেই কয়েকেটি দিনই যথেষ্ট ছিল। তাই হাজিদের পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে করুণ মৃত্যুর ঘটনা তাদের আমলে হয়েছে বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। সে কারণে তাদের যুগে এসব নিয়ে ভাববার খুব একটা প্রয়োজন হয়নি।

          //তাহলে এমন কোনো সত্য আছে কি যেটা নবীজীর যুগে প্রকাশিত হয়নি। এখনো গোপন আছে। আর পরবর্তীতে সেটা প্রকাশ হবে।//

          আল-কোরআনের বিধান সার্বজনীন ও সর্বকালের জন্য প্রেরিত হয়েছে এবং তা অবশ্যই পরিপূর্ণ। তাই এখানে কিয়ামসত পর্যন্ত সকল সমস্যা সমাধানের পথ খোলা রাখা হয়েছে।

          পবিত্র কোরআনই পরম সত্যের উৎস। এর উপরে সত্য নাই এবং যা বিশ্বনবী রাসূল (সাঃ) এর উপরেই নাজিল হয়। সব যুগেই ছদ্মবশীরা সত্যকে লুকানোর জন্য ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছে এবং কিছুটা সফলও হয়েছে। কিন্তু তাদের এই সাফল্য ক্ষণকালের জন্য। আবার অনেকে অতিরিক্ত রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে সত্য থেকে দূরে সরে থাকতে চেয়েছেন। কিন্ত চিরন্তন সত্যকে পাশকাটিয়ে রাখা তো কখনই সম্ভব নয়।

          রাসূল (সাঃ) ছিলেন এসব কিছুর ঊর্ধে। তিনি ছিলেন সর্বকালে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য ও মুক্তমনের সত্যপন্থী মহামানব। তাই তো বিদায় হজ্জের ভাষণে তিনি বলেছিলেন-
          //শোন, এখানে যারা উপস্থিত আছ তাদের কর্তব্য হবে, যারা আজ এখানে উপস্থিত নেই তাদের কাছে এই নির্দেশ ও বাণীগুলো ঠিকমত পৌঁছে দেয়া। অনুপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে কেউ হয়ত এর মর্ম তোমাদের চেয়ে উত্তমরূপে বুঝবে ও সংরক্ষণ করবে।//

          পবিত্র কোরআনের বাণীর সংরক্ষণ করার অঙ্গিকার করেছেন মহান স্রষ্টা নিজেই। তাই তাঁর সেই বাণী মুছে ফেলার সাধ্য কারো নেই। ইচ্ছাকৃত বিকৃতভাবে বা অনিচ্ছাকৃত যথাযথভাব ব্যাখ্যা করতে না পারার কারণে সাময়িকভাবে হয়ত গরমিল ঘটছে। তবে মূল কিতাব কিন্তু মূল অবয়বে এখনও বর্তমান। চোদ্দ হাজার কিংবা লক্ষ বছর পরও তা এমনই থাকবে। নানা মুনির নানা মতের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে মানুষেরই প্রয়োজনে প্রকৃত সত্য ঠিকই সমিহিমায় ঠিকই প্রকাশিত হবে- ইনশাল্লাহ।
          ধন্যবাদ-

  7. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    আপনি ঠিক বলেছেন আজকের বিশ্বে ধর্মের প্রতি অবিশ্বাস উত্তরোত্তর বেড়ে চলছে; কারণ আজকের পৃথিবীতে ধর্ম বিশ্বাসের গোঁড়ায় আঘাত হানার, তাদের মনে ধর্ম বিশ্বাসের উপর প্রশ্ন জাগিয়ে দেবার, সন্দেহের বীজ বুনার লোকের অভাব নেই।  এদের বেশিরভাগ হচ্ছেন আমাদের বুদ্ধিজীবী, কলেজ-ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। তাদের কাজ হচ্ছে কোমলমতি ছাত্রদের মনের মধ্যে ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে নানা প্রশ্ন জাগিয়ে দেয়া। এদের উপরে আছেন সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীরা, তারা তাদের বক্তৃতা, আলোচনা আর সাহিত্যে এই সব প্রশ্ন জাগিয়ে দিয়ে চলছেন। ছাত্র সমাজের উপর এদের প্রভাব প্রতিপত্তিও খুব।  এরা ছাত্রদের মনে প্রশ্ন জাগানোকে মহৎ কাজ বলে বিশ্বাস করেন।

    এরা ধর্মী মূল্যবোধ ভাঙ্গার কাজে ছাত্রদেরকে উদ্বুদ্ধ করলেও নতুন কোন মূল্যবোধ সৃষ্টি করা প্রয়াস নেন না।  তাদের লেখা পড়লেই দেখা যায় যে, তারা ধর্ম এবং ধার্মিকদের সম্পর্কে মনে একটি অবজ্ঞার ভাব, ঘৃণাবোধ জাগিয়ে তোলাই তাদের উদ্দেশ্য।  ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তারা তাদের সাহিত্যে ধার্মিকদের কুৎসিত চরিত চিত্রণ করেন। সামাজিক অবক্ষয় আর অর্থনৈতিক অবনতির জন্যও তারা ধর্মকে দায়ী করেন। তারা শিক্ষা দেন যে, ধর্ম প্রগতির অন্তরায়। এবং নাস্তিকতা-ই অধিক যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তব সম্মত বলে প্রচার করেন।

    উল্লেখিত সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবী এবং কলেজ-ইউনিভার্সিটির শিক্ষকগণ তাদের প্রচেষ্টাকে আরো জোরদার এবং কার্যকর করতে সাহিত্যে-সংস্কৃতিতে অশ্লীলতা, নগ্নতা আর যৌনতার অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপক ভাবে। অশ্লীলতা-নগ্নতার একটা স্বাভাবিক মোহ আছে,- যা তরুণ মনকে আকর্ষণ করে। যে বয়সে প্রথম যৌনবোধ জেগে উঠে, তখনই এ আকর্ষণ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে। অশ্লীল সাহিত্য, সিনেমা আর তরুণ-তরুণীদের অবাধ মেলামেশার সুযোগে অশ্লীলতা-নগ্নতার প্রসার, বেহায়াপনা, বখাটেপনা আর ইভটিজিং এর দৌরাত্ব বেড়ে উঠছে। যে সব তরুণ এর স্বাদ গ্রহণ করেছে, তাদের পক্ষে এর আকর্ষণ কাটিয়ে উঠা খুব কঠিন বৈ কি। আর যেহেতু ধর্মের সঙ্গে, বিশেষতঃ ইসলামের সঙ্গে এ সবের সমঝোতার কোন সুযোগ নেই; তাই তরুণরা ধর্মের বিরুদ্ধে যত যুক্তি আছে সেগুলো খুঁজে বেড়ায়। ধর্মের পক্ষে কোন যুক্তি তারা শুনতে ভয় পায় কারণ ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে তারা অশ্লীলতার কোন সুযোগ লাগ করতে পারবেনা।

    চিন্তা করে দেখুন, আমাদের তরুণদের ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে রাখার, ধর্মের প্রতি বিদ্বিষ্ট করে তোলার হাজারো ব্যবস্থা আমাদের সমাজে চালু ছিলো এবং সে সবের সাথে যুক্ত হয়েছে ভার্চুয়াল জগত এবং স্যাটেলাইট চ্যানেল। এখন আমাদের ঘরে ঘরে প্রবেশ করছে বিজাতীয় কালচার।আমাদের বুদ্ধিজীবীদের সাথে সারা দুনিয়ার সকল ইসলাম বিরোধী শক্তি ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর তাদের চটকদার প্রচার যুদ্ধে আমাদের তরুণরা বড় অসহায় ভাবে বিভ্রান্ত হয়ে বিপথগামী হচ্ছে, তাতে আমরা হেরে চলছি আর আমাদের কনফেডারেট বিরোধী পক্ষ একতরফা ভাবেই জিতেই চলছে।

  8. 3
    হাবশী গোলাম

    আদর্শহীন আদর্শের আরেক নাম নাস্তিকতা।

    আপনি নাস্তিক হলে আপনাকে অবশ্যই মেনে নিতে হবে, পৃথিবীতে মানব জীবনের সত্যিকার কোন অর্থ নেই। পৃথিবীতে মানুষ দূর্ঘটনাক্রমে আগত,  বানর জাতীয় প্রানী থেকে বিবর্তিত । যেহেতু মৃত্যুর সাথে সাথেই সবকিছু শেষ, তার মানে জীবনের কর্মকান্ডের কোন জবাবদিহিতা নেই। যাচ্ছে তাই করার ফ্রি লাইসেন্স দেয় নাস্তিকতা।

     

    আমি মনে করি শুধুমাত্র ঈশ্বরের উপর বিশাস থাকার কারনেই পৃথিবীতে বিপুল পরমান মানুষ নানা রকম অন্যায় থেকে বেচে থাকে। শুধুমাত্র লজিকের ব্যবহার আর বিজ্ঞান মানুষকে নৈতিক বানায় না।

    1. 3.1
      এস. এম. রায়হান

      অট: আপনারা দেখেও শেখেন না, ঠেকেও শেখেন না। ছুপা হিন্দুত্ববাদী ভাদাদেরকে 'নাস্তিক' ট্যাগ করে জাতে তুলে দিচ্ছেন কেন? 'আঃ হাকিম চাকলাদার' ও 'ইমরান ওয়াহিদ জোয়ার্দ্দার' যে ফেক আইডিধারী ছুপা হিন্দুত্ববাদী ভাদা- এটুকুও এতদিনে বুঝতে পারেননি? ঐ ব্লগে বিগত প্রায় এক বছরে কোনো নাস্তিককে দেখা যায়নি। যাদেরকে অজ্ঞতাবশত 'নাস্তিক' বলছেন তারা সকলেই ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ছুপা হিন্দুত্ববাদী ভাদা।

      1. 3.1.1
        হাবশী গোলাম

        আসলে আমি ব্লগে অনেকটা নতুন। কে নাস্তিক আর কে ছুপা ভাদা , সেটি আমার জন্য বুঝা একটু কঠিন।কিন্তু আমার ব্লগে অগ্রদূত নামের যে লোকটি ইসলাম বিদ্যেষ ছড়িয়ে থাকে সে যে অভিজিত রায় সেটা সহজেই বুঝা যায়।

        1. 3.1.1.1
          এস. এম. রায়হান

          কিন্তু আমার ব্লগে অগ্রদূত নামের যে লোকটি ইসলাম বিদ্যেষ ছড়িয়ে থাকে সে যে অভিজিত রায় সেটা সহজেই বুঝা যায়।

          এটা সহজেই বুঝলেন কী করে? আপনার মতো দু-এক জনের এই ধরণের ভুলের সুযোগ নিয়ে সে তার হাতেনাতে ধরা খাওয়া অসংখ্য ছদ্মনাম তথা মুখোশকে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। লক্ষ্য করেছেন নিশ্চয়, ইমরান ওয়াহিদ ছদ্মনামে এক ছুপা হিন্দুত্ববাদী ভাদা আপনার এই ভুলের সুযোগ নিয়ে এর দায় খুব সুকৌশলে আমার উপর চাপিয়ে দিয়েছে। আমি কি কোথাও এই দাবি করেছি? না। সে ডাহা মিথ্যাচার করেছে। তার মিথ্যাচারের ব্যাপারে আপনি কিছু বলেননি কেন? তারা যে কতটা ধূর্ত হতে পারে সেটা মনে হয় টেরই পাননি।

        2. হাবশী গোলাম

          আসলে ধূর্তদের উপর ধূর্তামি করতে হলে (ধূর্ত)২ হতে হয়। সেটি এখনো হয়ে উঠতে পারি নি।

          আমার ধারনার উতস আপনি নন। অন্য একটি সোর্স। আমার অবশ্য প্রতিবাদ করা উচিৎ ছিল।

          তবে ওরা কিন্তু আপনাকে নিয়ে ভীষন সমস্যায় আছে।

  9. 2
    Mahabub Alam

    যতই নাস্তিকদের সংখ্যা বেড়ে যাক না কেন,   আলহামদুলিল্লাহ্‌, পৃথিবীতে মুসলিমের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে আমেরিকা, ইউরোপ সহ আরও অনেক দেশে মুসলিমের সংখ্যা বাড়ছে।

    যারা মুসলিম তাদের উচিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায পরা, জুম্মার নামাজে অনেক মানুষ আসলেও, ফজরের নামাজে মানুষের সংখ্যা অনেক কম, যা দুঃখজনক। আরও দুঃখজনক বিষয়, অনেক সময় সারা রাত নফল নামজ পড়ার পর ফযরের নামাযের খবর না থাকা। আসুন, সঠিক ইসলামের আদর্শ মেনে ভালো মুসলিম হওয়ার চেষ্টা করি।         

     

    1. 2.1
      মীযান হারুন

      এগুলোর পাশাপাশি আরও কিছু দায়িত্বও বোধহয় আছে। 

  10. 1
    ফাতমী

    সংখ্যার ভিত্তিতে সত্য নির্ধারিত হতে পারে না। সত্য সেটা সব সময়ই সত্য।

     

    নাস্তিক বাড়লে আমাদের কি সমস্যা? আমারা হলাম মুসলিম বা ইসলামী বিশ্বাসী। যারা ইসলামে বিশ্বাস করে না, তারা ইসলামে অবিশ্বাসী। নাস্তিকরাও ঐ ক্যাটাগরিতেই। নাস্তিকতা কোন সমস্যা না, সমস্যা হল কোন নাস্তিক যদি কোন মসুলমান নামাজ পড়তেছে তাতে বাধা দেয়। অন্যায্য ভাবে মুসলিমদের সন্ত্রাসী বলে, গালিদেয়। নাস্তিকতায় কোন সমস্যা নয়, সমস্যা হল যদি নাস্তিকরা মনে করে সকল মুসলিমদের  ধ্বংশ করা উচিত এবং সেই উদ্দোশ্য বাস্তবায়নে নাস্তিকদের কাজ করা। বড় বড় মুসলিম কমিউনিটির ভিতর কিছু মানুষ আছে যারা নিজেরা নাস্তিক কিন্তু তারা নামাজ পড়তে বাধা দেয় না, গালি- গালাজ করে না, ইন্টিলেকচুয়াল আলোচনায় বাধা দেয় না, তারা মূলত কোন সমস্যার কারণ না, কোন ভয়ের কারণ না।  কিছু কিছু নাস্তিক আছে তারা এতই ইসলাম বিদ্দেষী যে, ইসলাম ও মুসলিমদের ধ্বংশ করাই যেন এদের জীবনে লক্ষ্য। এরা কোন যুক্তি মানে না, বুঝেও না, এমনকি কিছু পড়ালেখা করে বুঝারও চেষ্টা করে না, এরা শুধু ক্ষমতা পাবার অপেক্ষায় আছে, জানি না, তারা ছলে-বলে-কৌশলে ক্ষমতায় গেলে না জানি কি করে।

     

    আল্লাহ পাক আমাদের রক্ষা করুন, এবং আল্লাহ পাক আমাদের সকল প্রকার অসম্মান থেকেও যেন রক্ষা করেন।-আমীন

    1. 1.1
      মীযান হারুন

      আপনার দেশের সাহেবদের কোন্ ক্যাটাগরিতে ফেলবেন? 

Leave a Reply

Your email address will not be published.