«

»

May ০২

পোপ ও নাস্তিক: বাইবেল কই আর আমরা কই?

পোপের আসনটিতে অধিষ্ঠানের পর থেকেই তিনি আলোচনাতে। থাকাটাও স্বাভাবিক। পৃথিবীর ১.২ বিলিয়ন মানুষের আধ্যাত্মিক মানুষের নেতা তিনি। সুতরাং তাঁর সকল কথা-বার্তাই বলা উচিত হিসাব করে। কিন্তু সেখানেই বাঁধে যত গণ্ডগোল।

আগে অনেকবারই তিনি বোমা ফাটিয়েছেন। খ্রিস্টান দুনিয়ার সর্বোচ্চ নেতা হয়েও বালিকা চুম্বন করে পুরনো সংকীর্ণতা কাটিয়ে খ্রিস্টান দুনিয়াকে নতুন সবক দিয়েছেন। আর সর্বশেষ কয়েকদিন আগে ফাটিয়েছেন নতুন বোমা। পুরো খ্রিস্টান দুনিয়া তাই আজ চরম বিস্মিত, কিংকর্তব্যবিমূঢ়।

ভ্যাটিকেনের এক প্রাতকালীন মজলিসে প্রশ্নোত্তর পর্বে বলে ফেললেন, নাস্তিক হয়েও একজন মানুষের মুক্তিলাভ সম্ভব। ভালো কাজ করলে একজন নাস্তিককেও যিশু চির পরিত্রাণ ও স্বর্গ লাভের পথ করে দিবেন।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বাইবেলের বিন্দু-বিসর্গ পোপের জানা থাকার কথা। পোপের পরিবর্তে অন্য কেউ এই বক্তব্য দিলে আশ্চর্য হতাম না। কিন্তু বাইবেলের সর্বোচ্চ ভাষ্যকার যদি ‘ঈশ্বর’ অস্বীকারকারী নাস্তিকেরও মুক্তির পথ আছে বলে মন্তব্য করেন, তবে সেই ঈশ্বরে বিশ্বাস আর অবিশ্বাস কী আসে যায়। বাইবেল পড়ে ও চার্চে গিয়ে সময় নষ্ট না করে, আমরা তো ব্যবসা বাণিজ্য করলেই তাতে বেশি লাভবান হবো। কারও যিশু তো সবাইকেই পরিত্রাণের ব্যবস্থা করবেন!

চলুন এবার দেখি এ সম্পর্কে বাইবেল আমাদের কী বলে: 

‘যে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করে তার বিচার হয় না। কিন্তু যে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করেনা, সে দোষী সাব্যস্ত হয়, কারণ সে ঈশ্বরের একমাত্র পুত্রের ওপর বিশ্বাস করেনি।’ (যোহন: ৩:১৮)

যীশু তাঁকে বললেন, ‘আমিই পথ, আমিই সত্য ও জীবন। পিতার কাছে যাবার আমিই একমাত্র পথ।' (যোহন: ১৪:৬)

যীশুই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি মানুষকে উদ্ধার করতে পারেন। জগতে তাঁর নামই একমাত্র শক্তি যা মানুষকে উদ্ধার করতে পারে। (শিষ্যচরিত: ৪:১২)

তুমি যদি নিজ মুখে যীশুকে প্রভু বলে স্বীকার কর, এবং অন্তরে বিশ্বাস কর যে ঈশ্বরই তাঁকে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত করেছেন তাহলে উদ্ধার পাবে। কারণ মানুষ অন্তরে বিশ্বাস করে ধার্মিকতা লাভ করার জন্য আর মুখে বিশ্বাসের কথা স্বীকার করে উদ্ধার পাবার জন্য। শাস্ত্র এই কথাই বলে যে: ‘যে খ্রীষ্টে বিশ্বাস করে সে কখনও লজ্জায় পড়বে না।’ এক্ষেত্রে ইহুদী ও অ-ইহুদীদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, একই প্রভু সকলের প্রভু। যত লোক তাঁকে ডাকে সেই সকলের ওপর তিনি প্রচুর আশীর্বাদ ঢেলে দেন। হ্যাঁ, শাস্ত্র বলে, ‘যে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করে ডাকবে সে উদ্ধার পাবে।’ কিন্তু যাঁকে তারা বিশ্বাস করে না তাঁকে ডাকবে কী করে? আর যাঁরা তাঁর কথা শোনেনি তাঁকে বিশ্বাসই বা কী করে করবে? কেউ প্রচার না করলে তারা শুনবেই বা কি করে? (রোমীয় ১০: ৯-১৪)

আশা করি এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন নেই। আমরা বুঝতে পারছি না, পোপ এসব তত্ত্ব কোত্থেকে আবিষ্কার করেছেন? একটু উদার-মনা হিসেবে পোপ ফ্রাান্সিস শুরু থেকেই সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কিন্তু সেই ধারা যদি তাকে খ্রিস্টবাদ বিশ্বাসের মূল পথ থেকেই এদিক সেদিক নিয়ে যায়, তবে আমাদের যে অসহায় তখন পৃথিবীতে আর কে থাকবে? কারণ আমরা বিশ্বাস করি, একজন যদি আমাদের সৃষ্টি করে থাকেন, তবে তাকে আমাদের স্বীকার করতেই হবে। সেই ‘একজন’কেই যদি না চিনি, তবে তার ঘরে মেহমান হবার প্রত্যাশা কী করে করবো? পাশাপাশি নাস্তিকরা পরকালে বিশ্বাস করে না। তাহলে পোপ তাদের কোথার মুক্তির গল্প শুনিয়েছেন সেটা তিনিই ভালো বলতে পারেন। তারপরও শেষ কথা হলো, এটা নিঃসন্দেহে ‘তাদের’ জন্য একটি বিশাল ‘হাদিয়া’।

৪ comments

Skip to comment form

  1. 3
    মীযান হারুন

    @ এস. এম. রায়হান ভাই

    আমি ডেইলি মেইলসহ পশ্চিমা দুনিয়ার পত্রিকায় ব্ক্তব্যটি পড়েছি। তাছাড়া ব্যাপারটি মিথ্যা হলে পোপের কাছ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করা অমূলক ছিল না । কিন্তু সেটা পাওয়া যায়নি। মন্তব্যে হিন্দুধর্মের ব্রাহ্মণদের বিষয়টি উল্লেখ করার জন্য ধন্যবাদ। আমার এটা জানা ছিল না। এ বিষয়ে কোনো লেখা কিংবা বইয়ের লিংক দিলে ভালো হতো। 

    আগেও কয়েকটি মন্তব্যে আমি আপনার কাছে কিছু বিষয়ের লিংক চেয়েছিলাম। জানি না সেগুলো আপনি দেখেছেন কি না? 

    1. 3.1
      এস. এম. রায়হান

      মন্তব্যে হিন্দুধর্মের ব্রাহ্মণদের বিষয়টি উল্লেখ করার জন্য ধন্যবাদ। আমার এটা জানা ছিল না। এ বিষয়ে কোনো লেখা কিংবা বইয়ের লিংক দিলে ভালো হতো।

      আমার এই লেখাটা পড়তে পারেন। এখানে সূত্র দেওয়া আছে।

      আগেও কয়েকটি মন্তব্যে আমি আপনার কাছে কিছু বিষয়ের লিংক চেয়েছিলাম। জানি না সেগুলো আপনি দেখেছেন কি না?

      জবাব দিতে ভুলে গেছি কিংবা সময় অভাবে হয়তো জবাব দেওয়া হয়নি।

  2. 2
    এস. এম. রায়হান

    পোপের এই দাবি নিয়ে গুগল সার্চ দিয়ে কিছু লেখাতে চোখ বুলালাম। কারো কারো দাবি অনুযায়ী পোপের বক্তব্যের নাকি ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আবার পোপের বক্তব্য পড়ে মনে হচ্ছে উনি এরকম কিছুই বলেছেন। তবে পোপ সত্যি সত্যি এই কথা বলে থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ব্রাহ্মণ পুরোহিতরা তো অনেক আগেই নাস্তিকতাকেও হিন্দু ধর্মের অংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তিবাদীদের কাছে কারণটা পরিষ্কার হওয়ার কথা। তবে এই ধরণের দাবি নিয়ে নাস্তিকদের মৌনতা দেখে মনে হচ্ছে তারাও স্বর্গের হুর-পরীর জন্য মনে মনে লাইন দিয়ে আছে!

  3. 1
    কিংশুক

    খ্রিস্টানরা সেই এনলাইটেনমেন্ট এর সময়কাল হতে বাইবেলে এত বৈজ্ঞানিক ভুল, মানুষরুপী ইশ্বর নিয়ে নাস্তিকদের সাথে পেরে উঠছেনা। এজন্য বোধহয় পোপ হিন্দু ধর্মের মতো খ্রিস্ট ধর্মেও খ্রিস্টান হতে নাস্তিক হওয়াদের জন্য একটা মূলা ঝুলালেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.