«

»

May ১৯

ধর্মের আড়ালে ব্যভিচার!!

পৃথিবীর সব ধর্মের সমাজেই এক শ্রেণী হীন প্রকৃতির ধর্মীয় যাজক, পুরোহিত, পণ্ডিত পাদ্রী ও মুল্লাদের দ্বারা ধর্মের মর্যাদাহানিকর আচরণ বিশেষকরে যৌন বা আর্থিক ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের কেলেঙ্কারি প্রায়ই শুনা যায়। তবে পরিসংখ্যান মতে দেখা যায় মুসলিম সমাজে এসব তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তাই বলে ধর্মের মর্যাদাহানিকর কোন হারাম আচরণ বা কেলেঙ্কারিকে প্রশ্রয় দেয়া সম্ভব নয়। যখনই যেখানে এসব দেখা যাবে তার প্রতিবাদ ও সমালোচনা করা ঈমানী দায়িত্ব।

ইসলামের নামে যদি কোন কুপ্রথা চালু করার অপ্রয়াস করা হয় তার অন্যতম একটি হচ্ছে এক সঙ্গে আরবি শব্দ "তালাক" তিনবার স্বামী রাগের মাথায় বা ঠাণ্ডা মাথায় বললে তথাকথিত "হালালা" করার ফতোয়া!!
সে দিন সিবিসি রেডিওতে একটি ডুকুমেন্টারী শুনলাম "হালালা সার্বিস" নামে লন্ডনে কিছু লোক যে কত মেয়ের জীবন নষ্ট করছে তার হিসাব নাই! ব্যাপারটি বুঝতে প্লিজ নিচের ভিডিওটি শুনেন। যারা ভিডিও দেখতে চাননা তারা এখানে রিপোর্টি পড়তে পারেন

কথা হচ্ছে মাথা-গরম স্বামীর এক সাথে তিন তালাক উচ্চারণে যখন তালাক চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে মনে করা হয় বা ফতোয়া দেয়া হয় তখন মহিলারা নিজেদের জীবন ও সংসার রক্ষা করতে গিয়ে তথাকথিত "হিল্লা বা সুরাহা" করার উদ্দেশ্যে "হালালা" করার যে ব্যভিচারের ফাঁদে পড়ে তা শুনলে মাথা খারাপ হওয়ার অবস্থা এমনকি বেশ কিছু মসজিদের ইমামরাও নাকি এসব ব্যভিচারের কুকর্মে জড়িত!

অনুতপ্ত স্বামী এবং বিধ্বস্ত একটি পরিবার ও একজন অসহায় মহিলা এবং তার সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ রক্ষায় মহান আল্লাহর প্রদত্ত শান্তির ধর্ম ইসলামে কি এসব গ্রহনযোগ্য? ভাবতে অবাক লাগে।

একসাথে "তালাক" শব্দ তিনবার উচ্চারণ করে দিলেই কি তালাক হয়ে যায়? একটি বিবাহ বিচ্ছেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি এত সহজ ও দ্রুত হয়ে যায় তাহলে কোরআনে তালাক সম্পর্কে যে নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা আল্লাহ সুরা বাকারা ও তালাকে বলেছেন তার অর্থ কি?

তাই বলব, যারা এই হালালা নামের এই হারাম কুকীর্তির সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম সমাজকে আরো সচেতন হওয়া উচিত এবং সবাইকে এ বিষয়ে বেশী বেশী লিখা উচিৎ। চিন্তা করেন বিবিসির এ ডকুমেন্টারি কত মিলিয়ন মানুষ শুনেছে এবং তারা মুসলিম সমাজের প্রতি কি ধারণা পোষন করল? চরিত্রহীন এসব মুল্লাদেরকে কারা ঠিক করবে? ধর্মের নামে এসব মনগড়া ফতোয়া দেবার অধিকার এসব মুল্লাদেরকে কে দিয়েছে?

মদীনায় অবতীর্ণ সূরা আল মুজাদালাহ (৫৮:২) আয়াতটি লক্ষ্য করুন মহান আল্লাহ বলেন,

"তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মাতা নয়। তাদের মাতা কেবল তারাই, যারা তাদেরকে জন্মদান করেছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।"

এখানে এ কথাটি স্বামী নিশ্চয় আদর করে বলতনা বরং রাগের মাথায় স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদের উদ্দেশ্যই বলা হত। এটি একটি কুসংস্কার ছিল তখনকার আরবদের সমাজে। এবার বুঝেন সে সময়ের আরবরা কোন কোন বিষয়ে কত আদিম (Premitive) প্রকৃতির আবেগপ্রবণ মূর্খ ছিল। দু:খের বিষয় হল সে রোগ আজও একটি  মহল কোন চিন্তা ভাবনা না করে মুসলিম সমাজে ধর্মের নামে চালিয়ে দিতে চায়! 

মুখে কথা উচ্চারণ করলেই কিছু হয়ে যায়না এটিকে সত্যিকার অর্থে বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে বুঝতে হবে। কোন স্বামী তার স্ত্রীকে মুখে "তালাক" বলে দিলেই তালাক হয়ে গিয়েছে বলে ফতোয়া দেয়ার সেই সব মুল্লারা কোরআনের উপরোক্ত আয়াতের মর্ম কি সত্যিকার অর্থে বুঝতে পেরেছেন? বরং স্বামীকে প্রশ্ন করতে হবে "সত্যিই তুমি তোমার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাও কি না"? Did he really mean it? যদি ইয়েস হয় তাহলে তাকে আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ম ও প্রক্রিয়া ফলো করতে হবে যা অল্লাহ সুরা বাকারা ও সুরা তালাকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন। এই নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরে বলা যেতে পারে যে স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে। কেউ মুখে বলল সে নামাজ পড়বে কিন্তু বাস্তবে পড়লা না তাহলে কি তার নামাজ হয়ে গেল?

মুসলিমদের জন্য সুখবর হল মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর সমাজে এবং প্রায় সকল স্কলারেরা "হালালা বিবাহকে" একটি অবৈধ হারাম প্রথা হিসাবেই বলে থাকেন তবে কিছু সংখ্যক চরিত্রহীন ও অর্থের লোভী মুল্লাদের জন্য ইসলাম ও মুসলিমদের উপর আজ মিডিয়া যে অমানবিক কালো ছাপ লোপনের সুযোগ পায় তা বন্ধ করতে হবে।

তাই আমার এক বন্ধু হয়তবা বিরক্ত হয়ে বলতে বাধ্য হয়েছেন যে "ধর্মের অনেক বিষয় এক ধরণের চর্ম রোগের মত। এটা আমরণ থাকবে" ।

তবে কথা হচ্ছে আমরণ থাকবে ভাবলেও এটাকে ঠাণ্ডা করা যেতে পারে সে জন্য দরকার যুগ-উপযুক্ত জ্ঞানবর্জিত ধর্মীয় নেতৃত্বকে বিসর্জন দিয়ে তাকওয়া ও বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা চেতনার ধর্মীয় নেতৃত্ব গড়ার। যারা কোন বিষয়ের গভীরে দৃষ্টি দেয়ার ক্ষমতা রাখে এবং বুঝতে সক্ষম হয় যে ধর্ম পালনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে স্রষ্টার সৃষ্টির কল্যাণে। আর এ উপকারটি কেন এবং কিভাবে অর্জন করতে হবে তা বুঝাতে হবে বা বুঝাবার দক্ষতা ধর্মীয় নেতৃত্বের মাঝে থাকতে হবে। কেননা কারো ধর্ম পালন বা না পালনে স্রষ্টার কোন ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা তার সৃষ্টির পক্ষে সম্ভব নয়। আবার কোন এক বিশেষ যুগের বিশেষ কালচার বা সাংস্কৃতিক কিচ্ছা কাহিনীর  আসল  প্রেক্ষাপঠ না জেনে ধর্ম পালন হচ্ছে বলে ফতোয়া দিয়েও সম্ভব নয়। যেহেতু আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (স:) এসবের কথা কখনও বলেন নাই।

যে ভিডিওটির কথা উপরে উল্লেখ করেছিলাম তা নিম্নে দিলাম।

অনেকে হয়তবা বলতে পারেন অন্যান্য ধর্মের পাদরী পুরোহিতদের কুকীর্তি ও কেলেন্কারির (Scandal) তুলনায় ইসলামে এখনও অনেক কম। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তাই বলে কি আমরা নিরব থাকতে পারি? উপরের সে রিপোর্টটি প্রকাশের পর অমুসলিমরা কিভাবে ইসলামের ব্যাপারে বদনাম ছড়াতে সক্ষম হচ্ছে শুনতে নিচের ভিডিওটি দেখেন।

ভিডিওটি লন্ডন হাইড পার্কের স্পিকার্স কর্নারে ধারণ করা বেশ কোলাহলের মাঝে কথা হচ্ছে খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন।

১২ comments

Skip to comment form

  1. 7
    মাহফুজ

        অনেকে নিচের হাদিছ অনুসারে হযরত ওমর (রাঃ) এর আমলের দোহাই দিয়ে এখনো যে কোন পরিস্থিতিতেই হোক না কেন যেনতেনভাবে 'এক নিঃশ্বাসে তিন তালাক' দিলেই চূড়ান্তভাবে তালাক হয়ে যাবার জোর দাবি তোলেন। অথচ বিষয়টি যে মোটেই তেমন নয় তা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আমার এই প্রচেষ্টা কতটা গ্রহনযোগ্য হবে, নাকি হাবেনা সেটা মূল বিষয় নয়। সাধ্য অনুসারে সত্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (সাঃ) নির্দেশনার দিকে মুখ ফেরানোই আমার মূল উদ্দেশ্য। প্রকৃত খবর মহান আল্লাহতায়ালাই ভাল জানেন-

        Sahih Muslim 1472 c » The Book of Divorce- http://sunnah.com/muslim/18/24

        Abu al-Sahba' said to Ibn 'Abbas: Enlighten us with your information whether the three divorces (pronounced at one and the same time) were not treated as one during the lifetime of Allah's Messenger () and Abu Bakr? He said: It was in fact so, but when during the caliphate of 'Umar (Allah be pleased with him) people began to pronounce divorce frequently, he allowed them to do so (to treat pronouncements of three divorces in a single breath as one).

        [সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অধ্যায়ঃ ১৯/ তালাক- হাদিস নম্বরঃ ৩৫৪২। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) তাঊস (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আবূ সাহবা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বললেন, আপনার সেই সব (বিরল ও অভিনব প্রকৃতির হাদীস) হতে কিছু উপস্হাপন করুন না! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাঃ) এর যুগে তিন তালাক কি এক তালাক ছিলনা? তিনি বললেন, তো ছিলোতো; পরে যখন উমর (রাঃ)-এর যুগে লোকেরা বেধড়ক ও উপর্যপরি তালাক দিতে লাগল তখন উমর (রাঃ) সেটিকে (অর্থাৎ তিন তালাকের যথার্থ বিধি) তাদের জন্য কার্যকর করলেন।]

        Sahih Muslim 1472 a » The Book of Divorce- http://sunnah.com/muslim/18/22

        Ibn 'Abbas (Allah be pleased with them) reported that the (pronouncement) of three divorces during the lifetime of Allah's Messenger () and that of Abu Bakr and two years of the caliphate of Umar (Allah be pleased with him) (was treated) as one. But Umar b. Khattab (Allah be pleased with him) said: Verily the people have begun to hasten in the matter in which they are required to observe respite. So if we had imposed this upon them, and he imposed it upon them.

        [সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অধ্যায়ঃ ১৯/ তালাক- হাদিস নম্বরঃ ৩৫৪১। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ইবনু আব্বাস (রাঃ) সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এবং আবূ বকর (রাঃ)-এর যুগে ও উমর (রাঃ)-এর খিলাফতের প্রথম দুই বছর পর্যন্ত তিন তালাক এক তালাক সাব্যস্ত হত। পরে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, লোকেরা একটি বিষয়ে অতি ব্যস্ততা দেখিয়েছে যাতে তাদের জন্য ধৈর্যের (ও সুযোগ গ্রহণের) অবকাশ ছিল। এখন যদি বিষয়টি তাদের জন্য কার্যকর সাব্যস্ত করে (তবে তা-ই কল্যাণকর হবে।) সুতরাং তিনি তা তাদের জন্য বাস্তবায়িত ও কার্যকর সাব্যস্ত করলেন।]

        Sahih Muslim, Book 009, Number 3492

        Abu Sahba' said to Ibn 'Abbas (Allah be pleased with them): Do you know that three (divorces) were treated as one during the lifetime of Allah's Apostle (may peace be upon him), and that of Abu Bakr, and during three (years) of the caliphate of Umar (Allah be pleased with him)? Ibn Abbas (Allah be pleased with them) said: Yes.

        Sahih Muslim- 1472 b » The Book of Divorce- http://sunnah.com/muslim/18/23  

        Abu Sahba' said to Ibn 'Abbas (Allah be pleased with them): Do you know that three (divorces) were treated as one during the lifetime of Allah's Apostle (ﷺ), and that of Abu Bakr, and during three (years) of the caliphate of Umar (Allah be pleased with him)? Ibn Abbas (Allah be pleased with them) said: Yes.

        [সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অধ্যায়ঃ ১৯/ তালাক-- হাদিস নম্বরঃ ৩৫৪৩। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আবূস সাহবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকর (রাঃ)-এর সময়ে কি তিন তালাককে এক তালাক ধরতেন? তিনি বলেন, হাঁ এরুপই ছিল। তবে উমর (রাঃ)-এর যমানায় লোকেরা বেধড়ক ও উপর্যপরি তালাক দিতে লাগল। তারপর তিনি সেটিকে যথার্থভাবে কার্যকর করেন (অর্থাৎ তিন তালাকে পরিণত করেন।)]

        হাদিছের বক্তব্যে রাসূল (সাঃ) এর আমলে ও হযরত আবু বকর (রাঃ) এর খিলাফতের পুরোটা সময় এবং হযরত ওমর (রাঃ) এর খিলাফতের প্রথম দুই কিংবা তিন বছর ‘একত্রে তিন তালাক’ দেয়াকে 'এক তালাক' হিসেবে গণ্য করা হত কিনা তার উত্তরে- Yes অর্থাৎ 'হাঁ' শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে। আর (3491/1472a/৩৫৪১) নং হদিছে তিন তালাককে যে এক তালাক হিসেবেই গণ্য করা হত তা স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, সে সময় একত্রে তিন তালাক উচ্চারণ করলেই চূড়ান্তভাবে তালাক হয়ে যেত না। যদিও বাংলা অনুবাদের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয় নাই, বরং বন্ধনীতে আবদ্ধ বক্তব্যের কারণে হাদিছের মূল অংশের সাথে ভিন্নতা ও অস্পষ্টতাই পরিলক্ষিত হচ্ছে।

        ওমর (রাঃ) আসলেই কোরআন বিরোধী এরূপ সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন কিনা সে ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তাছাড়া সে সময় হিলালা/ হিল্লা নামের কোন ধরনের ''Playful play let'' এর অস্তিত্ব ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়না। কিন্তু পরবর্তীতে তো এরূপ সিদ্ধান্তের কারণেই সরল মানুষদেরকে ধোঁকা দেয়ার অপপ্রয়াস হিসেবে সমাজে হিলালা/ হিল্লার প্রচলন শুরু হয়েছে এবং আজও চলছে, তা তো অস্বীকার করার উপায় নেই। ধরে নিলাম হযরত ওমর (রাঃ) এর খেলাফতের কোন এক সময়ে হয়ত কোন বিশেষ কারন সাপেক্ষে 'একসাথে তিন তালাক' উচ্চারণ করলেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যওেয়ার বিধান কার্যকর করার পারমিশন পুরুষ জাতিকে দেয়া হয়েছিল।  কিন্তু হযরত ওমরের (রাঃ) সেই একক সিদ্ধান্তের উপর ভর করে আল্লাহর কালামের নির্দেশ, স্বয়ং রাসূলের (সাঃ) সুন্নাহ এবং ২য় খলিফা হযরত আবুবকর (রাঃ) এর সময়কার ইসলামের মৌল বিধানকে কিয়ামত পর্যন্ত উপেক্ষা করা কি ইমানদারদের জন্য শোভা পায়? হযরত ওমরের (রাঃ) পুত্র আবদুল্লাহ ইবনু ওমরের (রাঃ) স্ত্রী-তালাকের ঘটনাটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে পেশ করা যেতে পারে। এ সম্পর্কিত হাদিছ থেকে জানা যায় যায় যে, বিধিমত তালাক না দেয়ায় স্বয়ং রাসূল (সাঃ) সেই তালাক কার্যকর করেন নাই। বরং ইদ্দতের প্রতি খেয়াল না রেখে ঋতুস্রাব চলাকালিন অবস্থায় তালাক দেয়ায় রাগান্বিত হয়ে ইবনে ওমরের (রাঃ) স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। সেইসাথে ইদ্দতের প্রতি খেয়াল রেখে দুইবার তালাক দেয়ার শিক্ষা দান করেছিলেন এবং এর ব্যত্যয় করাকে মহান আল্লাহতায়ালার আদেশের অবাধ্যতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

        তবে স্বামী তার স্ত্রীর উপর ব্যভিচারের দোষারোপ করলে ‘লিয়ান’ করতে হয়। শুধুমাত্র এরূপ চরম পরিস্থিতিতে যখন একসাথে ঘর করার মত অবস্থা থাকে না, সেক্ষেত্রে বিবাহ ভেঙ্গে দেবার জন্য একসাথে তিন তালাক দেয়া যেতে পারে। তাছাড়া অন্য কোন অবস্থায় একসাথে তিন তালাক উচ্চারণ করলে এক তালাক হিসেবে গন্য হবে। এছাড়া অন্য কোন অবস্থায় একসাথে তিন তালাক দেয়ার মত হটকারী সিদ্ধান্ত নেয়া আল-কোরআনের বিধান মতে অবৈধ, পাপ এবং শাস্তি যোগ্য অপরাধ। আর যারা মিথ্যা অপবাদ রটনা করে তাদেরকে কঠিন শাস্তি ভোগ করেত হবে বলে সাবধান করে দেয়া হয়েছে। (সূরা নূর, ২৪:৬ – ১১) সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, অধ্যায়ঃ ৫৫/ তালাক-- হাদিস নম্বরঃ ৪৮৮১

        আমাদের ভুললে চলবে না যে, আল্লাহর বিধান জীবনকে জটিল ও কঠিন নয়, বরং সরল, সহজ ও অর্থবহ করে গড়ে তোলার জন্যই প্রেরিত হয়েছে। আল- কোরআন স্বার্থবাদী ধর্মব্যবসায়ীদের উত্তরাধিকার সম্পত্তি নয় যে তারা মনগড়া যা বলবে ও চাইবে তাই ধর্মীয় বিধান হয়ে যাবে। আল্লাহতায়ালার কিতাব হলো মুসলিমের জীবন পরিচালনার মূল উৎস এবং সেই উৎসের সাথে সম্পৃক্ত রাসূলের (সাঃ) সকল আদর্শ আমাদের জীবন পথের পাথেয়। তাই আসুন- মহান স্রষ্টার বাণী আল-কোরআনের রশি শক্ত করে ধরি এবং রাসূলের (সাঃ) আদর্শকে সঠিকভাবে চিনে ও মেনে জীবনকে সুন্দর ও অর্থবহ করে গড়ে তুলে।

        বিজ্ঞ ও বিবেকবান আলেম সমাজের কাছে বিনীত অনুরোধ, আপনাদের মুখের পানে চেয়ে থাকা সরল মানুষগুলোর জীবনকে সহজ, সরল ও শান্তিময় করার জন্য মহান আল্লাহতায়ালা যে বিধান দিয়েছেন তা সঠিকভাবে প্রকাশ করুন। অযথা কাঠিন্য আরোপ ও মনগড়া রীতির উদ্ভব ঘটিয়ে শান্তির ধর্ম ইসলামকে হাস্যস্পদ ও জটিল করে তুলবেন না। ইহকাল ও পরকালীন শান্তি ও মুক্তি প্রাপ্তিই যেন আমাদের সবার মূল লক্ষ্য হয়।

     

    1. 7.1
      মহিউদ্দিন

      @ মাহফুজ,

      ভাই, জাজাক আল্লাহ আপনার মূল্যবান কথাগুলোর জন্য।
      আসলেই এক সঙ্গে তিন তালাকের সমস্যাটি এক জটিল বিষয়। তাছাড়া আধুনিক সভ্যতার সামাজিক প্রেক্ষাপটে সংসার জীবনও এত স্ট্রেস-ফুল হয়ে গিয়েছে যে রাগের মাথায় স্বামী স্ত্রী অনেকে কখন কি বলে ফেলে একে অন্যকে তার হুশ থাকেনা। তাই আমাদের উলেমাদেরকে বর্তমান সামাজিক অবস্থার বিবেচনায় রাসুলের মূল কথাতেই ফিরে যাওয়া হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। ইমাম তাইয়েমার মতামতই এখনকার পরিস্থিতিতে বেশী বাস্তব সম্মত মনে হয় অন্যান্যদের মতামতকে এখানে না টানাই ভাল মনে হয় কারণ তাতে  বরং সমস্যাকে প্রকট করা ও “হালালা বিয়ের” হারাম রাস্তা খোলে দেয়া ছাড়া মানবতা বা এবাদতের কোন কাজে আসে না। আল্লাহ ভাল জানেন।

      এই ভিডিওটা শুনা দরকার

       https://www.youtube.com/watch? v=zZOhqrq46k0

  2. 6
    সাদাত

    সকল আলেম  এ বিষয়ে একমত যে হিল্লা বিয়ে একটি হারাম কাজ ও চরম অভিশাপের কাজ। কিন্তু এর সাথে একত্রে ৩ তালাকে মিশিয়ে আপনি যেভাবে পোস্ট দিয়েছেন সেটি অনুচিত। একসাথে ৩ তালাক দিলে ৩ তালাক পতিত হবে কি-না এই বিষয়ে মুজতাহিদ আলেমগণের মধ্য মতপার্থক্য আছে। সাধারণভাবে বড় ৪ ইমাম হতেই এর বৈধতার স্বীকৃতি পাওয়া যায়। অন্যদিকে ইমাম  তাইমিয়া র.  এর বিপক্ষে। যারা এর বিপক্ষে তারা অবশ্য বড় ৪ ইমামের মধ্য হতে ১/২ জন পরবর্তীতে বার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিলেন বলে দাবি করে থাকেন। যাই হোক এই একসাথে ৩ তালাক দিলেও ৩ তালাক পতিত হওয়ার ফতোয়া 'মেইড ইন ইন্ডিয়া' ফতোয়া নয়। বরং এই ফতোয়া হযরত  উমার রা. এর এবং তখন থেকেই তা প্রচলিত। কাজেই আপনার নিচের অভিমতটি কার গায়ে গিয়ে লাগে আরেকবার চিন্তা করুন:

    ইসলামের নামে যদি কোন কুপ্রথা চালু করার অপ্রয়াস করা হয় তার অন্যতম একটি হচ্ছে এক সঙ্গে আরবি শব্দ "তালাক" তিনবার স্বামী রাগের মাথায় বা ঠাণ্ডা মাথায় বললে তথাকথিত "হালালা" করার ফতোয়া!!

    আপনার পোস্টের মূল বিষয় ছিল হিল্লা বিয়ে, বিষয়টা সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকলেই ভালো ছিল। সেটাকে মাসআলা মাসায়েলের দিকে টেনে না নিলে এরং ্‌আলেমদের ব্যাপারে ভদ্রোচিত শব্দ আরোপ করার দিকে নজর দিলে ভালো হত। দীর্ঘ তর্ক করার সময় নাই। যা বলার তা বললাম।

     

     

    1. 6.1
      আহমেদ বেনজীর

      পূর্ণ সহমত। 

    2. 6.2
      মহিউদ্দিন

      সাদাত ভাই,
      আস সালামু আলাইকুম। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আসলে আপনাদের মত জ্ঞানী ও আলেম শ্রেণীর ব্যক্তিদের মন্তব্য দেখার প্রয়োজন অস্বীকার করা যায়না। তবে যারা হিল্লা-শরার সাথে জড়িত এমন মুল্লাদেরকে মুল্লা বা এমন কিছু বলায় যদি আমার ভদ্রতার কমতি হয় তাহলে আপনারা নিজেদের জ্ঞানে-গুণে সেটি পুষিয়ে নেবেন, আমি এমন লোকদের প্রতি ভদ্রতা না দেখালে হয়ত ক্ষতি হবে না। সবার জ্ঞান-বুদ্ধি তো এক মাপের নয়। 

      আপনার মন্তব্যটি রিপিট করি, “আপনার পোস্টের মূল বিষয় ছিল হিল্লা বিয়ে, বিষয়টা সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকলেই ভালো ছিল। সেটাকে মাসআলা মাসায়েলের দিকে টেনে না নিলে এরং আলেমদের ব্যাপারে ভদ্রোচিত শব্দ আরোপ করার দিকে নজর দিলে ভালো হত।” 

      কিন্তু হিল্লা বিয়ের এই বিষয়টি ট্রিপল তালাকের সাথেই সংযুক্ত হয়ে এসেছে এবং এই প্রেক্ষিতে রিপোর্টও হচ্ছে এবং এটা এভাবে আমাদের দেশেও হচ্ছে, ব্যাখ্যার হেরফের বাদ দিয়ে। আর এর সাথে এক শ্রেণীর মুল্লারা জড়িত। আপনি কি এই সত্য অস্বীকার করবেন? 

      সাধারণ বিবেচনায়ও, একসাথে এই তিন তালাক একটি অশুদ্ধ কাজ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে এবং এই অশুদ্ধ কাজ আরেকটি মন্দ কাজের দুয়ার খুলতে সাহায্য করেছে বা মন্দ কাজের কারণ হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন হবে আপনি কি এই ট্রিপল তালাকের অবসান চান, না এতে আপনার কোন উদ্বেগ বা কন্সার্ন নেই?  নিশ্চয় আছে, হয়ত এদিকে না হয় অন্যদিকে।

      যদি একসাথে ট্রিপল তালাক নিয়ে কন্সার্ন থাকে, তাহলে এর সমাধান কীভাবে আসতে পারে সেটি জানলে খুশি হব। এই ফোরামে ভাল পরামর্শ পেতেই তো এসব লেখা। আবার একত্রে ট্রিপল তালাক রেখে হিল্লার বিপক্ষে কথা বলে যাওয়াই যথেষ্ট হলে সেই যুক্তিও দেখানো উচিত।

      বিবিসি লন্ডনের মুসলিম সমাজে হিল্লার ঘটনাগুলোর সুযোগ নিয়েই বিদেশে অনেক দুর্নাম হচ্ছে। সুতরাং সব দিক দিয়েই “হিল্লা বিয়ের” উৎপত্তির স্থান কোথায় এবং কতটুকু সে বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি। 

      আমার এই লেখাকে কেন্দ্র করে যেসব মন্তব্য আসছে সেগুলো পড়লে বুঝা যায় যে তাঁরা হিল্লা বিয়ের উৎসের স্থান নিয়েও উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করছেন। বিশেষকরে এম_আহমেদ, মাহফুজ ও ওয়াহিদ ভাইদের মন্তব্যে তা প্রকাশ পায়। আজকে এসব বিষয় টানার প্রয়োজন এ জন্য যে এগুলো সমস্যা ও সমাধানের দিকগুলো বুঝতে সাহায্য করে। যে মাসআলা মাসায়েল সমাজে সমস্যার সৃষ্টি করে সেগুলাকে বাতিল করা হয়ত সময়ের দাবী।

       

  3. 5
    এম_আহমদ

    @ মহিউদ্দিন

    এখানে দেখুন একটা “গোয়ার” কীভাবে আপনারদেরকে ধর্ম শিক্ষা দিচ্ছে! স্বামীর কর্তব্য শেখাচ্ছে! ভালবাসা কীভাবে পেতে হয় তার বয়ান দিচ্ছে! শ্বশুরকে একবারও গালি দিতে যাবে কেন?! তারপর স্ত্রীকে দিয়ে কীভাবে পা টিপাবেন, সেই নিয়ম শেখাচ্ছে! তারপর সবচেয়ে মন্দ কথাটি হচ্ছে আয়েশার (রা) ব্যাপারে রাসূলের (সা) ভাষিক আচরণের বিষয় নিয়ে!! এই মূর্খ উল্লুকটা যে ভাষায় কথা বলছে রাসূলের (সা) বক্তব্যের টোন এভাবে ছিল না! আমি মাত্র দেড় মিনিট শুনার পর আর শুনতে অগ্রসর হই নি। হয়ত আরও জ্ঞানগর্ব বয়ান রয়েছে!! এরা হচ্ছে “সহীহ” ইসলামের লোক!  https://www.facebook.com/DAILYONEHADISA/videos/1290279551021780/?pnref=story

  4. 4
    ওয়াহিদুর রহমান

    একই সময় তিন বা তিনশ বার তালাক বললেও এক তালাক হয় মাত্র। আর এক তালাকের কার বলতে হয় এবং সংশোধনের সময় থাকতে হয় দ্বিতীয় তালাক পর্যন্ত। হিলা বলে কোন বিয়ে নেই। তবে তালাকের পর সাভাবিক নিয়মে তালাক প্রাপ্ত নারীর যদি অন্যত্র বিয়ে হয় এবং ঐ স্বামীও যদি কোন কারনে তালাক দিয়ে দেয়,না হয় মারা যায়, তাহলে সে নারী পুর্ব স্বামীকে বিয়ে করতে পারে। কিন্তু তালাক দেওয়ার ইনটেনশন নিয়ে যদি কেহ বিয়ে করে তাহলে সে বিয়ে বৈধ হয় না। মোতা বিয়ে ইসলামে যায়েজ নেই। মনে রাখবেন, কোন এমপ্লয়ার যদি তিন সময় কারন দর্শিয়ে তিনটি ওয়ার্নিং না দিয়ে কোন কারনে রাগ হয়ে একই সময় তিনটি ওয়ার্নিং দিয়ে কারো চাকরি টর্মিনেট করে সে টার্মিনেট বৈধ হয় না। আল্লাহ মানুষের চেয়েও বেশী ন্যায় পরায়ন; তাই তাৎখনিক ভাবে তিনবার তালাক বলে কোন নারীকে তালাক দেওয়া বৈধ হবে না। অধিকন্তু সুরা বাকারার ২৩১ ও ২৩২ আয়াতে আল্লাহ ইদ্দা পালন করার কথা বলে এবং এই সময়ের মধ্যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া না নেওয়ার অপশন দিয়ে ডিভোর্সের মতো এই নির্মম ব্যবস্থাটি পদ্ধতিগত করে দেওয়ার মাধ্যমে কিছুটা মানবিক করে দেওয়ার ব্যবস্থা কি করে দেন নি? আল্লাহ পুরুষকে নারীর উপর কিছুটা কতৃত্ত দিয়েছেন ঠিক, কিন্তু দায়বদ্ধতাও দিয়েছেন।  তারপরও সবচেয়ে বড় কথা হলো, নারীকেতো আল্লাহ পুরুষের হাতের পুতুল করে সৃষ্টি করেন নি যে, কতক্ষন খেললেন, খেলা শেষে, না হয় ভাল না লাগলে, আর না হয় রাগ হলে, ছুড়ে ফেলে দিলেন। মনে রাখবেন, অধিকারের সাথে দায়িত্ববোধও জড়িয়ে থাকে।      

  5. 3
    মাহফুজ

    আজকাল অনেকেই এভাবে সত্য কথা স্পষ্ট করে বলার সাহস রাখেন না। বিষয়টির গুরুত্ব রিয়ালাইজ করার জন্য এবং সময় উপযোগী পোষ্টের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আল্লাহতায়ালা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দেয়ার সাথে সাথে সত্যকে উপলব্ধি করার ও বলার ক্ষমতা এবং সাহস বৃদ্ধি করে দিন, সেই প্রার্থনা করছি।

    শিক্ষিত বৃটিশ মুসলিমদের মধ্যে এরূপ কুপ্রথার উত্থান খুবই দুঃখজনক ও চিন্তার বিষয়। তাহলে আমাদের এই দেশের ৬৪ হাজার গ্রামে-গঞ্জে কি অবস্থা চলছে তা সহজেই অনুমেয়। এটি যে মারাত্মক অন্যায় তা উপলব্ধি করতে পেরে ২০১১ তে এই দুটি ব্লগে (somewhereinblog.netamarblog.com) এ বিষয়ে (“একলগে তিন তালাক ও হিল্লা”- নাউযুবিল্লাহ) শিরোনামে কিছু বলার চেষ্টা করেছিলাম। তখন হয়ত না বুঝেই অনেকে আমার বিরোধীতা করেছিলেন। বেশ কিছুদিন হলো এ দুটো ব্লগের একটিতেও এখন আমার আর ঢোকার ও কমেন্ট করার পারমিশন নেই। পরবর্তীতে আমার নিজের সাইটে এ সম্পর্কে বিস্তরিত বলার চেষ্টা করেছি।

    ধন্যবাদ ও শুভকামনা-

     

    1. 3.1
      মহিউদ্দিন

      @ মাহফুজ
      ভাই, পাঠ ও মন্তব্যের জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

      “শিক্ষিত ব্রিটিশ মুসলিমদের মধ্যে এরূপ কুপ্রথার উত্থান খুবই দুঃখজনক ও চিন্তার বিষয়। তাহলে আমাদের এই দেশের ৬৪ হাজার গ্রামে-গঞ্জে কি অবস্থা চলছে তা সহজেই অনুমেয়।”

      আসলে পাক ভারত ও বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে ইসলামের অনেক বিষয়ে বিশেষ করে হাদিসের অপব্যাখ্যার কারণে যে  কুপ্রথা চালু হয়েছে তার কারণ হল ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে এসব সংকীর্ণ  ধ্যান ধারনার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার বা Institutionalized করার ক্ষেত্রে একটি  মহলকে যেভাবে শক্তিশালী করতে ব্রিটিশরা সাহায্য সহযোগীতা করে আসছিল তা আজ পশ্চিমা বিশ্বেও সাধারণ মুসলিম সমাজে বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছে। পশ্চিমা দেশে মুসলিম অধ্যাসিত এলাকার বিভিন্ন পড়ায় এক ধরনের জাতিগত (ethnic community based ) মসজিদ মাদ্রাসা গড়ে উঠছে সর্বত্র যার অনেক ইমামরা যে সেই সংকীর্ণ ধ্যান ধারনার অনুসারী নয় তা বলা যাবে না অতএব তাদের  সেই প্রভাব এখানেও এড়ানো সম্ভব নয়।

       আমি মসজিদ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার বিরোধী যেমন নই তেমনি অজ্ঞতার কারখানা সৃষ্টির পক্ষেও নই।

      উপরে প্রদত্ত বিবিসির ডুকুমেন্টারীর একটি ঘটনা নিশ্চয় খেয়াল করেছেন, ঘর থেকে স্ত্রীর সাথে ঝড়গা করে অফিসে গিয়ে স্ত্রীকে স্বামী তালাক, তালাক, তালাক লিখে একটি Text message পাঠিয়েছে  যা মেয়ে  তার বাবাকে দেখিয়েছে আর বাবা মেয়েকে বলেছে, “তোমার বিয়ে শেষ এখন তুমি অন্য বিবাহ না করে আর তোমার স্বামীর কাছে যেতে পারবে না!” পরের অবস্থা কি হয়েছে তা তো দেখেছেন।

      বেশ কয়েক বছর পূর্বে এক হুজুর এক বাসায় দোয়ার অনুষ্ঠানে বয়ান দিতে শুরু করেছেন জাহান্নামে মেয়েদের সংখ্যা বেশী হবার হাদিস দিয়ে! শুরু হল তার যুক্তি দেয়া, কেননা মেয়েরাই সব দুষের কারণ ইত্যাদি ইত্যাদি পরে দেখা গেল উপস্থিত মহিলা পুরুষের রোষনল এড়াতে তাকে দ্রুত সেখান থেকে পালাতে হয়েছিল! এই হল আমাদের তথাকথিত ধর্মীয় আলেমদের অবস্থা কি করবেন! আজ মনে হচ্ছে এদের সংখ্যাই দিন দিন বাড়ছে বেশী!

  6. 2
    সত্য সন্ধানী

    আসলালামু আলাইকুম মহীউদ্দীন ভাই, অসাধারন লেখাটির জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ। জানি না সদালাপে এই বিষয়ে আর লেখা আছে কিনা। তবে এই লেখাটি নিঃসন্দেহে খুবই দরকারী! 

  7. 1
    এম_আহমদ

    এক সাথে ৩ তালাক ও সামাজিক সমস্যা

    কি বলব বুঝতে পারছি না তবে বিবিসির এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে যে মন্দ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তা যে একত্রে ৩ তালাকের সাথে সম্পর্ক রাখে একথা অস্বীকার করা যায় না। এখানে তাই দীর্ঘ কিছু কথা বলতে হবে। না বললে উপায় নাই। কেননা নানান প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন সময় সমস্যা এড়ানোর জন্য দিয়ে থাকি কিন্তু অনেক সময় ভাবি যে সমস্যা কি এড়ানো হচ্ছে, না সমস্যা তার নিজ স্থানেই স্থির হয়ে বসে আছে আর আমরা ফালতু সময় নষ্ট করছি।

    প্রথমে কিছু প্রাথমিক কথা বলে নেই।

    এক সাথে তিন তালাক কার্যকর করার বিষয়টি হানাফি মাযহাবে বলিষ্ট হয়ে আছে। কিন্তু কিছু পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও চারি মাযহাবে এর ‘বৈধতার’ স্বীকৃতি রয়েছে! ইমাম হান্মল (র.) নাকি শেষ জীবনে এই অবস্থান থেকে সরে এসেছিলেন –এই কথা নাকি ইমাম তাইমিয়া নাকি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এসব কথা সঠিকভাবে নিজে না দেখে বলা মুষ্কিল কেননা মাযহাবি ও লা-মাজহাবি ফিরকায় একদল অন্য দলকে কুনুই মারতে নানান কৌশলে কথা বলেন এবং তিলকেও তাল করেন। আমি সবার কথা বলছি।

    ওমর (রা) থেকে শুরু

    তিন তালাক একত্রে কার্যকর করার প্রথা ভারতের হানাফিতে বেশি। আর তিন তালাকের প্রথা ওমর বিন খাত্তাবই (রা) শুরু করেন। তিনি যে কারণে এটি কার্যকর করেছিলেন তাতে সেদিনের সমস্যার সমাধান হয়েছিল না হয় নি সেটাও খুটিয়ে দেখার বিষয়। কিন্তু পরবর্তিতে এটি গ্রহণীয় হয়ে পড়ে এবং প্রথাগত হয়। প্রথার পিছনে জাস্টিফিকেশন থাকে অথবা খোঁজে পাওয়াও যায়। এই প্রথার গ্রহণীয়তার পিছনে এই মর্মে একটি হাদিস উল্লেখ করা হয় যে রাসূল (সা) বলেন, ‘আমার পরে তোমরা অনেক জটিল দ্বিমত দেখবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাহ ও হেদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশিদুনের সুন্নাহ (প্রথা/পদ্ধতি) দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে। নতুন আবিষ্কার করা জিনিস (বিদাত) থেকে সরে থাকবে, কেননা প্রত্যেক বিদাত ভ্রষ্টতা (سَتَرَوْنَ مِنْ بَعْدِي اخْتِلاَفًا شَدِيدًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَالأُمُورَ الْمُحْدَثَاتِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ) লিঙ্ক। ওমরের (রা) এই কাজে সেদিনের সাহাবাগণ প্রতিবাদ করেন নি। এই বিষয়টি বুঝতে আবার রাষ্ট্র প্রধানের আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বুঝতে হবে। এটি বুঝতে মৎপ্রণীত ‘সিয়াসাহ শারয়্যিয়্যা’ লেখাটি দেখা যেতে পারে।

    হানাফি আলেমগণ ৩ তালাককে এই মর্মে দেখেন যে ৩ তালাক একই সাথে দেওয়া সঠিক নয়, কিন্তু এটির মাধ্যমে কর্ম সম্পাদিত হয়ে যায়। কেউ কাউকে বন্দুক দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলে, ন্যায়/অন্যায় ব্যতীরেকে, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি মরে যায়। এভাবে ৩ তালাকের মাধ্যমে তার কাজটি সংঘটিত হয়ে গিয়ে থাকে। এই হচ্ছে বর্তমান যুক্তি। হানাফি এবং অন্যান্য আলেমদের মধ্যে ধর্মতাত্ত্বিক আরও অনেক যুক্তি রয়েছে।

    আমার বক্তব্য

    আমি ব্যক্তিগতভাবে একই সাথে ৩ তালাকের মত পছন্দ করি না, তবে ব্যতীক্রম হিসেবে যদি কোথাও তা ঘটে এবং সংশ্লিষ্ট স্ত্রী বিনা আপত্তিতে তা মেনে নেন, তবে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু সাধারণ রুল হিসেবে একত্রে ৩ তালাক একটি সাংঘাতিক মন্দ যুক্তি। একত্রে ৩ তালাকের সাথে বন্দুক দিয়ে কাউকে গুলি করে হত্যা করার যুক্তি সংগতি রাখে না। এটা গুলি করার মত জিনিস নয়। স্বামী বন্দুক হাতে স্ত্রীকে বিয়ে করে নাই বরং মেয়ের বা তার অভিভাবকের সম্মতিক্রমে এই বিয়ে সম্পাদিত হয়েছিল। এখন স্বামী রাগের মাথায় ৩ তালাক দিলেই তা শেষ হয়ে যেতে পারে না। কোরানের প্রোসেস মত হতে হবে। আমার নিজের জানা মতে ৩ তালাকের অনেক অঘটন ঘটতে দেখেছি। অনেক পরিবারের করুণ অবস্থা, অশান্তি, ধ্বংস ও হাহাকার দেখেছি। এর পরে এটাকে সমর্থন করতে পারি না। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ফতোয়া নিয়ে ঝগড়াঝাটিও দেখতে পছন্দ করি না।

    ওমর (রা) তাঁর সময়ে কোনো কারণে যদি রাষ্ট্র প্রধানের এখতিয়ারে তা করে থাকেন তবে সার্বিক বিবেচনায় তা আজ পর্যন্ত চলতে পারে না। এর যুক্তি নেই। আজ সেই যুগ নেই, সেই খিলাফতও নেই, ওমরও (রা) রাষ্ট্র প্রধানের দায়িত্বে নেই। আজকে দেখতে হবে এক সাথে ৩ তালাক একটি পরিবারকে কীভাবে ধ্বংস করতে পারে এবং কীভাবে সামাজিক দুর্বৃত্তিকে ডেকে আনতে পারে। আজ বিবিসি না দেখে নিজেদের সমাজের দিকে দৃষ্টিপাত করা উচিত। আমরা অনেক সময় অনেক কিছু কেবল হজম করে যেতে থাকি, ভয়ে ভয়ে কিছু বলি না। তারপর আমরা মুফতিও নই, গায়ে হাব্বা-জুব্বাও নেই।

    আজকের এই প্রচলিত ৩ তালাকের ফতোয়া ভারতের দেওবন্দ থেকে রিভাইজ হতে হবে এবং তাদের চেইনে তা প্রকাশ পেতে হবে। কিন্তু তারা তা করবেন বলে মনে হয় না বরং তাদের পূর্ববর্তী হুজুরদের তাজিম ও আবেগে আটকে যাবেন। বাংলাদেশের হেফাজতিগণ তো সাহসই করতে পারবেন না কেননা তাদের গিট দেওবন্দে। তাই কী আর করা। আল্লাহর উপর ছেড়ে দিন।

    1. 1.1
      মহিউদ্দিন

      @ এম-আহমেদ  
      ভাই, আপনার উল্লেখিত, তালাকের ব্যপারে হযরত উমর (রা:) এরকম একটি নির্বাহী নির্দেশ ছিল বলে আমার জানা ছিল না এবং পরিচিত কোন আলেমের কাছেও শুনি নাই।

      সে যাক, এক সঙ্গে তিন তালাক সর্ম্পকে আপনার মতের সাথে আমিও একমত। 
      কথা হচ্ছে রাগের মথায় এক সাথে তিন তালাক স্বামী উচ্চারণ করলে এবং পরে সে জন্য অনুতপ্ত হলে সে তালাক বৈধ নয় তা রাসুল (স:) এর হাদিসে বুঝা যায়।

      চিন্তা করে দেখেন যারা এক সঙ্গে তিন তালাক উচ্চারণ করে তারা শুধু রাগের মাথায়ই তা করে থাকে তখন তারা জানেনা যে তারা আল্লাহর প্রদত্ত তালাকের নীতি লঙ্গন করছে !! এ ব্যপারে প্রখ্যাত ইসলামী স্কলারদের এমনকি হানাফি আলেম ইমাম ইবনে আবেদিনইমাম ইবনে আল কায়ইমা সহ বড় বড় আলেমদের রুলিং হচ্ছে রাগের মাথার তালাক বৈধ নয় কেননা রাসুল (স:) বলে গিয়েছেন,”There is no (valid) divorce in an extreme state of anger”
      সে দিন টরন্টো ইসলামিক ইন্সটিটিউটের IIT সিনিয়র ইমাম, নর্থ আমেরিকার সম্মানিত আলেম ইসলামী স্কলার শেখ আহমেদ কুট্টির সাথে আলাপ করায় তিনি আমাকে তাঁর অভিমত সংক্রান্ত এই লিংক ইমেইল করেন

      এই তিন তালাকের বিষয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা এই নিবন্ধটিতে আছে।

      আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে একজন রাগান্বিত মানুষ আর নেশাগ্রস্ত মানুষের মাঝে খুব একটা তফাৎ নাই।
      "ইসলামে বিয়ে যেহেতু স্বামী স্ত্রীর মাঝের ধর্মীয় সমারোহযুক্ত একটি গুরুতর চুক্তি, তাই এই ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ শব্দ এবং কর্ম দ্বারা এটিকে ভাঙ্গানো যাবে না কেননা এ আচরণকে কারো পূর্বনির্ধারিত একটি সুস্থ সিদ্ধান্ত বলা যায় না।
      Since marriage in Islam is a solemn contract, it cannot be broken by such whimsical words and actions that do not represent any premeditated intention on your part".

      সৌদী আরবের প্রখ্যাত ইমাম শেখ বিন বাজের অভিমতও একি রকম।

      মোট কথা, এক সাথে তালাক, তালাক, তালাক তিনবার উচ্চারণ করলে যে কোরআনে তিন তালাকের সর্ত কমপ্লিট হয়ে যায় এমন ফতোয়া “মেইড ইন ইন্ডিয়ার” কিছু হানাফী আলেম ও তাদের অনুসারী ছাড়া বিশ্বের কোথায় কেউ তা সমর্থন করেন বলে আমার জানা নাই।

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.