«

»

May ০৯

‘আল্লাহর কালাম অপরিবর্তনীয়’: একটি প্রতারণার কাহিনী

শিরোনামে ‘আল্লাহর কালাম অপরিবর্তনীয়’ বাক্যাংশের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ শব্দটি দেখে সম্ভবত আঁতকে উঠেছেন- তাই না? আঁতকে ওঠারই কথা। তাহলে শুরুতেই একটু ঢুঁ মারুন এখানে। কী দেখলেন? উপরে বড় করে ‘কালিমাতুল্লাহ’ আরবি ক্যালিওগ্রাফির নিচে বাংলায় লেখা ‘আল্লাহর কালাম অপরিবর্তনীয়’। পৃষ্ঠার মাঝখানে বড় করে লেখা: পরম করুণাময়, দয়ালু আল্লাহর নামে। হোমপেজের ডানে-বামে ও উপরে-নিচে বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘কুরআন শরীফের সাক্ষ্য’, ‘কোরআন শরীফে হযরত ঈসা মসীহের উপাধিসমূহ’ ইত্যাদি। একপাশে পেঁচানো আরবি ক্যালিওগ্রাফিতে লেখা (যা সাধারণ পাঠক কখনোই পড়তে সক্ষম হবেন না) ‘কিতাবুল মুকাদ্দাস’। আরও অনেক অনেক……………..। (তবে একটি বিশাল শিরোনাম দিয়ে ডা. জাকির নায়েককে যে কেন খোলাখুলি ধবল-ধোলাইয়ের কসরত করা হয়েছে সেটা বোধগম্য নয়। অবশ্য সেক্ষেত্রে ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দের আলেমদের ফতোয়া যুক্ত করে দিয়ে সম্ভবত শিক্ষিত শ্রেণীর আস্হা কুড়ানোর একটা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে)।

কী বুঝতে পারলেন? একজন সাধারণ পাঠক ওয়েবসাইটটির দিকে একনজর বুলিয়ে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে বসবেন, আল্লাহর দীনের প্রচার-প্রসারের জন্য একদল পূণ্যাত্মা কী পরিমাণ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গেই দিন-রাত নিজেদের জান-মাল ও শ্রম কুরবান দিয়ে যাচ্ছেন! আল্লাহর কিতাবের বিরুদ্ধাচারণকারীদের প্রতিটি প্রশ্নের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাভাষী মুসলমানদের মাঝে দীনের প্রচার-প্রসারে নিশ্চয়ই একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে এই সাইটটির।

সত্যি কথাই। কিন্তু সেই দীন আল্লাহর পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ সা. এর আনীত দীন নয়; বরং সেটা হলো নবী মুহাম্মাদ সা. এর পূর্বের নবী (মুহাম্মদ সা. এর আগমনের মাধ্যমে যার নবুওতের পরিসমাপ্তি ঘটেছে) ঈসা মসীহের আনীত আজকের পৃথিবীর ‘খ্রিস্টবাদ’। আরবি ও ইসলামের পরিভাষাগুলো ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে বাংলাভাষী সরল-মনা মুসলমানদের খ্রিস্টান বানানোর এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এই ওয়েবসাইটটি। তাদের প্রত্যেকটি প্রবন্ধে ব্যবহৃত আরবি ও ইসলামী পরিভাষাগুলোর প্রয়োগ দেখলে যে কোনো পাঠকের মনে হবে, লেখক কিংবা প্রবন্ধকার কেবল মুসলিমই নন; তিনি মাদরাসা-পড়ুয়া আরবি-জানা ইসলামী বিশেষজ্ঞ বটে। সত্য প্রচারে মিথ্যার কী বেসাতি! দীনের প্রচারণার ক্ষেত্রে কী মহাপ্রতারণা।

আমি আগেও কয়েকজন আলেমের মুখে শুনেছিলাম যে খ্রিস্টান মিশনারীরা বাংলাদেশে খ্রিস্টবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে নিত্য নতুন প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। এই দেশের সরল-মনা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে মানুষের পরিচিত ও ভালো-লাগা ইসলামী ও আরবি পরিভাষাগুলো সুকৌশলে খ্রিস্টবাদের ভেতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ‘বাইবেল’কে বাইবেল বলার পরিবর্তে ‘কুরআন শরীফ’ এর সঙ্গে মিল রেখে ‘ইঞ্জীল শরীফ’ কিংবা ‘কিতাবুল মুকাদ্দাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। যিশুর পরিবর্তে ‘ঈসা মাসীহ’, ‘ঈশ্বর’ এর পরিবর্তে ‘আল্লাহ’, বাইবেল লেখকদের নামের শুরুতে ‘হযরত’, ‘ওল্ড টেস্টামেন্ট’ এর পরিবর্তে ‘তৌরাত ও যবুর শরীফ', ‘স্বর্গ’ এর পরিবর্তে ‘জান্নাত’, ‘পরিত্রাণ’ এর পরিবর্তে ‘নাজাত’ ইত্যাদিসহ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ইসলামী পরিভাষাগুলো তারা ব্যবহার করছে। এতে করে একজন সাধারণ পাঠকের ঘুণাক্ষরেও বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না যে সে আসলে কোন্‌ ধর্ম পড়ছে। খ্রিস্টান মিশনারীদের লিখিত ‘নাজাতের পথ’, ‘সিরাতুল মুস্তাকীম’ গ্রন্হগুলোর দিকে চোখ বুলালেই সচেতন পাঠক এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা পাবেন।

এগুলো আগে আমার জানা ছিল। কিন্তু জানা ছিল না তাদের সেই প্রতারণা আর জোচ্চুরি অনলাইনের কল্যাণে কীভাবে গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে। এই দেশে তো খ্রিস্টবাদ ছাড়াও অন্যান্য ধর্ম রয়েছে। কিন্তু কই তারা তো কখনো ইসলাম ও মুসলমানদের পরিভাষা ব্যবহার করছে না। একজন হিন্দুর মুখ থেকে ‘জল’ এর পরিবর্তে ‘পানি’ কিংবা ‘দিদি’ এর পরিবর্তে ‘আপু’ শব্দটি বের করার চেষ্টা করুন- ঘাম বেরিয়ে যাবে। তাহলে তারা কোন্‌ উদ্দেশ্যে এমনটা করে যাচ্ছে?

পৃথিবীতে যতগুলো ধর্ম এসেছে প্রতারণা ও কূটকৌশলের দিক থেকে ‘ইহুদিধর্ম’ এর তথাকথিত অনুসারী ইহুদিদের সম্ভবত কেউ  ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। এবার খ্রিস্টানরাও সেপথেই এগুচ্ছে। এখন আমাদের কী করণীয়? আমরা কি তাদের এভাবে ছেড়ে দিতে পারি? সন্দেহ নেই, একজন খ্রিস্টানের কাছে খ্রিস্টধর্মই জগতের শ্রেষ্ঠ ধর্ম হতে পারে এবং সে এটা মানুষের মাঝে প্রচার করতে পারে। কিন্তু তাই বলে অন্য ধর্মের লোকের সঙ্গে প্রতারণা কেন? এটা কি কখনো বৈধ হতে পারে? কখনোই নয়।  তাই প্রথমে আমাদের নিজেদের ও পরবর্তীতে চারপাশের মানুষদের এ ব্যাপারে সজাগ ও সচেতন করতে হবে। ইসলামী পরিভাষার আবডালে যেসব মিথ্যা তথ্যগুলো মুসলমানদের গেলানোর চেষ্টা চলছে সেগুলোর প্রকৃত বাস্তবতা মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।

আপাতত এই বিষয়ে কেবল ‘আল্লাহর কালাম অপরিবর্তনীয়’ ওয়েবসাইটটির কথাই আমার জানা আছে। কোনো ভাইয়ের কাছে যদি এ ধরণের আরও কোনো ওয়েবসাইটের সন্ধান থাকে তবে আমাকে জানানোর অনুরোধ রইলো। পাশাপাশি উল্লিখিত ওয়েবসাইটে ইসলাম ও কুরআন বিকৃত করা হয়েছে খুব করে। বিভিন্ন স্হানে কুরআনের আয়াতের অপব্যবহার করা হয়েছে খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের সমর্থনে। আমার জানামতে কিছু ভাই তাদের প্রতারণা জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রস্তুত হয়ে মাঠে নেমেছে। আপনি কী তাদের সঙ্গী হবেন? তাহলে লিখে জানানোর অনুরোধ রইলো।

১৯ comments

Skip to comment form

  1. 11
    Nirobota Islam Shunno

    ভাই আমি কি আপনাদের সাথে এই মহান কজে অংশ গ্রহন করতে পারি

  2. 10
    Monowar Bin Zahid

    এই সাইটটির মিথ্যাচার এর জবাব কি পর্ব আকারে সদালাপে দেওয়া যায় না? এতে সকলের জন্যই ভালো হয়। আর যদি এমন লেখা থেকে থাকে তাহলে আমাকে দয়া করে জানান।

  3. 9
    junaed hossain biddyut

    joss brother. Keep going. And thanks. I already got disordered by that website. Thanks to Allah

  4. 8
    কিংশুক

    সোভিয়েত ইউনিয়নে নাস্তিক কম্যুনিস্ট দের শাসনামলে সত্য সন্ধানী একজন খ্রিস্টান প্রিস্টকে আল্লাহ তায়ালা কিভাবে সত্যের সন্ধান দিয়েছেন তা জানতে পারেন এই লিংকে : http://islamdag.info/story/1057

      তিনি রাশিয়া সহ সারা বিশ্বে ইসলামের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

  5. 7
    শাফিউর রহমান ফারাবী

    ভাইয়া আপনার ফেইসবুক আইডিটা দেয়া যাবে ?

    1. 7.1
      মীযান হারুন

      @ ফারাবী ভাই,

      কোন্ ভাইয়ার ফেসবুক আইডি চেয়েছেন বুঝে এলো না।

  6. 6
    mehedibayyenah

    আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিফল দিন।

  7. 5
    শাহবাজ নজরুল

    ভালো বিষয়ে লিখেছেন। আমি অনেক আগেই ইনজিল শরিফ বাংলাতে দেখেছি। এখানে একটা প্রশংসা করতেই হবে -- তারা কনভার্শন  জন্যে  চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই বিষয়টাকে সাধুবাদ জানাতেই হয় -- অর্থাৎ ধর্ম প্রচারে তাদের একাগ্রতা ও নিষ্ঠা আছে। এজন্যে সফলতাও আসছে। বাংলা ভাষীদের জন্যে আপনার দেয়া লিংক ছাড়াও বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিন এশিয়ার অন্যান্য দেশেও তারা তৎপর। যেমন আমাদের পার্বত্য অঞ্চলে খ্রিষ্টান মিসনারিরা বেশ সক্রিয়। ওখানে তারা আদিবাসীদের ভাষাই ব্যবহার করছে। ধর্মান্তরিত হচ্ছেনও অনেকে। ভারতে মিশনারি দের সাফল্য ইর্ষনীয়। ভারত হিন্দু অধ্যুষিত দেশ -- যেখানে ইসলাম দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম  -- দেশের প্রায় ১৫-২০% লোক মুসলিম। কিন্তু মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ রাজ্য কেবল কাশ্মির। আর খ্রিস্ট ধর্ম তৃতীয় (২.৪%) হলেও মিশনারী দের প্রচারনায় খ্রিষ্টান তিনটি রাজ্যে সংখ্যা গরিষ্ট -- যা হচ্ছে নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও মেঘালয়। মনিপুরেও খুব সম্ভবত খ্রিষ্টান ধর্ম সংখ্যা গরিষ্ঠ -- আর না হলেও খুব কাছাকাছি। মিশনারীদের এই নিবেদিত প্রাণ মনোভাবকে সাধুবাদ না জানিয়ে কি করবেন? মুসলিম মিশনারীরা কোথায়? নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মেঘালয় বাদ দেন -- আমাদের নিজেদের দেশে মুসলিম মিশনারীরা কোথায়? ইসলাম ধর্ম প্রচারে কে নিয়োজত আছেন পার্বত্য চট্টগ্রামে? কে নিয়োজিত আছে হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা এমনকি খ্রিষ্টান দের ইসলাম ধর্মে ফিরিয়া আনার মানসে?  হ্যা আমি মানছি যে ধর্ম প্রচারে তারা চাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে -- কিন্তু আমি তাদের অহর্নিশি অক্লান্ত পরিশ্রমের কদর করি। সাথে সাথে এও আশা করি -- খ্রিষ্টান প্রচারক দের সাথে প্রতিযোগিতায় নামুন। প্রান্তিক লোকদের বুঝিয়ে দিন তারা চাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন। সাথে সাথে ইসলামের মর্ম বাণীও তাদের কাছে পৌছিয়ে দিন। সেটাই হবে আসল প্রচেষ্টা। 

    1. 5.1
      মীযান হারুন

      @ শাহবাজ নজরুল ভাই অমূল্য পরামর্শের জন্য অসংখ্য শুকরিয়া ও ধন্যবাদ। আপনার কথাগুলো বাস্তবতার কষ্টিপাথরে পরমভাবে উত্তীর্ণ। খ্রিস্টান মিশনারীদের নিজেদের ধর্ম প্রচারের জন্য উৎসর্গীত প্রাণ মনোভাব দেখলে আমাদের নিজেদের ওপর বড়ই লজ্জা ও অনুশোচনা লাগে। আমেরিকা আর লন্ডনের দামি দামি বাড়ি-গাড়ি আর বিলাস-ব্যসনের জীবন ছেড়ে অসংখ্য খ্রিস্টান পাদরি আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের গুহায় কিংবা সাধারণ ঝুপড়িতে ৪০/৫০ বছর ধরে পড়ে আছে।  এমন অনেককেই আমি বান্দরবান আর চট্টগ্রামে দেখেছি। অথচ আমরা নিজেদের দেশের সীমানার ভেতরে থেকেও জীবনেও একবার দীন প্রচারের জন্য সেখানে যেতে পারি না।

      সীবীচে সাঁতার কাটার জন্য আমরা কক্সবাজার যেতে পারি, স্বর্ণমন্দির দেখার জন্য আমরা বান্দরবান যেতে পারি, পাহাড়ের চূড়ায় উঠে নাচার জন্য আমরা রাঙামাটি যেতে পারি, কিন্তু দীনের জন্য আমরা কোনোদিনও সেসব অঞ্চলে যাওযার ভাবনাও করতে পারি না। 

      আর তাই কোনোদিন যদি গোটা পার্বত্য চট্টগ্রাম (আল্লাহ না করুন) খ্রিস্টান রাজ্য হয়ে যায়, তখন নিজেদের দোষ দেয়া ব্যতীত আমাদের কিছুই করার থাকবে না। কারণ যারা চেষ্টা করবে (চাই যে ধর্মের হোক না কেন) তাদের সফলতা আসবেই। হায় ধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে (চাতুরি আর প্রতারণাটুকু বাদ দিয়ে) তাদের মতো উৎসাহ আর উদ্দীপনা যদি আমাদের মুসলমানদের থাকতো!!! 

      তাই সদালাপের সকল পাঠককের প্রতি বিনীত অনুরোধ- বিষয়টি নিয়ে এখনই আমাদের ভাবতে হবে। এই ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র বিলম্ব আমাদের চরম সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যার যার সাধ্যমতো সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিষয়টির প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফীক দিন। 

      1. 5.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        ইসলামের মর্ম বাণীও তাদের কাছে পৌছিয়ে দিন। 

        -- এইটাই মুল কাজ। ধন্যবাদ, শাহবাজ নজরুল। 

    2. 5.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      শাহবাজ ভাই সালাম। অনেকদিন পর আপনার সাড়া পেলাম! আশাকরি আগেরমত সার্বক্ষণিক থাকবেন। আমার আফসোস হয়! হায় কি জমজমাট না ছিলো বাংলা ব্লগে আমাদের একতাবদ্ধ অবস্থান! এখন যেন আমরা সবাই হারিয়ে গিয়েছি! দীর্ঘ দিনের সংগ্রামী সাথীদের উপস্থিতি না থাকায় সদালাপ আমার কাছে মৃত মৃত মনে হচ্ছে। পুরানো ভার্চুয়াল যুদ্ধাদের কাছে  অনুরোধ আসুন আবার আমরা সরব হই। ধন্যবাদ।

      1. 5.2.1
        মীযান হারুন

        @ মুনিম ভাই। 

        আল্লাহ আপনাদের পুরনো সকল কাণ্ডারীকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন। আপনাদের উপস্থিতি আমাদের এ পথ চলায় সতত প্রেরণা যোগাবে। ভালো থাকুন। 

      2. 5.2.2
        শাহবাজ নজরুল

        মুনিম ভাই, ওয়া লায়কুম আস সালাম। আপনি কেমন আছেন? হ্যা সদালাপ পড়া হয় মাঝে মধ্যে তবে আজকাল এতই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে ব্লগে সময় দেবার মত ফুরসত করতে পারছি না।  তার পরেও আমাদের পুরোনোদের কিছুটা নিয়মিত হবার দরকার আছে। আগের স্মৃতিগুলো ফিরে আসে মাঝে মধ্যে। বেশ জমজমাট আড্ডা আর তর্ক-বিতর্ক চলত এখানে। এখন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। অনেকেই হয়ত ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আমার মত -- কিংবা ফেবুতে সময় দিতে গিয়ে হয়ত আর সদালাপে দেবার মত সময় নাই।  আমি ইনশাল্লাহ অল্প বিস্তর হলেও নিয়মিত থাকার চেষ্টা হকে যাব। ভালো থাকবেন। 

  8. 4
    Mahabub Alam

    http://www.unchangingword.com/bn/ ওয়েবসাইটটি খ্রিষ্টানদের জন্য

    ইয়াহুদিরা মনেকরে তারাই একমাত্র জান্নাতে যাবে,

    খ্রিষ্টানরা মনে করে তারাই একমাত্র জান্নাতে যাবে,

    আসলে মুসলিমরা জান্নাতে যাবে। কাফেরদের জন্য যাহান্নাম অবধারিত। 

    ১। . হযরত আবু যর (রাঃ) বলিয়াছেন, রাসূলূল্লাহ (সাঃ) বলিয়াছেন, যে ব্যাক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই ) বলিয়াছে এবং ইহার উপর মৃত্যু বরণ করিয়াছে (অর্থাৎ এই বিশ্বাস নিয়া মৃত্যু বরণ করিয়াছে) , সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করিবে । আবু যর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করেন, যদি সে ব্যাভিচার করে এবং চুরি করে । রাছূল (সাঃ) বলেন, হ্যা, যদি সে ব্যাভিচার করে এবং চুরিও করে । আবু যর (রাঃ) দ্বিতীয়বার একই প্রশ্ন করেন । রাসূল (সাঃ) আবার একই জবাব দেন । আবু যর (রাঃ) তৃতীয়বার একই প্রশ্ন করেন । রাসূল (সাঃ) একই জবাব দেন এবং বলেন, যদি আবু যরের অপছন্দ হয় তবুও সে ব্যাক্তি জান্নাতে প্রবেশ করিবে । (বোখারী)

    ২.। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলিয়াছে, এই কালিমা একদিন না একদিন অবশ্যই তাহার উপকার করিবে । যদিও তাহাকে উপকৃত হওয়ার আগে কিছু শাস্তি ভোগ করিতে হয় । (তিবরানী, তারগীব )

    ৩.। হযরত আনাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূল (সাঃ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলিয়াছে এবং যাহার অন্তরে যবের দানার ওজন পরিমাণ ঈমান থাকিবে, সে জাহান্নাম হইতে বাহির হইবে । তারপর এমন সকল ব্যক্তিও জাহান্নাম হইতে বাহির হইবে যাহাদের অন্তরে গমের দানা পরিমাণ ঈমান থাকিবে । তারপর এমন সকল ব্যক্তি জাহান্নাম হইতে বাহির হইবে যাহার অন্তরে অণূ পরিমাণও ঈমান থাকিবে । (বোখারী)

    ==========================================
    সূতরাং হে ভাই সকল । নিজের ঈমানের হেফাজত করি । শিরক এবং কাফির হওয়া থেকে বেচে থাকি । আশা করা যায় একদিন না একদিন অন্ততঃ মুক্তি পাওয়া যাইবে । তবে পাপ কাজ ত্যাগ করে আল্লাহ সন্তুষ্টিমত জীবন যাপন করলে ইহকাল ও পরকাল দুই কালেই ভালো থাকা যায় । জাহান্নামে যদি কারো এক সেকেন্ডের জন্যও যেতে হয় সেটাও অনেক কষ্টের হবে বলে আমি মনে করি । 

    আল্লাহ আমাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন ।

     

  9. 3
    sotto

    যারা আল্লাহতায়ালার কালামকে শুধু পাঠ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন, অনুধাবন করার চেষ্টা করেন না-- তারা তো প্রতারিত হবেনই।

    তাই সবার উপরে আমাদেরকে আল্লাহর কালাম অনুধাবনে ও আমলে সচেষ্ট হতে হবে। তারপর অন্য কিছু—

  10. 2
    Shahriar

    Very good thought.
    Thanks for share the information.

  11. 1
    কিংশুক

    বোধ হয় এক দশক পূর্ব হতে আমি নিজেও বাংলায় ইঞ্চিল শরীফের গুন কীর্তণ করে লিফলেট দেখেছি। বিনামূল্যে ইঞ্জিল শরীফ ডাকযোগে প্রাপ্তির জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হতো। সাধারন মুসলমানরা যারা কোরআনও পড়েনি, বাইবেল তো পড়েইনি এমনকি বাইবেলের ইতিহাসও যারা জানেনা তাদেরকে বিভ্রান্ত করে বিকৃত বাইবেলই ইঞ্জিল ধারনা দিয়ে যেহেতু ইঞ্জিল পৃথিবীতে আগে নাজিল হয়েছে সেহেতু ইঞ্জিল ও ইসা আ: কে মেনে খ্রিস্টান না হলে পরকালে নাজাত পাওয়া যাবেনা মর্মে বুজানো হয়। ইহুদিদের মতোই খ্রিস্টান মিশনারীদের  কোরআনকে আল্লাহর বানী  ও হযরত মো: সা: কে সত্য নবী ও রাসূল হিসাবে মানার কোন সুযোগই নেই। কারন কোরআন ও হযরত মো: সা: কে মানলে তাদেরকে বিকৃত ইহুুদি ও খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে মুসলমান হয়ে যেতে হবে। যা মানেনা তা দিয়ে বিকৃত খ্রিস্ট ধর্ম প্রচার যারা করে তারা শয়তানের পদাংক অনুসরনকারী। খ্রিস্টান মিশনারীরা আফ্রিকা মহাদেশের মতো বাংলাদেশেও খুব সক্রিয়। তাদের অ্যান্সারিং ইসলাম সাইটেও বাংলায় অনেক লেখা আছে। পিস টিভি চালু হবার পর খ্রিস্টান মিশনারীর সাথে ড: জাকির নায়েকের বিতর্কের মাধ্যমে খ্রিস্ট ধর্মের অনেক গোমর সাধারন বাংলা ভাষী মুসলমানরাও জেনে গেছে। ফলে তারা জাকির নায়েকের উপর এত ক্ষুদ্ধ। খ্রিস্টানরা আল্লাহ, ইসা আ:, কোরআন, ইঞ্জিল ব্যবহার করলেও ভুলেও তিন খোদায় বিশ্বাস, খোদার একমাত্র সন্তান ইসা মসীহের সকল মানুষের পাপ নিয়ে মৃত্যু, অরিজিনাল সিন ইত্যাদি খ্রিস্ট ধর্মের মূল বিশ্বাস যেগুলো রোমান রাজারা তাদের পূর্বের প্যাগান ধর্মের সাথে সমন্বয় করে বিকৃত খ্রিস্ট ধর্ম বানানো হয়েছে তার কিছুই মুসলমানদের জানায় না।  ইসা আ: এর পৃথিবী ত্যাগের কয়েশত বছর পর  নাম জানা ও অজানা অনেক মানুষের লেখা জসপাল গুলোকে আল্লাহ প্রদত্ত ইঞ্জিল নাম দিয়ে বোকাদেরকে ধোঁকা দিয়ে চির জাহান্নামি বানাচ্ছে। মুসলমান আলেমদের এ বিষয়ে সোচ্ছার হয়ে সাধারন মুসলমান ও সরকারকে সজাগ করতে হবে।

    1. 1.1
      মীযান হারুন

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার দেয়া ‘অ্যানসারিং ইসলাম’ ওয়েবসাইটটি আমার বেশ কাজে আসবে বলে আমি বিশ্বাসী। এ ধরনের আরও সাইট জানা থাকলে লিংক দেয়ার অনুরোধ রইলো। আপনার দ্বারা আল্লাহ তাআলা দীনের আরও কাজ নেন সেই প্রার্থনা।  

      1. 1.1.1
        মুহাম্মদ হাসান

        এখানে দেখতে পারেন । অনেকগুলো ওয়েব সাইটের নাম দেওয়া আছে । আমি সবগুলো চেক করে দেখিনি! 

Leave a Reply

Your email address will not be published.