«

»

Dec ০৭

ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও কিছু কথা

বর্তমান  বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং আকর্ষণীয় রাষ্ট্রনায়ক নেলসন ম্যান্ডেলা। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে  বিশ্বনেতা ও বিশিষ্টজনেরা শোক প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমুখ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।  গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জোহানেসবার্গের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিশ্ববরেণ্য এই রাজনীতিক ও বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা। বিশ্বের এমন কোন মিডিয়া নাই যে নেলসন ম্যান্ডেলা নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে না। সদালাপের পাঠকদের জন্য আমি এ বিষয়ে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে কয়েকটি কথা বলতে চাই।
আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, প্রখর রসবোধ, তিক্ততা ভুলে বৈরি প্রতিপক্ষের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়ার মত উদারতা এবং বর্ণাঢ্য ও নাটকীয় জীবন কাহিনী মিলিয়ে নেলসন ম্যান্ডেলা ছিলেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি। দীর্ঘ ২৭ বছর শ্বেতাঙ্গ নিপীড়কদের দ্বারা কারা যন্ত্রনা ভোগের পর  ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তি পান।  সেদিন কারাগারের সামনে দেয়া বক্তৃতায় নেলসন ম্যান্ডেলা তার সমর্থকদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন সেই কথা, যা তিনি তাঁর বিচারের সময় আদালতে বলেছিলেন। মান্ডেলা বলেন, এমন এক দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন দেখেন তিনি, যেখানে সব জাতি, সব বর্ণের মানুষ সমান সুযোগ নিয়ে এক সঙ্গে থাকতে পারবে। তিনি বলেন, ‘এটা এমন এক আদর্শ, যেটির আশায় আমি বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু যদি দরকার হয়, এই আদর্শের জন্য আমি মরতেও প্রস্তুত।’ বর্ণবাদের অবসানের পর ১৯৯৪ সালের ১০ মে নতুন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন নেলসন ম্যান্ডেলা।

ম্যান্ডেলার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘একজন মানুষ যা অর্জন করতে পারে ম্যান্ডেলা তার থেকেও বেশি কিছু অর্জন করেছেন। তিনি অন্যদের স্বাধীনতার জন্য নিজের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়েছেন।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘আজ তিনি চলে গেছেন এবং আমরা হারিয়েছে সবচেয়ে প্রভাবশালী, সাহসী ও সুগভীর ভালো মানুষটিকে।’
পুরনো দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে নতুন আফ্রিকা গড়ার কাজটা সহজ ছিল না। কিন্তু নেলসন ম্যান্ডেলা অতীতের তিক্ততার প্রতিশোধ নেয়ার পরিবর্তে তার সাবেক শ্বেতাঙ্গ নিপীড়কদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেন। শুরু হলো এক নতুন দক্ষিণ আফ্রিকার পথ চলা। বস্তুত ম্যান্ডেলা অতীতের তিক্ততার প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা ভুলে জাতীয় ঐক্য সুসংগত করতে ক্ষমা ও সংহতির পথে চলতে “ভুলে যাও এবং ক্ষমা কর"  তথা reconciliation এর নীতি অনুসরণ করেন এমন এক সময় যখন দক্ষিণ আফ্রিকায় কালো এবং সাদা জাতিবিদ্বেষের তিক্ততার ক্ষত বা জখম ছিল তাজা। আর সে জন্যই পৃথিবীর মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন ম্যান্ডেলা।
অবশ্য একজন এক জন মুসলিমের কাছে কিন্তু এরকম মহানুভবতার উদাহরণ নতুন কিছু নয়। আমারা জানি আজ থেকে ১৪ শত বছর আগে পৃথিবীতে এমনি এক অসাধারণ ক্ষমা ও মহানুভবতার উদাহরণ রেখে যান ইসলামের শেষ নবী মোহাম্মদ।  যে কাফিররা মাসের পর মাস তাকে বয়কট করে, তার অনুসারীদের উপর অমানুষিক অত্যাচার চালিয়ে শেষ পর্যন্ত নবী ও তাঁর অনুসারী মুসলিমদেরকে ঘর ছাড়া করেছিল, মুসলিমদেরকে হত্যা করেছিল সেই কাফিরদেরকে তিনি (স:) ক্ষমা করে দিয়েছিলেন মক্কা বিজয়ের পর।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা বলেন, “‘আমরা জানতাম যে, বিদায়ের এই দিন একদিন আসবে। কিন্তু তবুও, তার বিদায়ে আমরা যে গভীর বেদনা পেয়েছি, যে অপূরণীয় ক্ষতি আমাদের হয়েছে, তা কিছুতেই কমানো সম্ভব নয়।”

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, “পৃথিবীর একটি মহান বাতি নিভে গেছে। ম্যান্ডেলা ছিলেন আমাদের সময়ের হিরো।”

বর্ণবাদবিরোধী নেতা ডেসমন্ড টুটু বলেন,  “মাদিবা (ম্যান্ডেলা) ১৯৯০ সালে যখন জেল থেকে বের হন তখন তিনি ছিলেন মাটির নীচে মহামূল্যবান হীরার মতই নিখুঁত। তিনি রক্তের বদলা রক্ত নিতে চাননি। এর পরিবর্তে তিনি ক্ষমা ও সংহতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে অসাধারণ মহানুভবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।”

ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে বাংলাদেশে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক পালনকালে আগামীকাল শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও ভবন, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

ব্যক্তি ম্যান্ডেলাকে আজ সবাই শ্রদ্ধা করতে দেখা যাচ্ছে ঠিকই, তার মৃত্যুতে শোক বার্তা আসছে বিভিন্ন মহল থেকে কিন্তু এর মাঝে কতটুকু আসল আর কতটুকু নকল সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন? যারা আজ ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে আবেগ জড়িত সুন্দর বানী রাখছেন তাদের দেশেইবা সত্যিকার অর্থে ম্যান্ডেলের আদর্শের কতটুকু পালন করা হচ্ছে?  তা বিবেচনা করা দরকার। তখনই বুঝা যাবে কে নকল আর কে খাটি?

১৪ শত বছরের সেই মহামানবের ক্ষমার  উদাহরণ অসনুসরন করে ম্যান্ডেলা যে শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত হলেন সে সম্মান অনেকের ভাগ্যেই ঘটতে পারে যদি তারা দ্বৈতনীতি পরিত্যাগ করেন। ব্যক্তি ম্যান্ডেলা মহান হয়েছেন তার মৃত্যুতে সম্মান করা হচ্ছে ভাল কথা কিন্তু ম্যান্ডেলা যে আন্দোলনের ফসল সে আন্দোলন সম্পর্কে কেউ ভাবতে চান না এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য!

ম্যান্ডেলা  অনেকবার বলেছেন "এ পৃথিবীতে বর্ণবাদ-বিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য তখনই সাফল্য অর্জন করবে যখন ইসরাইলি অবৈধ দখল হতে ফিলিস্থানী জনগণ মুক্তি পাবে এবং তাদের প্রতি ইসরাইলি  অত্যাচার বন্ধ হবে"। কিন্তু বিশ্ব নেতাদের কেউ কি সঠিকভাবে এর প্রতিকারে বা সমাধানে এগিয়ে আসছেন? মাত্র কয়েক বছর আগেও আমেরিকার সন্ত্রাসী তালিকায় ম্যান্ডেলার নামও ছিল!
“সব জাতি, সব বর্ণের মানুষের সমান সুযোগ নিয়ে এক সঙ্গে থাকতে পারার” ম্যান্ডেলার স্বপ্নের সাউথ আফ্রিকায় আজ অতীতের শ্বেতাঙ্গ এলিটদের মত নব্য কৃষ্ণাঙ্গ এলিটদের স্বার্থ রক্ষার শাসন ব্যবস্থা থেকে কি সাধারণ মানুষ মুক্তি পেয়েছে?

আর বাংলাদেশের অবস্থার কথাই দেখেন স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও আজ চলছে স্বাধীনতার পক্ষের ও তথাকথিত বিপক্ষের যুদ্ধ চালানোর অবিরাম সংগ্রাম। চলছে ক্ষমতা আখড়ায়ে ধরার অবৈধ প্রচেষ্টা। দেশে একটি সুষ্ঠু নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জনতার দাবীকে না মানার বিপক্ষে বর্তমান প্রশাসনের কি জঘন্য অত্যাচার। আবার কখনও বলা হচ্ছে এসব দাবী নাকি স্বাধীনতা বিরুধীদের আবিস্কার! তাই আজ মহান নেতা ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে এদের শোক প্রকাশ করতে দেখলে প্রশ্ন জাগে এরা আর কতদিন মানুষকে প্রতারণা করবে, আর কত দিন চলবে এদের এ আত্ম প্রতারণা?   

আমি কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য না।  তবু নিচের ভিডিওটা দিলাম যাতে একজন মুক্তিযুদ্ধার কিছু কথা থেকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচল অবস্থার কিছুটা কারণ বুঝা সক্ষম হবে। 

[youtube=

২২ comments

Skip to comment form

  1. 9
    আহমেদ শরীফ

    সর্বাত্মক নাশকতার প্ল্যান নিয়ে জামাত শিবিরও মাঠে আছে তা বুঝতে কষ্ট হয়না। আশা করি দু'দিকের সমস্যায় ব্যালান্স করে বলবেন।

     

    'জামাত-শিবির' বলে তাদের মাঠে নামার অধিকার কি নেই ! বিএনপি নেতাদের প্রথম সারির প্রায় সব নেতাদের গ্রেপ্তারের নামে গারদে ভরে, কাউকে কাউকে গুম করে, কাউকে হত্যা করে বিরোধীদলকে নেতৃত্বশূণ্য করার যে প্রক্রিয়া চলছে তা সাবেক স্বৈরাচারও লজ্জায় আধমরা হয়ে যায়। জামাতের অন্তর্ভূক্ত কিছু নেতাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি দিতে চায় বুঝলাম _ সারা দেশে অসংখ্য জামাত-শিবিরের নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, নির্যাতন করা হচ্ছে তারাও কি 'যুদ্ধাপরাধ' এর জন্য দায়ী ? এরা কি বাংলাদেশের সন্তান নয় ? ধর্মভীরুতার কারণে বিশেষ কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী বলেই তাদের পশুর মত এভাবে হত্যা করতে হবে ? এদের দেশ ও জাতির স্বার্থে দেশের কাজে কোনভাবেই কি লাগানো যেতো না ? এভাবে তো গণতন্ত্র হয় না, জেলখানায় বর্তমানে অপরাধীদের তুলনায় জামাতশিবিরের রাজনৈতিক বন্দী বেশি।

    ভারতলীগ যা করছে প্রশাসন আর বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করে সেটাকে কি বলবেন ? 'নাশকতা' এতদিন চালিয়ে যাওয়ার পরও জনগণের স্বার্থে গোঁয়ার্তুমি বিসর্জন না দেয়া, প্রতিদিন ৮/২০/১২ জন মারা যাওয়ার পরও দাবি মেনে না নেয়ার অনমনীয়তা দেখানো কি চুড়ান্ত নাশকতা ছাড়া আর কি বলা যায় বোধগম্য হয় না। হোটেল শেরাটনের সামেন নানক-আজমের প্ল্যান অনুযায়ী বাসের ভেতর ১১ জন যাত্রীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা কি নাশকতা নয় ? হেফাজতের মত নিরস্ত্র-নিরীহদেরকে পর্যন্ত 'তান্ডবকারী' 'জঙ্গি' বানানো হয়েছে, চেতনাবাদিদের দৃষ্টিতে ভারতলীগের শত অপকর্মকে 'আন্দোলন' তকমা দিয়ে যাওয়া অচেতন বুদ্ধিবেশ্যারা ভারতলীগের বিরোধীদের পাইকারি হারে 'জঙ্গি' 'তালিবান' 'মৌলবাদি সন্ত্রাসী' বানিয়ে তাদের ব্যপক হারে হত্যা করার নীলনকশা আঁটছে। যেখানে শক্ত আঘাত না করলে নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে সেরকম দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়াদের করণীয় আর কি থাকতে পারে ? সরকার যদি দেশপ্রেমিক হত, গণমানুষের সরকার হত তাহলে এরকম সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধ আরম্ভ করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে কিছু স্বার্থন্বেষী লোকের ক্ষমতায় থাকার সিঁড়ি হিসেবে কিছুতেই ব্যবহার করতে দিত না।

    1. 9.1
      মহিউদ্দিন

      "ভারতলীগ"! শব্দ চয়নে আপনার সৃজনশীলতার প্রশংসা না করে পারলামনা।

       

    2. 9.2
      শাহবাজ নজরুল

      আপনার কথাটা পুরোপুরি মেনে নিয়েই বললাম -- সব কিছুর জন্যে সরকার দায়ী -- কিন্তু তা বলে প্রতিবাদের নামে সাধারণ জনগণ পুড়িয়ে মেরে ফেলতে হবে, যেমন খুশি তেমন ভাবেই যত্র তত্র আগুন দিতে হবে? অনন্তকাল হরতাল অবরোধ দিয়ে দেশের সমস্ত কাজকারবার পড়াশুনা, অফিস আদালত বন্ধ করে দিতে হবে? রেলের ফিস প্লেট খুলে ফেলতে হবে যাতে  arbitrarily লোকজন মারা যায়? আপনার দেয়া লিস্টির অপরাধ্গুলোতে আপনারই দেয়া স্বীকৃতি মতে লিগ করেছে -- তাহলে সাধারণ জনগনকে কেন ভুগতে হবে, মরতে হবে, পুরতে হবে? সাধারণ জনগণ কি গুম, ধর-পাকড় আর রাজনৈতিক হত্যাকান্ড করেছে?

       

  2. 8
    আহমেদ শরীফ

    ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে চেতনাবাদিদের 'শোক' আর মাছের মার পুত্রশোক একই কথা। ম্যান্ডেলার আদর্শের ছিঁটেফোঁটাও তারা মনমানসে গ্রহণ করতে পারেনি। করতে পারলে 'বিরোধিতা জন্যই বিরোধিতা' র বিরামহীন মনোবৈকল্য থেকে আরোগ্য হয়ে সবাইকে নিয়ে দেশের কাজ এগিয়ে নেয়ার কথা ভাবত। ম্যান্ডেলরা শেষকৃত্যে না রাজনৈতিক মতলববাজির কারণে রাষ্ট্রপতিকে অনাবশ্যকভাবে সপ্তাখানেক আগেই জন্য সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে আজ যে সাংবিধানিক স্বৈরাচার শুরু হয়েছে তাতে এরশাদের 'বিশ্ববেহায়া' টাইটেল খোয়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকার জন্য কাতারে কাতারে মানুষ খুন যারা স্বাভাবিকভাবে করতে পারে সেই গোষ্ঠির পক্ষ থেকে ম্যান্ডেলরার মত নেতার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করা ম্যান্ডেলার মরণোত্তর অবমাননার নামান্তর।

    1. 8.1
      শাহবাজ নজরুল

      কাতারে কাতার লোক একদিক থেকে মরছে না। সর্বাত্মক নাশকতার প্ল্যান নিয়ে জামাত শিবিরও মাঠে আছে তা বুঝতে কষ্ট হয়না। আশা করি দু'দিকের সমস্যায় ব্যালান্স করে বলবেন। সংবিধানের দোহাই দেয়া আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দোহাই দেয়া একই কথা। দু'পক্ষ থেকে দু রকমের দাবি আছে। এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া যেতে পারে। তবে জামাতের উপর ভর না করে বিএনপি যদি প্রথমেই সর্বদলীয় সরকারে যোগ দিত, তাহলে সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী তারা পার হতে পারত -- আর শয়ে শয়ে নিরীহ লোককে অকারণে মারাও পড়তে হত না। 'নির্বাহীর ভূমিকায় থেকে নির্বাচনকে প্রভাবিত করে ফলাফল বের করা হবে' -- এই অলিক যুক্তির ছায়ার সাথে যুদ্ধ করে বোকারা; নির্বাচনের ব্যবস্থা এখন যে অবস্থাতে এসেছে সেখান থেকে ইঞ্জিনিয়ারড ফল বের করা প্রায় অসম্ভব। লিগ আর বিম্পি দু'জনেই দু'সময়ে অর্বাচিনের মত কাজ করেছে। লিগ করেছে হেফাজতের সাথে শত্রুতা করে -- আর বিএনপি করেছে জামাতের সাথে আমরণ বন্ধুত্ব করে। মাঝখানে ধরা খেল আম জনতা, দেশ, জাতি।

    2. 8.2
      মহিউদ্দিন

      আহমেদ শরীফ ভাই আপনি ঠিকই বলেছেন। চেতনাবাদিদের 'শোক' আর মাছের মার পুত্রশোক একই কথা। ম্যান্ডেলার আদর্শের ছিঁটেফোঁটাও তারা মনমানসে গ্রহণ করতে পারেনি

      আসলে শাহবাজ ভাই যেভাবে বলেছেন "চেতনার স্বত্বাধিকারীদের একচ্ছত্র সোল্ এজেন্সি খুলতে বিএনপি সাহায্য করেছে"  তা ঠিক নয় বরং চেতনার ফেরিওয়ালারা স্নায়ু যুদ্ধের পরাজিত রাজনৈতিক দেউলিয়া ওদের কাছে বেলকিবাজী ছাড়া অন্য কোন রাস্তা নাই। তারা এখন আধিপত্যবাদীর বেতনভূক্ত।

      অনেকে বলেন উপমহাদেশে ব্রামাণ্যবাদের আধিপত্য বিস্তারের সাম্রাজ্য গড়তে চলে আসছে স্নায়ু যুদ্ধ সেই ১৯৪৭ সাল থেকে আর তখন থেকেই সে যুদ্ধটি চালানো হচ্ছিল বাঙ্গালীর চেতনা রাজ্যে।  সে যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ধ্বংস। আর এখন লক্ষ্য, বাংলাদেশ দখল। তবে গোলাবারুদ ব্যবহার করে দেশের ভূমি দখল করার আগে দখল প্রয়োজন শিকারি দেশের জনগণের মনের ভূগোল। পরাজিত নাগরিকগণ তখন মানসিক গোলামে পরিণত হয়। এরাই হচ্ছে এই চেতনার ফেরিওয়ালা। সেই চেতনায় উজ্জীবিত হয়েই এরা এখন ভারতীয় সুজাতা সিং কে এদেশে ডেকে আগামী নির্বাচনে বাঙ্গালীর কি করতে হবে তার শিক্ষা দিতে চায়।

      1. 8.2.1
        শাহবাজ নজরুল

        মহি ভাই আপনার সাথে তর্ক-বিতর্ক হতে পারে তবে আপনার অকপটতাকে পছন্দ করি। এই লাইনের

         সে যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ধ্বংস।

        মাধ্যমে বুঝি যে  বাংলাদেশের অভ্যুদ্যয় হওয়াটাই আপনার মনোকষ্টের মূল কারণ। অকপট ভাবে তা স্বীকার করার জন্যে ধন্যবাদ।

         

        1. 8.2.1.1
          মহিউদ্দিন

          ~~বাংলাদেশের অভ্যুদ্যয় হওয়াটাই আপনার মনোকষ্টের মূল কারণ। অকপট ভাবে তা স্বীকার করার জন্যে ধন্যবাদ।

          এটাকেই বলে "putting own words in someone's mouth".

          বুঝার চেষ্টা করুন এখানে বক্তব্যের কনটেক্ট কি ছিল? ~~অনেকে বলেন উপমহাদেশে ব্রামাণ্যবাদের আধিপত্য বিস্তারের সাম্রাজ্য গড়তে চলে আসছে স্নায়ু যুদ্ধ সেই ১৯৪৭ সাল থেকে আর তখন থেকেই সে যুদ্ধটি চালানো হচ্ছিল বাঙ্গালীর চেতনা রাজ্যে।  সে যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ধ্বংস। আমাদেরকে স্বাধীনতা অর্জন করিয়ে দিতে নয়। আপনি আর "চেতনার ব্যবসায়ীদের" মাঝে তফাৎ কি রাখলেন?

           

           

           

  3. 7
    মহিউদ্দিন

    @~~শাহবাজ নজরুল

    শাহবাজ ভাই,
    এই মাত্র এম আহমেদ ভাইয়ের মন্তব্য পড়লাম একটু খেয়াল করে পড়েন অপনার অনেক প্রশ্নের  উত্তর এসে গেছে। তাই আমি আর সময় নষ্ট করতে চাই না।

    দেখুন ভাই,  আপনি যা বলছেন এসব  কথা বার বার বলতে হবে কেন? লোকালদের বিচার করা যাবে না, এমন কথা কী কেউ বলেছে? দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল তখন অনেকের নামে থানায় কেইস ছিল  তারা জেলে গেছে শাস্তী হয়েছে কিন্তু এখন যে জামাতিদের বিচার আজ হচ্ছে তাদের কারো নাম ছিল না বা তারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত ছিল বলে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারের কোন তালিকায়ও প্রকাশ করেনি যে এরা পলাতক। এত বড় মানবতা বিরোধী অপরাধ এরা করল অথচ তাদের বিরুদ্ধে কেউ নালিশ করল না? তার মানে এখন কয়েকজন জামাতি নেতাকে ধরে এনে ফাঁসী দিলেই কী 'লোকাল বিচার'? এখানে প্রশ্ন হচ্ছে বিচারের 'পদ্ধতি, প্রক্রিয়া, নিরপেক্ষতা'। এসব কথা কি আমরা চিরদিন আলোচনা করতে হবে? 

    আপনি যদি মনে করেন জামাতিরা যুদ্ধাপরাধী এবং এই বিচার যেভাবে হচ্ছে তা সঠিক তাহলে আপনার মত নিয়ে আপনি থাকুন। আমার মত আমি ব্লগে ব্যক্ত করেছি অনেকবার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার পক্ষে আমি যে আছি সে কথাও বলেছি।

    আর বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গর্ব করতে দেখেন না -এই কথার অর্থ কি আমি বুঝতে পারি নি। তারা কি কি কাজ করলে আপনার মতে প্রকাশ হবে 'গর্ব প্রকাশ'? একটু পরিষ্কার করেন আপনি কোন দলের কাছে গর্ব-প্রকাশ দেখেন?

    1. 7.1
      শাহবাজ নজরুল

      আপনি উত্তর দিলেন না মহি ভাই। বিএনপি যে বলেছে তারা ক্ষমতায় এলে 'মানবতা বিরোধীদের' বিচার করবে -- এই মানবতা বিরোধীদের অন্তত একটার নাম আপনি বলুন যার বিরুদ্ধে বিএনপি চার্জ গঠন করবে। আমি বিএনপির কাছ থেকে এমন কারুর নাম অফিসিয়ালি শুনিনি। আপনি শুনেছেন কি? নাকি এই ওয়াদাও কেবল মুখের কথা -- যা প্রথম দিনই ভংগ করা হবে?

      1. 7.1.1
        মহিউদ্দিন

        উত্তর তো আপনিই দেননি। আপনার মুক্তিযুদ্ধের গর্ব-প্রকাশক দল কোনটি? কোন কোন কাজ করলে আপনার কাছে তা ‘গর্ব’ প্রকাশ হচ্ছে বলে স্থান পাবে?

        আপনাকে এখন বিএনপির ভবিষ্যতের যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কথা বলতে হবে কেন?  বিএনপির যুদ্ধাপরাধের বিচার করবে বলে কি কিছু বললাম নাকি?

        আপনি বলছেন,‘বিএনপি যে বলেছে তারা ক্ষমতায় এলে বিচার করবে …ইত্যাদি’ কিন্তু তারা কি ক্ষমতায় এসেছে?  না বলেছে যে আধিপত্য-বাদীর তাবেদার ফ্যসিষ্টদের মত কি  দেশীয় আদালত করে ভুয়া আন্তর্জাতিক নাম দিয়ে আদালতি প্রসেস তৈরির আগেই যার-তার নাম ঘোষণা করবে, ডিউ প্রসেস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই কিছু লোকের বিরুদ্ধে বিনা তদন্তে চার্জশীট তৈরি করবে?

        ভাই শাহবাজ, এসব বিষয় নিয়ে আমার বিতর্ক করতে এখন ইচ্ছে করছে না। আপনার লোকাল যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারে’ যা হচ্ছে তাতে যদি আপনি সন্তুষ্ট থাকেন তবে আর কি কোনো কথা বাকী থাকে? যুদ্ধাপরাধী কারা তা তো আগেই চিহ্নিত করে ফেলেছেন তাছাড়া তথাকথিত ‘যুদ্ধাপরাধীদের’ যদি  মেরেই ফেলা হয় তবে বিএনপি আর কীসের বিচার করবে? আপনার কাছে কোন লিস্ট থাকলে জানাতে পারেন।

        প্রকল্পিত তথা hypothetical প্রশ্নের উত্তর দেয়ার দরকার নাই। তবে হ্যাঁ, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রথমেই যে সব প্রতারিত বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে -যেটি রাজনৈতিক বিদ্বেষ প্রসূত ও বিদেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য পরিচালিত হয়েছে বলে প্রমাণিত হচ্ছে যা তারা আকারে ইঙ্গিতে বলেছে, সেটির উপর তদন্ত করবে। আদালতকে প্রথমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে এবং অবশিষ্ট বিচারকে (যদি থেকে থাকে) ফ্যাসিবাদ মুক্ত করে স্বচ্ছ ও গ্রহণীয় রূপ দেবে যাতে বর্তমানের লজ্জা ও কলঙ্ক থেকে দেশ ও জাতি মুক্তি পায়।

        তবে আমরা অবশ্যই আশা করব, বিএনপি যাতে আধিপত্যবাদীর তাবেদার ফ্যসিষ্টদের মত কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি তথা vendetta-এর রাজনীতির নর্দমায় দেশকে না ফেলে। আর যারা অত্যাচার করেছে এবং এখন করে যাচ্ছে তাদের উপর যেন কোনো অবিচার না হয় তাদের পাপের উপযুক্ত শাস্তি হয়, কোন বাড়াবাড়ি না করা হয় কারণ আল্লাহ সীমালঙ্ঘন-কারিকে ভালবাসেন না আর আল্লাহ যাকে ভালবাসেন না তার হাশর কি হবে সেটা তো জানেন। দেশে শান্তি ফিরে আসুক এটিই কাম্য। অন্যায় ও অবিচার করে এবং কোন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় শান্তি নেই। 

        1. 7.1.1.1
          শাহবাজ নজরুল

          জানি এই উত্তর দেবার ক্ষমতা আপনার নেই -- তাই ইনিয়ে বিনিয়েই উত্তর দেবেন। বর্তমানে যারা বিচারাধীন আছেন (মনে রাখবেন বিচারের মান নিয়ে আমারও প্রশ্ন আছে -- এতে যে রাজনৈতিক ভেন্ডাটা আছে তা আমিও স্বীকার করে -- তবে অনেকের বিচার প্রক্রিয়া ঠিক ভাবেই চলেছে তাও মানি)  তাদের কারুর নাম বিএনপির মুখে না আসলেও প্রায়শই আসে বেয়াই য়ের নাম। যেন রুই কাতলা ফেলে পোনা মাছকে দায়ী করা 'রাজনৈতিক' নয়!!!

          তবে আমরা অবশ্যই আশা করব, বিএনপি যাতে আধিপত্যবাদীর তাবেদার ফ্যসিষ্টদের মত কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি তথা vendetta-এর রাজনীতির নর্দমায় দেশকে না ফেলে। আর যারা অত্যাচার করেছে এবং এখন করে যাচ্ছে তাদের উপর যেন কোনো অবিচার না হয় তাদের পাপের উপযুক্ত শাস্তি হয়, কোন বাড়াবাড়ি না করা হয় কারণ আল্লাহ সীমালঙ্ঘন-কারিকে ভালবাসেন না আর আল্লাহ যাকে ভালবাসেন না তার হাশর কি হবে সেটা তো জানেন। দেশে শান্তি ফিরে আসুক এটিই কাম্য। অন্যায় ও অবিচার করে এবং কোন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় শান্তি নেই।

          এই আশার ব্যপারে আপনার সাথে ১০০% সহমত। তবে এটাও প্রায় শতভাগ নিশ্চিত যে এই ওয়াদা তারা কোনদিনই রাখতে পারবেনা। যে দল আইন করে এক পরিবারের শিশু সহ ২২ জনের বিচার রুখে দিয়েছে -- জেলে মারা যাওয়া ৪ নেতার বিচার করেনি, যে কর্নেল তাহের জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়েছে প্রথম সুযোগেই তার পিঠে ছুরি বসিয়েছে, সময়ে সুযোগে শয়ে শয়ে সামরিক অফিসার রাতের আড়ালে হত্যা করেছে সেই দলের কাছে ইনসাফ চাওয়া আর শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা রাখা একই কথা।

  4. 6
    এম_আহমদ

    আর বাংলাদেশের অবস্থার কথাই দেখেন স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও আজ চলছে স্বাধীনতার পক্ষের ও তথাকথিত বিপক্ষের যুদ্ধ চালানোর অবিরাম সংগ্রাম। চলছে ক্ষমতা আখড়ায়ে ধরার অবৈধ প্রচেষ্টা। দেশে একটি সুষ্ঠু নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জনতার দাবীকে না মানার বিপক্ষে বর্তমান প্রশাসনের কি জঘন্য অত্যাচার। আবার কখনও বলা হচ্ছে এসব দাবী নাকি স্বাধীনতা বিরুধীদের আবিস্কার! তাই আজ মহান নেতা ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে এদের শোক প্রকাশ করতে দেখলে প্রশ্ন জাগে এরা আর কতদিন মানুষকে প্রতারণা করবে, আর কত দিন চলবে এদের এ আত্ম প্রতারণা?   

    উপরের কথাটি ঘিরে আরও দুই একটি কথা বলার স্থান আছে। (১) স্বাধীনতার পক্ষের/বিপক্ষের, (২) বিপক্ষের লোকজন মাফ চাইতে হবে, (৩) যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে –এখানে যে দ্বন্দ্ব তার নিরসন হবে কীভাবে? প্রথম দুটি কথার বৈধতা কী, সেটা আমি জানি না। দেশ যদি সকল নাগরিকের না হয়ে কিছু লোকের সম্পত্তি হয় তবে ভূখণ্ড-বৈষয়িক সিদ্ধান্তে যাদের স্বত্বাধিকার তাদের কাছে মাফ চাওয়ার একটা ব্যাপার থাকতে পারে। এদিক তাছাড়াও ঘটনা কী এমন ছিল যে জামাত ছাড়া পূর্ব পাকিস্তানের গোটা জনসমাজ স্বাধীনতার পক্ষে ছিল? যদি না হয়ে থাকে তবে এখন ‘সকলের বোঝা’ বহন করে ‘সকলের পক্ষ’ থেকে তারা কী আওয়ামী-বামপন্থিদের কাছে মাফ চেয়ে নেবে? জাতি কী একান্ত এরাই?

    যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আর কত বলা হবে? এই ধারণাগুলোও exhausted. এখন যার যার মত নিয়েই থাকতে হবে এবং যাদের হাতে ক্ষমতা আসবে তারা জোরপূর্বক নিজেদের সিদ্ধান্ত বলবৎ করবে যেভাবে এখন হচ্ছে –এটাই শেষ কথা। কিন্তু তাতেও কী সমাধান হবে? জোরে কী কোনো সমাধান আসে? কথা হচ্ছে আজ যে বিচার হচ্ছে তা কী যুদ্ধাপরাধের? এসব কথা আর কত বলা হবে? মূল সমস্যার স্থান দুই আদর্শবাদী যুদ্ধের স্থান। এই বিচারের নামে ‘নির্মূল’ কমিটি এবং এই ঘরানার লোকই জড়িত। কিন্তু যে কেউই জড়িত থাকুক না কেন তা বিচারের আহবানকে উড়িয়ে দেবে না। এক্ষেত্রে যাদের বিপক্ষে অভিযোগ আনা হয়েছিল তারাও বিচারের বিপক্ষে ছিল না। তাদের কথা ছিল (যেমন) এভাবে: ‘আমরা আপনাদের আদর্শের দুশমন, একথা আপনারা যেমন বলেন আমরাও তেমনি জানি। আপনাদের অভিযোগ বানোয়াট, আপনাদের সাক্ষী তৈরি করা। আপনাদের বিচারের ব্যবস্থা ও আঞ্জামাদি কৌশলমূলক। আপনারা বিচারের নামে আমাদেরকে হত্যা করতে চাচ্ছেন। এই বিচার প্রহসনের বিচার।’ এখন এক পক্ষের উদ্দেশ্য যদি ‘বিচার’ হত তাহলে নিরপেক্ষ বিচারের আরও যেকোনো পথ অবলম্বন করা যেতে পারত। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে কয়েকটি পথ দেখানো হয়েছিল, দেশের ভিতরেরও কয়েকটি। নিরপেক্ষ বিচারের সাথে বিএনপিসহ এই ঘরানার সবাই। কেবল ‘আপনি’ বিচার করতে পারলে যদি হয় ‘ন্যায়’ বিচার, তাহলে ‘শক্তির বিচারই’ একমাত্র পথ -যা এখন চলছে।

    তবে জামাতের কিছু লোক হত্যা হয়ে যাওয়াতে যে কেবল ‘নির্মূল-ঘরানার’ চিন্তা ও সমর্থন কাজ করছে তা নয়। বরং এখানেও কিছু ইসলামী দল বা গ্রুপের নীরব ইচ্ছাও কাজ করছে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে ধর্মীয় দলগুলোর মধ্যে এমন অবস্থাও রয়েছে যেখানে একে অপরকে কাফির বলেন। যাদের দৃষ্টিতে জামাত কাফের, তাদের ইচ্ছা নীরবে এবং কিছু কিছু স্থানে প্রকাশ্যেও নির্মূলদের বিচারের পক্ষে। কাফির মরলেই তো সংখ্যা কমে। আর কাফিদের নেতৃত্ব ছত্রভঙ্গ হলে আরও ভাল। এই স্থানে আরেক দল বা অভারলাপিং সেকশন আছেন যারা জামাতকে ‘মাওদুদীবাদ’ মনে করেন। তাদের ইচ্ছাও এই যে যেভাবেই হোক এদের নেতৃত্ব রশিতে যাক। তবে জামাত কীভাবে মাওদুদীবাদ হয় সেটা কিন্তু এখনো তাদের কোনো লেখায় অথবা আলোচনায় স্পষ্ট দেখা যায়নি। জামাত খিলাফত বা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় -এটাই তাদের আন্দোলন।  এবং তাদের ব্যবহৃত পরিভাষা হচ্ছে ‘খিলাফত আলা মিনহাজিন নব্যুয়াহ’ যে পরিভাষা ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা খিলাফত কাল থেকে আজ পর্যন্ত চলে আসা ধারণার সাথে সামঞ্জস্যশীল। হেগেল থেকে ইউটার্ণ করে মার্ক্সিস্ট কমিউনিজমের ধারণা যেভাবে মার্ক্সবাদে পরিণত হয় এবং মার্ক্স থেকে ইউটার্ণ করে যেভাবে নেনিনবাদে পরিণত হয় এবং বিশ্বের অপরাপর “বাদ” যেভাবে মূল স্থান থেকে বেরিয়ে এসে “বাদে” পরিণত হয় জামাতের ধারণা ‘খিলাফত আলা মিনহাজিন নব্যুয়াহ’ থেকে বেরিয়ে কীভাবে মাওদুদীবাদে পরিণত হয় –সেই স্থানটি তারা কেউ ব্যাখ্যা করতে পারেননি। তাছাড়া ব্যক্তি মাওদুদী ও জামাত কী কোনো পীর-মুরিদী ব্যবস্থা-সদৃশ কিছু, তাও তার সঠিক উত্তরও নেই। যা আছে তা হল কিছু চটি পুস্তক যেখানে মাওদূদীর লেখা বাক্য ও বাক্যাংশ কেটে প্রচার-প্রোপাগান্ডা। এমন ধরণের চটি পুস্তক ও প্রচারণা সকল পক্ষের বিপক্ষেও পাওয়া যায়। এই ধরণের কর্মকাণ্ড হচ্ছে উপরে উল্লেখিত ‘ধর্মীয় দলগুলোর মধ্যে এমন অবস্থাও রয়েছে যেখানে একে অপরকে কাফির বলেন’ –এই বাস্তবতার বহিঃপ্রকাশের একটি অংশ।

    মূল কথা হচ্ছে ব্যক্তির মত জাতীয় সত্তাতে কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায় যেগুলো তাদের সংকট মুহূর্তে তাদেরকে ঊর্ধ্বে তোলে আনে অথবা নিচে নামিয়ে দেয়। যে উদারতা এবং প্রশস্ত মানসিকতা একটি জাতিকে সংকট থেকে উদ্ধার করতে পারে, আমার ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে, সেই গুণ বাঙালী চরিত্রে এখনো তেমন গড়ে ওঠে নি। তবে দু/চার ব্যক্তি যে এখানে সেখানে যে নেই তা অস্বীকার করার কথা নয়। কিন্তু চারপাশে উপস্থিত সংকীর্ণ মানসিকতার ছড়াছড়িতে তাদের সেই গুণ জাতীয় পর্যায়ে রূপায়িত হয়ে সামষ্ঠিক কল্যাণ আনতে ও সংকট নিরসন করতে ব্যর্থ হয়। এটা চলতেই থাকবে। যেখানে মুহাম্মদ (সা.) এঁর মত শিক্ষা ও অনুশীলনী সামনে থাকতেই তা কার্যে রূপায়িত হচ্ছে না সেখানে মেন্ডেলার উদাহরণ দিয়ে কী লাভ? মেণ্ডেলার জন্য জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা আর তিন দিন শোক দিবস পালন করাতেও থাকবে রাজনৈতিক চাতুর্য। ‘আজ মহান নেতা ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে এদের শোক প্রকাশ করতে দেখলে প্রশ্ন জাগে এরা আর কতদিন মানুষকে প্রতারণা করবে, আর কত দিন চলবে এদের এ আত্ম প্রতারণা?’ এটা চলতেই থাকবে।

  5. 5
    মহিউদ্দিন

    @ ~~শাহবাজ নজরুল

    সালাম নিবেন।

    আজকাল এ "নাদানের" পোষ্টে আপনাকে মন্তব্য করতে দেখিনা, জানিনা কেন? ভুল বা অন্যায় হলে মন্তব্য করে শুধরিয়ে দিবেন প্লিজ।

    কিন্তু এর পরেও ৪/৫ জনকে অতীত পাপের জন্যে শাস্তি কিন্তু ঠিকই দেয়া হয়েছিল।

    আপনার ব্যাখ্যা পড়েছি এবং অনেকাংশে সহমত। তবে আপনি কি বিড়ালের কাছে শুটকি পাহারা দিতে চান?

    যে ভারত আসল যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী সৈন্যদেরকে জামাই আদর করে ছেড়ে দিল সেই ভারতীয় তাবেদার সরকারকে দিয়ে এবং চেতনার ফেরারিদেরকে দিয়ে স্বাধীনতার ৪১ বছর পরে এসে আজ যা হয়েছে তা কি সত্যিই কি যুদ্ধাপরাধীর বিচার হচ্ছে না প্রহসন তা বুঝার বিবেক যার নাই তিনি কি কোন আক্রোশে ধুম্রাচ্ছন কি না তা ভেবে দেখার বিষয়।

    আজ মনে পড়ে ২০০৮ সালে দিন বদলের কথা বলে ভারতীয় নীল নকশায় নির্বাচনে বিজয় করা হয়েছিল আওয়ামীলীগ ও পথভ্রষ্ট প্রতারক  কিছু বামদেরকে এবং তাদেরকে  নিয়ে গড়া হয়েছিল এক মহাজোট সরকার। আজ যখন এ সরকারের ক্ষমতা ছাড়ার সময় এসেছে তখন ভাবছি আসলেই তো দিন বদলে দিয়েছে মহাজোট সরকার।  এতো মৃত্যু, এতো কান্না,এতো রক্ত, এতো আগুন এত ধ্বংস কেন দেখতে হচ্ছে। তাই আজ ঘর থেকে বাহির হওয়ার মানুষকে বলতে  শুনি  আর কি ফিরে আসতে পারব? আর কি দেখতে পাবো আমার মায়ের এবং বাবার প্রিয় মুখটা?এখন চারিদিকে মানুষের মধ্যে একটা শঙ্কা,তাদের দু-চোখে ধিকিধিকি জ্বলছে চাপা ক্রোধের আগুন। কেন জানি মনে হয় এ দেশটাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

    তাই আজ এদেশের মানুষ যখন একটি সুষ্ঠু স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দ মাফিক একটি সরকার গঠন করে অপশাসনের পরিবর্তন দেখতে চায় তখন ভারতীয় দূত এসে আমাদের নির্বাচনের বিষয়ে কি বলেন এবং তাদের কি আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে তা বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

    চেতনার ফেরারিরা আজ আমাদের মনে সৃষ্টি করেছে একে অন্যের প্রতি ঘৃণার উন্মাদনা, অসুস্থ মানসিকতা । এরা  মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে স্বৈরতন্ত্র চালু করার জন্য। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে লুটতরাজ করার জন্য। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে গণমাধ্যমের কণ্ঠকে বন্ধ করার জন্য। এই চেতনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে বিচার-ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ এবং পুলিশ প্রশাসনকে দলীয় অঙ্গসংগঠনে রূপান্তর করার যুক্তি হিসেবে।

    এরা এক হাতে একাত্তরের যুদ্ধে কিছু মৃত লোকদের ছবি রাখে অন্য হাতের আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে নিজেদের সুবিধা মত যখন যারে তাদের শত্রু মনে করে তাদের প্রতি! এমনকি ঐ লাশগুলা বিহারীর না বাঙ্গালীর না শহীদ বুদ্ধিজীবীর তাও দেখার প্রয়োজন নাই। প্রতিহিংসা বিদ্বেষ আর ঘৃণা জন্মাতে পারলেই তো হল। এই হচ্ছে মহাজোটের দিন বদলের আর একাত্তরের যুদ্ধের আমাদের একান্ত বন্ধু ভারত প্রেমিক সুশীলদের উপহার।

    আজ চেতনার কথা বলে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রতিবাদী সংঘটনগুলোর মুখ। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ইসলামী টিভি, দিগন্ত টিভি সহ বিভিন্ন মিডিয়া কারণ এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চেতনার ফেরারির মত রং দিতে ব্যর্থ হয়েছে! এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এখন মহা সমারোহে ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালে তালে চলছে একদলীয় সরকার গঠনের পায়তারা। ক্ষমতার দাপটে হয়ত, দেশের ৯০% মানুষের মতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, সারি সারি লাশের উপর হেটে জামাত বিএনপির সবাইকে প্রয়োজনে হত্যা গুম করে হলেও তা করতে হবে।
     
    তাই কেউ যদি বলেন বাংলাদেশটা হারিয়েই যাচ্ছে। সে হচ্ছে জামাত না হয় যুদ্ধাপরাধীর পক্ষের লোক। তবে আমার মনে হয় এই হারানো আর কেউ ঠেকাতে পারবেনা। যারা সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতো সেই সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষিত তরুণরা আজ জেগে ঘুমিয়ে আছেন। আসলে তাদেরকেও চেতনার ফেরারি করে রেখেছে অবচেতন!

     

    1. 5.1
      শাহবাজ নজরুল

      আপনার না, আসলে সদালাপে লেখা কিংবা কমেন্ট করা কমিয়ে দিয়েছি সময়ের অভাবে। তবে সময় থাকলে ১/২ টা কথা বলি মাঝে মধ্যে। যাইহোক, এবার আলোচনায় আসা যাক। আপাতত এই অংশটুকু নিয়ে আলাপ করি। প্রয়োজনবোধে আলোচনার পরিধি বাড়ানো যাবে।

      আপনার ব্যাখ্যা পড়েছি এবং অনেকাংশে সহমত। তবে আপনি কি বিড়ালের কাছে শুটকি পাহারা দিতে চান?

      যে ভারত আসল যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী সৈন্যদেরকে জামাই আদর করে ছেড়ে দিল সেই ভারতীয় তাবেদার সরকারকে দিয়ে এবং চেতনার ফেরারিদেরকে দিয়ে স্বাধীনতার ৪১ বছর পরে এসে আজ যা হয়েছে তা কি সত্যিই কি যুদ্ধাপরাধীর বিচার হচ্ছে না প্রহসন তা বুঝার বিবেক যার নাই তিনি কি কোন আক্রোশে ধুম্রাচ্ছন কি না তা ভেবে দেখার বিষয়।

      এক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন:

      ১। ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধ-অপরাধী দের মাফ করে দেয়ার একমাত্র কারণ কি ভারত? সেখানে কি আর কোনো কারণ কিংবা সমীকরণ নেই? আর পাকিস্তানি নিয়মিত সৈন্যবাহিনীকে মাফ করে দেয়া মানে কি লোকাল যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার করা যাবেনা?
       
      ২। চেতনার ফেরিওয়ালা কথাটার সাথে একমত -- তবে ফেরীয়য়ালাদের একচ্ছত্র স্বত্বাধিকার আপনারা দিয়ে দিলেন কেন? মুক্তিযোদ্ধা বিএনপি-তেও আছে। তাহলে বিএনপি কে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গর্ব করতে দেখিনা কেন? কেন তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের সাথে এতটা অন্তরঙ্গ? এই অতি মাখামাখি কি কোনভাবে চেতনার স্বত্বধিকারীদের একচ্ছত্র সোল্ এজেন্সি খুলতে সাহায্য করেছে?

      ৩। যা হচ্ছে তার মধ্যে বিচার ও প্রহসন দুটোই আছে। যারা যুদ্ধকালীন সময়ের ভুক্তভোগী তাদের যে বিচার চাবার অধিকার আছে তা বিএনপিও স্বীকার করে। তাদের দলগত অবস্থানও কিন্তু এটাই যে তারাও যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার চায় -- তবে তা হতে হবে আরো স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক পথে। আমাকে যদি বলেন কোন অবস্থানকে আমি বেশি সমর্থন করি তাহলে বলব যে বিএনপি'র অবস্থান অন্তত তাত্ত্বিক অর্থে বেশি আবেদনময়ী -- কেননা, এই বিচার কাজে কিছু অসঙ্গতি যে আছে তা নিয়ে আমি আগেও স্পষ্ট করে বলেছি -- ও তা নিয়ে আমার অস্বস্তিও আছে। বিশেষত দেলোয়ার হোসেন সাইদীর ব্যপারটা যে প্রশ্নযুক্ত -- ও খুব সম্ভবত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত তা আগে আমি ভালোভাবেই বলেছি। তাই অবশ্যই বিএনপি'র পজিশন আমার কাছে বেশি আবেদন তৈরী করে -- কেননা তা অন্তত তাত্ত্বিক অর্থে বেশি করে ইনসাফের কথা বলে। এবার আমাকে বলেন -- বিএনপি আসলে যে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার করবে বলে ওয়াদা করেছে সেই যুদ্ধঅপরাধী কারা?

      বাকি কথায় পরে আসছি।

       

  6. 4
    মহিউদ্দিন

    মেন্ডেলা নিঃসন্দেহে একজন বড় মাপের লোক ছিলেন। তবে আজকে ব্রিটিশ আমেরিকান নেতারা যখন মেণ্ডেলার প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং বিশ্ববাসীকে তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহবান জানাচ্ছেন তখন প্রশ্ন আসে তাদেরকে যখন মেন্ডেলা ইরাক ও আফগানিস্তান আক্রমণ করতে বার বার মানা করেছিলেন তখন তারা কী তারা কর্ণপাত করেছিল? টনি ব্ল্যায়ারকে মেণ্ডেলা আমেরিকার পররাষ্ট্র সচিবও বলেছিলেন কিন্ত কই, কী হয়েছিল?

    আজকে যা হচ্ছে তা হল খোদাহীন ব্যবস্থার সংস্কৃতিক একটা অংশ, মরনোত্তর অনুষ্ঠান: বক্তৃতা, শোক-প্রকাশ, মানবতা-জাহির ইত্যাদি। সারা মোনাফিকি।

    সহমত ১০০%

    পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

  7. 3
    এম_আহমদ

    পুরনো দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে নতুন আফ্রিকা গড়ার কাজটা সহজ ছিল না। কিন্তু নেলসন ম্যান্ডেলা অতীতের তিক্ততার প্রতিশোধ নেয়ার পরিবর্তে তার সাবেক শ্বেতাঙ্গ নিপীড়কদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেন। শুরু হলো এক নতুন দক্ষিণ আফ্রিকার পথ চলা। বস্তুত ম্যান্ডেলা অতীতের তিক্ততার প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা ভুলে জাতীয় ঐক্য সুসংগত করতে ক্ষমা ও সংহতির পথে চলতে “ভুলে যাও এবং ক্ষমা কর"  তথা reconciliation এর নীতি অনুসরণ করেন এমন এক সময় যখন দক্ষিণ আফ্রিকায় কালো এবং সাদা জাতিবিদ্বেষের তিক্ততার ক্ষত বা জখম ছিল তাজা। আর সে জন্যই পৃথিবীর মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন ম্যান্ডেলা।
     

    মেন্ডেলা নিঃসন্দেহে একজন বড় মাপের লোক ছিলেন। তবে আজকে ব্রিটিশ আমেরিকান নেতারা যখন মেণ্ডেলার প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং বিশ্ববাসীকে তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহবান জানাচ্ছেন তখন প্রশ্ন আসে তাদেরকে যখন মেন্ডেলা ইরাক ও আফগানিস্তান আক্রমণ করতে বার বার মানা করেছিলেন তখন তারা কী তারা কর্ণপাত করেছিল? টনি ব্ল্যায়ারকে মেণ্ডেলা আমেরিকার পররাষ্ট্র সচিবও বলেছিলেন কিন্ত কই, কী হয়েছিল? আজকে যা হচ্ছে তা হল খোদাহীন ব্যবস্থার সংস্কৃতিক একটা অংশ, মরনোত্তর অনুষ্ঠান: বক্তৃতা, শোক-প্রকাশ, মানবতা-জাহির ইত্যাদি। সারা মোনাফিকি।

    আর বাংলাদেশের অবস্থার কথাই দেখেন স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও আজ চলছে স্বাধীনতার পক্ষের ও তথাকথিত বিপক্ষের যুদ্ধ চালানোর অবিরাম সংগ্রাম। চলছে ক্ষমতা আখড়ায়ে ধরার অবৈধ প্রচেষ্টা। দেশে একটি সুষ্ঠু নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জনতার দাবীকে না মানার বিপক্ষে বর্তমান প্রশাসনের কি জঘন্য অত্যাচার। আবার কখনও বলা হচ্ছে এসব দাবী নাকি স্বাধীনতা বিরুধীদের আবিস্কার! তাই আজ মহান নেতা ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে এদের শোক প্রকাশ করতে দেখলে প্রশ্ন জাগে এরা আর কতদিন মানুষকে প্রতারণা করবে, আর কত দিন চলবে এদের এ আত্ম প্রতারণা?   

    বাংলাদেশে যা হচ্ছে তা মূলত ভারতের যুদ্ধের দ্বিতীয় অংশ। তাই এই প্রতারণা এখানে চলতেই থাকবে।

  8. 2
    মুনিম সিদ্দিকী

    আজ যখন নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যু নিয়ে চারিদিকে শোকের বাণী ছড়ানো হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় ভাবে শোক পালন করা হচ্ছে, কিন্তু এই ব্যক্তি যখন আজ থেকে ১৫ বছর আগে ১৯৯৭ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা আমাদের স্বাধীনতার ২৫তম বার্ষিকি পালনের বিশেষ অতিথি হয়ে এসেছিলেন।  সেদিন তার ভাষণে আমাদেরকে যে কথা গুলো বলে গিয়েছিলেন তা  আমরা মানিনি। যার কথা মানিনি তার মৃত্যুর পর শোক পালন করে কি প্রাপ্তি আমরা পেতে পারি? আমার স্মৃতি থেকে উল্লেখ করছি যা আমি পরের দিনের দৈনিক ইত্তেফাকে পড়েছিলাম— '' আমি একটি কথা বলতে চাই, আপনারা ভেবে দেখবেন-- আমরা দক্ষিণ আফ্রিকান জাতি গোষ্ঠী স্বাধীনতার জন্য সুদীর্ঘ ২শত বছর আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছিলো। আর সেই দীর্ঘ সময়ে এক পক্ষ, অপর পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ হানা-হানী হত্যা লুন্ঠন ইত্যাদি ঘটে গিয়েছিলো। কিন্তু স্বাধীনতা প্রাপ্তির সাথে সাথে আমরা আমাদের অতীত ভুলে গিয়ে, পক্ষ বিপক্ষ এক হয়ে দেশগড়ার কাজে লেগে যাই"। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আমাদের মাঝে যে বিভাজনের দেয়াল খাড়া আছে সে দেয়াল দেশও জাতীর স্বার্থে উপড়ে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে আমরা সে বিভাজনের দেয়াল ডিংগানো তো দূরের কথা বরং সেই বিভাজনের দেয়ালকে জাতীর জীবনে আরো উচু করে তোলে এনেছি। তাই আমি বলব- যে লোকটি কথা আমরা উপেক্ষা করে গেলাম সেই লোকটির মৃত্যু নিয়ে নাকি কান্না না করে আমাদের দেশের কালি কলমের এবং সময়ের অপচয় না করা হলেই তার প্রতি অধিক সম্মান জানান হবে বলেই আমার বিশ্বাস।

    1. 2.1
      মহিউদ্দিন

      অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলা দিয়ে মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ, মুনিম ভাই ।

      তিনি আমাদের মাঝে যে বিভাজনের দেয়াল খাড়া আছে সে দেয়াল দেশও জাতীর স্বার্থে উপড়ে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে আমরা সে বিভাজনের দেয়াল ডিঙ্গানো তো দূরের কথা বরং সেই বিভাজনের দেয়ালকে জাতীর জীবনে আরো উঁচু করে তোলে এনেছি। 

       এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। আমাদের রাজনীতিতে যে গুনগত পরিবর্তন একান্ত প্রয়োজন তা আমাদের বুঝার শুভবুদ্ধি কবে জাগবে সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন?

       

    2. 2.2
      শাহবাজ নজরুল

      এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আমাদের মাঝে যে বিভাজনের দেয়াল খাড়া আছে সে দেয়াল দেশও জাতীর স্বার্থে উপড়ে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করে গিয়েছিলেন।

      ভালো বলেছেন। এই একই দৃষ্টান্ত আছে আমাদের রাসুল (স।) এর জীবনে। মক্কা বিজয়ের পরে তিনি মোটাদাগে মক্কাবাসীর যাবতীয় অতীত ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করে দেন। কিন্তু এর পরেও ৪/৫ জনকে অতীত পাপের জন্যে শাস্তি কিন্তু ঠিকই দেয়া হয়েছিল। আমার ব্যাখ্যা হলো -- ওই সময়ে কেউ হয়ত নানা কারণে ইসলামের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিলেন, ইসলামের ব্যপারে ভুল জানার জন্যে, কিংবা সামাজিক চাপে পড়ে কিংবা অন্য কোনো কারণে। এই অর্থে বিরোধিতাকারীদের সাধারণ ক্ষমার মধ্যে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু এর পরেও কিছু ব্যক্তির কিন্তু ঠিকই শাস্তি হয়। তাই একই নিয়মে সাধারণ অর্থে যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষ নিলেও যদি দেশ স্বাধীন হবার পরে তারা অতীতের ভুল স্বীকার করে বাংলাদেশের প্রতি আন্তরিক আনুগত্য স্বীকার করে নেন -- তাহলে অবশ্যই তারা সেই ক্ষমার অধীনে পড়বেন। কিন্তু যদি যুদ্ধকালীন সময়ে তারা সুনির্দিষ্ট অপরাধ করে থাকেন তাহলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলেও এই নীতির ব্যত্যয় হবার কারণ দেখিনা। আপনার দেয়া উদাহরণ গুলোতে আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গরা কিংবা আমার দেয়া মক্কা বিজয়ের সময়কালে অপর পক্ষ কিন্তু তাদের অতীতের ভুল বুঝে তা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। জামাত শিবিরের পক্ষ থেকে আমি তা দেখিনি। এই জন্যে হয়ত এই বিভেদের দেয়াল কালে কালে গড়ে উঠেছে। অতীতের ভুল আগে আন্তরিক ভাবে স্বীকার করে নিতে হবে -- ক্ষমা চাইতে হবে। আমার তা দেখা হয়নি। যাহোক আমি হয়ত তাও ক্ষমা করে দিতে পারি, কিন্তু অনেকেই হয়ত তা পারবেন না। তবে সুনির্দিষ্ট যুদ্ধ অপরাধ ক্ষমা করতে আমিও অপারগ।

  9. 1
    এস. এম. রায়হান

    আপনার লেখার উল্লেখযোগ্য দুটি পয়েন্ট:

    ১। আপনার এই লেখাতে কারো 'মুখোশ উন্মোচন' করা হয়েছে বলে মনে হয় না। কাজেই লেখাটিকে 'মুখোশ উন্মোচন' বিভাগে রাখা পুরাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। বিভাগ নির্বাচনের আগে আমরা যেন একটু ভেবে দেখি।

    ২। ম্যান্ডেলাকে নিয়ে লেখাতে এত কিছু এক সাথে গুলিয়ে ফেলা কতটা যৌক্তিক হয়েছে তা ভেবে দেখার বিষয়। সব কিছুকে যদি সব কিছুর সাথে গুলিয়ে ফেলা যেত তাহলে কোনো কিছুর সাথেই কোনো কিছুর তেমন কোনো পার্থক্য থাকত না।

    1. 1.1
      মহিউদ্দিন

      আপনার এই লেখাতে কারো 'মুখোশ উন্মোচন' করা হয়েছে বলে মনে হয় না। কাজেই লেখাটিকে 'মুখোশ উন্মোচন' বিভাগে রাখা পুরাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে।

      কেন ভাই মুখোশ 'মুখোশ উন্মোচন' তো হয়েছে নিচের মন্তব্যগুলাই তার প্রমাণ। বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট আপনার কাছে প্রতারকদের উদ্দেশ্য বুঝতে দেরী হচ্ছে কেন আপনি  ব্যাখ্যা করে জানালে ভাল হবে।

      ম্যান্ডেলাকে নিয়ে লেখাতে এত কিছু এক সাথে গুলিয়ে ফেলা কতটা যৌক্তিক হয়েছে তা ভেবে দেখার বিষয়।

       

      এখানেও আমার প্রশ্ন হচ্ছে কোন কোন  বিষয়গুলা গুলিয়ে গেছে? তা জানালে ভাল হবে।

      যে কথাগুলা এখানে এসেছে তা জানার কি কোন প্রয়োজন নাই? আপনি হয়তবা জানেন কিন্তু যারা জানেননা বা সেভাবে চিন্তা করছেনা তাদের উদ্দেশ্যে আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

      ভাল থাকুন।

       

Leave a Reply

Your email address will not be published.