«

»

Mar ২৬

ভুলের মাশুল দিতেই হয়।

দেশ এখন স্পষ্টত দু ভাগে বিভক্ত এক পক্ষে দেশ প্রেমিক জাতীয়তাবাদী আর অন্য পক্ষে আছে আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী, ইসলাম বিদ্ধেষী নাস্তিক ও মুনাফিক গুষ্টি। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় দেশে চলছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসী ও মুনাফিকের যুদ্ধ। আর যার ভিতরে ইমান আছে সে এ কথাকে কোন বিশেষ গুষ্টির প্রপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিতে পারে না।  কোরআনে করীম ও রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর পবিত্র হাদিসের অসংখ্য জায়গায় মুনাফিকদের আলোচনা এসেছে। তাতে তাদের চরিত্র ও কর্মতৎপরতা আলোচনা করা হয়েছে। আর মুমিনদেরকে তাদের থেকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে তাদের চরিত্র মুমিনরা অবলম্বন না করে। এমনকি আল্লাহ তা‘আলা তাদের নামে একটি সুরাও নাযিল করেন।

মুনাফিকদের কয়েকটি বৈশিষ্টঃ ১. মুনাফিকদের অন্তর রুগ্ন ও ব্যাধিগ্রস্ত, ২. মুনাফিকদের অন্তরে অধিক লোভ-লালসা।

আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে করীমে মুনাফিক সম্পর্কে এরশাদ করেন, “তাদের অন্তরসমূহে রয়েছে ব্যাধি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। কারণ তারা মিথ্যা বলত”। [সুরা আল-বাকারাহ:আয়াত-১০] মুনাফিকরা অধিক লোভী হয়ে থাকে। যার কারণে তারা পার্থিব জগতকে বেশি ভালোবাসে। তারা নিজেদেরকে মুসলিম পরিচয় দিলেও   তাদের অন্তরের ঈমান খুবই দূর্বল সে কারণে তারা লোভী হয়ে থাকে। আর সে তার ঈমানের দুর্বলতার কারণে ইসলাম বিষয়ে সন্দেহ পোষণকারী একজন মুনাফেক। যার ফলে সে আল্লাহ তা‘আলার দেয়া বিধানকে গুরুত্বহীন মনে করে এবং হালকা করে দেখে। আর অন্যায় অশ্লীল কাজ ও অন্যায় অবিচার বা বাড়াবড়ি করাকে কোন অন্যায় মনে করে না।

৩. মুনাফিকরা অহংকারী ও দাম্ভিক হয়

মুনাফিকরা কখনই তাদের নিজেদের দোষত্রুটি নিজেরা দেখতে পায় না। তাই তারা নিজেদের অনেক বড় মনে করে। কারো কোন উপদেশ তারা গ্রহণ করে না, তারা মনে করে তাদের চাইতে বড় আর কে হতে পারে? (আল্লাহ তা‘আলা তাদের অহংকারী স্বভাবের বর্ণনা দিয়েছেন সুরা  আল-মুনাফিকুন এর  ৫ নং আয়াতে অর্থাৎ, তাদেরকে যা পালন করতে বলা হল, অহংকার ও অহমিকা বশত বা নিকৃষ্ট মনে করে তারা তা পালন করা হতে বিরত থাকে।) অবশ্যই মুনানিফিকের শেষ পরিণতি জাহান্নাম। মুনাফিকদের সর্ম্পকে বিস্তারিত জানতে   এখানে দেখুন

মুমিনকে সতর্ক থাকতে হবে।

তবে যে কোন মুসলিমকে মুনাফিকের চত্রান্ত থেকে সাবধান থাকতে হব। তা না হলে মুনাফিকদের কথাবর্তায় প্রভাবিত হয়ে নিজের মাঝেও মুনাফেকি চরিত্র এসে যেতে পারে নিজের অজান্তে! একজন মুমিনের জিবনে এটাই হচ্ছে চরম বিপদ। আজ বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সেখানে আমরা যেন সে ভাবেই এক অগ্নি পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছি। আল্লাহ  আমাদেরকে এ বিপদ থেকে রক্ষা করুন সবার জন্য এ কামনা করেই আরো কিছু কথা লিখব ইনশাল্লাহ।

বাংলাদেশী জনতার মাঝে আজ যে বিভক্তি ও বিভাজন পরিলক্ষত হচ্ছে এবং দেশে বিরাজমান সামিজিক অস্থিরতা, হিংসা বিদ্ধেষ ও বিশেষ করে যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করার যে প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছে তার হোমওয়ার্ক শুরু হয়েছিল সেই ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর থেকেই। তারই ধারাবিহিকতায় বিগত ১০/১২ বৎসর ধরেই চলে আসছিল বামপন্তী এবং এদেশকে যারা শোষন করতে চায় তাদের তল্পিবাহক ও প্রচন্ড স্বার্থবাদী একটি সেকুলার  গুষ্টির  প্রপাগান্ডায় যা অনেকেই বুঝতে চান নাই! আবার এখন অনেকে  বুঝেও না বুঝার ভান করে যাচ্ছেন নানা কারণে। তবে আমাদের কিছু সংখ্যক যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করে   বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রুরা যে যুদ্ধ ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে তা প্রতিহত করতে দেশ প্রেমিক প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। তা না করলে ন্যায় ও সত্যের ভিত্তিতে সকল ধর্ম ও মতের মানুষকে নিয়ে একটি উন্নয়নমুখী শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং  এদেশের সংখ্যাগরিষ্ট জনসাধারনের ধর্মীয় বিশ্বাস তথা ইসলামের বিশ্বজনীন আদর্শ ভিত্তিক শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়া যে এ দেশে আর সম্ভব হবে না তা এখনও বুঝতে সচেষ্ট না হওয়া, স্পষ্টতই একেবারে মুঢ়তার চুড়ান্ত হবে।

ইন্টারনেটে বিভিন্ন ব্লগে দেখবেন  ইসলাম বিদ্ধেষী নাস্তিকেরা ও মুনাফিকেরা সুযোগ পেলেই ব্যস্ত হয়ে যায়  পাঠককে কীভাবে সঠিক ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যায় সে চেষ্টায়! সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে মানুষকে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে সুস্থ চিন্তা থেকে দূরে রাখাই হচ্ছে তাদের প্রধান লক্ষ্য। যে নৈতিক মূল্যবোধ তরুন্যের মনে জাগিয়ে তোলা হচ্ছে একটা  জাতিকে সভ্য ও সহনশীন করার সবচেয়ে বড় সুপান সেই ভিত্তিটাকে ধ্বংশ করাই হচ্ছে এদের গন্তব্যস্থান। যে তারুণ্যর মাঝে থাকার কথা গভীর চেতনা বোধ যা থেকে উৎসারিত হবে মৌলিক পরিবর্তনমুখী তথা কায়েমী স্বার্থবাদ বিরোধী আন্দোলনের আওয়াজ। কিন্তু তা না করে একদিকে মদ ও ফ্যনসাডিল সহ বিভিন্ন মাদক সেবনের নেশায় পড়ে ধ্বংশ হচ্ছে চরিত্র ।  অন্যদিকে লাগামহীন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে করা হচ্ছে বিবেক শূণ্য ।  যার ফলে সে তারুণ্য হয়ে পড়ছে সত্য ও ন্যায় বিমুখী এবং ইসলাম বিদ্ধেষী আর ভোগ্যবাদী জিবন নেশায় আসক্ত অস্থির গোলামে। তাই তাদের কাছে অনিয়ম ই যেন নিয়ম, প্রতিশোধ ও হিংশ্রতাই  হচ্ছে মানবতা, মিথ্যাই হচ্ছে সততা, বাড়াবাড়ি ও বিশৃঙ্খলাই  হচ্ছে সভ্যতা। এখন এদের সবচেয়ে বড় পুঁজি একাত্তরে ভারতীয় সৈন্যের কাছে আত্মসর্ম্পনের আগে পাকিস্তানি সৈন্যদের বাঙ্গলি হত্যার সাথে কথিত সহযোগীদের তথা রাজাকারদের কৃত অপরাধের বিচার। তবে রাজাকারদের বিচার যে হয়নি তা নয় বঙ্গবন্ধুর সময়েও হয়েছে এবং ওনি সাধারন ক্ষমাও ঘোষণা করেছিলেন কিন্তু যে হেতু  অনেকে মনে করেন সব রাজাকারকে শাস্তি দেয়া সম্ভব হয় নাই তাই দাবী হচ্ছে দেরীতে হলেও বাকিদের বিচার হউক। কিন্তু এ বিচারকে স্বচ্ছভাবে না করে বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করন করে একটি শুভ কাজকে নষ্ট করার ভুলে দেশে বিদেশে প্রতিবাদ ও আপত্তির যে ঝড় উঠেছে তা অস্বীকার করা যায় না।

একটি ভুল আরও দশটি ভুলকে শুদ্ধ করে দেয়া না এবং দশটি ভুল একাদশ ভুলের কোন যুক্তিও নয়। ভুলের মাশুল দিতেই হয়। অনেক সময় যে ভুল করল সে যদি পার পেয়েও যায়, জরিমানা দেবার দায়িত্ব তখন চেপে বসে অন্যের ঘাড়ে।আজ বাংলাদেশের  অবস্থা দেখে তাই সত্য মনে হচ্ছে।যুদ্ধাপরাধের ইসু একটা জাতীয় ইসু তাই এটাকে জাতীয়ভাবেই মোকাবেলা করা উচিত ছিল তা না করে কোন বিশেষ দলের রাজনৈতিক ফায়দা লুটার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে চরম অন্যায়। বস্তুত: বর্তমান ক্ষমতাসীনরা সঠিক বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিচারের নামে সে অন্যায় করে ও বিচারকে প্রভাবিত করার অশুভ পদক্ষেপ নেয়ার ফলে উদ্ভূত দুর্বলতার সুযোগে স্বার্থবাদী পক্ষ তাদের ঘাড়ে চেপে বসার সুযোগ পেয়েছে এবং এদেশকে যারা শোষণ করতে চায় তাদের অশুভ শক্তি দৃষ্টিগোচর হয়ে পড়েছে। দু:খের ব্যপার হল এ অন্যায় বুঝতে পারেন না বলেই রাজীবের মত ইসলাম বিদ্ধেষী নাস্তিককে এরা শহীদের মর্যাদা দিতে চান।

রাজনীতিতে ইসলাম চলবে না।
বাংলাদেশের প্রচলিত দূর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতিপরায়ন রাজনীতির পরিবর্তে, ইসলামের বিশ্বজনীন ন্যায় নীতি সমাজের সকল ক্ষেত্রে প্রয়োগের সম্ভাবনাকে বন্ধ করতে কিংবা আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সৎ নেতৃত্বের প্রতিষ্ঠা করে একটি সুসম ও শান্তিপূর্ন  সমাজ গঠন করতে যারা  চায়না তারাই রাজনীতিতে ইসলামকে সহ্য করতে পারে না। ইসলামী জীবন ব্যবস্থা হচ্ছে একটি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা। ইসলাম হচ্ছে কম্পলিট কোড অফ লাইফ (complete code of life)অতএব ইসলাম থেকে রাজনীতি বাদ দিতে পারেনা কেউ সত্যিকার মুসলিম হলে।  বাংলাদেশে আজ যে অসুভ শক্তি জেঁকে বসেছে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে তারা চায় এদেশের তরুন সমাজেকে  বিশেষ করে মুসলিম যুব সামাজকে বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহ থেকে উদাসীন করা।  তাদের চিন্তা চেতনাকে সংকীর্ণ গন্ডিতে সীমাবদ্ধ করে পৌত্তলিকতা, ব্যক্তি পুজা, অশ্লিলতা, হিংসা ও ভোগবাদী জীবন ব্যবস্থার গোলামে পরিণত করা।

তাই দেখা যাবে  সৌদী আরবের মত একটি মুসলিম দেশ যখন মুসলিম ভ্রাতৃতের সহমর্মীতায় বাংলাদেশের  ২ মিলিয়ন অধিক তথা বিশ পচিশ লক্ষের লোকের কর্মসংস্থান দিলেও সেই সব দেশের  বিরুদ্ধে  বাঙ্গালি মুসলিমদেরকে ক্ষেপিয়ে তুলতে এই সব জ্ঞানপাপীদেরকে  এগিয়ে আসতে  । তখন বুঝতে বাকী থাকেনা এরা বাংলাদেশকে একঘরে করে রাখতে চায় কার স্বার্থে। কি সুচতুর কৌশলে আমাদের আবেগকে  ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায় তার এমনি একটা নমুনা দেখুন:

 

:

আগেই বলেছি যুদ্ধাপরাধের ইসুটাকে বর্তমান সরকার কুলশিত করেছেন একান্ত নিজেদের মতলবে। এ ব্যপারে আর তেমন ব্যখার দরকার আছে বলে মনে হয় না। 
“আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা-বিরোধীদের বিচার কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাময়িকী দি ইকোনমিস্ট  ‘বাংলাদেশে বিচার, আরেক ধরনের অপরাধ’ শিরোনামের নিবন্ধটি এটি প্রকাশ করেছে।

সাময়িকীটি লিখেছে, এখন বাংলাদেশের ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে বিচার চলছে, তার কথা বিবেচনা করা যাক। এখানেও বিচার করা হচ্ছে বহু বছর আগের অপরাধের, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কার। ………. আদালতের কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করছে সরকার। বিচার-প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যে মত প্রকাশের ওপরও বিধিনিষেধ আছে। বিবাদীপক্ষের সব সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি আসামিপক্ষের এক সাক্ষীকে আদালত চত্বর থেকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একটি ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন এবং ওই মামলায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন এমন তিনজন বিচারপতি, যাঁরা পুরো সাক্ষ্য শোনেননি। অপর একটি মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী মামলার প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় পাননি। ওই মামলায়ও আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। বিচার-প্রক্রিয়ায় ব্যাপক ত্রুটি রয়েছে। …… বাংলাদেশি আইন অনুযায়ীও এখানে ত্রুটি আছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার এ বিচার দেশের বিচারিক কার্যক্রমের জন্য একটি আদর্শ মডেল হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে সরকারের এ দাবির সঙ্গে বিচার-প্রক্রিয়ার বৈপরীত্য আছে।

ইকোনমিস্ট লিখেছে, লোক দেখানো এবং প্রশংসা কুড়ানোর এ বিচারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের জন্মের বিরোধিতা করে যারা অপরাধ করেছিল, তাদের বিচারের আওতায় আনা। এদিক দিয়েও এ বিচার-প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা চরম। কেননা, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ইসলামপন্তী এ দলটি দেশের প্রধান বিরোধী জোটের শরিক। দেশের অন্তর্ঘাতমূলক রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ………পুলিশকে লড়াই করতে হচ্ছে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে। মারা গেছে অনেক মানুষ। অসহিষ্ণুতার ঘূর্ণাবর্তে তলিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কথা বলছে। আর প্রধান বিরোধী দল হয়ে পড়ছে আরও বেশি ইসলামপন্তী। গুজব ছড়িয়ে পড়ছে, চলতি বছরের সাধারণ নির্বাচন ভেস্তে যেতে পারে। ………গণহত্যার শিকার মানুষের ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য সঠিক বিচারিক প্রক্রিয়া অপরিহার্য। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশিরাও সেটা বুঝবে এবং সঠিক জবাবদিহির দাবি জানাবে। কিন্তু ততক্ষণে হয়তো খুব বেশি দেরি হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সেই কুয়াতেই বিষ ঢালছে, যার পানি এক দিন বাংলাদেশ পান করতে চাইবে।” সুত্র: প্রথম আলোর রিপোর্টে এ নিবন্ধটির বিস্তারিত এখানে পাবেন)

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন,“হাটাহাজারী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা শফী জামায়াতের ক্রীড়নক হয়ে কাজ করছেন।“ নাস্তিক ব্লগার খুঁজে বের করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ কমিটি সম্পর্কে শাহরিয়ার কবির  বলেন, “জানি না হয়েছে কি না যদি এ রকম কিছু হয়ে থাকে তা হলে সরকারকে আবার হুঁশিয়ার করতে হবে। কে আস্তিক কে নাস্তিক তা নির্ধারণ করার ক্ষামতা আল্লাহ কাউকে দেননি। এই সরকারের প্রশ্নই ওঠে না। মোল্লাদেরও নেই।” তিনি আরো বলেন, “শাহবাগের তরুণরা যে নতুন মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছে তাতে জয়ী হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।” এবার দেখা যাক শাহবাগে তরুণরা সত্যিই কি মুক্তি যুদ্ধ শুরু করেছে না তাদেরকে দিযে কেউ অন্য কিছু হাছিল করতে চায়?

 “শাহবাগে প্রকৃত প্রস্তাবে কী ঘটেছিল? লিখতে গিয়ে  লন্ডন প্রবাসী প্রখ্যাত কলামিষ্ট বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রক্তন সাংবাদিক সিরাজুর রহমান তার এক সাম্প্রতিক কলামের কিছু কথা তুলে ধরছি: “গোড়ায় তারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে ধ্বনি তুলে কিছু আবেগপ্রবণ তরুণকে আকর্ষণ করেছিল। সমবেত হাজার হাজার লোককে প্যাকড ফুড ও মিনারেল ওয়াটারের বোতল সরবরাহ করা হচ্ছিল। তার বিরাট ব্যয় থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যায় শাহবাগ সার্কাসের প্রকৃত পৃষ্ঠপোষক কে ছিল। সুত্র:  

শাহবাগ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত একটি ব্যর্থ জাগরণ আখ্যা দিয়ে প্রতিনিয়ত লিখে যাচ্ছেন বিভিন্ন বুদ্ধিজীবি অবশ্য তাদেরকে মতলববাদীরা জামাতের এজেন্ট বলে আক্রশ মিটাতে দেখা যায় আর  তারাই সাজতে চান যায় স্বাধীনতার পক্ষের ও মুক্তিযুদ্ধের মাবাপ একমাত্র "তারাই খাটি বাকি সব নকল!”

দুর্ভাগ্য হচ্ছে দেশরে সাধারন মানুষকে  দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহ সংশয়ে ডুবিয়ে রাখছে বাংলাদেশের ভিতরে মেইন স্ট্রিম মিডিয়া যা প্রচন্ডভাবে প্রভাবিত বিশেষ একটি মহল দ্বারা তাই তাদের কাছ থেকে নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া কঠিন। জামাতকে ভিলেন বানিয়ে তারা তাদের আসল এজেন্ডা হাছিল করতে চায়। তাদের কথা হল “ হয় আমাদের দলে না হয় ওদের দলে” অর্থাৎ তখন "তুমি  স্বাধীনতার বিপক্ষে ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিপক্ষে!"

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের  বিচারের  কোনো মান না থাকায় উদ্বিগ্ন সবাই। ()

লন্ডনে মাত্র কয়েকদিন আগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিফেন র‌্যাপ অবিলম্বে এই বিচার কার্যক্রমে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের অপরাধের বিচারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ চলমান বিচারপ্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পারে। যুক্তরাজ্যের আইনজীবীদের সংগঠন বার হিউম্যান রাইটস কমিটি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের আয়োজনে হাউজ অব কমন্সের একটি কমিটির কে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাষ্ট্রদূত র‌্যাপ বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে তার মূল্যায়ন তুলে ধরেন। একই অনুষ্ঠানে বক্তারা সবাই বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কার সংঘটিত নিষ্ঠুরতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানালেও বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের মানদন্ড অনুসৃত হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। বার হিউম্যান রাইটস কমিটি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের প থেকে অবিলম্বে ওই বিচার কার্যক্রম স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, এই প্রক্রিয়াকে ন্যায়বিচারের মানদন্ডে উন্নীত করতে চাইলে বাংলাদেশের উচিত আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া। তারা স্কাইপ কেলেঙ্কারির উল্লেখ করে বলেন, এতে বিচারক, রাষ্ট্রপরে কৌঁসুলি ও রাজনীতিকদের যোগসাজশ ফাঁস হওয়ার পরও পুনর্বিচারের ব্যবস্থা না করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হয়েছে। লর্ড অ্যাভবেরিও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, এই বিচারের বিষয়টিকে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ করা হলে তা হবে একটি ঘৃণ্য কাজ। যুদ্ধাপরাধ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরও এই আদালতের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ মান নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু এ সবের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সামান্যই। সেদিন ইন্টারনেটে অন্য একটি  নিবন্ধে আরো কিছু গুরুত্বপূণৃ তথ্য বেরিয়ে এসেছে দেখলাম।লেখকের মতে:যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত সবাইকে ফাঁসি দেয়ার ব্যাপারে আকস্মিকভাবে ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও ঘোষণাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।  দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে গ্রেফতার করার দাবিও জানানো হয়েছে এখানে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, কলামিস্ট ড. পিয়াস করিম, ড. আসিফ নজরুলকে রাজাকার ঘোষণা করে তাদের বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে শাহবাগ মঞ্চ থেকে। দাবি আদায়ের কর্মসূচি হিসেবে মঞ্চ থেকে মোমবাতি, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন ইত্যাদি ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে যা সাধারণত পূজা-পার্বণে বেশি দেখা যায়। একই সাথে এই কর্মসূচিকে সফল করার জন্য প্রতিবেশী ভারতের প্রভাবাধীন হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যম, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের বিশেষ উদ্যোগ দেখা যায়। আলেম-ওলামাদের প্রতিকৃতি বানিয়ে তাদের জাতীয় খলনায়ক ও ঘৃণ্য হিসেবে তুলে ধরা হয় শাহবাগ মঞ্চে। এতে সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্ট হয় যে, শাহবাগ মঞ্চ আসলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোনো বিষয় নয়- এটি ভারতীয় আধিপত্য বজায় রাখা এবং সরকারকে আরেক দফা ক্ষমতায় নেয়ার হাতিয়ার। আর সেই সাথে বাংলাদেশের ইসলামি পরিচয় মুছে ফেলার প্রচেষ্টাও চলছে প্রকাশ্যে।” বি এনপি প্রধান খালেদা জিয়াও এ সত্য ভালভাবে অনুধাবন করতে পেরেছেন বলেই প্রকাশ্যে শাহবাগীদের জাগরণ মঞ্চে প্রথম যেসব দাবি তোলা হয়েছে তার মধ্যে ছিল জামায়াত-শিবির ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ইসলামী ব্যাংক, বীমা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা। সরকারের সাথে ভিন্নমত পোষণকারী সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া। আমারবিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন।

শেষ কথা হচ্ছে সাধারণ মানুষের সামনে এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে  যে, শাহবাগ মঞ্চ আসলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোনো বিষয় নয়- এটি ভারতীয় আধিপত্য বজায় রাখা এবং সরকারকে আরেক দফা ক্ষমতায় নেয়ার হাতিয়ার। আর সেই সাথে  বাংলাদেশের ইসলামি পরিচয় মুছে ফেলার যে প্রচেষ্টা এতদিন ইন্টারনেটের ব্লগে ব্লগে চলছিল তা এখন বাস্তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রকাশ্যে চালু করা।  শুরু হয়েছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুনাফিক ও নাস্তিকদের যুদ্ধ। তবে এ যুদ্ধে মুসলিমদের জয় তখনই সম্ভব যদি তারা আল্লাহর উপর  আস্তা রেখে নিজেদের সংকীর্ন স্বার্থ ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসেন।

 

কৃতজ্ঞতা: এ নিবন্ধটি প্রণয়নে ফেইসবুক ও অর্ন্তজালের আমার যে সকল বন্ধুদের ইমেইল ও ব্লগ-তথ্যের কিছু সহায়তা গ্রহণ করেছি তাদেরকে সবাইকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

১) পরিচয় নিমূলের চেষ্টা

৬৫ comments

১ ping

Skip to comment form

  1. 30
    sami23

    মহিউদ্দিন ভাই,সালাম
    ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে আপনার লেখাটা পড়া বা মন্তব্য করা হয়ে উঠেনি।
    বিগত কিছু দিন যাবত দেশের  মানুষ দুইটি ধারায়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ।(১) একটি ধারা রাজনৈতিক কিংবা চেতনা, প্রগতিশীলতা কারণে ধর্মবিরোধী হয়ে উঠেছে এবং ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মের হুকুম-আহকাম সম্পর্কে নেতিবাচক সমালোচনায় লিপ্ত হয়ে থাকে এবং যারা সরাসরি ধর্মের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে না, নিজেদের নাস্তিকও বলে না। তবে ধর্মবিরোধী আলোচনায় নাস্তিকদের প্রতি তারা সহানুভূতিশীল। তারা সংশয়বাদী, অজ্ঞেয়বাদী, যুক্তিবাদী, মানবতাবাদী, সুশীল, উদারমনা,এবং দেশ দরদি  ইত্যাদির ছদ্মাবরণে প্রকারান্তরে নাস্তিক্যবাদের সেবাদাস হিসাবেই কাজ করে।আবার এদের মধ্য কিছু যারা প্রবল ধর্মবিদ্বেষী। এরা এমনই উগ্র যে, যে কোন সুযোগে অত্যন্ত অশ্লীল ও ক্লেদাক্ত ভাষায় ধর্মকে আক্রমণ করে।

     
    (২) এই ধারায়ে সাধারন জনগণ যারা আল্লাহ এবং রাসুল (সঃ) এর আদশ চিন্তা, ধ্যান ধারণা, নিঃসাথ ভাবে আঁকড়ে ধরে আছে, ও ইসলামের দশনের আলোকে ইসলাম বিরোধী অপশক্তি বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং মুসলিমদের ঐক্যের বিশ্বাসী।
     

    আদর্শিক ও নীতিগতভাবে প্রথম ধারাটি ধর্মবিরোধী হলেও কার্যক্ষেত্রে তাদের একমাত্র টার্গেট হল ইসলাম। ইসলামই তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্যবস্ত্ত।সেক্যুলার theory আড়ালে এরা নাস্তিকার প্রচার প্রসার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত এদের মধ্য কিছু মসুলামান নাম ধারি মানুষ,যারা স্বার্থসিদ্ধির জন্য মুসলিম নাম ব্যবহার করে এবং ইসলামকে হেয় করার চেষ্টা করে। মুক্ত সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়া,সংবাদ,  ব্লগগুলিতে তাদের নীতি হল, প্রথমে রাজাকার ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সাইনবোর্ড নিয়ে সাধারণ ব্লগারদের সহানুভূতি আদায় করা। অতঃপর সুযোগ মত ধর্মবিদ্বেষের ছোবল মারা।

    আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধাপরাধী বিচারের কি চোখে দেখছে? পক্ষপাত মূলক ভাবে নাকি নিরপেক্ষ ভাবে।৫/৫/১১-তে নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, বাংলাদেশে সুষ্ঠু বিচার অত্যন্ত সমস্যাগ্রস্ত, কারণ রাজনীতি এখানে ব্যক্তিগত ব্যবসা এবং শাস্তির জন্য যাদেরকে ধরা হয়েছে সবাই বর্তমান হাসিনা সরকারের প্রতিপক্ষ।
    দি হিন্দু পত্রিকার ঝানু সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান লিখেছেন, অভিযোগকৃত ৭ জনই যেহেতু বিরোধীদলের, সন্দেহ এটা কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তান্ডব? সরকার এতে অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে। বারবার এই বিচারের প্রাপ্তি নিয়ে মন্ত্রীদের আত্মবিশ্বাসের পুনরাবৃত্তিতে ট্রাইব্যুনালের স্বাধীনতা ক্ষুণœ হবে। সুষ্ঠু বিচার হলেই হবে না, সুষ্ঠু বিচার যে হয়েছে তা প্রমাণ করতে হবে।
    নভেম্বর ২, ২০১১, এ.এফ.পি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বরাত দিয়ে লিখেছে, বিবাদি পক্ষের উকিল এবং অভিযুক্তদের হুমকির বিষয়টি তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন এশিয়ার ডাইরেক্টর ব্রাড এডামস। বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা সুষ্ঠু বিচারকাজে ধুম্রজালের সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ সরকার যদি সুষ্ঠু বিচার করতে চায়, তাহলে উকিল ও সাক্ষিদেরকে হুমকির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার। ১৮/৫/১১ তারিখে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে দেয়া চিঠিতে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে যে, সরকার ভালো উদ্যোগ নিলেও সুবিচার নিশ্চিত করতে ৪০ বছর পর প্রমাণ জোগাড় করা চ্যালেঞ্জ। চিঠিতে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ’৭৩-এর ড্রাফটে আন্তর্জাতিক মানদন্ড রাখলেও পরবর্তী দুই শতাব্দিতে সিয়ারালিওন, রুয়ান্ডা, যুগোশ্লোভিয়ার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে যে পরিবর্তন এসেছে, বাংলাদেশের ট্রাইব্যুানালও এর অংশীদার। অন্য অর্থে ট্রাইব্যুালকে তালমিলিয়ে পরিবর্তন করতে হবে। এই বিচার ভবিষ্যতে অপরাধীদের পক্ষে খারাপ উদাহরণের সৃষ্টি হতে পারে বলে উদ্বিগ্ন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। আন্তর্জাতিক সত্ত্বেও এই বিচার মূলত আভ্যন্তরীণ কারসাজি বলে ওয়েব জনমতের অভিযোগ।
    মার্কিন সিনেটর গুজম্যান তার চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারকে বেশ ক’টি সংস্থার নাম উল্লেখ করে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক মান নিয়ে প্রশ্ন, স্বচ্ছতার অভাব। এতে করে ট্রাইব্যুনাল নিয়ে উচ্ছৃংখলতা এবং রাজনৈতিক অশান্তি এবং বিতর্ক বাড়বে।
    ২৪ মার্চ ২০১১, দি ইকোনোমিস্ট। বিচারকদের অনেকেই দুর্বল এবং অনভিজ্ঞ। এই বিচার যে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পারে সেই আশা ক্ষুণœ। অনেক বিদেশী দূতই মনে করছেন এই বিচার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে যা গ্রামীণ ব্যাংকের নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসকেও অবসরে যেতে বাধ্য করেছিলো। এই বিচার সুষ্ঠু না হয়ে অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে।
    নিউইয়র্ক টাইমস ১৭ নভেম্বর ২০১১। সাঈদির বৃটিশ আইনজীবি ব্যারিস্টার জন কেমি, সরকার যাকে বিচারকাজে অনুমতি দেয়নি, লিখেছেন, ট্রাইব্যুনাল ’৭৩-কে যদিও সূচনাকালে দক্ষিণ এশিয়ার মডেল হিসেবে ন্যুরেমবার্গের বিকল্প বলে তুলে ধরা হয়েছিলো, আসলে ব্যবহার হয়েছে ভিন্ন উদ্দেশ্যে অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে প্রায় ৩০ হাজার বন্দিদেরকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার কাজে। প্রাথমিক দলিলটি আন্তর্জাতিক আইনের মানদন্ডের চেয়ে নিচু। দলিলে বিবাদী পক্ষের তথ্য ও আইনী অধিকার সীমিত। ট্রাইব্যুনাল সংশোধন করে বিষয়টি আরো খারাপ করা হয়েছে। মামলার আইন চ্যালেঞ্জের সুযোগ তুলে নেয়া হয়েছে। আরো লিখেছেন, সাঈদির এক উকিলের বিরুদ্ধে রায়টে অংশগ্রহণ করার জন্য হুমকি দিলেও তিনি তখন ইউরোপে। প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বরাত দিয়ে লিখেছেন, সত্যিই যদি বিচার নিরপেক্ষ হয়, সেটা উন্নতিকামী দেশগুলোর জন্য ভালো উদাহরণ হতো। গণকের ভূমিকায় রানাদাসগুপ্তের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, ২০১২ সন হবে রায় এবং ২০১৩ সন হবে কার্যকরের বছর। তার কথা সত্য হলে রায় হবে শাস্তির বদলে প্রতিশোধ। রায় নিয়ে মন্ত্রীদের উপর্যপুরি এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়েছে।
    ক্রাইমস অব ওয়ার অনলাইনে জন কেমি লিখেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার সভ্য গণতন্ত্রের জন্য আঘাত, যা বিংশ শতাব্দির স্বৈরাশাকদের বেলায় ঘটেছে। প্রতিশোধ দিয়ে ভোট নিশ্চিত সম্ভব, মাঠ উত্তপ্ত হচ্ছে, ফলে পরবর্তীকালে এই বিচার দুটো দলের জন্যই আন্দোলনের ইস্যু হতে পারে। বড় বড় দালানগুলোতে বিশাল ম্যূঢ়াল এবং পোষ্টারগুলো সোভিয়েত সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয় বলে অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছেন (বাংলাদেশকে রাজনৈতিক পোস্টারাইজেশনের কথা কি মিথ্যা?)।
    আন্তর্জাতিক জুরি কমিশনের মতে, সিনিয়র পাকিস্তানী অফিসার ও সহায়তাকারী উভয়পক্ষেরই বিচার হওয়া উচিত (যা ট্রাইব্যুনাল ’৭৩-এর আর্টিকেলেও বহাল)।
    মার্চ ২১, ২০১১। স্টেট ডিপার্টমেন্টের যুদ্ধাপরাধ বিষয় স্টিফেভ র‌্যাপের ১০ পৃষ্ঠার সারমর্ম পড়লে সবচে’ যা গুরুত্বপূর্ণ, অন্যান্য ক্ষেত্রে সব পক্ষের অপরাধীদের বিচার সম্ভব, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন (তিনি কি ১৯৫ জনের কথা বলছেন?) লিখেছেন, যুদ্ধ আইন পাশ হয়েছে ’৭৩ সনে, আন্তজার্তিক আইন পরিশুদ্ধ করে পরবর্তীতে যেসকল পরিবর্তন হয়েছে, এই ট্রাইব্যুনালের তা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্য আলোচনায় বলেছেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাদের জন্য অন্ধ ইমিউনিটি, অবশ্যই এটা অভিযুক্তদের পক্ষে সমর্থন এবং যারা অভিযুক্তের বাইরে তাদের বিপক্ষে নয়, কিন্তু ন্যূরেমবার্গ ট্রায়ালে সিনিয়রদেরই বিচার হয়েছে। কম্বোডিয়ায় বিচারের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ গ্যালারি পরিদর্শন করেছে, বিচারকাজ উন্মুক্ত এবং ভিডিও কভারেজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে (কম্বোডিয়ার বিচার জাতিসংঘের সহায়তায় আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে)।
    বি.ডি.আই.এন.এন সাইটের তথ্য নির্ভর রিপোর্ট থেকে ১৯৫ জনের বিচার কেন আইনের আওতাভুক্ত তার পরিষ্কার ছবি পাওয়া যায়। নানান টালবাহানায় ১৯৫ জনকে ফিরিয়ে দিলেও জুলাই ২০, ১৯৭৩-এর এ্যাক্টে রয়েছে আন্তর্জাতিক আইন যা জাতিসংঘের আইনের আওতাভুক্ত, সেই অর্থে ’৭৩-এর ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। সুতরাং এই আইনে সকল পক্ষের যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি পেতে হবে। যদিও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান কেউই এই বিচার চায়নি, তারপরেও আর্টিকেল ৪৭(৩) যুদ্ধাপরাধী ও সহযোগীদের বিচারের কথা বলা হয়েছে, কোন সরকারই সেটা বাতিল করেনি।
    অনলাইন ডন এ.এফ.পি’র উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, “সকলেই ’৭১-এ বিহারী এবং পাকিস্তানীদের নৃশংসতার কথা বলছে, কিন্তু কেউই বলছে না, বিহারীদের উপর যে পরিমাণ প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছিলো। আমাদের ধারণা, একমাত্র শান্তাহার শহরেই কয়েক হাজার বিহারী হত্যা করা হয়েছে।” কথাগুলো বিহারী নেতা আহমেদ সিদ্দিকি বলেছেন, সংবাদ সংস্থা এ.এফ.পি-কে।

    আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইন বিশেষজ্ঞসহ এ্যামনেস্টি ইণ্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস, আন্তর্জাতিক বার এসোসিয়েশন, আমেরিকান সোসাইটি অব ইণ্টারন্যাশনাল ল’… অসংখ্য পর্যবেক্ষকদের অণুবীক্ষণ যন্ত্রের তলে এই বিচার। ১৯/৫/১১ তারিখে ওয়াশিংটনে এ.এস.আই.এল’র মিটিং স্টিফেন র‌্যাপের উপস্থিতিতে যে পর্যায়ের উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এক প্রশ্নের উত্তরে র‌্যাপ বললেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যে বিবাদি পক্ষ বিষয়টি কি কাকতালীয় না? অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অভিযোগ, বাছাই করে পছন্দের বিচার নিয়ে। এই কাজটি করার আগে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার চিন্তা করবে বলে হুশিয়ার করে দিলেন ব্যারিস্টার জন কেমি। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ স্টিফেন কে আল-জাজিরাকে অত্যন্ত কঠিন ভাষায় জানালেন বিচার কাজ পক্ষপাত দুষ্ট এবং গ্রহণযোগ্যতাহীন। সন্দেহাতীত প্রমাণ ছাড়াই ৪০ আগের বিচারকাজ সুষ্ঠু হবে না। অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজেই অতীতে এই বিষয়ে এক অনুসন্ধানে অংশগ্রহণ করেছেন। সুতরাং এই বিচারে তিনি শুধু সাক্ষি হতে পারতেন।
    ০৭/২/৭২ তারিখে সি.বি.এস নিউজে ওয়াল্টার কংক্রাইট বললেন, ২৪ হাজার পাকসেনাকে অস্ত্রসহ ক্যান্টমেন্টে রাখা হয়েছে। সি.বি.এস খবরে প্রকাশ, পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় ২৪ হাজার পাকসেনাদের অস্ত্র সমর্পণের খবর কি সত্য নয়? বিপদ বুঝে ভারতীয় সেনারা স্বেচ্ছায় তাদেরকে অস্ত্রসহ ক্যান্টমেন্টে লুকিয়ে রেখেছিলো। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়ে বিহারী এবং পাকসেনাদেরকে নিরাপত্তার কারণে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলো ভারতীয় সেনাবাহিনী বলে নানান তথ্য রয়েছে ’৭১-এর আর্কাইভে।

    1. 30.1
      মহিউদ্দিন

      ভাই,
      আপনার তথ্যপূর্ণ মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।

  2. 29
    এম_আহমদ

    বাংলাদেশের প্রচলিত দূর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতিপরায়ন রাজনীতির পরিবর্তে, ইসলামের বিশ্বজনীন ন্যায় নীতি সমাজের সকল ক্ষেত্রে প্রয়োগের সম্ভাবনাকে বন্ধ করতে কিংবা আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সৎ নেতৃত্বের প্রতিষ্ঠা করে একটি সুসম ও শান্তিপূর্ন  সমাজ গঠন করতে যারা  চায়না তারাই রাজনীতিতে ইসলামকে সহ্য করতে পারে না। ইসলামী জীবন ব্যবস্থা হচ্ছে একটি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা। … বাংলাদেশে আজ যে অসুভ শক্তি জেঁকে বসেছে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে তারা চায় এদেশের তরুন সমাজেকে  বিশেষ করে মুসলিম যুব সামাজকে বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহ থেকে উদাসীন করা।  তাদের চিন্তা চেতনাকে সংকীর্ণ গন্ডিতে সীমাবদ্ধ করে পৌত্তলিকতা, ব্যক্তি পুজা, অশ্লিলতা, হিংসা ও ভোগবাদী জীবন ব্যবস্থার গোলামে পরিণত করা

    আপনার ব্লগে উপরে ৫নং মন্তব্যে কিছু কথা বলেছি। এবারে সেই মন্তব্যের সাথে আরও কিছু সংযুক্ত করছি। এটি সেই ৫নং মন্তব্যের সাথে পড়া হবে।
     
    ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও প্রতিবন্ধক যুক্তি
     
    বাংলাদেশে কয়েকটি ইসলামী দল রয়েছে। তারা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে নৈতিক মূল্যবোধের স্থাপন করতে ময়দানে কাজ করছে। তাদের কাজ-কর্ম ও প্রচারনায় যেসব পরিভাষা ব্যবহার করেন তা হল: ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, খিলাফত প্রতিষ্ঠা, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি। শব্দে যা’ই থাকুক কাজ একটিই: নৈতিক ভিত্তির উপর শিক্ষা, শাসন, সামাজিক প্রথা ও প্রাতিষ্ঠানিকতার রূপায়ন -সর্বোপরি নেতৃত্বের আমূল পরিবর্তন। ইসলামী দলগুলোর মধ্যে নানান মত-পার্থক্য থাকলেও নৈতিক ভিত্তিতে সমাজ ব্যবস্থার রূপায়নের চিন্তায় দ্বিমত নেই। আমি বলব, একটি বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মুসলমানদের কয়েকটি দল থাকাতে কোনো সমস্যা নেই; এক দল আরেক দলের মোকাবেলায় অধিক যোগ্য বলাতেও কোনো সমস্যা নেই; একে অন্যের মোকাবেলায় নিজেরদের পার্থক্য তুলে ধরাতেও কোন সমস্যা নেই, কেবল একে অন্যে শত্রুতায় না নামলেই হয়।  
     
    তবে একথাও সত্য যে কিছু সংখ্যক লোক ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রণয়নের বিপক্ষে। এই বিপক্ষ নেয়ার পিছনে অনেক বাহানা রয়েছে। প্রথম বাহানা হয় জামাতে ইসলাম নিয়ে। তাদের অভিযোগ, এই দল ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠার যোগ্য নয়। ঠিক আছে। একথা শুনে বলতে পারেন, আপনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এ যোগদান করুন। কিন্তু দেখবেন এটা তার মন;পুত হচ্ছে না। এবারে বলুন, আপনি খিলাফত মজলিসে যোগ দিন। এটাও দেখবেন পছন্দ হয় নি। তারপর অন্য বিকল্প দিন, দেখবেন সেই একই অবস্থা। কিন্তু যখন সে বিকল্প মানবে না, তখন বলুন, ভাই, কোনো দলই যখন যোগ্য নয়, তখন আপনি নিজেই একটা দল গঠন করুন এবং সেই কাজে অগ্রসর হোন। এই পর্যায়ে এসে দুই ধরণের লোকের দুই ধরণের উত্তর পাবেন।
     
    যারা খাটি সেক্যুরারিস্ট এবং কাফিরদের সহযোদ্ধা তারা বলবে, ধর্মকে রাষ্ট্রীয় অঙ্গনে আনতে নেই, বাংলাদেশ মুসলিম দেশ নয়, হিন্দু-মুসলিম একজাতি, এখানে ইসলাম টানা ঠিক নয়, এটা পাকিস্তানীদের কাজ, এটা জিন্নাহর ধাপ্পাবাজি ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো হচ্ছে নাস্তিক  ও ইসলাম বিদ্বেষীদের কাছ থেকে ধার-করা ফালতু বক্তব্য। এগুলো মূলত এনলাইটনম্যাণ্টের মডার্নিষ্ট ধারণা-প্রসূত যেগুলোর সাথে যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানবাদের সম্পর্ক, ঐশীক সম্পর্ক বাদ দিয়ে দেশ ও সমাজ গড়ার রাষ্ট্র দর্শন। এখানে মুসলিম নামধারী আলট্রা-সেক্যুলারিস্ট, বামপন্থী নাস্তিক, কমিউনিস্ট নাস্তিক, ও তাদের সহযোগী কিছু মুসলিম নামের কলঙ্ক, এবং হিন্দু সম্প্রদায় একমত পাবেন।
     
    খিলাফতের বিপক্ষে আরেকটি দলের একাংশ রয়েছে। ওরা এই যুগে ইসলামী খিলাফত চায় না, বরং কোন এক অনাদি কালে অমনি অমনি খিলাফত কায়েম হওয়ার ধারণায় বিশ্বাসী। এটা অনেকটা কার্ল-মার্ক্সের ডায়ালেক্টিক মেটেরিয়েলিজমের প্রক্রিয়াগত ধারণায় কোনো অনাগত কালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা হওয়ার মত। তাদের যুক্তির সাধারণী রূপ এইভাবে:
     
    খিলাফত জোর করে কায়েম করা যাবে না (যেন কেউ জোরের কথা বলছে!)। মানুষের ঈমান আখলাক ঠিক-টাক হোক; যারা নামাজ রোজা করে না তাদেরকে দিয়ে দিয়ে জোরে (!) ইসলামী খিলাফত কায়েম করা ঠিক নয়। আগে লোকদেরকে নামাজী করা হোক, ঈমান আখলাক ঠিক হোক, তারপর খিলাফত নিয়ে কথা বলার দিন আসবে। এই হচ্ছে যুক্তি এবং এটা মার্ক্সিস্ট প্রগতিবাদের মত খোঁড়া।
     
    যেসব ইসলামী দল খিলাফত প্রতিষ্ঠার কাজ করছেন তারা কী বেনামাজি? অথবা তারা কী বেনামী লোক দিয়ে খিলাফত প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন? নামাজ তো মুনাফিকরাও পড়ে। নামাজ মুনাফিক ও মুসলমানদের মধ্যে কোন পার্থক্যের প্রমাণ নয়, বরং প্রকাশ্যভাবে ইসলাম ও কুফরের মধ্যে পার্থক্যের রূপক (figurative) উদাহরণ। মনে রাখা দরকার নামাজ না-পড়ার কারণে কোনো মুসলমান অমুসলমান হয়ে যায় না, অধিকন্তু নামাজ পড়েও মুনাফিক মুনাফিক থেকে যেতে পারে। আবার কোনো বেনামাজিকে কী খিলাফত প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে দেয়া হবে না? সুতরাং এখানেই যুক্তির অসারতা। এই যুক্তির লোকদের সাথে বিতর্ক করার দরকার নেই। তাদেরকে তাদের অবস্থানে থাকতে দিয়ে বাকীরা অগ্রসর হওয়া উচিৎ। কেননা বিতর্কে কাউকে পক্ষে আনা সহজ হয় না। মূল কথা, মানুষ গড়া ও রাষ্ট্র গড়ার কাজ পাশাপাশি চলতে হয়। ইতিহাস থেকে উদাহরণ নেয়া যাক।
     
    জাহেলী যুগের কোরেশ প্রধানরা এবং অপরাপর গোত্র প্রধানরা জানত লা ইলাহার মূলমন্ত্রে কী রয়েছে। এটা বর্তমান যুগের জাহেলরাও বুঝে, তাই তাদের অনেকের যুদ্ধ হয় লা ইলাহার বিপক্ষে। জাহেলী সমাজ সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছিল যে এই কলেমার স্বীকৃতিতে সামাজিক কর্তৃত্বের অঙ্গিকার মুহাম্মদের (সা.) হাতে চলে যায়, মুহাম্মদই (সা.) হয়ে পড়েন অনুসরণের মূল ক্বিবলাহ। অসংখ্য দেবতার প্রতিনিধিত্বে (representation) প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা এই কলেমার সাথে সাথে ‘অস্বীকৃত’ হয়ে পড়ে। একই সাথে কোরান জুলুমের উপর প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার অযৌক্তিতার সমালোচনা করে যাচ্ছিল। পরিপ্রক্ষিতগত এই বাণী গ্রহণ করলে গোটা আরবের সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তিত হবে –এই ধারণা কারও কাছে গোপন ছিল না।
     
    প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থাকে তার আপন স্থানে প্রতিষ্ঠিত রেখে ইসলাম জিকির আযকার ও তসবিহ তাহলিলে সীমিত ছিল না। এই বাণী বিশ্বাস, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, ন্যায়-অন্যায়ের বিষয়ে কথা বলে যাচ্ছিল। মাক্কী মুশরিকরা মুহাম্মদের (সা.) সাথে বার বার সমঝোতা (compromise) করতে চেয়েছিল যাতে মুহাম্মদ (সা.) তাদের সমাজ ব্যবস্থার প্রতীকী মূর্তিদের সমালোচনা (criticism) বন্ধ করেন, তাঁর ধর্ম-কর্ম যেন কেবল সালাহ আর আল্লাহ আল্লাহ করাতে সীমিত রাখেন, এতে তাদের আপত্তি থাকবেনা। কিন্তু মুহাম্মদ (সা.) তাঁর একহাতে চন্দ্র আর অপর হাতে সূর্য পেলেও তাঁর মূল বাণীতে সমঝোতা (comprise) আনবেন না বলে জানিয়ে দেন। আল্লাহর তরফ থেকে এই সমঝোতার অবকাশ ও নির্দেশ থাকলে মুহাম্মদ (সা.) সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু কলেমা, সালাহ ও তাওহীদী দাওয়াতে সীমিত থাকতেন। দাওয়াত দিতে দিতে একদিন আরববাসী মুসলমান হয়ে গেলে কিল্লাহ ফতেহ হত। বিজয় নিশ্চিত হত। আল্লাহর দীন অমনিতেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেত। কিন্তু এমন সমঝোতায় দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় না। কখনও হয়নি। নবীর (সা.) যুগেও তাওহীদবাদী হানাফিরা ছিল। এরা যুগ যুগ ধরে অস্তিত্বে ছিল। কিন্তু তারা দীন প্রতিষ্ঠা করতে পারে নি। প্রতিষ্ঠিত সমাজ ব্যবস্থাকে গ্রহণ করে, সেই ব্যবস্থার নিয়ম-নীতি, ও প্রথার সাথে মিলে-মিশে এবং বিশেষ করে তাগুতকে তার আপন স্থানে রেখে এমন কাজ হয় না। এগুলোর ব্যাপারে  কথা বলতে হয়; এগুলোর বিকল্প তৈরির জন্য কাজ করতে হয়; এর জন্য মানুষ তৈরি করতে হয়; মানুষের মধ্যে যোগ্যতা তৈরি করতে হয়; এই কাজ করতে গিয়েই সেই যোগ্যতা হাসিল হয়; তাগুতি শক্তি যখন মার-ঢালতে আসবা তখন তার মোকাবেলা করার মানসিকতা, সাহস ও যোগ্যতা তৈরি হতে হয়। এই সবগুলো চলতে হয় পাশাপাশি (hand in hand)। 
     
    আজকে কী নামাজীদের অভাব আছে?  যে সংখ্যার  মানুষ নামাজ পড়ে কেবল ওরাই সৎ, ভাল লোক হলে দেশের অবস্থা অন্যরূপ হত। পাঁচ ওয়াক্তের বাইরে নফল নামাজীদেরও অভাব নেই। তারপর জুমার দিনে মসজিদগুলোতে স্থান সংকুলান হয় না। কিন্তু দেশের নৈতিক বাস্তবতার অবস্থা কী? এই দেশেই চলছে ঘোষ, চুরি, ধর্ষণ, বদমাশি, হত্যা। এই প্রতিষ্ঠিত প্রথার লোকজনই আবার জাতিকে একাত্তরের বদমাশি, হত্যার কলঙ্কমুক্ত করার কথা বলে! কেবল একাত্তরেই কি ঐ কাজগুলো কলঙ্ক ছিল? যা মন্দ তা কী সবদিনই হবে না? এই প্রচলিত মন্দের প্রকৃতি কী দেখা হবে না? সূত্র দেখা হবে না? ঐতিহাসিকতা দেখা হবে না? সামাজিক এই বিপর্যয়সমূহ ও এইসব দূরাবস্থার প্রতিকার কোথায় -তা কী দেখা হবে না?  
     
    এগুলোর প্রতিকার হচ্ছে নৈতিক শিক্ষায়, নৈতিক নেতৃত্ব গঠনে, শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনে, নৈতিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠতায়, নৈতিকতার উপর প্রতিষ্ঠিত আইন ব্যবস্থায়। মোনাফেকগণ কর্তৃক একাত্তরের চেতনায় নৃত্য-কীর্তনে ‘জাতীয় স্বার্থের’ নামে কিছু লোককে যেকোনোভাবে হত্যা করাতেই আসবে না; বাঙালীত্বের নামে ফালতু আবেগ তৈরি করাতে আসবে না; মুসলিম জাতি অস্বীকার করাতে আসবে না, বাংলাদেশ মুসলিম রাষ্ট্র নয় –এই সব অস্বীকার করাতেও আসবে না। মোনাফেকের দল এই সমাজ ব্যবস্থাকে তার নৈতিক বিপর্যয় ও অধঃপতন থেকে কীভাবে বাঁচাবে তার কোনো বিকল্প দিচ্ছে না বরং দিন দিন অধঃপতনের দিকে চালিয়ে যাচ্ছে।  ইসলামকে  নামাজীর চতুর্দেয়ালে বন্দি করে ফেললেই কী প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা আপনাতেই সুচারু হয়ে ওঠবে? এই দূরবস্থার জন্য কী ইসলাম দায়ী? মূর্খ কাফিগণ এবং কাফিরদের সহযোদ্ধাগণকে বাঙালীয়ানা দেখিয়ে ইসলামকে অপসারণের ইজারা কে দিয়েছে? কেউ দেয় নাই, নিজেরাই নিয়েছে। এরা এখন পরাজিত পক্ষ।
     
    আগের প্রসঙ্গে ফিরে গিয়ে সেগুলোর সারাংশ এভাবে টানা যায়:
     
    ·  তাগুতী সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন করে নৈতিক সমাজ ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ চলতে হবে একই সাথে, hand in hand।
     
    ·  বর্তমানে বেনামাজিরা এই খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার আহবান জানাচ্ছেন না, কোনো অন্য কোনো দলের ব্যাপারে patronising কথাবার্তা বলা ঠিক হবে না।  আজ যেসব দল নৈতিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কাজ করছেন তারা নামাজী লোক, শিক্ষিত লোক, তাদের দলগুলোতে যত ভিন্নতা থাকুক না কেন। তারাও নামাজী তৈরি করছেন, তসবীহ তাহলীল করার কথা বলছেন। আদব-আখলাক তৈরি করার কথা বলছেন, অধিকন্তু শিক্ষাও দিচ্ছেন।
     
    ·  কেবল ইসলামী আদর্শের রাষ্ট্র তৈরিতে বেনামাজির কোন অবদান রাখতে পারবে না–এমন অযৌক্তিক কথা বলারও দরকার নেই। যারা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পিছনে থাকতে চান, তাদের সাথে ঝগড়া করে লাভ নাই। শুধু বলা যেতে পারে, উকউদু মাআল কায়িদীন, তোমরা বসে-থাকাদের সাথে বসে থাকো। দেশকে প্রথমে নামাজী বানিয়ে তারপর খিলাফত প্রতিষ্ঠার আওয়াজ তোল, আমরা দুটাই এক সাথে করছি।  

    1. 29.1
      এম_আহমদ

       
      সংশোধন:
      ১) প্রথম প্যারাগ্রাফের প্রথম লাইনের ‘মূল্যবোধের’ পরে ‘উপর’ হবে। অর্থাৎ মূল্যবোধের উপর।
      ২) চতুর্থ প্যারা, দ্বিতীয় বাক্য, ‘অনাদি’ ‘অজানা’ হবে।
      ৩) ষষ্ট প্যারা, দ্বিতীয় বাক্যের ‘বেনামী’ ‘বেনামাজি’ হবে।
      ৪) সারাংশের দ্বিতীয় পয়েন্ট এভাবে হবে, কোনো দল অন্য কোনো দলের ব্যাপারে patronising কথাবার্তা বলা ঠিক হবে না।
      উপরের মন্তব্যটি এই মন্তব্যের সাথেও মিল রাখে http://www.shodalap.org/mohi/18577#comment-18280 এবং কেউ চাইলে তা দেখতে পারেন। সেখানে পাকিস্থান ঐক্য ও সংহতি রক্ষার পক্ষে কেউ কাজ করলে তা যে কোন অপরাধ নয় –তা আলোচনা করা হয়েছে। অধিকন্তু এর জন্য কেউ কারও কাছে মাফ চাওয়ার যুক্তিকতা নিরর্থক। যদি কেউ যোদ্ধাপরাধ করে থাকে সেটা আলাদা। কিন্তু র্তমানের যুদ্ধাপরাধের বিচারের ত্রুটিপূর্ণ অবস্থা ও অন্তসারশুন্যতা নিয়ে নতুন কিছু বলার দরকার নেই।   আজ কারা ইসলামের পক্ষের এবং কারা সেক্যুলার ও নাস্তিক পক্ষের সেটাই আলোচনার বিষয়। জামাতকে সামনে রেখে নিজেরদের ইসলামী রাজনীতি থেকে অপসারণ এবং সেক্যুলার দলে সমর্থের চাওয়ার rhetoric ও ফালতু। আজকের সকল হত্যা ও সংঘর্ষকে তাদের ওইতিহাসিকতায় দেখতে হবে, যারা আজকে জামাত অজুহাত হিসেবে পেশ করে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পাশ কাটার পথ দেখেন, তাদের ব্যাপারটি কি এমন যে তারা অতীতে জামাতকে পছন্দ করতেন এবং চলতি মাসের সংঘর্ষের কারণে তারা এখন জামাত-ফোবিয়া এবং বিদ্বেষ দেখাচ্ছেন, না বরং তারা আগেই তাদের থিয়োলজিক্যাল কারণে এর বিপক্ষে বর্তমানের কথা সূদীর্ঘ অতীত থেকে বলে আসছেন? আজকের প্রথম কথা আপনি কি ইসলামী শাষণ ব্যবস্থা চান এবং চেয়ে থাকলে সেই রাস্তায় কোন কোন কাজ করে যাচ্ছেন -সেটা দেখা। আমার মনে হয় কেউ জনগনের পক্ষ হয়ে কথা না বলাই ভাল। জনগণেরো মাথা মগজ আছে।  

      1. 29.1.1
        মহিউদ্দিন

        ভাই,
        আপনার সুদীর্ঘ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। মুসলিম বিশ্বের শাসন ব্যবস্থায় নবীর খেলাফত পুন:প্রতিষ্ঠা হবে একদিন ইনশাল্লাহ ।  তবে কবে বা কখন তা হবে সে প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, যে দিন মুসলিমরা সে খিলাফতের দায়িত্ব বহন করার মত যোগ্যতা অর্জন করবে সে দিন অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য আসবে। আর একথাও মনে রাখতে হবে ব্যক্তিপুজা, পৌত্তলিকতা ও মিডিয়ার প্রচারণায় ডুবে হাবুডুবু খাওয়া জাতির পক্ষে সে যোগ্যতা অর্জন সম্ভব নয়।

        বাংলাদেশে আজ যা চলছে সে অবস্থা অন্যান্ন মুসলিম দেশেও একসময় হয়েছে এবং তার পিছনেও যুক্তি খাড়া করার অভাব ছিল না এবং মানুষ তা মেনেও নিয়েছিল কিন্তু সময় তা পরিস্কার করে দিয়েছে এবং শুরু হয়েছে বসন্তের হাওয়া মসজিদের শহর ঢাকাকে যারা মুর্তির নগরে পরিণত করতে চায় তাদের সে প্রচেষ্টার পিছনে আছে অনেক যুক্তি। মুসলিম সমাজে মুনাফিকরা ভরে গিয়েছে সে আবর্জনা সরাতে সময় লাগবে। বাংলাদেশের সমাজেও একদিন আসতে পারে বসন্তের হাওয়া। তবে চুড়ান্ত সফলতা আসতে সময় লাগবে।

  3. 28
    NURUL ISLAM

     
    Thanks Mohiuddin Bhai for your post.  My brief comments would be as follows:
    “If the actions of the IWCT (International War Crime Tribunal) and the Shahbag protests continue in their present form, then justice risks being fully usurped by vengeance and dirty politics. The Shahbag protests have revealed that mob rules, if shouted loud enough, can overshadow justice.”
     
    This paragraph is an expression of what I once wrote  ‘MOBCRACY’, where government, judicial body are dictated by unruly mob, making  constitutional right, civil right inactive.
    In Bangladesh; when The Hasina govt. and it’s power-source India realizes that it is almost impossible to lynch their opponent Jamat leaders by their designed Kangaroo court on the face of mounting intentional  and domestic pressure then they, with direct help of Indian RAW, staged the Shahbagi-mob to implement their heinous vengeful plan.
    সুত্র: এখানে
     
    It is the demand of  time and for the safe-guard of justice to uncover the hidden agenda of Shahbagi-movement by writing and publishing researched-articles and essays. You are doing the right works and so is the comments of some good people why are supporting you. Keep up the good job and just ignore those people who does not want to use their sense and good conscious

  4. 27
    FARID

    TOO LONG TO CONCENTRATE—————
    1. NATION  DIVIDED —TWO GROUPS——--NATIONALISTIC PATRIOTIC FRONT====== AND == NASTIC // ANTI ISLAMIC ==
    ===WHERE IS THE PRO ISLAMIC FRONT ?== 
    2.  THERE IS NO PLACE OF NATIONALISM IN ISLAM == IT IS UNISLAMIC ==
    =    WRITER SUPPORTING ANTI ISLAMIC IDEALS ??
    3.  SAUDI ARABIA == A MUSLIM  [ ISLAMIC ]  STATE ?? 
    = =  IT IS A MONARCHY=
    =  NAME OF THE COUNTRY IS ==KINGDOM OF SAUDI ARABIA=== KSA  =
    = THERE IS NO PLACE OF MONACHY IN ISLAM ==SO, IT IS NOT AN ISLAMIC COUNTRY=
     
     

    1. 27.1
      এম_আহমদ

      What are you talking about? Can you explain and expand?

  5. 26
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    নেপাল যদি হিন্দু রাষ্ট্র হয় তবে বাংলাদেশের ৯০% ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়েও কেন মুসলিম রাষ্ট্র হবে না? কালেমা শাহাদাতে আন্তরিক বিশ্বাস থাকার অর্থই সে মুসলিম!
    ১৯৭২ এর ১০ই জানুয়ারী শেখ মুজিব দেশে ফিরে আসলে তিনি বলেন "বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র!

  6. 25
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    সদালাপে যদি কেউ শালীন, ভদ্র ভাবে নিজেদের মতামত তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরতে পারে তাহলে কোন সমস্যা দেখি না। আমি চাই সদালাপে বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা চেতনার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠুক। নিয়ম নীতি মেনে কেউ যে দল বা মতই করুক সবারই মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। আশা করব সদালপ কোন ব্যাক্তি বিশেষের রাজনৈতিক মতাদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যেন অন্যের মতামত(নিয়ম মেনে) প্রকাশ বন্ধ না করে। সদালাপ হয়ে উঠুক সভ্য গণতান্ত্রিক ষ্টাইলে আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্র!

  7. 24
    আহমেদ শরীফ

    মুসলিমদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা আছে ঠিকই, কিন্তু তা কিতাবের পাতায়। বাস্তবে সেগুলো মানার জন্য যে 'ঈমানী যোগ্যতা' র প্রয়োজন তা সাধারণভাবে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের নেই। যেমন "ঈমান ও কুফরের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে 'নামায'", এখন ন্যূনতম যোগ্যতা নিয়মিত ফরয নামাযের ক্ষেত্রেই ব্যপকভাবে শিথিলতা পরিলক্ষিত হয় সিংহভাগ মুসলিম জনগণের মধ্যে, অন্যান্য হুকুম থেকে তো আলোকবর্ষ দূরে।

    তো সার্থক-কার্যকরভাবে 'ইসলামী রাষ্ট্র' এদের দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার উপায় কি ? লাঠিপেটা করে শিক্ষিত জনগোষ্ঠি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। জোরজারি বা লাঠিপেটা দিয়ে যে হবে না সেটা গত কয়েক যুগের ক্রমাগত ব্যর্থ আন্দোলনের চিত্র দেখলেই বোঝা যায়। ইসলামের কোর ভ্যালু সম্পর্কে অজ্ঞ জনগণ যাদের নিজের জীবনেই ইসলামের তেমন কোন খবর বা গুরুত্ব নেই তারা আদৌ 'ইসলামী রাষ্ট্র' চায় কি না তার পরোয়া না করেই 'ইসলামী রাজনীতি'র প্রবক্তাগণ বিপুল উদ্যমে চালিয়ে গেছেন, এখনো চালিয়ে গেলেও অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং এটাই স্বাভাবিক। 'ইসলামী রাজনীতি' প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আপোষকামিতা-চাটুকারিতার ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে ইসলামেরই বহু জিনিস বিসর্জন দিয়ে, ইসলামের মূল্যবোধের অনেক বিপরীত কাজ করে, বহু 'জোট' গঠন করেও শেষ পর্যন্ত যে লাউ সেই কদুই থেকে যাওয়ার কারণেই এই হতাশা। বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগ-বিএনপির পুরনো চক্রেই রয়ে গেছে এবং 'ইসলামী রাজনীতিবিদ' দের কথা এখনো সেভাবে ভাবতে পারছে না _ এটাই বাস্তবতা।

    কোন বৃহৎ অঞ্চলে 'শিক্ষার আলো' ছড়াতে হলে সেজন্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে, কতগুলো বিদ্যালয়-শিক্ষক-কলম-পেন্সিল-বইখাতা-শিক্ষক ইত্যাদি ছাড়াও বিপুল খরচ তথা অর্থ সংকুলানের ব্যবস্থাও ভাবতে হবে, সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাঠকর্মী যাতে অভিভাবকরা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন হয়ে সন্তানদের গুরুত্বের সাথে বিদ্যালয়ে পাঠানোর পাশাপাশি নিজেরাও শিক্ষা গ্রহণের 'বয়ষ্ক শিক্ষা' কর্মসূচীতেও অংশগ্রহণ করতে উদ্যোগী হয়। এভাবে ১০/২০ বছর পর বহুলোকের ব্যপক ত্যাগতিতিক্ষা ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটা ফলাফল দেখতে পাওয়ার আশা করা যায়। এটাই 'গঠনমূলক' ও 'বাস্তবসম্মত'।

    'ইসলামী রাষ্ট্র' গঠন করার প্রাথমিক দীর্ঘমেয়াদী কাজ হল 'ঈমান' ও ইসলামের কোর ভ্যালুর সচেতনতা এবং 'বাস্তব চর্চা' সাধারণভাবে  মুসলিম জনগণের মাঝে ব্যপক করে তোলা, যাতে তারা 'নাম কা ওয়াস্তে' মুসলিম থেকে 'ঈমানী যোগ্যতাসম্পন্ন' মুসলিম হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে। এখন এই বিরাট দীর্ঘমেয়াদী-বিপুল ব্যয়সাপেক্ষ-সময়সাধ্য ব্যাপারে অনুধাবনযোগ্যতাহীনতা ও প্রচলন না থাকার কারণে রাষ্ট্র বা অন্য কেউ ব্যয় নির্বাহে উৎসাহী না হওয়াই স্বাভাবিক। এজন্যে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কিছু মুসলিমদেরই এই কাজের দায়িত্ব নিতে হবে, কোরআনে বর্ণিত দাওয়াতের মেহনতের নিয়ম অনুযায়ী তারা দুনিয়ার মানুষের কাছে কোন 'বিনিময়' এর আশা করবে না, তাদের পাথেয় হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং ঈমান আমলের লাইনে 'আত্মোন্নতি'। এ কাজ যারা করবে তাদের আত্মোন্নতি তথা কোরআন-সুন্নাহর ওপর উত্তোরোত্তর অভ্যাসগত উন্নতিকল্পে মনোযোগী হওয়া আবশ্যক, তা না হলে আল্লার সাহায্য আল্লাহর শর্ত অনুযায়ী পূরণ হবে না ফলে আল্লাহর সাহায্যও পাওয়া যাবে না।

    যখন যথাবিহীত কোরআনী ফর্মূলায় সঠিকভাবে মেহনত হবে তখন স্বভাবতঃই আল্লাহর সাহায্যও আসা শুরু হবে এবং দলে দলে লোক ইসলামের মাঝে কার্যকর-বাস্তবানুগভাবে প্রবেশ করতে শুরু করবে, তারাও এই ঈমানী সচেতনতার বিষয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করবে। এভাবেই একসময় বড় ধরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে, একদিন সময়ের দাবিতেই 'ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা' র নিদারুণ স্বাভাবিক প্রয়োজন অনুভূত হবে , প্রয়োজন অনুসারে, বান্দাদের বৈশিষ্ট্য-যোগ্যতায় আল্লাহতা'লার শর্তসমূহের প্রতিফলন ঘটলে সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহতা'লাও সেটা মেহেরবানি হিসেবে দান করবেন।

    'গঠনমূলক' পদ্ধতিতে 'দীর্ঘমেয়াদী' 'ত্যাগতিতীক্ষাসম্পন্ন' 'স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক' বিপুলসংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন এই মূহুর্তে। আল্লাহ যে মুসলমানদের খেলাফত দেবেন সেটা তো তিনি ওয়াদাই করে রেখেছেন _ শুধু শর্ত হল তাঁর ও তাঁর রাসূল(সাঃ) এর নিয়ম অনুযায়ী মেহনত হতে হবে।

    মুসলমান অধ্যূষিত দেশে অবশ্যই শান্তিপূর্ণভাবে 'গঠনমূলক' পদ্ধতিতে ধৈর্যের সাথে ধীরে ধীরে ইসলামের আলোকে 'জনমানস' গঠনে ব্যপৃত হওয়াই বাস্তবসম্মত কার্যকর পন্থা। 'রাজনৈতিক ইসলাম' এ পর্যন্ত মুসলমানদের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ-হানাহানির মাধ্যমে বহু মুসলমানের হত্যার কারণ হয়েছে, মুসলমানদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বিভেদ-সন্দেহ-অবিশ্বাস। বিশ্বজুড়ে সাধারণভাবে বিধর্মীদের মাঝে 'ইসলাম' ও মুসলিম সম্পর্কে সৃষ্টি হয়েছে প্রবল বিরুপ ধারণা। গঠনমূলক পদ্ধতিতেও শান্তিপূর্ণভাবে দ্বীনের কাজ করা যায় অনেকে করেও চলেছেন, সেই পথে কার্যকরভাবে ইসলামের প্রসারও ঘটছে, ত্যাগতিতীক্ষার সাধনায় মানবিক আত্মোন্নতি অন্যদের মাঝেও ইতিবাচক প্রভাব রাখতে সমর্থ হওয়ায় মানুষ দলে দলে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট হয়ে ফিরেও আসছে।

    ‘দল’ ক্ষমতায় যাওয়া নয় বরং ইসলামের প্রচার-প্রসার-উন্নতিই একজন প্রকৃত আল্লাহভীরু মুসলমানের লক্ষ্য হওয়া উচিত। কাজেই মুসলমানদের নিজেদের মাঝে সংঘর্ষ-হানাহানি বৃদ্ধি পায় যে পথে সে পথ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে ধৈর্যের সাথে অগ্রসর হওয়াই মনে হয় বর্তমান অবস্থাদৃষ্টে শুভবুদ্ধিসঞ্জাত, শ্রেয়তর প্রতিভাত হচ্ছে।
     

  8. 23
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    সদালাপের অবস্থাতো দিনেদিনে খারাপ হয়ে যাচ্ছে। যার যা ইচ্ছা বলার একটা প্লাটফরম কি সদালাপ? 
     
    বাংলাদেশ মুসলিম দেশ, এই তথ্য কোথায় পাই আমরা।
    আমি যতটুকু জানি "মুসলিম" হতে হয় মানুষকে -- দেশ "মুসলিম" হয় কিভাবে?
     
    সদালাপের গুনগত মান বজায় রাখার জন্যে মন্তব্যকারীদের মন্তব্যের বিষয়েও কিছু নীতিমালা করা উচিত। 

    1. 23.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ঠিক বলেছেন জিয়াভাই। বাংলাদেশ বাংলাদেশীদের দেশ। তবে এই দেশে মুসলিম ধর্মের লোক সংখ্যাগরিষ্ঠ।

  9. 22
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আছে বলেই কবীর চৌধুরীর বয়ান মত এই দেশের সিংহভাগ মুসলমানরা দূর্গা পুজাকে সমগ্র বাঙালীর উৎসব বলে মনে করে না। আলীগের সেক্যুলার নীতি তথা ১৯৭২এর হুবহু সংবিধান বহাল থাকলে আরো অনেক মুসলমানের ইসলামী মূল্যবোধটাই নষ্ট হয়ে যেত। আলবেনিয়া এর নির্মম শিকার এবং আফগানিস্তানের নজিবুল্লাহও একই কাজ করতে চেয়েছিল। ৫ম ও ৮ম সংশোধনী মানেই বাংলাদেশকে শরীয়া রাষ্ট্র করতেই হবে এমন মানে না থাকলেও দেশের ৯০% জনগণের বেশীর ভাগই নিজেদের মুসলমান ভাবে। ইসলামিক আইনের রাষ্ট্র করবে না বলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও ইসলাম রাষ্ট্র ধর্ম রাখা যাবে না এটা চরম হাস্যকর। আলীগে বিশেষ করে তাজউদ্দিন গং কট্টরপন্থী ধর্মনিরপেক্ষ ছিল যারা ১৭ই ডিসেম্বর ১৯৭১ হতে সালাম, খোদা হাফেজের পরিবর্তে শুভ সকাল, শুভ অপরাহ্ন, শুভ সন্ধ্যা, শুভ রাত্রি এবং আপনার কল্যাণ হৌক এগুলো চালু করেছিল। [Please provide reference- Admin, Shodalap]. তাজউদ্দিন ও ভারতের প্রভাবে এমন ধারণা হয়েছিল যে আমরা পাকিস্তান হতে স্বাধীন হয়েছি মানেই ইসলামী মূল্যবোধ হতেও আলাদা হয়ে গেছি;
    http://shodalap.com/oldsite/rAGC_3rd_NOV.pdf
    বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম দিয়ে যদি এই দেশের ৯০% জনগণ চলতে পারে সেটা সেক্যুলারিজম, পৌত্তলিকতা ও কুফরী হতে বহু ভাল। অন্তত নিজেদের মুসলমান দাবী করতে পারবে। এটাইবা কম কিসে?

    1. 22.1
      মোঃ মোস্তফা কামাল

      এডমিন, আপনি কি এটা দেখেন নাই!
      http://shodalap.com/oldsite/rAGC_3rd_NOV.pdf
       
      laugh

  10. 21
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    শাহবাগীরা তারা সেক্যুলার বাংলাদেশ চায়;
    http://freethoughtblogs.com/taslima/2013/03/03/secular-uprising-in-bangladesh/
    http://www.mediafire.com/view/?oicgsor6ci04062
    এখানে ধর্মীয় রাজনীতি বন্ধের কথা বলা হয়েছে।
    সেক্টর কমান্ডার্সের নামে এরা হইল আলীগের উইং। কেন এদের অগণাত্রিক কায়দায় বিসমিল্লাহ ও ইসলাম রাষ্ট্র ধর্ম বাতিলের দাবীর জন্য সমালোচনা করা যাবে না?  আশরাফ, নাহিদ, শফিক, দিপু মণি এই সকল মন্ত্রীরা এখন বলে বাংলাদেশ মুসলিম নয় ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। তাদের সাথে শফিউল্লাহর অনেক মিল আছে। শফিউল্লাহ, জেনারেল (অব) হারুনদের অনৈতিকতার জন্যই তাদের কঠোর সমালোচনা এবং এটা মোটেও সকল মুক্তিযোদ্ধা বা এর নেতাদের সমালোচনা নয়। শফিউল্লাহ মুজিব হত্যাকান্ড ঠেকাতে ব্যার্থ হওয়ার জন্য আদালত কর্তৃক ভৎসনার শিকার এবং হারুন ডেষ্টিনির কেলেংকারীর সাথে সরাসরি জড়িত ও র্দূনীতিবাজ।
    আশা করি এডমিন আমার অবস্থান বুঝবেন।
     

  11. 20
    আহমেদ শরীফ

    উপমহাদেশে দুইটি জিনিস এখনো মহাসমারোহেই বর্তমান, তা হল ইসলাম ব্যক্তিগত পর্যায়ে সেভাবে মানতে না পারলেও মুসলিম জনগণের ইসলাম সম্পর্কে সুগভীর 'আবেগ' আর অর্থহীন কিছু আনুষ্ঠানিকতার প্রদর্শনী যাকে 'ভড়ং' বলে অভিহিত করা যায়। মুসলিমদের আবেগকে পুঁজি করে উপমহাদেশে ইসলামী রাজনীতির নামে ধর্মব্যবসা;, ভন্ড পীর, মাজারব্যবসার রমরমা চলছে, ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে মুসলিমদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে কিছু লোক করে খাচ্ছে। আবেগকে উস্কে দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হয় 'ভড়ং'।

    যেখানে মুসলমান হয়েও বেশিরভাগ লোক ফরয নামাযই আদায় করে না, ইসলামের অধিকাংশ হুকুম থেকে গাফেল হয়ে বিজাতীয় দ্বীনের অনুসরণকেই স্বাভাবিক মনে করছে, অসংখ্য এমন বিষয় জীবনযাপনে তাদের নিত্যদিনের অঙ্গ যা ইসলামে নিষিদ্ধ _ সেই দেশে মানবরচিত একটি সংবিধান যা কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তি ব্যতীত প্রস্তুতকৃত, সেখানে নাম কা ওয়াস্তে 'বিসমিল্লাহ' রেখে দিলেই কি দেশে ইসলামের পুনর্জাগরণ শুরু হবে ? সেক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে যখন সংবিধানে 'বিসমিল্লাহ' ছিল তখন কি দেশ পুরোপুরি ইসলামিক ছিল ? মানবরচিত সংবিধান তাও যখন যে দল সরকারে আসবে ইচ্ছামত সংশোধন করবে ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাট-জুলুম-নির্যাতনের একেক নজির সৃষ্টি করবে _ তবুও সংবিধানটিতে একটি 'বিসমিল্লাহ' থাকতেই হবে।

    এগুলোই হচ্ছে 'ভড়ং'। পাকিস্তানে খুব চালু এই 'ভড়ং' গুলো। সংবাদপাঠিকা মেকআপ করে ঠোঁটে লিপস্টিক মেজে আবেদনময়ী সেজে ক্যামেরার সামনে মাথায় যাহোক একটা ঘোমটা কোনরকম দিয়ে বলে 'বিসমিল্লাহ'। 'বিসমিল্লাহ' ভাল কিন্তু সারাদেশের সামনে একজন সাবালিকা মুসলমান মহিলার বেপর্দা হওয়াটা কি মারাত্মক গুণাহ নয় ? সেখানে গায়ক বাদ্যযন্ত্রী স্টেজে উঠে প্রোগ্রাম শুরু করার সময় বলে 'বিসমিল্লাহ'। 'বিসমিল্লাহ' ভাল কিন্তু আল্লাহ কর্তৃক কি গানবাদ্য হারাম করা হয় নি ? আল্লাহর হুকুম প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করার মতো আকাম করার আগে আবার ভন্ডামি করে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা কতো বড় ঔদ্ধত্য চিন্তা করা যায় ? এটা কি আল্লাহর সাথে উপহাস করার নামান্তর নয় ?

    তো এইসবই হল 'ভড়ং'। এই দেশেও সংক্রমণ ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে। ইসলাম আমরা মানি না কিন্তু আমাদেরকে 'ইসলামিক' দেখাতে হবে, জায়গায় জায়গায় কিছু আবেগ এর প্রকাশ ঘটাতে পারলেই 'ইসলাম' এর দায় উদ্ধার হবে। এসব বাজে ক্যাপসুল দিয়ে শয়তান আসলে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে, এসব করে নিজের নফসকে প্রতারিত করতে পারলেও আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার আশা করা কঠিন। কারণ আল্লাহ চান মুসলমানরা সম্পূর্ণভাবে দ্বীনের মাঝে প্রবেশ করুক। আল্লাহর সাথে ধোঁকাবাজি করা যায় না।

  12. 19
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    বিএনপি তো আওয়ামীলীগ থেকেই রাজনৈতিক শিক্ষা লাভ করে থাকে। 

     
    -মুনিম ভাই এর এই বাক্যখানা বাঁধাই করে রাখলাম। আশা করি উনি উনার এই কথা থেকে সরে যাবেন না। 

  13. 18
    মহিউদ্দিন

    @ মুনিম ভাই,
    ধন্যবাদ আপনার কমেন্টের জন্য।

    ৭১ সালে এই ভূখন্ডে অবস্থানরত বাঙ্গালী অবাঙ্গালী হিন্দু মুসলিম এবং অন্যান্য ধর্মীয় এবং জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মানবতা বিরুধী অন্যায় অপরাধ সংগঠিত হয়েছিল। সকল পক্ষে কম বেশি অপরাধ সংঘটন হয়েছিল। কাজেই ন্যায় প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এই বিষয়ে এমন ভাবে তদন্ত করতে হবে যাতে করে ঐ সময়ের সকল দলের মধ্যে যারা ঐ সব অপরাধ করেছিলেন তাঁদের সঠিক ভাবে শনাক্ত করে তারপর তাঁদের বিচারে সোপর্দ করেন। আর যদি তা না করে শুধু সেই সময়ের সহযোগীএকটি মাত্র দল বা গুটি কয়েক ব্যক্তিকে বিচারের আয়োজন করে হয়তো কিছু ভোট প্রাপ্তি ঘটলেও বিচার সম্পূর্ন হবেনা।

    ভাই,মিলিয়ন ডলারের একটি কথা! কিন্তু একাত্তরের ব্যবসায়ী সেই ধান্ধাবাজদের কে শুনবে এসব কথা?

    @ শাহবাজ ভাই,

    যে যুদ্ধ অপরাধীদের দেশের মন্ত্রী বানিয়েছে সে কেন তাদের বিচার করবে? কেন করবে? আগে কেন করেনি? আর বলেছেন জামাত যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার করতে চায়???? কিভাবে সম্ভব একটু বোঝান তো?জামাত যে যে যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার করতে চায় তাতে কি গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদের নাম আছে?&

    যাইহোক মহি ভাই, এই প্রশ্নটা এড়িয়ে গেলেন যে?

    আমি এড়িয়ে যাই নাই। শুধু ভাবছিলাম এই প্রশ্নগুলো বড় মাপের অজ্ঞতাপূর্ণ, তাই উত্তর দিব কি না।
    এবার শুনেন,
    কারো উপর কোন কেস আদালতে না থাকলে সে যোদ্ধাপরাধী তো নয়ই, বরং কোনো অপরাধীই নয়, এইসব কথার পার্থক্য আপনার জানা নেই বলেই আপনি arrogance দেখাতে পারছেন। আর জানিনা কাকে খুশী করতে তর্ক করেই যাচ্ছেন।
    আপনার অবস্থান হচ্ছে

    বাংলাদেশের ইসলামী দল কোরান হাদিসের উপর নেই এবং সেক্যুলার জগতেও কেউ সঠিক পথে নেই, সবাই গেম খেলছে! কিন্তু আপনি একাই এক উম্মত। একাই আপনার ;দল হচ্ছে কোরান ও সুন্নাহ।; পথ হচ্ছে রাসুল (স.) এর দেখানো পথ।

    বাংলার আলেম-মাশায়েখরা ব্যর্থই পড়াশুনা করলো! এই ধরণের কথা মূলত পথভ্রষ্টতার সাক্ষাৎ উদাহরণ, না সঠিক পথের উত্তম উদাহরণ সেই সব বিষয় নিয়ে আপনার সাথে আলোচনায় না যাওটাই ভাল।
    উল্লেখ্য যে আপনি যাদের কথা বলেছেন তাদের নাম তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বা কারো লিষ্টে ছিল না, ( যখন যুদ্ধের ঘটনা, রাজাকারদের উপর আক্রুশ তরতাজা ছিল, স্বাক্ষী, বাদীরা এগিয়ে আসারও ভয় ছিলনা)।
    কিন্ত বিগত কয়েক বছর পরে এদেরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘাদানিক দিয়ে বানোয়াট উপায়ে তৈরি করা হয়েছে। এপর্যন্ত পড়ে না থাকলে ঘাদানিকের ব্যাপারে মোস্তফা কামাল ভায়ের ৪নং মন্তব্যটি দেখে নেবেন।

    এই সাথে ইউটিউভের নিচের এই ভিডিওটি দেখেন।
    তবে অপনার সাথে কি কথা বলব? আপনি শুরুতেই স্বীকার করেছেন আমার লিখাটা পুরা পড়েন নাই ও পড়তে চান নাই। তাই মনে হয়না আপনি সত্য কি তা জানার ইচ্ছা রাখেন। সভাবতই অপনার মনের মানুষদের কথা ছাড়া আর কারো কথা শুনার ইচ্ছা নাই তা বুঝতে Phd ডক্টরেট হতে হবে না।

    দেখে নিতে পারেন যেখানে শাহরিয়ার ও জাহানারা ইমামের কথা এসেছে, (যদিও দায়ে পড়ে অনেকেই তথ্য অস্বীকারের প্রবণতা দেখান)। এর সাথে জাহানারা ইমামের ছেলেদের কাণ্ড সম্পর্কে শর্মিলা বসুর এই কথাটি বিবেচনা করতে পারেন, On March 16 [1971] Jahanara Imam found explosives and bomb-making equipment in her son’s room. (অনুবাদ: মার্চ মাসের ১৬ [১৯৭১] তারিখে জাহানারা ইমাম তার ছেলেদের কামরায় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি এবং বোমা তৈরির যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম পান। (Bose, S. Dead Reckoning.p.26 ) আজ কে কাকে সন্ত্রাসী বলছে সেটাও চিন্তনীয়।

    ঠিক আছে উপরের কিছুই যদি আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য না হয় তাহলে আপনার সুচিন্তার সাথে আমারও মনে একটি প্রশ্ন জাগে আপনার কথিত ” নিকৃষ্ট” লেকদের ব্যপারে। তা হচ্ছে এরা যদি সত্যিই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকে বিশেষভাবে তাদের শত্রুরা যেভাবে তাদেরকে চিত্রায়িত করছে (এবং আপনিও বিশ্বাস করেন বলে লিনচিং বিচারের পক্ষে সমর্থন করে যাচ্ছেন) সে অবস্থায় এরা রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার মত ভুল করল কীভাবে? আবার সে রাজনীতি ইসলামী রাজনীতি এবং তার মুকাবিলা করতে হয় পেশী শক্তির সাথে, তাগুতের সাথে, সন্ত্রাসীর সাথে? যেখানে মিডিয়াও থাকে তার বিপক্ষে? প্রপাগান্ডা জগতে একটা কথা আছে “পারসিপশন ইজ রিয়েলিটি” তাই কারো মনে একবার মিথ্যা ধারণা যদি বদ্ধমুল করে দেয়া যায় তখন সে ধারণাই বাস্তবে পরিণত হয়ে যায়। এ রকম এক বৈরী পরিবেশের শিকারে আপনার কথিত ” নিকৃষ্টরাই” যে পড়ে যায় নাই বা আপনিও যে বিভ্রান্ত হন নাই তার কোন প্রমান থাকলে জানাবেন।
    আগে একজনকে বলেছি আপনাকেও বলছি নিচের Georgetown Journal of International Affairs লিংকটাও একবার দেখে আসেন :

    [youtube <a href=" rel="nofollow">; ]

  14. 17
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    মহিউদ্দিন ভাই, এখানে একদল লোকের কথা হল যে আলীগের সেক্যুলারের নামে পৌত্তলিকতা, কুফরী তথা মোনাফেকীকে জায়েজ করা। প্রয়াত কবীর চৌধুরী সহ আওয়ামী ঘরাণার বুদ্ধিজীবিরা বলে দূর্গা পুজা সহ হিন্দুদের বিভিন্ন উৎসব হল বাঙালীর উৎসব। তাদের ভাষায় যেহেতু আমরা সেক্যুলার তাই এই সব পৌত্তলিক উৎসবে যোগ দিতে মুসলমানদের বাধা নেই। এই কবীর চৌধুরীকেই হাসিনা বিগত ১৯৯৬-২০০১এ জাতীয় অধ্যাপক করেছিল। বেছে বেছে নাস্তিক ও মোনাফেকদের মন্ত্রী, উপদেষ্টা করে এই দেশের সংবিধান ও মানুষের মন থেকে ইসলামী মূল্যবোধ ধ্বংস করে দিতে চায়। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও তাকে সংবিধান সংশোধনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুরঞ্জিত বলে "সংবিধানে আল্লাহর নাম থাকবে না থাকবে তা ভেবে দেখব"! আজকে শাহবাগীদের উদ্দেশ্য স্রেফ ৭১এর যুদ্ধাপরাধের বিচার বা জামাত নিষিদ্ধ নয় বরং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল সমূহ নিষিদ্ধ করা।
    (এই বিষয়টি তথ্য সমৃদ্ধ নয়

    ) এই বিষয়ে আওয়ামীপন্থী সেক্টর কমান্ডার্সদের দাবী হল সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ ও ইসলাম রাষ্ট্র ধর্ম বাতিল করা। এই বিষয়ে জেনারেল (অব) শফিউল্লাহর বক্তব্য;
    http://www.facebook.com/photo.php?v=142359332607789&set=vb.424395517649139&type=2&theater
    তো হেফাজতে ইসলামে যারা আছেন তাদের উদ্দেশ্য ৭১এর যুদ্ধাপরাধের বিচারে বাধা দেওয়া নয়। আজকে শাহবাগ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের মোনাফেকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন
    (বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে সতর্ক হয়ে মন্তব্য করার জন্যে অনুরোধ করা হলো)

    । যাতে "সর্বমক্তিমান আল্লাহর উপর আস্থা" কথাটি ফেরত আসা সহ বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম সহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল গুলো টিকে থাকে। এটাই যেন এই সকল সচেতন আলেম-ওলামাগণ ঐক্যবদ্ধ হতে না পারেন তার জন্য অপ্রাসঙ্গিক বিষয় এনে আপনার পোষ্টের মোর ঘুরাতে চায়।

  15. 16
    মহিউদ্দিন

    চারমুনাইয়ের পীরের বক্তব্যে প্রধান প্রধান কথার মধ্যে এও রয়েছে যে
    দেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে,
    শাহবাগী নাস্তিকদের ধরে ধরে শাস্তি দিতে হবে,
    আলেম ওলামের উপর আইনী হামলা-হামলা বন্ধ করতে হবে,
    সংবিধানে বিসমিল্লাহর সংযোগ রাখতে হবে,
    নারী-নীতি উৎখাত করতে হবে,
    কেয়ার টেকার সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দিতে হবে।
    তিনি পদ্মা-সেতু ক্যালেঙ্কারি, স্টোক-এক্সচ্যাঞ্জ ক্যালেঙ্কারি, শিক্ষায় অনৈতিকতা,পাঠ্যপুস্তক অনৈসলামী পাঠ সংযোগ, দূর্নীতি,যৌনতার প্রচার ইত্যাদি তার কথায় শাহবাগী নাস্তিক ও মোনাফেকরা তওবা করে তার দলে সংযুক্ত হয়ে ইসলামী সংবিধান কায়েম করতে তাকে তাকে সাহায্য করতে পারেন।
    তার বক্তৃতা এখানে দেখতে পারেন। তার কথায় জামাতিদের ব্যাপারে কি বলেছেন, বা কী বলেন নাই তা এখানে নিজেরাই শুনে নিন, মতলববাজেরা কতকিছু যে ‘সংযোগ’করে তা এই বক্তৃতা শুনলেই বুঝা যাবে।
     

  16. 15
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    মুসলিম বনাম কাফেরের যুদ্ধে এরা কোন দিকে?
     
    ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, ভ্রান্ত ধারণায় বিশ্বাসী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে থাকা আর অন্যায়ের সঙ্গে থাকা একই কথা।

     
    যখনই জামাত বিপদে পড়ে তখনই এরা পাইকারী হারে কাফের ফতোয়া দিয়ে নিজেদের লুকানোর চেষ্টা করে। এই পক্ষকে ছবিরে এই পক্ষকে বিবেচনায় আনলে হয় তিন পক্ষ। এখন মুসলিম বনাম কাফেরদের যুদ্ধে জামাত কোথায় আর এরা কোথায়?
     
     

    1. 15.1
      মহিউদ্দিন

      এখন মুসলিম বনাম কাফেরদের যুদ্ধে জামাত কোথায় আর এরা কোথায়?”
      যদি প্রশ্ন করতে হয় তবে এভাবে করলেই ভাল হয়, ‘এখন মুসলিম বনাম কাফের ও মুনাফিকদের যুদ্ধে, জামাত এবং এরা কোথায়? এ সমাবেশ কীভাবে সম্ভব হয়েছে এর উত্তর নিচে দেখুনঃ
      এবং এই দল যদি আপনার মনপুত: এবং পক্ষের মনে হয় তাহল জলদি তাদের সাথে সংযুক্ত হবার কথা বিবেচনা করতে পারেন। ‘ভাই চারমুনাইয়ের পীরের পাঁচ দফা সম্পর্কে কিছুই বললেন না। সেই পাঁচ দফাগুলো কি?”
      আজ  কেন জানিনা আমার কানে  সেই গানের কথাগুলা এসে লাগছে “আমিত আমার গল্প বলেছি তুমি কেন কাদলে? আমি তো …)  ভাল থাকুন।
       
       লিংক>  ২৯ মার্চ ঢাকার মহাসমাবেশে যোগ দিন : পীর সাহেব চরমোনাই ***

      1. 15.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        এবং এই দল যদি আপনার মনপুত: এবং পক্ষের মনে হয় তাহল জলদি তাদের সাথে সংযুক্ত হবার কথা বিবেচনা করতে পারেন। 

        -- প্রশ্নটা ্আপনি এড়িয়ে গেলেন। প্রশ্ন ছিলো আপনার থিসিস অনুসারে দেশ দুইভাগে বিভক্ত -- একদল দেশপ্রমিক জাতীয়তাবাদি অন্যদল ইসলাম বিরোধী। কিন্তু ছবিতে দেখছি একদল নামাজ পড়ছে আবার বলছে জামাত খারাপ। এরা কোন দলেন। 
         

         কাপুরূষ ও বিভ্রান্ত মুসলিম --  

        এরা কারা? এদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই। 

    2. 15.2
      আহমেদ শরীফ

       
      মহাসমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনূস আহমাদ বলেন, ‘আমাদের নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা-সন্দেহ আছে। কিন্তু আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। ইসলাম যা অপছন্দ করে, আমরাও তা অপছন্দ করি। আজ ১৪ দলের সঙ্গে গেলে আমাদের নাস্তিকদের সঙ্গে সুর মেলাতে হতো। ১৮ দলে গেলে হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও, দুর্নীতির শরিক হতে হতো। নারী নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হতো।’

      দলের জ্যেষ্ঠ নেতা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি বলেন, ‘কয় দিন আগে স্মারকলিপি দিতে গেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার আমাদের বলেছেন, কিছু নাস্তিক মন্ত্রী নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরেও অস্বস্তি আছে। আমরা তাঁদের অপসারণ চাই।’

      চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম শাহবাগ আন্দোলনের কড়া সমালোচনা করে কথিত নাস্তিক ব্লগারদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্লগে কটূক্তিকারীদের ধরার জন্য প্রচারের প্রয়োজন হয়নি। এখন নাস্তিকদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এত প্রচারের নাটক কেন?’

      তিনি বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের ভাইয়েরা আমাদের ওপর অখুশি কেন? আপনারা মওদুদীর মতবাদ পরিহার করে আসুন, তাহলে আমরা সমর্থন দেব।’

      সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বলেন, ;জামায়াতে ইসলামী কেবল ইসলাম ও মানবতার জন্য অশনিসংকেতই নয়, দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বড় বাধা। জামায়াত “ইসলাম” করে করে কেয়ামত হয়ে যাবে, ইসলাম কখনো বিজয় হবে না।

       
       
       

      লিংক

  17. 14
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    নিবিড়  পর্যবেক্ষনে এখানে কে কাফের আর কে মুসলিম খুঁজে পেলাম না -- একটু সাহায্য করুন। 
     
    https://www.facebook.com/photo.php?v=4612713722555

  18. 13
    মহিউদ্দিন

    @ শাহবাজ নজরুল

    “তার মানে মুনাফিক নাস্তিকদের বিপক্ষে এখন যারা লড়ছে তারা কেউ includingজামাত কেউ মনে হয় কোরান হাদিসের নাম শুনেনি।”

    এই কথাটি পর আপনি লিখেছেন, “তার মানে কি এই দাঁড়ালো যে যুদ্ধ অপরাধীর বিচার চাওয়া মানেই হয় নাস্তিক নয় মুনাফেক?”
    এমন প্রশ্ন আপনার কাছ থেকে প্রকাশ পেল দেখে হতাশ হয়েছি। ওই কথার সাথে বিচার চাওয়া না চাওয়ার কোন সম্পর্কই নেই। আমরা দেখছি জামাত বিএনপিরাও তো বিচারের বিপক্ষে নয়, শুধু ক্যাঙ্গারু-বিচারের বিপক্ষে।
    আর অপনার দুস্তদের কথা হল

    ক্যাঙ্গারু কোর্ট আবার কি? আমাদেরকে বিচার শিখাবে না। আমাদের বিচার হচ্ছে তাল গাছটা আমার এবং এটাই বিচার। কে কি বলবে আমাদের যায় আসে না।

    আর এদেরকেই আপনি সমর্থন দিতে দৌড়ে আসেন। একজন মুসলিমের এই অবস্থান হলে তার ঠিকানা যে "আসফালা সাফেলিন" তা বুঝার ক্ষমতা আল্লাহ আপনাকে দিন সে দোয়া করছি।

    “অন্যদের কথা আপাতত থাক — তবে জামাত যে কেবল কোরান হাদিসের নামই শুনেছে তা একেবারে ঠিক বলেছেন। শোনার বাইরে তেমন কিছু আর করেছে বলে মনে হয়না-- কেবল কোরান হাদীস ব্যবহার করে ধর্ম ব্যবসা করা ছাড়া।” তারা কোরান হাদিস শোনার বাইরে কিছুই করছে না,

    তবে আপনি কি করছেন? আপনার কোনো দল নেই, আপনার কাছে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন দল বাংলাদেশে নেই [ যারা প্রকৃত কোরান সুন্নাহর উপর], … আর দু:খজনক  হলেও সত্যি -- পুরো সত্যির পক্ষে এখন প্রথাগত দলের কেউই নেই’তাই আপনি কারো সাথে নন!
    আপনার arrogance আকাশচুম্বি। সবাই ভুল কিন্তু জামাতিরা নিকৃষ্ট! এরকম মন্তব্য করা কতটুকু রুচীসম্মত আশাকরি আরেকবার চিন্তা করবেন।
    কোন জামাতি বা অপর আলেমদলের সাথে আপনার কথা-বার্তা হয়েছে?
    একটু কষ্ট করে তাদের ভুল বুঝিয়ে দিয়ে আপনি জাতিকে বাঁচান। আর যদি সেই ক্ষমতা, সাহস ও জ্ঞান না থাকে এমন ঢালাওভাবে কথা না বললেই শোভা পায়। অন্তত আমার পোষ্টে এ ধরনের বেফাশ কতাবার্তা না আসলে আমি খুশি হব।
    আপনার বিদ্বেষ নিয়ে আপনি থাকুন, আমাদের পারস্পারিক অবস্থান জানা হয়ে গেছে।
    সমস্ত প্রসংশা আল্লাহর, আলহাম্দুলিল্লাহ, শাহবাগের নাটক আ’লীগের তৈরী ট্রাইবুন্যলের বিচার বাংলাদেশের সমাজের যে ময়লা এতদিন দেখা যায় নাই তা দেশের মানুষের এমকি মুসলিম বিশ্বের কাছেও ভালভাবে দেখা দিয়েছে। আর এ ময়লাদিয়ে ওজু করে কিছু কাপুরূষ ও বিভ্রান্ত মুসলিম নামাজ পড়তে চায়। আল্লাহ আপনাকে ও  আমাদেরকে  এ ফিৎনা থেকে বাচান সে  দোয়া করি। ‍--আমীন।
      

    1. 13.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

       আর এ ময়লাদিয়ে ওজু করে কিছু কাপুরূষ ও বিভ্রান্ত মুসলিম নামাজ পড়তে চায়।

      এর মানে কি?- ্

      1. 13.1.1
        মহিউদ্দিন

        ওজুর ব্যপারে রূপক অর্থে যে কথাটি বলা হয়েছে সেটি না বুঝলেই চলবে।

    2. 13.2
      শাহবাজ নজরুল

      আমরা দেখছি জামাত বিএনপিরাও তো বিচারের বিপক্ষে নয়, শুধু ক্যাঙ্গারু-বিচারের বিপক্ষে।

      যে যুদ্ধ অপরাধীদের দেশের মন্ত্রী বানিয়েছে সে কেন তাদের বিচার করবে? কেন করবে? আগে কেন করেনি? আর বলেছেন জামাত যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার করতে চায়???? কিভাবে সম্ভব একটু বোঝান তো? জামাত যে যে যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার করতে চায় তাতে কি গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদের নাম আছে?

      তবে আপনি কি করছেন? আপনার কোনো দল নেই, আপনার কাছে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন দল বাংলাদেশে নেই [ যারা প্রকৃত কোরান সুন্নাহর উপর], … আর দু:খজনক হলেও সত্যি — পুরো সত্যির পক্ষে এখন প্রথাগত দলের কেউই নেই’তাই আপনি কারো সাথে নন!

      বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবাই ফাউল গেম খেলছে -- সবাই। এই খেলার খেলোয়াড়রা হচ্ছেন -- আওয়ামী লীগ, বি.এন.পি, জামাত, বামপন্থী, রামপন্থী, নাস্তিক্যবাদী, মুক্তমনা, মঞ্চ, পুলিশ, শিবির, ছাত্রলীগ -- সবাই। কেউই পুরোপুরি সত্যের উপর নেই। সবাই ধান্দায় আছে -- কেউ কম, কেউ বেশি। আমি সত্য আর মিথ্যার মেশালে থাকতে পারব না। তাই আমি বলেছি আমি প্রথাগত কোনো দলের সাথেই নেই।

      তবে আবার আমি প্রথমেই বলেছি -- আপনার সরলীকৃত সমাধানের বাইরে আছে বিশাল অপ্রথাগত তৃতীয় দল, যারা দেশকে কালো আর সাদা (১. কাফের/মোনাফেক কিংবা ২. ইসলামপ্রেমী জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক) অংশে বিভক্ত দেখতে চাননা। যেমন ধরেন হেফাযত ইসলাম স্পষ্ট ভাবেই বলেছে তারা জামাত কিংবা যুদ্ধ-অপরাধীদের বাচানোর জন্যে সংগ্রাম করছেন না -- তারা সরকারের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিচ্ছেন না -- তারা অবস্থান নিয়েছেন যেসব নাস্তিক ব্লগার নবী-রসুল কিংবা ইসলামের বিরুদ্ধে বিষেদগার করেছে তাদের বিরুদ্ধে। আমি তাদের এই স্পষ্ট অবস্থানকে সমর্থন করি।

      এর বাইরেও অনেক লক্ষ কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিম আছেন যারা জামাতের বিধ্বংসী যুদ্ধংদেহী অবস্থানের পক্ষে নেই, জামাতের যুদ্ধ অপরাধীদের তাল বাহানা করে বাচানোর পক্ষে নেই, আবার পুলিশ কতৃক পাখির মত নিরীহ মানুষ মারার পক্ষেও নেই, কিংবা প্রশ্নবিদ্ধ বিচার করে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার পক্ষেও নেই ( যেমন, সাইদির বিচার নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন আছে অনেক)। আমি সেই দলে আছি (আগে যেভাবে বললাম সেটা প্রথাগত কোনো রেজিস্টারড দল নয় ) যেদলে আছে নিরব সংখ্যাগরিষ্ট অসহায় জনগোষ্ঠী -- যারা এখনো দেশের কথা চিন্তা করতে পারছেন সুস্থ আর ঠান্ডা মস্তিষ্ক নিয়ে।

      1. 13.2.1
        নির্ভীক আস্তিক

        এর বাইরেও অনেক লক্ষ কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিম আছেন যারা জামাতের বিধ্বংসী যুদ্ধংদেহী অবস্থানের পক্ষে নেই, জামাতের যুদ্ধ অপরাধীদের তাল বাহানা করে বাচানোর পক্ষে নেই, আবার পুলিশ কতৃক পাখির মত নিরীহ মানুষ মারার পক্ষেও নেই, কিংবা প্রশ্নবিদ্ধ বিচার করে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার পক্ষেও নেই ( যেমন, সাইদির বিচার নিয়ে আমার মনে প্রশ্ন আছে অনেক)। আমি সেই দলে আছি (আগে যেভাবে বললাম সেটা প্রথাগত কোনো রেজিস্টারড দল নয় ) যেদলে আছে নিরব সংখ্যাগরিষ্ট অসহায় জনগোষ্ঠী — যারা এখনো দেশের কথা চিন্তা করতে পারছেন সুস্থ আর ঠান্ডা মস্তিষ্ক নিয়ে।

        এই কথাটিতো আমিও বলতে চাইলাম। কিন্তু আমাকে এবং অন্যদেরকে দেয়া লেখকের কয়েকটি প্রতি-মন্তব্য দেখে মনে হল লেখক কেন যেন আমাদেরকে চেপেচুপে দুই পক্ষের কথাই গিলিয়ে ছারবে। মহা মুশকিল।

      2. 13.2.2
        মহিউদ্দিন

        ভাই আপনি আগে বলেছেন আপনি কারো সাথে নন। আপনার কোনো দল নেই। তবে আপনার “দল হচ্ছে কোরান ও সুন্নাহ। … পথ হচ্ছে রাসুল (স.) এর দেখানো পথ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন দল বাংলাদেশে নেই।” আপনার দৃষ্টিতে “পুরো সত্যির পক্ষে এখন প্রথাগত দলের কেউই নেই, তবে যে সমস্ত ইসলামী ধারার দল আছে তার মধ্যে জামাত হচ্ছে নিকৃষ্টতম … ।”
        আপনার ব্যাপারে কি বলবো, শুধু এতটুকুই যে আপনি এমন একজন বিরাট ব্যক্তিত্ব যার কোন হিসেব করার যোগ্যতা আমার নেই।
        এবারে বলছেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবাই ফাউল গেম খেলছে — সবাই। এই খেলার খেলোয়াড়রা হচ্ছেন — আওয়ামী লীগ, বি.এন.পি, জামাত, বামপন্থী, রামপন্থী,নাস্তিক্যবাদী, মুক্তমনা, মঞ্চ, পুলিশ, শিবির, ছাত্রলীগ -- সবাই। কেউই পুরোপুরি সত্যের উপর নেই। সবাই ধান্দায় আছে — কেউ কম, কেউ বেশি। আমি সত্য আর মিথ্যার মেশালে থাকতে পারব না। তাই আমি বলেছি আমি প্রথাগত কোনো দলের সাথেই নেই।”
         
        ধর্ম-জগতে ধর্মীয় কোন দল কোরান সুন্নাতে নেই এবং সেক্যুলার জগতেও কেউ সঠিক পথে নেই, সবাই গেম খেলছে!
         
        আপনি এক দারুণ ব্যক্তিক্ত্ব! আপনি আপনার দৃষ্টিকোণ নিয়ে থাকুন। অনেক ধন্যবাদ।

        1. 13.2.2.1
          শাহবাজ নজরুল

          আমি আমার অবস্থান যথা সম্ভব ক্লিয়ার করেছি -- এর পরেও না বুঝলে আমার ব্যার্থতা।

        2. 13.2.2.2
          শাহবাজ নজরুল

          যাইহোক মহি ভাই, এই প্রশ্নটা এড়িয়ে গেলেন যে?
           

          যে যুদ্ধ অপরাধীদের দেশের মন্ত্রী বানিয়েছে সে কেন তাদের বিচার করবে? কেন করবে? আগে কেন করেনি? আর বলেছেন জামাত যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার করতে চায়???? কিভাবে সম্ভব একটু বোঝান তো? জামাত যে যে যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার করতে চায় তাতে কি গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদের নাম আছে?

           
           

        3. মুনিম সিদ্দিকী

          শাহবাজ ভাই এই প্রশ্নের উত্তর মহি ভাইকে করেছেন তিনি তা দিবেন এই আশাবাদ রাখছি তবে আমি আমার দৃষ্টিতে কিভাবে দেখছি তা নিচে উল্লেখ করছি।
          যে যুদ্ধ অপরাধীদের দেশের মন্ত্রী বানিয়েছে সে কেন তাদের বিচার করবে?
          কেন যারা তাঁদের সাথে মিলে কাধে কাধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছিলেন, ৯৬ এতাঁদের সমর্থনে সরকার গঠন করেছিলেন যার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ জামাতীদেরকে মহিলা আসন তোফা দিয়েছিলেন তাঁরা যদি এদের বিচার করতে পারেন তাহলে যারা তাঁদের উত্তরসূরীদের থেকে প্রাপ্ত ঐতিহ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মন্ত্রী বানালেও কেন বিচার করতে পারবেনা? বিএনপি তো আওয়ামীলীগ থেকেই রাজনৈতিক শিক্ষা লাভ করে থাকে।
           
          কেন করবে?
          করবে এর জন্য যে, যদি তাঁরা বুঝতে পারে যে জামাতের ভোটব্যাংকের ভোটের চেয়ে দেশে জামাতিদের বিচার চাওয়ার ভোটার বেশি তখন শুধু ভোট পাওয়ার স্বার্থে তাঁদের বিচার করতে বাধ্য হবে। যখন জনগণ যা খেলে ভোট দিবে রাজনৈতিক দলগুলোও জনগণকে তা খাইতে দিবে।
           আগে কেন করেনি?
          যে কারণে শেখ মুজিবের সরকার করেনি, যে কারণে ৯৬ এর হাসিনা সরকার করেনি!
          আর বলেছেন জামাত যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার করতে চায়???? কিভাবে সম্ভব একটু বোঝান তো? জামাত যে যে যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার করতে চায় তাতে কি গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদের নাম আছে?
          জামাত কি ভাবে বিচার করতে চায় তা আমি জানিনা। তবে আমার মত আম জনতা যে ভাবে বিচার হলে খুশী হত তা হচ্ছে-
          দলীয় সরকারে বাইরে আন্তর্জাতিক ভাবে বিচার হলে। কারণ এখন আমাদের দেশে আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া নির্বাচন নিরপেক্ষ ভাবে করতে পারিনা সেখানে ৪২ বছর আগে সংগঠিত হওয়া বিচার কেমন করে দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ হবে বলে বিশ্বাস করা যায়?
          ৭১ সালে এই ভূখন্ডে অবস্থানরত বাঙ্গালী অবাঙ্গালী হিন্দু মুসলিম এবং অন্যান্য ধর্মীয় এবং জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মানবতা বিরুধী অন্যায় অপরাধ সংগঠিত হয়েছিল। সকল পক্ষে কম বেশি অপরাধ সংঘটন হয়েছিল। কাজেই ন্যায় প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এই বিষয়ে এমন ভাবে তদন্ত করতে হবে যাতে করে ঐ সময়ের সকল দলের মধ্যে যারা ঐ সব অপরাধ করেছিলেন তাঁদের সঠিক ভাবে শনাক্ত করে তারপর তাঁদের বিচারে সোপর্দ করেন।
          আর যদি তা না করে শুধু সেই সময়ের সহযোগীএকটি মাত্র দল বা গুটি কয়েক ব্যক্তিকে বিচারের আয়োজন করে হয়তো কিছু ভোট প্রাপ্তি ঘটলেও বিচার সম্পূর্ন হবেনা।
           
           

  19. 12
    আহমেদ শরীফ

    না '৭১ এ বর্তমান ট্রাইবুনালের মুখোমুখি জামায়াতের নেতাগণ ইসলামের পক্ষে ছিল _ না বর্তমানে তারা ও তাদের সংগঠন ইসলামের পক্ষে আছে। তারা '৭১ এ ইসলামের নামটুকু ভাঙ্গিয়ে আদতে নিজের দেশে নিজ ক্বাওমের মুসলমান ভাইদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির শোষণ-জুলুমের সাহায্যকারী হিসেবে অত্যাচার লুটপাটের সঙ্গী ছিল _ বর্তমানে ইসলামের নামে নিজেদের দলীয় অস্তিত্ব রক্ষা ও নিজেদের কায়েমী স্বার্থ রক্ষার সংগ্রামেই নিয়োজিত আছে। না '৭১ এ তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে ছিল না বর্তমান সময়ে তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে আছে, আদতে তারা '৭১ এও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ছিল, এখনও মুসলমানদের বিরুদ্ধে আছে। '৭১ এও তারা বিপুল সংখ্যক মুসলিম উম্মাহকে হত্যা করেছে, '৭১ পরবর্তী ৪২ বছর ধরেও তারা অগুণতি মুসলমানকে হত্যা করেছে, করে চলেছে। তাদের এ্যাটিচুড দেখে মনে হবে তাদের সাধ্যে কুলোলে নিজেদের ছাড়া সমস্ত মুসলমানকে হত্যা করে হলেও তাদের নেতাদের রক্ষা ও তাদের 'নিজস্ব মতাদর্শ' বাস্তবায়নে সমস্ত চেষ্টা অব্যাহত রাখার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

    দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, ইসলামের মূল আদর্শের সাথে এই চেতনা একেবারেই যায় না।

    বর্তমানে সরকার পক্ষ ৩১ এ মার্চ আলেমওলামাদের সাথে বৈঠক করার পরপরই ব্লগ কর্তৃপক্ষের সাথে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু হেফাজতে ইসলাম, চরমোনাইসহ কওমি ওলামাদের সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে আলেমসমাজ আওয়াজ ওঠাননি বরং তাঁদের মূল অবস্থান ইসলাম ও মহানবী(সাঃ) সম্পর্কে ব্লগ-ফেসবুক প্রচারণা ও প্রচারণাকারীদের বিরুদ্ধে, সেগুলো অপসারণ করে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির বিধান দিলেই তাঁদের মূল দাবি পূরণ হবে _ সেহেতু একই সঙ্গে জামায়াত-শিবির প্লাস নাস্তিক ঘরানার বামপন্থিরা ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতায় চলে যাবে ফিল্ডের বাইরে, খরচের খাতায়, নির্বিঘ্নে _ এবং একা।

  20. 11
    আহমেদ শরীফ

    ককটেলে স্কুলছাত্রী আহতের মামলায় আসামি শিবির নেতা

    বন্দরনগরীর মোমিন রোডে ককটেল বিস্ফোরণে স্কুল ছাত্রী আহত হবার ঘটনায় ছাত্র শিবিরের সভাপতিসহ ৩৮ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।

    থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই উৎপল বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এতে ইসলামী ছাত্রশিবির নগর উত্তরের সভাপতি মশরুর হোসাইনসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এ মামলা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ১৮ দলীয় জোটের হরতালের দ্বিতীয় দিনে সকাল পৌনে আটটার দিকে নগরীর মোমিন রোডের হেম সেন লেইনের মুখে জামায়াত ইসলাম ও ছাত্র শিবিরের কর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

    এসময় মায়ের সাথে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার সময় আহত হন অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী অন্তু বড়ুয়া (১৪)। তার ডান চোখের পাশে আঘাত লাগে।

    1. 11.1
      আহমেদ শরীফ

      ফেনী শহরে কুড়িয়ে পাওয়া ককটেল বিস্ফোরণে এক কিশোরী আহত হয়েছে।
      আহত মোসাম্মত বিলকিসকে (১৩) চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
      প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে পুলিশ কোয়ার্টার এলাকায় বিলকিস কাগজ কুড়াতে গিয়ে একটি লাল টেপ মোড়ানো কৌটা দেখতে পায়। কৌটাটি হাতে নিয়ে টেপ খোলার এক পর্যায়ে সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
      বিস্ফোরণে বিলকিসের মুখ, ডান হাতের কবজি, দুই পায়ের পাতাসহ বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

  21. 10
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    লেখকের কথাই বলি --
     

     নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় দেশে চলছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফির ও মুনাফিকের যুদ্ধ। 

     
    -- ছবিটা দেখি -- 
     
     
     
     
     

     
    -- তাইলে এরাই হলো মহিউদ্দিন ভাই এর নিবির পর্যবেক্ষনে পাওয়া "কাফেরগন"।
    কি আর বলবো -- কথা কথায় মানুষকে কাফের বানানোর যে প্রক্রিয়া বাংলাদেশে চলছে তা কি নতুন?
     
     

    1. 10.1
      মহিউদ্দিন

      ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘ওই স্কুল এলাকায় আমাদের দলের বিলবোর্ড আওয়ামী লীগের লোকজন নষ্ট করেছে।’ তিনি দাবি করেন, ‘আজকের ঘটনার সঙ্গে বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত নয়। বিএনপির লোকজন হরতালের সমর্থনে পিকেটিং করলেও কেউ হামলা বা ভাঙচুর করেনি। তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর হামলা চালিয়ে আমাদের দোষারোপ করছে।’ সম্পাদনা : নাজমুল সাঈদ
      বটম লাইন: আএরা পারেনা এমন কোস জঘন্য বাকি নাই। এবার বলুন
      মন্দির কে ভেঙ্গেছে? এখানে দখুন
       

  22. 9
    ওয়াহিদুর রহমান

    মহিউদ্দীন সাহেব অনেক চিন্তা-ভাবনা করে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ মূলক ব্লগ লিখে থাকেন। এই লেখাটি  মহিউদ্দীন সাহেবের সুচিন্তিত চিন্তা ভাবনার একটি মূল্যবান ফসল। কিন্তু এর সাথে যে সকল মানুষ একমত হবেন এমনটা আশা করা ঠিক নয়। গ্রহন ও বর্জন করার মানষিকতাও সব মানুষের এক রকম নয়। তাই এক জন মানুষের সাথে অন্য আর একজনের মতামতের পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এই মতপার্থক্য কোন ভাবেই গালা-গালির পর্যায়ে যাওয়া উচিত নয়। এবং অপ্রাসঙ্গিক ভাবে সব কিছুর মধ্যে ইসলামকেও জুজু হিসাবে দেখানো ঠিক নয়। তারপরও দুর্ভাগ্য জনক ভাবে  বলতে হয় যে, ব্লগারদের মধ্যে যারা জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে ধর্মকে জড়াতে চান না, তারাই আবার যে ব্লগ গুলো তাদের মনপূত হয় না ঐ ব্লগ গুলোর সাথে ধর্মকে জড়িয়ে গালমন্দ করতে পছন্দ করেন। কিন্তু আমি এসবের কোনটাকেই সঠিক মনে করি না। তারপরও আমি অনুরোধ করবো কোন বিষয়ের উপর মন্তব্য করার আগে নিজকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, আপনি বিষয়টি সম্বন্ধে কতটুকু জানেন। সাঈদীকে নিয়ে লেখা আমার এক লেখার উপর মন্তব্য করে আমাকে দোযখে পাঠিয়ে দেওয়ার পর একজন সম্মানিত ব্লগার স্বীকার করে বললেন, আসলেই তিনি বিষয়টি নিয়ে বিশেষ লেখাপড়া করেননি। আচ্ছা বলুন তো, লেখা পড়া না করে মানুষ কোন বিষয়ের উপর মন্তব্য করে কি ভাবে? নাস্তিক ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনের মতো অনেক হিন্দু ব্লগার আছেন তাদের নাম দেখে বুঝার উপায় নেই যে আসলে কে হিন্দু আর কে মুসলিম। মুসলমান না হয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী ছাড়া কেহ কি ইসলাম নিয়ে কথা বলার অধিকার রাখে? কিস্তু ব্লগ বিভ্রান্তি নয় জ্ঞানার্জনের মাধ্যম হওয়া উচিত। আবার সেদিন একজন বললেন, তিনি ইসলাম বিশ্বাস করেন কিন্তু ধর্মের সাথে রাজনীতি জড়াতে চান না। ইসলাম অন্যান্য ধর্মের মতো মানুষের ব্যক্তিগত বিয়য় নয়। ইসলাম মানুষের পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থ। 
    ক. এখন যারা আসিফ মহিউদ্দীনের মতো মুসলিম নামধারি অমুসলিম ব্লগার নন কিস্তু ধর্মকে রাজনীতির সাথে জড়ানো ঠিক মনে করেন না, তাদেরকে আমার কয়েকটি জিজ্ঞাসা:
     
    ১.      আপনি কি মনে করেন ‘ইসলাম একটি সম্পূর্ণ জীবন বিধান?’
    ২.      আপনি কি মনে করেন ‘সম্পূর্ণ জীবন বিধান অর্থ সারা জীবনের সকল কাজের জন্য সকল বিধান?’
    ৩.     আপনি কি মনে করেন ‘বিধান মেনে কাজ করতে হয় এবং বিধান না মানলে বিধান অনুযায়ী বিচার করা হয়?’
    ৪.      ‘আপনি কি মনে করেন, রাজনীতিও মানুষের একটি কাজ?’
    ৫.      আপনি কি মনে করেন ‘রাজনীতি যদি মানুষের একটি কাজ হয়, তাহলে ইসলামে রাজনীতির জন্যও বিধান রয়েছে?’
    ৬.     আপনি কি মনে করেন ‘আল্লাহ্ মানুষের সকল কাজের বিচার করবেন?’
    ৭.     আপনি কি মনে করেন ‘রাজনীতি যদি মানুষের একটি কাজ হয়, তাহলে আল্লাহ্ রাজনৈতিক কাজেরও বিচার করবেন?’ অথবা আল্লাহ্ রাজনৈতিক কাজ বিচার থেকে বাদ দিবেন?
    ৮.     আপনি কি মনে করেন ‘রাজনীতি যদি আল্লাহ্র বিধান অনুযায়ী সম্পাদন না হয় তা’হলে তিনি এই অবৈধ কাজের জন্য শাস্তি দিবেন?
    ৯.      আপনি কি মনে করেন ‘ইবলিশের মতো পর্বত পরিমান সওয়াব থাকা সত্ত্বেও মাত্র একটা অপরাধের জন্য জাহান্নাম নির্ধারন হয়ে যেতে পারে?
    ইসলামে কোন রীতি সর্বস্ব ধর্ম নয়। মুসলমানদেরকে এবাদত করতে হয় আল্লাহ্র আইন মেনে চলার মাধ্যমে। বিসমিল্লাহ্ বলে কাজ শুরু করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ্র আইন মেনে কাজ করার অঙ্গীকার করে থাকি। ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ এর মাধ্যমে আমরা ঘোষনা করে থাকি যে, অন্য কোন ইলাহা নয় শুধু আল্লাহ্ই আমাদের সকল প্রয়োজন পূরণ করেন। রাজনীতি আমাদের একটি প্রয়োজন। কিন্তু কোন মুসলমান যদি বিশ্বাস করে যে, রাজনীতির মতো একটি প্রয়োজনীয় কাজের বিধান আল্লাহ্ নয় অন্য কেহ প্রদান করেন, তাহলে আল্লাহ্র উপর বিশ্বাস অসম্পূর্ণ হয়ে যায়। বিশ্বাস অসম্পূর্ণ হয়ে গেলে মুসলমান আর মুসলমান থাকে কিনা তা বিবেচনা করা দরকার। আল্লাহ্ বিচার-বিবেচনা থেকে মানুষের জীবনের একটি মুহুর্তও বাদ দিবেন না। মোহাম্মদ (সা:) রাষ্ট্র তৈরী করেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। অবশ্যই বলবেন না যে রাষ্ট্র পরিচালনা তৈরী করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করা রাজনীতি নয়। মোহাম্মদ (সা:) এবং খোলাফায়ে রাশেদীন শরিয়া অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল কাজ পরিচালনা করেছিলেন। আল্লাহ মানুষের সকল প্রয়োজন নিরান্নব্বইটি গ্র“পে বিভক্ত করেছেন। নিরান্নব্বই প্রকারের এই প্রয়োজন পূরণ করা আল্লাহ্র এক একটি গুন। এজন্য সকল প্রয়োজনের জন্য আল্লাহ্র উপর বিশ্বাস স্থাপনের ঘোষনা ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ হলেও সৃষ্টির ক্ষেত্রে ‘লা’খালাকো ইল্লাল্লাহ্’. একই ভাবে হুকুমের ক্ষেত্রে ‘লা’হাকিমো ইল্লাল্লাহ্’, ইত্যাদি। এক্ষেত্রে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ কে মনে করা যায়  (এ+বি)২ এর মতো একটি স্বত:সিদ্ধ সূত্র।
    খ. এবার যারা গালাগালি করেন তাদের জন্য কয়েকটি কথা। মুসলমান নামধারী ভিরু মোশ্রেক অথবা স্বনামধন্য সাহসী মোশরেক সে যাই হোক তাদের কথা তাদের বিবেকের উপর ছেড়ে দিলাম। কিন্তু মুসলমানদেরতো কথায় কথায় গালাগালিতে জড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। আল্লাহ্ মুসলমানদেরকে হেদায়েত প্রচারের দায়িত্ব দিয়েছেন, কিন্তু কা’কেও জবরদস্তি বা গালাগালি করার অধিকার দেননি। যে সকল মুসলমান অতি সহজেই গালাগালির মধ্যে জড়িয়ে যান তাদের জন্য ইসলাম কি বলছে শুনুন:
    মানুষের জন্য ভাল করা বা মন্দ করার দায়িত্ব আল্লাহ্ নিজের এখ্তিয়ারে রাখেননি এবং নবী-রাসূল গনকেও ধর্ম গ্রহন করার জন্য মানুষকে বাধ্য করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ্ রাসূল (স:) কে সরাসরি বলেছেন ”আর তাদের জন্য আমি আপনাকে রক্ষক নিযুক্ত করিনি। এবং আপনি তাদের অভিভাবকও নন”- আল-আন’আম ৬/১০৭। নবী-রাসূল গনের দায়িত্ব ছিল শুধু প্রত্যাদেশ মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া। পরিত্রানের ব্যবস্থা সকল মানুষের  নিজ নিজ দায়িত্বে অর্পন করা হয়েছে। কোর’আনে বলা হয়েছে, “তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে এবং নিজ নিজ আহলকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও” -- আল-তাহ্রিম ৬৬/৬। আল্লাহ্র হেদায়েত মেনে চলাই পরিত্রানের একমাত্র উপায়। তাই আল্লাহ্ বলেছেন ”তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমার উপর যে প্রত্যাদেশ হয় তুমি তারই অনুসরন করো, তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই। আর মোশরেকদের থেকে দূরে থাক” -- আল-আন’আম ৬/১০৬। আল্লাহ্ তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে মানুষের জন্য ভাল বা মন্দ করার সুযোগ নেই বলেই কোর’আনে বলা হয়েছে ”যদি আল্লাহ্র পরিকল্পনা থাকতো (বা ইচ্ছা করতেন) তবে তারা মিথ্যা উপাস্য নিতো না বা র্শেক করতো না” (If it had been Allah’s plan, they would not have taken false gods; but We made you not one to watch over their doings, nor are you set over them dispose of their affairs) -আল-ইমরান ৬/১০৭। একই কারনে ইসলামে ধর্মের ব্যাপারেও জবরদস্তি করতে নিষেধ করা হয়েছে ”লা একরাহা ফিদ্দি’ন” (Let there be no compulsion in religion)– আল-বাকারা ২/২৫৬। একই সাথে আবার এটাও স্মরন করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মানুষকে ভাল মন্দ বুঝতে পারার সামর্থ্য দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে, ইচ্ছা করলেই মানুষ মিথ্যা থেকে সত্য আলাদা করার ক্ষমতা রাখে (Truth stands out clear from Error)- আল-বাকারা ২/২৫৬।
    আল্লাহ্ নিজে উদ্যোগ নিয়ে কারো অবস্থার পরিবর্তন করার সুযোগ তিনি তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রাখেননি। কারন কাউকে স্বাধীনতা দিয়ে তার উপর কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া হলে অধিকার হরন করা হয়। অধিকার হরন করা অন্যায়; আল্লাহ্ অন্যায় কাজ করেন না। কোর’আনে বলা হয়েছে ”আল্লাহ্ কখনো তাঁর প্রবর্তিত অনুগ্রহ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষন পর্যন্ত না মানুষ নিজে তা পরিবর্তন করে”  -- আল-আনফাল ৮/৫৩। আল্লাহ্ মানুষের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন এমন তথ্য কোর’আনে কোথায়ও নেই। বরং বলা হয়েছে, ”আল্লাহ্ অবশ্যই কোন সম্প্রদায়ের অবস্থার পরিবর্তন করেন না যতক্ষন না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে; আর আল্লাহ্র শাস্তি যদি কোন সম্প্রদায়ের জন্য সাব্যস্ত হয়ে যায়, তা রদ করার শক্তি আল্লাহ্ ছাড়া কারো নেই এবং আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন রক্ষা কারীও নেই” -- আল-রা’দ ১৩/১১। মনে রাখবেন, আল্লাহ্ তাদেরকেই সাহায্য করেন যারা নিজকে নিজে সাহায্য করে (Allah helpes those who help themselves)।
    আমরা স্বাধীনতা বিক্রয় করে অর্জন উপার্জন করে থাকি। আল্লাহ্ এই স্বাধীনতার বিনিময়ে বেহেশ্ত দান করবেন। আপনি স্বাধীনতা বিক্রয় না করতে চাইলে না করুন। কিন্তু যে করতে চায় তাকে বাধা দিবেন কেন। মনে রাখবেন, যে মানুষ মিথ্যা থেকে সত্য আলাদা করে সত্যের অনুসরন করবে, সত্যই তাকে তার সঠিক গন্তব্যে পৌঁছিয়ে দেবে। অন্যথায় তার মিথ্যাই তাকে পৌঁছে দিবে জাহান্নামে।          

    1. 9.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      নাস্তিক ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনের মতো অনেক হিন্দু ব্লগার আছেন তাদের নাম দেখে বুঝার উপায় নেই যে আসলে কে হিন্দু আর কে মুসলিম। 

      -- আসিফ  মহিউদ্দিন হিন্দু, এই তথ্য কোথায় পেয়েছেন, যদি দয়া করে এর একটা প্রমান দিতেন। যে নিজেকে নাস্তিক হিসাবে পরিচয় দেয় তাকে হিন্দু বানাচ্ছেন কেন? 

      1. 9.1.1
        ওয়াহিদুর রহমান

        ধন্যবাদ জিয়াউদ্দীন সাহেব,

        দুঃখিত ভুল বশত: আরিফুর রহমান লিখতে  আসিফ মহিউদ্দীন লিখে ফেলেছি।
        পাঠকগন আসিফ মউিদ্দীনের স্থলে আরিফুর রহমান পড়বেন।
        আরিফুর রহমানের প্রকৃত নাম নিতাই ভট্টাচার্য।
        সুত্র: ‘ধর্ম ও আদালত অবমাননা করছে ব্লগাররা’,  আমার দেশ
        লেখক: এম এ নোমান

  23. 8
    আহমেদ শরীফ

    বগুড়ার গাবতলী উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায় নিজেদের উদ্যোগে রাত জেগে পালাক্রমে গ্রাম ও মন্দির পাহারা দিচ্ছে। গত ১৯ মার্চ জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে গাবতলীর রামেশ্বরপুর ও সোনারায় ইউনিয়নে হিন্দুদের কয়েকটি মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুরের পর গাবতলী পূজা উদযাপন কমিটি এ পদক্ষেপ নিল।

     

    বুধবার গভীর রাতে মালিক নিজেই ওই পিকআপ ভ্যানটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হরতাল সমর্থকরা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের বহুলী বাজারে মালিককে মারপিট করে এবং পিকআপ ভ্যানটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

    যশোরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যশোর-খুলনা মহাসড়কের পদ্মবিলা এলাকায় সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
    চাঁদপুরের গুনরাজদী এলাকায় রেললাইনে আগুন ধরিয়ে দেয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলার  বিভিন্নস্থান থেকে ১০ হরতালকারীকে আটক করা হয়েছে।

    রাজশাহীতে বিসিক ভবনের সামনে সকালে হরতালের সমর্থকরা হাতবোমা ছুড়ে পালানোর সময় পুলিশ  মটরসাইকেল আরোহী দুই শিবিরকর্মীকে আটক করেছে।

    আর চট্টগ্রামে সকালে হেমসেন লেইনের মুখে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরিত হয়ে অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী অন্তু বড়ুয়া (১৪) আহত হয়। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    সাতক্ষীরায় জামায়াত-শিবির কর্মীদের ছোড়া গুলিতে এক পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের ইটের আঘাতে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শকসহ আহত হয়েছেন দুই পুলিশ। তাদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।হরতালের দ্বিতীয় দিনে ময়মনসিংহে হরতাল সমর্থকরা বেশকিছু হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। হরতাল চলাকালে সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ অন্তত ২৫জন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে ২০ পিকেটারকে।

     

    বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের হরতালের মধ্যে যশোরে ‘পিকেটারদের ধাওয়ায়’ পালাতে গিয়ে একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক উল্টে তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

     

    হরতালে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখায় লালমনিরহাট সদরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হরতাল সমর্থকদের হামলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ ১২ জন আহত হয়েছে।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আমিনের নেতৃত্বে হরতাল সমর্থনে মিছিল নিয়ে বিএনপি কর্মীরা বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই লেবু, সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন, সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন, নাজনিন আক্তারসহ শিক্ষার্থীকে মারপিট করে।

    এতে শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেমি আক্তার, জুই আক্তার, তৃতীয় শ্রেণির আঁখি মনি, সুজন, আরিফুল ইসলাম, ও দ্বিতীয় শ্রেণির মিঠুল আহত হয়।

    হামলাকারীরা শিক্ষার্থীদের বইখাতা ছিড়ে ফেলে। বিদ্যালয়ের চেয়ার টেবিল ও আসবাবপত্রসহ প্রধান ফটকের দরজা ও গ্রিল ভাংচুর করেছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

    পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।

     

    এসব ঘটনাবলী যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অভিনব রাজনৈতিক সংষ্কৃতির চমকপ্রদ সূচনা করেছে _ 'জাতিয়তাবাদ', 'ইসলামী জাতিয়তাবাদ' ও 'ইসলামী হুকুমত' এর প্রবক্তারাই সমস্ত কৃতিত্বের দাবিদার।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত 'জনগণের জান-মাল বিনষ্টকারীদের অপরাধ সংঘটনে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ' _ ঘোষণাটির বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে মানুষ, নচেৎ যেভাবে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দেয়া হচ্ছে সেইদিন বেশি দূরে নয় যেদিন থেকে এলাকায় এলাকায় প্রবল গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে সাধারণ জনগণই এ ব্যাপারে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে বাধ্য হবে এবং রাষ্ট্র যেভাবে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে তাতে এক পর্যায়ে সাধারণ মানুষই এসব মানুষ নামের অমানুষদের ছিঁচকে চোর-পকেটমার-ছিনতাইকারীদের মত, পাগলা কুকুরের মত গণপিটুনি দিয়ে যেখানেই পাবে হত্যা করতে শুরু করবে।

    এই মানুষ নামের অমানুষদের জন্য 'মানবাধিকার' 'গ্রেপ্তার' 'বিচার' এসবের দাবি তোলা মানে বৃহত্তর মন্ডলে আরেক চরম 'মানবাধিকার লঙ্ঘন’ _ একপাল পাগলা কুকুর-হিংস্র হায়েনার পালকে মানবাধিকারের নামে বা রাজনীতির নামে মানবসমাজে নির্বিচারে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য বাধাহীন ছেড়ে দিয়ে কোন 'মানবাধিকার' রক্ষা হবে না।
     

    ‘জাতিয়তাবাদ’ ও ‘ইসলাম প্রতিষ্ঠা’ র ধ্বজাধারীরা নিজেদের তো বটেই, সেই সঙ্গে নিজেদের ‘প্রচারিত’ ‘দাবিকৃত’ মতাদর্শকে আজ ক্লেদাক্ত’-কর্দমাক্ত-রক্তাক্ত-ভুলুন্ঠিত এক বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্নের মত বীভৎস আঙ্গিকে এই চলমান সময়ের সেলুলয়েডে তুলে ধরছে।

    1. 8.1
      মহিউদ্দিন

      @ আহমেদ শরীফ:
      আহমেদ শরীফ ভাই, আপনি জিয়া ভায়ের একজন অন্ধঅনুসারী । আসলে জিয়া ভায়ের সাথে কথা চাঙ্গা হলেই আপনি এসে হাজির হন।  কিন্তু আপনি দেখতে পাচ্ছেন আমি যখন জামাত/শিবির নিয়ে জিয়া ভায়ের সাথে সরাসরি কথা বলতে পারছি, তখন লিডার বাদ দিয়ে অন্ধঅনুসারীদের সাথে কেন কথা বলবো? আপনার বিবেকে জামাত-বিদ্বেষ ছাড়া যদি সামান্য সুষ্ট চিন্তা অবশিষ্ট থাকত তবে দেখতে পারতেন যে আপনার উল্লেখিত কোন রিপোর্টের কাজগুলো জমাত/শিবির করার দলিল নয় বরং নিছক অভিযোগ। বিতর্কিত বিষয়ে আপনার সাথে জড়িত হবার ইচ্ছা ছিলনা , কিন্তু কোন ব্যক্তিকে যখন বার বার বিভ্রান্ত করতে দেখা যায় তখন শুনতে খারাপ লাগলেও কিছু সত্য কথা বলতেই হয় যদিও তা কারো কাছে তিক্ত লাগতে পারে।
      আপনার কাছ থেকে এখনো যা শুনা যায়নি তা হল বর্তমান যে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত আছে তা কি নৈতিক সমাজ গঠনের অনুকূল,সঠিক নৈতিক নেতৃত্ব গঠনের অনুকূল? যদি তা হয় তবে আজকের সমাজ এবং সমাজ ব্যবস্থা এমন বিরাট পরিসরে অনৈতিকতায় উপনীত হল কেন? আজকের আদালত ব্যবস্থা কি কোরান ও হাদিস ও ইসলামী শারিয়া সম্মত, যদি তাই হয় তবে কোরানের হাদিসের আলোকে সেই ব্যবস্থাদি কীভাবে শারিয়া মোতাবেক হল তা বলে দিলেই ইসলামী শারিয়া বাস্তবায়নের সকল পক্ষ অমনিতেই নীরব হয়ে যাবেন। কিন্ত দুর্ভাগ্য হল  আপনার মত “ইসলামের ঝান্ডাধারী জ্ঞানীদের” সেই যোগ্যতা ও সাহস নেই। এরা সেই বড় আকারের কাজ করতে পারবেন না, শুধু অন্যদের বিপক্ষে কা কা ঘা ঘা করতে পারবেন। এদের এ বার্কিং চরিত্র প্রমাণ করে এরা কোন শ্রেণীর ‘মুসলিম’।
      কেবল জামাত –বিদ্বেষেই আপনার ইসলাম প্রকাশ পাবে না। ইসলামী রাষ্ট্র কি শুধু জামাত শিবির চাচ্ছে? আপনার ইসলামী অবস্থান সম্পূর্ণ নেতিবাচক ও হঠকারী এক প্রচেষ্ঠা যা আপনি বুঝতে পারবেননা। কেননা আপনি ডুবে আছেন সেই পৌত্তলিকতা, ব্যক্তিপুজারী, মুশরিক ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীর অন্ধকার কুয়ায়। ইসলামী আন্দোলনে মতবিরুধ থাকতেই পারে কিন্তু সে জন্য যারা দেশের সবকিছু থেকে ইসলামকে ঝেড়ে ফেলতে চায় তাদের সহযোগী হয়ে অপরকে বিষোদগার করলেই ইসলামের সেবা হয়না বরং  মূর্খতাই প্রকাশ পায়।
      জামাত শিবির/কাফির হয়ে  গেলেই কি ‘মুনাফিক’ ঈমানদার হয়ে যায়? ঈমানদার তার নিজের ঈমানের কথাই বলতে হবে, জামাতের নয়। (মুনাফিক তো কাফেরের নিম্নপর্যায়ের এবং সে তো দোযখের নিম্নস্তরেই দাখিল হবে)। জামাত যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠার যোগ্য না হয়, তবে কোন দল যোগ্য? আপনি কি সেই দল করেন? আমাকে আপনার সেই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দলটির নাম বলুন। আপনি চান ফেতনা হতে, তাও আবার চাটুকার ফেতনা। ইসলামে যদি রাষ্ট্র না থাকে, তাহলে খোলাফায়ে রাশেদার রাষ্ট্র কি ছিল? খোলাফায়ে রাশেদার পরে যদি ইসলামী ইসলামী শারিয়া প্রবর্তন ও ইসলামী রাষ্ট্রের যুক্তি তিরোহিত হয়ে গিয়ে থাকে এবং গুলোর পরিবর্তে সেক্যুলারিজমের আবেদন এসে গিয়ে থাকে তবে সেগুলো ইতিহাসিকভাবে কীভাবে এলো, এবং কোরান হাদিসের আলোকে এই গোটা ১৪শত বছরের ঐতিহাসিকতায় কীভাবে স্থান পেল এবং এই বিগত শতাব্দীর আলেম ওলামারা কীভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন –সেগুলো দেখাতে হবে। আপনি কি এগুলো পারবেন? আগেই তো বলেছি চাটুকাররা কোনো দিনই বৃহত্তর কোনো কাজ করতে জানেনা এবং সেরূপ কাজের যোগ্যতাও রাখেনা, কেবল অমুক তমুক নিয়ে ফেতনা করতে জানে। রাসুল (স:) তাঁর উম্মতের মাঝে যে  আখেরি জমানায় খিলাফত ফিরে  আসবে বলে যে হাদীসের বানী রেখে গিয়েছেন সে ব্যাপারে তার উম্মতের দয়িত্ব কী হবে বা হওয়া দরকার তার ধারে কাছেও যাবেনা এরা?  
      কোথায় কোন প্রতারকের কাছ থেকে শুধু জামাত-বিদ্বেষ করাকেই জিবনের লক্ষ্য শিখেছেন আর সেই গান সবখানে গাচ্ছেন। জামাতের সব কাজ আমার কাছে ভাল নাও লাগতে পারে  কিন্তু তাই বলে যেখানে সামান্য সুযোগ পান সেখানে গিয়েই জামাতের উপর কিছু মুখস্থ-করা কথা বমি করে আসেন। আপনার বমিতে গন্ধ করছে। আপনার স্থান আমার আসরে কীভাবে হবে? “জামাত/শিবির একপাল হায়েনা, এদের কোন মানবতা নেই, এইসব ফ্যাসিস্ট হিটলারদের আবার কি ধর্ম, কি মানবতা? আজকের সন্ত্রাসী তো তারাই যারা অপরের মানবতা দেখে না, অপরকে গায়ের জোরে অবদমিত করতে চায়, যাদেরকে হাতের কাছে পায় না, তাদেরকে ফোনে শাসিয়ে হুকুমজারি করে: তুমি এটা বলতে পারবে না, তুমি সেটা বলতে পারবে না। দেশের নয়/দশমাংশ লোকের মানবতা যারা স্বীকার করেনা তাদের কিসের ধর্ম, তারা মুসলমান হয় কিভাবে? আপনি আমার ব্লগে এসে এইসব বমি আর করবেন না। এগুলো অনেকবার করেছেন, নতুন কিছু থাকলে বলবেন,না হয় সরে থাকবেন, জিয়া ভাই তার নিজের কথা বলতে নিজেই সমর্থ।

      1. 8.1.1
        আহমেদ শরীফ

        @ ভ্রাতঃ মহিউদ্দিন,

        আপনাকে আমি আগেই এক পোস্টে বলেছিলাম যে ওপেন ব্লগে যখন কেউ নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত কোন বিষয় পর্যালোচনার জন্য নিয়ে আসেন তখন সেটা আর তার ব্যক্তিগত বিষয় থাকে না, সেটা সবার জন্য উম্মুক্ত, সার্বজনীন হয়ে যায়। পক্ষে বিপক্ষে হাজার রকম প্রতিক্রিয়ার জন্য আলোচককে মানসিকভাবে তৈরি থাকতে হবে এবং একরকম 'সঞ্চালক' এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েই আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আলোচক যেমন স্বাধীনভাবে নিজের মতপ্রকাশ করতে পারেন তেমনি অন্যান্য আলোনাকারীগণও স্বাধীনভাবেই নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার রাখেন।

        আরো একবার আমাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরে নিয়ে আপনি অত্যন্ত রুঢ় ভাষা ব্যবহার করে নিজের অস্থিরতা-অসহিষ্ণুতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন যা 'সদালাপ' এর পরিবেশের সাথে মানানসই নয়। এখানকার মূলধারার লেখকরা আলোচনায় হাজার মতদ্বৈততা সত্বেও শোভনতা-শালীনতার একটা সীমা বজায় রাখার চেষ্টা করেন যার ব্যত্যয় আমি তেমন হতে দেখিনি। আপনার অসহিষ্ণুতা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত সমস্যা যার সমাধান-নিরসনে আপনাকেই যত্নবান হতে হবে। আরো একবার বলি, উম্মুক্ত ব্লগে পোস্ট দিলে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মতামত আসবে যা পোস্টদাতার পছন্দ বা অপছন্দ হতে পারে। মাথা ঠান্ডা রেখে পোস্টদাতাকে যুক্তিঋদ্ধ সাবলীলতার সাথে সেগুলোর মুখোমুখি হতে হবে।   

        আমি জিয়াভাইয়ের বা অন্য কারোরই 'অন্ধ অনুসারী' বা 'চাটুকার' নই। জিয়াভাই এর সাথে কিছু ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি বা আদর্শিক সাদৃশ্য হয়তো রয়েছে। এখানে জিয়াভাইয়ের সাথে অনেক ব্যাপারেই একমত এমন ব্লগারের সাথেও কোন বিশেষ ব্যাপারে মতানৈক্য হওয়ার নিদর্শন রয়েছে। আপনি কি কোন ডিসক্লেইমার দিয়েছেন পোস্টে যে 'এই পোস্ট জিয়া ভাইয়ের উদ্দেশ্যে' ? যদি না দিয়ে থাকেন তাহলে ওনার অন্ধ বা চশমাপরা অনুসারী বা ওনার শত্রু বা অন্য যে কেউ কথা বলার অধিকার রাখে, তাই নয় কি ?

        এম আহমদ ভাই পোস্ট বা কমেন্ট দিলে মুনিম ভাই, মোস্তফা কামাল আপনিসহ আরো কয়েক জন যেভাবে 'জানালা' খুলে উড়ে আসেন সেটাকে কি বলা যায় তাহলে? আপনি সারাক্ষণই ইনিয়ে বিনিয়ে জামাতের গান ভাঙ্গা গলায় গেয়ে চলেছেন। কেউ একটু ভিন্নমত পোষণ করলেই যেভাবে অসহিষ্ণু মনোভাব নিয়ে বিশ্রী রুচিহীন ভাষায় ঝাঁপিয়ে পড়েন তাতে সদালাপের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দুষিত হচ্ছে, যেটাকে '-- ত্যাগ' না বলে '--ত্যাগ'ই বলতে হয়। সদালাপের কিছু নীতির প্রতি শুরু থেকেই সবাই মেনে আসার কারণে যেভাবে আপনার এ্যারোগেন্সের জবাব দেয়া উচিত সেভাবে দেই নি। কিন্তু এক পর্যায়ে জানি না হয়তো দিতে বাধ্য হব। অন্যান্য জামাতঘেঁষা ব্লগারদের মাঝে আপনার মত এ্যারোগেন্স দেখা যায় না। আশা করি এ ব্যাপারে ভবিষ্যতে যত্নবান হবেন।

        অজস্র ভুল বানানে ভরা আপনার হাস্যকর মুখস্থ অভিযোগগুলোর অন্তঃসারশূণ্যতার জবাব পরে সময়মতো দেব। আপাততঃ মাথা ঠান্ডা করেন ও ঠান্ডা মাথায় ব্লগিং করার চেষ্টা করেন। যা ইচ্ছা তাই টাইপ করার নামই 'ব্লগিং' না।

      2. 8.1.2
        আহমেদ শরীফ

        স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত 'জনগণের জান-মাল বিনষ্টকারীদের অপরাধ সংঘটনে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ' _ ঘোষণাটির বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে মানুষ, নচেৎ যেভাবে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দেয়া হচ্ছে সেইদিন বেশি দূরে নয় যেদিন থেকে এলাকায় এলাকায় প্রবল গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে সাধারণ জনগণই এ ব্যাপারে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে বাধ্য হবে এবং রাষ্ট্র যেভাবে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে তাতে এক পর্যায়ে সাধারণ মানুষই এসব মানুষ নামের অমানুষদের ছিঁচকে চোর-পকেটমার-ছিনতাইকারীদের মত, পাগলা কুকুরের মত গণপিটুনি দিয়ে যেখানেই পাবে হত্যা করতে শুরু করবে।

        গতকাল বলেছিলাম এ কথা।

        আজকের সংবাদ _

        বাসে আগুন দেওয়ার সময় ৫ শিবিরকর্মীকে গণপিটুনি

        বগুড়া প্রতিনিধি | তারিখ: ০২-০৪-২০১৩

        পেট্রল ঢেলে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিতে যাচ্ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। এ সময় জনতার প্রতিরোধের মুখে পড়েন তাঁরা। পাঁচজনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা। গতকাল সোমবার রাতে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

        এর আগে ওই পাঁচজন হিন্দু মন্দিরে হামলা চালান এবং স্থানীয় লোকজনের দোকানপাট ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পাঁচজন হলেন: জেলার কাহালু উপজেলার বড়াইল ইউনিয়ন শিবিরের সাধারণ সম্পাদক জেল হক প্রামাণিক (২০), কাহালু কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্র ও শিবিরের কর্মী আবদুল হাকিম (২১), কাহালুর রাজধানী মুরইল এলাকার আবদুল মোত্তালিব (২০), একই এলাকার এস এম হাবিবুল্লাহ আতিক (১৮) ও আতোয়ার রহমান (১৯)।

        স্থানীয় ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, হরতাল সামনে রেখে গতকাল রাতে বগুড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেন হরতাল-সমর্থকেরা। ১০টার দিকে শিবিরের একদল নেতা-কর্মী সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের লিলান পূজা মন্দিরে হামলা চালান। পরে তাঁরা এরুলিয়া বাজারে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে তাঁরা বগুড়া-নওগাঁ সড়কে যাত্রীবাহী বাস আটকে এতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিতে যান। স্থানীয় জনতা শিবিরের পাঁচজন নেতা-কর্মীকে পেট্রলভর্তি কন্টেইনারসহ আটকে ফেলে। পরে গণপিটুনি দিয়ে তাঁদের সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
         
        http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-04-02/news/341647

  24. 7
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আপনি শুরুতে যে ভাগাভাগি করেছেন তাই আসলে ত্রুটিপূর্ন -- জাতীয়তাবাদ নিজেই এন্টি ইসলামিক -- এরা একদিকে আছে অন্যদিকে আছে ইসলাম বিদ্বেষীরা।  খুবই হাস্যকর এই ভাগাভাগি। 
     
    আপনার এই চিন্তা নতুন কিছু না। পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই ধর্ম নিয়ে এই সার্কাস করেছে অনেকেই। আয়ুব খান থেকে ইয়াহিয়া খান সবাই ধর্মকে রাজনৈতিক বিভাজনের জন্যে ব্যবহার করেছে। ৭১ এ গোলাম আযম গং এর মুল সুরই ছিলো ধর্মভিত্তিক বিভাজন। যখন ধর্মব্যবসায়ীরা বিপদে পড়ে তখনই জাতির বিভক্তি নিয়ে হৈ চৈ করে উঠে। 
     
    আপনার লেখার সমালোচনা করার জন্যে আসলে আসিনি -- আপনার সাথে একমত হতে এসেছি। আমিও একমত আমাদেরকে ভুলের মাসুল দিতে হবে এবং ইতোমধ্যে দেওয়া শুরু করেছি। ১৯৭২ সালে ইরান বিপ্লবের মতো যা ১ টা আন্তর্জাতিক মানের বুলেট সমাধান করতে পারতো তা করার জন্যে এখন দরকার হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানে আদালত। ১৯৭২ সালের ভুলে সুযোগে ১৯৭৫ থেকে পরাজিত শক্তি সুসংহত হতে শুরু করে। সেই ভুলের মাসুল দিতে শুরু করে জাতি রগকাঁটার রাজনীতির মাধ্যমে। পরে দুই সামরিক শাসকের জামাই আদর আর দুই রাজনৈতিক দলে সমযোতার রাজনীতির সুবাদে এখন জামাত শিবির হয়ে উঠেছে মূর্তিমান দানব। যা ৪২ বছরে বাংলাদেশের মানুষ দেখেছি -- ট্রেনে আগুন, গাছ কাঁটা, রাস্তা কাঁটা আর জ্যন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারার মাসুল দিচ্ছে এখন বাংলাদেশ। যদি এবার বিচার শেষ না হয় -- তবে হয়তো আরো বড় মূল্য পরিবোধ করবে বাংলাদেশের মানুষ। 
     
    সময়ের এক ফোড় -- অসময়ের দশ ফোঁড় -বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ভুলের মাসুল হিসাবে দশ ফোঁড়ও কুলাচ্ছে না। এই বিষয়ে একমত না হওয়ার কোন সুযোগ আছে কি!

    1. 7.1
      মহিউদ্দিন

      জিয়া ভাই, আপনার উপস্থিতি দেখলেই বুঝা যায় আপনি কি বলবেন। আপনার কাছে কোনটি ত্রুটিপূর্ণ আর কোনটি ত্রুটিমুক্ত বা কোনটি ন্যায় আর কোনটি অন্যায় সেটা তো বিগত বছরগুলো ধরে দেখে আসছি। আমিও আপনার সুরে বলতে হচ্ছে, “আপনার এই চিন্তা নতুন কিছু না।” আয়ুব খান থেকে ইয়াহিয়া খান সবাই ধর্মকে রাজনৈতিক বিভাজনের জন্যে ব্যবহার করেছে, এজন্যই কি আপনারা এখন সেক্যুলার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এটাকে ঠিকিয়ে রাখতে ও ইসলামী আদর্শকে সরিয়ে রাখতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় লিপ্ত আছেন কাফির মুশরিকদের সাথে, নাস্তিকদের বিরানী খাবান, দৌড়ে গিয়ে শাহীদ বানান, ইনিয়ে বিনিয়ে পোষ্ট লিখেন।
       
      যারা মুশরিক নাস্তিক যোদ্ধাদের সাথে মিশে নাস্তিকতা, সমাজতন্ত্র, পৌত্তলিকতা ও ব্যক্তিপুজা প্রতিষ্ঠা করতে চায় একাত্তরের চেতনার নামে জাতি এই মিথ্যাচার তাদের মুখেই ছুড়ে মেরেছে। শাহবাগ ছিল আপনাদের ‘শো-কেস’।. এর পতনেই আপনাদের পতন ঘটেছে। ২৬শে মার্চ শেষ হয়েছে। কিন্তু কই, জামাত ব্যান হয়েছে? না। মিথ্যাচার পরাজিত হয়েছে। শিবির ব্যান হয়েছে? না। মিথ্যাচার পরাজিত হয়েছে। ইসলামী ব্যাঙ্কসহ জামাত-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানাদি নেশনেলাইজড হয়েছে? না। মিথ্যাচার ও প্রোপাগাণ্ডা ব্যর্থ হয়েছে। দেশের মানুষ কোন দিকে অবস্থান নেয়ার কারণে এই ব্যর্থতা এসেছে? পুলিশ,পার্লামেন্ট, দেশের মিডিয়া, সবই তো আপনাদের কন্ট্রলে।
       
      বাংলার মানুষ আজ কাফির, মুশরিক ও মুনাফিকদেরকে বর্জন করেছে। ওরা এখন নিজেরাই তিন দলে বিভক্ত! আল্লাহ বলেন, ওদের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব প্রবল, আপনি ওদেরকে ঐক্যবদ্ধ মনে করতে পারেন কিন্তু ওরা শতধা-বিভক্ত। এটা এ কারণে যে, তারা এক কান্ডজ্ঞানহীণ সম্প্রদায় (হাশর)
       
      আপনি বলেছেন, “আপনার লেখার সমালোচনা করার জন্যে আসলে আসিনি।” এমন কথা কেবল আপনার জন্যই শোভা পায়, আপনি সমালোচনা করতে কি বাকী রেখেছেন? আর রগ কাটার কথা বলেছেন এটা আসলেই কতটুকু সত্য না প্রপাগান্ডা তা জামাতের লোকেরাই বলতে পারবেন আমি এখানে তাদের প্রতিনিধি হতে চাই না। তবে শুনুন। যারা শত শত বুকে চাপাতি চালায়, জবাই করে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে, ধর্ষণ করে, ধর্ষণের সেঞ্চুরি চালায়, অগ্নি সংযোগে প্রতিষ্ঠানাদি পোড়ায়, বাটপারীতে হত্যাকাণ্ড করে এরাই আসল সন্ত্রাসী, এরাই আজ চিহ্নিত শত্রু -যারা সন্ত্রাসের মোকাবেলায় করে তারা নয়। যেসব সন্ত্রাসীরা শিবির/জামাতকে দৌড়ের উপর রাখে কিন্তু যখন তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে তাদের নাকে-মুখে থাপ্পড় দিতে শুরু করে, তখন এরা কান্নার সুরে ওদেরকে সন্ত্রাসী বলে। আজ দেশে বিদেশের যারাই বাংলাদেশের খবর রাখে সবাই জানে দেশের জনগনের উপর কারা অত্যাচার চালাচ্ছে। এই সেদিন ফেইসবুকে দেখলাম অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে বাংলাদেশ সরকারের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে । *(১)
      বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ জানে আসল সন্ত্রাসী করা। যারা রাতের অন্ধকারে হিন্দুদের ঘরবাড়ী পোড়ায়, তারপর জামাত শিবিরের উপর দোষ দেয়, ক্যামেরার সামনে বিশ্বজিতকে চাপাতি চালিয়ে হত্যা করে, তারপর জামাতিদের উপর দোষ দেয়, তানভীর তক্বীর হত্যাতেও জামাত জড়ায় –জাতি আজ এই বেঈমানদেরকে চিনে ফেলেছে। জাতি মতিউর রাহমান রেন্টুর বিবরণ চাক্ষুষভাবে দেখেছে। এখন মেইনস্ট্রীম মিডিয়াও প্রকাশ্যে এই মিথ্যাচারের বিপক্ষে কথা বলা হচ্ছে। শাহরিয়ার, মুনতাসীর ও তাদের নাস্তিক গোষ্ঠীর কোরান হাদিস ব্যাখ্যা কাজ দিচ্ছে না। মানুষ বিগত হত্যাকাণ্ড দেখেছে, মানুষ কমিউনিস্ট ও বামপন্থি ক্যাডার গ্রুপ থেকে হাজার হাজার নিয়োগপ্রাপ্ত ক্যাডার বাহিনীর গণহত্যা দেখেছে। আপনারা যারা শিবির/জামাতকে নির্মূল করার কথা বলে আসছেন, তারা তাই করে যাচ্ছে। আজ নাস্তিক মুনাফিকদের ধর্ম ব্যাখ্যার ধাপ্পাবাজি দেখতে পাচ্ছে। কিছু সংঘাতের ফটো দেখিয়ে, কোরান আর হাদিস উদ্ধৃতি চালিয়ে, শাহরিয়ারদের দলের নাস্তিক বর্গের ও মুনাফিক বর্গের জামাত-শিবিরকে দোষার পায়তারা দেখতে পাচ্ছে কিন্তু কাজ হচ্ছে? না এতে মতলববাজিদের নিকৃষ্ট ধান্ধাবাজি আর ধূর্ততাই প্রকাশ পাচ্ছে।
      আমার-ব্লগে, মুক্তমনায়, নবযুগের কোরান আর হাদিস টানা আর তাদের সহযোদ্ধাদের ইসলাম ব্যাখ্যাই এখন হাস্যকর। মানুষ দেখতে পাচ্ছেছে কারা আগুন নিয়ে খেলা করছে। মানুষ এখন শাহরিয়ারদের কোরানের উদ্ধৃতি ও জামাত/শিবিরের সংযুক্তি মিথ্যা ও ইতরামি মনে করে। মানুষ এও দেখতে পারছে কোন কোন ফ্যাসিস্টগোষ্ঠী অপরের নাগরিক অধিকার হরণ করছে এবং প্রতিরক্ষার জন্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় জন্য কারা মাঠে নেমেছে –এসব বিষয় আজ নাস্তিক মুনাফিকরা তাদেরকে বুঝিয়ে দেবার দরকার হচ্ছে না, কেননা তারা নিজেদের বুদ্ধিতে বিবেচনা করতে জানে, অত্যাচারি ও মূর্খের কাছ থেকে জ্ঞান নিতে হয় না। আজ প্রতারকদের প্রতারণা ও প্রোপাগান্ডা নগ্নভাবে ধরা দিয়েছে। বানোয়াট কথাবার্তা মিথ্যা হয়ে হাজির হয়েছে, অনেক ঘটনা ক্যামেরায়ই প্রকাশ পাচ্ছে, অনেক ঘটনা সপ্তাহের মধ্যেই প্রকাশ পাচ্ছে। আজ একাত্তরের ব্যবসায়ীরা পরাজিত। এতিম কমিউনিস্টবর্গ ও বামপন্থি আ’লীগাদের ধোঁকা এখন স্পষ্ট। তাই তাদের ভুলের ব্যাপারে আপনি আমার সাথে একমত হয়েছেন দেখে আমি আশ্বস্ত হয়েছি। কিন্তু তবুও বলবো জয় পরাজয় আল্লাহর হাতে। আল্লাহ যদি আপনাকে ও আপনার ‘সহযোদ্ধাদের’ বিজয় দিতে চান তবে সেটা কেউ রুখে রাখতে পারবে না। যারা দেশে সত্যিকার ও সঠিক পরিবর্তন চায় তারা সে লক্ষ্য প্রচেষ্টা করেই যাবে এবং তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর তরফ থেকে। তাই যে কোন পরিস্থিতিতে মুমিনের কথা হয় আলহাম্দুলিল্লাহ।
       
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
      *(১)এখানে  Georgetown University. থেকে প্রকাশিত The Georgetown Journal of International Affairs এ লিখা এই নিবন্ধটি খোলা মনে পড়ুন।
      দেশে আজ কারা বেশি বিপন্ন বুজতে চাইলে সঞ্জীব চৌধুরীর এ লিখাটি পড়ুন।

  25. 6
    মহিউদ্দিন

    অশেষ ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য। দেশের ওলামা মাশায়েখেরা ঐক্যের কথা বলছেন শুনে খুবই ভাল লাগছে। আজ এটাই সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

    আজ নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই। চরিত্রবান নেতৃত্ব কেবল নৈতিক-চরিত্রের অনুকূল শিক্ষা ব্যবস্থাই গড়ে তুলতে পারে। একটি সমাজ পরিবর্তন কেবল ওয়াজে হয় না। এর জন্য সামাজিক পরিকল্পনার প্রয়োজন। নাস্তিক, সেক্যুলারিস্টরা ওয়াজ করে তাদের কাজ হাসিল করছে না। আমাদেরকে তাদের কর্মপদ্ধতির দিকে তাকাতে হবে। আজকের স্কুল, কলেজ, ব্যবসা, আদালত, শিল্প-কারখানা ইত্যাদিতে কোন ধরণের মূল্যবোধ কাজ করছে –এটা দেখতে হবে। দেশ ও জাতিতে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হলে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার আওতায় দেশ ও জাতিকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, সেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কাজ করতে হবে, পরিবর্তন আনতে হবে।

    সহমত ১০০%  আর না করতে  পারলে যে দেশে আজ  অনিয়মই  নিয়ম, প্রতিশোধ ও হিংশ্রতাই হচ্ছে মানবতা, মিথ্যাই হচ্ছে সততা, বাড়াবাড়ি ও বিশৃঙ্খলাই হচ্ছে সভ্যতা সে ভয়াবহ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে না।
    একটা ব্যপার লক্ষ্য করেছেন কিনা  মুসলিম বিশ্বের যে স্থানেই গণতন্ত্রের সুবাতাস বইতে দেয়া হচ্ছে, সেখানেই ইসলামপন্তীরা  বিজয় লাভ করছে। বিশ্বরাজনীতির এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থারও পরিবর্তন আনতে হবে এবং তা সম্ভব হবে যখন আমরা ঐক্যবদ্ধ হব ।

  26. 5
    এম_আহমদ

     

    বাংলাদেশের প্রচলিত দূর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতিপরায়ন রাজনীতির পরিবর্তে, ইসলামের বিশ্বজনীন ন্যায় নীতি সমাজের সকল ক্ষেত্রে প্রয়োগের সম্ভাবনাকে বন্ধ করতে কিংবা আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সৎ নেতৃত্বের প্রতিষ্ঠা করে একটি সুসম ও শান্তিপূর্ন  সমাজ গঠন করতে যারা  চায়না তারাই রাজনীতিতে ইসলামকে সহ্য করতে পারে না। ইসলামী জীবন ব্যবস্থা হচ্ছে একটি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা। … বাংলাদেশে আজ যে অসুভ শক্তি জেঁকে বসেছে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানে তারা চায় এদেশের তরুন সমাজেকে  বিশেষ করে মুসলিম যুব সামাজকে বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহ থেকে উদাসীন করা।  তাদের চিন্তা চেতনাকে সংকীর্ণ গন্ডিতে সীমাবদ্ধ করে পৌত্তলিকতা, ব্যক্তি পুজা, অশ্লিলতা, হিংসা ও ভোগবাদী জীবন ব্যবস্থার গোলামে পরিণত করা।

     
    আজ বাংলাদেশে নাস্তিক্যবাদ ও আলট্রা-সেক্যুলারিজম যে ক্ষমতা প্রদর্শন করছে তা বিস্ময়কর, (রাষ্ট্রের সর্বস্তরে রয়েছে এদের শক্ত হস্ত, বিচরণ, প্রাধান্য)।. কিন্তু তার চেয়ে বিস্ময়কর হচ্ছে মুসলমানদের মধ্যে পারস্পারিক দানাদানি হানাহানি। যারা প্রকাশ্যে নাস্তিক তারা তেমন বিপদের কিছু নয় বরং যারা 'অঘোষিত' নাস্তিক তারাই প্রকৃত বিপদ। এমন অনেক বড় বড় মুক্তিযোদ্ধা যাদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষ উৎসাহ পাওয়ার কথা, তাদের অনেক যখন প্রকাশ্যে বলেন যে তারা লা-ইলাহার বিরোদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এবং আরও কিছু অসুন্দর কথা বলেন, তখন এই শক্তির শিকড় কোথায় পর্যন্ত বিস্তৃত তা অচিন্তনীয় হয়ে ওঠে।
     
    আজ যে কোন মূল্যে মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কিন্তু আমরা জানি কিছু সংখ্যক লোক সেই একতা আনতে দেবে না। কিন্তু যখনই আপনি সেই মানসিকতার লোকের সম্মুখীন হয়েছেন, তখন তাদের সাথে কথা না বাড়ানো উচিৎ,  কেননা এক পর্যায়ে তারা যা বলবে এবং করবে তারে রাগে প্রজ্জ্বলিত হয়ে আপনিও হয়ত তাদেরকে তাদের কথাই শুনিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু এই কাজে আপনার সময় নষ্ট হবে এবং আপনার ঐক্যের নীতি লঙ্ঘিত হবে।
     
    বাংলাদেশের বর্তমান  প্রবাহের একটি কল্যাণকর দিক আছে। সেটা মুমিন ও মুনাফিকদেরকে আপনাতেই আলাদা আলাদা করে দিচ্ছে। এটা দেখে আল্লাহর প্রশংসা করা উচিৎ যে আমাদের জীবনে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীতে আত্মার inclination দেখার মওকা দিয়েছেন। এমনটি প্রত্যেক নবী রাসূলের যুগেই হয়েছিল। তবে যেখানে সম্ভব সেখানেই বিতর্ক এড়িয়ে চলা ভাল।
     
    এইসব ঘটনা প্রবাহ আমাদের আশে পাশের মুসলিম ভৌগলিক অঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে অনেক ঐক্য সঞ্চার করে যাচ্ছে।  ভারতের মুসলমানরাও বাংলাদেশের অবস্থার মুসলিম পক্ষ নিয়েছেন। আল্লামাহ সাইয়্যেদ সালমান হুসাইনী আন-নাদভীও বাংলাদেশের মুসলমানদের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছেন। এই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। দেশের ওলামা মাশায়েখেরা ঐক্যের কথা বলছেন। এটা সুখবর। এই ঐক্যধারার বিপক্ষে যাদেরকে দেখা যাবে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে পারলেই ভাল। বিতর্পাকের মাধ্যমে কাউকে পক্ষে আনা দুরূহ। বরং বিরোধিতার পথ চেড়ে দিয়ে যদি কেউ নির্বিঘ্নে সামান্য কাজও করতে পারে, তবে সেটাও হবে তার আখেরাতের মুক্তির জারিয়া।
     
    আজ নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই। চরিত্রবান নেতৃত্ব কেবল নৈতিক-চরিত্রের অনুকূল শিক্ষা ব্যবস্থাই গড়ে তুলতে পারে। একটি সমাজ পরিবর্তন কেবল ওয়াজে হয় না। এর জন্য সামাজিক পরিকল্পনার প্রয়োজন। নাস্তিক, সেক্যুলারিস্টরা ওয়াজ করে তাদের কাজ হাসিল করছে না। আমাদেরকে তাদের কর্মপদ্ধতির দিকে তাকাতে হবে। আজকের স্কুল, কলেজ, ব্যবসা, আদালত, শিল্প-কারখানা ইত্যাদিতে কোন ধরণের মূল্যবোধ কাজ করছে –এটা দেখতে হবে। দেশ ও জাতিতে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হলে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার আওতায় দেশ ও জাতিকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, সেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কাজ করতে হবে, পরিবর্তন আনতে হবে। এতে সবরের দরকার, এতে ঐক্যের দরকার, এতে সাহসের দরকার। যারা এই লক্ষ্যে চলবে, তাদের সাথেই কাজ করতে হবে। যারা এর বিপক্ষে যাবে, তাদের সাথে বাদাবাদি না করে ignore করে চলতে হবে। এটা আমাদের পথ হওয়া দরকার।       

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      বাংলাদেশের বর্তমান  প্রবাহের একটি কল্যাণকর দিক আছে। সেটা মুমিন ও মুনাফিকদেরকে আপনাতেই আলাদা আলাদা করে দিচ্ছে। এটা দেখে আল্লাহর প্রশংসা করা উচিৎ যে আমাদের জীবনে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীতে আত্মার inclination দেখার মওকা দিয়েছেন। এমনটি প্রত্যেক নবী রাসূলের যুগেই হয়েছিল। তবে যেখানে সম্ভব সেখানেই বিতর্ক এড়িয়ে চলা ভাল।

       
      সহমত!!!

      1. 5.1.1
        মহিউদ্দিন

        মুনিম ভাই,
        আপনাকে ধন্যবাদ দিতে ভুলেই গিয়েছিলাম। আসলেই বিতর্কে জড়াতে না পারলে ভাল । আমি আপনার সাথে একমত।
        ভাল থাকেন।

  27. 4
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    বর্তমান ৭১এর যুদ্ধাপরাধের বিচার হইল আসলে হাসিনার রাজনৈতিক কুবুদ্ধি! এই বিচার নিয়ে হাসিনা যতনা আন্তরিক(আইনগত ভাবে) তারচেয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা তুলতে বদ্ধপরিকর।
    ১৯৮৬ সালে জামাতকে সাথে নিয়ে এরশাদের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গিয়ে হাসিনা জাতীয় বেঈমান উপাধি পায়। আবার এই জামাতকে নিয়েই হাসিনার আলীগ ১৯৮৮ সালে সংসদ থেকে পদত্যাগ করে। ১৯৯০ এর এরশাদের পতন আন্দোলন সহ ৯১এর নির্বাচনে অংশ গ্রহণেও কোন আপত্তিই করেনি হাসিনা। কিন্তু সমস্যা হল যখন জামাত তাদের ১৮টি সিট দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনে সহায়তা করল। আলীগের মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বদরুল হায়দারকে সমর্থনের জন্য গোলাম আযমের বাসায় পাঠানো হয়। কিন্তু এই সমস্ত সমর্থন না পেয়ে হাসিনা বলে "বিএনপিকে একদিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দিব না"। এরপরই ঘাদানিক গঠিত হয়। শুরু হল স্বৈরাচার উত্তর হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও এবং দাড়ি টুপিধারীদের মারধর ও নাজেহাল করা। তখন ঘাদানিক নেত্রী জাহানারা ইমামের দাবী ছিল ১) ৭১এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ফাসী, ২) জামাত সহ সকল ধর্মীয় রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ, ৩) মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ ইত্যাদি। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে জামাত যখন একমত হয় তখন আলীগ জাপার সাথে সাথে জামাতকেও কাছে টেনে নেয়। ফলশ্রুতিতে জামাত আলীগ ও জাপার সাথে একযোগে জাতীয় সংসদ হতে পদত্যাগ করে। এরপর ১৯৯৬ সালে হাসিনা প্রথমবারের মত ক্ষমতায় এলে তার দল আলীগতো দূর তথাকথিত ঘাদানিকও ৭১এর যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জামাতের বিরুদ্ধে কিছুই বলেনি। কিন্তু যেই ১৯৯৯ সালে বিএনপির সাথে জামাত চারদলীয় জোটে যোগ দেয় তখনই আবার শুরু হয় বিরোধ। আর ঐ দিকে ভারতের অন্যায্য ও একতরফা দাবীর কাছে মাথা নত না করে নতুন কোন চুক্তি না করাতে দিল্লী ও তার এদেশীয় দোসররা জঙ্গী, জেএমবি ইত্যাদি কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করে বিদেশে বাংলাদেশকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তকমা দেয়। অথচ জেএমবির অস্ত্র, বোমা সরঞ্জামের ঘাটিই ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মালদাহে(প্রআলো ৫/৬/২০০৯ইং)। তারপর আলীগ ও ভারতের ষড়যন্ত্রে ১/১১ সৃষ্টি করা হয়। এই নিয়ে ভারতপন্থী সেনা প্রধান মঈন ইউ প্রচার চালায় যদি সামরিক বাহিনী ২২শে জানুয়ারী ২০০৭ এর নির্বাচন করতে সহায়তা করে তবে নাকি জাতিসংঘ নিরাপত্তা রক্ষী হতে বাংলাদেশের সেনাদের সরিয়ে দিবে। এই নিয়ে তৎকালীন কান্ট্রি ডিরেক্টরের স্বাক্ষরিত সম্বলিত চিঠির কথাও বলে মঈন ইউ। পরে প্রমাণিত হয় যে কান্ট্রি ডিরেকটর রেনেটা লক এই ধরণের কোন চিঠি লিখেন নি;
    No letter from UN, no int'l interference
    (The Daily Star Apr 18, 2010)
    এই চিঠিটি ২০০৬ এর শেষে বা ২০০৭এর শুরু দিকে বাংলাদেশের সরকারের কাছে আসে বলে দাবী করা হয়। এই ঘটনা রেনেটা লক এতদিন জেনেও বলেননি। কারণ ভারত ও মার্কিনিদের চাপ ছিল। ওয়াশিংটন তখন দিল্লীর কথায় চলত। তারপর ২০০৮ এর ২৯শে ডিসেম্বর সিলেকশনের মাধ্যমে হাসিনার আলীগকে বিশাল সিট দিয়ে বিজয়ী করা হয়। যাতে ভারতের একতরফা ও অন্যায্য সুবিধা পেতে কোন অসুবিধাই না হয়। আর এই কারণেই হাসিনা জানুয়ারী ২০১০এ দিল্লী যেয়ে ভারতের সাথে কি কি শর্তে চুক্তি করল তা দেশবাসী ও সংসদ আজও জানল না। আর যে যুদ্ধাপরাধের বিচার করবে বলে বলেছে সেটা ২০০৯এ কোন উদ্যোগই নেয়নি। ২০১০ সালের মাঝামাঝি যেয়ে জামাত ও বিএনপির কয়েকজনকে গ্রেফতার করে ২০১১ সালে বিচার শুরু করে। এতদিন যুদ্ধাপরাধের বিচার করার নাম শুনলেও এখন বলা হচ্ছে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার। ইচ্ছা করেই দেড়ী করে বিচার শুরু করে আলীগ। যাতে পরবর্তী নির্বাচনে ইস্যু বানানো যায়। হাসিনা এই ICTর বিচার শুরুর প্রাক্কালে মার্কিন মন্ত্রী ষ্টীফেন রাপের কাছে বলছিল;
    Bangladeshi Prime Minister Sheikh Hasina says her country’s first ever war crimes trial relating to the 1971 war of independence will be fair, impartial and conform to international standards—this according to the Bangladeshi newspaper The Daily Star. According to the paper, the Prime Minister made the comments to US ambassador-at-large for war crimes Stephen Rapp on Tuesday in Dhaka, following his pointed criticism of the judicial process.
    http://www.rnw.nl/international-justice/article/bangladeshi-pm-tribunal-fair-and-impartial
    কিন্তু পরে আন্তর্জাতিক মানদন্ডে তথা রোম সনদেতো দূর দেশীয় ফৌজদারী আইনেরও সঠিক ব্যাবহার হয়নি। এরপর স্কাইপির স্ক্যান্ডালে প্রমাণিত হয় যে আলীগ সরকার অবৈধ ভাবে এই ICTর উপর হস্তক্ষেপ করেছিল। যার কারণে ICTর প্রধান চেয়ারম্যান বিচারপতি নাসিম পদত্যাগ করেন। এটা সরল অর্থেই বোঝা যায় যে আলীগের রাজনৈতিক কুমতলব বাস্তবায়নই এই ICTর উদ্দেশ্য। এই বিবেচনায় জামাতের আন্দোলন যৌক্তিক। কিন্তু তারা বলেনি যে বিচার চায় না। তারা বলেছে রোম সনদে বিদেশী বিচারক, বিদেশী উকিল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে যেন যথাযথ বিচার হয়। একই দাবী খালেদা ও বিএনপির। কিন্তু হাসিনা গং এই সবে কর্ণপাত করতে নারাজ। এই বিষয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই এখন শাহবাগ বা গণ জাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি হয়েছে। এই গণ-জাগরণ মঞ্চ চায় যেন তেন ভাবে ফাসী। এটা সভ্য জগতে কল্পনাই করা যায় না যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যথাযথ স্বাক্ষী প্রমাণ ছাড়া কাউকে ফাসী দেওয়া হয়। আর শুধু তাই নয় দেশের সংবিধান হতে "রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম" বাতিল এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার দাবী আলীগের মোনাফেক ও ভারতপন্থীদের সুরেরই প্রতিধ্বনি।
    তাই আপনার পোষ্টের সাথে সহমত যে দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে দেশের ৯০% মানুষের ধর্ম ইসলামী মূল্যবোধকে ধ্বংস করে দেওয়া। দেশকে ১৯৪৭ সালের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে না নিলেও চিরতের ভারতের গোলাম করে রাখা এই শাহবাগী নেতাদের কুমতলব। এই নিয়ে সেই ২০০৫ হতেই আশংকা করে আসছি। সদালাপে এই নিয়ে আমার "তাবেদারদের অস্থিরতা ও গত্রদাহ কেন…" শিরোণামে তিন পর্বের পোষ্ট।
    একটা কথা বলব আমরা জানি না ইসলামী মূল্যবোধ বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীরা এই লড়াইয়ে জয়ী হব কিনা! তবে বিনা চ্যালেঞ্জ বা বিনা প্রতিবাদে ইসলাম বিদ্বেষী-ভারতীয় আধিপত্যবাদীদেরকে ছেড়ে দিব না। আজকে হাসিনা গং পুনরায় জিতলেই ইসলামী মূল্যবোধ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ পরাজিত হবে এমন মনে করার কারণ নাই। সংগ্রাম চলবেই!
    অনেক ধন্যবাদ মহিউদ্দিন ভাই।
     

    1. 4.1
      মহিউদ্দিন

      @ কামাল ভাই,
      ধন্যবাদ সময় নিয়ে দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য।
      আপনি দেশের বর্তমান রাজনীতির ষড়যন্ত্রের মুখোশ খুলে দিয়েছেন। 
      যাক বটম লাইন হল আপনি যা বলেছেন:

      একটা কথা বলব আমরা জানি না ইসলামী মূল্যবোধ বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীরা এই লড়াইয়ে জয়ী হব কিনা! তবে বিনা চ্যালেঞ্জ বা বিনা প্রতিবাদে ইসলাম বিদ্বেষী-ভারতীয় আধিপত্যবাদীদেরকে ছেড়ে দিব না। ……………….. ইসলামী মূল্যবোধ ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ পরাজিত হবে এমন মনে করার কারণ নাই। সংগ্রাম চলবেই!

      ইনশাল্লাহ।
       
       

  28. 3
    নির্ভীক আস্তিক

    সদালাপে আমি নিয়মিত পোষ্ট পড়ি। গত ২ মাসের প্রায় সকল পোষ্টই পড়েছি। সমসাময়িক সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রেক্ষিতে অসংখ্য পোষ্ট সদালাপে এসেছে । এবং আশে পাশে বিভিন্ন মানুষদের সাথে আলোচনা করে যে তিনটি পক্ষ আমি দেখতে পেরেছি।

    ১। শাহবাগ গণজাগরণের সকল দাবি যার সাথে বামপন্থি সমর্থিত দাবিগুলো রয়েছে- তার পক্ষে
    ২। শাহবাগ গণজাগরণের সকল দাবির বিপক্ষে।
    ৩। উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে যুদ্ধাপরাধের শাস্তি এবং তাদের নেতৃত্বাধীন (জামাত-শিবির) দলগুলোকে নিষিদ্ধ সাথে সংশ্লিষ্ট দাবি গুলোর পক্ষে এবং ধর্ম রাজনীতি নিষিদ্ধকরন, প্রচার মাধ্যম নিষিদ্ধ করন এমনকি ইসলামি ব্যাংক নিষিদ্ধকরণের বিপক্ষে (ইসলামী ব্যাংক নিষিদ্ধ করনের বিপক্ষে থাকার যুক্তিগুলো আমার কাছে গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে)।    

    দেশ এখন স্পষ্টত দু ভাগে বিভক্ত এক পক্ষে দেশ প্রেমিক জাতীয়তাবাদী আর অন্য পক্ষে আছে আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী, ইসলাম বিদ্ধেষী নাস্তিক ও মুনাফিক গুষ্টি। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় দেশে চলছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফির ও মুনাফিকের যুদ্ধ। আর যার ভিতরে ইমান আছে সে এ কথাকে জামাতী প্রপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিতে পারে না।

    কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি এখানে তিনটি পক্ষ । আমার কাছে তৃতীয় পক্ষ বেশি গ্রহনযোগ্য। এবং আমি নিজে শাহবাগের ময়দানে দাড়িয়ে থেকে যা বুঝতে পেরেছি এই তৃতীয় ধারার মানুষের সংখ্যা বেশি । নাস্তিকদের মৌলবাদী দর্শনের কারনে তাদের অবস্থান নিয়ে আমি মোটেও আশাবাদী নই।  এখন আপনার অনুসিদ্ধান্ত অনুযায়ী  এই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষরা মুনাফিক আর আমিতো বটেই।

    আপনার মুনাফিক বিষয়ক বর্ণনায় আপনি যে শব্দটি বোল্ড করেছেন তা হল-

    অন্যায় অবিচার বা বাড়াবড়ি করাকে কোন অন্যায় মনে করে না।

    অন্যায় অবিচার কোনগুলো ? যাদের বিরুদ্ধে চাক্ষুস প্রমান থাকার পর মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে তাদের বিচার টি আপনার কাছে অবিচার কেন?  আর যদি তা না হয়, তাহলে শাস্তিপ্রাপ্ত সকলের নাম ধরে কার কার দন্ডাদেশ আপনার কাছে সুবিচার আর কার কার টি অবিচার মনে হয়েছে সুস্পষ্ট ভাবে বলার অনুরোধ রইল।  এরপর ঠিক করা যাবে কোনটি বাড়াবাড়ি--  এই বিচার নাকি আপনার অতি সরলীকরন মন্তব্য।  

    এরপর দীর্ঘক্ষণ মুনাফিক এর মুমিনের পরব শেষ করে আসলাম এই জায়গাটিতে

    এখন এদের সবচেয়ে বড় পুঁজি একাত্তরে ভারতীয় সৈন্যের কাছে আত্মসর্ম্পনের আগে পাকিস্তানি সৈন্যদের বাঙ্গলি হত্যার সাথে কথিত সহযোগীদের তথা রাজাকারদের কৃত অপরাধের বিচার। তবে রাজাকারদের বিচার যে হয়নি তা নয় বঙ্গবন্ধুর সময়েও হয়েছে এবং ওনি সাধারন ক্ষমাও ঘোষণা করেছিলেন কিন্তু যে হেতু  অনেকে মনে করেন সব রাজাকারকে শাস্তি দেয়া সম্ভব হয় নাই তাই দাবী হচ্ছে দেরীতে হলেও বাকিদের বিচার হউক। কিন্তু এ বিচারকে স্বচ্ছভাবে না করে বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করন করে একটি শুভ কাজকে নষ্ট করার ভুলে দেশে বিদেশে প্রতিবাদ ও আপত্তির যে ঝড় উঠেছে তা অস্বীকার করা যায় না।

    কথিত সহযোগী নাকি দলিলাদি হিসেবে অংশিদারী ? বাঙ্গালি মুসলমান আর হিন্দু নিধন করার সময় তাদের সহযগীতা কি সবক্ষেত্রেই শাহাদত আঙ্গুলি দিয়ে  ভারতীয় দালালদের আর অর্ধ ইমানদার মুসলামানদের  চিহ্নিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল ? যদি তারা সহযগীতা করার সময় আর একটু বেশি সহযোগীতা করার নামে হত্যাযজ্ঞ করে থাকে তাহলে তারা শোষক পাকিস্তানদের কৃত অপরাধের অংশিদারী, নিছক সহযোগী নয়।
     

    দুর্ভাগ্য হচ্ছে দেশরে সাধারন মানুষকে  দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহ সংশয়ে ডুবিয়ে রাখছে বাংলাদেশের ভিতরে মেইন স্ট্রিম মিডিয়া যা প্রচন্ডভাবে প্রভাবিত বিশেষ একটি মহল দ্বারা তাই তাদের কাছ থেকে নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া কঠিন। জামাতকে ভিলেন বানিয়ে তারা তাদের আসল এজেন্ডা হাছিল করতে চায়। তাদের কথা হল “ হয় আমাদের দলে না হয় ওদের দলে” অর্থাৎ তখন "তুমি  স্বাধীনতার বিপক্ষে ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিপক্ষে!"

    জামাতকে ভিলেন বানানোর ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব activity কম ভূমিকা রাখছে কোথায় ? চিহ্নিত রাজাকারদের তারা মজলুম ডাকছে, যেসকল বিচার সাধারন মুসলিমদের কাছে গ্রহনযোগ্য সেগুলোর তারা ঘোরতর বিরোধিতা করছে, এমনকি এই মুসলমানদের মুনাফিক-নাস্তিক ডাকছে। রাজনীতির অতি উচ্ছেসে সংক্ষ্যা লঘুদের উপর অত্যাচার করে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টির মাধ্যেমে   ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। কেন ? তারা ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী সমালোচিত এবং বিতর্কিত এসকল নেতাদের পরিত্যাগ করেনি কেন ? তাদের মুসলমান হয়ে একটি নতুন পরিমার্জিত এবং আমাদের মত সর্বসাধারন মুসলমানদের কাছে গ্রহনযোগ্য ইসলামের পরিষ্কার ম্যান্ডাটা সামনে রেখে রাজনীতি করতে এত আপত্তি কিসের?

    পরিশেষে বলতে চাইছি, শাহবাগের আমি একজন সক্রিয় অংশগ্রহনকারী । কিন্তু তাই বলে রাজীব কে আমি শহিদ খেতাপ দেই নি । শাহবাগের বামপন্থিদের চোখ দিয়ে দেখা রাজনৈতিক দর্শনেরও সমালোচনা করেছি, বিপক্ষে কথা বলেছি।  প্রকৃতপক্ষে মৌলবাদী নাস্তিকদের উগ্র কাজকারবারগুলো আওয়ামিলীগ সরকারের অস্বীকার এবং তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করার ব্যাপারটি হতাশাজনক। আমি এটাও শিকার করি যে জামাত শিবির দের প্রতি গনহারে বিদ্বেষ পরায়ন মনোভাব কোন সুফল বয়ে আনবেনা। তাদেরকে আত্নসুদ্ধি হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তাদেরকে মুসলমান হিসেবেই ন্যায়বিচারের প্রতি অবস্থান নিয়ে আমাদের সাথে যোগ দেয়ার জন্য আহবান করতে হবে। আমার কাছে কোণ কিছুরি যাচ্ছেতাই বিশ্লেষন অগ্রহনযোগ্য। তা যেমন কিছু উগ্র মুসলমানদের দ্বারা বাকি সকলকে একতরফা মুনাফিক-নাস্তিক  উপাধি দেয়ার বেলায়, ঠিক তেমনি কিছু উগ্র বামপন্থি আর নাস্তিকদের দ্বারা বাকি সকলকে রাজাকার উপাধি দেয়ার বেলায় ।

    1. 3.1
      মহিউদ্দিন

      @
      নির্ভীক আস্তিক ভাই,
      আপনার দীর্ঘ শেষের অংশে আমিও সম্পূর্ণ একমত। তাই শুধু প্রথম অংশের উপর প্রতিমন্তব্য করতে যাচ্ছি। প্রথম কথা হল চলতি ঘটনা প্রবাহে আমরা যা দেখি অন্যদেরকে সেই বিষয়গুলোকে যেভাবে কথা বলতে দেখি সেই আলোকেই অনেক সময় নিজেরাও নিজেদের চিন্তার সমন্বয় ঘটাই। আমাদের দেখাতে পার্থক্য থাকতে পারে –এটা স্বীকার করতেই হবে।
      আমিও আপনার মত প্রত্যেহ সংবাদ পড়ি টিভিসহ সব মিডিয়া দেখি। শাহবাগ যেদিন শুরু হয় আমিও তখন ঢাকায় ছিলাম।
       আমার নিবন্ধে আমি ইসলাম বিদ্বেষ, নাস্তিক্যবাদ, ধর্মবিদ্বেষ এবং ত্রুটিপূর্ণ বিচার নিয়ে জনমতে যে প্রতিক্রিয়া দেখছি তা নিয়ে লিখেছি। এবং এই প্রেক্ষিতেই জনমতের বিভক্তি নিয়ে আলোচনা করেছি। জামাতের ব্যাপারে অনেক দলের অনেক মত রয়েছে কিন্তু উল্লেখিত বিষয়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দলগুলোতে যেমন জামাত, বিএনপি, খেলাফত মজলিশ, হেফাজতে ইসলাম ইত্যাদি সবাই এক পক্ষে, এমনকি এরশাদের দলসহ। শাবাগীদের ব্যাপারে ঐ দলগুলো একত্রে তাদের কার্যক্রমের ভিত্তিতে প্রতীকী অর্থে কুফুরী প্রয়োগ করেছেন। এটা আমার ব্যাখ্যা/বিভাজন নয়, এটা আলেমাসহ উল্লেখিত রাজনৈতিক দলও এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং এখনো করে যাচ্ছেন। কিন্তু সকল স্থানে ও সকল আন্দোলনে দলের বাইরে কিছু বিচ্ছিন্ন লোকও থাকে। শাহবাগে এমন লোকজনও ছিল। (আপনার মত আরও অনেক থাকতে পারেন।) কিন্তু যারা প্রকাশ্যে কর্মকাণ্ড দেখিয়েছে, বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছে, generalisation তাদের আঙ্গিকেই এসেছে এবং এটা এভাবেই হয়। আল্লাহ অনেক জনপদকে ধ্বংস করেছিলেন, সেখানে ভাল লোকও ছিল। শাহবাগে ইসলামী রঙ ঢালতে মাওলানা ফরিদী একজনকে (তার সাঙ্গপাঙ্গসহ) আমদানি করা হয়। এই ব্যক্তি, মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী,একজন প্রাক্তন সন্ত্রাসী এবং কয়েকদিনের মধ্যেই মিথ্যাবাদী দেহারা ও বৈশিষ্ট্য প্রামাণিক হয়ে এবং সাথে সাথে তার নিকৃষ্ট জামাত-বিদ্বেষও নগ্ন হয়। অতঃপর তাকে তার ল্যাজ গুটিয়ে লজ্জিত ও লাঞ্ছিতভাবে শান্ত হয়েছেন। আমি এক্ষত্রে কোন specificity নির্ধারণ করতে যাই নি। আপনি যদি শাহবাগী কোন দলের হয়ে গিয়ে থাকেন, (অর্থাৎ তৃতীয় কোন দলের হয়ে থাকেন), তবে বলতে পারেন ‘আমি অমুক দলের’।. এটা জানতে পারলেই ভাল। আমি কিন্তু নাস্তিক্যবাদ, বিদ্বেষ ও ধর্ম বিরোধী কার্য কলাপের ব্যাপারে প্রচলিত কথাবার্তা যেভাবে আসছে এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীকে যেভাবে দেখছি সেভাবে উল্লেখ করছি। বহির্বিশ্বেও কিছু বাঙালী শাহবাগকে সমর্থ দিয়েছেন, এদের মধ্যেও সেই বিভাজন কাজ করতে দেখা যায়, (বিচ্ছিন্ন লোকজনসহ), আর বিচ্ছিন্ন লোকজন আমার সেই দেখাতে এবং সেই বিভক্তিতে ধর্তব্য নন। আলেম ওলামারাও তা বিবেচনায় নেননি। তবে আপনার দ্বিমত থাকাতে কোন অসুবিধা দেখছি না, প্রত্যেকেই তো যার যার দেখার আলোকেই ঘটনাবলি বিবেচনা করে থাকেন।
       

      অন্যায় অবিচার কোনগুলো ? যাদের বিরুদ্ধে চাক্ষুস প্রমান থাকার পর মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে তাদের বিচার টি আপনার কাছে অবিচার কেন?

       
      বিচার হচ্ছে বিষয়টির অন্য একটি দিক। আপনি যাদের ব্যাপারে চাক্ষুষ প্রমাণের কথা বলেছেন, সে কথাতে আ’লীগ পক্ষ, নাস্তিক পক্ষ, কমিনিস্টপক্ষ ছাড়া বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বত্র প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এখানে প্রথমে উল্লেখিত শ্রেণীর মতে বিচার ঠিক হচ্ছে কিন্তু তারাও আবার রায় পাল্টাতে চাচ্ছেন, অর্থাৎ বিচার মানি তবে রায় আমাদের ইচ্ছেমত হোক -‘তাল-গাছ’ আমাদের চাইই। এটাই তাদের বিচার।
      দ্বিতীয় শ্রেণিতে যারা আছেন যারা তারা এই বিচার ত্রুটিপূর্ণ বলছেন এবং ত্রুটিমুক্ত বিচারই চাচ্ছেন, এখানে আমার জানা মতে তৃতীয় দল নেই।
      জামাতকে ব্যান করার পক্ষেও উল্লেখিত দলগুলো ছাড়া বিশ্বে তাদের কোন সমর্থন নেই এবং তাদের যুক্তি অত্যন্ত খোঁড়ও। তারা ব্যর্থ হবে, এটা প্রায় নিশ্চিত, কারণ বিদ্বেষ ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে কিছুই হাসিল হয় না।এই ব্যানের প্রশ্নেও তৃতীয় কোন মতের স্থান দেখা যাচ্ছে না।
       
      আগেই বলেছি শেষাংশের সাথে আমি একমত। তাই বলার কিছু নেই। আপনার  মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  29. 2
    শাহবাজ নজরুল

    দেশ এখন স্পষ্টত দু ভাগে বিভক্ত এক পক্ষে দেশ প্রেমিক জাতীয়তাবাদী আর অন্য পক্ষে আছে আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী, ইসলাম বিদ্ধেষী নাস্তিক ও মুনাফিক গুষ্টি। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় দেশে চলছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফির ও মুনাফিকের যুদ্ধ।

     
    এমন বাজে পার্টিস্যান লাইন আপনার হাত থেকে আসতে পারে ভাবিনি। হতাশ হলাম -- আর একই সাথে নিন্দা জানালাম।

    আসল কথা হচ্ছে দেশকে দু'ভাগে ভাগের ব্যবস্থা করছে দু'দিকেরই উগ্রপন্থীরা (অবশ্য জামাত সাইডে আলাদা করে উগ্রপন্থী বলে ট্যাগ করা বোধহয় ঠিক না -- কেননা, আমার মতে জামাত মানেই বাই-ডিফল্ট প্রতারক ও উগ্রপন্থী )। উদ্দেশ্য নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন। কিন্তু দেশে আছে বিশাল তৃতীয় অংশ -- এরাই সংখ্যা গরিষ্ঠ ও তারা এই দুই এক্সট্রিম গোষ্ঠীর কারুর সাথেই নেই।

    প্রথম এই দুই লাইন পড়ে বুঝে গেছি কি বলতে চাইছেন। আর পড়তে পারলাম না বলে দুঃখিত।

    --শাহবাজ

    1. 2.1
      সরোয়ার

      আসল কথা হচ্ছে দেশকে দু'ভাগে ভাগের ব্যবস্থা করছে দু'দিকেরই উগ্রপন্থীরা (অবশ্য জামাত সাইডে আলাদা করে উগ্রপন্থী বলে ট্যাগ করা বোধহয় ঠিক না -- কেননা, আমার মতে জামাত মানেই বাই-ডিফল্ট প্রতারক ও উগ্রপন্থী )। উদ্দেশ্য নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন। কিন্তু দেশে আছে বিশাল তৃতীয় অংশ — এরাই সংখ্যা গরিষ্ঠ ও তারা এই দুই এক্সট্রিম গোষ্ঠীর কারুর সাথেই নেই।

      সহমত

    2. 2.2
      মহিউদ্দিন

      @ শাহবাজ নজরুল Bhai
      বর্তমান এই যুদ্ধে কাফির মোনাফিকদের বিরোদ্ধে সবাই একমত, শুধু জামাত নয়। আপনার জামাত-বিদ্বেষী ঢালাও মন্তব্যে ইসলামী জনতার কোন দল আছে আমি জানি না। আপনি কোন দল বা সম্প্রদায়ের কথা সেটা একটু খুলে বললে ভাল হত। আজ বিভক্তির কথা সব সংবাদ মাধ্যমই প্রকাশ্যে বলে যাচ্ছে, এটা গোপনীয় কিছু নয়। হেফাজতে ইসলামসহ গোটা জনগণ আজ এক সাথে।
      সারা দেশের ভাল লোক যখন মুসলমানদের ঐক্যের কথা বলছে, তখন আপনার এই জামাত-বিদ্বেষী মন্তব্য আপনার arroganceই প্রকাশ করল। আপনি যে ধারণা পোষণ করেন তা দেখতে পেয়ে আপনার ব্যাপারে আমার ধারণা পরিবর্তিত হল। আপনার এই নিন্দনীয় জামাত-বিদ্বেষ নিয়ে আপনি থাকুন, আমি সব মুসলিম দলের ঐক্যের বিশ্বাসী। তবে খেলাফতে মজলিস, হেফাজতে ইসলাম এগুলোর বাইরে আপনার সেই সঠিক দল বা সম্প্রদায়ের নামটি কি যাদের ব্যাপারে জানতে উপকৃত হতে পারি।

      1. 2.2.1
        শাহবাজ নজরুল

        আপনার জামাত-বিদ্বেষী ঢালাও মন্তব্যে ইসলামী জনতার কোন দল আছে আমি জানি না। আপনি কোন দল বা সম্প্রদায়ের কথা সেটা একটু খুলে বললে ভাল হত।

        আমার দল হচ্ছে কোরান ও সুন্নাহ। আমার পথ হচ্ছে রাসুল (স.) এর দেখানো পথ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন দল বাংলাদেশে নেই। তবে যে সমস্ত ইসলামী ধারার দল আছে তার মধ্যে জামাত হচ্ছে নিকৃষ্টতম।

        আমি সত্যের পক্ষে আছি। সেটাই আমার দল। আর দু:খ জনকহলেও সত্যি -- পুরো সত্যির পক্ষে এখন প্রথাগত দলের কেউই নেই। তাই আমি কারুর সাথেই নেই। আমি আছি সত্যের সাথে -- সে সত্য কথাটি যে দলই বা যে মানুষই বলুক না কেন (2.42)।

        আজ বিভক্তির কথা সব সংবাদ মাধ্যমই প্রকাশ্যে বলে যাচ্ছে, এটা গোপনীয় কিছু নয়।

        সত্যের উপর দাড়ালে বিভক্তি প্রকট হতোনা -- কিংবা বিভক্তি থাকলেও তা হতো গণতান্ত্রিক মতামত ও আদর্শগত বিভক্তি। কিন্তু এখন সবাই আছে জুলুম নিয়ে। যে যেভাবে পারছে অনৈতিক ভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টায় আছে। সত্যের উপর মূল ধারার দলের কেউই নেই। তাই আমি কারুর সাথেই নেই। আমি আছি আমার আল্লাহ আর রাসুলের সাথেই।

        সারা দেশের ভাল লোক যখন মুসলমানদের ঐক্যের কথা বলছে, তখন আপনার এই জামাত-বিদ্বেষী মন্তব্য আপনার arroganceই প্রকাশ করল।আপনি যে ধারণা পোষণ করেন তা দেখতে পেয়ে আপনার ব্যাপারে আমার ধারণা পরিবর্তিত হল। আপনার এই নিন্দনীয় জামাত-বিদ্বেষ নিয়ে আপনি থাকুন, আমি সব মুসলিম দলের ঐক্যের বিশ্বাসী। তবে খেলাফতে মজলিস, হেফাজতে ইসলাম এগুলোর বাইরে আপনার সেই সঠিক দল বা সম্প্রদায়ের নামটি কি যাদের ব্যাপারে জানতে উপকৃত হতে পারি।

         এর মানে কি জামাতের পতাকাতলে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে? আমি আল্লাহর রজ্জু ধরে থাকার চেষ্টায় আছি (৩.১০৩) -- ওই রজ্জুই মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করবে -- কোনো জামাতি রজ্জু নয়। আর এই রজ্জু ধরে থাকার প্রয়াসকে যদি arrogance মনে হয় তবে আমার বলার কিছু নেই।
         
         
         
         

        1. 2.2.1.1
          মহিউদ্দিন

          @ শাহবাজ ভাই,

          আমার দল হচ্ছে কোরান ও সুন্নাহ। আমার পথ হচ্ছে রাসুল (স.) এর দেখানো পথ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন দল বাংলাদেশে নেই। তবে যে সমস্ত ইসলামী ধারার দল আছে তার মধ্যে জামাত হচ্ছে নিকৃষ্টতম।”

          তার মানে মুনাফিক নাস্তিকদের বিপক্ষে এখন যারা লড়ছে তারা কেউ including জামাত কেউ মনে হয় কোরান হাদিসের নাম শুনেনি। তাদের দলে শুনেছি বড় বড় আলেম ওলামা রয়েছেন, ওরা কি ছাই! মাফ করবেন ব্যক্তিগত আক্রমন মনে করবেননা তবে আমার মনে হয় কি আপনি যদি তাদের হেদায়তের জন্য শিক্ষকতার ভার গ্রহণ করতে পারতেন, তবে আপনার অমূল্য জ্ঞান-সম্ভার,শ্রেষ্টত্ব ও সাহসী উত্তম চরিত্রের কিছু অংশ তারা হাসিল করে "মানুষ" হতে পারত।

          আপনি কারো সাথে নন। আপনার কোনো দল নেই।  আপনি একাই এক শো, একাই এক উম্মাহ। কিন্তু আপনার এই অধিকার আছে যে আপনি arroganceদেখাতে পারবেন, কাউকে  প্রতারক, নিকৃষ্ট বলতে পারবেন। বাংলাদেশে আপনার দৃষ্টিতে ‘পুরো সত্যির পক্ষে এখন প্রথাগত দলের কেউই নেই।’

          বাহ!বাহ! বাহ!  তয় এই শূন্যস্থান আপনি ছাড়া কে পুরো করবে?
          ভাইজান, একটি জাতিতে যখন এই শূন্যতা বিরাজ করে তখন কোরান আপনাকে কি নির্দেশ দেয়? সেই আয়াত ও শিক্ষার কথা যদি আমাকে এবং দেশের বড় বড় অলামা-মাশায়েখদেরকে শুনাতেন, তবে তারা এবং আমরা সবাই আপনার কৃতজ্ঞতা-পাশে আবদ্ধ থাকতাম। এই বয়সে হয়ত আমিও আপনার শিষ্যত্ব গ্রহণ করার চিন্তা করতাম। মাশাল্লাহ,বর্তমানে শেখ-মাশায়েখ ও তাদের দলের অবস্থা যা’ই হোক,সূর্য ওঠার দেরি নেই।
          পার্টিসান বক্তব্য বুঝে ফেলার আপনার জ্ঞান মাশাল্লাহ খুব বেশি।  ধন্যবাদ।
          কথাগুলা এটু কড়া  লাগলে মাফ চাই।
           

        2. শাহবাজ নজরুল

          তার মানে মুনাফিক নাস্তিকদের বিপক্ষে এখন যারা লড়ছে তারা কেউ including জামাত কেউ মনে হয় কোরান হাদিসের নাম শুনেনি।  

           
          তার মানে কি এই দাঁড়ালো যে যুদ্ধ অপরাধীর বিচার চাওয়া মানেই হয় নাস্তিক নয় মুনাফেক?

          অন্যদের কথা আপাতত থাক -- তবে জামাত যে কেবল কোরান হাদিসের নামই শুনেছে তা একেবারে ঠিক বলেছেন। শোনার বাইরে তেমন কিছু আর করেছে বলে মনে হয়না -- কেবল কোরান হাদীস ব্যবহার করে ধর্ম ব্যবসা করা ছাড়া। না হলে কীভাবে নীরিহ মানুষকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলার কথা তারা বলে? কীভাবে তারা সাইদীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে বলে মানুষের ইমোশন এক্সপ্লয়েট করে? কোরান হাদীসে কি রেল গাড়ীতে আগুন দেয়ার কথা বলেছে?
           
           

  30. 1
    সাদাত

    শুধু প্রথম কয়েকটি লাইন পড়েই আটকে গেলাম।

    দেশ এখন স্পষ্টত দু ভাগে বিভক্ত এক পক্ষে দেশ প্রেমিক জাতীয়তাবাদী আর অন্য পক্ষে আছে আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী, ইসলাম বিদ্ধেষী নাস্তিক ও মুনাফিক গুষ্টি। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় দেশে চলছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফির ও মুনাফিকের যুদ্ধ।

    আমি এই পর্যবেক্ষণের সাথে একমত নই।
    এখন আপনার তৃতীয় লাইন অনুসারে আমার ঈমান কি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে?

    আর যার ভিতরে ইমান আছে সে এ কথাকে জামাতী প্রপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিতে পারে না।

     
     

    1. 1.1
      মহিউদ্দিন

      নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় দেশে চলছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফির ও মুনাফিকের যুদ্ধ। আর যার ভিতরে ঈমান আছে সে এ কথাকে জামাতী প্রপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিতে পারে না।”

      আপনার ঈমান প্রশ্নবিদ্ধ হবে কি না তা দেশের বর্তমান ঈমান-ইসলাম, ইসলাম বিদ্বেষ, ধর্ম-বিদ্বেষ ইত্যাদির পরিপ্রেক্ষিতগত বাস্তবতায় যা (বা যে যুদ্ধ) দেখা যাচ্ছে সেই বাস্তবতা ও যুদ্ধে আপনার অবস্থান কি সেই বিবেচনা নির্ভরশীল। আমার উপরোক্ত কথা শুনেই যদি আপনার ঈমান প্রশ্ন-বিদ্ধ হল কি না সেই চিন্তায় উপনীত হন, তাহলে আমাকে বরং বুঝতে হবে যে আমি দেশের বর্তমান বাস্তবতার যে পর্যবেক্ষন সাজিয়েছি, আপনি হয়ত তা জামাতি প্রোপাগাণ্ডা মনে করেন। আপনি যদি এটা জামাতি প্রোপাগাণ্ডা মনে করেন এবং এখান থেকেই যদি আপনার প্রশ্ন উৎসারিত হয়, তবে এমতাববস্থায় আপনার ধারণার বিষদ ব্যাখ্যা ছাড়া আমি আপনার ঈমানের খবর জানার কোন অবস্থানে নেই। ধন্যবাদ। পাঠের জন্য ধন্যবাদ।

  1. 0
    এটা সত্যিই কি অবাস্তব? » সদালাপ

    […] কিন্তু তাতে হতাশ হবার কিছুই নাই। (এ প্রসঙ্গে আমার এ নিবন্ধটি পড়তে পারেন…) আজকাল লক্ষ্য করলে দেখা যায় পৃথিবীর […]

Leave a Reply

Your email address will not be published.