«

»

Aug ১১

কবে আসবে এ মানষিকতার পরিবর্তন?

গত জুলাইয়ের ২৪ তারিখে সদালাপে প্রকাশিত আমার লিখা “আমরা কেন রোজা রাখব? রচনায় রোজা ও ঈদের চাঁদ সর্ম্পকে প্রাসঙ্গিক আলোচনায় কিছু পাঠকের মন্তব্যের কারণে আজকের এ পোষ্ট লিখছি। । আপনারা হয়তবা জানেন ইউরোপ আমেরিকায় এখন মুসলিমদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে এবং তা শুধু পাক ভারত ও বাংলাদেশীদের আগমনে নয় বরং পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশের মানুষ এসে বসতি করছে।
তাই এখানে ডাইভার্স মুসলিম কমিউনিটি গড়ে উঠছে। মুসলিমরা এসব দেশে নিজেদের ধর্মীয় অধিকার এবং সমাজে সম্মানজনক অবস্থায় নিজেদের অবস্থান সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত। আর তাদের অবস্থানকে অবশ্যই সফলকাম করে এ সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হতে হবে  ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যাদের ব্যক হোম বলতে কিছু থাকবেনা। কেননা তাদের যে দেশে জন্ম হয়েছে আর যেখানে বড় হয়েছে সেটাই  হবে তাদের দেশ। সে দেশে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাসে যাতে জীবন যাপন করতে পারে সেটাই হচ্ছে বড় জরুরি বিষয় এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ও আচার আচরণের ফুট-প্রিন্ট তো সে সমাজে রাখতেই হবে। আর তা  কখনই সম্ভব হবে না যদি বিভিন্ন মাজহাবের ও সকল মতের মুসলিমদেরকে নিয়ে একতাবদ্ধ না হলে।

         কিন্তু দু:খের বিষয় হল এটা স্বীকার করতে হবে বর্তমানে এখানে প্রতি বছর রমজানের চাঁদ ও  ঈদ  বিভিন্ন দলে  বিভক্ত হয়ে যেভাবে পালন করা হয় তা কোন অবস্থাতে ঐক্যের বার্তা বহন করেনা। আবহাওয়ার কারণে দেখা খালি চোখে চাঁদ দেখা সম্ভবও হয় না। তাই যে যার মতে রোজা রাখছে বা রাখতে বাধ্য করানো হচ্ছে বিভিন্ন  মসজিদ কমিটির নিজস্ব সিদ্ধান্তে। হেলাল কমিটি নামে একটি কমিটি আছে গুজরাটি তাবলিকি ভাইদের পরিচালিত এবং তাদের উপর অনেকের অনাস্থা কারণ সঠিকভাবে চাঁদ দেখা নিয়ে তাদের কর্মপ্রচেষ্টা প্রশ্নবিদ্ধ?  সব চেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল ঈদ হবে কিনা তা জানতে তাদেরকে ফোন করে রাত্রে ১২টা পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত জানা যায় না কারণ তাদের মুরব্বির রায় আসে নাই। এদিকে বেচারা কর্মজীবী ঈদের দিনে দেখা গেল কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। তার পক্ষে আগে থেকে শিওর না হওয়ায় এসব দেশের শাসনতন্ত্রের ধর্মীয় কারণে ছুটি নেয়ার মৌলিক অধিকার থাকা সত্ত্বেও সম্ভব হচ্ছে না। তাই দেখা যায় একি শহরে কেউ গ্লোব্যল মুনসাইটিং এর পক্ষে সৌদি আরবকে ফলো করছে,  কেউ ফিকাহ কাউন্সিলের কথামত বৈজ্ঞানিক ক্যলকুলেশনে রোজা রাখছে, আর কেউ তাদের মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্তনুসারে পরের দিন থেকে রোজা রাখছে। তবে যারা গ্লোবেল মুনসাইটিং বা ইসলামের প্রাণকেন্দ্র  মক্কাকে ফলো করেন তারা এবং যারা  ফিকাহ কাউন্সিলের নির্দেশে চলেন তাদের মধ্যে কোন তফাৎ হয়না অর্থাৎ তারা সবাই একি সাথে রোজা ও  ঈদ পালন করেন।

          বিজ্ঞান প্রদত্ত তথ্য হচ্ছে চাঁদ সব সময় পশ্চিমা দেশের আগে আসার কথা কথা যদিও অনেক সময় খালি চোখে দেখা নাও যেতে পারে কিন্তু সৌদি আরবে দেখা গিয়েছে সে খবর আসলে কানাডাতে তা অনুসরণ না করার কোন যুক্তি নাই। তাই প্রশ্ন হল সৌদি আরবে যদি শুক্রবার থেকে রোজা শুরু হয় আর  বাংলাদেশে যদি হয় শনিবার থেকে তখন কানাডার ভারতীয় হুজুররা যদি কানাডার মানুষকে শনিবার থেকে রোজা রাখতে বলেন তাহলে কি ঠিক হল? এবারও যারা মক্কা ও ফিকাহ কাউন্সিলের অনুসরণ করছেন তারা রোজা রাখছেন শুক্রবার থেকে আর তাবলিকি জামাতের লোকেরা  গুজরাটিরা রাখছেন শনিবার থেকে!

          প্রশ্ন হচ্ছে “খালি চোখে চাঁদ দেখা” যদি ইবাদতের অংশ হয় তাহলে কয়জনইবা এসব দেশে চাঁদ দেখতে সক্ষম হবে? আর আল্লাহ তার বান্দাকে এ সুযোগ থেকে কেনবা বঞ্চিত রাখবেন?  আসলে  রাসুল (স:) চাঁদের ব্যাপারে শিওর হওয়ার জন্য চাঁদ দেখে রোজা রাখতে ও ঈদ করতে বলেছেন। এখন আধুনিক বৈজ্ঞানিক ক্যলকুলেশন যদি নির্ভরযোগ্য নয় বলে বিশ্বাস করেন বা কোন মুসলিম দেশে চাঁদ দেখার খবর পেয়েও তা বিশ্বাস না করেন তাহলে তো কিছু করার নাই! তবে হয়তবা পুরা নাসা বা ওয়ার্ল্ড এস্ট্রোনমি অবজারবারেটরী যখন মুসলিমদের দখলে আসবে তখন হয়তবা সে সব ভাইয়েরা মানলে মানতেও পারেন!  আল্লাহ মানুষের নিয়ত দেখেন। মনে পড়ে সেই হাদিসের কথা একবার কোন এক যুদ্ধ থেকে ফিরার পথে রাসুল (স:) সাহাবীদেরকে বলেছিলেন আসরের নামাজ মদিনায় গিয়ে পড়তে কিন্তু দেখা গেল কিছু সাহাবী সফরের সময় নামাজের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ায় মদিনা যাওয়ার আগেই পড়ে ফেললেন। পরে নবীকে যখন প্রশ্ন করা হল যারা রাস্তায় নামাজ পড়েছিলেন তারা কি ভুল করেছেন? হুজুর বললেন উভয় দলই ঠিক। আরেকটা হাদিসে জানাযায় একবার সিরিয়া থেকে এক লোক মদিনায় এসে রাসুলকে (স:) জানালেন যে তারা মদিনার একদিন আগে ঈদ করেছেন এবং হুজুর বললেন আমরা যদি সে খবর আগে পেতাম তাহলে আমরাও সে দিন ঈদ পালান করতাম। আরেক বর্ণনায় প্রকাশ একবার মরুভূমির এক বেদুইন এসে রাসুল(স:) কে জানাল যে সে চাঁদ দেখেছে তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন তুমি কি এক আল্লাহতে এবং রাসুলের উপর বিশ্বাস স্থাপন কর? উত্তরে বেদুইন বললেন হাঁ। রাসুল তখন বেলালকে (রা:) ডেকে ঈদের ঘোষণা দিতে বলেন। আরেক ঘটনা শেখ আহমেদ কুট্টি টরন্টোর আই আইটির ইমাম  সাহেব আমাকে বললেন একবার আনাস (রা:) কিছু মুসলিম যুবকদেরকে নিয়ে মদিনার কাছে মরুভূমিতে চাঁদ দেখতে বাহির হন। হঠাৎ তিনি আওয়াজ দিলেন চাঁদ দেখে ফেলেছেন বলে কিন্তু তার সাথের ছেলেরা কেউ তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে চাঁদ দেখতে পাচ্ছিল না  তখন এক ছেলে আনাস (রা:) চোখ ও মুখের উপর হাত দিয়ে ডলা দিয়ে বলল এখন দেখেন। তখন তিনি আর চাঁদ দেখতে পাচ্ছেননা বললেন! আসলে বয়স্ক মানুষ হয়তবা বাতাসে তার চোখের উপর চুল জাতীয় কিছু পড়ায় দৃষ্টি ভ্রম হয়েছিল। তাই কেউ যদি খালি চোখে চাঁদ দেখাকে বর্তমান উন্নত বৈজ্ঞানিক ক্যলকুলেশনের চেয়ে বেশী নির্ভরযোগ্য মনে করেন তাহলে আমার বলার কিছু নাই।  

           যারা চাঁদের ব্যাপারে বিজ্ঞান মানতে রাজি না অথচ নামাজের সময়ের ক্যালেন্ডার তৈরিতে বিজ্ঞানের সাহায্য কেন নেন? এ প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন সূর্যের গতি ফিক্সড আর চাঁদেরটা নাকি তা না এবং তারা বলেন নামাজের সময়ে একটা রেইস্জ বা পরিসীমা থাকে তাই এতে কোন সমস্যা নাই। অথচ আমরা জানি বিজ্ঞানের আসল স্রষ্টা আল্লাহ কোরআনে বলেন চাঁদ ও সূর্য একটা নিজস্ব অক্ষ-পথে নির্দিষ্ট গতিতে চলছে।

          সে যাক, তাদের আসল কথা হল চাঁদের বেলায় বিজ্ঞান মানার দরকার নাই এমন কি এতে যদি মুসলিম উম্মাহর একতা ও সংহতি প্রকাশের সুযোগ পায় বা আধুনিক কর্মব্যস্ততার জীবনে বিশেষ করে যারা পশ্চিমা দেশে বসবাস করেন তাদের বেলায় ঈদ পালনে কিছুটা সুবিধা হয় তাতেও না। তাদের মত হল ছুটির নেবার সুবিধার সাথে ঈদের কি সম্পর্ক আর মুসলিম সংখ্যালঘু দেশে থাকলে সামাজিক পর্যায়ে মুসলিমদের এক সঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠান  পালনের এত কি দরকার? দু:খের বিষয় হল এধরনের বস্তিবাসী বা গেঁটো মানসিকতায় পীড়িত মতপ্রকাশকে  শরীয়ত-সম্মত বলে দাবী করেন। তারা এলাকা ভিত্তিক খালি চোখে চাঁদ দেখাই একমাত্র  শরিয়ত সম্মত পন্থা বলে  দাবী করেন। এ ব্যাপারে তারা ইবনে আব্বাস (রাঃ) ঈদ পালনের ঘটনাকে উল্লেখ করে তা ইসলামী ফিকাহর বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসাবে মানতে বলেন। আর সে জন্যই হেলাল কমিটি গঠন করা হয় (মূলত বাংলাদেশ, পাক ভারতীয় কিছু হানাফি মজহাবের দাবীদার হুজুরদেরকে দিয়ে) যারা সিদ্ধান্ত নেবেন তাদের এলাকায় কখন রোজা রাখবেন বা কখন ঈদ করবেন। এখন দেখা যাক এই হেলাল কমিটির হুজুররা কিভাবে তাদের সিদ্ধান্ত করেন? উদাহরণ হিসাবে আমি কানাডায় কি হচ্ছে তা বলছি আর বাংলাদেশ বা পাক ভারতে কিভাবে হয় তা সঠিকভাবে বলতে পারছি না তবে হয়তবা একই পদ্ধতি অনুসরণ হয়।

          স্থানীয় বা লকেল মুনসাইটিং বলতে কতটুকু দূরত্বের পরিসীমাকে লকেল হিসাবে বিবেচনা করা হবে সে প্রশ্নের উত্তরে তারা আজ থেকে কয়েক বছর পূর্বে বলতেন তা হচ্ছে শুধু মাত্র টরন্টো এরিয়া তার কয়েক বছর পর তা বড়িয়ে পুরা কানাডা করা হল তারপর সে সীমানা বাড়িয়ে আমেরিকার কিছু অংশও জোড়া হল আর এখন শুনা যায় সাউথ আমেরিকা পর্যন্ত নাকি তা করা হয়েছে! অর্থাৎ তাদের মতে এই এরিয়ার মধ্যে চাঁদ নজরে আসলে রোজা রাখা বা ঈদ করা যাবে। ভাল কথা। এখন যদি তাদেরকে প্রশ্ন করা হয় যে, ইবনে আব্বাস (রাঃ) সে ঘটনায় জানা যায় মদিনা ও সিরিয়ায় একই দিনে ঈদ পালিত হয় নাই। মদিনা ও সিরিয়ার দূরত্ব হবে ২ হাজার কিলোমিটার বা তার কাছাকাছি।

 

দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্বের জন্য যদি মনে করা হয় ইবনে আব্বাস (রাঃ) সিরিয়ার চাঁদ দেখাকে মদিনার জন্য সঠিক মনে করেন নাই তাহলে আমাদের হেলাল কমিটির হুজুররা কি ভাবে তাদের সিদ্ধান্তকে শরিয়া ভিত্তিক মনে করেন? যেখানে কানাডার এক অন্টারিও প্রদেশই হল বাংলাদের দশগুণ বড়।  চাঁদ দেখার পরিসীমা নির্ধারণের এ অধিকার ওনাদেরকে কে দিল? তারা বলবেন এটা হচ্ছে visible horizon এ ব্যাপার সবাই বুঝবেন না। তাই নাকি, তাহলে প্রশ্ন সিরিয়া ও মদিনা কি ভিন্ন visible horizon রেখায় অবস্থিত? বিজ্ঞান তো বলে visible horizon রেখা টানা হয় পূর্ব পশ্চিমে তাহলে মদিনা ও সিরিয়া তো উত্তর দক্ষিণে । (সিরিয়ার আরেক নাম "বালাদ শ্যাম")। কোন শরীয়ার ভিত্তিতে আপনারা চাঁদ দেখার পরিধি ইচ্ছামত বাড়াচ্ছেন আর কমাচ্ছেন?

এবার আসি বাংলাদেশের ব্যাপারে ত্রিপুরাতে ঈদ পালন হচ্ছে কারণ ইন্ডিয়াতে  চাঁদ দেখা গিয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে  যেহেতু দেখা যায় নাই তাই বাংলাদেশে ঈদ পালন করা হবে না কারণ বাংলাদেশ একটি ভিন্ন দেশ তবে ইংরেজেরা ভারতকে ভাগ না করে দিলে বাংলাদেশেও ঈদ হতে পারত? তার মানে দাঁড়াল সাম্রাজ্যবাদী প্রভুরাই আমাদের ফিকাহ পরিবর্তন করতে সক্ষম। হযরত আনাস (রাঃ) সময় মদিনা সিরিয়া একই দেশ ছিল অর্থাৎ আরবদেশ দেশের বর্তমান মানচিত্র তখনকার মত ছিল না?

এবার আসা যাক ইসলামের মহান ইমামরা কি বলেন?  ইসলামের চার ইমামের মাঝে একমাত্র ইমাম শাফী ছাড়া সবারই মত চাঁদ দেখার খবর পৃথিবীর যে কোন স্থান থেকে আসলে রোজা ও ঈদ করার পক্ষে। (সুত্র লিংক) সবচেয়ে আশ্চর্য, যারা লকেল সাইটিং এর পক্ষে সবচেয়ে স্বোচ্চার তারা কিন্তু শাফি মাজহাব অনুসরণ করেননা বরং নিজেদেরকে খাটি হানাফি মাজহাবের অনুসারী বলে দাবী করেন!

পরিশেষে বলতে চাই আমাদের উচিৎ "যে যাই বলুক, তাল গাছটা আমার" এই মনোবৃত্তি পরিহার করে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির প্রতি সতর্ক হওয়া দরকার । আর খেয়াল রাখতে হবে আমাদের মাঝে মতান্তর যেন মনান্তরে না পৌছায়।  আল্লাহ মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তৌফিক দেন সে দোয়া করি আর সে সাথে প্রত্যাশা রইল সময়ের সাথে সাথে এবং বাস্তবতার নিরিখে বিশ্বজুড়ে একই দিন বা তারিখে ঈদ পালনে মুসলিম সমাজ ঐক্যবদ্ধ হবে। এতে কোন হাদিসও লঙ্ঘন হবে না বা আগের কালের প্রথাকে ভুল বলতেও হবেনা সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তা করা সম্ভব হবে। শুধু আমাদের বুঝার পরিবর্তন আনতে হবে। ঐতিহাসিক অনেক ঘটনা প্রয়াগের প্রেক্ষাপট যে এখন ভিন্ন তা বিবেচনা করতে হবে।

২০ comments

Skip to comment form

  1. 16
    মাহফুজ

    এ সম্পর্কিত আরেকটি পোষ্ট- হজের দিন/তারিখ নিয়ে তেলেসমাতি

  2. 15
    মাহফুজ

    মূলত সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি স্পেসিফিক (হিজরি) ক্যালেন্ডার বানালে এ বিষয়টির যুক্তিসংগত সমাধান করা সম্ভব হতে পারে। পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে রমজানের ও ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়া বা না যাওয়া সাপেক্ষে সেই স্পেসিফিক ক্যালেণ্ডার আনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে সারা বিশ্বে একই আরবী তারিখে রোজা শুরু ও শেষ এবং ঈদ উদযাপন, আরাফার দিনের রোজা, পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, লাইলাতুল মি’রাজ ইত্যাদি বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছানো সহজ হবে। তবে এক্ষেত্রে হাদিছ মোতাবেক অঞ্চলভিত্তিক চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করার ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শন করাকে অনেকে গ্রহন নাও করতে পারেন। কিন্তু তারপরও তাদেরকে যদি বোঝানো যায় যে, স্পেসিফিক (হিজরি) ক্যালেন্ডারটি গ্লোবাল মুন-সাইটিং এর উপর ভিত্তি করে সার্বজনীনভাবে বানানো সম্ভব, তাহলে হয়ত চন্দ্র দর্শন সম্পর্কীত মানসিকতার পরিবর্তন ও সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।  
     

  3. 14
    মহিউদ্দিন

    এস্ট্রনমি /গননা ব্যবহারের পক্ষে ইসলামী ব্যখ্যা শুনতে ইমাম হামিদ সিলমীর বক্তব্য শুনেন:
    [youtube][youtube]
     
    Global Moonsighting কিভাবে গননা করা যায় বুঝতে হলে ড: খলেদের নিচের ভিডিও দেখতে পারেন:
    [youtube]
     

  4. 13
    মহিউদ্দিন

     

    প্রচলিত আমলের সপক্ষ অবলম্বনকারীদের দলীল ও তাঁর জবাব

    বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে সমাজে প্রচলিত এলাকা ভিত্তিক আমলকে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য কিছু সংখ্যক ওলামাই কিরাম হাদিসে কুরাইব (রাঃ) নামে প্রসিদ্ধ একটি হাদীসকে দলীল পেশ করেন। উক্ত হাদিসটি নিম্নরূপঃ

     

    কুরাইব তাবেঈ বলেছেন, যে হারিসের কন্যা (লুবা-বা) তাকে শাম প্রদেশে সম্রাট মুআবিয়ার নিকট পাঠিয়ে দিলেন। অতঃপর আমি শামে এসে তাঁর প্রয়োজন সমাপন করলাম এবং আমার শামে থাকা অবস্থায় রামাযানের নতুন চাঁদ উদয় হল এবং আমি বৃহস্পতিবারের দিবাগত সন্ধ্যায় চাঁদ দেখলাম, তারপর মদীনা আসলাম; অতঃপর আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) জিজ্ঞেসা করলেন যে, তোমরা (রামাযানের) চাঁদ কবে দেখেছ? আমি বললাম, জুমুআ রাত্রিতে; পুনরায় বললেন যে, তুমি নিজে দেখেছ? আমি বললাম, জি হ্যাঁ এবং অন্যান্য লোকেও দেখেছে এবং মুআবিয়া ও শামবাসীরা রোযা রেখেছেন। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমরা কিন্তু শুক্রবারের দিবাগত সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছি, অতএব আমরা রোযা রাখতেই থাকব। ৩০-এ পর্যন্ত কিংবা ৩০শের পূর্বে ২৯শে চাঁদ দেখা পর্যন্ত। আমি বললাম, আপনি কি মুআবিয়ার চাঁদ দেখা ও তাঁর রোযা রাখার উপর নির্ভর করতঃ রোযা ও ঈদ করবেন না? ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেন, না; এটাই আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আদেশ দিয়েছেন যে আমরা আপন দেশের লোকের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করব; অন্যান্য দূর দেশবাসীদের চাঁদ দেখাকে আমরা যথেষ্ট মান্য করব না।”[মুসলিম শরিফ]

    পবিত্র হাদীসটির জবাব
    সুবিজ্ঞ মুহাদ্দেসীনে কিরাম এবং হানাফী, হাম্বলী ও মালেকী মাযহাবের ইমামগণ অত্র হাদিসে পাককে দলীল হিসেবে গ্রহণ না করে হাদিসটির নিম্নরূপ জবাব দান করেছেন-
     

    ১।
    অত্র ফাতওয়ার ১০ পৃষ্ঠায় “রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর নিজ আমল” শিরোনামে পবিত্র মিশকাত শরীফের ১২৭ ও ১৭৪ পৃষ্ঠা থেকে যে তিনটি হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে তার দ্বারা প্রমাণিত যে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম একজন মরুচারীর সংবাদকে ভিত্তি করে নিজে রোযা রেখেছেন এবং অন্যদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। দূরদূরান্ত থেকে আগত একটি কাফেলার সংবাদের ভিত্তিতে ৩০শে রমযান মনে করে রাখা রোযা নিজে ভঙ্গ করেছেন এবং অন্যদেরকেও ভাঙ্গার নির্দেশ দিয়েছেন।
    তাহলে যেখানে শরীয়ত প্রবর্তক নিজেই অন্যের সংবাদ গ্রহণ করে রোযা রেখেছেন এবং ঈদ করেছেন। সেখানে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সংবাদ গ্রহণ করলেন, কি করলেন না তা কোন যুক্তিতেই দলীল হতে পারেনা।

    ২।
    রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র আমল বিষয়ক উক্ত হাদীস তিনটি হাদিসে মারফু। (মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা ও কাজ), আর কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর হাদীস হচ্ছে হাদিসে মাওকুফ। (সাহাবীগণের কথা ও কাজ) অতএব অছুলে হাদীস বা হাদীস ব্যাখ্যার মূলনীতি অনুযায়ী হাদিসে মারফুর মোকাবিলায় হাদিসে মাওকুফ কখনও দলীল হতে পারেনা।

    ৩।
    হাদিসে কুরাইব (রাঃ)-এর মধ্যে هكذا امرنا النبى صلى الله عليه وسلم এবং فلانزال نصوم حتى نكمل ثلثين اونراه বিশেষ উক্তি দু’টি মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর নয় বরং অত্র উক্তিদ্বয় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিজস্ব উক্তি। তাই কোন সাহাবীর নিজস্ব উক্তি কখনই কুরআনের সুস্পষ্ট আয়াত এবং মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর নির্দেশ ও আমলের বিপরীতে দলীল হতে পারেনা।

    ৪।
    হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু তার উক্তিদ্বয় দ্বারা মূলত ইঙ্গিত করেছেন রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর বাণী- لاتصوم حتى تروه ولاتفطرو حتى تروه এবং صوموا لرؤيته وافطروا لرؤيته এর দিকে। আর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর এ বাণীর আমল উম্মতগণ কিভাবে করবেন তা মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম নিজ জীবদ্ধশায়ই আমল করে দেখিয়ে গেছেন। তাহলো সকলকে চাঁদ দেখতে হবে না বরং কিছু সংখ্যকের দেখাই অন্যদের দেখার স্থলাভিষিক্ত হবে। অতএব ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর উক্ত উক্তিদ্বয় দ্বারা নিজ নিজ এলাকায় চাঁদ দেখে আমল করতে হবে এ ব্যাখ্যা ঠিক নয়।

    ৫।

    ছহীহ মুসলিম শরীফের বর্ণনায় কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর চাঁদ দেখার স্বীকৃতি মূলক শব্দ نعم رأيته “হ্যা আমি চাঁদ দেখেছি” কথাটির উল্লেখ থাকলেও তিরমীযী সহ অন্যান্য বর্ণনায় কুরাইব (রাঃ) নিজে চাঁদ দেখেছেন এরকম শব্দের উল্লেখ নেই। ফলে অত্র হাদিসটি مضطرب বা মূল ভাষ্য কম-বেশী হওয়ায় স্পষ্ট মারফু হাদিসের বিপরীতে কখনই দলীল হতে পারেনা।
     

    ৬।
    আল্লামা শাওকানী (রঃ) তার লিখিত “নাইলুল আওতার” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হযরত কুরাইব রাদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সংবাদ এবং শামবাসীর চাঁদ দেখাকে গ্রহণ না করা এটা আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিজস্ব ইজতিহাদ। যা সার্বজনীন আইন হিসেবে প্রযোজ্য নয়।

    ৭।

    আল্লামা ইবনু হুমাম (রঃ) ফতহুল কাদীরে এবং আল্লামা ইবনু নাজীম (রঃ) বাহরুর রায়েক-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, পরিষ্কার আকাশে পবিত্র রমযানের চাঁদ দেখা প্রমাণিত হওয়ার জন্য শরয়ী পদ্ধতি হচ্ছে ৪টি। একঃ দু’জন আকেল, বালেগ ও স্বাধীন মুসলিম সাক্ষ্য দিবে, দুইঃ উক্ত গুণে গুণান্বিত দু’জন, অনুরূপ দু’জনের চাঁদ দেখার প্রতি সাক্ষ্য দিবে। তিনঃ অনুরূপ গুণে গুণান্বিত দু’ ব্যক্তি চাঁদ দেখায় কাজীর ফয়সালার প্রতি সাক্ষ্য দিবে। চারঃ চাঁদ দেখার খবর মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচার পেয়ে দৃঢ়তার পর্যায়ে এমন ভাবে পৌঁছে যাবে যাকে মিথ্যা বলে ধারণা করা যায়না।

    কিন্তু শামবাসীর চাঁদ দেখার সংবাদ কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু কর্তৃক অত্র চার পদ্ধতির কোন পদ্ধতিতেই ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিকট উপস্থাপিত হয়নি। তাই শরয়ী বিচারে তিনি উক্ত সংবাদ গ্রহণ করেননি।

    ৮।
    আল্লামা ইবনু ক্বুদামাহ্‌ (রঃ) তার মুগণী কিতাবে এবং শাইখুল হিন্দ হোসাইন আহমদ মাদানী মায়ারিফুল মাদানিয়া-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, যদিও ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সাথে কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর আলোচনা হয়েছিল রমজানের চাঁদ দেখা নিয়ে কিন্তু এর প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া পড়ছিল অত্যাসন্ন ঈদুল ফিতরের উপর। কারণ উক্ত হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুরাইব রাদি আল্লাহু তায়ালা আনহু রমযানের শেষের দিকে শাম থেকে মাদিনায় এসে ছিলেন। আর শরীয়তের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কমপক্ষে দু’জনের সাক্ষী ছাড়া রোযা ছেড়ে ঈদ করা যায়না। তাই ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ না করে বলেছিলেন- هكذا امرنا النبى صلى الله عليه وسلم এবং فلانزال -نصوم حتى نكمل ثلثين اونرا
    —-- (দেখুনঃ তানযীমুল আশতাত, খন্ড-২, পৃঃ-৪১, মিফতাহুন্নাজ্জাহ, খন্ড-১, পৃঃ-৪৩২,মায়ারিফুল মাদানিয়া, খন্ড-৩, পৃঃ-৩২-৩৫)

    ৯।
    হযরত ইবনু আব্বাস রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর আমলকে দলীল গ্রহণ করে, যে সকল পূর্ববর্তী আলেমগণ এলাকা ভিত্তিক আমলের সপক্ষে মতামত দিয়েছেন তারা প্রায় সকলেই একথা বলেছেন যে, নিকটবর্তী দেশ বা অঞ্চলে চাঁদের উদয় স্থলের ভিন্নতা গ্রহণীয় হবে না। এক স্থানের দেখা দ্বারাই সকল স্থানে আমল করতে হবে। আর যদি চাঁদ দেখার দেশটি চাঁদ না দেখার দেশ থেকে অনেক দূরে হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে যার যার দেখা অনুযায়ী আমল করতে হবে। একটু গভীর ভাবে লক্ষ্য করলে সকলের নিকটই একথা সূর্যালোকের মত পরিষ্কার যে, এক দেশের চাঁদ দেখার সংবাদ অন্য দেশ থেকে গ্রহণ করা না করার দিক থেকে ঐ সকল সম্মানিত ওলামাই কিরাম পৃথিবীকে নিকটবর্তী ও দূরবর্তী এ দু’ভাগে ভাগ করার কারণ হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা। তাদের যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে তাদের এ মতামত ঐ যুগের জন্য যুক্তিযুক্ত এবং যথার্থ ছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী সম্মানিত ওলামাই কিরামের ঐ মতামত বর্তমানে দু’টি, কারণে গ্রহণ যোগ্য নয়।

     
    এক: যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে বর্তমান পৃথিবীর বিপরীত মেরুর দেশ দু’টিও তাদের যুগের পাশাপাশি অবস্থিত দু’টি জেলা শহরের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। সুতরাং আজকের যোগাযোগ ব্যবস্থায় দূরবর্তী দেশ বলতে আর কোন কথা নেই।

    দুই: তারা যে ওজর বা বাধ্যবাধকতার কারণে এ মতামত দিয়েছেন আজকের বিশ্ব ব্যবস্থায় সে ওজর সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

    ১০।
    চার মাযহাবের সুবিজ্ঞ ইমামগণের প্রত্যেকেই হাদীস শাস্ত্রে গভীর পান্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। অতএব কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বর্ণিত হাদীস তাদের জানা ছিলনা এমনটা ভাবা যায়না। তাই তারা জেনে বুঝেই রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর আমলমূলক হাদীসের উপর ফাতওয়া দিয়েছেন যা সার্বজনীন আইন হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। আর তারা কুরাইব রদি আল্লাহু তায়ালা আনহু-এর হাদীসকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে গণ্যকরে পবিত্র কুরআন, হাদীস এবং রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর নিজ আমলের ভিত্তিতে ফাতওয়া দিয়েছেন যে, “চাঁদের উদয় স্থলের ভিন্নতা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং পৃথিবীর যে কোন স্থানে প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে সমগ্র পৃথিবীতে এক কেন্দ্রিক তারিখ গণনা করতে হবে এবং একই দিনে সকলের উপর আমল করা জরুরী হবে।”

    প্রসংগত উল্লেখ্য যে, ইমাম যায়লায়ী (রহঃ) ৬ষ্ঠ স্তরের ফকীহ। তাই তিনি মুজতাহিদ ফিদ্‌ দ্বীন নন বরং একজন মুকাল্লিদ। অতএব একজন মুকাল্লিদ হিসেবে নিজ ইমামের সিদ্ধান্তের অনুসরণই তার জন্য যুক্তিযুক্ত। তিনি নিজেই وهو قول اكثر المشائخ বলে স্বীকার করেছেন যে বেশীর ভাগ ফকীহ উক্তমত গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তার সমসাময়ীক সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে চাঁদ উদয়ের সংবাদ দেয়া-নেয়ার সমস্যার সমাধান কল্পেই তিনি নিকটবর্তী দেশ এবং দূরবর্তী দেশ অনুসরণের ফাতওয়া দিয়েছিলেন। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন অসুবিধা না থাকায় সম্মানিত ইমামগণের কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক মূল সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমলের কোন বিকল্প নেই।

    ১১।
    যদি সমস্ত বাহাছ তর্ক পরিহার করে হাদিসে কুরাইব-এর ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন দিনে রোযা ও ঈদ মেনে নেওয়া হয় এবং কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের উল্লেখিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোযা, ঈদ, কুরবানীসহ চাঁদের তারিখ সংশ্লিষ্ট ইবাদাত সমূহ সমগ্র বিশ্বে একই দিনে অনুষ্ঠিত না হয় তাহলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন সব জটিল সমস্যার সৃষ্টি হবে যার কোন সমাধান নেই। নিম্নে এরকম প্রধান প্রধান কিছু সমস্যা তুলে ধরা হল-

    এক: বাংলাদেশে বর্তমান প্রচলিত আমলের কারণে পবিত্র রমযানের প্রথম দিকের এক বা দুই দিনের রোযা আমরা কখনই পাইনা। কারণ মাসয়ালা মতে আমাদের এক বা দু’দিন পূর্বেই পবিত্র রমযান মাস শুরু হয়ে যায়। এটা জেনেও আমরা ঐ এক বা দু’দিন ফরয রোযা রাখিনা।

    দুই: মাসয়ালা অনুযায়ী সমগ্র পৃথিবীতে যেদিন পহেলা শাওয়াল হিসেবে ঈদ পালন হয় আমরা সেদিন ২৯ বা ৩০ রমযান হিসেবে রোযা রাখি। অথচ সর্ব সম্মত মতে ঈদের দিনে রোযা রাখা হারাম। জেনে শুনে ঐ দিন রোযা রাখা জায়েজ মনে করলে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী ঐ ব্যক্তির ঈমান চলে যাবে। কারণ সে হারামকে হালাল মনে করে কার্য সম্পাদন করেছে।

    তিন: বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রতিদিনই এক দেশ থেকে অন্য দেশে বহু লোক যাতায়াত করছে। এ ধারাবাহিকতায় মধ্য প্রাচ্যসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে রোযা শুরু করে বাংলাদেশে এসে ঈদ করলে ঐ ব্যক্তির রোযা হবে ৩১ বা ৩২টি। আবার বাংলাদেশে রোযা শুরু করে অন্য দেশে গিয়ে ঈদ করলে ঐ ব্যক্তির রোযা হবে ২৭ বা ২৮টি। অথচ হাদীস শরীফে বলা হয়েছে আরবী মাস ২৯-এর কম হবেনা এবং ৩০-এর বেশী হবেনা। তাই পবিত্র ইসলাম ধর্মে ২৭, ২৮ অথবা ৩১, ৩২টি রোযার কোন বিধান নেই। বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেব কোরিয়াতে ঈদের নামায পড়ে এসে দেখেন বাংলাদেশে আরও একদিন রোযা বাকী। এধরনের সমস্যার সমাধান কখনই সম্ভব নয়।

    চার: হাদীস শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী তাকবীরে তাশরীক বলা শুরু করতে হবে আরাফার দিনের ফজর নামায থেকে। কিন্তু আমাদের দেশে উক্ত তাকবীর বলা শুরু করা হয় এখানকার স্থানীয় ৯ই জিল-হাজ্জ। যে দিন সারা পৃথিবীতে ১০ বা ১১ জিল-হাজ্জ। ফলে ঐ দিনটি আরাফার দিনতো নয়ই বরং আরাফার দিনের পরের দিন বা তৎপরবর্তী দিন। তাহলে ফলাফল দাড়ালো বাংলাদেশের স্থানীয় তারিখ অনুসরণের কারণে আমাদের পাঁচ বা দশ ওয়াক্ত নামাজের ওয়াজিব তাকবীর ছুটে যাচ্ছে। আবার শেষ দিকে গিয়ে এমন এক বা দু’দিন তাকবীর বলছি যখন আমলটির ওয়াজিব আর বাকী নেই।

    পাঁচ: যে সকল সম্মানিত ভাইয়েরা একাধিক পশু কুরবানী দেন, তাদের অনেকেই বাংলাদেশের স্থানীয় ১১ ও ১২ জিল-হাজ্জ তারিখে কুরবানী দিয়ে থাকেন। কিন্তু কুরআন, সুন্নাহর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐ সময় সারা বিশ্বে ১৩ বা ১৪ জিল-হাজ্জ। (যদি চাঁদ দেখায় ২দিনের তারতম্য হয়)। তাহলে ফলাফল দাঁড়ালো তাদের দু’দিনের কুরবানী-ই বিফলে যাচ্ছে। কারণ কুরবানী করার সময় ১০ থেকে ১২ জিল-হাজ্জ। ১৩ ও ১৪ জিল-হাজ্জ কুরবানী করা যায়না।

    ছয়: রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন যে, আরাফার দিনে রোযার ব্যাপারে আমি আল্লাহর উপর এ বিশ্বাস রাখি, ঐ দিনের রোযার বিনিময়ে আল্লাহ পাক রোযাদারের পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহ্‌ ক্ষমা করে দেন।
    —-- (মুসলিম শরীফ, খন্ড-১, পৃঃ-৩৬৭)

    পবিত্র হাদীস ঘোষিত এ মহান পূন্য লাভের আশায় অগণিত মুসলিম নর-নারী বাংলাদেশের স্থানীয় ৯ জিল-হাজ্জ রোযা রাখেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল ঐ দিন মক্কা মোয়াজ্জেমা সহ সারা বিশ্বে ১০ বা ১১ জিল-হাজ্জ। অর্থাৎ কোন ভাবেই ঐ দিনটি আরাফার দিনতো নয়ই বরং কুরবানীর দিন বা তাশরীকের প্রথম দিন। যে দিন গুলোতে রোযা রাখা চার মাযহাবের সকল ইমাম ও আলেমের ঐক্যমতে হারাম। তাহলে ফল হল স্থানীয় চাঁদ দেখার হিসেবে একটি নফল রোযা রেখে হারামে নিমজ্জিত হচ্ছেন অগণিত মুসলিম নারী-পুরুষ।

    সাত: পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর, লাইলাতুল মি’রাজ এবং লাইলাতুল বারায়াত আল্লাহর নিকট এক একটি সুনির্দিষ্ট রাত। যা সমগ্র বিশ্বের সকল মানুষের জন্য একই রাতে সংগঠিত হয়। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন দিন এ রাত গুলো নির্ধারণ করার ফলে এসকল রাতের ফযীলত থেকে দেশবাসীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যখন সংবাদ পৌঁছেনি তখন স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে এসব পর্ব পালন ওজর হিসেবে যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু বর্তমানে সে ওজর নেই।

    আট: আল্লাহ পাক এরশাদ করেন “নিশ্চয়ই আমি এ কুরআনকে নাযিল করেছি ক্বদরের রাতে।”—-- (সুরাহ আল ক্বদর)
    পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর আল কুরআন ঘোষিত একটি মর্যাদাপূর্ণ রাত। যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। আমরা যারা একদিন পরে রোযা শুরু করি আমরাতো কখনই ঐ রাত পাইনা। কারণ আরব বিশ্বে যেদিন বেজোড় রাত আমাদের দেশে সেদিন জোড় রাত। তাদের বেজোড় রাত হিসাবে ক্বদর হলে আমরা কখনই ক্বদর রাত পেতে পারিনা। কারণ এ রাত তো একটিই। যা অঞ্চলের ভিন্নতায় কয়েক রাত মেনে নেয়া হাস্যকর বৈকি?

     

     

  5. 12
    সাদাত

    দু:খের বিষয় হল এধরনের বস্তিবাসী বা গেঁটো মানসিকতায় পীড়িত মতপ্রকাশকে  শরীয়ত-সম্মত বলে দাবী করেন।

    ঐক্যপ্রচেষ্টার  কী চমৎকার নমুনা!!
     

  6. 11
    ওয়াহিদুর রহমান

    সমসাময়িক একটি বিতর্কিত বিষয়ের উপর তথ্যবহুল ও যুক্তিপূর্ণ আর্টিক্যল উপহার দেওয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। রমজানের চাঁদ বছরে একদিনই উদিত হয়। কেহ না দেখলেও এই চাঁদ আকাশেই থাকে। যারা চোখে না দেখা পর্যন্ত এই সত্যটিকে সত্যবলে ধরে নিতে নারাজ। আল্লাহ্ একটি সত্য ও চিরন্তন স্বত্তা। এই সত্যটিকেও স্বীকার করা ও না করার অধিকারও আল্লাহ্ মানুষকে দিয়েছেন। বাংলাদেশে চাঁদ না দেখলে যারা উত্তর আমরিকায় চাঁদ দেখেন না তারা অন্ধ। আল্লাহ্ অন্ধদেরকে অনুসরণ করতে মুসলমানদেরকে নিষেধ করেছেন। চোখে চাঁদ দেখার অজুহাতে যারা দরজায় আগল দিয়ে বন্ধ কোঠার ভিতরে বসে টেলিফোনে ভিতর চাঁদ দেখতে পায় তাদের চাঁদ আর আসল চাঁদ কখনো একদিন উদিত হবে না। মুসলমানদেরকে সকল কাজে কাবা’কে ডিরেকশন করতে হয়। কারন কাবা’র উপর বায়তুল মামুর, তার উপর আরশ-কুরসি তার উপর উপবিষ্ট থেকে আল্লাহ্ তাঁর সামাজ্য পরিচালনা করেন। এই আল্লাহ্কে ঘিরেই আঠারো হাজার মাখ্লুকাত সাথে নিয়ে আমরা কাবা তাওয়াফ করে থাকি। ইসলামের কেন্দ্র বিন্ধু এই কাবা তথা মক্কা-মদিনা বাদ দিয়ে যারা দিল্লি-নিজামউদ্দীনের নির্দেশ অনুসরণ করে, নর্থ আমরিকা কেন মক্কা-মদিনায় চাঁদ উঠলেও তারা কখনো দেখতে পাবে না। বিখ্যাত ‘গোল্ডেন রেশিও’ অনুযায়ী কাবা পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। কাবা’র সাথে দুনিয়ার কোন স্থানের সময়ের পার্থক্য বার ঘন্টার বেশী নয়। আর কাবা তথা মক্কার সাথে কোনস্থানের সময়ের পার্থক্য বার ঘন্টার বেশী না হলে রোজা-রমজান একই দিন শুরু করা যায়। কিন্তু যারা ইসলামের প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানের কাউন্টার আচার-অনুষ্ঠান (যেমন মোহাম্ম (সাঃ) এবং মাওলানা ইলিয়াস, কোর’আন এবং  ফাজায়েলে আমল, হজ্জ্ব এবং  বিশ্ব ইস্তেমা, আরবী এবং  উর্দ্দু, পাঁচ স্তম্ভ এবং  ছয় অসুল ইত্যাদি) তৈরীতে সদা ব্যস্ত তাদেরকে আপনি একথাটি বুঝাবেন কিভাবে। ঈদ-রমজান ভিন্ন দিনে উৎযাপন করাও তাদের এই কাউন্টার পলিসির একটি অংশ। আল্লাহ্ বলেছেন হজ্জ্বেÍ দিন আরাফাতে উপস্থিত না থাকলে হজ্জ্ব আদায় হয় না। কিন্তু টঙ্গী গেলে হজ্জ্বের সাওয়াব পাওয়া যায় মনে করলে যে আল্লাহ্র এবাদতের পরিবর্তে হজ্জ্বের এবাদত করা হয় একথা যারা বুঝেনা তারা কি ভাবে বুঝবে যে চাঁদের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পরিবর্তে খালি চোখে চাঁদ দেখার অজুহাত দেখিয়ে মুসলমানদের মধ্যে যারা বিবেদ সৃষ্টি করে তারা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্র পরিবর্তে চাঁদের এবাদত করে থাকে। কোর’আনে বলা হয়েছে, ধর্ম সম্বন্ধে যারা নানা মতের সৃষ্টি করে ও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয় তাদের সম্বন্ধে আল্লাহ্ নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন (৬/১৫৯) তাই দোয়া করুন যদি মোহর মেরে দেওয়া না হয়ে থাকে তাহলে এই বিবেধ সৃষ্টি কারীদেরকে যেন আল্লাহ্ হেদায়েত করেন। ঈদ-চাঁদের ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানার জন্য আপনার পাঠকগনকে আমার লিখা ‘রমজানের চাঁদ বছরে একদিনই উদিত হয়’ আর্টিক্যলটি পড়তে বলতে পারেন। আল্লাহ্ হাফেজ। আমিন।      

  7. 10
    মুনিম সিদ্দিকী

    আমাদের দেশে একবার দোয়াল্লিন যোয়াল্লিন নিয়ে এই ভাবে ফাটাফাটি ছিল, এখনো আছে তবে মাথা ফাটাফাটি এখন আর হয়না। চাঁদ নিয়েও একদিন সমস্যার সমাধান হবে। আমি আশাবাদি। আপনার লেখা আমার ভাল লেগেছে, ভাল লেগেছে এর কারণে যে, আমি ঐক্যবদ্ধ ঈদ চাই। ধন্যবাদ।

    1. 10.1
      মহিউদ্দিন

      আপনাকেও ধন্যবাদ পড়া ও মন্তব্যের জন্য।
      আসলে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ঈদ করা বি্শ্বজনীন মুসলিম প্রত্যাশা আর সে লক্ষ্য সামনে রেখে ইসলামী স্কলাররা প্রচেষ্টায় লিপ্ত। আমিও আশাবাদি একদিন এ সমস্যার সমাধান হবে।

  8. 9
    শাহবাজ নজরুল

    আলোচনা যখন চলছে আরেকটু এগোই ইনশাল্লাহ। প্রথমেই আমার পজিশন কি স্পষ্ট করে বলে দেই। কেননা আপনার মূল লেখাতে আপনি বেশ কিছু পয়েন্ট টাচ করেছেন, বিশেষত গ্লোবাল মুন-সাইটিং ও ক্যাল্কুলেশনের পক্ষে ছিল আপনার কথাবার্তা। আরো ছিল সবার একসাথে এক উম্মাহ হিসেবে ঈদ করার  অভিপ্রায়। আপনার মতামতের অধিকাংশের সাথেই আমি একমত কিছু ছাড়া। সব পক্ষের মতামত শুনে আমি নিজে ক্যাল্কুলেশনের পক্ষে নই, আমি চাঁদ দেখে সিদ্ধান্ত নেবার পক্ষপাতি। চাঁদ দেখে ঈদ করার এখন ২-টি মতবাদ আছে – লোকাল ও গ্লোবাল। আমার নিজের পজিশন হচ্ছে, চাঁদ স্বচোক্ষে দেখার শর্ত যদি মানা হয় তবে লোকাল কিংবা গ্লোবাল যেকোনো ভাবেই এগুনো যায়। আমার মতে দুটোই ঠিক আছে। তবে যত সময় যাচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্বে সবাই গ্লোবালের দিকেই ঝুঁকছে। আর এই গ্লোবাল পজিশনের দিকে ঝুঁকার অন্যতম প্রধান কারণ কিন্তু ক্যালকুলেশন এর নতুন ফিকহ। যতদুর মনে পড়ে ২০০৫/৬ সালের দিকে FCNA ক্যাল্কুলেশনের নতুন পদ্ধতি নিয়ে আসে। উদ্দেশ্য ছিল, আপনি যেভাবে বলেছেন, সবাইকে এক ছাতার নীচে এনে একসাথে রোজা শুরু আর ঈদ করার ইচ্ছে। এর আগে লোকালের সংজ্ঞা ছিল অনেক SOFT। আমি নিজেও কখনো ঠিকমতো বুঝিনি লোকাল এর সংজ্ঞা কী? ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত লোকাল এর বহুমুখী সংজ্ঞা দেখেছি। আমি ছিলাম তখন দক্ষিন ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগো তে। প্রথম দিকটাতে লোকাল ছিল ২ থেকে তিন ধরনের। কেউ বলতো স্যান ডিয়েগো তে চাঁদ দেখলে তাই লোকাল হবে, আর কেউ বললো না, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াতে চাঁদ দেখলে তা লোকাল হবে। একই শহরে ২ মসজিদে এমন ২ রকম লোকালের সংজ্ঞা দেয়া হতো। অবশ্য যারা কেবল স্যান ডিয়েগো ভিত্তিক চাঁদ দেখে সিদ্ধান্ত নিতেন তারা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া’র উপর সিদ্ধান্ত নেয়া লোকদের বলতেন গ্লোবাল। এরপর SOFT demarcation লাইন এর পরিধি কিছুটা বাড়লো। অনেকে বললেন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া লোকালের মধ্যেই পড়বে, উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া হচ্ছে আলাদা লোকালিটি। এর পরে তাও বদলালো, একেক স্টেট আলাদা আলাদা লোকালিটি বলে গণ্য হলো। অর্থাৎ ক্যালিফোর্নিয়াতে চাঁদ দেখা গিয়েছে বলে ক্যালিফোর্নিয়াতে ঈদ হলো কিন্তু হয়ত সেদিন টেক্সাস কিংবা নিউ-ইয়র্কে ঈদ হলোনা, কেননা ঐ লোকালিটি তে চাঁদ দেখা যায়নি। এনিয়ে আমার নিজের মধ্যেই ফ্রাস্টেশন ছিল। আক্ষেপ ছিল কেন আমাদের মসজিদের নেতারা এক কক্ষে বসে একই দিনে ঈদ করার সিদ্ধান্ত নিতে পরছেননা। ২০০৪ সালের দিকে সারা আমেরিকাতে সিদ্ধান্ত হলো পুরো আমেরিকাই হচ্ছে একটা লোকালিটি, তাই আমেরিকার যেকোনো জায়গাতে চাঁদ দেখা গেলেই হবে। মনে পড়ে সেটা বোধ করি ২০০৪ কিংরা ২০০৫ সালের দিকেই হবে যখন পুরো আমেরিকা একইসাথে রমযান শুরু ও শেষ করলো। ঐ রমযানে আমরা সবাই ছিলাম বেশ আশান্বিত, কেননা এবার যেহেতু সবাই একসাথে সব করতে পারলাম, আগামিতেই ইনশাল্লাহ পারবো। কিন্তু পরের বছরই তা ভুল বলে প্রতীয়মান হলো। 

    সে সময়ে এলো FCNA এর ফিকহ এর আবির্ভাব; তারা বললেন চাঁদ দেখারই দরকার নেই, কেবল হিসেব করলেই চলবে। এর ফলে সবাই যে একটা পথে আস্তে আস্তে একীভুত হচ্ছিল, তাতে আবার ফাটল দেখা দিল। শুরু হলো নতুন ফিতনা। কিন্তু যে কারনেই হোক যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মসজিদ ISNA ও FCNA এর পথেই চললো। কিন্তু স্পষ্ট প্রমাণ ও নির্দেশনা থাকার কারণে অনেক ওলামা FCNA এর ফিকহ মেনে নেন নাই। তাই তারা স্বচোক্ষে চাঁদ দেখার পথেই থাকলেন; তবে যা হলো কিছু দিনের মধ্যেই স্বচোক্ষে চাঁদ দেখার পক্ষপাতি লোকজন মোটামুটি ভাবে গ্লোবাল মতবাদে converge করলেন। এখন উত্তর আমেরিকাতে ২ টি নয় তিনটি মতবাদ আছে,

    ১. লোকাল [আমেরিকাতে চাঁদ দেখতে হবে],
    ২. গ্লোবাল [পৃথিবীর যেকোনো জায়গাতে চাঁদ দেখলেই চলবে]
    ৩. ক্যাল্কুলেশন [বলা হয়েছে তারা উত্তর আমেরিকাতে (মতান্তরে পশ্চিম গোলার্ধে) যেকোনো জায়গাতে চাঁদ দৃশ্যমান হবে তার হিসেব করলেই চলবে, স্বচোক্ষে চাঁদ দেখার দরকার নেই]

    FCNA এর ক্যাল্কুলেশন উম্মাহকে একীভুত করার বদলে আরো বিভক্ত করে দিয়েছে বলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। আগে ছিল ২ টা মতবাদ, এখন হয়েছে ৩ টা -- স্পষ্ট বিভক্তির বৃদ্ধি। তার উপর ক্যালকুলেশন পদ্ধতি কোরান ও সুন্নাহের পরিপন্থী বলেই প্রতীয়মান হয়। আপনি কষ্ট করে আমার দেয়া লিঙ্কগুলো পড়ে দেখেন। আপনার জানার আগ্রহ আছে তা বুঝি, যারা চাঁদ দেখার পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন তাদের কথাগুলোও পড়ে দেখেন। FCNA এর ক্যাল্কুলেশনের বিদা আসার পর থেকে আমি এই থ্রেডের খবর ও লেখাগুলো ভালোভাবেই পড়েছি, আমার কাছে চাঁদ দেখার পক্ষের লোকদের যুক্তি অনেক স্পষ্ট ও পরিষ্কার মনে হয়েছে। ইস্তেহাদের কথা বলছেন, তা আমি মানছি, কিন্তু নিজের মনের হুবা কে প্রাধান্য দিয়ে ইস্তেহাদ করা যায়না। আর ইস্তেহাদ আমি আপনি করতে পারবো না, করবেন সমাজের জ্ঞানী গুণী লোকজন। আর উনাদেরও ইস্তেহাদ করার শর্ত আছে। ফ্রি-স্টাইলে নিজের মনের হুবা-কে প্রাধাণ্য দিয়ে ইস্তেহাদ করলে তা হবে ভ্রান্ত।

    এবার আপনার কমেন্টের পর্যালোচনায় আসি,

    আপনি যদি Global Moonsightingকে মানেন তাহলে তো সমস্যা নাই। কষ্ট করে এত দীর্ঘ মন্তব্যের দেবার প্রয়োজন ছিলনা এবং কোরআনের ভুল তরজমা ও হাদিসের অসম্পূর্ন ব্যখা না দিলে্ও চলত।কেননা গ্লোবেল মুনসাইটিং এর সাথে বৈজ্ঞানিক ক্যলকুলেশনের সাথে যারা রোজা রাখেন তাদের তফাৎ হয়না।

    কথাটা ঠিক নয় – প্রথমত আওনি বের করেন FCNA কি ক্যাল্কুলেট করছে। আপনি আমাকে বরং ওদের পদ্ধতি’র একটা লিঙ্ক দেন, যেখানে স্পষ্ট ভাবে জানা যাবে ওরা কি মেথডলজি ফলো করছে। আপনি নিজে কী তা জানেন?

    আমি যতদুর জানি ওরা উত্তর আমেরিকাতে চাঁদ দেখা যাবে (মতান্তরে পশ্চিম গোলার্ধে চাঁদ দেখা যাবে) তার হিসেব করছে। মনে রাখবেন তারা একগন গড় দৃষ্টিশক্তির লোক চাঁদ দেখতে পাবেন, তা হিসেব করছে, চাঁদের জন্মক্ষণ নয় (করতোয়ার মন্তব্য পড়ুন)। অতএব, তাদের নিজেদের পদ্ধতি অনুসারেই তারা গ্লোবাল নয়। আর আমার জানা মতে সৌদি আরবে চাঁদ দেখা যাবার হিসেব মিললে তা FCNA এর ফিকহ অনুসারে চাঁদ দেখা নয়; কেননা সৌদি আরব আছে পূর্ব গোলার্ধে। আর ২০০৯/১০ সালের দিকে গ্লোবাল ক্যাল্কুলেশন এর সাথে FCNAএর হিসেব মিলে নাই। আর আমার মনে কোনোই সন্দেহ নাই, এবারের রমযান শুরুর হিসেব তো বৈজ্ঞানিক ভাবেই মিলে নাই, আর চোখে তো কেউই দেখে নাই। তাহলে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, FCNA কি ক্যাল্কুলেশন করেছে? আমার কেন FCNA এর ক্যাল্কুলেশনের প্রতি আস্থা থাকবে/বাড়বে? ঐদিকে ২০০৯ সালে FCNA বলল, চাঁদ মোটামুটি দেখার বয়েসে পৌঁছুবে, কিন্তু আমেরিকার কোথাও থেকে দেখা যাবেনা, তাই রমযান ৩০ দিনই চলবে। দেখা গেলো স্যান ডিয়েগো সহ বেশ কিছু জায়গাতে চাঁদ দেখা গেলো, আর গ্লোবাল হিসেবে তো দেখা গেল আরো অনেক যায়গাতেই চাঁদ দেখা গেছে। তাহলে আবার প্রশ্ন করছি, FCNA কি আসলেই জানে তাদের নিজেদের পদ্ধতি কী? কেন তাদের ক্যাল্কুলেশন ৬/৭ বছরে একাধিক বার ফেল মারলো?
     

    সবাই একই সাথে রোজা ও ঈদ পালন করতে পারে। সমস্যা হয় শুধু ওনাদেরকে নিয়ে যাদের কথা আমি লিখায় উল্লেখ করেছি।
    যে কোন ইস্যুর সমাধান করতে দুটি এপ্রোচ নেয়া যায়।
    এক : সমস্যা যে আছে তা বুঝা তার পর সে বিষয়ে প্রো-একটিভ হয়ে তার সমাধান বাহির করা ইতিবাচক ইজতেহাদ করা এবং এর একটা গ্রহনযোগ্য সমাধান বাহির করা যা হবে সময়ের সাথে পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রয়োজনিয়তা সামনে রেখে। তবে ইজতেহাদ বলতে এবাদতের কোন মৌলিক পরিবর্তন নয় বরং লক্ষ্য ঠিক থাকবে কিন্তু তাতে পৌছার এপ্রোচটা কিছুটা এডজাষ্ট করা যেতে পারে। In other words , it does not mean to say blindly that end justify the means. In Islam to reach the end the means has to be halal and valid which again can come from correct ইজতেহাদ।

    আপনার সাথে একমত, কিন্তু দুঃখের সাথে জানাচ্ছি, FCNA, end justifies the means এর পথই দেখেছে। আমি আবারো বলছি, মুখতার মাগ্রাবির লেখা গুলো ভালো মতো পড়ে দেখেন। আপনার ইমাম জনাব কুট্টিকেও পড়তে বলেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে,বলা হচ্ছে Do not fast until you Sight it … সেখানে হিসেব করলে কীভাবে চলবে। রাসুল (সাঃ) তো বলেই দিতে পারতেন, আনুমানিক হিসেব করলেই চলবে। আর হিসেবের কথাটাও একটা হাদিসে এসেছে। চাঁদের কাল ও দশা সব যুগেই elusive ছিল। তাই আমার মন্তব্যের ৪ নং হাদীসটা দেখেন। বলা হচ্ছে, We are unlettered nation. We do not write nor count. (emphasis added) The month is like this and this. আমি তো দেখছি এই হাদীসে স্পষ্টই বলা হয়েছে ক্যাল্কুলেশন করা যাবেনা। আপনি অন্য কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেন কী?

    দুই: অন্য এপ্রোচ হল কোন সমস্যা নাই যেমন আছে তেমন থাক আর যতটুকু সম্ভব একেবারে আক্ষরিক বা লিটারেল মিনিংটাকে আঁকড়ে থরে থাকা । কোন নির্দেশের ইনার মিনিং কি বা মুল উদ্দেশ্য কি তা অনুসন্ধানের তোয়াক্কা না করা।
    এখন দেখতে হবে আমরা কে কি ভাবে ব্যাপারটা দেখছি?

    কিছু জায়গাতে আক্ষরিক অর্থই সব, কেননা অক্ষরগুলো বেশ পরিষ্কার। যেমন চাঁদ দেখে মাস শুরু করতে হবে। আক্ষরিক শব্দের ইন্টারপ্রিটেশন কী হবে তা কারুর whim এর উপর নির্ভর করেনা। কোরাণ হাদীসের অর্থ কী হবে, কতটুকু ইস্তেহাদ করা যাবে, তার শাস্ত্রীয়/ধর্মীয় লিমিটেশন আছে। আবার বলছি, লিঙ্কগুলো পড়ে দেখেন।

    তবে আপনি যেভাবে কোরআন ও হাদিসের ভুল ব্যখ্যা দিয়ে একটা লম্বা কমেন্ট করলেন তা দেখে অবাক না হয়ে পারলামনা!
    একে তো আপনি আমার লিখাটার উদ্দেশ্যকে নিজের ইচ্ছামত টুইস্ট করতে লিপ্ত হয়েছেন তার উপর you are trying to put your words in my mouth. That is not not fair!

    আমার লেখা কিছুটা লম্বা হয়ে গেছে, কেননা সংক্ষেপে বোঝানো যেতেনা। আর কোরান হাদীসের ভুল ব্যাখ্যাও আমি দেইনি। কোরান হাদীসের অংশটুকু, নীচে দেয়া লিঙ্ক থেকেই দিয়েছি। আর আপনার মুখে কথা গুঁজার এ্যক্টিভ ইচ্ছে কখনো ছিলোনা আর নেই। আপনার যদি তা মনে হয় তবে দুঃখ প্রকাশ করছি; তবে আমি যুক্তি সহকারেই কথাগুলো পেশ করার চেষ্টা করেছি।  

    সুরা বাকারার ১৮৫ আয়াতের তরজমা কোথা থেকে কাট এন্ড পেইন্ট করেছেন? আয়াতটার শুরু থেকে দেয়া উচিত ছিল তাতে পাঠকদের বুঝতে সুবিধা হত এখানে context কি? শাহিদার অর্থ একমাত্র স্বচক্ষে দেখা কোথায় পেয়েছেন? বলা হয়েছে “ফামান শাহিদা মিনকুমুস শাহরা” এর তরজমায় আপনার প্রদত্ত শব্দচয়ন ও ব্যখা ঠিক হয়নি। এখানে চাঁদের দেখার উল্লেখ কিভাবে পেলেন? এখানে একটা মাসের তথা সময়ের কথা বলা হয়েছে। আমার সামনে “ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ” এর ছাপনো কোরআনের তরজমায় দেখছি ভিন্ন কথা। এখানে মাসের গুরুত্ব বলতে গিয়ে মুমিনদের কর্তব্য কি বলতে বলা হয়েছে। যার সঠিক মর্ম হল যে তোমরা যদি এ মাসে থাক বা এ মাস পাও তাহলে রোজা রাখবে।

    ইবন কাথির কী বলেছেন দেখেন (অনুবাদে মনসুর খান),
    (185. The month of Ramadan in which was revealed the Qur'an, a guidance for mankind and clear proofs for the guidance and the criterion (between right and wrong). So whoever of you sights (the crescent on the first night of) the month (of Ramadan, i.e., is present at his home), he must observe Sawm (fasting) that month, and whoever is ill or on a journey, the same number ﴿of days which one did not observe Sawm (fasting) must be made up﴾ from other days. Allah intends for you ease, and He does not want to make things difficult for you. (He wants that you) must complete the same number (of days), and that you must magnify Allah ﴿i.e., to say Takbir (Allahu Akbar: Allah is the Most Great)﴾ for having guided you so that you may be grateful to Him.)
    ইবন কাথিরের ব্যাখ্যা,
    ﴿فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ﴾
    (So whoever of you sights (the crescent on the first night of) the month (of Ramadan, i.e., is present at his home), he must observe Sawm (fasting) that month.)
    This Ayah requires the healthy persons who witness the beginning of the month, while residing in their land, to fast the month.
     
     
    এতএব, শাহাদা এর অর্থ এখানে অর্থ অন্য ভাবেও এসেছে। এটা ঠিক যে আপনি যেভাবে বলেছেন তাও ঠিক আছে। তাই আমি লিখেছিলাম, কোরান নয় বরং মূলতঃ তৃতীয় হাদিসটার কথা যেটা চাঁদ দেখার ব্যাপারে নির্দেশ বেশ পরিষ্কার। এর বিরূদ্ধে যুক্তি থাকলে বলেন।
     

    অতএব শুরুতেই ভুল উপস্থাপনা। আর হদিসের ব্যখাও ভুল।
     

    হাদিসের ব্যাখ্যা ভুল কীভাবে একটু বলেন দেখি। বাকী হাদীস আপাতত না আলোচনা করে কেবল ৩ নং হাদীসের  (Do not fast until you sight the cresent …) অন্য কী ব্যাখ্যা আপনার কাছে আছে তা শুনতে চাই।
     

    তার পর আমি তো বলি নাই চাঁদ দেখতে বাহির হওয়াটা ভুল তাহলে আপনি কেন রসুলের (স:) ও সাহাবিদের চাঁদ দেখতে যাওয়ার কথা টানছেন? আমি বাস্তবতা উল্লখ করছি। ব্যতিক্রম খাকতে পারে।
     

    আমি বুঝতে পারছি না আমার ভুল কোথায় হচ্ছে। আপনি প্লিজ আপনার সঠিক পজিশনটা ব্যাখ্যা করেন তো। আপনি কী গ্লোবাল, লোকাল না ক্যাল্কুলেকশন ফলো করছেন। আমি বুঝি আপনি ক্যাল্কুলেশনের পক্ষে যা আপনার মতে গ্লোবাল এর সাথে সবসময় মিলে যাবে। আর যদি FCNA এর ক্যাল্কুলেশনের ফিকহই ফলো করেন তবে মনে রাখেন FCNA বলছে, কেন চাঁদ দেখারই দরকার নেই, চাঁদ উঠেছে কিনা তা হিসেব করে নিশ্চিত হলেই চলবে। আপনার লেখাতে আপনি বলেছেনও কেউ তেমন আজকাল চাঁদ দেখতে বের হয় না, কাকুর তেমন সময় নাই। এরপরে আবার এখন বলছেন চাঁদ দেখতে বের হলে সমস্যা নাই। আমি দ্বিধান্বিত।

    আপনার মত আমিও চাইলে আপনাকে বলতে পারি রাসূল (স:) চাঁদ না দেখে বেদুইয়েনের কথা বিশ্বাস করাটা কি ভুল হয়েছে ওনি তো তখন ৩০ দিন পুরা করতে চান নাই? নাউজু বিল্লাহ? আর যদি ৩০ দিন হত তাহলে চাঁদ দেখার প্রশ্নই বা উঠবে কেন? তিরিশ দিনের সর্ত হল যখন কোন উপায় নাই শিওর হওয়ার।

    বুঝি নাই কী বলতে চাইছেন।

    ওজু ছাড়া নামাজ হবেনা একথা চট করে বলতে পারেন না একটু চিন্তা করেন। ইসলামের প্রতিটি নির্দেশের কন্ডিশন আছে যদি পানি না থাকে তখন ওজু না করে তৈয়াম করলে চলবে। তৈয়াম আর অজু এক জিনিস নয়।

    ওজু সাধারণ অর্থেই বলেছি, যেহেতু তায়াম্মুম সাধারণ অবস্থায় করতে হয়না। তবে কথাটা বলার উদ্দেশ্য ছিল তায়াম্মুম ও ওজু এই দুটোর একটা না থাকলে কী নামাজ হবে? অজু (কিংবা তায়াম্মুম) নামাযের যেমন শর্ত, তেমনি চাঁদ দেখে রমযান শুরু ও শেষ করাটাও শর্ত। আর ওজু কিংবা তায়াম্মুমের উপর স্পষ্ট নির্দেশনা আছে, তায়াম্মুম ইস্তেহাদের মাধ্যমে আসে নাই। কিন্তু ক্যাল্কুলেশন কোনো কোরান, হাদীসে আসে নাই। এমনকি পূর্বকার আলেমদের ইস্তেহাদেও ক্যাল্কুলেশনের পক্ষে কোনো দলিল দেখা যায় না। এই ব্যাপারে প্রথম ইস্তেহাদ আসে ২০০৬ সালে FCNA এর মাধ্যমে। অতএব আপনার ব্যাখ্যা ঠিক হলোনা।

    আমি বিষয়টা নিয়ে সাধারণ মুসলিমদের চিন্তা ভাবনার জন্য লিখেছি। ছুটির সুবিধা একটা সাইড টপিক বা এটা একটা বাড়তি কথা ছিল। আর আপনি সেটাকে বড় করে দেখছেন? সেই সাথে আপনার শুক্রবারের উদাহরনটাও মিনিংলেস?

     
    শুক্রবারের কথাটা মোটেও মিনিংলেস নয়, আমি বোঝাতে চেয়েছি, কোরাণ হাদীসের স্পষ্ট নির্দেশনা যদি পশ্চিমা জীবন বিধানের জন্যে বদলে দিতে চান ইস্তেহাদ করে, তাহলে কেন একই অসুবিধার জন্যে শুক্রবারে জুমা পড়তে হবে না এই ইস্তেহাদ করা যাবেনা? রমযান শুরু ও জুমার শুরু দুটোই কোরান হাদীসে স্পষ্ট। তাহলে কেবল একটার ক্ষেত্রে কেন নিয়মটা প্রয়োগ করছেন? নীচে সরোয়ার ভাইও কিন্তু একই কথা বলেছেন।

    তার পর আপনার হাইপতিটিকেল কন্সসার্ন দেখে সত্যি অবাক লাগছে! আপনাকেও একটা হাইপতিটিকেল প্রশ্ন করি মনে করেন রাসুল (স:)আজ যদি মদিনায় বেঁচে খাকতেন আর আপনি খবর পেলেন তিনি রোজা রাখা শুরু করেছেন তাহলে কি আপনি নিজে চাঁদ দেখার অপেক্ষায় থাকবেন না আপনি রোজা শুরু করবেন? কথাটা কি অর্থে বলেছি আশা করি বুঝেছেন। দেখেন এখানেও আবার বর্তমান সৌদিদেরকে রাসুলের সাথে তুলনায় নিয়ে আসছি বলে মনে করবেননা।
     

    অবশ্যই রোযা শুরু করবো। আমি বলেছি, আমার কাছে গ্লোবাল ফিকহ সমূর্ণ গ্রহণযোগ্য – যা গ্রহণযোগ্য নয় তা হচ্ছে ক্যাল্কুলেশন। আর সমস্ত উম্মাহ যদি একসাথে রমযান করতে পারে, তাতে আমি আপনি সবাই খুশি, তবে তা হতে হবে কোরান সুন্নাহের আলোকে। আর কেবল সৌদিতে চাঁদ দেখা গেলে আমার অস্বস্তি স্বভাবতই থেকে যায়। আপনার সাথে একমত যে সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে যেহেতু বলা হচ্ছে, এর দায় নিশ্চয়ই আমার আপনার উপর বর্তাবে না। এই আশা আমার নিজেরও। আমি নিজেও শুক্রবারে রোযা শুরু করেছি, সৌদিতে চাঁদ দেখা গেছে আর আমাদের মসজিদে রমযান শুরু হয়েছে এই দেখে। কিন্তু মনে খচ খচ করে, যখন বৈজ্ঞানিক হিসেব অনুসারেই দেখি যে বৃহস্পতি বারে সৌদিতে চাঁদ দেখার সম্ভবনা আক্ষরিক ভাবেই শূণ্য। মানে চাঁদ ঐদিন সৌদিতে ঊঠেই নাই। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটা আমরা কেন জানি যেখানে লাগানোর দরকার সেখানে না লাগিয়ে সপূর্ণ ভুল জায়গাতে লাগাচ্ছি। আমার আফসোস এটুকুই।
     

    দোয়াতে এ অধমের কথা স্মরন রাখবেন। ভাল থাকেন।

     
    আমাকেও আশা করি স্মরণ রাখবেন। এ নিয়ে আর কথা বাড়াচ্ছি না। এটাই শেষ মন্তব্য।
     
     

    1. 9.1
      মহিউদ্দিন

      শাহবাজ ভাই,
      আপনার অবস্থান পরিষ্কার করায় ভাল লাগল এবং শুক্রবার থেকে আপনিও রোজা শুরু করেছেন জেনে খুশী হয়েছি। আমার কথা হচ্ছে হল লোকেল সাইটিং নিয়ে যারা আঁকড়ে ধরেন তাদের সাথে আমি নাই। চাঁদের জন্মের ব্যাপারে বিজ্ঞানের সাহায্য নেয়া যায় তবে সেই সাথে কোথায়ও চাঁদ দেখা গিয়েছে সে নিশ্চয়তা সহ সিদ্ধান্ত নিলে উত্তম মনে করি। তার পরেও বাস্তবে যে যেখানে থাকি সেখানকার মসজিদ কর্তৃপক্ষের মতামত অনুসরণ করেই তো চলতে হবে।
      মুসলিমদের মাঝে কোন বিষয়ে মতামতের বিরোধিতা করা নতুন কিছু নয় অতীতেও ছিল কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। যখনই কোন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় তার পিছনে সাধারণত মুল কারণ থাকে এক পক্ষ অন্য পক্ষ থেকে বিষয়টা ভিন্নভাবে বুঝেন বা ভিন্ন যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে চান। সত্যি বলতে কি মতামত বিরোধিতা করাটা যখন ঠিক এই পর্যায়ে থকে তখন একে অন্যকে বুঝার জন্য একটি সুস্থ সংলাপ চালিয়ে যাওয়া যায় এবং একসময় উভয় পক্ষ একমত হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু মত বিরোধিতার পিছনে যখন বিষয়টাকে বৃহত্তর পরিসরে (bigger picture) দেখার অক্ষমতা, সংকীর্ণতা, ও ব্যক্তিগত স্বার্থ বা কোন দলীয় স্বার্থ কিংবা ধর্মের নামে অতিশয় গোঁড়ামি প্রাধান্য পায় তখন দেখা দেয় সমস্যা। 
      রমজানের চাঁদ নিয়ে বিতর্কটা যেমন চাঁদ দেখে ঈদ করা, ক্যাল্কুলেশন করা, গ্লোবাল, লোকাল, অনেক বিষয়ে যেসব প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে মুসলিম সমাজে তা যদি সবাই ধৈর্য সহকারে পরমত-সহিষ্ণু হয়ে সমাধানের সদিচ্ছায় আলোচনা করে তাহলে আমার বিশ্বাস একদিন এ সমস্যার সমাধান হবে।
      তবে সমাধানের পথে সমস্যা হচ্ছে কাদের জন্য তা বুঝতে হলে সব কথা পাশে রেখে এবার নিম্নের একটি কাল্পনিক চিত্র খেয়াল করেন:
      ১) মনে করেন আজ থেকে ১ হাজার ৪০০শত বছর আগে তথা বর্তমান বিজ্ঞানের উন্নতির আগের সেই সমাজে আল্লাহর রাসুল মোহম্মদ (স:) আবুল কাশেম নামের একজনকে বললেন যে সে যেন প্রতি সপ্তাহে একবার আব্দুল্লাহ নামের এক বৃদ্ধের বাড়িতে হেঁটে গিয়ে তার খুঁজ খবর নেন। তার পর সে ঘটনাটা হাদিসেও আসল। মনে করেন উভয় ব্যক্তি এখনও বেঁচে আছেন আর এখন যদি আবুল কাশেম গাড়ি চড়ে আব্দুল্লাহর ঘরে যান তাহলে অনেকে বলতে পারেন হদিস অমান্য হল। কারণ নবী যেহেতু সে বৃদ্ধ লোকের বাড়িতে হেঁটে যেতে শব্দ ব্যবহার করেছেন  নিশ্চয় তার একটা বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল। তিনি চেয়েছেন হেটে গেলে একটু কষ্ট হবে এবং এতে আল্লাহ খুশী হবেন। তাই গাড়িতে চড়ে গলে সে উদ্দেশ্য পূরণ হল না!  আর কেউ যদি বলেন এখানে কীভাবে যাবেন সেটা আসল উদ্দেশ্য নয় বরং আসল উদ্দেশ্য হল বৃদ্ধ আব্দুল্লাহর খুঁজ নিতে যাওয়া। তাহলে আপনি কোন মতের পক্ষে থাকবেন?
      একি ভাবে রোজা বা ঈদ করতে চাঁদের খবর জানতে প্রযুক্তির সাহায্য বা বৈজ্ঞানিক ক্যলকুলেশন বা গণনার সাহায্য নেয়া কোন অবস্থাতে সিয়ামের আসল উদ্দেশ্য থেকে সরে যাওয়া হয় না। তবে বৈজ্ঞানিক ক্যলকুলেশন এর উপর আস্থা না হলে গ্লোব্যল সা্‌ইটিং আনুসরন করতে কেন আপত্তি হবে?
      যাক এ নিয়ে আমিও আর কথা বাড়াতে চাই না। আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ আমাকে ধর্মপালনে  ইমিটেটিং তথা অনুকরন পাগল না করে বুঝে শুনে অনুসরন করার তৌফিক দেন। "ওয়াতি আল্লাহু ও অয়াতিউর রাসুল" এর সঠিক অর্থ বুঝার তৌফিক দেন।  

  9. 8
    সরোয়ার

    সেই সুদিনের কথা চিন্তা করে সবকিছুতে ছাড় দিতে থাকলে একদিন ইসলামই থাকবে না! তাহলে ভাই কাস্টম মেইড ইসলাম পালন করতে হবে! 

  10. 7
    মহিউদ্দিন

    ধন্যবাদ এম আহমদ ভাই আপনার বাস্তব ভিত্তিক সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

    নোট: আপনার প্রদত্ত চিত্রটা কেন দেখা যাচ্ছে না? ব্লগ এডিটরের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

  11. 6
    এম_আহমদ

    সংশধনঃ
    চন্দ্র ও সূর্যের কক্ষপথ ভিন্ন হওয়ায়=চন্দ্র ও পৃথিবীর কক্ষপথ
     
    চিত্রঃ

  12. 5
    এম_আহমদ

    সব কথা এক পাশে রেখে প্রথমেই বলব এ লেখাটিতে আপনার যৌক্তিক অভিব্যক্তি ভাল প্রকাশ পেয়েছে। দুই বা তদূর্ধ্ব পক্ষে মত যাই থাকুক –আলোচনা এভাবেই আসতে হবে। তবে একটি কথা অগ্রেই বলে রাখি কোন আলোচনাতেই কাজ হবে না। ইংল্যান্ডে এই সমস্যা আমাদের ছিল। আমরাও যুগপৎ এই আলোচনাই করেছি, কিন্তু … হয়নি। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে টিভি চ্যানেলের সৌজন্যে ও নব প্রজন্মের উদ্যোগে সৌদিতে চাঁদ দর্শনের ঘোষণা হলে চ্যানেলগুলোও ঘোষণা দিয়ে দেয়। ইসলাম চ্যানেল বিলাতে বসবাসরত সকল দেশের মুসলমানদেরকে কভার করে এবং চ্যানেল এস সারা বাঙালীদেরকে। আমি প্রথমত দ্বিমতে ছিলাম, কেননা যে যুক্তি আগে ক্যারি করেছি সে যুক্তি হঠাৎ ছেড়ে দিতে অসুবিধে হচ্ছিল।
     
    ঘটনা হচ্ছে এই যে সূর্যাস্তের পর চাঁদ খোলা চোখে দেখার মত আকাশের যে অংশে অবস্থান করে সে সময়সীমা হয় প্রায় পনেরো মিনিটের মত (খানিক এদিক সেদিক)। এই সময়ের পরে চাঁদ আকাশের সেই স্থানে আসলেও তা খোলা চোখে দেখার মত হয়না। নিচের চিত্রটি দেখুন:

    একথা সত্য যে ২ ঘণ্টা আগে যে চাঁদ সৌদিতে দেখা গিয়েছে, দুই ঘণ্টা পরে সেই চাঁদ ব্রিটেনের আকাশে অবস্থান করার কথা। কিন্তু, চন্দ্র ও সূর্যের কক্ষপথ ভিন্ন হওয়ায় সেই ১৫ মিনিটের সময় সীমা ভিন্ন হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ হয়ত ১০/১৫ মিনিট পরে সেই স্থানে অবস্থান করতে পারে কিন্তু চোখে দর্শনের সীমা পেরিয়ে গিয়েছে, সন্ধ্যাও খানিকটা ঘনিয়েছে। তখন চাঁদকে দূরবীক্ষণ বা কালকুলেশনে ধরলেও কাজ হবে না, কেননা শর্ত ‘চোখে’ দেখা। এখন আপনি কি করবেন?
     
    ব্রিটিশ স্কুলগুলো জানতে চাচ্ছে আগামী কাল আপনার বাচ্চারা স্কুলে যাবে কি যাবেনা। কেননা সারা দেশের স্কুলগুলোতে লাখ লাখ টাকার খাদ্য প্রস্তুত হওয়ার পর যখন বাচ্চারা স্কুলে যাবে না, তখন সারা দেশে এই খাবারগুলো ফেলে দিতে হয়। স্কুলে ডেলিভারি দেয়ার পর এত খাবার ফিরিয়ে আনা ও স্টোরেজ করার ব্যবস্থা কারো নেই। এটা তো একটা সমস্যা এর পরে আছে হাজারো সমস্যা। শরিয়া হচ্ছে সমস্যা সমাধাধের পথ। অর্থের দিক থেকে শরিয়া হচ্ছে জলাশয়। জলাশয় যদি তিয়াসা নিবারিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই শরিয়া তার তাৎপর্য হারায়। হয়ত আপনারা একমত হয়েছে অন্তত মাগরিবে বলে দিতে হবে কাল ঈদ আছে অথবা নাই।
     
    এই সমস্যায় সামনে রেখে, নবপ্রজন্ম কারো তোয়াক্কা না করে, সৌদি অবলম্বনে যে ভূমিকায় গিয়েছে এবং এতে তারা সমাধান এনে ফেলেছে। আমরা সবাই এখন রোজা/ঈদ এক সাথে করতে পারছি। কিন্তু … সারা দেশের মুসলমানদের মধ্যে পাকিস্তানের নকসবন্দি তরিকার ব্রেলভি দল এবং আমাদের ফুলতলি সাহেবের দল (এরাও ব্রেলভি তরিকার) ভিন্ন দিনে করেন। হয়ত আরো কিছু লোক তাদের সাথে থাকতে পারে। কিন্তু সারা দেশের মুসলমানদের তুলনায় এদের সংখ্যা নগণ্য। 
     
    আপনাদের আমেরিকা/কানাডায়ও একদিন ইনশাল্লাহ এভাবেই ঐক্য আসবে। বেশি আলোচনায় কাজ দেবে না। বরং বলব, লাইক-মাইন্ডেড যেব দল আছেন তারা একাট্টা হয়ে টিভি চ্যানেলের পথ অবলম্বন করুক। এতেই সমাধান। সাধারণ পাবলিক দেখবেন সৌদির পথই মেনে নিচ্ছে, কেননা মাসআলার তেনাপ্যাচানোতে আমরা যখন সবাই ব্যস্ত থাকব, তখন তারা হয়ত ঈদের নামাজ পড়ে ঘরে ফিরেছে!

  13. 4
    করতোয়া

    শাহবাজ নজরুল ভাই বিস্তারিত লিখেছেন। গত বছররের রোজার ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে অনেক “চন্দ্রযুদ্ধ” করেছিলাম আমেরিকার ইজনা নামের সংগঠনের সাথে। আমি আমার সেই চন্দ্রযুদ্ধের উপর একটি গবেষনা মূলক প্রতিবেদন দিয়েছিলাম। তা থেকে কিছু লিখছি এখানে।
     
    প্রথমত ইজনা এবং অতি মডারেট মুসলিমরা বলে যে “চাঁদ দেখা কোন ইবাদত নয়, বরং রোজা রাখাটা ইবাদত”। আমার প্রশ্ন ইবাদতের সংগা অনুযায়ী চাঁদ দেখাটা ইবাদত নয় বটে কিন্তু এটা ইবাদত তথা রোজা রাখা বা হজ্জের মত ইবাদতের অংশ। যেমন, ওজু করা ইবাদত নয় কিন্তু নামাজ নামের ইবাদতের জন্য আত্নার পরিশুদ্ধি করার প্রয়োজনে ওজু নামাজ বা কোরান পাঠ করার মত ইবাদতের অংশ। তাই আল্লাহ সোবহানা তালা পবিত্র কোরআনে নির্দেশ করেছেন যে, আমরা যেন চাঁদের সাক্ষ্য স্বাপেক্ষে রোজা শুরু ও শেষ করি। এই আয়াতের উপর ভিক্তি করেই আমাদের নবী (সাঃ) ৪ ধরনের হাদিস বয়ান করেছেন যা শাহবাজ ভাই এর মন্তব্যে এসেছে। শাহবাজ ভাই এর মন্তব্যে মূলত ৩টি প্রধান হাদিস এসেছে যা সাধারনত ভারতীয় ও পাকি মুসলিমরা ফোকাস করে চাঁদ স্বচোক্ষে দেখার পক্ষে অবস্থান নেয় (এটা আমার ধারনা)। কিন্তু কোরআনের আয়াতে শুধু চাঁদের সাক্ষ্য দেবার কথা বলা হয়েছে যা খালি চোখে দেখেও সাক্ষ্য দেয়া হতে পারে আবার বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাঁদ বা ক্রিসেন্ট উঠার সাক্ষ্য দেয়া হতে পারে। মূল বিষয় ক্রিসেন্ট যে উদিত হয়েছে তার সাক্ষ্য দেয়া সেটা খালি চোখেও হতে পারে বা বৈজ্ঞানিক উপায়েও হতে পারে বলে আমি মনে করি। চাঁদের সাক্ষ্য দেয়াটা হচ্ছে ইবাদত যা প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিৎ। হাদিসে তিরমিজিতে বলা হয়েছে “যদি সবাই রোজা রাখে তাহলে তুমিও রোজা রাখ, আর সবাই যখন রোজা ভাঙগে তখন তুমিও রোজা ভাঙগ”। এই হাদিসটি মূলত আরবীয় ব্রাদাররা ফলো করেন। আমার ধারনা ভারতীয় ও পাকি ব্রাদাররা যে কোন অব্যাক্ত কারনে এই হাদিসটির কথা ফোকাস করেন না। এই হাদিসটির ফলে অপর হাদিসগুলো সুপারসিড হয়ে যায়। এই হাদিসের দ্বারা বোঝা যায় যে যখন আমার কমিউনিটির সকলেই রোজা রাখে তখন আমি চাঁদ দেখলাম কিনা সেটা বড় বিষয় নয় তখন আমার রোজা রাখা ফরদ কারন উম্মাকে ফলো করতে হবে। তাই বলে অন্য মাসে কমিউনিটির সকলে রমজানের রোজা রাখ শুরু করলে আমার রোজা রাখাটা সমীচীন নয়। কারন এই হাদিসটি কেবল রমাজান মাসের রোজার ব্যাপারেই বলা হয়েছে। আমার ধারনা আরবের ব্রাদার এই হাদিসের প্রক্ষাপটে চলে। তাই গত বছরের রোজার চাঁদ শুধু সাউথ আমেরিকার চিলিতে দেখা গিয়েছিল, পৃথিবীর কোন দেশে দেখা যায়নি।আপনারা যদি সৌদি সরকারের চাঁদ দেখা কমিটির সুপারিশ পড়ে থাকেন দেখবেন তারা গত বছরের রোজার ঈদের তারিখ নির্ধারনে চিলি’র চাঁদ দেখাকে “চাঁদের সাক্ষ্য” হিসেবে গ্রহন করেছিল বলে মত দিয়েছিল। এবারের ঈদের চাঁদ ইনশাল্লাহ সকল দেশ থেকে একই সময় (সময়ের তারতম্য ভেদে) দেখা যাবে এবং একই দিনে ভারত, পাকি, বাংলাদেশ ও আমেরিকায় ঈদ হবে। কারন এবারের চাঁদের অবস্থান বৈজ্ঞানিক ক্যালকুলেশনে তাই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য আরবের ব্রাদাররা কিভাবে এবারের রমজানের চাঁদ দেখলো আমার মাথায় এলো না। কারন বৃহস্পতিবার কোন অবস্থাতে দুনিয়ার কোন ভূমি থেকে ক্রিসেন্ট দেখা যাবার কথা নয়। কারন ঐদিন ঐ সময় চাঁদের জন্ম হয়। চাঁদ যখন জন্ম নেয় তখন ক্রিসেন্ট দেখা যায় না এটা বিজ্ঞান। কারন চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্য্যের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে তখন তাকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় চাঁদের জন্ম তিথি বলে। এ সময় পৃথিবীপৃষ্ঠের কোন বিন্দু থেকে ক্রিসেন্ট দেখা যাবে না। শরিয়াতে বলা হয়েছে ক্রিসেন্ট দেখতে হবে। চাঁদ যখন পৃথিবীর ছায়া থেকে সামান্য ২% বের হয় তখনই তাকে ক্রিসেন্ট বলে যা পৃথিবীপৃষ্ঠের কিছু কিছু স্থান থেকে দেখা যায়। চাঁদের জন্ম দিনকে চন্দ্র মাসের ১ম তারিখ শরিয়াতে এমন কি বৈজ্ঞানিক ভাবেও বলা হয় না। সৌদি ব্রাদাররা এটাকে ১ম দিন বলে তাদের রাষ্ট্রিয় কর্মকান্ডের সুবিধার জন্য অথচ এটা ইহুদীরা পালন করে যা আরবের আদি ক্যালেন্ডার হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু ইনলামী শরিয়ামতে চন্দ্র মাসের ১ম দিন হবে ক্রিসেন্ট এর উপর ভিক্তি করে, চাঁদের জন্ম দিনের উপর ভিক্তি করে না। যেহেতু বিজ্ঞান কেবল চাঁদের জন্মদিনকে প্রডিক্ট করতে পারে তাই বিজ্ঞান এর উপর ভিক্তি করে ক্যালকুলেট করে কখন কি অবস্থায় ক্রিসেন্ট পৃথিবীর কোন অঞ্চল থেকে দেখা যাবে। আমরা যদি সেই সময় সেই পয়েন্ট থেকে ক্রিসেন্ট দেখার চেষ্টা করি তাহলে একদিকে কোরআনের আয়াত অনুযায়ী চাঁদের সাক্ষ্য দেয়াও যেমন হবে তেমনি রসুল (সাঃ) এর সবকটি হাদিসও বাস্তবায়ন একই সাথে সম্ভব হবে। এভাবেই মুসলিম উম্মার একতা আসতে পারে চন্দ্রযুদ্ধের পরিবর্তে চন্দ্রদর্শনের মাধ্যমে। কিন্তু যে কোন কারনে হোক ইসলামী শরিয়া নিয়ে পাকি ব্রাদার আর আরবীয় ব্রাদারদের মধ্যে একধরনের মানসিক ঠান্ডা লাড়াই আছে যার বলি আমাদের মত সাধারন আমজনতা মুসলিম ব্রাদার। গত কয়েক বছর আমেরিকার আমার শহরের স্থানীয় মসজিদ কমিটিতে(পাকি ডমিনেট) কাজ করে আমার ধারনা হয়েছে যে ইসলাম উম্মার নের্তৃত্ত নিয়ে পাকি ও আরবীয় ব্রাদারদের মধ্যে এই ঠান্ডা লড়াই চলছে। আমার ধারনা পাকিরা সুনাহ’র মাধ্যমে শরিয়াকে প্রমোট করতে যেয়ে নবী মোহাম্মদ (সাঃ)কে জিসাসের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে আবার আরবের ব্রাদাররা শুধু কোরআনের উপর থেকে শরিয়াকে প্রমোট করতে গিয়ে নবী মোহাম্মদ (সাঃ)কে ইসলাম থেকে ছেঁটে ফেলার পর্যায়ে যাচ্ছে। দুটোই খারাপ। উভয়ই কোরআন ও সুন্নাহর ভিক্তিতে শরিয়ার কথা বল্লেও তাদের কাজে কর্মে তার প্রমান মেলে না।
     
    যাই হোক পোষ্টটি খুব সুন্দর হয়েছে একেবারে সমসাময়িক। কাজেই আসুন চাঁদের সাক্ষ্য দেয়াটাকে ইবাদত হিসেবে দেখি। যেহেতু বিজ্ঞান আল্লাহ প্রদত্ত আমাদের জন্য তাঁর অসীম নিয়ামতের একটি অন্যতম নিয়ামত তাই বিজ্ঞানের ভিক্তিতে ক্রিসেন্টের সঠিক অবস্থান জেনে নিয়ে পৃথিবী’র সেই অবস্থান থেকে সঠিক সময়ে ক্রিসেন্ট দেখে চাঁদের সাক্ষ্য দেই আল্লাহ’র কাছে যাতে আমরা কোরআন ও সুন্নাহ উভয়কেই একসাথে প্রমোট করতে পারি মহান আল্লাহ সোবহানা তালা’র ইবাদতের জন্য।

  14. 3
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    পোস্টটা ভালো লেগেছে।সবচেয়ে ভালো লেগেছে এই কথাটা-"সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের ফিক্বহ পরিবর্তন করতে সক্ষম।"ধরা যাক,ঢাকায় চাঁদ দেখা গেল কিন্তু চট্টগ্রামে দেখা গেল না,তাহলে দুই এলাকার মানুষ একই দিনে কীভাবে ঈদ করবে?ব্রিটিশদের ঠিক করে দেয়া ভূখণ্ডের সীমানা অনুযায়ী আমরা মুসলিমরা ঈদ বা রোযা করছি।এর চেয়ে দুঃখের আর কী হতে পারে!
     

  15. 2
    শাহবাজ নজরুল

    ধন্যবাদ এই বিষয়ে একটা আলাদা পোষ্ট দেয়ার জন্যে। এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। আপনার লেখার মধ্যে পাওয়া অসংলগ্নতা গুলোকে দেখানোর চেষ্টা করছি।

    চাঁদ স্বচোক্ষে দেখে রমজান ও শাওয়াল মাস শুরু করার নির্দেশ কোরান ও হাদীসে পরিষ্কার। এটা শর্তের মতো; যেমন, ওজু ছাড়া নামায হবেনা। তেমনি স্বচোক্ষে চাঁদ না দেখলে রমজান মাস স্থাপিত হবেনা। নিচের প্রমানগুলো দেখেন,

    এর মধ্যে মনেহয় সবচেয়ে স্পষ্ট নির্দেশ আছে ৩ নং হাদীস টিতে। এতে পরিষ্কার বলা হচ্ছে

    Do not fast until you sight the cresent …

    এর পরে এই হুকুম সম্পর্কে আর তর্ক করা বাঞ্ছনীয় নয়।
     

    হুকুম যখন এত পরিষ্কার তার পরেও আপনার খোঁড়া যুক্তিগুলোর মানে বের করতে বেশ অসুবিধা হয়। আপনার কথা হচ্ছে যেহেতু আমরা পশ্চিমা বিশ্বে থাকি আর এখানে ধর্মীয় আগাম ছুটি নেবার সুবিধা আছে তাই আল্লাহ সুবহানা তায়ালা কতৃক উপরে বর্ণিত স্পষ্ট নির্দেশ লংঘন করার অধিকার আমাদের আছে। আজকে ঈদে ছুটি পাচ্ছেন না বলে বলছেন, হিসেব করেই রমযান মাস নির্ধারন করতে হবে; তাহলে এর ফলশ্রুতিতে কালকে যে জুমা শুক্রবারে না পড়লেও চলবে তা কেউ বলবেন না তার কি গ্যারান্টি আছে? আমি জানি অনেক জায়গাতে জুমা’র নামায পড়ার জন্যে ২ ঘন্টা ছুটি আদায় করাও অনেক পশ্চিমা কোম্পানীতে কষ্টকর।

    আপনি বলছেন, এখন আর কেউ বাইরে চাঁদ দেখতে বের হননা। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলছে, প্রতি বছরই দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াতে দল বেঁধে লোকজন চাঁদ দেখতে যান, প্রতি শাবান আর রমজানের শেষে। আপনি নিজেও বেশ কিছু ঐতিহাসিক বিবরণ দিয়েছেন, যেখানে মূলত দেখাতে চেয়েছেন যে গ্লোবাল মুন-সাইটিং ফিকহ মানলে অসুবিধা নেই (এ নিয়ে আপনার সাথে বিরোধ নেই); তবে আপনার দেয়া প্রমাণ থেকে আপনি নিজে যে আঁটকে যাচ্ছেন তা বোঝেন কি? প্রতিটি প্রমাণেই দেখা যাচ্ছে যে সাহাবীরা চাঁদ দেখতে বেরিয়েছেন, চাঁদ দেখেছেন, ও চাঁদ দেখার শাহাদা দেবার পরে রোযা ভেঙ্গে ঈদ করা হুকুম দেয়া হচ্ছে। এখান থেকে যে বিষয়গুলো পরিষ্কার তা হচ্ছে,

    ১. ফিকহ হোক গ্লোবাল কিংবা লোকাল, চাঁদ স্বচোক্ষে দেখার শর্ত থাকছে।
    ২. আমরা বর্তমানের গতিশীল বিশ্বের উন্নত মুসলিমরা (!) চাঁদ দেখার জন্যে সময় করে বের হতে পারিনা, কিন্তু রাসুল (সাঃ) কিংবা সাহাবীদের মধ্যে চাঁদ দেখেই রমযান কিংবা ঈদ ঠিক করেছেন।
    ৩. আপনি বলেছেন রাত ১২ টা পর্যন্ত বসে থেকেও পরের দিন ঈদ কিনা জানা যাচ্ছেনা, কিন্তু আপনি যে উদাহরণ দিলেন তাতে দেখা যাচ্ছে, ৩০ রোযা শুরু করার পরে আগত বেদুঈনদের চাঁদ দেখার শাহাদা সাপেক্ষে ঈদের ঘোষণা দেয়া হয়। তো রাসুল (সাঃ) যদি ৩০ এর দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন তাহলে আমরা কেন রাত ১২ টাতেই অতিষ্ঠ হয়ে পড়ি?

    এছাড়াও আপনি বলেছেন,

    ১. প্রশ্ন হচ্ছে “খালি চোখে চাঁদ দেখা” যদি ইবাদতের অংশ হয় তাহলে কয়জনইবা এসব দেশে চাঁদ দেখতে সক্ষম হবে?

    কোথায় কে বলেছে যে চাঁদ দেখা ইবাদতের অংশ? এটা FCNA এর একটা সুক্ষ্ম চাল বলেই মনে হয়। উপরের দেয়া কোরান/হাদীস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে চাঁদ দেখে রমযানের সময় স্থাপিত হয়েছে কিনা তা ঠিক করা হচ্ছে; চাঁদ কে উপাসনা করা হচ্ছে না। আর চাঁদ দেখতে বের হওয়ার মানে যদি এই ধরা হয় যে মুসলিমরা চাঁদ এর উপাসনা করে তবে এই দোষে প্রথম দোষী হচ্ছেন স্বয়ং আমাদের রাসুল (সাঃ) আর আপনার উদাহরণে দেয়া উদ্গ্রীব সাহাবী (রাঃ) গণ। আশাকরি এমন উদ্ভট আর আপত্তিজনক কথা আর বলবেন না।

    ২. এখন আধুনিক বৈজ্ঞানিক ক্যলকুলেশন যদি নির্ভরযোগ্য নয় বলে বিশ্বাস করেন বা কোন মুসলিম দেশে চাঁদ দেখার খবর পেয়েও তা বিশ্বাস না করেন তাহলে তো কিছু করার নাই! তবে হয়তবা পুরা নাসা বা ওয়ার্ল্ড এস্ট্রোনমি অবজারবারেটরী যখন মুসলিমদের দখলে আসবে তখন হয়তবা সে সব ভাইয়েরা মানলে মানতেও পারেন!

    আগের কমেন্টেই আমি বলেছি, FCNA এর ফিকহ প্রথমত কোরান সুন্নাহের পরিপন্থী, আর দ্বিতীয়ত বিজ্ঞান ভিত্তিকও নয়। একজন লোকের দৃষ্টিশক্তি হিসেবের সব বৈজ্ঞানিক মডেলেই আছে সম্ভবণার সংযুক্তি। অতএব, আপনি যে বলছেন হিসেব করে certainty পাওয়া যায়, তাই বিজ্ঞান বিরুদ্ধ।

    এবার আপনার সুবিধার জন্যে বৃহস্পতিবারে সারা বিশ্বে চাঁদ দেখা যাবার বৈজ্ঞানিক সম্ভবনা সম্পর্কে এখান থেকে জানা যায়,

    The Astronomical New Moon is on July 19, 2012 (Thursday) at 4:24 UT. On Thursday, July 19, it can not be seen anywhere in the world by naked eye, except in small areas of Polynesian Islands. On July 19, with binoculars it can be seen in Chile, South America. On July 19, with telescope it can be seen in Brazil, Argentina and Peru. On Friday, July 20, 2012, it can be easily seen in New Zealand, Australia, South-East Asia, Africa and Americas (See visibility curves below).
     

    আর রাষ্ট্রিক ভাবে চাঁদ দেখার ব্যপারে যে খতিয়ান পাওয়া যায় তাও দেয়া হলো,

    Thursday, 19 July 2012:

    Australia:

    Not Seen: Abbas Aly (MCW member) from Annangrove NSW reported Thursday 19th July 2012, viewing a clear sky, stars clearly visible. There was NO moon sighted in Sydney, the location for sighting is one of the highest points in Sydney 215m above sea level no buildings to horizon observation stopped at 6.00pm more than 30 minutes after Maghrib. Since the moon of 1st Shaaban was sighted we will complete the 30 days of Shaaban. Therefore first day of Ramadhan will be Saturday 21st July in Australia.

    Brunei:

    Not Seen: Dr. Mohammed Hussain Ahmad (MCW member) from Brunei Darussalam reported: The new moon was not sighted in Brunei this afternoon, Thursday 19/7/2012. Therefore the 1st day of Ramadan will start on Saturday, 21 July 2012.

    Canada:

    Not Seen: Baig Muhammad Tamachi (MCW member) from Peterborough Ontario reported: Combination of heavy cloud cover in the south-westerly skies prevented sighting of the Ramadhaan 1433 Hilaal in Peterborough, Ontario, Canada on Thursday, 19th of July, 2012. Maghrib and Moonset times happened to coincide at 8:52PM local time today. My observation attempt was between 8:32pm and 9:02pm
    Not Seen: HiMY SYeD (MCW member) from Toronto Ontario reported: On Thursday July 19 2012, after praying Maghrib at Masjid Toronto in Downtown Toronto, I quickly walked one block south to Toronto City Hall. Once there I walked up the ramp to the Green Roof of City Hall to get a less obstructed view of the western horizon. It had been overcast for the better part of the day. The evening was no different. The western sky was almost completely still filled with clouds. Nevertheless, I searched the few clear spots in the cloud cover for about ten minutes. No moon was sighted.
    Not Seen: Hilal ibn Muhammad (MCW member) from Calgary Alberta reported: I went to sight the moon with another brother at around 8:15pm until 9:40pm MST time and we could not see it. There was some haze and partly cloudy but there were breaks in the cloud up until 9:20pm at which time the cloud cover increased. However with a 56x telescope and 10x binocs we still could not find the moon. InshaAllah Ramadhan 1433AH will begin on Saturday July 21st, 2012.

    Chile:

    Not Seen: Muhammad Sohail (MCW member) from Iquique reported: In Iquique (Chile) moon in not seen on July 19. So 1st of Ramzan will be on Sat 21/07/2012.
    Not Seen: Ayman Al-Layla (MCW member) from Leeds UK reported: I just called my friend from chile, he said they were 4 members went 75Km east of Iquique city and 1500m above see level and they COULD NOT SEE ANYTHING, today, July 19.
    Not Seen: Dr. Muhammad Hafiz (MCW member) from Jamaica, NY, reported: Speaking to Br. Fuad Musa (MCW member) from Santiago, Chile by phone, I found that he and some members from the Masjid tried to observe the Hilaal today, 19th July, 2012 after sunset in 2 different locations. The Hilaal was not observed. Hence, the first fast will commence on Saturday, 21st July, 2012 in Chile.

    Dominican Republic:

    Not Seen: Ahmad Abdul Haqq (MCW member) from Santo Domingo reported: On July 19, the moon of Ramadan 1433H was not seen in the Dominican Republic. Various Muslims associated with the Entidad Islámica Dominicana (Dominican Islamic Entity) were observing from the cities of Higüey, Santiago and Bávaro-Punta Cana. All reports are the same, the skies were cloudy with rainfalls in certain areas. We add another day to the month of Sha'bân.

    France:

    Not Seen: Rida Roty (MCW member) from Caen (Normandie) reported: The "Conseil Français du Culte Musulman" (CFCM) announces that tomorrow Friday, July 20, 2012, is the first day of the holy month Ramadan 1433. See link in french

    Indonesia:

    Not Seen: AR Sugeng Riyadi (MCW member) from Surakarta, Java reported: On Thursday, July 19, 2012: The New Crescent of Ramadhan 1433 AH was NOT SEEN from Assalaam Observatory- Surakarta Central Java -- Indonesia. We are about 200 moslem tried to see, but the sky was cloudy. And also about 38 location in Indonesia reported that the Hilal was not seen. Indonesia Government declared the 1st Ramadhan 1433 AH will be on Saturday, July 21, 2012.

    Japan:

    Not Seen: Aqeel Siddiqi (Secretary, Ruyat-e-Hilal Committee-Japan) from Japan reported: The new moon was not sighted in Japan this evening, Thursday 19/7/2012. Therefore the 1st day of Ramadan will start on Saturday, 21 July 2012.

    Kenya:

    Not Seen: Mahmood Essa (MCW member) from Mombasa reported: The Ramadhaan Crescent was not sighted here in Kenya this Thursday evening, July 19. Insha Allah,the first day of Ramadhaan will be on Saturday, 21/07/2012.

    Luxembourg:

    Not Seen: Mr. Michael Bruppacher (MCW member) reported: On July 19, I attempted to look for hilal but I was not able to see the moon, due to the presence of clouds in the north-west horizon and moonset was before sunset. However the Shoura (institution representing the muslims in Luxembourg) announced that the 1st of Ramadan will start on July 20, 2012, by following the fatwa of the ECFR (European Council of Fatwa and Research). See link in french.

    Morocco:

    Not Seen: Khalid Chraibi (MCW member) from Casablanca reported: I am pleased to inform you that the Moroccan authorities have announced this Thursday evening that the crescent of the new moon couldn't be observed at sunset today, July 19. The month of Ramadan will thus begin on Saturday 21 July 2012 in Morocco.

    Namibia:

    Not Seen: Azgar Suleman from Walvis Bay reported: The Hilaal was NOT sighted today, July 19 in Walvis Bay.

    Nigeria:

    Not Seen: Official Announcement is seen: Mohammed Jalal (MCW member) from Kaduna, Kaduna State reported: I tried, but could not see the moon on July 19. There is a radio announcement now from the Amirul Mumineen in Nigeria that the moon was sighted in 4 Nigerian cities by twelve adult muslims between 6.55pm to 7.30pm local time. Tomorrow, July 20 is therefore Ramadan 1st. Moonsighting.com opinion is that this is a mistaken claim of sighting.

    Panama:

    Not Seen: Saleh Bhai Bhattay (MCW member) from Panama City reported: We could not see the moon in panama City on July 19.

    Philippines:

    Not Seen: Mohammad Amin Mangorsi (MCW member) from Manila reported: On Thursday July 19, 2012. I could not see the moon in Manila, because of bad weather in our country. I tried to look from 6:10pm to 6:35pm.

    Qatar:

    Not Seen: Muhammad Imran Paracha (MCW member) from Doha reported: Tried to sight the moon before maghrib prayer on July 19 but wasn't able to. The age of the moon was around 11 hours and moonset was only 3 mins after sunset.

    Saudi Arabia:

    Not Seen: Luqmaan Williams (MCW member) from Ta'if reported: I was in Makkah tonight (Thursday), July 19th. Clear skies but did not sight the crescent.
    Seen (Saudi Announcement): Mrs. Lubna Shawly (MCW member) from Jiddah reported: It is announced in the Saudi courts, according to the observation of the new moon (moon is sighted in areas of Sudair & Shagra), and that the first day of Ramadan for the year 1433 Hijrah will be on Friday the 20th of July 2012. Moonsighting.com opinion is that this is a mistaken claim of sighting.

    South Africa:

    Not Seen: Ammar Tahir (MCW member) from Cape Town reported: I just returned from trying to sight the Ramadhan Hilaal by the beach front on July 19. There were 4 of us Muslims (1 female and 3 males). We used telescope and also telescopic camera lenses but failed to sight any Hilaal. The Islamic Authorities here also could not sight the moon. The declaration has been made on radio just now that the official first day of Ramadhan will be thsi Saturday 21st July 2012.
    Not Seen: Dr. Abdurrazak Ebrahim (MCW member) from Cape Town reported: The Hilaal was not sighted in Southern Africa this Thursday evening (19 July 2012 — 29 Shabaan 1433). The official 1st day of Ramadaan in this area will be on Saturday, 21st July 2012.
    As a point of interest, I set up a Dobsonian XT6 telescope to try to capture the crescent but to no avail. The solar coronal glare was larger than usual, especially upwards of the trailing limb of the sun. The moon was positioned in this area. There was a mass coronal emission yesterday and perhaps (?) this may be the cause of the excessive coronal glare. The weather was fine and trying to break the world record for a telescopic sighting proved unsuccessful.

    Spain:

    Not Seen: Gabriel Jairodín Riaza (MCW member) from Madrid reported: The Union of Islamic Communities of Spain (Islamic Commission of Spain) announces that tomorrow Friday, July 20, 2012, is the first day of the holy month Ramadan 1433. Click here

    Sri Lanka:

    Not Seen: Nular Bary (MCW member) from Colombo reported: Today 28th of Sha'ban 1433 (19/07/2012) evening in Colombo western sky was clear, I went to Bambalapitiy beach to watch the Sun set and the New Moon. I know the Moon is setting 10 minutes after Sun set in Colombo but still I wanted to take chance. I was scanning the western horizon with my binoculars still I couldn't see the crescent, I witness the Sun setting clearly in western horizon at 6:32pm "MashaAllah". Tomorrow on 29th of Sha'ban I have 56 minutes to try again after Sun set "InshaAllah".

    Tanzania:

    Not Seen: Hamza Rijal (MCW member) from Tiny Island of Zanzibar reported: I would like to inform you all that in tiny island of Zanzibar Hilal is not sighted on July 19 and it was declared by Mufty Office that we shall complete the month of Shaaban and The officially first day of Ramadhan shall be 21st of July.

    UK:

    Not Seen: Mohammad Ali Javed (MCW member) from Luton, Bedfordshire reported: Today, July 19 the new moon was not seen because the sky was cloudy. We will complete 30 days and 1st Ramadan will be on Saturday 21st July 2012.
    Not Seen: Saraj Qazi (MCW member) from Luton, Bedfordshire reported: Allama Qazi Abdul Aziz Chishti on behalf of Markazi Aulema & Musha'ikh Council UK & Marzkazi Jamat Ahle Sunnat UK & Europe (The largest and oldest Jamaat of ahle sunnah in UK) announced the following:
    On following the Sunnah of RasoolAllah SAW and the Shariah, there has been no visible sighting of the Moon in the UK or any positive sighting from any Muslim country close to UK including Morocco on the eve of 19th July 2012. We therefore will be completeing 30 days of Sha’ban and officially announce the 1st of Ramadhan Kareem to be on Saturday 21st July 2012 InshAllah.
    Not Seen: Juned Patel (MCW member) from Bolton Lancshire reported: Today, July 19 the new moon was not seen between 20:55 to 21:40 because the sky was cloudy.

    USA:

    Not Seen: Imam Salim Chishti (MCW member) from New Lebanon NY reported: We tried to sight the moon on Thursday night, July 19 from sunset to 9:00PM. The sky was overcast and nothing was visible on the western horizon after the sun set so the crescent was not sighted. In New Lebanon we will follow the start of Ramadhan as calculated by the FCNA so the first Tarawhi prayers will be on Thursday night and the first day of fasting will be tomorrow,
    Not Seen: Javad Torabinejad (MCW member) from Blacksburg VA reported: This evening (Thursday, July 19, 2012), the crescent moon of Ramadan was not sighted in Blacksburg, VA (Lat: 37° 15' 40" N, Lng: 80° 26' 56" W, and elevation: 646 meters). The western horizon sky was mostly cloudy. We stayed there only for few minutes.
    Not Seen: Imam Mir Omar Ali, Smithfield, NC reported: On Thursday, 07/19/2012 I tried to see Hilal from 8:35 to 9:15 pm, from roof of hospital, excellent vantage point. But it was partly cloudy Skies Negative sighting.
    Not Seen: Dr. Muhammad Hafiz (MCW member) from Jamaica, NY, reported: I tried to observe the Hilal today July 19, 2012 after sunset. The horizon was overcast with rainy clouds hence observation was made impossible. Most Masjids in the area will commence first fast on Saturday.
    Not Seen: Khalid Yaseen (MCW member) from Detroit, MI, reported: No sighting in Detroit, MI -- it was very cloudy this evening, July 19.
    Not Seen: Hamid Quraishi (MCW member) from Winona MN reported: I tried with two others to watch the moon sighting in Winona, MN.There was no moon visible by naked eye. The condition was partly cloudy and hazy.
    Not Seen: Mohammed Yahya Shaikh (MCW member) from Anaheim CA reported: The moon for Ramadhan was not seen on July 19th 2012, in Anaheim, Playa Del Rey, Rosemead and Arcadia, California. There was a thick layer of haze hugging the lower horizon, and optical aid did not hel the cause either.
    Not Seen: Muzzammil Dadabhoy (MCW member) from Huntington Beach CA reported: Thursday, July 19, 2012, SKY CONDITIONS: Absolutely clear skies but a hazy right above the horizon. WE BEGAN LOOKING: 7:50pm, ENDED LOOKING: 8:37pm I, Muzzammil Dadabhoy (28), Iqbal Dadabhoy (56), Sulaimaan Dadabhoy (31), Saeeda Jadwet (56), all did not see the moon fromHilltop Park, 2351 Dawson Ave., Signal Hill, CA 90755. SUNSET: 8:02 p.m. in direction 296* West-Northwest. MOONSET: 8:17 p.m. in direction 286* West-Northwest.

    তো মহি ভাই, দেখা যাচ্ছে যে একমাত্র সৌদি আরব ছাড়া আর কোথাও বৃহস্পতিবারে চাঁদ দেখা যায়নি। সৌদি আরবে কি হিসেবে চাঁদ দেখার শাহাদা নেয়া হয় তা আমরা জানি। ২০০৪/৫ সালের দিকে জিলহজ্জ মাসের ৪ কি ৫ তারিখে আরাফাতের দিনের তারিখ সৌদি ডিক্রির মাধ্যমে বদলে ফেলা হয়েছিল। এর পর থেকে সৌদি হিসেব সম্পর্কে আমি সবসময় সন্দিহান। মুরুব্বির নির্দেশ আসে নাই বলে তো সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করলেন, এখন অন্ধের মতো কোথাও চাঁদ দেখার বৈজ্ঞানিক কিংবা চাক্ষুষ প্রমাণ না থাকা সত্তেও FCNA কিংবা একমাত্র সৌদিকে ফলো করাকে কেন মুরুব্বির নির্দেশ বলে সংজ্ঞায়িত করা হবেনা, বলতে পারেন কি?

    ৩. যারা চাঁদের ব্যাপারে বিজ্ঞান মানতে রাজি না অথচ নামাজের সময়ের ক্যালেন্ডার তৈরিতে বিজ্ঞানের সাহায্য কেন নেন?

     

    এ ব্যপারেও আগের কমেন্টে বলেছিলাম। কোথাও বলা হয়নি যে সালাতের ওয়াক্ত স্থাপিত হয়েছে কিনা তা স্বচোক্ষে দেখে তবে সিদ্ধান্ত নিতে। বরং দন্ডের ছায়া আড়াই গুন হলে আসর ওয়াক্ত স্থাপিত হয়, এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, আসরের ওয়াক্ত ক্যাল্কুলেশন করেই ঠিক করতে হবে। কেন অযথা বারবার একই ভুল যুক্তি দিচ্ছেন বুঝতে পারছি না।

    দু:খের বিষয় হল এধরনের বস্তিবাসী বা গেঁটো মানসিকতায় পীড়িত মতপ্রকাশকে শরীয়ত-সম্মত বলে দাবী করেন। তারা এলাকা ভিত্তিক খালি চোখে চাঁদ দেখাই একমাত্র শরিয়ত সম্মত পন্থা বলে দাবী করেন। এ ব্যাপারে তারা ইবনে আব্বাস (রাঃ) ঈদ পালনের ঘটনাকে উল্লেখ করে তা ইসলামী ফিকাহর বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসাবে মানতে বলেন।

     

    এই বক্তব্যটা অসম্ভব রকমের আপত্তিপূর্ণ। এতে প্রকারন্তরে আপনার নিজের মানসিকতাই কিন্তু ফুটে উঠছে।
     

    পাঠকদের জন্যে FCNA এর হিসেব করে চাঁদ দেখার অসারতা সম্পর্কে মুখতার মাগ্রাবির লেখাগুলো পড়ে দেখার অনুরোধ রইল।
     
    ১. FCNA এর ক্যাল্কুলেশনের অসারতা -- বিস্তারিত
    ২. FCNA এর ক্যাল্কুলেশনের অসারতা – সংক্ষিপ্ত
    ৩. ড. ফরিদের প্রত্ত্যুত্তরে
    ৪. ড. জুলফিকারের প্রত্ত্যুত্তরে
     
     

  16. 1
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    এইটা একটা সমস্যা বটে। তবে হতাশার কিছু নেই। আল্লাহ চাইলে একটা সমাধান হবে নিশ্চয়। 
     
    গত রোজার ঈদের পর এই নিয়ে বিতর্কটা জোরালো হয়েছিলো। টরন্টো হিলাল কমিটি ঈদের ঘোষনা দেয়নি -- কিন্তু অটোয়ায় চাঁদ দেখার সুবাদে সেখানে ঈদ হয়ে গেলো। এই নিয়ে একটা দিনব্যাপি শুরা হয়েছিলো মিসিসাওগায় -- কিন্তু স=কোন সমযোতা হয়নি। আশা করি হয়তো ভবিষ্যতে হবে। 
     
    আল্লাহু আজিজুল হাকিম -- আমাদের ক্ষমা করুন। । 

    1. 1.1
      মহিউদ্দিন

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন:

      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

      "আল্লাহ চাইলে একটা সমাধান হবে নিশ্চয়।"

      আমারও সে প্রত্যাশা। তবে অনেকেই এটা সমস্যা মনে করেননা এটাই হচ্ছে সমস্যা।
      আর এ কথাও আল্লাহ বলেছেন, বান্দা চেষ্টা না করলে আল্লাহর সাহায্য আসেনা। আল্লাহর সাহায্যের জন্য রাসুলকে (স:) তাঁর সাহাবিদেরকে নিয়ে বদররের মাঠে যুদ্ধে যেতে হয়েছ তারপর সাহায্য এসেছে।

      1. 1.1.1
        মহিউদ্দিন

        শাহবাজ ভাই,
        ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
        আপনি যদি Global Moonsightingকে মানেন তাহলে তো সমস্যা নাই। কষ্ট করে এত দীর্ঘ মন্তব্যের দেবার  প্রয়োজন ছিলনা এবং কোরআনের ভুল তরজমা ও হাদিসের অসম্পূর্ন ব্যখা না দিলে্ও চলত।কেননা গ্লোবেল মুনসাইটিং এর সাথে বৈজ্ঞানিক ক্যলকুলেশনের সাথে যারা রোজা রাখেন তাদের তফাৎ হয়না। সবাই একই সাথে রোজা ও ঈদ পালন করতে পারে। সমস্যা হয় শুধু ওনাদেরকে নিয়ে যাদের কথা আমি লিখায় উল্লেখ করেছি।
        যে কোন ইস্যুর সমাধান করতে দুটি এপ্রোচ নেয়া যায়।
        এক : সমস্যা যে আছে তা বুঝা তার পর সে বিষয়ে প্রো-একটিভ হয়ে তার সমাধান বাহির করা ইতিবাচক ইজতেহাদ করা এবং এর একটা গ্রহনযোগ্য সমাধান বাহির করা যা হবে সময়ের সাথে পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রয়োজনিয়তা সামনে রেখে। তবে ইজতেহাদ বলতে এবাদতের কোন মৌলিক পরিবর্তন নয় বরং লক্ষ্য ঠিক থাকবে কিন্তু তাতে পৌছার এপ্রোচটা কিছুটা এডজাষ্ট করা যেতে পারে। In other words , it does not mean to say blindly that end justify  the means.  In Islam to reach the end the means has to be halal and valid which again can come from correct ইজতেহাদ।
        দুই: অন্য এপ্রোচ হল কোন সমস্যা নাই যেমন আছে তেমন থাক আর যতটুকু সম্ভব একেবারে আক্ষরিক বা লিটারেল মিনিংটাকে আঁকড়ে থরে থাকা । কোন নির্দেশের ইনার মিনিং কি বা মুল উদ্দেশ্য কি তা অনুসন্ধানের তোয়াক্কা না করা।
        এখন দেখতে হবে আমরা কে কি ভাবে ব্যাপারটা দেখছি?
        তবে আপনি যেভাবে কোরআন ও হাদিসের ভুল ব্যখ্যা দিয়ে একটা লম্বা কমেন্ট করলেন তা দেখে অবাক না হয়ে পারলামনা!
        একে তো আপনি আমার লিখাটার উদ্দেশ্যকে  নিজের ইচ্ছামত টুইস্ট করতে লিপ্ত হয়েছেন তার উপর you are trying to put your words in my mouth. That is not not fair!
        সুরা বাকারার ১৮৫ আয়াতের তরজমা কোথা থেকে কাট এন্ড পেইন্ট করেছেন? আয়াতটার শুরু থেকে দেয়া উচিত ছিল তাতে পাঠকদের বুঝতে সুবিধা হত এখানে context কি? শাহিদার অর্থ একমাত্র স্বচক্ষে দেখা কোথায় পেয়েছেন? বলা হয়েছে “ফামান শাহিদা মিনকুমুস শাহরা” এর তরজমায় আপনার প্রদত্ত শব্দচয়ন ও ব্যখা ঠিক হয়নি। এখানে চাঁদের দেখার উল্লেখ কিভাবে পেলেন? এখানে একটা মাসের তথা  সময়ের কথা বলা হয়েছে। আমার সামনে “ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ” এর ছাপনো কোরআনের তরজমায় দেখছি ভিন্ন কথা। এখানে মাসের গুরুত্ব বলতে গিয়ে মুমিনদের কর্তব্য কি বলতে বলা হয়েছে। যার সঠিক মর্ম হল যে তোমরা যদি এ মাসে থাক বা এ মাস পাও তাহলে রোজা রাখবে। অতএব শুরুতেই ভুল উপস্থাপনা। আর হদিসের ব্যখাও ভুল। প্রশ্ন হচ্ছে রাসুল (স) সেই বেদুইনের সাক্ষী শুনে যখন ২৯ দিনের মাথায় ঈদ করতে গেলেন তখন কি বলেছিলেন  যে হে আমার সাহাবিরা তোমরা একটু খোজ নিয়ে দেখে আসো তো কোন কোন কারিয়তে (গ্রামে) চাঁদ দেখা যায় নাই?
        তার পর আমি তো বলি নাই চাঁদ দেখতে বাহির হওয়াটা ভুল তাহলে আপনি কেন রসুলের (স:) ও সাহাবিদের চাঁদ দেখতে যাওয়ার কথা টানছেন? আমি বাস্তবতা উল্লখ করছি। ব্যতিক্রম খাকতে পারে। 

        আপনার মত আমিও চাইলে আপনাকে বলতে পারি রাসূল (স:) চাঁদ না দেখে বেদুইয়েনের কথা বিশ্বাস করাটা কি ভুল হয়েছে ওনি তো তখন ৩০ দিন পুরা করতে চান নাই? নাউজু বিল্লাহ?  আর যদি ৩০ দিন হত তাহলে চাঁদ দেখার প্রশ্নই বা উঠবে কেন? তিরিশ দিনের সর্ত হল যখন কোন উপায় নাই শিওর হওয়ার।
        ওজু ছাড়া নামাজ হবেনা একথা চট করে বলতে পারেন না একটু চিন্তা করেন। ইসলামের প্রতিটি নির্দেশের কন্ডিশন আছে যদি পানি না থাকে তখন ওজু না করে তৈয়াম করলে চলবে। তৈয়াম আর অজু এক জিনিস নয়।
         
        আমি বিষয়টা নিয়ে সাধারণ মুসলিমদের চিন্তা ভাবনার জন্য লিখেছি। ছুটির সুবিধা একটা সাইড টপিক বা এটা একটা বাড়তি কথা ছিল। আর আপনি সেটাকে বড় করে দেখছেন? সেই সাথে আপনার শুক্রবারের উদাহরনটাও মিনিংলেস?     
        সে যাক আমার প্রশ্ন হচ্ছে সৌদি আরবের চাঁদ দেখাকে আমরা যদি মানতে চাইনা বা সন্দেহের কারণ মনে করি তাহলে সেটা শুধু রমজানের বেলা কেন? হজের বেলাও হবার কথা। প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন মুসলিমরা গিয়ে যে হজ করছেন বা যে দিন আরাফাতের ময়দানে হাজির হচ্ছেন তা কি ভুল?
        সৌদিরা যে কথনও হিসাবে ভুল করতে পারেনা সেটা বলছিনা কিন্তু সে জন্য কি আপনি আমি দায়ী হব?
        সৌদিরা তাদের বছরের হিসাব চন্দ্র মাসেই করে তাই মনে পড়ে আমি যখন সেদেশে ছিলাম আমরা বছরে ১০ দিনের বেতন বেশী পেতাম যেহেতু তারা চন্দ্রমাসের হিসাবে চলত। তবে আজকাল শুনেছি বছরে ১০ দিনের বেতন বাচাতে প্রাইভেট কোম্পানিগুলা ইংলিশ ক্যালেন্ডারে বেতন দেয়া শুরু করেছে। সৌদিতে বাজেট প্রকাশ হয় রজব মাসে। চাদের হিসাব তাদের পুরা বছরের ব্যাপার। আমাদের মত শুধু রমজান মাসের ব্যাপার নয়।
        শুনেন, জুমাবার দু ঘণ্টা ছুটি বাহির করতে মুসলিমদের অসুবিধা হবে না যখন কোন সমাজে মুসলিমরা তাদের অবস্থানকে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে এবং তা হবে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে। ইহুদীদের ক্ষমতা দেখেন তারা তো সংখ্যায় এত বড় জাতি না তারা কেমনে পারে তাদের স্বার্থ আদায় করতে?
        আপনি যদি আমাকে বলেন আমি বুয়েট পড়েছি তার মানে কি আমি বুঝব যে সেখানে আপনি শুধু বই খুলে পড়েছেন? পরীক্ষা দেন নাই, নোট লেখেন নাই? টিচারের লেকচার শুনেন নাই? বিষয় জটিল হলে কাউকে জিজ্ঞাসা করেন না্ই? আপনার হাদিসের ব্যখা কিন্তু অনেকটা সেরকমই লেগেছে আমার কাছে।
        তার পর আপনার হাইপতিটিকেল কন্সসার্ন দেখে সত্যি অবাক লাগছে! আপনাকেও একটা হাইপতিটিকেল প্রশ্ন করি মনে করেন রাসুল (স:)আজ যদি মদিনায় বেঁচে খাকতেন আর আপনি খবর পেলেন তিনি রোজা রাখা শুরু করেছেন তাহলে কি আপনি নিজে চাঁদ দেখার অপেক্ষায় থাকবেন না আপনি রোজা শুরু করবেন? কথাটা কি অর্থে বলেছি আশা করি বুঝেছেন। দেখেন এখানেও আবার বর্তমান সৌদিদেরকে রাসুলের সাথে তুলনায় নিয়ে আসছি বলে মনে করবেননা।  
        দোয়াতে এ অধমের কথা স্মরন রাখবেন। ভাল থাকেন।
         
           
         

Leave a Reply

Your email address will not be published.