«

»

Mar ১২

ভারত বিরোধী বা ভারতপন্থী হবার দরকার নাই

সামাজিক মিডিয়ায় অনেকে আজ লিখতে দেখি পৃথিবীর কোন ঘটনাই কাকতালীয়ভাবে ঘটছে না। কথাটা ঠিক এর পেছনে কাজ করে অনেকের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও বৃহৎ উদ্দেশ্য যা অনেকই বুঝতে চায় না। আসলে এসব নাটকের যারা নায়ক তারা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে পৃথিবীর সর্বত্র। বর্তমান পাক-ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতি বুঝতে হলে ভারতের হিন্দুদের জীবনদর্শন বুঝতে হবে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভূটান ইত্যাদি ছোট ছোট নতুন দেশ সৃষ্টি হয়েছিল এসব অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও রাম রাজ্যের হিন্দুদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে। সে সব ইতিহাস তথা এক সময়ের বৃহত্তর ভারত ভাগ হওয়া তা ভারতের প্রভাবশালী হিন্দুরা ও তাদের চিন্তাবিদরা ভাল করেই জানে। তাই হিন্দুদের মূল লক্ষ্য হল এই ভারতীয় উপমহাদেশকে পুনরায় অখণ্ড হিন্দু ভারতে পরিণত করা। আর এ দর্শনের উপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের পররাষ্ট্রনীতি ও তাদের সংবিধান । তাই তো বঙ্গ বিভাগের পর হিন্দু মহাকবি রবীন্দ্র নাথ মনের দু:খে “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি গান লিখেছিলেন। যদিও হিদ্দু জমিদারদের অত্যাচার ও শোষন খেকে মুক্তি পেতে তথা পূর্ব বাংলার নির্যাতিত মুসলিমদের অধিকার অর্জনে সে বিভক্তি সে সময়কার সামাজিক বাস্তবতায় একান্ত প্রয়োজন ছিল কিন্তু সেটা রবি ঠাকুরের বিবেচনার বিষয় ছিল না। একজন জমিদার ও হিন্দু ধর্মীয় জীবনদর্শন বিশ্বাসীর কাছে ভারত মাতার বুকে কোন চিড় পড়তে দেখলে তার বুকে চাকু লাগারই কথা। তাই আজ অনেকের মতে পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ সৃষ্টি করতে ভারত এগিয়ে আসার পিছনে কাজ করেছে উপমহাদেশকে পুনরায় অখণ্ড হিন্দু ভারতে পরিণত করার পরিকল্পনা। এমন কি ভারত মাতার সন্তানদের প্রাণ প্রিয় সে গানটি হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত এ সবই হচ্ছে বৃহত্তর ভারত সৃষ্টির পরিকল্পনার এক একটি মাইল ফলক যা মাত্র কয়েক দশকে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

বাংলাদেশের জন্মের পর থেকেই এদেশের রাজনীতি কেন স্থিতিশীল হতে পারে নাই তা বুঝতে হবে। আজ আমরা দেখছি তথাকথিত সেক্যুলার ধর্মনিরপেক্ষতার দাবীদার ভারত কীভাবে সেক্যুলার ধর্মনিরপেক্ষতা ছেড়ে একটি হিন্দু মৌলবাদী ও হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। আজ বাংলাদেশের প্রশাসনে যে ভাবে পরিবর্তন এসেছে এবং এ দেশের যুব সমাজকে ইসলাম বিমুখ করার জন্য যে ভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা ও মিডিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে এ সবই সে লক্ষ্যে পৌছার অলামত! তবে বাংলাদেশের মুসলিমদের দুর্ভাগ্য তাদের দেশের রাজনীতি আজ যাদের হাতে জিম্মি হয়েছে তারাই মনে হচ্ছে সেই এজেন্ডার ক্রীড়নক! কেননা বাংলাদেশের রাজনীতিতেও অভূতপূর্ব পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতপন্থী দলসমূহ জন-বিচ্ছিন্ন হলেও তারা ক্ষমতার মসনদে বসে প্রশাসন, বিচার বিভাগ সহ প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে। তাই আজ দেশের পুলিশ বাহিনীকে পরিণত করা হয়েছে দলীয় ক্যাডারে, বিচারের রায় লিখা হয় সরকারের ইচ্ছা মাফিক। তারা ক্ষমতাধর থেকে আরো ক্ষমতাধর হয়ে উঠছে। আমরা দেখছি এদেশে ভারতীয় মিডিয়ার আগ্রাসন সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, বাণিজ্যিক আগ্রাসন। বাংলাদেশের ক্ষমতায় কে থাকবে কে থাকতে পারবেনা সে সিদ্ধান্তেও ভারতের আগ্রাসন। দেশে ক্ষমতাসীনদের গণতান্ত্রিক আচরণের প্রকাশ্য লঙ্ঘন, ভোট জালিয়াতি, বিরোধী দলের মানুষকে হত্যা, খুন, গুম, অন্যায় অবিচার, অর্থের লুটপাট, নেই কোন জবাবদিহিতা! আজীব এক মগের মুল্লুক! আসুন আগে আমরা মানুষ হই, মানবাধিকার কাকে বলে তা শিখি, দেশকে ভালবাসতে শিখি, আল্লাহকে মানি, ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে বাঁচাতে সবাই সর্তক হই। আমাদেরকে ভারত বিরোধী বা ভারতপন্থী হবার দরকার নাই প্রয়োজন নিজেকে চিনার ও বাংলাদেশপন্থী হওয়ার।

২)
একটা ব্যাপার কেউ খেয়াল করেছেন কি না জানিনা আওয়ামী লীগের তৈরি তথাকথিত “আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল” এর বিচার প্রক্রিয়া, বিচার ব্যবস্থার দলীয়করণ ও একতরফা রায়ের মাধ্যমে তথাকথিত যুদ্ধাপরাধীর বিচারের প্রতিবাদ ও মিছিল মিটিং যা কিছুই হয়েছে বা হচ্ছে দেশের ভিতরে তা শুধু জামাত শিবিরের নামে বা ব্যানারে ছাড়া অন্য নামে হচ্ছে না অর্থাৎ এ আন্দোলনকে দেশের অধিকাংশ মানুষের আন্দোলন হিসাবে রূপ দেয়া সম্ভব হয় নাই! এমন কি তাদের রাজনীতির শরিক দল বিএনপির কাউকেও প্রকাশ্যে মাঠে নামাতে দেখা যায় নাই। জামাত ৭১ এর ক্রিমিন্যল এই পারশিপন একদিনে হয় নাই। ৭১রে জামাতের ভূমিকা কি ছিল সে বিতর্কে যেতে চাই না তবে আজ যেভাবে জামাতের নেতাদের তখনকার ভূমিকার যে মানবতা বিরোধী চিত্র আকা হয়েছে তা যদি সত্যি এত হত তা হলে জামায়াতের সাথে মিলে আওয়ামী লীগ আন্দোলন করতে সক্ষম হত না। নিজামী, সাইদী কিংবা ইতিমধ্যে যাদেরকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে মিষ্টি বিতরণ করেছে বাম রাম পন্থীরা তা এখন করতে হত না। বরং সে সময়ই তাদের বিরুদ্ধে মানুষের আক্রোশ ও অভিযোগ এত বেশী হত যে তাদের নামে মানুষ খুনের হাজারটা মামলা হতো, গ্রেফতারী পরোওয়ানা ইত্যাদি থাকত এটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু এসব কথা এখন কে শুনবে? একবার একটি পারশিপন এর জন্ম দিতে পারলে তা বাস্তবতায় রুপান্তরিত হয়ে যায়। তাই বলা হয় “পারশিপন ইজ রিয়েলিটি”। বাংলাদেশের মানুষকে আজ প্রতিশোধ প্রতিহিংসার দাবানলে ফেলে একটা বিশেষ গুষ্টি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির অপচেষ্টায় দেশের বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও ন্যায় বিচারকে কবর দিয়ে পুরা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে ফেলে দিচ্ছে।

একটা প্রকল্পিত (hypothetical) প্রশ্ন, মনে করেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি রায় শুনার অপেক্ষা করছেন সবাই, “যে ভারত ভেঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান হওয়াটা ছিল একটি রাজনৈতিক অপরাধ।” বলেন তো আওয়ামী সরকারের আপিল বিভাগ কি রায় দিবে? তবে এ রায় একদিন হবে চিন্তার কারণ নাই। শুধু সময়ের ব্যপার। দেরী হচ্ছে এজন্য যে ৭১ ও ৪৭ একই সুতায় গাতা। শুধু একাত্তরের পুকুরে আরো কিছুটা দিন সাতার কাটতে হবে যাতে ৪৭ সূতাটা পুরাপুরি পচে যায়। পাঠ্য পুস্তক থেকে বাদ পড়েছে বাকি শুধু চেতনার আলো দিয়ে আরেকটি প্রজন্ম গড়ার। একটু সময় তো লাগবেই।

জামাত নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন, হতে পারে জামাত একটি সুশৃঙ্খল ইসলাম পন্থী দল এবং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু যুবক তাদের সমর্থক হলেও একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে বাংলাদেশে তাদের জনপ্রিয়তা ও ভোটের সংখ্যা ৫% হবে কি না সন্দেহ। দেশের অনেক আলেমারাও তাদের থেকে ভিন্ন মতের এবং দেখা যায় পীর মুরিদরাও তাদের দুশমন। আর ইলিটরা তো বিরোধী অলরেডি। জামাতের নেতা কর্মীরা এক এক করে জেলে ঢোকছে আর লাশ হয়ে বের হচ্ছে। জামাত তো ফ্যাক্টর নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কিংবা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন দিয়ে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে বাধা কোথায়? তাহলে ভারত-পন্থী লবির এত ভয় কিসের?

আসলে বৃহত্তর ভারত সৃষ্টির পরিকল্পনার বাংলাদেশে বর্তমানের একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু রাখাটাই যে হতে যাচ্ছে আরো একটি মাইল ফলক তা ওরা বুঝলেও বাংলাদেশীরা বুঝতে পারেন কি না সন্দেহ হয়!

আগেই বলেছি দেশের রাজনীতি আজ যাদের হাতে জিম্মি হয়েছে তারাই ক্রীড়নক হয়ে দেশের সকল সেক্টর উনমুক্ত করে দিয়েছে সেই এজেন্ডার বাস্তবায়নে। আমার ধারণা ভুল হলে মন্তব্য করবেন। তবে পুরাণো কিচ্ছা নিয়ে আসবেন না। বর্তমানে যা ঘটছে তা নিয়ে কথা বলতে হবে। ছলিম উদ্দিন চুরি করেছে আমি করলে ক্ষতি কি? এসব শুনতে চাই না।

৪৯ comments

Skip to comment form

  1. 16
    কিংশুক

    বাংলাদেশে ভারতের দালালদের অতীত ইতিহাস লাথি উষ্ঠা খেয়ে মরার।

  2. 15
    জামশেদ আহমেদ তানিম

    জাজাকাল্লাহ। চমৎকার লেখা।

    1. 15.1
      মহিউদ্দিন

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  3. 14
    শামিম

    "ভারতের দালাল" শব্দটার কয়টি প্রতিশব্দ বলবেন দয়াকরে যেমন : ভারতীয় গুপ্তচর…..

  4. 13
    মহিউদ্দিন

    পাঠ ও মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
    Jazak Allah -- Shahriar bhai,

  5. 12
    shahriar

    Jajak-allah মহিউদ্দিন bhai,

    Really very nice & interesting post. Please keep continue.

     

     

  6. 11
    এম_আহমদ

    Ref: my comment 3, and the subsequent comment 8 and editorial response, 8

    [১] প্রথমে সদালাপের সম্পাদক সাহেবকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি এজন্য যে তিনি উল্লেখিত বাক্যটির ‘ক্যাটাগরিকেলি’ শব্দ থেকে ধরে একটি ভাল ব্যাখ্যার স্থান দেখিয়ে ঝামেলা এড়িয়ে থাকা এবং সাথে সাথে প্রতিবাদ ও মজলুমের পক্ষে কথা বলার অধিকারের উল্লেখ করে একটি সুন্দরের স্থান দেখিয়েছেন। কেউ অভিযোগ করলে, যেভাবেই হোক, আর ব্যাপার যাই হোক, একটি সৌন্দর্যের স্থান পাওয়াই উত্তম কথা।
    অনেক সময় অনেক সমস্যা মনের ক্লেদ থেকে আসে এবং কখনো কোনো অস্পষ্টতা থেকে আসে, আবার কারো রাজনৈতিক/ধর্মীয় কোনো চরম embroiled অবস্থান থেকেও তীব্র হয়ে আসতে পারে। আমি, এখন, আমার উল্লেখিত বাক্যটির উপর কিছু সম্পূরক এবং পার্শ্বিক কথা সংযোগ করব যাতে করে তার সঠিক স্থান আরও স্পষ্ট হয় এবং আইনের অঙ্গনে বাস্তবতা যেভাবে আছে তাও দেখা যায়।
    [২] নিরপরাধের ধারণা
    আমাদের মন্তব্য আমাদের ধারণা প্রকাশ করে। আদালতের প্রাঙ্গণের দিকে তাকালেই ‘নিরপরাধ’ ধারণাটির নন-অথোরিটেটিভ ও মামুলি বাস্তবতা লক্ষ্য করা যাবে। বিচারের পর-মূহুর্তে আদালতের আঙ্গিনায় দাঁড়িয়েই এক পক্ষ বলতে পারে, ‘আমরা বিচার পাই নি’। অপরাধীর আইনবিদও বলে ফেলে, আমরা বিচার পাই নি। কেউ কেউ বলে, ন্যায় বিচার পাই নি। তাহলে আদালত কি বিচার করতে পারে নি? আদালত কি অন্যায় বিচার করেছে? কিন্তু এতে আদালতের মহাভারত নষ্ট হয় না। এমন বক্তব্যের কারণে দণ্ডিত ব্যক্তি জেল থেকে বের হয় না, ফাঁসীর কাষ্ঠ থেকেও মুক্তি পায় না। এখানে অথোরিটির বিষয় রয়েছে। আদালতের রায় অথোরিটেটিভ ও ব্যক্তির কথা তার ধারণা প্রসূত বা ‘মনে করা’। অধিকন্তু রাজনৈতিক বিষয়ের বিচারে ইউরোপ আমেরিকাসহ সকল দেশেই দারুণ কথা বার্তা হয়, আর তা হয় বলেই অনেক সময় নতুন তথ্যের আলোকে ১০, ২০ ৩০ বছর পরও অনেকের নির্দোষ প্রমাণিত হয়। কেবল আইরিশ শিন ফ্যানের কয়েকটি এবোরটিভ রায় নিয়ে সমাজ ও মিডিয়ায় ব্যাপক কথা কথা-বার্তা হয়। ১৯৭৫ সালে সাজা প্রাপ্ত বার্মিংহাম সিক্স এর এবোর্টিভ ট্রায়েল আমরা ১৯৯১ সালে দেখলাম এবং তাদের মুক্তিও দেখলাম। এভাবে শিন ফ্যানের আরও কয়েকটি কেসে মুক্তি এসেছিল, কারণ পরে দেখা গিয়েছে এগুলো চরমভাবে রাজনৈতিক ছিল এবং অনেক তথ্যে পুলিশের কারসাজি ছিল। আদালতের রায়ের বিপক্ষে মানুষ কথা না বললে এরা সকলেই জেলে মৃত্যু বরণ করত। এক বৎসরের প্রতিবাদ ও আলোচনার একটি সুফল এখানেও রয়েছে। ঘাদানি সদস্য সমন্বয়ে গঠিত আদালত, এদের স্কাইপ কেলেঙ্কারি, সাক্ষী নিয়ে বিতর্কিত অবস্থান -এসব নিয়ে দেশে বিদেশে কথা হচ্ছে। কেবল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলটি ব্যতীত এই বিতর্ক সর্বত্র। বিশ্বের নানান দেশের নেতারা কথা বলছেন। দেশের বাইরের ধর্মীয় স্কলারও বলেছেন, যেমন ইউসুফ আল-কারদাওয়ি, তারেক রামাদান –অনেকে। এতে জামাত নির্মূলের পক্ষটি স্বাভাবিকভাবেই বিব্রত। কিন্তু তাদেরকে দ্বিমত নিয়ে বেঁচে থাকা শিখতে হবে, উদার মানসিকতা কষ্ট করে হলেও অর্জন করতে হবে এবং সমাজ, দেশ ও বৈশ্বিক বাস্তবতা স্বীকার করতে হবে -রাষ্ট্রীয় শক্তিতে যেসব কাজ এক্সিকিউক হচ্ছে তাতো হচ্ছেই। সাধারণ গণমানুষের কথায় খিটখিটে-রুষ্ট হয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়ার প্রবণতায় না ধর্মীয় না সেক্যুলার নৈতিকতা সুশুভিত হয়।
    কোন ব্লগ আদালত নয় –এখানে যাবতীয় নথিপত্র নিয়ে সকল পক্ষ আরেকটি ট্রায়েল (trial) গাইতে বসে না। সকল পক্ষের যুক্তি প্রমাণ এখন ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে। ব্লগীয় আলোচনায় কেবল মতই প্রকাশ পায়। অমুক অপরাধী বা অমুক অপরাধী নয় –এমনসব কথা বক্তাদের ধারণা, তাদেরই পাঠের আলোকে। ব্লগ আলোচনারই স্থান, সেজন্যই আলোচনা। যেসব কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার পাচ্ছে (রেডিও, টিভি, সংবাদপত্র, সামাজিক মিডিয়া) সেই কথা কোনো একটি আলোচনার অঙ্গনে চাপ মেরে দিলে তা চাপিয়ে যায় না। সকল আলোচনায় পক্ষ বিপক্ষ থাকবে কিন্তু কোনো সুস্থ আলোচনায় কেউকে incrimination দেখিয়ে partisan রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে দিতে নেই। এটা হলে আলোচনার পরিসর তার উদার বৈশিষ্ট্য হারাবে। কোন রাজনৈতিক পক্ষ হঠাৎ‘আদালতের মান ক্ষুণ্ণ হয়ে গিয়েছে’ বললেই সেটা আদালতের অপিনিয়ন হয়ে যায় না। বলা উচিৎ যে সদালাপ can take pride in the sense that it is not promoting BAKSHALI tendencies.
    [৩] একাত্তরের যুদ্ধ ও শহীদদের নিয়ে রাজনীতি
    একাত্তরের কথা বলে বাকরুদ্ধের যুক্তি অসংগত হবে। একাত্তরের যুদ্ধ ও সেই যুদ্ধের শহীদগণ স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করেন নি; জনগণের উপর একদলীয় শাসন কায়েমের জন্য যুদ্ধ করেন নি; মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার জন্য যুদ্ধ করেন নি। আজ তাদের নাম বিক্রি করে যদি এইসব কাজ কোনো দল বা গোষ্ঠী করে, তবে তারাই সেই শহীদদের অবমাননা করে। আমরা ক্রেমলিনের কর্মকাণ্ড দেখেছি, একটি‘আদর্শের’ নামে মানুষের ‘সকল’ স্বাধীনতা কেড়ে তাদেরকে ভেড়ির পাল বানিয়ে নিতে দেখেছি। হত্যা, গুম, নির্যাতন দেখেছি –তাও সন্দেহের বশবর্তী হয়ে, প্রতিপক্ষ নির্মূলে। আমরা “ক” এর যুক্তি তোলে “খ” আরোপিত হতে দেখেছি। ইসরাইলের শান্তির নামে সন্ত্রাস দেখেছি। আমরা যারা সদালাপে আসি, লেখি, সময় কাটাই -তা এজন্য যে এখানে বাংলাদেশের মত স্বৈরাচার নেই; এখানে দ্বিমত পোষণ করার অবকাশ আছে; আর তা কিছু মৌলিক নীতির উপর চলছে বলেই। এই বৈশিষ্ট্য ততদিন সুস্থ থাকবে যতদিন কোন একটি পক্ষ বাগানের সকল ফুলকে “লাল” করে না দেবে।
    আমাদের পার্শবর্তী একটি ব্লগে যখন একাত্তরবাদী দলীয় কেডারগণ ও মালিকপক্ষ চাপাতি বের করে প্রতিমতধারীদের ধাওয়া শুরু করেছিল, তখন সবাই চলে যায়। এখন ময়দান জুড়ে আছে কবি ইমরুল কায়েসের ‘কিফা নাবকি -দাঁড়ান, আমাদেরকে একটু কেঁদে নিতে দিন’ কবিতার বিচরিত হরিণের শুষ্ক ল্যাদার বিস্তৃত কালো টুকরোগুলো (আরবি কবিতাটি না বুঝলেও আবৃত্তি সুন্দর লাগবে) ।
    [৪] অভিযোগকারীর আচরণ
    বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের বেশির ভাগ যোদ্ধাই এখন বিএনপি নামক একটি বড় দলে –এই মতই বেশ প্রচলিত দেখছি। জাতির অর্ধেক, এবং অনেকের ধারণায় বর্তমানে অর্ধেকের চাইতে অনেক বেশি,লোক এই দলে, (এবং তাদের সহযোগী দলসহ)। জাতির এই অংশ ও এই দলের প্রয়াত নেতা হচ্ছেন এগারোজন সেক্টর কমান্ডারদের অন্যতম ব্যক্তি। সদালাপ যখন ‘সেতুবন্ধ’ এবং গঠনের নীতিতে প্রতিষ্ঠিত এবং ‘বিভিন্ন বিশ্বাস, মতামত ইত্যাদির মাঝে যোগাযোগ স্থাপন’ করতে চায়, তখন সেখানে অভিযোগকারী ব্যক্তি বিএনপি নামক দলকে বিষোদগার করেন, হীন ও মন্দ ভাষায় কথা বলেন, বিরাট সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত এই দলের নেতা জেনারেল জিয়াউর রাহমানকে ‘প্রতারক’ বলেন, তার স্ত্রী ও পুত্রদের নিয়ে অত্যন্ত হীন ভাষায় বিষোদগার করেন – এইসব কাজ সদালাপের নীতিকে বিনষ্ট করে। সদালাপে বিএনপি ও তাদের জোটের লোক যদি আসে এবং এগুলো পড়ে তবে সদালাপের নীতি সম্পর্কে তারা কোন ধারণা পাবে? নিশ্চয় অসুন্দর অনুভব করবে। আবার এই মুক্তিযোদ্ধাদের দল নিয়ে বিষোদগারে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননাও রয়েছে। সদালাপ যদি মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যে হয় তবে এতে সদালাপও ইমপ্লিকেইটেড হয়। আমি জামাতের কথা বাদ দিয়েছি কেননা তাদের নিয়ে বিষোদগারের কথা বললেই আরেক বিপদ। তিনি অনেককেই না জেনে তাদেরকে জামাতি “ট্যাগিং” করেন, পেস্টারিংও করেন। সদালাপ তো একটি আলোচনার স্থান। অভিযোগকারী ব্যক্তি একজন রাজনৈতিক কেডারের আচরণ করেন, তাও অত্যন্ত জঘন্য ভাষায়। আমি তার সেই রাজনীতি নিয়ে কিছুই বলব না। বরং তিনি যা ইচ্ছে তাই অন্যত্র করতে পারেন। কিন্তু সদালাপকে তার দল ও আদর্শের হাতিয়ার বানাতে পারেন না। তিনি সর্বদা “আমরা” এই হতে দেব না, সেই হতে দেব না -এইভাবেই তার দলীয় “আমরা”কে সদালাপের সাথে ঘুলিয়ে ফেলেন, এটাই প্রবলভাবে অনুভূত হয়। সদালাপের “আমরা” বলতে নীতিমালায় যাদের কথা বলা হয়েছে তাদেরকেই বুঝায় –অর্থাৎ সদালাপের “পাঠক এবং লেখকগণ”, এরা সবাই তার দলীয় আদর্শের রাজনীতিতে নয়। স্ক্রীণসটসহ তার অসংখ্য বক্তব্যের কিছু উদাহরণ আনলে হয়ত ভাল হত কিন্তু সেই সময় আমার নেই। তবে কিছু কিছু ব্যতিক্রমে আলোচনা প্রাণবন্ত হয় এটাও মনে করি। অভিযোগকারী ব্যক্তি নিজেই সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করি। অধিকন্তু তার সাথে আমি একমত হব তার এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে, “সদালাপের সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে – কোন গোষ্টীর প্রপাগান্ডা মেশিন হিসাবে সদালাপ ব্যবহূত হবে কিনা?” এখানে ভাবা-টাবার দরকার নেই। এটা কোনো গোষ্ঠীরই প্রোপাগান্ডা মেশিন হবে না। তিনি নিজেই যদি এই নীতির উপর আমল করেন তবেই সদালাপ সুন্দর থাকবে –এটাই আমার বিশ্বাস। তবে হ্যাঁ, তিনি নিজে যদি সদালাপের সত্ত্বাধিকারী হন, এবং সদালাপকে বর্তমান বাকশালী সরকারের এক্সটেনশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান, তবে ‘বর্তমান সরকারের কোনো সমালোচনা করা যাবে না’ –এই মর্মে একটি কথা নীতিমালায় সংযোগ করলেই লেটা চুকে যাবে এবং এতে সম্পাদক সাহেবসহ আমরা সবাই বেচে যাই। কারও এত কসরত করতে হবে না।
    আমি এই যে সময় দিয়ে এত দীর্ঘ ব্যাখ্যার প্রয়াস পাচ্ছি এর কারণ সদালাপ বর্তমান যে নীতিমালায় আছে সেই অবস্থানে ঠিকিয়ে থাকুক সেই অভিপ্রায়ে –এরই সমর্থনে। একজন সম্পাদকেরও লেখকী-পাঠকী সমর্থনের প্রয়োজন –তাই।
    [৫] সবশেষে, আমার কর্মজীবনে নানান অভিযোগ deal করতে হত এবং এখনো স্থানভেদে করি। কারও অভিযোগ, তা যাই হোক, তার জন্য যদি সামান্য একটা কিছু করা যায়, তবে ভালই হয়। আমিও বাক্যটি নিজ ইচ্ছায় এডিট করে দিতে মহিউদ্দীন ভাইকে অনুরোধ করব। প্রথম বাক্যটি এখন এভাবে করবেন, “‘আপনি সুন্দর বলেছেন। তবে বিগত বছরগুলো ব্যাপী এই বিষয়ে গঠিত আদালত, সাক্ষ্য ও বিচার নিয়ে দেশে/বিদেশে যেসব তথ্য প্রকাশ পেতে দেখেছি সেসবের আলোকে আমার প্রবল ধারণা যে এদের কেউই অপরাধী নয়।” দ্বিতীয় বাক্যটির প্রথমে ‘রাজনৈতিক’ শব্দটি জুড়ে দেবেন অর্থাৎ এটি হবে “রাজনৈতিক পৈতাধারী”। কোনো সমঝোতায় কোন পক্ষের আক্রোশ যদি এক জাররাহ পরিমাণও প্রশমিত হয়, তবুও তা ভাল। কোথাও একটি মাত্রা সংযোজন সুন্দরের পথকে প্রশস্ত করতে পারে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার দ্বীনের পথে চালিত করুন। যেখানে তা সম্ভব নয় সেখানে মানবতার পথে চালিত করুন। আমীন।

    1. 11.1
      এম_আহমদ

      [১] মহিউদ্দীন ভাই, সালাম। মন্তব্যটিতে কেন যেন লিঙ্ক সংযুক্ত হয় নি। এটা ওখান থেকে নিয়ে আসবেন। আমি ঘন্টা খানেক পরে ওটা মুছে তবে এই সময়ের মধ্যে যদি এখানে না আসেন তবে আপনি সেই লিঙ্ক আলাদাভাবে মন্তব্যে দেব এবং আপনি তা সংযোগ করে নেবেন।

      [২] এডিট করার বাক্যটির গঠন ঠিক হয় নি। এটা এভাবে হবে, "আপনি সুন্দর বলেছেন। তবে এই বিষয়ে গঠিত আদালত, সাক্ষ্য ও বিচার নিয়ে বিগত বছরগুলো ব্যাপী দেশে/বিদেশে যেসব তথ্য প্রকাশ পেতে দেখেছি সেসবের আলোকে আমার প্রবল ধারণা যে এদের কেউই অপরাধী নয়।”

      ধন্যবাদ।

    2. 11.2
      এম_আহমদ

      মহিউদ্দীন ভাই, সালাম। ১১ নং মন্তব্যে যে দুটো লিঙ্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, সময় করে তা সংযুক্ত করে দিলে ভাল হয়।  

      [১] এক বৎসরের প্রতিবাদ ও আলোচনার একটি সুফল এখানেও রয়েছে। (২ নং এর প্রথম প্যারায়)

      [২] এখন ময়দান জুড়ে আছে কবি ইমরুল কায়েসের ‘কিফা নাবকি -দাঁড়ান, আমাদেরকে একটু কেঁদে নিতে দিন’ কবিতার বিচরিত হরিণের শুষ্ক ল্যাদার বিস্তৃত কালো টুকরোগুলো (আরবি কবিতাটি না বুঝলেও আবৃত্তি সুন্দর লাগবে) । (৩ নং এর শেষ প্যারায়)।

  7. 10
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    মহিউদ্দিন ভাই,

    আমি জামায়াত বিরোধী, এইটা কি নতুন কিছু, বা নতুন করে বলার মতো কিছু হলো? বাংলাদেশের জন্মের শত্রু আমার শত্রু -- যারা আমার মাকে অপমান করেছে -- যারা পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর ছত্রছায়ায় এহেন অন্যায় নেই যা করেনি -- আজ করছে -- ইসলামের নামে সুদের ব্যবসা -- জামায়াতের নামে একটা কাল্ট তৈরী করে মুসলমানদের মাঝে বিভাজনতো তাদের স্বাভাবিক কাজ। সুতরাং জামায়াতের ধ্বংস চাওয়ার জন্যে আমি কি লজ্জিত হবো -- এই চিন্তা করাই ভুল। 

    যাই হোক, শেখার বয়সতো শেষ হয় না। প্রতিদিন আমি শিখি -- আর আশা করি সবাই শেখবে। ক্ষতি কি শিখতে। শুধু আপনি না -- বাংলাদেশের অনেক জ্ঞানী মানুষও এই ভুলটা করে -- ব্রাক্ষন আর ব্রাহ্ম সমাজ এক করে ফেলে। এর কারন "ব্রাহ্ম সমাজ" ও তার মুল ধারা হারিয়ে একটা হিন্দু ধর্মের উপশাখায় পরিনত হয়েছে। কিন্তু আমরা যার কথা বলছি -- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -- তিনি অনেক আগেকার মানুষ -- তখন ব্রাহ্ম সমাজ একটা সক্রিয় আন্দোলন ছিলো -- যা হিন্দু ধর্মের অনেক মৌলিক বিষয়কে অস্বীকার করে এক ঈশ্বরবাদ চর্চা করতো। 

    তাই ্‌আপনাকে একটা ক্লু দিয়েছিলাম -- কেন গিরিশ চন্দ্র সেন বাংলাদেশের মৈমনসিং এসে মাদ্রাসায় যোগ দিয়েছিলেন এবং ইসলাম গ্রহন না করেই কোরান এবং সিরাতে মুহাম্মদ (সঃ) অনুবাদ করেছিলেন -- এই প্রশ্নের মাঝে অনেক বড় উত্তর আছে -- এবং রবীন্দ্রনাথের ধর্ম বিশ্বাস বুঝার জন্যে। 

     

    আপনি রবি ঠাকুরের দেবদেবী প্রসংশার কথা বলেছেন -- দেখুন কলিকাতায় কোন পূঁজাই হয় না নজরুলের শ্যামা সংগীত ছাড়া -- তাই বলে নজরুল হিন্দু হয়ে যাবেন শ্যামা সংগীতের কারনে এই যুক্তি কি ঠিক হলো!

    এখানে সদালাপের শামসের লেখা (ব্রাহ্ম সমাজ সম্পর্কে ) দেখার অনুরোধ রইল। (চমৎকার এবং তথ্যপূর্ণ লেখার জন্যে লেখককে আবারো ধন্যবাদ জানাই। 

    আরো দেখতে পারেন বাংলা পিডিয়ার এন্টি -- বাহ্ম সমাজ

    শেষ কথা হলো -- আমার যে জ্ঞান কম তা আমি জানি -আর জানি বলেইতো পড়ার চেষ্টা করি। ধন্যবাদ। 

    1. 10.1
      মহিউদ্দিন

      "আমি জামায়াত বিরোধী, এইটা কি নতুন কিছু, বা নতুন করে বলার মতো কিছু হলো? "

      জিয়া ভাই, আপনি জামাতের শত্রু, জামাত নিধনকারী, সংহারক। নানান ধরণের যুদ্ধ ও প্রোপাগান্ডায় আপনার জীবন কেটেছে। এগুলো আপনার জীবন ও মানসিকতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গিয়েছে। তাই সেখানে থিওলজি (সুদ/ধর্মীয় কাল্ট, ধর্মীয় বিভাজন) কিংবা  নৈতিকতার রাজনীতি, ন্যায় বিচার, মানবাধিকার এসবের  আপনি  সামান্যও বুঝেন বলে আমার কাছে প্রতিভাত হয় না। কারো বা কোন বিশেষ দলের বিরোধিতা করতে আপনি যতই বাড়াবাড়ি করেন এটা আপনার ব্যাপার এতে আমার কোন অসুবিধে নেই যতক্ষণ আপনি অন্যদেরকে আপনার ধারণার কারণে বিব্রত ও harass না করেন। কাউকে নছিহত নয় আমি আমার নিজেকে সতর্ক করে বলতে চাই আমরা প্রত্যেকেই আমাদের কাজের জন্য জবাবদিহি হতে হবে একদিন আল্লাহর দরবারে। 

      শেখার বয়স করো জন্যই শেষ হয় না এটা আমার নিজের জন্যও প্রযোজ্য তবে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা থাকবে যে যাহা দুনিয়া ও আখেরাতে কাজে লাগে এমন শিক্ষাই যেন অর্জন করার সৌভাগ্য হয়। আপনার ব্যাপারটা হচ্ছে আপনি যে রশিতে ধরেন –তা ছাড়বেন না, যেকোনভাবে পুনরায় পুনরায় ফিরে আসবেনই, প্রসঙ্গ যে কোথায়? সেটা নজর রাখবেন না। অথবা অপরপক্ষ এই আলোচনা করতে চায় কি চায় না, তাও খেয়াল করবেন না। কেবল চাইবেন কোনোভাবে কাউকে টেনে হেঁচড়ে জামাতি প্রোপাগান্ডার নাম দিয়ে একাত্তরের মায়া কন্নার ধূম্রজালের চতুঃসীমায় এনে মুখস্থ  কিছু বলা যায় কি না।  আমি কেবল আমার অঙ্গনে সেই টেপ রেকর্ডারটা অন না করতে অনুরোধ করি, কেননা আপনার টেইপের সবগুলো গান কি উদ্দেশ্যে গাইতে চান  তা ভাল করে জানি। 

      এবারে এসেছেন গিরিশ চন্দ্রের “ক্লু”র কথা শুনাতে। অধমকে বার বার ক্লু দিচ্ছেন! কিন্তু সেদিন, এবং ক্লাসিক্যাল যুগে, অনেক শিক্ষার্থী বাগদাদে গিয়ে মুসলমানদের শিক্ষাপীঠ থেকে জ্ঞান অর্জন করে আসত। ভারতেও ব্রিটিশ এডমিনিস্ট্রেটদের কেউ কেউ বিভিন্ন গরজে মাদ্রাসায় গিয়ে আরবি শিখত। এমন এক প্রণিধানযোগ্য ব্যক্তি হচ্ছেন William  Wright যিনি আরবি ব্যাকরণ ইংরেজিতে করছেন, বইটি হচ্ছে A Grammar of the Arabic Language, এটি ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং আজও তা এক রেফারেন্স গ্রন্থ। আপনি গিরিশ চন্দ্রের ক্লু আমাকে দেবার দরকার নেই, নিজেই ভাল করে বুঝার চেষ্টা করুন।
      শামস ভায়ের লেখা পড়তে বলছেন, এবং বাংলা পিডিয়ার একটি এন্ট্রি দিয়েছেন। এই হচ্ছে আপনার সীমা। কিন্তু আপনি এর কোনটি বুঝেছেন বলে প্রকাশ পাচ্ছে না। বাংলা পিডিয়ার এন্ট্রির প্রথম বাক্যেই আছে রামমোহন রায়ের “হিন্দুধর্মের” সংস্কার, বেরিয়ে আসা নয়, সংস্কার। রামমোহন রায় “চিন্তা করে দেখলেন যে, তাঁর পক্ষে “হিন্দুধর্ম” ত্যাগ করে অন্য কোন ধর্ম গ্রহণের পেছনে কোন যুক্তি নেই” (বাংলা পিডিয়া), তাই এই সংস্কার। এটাই মূল ধারার সংস্কার। কিন্তু “এটা হিন্দুধর্মের একটি শাখায় পরিণত হয় এবং সেভাবেই বিরাজমান” (প্রাগুক্ত)। অতঃপর ঊনবিংশ শতকের মধ্য দিকে “হিন্দু ধর্মের” উপর খৃষ্ট-প্রচারকদের আক্রমণের মুখে বেদ-গ্রন্থ (যা “হিন্দু”-সংস্কারক গ্রুপ “বাহ্মবাদীদের” মধ্যেও “অভ্রান্ত” বিবেচিত হত!) তা তারা আর ঠিকিয়ে রাখতে না পেরে সংস্কার সাধন করেন এবং “হিন্দু” বৈশিষ্ট্যেই থাকেন। “উল্লেখযোগ্য যে, বেদকে অস্বীকার করা হলেও, ব্রাহ্ম আন্দোলনের অপরিহার্য “হিন্দু চরিত্রসমূহ” ধরে রাখা হয়’ (প্রাগুক্ত)। এটাই মূলধারার চরিত্র।

      ভাই, আপনার পাঠ অনেক কিছু এড়িয়ে যায়। কোথাও দ্ব্যার্থতার সমন্বিত স্থান বিচ্যুত হন। আর শামস ভায়ের লেখার প্রধান প্রেক্ষিত হচ্ছে রামমোহন রায়ের সংস্কার “আন্দোলনে” ইসলামের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখানো। ওখানে প্রথম দিকেই রামমোহনের “হিন্দু” সমাজের সংস্কার সম্বলিত কথাই এসেছে এবং মূলত হিন্দু ধর্মেরই সংস্কার বলা হয়েছে। রাজা রামমোহন রায় যেমন এসব আন্দোলন প্রথমে শুরু করেন নি তেমনি তিনি এর একমাত্র পুরুষও না” (শামস)। ব্রাহ্মদের হিন্দু রক্ষণশীলতার পাশে নববিধানীদের অপর ধর্মে বিবাহ জায়েজ করে এবং এখান থেকেই বর্তমান কালের হিন্দু-মুসলিম  বিবাহের হিড়িক (ব্রাহ্ম আন্দোলনের একেশ্বরবাদের নব্য সংস্করণের ভিত্তিতে চালিত বাঙালী-জাতীয়তাবাদী বিশ্বাসী-স্রোত)। কিন্তু নানা সংস্কারের পরও ব্রাহ্ম আন্দোলন “হিন্দু সংস্কৃতি ও সমাজকে অতিক্রম করতে পারেন নি” (প্রাগুক্ত)।
      ব্রাহ্মণ্যবাদে যে একেশ্বরবাদী ‘অদ্বিতীয়ের’ ধারণা রয়েছে তাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী ব্রাহ্ম গ্রুপ বা সভা হয় তা তাদেরই বড় প্রাসাদের অংশ, যেভাবে বড় বড় ধর্মে বিভিন্ন প্রেক্ষিত নিয়ে দল ও গ্রুপ তৈরি হয়। একথা আগেই বলেছি। এটি ছিল একটি আন্দোলন ও আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য পরিচিতি। 
      ব্রাহ্মণ তো পূর্ব থেকেই তার নিজ বিশ্বাসের উপর থেকে অপরের পূজার পুরোহিত হতে পারছে। তারপর বিশ্বাস অন্তরের ব্যাপার। শাস্ত্র এক কথা বলতে পারে, ব্যক্তি অন্যটা করতে পারে। লেখায় ও গানে লেখক তার নিজ ধারণা প্রকাশ করলেন, না অপরের বিশ্বাসের প্রয়োজন পূরণে লিখলেন, এটা অন্য ধরণের আলোচনা। মূল হচ্ছে একজন ব্রাহ্ম হয়েও ব্রাহ্মণ থাকে, তাই রবীন্দ্রনাথের পরিবারের কথা এভাবে বলা হয়ে থাকে “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ‘ব্রাহ্ম পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে’ জন্মগ্রহণ করেন” [উইকি]। এখন আপনি উইকিপিয়াকে কিছু জ্ঞানবুদ্ধি দিয়ে আসেন। আমাকে বাঁচান। আর নজরুলকে নিয়ে তো হিন্দুদের অনেকের অনেক মত। অনেক হিন্দু মনে করে থাকেন তিনি হিন্দু হয়েছিলেন। আমি এই বিতর্কেও যেতে চাই না, অন্তত আপনার সাথে। 

      ভাই, শেষ কথা হল আপনি যেটা বুঝেন সেটা নিয়ে থাকেন। এই বিষয়টি আমার এ নিবন্ধটি বুঝার জন্য জরুরি কিছু নয়। তারপর আপনি জামাত মারতে ব্যস্ত থাকুন, তবে বন্দুকের নল সর্বদা সুচিন্তিতভাবে টার্গেট করবেন যাতে ক্রসফায়ারে অন্যরা গুলিবিদ্ধ না হয় এবং একদিন আসামির কাঠগড়ায় দাড়াতে না হয়।  একটা কথা বলি ভাইজান। শুনবেন না, তবুও বলি। আসুন না আমাদের সময়টা ভাল কাজে ব্যবহার করি। দেশে যে অরাজকতা ও রাহাজানি হচ্ছে সে বিষয়ে কথা বলি যারা সরকারের সাথে জড়িত বা তাদের দল করেন তাদের বিবেককে জাগাতে বলি। আমাদের যে বয়স তা তো কোনভাবে চলেই যাবে তবে আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধররা যাতে সঠিক পথে চলতে পারে সে রাস্তা তৈরি করতে নিজেদের স্বাধ্যমত চেষ্টা করি। চশমাটা একটু স্বচ্ছ করুন। দেখেন আপনার প্রেক্ষিতে উল্লেখিত দলের মত আপনিও একটা কাল্টের অংশ –শুধু চিন্তা করবেন।
      অযথা  লিখার অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা নিয়ে বিতর্কে নেবেন না। আমরা আমাদের পরকাল নিয়েই চিন্তা করতে হবে। যা পরকালের জন্য ভাল তাই করবেন।

      আপনার জন্য একটি উপহার দিলাম নিচের লিংকে সময় সাপেক্ষে শুনতে পারেন। ।আশা করি ভাল লাগবে।
      https://youtu.be/LLkglRTESlc

      1. 10.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        আমার জ্ঞান যে একদমই কম তাতো আমার চেয়ে বেশী বুঝে কে? যাই হোক ৭১ আপনাদের কাছে মায়া কান্না হতে পারে -- কিন্তু আমার কাছে বাস্তব। ৭১ সালে ইসলামের নামে ধর্মের নামে জামায়াত যা করেছে তা আপনিও জানেন -- আমিও জানি। নিজামীর ঘোষনা ছিলো -- পাকিস্তান আল্লাহ ঘর -- সেই ঘর রক্ষা করতে হবে। সেই ঘর রক্ষা করতে গিয়ে এরা বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষ হত্যা করেছে নির্বিচারে। কখনওতো শুনিনি আপনার মুখে -- ৭১ এ ধর্মের নামে এই অনাচারটা ঠিক হয়নি -- এই কথা বলতে। 

        আমাতকে আপনি নানান সময় নানান ভাবে কোন একটা গোষ্ঠি ভুক্ত করতে চেয়েছেন -- আপনাকে বলে রাখি -- আমার রাজনীতির জীবন শুরু হয়েছিলো ইসলামী ছাত্র শিবিরের মাধ্যমে। এদের মতো ভন্ড আর মিথ্যাবাদী পরে আর কখনও দেখিনি। আর আমার সুদ বিষয়ে জ্ঞান নিয়ে কথা বলছেন -- জামায়াত ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশে সুদকে ব্যবসা বানিয়েছে -- সুদী মহাজন ড, ইউনুসকে সবচেয়ে আগে ফুল দিয়ে বরন করেছে ইসলামী ছাত্র শিবির -- আল্লাহ সাহায্য চাই -- আল্লাহ যে আমাকে সেই সুদরে জ্ঞান না দেন যা ইসলামের নামে সাধারন মানুষকে প্রতারনা শেখায়। 

        আমিও বলি -- জামায়াত নামের শেষে ইসলামী শব্দটা লাগিয়ে দিনরাত আওয়ামীলীগ আর ভারত বিরোধীতা করে -- কিন্তু আল্লাহর সবচেয়ে বড় শত্রু পীর-মাজারের মতো প্রকাশ্য শিরকের বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে সময় পায় পায় না -- এরা নিজেরা সৎ লোকের শাসনের কথা বলে -- কিন্তু হালুয়া রুটির ভাগাভাগিতে ১০% রাজনীতির সাথে ক্ষমতায় যায়। ভন্ডামীর কি শেষ আছে। জামায়াতকে কিছু বললে আপনি আমাকে ইসলাম বিষয়ে জ্ঞান দিতে আসেন। আগে নিজের ঘর সামলাম। সুদ-চুরি আর ভন্ডামীতে জামায়াত বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় উদাহরন তৈরী করেছে -- তা আগে ঠিক করুন। তারপর আসুন দেশের মানুষকে জ্ঞান দেই। 

        ক্ষমতার জন্যে আজ এর কোল থেকে কাল ওর কোলে ঘুরে বেড়ানো জামায়াত গস চল্লিশ বছর ধর্মের নামে ব্যবসা করে কিছু পুঁজিপতি তৈরী করা ছাড়া ইসলামের কি উপকার করেছে। শুধু মাত্কার একজন সাইদীই কোরান তফসিরের নামে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে -- জামায়াতের নেতাদের দৃশত্য কোন আয় না থাকলেও ওরা ঢাকায় প্রাসাদের মালিক -- ছেলেমেয়েরা বিদেশে গিয়ে পড়াশুনা করে। কিন্তু রাস্তায় গুলি খায় গরীবের ছেলেরা -- যাদের বেহেস্তের সার্ফিফিকেট দেয় জামায়াতের নেতারা। কার্যত ৭১ এ এদের ভুমিকার কারনে বাংলাদেশের যুবসমাজ ইসলাম সম্পর্কে একটা ভুল ধারনাই পায়। সেই জামায়াতের বিরোধীতা করাইনা শুধু যতক্ষন না এরা তওবা করে ফিরে মুল ইসলামে ফিরে আসবে ততদিন ওদের মুখোশ উন্মোচন করাই আমার কর্তব্য মনে করছি। আশা করি এই বিষয়টি পরিষ্কার করতে পারলাম। 

        ধন্যবাদ।  

        1. 10.1.1.1
          shahriar

          In bangladesh Jamat was a bad party/politics no doubt about that. It's close here .

          Now please clearfy other party of bangladesh as per your thought which is more good then others. Just make sure don't bias when you justify those parties.

           

          Jajak-allah//

        2. 10.1.1.2
          মহিউদ্দিন

          জিয়া ভাই, কতবার আর বলব, আমি এই অধম শ্রোতা আপনার জামাতই রেকর্ডারের গান শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা, কিন্তু শ্রোতার প্রতি আপনার খেয়াল নেই –থাকবেও না, কারণ যে কারিগর আপনার মাথা ধোলাই দিয়েছে সে/তারা দারুণ কারিগর।
          এবারে যে গানটি শোনালেন সেটি দাগ নম্বরসহ অতীতে কয়েকবার শুনিয়েছেন।
          ভাই আপনার সমস্যা যে কি তা কেবল আপনি জানেন। আমি তো দেখছি জামাত কিংবা শুধু জাতীয়তাবাদী শক্তি নিধনের দায়িত্ব আধিপত্যবাদীর গোলামী ছাড়া যাদেরকে এদেশের মানুষ তাদেরকে দোকানের কর্মচারী পর্যন্ত নিয়োগ দিতে রাজী হবে না এরকম মাফিয়া গুষ্টির আজ আপনি বন্ধু সেজেছেন। 

          "কখনওতো শুনিনি আপনার মুখে – ৭১ এ ধর্মের নামে এই অনাচারটা ঠিক হয়নি – এই কথা বলতে।" 

          আপনার এ কথা ঠিক না আমি একাত্তরে কারো অপরাধের পক্ষে অনুকম্পা দেখাই নি কখনও। আমার কথা হল কারো বিরুদ্ধে Specific crime এর  সঠিক সাক্ষী প্রমাণ থাকলে তার ভিত্তিতে তার বিচার হউক। আমি বরং খুশি হব। আমি মিষ্টি খেতে চাই বলে আপনি আমাকে সেকারিন দিয়ে ক্যান্সারে  মারবেন। পুরা জাতিকে মিথ্যার খরিদ্দার করতে চান তা আমি মানব না। "যারে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা" এ ধরনের মানসিকতা আমার নাই। আপনার থাকতে পারে। সেটা আপনার ব্যাপার। আমি এই মুহূর্তে জামাতকে বাংলাদেশে কোন বিরাট সমস্যা বা ফ্যাক্টর মনে করিনা। 

          আপনার ধর্মীয় জ্ঞান নেই, কিন্তু ফুলকি জ্ঞানীর চেয়েও বেশি মারেন। বাংলাদেশে, বরং ইসলামী বিশ্বে অসংখ্য দল, যাদের অনেকে, একে অন্যকে ইসলামের বাইরে দেখিয়ে বিষোদগার করে। আপনি যেকোনো প্রতিপক্ষের গালাগালি সংগ্রহ করে আপনার প্রতিপক্ষের দিকে ছুড়তে পারেন, কিন্তু ধর্মতাত্ত্বিক এই বিষয় নিয়ে পণ্ডিতরা যখন হিমসিম খাচ্ছেন, তখন আপনি থাবা-বাবার দলের জান্নাতি প্রবক্তা কোন ইসলামী দল হলেন? আপনার যখন ধর্মতাত্ত্বিক জ্ঞান নেই তখন আপনার সঙ্গীত অন্য গ্রুপ থেকে আসতে হবে –সেটা কোনো এক ইসলামী দল থেকে হোক অথবা গাফফার চৌধুরীদের ব্রাহ্ম-মার্কা অসাম্প্রদায়িক নতুন ধর্ম যার ধারণায় বাংলাদেশে কোনো সঠিক ইসলাম নেই, যা আছে কেবল ‘বাড়াবাড়ির ইসলাম’। এই ইসলাম ধ্বংস করেই সেই “অসাম্প্রদায়িক” ধর্মই কায়েম হবে আর তা হবে একাত্তরের কাপড়ে জামাতি-কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে। আপনি যে একটি কাল্টের লোক, এবং কাল্টিস্ট অঙ্গনের কাদা ছুড়া-ছুড়িতে আপনিও যে ভণ্ড হতে পারেন, বড় আকারে, সেকথা বেমালুম ভুলে যাচ্ছেন। আপনার কাল্টের ভিতরে, ঝগড়াঝাঁটিতে, আপনার মানসিকতা গড়ে ওঠে এখন তা প্রৌড়ে পৌঁছেছে। কেডারগীরিতে জীবন কাটিয়ে এখন হঠাৎ কোন জ্ঞান অর্জিত হবে? তাই নিজ কাল্টেই থাকুন।

          তবে একটু চিন্তা করুন, একাত্তর নিয়ে আপনি যে জামাতি প্রোপাগান্ডায় আছেন তা যদি ভুল হয়, তবে আপনার জীবনটা কোথায় গেল? আপনার সেই মহাসত্য ‘কীভাবে’ জেনে নিয়েছেন, সেই সত্যের সঠিক দলিল কি, আপনি সেগুলো কিভাবে সত্যায়ন করেছেন –এই কথাগুলো বিবেচনা করবেন। আর এই মর্মের হাদিস মনে রাখবেন, যে যে ব্যক্তি একজন মুসলমানকে হত্যা করতে একটি বাক্যাংশ দিয়েও সাহায্য করল, কাল-কিয়ামতে তার দু চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে “আ-ইস মির-রাহমাতিল্লাহ -- آيس من رحمة الله” আল্লাহর রাহমত থেকে নিরাশ। আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন,  সাত আসমান এবং সাত জমিনের সকল অধিবাসী মিলে যদি অন্যায়ভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করে তা হলে আল্লাহ সবাইকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন (ইবনে মাজা এবং বায়হাকি)।

          ভাই, আমি আগেই তো বলেছি আপনারটা আপনি চালিয়ে যান। এখন দেশের সকল সমস্যার বড় সমস্যা সাগরচুরি, গুম, হত্যা, ধর্ষণ, নিরাপত্তাহীনতা, স্বৈরশাসন –আমাদের দৃষ্টি এখন জামাতের দিকে না টেনে, দেশের প্রধান প্রধান সমস্যার দিকে নিয়ে যান। ৮ শো কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। আপনি সরকারের হয়ে আমাদেরকে ব্যাখ্যা দিয়ে লাভ নেই, সরকারের দলের লোকজনই যখন একে অন্যকে দোষারোপ করছে। এখন আমাদের দৃষ্টি অন্য দিকে ফিরানোর চেষ্টা না করলে কি হয় না? ধন্যবাদ।

  8. 9
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    ক্যাটাগরিকেলি, আজকে যাদের বিচার হচ্ছে তাদের কেউই অপরাধী নয়।

    এ বাক্যটি দ্বারা এম. আহমেদ সাহেব খুব সম্ভবত বোঝাতে চেয়েছেন পেশা হিসেবে সবসময় ক্রিমিনাল এক্টিভিটি করে বেড়ায় (যেমন চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী) বলতে যা বোঝায়, এখন যাদের বিচার হচ্ছে তারা ঠিক সেরকম ক্যাটাগরিক্যাল অপরাধী নয়। আইনের দৃষ্টিতেও এটি ঠিক আছে- অপরাধী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত নিরপরাধীই বটে। কিন্তু কোর্ট অপরাধী সাব্যস্ত করার পর তাকে আর নিরপরাধী বলার সুযোগ নেই। সেটি করলে আদালত অবমাননার শোকজ খেতে হতে পারে, খেতে হয়। অসতর্ক মন্তব্য করে সেরকম খামখা ঝামেলায় জড়ানো সদালাপ, তার লেখক, পাঠক, মন্তব্যকারী, শুভানুধ্যায়ী কারো কাছেই কাম্য হতে পারে না। এরূপ না করাই বিধেয়।

    তাহলে কোন অন্যায় সংঘটিত হতে দেখলে লেখালেখির মাধ্যমে কি তার প্রতিবাদ করা যাবে না? যাবে। উপযুক্ত তথ্য, প্রমাণ সহকারে যে কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস, আলহামদুলিল্লাহ, সদালাপ রাখে। জালিমের বিরুদ্ধে ও মজলুমের পক্ষে কাজকে আমরা আমাদের মৌলিক অধিকার বলে মনে করি।

    স্কুলে পাটিগণিতে ‘সরল কর’-তে মনে আছে প্রথমে প্রথম বন্ধনী (), তারপর দ্বিতীয় বন্ধনী {}…তৃতীয় বন্ধনী[]… তারপর গুন-ভাগ,  অতঃপর যোগ-বিয়োগ এর অপারেশন করতে হত। তবে ‘রেখা বন্ধনী’ থাকলে সেটার কাজ সবার আগে করতে হয়। অন্যান্য বন্ধনী গুলি (যেমন রাজনৈতিক ইনক্লিনেশন), রেখা বন্ধনীর (যেমন জাস্টিস, ইসলামিক মূল্যবোধ) চেয়ে অগ্রাধিকার পেলে তখন অঙ্ক ভুল হয়। ভুল অঙ্ক করে নিজেদের মধ্যে উত্তর মেলানো বড় কঠিন।

    সদালাপ এর জন্মলগ্ন থেকেই মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ অর্জনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এই দেশটির সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধির জন্যে যতটুকু পারে কাজ করার চেষ্টা করে। সদালাপের লেখক ও মন্তব্যকারীদের আমাদের এই স্ট্যান্ডটি রেস্পেক্ট করতে অনুরোধ করছি।

    সবাইকে ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন- সম্পাদক, সদালাপ। 

    1. 9.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ধন্যবাদ প্রিয় সম্পাদক। আপনার রসবোধের প্রশংসাই করতে হয়। অনেকদিন এই পর্যায়ের রসবোধের প্রয়োগ দেখিনি।  আমি যতটুকু জানি আমার ব্লগ বন্ধ হয়েছে -- তা না হলে তা বন্ধ করা হতো। কারন সেখানে সরকারকে বিব্রত করার মতো লেখা পোষ্ট হচ্ছিলো। সেই ব্লগের লোকজনের সদালাপের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি পড়েছে। ইতোমধ্যে কিছু আলোচনাও কানে এসেছে -- তাই সতর্ক থাকা শ্রেয় মনে করি। সদালাপ শুরু থেকেই মধ্যপন্থা অনুসরন করছে। আশা করি ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ মা বোনের প্রতি কোন ধরনের অশ্রদ্ধা সদালাপে হবে না -- তেমনি তাঁদের আত্নত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত দেশটিরও কোন অমর্যাদা হবে না এই সাইটে। এই বিশ্বাস এবং আস্থা আছে সম্পাদক মহোদয়ের প্রতি।    ধন্যবাদ।   

  9. 8
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    মন্তব্য নং ৩ এর বিষয়ে সদালাপ সম্পাদকের সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করছি। এই ধরনের মন্তব্য খুবই বিপজ্জনক এবং সদালাপের জন্য চরম ক্ষতি বহন করতে পারে।

    লক্ষ্য করা যেতে পারে -- 

    ক্যাটাগরিকেলি, আজকে যাদের বিচার হচ্ছে তাদের কেউই অপরাধী নয়। পৈতাধারীপক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক ও ভারতি আধিপত্যবাদী স্বার্থেই এটা চালাচ্ছে। 

     

    ১) প্রথম অংশে বাংলাদেশে রাষ্ট্র এবং বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। জামায়াতের প্রপাগান্ডা মেশিন বরাবরই এই কাজটা করে আসছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু পর থেকেই। এখানে লক্ষ্যনীয় নুরেনবার্গ বা লন্ডন ট্রায়ালের মতো শুধু ট্রাইবুন্যালের রায়ই শেষ নয় -- রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যেম যথেষ্ট আত্নপক্ষে সুযোগ দিয়ে যে বিচার সম্পন্ন হচ্ছে -- তাকে এক কথায় মিথ্যা প্রমানের চেষ্টা করা হয়েছে। 

    ২) পরের অংশে একটা সম্প্রদায়কে জড়িত করা হয়েছে যা সাম্প্রদায়িক উস্কানী এবং অন্যায়। 

    ৩) বিচারে কথা বলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে টেনে আনা হয়েছে যা পুরোপুরি "ভারতবিদ্বেষী" পকিস্তানী রাজনীতির ধারাবাহিকতা মাত্র।

    একটা কথা পরিষ্কার ভাবে বুঝা উচিত -- বাংলাদেশ আর বাংলা ভাষায় আমরা সদালাপ চালাবো আর বাংলাদেশের রাষ্ট্র বিচার বিভাগ বিরোধী প্রচারনাকে সমানভাবে প্রশ্রয় দেবো -- কাজটা ঠিক হবে না হবে না নৈতিক কারনেই -- লক্ষ লক্ষ শহীদ আর হাজারো মা বোনকে অপমান করার সুযোগ দেওয়ার নাম বাকস্বাধীনতা না -- এইটা এ্কটা বিশেষ গোষ্ঠীর প্রপাগান্ডা। 

    সদালাপের সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে -- কোন গোষ্টীর প্রপাগান্ডা মেশিন হিসাবে সদালাপ ব্যবহূত হবে কিনা -- এতে যে বিপদটা আসবে তা হলো সদালাপ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে -- এতে প্রপাগান্ডাকারীদের কোন সমস্যা হবে না -- কারন এরা প্রচুর ওয়েব সাইট তৈরী করে আবার নিজেরাই বন্ধ করে বা বন্ধ করা হয়। কিন্তু সদালাপ দীর্ঘকালের যে উদ্দেশ্য আর লক্ষ্য নিয়ে এই পর্যন্ত এসেছে তা এই কারনে নষ্ট হবে যাবে। 

    সবচেয়ে গুরুত্পূর্ন বিষয় হলো -- সদালাপ কোন কখনই মুক্তিযুদ্ধ এবং তার অর্জন বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থানে কাজ করেনি -- যদি কতিপয় জামায়াত-শিবিরের প্রপাগান্ডার কারনে সদালাপের ভাবমূর্তি কিছুটা্ হলেও ক্ষন্ন হয়েছে। 

    আশা করি বিষয়ট যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হবে এবং সদালাপ মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ -- বিশেষ করে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডার মেশিন হিসাবে ব্যবহূত হতে দেওয়া হবে না। 

    সবাইকে ধন্যবাদ।  

  10. 7
    মুদ্রা

    জামাতকে নিজেদের আন্দোলনের সঙ্গী বানিয়ে আওয়ামী লীগ যদি জামাতকে নিষ্পাপ বানিয়ে দিয়ে থাকে, তাহলে জামাতও কি স্বেচ্ছায় আওয়ামীদের আন্দোলনের সঙ্গী ও সহচর হয়ে আওয়ামী লীগকে পবিত্র করে দেয়নি? ভবিষ্যতেও যে এরা 'দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে' পরস্পর আবার পিরিতির বন্ধনে আবদ্ধ হবে না, তার গ্যারান্টি কি?

    1. 7.1
      এম_আহমদ

      তো হুজুরের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যটি কি? আমলীগ ও জামাত-বিনপি বাদ দিন, এখন আপনার রাজনৈতিক দর্শন ও দল কি? বয়ানটা শুনতে ভারি ইচ্ছে হচ্ছে।

      1. 7.1.1
        মুদ্রা

        ভাই, আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি কোন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সমর্থক নই, কোন পীরের মুরীদও নই, নিজে কোন পীরও নই। আমার কথা হল, অন্যায় যেই করুক, সেটাকে অন্যায়ই বলতে হবে। অন্ধভাবে কারো অন্যায়কে সমর্থন করা বা অন্যায়ের পক্ষে যুক্তি-তর্ক ও বাহানা অন্বেষণ করা যাবে না। আমাকে একটা দলের লেজুড় ধরতেই হবে এবং ন্যায়-অন্যায় নির্বিচারে সেই দলটির সকল কর্মকাণ্ডকে সঠিক ও ভাল প্রমাণ করতেই হবে- এই নীতিতে আমি বিশ্বাসী নই। যে জিনিসটাকে আমি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি, তাহল অন্ধ আনুগত্য। একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রসূল (সা:) ছাড়া অন্য কারো কথা বা কাজকে অন্ধভাবে মেনে নেয়া বা অন্য কারো কাছে নিজের মাথা বন্ধক দেয়া আমি যুক্তিযুক্ত মনে করি না। আমার দর্শন হল কোরআনের এই আয়াত, "হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও।…." (সূরা নিসা: ১৩৫)

        একবার ঠাণ্ডা মাথায় বুকে হাত দিয়ে বলুন তো দেখি, আল্লাহর নবী (সা:) যদি এখন জীবিত থাকতেন, তাহলে তিনি বাংলাদেশের কোন্‌ দলটিকে সমর্থন করতেন?

    2. 7.2
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      ভবিষ্যতেও যে এরা 'দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে' পরস্পর আবার পিরিতির বন্ধনে আবদ্ধ হবে না, তার গ্যারান্টি কি?

      -দ্যাটস এ মিলিয়ন ডলার কোয়েশ্চয়। জামায়াতের দৃষ্টিতে আওয়ামীলীগ একটা খারাপ দল -- কিন্তু নিজেদের নিষ্পাপ প্রমানের জন্যে তাদের সাথে আওয়ামীলীগের সখ্যতার উদাহরন দেয় -- এতে যে নিজেদের সুবিধাবাদের বিষয়টা প্রমানিত হয় সেই দিকটা লক্ষ্য করে না। 

       

      ভবিষ্যতের কথা বলা কঠিন -- কারন রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। তবে এইটা নিশ্চিত যে যারা আজ আওয়ামীলীগের শাপশাপান্ত করছে এরাই তখন আওয়ামীলীগের গুনকীর্তন করবে। 

       

       

       

  11. 6
    মুদ্রা

    ছলিম উদ্দিন চুরি করেছে আমি করলে ক্ষতি কি?

    এই মানসিকতাও কিন্তু সকল পক্ষই প্রকাশ করে। যারা রাস্তাঘাটে মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে, তারাও কিন্তু অতীতে কেউ মানুষ পুড়িয়েছে কিনা সেই রেফারেন্স দিয়েছে।

  12. 5
    মুদ্রা

    একটা বিষয় মনে রাখবেন, আওয়ামীল লীগ ভারতের মূল এজেন্ট হলেও সোল এজেন্ট নয়। এটা বলতে পারেন, এদেশে একটি পক্ষ ভারতের প্রাকৃতিক বন্ধু তথা natural ally, আরকটি পক্ষ কৌশলগত মিত্র বা strategic ally। ভারতবিরোধী বা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী বলে পরিচিত মহলকেও কিন্তু ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের দরবারে দরখাস্ত পেশ করতে দেখা যায়।

    1. 5.1
      মহিউদ্দিন

      এদেশে একটি পক্ষ ভারতের প্রাকৃতিক বন্ধু তথা natural ally, আরকটি পক্ষ কৌশলগত মিত্র বা strategic ally।

      চমৎকার অবজারবেশন! এখন একটু পরিষ্কার করে বলেন দেশ ও জাতির জন্য কোনটা ভাল একটু ব্যাখ্যা করলে আমরা উপকৃত হব। আশা করি পালাবেন না। 

      1. 5.1.1
        মুদ্রা

        দেশ ও জাতির জন্য মূলত: কোনটাই ভাল নয়। غير المغضوب عليهم ولا الضالين

      2. 5.1.2
        মুদ্রা

        ভাই, আপনার মত আমিও একটি পক্ষকে মন্দের ভাল বা নিদেনপক্ষে কম খারাপ বলে ভাবতাম। কিন্তু যাদেরকে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য (acceptable) বা সহনীয় (tolerable) ভাবতাম, তারাই যখন আমাকে বাসের ভিতর পুড়িয়ে মারতে চাইল; আর যাদেরকে বেশি খারপ জানতাম, তারা যখন আমাকে নিরাপদে চলার পথ করে দিল, তখন আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম!

      3. 5.1.3
        মুদ্রা

        দুটি ক্ষতির মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকে বেছে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ- একথা ঠিক। কিন্তু দুই জালেমের মধ্য থেকে একজনকে ছোট জালেম নির্বাচন করে সমর্থন দিতে হবে, এমন কোন কথা নেই। বিশেষ করে যখন দেখবেন পাপাচার ও সীমালংঘনে তারা কেউ কারো থেকে কম যায় না, তখন তাদের কারো পক্ষেই এগিয়ে যাওয়াটা সমীচীন নয়।

        কৌশলগত কারণে কিংবা দলীয় বা জাতিগত কারণে দুই জালেমের মধ্যে একজনকে বেছে নেবার পলিসির বিপক্ষে সবচেয়ে বড় দলীল হল মূসা (আ:)-এর এই উক্তি, "ভবিষ্যতে আমি আর জালেমদের সহযোগী হবো না।"

         

        1. 5.1.3.1
          মহিউদ্দিন

          কৌশলগত কারণে কিংবা দলীয় বা জাতিগত কারণে দুই জালেমের মধ্যে একজনকে বেছে নেবার পলিসির বিপক্ষে সবচেয়ে বড় দলীল হল মূসা (আ:)-এর এই উক্তি, ভবিষ্যতে আমি আর জালেমদের সহযোগী হবো না।

          ভাল কথা কিন্তু এ নিবন্ধের সাথে এসব ওয়াজের কি সম্পর্ক? এখানে লেখক কি কোন দলে কাউকে যোগ দিতে বলছেন? কারো প্রতি কেউ অত্যাচার করলে সে বিষয়ে কথা বললেই কি কোন দলের মুখপাত্র হতে হবে?  যদি দেশে কোন ভাল দল নাই আপনি মনে করেন তাহলে নিজে একটি দল করেন এবং তাতে যোগ দিতে মানুষকে আহ্বান করুন। আপনার জন্য শুভ কামনা থাকবে। একটি দেশ কীভাবে চলবে? এখানে কেউ থাকবে না? নবীরা (আ) কি নিজেরাই অনুসারী গড়ে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব দেন নি? কোন নবীকে কি দুই বা ততোধিক জালেমের মধ্য থেকে কাউকে একজনকে  নির্বাচন করে অনুসরণের জন্য পাঠানো হয়েছিল? কোরান না বুঝে কোরানের উদ্ধৃতি মারা ঠিক নয়। আমাদের নবী ইসলাম সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটাই আল্লাহর নির্দেশ অ্যান্ড নবীর সুন্নাহ। এটাই ইসলাম। কিন্তু একটি সমাজ ব্যবস্থা কখনো এনার্কির (anarchy) মধ্যে  থাকতে পারে না। সমাজকে নৈরাজ্যের মাঝে ফেলে দেয়া যায় না শারিয়া এনার্কির পরিবর্তে প্রয়োজনে জালেম  সরকারকেও সহ্য করার অনুমোদন দেয়। আমার কাছে আপনার কথায় কোন দ্বীন-ধর্মের জ্ঞান প্রকাশ পাচ্ছে না। বৈরাগী ধর্ম আমার জানা মতে আমাদের ধর্মে নেই।

          এখানে দেশের কারেন্ট ইস্যু নিয়ে আলাপ হচ্ছে। আমার আলোচনায় বর্তমানে দেশে যা ঘটছে যা দেখছি  তার উপরই আলোচনা হচ্ছে এবং এ দেশ কীভাবে আধিপত্যবাদের কবলে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে, কারা এদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে, কারা এদের দালালী করছে নিজেদের ক্ষমতার লালসায়, কারা  আমাদের দেশকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছে ইত্যাদি বিষয় এসেছে । গুম হত্যা রাহাজানি লুঠপাট কারা করছে এ ব্যাপারে সচেতনতা জাগানোটাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য। আমার পর্যবেক্ষন ভুল হলে সে বিষয়ে কথা বলুন। 

          আর আগুনে পুড়ে মানুষ কারা মারছে সে বিষয়ে ৩ নং মন্তব্যে তথ্য আছে দেখতে পারেন। আপনাকে যদি কেউ পুড়াতে চেয়েছিল তা হলে কখন কে কোথায় করেছিল? সে ব্যাপারে বলতে পারেন। আর এতে যদি সরকার বিরোধী দলের কেউ থাকে তাহলে মামলা করেন। এরকম মামলায় তো সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিবে।  নিবন্ধের আসল কথার প্রেক্ষিতে আলাপের যোগ্যতা বা সাহস আপনার না থাকলে নীরব থাকুন।

        2. মুদ্রা

          মূল প্রবন্ধটি নিয়ে আমার আপত্তি নেই। তবে আমার উদ্দেশ্য ছিল এই প্রবন্ধের বক্তব্যের সাথে আরেকটি জিনিস যুক্ত (add) করা, তাহল দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি বা ভারতভুক্তির আশংকা শুধু এক দিক থেকে নয়। আর আমার এ ধারণা জোরালো হয়েছে মূলত এখন থেকে ঠিক এক বছর আগের ঘটনাবলী থেকেই। আমার পর্যবেক্ষণ থেকে এটাই অনুমিত হয়েছে যে, নিজেদের ক্ষমতার জন্য যারা যেকোন অপকর্ম করতে পারে, স্বজাতির মানুষের প্রতি নির্দয় হতে পারে, তাদের পক্ষে ক্ষমতার স্বার্থে স্বদেশকে অন্যের হাতে তুলে দেয়া অসম্ভব নয়। আমরা (জনগণ ও ব্লগারগণ) দেশ বিক্রিকারী হিসেবে একটি পক্ষকে অনেক আগে থেকেই চিনতে পেরেছি ঠিকই, কিন্তু আরেকটি পক্ষের ব্যাপারে উদাসীন ও অসতর্ক রয়েছি। কোন একটি পক্ষকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবেলায় দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের রক্ষক ভেবে থাকলে, দেশ ও ধর্মের সুরক্ষার ভার তাদের হাতে দিয়ে রাখলে এবং এ ব্যাপারে তাদের উপর ভরসা করলে যে ভবিষ্যতে প্রতারিত হতে হবে, সেই সতর্ক সংকেতটি বোঝানোর জন্যই আমি ধান ভানতে শিবের গীত গাইতে বসেছিলাম। ভেবে দেখুন, যারা মানুষের জীবনের প্রতিই সম্মান দেখাতে জানে না, তারা দেশরক্ষার ব্যাপারে আন্তরিক হবে কিভাবে? আর এ বিষয়টি খোদ ভারতীয়রাও ভাল করেই বোঝে। আর সে কারণেই এদেরকে একেবারে বিলুপ্ত হতে দেয়নি, বরং রিসাইক্লিন বিনে হলেও স্থান দিয়েছে এবং প্রয়োজনমত যেকোন সময় রি-স্টোর করতে পারে।
          আসলে আমরা (দেশের বেশির ভাগ মানুষ ও ব্লগারগণ) যে ১ম পক্ষকে ক্ষমতার লালসায় দেশ বিক্রয়কারী মনে করছি, তারা কিন্তু মূলত নি:স্বার্থভাবে নি:শর্তভাবে বিনামূল্যে দেশ দানকারী। আর বিক্রয়সত্বের চেয়ে দানসত্বের রেজিস্ট্রি খরচও কম থাকে। অপরদিকে ২য় পক্ষ হচ্ছে ক্ষমতার লালসায় দেশ বিক্রয়কারী। অনেক সময় ১ম পক্ষের তুলনায় এই ২য় পক্ষেরই দেশ ও জনগণের জন্য অধিকতর ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আশংকা থাকে। কারণ, ১ম পক্ষ তো চেনা বামুন, পৈতা না পড়েও চলতে পারবে। কিন্তু ২য় পক্ষকে তো নিজেকে বামুন প্রমাণের জন্য পৈতা ধারণ করতে হবে, অর্থাৎ বিদেশী প্রভুর কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণের জন্য আরো বড় রকমের অর্ঘ্য প্রদান করতে হবে। তাই 'সাবধানের মাইর নেই' ভেবে সব টাইপের মীরজাফর থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়াই আমার উদ্দেশ্য।
          আর যে অন্যায়-অত্যাচারের কথা বলছেন, সেই অত্যাচার-অবিচারের ভুক্তভোগীগণ নিজেরাই কি নিজেদের দুর্ভোগ ডেকে আনেননি? কে বলেছিল ওদের সাথে এক নৌকায় চড়তে? এখন এনাদের ভুলের খেসারত ও মাশুল সাধারণ মানুষ দেবে কেন?
          আর আগুনে পুড়িয়ে মানুষ কারা মেরেছে, তা আমি জানি না। কিন্তু একটি পক্ষের সমর্থিত বা সমর্থক লেখকদেরকে কেন জানি এসব কাজের পক্ষে উকালতি করতে দেখা গেছে। তাদের বক্তব্যে এমন একটা ভাব লক্ষ্য করা গেছে যে, আমার দল বা জোট যদি এসব কাজ করেও থাকে, ঠিকই করেছে। এসব ঘটনায় নিজেদের সমর্থিত গোষ্ঠীকে নির্দোষ প্রমাণের চাইতে এ কাজের পিছনে যৌক্তিক কারণ অন্বেষণের প্রবণতাই বেশি দেখেছি এসব লেখকদের মাঝে। যদি ঘটনায় নিজের দল জড়িত নয় প্রমাণ করাই সহজ হতো, তাহলে ঘটনার পিছনে রুট কজ অন্বেষণের (অর্থাৎ প্রতিপক্ষের কোন্‌ কাজ বা সিদ্ধান্তটির প্রেক্ষিতে এমন চরম পদক্ষেপ নিতে হয়েছে তা বর্ণনার) প্রয়োজনই হতো না। এমনকি খোদ একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল নেত্রীর একটি লেখাতে পড়েছি, "শুধু পোড়া মানুষের জন্য কাঁদলেই হবে না, গণতন্ত্রের জন্যও কাঁদুন।" আগুনের ভিকটিমদের প্রতি মহল বিশেষের এ ধরনের ড্যামকেয়ার মনোভাবের কোন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা থাকলে দয়া করে জানাবেন।
          ৩ নং মন্তব্যকে রেফারেন্স হিসেবে পেশ করেছেন। কিন্তু ওখানে তো তেমন কোন ডকুমেন্টই দেখলাম না। শুধু বিক্ষিপ্ত কিছু খবর, দু'পক্ষের কিছু বিবৃতি। খবরগুলোর মধ্যে বন্দুক-রাইফেলসহ সরকারদলীয় ক্যাডার গ্রেফতারের কথাও আছে, অথচ সকলে জানে ওগুলো বাসযাত্রীদের উপর ব্যবহৃত হয়নি। ৩ নং মন্তব্যটিকে পেট্রোল বোমা সন্ত্রাসের সাথে খুব একটা প্রাসঙ্গিক দলীল বলে মনে হয়নি। এছাড়া উক্ত মন্তব্যে উল্লেখিত একটি নিউজ যেখানে নাশকতাকারীদের বংশসহ ধ্বংস করে দেবার নির্দেশের উল্লেখ আছে, তা থেকেও তো পেট্রোল বোমাবাজ দমনে কর্তৃপক্ষের জোরালো ইচ্ছার কথাই প্রকাশিত হয়, যদিও এ ধরনের বাড়াবাড়িপূর্ণ পাইকারী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
          বাস্তবে আমাকে কেউ পোড়াতে চায়নি। আর ওরকম পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসা মানুষ হলে পুনরায় ব্লগে লিখতে বসার অবস্থায় থাকার কথা নয়। আমি যা বলেছি তা উপমা মাত্র। এখানে আমি যা বলতে চেয়েছি তাহল, আমি যদি গণ্ডগোলের সময় সফরে যেতাম, তাহলে হয়তো আমিও আক্রান্ত হতাম। সরকার কঠোরভাবে এসব দমন করেছে বলেই তো আমি এখন নিরাপদে নির্বিঘ্নে হাইওয়েতে যাতায়াত করতে পারছি। একটা রূপক কথাকে আক্ষরিক অর্থে নেয়া ঠিক নয়।
          মহিউদ্দিন ভাই, দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণে কোন ভুল নেই, তবে অসম্পূর্ণতা ছিল। সেই অসম্পূর্ণ অংশটিই পূরণ করে দিয়ে আপনার আলোচনাকে পূর্ণতা দিতে চেয়েছি আমি। রোগীর জন্য ঔষধ নির্বাচনের সময়ও ডাক্তারকে রোগীর পূর্ণাঙ্গ তথ্যই নিতে হয়।
          আমার কিছু মন্তব্য নিবন্ধের মূল প্রসঙ্গ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এটা স্বীকার করি। শুধু "দেশ ও জাতির জন্য কোনটা ভাল" এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মূল প্রসঙ্গে (অর্থাৎ ভারতের দালালি প্রসঙ্গে) সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সামগ্রিক চরিত্র বিশ্লেষণে চলে গিয়েছি। কারণ, কোন ব্যক্তি বা দলের চরিত্র শুধু একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে পুরোপুরি জানা নাও যেতে পারে, যেহেতু একটার সাথে আরেকটা রিলেটেড থাকে। মানুষের শরীরে হার্টের সমস্যার সাথে যেমন কিডনীর সমস্যারও সম্পর্ক থাকতে পারে বিধায় ঔষধ প্রয়োগের সময় ডাক্তার সাহেব কিডনী রোগ দেখতে গিয়ে মাথা ও হার্ট এমনকি মানসিক ব্যাপারেও খোঁজখবর নিতে পারেন, এতে ডাক্তারের কথাকে অপ্রাসঙ্গিক ভেবে রোগীর বিরক্ত হবার কারণ নেই; তেমনি জনগণের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ সহানুভূতিপূর্ণ হওয়ার সাথে দেশের স্বাধীনতা অন্যের হাত থেকে রক্ষায় তাদের আন্তরিকতারও সম্পর্ক থাকতে পারে। তারপরও প্রাসঙ্গিকতা রক্ষা করতে না পারায় আমি দু:খিত। মূল প্রবন্ধের লেখক কাউকে দলে যোগ দিতে না বললেও আমার একটি মন্তব্যের ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়ায় একে আমি নিজের বক্তব্য জাহির করবার একটা সুযোগ হিসেবে নিয়েছি; আশাকরি এটা মার্জনা করা হবে।
          নিজে কোন দল গঠন করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা আমার নেই। তবে আমি মনে করি, ভুল পদ্ধতিতে কাজ করে দেশের, মানুষের ও নিজেদের ক্ষতি বয়ে আনার চেয়ে কিছু না করে ঘুমিয়ে থাকাও উত্তম। কারণ, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল।
          পরিশেষে আরেকটি বিষয় clarrify করতে চাই, তাহল, আমি আপনাকে আদৌ কোন দলের মুখপাত্ররূপে গণ্য করিনি, বরং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে সকল দিকের হুমকি সম্পর্কে সমানভাবে সজাগ ও সচেতন থাকার তাগিদ দিয়েছি মাত্র। যেহেতু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণের ব্যাপারে দুটি পক্ষের মধ্যে যেকোন একটিকে আপনি তুলনামূলক বেশি নিরাপদ বা শ্রেয় মনে করেন, তাই আমি বলতে চেয়েছি, কোনটার উপর আস্থা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এছাড়া আপনার লেখা কোন প্রবন্ধ বা মন্তব্যকে উপলক্ষ করে কোন মন্তব্য করলেই সেক্ষেত্রে এমনটি জরুরী নয় যে, কথাগুলো সব আপনার উদ্দেশ্যেই বলা হয়েছে বা আপনার উপরেই বর্তাবে। কোন দলের সমর্থক বা সহযোগী হওয়া সম্পর্কে সতর্ক থাকার উপদেশটা তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, যারা কোন দলকে সমর্থন বা সহযোগিতা করে। ভুল বোঝাবুঝির জন্য আবারো আন্তরিকভাবে দু:খ প্রকাশ করছি।

        3. মহিউদ্দিন

          তবে আমার উদ্দেশ্য ছিল এই প্রবন্ধের বক্তব্যের সাথে আরেকটি জিনিস যুক্ত (add) করা, তাহলো দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি বা ভারতভুক্তির আশংকা শুধু এক দিক থেকে নয়

          আপনার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করায় ধন্যবাদ।

          আপনার আশঙ্কা ও ভীতির ব্যাপারে আমি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। এ আশংকা অমূলক নয়। তবে আমাদের নবীর শিক্ষা as our Prophet (sa) said, "Everything has its time."  সময় এবং অবস্থার বিবেচনায় আপনাকে বিশেষ কাজের অগ্রাধিকার দিতে হবে আপনার কর্ম তৎপরতায়। সময়ের দাবী হচ্ছে দেশ এখন যে প্রশাসনিক নৈরাজ্যের গর্তে পড়েছে তা থেকে উদ্ধারের রাস্তা বাহির করা। মাফিয়া কালচার থেকে বাহির হওয়ার কি কোন রাস্তা আছে? দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এখন কি করা দরকার তা ভাবতে হবে। আমি মনে করি সবার আগে দেশের রাজনীতিতে একটা ল্যবেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করতে যা দরকার তা করতে হবে যেখানে গণতান্ত্রিক আদর্শ, মানবতা, মানবাধিকার, আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। তখন জনগণই ঠিক করবে কাকে দেশের জন্য নিরাপদ মনে করে। দরকার হলে নতুন দল হবে।  

          আপনার দীর্ঘ আলোচনার পজিটিভ দিক থাকলেও নেগেটিভ দিকটাই বেশী প্রকাশিত হচ্ছে যা হল আপনার হতাশা দিয়ে প্রকারান্তরে বর্তমান অবস্থার পক্ষেই থেকে যাওয়াটা আপনার কাছে সঠিক! ভাই আমার পক্ষে আপনার অবস্থান বুঝা মুশকিল আপনি একদিকে আমার নিবন্ধের সাথে একমত আবার  Status quo সমর্থন করেন কিংবা এর থেকে বাহির হওয়ার কোন সমাধান দিতেও চান না জানতেও চানা! কি আর বলব?

          ৩ নং মন্তব্যটিকে পেট্রোল বোমা সন্ত্রাসের সাথে খুব একটা প্রাসঙ্গিক দলীল বলে মনে হয়নি। 

           তিন নং মন্তব্যরে রেফারেন্স দিয়েছিলাম দেশে বিরোধী দলের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের সময় জ্বালাও পুড়া কারা করেছিল তারা যে হাতেনাতে ধরা পড়েছে তার প্রমাণ দেখার জন্য তার পরও যদি আপনার বোধগম্য না হয় তা হলে আমার কিছু করার নাই। আমি কাউকে ডিফেন্ড করার বা আপনাকে কনভিন্স করার দায়িত্বে নাই । ভাই আপনি আপনার বিবেচনায় অটল থাকুন।  এখন নিরাপদে নির্বিঘ্নে হাইওয়েতে যাতায়াত করতে পারছেন শুনে খুশী হয়েছি।

          ভাল থাকুন আপনার সঙ্গে এ নিবন্ধের ব্যপারে কথা এখানেই শেষ। 

        4. মুদ্রা

          আমি মনে করি সবার আগে দেশের রাজনীতিতে একটা ল্যবেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করতে যা দরকার তা করতে হবে যেখানে গণতান্ত্রিক আদর্শ, মানবতা, মানবাধিকার, আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। তখন জনগণই ঠিক করবে কাকে দেশের জন্য নিরাপদ মনে করে। দরকার হলে নতুন দল হবে।

          গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও এর দ্বারা কোন শুভ শক্তির (ইসলামী শক্তি বা পারতপক্ষে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতিশীল শক্তি কিংবা অন্তত মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার সংরক্ষণকারী কারো) ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না। একমাত্র তুরস্ক ছাড়া আর কোথাও গণতন্ত্রের সফলতা দেখা যায়নি। তারপরও যদি কেউ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে দেখতে পারেন কোন side affect বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া, তাহলে তাতে কারো আপত্তি থাকবে না।

          কিন্তু কথা হল, এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রয়াসটা হবে কাদের দ্বারা, কোন্‌ পদ্ধতিতে? এতদিন যাদের দ্বারা যে পদ্ধতিতে হয়েছে, সেই একই মহলের দ্বারা একই পন্থাতে? যে ডাক্তার রোগীর অবস্থার কোন উন্নতি ঘটাতে পারেনি বরং রোগীকে আরো মুমুর্ষূ করে তুলেছে, সে ডাক্তারের কাছে রোগী কেন আবার যেতে চাইবে? যে ঔষধে কোন উপকার বা সুফল দেখা যায়নি, বরং শুধু ক্ষতিই দেখা গেছে, সে ঔষধ রোগী কেন আবার খেতে রাজি হবে? ন্যাড়া কয়বার বেলতলায় যায়? অবশ্য প্রেমে পড়ে যদি কারো দশা হয় "আমি কষ্ট পেতে ভালবাসি, তাই তোমার কাছে ছুটে আসি", তাহলে সেই ন্যাড়া বারবার বেলতলা যেতেও পারে।

  13. 4
    মাহফুজ

    আমি রাজনীতি ভাল বুঝিনা। তারপরও কিছু বলার চেষ্টা করছি-
    অযথা ভারত বিরোধী কিংবা পাকিস্তানপন্থী হবার দরকার নাই- বরং আসুন আত্মমর্যাদা, ইমান ও আখলাখ এবং দেশ ও দশের জন্য হানিকর সকল স্বার্থবাদী পন্থাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান ও প্রতিহত করি।

  14. 3
    এম_আহমদ

    মহি ভাই, সালাম। আপনি অপূর্ব একটা লেখা দিয়েছেন যা কালের বাস্তবতাকে নির্মোহভাবে উপস্থাপন করে।  এটা ঠিক যে “পৃথিবীর কোন ঘটনাই কাকতালীয়ভাবে ঘটছে না। [বরং] … এর পেছনে কাজ করে অনেকের [অনেক পক্ষের] দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও বৃহৎ উদ্দেশ্য যা অনেকই বুঝতে চায় না।” এসব নিয়ে বই-পুস্তকের পাশে পাশে শত শত প্রবন্ধ রয়েছে। এক্ষেত্রে এই লেখাটিও প্রণিধানযোগ্য, “হায়দ্রাবাদ থেকে সিকিম হয়ে বাংলাদেশঃ নেহেরু ডকট্রিন ও আজকের বাস্তবতা”। 

    মুসলিম প্রজা নির্যাতক ব্রাহ্মণ জমিদার কবির বঙ্গভঙ্গ-রদের তথা দুই বঙ্গকে একত্র করার  রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা সঙ্গীত “স্বাধীন” (!) বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হওয়া কি কাঁকতলিয় ছিল? প্রশ্ন বটে। ১৯৪৭ সালে কাদের আত্মায় ঘা পড়েছিল, এবং কারা সেই সম্প্রদায় ছিল যারা ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা চায় নি? এরাই পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দিন থেকে বিরোধিতা শুরু করে। কিছুই কাঁকতলিয় নয়।

    ইতিহাসের অমোঘ সত্যের এটিও একটি যে এই দেশের জনগণই পাকিস্তান ‘স্বাধীন’ করেছিল, তারা কখনো পশ্চিম পাকিস্তানের পরাধীন ছিল না, কখনো “শোষিত” হয়  নি, বরং রাজস্বের নামে যেসব মিথ্যাচার আর প্রোপাগান্ডা হয়েছিল সেই রাজস্বের একটি প্রধান অংশ এদেশে আসা পাকিস্তানী ব্যবসা থেকে উদ্ভূত ছিল। অধিকন্তু মাত্র দুই দশকে দেশের অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল। এ ব্যাপারে অনেকের অনেক লেখা রয়েছে। আমারও একটি ব্লগ এখানে দেখা যেতে পারে, “পাকিস্তান ও শোষণের বক্তব্য” । পূর্ব পাকিস্তান লুটে পশ্চিম পাকিস্তানের করাচী শহরের রাস্তাঘাট কখনো ‘সোনা দিয়ে মুড়ে দেয়া হয় নি।’ এসব ছিল নির্ঘাত মিথ্যাচার এবং গণবিভ্রান্তি, কেবল মিথ্যাবাদীরাই এসব কথা বলতে পারে। কিন্তু এসবও কাঁকতলিয় ছিল না। মাত্র ১০/১৫ বছরের ভিতরেই ভারতীয় সূত্রে প্রোথিত ডাকাতদের লোলুপ দৃষ্টি; ভারতীয় সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা, পাকিস্তানী তাড়িয়ে মার্কেট ভারতী দখলে আনা সবই ছিল পরিকল্পিত। “স্বাধীনতা” –এটি কি? কার স্বাধীনতা? কীসের স্বাধীনতা? এই জিনিসটি কোথায় এবং কীভাবে প্রয়োগ ও মূল্যায়িত হয়? (এ প্রসঙ্গে এই লেখাটি দেখা যেতে পারে)। আজ একদল মাফিয়া ডাকাত দেশ লুট করছে, উজাড় করছে। আর ভারত, তার নিজ পরিকল্পনায় কাজ করে যাচ্ছে। তাদের স্বার্থ অত্যন্ত গভীরে। তারা ১৭ কোটি লোকের ভূখণ্ডে আধিপত্য ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করে আছে। এই কাজে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও তৎসংশ্লিষ্ট সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক ও বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে গড়ে দিয়েছে একাত্তরের স্বাধীনতা সার্কাস আর যুদ্ধাপরাধের নাটক। তারা জানে আবেগ তাড়িত হুজুগী লোক সার্কাস ও নাটকে আটকে থাকবে। “ভারত অবশ্যম্ভাবীভাবে তার আধিপত্য বিস্তার করবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারত হবে সব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। ছোট জাতিরাষ্ট্রগুলোর সর্বনাশ ঘটবে। তার সাংস্কৃতিকভাবে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন থাকবে না” -নেহেরু। অতঃপর আপনি বলেছেন, “বাংলাদেশের জন্মের পর থেকেই এদেশের রাজনীতি কেন স্থিতিশীল হতে পারে নাই।” এর পর আর কী বলা হবে?

    তারপর জামাতি প্রসঙ্গে গিয়ে বলেছেন,

    জামাত ৭১ এর ক্রিমিন্যল এই পারশিপন একদিনে হয় নাই। … আজ যেভাবে জামাতের নেতাদের তখনকার ভূমিকার যে মানবতা বিরোধী চিত্র আকা হয়েছে তা যদি সত্যি এত হত তা হলে জামায়াতের সাথে মিলে আওয়ামী লীগ আন্দোলন করতে সক্ষম হত না। … একবার একটি পারশিপন [perception] এর জন্ম দিতে পারলে তা বাস্তবতায় রুপান্তরিত হয়ে যায়। তাই বলা হয় “পারশিপন ইজ রিয়েলিটি”। বাংলাদেশের মানুষকে আজ প্রতিশোধ প্রতিহিংসার দাবানলে ফেলে একটা বিশেষ গুষ্টি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির অপচেষ্টায় দেশের বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও ন্যায় বিচারকে কবর দিয়ে পুরা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে ফেলে দিচ্ছে।

    আপনি সুন্দর বলেছেন। তবে এই বিষয়ে গঠিত আদালত, সাক্ষ্য ও বিচার নিয়ে বিগত বছরগুলো ব্যাপী দেশে/বিদেশে যেসব তথ্য প্রকাশ পেতে দেখেছি সেসবের আলোকে আমার প্রবল ধারণা যে এদের কেউই অপরাধী নয়।
    রাজনৈতিক পৈতাধারীপক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক ও ভারতি আধিপত্যবাদী স্বার্থেই এটা চালাচ্ছে। আর তা জনগণের কোটি কোটি টাকা বাতাসে উড়িয়ে। এই বিচারিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে পরিত্যক্ত –এবং, এপর্যন্ত দেশি-বিদেশি উৎস থেকে শত শত লেখা প্রকাশিত হয়েছে যেগুলো এই বিচারিক প্রক্রিয়াকে অনুপযুক্ত, অপরিপূর্ণ, অদক্ষ ইত্যাদি ভাষায় আখ্যায়িত করা হয়েছে। প্রত্যেক হত্যার পর আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী সংস্থাসমূহ থেকে প্রতিবাদ এবং কঠোর সমালোচনা এসেছে, জাতিসংঘসহ।“ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি’র দাবীতে গঠিত ট্রাইব্যুনালটি ছিল একটি রাজনৈতিক আদালত। এর বিচারক হিসাবে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল তারা সবাই আওয়ামী বাম-রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বিচারক হওয়ার আগে তারা এই নেতাদের ফাঁসির দাবী জানাতেন রাজপথে। বিচারকের আসনে বসে তারাই আবার ফাঁসির আদেশ দিচ্ছেন" --ওয়ালি উল্লাহ নোমান।  এই অবিচারিক অনৈতিকতা সম্পর্কে বিশ্ববাসী অবগত।

    মিথ্যা perception, প্রতিশোধপ্রবণতা ও প্রতিহিংসার দাবানলের কথা বলেছেন। আর এই কাজটিও কাঁকতলিয় নয়। জামাতকে সামনে রেখেই সন্ত্রাস আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি করে এই জাতীয় বিভক্তি আনা হয়েছে। হিংসার বিষ ঢালা হয়েছে। এক শ্রেণীর সন্ত্রাসী অনেক আগ থেকেই জামাত-শিবিরকে দৌড়ের উপর রাখত। কেউ কারও উপর সন্ত্রাস করাতে কি জ্ঞান-বুদ্ধির পরিচয় বহন করে? এতে কী সৎচরিত্রের কিছু থাকে? সাহসের কিছু থাকে? নিজ দলের ভিতরে থেকে অস্ত্র হাতে কেবল কাপুরুষগণই এসব করতে পারে। তাদের আদর্শ তাদেরকে মহান কিছু শেখাতে পারে নি।

    ২০১৩ সালে ব্রাহ্মণ্য প্রভাবিত পৌত্তলিক মুসলিম পক্ষ তথা ভারতি-চামচা পক্ষ এবং হেফাজতি পক্ষের মুখামুখি পরিস্থিতিতে এই দেশের ইসলাম ও আদর্শ প্রতিভাত হয়। যে পক্ষটি ইসলামের নামে থাবা-বাবার মত লোককে ‘জান্নাতি’ বানানোর প্রয়াস পেয়েছিল এবং কোরানের উদ্ধৃতি মারতে চেয়েছিল –তারা কোন ইসলামের লোক ছিল? ইনু, মিনু, মুতিয়া চুতিয়ার দল? তারপর কি হয়েছিল? “শহীদ” থাবা বাবার গৃহ ভিজিট! আয়ূজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানীর রাজীম। ব্রাহ্মণ্য প্রভাবিত পৌত্তলিক মুসলিমদের ‘অসাম্প্রাদায়িক দ্বীনে এলাহীর’ চিত্রটি যে কি এখন অস্পষ্ট নয়।

    আবার ২০১৪ সালে ভারতি সংশ্লিষ্টতায় “রেন্টুকান্ড” ঘটিয়ে মাফিয়াগণ যেভাবে জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল তা ছিল তুমুল বিস্ময়কর। এবিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে যে অসংখ্য কান্ড প্রকাশ পেয়েছিল তার কয়েকটি এখানে সন্নিবেশ করেছি, এই শিরোনামে, কারা পোড়াচ্ছে? কেন পোড়াচ্ছে? কারা ধরা পড়ছে? উদ্দেশ্য কি?  http://songlapblog.com/8290 কেউ চাইলে পড়ে দেখতে পারেন।

    আপনার লেখার সাথে মিনা ফারাহের  কয়েকটি লেখা সম্পর্ক রাখে এবং এগুলো বর্তমান ফেসিস্ট মাফিয়ান্ত্রের বাস্তবতা উন্মোচন করে। কেউ চাইলে পড়তে পারেন। আজ জামাত জামাত বলে চিৎকার করে কোন লাভ নেই –মানুষ এই জুজুকে আর বিশ্বাস করছে না উলটো মিথ্যাচারিদের সনাক্ত করতে সমর্থ হয়েছে।  

    1. 3.1
      মহিউদ্দিন

      আসলেই শুধু আবেগ তাড়িত না হয়ে বাস্তবতাকে নির্মোহভাবে বিচার বিশ্লেষণ করলে মিথ্যাচারীদের সনাক্ত করতে না পারার কারণ দেখিনা।

      সুদীর্ঘ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আহমেদ ভাই। আপনার প্রদত্ত লিংকগুলার বক্তব্য পড়লে রাজনৈতিক পৈতাধারীপক্ষ অবৈধ পন্থায় শুধু মাত্র নিজেদের ক্ষমতা আঁখরে ধরার লিপ্সায় যে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে নিজেদের রাজনৈতিক ও বিদেশী আধিপত্যবাদীর স্বার্থ রক্ষার খাতিরে তা এখন দিবালোকের মত পরিষ্কার। 
      নিজেদের জন্য ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে যারা রাষ্ট্রীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে, তারা শুধু সব প্রতিষ্ঠানকেই অযোগ্য ও দুর্নীতির আখড়া করে না, বরং পুরা রাষ্ট্রব্যবস্থায় ঘুণ ধরিয়ে দেয়, সবকিছু নিঃশেষ করে।

  15. 2
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আপনার লেখা থেকে জানলাম -- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "হিন্দু মহাকবি" ছিলেন। জ্ঞান বাড়লো আর কি!

     

    ৭১রে জামাতের ভূমিকা কি ছিল সে বিতর্কে যেতে চাই না তবে আজ যেভাবে জামাতের নেতাদের তখনকার ভূমিকার যে মানবতা বিরোধী চিত্র আকা হয়েছে তা যদি সত্যি এত হত তা হলে জামায়াতের সাথে মিলে আওয়ামী লীগ আন্দোলন করতে সক্ষম হত না।

     

    ৭১ এর জামায়াতের নেতাদের ভূমিকার বিচারইতো হচ্ছে ভাই, সেই দিকে না গিয়ে বিচারের সমালোচনা করছেন। যেহেতু আওয়ামীলীগ জামায়াতের সাথে আন্দোলন করেছে -- তাই জামায়াতের নেতারা নির্দোষ -- এই যুক্তিটা কিন্তু দারুন। 

    যদি সাহস থাকে ৭১ সালে জামায়াতের ভুমিকা -- নেতাদের কর্মকান্ড নিয়ে লিখুন। সেই সাহস বা শক্তি আপনাদের নেই। কারন সত্য কথা বলার মতো সাহস থাকলে কেউ জামায়াতের সমর্থক হতে পারে না। ওর দোষ তার দোষ নিয়ে বিরাট গদ্য রচনা করা সহজ -- কিন্তু নিজেদের দোষগুলো স্বীকার করে ৭১ এর ভূমিকার জন্যে ক্ষমা চাওয়ার মতো সাহস নেই যাদের তাদের পরিনতি তো দেখলাম। 

    1. 2.1
      Sami

      জিয়া ভাই,  
      আগে আপনিই  বলুন যাদের বিচার হচ্ছে বা যাদের ফাসি হয়ে গেছে তারা দালাল আইনের কত কত নম্বর আসামী ছিল? তারা কি দোষী সাব্যস্থ হয়েছিল এবং সাজা ভোগ করেছিল? তারা সেই সময়ে কিভাবে পার পেয়ে গিয়েছিল?

      1. 2.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        দালাল আইনে তাতের নাম থাকার সাথে তাদের অপরাধের সম্পর্ক কি বুঝলাম না। আপনি বরঞ্চ ১৯৭১ সালে তাদের ভুমিকা নিয়ে লিখুন। আমরা জানি উনারা কি কর্মকান্ড করেছিলেন  সেই সময়ে। 

        1. 2.1.1.1
          Sami

          দালাল আইন কেন হয়েছিল সে বিষয়ে আপনাকে জ্ঞান দেবার ধৃষ্টতা দেখাব না। প্রায় ৫০ হাজার দালাল গ্রেফতার হয়েছিল, ৭৫২ জনের সাজা হয়েছিল, প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার মামলা হয়েছিল। এমনকি  আওয়ামীলীগ নেতাদেরকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল- দালাল খুজে বের করে বিচারের আওতাই আনা। আমার প্রশ্ন- ৫০ হাজার সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে এখন যাদের বিচার হচ্ছে তারা কেন ছিল না? শুধু গোলাম আযমের নাম দালাল হিসাবে ছিল। অন্যরা সবাই বাদ পড়ল কিভাবে? না জামাতিরা মিথ্যা বলছে? আপনার কাছে কি কোন দলিল আছে যে তাদের সাজা হয়েছিল, মামলা হয়েছিল? তখন রক্তের দাগ লাল রঙ্গে রজ্জিত, শুকায়নি- আর সেই সময়ে তারা কিভাবে বেচে গেল? তারা কি সাজা খেটেছিল- পরে জিয়া এসে দালাল আইন বাতিল করে বের করে দিয়েছে জেল থেকে? তাদের নামে নাকি একটা জিডি পর্যন্ত হয়নি- তখন তো আওয়ামী শাসন চলছিল।

          ভাই, আমি কি লিখব তাদের ব্যাপারে। তারা কুখ্যাত সন্ত্রাসি, রাজাকার, ফাঁসির আসামি- তাদের সম্পর্কে বাঘা বাঘা সাংবাদিকদেরই  লিখা থাকার কথা সেই সময়ে, মামলা হওয়ার কথা- সাজা পাবার কথা। আপনি তো বিশেষজ্ঞ- আপনি বরঞ্চ আমার প্রশ্নের জবাব দিয়ে আমার সন্দেহ দূর করেন।   

        2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          ৫০ হাজার সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে এখন যাদের বিচার হচ্ছে তারা কেন ছিল না?

          -- আপনি কি নিশ্চিত যে ওদের নাম ছিলো না? আমি সে্ই তালিকা দেখিনি -- যতটুকু চেষ্টা করেছি তালিকার খোঁজ পাইনি -- সুতরাং আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারবো না যে সেখানে তাদের নাম ছিলো কি না। তবে যে তালিকার কথা আপনি বলছে -- তা হলো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হুলিয়া -- যাদের বিচারের জন্যে সমন জারি করা হয়েছিলো। সেখানে দেখেছি গোলাম আযম সহ অনেকের নাম ছিলো। 

          এখানে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার -- ৭৫ এর পর প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি নানান ভাবে ক্ষমতায় ছিলো -- তারা ক্ষমতার উচ্চপদেও আসীন হয়েছে। সেই সুবাদে তারা অনেক নথিপত্র গায়েব করেছে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে রাজাকার সংক্রান্ত সকল তথ্য গায়েব হয়ে গেছে। গতকালও দেখলাম একটা খবর -- যুদ্ধশিশুদের মুল নথিও গায়েব হয়ে গেছে। সুতরাং আমরা যে বিচার পেয়েছে তা মুলত নতুন ভাবে তদন্ত আর স্বাক্ষী প্রমানের উপরে ভিত্তি করে -- দালাল আইন বাতিল করা হয়েছে ৭৫ সালের ডিসেম্বরে -- এবং সেই আইন আবারো চালুর সুযোগ ছিলো -- কিন্তু তারচেয়ে অনেক স্বচ্ছ এবং যৌক্তিক আ্‌ইন তৈরী হয়েছিলো ৭৩ সালে -- সেই আইনেই এই বিচার হয়েছে। সুতরাং দালাল আইনের বিচারের নথি গায়েব করে যারা ভেবেছিলো বিচার থেকে পার পেয়ে গেছে -- তাদের জন্যে বিষয়টা কোন কাজেই লাগলো না। 

    2. 2.2
      মহিউদ্দিন

      জিয়া ভাই,
      আমার নিবন্ধের মূল থিম্‌ এড়িয়ে আলোচনা ভিন্ন খাতে  নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা দেখে ভেবেছিলাম আপনার মন্তব্যটি ইগনোর করি। পরে চিন্তা করলাম উত্তর দেয়াটাই ভাল, যদিও আপনার সাথে অনেক বিষয়ে আলোচনা  কেবল সময়েরই অপচয়।
       

      আপনার লেখা থেকে জানলাম – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "হিন্দু মহাকবি" ছিলেন। জ্ঞান বাড়লো আর কি!

       
      আপনি হয়ত একজন রবীন্দ্র “বিশেষজ্ঞ”, কিন্তু জামাত bashing ছাড়া তো তেমন কিছু এত দিন দেখি নি। এ ছাড়া অন্য কোনো বিষয়েই আজ পর্যন্ত আপনার বিদ্যাবৎ কিছু দেখেছি বলে এই অধমের মনে হচ্ছে না। আমি এই দিকে কিছু মিস করে থাকলে আপনার নিজ গুণে সেই জ্ঞান ভাণ্ডারের দিকে পথ প্রদর্শন করবেন।
       
      আমি ভাই যা জানি তাই নিজের মত করে উল্লেখ করেছি মাত্র, প্রুফ রিডিং করলে হয়ত শব্দ দুটি অন্যভাবে সাজাতে পারতাম, করিনি -এই যা। তবে বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ব্যতীত অন্য কোন হিন্দু কবি নোবেল পুরস্কৃত হয়েছেন বলে আমি জানি না। এদিক থেকে তিনি বিশ্ব কবির পাশে পাশে হিন্দু মহাকবিও বটে। আপনার আপত্তি থাকলে আমার করার কিছু নেই। তবে আপনার “জ্ঞান বাড়লো" শুনে আমি অবাক হলাম! একদিকে মুসলিম অন্য দিকে শাহবাগি চেতনার ধারক বাহক হবার ট্র্যাক রেকর্ড নিয়ে আপনার জ্ঞানভাণ্ডারেও যে এমন খালি জায়গা রয়েছে, সেটা জানাও কম কথা নয়। তবে আমি না হয় ওনাকে হিন্দু মহাকবি বলায় আপনার কাছে “জ্ঞান বৃদ্ধি হচ্ছে" বলে মনে হয়েছে! কিন্তু খোদ ভারতীয়রা রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরষ্কারের ও ঔপনিবেশিক প্রভু ভক্তির মূল্যায়ন কিভাবে করছে একটু শুনেন হয়তবা জ্ঞান আরো বাড়তে পারে এখানে শুনেন >
      Reality of Rabindranath Tagore Exposed By Rajiv Dixit

      যেহেতু আওয়ামীলীগ জামায়াতের সাথে আন্দোলন করেছে – তাই জামায়াতের নেতারা নির্দোষ – এই যুক্তিটা কিন্তু দারুন।

       ভাই "যুদ্ধাপরাধ" কিংবা "মানবতা বিরোধী অপরাধ" এগুলা তো মারাত্মক অপরাধ! কিন্তু ১৯৯০ এর দশক পর্যন্ত এ রকম অপরাধীদের নিয়ে একত্রে আন্দোলন করা আপনার যুক্তিতে কিছুই হবে না! এই নৈতিকতাশুন্য মানসিকতা কেন? এ দায়মুক্তি কে দিল? আমি তো বলব একাত্তরের শহীদদের প্রতি যদি সামান্যতম আন্তরিকতা থাকে, ও আপনার সৎ সাহস থাকে, তাহলে ওদেরকে আপনার কথিত "অপরাধের" ক্ষমা চাওয়ার আগে আপনার নিজের দলকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন।
       
      আমার সাহস কোথায় এবং কীভাবে সেই বিবেচনাও কি আপনার? যখনই একটি গোষ্ঠীর প্রতারণাকে নির্মোহ চিত্তে কেউ বিচার বিশ্লেষণ করতে চায় তখন তাকে এর সমর্থক ওর সমর্থক এসব বলে আসল বিষয়কে দামা চাপা দেয়ার এক ব্যর্থ প্রচেষ্টায় লেগে যান। আর সেই সাথে আপনি/আপনারা একাত্তরের হত্যার আবেগ দিয়ে ব্যবসা শুরু করে দেন -এটা কেন? এটা কোন ধরনের আচরণ? অতঃপর আপনার যুক্তি! কি যে কথাবার্তা! একাত্তরের আবেগের কার্ড দিয়ে কাকে ধোঁকা দিচ্ছেন আপনারা? এদেশের মানুষ আপনাদের হিংসা, প্রতিশোধ প্রবণতা ও হিংস্র রাজনীতি থেকে কি মুক্তি পাবে না? কেবলই একাত্তর একাত্তর আর হিংসা প্রতিশোধের বাণী -আপনাদের এই নেরেটিভ থেকে জাতি কি রেহাই পাবে না? নিরপেক্ষ বিচার তো আমরাও চেয়েছিলাম। আপনারা কি তা হতে দিয়েছেন? এখন এসব কথা বলে লাভ নেই। এখন ওদেরকে রাষ্ট্র শক্তির মাধ্যমে হত্যা করে যদি কিছু লোকের হিংস্র দাম্ভিকতা প্রশমিত হয়ে যায়, তবুও হোক। আর এখন যখন ‘জামাতের কফিনে শেষ পেরেক পড়ে গিয়েছে’, তখন এত চিন্তার কি আছে? আপনি হাফ ছেড়ে বাঁচা উচিত।

      আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে দেশি-বিদেশি হাজারো লোকের মত বিচারিক অস্বচ্ছতার কথা বলেছি। আমাকে শুধু আপনারটাই মেনে নিতে হবে কেন? আমরা প্রচারিত তথ্যে দেখতে পাচ্ছি একাত্তরের সে সময়ের তালিকায় যাদের নাম পর্যন্ত ছিল না তাদেরকে এখন রাজনৈতিক কারণে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে হত্যা করা হচ্ছে। আর, দেশের মানুষকে বলা হচ্ছে অন্য কথা। বিষয়টা এভাবে না হলে, আদালত থেকে শুরু করে শাহবাগের চত্বর পর্যন্ত করতে হতনা এত প্রতারণা। একটা জাতিকে কতটা মানসিক বিকারগ্রস্ত জাতিতে পরিণত করতে মানুষকে হত্যা করে সরকারি প্রচারণায় জনগণকে নামানো হয় আনন্দ উল্লাসে। এ সব অসভ্য ও অনৈতিক আচরণ করতে হয়নাই পৃথিবীর কোন বিচারের বৈধতা পেতে। ক্ষমতায় ঠিকে থাকার নেশায়  বিচার বিভাগ থেকে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে করতে হতনা দলীয়করণের শিকার।
       
      আপনার এত সাহস কিন্তু এসব অন্যায়, কুকর্ম, ডাকাতি, রাষ্ট্রীয় লুটপাট চোখে পড়েনা! সাহস হয়না কিছু বলার? বাস্তবে কি ঘটে তা চোখে পড়ে না? কেন বর্তমানের চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, জাতীয় সম্পদের হরিলুট চোখে পড়ে না? ‘ছলিম উদ্দিন চুরি করেছে, তাই আমার দল ডাকাত হলে ক্ষতি কি, তাই না? সাহস, আপনার সাহসের কি কাহিনী শুনান তো। আর যুক্তি? মানবতাবাদী সব কিছু পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায় কীভাবে? দলান্ধতায়? কেনাডার মত একটি সভ্য দেশে থেকে মানুষ এত সংকীর্ণ মনের হতে পারে ভাবতে অবাক লাগে। সত্যিই করুণা হয়! কি আর বলব? আল্লাহ এ ধরনের মানুষকে সাহায্য করুন -দোয়া করি।

      By the way, সামাজিক মিডিয়া, ফেইস বুকে দেখলাম বাংলাদেশে ব্যাঙ্কের কথিত টাকা হ্যাক বা চুরির ঘটনায় ব্যাংকের মুল কর্তা গভর্নর ড. আতিউর রহমান ভারত ছুটে গেছেন, এমন খবর দিয়েছে সরকার বান্ধব মিডিয়াগুলো । এনিয়ে ফেসবুকে তির্যক মন্তব্য জুড়ে দিয়েছেন বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও আইনজ্ঞ ড. তুহিন মালিক। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, এতদিন ধরে দেখে আসছি, মন্ত্রী-এমপি কিংবা কমর্কতারা সংকটে বা বিপদে পড়লেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছুঁটে যেতেন । আর এখন তারা ভারতে ছুঁটে যান কেন ?  মানুষের সন্দেহের চোখ কাদের দিকে দাবিত হচ্ছে তা তো দেখতেই পাচ্ছেন। এসব কাহিনীর ছড়াছড়ি! এমন ডাকাতি নিয়ে কিছু লিখার সাহস করেছেন, কোনো দিন করেছেন, না জিয়াপুত্রকে অভিযুক্ত করে সবকিছু আমতা আমতা করে জায়েজ করে নিচ্ছেন? এত সাহসী হয়ে থাকলে, কেন শুধু একাত্তরে বন্দী হয়ে আছেন? সাহসের জগত কি কেবল জামাত bashing করাতেই নিবদ্ধ? পপুলার সাব্জেকট তাই না? কিছু আবেগী সমর্থন কুড়িয়ে নিজের জন্য একটি পরিচিতি গড়া? আসলেই নন্দলালদের কত সাহস! যাক, পাঠ আর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। 
       

      1. 2.2.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        আপনার লেখাটা বেশ আগ্রহ নিয়েই পড়ার চেষ্টা করেছিলাম -- কিন্তু রবি ঠাকুরে কথাটা পড়ার পর মনে হলো সেই তো যা লাউ তাই কদু। ভারত- হিন্দু-রবিঠাকুর এই সমীকরনের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। 

        ঠিক এই ধরনের বিতর্ক করেছিলাম ২০০৩ সালে অভিজিতের সাথে -- অভিজিত রায়ও প্রচার করতো রভি ঠাকুর হিন্দু ছিলো। আপনার মতো মানুষও যদি সেই প্রচারনায় যোগ দেন আর সদালাপে তা প্রচার হয় -- তাইলে কষ্ট পাওয়া ছাড়া আর কি করার  আছে। যদি দয়া করে ব্রাহ্ম সমাজ সম্পর্কে কিছুটা জেনে নিতেন -- কমপক্ষে গিরিশ চন্দ্র রায় কেন এবং কোন প্রেক্ষাপটে কোরানের অনুবাদই শুধু নয় -- মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী নিয়েও লেখালেখি করেছিলেন -- তাইলে হয়তো বাহ্ম সমাজ সম্পর্কে কিছুটা জানতে পারতেন। কিন্তু ্‌আফসোশ- চোখে জামাতী চশমা লাগিয়ে যদি সবাই হিন্দু আর ভারতীয় দেখেন আর তা প্রচার করতে থাকেন -- তবে মূর্খ জাতি আরো মূর্খতায় ডুবে যাবে -- তখন সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজবে নিজের জনপদকেই দোজখ বানাবে। এই ধরনের হালকা আলোচনা সদালাপের মানও ক্ষুন্ন করে বলে আমি মনে করি। 

         

        (বাকী মন্তব্যের বিষয়ে পরে বলবো) 

        1. 2.2.1.1
          মহিউদ্দিন

          আপনি লেখাটা আগ্রহ নিয়ে পড়ার “চেষ্টা” করেছিলেন, কিন্তু ভারত- হিন্দু-রবিঠাকুর এই সমীকরণের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আপনার নেই তাই একটি শব্দ দেখেই আমার প্রতি আপনার বিদ্রূপ (sarcasm) উদ্বেলিত হয়েছিল! 
          হিন্দু সমাজে শূদ্র, বৈশ্য, ক্ষত্রিয়, বৈষ্ণব ইত্যাদি নানান শ্রেণী থাকলেও তাদের পুরোহিত ব্রাহ্মণও সার্বিক আলোচনায় হিন্দু হিসেবেই পরিগণিত হয় যদিও পুরোহিতদের বিশ্বাস ও তাদের সামাজিক অবস্থান উঁচুতে রয়েছে এবং তাতে ভিন্নতাও রয়েছে। হিন্দু সমাজের শ্রেণী পার্থক্য গ্রামের কৃষকরাও জানে কিন্তু আমভাবে সবাইকে হিন্দু বলে। ব্রাহ্মণ আর হিন্দুর পার্থক্য  “চোখে জামাতী চশমা” পরে খোদ অভিজিত রায়ও বুঝেনি! হায় বিনোদন! এসব গল্প আপনি কোথায় করছেন?

          সদালাপের মান আপনিই ক্ষুণ্ণ করেন এবং বাকিরা তা উজ্জ্বল করছে। তারা সাহস করে সত্য কথাগুলা লিখাতেই সদালাপের পাঠক সংখ্যা বেড়েছে।  আপনি তো আপনাদের "দ্বীনে  এলাহির" ধর্মগুরু চিন্তাবিদ তথাকথিত ২য় মুক্তি যুদ্ধের প্রথম শহীদ প্রমাণ করতে নাস্তিকদের পক্ষে কলম ধরেছেন।  এখানেও সেই একাত্তরের আবেগের খেলা!  এসব কি পাঠকেরা ভুলে গিয়েছে মনে করেন?

          আমরা তো দেখি কেউ  যখনই হয় পাতানো বিচারের তথা জুডিশিয়াল কিলিং এর শিকার তখনই শুরু হয় আপনার তাফসির বয়ান, একেবারে একাত্তরের সানে নজুল সহ! কে বিশ্বাস না করে পারে  শেখ কুরতবির বয়ান!
          থাবা-বাবাকে বেহেস্তে পাঠাতে কোরান ব্যবহার করেন আর থাবাদের কুকীর্তি কেউ উত্থাপন করলে এর বিপক্ষে মত প্রকাশ করেন আপনাদের পুঁজি একটাই যারা দেশের স্বার্থে কথা বলবে তাদেরকে নিয়ে শুরু হবে জামাতি প্রোপাগান্ডা, বিদ্বেষ আর হিংসার প্রচার। গোবেলীয় প্রচারণা আর কাকে বলে?

          সাইদীকে চাঁদে দেখার প্রোপাগান্ডা মেশিনারি ছিল আপনার দলের। সাঈদী নিজেই সেই সম্ভাবনার বিপক্ষে মন্তব্য করেছেন। বিশ্বাসের অঙ্গনে বিশ্বাস-মূর্খ ব্যক্তি ব্যতীত এমন বিষয় নিয়ে কেউ প্রোপাগান্ডা করে না। 

          তবে আপনি গিরিশ চন্দ্রের নাম শুনেছেন –এ ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়েছি। 

        2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          কথাটা ব্রাহ্মন না -- " ব্রাহ্ম সমাজ" -- আপনাকে অনুরোধ করবো এই বিষয়ে জেনে নিতে। রবি ঠাকুর জামায়াত মুসলিম লীগের জন্ম শত্রু -- ধারনা করি আপনিও রবি ঠাকুরের বিষয়ে একই মত পোষন করেন। বলা দরকার -- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্মন ছিলেন না -- উনি ছিলেন ব্রাহ্ম। উনারা মূর্তি পূঁজা করতেন না। 

          যাই হোক -- আমি নাস্তিকদের পক্ষে কলম ধরেছি এই কথাটা আমার প্রতি চরম অবিচার। যে কোন হত্যাকান্ডের বিপক্ষে কথা বলেছি -- যদি না সেইটা সন্মুখ লড়াইয়ে না হয়। যদি কেউ রাস্তায় বের হয়ে আসে -- লড়াই করে -- হয় হত্যা করে নতুবা নিহত হয় -- সেইটা তাদের নিজস্ব পছন্দের বিষয়। কিন্তু রাতে আঁধারের চোরের মতো গিয়ে কাউকে হত্যা করার মতো কাপুরুষতাকে কখনই সমর্থন করা যায় না -- ইসলাম এই কাপুরুষতা সমর্থণ করে নাই -- সুতরাং নিহত ব্যক্তি যেই হোক সে মজলুম এবং তা বিচারের জন্যে সরব হবোই -- তাতে যদি কারো কষ্ট হয় তাতে কি করার আছে। 

          শুনে ভাল লাগলো -- তুহিন মালিক এখন জামায়াতের নতুন গুরু হয়েছেন -- উনি সর্ববিষয়ে জ্ঞান দেন আর আপনারা তা কপি-পেস্ট করে বেড়ান। ফরহাদ মযহারের পর তুহিন মালিক -- এর পরে কে তাই দেখতে চাই। 

           

          বাংলাদেশের অশিক্ষিত -- অর্ধশিক্ষিত মোল্লাদের ওয়াজের একটা আইটেম হলো নজরুল বনাম রবীন্দ্র না -- সেখানে ওরা যা বলে আপনিও তাই বলছেন -- এতে হতাশ হলেও অবাক হইনি। রাজনীতি বলে কথা -- অশিক্ষিত মানুষদের যতটা বোকা বানানো যায় ততই সুবিধা। তাই তো। ধর্মের নামে -- দেশের রক্ষারনামে -- যত ধরনের প্রপাগান্ডা করা যায় ততই ভোট বাড়ে। 

          শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে মিছিলে যারা গেছে তাদের ভাষ্য ছিলো এতে ফেনী পর্যণ্ত ভারতে চলে যাবে -- তা আজও যায়নি -- কিন্তু প্রপাগান্ডাকারীরা আজও নির্ল্লজ্জের মতো ভারতে নিলো বলে কোরাস গেয়েই যাচ্ছে। এইটা ভাল ব্যবসা বটে। 

        3. 2.2.1.2
          মহিউদ্দিন

          যা জানেন না তা নিয়ে তর্ক জুড়বেন না। আর যদি জেনেও থাকতেন তবুও তর্ক করবেন কেন? মানুষ যার যার স্থানে থাকবে। আপনার এত জ্ঞান হলে, অপরের সাথে তর্কাতর্কি না করে অনলাইন ইউনিভার্সিটি খুলুন। ‘হিন্দু’ শাস্ত্রেই ব্রহ্ম শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘পরম পুরুষ’ ‘অদ্বিতীয় পুরুষ’, আর ব্রাহ্মন হচ্ছে ব্রহ্মজ্ঞানী, যে এই অদ্বিতীয়ে বিশ্বাসী। একই হিন্দু শাস্ত্রে ব্রাহ্মণ আবার উচ্চবর্ণের এবং পুরোহিতও। ব্রাহ্মণ্য-অদ্বিতীয় ধারণাকে কেন্দ্র করে রামমোহন রায়ের ধারায় দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্ম-কাল্ট তৈরি করেন। আপনি বুঝেন নি, তবে আপনারই কথায়ই বলা হোক, যা লাউ তাই কদু।
          রবীন্দ্রনাথ তার সঙ্গীতে ও লেখায় দেবদেবীর স্তুতি কীর্তন করেছেন। তার খোদা anthropomorphic, প্রকৃতিতে বিরাজিত। আমার ধারণা আপনি সত্যিই অভিজিতের সাথে আলোচনা করে থাকলে, তার কাছে পরাজিত হয়েছেন। আপনার কোন ধর্মেই জ্ঞান নেই তাই অভিজিতের সাথে ব্রাহ্ম, ব্রাহ্মণবাদ অথবা হিন্দু ধর্ম নিয়ে আপনি কি আলোচনা করবেন? আপনার লেখা ও কর্মকাণ্ডের স্থান হচ্ছে দলীয় কেডারগিরীতে, জামাত-বিএনপি নির্মূলের কর্মকাণ্ডে আপনার মাথা যে বা যারা ধোলাই (brain wash) দিয়েছে তারা অবশ্যই দক্ষ কারিগর। কিন্তু আপনি কেন আমার সময় নষ্ট করবেন আর নাছোড় বান্দার মত এক আলোচনা থেকে আরেক আলোচনায় যাবেন? এসব কি হচ্ছে?

          আমি এখানে কই নজরুলকে রবীন্দ্রনাথের মোকাবেলায় আনলাম? আপনি এসব কি বলছেন? আমি যা বলি নি, সেসব কথা টেনে অশিক্ষিত “অর্ধশিক্ষিত মোল্লাদের ওয়াজ” নিয়ে তির্যক কথা বলবেন? আপনার সমস্যা কি? কার সঙ্গে কাকে তোলনা করেন? জামাতের প্রতি অন্যায় হচ্ছে বলার অর্থ এ নয় যে আমি জামাতের সকল কাজ কর্মের সাথে আমি একমত বা তাদের মুখপাত্র। আপনি কথা টুইস্ট করেন এবং টুইস্টেড-স্থান থেকে মিথ্যা-বিতর্ক করেন, অপরের সময় নষ্ট করেন। আমি কাউকে রাতের আঁধারে গিয়ে হত্যার কথা বলি নি। আবার বলছি আমি কাউকে রাতের আঁধারে গিয়ে হত্যার কথা বলি নি। আমিও এর বিপক্ষে। Why are you trying to put your own filthy words in some one else mouth? এটা কোন ধরণের ভদ্রতা? আপনি কি ১৭ কোটি লোকের ইজারা নিয়েছেন, না সরকার কর্তৃক ব্লগীয় মুখপাত্র হয়েছেন?

          যা আলোচ্য বিষয় নয় সেই স্থান ডিফেন্ড করার ধাপ্পাবাজি ঠিক নয়। আপনি কি থাবা বাবাকে জান্নাতি বানাতে লিখেন নি? আপনার এই জান্নাতির শ্রেণীর অপকর্ম নিয়ে কেউ না লিখতে কলম ধরেন নি, এদের মাধ্যমে ধর্মের কোন ক্ষতি হচ্ছে না, বরং তাদের ব্যাপারে যারা লিখেছে তাদেরকে, সরাসরি এবং আকারে ইঙ্গিতে, জামাত অনুপ্রাণিত আখ্যায়িত করে সেই কাজ থেকে নিবৃত্ত থাকতে কলম চালান নি? এখন কথা টুইস্ট করে রাতের আঁধারের হত্যা আর মজলুমের বয়ান টানছেন।

          আপনি কেন অপরের ব্লগে এসে  ডালে ডালে ঘুরবেন আর ত্যানা প্যাচাবেন? দলীয় কেডারগিরিই কি আপনার চাকুরী? কেন আমার সময় নষ্ট করেন? আপনি তো আমাকে দস্তুর মত harass করছেন। মানুষের কথা বলার অধিকারে বাধা দিচ্ছেন। আপনি অন্যের কথা বলাতে বাধা দিতে পারেন না, অভিযুক্ত করে লেবেল আটতে পারেন না। এটা তো সদালাপের নীতি পরিপন্থী। কেউ যদি কোন বিচার প্রক্রিয়া ট্রুটি পূর্ণ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূর্ণ বলে তবে আপনার কর্তব্য সেটা যে স্বচ্ছ তা প্রমাণের পক্ষে কথা বলা।  এখানে লক্ষ লক্ষ শহীদের কথা বলে মায়া কান্না জুড়ে একটি চরম ফ্যসিষ্ট ও মাফিয়া গুষ্টির অপরাধ ঢাকতে এসে কাকে বোকা বানাতে চান? আজ যারা মায়া কান্না করছে তাদের পূর্ববর্তীরাই তো ভুট্টোর মত আসল যুদ্ধাপরাধীকে অর্থাৎ যার কারণেই মূলত বাংলাদেশে এত মানুষের জীবন গেল সেই ব্যক্তিকে তারা দিয়েছিল লাল গালিচার সর্ম্ভধনা! কি কোলাকুলি, হাসি তামাসা। রাষ্ট্রীয় মেহেমান!

          আজ শুধু মাত্র নিজেদের রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য অর্জনে যে অপরাধের পাহাড় আপনারা গড়ছেন তা যতই আবেগ আর অনুভূতির আড়ালে লুকাতে চান না কেন তা exposed হবেই। আর সে জন্য যতই চিৎকার দেন না কেন, মানুষকে হত্যা করেন না কেন তাতে আপনাদের ফ্যসিষ্ট ও কুৎসিত চেহারাই প্রকাশ পাবে। সময়ই বলে দিবে আপনাদের পরিণতি কি হবে। পৃথিবীর ইতিহাসে অজস্র প্রমাণ পড়ে আছে। 

          তুহীন মালিক ও ফরহাদ মাজহার প্রসঙ্গ কেন টানলেন আর তারা জামাতের গুরু হলে আপনার গায়ে এত জ্বালা পোড়া হবে কেন? বুঝলাম না? আমি তো দেখছি যারাই শুধু আবেগ তাড়িত না হয়ে আপনাদের প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাস না করে বাস্তবতাকে নির্মোহভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে আপনাদের ফ্যসিষ্ট কর্ম কাণ্ডের সমালোচনা করে তাদেরকে আপনারা জামাতের সমর্থক বলে মিথ্যাচার শুরু করেন।
          আমার এ নিবন্ধটিকে জামাতের প্রোপাগান্ডা বলা যে আপনার মহা অন্যায় ও বিবেকহীনতা তা বললে কি ভুল হবে?

    3. 2.3
      মহিউদ্দিন

      জিয়া ভাই,

      আপনার আজব যুক্তি। আপনার দল আর দলের যেকোনো কর্মকাণ্ডের সমর্থনে বানিয়ে বানিয়ে উত্তর দেয়া আপনাদের অভ্যাস।

      আপনি ‘তালিকা দেখেন নি’, চেষ্টা করেও খোঁজে পান নি। কোনো কিছু খোঁজে না পেলে তা পাবলিককে বলতে হবে আপনাদের বিপক্ষের দল গায়েব করে দিয়েছে’? কিন্তু, কথাটি এভাবেও তো বলা যেতে পারে যে যারা মুক্তিযুদ্ধের ব্যবসা করে, যারা সেজেছে চেতনার ঠিকাদার, বাহুবলে স্বৈরতন্ত্র ও এক দলীয় শাসন কায়েম করতে জুডিশিয়াল সিস্টেমকে দলীয়করণ করে মানুষ হত্যায় হাত দিয়েছে, এটা তারাও তো গায়েব করে দিতে পারে?

       আর আপনার মত একথাও জুড়ে দেয়া যেতে পারে যে তারা ভাবছে নথিপত্র গায়েব করেই এই প্রশ্নবিদ্ধ বিচারের পার পেয়ে যাবে, কিন্তু কোনো না কোনো কালে এটা তাদের দিকে বুমেরাং হয়ে ফিরবে –এটাও বলা যেতে পারে। আজ যাদের বিচার হচ্ছে, সেই তালিকায় যদি তাদের দাবি অনুযায়ী তাদের নাম না থাকে, তবে জুডিশিয়াল হত্যার পক্ষের লোকজনই যে এটা গায়েব করতে পারে –এই যুক্তিই বেশি। কথা হল সেই তালিকা যদি আজ জরুরি না হয়, তবে সিমপ্লি বলা হবে সেটা জরুরি নয়, এ জন্য না জেনে অমুক পক্ষ গায়েব করে দিয়েছে, এমন অতিরিক্ত কথার দরকার পড়ে না।

      1. 2.3.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        এইটা কোন যুক্তি না। এইটা প্রমান সাপেক্ষ বিষয়। গতকাল একটা খবর দেখলাম "যুদ্ধশিশু" রা যারা এখন দেশে গিয়ে নিজেদের পরিচয় খুঁজছে -- তারা অনেকেই ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসছে -- কারন সমাজ কল্যান বিভাগের ১৯৭২ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত এই সংক্রান্ত সকল ফাইল গায়েব। এই ফাইল গায়েব কে করলো? আপনি নিশ্চয় "হাজার হাজার পাঞ্জাবী বানিয়ে হেফাযতের মিটিংএ আওয়ামীলীগ গিয়ে কোরান পুঁড়িয়েছে"  এমন একটা গল্প আবিষ্কার করবেন। এর চেয়ে সহজ হিসাবে যুদ্ধাপরাধী আলবদর নেতা মুজাহিদ যখন সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ে মন্ত্রী থাকা অবস্থায় এই অপকর্মটি করেছে বলে হিসাবটা সহজ হবে।  ১৯৯২ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে এক রাজাকারকে বানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী -- উনি নিশ্চয়ই তার ভাই-ব্রাদারের কুকর্মের দলিলগুলো হেফাযত করবেন না -- এই হিসাবতো অনেক পুরানো। 

        আর যদি সেই দলি্লগুলো থাকতো -- তবে তো আরো অনেকেই আজ বিচারের কাঠগড়ায় দাড়াতো -- তাই না?  

        1. 2.3.1.1
          মহিউদ্দিন

          ভাই আপনি কেবল এক ডাল থেকে আরেক ডালে আর কত লাফাবেন?  মিথ্যা অভিযোগ কোন ‘প্রমাণ’ হয় না। তথ্য গায়েব করা অপরাধের কাজ, বিশেষ করে সরকারি তথ্য। আপনি বানোয়াট কথা সহজেই বলতে পারেন, আর নিজের বানানো কথাকেই দলিল ভাবেন। যুদ্ধ-শিশু-তথ্য বাংলাদেশের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। 
          ইউরোপ আমেরিকার মত দেশগুলোতে যেখানে তথ্য গ্রহণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের চাইতে শতগুণে সমৃদ্ধ সেখানে নিছক দত্ত ও পালিত শিশুদের ক্ষেত্রে এমন হাজার হাজার ঘটনা রয়েছে যেখানে তারা তাদের বায়োলজিক্যাল দালিলিক উৎস বের করতে পারেন নি, কেউ কেউ যুগের পর যুগ অনুসন্ধান চালিয়ে পেয়েছেন, কেউ কেউ সামান্য পেয়েছেন। এসবের পিছনে সামাজিক, প্রথাগত, আইনি ইত্যাদি অনেক রকমের উপাদান কাজ করে। একাত্তরের নিছক যুদ্ধ-শিশু (আমি এখানে ধর্ষণ-প্রসূত শিশু আলাদা করছি) বাংলাদেশের মত স্থানে যেখানে জন্ম রেকর্ডের গুরুত্ব তেমন বড় আকারে ছিল না সেখানে কার শিশু কে নিয়েছে, কোথায় গিয়েছে, এসবের রেকর্ড কি মূলত সঠিকভাবে তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয়েছিল যে আজ তা আর পাওয়া যাচ্ছে না?  আজকে এমন বিষয়ে কথা বলতে হলে কয়েকটি গবেষণা ও অনুসন্ধানের প্রয়োজন যার আলোকে মূল বিষয় নিয়ে হয়ত কিছু বলা যেতে পারে, কারণ ও বাস্তবতা বুঝা যেতে পারে। আপনার মত একাত্তর ব্যবসায়ীরা যেকোনো বিষয়ে ধড়াস করে তাদের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বানোয়াট কথা চালিয়ে দিতে পারে। আর কিছু আবেগী বুলি দিয়ে এখন একটি বানোয়াট কথার জাস্টিফাই করতে আরেকটি বানোয়াটের অবতারণা। 
          আপনার ‘সহজ হিসাব’ হচ্ছে ১৯৭২ থেকে ১৯৯৮ নথিপত্র মুজাহিদ গায়েব করেছে। সে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী থাকা অবস্থায় এই অপকর্মটি করেছে, এই হচ্ছে আপনাদের অপরাধ আরোপের প্রকৃতি। এভাবে কথা বলতে সামান্য চিন্তা করা হবে না? একজন লোক অতি ক্ষুদ্র এক দল থেকে একটা মন্ত্রী হল। এখন কি গোটা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী-কর্মকর্তাগণ, (এর সাথে সারা দেশে প্রজাতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট লোকজন), মুজাহিদের এমন “খাদেমে-বান্দা” হয়ে পড়ল যে তার নির্দেশে তারা অথবা তাদের একাংশ, গোটা দেশ ব্যাপী, ২৬ বছরের নথিপত্র ধ্বংস করে দিল? আপনি কি কোন দিন সরকারি কাজে ছিলেন যেখানে এই মানসিকতা নিয়ে কাজ করেছেন? এমন একটি সার্বিক অপরাধের কি অসংখ্য চাক্ষুষ সাক্ষী থাকবে না, কেউই এই অপরাধ প্রকাশ করবে না, এর উপর কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত হবে না? 

          জিয়া ভাই, আপনার মত একাত্তরবাদী ব্যবসায়ীদের হাতে দেশের ঐতিহাসিক বিষয় সন্দিহান হচ্ছে, সাধারণ লোকজন ইতিহাসের অনেক বিষয়ে আস্থা হারাচ্ছে। আপনারাই প্রকৃত একাত্তরের অবমাননাকারী, আপনারা স্বৈরাচার ও একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য গোবেলিয় প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত, আপনাদের কথাবার্তার সাথে সত্য, ন্যায়-নিষ্ঠার কোন সম্পর্কই নেই। আর আপনার মাথাটি যেন এক কথা থেকে দশ কথায় ঘুলিয়ে যাওয়া এক ঐতিহ্যের সম্পদ। 

          “আপনি নিশ্চয় “হাজার হাজার পাঞ্জাবী বানিয়ে হেফাযতের মিটিংএ আওয়ামীলীগ গিয়ে কোরান পুঁড়িয়েছে”  এমন একটা গল্প আবিষ্কার করবেন।” 

          সেটা আপনার কাছে গল্পই থাক। আপনাদের দলের লোক পাঞ্জাবি পরে হেফাজতের মিছিলে যোগ দিয়েছিল এমন তথ্য হাতেনাতে প্রমাণিত সংবাদ পত্র পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল, আনেক টকশোতে আলাপ হয়েছে। আপনি তা অস্বীকার করতে চান, করুন এখানে তা জরুরি বিষয় নয়। অবশ্য হেফাজতিরা কোরান পুড়িয়েছিল এমন কথা স্বৈরাচার-সমর্থক একাত্তরবাদী গোষ্ঠী ছাড়া বাংলার এবং বিশ্বের যারা দেওবন্দের ইতিহাস জানে তারা কেউ বিশ্বাস করবে না। এই বিষয়টিও এখন এখানে টানার দরকার ছিল না কারণ ঐ মিছিল আর যুদ্ধ-শিশুদের নথিপত্রের ব্যাপার ও প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আপনার জন্য দোয়া করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

  16. 1
    কিংশুক

    এ এক চরম গোলকধাঁধা। পাকিস্তান আমলেওতো আইয়ুব প্রমূখ সরকার জামাতের উপর নিপীড়ন চালিয়েছিল।  এরপরও একাত্তরে মিলিশিয়া বাহিনী বানিয়ে পাক সেনাবাহিনীকে সহায়তা করা চরম ভুল ছিল। যদিও নিয়ত ভাল ছিল। পাক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের সময় কমপক্ষে নিরপেক্ষ থাকা উচিত ছিল। দূর্ভাগ্য বাংলাদেশের ইসলামপন্থী রাজনীতি ও মুসলমানদের। তবে একাত্তরে কিছু না করলেও আঘাত আসতোই। মুসলিম ব্রাদারহুডের উপর সমগ্র আরব বিশ্বই আঘাত এসেছে।  বারাদারহুড, জামাতের ইসলামকে অতি মাত্রায় রাজনৈতিক ও প্রচন্ড  পশ্চিমা বিরোধি নীতির কারনে আরো বেশি তোপের মুখে আছে। তবে সকল ইসলামি রাজনৈতিক দলই রাজনীতিতে আসে কোন কিছু পাওয়ার জন্য নয়,  ত্যাগ তীতিক্ষার মাধ্যমে ইসলামের খেদমতের জন্য । এই নীতির কারনে দশক দশক ক্র্যাকডাউনের পরও ব্রাদারহুড টিকে আছে, জামাত যদি শীর্ষ সারির সবাইকে হারিয়েও অটল থাকতে পারে তাহলে বুজবো তারা ইসলামিক দল। জামাত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী ইসলামপন্থী দল। তাই তাদের উপর প্রচন্ড আঘাত একদিন আসতোই।  আল্লাহ্ বাঁচিয়েছেন যে, প্রথম টার্গেট জামায়াত বিএনপি। অন্যান্য ইসলামিক দল পরের টার্গেট । এজন্য ইসলামিক দলগুলো প্রস্তুতি নিতে পারছে। তা না হলে দেশ আফগানিস্তান হয়ে  যেতো। ভারত পাকিস্তানের প্রক্সি ওয়ার বাংলাদেশে হওয়ার দরকার নাই।

     

     

     

    1. 1.1
      মহিউদ্দিন

      তবে একাত্তরে কিছু না করলেও আঘাত আসতোই।

      সহমত।

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.