«

»

Nov ০৮

প্রোপাগাণ্ডা ও প্রতারণা

বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের আচরণে দেখা যায় মানুষেরা বলে এক কথা কিন্তু বাস্তবে তা করে না বা করে সম্পূর্ণ বিপরীত। আর এ প্রবণতা এখন এত বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে যে বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্ব জুড়ে এখন যেন চলছে ধোকাবাজী আর সত্যকে মিথ্যা করার প্রতিযোগিতা! কোনটা সঠিক বা কোনটা বেঠিক, কে মিথ্যুক আর কে সত্যবাদী বুঝা দায়! বিশ্বের বড় বড় নেতাদের আচরণে তো মানুষ আরো দিশাহারা। কাউকে যেন আর বিশ্বাস করা যায় না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে মানুষের কাছে আজ মিডিয়ার যে প্রযুক্তি এসেছে তাকে ব্যবহার করে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করা এত সহজ হয়ে গিয়েছে যা মানব সভ্যতার অতীতে কোন কালে ছিলনা। তাই বলা যায় আমরা এখন বাস করছি এক প্রতারণার যুগে।

পবিত্র কোরআনের সুরা আস্ সাফ্ফ্ পড়লে পাওয়া যায় মহান আল্লাহ বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ 02

ওহে যারা বিশ্বাসী (অর্থাৎ মুমিনগণ!) তোমরা যা কর না, তা কেন বল?

كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ أَن تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ 03

তোমরা যা কর না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক।

আসলে ইসলাম যে আল্লাহর প্রদত্ত সত্যিকার এক জীবন ব্যবস্থা আর ইসলামের শেষ নবী (স:) এর প্রতিটি কথা যে কালের আবর্তে কি ভাবে আরো সত্য প্রমাণিত হচ্ছে ভাবতে অবাক লাগে।

আজ থেকে ১৪ শত বৎসর আগে নবী (স:) যে কথা বলে গিয়েছেন কিয়ামতের আলামত প্রসঙ্গে তা এখন দ্রুত আমাদের সামনে আসছে। চৌদ্দ শত বছর আগে, নবী মুহাম্মদ (স:) মুসলিমদের জন্য তাদের জীবন যাপনের যে দিকনির্দেশনা এবং তাঁর উম্মতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত চিন্তা ভাবনা, আখেরি জামানা ও রোজকেয়ামত বিষয়ে যে সব অজানা তথ্য ও ভবিষ্যতবাণী বলেছিলেন তা এখন বাস্তবে প্রকাশ পাচ্ছে। আর ইসলামী পণ্ডিতরা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মহা নবীর মূল্যবান উপদেশ ও বানী লিপিবদ্ধ করে রাখার যে ট্র্যাডিশন রেখে গেছেন তা ঈমানদারদের জন্য আল্লাহর এক বিরাট রহমত।

অনেকে বলেন সময়ের সাথে সাথে পৃথিবীতে মানুষ যে সব বিপর্যয় ঘটাচ্ছে তা যেহেতু আগেই বলা হয়েছে ঘটবে এবং এখন তা ঘটলে আমরা কি করতে পারি? তা নিয়ে চিন্তা করার কি আছে? যা হবার হবে। কিন্তু একজন মুসলিম হিসাবে আমরা এ বিষয়টার সমীকরণ এত সহজভাবে নিতে পারিনা। প্রতারণার যুগে আছি বলে কি শুধু প্রতারিত হতেই থাকব? আর আমাদের কি কিছুই করার নাই? এধরণের হীন মনোবৃত্তি একজন মুমিনের হতে পারে না।

মুসলিম মানে যদি আমরা আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ বুঝি তাহলে এর সাথে আমাদের দায়িত্বও কিন্তু বেড়ে যায়। প্রশ্ন হল এ দায়িত্বটা আসলে কি? এ কথা বুঝতে হলে আল্লাহ কি বলেছেন তা জানতে হবে এবং তা পাওয়া যায় আল্লাহর প্রদত্ত বাণী আল কোরআনে ও তার প্রেরিত শেষ নবী মোহাম্মদ (স:)জীবন চরিত্রে। মুসলিম জাতি হিসাবে পরিচয় দিলে আমাদের মাঝে একটা মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড খাকতে হবে এবং এ কথাটাই এ রচনার শুরুতেই উল্লেখ করেছি অর্থাৎ কথায় ও কাজে মিল থাকতে হবে। অত্যাচারী যেই হউক না কেন সে একজন মুসলিমের শত্রু। তার কাজকে ঘৃণা করতে হবে।

মুসলিম জাতিকে আল্লাহ বলেছেন,

কুন্তুম খাইরা উম্মতি অর্থাৎ তোমরা উত্তম জাতি।

আর তাদের বৈশিষ্ট্য কি? তাও বলে দিয়েছেন, সেটি হল-

আমিরু বিল মারুফ ও নেহি আনিল মুনকার অর্থাৎ ন্যায়ের হুকুম ও অন্যায়ের প্রতিরোধ।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,

তোমাদের মধ্যে একটি উম্মত অবশ্যই থাকতে হবে যারা (মানবকে) কল্যাণের দিকে ডাকবে এবং ন্যায় কাজে নির্দেশ দিবে এবং অন্যায়কে রুখবে। এবং তারাই হল সফলকাম। (সুরা আল ইমরান, আয়াত ১০৪)

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ যোগ্যতা অর্জন করতে আজ কেন আমরা ব্যর্থ হচ্ছি? তার উত্তর পেতে হলে আমাদের চেতনায় যে গলদ তা বুঝতে হবে। বাঙ্গালি মুসলিম হিসাবে আজ আমরা ভুগছি চরম হীনমন্যতায় আর তা হয়েছে নিছক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য নয়। সন্ত্রাস, দুর্নীতি,ব্যর্থ প্রশাসন বা আইন-আদালতও নয়। মূল বিপদ আরও গভীরে, সেটি স্মৃতি বিলুপ্তির। এবিষয়ে কিছুদিন পূর্বে কয়েকটি কথা আমাকে কামাল সাহেব ইমেইল করেছিলেন যার প্রেক্ষিতে এ আলোচনা তা পাঠকদের জন্য উপস্থাপনার প্রয়োজন মনে করছি।

আজ দেশের মানুষ স্মৃতিবিলুপ্তির অতল গহ্বরে পড়েছে বললে ভুল হবে না। চরম স্মৃতি-বিলুপ্তির শিকার দেশটির নিজের ইতিহাস। বাঙালী মুসলিমরা ভুলেই গেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও বর্ণ-হিন্দুদের অতীতের ষড়যন্তু ও শোষণের কথা। আত্মবিস্মৃতি প্রতি পদে বিপর্যয় ডেকে আনে। মানুষের কর্ম ও আচরণের ন্যায় তার রাজনীতিও নিয়ন্ত্রিত হয় স্মৃতি থেকে। স্মৃতির ভাণ্ডার থেকেই মানুষ জানে কে তার শত্রু এবং কে তার মিত্র? সমাজে যখন শয়তানের অনুসারী অসৎ নেতৃত্ব জেঁকে বসে তখন তারা চায় জাতির মেমোরি লস বা স্মৃতি-বিলুপ্তি হউক।

এমন স্মৃতি বিলুপ্তির নজির মানব ইতিহাসে অসংখ্য। আল্লাহকে ভুলে মানুষ শয়তানের পথ ধরে তো এমন স্মৃতি-বিলুপ্তির ফলেই। ফিরোউনের বর্বর নিষ্ঠুরতা থেকে বনি ইসরাইলের লোকদের মহান আল্লাহ-তায়ালা প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন। তাদের বাঁচাতে তিনি সাগর দ্বিখণ্ডিত করে তল দিয়ে প্রশস্ত রাস্তা করে দিয়েছিলেন। মিশর থেকে উদ্ধারের পর সিনাই মরুভূমিতে আহার জোগাতে তাদের জন্য আসমান থেকে মান্না ও সালওয়া পাঠিয়েছেন। কিন্তু হযরত মূসা (আঃ) যখন মাত্র ৪০ দিনের জন্য আল্লাহর সান্নিধ্যে যান তখন করুণাময় আল্লাহকে ভুলতে তাদের দেরী হয়নি। নিজ হাতে তারা গরুর স্বর্ণমুর্তি গড়ে সেটির পুঁজা শুরু করে দিয়েছিল।

বাঙ্গালী মুসলিমদের স্মৃতি থেকে শুধু আল্লাহর হুকুম পালনের মধ্যমে ইসলামী ন্যায় নীতির শাসনে একটি সভ্য সমাজ গড়ার দায়ভারই হারিয়ে যায়নি। হারিয়ে গেছে বাংলার শ্রেষ্ঠ মুসলমানদের স্মৃতি। ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে ইখতিয়ার মহম্মদ বখতিয়ার খিলজীকে যিনি বাংলা জয় করে পৃথিবীর এ প্রান্তে মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় শক্তি রূপে সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন । হারিয়ে যাচ্ছে শাহজালাল, শাহ মখদুম ও খানজাহান আলীর মত মহামানবদের স্মৃতি। ভুলিয়ে দেয়া হচ্ছে সিরাজুদ্দৌলা, তিতুমির, হাজী শরিয়াতুল্লাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, স্মৃতি থেকে মুছে দেয়া হচ্ছে নবাব সলিমুল্লাহ, নবাব আব্দুল লতিফ, মুন্সি মেহেরুল্লার মত মহান ব্যক্তিদের। নবাব সলিমুল্লাহ জমিদার পুত্র ছিলেন। রাজনীতিকে তিনি জনসেবার মাধ্যম রূপে ব্যবহার করেন। ফলে সম্পদের পাহাড় না গড়ে বরং নিঃস্ব হয়েছেন। ইন্তেকাল করেছেন ঋণী অবস্থায়। নিজ অর্থে ঢাকার বুকে গড়ে তুলেছেন বহু প্রতিষ্ঠান। উপমহাদেশের মুসলিম নেতাদের ঢাকায় এনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মুসলিম লীগ। সে মুসলিম লীগের হাতেই জন্ম নেয় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান। আর পূর্ব পাকিস্তান না হলে আজ বাংলাদেশ গড়াও সম্ভব হত না। তখন কাশ্মীরের অবস্থা হত আমাদের। অথচ সে ইতিহাস আজ বাংলাদেশের স্কুল-কলেজে পড়ানো হয় না। বরং পড়ানো হয় তাদের ইতিহাস যারা রাজনীতিকে ব্যবহার করেছে দুর্নীতির হাতিয়ার রূপে এবং দেশের সম্পদ লুটেছে দুহাতে। রাজনীতির মাধ্যমে ঢাকার অভিজাত এলাকায় তারা বাড়ি-গাড়ি ও বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছে। তাদের সে লুণ্ঠনের কারণে বাংলাদেশ পরিচিতি পেয়েছে ভিক্ষার তলাহীন ঝুলি রূপে এবং বাংলাদেশের নাম উঠেছে বিশ্বের শীর্ষ দুর্নীতিবাজের তালিকায়!

প্রোপাগাণ্ডা ও প্রতারণা

Philip M Taylor তার লিখা, Munitions of the Mind” (A history of Propaganda from the ancient world to present day) পুস্তকে লিখেছেন, “Propaganda thus become the enemy of independent thought and an intrusive and unwanted manipulator of the free flow of information and ideas in humanity’s quest for peace and truth.” প্রচারণা এইভাবে পরিনত হয় স্বাধীন চিন্তার শত্রু রূপে এবং মানুষের শান্তি ও সত্য সন্ধানের প্রচেষ্টায় সঠিক তথ্য ও মতামতের অবাধ প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা করে।

প্রোপাগাণ্ডা বা প্রচারণার মাধ্যমেই হয় প্রতারণা এবং এর কুফলের তুলনা হয়না। প্রচারণার সামর্থ্য বিশাল । লাগাতর প্রচারণার মাধ্যমে ফিরাউন-নমরুদের ন্যায় অতি দুর্বৃত্তদেরও ভগবান রূপে প্রতিষ্ঠা দেয় যায়। তেমনি শাপ-শকুন,গরু-ছাগলকেও দেব-দেবী রূপে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। হিটলার, মুসোলিনি, স্টালিন, জর্জবুশ ও ব্লেয়ারের ন্যায় গণহত্যার নায়কদের যে নিজ নিজ দেশে নেতা রূপে প্রতিষ্ঠা মিলেছিল সেটি তো প্রচার-প্রোপাগান্ডার জোরেই। লাগাতর প্রচারের মাধ্যমে মানুষের স্মৃতির মানচিত্রই পাল্টে দেয়া যায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিকল সেটিই ঘটেছে। সবচেয়ে বড় স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ, গণতন্ত্র ও মানবতা বিরোধী তথা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা যারা লালন করে তারাই হয়ে যায় দেশ প্রেমিক!

আত্মবিস্মৃতির মহা শাস্তি

আল্লাহর স্মরণ যে কত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁকে ভুলে যাওয়া যে কত বিপদজনক সে ঘোষণাটি পবিত্র কোরআনে বার বার এসেছে। বলা হয়েছে “যে আমার স্মরণে বিমুখ থাকবে,অবশ্যই তার জীবন-যাপন হবে সংকুচিত এবং আমি তাদেরকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করব অন্ধ অবস্থায়। সে বলবে,“হে আমার প্রতিপালক!কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করলে? আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম।” তিনি বলবেন,“এরূপই আমার নিদর্শন-বলী তোমার নিকট এসেছিল,কিন্তু তুমি সেগুলি ভুলে গিয়েছিলে এবং সেভাবে আজ তুমিও বিস্মৃত হলে।” –(সুরা তা-হা আয়াত ১২৪-১২৬)

প্রতিদিন ৫ বার নামায আদায়ের মূল উদ্দেশ্যটি হলো মু’মিনের স্মৃতিতে আল্লাহর স্মরণকে চির জাগ্রত রাখা। তবে আল্লাহর স্মরণের অর্থ শুধু তাঁর নামের স্মরণ নয়,বরং তাঁর প্রতি দায়বদ্ধতার স্মরণ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,“আমিই আল্লাহ,আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। অতএব আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণ জাগিয়ে রাখতে নামায কায়েম করো।” –(সুরা তা-হা আয়াত ১৪) যে ব্যক্তির মনে আল্লাহর স্মরণটুকুই বেঁচে নেই তার স্মৃতিতে কি সিরাতুল মোস্তাকীমে চলার প্রেরণা থাকে? তেমনি যে জাতি আল্লাহ-বিস্মৃত হবে এমন জাতি যে পথভ্রষ্ট হবে এবং শয়তানের অনুসরণ করবে সেটিই তো স্বাভাবিক। আর এজন্য দেশের সর্বত্র চলছে অস্থিরতা, অন্যায়, অবিচার, সাধারণ মানুষের জীবনের নাই নিরাপত্তা। এক দল অন্য দলের লোকজনকে হত্যা করছে। নারী পুরুষের গলা কাটা লাশ ভাসছে খালে বিলে। নিজেরা নিজেদেরকে হত্যা করছে, প্রতিষ্ঠানাদিতে অগ্নি-সংযোগ করছে। কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে। সরকারের ভিতরে বাহিরে লুট হচ্ছে। হাজার হাজার নিরীহ মানুষ ন্যায় বিচারের অভাবে নীরবে নিভৃতে কাঁদছে। আজকে ক্ষমার চেয়ে প্রতিহিংসা হচ্ছে বড় আদর্শ! যারা দলীয়ভাবে চুরি করে, ডাকাতি করে, রাহাজানি করে, তারাই পালা বদল করে সমাজের ও রাষ্ট্রের ক্ষমতায় বসে। জাতীয় একতার চেয়ে বিভক্তিকে মুক্তি যুদ্ধের চেতনা লাভের সুপান বলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। যার ফলে জাতীয় বিভক্তিকে পরবর্তী প্রজন্মে ছড়ানো হচ্ছে। আর সে জন্য আধিপত্য-বাদীদের পক্ষে ডিভাইড এন্ড রুল পলিসি দিয়ে প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষভাবে দেশকে শোষণ করার পথ সহজ হচ্ছে।
তাই প্রশ্ন হচ্ছে প্রতারণার এ যুগে আমরা আর কত প্রতারিত হতে থাকব? কবে জাগবে আমাদের বিবেক?

বি: দ্র: স্মৃতিবিলুপ্তির কথা যেহেতু এসেছে তাই সুপ্রিয় পাঠকদের প্রতি এই ভিডিওটি শুনার অনুরোধ রইল।

৭২ comments

Skip to comment form

  1. 27
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    The words between mkfaruk and vobogure……….
    mkfaruk এর জবাব:
    জুন ১৩, ২০১২ at ৯:৪১ অপরাহ্ণ
    @ভবঘুরে,
    মি ভবঘুরে, আসলে আমরা সত্য প্রকাশকারী’-এ কথা না বলে বলুন আমারা সত্য বিকৃতকারী। আপনি বলছেন ‘বাজে কথা বলার ফোরাম এটা না’, কিন্ত আমি তো দেখছি আপনি তাই করে যাচ্ছেন। প্রকৃত সত্যকে না জেনে বা জেনে আড়াল করে যাচ্ছেন।
    এখন আমরা দেখি প্রকৃত তথ্য কি। আর কারা হুদাইবিয়ার সন্ধি খেলাপ করেছে।প্রথমে আমরা দেখি হুদাইবিয়ার সন্ধির শর্তগুলি কি ছিল। সন্ধির শর্তগুলি ছিল এমন-
    ১)-এ বৎসর মুসলমানদেরকে হজ্জ্বব্রত পালন না করেই ফিরে যেতে হবে।
    ২)-তাদেরকে পরবর্তী বৎসর কা’বাগৃহ দর্শণের অনুমতি দেয়া হবে
    ৩)-প্রয়োজনীয় অস্ত্র তীর্থযাত্রীরা সঙ্গে নিয়ে ‘কোশবদ্ধ অবস্থায়’ তিন দিনের জন্যে মক্কায় থাকতে পারবে।
    ৪)-দশ বৎসরের জন্যে শত্রুতা বন্ধ থাকবে এবং কেউ যুদ্ধকারীদের সাহায্য করবে না। যে গোত্র যার সাথে রয়েছে তার বেলায় এই নীতি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ এদের কারও প্রতি আক্রমণ বা আক্রমণে সাহায্যদান হবে চুক্তিভঙ্গের নামান্তর।
    ৫)-যদি কুরাইশদের কোন ব্যক্তি অভিভাবক বা প্রধানদের সম্মতি ব্যতিরেকে মুহম্মদের দলভূক্ত হয়, তবে তাকে কুরাইশদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
    ৬)-মুসলমানদের মধ্যে থেকে যদি কেউ মক্কাবাসীদের কাছে ফিরে যায়, তবে তাকে ফেরৎ দেয়া হবে না।
    ৭)-কোন গোত্র যদি কুরাইশ কিংবা মুসলমানদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে চায় তবে বাঁধামুক্ত অবস্থায় স্বাধীনভাবে তা করতে পারবে। ইত্যাদি
    চুক্তির এই শর্তগুলি কুরাইশদের দেয়া মুহম্মদের নয়। (ভবঘুরে, আপনি কিন্তু আপনার আর্টিকেলে- হুদায়বিয়ার চুক্তিতে মোহাম্মদ অত্যন্ত চাতুরতার পরিচয় দেন। -বলে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।)
    সন্ধি শেষে মুহম্মদ যখন হুদাইবিয়াতেই অবস্থানরত ছিলেন, তখন কয়েকটি ঘটনা সংঘটিত হল। আবু জন্দল নামক এক মুসলমানকে কুরাইশরা বন্দী করে রেখেছিল। সে কোন রকমে পালিয়ে মুহম্মদের কাছে উপস্থিত হল।
    সন্ধির (৫ম) শর্তানুসারে কুরাইশরা জন্দলকে ফিরিয়ে দেবার দাবী করল। মুহম্মদ সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। তিনি শরীয়তের নীতিমালার হেফাযত ও তৎপ্রতি দৃঢ়তা কখনও বিসর্জন দিতে পারেন না। তাই কিছু কিছু মুসলমানদের আপত্তির মৃদু গুঞ্জন সত্ত্বেও তিনি তৎক্ষণাৎ কুরাইশদের দাবী মেনে নিলেন এবং জন্দলকে ফেরৎ পাঠালেন। এরপর ঘটেছিল সাঈদার বিষয়টি।
    আপনি মি: ভবঘুরে বলেছেন সাঈদাকে ফেরৎ না দিয়ে মুহম্মদ চুক্তির ভঙ্গ করেছেন। আর আমি বলছি মুহম্মদ সন্ধি চুক্তির কোন শর্তই ভঙ্গ করেননি। আপনি চুক্তির যে শর্তের (৫ম শর্ত) কথা বলছেন স্পষ্টতই ঐ শর্তটি পুরুষদের জন্যে। নারীদের সম্পর্কে ঐ শর্তে কিছু বলা হয়নি। কেননা ব্যক্তি বা লোক বলতে পুরুষ বোঝায় নারী নয়। কিন্তু কিছু মুসলিম ভ্রান্তিতে ছিল, যখন কুরাইশরা সাঈদাকে ফেরৎ চেয়েছিল। তখন এ সম্পর্কে আয়াত নাযিল হলে এবং মুহম্মদ চুক্তির শর্তটি ব্যাখ্যা করলে শর্তটির প্রকৃত অর্থ স্পষ্ট হয় এবং মুসলিমদের ভ্রান্তি দূর হয়। নাযিলকৃত আয়াতটি এই–মুমিনগণ, যখন তোমাদের কাছে ঈমানদার নারীরা হিজরত করে আগমন করে, তখন তাদেরকে পরীক্ষা কর। আল্লাহ তাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্যে হালাল নয় এবং কাফেররা এদের জন্যে হালাল নয়। কাফেররা যা ব্যয় করেছে, তা তাদের দিয়ে দাও। তোমরা, এই নারীদেরকে প্রাপ্য মোহরানা দিয়ে বিবাহ করলে তোমাদের অপরাধ হবে না। তোমরা কাফের নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না। তোমরা যা ব্যয় করেছ, তা চেয়ে নাও এবং তারাও চেয়ে নিবে যা তারা ব্যয় করেছে। এটা আল্লাহর বিধান; তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। (60:10)
    অত:পর মুহম্মদ সাঈদার স্বামীর কাছে সন্ধিচুক্তির উল্লেখিত শর্তের সঠিক ব্যাখ্যা শেষে সাঈদাকে ফিরিয়ে দেবার দাবী প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন- এই শর্ত পুরুষদের জন্যে, নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
    যদি মুহম্মদ শর্ত ভঙ্গ করত তাহলে কুরাইশরা প্রতিবাদ করত। কিন্তু তাদের কেউই প্রতিবাদ করেনি।
    কিন্ত কুরাইরা সন্ধি চুক্তির ৪র্থ শর্তটি ভঙ্গ করেছিল। (উপরের শর্তটি দেখুন।)
    বনি খোজারা মুসলমানদের সঙ্গে তাদের রক্ষণাবেক্ষণে চুক্তিসূত্রে আবদ্ধ ছিল। আর কুরাইশরা ছিল বনি বকরদের সঙ্গে। কুরাইশরা হুদাইবিয়ার সন্ধি চুক্তির ৪র্থ শর্তটি ভঙ্গ করে গোপনে বনি বকরদেরকে যোদ্ধা ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছিল। তাদের সহযোগিতায় পুষ্ট হয়ে বনি বকররা বনি খোজাদেরকে আক্রমণ করেছিল রাতের বেলায়। এতে অধিকাংশ খোজা নিহত হয়েছিল এবং অল্পকিছু পলিয়ে গিয়েছিল।
    কুরাইশরা ভেবেছিল নৈশ অভিযানে বনি বকরদেরকে গোপনে সাহায্য করার এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সূদূরে অবস্থানরত মুহম্মদ বা মুসলমানরা কখনও জানতে পারবেন না। কিন্তু পালিয়ে যাওয়া ঐসব বনি খোজারা অতিকষ্টে মদিনায় এসে পৌঁছেছিল। অতঃপর মুহম্মদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দান করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছিল। তারা তাদের অভিযোগে বলেছিল, ‘হে রসূলুল্লাহ! কুরাইশরা আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তারা আপনার সেই সূদৃঢ় প্রতিজ্ঞাপত্রখানা বাতিল করে দিয়েছে। রজনীর অন্ধকারে অতর্কিতভাবে তারা বনি বকরদের সাথে আমাদের ‘অরক্ষিত’ আবাসগুলি আক্রমণ করেছে এবং আমাদেরকে শায়িত ও উপবিষ্ট অবস্থায় নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে।’
    কুরাইশ ও বনি বকরের এই পৈচাশিক অত্যাচারের ও মিত্র খোজা বংশের এই মর্মন্তুদ হত্যাযজ্ঞের পর এই আয়াতসমূহ নাযিল হল -‘সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।’(৯:১)
    অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (০৯:০৫)—-এই হল আয়াতসমূহ নাযিল হওয়ার কারণ (শানে নযুল), যা আপনি মি: ভবঘুরে, ব্যাখ্য না করে আয়াতসমূহের অপব্যাখ্যা করেছেন। এখন আমরা দেখব পরবর্তী ঘটনা কি?
    এদিকে বনি খোজাদের কিছু লোকের পালিয়ে মদিনায় গমনের সংবাদ কুরাইশদের কাছে শীঘ্রই পৌঁছে গেল। তারা বদর, ওহোদ ও আহযাব যুদ্ধের ফলাফল নিজেদের অনুকূলে নিতে না পেরে এমনিতে হীনবল হয়ে পড়েছিল। তার উপরে চুক্তিভঙ্গের বর্তমান ঘটনায় তাদের কাছে মুসলমানদের যুদ্ধ প্রস্তুতির আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছিল। অতঃপর মুহম্মদ ও মুসলমানদের পূর্ণ নীরবতা তাদের এই আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করেছিল। সুতরাং কুরাইশ দলপতি আবু সুফিয়ান মুহম্মদ ও মুসলমানদের মনোভাব জানতে তাড়াতাড়ি মদিনায় হাজির হয়েছিলেন।
    মদিনায় এসে আবু সুফিয়ান স্বীয় কন্যা, নবী পত্নী উম্মে হাবিবার হুজরায় উপনীত হলেন। পিতাকে দেখে হাবিবা তাড়াতাড়ি হযরত যে বিছানায় উপবেশন করতেন তা গুটিয়ে রাখলেন। এ দেখে আবু সুফিয়ান বললেন, ‘এই বিছানার মর্যাদা কি তোমার পিতার চাইতেও বেশী।’
    তিনি বললেন, ‘এই শয্যায় আল্লাহর রসূল উপবেশন করেন, আর তুমি হলে মুশরিক।’
    কন্যার এই উত্তর শুনে তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘মুহম্মদ আমার এই স্নেহের কন্যাটিকে যাদুর জালে আবদ্ধ করে আমার প্রতি এরূপ বীতশ্রদ্ধ করে রেখেছে!’
    কন্যার হুজরা থেকে বেরিয়ে আবু সুফিয়ান মদিনায় ইতস্ততঃ এদিক সেদিক ঘুরলেন। কোথাও কোন যুদ্ধ প্রস্তুতি নেই- নিশ্চিত হয়ে তিনি অতঃপর মুহম্মদের দরবারে হাযির হলেন। মুহম্মদ আবু সুফিয়ানের মদিনায় আগমনের উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করলেন, বললেন, ‘কি উদ্দেশ্য নিয়ে আপনার এখানে আগমন?’
    আবু সুফিয়ান বললেন, ‘হুদাইবিয়ার সন্ধি আমাদের পক্ষ থেকে ভেঙ্গে গিয়েছে। সুতরাং পুনঃরায় সন্ধি স্থাপনের উদ্দেশ্য নিয়ে আমি আগমন করেছি।’
    মুহম্মদ তার কথার কোন উত্তর না দিয়ে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এতে তার মনোভাব বুঝতে পেরে শঙ্কিত হয়ে তিনি দরবার থেকে বেরিয়ে গণ্যমান্য কয়েকজন সাহাবীর কাছে আবেদন রাখলেন যেন তারা মুহম্মদের কাছে চুক্তি বলবৎ রাখার সুপারিশ করেন। কিন্তু তারা সবাই কুরাইশদের পূর্ববর্তী ও উপস্থিত ঘটনাবলীর তিক্ত অভিজ্ঞতার দরুন প্রস্তাবটি নাকচ করে দিলেন। ফলে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে মক্কায় ফিরে এলেন আবু সুফিয়ান। এই হল প্রকৃত ঘটনা। এবার আমরা দেখব পরবর্তীতে কি হয়েছিল।
    ৮ম হিজরীর ১৮ই রমজান। পৌত্তলিকদের বিরুদ্ধে দশ সহস্য সৈন্য সংগ্রহ শেষে মুহম্মদ মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। এরূপে মূসার ভবিষ্যৎ বাণী পূর্ণ হল, ‘দশ সহস্র ন্যায়নিষ্ট সহচরসহ তিনি এলেন। মক্কার উপকন্ঠে ‘মার উজ-জহরান’ নামক গিরি উপত্যকায় শিবির স্থাপিত হল।
    সন্ধি ভঙ্গ করে বনি বকরদের উপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞে সহযোগীতা করার দায়ে কুরাইশদের উপর অনুরূপ হত্যাযজ্ঞ চালানোই ছিল উপযুক্ত বিচার। কিন্তু (৯:৫) আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ বলেছেন যে-[sb]কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।[/sb] সুতরাং মুহম্মদ দূত মারফত কুরাইশদের কাছে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন।।
    -- হয় তোমরা বনি খোজা গোত্রকে উপযুক্ত রক্তপণ দিয়ে এই অন্যায়ের প্রতিকার কর। অথবা,
    -- বনি বকর গোত্রের সাথে সকল সম্বন্ধ ছিন্ন কর। অথবা,
    -- হুদাইবিয়ার সন্ধি বাতিল হয়েছে বলে ঘোষণা কর।
    কুরাইশরা দূতকে জানিয়ে দিল, ‘আমরা তৃতীয় শর্তটিই মেনে নিলাম।’
    উপরের সমস্ত বর্ণনা থেকে এটা অতি পরিস্কার যে, মুহম্মদ বা মুসলমানদের দ্বারা হুদাইবিয়ার সন্ধি চুক্তি ভঙ্গ করা হয়নি বরং ঐ চুক্তি ভঙ্গ করেছিল কুরাইশগণ।
    এখন আমরা দেখব বশরের কাহিনী। বশর কুরাইশদের অত্যাচারের হাত থেকে পালিয়ে মদিনায় চলে এল। মক্কাবাসীরা সন্ধির চুক্তি অনুসারে তাকে ফেরৎ চাইলে মুহম্মদ তাকে ফেরৎ দিয়ে দিলেন। মক্কায় ফিরে গেলে কি মাত্রার শারিরীর অত্যাচার হবে তা বশর জানত। সুতরাং সে নিজ জীবন বাঁচাতে দু’জনের একজনকে হত্যা করে সাগরপারের দিকে পালিয়ে গেল। এতে দোষের কি? জীবন বাঁচাতে অস্ত্র ধারণ সকল ধর্মেই স্বীকৃত। আর তাই যে ব্যক্তি বশরের হাত থেকে বেঁচে মদিনায় মুহম্মদের নিকট পালিয়ে গিয়েছিল সে বা কুরাইশদের কেউ মুহম্মদের দরবারে বশরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে বিচার প্রার্থী হয়নি।
    এর পর কি হল? বশর কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলা লডটতরাজ করতে লাগল। এতে কি সে দোষের কিছু করেছে? স্ত্রী-পুত্র পরিজন রেখে সে সাগরপারে লুকিয়ে জীবন-যাপন করছে কেন? কারা দায়ী এজন্যে? সুতরাং তার সম্মুখ দিয়ে কুরাইশদের পণ্য-সম্ভার চলে যাবে আর সে পেটে পাথর বেঁধে চেয়ে চেয়ে দেখবে? বাহ দারুণ।
    এদিকে কুরাইশরা কি করল? বশরের কার্যাবলী যদি অপরাধের পর্যায়ে পড়ত কুরাইশরা অবশ্যই মুহম্মদের দরবারে বিচারপ্রার্থী হত। কিন্তু অপরাধের পর্যায়ে পড়েনি বলে তারা লোক পাঠিয়ে কেবল সন্ধিচুক্তির ৫ম শর্তটি প্রত্যাহার করে নেয়।
    এখানে একথা ভুলে গেলে চলবে না যে কুরাইশদের প্রকৃতি কেমন ছিল। ওমর বিশরকে হত্যা করাতে তৎক্ষণাৎ কিছু মুসলিম তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে মুহম্মদের দরবারে মামলা দায়ের করেছিল। বিশরের উদাহরণ দিয়ে আমি একথা বলতে চাচ্ছি যে, অন্যায়কে প্রশয় দেবার মত প্রকৃতি কুরাইশদের (হোক সে মুসলিম বা পৌত্তলিক) কখনও ছিল না।
    এর পর আসি ‘সহি বুখারি, ভলিউম-৭, বই-৭২, হাদিস-৭১৭’ হাদিসের ব্যাপারে। এ দিয়ে কি প্রমাণ করতে চাচ্ছেন আপনি? তার মানে ইসলাম একজন মুসলমানকে যেমন ইচ্ছা খুশী অপকর্ম করার ফ্রি লাইসেন্স দিচ্ছে, শধু শর্ত একটাই – আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় ও মোহাম্মদ তার রসুল এটুকুতে বিশ্বাস করা।
    একথা কেন বলছেন না অপরাধীর সর্বাপেক্ষা কঠোর, নিকৃষ্টতম শাস্তি ইসলামেই আছে। চুরির অপরাধে ডান হাত কব্জি থেকে কেটে ফেলা, ডাকাতির অপরাধে ডান হাত বা বাম পা কর্তন । ব্যভিচারের শাস্তি এক‘শ বেত্রাঘাত (অবিবাহিতের বেলায় প্রযোজ্য) অথবা প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা (বিবাহিতের বেলায় প্রযোজ্য) এবং ব্যভিচারের অপবাদ আরোপের শাস্তি আশিটি বেত্রাঘাত।
    বার বার অপকর্ম করেও কিন্তু একজন মানুষ বেহেস্তে যেতে পারে যদি তার ইমান থাকে।-- এ কথা তো সেই ইসলামের এবং দুনিয়ার প্রথম মানব আদম থেকেই সত্য। এতে তো নতুন কিছু দেখছিনে। আর ইসলামে অপরাধকারীর শাস্তি দুনিয়াতে কি তা তো এই মাত্র বললাম।
    আপনি মুহম্মদের অপকর্মের উদাহরণ দিচ্ছেন-উদাহরণ হিসাবে বলা যায়- বানু কুরাইজা, খায়বার এসবের ওপর আক্রমন ,ইহুদিদেরকে নির্বিচারে হত্যা, তাদের ধন সম্পদ লুট-পাট, নারীদেরকে ভাগাভাগি করে নিয়ে যৌনদাসী বানান।
    -এভাবে সত্যকে বিকৃত করা যাবে না, মি ভবঘুরে। প্রকৃত তথ্য জানতে হবে-
    মক্কার কুরাইশদের একান্ত আকাঙ্খা ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ও অন্যান্য মুনাফেকদের দ্বারা মদিনাতে একটা আভ্যন্তরীণ বিপ্লব সংঘটিত করা। কিন্তু বদর যুদ্ধের পর তারা বুঝতে পারল যে, এদের দ্বারা এ ধরণের কোন কাজ সংঘটিত করার ক্ষমতা, যোগ্যতা বা বুদ্ধিমত্তা- কোনটাই নেই। উবাই কর্তৃক হতাশ হয়ে তারা মদিনার ইহুদি গোত্রের সাথে সঙ্গোপণে যোগাযোগ রক্ষা করতে লাগল। এ ছাড়া তারা মক্কার চারিদিকে তাদের দূত পাঠিয়ে বিভিন্ন গোত্রকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তুলল। এই কাজে ইহুদিরা সবচেয়ে বেশী সক্রিয় হল।
    কিছু নাজির গোত্রের লোকের উদ্দীপনায় খায়বরের ইহুদিরা মুসলমানদের ধ্বংস করার লক্ষ্যে একটি লীগ গঠনের চেষ্টা করল। তাদের চেষ্টা আশাতিরিক্ত সফল হয়েছিল। একটি প্রবল আঁতাত শীঘ্রই গড়ে উঠল। দশ সহস্য সু-নিয়ন্ত্রিত সৈন্যের একটি বাহিনী আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মদিনা অভিমুখে অগ্রসর হল। পথে কোন বাঁধা না পেয়ে তারা পঞ্চম হিজরীর শাওয়াল মাসে মদিনার কয়েক মাইলের মধ্যে আক্রমণের পক্ষে সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থানে তাঁবু স্থাপন করল।
    নিরাপত্তার জন্যে সুরক্ষিত গৃহসমূহে নারী ও শিশুদের রেখে পরিখার সম্মুখে নগরের বাইরে মুসলমানরা তাঁবু স্থাপন করল। এ সময়ে সক্রিয় সাহায্যের প্রত্যাশা না করলেও অন্যদিকের নিরাপত্তার জন্যে অন্ততঃপক্ষে তারা বনি কুরাইজা গোত্রের নিরপেক্ষতার উপর নির্ভর করেছিল।
    মদিনায় যখন সাধারণ প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়, তখন অন্যান্য শর্তাদির সঙ্গে প্রত্যেক গোত্র এই শর্তও মেনে নিয়েছিল যে, মুসলমানদের কোন শত্রুকে কোনভাবেই তারা সাহায্য সহযোগিতা করবে না এবং যদি বহিঃশত্রু কর্তৃক মদিনা প্রজাতন্ত্র আক্রান্ত হয় তবে তারা মুসলমানদের সঙ্গে স্বদেশ রক্ষায় সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। কিন্তু প্রথম থেকেই ইহুদিরা এই চুক্তি লঙ্ঘন করে আসছিল। বনি কুরাইজার এরূপ চুক্তিভঙ্গের অপরাধ পর পর ক্ষমা করা হয়।
    ওহুদ যুদ্ধের পর তারা নুতন করে মুসলমানদের সঙ্গে এই মর্মে সন্ধিচুক্তি করে যে, অতঃপর আর কখনই তারা তাদের শত্রুদের সাথে হাত মেলাবে না। এই চুক্তি স্থাপনের সুবাদে ক্ষতিপূরণ ও দন্ড ব্যতিরেকেই তাদের অপরাধ মার্জনা করা হয়।
    অতঃপর কুরাইশদের মদিনা আক্রমণের সংবাদে প্রথম সুযোগেই তারা সন্ধিপত্র ছিন্নকরে ফেলে এবং শত্রু শিবিরে যোগদান করে। তাদের চুক্তিভঙ্গের খবর মুহম্মদের কানে পৌঁছিবার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাদ বিন রিদ্দবকে পাঠিয়ে তাদেরকে অনুরোধ করলেন তাদের তাদের কর্তব্য পালন করতে ফিরে যাবার জন্যে। তারা যে উত্তর প্রদান করেছিল তা অতীব ঔদ্ধত্যপূর্ণ। ‘কে সেই মুহম্মদ, কে সেই প্রেরিত পূরুষ যাকে আমরা মানব? আমাদের ও তার মধ্যে কোন চুক্তি নেই।’
    বনি কুরাইজা গোত্রের দক্ষিণ পূর্বদিকে অনেকগুলি সুরক্ষিত দূর্গ ছিল। তারা এলাকাটির সঙ্গে সুপরিচিত ছিল এবং তারা অবরোধকারীদেরকে মদিনার দুর্বল জায়গাগুলো দেখিয়ে দেবার ব্যাপারে বাস্তবিক সাহায্য করতে পারত। তাছাড়া তারা কয়েকজন মুসলিম মহিলা ও শিশুকে হত্যা করে তার দায়ভারও গ্রহণ করল। এসব কারণে মুসলমানদের মধ্যে ভীষণ আতঙ্ক দেখা দিল। ফলে মূল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে মুসলিম বাহিনীর এক উল্লেখযোগ্য অংশকে নিজেদের মহিলা ও বালক-বালিকাদের সুবাদে আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত রাখতে হল। এতে সহজেই কুরাইশ বাহিনী পরিখা অতিক্রমপূর্বক মদিনায় প্রবেশ করে মুসলমানদেরকে নির্মূল করার সম্ভাবণা সৃষ্টি হয়েছিল।
    যাহোক কুরাইশরা ব্যর্থ হল। তারপর কি হল?
    বনি কুরাইজা গোত্র অঙ্গীকৃত চুক্তি সত্ত্বেও বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়েছিল এবং একসময়ে তাদের দিক থেকে তারা মদিনাবাসীকে প্রায় হতবাক করে ফেলেছিল- এটা এমন একটা ঘটনা যা সফল হলে মুসলমানরা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হত। কাজেই মুসলমানরা এই বিশ্বাসঘাতকতার ব্যাখ্যা দাবী করা তাদের কর্তব্য হিসেবে মনে করল। এই দাবী কুরাইজা গোত্র স্পর্ধার সাথে প্রত্যাখ্যান করল। ফলে ইহুদিদের অবরোধ করা হল এবং স্বেচছায় আত্মসমর্পন করতে বাধ্য করা হল। তারা একটি মাত্র শর্ত প্রদান করল যে, আউস গোত্রের প্রধান সা‘দ ইবনে মু‘আজের বিবেচনার উপর তাদের শাস্তি নির্ভর করতে হবে।
    সা‘দ ইবনে মু‘আজ ছিলেন দুর্ধর্ষ যোদ্ধা। পরিখা যুদ্ধে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মদিনার মসজিতুন নবীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন। ইহুদিদের প্রস্তাবে মুহম্মদ বাধ্য হয়ে সেই অবস্থাতেই তাকে আনতে লোক পাঠালেন।
    সা’দকে তার খাটিয়া শুদ্ধ বহন করে আনা হল। মুহম্মদ তাকে বললেন, ‘ইহুদিরা তোমাকে বিচারক নিযুক্ত করেছে। তুমি যে-দন্ড বিধান করবে তাই তারা মেনে নেবে। আমিও তা মেনে নিতে রাজী আছি।’
    সাদ কি তাদেরকে কোরআনের আলোকে বিচার করবে? তা করলে কি তারা মানত? সুতরাং সাদ তাওরাতের আইন অনুসারেই বিচার করল। সাদ বলল, তাওরাতে আছে-‘কোন দলের সাথে বিরোধ উপস্থিত হলে প্রথমে তাদেরকে সন্ধির জন্যে আহবান কর, যদি তারা সে আহবানে কর্ণপাত করে এবং সন্ধি করতে রাজী হয়, তবে তাদেরকে করদমিত্র রূপে গ্রহণ কর, যদি তারা তা না শুনে, তবে তাদের সাথে যুদ্ধ কর, যুদ্ধে তারা পরাজিত হলে তাদের পুরুষদেরকে হত্যা কর, স্ত্রী, পুত্র, বালক-বালিকাদের দাস-দাসীরূপে ব্যাবহার কর এবং তাদের ধন-সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নাও।’ –এই শাস্ত্র বিধান অনুসারে আমি এই রায় দিচ্ছি যে, মুসলমানদের সাথে সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করার জন্যে সমস্ত ইহুদি পুরুষদের, যারা যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল-প্রাণদন্ড হবে, স্ত্রীলোক এবং বালক-বালিকারা মুসলমানদের দাস-দাসীরূপে পরিগণিত হবে এবং তাদের সমস্ত সম্পত্তি মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হবে।’
    এই দন্ডজ্ঞা ছিল, নিঃসন্দেহে নির্মম কিন্তু সেই যুগে যুদ্ধের গৃহীত প্রথাসমূহের সঠিক প্রয়োগ। যদি সা’দের বিচার ছাড়াই তাদের প্রতি হত্যা দন্ডাজ্ঞা দেয়া হত, সেক্ষেত্রেও তৎকালীন যুদ্ধনীতির সঙ্গেও তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হত। অধিকন্তু তারা নিজেরাই সা’দকে একমাত্র সালিস ও বিচারক মনোনীত করেছিল। তারা জানত যে, তার বিচার আদৌ গৃহীত ধারণার বিপরীত নয়। কাজেই তারা কোন অনুযোগ করেনি। তারা একথাও জানত যে যদি তারা জয়ী হত তবে কোন বিবেচনা ছাড়াই তারা শত্রুনিধন করত। হযরত দাউদ অধিকতর হিংস্রতা সহকারে বিজিত অমালেকাদের সঙ্গে আচরণ করেছিলেন, তাদের কাউকে বিঁধে, কাউকে কুড়াল দ্বারা কুপিয়ে ও করাত দিয়ে চেরা হয়েছিল, আর অন্যান্যদের ইটের চুল্লিতে ঝলসিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
    মারাত্মক আহত সাদ পরদিন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। কিন্তু তার দন্ডাজ্ঞা যথাযথভাবে কার্যকরী করা হয়েছিল। এতে মুহম্মদের দোষটা কোথায়?
    আর বনি কাইনুকার ঘটনাটা এই-
    ইহুদি গোত্র বনি কাইনুকার বেশীরভাগ লোক ছিল কারিগর। তারা স্ব-ধর্মাবলম্বী লোকদের মত দেশদ্রোহী, দুর্বিনীত ও কলহপ্রিয়। তারা তাদের চরম নৈতিক শৈথিল্যের জন্যেও বিখ্যাত ছিল। একদিন এক গ্রাম্য তরুণী বাজারে দুধ বিক্রি করতে এল। ইহুদি তরুণেরা তার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করল। একজন মুসলমান পথচারী বালিকার পক্ষ গ্রহণ করলে যে দাঙ্গার সুত্রপাত হল তাতে অশ্লীল আচরণকারী নিহত হল। ফলে উপস্থিত ইহুদিরা মুসলমানটাকে হত্যা করে ফেলল।
    এই ঘটনায় উত্তেজিত মুসলমানরা অস্ত্রধারণ করল এবং এক বন্য দৃশ্যের অবতারণা ঘটল। রক্তের স্রোত প্রবাহিত হল এবং উভয়পক্ষের বহুলোক নিহত হল। দাঙ্গার প্রাথমিক খবর পেয়েই মুহম্মদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেন এবং তার শিষ্যদের উন্মত্ততা আয়ত্তে আনলেন। তিনি অবিলম্বে দেখতে পেলেন যে দেশদ্রোহ ও উচছৃঙ্খলতাকে যদি প্রশ্রয় দেয়া হয় তবে এক ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসবে। ইহুদিরা প্রকাশ্যে ও জ্ঞাতসারে চুক্তির শর্তাদি লংঘন করছে। কঠোর হস্তে এ সবের পরিসমাপ্তি ঘটান প্রয়োজন। নইলে শান্তি ও নিরাপত্তা চিরতরে বিদায় হবে। ফলে তিনি তৎক্ষণাৎ বনি কাইনুকা গোত্রের আবাসস্থলে গেলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করে তাদেরকে সুনির্দিষ্টভাবে মুসলিম কমনওয়েলথের অন্তর্ভূক্ত হতে কিম্বা মদিনা ত্যাগ করতে নির্দেশ দিলেন।
    ইহুদিরা অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় এই নির্দেশের জবাব দিল, ‘হে মুহম্মদ, তোমার লোকেরা কুরাইশদের উপর বিজয়ী হয়েছে বলে গর্বিত হইও না। যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী নয় এমন লোকদের সঙ্গেই তুমি যুদ্ধ করেছ। আমাদের সঙ্গে তুমি যদি বোঝাপড়ায় আসতে চাও, তবে আমরা তোমাকে দেখিয়ে দেব আমরা কেমন বাপের ব্যাটা।’
    তারা তাদের দূর্গে আশ্রয় নিল এবং মুহম্মদের নির্দেশ অগ্রাহ্য করল।
    বনি কাইনুকাদেরকে দমন করা একটি অপরিহার্য কর্তব্য ছিল। তাই কালবিলম্ব না করে দূর্গ অবরোধ করা হল। কয়েকদিনের মধ্যেই ইহুদিরা বুঝতে পারল এই মোকাবেলা তাদের জন্যে ফলপ্রসূ হবে না। পনের দিন পরে তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিল এবং দুর্গের ফটক খুলে দিল। অতঃপর তারা মুহম্মদকে বলল- ‘হে রসূল আল্লাহ! আপনি আমাদের সম্পর্কে যে সিদ্ধান্ত নেবেন আমরা তাতেই সম্মত আছি।’
    প্রথমে তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে বলে মনস্থ করা হয়েছিল কিন্তু মুহম্মদের চরিত্রের কোমলতা বিচারের অনিবার্য রায় জয় করল এবং কাইনুকা গোত্রের লোকদেরকে শুধুমাত্র নির্বাসিত করা হল।মুহম্মদের কোন দোষ দেখা যায় কি?
    বনি নাজির: বনি কাইনুকা গোত্র যেরূপ করেছিল বনি নাজির গোত্র ঠিক একই অবস্থায় নিজেদের স্থাপন করল। তারা সম্পাদিত চুক্তি বহির্ভূত কাজে লিপ্ত হল।
    বনি নাজির গোত্রের কিছু ইহুদি মুহম্মদ সমীপে হাজির হয়ে বলল, ‘আপনি আমাদেরকে ইসলামের পথে আহবান করছেন-অথচ ধর্ম নিয়েই আমাদের ও আপনাদের মাঝে যত বিরোধ। আমরা একটা সমাধানে উপনীত হতে চাই। সুতরাং আপনি কয়েকজন সাহাবীসহ আমাদের মহল্লায় আসুন, আমরাও কয়েকজন আলেম নির্বাচন করি। আপনি তাদের সাথে কথাবার্তা বলুন। যদি তারা আপনার প্রচারিত ইসলামের সত্যতা উপলব্ধি করতে পারেন, তাহলে ইসলাম গ্রহণে আমাদের আর কোন আপত্তি থাকবে না।’
    ইতিমধ্যে বনি কুরাইজা গোত্র মুসলমানদের সঙ্গে নুতন করে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হয়েছিল। মুহম্মদ বনি নাজিরকেও তদ্রুপ সন্ধিতে আবদ্ধ করতে চাইলেন। সুতরাং তিনি বললেন, ‘লিখিত ওয়াদা না দিলে আমরা তোমাদের মুখের কথায় বিশ্বাস করতে পারি না।’
    তারা বলল, ‘আমাদের মধ্যে মতভেদ কেবল ধর্ম নিয়ে। সুতরাং এ ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারলে আমাদের মাঝে কোন বিরোধ অবশিষ্ট থাকে না। আমরা বিলক্ষণ ইসলাম গ্রহণ করব। সুতরাং কথিত সন্ধিপত্রের কোন প্রয়োজনীয়তা অবশিষ্ট থাকবে না।
    বনি নাজির গোত্র মুহম্মদকে হত্যার এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়েছিল। তারা পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে, তাদের আলেমরা পোষাকের মধ্যে অস্ত্র লুকিয়ে রাখবে এবং মুহম্মদের আগমনের পর প্রথম সুযোগেই তারা তাকে হত্যা করবে। কিন্তু তাদের এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে মুহম্মদ কিছুমাত্র অবহিত ছিলেন না। সুতরাং তিনি তাদের এই প্রস্তাবে সম্মতি দিলেন।
    নির্দিষ্ট দিনে মুহম্মদ দু‘জন সাহাবীসহ বনি নাজিরদের মহল্লার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। যেহেতু ধর্ম নিয়ে আলোচনা সুতরাং কেউই সাথে আত্মরক্ষার জন্যে অস্ত্র নেয়া জরুরী মনে করলেন না। তারা কিছুদূর অগ্রসর হতে না হতেই পশ্চাৎদিক থেকে জনৈক আনসার ছুটতে ছুটতে এসে তাদের গতিরোধ করলেন এবং তৎক্ষণাৎ ইহুদিদের ষড়যন্ত্রের বিষযটি অবহিত করলেন।
    মদিনার আওস ও খাজরাজ বংশ এবং ইহুদিদের মধ্যে বিবাহ প্রথা প্রচলিত ছিল। এই সূত্রে এই আনসার ভগ্নির, বনি নাজির গোত্রের এক বিশিষ্ট ইহুদির সাথে বিবাহ হয়েছিল। সে মুহম্মদকে হত্যা প্রচেষ্টার ঐ ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরে গোপনে তার ভ্রাতাকে সবকিছু জানিয়ে দিয়েছিল।
    সমস্ত ঘটনা জানার পর মুহম্মদ আর কালক্ষেপন করা সমীচীন মনে করলেন না। তিনি অনতিবিলম্বে দূত মারফত নাজির গোত্রকে বলে পাঠালেন- ‘তোমাদের সর্বপ্রকার ষড়যন্ত্র আর দুরভিসন্ধি সম্পর্কে আমরা সম্যক অবগত। দেশে বিরাজমান শান্তি-শৃঙ্খলা এবং জনগণের ধন-প্রাণ, মান-সম্ভ্রম বিপন্ন ও বিনষ্ট করার প্রচেষ্টার হেন পথ নেই যা তোমরা গ্রহণ করনি। আমরা পুনঃপুনঃ সন্ধির প্রস্তাব করা সত্ত্বেও তোমরা আমাদের প্রস্তাবের প্রতি কর্ণপাত করা প্রয়োজন অনুভব করনি।
    -সুতরাং দেশ ও জনগণের স্বার্থে তোমাদেরকে মদিনায় অবস্থান করতে দেয়া আর সম্ভব নয়। তোমরা অনতিবিলম্বে মদিনা ত্যাগ করে তোমাদের পছন্দমত স্থানে চলে যাও।’
    মুহম্মদ নজির বিহীন উদারতা দেখিয়ে তাদেরকে দশদিন সময় মঞ্জুর করেছিলেন, যাতে এই হতভাগারা ধীরে-সুস্থ্যে শান্তভাবে অন্যত্র যাবার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারে।
    বনি নাজির গোত্র মদিনা ত্যাগ করে চলে যেতে সম্মত ছিল। কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই তাদেরকে বাঁধা দিলেন। তিনি বললেন, ‘তোমরা এখানেই থাক, অন্যত্র যাবার প্রয়োজন নেই। আমার অধীনে দু‘হাজার যোদ্ধার একটি বাহিনী আছে। প্রয়োজনে তারা প্রাণ দেবে, কিন্তু তোমাদের গায়ে একটি আঁচড়ও লাগতে দেবে না।’
    তখন বনি নাজিররা উবাইয়ের সমর্থনের উপর নির্ভর করে মুহম্মদকে একটা উদ্ধত উত্তর প্রদান করল। তারা তার আশ্বাসে প্ররোচিত হয়ে বলে পাঠাল-‘আমরা কোথাও যাব না। আপনি যা করতে পারেন করেন।’
    সুতরাং মুহম্মদ এক বাহিনী নিয়ে তাদেরকে চতুর্দিক থেকে অবরোধ করলেন। এতে তারা দুর্গের ফটক বন্ধ করে বসে রইল। আর আশা করতে লাগল আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের দু‘হাজার সৈন্যের সাহায্য, মদিনার বনি কুরাইজার এবং অন্যান্য ইহুদি গোত্রের সাহায্য অবিলম্বে এসে যাবে। সুতরাং তাদেরকে আর দেশত্যাগ করতে হবে না। কিন্তু তাদের এ আশা যে দূরাশায় পরিণত হতে পারে তা তাদের মনে একবারও উদয় হয়নি।
    মুহম্মদ অতি ক্ষিপ্রতার সঙ্গে বনি নাজিরদের দূর্গ ঘেরাও করেছিলেন। এতে মুনাফেকরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে চুপসে গিয়েছিল। একে তারা স্বভাবগত ভীতু তদুপরি দলবদ্ধ হবার অবকাশ পায়নি। অন্যদিকে ইহুদি গোত্র বনি কুরাইজার পক্ষে বনি নাজিরদেরকে কোন সাহায্য করার সুযোগ অবশিষ্ট ছিল না। কেননা তারা মাত্র কয়েকদিন পূর্বে মুহম্মদের সাথে নুতন করে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হয়েছিল। সুতরাং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বজাতিকে সাহায্য করার সাহস তারা করেনি।
    আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের ও বনি কুরাইজা গোত্রের অঙ্গীকৃত সাহায্যের ব্যাপারে হতাশ হয়ে অবরোধের পনের দিন পর বনি নাজিররা অবশেষে সন্ধির জন্যে আবেদন জানাল।
    পূর্বের প্রস্তাব পুনরুজ্জীবিত করা হল, আর বনি নাজিররাও তাদের আবাসস্থল পরিত্যাগ করতে সম্মত হল। অস্ত্র-শস্ত্র ব্যতিত অন্যান্য যাবতীয় অস্থাবর সম্পত্তি সঙ্গে নিয়ে যাবার অনুমতি তাদেরকে দেয়া হল। পরিত্যাগ করার সময় তারা তাদের বাসগৃহসমূহ ধ্বংস করে ফেলল, যেন সেগুলি মুসলমানরা অধিকার ও ভোগ করতে না পারে।
    মুহম্মদের আগমনপূর্ব মদিনায় যেসব স্ত্রীলোকের সন্তান বাঁচত না তারা মানত করত, যদি তাদের সন্তান বেঁচে থাকে তবে তাদেরকে ইহুদিধর্মে দীক্ষিত করবে। প্রচলিত এই প্রথার কারণে আনসারদের অনেক সন্তানই ইহুদি সমাজভূক্ত হয়ে পড়েছিল। বনি নাজির গোত্রের নির্বাসনকালে আনসার সম্প্রদায় তাদের এসব সন্তানদের মদিনা ত্যাগ করতে দিতে রাজী হল না। এতে ইহুদিরা বলল, ‘এরা তোমাদের সন্তান হলেও আমাদের সমাজভূক্ত। সুতরাং আমরা এদেরকে ছেড়ে যাব না।’
    এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত নাযিল হল- দ্বীন সম্পর্কে কোন জবরদস্তি নেই, সত্যপথ ও বিপথের মধ্রে সত্যপথ দেদীপ্যমান হয়ে উঠেছে।(২:২৫৬)
    -এই আয়াত নাযিল হবার পর মুহম্মদ ঘোষণা করলেন, ‘মৃতবৎসা স্ত্রীলোকদের মানতের ফলে ইহুদি সমাজভূক্তরা সে সমাজে থাকা না থাকার ব্যাপারে স্বাধীন মতামতের অধিকারী।’
    এরফলে ঐসব সন্তানেরা মদিনা ত্যাগ বা থেকে যাবার অধিকার প্রাপ্ত হয়।
    বনি নাজিররা মদিনা ত্যাগ করে চলে গেল। ৪র্থ হিজরীর রবিউল আওয়াল মাসে এই নির্বাসন কার্যকরী হয়েছিল। এতেও কি মুহম্মদের কোন দোষ দেখা যায়?

    অমুসলিমরা হলো হলো নীচ, অপদস্থ ও হীন আর তাদেরকে সম্মান করার কোন দরকার নেই। রাস্তায় যদি কোন ইহুদি বা খৃষ্টানের সাথে দেখা হয় তার জন্য রাস্তা ছেড়ে দেয়ার কোন দরকার নেই বরং তারাই রাস্তার পাশ দিয়ে চলে যাবে।

    -- – এটা তো অবশ্যই সত্য। যে ধর্ম দুনিয়ার প্রথম মানব আদম পালন করেছে, যে ধর্ম নূহের, যে ধর্ম আব্রাহামের, যে ধর্ম যাকোবের, যে ধর্ম মোজেসের, যে ধর্ম ডেভিডের, যে ধর্ম শালোমনের, যে ধর্ম এলির, যে ধর্ম জেসাসের অবশ্যই সেই ধর্মের লোকেরা সর্বাধিক সম্মানিত এ দুনিয়ায় এবং পরকালে। সেই ধর্মই ইসলাম এবং মুহম্মদের। প্রমাণ চান?
    জিজিয়া নিয়ে মিথ্যে আরোপ করছেন কেন? প্রকৃত তথ্য কি?
    Jizya Tax-It’s a poll tax demanded from the non Muslim subjects for residing independent and secure in an Islamic Republic. And this tax fixed for Najranian was- Annual two thousand pairs of clothes. One lungi and a sheet of clothe is a pair and the price of each pair fixed as one ukiya (one ukiya equal to 40 dirhams, or 11.5 gms of silver).
    Jizya tax applied especially to followers of Judaism, Christianity, and Zoroastrianism, who were tolerated in the practice of their religion because they were “peoples of the Scripture”. Polytheists of Arabia were not included, never a Jizya have been taken from them.
    The Jizya tax originally intended to be used for charitable purposes. The revenues were paid into the private treasuries of rulers. The Ottoman Sultans used the proceeds to pay military expenses.
    Qur’an not fixed any rates for Jizya. It depends on the kind consideration of the ruler. In this regard, the direction of Muhammad was- ‘the man who will torture a non Muslim imposing a burden beyond his capacity, on the day of Judgement I will take the side of the non Muslim. And surely he will be loser against whom I will stand.’
    According to this direction, Calipha Omar fixed Jizya during his period as- for rich 4 (four) dirham/month, for middle class 2 (two) dirham/month and for lower class 1(one) dirham/month (1 dirham equal to 3.5 masha of silver). The jizya was levied on men who had reached their majority; women, children, old men, slaves, poor people, and monks were exempted.
    সব শেষে বলি- মি ভবঘুরে আহেতুক একজনের চরিত্র নিয়ে টানাটানি করছেন কেন তথ্যের বিকৃত ব্যাখ্যা করে? আপনার নিজের চরিত্রটা একটু ভেবে দেখেছেন? আর হাদিস নিয়ে ফালতু বাড়াবাড়ি করে মানুষের মূল্যবান সময় অপচয় কেন করছেন আপনি? হাদিস সম্পূর্ণ নির্ভুল এটা কোন মুসলমানই বিশ্বাস করেনা। আর বুখারী নির্ভুলতার দিক দিয়ে অন্যদের উপরে এটা ঠিক, তদুপরি তার সংকলিত সকল হাদিসই নির্ভুল এটাও কোন মুসলিম বিশ্বাস করে না। সুতরাং কোন হাদিস দিয়ে আর্টিকেল লেখার পূর্বে হাদিসটি কখন, কি কারণে, ৪জন বিশিষ্ট সাহাবীর উপস্থিতে বলা হয়েছে কিনা তা বিবেচনায় অনতে হবে। আরও অনেক কিছু বলার ছিল যা আপনি পাঠকদের মন্তব্যে

  2. 26
    মহিউদ্দিন

    ATTN: Admin.
    এম আহমেদ ভাইয়ের মন্তব্যের পর এ পোষ্টে আর মন্তব্য দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। তাই মন্তব্য বন্ধ করার অনুরোধ করব।
    সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ মন্তব্যে করার জন্য। 

  3. 25
    ফুয়াদ দীনহীন

    @আব্দুল হক, ইমরান আউলিয়া, শাহবাজ নজরুল,
    আপনাদের বিতর্ক থেকে অনেক কিছু শিখার আছে, তাই পাঠকের সহজে ফল করার কথা বিবেচনা করে যদি পোস্ট আকারে আপনাদের কথা গুলি দিতেন তাহলে ভাল হত। সদালাপে লেখা পোস্ট করতে 
    "প্রথম লেখাটি সরাসরি editor.shodalap.org@gmail.com বরাবর ই-মেইল করে ওয়ার্ড অথবা টেক্সট হিসেবে (টেক্সট হিসাবে পাঠালে ছবিগুলি আলাদা এটাচমেন্ট হিসাবে দিতে হবে) পাঠিয়ে দিন। পরবর্তীতে লেখা প্রকাশে কোনরূপ সমস্যা হলে এডিটরকে একই ই-মেইলে লেখাটি পাঠিয়ে দিন।"

  4. 24
    এম_আহমদ

     
    @ আব্চদুল হক
     
    চলে গিয়েও যেন আপনার মন্তব্য এড়িয়ে যেতে পারছি না, আবার কিছু constraints নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আপনার উত্তর দিতে এসেছি।
     
    ১) আপনার কথা শুরু করেছেন এই বলে, ‘প্রোপাগান্ডা ও প্রতারণাতে আপনারাই কিন্তু চ্যাম্পিয়ন। উদাহরণ- পরবর্তীতে মদিনায় নাজিলকৃত জিহাদী আয়াত সমূহ (৯:০৫, ৯:২৯) দ্বারা  পূর্বোক্ত শান্তির আয়াত সমূহ (২:২৫৬, ৮৮:২১, ১০৯:০৬ ইত্যাদি) বাতিল হয়ে গেছে।’ এর পরে যতসব কথা বলেছেন সেই কথাগুলোতে ‘নাসখের’ কোন সম্পর্ক নেই। তাই সেদিকে নিরর্থক যাব না।
     
    এই বিষয়টি আপনি সামান্য বুঝতে পেরেছেন বলেও মনে হয়না। আপনি ইতিপূর্বে ফারুকের ব্লগে আরেকবার এসেছিলেন। এই একই কথা নিয়ে: মাদানী আয়াত মাক্কী আয়াতকে ‘রহিত’ করেছে। তখন আপনার এই থিসিসকে খুব সম্ভব ‘মূর্খ’ বলেছিলাম। আসলে হয় কি, কোন মানুষ যখন ‘আজগুবি’ কথা বলতে শুরু করে এবং তা নিয়ে বিতর্ক শুরু করে তখনই ‘শূন্য কলসি, অজ্ঞ-মূর্খ ইত্যাদি কথার ছড়াছড়ি শুরু হয়ে যায়। এধরণের শব্দ ব্যবহার করতে নিজের দারুণ খারাপ লাগে। কিন্তু কি করার? এখন আমি চাইব যে আপনি এই প্রসঙ্গে জ্ঞান-গর্ব কথা বলুন। তখন দেখবেন, আমরাও কথার প্রকৃতি পালটাচ্ছি। আপনার কথা যদি দালিলিক হয় এবং আমরা যদি তা মানতে নাও পারি, তবে আপনার প্রতি সম্মান দেখাতে পিছপা হব কেন? মূল কথা হচ্ছে আপনার মূল-থিসিস যদি সঠিক হয়, তাহলে বাদবাকি অন্যান্য কথা সম্পূর্ণ হোক অথবা আংশিক কিছু সত্য হতে পারে।
     
    ২) আপনার থিসিস বাক্য প্রমাণের পরে আসবে ‘মদিনায় নাজিলকৃত জিহাদী আয়াত সমূহ ৯:০৫, ৯:২৯ দ্বারা  পূর্বোক্ত শান্তির আয়াত সমূহ (২:২৫৬, ৮৮:২১, ১০৯:০৬ ইত্যাদি) বাতিল হয়ে গেছে’। কেননা এটা হচ্ছে সেই একই গানের অন্তরা। ‘আস্থায়ী’ (স্থায়ী) যেখানে অশুদ্ধ, তারপর বেসূরার যখন বার বার চাপ পড়ছে তখন আপনার গান কে শুনবে?
     
    ৩) আপনাকে ‘নাসখের’ ব্যাপার মুসলিম স্কলারদের কাছ থেকে পেতে হবে। ইসলাম বিদ্বেষী তথাকথিত মুক্তমনা বা ইসলাম বিদ্বেষী খৃষ্টীয়ানদের কাছ থেকে পেলে হলে হবে না। আমি হিন্দুইজম বুঝতে হলে হিন্দুইজমে যেতে হবে। হিন্দু-বিদ্বেষী কোন মুসলিমের কাছ থেকে সবক নিলে চলবে না। আপনি কোরান/হাদিসের আলোকে এবং সেই স্কলারদের কাছ থেকে পাওয়া উদ্ধৃতি দিয়ে প্রথম অংশ প্রমাণ করার পর আপনার দ্বিতীয় অংশ প্রমাণ করতে পারবেন।
     
    ৪) আপনি শুরু করতে পারেন ‘নখস’ বলতে কি বুঝেন, তা দিয়ে। শব্দের অর্থ ও ব্যবহার, কোরানে এর অর্থ ও ব্যবহার, তারপর আপনার বুঝের পক্ষের স্কলাররা কারা ইত্যাদি দিয়ে।  তারপর অবশ্যই স্কলারদের পুস্তকের নাম-নিধা আসতে হবে পৃষ্ঠাসহ, কেননা আমরা এখন তাথ্যিক ও তাত্ত্বিক আলোচনায় যাচ্ছি। তবে কেন যেন আমার মনে হয় আপনি এগুলো করতে পারবেন না। তবে করে দেখাতে পারেন। এতে আপনার ব্যাপারে আমার ধারণা উন্নত হবে। 
     
    আর আমি এটাও বলি যে ‘নাসখের’ উপর আমিও একটা প্রবন্ধ লিখব –ইনশাল্লাহ। এখানে থাকি না থাকি –তা নির্বিশেষে এখানে তা প্রকাশ করব। তারপর আমরা একাডেমিক আলোচনায় যেতে পারব। উৎসের বিষয় আলোচনা হতে পারে, কোরান হাদিস বিশ্লেষণ কেন্দ্রিক হতে পারে, বিষয়ের ঐতিহাসিকতা হতে পারে। আপনার সূত্র এবং আমার সূত্রের তুলনামূলক আলোচনা হতে পারে। ইসলাম কারো নাক-ভেঙ্গে দিলে অথবা কারো উপর জিজিয়া প্রবর্তন করলেই –তার সাথে ‘নসখ’ সম্পর্কিত হয়ে পড়ে না।
     
    আজ আমার শরীর খারাপ –সর্দি ও জ্বর। তাই আমার প্রবন্ধ লিখতে কয়েকদিন লাগবে –এতে আপনার লাভ হল। আপনার তথ্য তো  আপনার হাতেই। সুতরাং উত্তর দিতে শুরু করেন। বিসমিল্লাহ। (আবার মনে করিয়ে দেই, আলোচনা কিন্তু ‘নাসখের’ উপর সারা বিশ্ব জগত এখন ঘুরতে যাব না)

    1. 24.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      @এম আহমদ,
       
      আমি এটাও বলি যে ‘নাসখের’ উপর আমিও একটা প্রবন্ধ লিখব –ইনশাল্লাহ। এখানে থাকি না থাকি –তা নির্বিশেষে এখানে তা প্রকাশ করব। তারপর আমরা একাডেমিক আলোচনায় যেতে পারব। উৎসের বিষয় আলোচনা হতে পারে, কোরান হাদিস বিশ্লেষণ কেন্দ্রিক হতে পারে, বিষয়ের ঐতিহাসিকতা হতে পারে। আপনার সূত্র এবং আমার সূত্রের তুলনামূলক আলোচনা হতে পারে। ইসলাম কারো নাক-ভেঙ্গে দিলে অথবা কারো উপর জিজিয়া প্রবর্তন করলেই –তার সাথে ‘নসখ’ সম্পর্কিত হয়ে পড়ে না।-এম আহমদ
      -অপেক্ষায় থাকলাম। 

  5. 23
    আব্দুল হক

    341. Waqidi, Maghazi, III, 989-92, 1019, states that the Prophet had received the news that the Byzantines were gathering troops and threatening to attack Medina. After reaching Tabuk, the Prophet discovered that the information he had received was exaggerated and decided to return to Medina. Cf. Baladhuri, Ansab, I, 368.
    দেখুন আপনার দেয়া সুত্রেই বলছে যে রোমানরা যে মদিনা বা মক্কা আক্রমন করতে চাইছিল সে খবরটা ছিল অতি রঞ্জিত। অর্থাৎ সত্য নয়। তা্ই না ? আর সেকারনেই মুসলমান বাহিনী যুদ্ধ না করেই ফিরে আসে। রোমান বা পারস্য কোনদিন মক্কা মদিনা আক্রমন করার চিন্তা করে নি কারন সেখানে কিছু দুম্বা ও উট ছাড়া আর কিছু ছিল না। মরুভূমির কঠিন রাস্তা পাড়ি দিয়ে কেউ উট দুম্বা দখল করতে আসবে না। বরং তৎকালীন হত দরিদ্র আরবরাই নব বলে বলিয়ান হয়ে অন্যের সম্পদ লুট করে তা গণিমতের মাল হিসাবে ভোগ দখল করার জন্যেই ইসলাম গ্রহন করে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ত।  আর তারা যে শুধুসাত্র অন্যের সম্পদ দখল করে তা ভোগ করার জন্য এধরনের জিহাদ নামক যুদ্ধে জানবাজি লড়াইয়ে ঝাপিয়ে পড়ত এধরনের অনেক হাদিস আছে।

  6. 22
    শাহবাজ নজরুল

    @আব্দুল হক,

    রাহীক আল মাখতুম সমসাময়িক কালে লিখিত সীরাতের সবচাইতে অথেন্টিক বই। সারা পৃথিবীর সীরাত লেখকদের 'সীরাত কম্পিটিশনে' ১৯৭৬ সালের প্রতিযোগিতায় বইটি প্রথম স্থান অধিকার করে। অতএব এই বইটির অথেন্টিসিটি নিয়ে মুসলিম সমাজে কোনো দ্বিমত নেই। আর বইটির সুত্রগুলো প্রাচীন সীরাতের বরাত দিয়েই লেখা। বইটি উলটে পালটে পড়ে দেখেন ওখানে আপনার দেয়া সব সুত্রগুলো আছে কিনা।

    এর পরে আসেন সঙ্গত যুক্তির প্রশ্নে। আশা করছি আপনি মুতার যুদ্ধ যে খৃষ্টানরা শুরু করেছে তা নিয়ে দ্বি-মত প্রকাশ করছেন না। করার কারণও নেই, এ নিয়ে দ্বিমতের বিবরণ কোনো ক্লাসিক্যাল সুত্রে নেই। সেই অর্থে, তাবুকের যুদ্ধে যদি আপনার কথা মতোই কেবল জিজিয়া নিতেও মুসলিমরা বার হয় বলে ধরেও নেই, তাতেও আমি তাদের দোষ দেখিনা। যেহেতু Christians Asked for a WAR and they got the WAR.

    কিন্তু তার পরেও বাস্তবতা এই যে আপনার ব্যাখ্যা মতো কেবল জিজিয়ার উদ্দ্যেশ্যে তাবুকে যাত্রা করা হয়েছিল এমন কোনো বিবরণ কোথাও পাওয়া যায়না। ইবন কাথিরের যে বর্ণনা ৯.২৯ এর সাপেক্ষে আপনি দিলেন তাতে কোনো ভাবে নিশ্চিত হয়ে বলা যায়না যে এটা আগ্রাসী যুদ্ধ। বিবরণ  আপনার আগের কমেন্ট থেকেই তুলে দিলাম।

    পৌত্তলিকরা যখন পরাজিত হলো তখন বিপুল সংখ্যক লোক ইসলামের পতাকা তলে আসল ও আরব উপদ্বীপ ইসলামের অধীন হলো। অত:পর আল্লাহ আহলে কিতাবীদের বিরুদ্ধে ৯ম হিজরিতে যুদ্ধের হুকুম দিলেন ( ৯:২৯) এবং সেমত নবী রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য একটা বিশাল সৈন্যদল গঠন করলেন এবং এটাকে জিহাদ আখ্যায়িত করে কোথায় যুদ্ধে যেতে হবে সেটাও নির্দেশ করলেন। মদিনা ও তার আশপাশ থেকে নবী ৩০ হাজারের মত্ সৈন্য একত্রিত করলেন অত:পর তাদেরকে নিয়ে রোমানদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য শ্যম দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।

    এই ব্যাখ্যা থেকে আপনি কীভাবে শিওর হলেন যে এখানে ঘটনার পুরোটা দেয়া আছে। আমার দেয়া সীরাতের লিঙ্কে গিয়ে পড়ে দেখেন শেষদিকে এভাবে লেখা আছে,

    On Thursday, the Messenger of Allâh (peace be upon him) marched northwards to Tabuk. The army that numbered thirty thousand fighters was a great one, when compared with the previous armies of Islam. Muslims had never marched with such a great number before.

    ইবন কাথির আর রাহীক আল মাখতুমের বর্ণনায় যুদ্ধ যাত্রা শুরুর ব্যাপারে তো হেরফের দেখছিনা। বর্ণনা তো একই রকমের। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু করার আগের অংশটুকু তো ইবন কাথিরে নাই। ইবন কাথির তো তাফসিরের বই। ওখানে সীরাতের পুরো বিবরণ থাকবে তা ধরে নেয়া যুক্তিযুক্তও নয়। পুরো ঘটনার বিবরণ থাকবে সীরাতের বইগুলোতে। আর সব সীরাতের বইতেই (হিশাম, তাবারী, ওয়াকিদি), খৃষ্টান সৈন্যদলের জমায়েতের খবর পাবার পরেই রাসুল (সা.) এর শাম অঞ্চলে যাবার প্রস্তুতির কথা বলা আছে। এখন আপনি যদি আগের খবরটুকু বাদ দিয়ে কেবল পরের অংশ বলে নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা দেন, তাহলে আমার আর বলা কিছু নাই।
     

    আমি তাবারীতে দেখালাম ঘটনার বিবরণ দেয়া আছে। সুত্র হিসেবে ওয়াকিদির রেফারেন্স দেয়া আছে-
     

    341. Waqidi, Maghazi, III, 989-92, 1019, states that the Prophet had received the news that the Byzantines were gathering troops and threatening to attack Medina. After reaching Tabuk, the Prophet discovered that the information he had received was exaggerated and decided to return to Medina. Cf. Baladhuri, Ansab, I, 368.

     

    দেখুন তারিখ আত-তাবারী, খন্ড ৯
     
    এর পরেও রাহীক আল মাখতুমে বোখারীর দুটো হাদীস দেয়া আছে দেখেন, যেখানে মদিনাবাসী কীভাবে ভীত সন্ত্রস্ত ছিল, এই বুঝি বাইজেন্টাইন ও ঘাসিনিদ গোত্র মদিনা আক্রমন করে বসলো বলে। বোখারীর হাদীস দুটো পড়েন আর একটু মাথা খাটান।  
     

    উপসংহার
     
    ১. ইবন কাথিরের বর্ণনা সঠিক, প্রাচীন সব সীরাতের ব্যাখ্যার সাথে ইবন কাথিরের বর্ণনার পার্থক্য নেই। তবে ইবন কাথিরে তাবুকের ঘটনা পুরোটা নেই। শামে যাবার আগের কাহিনী কম-বেশী সব সীরাতের বইতেই দেয়া আছে, আর তা হচ্ছে, বাইজেন্টাইন শক্তি মদিনা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবর পাওয়া -- যেটা ইবন কাথিরে মিসিং। এই মিসিং অংশেই আপনি আপনার মনগড়া ব্যাখ্যা ঢুকিয়েছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

    ২. বাইজেন্টাইন শক্তির মদিনা আক্রমণের বিষয়টি বোখারীর হাসীসেও এসেছে। ওখানে দেখা যাচ্ছে আক্রমণের ভয়ে মদিনাবাসী ভীত সন্ত্রস্ত রাত কাটাতো।

    ৩. উপরে তাবারীর বর্ণনার অংশ দিলাম। ওয়াকিদি দেখার সময় হয়নাই। তবে আমার ধারণা ওয়াকিদিতে মোটামুটি হুবহু রাহীক আল মাখতুমের বর্ণনার মতোই বর্ণনা আছে। আমি বাংলা সীরাত বই ‘মোস্তফা চরিতেও’ একই বিবরণ দেখেছি।

     
    তাই বাইজেন্টাইন শক্তির জমায়েত হবার খবরেই যে তাবুক যুদ্ধের কারণ তা নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। বিচারের ভার পাঠকের।
     

  7. 21
    আব্দুল হক

    আউলিয়া
     
    ছাগলামি করার যায়গা পান না , তাই না ? যা বলার বহু ব্যখ্যা যথাযথ রেফারেন্স সহ দিয়েছি। আর তা দিয়ে অকাট্য ভাবে প্রমান হয়ে গেছে যে আপনার শান্তির আয়াত বর্তমানে বাতিল যে কারনে জিহাদীরা এখন মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। একই ব্যখ্যা আবার শুরু করব ? ভালমতো আমার ব্যখ্যা পড়েন। এই বুদ্ধি নিয়ে আসছেন আমার সাথে ফাইট দিতে। এতই যদি বুদ্ধোমান আপনারা মোচলমান জাতির এ অধ:পতন কেন? কেন তারা সব দিক দিয়ে অমুসলিমদের থেকে হাজার বছর পিছিয়ে ? আপনার মত বুদ্ধোমান থাকতে ?

    1. 21.1
      আহমেদ শরীফ

      অন্যকে ছাগল ডাকার আগে অন্ততঃ নিজেকে গরু হিসেবে প্রমাণ না করার অনুরোধ জানাচ্ছি। এই বয়েসে সাধারণ বানানগুলোতে হাস্যকর ভুলগুলো কুৎসিতভাবে দৃষ্টিকটু।

      আমরাই যদি মুসলমান হই তাহলে আপনি নিশ্চয়ই বিধর্মী না হলে 'আপনারা' বলবেন কেন ! সনাতনধর্মী বা বড়ুয়া যাই হন না কেন স্বনামে আসুন। নাকি নিজধর্মের পরিচয় দিতে লজ্জা লাগছে ? লজ্জা লাগলে এ্যবস্ট্র্যাক্ট কোন নাম ব্যবহার করুন। বিধর্মী হয়ে মুসলিম নাম নিয়ে এই ধরণের ধোঁকাবাজি করে নিজেকে এবং নিজের গোত্রের মেরুদন্ডহীন-নিবীর্য-কাপুরুষ শ্রেণীচরিত্রের নগ্ন প্রদর্শনী আর নতুনভাবে না করলেই কি নয় ?

  8. 20
    আব্দুল হক

    ইমরান আউলিয়া,
     
    সুতরাং দুই নাম্বার কেইসেও আমরা দেখাইতে পারলাম যে ২:২৫৬ আয়াত কুনো অবস্তাতেই এ্যাব্রোগেটেড হয়নাই। (প্রমাণিত)।
    তাই নাকি ? তো নবী মক্কা মদিনাতে কি রাজ্য স্থাপন করেছিলেন আর তার পর চার খলিফা কি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আর অত:পর সেখানে খৃষ্টান ও ইহুদিদের কি হাল হয়েছিল , বলা যাবে ? কেন মক্কা ও মদিনার আশ পাশের সকল ইহুদিদেরকে তাদের শত শত বছরের বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সেটা কি খুব শান্তিপূর্ণ ব্যপার ছিল ? আহা হা , আপনারা ধর্মের নামে জোর জুলুম চুরি ডাকাতি নারী ধর্ষন সব কিছু করলে সেসব হয়  শান্তি, আর অমুসলিমরা তার পাল্টা প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করলে সেটা হয় অত্যাচার, আহা হা . শান্তির কি নমূনা ! ভন্ডামি যে করেন সেটাও বোঝার মত বুদ্ধি মাথায় নেই। এই যে , হামাশ বিনা উস্কানিতে  ক্রমাগত রকেট ছুড়ছিল ইসরাইলের দিকে , তখন মুসলমানরা সবাই চুপ চাপ ছিল, বলা বাহুল্য সেটা ছিল মহা শান্তি। যেই ইসরাইল পাল্টা হামলা চালাল সেই সবাই অন্যায় আক্রমন বলে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছে। একেই বলে শান্তির ধর্ম আর মহা শান্তি প্রতিষ্ঠা। 
    এখন বলবেন ইসরাইল একটা অবৈধ দেশ তাই না ? কিন্তু কোরান তা বলে না, দেখবেন কোরান কি বলে ? তাহলে দেখুন-
    তারপর আমি বনী ইসলাঈলকে বললামঃ এ দেশে তোমরা বসবাস কর। অতঃপর যখন পরকালের ওয়াদা বাস্তবায়িত হবে, তখন তোমাদের কে জড়ো করে নিয়ে উপস্থিত হব। কোরান ১৭:১০৪
    এর পর যদি কোন কারন বশত: ইহুদিরা সেখান থেকে উচ্ছেদ হয়ে যায় তাহলে তা অন্যের হয়ে যাবে না, কারন যা খোদ আল্লাই তাদেরকে দিয়েছে তা কেউ কেড়ে নিতে পারে না , কি বলেন ? বহুদিন তারা সেখান থেকে উচ্ছেদ অবস্থায় ছিল অবশেষে আল্লাহর ইচ্ছায় ১৯৪৮ সালে সেখানে জড় হয়ে ইসরাইল রাষ্ট্রের পত্তন ঘটিয়েছে। এতে তারা যবরদস্তি কি করল? তারা তো আল্লাহর ইচ্ছাটাকেই পূর্ণ করল। এখন কোন দিকে যাবেন , ইসরাইল অবৈধ বললে আপনি কিভাবে মুসলমান থাকবেন কারন তখন আপনি আল্লাহর আদেশ অমান্য করছেন। আর যদি বৈধ বলেন তাহলে কিভাবে আপনি হামাসদের সাপোর্ট করতে পারেন যারা বিনা উস্কানিতে ইসরাইলের ওপর রকেট ছুড়ছিল ?
     
     

    1. 20.1
      ইমরান আউলিয়া

      আব্দুল হক
      আমার মন্তব্যের মেইন পার্ট ছিল এইরাম:

      কেস নং-১:
      ইসলামী রাষ্ট্র হয় নাই।
      সুতরাং, কোনো জিযিয়া দেবার প্রশ্নই নাই। এবং ৯:২৯ নং আয়াত প্রযোজ্য নয়, এবং সন্দেহাতীতভাবে ২:২৫৬ এ্যাব্রোগেটেড হয় নাই। (প্রমাণীত)
       
      কেস নং-২:
      ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হইসে।
      জিযিয়া দেবার প্রশ্ন আসছে (সাথে মুসলমানদের জাকাত দেবার প্রশ্নও আসছে)।
      জিযিয়া না দিলে যুদ্ধ (কোনো মুসলমান জাকাত না দিলে তাদেরও বিরুদ্ধে যুদ্ধ।)।
      কোনো মুসলমান জাকাত না দিলে কি ২:২৫৬ এ্যাব্রোগেটেড হইসে--এমন কথা একটা মাথামোটা গর্দভ ছাড়া কুনো সাধারণ জ্ঞানী লুক বলবে? বলবে না।
      ছে্ম কুশ্চেন করতেছি, আর ছেইম কথা কইতেসি জিযিয়ার ব্যাপারেও। লজিক ইজ লজিক। এড়ায়া যাবার কুনো রাস্তা নাই হারাধন!
      সুতরাং দুই নাম্বার কেইসেও আমরা দেখাইতে পারলাম যে ২:২৫৬ আয়াত কুনো অবস্তাতেই এ্যাব্রোগেটেড হয়নাই। (প্রমাণিত)।
       

      আপনে কেস নং-১ নিয়া কিচ্ছু না বইলা কেস নং-২ নিয়া কথা বলসেন। এত্থিকা আমরা কী ধইরা নিবো? ধইরা নিবো যে আপনে কেস নং-১ মাইনা নিসেন?
       
      মানে আমরা উভয়ে এ্যাটলিস্ট এই বিষয়ে একমত যে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওন পর্যন্ত ২:২৫৬ "নট-এব্রোগেটেড" স্ট্যাটাস নিয়া স্ব-মহিমায় জারি থাকবে?
       
       
      [মাথায় বুদ্ধি ঘিলু কছু অবশিষ্ট থাকলে এইবেলা বু্ইঝা নেওন উচিত যে, যেকুনো একটা কেসে নট-এ্যাব্রোগেটেড স্ট্যটাসে আছে মানেই হইলো সে আসলে বেসকালি "নট-এ্যাব্রোগেটেড"। কেননা যে কুনো একটা কেইসেও সে যুদি এব্রোগেটেড হইতো, তাইলে যেফিনিটলি সে সব কেইসেই এ্যব্রোগেটেডই হইতো। এখন যেহেতু একটা কেইসে নট-এব্রোগেটেড বইলা দ্বর্থহীণভাবে প্রমাণীত হইসে, সুতরাং আমরা বলতেই পারি যে সে "সব কেইসেই এব্রোগেটেড নয়"। অতএব আপনে ২ নং কেইস নিয়ে যে কিছু মাক্ষী মারা কথা কইতে চাইসিলেন, তারে বিন্দুমাত্র টাচ না কইরাই আমরা প্রমাণ কইরা ফেললাম যে বেসিককালি ২:২৫৬ নট-এ্যাব্রোগেটেড, এবং সেইটা প্রমাণর জন্য ২ নং কেইস নিয়া কুনো কথা এমনকী টাচ করারও দরকার নাই ]

  9. 19
    শাহবাজ নজরুল

    ১. ইতিহাসের পরম্পরা, বিশেষত যুদ্ধ-বিগ্রহ ইত্যাদি, কোনো এক স্থান/কারণ থেকে শুরু হয়। এরপর থেকে এর পরম্পরা চলতে থাকে। যেমন মক্কার মাতৃভূমি থেকে কেবল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার জন্যে মুসলিমদের বের করে দেয়া হয়, তার পর থেকে শুরু হয় যুদ্ধের পরম্পরা। কেবল ইসলাম গ্রহণ করার জন্যে সারা জীবনের সহায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা সহ মক্কা থেকে মুসলিমদের বের করে দেয়া হয়। এর পরেও বদরে কোরাইশ’রা আসে আগ্রাসী হয়ে। এর পরে আবার আসে উহুদে, এর পরে আবার আসে খন্দকে। কেবল নিজেদের মাতৃভূমি থেকে মুসলিমদের বের করে দিয়েই এরা ক্ষান্ত থাকেনি, বারংবার মুসলিমদেরকে আগ্রাসী ভাবে আক্রমণ করার উদ্দেশ্য যে কেউ বুঝতে পারে – পৃথিবী থেকে মুসলিমদের সম্পূর্ণ মূলোৎপাটন।

    এই যে যুদ্ধের পরম্পরা কোরাইশ’রা শুরু করেছে, তা একপক্ষ ক্ষান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলতেই থাকতো। যুদ্ধ প্রথম শুরু করার জন্যে যে দায়ী, তাকে সেই সিরিজ যুদ্ধের জন্যে দায়ী বলা যায়। অর্থাৎ, মজলুম যদি পরে আগ্রাসী হয়ে আক্রমণও চালায় -- তাতে মজলুমকে দোষ দেয়া যায়না, কেননা ঘটনার পরম্পরা সে শুরু করেনি। তথাপি, ইসলাম ও কোরাইশ পৌত্তলিকদের যুদ্ধের ইতিহাস মোটাদাগে বলতে গেলে একরৈখিক। প্রায় সব সময়ই পৌত্তলিক কোরাইশরা আগে যুদ্ধ শুরু করেছে। আর যুদ্ধের পরম্পরা শুরু হলে আপনি নিশ্চয়ই হাত পা গুটিয়ে বসে থাকবেন না। পরিকল্পনা করবেন, যাতে আপনাকে প্রতিপক্ষ শেষ না করতে পারে। এখানে necessity of survival একটা বড় বিষয়।    
     
    ২. একইভাবে ইসলাম ও খৃষ্টানদের মধ্যে (হয়ত কেবল রোমান খৃষ্টানও বলা যেতে পারে) যুদ্ধের পরম্পরা শুরু হয় মুতা থেকে। প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার জন্যে পাঠানো দূত হারিথ’কে অকারণে খৃষ্টান’রা মেরে ফেলে। আর সে সময়কালের কথা ভাবেন, যখন অসম্ভব শত্রুভাবাপন্ন পারসিক আর রোমান সাম্রাজ্য একে অপরের রাষ্ট্র দখলের চিরন্তন খেলা খেলছে – সেই সময়েও কোনো রোমান দূত কিংবা পারসিক দূত যদি অপর পক্ষকে সংবাদ দিতে আসতো, তাকে পুরো immunity দেয়া হয়। দূতকে হত্যা করা’র মানে তখন ছিল একটাই – আর তা হচ্ছে They are asking for a WAR!!!
     
    রাহীক আল মাখতুম থেকে সংশ্লিষ্ট অংশটুকু পড়ুন –

    The Prophet peace be upon him had sent Al-Harith bin 'Umair Al-Azdi on an errand to carry a letter to the ruler of Busra. On his way, he was intercepted by Sharhabeel bin 'Amr Al-Ghassani, the governor of Al-Balqa' and a close ally to Caesar, the Byzantine Emperor. Al-Harith was tied and beheaded by Al-Ghassani.
     
    Killing envoys and messengers used to be regarded as the most awful crime, and amounted to the degree of war declaration. The Prophet peace be upon him was shocked on hearing the news and ordered that a large army of 3000 men be mobilized and despatched to the north to discipline the transgressors. It was the largest Muslim army never mobilized on this scale except in the process of the Confederates Battle.

     
    ৩. সেই মুতার যুদ্ধের আগে তো ইসলাম শান্তিপূর্ণ ভাবেই ইসলামের দাওয়াত দিতে খৃষ্টান রাজ্যে গিয়েছিল। আজকে ইস্লামকে অশান্তির ধর্ম বলে চালানোর প্রোপাগান্ডিস্ট’রা কেন মূলের ঐ কথাটা সুবিধাজনক ভাবে ভুলে যান? যুদ্ধ তো আমরা করতে চাইনি – দূত হত্যা করে যুদ্ধে জড়ানোর জন্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়া হয় খৃষ্টান পক্ষ থেকে। তাই এর পর থেকে যুদ্ধের পরম্পরা শুরু হলো, তাতে যদি ভবিষ্যতে মুসলিম শক্তি আগ্রাসী হয়েও আক্রমণ চালায়, কারুর বলার কিছু নেই – কেননা তারা তো ঘটনা শুরু করেনি, আর তাদেরও সম্ভাব্য ভবিষ্যত বিরূদ্ধ পক্ষের আগ্রাসন থেকে নিজেদের রক্ষা তো করতে হবে।
     
    ৪. তাবুক আসে মুতার পরে খৃষ্টান শক্তির সাথে দ্বিতীয় যুদ্ধ হিসেবে। প্রথমত আগে যেভাবে বলা হলো, যুদ্ধ পরম্পরা যেহেতু শুরু হয়ে গেছে তাই তাবুকে যদি খৃষ্টান দের আক্রমণ করার আগ্রাসী পরিকল্পনাও মুসলিমরা করে তাতে তাদের উপর দোষ চাপানো যায়না। আব্দুল হক সাহেব ইবন কাথির থেকে কিছু অংশ কোট করে বলছেন বলছেন ৯.২৯ এর তাফসির থেকে এটা পরিষ্কার যে তাবুকের যুদ্ধ মুসলিমরা শুরু করে, কেবল জিজিয়া খাবার লোভে। আমি তাকে পরিষ্কার বলি,

    Also don't confine yourself within Ibn Kathir only. Find other sources. I'm giving you more time to research. Do your research. After that can you affirm me that even in the case Tabuk it is an aggressive campaign by Muslim side? Drawing conclusion solely based on ibn Kathir is not a good method. Find other sources. Take your time.

     

    তার কি আর সময় আছে, অন্য সুত্র দেখার? মাল মশলা পেয়ে গেছে গল্প গাঁথা লেখার, সে কেন অন্য সুত্র দেখতে যাবে। ইবন কাথিরের বর্ণনার উপর ভিত্তি করে তার সর্বশেষ অস্ত্র সে ব্যবহার করছিল দৃঢ়তার সাথেই। সে নিশ্চিত ছিলো তাবুকের যুদ্ধের জন্যে মুসলিমরা পুরোপুরি দায়ী। তবে আসুন দেখা যাক, এমনকি তাবুকের যুদ্ধের জন্যেও মুসলিমরা দায়ী কিনা তা বের করা যাক।
     
    ৫. চিরায়ত মুসলিম সুত্রগুলোতে (যেমন আমি আপাতত রাহীক আল মাখতুম ব্যবহার করছি) প্রথমেই দেখা যায় তাবুক যুদ্ধকে মুতার যুদ্ধের পরম্পরা হিসেবে। এর পরে দেখা যায় মুতার যুদ্ধের পরে বাইজেন্টাইন সম্রাটের দক্ষিণ শামের দক্ষিণে অঞ্চলে আরব অধ্যুষিত এলাকা যাতে হাতছাড়া না হয়ে যায় তার জন্যে বিশাল পরিকল্পনা করতে। একেবারে নির্মূলাভিযানের পরিকল্পনা। দেখুন সীরাতে কী বলছে,

    Caesar — who could neither ignore the great benefit the Mu’tah Battle had brought to Muslims, nor could he disregard the Arab tribes’ expectations of independence, and their hopes of getting free from his influence and reign, nor he could ignore their alliance to the Muslims — realizing all that, Caesar was aware of the progressive danger threatening his borders, especially Ash-Sham-fronts which were neighbouring Arab lands. So he concluded that demolition of the Muslims power had grown an urgent necessity. This decision of his should, in his opinion, be achieved before the Muslims become too powerful to conquer, and raise troubles and unrest in the adjacent Arab territories.
     
    To meet these exigencies, Caesar mustered a huge army of the Byzantines and pro-Roman Ghassanide tribes to launch a decisive bloody battle against the Muslims.
     
    General News about the Byzantines and Ghassanide Preparations for War:
    No sooner news about the Byzantine’s preparations for a decisive invasion against Muslims reached Madinah than fear spread among them. They started to envisage the Byzantine invasion in the least sound they could hear.

     
    সীরাতের সুত্রগুলোতে এভাবেই বলা আছে। আর ইবন কাথিরের বর্ণনার অংশটা আসে এর পরে, যখন বাইজেন্টাইন সন্ত্রাস প্রতিরোধের পরিকল্পনা অনুসারে রাসুল (সা.) ও বিশাল সৈন্যবাহীনি তৈরী করেন তখন। কিন্তু মূল ব্যাপার হচ্ছে, রাসুল (সা.) এর পরিকল্পনা ছিল reactive, মানে a reaction of the aggression planned by Byzantines.
     
    ৬. সময়কালের সঠিক চিত্র বোঝার চেষ্টা করেন। নবম হিজ্রীতে যখন তাবুক যুদ্ধ ঘটে তখন কেবল মক্কা বিজিত হয়েছে আর কিছুকাল আগে হুনাইনের যুদ্ধ শেষ হয়েছে। ঐদিকে মোনাফেকদের আভ্যন্তরীন ফ্যাসাদ সৃসষ্টির সম্ভবনা ছিল সবসময়। তাই এমন সঙ্কীন অবস্থায় রাসুল (সা.) সিদ্ধান্ত নেন শামে গিয়ে শত্রুর মোকাবেলা তিনি করবেন – এতে একদিকে মোনাফেকদের আভ্যন্তরীন বিপ্লবের সম্ভবনা কমে আসবে, আর বাইজেন্টাইন সম্রাটকেও বুঝিয়ে দেয়া যাবে যে ইসলাম মরে যাবার আদর্শ নয়। বিষয়টা সীরাতে এভাবে এসেছে,

    A magnified image of the prominent danger threatening the Muslims life was carried to them by the Nabateans who brought oil from Ash-Sham to Madinah. They carried news about Heraclius’ preparations and equipment of an enormous army counting over forty thousand fighters besides Lukham, Judham and other tribes allied to the Byzantines. They said that its vanguard had already reached Al-Balqâ’. Thus was the grave situation standing in ambush for the Muslims. The general situation was aggravated seriously by other adverse factors of too much hot weather, drought and the rough and rugged distance they had to cover in case they decided to encounter the imminent danger.
    The Messenger of Allâh’s (peace be upon him) concept and estimation of the situation and its development was more precise and accurate than all others. He thought that if he tarried or dealt passively with the situation in such a way that might enable the Byzantines to paddle through the Islamic controlled provinces or to go as far as Madinah, this would — amid these circumstances — leave the most awful impression on Islam as well as on the Muslims’ military credibility.

     
    এখানে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে যে হেরাক্লিয়াস ৪০ হাজার যোদ্ধার দল প্রস্তুত করে রেখেছে, যার অগ্রভাগ ইতোমধ্যে বাল্কা পৌঁছেছে এমন খবর মদিনাতে পৌঁছেছে। ঘটনার এমন গুরুতর অবস্থায় রাসুল (সা.) দেখলেন তিনি যদি কালক্ষেপন করেন তাহলে আগ্রাসী খৃষ্টান দল হয়তো মদিনা পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। তাই তিনি শামে গিয়ে যথাশীঘ্র যুদ্ধে জড়িত হতে বাধ্য হলেন। ইবন কাথিরের ঘটনাংশ আসে এর পরে। আমাদের ভণ্ডবাবা ব্যাগাবন্ড আগের সমস্ত কথা বাদ দিয়ে এমনভাবে ঘটনা উপস্থিত করেছে যাতে মনে হয় মুসলিমরাই আগ্রাসী, আর আগ্রাসনের একমাত্র কারণ জিজিয়া কর খাওয়া। পাঠকরা নিজেরাই বিচার করুন, মুসলিমদের নিজেদের অস্তিত্ব যেখানে সঙ্কটাপন্ন বলে ইতিহাস স্বাক্ষী দিচ্ছে, সেখানে কী সুনিপূনভাবে কেবল ঘটনার অংশবিশেষ লিখে জোড়া তালি দিয়ে আব্দুল হক নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা হাজির করেছে।
    অবশ্য, ভ্যাগাবন্ডদের এই রকমের তথ্য-সন্ত্রাসের সাথে আনেকেই পরিচিত আছেন, তবুও পরিপূর্ণতার খাতিরে ‘তাবুক যুদ্ধের’ আসল ইতিহাসটিও এখানে দিলাম। পাঠাকরাই বিচার করুন।
     

    1. 19.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আর কিছু বলার নেই শাহবাজ ভাই। এই দাদার প্যাচালের কারণে অন্ততঃপক্ষে মুসলিম তরুণদের মধ্যে ৯।২৯ আয়াত  নিয়ে যে বিভ্রান্তি আসতে পারত তা আপনার সুন্দর জবাবের মাধ্যমে নিরসন হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ধন্যবাদ।

    2. 19.2
      আব্দুল হক

      এই রাহিক আল মাখতুমের লেখক কি নবীর সাথে ঘোরাঘুরি করতেন যে তার লেখা প্রামান্য হিসাবে চুড়ান্ত ধরে নিচ্ছেন ?তার এসব লেখার উৎস কি ? এর লেখক তো দেখলাম বিংশ শতাব্দীর এক লোক। অথচ আমি ব্যবহার করছি ইবনে কাথিরের লেখা থেকে যার তাফসির হলো ইবনে ইসহাক, হিসাম , আল তাবারি , বুখারি , মুসলিম, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ ইত্যাদি সব প্রাচীন ইসলামি চিন্তাবিদের ভিত্তিতে করা। এখন ইবনে কাথিরের তাফসির বেশী সঠিক হবে নাকি আধুনিক কালের কোন এক লেখকের নিজের মনগড়া কথা ? এর পর আমি যদি অজস্র হাদিস উল্লেখ করে প্রমান করতে যাই তো বলবেন ঐসব হাদিস জইফ বা জাল হাদিস। আপনারা যে কত মুনাফেক ও ভন্ড তা বোঝা যায় যখন আপনাদের মত লোক বুখারি বা মুসলিমের সংকল করা হাদিসকেও অবলীলায় জাল বলে রায় দিয়ে দেন যদি তা আপনাদের দাবীর বিরুদ্ধে যায়।  একই সাথে যার তার লেখা তা যতই ভিত্তি হীন হোক না কেন তা কত দৃঢ়তার সাথে আকড়ে ধরেন যদি তা নিজেদের দাবীর পক্ষে যায়। এসব ভন্ডামি দিয়ে সাধারন মানুষগুলোর মাথা আর নষ্ট করবেন না দয়া করে। তাতে আখেরে সবার ক্ষতি।

  10. 18
    এস. এম. রায়হান

    সদালাপের 'আব্দুল হক' বিবর্তনবাদের পাঙ্কচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়াম (Punctuated equilibrium) এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। জন্মসূত্রে অমুসলিম হয়ে অন্য একটি ব্লগে 'ঘুরে ঘুরে ভবের ঘুরে' নিকে লিখে সদালাপে আসার সাথে সাথে বিবর্তিত হয়ে 'আব্দুল হক' নাম ধারণ করে 'এক্স-মুসলিম' হয়ে গেছে! বিবর্তনবাদীরা চাইলে এটিকে বিবর্তনবাদের পক্ষে একটি অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দেখাতে পারেন। বেচারা এখানে মন্তব্যের বন্যা (ট্রোলিং) বইয়ে দিতে যেয়ে নিজ ব্লগে সময় দেয়ার মতো সময়ও পাচ্ছে না!
     
    @শাহবাজ ভাই,
    এইসব মগজ ধোলাই ভণ্ডদেরকে এত বেশি পাত্তা দেয়ার কিছু নাই, যে কিনা একদিকে মূর্তি পূজাকে 'যুক্তি' দিয়ে ডিফেন্ড করে অন্যদিকে ইসলামকে একটি 'পৌত্তলিক ধর্ম' বানিয়ে দেয়। তারই কিন্তু আবার বেশ কিছু নাস্তিক মুরিদ আছে!

    1. 18.1
      আহমেদ শরীফ

      মূর্তিপূজক এই যাযাবরটি আবার বিশিষ্ট কবিও, মুখে মুক্তচিন্তার কথা বলে কখনো নাস্তিকের ভং ধরেন আবার কখনো তুলনামূলক ধর্মতাত্বিকের বেশে আসেন। আদতে ব্যক্তিজীবনে আত্মস্বীকৃত একজন সুরাসক্ত আপাদমস্তক ব্রাম্মণ্যবাদী, মারাত্মকভাবে বর্ণবাদী, বিষাক্তভাবে পরধর্মবিদ্বেষী একজন সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্ট।

  11. 17
    ইমরান আউলিয়া

    ভাইজান , পড়লাম আপনার তাফসির , কিন্তু তখনও ৯:২৯ আয়াত নাজিল হয় নি। এ আয়াত নাজিল হওয়ার পর — দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি নেই এ বিষয়টা আর থাকে না । এটাও আপনার জানা থাকা দরকার। আমাদের মূল আলোচ্য বিষয়ই ছিল এটা

    দাদা
    ৯:২৯ আয়াতটা মুনে কয় ভালো কইরা পইড়াও দেখেননাই।

    তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

    এই আয়াতের অর্থ সম্পূর্ণ বুজতে পারবেন না, যতক্ষণ আপনে শেষে বোল্ড করা কথাগুলান দিলের মইদ্যে গাইথা না নিবেন।
    যতক্ষণ তারা জিয়িয়া প্রদান না করবে ততক্ষণই কেবল এই আয়াতের কার্যকারিতা থাকবে। এইবার বলেন, জিযিয়া দেয় কখন? কোথায়? ইসলামি রাষ্ট্র হলে, তারপর।

    অর্থডা কী দাড়াইল দাদাগো?
    অর্থখান দারাইলো এই যে ইসলামি রাষ্ট্র না হওয়া পর্যন্ত জিযিয়া করের প্রশ্নই নাই। সুতরাং জিযিয়া কর না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের প্রসঙ্গ তো এইখানে আসপেই না। [আবার জিযিয়া কর নিয়া ব্যাকা ত্যারা বুইজেন না দাদা। জাকাত না দেওয়া "মুসলমান" দলের বিরুদ্ধে আবু বকর কিন্তু যুদ্ধ করসিলেন। খুব খ্যাল কইরা।]
     
    তাইলে আমরা কী বুজলাম? বুজলাম যে এই আয়াত শুধুমাত্তর এন্ড কেবল মাত্তর ইসলামি রাস্ট্রে জন্যই প্রয়োগ্য। ইসলামী রাষ্ট্র না হইলে এই আয়াত এ্যাপ্লিকেবল নহে।
    আমরা আরো একটা ব্যাপার বুজলাম। সেইটা হইলো গিয়া, যুদি জিযিয়া দেয়, তাইলে তাদের সাথে আর কুনো যুদ্দ মুদ্দ নাই। ২:২৫৬ আয়াত নিয়া আর কুনো সমস্যা থাকতেসে না তাইলে। কেউ কেউরে এ্যাব্রোগেট করসে না। জাইনা আশা করি খুশি হইলেন।

    1. 17.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      নেটের ইসলাম বিদ্ধেষীরা ভাল ভাবে জানে যে কোরআনের কোন আয়াত শান্তিকালিন নাজিল হয়েছিল আর কোন আয়াত যুদ্ধকালীন! তারা জেনেও যুদ্ধকালিন আয়াতকে শান্তিকালীন সময়ে অপব্যবহার করে থাকে। যেমন এই দাদা করেছেন। মানব সভ্যতার উষাকাল থেকে এখনও কোন রাষ্ট্র সে আক্রান্ত হলে প্রেম সংগীত গায় না। তাকে বাধ্য হয়ে সমর সঙ্গীত গাইতে হয়। আজকের এক কেন্দ্রিক বিশ্ব সে রীতিও অতিক্রম করে গেছে! নিজেদের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে অন্য রাষ্ট্রের ভিতরে গিয়ে ড্রোন হামলা বা বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে সেখানে আক্রমন চালাচ্ছে এবং তা আমাদের জাতিসঙ্ঘ নামক সংস্থার সমর্থনে।
      যে কোন রাষ্ট্র যদি বিশ্বাস করে এবং প্রমাণ পায় যে অন্য রাষ্ট্র কর্তৃক সে অচিরে আক্রান্ত হবে তখন সে রাষ্ট্র   তাঁর অখন্ডতা স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আক্রমণকারী আক্রমনের জন্য বসে অপেক্ষা করবে ? না আক্রমণকারীর আক্রমণের পুর্বে তাকে আক্রমণ করে তাকে শায়েস্তা করতে এগিয়ে যাবে?
      তাবুকের অভিযানটি সেই কারো হয়েছিল। বাইজান্টিনদের আক্রমনের জন্য মুসলিমরা বসে থাকতে পারেনা। তাই তো চরম গরমের সময়ে সে অভিযান চালান হয়েছিল। আরবে  গরম কালে অভিযান চালান আর আত্মহত্যা করার শামিল ছিল। তারপর যখন অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এই অভিযান না চালিয়ে উপায় ছিলনা। 
      কাজেই এই আয়াত যখন পড়া হবে তখন এই ভাবে পড়লে তাঁর আসল বক্তব্য বের হয়ে আসবে- ৯:২৯ আয়াতটা মুনে কয় ভালো কইরা পইড়াও দেখেননাই।
      তোমরা যুদ্ধ কর ( যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে চাচ্ছে/ বা যুদ্ধ করছে)( এখানে যে সব আহলে কিতাবী মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করছে বা যারা বাইজান্টাইনদেরকে সাহায্য করছে তাদের জন্য এই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে , তা কোন অবস্থায় শান্তিকালিন সময়ে বা যারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করে নাই বা বাইজান্টিনদেকে সাহায্য করে নাই তাদের কথা বলা হয় নাই)  আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।
      ধন্যবাদ।

    2. 17.2
      আব্দুল হক

      তোমরা যুদ্ধ কর ( যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে চাচ্ছে/ বা যুদ্ধ করছে)( এখানে যে সব আহলে কিতাবী মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করছে বা যারা বাইজান্টাইনদেরকে সাহায্য করছে তাদের জন্য এই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে , তা কোন অবস্থায় শান্তিকালিন সময়ে বা যারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করে নাই বা বাইজান্টিনদেকে সাহায্য করে নাই তাদের কথা বলা হয় নাই)  আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।
       
      উক্ত আয়াতের মধ্যে এখানে যে সব আহলে কিতাবী মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করছে বা যারা বাইজান্টাইনদেরকে সাহায্য করছে তাদের জন্য এই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে , তা কোন অবস্থায় শান্তিকালিন সময়ে বা যারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করে নাই বা বাইজান্টিনদেকে সাহায্য করে নাই তাদের কথা বলা হয় নাই)- এটুকু আপনার বানান তাফসির। তাহলে নিজে নিজে এখন তফসির বানিয়ে প্রচার করছেন? এজন্যেই তো আপনাদেরকে মহা মিথ্যাবাদী ভন্ড বলি।
      উক্ত আয়াতের আসল ঘটনা লুকিয়ে আছে ৯:৫ ও ৯:২৮ আয়াতের মধ্যে। যা আমি আগেই ভাল মত ইবনে কাথিরের তাফসির অনুযায়ী ব্যখ্যা করেছি। মনে হয় সেসব পড়ার দরকার বোধ করেন নি। তা করবেন কেন , করলে নিজের ফাদে নিজেকেই ধরা পড়তে হয়। নিজেদের বানান ইসলাম প্রচার বন্দ করে আসল ইসলাম প্রচার করুন যা কোরান ও হাদিসে সুন্দরভাবে বর্ণিত আছে।  এভাবে নির্লজ্জভাবে মিথ্যাচার করেন কি করে ?

      1. 17.2.1
        ইমরান আউলিয়া

        দাদা আব্দুল হক
        আপনে কি আমার কমেন্ট মিস কর্সেননি?
        আবার দিলাম:

         ভাইজান , পড়লাম আপনার তাফসির , কিন্তু তখনও ৯:২৯ আয়াত নাজিল হয় নি। এ আয়াত নাজিল হওয়ার পর — দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি নেই এ বিষয়টা আর থাকে না । এটাও আপনার জানা থাকা দরকার। আমাদের মূল আলোচ্য বিষয়ই ছিল এটা।

        দাদা
        ৯:২৯ আয়াতটা মুনে কয় ভালো কইরা পইড়াও দেখেননাই।

        তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

        এই আয়াতের অর্থ সম্পূর্ণ বুজতে পারবেন না, যতক্ষণ আপনে শেষে বোল্ড করা কথাগুলান দিলের মইদ্যে গাইথা না নিবেন।

        যতক্ষণ তারা জিয়িয়া প্রদান না করবে ততক্ষণই কেবল এই আয়াতের কার্যকারিতা থাকবে। এ্‌ইকথাডা কি আপনে বুজছেন নাকি বুজেননাই? এইবার বলেন, জিযিয়া দেয় কখন? কোথায়? ইসলামি রাষ্ট্র হলে, তারপর।

        অর্থডা কী দাড়াইল দাদাগো?

        অর্থখান দারাইলো এই যে যেহেতু ইসলামি রাষ্ট্র না হওয়া পর্যন্ত জিযিয়া করের প্রশ্নই নাই, সুতরাং জিযিয়া কর না দেওয়া পর্যন্ত উল্লিখিত আচরণ প্রয়োগের প্রসঙ্গ এইখানে আসপেই না।
        [আবার জিযিয়া কর নিয়া ব্যাকা ত্যারা বুইজেন না দাদা। জাকাত না দেওয়া "মুসলমান"; দলের বিরুদ্ধে আবু বকর কিন্তু যুদ্ধ করসিলেন। খুব খ্যাল কইরা।]

        তাইলে আমরা কী বুজলাম? বুজলাম যে এই আয়াত শুধুমাত্তর এন্ড কেবল মাত্তর ইসলামি রাস্ট্রে জন্যই প্রয়োগ্য। ইসলামী রাষ্ট্র না হইলে এই আয়াত এ্যাপ্লিকেবল নহে।

        আমরা আরো একটা ব্যাপার বুজলাম। সেইটা হইলো গিয়া, যুদি জিযিয়া দেয়, তাইলে তারা ধর্মের ব্যাপারে তাদের মতো কইরা চলবে। আর কুনো যুদ্দ মুদ্দ নাই। ইন্টারেস্টিঙ!
         
        ২:২৫৬ আয়াত নিয়া আর কুনো সমস্যা থাকতেসে না তাইলে। কেউ কেউরে এ্যাব্রোগেট করসে না। র‌্যাদার এক্সপ্লেইন করতেসে। জাইনা আশা করি খুশি হইলেন।

        1. 17.2.1.1
          আব্দুল হক

          তা আপনাদের লক্ষ্য টা কি ? লক্ষ্য টাই তো হলো সারা দুনিয়া ব্যপী  ইসলামি রাজ্য বা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা , তাই না ? তার অর্থ কি দাড়াল, অমুসলিম সবাইকে করজোড়ে জিজিয়া কর প্রদান করে দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক হিসাবে বসবাস করা , তা্ই নয় কি ? কি সুন্দর যুক্তি ! এখানে আলোচনা হচ্ছে ইসলামি বিধি বিধান নিয়ে, বাস্তবে কি আছে না আছে বা হচ্ছে তা নিয়ে নয়। এখন এ বিধান যদি অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি অসহিষ্ণু হয় , তাহলে তা শান্তির ধর্ম হয় কেমনে ? এখন আপনি যদি বলেন করজোড়ে আপনার কাছে মাথা নত করে চুপ করে থাকলেই একমাত্র শান্তি , তাহলে বিষয়টা কি দাড়াল ? বিষয়টা দাড়াল আপনি আগ্রাসী । আর ইসলামের বিধি বিধানই হলো আাগ্রাসী। মাথা খাটান, মরুর বালির নিচে মাথা গুজে বসে থাকলে সেখান থেকে খালি উটের মল মূত্র পাওয়া যাবে, বিদ্যা বুদ্ধি কিছুই মিলবে না।

        2. ইমরান আউলিয়া

          দাদা আব্দুল হক
          মুনে কয় আপনেরে আরো নিচের কেলাসের স্টুডেন ভাইবা কথা কওন উচিত আছীলো। আই এ্যাম চরি। বেরি বেরি চরি। আর এট্টু ভাঙ্গিয়া কই।
          কেস নং-১:
          ইসলামী রাষ্ট্র হয় নাই।
          সুতরাং, কোনো জিযিয়া দেবার প্রশ্নই নাই। এবং ৯:২৯ নং আয়াত প্রযোজ্য নয়, এবং সন্দেহাতীতভাবে ২:২৫৬ এ্যাব্রোগেটেড হয় নাই। (প্রমাণীত)
           
          কেস নং-২:
          ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হইসে।
          জিযিয়া দেবার প্রশ্ন আসছে (সাথে মুসলমানদের জাকাত দেবার প্রশ্নও আসছে)।
          জিযিয়া না দিলে যুদ্ধ (কোনো মুসলমান জাকাত না দিলে তাদেরও বিরুদ্ধে যুদ্ধ।)।
          কোনো মুসলমান জাকাত না দিলে কি ২:২৫৬ এ্যাব্রোগেটেড হইসে--এমন কথা একটা মাথামোটা গর্দভ ছাড়া কুনো সাধারণ জ্ঞানী লুক বলবে? বলবে না।
          ছে্ম কুশ্চেন করতেছি, আর ছেইম কথা কইতেসি জিযিয়ার ব্যাপারেও। লজিক ইজ লজিক। এড়ায়া যাবার কুনো রাস্তা নাই হারাধন!
          সুতরাং দুই নাম্বার কেইসেও আমরা দেখাইতে পারলাম যে ২:২৫৬ আয়াত কুনো অবস্তাতেই এ্যাব্রোগেটেড হয়নাই। (প্রমাণিত)।
          এক্ষাণ অফটপিক কুশ্চেন:
          আব্দুল হক নামডা নেওনের কারণডা কী, জানতে পারি?

  12. 16
    শাহবাজ নজরুল

    @ ইমরান আউলিয়া,
     
    আউলিয়া সাহেব কেমন আছেন? অনেকদিন পরে আসলেন পদধুলি দিতে। আপনারে মিস করি বেশ, মাঝেমধ্যে একটু এলেম/সবক দিয়া যাইয়েন পারলে।

    তবে যাকে উদ্দেশ্য করে এক লাইনের কথাটা বললেন, এই জাতীয় রামছাগল কে কোনো কথা বলে কোনো লাভ আছে বলে কী আপনার মনে হয়? এক লাইনের সহজ কথা বোঝারও যার ক্ষমতা নাই সে কিনা ইতোমধ্যে ২০ খন্ডের থিসিস লিখে ফেলছে। সেই জন্যেই আমি ১২ নং কমেন্টে বলি যে ওখানে যা আছে তাই যথেষ্ট, যদি কারুর ঘিলু থাকে -- আর ভ্যাগাবন্ড মার্কা গবেটদের জন্যে বেশী সময় নষ্ট করার মতো সময় আমার নাই। তারপরে দেখলেন তো কেমন ট্রলিং আর টেইল-গেইটিং করলো। আমি একমতো বিরক্ত হয়েই বললাম যে সহজ কথা যখন বুঝেন না, তখন আসেন আলোচিত সব কিছুই নেই একেকটা করে; দেখি কোথায় যাওয়া যায়। তারপর থেকে হুজুর লাপাত্তা!!!
     
    আপনি হক সাহেবের এক লাইনের অভিযোগ

    আপনি এখনও পর্যন্ত এটা বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন যে কেন ২:২৫৬ বহাল থাকবে ও জিহাদী আয়াত কর্তৃক বাতিল হবে না।

     
    এর জবাবে ওমর (রা.) এর উদাহরণ দিলেন। এই বেকুব এটাও বোঝেনা যে ওমরের ঘটনাটি ৯.২৯ জারির অনেক পরের ঘটনা  -- আমার যদি ভুল না হয় তবে এটা ওমর (রা.) এর নিজের খেলাফতের সময়কাল কার কথা। এই রাম ছাগল গোষ্ঠীর সময়, ইতিহাস, ধর্মতত্ত্ব সম্পর্কে কোনো ধারণা নাই, কেবল উইকি ইসলাম থেক উচ্ছিষ্ট খেয়ে বিদ্যাসাগর হয়ে গেছে। আপনি এই উদাহরণ দিলেনই এই জন্যে যে কীভাবে জিহাদের আয়াত আর “লা ইক্রাহা ফি দ্বীন” একসাথে কাজ করে, কীভাবে এরা একটি অপরটিকে মান্সুখ করতে পারেনা, এটা বোঝানোর জন্যে, আর রামছাগল বলে,

    ভাইজান , পড়লাম আপনার তাফসির , কিন্তু তখনও ৯:২৯ আয়াত নাজিল হয় নি। এ আয়াত নাজিল হওয়ার পর — দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি নেই এ বিষয়টা আর থাকে না । এটাও আপনার জানা থাকা দরকার। আমাদের মূল আলোচ্য বিষয়ই ছিল এটা

     
    আমি তো হাসতেও পারছিনা। অসম্ভব মেজাজ খারাপ হয়ে আছে। কোন ছাগলের সাথে বাতচিত করে সময় নষ্ট করতেছি? সে কি কিছু বুঝে?
    আগের কমেন্টের অংশখানিক দেখেন,

    আর আপনি এসে বলছেন এটা তাবুক যুদ্ধের ঘটনার কারনে ? তো ভাই তাই যদি হয় তাহলে তাবুক যুদ্ধের ঠিক পরে পরেই কেন এ আয়াত নাজিল হলো না ? কেন দুই বছর পর নাজিল হলো ?

     
    ছাগসম্রাট এর এও ধারণা নাই যে কখন তাবুকের যুদ্ধ হয়েছে আর কখন মুতার যুদ্ধে হয়েছে। আগেও ১০/১৫ বছর বলে সে তার অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে। আর আমার করা সহজ প্রশ্ন,

    প্রমান দেন যে ইসলাম ও খ্রিস্টান দের মধ্যকার যুদ্ধ মুসলিমরা শুরু করেছে।
     

    এর মিনিংও সে বোঝেনা। পরে ভাঙ্গাইয়া বলতে হইলো,
     

    মুসলিম ও খৃষ্টানদের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ কোনটি? মুতা না তাবুক? ঐ যুদ্ধের জন্যে কে দায়ী?

     
    আর ইস্মাইল (আ.), ইসহাক (আ.) ও সেই সাথে বেঞ্জিন খানের পেপারটার কথা খেয়াল আছে তো? ওখানে আপনি একটা কমেন্ট করছিলেন (কমেন্ট নং ১১)। ওখানেও ছাগল-গুলা ভাবছে যে বেঞ্জিন খান এই সিদ্ধান্তে আসছে যে “ইসহাক (আ.) কে কোরবানী দেয়া হয়েছিল।” কোনো লেখা পড়েনা, ইতিহাস পড়েনা, সময়জ্ঞান নাই, মানুষরে গ্যান দিতে আসছে!!! ছাগল কোনখানকার!!!
     

    1. 16.1
      ইমরান আউলিয়া

      শাহবাজসাব
      সালাম নিবেন। মিস্করি আমিও আপনেরে। বহুৎ ব্যস্ত আছিলাম। চাইরদিকে খালি ঘিরিঙ্গ আর ঘরিঙ্গ। খবুই পেরশান আছি ভাই। দোয়া কইরেন আমার লাইগা।
      পর সমাচার এই যে দাদা এখনো বুজতাসে না যে মুসলমান নামের ভেইগ ধইরা আসলেও……যাউক বাদ্দেন। আপনে ক্যামুন আছেন?
       
      বেনজিন খানের লেখাডার কথা ক্যামনে ভুলি ভাই? ঠিক কত বড় মাপের গাধা ঐ সাইটটাতে ঘুরাফেরা করে তার একটা বড় প্রমাণ তো ঐ লৈখাডা নিয়া করা কমেন্ট দুইডাই। আজ্কে বড় হাসির দিন মুনে কয়। হাস্তেই আছি। হাহাহাহহা…..

  13. 15
    আব্দুল হক

    ভাই শাহবাজ নজরুল,
    ৬. ২.২৫৬ মূলত ইসলামের আরেকটি মৌলিক ধারা। এখানে বলা হচ্ছে “দ্বীনের ব্যাপারে জোরাজুরি নেই।” মানে হচ্ছে মুসলিম হিসেবে ইসলামের “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর বাণী দেয়া হবে – এর পরে কেউ যদি তা গ্রহণ করে ভালো না হলে করবে না। এখানে আল্লাহ্‌ সুবহানা তায়ালা দ্বীনের সিদ্ধান্ত ব্যাক্তির উপর ছেড়ে দিয়েছেন। আর এটা অনুসরণ করে মুসলিমরা কখনো অন্যকে ইসলামে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করেনি। আমি আগের কমেন্টে আর্মেনিয়ার কথা বলেছিলাম যাবা ৭০০ বছর মুসলিম রুলেও অধীনে ছিল কিন্তু ওদের কেউই মুসলিম হননি।
    ২:২৫৬ এর ব্যপারে আপনার বক্তব্য ছিল উক্ত রূপ। বলা বাহুল্য ওটা কোন প্রেক্ষাপট নয় , আপনার নিজের বক্তব্য। দিন কি এমন হয়েছে যে আপনার নিজের বক্তব্যকে প্রেক্ষাপট হিসাবে চালিয়ে দিতে চাইছেন? নাকি জানেন না প্রেক্ষাপট কি জিনিস? যাহোক, আপনি প্রেক্ষাপট ব্যখ্যা না করে এখন কেটে পড়ার তালে আছেন বুঝতে পারছি। আপনার এতই যদি ইসলামি জ্ঞান থাকে এ আয়াতের প্রেক্ষাপটটা একটু ব্যাখ্যা করুন এবং এরপর প্রমান করুন এটা সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য। কেন শুধুমাত্র সেই মোহাম্মদের সময়ের জন্য প্রযোজ্য হবে না ? ভেগে যাবেন না প্লিজ। কারন আমি দেখতে পাচ্ছি আপনি ভেগে যাওয়ার তালে আছেন। এই সাইটের পাঠকরা দেখুক, আপনার বিদ্যার দৌড়।

    1. 15.1
      শাহবাজ নজরুল

      Before that, settle other outstanding issues.
       
      Tell us why you lied about the contexts about 109.06 and 9.05?
      Why are you doing Naskh/Mansukh when it is solely reserved for Prophet (s)?

      1. 15.1.1
        আব্দুল হক

        এখন ইংরেজী কতটা জানেন সেটা ফলাচ্ছেন? এতক্ষন ইংরেজী অনেক রেফারেন্স দিয়ে আসলাম না পড়েই উল্টাপাল্টা পাগলের প্রলাপ বকে গেছেন। আর এখন প্রসঙ্গ ঘুরে অন্য দিকে সরে পড়ার তালে আছেন ? সেটা হবে না , আগে ২:২৫৬ আয়াতের প্রেক্ষাপট আপনাকে বলতেই হবে আর কেন তা অন্য আয়াতের মত যেমন ১০৯:৬, শুধু সেই সময়ের জন্য প্রযোজ্য না হয়ে সকল সমযের জন্য প্রযোজ্য হবে সেটাও ব্যখ্যা দিতে হবে। আপনি সরে পড়তে চাইলেও আমি তো সেটা হতে দেব না। এ ব্লগের পাঠকদের সামনে এতদিন বহু বিদ্যা জাহির করেছেন, এখন আমার সামনে একটু জাহির না করলে তো আমি আপনাকে ছাড়ছি না।
        তার মানে আমার বক্তব্য খন্ডনের ক্ষমতা নেই আপনার ? পুরনো কৌশল, নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে তার পর চেপে ধরা? ভাই, আপনি তাহলে খুব ভুল লোক বেছে নিয়েছেন।  আপনি আসলে টের পান নি যে আমি মোটেও আপনাদের মত বোবা কালা আর অন্ধ লোক না। আর ইসলাম কি ও কাহাকে বলে তা আমি আপনাদের তথাকথিত ইসলামি পন্ডিতদের চাইতে ভাল শিক্ষা দিতে পারি। কান্ড জ্ঞান থাকলে এতক্ষনেই তা বুঝে ফেলা উচিত।
         
        This is talking about Battle of Tabuk. Everyone knows that Tabuk is not the beginning of the Battle between Muslims and Christians. It started 2 more years ago in battle of Mutah, which was triggered by killing of Muslim envoy, sent on a mission of Dawah, and was captured and killed by Roman surrogates.
        বার বার নিজের বানান কথাকে রেফারেন্স হিসাবে প্রচার করার অপকৌশল আপনার গেল না দেখছি। এভাবে মানুষকে অহেতুক বিরক্ত করার কোন অর্থ আছে বলে মনে হয় না। ৯:২৯ আয়াত যে তাবুক যুদ্ধের প্রেক্ষিতে আপনার কথিত ঘটনার কারনে নাজিল হয়েছিল তার দলিল কোথায়? নাকি আপনি নিজেই সে দলিল তৈরী করছেন ইদানিং? ফাজলামি করার আর যায়গা পান না , তাই না ? তাবুক যুদ্ধের আগে খৃষ্টানরা কয়েকজন মুসলমান হত্যা করল দাওয়াত দিতে গিয়ে, আর তার প্রেক্ষিতে আয়াত নাজিল হলো ২ বছর পর ? সূরা আত তাওবা হলো নবীর জীবনের শেষ সূরা যা তার মদিনা জীবনের একেবারে শেষ দিকে নাজিল হয়েছিল। আর তখন তিনি আরবের বিস্তৃত অংশে তার প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছিলেন। তার এ প্রভাব বিস্তার ও শক্তিশালী হওয়ার কারনে তার উচ্চাকাংখা এতটাই বেশী হয়ে গেছিল যে তার মনে হয়েছিল যে এখন রোমান বা পারস্য যে কোন সাম্রাজ্য আক্রমন করার মত তার ক্ষমতা হয়ে গেছে। আর সেকারনেই তিনি শ্যাম দেশ তথা সিরিয়ার দিকে ৩০,০০০ সৈন্যের বাহিনী প্রেরণ করেন যা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় যা ইবনে কাথিরের তাফসিরে দেখা যাচ্ছে আর এ অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে নবী মুসলমানদেরকে উদ্বুদ্ধ করতেই ৯:২৯ নাজিল করেন আর বলা বাহুল্য এটা কোন আত্মরক্ষা মূলক যুদ্ধ ছিল না। এটা ছিল সেই আয়াত যার দ্বারা নবী সুস্পষ্টভাবে আগ্রাসী যুদ্ধ করার জন্য তার অনুসারীদেরকে উৎসাহিত করেছিলেন। আর আপনি এসে বলছেন এটা তাবুক যুদ্ধের ঘটনার কারনে ? তো ভাই তাই যদি হয় তাহলে তাবুক যুদ্ধের ঠিক পরে পরেই কেন এ আয়াত নাজিল হলো না ? কেন দুই বছর পর নাজিল হলো ? কোরানের সকল আয়াতই নাজিল হয়েছে কোন ঘটনা ঘটে যাওয়ার সাথে সাথেই না হয় নবী কোন সমস্যায় পড়লে তখন প্রায় সাথে সাথে। আর আপনি এসে বলছেন এটা তাবুক যুদ্ধের ২ বছর পর উক্ত ঘটনা উপলক্ষ্যে ৯:২৯ নাজিল হয়েছে? অজ্ঞ মানুষের কাছে গিয়ে এসব গাজাখুরি গল্প বলবেন আমার সাথে নয়।
        মিথ্যা আমি বলিনি, কোরানের নাসিক মানসুক মেথডলজি অনুযায়ী ৯:৫ ও ৯:২৯ দ্বারা ১০৯:৬ ও ২:২৫৬ বাতিল হয়ে যাবে, তা সে আপনার তথাকথিত কোন ইসলামি পন্ডিত রায় দিক আর না দিক। জেনে শুনে মিথ্যা বলছেন আপনারা সাধারন মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে। এতসব ফালতু কথা না বলে ইবনে  কাথিরের ৯:২৯ আয়াতের তাফসির থেকে যে প্রমান করলাম খৃষ্টানরা নয় বরং মুসলমানরাই আগ বাড়িয়ে জিজিয়া করের লোভে তাদেরকে আক্রমন করতে গেছিল। আর আপনি রেফারেন্স ছাড়া প্রলাপ বকে গেছেন যে খৃস্টানরা মুসলমানদেরকে আক্রমন করতে উদ্যত হয়েছিল বলে ৯:২৯ আয়াত নাজিল হয়েছিল। এই ডাহা মিথ্যা কথা বলতে আপনার জিহ্বা খসে পড়ল না ?এভাবে ডাহা মিথ্যা কথার দিন শেষ। এটা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন ততই মঙ্গল।  এখন বলুন মিথ্যা কথা , প্রতারনা , মিথ্যা প্রোপাগান্ডা কারা করে? আপনারা না অন্যেরা?

        1. 15.1.1.1
          শাহবাজ নজরুল

          আপনার ভয়ের কিছু নাই। আমি কোথাও যাচ্ছিনা। সব ইস্যু সেটেল না করে আমিও নড়ছি না। ২.২৫৬ এর শানে নুযুল সহ সব ব্যাখ্যাই আমি দেব। তবে ইতোমধ্যে যতটুকু আলোচনা হয়েছে সেটা স্ট্রীম লাইন না করে সামনে আগাচ্ছি না।
           
          ইতোমধ্যে সেটেল্ড হয়েছে যে বিষয়গুলো …
           
          ১. আপনি প্রথমে বলেছেন তওবার ১০/১৫ বছর আগে ২.২৫৬ নাযিল হয়। পরে স্বীকার করেছেন তা আপনার ভুল, এটা ৮/১০ বছর হবে।

          ২. আপনি স্বীকার করছেন যে কোনো ইসলামী স্কলার নাই যিনি বলেছেন,

          (৯:০৫, ৯:২৯) দ্বারা পূর্বোক্ত শান্তির আয়াত সমূহ (২:২৫৬, ৮৮:২১, ১০৯:০৬ ইত্যাদি) বাতিল হয়ে গেছে।

           
          এটা কেবল আপনার সিদ্ধান্ত।
           
          ৩. আপনার নাসখ/মান্সুখ করার অধিকার নেই স্বীকার করছেন -- কিন্তু তার পরেও নাসখ/মান্সুখই করছেন। ব্যাখ্যা স্বরূপ আপনি বললেন,

          আপনার একটু বুঝতে ভুল হচ্ছে , আমার আসল বিষয় ছিল কোরানের নাসিক মানসুক এর মেথডলজি অনুযায়ী শান্তির আয়াত সমূহ কোরানের সর্বশেষ নাজিল কৃত জিহাদী আয়াত কর্তৃক বাতিল হয়ে যাওয়া এটা বুঝানো।

          এই কথার একটাই মানে -- তা হচ্ছে আপনার অধিকার না থাকা সত্ত্বেও নাসখ/মান্সুখ করছেন। কেননা নাসখ/মান্সুখের মেথডলজি ব্যবহার করে কেবল নাসখ/মান্সুখই করা যায়।
           
          এবার আসেন না সেটেল হওয়া বিষয়গুলোর প্রথমটিতে।

          ১. মুসলিম ও খৃষ্টানদের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ কোনটি? মুতা না তাবুক? ঐ যুদ্ধের জন্যে কে দায়ী? 

          বাকী আনসেটেল্ড বিষয়ে পরে আসছি। আগে উপরের বিষয়ে আপনার মতামত জানান। আসুন মুসলিম ও খ্রিস্টান দের মধ্যে যুদ্ধের পরম্পরা শুরুর ইতিহাস ও তার হেতুর ব্যপারে ঐক্যমত হওয়া যায় কিনা দেখি! 
           
          --শাহবাজ
           
          অ.ট. -- আমাকে মাঝে মধ্যে ইংরেজিতে জবাব দিতে দেখবেন, কেননা কাজে অভ্র নেই, তাই বাংলাতে সব সময় জবাব দেয়া সম্ভব নয়।

      2. 15.1.2
        আব্দুল হক

        আপনার একটু বুঝতে ভুল হচ্ছে , আমার আসল বিষয় ছিল কোরানের নাসিক মানসুক এর মেথডলজি অনুযায়ী শান্তির আয়াত সমূহ কোরানের সর্বশেষ নাজিল কৃত জিহাদী আয়াত কর্তৃক বাতিল হয়ে যাওয়া এটা বুঝানো। এখানে কনটেক্স বা প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে আপনিই প্রমান করবেন আমার দাবী ভুল। আর তখন আমি প্রমান করব আপনার কনটেক্স অনুযায়ী আপনি সঠিক হলে কেন সেটা অন্য ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে না যেমন ২:২৫৬ এর ক্ষেত্রে। আপনি এখনও পর্যন্ত এটা বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন যে কেন ২:২৫৬ বহাল থাকবে ও জিহাদী আয়াত কর্তৃক বাতিল হবে না।

        1. 15.1.2.1
          ইমরান আউলিয়া

          ভবঘুরে

          আপনি এখনও পর্যন্ত এটা বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন যে কেন ২:২৫৬ বহাল থাকবে ও জিহাদী আয়াত কর্তৃক বাতিল হবে না।

          2:256
          দেখেন তো ভাইসাব এইবারডা বুজেন কি না।

        2. ইমরান আউলিয়া

          ইমেজ আসতেসে না।
          এই লিংকে গিয়ে শেষ প্যারাটা পড়েন। হজরত ওমরের একটা ঘটনা আছে।

        3. আব্দুল হক

          ভাইজান , পড়লাম আপনার তাফসির , কিন্তু তখনও ৯:২৯ আয়াত নাজিল হয় নি। এ আয়াত নাজিল হওয়ার পর -- দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি নেই এ বিষয়টা আর থাকে না । এটাও আপনার জানা থাকা দরকার। আমাদের মূল আলোচ্য বিষয়ই ছিল এটা

  14. 14
    আব্দুল হক

    পুনশ্চ:
    বার বার অনুরোধ করার পরেও ২:২৫৬ দ্বীন নিয়ে বাড়া বাড়ি নেই- এ আয়াতের পেক্ষাপট ব্যখ্যা করছেন না কেন ? বার বার এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন ? এ আয়াতের প্রেক্ষাপট টাও একটু ব্যখ্যা করুন , পাঠক গন তা জেনে সত্য জানুক। প্রেক্ষাপট ব্যখ্যা করার পর অবশেষে আমাদের মত মূর্খ মানুষকে জানান দিন কেন এটার বিধান কেয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে , কেন ১০৯:৬ বা ৯:৫ এর মত শুধুমাত্র তৎকালীন সময়ের জন্য বহাল থাকবে না ? আশা করি এবার সবিস্তারে উক্ত ২:২৫৬ এর প্রেক্ষাপট বর্ণনা করবেন। তা না করলে বুঝব ধুর্ত শিয়ালের মত এখন দৌড়ের ওপর আছেন।
    পরিশেষে আপনার সময়ের দাম হয় যখন সত্যের মুখোমুখি হন। অসত্য প্রচারে আপনার সময়ের অভাব নেই। আপনাদের মনগড়া ও বানান কথাবার্তায় সুন্দর করে সাজানো বক্তব্যের দ্বারা সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করাতে আপনাদের সময়ের অভাব পড়ে না। কিন্তু সে দিন আর নাই। সত্যের মুখোমুখি আপনাদেরকে হতেই হবে , পালানোর সুযোগ আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। সুতরাং দৌড় না দিয়ে সত্যের মুখোমুখি হোন, দেখি আপনার সাহস কত? তবে যা বলবেন , যথাযথ তথ্য ও প্রমান সহ বলবেন, নিজের মনগড়া কথামালা কোন দলিল নয়। সাধারন মানুষগুলোকে এতটাই আপনারা মিথ্যা প্রচারনা দিয়ে আবেশিত করে রাখছেন যে উপযুক্ত দলিল ছাড়াই আপনাদের মন গড়া কথামালায় তারা প্রতারিত হয়ে যায়, আপনাদের বানান কথার যে কোন প্রমান নেই সেটা তারা বুঝতে পারে না। আসলে তারা বুঝতেই পারে না কোনটা আপনাদের বানান আর কোনটা প্রামান্য দলিল।

    1. 14.1
      শাহবাজ নজরুল

      বার বার অনুরোধ করার পরেও ২:২৫৬ দ্বীন নিয়ে বাড়া বাড়ি নেই- এ আয়াতের পেক্ষাপট ব্যখ্যা করছেন না কেন ? বার বার এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন ? এ আয়াতের প্রেক্ষাপট টাও একটু ব্যখ্যা করুন , পাঠক গন তা জেনে সত্য জানুক। প্রেক্ষাপট ব্যখ্যা করার পর অবশেষে আমাদের মত মূর্খ মানুষকে জানান দিন কেন এটার বিধান কেয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে , কেন ১০৯:৬ বা ৯:৫ এর মত শুধুমাত্র তৎকালীন সময়ের জন্য বহাল থাকবে না ? আশা করি এবার সবিস্তারে উক্ত ২:২৫৬ এর প্রেক্ষাপট বর্ণনা করবেন।

       
      দেখুন ১২.৬, ১২.৭
       

      পরিশেষে আপনার সময়ের দাম হয় যখন সত্যের মুখোমুখি হন। অসত্য প্রচারে আপনার সময়ের অভাব নেই। আপনাদের মনগড়া ও বানান কথাবার্তায় সুন্দর করে সাজানো বক্তব্যের দ্বারা সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করাতে আপনাদের সময়ের অভাব পড়ে না। কিন্তু সে দিন আর নাই। সত্যের মুখোমুখি আপনাদেরকে হতেই হবে , পালানোর সুযোগ আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। সুতরাং দৌড় না দিয়ে সত্যের মুখোমুখি হোন, দেখি আপনার সাহস কত? তবে যা বলবেন , যথাযথ তথ্য ও প্রমান সহ বলবেন, নিজের মনগড়া কথামালা কোন দলিল নয়। সাধারন মানুষগুলোকে এতটাই আপনারা মিথ্যা প্রচারনা দিয়ে আবেশিত করে রাখছেন যে উপযুক্ত দলিল ছাড়াই আপনাদের মন গড়া কথামালায় তারা প্রতারিত হয়ে যায়, আপনাদের বানান কথার যে কোন প্রমান নেই সেটা তারা বুঝতে পারে না। আসলে তারা বুঝতেই পারে না কোনটা আপনাদের বানান আর কোনটা প্রামান্য দলিল।

       
      আমার সমস্ত কথা দলিল থেকেই দিয়েছি। আপনি দিচ্ছেন মনগড়া ব্যাখ্যা। অতএব, আপনার এই কথা আপনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
       
       

  15. 13
    আব্দুল হক

    প্রতি
    শাহবাজ নজরুল
    প্রতিটি বারই আপনি কোরানের নাসিক মানসুক সম্পর্কিত মেথডলজি বিষয়টাকে এড়িয়ে গেছেন। সেটা কি উদ্দেশ্যমুলক ? আমি প্রতিবার উক্ত মেথডলজি এর উপর জোর দিয়েছি। কারন আমার জানা আছে আপনারা সুবিধা মত উক্ত মেথডলজি ব্যবহার করেন। আমার প্রশ্ন হলো উক্ত মেথডলজি অন্য আয়াতের ক্ষেত্রে নাসিক মানসুক হিসাবে ব্যবহার করবেন, সেটা মুসলিম ও অমুসলিমদের সহাবস্থান বিষয়ে ব্যবহার কেন করছেন না ? নাসিক মানসুকের ব্যপারে মেথডলজি হলো -- কোন বিষয়ে পূর্বে নাজিলকৃত আয়াত পরবর্তীতে নাজিলকৃত আয়াত দ্বারা বাতিল হয়ে যায় , ইসলামি স্কলারদের সিদ্ধান্ত সেরকম। অন্য ক্ষেত্রে আপনি সিংহের মত সে মেথডলজি ব্যবহার করছেন কিন্তু শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে সেটা এড়িয়ে গিয়ে ইজমা কিয়াস এসব টেনে আনছেন কেন ? ইজমা কিয়াস কোথায় প্রজোয্য?  যে বিষয়ে নবী তখন কোন নির্দেশ দেন নি বা যার কোন নির্দেশণা কোরান হাদিসে নাই সেই বিষয়ে ইজমা কিয়াস প্রজোয্য কিন্তু যে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ কোরান হাদিসে বিদ্যমান সেব্যপারে কোন ইজমা কিয়াস চলবে না। মুসলমান ও অমুসলমানদের সহাবস্থান বিষয়ক নির্দেশ সুস্পষ্টভাবে কোরান হাদিসে বিদ্যমান, এখানে তো ভাই আপনার ইজমা কিয়াস চলবে না। মুসলিম স্কলাররা বললেই হলো ? আমি আগেই বলেছি মুসলিম স্কলাররা উদ্দেশ্যমূলকভাবেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিষয়ক নাসিক মানসুক এড়িয়ে গেছেন। কারনটা হলো এসব স্কলাররা তখনই বিষয়টা নিয়ে ব্যখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন যখন দুনিয়াতে মুসলমানদের চাইতেও বড় বড় শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল। এমতাবস্থায় তারা যদি নাসেক মানসুক দ্বারা বিষয়টির ফয়সালা করতেন তাতে মুসলমানরা বাইরের সকল শক্তির টার্গেটে পরিণত হতো। তাতে মুসলমানদের দুনিয়াতে টেকা কঠিন হতো। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই ইসলামিক স্কলাররা এভাবে ডাবল স্টান্ডার্ড গেম খেলেছেন। এই যেমন বর্তমানে আপনারাও সেটা খেলে চলেছেন কারন দেখা যাচ্ছে- মুসলমানদের চেয়ে অমুসলিমরা শত শত গুন বেশী শক্তিশালী সব দিক দিয়ে, সামরিক, জ্ঞান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সব দিক দিয়েই। এমতাবস্থায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিষয়ক বিধান জিহাদী আয়াত দ্বারা রহিত করে দিলে সকল অমুসলিম মুসলমানদের ওপর ঝাপিয়ে পড়তে পারে। তাতে মুসলমানদের অস্তিত্ব সংকট হতে পারে। সুতরাং আমার বক্তব্য পরিস্কার , মুসলিম স্কলাররা শান্তির আয়াতসমূহ জিহাদী আয়াতসমূহ দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে  রহিত করেন নি বিধায় বিষয়টা সঠিক হয়ে গেল তা হতে পারে না , বরং এটা হলো একটা প্রতারণামূলক কৌশল। আগের সকল বক্তব্যে বিষয়টা আমি উদাহরন সহ বুঝিয়ে দিয়েছি। আপনি বুঝেও না বোঝার ভান করলে আমার বলার কিছু নেই।
    পরিশেষে হালকা ভাবে হলেও আপনি ৯:২৯ আয়াতকে সকল সময়ের জন্য প্রজোয্য বলেছেন। কিন্তু দোষ চাপিয়েছেন ইহুদী খৃষ্টানদের ওপর। অথচ পূর্বের আলোচনায় আমি দলিল উল্লেখ করত: দেখিয়েছি ,রোমান খৃষ্টানরা নয় , বরং নবীই তার দলবল নিয়ে সিরিয়া অভিমূখে আগ বাড়িয়ে রোমানদের বিরুদ্ধে অভিযানে বেরিয়েছিলেন তাদেরকে পরাজিত করে তাদের কাছ থেকে জিজিয়া কর আাদায় করে মুসলমানদের জীবিকা অর্জনের জন্য। যা কিন্তু আমি পরিস্কারভাবে পূর্বের আলোচনায় দেখিয়েছি। আপনি মনে হয় আমার বক্তব্য না পড়েই প্রতি মন্তব্য করছেন। আবার দেখুন আয়াতগুলো --
     
    হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রেøর আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। ৯:২৮
    ৯:৫ আয়াতের মাধ্যমে অমুসলিমদেরকে অত:পর কাবা ঘরের সামনে হজ্জ উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেলায় আসতে নিষেধ করা হচ্ছে, তাতে মুসলমানরা দারিদ্রের আশংকা করছে কারন তাতে তারা ব্যবসা করতে পারবে না। অত:পর নাজিল হয় এর পরের আয়াত
    তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে। ০৯:২৯
    এখানে বুঝানো হচ্ছে যে মুসলমানরা ইহুদি খৃষ্টানদের সাথে যুদ্ধ করবে যতক্ষন না তারা ইসলাম গ্রহন করে , যদি গ্রহন না করে তাহলে তারা জিজিয়া কর প্রদান করবে আর এর ফলে হজ্জের সময় কাবার কাছে অমুসলিমরা আগমন না করলেও মুসলমানরা দরিদ্র হবে না। এখানে খৃষ্টানরা আগ বাড়িয়ে মুসলমানদেরকে আক্রমনের পায়তারা করছিল সেটা কোথায় বলা আছে ? আমি উপরে ইবনে কাথিরের তাফসির থেকে সেটা আগে ব্যখ্যাও করেছি। আপনি সেসব এড়িয়ে গেছেন ইচ্ছা করেই । অথচ অবশেষে আগাম আক্রমন কারী হিসাবে কোন প্রমান ছাড়াই খৃষ্টানদের ওপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে যথাযথ দলিল সহ আমি প্রমান করে যাচ্ছি যে মুসলমানরাই ছিল আাগাম আক্রমন কারী , সেখানে আপনি প্রমান ছাড়া ইহুদি খৃষ্টানরা ছিল আাগাম আক্রমনকারী এটা তোতা পাখির মত একনাগাড়ে বলে যাচ্ছেন। এছাড়াও বাস্তব কারন হলো রোমান বা পারসিক কোন সাম্রাজ্যই কখনো মক্কা বা মদিনা আক্রমনের চিন্তা করে নি ,. কারন  সেখানে তখন কিছু উট দুম্বা ছাড়া কিছুই ছিল না, তাই এসব স্থান আক্রমন করে দখল করার কোন ইচ্ছা পোষন করেনি। প্রকারান্তরে নব বলে বলীয়ান মুসলমানরা অর্থ সম্পদের লোভে পার্শ্ববর্তী সাম্রাজ্য রোম বা পারস্য আক্রমনের পায়তারা করছিল বা অন্তত: প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যেমন ৯:২৯ আয়াত নাজিলের পর স্বয়ং নবী একটা বড় বাহিনী গঠন করে সিরিয়ার দিকে প্রেরন করেন রোমানদের বিরুদ্ধে আক্রমনের জন্য। উপরে ইবনে কাথিরের তাফসিরে তার বর্ণনা আছে একটু পড়ে দেখুন।  যা অবশেষে ব্যর্থতায় পর্যবশিত হয় নানা কারনে। রোমানরা মক্কা বা মদিনা আক্রমন করতে আসেনি।  স্বয়ং নবী যেখানে দেখিয়ে গেছেন যে এখানে তিনি ও তার বাহিনী নিজেই আগ বাড়িয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করে অগ্রসর হয়েছেন , আর আপনি বলছেন এখানে খৃষ্টানরা আক্রমনকারী। ভাই , এভাবে কেন আপনারা নিরীহ মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করছেন? সাধারন মানুষ এত সব ইতিহাস জানে না , তাদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে এভাবে মিথ্যা প্রপাগান্ডা করে যাচ্ছেন , আর দোষ দিচ্ছেন আমাকে যে নাকি প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে সত্য প্রচার করছে ? যথাযথভাবে না পড়েই আমার মন্তব্যের প্রতি মন্তব্য করে যাচ্ছেন আর নিজের মনে উল্লাস অনুভব করছেন যে আমার পয়েন্ট আপনি রিফিউট করেছেন ?  আমি আব্দুল হক , সত্যের দাস , সত্য প্রকাশ করাই আমার কাজ । আমার সংগ্রাম আপনাদের মত মিথ্যাচারী ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডাদের বিরুদ্ধে। নিজেরা মিথ্যা প্রচার করে পরে সে দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে উল্লাস করবেন সে দিন আর নেই ভাই, তথ্য প্রবাহের অবাধ যুগে মানুষ এখন ক্রমশ: আপনাদেরকে চিনতে পারছে, আপনাদের স্বরূপ বুঝতে পারছে। তাই সময় থাকতে সত্যকে স্বীকার করে নিন, মিথ্যাচার বন্দ করুন।
     
     

    1. 13.1
      শাহবাজ নজরুল

      আমার প্রশ্ন হলো উক্ত মেথডলজি অন্য আয়াতের ক্ষেত্রে নাসিক মানসুক হিসাবে ব্যবহার করবেন, সেটা মুসলিম ও অমুসলিমদের সহাবস্থান বিষয়ে ব্যবহার কেন করছেন না ? নাসিক মানসুকের ব্যপারে মেথডলজি হলো -- কোন বিষয়ে পূর্বে নাজিলকৃত আয়াত পরবর্তীতে নাজিলকৃত আয়াত দ্বারা বাতিল হয়ে যায় , ইসলামি স্কলারদের সিদ্ধান্ত সেরকম।

      দেখুন ১২.৩ ও ১২.৪। ওখানেই জবাব দেয়া আছে। মাথা খাটান।
       

      অন্য ক্ষেত্রে আপনি সিংহের মত সে মেথডলজি ব্যবহার করছেন কিন্তু শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে সেটা এড়িয়ে গিয়ে ইজমা কিয়াস এসব টেনে আনছেন কেন ?

      দেখুন ১২.৩ ও ১২.৪। ওখানেই জবাব দেয়া আছে। মাথা খাটান।

      ইজমা কিয়াস কোথায় প্রজোয্য?  যে বিষয়ে নবী তখন কোন নির্দেশ দেন নি বা যার কোন নির্দেশণা কোরান হাদিসে নাই সেই বিষয়ে ইজমা কিয়াস প্রজোয্য কিন্তু যে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ কোরান হাদিসে বিদ্যমান সেব্যপারে কোন ইজমা কিয়াস চলবে না।

       
      দেখুন ১২.৩ ও ১২.৪। ওখানেই জবাব দেয়া আছে। মাথা খাটান।
       

      মুসলিম স্কলাররা বললেই হলো ?

       
      হ্যা হলো। ইসলামিক বিষয়ে আমরা পুরুত ঠাকুরদের মতামত নেইনা। এটাই ইসলামের বিধান।
       

      আমি আগেই বলেছি মুসলিম স্কলাররা উদ্দেশ্যমূলকভাবেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিষয়ক নাসিক মানসুক এড়িয়ে গেছেন। কারনটা হলো এসব স্কলাররা তখনই বিষয়টা নিয়ে ব্যখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন যখন দুনিয়াতে মুসলমানদের চাইতেও বড় বড় শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল। এমতাবস্থায় তারা যদি নাসেক মানসুক দ্বারা বিষয়টির ফয়সালা করতেন তাতে মুসলমানরা বাইরের সকল শক্তির টার্গেটে পরিণত হতো। তাতে মুসলমানদের দুনিয়াতে টেকা কঠিন হতো। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই ইসলামিক স্কলাররা এভাবে ডাবল স্টান্ডার্ড গেম খেলেছেন। এই যেমন বর্তমানে আপনারাও সেটা খেলে চলেছেন কারন দেখা যাচ্ছে- মুসলমানদের চেয়ে অমুসলিমরা শত শত গুন বেশী শক্তিশালী সব দিক দিয়ে, সামরিক, জ্ঞান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সব দিক দিয়েই। এমতাবস্থায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিষয়ক বিধান জিহাদী আয়াত দ্বারা রহিত করে দিলে সকল অমুসলিম মুসলমানদের ওপর ঝাপিয়ে পড়তে পারে। তাতে মুসলমানদের অস্তিত্ব সংকট হতে পারে। সুতরাং আমার বক্তব্য পরিস্কার , মুসলিম স্কলাররা শান্তির আয়াতসমূহ জিহাদী আয়াতসমূহ দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে  রহিত করেন নি বিধায় বিষয়টা সঠিক হয়ে গেল তা হতে পারে না , বরং এটা হলো একটা প্রতারণামূলক কৌশল। আগের সকল বক্তব্যে বিষয়টা আমি উদাহরন সহ বুঝিয়ে দিয়েছি। আপনি বুঝেও না বোঝার ভান করলে আমার বলার কিছু নেই।
       

      এটা আপনার নিজের অভিমত। এই অভিমত নিয়ে সুখনিদ্রা দিন। এতে কিছু প্রমান হয়না। আলোচনায় প্রমান বিহীন অভিমতের দাম শুন্য।
       

      পরিশেষে হালকা ভাবে হলেও আপনি ৯:২৯ আয়াতকে সকল সময়ের জন্য প্রজোয্য বলেছেন। কিন্তু দোষ চাপিয়েছেন ইহুদী খৃষ্টানদের ওপর। অথচ পূর্বের আলোচনায় আমি দলিল উল্লেখ করত: দেখিয়েছি ,রোমান খৃষ্টানরা নয় , বরং নবীই তার দলবল নিয়ে সিরিয়া অভিমূখে আগ বাড়িয়ে রোমানদের বিরুদ্ধে অভিযানে বেরিয়েছিলেন তাদেরকে পরাজিত করে তাদের কাছ থেকে জিজিয়া কর আাদায় করে মুসলমানদের জীবিকা অর্জনের জন্য।

       
      প্রমান দেন যে ইসলাম ও খ্রিস্টান দের মধ্যকার যুদ্ধ মুসলিমরা শুরু করেছে।
       
      বাকি কথাগুলো গার্বেজ ও অসংলগ্ন। মন্তব্য নিস্প্রয়োজন।
       
       

      1. 13.1.1
        আব্দুল হক

        প্রমান দেন যে ইসলাম ও খ্রিস্টান দের মধ্যকার যুদ্ধ মুসলিমরা শুরু করেছে।
        আমি আগেই বুঝেছিলাম হয় আপনি আমার আগের মন্তব্য না পড়েই দায় সারা গোছের উত্তর দিয়ে গেছেন না হয় ইংরেজী পড়তে জানেন না। মোল্লা মানুষ তো , ইংরেজীটা শেখেন নি,হয়ত ভালমতো আরবীটাও জানেন না কারন সেটাও আপনার মাতৃভাষা নয়। ভুল আমারই , ইংরেজী অনুবাদ করে দেয়া উচিত ছিল ., যাহোক , আবার রেফারেন্স দিলাম ইবনে কাথিরেরর তাফসির থেকে , নিচে ভাল করে পড়ে নিন- দেখুন খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে আগ বাড়িয়ে কে আক্রমন শানাচ্ছিল-
         
        Fight against those who believe not in Allah, nor in the Last Day, nor forbid that which has been forbidden by Allah and His Messenger, and those who acknowledge not the religion of truth among the People of the Scripture,) This honorable Ayah was revealed with the order to fight the People of the Book, after the pagans were defeated, the people entered Allah's religion in large numbers, and the Arabian Peninsula was secured under the Muslims' control. Allah commanded His Messenger to fight the People of the Scriptures, Jews and Christians, on the ninth year of Hijrah, and he prepared his army to fight the Romans and called the people to Jihad announcing his intent and destination. The Messenger sent his intent to various Arab areas around Al-Madinah to gather forces, and he collected an army of thirty thousand. Some people from Al-Madinah and some hypocrites, in and around it, lagged behind, for that year was a year of drought and intense heat. The Messenger of Allah marched, heading towards Ash-Sham to fight the Romans until he reached Tabuk, where he set camp for about twenty days next to its water resources. He then prayed to Allah for a decision and went back to Al-Madinah because it was a hard year and the people were weak, as we will mention, Allah willing.
        (http://www.qtafsir.com/index.php?option=com_content&task=view&id=2567&Itemid=64)

         
        উক্ত তাফসিরে বলছে পৌত্তলিকরা যখন পরাজিত হলো তখন বিপুল সংখ্যক লোক ইসলামের পতাকা তলে আসল ও আরব উপদ্বীপ ইসলামের অধীন হলো। অত:পর আল্লাহ আহলে কিতাবীদের বিরুদ্ধে ৯ম হিজরিতে যুদ্ধের হুকুম দিলেন ( ৯:২৯) এবং সেমত নবী রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য একটা বিশাল সৈন্যদল গঠন করলেন এবং এটাকে জিহাদ আখ্যায়িত করে কোথায় যুদ্ধে যেতে হবে সেটাও নির্দেশ করলেন। মদিনা ও তার আশপাশ থেকে নবী ৩০ হাজারের মত্ সৈন্য একত্রিত করলেন অত:পর তাদেরকে নিয়ে  রোমানদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য শ্যম দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। ———————-- দেখুন তো এখানে কোথায় বলা আছে রোমানরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পায়তারা করছিল । নাকি এখন বলবেন এটা তো ইবনে কাথিরের কথা , কোরানের কথা নয় বা এটা ভুল অনুবাদ , ইত্যাদি হেন তেন। প্লিজ এসব কথা বলে পাবলিককে হাসাবেন না। ——--

        1. 13.1.1.1
          শাহবাজ নজরুল

          This is talking about Battle of Tabuk. Everyone knows that Tabuk is not the beginning of the Battle between Muslims and Christians. It started 2 more years ago in battle of Mutah, which was triggered by killing a Muslim envoy, sent on a mission of Dawah, and was captured and killed by Roman surrogates.
           
          I hope you understood the Question when I said,

          প্রমান দেন যে ইসলাম ও খ্রিস্টান দের মধ্যকার যুদ্ধ মুসলিমরা শুরু করেছে।
           
          Also don't confine yourself within Ibn Kathir only. Find other sources. I'm giving you more time to research. Do your research. After that can you affirm me that even in the case Tabuk it is an aggressive campaign by Muslim side? Drawing conclusion solely based on ibn Kathir is not a good method. Find other sources. Take your time. 
          --Shahbaz
           

  16. 12
    শাহবাজ নজরুল

    ১. এখানে শেষদিকে চলা তর্কের শুরু হয়েছে যখন আব্দুল হক বলেছেন,
    (৯:০৫, ৯:২৯) দ্বারা পূর্বোক্ত শান্তির আয়াত সমূহ (২:২৫৬, ৮৮:২১, ১০৯:০৬ ইত্যাদি) বাতিল হয়ে গেছে।

    এমন একটা উক্তি দিয়ে তিনি বলছেন মুলিমরাই প্রতারণা আর প্রোপাগান্ডাতে চ্যাম্পিয়ন। যদি কেউ উপরের লাইনটুকু পড়ে তবে ভেবে নেবে বাতিলের (নাসখ/মান্সুখ) ব্যাপারটা বুঝি আসলেই ইসলামী ট্রাডিশনের সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ, ইসলাম অনুসারেই ৯.০৫ ও ৯.২৯ দ্বারা আগের শান্তির আয়াত গুলো ২.২৫৬, ১০৯.০৬ ইত্যাদি বাতিল হয়ে গেছে। আব্দুল হকের প্রথম প্রতারণা ও প্রোপাগান্ডা হচ্ছে নিজের একটা সিদ্ধান্তকে ইসলামী সিদ্ধান্ত বলে চালানোর অপচেষ্টা করা।

     
    ২. সেজন্যে আমি একটা পয়েন্টের উপর স্থির থাকি এবং প্রমাণ করতে বলি যে কোন ইসলামী স্কলার কিংবা কোন ইসলামী ট্রাডিশনের এই নাসখ/মাসসুখের কথা বলা আছে। হক সাহেব তখন আর হক কথা না বলে তোতলানো শুরু করে দেন। সে স্বীকার করতে বাধ্য হলো যে এটা তার নিজের উপলব্ধি ও সিদ্ধান্ত। তারপরে আমি বললাম যে ইসলামী ট্রাডিশন রাম, শাম, যদু, মধু, ডিক চেনী, সোনা বড়ুয়া কিংবা কোনো রাস্তার ভ্যাগাবন্ডের সিদ্ধান্তের উপর চলেনা। ঐসব উপলব্ধি ও আত্মজ্ঞানের কানাকড়ি মূল্যও ইসলামে নেই। ইসলাম হচ্ছে সুত্র পরম্পরার বিধান। কোরান, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস মিলিয়ে ইসলাম। আর এগুলো করবেন ইসলামী স্কলাররা। যদি ইসলামী স্কলার’রা কোনো সিদ্ধান্তে আসেন তবে সেটাই হবে ধর্মের অংশ। এখানে পৈতাধারী ও ধুতি পরিহিত ভণ্ড আব্দুল হকের কথার ও উপলব্ধির কোনোই মূল্য নেই।

    ৩. ইজমা, কিয়াস ও ইস্তেহাদ ও নাসখ/মান্সুখ এক নয়। নাসখ/মান্সুখ is a closed chapter in Islam. নাসখ/মান্সুখ যেহেতু ইসলামের মৌলিক রুলিং বাতিলের বিষয়, এটা রাসুল (সা.) ছাড়া আর কারুর করার অধিকার ধর্মীয়ভাবেই নেই। এটা খুব সহজ ও যৌক্তিক কথা। নাসখ/মান্সুখ এমনকি আবু বকর (রা.) কিংবা ওমরের (রা.) করারও অধিকার নেই, কেননা তাঁরা নবী/রাসুল নন। ইসলামের বিধান তাদের (রা.) বদলানোর অধিকার নেই। এজন্যে স্পষ্ট নাসখ/মান্সুখের কথা যখন আসে তখন এটা কখন মান্সুখ হয়ে গেছে তার বিবরণ থাকে (যেমন হাদীস আকারে)। কিন্তু এসব বিধানে রাবী সরাসরি রাসুল (সা.) এর পর্যন্ত যান, ও বলেন যে অমুক সময় কোরানের অমুক বিধান অমুক আয়ার দ্বারা রহিত হয়েছিল। তাই ইসলামের মৌলিক মেথডলজি না জেনে কেউ আজ ইন্টারনেটে বসে নাসখ/মান্সুখ করলে ঐসব পাগলের প্রলাপ বলে ভাগাড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

    ৪. তাফসিরের শানে নুযুলে কোন আয়াতের ব্যখ্যা শুরু হলে যদি সেই আয়াত রহিত/বাতিল/মান্সুখ হয়ে যায় তবে তা তাফসির বা ব্যাখ্যার প্রথমেই স্পষ্ট দেয়া থাকে। দেখুন প্রচলিত যেকোনো তাফসিরের বই। ২.২৫৬ কিংবা ১০৯.০৬ তে কোনো তাফসিরেই পাওয়া যায়না যে তারা ৯.০৫ ও ৯.২৯ দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। তাই প্রোপাগান্ডিস্ট ও প্রাতারক আব্দুল হকের যুক্তি এখানেই মাঠে মারা যায়। কোনো রাম, শাম, যদু, মধু, ডিক চেনী, সোনা বড়ুয়া কিংবা ভ্যাগাবন্ডের মায়াকান্না কিংবা আর্তনাদের সুযোগ এখানে নেই। এটা স্বাভাবিক যে ইসলামের সমালোচনা করতে গেলে ইসলামী বৃত্তের মধ্যে থেকেই করতে হবে। উর্বর মস্তিষ্কের উপজাত গার্বেজ কথাবার্তার কোনো সুযোগ এখানে নেই।

    ৫. ৯.০৫ এর ব্যাপ্তি শুরু হয় ৯.০১ এ যেখানে বলা হচ্ছে,

    Sahih International: [This is a declaration of] disassociation, from Allah and His Messenger, to those with whom you had made a treaty among the polytheists.

    Pickthall: Freedom from obligation (is proclaimed) from Allah and His messenger toward those of the idolaters with whom ye made a treaty.

    Yusuf Ali: A (declaration) of immunity from Allah and His Messenger, to those of the Pagans with whom ye have contracted mutual alliances:-

    Shakir: (This is a declaration of) immunity by Allah and His Messenger towards those of the idolaters with whom you made an agreement.

    Mohsin Khan: Freedom from (all) obligations (is declared) from Allah and His Messenger (SAW) to those of the Mushrikun (polytheists, pagans, idolaters, disbelievers in the Oneness of Allah), with whom you made a treaty.

    Arberry: An acquittal, from God and His Messenger, unto the idolaters with whom you made covenant:

    এই সব অনুবাদেই দেখা যাচ্ছে ৯.১ স্পষ্ট করে বলছে (past tense এ) যে এই proclamation কেবল তাদের জন্যে প্রযোজ্য যাদের সাথে উনি (সা.) ইতোমধ্যেই চুক্তি করেছেন। তাই ৯.৫ কে কেবল ঐ চুক্তি ব্যাতিরেকে অন্য কোনো ক্ষেত্রে লাগানোর সুযোগ নেই। কেউ করলে সেই ভ্যাগাবন্ড প্রোপাগান্ডিস্ট ও প্রতারক বলেই গণ্য হবেন।
     

    ৫. সুরা কাফিরুন (১০৯) নাযিল হয় কোরাইশ দের পক্ষ থেকে আপষ রফার ব্যাপারে আল্লাহ্‌’র সিদ্ধান্ত জানানোর জন্যে। কুরাইশ’রা মুহাম্মদ (সা.) এর কাছে আর্জি নিয়ে আসে যে মুসলিমরা তাদের দেব-দেবী লাত, মানাত, হোবল, ঊজ্জাকে এক বছর উপাসনা করবে আর তার বদলে কোরাইশ পৌত্তলিকেরা পরের বছর কেবল আল্লাহের উপাসনা করবে। এই আপোষ রফার প্রস্তাবকে বাতিল করে দিয়ে সুরা কাফিরুন (১০৯) নাযিল হয়।
     
    109:1 Say: O disbelievers!
    09:2 I worship not that which ye worship;
    109:3 Nor worship ye that which I worship.
    109:4 And I shall not worship that which ye worship.
    109:5 Nor will ye worship that which I worship.
    109:6 Unto you your religion, and unto me my religion.

     
    এখানে ১০৯.৬ কে শান্তি কিংবা অশান্তির বানী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ১০৯.৬ আগের ১০৯.১-৫ এ বর্ণিত মুসলিম মৌলিক আক্বীদার শেষ পরিব্যাক্তি। এখানে মূলত বলা হচ্ছে লাত, উযযা, হোবল সহ দূগা, স্বরস্বতী, লক্ষ্মী কিংবা গনেশের স্থান ইসলামে নেই। এখানে কেবল এক আল্লাহর উপাসনা করা হয় ও উনার কোনো শরীক নেই। ১০৯.৬ এর সঠিক অবস্থান হচ্ছে এটা ইসলামী ঈমান ও আক্বীদার একটা মৌলিক টেনেট, এখানে মূলত বলা হচ্ছে ইসলাম ইসলামই। এখানে অন্য ধর্মের সাথে জগা-খিচুড়ি বানিয়ে হাইব্রীড ধর্ম বানানোর কিছু নেই। তাই আব্দুল হকের মৌলিক premise, অর্থাৎ ১০৯.০৬ ও ৯.০৫ কিংবা ৯.২৯ একই বিষয়ের আয়াত (শান্তি/অশান্তি বিষয়ক), তা মৌলিক মানসিক বৈকল্যের লক্ষণ। আসলে আলোচ্য ২.২৫৬, ১০৯.৬, ৯.০১ ও ৯.২৯ এই সব আয়াতের মৌলিক কন্টেক্সট ই আলাদা। উনার স্ব-তাফসির মানসিক বৈকল্য ও ঊন মস্তিষ্কের উপজাত। ইসলামের বেসিক টেনেট সম্পর্কেই উনার কোনো ধারণা নেই অথচ সারা বিশ্বকে  উনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বসেছেন।
     

    ৬. ২.২৫৬ মূলত ইসলামের আরেকটি মৌলিক ধারা। এখানে বলা হচ্ছে “দ্বীনের ব্যাপারে জোরাজুরি নেই।” মানে হচ্ছে মুসলিম হিসেবে ইসলামের “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর বাণী দেয়া হবে – এর পরে কেউ যদি তা গ্রহণ করে ভালো না হলে করবে না। এখানে আল্লাহ্‌ সুবহানা তায়ালা দ্বীনের সিদ্ধান্ত ব্যাক্তির উপর ছেড়ে দিয়েছেন। আর এটা অনুসরণ করে মুসলিমরা কখনো অন্যকে ইসলামে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করেনি। আমি আগের কমেন্টে আর্মেনিয়ার কথা বলেছিলাম যাবা ৭০০ বছর মুসলিম রুলেও অধীনে ছিল কিন্তু ওদের কেউই মুসলিম হননি।
     

    ৭. উপসংহারঃ ১০৯.০৬ কে শান্তি/অশান্তির বানী হিসেবে না দেখে দেখতে হবে ইসলামী মৌলিক বিধান হিসেবে। এখানে বলা হচ্ছে ইসলামের মধ্যে দূর্গা আর গনেশের স্থান নেই ও কখনো থাকবেও না। ইসলাম আছে ইসলামের জায়গাতে আর দুর্গা-গনেশ আছে তাদের নিজেদের জায়গাতে (অর্থাৎ হিন্দু ধর্মে)। ১০৯.০৬ বাতিল হয়নি। এটা কেয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে। ইসলামে দুর্গা-গনেশের স্থান রোজ কেয়ামত পর্যন্ত হবেনা। ৯.০৫ কেবল ঐ সময়ের মক্কার পৌত্তলিকের ব্যাপারে প্রযোজ্য যা ৯.০১ এ স্পষ্ট বলা আছে। এখানে ভ্যাগাবন্ডীয় নব ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। এর প্রয়োগ কাল শেষ হয়ে গেছে ঐ specific সময় পার হবার সাথে সাথেই। তবে এই আয়াত টেকনিক্যালি নাখস/মান্সুখে পড়বে না। কেননা এটা অন্য কোনো আয়াত দ্বারা মান্সুখও হয়নি। ঐ আয়াতের ব্যাপ্তি নাযিলে বছরেই শেষ হয়ে গেছে, কেননা এটা স্পেসিফিক চুক্তির ব্যাপারে নাযিল হয়েছিল। ২.২৫৬ ইসলামের বেসিক টেনেট। এতে মানুষের ফ্রী উইলের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এটা রোজ কেয়ামত পর্যন্ত চালু থাকবে। কাউকে তরবারী’র নীচে ফেলে বলা যাবেনা যে মুসলিম হও। এর সাথে বাকী আয়াতগুলোর সম্পর্কে নেই। ৯.২৯ চালু থাকবে যতদিন পর্যন্ত খৃষ্টান/ইহুদি বাহিনী মুসলিমদের উপর আগ্রাসন চালাতে থাকবে। ইহুদি/খৃষ্টান/পারসিক ও পৌত্তলিক দের সাথে যে মুসলিমদের যুদ্ধ হয়েছে তার সবগুলোই শুরু হয়েছে বিরোধী শিবির থেকে। তার পরম্পরা চলেছে অনেকদিন, এমনকি আজো চলছে। ভবিষ্যতেও চলবে হয়ত। তবে যুদ্ধনীতি হিসেবে ৯.২৯ আর ২.১৯০ একসাথে দেখতে হবে, অর্থাৎ যুদ্ধ করতে হবে যারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে করে (অর্থাৎ আত্মরক্ষার্থ), কিন্তু সীমা লংঘন করা যাবেনা।
     

    ৮. আমার সময়ের দাম আছে। এ নিয়ে আগের কমেন্টই যথেষ্ট ছিল। তবে এই কমেন্টের মাধ্যমে বিষয়টা আরো পরিষ্কার করা হলো। আব্দুল হকের বাকী কথা উক্ত ৪ টি আয়াতের নাসখ/মান্সুখ এর সাথে যুক্ত নয়; বরং ওগুলো পরাজিত পাগলের প্রলাপ। এ নিয়ে আর কমেন্ট করা হবে না – প্রয়োজনও নেই।
     

  17. 11
    মহিউদ্দিন

     কাবা ঘর নাকি আল্লাহর ঘর যা নাকি আদম তৈরী করেছিল ও ইব্রাহীম পূন: সংস্কার করেন। এর কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে

    এতিদন পর এটা আপনি বুঝতে পারলেন অথচ মিশর ও প্যলেষ্টাইন অঞ্চলের ও আরব বিশ্বের কেউ কিংবা বিশ্বের ১.২ বিলিয়ন মানুষ আজ পর্যন্ত বুঝতে পালনা, ঐতিহাসিক ভিত্তি আপনি পেয়ে গেলেন এ জন্য আপনাকে তো নোবেল প্রাইজ দেয়া দরকার।
    বাইবেল পড়ে দেখুন ইব্রাহীম (অ:) এর মক্কা বা তখনকার বাক্কা আসার কোন তথ্য পান কিনা?  অনেক পন্ডিতি জাহির করেছেন। আর গার্ভেজ ছাড়তে এ ব্লগে না এসে অন্য কোথায় যান।

    1. 11.1
      আব্দুল হক

      প্রতি ,
      মহিউদ্দিন
      কি অদ্ভুত যুক্তি ! আপনারাই তো দাবী করেন বাইবেল কিতাব বিকৃত, ইহুদি ও খৃষ্টানরা তা বিকৃত করে ফেলেছে? অথচ সেই কিতাবে কোথায় বাকা লেখা আছে সেটাকেই মক্কা বানিয়ে কাবা ঘরের ঐতিহাসিক প্রমান হিসাবে দাখিল করছেন ? ভাই যেটাকে আপনারা বিকৃত ও ভুল বলে দাবী করেন , সেই ভুল কিতাবের উদ্ধৃতিও ভুল হতে বাধ্য, এটুকু বোঝার মত সাধারন জ্ঞান বোধ করি আপনার আছে। আর তাই আপনার দাবী অসার ও অসত্য। এর কোন ভিত্তি নেই। তাছাড়া বেকা বলে তো একটা উপত্যকাই আছে , তাই না ? তো বাইবেলের বাকা কেন মক্কা হতে যাবে এটা তো বোঝা মুশকিল। নাকি ওটাকে মক্কা বানালে আপনাদের সুবিধা হয় । এভাবে সাধারন অজ্ঞ মানুষকে ধোকা দেয়া যায় , কিন্তু যারা একটু ইতিহাস নিয়ে ঘাটাঘাটি করে তাদেরকে ধোকা দেয়া যায় না। অথচ উক্ত বাইবেলে বর্ণিত আছে- ইব্রাহিম নবী ইসমাইল নয় ইসহাক কে কোরবানী দিয়েছিলেন। সেটা কেন গ্রহণ করেন না? কোথায় বাকা লেখা আছে সেটা মক্কা বানিয়ে গ্রহন করতে উৎসাহের শেষ নেই , অথচ ইব্রাহিম যে ইসমাইল নয় ইসহাককে কোরবানী দিয়েছিলেন সেটাকে গ্রহন করতে মহা আপত্তি। তখন বাইবেল হয়ে যায় মহা বিকৃত একটা ভুল কিতাব। আহা ! আপনাদের অসহায়ত্ব আর উদ্ভট উল্টাপাল্টা কথা বার্তা দেখে মাঝে মাঝে সন্দেহ হয় আপনারা মানসিক ভাবে সুস্থ তো ? এটা  কি আর একটা ডাবল স্টান্ডার্ড নয় ? আমি আবারও বলছি- ইব্রাহীম নবীর বিচরন স্থান ছিল মিশর ও প্যলেস্টাইন আর সেখান থেকে মক্কার উড্ডয়ন দুরত্ব কম পক্ষে ১৩০০ কিলোমিটার আর পুরো রাস্তাটাই উষর ও ধু ধু কঠিন মরুভুমি। বিশ্বাস না হলে গুগল সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন ম্যাপে। বাইবেল বা কোরান হাদিস কোথাও দেখা যায় না , আল্লাহ ইব্রাহীম নবীকে কোন বোরাক বা ও ঐ জাতীয় উদ্ভট গাধা জাতীয় জন্তু পাঠিয়ে দিয়েছিল ইব্রাহিমকে প্যলেস্টাইন থেকে মক্কাতে নিয়মিত যাতায়াতের জন্য। সুতরাং বুঝতেই পারছেন কাবা ঘরের ঐতিহাসিক প্রমান কতটা দুর্বল। আমি চ্যলেঞ্জ দিচ্ছি- আপনারা যথার্থ দলিল ও তথ্য প্রমান দিয়ে প্রমান করতে পারবেন না যে কাবা ঘর ইব্রাহীম নবি কর্তৃক সংস্কার হয়েছিল। আর তাই এটাও প্রমান করতে পারবেন না যে ইব্রাহীম নবি ইসমাইলকে কোরবানী দিয়েছিলেন।  এসব প্রমানের জন্য বাইবেলের দ্বারস্থ হলেই আপনাকে বাইবেলের অন্য সব বর্ণনাও বিশ্বাস করতে হবে আর তখন ইসলামের ভিত্তিও নড়বড়ে হয়ে যাবে। আপনি বিশ্বাস করবেন বাইবেল বিকৃত ও ভূল , আবার একই সাথে আপনার দাবী প্রমানের জন্য সুবিধামত বাইবেল থেকেই উদ্ধৃতি দেবেন , এটা ভাই যুক্তি তর্কে অচল। আশা করি বোঝা গেছে।

      1. 11.1.1
        নির্ভীক আস্তিক

        সম্মানিত পাঠক বলছিঃ

        কি অদ্ভুত যুক্তি ! আপনারাই তো দাবী করেন বাইবেল কিতাব বিকৃত, ইহুদি ও খৃষ্টানরা তা বিকৃত করে ফেলেছে? অথচ সেই কিতাবে কোথায় বাকা লেখা আছে সেটাকেই মক্কা বানিয়ে কাবা ঘরের ঐতিহাসিক প্রমান হিসাবে দাখিল করছেন ? ভাই যেটাকে আপনারা বিকৃত ও ভুল বলে দাবী করেন , সেই ভুল কিতাবের উদ্ধৃতিও ভুল হতে বাধ্য, এটুকু বোঝার মত সাধারন জ্ঞান বোধ করি আপনার আছে

        স্বাধীনতা যুদ্ধ তো ঠিকি হয়েছে, তা সে  (পাকিস্তানীদের মতে)ভারতের ষড়যন্ত্রে হোক, আর (আমাদের ইতিহাস অনুযায়ি)পাকিস্তানের শোষনের জন্যই হোক। পাকিস্তানী দোষর হর্তা কর্তারা দাবি করছে আমাদের দোষ, আর আমরা দাবি করছি পাকিস্তানিদের দোষ। আর আপনার মত এত্তাবারা জ্ঞানী বলদার ভ্রাতুষ্পুত্ররাই ক'দিন পর পারস্পরিক এই দন্দের বরোধি মন্তব্য কে ব্যবহার করে অপযুক্তি টেনে বলবে -- "আসলে মুক্তিযদ্ধই কখোনো হয় নি। " ইতিমধ্যে অনেকে ইতিহাস বিকৃতিতে অংশগ্রহন করেছেও ।  গেল বছর, আমার বিদ্যালয়ের খাটি মুক্তমনা নাস্তিক দম্প্রদায়ের একজন পিটুনিও খেয়েছে তা করার জন্য।  এদের কুকীর্তির মূলটা খোজার চেষ্টা করছি । দেখি বের করতে পারি কিনা । দিনে দিনে আরো দেখা যাবে ।
        যেহেতু পাঠকদের বাছ বিচার করার অধিকারটি আপনি দিয়েছেন তাই আপনার সম্পর্কে আমি বলছি।  আশাকরি অভিযোগ গুলো সাদরে গ্রহন করে আপনি যে খাটি জ্ঞনী নাস্তিকদের মত বেহায়া নন, সেটি প্রমান করবেন। 

        ভাল হোন। সুস্থ হোন । এই কামনা করি। আর আপনার হীনমন্যতার থেকে রেহাই পাওয়ার একমাত্র উপায় ইসলাম গ্রহন করা। ইসলামকে গ্রহন করুন । ২ রাকাত নামায পড়ুন । দেখবেন আপনার জ্বালাময় অন্তর, বিদ্বেষী আত্না এক ঝটকায় ঠান্ডা হয়ে যাবে। অনেক তৃপ্তি পাবেন । রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন । সত্যি বলছি! আমি চাই আপনি সুখের সন্ধান পান । আপনি যদি সত্যি বিশ্বাস করে নিতেন যে আমরা ভুল পথে আছি, মিথ্যার উপর দাড়িয়ে আছি, তাহলে "আমরা ভাল" -- এই কথাটা শুনার সাথে সাথে নাস্তিকতা/প্যাগান্দের বন্দেগী করার জন্য দৌড়ে এসে বলতেন না -- "অ্যা আইছে। হ্যারা ভাল !" আপনি আসলে নিজের অবস্থানকে স্বীকার করে নীতে পারছেন না । আপনি আপনার নিজের বিশ্বাসের উপর বিশ্বাসী নন ।   হিন্দুদেরও গ্রুপ আছে। তারাও তাদের ফোরামে নিজের মহান বানী প্রচার করছে। তাই তারা নিজদের সবার চাইতে ভাল বললেও তাতে আমরা ভাগ বসাতে চাচ্ছিনা ।  কারন আমরা আমাদের বিশ্বাসে অটল । আমরা আমাদের বিশ্বাসে সত্যভাবেই বিশ্বাসী । তাই অন্যরা নিজদের খারাপ বলল না ভাল বলল তাতে আমাদের কিছু যায় আসেনা । কিন্তু বিপত্তিটা আপনাদের মত প্যাগান/নাস্তিক লোকদের নিয়েই , যারা কোন অবস্থানকেই স্বীকার করে নিতে পারেনা, এমনকি নিজেদেরো না । 

        যাইহোক, এবার একটু বিশ্রাম নিন । অনেক তো হল, আর কত ।  আপনি-ই যে ভাল তাঁর গল্প বলে যান । আপনি নাস্তিকতার আদলে বা হিন্দুত্বের আদলে আপনার মতাদর্শ কে সামনে রেখে যেসকল ভাল কাজ করেছেন তাঁর কিছু গল্প শুনান ।  আমরা প্রশংসা করব, আমাদের মুসলমানদের সে গুন আছে । যারা সরাসরি ইসলামের বিরুদ্ধচারীতা কখনো করেনি, তাদের মুসলমানরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রশংসা-ই করেছে। তাদের হাজারো Contradictory তথ্য থাকলেও তাদের ভালটাকেই মেনে নিয়েছি ।

        —————--বিনীত, সম্মানিত পাঠক ।
         

  18. 10
    আব্দুল হক

    প্রতি শাহবাজ নজরুল,
    পূনশ্চ: ৯:৫ ও ৯:২৯ যদি তৎকালীন অবস্থার প্রেক্ষিতে নাজিল হয়ে থাকে ও পরে যার কার্যকারীতা না থাকে , সেই একই বিধি অনুযায়ী ১০৯:৬ ও ২:২৫৬ কেন শুধুমাত্র সেই তৎকালীন প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছে ধরা যাবে না ? এবং কেন পরে তার কার্যকারীতা রদ হবে না ? কেন এটার কেয়ামত পর্যন্ত বহাল হিসাবে ধরা হবে ? অথচ সর্বশেষ নাজিলকৃত সূরার ৯:৫ ও ৯:২৯ শুধুমাত্র সেই সময়ের প্রেক্ষিতে নাজিল হয়েছে বলে তাকে বাতিল করে দিচ্ছেন ? নাকি এদেরকে বাতিল করে দিয়ে ১০৯:৬ ও ২:২৫৬ বহাল রাখলে সুবিধা হয় ?  এছাড়াও ৯:৫ ও ৯:২৯ নিয়ে বিশাল লেকচার দিলেন  যে কুরাইশরা চুক্তি ভঙ্গ করেছিল ও রোমানরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল বলে তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য এ আয়াত নাজিল হয় যা বন্তুত: অসত্য। হুদায়বিয়ার সন্ধি কুরাইশরা নয় বরং নবীই প্রথম বরখেলাপ করেছিলেন যা আমি দলিল দস্তাবেজ সহ প্রমান করে দেখাতে পারি। কিন্তু এটা এখানে গুরুত্বপূর্ন নয় , আসল কথা হলো- আপনি ২:২৫৬ ও ১০৯:৬ এর তো কোন প্রেক্ষিত বর্ণনা করছেন না , সবিস্তারে এবার এ আয়াতদ্বয়ের প্রেক্ষিত বর্ণনা করুন, এবং অত:পর কেন এ আয়াত দ্বয়ের কার্যকারীতা শুধুমাত্র সেই সময়ের জন্য প্রজোয্য হবে না সেটাও ব্যখ্যা করুন। নাকি এ আয়াতদ্বয়ের প্রেক্ষিত ব্য্যখ্যা করলে আসল গোমর ফাক হয়ে যাবে। তবে একটা আসল কথা বলেছেন ১০৯:৬ নাকি কুরাইশরা শান্তির প্রস্তাব দিয়েছিল বলে নাজিল হয়েছিল, তার মানে নবি আসলে শান্তি পূর্ন অবস্থান চান নি , তাই তো ? আর দেখুন নবী শান্তি না চাইলেও কুরাইশরা এতটাই উদার ছিল যে তারা কিন্তু নবীর উক্ত ১০৯:৬ আয়াত মোতাবেক শান্তিপূর্ন সহাবস্থানই মেনে নিয়েছিল। অথচ গত ১৪০০ বছর ধরে তাদেরকে বলা হচ্ছে কুরাইশরা নাকি নবীকে নানারকম হেনস্তা করেছিল তার প্রান নাশ করার চেষ্টা করেছিল। গত ১৪০০ বছর ধরে কি মিথ্যা প্রপাগান্ডাটাই না চালিয়ে আসা হয়েছে। তবে হ্যা কুরাইশদের আপাত্তি ছিল যে নবী যেন কাবা ঘরে ঢুকে তার ধর্ম প্রচার না করে কারন সেটা তো কুরাইশদেরই উপাসনালয় ছিল, তা্ই না ? নবী যদি তার ধর্ম প্রচার করেনই তা যেন তার নিজস্ব পরিমন্ডলে থেকেই তা প্রচার করেন। এটা বলে কি কুরাইশরা মহা অন্যায় করেছিল ? কোন মসজিদে ঢুকে কেউ যদি খৃষ্টান ধর্ম প্রচার করে , আপনি তা সহ্য করবেন ? তাহলে কুরাইশদের উপাসনালয়ে ঢুকে নবী যদি তার ইসলাম প্রচার শুরু করেন তাহলে কুরাইশরা তা মেনে নেবে কেন ? এরপর নানা কিচ্ছা গল্প ফেদে বলা হয় কাবা ঘর নাকি আল্লাহর ঘর যা নাকি আদম তৈরী করেছিল ও ইব্রাহীম পূন: সংস্কার করেন। এর কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে , মনগড়া কিচ্ছা কাহিনী ছাড়া ? ইব্রাহিম নবি তার ধর্ম প্রচার করতেন মিশর ও প্যলেষ্টাইন অঞ্চলে যা আপনারাও বিশ্বাস করেন , সেখান থেকে মক্কার দুরত্ব কত জানা আছে ? উড্ডয়ন দুরত্বই প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার। আর সেখান থেকে মক্কায় আসতে দুর্গম মরুভুমি পাড়ি দিতে হয় সেটাও কি জানেন ? নাকি আল্লাহ তখন ইব্রাহীমকে একটা হেলিকপ্টার বা উড়োজাহাজ পাঠিয়ে দিয়েছিল ? গাজাখুরি কাহিনীর একটা সীমা থাকা দরকার।  এই যে প্রতিনিয়ত ডাবল স্টান্ডার্ড খেলা আপনারা খেলছেন আর সাধারন মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে প্রতারিত করছেন , আর বলছেন আমার বক্তব্যকে রিফিউট করেছেন? যান মাথায় ঠান্ডা পানি ঢেলে তারপর সুস্থ মাথায় ধীরে ধীরে আমার বক্তব্যগুলো চিন্তা ভাবনা করুন, আশা করা যায় , সব কিছুই দিবালোকের মত ফক ফকা হয়ে যাবে আপনার কাছে, আর তখন আপনার অন্ধত্বও দুর হয়ে যাবে।

  19. 9
    আব্দুল হক

    নিজের মাধুরি মিশিয়ে অনেক কথাই লিখলেন ও বললেন কোন ইসলামিক স্কলার নাসিক মানসুক ফর্মূলা দ্বারা ২:২৫৬ ও ১০৯:৬ কে ৯: ৫ ও ৯:২৯ দ্বারা বাতিল করেছে। আমি বলেছি ইসলামিক স্কলাররা এ বিষয়ে ডাবল স্টান্ডার্ড গেম খেলেছেন। আর এটা হলো তাকিয়া (Taqya) এর একটা উদাহরণ। এধরনের গেম খেলা ইসলাম সম্মত। এ ধরনের গেম না খেললে ইসলামকে আপাত: শান্তির ধর্ম বলে প্রচার করা যায় না। যাহোক এখন আপনার বক্তব্য হলো ৯:৫ হলো শুধু সেই সময়কার কুরাইশদের ব্যপারে নাজিল হয়েছিল আর ৯:২৯ নাজিল হয়েছিল শুধুমাত্র সেই সময়কারা রোমান খৃষ্টানদের ব্যপারে, তাই তো ? তার মানে এ আয়াতদুটোর কার্যকারিতা পরবর্তীতে বাতিল, কি বলেন? কিন্তু সেটাও কোন ইসলামি স্কলার রায় দিয়েছেন ? দেয় নি , কেন দেন নি ? আর দেবেন ই বা কিভাবে সূরা আত তাওবা(৯) হলো নবীর কাছে আসা সর্বশেষ সুরা। সুতরাং এর পর আর কোন সূরা নাজিল হয় নি যে তা দ্বারা উক্ত ৯:৫ বা ৯:২৯ বাতিল হতে পারে। তাই যদি হয় তাহলে এখন আমরা কোন বিধান পালন করব? আপনি নিজেদের মন গড়া তথ্য দিয়ে ৯:৫ ও ৯:২৯ আয়াতদ্বয়ের প্রেক্ষাপট বললেন কিন্তু ২:২৫৬ ও ১০৯:৬ আয়াত দ্বয়ের প্রেক্ষাপট ব্যখ্যা করলেন না দেখি। সেটা আবার কেমন ? এ আয়াত দ্বয়ের প্রেক্ষাপটটাও একটু ব্যখ্যা করুন, পাঠকরা তা জেনে উপকৃত হোক। তাহলে দেখা যাবে নাসিক মানসুক পদ্ধতি অনুযায়ী সেগুলোর কি অবস্থা হয়। আপনি বা তথাকথিত ইসলামিক স্কলাররা নিজেদের সুবিধামত মেথোডলজি প্রয়োগ করবেন সেটা তো হয় না। কোরানকে যদি কোন এক মেথোডলজি দিয়ে বিচার করেন , তাহলে সমগ্র কুরানকেই সে পদ্ধতিতে আনতে হবে, মাত্র দু একটি আয়াত সে পদ্ধতিতে আনবেন বাকি গুলো আনবেন না, এমন তরো মামা বাড়ির আবদার তো চলবে না। যেমন --
    কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।কোরান, ৩৩:৫০
    উক্ত আয়াতে আল্লাহ নবীকে যেমন ইচ্ছা খুশি বিয়ে করার অনুমতি দিচ্ছেন। কিন্তু এর পরে নাজিলকৃত অন্য আয়াত দ্বারা তা বাতিল করে দিচ্ছেন-
    আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন। আপনি যাকে দূরে রেখেছেন, তাকে কামনা করলে তাতে আপনার কোন দোষ নেই। এতে অধিক সম্ভাবনা আছে যে, তাদের চক্ষু শীতল থাকবে; তারা দুঃখ পাবে না এবং আপনি যা দেন, তাতে তারা সকলেই সন্তুষ্ট থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে, আল্লাহ জানেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।কোরান, ৩৩:৫২
     
    তেমনি আর একটা উদাহরণ-
    তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও, নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্দেশ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করতে পার। কোরান ২: ২১৯
    হে ঈমাণদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ, আর (নামাযের কাছে যেও না) ফরয গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়, তবে পাক-পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল। কোরান ৪:৪৩
    উক্ত আয়াতে মদ ও জুয়া খেলাকে মহাপাপ বলা হলেও পরে বলা হচ্ছে এসবের মধ্যে ( বিশেষ করে মদ্যপান) কিছু উপকারিতাও আছে। কিন্তু মদ্যপানকে নিষিদ্ধ করা হয় নি, কিন্তু উক্ত আয়াত পরবর্তীতে নাজিলকৃত আয়াত দ্বারা বাতিল হয়ে যায় যেমন-
    শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শুত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখন ও কি নিবৃত্ত হবে? কোরান ৫:৯১
    যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা পূর্বে যা ভক্ষণ করেছে, সে জন্য তাদের কোন গোনাহ নেই যখন ভবিষ্যতের জন্যে সংযত হয়েছে, বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করেছে। এরপর সংযত থাকে এবং বিশ্বাস স্থাপন করে। এরপর সংযত থাকে এবং সৎকর্ম করে। আল্লাহ সৎকর্মীদেরকে ভালবাসেন। কোরান ৫:৯৩
    এখানে যে মেথডলজি ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো -- একই বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আয়াত নাজিল হলে পরবর্তীতে নাজিলকৃত আয়াত্দ্বারা পূর্বের আয়াতসমূহ বাতিল হয়ে যাবে, এটাই আপনার সব ইসলামি স্কলাররা রায় দিয়েছেন। কিন্তু ঠিক উক্ত মেথডলজি কেন ২:২৫৬ ও ১০৯:৬ আয়াতদ্বয়ের ক্ষে্ত্রে ব্যবহৃত হবে না ? কেন ৯:৫ ও ৯:২৯ আয়াতদ্বারা ২:২৫৬ ও ১০৯:৬ আয়াতদ্বয় বাতিল হবে না ? যদি একই পদ্ধতি এক্ষেত্রে  ব্যবহৃত না হয়, তাহলে এটা অসততা বা ডাবল স্ট্যন্ডার্ড গেম নয় কি ? আর যেখানে আল্লাহই স্বয়ং বলে দিচ্ছেন যে --
    আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান? কোরান ২:১০৬
    এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না। কোরান ১৬:১০১
    অর্থাৎ আল্লাহ চাইলে যে কোন আয়াত কে রদ করে দিয়ে নতূন আয়াত নাজিল করেন। বিষয়টা এখানে কি ? বিষয়টা হলো যে কোন একটা সুনির্দিষ্ট বিষয়ে এ ধরনের পূর্বোক্ত আয়াত বাতিল করে দিয়ে নতুন আয়াত নাজিল করে আল্লাহ। এটাই এখানে মেথডলজি।  যেমন- নবীর যত ইচ্ছা খুশী বিয়ের বিষয়কে (৩৩:৫০) , ৩৩:৫২ আয়াত বাতিল করে। এবং মদ ও জুয়া খেলা (২:২১৯, ৪:৪৩)  কে ৫:৯১ ও ৫:৯৩ আয়াত দ্বয় বাতিল করে। তো এখন একই ভাবে  উক্ত মেথডলজি অনুসরণ করে মুসলমান ও অমুসলমানদের সহাবস্থান বিষয়ক পূর্বে নাজিল হওয়া আয়াত দ্বয় যেমন-১০৯:৬ ও ২:২৫৬ কেন পরবর্তীতে নাজিল হওয়া আয়াত ৯:৫ ও ৯:২৯ দ্বারা বাতিল হবে না ? যদি কোন ইসলামিক স্কলার বাতিল না করে , তাহলে বুঝতে হবে তারা এখানে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড গেম খেলছেন বা প্রতারনা করছেন। অতি সহজ ও সরল হিসাব। আশা করি আপনার মাথায় এবার ভালমতো ঢুকেছে। যদি না ঢোকে তাহলে বুঝতে হবে , আল্লাহর আপনার অন্তর ও ব্রেইনে সীল মোহর মেরে দিয়েছে আর তাই আপনার সব বোধ বুদ্ধি লোপ পেয়েছে। তাই আপনি মনে করছেন আপনি আমার আগের দেয়া সকল পয়েন্টই খন্ডন করেছেন কিন্তু বাস্তবে আপনি এভাবে ভেবে -- পাগলের সুখ মনে মনে জাতীয় আত্মপ্রসাদে ভুগছেন , আর সম্মানিত পাঠকবৃন্দ ঠিকই বুঝতে পারছেন আসল বিষয়গুলো কি।
     
     
     

    1. 9.1
      নির্ভীক আস্তিক

      আশা করি আপনার মাথায় এবার ভালমতো ঢুকেছে। যদি না ঢোকে তাহলে বুঝতে হবে , আল্লাহর আপনার অন্তর ও ব্রেইনে সীল মোহর মেরে দিয়েছে আর তাই আপনার সব বোধ বুদ্ধি লোপ পেয়েছে। তাই আপনি মনে করছেন আপনি আমার আগের দেয়া সকল পয়েন্টই খন্ডন করেছেন কিন্তু বাস্তবে আপনি এভাবে ভেবে — পাগলের সুখ মনে মনে জাতীয় আত্মপ্রসাদে ভুগছেন , আর *******সম্মানিত পাঠকবৃন্দ ঠিকই বুঝতে পারছেন আসল বিষয়গুলো কি।*****

      আমি আসলে সদালাপের একজন পাঠক, I mean আপনার মতে সম্মানিত পাঠক । আমি অন্য সকল মন্তব্য সহ আপনার মন্তব্যকে পাশা পাশি রেখে, পক্ষে বিপক্ষে বিচার করে আপনাকে একটি বখনা বাছুর হিসেবে কল্পনা করলে আপত্তি নেই তো ? কিন্তু, আসলে আমাদের মুসলমানদের অন্য কাওকে বলদা পশু শ্রেনীর হিসেবে চিন্তা করার অনুমতি নেই, কি যে করি !!!

      1. 9.1.1
        আব্দুল হক

        প্রতি
        নির্ভীক আস্তিক
        পক্ষে বিপক্ষে বিচার করে আপনাকে একটি বখনা বাছুর হিসেবে কল্পনা করলে আপত্তি নেই তো
        পাগলে কি না কয়, ছাগলে কি না খায়।

        1. 9.1.1.1
          নির্ভীক আস্তিক

          পাঠক হিসেবে বলছি — সবকিছু বলতে আর সবকিছু খেতে আপনার এত ভাল লাগে কেন ? আফিম টাফিম ছাইপেষ গেলা একটু কমান । তাতে মাতলামি বন্ধ হবে, এবং অন্তত ইসলামকে আফিম মনে হবে না ।  আপনি হীনমন্যতায় ভুগছেন । আপনার টাকা পয়সার সমস্যা হলে মুসলমানদের বলুন, তাদের অমুসলিমদের দান করার জন্য হস্ত খুলে রাখার আদব আছে। আপনার চিকিৎসার দরকার হলে বলুন, সদালাপের ফাঊন্ডেশন থেকে অর্থ সহযোগিতা পাবেন ।

        2. আব্দুল হক

          প্রতি
          নির্ভীক আস্তিক
          মনে হয় না এটা ছাগলামি করার যায়গা। তার পরেও দুনিয়ায় তাকিয়ে দেখুন , অমুসলিমরা নয় মুসলিমরাই কিন্তু অমুসলিমদের কাছে বিপদে পড়ে ভিক্ষা করে।  বাংলাদেশ পাকিস্তান ইন্দোনেসিয়া সোমালিয়া আফঘানিস্তান  এসব দেশে যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে তখন ধনী মুসলিম দেশগুলো নয় বরং অমুসলিমরাই আগে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে, আর এরাও ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ধনী মুসলিমদেশগুলো নয় বরং অমুসলিম পশ্চিমা দেশ গুলোতেই ভিক্ষার থলি নিয়ে দৌড়ে যায়। আপনি বা আপনার মত মুমিন বান্দা এতটাই নিমকহারাম যে , সেই সাহায্য অকাতরে গ্রহণ করে আবার তাদেরকেই একটু পরে গালি দেন অভিশাপ দেন নামাজের সময় । তাদেরকে অন্তর থেকে অভিশাপ দেন গালি দেন আবার তাদের দেশেই কিন্তু বাস করার জন্য পাগলের মত উন্মাদ হয়ে ছুটে যান। চেষ্টা করেন বৈধ বা অবৈধ উপায়ে সেসব দেশে ঢোকার ও বাস করার। এমন নিমকহারামি কিন্তু আর যাই হোক অমুসলিমরা নয়।

  20. 8
    আব্দুল হক

    আমি কোনই প্রোপাগান্ডা করি নি , আমি আমার ব্যখ্যা দিয়ে যথাযথ দলিল উল্লেখ করত: কিভাবে ২:২৫৬ ও ১০৯:৬ আয়াতদ্বয় ৯:৫ ও ৯:২৯ দ্বারা বাতিল হয়ে যাবে তা যথার্থভাবে উপস্থাপন করেছি, কোন স্কলার কি বলল না বলল তাতে এখন কিছু আসে যায় না। আমার বক্তব্যে কোথায় ভুল আছে সেটা আপনার যুক্তি থাকলে সেটা দেখিয়ে দিন। আপনার কেন এমন ধারনা হলো তথাকথিত ইসলামি স্কলাররাই শুধুমাত্র বিদ্যার জাহাজ আর আমরা নিরেট মূর্খ ? ইসলামি স্কলাররাই কিন্তু অন্য অনেক আয়াত এভাবেই নাসিক মানসূক ফর্মূলা মোতাবেক বাদ দিয়ে দিয়েছেন। ভিন্ন ক্ষেত্রে একই বিষয়ে নাজিলকৃত পূর্বোক্ত আয়াত যদি পরবর্তীতে নাজিলকৃত আয়াত দ্বারা বাতিল হয়ে যায়, ঠিক সেভাবেই মুসলিম ও অমুসলিমদের সহাবস্থান বিষয়ক আয়াতের ক্ষেত্রে , পূর্বে নাজিলকৃত আয়াত সমূহ কেন পরবর্তীতৈ নাজিলকৃত আয়াত দ্বারা বাতিল হবে না ? যদি কোন মুসলিম স্কলাররা এটা বাদ দেয়ার ফতোয়া জারি না করে থাকে তাহলে নিশ্চিত ভাবে তারা এখানে ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের আচরন করেছেন ইসলামকে কৃত্রিমভাবে শান্তির ধর্ম বলে প্রচার করার জন্য। এর কারন হলো সেসব ইসলামি পন্ডিতরা যখন এসব নাসিক মানসুক প্রয়োগ করত কোন আয়াত কারা দ্বারা বাতিল হবে তা যখন নির্ধারন করছিলেন তখন ইসলামে যুদ্ধং দেহী জাতীয় ধর্মের চাইতে শান্তিপূর্ণ ধর্ম হিসাবে দেখানোর একটা প্রয়োজনীয়তা ছিল। আর তাই তারা এ ডাবল স্টান্ডার্ডের ভুমিকা গ্রহন করেছিলেন। বাংলাদেশে জে এম বি, শায়খ আব্দুর রহমান, ওসামা বিন লাদেন হালের নাফিস , রেজোয়ান এরা কিন্তু সবাই কোরান হাদিস ভাল মতো পড়ে এটাই বুঝেছিল যে আসল ইসলাম কোনটা। আর তারা কিন্তু সেমতই জিহাদী জঙ্গি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে কাফেরদেকে ধ্বংস করতে প্রবৃত্ত হয়েছিল। তারা অন্তত আপনাদের মত ভন্ড নয় , তারা যেমনটা জেনেছিল তেমনটা আচরন করেছিল। আপনাদের মত ভন্ডরাই মানুষের সামনে নিজেদের মনগড়া বানান ও ভূল ইসলাম প্রচার করেন ও মানুষকে প্রতারনা করেন। সাধারন মানুষ কোরান হাদিস অত ঘাটে না, তারা অতি সহজেই আপনাদের প্রতারনার ফাদে পড়ে যায়। আর তারা যে শতভাগ সত্য ইসলাম জেনে সেমতই ইহুদি নাসারা কাফের ধ্বংসে প্রকৃত্ত হয়েছিল তা কিন্তু নবীর সুন্নাহ অনুসরন করেই যেমন মক্কা দখল করার পর নবী কিছু কালের মধ্য্ মক্কা মদিনার আশে পাশের সকল ইহুদি খৃষ্টানদেরকে তাদের শত শত বছর ধরে বাস করে আসা বসত বাটি থেকে উতখাত করেছিলেন। 
    এখন আজে বাজে কথা না বলে যা আমার বক্তব্যে বলেছি আপনার বিদ্যা বুদ্ধি কিছু ঘটে থাকলে সেগুলো রিফিউট করুন।  আমার ধারনা আপনার বার বার এ পিছটান দেখে এ সাইটের পাঠকরা ইতোমধ্যেই আপনার বিদ্যার জোর জেনে গেছে । আর তাই দেখুন সবাই কেমন চুপ চাপ। সম্ভবত: তারাও এটা ভালমতো জানতেন  না। কাপুরুষের মত ব্যক্তিগত আক্রমন না করে  মুরোদ থাকলে আমার যুক্তি খন্ডন করুন। সবাই সত্য জানুক। পরিশেষে আমি চ্যলেঞ্জ করলাম আমার যুক্তি খন্ডনের বিদ্যা ও দালিলিক প্রমান আপনার কেন সারা দুনিয়ার কোন ইসলামি স্কলারের নেই, ছিল না ও ভবিষ্যতেও  থাকবে না। কারন যা সত্য তা অপরিবর্তনীয় ও তাকে যেমন ইচ্ছা খুশী নিজেদের মত বিকৃত করে চিরকাল প্রচার করে টিকে থাকা যায় না।

    1. 8.1
      শাহবাজ নজরুল

      আমি কোনই প্রোপাগান্ডা করি নি , আমি আমার ব্যখ্যা দিয়ে যথাযথ দলিল উল্লেখ করত: কিভাবে ২:২৫৬ ও ১০৯:৬ আয়াতদ্বয় ৯:৫ ও ৯:২৯ দ্বারা বাতিল হয়ে যাবে তা যথার্থভাবে উপস্থাপন করেছি, কোন স্কলার কি বলল না বলল তাতে এখন কিছু আসে যায় না।

      অবশ্যই আসে যায়। মূলত সব ভাবেই আসে যায়। প্রথমত আমরা মুসলিমরা সনদ ও সুন্নাহের অনুসারী। আগের স্কলাররা এই বিষয়ে কী বলেছেন সেটা আমাদের ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় বিশাল কতৃত্ব বহন করে। কোনো বিষয় উত্থাপিত হলে ঐ বিষয়ে কোরান, হাদীসসহ অগ্রবর্তী আলেমদের সিদ্ধান্ত জেনে নিয়ে একটা সামগ্রিক সিদ্ধান্তে আসতে হয়। আপনি ভালো করেই এটা জানেন। এনিয়ে তর্ক করার কিছু নেই। এটাই আহলে সুন্নাহের মেথডলজি।

      এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি ইসলামে বিশ্বাসী না হয়েও কী এই একই মেথডলজি ব্যবহার করতে বাধ্য? উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ। আপনিও যদি সমালোচনা করেন তবে মেথডলজির মধ্যে থেকেই সমালোচনা করতে হবে। যে বিষয়ে আগের কোনো স্কলারই কোনো কথা বলেন নি, কিংবা একরকম করে হয়ত বলেছেন -- সে বিষয়ে পরে কোনো সমালোচক সম্পূর্ণ নিজের whim, exegesis ও interpretation দিয়ে সমালোচনা করলে হবেনা। হবেনা এই কারণে যে, ঐ whim, exegesis ও interpretation ধর্মের কোনো শাখাতেই আগে গৃহীত হয়নি। এটা হেরেটিক কিংবা বিদা হিসেবে ভাগাড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

      আমার বক্তব্যে কোথায় ভুল আছে সেটা আপনার যুক্তি থাকলে সেটা দেখিয়ে দিন। আপনার কেন এমন ধারনা হলো তথাকথিত ইসলামি স্কলাররাই শুধুমাত্র বিদ্যার জাহাজ আর আমরা নিরেট মূর্খ? ইসলামি স্কলাররাই কিন্তু অন্য অনেক আয়াত এভাবেই নাসিক মানসূক ফর্মূলা মোতাবেক বাদ দিয়ে দিয়েছেন। ভিন্ন ক্ষেত্রে একই বিষয়ে নাজিলকৃত পূর্বোক্ত আয়াত যদি পরবর্তীতে নাজিলকৃত আয়াত দ্বারা বাতিল হয়ে যায়, ঠিক সেভাবেই মুসলিম ও অমুসলিমদের সহাবস্থান বিষয়ক আয়াতের ক্ষেত্রে , পূর্বে নাজিলকৃত আয়াত সমূহ কেন পরবর্তীতৈ নাজিলকৃত আয়াত দ্বারা বাতিল হবে না?

      নাসিখ/মানসুখ কোরানীক সায়েন্সের বিষয়। এটা করবেন ইসলামিক স্কলার’রা – রাস্তার কোনো ভ্যাগাবন্ড নয়। নাসিখ/মানসুখের বিধান আপনার জানা নেই বলে বালখিল্যের মতো তড়পাচ্ছেন। অন্যদিকে নাসেখ/মান্সুখ আর ইজমা/কিয়াস/ইস্তেহাদ/ফিকহ এক কথাও নয়।

      ইজমা/কিয়াস/ইস্তেহাদ/ফিকহ চলমান প্রক্রিয়া। দিন যাবে – নতুন ইস্যু আসবে, নতুন সমস্যা আসবে। ইসলামে দেয়া সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে নানা যুগের আলেমরা সমাজের নানা ইস্যু সমাধান করার জন্যে ইজমা/কিয়াস/ইস্তেহাদ/ফিকহ করতে পারেন। তবে যেভাবে বললাম রাম, শাম, যদু, মধু, ডিক চেনী কিংবা সোনা বড়ুয়া (কপিরাইট: রায়হান ভাই) ইজমা/কিয়াস/ইস্তেহাদ/ফিকহ করতে পারবেন না। এজন্যে ইসলামিক স্কলার হতে হবে।

      আর নাসিখ/মান্সুখ এর ব্যাপারটা আরো অনেক সীমাবদ্ধ। সীমাবদ্ধ এজন্যে যে, যে কয়টা আয়াত কিংবা রুলিং মান্সুখ হয়ে গেছে তা রাসুল (সা.) এর ওফাতের সাথে সাথেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। কেননা কোরানের আয়াত এর রুলিং কিংবা প্রয়োগের ব্যপারে শেষ কথা হচ্ছে রাসুল (সা.) এঁর। এর পরে কারুর নতুন করে কোরানের আয়াত নাসিখ/মান্সুখ করার অধিকার শাস্ত্রীয়ভাবেই নেই। সঠিক ইস্নাদ অনুসরণ করে কোন কোন আয়াত কার কার দ্বারা মান্সুখ হয়ে গেছে তা নির্ধারিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম যুগেই। তাই আজকে কোনো ভ্যাগাবন্ড এসে যদি বলেন যে আমি নাসিখ/মান্সুখ করবো – সেটা কেবল রাস্তার বাচ্চাদের হাসাবে। সোজা কথা হচ্ছে নাসিখ/মান্সুখ এই যুগে বসে ইস্তেহাদের মতো করে করলে চলবেনা। নাসিখ ও মান্সুখের আয়াত নির্ধারিত, সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয়, যা ইসলামের প্রথম যুগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। আর ২.২৫৬ ও ১০৯.৬ -- ৯.৫ কিংবা ৯.২৯ দ্বারা মান্সুখ হয়ে গেছে এমন কথা কোনো ইসলামিক স্কলার বলেন নাই। বললে তাফসিরের প্রথম লাইনেই তা থাকতো।  
       

      যদি কোন মুসলিম স্কলাররা এটা বাদ দেয়ার ফতোয়া জারি না করে থাকে তাহলে নিশ্চিত ভাবে তারা এখানে ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের আচরন করেছেন ইসলামকে কৃত্রিমভাবে শান্তির ধর্ম বলে প্রচার করার জন্য। এর কারন হলো সেসব ইসলামি পন্ডিতরা যখন এসব নাসিক মানসুক প্রয়োগ করত কোন আয়াত কারা দ্বারা বাতিল হবে তা যখন নির্ধারন করছিলেন তখন ইসলামে যুদ্ধং দেহী জাতীয় ধর্মের চাইতে শান্তিপূর্ণ ধর্ম হিসাবে দেখানোর একটা প্রয়োজনীয়তা ছিল। আর তাই তারা এ ডাবল স্টান্ডার্ডের ভুমিকা গ্রহন করেছিলেন।

      গার্বেজ ও পয়েন্টলেস, মেরিটলেস ও অসংলগ্ন কমেন্ট। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

      বাংলাদেশে জে এম বি, শায়খ আব্দুর রহমান, ওসামা বিন লাদেন হালের নাফিস , রেজোয়ান এরা কিন্তু সবাই কোরান হাদিস ভাল মতো পড়ে এটাই বুঝেছিল যে আসল ইসলাম কোনটা। আর তারা কিন্তু সেমতই জিহাদী জঙ্গি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে কাফেরদেকে ধ্বংস করতে প্রবৃত্ত হয়েছিল।

      হ্যাঁ তারা আব্দুল হক আর বিন লাদেনের তাফসির পড়েই ইসলাম বুঝেছে।

      তারা অন্তত আপনাদের মত ভন্ড নয় , তারা যেমনটা জেনেছিল তেমনটা আচরন করেছিল। আপনাদের মত ভন্ডরাই মানুষের সামনে নিজেদের মনগড়া বানান ও ভূল ইসলাম প্রচার করেন ও মানুষকে প্রতারনা করেন। সাধারন মানুষ কোরান হাদিস অত ঘাটে না, তারা অতি সহজেই আপনাদের প্রতারনার ফাদে পড়ে যায়।

      প্রতারনা ও পোপাগান্ডা করছেন আপনারা ও আপনাদের দোসর বিন লাদেনেরা। এই প্রতারনার ক্যাম্পেইনে ইসলামের কিছু আসবে যাবে না।

      আর তারা যে শতভাগ সত্য ইসলাম জেনে সেমতই ইহুদি নাসারা কাফের ধ্বংসে প্রকৃত্ত হয়েছিল তা কিন্তু নবীর সুন্নাহ অনুসরন করেই যেমন মক্কা দখল করার পর নবী কিছু কালের মধ্য্ মক্কা মদিনার আশে পাশের সকল ইহুদি খৃষ্টানদেরকে তাদের শত শত বছর ধরে বাস করে আসা বসত বাটি থেকে উতখাত করেছিলেন।
       

      সবই বাজে ও মিথ্যা কথা।

      ১. মক্কাতে ১৩ বছরের দূর্বিষহ জীবনের পরেও আগ্রাসী কোরাঈশ দলের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার্থেই বদর থেকে শুরু করে মক্কা বিজয় পর্যন্ত যুদ্ধ বিগ্রহাদি ঘটে। (সুত্র)

      ২. মদিনার ইহুদী দল নানা সময়ে চুক্তি ভঙ্গ করার খেসারত দিতে গিয়ে মদিনা ছাড়া হন। এর মধ্যে কৃতঘ্ন কূরাইযা গোত্র মুসলিমদের পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে সরিয়ে ফেলার জন্যে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে বিরোধী শিবিরে হাত মেলায় (সুত্র)।

      ৩. খৃষ্টান ও পারসিকদের সাথে রাসুল (সা.) এর আমল থেকেই মুসলিম বাহিনীর যুদ্ধ শুরু হয়। দুই ক্ষেত্রেই যুদ্ধ শুরু হয় মুসলিম বিরোধী শিবির থেকে। মুসলিমরা যুদ্ধ শুরু করেনি। সেই থেকে উভয় পক্ষের ঘাত প্রতিঘাত সহ নানা কারণে সেই যুদ্ধ চলে অনেক দিন। তবে যাদের সাথে মুসলিমদের নানা সময়ে ইস্যু ছিল তাদের সাথেই যুদ্ধ হয়েছে। ৯.২৯ এ ঐসব আহলে কিতাবদের কথাই বলা হচ্ছে যাদের সাথে যুদ্ধ চলছে, কিংবা যারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করতে চায়। মনে রাখতে হবে এই সব যুদ্ধেই প্রথম আগ্রাসন (কিংবা আগ্রাসনের পরিকল্পনা) করে বিরোধী শিবিরই। এই হিসেবে ইসলামের যুদ্ধের ইতিহাস মোটা দাগে আত্মরক্ষামূলকই বলা চলে। ৯.২৯ যদি যেখানেই খৃষ্টান দেখবে কল্লা নামিয়ে রাখবে জাতীয় রুলিং হতো, তবে হযরত ঊমরের (রা.) এক মাস খরচ করে জেরুসালেমে গিয়ে তালিযুক্ত জামা পড়ে হেড পাদ্রীর কাছে থেকে শহরের চাবি না নেয়াই যুক্তি সঙ্গত হতো। আপনার ব্যাখ্যা মতো ৯.২৯ হলে ওমরের (রা.) উচিত ছিল আবু উবাইদা (রা.) কে যেরুসালেমের হেড পাদ্রীর কল্লা ফেলে দিবার আদেশ দিতে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আজকালকার ভ্যাগাবন্ড’রা ওমর (রা.) এর চাইতেও বেশী কোরান/হাদীস বুঝেন; নাসেখ/মান্সুখ বোঝেন।

      খৃষ্টানদের দেখা মাত্রই কল্লা ফেলার আদেশ যদি ৯.২৯ হয় তবে সবার আগে দরকার ছিল আবিসিনিয়াতে নেগাসের পতন ঘটানো। অথচ ইসলামের ইতিহাসে অনেক জায়গাতে খৃষ্টান-মুসলিম সংঘাত হলেও কেবল সামান্য লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে মুসলিম বাহিনী কখনো আবিসিনিয়াতে যায়নি। কারণ সহজ। প্রথম থেকেই রোমান সাম্রাজ্যের খৃষ্টান্দের সাথে মুসলিমদের নানা সমস্যা চলে। আবিসিনিয়ান দের সাথে তেমন্টা চলেনি। রোমান খৃষ্টাণরা যুগে যুগে সেই ষড়যন্ত্র চালু রাখে। আর মুসলিমরা ক্রুসেড সহ যুগে যুগে রোমান খৃষ্টাণদের এসব যুদ্ধংদেহী মনোভাবেরই মোকাবেলা করে আসছে।   

      ২.২৫৬ যদি মান্সুখ হয়েই যায় তবে কেন আর্মেনিয়া ৭০০ বছর মুসলিম শাসনের অধীনে থাকা সত্ত্বেও কেউই ওখানে মুসলিম হননি? জবাব আছে কি?

      ৪. ৯.৫ কেবল ঐ সময়কার আরব পৌত্তলিক যারা মুসলিমদের সাথে চুক্তি ভেঙ্গেছিল তাদের ব্যাপারে নাযিল হয়। দেখুন ৯.১-৯.৫। ৯.৪ এ উল্লেখিত চুক্তি ভঙ্গকারীদের ক্ষেত্রেই ৯.৫ এর কথা বলা হচ্ছে। সেই চুক্তি ভঙ্গ করা ছিল দ্রোহিতার শামিল (দেখুন ৮.৫৮), যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। বলতে হয় ৯.৫ ঐ ঘটনার সাপেক্ষে লঘুতর শাস্তির কথাই বলছে, কেননা তাদের ৪ মসের ইমিউনিটি দেয়া হয়েছিল। ঐ আয়াত বর্তমান যুগে প্রযোয্য নয়।  

      এখন আজে বাজে কথা না বলে যা আমার বক্তব্যে বলেছি আপনার বিদ্যা বুদ্ধি কিছু ঘটে থাকলে সেগুলো রিফিউট করুন। আমার ধারনা আপনার বার বার এ পিছটান দেখে এ সাইটের পাঠকরা ইতোমধ্যেই আপনার বিদ্যার জোর জেনে গেছে । আর তাই দেখুন সবাই কেমন চুপ চাপ। সম্ভবত: তারাও এটা ভালমতো জানতেন না। কাপুরুষের মত ব্যক্তিগত আক্রমন না করে মুরোদ থাকলে আমার যুক্তি খন্ডন করুন। সবাই সত্য জানুক। পরিশেষে আমি চ্যলেঞ্জ করলাম আমার যুক্তি খন্ডনের বিদ্যা ও দালিলিক প্রমান আপনার কেন সারা দুনিয়ার কোন ইসলামি স্কলারের নেই, ছিল না ও ভবিষ্যতেও থাকবে না। কারন যা সত্য তা অপরিবর্তনীয় ও তাকে যেমন ইচ্ছা খুশী নিজেদের মত বিকৃত করে চিরকাল প্রচার করে টিকে থাকা যায় না।

      সংক্ষেপে রিফিউট করলাম। বুঝার মতো ঘিলু থাকলে এই’ই যথেষ্ট হবার কথা।

  21. 7
    শাহবাজ নজরুল

    @ আব্দুল হক,
    কার কলসি খালি সে বিচারের ভার পাঠকদের উপর ছেড়ে দেন।

    আমি জানতাম আপনি এটা নিয়েই বিরাট লেকচার শুরু করে দিবেন।

    যদি জানতেনই তাহলে প্রথমেই কেন ৮/১০ বছর আগে বললেন না? সময়কালকে নিজের অনুকুলে নিয়ে নিজের মত ব্যাখ্যা করার জন্যে? যেভাবে মুক্তমনার ভ্যাগাবন্ড ইসহাক (অ:) কে ইসমাইল (অ:) এর চেয়ে ৩ বছর ছোটো বানিয়েছে আর সে সুবাদে নিজের মত করে তফসির লিখে গেছে -- সেই একই ধূর্ত পথ অনুসরণ করার জন্যে?

    যাইহোক স্কোর বোর্ড টা ঠিক করা যাক। আপনি অন্তত একটা প্রোপাগান্ডা প্রতারণা করেছেন।
    এবার দ্বিতীয় প্রসঙ্গে আসেন। আমি সহজ ১ লাইনের একটা কথা লিখেছিলাম। বলেছিলাম ইসলামী স্কলারশিপ থেকে দেখান যে

    (৯:০৫, ৯:২৯) দ্বারা পূর্বোক্ত শান্তির আয়াত সমূহ (২:২৫৬, ৮৮:২১, ১০৯:০৬ ইত্যাদি) বাতিল হয়ে গেছে।

    আর আপনি দেখালেন নিজের তাফসির। কমেন্টের শেষে এসে বলেছেন

    এ অবস্থায় আমার মত মূর্খ মানুষ আমি তো বুঝতে পারছি না যে ১০/১৫ বছর আগের উক্ত ২:২৫৬ ও ১০৯:৬ আয়াতের শান্তির বানী কিভাবে অত:পর বহাল থাকে ? এটা কি বাতিল হয়ে যাবে না ?

    মানে পুরো ব্যাপারটা আপনার তাফসির, নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা। আর স্ব-তাফসির এমনভাবে করছেন যেন ইসলামী স্কলার রাই হুবহু একথাই বলে গেছেন। একেই বলে প্রতারণা ও প্রোপাগান্ডা। আগে এই বিষয় সেটেল করেন তারপরে সামনে এগুনো যাবে। আপনি আগে স্পষ্ট করে বলেন যে এই কথাটা

    (৯:০৫, ৯:২৯) দ্বারা পূর্বোক্ত শান্তির আয়াত সমূহ (২:২৫৬, ৮৮:২১, ১০৯:০৬ ইত্যাদি) বাতিল হয়ে গেছে।

    কি আপনার নিজের ব্যাখ্যা/অনুভুতি/সিদ্ধান্ত না কোনো ইসলামী স্কলার একথা বলে গেছেন?
    সাতকাহন লেখার দরকার নেই। এক লাইনে উত্তর দেন। এটা সেটেল হলে সামনে এগুনো যাবে।

  22. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

     
    পড়লাম। অনেক বিষয় নিয়ে এসেছেন একটা লেখায়। কি হতো আর কি হয়েছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে অনেক কথা বলা যায়। কিন্তু যা হয়েছে তা নিয়েই বেশী চিন্তিত হওয়ার দরকার।
    আর ইতিহাস চর্চায় বাঙালীদের দূর্বলতা প্রকট। এই বিষয়ে পুরোপুরি একমত। পূর্ব বঙ্গের ইতিহাস সত্যিকার অর্থেই খুবই পক্ষপাত দুষ্ট এবং একপক্ষীয়। এর কারন বোধ হয় ইতিহাস চর্চার মুল ধারায় মুসলমানদের অবদান খুবই অপ্রতুল। বাংলা ইতিহাসে তীতুমীরকে তেমন ভাবে প্রতিফলিত করা হয় না -- যেমনটা বিনয়-বাদল-সূর্যসেনের কথাগুলো আসে। দুর অতীত থেকে যদি বর্তমান কালের ইতিহাস চর্চার গতিপ্রকৃতি দেখি -- দেখবো ভারতবর্ষে মুসলমানদের ইনভেডর হিসাবেই বিবেচনা করা হয়েছে আর মজার বিষয় ইংরেজদের বিবেচনা করা হয়। এর কারন হিসাবে অনেকেই অনেক কথা বলতে পারে -- কিন্তু আমাদের আত্নজিজ্ঞাসা কি বলে? হাজার বছর শাসনদন্ড বহন করে কি কারনে মুসলমানরা ভারতবর্ষে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক হয়ে গেলো। এর কিছু উত্তর আপনার লেখায় আছে।
    মোদ্দা কথা হলো -- অন্যের দিকে দোষারোপ করার আগে নিজেদের আত্নজিজ্ঞাসাটা ভাল ভাবে করার মাধ্যমেই হয়তো পেয়ে যাবো আমাদের ভবিষ্যতের দিক নির্দেশনা।

    ধন্যবাদ।

  23. 5
    আব্দুল হক

    প্রোপাগান্ডা ও প্রতারণাতে আপনারাই কিন্তু চ্যাম্পিয়ন। উদাহরন- পরবর্তিতে মদিনায় নাজিলকৃত জিহাদী আয়াত সমূহ (৯:০৫, ৯:২৯)  দ্বারা  পূর্বোক্ত শান্তির আয়াত সমূহ (২:২৫৬, ৮৮:২১, ১০৯:০৬ ইত্যাদি) বাতিল হয়ে গেছে। অথচ বাতিল হওয়া আয়াত দ্বারা আপনারা নাগাড়ে ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসাবে প্রচার করছেন সকল মিডিয়াতে বিশ্ব ব্যাপী। এটা একটা প্রকান্ড মিথ্যা প্রচারণা ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। আগে আপনারা এসব ভন্ডামি বন্দ করুন। আপনাদের এ ভন্ডামির প্রথম শিকার নিরীহ মুসলমানরা যারা কোরান হাদিস ও ইতিহাস ঘাটে না। আপনাদের এ ভন্ডামিতে মুসলমান জাতি এক ঘোরের মধ্যে পড়ে আছে, কোন ক্রমেই উঠে দাড়াতে পারছে না। আপনারা এ সব বন্দ করুন, সত্য প্রকাশ করুন, তার পর যদি সবাই আপনাদের কথা শোনে তাহলে সেভাবেই মানুষকে চলতে দিন। অন্যের দোষ ধরার আগে নিজের দোষটা ধরুন।

    1. 5.1
      শাহবাজ নজরুল

      উদাহরন- পরবর্তিতে মদিনায় নাজিলকৃত জিহাদী আয়াত সমূহ (৯:০৫, ৯:২৯) দ্বারা পূর্বোক্ত শান্তির আয়াত সমূহ (২:২৫৬, ৮৮:২১, ১০৯:০৬ ইত্যাদি) বাতিল হয়ে গেছে।

       
      আগে প্রমাণ হাজির করেন। অবশ্যই ইসলামী স্কলারশিপের প্রমাণ হতে হবে, মুক্তমনা'র ভবঘুরে মার্কা প্রমাণ নয়। তারপরে ইনশাল্লাহ আগানো যাবে আলোচনা নিয়ে। তো প্রমাণ আনেন যে (৯:০৫, ৯:২৯) দ্বারা পূর্বোক্ত শান্তির আয়াত সমূহ (২:২৫৬, ৮৮:২১, ১০৯:০৬ ইত্যাদি) বাতিল হয়ে গেছে।

      1. 5.1.1
        এম_আহমদ

        @আব্দুল হক:

        কোথাকার একটা মূর্খ প্রোপাগাণ্ডিষ্ট খৃষ্টীয়ানদের ও তথাকথিত’মুক্ত-চিন্তকদের’বানানো কথা একস্থান থেকে অন্য স্থানে বহণ করে। হায়া শরম নেই।

      2. 5.1.2
        আব্দুল হক

        নবী ১০/১৫ বছর আগে মুসলিম ও অমুসলিদের সহাবস্থান বিষয়ে কোরানে বলেছিলেন-
        দ্বীন নিয়ে বাড়া বাড়ি নেই। ২:২৫৬
        তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার। ১০৯:০৬
        ১০/১৫ বছর পরে মুসলিম ও অমুসলিমদের সহাবস্থান সম্পর্কে  কোরানের সর্বশেষ নাজিলকৃত সূরা আত তাওবাতে বলছেন নিম্নরূপ-
        তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে। ০৯:২৯
        9:29 আয়াতে দেখা যাচ্ছে শুধুমাত্র ধর্ম বিশ্বাস ভিন্ন হওয়ার কারনে তাদের সাথে যুদ্ধ করে যেতে হবে যতক্ষন পর্যন্ত তারা ইসলাম গ্রহন না করে অথবা জিজিয়া কর প্রদান করে বাধ্যগত না হয়।  ৯:৫ আয়াত উল্লেখ করলাম না কারন তাহলে নানা রকম বক্তব্য শুরু হয়ে যাবে যা আলোচনাকে অতি দীর্ঘ করে আসল বক্তব্য থেকে অনেক দুরে সরে যাবে।  এই ৯:২৯ আয়াতে কিন্তু কোন আত্ম রক্ষা মূলক যুদ্ধের কথা বলা হচ্ছে না। সেটা যে বলা হচ্ছে না তা দেখা যেতে পারে ইবনে কাথিরের তাফসিরে-
        (Fight against those who believe not in Allah, nor in the Last Day, nor forbid that which has been forbidden by Allah and His Messenger, and those who acknowledge not the religion of truth among the People of the Scripture,) This honorable Ayah was revealed with the order to fight the People of the Book, after the pagans were defeated, the people entered Allah's religion in large numbers, and the Arabian Peninsula was secured under the Muslims' control. Allah commanded His Messenger to fight the People of the Scriptures, Jews and Christians, on the ninth year of Hijrah, and he prepared his army to fight the Romans and called the people to Jihad announcing his intent and destination. The Messenger sent his intent to various Arab areas around Al-Madinah to gather forces, and he collected an army of thirty thousand. Some people from Al-Madinah and some hypocrites, in and around it, lagged behind, for that year was a year of drought and intense heat. The Messenger of Allah marched, heading towards Ash-Sham to fight the Romans until he reached Tabuk, where he set camp for about twenty days next to its water resources. He then prayed to Allah for a decision and went back to Al-Madinah because it was a hard year and the people were weak, as we will mention, Allah willing.
        (সুত্র: http://www.qtafsir.com)
        উক্ত তাফসিরে কোথায় বলা আছে যে নবী আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধ যাত্রা করেছিলেন। এখানে বরং যেটা বলা হচ্ছে যেমন এর আগের আয়াতে --
        হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রেøর আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। ৯:২৮
        কেন তারা দারিদ্রের আশংকা করছে। তা কিন্তু বলা আছে ৯:৫ নং আয়াতে যেমন-

        strong>তঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ৯: ০৫
        /b>

        এখানে বলা হচ্ছে নিষিদ্ধ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর কাবা ঘরের আশে পাশে অমুসলিম যাদেরকেই পাওয়া যাবে তাদেরকে হত্যা করতে হবে। আর তা এ আয়াত নাজিল হওয়ার পর মুসলমানরা দারিদ্রের আশংকা করছিল যা দেখা যাচ্ছে ৯:২৮ আয়াতে। কেন দারিদ্রের আশংকা করছিল? কারন কাবা ঘরের প্রাংগনে বছরে বেশ কিছু দিন ধরে মেলা বসত হজ্জ উপলক্ষ্যে, সেখানে ইহুদি খৃষ্টান সহ সকল মূর্তিপূজক সকলে জড় হতো ব্যবসা বানিজ্য উপলক্ষ্যে। তার ফলে মক্কাবাসীরা ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হতো যা তাদের জীবন চালানোর জন্য সহায়ক হতো। সে মেলায় অত:পর যদি কোন অমুসলিম না আসতে পারে তাহলে মক্কাবাসিদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে মনে করে তারা দারিদ্রের আশংকা করছিল। প্রশ্ন উঠতে পারে তখনও তো নবী মক্কা দখল করেন নি তাহলে তাতে মদিনায় প্রবাসী মুসলমানদের আতংকিত হওয়ার কি আছে? আসলে এখানেই আসল রহস্য। আর তা হলো হুদায়বিয়ার সন্ধির এক বছরের মাথায়ই নবী মদিনায় এত শক্তিশালী হয়ে পড়েন যে তখন তার কাছে মক্কা বিজয় ছিল খুব সামান্য ঘটনা। ইচ্ছা করলেই সেটা করতে পারতেন আর সেটা করার জন্য তিনি অপেক্ষাও করছিলেন কিন্তু চুক্তি থাকার কারনে তা পারছিলেন না , তিনি অপেক্ষা করছিলেন একটা অজুহাতের। কিভাবে সেটা বোঝা যাযে যে মক্কা দখল ছিল মাত্র সময়ের ব্যপার?  উক্ত ব্যপার জানা যাবে ইবনে কাথিরের তাফসিরে-
        Allah commands His believing servants, who are pure in religion and person, to expel the idolators who are filthy in the religious sense, from Al-Masjid Al-Haram. After the revelation of this Ayah, idolators were no longer allowed to go near the Masjid. This Ayah was revealed in the ninth year of Hijrah. The Messenger of Allah sent `Ali in the company of Abu Bakr that year to publicize to the idolators that no Mushrik will be allowed to perform Hajj after that year, nor a naked person allowed to perform Tawaf around the House. Allah completed this decree, made it a legislative ruling, as well as, a fact of reality. `Abdur-Razzaq recorded that Jabir bin `Abdullah commented on the Ayah,(http://www.qtafsir.com/index.php?option=com_content&task=view&id=2568&Itemid=64)
        উ্ক্ত তাফসিরে দেখা যাচ্ছে ৯ম হিজরীতে হযরত আলী মক্কায় গিয়ে পৌত্তলিক ও অন্যান্যদেরকে কোরানের ৯:৫ আয়াতের আদেশ সম্পর্কে হুশিয়ারী উচ্চারণ করছে আর তখনও কিন্তু নবী মক্কা দখল করেন নি। তখনও মক্কা কুরাইশদের দখলে ছিল। কুরাইশদের দখলে থাকার পরেও সেখানে গিয়ে হযরত আলী কিভাবে এ ধরনের হুশিয়ারী উচ্চারণ করতে পারে ? এর কারন হলো তখন কুরাইশরা এত দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে , আলী মক্কায় শশরীরে হাজির হয়ে এ ধরনের হুমকি দিলেও তাদের করার কিছু ছিল না। অর্থাৎ মদিনার মুসলমানরা যেমন নিশ্চিত ছিল খুব শিঘ্রীই নবী মক্কা দখল করবেন আর তার ফলে তারাও মক্কায় ফিরে যাবে আর তখন তাদেরকে তো ব্যবসা বানিজ্য করেই জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। তখন যদি অমুসলিমরা কাবার সামনের মেলাতে উপস্থিত হতে না পারে তাহলে তাদের ব্যবসা হবে কেমনে ? ভবিষ্যতে দারিদ্যের আশংকা থেকেই তারা নবীকে প্রশ্ন করে তাদের জীবিকা অর্জন কেমনে হবে , তখনই নাজির হয় উক্ত ৯:২৯ নং আয়াত যাতে বলা হচ্ছে -- চিন্তুার কারন নেই আশ পাশের সকল ইহুদি ও খৃষ্টানদের কাছ থেকে জিজিয়া কর আদায় করা হবে যুদ্ধ করে, শুধু তাই নয় পার্শ্ববর্তী খৃষ্টান অধ্যুষিত জনপদেও আক্রমন করে তাদেরকে বাধ্য করা হবে জিজিয়া কর প্রদানে। সেটা ঘটেও ছিল নবীর মক্কা দখলের পর সিরিয়ায় রোমানদের বিরদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করে- যেমন-
        Fight against those who believe not in Allah, nor in the Last Day, nor forbid that which has been forbidden by Allah and His Messenger, and those who acknowledge not the religion of truth among the People of the Scripture,) This honorable Ayah was revealed with the order to fight the People of the Book, after the pagans were defeated, the people entered Allah's religion in large numbers, and the Arabian Peninsula was secured under the Muslims' control. Allah commanded His Messenger to fight the People of the Scriptures, Jews and Christians, on the ninth year of Hijrah, and he prepared his army to fight the Romans and called the people to Jihad announcing his intent and destination. The Messenger sent his intent to various Arab areas around Al-Madinah to gather forces, and he collected an army of thirty thousand. Some people from Al-Madinah and some hypocrites, in and around it, lagged behind, for that year was a year of drought and intense heat. The Messenger of Allah marched, heading towards Ash-Sham to fight the Romans until he reached Tabuk, where he set camp for about twenty days next to its water resources. He then prayed to Allah for a decision and went back to Al-Madinah because it was a hard year and the people were weak, as we will mention, Allah willing.
        (http://www.qtafsir.com/index.php?option=com_content&task=view&id=2567&Itemid=64)
        আর এ যুদ্ধ কিন্তু কোন আত্ম রক্ষার যুদ্ধ ছিল না ,এর উদ্দেশ্য  ছিল অন্যের রাজ্য দখল ও তাদের ধণ সম্পদ দখল সহ তাদেরকে জিজিয়া কর প্রদানে বাধ্য করা।
        তাহলে প্রশ্ন হলো -- ১০/১৫ বছর আগে বলা হলো -- দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি নেই, বা , তোমার ধর্ম তোমার কাছে আমার ধর্ম আমার কাছে -- সেখানে ১০/১৫ বছর পরে সেই একই সহাবস্থান বিষয়ে বিধান হলো -- যুদ্ধ কর ওদের সাথে যতক্ষন ওরা ইসলামের পতাকা তলে না আসে- এ অবস্থায় আমার মত মূর্খ মানুষ আমি তো বুঝতে পারছি না যে ১০/১৫ বছর আগের উক্ত ২:২৫৬ ও ১০৯:৬ আয়াতের শান্তির বানী কিভাবে অত:পর বহাল থাকে ? এটা কি বাতিল হয়ে যাবে না ? দয়া করে একটু ভাল করে বুঝিয়ে দেবেন ?

        1. 5.1.2.1
          শাহবাজ নজরুল

          ফাঁকা কলসি বাজে বেশী। আপনার গার্বেজ কমেন্টের হালও একই ধরণের। কমেন্ট ২ লাইনের বেশী পড়তে পারলামনা। প্রথম ২ লাইনই যে ঠিকমতো লিখতে পারে না তার সাথে কী বিতর্ক করবো!!!

          নবী ১০/১৫ বছর আগে মুসলিম ও অমুসলিদের সহাবস্থান বিষয়ে কোরানে বলেছিলেন-
          দ্বীন নিয়ে বাড়া বাড়ি নেই। ২:২৫৬
          তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার। ১০৯:০৬

          আপনি লিখলেন মুসলিম ও অমুস্লিমদের সহাবস্থান বিষয়ে ১০/১৫ বছর আগে কোরানে ২.২৫৬ ও ১০৯.০৬ নাযিল হয়েছিল। তওবা নাযিলের ১০ কিংবা ১৫ বছর আগে রাসুল (সা.) মক্কাতে ছিলেন। সুতরাং আপনি বলছেন ২.২৫৬ মক্কাতে নাযিল হয়। কিন্তু এটা সুবিদিত যে বাকারা সম্পূর্ণ ভাবে মদিনাতে নাযিল হয়। তো একদিকে বলছেন ২.২৫৬ মক্কাতে নাযিল হয়ছিল মুসলিম ও অমুসলিদের সহাবস্থান দৃঢ় করার জন্যে। অন্যদিকে ইতিহাস বলছে বাকারা মাদানী সুরা। সুতরাং আপনার মতো ইতিহাস ও ইসলামী স্কলারশীপের ব্যাপারে অজ্ঞ ব্যাক্তির গার্বেজ লেখা এমন (অপ)যুক্তিতেই ভরপুর থাকবে বলে আশা করা যায়।

          দ্বিতীয়ত, সুরা কাফিরুন কোনোভাইবেই মুসলিম ও অমুসলিমদের সহাবস্থান বিষয়ে নাযিল হয়নি -- বরং সকল ইসলামী সোর্সই বলছে পুরো উল্টো কথা। সহাবস্থানের প্রস্তাব দিয়েছিল কোরাঈশরা আল্লাহর তরফ থেকে সুরা কাফিরুন নাযিল হলে ইসলামের puritanism affirmed হয়। এখানে পরিষ্কার ভাবে বলা হয় যে তোমার আর আমার ধর্ম গুলিয়ে ফেলার কিছু নেই। তুমি তোমার ধর্ম পালন কর আর আমি আমার ধর্ম পালন করবো। সুপ্রচলিত তাফসিরের ব্যাখ্যা কেন নিজের whim থেকে দিলেন?

          ইসলামী ট্রাডিশনের বাইরে গিয়ে নিজের মনের খেয়াল খুশি মতো ব্যাখ্যা দেয়াতে আপ্নাকেই প্রোপাগান্ডিস্ট ও প্রতারক বলা হলো। আগে এই ২ পয়েন্ট থেকে বের হয়ে আসেন। সকালের সূর্যই দিনের বাকী অংশের আভাষ দেয়। আপনার গার্বেজ লেখা পড়ার কোনো মানেই নেই যেখানে আপনি প্রথম ২ লাইনেই পুরো উল্টো ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

        2. এস. এম. রায়হান

          মনা ব্লগে 'আব্দুল হক' এর কিন্তু বেশ কিছু মুরিদ আছে যাদের মধ্যে আঃ মাহমুদ অন্যতম। এমনকি মনাদের গুরুও তার লেখার একজন দারুণ ভক্ত, তবে ছদ্মনামে। ফলে তার সাথে সাবধানে বাহাস করতে হবে!

        3. আব্দুল হক

          ফাঁকা কলসি বাজে বেশী। আপনার গার্বেজ কমেন্টের হালও একই ধরণের। কমেন্ট ২ লাইনের বেশী পড়তে পারলামনা। প্রথম ২ লাইনই যে ঠিকমতো লিখতে পারে না তার সাথে কী বিতর্ক করবো!!!
          একেবারে ১০০% সত্য কথাই বলেছেন। যেখানে আমি দলিল দস্তাবেজ সহকারে আমার বক্তব্যের সমর্থনে ব্যখ্যা দিয়ে চলেছি, সেখানে আপনি খালি কলসই বাজিয়ে চলেছেন।
          আমার ব্যখ্যাতে আমি মাক্কি বা মাদানী কোনটা কি সূরা তা উল্লেখ করিনি। কারন আমি জানতাম আপনি এটা নিয়েই বিরাট লেকচার শুরু করে দিবেন। তাই বলেছিলাম ১০/১৫ বছর আগের ও পরের নাজিলকৃত আয়াত। আচ্ছা ধরুন আমার সময় উল্লেখে সামান্য কিছু ভুল হয়েছে এখন এটাকে ৮/১০ বছর করে নেন, এখন আপনার ব্যখাটা কি হবে ? ৮/১০ বছর আগে মুসলমান ও অমুসলমানদের মধ্যে সহাবস্থান বিষয়ক শান্তির বানী নাজিল হয়েছিল কোরানে, ৮/১০ বছর পরে ঠিক একই কোরানে এ সহাবস্থা বিষয়ে বলা হচ্ছে- যুদ্ধ কর ওই আহলে কিতাবের লোকদের সাথে যতক্ষন পর্যন্ত না তারা ইসলামের পতাকাতলে না আসে…..(৯:২৯)। আমার বক্তব্য হলো- এখন কোরানের কোন আয়াতের বিধান  আমরা মেনে চলব? ২:২৫৬ ও ১০৯:৬ নাকি ৯:২৯? দুধরনের আয়াতের বিধান একই সাথে কিভাবে মেনে চলা সম্ভব ? তখন কি পরস্পর একটা সন্দেহের সৃ্ষ্টি হবে না? বাস্তবে বাংলাদেশে মুসলমান ও অমুসলমানরা পরস্পর শান্তিতেই সহাবস্থান করে, সেটা বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃতি গত কারনে যেমন তারা ধর্ম ভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়, কিন্তু অমুলিমরা তো সব সময়ই আতংকে থাকতে পারে যে কখন না জানি আপনারা তাদের প্রতি জিহাদি জোশে ঝাপিয়ে পড়েন। সেক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা অর্জনের উপায় কি ? কোরানের বানী তো নীতিগত ভাবে সে ধরনের আস্থা অর্জনের উপায় বাতলায় না। আর বাস্তবে আমাদের নবীও কিন্তু সেটাই করেছিলেন মক্কা ও মদিনার আশ পাশের সকল ইহুদি ও খৃষ্টানদেরকে কিন্তু তিনি তাদের বংশপরস্পরায় বাস করা বসত ভিটা থেকে বহিস্কার করেছিলেন কারন তারা ইসলাম গ্রহণ করেনি। নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী আপনাদেরও তো সেটাই করা উচিত , তাই নয় কি ? আপনারা সেটা করছেন না হয়ত আপনারা দুর্বল চরিত্রের লোক অথবা সাচ্চা মুসলমান নয়, কিন্তু সাচ্চা মুসলমান হিসাবে কি আপনাদের নবীর সুন্নাহ পালন করা উচিত নয় কি ? আর সেটা যদি পালন করেন , তাহলে দুনিয়ার অমুসলিমরা আপনাদেরকে কিভাবে বিশ্বাস করবে ? তারা তো একজোট হয়ে তখন মুসলমানদের ওপর ঝাপিয়ে পড়তে পারে তাদের আাগাম আত্মরক্ষার স্বার্থে, কারন আপনারা তো তাদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করবেন সেটা তো তারা বিশ্বাস করতে পারবে না তখন। তাই নয় কি? তাহলে বিষয়টা কি দাড়াল? আপনারা ইসলাম প্রচারের জন্য জোর জবরদস্তি করলে ( ৯:২৯ অনুযায়ী) সেটা হয় ন্যয়সঙ্গত তার বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না , অথচ অমুসলিমরার আত্মরক্ষার জন্য মুসলমানদের ওপর  আগাম আক্রমন করলে সেটা হয়ে যায় মুসলমানদের ওপর অত্যাচার, এটা কি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নয় ? ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারের জন্য অমুসলিমদেরকে আক্রমন যদি আপনার কাছে ন্যয় সঙ্গত হয়, আপনাদের আকস্মিক আক্রমন থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে আগাম আত্মরক্ষামূলক যে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা সেটাও অমুসলিমদের জন্য  ন্যয়সঙ্গত নয় কি ? কারন আত্মরক্ষার অধিকার তো সবার নাকি শুধুমাত্র এটা মুসলমানদেরই একচেটিয়া ?এ বিষয়ে আপনার কি অভিমত?
          আপনি বলছেন, নবী সহাবস্থান বিষয়ক কোন প্রস্তাব কোরইশদের কাছে দেন নি বরং কোরাইশরাই এ প্রস্তাব দিয়েছিল নবীর কাছে আর তাই ১০৯:০৬ আয়াত( তোমার ধর্ম তোমার কাছে, আমার ধর্ম আমার কাছে)  নাজিল হয়েছিল। কি ভয়ংকর কথা!  এতদিন জানতাম নবীর কোন দরকার পড়লে বা কোন বিষয় সম্পর্কে সমস্যায় পড়লে আল্লাহ ওহী নাজিল করতেন , এখন তো দেখছি কুরাইশরাও কোন কিছু প্রস্তাব দিলে বা কামনা করলে তাতেও ওহী নাজিল হয় ? কিন্তু আসল বিষয় সেটা নয়, কুরাইশ বা নবী যেই প্রস্তাব করুক না কেন ২:২৫৬ ও ১০৯:০৬ আয়াতদ্বয় বস্তুত: মুসলমান ও অমুসলিমদের মধ্যকার সহাবস্থান বিষয়ক। ও এ আয়াতদ্বয় উল্লেখ করে আপনারা যারা ইসলাম প্রচার করেন তারা সব সময়ই সেটাই প্রমান করার চেষ্টা করেন যে -- ইসলাম জোরাজুরি বা বল প্রয়োগ অনুমোদন করে না বরং তা সকল ধর্মের সহাবস্থান অনুমোদন করে। এখন আপনি বলছেন যে কুরাইশরা এ সহাবস্থান কামনা করেছিল বলে আল্লাহ এ আয়াত নাজিল করে। তার মানে আপনি বলতে চাইছেন- এটা শুধুমাত্র কুরাইশরা যখন অমুসলিম ছিল তখনকার জন্যই মাত্র প্রজোয্য, এর পর প্রজোয্য নয় ? তাই যদি হয়, তাহলে  অত:পর ও বর্তমানে ইসলাম বিভিন্ন ধর্মের সহাবস্থান অনুমোদন করে কিভাবে? এটা একই সাথে এটাও প্রমান করে যে -- নবী নয় বরং কুরাইশরাই ছিল উদার ও পরমত সহিষ্ণূ কারন , তখন মক্কাতে নবী ছিলেন দুর্বল, আর তাই তারা ইচ্ছা করলে নবীকে সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করে দিয়ে নিজেদের মতই বহাল রাখতে পারত, নবীর কাছে যার যার ধর্ম তার তার কাছে এ ধরনের প্রস্তাব দিত না।
          পরিশেষে, সুরা বাকারা যে সম্পূর্ন মদিনাতে নাজিল হয়েছিল সে ব্যপারে আপনার প্রমান কোথায়? বরং বিভিন্ন সূত্র থেকে এটাই জানা যায় যে -- মদিনার বড় অংশ আয়াতই মক্কাতে নাজিল হয়েছিল , বাকি অংশ মদিনাতে। এর পরেও আপনার বক্তব্য সত্য ধরে নিলেও , সুরা বাকারা তখন নাজিল হয়েছিল যখন নবী সবেমাত্র মদিনাতে হিজরত করেন আর তখনও নবী সেখানে শক্তিশালী হন নি , নানা ভাবে সংগঠিত ও শক্তিশালী হওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। তখনও মদিনাতে ইহুদি ও খৃষ্টানদের ব্যপক প্রভাব ছিল।  আর সে সময়েই বহুল প্রচারিত ২:২৫৬ আয়াত নাজিল হয়। সুতরাং ২:২৫৬ আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপটটা কি ? সেটা একটু ব্যখ্যা করুন আর তখন নবী কতটুকু শক্তিশালী ছিলেন সেটাও ব্যখ্যা করবেন দয়া করে। মাদানী সূরার একটা আয়াত সহাবস্থানের কথা বলছে বলে সেটার প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করেই বাকী মাদানী সূরার জিহাদী আয়াতগুলোর জঙ্গী বিধান সমূহ আপনি চেপে গিয়ে , ইসলামকে শান্তির অপরূপ বিধান বলে যে প্রচার করেন , সেটা কি মিথ্যা প্রপাগান্ডা নয় ? মিথ্যাচার নয় ?

    2. 5.2
      মহিউদ্দিন

      @আব্দুল হক,
      মন্তব্য করার অধিকার আপনার আছে যদিও আপনার মন্তব্যটা wired লাগছে! কেমন যেন ইসলাম বিদ্ধেষী গন্ধ আসছে আপনার কথায়!
      তবে আপনাকে ধন্যবাদ দিত হয় হয় যে ছদ্মনাম ভালই নিয়েছেন! “অব্দুল হক” যার অর্থ দাড়ায় সত্য দাস কিন্তু আপনি যা বয়ান করলেন তাতে সত্যতা কতটুকু আছে তা কি একটু ভেবে দেখেছেন?

      আমি বলব সত্যিই যদি নিজের উপর সামন্যতম আত্মবিশ্বাস থাকে তবে শুধু আয়ত নং উল্লেখ না করে আয়াতগুলার Text with context সহ তা উল্লখ করলে পাঠকরা জানতে পারবে এবং আপনার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই হবে। তা না হলে আপনি যে সেই প্রচারনাকারীদের মত আরেকজন প্রতারক তা প্রমাণিত হবেন

  24. 4
    শাহবাজ নজরুল

    ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে ইখতিয়ার মহম্মদ বখতিয়ার খিলজীকে যিনি বাংলা জয় করে পৃথিবীর এ প্রান্তে মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় শক্তি রূপে সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন । হারিয়ে যাচ্ছে শাহজালাল, শাহ মখদুম ও খানজাহান আলীর মত মহামানবদের স্মৃতি। ভুলিয়ে দেয়া হচ্ছে সিরাজুদ্দৌলা, তিতুমির, হাজী শরিয়াতুল্লাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, স্মৃতি থেকে মুছে দেয়া হচ্ছে নবাব সলিমুল্লাহ, নবাব আব্দুল লতিফ, মুন্সি মেহেরুল্লার মত মহান ব্যক্তিদের।

    http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gifhttp://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif
    খিলজি এখন আর বাংলা জয় করা তুর্কী সেনাপতি নন, তিনি আগ্রাসী বিদেশী শক্তির প্রতিভূ। আর ঐদিকে পাল বৌদ্ধদের নিঃশেষ করা সেন'রা খাঁটি বাঙ্গালী!!! তিতুমীর এখন আর ব্রিটিশ বিরোধী মুক্তিযোদ্ধা নন -- তিনি সৈয়দ বংশে জন্ম নেয়া জঙ্গী ও জিহাদী 'নেসার আলী।'
     
    লেখা ভালো লাগলো।

    1. 4.1
      মহিউদ্দিন

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ
       

  25. 3
    মহিউদ্দিন

    আমরা নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন না হলে কোনোদিনই রিভাইভাল সম্ভব না।

    সহমত
    ধন্যবাদ।

  26. 2
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    দারুণ হয়েছে ভাইজান ।আমি আরো কিছু উদাহরণ যোগ করতে চাই।আজকে বাংলাদেশের মুসলিমদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ কিংবা বঙ্কিমচন্দ্রকে নিয়ে কত মাতামাতি!অথচ ওপার বাংলার সাহিত্যিকদের কেউই মুসলিমদের মানুষ বলে গণ্য করতেন না।বঙ্কিমচন্দ্র তো বারবার তার লেখায় মুসলিমদের "যবন" বলেছেন।কলকাতার হিন্দুরা কোনোদিনই চায়নি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় হোক।আর বর্ণবাদী অত্যাচারের ইতিহাস তো বলাই বাহুল্য।আজকের দিনেও ভারতের অনেক জায়গায় মুসলিমরা হিন্দুদের ভয়ে গরু জবাই করতে পারে না…..অথচ আমাদের শেখানো হয়েছে মূর্তিপূজারীদের সাথে আমাদের "বন্ধুত্বের" এক অলীক ইতিহাস।
     
    আমরা নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন না হলে কোনোদিনই রিভাইভাল সম্ভব না।

    1. 2.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      বংঙ্কিম বাবুর আমলের কথা বাদ দেন এই হাল আমলে আমাদের হুমায়ুন আহমেদ পরলোকগত হলেন, তাঁর জন্য নাকি ভারতীয় বাংগালদের পত্র পত্রিকায় এক কলাম যায়গাও বরাদ্ধ হয় নাই!

  27. 1
    এম_আহমদ

     

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে মানুষের কাছে আজ মিডিয়ার যে প্রযুক্তি এসেছে তাকে ব্যবহার করে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করা এত সহজ হয়েছে গিয়েছে যা মানব সভ্যতার অতীতে কোন কালে ছিলনা। …

    বাঙ্গালী মুসলিমদের স্মৃতি থেকে শুধু আল্লাহর হুকুম পালনের মধ্যমে ইসলামী ন্যায় নীতির শাসনে একটি সভ্য সমাজ গড়ার দায়ভারই হারিয়ে যায়নি। হারিয়ে গেছে বাংলার শ্রেষ্ঠ মুসলমানদের স্মৃতি। ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে ইখতিয়ার মহম্মদ বখতিয়ার খিলজীকে যিনি বাংলা জয় করে পৃথিবীর এ প্রান্তে মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় শক্তি রূপে সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন । হারিয়ে যাচ্ছে শাহজালাল, শাহ মখদুম ও খানজাহান আলীর মত মহামানবদের স্মৃতি।

    উপরের উদ্ধৃতির আলোকে দুই/তিনটি কথা বলতে যাচ্ছি। কথাগুলো রাবণ ও বিভীষণ বিষয়ক: ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক,হিন্দু ও ব্রাহ্মণ্য প্রভাবিত পৌত্তলিক মুসলিম -এই তিন শ্রেণীর ঐক্যগত ব্যাপারে।

    কিছু কিছু জিনিস এমন আছে যা ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক,হিন্দু ও ব্রাহ্মণ্য প্রভাবিত পৌত্তলিক মুসলিমদের মধ্যে একই। সব দেশ ও জাতীতে ভাল মন্দের সমন্বয় থাকলেও পাকিস্তানের ব্যাপারে এই তিন প্রজাতি এক। এদের ভাষা এখানে এসে একদম একাকার হয়ে যায়। এদের বাক্য, শব্দ চয়ন ও যুক্তির অবতারণা প্রায় একই। আমুতে এদেরকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে উল্লেখ করে একটি ব্লগ দিয়েছিলাম, একথা কারো কারো হয়ত মনে থাকতে পারে। তবলীগ জামাতসহ সব ইসলামী দলগুলো বিশ্বের সব দেশে পাকিস্তানী মুসলমানদেরকে ভাই ভাই হিসেবে দেখেন, ওঠা-বসা করেন এবং একাত্তরের ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক/মিলিটারি ঐতিহাসিকতায় সিভিলিয়ান মুসলমানদেরকে আলাদাভাবে দেখে মুসলিম-ভ্রাতৃত্বে বিঘ্নতা ঘটাননা, যদিও উল্লেখিত তিন শ্রেণী উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পাকিস্তানীদেরকে সব সময় ঘৃণা, ভর্ৎসনা ও অবজ্ঞার ভাষায় উল্লেখ করে। তাদের অনেক উক্তি সাক্ষাৎ ফ্যাসিস্ট হিসেবেও দেখা যেতে পারে। মানুষে মানুষে যেমন নানান কারণে মত পার্থক্য সৃষ্টি হতে পারে তেমনি এই তিন শ্রেণীতেও কিছু মত পার্থক্য দেখা গেলেও তাতে beguiled হতে নেই: নাস্তিকদের সাথে পৌত্তলিক মুসলিমের অনেক পার্থক্য কেবল তাদের মধ্যকার পারসোনালিটি কেন্দ্রিক বা অন্য কোনো বৈষয়িক কারণে হতে পারে কিন্তু মূলের দিকে ওরা এক। আমার কাছে খাটি ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকেরা পৌত্তলিক প্রভাবিত মুসলিমের চেয়ে শতগুণে ভাল। কেননা দ্বিতীয় পক্ষের হাতে ইসলাম মার খায় বেশি। বিভীষণের কারণেই নাকি লংকার পতন হয়েছিল।

    আমরা যে কয়টি ব্লগে সামান্য বিচরণ করেছি সেখানেই দেখেছি ইসলামকে ঘায়েল করতে পাকিস্তান ও পাকিস্তানীদের ‘adverse’উদাহরণ টানা হয়। এটা এমন-ভাবে যেন পাকিস্তানের ঘটনাদি ইসলাম ও মুসলমানদের একমাত্র representativeঅবস্থা। বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়া যাবে না, কেননা তা’হলে দেশ পাকিস্তানের মত নিরাপত্তাহীনতা হয়ে পড়বে,মসজিদে মসজিদে বোমা ফুটবে ইত্যাদি। যদিও পাকিস্তান ইসলামী দেশ নয় (গঠনতন্ত্রে একটা কিছু লিখে দিলে অথবা এরশাদের মত একটা ঘোষণা দিলেই দেশ ও জাতি ইসলামী হয়ে যায় না) এবং সৌদিও পুরোপুরি নয়, তবুও ইসলামের উদাহরণটা সৌদি থেকে টানলে কী হত?

    মক্কা বিজয়ের দুই সপ্তাহ পরে মক্কা থেকেই মুহাম্মাদ (সা.) যখন হুনায়েনের যুদ্ধে যাত্রা করেন তখন তাঁর সাথে নব-দীক্ষিত ২,০০০ মক্কী লোক অংশ গ্রহণ করে। কিন্তু হাওয়াজুন গোত্র যখন অতি প্রত্যুষে অতর্কিতভাবে মুসলিম পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন ঈমান ও নিষ্ঠার সাথে আক্রমণ প্রতিহত না করে এই ২,০০০ পিছন থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং দ্রুতই পলায়ন করতে শুরু করে। কারণ, এদের ভিতরে তাওহীদ প্রবেশ করেনি। এক ব্যক্তি সাফওয়ান নামক একজনের কাছে গিয়ে বলে, ‘আবু ওয়াহাব, সুসংবাদ গ্রহণ কর। মুহাম্মাদ আর তার দল পরাজিত হতে যাচ্ছে।’এই হচ্ছে পৌত্তলিকতার এক দিক। আর অপর দিক হচ্ছে এভাবে: সাফওয়ান বলেন,‘আমাকে যদি দাসে পরিণত হতে হয়, (অর্থাৎ এই ময়দানে মুহাম্মাদ পরাজিত হলে আমরা তো হাওয়াজুনের দাসে পরিণত হব) তবে আমার কাছে একজন কোরাইশ প্রভু হাওয়াযুন প্রভু থেকে উত্তম হবে।’ এখানেও কোন ইসলাম নেই, আছে কোরাইশী প্রাধান্য, কোরাইশী অনুভূতি।

    বাঙালী পৌত্তলিক ইসলামের মোকাবেলায় ব্রাহ্মণকেই অগ্রাধিকার দেবে। ইসলামকে দরজার বাহিরে রেখে দাদার সাথের সখ্যতা করবে, কেননা তার ক্বলবে পৌত্তলিকতা, তাওহীদ নয়।

    দ্বীনের এসসাস ও দ্বীনি ভ্রাতৃত্ববোধের মোকাবেলায় ওদের সাথে গঠিত সাম্প্রদায়িকতাই তার কাছে ‘অসাম্প্রদায়িক’ সংস্কৃতি হবে। উটের পাল ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে রাখালের হাঁকে যেভাবে দ্রুত অন্যস্থানে সংঘবদ্ধ হয়, তেমনি সেদিন রাসূলের ডাকে সেই ছত্রভঙ্গ বাহিনীর বদরী, ওহুদীরা সংঘবদ্ধ হয়েই যুদ্ধের মোড় ঘুরান, নিজেরা নিজেদের দিকেই তাকান। আজকে তাওহীদ পন্থিরা নিজেদের দিকে তাকাতে হবে।

    আবু সুফিয়ান রাসূলের সাথে থেকেই তাঁর পাশের এক জনকে নাকি বলেছিলেন, ‘ওরা বাঁচতে হলে সাগরের দিকেই দৌড়াতে হবে।’ কিন্তু সাগরের দিকে পালাবার প্রয়োজন হয়নি। জয় বিজয় আল্লাহর হাতে। আজকে সেই মাক্কীদের দিকে তাকিয়ে লাভ নেই, ওদের দিকে তাকালে মনে ভীতির সঞ্চার হবে এবং সমুদ্রের দিকে পলায়নের এসসাস আসবে।

    আজকের বাস্তবতা জটিল। শিকওয়ার দুটি পঙতি দিয়ে শেষ করি:

    মুর্তি-সূদন নেই কেহ আর, আছে তো কেবল মূর্তিকর,
    ভুত-বিক্রেতা আজর সেজেছে ইব্রাহীমের বংশধর …
    আসনে বসনে খৃষ্ট তোমরা, হিন্দু তোমরা সভ্যতায়,
    তুমি মুসলিম? যাহারে দেখিয়া ইয়াহুদীও লাজে মরিয়া যায়!
    (জওয়াব-ই- শিকওয়া -আল্লামা ইকবাল) 

    1. 1.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আচ্ছা ৪৭ এর পূর্বে এই আজকের বাংলার আর্থ সামাজিক অবস্থা কেমন ছিল বলতে পারবেন? এই জনপদের বাসিন্দারা কোন স্বররগসূখে ছিল? ৪৭ এ ভারত ভাগ না হলে এই জনপদের বাসিন্দারা কেমন থাকতেন?

      1. 1.1.1
        মহিউদ্দিন

        @মুনিম সিদ্দিকী
        অশেষ ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য!খুবই উত্তম প্রশ্ন তবে উত্তর দিতে হলে প্রয়োজন আলাদা পোষ্টের। সুযোগ হলে ভবিষ্যতে লিখা যাবে। আমার কথা হল অতীত আমাদেরকে জানতে হবে শত্রুতা বা হিংসা বৃদ্ধির জন্য নয় বরং সতর্ক হওয়ার জন্য যাতে প্রচারনার কবলে পড়ে যা পেয়েছি তাও না চলে যায়।

        আমাদের অবস্থা কি হত?
        এ কথায় জবাব আছে আমার পোষ্টে। তখন কাশ্মীরের অবস্থা হত।

        ভিডিওটা শুনতে পারলে কিছুটা ধারনা পাওয়া যাবে।

        1. 1.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          কেউ কেউ আমার এই চিন্তাকে সামান্ততান্ত্রিক আমলে চিন্তা বলে দাবী করেন। কিন্তু ইসলামের কোর ভ্যালুর দুশমন যেমন রাসুল সাঃএর আমলে ছিল, অখণ্ড ভারতের আমলে ছিল, এখনও আছে, আর এই ভ্যালু বজার রাখতে হলে রাজনৈতিক শক্তির আশ্রয় দরকার কিন্তু অনেক ইসলামের জন্য জানকুরবান লোক তা বুঝতে চান না। তারা এই কোর ভ্যালুর কথা তখন ভুলে যান যদি এর সাথে রাজনীতি জড়াতে দেখেন।
           

      2. 1.1.2
        এম_আহমদ

        @ মুনিম সিদ্দিকী
        ***********

        আচ্ছা ৪৭ এর পূর্বে এই আজকের বাংলার আর্থ সামাজিক অবস্থা কেমন ছিল বলতে পারবেন? এই জনপদের বাসিন্দারা কোন স্বররগসূখে ছিল? ৪৭ এ ভারত ভাগ না হলে এই জনপদের বাসিন্দারা কেমন থাকতেন?

        ভাই, এই প্রশ্নের প্রেক্ষিত অতি দীর্ঘ। তবে বুঝতে পারছি কেন প্রশ্নটি করেছেন। হয়ত অন্য কোন সময় ব্লগ আকারে বিষয়টি আলোচনা করা যেতে পারে। তবে বিগত দুই/তিন বছরে অনেক মন্তব্য করেছি। তাই আবার বলতে প্রেরণা যেন কম পাচ্ছি। তবুও দু/চারটি কথা হালকা-ভাবে করা যাক।

        ৪৭ এর আগে আপনাদের এই জনপদে গরু-বকরি, ছাগল-ভেড়া তাদের পালে পালে বিচরণ করত না।এখানে দুধের নহর প্রবাহিত হত না। সোনা-রুপার খনি এখানে-সেখানে উন্মুক্ত পাওয়া যেত না। জামাতিরা পাকিস্তান-মিলিটারির সাথে যোগাযোগে ২৩ বছর পাকিস্তান ঠিকিয়ে রাখেনি। যারা বানিয়ে বানিয়ে কথা বলে তারা উপন্যাস তৈরি করে।
        আপনাদের এই অঞ্চলে এবং অন্যান্য মুসলিম অঞ্চলে ১৭৫৭ সালের পর থেকে এক অতি নির্মম অধ্যায়ে প্রবেশ করে। ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দুদের সহযোগিতায় মুসলমানদের উপর এক অবর্ণনীয় দুর্দশা নামে।১৭৯৩ চিরস্থায়ী বন্দবস্তের মাধ্যমে হিন্দু-লুটেরারা ভূমি-বন্দোবস্ত কুক্ষিগত করে পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়। মুসলমানদেরকে মাটির সাথে মিশেয়ে দিয়ে নির্যাতনের এক নবযুগ রচিত হয়। কফিনের শেষ পেরেক সিপাহি বিপ্লবের পরাজয়ে আসে। ইংরেজরা হিন্দু-রাজা ও জমিদারগণের সাহায্য এই কাজ করে এবং আলেম-ওলামাদেরকে (যারা জিহাদ করেছিল) কচু-কাটা দেয়। এগুলো সারেন্ডার করার পর। এটা ছিল যুদ্ধাপরাধ। হাজার হাজারকে দেশান্তর করেছিল (মিন্দানাওয়ে)।. ;জমিদার প্রজায় পর্যবেশিত হয়েও উপায় ছিল না। দেরীতে খাজনা দিলে দুই হাতে ইট রেখে সূর্য-মুখী হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টার শাস্তির ব্যবস্থা ছিল। মুসলমানদের ইজ্জত-হুরমতের উপর আঘাত আসছিল। রাজ্য-হারা, জমিদারী-হারা, চাকুরী-হারা মুসলিমদের নির্যাতিত হচ্ছিল। তারপর এখানে সেখানে শুদ্ধি আন্দোলন হচ্ছিল। জোরে হিন্দু বানানো হচ্ছিল। অনেক জমিদারী এলাকায় টুপী মাথায় দিয়ে চলাফেরা নিষিদ্ধ ছিল। এসবের ফিরিস্তি সামনে রেখেই পাকিস্তানের চিন্তা এসেছিল। ওরা আর যাই হোক মস্তিষ্ক-গুণ্য ছিলনা। আজকের পৌত্তলিক প্রভাবিত বাঙালী মানসিকতায় সেই ইতিহাস নেই। তাদের কাছে আছে ভিন্ন ব্যাখ্যা। দাদাদের শিখানো খাটি ইতিহাস, বিদেশি-মুসলিম শাসকদের ইতিহাস।

        বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে মুক্তির লকে অনেকে চিন্তাভাবনা আসে। ছোটখাটো উদ্যোগ আসে। বঙ্গ ভঙ্গ করাও হয় একটি। তখন এর মূলে ছিল মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক করুণ অবস্থা থেকে সামান্য পরিত্রাণ লাভের উদ্দেশ্য। কিন্তু তাও কয়েক বৎসরের মাথায় জমিদারদের প্রচেষ্টায় শেষ করে দেয়া হয়। (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরও জমিদারী ছিল পূর্ব-বাংলায় আর দেওয়ানি অফিস পশ্চিম বাংলায়। তখন জমিদারের ল্যাজে পা পড়ে যায়। জমিদাররা বঙ্গভঙ্গ রদ করতে নামে। এই আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথও তৎপর ছিলেন। নিশ্চয় জানেন, আমার সোনার বাংলা, সেই বঙ্গভঙ্গ-রদের উদ্দেশ্যে রচিত। অপ্রাসঙ্গিক হলেও গানটির প্রতি লক্ষ্য করুন। এখানে কার imagery প্রাধান্য পেয়েছে? জমিদার ছাড়া আমের-বন আম্র-কুঞ্জ কাদের থাকে? আমাদের আশে পাশে কারো আমের বন বা কুঞ্জ দেখিনি। কিন্তু নিষ্ঠুর পরিণতি হচ্ছে এই যে দরিদ্র থেকে রাস্তার টোকাই পর্যন্ত এই গানের সাথে একাত্মবোধ করতে হয়। তাছাড়া দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে দীপ জ্বালার যে চিত্র (imagery) ফুটে ওঠে তাতে মুসলমানদের কি আছে?

        ভাই, ৪৭ এর আগে আপনারা ছিলেন নিপীড়িত, হিন্দুদের অত্যাচারে জর্জরিত। আপনাদের এই এলাকায় কোন ইন্ডাস্ট্রি ছিল না, কলকারখানা ছিল না। এটা ছিল পানি-বাহিত এক দরিদ্র দেশ। এটা একা স্বাধীন হলে ভারতের মোকাবেলায় সেই স্বাধীনতা অর্থবহ হয়ে থাকতে পারবে বলে নেতাদের বিশ্বাস ছিল না। স্বাধীনতার পর দেশ চালানোর মত যোগ্য জনশক্তি বা ম্যান-পাওয়ার ছিল না। তাই যা হবার তাই হয়েছিল। এখানে জনসংখ্যা বেশি ছিল, তাই পশ্চিম-ভূখণ্ডের ধনীরা এখানে বাজার তৈরি করে ব্যাঙ্ক গড়ে, ইন্ডাস্ট্রি গড়ে, বেচাকেনা শুরু করে এবং অচিরেই দেখা যায় এখানে সুন্দর একটা মার্কেট তৈরি হয়েছে। আর এই মার্কেটটি হয়ে পড়ে আরেকটি কাল-শত্রু। এখানে পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা প্রধানত ব্যবসা করছিল। কিন্তু আশে-পাশের ব্যবসায়ীরা কি চোখ বন্ধ করে বসে থাকবে?
        এই বিশ্বের অনেক বড় বড় যুদ্ধের পিছনে ব্যবসায়ের স্বার্থ গোপনে গোপনে কাজ কাজ করে। একাত্তরের যুদ্ধের পর টোকাইদের কিছু না হলেও মার্কেটটি কোন এক পক্ষের হাত ছাড়া হয়ে অন্য পক্ষের বা যৌথ পক্ষের হাতে চলে গিয়েছে। আর আপনি আর আমি? আমরাও কিছু পেয়েছি। একটি পতাকা, একটি জাতীয় সংগীত, একটি ভূখণ্ড (!!)। যান, ঢুল-ডফকি আনেন আর বাজিয়ে বাজিয়ে যা পেয়েছেন তাই নিয়ে গান।

        1. 1.1.2.1
          শাহবাজ নজরুল

          @ আহমেদ ভাই,
          চিন্তার অনেক খোরাক আছে। এনিয়ে একটা ব্লগ কিংবা সিরিজ কি লিখবেন দয়া করে?

    2. 1.2
      মহিউদ্দিন

      @ M. Ahmed.
      অশেষ ধন্যবাদ আপনার অসাধারন মন্তব্যের জন্য!
      আপনার কথাগুলা অনেকের মনে চিন্তার খোরাক জাগাবে আশাকরি। ভাল থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.