«

»

Aug ০১

দখলকৃত এলাকায় ফিলিস্তিনিদের দুর্দশাগ্রস্ত জীবনের প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ।

যারা আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা সম্পর্কে অবগত তারা জানেন ইসরাইল নামের রাষ্ট্রটি বেঁচে আছে পাশ্চাত্যের সরকারের সহায়তায়। ইসরাইল কর্তৃক  ফিলিস্তিনদের অবৈধ জমি দখল, গাজায় চলমান গণহত্যা  এবং বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনী মানুষের উপর চালিত মানবতা বিরোধী অপরাধ শুধু ইসরাইল একা জড়িত নয় বরং সে অপরাধের সাথে জড়িত যারা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারাও।  এ যেন বিশাল একপাল হিংস্র ও ক্ষুধার্ত নেকড়ের কবলে পড়েছে গাজার নিরস্ত্র জনগণ। চলমান এ গণহত্যা থামানোর তেমন কোন আন্তরিক উদ্যোগ নেই বিশ্ব নেতৃত্বের।। সামাজিক মিডিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দাও জানালেও বিশ্বের ক্ষমতাবান রাষ্ট্র প্রধানদের ভূমিকা খুবই দু:খজনক। বরং পাশ্চাত্য রাষ্ট্র প্রধানদের কাছ থেকে ইসরাইল পাচ্ছে লাগাতর সমর্থন। 

তাদের কথা, ইসরাইলি অকুপেশন তথা অবৈধ দখলের বিপক্ষে হামাস ও অন্যান্য প্রতিরোধ সংগঠনগুলিকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে  নির্মূল করার জন্য সর্বপ্রকার হামলার অধিকার রয়েছে যায়নিষ্ট ইসরাইল সরকারের। তাই দেখা যায় গত  ৮ই জুলাই থেকে ইসরাইলের স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে গাজায় যে নতুন হামলা শুরু হয়েছে তাকে সমর্থন দিতে তাদের আপত্তি নাই। যদিও আজ ৩১ শে জুলাই অবধি এক হাজারের বেশী ফিলিস্তিনীকে তারা হত্যা করেছে। আহত করেছে বহু হাজার। লক্ষাধিক মানুষকে তারা ঘরছাড়া করেছে। আহত ও নিহতদের অধিকাংশই হলো শিশু ও নারী। হামলার শিকার হচ্ছে শুধু ফিলিস্তিনীদের শুধু ঘরবাড়ি ও দোকানপাটই নয়, মিজাইল নিক্ষেপ করা হচ্ছে মসজিদ, হাসপাতাল, স্কুল, আশ্রয় শিবির, জাতিসংঘের ত্রাণ-দফতরের উপরও।  অথচ এ নৃশংস ইসরাইলী হামলার বিরুদ্ধে  মিছিল করা বেআইনী ঘোষণা করেছে ফ্রান্স সরকার। 
 জনৈক ব্লগার যথার্থ  লিখেছেন, "হামাসের মিজাইল ইসরাইলে গিয়ে পড়ায় তার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রীকে বানি পাঠিয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিট ক্যামেরন। কিন্তু ফিলিস্তিনীদের উপর ইসরাইলী হামলার নিন্দায় একটি বাক্যও উচ্চারণ করেননি। কোন উচ্চ বাক্য নাই চীনাদের মুখেও। তেমন নিন্দা বা উচ্চ বাক্য নাই ভারতীয় নেতাদের মুখেও। কারণ চীন ও ভারত এ উভয় দেশেই রয়েছে তাদের নিজ নিজ ফিলিস্তিন। ভারতের সে নিজস্ব ফিলিস্তিন হল কাশ্মীর। চীনে সেটি হল উইগুর মুসলমানদের অধিকৃত ভূমি জিংজিয়াং প্রদেশ। নেকড়ে কি আরেক নেকড়ের নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে?"

অবশ্য এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে  মানবতার ন্যূনতম নৈতিকতার মৃত্যু ঘটেছে অনেক আগেই ইসরাইলের মূল পৃষ্ঠপোষক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এবং একটি বিশেষ মহলের কারসাজিতে মিডিয়া ব্ল্যাক আউট করে ইসরাইলী নৃশংসতার বিপক্ষে জনমত গড়তে দেয়া হয় না আমেরিকায়!

প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ:
শত বৈরিতার মাঝেও  আমেরিকার কিছু কিছু মানুষ অন্যায়ের বিপক্ষে এবং  বিবেকের তাড়নায় ন্যায় বিচারের খাতিরে ইসরাইলী নৃশংসতার সঠিক তথ্য তুলে ধরতে এগিয়ে আসছেন। এমনি এক উদাহরণ রেখেছেন আন্না বাল্টজার, কলম্বিয়া স্নাতকোত্তর ও Fulbright পণ্ডিত একজন আমেরিকান ইহুদী মহিলা। তিনি ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন অহিংস প্রতিরোধের সমর্থনকারী, ওয়েস্ট ব্যাংক আন্তর্জাতিক নারী শান্তি পরিষেবার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করেন। ফিলিস্তিনদের দুর্দশার একজন প্রত্যক্ষদর্শী । ইসরাইলি দখলকৃত এলাকার ফিলিস্তিনের নিত্যদিনের দুর্দশাগ্রস্ত জীবন কাহিনী নিয়ে একটি চিত্তাকর্ষক ডকুমেন্টারি তৈরি করেছেন যা  গত নবেম্বর ২৪, ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়। এই প্রমাণ চিত্রটি দেখলে বুঝতে পারবেন যে কি কঠিন দুর্দশার জীবন অতিবাহিত করতে হয় প্রতিদিন অসহায় ফিলিস্তিনি মানুষের।  ইসরাইলি যায়নিষ্টদের দখলকৃত এলাকার  ফিলিস্তিনদের জীবন হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে এক বন্ধী জীবন। ফিলিস্তিনদের জন্য পদে পদে চেক পয়েন্ট অতিক্রম করে চলতে হয়। তাই তাদের নিত্য দিনের চলাফেরার জন্য পোহাতে হয় এত ধীরগতি যে তাদের জীবন অনেকটা স্থবির! চেক পয়েন্ট আর নিরাপত্তা তল্লাশি দিতে গিয়ে মাত্র ৩০ মাইল  পথ অতিক্রম করতে কখনও চলে যায় পুরা দিন। ফিলিস্তিনদের ও ইহুদীদের গাড়ীর নং প্লেটের রং থাকে আলাদা যাতে দূর থেকে ফিলিস্তিনদের গাড়ী সনাক্ত করে থামিয়ে দেয়া যায় চেক পয়েন্টে তার পর চলে হয়রানি। কোন কোন পথে রাত্রে চলা নিষেধ ফিলিস্তিনদের জন্য।  ফিলিস্তিনদের উচ্ছেদ করে তাদের জমির উপর গড়ে উঠেছে নতুন স্থাপনা ইহুদীদের জন্য যেখানে তৈরি করা হয় সরকারি খরচে রাস্তা ঘাট, স্কুল কলেজ হাসপাতাল। আর  ইহুদী বস্তি তথা সেটেলারদের থেকে ওয়াল দিয়ে ফিলিস্তিনদের বস্তিকে আলাদা করা হয়।

আন্না বাল্টজার অনেক করুণ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। এমনি এক ঘটনা এখানে উল্লেখ করছি।  গর্ভবতী এক ফিলিস্তিনি মহিলার প্রসব বেদনার সময় স্বামী তাকে নিয়ে ছুটেছেন হাসপাতালে। হাসপাতাল যেহেতু ইহুদী বস্তিতে তাই তাকে আতিক্রম করতে হবে চেক পয়েন্ট কিন্তু সেই পথে সন্ধ্যা সাতটার পর কোন  ফিলিস্তিনির যাওয়া নিষেধ । মহিলার স্বামীর অনেক অনুরোধ স্বত্বেও তার গাড়ী নিয়ে যেতে দিচ্ছিল না চেকপোষ্ট গার্ড  অবস্থা বেগতিক দেখে বেচারা স্বামী  এম্বুলেন্স ডাকায় তা হাজির হয় চেকপয়েন্টের ওপর পাড়ে। কিন্তু  রুগীকে নিয়ে এম্বুলেন্স উঠতে যখন পায়ে হেটে যেতে চাইল  সেখানেও দেয়া হয় বাধা! অনেক অনুরোধ করার পরও চেকপোষ্ট গার্ড তাকে উপরের নির্দেশ অমান্য করে যেতে দিতে অপারগতা জানায়। মহিলার স্বামী তখন তার পরিচিত এক ইসরাইলি সেনা অফিসারকে ফোন করায় সে অফিসারের কথায়  নিরাপত্তা গার্ড যেতে দেয় কিন্তু স্বামী ছাড়া শুধু মহিলাকে। মহিলা অনেক কষ্টে এম্বুলেন্সে উঠার সাথে সাথে প্রসব করে দেন যমজ দুটি শিশু। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শিশু দুটি অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়ায় তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজনীয় লাইফ সাপোর্টের ব্যবস্থার অভাবে পথিমধ্যেই মারা যায়। এভাবে অসংখ্য করুন ঘটনা ঘটছে ফিলিস্তিনি মানুষদের জীবনে তার খবর কে রাখে। 

বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটা দেখেন।   

[youtube

 

 

১৪ comments

Skip to comment form

  1. 9
    মহিউদ্দিন

    প্যালেস্টানী জনগণের উপর এ অত্যাচারে বিশ্ব বিবেক এখন জেগে উঠছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন এর প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে, শুধু বিশ্ব নেতৃত্ব বিশেষকরে আমেরিকা ও মুসলিম দেশের শাসক গুষ্টি এ ব্যাপারে উদাসীন তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার খাতিরে। এদের আসল চেহারা এখন প্রকাশ হয়ে গিয়েছে! তবে তুরস্কের ও কাতারের ভূমিকা প্রশংসনীয় এমনকি বাংলাদেশ সরকারও কড়া প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু শুধু কথা বলে তো কাজ হবে না দরকার বাস্তব পদক্ষেপ নেয়া।  পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ বিশেষ করে ধৈর্য ধরে ডিডিওটা দেখার জন্য। জায়নিষ্টদের  সীমা লঙ্ঘন করার বেশী বাকি নাই,  নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহন করেন --  "……ইন্নাল্লাহা সারি উ'ল হিসাব"   (১৪:৫১) Corpses of the dead stored in a vegetable refrigerator in Rafah (Twitter / @FoolowGaza) --  এখানে দেখেন 

    https://scontent-b-ord.xx.fbcdn.net/hphotos-xpf1/v/t1.0-9/10557220_10152159365856396_4046127408498833260_n.jpg?oh=631ec2303bdc68b92fd539fb14734ee4&oe=544DD80B

  2. 8
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ধন্যবাদ।

    ভিডিওটা দেখলাম। অনেক কিছুই জানতাম না। একটা কথা মনে হচ্ছিলো ভিডিওটা দেখার সময় -- এরা কি আসলে সীমা লংঘন করেনি? 

    আল্লাহর দেওয়া সীমাটা কত দুর!

    আল্লাহ প্যালেস্টানী ভাইদের সবর করার তৌফিক দিন -- যতক্ষন না সীমা লংঘন করছে জায়নিস্ট গোষ্ঠী। সীমা লংঘনের পর নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুত শাস্তি ওদের প্রাপ্য হবে। 

     

  3. 7
    মহিউদ্দিন

    আসলেই সবাই যেন অনুভূতিহীন হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করবেননা।

  4. 6
    সুন্দর জীবনের স্বপ্ন

    ​​গাযযাতে চলমান হত্যাযজ্ঞের ছবিগুলোর প্রতি সবাই কেমন যেন ডিসেনসিটাইজড (অনুভূতিহীন) হয়ে গেছে…

    এই ব্যাপারটাতে আমার কিছু বলার আছে! পশ্চিমে বেড়ে ওঠায় এরকম মৃত্যু আমরা কেবল মুভিতেই দেখেছি। আমরা এতো বেশি মুভি দেখেছি যে আমাদের কাছে গাযযায় চলমান হত্যাকান্ড আর ম্যুভির বিষয়টা একই মনে হয়, শুধুই যেন পর্দায় ভেসে থাকা কিছু নিথর দেহ! তাই আমরা নতুন করে ডিসেনসিটাইজড হয়ে পড়িনি, আমাদের বেশিরভাগ মানুষই অনেক আগে থেকেই এরকম বিষয়ে ডিসেনসিটাইজড হয়ে আছি। যারা আমাকে বলছেন এসব শেয়ার না করতে তাদের বলছি, আমি ভাল করেই জানি আপনাদের অবস্থান এবং আমি আপনাদের উপদেশটা মনে রাখব। দয়া করে বুঝতে চেষ্টা করুন যে আমার পেশাদারিত্ব এবং আবেগের মাঝে আমি এক টানাপোড়েনে আছি। আমি আল-শিফা হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তায় বড় হয়েছি। এ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন প্রতিদিন সকালে আমাদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিত। আমি ও আমার বন্ধু মিলে আল-শিফার বাগানে অনেক খেলাধূলা করেছি! এই ভয়াবহতা স্রেফ একটা ছবির দেখার অনেক ভিন্ন একটা ব্যাপার। আমি নিজের চোখে আল-শিফা হসপিটালের দরজা দিয়ে ক্ষতবিক্ষত শরীরগুলো দেখে বাসায় ফিরে খবর দেখেছি কিন্তু এ বিষয়ে কোন কিছুই পাইনি সেখানে। সংবাদ মাধ্যমগুলো গাযাতে চলমান হত্যাযজ্ঞ এমনিভাবেই চেপে যাচ্ছে ঠিক যেমন করে তারা সিরিয়া, বার্মা, পাকিস্তানে চলমান জুলুম ও নিপীড়নকে চেপে যাচ্ছে। আমি এসব দেখে প্রচন্ড ক্ষেপে গিয়েছিলাম, আমি এখনো ক্ষেপে আছি। আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম গোটা বিশ্বকে গাযার এমন চিত্র দেখাবো যা গাযায় বসবাসকারী মানুষদের চোখগুলো প্রতিদিন দেখে। অনলাইনে হয়ত আপনারা শুধু একটা ছবিই দেখেন। কিন্তু এই ছবির পেছনে থাকে অনেকগুলো গল্প, ছবিটা কেবলই একটা মৃতদেহ নয়। একজন মানুষের দেহ থেকে যখন তার আত্মা বের হয়ে যায় তখন শুধু মানুষটিই মারা যায় না, মারা যায় ভালোবাসা, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, সমবেদনা, স্বপ্ন। ছবিটি দেখতে কতটা  বীভৎস সেটিই কেবল বড় ব্যাপার নয়, বরং তিলতিল করে গড়ে ওঠা জীবনগুলোর কষ্ট ও হারানোর গল্পগুলো অনেক বড় ব্যাপার।

    আমি আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

    — মুহাম্মাদ জেয়ারা

    [লেখক কাডায় জন্মগ্রহণ করা ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এক নাগরিক। তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন। তিনি একজন বক্তা এবং মূলত তরুণদের প্রতি অনুপ্রেরণাদানকারী বক্তব্য রাখেন। অনলাইনে প্রকাশিত এডুকেশনাল এবং মোটিভেশনাল ভিডিওগুলোর জন্য তিনি বেশি পরিচিত। গাযযায় বেড়ে ওঠার সময়ে জীবনের ৮টি বছর তার জীবনের একটি বড় অভিজ্ঞতা।

    তার ফেসবুক প্রোফাইল: https://www.facebook.com/mzeyara/%5D

  5. 5
    এম_আহমদ

    আজকের অবস্থা নিয়ে সংলাপে কয়েকটা কথা রেখেছিলাম তা এখানে মন্তব্য হিসেবে দেয়া যেতে পারে।

     

    আজকের ন্যায়-নীতি/রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও মুখোশ

    প্রচলিত ‘সভ্যতার’ ব্যাপারে জীগমড ফ্রোয়েড (Sigmund Freud) সন্দিহান ছিলেন। তার দৃষ্টিতে এটা ছিল skin deep. চামড়া একটু খুঁড়লেই এই ‘মানবতার’ মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং পশুত্ব ধরা দেবে। আজকের এই যে সর্বগ্রাসী বন্দুকের নল, এই  যে মিথ্যাচার, এই যে ‘সভ্যতার’ দাবি, এই যে প্রগতি (!), সাম্যবাদ, স্বাধীনতা –এসব কি, এবং কোথায়? আজকের বাক্য ও শব্দের পিছনের অংশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই তো দেখেছেন বাংলাদেশের ‘আভ্যন্তরীণ আদর্শিক দ্বন্দ্ব’ কীভাবে বিচার, যুদ্ধাপরাধ, কলঙ্কমুক্তি -এইসব মিথ্যাচারে পরিবাহিত হল। এসব হল সাধারণ জনগোষ্ঠীকে ধোঁকা নিমিত্তে।  আপনি ‘দ্যা প্রটোকল অফ দি জায়োনিস্ট’ ডকুমেন্টটা পড়ে দেখবেন। ধোঁকাগ্রস্থগণ বলবে, এগুলো ‘কন্সপিরেসি থিওরি’। ব্যাস, তারা এতটুকুও গিলেছে। তাই তারা এই আলোচনা থেকেও মুক্ত। ক্বালবের দৃষ্টি ভাষায় বন্দী। জায়োনিস্টদের পক্ষে আজকের রাষ্ট্রীয় ‘ভাষা’ এবং ‘নীরবতা’ লক্ষ্য করুন। করুণ অবস্থা! এই যে শিক্ষা, ‘শিক্ষিত’, ন্যায়, ‘ন্যায়পরায়ণতা’, এই যে যুক্তিবাদ, বিজ্ঞানবাদ –এসব নিয়ে কি সাধারণ মানুষ নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করার অবস্থানে আছে? শিক্ষা যেখানে নিয়ন্ত্রিত, যেখানে ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রিত, যেখানে জ্ঞানের উপায় উপকরণ নিয়ন্ত্রিত, আর ফার্মের মোরগগুলো যখন ফার্মের স্বাধীনতা, ন্যায়নীতি, সাম্য-মুক্তির দাবীতে বিহব্বলিত তখন মালিকগণ খাবার টেবিলে বসে এই শিক্ষা-ব্যবস্থা, এই নিয়ন্ত্রণের যথার্থতা ও উপকারিতা নিয়ে সন্তুষ্টি জ্ঞাপন না করার কোনো কারণ নেই। যে সার্বিক প্রেক্ষিত থেকে এই “অন্ধত্বের” প্রসার হচ্ছে সেই প্রেক্ষিতকে “আলো” হিসেবে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সারা বিশ্বে আর ওখানেই পতঙ্গগুলোর আত্মাহুতি ঘটছে। কিন্তু এগুলো কে দেখবে, কীভাবে দেখবে? আল্লাহ বলেন,  لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُ‌ونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَا ۚ أُولَـٰئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ۚ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ  তাদের ক্বালব আছে (কিন্তু) তা দিয়ে তারা বুঝে না। তাদের চোখ আছে (কিন্তু)  তা দিয়ে তারা দেখে না।  তাদের কান আছে (কিন্তু) তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা গবাদি-পশুর ন্যায়, বরং তারা আরও পথভ্রষ্ট। তারা হচ্ছে উদাসীন (৭/১৭৯)।

    1. 5.1
      মহিউদ্দিন

      কিন্তু এগুলো কে দেখবে, কীভাবে দেখবে? আল্লাহ বলেন,  لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُ‌ونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَا ۚ أُولَـٰئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ۚ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ  তাদের ক্বালব আছে (কিন্তু) তা দিয়ে তারা বুঝে না। তাদের চোখ আছে (কিন্তু)  তা দিয়ে তারা দেখে না।  তাদের কান আছে (কিন্তু) তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা গবাদি-পশুর ন্যায়, বরং তারা আরও পথভ্রষ্ট। তারা হচ্ছে উদাসীন (৭/১৭৯)।

      আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কথার সাথে বর্তমান তথাকথিত "সভ্য মানুষের" চরিত্রের কি অদ্ভুত সাদৃশ্য। সুবহান আল্লাহ!

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  6. 4
    মহিউদ্দিন

    ~গতকাল ইসরায়েলের পশুগুলো ফিলিস্তিনের এম্বুলেন্সে হামলা করে ডাক্তার প্যারামেডিকদের হত্যা করে..কে কাকে সাহায্য করবে ?? কি এক বিভীসিকাময় দৃশ্য

    http://www.facebook.com/photo.php?v=10152328151528196&fref=nf

     

    আন্না বাল্টজারের ফেইস বুক লিংক
    http://www.facebook.com/pages/Anna-Baltzer/120876656003

  7. 3
    সুন্দর জীবনের স্বপ্ন

    ~~২০১২ সালের নভেম্বরে ইসরাইল আক্রমণ করেছিলো গাজাতে, নাম দিয়েছিলো 'অপারেশন কাস্ট লিড'। হামাসের প্রতিরোধে টিকতে পারেনি খুব বেশিদিন। তখন মিশরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মুহাম্মাদ মুরসি। রাফাহ ক্রসিং তখন খোলা ছিলো, তাই মুসলিম ব্রাদারহুডের অনেক সাহায্য পেয়েছিলো হামাস। সেই গ্লানিতে হিংস্র হয়ে থাকা ইসরাইল হয়ত তাই মুরসিকে প্রেসিডেন্ট থেকে সরিয়ে প্রকাশ্য হত্যাকান্ডের মাধ্যমে ক্যু করতে সাহায্য করেছিলো জেনারেল সিসিকে। এবার তাই রাফাহ বন্ধ। মিশরের সিসি, সৌদির আব্দুল্লাহ, আমিরাতের আমির মিলেছে ইসরাইলের সাথে এবং গাজ্জাবাসির উপরে অত্যাচারকে অসহনীয় করে তুলেছে। ক্রমাগত অস্ত্রের সরবরাহ দিয়ে চলেছে আমেরিকা।

    এদিকে স্পষ্ট এক কারাগারে গাজাবাসী, আল্লাহ ছাড়া কেউ সহায় নেই তাদের। ইসরাইলের আর্মি, নেভি আর এয়ারফোর্সের সমন্বিত হামলায় অসহায় এই বসতভিটা থেক উচ্ছেদ হওয়া উদ্বাস্তুশিবিরের নিরস্ত্র সাধারণ মানুষগুলো। এক তৃতীয়াংশ শিশুকে হত্যা করেছে নরাধম ইসরাইলি ইহুদিরা। গাজ্জা শহরের মানুষেরা সবদিক থেকে ইসরাইল বাহিনী পরিবেষ্টিত এবং কেবল একদিকে মিশরের রাফাহ সীমান্ত। সেটাও ইসরাইল এবং আমেরিকার দালালি করা সামরিক ক্যু করে ক্ষমতা কব্জা করে নেয়া জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ সিসির নির্দেশে বন্ধ। এবার চলছে ইসরাইলের হত্যাযজ্ঞ অপারেশন 'প্রোটেকটিভ এজ'।

  8. 2
    sotto

    আরব দেশগুলার ইসলামি স্কলার্দের বক্তব কি? তারা কি বোবা বনে গেছেন?

    1. 2.1
      মহিউদ্দিন

      না তারা নিশ্চয় বোবা নয়। তাদের কথা বলার অধিকার নাই। হেরেম শরিফের ইমাম সাহেবরা মোনাজাতে আল্লাহর কাছে  ফরিয়াদ করছেন। http://www.facebook.com/photo.php?v=933751319987870

       তবে আরব দেশের শাসকরা বোবা কেন? সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন। 

      1. 2.1.1
        sotto

        @মহিউদ্দিন: কথা বলার আধিকার নেই তাতে কি! এই সাহসটুকুও কি তারা হারিয়ে ফেলেছেন!? দুর্বল ইমানও কি তাদের নেই?

      2. 2.1.2
        news

        তারা বোবা নয়, বরং ইসরাইলের সহযোগী। শুধু বোবা হলেও না হয় বুঝতাম। শোনা যায়, গাজায় বর্তমান ইসরাইলী হামলার পুরো খরচ বহন করছে সৌদী আরব।

        1. 2.1.2.1
          মহিউদ্দিন

          গাজায় বর্তমান ইসরাইলী হামলার পুরো খরচ বহন করছে সৌদী আরব।

          এ খবর সত্যি কি না জানিনা। তবে আপনার কাছে এখবরের কোন তথ্য সুত্র থাকলে তার লিংক দিতে পারতেন।

  9. 1
    মহিউদ্দিন

     আরব বিশ্বে ঈমাম সাহেব যখন ঈদের জামাতের তাকবির দিচ্ছেন ফিলিস্তিনের গাজা উপতক্যার ঈমাম তখন কাতারবদ্ধ শিশুদের লাশ সামনে নিয়ে জানাযার তাকবির দিচ্ছেন। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, আরব আমিরাতের মুসলমানরা যখন ঈদ নামাজ শেষে কুলাকুলি করছে তখন গাজার সন্তান হারা বাবা তার আরেক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় বুক ভাসাচ্ছেন। আরব শেখদের সন্তানেরা যখন লক্ষ টাকার আতশবাজির শব্দে আনন্দে লাফিয়ে উঠেন তখন হানাদার ইসরাইলীদের রকেট হামলার শব্দে সদ্যভূমিষ্ট ফিলিস্তিনি শিশু মায়ের কোলেই ইহকাল ত্যাগ করে।   সেই সঙ্গে মিশরীয়দের ঈদের আনন্দও আর শান্তিপূর্ণ রইলো না। ঈদের নামাজে গিয়ে নতুন জামায় রক্ত নিয়ে ফিরলো অনেকে। আর গাজাবাসীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতে এসে তাদের শহীদের কাতারে নাম লেখালেন তিন জন। তাদের একজন ১৩ বছরের মেয়ে আমিনা মুস্তফা। সে তার বাবার সঙ্গে কায়রোর নসর সিটিতে এক ইদগাহে নামাজ শেষে গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সিসির পুলিশ বাহিনী গুলি ছোড়ে আর তাতেই প্রাণ যায় আমিনার। বাকি দুই জন নিহত হয় রাজধানী কায়রোর উপকণ্ঠে আল-ইমরানিয়া এলাকায়। তারা উভয়ই মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্মী ছিলেন। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে বের করা এক মিছিলের ওপর পুলিশ গুলি চালালে ওই দুই ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনার পর ব্রাদারহুডের কর্মীরা কায়রোর বিভিন্ন রাস্তায় মিছিল বের করে এবং অনেক রাস্তা ব্লক করে রাখে। এদিকে কায়রোর গুরুত্বপূর্ণ সড়গুলোতে চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল ভবনের আশেপাশের সড়কগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।   সুত্র 

Leave a Reply

Your email address will not be published.