«

»

Mar ১৭

সাইদী সাহেবের রায় প্রসঙ্গে কিছু কথা

কিছুদিন আগে সদালাপে জনাব ওয়াহিদুর রহমান ভাইয়ের লিখা "সাইদী কি নিষ্ঠুর রাজনীতির শিকার হলেন?"  শিরোনামের পোষ্টের উপর  (লিংক এখানে) কিছু মন্তব্য এসেছে যার প্রেক্ষিতে এবিষয়ে একটি আলাদা পোষ্ট দেয়ার প্রয়োজন মনে করে আজকের এ পোষ্টটি লিখলাম।

আজকে বাংলাদেশের ক্ষমতানীন দল ও তাদের সমর্থকরা একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের নামে বিচারের যে প্রহসন করে যাচ্ছেন এবং যারা নিজেদেরকে মুসলিম হিসাবে দাবী করেন তারা পবিত্র কোরানের নিম্নের আয়াত পড়েছেন কি না আমার যতেষ্ট সন্দেহ হয়। সুরা বনী ইসরাইলের ৩৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, “ যে কেহ অন্যায়ভাবে নিহত হইলে তাহার উত্তরাধিকারীকে তো আমি উহার প্রতিকারের অধিকার দিয়াছি কিন্তু সে যেন হত্যার ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন না করে। নিশ্চয় সে সাহায্যপ্রাপ্ত।” (এই প্রতিকারের অধিকার প্রসঙ্গে ইসলামী স্কলাররা বলেন: “আইনগত প্রতিকার গ্রহণের অধিকার যথা কিসাস গ্রহন। এই অধিকার প্রদান করে আল্লাহ ভিকটিমকে সাহায্য করিয়াছেন – সুত্র ৪৪২ পৃ: টিকা ৯০৮ -আল কুরআনুল করীম, ইসলামিক ফাউনন্ডেশন এবং এখানে কি ওয়ার্ড হচ্ছে সীমা লঙ্ঘন না করা।)

যুদ্ধাপরাধের বিচারের সাইদী সাহেবের রায়ের ব্যপারে যখন কথা বলি তখন কোরআনের এ শিক্ষার আলোকেই কথা বলি। এখানে আমরা একজন মানুষের জীবন মরণ নিয়ে কথা বলছি। আমরা জানি যে নিরাপরাধ কাউকে হত্যা করে ফেললেই অপরাপর হত্যার বিচার হয়ে যায় না, হত্যার সাথে হত্যা সংযুক্ত হয়। তাই আমরা চাইনা কোন নিরপরাধ মানুষের শাস্তিও হোক। আমাদের বুঝতে হবে যদি কোন অসৎ সরকারের প্রভাবিত বিচার ব্যবস্থার সঠিক সামর্থ বা capacity না থাকে এবং যাকে আসামী বলে ধরে নেয়া হয় তার সমর্থনে দলিল প্রমান flimsy হয়, অথবা সরাসরি অসম্পর্কিত হয়, সেখানে ‘দূর্বল পথে চলতে গিয়ে এক সমস্যার সাথে দশ সমস্যার সৃষ্টি হবে, এটাই স্বাভাবিক এবং জাতি আজ তা’ই দেখতে পাচ্ছে।

মনে রাখতে হবে, চোখের পরিবর্তে চোখ নেওয়ার অধিকার সকল মানুষেরই রয়েছে। কিন্তু একথাও আছে যে ক্ষমাই শান্তি প্রতিষ্ঠার সর্বোত্তম পন্থা। মোহাম্মদ (সাঃ) ক্ষমার মাধ্যমে মক্কায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নেল্সন ম্যানডেলা তার দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ট্রুথ এন্ড রিকন্সিলিয়েশনের’ মাধ্যমে। আমি প্রতিশোধ নয় শান্তির পক্ষের মানুষ। বিশেষ করে দুর্বল বিচার ব্যবস্থা ও চরম দুর্বল সাক্ষী-প্রমাণ বিষয় সামনে রেখে আমার কাছে শেখ মুজিবের ক্ষমার পথই ভাল ছিল। তিনি তার ক্ষমা ব্যক্তিগতভাবে করেনি, করেছিলেন রাষ্ট্র-প্রধান হিসেবে, কিন্তু একটি বিশেষ চক্র সেই শান্তির নিরসন আবেগের নামে আবার অগ্নির মত প্প্রজ্জল করে দিয়েছে। এরা জাতির সর্বনাশ করেছে। দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী যদি জামাতের সাথে সংযুক্ত না হতেন তবে তাকে এই পরিণতির মোকাবেলা করতে হত না। আবার জামাত যদি ১৯৭১ সালের পরে আর রাজনীতি করত না তাহলে এই বিচারের কথাও এখন এরা তুলল না। মূল কথা হচ্ছে ইসলামী রাজনীতি। জামাতের বাইরের লাখ লখ লোক সাঈদী চিনেন, মানেন এবং জানেন যে তিনি এক হিংস্র সম্পদায়ের খপ্পরে পড়েছেন -এরা চরম মিথ্যাবাদী, প্রহসনের বিচার যন্ত্র এখন তাদের হাতে। আজ যারাই তার পক্ষে বেরিয়ে প্রতিবাদ করছে এই হিংস্র সম্পদায়ের বেইমানের দল তাদেরকেই জামাতি বলছে। এই যড়যন্ত্রের মোকাবেলা করতে মানুষ জীবন দিতে এসেছে, এটাই তাদের ঈমান। এই দুর্বল বিচার ব্যবস্থা, এই যন্ত্র, এই প্রসহন, এই হিংসার রাজনীতি এখন জাতিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং এর জন্য নাস্তিক, পক্ষ, আল্ট্রা সেক্যুলার পক্ষ, বিশেষ করে কমিনিস্ট পক্ষই দায়ী। খাটি আস্তিক ও বিবেবান পক্ষ কেবল ‘ন্যায় বিচারের’ কথাই বলছেন, কেননা তারা আর কীইবা বলতে পারেন। তবে আমি আশাবাদী যে এই দাবানল যারা ছড়িয়েছে তাদের শাস্তি আল্লাহ শীগ্রই দিবেন। সাঈদীর মত সর্বদলীয়ভাবে পরিচিত ইসলামের দায়ী এমন একটি ব্যক্তিত্বকে এই কুখ্যাত বেদীন পক্ষ তাকে মেরে ফেললেও ঊড়িয়ে দিতে পারবে না। তারাই বরং ইতিহাসের আস্তাখুড়ে নিপতিত হবে। এটা এখনই দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশে দশচক্রে ভগবান ভুত হয়ে যাওয়ার নজীর রয়েছে। শেখ মুজিবকে হত্যার সময় কে এম শফিউল্লা সেনা প্রধান ছিলেন। কিন্তু তিনিও বলেন তার ডিপুটি জিয়াউর রহমান নাকি শেখ মুজিবের মৃর্ত্যুর জন্য দায়ী। এখানে প্রশ্ন হলো তিনি যদি তা জেনে থাকেন তাহলে ষ্টপ করলেন না কেন? আর না জেনে থাকলে এমন অপদার্থ সেনা প্রধান হয় কি ভাবে? সেখ সেলিম তো তাকে ভরা সভায় ‘অপদার্থ’ বলেছেন। তিনি কি করতে পেরেছেন? এখন এই ভুতেরা সাঈদীর দিকে ধাপিয়ে গেলেও আমার বিশ্বাস এরা নিশ্চিহ্ন হবে, কেননা ওরা মিথ্যাবাদী।

মনে রাখতে হনে বর্তমান প্রশাসনের যে বিচার ব্যবস্থা চোখের সামনে ‘আজকের’ ধর্ষক, হত্যাকারী, গুমকারী, চুর ও ডাকাতদের ধরে বিচারাধীন করতে পারছে না – যেখানে পুলিশ, র্যাব থেকে শুরু করে আদালত ও বিচার ব্যস্থা দলীয়করন,প্রশাসনের সর্বত্র করাপশনে ভরপুর সেখানে ৪২ বৎসর আগের বিচার কীভাবে এদেশে সম্ভব হবে নিরপেক্ষভাবে? সে প্রশ্ন অবশ্যই উঠবে বিবেকবান মানুষের মনে। আজ যদি সরকার এ ট্রাইবুন্যালকে জাতিসঙ্গের সাহায্য নিয়ে হেগের আদালতের বিচারকদেরকে সম্পৃক্ত করে সত্যিকার অর্থে আর্ন্তজাতিক মানের একটি ট্রাইবুন্যাল করে এ বিচার কাজটি পরিচালিত করত তাহলে কি যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা হত? প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কাদের কাছে এ আশা করতে পারেন? আমরা যদি সত্যিকারভাবে শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই তাহলে এ দাবী করতে বাঁধা কোথায়? Justice hurried justice burried।  প্রজন্মের তথাকথিত জাগরনের চত্তরে যারা জড়ো হয়েছে তাদের কি উচিৎ ছিলনা এরকম একটা দাবী করা?

আসলে সবাই বিচারের পক্ষে কিন্তু দেশের বিচার ব্যবস্থাই হচ্ছে মূল কথা। এই অবস্থা বুঝে প্রথম থেকেই অনেকে বিদেশিদের মাধ্যমে বিচারের দাবী উত্থাপন করেন। কিন্তু নাস্তিকের ও কমিনিস্টবাদীরা যেকোনোভাবে রাজনৈতিক ইসলামকে ধ্বংস করতে এই পথ বেঁচে নেয়, কিন্তু যেহেতু কথাটি ‘বিচার’, তাই নৈতিক বিবেচনায় অনেক লোক এর পক্ষ দিয়েছেন। কেননা বিচারের বিরূদ্ধে কে কথা বলবে যদিও সবাই জানেন সেই বিচারের capacity দেশে নেই। এখানে নাস্তিক, মুনাফিক ও আল্ট্রা সেক্যুলার পন্থিদের উদ্দেশ্যে যেকোনো উপায়ে ওদেরকে ফাঁসী দেয়া! আরা য়ারা খাটি আস্তিক তাদেরকথা হচ্ছে ‘ন্যায়-বিচার’।

ওয়াহিদ ভাইয়ের পোষ্টের “ফকির-পাকড়া” কথাটি নিয়েঅনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে সদালাপে শাহরিযার কবিরের ভুতেছড়া কেউ এটাকে একটি ভাল সেন্টিমেন্ট হিসাবে কাজে লাগিয়ে বিষয়টা অন্যদিকের নিয়ে যাবার চেষ্টা করেছেন দেখে হাসি পেয়েছে। বিচারের অর্থ কি তা এসব লোক বুঝতে পরেন কিনা সন্দেহ হয়। আসলে এদের মানসিকতার যারা যেমন, আমাদের দেশের মানুষ গড়ার বিশিষ্ট কারিগর ডঃ আনোয়ার হোসেন সাহেব যদি বিচার কি বুঝতে পারতেন, তাহলে তার ছাত্রদের অবস্থা আজ এরকম হতোনা। আমরা নারীধর্ষনের অসত্য অভিযোগ সাজিয়ে সাঈদীকে মানবতার অপরাধে ফাঁসী দিচ্ছি ; কিন্তু এই শিক্ষকের ছাত্ররা যখন একশতজন নারীর ইজ্জ্ত নিয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরী করে মিষ্টি খাওয়ানো হয় তা মানবতার অপরাধ মনে করা হয় না। বলতে পারেন, কোর্ট রুমে মহামান্য বিচারপতি মহোদয়গনের সামনে ভাইস চ্যন্সেলর পদধারী একজন মহান পুরুষ সদ্য ফাঁসীর দন্ড প্রাপ্ত অসহায় অবস্থানের একজন মহান ব্যক্তিত্বকে পতিতার মতো গালি দিয়ে মারার জন্য কিভাবে তেড়ে আসতে পারে ? আশা করি এবার বলবেন না যে আমি পতিতাদের অসম্মান করছি। না আমি পতিতাদের অসম্মান করিনি, সমাজের উপর তলার লোকদের লালসাই তাদেরকে পতিতা বানিয়েছে। আমি বলছি এরকম ভাগ্যবিড়ম্বিত পতিতার চেয়েও একজন নিকৃষ্ট মানুষের কথা। যার ছাত্ররা ধর্ষণের সেঞ্চুরী উৎযাপন করে। যার ইউনিভার্সিটিতে পড়েছে শুনলে বর পক্ষ বিয়ের আসর থেকে উঠে যায়। দোয়া করবেন, ডক্টর সাহেব ও তার ছাত্ররা যে পৌরুষত্ব দেখাচ্ছেন তা যেন আমাদের দেশে সভ্যতা প্রকাশের নুতন সবক হয়ে না যায়। আমাদের দেশে ফকির-পাকড়ার জন্য বরাদ্ধকৃত রিলিফের টাকা দিয়ে মন্ত্রী সাহেবরা ফিক্সড ডিপোজিট করেন। আবার প্রতিশোধের হীন স্বার্থ চরিতার্থের জন্য বেয়াল্লিশ বছর পর একাত্তর সনের সকল গ্লানির দায় ভার তুলে দেন সেই একাত্তর সালের অসহায় ফকির-পাকড়া আর ফেরিওয়ালাদের উপর। কিন্তু কেন, তখন কি প্রশাসনে এদেশীয় কোন লোক ছিলনা ? গন প্রতিনিধি ছিলনা ? সাধারন রাজাকারদের কমান্ডাররা এদেশীয় ছিল, মুক্তিযোদ্ধারা ছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের কমনান্ডাররা ছিল। তাদেরকে কেন সাক্ষীর কাঠ গড়ায় উঠানো হয়নি ?

এবার বলুন, যুদ্ধাপরাধের বিচার তো সবাই চায় কিন্তু এটাকে নির্বাচনী ওয়াদা করার প্রয়োজন কেন দেখা দিয়ে ছিল? আর এই বিচারটি করার নামে মামলা ইনিশিয়েট কে করেছে সরকার না ব্যক্তিগত ভাবে কোন ভুক্তভোগী? ব্যক্তিগত ভাবে কেহ ‘সাঈদী সাহেবের’ বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে থাকলে আমার কোন কথা নেই। কিন্তু যদি সরকার নিজস্ব উদ্যোগে শুরু করে থাকে তা হলে ‘দেল্লা রাজাকারকে’ দিয়ে শুরু হবে কেন? আর ‘দেল্লা রাজাকারের’ যদি ফাঁসী হয়, তাহলে পাকিস্তনি যুদ্ধাপরাধিদের কি শাস্তি হবে? বস্তুত: বিচার কাজ শুরু করার আগে সরকারের হাতে রাজাকারের একটি পরিপূর্ণ লিষ্ট থাকা উচিত ছিল। এমনকি নিজেদের দলে আছে কি না তাও দেখা উচিৎ ছিল। কার কিভাবে বিচার করা হবে এব্যাপারে সর্বসম্মত একটি কন্সেন্সাস থাকা প্রয়োজন ছিল। কোন অপরাধের জন্য কি শাস্তি হবে তার জন্য আইনী ব্যবস্থা থাকা দরকার ছিল। রাজাকারদের স্থানীয় কমান্ডাররা পাকিস্তানে চলে যায়নি। যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত, ম.খা. আলমগীরের মতো ইউনিয়ন, থানা, ও জিলা লেবেলের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বাংলাদেশেই রয়ে গেছে। এবং তখনকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও আছেন। কিন্তু বলতে পারেন, এই মহারতিদেরকে অভিযুক্ত না করা হোক, সাক্ষী হিসাবে কেন উপস্থাপন করা হয়নি। অথচ এরাই হতে পারতো সঠিক ঘটনা উৎঘাটনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য সোর্স। আর অভিযুক্তই বা কেন হবে না? ‘দেল্লা রাজাকার’ দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (???) হয়ে গিয়েছে বলেই কি তখনকার সব অপরাধ তার। তাহলে কি বলা যায় না যে, আসলে ‘দেল্লা রাজাকারের’ শাস্তি হয়নি, শাস্তি হয়েছে ‘দেলোয়ার হোসেন সাঈদী’ নামের নিরাপরাধ এক মহান ব্যক্তির। মানুষের চিন্তা শক্তি মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই চিন্তা শক্তিই মানুষকে পশু থেকে আলাদা করেছে। মানুষের আরো রয়েছে মিথ্যা থেকে সত্য আলাদা করার সামর্থ্য। আসুন আমরা আল্লাহ্ প্রদত্ত এই চিন্তা শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করি। চিন্তাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষের পক্ষে যে কোন সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব।

যারা সাইদী সাহেবের অদালতে কথপাকথন পড়েন নাই তারা ইচ্ছা করলে এখান থেকে পড়তে পারেন। লিংক

***************

বিদেশী টিভির একটি ভিডিও লিংক

[youtube]

 

কৃতজ্ঞতা

এ নিবন্ধটি প্রণয়নে ফেইসবুক ও অর্ন্তজালের আমার যে সকল বন্ধুদের  ইমেইল ও ব্লগ-তথ্যের কিছু সহায়তা গ্রহণ করেছি তাদেরকে সবাইকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

 

২৭ comments

Skip to comment form

  1. 8
    মামুন

    মিথ্যাচর জামাতের আদর্শ।

  2. 7
    এম_আহমদ

     
    আপনার লেখাটি পড়েছি এবং কিছু কথা বলতে ইচ্ছা করেছি। আপাতত সাঈদীকে একপাশে রেখে, বিগত কয় বৎসর ধরে বিচার, বিচারের দাবী, বিচারের পিছনের আদর্শ, তারপর সেই প্রসঙ্গে আলোচিত ও প্রচারিত ঘৃণা-বিদ্বেষ, ইতরামি, গালা-গালি, অপরের মানবতা লুণ্ঠন এগুলোর মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে যে বাস্তবতায় হাজির করা হয়েছে সেটাই খেয়ালে প্রকট হচ্ছে। আমি তিন বৎসর ধরে এগুলো দেখছি। কিন্তু এই আন্দোলন ও আন্দোলনী প্রোপাগান্ডিস্টদের মুখের স্বীকারোক্তিতে বুঝেছি যে তারা বিগত ১০/১২ বৎসর ধরেই এগুলো চালিয়ে যাচ্ছিল। এসবেরই সন্ধিক্ষণ দেখেছি শাহবাগে। তারপর এই দলের একজন ‘সহযোদ্ধার’ মৃত্যু এবং তার দলের প্রতিক্রিয়াতে শাহবাগী আন্দোলন যে প্রতীকীতে অবস্থান নেয়, তাও দেখেছি। এই পরিক্রমায় অনেক বিষয় reduced হয়ে এসেছিল আর এখন এগুলো সামনে রেখেই কিছু কথা বলব। আমার কথা দীর্ঘই হবে।
     
    (১-ক) গোটা কোরানকে যেভাবে তাওহীদ, রেসালাত ও আখেরাত: এই তিন প্রধান শ্রেণীতে পাঠ করা যায় তেমনি কুফর, নিফাক ও ঈমান: এই তিন প্রধান শ্রেণীতে পাঠ করা যায়। আমরা বিগত কয়েক বছর ধরে নাস্তিক ও মুনাফিকদের যেসব আন্দোলন দেখেছি শাহবাগে তা কেন্দ্রীভূত হয়েছিল এবং রাজীব নাস্তিকেই অবশেষে সেই প্রতীকীরূপ ধারণ করে। যে ইসলাম বিদ্বেষী মুরতাদ আল্লাহর রাসূলকে (সা:)  অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করে যাচ্ছিল, তারই পরিক্রমায় সেই প্রসঙ্গে বা কারণে হোক অথবা অন্য কোনো কারণে প্রাণনাশ হলে, এই মুরতাদের “সহযোদ্ধারা” তার “ইজ্জতের” এবং তার সাথে তাদের “ইজ্জতের” আওয়াজ তোলে তাকে শহীদি মর্যাদা দেখাতে চেয়েছিল। এই প্রতীকীতে এবং তাদের কর্ম কাণ্ডে (things symbolised around these) কারা কাফির এবং কারা খাটি মুনাফিক তারা আপনাতেই প্রকাশ পেয়েছিল। যারা রাজীবের প্রাধান্যে এবং তাদের তথাকথিত যুদ্ধের প্রাধান্যে নবীর ইজ্জত একপাশে রেখেছিল তারা রাজীবদের কর্মকাণ্ড না দেখার পক্ষপাতি ছিল, ওসব কর্মকাণ্ড না দেখলেই হত –এটাই ছিল তাদের যুক্তি। দ্রষ্টারাই ছিল দেখার অপরাধে অপরাধী। কেননা রাজীবকে তাদের বাঁচাতে হবে, রাজীব তাদের “সহযোদ্ধা”। মক্কা ও মদিনার মুনাফিকগণ কাফেরদের সংশ্লিষ্টতায় তাদের ইজ্জত অনুভব করত।
     
    (১-খ) শাহবাগ এখন পরাজিত। আর তা আমাদের আলেম ওলামাদের দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণে। আমার জীবনে এই প্রথমবার আলেম ওলামাদের অবস্থানগত শক্তি বুঝার মওকা এল এবং এখন তাদের ভাষাই কথা বলতে অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করি। নাস্তিক ও উগ্রপন্থীরা এখন একে অপরকে দোষারোপ করছে। এটা যেন কিয়ামতের দৃশ্য, যেখানে পথভ্রষ্টতার কারণে ওরা একে অপরকে দোষারোপ করবে। বেশি দূরে না গিয়ে, তা এখনি শুরু হয়েছে। আমার এই কথাগুলোকে কিছু অতীত টেনে সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছি।
     
    (১-গ) আমি ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ‘আমার-ব্লগ’-এ রেজিস্টার করেছিলাম। হঠাৎ করে কোন এক গুগল সার্চে সেখানে যাই এবং আরিফ জেবতিক নামক একজন ব্লগার কবি আল-মাহমুদকে কেন্দ্র বিষোদ্গার করতে দেখি এবং প্রতিবাদ করি। রেজিস্টার করার পর থেকে সেখানে লক্ষ্য করি যে একাত্তরের নামে কিছু উগ্র লোক ঘৃণা-বিদ্বেষের মাধ্যমে একাত্তরের যুদ্ধ চার দশক পরে এসে করছে। সেখানে ইসলাম বিদ্বেষ চলছে। নবী রাসূলকে নিয়ে কটাক্ষ ও বিষোদগার চলছে, কোরান নিয়ে অজ্ঞ-মূর্খরা বিষোদগার করছে। সেখানকার ঐ পঙ্ক-পালের মধ্যে লক্ষ্য করি ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দু, ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক, ইসলাম বিদ্বেষী মুরতাদ এবং পৌত্তলিক-সংস্কৃতিতি-প্রভাবিত  আলট্রা সেক্যুরালিস্ট এক দল লোক সেই হুলুস্থলে জড়িত। এর মধ্যে প্রধানত চলছিল জামাত বিদ্বেষ ও বিষোদ্গার। এদেরকে ‘নির্মূল’ করতে হবে। একাত্তরের হত্যা ও ধর্ষণের জন্য ওরাই নাকি দায়ী -তাই তারা ওদের ‘ফাঁসী’ চাচ্ছিল। এই দলের নেতাদের ছবি কুকুরের পিছনে, শোয়ারের পিছনে, অনেক জন্তু-জানোয়ারের পিছনে এঁকে বিষোদগার করছিল। কুকুর ও শোয়ারের ও অন্যান্য জন্তু জানোয়ারের মুখে দাড়ি এঁকে এবং ছবির নিচে জামাতের কোন নেতার নাম দিয়ে চলছিল গালাগালি, অসভ্য কথাবার্তা, ঘৃণা, বিদ্বেষের ছড়াছড়ি। জামাত সমর্থিত বাংলাদেশের প্রায় দশ শতাংশ লোকদের এভাবে ঘৃণা ও গালাগালির পাশা পাশী চলছিল গোটা পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষের সম্প্রসারণ। এদের সাথে ছিল কিছু মুসলিম নামের কলঙ্ক, কিছু লোক যারা বিচারের প্রত্যয়ে অনুপ্রাণিত ছিল না। না হলে ‘বিচারের’ কথা বলত, ন্যায় বিচারের আওয়াজ তুলত।  কিন্তু তা না করে ‘ফাঁসি’, ‘নির্মূল’ ‘সমূলে বিনাশ’, গালা-গালি, ওদেরকে পাকিস্তানে পাঠানো ইত্যাদি দাবীতে কাফিরদের সাথে একাত্ম হয়ে “ঢালাওভাবে” অসভ্য, অমানবিক প্রোপাগান্ডা করছিল।
     
    (১-ঘ) আরিফ জেবতিকের ফ্যাসিস্ট লেখার উপর আমার প্রথম মন্তব্য-ব্লগ এখানে দেখা যেতে পারে।  প্রথমেই উগ্রপন্থী ফ্যাসিস্টদের কথাবার্তায় সতত অনুভূত হয় যে লোকগুলো ইতিহাসের প্রকৃতিমূর্খ: ইতিহাস ও অতীত বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য কি, ইতিহাস ও বাস্তবতার দর্শন কি –এসবের উপর তাদের কোনো দখল নেই। যততুকু মনে পড়ে কবি আল-মাহমুদ জামাত সমর্থিত কোন এক সংগঠন থেকে পুরষ্কার গ্রহণ করাতে আরিফ জেবতিক ও তার ফ্যাসিস্ট-জাতের লোকদের  ‘জাত’ চলে গিয়েছিল এবং তাদের দৃষ্টিতে তিনি নাকি আর মুক্তিযোদ্ধা থাকেননি। এর পরে এই ফাজিল ফালতুর দল আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে তাদের রাজনীতিতে একমত না হওয়ার কারণে তাদের পদবি চলে গেছে বলে গোয়ারের মতো  চিৎকার করতে দেখেছি। সেখানে কয়েক দিনের মধ্যেই একথা বুঝতে পারি এই পঙ্ক-পালের অনেকই নির্লজ্জ এবং বেহায়া প্রকৃতির। আমি যখন আরিফ জেবতিকের লেখার উপর মন্তব্য দিয়েছিলাম তখন তার আদর্শের প্রায় সব কয়টি ফ্যাসিস্ট এসে হাজিরা দিয়েছিল। পরে ওদেরকে আস্তে আস্তে আরও চিনতে পারি।
     
    (১-ঙ) যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে প্রথম দিকে অপরাপর মন্তব্যে এমন কথাও বলেছিলাম যে লম্ফঝম্ফ করার আগে যুদ্ধাপরাধের উপর বিশেষজ্ঞ কয়েকজন বিদেশি আইনবিদের সমন্বয়ে একটা ফিজিবিলিটি স্টাডি করে দেখা হোক যে যে ধরণের তথ্য-উপাত্ত রয়েছে তাদের প্রকৃতি কি এবং এগুলো দিয়ে কি সুষ্ঠু কোনো বিচার execute করা যাবে কিনা। যদি যায়, তবে জনগণকে এক ধরণের কথা বলতে হবে, যদি না যায়, তবে অন্য ধরণের কথা। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনার মত নয়, হয়ত ২০/২৫ ব্লগার পড়েছে। আমার-ব্লগে যে কয়জন চটি লেখক দৈনিক সংগ্রাম থেকে উদ্ধৃতি টানছিল এবং যেসব ভিডিও ক্লিপ দেখাচ্ছিল সেগুলোর কোনোটি যুদ্ধাপরাধ প্রমাণ করেনি। গবেষণায় কোনটি দলীল আর কোনটি দলীল নয় –এই জ্ঞান নিশ্চয় ভাল করেই আছে। একটি হত্যার ফটো বা ভিডিও শুধু ক্রাইম প্রমাণ করে। এই ফটো বা ভিডিও দেখিয়ে আপনি যার তার দিকে ইঙ্গিত করে বলতে পারবেন না যে সে এই ক্রাইম করেছে। এটা প্রমাণ করতে হলে দশ-ঘাটের পানি খেতে হবে। কিন্তু উগ্ররা তাই করছিল। একহাতে ঐ ফটো আর অন্য হাতে জামাতিদের প্রতি ইঙ্গিত। তারপর caricature, বিকৃত ছবি, তারপর উল্লসিত হলাহল, গালাগালি। আমি এক পর্যায়ে উগ্রমতিদের লম্ফ-ঝম্প দেখে কয়েকবার বলেছিলাম, ‘শাহরিয়ারদের দল হয়ত নিরাশ হতে পারে’। আজ তা’ই দেখা যাচ্ছে। আমি দু একজনের ফাঁসীর কথা বলছি না, বরং জামাত নির্মূল এবং তথাকথিত বাকশালী দ্বিতীয় অধ্যায় বরং ফ্যাসিস্টদের ভাষায় “দ্বিতীয় মুক্তি যুদ্ধ” –এগুলো এখন পায়ের নিচে দলিত। ঘৃণা বিদ্বেষের পরাজয় এভাবেই আসে। শাহবাগের প্রতীকীতে তাই এসেছে। এই তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধারাই শাহবাগের জন্ম দিয়েছিল। 
     
    (২-ক) শাহবাগ। আমরা যারা ব্লগে ব্লগে নাস্তিক ও মুনাফিক গোষ্ঠীর শয়তানী চিৎকার যেভাবে দেখেছি আমাদের বরেণ্য আলেম-ওলামাগণ তা দেখতে পাননি, তবে শাহবাগের “কীর্তনে” তারা তা ঠাহর করতে পেরেছেন। চার নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভিতরে থেকে খাবার, পানীয় ও মোবাইল পেশাব-পায়খানার ব্যবস্থাসহ মঞ্চে আল্লাহ রাসূলের বিপক্ষে আওয়াজ ওঠার বাস্তবতা দেখেছেন, শুনেছেন। রাত দিন একত্রে যুবক-যুবতীদের সংগীতে উন্মাদনা দেখেছেন, অগ্নিপূজক ও পৌত্তলিকদের অনুকরণে অনেক কর্মকাণ্ড দেখেছেন, দাড়ি-টুপির অবমাননা দেখেছেন এবং সর্বোপরি পিছনে ও প্রকাশ্যে দাগী নাস্তিকদের আনাগোনা, উপস্থিতি, বক্তৃতা, নেতৃত্ব, ফাসেক-ফুজুরি কথা-বার্তা দেখেছেন। উল্লেখিত ফিরিস্তি আলেমদের বিবৃতিতে এসেছে। আমরা যেসব ফাসিক নাস্তিকদের ভাল করে চিনি তাদের উপস্থিতি দেখেছি, সমর্থন দেখেছি, (বাহির থেকে) তসলিমা, দাউদ হায়দরসহ সবার সমর্থন ওখানে ছিল। আলেম সমাজের কাছে সঠিকভাবেই তাই গোটা শাহবাগ আন্দোলন নাস্তিক্যবাদী ‘প্রতীকীতে’ ধরা দিয়েছে এবং তারা সঠিকভাবেই শাহবাগী আন্দোলনকে নাস্তিক বলেছেন। If the entire movement of atheists, hypocrites, and some unwary epitomised in Shahbugh, Rajib epitomised them all. Nifaq, kufor and faith appeared so visibly that it left no scope for a fourth place. যারা ‘রাজীবের মত’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছিল আমি তাদের অনেকের মন্তব্য দেখে ‘আমিন’ বলেছি। তাদের আশা পূর্ণ হলে ওদের হাশর নশর রাজীবের সাথেই হবে। (المرء على دين خليله فلينظر أحدكم من يُخَالِل
    ‘মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনেই (ধর্মে) থাকে। সুতরাং এক ব্যক্তিকে দেখতে হবে সে কার সাথে বন্ধুত্ব করবে’ অর্থাৎ যে ব্যক্তির বন্ধুবান্ধব ফাসেক, ফাজের, নাস্তিক, সেক্যুলারিষ্ট সে মূলত ওদের দ্বীনেই।)
     
    (২-খ) আজ সত্য এসেছে। শাহবাজ পরাজিত হয়েছে। সাঈদীর নাম। আমি ১৯৭৯/৮০ সাল থেকে সাঈদীকে ইংল্যান্ডে এসে ওয়াজ করতে দেখেছি। পোষ্টারে দেখেছি তার নাম দেলোয়ার হুসেইন সাঈদী। উপস্থাপকেরা তাকে দেলোয়ার হুসেইন সাঈদী বলে উপস্থাপন করেছেন। সরকার পক্ষের কথা ছিল দেলু রাজাকার ১৯৮৬ সালে দেলওয়ার হুসেইন সাঈদী নামে আত্মপ্রকাশ করেছে। ওখানেই প্রথম মিথ্যা। তার নামের ব্যাপারে সব দলীলই ‘সাঈদী’ ধারণ করে আছে। সে শিকদার হল কীভাবে? তার দোষ হচ্ছে জামাতে সংযোগ এবং কাফির মোনাফেক এবং কমিউনিস্ট দলগুলোর বিপক্ষে কথাবার্তা। নামের কিছু অংশ এক কাগজে একভাবে এবং অন্য কাগজে অন্যভাবে –এমন বাস্তবতা কোটি কোটি লোকের ব্যাপারে পাওয়া যাবে। লক্ষণীয় তার নামের শেষাংশে সবখানেই সাঈদী আছে, শিকদার নয়। পাসপোর্টেও সাঈদী।
     
    (৩-ক) নারী নেতৃত্ব ও সাঈদী। এবারে তার থিওলজিকাল দুই একটি অভিমতের কথা উল্লেখ করি। এগুলো বিচারের সাথে সম্পর্কিত নয়। সাঈদী নারী নেতৃত্বের বিপক্ষে কথা বলেন কিন্তু দেখা যায় তার দল খালেদার দলের সাথে জোট-বাধা। সাঈদীদের সাথে অনেকে হয়ত ঢালাওভাবে নারী নেতৃত্বের বিপক্ষে কথা বলতে দ্বিধা-বোধ করবেন কেননা নেতৃত্বের পরিসর অনেক ব্যাপক। স্কুলের  প্রধান, সংগঠনের প্রধান, কোম্পেনীর প্রধান, প্রজেক্টের প্রধান সবাই তাদের আপন আপন স্থানে নেতৃত্বের পরিসরে। আপনি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করেই কি বেছে বেছে সকল নারীদেরকে চাকুরিচুৎ করে ফেলবেন, না নেতৃত্বের বিভিন্ন পরিসর দেখবেন এবং ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে যাবেন। আপনি যদি কোথাও চাকুরী করেন এবং সেই স্থানের নেতৃত্ব যদি কোন মহিলার হাতে থাকে তবে আপনি কি চাকুরী ছেড়ে চলে আসবেন, বা আপনি কি ইতিপূর্বে এর উপর আমল করে ফেলেছেন? নেতৃত্ব কি কাওম-প্রধানের সাথের বাস্তবতা, না সর্বব্যাপী বাস্তবতা -এসব কথা আলোচিত হতে হবে। তাছাড়া যারা নারী নেতৃত্বের দেশে বসবাস করেন তারা সবাই সেই নেতৃত্বের আওতাধীন। তারা সেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য যদি কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করে বসে বসে ফতোয়ার কথা বলেন এবং নির্বাচনের দিন নারী নেতৃত্বের বক্সে ভোট দেন তবে এর চেয়ে হাস্যকর অবস্থান আর কী হতে পারে? ‘ইসলামী রাষ্ট্রে নারী নেতৃত্ব নেই’  শুধু এতটুকু কারণেই তাদেরকে রাজনীতিতে নামতে হবে, কিন্তু তা না করে যদি  চুপসে চুপসে নারী নেতৃত্ব মানা হয় তবে কিয়ামত পর্যন্ত পরিবর্তন আসবে না।
     
    (৩-খ) নারী নেতৃত্ব ও সাঈদী। সাঈদীকে বাংলা টিভিতে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি এবং আপনার দল নারী নেতৃত্বের বিপক্ষে অথচ আপনারা খালেদার সাথে একজোট -এটা কেমনে হয়? (এই ইন্টার্ভিউটা হয়ত এখনো ইউটিউবে পাওয়া যেতে পারে।) উত্তরে সাঈদী যা বলেন এবং যতটুকু আমি স্মরণ করতে পারি তার এবারত এরূপ: আমরা বিএনপি নামক একটি দলের সাথে জোট করেছি, যে দল একজন নারীকে তাদের নেতা হিসেবে নির্বাচন করেছে, আমরা করিনি। জোট না বাঁধলেও তো বাংলাদেশে নারী নেতৃত্ব বিরাজিত, সবাই সেই বিরাজিত নেতৃত্বের অধীন। আমরা কিছু কমন উদ্দেশ্য সামনে রেখে এক সাথে কাজ করতে জোট করেছি। এর উদাহরণ ধরুন এম যে আমরা এক স্থান থেকে আরেকটি স্থানে যেতে রাস্তায় নেমেছি। সেখানে আরও কিছু লোকজনকে পেয়েছি যারা সেই অভিলক্ষ্যে যাত্রা করছেন। এখন রাস্তায় যদি কিছু বাধা বিঘ্ন আসে, কিছু গাছ-বাঁশ সেই রাস্তা বন্ধ করে দেয়, তখন কী করা হবে? এমতাবস্থায়  কার দলে নারী নেতৃত্ব আর কার দলে পুরুষ এই বাদাবাদিতে নেমে গেলে রাস্তার প্রতিবন্ধকতা দূর হবে না, কারো পক্ষে গন্তব্যে পৌঁছা সম্ভব হবে না। আমাদের জোট হচ্ছে এমনই অভিলক্ষ্যে। আমরা আলাদা দল, তারা আমাদের উদ্দেশ্য-বিধেয় জানে। তারাও আলাদা দল, আমরাও তাদের উদ্দেশ্য-বিধেয় জানি। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস কমন যা একত্রে করা যেতে পারে। আমাদের অবস্থানগত উদাহরণ এমনই।
     
    (৩-গ) জামাত। সাঈদী একপাশে রেখে জামাতের কথায় আসলে জামাত ‘স্বাধীনতার বিপক্ষে’ ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার বিপক্ষে যাওয়া কোন ‘অপরাধ’ নয়। একথা আমি আমুতে আরিফ জেবতিকের বিপক্ষে লিখতে গিয়ে উল্লেখ করেছি এবং কয়েকবার সদালাপেও মন্তব্য করেছি। যারা জামাতের বিপক্ষে তাদের যদি জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি ‘দৈনিক সংগ্রাম’ পড়েন? বলবে, না। কেন? বলবে, ওরা মিথ্যাচার করে, মিছামিছি লেখে, তিলকে তাল করে। জিজ্ঞেস করুন তারা কি এগুলো এই কয় বৎসর ধরে করছে, না এটা সব দিনই করে আসছে? বলবে, সব দিনই করে আসছে। দৈনিক সংগ্রামকে discredit করার পর আপাতত ঐদিন কথা বাদ দেন। অন্য কোনো একদিন সেই যুদ্ধাপরাধের প্রসঙ্গে আসুন। একপর্যায়ে দৈনিক সংগ্রামের দিকে নেন। তখন দেখবেন যে কাগজকে সে discredit করেছে, একাত্তরের প্রসঙ্গে  দৈনিক সংগ্রামের ক্রেডিবিটি হঠাত তুঙ্গে ওঠেছে। আমি এপর্যন্ত দৈনিক সংগ্রাম নিয়ে যাদেরকে লাফালাফি করতে দেখছি এবং উদ্ধৃতি দিতে দেখেছি,  তাদের অধিকাংশ উদ্ধৃতিতে যুদ্ধাপরাধের সাথে কোন সম্পর্ক দেখি নি। যেখানে ইনক্রিমিনেটরি কথা সেখানে সত্যায়নের প্রয়োজন। একটি মিডিয়ায় শত শত লোক কাজ করে, এবং বিশেষ করে ১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতির পক্ষে ছিল তাদের মুখপত্র ছিল ‘সংগ্রাম’ এবং যুদ্ধাবস্থায় তাদের পক্ষের কথাই বলেছে। সংগ্রামের উদ্ধৃতি যা প্রমাণ করে তা হল জামাত ও জামাতের নেতারা বাংলাদেশ চাননি অখণ্ড পাকিস্তান চেয়েছিলেন। তারা স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল। কিন্তু একথা তো প্রমাণের দরকার নেই। তারা তা আজও স্বীকার করছে। এবং এটা কোন অপরাধ নয়।  
     
    (৩-ঘ) জামাত। জামাত ইসলামী রাষ্ট্র বা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা যদি যদি এই কাজের উপযুক্ত না হয় তবে আমরা অন্য ইসলামী দলে যোগদান করে সেই কাজ করব। কিন্তু কারো দল পছন্দ না হয়, তবে আমরা আরেকটি দল গঠন করব। অপরের অনুপযুক্ততা আমাদের খিলাফত বিমুখ হওয়ার কোন যুক্তি নয়। আপনি/আমি যদি ইসলামে রাষ্ট্র নেই বলে বিশ্বাস করি, তবে সেই ধারণা অতীত থেকে এপর্যন্ত কীভাবে যুক্তিযুক্ত হল তা দেখাতে হবে এবং প্রচার করতে হবে। আবার যেসব দল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের বিপক্ষে যুদ্ধ করার করার পরিবর্তে নিজেদের যুদ্ধ নিজেরাই করব। ইসলামের সকল দলের মধ্যে আজ ঐক্যের প্রয়োজন। আমরা যারা এই বিদেশ থেকেও এই ঐক্যের পক্ষে কাজ করছি, তাদের কথা হচ্ছে নিজেদের ময়দানে কাজ করতে থাকুন, কেউ কারো দলে যাবার দরকার নেই –কেবল বিরোধীতা না করলেই হয়। আমার/আপনার কিছু বলার থাকলে সেই দর্শন কি –তা’ই সবার সামনে প্রকাশ করব, কোন দলকে বিষোদ্গার করলেই আমাদের নিজেদের  স্থান স্পষ্ট হয় না।   
     
    (৩-ঙ) স্বাধীনতা বিরোধ। আমাদের সিলেট এলাকায় যদি কেউ আজ দু/এক কোটি টাকা খরচ করে এমন এক অভিমত প্রতিষ্ঠা করে নেয় যে নন-সিলেটী আমাদের বনসম্পদ চুরি করছে, মৎস্য সম্পদ চুরি করছে, আমাদের থানাগুলোতে ঘোষ দিয়ে অসি হয়ে এসে গ্রেফতার বাণিজ্য করছে, এক লণ্ডনীর বিরোদ্ধে আরেকজনের অভিযোগ উৎসাহিত করে ঘোষের বাণিজ্য করছে, আমাদের বিদেশি উপার্জিত টাকা আমাদের এলাকায় খরচ হচ্ছে না, আমাদের বিদেশিরা বিমান বন্দরে নামতেই নাজেহাল হতে হয়, অপদস্থ হতে হয়, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়, ঘোষের দুয়ার পাড়ি দিয়ে বাইরে আসতে হয়, প্রশাসনের কাজে আমাদের লোকজন কাজ পায়না, discriminate করা হয় –সুতরাং নারায়ে তকবীর!  আমরা ওদের থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলাম, তাই যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ওদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়। এ ক্ষেত্রে আমি সিলেটের অধিবাসী হিসেবে আমার কি কিছু বলার নেই? আমি যদি বলি এদেশকে ভাঙতে চাই না। আপনাদের বক্তব্য ভুল, আমাদের মধ্যে সমস্যা আছে কিন্তু এজন্য আলাদা হওয়ার দরকার নেই। আমরা যত ক্ষুদ্র হব, ততই শক্তিহীন হব। সিলেটের ভূখণ্ড কোনো দেবতা নয়, এর জন্য আলাদা হওয়া জরুরিও নয়। কিন্তু মনে করুন পার্শ্ববর্তী নানান রাজনীতির মোকাবেলায় দৈবাৎক্রমে সিলেট স্বাধীন হয়ে গেল। আর আমি এবং আমার পক্ষের সবাই এখন স্বাধীনতার দুশমন হয়ে পড়লাম, আমাদের প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষের রাজনীতি শুরু হল এবং কয়েক যুগ পরের প্রজন্ম যাদের ইতিহাস জানা নাই, আইন জানা নেই, নাগরিক অধিকার সম্পর্কে অবগত নয়, তারা আমাদের বিপক্ষ নিলো –এমতাবস্থায় যা হবে তা’ই বর্তমানে বাংলাদেশে হচ্ছে, এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে। আজ উচিত দেশ গড়ার দিকে তাকানো। ঘৃণা বিদ্বেষ ফেরিওয়ালাদের প্বার্শস্থ করার। কিন্তু এই ফেরিওয়ালারা ইসলামী রাষ্ট্রের মোকাবেলায় সেক্যুলার আদর্শ জিয়ে রাখতে চায়,  তারা এটা কখনও বাদ দেবে না। জামাত হচ্ছে একটা convenience। এরই সাথে কিছু আবেগ সংশ্লিষ্ট করে ওরা ইসলাম আদর্শকে বাইরে রাখতে চাইছে। 
     
    (৩-চ) কিন্তু  ফেরিয়ালাদের কারণে একটা জিনিস স্পষ্ট হয়েছে। তা হল ইসলাম বিদ্বেষী যে পক্ষ অতীতে গোপনে গোপনে কাজ করত তারা বিগত বছরগুলোতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ইসলাম ও মুসলমানদের বিপক্ষে কাজ করেছে এবং শাহবাগে সো-ডাউন (showdown) করতে এসেছিল, আর এতেই তারা আলেম ওলামাদেরকে  জাগ্রত করে দিয়েছে। আলেমরা তাদেরকে চিনে ফেলেছেন। তাদের বিচারকে প্রহসনের বিচার বলেছেন। বিএনপি আগেই এটাকে বর্জিত বলে উল্লেখ করেছে। আলেমরা আগামী ইলেকশনকে আস্তিক নাস্তিকের ইলেকশন হবে বলে উল্লেখ করেছেন। আ’লীগের বামপন্থি, নাস্তিক কমিউনিস্ট, ইসলাম বিদ্বেষী সকল নাস্তিক –এই মহলগুলো আর গোপন নয়। তাদের শাহবাগ পরাজিত হয়েছে। এখন ময়না তদন্তের রিপোর্ট বিভিন্ন মহল লিখছেন, ভারত থেকেও! ফ্যাসিস্ট পক্ষের ঘৃণার রাজনীতি উৎখাতের সূচনা হয়েছে। এটাই শাহবাগের রেজাল্ট, মিথ্যাচারের রেজাল্ট, প্রোপাগান্ডার রেজাল্ট, পরাজয়ের রেজাল্ট।
     
    পরিশিষ্ট সংযোগের পরামর্শ
    আপনার এই লেখাটির সাথে  ট্রাইব্যুনাল চলাকালীন দেলোয়ার হোসেইন সাঈদী বক্তব্যসমূহ রেখেছেন বিশেষ করে  ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক শেষে বক্তব্য (০৬.১২.২০১২) এবং
    ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে যুক্তিতর্ক শুরুর দিন বক্তব্য (১৮.১১.২০১২) পরিশিষ্ট করে সংযোগ করলে পাঠকের জন্য বর্ধিত পটভূমি আসত।
     
    ধন্যবাদ

    1. 7.1
      এম_আহমদ

      @ মহিউদ্দিন
      (১ ঘ) তে যে লিঙ্ক দিয়েছিলাম সেটা যেন কাজ করছে না। আপনি kindlly এটাকে এই http://www.amarblog.com/00ahmed/posts/95150 লিঙ্কে নিঙ্কায়িত করে এই মন্তব্যটি মুছে দেবেন। 

    2. 7.2
      মহিউদ্দিন

      এম আহমেদ ভাই,
      ধন্যবাদ
       "আপাতত সাঈদীকে একপাশে রেখে" বলে যে কথাগুলা আপনি লিখেছেন তা চিন্তার খোরাক জাগায়।

      "…কারা কাফির এবং কারা খাটি মুনাফিক তারা আপনাতেই প্রকাশ পেয়েছিল। যারা রাজীবের প্রাধান্যে এবং তাদের তথাকথিত যুদ্ধের প্রাধান্যে নবীর ইজ্জত একপাশে রেখেছিল তারা রাজীবদের কর্মকাণ্ড না দেখার পক্ষপাতি ছিল, ওসব কর্মকাণ্ড না দেখলেই হত –এটাই ছিল তাদের যুক্তি। দ্রষ্টারাই ছিল দেখার অপরাধে অপরাধী। কেননা রাজীবকে তাদের বাঁচাতে হবে, রাজীব তাদের “সহযোদ্ধা”। মক্কা ও মদিনার মুনাফিকগণ কাফেরদের সংশ্লিষ্টতায় তাদের ইজ্জত অনুভব করত।"

      WOW ! বিষয়টা তো এ ভাবে চিন্তা করিনি।
      আমার মনে হয় "শাহবাগের গণজাগরনের পোষ্টমার্টেম" শিরোনামে এ কথাগুলা বর্ধিত আকারে  একটা আলাদা পোষ্ট সদালাপে দেয়া যায় কি না ভেবে দেখেন।  তা হলে এ বিষয়ে সবার মতামত দিয়ে একটি সুস্থ সংলাপের সুযোগ হবে।

      1. 7.2.1
        এম_আহমদ

         

        "শাহবাগের গণজাগরনের পোষ্টমার্টেম" শিরোনামে এ কথাগুলা বর্ধিত আকারে  একটা আলাদা পোষ্ট সদালাপে দেয়া যায় কি না ভেবে দেখেন।  তা হলে এ বিষয়ে সবার মতামত দিয়ে একটি সুস্থ সংলাপের সুযোগ হবে।

        ভাই, ব্লগ-টগ দেবার ইচ্ছে হচ্ছে না। অনেক ধন্যবাদ। 

  3. 6
    মোহাম্মদ আদিল

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম , দেশ হিশেবে তাঁর অভ্যুদয় , আর তাঁর পর থেকে আজ পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘটে যাওয়া অধ্যায় গুলোর মোটামুটি সাদামাটা বিশ্লেষণ করলেই আজকের দেশের পরিস্থিতির উদ্দেশ্য বিধেয় পরিষ্কার হয়ে যায় । আমার যে কথাটি যখন যেভাবে বলার সুযোগ পেয়েছি বলেছি , আজও বলছি । দেশ হিশেবে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া , সেই পতন ধারা অব্যহত রাখাতে সকল শাসক গোষ্ঠীর কমবেশি দায় রয়েছে । গত ৪০ বছরে রাজনীতিবিদগণ আমাদের যা দিয়েছেন তা শুধুই লজ্জার । বিত্তে বৈভবে তারা ক্রমাগত স্ফীত হয়েছেন দেশকে শোষণ করেই । ঢালাও ভাবে দায় চাপানো নয় । এটাই সত্যি । রাজনীতি আজ ব্যবসায় পরিণত হয়েছে । প্রতারণা , কূটচাল , শঠতা , ভণ্ডামি , মিথ্যার উপর দাঁড়ানো এ ব্যবসা আশু বন্ধ হবার কোন কারন নেই । স্বাধীনতা , মুক্তিযুদ্ধ , দেশপ্রেম হলো তাঁর কাঁচামাল । এ ঐতিহাসিক বাস্তবতায় জামাতের পুঁজি নিতান্ত কম হলেও , ধর্মীয় অনুভুতি (এটিও একটি কাঁচামাল) র উসিলায় তারা আজও টিকে আছে । এটিও প্রায় বেহাত হয়ে যাচ্ছে । কেননা বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এই কাঁচামালটির বাজার মন্দা ।  এমনকি বামপন্থী রাও ধর্মের রাজনৈতিক ব্যাবহার শিখে গেছে । মুক্তিযুদ্ধকালিন অপরাধ ছিল বহুমাত্রিক , অপরাধীও ছিল নানান কিসিমের । যেমন ছিল পেশদার চোর ডাকাত লুটেরা , তেমনি ছিল সুযোগ সন্ধানীরা , হানাদার পাকবাহিনি যেমন ধর্ষণ করেছে , তেমন করেছে পূর্বোক্তরা । সুবিধাবাদীরা এটা নিয়ে বিতর্ক করলেও , এটাই বাস্তবতা । কেননা যুদ্ধকালিন এনারকিজম মানুষের অপরাধ প্রবণতাকে প্রবলভাবে উসকে দেয় । নীতিগত অবস্থানে জামাত ছিল স্বাধীনতা বিরোধী । এটা লুকোনোর বিষয় নয় , কিন্তু তাই বলে সব অন্যায়ের দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় । তাত্ত্বিক ভাবে ১০০% দায়ী হলেও (পাকবাহিনীর ক্রীত অপরাধগুলো সহ) , বাকিদের কিন্তু দায়মুক্তি হয়ে যায় শুধুমাত্র জামাত অসংশ্লিষ্টটার কারনে । মোদ্দা কথা হল , অস্ত্রধারীদের  অপরাধ করার সুযোগ বেশি থাকায় ক্যাজুইয়েলটি র সিংহ ভাগ পাকসেনারাই করেছে । আবার ১৪ ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যার দায় কেবলই জামাতের। সুতরাং মানবতা বিরোধী অপরাধী ট্যাগ এককভাবে কোন দলের উপর চাপানোও ন্যায় সঙ্গত নয় বলেই বঙ্গ বন্ধু প্রাথমিক চেষ্টার পর ক্ষমাকেই বেছে নেন দেশ গড়ার স্বার্থে । বর্তমানে সংখ্যা লঘু সম্পত্তির সিংহ ভাগ আওয়ামী লীগারদের দখলে -- এটাই বাস্তবতা । তাই ২০১৩ সনে এসে এই বিচার আয়োজন কেন -- তা বুঝতে রাজনৈতিক বোদ্ধা হতে হয়না । নিজেদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতি আড়াল করতে , কেয়ার টেকার ইস্যু নিয়ে বিরোধী দল যেন কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে , মুলত এ দুটো একুএশন মাথায় রেখেই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় । দেশপ্রেম , মুক্তিযুদ্ধ ইত্ত্যদি চিত্তাকর্ষক বিজ্ঞাপনের আড়ালে ক্ষমতায় টিকে থাকা ও লুটপাটই মুখ্য , বাকি সব বাকওয়াস । আর বিরোধী দলের আন্দোলন , হরতাল এসবও ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন ও পুনরায় লুটপাটের স্বার্থেই , এর বেশি কিছু নয় । এখানে জামাতের অবস্থান শুধুই টিকে থাকার লড়াই -- তাদের ডেসপারেশান কে আওয়ামীলীগ আমলে না আনলে এটাই হবে মস্ত ভুল । আর যে ভুল তারা করেই যাচ্ছে ।  তার মাশুল কেবল জমেই যাচ্ছে , জমেই যাচ্ছে '''''''' 

    1. 6.1
      মহিউদ্দিন

      ধন্যবাদ।

       নীতিগত অবস্থানে জামাত ছিল স্বাধীনতা বিরোধী । এটা লুকোনোর বিষয় নয় , কিন্তু তাই বলে সব অন্যায়ের দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় । তাত্ত্বিক ভাবে ১০০% দায়ী হলেও (পাকবাহিনীর ক্রীত অপরাধগুলো সহ) , বাকিদের কিন্তু দায়মুক্তি হয়ে যায় শুধুমাত্র জামাত অসংশ্লিষ্টটার কারনে । মোদ্দা কথা হল , অস্ত্রধারীদের অপরাধ করার সুযোগ বেশি থাকায় ক্যাজুইয়েলটি র সিংহ ভাগ পাকসেনারাই করেছে । আবার ১৪ ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যার দায় কেবলই জামাতের। সুতরাং মানবতা বিরোধী অপরাধী ট্যাগ এককভাবে কোন দলের উপর চাপানোও ন্যায় সঙ্গত নয় বলেই বঙ্গ বন্ধু প্রাথমিক চেষ্টার পর ক্ষমাকেই বেছে নেন দেশ গড়ার স্বার্থে ।

      তিনি তার ক্ষমা ব্যক্তিগতভাবে করেনি, করেছিলেন রাষ্ট্র-প্রধান হিসেবে, কিন্তু একটি বিশেষ চক্র সেই শান্তির নিরসন আবেগের নামে আবার অগ্নির মত প্প্রজ্জল করে দিয়েছে। এরা জাতির সর্বনাশ করেছে। দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী যদি জামাতের সাথে সংযুক্ত না হতেন তবে তাকে এই পরিণতির মোকাবেলা করতে হত না। আবার জামাত যদি ১৯৭১ সালের পরে আর রাজনীতি করত না তাহলে এই বিচারের কথাও এখন এরা তুলত না। এটাই হচ্ছে আসল কথা এখন দেখা যাক শেষ পর্যন্ত দেশের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়ায়। 
      যুদ্ধাপরাধ বা মানবতা বিরুধী অপরাধের বিচার করাটা অবশ্যই একটি উত্তম কাজ এবং একটি ভাল কাজ ভালভাবেই করতে হয়।  কিন্তু বাস্তবে তা হয়েছে কি না সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন।
       

  4. 5
    Azash

    Court tar rai dise. Ar ei rai holo Saidir fashi.Eikhane ekta bishoi khub valo vabe kheyal korte hobe, Saidir birodhdhe onekgulo gurotoro ovijog chilo Jei sob ovijog gulo proman hole Saidi fashir rai pete badhdho.
    Khub kheyal koira ekta bishoi dekhte hobe, Ei  ovijog gulor modhde koekti ba ekti ovijog jodi promanito hoi tobe court take fashir rai dibe.
    Kew Kew bolar chesta kortase je koekta ovijog jehetu promanito hoini tar mane baki sob ovijog vua(false).Koekta ovijog promanito hole hobena !!!!!!!!!!! Kintu court and bicharok (Judge) er kache ki ei kothar kono mullo pabe?Obossoi na.
     
    Jai hok ami eikhane ekta link dilam ekta article er sobar consider er jonno:
    http://www.somewhereinblog.net/blog/ghaghuBabublog/29800323
     
    Ei article tar vitor aro kich link ache, sei link gulao considerable.Somoi and sojog thakle sei link gulo pore dekha jete pare.Saidir mamlar puro rai o ei article theke paben.
     
    Sobai valo thakben
     
    Dhonnobad
     
     
     
     
     

    1. 5.1
      মহিউদ্দিন

      @ Azash,
      ভাই,
      আপনি হয় বাংলায় লিখেন না হয় ইংলিশ লিখেন। ইংরেজী হরফে বাংলা পড়তে ও শব্দ বুঝতে কষ্ট হয়।  ব্লগে বাংলা লিখার উপায় এখানে পাবেন । লিংক
      ধন্যবাদ

  5. 4
    ইশতিয়াক শাহরিয়ার

    আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের চলমান এই বিচার প্রক্রিয়া "যুদ্ধপরাধ ইস্যু"টির বিতর্ক আরো বৃদ্ধি করবে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। আর ইস্যুটি নিয়ে বিতর্কের অবকাশ যতদিন থাকবে-এর থেকে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার ব্যাপারটিও ততদিন চালু থাকবে। 

  6. 3
    NURUL ISLAM

     
     
    I, with full interest and deep attention, read the articles written by Mr. Mohiuddin  and  Mr.Wahidur Rahman about International war Crime Tribunal In Bangladesh. Thanks both of you.
    My view is somewhat different from yours.
    If we failed to understand the motive, Intention and character of the so called  International War Crime Tribunal in Bangladesh; then we cannot reach to a right justified decision. 
    Bangladeshi people are innately marred by emotional out-burst.  In Bangladesh, Ill-motivated corrupt-politicians in the name of democracy always  are practicing their hidden project of Kleptocracy- who are basically THIEVES,  in the name of politics they Exploit and steel public resources, money and wealth.
    This type of politicians always try to divert the public attention to opposite direction from their steeling-sight. 
    The International Crime Tribunal in Bangladesh is an issue made in Indian RAW’s Manufacturing-Laboratory; It is designed to serves multiple aggressive and exploitive hegemonic purposes:
    1)    It is orchestrated to Ignite and spread the emotional volcanic-cloud to keep Bengali general people in dark from their mountain-like loot-pat and political criminal kleptocratic-characters.
    2)    To keep Bangladesh poorly destitute dependent on other country, so they hatch to divide the nation into quarrelling groups.
    3)    To stage a civil war for long time- if necessary they will provide weapons to both fighting parties.
    4)    To make Bangladesh ultimately a life-less slave country forever.
     To materialize the ill-motivated projects, the criminal rulers in Bangladesh staged the KANGAROO-LYNCHING COURT, alleging Islamic Scholars to banish Islamic life-style from Bangladesh and pushing the country in to a long-term civil-war.
    However, when the Hasina’s Dancing government  realized that It is impossible to do the job for themselves alone; then they staged another pre-prepared MOBOCRATIC-MOVEMENT- namely Shahbag-stage as their helping force to materialize their LYNCYING-PROJECT to kill the Islamic movement in Bangladesh. Ruling by MOB like Shahbag-MOB is the political culture of log-before Dark-age.
    When the Mobocratic plan became weak then they felt they need more help from other sources to make the project successful, then the hidden force in India Came directly in open field, supporting openly from Indian honorable President, electronic and print medias and much people who want to lond-march from all direction- Agartala to Koliktta to reach Dhaka.
    Internationally The Hasina-Government is empowered by regional and international big powers to materialize this Lynching project successfully.      
              I do not understand!  Why Jamati-leadership is cooperating, such openly declared, Kangaroo-Lynching Court. Are they politically ignorant and intellectually blind?
    For common people of Bangladesh; it is inexplicable painful situation of sufferings under the Ignorant, foolish, cruel and extremely proud driven two women who are practicing savagely Gynecocratic-Kakistocracy over helpless people of Bangladesh.
    The Hope for Justice and Democratic rules are buried under the satanic power of KLEPTOCRACY, OCHLOCRACY & MOBOCRACY in Bangladesh for infinite period.
    Nurul Islam
    Toronto, Canada
    bijoybarta@yahoo.com

    1. 3.1
      মহিউদ্দিন

      Nurul Islam Bhai,
      Thanks for letting us know your comments.

      You used some terms I was not familiar before. However, I did some search and would like to mention incase any reader are not familiar to these:

      Kleptocracy-- A government in power who exploit, steal national resources, money and wealth.

      Kakistocracy-
      A government by worst people, a government in which the worst people in power.

      Mobocracy- A government rule by mob and mob is as the ruling force.

      Gynecocracy- A government ruled by women or by single woman.
       

  7. 2
    মহিউদ্দিন

    @ sami23
    অশেষ ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযোজনের জন্য।
    বাংলাদেশের বাহিরে যে কোন বিচারকের এজলাসে এ কেইস পেশ করলে খারিজ হয়ে যেত অনেক আগেই। দেখা যাক আপিলে কি হয়।
    দু:খ লাগে আমরা নাস্তিকের বেলায় তেড়ে আসতে চাই। কিন্তু নিজের চোখের সামনে একজন মুসলিম কোন অসৎ লোকদের বা মুনাফিকের আক্রমনের স্বীকার হচ্ছে কি না তা শুনতে বা দেখতে চাই না!

  8. 1
    sami23

    মহিউদ্দিন ভাই সালাম,
    আপনার লেখার সাথে আমি কিছু কথা যোগ করলাম।

    দেওলোয়ার হোসেনের বিচারটা রাজনৈতিক খেলার অংশ।এর পক্ষে ডুগডুগি বাজাবার লোকের আজকাল অভাব নেই।কিন্তু এসব লোকদের সত্য মিথ্যার যাচাই সম্পকে বিন্দু মাত্র ধারণা নেই।রাজনৈতিক লেজুবৃত্তি মনমানসিকতা এদেরকে অন্য পক্ষকে খতম করা দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব চলমান প্রক্রিয়ার কারনে ভিন্নমত, ধর্ম কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছে। সে জন্য এই অপঘাত শক্তির কাছে দেশের রাজনৈতিক নীতিবোধ আজ বন্দি এবং অসহায়! যার দরুন মানুষের ন্যায় বিচারের অধিকার এক নিষ্টুর তামাশায়ে পরিণত হয়েছে। সেই তামাশার বলি একজন নিরীহ মানুষ।
    সেই দেলু শিকদার কি দেলোয়ার হোসেন সাইদী ? দলিল বলুন, সাক্ষ্য বলুন দেলু শিকদার আর দেলোয়ার হোসেন সাইদীর এক বেক্তি নন। কারন

    ক। রাজাকার দেলোয়ার শিকদারকে স্থানীয় লোকজন “দেউল্লা “, “দেইল্লা” বা দেলু রাজাকার নামে চেনেন। তবে দেউল্লা রাজাকার নামে বেশি পরিচিত তিনি। তার পিতার নাম রসুল শিকদার (মৃত)। তাদের বাড়ি পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী কলেজ রোড দিয়ে এগিয়ে গেলে চিলাগ্রামের শিকদার বাড়ি।

    খ। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা কমান্ড কাউন্সিলের প্রস্তুতকৃত পিরোজপুরের রাজাকারদের তালিকায় রাজাকার দেলোয়ার শিকদারের নাম রয়েছে। সেখানে দেলোয়ার শিকদারের পিতার নাম রসুল শিকদার উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের যে ডকুমেন্ট সরবরাহ করেছেন তার ভলিউম-৩, পৃষ্ঠা ২১৩ তেও রাজাকার তালিকায় দেলোয়ার শিকদার পিতা রসুল শিকদারের নাম উল্লেখ আছে।অথচ মাওলানা সাঈদীর পিতার নাম ছিল ইউসুফ সাঈদী; মাওলানা সাঈদীর দাখিলের সার্টিফিকেটে তার প্রমাণ রয়েছে।

    গ। দেলোয়ার হোসেন সাইদী নামে সব সার্টিফিকেট , তার বাবার নাম , এমন কি তার বোনের বিয়ের কাবিন (১৯৬০ এর পূর্ববর্তী ) সব প্রমান করে সাইদী তাদের বংশ গত নাম , শিকদার নয়।

    ঘ। পিরোজ পুর জেলা মুক্তি যোদ্ধা কমান্ড অফিস থেকে প্রকাশিত রাজাকারের লিস্টে দেলু সিকদার নাম আছে , কিন্তু দেলোয়ার হোসেন সাইদী নামে কোনো রাজাকার নাই।

    ঙ। রাজাকার দেলোয়ার শিকদার পালিয়ে যাওয়ার সময় কদমতলায় ধরা পড়েন এবং মুক্তিযোদ্ধা আবেদ আলীর গুলিতে নিহত হন ।

    চ। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত যাদের দালাল আইনে গ্রেফতার করা হয় বা মামলা হয় সেই সব দলিলে দেলোয়ার হোসেন সাইদীর নাম নেই।

    ছ। জাফর ইকবালের পিতাকে হত্যার অভিযোগ আনা হলে, তিনি দেলোয়ার হোসেন সাইদীর বিরোদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিতে যান নাই। এমন কি তিনি এই বিষয়ে কোনো বইয়ে ও লিখেন নাই।

    জ। জাফর ইকবাল মাতার নিজের লিখা একটি বইয়ে দেখলাম তিনি তার স্বামীর হত্যা কারীদের নাম উল্লেখ করেছেন, সেই বইয়ে দেলোয়ার হোসেন সাইদীর নাম নেই।

    ঝ। জাতীয় সংসদে দেলোয়ার হোসেন সাইদীর বিরোদ্ধে রাজাকার বলার যে বক্তব্য তা বেশ পরিষ্কার -- শেখ হাসিনা , খালেদা জিয়া- সবার উপস্তিতিতে জাতীয় সংসদে দেলোয়ার হোসেন সাইদী বলেছিলেন তাকে রাজাকার প্রমান করতে পারলে তিনি সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেবেন , আর না পারলে যদি কেও থাকে রাজাকার বলেন তাহলে তার বিরোদ্ধে মান হানি মামলা করবেন , তখন কেন একজন ও জবাব দিলেন না বা প্রমান করলেন না ? গত ১৭ মাচ দেনিক সংগ্রাম পক্রিকাতে রাজাকার দেলোয়ার সিকদারের কৃত অপরাধে মৃত্যুদন্ড হলো বিশ্বখ্যাত আলেমের শিরোনামে একটি আটিকেল বের হয় তার কিছু অংশ তুলে ধরতেছি”

    মাওলানা সাঈদীর বিরচদ্ধে আনীত যে সমস্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে ফজলে কবিরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে সমস্ত বিষয়ের পাশাপাশি রায়ে আরও কিছু বিষয় উল্লেখ আছে যেমন, তিনি রাজাকার ছিলেন তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে রওশন আলীর বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন বা তার নাম দেলু ছিল মর্মে ট্রাইব্যুনাল যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন সেগুলো সম্পর্কে তথ্যানুসন্ধান করা প্রয়োজন। মামলা পরিচালনার সময় এসব বিষয় আসামীপক্ষ সঠিকভাবে উপস্থাপন করলেও রায়ে তার কোন প্রতিফলন ঘটেনি।

    প্রথমত :
    তার নাম সংক্রান্ত তথ্য : প্রসিকিউশন পক্ষ হতে বরাবর তার নাম “দেলু” “দেইল্লা” বা দেলু শিকদার হিসেবে দাবি করা হইলেও মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম জানান এ বিষয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ কোন প্রামাণ্য তথ্য ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন নাই। ফরমাল চার্জে তাকে ঐ নামে অভিহিত করা হইলেও ইহার সমর্থনে প্রসিকিউশন পক্ষ কোন দালিলিক প্রমাণ হাজির করে নাই। এমনকি এই মামলার নালিশ দায়েরকারী অর্থাৎ PW-1 মাহবুবুল আলম হাওলাদার নিজে বাদি হয়ে জিয়ানগর থানায় যে এজাহার দায়ের করেন বা এই মামলার অপর সাক্ষী PW-6 আব্দুল মানিক পসারী পিরোজপুর থানায় যে মামলা দায়ের করেন তাতেও দেলোয়ার শিকদার বা দেলু শিকদার বা দেইল্লাউল্লেখ ছিল না যা আসামীপক্ষ হতে প্রদর্শনী এবং হিসেবে চিহ্নিত হয়। উপরন্তু যে সমস্ত সাক্ষী বিজ্ঞ প্রসিকিউটরগণ নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এবং পরিকল্পতভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট প্রদত্ত জবানবন্দীতে দেলু শিকদার কথাটি না থাকলেও সাক্ষীদের আদালতে দেলোয়ার সিকদার বলতে বাধ্য করেছে।
    সাক্ষীরা যে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দীতে দেলোয়ার শিকদার কথাটি বলেন নাই তা তদন্তকারী কর্মকর্তা PW-28
    জেরায় স্বীকার করেছেন।
    ২য়) আসামীর নাম ১৯৭১ সাল পর্যন্ত শিকদার ছিল মর্মে দাবি করলেও প্রসিকিউশনের দাখিল করা প্রদর্শনী হতে দেখা যায় যে সাঈদী সাহেবের ১৯৫৭ সালের দাখিল সার্টিফিকেটে তার নাম দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এবং তার পিতার নাম ইউসুফ সাঈদী লেখা আছে। শিক্ষা জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা অর্থাৎ ১৯৫৭ সালের দাখিল সনদে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী লেখা থাকলেও প্রসিকিউশন পক্ষ পরবর্তীকালের অর্থাৎ ১৯৬০ সালের আলীম সনদের বোর্ড কর্তৃপক্ষের ভুলভ্রান্তিকে পুঁজি করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়েছে। যদিও বাংলাদেশ মাদরাসা বোর্ড কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়মানুযায়ী সংশোধিত আলীম সনদেও সংশোধনের পূর্বেও সিকদার কথাটি লেখা ছিল না।
    উপরন্তু এই মামলার
    গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী PW-23 মধুসুদন ঘরামী জেরায় এটা স্বীকার করেছেন যে, পারেরহাটে রাজাকার বাহিনী গঠনকারীদের মধ্যে ছিল দেলোয়ার শিকদার, পিতা- রসুল সিকদার যিনি স্বাধীনতার পরে গণরোষে নিহত হয়। তিনি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে আদালতের ডকে সনাক্ত করেন নাই এই ক্ষেত্রে সহজেই অনুমেয় যে প্রসিকিউশন পক্ষ দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে দেলোয়ার শিকদার হিসেবে চিত্রায়িত করার যে অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
    এক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল তার রায়ের প্যারা পনেরতে আসামীর বর্ণনায় যে সমস্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেছে তা একপেসে এবং সাক্ষ্য প্রমাণ নির্ভর নয়।

    1. 1.1
      শাহবাজ নজরুল

      আমি আসলে মামলাটি তেমনভাবে ফলো  করিনি। তবে সার্বিক বিষয় পড়ে  মনে হচ্ছে বেশ কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এখানে তোলা পয়েন্টগুলোর কোনো যুক্তি খন্ডন কি আছে কারুর কাছে? জিয়া ভাই বা অন্য কেউ কি এই পয়েন্ট গুলোকে ক্লিয়ার করবেন?
       
      আর সামি ভাই, আপনার কাছে প্রশ্ন,
       
      ১। দেলোয়ার শিকদারের পিতা যে রসুল শিকদার এর প্রমান আছে কি? যেমন কোনো দালিলিক প্রমান? জন্ম সনদ, বিয়ের কাবিন … ইত্যাদি?
      ২। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পিরোজপুর জেলা কমান্ড কাউন্সিলের প্রস্তুতকৃত পিরোজপুরের রাজাকারদের তালিকা কি পাওয়া যায়?
      ৩। রাজাকার দেলোয়ার শিকদার পালিয়ে যাওয়ার সময় কদমতলায় ধরা পড়েন এবং মুক্তিযোদ্ধা আবেদ আলীর গুলিতে নিহত হন । এই দাবির পক্ষে প্রমান কি? সেই প্রমান কি কোর্টে উঠেছে? সেখানে কি সিদ্ধান্ত হলো? মুক্তিযোদ্ধা আবেদ আলী এখন কোথায়?
      ৪। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত যাদের দালাল আইনে গ্রেফতার করা হয় বা মামলা হয় সেই সব দলিলে দেলোয়ার হোসেন সাইদীর নাম নেই। এই তথ্যের ভিত্তি কি?
       
      --শাহবাজ

      1. 1.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        এই বিতর্কের কোন সুরাহা সম্ভব নয়। বরঞ্চ এই ধরনের কথা থেকে নিজেদেরকে দুরে রাখাই যৌক্তিক বিবেচনা করছি। তার কারন হলো -- যে কোন বিতর্ক শেষ করার জন্যেই আদালতের প্রক্রিয়াগুলো চলে। সেখানে স্বাক্ষ্য প্রমান বিতর্ক সকল কিছুর পর বিচারক রায় দেন। সেই রায় মেনে নেওয়াটাই যৌক্তিক। অনেক সময় রায়ে সন্তুষ্ট না হলে তার বিরুদ্ধে  আপীল করার বিধান আছে। সেইটাই হলো নিয়ম। 
         
        এখন আপনি যে লেখাযোখা পড়ছেন সবাই মোটামুটি জামাতের প্রচার বিভাগের তৈরী কিছু কথার কপি/পেস্ট করছে। মৌলিক কিছু না -- কারন মৌলিক কিছু লেখার মতো আইনের জ্ঞান লেখক বা আলোচকদের কারোই নেই। আগে শুনতাম যে অসুস্থ হলে বাংলাদেশে ডাক্তারের অভাব হয় না -- সবাই কোন না কোন ব্যবস্থার কথা বলে দেবে -- এখন ইন্টারনেটে আইনবিশেষজ্ঞের সংখ্যা তেমন ভাবেই বেড়ে গেছে -- সাঈদীর ভক্তরা এখন সবাই আইন বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছে। 
        কথাটা সোজাভাবে বলি -- যে কোন অবস্থায়ই কি জামাতের সমর্থকরা এই বিচারের রায় মেনে নিতো ? উত্তর  হলো না। কিন্তু দেখুন যখন একজন আসামীর পক্ষে কেউ ওকালত নামা দাখিল করে -- সে কার্যত আদালতে অংশ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে সেই আসামী এবং তার ডিফেন্স টিম আদালতে বৈধ এবং ফেয়ার হিসাবে মেনে নেয়। কিন্তু আমরা কি দেখছি -- একদিকে জামাত আদালতের কার্যক্রমে বৈধভাবে থেকে আদালতের বৈধতা দিচ্ছে অন্যদিকে রাস্তায় এবং প্রচার মাধ্যমে আদালতের বিরুদ্ধে যতধরনের সম্ভব কুৎসা এবং প্রপাগান্ডা করছে। আদালত বাতিলের জন্যে আমেরিকার লবিষ্ট নিয়োগ করেছে অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রমকে সহায়তার জন্যে বৃটিশ আইনজীবি নিয়োগ করেছে। 
         
        সুতরাং জামাত এবং তার সমর্থকরা মুলত ডাবলস্ট্রান্ডর্ড নীতিকে আছে। সুতরাং এদের কোন কথা থেকে দুরে থাকাই ভাল। 
         
        যদি আপনার রায় এবং মামলার কার্যক্রম নিয়ে কোন কিছু জানার থাকে তবে ইন্টারনেটে প্রচুর তথ্য আছে সেগুলো পড়তে পারেন। 
        আমি ব্যক্তিগত ভাবে যতটুকু মামলা ফলো করেছি -- তাতে নিশ্চিত ছিলাম ২০ টার মধ্যে ২ টা অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানতি হবে আমরা সামান্য জ্ঞানের দ্বারাই তা ধারনা করেছিলাম। যুদ্ধাপরাধের প্রমানের পর শাস্তি মৃত্যুদন্ড -- সুতরাং দন্ড নিয়ে বিতর্ক নেই। আর দেলু শিকদার ওরফে দেইল্লা রাজাকার ৭১ এ অপকর্ম করেছে তা প্রমানিত এবং বাদী পক্ষে প্রমান করতে পেরেছেন যে ১৯৭১ সালের দেলু শিকদারই আজকের দেলোয়ার হোসেইন সাঈদী। সুতরাং বিচারকরা সঠিকভাবে রায় দিয়েছেন বলে মনে করছি। 
        মজার বিষয় হলো পুরো বিচারটা হতে প্রায় দুই বছর লেগেছে -- সেইসময় কালে  ডিফেস্স টিম নানান ভাবে সাঈদীকে নির্দোষ প্রমানের চেষ্টা করেছে -- তার মধ্যে একট ছিলো ৭১ সালে সাঈদী অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক ছিলেন -- কিন্তু কোর্ট তার ছেলের বয়স এবং পরিবর্তিত সার্টিফিকেটের কপি থেকে প্রকৃত বয়স বের করেছে। এই ধরনের প্রচুর টুইস্ট এন্ড টার্ন আছে এই মামলায়। সময় নিয়ে পুরো মামলার বিবরন এবং রায় পড়তে পারেন -- মজা পাবেন। 
        রায়ের কপি এখানে পাবেন।  আর এই রায়ের আইনী ব্যাখ্যা পড়তে পারেন নিঝুম মজুমদারের ব্লগে
        ধন্যবাদ। 
         

        1. 1.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          আমি ব্যক্তিগত ভাবে যতটুকু মামলা ফলো করেছি — তাতে নিশ্চিত ছিলাম ২০ টার মধ্যে ২ টা অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানতি হবে আমরা সামান্য জ্ঞানের দ্বারাই তা ধারনা করেছিলাম। যুদ্ধাপরাধের প্রমানের পর শাস্তি মৃত্যুদন্ড — সুতরাং দন্ড নিয়ে বিতর্ক নেই। আর দেলু শিকদার ওরফে দেইল্লা রাজাকার ৭১ এ অপকর্ম করেছে তা প্রমানিত এবং বাদী পক্ষে প্রমান করতে পেরেছেন যে ১৯৭১ সালের দেলু শিকদারই আজকের দেলোয়ার হোসেইন সাঈদী। সুতরাং বিচারকরা সঠিকভাবে রায় দিয়েছেন বলে মনে করছি।

          জিয়াভাই, সন্দেহাতীত ভাবে যে প্রমাণিত বলে যে দাবী আপনি করছেন সেই প্রমাণকে এইখানে খোলাসা করে বলুন না কেন তাহলে আমাদেরও সন্দেহ দূর করতে পারতাম।

        2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

           সন্দেহাতীত ভাবে যে প্রমাণিত বলে যে দাবী আপনি করছেন সেই প্রমাণকে এইখানে খোলাসা করে বলুন না কেন তাহলে আমাদেরও সন্দেহ দূর করতে পারতাম। 

          আ্মি দাবী করিনি -- আশা করেছি। সোজা করে বললে বলা যায় ধারনা (পারসেপশান) করছি এবং তা ছিলো মামলা পর্যবেক্ষনের সুবাদে। প্রমান করেছে সরকারের পক্ষের উকিলরা আর তা গ্রহন করেছেন বিচারকগন। সুতরাং কোটে ফয়সালার পর আমি আর আপনি আলাপ করে কি প্রমান করবো -- দুই অজ্ঞ মিলে মহা অজ্ঞতার প্রদর্শণী। 
          আ্পনি এতো উতলা হচ্ছেন কেন? মামলার পুরো প্রসিডিং এবং রায় ইতোমধ্যে ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে। যদি সত্যই কিউরিয়াস হন মন খোলা রেখে সেইগুলো পড়ুন এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত দেখুন। 
          ফোঁড়া কাঁটা নাপিতের কৃতকর্মে অবাক হয়ে সার্জন ভেবে নিজেকের বোকা না বানানোই ভাল নয় কি? 

        3. 1.1.1.2
          মহিউদ্দিন

          আপনার ভিউ পয়েন্ট  জানিয়েছেন সে জন্য ধন্যবাদ। তবে আপনার কথামত এর থেকে দূরে থাকা সবার জন্য আশা করতে পারেননা বলে যে ধারনা বা যুক্তি দিতে চান সেটাও বির্তকিত সেটা খেয়াল করতে হবে। আমি সে বিষয়ে যেত চাই না।

          যাক আজকের প্রথম অলোতে  ট্রইবুন্যল  সম্পর্ককে  আন্তর্জাতিক মহলে যে আলাপ চলছে তার  কিছু খবর আছে দেখতে পারেন।
          পাঠকের জন্য কিছু অংশ তুলে ধরলাম:
          "বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-প্রক্রিয়ায় যেসব ত্রুটি ঘটেছে, সেগুলো সংশোধনের সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি-এই মন্তব্য করেছেন যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিফেন র‍াফ । অবিলম্বে এই বিচার কার্যক্রমে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
           
          বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের অপরাধের বিচারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের চলমান বিচার-প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন স্টিফেন র‌্যাপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতিমধ্যে যেসব মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে, সেগুলোর দুর্বলতাগুলো সুপ্রিম কোর্ট সংশোধন করতে সক্ষম হবেন।
           
          যুক্তরাজ্যের আইনজীবীদের একটি সংগঠন বার হিউম্যান রাইটস কমিটি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের আয়োজনে হাউস অব কমন্সের একটি কমিটির কক্ষে গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত এক সভায় রাষ্ট্রদূত র‌্যাপ বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন তুলে ধরেন। ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মানবাধিকারবিষয়ক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লর্ড অ্যাভবেরি। বক্তব্য দেন বার হিউম্যান রাইটস কমিটি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের প্রধান কার্স্টি ব্রিমলো কিউ সি, ওই সংগঠনের কর্মকর্তা সোনা জলি, অভিযুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্তদের ব্রিটিশ আইনজীবীদের অন্যতম জন ম্যাককিনন, মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা ক্লাইভ বাল্ডউইন এবং লর্ডসভার সদস্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যারনেস মঞ্জিলা পলাউদ্দিন।
           
          বক্তারা সবাই বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কার সংঘটিত নিষ্ঠুরতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রতি তাঁদের সমর্থনের কথা জানালেও বিচার-প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের মানদণ্ড অনুসৃত হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।"
          সুত্র: দৈনিক প্রথম আলো  : 20/03/2013
           

    2. 1.2
      সাদাত

      সাঈদী ব্যাপারে আমার কোন সিমপ্যাথিও নাই, বিদ্বেষও নাই। তাকে একজন প্রচলিত রাজনীতিবিদের বেশি আমার কাছে কখনো মনে হয় নাই, পার্থক্য এতটুকু নিজের বক্তব্য/দাবির সাপোর্টে তিনি কুরআন/হাদিস পেশ করতেন। এককালে বলতেন নারী নেতৃত্ব হারাম, আরেককালে দেখেছি নারীর নেতৃত্বেই রাজনীতি করতে। তাফসীর মাহফিলে নিজ দলের জন্য ভোট চাওয়া, টাকা ওঠানো এগুলো পছন্দ করার মতো কোন বিষয় তো হতেই পারে না। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত পছন্দ/অপছন্দ কখনও ন্যায়/অন্যায়ের মাপকাঠি হতে পারে না, ন্যায়বিচারেও সেক্ষেত্রেও তা গুরুত্বহীন।
      সাঈদীর  ব্যাপারে যেহেতু অভিযোগ এসেছে সেটার ন্যায়সঙ্গত ফায়সালা হোক এটাই আশা করি। 'নি:শর্ত মুক্তি চাই', 'যেকোন মূল্যে বিচার প্রতিহত করা হবে' বা 'নি:শর্ত ফাঁসি চাই' এসব কোন শ্লোগানের সাথেই আমি একমত নই। ন্যায়সঙ্গত বিচারে যা রায় হয় সেটাই কার্যকর করা হোক। 
       
      ওয়াহিদ সাহেব বা মহিউদ্দিন ভাই কারো পোস্টেই সাঈদীকে ডিফেণ্ড করার মতো জোরালো কোন বক্তব্য পাই নাই, কিন্তু সাঈদীর পক্ষে আপনার এই কমেন্টটা বেশ জোরালো। এই বিষয়গুলো আগে জানা ছিল না। তবে শাহবাজ ভাই যেসব বিষয পয়েন্ট আউট করেছেন সেগুলোর দলিল না পেলে আপনার এই বক্তব্যেরও তেমন গুরুত্ব থাকবে না। আপনার এই পয়েন্টগুলোর পাল্টা জবাব কোথাও এসেছে কি-না সেটাও নিশ্চিত নই। আমার মনে হয় আপনি এই কমেন্টটাকে পোস্ট আকারে দিতে পারেন, যাতে পাল্টাপাল্টি সবগুলো বক্তব্যই আমরা জানতে পারি।
       
      জামায়াতের সমস্যা হলো, তারা বলতে চায় তাদের দলে কোনই যুদ্ধাপরাধী নাই। এমনকি আত্মস্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধি গোলাম আযমকেও স্বাধীনতা বিরোধী বলে তারা স্বীকার করে না, সে ক্ষেত্রে সাঈদীর ব্যাপারে তারা যখন কিছু বলে তখনও আর কারো শোনার আগ্রহ থাকে না। জামায়াতের উচিত দলের প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সাফাই গাওয়া বন্ধ করে তাদের আইনের হাতে ছেড়ে দেওয়া, আর সত্যিই যদি কাউকে রাজনৈতিক কারণে অন্যায়ভাবে অযৌক্তিকভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বলে তারা মনে করেন সেটা অহিংসভাবে জনগণকে অবহিত করা। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ জুলুমের বিপক্ষে, মজলুমের পক্ষে; সহিংসতার বিপক্ষে শান্তির পক্ষে। 

      1. 1.2.1
        আহমেদ শরীফ

        জামায়াতের সমস্যা হলো, তারা বলতে চায় তাদের দলে কোনই যুদ্ধাপরাধী নাই। এমনকি আত্মস্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধি গোলাম আযমকেও স্বাধীনতা বিরোধী বলে তারা স্বীকার করে না, সে ক্ষেত্রে সাঈদীর ব্যাপারে তারা যখন কিছু বলে তখনও আর কারো শোনার আগ্রহ থাকে না। জামায়াতের উচিত দলের প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সাফাই গাওয়া বন্ধ করে তাদের আইনের হাতে ছেড়ে দেওয়া, আর সত্যিই যদি কাউকে রাজনৈতিক কারণে অন্যায়ভাবে অযৌক্তিকভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বলে তারা মনে করেন সেটা অহিংসভাবে জনগণকে অবহিত করা। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ জুলুমের বিপক্ষে, মজলুমের পক্ষে; সহিংসতার বিপক্ষে শান্তির পক্ষে।

         
        খুব অল্প কথায় খাঁটি কথাগুলো বলে দিয়েছেন।

      2. 1.2.2
        মুনিম সিদ্দিকী

        সাঈদী ব্যাপারে আমার কোন সিমপ্যাথিও নাই, বিদ্বেষও নাই।

        আমার মনে হচ্ছে এখানেও আপনি এই কথা বলে নিরপেক্ষ বলে নিজকে প্রচার করতে চেস্টা করছেন! কিন্তু সাইদী সাহেবের ইমেজ যে আপনার মনে নেতিবাচক ভাবে আছে তা আপনার কমেন্টের কিছু কিছু বাক্য থেকে বের হয়ে আসছে।
        পৃথিবীর কোন একপ্রান্তে কোন একজন মুসলিম অন্যায় ভাবে নিহত বা আহত বা অত্যাচারিত হয় এবং তা যদি পৃথিবী অপর প্রান্তের কোন একজন মুসলিম জানতে পারে এবং জানার সাথে সাথে সেই ভাইটির জন্য তাঁর বুক ফেটে দীর্ঘশ্বাস না বের হয় তাহলে আমি বলব এই লোকটি দিলে মুসলিম উম্মাহর  প্রতি দরদ ভালবাসা নেই তাই সে মুসলিম উম্মাহর সদস্য হতে পারেনা।
        আমরা দুনিয়া লোভী গাফেল মানুষ তাই আমাদের উপর দ্বীনের ফরজ তা পুরোপুরি পূর্ণ করতে পারিনা। কিন্তু যারা দ্বীনের ফরজ পূর্ণ করতে  মাঠে ময়দানে তাদের জীবন ব্যয় করে যাচ্ছেন সেই সব ব্যক্তি যারা নায়েবে নবীর দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রতি তো আমারা শ্রদ্ধা ভালবাসা গভীর ভাবে পোষণ করে যাব।
        আমি ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান দেখেছি, দেখেছি ৭০ এর নির্বাচনী আচার আচরণ, দেখেছি ৭১ এর ৯ মাস, দেখেছি ৭১ এর ১৬ ডিসেম্বরের পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ, দেখেছি অরাজক পরিস্থিতি, দেখেছি ৭৪এর দুর্ভিক্ষ দেখেছি ৭৫ এর মধ্য অগাস্টে জাতির পিতাকে নির্মম ভাবে হত্যাকালিন সময়কে।
        স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যারা পাকিস্তানী আর্মির সাথে সহযোগী  থেকে অখণ্ড পাকিস্তান রক্ষার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল তাদের মধ্যে যারাই মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে পড়েছিল তাঁদেরকে সাথে সাথেই হত্যা করে ফেলা হয়েছিল। আর  জান বাঁচাতে কেউ আত্মসমর্পণ করে জেলে আশ্রয় নিয়েছিল। কেউ দেশ ছেড়ে বিদেশ চলে গিয়েছিল, কেউ দেশে লুকিয়ে ছিল ৭৫ এর আগস্ট পর্যন্ত। শুধু তাই নয় ঐ সময় দেশে ওয়াজ নসিহতের জলসা হত বললে ভুল বলা হবেনা। তখন ইসলাম নিয়ে কথা বলার লোক খুব কম পাওয়া যেত।
        ঠিক সেই সময়ে এই সাইদী সাহেব একাই তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ, সুন্দরবন থেকে জাফলং ইসলামের ঝাণ্ডাকে তোলে ধরে ছিলেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে এই সাইদী যদি কথিত অপরাধী ছিলেন তাহলে সেই অনুকূল পরিবেশে কেমন করে ইসলামের ঝাণ্ডা তোলে সারা বাংলাদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন?
        আমি কোন গবেষক নই, তাই কথা বলতে গেলে আমার দলিল লাগেনা। আমি একজন প্রত্যক্ষদর্শী। আমার শহরে এই সাইদী সাহেবের জলসা আমি দেখেছি এবং সেই জলসা হয়েছিল সেই সময় বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষে মানুষ মারা যাচ্ছিল। তখন সাধারণ মানুষের কাছে স্বাধীনতা মরুভূমির মরীচিকায় পর্যবেশিত হয়েছিল। মানুষ জন যখন না খেয়ে মারা যাচ্ছিল তখন সবাই বলাবলি করছিল- এর জন্য কি আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম!
        তবে যারা আমার কথাকে শুধু জামাতির হয়ে প্রচারণা বলে উড়িয়ে দেবেন তাদেরকে বলব-৭৪ এর মে অথবা জুন মাসে পাবনা শহরের কোরআনের তফসির মহফিলে মুনাজাতে দেশকে অরাজকতা হাত থেকে রক্ষার জন্য যিনি মুনাজাত করেছিলেন সেই লোকটি কে ছিল? তাঁর সেই মুনাজাতে সরকার বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তদান্তিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনসুর আলী সাহেবের নির্দেশে কাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল? কাকে ৭৪ এর জুন/জুলাইতে ঢাকা জেলে আটক রাখা হয়েছিল? তিনি কি এই দেলোয়ার হোসেন সাইদী ছিলেন না?
        যাক যে কথার প্রতিক্রিয়ায় আমি এত কথা বললাম- তা হচ্ছে সাইদীর সাহেবের অপরাধ আমার কাছে সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত না হবে ততদিন উনার প্রতি আমি সিম্প্যাথি পোষণ করে যাব। তিনি ইসলামের যে গ্রুপ করেন না কেন আমার কাছে তিনি একজন নায়েবে নবী। এবং আমার এই অনুভূতি শুধু আমার একার নয় এই দেশের সাধারণ ইসলাম প্রিয় মানুষেও বলে আমার ধারণা।ধন্যবাদ।

        1. 1.2.2.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          আপনি কি কোন ভাবে মেনে নেবেন সাইদী দোষী -- মনে হয় না। একজন লোকের অপরাধের বিচারকে ধূয়াসা করার জন্যে যে বিরাট বয়ান দিলেন -- তাতেই তো আপনার মনোভাব বুঝা যাচ্ছে।
           

           আমার এই অনুভূতি শুধু আমার একার নয় এই দেশের সাধারণ ইসলাম প্রিয় মানুষেও বলে আমার ধারণা। 

          পুরো কমেন্টাইতো আপনার সন্দেহ আর অনুমান নির্ভর। ভালই। 

        2. মুনিম সিদ্দিকী

          কোনটি অনুমান নির্ভর? ৭৪ এ সাইদীর ওয়াজ মহফিল?

        3. 1.2.2.2
          সাদাত

          আমার বক্তব্য প্রমাণ করে সাঈদীর প্রতি আমার ভক্তি বা বিরাগ কোনটাই নাই। সাঈদী সাহেব বিশ্বখ্যাত বক্তা হতে পারেন, (আমার এক মুক্তিযোদ্ধা নিকটাত্মীয়কেও দেখেছি তার ওয়াজের ভক্ত), কিন্তু তার ওয়াজ আমার ভালো লাগতো না। আমার তাকে ভালো লাগতেই হবে, পছন্দ করতেই হবে এমন কোন কথা আছে? কিন্তু ভালো না লাগলে আর পছন্দ না হলেই কেউ বিদ্বেষী হয়ে যায় না। আমার নিচের কথাগুলো দেখেন নাই-

          কিন্তু আমার ব্যক্তিগত পছন্দ/অপছন্দ কখনও ন্যায়/অন্যায়ের মাপকাঠি হতে পারে না, ন্যায়বিচারের সেক্ষেত্রেও তা গুরুত্বহীন। [সংশোধিত]

           

          সাঈদীর ব্যাপারে যেহেতু অভিযোগ এসেছে সেটার ন্যায়সঙ্গত ফায়সালা হোক এটাই আশা করি। 'নি:শর্ত মুক্তি চাই', 'যেকোন মূল্যে বিচার প্রতিহত করা হবে' বা 'নি:শর্ত ফাঁসি চাই' এসব কোন শ্লোগানের সাথেই আমি একমত নই। ন্যায়সঙ্গত বিচারে যা রায় হয় সেটাই কার্যকর করা হোক। 

          আমার কমেন্টটা আবার ভালোভাবে পড়ুন। তারপর দেখুন এই কমেন্টের ওপর ভিত্তি করে আপনি যেভাবে ফতোয়া দিচ্ছেন এটা কতটুকু ন্যায়সঙ্গত।
           
           
           
           
           

        4. আহমেদ শরীফ

          সাঈদির জন্য কিছু লোক খুবই পাগল, কিন্তু কেন পাগল তা আমি আজো বুঝে উঠতে পারি না। যারা 'আসল বয়ান' শোনেনি তাদের অবশ্য সাঈদির ওয়াজ ভাল লাগতে পারে। আমি দু'একবার কিছুটা শুনেছি আমার কাছে তাকে বেশ 'চালাক চতুর' শ্রেণীর মনে হয়েছে। যেমন অনেক আগে শোনা সাঈদির করা একটা ওয়াজের একটা লাইন মনে আছে "মনকির নাকির ! মনকির নাকির মানে কি ? মনকির নাকির এর হাকিকত হইল 'সরকারী গোয়েন্দা'"। গভীর আধ্যাত্মিক রুহানি আসর তার কন্ঠস্বরে পাইনি, তবে 'চটকদার' মনে হয়েছে। অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অনেক বড় বড় এবং সত্যিকারের বুজুর্গদের বয়ান শোনার সৌভাগ্য হয়েছে আমার, যাঁরা ছিলেন অনেক উঁচু মাপের আল্লাহওয়ালা, ধারণার বাইরে আ'মাল ওয়ালা ও সুন্নাতের খুব বেশি বেশি পাবন্দ যা বুজুর্গির আলামত। প্রচন্ড মনোআধ্যাত্মিক প্রভাবশালী ওনাদের তেজস্বী বয়ানের তুলনায় সাঈদির বক্তৃতা একটু শুনলেই হাসি পায়, দু'লাইন শুনলেই আর শুনতে প্রবৃত্তি হয় না। সারাজীবনে শোনা ও চাক্ষুষ দেখা আধ্যাত্মিক মহানায়ক প্রকৃত উচ্চমার্গীয় আউলিয়াদের দেখার পরে সাঈদিকে পুঁথিপড়া সুরে ওয়াজ করা খুবই সাধারণ একজন নিতান্ত পাড়াগেঁয়ে ওয়ায়েজ মনে হয় ।

        5. 1.2.2.3
          shamima

          @ মুনিম
           

          স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যারা পাকিস্তানী আর্মির সাথে সহযোগী  থেকে অখণ্ড পাকিস্তান রক্ষার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল তাদের মধ্যে যারাই মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে পড়েছিল তাঁদেরকে সাথে সাথেই হত্যা করে ফেলা হয়েছিল।

           
          সর্বৈভ মিথ্যা কথা।

          ঐ সময় দেশে ওয়াজ নসিহতের জলসা হত বললে ভুল বলা হবেনা। তখন ইসলাম নিয়ে কথা বলার লোক খুব কম পাওয়া যেত।
          ঠিক সেই সময়ে এই সাইদী সাহেব একাই তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ, সুন্দরবন থেকে জাফলং ইসলামের ঝাণ্ডাকে তোলে ধরে ছিলেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে এই সাইদী যদি কথিত অপরাধী ছিলেন তাহলে সেই অনুকূল পরিবেশে কেমন করে ইসলামের ঝাণ্ডা তোলে সারা বাংলাদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন?
           

          বাহ বাহ বাহ। আপনার মত আছেন বলেই তো সাঈদী চাঁদে মে'রাজ করতে পারেন। বাংলাদেশ সৃষ্টির কারণে ইসলাম ধ্বংস হলো আর সাঈদী সাহেব আকাশ থেকে নাজিল হলেন ইসলাম উদ্ধার করতে। বাংলাদেশের বাকি আলেম উলামা কোথায় ছিলেন?
           

          আমার শহরে এই সাইদী সাহেবের জলসা আমি দেখেছি এবং সেই জলসা হয়েছিল সেই সময় বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষে মানুষ মারা যাচ্ছিল। তখন সাধারণ মানুষের কাছে স্বাধীনতা মরুভূমির মরীচিকায় পর্যবেশিত হয়েছিল। মানুষ জন যখন না খেয়ে মারা যাচ্ছিল তখন সবাই বলাবলি করছিল- এর জন্য কি আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম!

          সেই সালটা কত আর আপনার বয়স তখন কত ছিল? তখন সবাই বলাবলি করছিল- এর জন্য কি আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম আপনি একাই বাংলাদেশের সকল মানুষের কথা বলে দিলেন? আমরা এমন কথা বলি নাই, আমার গ্রামের কাউকে বলতেও শুনি নাই। আমাদের গ্রামে রাজাকারও ছিল মুক্তিযোদ্ধাও ছিল। একজন রাজাকারও মরে নাই সবাই আল্লাহর মর্জি জীবিতই আছেন। আপনাদের কপাল বলতে হবে, সদালাপ হওয়ায় আপনি, মহিউদ্দীন আর এম আহমেদ স্বাধীনতার পক্ষের মানুষকে এত গালাগালি, কুরুচীপূর্ণ মন্তব্য, মিথ্যাচার বিষোদাগার করতে পারলেন।
           
           

           
           

           

           
           
           

Leave a Reply

Your email address will not be published.