«

»

Apr ১৯

সিরিয়ায় আলাওয়িদের ক্ষমতায় উত্তরণ ও কিছু ভাবনা

পাঠকদের মাঝে যারা “প্রথম বিশ্বযুদ্ধের” উপর আমার গত ব্লগ নিবন্ধটি পড়েছেন তাদের নিশ্চয় স্মরণ আছে যে মুসলিম উম্মার ঐক্য পরিত্যাগ করে  আরবদের জাতীয়তাবদী হঠকারী নেশাকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে উসমানী সাম্রাজ্যেকে পরাজিত করে মিত্রশক্তি আরব ভুখন্ডকে তাদের মধ্যে পিঠাভাগ করে নিয়েছিল। সেই ভাগে ১৯১৭ সালে ফ্রান্স পেয়েছিল সিরিয়া ও লেবানন । সিরিয়া ১৯৪৬ ফ্রান্সের অধীনতা থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

জনসংখ্যা

সুন্নি মুসলিম ৭৫%
আলাওয়ই ১১%
দ্রুজিস ১%
ক্রিশ্চিয়ান ৭.৮%
ইহুদী ০১%  (৪৮৬০

সুত্র:

এটা ঐতিহাসিক সত্য যে ১৯২০ সালে ফ্রান্সের সিরিয়া দখলের আগে থেকে বহু শতাব্দী ধরে আলাউয়ি সম্প্রদায় সেদেশে সবচেয়ে অনগ্রসর অশিক্ষিত একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ছিল। সেন্টার ফর মিডিলইষ্ট স্টাডিজ এর পরিচালক জসুয়া ল্যন্ডিজ (JOSHUA Landis)  সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, “Until the French arrived in Syria in 1920, the Alawites were locked in the coastal mountains of Syria. And the Alawites used to be the lowest of the low. They were the poorest Syrians, uneducated. The Sunnis thought of them as bandits.” অর্থাৎ “১৯২০ সালে ফ্রান্সের সিরিয়া দখলের আগে থেকে  আলাউয়ি সম্প্রদায় সিরিয়ার উপকূলীয় পর্বতমালা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। তারা অপরাপর সম্প্রদায়ের তুলনায় সার্বিকভাবে অত্যন্ত নিম্ন মাত্রায় ছিল, তারা ছিল  হত দরিদ্র, অশিক্ষিত। সু্ন্নিরা তাদেরকে ডাকাত হিসাবেই চিহ্নিত করত।”

(সুত্র)

কিন্তু গত কয়েক দশকের বছরগুলোতে বিশেষ করে ১৯৫৯ সন থেকে তারা নিজেদের অবস্থার উন্নতি করে আজ সিরিয়াতে একটি অভিজাত (elite), বিত্তবান তথা ধনী সম্প্রদায়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে। আলাওয়াইরা বিগত কয়েক দশক থেকে সিরিয়ার শাসন ক্ষমতাও কব্জা করে আছে। ১৯৭০ সালে তারা শক্তভাবে সিরিয়ার শাসন ক্ষমতায় বসতে সক্ষম হয়। রাষ্ট্রের সামরিক, বেসামরিক সকল গুরুত্বপূর্ণ পদ তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং শিক্ষায়, ব্যবসা বাণিজ্যে ও সম্পদ বণ্টনে অনুপাতহীন (disproportionate) ভাগ ভোগ করে চলছে। এক কথায় দেশের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা এখন তাদের হাতে। ইতিহাসবেত্তা ডাবার্গ এক্টন (Dalberg Acton) বলেছিলেন, “power tends to corrupt, and absolute power corrupts absolutely” অর্থাৎ ক্ষমতা মানুষকে দূষিত করে ফেলে এবং নিরঙ্কুশ ক্ষমতা একেবারে নিরঙ্কুশভাবে দূষিত করে।” আলাউয়িরা সিরিয়ার একছত্র বা নিরঙ্কুশ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দখল করে সুন্নিদের সামনে সেই উদাহরণ রাখার ফলেই আলাউয়ি সম্প্রদায়ের প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার জনগণের বিদ্রোহ চলছে। এ প্রসঙ্গে “সিরিয়ার বিপ্লব বদলে দিতে পারে মুসলিম বিশ্ব” শিরনামে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম, ইচ্ছা করলে এখানে পড়তে পারেন।”

কীভাবে আলাউয়িগণ একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হয়েও সিরিয়ার প্রায় ৮০% সুন্নি মুসলিমদের দেশে ক্ষমতার মসনদে আরোহন করতে সক্ষম হল তা জানা দরকার বিশেষ করে সিরিয়ার বর্তমান সঙ্কট ও গৃহ যুদ্ধের কারণ বুঝতে। আজকে লিখাটি মূলত সে উদ্দেশ্য লিখা। তাছাড়া সচেতন নাগরিক হিসাবে পৃথিবীর যে কোন দেশের বড় বড় সঙ্কটের  ইতিহাস জানা দরকার বিশেষ করে নিজের দেশে সে ধরণের সঙ্কটের আশংকা দেখা দিতে পারে কিনা সে বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ ও সতর্ক হওয়া, কেননা কৌশলের মাধ্যমে যেকোনো কোন ছোট্ট সম্প্রদায় ক্ষমতা কব্জা করে নিতে পারে।

আলাউয়িদের ধর্ম বিশ্বাস কি?

যদিও বলা হয় আলাউয়িরা শিয়া ইসলাম থেকে উদ্ভূত (offshoot of Shia Islam) কিন্তু তাদেরকে প্রকৃত অর্থে মুসলিম বলা যায় না। কারণ তারা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ পালন করে না এবং তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ইসলামের মূল ভিত্তির সাথে সাংঘর্ষিক। তারা আলী ইবনে আবুতালেব (রা:) কে আল্লাহর “অবতার” বলে বিশ্বাস করে এবং অনেকটা হিন্দুদের মত মৃত দেহের আত্মার পুনর্জন্ম হয় বলে বিশ্বাস করে।  আলাউয়ি কাল্ট সম্পর্কে মুসলিম স্কলারদের অভিমত শুনতে নিচের ভিডিওটা শুনতে পারে।    

কিভাবে আলাউয়িরা ক্ষমতায় আসল?

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সিরিয়া ফরাসিদের দখলে যাওয়ায় পর সুন্নি মুসলিমরা ফরাসীদেরকে সিরিয়া থেকে বিতাড়িত করতে  ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহ করতে থাকে। সে বিদ্রোহ দমন করতে ফরাসিরা তাদের সেনাবাহিনীতে স্থানীয় সংখ্যালঘুদের নিয়োগ করতে শুরু করে। তারা আলাউয়িদেরকে তাদের মিত্র পেয়ে মূলত তাদেরকেই বিরাট সংখ্যায়  সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করে। এ যেন ঠিক অনেকটা ভারত উপমহাদেশের  আটশত বছরের মুসলিম শাসনের অবসান করে তথা মুসলিম বাদশাহদেরকে পরাজিত করে ব্রিটিশের ভারত দখলের ইতিহাসের ন্যায়। তখন ব্রিটিশরা যেভাবে হিন্দুদেরকে মিত্র পেয়ে তাদেরকে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দিয়েছিল।  একই চাল ফরাসীরা চালিয়েছিল সিরিয়াতে আলাউয়িদেরকে দিয়ে।

ফরাসীদের বিদায়ের পর ১৯৫৫ সাল নাগাত  আলাউয়িরা  সেনাবাহিনীর ৬০ শতাংশ হয়ে যায় এবং ষাটের দশকে পুরা সামরিক বাহিনী আলাউয়িদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সিরিয়ার ফরাসী ম্যান্ডেটের সময় আলাউয়িদের ভুমিকা শুরুতে কি ছিল তা জানতে এ  নিবন্ধটি পড়তে পারেন।  

সুন্নিরা কি করছিল?

ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৩ পর্যন্ত সুন্নিদের হাতে সিরিয়ার শাসন ক্ষমতা ছিল। কিন্তু তখন থেকেই সুন্নিদের আধিপত্য আলাউয়িরা মানতে অস্বীকার করে। তারা একটি আলাদা রাষ্ট্রের দাবী করে এবং  কয়েকবার সশস্ত্র বিদ্রোহও করে। সুলায়মান আল মুর্শিদ ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেয়ায় তার মৃত্যুদন্ড হয়। পরে মুর্শিদ পুত্রের নেতৃত্বে ১৯৫২ সালে তৃতীয় বিদ্রোহও ব্যর্থ হয়। তখন থেকেই তারা বৃহত্তর সিরিয়ার মধ্যে থেকেই তাদের অবস্থা সুদৃড় করার পরিকল্পনা শুরু করে। এদিকে সুন্নিরাও নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু করলে তাদের মধ্যেও অনৈক্যের বীজ বাড়তে থাকে।

আরেকটি কারণ হচ্ছে উপনিবেশিক আমলের সেকুলার শিক্ষাব্যবস্থায় গড়ে উঠা তখনকার সুন্নি ইলিট সমাজের যুবকেরা দেশের সকল সমস্যার সমাধান খুঁজতে ছুটে পড়ে ষাটের দশকের বিশ্বে সেকুল্যারিজম ও সমাজতন্ত্র এবং আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদের জোয়ারে। পুঁজিবাদের অবসানে তৃতীয় বিশ্বে তখন চলছে সমাজতন্ত্রের কোরাস! ইসলামী চেতনা বা মুসলিম ঐক্যের কথা চিন্তা করার সময় কারো ছিলনা। একমাত্র পারস্য উপসাগরের পেট্রল সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গুলা ছাড়া সিরিয়া সহ আরবের সর্বত্র সম্ভব হয় বামপন্থী বাথ পার্টি গঠন করা। তাই আলাউয়িরাও যোগ দেয় বাথ পার্টিতে এবং অতি অল্প সময়ে তারা পার্টির গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করতে সক্ষম হয়।আলাউয়িরা তদের স্বার্থের খেয়াল মাথায় থাকলেও সুন্নিদের মাথায় সেটা ছিলনা। বিশেষ করে নিজেদেরকে অসাম্প্রদায়িক প্রমাণ করতে তাদেরকে আরো বেশী উদার হতে হয়েছে।

তার পরের ইতিহাস মাত্র দশ বছরের মাথায় আলাউয়িরা (Alawites) সামরিক বাহিনীতে তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে ফেলে। ১৯৭০ সালে হাফেজ আসাদ সিরিয়ার ক্ষমতা হাতে নিয়ে নিজ পরিবারের কাছে দেশকে জিম্মি করে রাখেন। বিগত ৪৫ বছর পর্যন্ত এ পরিবারের কাছেই সিরিয়ার শাসন ক্ষমতা চলে আসছে।

আজ তারই পুত্র বাশার আল্ আসাদ দেশে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে লাখো লাখো মানুষ হত্যা ও কুটি কুটি মানুষকে উদ্বাস্তু করেছে। এ আগুন কবে নিভবে কেউ বলতে পারে না।

 

উপসংহার:

সিরিয়ার ইতিহাস ও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ লক্ষ্য করে আজ অনেকে বলতে শুরু করছেন যে সিরিয়ার মত বাংলাদেশেও একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে একচেটিয়া তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে গিয়ে যদি এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠরা ক্ষমতার ভারসাম্যতা হারায় তা হলে কি হবে? একটি সুবিধাবাদী ও আধিপত্যবাদী রাজনৈতিক দলের জন-বিচ্ছিন্নতার কারণে বা তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা যা করে যাচ্ছে তা আরো কয়েক বছর চললে এদেশেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দাপটে সংখ্যাঘরিষ্ট মানুষের অধিকার ভুলন্ঠিত হতে বেশী দেরী হবে না। এটা কোনো সাম্প্রদায়িকতার কথা নয় বরং রাজনৈতিক ভারসাম্যহীনতার কথা। যে কোন দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে একছত্র ক্ষমতা চলে গেলে তা কোন দেশের জন্য মঙ্গলকর হয় না। কোনো ঘটনা যে এক্ষুণি পরিলক্ষিত হবে এমন নয় তবে যে আলামত দেখা যাচ্ছে তাতে সেই সম্প্রদায়ের ভয়ে অনেকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত দেখা যায়। কেননা সে সম্প্রদায়ের অনেকেই বিশ্বাস করেন বঙ্গভঙ্গ ভুল ছিল! অধিকন্তু আজকাল অনেকেই মনে করেন যে, যে মাত্রায় 'অসাম্প্রদায়িকতার' নামে যে তোড়জোড় চলছে, এরই আড়ালে হয়ত প্রকৃত 'সাম্প্রদায়িকতা' প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে। অতএব আজ হোক অথবা কাল বাংলাদেশকে আলাদা থাকতে না দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়ত ভিতর থেকে চলছে। তবে এরকম যারা চিন্তা করছেন তাদেরকে সাম্প্রদায়িকতার দুষে দুষিত করার আগে এদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশকে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ করা হয়েছে তা বন্ধ করা উচিৎ হবে এবং এ জন্য ক্ষমতাসীনদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। আর এদেশের মুসলিম সমাজকেও শুধু বারো মাসে তের পার্বণের পিছনে না রেখে নিজেদের প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষা দিয়ে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। তাই আবার ঐতিহাসিক ডালবার্গ এক্টনের সেই কথা দিয়ে সারাংশ টানছি:  “power tends to corrupt, and absolute power corrupts absolutely” অর্থাৎ ক্ষমতা মানুষকে দূষিত করে ফেলে এবং নিরঙ্কুশ ক্ষমতা একেবারে নিরঙ্কুশভাবে দূষিত করে।”    

 

 

 

রেফারেন্স: JOSHUA LANDIS -In Syria's Sectarian Battle, Who Are The Alawites? Daniel Pipes – Middle Eastern Studies

 

৫৭ comments

Skip to comment form

  1. 23
    মহিউদ্দিন

    এডমিনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। জিয়া ভাইয়ে ব্লগে কমেন্ট করলে টেক্সট ছড়িয়ে যাওয়ায পুনরায় করলাম। দয়া করে আগেরটি মুছে ফেলেন।

  2. 22
    এম_আহমদ

    আপনার এই লেখাটিতে দেশের অবস্থা নিয়ে বেশ আলোচনা এসেছে, নিজেও অনেক কথা বলেছি। এবারে দুটি ভিডিও লিঙ্ক দিচ্ছি যেগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করবে দেশ কোন দিক থেকে কোন দিকে যাচ্ছে। 

    দেখুন কিভাবে জঙ্গীবাদের অভিযোগে মাদ্রাসার বই থেকে ইসলাম নির্মূল করা

    জাতীয় পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে দেশকে ইসলামশূন্য করার ষড়যন্ত্র

  3. 21
    মহিউদ্দিন

    IVAN ভাই,

    অল্প কথায় চমৎকার বিশ্লেষণ। আপনার এ কথাগুলো আমার পোষ্টের সম্পূরক তথ্য হিসাবে পাঠকের কাছে প্রকাশ পাবে। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য আপনাকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ।

    1. 21.1
      Ivan

      একজনকে দেখলাম মুসলিম জাতীয়তাবাদের উত্থানের ভয়ে কম্পমান। উপমহাদেশ মুসলিমরা দীর্ঘদিন শাসন করেছে, মুসলিমদের এই দীর্ঘ শাসনকালে সংখ্যালঘুদের উপরে গণহত্যার কোন ঘটনা ঘটেছে বলে আমি জানি না। কারো জানা থাকলে একটু অবহিত করলে ভালো হোত। বরং শত শত বছর যাবৎ শাসন করা মুসলিমরাই তো এখন সংখ্যালঘু।

      তিনি কি ইতিহাস পড়েন নাই? যদি পড়াই থাকে তাহলে কিসের ভিত্তিতে, কোন যুক্তির বলে তিনি এধরনের অমূলক আশংকা করছেন?

      1. 21.1.1
        জামশেদ আহমেদ তানিম

        ভাই উনি হচ্ছেন "সহি আওয়ামী নামা"র লেখক। উনার ইসলামতত্ত্ব হচ্ছে "আওয়ামী লীগ মুসলিম"। আওয়ামী লীগ আগে এরপরে মুসলিম। যেহেতু বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ধারক তাই মুসলিম জাতিয়তাবাদের জু জু উনি দেখতেই পারেন। ইতিহাস টানলে তো যুক্তি ধোপে টিকবে না। তাই এই ব্যাপারে উনি এক চোখা। উনার সাথে সব ব্যাপারেই কম্প্রমাইজ করা যাবে কিন্তু আওয়ামী লীগ? নো কম্প্রোমাইজ, একেবারে দুধে ধোয়া।

  4. 20
    Ivan

    মহি ভাই চমৎকার লেখা।

    আলাওয়িরা আসলেই কাল্ট। দ্রুজ ধর্মের মত। এরা ইসলাম ধর্মের অনেক বাহিরে। "আলাউয়ি দ্বারা আলির অনুসারী বোঝানো হয়"। আলাওয়িরা তাদের ধর্ম বিশ্বাস অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায় থেকে লুকিয়ে রাখে, এবং সংখ্যা এরা কম হওয়ায় এদের ধর্ম সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা সম্ভব হয় নাই। এটা কাল্ট দর্শণের অন্যতম উদাহরণ।

    এরা শিয়াদের সেক্ট হলেও মূল স্ট্রীমের শিয়ারা এদেরকে শিয়া বলে মানে না।

    ডিভাইড এন্ড রুলস নীতির জন্যই আলাওয়িদের শক্তিশালী করে সুন্নিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছিল। ফলাফলে ধনে, জ্ঞানে, অস্ত্রে শক্তিশালী আলাওয়িরা সুন্নিদের থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়। ফ্রান্স ভেবেছিল আলাওয়িরা সুন্নিদের থেকে ক্ষমতা দখলের পর পরই পশ্চিমমুখি হবে, কিন্তু তার মুখে পানি ঢেলে বাম ঘরানার হাফিজ আল আসাদ ফ্রান্স তথা পশ্চিমা বিশ্বের দ্বারস্থ না হয়ে সোভিয়েতের প্রতি ঝোকার পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের টনক নড়া শুরু হয়। যার ফলাফল সিরিয়ার উপর নানান অবরোধ। তবে পশ্চিমাদের টনিক তো আছেই, যে সুন্নিদেরকে তারা প্রতারিত করেছিল সেই সুন্নিদেরকেই তারা আবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করে। ওপরদিকে আরব ইজরায়েল যুদ্ধে হাফিজ আল আসাদের বিশ্বাসঘাতকতা সুন্নিদের মধ্যে আলাওয়িদের প্রতি অবিশ্বাস গাঢ় করে, এছাড়াও ক্ষমতাসীন আলাওয়িরা সবক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করত, আর সুন্নিদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, আলাওয়িদের দ্বারা নিগৃহের স্বীকার ইত্যাদি কারণে আলাওয়িদের প্রতি অবিশ্বাস আগে থেকেই ছিল।

    তবে যাই বলেন না কেন, কুর্দি জাতীয়তাবাদ, তুর্কি জাতীয়তাবাদ, আরব জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি মুসলিমদেরকে একেবারে পঙ্গুত্বের পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে। যতদিন এসব জাতীয়তাবাদ ঝেড়ে ফেলা না যাবে ততদিন মুসলিমরা সোজা হতে পারবে না।

    আরেকটা কথা না বললেই নয় মুসলিম দেশসমূহের যেসব শাসক আছে এরা সব জন্মসূত্রে নাম সর্বস্ব মুসলিম। অন্তর থেকে এরা কেউই মুসলিম না। যদি হোত তাহলে অন্তত একটা মুসলিম দেশ আগে বাড়তো।

  5. 19
    মাহফুজ

    ইতিহাস দর্শন ভাল। মুসলিমদেরকে ইসলামের ছায়াতলে একতাবদ্ধ হতে হবে তা অনস্বীকার্য। হা, অহেতুক ভাষা, বর্ণ, জাতি ও গোত্রের দোহাই তুলে বিভক্তি কখনোই কাম্য নয়।

     

    কিন্তু তাই বলে কি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মহান আল্লাহর সৃষ্ট ভাষা, বর্ণ, জাতি ও গোত্রের অজুহাতে একে অপরকে তাচ্ছিল্ল ও পদদলিত করার অধিকার কাউকে দেয়া হয়েছে? ইসলামের শিক্ষা কি তাই? ইসলাম সার্বজনিন ধর্ম। যে যার অবস্থানে থেকে মৌল বিধান অনুসারে মন্দকে (হানাম) পরিহার ও ভালকে (হালাল) গ্রহণ করার মাধমে এই শাশ্বত ধর্ম পালনের দ্বার সবার জন্যই উন্মুক্ত। পাকিস্তান গঠনের শত শত বছর আগে থেকেই মহান ব্যক্তিদের দ্বারা এই ভূমিতে ইসলামের প্রচার ঘটেছে। তখন কি তারা বাঙ্গালীদের উপর আরবী ভাষা চাপিয়ে দেয়ার জন্য জুলুম করেছিলেন? না কখনই না। বরং সব সময়ই তারা জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা কখনই বাঙ্গালীদের কালো ও বেটে বলে অবজ্ঞা করেন নাই। বাংলার পাশাপাশি আরবীকে ধীরে ধীরে আত্ত্বস্ত করানোর জন্য তারা উদ্বুদ্ধ করেছেন। উপরন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই এ দেশের মানুষের সাথে ভাব বিনিময় ও মেলামেশার তাগিদে নিজেরাই বাংলা ভাষা শিখে নিয়েছেন। কারণ তারা কোরআনের বাণী জানতেন ও বিশ্বাস করতেন যে, সকল ভাষা, জাতি, গোত্র ও গাত্র বর্ণ মহান স্রষ্টারই সৃষ্টি। সেই কীর্তিমান ইসলাম প্রচারকগণের সহনশীলতা ও সৌহার্দপূর্ণ ব্যবহারের ফলেই যে এই বাংলার মানুষ দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে এসেছেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। শুধু তাই নয়, ভাষা আন্দোলনের সময় এই বাংলার মুসলিম নেতৃবর্গ ভাষার অধিবার সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন ও সোচ্চার ছিলেন। অথচ কোরআনের জ্ঞান বিবর্জিত হয়ে ভাষা, গোত্র ও বর্ণের মিছে অহমিকায় মসনদে আসীন কতিপয় আহাম্মক ব্যক্তিরা তাদের উদ্ভট খেয়াল নিরীহ বাঙ্গালীদের উপর চাপিয়ে দিল। লাখ লাখ নিরাপরাধ নারী, শিশূ ও পুরুষদের হত্যা করল। অথচ নিজের ঘরের সত্য ইতিহাস কারো কারো অন্ধ অন্তরে দাগই কাটতে পারেনা। আর এর পক্ষে কিছু কইলেই হয় তাদের ঝিমুনি আসে নয়ত খেক খেক করে ওঠে, যেন কিছুই হয়নি। অথচ এসব তো ভোলার নয়। আমরা সব মনে রেখেও সদ্ভাব করতে রাজি, কিন্তু এর আগে তাদেরকে সত্যটা স্বীকার করে নিতে হবে। তাদের আচরণই বলে দেবে ভবিষ্যতে আমরা তাদের সাথে কিরূপ আচরণ করব।

     

    মানুষ যখন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, অবহেলা ও জুলুমের শিকার হয় তখনই বিভাজন ও বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সময়ের প্রয়োজনে তা কখনো কখনো অবশ্বম্ভাবী হয়ে দেখা দিতে পারে। তখন এই স্বাধিকারকে আর দাবিয়ে রাখা যায়না। এসব ঘটনা জাতীয়তাবাদের অনেক ঊর্ধে এবং ছলাকলা করে ও ত্যানা পেঁচিয়ে তা লুকিয়েও রাখা যায়না। তবে এই ধরনের ক্রান্তিকালে যে স্বার্থবাদীরা স্বার্থ হাসিলের পাঁয়তারা করে থাকে, তা নুতন কিছু নয়। এক্ষেত্রে সময়টা একটু বেশি লাগলেও মন্দকে মাড়িয়ে অবশেষে ভালর উন্মেষ ঘটে। অশান্তির ঝড়-ঝাপ্টার পর শান্তির সুবাতাস বয়। যারা সত্যিকার অর্থে মনে-প্রাণে ইসলামকে গ্রহণ করেন, তারা একটি নির্দিষ্ট সীমানার মাঝে হোক বা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই হোক না কেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (সাঃ) প্রদর্শিত পথে চলতে, বাঁচতে ও মরতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধই থাকেন। মানবিক দুর্বলতার কারণে অনেকেই ছোট খাট ভুল-ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণরূপে বেরিয়ে আসতে পারেন না। বিশ্বাসের ব্যাপারে আপোসহীন থাকলে- মহান স্রষ্টা তো রাহমানুর রহীম। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ অকৃত্রিম অন্তরে সর্বশক্তিমানের পানে মুখ ফেরালে তাঁর মদদ আসবেই, ইনশাল্লাহ।

     

  6. 18
    এম_আহমদ

    লেখাটি সিরিয়ায় যুদ্ধ-ইতিহাস নিয়ে লেখা হলেও সেখানকার কিছু কিছু ক্ষেত্র বাংলাদেশের পটভূমিতে সংঘটিত হওয়ার সম্ভাব্যতা উল্লেখ হয়েছিল বিধায় বাঙলার বর্তমান রাজনৈতিক দুর্বিসহ অবস্থা, মানুষের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা, স্বৈরশাসন ইত্যাদি আলোচনায় এসেছে। শুধু তাই নয় বর্ধিত আকারে বাঙালী জাতীয়তাবাদ, মুসলিম জাতীয়তা, একাত্তরের ভাষা আন্দোলন, পাকিস্তানি বিষোদগার এবং এই সূত্র ধরে পাকিস্তানের দুই দশকের ইতিহাসও এসেছে। শেষের দিকে আলোচনা গঠনমূলক রূপ নিয়েছে এবং সেখানে তাই হয়েছে যা এরেস্টটলিয়ান দর্শন আলোচনার ক্ষেত্রে ডায়েকটিক বলত এবং যাকে হেগেল সামাজিক ব্যাখ্যায় এনেছেন এবং মার্ক্স তা প্রসারিত করে আর্থ-সামাজিকতায় এনেছেন। আলোচনায় ডায়েলেকটিক ছিল দুই বা ততদিক পার্টি তাদের ভিন্ন ভিন্ন মত আলোচনা করবে এবং তারপর সেখানে নতুন সমঝতায় বা সিনথেসিসে যাওয়া হবে। এই আলোচনাও অনেক কিছু পুরো না হলেও অনেকটা হয়েছে। পাকিস্তানের দুই দশকের ইতিহাসে অনেক উন্নয়নও সাধিত হয়েছে এবং ১৯৭১ কেন্দ্রিক বিষয়ে গোটা পাকিস্তানিদের দোষারূপ সঠিক নয় –এমনসব স্থান উঠে এসেছে। আরও এসেছে যে ভাষা আন্দোলনের পিছনেও রাজনৈতিক ও আদর্শিক দ্বন্দ্ব জড়িত ছিল এবং পরাকাষ্ঠার গোলাগুলিতেও এককভাবে সাম্প্রদায়িক অভিযোগ সঠিক নয়। 

    কোন কোন মন্তব্য আপাতদৃষ্টে লাইচ্যুত এবং ভাষা ও আঞ্চলিকতা নিয়ে কঠোরতা প্রকাশ পেলেও শেষ বেলায় যা দেখা গিয়েছে তাতে মনে হয়েছে অনেক কিছু বেখেয়ালবশত অথবা পূর্ব অভ্যাসগত কারণে এসে গিয়েছিল। তবে ইংরজিতে একটি কথা আছে, All's well that ends well সব ভাল যার শেষ ভাল। আমি সাধারণত কোন বৈঠক পরিচালনা করলে সেখানে কিছু হট কথা-বার্তা আসতে দেই, কেননা কিতাবি নিয়মে পরিচালনা করলে আলোচনা জমে না, অংশ-গ্রহণকারীরা ঘুমিয়ে পড়েন। আবার বেশি খোলে দিলে আস্তিন-ওটানোর পর্যায়েও চলে যায় আর না হয় আলোচনা কবরস্থ হয়ে যায়। মধ্যম পন্থাই ভাল। সার্বিকভাবে একটি প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে।

    1. 18.1
      এম_আহমদ

      তবে ব্লগ অথবা বৈঠকে একই কথা যারা পুনঃ পুনঃ বলতে চায়, অথবা যে কথা ঐতিহাসিক বা বাস্তবতায় প্রামাণিক নয় সেই জের টানতে থাকে তবে তা অবশ্যই বন্ধ করতে হয়। বৈঠকে পরিচালক তাকে তার কথা একবার বলার পর আর বলতে দেবেন না। ব্লগে হলে সতর্ক করবেন এবং প্রয়োজন হলে তাকে ব্লক করবেন বা তার কথা মুছে দেবেন। কেননা প্রত্যেক ব্লগ ব্লগারেরই সৃষ্ট আলোচনার স্থান। পাঠকগণ কাউকে ভোট দিয়ে ব্লগ লেখার দায়িত্ব দেয়নি যে এখানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সরকারের বিপক্ষে কেউ ব্যক্তি ও নাগরিক অধিকারের আস্ফালন করবে। প্রত্যেক ব্লগে মন্তব্য সেকশন বন্ধ রাখা অথবা মন্তব্য মুছে দেবার অপশন থাকে -প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্যেই। কোনো মন্তব্যকারী তার ‘সত্য’ অন্যের ঘরে গিয়ে  ব্যক্ত করতে বাদাবাদী করার দরকার নেই যেখানে সে নিজেই আরেকটি ব্লগ লিখতে পারছে। বৈঠকের ব্যাপারেও তাই। কিছু লোক হল (hall) হায়ার (hire) করে একটি আলোচনার পরিসর তৈরি করে। সেখানে কেউ ইচ্ছেমত কথা বলতে না পারলে নিজের সময় ও টাকা ব্যয় করে আরেকটি হল হায়ার করবে, তবেই তার কথা বলা হয়ে যাবে। একটি বিষয়ে আপত্তি বার বার করার দরকার হয় না, একবারই যদি সেকথা স্পষ্টভাবে বলা হয়ে যায়। আমাদের সমাজে এই ভদ্রতার প্রসার হতে হবে।

  7. 17
    মহিউদ্দিন

    আমার এই ব্লগটির আলোচনার পরিসরে যারা মূল্যবান মন্তব্য করেছেন তাদের সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।
    নিবন্ধটি লিখার মূল উদ্দেশ্য ও আপনাদের আলোচনায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ  বিষয় সামনে এসেছে তার সারমর্ম হচ্ছে:

    ১) মুসলিমদের হারানো গৌরবকে ফিরে পেতে তাদের মধ্যে ঐক্যের বিকল্প নাই। নিজেদের মধ্যেকার বিরোধ ও  বিবাদ যাই থাকুক না কেন তার সমাধানে হিংস্রতা ও যুদ্ধের পথ পরিহার করে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থানের পথ অবলম্বন করতে হবে।

    ২) মুসলিম ভূমিতে বিদেশী শত্রুদের আধিপত্য বিস্তার রুখতে ক্ষমতা লিপ্সু নেতৃত্বের কবল থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।

    ৩) আঞ্চলিকতা এবং ভৌগলিক জাতীয়তাবাদের নেশা অতীতে যেমন মুসলিমদেরকে ধ্বংস করেছে বর্তমানেও তা করে যাচ্ছে যা থেকে দূরে থাকার উপায় খুঁজতে হবে। মাথা ব্যথা ছাড়াতে মাথা কেটে নেয়া সমাধান হতে পারে না সে বিষয়টা বুঝতে হবে।

    ৪) একটা দেশের ছোট ছোট ইস্যুকে পুঁজি করে সুবিধাবাদী অসৎ নেতৃত্বের কাছে দেশকে জিম্মি করতে দেয়া যায় না।

    ৪) সুন্দর আগামী দিনের লক্ষ্যে অতীতের কালো ইতিহাস ভুলে গিয়ে সামনে চলার অভ্যাস গড়তে হবে এবং সে বিষয়ে ভিয়েতনাম ও আমেরিকার সম্পর্ক উন্নয়নের উদাহরণও দেয়া হয়েছে।

    ৫) এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অধিকার হারানোর যে আলামত দেখা যাচ্ছে তা বন্ধ করতে সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।  রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ একটি গুষ্টির একচেটিয়া কর্তৃত্ব কায়েমের উদাহরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে  এবং যেভাবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় ঐতিহ্য, স্বাতন্ত্র্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিলুপ্ত করার পরিকল্পনার অভিযোগ আসছে বিভিন্ন মহল থেকে তা রীতিমত আতঙ্কের ব্যাপার। একদিকে দেশের মানুষকে বিভিন্ন কৃত্রিম ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে অন্য দিকে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ক্ষতায়নকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে!  এরাই মুসলিম জাতীয়তাকে গণহত্যার সমার্থক মনে করে এবং এদের দলই বাংলাদেশে মুসলিম নির্যাতন ও তাদের পরিচিতি নির্মূলের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষানীতিসহ আমূল পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। 

    ৬) পাকিস্তান আমলের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা করার আন্দোলনকে এখনও যারা আবেগ মিশিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির সোপান সৃষ্টি করতে চায় এবং যারা যুগ যুগ ধরে ঘৃণা বিদ্বেষ জিয়ে রাখতে চায় তাদের থেকে সাবধান হতে হবে। 

    ৭) "মানুষের স্বভাব-ধর্মের জন্য সে যে গোঁয়ার্তুমির দিকে চলে যায়।" কথা সঠিক।
    জিন্নাহর রাষ্ট্রভাষার প্রস্তাব দেয়ার মানে কারো মুখের ভাষা কেড়ে নেয়ার উদ্দেশ্য ছিল না। বাংলাদেশের একটি বিশেষ মহল যেভাবে প্রচার করে থাকেন "ওরা আমার মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চায়" তার কোন সত্যতা বা নৈতিক ভিত্তি নাই।  এসবই হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আবেগী কথাবার্তা। শুধু মানুষকে উত্তেজিত করার বুলি। একটা দেশের অফিসিয়াল ভাষা বা রাষ্ট্র ভাষা কোন এক অঞ্চলের ভাষাতে না থাকলে তাদের মুখের ভাষা কেড়ে নেয়া হয়ে যায় না।  

    ভারতে কথা চিন্তা করুন। তাদের রাষ্ট্রের অফিসিয়াল ভাষা হিন্দি । কিন্তু সে দেশের কয়টি রাজ্যের ভাষা হিন্দি? সাউথে গেলে তাদের ভাষা কি হিন্দি? কেরালার ভাষা কি হিন্দি? পশ্চিম বাংলার ভাষা কি হিন্দি? এদিকে পূর্ব পঞ্জাবের ভাষা তো পাঞ্জাবী এভাবে বিভিন্ন রাজ্যের ভিন্ন ভাষা তবু তারা হিন্দিকে তাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। 

    জিন্নাহ যখন  উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার প্রস্তাব দেন তখন পাকিস্তানের পশ্চিম পাকিস্তানের কোন প্রদেশের ভাষা উর্দু ছিল না, সিন্ধিদের সিন্ধি, বেলুচিস্তানের বেলুচ, পাঠানদের পস্তো আর পাঞ্জাবীদের পঞ্জাবী তবু তারা উর্দুকে পাক-ভারতের মুসলিমদের তৈরি ভাষা  মনে করে তখনকার পশ্চিম পাকিস্তানিরা মেনে নিলেও আমরা বাঙ্গালিরা তা মানতে চাই নাই। তাই শেষ পর্যন্ত বাংলাকেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা করা হয়েছিল। কিন্তু চেতনা ব্যবসায়ীরা এসব নিয়ে আবেগ তোলে শুধুমাত্র নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধি করতে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের সম্মানে নয়। 

    ৮) ইতিহাসের কোন এক বিশেষ সময়ে কোন দেশের কেউ অন্যায় করে থাকলে পুরা দেশটার
    গড়ার ঐতিহাসিক ধারণা (concept) বা কারণকে এবং  তার পরবর্তী প্রজন্মকে দুষী করা যায় না এবং তাদের বিরুদ্ধে  ঘৃণার আগুন জালিয়ে রাখা অবশ্যই জাহেলী স্বভাবের বহি:প্রকাশ। আজ আমাদের দেশে ভাষার আবেগকে কিভাবে পৌত্তলিকতায় রূপান্তরিত হয়েছে তা কয়জনেইবা বুঝতে চায়?

     "১৯৭১ সালের দুঃখজনক ঘটনার জন্য পাকিস্তানের জনসাধারণকে সরাসরি দায়ী করাটা মোটেও ঠিক না" সে উপলব্ধিও এসেছে।

    আবার আমরা যখন আশা করি  ৭১ সালের পাকিস্তানের সম্পদের অর্ধেক হিস্যার বিষয়টাও মিটমাট করতে তখন আমাদেরকেও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। অতএব দেনা পাওনার হিসাব মীমাংসা করতে যে  উভয়পক্ষের ইতিবাচক আচরণের প্রয়োজন সেটা বিবেচনায় রাখতে হবে।

    ৯) পরিশেষে ত্যানা-প্যাঁচানো, অতি কথক এবং ব্লগ আলোচনা বিনষ্টকারীর উদাহরণ রাখতে যখন দেখেছি তখন আমি চেষ্টা করেছি তা বন্ধ করতে সে জন্য আমাকে কিছু কড়া কথাও বলতে হয়েছে সে জন্য দুঃখিত। তবে সেটাকে যারা গালাগালির অভিযোগ দিতে চেষ্টা করেছেন তা যে মিথ্যা সে কথা বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। 
    তাছাড়া সে অভিযোগকারিকে দেশ ও জাতির যে অংশ ওনার  ধারণার প্রতিকূলে তাদের ব্যাপারে অত্যন্ত নোংরা ও  আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। আবার ওনাকে দেখা যায় তিনি যাদের সমর্থক তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে চটুল নির্লজ্জ্যেরমত সমর্থন করতে। 

  8. 16
    মাহফুজ

    ভাই এম_আহমদ,
    আপনার আলোচনায় যা বোঝাতে চেয়েছেন তা ভাববার মতই। বেশ কিছু বিষয়ের সাথে সহমত জানাচ্ছি। কিছু বিষয় আরেকটু পরিষ্কার করার জন্যই কিছু বলতে চাই। আশাকরি আমার বক্তব্য নেগেটিভ ভাবে নিবেন না এবং যদি ভুল বলে থাকি- তা তুলে ধরবেন।

    //কোরানের অনেক নবীও বাদশাহ ছিলেন//

    হাঁ, নবীগণকে রাজ্য (territory) এবং বাদশাহি/ বাদশাই (Sovereignty), আধিপত্য/ কর্তৃত্ব/ শাসন করার ক্ষমতা (Dominion/ Ruling power) দান করা হয়েছিল। তারা মহান আল্লাহর দেয়া বিধান অনুসারে চলতেন ও ফায়সালা দিতেন। আর তারা তথাকথিত আয়েশী (luxurious) রাজা/ বাদশার (king/ Emperor) মত ছিলেন না।

    ১৯৭১ সালের দুঃখজনক ঘটনার জন্য পাকিস্তানের জনসাধারণকে সরাসরি দায়ি করাটা মোটেও ঠিক না এবং কেউ তা করেনও না। আর গুটিকয়েক যারা করেন তারা হয় একচোখা নয়ত স্বার্থবাদী প্রকৃতিরই হবেন। বরং পাকিস্তানের ইয়াং জেনারেশন যারা সত্যটা জানার চেষ্টা করছেন, তারা সেই সময়ে তাদের রাজনীতিকদের একগুঁয়েমি ও বোকামীর জন্য দুঃখ প্রকাশ ও মুসলিম হয়েও আরেক মুসলিম ভাই-বোনের উপরে অত্যাচার-খুন করার জন্য আফসোসই করেন।
    ধন্যবাদ-

    1. 16.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      পাকিস্তানের ইয়াং জেনারেশন যারা সত্যটা জানার চেষ্টা করছেন, তারা সেই সময়ে তাদের রাজনীতিকদের একগুঁয়েমি ও বোকামীর জন্য দুঃখ প্রকাশ ও মুসলিম হয়েও আরেক মুসলিম ভাই-বোনের উপরে অত্যাচার-খুন করার জন্য আফসোসই করেন।

       

      -- তাই যেন হয় -- যতক্ষন না এই কাজটা ওরা করছে ততক্ষন পর্যন্ত তাদের একটা দায় থেকেই যাচ্ছে -- এইটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তা ছাড়া -- ৭১ সালের পাকিস্তানের সম্পদের অর্থেক হিস্যার বিষয়টাও অমিমাংসিত থেকে যাচ্ছে -- এইটাও তাদের ভাবতে হবে। 

      1. 16.1.1
        মাহফুজ

        হুম, হিস্যা-টিস্যার বিষয়টি তো অনেক পরের ব্যাপার। আগে তো ওরা সত্যটা উপলব্ধি করতে শিখুক। পরস্পরের মধ্যে সুসম্পর্কের উন্নয়ন ঘটুক।

    2. 16.2
      এম_আহমদ

      @মাহফুজ:

      হাঁ, নবীগণকে রাজ্য (territory) এবং বাদশাহি/ বাদশাই (Sovereignty), আধিপত্য/ কর্তৃত্ব/ শাসন করার ক্ষমতা (Dominion/ Ruling power) দান করা হয়েছিল। তারা মহান আল্লাহর দেয়া বিধান অনুসারে চলতেন ও ফায়সালা দিতেন। আর তারা তথাকথিত আয়েশী (luxurious) রাজা/ বাদশার (king/ Emperor) মত ছিলেন না।

      হ্যাঁ, এটা তো সুস্পষ্ট (obvious)। ইসলামি মহলে এটা ব্যাখ্যার তেমন প্রয়োজন নেই। তবে রাজা বড় হোক, ছোট হোক, সামন্তবাদী বড় হোক ছোট, সব কিছুতেই আল্লাহর দান রয়েছে। তিনি পার্থক্যের জগত সৃষ্টি করেছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে একের উপর অন্যের ফজিলত দিয়েছেন। আমাকে যা দিয়েছেন, সেটা আমার ব্যক্তি সত্তার ক্যাপাসিটির কারণে হয়, বরং তারই অনুগ্রহ মাত্র। এটাই আমাদেরকে অন্যের সম্পদের উপর লোলুপ দৃষ্টি সরাতে পারে, অন্যের গুণ ও ইলমের ফজিলত দেখে ঈর্ষা থেকে বাঁচাতে পারে, এবং নিজের প্রাপ্তিকে ঘিরে কৃতজ্ঞতার প্রশস্তি দিতে পারে।

      কর্তৃত্বের অধিকারী তার অধীনস্থদের মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠা করবে, তাদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, সে মাল ক্ষুদ্র হোক অথবা বৃহৎ, সেই প্রাণ দাসের হোক অথবা মাওলার, অথবা স্বাধীন ব্যক্তির। সেদিনের দুই দশকে পাকিস্তানি শাসন (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের) যদি শাসন ব্যবস্থার পূর্বসূরি আদত ও ঐতিহাসিকতায় ইসলামি আদর্শ সকল ময়দানে অথবা কিছু কিছু ময়দানে প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা যৌথ নেতৃত্বের ও শাসনের দোষ, তা হোক পর্যাপ্ত ইসলামী জ্ঞানের অভাবে, অথবা সেকালের ব্রিটিশের সেক্যুলার শাসন ও শিক্ষার প্রভাবে এবং বিট্রিশের প্রভু-ভিত্তিক শাসন অবকাঠামোর ফেলে যাওয়া শূন্য চেয়ারগুলোর কারণে, কেননা, স্বাধীনতা হাতে নিয়ে স্বদেশীরা বিদেশের চেয়ারে নির্বিচারে বসে পড়ছিল যার কোনো পরিবর্তন আজো হয়নি যেজন্য মন্ত্রী-মিনিস্টারগণ হাঁচি-কাচিতেও বিদেশে চিকিৎসায় যেতে পারেন, বাড়ি-গাড়ি পেতে পারেন, প্রভুর মত ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন অথচ সবই জনগণের সম্পদ যা জালিম রাজা অথবা সামন্তবাদীর অনুরূপ, যদিও জনগণ কুশিক্ষার কারণে চিন্তার দিগন্ত খোলে সেসব দেখার যোগ্যতা লাভ করেনি। কিন্তু যাবতীয় ঐতিহাসিক ধারা, আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে অত্র অঞ্চলে বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের পর থেকে বামপন্থি এবং ইংরেজ-খেদাও ডানপন্থী রাজনীতিতে উদ্ভুত ভৌগলীক ও আঞ্চলিক সাম্প্রদায়িকতার আদর্শে দগ্ধ হয়ে সেই দুই দশককে কোনো বিচ্ছিন্ন, একদর্শি hind-sighted, ahistorical প্রেক্ষিতে কেবল “তারা-আমরা” (the binary discretionary discourse of Other) দোষারোপ জাতি-বর্ণ বিদ্বেষ ছড়াতে পারে কিন্তু তা কখনো জ্ঞান ও প্রজ্ঞাপ্রসূত বিশ্লেষণ হতে পারে না। আমাদের ধর্মে কথা ও কাজে সর্বত্র সুবিচারের নীতিই স্বীকৃত হয়েছে যদিও প্রসঙ্গে প্রতিপক্ষ শত্রুও হয় (কোরান, ৫/৮)। পাকিস্তানিরা, আফগানিরা, সৌদিরা কেউই আমাদের দুশমন নয়, সবাই আমাদের ভাই, এটা অস্বীকার করে কেউ মুসলমান হতে পারবে না। আমাদের দুশমন আমাদের নিজেদের ভিতরে, আমাদের পাঠের স্বল্পতায়, জ্ঞানে, অন্তরাত্মায় -কেননা আয়নার সামনে গেলেই সব দোষ নিজেদের মধ্যেও সুবিরাজিত দেখা যাবে। এই আত্ম-সমালোচনার চিরন্তনী শিক্ষাই হচ্ছে নবী-রসূলগণের দেখানো পথ যা আত্মপোলদ্ধিতে মুসলিম জাতীয় সমুদ্রে গিয়ে একাকার হয়, এক দেহ হয়। নিফাক হচ্ছে এই জাতির চিরকালের শত্রু -এটা আপনাকে বলছি না বরং বর্ণনার ধারায় আসছে। মুনাফিক কখনো ধর্ম-জ্ঞান অর্জন করতে পারে না –এটা সম্ভবই না। এরা নবী-রসূলের দোষ দেখত, তাদের কথা ও কাজে ছিদ্র পেত, নিজেদের মধ্যে এগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকত।

      ১৯৭১ সালের দুঃখজনক ঘটনার জন্য পাকিস্তানের জনসাধারণকে সরাসরি দায়ি করাটা মোটেও ঠিক না এবং কেউ তা করেনও না। আর গুটিকয়েক যারা করেন তারা হয় একচোখা নয়ত স্বার্থবাদী প্রকৃতিরই হবেন। বরং পাকিস্তানের ইয়াং জেনারেশন যারা সত্যটা জানার চেষ্টা করছেন, তারা সেই সময়ে তাদের রাজনীতিকদের একগুঁয়েমি ও বোকামীর জন্য দুঃখ প্রকাশ ও মুসলিম হয়েও আরেক মুসলিম ভাই-বোনের উপরে অত্যাচার-খুন করার জন্য আফসোসই করেন।

      সুন্দর বলেছেন। সহমত।

      1. 16.2.1
        মাহফুজ

        ভাল বলেছেন। কিন্তু “তারা-আমরা” থেকে আপনি/ আমি, আমরা কত দূরে? নাকি আমরা মুসলিমরাও যত মত তত পথের কারণে আপন সত্ত্বা ও ঠিকানা ভুলে এরই মাঝে হারিয়ে যাচ্ছি?

        1. 16.2.1.1
          এম_আহমদ

          @মাহফুজ: হ্যাঁ, তবে সব ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক এভাবে নয় এবং কোনো পার্থক্যের ক্যাটাগরিকে নিয়ে প্ল্যে-আপ করাতেও আবার উলটো সমস্যা হতে পারে। যেমন কিছু লোক দাবি করছে তারা গে-মুসলিম অথবা কালচারেল মুসলিম (মূলত নাস্তিক) –এমন অসংখ ক্যাটাগরি পাওয়া যাবে যেখানে এক পক্ষ ইসলামের দাবি করছে আর বলছে, ‘আমরা সবাই এক’ কিন্তু অন্যরা আমাদেরকে ‘তারা-আমরা’ ক্যাটাগতিতে প্রান্তিক করছে।  এটা পাকিস্তানীদেরকে একটি শোষক শ্রেণী দেখিয়ে তাতে ধর্মীয় ও বর্ণবাদী পার্থক্য আরোপ করে সার্বিক দোষ ও আঞ্চলিকতা-ধারিত ‘তারা-আমরা’ থেকে ভিন্ন। এভাবে যেখানে ঈমান-আকিদার বিষয় রয়েছে সেখানেও ভিন্নতা থাকবে। কোরাইশরাও বলতে পারত কোরান আমাদেরকে নিছক বিশ্বাসের কারণে ‘তারা-আমরাতে’ টেনে এনেছে। এভাবে ‘তারা-আমরা’ ক্যাটাগরিকে absurd পর্যায়েও নেয়া যেতে পারে। মুসলিম উম্মাহর মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে আমার কিছু বলার আছে। আশা করি এ বিষয়ে এক সময় লিখব, ইনশাল্লাহ।  

        2. মাহফুজ

          নাস্তিকরা তো বিশ্বাসই করেন না- তাদের কথা সতন্ত্র। তারা কখনই নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করেন না। আর অনৈসলামিক কালচারে অভ্যস্ত মুসলিম, গে-মুসলিম, ব্যভিচারীরা পাপী- তারা নিজেদের উপর জুলুম করছেন। ইসলামি সমাজ ব্যবস্থায় ধরা পরলে তাদেরকে শাস্তি পেতে হবে। আর এই পাপের বোঝা মাথায় নিয়েই মরলে সাধারন রীতিতে পরকালেও তাদের জন্য চরম শাস্তি অপেক্ষা করছে। বাকিটা মহান স্রষ্টার হাতে। তবে কারও ভাগ্যে ভুল বোঝার ও প্রকৃত অর্খে ক্ষামা চেয়ে ভুল থেকে ফিরে আসারে সুযোগ হলে তিনিও আর দশজনের মত মুসলিম হিসেবেই মরবেন। কিন্তু অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতেও এখানে কিংবা যেখানেই হোক না কেন,  যে কোন অযুহাতে নিরাপরাধ নারী, পুরুষ ও শিশুর উপর জুলুম ও খুন করার জন্য যারা (যেই হোক না কেন) দায়ি এবং অপরাধ শিকার করার সুমতিও যাদের হয়নি- সেই জালিমদের অবস্থান কোন কেটাগরিতে। আর মহান স্রষ্টার ঐশী কিতাবকে পাশ কাটিয়ে ইমান আকিদার নামে মতভেদ, ভেদাভেদ ও অশান্তির জন্য যারা অবদান রেখেছেন- তাদের বিষয়েও কিছু বলবেন। আমার আপনার চোখে তাদের চেহারা-চরিত যেমনি হোক না কেন। নিশ্চয় সর্বজ্ঞ মহান আল্লাহ তাদের আসল রূপ ঠিকই চিনে নেবেন।

  9. 15
    এম_আহমদ

    উপরের ৯.১.১ মন্তব্যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে কিছু কথা বলেছি যা পাকিস্তানের প্রসঙ্গে এসেছে।  তবে পাকিস্তান প্রসঙ্গে আরও দুটি কথা বলার ছিল সেগুলো আসে নি। এখানে আলাদাভাবে সংযোগ করছি কেননা অসংখ্য মন্তব্যে ভিড়ে অনেক কথা চাপা পড়ে যায়। তাই ফ্রেস কথা হিসেবে অন্য স্থানে আসুক।

    পাকিস্তান নিয়ে অনেক সময় সার্বিক বৈশিষ্ট্যের ঘৃণা, তির্যা ও আক্রোশমূলক  কথাবার্তা দেখা যায়। আমার ধারণা অনেকে হয়ত বেখেয়াল বশত অনেক কথা বলেন এবং অনেকে দলীয় রাজনীতির কারণেও বলেন। আমি যা বলছি, ধরুন আমি অনেক বৎসর ধরে যা দেখছি এবং যা পড়ছি সেই আলোকেই বলছি। আমার মনে হয় আমরা যেন একটি কালে আটকা পড়ে গিয়েছি। কিন্তু আটকা পড়াতে কারো লাভ হয় না। 

    কোন ভাল জিনিস যদি অমুসলিম সম্প্রদায়ের কাছ থেকেও শিক্ষণীয় হয় তবে সেই শিক্ষাতে কোন বাধা নেই। এই বিশ্বের সকল দেশেই যুদ্ধ হয়েছে, যুদ্ধ সাধারণত রাজনৈতিকে ঘিরেই হয়। তারপর সেইসব দেশের মধ্যে আবার সম্পর্ক স্থাপনও হয়েছে। বেশি দূরে না গিয়ে বিগত ৫০/৬০ বছরের ইতিহাসও দেখা যেতে পারে। কেবল আমেরিকাই অনেক দেশের সাথে যুদ্ধবিগ্রহ করেছে, তারপর আবার সুসম্পর্কও হয়েছে। ভিয়েতনামে আমেরিকার হত্যা, ধ্বংস, ধর্ষণ এগুলো কত বীভৎস ছিল কিন্তু আজ তারা আমেরিকার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করছে এবং বর্তমানকে ধারণ করেছে।

    ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের জনসাধারণ কোন দোষ করেনি। কালীন ঐ ঘটনায় পাকিস্তানের জনগণ জড়িত ছিল না, তাই জেনরেলাইজ করা কথা অশোচনীয়, অসুন্দর।

    ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পিছনেও বামপন্থি রাজনীতি ছিল –কেউ কারো মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চায় নি। কিন্তু সার্বিকভাবে এই আন্দোলনের অনেক রূপ ছিল। এক্ষেত্রে বদরুদ্দীন উমরের ৩ খণ্ডে রচিত ‘পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি’ এক বিপুল তথ্যসম্ভার এবং সেই কাল ও রাজনীতির নানান বৈচিত্র্য বর্ধিতরূপে স্থান পেয়েছে। ওখানে ‘বিষয়টি ছিল আসলে মতাদর্শগত, সেখানে বাঙালী নূরুল আমিন এবং অবাঙালি প্রশাসনের চিন্তার পার্থক্য ছিল না। বৃথাই সেসময় আমাদের শিক্ষিত শ্রেণী বিশেষ করে ছাত্র-লেখক-বুদ্ধিজীবীর গরিষ্ঠ অংশ অবাঙালী প্রশাসনকে এককভাবে দায়ী করেছে, গুলিবর্ষণের সব দায় দায়িত্ব শুধু তাদের ওপরই চাপিয়ে দিয়েছে যেন বাঙালী প্রশাসন এজন্য দায়ী নয় (রফিক, আ. (২০০২), ভাষা-আন্দোলন: ইতিহাস ও উত্তর প্রভাব, ঢাকা: সময় প্রকাশন, পৃ.১৬৮)।

    আজ কাউকে উদ্দেশ্য করে আমার বলার কিছু নেই, মনে করুন দেয়ালের দিকে তাকিয়েই এসব কথা বলছি।  অতীত চলে গিয়েছে। এখন যদি জাতির মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠে, দেশের মানুষ শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সুখে থাকতে পারে, তবে এতেই আমাদের শান্তি। আমরা দেশে গিয়ে সেই সুখের ভাগিদার হবার আশা হয়ত নেই, আল্লাহই জানেন। তবে চলে যাওয়া অতীতের যুদ্ধে নিয়ে মৌখিক যুদ্ধ ব্যস্ত হওয়া কতটুকু লাভজনক সেটা চিন্তার বিষয়।

  10. 14
    মহিউদ্দিন

    মুনিম ভাই,
    আপনকে ধন্যবাদ । আপনি অত্যন্ত অকপটে যে কথাগুলা বলেছেন তা অনেকের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয় বিশেষ করে যারা কি না বৃহত্তর পিকচার না দেখে সংকীর্ণ দৃষ্টি ভঙ্গি রাখেন এবং ধর্মের নামে জাহেলি যুগের আবেগের কথা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চান।

     

    1. 14.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

       

      ধর্মের নামে জাহেলি যুগের আবেগের কথা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চান।

       

      -- কথাটা খুবই আপত্তিকর। আপনি যাকে উদ্দেশ্য করেই বলেন থাকেন না কেন -- কথাটা ঠিক হয়নি। আমার জানামতে সদালাপের কোন লেখক বা মন্তব্যকারী "মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়" এই ধরনের ভূমিকায় নেই। হয়তো কারো সাথে আপনার সাথে দৃষ্টিভংগীতে তফাৎ থাকতে পারে -- কিন্তু তাই বলে তাকে বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী বলে অপবাদ দেবেন -- এই অর্থ হবে আপনি নিজে "অভ্রান্ত"  -- এই ধরনের চিন্তা কিন্তু মারাত্বক। 

      আমার দৃঢ় বিশ্বাস সদালাপের সকল লেখক এবং পাঠকই সৎ এবং আল্লাহকে ভয় করে -- সুতরাং তাদের পক্ষে জেনেশুনে কাউকে "ধর্মের নামে জাহেলি যুগের আবেগের কথা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চান" এই ধরনের অপবাদ খুবই ভুল। 

      আশা করি আপনি এই ধরনের মন্তব্য পুনর্বিবেচনা করবেন। 

      1. 14.1.1
        মহিউদ্দিন

        জিয়া ভাই,
        মাহফুজ সাহেব আপনার পক্ষে মাঝে মাঝে ওকালতি করতে দেখলে হাসি পায়। তাই দেখা যায় আপনিও এখানে তার পক্ষে কিছু বলতে গিয়ে উলটো হয়ে গেল!
        কেননা রাষ্ট্র ভাষা সম্বলিত প্রশ্নের মূল নিরিখ থেকে সরে এসে, মুনিম ভায়ের ব্যাপারে যে আকারের মন্তব্য, এবং তাতে  বাংলার মাটিতে থাকা, বাঙালীত্বের আবেগ তোলা, আর ইসলাম স্খলিত হওয়ার যে মাত্রার কথা -এগুলো অবশ্যই ভ্রান্তিকর এবং জঘন্যও বটে –এই বাংলার মাটিতে নাগরিকগণ যেকোনো ভাষায় কথা বলতে পারে, বাঙালীত্বের নামে  কারো ব্যাপারে বৈষম্যমূলক বা তর্জনবাহী কথা সম্পূর্ণভাবে ন্যায়নিষ্ঠা বহির্ভূত। এখানে এক ব্যক্তিকে সামনে রেখে যে ভাষা ও জাতীয়তার আবেগ নিয়ে যেসব কথা ধারিত হল তা আমার দৃষ্টিতে জাহেলি প্রথার অন্তর্গত।

        নানান সম্প্রদায় ও ভাষায় এই উম্মত গঠিত হলেও তাদের ঐক্য কোনো ভৌগলীক গোত্র, গোষ্ঠী ও সাম্প্রদায়িকতা তোলে ভেঙ্গে দেয়া যাবে না। নবী কঠোর ভাষায় নিষেধ করেছেন। ‘من قاتل تحت راية عمية يدعو إلى عصبية أو يغضب لعصبية فقتلته جاهلية যে ব্যক্তি জাহেলি পতাকাতলে গোত্র/গোষ্ঠী/সম্প্রদায়ের নামে যুদ্ধ করে বা (তার বিশেষ) সাম্প্রদায়িকতার নামে উষ্মায় উদ্দীপ্ত করে তার এই যুদ্ধ জাহেলি যুদ্ধ। এই মর্মে আরও হাদিস রয়েছে পড়ুন। আপনার উচিত ছিল আপনার আপত্তি ও ভিন্ন মতের বক্তৃতা মাহফুজ সাহেবকে শুনানো। কিন্তু আপনি এসেছেন আমার উঠোনে উলটো কোদল মারতে কারণ হয়ত মুসলিম জাতী  নিয়ে আপনার যে ধারণা সেই ভিত্তি, যা অন্য মন্তব্যে আলোচনা করেছি। 

        সদালাপের পাঠক লেখক ও মন্তব্যকারী তাদের অবস্থান থেকে মন্তব্য করতেই পারেন এবং একমত না হলেও তাদেরকে আমি সম্মান করি । আর  ‘সকল লেখক এবং পাঠকই সৎ এবং আল্লাহকে ভয় করে’ –এই ‘ইলহাম’ আপনি কীভাবে পেলেন জানিনা তবে আমার নাই তাই এ বিষয়ে বিতর্কে যাব না।

        1. 14.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          অন্যের তে প্রতি আপনার সন্মানের নমুনাতো দেখছি -- আপনি দস্তুরমতো গালাগালি শুরু করছেন। আমি কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব করিনি। বা করার চিন্তাও নেই। আপনি অন্যায় ভাবে একজনকে দোষারোপ করে যাচ্ছেন। সেইটাই বললাম। 

          আমার বিশ্বাসের কথা বললাম -- সদালাপের লেখকের সবাই নিজেদের মুসলিম দাবী করে এবং তারা অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করে। 

          বলা দরকার -- আমি সবার পক্ষেই "উকালতি" করি -- যখন দেখি তাকে কেউ অন্যায় ভাবে আক্রমন করছে -- মুনিন ভাই ভাল জানেন এই বিষয়ে। 

  11. 13
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    অনেকদিন পর চমৎকার একটা আলোচনা উপভোগ করলাম।

    আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা বুঝি, ইসলাম হলো একটা ব্যালেন্সড দিকনির্দেশনা। এখানে কোন একটার প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়লে ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যাবে। সেই দিকে খেয়াল রাখা দরকার। মুসলিম ভাতৃত্ব জরুরী। কিন্তু তা ইমানের ভাতৃত্ব -- কোন ভৌগলিক বা ভাষাগত বা এলাকাকে কেন্দ্র করে নয়। যারা এখন পাকিস্তান ভেংগে যাওয়ার কষ্টে আছেন -- তাদের কাছে মুসলিম ভাতৃত্ব বিষয়টা ইসলামের আরো দশটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় কম গুরুত্বপূর্ন হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে -- যা শাহবাজ নজরুল ইতোমধ্যে আলোচনা করেছেন। 

    প্রকৃতপক্ষে ইসলাম ন্যয় এবং সমতার বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয় -- সেখানে মুসলিমদের মাঝে খান, সৈয়দ ইত্যাদি বিভাজন সত্যই দুঃখজনক বটে এবং পাকিস্থানের শুরু থেকেই বাঙালীদের ওরা ছোট চোখে দেখতো -- তা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার পরিপন্থী। ফলাফল আমরা দেখছি -- আজও পাকিস্তানে সেই বংশ আর অর্থ দিয়ে মানুষের মাঝে বিভেদ আছে। 

    যাই হোক -- পোস্টের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন -- আলোচনা পড়ে ভাল লাগলো -- সবাইকে ধন্যবাদ। 

    1. 13.1
      ফাতমী

      ইসলামী রাষ্ট্র হতে হবে ন্যায় বিচার-পন্থী, বেশী সংখ্যা কম সংখ্যা বলে এখানে কিছু নাই, সবাই আল্লাহ পাকের গোলাম আর এটাই রাষ্ট্রের ভিত্তি। কিন্তু বাস্তবতা এবং কি হওয়া উচিত এর মধ্যে সর্বদাই পার্থক্য থাকে। এই পার্থক্য ভিন্ন ভিন্ন কারণে তৈরি হয়। সে জন্য আপনি যাদের নেতা বানালেন তাদের কথা আপাত (স্বল্প) ভুল হলেও মেনে নিতে হয়, শৃংকলা রক্ষার খাতিরে। আমি ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম খুব সূক্ষ্ম সূরে, মানুষ ধরতে পারে নাই।

      "আপনার যদি তুর্কি হবার অধিকার থাকে, তাহলে আরবদের আছে আরবি হবার অধিকার, কুর্দিদের আছে কুর্দি হবার অধিকার, আসেরিয়ানদের আছে আসেরিয়ান হবার অধিকার, পার্সিয়ানদের আছে পার্সিনিয়ান হবার অধিকার।"

      এর ব্যাখ্যায় আমি বলে ছিলামঃ  "তুর্কিরা যদি তুর্কি হতে চায়, এবং তার দেশের কুর্দি আরবিদের উপর তাদের ভাষা চাপিয়ে দেয়, তাহলে আরবিদের আরবি এবং কুর্দিদের কুর্দি হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। সেইক্ষেত্রে সকল দায় আরবিদের এবং কুর্দিদের দিয়ে দেওয়া আমার দৃষ্টিতে অন্যায়।"

  12. 12
    মাহফুজ

    //*আপনি যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে মুক্তিযুদ্ধ করলেন। সে মুক্তিযুদ্ধের বয়স আজ ৪৬ বছর হয়ে গেছে?  আপনি এই ৪৬ বছরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন?
      *যদি সর্ব ভারতীয় মুসলিমদের আন্দোলন সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক নিয়মে নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায় নিয়ে যে দেশ সৃষ্টি হয়েছিলো, সেই দেশের রাষ্ট্র ভাষা উর্দু হলে আমাদের বাংগালীদের কি ক্ষতি হতো? জিন্নাহ কি ঘোষণা দিয়েছিলেন বাংগালীরা বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে পারবেনা?//
    …………………………….
    আমি ইসলাম ধর্মের অনুসারী হিসেবে মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণকারী মুসলিম এবং এই বাংলার বাঙালী সন্তান। বাংলা আমার মাতৃভাষা।
    অথচ ৪৬ বছর পেরিয়ে যাবার পরও এমনও অনেকে আছেন যারা এ দেশের মাটিতে বাস করেও নিজেদের বাঙালীত্ব নিয়ে দ্বিধায় থাকেন, এখনও এ দেশের রাষ্ট্রভাষা উর্দু এবং শুধুমাত্র উর্দু হিসেবে মেনে নেয়ার স্বপ্নে বিভোর থাকেন-- তাদের মুখে কিন্তু ইনসাফ প্রতিষ্ঠার বুলিটা বেমানানই ঠেকছে!!?

    1. 12.1
      মহিউদ্দিন

      ভাষা আন্দোলন এদেশের ইসলাম প্রিয় মুসলিমদের ভূমিকা কি ছিল আপনি জানেন? আজ অবশ্য সে সব ইচ্ছা করে কবর চাপা দেয়া হয়েছে বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার পক্ষে তখনকার তামুদ্দন মজলিসের ইসলামী স্কলারদের ভুমিকার ইতিহাস পড়েছেন?

      এখানে প্রশ্নকর্তা মুনিম ভায়ের মাতৃভাষাও ‘বাংলা’ এবং তিনি নিজেও ‘আত্মসমর্পণকারী’। আর অন্যদিকে আপনি একজন ইচ্ছামাফিক কোরান ব্যাখ্যা ও ইচ্ছামাফিক “নির্বাচিত” কয়েকটি হাদিস ব্যতীত, হাদিস অস্বীকারকারী ‘মুসলিম’ চরিত্রে ভুমিকা রাখছেন। পরিচিত মহলে মন্তব্য করতে এত অবতারণা কেন? মুনিম ভাই কি ইনসাফের ব্যাপারে কথা বলার অধিকার এজন্য হারিয়েছেন যে তিনি রাষ্ট্রভাষা/জিন্নাহর বক্তৃতা বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন? তার বাঙালীত্ব আপনার “ইসলামের” মাপে স্খলিত হয়ে গিয়েছে? ‘এই মাটিতে বসবাস করলে’ কি বাঙালীত্বের কোন বিশেষ ব্যাখ্যা ও আবেগকে ধারণ করতে হবে? সবাইকে ‘আপনার’ ‘বাঙালীত্ব’ গ্রহণ করতে হবে?। রাষ্ট্র ভাষার ব্যাপারে কথা বললে ইসলামও স্খলিত হয়ে যায়? এই মাটিতে থাকার প্রশ্নও উঠে যায়? এখানে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও মুসলিমদের বর্তমান অবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপঠ দেশ ও জাতীর ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব না বুঝে যেখানে সেখানে জাহেলি আবেগের মলম বিক্রি করতে দিতে পারিনা। এই ব্লগটি আমার আলোচনার পরিসর। আপনি আরেকটি ব্লগ লিখে আপনার পরিসর তৈরি করুন এবং সেখানে আপনার পক্ষের সঙ্গী নিয়ে ইচ্ছামত আলোচনা করুন। প্লিজ আপনার টানা বিতর্কে জড়িত হওয়ার সময় আমার নাই।
      তাই এ বিতর্কের এখানেই অবসান চাই। আপনাকে ছোট করা আমার ইচ্ছা নয়। মনে কিছু নিবেন না। ভাল থাকুন।

      নিচের ভিডিওটা শুনেন কাজে লাগবে।
      https://youtu.be/aDKfbFtT3gY

      1. 12.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        মহিভাই সালাম,

        ভালো করতেন মাহফুজ সাহেবের মন্তব্য ইগ্নোর করে যেতেন।  সদালাপ আর দশটি ব্লগের মত নয়। এখানের একজন সদস্য মত পথের যত প্রার্থক্য থাকেনা কেন পরস্পর পরস্পর সম্মান রেখেই কথা বলেন।  আজ আমি যা বলছি মাহফুজ সাহেব বা অন্য কোন ভাইয়ের কাছে ভুল মনে হতে পারে কিন্তু হয়তো একদিন আল্লাহর মর্জি হবে সেদিন হয়তো তিনি ঠিক আমার বক্তব্যের সত্যতা অনুধাবণ করতে পারবেন। মাথায় বাড়ি দিয়ে কাউকে বুঝান যায়না। বরং মানুষের স্বভাব ধর্মের জন্য গোয়ার্তুমির দিকে চলে যায়।

        এই ভাবে আমার বক্তব্যের বিরুদ্ধে যিনি বলছেন তিনি হয়তো সত্য বলছেন, হয়তো আমি এখন সে সত্য অনুধাবন করতে পারছিনা। হয়তো একদিন সে সত্য তার মত বুঝতে সক্ষ্ম হবো।

        কাজেই আমার জ্ঞান আমার প্রজ্ঞা বিলিয়ে যাবো যদি কেউ কোন দিন তার থেকে ফয়দা লাভ করতে পারেন।

        আর সত্যি বিষয় মাহফুজ সাহেবের ব্লগ কমেন্ট পড়ে মনে হয় উনি জ্ঞানের এমন স্তরের বাস করছেন যা বুঝার আমার ক্ষমতা নেই। কাজেই আমি তাকে স্বসম্মানে পরিহার করে চলি।

        আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

        1. 12.1.1.1
          মাহফুজ

          ইগ্নোর করেন আর যাই করেন- আপনার মস্ত বক্তৃতায় যে আবেগ ফুটে উঠেছে তাতে বোঝা যায় যে, পাকিস্তানী নুন খাওয়ার স্বাদ আপনি এখনও ভুলতে পারেন নাই। ইস্, আপনার জন্য কষ্ট হয়।

          আমার ভাষায় কিন্তু ভারত কিংবা পাকিস্তানী নুনের স্বাদ নেই। কারণ আমি উর্দু কিংবা হিন্দি প্রেমি নই, আর আমি এই বাংলারই নুন খাই।
          ইগ্নোর করার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ-

      2. 12.1.2
        মাহফুজ

        রিপ্লাইটা সহ্য হলোনা বুঝি? কেন- গুনকীর্তন করিনি তাই?

      3. 12.1.3
        মাহফুজ

         

        মি. মহিউদ্দিন,

        মুনিম সাহেবের করা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত মন্তব্যটি আপনার কাছে বেমানান না লাগলেও আমার দৃষ্টিতে আপত্তিকরই মনে হয়েছে। আপনার আলোচনার সাথে তা মোটেই মানানসই নয়। তাই আমি আমার মনের ভাব প্রকাশ করেছি। অথচ আমার সেই ভাব প্রকাশের অধিকারকে আপনি হরণ করেই ক্ষান্ত নন, আমাকে গালমন্দও করছেন, আমার মন্তব্য মুছেও দিচ্ছেন। আপনি কি জানেন না- ঢিল মারলে পাটকেলটি খেতে হতে পারে? যে লেখক সমালোচনা হজম করতে পারেন না, তার মতের সাথে দ্বিমত করলেই গালমন্দ করেন ও সমালোচনাকে ছুঁড়ে ফেলে দেন- তিনি কখনই সফল হতে পারবেন না। মুনিম সাহেব আপনার সহমতের লোক হতেই পারেন। কিন্তু তাই বলে তার পক্ষ নিয়ে আপনি অন্যের মতকে দলিত করবেন, এটা ভাল লক্ষণ নয়। তিনি যেরূপ মত প্রকাশ করেছেন, আমি ঠিক সেই আঙ্গিকেই মন্তব্য করেছি। অথচ আপনি আমার বিরুদ্ধে অনেক কথাই বলেছেন। যা যা বলেছেন, আমি তাই ফিরিয়ে দিচ্ছি। অন্তরে বিন্দুমাত্র সহনশীলতা থাকলে এবং মতিভ্রম না হলে আশাকরি মুছবেন না।

         

        //আপনার সম্পর্কে একটা ভাল ধারণা ছিল কিন্তু সব কিছুতে যে কোনো সুযোগে আপনার ফুটুস-মার্কা বাজারি কথাবার্তা অনেকটা বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়ায়। প্রাসঙ্গিক হউক না হউক রেল গাড়ীর ফেরিওয়ালাদের মত আপনার লেখার প্রচার শুরু করেন!//

         

        আমার সম্পর্কে ভাল ধারণার প্রচারের জন্য আমি লিখিনা। আর আপনার গুটি কয়েক লেখা বা মন্তব্য থেকেও আমি আপনার সম্পর্কে সব জেনে নেয়ার মত এত চালাক নিজেকে ভাবিনা। সত্যকথন কাদের বিরক্তির কারণ ঘটায় তা কি জানেন? ঠিকই বলেছেন, আমি একজন সত্যের ফেরিওয়ালা বটে। কিন্তু আপনি কি আপনার লেখার প্রচারের জন্য ফেরি করছেন না? আপনি ফেরি করলে নো প্রব্লেম। আর অন্যজনে করলে প্রব্লেম- এটা স্বৈরাচারী দৃষ্টিভঙ্গি নয় কি?

         

        //ভাষা আন্দোলন এদেশের ইসলাম প্রিয় মুসলিমদের ভূমিকা কি ছিল আপনি জানেন? আজ অবশ্য সে সব ইচ্ছা করে কবর চাপা দেয়া হয়েছে বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্রে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার পক্ষে তখনকার তামুদ্দন মজলিসের ইসলামী স্কলারদের ভুমিকার ইতিহাস পড়েছেন?//

         

        অবশ্যই জানি। ইসলামী স্কলারদের ভুমিকার ইতিহাস মনে হচ্ছে শুধু আপনি একাই জানেন?!! কাদের সাথে কার ফালতু বক্তব্য জুড়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছেন?

         

        //এখানে প্রশ্নকর্তা মুনিম ভায়ের মাতৃভাষাও ‘বাংলা’ এবং তিনি নিজেও ‘আত্মসমর্পণকারী’। আর অন্যদিকে আপনি একজন ইচ্ছামাফিক কোরান ব্যাখ্যা ও ইচ্ছামাফিক “নির্বাচিত” কয়েকটি হাদিস ব্যতীত, হাদিস অস্বীকারকারী ‘মুসলিম’ চরিত্রে ভুমিকা রাখছেন। পরিচিত মহলে মন্তব্য করতে এত অবতারণা কেন? মুনিম ভাই কি ইনসাফের ব্যাপারে কথা বলার অধিকার এজন্য হারিয়েছেন যে তিনি রাষ্ট্রভাষা/জিন্নাহর বক্তৃতা বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন? তার বাঙালীত্ব আপনার “ইসলামের” মাপে স্খলিত হয়ে গিয়েছে? ‘এই মাটিতে বসবাস করলে’ কি বাঙালীত্বের কোন বিশেষ ব্যাখ্যা ও আবেগকে ধারণ করতে হবে? সবাইকে ‘আপনার’ ‘বাঙালীত্ব’ গ্রহণ করতে হবে?। রাষ্ট্র ভাষার ব্যাপারে কথা বললে ইসলামও স্খলিত হয়ে যায়? এই মাটিতে থাকার প্রশ্নও উঠে যায়? সব বিষয়ে আপনার ‘নিজ ইসলাম’ আর ‘নিজ ফালতু’ লেখার এডভারটাইজ কেন? এখানে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও মুসলিমদের বর্তমান অবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপঠ দেশ ও জাতীর ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব না বুঝে যেখানে সেখানে জাহেলি আবেগের মলম বিক্রি করতে শুরু করেন কেন? তাও আবার ইসলামের নামে! আমি আপনার লিঙ্ক মুছে দিয়েছি। আপনার ল্যাঞ্জা-মার্কা টানা বিতর্ক ‘আমার নিবন্ধে এখানে’ করতে দেব না।

        কই প্রসঙ্গের মূল নিরিখ -আর কই জাতীয়তাবাদী আবেগের incrimination, তাও ইসলাম সংযুক্ত করে!//

         

        যিনি সত্যিকারের আত্মসমর্পণকারী তাকে মহান স্রষ্টা ঠিকই চেনেন। আর তার ভাষাতেও অন্তত ইনসাফের কথাটা সেভাবেই প্রকাশ পাওয়া উচিত। হাঁ, অবশ্যই আমি সেই সকল হাদিছ অস্বীকার করি যা কোরআনের শিক্ষার সাথে বেমানান। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আমার রাসূল (সাঃ) কখনই কোরআন বিমুখ কথা বলেন নাই এবং তা সমর্থনও করেন নাই। তাই হাদিছের গালগপ্প শোনালেই আমি তা এক নিঃশ্বাসে গলধঃকরন করে নেব, এমন অন্ধত্ব থেকে মহান আল্লাহ আমার অন্তরকে হেফাজত করেছেন।  একদিকে ইনসাফের কথা কইবেন, আর আরেক দিকে অত্যাচারিদের ভাষায় বুলি ঝাড়বেন- তা কি করে হয়? মনে রাখবেন- আমার সম্পর্কে আপনার/ আপনাদের মত একচোখওয়ালাদের একান্ত ব্যক্তিগত মূল্যায়নের আমি পরোয়া করিনা। শুধু মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিলেই হবেনা- প্রকৃত মুসলিম হতে হলে সকল ধরনের অংশিবাদের লেঞ্জা ছাড়তে হবে। জাহেলি আবেগের মলম বিক্রি তারাই করছেন, যারা ইতিহাসের গল্প শোনানোর ছলে ফালতু সেন্টিমেন্টের দোহাই তুলে দেশের মাটিতে  বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে ব্যস্ত।

         

        //"ক্ষমতা মানুষকে দূষিত করে ফেলে এবং নিরঙ্কুশ ক্ষমতা একেবারে নিরঙ্কুশভাবে দূষিত করে।”//   

         

        আপনার এই বুলিটা যে আপনার জন্যও ১০০% প্রযোজ্য তা প্রমাণ করে দেখালেন। ক্ষমতার অপব্যবহার যাদের মজ্জাগত, মন্তব্য ও লিঙ্ক মুছে দেয়া তো তাদের কাছে কোন বিষয়ই নয়। তাদের স্বার্থে আঘাত লাগলে ক্ষমতার দাপটে যে তারা আরো অনেক কিছুই করতে পারেন- তার প্রমাণ তো সবাই দেখছেন।

         

        বিশ্বাসে মুসলিম হলেও প্রতিটি বাঙালীর মাতৃভাষা বাংলা। আর ভাষার বৈচিত্রতা মহান স্রষ্টারই সৃষ্টি। সুতরাং নিজের ভাষার মর্যাদার কথা কইলেই- সেটাকে জাতীয়তাবাদের সাথে ইসলাম সেটে দেয়ার অপবাদ দিয়াটা বে-ইনসাফী নয় কি?

  13. 11
    মহিউদ্দিন

    সিরিয়ার বর্তমান হত্যাযজ্ঞের পূর্বেও সে দেশে সুন্নিদের উপর  গণহত্যা হয়েছে । প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল-আসাদের আদেশে  ১৯৮২ সনের গণহত্যার খবর অনেকেই জানেন না। এর অন্যতম কারণ হয়তবা ভিক্টিমরা যে হেতু ছিল মুসলিম তাই মিডিয়ার তেমন আগ্রহ ছিল না। তাছাড়া তথ্য প্রযুক্তিও তখন এখনকার মত এত উন্নত ও  দ্রুত  সম্প্রসারিত হওয়ার মত  অবস্থা ছিল না। 

    সে  ঘটনা ঘটেছে ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ সনে যখন সিরিয়ার প্রতিরক্ষা দফতরের আলাউয়ি সেনাবাহিনী দেশের প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল-আসাদের আদেশের অধীনে, হামা শহরে মুসলিম ব্রাদারহুডের উপর ঝাপিয়ে পড়ে সরকার  বিরোধী আন্দোলন দমন করতে। সামরিক সে অভিযান তথা আর্মি অপারেশন চলে ২৭ দিন। পুরা শহরকে অবরুদ্ধ করে আসাদ সরকারের সেনাবাহীনি।  তখন  মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য হত্যার নামে গণহত্যা চালায়। আর্মি কমান্ডার রিফাত আল-আসাদ সিরিয়ান আর্মি দিয়ে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। প্রাথমিক কূটনৈতিক রিপোর্টে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০০ হাজারের ঊর্ধ্বে ছিল বলে প্রকাশ পায় তবে পরবর্তী হিসাবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় এ সংখ্যা অনেক বেশী ছিল।  মানুষ হত্যার খবর এসেছে সাংবাদিকদের বর্ণনায় বিশ হাজার থেকে মানবাধিকার সংস্থার তথ্যে নিহতের সংখ্যা ৪০ হাজারের ঊর্ধ্বে বলা হয়েছে।https://en.wikipedia.org/wiki/1982_Hama_massacre

  14. 10
    শাহবাজ নজরুল

    শাহবাজ ভাই কথার পীঠে কথা উঠে আসে। আমার অনুমান যদি ভুল না হয় আমাদের দেশের চলমান রাজনৈতিক কার্যকলাপের ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া হিসাবে বিগত ২/৩ বছরে আমাদের মধ্যে নিরবে একধরণের দ্বিধা দ্বন্ধ লক্ষ্য করছি যার কারণে সদালাপ বেশ ঝিমিয়ে গেছে মনে হচ্ছে।

    সদালাপ কেন, নানা কারণে ব্লগ-বিশ্ব পুরোটাই কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। অন্তর্জালে সরকারী কড়া পর্যবেক্ষণ  ফেবুতে বেশিরভাগ লোক চলে আসতে এখন ব্লগের আড্ডা নানা কারণে জমে উঠেনা। তারপরেও বলব অন্যান্য ব্লগের তুলনায় সদালাপ এখনো কিছুটা হলেও প্রানবন্ত আছে। মুক্তমনাতে গিয়ে দেখেন লেখার পরে কমেন্টই নাই -- যেন মরা নদী। আমু, সামু, ইস্টিশন সবই মরা নদী। কেবল সদালাপেই আমি এখনো কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য দেখি -- আল্লাহর রহমতে। অতএব, হল ছাড়বেন না -- বরং কন্ঠ ছাড়েন জোরে।

    আপনি উল্লেখ করেছেন,”তবে যেহেতু ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ইসলামের স্তম্ভ তাই ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকে আমি ইসলামের প্রতি দায়বদ্ধতা হিসেবেই দেখি।“

    তো আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, আপনি যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে মুক্তিযুদ্ধ করলেন। সে মুক্তিযুদ্ধের বয়স আজ ৪৬ বছর হয়ে গেছে?  আপনি এই ৪৬ বছরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন?

    না পারিনি হয়ত পরোপুরি -- তার পরেও এই দীর্ঘ পথে সফলতাও অনেক এসেছে। সেগুলোকে অস্বীকার ও করতে পারছিনা। 

    ২য় প্রশ্ন ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র কারণ কি ছিলো পাকিস্তানী ব্রাহ্মণ্যবাদ?

    সেটাই প্রধানতম কারণ। শাসন, শোষণ, ভাষার অধিকার অস্বীকার, কেন্দ্রমুখী উন্নয়ন, চাকুরিতে একচ্ছত্র আধিপত্য, সেনাবাহিনীতে একচ্ছত্র আধিপত্য থেকে শুরু করে সব জায়গাতেই এই ট্রেন্ড দেখা যায়। তার পরেও দেশ তো আমরা রাখতেই চাইছিলাম -- ভোটে গিয়েছিলাম -- সেই অধিকার ও অস্বীকার করা হল। তাও বাদ দেন শেষ মেষ শুরু হলো গণহত্যা। এর পরে আর কোথায় যাই বলেন? এক সময় তো পিঠ দেয়ালে ঠেকবেই। 

    ৩য় প্রশ্ন পৃথিবীতে কি এমন আর কোন জাতি আছে যে, একটি দেশের জন্মের ৬ মাসের মাথায় রাষ্ট্র ভাষা কি হবে তানিয়ে আন্তকলহ সৃষ্টি করেছিলো?

    অন্তর্কলহ সৃষ্টি হয়েছে জিন্নাহের অদুরদৃষ্টিটা ও ব্রাহ্মন্যবাদী আচরণ থেকে। এই পোষ্টের আলোকে দেখতে গেলেও বাংলাকে তো রাষ্ট্রভাষা করা উচিত ছিল। কিংবা যুগপদ বাংলা ও উর্দু। সংখ্যা গরিষ্টের ভাষাকে মুহুর্তে উড়িয়ে দিতে পারে একমাত্র অর্বাচীন কিংবা ব্রাহ্মন্যবাদী চিন্তা। 

    ৪র্থ প্রশ্ন, পাকিস্তান কি শুধু বাংগালী মুসলিম আর বর্তমানের পাকিস্তানী মুসলিমরা সৃষ্টি করেছিলো?

    না করে নাই। তবে পাকিস্তান একটা আদর্শের স্বপ্ন দেখিয়ে গড়া হয়েছিল। আর সেই স্বপ্নদ্রষ্টারাই সবার আগে সেই স্বপ্নকে দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গেছেন। 

    এইটি সত্য নয় কি পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য সারা ভারতের মুসলিমরা পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছিলো?

    হ্যা সত্যি। তাই সার্বিক ভাবে এও ভাবার অবকাশ আছে -- তাহলে পাকিস্তান এর প্রস্তাবনা কি আসলেই বাস্তব সম্মত সমাধান ছিল? অন্তত দক্ষিন ভারতের মুসলিমদের দৃষ্টিকোণ থেকে? 

    যদি সর্ব ভারতীয় মুসলিমদের আন্দোলন সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক নিয়মে নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায় নিয়ে যে দেশ সৃষ্টি হয়েছিলো, সেই দেশের রাষ্ট্র ভাষা উর্দু হলে আমাদের বাংগালীদের কি ক্ষতি হতো? জিন্নাহ কি ঘোষণা দিয়েছিলেন বাংগালীরা বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে পারবেনা?

    এখানে বাস্তবসম্মত সমাধানের কথা ভাবতে হবে। যখন একটি দেশের বেশিরভাগ লোকের মুখের ভাষা বাংলা তখন কেন আপনি তা সরাসরি অস্বীকার করবেন -- বিশেষত যখন এমন দাবি উঠেছে। আর বাঙালিদের দাবি এমনও ছিলনা যে কেবল বাংলাকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করতে হবে। তাদের দাবি ছিল উর্দু একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হতে পারবেনা -- বাংলাকেও সাথে রাখতে হবে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এমনটি করাই যুক্তি ও বাস্তব সম্মত। কি ভারতে তো পাকিস্তানের চাইতে অনেক অনেক বেশি লোকের বাস। সেখানে তো হিন্দি একমাত্র রাষ্ট্রভাষা নয়। ফেডারেল সিস্টেমে সবার কথা ভাবতে হয়। আর ১৯৫৬ সালে তো শেষ মেষ তাই'ই করা হলো -- বাংলা আর উর্দু দুটোকেই রাষ্ট্রভাষা করা হলো -- এর পরে তো ভাষা নিয়ে আর সমস্যা হয় নাই।  

    ৫ম প্রশ্ন পাকিস্তান কি পাকিস্তানী ব্রাহ্মণ্যবাদ  আদর্শ এবং বাংগালীদের মেথর জাতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সৃষ্টি হয়েছিলো?

    না হয় নাই -- কিন্ত পাকিস্তান সৃষ্টির পরে পাকিস্তানি নেতারা সেই পথেই হেটেছেন। 

    ৬ ষ্ঠ প্রশ্ন, আপনি পাকিস্তানীদের যে অভিযোগ করছেন পাকিস্তানী ব্রাহ্মণ্যবাদের জন্য, আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে কি বাংগালী ব্রাহ্মণ্যবাদীতা  বজায় নেই?

    আছে। তাই আমি সেই বাঙালি ব্রাহ্মণ্যবাদীতার অবসান চাই। 

    যেই লাউ সেই কদুতে যদি আমাদের অবস্থান থাকে তাহলে ৭১ এর শহীদের রক্ত কি ব্যররথতায় পর্যবেশিত হয়ে পড়েনি?

    স্বাধীনতার সব সুফল অবশ্যই আমরা পাইনি -- তবে তা বলে আশাহত ও নই। 

    আমার বিচারে একাত্তরের মুক্তিযদ্ধ ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে আরেকটি ফিতনা ছিলো। 

    এখন উচিত পাকিস্তানীদের অধীনতা থেকে মুক্তি হয়ে যেন নতুন ভাবে ভারতের অধীনতায় আমাদের স্বাধীনতা বিসর্জন না হয় সেদিকে সজাগ থাকা।

    একেবারে সহমত। 

    1. 10.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      শাহবাজ ভাই আপনি তো অনেক অনেক পড়াশুনা করেছেন। শুধু স্কুল কলেজ ইউনি শুধু পাশের জন্য পাশ করেননি সাথে সত্যিকারের জ্ঞান অর্জনের জন্য সাধনা করেছেন। আমি সব সময় আপনার বিশাল জ্ঞানের জন্য আস্থাশীল। তাই আপনার মত জ্ঞানবান প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির কাছ থেকে  আমার  প্রশ্নের উত্তর এইভাবে পেলে তা মেনে নিতে কষ্ট হয় বৈকি।  আমি কম বিদ্যার লোক বলেই মনে হচ্ছে  এই উত্তর গুলো শাহবাজ নজরুল ভাইয়ের মত  ট্যালেন্ট ব্যক্তির নয়, আমার কাছে মনে হচ্ছে দলীয় প্যান্ডেলে দাঁড়িয়ে দলান্ধ রাজনীতিবিদরা অহরহ যা বলে যাচ্ছে তাই।

      আপনার এই বক্তব্যের সাথে “অন্তর্জালে সরকারের কড়া পর্যবেক্ষণের ভিতর দিয়ে  ‘আমু, সামু, ইস্টিশন সবই মরা নদী’  আর অন্যদিকে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো থেকেও বেশী বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জনগণ সার্বিকভাবে স্বাধীনতার স্বাদ দারুণভাবে গিলতে পারছে” হানিফ, হাসান মাহমুদ, কামরুলদের মত এই কথাটি সংযোগ করে দিতেন তাহলে  আপনার লিস্টে আরেকটি বাড়তি পয়েন্ট হত।

      শাহবাজ ভাই বাঙ্গালী মুসলিমদের মানসিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আপনাকে আমার জ্ঞান দেবার ক্ষমতা নেই, আপনি ভালোভাবে জানেন,”আমরা অন্যায়কে ন্যায় করে দেখাই, ব্যর্থতাকে সফলতা দেখাই, দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেই, নিজেদের দোষ দেখি না, অপরের উপর সকল দোষ চাপাই, যেখানে যা নেই সেখানে তা দেখাতে আগ্রহী হই – হয়ত এজন্য আমাদের জাতির এই করুণ দশা।

      আমরা অশিক্ষিত তাই আমরা অজ্ঞান বা মূর্খের মত আচরণ করে বসি তা তো স্বাভাবিক কিন্তু যখন  আপনাদের মত শিক্ষিতদের দিকে বড় আশা করে তাকাই আর দেখি যে তারাও প্রোপাগান্ডার গড্ডালিকা প্রবাহে চালিত হয়ে বাস্তবতার উলটা কবিতা রচনা করছেন –তখন আমরা নিরাশ হই। চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে যাই।

      ক) অতঃপর যখন বেইনসাফির সয়লাব দেখে প্রশ্ন করি স্বাধীনতার  ‘৪৬ বছর পরেও কি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন’?

      তখন যে সব ‘সফলতার’ গল্প শুনি, তা রাজনৈতিক প্যান্ডেলে দাঁড়ানো নেতা-নেত্রীর বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দেয়।

      শাহবাজ ভাই আমি তো এই দেশে বাস করছি। আমি পাকিস্তান আমল দেখেছি এবং বাংলাদেশরও আমল দেখেছি। আমি জানি আমি যে কথা বলতে যাচ্ছি তা অনেকেই মানতে চাইবেন না আমাকে গালি দিবেন কিন্তু সত্যকে তো বলতেই হবে, তাই আমি বলছি , আপনি শুনে নিন,” আজকের বেইনসাফির চেয়ে পাকিস্তানের ৪৭ থেকে ৭০ সেই ২৩ বছরের ইনসাফ ও আইনি ব্যবস্থা অসংখ্য দিক দিয়ে আমাদের বর্তমান সময়ের চেয়ে ভাল ছিল।

      অনেকে অনেক কিছু খামখেয়ালি করে নানান কাহিনী বলতে পারে। আমাদের পড়াশুনা কম হলেও আমরা পার্থক্য বুঝি। কি স্বীকার করতে হবে আর কি অস্বীকার করতে হবে –তা কি বলে দেবার বিষয় হয় ? আপনার উত্তরের কায়দা দেখে ভাবছি এজাতি কিভাবে পরিত্রাণ পাবে।

      খ) দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে পাকিস্তানী ব্রাহ্মণ্যবাদের কিছুই তো দেখলাম না। একটা কিছু বললেই যদি তা উত্তর হয়ে যায়? তবে আমাদের আর আপনাদের মধ্যে পার্থক্য থাকল কোথায়? আমাদের শিক্ষিতজনেরা তো আমাদেরকে পার্থক্য বোঝাবেন, সত্য স্বীকার করার নৈতিকতা শেখাবেন। মন্দকে মন্দ বলে পরিচয় করতে পারলে তবেই তো আমরা মন্দ দূর করতে যাব। কিন্তু আমরা যদি রাজনীতির কাছে এভাবেই মার খেতে থাকি, তবে এদেশ কিভাবে পরিবর্তিত হবে?

      ঘ) শাহবাজ ভাই, উঁচু-নিচু ধারণা ও আচরণ, শ্রেণী বৈষম্য, আশরাফ আতরাফ ধন্ধ পাকিস্তান হওয়ার আগে কি বাঙালী সমাজে ছিল না? বাঙ্গালী মুসলিমদের মধ্যে ছিল না? আজও কি তা নাই? আমাদের নিজেদের পরিবারগুলো কি উঁচু-নিচু মুক্ত?

      শাহবাজ ভাই আমরা কি এই উঁচু নিচু ধন্ধের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম? আমরা কি এই আশরাফ আতরাফ বৈষম্যের জন্য বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে আলাদা করেছিলাম?  এখনও এই ৪৬ বছরে আমরা  কি সেইসব সামাজিক পার্থক্য বর্জন করতে পেরেছি??????? না তা আরও বর্ধিত আকারে ধারণ করেছি????? পাকিস্তানীদের কি সব নাগরিক উঁচু ছিলো ? তাদের মধ্যে কি নিচু নেই?

      শাহবাজ ভাই  একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিগত৪৬ ধরে যার যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে কথা বলে চলছে, কিন্তু আপনিও কি সেই ভাবে বলে যাবেন ? তাহলে আমরা যাব কোথায়? একাত্তর তো আমার ইতিহাসের বই পড়ে জানা ইতিহাস নয়, চাক্ষুষ বাস্তবতা –আমিও সে ইতিহাসের একজন নগণ্য সাক্ষী বটে।

      ঙ) ১৯৭০ সালে ভোট দিয়েও আপনি পাকিস্তানের সরকার গঠন করতে পারেননি, স্বাধীন বাংলাদেশে আজ নিজের ভোট দিয়ে সরকার গঠনের কথা নাইবা উল্লেখ করছি, আজ কি আপনি স্বাধীন দেশে নিজের ভোট দিয়ে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচন করার অধিকার পাচ্ছেন? আপনি কি স্বাধীনতার ৪৬ বছরে এসেও সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছেন?

      আপনার বিবেকে কি এই নির্মম সত্যের বোধ উদয় হচ্ছেনা? আজকের বাংলাদেশ তো ন্যায়-ইনসাফের ক্ষেত্রে সেদিনের পাকিস্তানের চেয়েও অধঃপতনে। এখন মানুষের পিঠটা কোথায় ঠেকেছে, দেয়ালে না অন্য কিছুতে?

      আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, জিন্নাহ কি ঘোষণা দিয়েছিলেন বাঙ্গালীরা বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে পারবে না? আপনি এসবের উত্তরে যাননি।  আমাদের কত আশা যে স্বাধীনতার সুফলে আমাদের জাতির কিছু কিছু লোক উচ্চ শিক্ষা লাভ করবে,এরাই আমাদেরকে আলোর মুখ দেখাবে, সত্য ও অসত্যের মধ্যকার পার্থক্য বিদ্যার নিরিখে চুল-চেরা বিশ্লেষণ করে আমাদেরকে পথ দেখাবে। এখানে পাকিস্তানী-বাঙালি কথা নয়, আমরা সবাই মানুষ, আমরাও পাকিস্তানী ছিলাম, আপনার বাবা চাচা অথবা আপনার দাদারা পাকিস্তানী ছিলেন। ২৩ বছরের আমাদের সকলের সেদিন সাফল্য থাকতে পারে এবং ব্যর্থতাও। সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া সকল দোষ কারো ঘাড়ে চাপিয়ে দেবার প্রবণতা হয়ত আমাদের মত মূর্খদের হতে পারে, কিন্তু জ্ঞানী-গুণীদের হওয়া কি সমীচীন হবে?

      চ) ওরা সব কিছু লুটে পুটে নিলো, এই দিল না সেই দিল না, এভাবে ইজমালী দোষ চাপানোতে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানমূলক তথ্য প্রকাশ পায় বলে আমার মনে হয় না। তার আগে বুঝতে হবে জানতে  সেদিন ব্রিটিশের আমলে দেশের বিভিন্ন বিভাগে সার্ভিসে –পুলিশ, সেনাবাহিনী ইত্যাদিতে কয়জন বাঙ্গালী মুসলিম ছিলো? বাঙ্গালী মুসলিমরা কি সেই সব পদ পদবীর জন্য উপযুক্ত ছিলো? এই তথ্য ঐতিহাসিক সত্য সে বাঙ্গালী মুসলিমদের থেকে অবাঙ্গালী মুসলিমরা এই সব পদ পদবী নিযুক্ত বেশী ছিলো, বেশী ছিলো গায়ের জোরে নয়, আপন যোগ্যতায়।  পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই পূর্ব অবকাঠামো নিয়ে নতুন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রশাসন কাজ শুরু হয়েছিল। তারপরও বাঙালিদের সকল স্তরে নিয়োগ ছিল চোখে পড়ার মত। আবারও মনে রাখতে হবে যে কোনো  দেশে ‘জাতীয়তার’ ভিত্তিতে লোকজন ধরে ধরে চাকুরীতে ঢুকানো কি ন্যায্য রাষ্ট্রীয় নীতি হতে পারে? (আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে যে দল সরকার গঠন করে  সরকারের দলীয় লোকদের চাকুরীতে নিয়োগের খারাপ উদাহরণ না হয় বাদ দিলাম)।

      আপনার কাছে কি পাকিস্তানের সময় চাকুরীর যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কাদের আবেদনপত্র নাকচ করা হল? এর কি কোন পরিসংখ্যান আছে?

      পূর্বপাকিস্তানে তো নিজেদের প্রাদেশিক সরকারও ছিল। দক্ষ লোকের অভাবে বিভিন্ন সেকশনে ভারত থেকে হিজরত করা লোকদের পর্যন্ত নিয়োগ দিতে হয়েছিল। নানান প্রতিকূলতার ভিতর দিয়েও সেদিনের পূর্বপাকিস্তান মাত্র দুই দশকে শিল্প-বাণিজ্যে অনেক সমৃদ্ধ হয়েছিল।  কারো জন্য কি ইতিহাসের বাস্তব বিষয়সমূহকে দলীয় রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে ঘুলিয়ে দেয়া কোনো সঠিক বিষয় হতে পারে?

      আমাদের আশা থাকে যে ব্যক্তি হোক বা জাতি হোক তাদের সকলের সঠিক আত্মবিবেচনা থাকবে, নিজেদের ভুল সাহসিকতার সাথে নিরীক্ষণ করবে, কোথায় নিজেদের দোষ আর কোথায় অপরের দোষ তা সঠিকভাবে নির্ণয় করবে, তবেই কল্যাণের পথে হাঁটে পারবে,  না হলে কোনো অজানা চক্রে ঘুরতেই থাকবে।

      মন্তব্যের মধ্যে যদি আবেগের বশীভূত হয়ে আপনার কোন অমর্যাদা করে থাকি তাহলে ক্ষমা করবেন। ধন্যবাদ।

  15. 9
    কিংশুক

       মুনিম ভাই, সকল জায়গা ও সব ধরনের মানুষের সাথে সব কথা   বলা যায়না। যেমনঃ আপনি রাষ্ট্র ক্ষমতায় ইসলাম চান, সকল প্রকৃত মুসলমানই তা চায়। আইএস, আল কায়েদা, বোকো হারাম সশস্ত্র এক পদ্ধতিতে চায়, হিজবুত তাহরির সেনাবাহিনীর মাধ্যমে চায়, ব্রাদারহুড জামায়াত , অসংখ্যবার  ইসলামি দল  ভোটের মাধ্যমে চায়। তরিকতপন্থী সুফি, তাবলিগিরিও চায় সবার আত্মশুদ্ধি ও সুন্নাহর মোতাবেক পাপ বর্জন করে আল্লাহর সাহায্যে । সবাই জিহাদ  করছে ( নিজেদের ব্যাখ্যায়) ভিন্ন ভিন্ন পথে। সবার নিয়্যত এক কিন্তু ইজতেহাদ ভিন্ন। যেখানে দশ শতাংশ মুসলিমের ঈমাণ আমল আদর্শ মানের নাই সেখানে আল্লাহ্ বিজয় দেন না, সন্তান হতে হলে নয় স অপেক্ষা না করে দুই মাসে সিজার করে সন্তান বের করলে টিকবেনা। তেমনি সবাই পাকিস্তান বানাইছে ইসলামি শাসন চেয়ে কিন্তু পাকিস্তানে শিয়ার সংখ্যা অনেক । জিন্নার, ভূট্টোরা শিয়া তারা সুন্নি শ রিয়া মানে না। ইসলামি আলেমরা তাদের কাছে ইসলামি শাসন চাইলে তারা টালবাহানা করেছে । পাঞ্জাবীরা  বিশ্ববিদ্যালয় পড়ালেখা বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকায় ও ব্যবসা বাণিজ্যে এগিয়ে থাকায় আর্মির বড় পদ, শিল্প পরিবারে বাংলাদেশীরা বঞ্চিত হয়েছে। একাত্তরে শিয়া বাম ভূট্টো ও শিয়া  পাকি জেনারেলরা সুন্নি বাংলাদেশীদের উপর চরম একশনে গেছে। বাংলাদেশ হবার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হলে আ লেমরা জিয়ার কাছে ইসলামি শাসন চায়। জিয়াউর রহমান দেশের অবস্থা,  ভারত, পশ্চিমাদের দোহাই দিয়ে সংবিধান সংশোধন করে নামকাওয়াস্তা ইসলামি সংবিধান ছাড়া আর কিছু আপাতত সম্ভব নয় বলে। এজন্য ইসলামি আন্দোলনের তারা জিয়াকেও মুনাফিক বলৈ। যাই হোক আপনি তাবলিগ জামায়াতের বিরোধিতা বাদ দেন, বৈরাগী ইসলাম বলে কটাক্ষ করবেন না, ঊনারা হক্বপন্থী। সুবিধাও অন্তরের সকল ব্যাধি দুর করে আশেকে এলাহি বানিয়ে আল্লাহর সাহায্য নিয়ে আল্লাহর  দেওয়া বিধান সর্বস্তরে কায়েমের স্বপ্ন দেখেন। এজন্য উনাদেরকে বৈরাগ্যবাদি বলে লাভ নাই।  সিরিয়ায় কোটি মুসলমানের যে অবর্ণনীয় কষ্ট হচ্ছে ঐ হিসাবে শাহবাজ নজরুল ভাইয়ের কথা ঠিক আছে, এটা একটা ভুল পদক্ষেপ ।

    1. 9.1
      মহিউদ্দিন

      কিংশুক  ভাই,

      সঠিক বলেছেন।

      পাকিস্তানের আরেকটি সমস্যা হল সামন্তবাদ। যা সে দেশে এখনও আছে।  আমাদের ভাগ্য ভাল যে বাংলার কৃষক ও মেহনতি জনতার অকৃত্রিম বন্ধু শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুর হকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ফলেই দেশে প্রজাস্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জমিদারী প্রথা বিদায় নেয় যা পাকিস্তানে সম্ভব হয় নাই। তাই  যতদিন জমিদারী থাকবে সে দেশে সাধারণ জনতার স্বার্থে কোন রাজনৈতিক পরিবর্তন হওয়ার আশা করা যায় না।

      1. 9.1.1
        এম_আহমদ

        এখানে ইসলাম ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে দুটি কথা বলতে চাই। ইসলামের মূল কথা হচ্ছে নৈতিক সমাজ ব্যবস্থা। এতে আল্লাহ ও পরকালের ধারণায় মানুষের চরিত্র বিকশিত হবার পথ উন্মোচিত হবে এবং এই নৈতিকতার ভিত্তিতে আনুষঙ্গিক যাবতীয় মানবিক মূল্যবোধ প্রকাশ প্রকাশ পাবে যেমন  ন্যায়-নিষ্ঠা, সার্বিক কল্যাণ, ব্যক্তি ও সামষ্টিক অধিকারের নিরাপত্তা: প্রাণ ও সম্পদের। এতে অপরাপর ধর্মের লোকজন সার্বিক নিরাপত্তা এবং তাদের নিজেদের বিধানমতে চলার অবকাশ ও সুযোগ পাবে।  কথা  দীর্ঘ না করে বলব যে মানুষের সামষ্টিক অস্তিত্বের এই মৌলিক বিষয়গুলো বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় পদ্ধতির আওতায় প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে -বাদশাহি ব্যবস্থার ভিতরেও পারে। এই বাদশাহি ব্যবস্থা সামন্তবাদী পিরামিড অবকাঠামোতেও আসতে পারে; অলিগার্কিক (oligarchic) গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে হতে পারে, স্বৈরশাসকের হাতেও হতে পারে; আধুনিক গণতন্ত্রের মাধ্যমে হতে পারে এবং কোন মিশ্র পদ্ধতিতেও হতে পারে যেমন প্রথমে অস্তিত্বে এসে পদ্ধতি রূপায়িত হতে পারে। মনে রাখতে সামাজিক যে নীতি বৈশিষ্ট্যের কথা আমরা উল্লেখ করেছি সেগুলোর মূল কথা –কোন চিরন্তনী (universal) পদ্ধতি বিষয়ের নয়, বরং কালীন। আপনি মানব ইতিহাসের দীর্ঘ যাত্রার দিকে তাকালে সেইসব ভিন্ন ভিন্ন সমাজ ব্যবস্থা দেখতে পাবেন। কোরানের অনেক নবীও বাদশাহ ছিলেন। কালীন ইতিহাসে মানুষ ভাল বাদশাহের অধীনে সুখে শান্তিতে ছিল। বাদশাহকে সেদিন পিতার স্থানে দেখা হত এবং বাদশাহ তার প্রজাবর্গকে সন্তান হিসেবে দেখত। আজকে অতীত বিস্মৃত হয়ে গিয়েছে। আবার নানান দেশে নানান জালিম বাদশাহের আবির্ভাবও হয়েছে এবং মানুষের উপর জোর জুলুম চালিয়েছে।

        একটি ভাল সমাজ ব্যবস্থা মন্দ লোকের শাসনে অতি অল্প সময়ে দূর্বিত্তায়িত হয়ে যেতে পারে। আবার উল্টোটাও হতে পারে। যদি তাই হয় তবে আগে রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে, না আগে ভাল লোক তৈরির কাজ করতে হবে যাদের মাধ্যমে সেই রাষ্ট্র কায়েম হবে? এই প্রশ্নটি ‘আগে মুরগী, না আগে ডিম’ –এই জটিলতা উপস্থাপন করে বিধায় অনেক সমাজ সংশোধক ও দার্শনিক উভয় কাজকে একই সাথে সংযুক্ত করার অভিমত পোষণ করেন।

        পাকিস্তানে সামন্তবাদ আছে বিধায় আধুনিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় একথা সত্য কিন্তু ক্লাসিক্যাল যুগের সামন্তবাদী সেনেটরদের সমন্বয়ে যে ধরণের গণতন্ত্র ছিল তেমন ধরণের ‘গণতন্ত্র’ হতে বাধা নেই। আধুনিক গণতন্ত্রও যে স্বৈরশাসন হতে পারে সেই উদাহরণ এই জগতে ভুরি ভুরি রয়েছে। জমিদার বাবুর শহরে ভোট কেন্দ্র তৈরি করে যে ভোটের গণতন্ত্র পাবেন, বাংলাদেশের (নিছক উদাহরণ) অনেক অঞ্চলে কেডার বাহিনী চালিত (জমিদারের তুলনায় লাঠিয়াল বাহিনী) বিপুল বিত্তের অধিকারী ক্যান্ডিডেট (candidate)  এর ভোট কেন্দ্রে সেই গণতন্ত্রই পাবেন।

        আজকের কর্পোরেট বিত্তবানদের মিডিয়া তাড়িত যে ‘“গণ”তন্ত্র’ তা ধনতান্ত্রিক আদর্শের এক বৈশ্বিক অভিযাত্রা ও ব্যবস্থা। এটা এক ধর্মীয় রূপ লাভ করেছে এবং অতীতের ধর্ম যুদ্ধের ন্যায় এর জন্যও যুদ্ধের দাবানল চলছে।

        আজকে আমাদেরকে মিডিয়া-পঠিত অভ্যাগত পারিভাষিক (habitual terminology)  ধারণাকে ইন্টারোগেট করতে হবে এবং নিজেরাই সেইসব ধারণার উৎপত্তি ও কারণ অনুসন্ধান করতে হবে।

    2. 9.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      ১.এখানে কোথায় তবলিগ নিয়ে কথা বললাম? 

      ২. যিনি মুসলিম বলে দাবি করেন, তার ইমানী দায় ইসলামী  হুকুমত প্রতিষ্ঠার। এখানে কোন ছাড় নাই। যিনি  বিশ্বাস করবেন যে ইসলাম ছাড়া অন্য ব্যবস্থা যুগের দাবী, আর মুসলিম বলে দাবি করতে পারেন না। আপনার জীবনকালে যদি ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় তাহলে আলহামদুলিল্লাহ, নাহলে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, সেই প্রচেষ্টার মশাল এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে জারি রেখে যেতে হবে। তবে তা করতে হবে আমাদের সাধ্যমত। আল্লাহ পাক ইসলামকে পাঠিয়েছেন পৃথিবীর মানুষের জীবন যাত্রা সহজ করতে জটিল করতে নয়।

       

      ৩. যে সব উগ্রপন্থিদলের কথা উল্লেখ করেছেন তাদের কর্ম পদ্ধতি বলে দিচ্ছে এরা আসলে ইসলামের পক্ষের দল নয়। তারা এন্টি ইসলামীদের উদ্দেশ্য পুরনের হাতিয়ার হিসাবেই কাজ করছে। এন্টি ইসলামী শক্তি এদের কার্যক্রম দেখিয়ে ইসলামী জুজুর ভয় দেখেয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করছে।

      ৪. ইসলামের মুসলিম উম্মাহর দর্শন ব্যতিত কোন জাতিয়তাবাদী, আঞ্চলিকতাবাদি, ভাষাভিত্তিক দর্শন সমর্থন করেনা।

      একজন মুসলিম পৃথিবীতে জন্ম নেবার সাথে সাথে  বাংগালী রীতিতে নয়, ইসলামী রীতিতে আজান শুনান হয়। আবার তাকে কবরে রাখার সময় ও ইসলামী রীতিতে কবরে রাখা হয়। কোন বাংগালী রীতিতে নয়। ফেরেস্তাগন জীজ্ঞাস করবেন না তুমি কি  বাংগালী না পাঞ্চাবী? কাজেই আমি জাতিয়তাবাদের কাথা পুড়ি। যেহেতু মানুষরা আকাম করে আল্লাহর দেয়া পৃথিবীকে খন্ড বিখন্ড করে ফেলেছে, কাজেই সেই আকামের ফসল হিসাবে আমি রাষ্ট্রীয় ভাবে বাংলাদেশের নাগরিক। জন্মসূত্রে আমি বাংলাদেশী আমার পরিচয়।  ব্যাস এর বেশী কিছু নয়। এই পরিচয়ের জন্য আমি বেহেস্ত লাভ করতে পারিনা, কাজেই এইসব বলে সমাজের বাহবা আশা করিনা। 

       

      1. 9.2.1
        মাহফুজ

        //২. যিনি মুসলিম বলে দাবি করেন, তার ইমানী দায় ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার। এখানে কোন ছাড় নাই। যিনি  বিশ্বাস করবেন যে ইসলাম ছাড়া অন্য ব্যবস্থা যুগের দাবী, আর মুসলিম বলে দাবি করতে পারেন না। আপনার জীবনকালে যদি ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় তাহলে আলহামদুলিল্লাহ, নাহলে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, সেই প্রচেষ্টার মশাল এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে জারি রেখে যেতে হবে। তবে তা করতে হবে আমাদের সাধ্যমত। আল্লাহ পাক ইসলামকে পাঠিয়েছেন পৃথিবীর মানুষের জীবন যাত্রা সহজ করতে জটিল করতে নয়।//

         

        ভাল বলেছেন- সহমত

         

        //৩. যে সব উগ্রপন্থিদলের কথা উল্লেখ করেছেন তাদের কর্ম পদ্ধতি বলে দিচ্ছে এরা আসলে ইসলামের পক্ষের দল নয়। তারা এন্টি ইসলামীদের উদ্দেশ্য পুরনের হাতিয়ার হিসাবেই কাজ করছে। এন্টি ইসলামী শক্তি এদের কার্যক্রম দেখিয়ে ইসলামী জুজুর ভয় দেখেয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করছে।//

         

        উগ্রতা করাই উগ্রপন্থিদের কাজ। তা ইসলামের নামে হোক বা অন্য কোন ধর্মের নামেই হোক না কেন। তাই তাদেরকে চিনে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

         

        //৪. ইসলামের মুসলিম উম্মাহর দর্শন ব্যতিত কোন জাতিয়তাবাদী, আঞ্চলিকতাবাদি, ভাষাভিত্তিক দর্শন সমর্থন করেনা।//

         

        হা, ঠিক। ইসলাম কেবলমাত্র কোন দর্শন নয়, এটি স্রষ্টা অনুমদিত জীবন বিধান। সুতরাং মুসলিম মাত্রই মৌল কিতাব আল-কোরআনের দিকনির্দেশনা বহির্ভূত দর্শনে বিশ্বাস করা বিপদজনক। কিন্তু তাই বলে নিজের মাতৃভাষাকে ইগ্নর করা যেমন ঠিক নয়। তেমনি অন্যের ভাষাকে তাচ্ছিল্ল করাও উচিত নয়।

         

        //একজন মুসলিম পৃথিবীতে জন্ম নেবার সাথে সাথে বাংগালী রীতিতে নয়, ইসলামী রীতিতে আজান শুনান হয়। আবার তাকে কবরে রাখার সময় ও ইসলামী রীতিতে কবরে রাখা হয়। কোন বাংগালী রীতিতে নয়। ফেরেস্তাগন জীজ্ঞাস করবেন না তুমি কি  বাংগালী না পাঞ্চাবী? কাজেই আমি জাতিয়তাবাদের কাথা পুড়ি। যেহেতু মানুষরা আকাম করে আল্লাহর দেয়া পৃথিবীকে খন্ড বিখন্ড করে ফেলেছে, কাজেই সেই আকামের ফসল হিসাবে আমি রাষ্ট্রীয় ভাবে বাংলাদেশের নাগরিক। জন্মসূত্রে আমি বাংলাদেশী আমার পরিচয়।  ব্যাস এর বেশী কিছু নয়। এই পরিচয়ের জন্য আমি বেহেস্ত লাভ করতে পারিনা, কাজেই এইসব বলে সমাজের বাহবা আশা করিনা।//

         

        মুসলিম মাত্রই শুধু ইসলামি রীতিতে আজান শুনতে ও দিতে নয়, বাড়াবাড়ি না করে সাধ্যমত প্রতিটি পদক্ষেপই নিতে বাধ্য। জানাযা ও দাফন, কাফন মুসলিমের জন্যই প্রযোজ্য। যিনিই জিজ্ঞাসা করুক না কেন- একজন সত্যিকার মুসলিম একালে যেমন নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেন, পরকালেও তাই দেবেন। তবে শুধু পরিচয় জেনেই যে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে- এমন ভাবাটা বেকুফি। চূল চেড়া হিসাবের সময় যখন জিজ্ঞাসা করা হবে-

        *বাংলাদেশের মানুষের ভাষা কার সৃষ্টি?

        *একজন মুসলিম হিসেবে তুমি কি জানতে না যে, মানুষের বর্ণ ও ভাষার বৈচিত্র আল্লাহরই সৃষ্টি?

        *তৎকালিন আরবের বিভিন্ন আঞ্চলে সহজবোধ্য করার লক্ষেই কয়েকটি আঞ্চলিক আরবী ভাষায় কোরআন পাঠ ও বয়ানের অনুমতি দেয়া হয়েছিল তা কি তুমি জানতে না?

        *অথচ যারা বাঙ্গালীদের কালো ও বেটে বলে তাচ্ছিল্ল করল, তাদের মায়ের ভাষাকে উপেক্ষা করল, নিরাপরাধ বাঙ্গালী নারী, পুরুষ ও শিশুদের হত্যা ও নির্যাতন করল- কেন তুমি তার প্রতিবাদ না করে বরং তাদের সাথে সূর মেলালে?

         

        ১৯৭১ সালে কুখ্যাত পাকিস্তানি সামরিক শাসকরা বাঙ্গালীদের 'খাট ও কাল' বলে শুধু হেয়ই করেনি, তাদের দেয়া বাঙ্গালী হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল যা অনেক পাকিস্তানী নিজ কানে শুনেছিলেন। আর বিবেকবান পাকিস্তানীরা মনে করেন- "পাকিস্তানের তৎকালীন ঘাতক শাসক ও যুদ্ধপরাধীরা শাস্তি পেলে তাদের দেশেও একই পরিস্থিতির উদ্ভব হত না।"

         

        পৃথিবী খন্ড বিখন্ড হওয়ায় জন্য কে দায়ি তা মহান আল্লাহ ভালই জানেন। মানুষের ন্যায্য অধিকার থেকে যারা বঞ্চিত করে সেই জালিমদের মহান স্রষ্টা ঠিকই চেনেন। সে সময় বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অঞ্চলের জনগণের জন্য দুই ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা নেয়াই তো উচিত ছিল। তাহলে উভয় প্রান্তের জনগণের মধ্যে মনের ভাব আদান প্রদানের মাধ্যমে সুসম্পর্কের সেতুবন্ধন রচনা করা সহজতর হত।

         

        যিনি যে ধর্মের অনুসারী, তিনি সেই বিশ্বাস অনুসারেই বেহেস্ত পাবার আশা রাখেন। একজন মুসলিমের জন্য অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নয়, বরং অংশিবাদ মুক্ত খাঁটি বিশ্বাস ও সৎকর্মই বেহেস্ত প্রাপ্তির প্রথম সোপান।

        ধন্যবাদ-

  16. 8
    শাহবাজ নজরুল

    আপনার ব্লগটিতে ইতিহাস এসেছে সুন্দরভাবে। আলাউইদের ক্ষমতায় আসার ঘটনা পরম্পরা বর্ণনা করেছেন চমত্কার ভাবে।  তবে উপসংহারে এসে এমন কিছু কথা বলেছেন তাতে মনে হচ্ছে ব্লগটি লেখার পেছনের উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনার রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিপাদন করা। 

    ১. এখানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের শাসন চলছে বলতে কি বুঝিয়েছেন? একটু পরিষ্কার করেন।
    ২. যখন বলছেন যে "যে কোন দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে একছত্র ক্ষমতা চলে গেলে তা কোন দেশের জন্য মঙ্গলকর হয় না। " -- এর অবধারিত করোলারি কি এমন যে, "যে কোন দেশের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের কাছে একছত্র ক্ষমতা চলে গেলে তা সে দেশের জন্য মঙ্গলকর??? "
    ৩. আমি আরব বসন্ত থেকে শুরু করে সার্বিক মধ্যপ্রাচ্যের এই বেহাল অবস্থা নিয়ে মাঝেমধ্যে চিন্তা করার চেষ্টা করি। ভাবি কিভাবে 'সবকিছু সাধারণ ও ধার্মিক মুসলিমদের বিরুদ্ধে গেল?' কেন  এমন অযথা লক্ষ লক্ষ লোকের রক্তপাত? গোড়াতে কি তাহলে 'আরব বসন্তের' গুরুরাই ধর্মতাত্ত্বিক ভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? এখন মনে হচ্ছে তাই'ই হবে হয়ত!!! হয়তবা শাসকের বিরুদ্ধে অযথা অবস্থান নেয়াটাই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রথম থেকেই -- যেখানে রাসুল (স.) শাসক-দের বিরুদ্ধে অযথা অবস্থান নিতে বারণ করেছিলেন -- যতক্ষণ পর্যন্ত না শাসক 'সালাত' আদায়ে বাঁধা দিচ্ছে। সিরিয়ায় শাসকরা সুন্নিদের সালাত আদায়ে তো বাঁধা দেয়নি -- তাহলে কেন শুধু শুধু এই রক্ষক্ষয়ী সংগ্রামের শুরু -- অন্তত ধার্মিক সুন্নিদের পক্ষ থেকে?

     

    1. 8.1
      মহিউদ্দিন

      শাহবাজ ভাই,

      সালাম। প্রথমে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। তবে মন্তব্য পড়ে যা বুঝলাম তা হল আমার ব্লগটির বর্ণনা ঠিক আছে তবে আরব বিশ্বের আন্দোলনের উদ্দেশ্য এমন কি সিরিয়ার বিষয়ও আপনার ধারণার রেঞ্জে তেমন ঠিক নয় এবং আপনার মন্তব্য হচ্ছে আমার “ব্লগটি লেখার পেছনের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিপাদন করা”। আপনার সেই প্রতিপাদন কি হয়েছে, না উলটো আপনার নিজ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রকাশের অবতারণা হয়েছে? ভাই আমার ‘পিছনের উদ্দেশ্য’ আপনি প্রতিপাদন না করে যা ‘সম্মুখে’ ব্যক্ত করা হয়েছে তাই প্রতিপাদন করলে ভাল হত। আপনার প্রশ্নের উত্তর নিম্নরূপ:

      ১। ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের শাসন চলছে’  এমন কথা আমি এই ব্লগে কই ব্যবহার করলাম যে এখন আমাকে তা পরিষ্কার করতে হবে? আপনি আপনার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে যদি কারো পিছনের উদ্দেশ্য দেখতে থাকেন সেটা আপনার ব্যাপার। এসব নিয়ে বিতর্ক করে কোন লাভ নাই।
      আর যদি  এটা লিখেও থাকতাম তবে এই স্পষ্ট কথাটি কি স্পষ্ট করার প্রয়োজন রাখে?

      ২। দ্বিতীয় প্রশ্নের করোলারি গণতন্ত্রে খুঁজুন, আমি বরং মুনিম ভায়ের ভাষায় বলব, ‘হাই মরলা হাঞ্জা রাইত আর বউয়ে কান্দিয়া উঠলা পতা রাইত!’

      ৪। আপনি আরব বসন্ত ও মুসলিম ধর্মীয় জ্ঞান নিয়ে চিন্তা করতে থাকুন। জ্ঞান ও মাথা যাদের আছে তারা তো চিন্তা করবেনই। দোয়া করি আল্লাহ আপনার চিন্তা ভাবনায় বরকত দান করুন। 
      মুয়াবিয়া ও আলীর (রা) যুদ্ধে নামাজ পড়তে বাধা দেয়া কোনো বিষয় ছিল না, তবুও কেন যুদ্ধ ছিল? ইয়াজিদ ও হুসাইনের (রা) মধ্যে নামাজ পড়া পরিমাণ ধর্ম বিষয়ের কিছু ছিল না, কিন্তু তবুও কেন যুদ্ধ হল?

      ভাই, ইসরাইলেও নামাজ পড়তে বাধা নেই, সিকিমেও বাধা নেই। ব্যক্তি ধর্ম পরাধীন রাষ্ট্রেও করা যায় বা অন্য রাষ্ট্রের সাথে নিজেরা মিশে গিয়েও করা যায়। নবী (সা) শুধু ব্যক্তি ধর্মের নামাজ-রোজার কারণে আরব বিশ্বে যুদ্ধ করতে হয় নি। বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের আন্দোলনও এই নামাজ পড়া কেন্দ্রিক ব্যক্তি ধর্ম নিয়ে নয়। আমার বুঝ মত আপনি রাসূলের হাদিস ভুল বুঝেছেন। মুসলিম শাসক বলতে তাদের বুঝানো হয়েছে যারা রাষ্ট্রের অবকাটামো শারিয়ার ভিত্তিতে রেখেছে কিন্তু নিজেরা ধর্ম কর্ম করছে না এবং স্থান বিশেষে স্বেচ্চাচারিতা করছে। আপনি কি দিয়ে কি বুঝতে চাচ্ছেন তা আমার জানা নেই। আমি আপনার সাথে কোন বিতর্ক করব না, কেননা সেই বিতর্কের কোন ভিত্তি দেখা যাচ্ছে না।

      আমার কথা আমি লিখেছি। আপনি একমত হতে হবে এমনটি নয়, আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেছেন এটাই যথেষ্ট। আবার, সময় করে আমার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রতিপাদনের চেষ্টা করে ব্লগের আলোচনায় শরিক হয়েছেন এজন্যও ধন্যবাদ। ভাল থাকুন। দোয়া রইল। এ পোষ্টে আগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের উপর লিখাটি পড়ছেন কি না জানিনা। তা পড়লে হয়তবা আপনার কাছে এ ব্লগের পিছনের উদ্দেশ্য খুঁজতে হত না । আর মুসলিম ঐক্যের এবং মুসলিম বিশ্বে ইসলামী রেনেসাঁর গুরুত্ব বুঝতে পারতেন।

  17. 7
    মহিউদ্দিন

    এ নিবন্ধে যারা মন্তব্য করেছেন সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ। বিষয়টির গুরুত্ব অনুভব করে যারাই ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের মূল্যবান কথার আলোকে অনেক কথা বলার থাকলেও পেশাগত কাজের ব্যস্ততায় দ্রুত সকল মন্তব্যের প্রতিউত্তর দিতে পারছিনা সে জন্য ক্ষমা প্রার্থী। তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় আপনারা আলোচনা চালিয়ে যাবেন সে প্রত্যাশা রইল। 

  18. 6
    md farhad meazi

    প্রথমেই এত সুন্দর একটা লেখার জন্য ধন্যবাদ। আসলে কোন দেশে সঙ্খালঘুরা যখন ক্ষমতা পায় তখন তারা অনেকটা ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করে, আর যখন পুরু রাষ্ট্রের ক্ষমতা তাদের হাতে চলে যায় তখন তো রীতিমত অত্যাচার শুরু করে।

    সিরিয়ার যে সমস্যা সেটাকে আমি এককভাবে ধর্মীয় কোন সমস্যা বলে মনে করি না,আবার এককভাবে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সেটা ও বলব না,কারন এখানে শিয়া সুন্নির দ্বন্দ্ব যেমন আছে ঠিক তেমনি স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও আছে। শিয়ারা ধর্মীয় দিক থেকে সুন্নিদেরকে প্রধান শত্রু মনে করে তাই তারা চাইছে সুন্নিদের শক্তির জায়গাটা চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দিতে।

     

    আমাদের মুসলিমদের আজকে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কথা ছিল, সেখানে এগুলা কি হচ্ছে???????? যেখানে আল্লাহতালা অপর মুসলমানকে হত্যা করা হারাম ঘোষণা করেছে সেখানে ধর্মের নামে মুসলিম হত্যা আসলে কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?

    আজকে সওদি আরব যার প্রধান শত্রু হচ্ছে শিয়া মুসলিম প্রধান দেশ গুলু,অপর পক্ষে মুসলিমদের চিরশত্রু কাফের বেঈমানরা তাদের মিত্র!! what a ridiculous!

    জামায়েতে ইসলামী যেমন কোন ইসলামী দলের নাম না ঠিক তেমনি সওদি আরবের শাসকরাও কোন মুসলিম সাসক না

    আজকে আমাদের বাংলাদেশের অবস্থাও একইরকম হচ্ছে কিন্তু আমাদের ঘুম ভাঙছে না।

      

    1. 6.1
      মহিউদ্দিন

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      "এগুলা কি হচ্ছে???????? যেখানে আল্লাহতালা অপর মুসলমানকে হত্যা করা হারাম ঘোষণা করেছে সেখানে ধর্মের নামে মুসলিম হত্যা আসলে কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?"

      আসলে মুসলিমরা আজ নিজেরাই নিজেদের শত্রু তাই বাহিরের শত্রু থেকে মুক্তি পাবে কি ভাবে? এ বিষয়ে বেশ পূর্বে একটি ব্লগ লিখেছিলাম। লিংক দিলাম। সময় সাপেক্ষে পড়ার অনুরোধ রইল।  

  19. 5
    মুনিম সিদ্দিকী

    হাই মরলা হাঞ্জা রাইত আর বউয়ে কান্দিয়া উঠলা পতা রাইত!

    কিছু করার নাই। পায়ের নিচের মাটি অনেক দূরে সরে গেছে, সিকিমের মানুষের জীবন যে ভাবে চলছে আমাদেরও সেই ভাবে চালিয়ে যেতে হবে আর কি?

    অথচ আল্লাহ আমাদেরকে সুযোগ দিয়েছিলেন একবার ৪৭ এ নতুন একটি দেশ দিয়েছিলেন। সে দেশ পেয়ে আমরা তাতে ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি, আমরা লুটে পুটে খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, মুসলিম হয়ে মুসলিমকে ভাষার জন্য গায়ের রঙ এর জন্য ঘৃণা করি। এর মধ্যে শয়তান সুযোগ পেয়ে রুটিতে গুড় লাগাতে থাকে। আমরা মুসলিম ঐক্য রক্ষার জন্য চেষ্টা না করে বাংগালী পাঞ্জাবী চাকুতে শান দিতে থাকি। যার পরণতিতে ৭১ এলো, এরপরও আল্লাহ রহমত করেছিলেন, কিন্ত ক্ষমতায় থেকেও আমরা হালুয়া রুটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ার ফাকে তলে তলে তারা অনেক দূর এগিয়ে আসে, একের পর এক শিকড় কাটতে কাটতে এখন তারা আমাদের পীঠে চড়ে বসেছে। এখন করার কিছুই নেই। 

    1. 5.1
      শাহবাজ নজরুল

      হাই মরলা হাঞ্জা রাইত আর বউয়ে কান্দিয়া উঠলা পতা রাইত!

      কিছু করার নাই। পায়ের নিচের মাটি অনেক দূরে সরে গেছে, সিকিমের মানুষের জীবন যে ভাবে চলছে আমাদেরও সেই ভাবে চালিয়ে যেতে হবে আর কি?

      অথচ আল্লাহ আমাদেরকে সুযোগ দিয়েছিলেন একবার ৪৭ এ নতুন একটি দেশ দিয়েছিলেন। সে দেশ পেয়ে আমরা তাতে ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি, আমরা লুটে পুটে খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, মুসলিম হয়ে মুসলিমকে ভাষার জন্য গায়ের রঙ এর জন্য ঘৃণা করি। এর মধ্যে শয়তান সুযোগ পেয়ে রুটিতে গুড় লাগাতে থাকে। আমরা মুসলিম ঐক্য রক্ষার জন্য চেষ্টা না করে বাংগালী পাঞ্জাবী চাকুতে শান দিতে থাকি। 

      যেখানে প্রায় সমস্ত ভুল করা হয় পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে (ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও) সেখানে আপনি 'ইনসাফ' প্রতিষ্ঠার সকল দোষ চাপালেন আমাদের নিজেদের উপর এই বলে যে আমরা "মুসলিম ঐক্য রক্ষার জন্য চেষ্টা না করে বাংগালী পাঞ্জাবী চাকুতে শান দিতে থাকি"। লুটে পুটে খাওয়া থেকে শুরু করে 'ব্রাহ্মনীয়' মুসলিমবাদের চর্চা করলো পশ্চিমারা -- আর আপনি দোষ দিলেন বাঙালি 'মেথর' সম্প্রদায়ের? ভালই বলেছেন!!!

       

      1. 5.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        শাহবাজ ভাই, আস সালামু আলিকুম,

        আজকাল বোধহয় খুব রেগে মেগে চলছেন? 

        সহজ কথাকে কঠিন করে ফেলতেছেন যে,বাংগালী জাতীয়তবাদের দৈত্য আপনাকেও ধরাশায়ী করে ফেেলেছে? সব কিছুতে আঞ্চলিকতা টানছেন কেন?

        এখানে আমরা বলতে কাদের আমি বুঝিয়েছি?  তার মানে আপনি আমার মন্তব্যের মর্ম অনুধাবন করতে পারেননি।

        আমি আমরা বলতে এখানে বাংগালী জাতিয়তাবাদী বুঝাইনি, আমার মধ্যে বাংগালিত্ব তেমন ক্রিয়াশীল নয়, আমি মুসলিম ভ্রাতৃত্বে বিশ্বাসী, আমা র প্রথম পরিচয় আমি মুসলিম, আমার রাষ্ট্রীয় পরিচয় বাংলাদেশী। আমি এখানে আমরা বলতে পাকিস্তানী মুসলিমদেরকে বুঝিয়েছি। এখন যোগ বিায়োগ করে নেন দেখুন কে কাকে

        কি করেছিল।

        যাক যখন আপনি আমাকে অভিযুক্ত করে ফেলেছেন তখন আপনার কাছে দুটি প্রশ্ন না করে পারছিনা,

        ভাই আপনারা ধর্ম ও ইতিহাস বেশি জানেন, আমি তো ‘আনপড়ুয়া’ লোক। ‘পশ্চিমারা ব্রাহ্মণীয় মুসলিমবাদের চর্চা করল’ –এই কথাটির অর্থ আমি বুঝলাম না। এ বিষয়ের কোন ইতিহাস কিভাবে হয়, সেই দিগদর্শন দেবেন।

        তারপর পশ্চিমারা লুটে পুটে খেল –কি কি খেল এবং কিভাবে -তাও একটু বুঝিয়ে দিলে বাধিত হব।

        আপনারা শিক্ষিত লোক, আমাদের কথা তো আমাদের মতই। আর যেহেতু দলীয় রাজনীতি করি না, তাই সেই ভাষায়ও কথা বলি না। আমি কাউকে মেথর বলি নি। এটা আমার উপর না চাপালেও পারতেন। এই ভারত বর্ষে সর্বত্রই উঁচু নিচু ধারণা ও ব্যবহার দেখি, কারণ আমরা সাধারণ লোক। আল্লাহ হয়ত আমাদের সাধারণ বিবেককে কখনো কখনো প্রপাগান্ডা ভেদ করে সত্য দেখার সুযোগ দেন।

        1. 5.1.1.1
          শাহবাজ নজরুল

          মুনিম ভাই,

          সালাম নেবেন। আলোচনার জন্যে ধন্যবাদ।  লেখার ধারা অনুসরণ করলে মনে হয় আপনি "মুসলিম ঐক্য রক্ষার জন্য চেষ্টা না করে বাংগালী পাঞ্জাবী চাকুতে শান দিতে থাকি" -- বলতে বাঙালি জাতীয়তাবাদ উত্তরণের জন্যে বাঙালিদের'ই দায়ী করেছেন। যদি পাকিস্তানি মুসলিমদের বুঝিয়ে থাকেন তাহলে হয়ত আমার বুঝে সমস্যা হয়েছে। যাহোক পরিষ্কার করার জন্যে ধন্যবাদ। 

          উগ্র জাতীয়তাবাদীতা আমার মজ্জাতেও নেই। সেজন্যে পাহাড়ে জোর করে বাঙালি সেটেলার স্থাপনের বিরোধী আমি। আমার প্রথম পরিচয়ও মুসলিম অবশ্যই। যদি বাঙালি সংস্কৃতির সাথে ইসলামের সংঘর্ষ দেখি অবশ্যই আমাদের ইসলামের পথ নিতে হবে। তবে যেহেতু ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ইসলামের স্তম্ভ তাই ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকে আমি ইসলামের প্রতি দায়বদ্ধতা হিসেবেই দেখি। আর মুক্তমনাসহ, রাম আর বামপন্থীদের বুলি -- অর্থাৎ ৭১ এ বাঙালি যুদ্ধ করেছে ইসলামের বিরুদ্ধে -- এমন বানানো রূপকথার সম্পূর্ণ বিরুদ্ধেই আমার অবস্থান। 

          যাইহোক, আপনার অবস্থান পরিষ্কার করার করার জন্যে ধন্যবাদ। পশ্চিমা ব্রাহ্মনিয় মুসলিমবাদ বলতে আমি ৭১ এ পশ্চিম পাকিস্থানিদের আদর্শগত অবস্থানকেই বুঝিয়েছি। পাঞ্জাবিরা উঁচু জাতের মুসলিম আর বাঙালিরা নিচু জাতের মেথর সম্প্রদায় -- এমন উত্কট ধর্মিয় জাতীয়তাবাদ ছিল (এবং এমনকি এখনো আছে) পশ্চিম পাকিস্থানিদের মনে আর মজ্জায়। আমি সেই কথাই বুঝিয়েছি। 

          যাইহোক, ভালো থাকেন মুনিম ভাই। নুতুন কিছু লিখা দিন। অনেক দিন আপনার লেখা পাচ্ছিনা। 

          ধন্যবাদ। 

        2. মুনিম সিদ্দিকী

          শাহবাজ ভাই কথার পীঠে কথা উঠে আসে। আমার অনুমান যদি ভুল না হয় আমাদের দেশের চলমান রাজনৈতিক কার্যকলাপের ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া হিসাবে বিগত ২/৩ বছরে আমাদের মধ্যে নিরবে একধরণের দ্বিধা দ্বন্ধ লক্ষ্য করছি যার কারণে সদালাপ বেশ ঝিমিয়ে গেছে মনে হচ্ছে।

          আপনি উল্লেখ করেছেন,”তবে যেহেতু ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ইসলামের স্তম্ভ তাই ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকে আমি ইসলামের প্রতি দায়বদ্ধতা হিসেবেই দেখি।“

          তো আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, আপনি যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে মুক্তিযুদ্ধ করলেন। সে মুক্তিযুদ্ধের বয়স আজ ৪৬ বছর হয়ে গেছে?  আপনি এই ৪৬ বছরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন?

          ২য় প্রশ্ন ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র কারণ কি ছিলো পাকিস্তানী ব্রাহ্মণ্যবাদ?

          ৩য় প্রশ্ন পৃথিবীতে কি এমন আর কোন জাতি আছে যে, একটি দেশের জন্মের ৬ মাসের মাথায় রাষ্ট্র ভাষা কি হবে তানিয়ে আন্তকলহ সৃষ্টি করেছিলো?

          ৪র্থ প্রশ্ন, পাকিস্তান কি শুধু বাংগালী মুসলিম আর বর্তমানের পাকিস্তানী মুসলিমরা সৃষ্টি করেছিলো?

          এইটি সত্য নয় কি পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য সারা ভারতের মুসলিমরা পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছিলো?

          যদি সর্ব ভারতীয় মুসলিমদের আন্দোলন সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক নিয়মে নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায় নিয়ে যে দেশ সৃষ্টি হয়েছিলো, সেই দেশের রাষ্ট্র ভাষা উর্দু হলে আমাদের বাংগালীদের কি ক্ষতি হতো? জিন্নাহ কি ঘোষণা দিয়েছিলেন বাংগালীরা বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে পারবেনা?

          ৫ম প্রশ্ন পাকিস্তান কি পাকিস্তানী ব্রাহ্মণ্যবাদ  আদর্শ এবং বাংগালীদের মেথর জাতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সৃষ্টি হয়েছিলো?

          ৬ ষ্ঠ প্রশ্ন, আপনি পাকিস্তানীদের যে অভিযোগ করছেন পাকিস্তানী ব্রাহ্মণ্যবাদের জন্য, আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে কি বাংগালী ব্রাহ্মণ্যবাদীতা  বজায় নেই?

          যেই লাউ সেই কদুতে যদি আমাদের অবস্থান থাকে তাহলে ৭১ এর শহীদের রক্ত কি ব্যররথতায় পর্যবেশিত হয়ে পড়েনি?

          আমার বিচারে একাত্তরের মুক্তিযদ্ধ ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে আরেকটি ফিতনা ছিলো। 

          এখন উচিত পাকিস্তানীদের অধীনতা থেকে মুক্তি হয়ে যেন নতুন ভাবে ভারতের অধীনতায় আমাদের স্বাধীনতা বিসর্জন না হয় সেদিকে সজাগ থাকা।

  20. 4
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    সিরিয়ার ইতিহাস ও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ লক্ষ্য করে আজ অনেকে বলতে শুরু করছেন যে সিরিয়ার মত বাংলাদেশেও একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে একচেটিয়া তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে গিয়ে যদি এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠরা ক্ষমতার ভারসাম্যতা হারায় তা হলে কি হবে? 

     

     আমার মনে হয় আপনি হিন্দুদের কথা বলছেন "সংখ্যালঘু" হিসাবে। বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বসে আছে -- বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীতে এদের উপস্থিতি বেশ ভাল ভাবেই নজরে আসে -- যদিও সংখ্যানুপাতে ভারসাম্য কতটা রক্ষিত হচ্ছে তা জানি না। 

    যদি আপনার আশংখা সত্যও হয় -- তবে তা সিরিয়ার সাথে তুলনা করার চেয়ে রুয়ান্ডার সাথে বেশী তুলনা করা সঠিক হবে বলে মনে করি। তুটসি সংখ্যালঘু রাজা(২৮%) দেশটা শাসন করেছে দীর্ঘকাল এবং অর্থবিত্তে তারা সমৃদ্ধ হয়ে উঠে- কিন্তু পরবর্তীতে হুটুরা ক্ষমতায় এলে তুটসিদের নির্মূল করার লক্ষ্য গনহত্যা শুরু করে -- মাত্র ১০০ দিনে মোটামুটি ১ মিলিয়ন তুটশি হত্যা করে। 

    বাংলাদেশে যদি মুসলিম জাতীয়তাবাদের উত্থান হয় এবং যথেষ্ট গ্যালভানাইড হয় -- তবে এই ধরনের একটা ঘটনা হবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

     

    যাই হোক -- আপনারর ব্লগে আসলে সব সময় নতুন নতুন জ্ঞানার্জন করি -- এইবার একটা কমেন্ট থেকে দারুন জ্ঞানার্জন করলাম। 

     সেদিন (১৯৭১) ভারতের সাথে এক চুক্তিতে স্বাক্ষর দানের পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম নাকি অনেকটা মূর্ছান্বিত হয়ে পড়েছিলেন, রাতে ঘুমাতে পারেন নি। (কমেন্ট ৩) 

     

    ১৯৭১ সালে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারতের সাথে কোন চুক্তি করেছেন বলে জানতান না। মন্তব্যকারী একদম ভিতরের খবর দিয়েছেন। নিশ্চয় এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানবো -- রেফারেন্সসহ। এই আশায় থাকলাম। 

     

    ধন্যবাদ।  

    1. 4.1
      মহিউদ্দিন

      জিয়া ভাই, আপনার মন্তব্যে যা বুঝা গেল আপনার যুক্তি হচ্ছে বাংলাদেশ কখনো কোন সংখ্যালঘুদের হাতে গিয়ে থাকলেও মুসলিমরাই বরং তাদের উপর জেনোসাইড করে ফেলতে  পারে, যেমন রুয়ান্ডায়  টুসিদের (Tutsi)হুটুসগণ করেছিল। বাহ চমৎকার যুক্তি!

      ১) এর জবাবের আগে একটা কথা বলা দরকার।  আপনি সব সময় যে দলের পক্ষে ওকালতি করেন, তারাই যে আসলে দেশটাকে আফ্রিকার চেয়ে খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে (যা অনেকেই  বলছেন) অর্থাৎ যেভাবে বিরোধীদল নিধনযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে এ বিষয়টি আপনি ভালভাবে জানেন সে জন্যই হয়ত  রুয়ান্ডার  টুসিদের কথা আপনার মনে জেগেছে।  রুয়ান্ডায়  টুসিদের সাথে তুলনা করা এবং টুসিদের মত আচরণ  তারা সংখ্যালঘুদের উপর করতে পারে বলাটা  এদেশের মানুষের প্রতি আপনার নোংরা ও ঘৃণ্য ধারণা প্রকাশ পেল। আপনাকে ধিক্কার দিয়ে আমার লাভ নেই।

      (২) অতঃপর এটাও তুলনায় এনেছেন যে বাংলাদেশে যদি “মুসলিম জাতীয়তাবাদের” উত্থান হয় তবে আপনি এই দেশে জেনোসাইড হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারেন না!  

      (৩) এখানে মুসলিম জাতীয়তাকে গণহত্যার সমার্থক ভাবছেন এবং গণহত্যার এক সম্ভাব্য কেনডিডেটও মনে করছেন।    আজ বাংলাদেশে কত কিছুই ঘটছে। সন্ত্রাসের ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাস হচ্ছে। এক শ্রেণীর লোক মুসলিম জাতীয়তার ভয় অনুভব করছে, আপনি তো সেই ভয়ই প্রকাশ করছেন। অধিকন্তু দেশে মুসলিমদের নির্যাতন ও হত্যার ঘটনাও ঘটছে -শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যা এখনো স্মৃতিতে তাজা। তাছাড়া বিরোধী দল বিশেষ করে জামাত ও বিএনপির উপর নির্যাতন ও হত্যা তো আছেই, কেননা ওদেরকে হত্যা/নির্মূল করতে পারলে, দূর্বল করতে পারলে,  সেই ধরণের মুসলিম পরিচিতি নির্মূলের লক্ষ্যেও কাজ হয়ে যায় এবং বিদেশীদের কাছে যাবতীয় অপরাধের বৈধতা পাওয়া যায়। এই উদ্দেশ্যে  শিক্ষানীতির আমূল পরিবর্তন ঘটানোরও চেষ্টা হচ্ছে, সেই বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নে। গতকাল শিক্ষাব্যবস্থাকে অনইসলামিকীকরণের প্রতিবাদে  হেফাজতে ইসলাম বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। বর্তমান সময়ের অবস্থা কম নাজুক নয়। বর্তমানেই হিন্দুদের এলাকা থেকে মুসলমানদের তাড়ান বলেও সংবাদ প্রচারিত হতে দেখা যাচ্ছে। ভারতের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিভাগের প্রথম এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা স্টাফের উপ প্রধানের দৃষ্টিতে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির বিজয়ের মধ্যে ভারতের স্বার্থ নিহিত। গত নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতীয় রাষ্ট্রীয় তোড়জোড়দেশে বিদেশে  সবাই লক্ষ্য করেছেন এবং তাদের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং এর নগ্ন দূতিয়ালির কথাও কেউ ভুলে নি। কিন্তু কেন? কেন এমন হবে? কেন এমন অবস্থা? এই দেশ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার ইজারা তাদের হাতে কে দিয়েছে? যদি জাতীয় পরিচিতির বিষয় হয়, এমন কি যদি মুসলিম জাতীয়তাও হতে হয়, তবে সেই সিদ্ধান্ত কারা নেবে? একটি বিশেষ শ্রেণী? এটা কি সঠিক নয় যে দেশের জনগণই সেই আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে? 

      (৪) মুসলিম জাতীয়তা গণহত্যার সমার্থক ও সম্ভাব্য কেনডিডেট এমন কথা একমাত্র মুসলিম বিদ্ধেষীরাই বলতে পারে, এটা আপনার মুখে শোভা পায় না। মুসলিমরা পাকভারতে আটশ বছর শাসন করেছে তার পরেও ভারতে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ট থাকতে পেরেছে। আপনার এ ধারণা নিছক মিথ্যা। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদেরকে মুসলিম জাতির লোক ভাবে। এখানে আর সেই জাতীয়তার উত্থান আর কিভাবে হবে? যারা বাংলাদেশের ইসলামকে ‘বাড়াবাড়ির ইসলাম’ মনে করে এরা বিদেশিদের এজেন্ট। এদের ইসলামী জ্ঞান নেই। এরা বিদেশি আদর্শের এজেন্ট। "বাংলাদেশে যদি মুসলিম জাতীয়তাবাদের উত্থান হয় এবং যথেষ্ট গ্যালভানাইড হয়  তবে এই ধরনের একটা ঘটনা হবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।" কি সাংঘাতিক কথা! এই বিশ্বে অনেক জাতি আছে। জাতি হলেই তারা গণহত্যাকারী হয় না।  কিন্তু কেউ “মুসলিম” জাতি হলে অথবা তারা “মুসলিম” জাতির লোক বললে তারা গণহত্যার সমার্থক হয়ে পড়ে? তাহলে এই “মুসলিম”শব্দটিতে গণহত্যার বিষয় রয়েছে। এটা এক ভয়ানক বিষয়! জিয়া ভাই, এসব ফালতু কথা আপনাকে কে শিখিয়েছে? আপনি রেফারেন্সসহ আলোচনা করুন।

      (৫) আমরা উসমানী সাম্রাজ্যকে মিল্লেত (মিল্লাহ/জাতি) সিস্টেমে এক সুদীর্ঘ কাল ব্যাপী চালিত হতে দেখেছি। ওখানে প্রধান প্রধান ধর্মী শ্রেণী ‘জাতি’ হিসেবে পরিগণিত ছিল। আপনার থিওরি অনুযায়ী মুসলিম মিল্লাতের হাতে বাকীরা নির্মূল হয়ে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তারা কি নির্মূল হয়েছে? ওখানে বরং অপরাপর সম্প্রদায়ের নিরাপদ ছিল (১। When the Islamic State Saved 150,000 Jews  ২।  Five Muslim rulers that saved Jews) ।

      (৬) আপনি অনেক মন্তব্যে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির বিপক্ষে কথা বলেছেন এবং এই কয় দিন আগেও আপনি  "প্রকৃতপক্ষে দ্বিজাতি তত্ত্ব যে একটা ভ্রান্ত এবং প্রতারনা ছিলো’ বলেও মন্তব্য করেছেন।  আর ইংরেজ আমলে পূর্ব বাংলার মানুষ কেন বঙ্গভঙ্গ করতে গিয়েছিল এবং কি প্রক্ষিতে সে আন্দোলন করতে গিয়েছিল? আপনি ‘জাতি-দ্বিজাতি’ বলতে কি বুঝেন, তা নিয়ে রেফারেন্সসহ একটি লেখা দেন, এ বিষয়ের পক্ষের বিপক্ষের আলচনা সমন্বিত করে এবং  দলীয় কেডারগিরি বক্তব্য সরিয়ে রেখে। এতে আমাদেরও জ্ঞান বাড়বে। 

      (৭) আপনি ৩ নম্বর কমেন্টের ব্যাপারে আমাকে না বলে সেখানে মন্তব্য করতে পারেন ওনি হযতবা জবাব দিতে পারেন।  ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে ভারত সরকার মুজিব নগর সরকারের সাথে ৭ দফা সম্বলিত একটি CLASSIFIED (গোপন) চুক্তি আদায় করে নেয় -এটা অতি আলোচিত বিষয়।  সরকারী অনেক CLASSIFIED তথ্য যাদের দেখার সুযোগ হয় এবং সেখানে উপস্থিত থাকার সুযোগ হয় তাদের মাধ্যমে অনেক সময় জানাজানিও হয়।  সেদিন দেশের স্বাধীন স্ট্যাটাস ছিল না বলে শেখ মুজিব তা নাচুক করেছিলেন –এমন কথাও রয়েছে। বিগত ৪৫ বৎসর ধরে এই আলোচনা। ইন্টারনেটে এর উপর অসংখ্য আলোচনা রয়েছে, তাই অতিরিক্ত বলার দরকার নেই।

  21. 3
    এম_আহমদ

    আপনার লেখাটি চিন্তা-জাগানিয়া। 

    বাংলাদেশের অবস্থা আমরা সবাই দেখছি এবং পড়ছি। তাই কীভাবে কী ঘটে যাচ্ছে তার ফিরিস্তি টানার দরকার নেই। আমরা অনেকে যদিও দেশ ছেড়ে চলে এসেছি তবুও বাংলাদেশ আমাদেরও দেশ। আমাদের জমি জমা ও আত্মীয় স্বজন সেখানে আছেন। সবার বাড়িঘর আছে। আমরা এই দেশের নাগরিকও। আমাদের দেশ ও জাতি নিয়ে কোন একটি গ্রুপ তাদের গলার আওয়াজ বড় করলেই সেটা বাকীদের কাছে নীরব হয়ে যাওয়ার বিষয় হয়ে যেতে পারে না।  মনে রাখতে হবে কতনা ছোট ছোট দল বড় বড় দলের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে, আর এখনো করে যাচ্ছে। এই জগতের ইতিহাস অসংখ্য বৈচিত্র্যে ভরপুর। এই ইতিহাস ভেদ করে আছে নানান প্রকারের রাজাকারী, কলা-কৌশল, বোকামি, আর ফালতু আবেগ। মীরজাফর যখন ইংরেজদের চুক্তিতে স্বাক্ষর করে তখন তারও মনে নাকি প্রতারিত হওয়ার সন্দেহ জেগেছিল, সে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ছিল। কিন্তু চলমান রাজনৈতিক মানসিকতার উপস্থিতিতে সেখান থেকে ফিরার পথ ছিল না। এমন ফিরা সম্ভব হয় না। অনেক বড় বড় অঘটন নাজুক মূহুর্ত্তে ঘটে। বেখেয়াল বশতও ঘটে। ধীরে ধীরে ঘটে –ঠার পাওয়া যায় না। সেদিন (১৯৭১) ভারতের সাথে এক চুক্তিতে স্বাক্ষর দানের পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম নাকি অনেকটা মূর্ছান্বিত হয়ে পড়েছিলেন, রাতে ঘুমাতে পারেন নি।

    আপনি অনেক কিছু লিখেছেন। যদিও অনেক কথা ইঙ্গিতবাহী তথাপি তা বুঝতে কারো অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। আজকের আধিপত্যবাদ সেদিনের আধিপত্যবাদের মত নয়। এর অনেক প্রকারভেদ রয়েছে। এর জাহেরি-বাতেনি রঙ-রূপ রয়েছে।  আমার ধারণা, যা হবার হয়েই গিয়েছে। এখান থেকে হয়ত আর ফিরার পথ নেই। তবে তাতে নৈরাশ্যেরও কিছু নেই। এ জগতের পরিক্রমা এভাবেই। সিকিম জাহেরিভাবে পরাধীন হলেও –জীবনের ধারা চলেই যাচ্ছে। কিছুই থেমে থাকে না। এটাই জীবন।

    সিরিয়ার বিদ্রোহ ও ধ্বংস লীলার অসংখ্য বেদনা দায়ক ঘটনার মধ্যে আল্লামাহ সাঈদ রামাদান আল-বূথীকে (র) কোরানের দারস করা অবস্থায় বোমা ফোটায়ে ও সাথে সাথে গুলি করে হত্যা ছিল এক অতি বেদনা দায়ক ঘটনা। আল-বূথী (র) মুসলিম বিশ্বের একজন অতি খ্যাতিমান আলেম ছিলেন। তিনি প্রথম দিকে সরকার বিরোধী আন্দোলনের অনেকটা নিষ্ক্রিয় সমর্থক ছিলেন কিন্তু যেকোনো কারণে প্রকাশ্যে আন্দোলন বিরোধী হয়ে উঠেন। হয়ত ধ্বংস ও মৃত্যু লীলার মুখে এসবের পক্ষে থাকা সম্ভব হয় নি। ২০১৩ সালে তাকে হত্যা করা হয়। এতে ১৪ জন নিহত ও ৮৪ জন আহত হন। মসজিদের ভিতরেই! অনেকের ধারণা সরকার  পক্ষ তাকে হত্যা করে বিদ্রোহীদের উপর দোষ চাপিয়ে সুন্নি বিদ্রোহীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্য ছিল। আল-বূথীর শাহাদাত সুন্নি বিশ্বের এক বিরাট ক্ষতি ছিল।

    1. 3.1
      এম_আহমদ

      আমি আ’লাউয়ীদের ব্যাপারে একটি কথা সংযোগ করতে চাই। আমার উপরের মন্তব্য করতে গিয়ে আল্লামাহ আল-বূথীর একটি ভিডিও নজরে পড়ে যেখানে তাকে আ’লাউয়ীদের ধর্মমত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি তাদেরকে অমুসলিম বলতে রাজি হন নি। ধর্মের ব্যাপারে সকল গোত্র-গোষ্ঠীতে জ্ঞান ও আমলের পার্থক্য থাকে। তার মতে সবাইকে সামগ্রিক বৈশিষ্ট্যে এনে মত প্রকাশ ঠিক নয় এজন্য তাদেরকে অমুসলিম বলেন নি।

      আপনার ব্লগে ড. মোহাম্মদ সালাহ আ’লাউয়ীদের ব্যাপারে যে মত প্রকাশ করেছেন, তার পরিবর্তে, আমি ইতমিনানের সাথে আল্লামাহ সাঈদ রামাদান আল-বূথী (র) মতকে গ্রহণ করব। ড. মোহাম্মদ সালাহ সম্ভবত সালাফি মযহাবের লোক। তিনি শিয়াদেরকেও ইসলাম ধর্মের লোক মনে করেন না। তাদেরকে disbelievers বলতেও তার বাধে না। হ্যাঁ, শিয়াদের একটি অংশ আলী (রা) ব্যতীত খোলাফায়ে রাশেদাকে খলিফা হিসেবে গ্রহণ করে না এবং তাদের কেউ কেউ তাঁদেরকে বিষোদগার করে যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।  কিন্তু খারেজিরা আলীকে (রা) বিষোদগার করত তার সামনেই, অত্যন্ত মন্দ ভাষায়। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে আলীকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তারা আমাদের ভাই যারা আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করছে। 

      1. 3.1.1
        ফাতমী

        @এম আহমদ,

        আমার মনে হচ্ছে, আপনি এখানে যা বলতে চাচ্ছেন তা বেশ গুরুত্বপূর্ন। একটি পোস্টে আলোচনা করলে মুসলিমদের উপকার হবে।

        1. 3.1.1.1
          কিংশুক

          হাজার বছর আগেই মুসলিমদের মধ্যে কোরআন হাদিসের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা ভিত্তিক বিভিন্ন দল সৃষ্টি হয়। যেমন : মুতাজিলা, শিয়াদের কিছু দল প্রমূখরা বিজ্ঞান, দর্শন, যুক্তি বিদ্যা দিয়ে ইসলামকে নিরীক্ষা করে শারিরীক পুনরুত্থানের পরিবর্তে আত্মিক পুনরুত্থান,  পৃথিবীর মতো কিন্তু অতুলনীয় সৌন্দর্য,  সুখ শান্তির  শারিরীক বেহেশতের  পরিবর্তে  আত্মিক ভিন্ন মাত্রার  বিমূর্ত  বেহেশত, দোযখ, বেহেশতে আল্লাহ্ কে দেখা যাবে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি নানান বিষয়ে আহলে সুন্নাহ পরিপন্থী বাতেনি নানান মত দেয়। কোরআন ও বাস্তব জ্ঞান বিরোধী মনে করে কিছু হাদিস ও অস্বীকার করে।  তাঁরাও নিজেদেরকে সহিহ মুসলিম দাবি করতো, আল্লাহ্ ও মোহাম্মদ সাঃ কে পূর্ণ বিশ্বাস করতো। যেমন ইবন সিনা ইত্যাদি । এখন যেমন এক দল আরেক দলকে তাকফির করে, তিলকে তাল বানায়, টাই বাবা-ইহুদিদের দালাল, কবর পুজারী মুশরিক,  নবীর দুশমন সাহাবার দুশমন ওহাবী জামাতি তাবলিগি খারেজি, তাগুত ও তাগুতের সহযোগি মুনাফিক বলে তখনও তেমনই আহলে সুন্নাহ, সুফি, সালাফি বাদিরা তাদেরকে তাকফির করে গেছেন। সুফি সম্রাট হুজ্জাতুল ইসলাম  মাহাবুবে  রব্বানি ইমাম গাজ্জালি রঃ দার্শনিক বিজ্ঞানীদের পদস্খলন ফাঁস করে ইবন সিনা ফাসেকের মুখোশ উম্মোচন করেছিলেন । অন্যদিকে বর্তমান কালের সালাফিদের প্রধান গুরু ইতিহাসের অন্যতম মেধাবী আলেম ইমাম ইবন তাইমিয়্যা রঃ ও তাঁর ছাত্র অসাধারণ মুহাদ্দিস আলেম ইবন কাইয়ুম দঃ ঐসব ফিতনা ঠেকাতে গণহারে তারা পর কালে অবিশ্বাসী কাফের বলে ফতোয়া দিয়ে গেছেন । ইমাম ইবন তাইমিয়া রঃ অবশ্য মোহাম্মদ সাঃ এর অবমাননা কারীর মৃত্যুদণ্ড, মুরতাদের মৃত্যু বন্ড, শরিয়া  শাসিত না হলে শাসককে তাগুত হিসাবে তাকফির করতেন।  আহলে সুন্নাহ পরিপন্থী মতবাদ ঠেকাতে তাকফিরের প্রয়োজন আছে, তা হলে কাফের হবার ভয়ে কেউ এসব দলের ফাঁদে পড়ে মুতাজিলি, বাতেনি, শিয়া ইত্যাদি বাতিল মতবাদি হবেন না, ভুলেও তা দের বই পুস্তক পড়বেনা। তবে আসল বিচারক আল্লাহ্ তায়ালা। ঈমাণ নিয়ে মরলে তিনি কার সাথে কি ব্যবহার করবেন তা আমরা বলতে পারিনা। কিন্তু বাতিল মতবাদ ঠেকাতে তাকফির ভাল ব্যবস্থা ।

           

        2. মাহফুজ

          //ইমাম ইবন তাইমিয়া রঃ অবশ্য মোহাম্মদ সাঃ এর অবমাননা কারীর মৃত্যুদণ্ড, মুরতাদের মৃত্যু বন্ড, শরিয়া  শাসিত না হলে শাসককে তাগুত হিসাবে তাকফির করতেন।//

          ১) বাহ্যিক কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলাম বিরোধী মনোভাব কিংবা স্রষ্টার প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে অযথা সরাসরি কাফের বা নাস্তিক ভাবা বা বলা উচিত নয়।

          ২) শুধুমাত্র হাদিছের বক্তব্যের উপরে ভর করে রচিত ইসলামি শরীয়াহ আইনের দোহাই দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসকারী ধর্ম ত্যাগী মুরতাদ বা নাস্তিক কিংবা ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের উপর কোনরূপ অত্যাচার করার কিংবা মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পারমিশন আল-কোরআন দেয় না।

  22. 2
    মহিউদ্দিন

    পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

  23. 1

    Jajak-allah-

    Good said.

Leave a Reply

Your email address will not be published.