«

»

Dec ০৮

আসুন একটু ভেবে দেখি

বাংলাদেশের সমকালীন বুদ্ধিজীবী মহলে ফরহাদ মাজহার একজন প্রখ্যাত লেখক, কলামিস্ট, কবি, সামাজিক ও মানবাধিকার কর্মী, এবং পরিবেশবিদ হিসাবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। সম্প্রতি তিনি লন্ডনের প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা রেখেছেন যার প্রেক্ষিতে আমি কিছু লিখতে চাই। বক্তৃতাটা প্রথমে সামাজিক মিডিয়া ফেইসবুকে কিছুটা শুনে পরে পুরা বক্তব্যটা ইউটিউবে শুনলাম। ফরহাদ মাজহারের প্রতিটি কথা চিন্তার খোরাক জাগায়।

তিনি ঐতিহাসিক দলিল ভিত্তিক তথ্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে মুক্তি যুদ্ধের চেতনা বলতে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, সমাজতন্ত্র কিংবা বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ  ইত্যাদির কোনটিই ছিল না। ১০ই এপ্রিল স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য বিধিবদ্ধভাবে যে উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়েছিল তা হল: (১) সাম্য  তথা  মানুষের মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠা (২) ব্যক্তি ও সমাজের মান-মর্যাদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং (৩) সামাজিক ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা করা। তাই আজ প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশে কি একাত্তরের উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছে?

অন্য দিকে চিন্তা করলে দেখা যায় স্বাধীনতা যুদ্ধের বিধিবদ্ধভাবে যে উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়েছিল তার কোনটাই তো ইসলামের নীতির পরিপন্তি নয় তাহলে যারা ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেন তারা মুক্তি যুদ্ধের চেতনা বিরোধী হয়ে যান কিভাবে? আজকে আমাদের দেশের আলেম উলেমাকে ইসলামের রাজনীতির কথা বললে তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি হিসাবে চিত্রায়াত করার সুযোগ বামপন্তী, নাস্তিক ও পৌত্তলিকেরা কিভাবে পায় সেটা চিন্তা করার কথা।

যাক আসল কথায় আসা যাক, সারা বিশ্বের মুসলিম দেশগুলাতে যা হচ্ছে তা কেন হচ্ছে তা আগে বুঝতে হবে। জনাব ফরহাদ মাজহারের কথার সঙ্গে একমত তিনি বলেছেন "বিশ্বের মুসলিমরা আজ মুজলুম" কারণ প্রতিটি মুসলিম দেশের  সম্পদ লুঠার উদ্দেশ্যে সে সব দেশে চলছে সাম্রাজ্যবাদীর হামলা। তাদের স্ট্রেটিজিক্যল পার্টনার হচ্ছে দুর্নীতিবাজ অসৎ, ডেসপটিক ও ক্ষমতালোভী ফ্যসিষ্ট চরিত্রের রাজনীতিবিদরা।
কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে এ জন্য কি শুধু অস্ত্র ব্যবসায়ী ও বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিরাই দায়ী না সে দায়িত্ব মুসলিম সমাজের উপরও বর্তায়? শুধু সাম্রাজ্যবাদীদেরকে দুষ দিলে কি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?

ইসলামকে শুধু ধর্মীয় আচার আনুষ্ঠানিকতার মাঝে সীমাবদ্ধ রাখলে কোন আপত্তি নাই কিন্তু যখনই রাজনীতিতে ইসলামের কথা বলা হয় তখনই আসে আপত্তি। তবে সমস্যা হচ্ছে যারা ইসলামকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিয়ে আসতে চান তাদের দুর্বলতা হল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন যে বিশ্ব মানবতার কল্যাণকে তরান্বিত করতে পারে এবং ন্যায় নীতির ধারক বাহক হবে এ চিরন্তন সত্যকে আধুনিক সমাজে তারা দার্শনিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করাতে পারেন নাই বিশ্ব দরবারে। তা না করে ইসলামী আন্দোলন শুধুমাত্র সাম্প্রদায়িক এবং ধর্মীয় অনুসারীদের ধর্মপালনের সংগ্রাম হিসাবে অমুসলিম জন গুষ্টির কাছে প্রকাশ পেয়েছে। আমি মনে করি এখানেই হচ্ছে চরম ব্যর্থতা! তাছাড়া মুসলিমদের নিজেদের মধ্যকার অনৈক্যতা তো আছেই। আল্লাহ বলেন ইসলামের রজ্জুকে শক্তভাবে ধরে রাখতে বিভক্ত না হতে ("ওলা তাফার রাক্কু") কিন্ত আজ মুসলিমেরা ঐক্য বলতে বুঝে পরস্পরের মাঝে বিভক্তি!  

বর্তমান বিশ্বে চলছে জুডিও ক্রীষ্টান সভ্যতা যা ইউরোপীয় রেনেসাঁ আন্দোলনের মাধ্যমে পাদ্রী শাসনকে বিতাড়িত করে বিশ্ব দরবারে জ্ঞানবিজ্ঞানের ধারক ও বাহক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে। এ সমাজে একদিকে যেমন বলা হয় অর্থই হচ্ছে সকল সুখের উৎস তেমনি ধর্মকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ব্যাপার বলা হয় তবে কাউকে শুধুমাত্র ধর্মের কারণে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বৈষম্য করা নিষেধ। এটাই হচ্ছে এ সভ্যতার প্রতিষ্ঠিত দর্শন। যদিও ইদানিং "ইসলাম ফবিয়ার" কারনে এ দর্শনের উপর দাগ পড়তে শুরু হয়েছে। জুডিও ক্রীষ্টান সভ্যতার আরেকটি মূল বিষয় হচ্ছে এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা,  গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার সবার উর্দ্ধে এবং অর্থনীতি হচ্ছে পুজিবাদ। পুজির মালিক যে সেই হচ্ছে  অর্থনীতিতে প্রধান, পুঁজিপতির স্থান সবার উপরে। এ সভ্যতার অর্থনৈতিক দর্শন হচ্ছে পুঁজির মুনাফাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় এবং এখানে সুদ ও মুনাফা অর্জনে যে যা কিছু করতে চায় তাতে বাধা নেই যাকে বলা হয় ফ্রি ইকোনমি। এখনে সব কিছু পরিচালিত হয় বড় বড় কোম্পানির স্বার্থে অর্থাৎ কোর্পরেট ওয়ার্ল্ড। এটাই হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা যা চলে আসছে ইসলামী সভ্যতার পতনের পর আজ শত শত বৎসর ধরে। এই বাস্তবতাকে সবাই মেনে নিয়েছে বা মানতে বাধ্য হয়েছে এমনকি মুসলিম প্রধান দেশগুলাও এর বাহিরে নয়। কিন্তু ইসলামী দর্শন হচ্ছে এর অনেক কিছুর বিরোধী।

ইসলামের একটি আলাদা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শন ও নীতি আছে।  ঈমানদারের দাবী করব কিন্তু ইসলামী এই সত্যকে অগ্রাহ্য করা কি ভাবে মুসলিমদের কাজ হতে পারে?  ইসলামী অর্থনীতিতে সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্পদের সুসম বণ্টনের তাগিদ সবচেয়ে বেশী এ জন্য আছে জাকাতের ব্যবস্থা। আবার লোক দেখানোর জন্য দান খয়রাতি করাও ইসলামে নিষেধ,আল্লাহ অপছন্দ করেন। ইসলামে সামাজিক  দায়বদ্ধতা ব্যক্তি স্বাধীনতার চেয়ে উপরে। এখানে এক আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই এ বিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে হালাল রুজি,হালাল খাওয়া,মানুষের সাথে সঠিক ও ভদ্র আচরণ, মানবাধিকার, জ্ঞানের পরিচর্যা, সমাজের অন্যায় অবিচার দূর করন ও সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন ইত্যাদি হচ্ছে আসল কথা।

আগেই বলেছি বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি দেশ যেহেতু চলে জুডিও ক্রীষ্টান তথা পশ্চিমা সভ্যতার প্রভাবে। সেখানে ইসলামের সার্বজনীন মানব কল্যাণের আদর্শ নিয়ে একটি সমাজ চালাতে চাইলে এবং  জুডিও ক্রীষ্টান সভ্যতার  কুফল থেকে মানব জাতিকে উদ্ধার করার প্রয়োজনীয়তা মানুষকে বুঝাতে পারলে তারা কি তা গ্রহণ করতে আপত্তি করবে?

মানুষকে যুক্তি দিয়ে বোঝালে মানুষ ভাল জিনিস গ্রহণ করতে চাইবে এটাই হচ্ছে স্বাভাবিক।একটা দেশের মুল চাবিকাঠি যদি থাকে এমন এক শ্রেণীর মানুষের হাতে যারা জীবনের প্রতিটি কাজে খুঁজবে মহা প্রভু আল্লাহর সন্তুষ্টি যারা এ দর্শন বিশ্বাস করে তাদের হাতে কি হতে পারে অন্যায়?

আমি জানি অনেকেই হয়তবা বলবেন এসব হচ্ছে কিতাবি কথা বাস্তবতার সাথে মিল নাই। বাংলাদেশে যারা ইসলামকে প্রতিনিধিত্ব করার দাবী করেন সেই মাদ্রাসার ছাত্ররা তাদের শিক্ষকদের সমাজে অবস্থান কোথায়? তাদের উপর সাধারন ধারনা হচ্ছে পিছনে পড়ে থাকা এক জন গুষ্টি যারা চলে সমাজে অন্যদের সহায়তায়, দান দক্ষিণায়। তারা কিভাবে ইসলামকে একটি উন্নত আদর্শ হিসাবে প্রকাশ করার যোগ্যতা রাখবেন। অথচ এক কালে এই আলেম উলেমারাই ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সংগ্রামের দৃষ্টান্ত রেখেছিলেন। তারা সফলকাম কেন হতে পারেন নাই সে অন্য প্রসঙ্গ। কিন্তু তাদের মাঝে যে সংগ্রামী চেতনা ছিল তা কিভাবে আজ নিস্তেজ হয়ে গেল?

আমদের দেশের মাদ্রাসার আলেমদের মুখে শুনা যায় সাহাবীদের সুন্দর সুন্দর কিচ্ছা কাহিনী, হাদিস কোরআনের ব্যাখ্যা কিন্তু কিভাবে বর্তমান যুগে সে আদর্শ প্রয়োগ করা যায় তার কোন দিক নির্দেশনা নাই। কিভাবে মুসলিম সমাজের নেতৃত্ব ভাল মানুষদের হাতে ন্যস্ত করা যায় নাই কোন পরিকল্পনা। আধুনিক সমাজে সুস্থ ও সঠিক নেতৃত্ব নিতে হলে মুসলিমদেরকে একদিকে যেমন ইসলামের জ্ঞান অর্জন করতে হবে সেই সাথে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। এটা কোন নতুন কথা নয় কিন্তু প্রচেষ্টা কোথায়? প্রশ্ন হচ্ছে মুসলিমদের বিশেষ করে বাংলাদেশের মুসলিম নেতাদের ও আলেম উলেমাদের এদিকে এগিয়ে আসতে কিসের বাধা?

তাই আজ মুসলিম দেশে সত্যিকার কল্যাণ আনতে হলে গতানুগতিক পন্থা ছেড়ে নতুন কিছু করতে হবে। ভুলটা কোথায়? What went wrong? তা দেখতে হবে। আমাদেরকে সামাজিক আন্দোলনে মননিবেশ করতে হবে এবং মানুষের চিন্তার জগতে বিপ্লব আনতে হবে। ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য  ইসলামের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে হবে আর সে জন্য ইসলামী অনুসারীকে মানবতার কল্যাণে দুনিয়ায় কি ভূমিকা রাখছেন তার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামী বিপ্লব ঘটাতে হলে আগে জুডিও ক্রীষ্টান সভ্যতার দার্শনিক শক্তির উৎস কোথায় আর দুর্বলতা ও পঙ্কিলতা কোথায় তা জানতে হবে এবং তাদের খারাপটা ছেড়ে ভালটা গ্রহনে যে ইসলামের আপত্তি নাই সেটাও মানুষকে বুঝাতে হবে। ইসলামের  বিকল্প ব্যবস্থা যে কল্যাণ আনতে পারে এবং তা বাস্তব সম্মত সেটা মানুষকে বুঝাতে হবে।

কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে মানুষকে আল্লাহর খলিফার দায়িত্ব দিয়ে এ দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন আবার মানুষকে স্বাধীনতাও দেয়া হয়েছে এ দায়িত্ব গ্রহণের ও পরিত্যাগের। গ্রহণ করলে কি পুরস্কার না করলে কি শাস্তি সেটাও বলা আছে। প্রশ্ন হচ্ছে আল্লাহ যদি অমুসলিমকে এ পৃথিবীতে আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামত থেকে বঞ্চিত না করেন তা হলে  আল্লাহর খলিফা হব এবং  একটি রাষ্ট্রে মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করব, ইসলামী শাসন কায়েম করব অথচ একই রাষ্ট্রে জন্ম নেয়া অন্য ধর্মের ভাল লোককে আমার দলে রাখতে পারবনা তা কেমন করে হয়? আপনি দেশে ন্যায় বিচার কায়েম করবেন,অন্যায় অত্যাচার বন্ধ করবেন সেখানে আপনার সাথে অমুসলিম কেউ থাকতে পারবেনা কেন? রাসুলের মদিনা সনদ কি সে শিক্ষা দেয়? আল্লাহ বলেন কোরআন হচ্ছে সিফা, এ গ্রন্থ হচ্ছে মুবিন, এটা হচ্ছে ফোরকান, হুদাল্লিল নাস তথা বিশ্ব মানবতার পথ নির্দেশক। আমরা যারা কোরআন পড়ি তারা নিজেরাও কি এ সত্য অনুধাবনের জ্ঞান রাখি? কিভাবে কোরআন মানুষের কল্যাণ আনতে পারে আমরা কয়জনই-বা এ সত্যটাকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যেতে পারি?

ইংরেজরা মুসলিম দেশে একটি কাজ খুব চতুরতার সাথে করতে সক্ষম হয়েছে তাহলো মনে প্রাণে তাদের অনুসারী একটি গুষ্টিকে সৃষ্টি করতে পেরেছে যারা নিয়েছে সমাজের কর্তৃত্ব যাদেরকে বলা যায় কালচারেল মুসলিম আবার কিছু লোককে "মোল্লা" বানাবার কারখানায় পাঠিয়ে দুনিয়া বিমুখ করাতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু কোরআন কি শিক্ষা দেয়? আল্লাহ তো মুসলমানকে জুম্মার দিনে নামাজ শেষে রোজগারের উদ্দেশ্যে বাহির হয়ে যেতে বলেন (ফান তাছিরু ফিল আরদি..)

 আজ ইসলাম হচ্ছে পৃথিবীর দ্রুততম বিস্তার লাভ করা ধর্ম কিন্তু খোজ নিলে দেখা যাবে নিও মুসলিমদের কেউ বর্তমান মুসলিম সমাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম কবুল করছে না বরং তারা তাদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় ইসলাম বুঝে, কোরআন ও সুন্নাহ পড়ে এর সৌন্দর্য দেখে মুসলিম হচ্ছে। আজ সেই নিওমুসলিমরা যেভাবে ইসলামকে বুঝে আধুনিক মানুষের সামনে যে সাহস ও প্রজ্ঞা নিয়ে ইসলামের উপস্থাপনা ও ব্যখা দিতে পরছেন  সে ক্ষমতা আমাদের আলেমদের মাঝে বিরল তার কারণ কি তা ভাবতে হবে।

এবার আরেকটা বিষয় চিন্তা করেন সেনাবাহীনির কাজ কি? দেশকে বাহিরের শত্রু থেকে নিরাপদ রাখা প্রয়োজনে যুদ্ধ করা। সে উদ্দেশ্যে সৈনিকদেরকে নিয়মিত ব্যায়াম করায়ে ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে  যুদ্ধের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি দেয়া হয়। তাদেরকে ডিসিপ্লিন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা করা হয়।  কিন্তু সে জন্য সেনা অফিসারকে কি মদ পান করতেই হবে?  মুসলিম দেশগুলার সেনানিবাসে ইংরেজের দেয়া মদের বার কি বন্ধ হয়েছে?

কোথাকার কোন পাগল ইসলাম সর্ম্পকে কি বলেছে আর আমরা নেমে পড়লাম রাস্তায়! ফাসি চাই বলে। মিডিয়া যে কোন পাগলের কথা  ফলাও করলেই  শুধু তার পিছনে প্রতিবাদ করা্টাই হল ইসলাম রক্ষা। আমি বলছিনা যে নবী রাসুলের বা ইসলামের অপমান করে কোন বক্তব্য দিলে প্রতিবাদ করব না। কিন্তু মসজিদের পাশেই যে গ্রামের মোড়ল অন্যায় করছে, ইসলাম বিরুধী কাজ করছে, দেশের যুবক যুবতিরা আধুনিকতার নামে ধ্বংস করে যাচ্ছে তাদের চরিত্র এমন কি পশ্চিমা দেশে যা হয়না তারও এক দাফ বেশী করতে তারা মত্ত সে দিকে খেয়াল নাই বা কিভাবে এসব বন্ধ করা যায় তার নাই কোন প্রচেষ্টা। চোখের সামনে দেখছেন একটা রাষ্ট্রের প্রতিটি বিভাগ দলীয়করন করে সুশাসন ও ন্যায় বিচারের অযোগ্য করা হচ্ছে!কিন্তু এর বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস নাই। 

বছর দুয়েক আগে তুরস্কে বেড়াতে গিয়েছিলাম তখন সে দেশের এক লোকের কাছে কিছু ডলারের বিনিময়ে স্থানীয় মুদ্র লিরা ক্রয় করেছিলাম। কয়েক  কদম সামনে চলার পর কেন জানি মনে হল হিসাবে আমি কম পেয়েছি। তাই ফিরে গেলাম লোকটির কাছে সে ক্যালকুলেটর দিয়ে চেক করে দেখালো আমি ঠিক পেয়েছি। কিছুটা লজ্জিত মনে হল নিজের সন্দেহ প্রবণতার জন্য। কিন্তু সেদিন সে লোকের একটি কথা আমি কখনও ভুলব না তা হল সে আমাকে বলেছিল "স্যার আমি এক জন মুসলিম"। সাদা চামড়ার সেই ইউরোপীয় মানুষটিকে তখন স্যালুট দিতে মনে হয়েছিল। সে তো আগেই আমাকে বলতে পারত আমি মুসলিম ধোকাবাজি করতে পারিনা কিন্তু কেলকুল্যটার দিয়ে চেক করে কথাটা আমাকে শুনালো। আজ আমাদের মুসলিমদের সমস্যা হল ইসলাম সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে বলে চিৎকার করতে থাকি কিন্তু আগে যদি আমরা সমস্যার সমাধান করে বলতে পারি এটা করেছি যেহেতু আমি ইসলামে বিশ্বাসী তাহলে কি ভাল হয় না? ঠিক যেমন তুরস্কের সে ইউরোপিয় মুসলিম ভাই আগে নিজেকে নির্ভুল প্রমাণ করে বলতে পারল যেহেতু সে মুসলিম তাকে সন্দেহ করার কারণ নাই কেননা এক জন মুসলিম ধোকা দিতে পারে না।  

পরিশেষে যে কথাটি বলতে চাই তা হল বাংলাদেশের ইসলামী দলের উচিত হবে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে বাংলাদেশে কায়েম করা তথা ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য বিধিবদ্ধভাবে যে উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়েছিল যেমন (১) সাম্য  তথা  মানুষের মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠা (২) ব্যক্তি ও সমাজের মান-মর্যাদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং (৩) সামাজিক ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা করা।
যে দিন বাংলাদেশে বিশ্বজনীন এ আদর্শগুলা প্রতিষ্ঠা হবে তখনই বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে উদয় হবে নতুন সূর্য। আর সেই সকালে গর্বের সঙ্গে বলতে পারবেন আমরা এ কাজ এ জন্য করেছি যে আমরা ইসলামে বিশ্বাসী।

ফারহাদ সাহেবের বক্তব্যের লিংক:
https://www.youtube.com/watch?v=rfP7TjvkJxA&feature=player_detailpage

[youtube https://www.youtube.com/watch?v=rfP7TjvkJxA&feature=player_detailpage]

৩১ comments

Skip to comment form

  1. 8
    Comparative

    বাংলাদেশ যে উদ্দেশ্যে স্বাধীন হয়েছে তার অল্পই অর্জিত হয়েছে এই ৪৩ বছরে।

    আজ যদি বিএনপি বলে যে উদ্দেশ্যে ৯০-এ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছিলাম, জামাত যদি বলে যে উদ্দেশ্যে ৯৬-এ তত্ত্বাবধায়কের আন্দোলন করেছিলাম তা এখনো পূরণ হয়নি, তাহলে কি এটা হাস্যকর শোনাবে না? অনেক মানুষকেই বলতে শুনবেন, ওষুধ খাচ্ছি তারপরও কেন রোগ বাড়ছে, টিকা দিয়েছিলাম তাও কেন রোগটা হল? কিন্তু ওষুধ বা টিকাও যে রোগের কারণ হতে পারে, রোগটা যে ওসবের দ্বারাও হয়ে থাকতে পারে সেটা কারো ধারণায় আসে না।

    বাংলার মুসলমানদের একথা হিসাব করলে চলবে না যে, মুক্তিযুদ্ধ থেকে কি পেলাম। বরং এই হিসাব করা উচিত যে, মুক্তিযুদ্ধের দ্বারা যে ক্ষতি হয়েছে তা কতদিনে পূরণ হবে বা আদৌ পূরণ হবে কিনা।

    1. 8.1
      নির্ভীক আস্তিক

      বাংলার মুসলমানদের একথা হিসাব করলে চলবে না যে, মুক্তিযুদ্ধ থেকে কি পেলাম। বরং এই হিসাব করা উচিত যে, মুক্তিযুদ্ধের দ্বারা যে ক্ষতি হয়েছে তা কতদিনে পূরণ হবে বা আদৌ পূরণ হবে কিনা।

      বুঝিনাই, একটু বুঝিয়ে বলেন ।

  2. 7
    Comparative

    ফরহাদ মাজহার কেমন লোক সেটা বড় কথা নয়। বরং তার আলোচ্য কথাগুলো কতটা যৌক্তিক কি অযৌক্তিক সেটাই বিবেচ্য বিষয়। যুক্তিবিদ্যা মতে, শিক্ষক ছাত্রের নকল ধরবার কারণে ছাত্র যদি শিক্ষকের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সেটা যুক্তিসঙ্গত হবে না।

    মানুষ যখন কারো সাথে যুক্তিতে পেরে না ওঠে, তখন তার উপর ব্যক্তিগত আক্রমণটাই হয় শেষ হাতিয়ার। কেউ কোন জুলুম-অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে গেলে তখন হয়তো তাকে বলা হবে, তুমি তো একটা অযোগ্য ছেলে, তোমার এসব নিয়ে কথা বলা সাজে না। নিজের চর্কায় তেল দাও। একই ব্যক্তির একটা কথা যখন নিজের মনমত হয়, তখন মানুষ বলবে, ছেলেটা লেখাপড়ায় ভাল না হলে কি হবে, সুন্দর সুন্দর কথা বলতে পারে। আবার যখন নিজের মনমত না হবে, নিজের মনের মানুষের বিপক্ষে যাবে, তখন বলবে, লেখাপড়ার নামে ঠনঠন, শুধু বড় বড় কথা বলতে শিখেছে! বিশেষত জালেমরা এবং জালেমের অন্ধ সমর্থনকারীরা জালেমের জুলুম করার অধিকারকে রক্ষার জন্য প্রতিবাদকারী মানুষদের ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে টার্গেট করবার পলিসি গ্রহণ করে থাকে।

    আপনি যতই খারাপ হন না কেন, যখন খারাপের সাথে তাল দিতে রাজি হবেন তখন সব ঠিকই আছে। কিন্তু খারাপের বিরুদ্ধে বা ভালর পক্ষে বলতে গেলেই প্রশ্ন উঠবে নিজে ভাল না হয়ে কেন ভালমানুষি ফলাচ্ছেন? যেমন, কোন কাফের বা মুনাফিক যখন কোন মুসলমানের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে, নামাজ-কালামে বাধা প্রদান করবে, তখন আপনি সেখানে নাক গলাতে গেলে প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন যে, আপনি নিজে নামাজ-রোজায় কতটা মনোযোগী। কিন্তু নামাজে নিজের শিথিলতা থাকা আর নামাজে বাধা প্রদান করা যে এক জিনিস নয় এটা বোঝাতে পারবেন না। কিন্তু যদি ঐ জালেম ব্যক্তিকে সমর্থন করবেন, তখন আর কেউ আপনাকে দ্বিমুখী বলতে পারবে না। কারণ এক্ষেত্রে আপনি তো একমুখীই আছেন, নিজেও নামাজ পড়ছেন না আবার নামাজে বাধা প্রদানকারীকে সমর্থনও করছেন। এতইভাবে, যদি কখনো ধর্ষণকারীর বিরোধিতা করেন, তখন হয়তো বলা হবে আপনি নিজে কতটা সাধু। কিন্তু নিজের চরিত্র ভাল করতে না পারা যে এক জিনিস আর জোরপূর্বক অন্যের সতীত্ব হরণ করা যে আরেক জিনিস এটা কি দিয়ে বোঝাবেন? নিজের চরিত্র ভাল করতে পারেননি বলে কি অন্য কেউ ভাল মানুষদের জোরপূর্বক খারাপ বানাবে সেটাও আপনি চেয়ে চেয়ে দেখতে বাধ্য?

     

    1. 7.1
      মহিউদ্দিন

      ~~ফরহাদ মাজহার কেমন লোক সেটা বড় কথা নয়। বরং তার আলোচ্য কথাগুলো কতটা যৌক্তিক কি অযৌক্তিক সেটাই বিবেচ্য বিষয়। যুক্তিবিদ্যা মতে, শিক্ষক ছাত্রের নকল ধরবার কারণে ছাত্র যদি শিক্ষকের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সেটা যুক্তিসঙ্গত হবে না। মানুষ যখন কারো সাথে যুক্তিতে পেরে না ওঠে, তখন তার উপর ব্যক্তিগত আক্রমণটাই হয় শেষ হাতিয়ার।

      সহমত।

      ধন্যবাদ।

       

      1. 7.1.1
        মাহফুজ

        ”চরিত্র নয়”- মূলত “বিশ্বাসটাই এখানে আসল বিষয়- ধন্যবাদ

  3. 6
    এম_আহমদ

    গতমাসে মাজহার সাহেব এবং তুহীন সাহেব ব্রিটেনে এসে কয়েকটি শহরে বক্তৃতা করেন। ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র’ এই ছিল শীর্ষক আলোচনা। সেখানে বাংলাদেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার বিষয় ছাড়াও বর্তমান বৈশ্বিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে আমি পূর্বে দুটি মন্তব্য করেছি। কোনো একটি বক্তৃতায় অনেক প্রসঙ্গ আসে এবং শ্রোতাদের মনেও শ্রুত বিষয়ে অন্য আলোচনার সূত্রপাত করে যায়। আমি এখানে সেখানকার পার্শ্বিক দুটো বিষয় নিয়ে আমার আলোচনা করব। এই দুটির একটি হল আমাদেরকে জালেম বিশ্ব ব্যবস্থাকে আশ্বস্ত করতে হবে যে আমরা তাদের অকল্যাণ চাহি না এবং দ্বিতীয়টি হল ইসলামের সার্বজনীন ধারণাটি সার্বজনীন করেই উপস্থাপন করতে হবে। 

    আমার মনে হয় পশ্চিমা বিশ্ব এটা ভাল করেই জানে যে মুসলিম বিশ্ব তাদের অকল্যাণ চাহে না। তাদের বড় বড় ইউনিভার্সিটির ইসলামের অধ্যাপকগণ এগুলো ভাল করেই জানেন। তাদের উদ্দেশ্য অন্যত্র। এই দেশগুলো নিজেদের জনগণকে ভীতির আওতায় রেখে ধনাঢ্য শ্রেণীর স্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকে। ভীতির একটা উপকরণ অবশ্যই থাকতে হবে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগ পর্যন্ত সেই ভীতি ছিল তাদের মধ্যে পারস্পারিক। ইউরোপিয়ান দেশগুলোর কে কার বিপক্ষে কি করছে সেই ভীতি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর সেই ভীতি ‘রাশিয়ান বলয়ের’ ভীতি হয়। ১৯৮৯ এর পর থেকে সেই ভীতি ইসলামের নামে সূত্রপাত হয়। ১৯৯০ সালেই প্রথম ইরাক আক্রমণ হয়। এটা হচ্ছে ‘ইনল্যাণ্ড সিকিউরিটির ভীতি’। জর্জ অরওয়েলের এই মর্মে একটা কথা আছে যে we are being governed through fear but we have no right know what lies behind the curtain because that is ‘classified’, we have ‘no right’ to access it.

    আলোচনার দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে ইসলামের সার্বজনীন ধারণাটি সার্বজনীন করেই উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু এখানেই তো ইউরোপীয় সমস্যা। ইউরোপিয়ান সভ্যতাই থাকতে হবে ‘সার্বজনীন সভ্যতা’। Clash of civilisation এর মূল কথা এখানে। তাদের মোকাবেলায় কাউকে স্থান পেতে দেবে না। গ্লোবেলাইজেশনের প্রধান প্রধান থিয়োরিস্টদের ধারণা দিয়ে এই কথাটির পিছন দিক দেখানো যেতে পারে। ইউরোপ যখন ইসলামী খিলাফত ভেঙ্গে দিয়েছিল, তখন এটা যাতে পুনরায় ফিরে আসতে না পারে সেই লক্ষ্যে পরাজিত ভূখণ্ডে right to self determination থিওরি উদ্ভাবন করে আলাদা আলাদা ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত করে দেয় (এই থিওরির প্রবক্তা উইড্রো উইলসন)। ইউরোপ কখনো ক্রুসেড যুদ্ধ ভুলতে পারেনি। আজকে যা হচ্ছে তা সেই যুদ্ধেরই অংশ। সুতরাং আমরা এই ধারণা করলে ভুল হবে যে আমরা যদি তাদেরকে এই মর্মে আশ্বস্ত করতে পারি যে আমরা তাদের অমঙ্গল চাহি না, তাহলে হয়ত তারা আর আমাদের মাথায় গদা ঢালবে না। ইউরোপ আমেরিকা ভাল করেই জানে যে ইসলামে সন্ত্রাস নেই এবং যা হচ্ছে তা তাদেরই সৃষ্টি।

    তবে মাজহার সাহেব এবং তুহীন সাহেবের কথা এগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের আরও কথা আছে, ব্যাখ্যা আছে। তাদের সব কথা বিবেচনা করা উচিত। কেননা, যেকোনো নতুন initiative এর মধ্য দিয়ে অনেক কল্যাণ আসতে পারে। এতে নতুন উদ্যম আসে। নতুন অনুভূতি নিয়ে কাজ করার প্রেরণা আসে। ইসলামী দলগুলো ভাল প্রস্তাব বিবেচনা করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার প্রয়োজন নেই। তাই তাদের আলোচনাকে entertain করা উচিত এবং তারা কীভাবে তাদের চিন্তাধারাকে expound করেন তা দেখতে হবে। আমরা যা শুনেছি তা হল বক্তৃতা। বক্তৃতায় সব কথা স্পষ্ট হয় না।

    আবার বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ইসলামী দলগুলো নিজেদের বর্তমান কর্মের structureকে কীভাবে সার্বিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যক্ত করবে, যাতে করে দেশের সকল জাতি-উপজাতি ও শ্রেণীর লোকজন সেই বক্তব্যে নিজেদের interest প্রতিফলিত দেখতে পায় –এই মর্মের কথা সমাজের কিছু লোক নিজেদের মত করে বুঝার চেষ্টা করেছেন। ফ্রেন্ড বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন আলোচনায় যা অনুভব করেছি তার মর্মার্থ হয়ত অন্য কোনো মন্তব্যে করব। এসব কথা অনেক প্রশস্ত।

    আমি যখন বক্তৃতা শুনতে হলে (Hall) প্রবেশ করি তখন সেখানে বেশ সাড়া জাগানো চাঞ্চল্য ও মানিসকতা অনুভব করি। সেখানে আম জনতা ও আলেম ওলামাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করি। তারা হেফাজত, জামাত, খেলাফত আন্দোলনের ওলামা। ব্রিটেনে আলেমদের যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা লক্ষণীয়। আজ যারা সমাজ পরিবর্তনের পক্ষের লোক তারা পজিটিভ কাজ করতে এগিয়ে যেতে হবে। যতটুকু সম্ভব কোথাও আটকা পড়ে লাভ নেই।

     

    1. 6.1
      মহিউদ্দিন

      ভাই, আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আবারো ধন্যবাদ।

      আরেকটি কথা। আমাদেরকে যা ভালো তাই দেখতে হবে। সময় এসেছে দেউলিয়া বক্তব্যের ও মানসিকতার পাশ কাটিয়ে ভালোর উপর ঠিকে থাকা। ফারহাদ সাহেবের কথায় ইনু-মতিয়া-নাহিদ-শাহরিয়ার গং ও তাদের চেলা-চামুণ্ডাদের গায়ে জ্বালা লেগেছে। তারা মস্কোর কিবলা হারিয়ে  আলীগের ঘাড়ে চেপেছিল তাই ফরহাদ মাজহার তাদের মতো বিএমপি তাদের সংশ্লিষ্ট দলের ঘাড়ে চেপে বসে যাচ্ছে কিনা সেই দুশ্চিন্তায় তাদের মনের বিগ্রহ গালি আর গীবত করছে। তাদের কায়দা হচ্ছে এই, ‘ভাই গীবত করিনা, তবে …[গিবত আর গিবত]…।’  তাই আজ দেশের অসহায় মানুষকে বলতে শুনি, এরা হচ্ছে বাংলাদেশের কলঙ্ক, অসহায় জনতার বোঝা, এরা এক ফ্যসিষ্ট গুষ্টি তবে এই ফ্যসিষ্টের কথা হচ্ছে  ফরহাদ মাজমার তাদের মত ফ্যাসিস্ট নন কেন? কেন  গঙ্গা স্নানে নেই ? কেন এসব ছেড়ে দিতে হবে? তাই তো তার বিপক্ষে যতসব কথা! প্রোপাগান্ডা, মিথ্যাচার! তিনি নাস্তিক। তিনি খৃষ্টিয়ান মিশনারিদের সাথে কাজ করেন। এসবের মধ্যে যে দ্বৈততা রয়েছে –তারা সে বিষয়ে বেখেয়াল। তার এনজিও তাদের কাছে অপরাধ। কিন্তু তাদের পছন্দের বামেরা যদি বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে জুতা বানাবার কথা বলেও থাকে, বঙ্গশত্রু, দেশশত্রুও বলে থাকে, এমনি তাঁর মৃত্যুতে ট্যাঙ্কের উপর চড়ে উল্লাস প্রকাশ করে থাকে, তাও ঠিক আছে, কেননা সেটা তাদের অতীত! আর ফরহাদ মাজহার? তার জীবনে কোনো অতীত থাকতে পারবে না। তার সবই বর্তমান। এই শ্রেণীর লোকদের কোরানে থাবা-বাবাও বেহেস্তে যাবার আয়াত রেখেছে। আর নাস্তিক লতিফ সিদ্দিকী? ও সে তো অজ্ঞতা ও অহং-বশত কিছু কথা বলে ফেলেছে, এই যা! আর বাংলাদেশের আলেম? আরে বাবা, বাংলাদেশে আর আলেম আছে নাকি? ওরা তো ধর্মব্যবসায়ী। লতিফ সিদ্দিকী আজ উন্মাদনার শিকার!  এখন প্রশ্ন হচ্ছে ফ্যসিষ্ট বা জালিমদের কাছে  কি কোরআনের কোন মর্যদা আছে?

      মহান  আল্লাহ পরিষ্কার জানিয়ে দেন: "আমি অবতীর্ণ করি কোরআন যাহা মু'মিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু জালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।" (সুরা ১৭:৮২)

      তো ফরহাদ, তুই শালা যদি ইসলামের দিকে ঝুঁকবি তো হেফাজত-খেলাফত-বিএনপির জামাতের দিকে ঝুঁকবি কেন? ঘরের পাশে তাপসী রাবেয়া বসরি রেখে সন্ত্রাসীদের ঘরে! এটা কি হয়? ওরে ধার্মিক, দেশ-ভক্তির সংকীর্তন শুরু কর রে!  ওরে বৈষ্ণব তোরা কই রে? তবে ফরহাদ মাজহারের হাতে আমরা এখনো কোনো ‘স্বার্থ’ দেখছি না (বরং গুম কিংবা বন্ধী হওযার আশঙ্কাই বেশী)। তিনি এখনো মন্ত্রী মিনিস্টার হতে পারেননি। যারা মন্ত্রী হয়ে নাস্তিক্যবাণী প্রচার করছে তিনি তো সেসবের বিপক্ষে -সেসব থেকে অনেক দূরে। পরে কি হবে তা তো আল্লাহই জানেন। 

      1. 6.1.1
        এম_আহমদ

        @মহিউদ্দিন:

        ফারহাদ সাহেবের কথায় ইনু-মতিয়া-নাহিদ-শাহরিয়ার গং ও তাদের চেলা-চামুণ্ডাদের গায়ে জ্বালা লেগেছে। তারা মস্কোর কিবলা হারিয়ে  আলীগের ঘাড়ে চেপেছিল। তাই, ফরহাদ মাজহার তাদের মতোই বিএমপি ও সংশ্লিষ্ট দলের ঘাড়ে চেপে বসে যাচ্ছেন কিনা সেই দুশ্চিন্তা ও তাদের মনের বিগ্রহে তারা গালি আর গীবত করছে। তার বিপক্ষে … প্রোপাগান্ডা,  মিথ্যাচার!… তিনি নাস্তিক। তিনি খৃষ্টিয়ান মিশনারিদের সাথে কাজ করেন। এসবের মধ্যে যে দ্বৈততা রয়েছে –তারা সে বিষয়ে বেখেয়াল। … কিন্তু তাদের পছন্দের বামেরা যদি বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে জুতা বানাবার কথা বলেও থাকে, বঙ্গশত্রু, দেশশত্রুও বলে থাকে, এমনি তাঁর মৃত্যুতে ট্যাঙ্কের উপর চড়ে উল্লাস প্রকাশ করে থাকে, তাও ঠিক আছে, কেননা সেটা তাদের অতীত! আর ফরহাদ মাজহার? তার জীবনে কোনো অতীত থাকতে পারবে না।

        ফরহাদ মাজহারের হাতে আমরা এখনো কোনো ‘স্বার্থ’ দেখছি না (বরং গুম কিংবা বন্দী হওযার আশঙ্কাই বেশী)তিনি এখনো মন্ত্রী মিনিস্টার হতে পারেননি। যারা মন্ত্রী হয়ে নাস্তিক্যবাণী প্রচার করছে তিনি তো সেসবের বিপক্ষে -সেসব থেকে অনেক দূরে। পরে কি হবে তা তো আল্লাহই জানেন। 

        আজ দেশের হত্যা, গুম, সন্ত্রাস, জাতীয় সম্পদের হরিলুট, [এখানে লিস্ট দেখুন এবং এসব বাস্তবতার সামাজিক দর্শন কি হতে পারে তা নিয়ে একটু চিন্তা করুন] ইত্যাদি চলছে আর মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানাদির মাধ্যমে চলছে চেতনার ধাপ্পাবাজি আর নৃত্য, সঙ্গীত, নাটক আর ছবির মাধ্যমে চলছে মগজ-ধোলাইয়ের কর্মকাণ্ড। তাদের বিপক্ষে কেউ কিছু বলতে পারবে না। পিয়াস করিম মরে গিয়েও নিস্তার পাচ্ছেন না। তুহীন সাহেব ও মাজহার সাহেব প্রায়ই সন্ত্রাস ও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন, তা তারা নিজেরাই বর্ণনা করেছেন। ইন্টারনেটেও তাদেরকে আক্রমণ হচ্ছে, যে যেভাবে পারছে হুমকি দিচ্ছে। এসব কেন? এটা কোন স্বাধীনতা, কোন চেতনা? কারো মান-সম্ভ্রম কি থাকবে না? আপনার বিপক্ষে গেলে তার জন্য কি ন্যায় বিচারের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়বে? সে কি সমাজে হেস্তন্যাস্ত হবে, সামাজিক মর্যাদা হারাতে হবে? এগুলোর বিপক্ষেই তো ছিল মুক্তিযুক্ত। জাতি কি এসব বুঝবে না? ইসলামকে ধ্বংস করার ‘চেতনারময়ী’ আন্দোলন হচ্ছে তা যে ধাপ্পাবাজি সে কথা কি জনগণ জানতে পারবে না? এই জাতি কি কেবল আপনাদের এই যুদ্ধে, সেকি যুদ্ধে, বন্দী থাকবে আর আপনারা জনগণের সম্পদের উপর হরিলুট চালাতে থাকবেন? এসব কি হচ্ছে?

        ______________________________________

        এই ব্লগে আমার আরও তিনটি মন্তব্য রয়েছে। সেগুলো এখানে:

        Link to first comment
        Link to second comment
        Link to third comment

      2. 6.1.2
        এম_আহমদ

        @মহিউদ্দিন:

        আপনার এই লেখায় আরও দুটি কথা সংযোগ করি।

        সেদিন যারা মাজহার সাহেবের বক্তৃতা শুনতে গিয়েছিলেন তাদের কারো কাছেই তার পূর্ব রাজনৈতিক অবস্থান অজানা ছিল না।

        তাছাড়া মাজহার সাহেব যে অডিয়েন্সে কথা বলতে দাঁড়িয়েছিলেন –এটা এমনও হয়ে থাকতে পারে যে  এই ধরণের অডিয়েন্সে তার কথা বলার ইতিহাস হয়ত নেহায়েত কমই, বা নেই, এবং এতে যে ধরণের অভ্যস্ততার প্রয়োজন তাও হয়ত নেই; সর্বোপরি এমন অডিয়েন্সে আলোচনা করতে যে কিছু ইসলামী ভাষা-পরিভাষার প্রয়োজন হয় অথবা যেগুলো ব্যবহারের অভ্যস্ততা না থাকলে সূক্ষ্মভাবে বেখাপ্পা শুনাতে পারে –এসব বিষয়ও যে তার অজানা ছিল তাও মনে হয় নি।  তিনি বার বার বলছিলেন, ইসলাম ধর্ম আপনারা নিশ্চয় আমার চেয়ে বেশি বুঝেন, আমি আপনাদেরকে ধর্ম শেখাতে হবে না, আমি সমাজ দার্শনিক একটি প্রেক্ষিত আলোচনা করছি যা ইসলামের সাথে সম্পর্কিত। এতে তার বিনয় প্রকাশ পেয়েছে।

        আমি যখন তার বক্তব্য শুনছিলাম তখন সেই তার বক্তব্যের সংযুক্তি ইসলামের সাথে অনুভব করেছি। বক্তৃতায় যেখানে কলেমা উচ্চারণের স্থান এসেছে সেখানে সেই কলেমা উচ্চারিতই হয়েছে, (তাওহীদের কলেমা)। তারপর বক্তব্যের সংযুক্তিতে ‘আমার নবী (সা.)’ ‘আমাদের নবী (সা.)’  ‘আমাদের ধর্ম’ ‘আমাদের সমাজ’ –এভাবেই এসেছে। তারপর নবীর নাম উচ্চারণে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলেছেন। এই সব হচ্ছে মুসলমানদের বিরাট জনসভায়। প্রোগ্রাম শেষে আলেমদের সাথে হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। এত কিছুর পর আমার অথবা আপনার কি অধিকার আছে যে তার বিশ্বাস ও ধর্ম নিয়ে অতীত টেনে টেনে তাকে নানাভাবে বিদ্ধ করার?

        মুমিন মুসলমানদের গুণ হচ্ছে এই যে কাউকে ইসলামের পথে আসতে দেখলে সে খুশি হয়, তাকে উৎসাহ দিতে এগিয়ে যায়, তাকে মুবারকবাদ জানায়। মানুষের অন্তর তাদের জবানেও প্রকাশ পায়। পিয়াস করিমকে সেদিন মানুষ সম্মান দেখিয়েছিল কারণ লক্ষ লক্ষ লোক টিভিতে তার কথা শুনেছিল। সকলের সামনে তার বিশ্বাসই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ধর্মের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তাকে হেস্তন্যাস্ত হতে হয়েছিল। মাজহার সাহেবও জীবনের হুমকি নিয়ে কথা বলছেন।  আমরা এও জানি কেউ ইসলামের পথে আজ থাকতে পারে কাল নাও থাকতে পারে। কিন্তু সেটা তো আল্লাহর ব্যাপার। আমার আপনার এই দায়িত্ব নেই যে তার অন্তর ও উদ্দেশ্য নিয়ে অগ্রিম সন্দেহ প্রচার করা আর তার ‘বক্তব্যের স্থান’ স্থান থেকে সরে এসে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা।

        আমাদের মনে রাখা দরকার যে বিগত ৪৩ বৎসর ধরে এবং এর আগ থেকে অসাম্প্রদায়িকতা “আবরণে” তাদের যে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল সেই আন্দোলন ৫ই মে গণহত্যায় সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে পড়ে। ইন্টারনেটে প্রতারকগণ এ-টিম, বি-টিম, সি-টিক করে বিভিন্ন ছদ্মরূপে কাজ করে যে momentum তৈরি করেছিল তা হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে পড়ে। এর পরে তাদের কোনো বক্তব্য আর বিশ্বাসযোগ্য থাকেনি। তাদের সংস্কৃতি, প্রতীকী, তাদের ‘বাঙালীয়ানা’, সাংস্কৃতিক স্বর্গ, ‘সাংস্কৃতিক শহীদ’, ধর্ম ব্যাখ্যা, “উদ্ধৃতি-মারা” –সব বিফল হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বড় যে লাভটি হয়েছে সেটি হল জামাত-হেফাজত-খিলাফত এবং এই মর্মের আরো কয়েকটি ইসলামী দলের মধ্যকার ঐক্য। তাছাড়া ফ্যাসিস্টদের কর্মকাণ্ড দেখে সেক্যুলার জগতের অনেক ব্যক্তিত্ব তাদের পিছন থেকে সরে পড়া।

        1. 6.1.2.1
          মহিউদ্দিন

          @এম_আহমদ,

          "আমি যখন তার বক্তব্য শুনছিলাম তখন সেই তার বক্তব্যের সংযুক্তি ইসলামের সাথে অনুভব করেছি। বক্তৃতায় যেখানে কলেমা উচ্চারণের স্থান এসেছে সেখানে সেই কলেমা উচ্চারিতই হয়েছে, (তাওহীদের কলেমা)। তারপর বক্তব্যের সংযুক্তিতে ‘আমার নবী (সা.)’ ‘আমাদের নবী (সা.)’  ‘আমাদের ধর্ম’ ‘আমাদের সমাজ’ –এভাবেই এসেছে। তারপর নবীর নাম উচ্চারণে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলেছেন। এই সব হচ্ছে মুসলমানদের বিরাট জনসভায়। প্রোগ্রাম শেষে আলেমদের সাথে হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। এত কিছুর পর আমার অথবা আপনার কি অধিকার আছে যে তার বিশ্বাস ও ধর্ম নিয়ে অতীত টেনে টেনে তাকে নানাভাবে বিদ্ধ করার?

          মুমিন মুসলমানদের গুণ হচ্ছে এই যে কাউকে ইসলামের পথে আসতে দেখলে সে খুশি হয়, তাকে উৎসাহ দিতে এগিয়ে যায়, তাকে মুবারকবাদ জানায়। মানুষের অন্তর তাদের জবানেও প্রকাশ পায়। পিয়াস করিমকে সেদিন মানুষ সম্মান দেখিয়েছিল কারণ লক্ষ লক্ষ লোক টিভিতে তার কথা শুনেছিল। সকলের সামনে তার বিশ্বাসই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ধর্মের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তাকে হেস্তন্যাস্ত হতে হয়েছিল। মাজহার সাহেবও জীবনের হুমকি নিয়ে কথা বলছেন।  আমরা এও জানি কেউ ইসলামের পথে আজ থাকতে পারে কাল নাও থাকতে পারে। কিন্তু সেটা তো আল্লাহর ব্যাপার। আমার আপনার এই দায়িত্ব নেই যে তার অন্তর ও উদ্দেশ্য নিয়ে অগ্রিম সন্দেহ প্রচার করা আর তার ‘বক্তব্যের স্থান’ স্থান থেকে সরে এসে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা।"

           

          ভাই সঠিক বলেছেন,  এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সমস্যা, কিছু মানুষের কাজই হচ্ছে শুধু অতীত নিয়ে টানা…. এরা বর্তমানকে দেখে না, বুঝে না। এরা বর্তমানকে ভালো করতে চায়না বা বদলাতে চায় না এবং নিজেরাও পরিবর্তন হতে চায় না। এদের অবস্থা হচ্ছে এদের চোখ আছে কিন্তু  বিবেকের দৃষ্টিশক্তি নাই এরা আসলেই অন্ধ! 

           

           

           

           

        2. 6.1.2.2
          মহিউদ্দিন

          'ভাই আরেকটি ব্যাপার লক্ষণীয়  ফরহাদ মাজহারকে আমরা বাংলাদেশের prominent  আলেম ওলামাদের কেউকে তো  ‘নাস্তিক’ ফতোয়া দিতে দেখছি না কিন্তু তবুও কিছু লোক তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করছে, ‘নাস্তিক’ বলে উল্লেখ করছে –এই বিষয়টি কিভাবে দেখা হবে?' 

        3. এম_আহমদ

          -১- কারা এবং কেন বলছেন?

          ভাই, ফরহাদ মাজহার সাহেবকে কারা নাস্তিক বলছেন? বাংলাদেশের আলেম-ওলামা, মুফতি-ফকিহ? না। আমরা তো বরং দেখছি মাজহার সাহেব বিগত কয়েক বৎসর ধরে ইসলামের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছেন। তার সাথে বাংলাদেশের আলেম-সমাজ আলাপ-আলোচনা করছেন, উঠা-বসা করছেন। তার কথাবার্তা রেডিও-টিভিতে প্রকাশ পাচ্ছে, লেখায়ও প্রকাশ পাচ্ছে। এই সেদিন তিনি  ইংল্যান্ডে আসলে তার সাথে আলেম-ওলামারা বৈঠক করেন, তার বক্তৃতায় যান, তার কথা শুনেন। এই আলেমগণ খেলাফত, হেফাজত, জামাতি এবং অপরাপর মহলের। এদের মধ্যে বড় বড় মুফতিও রয়েছেন। এই সম্প্রদায় যদি তাকে নাস্তিক না বলেন, তবে যারা বলছেন, ওরা কারা? ওরা আদৌ কি কেউ? আপনার প্রশ্নের উত্তর এখানেই শেষ। তবে আপনি যে কালীন প্রেক্ষিতে প্রশ্ন করেছেন, সেটি সামনে রেখে আরও কিছু কথা বলার দাবী রাখে। তাই বিষয়টি প্রশস্ত করতে যাচ্ছি।

          প্রথমে একটি জিনিস খেয়াল করুন। আল্লাহর করুণা ও হেদায়ত কার উপর কখন কীভাবে চলে আসে তা আমাদের সমঝের বাইরে, গণনার বাইরে। তিনি তার কাজ যার মাধ্যমে ইচ্ছা করিয়ে নেন। আল্লাহ যদি তার কাজের জন্য কাউকে পছন্দ করে নেন, তবে সাবধান! তাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। কে ইসলামে আগে এসেছে, কে পরে এসেছে, কার দৃষ্টিতে কার ’আমলের’ লিষ্ট কত দীর্ঘ, কার মাথায় বুদ্ধির পরিমাণ বেশি –এসব অঙ্কে হেয়ায়াতের বিষয় নির্ধারিত ও নিহিত নয়। আবারও বলি, কেউ আমৃত্যু ঈমানের ঠিকে থাকবে এমন এমন ‘নিশ্চয়তা’ও দিতে পারবে না। 

          আগের মন্তব্যে ঈমানদারকে একটি গুণের কথা উল্লেখ করেছি। কোনো এক ব্যক্তি যদি দ্বীন-ইসলামের পক্ষে কথা বলতে শুরু করে, যদি অনুরাগ দেখায়, তবে ঈমানদারগণ আনন্দিত হন, তাকে উৎসাহ দেন, তাকে সম্মান দেখান, এবং কখনো তার অতীত দেখিয়ে তাকে ছোট করতে যান না, তাকে আক্রমণ করতে যান না। তারা জানেন আল্লাহ তার করুণা দিয়ে তাদেরই দোষ, তাদেরই অনেক অতীত গোপন রেখেছেন। তিনি যদি চান, তবে যে কাউকে যেকোনো সময় লাঞ্চিত, গঞ্জিত করে ফেলতে পারেন। এখানে কোনো বড়াই-আড়াইয়ের স্থান নেই। আল্লাহ কাছে কার স্থান ও সম্মান কোথায় তা কেবল তিনিই জানেন। অধিকন্তু মানুষের ক্বলব তার আঙ্গুলের হেননের মধ্যে। এজন্য মুমিনগণ নিজেরা হেদায়াত বঞ্চিত হওয়া থেকে সর্বদা দোয়া করে থাকেন। আগামীতে কার অবস্থা কোথায় হবে –সেই ভয়েই সন্ত্রস্ত থাকেন। (যারা আমার এই লেখাটি দেখেন নি তারা দেখতে পারে। এটিও)।

          -২- কিসের ভিত্তিতে নাস্তিক?

          আজ যারা মাজহার সাহেবের বিপক্ষে নাস্তিক্যবাদের হামলা চালাচ্ছেন তারা ও তাদের কারণের দিকটি লক্ষ্য করুন। দেখবেন, এরা নির্মূল ঘরানার মিশ্র-বাস্কেটের লোক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদেরই সমর্থকবৃন্দ। এরাই সার্বিকভাবে মাজহার সাহেবের প্রতি ক্ষুব্ধ। তাকে নাস্তিক বানাতে তার অতীত খোঁজে বেড়াচ্ছেন। হয়ত তার ‘অতীত’ থেকে তুলে আনা কবিতার পঙতি দেখে থাকবেন, but these stanzas of the poems are full of certain poetical dictions within the type called ‘ambiguities’ (see ‘Seven Types of Ambiguity’ by William Empson, published by Hogarth Press, London 1984, first published , 1930) and with these you cannot prove someone’s belief with any certainty unless you take the protagonist as always indentical with the poet, or to exemplify further,  to take the narrator or the major charecter of novels/drama as being the very person of the author, foolishly of course। এসবে [in poetry] অর্থের plurality কাজ করে।  সাহিত্যের এই genre-য় বক্তব্য বিভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়। আপনি মাজহার সাহেবকে ধরার আগে নজরুলের লেখা দেখুন। আল্লামা ইকবালের শিকওয়া প্রকাশের পর উত্তেজনা এসেছিল এবং জওয়াবে শিকওয়ার পর কি হয়েছিল তা দেখুন। ওমর খাইয়ামের একটি পঙতি কি হয়েছিল তা বিবেবনা করুন। কিন্তু যদি মাজহার সাহেবের ব্যাপারে একান্ত ফতোয়ার যেতে হয় তবে কি তা তার “অতীতের” পঙতি দিয়ে হবে? ফতোয়া দেবে কে? নির্মূল ঘরানা ও তাদের সমর্থকবৃন্দ? এদের ধর্মীয় অবস্থানটা কি? আল্লাহ আমাদেরকে ফেতনা থেকে বাঁচান।

          মাজহার সাহেবের বক্তব্য কি? কারা তাকে নাস্তিক বলছে?

          মাজহার সাহেব ঐক্যের কথা বলে যাচ্ছেন, দেশের বাস্তবতার কথা বলছেন, ধাপ্পাবাজদের মুখোশ উন্মোচন করছেন, চেতনাবাদীদের মিথ্যাচার অবগুণ্ঠন করছেন, ইসলাম বিদ্বেষীদের বিপক্ষে কথা বলছেন, এখন তাকে নাস্তিক বানাবার পায়তারা করবে কারা? তাকে নাস্তিক দেখাতে কারা কাদের থেকে উদ্ধৃতি মারছে? এদের ধর্মীয় অবস্থান কি? এরা কারা? মনে করুন মাজহার সাহেব জীবনের বাজী রেখে শেষ জীবনে এসে ২০ দলের সাথে রাজনীতি করে, বিজয়ী হয়ে, মন্ত্রী-মিনিস্টার হয়ে, টাকা রুজির পায়তারা করছেন। কিন্তু তা কি নাস্তিকতার কিছু? মনে করুন, শেষ বেলায় তিনি মুসলিম দলের সাথে মিশে তাদেরকে প্রতারিত করবেন। তারা তার কাছে প্রতারিত হবার কি আছে? কিন্তু এটা ধরে নিলেও কি তা নাস্তিকতা হবে? আবার তার ‘মনের ভিতর’ কোন উদ্দেশ্য নিহিত তা কি আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে? কিন্তু আপনি কি তার উদ্দেশ্য নিজেই decide করে তাকে আক্রমণ করবেন? আপনার কি সেই নাগরিক বা “ধর্মীয়” অধিকার আছে? এমন কাজ কি ফাসাদের কাজ নয়? নিচের লিঙ্কের তাকফীর বিষয়টি ভাল করে পড়ে নেবেন। মনে রাখবেন, কেউ যদি প্রতারণার উদ্দেশ্যেও শাহাদাতের ঘোষণা দেয় তবুও আপনি তার সেই ঘোষণা গ্রহণ করতে আদিষ্ট, বাধ্য।

          নির্মূল ফ্যাসিস্ট ও তাদের সমর্থকগণ জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে হাজির করিয়েছে। তাদের কারণে এ পর্যন্ত যত প্রাণহানী ও ধ্বংসযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে তার জন্য একদিন তাদেরক আল্লাহর কাছে জওয়াবদিহি করতে হবে। তাদের কারণে ইসলাম ও মুসলমানদের যে ক্ষতি হচ্ছে তার জন্যও। দেশে আজ তাদের বিদ্বেষ বিষধর হয়ে বিরাজ করছে। কিন্তু এদেরকে বুঝানো যাবে না। সাধ্যের বাইরে। তাই তারা বরং তাদেরকে তাদের নির্মূল কাজেই ব্যস্ত থাকতে দিন। আল্লাহ যাদেরকে বাঁচানোর ইচ্ছা, বাঁচাবেন, আর যাদেরকে তাদের হাতে শাহাদত দিতে ইচ্ছা করেন, শাহাদাত দেবেন। জীবন মৃত্যু এভাবেই হয়।

          মাজহার সাহেবের সকল কথাবার্তা মুসলমানদের সামনে। আলেম ওলামাদের সামনে। আলেমগণ তার মধ্যে নাস্তিক্যবাদের কিছু দেখতে পাচ্ছেন না, আমরাও দেখতে পাচ্ছি না। আমার মনে হয় কথা অনেক স্পষ্ট হয়েছে। এরপর যারা এ বিষয়ে ঝগড়াবিবাদ করতে আসবে, অথবা মাজহার সাহেবকে নাস্তিক দেখাতে যাবে, আমি বলব, তাদের সাথে কোনো বিতর্কে যাওয়া সঠিক হবে না। তবে ‘লাকুম দ্বীনুকুক ওয়া লিয়া দ্বীন’বলে নীরব হয়ে যাওয়া বা কেটে পড়াই উচিৎ হবে।

          -৩- অধর্ম

          আরেকটি কথা লক্ষ্য করুন।  কারো উপর willy-nillyভাবে ‘তাকফীর’ (تكفير) আরোপণ শুধু পাপের কাজই নয় বরং হাদিসের আলোকে এবং শারিয়াবিদদের দৃষ্টিতে পালটা কুফরির মত ভয়াবহ জিনিস। এখানে দুটি লিঙ্ক দেখুন।[প্রথম লিঙ্ক], দ্বিতীয় লিঙ্ক] এতে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। কিন্তু কাউকে নাস্তিক বলা ‘তাকফীর’ থেকেও ভয়ানবহ। কারণ কাফির বললে সে বিশ্বাসী থেকে যায়, কিন্তু নাস্তিক বললে সেই পরিসর থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। লিঙ্কে উল্লেখিত হাদিসে লক্ষ্য করে থাকবেন যে কেউ যদি কোনো মুসলমানকে কাফির বলে এবং সে যদি প্রকৃত পক্ষে কাফির না হয়, তবে বক্তার উপর সেই কুফরি বর্তে যায়। সুতরাং “একান্ত স্পষ্ট বিষয় ছাড়া”, এইসব কাজে কেউ না নামা উচিৎ নয়। আল্লাহ আমাদেরকে এই সংস্কৃতি থেকে রক্ষা করুন। আজ যারা এসব করছেন, তারা আমাদের কথা শুনবেন না। তাই তাদের জন্য দোয়া করা উচিৎ। আল্লাহ তাদেরকে এসব থেকে বাঁচান। এবং আমাদেরকেও। আর যারা এসবের গভীরে চলে গিয়েছেন, আল্লাহ যেন আমাদেরকে তাদের সাথে কোনো ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করেন। আমীন।

          পরিশেষে, মাজহার সাহেবের বক্তব্যে অনেক পজিটিক দিক এসেছে। তবে মানুষ হিসেবে সকলের কথায় ভুলের স্থান থাকতে পারে। তার সমালোচনা তাই বস্তুনিষ্ঠ হয়ে আসতে পারে। তার উপস্থানায় ভুল থাকলে সেটা কি –তা আলোচিত হতে পারে। সমাজ ও দেশ নিয়ে কারও বিকল্প ধারণা থাকলে তাও উত্থাপিত হতে পারে। মনে রাখবেন, কেউ মাটিতে পড়ে গেলে সে কিভাবে আবার উঠে দাঁড়াবে তা নিয়েই সে কথা বললে সুন্দর মানায়।  কিন্তু এসব বাদ দিয়ে অমুকের দোষ, তমুকের দোষ, আর কা-কা- ঘা-ঘা, এসবের মাধ্যমে কোনো পরিত্রাণ নেই।

  4. 5
    মজলুম

    শিয়া, জামাত-শিবির এবং কন্সপিরেছি থিউরিষ্ট এই তিন ধরনের লোকদের সাথে আলোচনা, তর্ক বিতর্ক করা আর উলুবনে মুক্তো ছড়ানো একই।
    এক নাম্বারে হলো শিয়ারা। এদের মতে উনাদের শিয়া ইমামরা ভুল করতে পারেন না, উনাদের আয়াতুল্লাহরা হলেন "ইনফ্যালেবল"। শিয়া নেতারা/ইমামরা/ আলেমরা যা বলে সবই ঠিক।  দুই নাম্বারে হলো জামাত-শিবির। উনাদের মূল জিনিস হলো দুইটা, নেতৃত্ব এবং হিকমা। এবং জামাত নেতার আদেশ মানা ফরজে আইন। কোন জামাত-শিবিরের লোকদের কখনোই পাওয়া যায় না যে তার নেতাদের ভুল কাজের সমালোচনা করে। কালকে যদি জামাত নেতারা প্রচার করে যে ঢাকা শহরের সব কাক গুলোর রঙ সাদা। তখন দেখা যাবে জামাত-শিবিরের টপ টু বটম সবাই বলবে ঢাকা শহরের সব কাক গুলোর রঙ সাদা। কেউ যদি হাত দিয়ে ধরে দেখায় যে দেখ ঢাকা শহরের কাকের রঙ কালো, তবুও এরা মানবেনা।
    ৯৬ তে জামাত এককভাবে নির্বাচন করার সময় প্রচার করেছিলো নারী নেত্তৃত্ব হারাম, দলের সবাই টপ টু বটম প্যারটের ন্যায় তা প্রচার করেছে। ২০০০ সালে বিএনপির সাথে জোট করার সময় প্রচার করেছে এটা হুদাইবিয়ার সন্ধি, সাথে সাথে দলের সবাই প্রচার করতে লাগলো এটা হুদাইবিয়ার সন্ধি(পাগলেও বুঝে সন্ধি কি আর জোট করে ক্ষমতায় যাওয়া কি)। ২০০১ এর নির্বাচনে এসে জামাত নেতারা প্রচার করতে লাগলো "নারী নেতৃত্ব হারাম" এটা কোরান বা হাদিসে নাই। তোতা পাখির মতো জামাতের সবাই এটা প্রচার করতে লাগলো।

    তারপর জামাত নেতারা প্রচার করলো, মক্কায় ও ৩৬০ টা মূর্তি নিয়ে এক সময় মুসলিমরা নামাজ পড়েছিলো, তাই উনাদের আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সব জায়েজ। মক্কি জীবনে মুসলিমরা পর্দা করতো না, কারন সূরা নুরে পর্দা প্রথা ফরজ করা হয়  হিজরী দ্বিতীয় সালে। মদ খাওয়াকে তিন ধাপে হারাম করা হয় মদিনায় রাসূল(সঃ) হিজরত করার ও অনেক পরে। সাহাবিরা মদ হারাম হওয়ার আগে মদ খেয়ে নামাজ ও পড়ত।   

    তার মানে এই নয় যে এখন বেপর্দা হয়ে চলা এবং মদ খাওয়া হালাল হবে। ইসলামী আইন কানুন ঐ সময় কম্প্লিট হয় নাই, ধীরে ধীরে তা পরিপূর্ণ হয়। এজন্য কুরান নাজিল হওয়ার সর্ব শেষ দিককার একটা আয়াত হলো আজ তোমাদের জন্যে দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।

    দ্বীন পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর যেমন বেপর্দা করা ও মদ খাওয়া হালাল করা যায় না তেমনি মক্কায় ৩৬০ টা মূর্তি নিয়ে নামাজ পড়ার  অজুহাত দেখিয়ে অইসলামি কার্যক্রম হালাল করা যায় না।

    মানুষ মনে করে, একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ছিল জাতির ত্রাণকর্তা ও মুক্তিদূত, আর ১৭ই ডিসেম্বর থেকে হয়ে গেল জাতির যম। ১৬ তারিখে এরা ছিল মহান ও পবিত্র, আর ১৭ তারিখে কিনা একদিনেই হঠাত করে নষ্ট হয়ে গেল। সোনার ছেলেরা সবাই একদিনে নষ্ট ছেলেতে পরিণত হওয়ার মতন অলৌকিক ঘটনাটা বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও ঘটেছে কিনা জানি না।

    ১৯৭৯ সালে রাশিয়া আফগানিস্তান আক্রমন করে কম্যুনিজম প্রতিষ্ঠা করে। সুপার পাওয়ার রাশিয়ার বিরুদ্বে সামান্য কিছু সেকেলে অস্র নিয়ে আফগান মুজাহিদরা ঝাপিয়ে পড়ে। পানশিরের সিংহ আহমদ শাহ মাসুদ, গুলবদ্দিন হেকমতিয়ার, বুরহানউদ্দিন রব্বানি, জালালুদ্দিন হক্কানির মতো লোকেরা। এদের গেরিলা যুদ্বেই বিধ্বস্ত হয় তৎকালিন সুপার পাওয়ার সোভিয়েত রাশিয়া। ১৬ লক্ষ আফগানের লাশের বিনিময়ে ধংস হয়ে যায় খোদাদ্রোহী মতবাদ কম্যুনিজমের লাল বাহিনী।
    কিন্তু সোভিয়েত বাহিনী চলে যাওয়ার পর আহমদ শাহ মাসুদ, গুলবদ্দিন হেকমতিয়ার, বুরহানউদ্দিন রব্বানি, দোস্তাম,  জালালুদ্দিন হক্কানিরা নিজেরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করতে থাকে ক্ষমতার জন্যে। পরবর্তী ৫ বছর আফগানিস্তানে চলে গৃহযুদ্ধ এদের মধ্যে। হত্যা, খুন, ধর্ষন, চাঁদাবাজির মতো অপকর্মে ঝাড়িয়ে পড়ে এরা। যেহেতু এরা রাশিয়া যাওয়ার পর এইসব করেছে তারমানে এই নয় যে রাশিয়া বিরোধী এদের ১০ বছরের গেরিলা যুদ্বগুলো কিছুই নয় বা ১৬ লক্ষ আফগান হত্যা কারী রাশিয়া এবং তাদের স্থানীয় আফগান কম্যুনিষ্টরা খুবই ভালো লোক।

    গেরিলা যুদ্বের সময় এই লোকগুলোর কর্মগুলো ছিলো সিনসিয়ার, অসাধারন, কিন্তু যুদ্ব পরবর্তী  এরাই ক্ষমতার লোভে হয়ে পড়ে যুদ্ববাজ। মানুষ মাত্রই পরিবর্তনশীল, আজকের ভালো কাল খারাপ হতে পারে আবার কালকের ভালো আজ খারাপ হতে পারে।

     

    জামাতিদের ধাপ্পাবাজি, ধুরন্ধরতা এবং ধূর্ত শিয়ালের ন্যায় কর্মকান্ড দেখলে খুবই বিনোদন পাই। বিএনপির আশারাফি পাপিয়া কিছুদিন আগে জামাত-শিবির নিয়ে কিছু সত্য বলার মাঝে একটা জাল হাদিস(স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত) বলায় জামাতিরা তাকে পাপী, মিথ্যাচারী বলছেন। কিন্তু তাদের নেতা rel="nofollow">দেলোয়ার হোসেন সাইদী ওয়াজে ভুল হাদীস, জাল হাদীস, মওজু হাদিস সহ কেচ্ছা কাহিনীকে ইসলামি বলে চালিয়ে দিলেও তিনি আন্তর্জাতিক ক্ষ্যাতি সম্পন্ন আল্লামা দেলোয়ার হোসেন(অবশ্য আন্তর্জাতিক ও আল্লামার মিনিং না বুঝলেও চলবে)পাপী ও না, মিথ্যাচারী ও না।। 

    জনসভায় জামায়াতকে তুলোধুনো করলো বিএনপি নেত্রী পাপিয়া

     

     

    এটাই শেষ মন্তব্য, আর করা হবেনা

    1. 5.1
      মহিউদ্দিন

      @মজলুম,

      দেখুন,  আমার এই পোস্ট আপনার জামাত ব্যসিং এর স্থান নয়। আপনার মূল্যবান মুক্তার জন্য উপযুক্ত ‘বন’ নির্বাচন করুন।

      ইসলাম ও বাংলাদেশের মুসলিম সমাজের প্রজন্মের বিভ্রান্ত না হওয়া সম্পর্কিত আমার এ লিখায় এসে, নিজে সবজান্তা ইসলামী দরদী সেজে, কমেন্টের নামে অপ্রাসঙ্গিক কথা বার্তার গার্বেজ ছেড়ে, নিজের মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন কেন? 

      এখানে ফরহাদ মাজহার সাহেবের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে যে আলোচনার আসছে তা হল: ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা, বিশ্ব মুসলিমদের বর্তমান অবস্থা, মুসলিম বিশ্বের সার্বিক সমস্যা এবং এসব থেকে পরিত্রাণ। বাংলাদেশের মুসলিমগণ এই মুসলিম উম্মাহর অংশ তাই সার্বিক মুক্তির আলোচনা যেমন আমাদের অঞ্চল ঘিরতে হবে তেমনি গোটা মুসলিম উম্মাহ। এই প্রসঙ্গে আপনার আলোচনা কি? আপনার থিওরি/ধারণা কি? পরিত্রাণের পদ্ধতি ও রূপরেখা কি? আপনি পারলে সে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন। আপনি কি জামাতের ঊর্ধ্বে উঠে আলোচনার কোনো যোগ্যতা রাখেন না? প্লিজ, আপনি মুক্তমনে পরিত্রাণের রূপরেখা, কর্মপদ্ধতি ও দর্শন নিয়ে আলোচনা করুন। আর না পারলে, আপনার মুক্তাগুলো সযত্নে রক্ষা করুন।

    2. 5.2
      Comparative

      শুধু শিয়া বা জামাত-শিবির নয়, যেকোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠন, সিলসিলা, মতাদর্শ, ফেরকা, মাযহাব ও তরীকার সদস্য বা অনুসারীরা একটু গোড়া ও অহংকারী হয়ে থাকে এবং শুধু নিজ পীর বা নেতা আর নিজেদের কিছু পুঁথি-পুস্তক ও গদবাধা শব্দ-বাক্য, শ্লোগান ও হাতেগোনা কিছু বিষয় ও কর্ম নিয়েই মেতে থাকে; যা ঐ নির্দিষ্ট ঘরানার ব্যক্তিবর্গ ছাড়া সাধারণ মানুষের কাছে একটু ক্ষ্যাত আর দৃষ্টিকটুই লাগে এবং তাদের কথাবার্তাও মানুষের কাছে একঘেয়ে ও বিরক্তিকর মনে হয়। জামাত বলেন আর কওমী-দেওবন্দী বলেন, হানাফী বলেন আর আহলে হাদীস বলেন, কিংবা কথিত সুফীবাদী আর মাজারপন্থীই বলেন, সবারই একই দশা। নিজের নেতৃত্ব ও সংগঠনের সংকীর্ণ গণ্ডির বাইরে এসে সামগ্রিকভাবে আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য করার মত সোজা-সরল চিন্তাটা এদের মাথায় আসে না। কুরআন ও হাদীস পড়াটাও তারা নিজের চোখ দিয়ে পড়ার চাইতে হুজুরের চোখ দিয়ে পড়তে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কেউ যখন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা শ্রেণী বিশেষের হাতে বাইয়াত হয়, তখন তার নিজস্ব বুদ্ধি-বিবেক ও বিবেচনাশক্তিকে বিকিয়ে দেয় এবং যে বিশেষ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাদের সাথে মিলে কোরাস গাওয়া ছাড়া তার আর কোন কাজ থাকে না। মুসলমানরা যদি এসব বাদ দিয়ে সরাসরি আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য করাকেই যথেষ্ট মনে করত, তাহলে তো আর মুসলিম জাতির এ দুরবস্থা হয় না। শুধু নিজ নিজ হুজুরের অন্ধ আনুগত্য করবার এ প্রবণতা মূলত: ইসলামের শত্রুদেরকেই সুবিধা করে দেয়। কোন কোন সময় কোন কোন হুজুরকে ভাড়া করে নিজেদের মর্জিমাফিক ফতোয়া দেয়ানোর মাধ্যমে মুসলিম জনগণকে বিপথগামী করা কিংবা পারতপক্ষে ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন থেকে নিবৃত্ত করা সম্ভবপর হয়।

      এবার আসি কন্সপিরেছি থিউরিষ্ট প্রসঙ্গে। এর দ্বারা হয়তো সে সমস্ত লোকদেরকেই বুঝানো হয়, যারা সবকিছুতে ষড়যন্ত্র খোঁজে এবং যেকোন দু:খজনক ঘটনার পিছনে সরাসরি জড়িতদেরকে বাদ দিয়ে কারো না কারো ষড়যন্ত্রকে আবিষ্কার করে। কিন্তু তাই বলে কন্সপিরেছি জিনিসটাতো একেবারে মিথ্যা হয়ে যায় না কিংবা একথাও বলা যাবে না যে, জগতে ষড়যন্ত্র বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। কন্সপিরেসি থিউরির দোহাই দিয়ে যেকোন ঘটনার পিছনে ষড়যন্তের সম্ভাবনা তো একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। একাত্তরের ঘটনা নিয়ে একটা বিতর্ক আছে যে, এটা কি পাকিস্তানীদের শোষণ অত্যাচারের ফল ছিল নাকি ভারত-আওয়ামী ষড়যন্ত্রের ফসল ছিল? দুই দল এ নিয়ে দুই ধরনের কথা বলেন এবং প্রথম কথাটির সমর্থকরা দ্বিতীয় কথাটির সমর্থকদেরকে কন্সপিরেসি থিওরিস্ট মনে করেন। বিডিআর বিদ্রোহ সম্পর্কে কি বলা যায়? পিলখানার ঘটনাটা কি বিডিআরের সিপাহীদের উপর সেনা অফিসারদের শোষণ-অবিচারের প্রতিক্রিয়ায় ঘটেছিল, নাকি বাংলাদেশের শত্রু বাংলাদেশকে দুর্বল করবার প্রয়াসী ভারত ও আওয়ামী লীগের চক্রান্তে ও ইন্ধনে ঘটেছিল? এখন এ দুটো মতের যেকোন একটিকেই যে গ্রহণ করতে হবে এমন কি কোন কথা আছে? দুটো মতই তো সত্য হতে পারে। এমন তো হতে পারে যে, বিডিআরের উপর আর্মি অফিসারদের অসঙ্গত আচরণের অভিযোগটা সত্যই ছিল এবং ষড়যন্ত্রকারীরা এ বৈষম্যের সুযোগ নিয়ে বঞ্চিত সিপাহীদের হতাশা ও ক্ষোভকে ব্যবহার করে গণ্ডগোলটা ঘটিয়েছে। এখন এমতাবস্থায় যেকোন এক পক্ষকে সমর্থন বা একপক্ষের বিরোধিতা করতে গিয়ে আসল অপরাধীদের আড়ালে রেখে দেয়াটা কি সমীচীন হবে?

      একথা ঠিক যে, মানুষ মাত্রই পরিবর্তনশীল। একথাও সত্য যে, আফগান মুজাহিদদের মাঝে বিচ্যুতি ঘটেছিল এবং সময় ও পরিস্থিতি পরিবর্তনের সাথে তারা বিপথগামী হয়ে আফগান জিহাদের লক্ষ্য ও নীতির পরিপন্থী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে দেশ ও জাতির ধ্বংস ডেকে এনেছিল এবং যেখানে তারা গোটা মুসলিম জাতির রক্ষাকবচ হতে পারত সেখানে তারা মুসলমানদের জন্য ধ্বংস ও বিপদের কারণ হয়ে দাড়িয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ বিপথগামী হয়েছে ক্ষমতা ও বৈষয়িক স্বার্থের দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে, আবার কেউ বিপথগামী হয়েছে অতিরিক্ত হুজুগে বালসুলভ আচরণ ও কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির কারণে, যে ব্যাপারটি নিয়ে স্বয়ং রসূলুল্লাহ (সা:) বিদায় হজ্জের ভাষণেই আমাদেরকে সতর্ক করে গিয়েছিলেন।

      আফগানদের রুশ আগ্রাসনবিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রাম কোন একক নেতৃত্ব ও দলের তত্ত্বাবধানে সংঘটিত হয়নি। দুই বা ততোধিক নেতা ও দলের সমন্বয়ে কোন কার্যক্রম পরিচালিত হলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত লাগার বা কোন চক্রান্তকারীর পক্ষে তাদের পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লাগানোর অবকাশ থাকে। অপরদিকে বাংলাদেশে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন দল-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকলেও সামগ্রিকভাবে এ লড়াইয়ের উদ্যোক্তা ছিল একটি দলই এবং প্রধানত একক নেতৃত্ব ও কমান্ডের অধীনেই এ যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। কতিপয় খুচরা দল ও প্রাইভেট বাহিনী এ যুদ্ধে ভূমিকা রাখলেও তারা এমন কোন শক্তি ছিল না যে, যুদ্ধে বিজয়ের পর যুদ্ধ পরিচালনাকারী মুল দলটির জন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাড়াবে। পারস্পরিক যুদ্ধ-হাঙ্গামা এক জিনিস, আর এককভাবে মানুষের উপর অত্যাচার করা আরেক জিনিস। যখন কেউ কোন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তখন তাতে সীমালংঘনের সম্ভাবনা অধিক থাকে। কিন্তু কেউ যখন একটা ভূখণ্ডে এককভাবে বিজয় ও কর্তৃত্ব লাভ করে, তখন সেখানকার নিরীহ নিরস্ত্র জনগণের ইচ্ছাকৃত অনিষ্ট সাধন করাটা কেবল তখনই সম্ভব, যখন কোন পূর্বপরিকল্পিত অসত উদ্দেশ্য থেকে থাকে। বাংলাদেশে তো আফগানিস্তানের মত গোষ্ঠীগত ও জাতিগত বিভিন্নতা ছিল না, যে কারণে দেশ স্বাধীন হবার সাথে সাথে নতুন করে আবার গৃহযুদ্ধ ও হানাহানি লাগতে পারে। আফগানিস্তানে রুশ বিতাড়নের পর যে আভ্যন্তরীণ রক্তপাত ঘটেছে সেটা ঘটেছে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে, আর বাংলাদেশে ১৬ই ডিসেম্বরের পর যে হত্যাযজ্ঞ ও লুটতরাজ হয়েছে সেটা হয়েছে এ জাতির প্রতি মুক্তিযুদ্ধের কুশীলবদের পূর্বশত্রুতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে। কারণ, সেকুলারিজম ও হিন্দুত্ববাদের পুরোহিতরা মুসলমান মাত্রকেই শত্রু মনে করে এবং বিদ্বেষ পোষণ ও অনিষ্টকামনার ক্ষেত্রে তারা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে কোন পার্থক্য করে না।

      আফগান জিহাদের নায়করা সামরিক জ্ঞান ও দক্ষতায় শ্রেষ্ঠ হলেও রাজনৈতিক জ্ঞান ও সচেতনতার দিক থেকে দুর্বল ছিলেন। ধর্মীয় এলেম ও চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রেও তাদের ঘাটতি ছিল। তাই তারা ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থের উপরে ইসলাম ও মুসলিম জাতির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারেননি, জেদ ও একগুয়েমির ঊর্ধ্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন। অপরদিকে বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধের নায়করা যুদ্ধে বিজয়ের পর এই বিজিত জনপদের উপর যা কিছু করেছেন তা নিছক লোভ লালসা বা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে করেননি, বরং এদেশকে দুর্ভিক্ষপীড়িত ও নি:স্ব করে দিয়ে ইহুদীবাদী ও খৃষ্টধর্ম প্রচারকারী এনজিওদের জন্য উর্বর ভূমি তৈরি করে দেশকে ইসলামশূন্য করবার উদ্দেশ্যে সচেতনভাবেই করেছেন। এদেশ যদি মুসলিম জনপদ না হতো, তাহলে তারা এসবের কিছুই করতেন না। হিন্দুত্ববাদী ভারত বা ইহুদীবাদী ইসরাইল কিংবা নাস্তিক্যবাদী রাশিয়া যদি এদের হাতে লাখো বর্গমাইল ভূখণ্ড আর পর্বত পরিমাণ স্বর্ণও আমানত রাখে, এরা তার থেকে এক ইঞ্চি জমি বা এক আনা স্বর্ণও খেয়ানত করবে না।

      আফগান জিহাদ কোন নেতার ডাকে সংঘটিত হয়নি, স্বত:স্ফূর্ত জিহাদী চেতনার তাড়নায় পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে লাখো যুবক এসে শামিল হয়েছিলেন এ জিহাদে। কিন্তু জিহাদী চেতনায় উদ্দীপিত এ তরুণদের যেহেতু স্বতন্ত্র কোন নেতৃত্ব বা প্লাটফরম ছিল না, তাই তারা আফগানিস্তানে বিদ্যমান রাজনৈতিক বা সামরিক সংগঠনগুলোর অধীনেই তাদের কর্তব্যটি পালন করেছিলেন। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মজলুম মুসলিম ভাইদের সহায়তার জন্য নিবেদিত খাটি দিলের এ সত্যিকার মুজাহিদরা রুশবাহিনীর বিদায়ের পর আর আফগানিস্তানের মাটি আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকেননি, বরং পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলে নির্যাতিত মুসলিম জনপদসমূহে ঈমানদার ভাইদের সাহায্যার্থে ছুটে গিয়েছিলেন। তাই রুশ পরবর্তী আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধে যারা জড়িত হয়েছিলেন তারা মূলত স্থানীয় যুদ্ধবাজ এবং তারা সত্যিকারের মুজাহিদদের আর প্রতিনিধিত্ব করেন না। যদিও রুশআগ্রাসনবিরোধী প্রতিরোধকাল আর রুশসৈন্য প্রত্যাহারের পরবর্তী সময়কালে তাদের ভূমিকার ভিন্নতা দেখে বলা যায় যে তার বদলে গিয়েছেন, কিন্তু যারা সত্যিকারের জীবন বাজি রেখে রুশবিরোধী জিহাদ করেছেন তারা বদলে যাননি বরং পৃথিবীর অন্যান্য জনপদে গিয়ে একই দায়িত্ব পালন করে আপন ভূমিকা ও চরিত্রকে অপরিবর্তিত রেখেছেন। মৌলিক পদার্থ রূপ ও গঠন বদলায় না, কেবল যৌগিক পদার্থই বদলায়। কিন্তু বাংলাদেশের একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড ও মূলধারার সৈনিকেরা আগাগোড়াই একটি বিশেষ মতাদর্শ ও চেতনা লালন করে আসছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ও মুক্তিযুদ্ধের পরে কোন অবস্থায়ই তারা কোনরকম বদলে যাননি। তাদের তুলনা আফগানিস্তানের পল্টিমারা যুদ্ধবাজদের সাথে নয়, বরং তারা সত্যিকার আফগান মুজাহিদদের সাথেই তুলনীয়। শত্রুর প্রতি কঠোরতা ও নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখাই তাদের নীতি। শুধু সম্পদ ও ক্ষমতার জন্য স্বজাতি ও স্বধর্মের লোক তথা সমমনা ও একই আদর্শের লোকজনের সাথে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার কাজটা আফগানিস্তানের সত্যিকার মুজাহিদরাও করেনি, আর বাংলাদেশের আওয়ামী লীগরাও করেনি।

      মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দাবিদাররা কিন্তু খোলামেলাই বলে থাকে যে, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বা মডারেট মুসলিম রাষ্ট্র দেখার জন্য তারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি। অতএব, বাংলার মানুষকে পুরোপুরি সেকুলার ও ধর্মহীন করতে না পারার কারণে তাদের পক্ষেই বরং আফসোস করা স্বাভাবিক যে, তাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য সম্পূর্ণ অর্জিত হয়নি। কিন্তু বাংলার মুসলিম জনগণ কেন আক্ষেপ করবে যে, মুক্তিযুদ্ধের দ্বারা তাদের আশা পূরণ হয়নি! বরং এখনো যে ধর্মকর্ম নিয়ে টিকে থাকতে পারছে এজন্যই তো তাদের শোকর করা উচিত। স্বামীর সাথে রাগ করে নারী পাচারকারীর হাত ধরে পালিয়ে যাবার পর যদি কেউ আফসোস করে যে, যে উদ্দেশ্যে ঘর ছেড়েছিলাম সে উদ্দেশ্য এখনো অর্জিত হয়নি, তাহলে এর চেয়ে আত্মপ্রবঞ্চনা আর কি হতে পারে? যার হাত ধরে বেরিয়েছে তাতে আজো যে গণধর্ষণের কবলে পড়া থেকে বেঁচে আছে এই তো ঢের বেশি।

      আমেরিকা ইরাক আক্রমণ করেছিল কি কুয়েতের প্রতি দরদের কারণে, নাকি ইরাক ও কুয়েত উভয়ের প্রতি তথা গোটা মুসলিম বিশ্বের প্রতি বিদ্বেষের কারণে? এ অভিযান কি ছিল কুয়েতকে মুক্ত করার জন্য, নাকি কুয়েতের দোহাই দিয়ে ইরাককে ধ্বংস করার জন্য? সাদ্দামকে ফাসি দেয়া হয়েছিল কি শিয়া বা কুর্দী হত্যার অপরাধে, নাকি ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাড়ানোর কারণে? এখন যারা আফসোস করে বলবেন, "যেই আমেরিকা আমাদেরকে সাদ্দামের দু:শাসন থেকে মুক্তি দিল, সেই আমেরিকাই আমাদের সাথে এমন আচরণ করতে পারল!", তারা আসলে মার্কিন অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্যটা না জানার কারণেই এমনটি ভেবে থাকবেন। মার্কিন আগ্রাসন যে সাদ্দামের অত্যাচার থেকে ইরাক ও কুয়েতের মানুষকে মুক্তি দেবার জন্য ছিল না, এই সরল কথাটা তারা বুঝতে পারেন না। একজন মুসলমান ডাকাত হতে পারে, কিন্তু একজন কাফের যখন তাকে ঘৃণা করবে বা শায়েস্তা করবে, তখন সেটা তার ডাকাত হবার কারণে নয় বরং মুসলমান হবার কারণে। কিংবা পারতপক্ষে ঐ কাফেরের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মুসলমানটির অবস্থানের কারণে। এখন ইরাক আক্রমণ ও সাদ্দামকে ফাঁসি প্রদানের ব্যাপারে এই ফ্যাক্ট ও তাতপর্যটা তুলে ধরার কারণে কি আমি সাদ্দামের সমর্থক হয়ে গেলাম? ইরাক আক্রমণ ও সাদ্দাম উতখাতে ইহুদী-মার্কিন চক্রের প্রকৃত উদ্দেশ্যটা প্রকাশ করাতে যেমন একজন লোক সাদ্দামপন্থী হয়ে যায় না, তেমনি বাংলাদেশকে ঘিরে একাত্তরে ভারত ও আওয়ামী মিশনের ব্যাপারে আসল বিষয়টা উল্লেখ করার কারণে কেউ টিক্কা খানের অনুসারী হয়ে যায় না। একইভাবে সিরিয়ার আইএসের বিরোধিতা করাটাও আসাদকে সমর্থন করা বুঝায় না। ইসরাইলও তো ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের এক পর্যায়ে কিছুদিন ফিলিস্তিনী পিএলও তথা ফাতাহ গ্রুপের সাথে সহযোগিতা করেছিল এবং তাদের দিয়ে ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষ (Palestinian Authority) গঠন করে টিকে থাকতে সহায়তা করেছিল। পরে আবার তারাই ফিলিস্তিনী নেতা ইয়াসির আরাফাতকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। কিন্তু এতে কি গাদ্দারি হল ভেবে হতাশ হবার কিছু আছে? এমন কি মনে করার সুযোগ আছে যে, শান্তির যে মহান উদ্দেশ্যে ইসরাইলের সাথে চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছিল, সেই আশাটা ভেস্তে গেল! বরং এমনটিই তো অনিবার্য ছিল। ইহুদীরা তো কেবল হামাসকে দমন করার জন্যই ফাতাহকে প্যালিস্টিনিয়ান অথোরিটি নাম দিয়ে ব্যবহার করেছিল, তারপর আবার ইয়াসির আরাফাতের সাথেও সেই আচরণই করেছে যে আচরণ করা হয়েছে হামাসের সাথে। ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগ ও ভারত মুক্তিযুদ্ধের নামে বাংলার মানুষকে ব্যবহার করেছিল বাঙ্গালী ও পাঞ্চাবী উভয় পক্ষের মুসলমানদের রক্তপাত ঘটাবার জন্য, তারপর এই কাজটি হাসিল হবার পর বাংলার জনগণের সাথেও সেই আচরণই করেছে যা করা হয়েছে পাকিস্তানীদের সাথে। পাকি ও বাঙ্গালী উভয় সম্প্রদায়ের মুসলমানদের শায়েস্তা করাটা অভিন্ন পরিকল্পনারই অন্তর্ভুক্ত ছিল। অতএব একাত্তরের সাথে পূর্বের ও পরের বছরগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই এবং একথা ভাবারও কোন কারণ নেই যে, একাত্তরকে ঘিরে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন মৌলিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। পাঞ্জাবী ও বিহারী নিধন ছেড়ে দিয়ে বাঙ্গালী নিধন শুরু করাটা কোন বদলে যাওয়ার আলামত নয়। ১৬ই ডিসেম্বর পরবর্তী আওয়ামী লীগের আচরণ ও কার্যকলাপের জন্য সবাই আওয়ামী লীগকে বিশ্বাসঘাতক মনে করলেও আমি অন্তত  আওয়ামী লীগকে এই বিশ্বাসঘাতকতার অপবাদ থেকে মুক্তি দিতে চাই।

  5. 4
    Comparative

    যেই পাকিস্তানি দুঃসাশন হতে মুক্তি পেতে এত কিছু হলো, সেই একি দুঃসাশনে বন্দী রাখে এই বাংলাদেশকে তৎকালিন আওয়ামীলীগ।

    এ ধরনের আক্ষেপ অযথা বিলাপ মাত্র। যারা মিথ্যা দুরাশা করেছিলেন, এটা তাদেরই উপলব্ধি। তারা কেবল আংশিক সত্যটাই অনুধাবন করেছেন, পূর্ণ সত্যটা উপলব্ধি করেননি।

    আমেরিকা ইরাক আক্রমণ করেছিল কি কুয়েতের প্রতি দরদের কারণে, নাকি ইরাক ও কুয়েত উভয়ের প্রতি তথা গোটা মুসলিম বিশ্বের প্রতি বিদ্বেষের কারণে? এ অভিযান কি ছিল কুয়েতকে মুক্ত করার জন্য, নাকি কুয়েতের দোহাই দিয়ে ইরাককে ধ্বংস করার জন্য? সাদ্দামকে ফাসি দেয়া হয়েছিল কি শিয়া বা কুর্দী হত্যার অপরাধে, নাকি ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাড়ানোর কারণে? এখন যারা আফসোস করে বলবেন, "যেই আমেরিকা আমাদেরকে সাদ্দামের দু:শাসন থেকে মুক্তি দিল, সেই আমেরিকাই আমাদের সাথে এমন আচরণ করতে পারল!", তারা আসলে মার্কিন অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্যটা না জানার কারণেই এমনটি ভেবে থাকবেন।

  6. 3
    এম_আহমদ

    আপনার এই লেখার শিরোনামটি সুন্দর হয়েছে, “আসুন ভেবে দেখি”। আজ এই আহবান ছাড়া কি আর করার আছে? এই কয়েক শো বছরের স্তূপীকৃত সমস্যা এই জাতিকে দারুণ পীড়া দিচ্ছে। শুধু পীড়াই নয়, শত্রুপক্ষের হাতে নিরপরাধ মুসলমানগণ লাখে লাখে প্রাণ হারাচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের মান-সম্ভ্রম হানি হচ্ছে, তাদের সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে আর তাদেরকে ‘সন্ত্রাসী’ বলা হচ্ছে। আমাদের সিলেট জেলায় একটি প্রবাদ আছে, ‘মাছও নেয়, পলও ভাঙ্গে, আর বলে গো-চাড়ু’ অর্থাৎ গায়ের জোরে মাছ নিয়ে যাচ্ছে, মাছ ধরার পলও ভাঙ্গছে আর গালি দিচ্ছে ‘গো-চাঁড়াল’! আমাদের এই বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? ক্লাসিক্যাল যুগে বড় বড় সাম্রাজ্যের ভিতরে যেভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য সম্রাটের বশীভূত হয়ে চলতে হত, না হলে ওরা সে এসে চূর্মার করে দেবে, আজ এংলো/আমেরিকান, ইউরোপিয়ান শক্তির বলয়ে মুসলমানদের অবস্থা সেভাবেই ত্রাহি ত্রাহি। এই অবস্থায় কেউ যদি মুসলিম দরদ দেখায় এবং কিছু প্রস্তাবনা নিয়ে আসে, তবে আমরা কি বলব? আমরা কি বলব, ‘আপনি এতকাল আমাদের পক্ষে ছিলেন না, এখন আসতে পারবেন না, আমরা আপনার কথা শুনব না?’ মাজহার সাহেবের কথাটা কি? তার বৈশ্বিক আলোচনার একটি কথা হচ্ছে, "বিশ্বের মুসলিমরা আজ মজলুম কারণ প্রতিটি মুসলিম দেশের  সম্পদ লুঠার উদ্দেশ্যে সেসব দেশে চলছে সাম্রাজ্যবাদীর হামলা।” কিন্তু ইতিপূর্বে তার কথায় মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য দালিলিকভাবে এমনভাবে ব্যক্ত হয়েছে যে তাতে একটি বিশেষ মহলের "চেতনার তান্ত্রিক" উদ্দেশ্যগুলি নেই। এটা sacrilege!  সে কেন এভাবে বলে, সে কেন যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায় না? কিন্তু সে তো বিচার চায়, কে বলল চায় না, এই গোটা বিশ্ববাসীসহ সবাই তো বিচারের পক্ষে থাকে, এমনকি যারা ফাঁসিতে ঝুলছে তারাও, যদি সে বিচার ন্যায়ের পদ্ধতি অনুসরণে প্রতিষ্ঠিত হয়, এমনকি যদি হেইগে পাঠিয়েও হয়। কিন্তু না, আপনি আপনার মতো বিচার করতে চান। কারণ এভাবে না হলে ‘নির্মূল’ হবে না। তো আপনি নির্মূল করুন। এটা এখানেই থাক। তবে এই বিশ্বে আরও মুসলমানগণ নির্মূল হচ্ছেন। লাখে লাখে। এসবের ভিতরে সাম্রাজ্যবাদীদের বৈশ্বিক থিওরি কাজ করছে। এসব কেন হচ্ছে? এসবের পিছনের দর্শন কি? পরিত্রাণ কোথায়? সেসবের আলোচনাও কি বন্ধ থাকবে? বর্তমানের আহবান হচ্ছে ভেবে দেখার। আমরা দেখি মাজহার সাহেবের প্রস্তাব কি? তার দর্শন কি? এমনও তো হতে পারে যে শেষ বেলায় আমরা কেউই তার কথায় একমত হব না। আবার হয়ত কিছু বিষয়ে হব, অথবা গোটা বিষয়েই হয়ে যেতে পারি। আমি আর আপনি যদি একমত না হই, তবে নিশ্চয় আমাদের কোনো বিকল্প আছে। যদি থাকে তবে সেই বিকল্পটা কি? আমাদের বিকল্পের আলোকেই তার বিকল্প মূল্যায়ন করি দেখি। কিন্তু আমাদের হাতে যদি কোনো বিকল্প না থাকে, তবে আমরা কেবল সমালোচনার খই উড়াব? এতে কি কোনো “আলোচনা” থাকবে? আপনি আর আমি মাইন অথবা না মানি, ইউরোপিয়ান সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা যা গ্রীকো-খৃষ্টিয়ান ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত, সেই ব্যবস্থার অধীনেই আছি। সবাই। অপরাপর ধর্ম ও জাতি-উপজাতির লোকজন। 

    এখন মাজহার সাহেব যদি বলেন, এই গ্রীকো-খৃষ্টীয়ান ভিত্তির চেয়ে ইসলামী ভিত্তি মানব জাতীর জন্য অধিক কল্যাণকর। আমরা যদি দর্শন উপযোগী ভাষা ও ব্যাখ্যার আলোকে সামাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থায় আঙ্গিনায় থেকেই উপস্থাপন করতে পারি তবে সমাজের সকল শ্রেণীর লোক তা গ্রহণ করতে উদ্ভুদ্ধ হতে পারে। কেননা তারা এখন ভিন্ন ধর্মী ও জাতি-উপজাতি হয়েও গ্রীকো-খৃষ্টীয়ান এই রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থা মেনে নিয়েছে। সুতরাং ভাল বস্তুকে তারা কোন যুক্তিতে অগ্রাহ্য করবে? তার এই বক্তব্য যদি কোনো ভুল থাকে, তবে সেটি কি? তবে আপনি যদি ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা চান না, বা এর বিরোধী হন, তবে আপনি এই আলোচনায় এসে কোনো লাভ নেই। এটা আপনার আলোচনা নয়। ((আমার ব্যবহৃত ‘আপনি’ কোনো বিশেষ ব্যক্তি নন, এটা হচ্ছে বক্তব্যের এক স্বর (a speaking voice within the discourse)). এখন তার উত্থাপিত বক্তব্যের একটি আঞ্চলিক (local) রূপও রয়েছে। সেটা কি? সেটা হচ্ছে ইসলামী দলগুলো নিজেদের বর্তমান কর্মের structureকে কীভাবে সেই সমাজ দর্শনের বাস্তবতা অর্জনের উপযোগী করে তোলবে, কীভাবে নিজেদের বক্তব্যের গাঁথুনিকে সার্বিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যক্ত করবে, যাতে করে দেশের সকল জাতি-উপজাতি ও শ্রেণীর লোকজন সেই বক্তব্যে নিজেদের interest প্রতিফলিত দেখতে পায়। এই হচ্ছে তার কথা। আমি এ ব্যাপারে আরও কিছু কথা বলব, পরে। সেখানে ধারণাটি বাংলাদেশের সমাজ পরিবর্তনে নিবেদিত ইসলামী দল ও মহলগুলোতে কীভাবে relate করতে পারে সে বিষয় নিয়ে।  

    1. 3.1
      মহিউদ্দিন

      ধন্যবাদ আলোচনা চালিয়ে যাবার জন্য

      ইসলামী দলগুলো নিজেদের বর্তমান কর্মের structureকে কীভাবে সেই সমাজ দর্শনের বাস্তবতা অর্জনের উপযোগী করে তোলবে, কীভাবে নিজেদের বক্তব্যের গাঁথুনিকে সার্বিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যক্ত করবে, যাতে করে দেশের সকল জাতি-উপজাতি ও শ্রেণীর লোকজন সেই বক্তব্যে নিজেদের interest প্রতিফলিত দেখতে পায়। এই হচ্ছে তার কথা। 

      আপনি আমার লিখার আসল কথাটা এখানে অতি সুন্দর ভাবে প্রকাশ করছেন। এটাই আমি বলতে চেষ্টা করেছি। আসলে আমাদের আরেকটি সমস্যা আমাদেরকে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে  তখন কি হয়েছে তা নিয়ে  কিন্তু এখন কি হচ্ছে এবং কি করতে পারি তা ভাবতে চাইনা।  ইসলামী দর্শন বাস্তবায়নে সুফল কি হতে পারে বাস্তব জীবনে সেটাকে ফোকাস করাটাই ওনি বলেছেন।  জুডিও ক্রীষ্টান সভ্যতার যে ভাল দিকটা আছে যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয় তাকে অবলম্বন করেই এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া যায়। এটা জরুরি নয় যে উঠতে বসতে আপনাকে ইসলামের নামই নিতে হবে। আপনি মানবতা প্রতিষ্ঠা করতে চান সেটাই বলেন ইসলাম বলার দরকার আছে কি? আল্লাহ তো আপনার ভিতর দেখছেন। আজ আমদেরকে whining তথা ঘ্যানঘ্যানানি স্থর ছেড়ে এখন কি করা যায় তা ভাবতে হবে।

    2. 3.2
      মজলুম

      দুঃখিত আহমেদ ভাই.।  ফরহাদ মাজহার, মাহফুজ উল্লাহ, গাফ্ফার চৌধুরি, আবেদ খান ও শাহরিয়ার কবিরদের নিয়ে ইনটারেস্ট নাই, উনারা পয়সাজিবী, পয়সা আছে যেদিকে উনারা আছে সেই দিকে।
      ইনকিলাবের সম্পাদক এম বাহাউদ্দিনকেও এই দেশের ইসলামপন্হিরা এক সময় মাথায় উঠিয়েছে। পরে দেখা গেলো বিএনপির সুদৃষ্টি না পেয়ে গত বিএনপি সরকারের শেষের দিকে পল্টি মেরে আওয়ামীলীগের পক্ষ নিয়েছে। গত আওয়ামী সরকারের সময় সে হাসিনার সাথে বিদেশ সফর ও করেছে। অতঃপর গত দুই বছর আগে আবার পল্টি মেরে আওয়ামী বিরোধী হয়েছে টেকাটুকা না পাওয়ার কারনে।

      ৯৬ এর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে ফরহাদ মাজহার শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটা বই লেখে "রাজকুমারী হাসিনা : রাজনীতির প্রতীকী ও ঐতিহাসিক বিরোধ"  বইটা উৎস্বর্গ করা হয় শেখ মুজিবকে। ঐ সময় আওয়ামীলীগের কাছে পাত্তা না পেয়ে এই পচাঁগলা বাম বিএনপি-জামাতের দিকে ঝুঁকে। অন্যান্য বামপন্হিদেরই একি অবস্হা। স্বার্থের জন্যে কেউ আওয়ামীলীগে, কেউ বিএনপিতে।

      এবার দেখুন তার লিখা কিছু কবিতা,
      কাব্যসমগ্র-ইবাদতনামা
      দুনিয়া রেজিষ্ট্রি কর
      তিলেক হিম্মত নাই, আধা ছটাকের নাই তেজ
      সাত আসমানে প্রভু খোদাতা’লা হয়ে বসে আছ
      মুখে খালি কহ শুনি দুনিয়ার তুমিই মালিক
      অথচ মালিক অন্যে, অন্যে কহিতেছে তারা খোদা ।

      ধরো আমাদের গ্রামে আলহাজ্ব ছামাদ মৌলবি
      তিনি নিজ নামে বাহাত্তর বিঘা হালটের
      জমির মালিক, তেতাল্লিশ চেয়ারম্যান, ষাট বিঘা
      রশিদ কনট্রাক্টর, ইটের ভাঁটার ছরু মিয়া
      চৌদ্দ বিঘা বিশ ডেসিমেল, বাকি থাকে ছমিরুদ্দি
      চন্দনের বাপ, হারাধন-প্রত্যেকেই তোমার শরিক
      তোমার শরিক নাই এই কথা তবে কি বোগাস ?

      এদের দলিল যদি মিথ্যা হয় যাও তবে আদালতে
      উকিল ধরিয়া কর রেজিষ্ট্রি নিজ নামে ।
       
      বিবি খাদিজা
      বিবি খদিজার নামে আমি এই পদ্যটি লিখি:
      বিসমিল্লাহ কহিব না, শুধু খদিজার নাম নেবো।
      প্রভু, অনুমতি দাও। গোস্বা করিও না, একবার
      শুধু তাঁর নামে এ পদ্যখানি লিখিব মাবুদ ।

      নবীজীর নাম? উঁহু, তার নামও নেবোনা মালিক
      শুধু খদিজার নাম- অপরূপ খদিজার নামে
      একবার দুনিয়ায় আমি সব নাম ভুলে যাব
      তোমাকেও ভুলে যাব ভুলে যাব নবীকে আমার।

      সকল প্রশংসা তার
      সকল প্রশংসা তাঁর' কিন্তু সব নিন্দার ভার
      যদি মনুষ্যের হয় ওর মধ্যে প্রভু ইনসাফ

      নাই, আমি সে কারণে সর্বদা তোমাকে অন্ধভাবে
      প্রশংসা করি না; তবু গোস্বা তুমি কোরো না মাবুদ।

      আমি যেন সিধা চলি তাই দাও বেহেশতের লোভ
      যদি চলি উল্টা পালটা নিমেষেই কুখ্যাত দোজখ

      দেখায় আমাকে ভয়: উভয়ের মধ্যবর্তী পথে
      নিরীহ ষাঁড়ের মতো দড়ি নাকে সদর রাস্তায়

      চলেছি ঈমানদার এতে কিবা কৃতিত্ব তোমার?

      শির খাড়া চোখ লাল মাঝে মধ্যে ঊর্ধ্বশ্বাসে ষাঁড়
      ছোটে ঊর্ধ্বলোকে যেথা তোমার নক্ষত্র ফুটে থাকে

      সুবেহ সাদেকের শুকতারা হয়ে; প্রেমে ও প্রজ্ঞানে
      সে ধায় আপন বেগে হুঁশ নাই তিলেক নিজের
      কিছুটা প্রশংসা তাই ধার্য থাক বিদ্রোহী ষাঁড়ের।

      লেখকঃ ফরহাদ মাজহার
      এবাদত নামা
      ২১শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৯০
      প্রতিপক্ষ প্রকাশনী, শ্যামলী ঢাকা-১২০৭

       

      এই কবিতাগুলো লেখার কারনে সে নিজেকে দুঃখিত মনে করে কিনা বা কখনো ক্ষমা চেয়েছে কিনা এই কবিতাগুলো লেখার জন্যে?
      "ই"  শুনলেই ইসলাম পন্হিরা ইসলাম মনে করে যে দৌড় ঝাঁপ দেয়, পরে নিজেরাই পস্তায়।

      সবাইকে ধন্যবাদ

  7. 2
    এম_আহমদ

    ভাই একটি সুন্দর পোস্ট দিয়েছেন। আজ মুসলিম বিশ্বের বিশ্বের ঐক্যের পথে যে যতটুকু কাজ করবে আমাদেরকে মুক্তমনে সেটাই শ্রদ্ধা করতে হবে। যারা অতীতের যুদ্ধ ক্রমশ চালিয়ে যেতে ইচ্ছে রাখেন, তাদেরকে এক পাশে রেখে ঐক্যকামী জনতা অগ্রসর হতে হবে এবং বলতে হবে ‘লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন’। আবার মনে রাখতে হবে, অতীতে কেউ বামপন্থি রাজনীতি করেছে বলে সে এখন আর ইসলামের কথা বলতে পারবে না, এমন কোনো যৌক্তিকতা নেই। এসব এরগুম্যন্টে ঐক্যকামী জনতা আটকে পড়ে লাভ নেই।

    আমি নিজে মাজহার বক্তব্য শুনেছি এবং পরে ফোনে একজনের সাথে এই মর্মে হাসাহাসি করেছি যে নির্মূলরা তার বৈশ্বিক গ্রীক-খৃষ্ট-জোডো ব্যবস্থার জুলুম/জালেম বক্তব্য শুনেই তাদের হেকাত্তর গল্পে এটাকে স্টল করার চেষ্টা করবে। আমি আরও কিছু কথা বলেছি তা শুনে বাকীরা হেসেছেন। আজকের সমাজের অনেক বক্তব্য ‘প্রিডিক্টেবল’, অনেক ব্যক্তির ব্যাপারেও বক্তব্য প্রিডিক্টেবল। সুতরাং এখন হেকাত্তরের সকল আলোচনা শেষ হয়ে গিয়েছে। নির্মূলগণ ও তাদের সমর্থকরা যা ইচ্ছে তাই করে ফেলুক।

    মাজহার সাহেবের বক্তব্য কিন্তু বৈশ্বিক এবং দার্শনিক। এসব বক্তব্য যার ঘটি যেমন সেই প্রেক্ষিতে তাই গ্রহণ করবে। এটাই নিয়ম। মাজহার সাহেব যদি নির্মূল সমর্থকদের পক্ষে কথা শুরু করতেন, তবে তাদের ভাষ্য ভিন্ন হত। আমি যেহেতু তার আলোচনা সরাসরি শুনেছি তাই আমার আরও কিছু কথা বলার আছে, তবে পরে বলতে হবে এখন সময় নেই।

    সুন্দর পোষ্ট দিয়েছেন। আমার পরামর্শ হবে যে বৈশ্বিক এবং পজিটিভ আলোচনায় মন্তব্যধারা জারি রাখবেন। জাহেলিযুগের বিতর্ক থেকে এখন যেকোনো মুল্যে বাঁচতে হবে। তার উপস্থানে সব দলের আলেমগণ উপস্থিত ছিলেন -হেফাজত, জামাত, খেলাফত এবং আম জনতা। আজ যেখানে পুরাতন বিতর্ক শুরু হবে সেখানে সমভব হলে নীরব হয়ে যেতে হবে। সে দিকে  কোনো আলোচনায় না যেতে  সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।  

     

    1. 2.1
      মহিউদ্দিন

      ভাই আপনাকেও অশেষ ধন্যবাদ আমার লিখার পজিটিভ দিকটা অনুধাবনের জন্য।

      আজকের সমাজের অনেক বক্তব্য ‘প্রিডিক্টেবল’, অনেক ব্যক্তির ব্যাপারেও বক্তব্য প্রিডিক্টেবল।

      সহমত ১০০% 

      আল্লাহ আমাদের মাঝে সত্য চেতনা ও  শুভ বুদ্ধি  উদয় হবার তৌফিক দেন সে দোয়া করছি। 

       

       

  8. 1
    মজলুম

    মুসলিমদের বুদ্ধিভিত্তিক দৈন্যতা,  চিন্তা হীনতার  করুন দৃশ্য দেখা যায়, যখন এই সব হাইব্রিড ইসলামিক কম্যুনিষ্টদের মাথায় তুলে নাচা নাচি করে।

    পরিশেষে যে কথাটি বলতে চাই তা হল বাংলাদেশের ইসলামী দলের উচিত হবে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে বাংলাদেশে কায়েম করা তথা ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য বিধিবদ্ধভাবে যে উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়েছিল যেমন (১) সাম্য  তথা  মানুষের মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠা (২) ব্যক্তি ও সমাজের মান-মর্যাদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং (৩) সামাজিক ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা করা।     

    ৭১ এর ৩০ লাখ শহীদ(তর্কের খাতিরে ধরলাম তিন লাখ), ২ লাখ ধর্ষিতা, ১ কোটি শরনার্থী, ৬০ হাজার যুদ্বশিশু(যেসব শিশু নাপাকি সৈন্যদের ধর্ষনে জন্ম হয়েছে)  এসবের পরও যে দল মনে করে ৭১ এ তাদের কর্মকান্ড  সঠিক ছিলো, মনে করে ৭১ এ তারা কোন ভুল করেনি, ৭১ এর অপরাধের জন্য যারা কখনো ক্ষমা চায় নি এবং ক্ষমা চাওয়ার পক্ষেও নেই। যাদের বুকলেট, লিফলেট, বই, সংবাদপত্র, গান, ম্যাগাজিনে ৭১ এর পাকি জুলুমের বিরুদ্বে কিছুই ছাপা হয় না। যারা অনেক ষড়যন্ত্র করে, মিথ্যাচার চালিয়ে নিজেদের বাঁচাতে সকল চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু একবারও ৭১ এ নিজেদের কৃতকর্মের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চায় না।  এরাই আবার কায়েম করবে মুক্তিযুদ্বের মূল উদ্দেশ্য। নাস্তিক এবং সেক্যুলারদের কথা বলে নিজেদের  কৃতকর্ম হালাল করা যায় না।
    এদের প্রতি রয়েছে আমার শত ধিক্কার!!!!!!!

    ইসলাম হলো সহজ সরল পথের দর্শন। এই ইসলাম কখনোই ষড়যন্ত্র করে, কুটকৌশল করে, মিথ্যাচার করে কখনোই প্রতিষ্ঠা হয় নাই।

    হযরত বেলাল(রঃ) মুগুরার হাতে চরম নির্যাতীত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যেতো তবুও বলতো আহাদ! আহাদ!  সেতো বলতে পারতো আমি মুহাম্মদ(সঃ) এর সাথে নাই, তাইলেইতো মুগিরা ছাইড়া দিতো। আবার রাতে গিয়ে রাসূলের কাছে কালিমা পড়ে নিতো। কিন্তু না, ঐ যে ইসলামের শিক্ষা। একেবারে এক্সপ্লিসিট, কোন কুটকৌশল, ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচার নাই।

     

     

    যে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতারাই ছিলো ব্রিটিশ গোলাম সেক্যুলারদের দ্বারা ইসমাইলি শিয়া, দ্বাদশী শিয়া, মীর জাফরের আপন নাতি,  কাদিয়ানি, কোরানিষ্ট, শিয়া ইসমাইলি ৮ম ইমামদের দ্বারা। যে পাকিস্তানের জাতির পিতা বা বাবা এ আজম আলি জিন্নাহ নিজেই ছিলেন সেক্যুলার পথভ্রষ্ট ইসলামইলি শিয়া। যে আলি জিন্নাহর একমাত্র মেয়ে দিনা ওয়াদিয়া এক ইরানি পৌত্তলিক অগ্নি উপাসক যরোস্ট্রোরিয়ানকে বিয়ে করে ইসমাইলি শিয়া ধর্ম ছেড়ে অগ্নি উপাসকদের ধর্ম যরোস্ট্রোরিয়ানে ধর্মান্তরিত হয়। আলি জিন্নাহর মেয়ে দিনা পাকিস্তানে মাত্র দুবার যায়। একবার তার পিতার মৃত্যুর সময় ১৯৪৮ সালে, আরেকবার ২০০৪ সালে।

    উপনিবেশিকবাদের পরে মুসলিমদের জরাজীর্ণ অবস্হার উধাহারনটা পাকিস্তানকে দিয়ে দিচ্ছি।  ব্রিটিশরা উপনিবেশিকবাদ ছেড়ে যাওয়ার সময় কাদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে গিয়েছিলো? ওদেরই পোষা কিছু গোলামদের কাছে। পাকিস্তান আর্মির সেনা প্রধান আইয়ুব খান, টিক্কা খান, ইয়াহিয়া খান এদের ইতিহাস পড়ে দেখুন ৪৭ সালের আগেরটা। এরা তখন ব্রিটিশদের হয়ে ব্রিটিশদের পক্ষে লড়াই করতো। ব্রিটিশ বিরুধী স্বাধীনতাকামীদের এরা হত্যা করতো। এই যে আইয়ুব খান, সে ১৯২৫ সালে ওয়াজিরিস্তানে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধিনতাকামীদের বিরুদ্বে অপারেশন চালায়, পরে ব্রিটিশদের কাছ হতে প্রমোশন পায়। পাকিস্তান আর্মির সেই দ্বারা আজো আছে। তখন গোলামি করতো ব্রিটিশদের, এখন আমেরিকার গোলামি করে নিজ দেশের লোকদের ওয়াজিরিস্তান সহ বিভিন্ন জায়গায় হত্যা করে। পাকিস্তান আর্মীকে সবচেয়ে বেশী টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করেও আমেরিকা ও ব্রিটেন ১৯৫৪ সালের পর দুইটা চুক্তির মাধ্যমে।  

    উপনিবেশিকবাদেরা চলে গেলেও ঐ দেশের সরকার ও সেনাবাহিনী নিজেদের করে তৈরী করে। ফ্রান্স এখনো এই পদ্বতিতে তার আগের উপনিবেশিক দেশগুলো নিয়ন্ত্রন করে উত্তর আফ্রিকায়। ব্রিটিশদের উপনিবেশিক দেশগুলোতে  ব্রিটিশদের সাথে অনেক জায়গায় আমেরিকা রিপ্লেসমেন্ট করে।  গ্লোবাল ওয়ার অন টেরর এর যুদ্বে পক্ষে ও বিপক্ষে কারা দেখুন

    মুসলিমদেশগুলোর এই দুর্নিতিবাজ শাসক এবং সেনাপ্রধানদের যারা তাদের পুরানা উপনিবেশিক মাষ্টারদের এখনো সার্ভিস দেয় তাদের উৎখাতের জন্যে সাইয়েদ কুতুব তার মাইলস্টোন বইয়ে লিখে গেছেন।মুসলিমদের অবনতির জন্য যারা দায়ী। তার মতে দেশের শাসকদের দূর্নিতি রোগ ধীরে ধীরে আম মুসলিমদের ও গ্রাস করে রোগাক্রান্ত করে দেয়।

    এ ব্যাপারে সামনে একটা পোষ্ট দিবো।  আমাদের দেশের ইসলাম বিদ্বেষীরা পাকিস্তানকে বুঝাতে চান একটা ইসলামি দেশ, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে বুঝাতে চান একটা ইসলামিক আর্মি, যাতে তাদের কৃতকর্ম দেখিয়ে ইসলামকে গালমন্দ করা যায়। এতে এই দেশের  পাকি প্রেমীরাও খুশী, তাতে ইসলাম দেখিয়ে উনাদের সকল কর্মকান্ডকে হালাল করা যাবে। এই দুই গ্রুপকেই দিক্কার!!!!!!!!!!!

     

     

     

    1. 1.1
      মাহফুজ

      ভাই মজলুম, আপনি বলেছেন- //নাস্তিক এবং সেক্যুলারদের কথা বলে নিজেদের কৃতকর্ম হালাল করা যায় না।//
      আপনার এই বাক্যটার সঠিক অর্থ বোঝা যাচ্ছে না!!?
      নাস্তিক এবং সেক্যুলারদের পক্ষে নাকি বিপক্ষে কথা বলে নিজেদের কৃতকর্ম হালাল করার কথা বলেছেন তা স্পষ্ট হয়নি।
      এখানে এ সম্পর্কে কিছু বলার চেষ্টা করেছি-

      //ইসলাম হলো সহজ সরল পথের (দর্শন) দিশা। এই ইসলাম কখনোই ষড়যন্ত্র করে, কুটকৌশল করে, মিথ্যাচার করে কখনোই প্রতিষ্ঠা হয় নাই।//— সহমত

       

    2. 1.2
      মহিউদ্দিন

      মজলুম

      আমার লিখার পজিটিভ মেসেজটা আপনি ধরতে না পারায় দুঃখিত। ভাল থাকেন। 

      নিচের কথাগুলা একটু খেয়াল করেন। 

      প্রথম আলো l সরকার তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে সরকারের বিরুদ্ধে সে যে ক্ষতিপূরণের মামলা করেছে, সেটা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আপনি কি সেটাই বলতে চাইছেন?

      আইরিন খান l সরকার যে লিমনের বিরুদ্ধে মামলা আনবে, সেটাই তো আশ্চর্যের বিষয়। সরকারের তো তার আনা অভিযোগটি তদন্ত   করে প্রতিকার করার কথা। কিন্তু তা না করে তার ওপরই মামলা চাপানো হয়েছিল।

      প্রথম আলো l মানবাধিকার সংগঠনগুলো—বৈশ্বিক এবং স্থানীয় সংগঠনগুলো যে বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তা হলো এনফোর্সড ডিসঅ্যাপেয়ারেন্স—গুম হয়ে যাওয়া। এ রকম গুমের ঘটনা একটা-দুটো নয়; অনেক।

      আইরিন খান l এগুলোর কোনো নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এটা খুবই বিপজ্জনক। রাষ্ট্রের তরফ থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা যখন অপরাধমূলক কোনো কাজ করে, তখন আপনি পুলিশের কাছে যাবেন, অভিযোগ করবেন। কিন্তু এখানে কে করছে, সেটাই রহস্য হয়ে থাকছে। গুমগুলো রাষ্ট্রের মদদে বা উৎসাহে হচ্ছে, নাকি রাষ্ট্রীয় নয়, এ রকম কোনো শক্তি, যাকে নন-স্টেট অ্যাক্টরস বলা হয়, তাদের দ্বারা ঘটছে অথবা নন-স্টেট কেউ করছে কিন্তু রাষ্ট্রের প্রশ্রয় পাচ্ছে, সেটা কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না। এই বিষয়টিতে সরকারের কিন্তু নিজের স্বার্থেই নজর দেওয়া উচিত। কেননা, এর সঙ্গে সরকারের কর্তৃত্ব বা ক্ষমতার প্রশ্ন জড়িত। গুমের বিষয়ে রাষ্ট্রের তো একটা দায়িত্ব আছে। রাষ্ট্রের কোনো সংস্থা যদি সেটা না করে থাকে, তাহলে কে করছে সেটাও তো খুঁজে বের করার একটা দায়িত্ব রয়েছে। এখানে রাষ্ট্র তো সেটা করছে না।

      প্রথম আলো l নাগরিকেরা তাহলে কোত্থেকে বিচার পাবে?

      আইরিন খান l নাগরিকেরা তো রাষ্ট্রের কাছেই বিচার চাইবে। সেখানেই রাষ্ট্রের কাছে ফেরত যাওয়ার প্রশ্ন। আমাদের দেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আছে, সেখানেও দাবি জানানো যায়। মানবাধিকারের ওপর অনেক আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সনদে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। জাতিসংঘের অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা মানবাধিকারের ওপরে কাজ করে। সেখানেও এসব কথা তুলে ধরা উচিত যে রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালন করছে না। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত আবারও বিষয়টি দেশের ভেতরেই সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম প্রত্যেকেরই দায়িত্ব রয়েছে বিষয়টিতে রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করার।

      আজ যদি ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য বিধিবদ্ধভাবে যে উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়েছিল যেমন (১) সাম্য  তথা  মানুষের মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠা (২) ব্যক্তি ও সমাজের মান-মর্যাদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং (৩) সামাজিক ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা করা।  তা বাস্তবায়িত হত তাহলে দেশের এ অবস্থা হত? 

       

      1. 1.2.1
        মজলুম

        আজ যদি ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য বিধিবদ্ধভাবে যে উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়েছিল যেমন (১) সাম্য  তথা  মানুষের মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠা (২) ব্যক্তি ও সমাজের মান-মর্যাদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং (৩) সামাজিক ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা করা।  তা বাস্তবায়িত হত তাহলে দেশের এ অবস্থা হত?

        বাংলাদেশ যে উদ্দেশ্যে স্বাধীন হয়েছে তার অল্পই অর্জিত হয়েছে এই ৪৩ বছরে। এই অবস্হার প্রথম কারন হলো শেখ মুজুিবুর রহমান, এবং তার অথর্ব আওয়ামীলীগ সরকার। ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত যেমন এই দেশে ধংসযজ্ঞের জন্যে দায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল বদরেরা। আর ১৬ ই ডিসেম্বরের পর হতে এই দেশকে ধংসের জন্যে দায়ী শেখ মুজিব সহ তৎকালিন আওয়ামী নেতৃত্ব। যেই পাকিস্তানি দুঃসাশন হতে মুক্তি পেতে এত কিছু হলো, সেই একি দুঃসাশনে বন্দী রাখে এই বাংলাদেশকে তৎকালিন আওয়ামীলীগ। তাই বাংলাদেশ সৃষ্টি এবং পরবর্তীতে ধংসের জন্যে আমি আওয়ামীলীগকে দায়ী করি। যে জাতি এত ত্যাগ স্বীকার করলো, এতো প্রান দিলো, তার কি মূল্য দিলো এই আওয়ামীলীগ? বিদেশী হায়েনা হতে পালিয়ে দেশী হায়েনার কবলে পড়েছিলো সেদিন এই দেশ।

        কিন্তু আওয়ামী ঘরানার লোকেরা সেই ৫২ হতে ৭১ এর ১৬ ই ডিসেম্বর পর্যন্তই কথা বলে, কিন্তু ১৭ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ হতে ১৪ই আগষ্ট ১৯৭৫ পর্যন্ত কোন কথা বলেনা। বা বললেও ঐ জাসদের গনবাহিনী বা সিরাজ সিকদারের চরমপন্থী গ্রুপদের কথা বলে খালাস। রক্ষী বাহিনী, লাল বাহিনীর কথা মুখে আনেন না।
        জামাতিদের মতো আরকি, জামাতিরা যেমন তাদের নেতাদের কথা বলতে গিয়ে ১৯৭১ এ কি করেছিলো তা হাফিস করে দেয়।
        একটা অন্যায় দিয়ে আরেকটা অন্যায়কে কখনোই জাস্টিফাই করা যায় না, হোক সে জামাত বা আওয়ামীলীগ।
        এই দেশের জন্ম ও ধংস, দুটোর জন্যেই আওয়ামীলীগ দায়ি। বাস্তববাদি মানুষ বলে ১০০% দায়িত্ববোধে বিশ্বাসী। যেই ক্ষমতায় থাকবে, তাকে সব কিছুর দায়িত্ব নিতে হবে, করিম, রহিমকে দোষ দিয়ে নিজের দায়িত্ব কমানো যাবে না।

        আশা করি বুঝতে পারছেন।

        1. 1.2.1.1
          Comparative

          ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত যেমন এই দেশে ধংসযজ্ঞের জন্যে দায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল বদরেরা। আর ১৬ ই ডিসেম্বরের পর হতে এই দেশকে ধংসের জন্যে দায়ী শেখ মুজিব সহ তৎকালিন আওয়ামী নেতৃত্ব।

          ১৬ই ডিসেম্বরের পর থেকে যারা এদেশকে ধ্বংস করেছে, তারা ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে কোনপ্রকার অন্যায় বা বাড়াবাড়ি করেনি, বরং তাদের সকল কাজ ন্যায় ও ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, একথা কিভাবে বলা যায়? যারা যুদ্ধ-বিগ্রহ ছাড়াই সুপরিকল্পিতভাবে দেশ ধ্বংস ও মানুষ হত্যায় মেতে থাকে, তারা যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধের সব নিয়ম-নীতি মেনে চলেছে, নিরপরাধ নিরস্ত্র মানুষ হত্যায় লিপ্ত হয়নি, এমনটি কি করে সম্ভব? স্বাধীন দেশে ক্ষমতায় থাকাবস্থায় হোক বা ক্ষমতার বাইরে থাকাকালে হোক সর্বাবস্থায় যাদের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্যই হয়ে থাকে ইসলাম ধ্বংস ও মুসলিম নিধন, স্বাধীনতাপূর্বকালে তাদের কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ও মুসলমানদের কল্যাণ সাধন! ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে যাদের সকল চেষ্টা সাধনার লক্ষ্য হিন্দুত্ববাদী ভারতের স্বার্থ রক্ষা করা আর মুসলিম দেশ বাংলাদেশকে দুর্বল করে রাখা, ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের সকল লড়াই-সংগ্রাম ছিল কেবল বাংলার মানুষের মুক্তির উদ্দেশ্যে!!! ১৬ই ডিসেম্বর পরবর্তী তাদের কার্যক্রম দেখে কি বুঝতে পারেন না, ১৬ই ডিসেম্বরের পূর্বে যারা তাদের বিরোধিতা করেছিল তারা কেন করেছিল?

           

        2. 1.2.1.2
          Comparative

          মানুষ মনে করে, একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ছিল জাতির ত্রাণকর্তা ও মুক্তিদূত, আর ১৭ই ডিসেম্বর থেকে হয়ে গেল জাতির যম। ১৬ তারিখে এরা ছিল মহান ও পবিত্র, আর ১৭ তারিখে কিনা একদিনেই হঠাত করে নষ্ট হয়ে গেল। সোনার ছেলেরা সবাই একদিনে নষ্ট ছেলেতে পরিণত হওয়ার মতন অলৌকিক ঘটনাটা বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও ঘটেছে কিনা জানি না।

          আসলে ব্যাপারটা যা ঘটেছে তা হল, বাংলার মানুষ ভারত ও আওয়ামী লীগের প্রতি একপ্রকার মোহ ও ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। মোহ কেটে যাবার পর যখন এদের (ভারত ও আওয়ামী লীগের) আসল চেহারা ও বাস্তব আচরণ স্পষ্ট হল, তখনও তাদের (বাংলার মানুষের) একথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল যে, ঘোরের সময়কালটাতেও ওরা আমাদের সত্যিকারের প্রেমিক ছিল না, বরং প্রতারক ও ছলনাময়ী ছিল। প্রেমিক বা প্রেমিকা আগে ভালই ছিল, পরে বিশ্বাস ভঙ্গ করে খারাপ হয়ে গেছে- এমনটি ভাবতে পারলে ছ্যাকা খাবার কষ্টটা একটু কম লাগে। প্রেমিক আগে আমাকে আন্তরিকভাবে ভালই বেসেছিল, কিন্তু এখন একটু লোভে পড়ে আমায় বেচে দিয়েছে- এই মর্মে মনটাকে সান্ত্বনা দিতে পারলে অতীতের প্রেমের স্মৃতিগুলোকে সুখস্মৃতি হিসাবে চারণ করা যায়। কিন্তু সে যে আগে থেকেই একটা লম্পট নারী ব্যবসায়ী ছিল, আমার প্রতি তার প্রেমের আসল উদ্দেশ্যটাই যে ছিল তার অসত উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা- এই চরম সত্যটি বিশ্বাস করতে গেলে বুকের উপর যে পাহাড় ভেঙ্গে পড়বে। এজন্যই বোধহয় বাঙ্গালী আওয়ামী লীগের ১৬ই ডিসেম্বরপূর্ব অবস্থানকে পুণ্য অর্জনের সময়কাল বলেই গণ্য করে। তারা শুধু এটুকু মনে করে যে, ১৬ই ডিসেম্বরের পর থেকেই আওয়ামী আমলনামায় পাপ যোগ হতে শুরু করেছে এবং সেই পাপের কারণে অতীতের পুণ্যটুকু নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু যেটাকে পুণ্য মনে করে আফসোস করা হচ্ছে, সেটা যে মূলত: পাপেরই আরেক পর্যায় ছিল, এ ব্যাপারটা বাংলার মানুষের মাথায় আসছে না। এছাড়া যে কাজে ভুলবশত হলেও নিজেরা স্বয়ং শরীক হয়েছে, সে কাজকে কি করে ভুল ভাবা যায়!

        3. মহিউদ্দিন

          মানুষ মনে করে, একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ছিল জাতির ত্রাণকর্তা ও মুক্তিদূত, আর ১৭ই ডিসেম্বর থেকে হয়ে গেল জাতির যম। ১৬ তারিখে এরা ছিল মহান ও পবিত্র, আর ১৭ তারিখে কিনা একদিনেই হঠাত করে নষ্ট হয়ে গেল। সোনার ছেলেরা সবাই একদিনে নষ্ট ছেলেতে পরিণত হওয়ার মতন অলৌকিক ঘটনাটা বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও ঘটেছে কিনা জানি না।

          একটি ভাল পয়েন্ট ধরেছেন। এর জবাব জানা দরকার।

        4. 1.2.1.3
          Comparative

          জামাতিদের মতো আরকি, জামাতিরা যেমন তাদের নেতাদের কথা বলতে গিয়ে ১৯৭১ এ কি করেছিলো তা হাফিস করে দেয়।

          কেউ নিজের কোন কাজ গোপন রাখলে বা কোন কাজের বিষয়ে এড়িয়ে গেলেই যে ঐ ব্যাপারে সে অপরাধী হবে এমন কোন কথা নেই। কেউ পলাতক হলেই যে অপরাধী এমনও কোন কথা নেই। নিরপরাধ ব্যক্তিও পলাতক থাকতে পারে, যদি তার এই বিশ্বাস থাকে যে সে ন্যায়বিচার পাবে না এবং অন্যায়ভাবে গায়ের জোরে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড দেয়া হবে। তেমনি কোন ব্যক্তি বা দল নিজের এমন কাজকে নিয়েও রাখঢাক করতে পারে, যা আসলে নিজেরা অন্যায় বলে মনে করে না, কিন্তু লোকে জানলে অন্যায় মনে করবে। বিশেষত শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বা ক্ষমতাসীনদের ভয়ে কিংবা লোকলজ্জার কারণে জনগণের প্রতিষ্ঠিত ধারণার বিপরীতে সত্য কথা বা মনের আসল কথা উচ্চারণ করার মত সতসাহস ও নৈতিক মনোবল সবার থাকে না।

          মনে করুন, মুক্তিযুদ্ধ যদি ব্যর্থ হতো, তাহলে মুজিব-জিয়া কেউই এর দায় স্বীকার করতেন না। তারা প্রত্যেকে এর দায়ভার একে অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতেন। ৬৯-এ যে মামলাটি ছিল ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা, এখন সেই মামলার বিবাদীরাই বলছেন তাদের বিরুদ্ধে তখনকার আনীত অভিযোগ সত্য ছিল।

          প্রশাসন কিংবা জনমত বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা যখন অন্যায়কারীর পক্ষে বা অনুকূলে থাকে, তখন অন্যায়ের বিরোধীদেরকেই চোর সেজে থাকতে হয়। যেমন ধরুন, আমেরিকাতে ইহুদীরা যাবতীয় সমালোচনার ঊর্ধ্বে, ইহুদীবাদের কর্মকান্ড নিয়ে কোনরূপ প্রশ্ন তোলা যাবে না। ফিলিস্তিনী শিশুদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে কেউ একটা বাক্য ব্যয় করলে সেটার প্রায়শ্চিত্য করার জন্য ইসরাইলের নিরাপত্তা ও ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে দশটা বাক্য ব্যয় করতে হয়। আবার মনে করুন, কোন ভ্রষ্টাচারী কুচক্রী শয়তান মহিলা নিষ্পাপ শিশুর উপর নৃশংস নির্যাতন চালানোকে নিজের ন্যায়সঙ্গত অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে এবং পরিবারের সব দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরকে ছলে বলে কৌশলে নিজের সমর্থক বানিয়ে নিয়েছে। এমতাবস্থায় আপনি যে শিশু নির্যাতনের বিরোধী, বাচ্চাটার উপর খান্নাস মহিলার বর্বর আচরণকে যে আপনি পছন্দ করছেন না, আপনি যে ডাইনীটার কবল থেকে শিশুটিকে রক্ষা করতে চান- এ কথাটি মুখ ফুটে প্রকাশ করতে পারবেন না।

          একটা অন্যায় দিয়ে আরেকটা অন্যায়কে কখনোই জাস্টিফাই করা যায় না, হোক সে জামাত বা আওয়ামীলীগ।

          ধন্যবাদ এ কথাটি বুঝতে পারার জন্য। আশাকরি, ইরাকের আইএসের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে।

        5. Comparative

          তুরস্কে একসময় ধর্মনিরপেক্ষতাকে অস্বীকার করাটা এমনই অপরাধ ছিল যে, কাউকে নামাজ পড়তে বা মাথায় হিজাব রাখতে গিয়েও কৈফিয়ত দিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হতো, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। অর্থাত যেভাবেই হোক তাকে ইনিয়ে বিনিয়ে প্রমাণ করতে হচ্ছে যে, তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধী নন বা ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ লংঘন করেননি। এখন তাঁর এ প্রবণতাকে ভীরুতা বা হীনমন্যতা বলা যেতে পারে, নৈতিক বা মানসিক দুর্বলতা বলা যেতে পারে, কিন্তু একথা কি বলা যাবে যে, ধর্ম পালন করে তিনি নিশ্চয়ই অপরাধ করছেন? নইলে লুকাতে যাবেন কেন? পরিস্থিতি বেকায়দা হলে নামাজ-রোজা করতে গিয়েও চোরের মতন করা লাগতে পারে।

    3. 1.3
      Comparative

      নাস্তিক এবং সেক্যুলারদের কথা বলে নিজেদের  কৃতকর্ম হালাল করা যায় না।

      তাহলে মার্কিন আগ্রাসীদের কথা বলে আইএসের কৃতকর্মকে কিভাবে জায়েয করা যায়?

      আসল কথা হল, সিরিয়া ও ইরাকে স্বৈরাচারী আসাদ ও সাদ্দামদের বর্বরতাকে যেমন সমর্থন করা যায় না, তেমনি আসাদ বা সাদ্দাম উতখাতের নামে ইহুদী মদদপুষ্ট ও ইহুদী এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী সেই দুর্বৃত্তদেরকেও সমর্থন করা যায় না যারা মজলুম জনগণের মুক্তির দোহাই দিয়ে লড়াই করলেও তাদের মূল উদ্দেশ্য মুসলিমদের মাঝে ভ্রাতৃঘাতী গৃহযুদ্ধ ও হানাহানি ছড়িয়ে দেয়া এবং মজলুম মুসলিমদের আরো বেশি করে সরকারী বাহিনীর প্রতিহিংসামূলক আক্রমণের মুখে ঠেলে দিয়ে জাতিগত বিদ্বেষকে চাঙ্গা করে তোলা।

      ঠিক একই কথা প্রযোজ্য পাকিস্তানী সামরিক জান্তা বনাম ভারতীয় মদদপুষ্ট পঞ্চম বাহিনীর ক্ষেত্রে। মুসলিম জাতির মাঝে ফেরকাগত বা ভাষাগত সাম্প্রদায়িকতা উষ্কে দেয়ার লক্ষ্যে যারা ঠাণ্ডা মাথায় কাজ করছে, তাদের সকলকেই ধিক্কার। এরা ধর্মের লেবাসধারী হোক, বা সেকুলারিজমের ধ্বজাধারীই হোক, এরা মুসলমানদের বন্ধু নয়।

      এসবের পরও যে দল মনে করে ৭১ এ তাদের কর্মকান্ড  সঠিক ছিলো, মনে করে ৭১ এ তারা কোন ভুল করেনি, ৭১ এর অপরাধের জন্য যারা কখনো ক্ষমা চায় নি এবং ক্ষমা চাওয়ার পক্ষেও নেই।

      মনে করুন, কেউ যদি নিরীহ সুন্নী জনগণের উপর গণহত্যা ও ধর্ষণ চালানোর কাজে আসাদের বাহিনীকে সহায়তা করে, সে অবশ্যই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধী। ক্ষমা চাইলেও সে ক্ষমা পাবে না। কিন্তু কেউ যদি ইসরাইলী বাহিনীকে প্রতিরোধ করার কাজে কিংবা ইসরাইলের লেলিয়ে দেয়া মতলববাজ সন্ত্রাসী জঙ্গীদের দমন করার কাজে আসাদের বাহিনীকে সহায়তা করে, তাহলে তার নিজেকে অপরাধী ভাবার কোন কারণ নেই। আপনি কাকে সাহায্য করলেন সেটা বড় কথা নয়, বরং কোন্‌ কাজে সহায়তা করলেন সেটাই বিচার্য বিষয়। উদাহরণস্বরূপ, স্ট্যালিনের অত্যাচার থেকে বাঁচতে চেচেনরা হিটলারকে স্বাগত জানিয়েছিল বলে আপনি হিটলারের যাবতীয় অপকর্মের দায় চেচেনদের উপর চাপাতে পারেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.